Friday, March 22, 2019

মুসলিম রীতিতে মাথা ঢেকে এলেন তাঁরা

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে হামলায় ঘটনায় মুসলিম নারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে আজ শুক্রবার দেশটির অন্য ধর্মের বেশ কিছু নারী মাথা ঢেকে আসেন। থায়া অ্যাশম্যান নামে অকল্যান্ডের এক চিকিৎসক এই উদ্যোগ নেন।
আজ শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, জঙ্গি হামলার ভয়ে এক নারী হিজাব পরে বাইরে আসতে ভয় পাচ্ছেন শুনে অকল্যান্ডের চিকিৎসক থায়া অ্যাশম্যান ভাবেন, সব ধর্মের নারীরা আজ এভাবে ভীত নারীর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে পারেন। তিনি বলেন, ‘আমি বলতে চাই, আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। আমরা চাই রাস্তায়ও যেন আপনি বাড়ির মতো বোধ (নিরাপত্তা বোধ) করেন। আমরা আপনাদের ভালোবাসি, সমর্থন ও শ্রদ্ধা করি।’
স্থানীয় সময় গত শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত মুসলিমদের ওপর আধা স্বয়ংক্রিয় বন্দুক নিয়ে হামলা চালায় অস্ট্রেলীয় যুবক ব্রেনটন টারান্ট (২৮)। এর কিছু পরে ব্রেনটন কাছাকাছি লিনউড মসজিদে হামলা চালান। দুটি হামলায় ৫০ জন নিহত হন। এর মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি। আহত হন ৫০ জন। হত্যার অভিযোগ এনে ব্রেনটনকে কারাবন্দী রাখা হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটিতে সব ধরনের আধা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
এক সপ্তাহ পর আল নুর মসজিদের কাছে হ্যাগলি পার্কে স্থানীয় সময় বেলা দেড়টায় জুমার নামাজের আগে সমবেত হন হাজারো মানুষ। সেখানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিওতে জোহরের আজান প্রচারের পর দেশটি জুড়ে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
আজ মাথায় কাপড় দিয়ে আসার আহ্বানে অনেক নারীকে সাড়া দিতে দেখা গেছে। ক্রাইস্টচার্চ ছাড়াও অকল্যান্ড ও ওয়েলিংটনের অনেক নারী মাথা স্কার্ফ দিয়ে ঢেকে ছবি পোস্ট করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অনেক শিশুকেও স্কার্ফ পরতে দেখা গেছে।
বেল সিবলি নামে ক্রাইস্টচার্চের এক নারী আজ তাঁর হিজাব পরার কারণ তুলে ধরে বলেন, কেউ একজন বন্দুক তুলে ধরলে তিনি বন্দুকধারী ও নিশানায় থাকা ব্যক্তির মাঝখানে দাঁড়াবেন। যাতে বন্দুকধারী দুজনের মধ্যে কোনো তফাত খুঁজে না পায়।
মসজিদে হামলার পর মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে মাথায় কালো স্কার্ফ পরে সাক্ষাৎ করে মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা।
একজন নারী পুলিশকে ক্রাইস্টচার্চ সমাধিতে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র হাতে মাথায় স্কার্ফ পরে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
স্কার্ফ পরার এই উদ্যোগ নিউজিল্যান্ডের ইসলামিক উইমেন কাউন্সিল এবং মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন সমর্থন করলেও নিউজিল্যান্ডের ভেতরে-বাইরে অনেকে এর বিরোধিতা করেছে।

শোকে স্তব্ধ নিউজিল্যান্ড: ‘হৃদয় ভেঙ্গেছে তবুও ভেঙ্গে পড়িনি’

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পর আজ সেখানে হাজার হাজার মুসল্লি জুমার নামাজে অংশ নিয়ে সে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। শুধু মুসল্লিরা নয় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সহমর্মিতা জানাতে সেখানে উপস্থিত ছিল নিউজিল্যান্ডের হাজারো অধিবাসী। গত শুক্রবার নিহত হওয়া ৫০ জনের স্মরণে ২ মিনিট নীরবতা পালন করেন তারা। উপস্থিত প্রায় ২০ হাজার মানুষের মধ্যে হাগলি পার্কে বক্তৃতা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডের্ন। আল-নুর মসজিদের সামনে যখন তিনি বক্তৃতা দিচ্ছিলেন তখন সেই সমাবেশজুরে ছিল পিনপতন নীরবতা।
রয়টার্স জানিয়েছে, নিউজিল্যান্ডের ঘটনায় নিহতদের বেশিরভাগই ছিল দেশটিতে শরনার্থী কিংবা অভিবাসী। তাদের মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান, ভারত, মালয়শিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, সোমালিয়া, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের নাগরিক। বক্তব্যের শুরুতেই নিহতদের পরিবারের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী আরডের্ন বলেন, নিউজিল্যান্ডের সকল মানুষ আপনাদের সঙ্গে শোকাহত। আমরা আজ এক।
নামাজের ইমামতি করা ইমাম গামাল ফৌদা সমাবেশে বলেন, আমাদের হৃদয় ভেঙ্গে গেছে কিন্তু আমরা ভেঙ্গে পড়িনি। আমরা এখনো বেঁচে আছি, একসঙ্গে। আমরা কাউকে আমাদের মাঝের এ বন্ধন ভাঙতে দেব না। তার বক্তব্যের সমর্থনে উপস্থিত মানুষ সকলে হাত তুলে ঐক্য প্রদর্শন করে। তিনি আরো বলেন, যারা স্বজন হারিয়েছেন তাদেরকে বলতে চাই আপনি যাকে ভালবাসতেন তাদের রক্ত বৃথা যায়নি। সেই রক্ত আশার বীজ রোপন করেছে। জুমার নামাজ হতে শুরু করে সমাবেশ ও নীরবতা পালন পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় চ্যানেল ও রেডিওতে সম্প্রচার করা হয়েছে।
নিউজিল্যান্ড জুড়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষ মানববন্ধন করে মুসল্লিদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশটির স্কুল, ক্যাফে এমনকি অফিসেও নিহতদের জন্য আলাদা আলাদা প্রার্থনা করা হয়েছে। ক্রাইস্টচার্চে আজই ২৭ মৃতদেহ দাফন করা হবে। নিউজিল্যান্ডের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মুসল্লি বলেন, এটি এক বিশেষ বেহেস্ত। এখানে আমরা প্রতিদিন লাশ দাফন করি না। প্রতিদিন আমরা আমাদের ২৭ ভাই-বোনকে কবর দেই না। প্রথমে কবর দেয়া হয় নায়িম রাশিদ নামের একজনকে। তিনি ওই হামলাকারীকে আটকাতে গিয়ে নিহত হয়েছিলেন।
হামলাকারী ব্রেনটন ট্যারেন্ট (২৮) একজন সন্দেহভাজন শেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী। বর্তমানে সে রিমান্ডে রয়েছে। আগামি ৫ এপ্রিল তাকে আদালতে হাজির করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে তখন তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ আনা হবে।

নিউজিল্যান্ড ২ মিনিট নীরব, হিজাবে হাজির সব নারী

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে হামলায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে আজ শুক্রবার দেশটি জুড়ে দুই মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়েছে। হামলার স্থান আল নুর মসজিদে শোক প্রকাশে আজ হাজারো মানুষ সমবেত হন। প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আহডার্ন এতো যোগ দেন।
রাষ্ট্রীয় রেডিও, টেলিভিশনে আজান প্রচারের পর দেশটি জুড়ে নীরবতা পালন করা হয়। এ ছাড়া মুসলিমদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে আজ নিউজিল্যান্ডের অন্য ধর্মের নারীরা মাথায় হিজাব পরেছেন।
ঠিক এক সপ্তাহ আগে স্থানীয় সময় গত শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত মুসলিমদের ওপর আধা স্বয়ক্রিয় বন্দুক নিয়ে হামলা চালায় অস্ট্রেলীয় যুবক ব্রেনটন টারান্ট (২৮)। এর কিছু পরে ব্রেনটন কাছাকাছি লিনউড মসজিদে হামলা চালান। দুটি হামলায় ৫০ জন নিহত হন। এর মধ্যে পাঁচ জন বাংলাদেশি। আহতও হন ৫০ জন। হত্যার অভিযোগ এনে ব্রেনটনকে কারাবন্দী রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আহডার্ন গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটিতে সব ধরনের আধা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, স্থানীয় সময় দেড়টায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিওতে জুমার নামাজের আজান প্রচার করা হয়। এরপরই দুই মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়।
আজ আল নুর মসজিদে জুমার নামাজের সময় সমবেত হন হাজার হাজার শোকাহত মানুষ। জুমার নামাজ শুরুর ঠিক আগে আগে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আল নুর মসজিদে পৌঁছান।
জুমার নামাজের ইমামতি করেন ইমাম গামাল ফৌদা। ওই সময় তিনি বলেন, ‘বন্দুকধারী বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। আজ একই জায়গা থেকে তাকিয়ে মানুষের ভালোবাসা ও সহানুভূতি দেখতে পাচ্ছি। আমাদের হৃদয় ভেঙেছে. কিন্তু আমরা ভেঙে পড়িনি। আমরা বেঁচে আছি, আমরা একসঙ্গে আছি। আমাদের মধ্যে বিভক্তি আনতে দেব না কাউকে।’
দেশটি জুড়ে আজ অনেক মসজিদ খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। মসজিদের বাইরে সংহতি প্রকাশ করে মাননবন্ধন করার কথা রয়েছে।
মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড আপনাদের সঙ্গে শোকাহত, আমরা এক।’
এর আগে প্রধানমন্ত্রী দেশটির মানুষকে নীরবতা পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেছিলেন, অনেক নিউজিল্যান্ডবাসী হামলার পর থেকে দিনটিকে স্মরণ করতে চেয়েছেন এবং মসজিদে ফিরে আসা মুসলিমদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে চেয়েছেন। নীরবতা পালনের ভাষা একেকজনের একেক রকম হতে পারে। যে যেভাবে ঠিক মনে করবেন সেভাবে পালন করবেন। বাড়ি, কর্মস্থল, স্কুলে যে যেভাবে পারবেন।
গতকাল রাতেই সরকারি কর্তৃপক্ষ আল নুর মসজিদ নামাজের জন্য প্রস্তত করেন এবং আজ নিহত ব্যক্তিদের লাশ একসঙ্গে দাফনের ব্যবস্থা নেন।

নিউ জিল্যান্ড অবিচ্ছেদ্য: আল নূর মসজিদের ইমাম

নিউ জিল্যান্ডকে ‘অবিচ্ছেদ্য’ বলে ঘোষণা করেছেন ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদের ইমাম গামিল ফাউদা। শুক্রবার (২২ মার্চ) জুমার নামাজের খুতবায় তিনি বলেছেন, নিউ জিল্যান্ডের জনগণের মাঝে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করে সফল হয়নি হামলাকারী। বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বন্ধ করতে বিশ্বনেতাদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলার পর নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্নের ভূমিকার প্রশংসা করে গামিল বলেছেন, ‘তার নেতৃত্ব বিশ্বের জন্য শিক্ষণীয়’। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।
১৫ মার্চ (শুক্রবার) ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট নামের সন্দেহভাজন হামলাকারীর লক্ষ্যবস্তু হয় নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুইটি মসজিদ। শহরের হাগলি পার্কমুখী সড়ক ডিনস এভিনিউয়ের আল নুর মসজিদসহ লিনউডের আরেকটি মসজিদে তার তাণ্ডবের বলি হয় অর্ধশত মানুষ। শুধু আল নূর মসজিদে হামলায় প্রাণহানি হয় ৪৩ জনের। ঘটনার দিন আল সেখানে ছিলেন ইমাম গামিল ফাউদা। তবে প্রাণে বেঁচে যান তিনি। ভয়াবহ সে হামলার এক সপ্তাহ পর আবারও খুলেছে আল নূর মসজিদ। শুক্রবার (২২ মার্চ) গামিলের নেতৃত্বে সেখানে আদায় করা হয়েছে জুমার নামাজ। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। হতাহতদের শ্রদ্ধা জানিয়ে নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীসহ অন্য অমুসলিমরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
খুতবা দিতে গিয়ে ইমাম গামিল এক সপ্তাহ আগের সে ভয়াবহ ঘটনাকে স্মরণ করেন। বলেন, ‘গত শুক্রবার আমি এ মসজিদে ছিলাম এবং ওই সন্ত্রাসীর চোখে ঘৃণা আর ক্রোধ দেখেছি। আর আজ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে যখন তাকাচ্ছি, তখন আমি লাখো নিউ জিল্যান্ডবাসী ও বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষের চোখে ভালোবাসা আর সহানুভূতি দেখতে পাচ্ছি।’
ইমাম গামিল আরও বলেন, ‘যে মন্দ মতাদর্শ বিশ্বকে বিভাজিত করে দিয়েছে, সে মতাদর্শ ব্যবহার করে আমাদের দেশে বিভাজন তৈরি করতে চেয়েছিল এ সন্ত্রাসী। তবে আমরা দেখিয়ে দিয়েছি, নিউ জিল্যান্ড অবিচ্ছেদ্য।’
এ হামলার কারণ হিসেবে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে দায়ী করেছেন ইমাম গামিল। এ ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বন্ধ করতে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ইমাম গামিল বলেন, ‘কিছুসংখ্যক রাজনৈতিক নেতা, সংবাদমাধ্যম ও অন্যদের ইসলামবিরোধী এবং মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের ফলাফল এটি। গত সপ্তাহের ঘটনায় গোটা বিশ্বের কাছে প্রমাণ হয়েছে, সন্ত্রাসবাদের কোনও রঙ নেই, বর্ণ নেই, ধর্ম নেই।’
হামলাকারীর কবল থেকে বাঁচানোর জন্য যারা তাদেরকে সেদিন নিজেদের ঘরের দরজা খুলে দিয়েছিলেন, গাড়ি নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন সেইসব প্রতিবেশির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন গামিল।
হতাহতদের পরিবারকে নিবিড়ভাবে আগলে রাখায় এবং মুসলিমদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মাথায় কাপড় দেওয়ায় জাসিন্ডা আরডার্নকেও ধন্যবাদ জানান তিনি। বলেন, ‘তার নেতৃত্ব এ বিশ্বের জন্য শিক্ষণীয়।’
শুক্রবার আল নূর মসজিদের সামনে হাগলি পার্কে হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে যোগ দেন জাসিন্ডা আরডার্ন। এদিনও তার মাথা স্কার্ফ দিয়ে ঢাকা ছিলো। তিনি বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে পুরো নিউ জিল্যান্ডই ব্যথিত। আমরা সবাই এক।’

আত্মবিশ্বাসী শতাব্দী রায়, আরো বড় ব্যবধানে জিততে চান by পরিতোষ পাল

সোস্যাল মিডিয়াতে একটি ভিডিও ঘোরাফেরা করছে, যাতে অভিনেত্রী শতাব্দী রায় জনতার উদ্দেশে বলছেন, বিনা পয়সায় আমাকে দেখার জন্য ভোট দিতে হবে। না হলে টাকা দিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে আমাকে দেখতে হবে। ২০১৪ সালের প্রচারের এই ভিডিওটি এবার নির্বাচনের আগে কারা ছড়িয়েছে তা জানা যায়নি। তবে দুই বারের বিজয়ী পোড় খাওয়া সংসদ সদস্য শতাব্দী জানেন যে, আমজনতার কাছে তাদের মতো সেলিব্রিটিদের আবেদন ফুরোবার নয়। আর তাই তিনি যেখানেই ভোট প্রচারে যাচ্ছেন সেখানেই জনতা ভিড় করছে তাকে দেখার জন্য।
তৃতীয়বারের জন্য বীরভূমকেন্দ্র থেকে প্রার্থী হিসেবে শতাব্দী রায়ের নাম ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ছুটে গেছেন নিজের কেন্দ্রে। সঙ্গে নিয়ে গেছেন শিশু কন্যা সামিয়ানাকেও। শুরুতেই প্রচারে ঝড় তুলে দিয়েছেন।
বিরোধী প্রার্থীরা প্রচারের সুযোগ পাওয়ার আগেই শতাব্দী পৌঁছে যাচ্ছেন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে। তবে প্রতিদিনই নিয়ম করে বিভিন্ন মন্দির ও মাজারে পুজো ও চাদর চড়িয়েই প্রচার শুরু করছেন। গত বৃহস্পতিবার এক দিকে তারা পিঠে তারা মায়ের পুজো দেবার পাশাপাশি স্থানীয় ফুলিরডাঙা মাজারে চাদর চড়িয়ে প্রচার শুরু করেছেন শতাব্দী। আবার পরের দিন সাইথিয়ার নন্দিকেশ্বরী মন্দিরে ও পাশেই জগন্নাথ মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেছেন।
রাঙামাটির বীরভূমের চড়া রোদের মধ্যেই সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত চলছে প্রচার। আবার কোথাও  তাঁর নির্বাচনী দেয়াল লিখনে ব্যস্ত দলের কর্মীদের কাছ থেকে রং তুলি নিয়ে শতাব্দী নিজেও দেওয়াল লিখনে হাত লাগিয়েছেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের এই সেলিব্রিটি প্রার্থীকে দেখতে আমজনতার কোনো আশাই যেন মেটে না। আর তাই গত দশ বছর ধরে রাঙামাটির দেশের মানুষ অভিনেত্রী শতাব্দীকে দেখে দেখেও তৃপ্ত হননি। প্রথম দিনের প্রচারে এসে নিজের জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী শতাব্দী বলেছেন, এই কেন্দ্রে এবার তার সঙ্গে যেটুকু লড়াই হবে, সেটা বিজেপির সঙ্গেই। তবে তার জয়ের ব্যবধান এবার আরও বেশি হবে বলে তিনি নিশ্চিত। জিতে হ্যাটট্রিক করার ব্যাপারেও তিনি বেশ উৎসাহী। শতাব্দী মনে করেন, কোনো বিরোধী দল যদি কোনো সেলিব্রিটিকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করায় তা হলেও আমার কোনো অসুবিধা হবে না।  বরং লড়াই জমে উঠবে। বিরোধীরা বীরভূম কেন্দ্রে এখনও প্রার্থী ঠিক করতে পারেনি। বামরা একজন প্রার্থীর নাম জানালেও তাকে নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়েছে। তবে বিজেপি এই কেন্দ্র থেকে সাবেক অভিনেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। সেদিকে যে শতাব্দীর নজর রয়েছে সেটা তার কথাতেই স্পষ্ট হয়েছে।
টলিউডে আশির দশকের শেষ দিক থেকে নব্বইয়ের দশকজুড়ে শতাব্দী বাংলা চলচ্চিত্রে রাজত্ব করেছেন। তাপস পাল ও প্রসেনজিতের সঙ্গে জুটি করে অসংখ্য ছবিতে নায়িকা হিসেবে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। সেই মুগ্ধতার স্মৃতি আজও মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি। অবশ্য চলচ্চিত্র থেকে সরে এলেও যাত্রার মাধ্যমে শতাব্দী গ্রাম বাংলার মানুষের সঙ্গে যোগসূত্র তৈরির কাজটি চালিয়ে যাচ্ছেন। আর তাই ২০০৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেস তাকে প্রার্থী করতে চাইলে তিনি কোনো আপত্তিই করেননি। তবে ১৯৭১ সাল থেকে সিপিআইএমের দখলে থাকা কেন্দ্রটিতে বামপন্থিদের প্রবল প্রতাপ সত্ত্বেও সহজে সেলিব্রিটির তকমা দিয়েই তিনি জয় ছিনিয়ে এনেছিলেন। আর ২০১৪ সালে সেই জয়ের ব্যবধানকে ধরে রেখেই দ্বিতীয়বারের মতো জয়ী হয়েছিলেন। তবে বীরভূমের মতো বিতর্কিত জেলায় শতাব্দীকে নিয়ে মানুষের খুব একটা ক্ষোভ নেই।
বহিরাগত হলেও নিজের কেন্দ্রে নিয়মিতই ছুটে গেছেন। জেলার অনেক নেতার সঙ্গে তার বনিবনা না থাকলেও মানুষের সমর্থন যে তার দিকে রয়েছে, সেটা শতাব্দী মনে মনে জানেন। তাই তিনি বলেছেন, বীরভূমের মানুষ আমাকে আগেও ভালোবেসেছে, এবারও ভালোবাসবে। তবে গত ৫ বছরে অনেক কাজই যে তিনি করতে পারেননি, সে ব্যাপারেও শতাব্দী বেশ সচেতন। আর তাই তিনি এবার জিতে এসে অসম্পন্ন সব কাজ শেষ করতে চান। মানুষ তাকে এ ব্যাপারে বিশ্বাস করবেন বলেই মনে করেন। আর লোকসভায় বিতর্ক ও আলোচনায় অংশগ্রহণে শতাব্দী অন্য সেলিব্রিটিদের থেকে এগিয়েই রয়েছেন। স্থানীয় সমস্যার কথাও তুলে ধরেছেন নানা সময়ে। আর বীরভূমের মানুষের তাঁকে কাছে পাওয়া নিয়ে কোনো অভিযোগ না থাকলেও দলীয় কোন্দল অনেক সময়ই তাকে বিব্রত করেছে। এবারও তাঁর কেন্দ্র বদলে দেয়া হবে বলে দলের মধ্য থেকেই প্রচার করা হয়েছিল। তবে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আস্থা রেখেছেন শতাব্দীতেই।

বৃটেনে একরাতে পাঁচ মসজিদে ভাঙচুর

এবার বৃটেনের ৫টি মসজিদে ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার মধ্যরাতে বার্মিংহামের ওই মসজিদগুলোতে হাতুড়ি বা এ জাতীয় উপকরণ দিয়ে জানালা ভাঙচুর করা হয়। এতে সেখানকার মুসলিমদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের হামলার সঙ্গে এর যোগসূত্র থাকতে পারে। সন্দেহভাজন হামলাকারীকে ধরতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
বৃটিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি মিররের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার দিবাগত রাতে চারটি মসজিদে ভাঙচুর চালানো হয়। পুলিশ বলছে, মধ্যরাতে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই একের পর এক ভাঙচুরের খবর আসতে থাকে তাদের কাছে।
বৃহস্পতিবার সকালে আরো একটি মসজিদে হামলা করা হয়েছে বলে খবর পান তারা।
বার্মিংহামে অবস্থিত ওই মসজিদের সেক্রেটারির উদ্ধৃতি দিয়ে স্থানীয় টিভি চ্যানেলের খবরে বলা হয়েছে, দিনের আলোতেই গতকাল সকালে একটি মসজিদে ভাঙচুর করা হয়। ওয়েস্ট মিডল্যান্ডের পুলিশ জানিয়েছে, ৫টি ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র আছে বলে মনে করছেন তারা। পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট ইতিমধ্যেই হামলার তদন্ত শুরু করেছে।
গতকাল রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ হামলার উদ্দেশ্য উদ্‌ঘাটন করতে না পারলেও বার্মিংহামের মুসলিমরা বুধবার রাতের হামলাকে ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে টেরেন্টের হামলার মতো মনে করছে। তাদের মধ্যে ব্যাপকভাবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রশিদ মুহাম্মদ নামে বার্মিংহামের এক মুসলিম জানান, নিউজিল্যান্ডে হামলার পর ভয় হচ্ছিল যে এখানেও ওই ধরনের কিছু ঘটতে পারে। আমি মিথ্যা বলছি না, ক্রাইস্টচার্চের ঘটনার পরেই আমার এমনটি মনে হচ্ছিল। এমনকি নামাজের সময় যেকোনো পরিস্থিতিতে বের হওয়ার ‘জরুরি দরজাও’ খুঁজে রেখেছি। অল্প সময়ের ব্যবধানে সেটাই ঘটলো। বর্ণবাদে বিশ্বাসী ছোট মনের ব্যক্তিরা এসব কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে। বর্তমান সময়ে এটা ঘটতে দেখা খুবই দুঃখজনক বিষয়। বৈচিত্র্যপূর্ণ এই শহরে বসবাস করে আমরা গর্বিত।
উইটন ইসলামিক সেন্টার বুধবার রাতে দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হয়েছে। ওয়েস্ট মিটল্যান্ড পুলিশ বলছে, রাত আড়াইটার দিকে তাদের কাছে সংবাদ আসে যে, এক ব্যক্তি হাতুড়ি দিয়ে বার্কফিল্ট রোডের একটি মসজিদের জানালা ভাঙচুর করছে। তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে ছুটে যায় পুলিশ। কিন্তু ততক্ষণে ভাঙচুর চালিয়ে হামলাকারী ওই স্থান ত্যাগ করেছে। উইটন ইসলামিক সেন্টারের মুখপাত্র জাভিদ ইকবাল বলেন, নিউজিল্যান্ডে নিষ্ঠুরতার পর এ ধরনের হামলা খুবই উদ্বেগজনক। আমরা মধ্যরাতে এক শ্বেতাঙ্গ হামলাকারীর শিকার হয়েছি। সে হাতুড়ি নিয়ে এসে মসজিদের জানালায় ভাঙচুর চালায়। সে এত জোরে জানালায় আঘাত করছিল যে, এক পর্যায়ে হাতুড়ি তার হাত ফস্‌কে মসজিদের মধ্যে পড়ে। এর পর সে চলে যায়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, আধা ঘণ্টা পরে সে আরেকটি হাতুড়ি নিয়ে আসে ও নতুন উদ্যমে মসজিদের জানালা ভাঙতে থাকে। পাঁচ বা ছয়টি জানালা ভেঙেছে সে।
উইটন সেন্টারে হামলার সময়েই আশেপাশের অন্য মসজিদগুলোতেও ভাঙচুর চালানো হয়। হামলাকারীরা দলবদ্ধভাবে একইসঙ্গে সব মসজিদে ভাঙচুর চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জাভিদ ইকবাল। তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডের মর্মান্তিক হামলার পর বার্মিংহামে বিভিন্ন ধর্ম বিশ্বাসের অনুসারীরা একজোট হয়। তারা শহরের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উদ্‌যাপন করে। প্রকৃত ঘটনা যাই হোক, একটি নির্বোধ সংখ্যালঘু দল এই হামলা চালিয়েছে। যারা এই কম্যুনিটির মূল্যবোধকে ধারণ করে না।
হামলার পর বার্মিংহামের মসজিদগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে এখনো এগুলো মুসল্লিদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। শুক্রবারের জুমার নামাজ নির্বিঘ্নে আদায় করার জন্য উইটন সেন্টার অতিরিক্ত পুলিশ চেয়েছে।
সব মসজিদেই হামলার ধরন অভিন্ন। অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে এসব মসজিদের জানালা ভাঙচুর করে। ভাঙচুর চালানো মসজিদগুলো হলো- বার্কফিল্ড রোড মসজিদ, এরডিংটন রোড মসজিদ, উইটন রোড ও পেরি বার রোডের মসজিদ। এই মসজিদগুলোতে বুধবার মধ্যরাতে হামলা চালানো হয়। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার সকালেও আরেকটি মসজিদে একই ধরনের হামলার খবর পাওয়া গেছে।
সিসিটিভি ফুটেজ ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে হামলাকারীকে ধরতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। ওয়েস্ট মিডল্যান্ড পুলিশের চিফ কনস্টেবল ডেভ থম্পসন বলেন, গত রাতের হামলার মূল উদ্দেশ্য এখনো আমরা জানতে পারি নি। তবে এতে দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে পুলিশ বাহিনী ও এর সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট একযোগে কাজ করছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে যারা আমাদের কম্যুনিটিতে বিশৃঙ্খলা, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালাবে, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এটা গুরুত্বপূর্ণ।

নির্বাচন করছেন না আলোচিত রাজনীতিক মায়াবতী

লোকসভা নির্বাচনে নিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না ভারতের সুপরিচিত রাজনীতিক, দলিত শ্রেণির আইকনে পরিণত হওয়া ও উত্তর প্রদেশে চারবারের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী। তার এমন ঘোষণায় হতাশ হয়েছে দেশ। তবে মায়াবতী বলেছেন, ক্ষমতাসীন বিজেপির প্রভাবকে মোকাবিলার জন্য যে জোট গঠন করেছেন তিনি সেদিকে বেশি নজর দেবেন। অর্থাৎ তিনি নিজে নির্বাচনে না গিয়ে জোটকে দিয়ে রাজনীতির খেলা খেলতে চাইছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
ভারতে লোকসভা নির্বাচন শুরু হচ্ছে ১১ই এপ্রিল। এর ফল পাওয়া যাবে ২৩ শে মে। এ নির্বাচনে কোনো একক দল যদি পরিষ্কার সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায় তবে কিংমেকার বা কে ক্ষমতায় যাবে তা নির্ধারণে মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) মতো আঞ্চলিক দলগুলো বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মায়াবতী বুধবার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভা নির্বাচনে তিনি নিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। তবে তিনি এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন, যখনই আমি চাইবো তখনই লোকসভা নির্বাচন করলে জিতে যাবো। অর্থাৎ তিনি বোঝাতে চেয়েছেন তিনি লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেই জিতে যাবেন। মায়াবর্ত বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মনে ধারণ করে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো না। যেকোনো মূল্যে আমার জোটকে আমি দুর্ভোগে ফেলবো না। আমার বিজয়ের চেয়ে নির্বাচনে অধিক পরিমাণে আসন জেতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচনের আগে আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ সমাজবাদী পার্টির (এসপি) সঙ্গে জোট গঠন করেছে মায়াবতীর বিএসপি। বলা হচ্ছে, রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে এটিই হলো জাতীয় পর্যায়ে বড় জোট। মায়াবতীর জীবনীকার সাংবাদিক অজয় বোস। তিনি মায়াবতীর এমন সিদ্ধান্তকে উদ্ভট বলে আখ্যায়িত করেছেন। তবে তার এমন সিদ্ধান্ত এটা পরিষ্কার করেছে যে তিনি নিজের স্বার্থের চেয়ে দলের স্বার্থকে বড় করে দেখেন।
অজয় বোস বলেন, এর মধ্য দিয়ে মায়াবতী তার ভাবমূর্তিকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে এমন একজন হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছেন, যেখানে তিনি থাকছেন সব বচসার ঊর্ধ্বে। তিনি এমন কেউ যিনি অধিকতর বড় লড়াইয়ের সমর্থক।
মায়াবতীর রাজনীতির যাত্রা অস্বাভাবিক। তিনি পড়াশোনা করেছেন আইনে। রাজনীতিতে যোগ দেয়ার আগে শিক্ষকতা করেছেন। তার প্রদর্শক ছিলেন দলি ত শ্রেণির নেতা ও রাজনীতিক কাশি রাম। তিনিই প্রতিষ্ঠা করেন বিএসপি। দ্রুততার সঙ্গে খ্যাতির শীর্ষে চলে যান মায়াবতী। মাত্র ৩৯ বছর বয়সে ১৯৯৫ সালে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হন। এ পদে তিনিই ছিলেন ভারতে সবচেয়ে কম বয়সী রাজনীতিক।
কিন্তু তার রাজনীতি, ক্ষমতা গ্রহণ, ক্ষমতায় থাকা কোনো কিছুই কেলেঙ্কারির বাইরে থাকে নি। বেশ কিছু দুর্নীতির অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। তার সম্পদের পরিমাণ কয়েক মিলিয়ন ডলার। আর বাইরে আছে তার নামে বেশ কিছু সম্পত্তি। তার জন্মদিনের ইভেন্টতো মিডিয়ায় বড় স্থান জুড়ে থাকে।
২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে ফাঁস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তারবার্তায় দেখা যায়, তিনি মুম্বই থেকে একজোড়া স্যান্ডেল কিনতে ফাঁকা একটি বেসরকারি জেট ভাড়া করে পাঠিয়েছিলেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেন মায়াবতী।
তিনি সরকারি অর্থের যথেষ্ট অপব্যবহার করেন বলে অভিযোগ আছে। বলা হয়, তার রাজ্যে রয়েছে উচ্চ মাত্রায় অপরাধ। তা ছাড়া এই রাজ্যটি ভারতের সবচেয়ে গরিব রাজ্যের অন্যতম। এখানে আছে নিম্ন মানের উন্নয়ন সূচক। তারই প্রায় এক ডজন মূর্তি আছে রাজ্যে। আছে তার দলের প্রতীক ৭৫টিরও বেশি পাথরের হাতি। তিনি ক্ষমতায় থাকার সময়ে এগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল উত্তর প্রদেশে। তিনি ২০১২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এসপি দলের কাছে হেরে যান।
এখনও তার বিপুল ভক্ত। বিশেষ করে ভারতের লাখ লাখ গরিব ও নিষ্পেষিত দলিত শ্রেণির কাছে তিনি ‘বেহেনজি’ বা বোন হিসেবে সমাদৃত। এই সম্প্রদায়ের কাছ থেকেই তিনি সবচেয়ে বেশি সমর্থন পান। তিনি ২০১২ সালের রাজ্যসভা নির্বাচনী বিজয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু উত্তর প্রদেশের শাহরানপুরে জাতিগত সহিংসতার মধ্যে ২০১৭ সালে ওই পদ ত্যাগ করেন।

একদিনে ৩ শিক্ষার্থী নিহত: সড়কে আর কত স্বপ্নের মৃত্যু

মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। আট মাস আগে সড়ক দুর্ঘটনায় রমিজউদ্দিনের দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে দেশজুড়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে কঠোর আন্দোলন হলেও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের। পরিস্থিতি একটুও বদলায়নি। সবশেষ মঙ্গলবার রাজধানীতে বিইউপির ছাত্র আবরার নিহত হলে আবারো নিরাপদ সড়ক চেয়ে উত্তপ্ত রাজপথ। চলছে আন্দোলন। একদিকে যখন নিরাপদ সড়কের দাবি অন্যদিকে চালকদের বেপরোয়াগতিতে গাড়ি চালানোয় মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েই চলেছে।
আবরারের মৃত্যুর পরদিন বুধবার যশোরে পিকআপের চাপায় স্কুলছাত্রীর পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গতকাল পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় খুলনা, সিরাজগঞ্জ আর নরসিংদীতে ফের তিন স্কুল শিক্ষার্থীর মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছে।
মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে পিতা-পুত্রের। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে জানা যায়-
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে কাভার্ড ভ্যান চাপায় হৃদয় (১৭) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছে আরো দুই পথচারী। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা কাভার্ড ভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সড়ক অবরোধ করে রাখে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় সিরাজগঞ্জ-নকলা নির্মাণাধীন চার লেন মহাসড়কে কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হৃদয় ভদ্রঘাট গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে ও ধুকুরিয়া কারিগরি কলেজের শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এসিআই এগ্রো লি. কোম্পানির ক্যামিক্যালবাহী একটি কাভার্ড ভ্যান ভদ্রঘাট বাজারের পশ্চিম পাশে তিন পথচারীকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই হৃদয় মারা যান। আহত হন আরো দুই পথচারী। দুর্ঘটনার পরই বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কাভার্ড ভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে সড়ক অবরোধ করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে দেড় ঘণ্টা পর বিক্ষুব্ধরা অবরোধ তুলে নেয়।
সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আব্দুল হামিদ জানান, কলেজ ছাত্রের মৃত্যু হওয়ায় এলাকাবাসী কাভার্ড ভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘণ্টাখানেক পর আগুন নিভিয়ে ফেলে। 
খুলনার রূপসায় ইটবোঝাই ট্রলির চাপায় আঁখি মনি (৭) নামের প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টার দিকে আনন্দনগর গ্রামের ছোটদিল এলাকার সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আঁখির পিতার নাম আকবর সর্দার। তাদের বাড়ি উপজেলার আনন্দনগর গ্রামে। আঁখি স্থানীয় সুফিয়া আজিজ কিন্ডারগার্টেনের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। এ ঘটনায় ট্রলি চালক মিলন শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ট্রলিটিও জব্দ করা হয়েছে।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, স্কুল থেকে বের হয়ে সড়কের পাশে একটি দোকানে খাবার কিনতে যায় আঁখি। এ সময় ট্রলিটি তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই আঁখির মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। অন্যদিকে ট্রলিচালক মিলনকে উপস্থিত জনতা উত্তম-মধ্যম দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদীতে কাভার্ড ভ্যান চাপায় ৮ম শ্রেণির ছাত্র রাব্বি মিয়া নিহত হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত হয় আরো ১ জন। গতকাল সকালের দিকে জেলার বেলাব উপজেলার বারৈচা বাসস্ট্যান্ডের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রাব্বি মিয়া স্থানীয় হোসেন নগর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্র। সে হোসেন নগর গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে।
বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফখরুদ্দিন ভুঁইয়া জানান, খেলাধুলা করতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাব্বি মিয়া ও তার এক সহপাঠী বাইসাইকেলযোগে বারৈচা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক পার হচ্ছিল। এ সময় ভৈরব থেকে ঢাকাগামী একটি কাভার্ড ভ্যান তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই রাব্বির মৃত্যু ঘটে। আহতাবস্থায় তার সহপাঠীকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ঘাতক কাভার্ড ভ্যানটি আটক করেছে হাইওয়ে পুলিশ।
নাটোরে মাটি বহনকারী ট্রাক্টরের ধাক্কায় রফিকুল ইমলাম রফিক নামে এক অটোরিকশা চালক নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে অটো রিকশার ২ যাত্রী। বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার ডালসড়ক এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রফিকুল ইসলাম রফিক নাটোরের সিংড়া উপজেলার সাঐল গ্রামের শাহজালালের ছেলে। আহতদের নাটোর সদর ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
নাটোর সদর থানার উপপরিদর্শক আলী আকবর ও স্থানীয়রা জানান, নাটোরের সিংড়া উপজেলার সাঐল গ্রামের শাহজালালের ছেলে রফিকুল ইসলাম রফিক তার অটো রিকশায় কয়েকজন যাত্রী নিয়ে নাটোর শহরে আসছিল। পথে নাটোর সদর উপজেলার নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের ডাল সড়ক এলাকায় পৌঁছালে পিছন থেকে মাটি বোঝাই একটি ট্রাক্টর অটো রিকশাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় অটো রিকশার চালক রফিকুল ইসলাম সহ অটো রিকশার যাত্রীরা ছিটকে পড়ে সড়কের ওপর। স্থানীয়রা ঘটনাটি দেখতে পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অটো রিকশার চালক রফিকুল ইসলাম মারা যায়। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জের পুখুরিয়া এলাকায় বাস-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী পিতা-পুত্র নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে মহাসড়কের পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ফরিদপুর জেলার মধুখালি এলাকার মো. ওবায়দুল্লাহ (৩৫) ও তার পুত্র মো. আবদুল্লাহ (৫)।
বরঙ্গাইল হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ ইয়ামিন-উদ-দৌলা জানান, মধুখালি এলাকার ওবায়দুল্লাহ তার ছেলেকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে ঢাকা থেকে ফরিদপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় বিপরীত দিক থেকে ঢাকাগামী নীলাচল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।
এতে ঘটনাস্থলেই পিতা-পুত্র নিহত হয়। দুর্ঘটনার পর পরই পুলিশ ঘাতক বাসটিকে আটক করলেও এর চালক পালিয়ে যায়। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে ওই পুলিশ কর্মকর্তা দুর্ঘটনায় নিহতদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পারেন নি। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানান।

উন্নয়ন কাজে মানুষের যেন ক্ষতি না হয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলো এমনভাবে গ্রহণ করুন, যাতে জনগণ কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই উন্নয়নের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করবো কিন্তু প্রকল্প নেয়ার সময় এটা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে, জনগণের জন্যই তা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী গতকাল তার কার্যালয়ে মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম (এমআইডিআই) এর প্রকল্প উপস্থাপনকালে এ কথা বলেন। বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের জীবন-মানের উন্নয়ন ঘটানোই তার সরকারের লক্ষ্য, যাতে তারা সবাই একটি সুন্দর জীবন পেতে পারে। তিনি বলেন, যখনই আমরা কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করবো তখন আমাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যাতে দরিদ্র জনগণের জীবন এবং জীবিকা কোনোভাবেই থেমে না যায়। প্রধানমন্ত্রী এসময় যাদের জমি-জমা নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে তাদেরকে সঠিকভাবে ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে লক্ষ্য রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, এটা দেখা গেছে (বিভিন্ন সময়ই পরিলক্ষিত হয়েছে) যাদের জমি নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে তারা কিছুই পাচ্ছে না।
কাজেই, আমাদের বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে তারা যথাযথ ক্ষতিপূরণ পেতে পারে।
কক্সবাজারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, সমুদ্র তীরবর্তী জেলাগুলো এক সময় খুবই অবহেলিত ছিল এবং এর জনগণের জীবনযাত্রার মান ও ছিল অমানবিক। তিনি বলেন, এক সময় কক্সবাজারে কিছুই ছিল না এবং সমগ্র এলাকার জনগণ কেবল লবণ এবং পান চাষের ওপর ওপর নির্ভরশীল ছিল। শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে তার সরকার কক্সবাজারকে একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে জেলার মাতারবাড়িসহ চর এলাকাতে শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সর্ববৃহৎ কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কয়লার জেটি এবং একটি এলএনজি টার্মিনাল মাতারবাড়ীতে গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি একটি বহুমুখী সমুদ্র বন্দর, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, সড়ক, রেল এবং এ সংক্রান্ত আরো বিভিন্ন প্রকল্পসহ মোট ২৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপান, চীন, ভারত এবং কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যেই মাতারবাড়িতে তাদের বিনিয়োগের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়িত হলে তা কেবল মাতারবাড়ী অঞ্চলের উন্নয়নই নয়, সমগ্র দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও বিরাট ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী এমআইডিআই প্রকল্পের মূল নকশা প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং সচিবগণ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
১০ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা
এদিকে চিকিৎসা ও জীবিকা নির্বাহের খরচ মেটাতে ১০ পরিবারকে ২ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল নিজের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব পরিবারের সদস্যদের হাতে মোট ২ কোটি ৭ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করেন। সহায়তা পাওয়া ১০ পরিবারের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতা, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহতদের পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন।