Sunday, March 12, 2017

বৈরী আবহাওয়ায় পাটুরিয়া রুটে ফেরি-লঞ্চ চলাচলে বিঘ্ন

গত দু’দিনের অব্যাহত বৈরী আবহাওয়ায় ব্যস্ততম পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরি-লঞ্চ ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। এতে রাজধানী ঢাকার সাথে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিলম্বিত হচ্ছে। যাত্রী-সাধারণও নানাভাবে নাজেহালের শিকার হচ্ছে। দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য এ সকল রুটে যান চলাচলে ধীরগতির কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
ফেরি সেক্টর বিআইডব্লিউটিসি’র সহকারী ব্যবস্থাপক মহীউদ্দিন রাসেল জানান, বৈরী আবহাওয়া ও ঝড়ো বাতাসের কারণে এরুটে ফেরি চলাচলে বিশেষ শর্তকতা অবলম্বণ করা হচ্ছে। নদীতে পানি হ্রাসের ফলে মূলসড়ক থেকে ফেরিপন্টুন ডাউনে নেমে আসায় পিচ্ছল পথে ফেরিতে যানবাহন লোড-আনলোডে বিঘ্ন ঘটছে। প্রতিটি ফেরির ট্রিপ টাইম কমে আসায় কাংক্ষিত যানবাহন পারাপার সম্ভব না হলেও বহরে ১৬টি ফেরি চলাচল করছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর ঝড়ো হাওয়ায় প্রায় আধা ঘন্টা এ রুটের ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এদিকে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে নিয়মিত চলাচলকারী পরিবহণ চালকরা জানিয়েছেন, বৃষ্টিতে দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য ধীরগতিতে যান চলাচল করতে হচ্ছে। এদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠা অসংখ্য ইট ভাটার ট্রাক থেকে ঝড়েপরা মাটিতে রাস্তা পিচ্ছিল হওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। শনিবার বিকেলে এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোথায়ও কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

কমলনগরে যুবলীগ কর্মীকে শ্বাসরোধে হত্যা

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে আবদুর রব বেপারী (৩৫) নামে যুবলীগের এক কর্মীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার রাতে উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবদুর রব ওই এলাকার আবদুল হাসিমের ছেলে। তিনি যুবলীগের একজন সক্রিয় কর্মী এবং স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন। নিহতের মামাতো ভাই স্থানীয় ফজুমিয়ার হাট বাজারের ব্যবসায়ী জহির উদ্দিন জানান, আবদুর রব কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন জায়গায় গরু ক্রয়-বিক্রয় করে আসছেন। শনিবার রাতে ব্যবসায়িক কাজ শেষে তিনি স্থানীয় ফজুমিয়ার হাট বাজার থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না।
পরে রোববার সকালে আবদুর রবের বাড়ির কাছেই একটি ক্ষেতে স্থানীয়রা তার লাশ পরে থাকতে দেখেন। কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকুল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে রোববার সকাল ১০টায় নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়। তিনি বলেন, ‘নিহতের বাম হাত ও পেটে ব্লেডের আঘাত এবং গলায় ফোলার চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে দুর্বৃত্তরা তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে সেখানে লাশ ফেলে রাখেন।’ লক্ষ্মীপুরের সহকারি পুলিশ সুপার (সার্কেল) খন্দকার গোলাম শাহনেওয়াজ জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ হত্যাকা-ের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের ধরতে পুলিশের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

কালিয়াকৈরে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবক নিহত

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ট্রেনে কাটা এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার তার লাশ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। আনুমানিক ২৪ বছর বয়সের নিহত ওই যুবকের পরিচয় পাওয়া যায় নি।
জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশন ফাঁড়ির এএসআই মো. দাদন মিয়া জানান, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার তালাবহ এলাকায় রবিবার সকালে ঢাকা-রাজশাহী রেললাইনের পাশে ট্রেনে কাটা এক যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরনে ছাই রংয়ের গ্যাবার্টিন প্যান্ট ও ফুলের প্রিন্টের নীল রংয়ের গেঞ্জি ছিল। ওই যুবক ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হয়েছে বলে ধারণা হচ্ছে।

সরাইলে স্কুল মাঠের বেহাল দশা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা চত্বরের একমাত্র সরকারি নিজসরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠটি বছরের পর বছর ধরে বেহাল দশায় থাকলেও সংস্কারের যেন কেউ নেই। সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ও পিআইও অফিসের দক্ষিণ পার্শ্বে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দক্ষিণ-পূর্ব কর্নারে এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের পেছনে পূর্ব পাশে অবস্থিত বিদ্যালয়টির এ অবস্থা দেখে এলাকাবাসীর মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টির কোমলমতি শিশু ছাত্র-ছাত্রীরা চরম ঝুঁকির মধ্যে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করছে। বিদ্যালয়টির পূর্বদিকে একদিকে পুকুর অন্যদিকে মাঠের বেহাল দশায় শিশু ছেলে-মেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে অভিভাবকরা থাকেন প্রতিনিয়ত উদ্বিগ্ন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে ক্ষোভের সাথে বলেন সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দের কাবিখা, টিআর, এডিবির টাকার কিঞ্চিৎ পরিমান বরাদ্ধ দিয়ে উপজেলার প্রানকেন্দ্রে অবস্থিত বিদ্যালয়টির মাঠটি সংস্কার করে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের খেলার উপযোগী করার মত কি কেউ নেই? এলাকাবাসীর প্রশ্ন সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দা নাহিদা হাবিবা উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক সরকারি বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠান করে মিড ডে মিল বিতরণ করেছেন, শতভাগ ছাত্র-ছাত্রী বিদ্যালয়ে উপস্থিত করতে দৌড়ঝাঁপ করেছেন,
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদকও পেয়েছেন অথচ তিনিও কি এই বিদ্যালয়টির মাঠের বেহাল দশা দেখেননি। বিদ্যালয়টির প্রতিবেশী শিক্ষানুরাগী শফিকুল ইসলাম সেলু বলেন উপজেলার প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকলেও প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ জনপ্রতিনিধিদের নজরে আসছে না। অবিলম্বে বিদ্যালয়ের মাঠটি সংস্কার প্রয়োজন। ঐতিহ্যবাহী নিজসরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির মাঠে মাঠি ভরাট করে শিশু শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধূলা করার পরিবেশ তৈরী করে বাতির নীচে অন্ধকার দূর করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আব্দুর রহমান, সদ্যযোগদানকারী সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে ইসরাতসহ সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

বিদেশে বন্ধু নয়, সরকারের প্রভু আছে : গয়েশ্বর

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভাপতি গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, শেখ হাসিনা বলেছেন, খালেদা জিয়া নাকি `র' এর অ্যাজেন্ট ছিল। এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। আসলে হাসিনা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে। ইতিমধ্যে চিনের সাথে সামরিক চুক্তি হয়েছে। সাবমেরিন কিনেছেন। আজ রোববার তিনি এক সভায় বলেন, ভারতের সাথে আপনার মান অভিমান চলছে। কিন্তু সম্পর্ক আছে। আপনার বিদেশে প্রভু আছে, বন্ধু নয়। কিন্তু জিয়াউর রহমানে বন্ধু ছিল প্রভু নয়। বিএনপি স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। সেজন্য বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। কিন্তু ভারত বাংলাদেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করলে জনগণ মানবেনা। সুতরাং বাংলাদেশকে বিক্রি করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। গয়েশ্বর বলেন, আপনাকে বিশ্বাস করা যায় না। কারণ আপনি নির্বাচিত নন। তাই জনগণের ভোট জনগণকে দেয়ার অধিকার দিন।
নির্বাচন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না। এরশাদের জোট প্রসঙ্গে গয়েশ্বর বলেন, জোট নিয়ে নাটক চলছে। যাদের ওপর জনগণের আস্থা নেই তাদের আবার জোট কিসের? মরুহুম যাদু মিয়ার স্মরণে তিনি বলেন, যাদু মিয়া ছিলেন রাজনীতির অগ্নিপুরুষ। তিনি খুবই কর্মীবান্ধব ও হাস্যরসের ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি মওলানা ভাসানীর খুবই ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। যিনি গণতন্ত্রের গাছ রোপন করেছিলেন। সেই গাছকে লালন করতে হবে। ফলে বিএনপি জনগণের দাবি আদায় করতে সক্ষমতা অর্জন করবে। জাতীয় নেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ৩৮ তম মৃত্যু্বার্ষিকী উপলক্ষ্যে পুরানা পল্টনের ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা হয়। বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বাংলাদেশ ন্যাপ'র চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানির সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, বিএনপি নেতা খায়রুল কবির খোকন, সাহিদুর রহমান তামান্না, এলডিপির শাহাদাৎ হোসেন সেলিম প্রমুখ।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে আজ যুক্ত হচ্ছে দুটি সাবমেরিন

বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো নৌবাহিনীতে যুক্ত হতে যাচ্ছে সাবমেরিন। চীনের কাছ থেকে পাওয়া দুটি সাবমেরিন আজ নৌবাহিনীর ফ্লিটে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হবে। আইএসপিআর থেকে জানানো হয়েছে, 'নবযাত্রা' এবং 'জয়যাত্রা' নামের দুটি সাবমেরিন টর্পেডো এবং মাইন দ্বারা সুসজ্জিত, যা শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনকে আক্রমণ করতে সক্ষম। নৌবাহিনীর ফ্লিটে নতুন দুটি সাবমেরিন যোগ হওয়ার ফলে কী পরিবর্তন আসবে?
নৌবাহিনীর রিয়ার এডমিরাল এএসএমএ আউয়াল বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন -" বাংলাদেশ নৌবাহিনী আগে দ্বিমাত্রিক ছিল। দুটি ডাইমেনশনে তারা কাজ করতে পারতো।" বিবিসি বাংলা "কিন্তু এই দুটো সাবমেরিন যুক্ত হবার ফলে নৌবাহিনী ত্রিমাত্রিক শক্তি হিসেবে যাত্রা শুরু করলো। সক্ষমতার দিক দিয়ে নৌবাহিনীকে যে দায়িত্ব পালন করতে হয়- তিনটা ডাইমেনশনে তাদের হুমকি মোকাবেলা করতে হয়-আজ থেকে এটার সক্ষমতা অর্জন করলো বাংলাদেশ"-বলছিলেন নৌবাহিনীর রিয়ার এডমিরাল এএসএমএ আউয়াল। গত বছর চীনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুইটি সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ পায় বাংলাদেশ। সাবমেরিন দুইটি গ্রহণ করে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ। সেসময় আইএসপিআর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, ০৩৫ জি ক্লাসের এই কনভেনশনাল সাবমেরিন দুইটি ডিজেল ইলেকট্রিক সাবমেরিন, যার প্রতিটি দৈর্ঘ্যে ৭৬ মিটার এবং প্রস্থে ৭.৬ মিটার। রিয়ার এডমিরাল এএসএমএ আউয়াল জানান, "এই ডিজেল ইলেকট্রিক সাবমেরিন চীনের নৌবাহিনীতে আছে। সেখান থেকেই বাংলাদেশকে দুটো দেয়া হয়েছে"। বিবিসি বাংলা

১৪ দেশের পুলিশ প্রধানদের সম্মেলন শুরু

জঙ্গি, সন্ত্রাস ও আন্তদেশীয় অপরাধ দমনের লক্ষ্যে ঢাকায় তিন দিনব্যাপী ১৪টি দেশের পুলিশপ্রধানদের অংশগ্রহণে সম্মেলন শুরু হয়েছে। আজ রোববার সকাল ১০টায় ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল ও বাংলাদেশ পুলিশের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে।
সম্মেলন চলবে ১৪ মার্চ পর্যন্ত। বাংলাদেশ ছাড়া আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ভুটান, ব্রুনাই, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনামের পুলিশপ্রধান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়া ইন্টারপোল, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (এফবিআই), ফেসবুকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।

হাজারীবাগের সব ট্যানারি বন্ধের আদেশ বহাল

হাজারীবাগে ট্যানারি কারখানাগুলো অবিলম্বে বন্ধে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ট্যানারি মালিকের আবেদন আজ খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। সে সাথে ট্যানারি কারখানাগুলো অবিলম্বে বন্ধ করতে এবং বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ বহাল রাখা হয়েছে।
আজ রোববার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন। আদালতে ট্যানারি মালিকদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। রিটকারীর পক্ষে ছিলেন ফিদা এম কামাল। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

ভবন ভাঙতে ছয় মাস সময় পেল বিজিএমইএ

পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ রাজধানীর হাতিরঝিলের ভবন ভাঙতে ছয় মাসের সময় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।ভবন ভাঙতে তিন বছর সময় চেয়ে আবেদন করেছিল বিজিএমইএ। আজ রোববার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
গত বুধবার সময় চেয়ে আপিল বিভাগে এ আবেদন করা হয়। বৃহস্পতিবার শুনানির কথা থাকলেও আদালত পরে ১২ মার্চ শুনানির দিন নির্ধারণ করেন। বিজিএমইএর আইনজীবী ছিলেন কামরুল হক সিদ্দিকী ও ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম।

লেক উন্নয়নের নামে সাগরচুরি

অভিজাত এলাকায় লেক উন্নয়নের নামে চলছে সাগরচুরি। অর্থ লুট করার জন্যই কিছু কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত এবং বছরের পর বছর চলমান রাখা হচ্ছে। এর আগে খাল কাটার নামে পুকুরচুরির পর এখন লেক উন্নয়নের নামে সাগরচুরির প্রক্রিয়া হচ্ছে। তিন বছরের কাজ ছয় বছরেও শেষ করতে না পেরে এখন ব্যয় বাড়ছে ছয় গুণেরও বেশি। নতুন করে তিন একর জমি অধিগ্রহণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা। নতুন নতুন অঙ্গ যুক্ত করে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। অনুমোদিত মেয়াদে কাজ শেষ না করে এখন ঠিকাদারের জন্য নতুন রেট শিডিউলের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ব্যয় নিয়ে খোদ পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে আপত্তি এবং সমীক্ষা না করায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও রাজউক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ও জৈবমাটি জমা হওয়ায় লেকের পানির ধারণক্ষমতা ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে। অবৈধ দখল থেকে লেক উদ্ধার, উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ২০১০ সালের ৬ জুলাই ৪১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয় একনেক থেকে, যা ২০১৩ সালে শেষ করার কথা। তা না হওয়ায় সময় বাড়ানো হয় আরো তিন বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত। বর্ধিত সময়ের মধ্যেও কাজ শেষ করতে পারেনি বাস্তবায়নকারী সংস্থা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এখন প্রকল্পের মেয়াদ ২০২১ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আর ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াচ্ছে ২ হাজার ৮৯৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকায়। নতুন করে ব্যয় ও সময় বাড়ানোর জন্য রাজউকের প্রস্তাবে দেখা যায়, প্রকল্পের বিভিন্ন অঙ্গে ব্যয় প্রায় ছয় গুণ পর্যন্ত বাড়ছে। এমনকি কাজের পরিমাণ বিভিন্ন অঙ্গে কমলেও ব্যয় বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। সংশোধিত প্রকল্পে নতুন করে ১৯টি অঙ্গ যুক্ত করা হয়েছে। মূল প্রকল্পে ৮০ দশমিক ১ একর জমি অধিগ্রহণের কথা ছিল। এখন সংশোধনীতে ৮৩ দশমিক শূন্য ৩ একর অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। আগে জমি অধিগ্রহণে ব্যয় ৩১৪ কোটি ৬৩ লাখ ৮ হাজার টাকা ধরা হয়। এখন সেই ব্যয় বেড়ে ১ হাজার ৮৮২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা হচ্ছে। অর্থাৎ নতুন করে অধিগ্রহণকৃত তিন একর জমির জন্য ব্যয় বাড়ছে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
এ ক্ষেত্রে প্রায় ছয় গুণ বা ৬০০ শতাংশ ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। হিসাবে প্রতি শতাংশ জমির মূল্য পড়ছে ৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা। মূল প্রস্তাবে ৯ লাখ ৫১ হাজার ৬৪৩ ঘনমিটার লেক খননে ব্যয় ধরা ছিল ৩৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা; কিন্তু নতুন প্রস্তাবে ৯ লাখ ৭ হাজার ৬১১ ঘনমিটারের খননব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা। খননের পরিমাণ ৪৪ হাজার ঘনমিটার কমলেও ব্যয় বাড়ছে ৭ কোটি টাকা। মূল প্রকল্পে ১২ হাজার ৭২৬ ঘনমিটার তীর সংরক্ষণের (সফট আরমারিং) ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এখন নতুন প্রস্তাবে ১০ হাজার ঘনমিটার কাজ কমিয়ে ব্যয় কমছে মাত্র ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। রাজউকের দাবি, চূড়ান্ত নকশার ভিত্তিতে লেকের পাশে ৮৩ দশমিক ৪২ একর ভূমি অধিগ্রহণ, মাটি ভরাট, পানির গুণগত মান রক্ষা এবং কড়াইল বস্তির বাসিন্দাদের পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। লেক এলাকায় আটটি সেতু নির্মাণ ও চারটি ওভারপাস নির্মাণ করা হবে। এর ফলে এটি প্রায় হাতিরঝিলের রূপ পাবে। এসব কারণে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে। পরিকল্পনা কমিশন বলছে, বিশাল সংশোধিত এ প্রকল্পে কোনো ধরনের সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) করা হয়নি। যথাযথ সমীক্ষা ছাড়া এবং বিভিন্ন ভৌতকাজের পূর্ণাঙ্গ ডিজাইন না করে বেশির ভাগ কাজের ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। তাই প্রস্তাবিত কাজের যথার্থতা নিরূপণে সমীক্ষা ও ডিটেইল ডিজাইন করে ব্যয় পুনঃপ্রাক্কলন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মূল প্রকল্পে শুধু জমি অধিগ্রহণ ব্যয় সরকারের তহবিল থেকে মেটানোর কথা ছিল। অন্যান্য ভৌতকাজে রাজউকের তহবিল থেকে ব্যয় করার কথা। কিন্তু সংশোধনীতে প্রায় সব ব্যয় সরকারি কোষাগার থেকে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শুধু জমির ব্যয় জিওবি থেকে দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত ৮৩ একর জমির মালিকানার ধরন জানতে চেয়ে কমিশন বলছে, তাতে সরকারি জমি থাকলে বুক ট্রান্সফার করে নেয়া যেতে পারে। প্রকল্প এলাকায় ৪৩ একর জমি বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) রয়েছে তা এ প্রকল্পে হস্তান্তর করা উচিত। আর ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ক্ষেত্রে মামলা এড়িয়ে সমঝোতার মাধ্যমে তা নিষ্পত্তি করতে হবে। প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ বিষয়ে প্রায় ১৩টি মামলা চলমান রয়েছে এগুলোর অগ্রগতি জানা প্রয়োজন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৬১ সালে তদানীন্তন ডিআইটি (বর্তমানে রাজউক) গুলশান মডেল টাউন প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু করে। একই সময়ে প্রায় এক হাজার একর জমি (বনানী-বারিধারা) আবাসিক ব্যবহারের জন্য উন্নয়নকার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৯২ সাল নাগাদ গুলশান মডেল টাউন এবং আংশিক বানানী ও বারিধারা আবাসিক কার্যক্রম এক হাজার একর ভূমি উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় শেষ হয়। তবে দুই শ’ একর এলাকাজুড়ে বিদ্যমান বনানী মডেল ও গুলশান মডেল টাউনের মধ্যে একটি লেক এবং গুলশান মডেল টাউন ও বারিধারা মডেল টাউনের মধ্যে একটি লেকের উন্নয়নকাজ আজ পর্যন্ত হয়নি। এ প্রকল্পের আওতায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবৈধ দখল থেকে লেক পুনরুদ্ধার, লেকে পানি ধারণ ও সংরক্ষণক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের মাধ্যমে ঢাকা শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, লেক এলাকায় বিনোদনমূলক কার্যক্রমের ব্যবস্থা ও সংলগ্ন এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন এবং পানির গুণগত মান রক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে আপত্তি জানিয়ে বলা হয়েছে, সংশোধিত প্রকল্পটির কোনো সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়নি। যথাযথ সমীক্ষা ব্যতীত এবং বিভিন্ন কাজের পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত নকশা না করে নতুন করে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। কাজগুলো যথাযথভাবে করার জন্য সমীক্ষা করতে কমিশন থেকে বলা হয়েছে। এমনকি কড়াইল বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের আদৌ প্রয়োজন আছে কি না সেটাও পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে। এখানে বিটিসিএল যে দরে জমিঅধিগ্রহণ করেছিল, সেই মূল্য ধরতে বলা হয়েছে। এক শ’ ফুট দীর্ঘ সেতু নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ। পাশাপাশি আটটি সেতু নির্মাণে ২৬৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ের বিষয়টিও পর্যালোচনা করতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও টিআইবির সাবেক চেয়ারম্যান এম হাফিজউদ্দিন খান নয়া দিগন্তকে বলেন, এগুলো হলো উন্নয়ন প্রকল্পের নামে অর্থ লুটপাট। আজ পর্যন্ত— প্রকল্পের কোনো অগ্রগতি আমি দেখিনি। তিনি বলেন, ৪১০ কোটি টাকার প্রকল্প কিভাবে ২ হাজার ৮৯৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা হয়, এটা কোনোভাবে বোধগম্য নয়। এভাবেই সরকারি অর্থ লুটপাট হচ্ছে।

পদত্যাগ না করায় মার্কিন অ্যাটর্নিকে বরখাস্ত

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলে নিয়োগ পাওয়া ৪৬ সরকারি কৌঁসুলিকে (অ্যাটর্নি) পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। শুক্রবার মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশন্স আনুষ্ঠানিকভাবে এ নির্দেশ জারি করে বলেন, 'একসঙ্গে ক্ষমতা হস্তান্তর' প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এসব আইনজীবীর মধ্যে প্রিত ভারারার নামও রয়েছে, যাকে ট্রাম্প গত নভেম্বরে এই পদে থেকে যেতে অনুরোধ করেছিলেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের পদত্যাগের নির্দেশ না মানায় নিউইয়র্কের এই ফেডারেল অ্যাটর্নিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। খবর এএফপি, বিবিসির। শনিবার এক টুইটে প্রিত ভারারা লেখেন, 'আমি পদত্যাগ করিনি।
আর কিছুক্ষণ আগে আমাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।' তিনি বলেন, 'নিউইয়র্কের সাউথ ডিস্ট্রিক্ট আদালতে অ্যাটর্নি হওয়াটা আমার পেশাগত জীবনে সবচেয়ে বড় অর্জন।' এদিকে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক স্নাইডারম্যান এক বিবৃতিতে বলেছেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আকস্মিক ও অব্যক্ত সিদ্ধান্তে ৪০ জনেরও বেশি মার্কিন অ্যাটর্নিকে সরিয়ে দেয়ার কথা বলা হয়। অন্যদের মতো প্রিত ভারারাকেও চলতি সপ্তাহে বরখাস্ত করা হয়। তিনি সম্মানের সঙ্গে ওই পদে কর্মরত ছিলেন।' তবে প্রিতের বরখাস্তের বিষয়ে তার দফতর ও মার্কিন বিচার বিভাগ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

৩০০০ বছর পর মিলল ফেরাউনের ভাস্কর্য

মিসরের রাজধানী কায়রোর শহরতলী মাটি খুঁড়ে ফেরাউনের (প্রাচীন মিসরের শাসক) দুটি ভাস্কর্য উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো প্রায় তিন হাজার বছরের পুরনো বলে জানিয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার কায়রোর মাত্তারিয়া জেলা থেকে ভাস্কর্যগুলো পাওয়া যায়। এলাকাটি প্রাচীন মিসরের হেলিওপোলিস শহরের রাজধানী ছিল। ভাস্কর্যগুলোর একটি উদ্ধার করা হয়েছে প্রাচীন মিসরের শাসক দ্বিতীয় রামসেসের মন্দিরে প্রবেশদ্বারের সামনে থেকে। আট মিটার উচ্চতার ভাস্কর্যটি কোয়ার্টজ পাথর দিয়ে খোদাই করা। ভাস্কর্য কার, তা নিশ্চিত হতে পারেননি বিশেষজ্ঞরা। তবে সেটি দ্বিতীয় রামসেসের আদলে তৈরি বলে ধারণা করা হচ্ছে। চুনাপাথর দিয়ে তৈরি অন্য ভাস্কর্যটি সেতি-২-এর। ধারণা করা হচ্ছে, মিসরের ১৯তম রাজবংশের সময়ে তৈরি এগুলো।
রাজবংশটি ১৩১৪ খ্রিস্টপূর্ব থেকে ১২০০ খ্রিস্টপূর্বের মধ্যে মিসর শাসন করেছে। দ্বিতীয় রামসেস ৬৬ বছর (১২৭৯-১২১৩) সেখানকার শাসক ছিলেন। জার্মানি ও মিসর পরিচালিত যৌথ একটি প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে ওই ভাস্কর্য দুটি উদ্ধার করা হয়। অনুসন্ধানে অংশ নেয়া মিসরীয় দলের প্রধান আয়মান আসমায়ি জানান, ভাস্কর্য দুটি প্রাচীন হেলিওপোলিস শহরের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। শহরের অনেক বাসিন্দা এর (প্রাচীন মিসরীয়দের সূর্য দেবতা) পূজা করত। অনুসন্ধানকারীরা পুরো মূর্তিটি মাটির নিচ থেকে তোলার চেষ্টা করছেন। এর পর সেটি অন্য জায়গায় নিয়ে সংস্কার করা হবে বলে জানান অনুসন্ধানে অংশ নেয়া জার্মান দলপ্রধান।

ওবামার ৪৬ অ্যাটর্নিকে পদত্যাগের নির্দেশ

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলে নিয়োগ পাওয়া ৪৬ সরকারি কৌঁসুলিকে (অ্যাটর্নি) একযোগে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এসব আইনজীবীর মধ্যে প্রিত ভারারাও রয়েছেন, যাকে ট্রাম্প গত নভেম্বরে এই পদে থেকে যেতে অনুরোধ করেছিলেন। শুক্রবার মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশন্স আনুষ্ঠানিকভাবে এ নির্দেশ জারি করে বলেন, ‘একসঙ্গে ক্ষমতা হস্তান্তর’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের মুখপাত্র সারাহ ইসগুর ফ্লোরেস এক বিবৃতিতে বলেছেন, নয়া কৌঁসুলিদের নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আগের আইনজীবীরা তাদের দায়িত্ব পালন করে যাবেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কৌঁসুলি রয়েছেন মোট ৯৩ জন। তাদের মধ্যে ৪৭ জনকে এরই মধ্যে পরিবর্তন করে ফেলেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব নেয়ার পরপরই সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে নিয়োগ পাওয়া ওই ৪৭ কৌঁসুলি সরে গিয়েছিলেন। নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নিলে পুরনো সব সরকারি কৌঁসুলিকে পরিবর্তন করা যুক্তরাষ্ট্রের পুরনো ঐতিহ্য। ১৯৯৩ সালে তৎকালীন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন একদিনে ৯৩ আ্যটর্নির সবাইকে পদত্যাগের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে বারাক ওবামা সাবেক প্রেসিডেন্ট বুশের নিয়োগ দেয়া অ্যাটর্নি রব রোসেন্সটেইনকে তার পদে বহাল রেখেছিলেন। ম্যারিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের এ কৌঁসুলিকে জেফ সেশন্সের ডেপুটি করার জন্য মনোনীত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউইয়র্ক টাইমসকে ১০ লাখ ডলার অনুদান অজ্ঞাত ব্যক্তির: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান ধরে রাখতে মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসকে ১০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন এক অজ্ঞাত ব্যক্তি। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তার প্রশাসনের সমালোচনা করে বিভিন্ন সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের তোপের মুখে পড়েছে পত্রিকাটি। এর আগে ১৩ লাখ মার্কিন শিক্ষার্থীকে বিনা মূল্যে পত্রিকার ওয়েবসাইটে প্রবেশের সুবিধা দিতে গত ফেব্রুয়ারিতে ‘স্পন্সর আ সাবস্ক্রিপশন’ নামে একটি প্রোগ্রাম চালু করে নিউইয়র্ক টাইমস। ওই প্রোগ্রামের আওতায় দাতাদের কাছ থেকে অনুদান নিচ্ছে পত্রিকাটি।

বিবাহিতরা যাজক হতে পারবেন

রোমান ক্যাথলিক চার্চে যাজকদের স্বল্পতার কারণে বিবাহিত ক্যাথলিকরাও এখন থেকে ধর্মযাজক হতে পারবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডাই জেইটকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের এ ধর্মগুরু। তিনি বলেন, ক্যাথলিক ধর্মযাজকের অভাব রোমান ক্যাথলিক চার্চের জন্য বড় রকমের সমস্যা।
এজন্য প্রচলিত নিয়মের পরিবর্তন আসতে পারে। খবর সিএনএনের। পোপ বলেন, আমাদের বিবেচনা করতে হবে ‘ভিরি প্রবাতি’ সম্ভব কিনা, যদি সম্ভব হয় তাহলে প্রত্যন্ত এলাকার জন্য তাদের দায়িত্ব কী হওয়া দরকার, তা নির্ধারণ করতে হবে। ভিরি প্রবাতি হল ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ অবিশ্বাস্য রকমের পরীক্ষিত পুরুষ, বিশ্বাসী এবং মহৎ বিবাহিত মানুষ। পোপ বলেন, এ সুযোগে যারা এরই মধ্যে বিয়ে করেছেন, তারা ধর্মযাজক হতে পারবে। কিন্তু অবিবাহিত ধর্মযাজক আর বিয়ে করতে পারবে না। স্বেচ্ছায় কৌমার্য পালন কোনো সমাধান হতে পারে না বলে দাবি করেন পোপ। ক্যাথলিক চার্চ এরই মধ্যে কয়েকজন বিবাহিত ধর্মযাজককে চার্চে নিয়োগ করেছেন। স্ত্রীর অনুমতিক্রমে একজন প্রটেস্ট্যান্ট বিবাহিত যাজক চাইলেই পরিবর্তিত হয়ে বিবাহিত অবস্থায় রোমান ক্যাথলিক যাজক হতে পারবেন। ক্যাথলিক চার্চগুলো রোমান ক্যাথলিক চার্চের সঙ্গে আলোচনা করে বিবাহিত পাদ্রি নিয়োগের ধারা অব্যাহত রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন পোপ। বাইবেলের ওপর নির্ভর করে রোমান ক্যাথলিকরা বিশ্বাস করেন, পাদ্রিদের বিয়ে করা উচিত নয়। তারা বিশ্বাস করেন, যিশুখ্রিস্টের মতো তাদেরও কৌমার্য পালন করতে হবে।

উত্তরপ্রদেশে কেন মোদি ঝড়

নজিরবিহীন ঝড় তুলে উত্তরপ্রদেশ দখলের পথে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এক মাস ধরে ৭ ধাপের নির্বাচন শেষে শনিবার উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। সব পূর্বাভাস ভুল প্রমাণিত করে রাজ্যের ৪০৩ আসনের মধ্যে ৩ শতাধিক আসনে জয় নিশ্চিত করেছে মোদি-অমিত শাহর দল। উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ডে রেকর্ড গড়ে অমিত শাহর দৃষ্টি এখন হিমাচল ও প্রধানমন্ত্রীর নিজের রাজ্য গুজরাটের দিকে।
হিন্দুস্থান টাইমস এক প্রতিবেদনে বলেছে, উত্তরপ্রদেশে বিজেপির এ জয় ভারতীয় গণতন্ত্রের এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। কেননা, গত ২৫ বছরে কোনো দলই ক্ষমতাকেন্দ্র দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। ভারতীয় রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং ২০ কোটি নাগরিকের আবাস এই উত্তরপ্রদেশে বিজেপির মতো আর কোনো দলই এত কম সময়ে সামাজিক ভিত্তি বিস্তার করতে সক্ষম হয়নি। জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে বর্তমানে বিজেপি যে প্রভাব-প্রতিপত্তির চর্চা করছে, বিংশ শতাব্দীর ৬০-এর দশকের পর থেকে কোনো দলের ক্ষেত্রে তা কমই দেখা গেছে। ভারতের পশ্চিমাংশে বিজেপির অবস্থান আগের থেকেই বেশ শক্তিশালী এবং তা পূর্বাঞ্চলের দিকে বিস্তৃত হচ্ছিল। তবে ভারতীয় রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র উত্তরপ্রদেশে তেমন অবস্থান ছিল না বিজেপির। তাহলে উত্তরপ্রদেশ কীভাবে জয় করল বিজেপি?
মোদি সরকারের জনপ্রিয়তা : মোদি সরকারের জনপ্রিয়তা উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে ব্যাপক জয় পেতে সহায়তা করেছে। মোদির নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত সাময়িক সমস্যা তৈরি করলেও মোদি সরকারের প্রতি বিশ্বাস হারায়নি জনগণ। বেরেলি থেকে বালিয়া, মিরুত থেকে গোরখপুর, শ্রাবস্তী থেকে কাশী পর্যন্ত ভোটাররা কেন ও কাকে ভোট দিয়েছে সে ব্যাপারে একটা স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, মোদি একজন দৃঢ়চেতা নেতা। কেউ বলেছেন, বিদেশে ভারতের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছেন মোদি। কেউ বলেছেন, মোদি হচ্ছেন মা ও মাটির নেতা। কেউ বলেছেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ফিরিয়ে আনছেন মোদি। ভোটাররা বলেছেন, মোদি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা তিনি বাস্তবায়ন করছেন। তিনি ধনী ও দুর্নীতিপরায়ণদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন। উত্তরপ্রদেশে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন মোদি। জনগণকে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের সরকার এক হলে, তারা বেশি বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে। মোধির এ প্রতিশ্রুতিতে ব্যাপকভাবে সাড়া দিয়েছে উত্তরপ্রদেশের জনগণ।
৬০ শতাংশ ভোটার ফর্মুলা : উত্তরপ্রদেশের বারানসিতে বিজেপির একজন শীর্ষ নেতা হিন্দুস্থান টাইমসকে বলেন, ভাই সাহেব, মোদির ৬০ শতাংশ ভোটার ফর্মুলা কাজে দিচ্ছে। তিনি বিষয়টা ব্যাখ্যা করে বলেন, বিজেপি জানত যে, মুসলিমরা ও যাদব সমর্থক এবং জাট সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ ভোটার বিজেপিকে ভোট দেবে না। এজন্য মুসলিম ও জাট সম্প্রদায়ের ৪০ শতাংশ ভোট বাদ রেখে অবশিষ্ট ৫৫-৬০ শতাংশ ভোটব্যাংককে টার্গেটে নিয়ে প্রচারণা চালায় বিজেপি। এ উদ্দেশেই হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় সামাজিক ভিত্তি গড়ে তোলে দলটি। এভাবে ১৯৯১ সালে বিধানসভা নির্বাচনেও উত্তরপ্রদেশে সবচেয়ে ভালো ফল করেছিল বিজেপি। নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন কল্যাণ সিং। উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের নিয়ে গঠিত একটি জোট নজিরবিহীন এ সাফল্য এনে দেয়। হিন্দুত্বের তাস : মোদি সরকারের জনপ্রিয়তা, মোদির নিজের ব্রান্ড এমনকি বহু বর্ণের জোট গঠন সম্ভবত বিজেপির জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না, আর এজন্যই বিজেপি সতর্কতার সঙ্গে হিন্দুত্বের তাস ব্যবহার করেছে।
মনিপুরে ইরম শর্মিলার শোচনীয় পরাজয়
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মনিপুরে বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে হেরেছেন আলোচিত অধিকারকর্মী ইরম শর্মিলা। এর মধ্য দিয়ে কার্যত শেষ হয়ে গেল ‘লৌহমানবী’ হিসেবে পরিচিত শর্মিলার অধিকার আদায়ের টানা ১৬ বছরের লড়াই। কেননা তিনি আগেই ঘোষণা দিয়েছেন- নির্বাচনে হারলে রাজনীতি ও আন্দোলনের মাঠ দুটোই ছেড়ে সংসারজীবন শুরু করবেন। খবর এনডিটিভির। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিতে শর্মিলা দীর্ঘদিনের অনশন ভাঙেন। গঠন করেন নতুন রাজনৈতিক দল পিপলস রিসার্জেন্স অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স (পিআরজেএ)। স্থানীয় থৌবল কেন্দ্র থেকে অংশ নেন নির্বাচনে। শনিবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী ও রাজ্যের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী ওকরাম ইবোবি সিংহের কাছে হেরেছেন তিনি। শর্মিলা পেয়েছেন মাত্র ৯০ ভোট।
অন্যদিকে ওকরামের প্রাপ্ত ভোট ১০ হাজার ৭৪০। রাজ্যে ৬০টি আসনের মধ্যে শর্মিলার দল পিআরজেএ ১টি আসনেও জয় পায়নি। ২০০০ সালে মনিপুরে বিতর্কিত সেনা আইন ‘আফস্পা’ প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শর্মিলা। আন্দোলনের ভাষা হিসেবে বেছে নেন অনশন। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর ২০১৬ সালে তিনি স্বেচ্ছায় অনশন ভাঙেন এবং নির্বাচনে অংশ নেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু পিআরজেএ অর্থাভাবে প্রচারণা চালাতে পারছিল না। এ সময় শর্মিলার পাশে দাঁড়ান দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি শর্মিলার নির্বাচনী তহবিলে ৫০ হাজার রুপি দান করেন।

যৌতুকের মামলায় অতিরিক্ত ডিআইজির জামিন

স্ত্রীর করা যৌতুকের মামলায় পুলিশের চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সাখাওয়াত হোসাইনকে জামিন দিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম প্রণব কুমার হুই এ আদেশ দেন। আদালতে সাখাওয়াত হোসেন আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। বিচারক পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর আদালতে স্ত্রী ফারজানা শারমীন হোসেন যৌতুক আইনের ৪ ধারায় সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
ওইদিন বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে ডিআইজিকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেন। মামলায় ৬০ লাখ টাকা যৌতুকের অভিযোগ আনা হয়। মামলার নথি থেকে জানা যায়, বিয়ের পর থেকে ফারজানার সঙ্গে সাখাওয়াতের বনিবনা হচ্ছিল না। এ নিয়ে দু'জনের মধ্যে ঝগড়া হয়। সাখাওয়াত মদ্যপ অবস্থায় প্রায়ই বাড়ি ফেরেন এবং কারণ জিজ্ঞেস করলে ফারজানাকে মারধর করেন। এরপরও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ফারজানা অত্যাচার সহ্য করেন। এ অবস্থার মধ্যেই ফারজানা জানতে পারেন, সাখাওয়াত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সাফায়েত হোসেনের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ফারজানার সঙ্গে ঝগড়া হয় সাখাওয়াতের। এছাড়া ফারজানার কাছে ফ্ল্যাট কিনতে ৬০ লাখ টাকা যৌতুক চান সাখাওয়াত। এরপর স্বামীর বিরুদ্ধে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর মামলাটি করেন ফারজানা।

ট্যানারি বন্ধের আদেশ আপিলেও বহাল

সাভার শিল্পাঞ্চলে স্থানান্তরে ব্যর্থ হাজারীবাগের সব ট্যানারির কার্যক্রম বন্ধে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। রোববার প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে ট্যানারি কারখানাগুলোর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্নের হাইকোর্টের আদেশও বহাল রেখেছেন আদালত। এর ফলে হাজারীবাগে আর কোনো ট্যানারি কারখানা থাকতে পারছে না। গত ৬ মার্চ হাইকোর্ট ট্যানারিগুলো বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে ট্যানারি মালিকদের সংগঠন ফিনিশড লেদার গুডস অ্যান্ড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। সরকার ১৯৮৬ সালে ৯০৩টি শিল্পকারখানাকে পরিবেশ দূষণকারী হিসেবে চিহ্নিত করেন। এর মধ্যে হাজারীবাগের চামড়া শিল্পগুলো ছিল অন্যতম। এর পরিপ্রেক্ষিতে বেলা ১৯৯৪ সালে রাজধানীর পরিবেশ দূষণ রোধে দূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবিতে হাইকোর্টে একটি রিট মামলা দায়ের করে। ওই মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০০১ সালের ১৫ জুলাই হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ রায় প্রদান করেন। রায়ে পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৯৭-এর বিধি ৭-এর আলোকে ‘লাল’ শ্রেণীভুক্ত শিল্প কারখানাগুলো যেন এক বছরের মধ্যে এবং ‘কমলা-ক’ এবং ‘কমলা-খ’ শ্রেণীভুক্ত শিল্প কারখানাগুলো যেন দুই বছরের মধ্যে দূষণরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। আদালত উল্লিখিত সময়ের মধ্যে এই নির্দেশ কার্যকর করে গৃহীত পদক্ষেপ আদালতকে জানাতে নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সাত-আট বছর অতিবাহিত হলেও হাইকোর্টের নির্দেশ মোতাবেক কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে একটি আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০০৯ সালের ২৩ জুন,
২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে হাজারীবাগের সব ট্যানারি সরিয়ে নেয়ার জন্য দ্বিতীয় দফায় নির্দেশ দেন। স্থানান্তরে ব্যর্থ হলে পরিবেশ অধিদফতরকে ট্যানারি কারখানাগুলো বন্ধের নির্দেশ দেন। পরে শিল্প মন্ত্রণালয় সিইটিপি নির্মাণের জন্য দফায় দফায় আদালতের নির্ধারিত সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করে। আদালত সর্বশেষ ২০১০ সালের ৩০ অক্টোবর ছয় মাসের সময় বৃদ্ধি করেন। কিন্তু বর্ধিত সময়ের মধ্যে কাজ না হওয়ায় হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে ২০১৪ সালে আবারও একটি আদালত অবমাননার মামলা করা হয়। এ আবেদনের শুনানি নিয়ে শিল্প সচিব ও ট্যানারি মালিকদের হাইকোর্টে তলব করা হয়। সর্বশেষ হাজারীবাগের সব ট্যানারিকে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেয়া হয়। জরিমানার আদেশ বহাল থাকাবস্থায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব একতরফাভাবে আদালতের অনুমতি ছাড়া হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তরের সময়সীমা ২০১৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার আইনগত বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বেলা গত ৩ জানুয়ারি একটি আবেদন দায়ের করে। বেলার আবেদনের শুনানি নিয়ে ৬ মার্চ হাজারীবাগের সব ট্যানারি বন্ধের আদেশ দেয়া হয়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাভারে প্লটপ্রাপ্ত ১৫৪টি ট্যানারির মধ্যে কেবলমাত্র ৪৩টি ট্যানারি সাভারে স্থানান্তর হয়েছে। বাকি ১১২টি ট্যানারি হাজারীবাগে থেকেই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

গারো তরুণী ধর্ষণ মামলার প্রতিবেদন দাখিল পেছাল

রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় গারো তরুণীকে জোর করে তুলে নিয়ে ধর্ষণ ঘটনার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আগামী ৩ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত। মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে ধার্য দিনে রোবাবার সময় বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর করে ঢাকা মহানগর হাকিম মাজহারুল হক এ দিন ধার্য করেন।
গত বছরের ২৫ অক্টোবর বিকালে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার তিন নম্বর লেনের হাসান উদ্দিন সড়ক থেকে এক গারো তরুণীকে তুলে নিয়ে যান রাফসান হোসেন রুবেল নামের এক যুবক। পরে তাকে প্রাণের ভয় দেখিয়ে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় রুবেলকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করেন ওই গারো তরুণী। মামলার পর পুলিশ রুবেলকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

৬ মাস সময় পেল বিজিএমইএ

অবৈধভাবে গড়ে তোলা তৈরি পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ভবন ছয় মাসের মধ্যে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষের এক আবেদনের শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেন। গত ৮ মার্চ ওই ভবন থেকে বিজিএমইএ'র কার্যালয় অন্যত্র সরিয়ে নিতে তিন বছর সময় চেয়ে একটি আবেদন করেছিল কর্তৃপক্ষ। সেই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আপিল বিভাগ ভবন ভাঙতে ছয় মাস সময় বেধে দিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। এ মামলায় হাইকোর্টে অ্যামিকাস কিউরির দায়িত্ব পালন করা মনজিল মোরসেদ আরও বলেন, 'আদালত ছয় মাসের মধ্যে ভবনটি ভেঙে ফেলতে বলেছে। আমরা এই আদেশে সন্তুষ্ট। আইনের হাত অনেক লম্বা।
আবারও প্রমাণিত হল, কেউ আইনি প্রক্রিয়ার ঊর্ধ্বে নয়।' এর আগে গত ৫ মার্চ আপিল বিভাগ ভবনটি ভেঙে ফেলতে দেয়া রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউয়ের) আবেদন খারিজ করে দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। বিজিএমইএ'র পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম। হাইকোর্ট ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল ভূমির মালিকানা স্বত্ত্ব না থাকা এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও জলাধার আইন ভঙ্গ করায় বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ অবৈধ ঘোষণা করে। ওই রায়ে ৯০ দিনের মধ্যে ভবনটি ভেঙে মাটির সঙ্গে গুঁড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়। এর বিরুদ্ধে বিজিএমইএ লিভ টু আপিল করলে গত বছরের ২ জুন আপিল বিভাগ সে আবেদন খারিজ করে দেন। এরপর গত বছরের ৮ নভেম্বর রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের পূর্ব পাশে অবস্থিত বিজিএমইএ'র ১৬ তলা ভবনটি অবিলম্বে সংগঠনের নিজ খরচায় ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভারতীয় সেনার স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সদস্যদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে প্রথমবারের মতো উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে এ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারত সরকার, ভারতীয় সেনাবাহিনী ও জনগণের অবদান ব্যাপক। বিশেষত গোলাবারুদ ও প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সম্মুখ সমরে শহীদ ভারতীয় সেনা সদস্যদের কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। ২ ফেব্রুয়ারি প্রস্তাবের ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) বৈঠক করে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ।
বর্তমানে প্রকল্পটি অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে সদ্য অবসরে যাওয়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল হান্নান বুধবার যুগান্তরকে বলেন, মিত্রবাহিনীর সদস্যদের জন্য এর আগে কাগজে-কলমে বা ফরমাল আর কোনো স্মৃতিস্তম্ভ হয়নি। এটাই প্রথম স্মৃতিস্তম্ভ করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখা সম্ভব হবে। পরিকল্পনা কমিশনে পিইসি সভায় অংশ নেয়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পারভীন আখতার যুগান্তরকে বলেন, হ্যাঁ, আমরা ভারতীয় মিত্রবাহিনীর শহীদ হওয়া সদস্যদের জন্য স্মৃতিস্তম্ভ করছি। তবে আশুগঞ্জে কেন তৈরি করা হচ্ছে, এমন প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি তিনি। সূত্র জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে এ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ কোটি ৭৪ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। চলতি বছর থেকে ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ স্মৃতিস্তম্ভে পার্ক, আন্ডারপাস, ফুডকোর্ট ও বিদ্যুতের সাব-স্টেশনসহ বিভিন্ন বিষয় যুক্ত থাকবে। প্রকল্পটির বেশকিছু বিষয়ে মতামত তুলে ধরা হয়েছে পিইসি সভায়। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের স্বাক্ষরিত মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর (এমটিবিএফ) বরাদ্দ সংক্রান্ত তথ্য ও প্রত্যায়নপত্র চাওয়া হয়েছে। এছাড়া মিত্রবাহিনীর যেসব শহীদ সদস্যের নাম স্মৃতিস্তম্ভের ফলকে খচিত থাকবে তাদের তালিকা প্রণয়নের তাগিদ দেয়া হয়েছে।
সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত অধিদফতরের সমন্বয়ে প্রকল্পটির বাস্তবায়নপরবর্তী ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালনের বিষয়ে মত দেয়া হয়। প্রকল্পের প্রস্তাবিত সেবা ও সরবরাহ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, গাড়ি ক্রয় এবং বৈদেশিক প্রশিক্ষণ খাত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। পরবর্তীতে সরবরাহ ও সেবা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতের ব্যয় যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ এবং গাড়ি কেনার পরিবর্তে গাড়ি ভাড়ার সংস্থান রাখা এবং বৈদেশিক ভ্রমণ খাত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) থেকে বাদ দেয়ার বিষয়ে সবপক্ষই একমত পোষণ করে। পিইসি সভার কার্যবিরণী সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাবিত বিজ্ঞাপন ব্যয়, গণপূর্ত ও স্থাপত্য অধিদফতরের অনুকূলে ব্যয় বা বরাদ্দ যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ এবং পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালকের পরিবর্তে খণ্ডকালীন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। সভায় প্রকল্পের আওতায় পার্ক, আন্ডারপাস, ফুডকোর্ট ও সাব-স্টেশন ইত্যাদি ব্যবস্থাপনার জন্য নীতিমালাসহ লিজ দেয়া এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক টয়লেট স্থাপন ও গাড়ি পার্কিং তৈরির বিষয়ে মতামত দেন বাস্তবায়ন, পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিনিধি। তিনি বলেন, টয়লেটগুলো মূল ফটকের পাশে স্থাপন না করে উপযুক্ত স্থানে স্থাপন করতে হবে। এছাড়া প্রকল্পের ক্রয় পরিকল্পনায় সমজাতীয় প্যাকেজগুলো একসঙ্গে করে গুডস ও ওয়ার্কসের প্যাকেজ সংখ্যা যথাসম্ভব সীমিত রাখার তাগিদ দেন তিনি।

লুটের লক্ষ্যেই সরকার গ্যাস ব্যবসায়ীদের সুযোগ দিচ্ছে

গ্যাস শেষ হয়ে যাচ্ছে- এসব কথা বলে বলে সরকার মূলত বিদেশী কোম্পানিগুলোকে ব্যবসার সুযোগ করে দিচ্ছে। গ্যাস উত্তোলনে দেশীয় কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা নেই বলে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তাও মূলত লুটপাটের জন্যই। শনিবার দুপুরে রাজধানীর মুক্তিভবন মিলনায়তনে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত ‘বাংলাদেশ গ্যাস সম্পদ, জাতীয় সক্ষমতা ও জ্বালানি খাতে সরকারী নীতি’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এসব অভিযোগ করা হয়েছে। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষকে নিঃস্ব করে সরকার নিজেকে বিত্তশালী দেখাতে চাচ্ছে। একই সঙ্গে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ব্যবসায়ীদের হয়ে কাজ করছে সরকার। গ্যাস উত্তোলনে ৫৯ ভাগ ক্ষেত্রেই বিদেশী কোম্পানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে আমাদের। অথচ দেশীয় কোম্পানিগুলোকে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. বদরুল ইসলাম, অধ্যাপক এম এম আকাশ, গণসংহতির প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি, কমিটি নেতা মোশাররফ হোসেন নান্নু, বজলুর রশিদ ফিরোজ, ফখরুদ্দিন কবির আতিক প্রমুখ। মতবিনিময় সভায় মূল প্রতিপাদ্য পাঠ করেন অধ্যাপক মোশায়দা সুলতানা ঋতু। শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, বিদেশীদের হয়ে কাজ করতেই উদ্দেশ্যমূলকভাবে দেশীয় কোম্পানিগুলোকে সক্ষমহীন করে তোলার পাশাপাশি হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করতে মূলত এলপিজি ও এলএনজি গ্যাস ব্যবসায়ীদের সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, গ্যাস রফতানি চুক্তি বন্ধ করতে হবে। দায়মুক্তি আইনের মাধ্যমে সরকার কোটি কোটি টাকা লুটপাট করছে।
এ আইনটি ২০২০ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। তিনি আশংকা প্রকাশ করে বলেন, এ সময়ে লুটপাট আরও বাড়বে। অভিযোগ করেন, গ্যাসের দাম বাড়িয়ে কারও কারও পকেট ভারি করা হচ্ছে। অনাবিষ্কৃত হ্যাস উত্তোলন ১০ বছর ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের ১৫ হাজার কোটি টাকা নিয়েও প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, এতগুলো টাকা কোথায় গেল? কে দেবে এর জবাব। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করে আনু মুহাম্মদ বলেন, অর্থমন্ত্রী বলছেন, বিশ্বে তেল ও গ্যাসের দাম যেহেতেু কমছে বাংলাদেশেও তেল ও গ্যাসের দাম কমানো হবে। আর বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলছেন, তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হবে এবং তা ক্রমান্বয়ে বাড়বে। অর্থমন্ত্রী নিজেই জানেন না কী করে তেল গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে। আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, সরকার বাপেক্সকে পঙ্গু করে এখানে শেভরন, কেয়ার্ন, শেল, ইউনিকল, সান্তোস, কনকো ফিলিপসের স্বার্থ দেখছে। সম্প্রতি চীন, ভারত, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক স্বার্থ ঊর্ধ্বে রেখে রফতানিমুখী চুক্তিসহ নানা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর ফলে দেশের মানুষ স্থল, জলভাগের গ্যাসের কোনো সুবিধাই পাবে না। সভায় গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং রফতানিমুখী গ্যাস চুক্তির আয়োজন বন্ধ করে সুন্দরবন বিনাশী রামপাল প্রকল্প বাতিলসহ জাতীয় কমিটির সাত দফা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। অধ্যাপক এমএম আকাশ বলেন, গ্যাস উত্তোলনে বিদেশীনির্ভরতা ত্যাগ করে দেশীয় কোম্পানিগুলোকে স্বয়ংস্পূর্ণ করতে হবে। বিশ্বে যখন তেল ও গ্যাসের দাম কমছে তখন বাংলাদেশে কেন দাম বাড়ছে। এর জবাব সরকার দিচ্ছে না। বিদেশনির্ভর আমাদের সরকারের কি হাত-পা বাঁধা, তা আমরা জানতে চাই।

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদে হতাশা থেকে জঙ্গিবাদে অমি

পারিবারিক হতাশা কুরে কুরে খাচ্ছিল ইংরেজি মাধ্যমে লেখাপড়া করা এ-লেভেলের ছাত্র জঙ্গি ইমতিয়াজ তালুকদার অমিকে। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদই হতাশাগ্রস্ত করে তুলে কুমিল্লায় পুলিশের ওপর হামলাকারী এই জঙ্গিকে। আর একেই কাজে লাগায় জঙ্গিরা। ইংরেজিতে পারদর্শী ও অনলাইন যোগাযোগে দক্ষ সেনা কর্মকর্তার ছেলে অমি এক পর্যায়ে জঙ্গিদের বিভিন্ন সাইটে ঢুকে তাদের লেখাগুলো পড়ে নিজেকে বদলে ফেলেন। এছাড়া ফেসবুক-টুইটারে জঙ্গিদের বিভিন্ন পোস্টগুলোও তাকে জঙ্গিবাদে ধাবিত করে দ্রুত। যোগাযোগে দক্ষতার কারণে সে সহজেই নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় নিহত নব্য জেএমবির সমন্বয়ক তামিম আহমেদ চৌধুরীর প্রিয় পাত্র হয়ে ওঠে। টুইটারেই তামিমের সঙ্গে তার পরিচয় এবং সেই থেকে ঘনিষ্ঠতা। তুরস্কে নিহত আইএসের জঙ্গি জিলানী ওরফে আবু জান্দালের সঙ্গে ইমতিয়াজের যোগাযোগ ছিল। মূলত জিলানীর হাত ধরেই সে নব্য জেএমবিতে নাম লেখায়। জিলানীই তাকে ‘কথিত জিহাদে’ যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করে। অবশেষে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সে ঘর ছাড়ে। ইমতিয়াজ এখন কুমিল্লার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে পুলিশকে এসব তথ্য জানিয়েছে। সুস্থ হলে তাকে রিমান্ডে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) ও কুমিল্লা ডিবি পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অমি মূলত নব্য জেএমবির সাংগঠনিক কাজ করত। ফলে বিভিন্ন জঙ্গি আস্তানায় তার যাতায়াত ছিল। অভিযানের কয়েকদিন আগেও সে নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার আস্তানায় তামিমের সঙ্গে ছিল। অভিযানের আগে সাংগঠনিক কাজে তামিম তাকে বাইরে পাঠায়। মেধাবী হওয়ার কারণে তামিম তাকে অপারেশনাল সেলে অন্তর্ভুক্ত না করে সাংগঠনিক কাজে লাগায়। অল্প দিনের মধ্যেই সে তামিমের আস্থাভাজন হয়ে ওঠে। পুলিশ সদর দফতরের একজন কর্মকর্তা জানান, অমি পারিবারিক কারণে হতাশ ছিল। বিশেষ করে তার বাবা-মায়ের মধ্যে যোগাযোগ ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে তার মধ্যে হতাশা কাজ করছিল। এদিকে পুলিশের ওপর আরেক হামলাকারী জঙ্গি মাহমুদ হাসান কনভার্টেড রোহিঙ্গা। তার বাবা বাংলাদেশী। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এখন সে পুলিশের সিটিটিসি ইউনিটের হেফাজতে। কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মঞ্জুর আলম যুগান্তরকে বলেন, জঙ্গি মাহমুদ হাসানকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপরদিকে ইমতিয়াজ সুস্থ হলে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তারা দু’জনেই নব্য জেএমবির বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।
তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। একজন দায়িত্বশীল গোয়েন্দা কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, তামিমসহ নব্য জেএমবির শীর্ষ কয়েকজন জঙ্গির মৃত্যুর পর মাইনুল ইসলাম ওরফে মুসা সংগঠনটির সমন্বয়কের দায়িত্ব পান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অমি বলেছে, মুসার নেতৃত্বে অধিকাংশ জঙ্গি এখন চট্টগ্রাম এলাকায় রয়েছে। তারা বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনাও করছে। তাদের একটি গ্রুপ যাত্রাবাড়ী এলাকায় অবস্থান করছে বলেও সে তথ্য দিয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে যাত্রাবাড়ীর আস্তানায় বিস্ফোরক পৌঁছে দেয়ার কথা ছিল হামলাকারী দুই জঙ্গির। কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, অমি সাংগঠনিক কাজ করলেও সে প্রশিক্ষণ নিয়ে রেখেছে। জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী জঙ্গি হাদিুসর রহমান সাগর তাকে অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এই সাগর গুলশান হামলার অপারেশনাল কমান্ডার নুরুল ইসলাম মারজানের ভগ্নিপতি। সম্প্রতি মারজান পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা গেছে। অমিকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ : কুমিল্লা ব্যুরো জানায়, অসুস্থ অমিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিন দিন ধরে পুলিশের জঙ্গি দমন বিভাগ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এদিকে তার সহযোগী মাহমুদ হাসানকে ঢাকায় নেয়া হয়েছে। সেখানে তাকে নিয়ে বিভিন্ন জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চলছে বলে জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে। মঙ্গলবার কুমিল্লার চান্দিনায় তল্লাশির সময় বাস থামালে দুই জঙ্গি বাস থেকে নেমে স্কুলব্যাগ ভর্তি বোমা নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। এ সময় দুই জঙ্গিকে পুলিশ ও জনতা আটক করে।

ওয়্যারলেস-হ্যান্ডকাপসহ ৬ ভুয়া ডিবি গ্রেফতার

পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিচয়ে ডাকাতি করে এমন একটি চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। শুক্রবার বিকালে রাজধানীর কদমতলী এলাকার আলম মার্কেটের সামনে থেকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন জাহাঙ্গীর আলম শাকিল, মো. মামুন হোসেন, আমিন গাজী, রনি মাহাবুব, ইব্রাহীম ও শাখাওয়াত হোসেন সজিব।
শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর ডিবি পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি-উত্তর) শেখ নাজমুল আলম বলেন, এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকায় বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থান করে ব্যবসায়ীদের টার্গেট করতো। পরে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে ডাকাতি করতো। ডাকাতির পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইও করতো তারা। তিনি বলেন, তাদের কৌশল হচ্ছে চক্রটির সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাইক্রোবাস নিয়ে অবস্থান করতো। সুযোগ বুঝে পথচারীদের মাইক্রোবাসে তুলে সব কেড়ে নিয়ে ফাঁকা রাস্তায় ফেলে যেতো। ডিবি জানায়, ডাকাত চক্রের সদস্যদের কাছে একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, ওয়্যারলেস ও হ্যান্ডকাপ উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে কদমতলী থানায় মামলা হয়েছে।

নৌবাহিনী এখন ত্রিমাত্রিক বাহিনী: প্রধানমন্ত্রী

‘নবযাত্রা’ ও ‘জয়যাত্রা’ নামে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহরে প্রথমবারের মতো যুক্ত হল দু’টি সাবমেরিন। রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম নেভাল একাডেমির জেটি সংলগ্ন এলাকায় এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চীন থেকে কেনা দু’টি সাবমেরিনের কমিশনিং অনুষ্ঠিত হয়। এরপর প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এই মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে শত্রুবাহিনীকে বিতাড়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ দেশের সব শ্রেণী-পেশার মানুষ তাঁর নির্দেশে দেশকে শত্রুমুক্ত করলেন-স্বাধীন করলেন। তিনি বলেন, 'সেই মার্চেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের প্রতিরক্ষা নীতির আলোকে নৌবাহিনীতে যুক্ত হল সাবমেরিন, যা বিশ্বে মাত্র অল্প ক'টি দেশ যুক্ত হতে পেরেছে। আমরা সেই কাতারে যুক্ত হতে পারলাম, এজন্য গর্ববোধ করছি।' শেখ হাসিনা বলেন, 'আজ আমরা নৌবাহিনীকে ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে পেরেছি। যারা সমুদ্র, আকাশ এবং স্থলভাগে শত্রুমুক্ত করতে পারঙ্গম। আমরা অতি অল্প সময়ের মধ্যে নৌবাহিনীতে অনেক আধুনিক যুদ্ধ জাহাজ সংযুক্ত করেছি।' তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছরে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তুলেছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতে আশ্রয় নেয়াদের পুনর্বাসন করেছেন। এই অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নৌবাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনীকে গড়ে তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিরক্ষা নীতির আলোকেই আমরা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে গড়ে তুলছি, আধুনিকায়ন করছি। সাবমেরিনের প্রথম ক্রুদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, বাঙালি জাতির ইতিহাস বীরের ইতিহাস।
কাজেই আমি বিশ্বাস করি আপনারা নিজের মেধা ও পেশাগত কশরতের মাধ্যমে নৌবাহিনীর এই আধুনিক অভিযাত্রায় সফল হবেন। দেশের সমুদ্র সম্পদ আহরণ ও প্রতিরক্ষায় নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করবেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কারও সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হতে চাই না। তবে আমরা যদি আক্রান্ত হই তাহলে যেন উপযুক্ত জবাব দিতে পারি তার জন্য আমাদের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। শক্তি বজায় থাকলেই উন্নতি ত্বরান্নিত হবে এবং নিরাপদে থাকব সেটি আমরা বিশ্বাস করি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৫-এর পর যারা সংবিধান লংঘন করে ক্ষমতায় এসেছে তারা দেশ ও জাতির জন্য কিছুই করেনি। দেশের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়নি। তিনি বলেন, আমরা স্থলসীমান্ত ও সমুদ্রসীমার অধিকার সংরক্ষণে সক্ষম হয়েছি। ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত এবং ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমার অধিকার ছিনিয়ে এনেছি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দৃড় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, 'আমরা আমাদের ভূ-খণ্ড নিরাপদ রাখব। এই ভূ-খণ্ড ব্যবহার করে আমরা কাউকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে দেব না। সেজন্য সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।'  ‘নবযাত্রা’ ও ‘জয়যাত্রা’ নামে বাংলাদেশের প্রথম সাবমেরিন গত বছরের ২২ ডিসেম্বর চীন থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হয়। এর আগে ১৪ নভেম্বর এই সাবমেরিনগুলো বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করে চীন।

ক্যান্সার নিয়ে ক্ষুব্ধ গৃহবধূর আত্মহত্যা

ক্যান্সার নিয়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে শেফালী বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। রোববার সকালে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার কাজীবাকাই উত্তর ভাউতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শেফালী বেগম একই এলাকার সুরফান সরদারের স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানায়, শেফালী বেগম দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার রোগে ভুগছেন। অনেক চিকিৎসা করেও ভালো না হওয়ায় নিজের ওপর ক্ষুদ্ধ হয়ে তিনি বাড়ির পাশের একটি গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ডাসার থানার এসআই আব্বাশ হোসেন জানান, গৃহবধূর লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

রাজশাহীতে জেএমবি-হিযবুত তাহরীরের ৩ সদস্য গ্রেফতার

রাজশাহীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) তালিকাভুক্ত এক সদস্য ও হিযবুত তাহরীরের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার দিনগত রাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে বাগমারা ও পবা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- পুলিশের তালিকাভুক্ত জেএমবি সদস্য বাগমারার ঝিকড়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাক এবং পবা উপজেলার নওহাটা এলাকার শরিফুল ইসলামের ছেলে হিযবুত তাহরীরের সদস্য আরিফুল ইসলাম সদয় (২৮) ও  গোলাম মোস্তফার ছেলে মানসুর রহমান (২৭)। আরিফুল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের ছাত্র। মানসুরও রাজশাহী কলেজের ভূগোল বিভাগে পড়াশোনা করতেন। রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী জানান, উপজেলার ঝিকড়া গ্রাম থেকে জেএমবি সদস্য আবদুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করা হয়। রাজ্জাক কিছুদিন পর পর নিরুদ্দেশ হয়ে যেতেন।
পরে গোয়েন্দা নজরদারি ছিল তার ওপর। সম্প্রতি সে বাড়ি ফিরে আসে। এরপরই তাকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া আরিফুল ও মানসুর দুই বন্ধু মিলেই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীরের কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন। পবা থানার ওসি পরিমল কুমার চক্রবর্তী জানান, আরিফুল ও মানসুরের বিরুদ্ধে ঢাকার পল্টন থানায় নাশকতার মামলা রয়েছে। এর আগে ২০১৩ সালে তারা ঢাকায় আটক হয়েছিলেন। সম্প্রতি এলাকায় ফিরে তারা আবার এই নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে স্থানীয়দের সংগঠিত করার চেষ্টা করছিলেন বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রামে ১৭ 'জঙ্গি' আটক

চট্টগ্রাম নগরীতে অভিযান চালিয়ে ১৭ 'জঙ্গি সদস্যকে' আটকের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, আটক ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত তিনটি জঙ্গি সংগঠনের সদস্য। সংগঠন তিনটি হলো- হিজবুত তাহরীর, হিজবুত তাওহীদ ও আহলে হাদিস। শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। নগরীর ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম এই তথ্য জানান। তবে আটকদের নাম-পরিচয় জানানো হয়নি। এছাড়া নগরীর কোন কোন এলাকা থেকে এসব 'জঙ্গি সদস্যদের' আটক করা হয়েছে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ কিছু জানায়নি।
ডাবলমুরিং থানার ওসি জানান, শনিবার সন্ধ্যায় ডবলমুরিং থানার ঈদগাহ কাঁচা রাস্তার একটি দোকানে 'জঙ্গিরা' গোপন বৈঠক করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরো ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, আটক 'জঙ্গি সদস্যরা' নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিজবুত তাহরীর, হিজবুত তাওহীদ ও আহলে হাদিসের সক্রিয় সদস্য। অভিযান কালে তাদের কাছ থেকে 'জিহাদি বই' ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরে সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানানোর কথা বলেন তিনি।

সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা

নির্ধারিত সময়ে সম্মেলন করতে ব্যর্থ হওয়ায় সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদ এসএম জাকির হোসাইনের স্বাক্ষরিত এক পত্রে শনিবার রাতে এই তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কমিটির বিলুপ্তির পর আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হতে আগ্রহী ছাত্র নেতাদেরকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল নেতাদের নিকট জীবনবৃক্তান্ত পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি দায়িত্ব পাবার পরই সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগকে কয়েক দফা সম্মেলনের নির্দেশনা দেন। কিন্তু  জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বশীলরা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সম্মেলন করতে বারবার অপারগতা জানিয়ে আসছিলেন। গত বছর প্রতিটি উপজেলায় কমিটি গঠন ও পরবর্তীতে সম্মেলন করার কথা থাকলেও সেটাও করতে পারেনি জেলা ছাত্রলীগ। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ এসব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সম্মেলন করার জন্য নির্দেশনা দেয় জেলা ছাত্রলীগকে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এক লিখিত নির্দেশে ১১ মার্চ শনিবার সম্মেলনের সময় বেধে দেয়া হয়। কিন্তু তাতেও ব্যর্থ জেলা ছাত্রলীগ। তাই এই দিন রাতেই সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা ছাত্র লীগের এক দায়িত্বশীল নেতা বলেন, সম্মেলন করতে বার বার ব্যর্থ হবার পর সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করাটা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত। জেলা কমিটি বিলুপ্তির পর সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি ফজলে রাব্বী স্মরণ শনিবার রাতে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘আম্মার দোয়া সাথে আছে, কোনো বিষয় না’। রাতে এ প্রতিনিধিকে ফজলে রাব্বী স্মরণ বলেন, জাতীয় নেতার লাশ কাঁধে রেখে ( প্রয়াত বর্ষীয়ান পার্লামেন্টারিয়ান ও সাবেক মন্ত্রী বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি) সম্মেলন করা যায় না। অভিভাবকের শূন্যতা কাটিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্মেলন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। আমি বলেছিলাম ৩০ মার্চের পর যে কোনো তারিখে সম্মেলন করতে প্রস্তুত আছি। এদিকে কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা সংক্রান্ত পত্রে আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহীদের জীবনবৃক্তান্ত পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক দারুস সালাম শাকিল, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক চিন্ময় রায় ও সহ সম্পাদক মো. মাসুদ পারভেজের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

৩ বাংলাদেশীকে ধরে নেয়ার কথা স্বীকার বিএসএফের

নওগাঁর ধামইরহাট সীমান্ত থেকে তিন বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চারদিন পরও ফেরত দেয়নি ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিএসএফ। বিএসএফের হাতে আটক থাকা ওই তিন বাংলাদেশী হলেন- উপজেলার চকসব্দলগ্রামের আজিজুল হকের ছেলে আব্দুল মতিন (২৮), মৃত আক্তার হেসেনের ছেলে আবু হোসেন (২৬), ও মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে সামসুর রহমান (২৭)। তিন বাংলাদেশীকে ফেরত পেতে শুক্রবার দুপুরে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বিষয়টি স্বীকার করে ১৪ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর আসরাফুজ্জান জানান, ৮ মার্চ উপজেলার চকসব্দল গ্রামের ওই তিন যুবক বাংলাদেশ সীমান্তের ২৬৬-৬৭ নং পিলার এলাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। এ সময় অনুপ্রবেশের দায়ে ওই তিনজনকে আটক করে বিএসএফ। তবে শুরু থেকেই বিষয়টি অস্বীকার করলেও পতাকা বৈঠকে বিষয়টি স্বীকার করেছে বিএসএফ। তিনি বলেন, ভারতীয় আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের বাংলাদেশে হস্তাস্তর করা হবে। এদিকে বিএসএফের হাতে আটক স্বজনদের পরিবার জানান, চারদিনেও তারা তাদের প্রিয়জনকে ফিরে পায়নি। কখন তারা ফিরবেন সেই অপেক্ষায় রোণাজারি করছেন তাদের পরিবার।

কমলনগরে ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার



লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে আবদুর রব (৩৫) নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ব্যবসায়ী আবদুর রব উপজেলার চর কাদিরার ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আবদুল হাসেমের ছেলে। তিনি ছিলেন গরু ব্যবসায়ী। রোববার সকাল সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার ভূলুয়া নদীর অদুরে একটি ক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য সফিক উল্যাহ জানান, সকালে গরু ব্যবসায়ী আবদুর রবের লাশ দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয়দের ধারণা, রাতে ফজুমিয়ার হাট-বাজার থেকে বাড়ি ফেরার সময় দুর্বৃত্তরা তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ এখানে ফেলে পালিয়ে যায়। কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকুল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তার গলায় হালকা কালো দাগ আছে; তাও স্পষ্ট না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভালুকায় জুতার গুদামে আগুন

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় একটি জুতার গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে নগদ টাকাসহ প্রায় ২ কোটি টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শনিবার দিনগত রাত ৩টার দিকে ভালুকা বাজারের রায় মার্কেটের দু'তলায় হীরা সু-স্টোরের গুদামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট ৫ ঘণ্টা চেষ্টার পর রোববার ভোর ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
দোকান মালিক হিরা জানান, তার দোকানে নগদ সাড়ে ৬ লাখ টাকা এবং জুতার গোদামে ২ কোটি টাকা মালামাল ছিল। ফায়ার সার্ভিস ময়মনসিংহের উপসহকারী পরিচালক কাজী নাজমুজ্জামান জানান, কীভাবে আগুন লেগেছে তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত করে বিস্তারিত বলা যাবে।

সোনা মসজিদ বন্দরে ২ ঘণ্টার কর্মবিরতি

সোনা মসজিদ স্থলবন্দরে কাস্টমসের হয়রানির প্রতিবাদে ২ ঘণ্টা কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপ। রোববার সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত তাদের এ কর্মবিরতি চলবে বলে জানা গেছে। আমদানি-রফতারিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক তফিকুর ইসলাম বাবু এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারুন-অর রশীদ জানান,
দীর্ঘদিন থেকে স্থলবন্দরে আমদানিকৃত পণ্য ছাড়ে কাস্টমসের হয়রানি সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তাদের এ হয়রানির প্রতিবাদে প্রাথমিকভাবে আজ ২ ঘণ্টা কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এতেও যদি সমাধান না হয় তাহলে পরে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানান হারুন-অর রশীদ। সংগঠনটির এই কর্মবিরতির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে ভারতীয় রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশন ও মহদিপুর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন।

'বন্দুকযুদ্ধে' সহযোগীসহ চরমপন্থি নেতা নিহত

সাতক্ষীরার তালায় পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' সহযোগী শেখ তালহাসহ চরমপন্থি সংগঠনের নেতা বিদ্যুত বাছাড় নিহত হয়েছেন। রোববার দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের রহিমাবাদ গ্রামের একটি আম বাগানে এ বন্দুকযুদ্ধ হয়। নিহত বাছাড়ের বাড়ি তালা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের মাগুরাডাঙ্গা গ্রামে। বাবার নাম কানাই বাছাড়। আর শেখ তালহার বাড়ি সুজনসাহা গ্রামে। বাবার নাম নুর ইসলাম। পুলিশের ভাষ্যে, বিদ্যুত বাছাড় চরমপন্থি দল পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির বিদ্যুত বাহিনীর প্রধান। তার বিরুদ্ধে ৫টি ডাকাতি ও ৩টি অস্ত্র মামলাসহ ১৪টি মামলা রয়েছে।
আর শেখ তালহার বিরুদ্ধে একটি নাশকতার মামলা রয়েছে। তালা থানার ওসি হাসান হাফিজুর রহমান জানান, গোপন খবরে পুলিশের দুটি দল রহিমাবাদের আম বাগানে অভিযানে যায়। উপস্থিতি টের পেয়ে চরমপন্থি নেতা বিদ্যুত বাছাড় এবং তার সহযোগীরা পুলিশের ওপর ককটেল ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে গুলি বিনিময় হয়। এক পর্যায়ে অন্যরা পিছু হটলে পরে সেখানে গুলিবিদ্ধ দু'জনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়রা এসে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেন। এ বন্দুকযুদ্ধে পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। তারা হলেন- এএসআই সফিউজ্জামান ও কনস্টেবল নাজমুল। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটার বন্দুক, একটি দেশী পিস্তল, রামদা , হাতুড়িসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলে জানান ওসি হাসান হাফিজুর রহমান। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরায় পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

ভবের হাট বসেছে আখড়াবাড়িতে

‘আর কি হবে এমন জনম’ বাউল সম্রাট লালন ফকিরের এই বাণী প্রতিপাদ্য করে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় সাঁইজির আখড়াবাড়িতে শুরু হয়েছে তিন দিনের ঐতিহাসিক লালন স্মরণোৎসব। অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে আলোচনা, লালনমেলা ও লালন সঙ্গীত। লালন একাডেমির আয়োজনে এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় শনিবার রাতে সঙ্গীত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাউল ফকির লালন ভক্তদের দোল পূর্ণিমা উৎসব। শনিবার রাত ৯টায় ভারপ্রাপ্ত খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ ফারুক হোসেন এ উৎসবের উদ্বোধন করেন। এ উপলক্ষে লালন একাডেমির মূল মঞ্চে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি। লালন একাডেমির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক জহির রায়হানের সভাপতিত্বে লালন দর্শনের আলোকে মুখ্য আলোচনা করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল আহসান চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার সুবাস চন্দ্র সাহা, কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার এসএম মেহেদী হাসান, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম,
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, পিপি অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাহেলা আক্তার, লালন মাজারের প্রধান খাদেম মোহাম্মদ আলী, লালন একাডেমির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সেলিম হক প্রমুখ। আলোচনা শেষে মূল মঞ্চে একাডেমির শিল্পীরা লালন ফকিরের আধ্যাত্মিক গান পরিবেশন করেন। এ উৎসব উপলক্ষে মরা কালি নদীর তীরে লালন আখড়ায় সমবেত হয়েছেন মরমি সাধক ফকির লালন শাহের অসংখ্য ভক্ত-অনুসারী। লালন আখড়াবাড়িতে বসেছে ভবের হাট। লালন স্মরণোৎসব উপলক্ষে ভক্তরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসেছেন আত্মিক নানা বাসনা নিয়ে। সরল সহজভাবে জীবন অনুসন্ধানের প্রত্যয় নিয়েও এসেছেন অনেকেই। দীর্ঘকাল তাদের এখানে আসা যাওয়ার মধ্য দিয়ে বাউল সম্রাটের ‘মানুষ ভজলে মানুষ হবি, নইলে পরে কূল হারাবি’- এ কথার যথার্থতা খুঁজে পেয়েছেন ভক্তরা। সেখানে গুরু-শিষ্যের ভাবের আদান প্রদান যেমন চলছে, তেমনি চলছে জীবনের তিরোধান, ভাব সাধন, আর দেহতত্ত্ব নিয়ে অপূর্ব সুর মূর্ছনা।
সাধু-ভক্তদের পাশাপাশি বাউল সম্রাটের মাজারের টানেও আসছেন ঝাঁক ঝাঁক পর্যটকের দল। আসছেন দেশী-বিদেশী গবেষকরাও। বাউল সম্রাট লালন শাহের পুণ্যভূমি কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ার কালী নদীর তীরে বিশাল মাঠে এ স্মরণোৎসব উপলক্ষে বসানো হয়েছে লালন মেলা। যেখানে একতারা, দোতারা থেকে শুরু করে ঘর গৃহস্থালির নানা জিনিস পাওয়া যায়। বাদ নেই মিষ্টান্ন দ্রব্যও। মরমি সাধক লালনের জীবনকর্ম, জাতহীন মানব দর্শন ও চিন্তাচেতনার আদর্শিক বিষয়গুলো নিয়ে সোমবার পর্যন্ত চলবে আলোচনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। লালন শাহ তার জীবদ্দশায় ছেঁউড়িয়ার এই আখড়াবাড়িতে প্রতি বছর চৈত্রের দোলপূর্ণিমা রাতে বাউলদের নিয়ে সাধুসঙ্গ উৎসব করতেন। ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক তার তিরোধানের পর থেকেও প্রতি বছর এ উৎসব পালন করে আসছেন সাধু গুরুভক্ত আশেকান ও বাউল অনুসারীরা। তিন দিনের এই লালন উৎসব শেষ হবে ১৩ মার্চ রাতে। উৎসব পালন ও উপভোগকে নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বাউলভক্তদের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃংখলা বাহিনী তৎপর রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার এসএম মেহেদী হাসান।

বাসের ধাক্কায় সরল ঢাকনা, ড্রেনে পড়ে প্রাণ গেল কিশোরীর

গাজীপুরে বাসের ধাক্কায় ড্রেনে পড়ে প্রাণ গেল সুমাইয়া আক্তার (১৪) নামে সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রীর। নগরীর ভোগড়া বাইপাস মোড়ে বাসের জন্য ফুটপাতে অপেক্ষা করছিল হতভাগ্য মেয়েটি। হঠাৎ দ্রুতগতির একটি বাসের ধাক্কায় ড্রেনের মুখের ঢাকনা সরে গেলে কালো বোরকা পরিহিত মেয়েটি ড্রেনের পানিতে পড়ে যায়। সুমাইয়া ঢাকনার ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানার চরদুখিয়া গ্রামের কুয়েত প্রবাসী আবুল হোসেনের মেয়ে এবং গাজীপুর মহানগরের গাজীপুরা এলাকার তা’মীরুল মিল্লাত মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীতে পড়ত। জয়দেবপুর থানার এসআই জাকির হোসেন ও নিহতের প্রতিবেশী মামুন জানান,
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভোগড়া পেয়ারা বাগান এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত মেয়েটি। কুয়েত প্রবাসী আবুল হোসেন বুধবার বাংলাদেশে ফেরেন। শনিবার সকালে সুমাইয়া আক্তার পরীক্ষা দেয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে ভোগড়া বাইপাস মোড়ে অপেক্ষা করছিল বাসের জন্য। সে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ড্রেনের ঢাকনার (স্লাব) উপর দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল। বাসের ধাক্কায় স্লাবটি সরে গেলে মুহূর্তের মধ্যে সে ড্রেনের পানির মধ্যে পড়ে গিয়ে তলিয়ে যায়। পানির স্রোতে সুমাইয়া প্রায় একশ’ ফুট দূরে গিয়ে আটকে যায়। পরে পুলিশ ও এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক সুমাইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। তিন বোনের মধ্যে সুমাইয়া বড় ছিল। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক প্রণয়ভূষণ দাস বলেন, মেয়েটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়।

চন্দনাইশ ওসির নেতৃত্বে দোকান দখল : মাল লুট

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকারের নেতৃত্বে দোকান দখল ও মালামাল লুট করার অভিযোগ করেছেন এক ব্যবসায়ী। শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৯৭ সালে আমার বাবা স্থানীয় সাইফুদ্দীন ফারুকী নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি দোকান মাসিক ৬০০ টাকায় ভাড়া নেন। ওই সময় একটি চুক্তি হয় এবং ৪০ হাজার টাকা ফারুকীকে অগ্রিম দেয়া হয়। চুক্তিপত্রে কোনো মেয়াদ উল্লেখ ছিল না। ২০১০ সালে আমার বাবার অনুপস্থিতিতে ফারুকীর স্ত্রী হোসনে আরা সাথীর সঙ্গে নতুনভাবে চুক্তি করি। সেই সময় আরও ৩০ হাজার টাকা অগ্রিম দিই।’ তবে ২০১৪ সালে ফারুকী বলেন, চন্দনাইশ বাজারের মদিনা লাইব্রেরি অ্যান্ড স্টেশনারি নামে ওই দোকান আর ভাড়া দেবেন না। দোকানটি ফেরত দিতে বলেন তিনি। এজন্য আমাকে একটি আইনি নোটিশও দেয়া হয়।
মফিজুল আরও বলেন, ‘আমি চুক্তি নবায়নের প্রস্তাব দিয়ে নোটিশের জবাব দিয়েছি। এরপর থেকে ফারুকী আমার কাছ থেকে দোকানের কোনো ভাড়া গ্রহণ করছেন না। ভাড়া না নেয়ার কারণে এক পর্যায়ে ডাকযোগে ভাড়ার টাকা পাঠাই। তাও গ্রহণ করেননি তিনি। বাধ্য হয়ে আদালতে ভাড়ার টাকা জমা দিয়েছি।’ ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ভাড়ার টাকা আদালতে জমা আছে। আমার ও মালিকের মধ্যকার দোকান ভাড়া নিয়ে চলমান মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই চন্দনাইশ থানার ওসির নির্দেশে এসআই রাজিব হোসেন গিয়ে দোকান তালাবদ্ধ করে দেন। পরে মালিক ফারুকী রাতের আঁধারে প্রায় ২৫ লাখ টাকার মালামাল সরিয়ে ফেলে দোকানটি দখলে নেন। লুট মালামালের মধ্যে রয়েছে বই, স্টেশনারি পণ্য, ফটোস্ট্যাট মেশিন, স্ক্যানার, জেনারেটর ও ল্যাপটপ।

সেন্টমার্টিনে আটকা শত শত পর্যটক

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে ৩ নম্বর সর্তক সংকেত বলবৎ থাকায় শনিবার পর্যটকবাহী কোন জাহাজ টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে চলাচল করতে পারেনি। এ কারণে সেন্টমার্টিনে কয়েকশ' পর্যটক আটকা পড়েছেন। তবে চার শতাধিক পর্যটক ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরার ট্রলারে করে টেকনাফে ফিরে এসেছেন। সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান, গত কয়েক দিনে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে এসে প্রায় এক হাজার পর্যটক দ্বীপে অবস্থান করছিলেন। এরই মাঝে হঠাৎ করে ৩ নম্বর সংকেত জারি হওয়ায় প্রশাসন পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ফলে দ্বীপে ভ্রমণে আসা পর্যটকরা আটকা পড়েন। চার শতাধিক পর্যটক ট্রলারে করে টেকনাফে ফিরে গেছেন জানিয়ে নুর আহমদ বলেন, বাকি আটকা পড়া পর্যটকদের যাতে কোন সমস্যা না হয় সে ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদের ব্যবস্থাপক শাহ আলম জানান, প্রতিদিনই টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে কেয়ারি সিন্দাবাদ, কেয়ারি ড্রাইনিং এন্ড ক্রুজ, এলসিটি কুতুবদিয়া, এমবি বাঙ্গালি, গ্রীন লাইন, বে-ক্রুজ ও এলসিটি কাজল পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করে।
কিন্তু হঠাৎ করে বৈরি আবহাওয়ার কারণে কোনো জাহাজ সেন্টমার্টিন যেতে পারেনি। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে সেখানে জাহাজ পাঠিয়ে পর্যটকদের টেকনাফে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানান শাহ আলম। কোস্টগার্ড সেন্টমার্টিন স্টেশনের কমান্ডার সাব লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ হাশেম জানান, ৩ নম্বর সর্তক সংকেত বলবৎ থাকায় সেন্টমার্টিনে বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে শত শত পর্যটক অটকা পড়েছেন। তিনি বলেন, বৈরি আবহাওয়ার কারণে জাহাজ চলাচল করতে না পারায় পর্যটকরা টেকনাফ ফিরতে পারছেন না। তবে যাদের সমস্যা রয়েছে তাদেরকে স্পিড বোটে করে সেন্টমার্টিন থেকে শাহপরীর দ্বীপে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া কিছু কিছু পর্যটক ট্রলারে করে ফিরে যাচ্ছেন। টেকনাফ উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম জানান, সর্তক সংকেত বলবৎ থাকায় টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে কোন জাহাজ যেতে পারেনি। তিনি বলেন, সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকদের খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। পর্যটকরা সবাই নিরাপদে রয়েছেন। আবহাওয়া পরিস্থিতি ভাল হলে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করে আটকে পড়া পর্যটকদের টেকনাফ ফিরিয়ে আনা হবে।

জয়কে অপহরণ চেষ্টা মামলার প্রতিবেদন ৯ এপ্রিল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা ও ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ এবং হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্র মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ৯ এপ্রিল দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের ধার্য দিনে রোববার ডিবির সময় বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর করে ঢাকা মহানগর হাকিম এস এম মাসুদ জামান এ আদেশ দেন। মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের আগে যেকোনো সময় থেকে বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাসাস-এর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনসহ বিএনপি ও তার নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত উচ্চপর্যায়ের নেতারা রাজধানীর পল্টনের জাসাস কার্যালয়ে, আমেরিকার নিউইয়র্ক, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় একত্রিত হয়ে পরস্পরের যোগসাজশে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে আমেরিকায় অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন। এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফজলুর রহমান ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় জয়কে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্র মামলাটি দায়ের করেন।

মুন্নুর শয্যা পাশে খালেদা জিয়া

ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলের উপদেষ্টা কাউন্সিলের প্রবীণ সদস্য সাবেক মন্ত্রী অসুস্থ হারুনার রশীদ খান মুন্নুকে রাতে দেখতে যান খালেদা জিয়া। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালে আসেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি হারুনার রশীদ খানের শয্যার পাশে কিছু সময় অবস্থান করে চিকিৎসকদের কাছ থেকে তার চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন। মুন্নুর বড় মেয়ে দলের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আফরোজা খানম রীতা ও ছোট মেয়ে ফিরোজা খানম পারভীনসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন খালেদা জিয়া।
এ সময়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মইনুল ইসলাম শান্ত, কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল হক, আবদুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, রাজীব আহসান, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গণহত্যা দিবস আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করবে

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, ২৫ মার্চ কালরাতের মাস, গণহত্যার মাস। রক্তের বন্যা বয়ে গিয়েছিল সেদিন। পিলখানা, রাজারবাগসহ বিভিন্ন স্থানে ওরা (পাকিস্তানিরা) ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ২৫ মার্চ গণহত্যার মাধ্যমে বাঙালিকে মুছে দিতে চেয়েছিল, তাই এটা গণহত্যা। বঙ্গবন্ধু মহানায়ক, তাকে ২৫ মার্চ রাতে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আমার বিশ্বাস গণহত্যা দিবস আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি লাভ করবে। শনিবার জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ সময় সভাপতিত্ব করেন। মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান তুলে ধরে জাতীয় সংসদে সাবেক এ রাষ্ট্রপতি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে জাতির জনক ঘোষণা করতে পারিনি- এটা আমার দুঃখ। আমি প্রস্তাব এনেছিলাম, তার ঋণ শোধ করি, তাকে জাতির পিতা ঘোষণা করি। কিন্তু কয়েকজনের বিরোধিতার কারণে আমি ঘোষণা করতে পারিনি।
তিনি আরও বলেন, তিনি (বঙ্গবন্ধু) আমাদের জাতির পিতা। তার জন্ম না হলে আমি সেনাপ্রধান হতে পারতাম না। রাষ্ট্রপতিও হতে পারতাম না। সংসদে কথাও বলতে পারতাম না। সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বলেন, আমার জীবনের সব থেকে বড় দুঃখ আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে পারিনি। ক্ষমতায় থাকাবস্থায় ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস পালন করে যেতে পারিনি, বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে ঘোষণা করে যেতে পারিনি। এরশাদ বলেন, ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৭০ সালে আমাকে পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে বদলি করা হল। এরপর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হল। আমার জীবনের বড় দুঃখ, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারিনি। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অনেক বড় বড় কাজ করেছিলাম। মুক্তিযোদ্ধারা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান ঘোষণা করেছিলাম। খবরের আগে ‘সবকটা জানালা খুলে দাও না’ আমি চালু করেছিলাম। আমি ৬৪ জেলা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পাঁচ কাঠা করে জমি দিয়েছিলাম। বাস ট্রেনে বিনা খরচে ভ্রমণের ব্যবস্থা করেছিলাম। মুক্তিযোদ্ধাদের ম্যাজিস্ট্রেট বানিয়েছিলাম।

দোহার-নবাবগঞ্জের ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছবে

দোহার নবাবগঞ্জের কোনো ঘরই বিদ্যুৎবিহীন থাকবে না। দ্রুত বিদ্যুতের আলো পৌঁছে যাবে প্রতিটি ঘরে। শনিবার বিকালে দোহারের মাহমুদপুরের দেওভোগ গ্রামে একটি অন্ধ ভিক্ষুক পরিবারে ১০ ঘণ্টার নোটিশে বিনা খরচে বিদ্যুতের আলো জ্বেলে দেয়ার উদ্বোধনের প্রাক্কালে সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি এ কথা বলেন। সালমা ইসলাম এমপি আরও বলেন, বর্তমান সরকার সারা দেশে ধনী-দরিদ্র নয়, প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা খুবই প্রশংসনীয়। বিদ্যুৎ থাকলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। গড়ে উঠবে কলকারখানা। নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হলে বেকারত্ব মোচন হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ঢাকা জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহাদুজ্জামান মোল্লা, নির্বাহী প্রকৌশলী জয়নাল আবেদীন, ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার মো. আলমগীর, দোহারের ডিজিএম কামাল হোসেন, এজিএম কামাল হোসেন, এজিএম (কম) রাশেদুজ্জামান প্রমুখ। একই দিন তিনি দোহারের মুকসেদপুর ধুবলীবাজারে জাতীয় পার্টি আয়োজিত কর্মী সমাবেশে উপস্থিত হন। এ সময় তিনি আগামী নির্বাচনের জন্য সব নেতাকর্মীকে প্রস্তুত হয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে তাদের সমর্থন আদায়ে কাজ করার নির্দেশ দেন।
সালমা ইসলাম দোহারের মানুষের উন্নয়নে সব কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, কোনো রাস্তাঘাট কাঁচা থাকবে না। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি এলাকার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করা হবে। আফছার আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এলাকার প্রায় ২ শতাধিক নারী-পুরুষ সালমা ইসলাম এমপির হাতে ফুল দিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা খন্দকার নুরুল আনোয়ার বেলাল, হুমায়ন কবির, ঢাকা জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ, দোহারের ডা. আলাউদ্দিন আল আজাদ, আবদুল আলীম, ইয়াকুব মাতবর, বশির আহমেদ, হায়দার বেপারি, আফজাল শিকদার, লোকমান হোসেন, আবদুল গফুর, যুবসংহতির সভাপতি বাবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন পান্নু, নজরুল ইসলাম, মনির হোসেন প্রমুখ।

জমে উঠেছে পাটপণ্যের প্রদর্শনী

ঢাকায় জমে উঠেছে পাটপণ্যের প্রদর্শনী। রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং পাটজাত পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করা কর্মসূচির উদ্দেশ্য। শনিবার মেলা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দর্শকদের আগ্রহের কারণে মেলার মেয়াদ আরও ২ দিন বাড়ানো হয়েছে। ফলে আগামীকাল সোমবার মেলা শেষ হচ্ছে। জানা গেছে, পাটপণ্যের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ৬ মার্চ জাতীয় পাট দিবস ঘোষণা করেছে সরকার। এ ছাড়া জনগণের কাছে সম্ভাবনাময় এ পণ্যটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে এই পাটপণ্য প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। শনিবার সরেজমিন দেখা গেছে, বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ পাটের তৈরি নানা ধরনের পণ্য দেখতে মেলায় ভিড় করছেন। দর্শনার্থীদের মধ্যে তরুণদের সংখ্যাই বেশি। দর্শনার্থীদের পাশাপাশি রয়েছেন ক্রেতাসাধারণও।
আর দর্শক ও ক্রেতাদের উপস্থিতিতে আয়োজকরাও বেশ খুশি। আয়োজকরা জানান, বিশাল সম্ভাবনাময় এ পণ্যটি মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারলে দেশে বড় ধরনের বাজার সৃষ্টি করা যাবে। এতে একদিকে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে অপরদিকে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন। অর্থাৎ পণ্যটিকে ঘিরে কৃষি ও শিল্প উভয় খাতই লাভবান হবে। জানা গেছে, একসময় দেশের রফতানি আয়ের বড় অংশ ছিল পাটের ওপর নির্ভরশীল। এ কারণেই পাটকে সোনালী আঁশ বলা হতো। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কারণে সম্ভাবনাময় এ শিল্প হারিয়ে গেছে।

ভোক্তা সুরক্ষা আইন ভোক্তাবান্ধব নয়‌

ভোক্তার সুরক্ষায় তৈরি ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯’ও পুরোপুরি ভোক্তাবান্ধব নয়। খাদ্যে ভেজাল মেশানোর অপরাধে ভারতে যাবজ্জীবন, পাকিস্তানে ২৫ বছর কারাদণ্ড, যুক্তরাষ্ট্রে সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। ব্যতিক্রম শুধু বাংলাদেশে। এখানে ভেজাল পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সহায়ক আইন নেই। যে আইনটি তৈরি করা হয়েছে ওই আইনে ভোক্তার সুরক্ষায় কি কি সুবিধা দেয়া হয়েছে, আইন লংঘনকারীদের বিরুদ্ধে কি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা রয়েছে, কারা এটি প্রয়োগ করবে কিংবা কোথায় অভিযোগের জন্য যেতে হবে এসব দিক-নির্দেশনা জানে না খোদ ভোক্তারাও। এ কারণে ১৬ কোটি জনগোষ্ঠীর একটি দেশে গত প্রায় ৮ বছরে ভোক্তা অধিকার লংঘনের দায়ে প্রতিকার চাইতে আসা অভিযোগকারী মাত্র ৪ হাজার ২৪৫ জন। যেখানে নিষ্পত্তির হার আরও কম মাত্র ৩ হাজার ৮৭৩ জনের। যার মধ্যে এখনও তদন্তাধীন রয়েছে ৩৭২টি অভিযোগের। এ সময়ে মূল্য কারসাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে ২৪ হাজার ৬৫২টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। আর্থিক দণ্ড হিসেবে এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ক্ষতিপূরণ আদায় করেছে মাত্র ১৮ কোটি টাকা। কিন্তু এ সময়ে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে সশ্রম কারাদণ্ডের মতো শাস্তি দিতে পারেনি সংস্থাটি। কারণ আইনেই এর সীমাবদ্ধতা দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।
এর থেকেই দেশে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষার প্রকৃত চিত্রের ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে আইনে যেটুকুই অধিকারের স্বীকৃতিই দেয়া হয়েছে সেটি সারা দেশে ভোক্তাপর্যায়ে পৌঁছে দিতেও জনসচেতনামূলক পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। এসব কারণে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময়ের দাবির মুখে ২০০৯ সালে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, ভোক্তা-অধিকার বিরোধী কার্য প্রতিরোধ ও তৎসংশ্লিষ্ট বিধান প্রয়োগে আইনটি পাস করা হয়।’ কিন্তু আইনটি পাসের পর প্রায় ৯ বছর অতিবাহিত হতে চললেও মাঠপর্যায়ে এ আইনটির কার্যকারিতার উল্লেখযোগ্য কোনো নজির নেই। যার কারণে এর সুফলও পাচ্ছে না ভোক্তারা। জানাযায়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এ সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ২ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। আইনি বিধানে এসব দুর্বলতার কারণেই মাঠপর্যায়ে এর তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমান ভোক্তা অধিকার আইনে মোট ৮২টি ধারা রয়েছে। এ ধারার কোনোটির আবার কয়েক অনুচ্ছেদ উপ-ধারায় বিভক্ত। আইনে বিক্রেতা মানে কোনো পণ্যের উৎপাদনকারী, প্রস্তুতকারী, সরবরাহকারী, পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতাকে বোঝানো হয়েছে। ‘নকল’ অর্থে বোঝানো হয়েছে বাজারজাতকরণের জন্য অনুমোদিত কোনো পণ্যের অননুমোদিত অনুকরণে অনুরূপ পণ্যের সৃষ্টি বা প্রস্তুত, যার মধ্যে ওই পণ্যের গুণাগুণ, উপাদান, উপকরণমান বিদ্যমান থাকুক বা না থাকুক। অপরদিকে আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি জেল-জরিমানা। যার আওতায় সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে বিনাশ্রম ও সশ্রম কারাদণ্ড রাখা হয়েছে। আইন অনুযায়ী ভোক্তা অধিকারবিরোধী কার্যের জন্য কোনো বিক্রেতার বিরুদ্ধে যে কোনো ভোক্তা আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর’র মহাপরিচালকের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করতে হয়।
অপরদিকে বিশুদ্ধ খাদ্য অধ্যাদেশ, ১৯৫৯ (সংশোধিত ২০০৫)-এ সর্বোচ্চ ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া নতুন প্রণীত নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-তে জরিমানা ও শাস্তির পরিমাণ বৃদ্ধি করে অনুর্ধ্ব ৫ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান করা হলেও এখানে সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়নি। অথচ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে খাদ্যে ভেজাল মেশানোর অপরাধে কঠোর শাস্তি দেয়া হয়। এ ছাড়া ফরমালিনের অপব্যবহার রোধে ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করা হয়েছে। এতেও অপরাধ দমনে কঠোর সাজার বিধান নেই। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দেশে ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় কঠোর আইনের অভাবের পাশাপাশি বিদ্যমান আইনের সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে ভেজাল প্রতিরোধে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, আইনি দুর্বলতা থাকলেও যেটুকুই হয়েছে তাও মন্দের ভালো। কিন্তু অভাব শুধু কার্যকারিতার। এর জন্য সবার আগে জোর দিতে হবে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির ওপর। সারা দেশে ভোক্তার স্বার্থ সুরক্ষার বার্তা পৌঁছে দেয়াটা জরুরি। সেটি কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের একক প্রচেষ্টা কিংবা সক্ষমতা দিয়ে সম্ভব হবে না। সরকারের আন্তরিকতা থাকতে হবে। পাশাপাশি সুশীল সমাজকেও উদ্যোগী হতে হবে।
এগিয়ে আসতে হবে সাধারণ মানুষকেও। নতুবা আইন যেটুকুই আছে তারও সুফল আসবে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু আইনি সীমাবদ্ধতাই শেষ কথা নয়। খাদ্য তদারকি ও পরিদর্শনে প্রয়োজনীয় জনবলেরও অভাব রয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ, লজিস্টিকস ও যানবাহনের অভাব প্রকট। রয়েছে প্রণোদনা ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি। খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ-রক্ষণাবেক্ষণেরও নেই পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুবিধা। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা ইচ্ছা সত্ত্বেও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে পারেন না। এ ছাড়া নজরদারির কার্যক্রম শুধু মহানগরীগুলোতে দৃশ্যমান হলেও উপজেলা বা গ্রাম পর্যায়ে তা মোটেই লক্ষ করা যায় না। অথচ খাদ্যে সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার দেশের সব নাগরিকের সমানভাবে রয়েছে। এ প্রসঙ্গে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম লসকর দাবি করেন, এখনও অনেক ভোক্তা তাদের অধিকার বা আইন সম্পর্কে অবহিত নয় এটা সত্য। তবে সচেতনতা বাড়াতে আমরা বিভিন্ন স্থানে এই আইন সম্পর্কে সভা-সেমিনারের আয়োজন করছি। যাতে ভোক্তারা তাদের অধিকার ও আইন সম্পর্কে আরও সচেতন হতে পারে।

নাভিতে ২ ফোটা তেল, রোগমুক্তির যাদু!

অসহ্য গাঁটে ব্যথা, হাঁটু ব্যথা, ঠাণ্ডা, ফ্লু, সর্দি ও ত্বকের সমস্যা দেখা দিলে দু'তিন ফোটা তেল নাভিতে ঢেলে দেখুন কী হয়! একদম মুহূর্তের মধ্যেই আপনার শরীর থেকে একে একে সব সমস্যা হাওয়া হয়ে যাবে। কী বিশ্বাস হচ্ছে না তো! তবে একাধিক গবেষণায় এমনটাই প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মাত্র দু'তিন ফোটা তেল নাভিতে ঢেলে মালিশ করে এসব সমস্যা সারিয়েছেন।
আপনি জেনে অবাক হবেন, সনাতন চিকিৎসা পদ্ধতি মানুষ এখনও অনুসরণ করে এবং বিশ্বাসও করে। ওইসব সনাতন চিকিৎসায় দারুণ ফলও পাওয়া যায়। নির্দিষ্ট কয়েকটি তেল এক চামুচ নাভিতে ব্যবহার করলেই যাদুর মতো অনেক রোগ কমে যায় এবং এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই।  তাহলে দেরি কেন? আসুন জেনে নেয়া যাক কোন তেল নাভিতে ব্যাবহারে আপনি কি কি রোগ সারাতে পারবেন;
ফাটা ঠোঁট ও গিরায় ব্যথা: আপনার নাভিতে দু'তিন ফোটা সরিষার তেল দিন। এটা শুনে আপনার চোখ কপালে উঠতে পারে, মনে হতে পারে নাভির সঙ্গে ঠোঁট ও গিড়ার সম্পর্ক কি? তবে বিশ্বাস করুন কয়েক ফোটা সরিষার তেল নাভিতে দিয়ে মালিশ করলেই আপনার ঠোঁট ফাটা ও গিরার ব্যথা কমে যাবে।
গোপন দুর্বলতায়: নাভিতে ৪-৫ ফোটা নারিকেল বা অলিভ অয়েল দিয়ে মালিশ করুন। এটা সপ্তাহে তিন দিন ব্যবহার করলে আপনার গোপন দুর্বলতা কমে যেতে শুরু করবে এবং এতে উর্বরতাও বাড়বে।
হাঁটু ব্যথা: রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কয়েক ফোটা ক্যাস্টর তেল মালিশ করুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখবেন আপনার ব্যথা কমে গেছে।
ব্রণ: ব্রণ হলে নাভিতে কয়েক ফোটা নিম তেল দিয়ে আলতো হাতে মালিশ করুন। এই তেল কয়েক দিন ব্যবহারে আপনার ব্রণ কমে যাবে। তবে এ তেল আবার মুখে ব্যবহার করবেন না যেন, তাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে
উজ্বল ত্বক: তিন-চার ফোটা বাদাম তেল আপনার নাভিতে দিয়ে মালিশ করুন। এভাবে কয়েক দিন ব্যবহারে দেখবেন আপনার ত্বক কেমন উজ্জ্বল হয়ে গেছে। এছাড়া কয়েক ফোটা ঘি নাভিতে মালিশ করলে আপনার ত্বক কোমল হয়ে যাবে। আপনি হয়ে উঠবেন আরও মোহনীয়।
ফ্লু বা ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা: একটি তুলার বল এলকোহলে ডুবিয়ে নাভির ওপর রাখুন। দেখবেন আপনার ঠাণ্ডা জনিত সমস্যা কতো তাড়াতাড়ি কমে গেছে।
ঋতুস্রাবে ব্যথা: ঋতুস্রাবে ব্যথা হলে একটি তুলার বল ব্র্যান্ডিতে ডুবিয়ে নিন, তারপর নাভির ওপর রাখুন। এভাবে দিনে কয়েকবার ব্যবহারে ব্যথা কমে যাবে।

পেঁয়াজের দামে মাথায় হাত

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় বাজারে অস্বাভাবিক হারে কমেছে পেঁয়াজের দাম। এতে খুচরা বাজারে গত বছরের তুলনায় কেজিপ্রতি দেশী পেঁয়াজের দাম কমেছে ১৫ টাকা। আর আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ৫ থেকে ৬ টাকা কমেছে। কৃষি অধিদফতর বলছে, দেশে পেঁয়াজের ভরা মৌসুম। এ বছর ফলনও ভালো হয়েছে; কিন্তু প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে চাহিদার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। ভারতীয় পেঁয়াজের দাম দেশী পেঁয়াজের চেয়ে কম হওয়ায় দামে মার খাচ্ছেন চাষীরা। প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন, ইয়াসিন রহমান (ঢাকা), লোকমান চৌধুরী (চট্টগ্রাম)।
ঢাকা : ঢাকার বাজারে অস্বাভাবিকভাবে কমেছে পেঁয়াজের দাম। ভরা মৌসুমে পার্শ^বর্তী দেশ ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। পেঁয়াজের পাইকারি আড়ত কারওয়ানবাজার ও শ্যামবাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজ পাইকারি দরে মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৪ থেকে ১৯ টাকায়। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৮ থেকে ১৯ টাকায়; যা গত বছর এসময় দাম অনেক বেশি ছিল। সেক্ষেত্র ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছর দেশী পেঁয়াজ পাইকারি দরে বিক্রি হয়েছে ৩২ থেকে ৩৫ টাকায়। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। অন্যদিকে রাজধানীর নয়াবাজার, শান্তিনগর কাঁচাবাজার ও কারওয়ানবাজারের খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে দেশী পেঁয়াজ মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। আর আমদানি করা পেঁয়াজ মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৪ টাকায়; যা গত বছর এসময় দেশী পেঁয়াজের দাম ছিল ৩৮ থেকে ৪০ টাকা।
আর আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা। পেঁয়াজের দাম কমার চিত্র ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) গত বৃহস্পতিবারের দৈনিক বাজারদরে মূল্য তালিকায়ও দেখা গেছে। সেখানে আমদানি করা পেঁয়াজের মূল্য দিয়েছে প্রতি কেজি ২০ থেকে ২২ টাকা। দেশী পেঁয়াজের মূল্য ২২ থেকে ২৮ টাকা। এক সপ্তাহ আগে আমদানি করা পেঁয়াজের মূল্য ছিল ২০ থেকে ২২ টাকা। দেশী পেঁয়াজের মূল্য ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা। আর এক বছর আগে একই সময় অমদানি করা পেঁয়াজের মূল্য ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা। দেশী পেঁয়াজের মূল্য ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। সেক্ষেত্রে এক বছরে অমদানি করা পেঁয়াজের মূল্য কমেছে ২৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আর দেশী পেঁয়াজের মূল্য কমেছে ৩০ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে রয়েছে পেঁয়াজের বড় বিপণিকেন্দ্র হামিদউল্লাহ মিয়া মার্কেট। দেশের প্রধান এ মার্কেটে প্রতিদিন সীমান্তবর্তী স্থলবন্দর এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাকে ট্রাকে আসে আমদানি করা এবং দেশী পেঁয়াজের চালান। গত দুই সপ্তাহ ধরে এ মার্কেটে পেঁয়াজ রাখার জায়গা হচ্ছে না। দোকান, গুদাম ছেড়ে পেঁয়াজের বস্তা রাখতে হচ্ছে সামনের রাস্তায়। পেঁয়াজের এমন সরবরাহ অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। এখনও আসছে পেঁয়াজ। চাহিদার তুলনায় আমদানি বেশি হওয়ায় এবং দেশী পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমছে ‘অস্বাভাবিক হারে’। অবস্থা এমন হয়েছে স্থলবন্দরে যে দামে বিক্রি হচ্ছে, খাতুনগঞ্জে এর চেয়ে কম দামে মিলছে পেঁয়াজ। ভারত থেকে আমদানি করা উন্নতমানের নাসিক পেঁয়াজ খাতুনগঞ্জে বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৪ টাকা কেজিতে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে স্থলবন্দরেও। মেহেরপুর থেকে আসা ভালো মানের দেশী পেঁয়াজ ১০ টাকা কেজি। চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সরবরাহ এবং পচনশীল হওয়ায় লোকসান দিয়েই পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
গত বুধবার খাতুনগঞ্জে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি দোকান ও গুদাম পেঁয়াজে ভরপুর। ভারতের নাসিক জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৩ থেকে সর্বোচ্চ ১৪ টাকায়। বাজারে এ জাতের পেঁয়াজের চাহিদা সর্বোচ্চ। এছাড়া বাজারে দেশী পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। মুড়ি কাটা পেঁয়াজ ছাড়াও গত সপ্তাহে বাজারে এসেছে মেহেরপুর থেকে আসা উন্নতমানের পেঁয়াজ। যদিও চট্টগ্রামে এ জাতের পেঁয়াজের চাহিদা খুব বেশি নয়। ফাহিম ট্রেডার্সের আবদুল মান্নান বলেন, পেঁয়াজের দাম এত বেশি পড়ে গেছে, আমদানিকারক-বেপারি সবাই লোকসান দিচ্ছেন। সীমান্তের স্থলবন্দর থেকে এখানে ২০ টন পেঁয়াজ আনতে ট্রাকভাড়া পড়ছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। অর্থাৎ কেজিপ্রতি গাড়িভাড়া ও অন্যান্যসহ তিন টাকা খরচ পড়ে। বেপারিরা বাজার ধরে রাখার জন্যই এখনও পেঁয়াজ নিয়ে আসছেন। খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে প্রতি বছর ১৮ থেকে ২০ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা থাকলেও এ বাজার অনেকাংশে আমদানিনির্ভর।