Wednesday, September 19, 2018
ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন by মোঃ সাওরাত হোসেন সোহেল

পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বেশ কিছু পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। ডুবে গেছে বীজতলা, রোপা আমন, সবজিসহ কিছু ফসল। এছাড়াও ভাঙ্গনে গৃহহীন হয়েছে শতাধিক পরিবার। চিলমারীর রমনা পাত্রখাতা, মাছাবান্দা, অষ্টমীরচর, নয়ারহাট সহ কয়েকটি এলাকার নিম্নাঞ্চলের বীজতলা ও রোপা আমন, সবজি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ফলে কৃষকরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ধীরে ধীরে নিন্মাঞ্চল থেকে উঁচু স্থানের জমি গুলো ডুবে যাওয়া শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে লোকালয়েও ঢুকতে শুরু করেছে বন্যার পানি। নিচে পানি আর উপরে রোদের প্রচন্ড তাপে বিভিন্ন স্থানের আমন ক্ষেত পচতেও শুরু করেছে। পাত্রখাতার কৃষক আঃ রাজ্জাক, আঃ আজিজ, মাছাবান্দার খয়বার, জাহিদুলসহ অনেকে জানান রোপা আমনের মৌসুমের শুরুতে ছিল না কোন পানি। ছিল চারদিকে পানির জন্য হাহাকার, তাই বাধ্য হয়ে শ্যালো মিশিন দিয়ে পানি দিয়ে চাষ শুরু করেছিলাম কিন্তু হঠাতই নদীর পানি অস¦াভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা আশঙ্কা দেখা দেয়ায় রোপা আমনসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত ইতি মধ্যে ডুবে যাওয়ায় আমরা চিন্তিত। ভাবতেও পারছি না এখন কি হইবে।
কৃষকরা বলেন, বাবারে একে তো অতিরিক্ত খরচ করে জমি চাষ করেছিলাম তার উপর বন্যার পানি সব নষ্ট করে দিল; এখন কি করমো আগামী দিন গুলোই বা কিভাবে চলবো। এদিকে কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, এবারে রোপা আমানের লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছিল ৭ হাজার ৯৮৫ হেষ্টর তা শতভাগও অর্জিত হয়েছে এর মধ্যে ১ হাজার ২৫৭ হেক্টর জমির আমন ক্ষেত পুরো পানিতে ডুবে গেছে। তবে কৃষকরা তা মানতে নারাজ তারা বলেন, অর্জিত জমির বেশির ভাগ ক্ষেত এখন পানির নিচে। উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ খালেদুর রহমান কৃষকের সাময়িক সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, যে দু’চারদিনের মধ্যে পানি নেমে গেলে আশা করি তেমন ক্ষতি হবে না তবে; পানি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত ক্ষতির পরিমান বলাও যাচ্ছে না।
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গরিবের সোলার প্যানেল বিত্তশালীদের ঘরে by মো. শামীম হোসেন

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে ও সরজমিন গিয়ে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ২ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ এবং গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচির আওতায় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ১৫১৪টি সোলার প্যানেল বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য শওকত চৌধুরীর নামে ৭৮৮টি। মহিলা আসন ৩৪৬ সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মেরিনা রহমানের নামে ১১৯টি ও মহিলা আসন ৩০৩ অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়ার নামে ১৩৯টি, ইউপি চেয়ারম্যান ও বিভাগীয় কমিশনারের নামে ৬৬৮টি। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এই সোলার প্যানেলগুলো বিদ্যুৎহীন ও হতদরিদ্র পরিবারগুলো পাওয়ার কথা। কিন্তু উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোফাখখারুল ইসলাম ও এমপির প্রতিনিধিগণ অবস্থাসম্পন্ন ও বিত্তশালীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এসব সোলার প্যানেল বিতরণ করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। যাদের ঘরে এসব সোলার প্যানেল বিতরণ করা হয়েছে তাদের ঘরে পূর্ব থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে।
কিশোরগঞ্জ শিশু নিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভকেশনাল শাখার গণিত বিষয়ের শিক্ষক ও রংপুরের মিঠাপুকুর থানার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে সাইদুল ইসলাম তার পাকা বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকা সত্ত্বেও একটি ১০০ ওয়াটের সোলার প্যানেল স্থাপন করেছেন। আপনার বাড়ি রংপুরের মিটাপুকুরে হওয়া সত্বেও দরিদ্রদের সোলার আপনি কিভাবে পেলেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমার এক পরিচিত ব্যাক্তির মাধ্যমে এমপির প্রতিনিধি রেজাউল হক ফিলিপকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা দিয়ে আমি সোলার প্যানেলটি পেয়েছি। আমি কেন যারা টাকা দিয়েছে তারাইতো সোলার পেয়েছে।
মাগুড়া ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত তোফায়েল উদ্দিনের ছেলে রফিকুল ইসলাম পাকা বাড়ির মালিক ও বিত্তশালী ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সেখানেও একশো ওয়াটের সোলার প্যানেল লাগানো হয়েছে। এসময় রফিকুল ইসলাম জানান, ৩৪৬ আসনের মহিলা সংসদ সদস্য মেরিনা রহমানের আস্থাভাজন এক ব্যক্তির মাধ্যমে আমি সোলারটি লাগিয়েছি। কত টাকা দিয়ে সোলারটি লাগিয়ে নিয়েছেন বললে তিনি এদিক সেদিক তাকিয়ে বলেন খরচ বাবদ কিছু দিয়েছি।
তালিকা অনুযায়ী গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বদরুল আলমের ছেলে বকুল হোসেনের নামে ও আবু তালেবের ছেলে রহমত আলির নামে দুটি ১০০ ওয়াটের সোলার প্যানেল বরাদ্দ থাকলেও ওই ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় তারা দুজনেই ওই গ্রামের বাসিন্দা নয় । খোঁজ নিয়ে দেখা যায় তারা গনেশের বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী । বকুল হোসেন ও রহমত আলী অন্যের নাম দিয়ে তাদের দোকানে সোলার প্যানেল স্থাপন করেছেন। কত টাকা দিয়ে সোলার প্যানেল স্থাপন করেছেন প্রশ্ন করলে বকুল ও রহমত সাংবাদিকদের কোন কথা না বলে কেটে পড়েন। এছাড়াও ১০০ ওয়াটের সোলার প্যানেল পেয়েছেন গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের জাহিদুল ইসলাম, গোলজার রহমান ,জিল্লুর রহমান,সালমান মিয়া,মোতাহারা , জাহিদুল, মাগ্রড়া ইউনিয়নের চন্দন কুমার,শফিকুল ইসলাম, দিনেশ চন্দ্র সরকারসহ শত শত বিত্তশালী ব্যাক্তি।
এ ব্যাপারে এমপি প্রতিনিধি রেজাউল হক ফিলিপের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি কারো কাছ থেকে কোন টাকা পয়সা গ্রহন করিনি। তবে শুনেছি সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্যা মেরিনা রহমানের লোকজন টাকা নিয়ে বিত্তশালীদের মাঝে সোলার প্যানেল দিয়েছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোফাখারুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এমপির প্রতিনিধিরা যাদের নামের তালিকা দিয়েছে তারাই সোলার প্যানেল পেয়েছে। ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার করে টাকা নেওয়ার বিষয়ে কথা বললে তিনি বলেন টাকা নেওয়ার বিষয়ে আমি কিছু জানিনা।
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
২ কোটিরও বেশি মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত

About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাক্সবন্দি হবে বাকস্বাধীনতা by মতিউর রহমান চৌধুরী

সংবাদপত্রের ফাইল ঘাঁটলে অসংখ্য শিরোনাম দেখা যায়- যা কিনা আজকের আওয়ামী লীগের চরিত্রের মধ্যে বিস্তর ফারাক। ভারতে তথ্য ও প্রযুক্তি আইনের ৬৬/এ ধারাটি বাতিল করে দিয়েছে সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট। বিচারক রায়ে বলেছেন, ধারাটি অসাংবিধানিক। বাকস্বাধীনতার পরিপন্থি, অস্বচ্ছ ও পরিণামে ভয়ঙ্কর। যাই হোক, ইতিহাস মোটেই শাসকদের পক্ষে থাকে না। বাংলাদেশেও দেখেছি। বিদেশেও ভূরি ভূরি নজির রয়েছে। যে সব দেশ মৌলিক অধিকারকে স্বীকৃতি দেয় না- ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করে না- সে সব দেশ মুখ থুবড়ে পড়েছে। নিকট অতীতে ইরাক-লিবিয়ার ইতিহাস সবার জানা। আগে উন্নয়ন- পরে গণতন্ত্র চর্চা করতে গিয়ে অনেক দেশের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়েছে। ভিন্নমতকে দমন করা সহজ। বন্দুক পারে না এমন কিছু নেই এই দুনিয়ায়। কিন্তু বন্দুকের তো কোনো দিক নেই। জনগণের প্রতি আস্থা হারিয়ে পৃথিবীতে অনেক শাসকই বন্দুকের প্রতি আস্থাশীল হয়ে পড়েন। আখেরে তাদের দু’কূলই যায়। ক্ষমতা দীর্ঘ করার জন্য বিএনপি অনেক কূটচালের আশ্রয় নিয়েছিল। এর অন্যতম রূপকার ছিলেন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া জোটের দুই নেতা। খালেদা জিয়া নিজের ইচ্ছায় অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। এখনো একই প্রবণতা। অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ায় ভুলের মিছিল লম্বা হচ্ছে। বিশেষ ক্ষমতা আইন চালু করে আওয়ামী লীগ বরাবরই নিন্দিত হয়েছে। কখনো প্রশংসা পায়নি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারাই। আজ যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় তাদের অনেকেই বারবার এই আইনে বন্দি হয়েছেন। নির্যাতিত হয়েছেন। ২০০৬ সালের ৮ই অক্টোবর তথ্যপ্রযুক্তি আইন চালু করেছিল বিএনপি। এখন মূল্য দিচ্ছে কড়াভাবে। তাদের জন্য সামনে কি অপেক্ষা করছে কে জানে। স্বাধীনতার নামে স্বেচ্ছাচারিতার পক্ষে কেউই কথা বলবেন না। অনেকেই অবশ্য ভুলে যান সবকিছুর একটা সীমারেখা আছে। বা থাকতে হবে। শাসকেরা এর সুযোগ নিয়ে ভিন্নমতকে কব্জা করতে চান। বিপত্তিটা সেখানেই। একটা সমাজ কি ভিন্নমত ছাড়া চলতে পারে? ক্ষমতা চিরস্থায়ী ভাবলে অবশ্য কথা নেই। এই পথটা সর্বনাশা। আজ আমাকে আপনি দমন করতে পারেন। ভাবতে পারেন সামনে সব আমার। আমি সবকিছু দমন করবো। কার কি এসে যায়! ইতিহাস বড় নিষ্ঠুর। কাউকেই ক্ষমা করে না। এক সময় বাংলাদেশের উদারনৈতিক গণতন্ত্রের প্রশংসা করতো সবাই। বিশেষ করে পশ্চিমা দুনিয়া। বলা হতো বাংলাদেশ হচ্ছে একমাত্র মুসলিম দেশ যেখানে পশ্চিমা ধাঁচের গণতন্ত্র চর্চা হয়। এখন তারা কি বলছে কারো না জানার কথা নয়। প্রতিদিনই কোনো না কোনো বিদেশি সংবাদমাধ্যম গণতন্ত্র আর মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য সরকারের কড়া সমালোচনা করছে।
কথা বললেই রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এক ধরনের রোগে পরিণত হয়েছে। মামলার প্রতিও মানুষের আস্থা কমছে। ভয়ের সংস্কৃতি অন্য এক ভয়ের জন্ম দেয়। জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি গণভোটে দেন। জনগণ গ্রহণ করলে কেউ আপত্তি জানাবে না। আর যদি কোনো সমালোচনাতেই সরকার কান না দেয় তাহলে ফিল্মী দুনিয়ার সুপারস্টার শাহরুখ খানের বিখ্যাত একটি উক্তির কথা স্মরণ করবো। তার কথায়, সময় বদলে গিয়েছে। মনে যা আছে সেটা বলা বা প্রকাশ না করাই ভালো। কারণ সবাই জানেন। এই মনের কথা বলতে হলে বাথরুমে গিয়ে বরং বলাই ভালো। শাহরুখ খান জিন্দাবাদ।
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ by পি. কে. বালাচন্দ্রন

বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির প্রধান বেগম খালেধা জিয়া দুর্নীতির অভিযোগে জেলে রয়েছেন। নির্বাচনের আগে তার মুক্তি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ অবস্থায় তাকে মুক্তি না দিলে, নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নিরপেক্ষ অথবা নির্দলীয় তত্ত্বাবধাক সরকার (এনপিসিজি) ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা না হলে, বিএনপি নির্বাচন বর্জনের হুমকি দিয়েছে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার না থাকায়, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো আস্থা না থাকায় ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। এর ফলে যদিও মাত্র শতকরা ৩০ ভাগ ভোটার ভোট দিয়েছেন, তবু ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাদের প্রার্থীরা বিজয়ী হন ১৫০ আসনে।
বিএনপি নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ায় এবং সরকারের ওপর তাদের কোনো প্রভাব না থাকায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ খোলা মাঠ পেয়ে যায়। চীনা ঋণ নিয়ে মেগা প্রকল্পগুলো শুরু করে তারা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অর্জন করে। কিন্তু সরকারকে দেখা গেছে নির্যাতনের ভূমিকায়। গুম, সমালোচকদের গ্রেপ্তার, সন্দেহজনক সন্ত্রাসী ও মাদকের ডিলারদের বিচারবহির্ভূত হত্যা একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে আতঙ্ক বৃদ্ধি পেয়েছে, তৃতীয় দফা ক্ষমতার জন্য ২০১৮ সালের নির্বাচনে জালিয়াতি করতে পারে সরকার।
এর ফলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জনমনে আস্থা সৃষ্টি করেছে। অতীতের নির্বাচনগুলো হয়েছে এই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে ফেরাতে ‘বিগ ব্রাদার’ ভারত ও পশ্চিমাদের সূক্ষ্ম চাপ রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচন হবে ‘নির্বাচনকালীন সরকারের’ অধীনে। তবে তিনি এটা বলেননি ওই ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ কি নির্দলীয় অথবা দলহীন সরকার। তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকারে’ বাইরের কোনো লোক থাকবেন না। অন্য কথায়, নির্বাচনকালীন সরকারে কোনো টেকনোক্র্যাট থাকবেন না। তবে এরও আগে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, এমন সরকার হতে পারে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলগুলোকে নিয়ে। ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ওই সরকারে দুই থেকে তিনজন সদস্য রাখার জন্য অনুরোধ করেছে জাতীয় পার্টি। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেননি প্রধানমন্ত্রী।
যখন শেখ হাসিনা ও তার দল নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে স্পষ্ট নন, তখন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম ও যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনী শিডিউল ঘোষণার আগেই জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শনিবার। সব দলের সঙ্গে আলোচনার পর নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের আহ্বানও জানানো হয়েছে।
দুটি সংগঠন বলেছে, নির্বাচনকালীন সরকারে যারা থাকবেন তাদের উচিত হবে না নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা। সব দলের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় এমনভাবে নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছে তারা। তারা আরো বলেছে, পুলিশকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন অনুষ্ঠানের এক মাস আগে থেকে ৪০ দিনের জন্য ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে মোতায়েন করা উচিত সেনাবাহিনীকে। রাজনীতিকের গ্রেপ্তার বন্ধ রাখা উচিত এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনস (ইভিএম) বাতিল করা উচিত।
অতীতের অভিজ্ঞতা
শেখ হাসিনার জন্য নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনুমোদন অপ্রত্যাশিত নয়। এর জন্য অতীতে রাজনৈতিক দলগুলো, নাগরিক সমাজকে কঠোর লড়াই করতে হয়েছে। প্রাণহানি হয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য এটা একটি বিস্তৃত ও অব্যাহত লড়াই।
বাংলাদেশের গণতন্ত্রে প্রথম আঘাত আনা হয় দেশটির জন্মের চার বছর পরে ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে। ওই সময় তখনকার প্রেসিডেন্ট ও জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার নিজের বাংলাদেশ ফারমার্স অ্যান্ড লেবারস পিপলস লিগ (যা বাকশাল হিসেবে বেশি পরিচিত) বাদ রেখে সব রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করেন। এ ঘটনায় ১৯৭৫ সালের আগস্টে কিছু সেনা কর্মকর্তা তাকে হত্যা করে। এর ধারাবাহিকতায় ক্ষমতায় আসেন সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান। পরে তিনি গঠন করেন বিএনপি। এর মধ্য দিয়ে তিনি তার শাসনকে বেসামরিক লেবাস দেয়ার চেষ্টা করেন।
১৯৮১ সালে সেনা কর্মকর্তারা তাকেও হত্যা করে। এরপর ক্ষমতায় আসেন জেনারেল এইচএম এরশাদ। নিজের মতো করে তিনিও জাতীয় পার্টি গঠন করে শাসন করতে থাকেন। যদিও জিয়া ও এরশাদ নির্বাচন দিয়েছিলেন, তবে তার বিশ্বাসযোগ্যতা ছিল না। কারণ, তাদেরকে সমর্থন দিয়েছে সেনারা। ১৯৮৬ সালেই এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে সব রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্র হয়ে ওঠে। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনের আগে এর পক্ষে ব্যাপক সমর্থন পাওয়া যায়। এই লড়াই অব্যাহত ছিল ১৯৯০ সাল পর্যন্ত, যখন এরশাদ পদত্যাগ করেন।
এরপরে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদকে প্রধান করে গঠন করা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ওই সরকার ১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন করে। অতীতের তুলনায় এই নির্বাচন ছিল অত্যধিক অবাধ ও সুষ্ঠু। সেই নির্বাচনে বিজয়ী হয় বিএনপি এবং তারা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট সরকার গঠন করে। কিন্তু তারা মাগুরা উপনির্বাচনে জালিয়াতি করে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি ভবিষ্যতের সব নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার প্রস্তাব করে। এতে সমর্থন দেয় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি। তবে তার বিরোধিতা করে তখনকার ক্ষমতাসীন বিএনপি।
উল্টো তারা নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠনের প্রস্তাব করে। কিন্তু তা আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। পক্ষান্তরে বিরোধীরা জাতীয় সংসদ অধিবেশন বর্জন করা শুরু করে। আন্দোলন শুরু করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে। তাদের দাবি, ওই ক্ষমতা হাতবদল করতে হবে প্রধান বিচারপতির কাছে। বিএনপি যখন এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তখন জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন বিরোধী দলের ১৫৩ জন সদস্য। তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান তখনকার স্পিকার। বিরোধীরা তা সত্ত্বেও জাতীয় সংসদ বর্জন অব্যাহত রাখে।
১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয় ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচন বর্জন করে বিরোধীরা। শতকরা মাত্র ১০ ভাগ ভোটার এতে ভোট দেন। তাতে বিএনপি ভালভাবে বিজয়ী হয়। কিন্তু তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এই বিজয়ের সুখ নিতে পারেননি। কারণ, তার সরকারের বৈধতার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে বিরোধীরা। একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠায় একটি আইন প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া তখন তার হাতে কোনো বিকল্প ছিল না। পরে তিনি পদত্যাগ করেন। ক্ষমতা হস্তান্তর করেন অপসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের হাতে।
নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করে ২০০১ সালে। ২০০৬ সালের নির্বাচনের জন্য কে এম হাসানকে প্রধান উপদেষ্টা করে পুনর্গঠন করা হয় নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার। কিন্তু তিনি বিএনপির প্রতি অনুগত এমন অভিযোগে কে এম হাসানের বিরোধিতা শুরু করে বিরোধীরা। তারা আবার আন্দোলন শুরু করে। এর ফলে তখনকার প্রেসিডেন্ট ইয়াজুদ্দিন আহমেদ নিজেকে প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা করে নিজের মতো করে তার টিম গঠন করেন।
আওয়ামী লীগ আন্দোলন অব্যাহত রাখে। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফখরুদ্দিন আহমেদকে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করা হয়। তবে এতে জড়িত ছিলেন সাবেক সেনা প্রধান জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ। জনগণ সেনাসমর্থিত নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে স্বাগত জানায়। কিন্তু এই নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার অগণতান্ত্রিক হয়ে ওঠে। তারা সব রকম রাজনৈতিক কর্মকা- নিষিদ্ধ করে। নির্ধারিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শিডিউল বাতিল করে দেয়। শুরু করে দুর্নীতি বিরোধী ব্যাপক অভিযান। গ্রেপ্তার করা হয় দুই লাখের বেশি সন্দেহভাজনকে। এর ফলে হাসিনা ও খালেদা যৌথভাবে একটি প্রকৃত নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে লড়াই করতে থাকেন।
নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল
২০০৮ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে হয়েছে। তাতে ভূমিধস বিজয় পায় আওয়ামী লীগ। ক্ষমতায় একবার নিজেদের যখন পাকাপোক্তভাবে বসিয়েছে তখন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে ২০১১ সালের ১০ই মে একটি রুলিং দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সেই রায়ের সুবিধা নেয় আওয়ামী লীগ। তারা বাতিল করে দেয় নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। আদালত তার রায়ে বলেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা হলো অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক। কারণ, এই সরকার অনির্বাচিত। ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থেকে মুক্ত হন শেখ হাসিনা। সাবেক প্রেসিডেন্ট, একজন আওয়ামী লীগার জিল্লুর রহমান তিক্ত বড়ির ওপর যেন চিনির প্রলেপ লাগানোর চেষ্টা করেন। তিনি বলেছিলেন, নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা হবে। কিন্তু তাতে বরফ বেশি কাটেনি। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক রিসার্চের এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, তারা যত মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছে তার মধ্যে শতকরা ৬৭ ভাগ মানুষ নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন।
(শ্রীলংকা থেকে প্রকাশিত অনলাইন ডেইলি মিররে প্রকাশিত মন্তব্য কলামের অনুবাদ)
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সরকারের হুমকিতে দেশ ছেড়েছি : সুরেন্দ্র সিনহা

বিচারপতি সিনহার বই 'এ ব্রোকেন ড্রিম: রুল অব ল, হিউম্যান রাইটস এন্ড ডেমোক্রেসি" মাত্রই প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি এখন আমাজনে কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। খবর বিবিসির
এই বইতে বিচারপতি সিনহা সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন কোন পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়েছিল, এবং কিভাবে তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়, এবং তারপর কেন তিনি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য হন।
তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের মুখে তিনি দেশে ছেড়েছেন। বিচারপতি সিনহা লিখেছেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়টি যেন সরকারের পক্ষ যায়, সেজন্যে তার ওপর 'সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে চাপ তৈরি করা হয়েছিল।'
মি. সিনহার পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছিল ২০১৭ সালে সংবিধানের ১৬শ সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত একটি মামলার আপীলের রায়কে কেন্দ্র করে। এ রায় নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং সরকারের কাছ থেকে প্রচণ্ড চাপের মুখে বিচারপতি সিনহা দেশ ছেড়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
এখানে বইটির মুখবন্ধের কিছু অংশের অনুবাদ দেয়া হলো:
মি. সিনহা লেখেন, "প্রধানমন্ত্রী এবং তার দলের অন্যান্য সদস্য ও মন্ত্রীরা পার্লামেন্টের বিরুদ্ধে যাবার জন্য আমার কঠোর নিন্দা করেন। প্রধানমন্ত্রী সহ ক্যাবিনেট মন্ত্রীরা আমার বিরুদ্ধে অসদাচরণ এবং দুর্নীতির অভিযোগ এনে বদনাম করতে শুরু করেন।"
"আমি যখন আমার সরকারি বাসভবনে আবদ্ধ, আইনজীবী এবং বিচারকদের আমার সাথে দেখা করতে দেয়া হচ্ছিল না, তখন সংবাদমাধ্যমকে বলা হয় - আমি অসুস্থ. আমি চিকিৎসার জন্য ছুটি চেয়েছি।"
"একাধিক মন্ত্রী বলেন, আমি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবো।"
"অক্টোবরের ১৪ তারিখ, যখন আমি দেশ ছাড়তে বাধ্য হই - তখন একটি প্রকাশ্য বিবৃতিতে আমি পরিস্থিতি স্পষ্ট করার চেষ্টায় একটি বিবৃতি দেই যে আমি অসুস্থ নই এবং আমি চিরকালের জন্য দেশ ছেড়ে যাচ্ছি না।"
"আমি আশা করছিলাম যে আমার প্রত্যক্ষ অনুপস্থিতি এবং আদালতের নিয়মিত ছুটি - এ দুটো মিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সহায়ক হবে, এবং শুভবুদ্ধির উদয় হবে, সরকার ওই রায়ের যে মর্মবস্তু - অর্থাৎ বিচারবিভাগের স্বাধীনতা যে জাতি ও রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর - তা বুঝতে পারবে।"
"শেষ পর্যন্ত দেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা - যার নাম ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স - তাদের ভীতি প্রদর্শন এবং আমার পরিবারের প্রতি হুমকির সম্মুখীন হয়ে আমি বিদেশ থেকে আমার পদত্যাগপত্র জমা দেই।"
মি. সিনহা লেখেন, তার এ বইতে তার ব্যক্তিগত ও বিচার বিভাগে কর্মজীবনের কথা, বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রতি চ্যালেঞ্জসমূহ, বিচারবিভাগ ও রাজনীতিবিদদের মূল্যবোধের অবক্ষয়, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, পুলিশের বাড়াবাড়ি, জরুরি অবস্থার প্রভাব, এবং "ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ডিজিএফআইয়ের অর্থ আদায়ের" বিবরণ আছে।
বিচারপতি সিনহার বই-এর একটি মুখবন্ধ রয়েছে যাতে তিনি সংক্ষেপে "বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের দ্বন্দ্ব" বর্ণনা করেছেন এবং তার ভাষায় কী পরিস্থিতিতে তিনি প্রধান বিচারপতির পদ ত্যাগ করে বিদেশে গিয়েছিলেন তা লিখেছেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এ নিয়ে বিবিসি বাংলাকে সাক্ষাতকারও দিয়েছেন। গত বছরের নানা নাটকীয় ঘটনাবলীর পর কোন গণমাধ্যমে এটিই ছিল তার প্রথম সাক্ষাৎকার।
তিনি সাক্ষাতকারে বলেন, "আমাকে যখন কমপ্লিটলি হাউজ এ্যারেস্ট করা হলো, ...তখন বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিদিন একজন করে ডাক্তার আমার কাছে পাঠানো হতো। আমি নি:শ্বাস নিতে পারছিলাম না।"
"এর মধ্যে ডিজিএফআইয়ের চিফ এসে বললেন, হ্যাঁ আপনাকে বলা হলো আপনি বিদেশ যাবেন, আপনি যাচ্ছেন না।"
"আমি বললাম: কেন যাবো আমি বিদেশে?"
"আপনি চলে যান, আপনার টাকা পয়সার আমরা ব্যবস্থা করছি।"
"আমি বললাম, এটা হয় না, আমি আপনাদের টাকা নেবো না। আর আপনারা বললেই আমি ইয়ে করবো না। আমি চাই সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমি আলাপ করি। ব্যাপারটা কি হয়েছে আমি জানতে চাই। (তিনি) বলেন যে প্রধানমন্ত্রী আপনার সাথে কথা বলবেন না।"
বাংলাদেশের পার্লামেন্টে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে সংবিধান সংশোধন করে বিচারপতিদের ইমপিচ করার ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের পরিবর্তে পার্লামেন্টের সদস্যদের দেবার পর ২০১৬ সালের ৫ই মে হাইকোর্ট ডিভিশনের একটি বিশেষ বেঞ্চ ওই সংশোধনীকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেয়। সরকার এর বিরুদ্ধে আপীল করে, এবং সাত সদস্যের একটি বেঞ্চে আপীলের শুনানী হয়।
বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার বইতে লেখেন, "জুলাইয়ের ৩ তারিখ প্রধানবিচারপতি হিসেবে তার সভাপতিত্বে সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চ আপীল খারিজ করে হাইকোর্ট ডিভিশনের রায় বহাল রাখে। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের ১ তারিখ সর্বসম্মত রায়ের পূর্ণ বিবরণ প্রকাশিত হয়।"
সেখানে তিনি লেখেন, "ওই সিদ্ধান্তের পর সেপ্টেম্বরের ১৩ তারিখে পার্লামেন্ট একটি প্রস্তাব পাস করে - যাতে সেই রায়কে বাতিল করার জন্য আইনী পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়।"
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সবচেয়ে বেশি উদ্ভাবনী দেশ সিঙ্গাপুর, কম বাংলাদেশ

আগামী এক দশকের বিদ্যুত বা জ্বালানি খাতের পরিস্থিতি, বিশেষ করে বিদ্যুত উৎপাদন, ঘাটতি, বিতরণ ও ব্যবহারের মতো বিষয়কে বিশ্লেষণ করে ওই রিপোর্ট প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে দেখা হয়েছে কিভাবে তৃণমূল পর্যায়ে উদ্ভাবনী নতুন নতুন বড় সাফল্য আসে। একই সঙ্গে বর্ণনা করা হয়েছে কিভাবে ছোট আকারের নবায়ণযোগ্য সিস্টেমের উত্থান ঘটছে। ডাটা লিডস লিখেছে, বৈশ্বিক উদ্ভাবনী টার্মের আওতায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। আর এ অঞ্চলে সব সূচকে সর্বোচ্চ স্কোর করেছে সিঙ্গাপুর। এতে তারা শীর্ষস্থানে রয়েছে। বিশ্বব্যাপী সূচকে আগের বছরের চেয়ে সিঙ্গাপুর দুই পয়েন্ট বেশি অর্জন করেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া উচ্চ আয়ের দেশের অন্যতম। তারা উদ্ভাবনী খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেছে। এতে এশিয়ায় তাদের অবস্থান দ্বিতীয়। এ দেশটি শুধু বিনিয়োগই বৃদ্ধি করেছে এমন নয়।
একই সঙ্গে তারা তাদের বিজ্ঞান বিষয়ক প্রকাশনা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান উন্নত করেছে। এরপরেই রয়েছে জাপানের অবস্থান। তারা এশিয়ায় তৃতীয় অবস্থানে। আর চতুর্থ অবস্থানে আছে চীন। এ দেশটি উদ্ভাবনী খাতে গতিময় অবস্থানে রয়েছে। বৈশ্বিক আর অ্যান্ড ডি কোম্পানিগুলো, উচ্চপ্রযুক্তি আমদানি, প্রকাশনার উন্নত মানের মাধ্যমে চীন তার উদ্ভাবনী খাতকে শক্তিশালী করেছে। এরপরেই অর্থাৎ এশিয়ায় পঞ্চম অবস্থানে আছে মালয়েশিয়া। তারা এখানকার মধ্যম আয়ের দেশগুলোর অন্যতম। এ বছর তারা ত্রিমাত্রিক শিক্ষা, জ্ঞান বিতরণ, সৃষ্টিশীল পণ্য ও সেবাখাত শক্তিশালী করার মাধ্যমে সামনে এগিয়ে এসেছে। এশিয়ায় এই তালিকায় ৬ষ্ঠ অবস্থানে আছে থাইল্যান্ড। তারা উদ্ভাবনীয় বিষয়ে যথেষ্ট ভাল পারফরমেন্স করেছে বলে বলা হয়েছে ওই রিপোর্টে।
এ ছাড়া তালিকায় ৭ম স্থানে ভিয়েতনাম ও ৮ম স্থানে রয়েছে মঙ্গোলিয়া। আর এশিয়ায় ভারতের অবস্থান ৯ম। ওই রিপোর্ট অনুয়ায়ী ভারত এমন একটি দেশ যেখানে উদ্ভাবনী খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। যদিও ব্রুনেইয়ের মানুষের আয় অনেক বেশি তবু তারা উদ্ভাবনী খাতে খুবই কম স্কোর করেছে। এশিয়ায় তাদের অবস্থান ১০ম। এরপরে ১১তম ও ১২তম অবস্থানে রয়েছে ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া। আর এশিয়ায় সবচেয়ে কম উদ্ভাবনী দেশের মধ্যে রয়েছে শ্রীলংকা, নেপাল, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ।
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারত-বাংলাদেশের বন্ধন কি পাকিস্তানকে নিঃসঙ্গ করতে পারবে? by এশিয়া মাকসুদ

ওই চুক্তিটি মস্কোতে স্বাক্ষর করেছেন রাশিয়ার বেসামরিক পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের উপ মহাপরিচালক নিকোলাই স্পাসকি, রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এসএম সাইফুল হক ও রাশিয়ায় ভারতীয় রাষ্ট্রদূত পঙ্কজ শরণ। উপরন্তু রোসাটমের কর্মকর্তারা বলেছেন, বাংলাদেশের একটি বিদ্যুত কেন্দ্র চুক্তি ভিত্তিতে নির্মাণ করবে রোসাটম। এ ছাড়া তারা এর ডিজাইন, উৎপাদন ও সরঞ্জাম সরবরাহ, প্রতিস্থাপন, প্রি-কমিশনিং ও কমিশনিংয়ে সহযোগিতা করবে।
এতে ব্যতিক্রমি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে, যাতে ঘূর্ণিঝড়, হারিকেন, ভূমিকম্প ও বিমাণ বিধ্বস্ত হওয়ার মতো অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক প্রভাবমুক্ত থাকবে। এভাবে এতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে।
এর আগে ভারত বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করেছে ও পরিচালনা করেছে। তা করা হয়েছে রাশিয়ার সহায়তায়। বাংলাদেশে রাশিয়ার প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেছে ভারত। কর্মকর্তারা বলেছেন, এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজ ও তা প্রতিস্থাপন কাজে জড়িত থাকতে পারে ভারতীয় কোম্পানিগুলো। এমনকি তারা এ প্রকল্পের অতি গুরুত্বপূর্ণ নয় এমন ক্যাটেগরির মালামাল সরবরাহ দিতে পারে। ওই কর্মকর্তা বলেন, এটা উভয় দেশের জন্য ও শিল্পের জন্য একটি বিশেষ ইভেন্ট।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর স্প্যাসকি বলেন, এ অঞ্চলের সহযোগিতামূলক এজেন্ডার ক্ষেত্রে এটা একটি নতুন ও অগ্রগামী প্রথম পদক্ষেপ। এ বিষয়ে আমাদের বিশ্বাস আছে। এটা হবে বাংলাদেশে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রয়েছে মসৃণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক। তারা বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুতখাতে রাশিয়ার সঙ্গে তাদের কর্ম অভিজ্ঞতা শেয়ার করবে।
রাশিয়া, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা বিষয়ক এই ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা হবে প্রথম ঘটনা, যেখানে বাংলাদেশে কোনো বেসামরিক বিদ্যুত বিষয়ক প্রকল্পে নয়াদিল্লি যুক্ত হবে। এটাই হবে পারমাণবিক ক্ষেত্রে মূলধারায় ভারতের প্রবেশ। একই সঙ্গে ভারতে পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের জন্য রাশিয়ার কাছে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের অধীনে প্রস্তাব অনুমোদন দিচ্ছে ভারত।
তুলনামূলকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বময় প্রভাব কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে রাশিয়া, ভারত ও চীনের মতো উদীয়মান শক্তিধর দেশগুলো বিশ্বময় ও আঞ্চলিক ক্ষেত্রে তাদের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছে। পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক বিশ্ব রাজনৈতিক পরিবেশে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও রাশিয়া ও চীনের মতো অন্য অংশীদারদের খুঁজছে পাকিস্তান। আঞ্চলিক উন্নয়নের জন্য পাকিস্তানের নীতিনির্ধারকদের অবশ্যই সুপথ অনুসরণ করতে হবে। তা করতে হবে রাশিয়া, চীন ও বাংলাদেশ ইত্যাদি দেশের সঙ্গে যৌথ ভেঞ্চারে কাজ করার মাধ্যমে, যাতে আঞ্চলিক রাজনীতিতে পাকিস্তানকে একঘরে করার ভারতীয় নীতিকে এড়ানো যায়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে দুটি ইউনিট আছে। এর প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। এটি পদ্মা নদীর পাড়ে অবস্থিত। এটি হবে ভিভিইআর-১২০০ পারমাণবিক চুল্লিভিত্তিক। এটি ৩+ প্রজন্মের প্রযুক্তি, যা রাশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক চুল্লি।
পাকিস্তান একটি বিদ্যুত ঘাটতির দেশ। তাই বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতায় রাশিয়াকে আকৃষ্ট করতে পাকিস্তানের উচিত নীতি তৈরি করা। শীতল যুদ্ধের সময় থেকেই ভারতের প্রচলিত প্রতিরক্ষা বিষয়ক অংশীদার হলো রাশিয়া। ২০১৭ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ ঘোষণা করে ভারত। এর বাইরে ঢাকার জন্য প্রতিরক্ষা বিষয়ক হার্ডওয়ার বিক্রির জন্য দেয়া হয় ৫০ কোটি ডলার। এর উদ্দেশ্য, দুই দেশের মধ্যে রাজনীতিকে আরো গভীর করা ও তাদের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করা।
এ দুটি দেশের কারো সঙ্গেই অব্যাহত ও আস্থার সম্পর্ক নেই পাকিস্তানের। তাদের মধ্যে সম্পর্ক যেভাবে বাড়ছে তাতে একটি বিষয় ফুটে ওঠে। তাহলো, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে আঞ্চলিক রাজনীতি থেকে নিঃসঙ্গ করে ফেলছে পাকিস্তানকে। এর আগে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক বিষয়ে পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইএইএ’র ৬১তম সাধারণ সম্মেলনে ভারতের আণবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান শেখর বসু বক্তব্য রেখেছেন। তিনি বলেছেন, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণে আমাদের রাশিয়ান ও বাংলাদেশী অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা করছি। এটাই দেশের বাইরে ভারতের প্রথম আণবিক বিদ্যুত বিষয়ক কর্মকান্ড। এখন এই উদ্যোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চলমান এসব উদ্যোগের ভিতরে এখন বাংলাদেশ ও ভারত মিলে এ অঞ্চলে পাকিস্তানকে সফলভাবে নিঃসঙ্গ করে দিতে পারে কিনা তা দেখাই হবে আগ্রহের বিষয়। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের দিকে পাকিস্তানের কি এখন দৃষ্টি দেয়া উচিত?
(এশিয়া মাকসুদ ইসলামাবাদে কায়দে আজম ইউনিভার্সিটি থেকে ডিফেন্স অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজে এমফিল করেছেন। তিনি চায়না পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর, দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক স্ট্রাটেজি ও আঞ্চলিক ইস্যুতে লেখালেখি করেন। তার এই লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে অনলাইন ইউরোশিয়া রিভিউয়ে)
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ওমর সাদ ও শিমারের লোভের দ্বন্দ্বে যুদ্ধ এড়ানোর প্রচেষ্টা ব্যর্থ

কারবালার মরুময় ও উষ্ণ আবহাওয়ায় হযরত ইমাম হুসাইন (আ.) এবং তাঁর সঙ্গীরা তীব্র তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়েন।
ইমাম মাটি খোঁড়ার জন্য কোদাল জাতীয় একটি যন্ত্র এনে নিজ শিবিরের তাবুগুলো থেকে ১৯ কদম পেছনে যান। মাটি খুঁড়তে থাকলে স্বচ্ছ ও সুপেয় পানি বের হয়ে আসে। ফলে সবাই পানি পান করেন এবং মশক ভরে পানি নিয়ে যান নিজ নিজ তাবুতে। এরপরই পানি অদৃশ্য হয়ে যায় এবং পানির কোনো চিহ্নও আর দেখা যায়নি। এ ঘটনার খবর পৌঁছে যায় ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদের কাছে। সে ওমর সাদের কাছে এক কর্মচারী পাঠায় একটি বার্তাসহ:
“আমি খবর পেলাম হুসাইন কুয়া খনন করে পানি সংগ্রহ করেছে। এই চিঠি তোমার কাছে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গেই আগের চেয়েও বেশি সতর্ক হয়ে যাবে যাতে ওরা পানির নাগাল না পায়। হুসাইন ও তার সঙ্গীদের ব্যাপারে কঠিনভাবে তৎপর থাকবে।”
ওমর ইবনে সাদ ওই নির্দেশ বাস্তবায়ন করে।
এ ছাড়াও এই দিনে ইমামের সঙ্গী ইয়াজিদ বিন হুছাইন হামেদানি (রা.) ওমর সাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য ইমামের অনুমতি নেন। তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন। হামেদানি (রা.) কোনো সালাম দেয়া ছাড়াই ওমর সাদের কাছে উপস্থিত হন।
ওমর সাদ: কেন আমায় সালাম করলে না? আমি কি মুসলমান নই?
হামেদানি (রা.): তুমি যদি নিজেকে মুসলমান মনে কর তাহলে কেন নবী(স.)’র পরিবারের সঙ্গে শত্রুতা করছ এবং তাঁদেরকে হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছ ও ফোরাতের পানি তাঁদের জন্য নিষিদ্ধ করেছ, অথচ এ অঞ্চলের পশু-পাখীর জন্যও তা নিষিদ্ধ নয়?
ওমর ইবনে সাদ মাথা নিচু করে বলল: আমি জানি যে নবী(সা.)’র পরিবারকে কষ্ট দেয়া হারাম, কিন্তু আমি এখন এমন এক স্পর্শকাতর অবস্থায় আছি যে কি করব বুঝতে পারছি না। আমি কি রেই শহরের (আধুনিক তেহরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত) শাসনভার - যার জন্য আমি অধীর- তা ত্যাগ করব নাকি আমার হাত হুসাইনের রক্তে রঞ্জিত করব? অথচ আমি জানি যে এর শাস্তি হচ্ছে জাহান্নাম। হে হামেদানি! রেই শহরের শাসনভার আমার নয়নের আলো! আমি তা ছাড়তে পারব বলে মনে হয় না।
হামেদানি (রা.) ফিরে এসে ঘটনা বললেন ইমামের কাছে: ওমর ইবনে সাদ রেই শহরের শাসনভার পাওয়ার লোভে আপনাকে হত্যা করতে প্রস্তুত হয়েছে।
ইমাম তাঁর এক সঙ্গীকে সাদের কাছে পাঠান। রাতের বেলায় উভয়ের সেনা অবস্থানের মধ্যবর্তী স্থানে বৈঠকের প্রস্তাবে রাজি হয় সাদ। ইমাম হুসাইন (আ.) বিশ জন সঙ্গী নিয়ে আসেন এবং সাদও বিশ জন সঙ্গী নিয়ে আসে। ইমাম তাঁর সৎ ভাই হযরত আবুল ফজল আব্বাস (রা.) ও পুত্র হযরত আলী আকবর (রা.) ছাড়া অন্য সবাইকে তাবুতে ফিরে যেতে বলেন। সাদও তার পুত্র হাফস ও এক চাকর ছাড়া অন্য সবাইকে চলে যেতে বলেন।
এই সাক্ষাতে ইমাম যতবারই সাদকে বলছিলেন, ‘তুমি কি আমার সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাও?’-সাদ ততবারই অজুহাত বা ওজর দেখায়। যেমন, একবার সে বলছিল,
- আমি ভয় পাচ্ছি (ইয়াজিদ সরকার বা তার গভর্নর) আমার ঘর ধ্বংস করে দেবে!
ইমাম বললেন, আমি তোমার ঘর তৈরি করে দেব।
আরেকবার সে বলে, আমি ভয় পাচ্ছি আমার সব মালামাল ও সম্পদ নিয়ে যাবে (ইয়াজিদ সরকার)!
-আমি তোমার কাছে যা আছে তার চাইতেও উত্তম সম্পদ তোমাকে দেব যা আমার কাছে হিজাজে আছে।
-(সাদ বলে) কুফায় আমার পরিবার ইবনে জিয়াদের ক্রোধের শিকার হতে পারে। তাদেরকে হত্যা করা হতে পারে বলে আমি ভয় পাচ্ছি।
ইমাম হুসাইন (আ.) বুঝতে পারলেন যে সাদ তার সিদ্ধান্ত বদলাবে না, অর্থাৎ ইমামের সঙ্গে যুদ্ধ করবেই। এ অবস্থায় তিনি নিজ স্থান থেকে উঠে দাঁড়ানোর সময় বললেন: তোমার কী হল? আল্লাহ শয্যার মধ্যেই তোমার জীবন নেবেন এবং কিয়ামতের দিন তোমায় ক্ষমা করবেন না। আল্লাহর শপথ! আমি জানি যে ইরাকের গম তুমি খেতে পারবে না।
-(ইবনে সাদ বিদ্রূপ করে বলে) যবই আমার জন্য যথেষ্ট।
এই ঘটনার পর ওমর সাদ ইবনে জিয়াদ কাছে এক চিঠি পাঠায়। চিঠিতে সে লিখেছিল, হুসাইনকে ছেড়ে দেয়া হোক, কারণ, তিনি নিজেই বলেছেন হিজাজে চলে যেতে চান, অথবা অন্য কোনো দেশে চলে যেতে চান। ইবনে জিয়াদ তার সঙ্গীদের সামনে এই চিঠি পড়ে। এইসব প্রস্তাব শুনে শিমার বিন জিল জৈশান ফুঁসে উঠে। ইবনে জিয়াদ ওমর ইবনে সাদের প্রস্তাব মেনে নিতে চাইলেও শিমারের চাপের মুখে বেঁকে বসে। উল্লেখ্য, শিমারও সেনাপতিত্ব বা রেই শহরের কর্তৃত্ব পাওয়ার জন্য লালায়িত ছিল এবং এক্ষেত্রে সাদ ছিল তার প্রতিদ্বন্দ্বি।
আসলে মুসলমানদের মধ্যে নানা দোষ-ত্রুটি প্রবল হয়ে গিয়েছিল উমাইয়া শাসনামলে। খাঁটি মুসলমানের সংখ্যা হয়ে পড়েছিল মুষ্টিমেয়। আর তাদের বেশিরভাগই ছিল ভীরু ও আপোষকামী। অন্যদিকে মুনাফিকদের অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছিল স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.)’রই জীবদ্দশায়। ফলে সুরা বাকারা, সুরা নিসা, সুরা মুনাফিক ও সুরা তওবায় রাসূল (সা.)-কে মুনাফিকদের ব্যাপারে সতর্ক করছিলেন মহান আল্লাহ। ইসলাম যাতে ভেতর থেকেই ক্ষতির বা ধ্বংসের শিকার না হয় সে জন্য ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে বার বার সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে কুরআনের বহু আয়াতে। রাসূল (সা.) নিজেও বলতেন, আমি কাফিরদের চেয়েও মুনাফিকদের নিয়ে বেশি চিন্তিত। বিশেষ করে তাঁর জীবনের শেষের দিকে মুনাফিকদের সম্পর্কে কুরআনে আয়াত নাজিল হচ্ছিল ক্রমবর্ধমানহারে।
সৎ কাজের আদেশ ও অসত কাজে নিষেধের মত ইসলামী নৈতিকতাগুলো শিথিল হতে থাকায় শাসকরাই হয়ে পড়ছিল দুর্নীতিপরায়ণ। তাই ইসলামের মূল নীতিতে অবিচল-অটল নবী-পরিবারের ওপর মহাপ্রলয়ের মত কষ্ট নেমে আসা হয়ে পড়েছিল অনিবার্য এবং খাঁটি ইসলামকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ও মুসলমানদের বিবেককে জাগিয়ে তোলার জন্য নবী-পরিবারের (তাঁদের মুষ্টিমেয় সঙ্গীসহ) পক্ষ থেকে চরম আত্মত্যাগে পরিপূর্ণ বিপ্লব ঘটানোর আর কোনো বিকল্প ছিল না।
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চৌধুরী পরিবার রাজনীতি এবং... by সাজেদুল হক

আগামী নির্বাচনে কী করবে বিএনপি? বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন। দলটির নির্বাচনী কৌশল নিয়ে একই দিনে প্রকাশিত দুটি বিপরীতধর্মী নিউজ ভাইরাল হয়েছে। লোকে প্রশ্ন তুলছে কোন্টি সত্য। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দৌড়ঝাঁপ করছেন। নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন, লন্ডন হয়ে ঢাকায় ফিরে এসেছেন তিনি। যাওয়ার কিছুদিন আগে বন্দি দলীয় চেয়ারপারসনের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। নাজিমউদ্দিন রোডে বিপরীতধর্মী রাজনীতিবিদদের আরেকটি বৈঠকের কথাও শোনা যায়। বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতাকে এ নিয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি খোলাসা করে কিছু বলেননি। তবে গুঞ্জনটি নাকচ করেননি ওই নেতা। এরই মধ্যে বিরোধী নেত্রীর চিকিৎসা নিয়ে দায়ের করা একটি রিটের শুনানি করতে আরো সময় নিয়েছেন তার আইনজীবীরা। খালেদা জিয়ার এক আইনজীবী বলেন, দেখি না সরকার কী করে।
ভদ্রলোক বিএনপির একটি জেলা কমিটির সেক্রেটারি। অনেকটা আত্মসমালোচনা করে বলছিলেন, আমাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের উচিত তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য আলাদা আলাদা করে শোনা। মাঝে মাঝে লোকদেখানো মতবিনিময় সভা করে লাভ নেই। সেখানে কোনো দিকনির্দেশনা থাকে না। তৃণমূল নেতারাও মন খুলে কথা বলতে পারেন না। তিনি বলেন, আমার জেলায় এমন কোনো ইউনিয়ন নেই, যে ইউনিয়নের ১৮-২০ জন নেতাকর্মীর নামে নতুন করে মামলা দেয়া হয়নি। শুনছি আরো মামলা হবে। পরিস্থিতির যদি পরিবর্তন না হয় নির্বাচনে গিয়েও বা কি লাভ হবে? আলাপচারিতায় উপস্থিত বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতা অবশ্য বলেন, বুদ্ধিজীবীসহ ওই ঘরানার মত হচ্ছে যেকোনো পরিস্থিতিতে নির্বাচনে যাওয়া।
বাংলাদেশে জোট রাজনীতির ইতিহাস অনেক পুরনো। এবারও নির্বাচনকে সামনে রেখে জোট রাজনীতিতে তৈরি হচ্ছে নানা সমীকরণ। তবে বৃহত্তর ঐক্যের একটি উদ্যোগ পুরোমাত্রায় ভূমিষ্ট হওয়ার আগেই তৈরি হয়েছে সংশয়। যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার ঐক্যবদ্ধ ঘোষণার দিন জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুপস্থিত ছিলেন জোটের অন্যতম প্রধান নেতা বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট বি. চৌধুরী। তার দলের মহাসচিব বা যুগ্ম মহাসচিবকেও সেখানে দেখা যায়নি। রোববার রাতে প্রায় একই সময়ে দুটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের টকশো’তে উপস্থিত ছিলেন নতুন এই জোটের দুই নেতা। জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের চিন্তা আর ধ্যান-ধারণার দূরত্ব যে অনেক তা একটু কান পাতলেই বোঝা যাচ্ছিলো। মাহমুদুর রহমান মান্না স্পষ্টতই দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করছিলেন যে, জোটে বিএনপি অন্তর্ভুক্ত হবে। আর ২০দলীয় জোটে জামায়াত থাকবে কি-না বা জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক কী হবে সেটি বিএনপির নিজস্ব ব্যাপার।
এরশাদবিরোধী আন্দোলনের বিষয়টিও স্মরণ করেন তিনি। তবে জোটে বিএনপির অন্তর্ভুক্তি প্রশ্নে অন্য একটি টকশো’তে মাহী বি. চৌধুরীর ব্যক্ত করা অবস্থান অনেকটাই আলাদা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এব্যাপারে প্রায় সবাই একমত যে, বিএনপিকে ছাড়া জোট ভোটের রাজনীতিতে কোনো ধরনের প্রভাব রাখতে পারবে না। বিএনপির কাছে দেড়শ’ আসন দাবির বিষয়টিও অনেকে হাস্যকর বলে অভিহিত করেন। যদিও বি. চৌধুরী ও মাহী বি. চৌধুরী ছাড়া জোটের অন্য কোনো নেতা এ দাবি সামনে আনেননি। বৃহৎ জোট গঠনে চৌধুরী পরিবারের ভূমিকা নিয়ে বিএনপির অনেকের মনেই এখন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সরকারের সঙ্গে জোটের কোন কোন নেতার ব্যবসা-বাণিজ্য বৃহৎ জোট গঠনে বড় বাধা হিসেবে সামনে আসছে বলেও অনেকে মনে করেন।
জামায়াত প্রশ্নে চৌধুরী পরিবারের অবস্থানও এখন আলোচিত। ইতিহাসের পাতা উল্টে দেখা যাক। ১৯৯৯ সালে নতুন এক বাঁক নেয় বাংলাদেশের রাজনীতি। গঠিত হয় চারদলীয় জোট। বিএনপি-জামায়াত যার অন্যতম প্রধান অংশীদার। এই জোট আখেরে বিএনপির জন্য ফলদায়ক হয়েছে কি-না সে বিতর্ক আলাদা। জোট গঠনের সময় বি. চৌধুরী ছিলেন বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা। তার ছেলে মাহী বি. চৌধুরীও তখন বিএনপিতে। ২০০১ সালে নির্বাচনী প্রচারণায়ও রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। নির্বাচনে ভূমিধস জয়লাভ করে চারদলীয় জোট। জোটের প্রার্থী হিসেবেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন বি. চৌধুরী। মাহী বি. চৌধুরী বাবার আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে। পরে অবশ্য দল থেকে অসম্মানজনকভাবে বিদায় নিতে হয় বি. চৌধুরীকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশ-বিদেশের অনেক বিবেকবান মানুষই বিএনপিকে জামায়াত ত্যাগের পরামর্শ দিয়ে আসছে। নিবন্ধন হারানো দলটির আগামী নির্বাচনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকার সুযোগ বা সম্ভাবনা নেই। এই অবস্থায় বারবার জামায়াত ইস্যুকে সামনে আনা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
আরেকটি নির্বাচন। যথরীতি অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। পরিস্থিতি এখনো পুরো একক নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু সামনের দিনগুলোতে কী হবে। রাজনীতিবিদ থেকে জ্যোতিষী কেউই হলফ করে বলতে পারছেন না নির্বাচন কেমন হবে। যদিও ভোটের একটি আগাম ছবি একেবারেই পরিষ্কার।
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শিক্ষক-কর্মচারীদের রাজনৈতিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে by নূর মোহাম্মদ ও রুদ্র মিজান

গত আগস্ট মাস থেকেই এই তৎপরতা শুরু হয়েছে। যদিও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহের জন্য কোনো চিঠি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেয়নি নির্বাচন কমিশন। এমনকি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কমিশনের জানার প্রয়োজন নেই বলে নির্বাচন কমিশনের সচিব জানিয়েছেন। তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, এটি নিয়মিত কাজের অংশ। তবে সম্প্রতি উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। চলতি মাসেই তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি।
সূত্রমতে, ইতিমধ্যে উপজেলা পর্যায়ের নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন মাঠ পর্যায়ের কাজ চলছে। আগামী নির্বাচনে দাযিত্ব পালন করতে পারেন এ রকম কর্মকর্তা-শিক্ষকদের তথ্য সংগ্রহ করছেন গোয়েন্দা ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। সুনামগঞ্জ জেলায় কর্মরত সরকারি একাধিক কর্মকর্তা জানান, গত মাসে তাদের তথ্য সংগ্রহ করেছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। অতীতে তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি-না, এমনকি তাদের পরিবারের কোনো সদস্য রাজনীতিতে সম্পৃক্ত কি-না, সেই দলের নাম, পদসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ সব তথ্যের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে প্রশাসনের রদবদলের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
অতীতেও জাতীয় সংষদ নির্বাচনের আগে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে রদবদল হয়েছে। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের নিজেদের ও পরিবারের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিস্তারিত তথ্য এভাবে সংগ্রহ করা হয়নি। বিশেষ করে শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেনি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ থেকে শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা এই কার্যক্রমে জড়িত রয়েছে। সূত্রমতে, ৪৯৫টি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের কার্যক্রম এবং তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার তথ্য, বিভিন্ন কার্যকলাপ সংক্রান্ত প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি পুলিশের কর্মকর্তারা। এসব বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি সোহেল রানা বলেন, শিক্ষকদের রাজনৈতিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে কি-না এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানা নেই। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ কর্মকর্তা ও শিক্ষক সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের রাজনৈতিক তথ্য সংগ্রহ করছে সরকার। বিষয়টি নিয়ে এক ধরনের উদ্বেগের মধ্যে আছে শিক্ষকরা। তারা বলছেন, আমার তথ্য বা রাজনৈতিক পরিচয় জানতে পারি। কিন্তু আমার পরিবারের মধ্যে কেউ রাজনীতি করে না কি, করলে কোন দল করে এসব তথ্য চাওয়া হচ্ছে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে। এতে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে তাদের মধ্যে।
প্রাথমিক শিক্ষকরা নিজেদের ফেসবুক ও শিক্ষকদের একাধিক গ্রুপের তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জামালপুর সদরের মাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক স্কুলের সহকারী শিক্ষক মনিরুজ্জামান মনি সম্প্রতি ফেসববুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে বলেছেন, বিভিন্ন উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের রাজনৈতিক পরিচয় চাওয়া হচ্ছে! সরকারি চাকরিজীবীদের রাজনৈতিক পরিচয় দেয়ার সুযোগ আছে কি? তার এ মন্তব্যটি প্রাথমিক শিক্ষকদের দিয়ে পরিচালিত একটি ফেসবুক গ্রুপ প্রাথমিক শিক্ষক কণ্ঠে পোস্ট করা হয়। সেখানে অনেক শিক্ষকরা এ ধরনের তথ্য নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এ ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষক কণ্ঠ ফেসবুক গ্রুপের একজন এডমিন বগুড়ার মারিয়া সরকারি প্রাথমিক স্কুলের সহকারী শিক্ষক তারিকুল আলম মানবজমিনকে বলেন, শুধু আমার নয়, এ স্কুলের সকল শিক্ষকদের তথ্য প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে। কি ধরনের তথ্য নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার পরিবারের কতজন সদস্য, আমি রাজনীতি করি কী না, আমার পরিবারের কেউ রাজনীতি করে কি না, করলে কোন দলের ইত্যাদি। আমরা যেহেতু কোনো রাজনীতি করি না, তাই তথ্য দিতে কোন সমস্যা নাই। তবে আমার স্ত্রী একটি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক। তার চৌদ্দগোষ্ঠীর তথ্য নেয়া হয়েছে।
একাধিক শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যেসব শিক্ষকদের ব্যাপার সন্দেহ হচ্ছে তাদের তথ্য বেশি নেয়া হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহের সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের পারিবারিক তথ্য যেমন পিতা মাতা, ভাইবোন, চাচা, মামা, শ্বশুর, শাশুড়ি, শ্যালক, স্বামী, দেবর, ননদ ও ভাশুরের তথ্য। সবার তথ্য নেয়ায় শিক্ষকরা এক ধরনের আতঙ্কের মধ্যে আছেন। কারণ ইতিপূর্বে কারও তথ্য এভাবে নেয়া হয়নি। শিক্ষকরা বলেন, চাকরিতে প্রবেশের সময় পুলিশ ভেরিফিকেশনে চাকরির প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ বা মামলা বা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে কি না তা দেখা হয়। কিন্তু এবার পারিবারিক তথ্য বিশেষ করে রাজনৈতিক তথ্য সংগ্রহে তারা কিছুটা আতঙ্কে আছেন। এ ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এএফএম মনজুর কাদের বলেন, শিক্ষকদের এ ধরনের তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি আমার জানা নেই। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তাও এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সারা দেশে ৪০ হাজার ১৯৯টি কেন্দ্র হবে। তারমধ্যে বুথ হবে ২ লাখ ৬০ হাজার ৫৪০টি। প্রতি কেন্দ্র একজন প্রিজাইডিং অফিসার, প্রতি বুথে একজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং দুইজন পোলিং অফিসার থাকবে। সব মিলিয়ে নির্বাচনে ৮ লক্ষাধিক ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। এর একটা বড় অংশই হচ্ছেন সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ পর্যায়ের শিক্ষক। শিক্ষকদের তথ্য সংগ্রহ সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ মানবজমিনকে বলেন, এ ধরনের কোনো চিঠি আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশকে দেইনি। শিক্ষকদের ভেরিফিকেশনের বিষয়টি আমরা দেখবো তফসিল ঘোষণার পর। ভোটে সংযুক্ত সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বা পরিচয়ের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের জানার দরকার নেই বলে জানান তিনি।
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মেট্রোরেল: জনগণের জন্য কিছু দুর্ভোগ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা! by শাহেদ শফিক

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেট্রোরেলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর স্টেশনে আসা যাত্রীদের যাতায়াতে নিরাপদ ব্যবস্থা থাকবে। কিন্তু,ঢাকায় যে মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে সেখানে এ বিষয়টিতে তেমন একটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
প্রকল্পসূত্র জানিয়েছে,যানজট নিরসনে নির্মিত এই প্রকল্পের সুফল আগামী বছর থেকেই জনগণ পাবে বলে আশা করছে সরকার। আর ২০২০ সালের মধ্যে প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত এলাকায় ২০১৯ সালের মধ্যে মেট্রোরেল দৃশ্যমান হবে। পুরো প্রকল্পটি আটটি প্যাকেজের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে উত্তরা-মতিঝিল পর্যন্ত ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল পথে ৭৭০টি স্প্যান বসবে। পুরো পথে থাকবে ১৬টি স্টেশন। এ পথে ১৪ জোড়া ট্রেন চলাচল করবে। প্রতিটি ট্রেন এক হাজার ৬৯৬ জন যাত্রী বহন করতে পারবে। এর মধ্যে ৯৪২ জন বসে এবং ৭৫৪ জন দাঁড়িয়ে থাকতে পারবেন। ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন মেট্রোরেল ৩৭ মিনিটে উত্তরা থেকে মতিঝিল পৌঁছাবে। প্রতি চার মিনিট অন্তর ট্রেন ছেড়ে যাবে। উভয় দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী চলাচল করতে পারবে। প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে জাইকা। পাঁচ হাজার ৩৯০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয় করছে সরকার।
প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে,প্রকল্প এলাকায় ১৬টি স্টেশন স্থাপন করা হবে। দ্বিতল ভবনের সমান উচ্চতার প্রতিটি স্টেশনের নিচতলায় থাকবে টিকিট ঘর। প্রবেশ পথ হবে স্বয়ংক্রিয়। স্টেশনগুলো হচ্ছে- উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় ও মতিঝিলে। এ থেকে উত্তরা-আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের ৯টি স্টেশন নির্মাণ কাজের মধ্যে ২, ৩ ও ৪ নম্বর স্টেশন নির্মাণ কাজ চলছে।
বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সাবেক সভাপতি স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মেট্রোরেল নির্মাণে সড়ককেন্দ্রিক ব্যবস্থাপনাগুলো মাথায় রাখা হয়নি। এ কারণে এর সুফল পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। দ্রুত এগুলোর সমাধান করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘বলা হচ্ছে- প্রতি তিন মিনিট পরপর একটা ট্রেন স্টেশনে আসবে। আমরা ধরে নিলাম প্রতি ৮ মিনিটে যদি দুইটা ট্রেন একটা স্টেশনে আসে প্রতিটি স্টেশনে ননপিক আওয়ারে কমপক্ষে ২০০ থেকে ৪০০ পর্যন্ত লোক দুই দিক থেকে আসা ট্রেনে ওঠা-নামা করবে। আর পিক আওয়ারে কমপক্ষে ৭০০-৮০০ লোক হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই মানুষগুলো গ্রাউন্ড থেকে স্টেশনে উঠবে। এই যদি হয় তা হলে প্রতি মুহূর্তে ৫০০ থেকে ৬০০ লোক স্টেশনে আসার জন্য ফুটপাতে জমায়েত হবে। লাইন দিয়ে উঠবে এবং নামবে।’
মোবাশ্বের হোসেনের মতে, কর্তৃপক্ষ যে নকশা করেছে তাতে দেখা গেছে প্রতিটি স্টেশনে নামা এবং ওঠার জন্য দু’টি চলন্ত স্কেলেটর থাকবে। আমরা ঘুরে দেখেছি মেট্রোরেল স্টেশন এলাকায় এক সঙ্গে দু’টি স্কেলেটর লাগানোর মতো পথ আমাদের নেই। যদি লাগাতে হয় তাহলে ফুটপাতে লাগাতে হবে। ফুটপাতে লাগালে মানুষকে হাঁটতে হবে রাস্তা দিয়ে। এই স্কেলেটর লাগানোর জন্য জায়গা অধিগ্রহণও করা হয়নি। যেসব স্থানে স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে এর অধিকাংশ স্থানে স্কেলেটর নামানোর জায়গাই নেই। জায়গা যদি না থাকে তাহলে আশপাশের কোনও বড় বিল্ডিংয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোর ভাড়া বা অধিগ্রহণ করা যেতে পারে। এরপরেও যদি জোর করে আশপাশে স্কেলেটর বসানো হয় তাহলে এই ফুটপাত দিয়ে মানুষ চলাচল করতে পারবে না। প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষকে ফুটপাতের বাইরে রাস্তায় চলাচল করতে হবে।
তিনি আরও বলেন,যেহেতু মেট্রোরেলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই খুব সহজে গন্তব্যে পৌঁছা যাবে তাই সবাই চাইবে অল্পসময়ের মধ্যে মেট্রোরেলে করে গন্তব্যে পৌঁছাতে। এজন্য স্টেশনের আশপাশের সব মানুষ তার নিজস্ব গাড়ি বা রিকশা, ট্যাক্সি বা সিএনজি করে স্টেশনে আসবে। স্টেশনকেন্দ্রিক এগুলোর যাতায়াত থাকবে। এর ফলে প্রতিটি স্টেশনের কাছে এসব যানবাহনের ভিড় জমবে। অথচ যে জায়গাগুলোতে এসব স্টেশন হচ্ছে সেসব এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি হচ্ছে সেখানে মানুষ দাঁড়ানোর জায়গাই হবে না, অন্য যানবাহনগুলো দাঁড়াবে কী করে? এছাড়াও এসব মেট্রোরেল স্টেশন করা হচ্ছে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোর পাশে,ফলে মেট্রোরেল স্টেশন এলাকাগুলোতে যানচলাচল প্রচণ্ডভাবে ব্যাহত হবে।
তিনি আরও বলেন, ফুটপাতে স্কেলেটর বসাতে গেলে রাস্তা সংকুচিত হবে। যদি আমরা স্টেশনের জন্য ফুটপাতের সঙ্গে ৮ হাজার বা ১০ হাজার স্কয়ার ফুটের উন্মুক্ত স্থান তৈরি করতে না পারি, তাহলে এই গাড়িগুলো রাস্তায় থাকবে। তখন সড়কের স্বাভাবিক যানচলাচল ব্যাহত হবে। আমরা যে তথ্য এখন পর্যন্ত জোগাড় করতে পেরেছি তা হচ্ছে এ ধরনের কোনও জায়গা সিটি করপোরেশন বা অন্য কোনও সংস্থা স্টেশনের জন্য দেয়নি বা মেট্রোরেলও জোগাড় করেনি। মেট্রোরেলের কর্মকর্তারা গ্রাউন্ড স্টেশনের যে ইফেক্ট হবে সে সম্পর্কে কোনও তথ্যই জানেন না। স্টেশনে ৪০০ থেকে ৫০০ লোক একসঙ্গে ওঠানামা করলে এ সময় যে যানজট তৈরি হবে তা নিয়ন্ত্রণের কোনও ব্যবস্থা নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,মেট্রোরেল স্টেশনকেন্দ্রিক অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থার একটা সংযোগ থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন নজির রয়েছে। কিন্তু ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পে এ বিষয়গুলো একেবারেই অনুপস্থিত। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর স্টেশন কেন্দ্রিক যানজটসহ নানা জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তাদের।
জানতে চাইলে নগর পরিকল্পনাবিদ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের সড়ককেন্দ্রিক কোনও পরিকল্পনাই নেই। এজন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ও রাখা হয়নি। তাদের শুধু দায়িত্ব মেট্রোরেল নির্মাণ করে দেওয়া। এই প্রকল্পের জন্য শহরের ‘ইন্টার মোডাল সার্ভিস’ গুলোর সঙ্গে মেট্রোরেলের যে সম্পর্ক থাকা দরকার সেগুলো নেই। সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে মেট্রোরেল নির্মাণ না করায় এর খেসারত দিতে হবে। তাছাড়া যারা এই সংস্থাগুলোর সঙ্গে জড়িত তাদের সঙ্গেও কোনও বৈঠক বা সমন্বয় করা হয়নি।
তিনি বলেন, এখনও সময় আছে- এটাকে যদি কার্যকরী করতে হয় তাহলে বিস্তারিত পরিকল্পনা নিতে হবে।
এই পরিকল্পনাবিদের মতে যানজট নিরসনে রাজধানীর সড়ক পরিবহন সেক্টর নিয়ে ২০০৫ সালে তৈরি করা স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানে (এসটিপি) মেট্রোরেলের অবস্থান ছিল ৬ নম্বরে। কিন্তু বর্তমানে আমরা ৬ নম্বর পরিকল্পনাকে এক নম্বরে এনে কাজ করছি। আমরা সন্দিহান, মেট্রোরেল বাস্তবায়ন হলেও সব সমাধান হচ্ছে না।’
একই আশঙ্কা প্রকাশ করেন বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল হক। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মেট্রো স্টেশনকেন্দ্রিক অনেক মানুষকে ঝড়ো হবে। একটা প্রকল্প হলে সে যেমন উপকার দেয় সঙ্গে কিছু সমস্যা তৈরি করে। এগুলো আগে থেকে জেনে পরে সমন্বয় করতে হয়। বিরূপ প্রভাব যাতে না দেখা দেয় সেজন্য কাজ করতে হয়। দুর্ভাগ্য আমাদের, সেটা হচ্ছে না। স্টেশনগুলোর ল্যান্ডিংটা ফুটপাতের মধ্যে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এখন ফুটপাতে যারা হাঁটেন তারা তখন কি দিয়ে হাঁটবেন?
তার মতে স্টেশনকেন্দ্রিক মানুষের যাতায়াতের সুবিধাগুলো এই প্রকল্পে বিবেচনা করা হয়নি। এক সঙ্গে এক দেড় হাজার মানুষ স্টেশনে নামার পর তাদের গন্তব্যে যাওয়ার একটা চাহিদা থাকবে। কিন্তু তারা কিভাবে যাবেন তার ব্যবস্থা নেই। আর এই যাত্রীগুলোকে পরিবহন করার জন্য স্টেশনকেন্দ্রিক রিকশা, সিএনজি, মটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও বাসসহ বিভিন্ন ধরনের পরিবহন অপেক্ষা করবে। ফলে যানজটের একটা ঝটলা লেগেই থাকবে।
তিনি বলেন, আমাদের উন্নয়নকাজগুলো টার্গেটভিত্তিক সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নির্ধারণ করা হয়। এ কারণে প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ত্রুটিগুলোর সমাধান হয় না। মেট্রোরেলের অন্যতম কাজ হচ্ছে স্টেশনে আগত যাত্রীদের ট্রান্সফার সুবিধা রাখতে হবে। প্রয়োজনবোধে যাত্রীদের যাতায়াতের জন্য এলিভেটেড ওয়াকওয়ে রাখতে হবে। এর মাধ্যমে স্টেশন থেকে সরাসরি বড়বড় অফিস ও মার্কেটগুলোতে যাতায়াত করা যাবে। না হয় প্রকল্পটির সুফল পাওয়া যাবে অন্য কিছুকে ক্ষতি করে।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য মেট্রোরেলের প্রকল্প পরিচালক আফতাব উদ্দিন তালুকদারের সঙ্গে বারবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি। তবে তাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলার জন্য নিষেধ রয়েছে বলে প্রকল্পের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন।
এ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিকের সঙ্গেও বারবার চেষ্টা করে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কথা বলার জন্য বেশ কয়েকবার প্রকল্প অফিসে গিয়েও তার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি।
‘বাঁচবে সময় বাঁচবে তেল, জ্যাম কমাবে মেট্রোরেল’-এ স্লোগানে শুরু হওয়া দেশের প্রথম মেট্রোরেল এরইমধ্যে বাস্তবে রূপ পেতে শুরু করেছে। ২০১২ সালের ১৮ ডিসেম্বর সরকার এ প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার। প্রাথমিক মেয়াদকাল ছিল ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। ২০১৬ সালের ২৬ জুন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দ্রুত গতিতে কাজ করায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার বছর আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সৌদি আগ্রাসন: গাছের পাতা খাচ্ছে ইয়েমেনিরা
![]() |
| খাওয়ার জন্য পাতা প্রস্তুত করছে ইয়েমেনের একটি পরিবার |
মার্কিন সংবাদ সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস বা এপি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আর্থিক অনটন চরম আকার ধারণ করায় ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় হাজ্জাহ প্রদেশের আসলাম এলাকার অনেকে এক ধরনের গাছের পাতা খেয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে। স্থানীয়ভাবে এ গাছকে আরবিতে হালাস বলা হয় যার ইংরেজি নাম ওয়াক্স লিফ।
এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মায়েরা এই হালাস গাছের পাতা তুলে টক জিনিসের ভেতরে দিয়ে সিদ্ধ করে পরিবারের অন্য সদস্যদের মুখে তুলে দিচ্ছেন ক্ষুধা নিবারণের জন্য। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে- আসলাম এলাকায় সবচেয়ে বেশি অপুষ্টিতে ভোগা শিশু রয়েছে। শুধু জানুয়ারি মাসেই সেখানে ৩৮৪টি শিশুর চিকিৎসা দেয়া হয়েছে এবং পরবর্তী ছয় মাসে চরম অপুষ্টিতে ভোগা এক হাজার ৩১৯টি শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হয়।
ভ্রাম্যমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ক্লিনিক কর্মী সালেহ আল-ফাকিহ বলেন, ইয়েমেনের আসলাম হচ্ছে আরেকটি সোমালিয়া যেখানে দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছে অজস্র মানুষ।
![]() |
| অপুষ্টিতে ভোগা ইয়েমেনি শিশু |
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইভিএম কেনার প্রকল্প অনুমোদন

তিনটি পর্যায়ে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং অনুশাসন অনুযায়ী এই ইভিএম প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- আরবান (শহর) এলাকার মানুষজন শিক্ষিত। লিমিটেড স্পেলে প্রথম আরবান এলাকায় ব্যবহার করা, এরপর আস্তে আস্তে সারা বাংলাদেশে বিস্তার করবে, এটা তিনি প্রত্যাশা করেন। ইভিএমের কোনো অপব্যবহার যাতে না হয় সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথম পর্যায়ে কতগুলো মেশিন কেনা হবে সেটা কোন সময়ের মধ্যে এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমাদের তিনটি ফেজ করে দিয়েছি। তিন হাজার কোটি টাকা, তিন ভাগে ভাগ করা হবে। সেখানে বলে দেয়া হয়েছে। দুই এক বছরে কেনার কোনো ব্যবস্থা নেই। এক মাস দুই মাসেই কিনতে পারবেন না। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ইভিএম প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি করেছি। আমরা আশ্বস্ত হয়ে এই প্রকল্প নিয়ে এসেছি। প্রকল্পটি গত মাসে পরিকল্পনা কমিশনে এসেছে। এত দ্রুত এটা পাস হয়ে যাওয়া তাড়াহুড়ো কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্প অনুমোদন দিতে কোনো তাড়াহুড়ো করা হয়নি, আমাদের কাছে কোনো প্রকল্প দুই সপ্তাহের বেশি থাকলেই সেটাকে আমরা দীর্ঘদিন বলি। আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হবে কিনা এ ব্যাপারে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, সেটা নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার। এখন তো আমাদের আরপিও সংশোধন করতে হবে। আরপিওতে এখন স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের নির্দেশনা আছে। যেহেতু সেখানে নির্দেশনা আছে আমি মনে করি জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের ব্যাপারে আরপিও পরিবর্তন দরকার।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের এখানে নির্বাচন খারাপ হয় এটা আমরা বলি না, যারা ফেল করে তারা বলে। এটা আমাদের নিয়ম। আমি মনে করি সেখান থেকে বের করে নিয়ে আসতে হলে অটোমেশনের বাইরে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই। আমরা এখন আস্তে আস্তে জিনিসটা সম্পর্কে জানবো, পরে আমরা ব্যাপক আকারে বাস্তবায়ন করবো। ‘নির্বাচন ব্যবস্থায় অধিকতর স্বচ্ছতা আনতে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনা, সংরক্ষণ ও ব্যবহার’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে তিন হাজার ৮২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। এই প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী বিভিন্ন নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে ক্রমান্বয়ে এক লাখ ৫০ হাজার ইভিএম মেশিন কেনা, সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব জনবলের জন্য ইভিএম ব্যবহারসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ আয়োজন, ইভিএমের মাধ্যমে ভোট দেয়ার জন্য ভোটারদের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। এটি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আওতায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয় বাস্তবায়ন করবে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, ইভিএম তৈরির জন্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে কারিগরি ও পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) নমুনা ইভিএম তৈরি করেছে। ২০১১ সালের পর কয়েকটি স্থানীয় নির্বাচনে সীমিত পরিসরে ইভিএম ব্যবহার হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে পুরোদমে ইভিএম ব্যবহার করতে হলে আরপিও সংশোধন করতে হবে। জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে রাজনৈতিক দলগুলো। খোদ নির্বাচন কমিশনেও বিষয়টি নিয়ে দ্বিমত রয়েছে।
একনেকে মোট ১৪ প্রকল্প অনুমোদন: গতকাল একনেকে ইভিএম প্রকল্পসহ মোট ১৪টি প্রকল্প পাস করা হয়। এতে খরচ হবে ১২ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় জোগান দেয়া হবে ৮ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা। আর বিদেশি সহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে ৩ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা। আর প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা দেবে ২৫৭ কোটি টাকা। একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো ৭৫০ কোটি টাকার মিরসরাইয়ে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল; ২৫৩ কোটি টাকার শেখ হাসিনা তাঁতপল্লী স্থাপন; ৫২৮ কোটি টাকার চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি জাতীয় মহাসড়কের হাটহাজারী থেকে রাউজান পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীত করা; ১২৯ কোটি টাকার জামালপুর-মাদারগঞ্জ সড়ক প্রশস্ত ও মজবুত করা; ৪৬১ কোটি টাকার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন; ৮০ কোটি টাকার ভারতের সঙ্গে রেলসংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে চিলাহাটি এবং চিলাহাটি বর্ডারের মধ্যে রেলপথ নির্মাণ; ১৫৭ কোটি টাকার গোপালগঞ্জ জেলায় বিএআরআইয়ের কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন এবং দেশের পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ-প্রতিবেশ উপযোগী গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করার মাধ্যমে কৃষি উন্নয়ন; ১১২ কোটি টাকার বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর কৃষি উন্নয়ন; ৮৩ কোটি টাকার গোপালগঞ্জ-খুলনা-বাগেরহাট-সাতক্ষীরা-পিরোজপুর কৃষি উন্নয়ন; ২৫৮ কোটি টাকার জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমি প্রতিষ্ঠা; ১১৩ কোটি টাকার শাহবাগের বাংলাদেশ বেতার কমপ্লেক্স আগারগাঁওয়ে স্থানান্তর, নির্মাণ ও আধুনিকায়ন; ৮২৪ কোটি টাকার খুলনা শহরের জলাবদ্ধতা দূর করতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ৪ হাজার ৯৭১ কোটি টাকার প্রোগ্রাম ফল সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস প্রকল্প।
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যেখানে কোটা সংস্কারের মিছিল সেখানেই ছাত্রলীগ

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সকাল ১১টায় কোটা আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হবে- এমন খবরে সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে জড়ো হয় ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী। পরে তারা সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার না রাখার সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদনকে স্বাগতম জানিয়ে আনন্দ মিছিল করে। মিছিলটি টিএসসি’র রাজু ভাস্কর্যে এসে অবস্থান নেয়। এ মিছিলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের গত কমিটির মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষণা বিষয়ক উপ-সম্পাদক আল মামুন, সাবেক সদস্য মাহফুজুর রহমান ইমন, জহুরুল হক হলের সহ-সভাপতি কামাল উদ্দিন রানা, আরিফুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু হলের সহ-সভাপতি তানভির রহমান, বিজয় একাত্তর হলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ইউনুছ, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সাংগঠনিক সম্পাদক তানভির শিকদার, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহ-সভাপতি সোহেল রহমান শাস্ত্রীসহ ছাত্রলীগের বিভিন্ন হলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। দুপুুর ১১টার দিকে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি পালন করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হয় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। সাড়ে ১১টার দিকে আন্দোলনকারীদের একটি বিক্ষোভ মিছিল টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের দিকে আসলে রাজু ভাস্কর্যের সামনে থাকা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিলটি অনুসরণ করতে থাকে। এ সময় কোটা আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ মিছিল শাহবাগের জাতীয় গ্রন্থাগারের দিকে গেলে সেখানেও ছাত্রলীগ মিছিল নিয়ে তাদের পথ অবরোধ করে। পরে শিক্ষার্থীরা জাতীয় গ্রন্থাগার থেকে মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের দিকে গেলে ছাত্রলীগ আবারো তাদের পিছু নেয়। এসময় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে উত্তপ্ত পরিবেশ বিরাজ করে।
এক পর্যায়ে কোটা আন্দোলনকারীরা রাজু ভাস্কর্যের উদ্দেশে রওয়ানা হলে ছাত্রলীগের ৮-১০ জন নেতাকর্মী হাকিম চত্বর দিয়ে দৌড়ে এসে রাজু ভাস্কর্যের সামনের অংশ দখলে নেয়। এরপর বাকিরাও তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। এসময় মিছিল নিয়ে কোটা আন্দোলনকারীরা রাজু ভাস্কর্য হয়ে ভিসি চত্বরের দিকে যেতে চাইলে রিকশা দিয়ে পথ অবরোধ করে ছাত্রলীগ। কিন্তু শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধে রাস্তা খুলে দিতে বাধ্য হয় ছাত্রলীগ। এরপর কোটা আন্দোলনকারীরা ভিসি চত্বর হয়ে মল চত্বরের দিকে রওয়ানা হলে ছাত্রলীগ পুনরায় দৌড়ে গিয়ে অপরাজেয় বাংলা দখলে নেয়। কিন্তু আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অপরাজেয় বাংলায় না গিয়ে কলা ভবনের পেছনের গেইট হয়ে রাজু ভাস্কর্যে আসছে- এমন খবরে ছাত্রলীগ আবারো মিছিল নিয়ে টিএসসির রাজু ভাস্কর্য দখলে নেয়। কিন্তু কোটা আন্দোলনকারীরা ডাকসু ভবন ঘুরে অপরাজেয় বাংলায় গিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলে বাধা দেয়ার অভিযোগ করে আন্দোলনকারীরা। তারা বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘ সাত মাসের আন্দোলনে ছাত্রলীগ বিভিন্নভাবে বাধা দিয়েছে। এর আগেও তারা আমাদের ওপর জঙ্গির মতো হামলা করেছে। এরা জঙ্গি- এদের প্রতিহত করুন। ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করা এসব জঙ্গিদের অবিলম্বে পুলিশে ধরিয়ে দিতে ছাত্রলীগের প্রতি অনুরোধ করেন তারা। হামলায় আহত অনেকে এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি। তারা হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। সমাবেশে কোটা না রাখার সুপারিশ দ্রুত প্রজ্ঞাপন আকারে জারির দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর বলেন, ‘আমরা শুধু প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরির জন্য আন্দোলন করিনি। আমরা সকল বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি।’ প্রজ্ঞাপন দ্রুত সময়ের মধ্যে না দিলে বাংলার ছাত্রসমাজ দেশের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় করে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে বলে ঘোষণা দেন তিনি। এসময় সোনালী ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও ৪০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি ছাত্র সমাজের সঙ্গে প্রহসন হিসেবে চিহ্নিত করে অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি জানান। আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান অভিযোগ করেন, ‘আমরা আন্দোলন করে অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার কারণে আমাকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হল থেকে ধরে নিয়ে ককটেল হাতে দিয়ে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করেছে। আমরা যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করেছি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে কোটার যৌক্তিক সংস্কার চেয়েছি। আমরা বলে দিতে চাই, কোনো ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের দমিয়ে রাখতে পারবেন না। যতদিন পর্যন্ত আমাদের প্রজ্ঞাপন জারি না করা হবে, ততদিন পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’ আন্দোলনকারীদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদের সচিব কর্তৃক যে সুপারিশ করা হয়েছে তা আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সেটি বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। যতদিন পর্যন্ত প্রজ্ঞাপন না হবে, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং হামলাকারীদের বিচার না হবে ততদিন আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নড়িয়ায় হাহাকার by শেখ খলিলুর রহমান

কেউ স্কুলের মাঠে অস্থায়ী ছাউনি দিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা। জেলা প্রসশাক কাজী আবু তাহের বলেন, পদ্মা নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। মানুষের জমি ভাড়া করে, কেউ কেউ আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, যারা অর্থাভাবে ঘরবাড়ি তুলতে পারে না তাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে শিগগিরই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় টিন ও ঘর উঠানের জন্য বরাদ্দ দেবে। তা ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। কেদারপুর গ্রামের রহিমা বেগম বলেন, সর্বনাশা পদ্মা নদীর ভাঙনে ২-৩ মাসে আমাদের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অনেক আসা করে ঘর উঠাই ছিলাম। একটা বছরও ঘরে থাকতে পারলাম না- মেয়েটাকে বিয়ে দিতে পারলাম না।
আল্লাহ আমাদের কি করল আমার পরিবারে সদস্য সংখ্যা ৮ জন। আমার স্বামী ফলের ব্যবসা করে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালায় আর টিনের ঘরটি উঠায় বতমানে ছেলেমেয়েদের নিয়া পাশের গ্রামে আশ্রয় নিয়াছি। ২-৩ মাসে তিনটি ইউনিয়নের মধ্য মোক্তারেরচর, ইশ্বরকাঠি, শেহের আলী মাদবরের কান্দি, মুলপাড়প কেদারপুর ইউনিয়নের চর জুজিরা, সাহেবের চর, ওয়াবদা বাসতলা, দেওয়ান কান্দি, শুলফৎগঞ্জ, দাসপাড়া.বাগান বাড়ি ও নড়িয়অ ৫০ শস্যা হাসপাতালের নতুন ভবন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে, আশ্রয়হীন এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার, পানি, গো খাদ্য, স্যানিটেশন, শিশুখাদ্যর অভাব। স্রোতের তীব্রতা কমলেও পদ্মার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কমকর্তা বলেন, আমরা সরকারের পক্ষ থেকে ভাঙনে যারা ক্ষতিগ্রস্ত অসহয় এই পর্যন্ত ২-৩ বার চাল ও শুকনা খাবার বিতরণ করেছি।
আগামীকাল ত্রাণমন্ত্রী পদ্মার ভাঙন এলাকা পরির্দশন করে চাল ও শুকনা খাবার বিতরণ করবেন। এদিকে শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন পদ্মার ভাঙন রোধে সরকারের পক্ষ থেকে জিও ব্যাগ ফেলার জন্য ৮ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্ধ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে গতকাল পর্যন্ত ১ লাখ ৩৭ হাজার জিও ব্যাগ পদ্মার ভাঙনে ফেলা হয়েছে।
জিও ব্যাগ ফেলা হবে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৯টি। কেদারপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুর হোসেন দেওয়ান বলেন জিও ব্যাগ ফেলে আমাদের কোনো উপকারে আসবে না। এটা ফেলে মানুষকে শান্ত্বনা দেয়া ছাড়া আর কিছুই না। তাড়াতাড়ি করে যদি বেড়িবাঁধ হয় আমাদের উপকার হবে। শরীয়তপুর সিভিল সার্জন ডা. খলিলুর রহমান বলেন নড়িয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে আমরা আবাসিক ভবনে ইমার্জেন্সি ও আউটডোরে কাজ করে চালিয়ে যাচ্ছি।
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1355)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
-
▼
2018
(7025)
-
▼
September
(317)
-
▼
Sep 19
(16)
- ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন by মোঃ সাওরাত হোসেন সোহেল
- গরিবের সোলার প্যানেল বিত্তশালীদের ঘরে by মো. শামীম...
- ২ কোটিরও বেশি মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত
- বাক্সবন্দি হবে বাকস্বাধীনতা by মতিউর রহমান চৌধুরী
- অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য...
- সরকারের হুমকিতে দেশ ছেড়েছি : সুরেন্দ্র সিনহা
- সবচেয়ে বেশি উদ্ভাবনী দেশ সিঙ্গাপুর, কম বাংলাদেশ
- ভারত-বাংলাদেশের বন্ধন কি পাকিস্তানকে নিঃসঙ্গ করতে ...
- ওমর সাদ ও শিমারের লোভের দ্বন্দ্বে যুদ্ধ এড়ানোর প্র...
- চৌধুরী পরিবার রাজনীতি এবং... by সাজেদুল হক
- শিক্ষক-কর্মচারীদের রাজনৈতিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে ...
- মেট্রোরেল: জনগণের জন্য কিছু দুর্ভোগ থেকে যাওয়ার আশ...
- সৌদি আগ্রাসন: গাছের পাতা খাচ্ছে ইয়েমেনিরা
- ইভিএম কেনার প্রকল্প অনুমোদন
- যেখানে কোটা সংস্কারের মিছিল সেখানেই ছাত্রলীগ
- নড়িয়ায় হাহাকার by শেখ খলিলুর রহমান
-
▼
Sep 19
(16)
-
▼
September
(317)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

