Monday, January 12, 2015

রাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-চট্টগ্রামে ১০ গাড়িতে আগুন

(ছবি:১-নারায়ণগঞ্জ শহরের উকিলপাড়া এলাকায় আজ রাতে তিনটি গাড়িতে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে ১০ জন আহত হয়েছেন। ছবি: পাপ্পু ভট্টাচার্য্য ছবি:২-চট্টগ্রাম নগরের নাসিরাবাদ এলাকায় আজ রাতে ঝুটবাহী একটি ট্রাকে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ছবি: জুয়েল শীল, চট্টগ্রাম ছবি:৩- রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার কাছে আজ রাত ১০টার দিকে যাত্রীবাহী একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। তবে এতে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ছবি: মোছাব্বের হোসেন) অবরোধ চলাকালে আজ সোমবার রাতে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে ১০টি গাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে এসব গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। রাত নয়টার কিছুক্ষণ আগে রাজধানীর মিরপুর ১১ নম্বরের কবরস্থানের সামনের সড়কে যাত্রীবাহী একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে গাড়িটি পুড়ে গেলেও এতে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশের পল্লবী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষে দায়িত্বরত কর্মকর্তা আনজুম রশিদ জানান, রাত ৯টা ৫ মিনিটে সাভারে দুটি ট্রাকে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। রাত ১০টার দিকে কার​ওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার কাছে যাত্রীবাহী একটি বাসে এবং সাড়ে ১০টার দিকে পান্থপথে বসুন্ধরা সিটির সামনে একটি ট্যাক্সি ক্যাবে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে। আমাদের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, রাত আটটার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাস ও দুটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ দিকে রাত আটটার দিকে চট্টগ্রম নগরের নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে ঝুটবাহী একটি ট্রাকে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়।

২২ জেলায় বিজিবি মোতায়েনের নির্দেশ by রোজিনা ইসলাম

২২ জেলায় মোট ৫৯ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ছাড়াও পাঁচ জেলায় চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিজিবির সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আজ সোমবার এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখার উপসচিব হাবীবুর রহমান এ-সংক্রান্ত চিঠিতে সই করেছেন। চিঠিতে বলা হয়, দেশের বিরাজমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও জনগণের জানমাল নিরাপত্তায় বিভিন্ন জেলায় এ ফোর্স মোতায়েনের সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সহিংস পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত কয়েক দিনে সরকারের কাছে নিরাপত্তা জোরদার করতে অনুরোধ জানান ডিসিরা। তাঁরা পরিস্থিতি সামাল দিতে বিজিবি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠিও পাঠান। জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আজ রাতে প্রথম আলোকে বলেন, জেলা প্রশাসকদের চাহিদা অনুযায়ী যেখানে প্রয়োজন হবে, সেখানেই বিজিবি, আনসারসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাঠ প্রশাসনে যেখানেই নিরাপত্তা চাওয়া হবে, সেখানেই নিরাপত্তা দেওয়া হবে। এ জন্য ‘স্ট্যান্ডিং অর্ডার’ দেওয়া আছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিদিনই ডিসিদের এসব চাহিদাপত্র তদারকি করা হবে। সরকার এসব বিষয়ে অত্যন্ত সজাগ রয়েছে। যেখানেই নিরাপত্তা প্রয়োজন, দেওয়া হবে। এসব নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এদিকে আজ সকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ডিসিদের চাহিদাপত্রের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। সে সময় মন্ত্রিসভার বৈঠক চলছিল। তাৎক্ষণিক বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। পরে লিখিতভাবে জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রেলের নিরাপত্তার জন্য প্রতি ৪৫ দিনে আট হাজার ৩২৮ আনসার মোতায়েনের ব্যয় হিসেবে ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিকে আজ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর থেকে সাতটি জাদুঘরের জন্য মোট ১২০ জন আনসার চাওয়া হয়েছে। এগুলো হচ্ছে লালবাগ দুর্গ, মহাস্থানগড় দুর্গ, পাহাড়পুর জাদুঘর, ময়নামতি জাদুঘর, বাগেরহাট জাদুঘর, খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর ও রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি জাদুঘর। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে বিজিবির টহল নিশ্চিত করার পাশাপাশি জেলায় জেলায় পণ্যবোঝাই ট্রাক এবং যাত্রীবাহী বাসের নিরাপত্তার জন্য বিজিবির গাড়ি বহরের জ্বালানির জন্য ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

আ.লীগের সমাবেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাস by মাহবুবুল হক ভূঁইয়া

(ছবি:১-সরকারি তিতুমীর কলেজের একটি বাস ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার সামনে। এই বাসটিতে করেই আওয়ামী লীগের সমাবেশে এসেছেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। বাসটি খালেদা জিয়া উপহার দিয়েছিলেন ১৯৯২ সালে। ছবি:২- শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস ছিল শাহবাগ থানার সামনে। এই বাসটিতে করেই আওয়ামী লীগের সমাবেশে এসেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। বাসটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া উপহার। ছবি: প্রথম আলো) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী আনা-নেওয়ার কাজই করা হয় ওইসব বাসে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের সমাবেশে আজ সোমবার ওই বাসে চেপে এসেছিলেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। এর মধ্যে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি, তিতুমীর কলেজের তিনটি, ইডেন মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের একটি ও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দুটি বাস দেখা গেছে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস দুটিতে ছাত্রলীগের কর্মীদের শাহবাগ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে দেখা গেছে বেলা তিনটার দিকে। একই সময় তিতুমীর কলেজের তিনটি বাস দাঁড়িয়ে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে। এ সময় একটি বাসের চালকের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি নিরাপত্তার ভয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। ইডেন মহিলা কলেজের একটি বাস দাঁড়িয়ে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর এলাকায়। আর ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দুটি বাসে কারওয়ানবাজার এলাকা দিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদেরকে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
ঢাকার বাইরের গাড়ি কম
বিভিন্ন সময়ে ঢাকায় আওয়ামী লীগের জনসভায় নগরের বাইরের যানবাহনের সমাবেশ দেখা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বর, বাংলা একাডেমির সামনে কিংবা শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবন মোড় পর্যন্ত রাস্তায় সাধারণত যানবাহন রাখা হয়। তবে আজ এসব জায়গায় ঢাকার বাইরের (ঢাকার পাঁচটি উপজেলায় আজ ছাত্রদলের হরতাল ছিল) জেলার কোনো বাস দেখা যায়নি। তবে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুলসংখ্যক বাস-ট্রাক এসেছে। ঢাকা-১৪ আসনের সাংসদ ইলিয়াস মোল্লাহ মিরপুর থেকে বিআরটিসির ৩০টি বাস নিয়ে এসেছিলেন। এর মধ্যে ২৬টি দোতলা বাস। কত টাকা ভাড়ায় এসেছেন? জিজ্ঞেস করলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন চালক বলেন, ভাড়া কেউ দেবেন কি না, তিনি জানেন না।  এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী মিরাজুল ইসলাম ও শেরে-ই-বাংলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হকের মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন ধরেননি।

‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ খালেদা’

২০১৫ গণতন্ত্রের বিজয়ের সাল হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। অবরুদ্ধ অবস্থায় মহিলা দল নেত্রীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে এসে মহিলা দল নেত্রী ও সাবেক এমপি নিলুফার চৌধুরী মনি এ কথা বলেছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি বলেন, চেয়ারপারসনের সঙ্গে আমাদের দেখা ও কথা হয়েছে। তিনি টেলিভিশনে অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য শুনে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি আমাদের বলেছেন, একদিকে বিরোধীদলকে কুক্ষিগত করেছেন, বিরোধী জোট নেত্রীকে ইট-বালুর ট্রাক দিয়ে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। অন্যদিকে তিনি সমাবেশ করছেন। এটা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। খালেদা জিয়া বলেছেন, আমরা গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করছি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য যেভাবে আন্দোলন করা দরকার আমরা সেভাবেই আন্দোলন করব। ২০১৫ সাল হবে গণতন্ত্রের বিজয়ের সাল। বিজয় আমাদেরই হবে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে নিলুফার চৌধুরী মনি বলেন, অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে জাতি ক্ষুব্ধ হয়েছে। তিনি যে বাজে কথা বলেছেন আমরা তা ঘৃনা ভরে প্রত্যাখ্যান করছি। তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটা তার জন্য প্রযোজ্য। এক প্রশ্নের জবাবে নিলুফার চৌধুরী মনি বলেন, কার্যালয়ের সামনে বালু ও ইটের ট্রাক দাঁড় করিয়ে রেখে খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সরকারই উনাকে বের হতে দিচ্ছে না। পেপার স্প্রের পর কয়েকদিনের অসুস্থতা কাটিয়ে এখন তিনি অনেকটা সুস্থ হয়ে ওঠেছেন। এ সময় সাবেক এমপি রাশেদা বেগম হীরাসহ কয়েকজন মহিলা দল নেত্রী ছিলেন। এর আগে দুপুরে মহিলা দল নেত্রীরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করতে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান।

নেতাদের বক্তব্যে শুধুই খালেদা by আবদুর রশিদ ও একরামুল হুদা

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ সোমবার অনুষ্ঠিত সমাবেশে আওয়ামী লীগের যে কয়জন নেতা বক্তব্য দিয়েছেন, তাঁদের প্রায় প্রত্যেকের বক্তব্যজুড়ে ছিল খালেদা জিয়ার প্রতি তীব্র সমালোচনা। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, নেতা ও ছাত্রলীগের নেতারা বক্তব্য দেন। তাঁদের বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা, যুদ্ধাপরাধের বিচার, অবরোধসহ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভারতের বিজেপির সভাপতির সঙ্গে খালেদার জিয়ার ফোনালাপ—ইত্যাদি থাকলেও এসব প্রসঙ্গ ছাপিয়ে খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলে তারেক রহমান প্রসঙ্গই মুখ্য হয়ে ওঠে। নেতাদের পাশাপাশি খালেদা জিয়াকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেন ছাত্রলীগের নেতারাও। সমাবেশে খালেদা জিয়ার সবকিছু নকল বলে মন্তব্য করেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনার জন্মদিন ভুয়া, টেলিফোন ভুয়া। আপনার চুল নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। আপনার চুলও ভুয়া। আপনি ভেজাল নেত্রী। আপনার চুল থেকে নখ পর্যন্ত সব নকল।’
বক্তব্যের শুরুতেই উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘খবর পাইছেন তো? ...খালেদা জিয়া হাতে-নাতে ধরা খাইছে। কাপড়ে-চোপড়ে ধরা খাইছে।’ তারেক রহমান সম্পর্কে খালেদা জিয়ার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজ আপনার পোলা লন্ডনে অত্যন্ত বাজে কথা কয়। বাংলার মানুষের পক্ষ থেকে ওই খালেদার পোলা তারেক জিয়াকে বাংলার মাটিতে চিরদিনের জন্য অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতে চাই।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমও খালেদা জিয়াকে নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া সন্ত্রাসীদের গডফাদার। তাঁর ছেলে উন্মাদ। ব্রিটিশ সরকারের কাছে অনুরোধ, তারা যেন তাঁর চিকিৎসা করে। যদি তারা চিকিৎসা করতে না পারে তাহলে আমাদের দিয়ে দেওয়া হোক। আমরা জানি কীভাবে পাগলের চিকিৎসা করতে হয়। সারা জীবনে আর কোনো পাগলামি করবে না।’
বিএনপির উদ্দেশে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘এরা মিথ্যাবাদীর দল। গোটা জাতিকে প্রেস রিলিজ, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের টেলিফোন নিয়ে অপমানিত করেছে। এদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ তিনি খালেদা জিয়ার উদ্দেশে বলেন, ‘খাট পালং বিছানাপত্র নিয়ে উনি ওখানে পিকনিক করছেন, বনভোজন করছেন। আর গোটা জাতিকে সন্ত্রাস দিয়ে নির্যাতন করছেন।’
সমাবেশে খাদ্যমন্ত্রী ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বিএনপির উদ্দেশে বলেন, ‘এটা সুস্থ রাজনীতির জায়গা। জনগণ এদের ধাওয়া করবে। এদের যতদিন বিতাড়িত করা না যাবে, ততদিন দেশে স্বস্তি আসবে না।’ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া খালেদা জিয়ার উদ্দেশে বলেন, ‘আগে ছিলেন বিশ্ব বেহায়া। এবার ধরা পড়ে গেছেন বিশ্ব মিথ্যাবাদী। জানেন তো, এটা কে? এটা খালেদা জিয়া। তিনি এখন ইন্টারন্যাশনাল টাউটগিরি করছেন।’ ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মায়া বলেন, ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারির আগে নির্বাচন হবে না।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক তারেক জিয়াকে ‘লাদেন’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘আরেকজন লন্ডনে বসে লাদেন সেজেছেন। কার সম্পর্কে উক্তি করেছেন? আমার আরেকবার যুদ্ধে যেতে ইচ্ছে করে নেত্রী (শেখ হাসিনা)। আপনি (খালেদা জিয়া) মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য এসব করছেন। আপনি মামলা থেকে রেহাই পাবেন না, পাবেন না, ইনশাআল্লাহ।’
সমাবেশের প্রথমেই বক্তব্য দেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। তিনিও খালেদা জিয়াকে নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন বাংলাদেশ ক্ষুধা, দারিদ্র্য বিমোচন করে উন্নতির দিকে যাচ্ছে, তখনই বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নাটক শুরু করেছেন। সারা বাংলাদেশের নিরীহ মানুষের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছেন। পেট্রলবোমা, গানপাউডার দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা হচ্ছে।’
খালেদা জিয়া গুলশান কার্যালয়ে বসে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন এবং জনগণ সে আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে বলে মন্তব্য করেন সিদ্দিকী নাজমুল আলম। বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিশ্বনেতাদের নামে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে তারা দেউলিয়া সংগঠনের পরিচয় দিয়েছে। খালেদা জিয়ার ওপর ভূত চেপেছে। ছাত্রলীগ জানে কীভাবে সেই ভূত ছাড়াতে হয়। কীভাবে শায়েস্তা করতে হয়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছি, জাতির জনককে নিয়ে লন্ডনে বসে যে বেয়াদব মিথ্যা রটনা করছেন, ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত তাঁদের কোথাও সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না।’
সকালে সমাবেশ করতে আওয়ামী লীগকে অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মো. মাসুদুর রহমান এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। মাসুদুর রহমান বলেন, ঢাকা মহানগরে সমাবেশের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডাকায় ডিএমপি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের উপনেতা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ বেলা একটা থেকে মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে আসতে শুরু করেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। তাঁরা বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢোকেন। মঞ্চের মাইক থেকে সমাবেশে আসা নেতা-কর্মীদের স্বাগত জানানো হয়।

জনগণের নিরাপত্তা দিতে যা করার তাই করা হবে -শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে যা যা করা দরকার তাই করা হবে। নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি নেত্রী যে ভুল করেছেন তার খেসারত তাকেই দিতে হবে। জনগণকে কেন এর খেসারত দিতে হবে। আজ বিকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, অফিসে বসে তিনি আন্দোলন করেন। ঘর ছেড়ে অফিসে কেন আসলেন কেউ তা জানে না। উনি বলেন, উনাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আমি বলব, উনি বাড়িতে চলে যাক, কেউ বাধা দিবে না। উনি কথায় কথায় ঘর থেকে বের হতে চান। এটি উনার পুরনো অভ্যাস। প্রধানমন্ত্রী বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমালোচনা করে বলেন, যেমন মা তেমন বেটা। দুইজনই এক হয়ে জঙ্গিবাদী কার্যক্রম চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশ্ব ইজতেমা হয়েছে। হজের পরে সব চেয়ে বড় সমাগম এটি। বিএনপি নেত্রীর ইসলামের প্রতি এতো দরদ। কিন্তু উনি অবরোধ বাদ দিতে পারলেন না ইজতেমার সময়। আমি ধন্যবাদ জানাই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। যারা ইজতেমায় মুসল্লিদের আসতে সহযোগিতা করেছেন।
সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বক্তব্য রাখেন।

পাড়া মহল্লায় সন্ত্রাসীদের খুজে বের করুন : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যেক পাড়া মহল্লায় সন্ত্রাসীদের খুজে বের করার আহবান জানিয়ে বলেছেন, কারা বোমা বানায় আর কারা সেগুলো ফাটায় তাদের খুঁজে বের করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রীর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তারা কখনোই স্বাধীনতা বিশ্বাস করেনা। তাই তারা স্বাধীনতার পরাজিত শক্তির সমর্থন করে। তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রীর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকা কালে দেশকে পিছিয়ে নিয়েছিলো। কারণ বিএনপি কোন দিন এদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনা। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সোমবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এর আগে বেলা আড়াইটার দিকে সমাবেশ শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি দূর্নীতিকে প্রাতিষ্টানিক রূপ দিয়েছিলো। হাওয়া ভবন ও বিএনপি নেত্রীকে ভাগ না দিয়ে মানুষ ব্যবসা করতে পারেনি। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর গত ৫ বছরে দেশ এগিয়ে গেছে। সবাই কর্মক্ষেত্রে শান্তিতে আছে। মানুষ শান্তিতে ব্যবসা করছে। তিনি বলেন ৫ জানুয়ারি আমরা সরকার গঠন করে এক বছর শান্তির সাথে দেশ চালিয়ে যাচ্ছি। খালেদার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রী জঙ্গী-সন্ত্রাসের নেত্রী। তিনি জামায়াতকে সাথে নিয়ে মানুষ খুন করে।   বিএনপির নেত্রীর কোলাঙ্গার পুত্র। রাজনীতি করবেনা বলে মুচলেকা দিয়েছিলো। কিন্তু এখন অন্য দেশে বসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। যেমন মা তেমন পুত্র। খালেদা দুর্নীতির রানী, জঙ্গীবাদের রানি, তার কথায় মানুষ আসবেনা। খালেদা অবরোদ্ধ নন মন্তব্য করে হাসিনা বলেন, তিনি যখন ইচ্ছা বাড়িতে যেতে পারেন। নির্বাচনে না গিয়ে তিনি যে ভুল করেছেন তার খেসারত তাকেই দিতে হবে।

আ. লীগের সমাবেশে শিশু-কিশোরের ভিড় by মাহবুবুল হক ভূঁইয়া

(বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশে যোগ দিতে এসেছে এই শিশু-কিশোরেরা। ছবি: প্রথম আলো) বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার বেলা দুইটায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। সমাবেশে যোগ দিতে আসা মানুষের মধ্যে শিশু ও কিশোরদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকা থেকে ১০ থেকে ১২টি ট্রাকে করে কয়েক শ শিশু-কিশোরকে নিয়ে আসতে দেখা যায়। তাদের বেশির ভাগের বয়স ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। এসব শিশু-কিশোরের হাতে আওয়ামী প্রচার লীগের ঢাকা মহানগর কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সায়েমের পোস্টার ছিল। সমাবেশে আসার কারণ জানতে চাইলে শিশু মনির প্রথম আলোকে বলে, এলাকার বড় ভাইয়েরা নিয়ে এসেছেন। তাই সে এসেছে। আরেক শিশু আরিফ জানায়, সে পড়ালেখা করে না। কাজ করে। বয়স জানতে চাইলে সে জানায়, তার বয়স ১৪ বছর। বড়ভাইদের ডাকে সমাবেশে যোগ দিতে এসেছে বলে জানায় শিশুটি। শিশুদের সমাবেশে কেন নিয়ে আসা হচ্ছে—জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানা প্রচার লীগের আহ্বায়ক অভি রহমান বলেন, তরুণ প্রজন্ম আসতে চাইলে আমাদের কিছু করার নেই। তাঁর দাবি, দেখতে কম বয়সী মনে হলেও তাদের বয়স অনেক বেশি। সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সমাবেশ করতে আওয়ামী লীগকে অনুমতি দেয়। ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ঢাকা মহানগরে সমাবেশের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ ও বিএনপি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালন করতে রাজধানীতে একই দিনে সমাবেশের ঘোষণা দেয়। পরে ডিএমপি সমাবেশের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য রাজধানীতে সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পুলিশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সমাবেশ করতে চাইলে গুলশানে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রাখা হয় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। বর্তমানে তিনি কার্যালয়ের ভেতরেই অবস্থান করছেন।

বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছেন সিরিসেনা

মাইথ্রিপালা সিরিসেনা
শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা গতকাল শনিবার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনে তাঁর মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির কূটনৈতিক অবস্থান পুনর্গঠন এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের অঙ্গীকার পূরণ করার ওপরই তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। খবর এএফপির। দীর্ঘদিনের শাসক মাহিন্দা রাজাপক্ষেকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচনে হারানোর পরদিন গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নেন সিরিসেনা। তিনি ‘জাতীয় ঐক্যের’ ভিত্তিতে একটি মন্ত্রিসভা গঠন করার চেষ্টা করছেন। বলা হয়েছে, এতে পার্লামেন্টের বিভিন্ন মতাদর্শের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব থাকবে। সিরিসেনার সহযোগী নিশান্থা ওয়ার্নাসিংহে বলেন, মন্ত্রিসভার সদস্যদের বাছাই করাই এখন সিরিসেনার মূল কাজ এবং তিনি সেটা শুরুও করেছেন। জরুরি ভিত্তিতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য ১০০ দিনের কর্মসূচির কথা বলেছেন সিরিসেনা। এর মধ্যে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা খর্ব করার বিষয়টি রয়েছে। দশকব্যাপী ক্ষমতায় থাকাকালে রাজাপক্ষে এসব ক্ষমতা নিজের আওতায় নিয়েছিলেন। সিরিসেনা শপথ নেওয়ার অল্প সময় পরই নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন পার্লামেন্টের বিরোধীদলীয় নেতা রনিল বিক্রমাসিংহেকে। তাঁকেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্ষমতা দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক শক্তিধর দেশ ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা যেতে পারে। প্রাচীন রাজধানী ও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর ক্যান্ডি থেকে সিরিসেনা আজ রোববার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তিনি ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় তামিল বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াইয়ের অবসানের লক্ষ্যে শান্তি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন এবং এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সমর্থনও পান। সাবেক প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষের আমলে শ্রীলঙ্কায় মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে কলম্বোর সম্পর্কের অবনতি হয়। পশ্চিমা অনেক দেশই তামিলদের বিরুদ্ধে দমন অভিযানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে রাজাপক্ষেকে বর্জন করে। সিরিসেনাকে যাঁরা প্রথম অভিনন্দন জানিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও সিরিসেনার অধীনে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের আভাস দিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং অস্ট্রেলিয়াও প্রায় একই ধরনের মনোভাব প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে। শপথ গ্রহণের পর প্রথম ভাষণে সিরিসেনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘আমাদের এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি থাকবে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং সব আন্তর্জাতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করে দেশের জনগণকে সর্বোচ্চ সুফল এনে দেবে। আমরা সব রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্ব, ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করব।’

অভিযুক্ত হচ্ছেন জেনারেল প্রেট্রাউস?

ডেভিড পেট্রাউস
প্রেমিকাকে স্পর্শকাতর গোপন তথ্য দেওয়ার অভিযোগে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক প্রধান ডেভিড পেট্রাউসকে অভিযুক্ত করার সুপারিশ করেছেন কৌঁসুলিরা। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তথ্য দেওয়া কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস-এর খবরে এ কথা জানানো হয়েছে। খবর বিবিসির। ২০১২ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীর মেজর পদমর্যাদার সাবেক নারী কর্মকর্তা পলা ব্রডওয়েলের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর সাবেক জেনারেল পেট্রাউস সিআইএর প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সিআইএর দায়িত্ব নেওয়ার আগে পেট্রাউস ইরাক ও আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন। নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, সিআইএর প্রধান থাকার সময় পেট্রাউস তাঁর প্রেমিকা পলা ব্রডওয়েলকে সিআইএর ই-মেইলে প্রবেশাধিকার এবং অন্যান্য গোপন তথ্য দিয়েছিলেন কি না, বিচার বিভাগীয় তদন্তে তার ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পত্রিকাটির খবরে বলা হয়, পেট্রাউসের পদত্যাগের পর মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) ব্রডওয়েলের কম্পিউটারে সিআইএর গোপন তথ্য পায়। পেট্রাউসের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনার বিষয়ে বিচার বিভাগ ও এফবিআইয়ের সুপারিশ অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডারের কাছে পাঠানো হবে। অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে যেতে হবে। এ ব্যাপারে পেট্রাউসের এক আইনজীবী কোনো মন্তব্য করেননি। তবে পেট্রাউস দাবি করেছেন, তিনি কখনোই ব্রডওয়েলকে গোপন তথ্য দেননি। পলা ব্রডওয়েল ২০১১ সালে পেট্রাউসের জীবনী লেখার কাজ করার সময় তাঁরা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ওই বছরেই পেট্রাউস সিআইএ-প্রধানের দায়িত্ব নিতে আফগানিস্তানে মার্কিন কমান্ডারের পদ ছেড়ে দেন। এফবিআই সন্দেহবশত পেট্রাউসের ব্যবহার করা একটি কম্পিউটারের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে তদন্ত করলে তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টি ফাঁস হয়। ২০১২ সালে বিষয়টি স্বীকার করে পেট্রাউস সিআইএ-প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তখন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সামরিক ক্ষেত্রে তাঁর সাফল্যের প্রশংসা করেছিলেন।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দুর্বলতা স্পষ্ট

ব্যঙ্গাত্মক পত্রিকা শার্লি এবদো কার্যালয়ে জঙ্গি হামলায় নিহতদের
প্রতি সংহতি জানাতে শুক্রবার প্যারিসের আর্ক দো ত্রিয়ঁফ
সৌধে লেখা হয় ‘প্যারিসই শার্লি’ বার্তাটি। ছবি: রয়টার্স
এ সপ্তাহে ফ্রান্সে একাধিক জঙ্গি হামলা ও জিম্মি ঘটনার পর পাশ্চাত্যের গোয়েন্দা ও সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থাগুলোর দুর্বলতার চিত্র ফুটে উঠেছে। দেখা যাচ্ছে, সংস্থাগুলোর হাতে হামলাকারীদের বিষয়ে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হিসেবে আগাম তথ্য থাকে। তবে হামলার পরই কেবল সংস্থাগুলো তাদের হাতে থাকা তথ্য থেকে যোগসূত্রগুলো মেলাতে পারে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা থেকে শুরু করে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অনেক হামলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব হামলার বিষয়ে তথ্য-উপাত্তের সমুদ্রের মধ্য থেকে একটি যোগসূত্র খুঁজে বের করা একটি বড় সমস্যা। সিআইএ এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার সাবেক পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল মাইকেল হেইডেন বলেন, ‘কোনো সমস্যা শুরু হলে আপনাকে সব তথ্য-উপাত্ত তলিয়ে দেখতে হবে।’ সিআইএর সাবেক প্রধান বিশ্লেষক ব্রুস রিডেল বলেন, ফ্রান্সের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর এ ক্ষেত্রে একটি সমস্যা আছে।
সেটি হচ্ছে যেসব নাগরিক সিরিয়া বা ইরাকে সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগ দিতে সেখানে যাওয়ার পর দেশে ফিরেছে, তাদের কর্মকাণ্ডের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারিটা তারা করতে পারে না।’ রিডেল বলেন, ‘এসব ফেরত আসা জিহাদি যদি আইন না ভাঙে, তবে একটি গণতান্ত্রিক সমাজে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা যায় না। আবার এদের পেছনে সব সময় নজরদারিও করা যায় না।’ প্যারিসের বিতর্কিত ব্যঙ্গাত্মক পত্রিকা শার্লি এবদোতে হামলাকারী বলে সন্দেহভাজন দুই ভাই সাইদ ও শেরিফ কোশিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের গোয়েন্দারা আগেই সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। তাঁদের নাম ১২ লাখ সম্ভাব্য সন্ত্রাসীর তথ্যসংবলিত ‘টাইড’ নামের একটি তালিকায় ছিল। কর্মকর্তারা বলছেন, শেরিফ কোশি ইরাকে আল-কায়েদার হয়ে লড়তে লোক জোগাড়ের দায়িত্বে ছিলেন। শেরিফের ভাই সাইদ ২০১১ সালে ইয়েমেনে আল-কায়েদার প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। এ কারণে তাঁদের ওপর নজরদারি শুরু হয়। স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ নজরদারি বন্ধ করে দেয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর কার্টুন প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরা গত বুধবার শার্লি এবদো দপ্তরে হামলা চালিয়ে সাংবাদিক, শিল্পী, পুলিশসহ ১২ জনকে হত্যা করেন। পরে পুলিশ ও বিশেষ বাহিনীর অভিযানে তাঁরাও নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নজরদারির ক্ষেত্রে একটি প্রাধান্যের তালিকা করতে হবে।

এয়ারএশিয়া বিমানটির ‘ব্ল্যাক বক্স’ উদ্ধার

ইন্দোনেশিয়ায় এয়ারএশিয়া কর্তৃপক্ষের ডুবুরিরা বিধ্বস্ত কিউজেড৮৫০১ বিমানটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করেছেন। বিমানটির ব্ল্যাক বক্সে রেকর্ডকৃত তথ্যের সাহায্যে তদন্ত কর্মকর্তারা দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা ‘ব্যামব্যাং সোয়েলিস্তিয়ো’ জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানটির গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় ডিভাইসটি উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। বিমানটির ককপিটের ‘ভয়েস রেকর্ডার’ উদ্ধারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান কর্মকর্তারা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। গত ২৮শে ডিসেম্বর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ১৬২ আরোহীসহ নিখোঁজ হয় বিমানটি। ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়া থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে আকাশে উড়েছিল বিমানটি। খারাপ আবহাওয়ায় পথিমধ্যে জাভা সমুদ্রে বিধ্বস্ত হয় বিমানটি। এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, বিমানটির দুমড়ানো-মুচড়ানো অবকাঠামোর মধ্যে অধিকাংশ মৃতদেহ রয়েছে। কিন্তু, সেই অবকাঠামোটি এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

খাদে ও ফাঁদে পড়েছে সরকার: অলি

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপির) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, “২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দেশের সর্ববৃহৎ দল বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিকে নির্বাচনের বাইরে রেখে সরকার খাদে ও ফাঁদে পড়েছে। বিতর্কিত নির্বাচনের কারণে  বিশ্বয়ায়নের যুগে সরকার প্রায় একঘরে হয়ে পড়েছে। সরকার গণতন্ত্র হত্যাকারী হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।” প্রেস সেক্রেটারি সালাহ উদ্দিন রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে সোমবার তিনি এসব কথা বলেন। অলি বলেন, “বর্তমানে প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি শিকড় গেড়ে বসেছে। এ অবস্থার জন্য দায়ী সাবেক প্রধান বিচারপতি। তার বিতর্কিত রায়ের মাধ্যমে দেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দুর্নীতিবাজেরা বেপরোয়া হয়ে পড়েছে এবং নতুন নতুন মৌলবাদী গোষ্ঠী জন্ম নিচ্ছে। এই অবস্থা কারো জন্য শুভকর নয়।” কর্নেল অলি বলেন, “২০ দলীয় ঐক্যজোটের নেতা বেগম খালেদা জিয়া তার গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ। পুলিশ পিপার স্প্রে করে তাকে শয্যাশায়ী করে রেখেছে। এতে সাধারণ মানুষ ক্ষিপ্ত। ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরাও রাগান্বিত। ফলে আন্দোলন প্রতিদিন তীব্র থেকে তীব্রতর আকার ধারণ করছে।” প্রশ্ন রেখে অলি বলেন, “২০ দলীয় ঐক্যজোটের নেতা বলছেন, সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ এবং হরতাল পাশাপাশি অব্যাহত থাকবে। কোনো অবস্থাতেই এই কর্মসূচি হতে বিরত হব না। এমন পরিস্থিতিতে সরকার কি আরো ধ্বংসের জন্য বসে থাকবে? হয়তো এমন সময় আসবে তখন না থাকবে রাধা, না থাকবে বাসুরি। বসে বসে মুড়ালি না বাজিয়ে বর্তমানের পরিস্থিতি হতে উত্তরণের জন্য সরকারকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।” তিনি বলেন, “সরকাকে বুঝতে হবে প্রতিদিন দেশের সর্বত্র সাধারণ মানুষ এবং ২০ দলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মীদের উৎসাহ বাড়ছে এবং সরকার বিরোধী আন্দোলনে তাদের অংশগ্রহণ লক্ষ্যণীয়। গ্রেফতার করে বা পুলিশ দিয়ে বিরোধী দলের কমসূচি দমন করা সম্ভব নয়। বেগম জিয়াও আন্দোলনের জন্য সর্বতোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে, তার গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে সুদৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন।” হরতাল বন্ধে আইন চেয়ে ব্যবসায়ীদের করা সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে কর্নেল অলি বলেন, “ইদানীং কিছু রাজনীতিবীদ ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী সমস্যা সমাধানের কথা না বলে হরতাল অবরোধ বন্ধ করার জন্য আইন তৈরি করার কথা বলছেন। তাদের অবগতির জন্য বলতে চাই সমস্যা সমাধান না করে আইন প্রণয়ন করে কোনো লাভ হবে না।” আওয়ামী লীগের সংবিধান রক্ষা প্রসঙ্গে অলি বলেন, “১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলন, ১৯৬৯-৭০ সালের শেখ মুজিবুর রহমানের অসহযোগ আন্দোলন, ১৯৯০ সালের স্বৈরচার বিরোধী আন্দোলন, ১৯৯৬ সালের বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলন কোনোটাই সংবিধান অনুযায়ী হয়নি। ১৯৯৬ সালের পূর্ববর্তী আন্দোলনগুলি দেশের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য হয়েছিল। ১৯৮২ সালে এরশাদ সংবিধান মেনে সামরিক আইন জারি করেনি। ১৯৭৫ সালে খন্দকার মোশতাক সংবিধান মেনে আইন জারি করেনি। তাই খালেদা জিয়া যে অবরোধের ডাক দিয়েছেন তা ক্ষমতা দখলের জন্য নয় তা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও জনগনের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য।” কর্নেল অলি বলেন, “আমাদের সকলকে যখন, একদিন এই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যেতে হবে, তাহলে কেন আমরা ক্ষমতার মোহ ত্যাগ করতে পারছি না। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এবং চেষ্টা করতে হবে, যেন ভবিষ্যতে যোগ্য, সৎ এবং ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরাই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পান। তাহলেই সকলের মুক্তি আসবে।” অলি বলেন, “হানাহানি, প্রতিশোধ এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ হবে। এই অচলাবস্থা থেকে বের হওয়ার একমাত্র পন্থা হচ্ছে, উভয় নেতা ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করে, সরকারকে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য পন্থায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সক্রিয় পদক্ষেপ নেয়া। অন্যাথায় যা হওয়ার তাই হবে।”

বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপযোগী ব্ল্যাকবেক্স আগ্রহ বাড়ছে

সাগরতল থেকে ওপরে তুলে আনার পর ভাসছে এয়ারএশিয়ার
উড়োজাহাজের পেছনের অংশের একটি টুকরা। ছবি: এএফপি
দুর্ঘটনা হলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এমন (ইজেকটেবল) ‘ব্ল্যাকবক্স’ রেকর্ডার বাণিজ্যিক উড়োজাহাজে সংযুক্ত করার প্রস্তাব অনেক আগের। নানা কারণে এত দিন সেই প্রস্তাব হালে পানি পায়নি। তবে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইট৮৯ এমএইচ ৩৭০ উধাও হয়ে যাওয়া ও এয়ারএশিয়ার ফ্লাইট কিউজেড ৮৫০১ ট্র্যাজেডির প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ার সম্ভাবনা জেগেছে। প্রস্তাবটি সংশ্লিষ্ট মহলে গৃহীত হলে বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ব্যবহৃত প্রতিটি উড়োজাহাজে ‘ইজেকটেবল’ ব্ল্যাক বক্স থাকবে। এর সুবিধা হচ্ছে, কোনো কারণে বিমানপোতটি বিধ্বস্ত হলে ব্ল্যাক বক্সটি তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে সাগরে পড়লে ব্ল্যাক বক্সটি পানিতে ডুবে যাওয়ার পরিবর্তে ভাসতে থাকবে। বছরের পর বছর প্রস্তাবটি ঘুরছে জাতিসংঘের বিমান পরিচালনাসংক্রান্ত বৈশ্বিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইসিএও) বিভিন্ন কমিটির দ্বারে দ্বারে। তবে সংস্থাটির আসন্ন একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা সম্মেলনের আলোচ্য সূচিতে এটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে সংস্থাটির কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আইসিএও এমন একটি বৈশ্বিক পদ্ধতি দাঁড় করাতে চায়, যার মাধ্যমে উড়োজাহাজের অবস্থান শনাক্ত প্রক্রিয়ার আরও উন্নয়ন ঘটানো ও দুর্ঘটনার স্থান অতি দ্রুত নিশ্চিত করা যাবে। গত বছর মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজটি রহস্যজনকভাবে লাপাত্তা হওয়ার পর সংস্থাটি যেসব পদক্ষেপ নেয়, তার আওতায় ওই পদ্ধতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আইসিএওর একজন প্রতিনিধি রয়টার্সকে বলেন, ইজেকটেবল রেকর্ডার ব্যবহারের বিষয়টিতে গভীরভাবে দৃষ্টি দেওয়ার সময় এসেছে। বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় তিনি নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি। প্রস্তাবটির ব্যাপারে ওয়াকিবহাল আইসিএওর আরেক কর্মকর্তা বলেন, বাণিজ্যিক উড়োজাহাজগুলোতে ইজেকটেবল রেকর্ডার লাগানোর পক্ষে সবার মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত উড়োজাহাজের ব্ল্যাক্স বক্স পাওয়া অনেক সময়ই কঠিন,
সময়সাপেক্ষ এমনকি অসম্ভব হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের জুন মাসে ২২৮ আরোহী নিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে বিধ্বস্ত হয় এয়ার ফ্রান্সের ফ্লাইট ৪৪৭। এর ব্ল্যাক বক্স পাওয়া যায় ২০১১ সালে। আইসিএও যে মান নির্ধারণ করে দেয়, তা বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটই অনুসরণ করে। কারণ তাদের দিকনির্দেশনা ১৯১ সদস্য দেশকে মেনে চলতে হয়। ২০১২ সালে আইসিএওর ফ্লাইট রেকর্ডার প্যানেল দুর্ঘটনার স্থান শনাক্ত সহজ করতে একটি মান প্রস্তাব করে। ইজেকটেবল রেকর্ডার লাগানোর বিষয়টিও এতে ছিল। তবে ‘পুনর্বিবেচনা’ করতে সেটি দুবার প্যানেলের কাছে ফেরত পাঠায় আইসিএওর প্রভাবশালী এয়ার নেভিগেশন কমিশন। ষাটের দশকেই ইজেকটেবল রেকর্ডার তৈরি করে কানাডা সরকারের জাতীয় গবেষণা কাউন্সিল। এরপর মার্কিন নৌবাহিনীর এফ/এ-১৮ যুদ্ধবিমানসহ হাজার হাজার যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারের মতো বিভিন্ন ছোট আকাশযানে যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয়েছে। সামরিক রেকর্ডারগুলো উড়োজাহাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পানির ওপরে ভাসতে পারে এবং নিজের অবস্থান জানাতে উদ্ধারকারী স্যাটেলাইটে সংকেত পাঠিয়ে থাকে। তবে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের প্রথাগত রেকর্ডারগুলো পানিতে পড়লে ডুবে যায়। আর পানির নিচে কেবল স্বল্প একটা দূরত্ব পর্যন্ত সেগুলোর সংকেত ধরা পড়ে। এতে করে অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। আধুনিক বাণিজ্যিক উড়োজাহাজগুলোতে দুটি স্থায়ী রেকর্ডারের জায়গা রয়েছে। একটির জায়গায় ইজেকটেবল রেকর্ডার লাগিয়ে নিলেই চলে। কিন্তু খরচ নিয়ে উদ্বেগ এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার কারণে সেটি করা হচ্ছে না। এগুলোর প্রতিটির দাম কমবেশি ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। আর বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হানিওয়েল ইন্টারন্যাশনালের তৈরি প্রথাগত একটি ব্ল্যাক বক্সের দাম ১৩ থেকে ১৬ হাজার মার্কিন ডলার। প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র বলেন, আইনি কোনো প্রয়োজনীয়তাও নেই, আবার গ্রাহকদের চাহিদাও তেমন নেই। তাই তাঁদের কোম্পানি ইজেকটেবল রেকর্ডার তৈরি করে না। সূত্র: রয়টার্স

ডিসেম্বর ও জানুয়ারির টেক্সচুয়াল শোক by জয়া ফারহানা

হেরাক্লিটাসকে তার শিষ্য প্রশ্ন করলেন, ‘মহাশয়, আপনি কাহার পক্ষে? যুদ্ধের না শান্তির?’ হেরাক্লিটাসের উত্তর, ‘আমি শান্তির পক্ষে। কারণ শান্তির সময় পুত্র পিতার কবর খনন করিয়া থাকে, আর যুদ্ধের সময় পিতা পুত্রের।’ এখনকার সময়টা দেখুন। পিতা পুত্রকে কবর দেয় না, তাকে লুকিয়ে রাখে! তো এমন জায়গায় যে, অন্যরা তাকে জুস খাওয়াতে পারে। আমাদের সবারই কি আসলে নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়েছে। তা না হলে প্রতিপক্ষকে আটকাতে ইট-বালুর ট্রাক পাঠাবো কেন? এক যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায়ের পরে শিবির কর্মীরা যেসব ট্রাক ও গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিল, সেগুলো পাঠালেও তো বোঝা যেত নার্ভাস সিস্টেমটা ঠিক আছে। টেলিভিশনের পর্দায় লোকে একটা চিত্র পেত।
জিহাদ মারা গেল। তা এ রকম অপঘাতে মৃত্যুর মহামারী তো আমাদের দেশে আছেই। ট্রেনের কামরা আর ট্যুরিস্ট স্পটের আলাপের মতো দু’দিন পরেই যথারীতি এসব মৃত্যুর কথা আমরা ভুলেও যাই। পথে পড়ে থাকা আইসক্রিমের ঠোঙা বা ছেঁড়া কাগজের দিকে আমরা যেমন আর ফিরে চাই না, এসব মৃত্যুও তেমন থাকে অলক্ষেই। দু’দিন হইচই। ঘটমান বর্তমানে সবাই অনিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী, বিপ্লবী। তারপর আবার নীরবতা, যতক্ষণ না আরেক জিহাদ গর্তে পড়ে। ফর্মুলা অনুযায়ী যথারীতি জিহাদের মৃত্যুর পরেও আমরা নড়েচড়ে বসলাম। নিজেদের জন্য অপেক্ষমাণ অনিবার্য অপঘাতে মৃত্যুর কথা ভেবে। আত্মসর্বস্ব সমাজের কথা ভেবে। জিহাদ বাংলাদেশের এক সন্ধিক্ষণের অমীমাংসিত চরিত্র বলে, এবং জিহাদের মধ্যে আমরা প্রত্যেকে আমাদের জীবনের অনিশ্চয়তা অনুভব করেছি বলে। নাগরিক সমাজের আরও একটু বেশি সংক্ষুব্ধ হয়ে ওঠার কারণ, জিহাদকে ঘিরে তাদের শোক ও ক্ষোভের ওপর অয়েন্টমেন্টের প্রলেপ না বুলিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাইপের মধ্যে জিহাদের অবস্থান অস্বীকার করা হল। যা বলা হল, তাতে আমরা নিজেদেরই মৃত্যুঘণ্টা অবিরাম শুনতে পেলাম। এতদিন জানতাম, টাকার অভাবে দেশ গরিব হয় না, দেশ গরিব হয় ভরসার অভাবে। কতদিন থেকে শুনে আসছি আমরা মধ্যম আয়ের দেশ হতে যাচ্ছি বা হয়েই গেছি! জিহাদের পর আবার শুনলাম, গর্তে পড়া মানুষ তোলার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিই নাকি আমাদের নেই। সেসব কেনার টাকাও নাকি নাই (আবার শত্রুপক্ষকে গর্তে ফেলে দেয়ার কারিকুরি তো কম জানা নাই)! মধ্যম আয়ের দেশের ক্যাটাগরিটি তবে এই যে, দুর্যোগের সময় তা মোকাবিলা করার টেকনিক্যাল সাপোর্ট থাকে না, তবে একটি গর্তের ভেতর জীব দূরের কথা, জীবাশ্মও নেই- এমনটা বলে দেয়ার টেকনিক্যাল জ্ঞান থাকে। আমাদের টাকার অভাব আছে, সৌজন্যের অভাব আছে। অভাব নাই খালি কূটবুদ্ধির। এ সম্পদে আমরা মধ্যম আয়ের দেশ নই, এক্কেবারে অতুলনীয়। অনন্য। তো এসব মৌলিক অর্থ সমস্যা নিয়েই আমরা মধ্যম আয়ের দেশ হতে যাচ্ছি? করোটিতে এসব ভাবনাই সাঁতরে বেড়াচ্ছিল! রাষ্ট্র যে বিপদকালে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের পাশে দাঁড়ায় না, সেই অভিজ্ঞতা আমাদের অনেক আছে (রানা প্লাজা, তাজরিন, নিমতলী)। মানুষই যে মানুষের পাশে নানা সৃজনশীল উপায় বের করে বিপদ ও অনিশ্চয়তাকে মোকাবিলা করে, বেঁচে থাকার বা বেঁচে ওঠার নতুন নতুন পথ খুঁজে নেয়, সেটা লক্ষ করলে মানুষের সহমর্মিতার প্রতি শ্রদ্ধা আসে বটে, তবে শেষ ভরসাটি তো আসতে হবে রাষ্ট্রের কাছ থেকেই। অথচ রাষ্ট্রের কাছে ভরসা না পেয়ে মানুষকে ভরসা খুঁজতে হচ্ছে ব্যক্তিতে। কাজেই জনতার জাগরণে আবেগ উঁকিঝুঁকি দিলেও সেটা যে সমাধানের স্থায়ী পথ নয়, সেই উৎকণ্ঠাও থেকে যায়। ব্যক্তির ক্ষমতা সীমিত; কিন্তু রাষ্ট্রের ওপর রয়েছে বিস্তর দায়িত্ব। কথা ছিল রাষ্ট্র রক্ষা করবে নগর এবং তার নাগরিককে। কোথাও কোনো মৃত্যুকূপ থাকবে না। অথচ দেখা যাচ্ছে, প্রায় শূন্য গহ্বরের ওপর তৈরি হয়েছে আমাদের এ তিলোত্তমা(!) নগর। ‘জিহাদ ট্র্যাজেডি’-তে মানুষের পাশে মানুষ এসে দাঁড়ানোর প্রবণতা আমাদের জন্য খানিকটা আশা তৈরি করেছিল বটে, তবে ৫ জানুয়ারির ঘটনায় সেটুকু মিলিয়ে যায়। মনে হয়েছিল, একটুখানি সত্য আর মানবিকতা বোধহয় আমাদের ছুঁয়ে গেছে। কিন্তু ৫ জানুয়ারি সেই আস্থার সিংহভাগই গেল লুট হয়ে। পাইপে আটকে থাকা জিহাদকে কেন্দ্র করে দেশের প্রত্যেকটি মানুষের যে আবেগীয় বিপর্যয় বা মানসিক চাপ, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাকে মোকাবিলা করার জন্য কোনো মানবিক সমাধান ছিল না। ছিল না ৫ জানুয়ারির সংকট মোকাবিলা করার ক্ষেত্রেও। না দেখেছি দায়িত্ব, না দরদ। যতই মধ্যম আয়ের বাংলাদেশের কথা বলা হোক, আমরা জানি বাংলাদেশ গরিব। অর্থে যতটা গরিব, তার চেয়ে বেশি গরিব চিন্তায়, যে কারণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোন জিনিসটি আগে কিনতে হবে তা যেমন আমরা জানি না, তেমন জানি না আমাদের অধিকারের সীমারেখাও। জানি না কোথায় থামতে হবে, তাও। তার চেয়েও বড় সমস্যা জনগণের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব। ফায়ার সার্ভিসের সীমিত সক্ষমতা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ এবং সেবা সংস্থা যদি পরস্পরের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠতেন, শ্রম ভাগ করে নিতেন সতর্কতার সঙ্গে, ৫ জানুয়ারির নাজুক মুহূর্তগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি মানবিক ছোঁয়া দিয়ে পূরণ করতেন, তাহলেও খানিকটা আশাবাদী হয়ে ওঠার ব্যাপার ছিল। দুর্ভাগ্য, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ শব্দযুগলটি কেবল সংবিধানেই লেখা হয়ে থাকল, তন্ত্রের মধ্যে কোথাও গণ সম্পৃক্ততা থাকল না। জিহাদকে জীবিত উদ্ধার করতে পারাটা ছিল ষোলো কোটি মানুষের জন্য চ্যালেঞ্জ। প্রতীকী এবং বাস্তব- দুই অর্থেই। সীমাহীন দুর্যোগে সহযোগিতা আর সহমর্মিতা দিয়ে পরস্পরকে রক্ষা করার বিস্তর দৃষ্টান্ত আছে আমাদের। ঐতিহাসিকভাবেই এ অঞ্চল চর্চা করে আসছে সহনশীলতার ধর্ম। ইতিহাসজুড়ে এ অঞ্চলে আর্যের সঙ্গে অনার্যের, হিন্দুর সঙ্গে মুসলমানের, মুসলমানের সঙ্গে বৌদ্ধের, বৌদ্ধের সঙ্গে হিন্দু ও খ্রিস্টানের অর্থাৎ পারস্পরিক প্রভেদের মধ্যেও ঐক্য স্থাপনের মাধ্যমে টিকে গেছে এ সমাজ। আছে এ ঐক্যের হাজার বছরের ইতিহাসও। বহুর মধ্যে এক’কে প্রতিষ্ঠিত করাই এ অঞ্চলের মূল সুর। সবচেয়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে একাত্তর। অথচ জনগণের সঙ্গে সরকারের দূরত্বের কারণে যে কোনো দুর্যোগের কালে দায়িত্বপ্রাপ্তদের কথাবার্তাই অন্য আর সবকিছুর চেয়ে বড় দুর্যোগ হয়ে ওঠে আমাদের কাছে। আর দুর্যোগ মন্ত্রণালয় বলে যে কোনো বস্তু আছে, তা তো আমরা টেরই পাই না। অন্যদিকে আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় না দুর্যোগ, না সুযোগ-কোনোটাই মোকাবিলা করতে সক্ষম নয়। একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা, শাহ এএমএস কিবরিয়া ও আহসানউল্লাহ হত্যাকাণ্ডসহ এ সময় পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সহিংসতা ও নৃশংসতার এক করুণ ধারাবাহিকতা মাত্র। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইতিহাস তাই জনগণের প্রতি অসহিষ্ণুতা ও নৃশংসতার ইতিহাস। কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন, যুক্তিবিচারে সক্ষম এবং ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কি কোনোদিন পাব না আমরা?
জয়া ফারহানা : প্রাবন্ধিক

ইট-বালুর ট্রাক আর পিপার স্প্রে দিয়ে গণতন্ত্র রক্ষা করা যায় না by মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার

বাংলাদেশে সাড়ম্বরে দশম সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তি উদ্যাপিত হল। সরকারি দল এ দিবসটিকে গণতন্ত্র রক্ষা দিবস এবং সংসদের বাইরের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি একে গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে উদ্যাপন করল। বিএনপি দশম সংসদ নির্বাচনের পর গত এক বছরে যেসব সভা-সমাবেশ করেছে, সেগুলোতে তেমন কোনো সন্ত্রাস-সহিংসতা হয়নি। অথচ সন্ত্রাস-সহিংসতার অজুহাতে বিএনপিকে ৫ জানুয়ারি রাজধানীতে দলটির পূর্বঘোষিত কালো পতাকা মিছিল এবং সমাবেশ করতে অনুমতি দেয়া হল না। প্রশ্ন হল, বিএনপি যদি ৫ জানুয়ারি রাজধানীতে একটি সমাবেশ করে সরকারের সমালোচনা করত, তাহলে কি সরকারের পতন হয়ে যেত? না, নিঃসন্দেহে তা হতো না। তাহলে বিএনপিকে এর রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে দেয়া হল না কেন? বিএনপিকে রাজধানীতে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা যাতে সন্ত্রাস-সহিংসতা করতে না পারে সেজন্য সরকার তাদের ওপর কড়া নজরদারি রাখতে পারত। কিন্তু সরকার তা করেনি। পরিবর্তে সন্ত্রাস-সহিংসতার অজুহাতে তাদের সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হয়নি। দলটির নেতাকর্মীদের রাস্তায় নামতে বা মিছিল করতে দেয়া হয়নি। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ করে সেখানে নেতাকর্মীদের প্রবেশ করতে বাধা দেয়া হয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসনকে দলীয় গুলশান কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। তাকে কালো পতাকা নিয়ে রাস্তায় বের হতে দেয়া হয়নি। তার সঙ্গে নেতাকর্মীদের দেখা-সাক্ষাৎ করতে দেয়া হয়নি। হাঁটুর ব্যথায় কাতর খালেদা জিয়ার মতো একজন বয়স্ক নেতাকে আটকে রাখার জন্য ইট-বালু ভর্তি ১১টি ট্রাক, একাধিক পুলিশের পিকআপ এবং জলকামান ব্যবহার করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে পোশাকধারী বাহিনীর অসংখ্য সদস্য। শুধু তাই নয়, ৫ জানুয়ারি বিকালে সরকারি বাধায় বাড়ির বাইরে যেতে না পেরে যখন তিনি দলীয় কার্যালয়ের অভ্যন্তরেই সাংবাদিকদের সঙ্গে আন্দোলন কর্মসূচি সম্পর্কে কথা বলছিলেন, তখন পিপার স্প্রে করা হয়েছে। এতে খালেদা জিয়াসহ বেশকিছুসংখ্যক নারী নেতাকর্মী আহত হন, যাদের পরবর্তী সময়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। ৫ জানুয়ারির পরও খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এমনকি ৭ জানুয়ারি অবরুদ্ধ থাকার কারণে তিনি হাইকোর্টে মামলায় হাজিরা দিতে যেতে পারেননি।
বিএনপিকে ৫ জানুয়ারি রাজধানীতে সমাবেশ করতে দিলে কী হতো? ওই সমাবেশে বিএনপি নেতাকর্মী এবং দলীয় চেয়ারপারসন বক্তব্য রাখতেন। অনেক মানুষ সমাবেশে যোগদান করত। বিএনপি নেতারা তাদের বক্তব্যে ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনের সমালোচনা করতেন। বিরোধী দলের প্রতি সরকারের নিপীড়নমূলক ভূমিকার সমালোচনা করতেন। সরকারের মামলা, হামলা, দুর্নীতি বৃদ্ধি এবং দ্রুত আরেকটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দিতে গড়িমসির সমালোচনা করতেন। বিএনপির চেয়ারপারসন হয়তো এসব সমালোচনার সঙ্গে সঙ্গে সরকারকে দ্রুত সংসদ নির্বাচন দিতে আহ্বান জানাতেন। তিনি হয়তো ৩১ ডিসেম্বর নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রেস কনফারেন্স করে তার দেয়া সাত দফা প্রস্তাবের আলোকে দ্রুত সংলাপে বসে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা উদ্ভাবনের জন্য বলতেন। বিএনপিকে এসব কাজ করতে দিলে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যেত না। সরকারের পতন হয়ে যেত না। অথচ সরকার সে পথে না গিয়ে বিএনপির প্রতি দমন-পীড়নমূলক ভূমিকা পালন করল। দলীয় চেয়ারপারসনের ওপর নিষ্ঠুর ভূমিকা নিয়ে তার প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন ও সহানুভূতি বাড়িয়ে দেয়া হল। রাজনীতির মারপ্যাঁচ না বোঝা সাধারণ মানুষ যখন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং একটি বড় দলের প্রধান, যিনি বয়সের ভারে ভালো করে চলাফেরা করতে পারেন না, এমন একজন নেত্রীকে অবরুদ্ধ করে রাখার জন্য ১১টি ইট-বালুর ট্রাক, অসংখ্য পুলিশ এবং জলকামান ব্যবহার করতে দেখেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার প্রতি তাদের সহানুভূতি গভীর হয়।
দশম সংসদ নির্বাচন যে ভালো হয়েছে সে কথা তো সরকারি দলের মন্ত্রী-নেতারাও বলেন না। ওই নির্বাচনের প্রাক্কালে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই এ নির্বাচনকে নিয়ম রক্ষার নির্বাচন বা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার নির্বাচন বলে অভিহিত করে ওই নির্বাচনের পর আরেকটি অংশগ্রহণমূলক সংসদ নির্বাচনের কথা বললেও এখন তারা তাদের আগের বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন। এখন তারা সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে অন্যতম ব্যতিক্রমী চরিত্রধারী দশম সংসদ নির্বাচনের ওপর ভর করে পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে চাইছেন। কারণ, সরকার নিজ জনপ্রিয়তার মাত্রা সম্বন্ধে বুঝতে পেরেছে এবং একটি নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অংশগ্রহণমূলক সংসদ নির্বাচন হলে ওই নির্বাচনে তাদের ফলাফল কেমন হবে সে বিষয়টি সম্পর্কেও তারা ধারণা পেয়েছে। এজন্য সরকার হয়তো নতুন নির্বাচন দিতে চাইছে না। কিন্তু যে নির্বাচনে ভোট গ্রহণের আগেই ক্ষমতাসীন দল সরকার গঠনের যোগ্যতা অর্জন করে, এমন একটি নির্বাচনের ওপর ভর করে যদি কোনো দল সরকার গঠন করে ক্ষমতায় থাকতে চায় তাহলে ওই সরকার জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্যতা পায় না।
মহাজোট সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে বড় ভুল করে। উল্লেখ্য, যে কোনো নতুন ব্যবস্থা প্রবর্তন করার পর ওই ব্যবস্থার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখা দেয়া স্বাভাবিক। প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে ওই ভুল-ত্রুটি শোধরানো সম্ভব। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, ১৯৯৬ সালে সাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের পর ওই সরকারের যেসব প্রার্শপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল সেগুলো সমাধানের জন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সরকার কোনো সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কিছু জটিলতা সৃষ্টি করেছিল। বিশেষ করে ওই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগে বিচার বিভাগে যেমন রাজনীতিকরণ ঘটেছিল, তেমনি উপদেষ্টা নিয়োগেও রাজনৈতিক দলগুলো প্রধান উপদেষ্টার কাছে নিজ পছন্দনীয় ব্যক্তিত্বদের তালিকা পেশ করত এবং প্রধান উপদেষ্টা ওই সব তালিকাকে আমলে নিয়ে ভুল করতেন। তাছাড়া বিচারপতি সাহাবুদ্দীন ও বিচারপতি হাবিবুর রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারদ্বয় যথাক্রমে শিক্ষা সংস্কার কমিটি গঠন করে এবং হাইস্কুলের নবম ও দশম শ্রেণীতে ধর্ম বিষয় পড়ানো হবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়ে সংবিধানে প্রদত্ত ক্ষমতার সীমা লংঘন করেছিল। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ বা বিএনপি সরকার সংস্কার উদ্যোগ নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে ত্রুটিমুক্ত করে তুলতে পারত। কিন্তু তারা তার পরিবর্তে রাজনৈতিক অংক করে নিজ পছন্দের বিচারপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করে এবং উপদেষ্টা হিসেবেও পছন্দের ব্যক্তিত্বদের নিয়োগ দিয়ে সংসদ নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আনুকূল্য লাভের চেষ্টা করেছে। এজন্য বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সরকারকে একইভাবে দায়ী করা যায়।
দেশের উন্নয়ন, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং স্বচ্ছ সংসদ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে চাইলে দশম সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে সরকারের উচিত ছিল ৩১ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া উপস্থাপিত সাত দফাকে গুরুত্ব দিয়ে বড় দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের ঘোষণা দেয়া। সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি এক বছর গঠনমূলক আন্দোলন ও সভা-সমাবেশ করেছে। এক বছর পর দলটি স্বচ্ছ সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সাত দফা দাবি উত্থাপন করে সরকারকে সংলাপে আহ্বান জানিয়েছে। সরকারের উচিত ছিল ওই আহ্বানে সাড়া দিয়ে নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে সংলাপের উদ্যোগ গ্রহণ করা। কারণ, পঞ্চদশ সংশোধনী-উত্তর সংবিধানের অধীনে সংসদ কার্যকর রেখে, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপিদের ক্ষমতায় রেখে, নতজানু নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে যে ত্রুটিমুক্ত সংসদ নির্বাচন করা যাবে না, তা সবাই বুঝতে পেরেছেন। বিগত দশম সংসদ ও চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিষয়টি অধিকতর সুনিশ্চিত হয়েছে। দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এ দুটি নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন এবং পোশাকধারী বাহিনী নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে পারেনি। ফলে এ দুটি নির্বাচনে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত করা যায়নি।
খালেদা জিয়ার সাত দফায় তেমন আপত্তিকর কিছু বলা হয়েছে কি? সাত দফায় নির্দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন দাবি করে আরপিও সংস্কারের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের কথা বলা হয়েছে। নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার পর সংসদ ও মন্ত্রিসভা বিলুপ্ত করার কথা বলা হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশের জন্য ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের কথা। প্রশাসন এবং আইনশৃংখলা বাহিনীর বিতর্কিত সদস্যদের প্রত্যাহার অথবা কর্তব্য পালন থেকে বিরত রাখার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি ও বন্ধ করা সংবাদপত্র ও স্যাটেলাইট টিভি খুলে দিতে বলা হয়েছে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে খালেদা জিয়ার এ সাত দফাকে তো নিরপেক্ষ বিচারে মন্দ বলা যায় না।
ভুলে গেলে হবে না, গণতন্ত্রের প্রাণভোমরা হল নির্বাচন। জনপ্রতিনিধিরা যদি স্বচ্ছ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত না হন, তাহলে যতই উন্নয়নের চেষ্টা করা হোক না কেন গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিকতা পায় না। অস্বচ্ছ নির্বাচন সরকারবিরোধী আন্দোলন সৃষ্টি করে দেশকে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতায় নিমজ্জিত করে। এ অবস্থা থেকে দেশকে বের করতে হলে অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে দেশের বাস্তবতায় নির্দলীয় সরকারব্যবস্থা এবং শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের অধীনে সংসদ নির্বাচন হওয়া বাঞ্ছনীয়। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে স্বচ্ছ নির্বাচনের পাশাপাশি শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজন রয়েছে। বিরোধী দল না থাকলে, অথবা বিরোধী দল দুর্বল হলে সরকারের স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। শক্তিশালী বিরোধী দল গঠনমূলক ভূমিকা পালনের মধ্য দিয়ে সরকারকে গণতান্ত্রিকভাবে দেশ পরিচালনায় বাধ্য করে। তবে সেই বিরোধী দলের চরিত্র বর্তমান বাংলাদেশের দশম সংসদের বিরোধী দলের মতো সরকারে শরিক বিচিত্র বিরোধী দল হলে হবে না। গণতন্ত্রের সফলতার জন্য সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতার সম্পর্ক থাকা জরুরি। কিন্তু তার পরিবর্তে যদি এদের মধ্যে শত্রুতার সম্পর্ক বা পরস্পরকে সুযোগ পেলে দেখে নেব মনোভাব কাজ করে, তাহলে গণতন্ত্র অসুস্থ হয়ে পড়ে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এখন বাংলাদেশে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে মোটেও সম্প্রীতির সম্পর্ক নেই। ফলে রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতা এবং অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অতি সম্প্রতি দশম সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে সরকারি দল ও সংসদের বাইরের প্রধান বিরোধী দলের মধ্যে যে সম্পর্ক দেখা গেছে, তা গণতন্ত্রকে আরও পেছনে নিয়ে গেছে এবং গণতান্ত্রিক বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবমূর্তি ভূলুণ্ঠিত করেছে। সরকারের মনে রাখা দরকার, বিরোধী দলকে সুযোগ পেয়ে মামলা-হামলায় কাবু করার মধ্যে সংকটের সমাধান নেই। খালেদা জিয়ার মতো একজন বর্ষীয়ান, তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে বালুর ট্রাক, জলকামান আর শত শত পুলিশ দিয়ে অবরুদ্ধ করে তার ওপর পিপার স্প্রে করে সরকার বিএনপি নয়, নিজ দলেরই ক্ষতি করেছে। এতে খালেদা জিয়ার প্রতি সাধারণ মানুষের সহানুভূতি বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি দলকে মনে রাখতে হবে, সমঝোতা ও সহমর্মিতার মধ্যেই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। যতই গণতন্ত্র রক্ষা দিবস পালন করা হোক না কেন, বিরোধী দলকে মামলা, পুলিশ, জলকামান, ইট-বালুর ট্রাক আর পিপার স্প্রে দিয়ে নাজেহাল করলে গণতন্ত্র যেমন শক্তিশালী হবে না, তেমনি বাড়বে না নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা।
ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার : অধ্যাপক, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

রাজনৈতিক দলের চিন্তাচেতনায় নারসিসিজমের বৈশিষ্ট্য by মো. আবদুল মুহিত

প্রাচীন গ্রিসে নারসিসাস নামে একজন সুদর্শন সাহসী বীর রাজপুত্র ছিল। একদা বনে শিকার শেষে সে একটি ঝরনার ধারে বিশ্রাম করছিল। বিশ্রামরত অবস্থায় সে অদ্ভুত কিছু শব্দ শুনতে পেল। শূন্যের মাঝে যে নারী কণ্ঠ ভেসে আসছিল তা ছিল ইকো নামের এক অপরূপ রূপসী রমণীর। কিন্তু মুশকিল হল, তার প্রতিটি উচ্চারিত বাক্য পুনরাবৃত্তি হতে থাকে। এর পেছনে কাহিনী হল, সে তাদের দেবতা জিউসের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। ফলে জিউসের স্ত্রী হেরা তাকে অভিশাপ দেয় যে তার মুখে সব সময় আগের বলা কথার পুনরাবৃত্তি হবে। এ অভিশাপের ফলে ইকো সমাজ থেকে দূরে পাহাড়, বনজঙ্গলে নির্বাসিত হয়। মানুষের ব্যঙ্গবিদ্রুপের কারণে ইকো সুন্দরী দেবী আফ্রোদিতির কাছে প্রার্থনা করে যে তাকে যেন অদৃশ্য করে রাখা হয়। যাহোক নারসিসাস যখন ঝরনার ধারে বিশ্রাম করছিল, ইকো তার রূপে-গুণে মুগ্ধ হয়ে চারদিকে প্রশংসার বাণী ছড়িয়ে দেয়। নারসিসাস শূন্যে ভেসে আসা স্তুতিমূলক বাক্য শুনতে শুনতে পাশে থাকা পানিতে তার শরীরের প্রতিফলিত রূপ দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়। সে নিজের অবয়বে এতটাই মুগ্ধ, বিভোর হয়ে যায় যে, ইকোর প্রণয় আহ্বান তার কাছে তুচ্ছ মনে হয়। সে অপলক দৃষ্টিতে নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে থাকে এবং একসময় গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। পরে সেখানে পদ্মফুল গাছের জন্ম হয়। তাই মনোবিজ্ঞানে মানব চরিত্রের এ বৈশিষ্ট্যকে Narcissism নামে আখ্যায়িত করা হয়। যার অর্থ হল আপন মোহে মুগ্ধ ও অপরের প্রতি সহমর্মিতার অভাব থাকা। অনেকটা স্বার্থপরের কাছাকাছি। এ চরিত্রের মানুষরা একান্ত আত্মকেন্দ্রিক হয়ে থাকে। অপরের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা-সম্মান প্রদর্শন করে না। অন্যের মতামতের কোনো মূল্যায়ন করে না। শুধু তার প্রশংসাকারীদের সে অসম্ভব আপনজন ভেবে থাকে। এরা নিজেদের কর্মকাণ্ডে নিজেরাই অভিভূত হয়ে থাকে, অপরের অর্জনগুলোকে খাটো করার সর্বাত্মক প্রয়াস চালায়। নিজেদের কাজের বিন্দুমাত্র সমালোচনা সহ্য করতে পারে না, এমনকি তার কাজের প্রশংসা না করলে সেসব ব্যক্তির প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ প্রকাশ করে থাকে। এরা নিজেদের সব কাজের কাজি ভাবতে শুরু করে।
বাঙালির রাজনৈতিক নেতৃত্বের চরিত্রকে বিশ্লেষণের জন্য এর চেয়ে ভালো উপমা খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রতিটি সরকার এবং রাজনৈতিক দল চারিত্রিক এবং ভাবগত বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে Narcissism-এর শিকার। স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে মোটামুটিভাবে ১৯৯০ সাল থেকে গণতান্ত্রিকভাবে গঠিত সরকার দেশ পরিচালনা করে আসছে। প্রতিটি সরকারের সফলতা বা ব্যর্থতা পর্যালোচনা করেই এদেশের জনগণ প্রতিটি নির্বাচনে তাদের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠন করার সুযোগ পেয়েছে। এভাবে প্রধান দুটি দল পালাক্রমে সরকারও গঠন করেছে। প্রতিটি সরকারি দল তাদের আমলে দেশের উন্নয়নের ফিরিস্তি সংসদে উপস্থাপন করলে বিরোধী দল হত্যা-লুটপাট-সন্ত্রাস-মানবাধিকার হরণ ইত্যাদির তালিকা নিয়ে হাজির হয়েছে। প্রতিটি সরকার তাদের সময় দেশ অত্যন্ত সুচারুরূপে পরিচালিত হয়েছে বলে অত্যুক্তি প্রকাশ করে থাকলে বিরোধী দল আন্দোলন করে সাধারণের জীবনযাপন অসহনীয় করে তুলেছে। এসবের মাঝে গরিব জনসাধারণের ভাগ্যের প্রকৃত উন্নয়ন কতটুকু হয়েছে তা বিবেচনার দাবি রাখে। তথাপি এটি নিঃসন্দেহে বলা যায়, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাই দেশের আর্থ-সামাজিক কিঞ্চিৎ উন্নয়নের পেছনে বিরাট ভূমিকা রেখেছে।
৫ জানুয়ারি আমাদের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল সেই শিশু গণতন্ত্রকে হত্যা বা রক্ষার নামে আন্দোলন কিংবা উৎসবে নেমে পড়েছে। এ অবস্থায় আবারও সাধারণ নাগরিকদের প্রাণ ওষ্ঠাগত। এরই মধ্যে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনে মনে হবে তাদের আমলে দেশ স্বর্গের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। আর অন্যদিকে বিরোধী দলের বক্তব্য, দেশ নরকে রয়েছে। এটা সরকারের নারসিসাসের মতো আচরণ। অপরদিকে বিরোধী দলও ইকোর মতো বারংবার একই কথা পুনরাবৃত্তি করে চলেছে। অনেকটা ভাঙা ক্যাসেট প্লেয়ারে একই গান বারবার শোনা। তবে এবারে বিরোধী দলের অন্যতম দাবি হল সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, মধ্যবর্তী সংসদ নির্বাচন। আর এ বিষয়েও সরকার তার আগের অবস্থানে অনড়। অর্থাৎ একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশের কোনো ধরনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ফলে বিরোধী দলও হরতাল-অবরোধ দিয়ে সাধারণের জীবন বিপন্ন করে তুলছে। এর পেছনে দুই দলের নেতাদের সেই নারসিসিজমই ফুটে উঠেছে। অন্যদিকে জনসাধারণ হল খুব ভালো মনোবিজ্ঞানী। তারা রাজনৈতিক নেতাদের এ মানসিক বৈকল্যের যোগ্য প্রতিদান দেন ভোটের মাধ্যমে। তাই তো কোনো সরকার তাদের কৃত উন্নয়নের গালগল্প মেরেও একবারের বেশি ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। তারা ফুটন্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত উনুনে পড়ছে বারবার।
তবে এবারের সরকার শুধু যে Narcissism-এর শিকার ছিল তাই নয়, এদের চরিত্রে Machiavellianism-এর বৈশিষ্ট্যও বিদ্যমান। এটা এমন একটি বৈশিষ্ট্য, যেখানে মানুষ আবেগবর্জিত এবং প্রচলিত নৈতিকতাবিমুখ হয়ে পড়ে। এ বৈশিষ্ট্যের লোকজন নিজেকে সমাজ থেকে আলাদা ভাবতে শুরু করে। এরা প্রতারণা এবং ছলচাতুরির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সমূহ ক্ষতিসাধন করে থাকে। দশম সংসদ নির্বাচন নিয়ে বর্তমান সরকার প্রায় নিশ্চিত ছিল যে তারা জিততে পারবে না। কারণ গত বছর ওই নির্বাচনের প্রাক্কালে যে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হয়েছিল, সেখানে ক্ষমতাসীন সরকারের ভরাডুবি তাদের ভাবিয়ে তুলেছিল। ফলে ক্ষমতায় টিকে থাকতে তারা একটি প্রহসনের নির্বাচন করেছিল। যেখানে প্রায় অর্ধেকের বেশি আসনে কোনো ব্যক্তিকে ভোট কেন্দ্রে যেতে হয়নি। এটি স্পষ্ট জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। যদিও ওই নির্বাচন সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বৈধ ছিল, কিন্তু জনগণের মতামত সেখানে প্রতিফলিত হয়নি। তাই সে সময়ে সরকার এ নির্বাচনকে নিয়ম রক্ষার নির্বাচন নামে আখ্যায়িত করেছিল। অতঃপর সরকার গঠন করে তারা বেমালুম ভুলে গেছে সেই প্রতিশ্র“তি। এখানেও তাদের Machiavellianism-এর বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে। প্রতারণা, ছলচাতুরি দিয়ে গঠিত এই সরকার আগামী পাঁচ বছর দেশ শাসন করলেও অবাক হওয়ার কিছুই নেই। আমাদের দেশে এটি সম্ভব।
মো. আবদুল মুহিত : শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; বর্তমানে জাপানে গবেষণারত

বেগম রওশন এরশাদের কাছে আন্তরিক ক্ষমা চেয়ে by আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

আজকের লেখাটি জাতীয় পার্টি এবং সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়ে শুরু করছি। গত মাসের (ডিসেম্বর) মধ্যভাগে আমি যখন ঢাকায় অবস্থান করছি, তখন তিনি আমাকে কয়েকবার টেলিফোন করেছিলেন। তার ইচ্ছে ছিল আমি তার সঙ্গে দেখা করি। দেশের রাজনীতি নিয়ে তিনি আমার সঙ্গে আলাপ করতে চেয়েছিলেন। আমারও ইচ্ছে ছিল তার সঙ্গে সাক্ষাতের এই সুযোগটা গ্রহণ করার। তাহলে দেশের একটি রাজনৈতিক দলের মনোভাব জানতে পারব, যে দলটি একই সঙ্গে সরকারে রয়েছে এবং সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকাও পালন করছে।
আমার দুর্ভাগ্য, আমি শেষ পর্যন্ত বেগম রওশন এরশাদের সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারিনি; এমনকি সেজন্য তার কাছে ক্ষমা চাইতেও পারিনি। ঢাকায় হাতে নানা ধরনের কাজ থাকায় এবং দেশের বাইরে কলকাতা, বাগডোরা, দার্জিলিংয়ে ছোটাছুটি করায় বেগম রওশন এরশাদের আমন্ত্রণ আন্তরিক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও গ্রহণ করতে পারিনি। সেজন্যই সাক্ষাতে তাকে যে কথাগুলো বলতে পারিনি, আজ নিজের কলামে তা লেখার শুরুতে তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
বেগম রওশন এরশাদের রাজনীতির সঙ্গে সহমত পোষণ না করলেও তার প্রতি আমার এক ধরনের শ্রদ্ধাবোধ আছে। বর্তমান জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেত্রী হিসেবে তার পারফরম্যান্স কখনও কখনও চমৎকার। দেশের বর্তমান রাজনীতিতে অত্যন্ত দুরূহ ভারসাম্য রক্ষায় তিনি যে দক্ষতা ও কৃতিত্বের পরিচয় দিচ্ছেন তা এক কথায় অনবদ্য। দেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক সঙ্কটে তার এই গঠনমূলক ভূমিকা ইতিহাসে হয়তো একদিন স্বীকৃতি পাবে।
দেশে এখন রাজনৈতিক সংঘাত আছে, গণতান্ত্রিক বিরোধিতা নেই। এই বিরোধিতার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ইচ্ছা না থাকলেও হয়তো একদলীয় শাসন ক্ষমতার অধিকারী হতো। বিএনপি ভীষ্মের শরশয্যা গ্রহণের মতো ইচ্ছামৃত্যুর পথ ধরে সংঘাতের রাজনীতিতে লিপ্ত রয়েছে। আন্দোলন নেই, আছে বিক্ষিপ্ত ও ব্যর্থ সন্ত্রাস। গত রোববারও বিএনপি ঢাকায় যা করেছে তা আত্মঘাতী গোল দেয়া ছাড়া আর কিছু নয়। বিএনপির সন্ত্রাসীরা যার গাড়ি পুড়িয়েছে, তা বিএনপি-নেত্রীরই উপদেষ্টা সাবিহউদ্দীন আহমদের। অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়ার আরেক প্রভাবশালী উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টুর বাড়িতে হামলা হয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীর বেয়াই হলেও তার আসল পরিচয় তিনি খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ সহচর ও উপদেষ্টা। বিএনপির সন্ত্রাসীরা তার বাড়িতেই হামলা চালিয়েছে। বিএনপিকে যে ডেথ উইশে পেয়েছে এটা তার প্রমাণ।
এ ক্ষেত্রে বেগম রওশন এরশাদ তার জাতীয় পার্টি নিয়ে একটি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে চলেছেন। তিনি দেশে গণতান্ত্রিক বিরোধিতার বদলে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে যে সন্ত্রাসী অভ্যুত্থান ঘটতে যাচ্ছিল, তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের গণতান্ত্রিক শাসনকে ক্ষমতা ধরে রাখতে সমর্থন দিয়েছেন, এমনকি তাদের সহযোগী হয়েছেন। অন্যদিকে ন্যূনতম গণতান্ত্রিক বিরোধিতার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ যে অনিবার্য একদলীয় শাসনক্ষমতার অধিকারী হতো, তা ঠেকিয়ে রাখার জন্য সংসদে বিরোধী দলের অবস্থানও গ্রহণ করেছেন।
এটা একটা রাজনৈতিক দলের পরস্পরবিরোধী ভূমিকা মনে হতে পারে। কিন্তু কোনো কোনো দেশে কোনো কোনো সময় এমন রাজনৈতিক অবস্থা সৃষ্টি হয়, যে অবস্থায় গণতন্ত্রের স্বার্থেই কোনো কোনো রাজনৈতিক দলকে এ ধরনের স্ববিরোধী ভূমিকায় নামতে হয়। তাতে দলটির হয়তো ক্ষতি হয়। কিন্তু দেশের নাজুক গণতন্ত্র রক্ষা পায়। নজির হিসেবে প্রতিবেশী ভারতের কথা উল্লেখ করা যায়। দেশটি স্বাধীন হওয়ার পর নেহেরুর গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় বসে বটে, কিন্তু ক্ষমতায় বসার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে অভ্যন্তরীণ মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি এবং বাইরের সাম্রাজ্যবাদী শক্তির চক্রান্তের সম্মুখীন হয় নেহেরু সরকার।
স্বাধীনতা লাভের বছরখানেকের মধ্যে ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী সাম্প্রদায়িক চক্রের হাতে নিহত হন। ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেসের ভেতর থেকেই সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিক্রিয়াশীল অংশ নেহেরুর গণতান্ত্রিক ও সেকুলার রাষ্ট্রনীতিকে সাবোটাজ করার চক্রান্ত শুরু করে। বাইরে থেকে আমেরিকা তার নয়া সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তের জালে ভারতকে বেঁধে ফেলার অপচেষ্টা চালায়।
এই সময় অবিভক্ত সিপিআই বা ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ছিল দেশটির বৃহত্তম দ্বিতীয় রাজনৈতিক দল। কথা ছিল তারা কংগ্রেসের বিরোধী দলের শক্তিশালী ভূমিকায় নামবেন। কিন্তু তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সিপিআই এমন এক নীতি গ্রহণ করে, যা পরে দলটির ভীষণ ক্ষতি করেছে; কিন্তু ভারতীয় গণতন্ত্রকে মৌলবাদী অভ্যুত্থান ও সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য থেকে রক্ষা করেছে। সিপিআইয়ের তখনকার সিদ্ধান্তটি ছিল তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রগতিশীল নীতির ক্ষেত্রে নেহেরু সরকারকে সমর্থন দেবেন, তবে সরকারে আসন গ্রহণ করবেন না। অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে নেহেরু সরকারের ভুলভ্রান্তির তারা বিরোধিতা করে যাবেন।
এই নীতি সিপিআইকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কিন্তু ভারতীয় গণতন্ত্র সাম্প্রদায়িক ও সাম্রাজ্যবাদী থাবা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পেরেছে। দীর্ঘকাল পর ভারতের রাজনীতিতে এই একই নীতি গ্রহণ করতে দেখা গিয়েছিল কয়েক বছর আগে বামফ্রন্টকে। দেশটিতে হিন্দুত্ববাদী অপশক্তি তখন মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। ভারতের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে শক্তিশালী ও একক দল ক্ষমতায় না থাকায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ দীর্ঘকাল পর দেশটিতে তার সামরিক প্রভাব বিস্তারের চক্রান্ত সফল করতে চাচ্ছিল।
এ সময় বামফ্রন্ট সিদ্ধান্ত নেয়, তারা সাম্প্রদায়িক জোটের বিরুদ্ধে সোনিয়া-মনমোহন সিংয়ের সেকুলার কংগ্রেসী জোটকে ক্ষমতায় আসার কাজে সাহায্য জোগাবে। তারা তা জুগিয়েছে এবং কংগ্রেস জোট ক্ষমতায় বসার পর দীর্ঘ সময় তারা এই সরকারকে সমর্থন দিয়ে ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছেন। অবশ্য তারা মন্ত্রিসভায় আসন নেননি। পরে নীতিগত প্রশ্নে এই সমর্থন তারা প্রত্যাহার করেন বটে, কিন্তু কংগ্রেস জোট সরকারের বিপদ তখন কেটে গিয়েছিল।
বাংলাদেশের জাতীয় পার্টি (এরশাদ) অবশ্যই বাম রাজনৈতিক দল নয়। কিন্তু এ কথা স্বীকার করতে হবে, বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে গত নির্বাচনবিরোধী সন্ত্রাসী আন্দোলন ব্যর্থ করার ব্যাপারে জাতীয় পার্টি একটি ঐতিহাসিক ভূমিকা গ্রহণ করেছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে সফল করা এবং পরবর্তী পর্যায়ে মৌলবাদী সন্ত্রাসী জোট এবং একটি তথাকথিত সুশীল সমাজের সম্মিলিত হামলা থেকে নির্বাচন-পরবর্তী সরকারকে রক্ষা করার ব্যাপারেও দলটি তার সাধ্যমতো ভূমিকা গ্রহণ করেছে।
সরকারকে শুধু সমর্থন দেয়া নয়, তারা সরকারে আসন গ্রহণও করেছে। একই সঙ্গে সরকারে আসন গ্রহণ এবং সরকারের বিরোধিতার কথা বলা একটি রাজনৈতিক দলের স্ববিরোধী নীতি মনে হতে পারে। কিন্তু জাতীয় সঙ্কটে এই ধরনের ভূমিকা গ্রহণ দলের জন্য না হলেও দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গলজনক হয় তার উদাহরণ আগেই দিয়েছি।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে বেগম রওশন এরশাদ বলেছেন, ‘সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে জাতীয় পার্টির সদস্যদের অচিরেই ফিরিয়ে আনা হবে। কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের জন্যই দলের নেতারা সরকার থেকে সরে আসবেন।’ বেগম রওশন এরশাদের মন্তব্যকে কেউ কেউ এই বলে বিশ্লেষণ করতে চেয়েছেন যে, তিনি বুঝি মধ্যবর্তী নির্বাচন চান। কিন্তু এই বিশ্লেষণের কোনো অবকাশ নেই। একই সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে মধ্যবর্তী নির্বাচন দেয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি, বিএনপির দাবির সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা নেই।’ অর্থাৎ বিরোধীদলীয় নেত্রী চান, বর্তমান সংসদ তার মেয়াদ পূর্ণ করুক। হয়তো মন্ত্রিসভা থেকে সরে এসে তারা বিরোধী দলের স্বাভাবিক ভূমিকা গ্রহণ করতে চান।
মন্ত্রিসভা থেকে সরে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতীয় পার্টি এখনও নেয়নি। দলনেতা এরশাদ সাহেব মন্ত্রিত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্তের সঙ্গে হয়তো সহমত পোষণ করবেন না। তবে আমার ধারণা, জাতীয় পার্টি যদি মন্ত্রিত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তও নেয় (যা তারা এই মুহূর্তে নেবেন বলে মনে হয় না), তাহলেও তারা সরকারের ওপর সমর্থন প্রত্যাহার করবেন না। অগণতান্ত্রিক ও অশুভ শক্তির ক্ষমতা দখলের চক্রান্তের মুখে তারা আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার কাজে যে সচেষ্ট থাকবেন, তা বেগম রওশন এরশাদের কথার মধ্যেও স্পষ্ট।
বিএনপির বদলে জাতীয় পার্টি যদি দেশে সত্যিই বিরোধী দলের অবস্থান গ্রহণ করতে পারে, তাহলে এ কথা বলতে দ্বিধা করি না যে, আমি তাতে আনন্দিত হব। বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান এখন আর একটি গণতান্ত্রিক দলের নয়; এই অবস্থান এখন একটি সন্ত্রাসী দলের এবং তাদের ভূমিকাও রাষ্ট্রীয় আদর্শের বিরোধী, আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করতে গিয়ে তারা এখন স্বাধীনতা যুদ্ধের মৌল আদর্শ, এমনকি জাতির পিতার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণে দ্বিধা করছে না। স্বাধীনতার শত্রুদের সব স্লোগান ও প্রোপাগান্ডা এখন বিএনপির একমাত্র রাজনৈতিক মূলধন।
এ ক্ষেত্রে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার বিরোধিতার ক্ষেত্রে যদি রাষ্ট্রের মৌল আদর্শের প্রতি আনুগত্য পোষণকারী একটি দলের আবির্ভাব ঘটে, দলটি শক্তি সঞ্চয় করে প্রকৃত বিরোধী দলের ভূমিকা গ্রহণ করে এবং সে দলটি হয় জাতীয় পার্টি, তাকে দেশপ্রেমিক মানুষ মাত্রই অভিনন্দন জানাবে। বেগম রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি এই অবস্থানে উঠে আসুক, সে কামনা আমি করি।

মৃত্যুর আগে শেরিফের সাক্ষাৎকার

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের প্রতিশোধ নিতে শার্লি হেবদো অফিসে হামলা করেছে বলে জানিয়েছে অস্ত্রধারী দুই ভাইয়ের একজন শেরিফ কোয়াশি। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হওয়ার আগে শুক্রবার প্যারিসের উপকণ্ঠে দামার্তা আন গল নামে একটি শহরের শিল্প এলাকার একটি ছাপাখানার ভেতরে অবস্থান নিয়েছিল আলজেরিয়ান বংশোদ্ভূত দুই ভাই সাইদ কোয়াশি এবং শেরিফ কোয়াশি। নিহতের আগে শেরিফ কোয়াশি ফ্রান্সের একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে টেলিফোনে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। বিএফএমটিভির সাংবাদিক ইগোর সাহিরির সঙ্গে কোয়াশির কথোপকথন এখানে তুলে ধরা হল-
শেরিফ : আমরা আপনাদের বলেছিলাম আমরা নবীর সমর্থক (তার ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক ) এবং আমি শেরিফ কোয়াশিকে আল কায়দার ইয়েমেন শাখা পাঠিয়েছে। ওকে?
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী : ওকে, ওকে।
শেরিফ : আমি সেখানে (ইয়েমেন) গিয়েছিলাম এবং আনওয়ার আল আওলাকি আমাকে অর্থ দিয়েছিল।
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী : এটা কত আগে
শেরিফ : তার মৃত্যুর আগে।
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী : ওকে, তার মানে আপনি বেশি দিন আগে ফ্রান্সে ফেরত আসেননি?
শেরিফ : না, অনেক আগে আমি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে চিনি, তাদের সম্পর্কে ভয় পাওয়ার কিছুই নেই। আমি ভালোভাবেই জানি কাজটা ভালোভাবে করতে আমি কতটুকু সমর্থ।
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী : ওকে, এখন কেবল আপনি এবং আপনার ভাই আছেন?
শেরিফ : এটা আপনার সমস্যা নয়।
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী : কিন্তু আপনাদের পেছনে কি আর কেউ আছে নাকি নেই?
শেরিফ : এটা আপনার সমস্যা নয়।
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী : ওকে, আল্লাহ নামে আপনাদের কি আরও হত্যার পরিকল্পনা আছে নাকি নেই?
শেরিফ : কাকে হত্যা?
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী : আমি জানি না। আপনাকে আমি প্রশ্নটি করছি।
শেরিফ : গত দু’দিন ধরে আপনারা আমাদের খোঁজ চালাচ্ছেন, আমরা কি কোনো বেসামরিক লোককে হত্যা করেছি?
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী : আপনারা সাংবাদিকদের হত্যা করেছেন।
শেরিফ : কিন্তু আমরা কি বেসামরিক লোককে হত্যা করেছি? বেসামরিক অথবা সাধারণ জনগণের জন্য দু’দিন ধরে আপনারা আমাদের খোঁজ চালাচ্ছেন? অথবা সাধারণ জনগণই কি দু’দিন ধরে আমাদের খোঁজ চালাচ্ছে?
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী : শেরিফ একটু আপনারা কি আজ সকালে কাউকে হত্যা করেছেন?
শেরিফ : আমরা হত্যাকারী নই। আমরা মহানবীর অনুসারী। আমরা নারী হত্যা করি না। আমরা কাউকে হত্যা করিনি। আমরা নবীকে অনুসরণ করি। কেউ নবীর অবমাননা কবলে আমরা তাকে হত্যা করতে পারি। আমরা আপনাদের মতো নই। আপনারা সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তানে নারী ও শিশুদের হত্যা করছেন। আমরা এমন নই। ইসলামে তাদের সম্মানের একটি স্থান রয়েছে।
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী : কিন্তু আপনারাতো সেখানে প্রতিশোধ নিলেন। আপনারা ১২ জনকে হত্যা করেছেন।
শেরিফ : হ্যাঁ, কারণ আমরা প্রতিশোধ নিয়েছি। আপনি ভালো বলেছেন। আপনি নিজেই বললেন, আমরা প্রতিশোধ নিয়েছি। এনবিসি।

ভারতের প্রথম গরুমন্ত্রী

ভারতে বিভিন্ন বিষয়ে মন্ত্রণালয় রয়েছ। এবার রাজস্থানে ব্যতিক্রমধর্মী একটি মন্ত্রণালয় খোলা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন ওটারাম দিভাসি (৪৮)। এরই মধ্যে তিনি নিজেকে আখ্যায়িত করেছেন ভারতের প্রথম ‘গো-পালন মন্ত্রী’ হিসেবে। ওটারাম মন্ত্রী হওয়ার খবরে ‘ভারতের প্রথম গরুমন্ত্রীকে চিনে নিন’ শিরোনামে টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার সর্বাধিক পঠিত খবরের তালিকায় শুক্রবার প্রতিবেদনটি সবচেয়ে ওপরে ছিল। রাজস্থানের পশু পালনের ওপর নির্ভরশীল সম্প্রদায় ‘রাবারিস’ কমিউনিটিতে জন্ম ওটারামের। রাবারিসরা ওটারামকে ডাকে ‘ভোপাজ’ বা পুরোহিত নামে। তাকে রাজস্থানের গরুমন্ত্রী নির্বাচিত করার অবশ্য বেশ কারণও রয়েছে। তিনি নিজে সবসময় থাকেনও রাখালের বেশে। তার পরনে থাকে সাদা লম্বা জোব্বা, লাল পাগড়ি। আর কানে থাকে লম্বা দুল। এই পোশাকেই সঙ্গে একটি লাঠি নিয়ে তিনি হেঁটে বেড়ান শহরের সর্বত্র। এমনকি এই পোশাকেই তিনি রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজের অফিসেও তার সঙ্গে দেখা করতে যান। সদাহাস্য, সাদাসিদে মানুষ ওটারাম দিভাসি। গরু তার কাছে ঈশ্বরতুল্য।
মরুময় রাজস্থানের জনপদে তার গরুভক্তির প্রশংসা রয়েছে। নিজের বাড়িতে ২০-২৫টি গরু পালন করেন তিনি। সংখ্যালঘু রাবারি সম্প্রদায়ের মানুষ ওটারাম দিভাসি। এই সম্প্রদায়ের মধ্যে গরুর প্রতি দারুণ ভক্তি রয়েছে। ২০১৩ সালে রাজস্থানের রাজ্যসভার নির্বাচনের সময় বিজেপি এবং দলটির নেতা ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে প্রতিশ্র“তি দিয়েছিলেন, তারা সরকার গঠন করতে পারলে এই রাজ্যে একটি গরুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করা হবে। হয়ও তাই। ওই সালের ডিসেম্বরে সরকার গঠন করে বিজেপি গরুমন্ত্রীর পদ সৃষ্টি করে এবং এর দায়িত্ব পান ওটারাম দিভাসি। সম্ভব বিশ্বে তিনিই প্রথম গরুমন্ত্রী হন। অবশ্য সাংবিধানিক জটিলতায় বেশি টেকেনি গরু মন্ত্রণালয়। পরে তা রূপান্তরিত হয় ‘গো-পালন বিভাগে’। এবার ২০১৪ সালের অক্টোবরে দুগ্ধ খামারবিষয়ক মন্ত্রী হন ওটারাম দিভাসি। এই তিন মাসে তিনি গরুর সুরক্ষায় এবং সংরক্ষণে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়ে সাড়া ফেলেছেন সারা ভারতে। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে ওটারাম দিভাসি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তিনি কেন্দ্রীয় গরুমন্ত্রীর পদ সৃষ্টির জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া প্রতিটি রাজ্যে গরুমন্ত্রী থাকা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

লেজ উদ্ধার, ব্ল্যাকবক্স নেই

ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরের তলদেশ থেকে বিধ্বস্ত হওয়া এয়ার এশিয়া ফ্লাইট কিউজেড ৮৫০১-এর লেজের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু লেজের যে অংশে ব্ল্যাকবক্স থাকার কথা ছিল সেখানে নেই। দেশটির নৌবাহিনীর ডুবুরিরা বেলুনপ্রযুক্তির মাধ্যমে সাগরের তলদেশ থেকে বিমানের লেজের অংশটি তুলে আনে। অনুসন্ধানকারীরা এখন বিমানের ব্ল্যাকবক্স ও ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডারের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিমানের লেজের অংশে থাকা ব্ল্যাকবক্সটি কোনো কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এজন্যই লেজের অংশ তুলে আনার পরও ব্ল্যাকবক্সের সন্ধান মেলেনি।
শুক্রবার সাগর থেকে ‘পিং’ সংকেত পাওয়ার কারণে আশপাশে কোথাও সেটি রয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এখন সংকেতটি কোথা থেকে এসেছে তা শনাক্তে কাজ চলছে। উদ্ধারকর্মীরা সমুদ্র থেকে এখনও বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করছেন। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজের গতি অত্যন্ত ধীর। মালয়েশিয়াভিত্তিক এয়ার এশিয়ার কিউজেড ৮৫০১ ফ্লাইটের এ-৩২০-২০০ এয়ারবাসটি গত ২৮ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৩৫ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়া থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে জাভা সাগরে সকাল ৬টা ১৭ মিনিটে বিমানটির সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছিল। বিমানটির ওই দিনই সকাল সাড়ে ৮টায় সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর কথা ছিল।

রাজধানীতে দুটি বাসে আগুন

(গুলিস্তানে আজ সকালে গাজীপুর পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। ছবি: ফোকাস বাংলা) রাজধানী ঢাকায় আজ সোমবার দুটি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। গুলিস্তান ও নদ্দায় একটি করে বাসে আগুন দেওয়ার খবর জানা গেছে। এতে কেউ হতাহত হয়নি। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখার প্রতিবাদে ও শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মুক্তির দাবিতে আজ ঢাকাসহ (সিটি করপোরেশন বাদে) আশপাশের ১৪ জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে সংশ্লিষ্ট জেলা ছাত্রদল। আর ঢাকা জেলা বিএনপি ঢাকার পাঁচ উপজেলায় আজ সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে। একই সঙ্গে সারা দেশে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের ডাকা অবরোধের আজ সপ্তম দিন। আজ সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর গুলিস্তানে গাজীপুর পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এ সময় বাসটিতে কোনো যাত্রী ছিল না। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর নদ্দার বসুন্ধরা গেটে আরেকটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। তুরাগ পরিবহনের ওই বাসটি মেরামতের জন্য সেখানে থেমে ছিল। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা আগুন নিভিয়ে ফেলেছে। অবরোধ চলাকালে গতকাল রোববার ঢাকাসহ ১১ জেলায় ১২টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়। অবরোধে দুর্বৃত্তের আগুনে ঝলসে যাওয়া ট্রাকচালক মুরাদ হোসেন (২০) পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে গতকাল সকালে অবশেষে মারা গেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ৫ জানুয়ারির ‘একতরফা’ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে টানা অবরোধ চলছে ৬ জানুয়ারি থেকে। কিন্তু সংঘাতের শুরু ৪ জানুয়ারি। এই দিনটি থেকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত আট দিনে সংঘর্ষ-সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ১২ জন। আহত হয়েছেন ৩০৫ জন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৯০ জন পুলিশ সদস্য। এ কয় দিনে আগুন দেওয়া হয় ১০৫টি যানবাহনে। ভাঙচুর করা হয় অন্তত ১২২টি। ঢাকা মহানগরে অগ্নিসংযোগ করা হয় ১৩টি যানবাহনে।

ব্যবসায়ীর পায়ে পুলিশের গুলি!

(পুলিশের গুলিতে আহত ব্যবসায়ী ফায়েজ আলী। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ছবি: শাহাদাত পারভেজ) রাজধানীর দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে আজ সোমবার সকালে প্রকাশ্যে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে। গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ীর নাম হাজী ফায়েজ আলী (৫২)। ফায়েজের ছেলে রাহাদুল ইসলামের অভিযোগ, কোনো কারণ ছাড়াই এসআই জয়নাল আজমপুরের মুন্সী মার্কেটের সামনে তাঁর বাবাকে গুলি করেছেন। ফায়েজ আলী উত্তরার আজমপুর এলাকায় আইয়ুব মার্কেটে এমএস নিপু এন্টারপ্রাইজ নামের একটি রড-সিমেন্টের দোকানের মালিক। তাঁর বাড়ি ১৩ নম্বর মধ্য আজমপুরে। প্রত্যক্ষদর্শী ফায়েজের আত্মীয় নূরুল হাসানের ভাষ্য, সকাল সাড়ে আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বাসার সামনে ফায়েজের সঙ্গে কথা বলছিলাম। এ সময় এসআই জয়নাল এসে কলার টেনে ধরে নিয়ে যেতে চান। কারণ জিজ্ঞাস করলে এসআই জয়নাল ফায়েজের কাঁধ ধরে পেছনে ঘুরিয়ে তাঁর কোমরে গুলি করেন।’ নূরুল হাসানের ভাষ্য, গুলি করার পর আশপাশের লোকজন জড়ো হয়। এ সময় জয়নাল তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে আরেকটি পিস্তল তাক করে মোটরসাইকেলে করে চলে যান। গুরুতর আহত ফায়েজ আলীকে বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ফায়েজের কোমরের ডানপাশ দিয়ে একটি গুলি লেগে বের হয়ে গেছে। পুলিশের দাবি, ফায়েজ আলী বিএনপির সমর্থক। তাঁর বিরুদ্ধে আজমপুর রেললাইন এলাকায় নাশকতার অভিযোগ পাওয়ায় পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় ফায়েজ পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালালে এ ঘটনা ঘটে। প্রথম আলোকে দেওয়া দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম অর রশিদ তালুকদারের ভাষ্য, ওই এলাকার পাশে রেললাইনে নাশকতার অভিযোগ পেয়ে সকালে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। প্রায় ১০-১২ জন পিকেটার সেখানে জড়ো হয়েছিল। পুলিশ ধাওয়া দিয়ে ফায়েজকে ধরে ফেলে। একপর্যায়ে পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান ফায়েজ। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে গুলি বের হয়ে ফায়েজের পায়ে লাগে।’ এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান রাহাদুল ইসলাম। রাহাদুলের ভাষ্য, তাঁর বাবা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন। তবে কয়েক দিন তাঁদের বাসার সামনে এসআই জয়নালকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। এলাকার চিহ্নিত এক মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তাঁর বেশ সখ্য রয়েছে। রাহাদুল বলেন, ‘উনি (ফায়েজ আলী) কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন।’

রাজনীতিবিদদের কাছে জনগণের খোলা চিঠি

প্রিয় রাজনীতিবিদবৃন্দ
আমরা অনেক আগে থেকেই জানি, আপনাদের চরিত্র ফুলের মতো পবিত্র। তবে এই ফুলের ঘ্রাণ, বর্ণ, রূপ সহ্য করার ক্ষমতা আমরা হারিয়ে ফেলেছি! এই ফুল যেন ধুতরা ফুল!
আপনারা দু–তিন দলে ভাগ হয়ে সস্তা দু–চারটা প্রাণের বিনিময়ে আমাদেরকে যেভাবে ধারাবাহিক নাটক উপহার দিয়ে যাচ্ছেন, তা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। বিনোদনজগতে আপনারা অতি অবশ্যই চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। হ্যাঁ, কিছু নিন্দুক জিজ্ঞেস করছে, ‘এখন নাটকের দলগুলো কী করবে? রাজনীতি?’ তবে এই নিন্দুকদের কথায় পাত্তা দিয়ে আপনারা লাপাত্তা হয়ে যাবেন, এটা হতে পারে না! আপনাদের এমন নাটক করার পরই না আমরা জানতে পারলাম, আপনারাও কিছু করতে পারেন! ধন্যবাদ দিয়ে আপনাদের ছোট করব না, এর জন্য আপনারা নিজেরাই যথেষ্ট।
প্রিয় আত্মস্বীকৃত ‘প্রিয়বৃন্দ’, কদিন আগে দেখলাম, আপনাদের ইশারায় কী করে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী বালু ও ইটের ট্রাক নিয়ে নির্মাণকাজে হাত লাগিয়েছে। প্রকৌশলীরা তাঁদের কাজ হাতছাড়া হতে দেখে কিঞ্চিৎ মন খারাপ করলেও এটা নিয়ে মাথা ঘামানোর কিছু নেই। অবশ্য মাথা অতি মাত্রায় বিশ্রামে থাকলে এমনিতেও খুব একটা ঘামে না। এ ছাড়া পুলিশকে দিয়ে রোগী নির্বাচন করে হাসপাতালে ভর্তি করানোর ঘটনাও ঘটিয়েছেন আপনারা। এ জন্য আপনাদের নোবেল প্রাইজ না দেওয়া হলে ঘোরতর অন্যায় হবে।
অন্যদিকে নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেও দিব্যি ফোনালাপ করার মতো কীর্তি গড়েছেন আপনারা। বিদেশি ব্রাদারদের দিয়ে কাল্পনিক বিবৃতি লিখিয়েও সাহিত্য অঙ্গনে স্থাপন করেছেন বিরল দৃষ্টান্ত। রাজপথে যানবাহন পোড়ানোর উৎসব করে দেশকে রক্ষা করছেন শীতের প্রকোপ থেকে। অবরোধ নামক মিষ্টি এক কর্মসূচি দিয়ে ভাঙছেন বাংলাদেশের কৃষকের কোমর! আহা, কৃষকের জন্য আপনাদের সে কী ভালোবাসা! কৃষককে যেন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে আর কষ্ট করতে না হয়, তার জন্যই তো এই ব্যবস্থা।
আপনাদের এক পক্ষ বলছে, ‘আমরা কেবল জনগণকেই চাই।’ অপর পক্ষ বলছে, ‘না, আমরাও জনগণকে চাই।’ কিন্তু যে হারে আমাদের লাশ ফেলছেন, তাতে মনে হচ্ছে আমরা আপনাদের কিছুটা চাইলেও, আপনারা আমাদেরকে কিছুতেই চান না। এসব বলে কী হবে! আপনাদের তো আর নিরস্ত করা যাবে না। আপনারা আমাদের বন্ধু হয়েই থাকবেন। আপনাদের ব্যবসা আছে, বিদেশে গাড়ি–বাড়ি করার ঝামেলা আছে, টাকা পাচারে মেধা খাটানোর ব্যাপার–স্যাপার আছে। এসবে কান দিয়ে সময় নষ্ট করে লাভ কী!
একবার এক বিধ্বংসী ঝড় বাংলাদেশের দিকে আসতে আসতে নাকি অন্যদিকে ঘুরে গিয়েছিল। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, ওই ঝড় অন্যদিকে ঘুরে যাওয়ার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব আপনাদের। আপনারা যে আমাদেরকে ভালোবেসেই এসব করেন, এটাই তার প্রমাণ। তার পরও খুব বলতে ইচ্ছে করে, প্লিজ, আমাদের এতটা ভালোবাসবেন না। বড় প্রেম যে সব সময় কাছে টানে না, দূরেও ঠেলে দেয়!
ইতি
আপনাদের ভালোবাসার চাপে পিষ্ট
বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ
লেখা: মহিউদ্দিন কাউসার
আঁকা: জুনায়েদ আজীম চৌধুরী

আমরা কেন পারছি না by এস এম মাসুম বিল্লাহ

লেখক: এস এম মাসুম বিল্লাহ
নিউজিল্যান্ডের প্রাকৃতিক দৃশ্য
মন যেন এক ঝলসে যাওয়া সিনাই পর্বত! ওয়েলিংটনে পা দিয়েই আবেগি ও সাংস্কৃতিক ঝাঁকি আমাকে হন্যে করে ফেলল। আশপাশের রূপ-রস-গন্ধ-শব্দ-স্পর্শ তাই তেমন অনুধাবন করা যায়নি। তবুও এক সময় এদিক-ওদিক যাওয়া পড়ে! কী শান্ত, স্নিগ্ধ হয়ে আছে পাহাড়, সাগর, ঝরনা আর বন! আমি তাকিয়ে থাকি। কবি রুমি বলেছিলেন, ‘সৌন্দর্য আমাদের চারপাশ ঘিরে থাকে৷ তা আস্বাদন করতে হলে এর ভেতরে প্রবেশ করতে হয়৷’ নিউজিল্যান্ড এর সার্থক প্রয়োগ বটে! সবুজ বাংলাকে মনে পড়ে। জীবনানন্দকে মনে পড়ে। জীবনানন্দ নিউজিল্যান্ডের রূপ দেখলে কী একই কবিতা লিখতেন? ‘রূপ আমি দেখিয়াছি তাই, পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে চাই না আর!’
প্রকৃতি, প্রাণী, উদ্ভিদ, মানুষ সবাই ভাগ করে নিয়েছে দেশটি। লম্বা সাদা মেঘের দেশ এটি মাওরি ভাষায় যার নাম আও-তে-রোয়া। পাহাড়ের বুক বিদীর্ণ করে আমরা এগিয়ে যেতে থাকি। পাহাড় এমন যত্ন করে কাটা যেন তার রূপে কোনো আঁচড় না পড়ে! পাহাড় অখুশি নয়। মানুষের ওপর তার আস্থা আছে! সে জানে আরও বড় মহৎ কিছু তাকে দিয়ে হচ্ছে। শুধু পাহাড় নয়, অন্য সবার ক্ষেত্রেই কথাটা প্রযোজ্য।
আমরা কেন বাংলার রূপ ধরে রাখতে পারছি না? ভেবে দেখলাম—অপরিণামদর্শীর মতো দেশটাকে শুষে নিচ্ছি আমরা মানুষ নামের প্রাণীরা। ‘আখ মাড়াইয়ের মতো নারীর জানু চেপে উৎপাদন করে চলেছি সন্তান৷’ ভূমি, পাহাড়, নদী আর বন বিরান করে দিয়েছি। কেড়ে নিয়েছি পাহাড়ের কান্না, নদীর বিরহ, বনের ঔদার্য আর প্রাণিকুলের নির্লিপ্ততা। নদী ও নারী শুষে নিয়ে এখন আমরা বিরস, বর্গি যেন। আমাদের নদীও আর নারীর মতো কথা কয় না৷
এক ঢাকা শহরকে যে মাত্রায় শোষণ করছি আমরা, ঢাকার মাটির যদি কণ্ঠ থাকত, তাহলে চিত্কার করে বলত, ‘দয়া করে আমাকে একটু বৃষ্টির স্বাদ নিতে দিন৷ আমার ভেতরটা জ্বলছে৷ একটু ইট, বালু, সুড়কি, কংক্রিট আমার বুকটা থেকে সরান৷ আমার পানির স্তরটা একটু বাড়াই, প্লিজ!’ কিন্তু কে শোনে কার কথা! আমাদের হৃদয় রড-সিমেন্টের বড় বিজ্ঞাপন।
ভেবে দেখলাম, এখানকার মানুষের দর্শন ভিন্ন। সব প্রজাতির কল্পিত পার্লামেন্টে নিউজিলান্ডের মানুষেরা নিজেদের একটা সদস্যমাত্র ভাবে। ইন্টার-জেনারেশনাল ইকুইটির কী প্রসন্ন প্রয়োগ সবখানে! বর্তমান প্রজন্ম ভবিষ্যতের প্রজন্মের কাছে একটা দায় অনুভব করে। একটা চড়ুই পাখিও বিনা কারণে ভূপাতিত হবে না—এই এদের মুক্তির দর্শন! আমার উপলব্ধিতে হয়তো রং আছে। কিন্তু যে বাংলার রং নিয়ে বড় হয়েছি, তাও তো দিনে দিনে শেষ হয়ে যাচ্ছে! এখন ফরিদা পারভিনের কিন্নরী কণ্ঠে কি ‘এই অবারিত সবুজের প্রান্ত ছুঁয়ে, নির্ভয়ে নীলাকাশ রয়েছে নুয়ে’ শোনা যায়? হয়তো যায়, কিন্তু দেখা কী যায়?
(পিএইচডি শিক্ষার্থী, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলিংটন)

মুখোমুখি দু’পক্ষ- ঢাকায় আওয়ামী লীগের শোডাউন, ২০ দলের হরতাল

ফের মুখোমুখি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। আজ রাজধানীতে বড় ধরনের শোডাউন করার প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। একই দিনে ঢাকার আশপাশের চার জেলায় হরতাল ডেকেছে ২০ দল। আর ঢাকা বিভাগের ১৬ জেলায় হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। আওয়ামী লীগের সমাবেশে ব্যাপক লোক সমাগমের প্রস্তুতি নিলেও গতকাল রাত পর্যন্ত সমাবেশের অনুমতি নিয়ে ছিল ধূম্রজাল। রাতে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, রাত পর্যন্ত অনুমতির বিষয়টি তারা নিশ্চিত হননি। তবে অনুমতি পাওয়া যাবে বলে প্রত্যাশার কথা জানান তারা। অন্যদিকে ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা জানান, আওয়ামী লীগকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে রাতে। কিন্তু কোন কর্মকর্তাই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। ঢাকায় গত ৪ঠা জানুয়ারি থেকে সব ধরনের সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করে আওয়ামী লীগের সমাবেশ অনুমতি নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। এমন ধূম্রজালের মধ্যেই আজ দুই পক্ষের মাঠের কর্মসূচি ঘিরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
ব্যাপক লোক সমাগম করবে আওয়ামী লীগ: বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আজকের সমাবেশে ব্যাপক লোক সমাগমের লক্ষ্য রয়েছে। বেলা ২টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে এ সমাবেশ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আজকের জনসভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও বক্তব্য দেবেন। ১০ই জানুয়ারি এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার জন্য জনসভার তারিখ পিছিয়ে তা ১২ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। এ বিষয়ে ৮ই জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইজতেমার বিষয়টি ভাবনায় রেখে জনসভাটি ১০ই জানুয়ারির পরিবর্তে ১২ই জানুয়ারি (আজ) হবে বলে জানান আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। গত ৪ঠা জানুয়ারি উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজধানীতে সভা, সমাবেশ, মিছিল নিষিদ্ধ করেছিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এদিকে সমাবেশে কয়েক লাখ লোকের সমাবেশ ঘটাতে চায় আওয়ামী লীগ। জনসভাকে সফল করার লক্ষ্যে দলের বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও ধানমণ্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যলায়ে গত কয়েক দিন ধরে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করেছে আওয়ামীলীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে। ধানমণ্ডিতে সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় শনিবার। এদিন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যৌথসভায় মিলিত হন ঢাকা মহানগর ও তার পার্শ্ববর্তী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার এমপিরা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিমসহ অন্য কেন্দ্রীয় নেতারা। বৈঠকে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ আজকের জনসভা সফল করতে ঢাকা মহানগর আওয়ামীলীগসহ দলের সবাইকে সর্বাত্মকভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগ ও ঢাকা মহনগরের একাধিক নেতা ও ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা প্রায় অভিন্ন সুরে বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সোমবারের সমাবেশ সফল করার জন্য বিভিন্ন দিকনির্দেশনা কেন্দ্র থেকে দেয়া হয়েছে। জনসভায় যাতে ব্যাপক লোকসমাগম হয় সেজন্য ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে ব্যাপক লোকসমাগমের কথা বলা হয়েছে। এদিকে আজকের সমাবেশকে সফল করতে গতকাল বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এক বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। বর্ধিত সভায় বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামসহ মহানগরের অন্য নেতারা। বক্তব্যে তারা মহানগরের প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিটের নেতাকর্মীদের বেলা ২টা বাজার আগেই সভাস্থলে পৌঁছার নির্দেশ দেন। তারা বলেন, ১২ই জানুয়ারির (আজ) সমাবেশকে জনসমুদ্রে রূপান্তরিত করতে যা যা করা দরকার তার সবই করা হবে।
রাজধানী ঘিরে ২০ দলের হরতাল: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখা ও শীর্ষ নেতাদের মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদ এবং নেতাদের মুক্তির দাবিতে রাজধানীর চারপাশে ৪ জেলাসহ সারা দেশে ৭ জেলায় হরতাল ডেকেছে ২০ দল। ফেনীতে সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে ২০ দলীয় জোট। পাশাপাশি একই ঘটনায় ঢাকা জেলাসহ ১৬ জেলায় হরতাল ডেকেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। গতকাল মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাই, গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার, মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ড. মোখছেদুর রহমান আলাদা ব্রিফিং ও বিবৃতিতে এ হরতালের ঘোষণা দেন। ওদিকে ঢাকাসহ ১৪ জেলায় সোমবার হরতাল ডেকেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। গতকাল ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। হরতাল ডাকা জেলাগুলো হলো- ঢাকা, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, কুমিল্লা (উত্তর ও দক্ষিণ), ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর ও নেত্রকোনা। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান সংশ্লিষ্ট জেলা ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হরতাল সফল করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া আলাদাভাবে হরতালের ডাক দিয়েছে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদল। গতকালের হরতালের সময়সীমা বাড়িয়ে আগামীকাল ভোর ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করেছে বগুড়া জেলা ২০ দল। নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে হরতাল ডেকেছে ফেনী জেলা ২০ দল। এছাড়া নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলায় হরতাল ডেকেছে উপজেলা বিএনপি। এদিকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)। হরতালে দেশের ব্যবসা, যান, মাল ও সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কায় এ উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটি।
আটকের পর ৫ নেতা নিখোঁজ, দাবি ছাত্রদলের: এদিকে পুলিশের হাতে আটকের পর রাজধানীর কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের ৫ নেতা নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করেছে ছাত্রদল। গতকাল বিকালে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, শুক্রবার আটকের পর থেকে ওই ৫ ছাত্রনেতার কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশও এ ব্যাপারে কিছু বলছে না। নিখোঁজ ছাত্রনেতারা হলেন- কলেজ শাখা ছাত্রদলের সমাজসেবা সম্পাদক জসীম উদ্দিন (বিএ-৩য় বর্ষ), সদস্য সুজন চন্দ্র দাস (ব্যবস্থাপনা-৩য়), রোমান আহম্মেদ (ব্যবস্থাপনা-৩য়), কেএম নাজমুল হাসান নিহাত (ইংরেজি-৪র্থ) ও ইরফান আহম্মেদ ফাহিম (বিএসএস-২য় বর্ষ)। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জহির উদ্দিন জানান, কবি নজরুল কলেজের ছাত্রদলের সমাজসেবা সম্পাদক জসীমকে গত শুক্রবার পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। জসীমের সন্ধান না পেয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে সারা দিন যোগাযোগ করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেনি। এরপর শনিবার সন্ধ্যার পরে জসীমের ফোন থেকে কল করে নিখোঁজ বাকি চারজনকে ভিক্টোরিয়া পার্কে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এরা যাওয়ার পর জসীমের পাশে ডিবি পুলিশকে দেখতে পায়। তারা আর সরে আসতে পারেনি, তাদেরও ডিবি ধরে নিয়ে যায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের আটকের কথা ডিবি স্বীকার করেনি। এ বিষয়ে সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, ভিক্টোরিয়া পার্কের আশপাশ থেকে শনিবার রাতে ও গতকাল সন্দেহভাজন হিসেবে কয়েকজন আটক করা হয়েছে। তবে তিনি আটককৃতদের নাম জানাননি।