Thursday, December 2, 2010

আলোচনা- প্রসঙ্গ:বেসরকারী চ্যানেলে বিটিভি'র খবর by ড. শেখ আবদুস সালাম

০০৪ সালের ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ টেলিভিশন স্যাটেলাইট সম্প্রচার শুরু করে। এর আগে টেরেস্ট্রিয়াল পদ্ধতিতে টিভি অনুষ্ঠান প্রচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ টেলিভিশনের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও ক্যাবল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে ছিল বাংলাদেশ টেলিভিশন। স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে বাংলাদেশ টেলিভিশনের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। বেসরকারী চ্যানেলগুলো সেখানে ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। বাংলাদেশ টেলিভিশন এ বছরে স্যাটেলাইট জগতে প্রবেশের মধ্য দিয়ে এক নবযুগের সূচনা ঘটায়। বাংলাদেশ টেলিভিশনে বর্তমানে এই সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

আলোচনা- 'আজও পাহাড় অশান্ত' by রফিকুল বাসার/ এ কে এম মকছুদ আহমেদ

শান্তি চুক্তির ১৩ বছরেও শান্তি আসেনি পার্বত্য চট্টগ্রামে। বাস্তবায়ন হয়নি চুক্তির বেশির ভাগধারাই। ভূমি বিরোধ এখনো মেটেনি। আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদ গঠন হলেও আইন অনুযায়ি ক্ষমতা দেয়া হয়নি। হয়নি পার্বত্যাঞ্চলের ভেতরের উদ্বাস্তু পুনর্বা-সন। তৈরী করা যায়নি স্থায়ী বাসিন্দাদের ভোটার তালিকা। অন্যদিকে চুক্তি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে রয়েছে মতপার্থক্য। যা এখনো মেটেনি। এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ১৩ বছর উপলক্ষে ঢাকাসহ তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির খাগড়া-ছড়ি ও বান্দরবানে বিভিন্ন সংগঠন পৃথক কর্মসূচি নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক- 'চীনের দৃষ্টিতে এক হবে দুই কোরিয়া ইরাকে গণতন্ত্র চাননি মুবারক'

চীন মনে করে, সিউলের নেতৃত্বে দুই কোরিয়া এক হয়ে যাবে। মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক ইরাকে স্বৈরাচারী সরকারই দেখতে চান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং তাঁর আয়ু আর মাত্র কয়েক মাস। উইকিলিকস গত শনিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব কূটনৈতিক তারবার্তা প্রকাশ করছে তাতে বের হয়ে এসেছে আপাতদৃষ্টিতে বিস্ময়কর এসব তথ্য। যুক্তরাষ্ট্রকে কোণঠাসা করার পাশাপাশি তার মিত্র ও বৈরীভাবাপন্ন দেশগুলোকেও নাজুক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে এসব তথ্য।

আন্তর্জাতিক- 'তরুণদের ভবিষ্যৎ মানে দেশের ভবিষ্যৎ' by অং সান সু চি

অং সান সু চি মিয়ানমারের (বার্মা) গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক। ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী। জন্ম রেঙ্গুনে, ১৯৪৫ সালের ১৯ জুন। ১৯৬৯ সালে অক্সফোর্ডের সেন্ট হগস কলেজ থেকে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৮ সালে ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে বার্মিজদের গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য সংগ্রামে নামলেন সু চি। এ জন্য তাঁকে গৃহবন্দী করা হয়। গত ২১ বছরের মধ্যে ১৫ বছরই কেটেছে তাঁর গৃহবন্দী অবস্থায়। গৃহবন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়েছেন ১৩ নভেম্বর, ২০১০। ১৯৯৯ সালের ১২ জুন পেনসিলভানিয়ার বাকনেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে তাঁর লিখিত এই ভাষণ বার্মায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত (১৯৮৭-৯০) বার্টন লেভিন পাঠ করে শোনান।

রাজনৈতিক আলোচনা- 'খালেদা জিয়ার লিখিত অনাস্থা, আপিল বিভাগের নীরবতা' by মিজানুর রহমান খান

বিস্ময়কর তথ্যটি আগেই বলে নিই। গতকালের সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেলগুলোর খবর পরিবেশনা দেখে আদালতে কী ঘটে গেছে তা বোঝা যাবে না। এই ঘটনা প্রমাণ দেয় যে আমাদের রাষ্ট্রের তিন স্তম্ভের কোনোটিই দাঁড়ায়নি। বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ও আপিল বিভাগের অপর দুই বিচারক বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন ও বিচারপতি এস কে সিনহার প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করেন। এর প্রায় ২০ ঘণ্টা ব্যবধানে ২৯ নভেম্বর সকাল সাড়ে নয়টার দিকে দুই বড় দল সমর্থক আইনজীবীদের উত্তেজনাপূর্ণ উপস্থিতিতে আপিল বিভাগে শুরু হলো সেনানিবাসের বাড়িসংক্রান্ত লিভ টু আপিলসহ চারটি আবেদনের ওপর শুনানি।

রাজনৈতিক আলোচনা- 'কেউ কথা রাখেনি এবং গণতন্ত্রের বিকট চেহারা' by সোহরাব হাসান

কেউ কথা রখেননি। না শেখ হাসিনা, না খালেদা জিয়া। ২০০১ সালের আগস্ট মাসে বিচারপতি লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুই নেত্রী সাবেক আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বলেছিলেন, ‘তাঁরা হরতাল করবেন না। সংসদ বর্জন করবেন না।’ জিমি কার্টারের বরাতে এ-সংক্রান্ত খবর ৫ আগস্ট ২০০১ তারিখে প্রথম আলোসহ সব পত্রিকায়ই ছাপা হয়েছিল। কোনো নেত্রী বা দল যখন এর প্রতিবাদ করেনি, তখন ধরে নিতে পারি, কার্টার সাহেব অসত্য বলেননি। এরপর পদ্মা-মেঘনায় অনেক পানি প্রবাহিত হয়েছে। দুই নেত্রী পালাক্রমে দেশ শাসন করছেন। মাঝখানে দুই বছরের সেনা-সমর্থিত জরুরি সরকারের ফাঁড়াও কেটে গেছে। খালেদা জিয়া মেয়াদের শেষ দিন ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। ধারণা করি, শেখ হাসিনাও মেয়াদ শেষ হওয়ার এক দিন আগেও ক্ষমতা ছাড়বেন না।

বক্তব্য- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসাবে খায়রুল হককে প্রশ্নবিদ্ধ করাই তাদের উদ্দেশ্য ---এটর্নি জেনারেল

টর্নি জেনারেল এডভোকেট মাহবুবে আলম বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসাবে বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নিয়োগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই বেগম জিয়ার আইনজীবীরা লিভ টু আপিলের ওপর শুনানি করেননি। বিষয়টিকে রাজ-নীতিকীকরণের জন্যেই তারা এই পন্থা অবলম্বন করেছেন। ক্যান্টন-মেন্টের বাড়ি নিয়ে প্রধান বিচারপতিকে বিতর্কিত করাই তাদের আসল উদ্দেশ্য। গতকাল মঙ্গলবার এটর্নি জেনারেলের দফতরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

শিল্প-অর্থনীতি 'করমুক্ত থাকার নানা চেষ্টা নোবেল বিজয়ীর' by ফারুক মেহেদী

নিজ প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংককে করমুক্ত রাখতে বছরের পর বছর ধরে সচেষ্ট আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দারিদ্র্যমুক্তির প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংককে করের আওতামুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছেন ২০০৬ সালে শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার পাওয়া এ অর্থনীতিবিদ। একইভাবে নিজের এবং প্রতিষ্ঠানের নোবেল পুরস্কারের ওপরও যাতে কর না ধরা হয়, সে জন্য নানা তৎপরতা চালিয়েছিলেন তিনি।

খবর, কালের কণ্ঠের- অনাস্থা নয়, খালেদার আশঙ্কা ছিল ন্যায়বিচার না পাওয়ার

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাড়ি নিয়ে মামলার শুনানিতে আদালতের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপনের কোনো আবেদন আপিল বিভাগের সামনে যায়নি। আর তাই প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগের অন্য দুই বিচারপতির প্রতি অনাস্থা প্রকাশের খবর সঠিক নয় বলে আইনজীবীরা মনে করেন। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় খালেদা জিয়ার বাড়ি ছাড়া নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল অনুমতির আবেদনের (লিভ টু আপিল) নথিতে গতকাল দেখা যায়, এ ধরনের কোনো আবেদন নেই।

খেলা- 'বাংলাদেশ তো আসলে জিততেই চায়নি!' by সাইদুজ্জামান

যে দল জিততে চায় না, সে দল জিতবে কেন? কাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ৯ রানে হারের পোস্টমর্টেম রিপোর্টটা এমনই। সাদা চোখে বাজে, (বোধ হয় বলা উচিত জঘন্য) ব্যাটিং-ফিল্ডিংকে দায়ী করছেন অধিনায়ক থেকে শুরু করে সবাই। তবে ব্যর্থতার অন্ধকারে যেন বাংলাদেশকে ঠেলে-ঠুলে নিয়ে গেছে জেতার অনিচ্ছা। নইলে ক্রমাগত ব্যাটিংবান্ধব হয়ে ওঠা উইকেটে কেন ২১০ রান তাড়া করতে গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়বে অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডকে ৪-০ ম্যাচে উড়িয়ে দেওয়া বাংলাদেশ?

আলোচনা- 'ড. ইউনূসের কেলেঙ্কারি!' by রুহুল আমিন রানা

দারিদ্র্য দূর করার জন্য বিদেশ থেকে পাওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রামীণ ব্যাংকের তহবিল থেকে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে। নরওয়ের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে তথ্য-উপাত্তসহ তুলে ধরা হয়েছে এ অভিযোগ। এতে বলা হয়েছে, দারিদ্র্য দূর করার জন্য ভর্তুকি হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংককে ইউরোপের দেওয়া কোটি কোটি ডলার নিজের অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের তহবিলে সরিয়ে নিয়েছেন ড. ইউনূস।

আগাম জমা পরিবর্তন না করার দাবি ডিএসইর

দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য ব্রোকারেজ হাউসের প্রতিদিনের লেনদেনের ওপর নিরাপত্তা জামানতের হার (মেম্বারস মার্জিন) আগের অবস্থায় বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।
সংগঠনটির সভাপতি শাকিল রিজভীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গতকাল সোমবার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে এ দাবি জানায়। এ সময় তাঁরা এসইসিকে বলেন, বর্ধিত হারে মার্জিন জমা দিতে হলে অনেক ব্রোকারেজ হাউসের পক্ষে লেনদেন চালানো সম্ভব হবে না। এতে ব্রোকারেজ হাউসগুলো বড় ধরনের সমস্যায় পড়বে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) নেতারা বৈঠকে না থাকলেও ডিএসইর দাবির সঙ্গে একমত বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির নেতারা। শাকিল রিজভী বলেন, ‘গত কয়েক মাসে পুঁজিবাজারে লেনদেনের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বাড়লেও তা নিষ্পত্তিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তাই হঠাৎ করে কেন মেম্বার মার্জিন সীমা বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিল তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। তা ছাড়া এখন এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন আছে বলেও আমরা মনে করি না। তাই ডিএসইর পক্ষ থেকে এটি পরিবর্তন না করতে এসইসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়েছি।’ কারণ হিসেবে ডিএসই সভাপতি বলেন, নতুন আইন কার্যকর হলে ব্রোকারেজ হাউসগুলো নগদ অর্থের সমস্যায় পড়বে। এ কারণে দেখা যাবে, দিনের শুরুতে এক ঘণ্টা লেনদেন করার পর লেনদেন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। আর এটা হলে শেয়ারবাজারে একটা অস্থিরতা দেখা দেবে। এ প্রসঙ্গে এসইসির সদস্য মনসুর আলম বলেন, ‘আমরা তাদের যুক্তিগুলো শুনেছি। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিশন বৈঠকেই এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’এসইসি গত বৃহস্পতিবার সদস্য মার্জিন আইনে সংশোধনী আনে। ওই দিনের ঘোষণা অনুযায়ী রোববার থেকে সিদ্ধান্তটি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরে এর কার্যকারিতা এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়। আগামী ৫ ডিসেম্বর থেকে নতুন নিয়মে মেম্বার মার্জিন চালু করার কথা রয়েছে। সংশোধনী অনুসারে লেনদেনের বিপরীতে মার্জিন জমার হার বাড়ানো হয়। তবে মার্জিন ছাড়া সর্বনিম্ন লেনদেনের আগের সীমা (পাঁচ কোটি টাকা) বহাল রাখা হয়েছে। কিন্তু লেনদেন পাঁচ কোটি টাকা থেকে ছয় কোটি টাকার মধ্যে হলে, অতিরিক্ত এক কোটি টাকা লেনদেনের বিপরীতে ৪০ শতাংশ মার্জিন জমা রাখতে হবে। ছয় কোটি টাকা থেকে সাত কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হলে মার্জিন জমা রাখতে হবে ৬০ শতাংশ। লেনদেন সাত থেকে নয় কোটি টাকার মধ্যে হলে ৮০ শতাংশ মার্জিন জমা রাখতে হবে। আর লেনদেন নয় কোটি টাকার ওপরে হলে মার্জিন জমা দিতে হবে ১০০ শতাংশ। আগে এ হার ছিল যথাক্রমে ২০, ৩০, ৫০ ও ১০০ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে ব্রোকারেজ হাউসগুলো প্রাতিষ্ঠানিক নিশ্চয়তা বা করপোরেট গ্যারান্টি দিলেই চলত। কিন্তু নতুন নিয়মে করপোরেট গ্যারান্টি ৫০ শতাংশের বেশি গ্রহণযোগ্য হবে না।

চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার সময় বেড়েছে

চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ আয়োজিত মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার সময় আগামী ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।হরতালসহ নানা কারণে মেলায় অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা কম হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে আয়োজকেরা জানান। গতকাল সোমবার মেলাটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে এই মেলার আয়োজন করে, যা গত ২৭ অক্টোবর শুরু হয়। উইমেন চেম্বারের সমন্বয়কারী জি এম রায়হান বলেন, ‘হরতালসহ বিভিন্ন কারণে এবার বেচাকেনা একটু কম হয়েছে। তাই ব্যবসায়ীদের অনুরোধে মেলা আগামী ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়।’

৫ ডিসেম্বর থেকে স্পট মার্কেটে শুরু হবে স্থগিত ১৪ প্রতিষ্ঠানের লেনদেন

আগামী ৫ ডিসেম্বর থেকে স্পট মার্কেটে শুরু হবে স্থগিত হওয়া ১৪টি কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন। আজ মঙ্গলবার ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় ২৩ নভেম্বর ১৩টি এবং পরদিন আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের লেনদেন স্থগিত করে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। এক সপ্তাহ পর ১৪টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন শুরুর ব্যাপারে ডিএসই কর্তৃপক্ষ আজ এই সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা গেছে।প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: ফার্মা এইডস, সোনালি আঁশ, মিথুন নিটিং অ্যান্ড ডাইং, তাল্লু স্পিনিং মিলস, সিএমসি কামাল, সাফকো স্পিনিং, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, আজিজ পাইপ, বাংলাদেশ অটোকারস, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, দেশ গার্মেন্টস, ঢাকা ডাইং ও এম্বি ফার্মা।ডিএসই সূত্রে জানা যায়, শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বাড়ার কারণে ২৩ নভেম্বর পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের লেনদেন স্থগিত করা হয়। পরদিন আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের লেনদেন স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।এসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ৫ ডিসেম্বর থেকে ১৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের লেনদেন স্পট মার্কেটে শুরুর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসই কর্তৃপক্ষ।

ইইএফের নীতিমালায় পরিবর্তন জরুরি by সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর

বাংলাদেশ ব্যাংকের ইকুইটি এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ ফান্ড বা ইইএফ শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের শিল্পায়নে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পুঁজি সরবরাহের মাধ্যমে শিল্প বিকাশে সাহায্য করার জন্য। সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র ও সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ের মাধ্যমে শিল্পায়নই এই সহায়তার অন্যতম লক্ষ্য। মহান এই সহায়তা-কার্যক্রম আরও অনেক কার্যক্রমের মতোই চরম দুর্নীতির কারণে বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য হয়। সৌভাগ্যের বিষয়, ওই সহায়তা-তহবিল আবার চালু হয়েছে এবং দুর্নীতি রুখতে নীতিমালায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। সহায়তার আওতা ও পরিমাণের পরিমার্জনের মাধ্যমে শুধু ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উপযোগী করা হয়েছে। তবে এই মহান উদ্দেশ্যের বাস্তবায়নে বর্তমান নীতিমালার কিছু ধারায় কর্তৃপক্ষের বাস্তবসম্মত দৃষ্টি আবশ্যক।‘ইইএফ (আইসিটি) তহবিল ব্যবহারের নীতিমালা’-এর নিম্নোক্ত ধারাগুলোর অন্যতম: (৩.২) ইইএফের জন্য আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে দেশের আইসিটি শিল্পে ন্যূনতম তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে (আবেদন করার তারিখ থেকে পূর্ববর্তী তিন বছর)। (৩.৪) ইইএফের আওতায় তহবিল পাওয়ার জন্য আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ‘কোম্পানি আইন ১৯৯৪’-এর আওতায় নিবন্ধিত একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হতে হবে। (৩.৫) আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে রপ্তানিকারক হিসেবে নিবন্ধিত হতে হবে অর্থাৎ ইআরসি নিতে হবে। নিবন্ধিত একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হতে হবে।বাস্তবতা হলো, যেসব নবীন পেশাজীবীকে আমরা এই সহায়তার আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছি, তাঁরা উঠতি তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী জনশক্তি। দেশি প্রযুক্তি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশির ভাগ কোনো একটি বড় ব্যবসায়ী গ্রুপের বিনিয়োগ, যাদের এ ধরনের সহায়তার প্রয়োজন নেই বললেই হয়। আর বাকি নবীন পেশাজীবীদের বেশির ভাগ বর্তমানে বাসাবাড়িতে ছোট অফিস স্থাপন করে ৩ থেকে ১২ জন প্রোগ্রামার নিয়ে কাজ করছেন। তাঁরা অনলাইনের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ডাকের (বিডিংয়ের) মাধ্যমে কাজ সংগ্রহ করেন। কাজ শেষ করে বিভিন্ন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে বিল সংগ্রহ করে ওয়েস্টার্ন মানি ইউনিয়নের মতো কোনো একটি কোম্পানির মাধ্যমে দেশে টাকা নিয়ে আসে। যেহেতু খুব বড় প্রকল্পের কাজ না হলে বিদেশি কোম্পানিগুলো কাগজপত্র বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দেখতে চায় না, তাই এসব উদ্যোক্তার ৯৩ শতাংশের বেশির ট্রেড লাইসেন্সসহ অন্য কাগজপত্র তৈরি করার প্রয়োজন দেখা দেয়নি। একই কারণে তাদের কোনো কোম্পানি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। তাই রপ্তানিকারক হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। ব্যালান্স শিট, ট্যাক্স রিটার্ন, কোম্পানি রিটার্ন ধরনের কাগজপত্রের বাস্তবতা তথৈবচ। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তারা কাজ পাচ্ছে এবং কঠিন মান নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে অর্থ উপার্জন করছে। দেশের প্রচলিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় তারা যত অদক্ষই হোক না কেন, তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান বা দক্ষতায় তারা আন্তর্জাতিক মানের।
বর্তমান নীতিমালায় একজন নতুন উদ্যোক্তাকে ইইএফের সহযোগিতা নিতে গেলে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি লিমিটেড কোম্পানি নিবন্ধন করতে হবে। এরপর বাণিজ্যিক অফিস খরচ, টিন নম্বর, ইআরসি, তিন বছরের ব্যালান্স শিট, ট্যাক্স রিটার্ন, কোম্পানি রিটার্ন প্রভৃতি মিলিয়ে আসবে ন্যূনতম সাত লাখ টাকা। প্রকল্প প্রস্তাব, প্রকল্প ছক তৈরি, মূল্যায়ন খরচ, যাতায়াত মিলিয়ে লাগবে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। প্রায় ১২ লাখ টাকার অধিক খরচ করার পর তিনি নিশ্চিত হতে পারবেন না যে তাঁর প্রকল্প অনুমোদিত হবে কি না। তার চেয়ে বড় কথা, তিন বছর পর এই প্রকল্প থাকবে কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। যে উদ্যোক্তা এত টাকা এ রকম অনিশ্চিত বিনিয়োগ করতে পারে, তার ইইএফের মতো রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা কতটুকু প্রয়োজন, তা বিবেচ্য।
নীতিমালার কিছু অংশ দেখে মনে হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী নয়, বরং যেসব ব্যবসায়ী অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনা ভালো বোঝেন এবং বিশেষ করে আগে থেকে এ ধরনের সুবিধা নেওয়ার জন্য তৈরি ছিলেন, তাঁদের জন্যই এ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নবীন পেশাজীবী উদ্যোক্তাদের এ সহায়তা পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
আমরা অবশ্যই বলছি না, তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী উদ্যোক্তাদের দেশের প্রচলিত অর্থনৈতিক নিয়মকানুন-বিষয়ক উদাসীনতাকে প্রশ্রয় দিন। এ ক্ষেত্রে আমরা মনে করি, সহজ শর্তে উদ্যোক্তাদের কাজ শুরু করানোই সবচেয়ে জরুরি। এরপর ক্রমান্বয়ে তাঁদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে পরিপক্ব করা সম্ভব হবে। সুযোগ দেওয়া হলে তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষতার পাশাপাশি তাঁরা দক্ষ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপক ও সফল উদ্যোক্তা হতে পারবেন। তাই আমরা যদি সত্যিকার অর্থে আমাদের তথ্যপ্রযুক্তির সম্ভাবনাময় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পুঁজি সরবরাহের মাধ্যমে সাহায্য করতে চাই, তবে নীতিমালার ওপর উল্লিখিত ধারাগুলোর নিম্নরূপ সংশোধন একান্ত প্রয়োজন: (৩.২) সম্পূর্ণ নতুন প্রতিষ্ঠান ইইএফের জন্য আবেদন করতে পারবে। তবে উদ্যোক্তার তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক অভিজ্ঞতার প্রমাণ দিতে হবে এবং ইলেকট্রনিকস প্রমাণ গ্রহণযোগ্য হবে। (৩.৪) প্রস্তাবিত, প্রোপাইটরি বা পার্টনারশিপ (রেজিস্টার্ড বা আনরেজিস্টার্ড) কোম্পানি ইইএফের জন্য আবেদন করতে পারবে, তবে সহায়তা নিশ্চিত হওয়ার পর, তহবিল গ্রহণের আগে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ‘কোম্পানি আইন ১৯৯৪’-এর আওতায় নিবন্ধিত একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হতে হবে। (৩.৫) ইইএফের সহযোগিতা পাওয়ার পর আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে রপ্তানিকারক হিসেবে নিবন্ধিত হতে হবে অর্থাৎ ইআরসি গ্রহণ করতে হবে।উদ্যোক্তাদের তৈরি সফটওয়্যার, অ্যাপলেট ও অন্যান্য কাজের মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকল্প আওতাভুক্ত করার জন্য একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। ইইএফ কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নের বেঞ্চমার্কগুলো স্বচ্ছতার সঙ্গে উদ্যোক্তাদের কাছে প্রকাশ করতে হবে। প্রকল্প পরিকল্পনা তৈরির জন্য আইসিবির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফরমগুলোর সঙ্গে সংযুক্তির জন্য আর্থিক বিশ্লেষণের ছকের টেমপ্লেট সংযুক্ত করতে হবে, যেখানে সাধারণ অঙ্কগুলো বসালেই বাদবাকি নিজে থেকে পূর্ণ হয়ে যাবে। প্রকল্প পরিকল্পনা তৈরির জন্য নতুন উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রকল্প মূল্যায়নের যদি প্রকল্প পাস হওয়ার যোগ্যতা পায়, তবেই মূল্যায়ন খরচ উদ্যোক্তার কাছ থেকে নেওয়া যেতে পারে। উল্লিখিত বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষ সঠিক তহবিল ব্যবস্থাপনার স্বার্থে বিনিয়োগ হিসেবে করতে পারে, যা প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় তাদের মূলধনের অংশ হিসেবে দেখতে উদ্যোক্তাদের আপত্তি থাকবে না বলেই আমার ধারণা। তবে ঝুঁকি কমানোর জন্য সম্পূর্ণ নতুন উদ্যোক্তা ও অভিজ্ঞ উদ্যোক্তাদের সহায়তার আওতা ও পরিমাণের কমবেশিসহ তদারকির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।
সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর: পরিচালক, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়নকেন্দ্র।

জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে ইইউর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে আফ্রিকা

জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে একটি যৌথ ঘোষণায় আফ্রিকার দেশগুলো সই করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তারা বলেছে, ওই ঘোষণায় আফ্রিকার স্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে ইইউর স্বার্থ রক্ষা করার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে গত রোববার ইইউ ও আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত দুই দিনের সম্মেলন শুরু হয়। গতকাল সোমবার ছিল সমাপনী দিন। এ দিন একটি যৌথ ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আফ্রিকার দেশগুলো তাতে সই না করায় শেষ পর্যন্ত যৌথ ঘোষণা ছাড়াই সম্মেলন শেষ হয়।

ওয়েবসাইটে বিস্ফোরক তৈরির পদ্ধতি প্রকাশ করায় যুবকের কারাদণ্ড

চীনে ওয়েবসাইটে বিস্ফোরক বানানোর পদ্ধতি প্রকাশ করার দায়ে এক যুবককে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বেইজিং নিউজ গত রোববার জানায়, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পথ বাতলে দেওয়ার দায়ে সম্প্রতি বেইজিংয়ের একটি আদালত ফেং নামের ওই যুবককে ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন। ২১ বছর বয়সী ওই যুবক ইন্টারনেট থেকে পেট্রল বোমাসহ ১০ ধরনের বোমা তৈরির পদ্ধতি জোগাড় করে একটি বই সংকলন করেন। পরে সেই বই একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেন।গত শনিবার দ্য বেইজিং মর্নিং পোস্ট জানায়, ফেং দুই দফায় বিস্ফোরক তৈরির দিকনির্দেশনা-সংবলিত বইটি ওয়েবসাইটে আপলোড করেন। গত বছরের নভেম্বরে তিনি বইটি প্রথম ওয়েবসাইটে দেন।

ইরাকে আল-কায়েদার হাতে নিহতদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ হচ্ছে

আল-কায়েদা জঙ্গিদের হাতে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে একটি জাদুঘর ও স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করবে ইরাক। জঙ্গিরা নিরীহ মানুষকে অপহরণ করে যে বাড়িতে নির্যাতন চালাত, সেই বাড়িতেই স্মৃতিস্তম্ভ ও একটি জাদুঘর নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির দিয়ালা প্রদেশের প্রাদেশিক কাউন্সিল। কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
ওই বাড়িটি দিয়ালা প্রদেশের রাজধানী বাকুবায় অবস্থিত। ২০০৩ সালে ইরাকে যুদ্ধের সময় বাড়ির মালিকের পরিবার জর্ডান চলে যায়। জাদুঘর নির্মাণের চিন্তা ওই বাড়ির মালিকের কাছ থেকেই এসেছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান, জঙ্গিদের নির্যাতনের বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত ও নির্যাতনের বিভিন্ন উপকরণ জাদুঘরে রাখা হবে। বাড়ির মালিক জানান, পরিত্যক্ত ওই বাড়িটি ভয়ংকর নির্যাতনের স্মৃতি বহন করছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, জঙ্গিরা বিভিন্ন প্রদেশ থেকে লোক ধরে এনে এই বাড়িতে আটকে রাখত এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালাত। ইরাকে আল-কায়েদার এটিই ছিল প্রধান আদালত ও কারাগার।

সিআইএর বিরুদ্ধে মামলা করবেন এক পাকিস্তানি

পাকিস্তানের এক ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে বোমা ফেলে পরিবারের সদস্যদের হত্যা করার অভিযোগ এনে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর বিরুদ্ধে ৫০ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা করতে যাচ্ছেন। উত্তর ওয়াজিরিস্তানের ওই আদিবাসী নাগরিকের নাম করিম খান। তিনি বলেছেন, মামলায় লড়তে প্রয়োজনে তিনি দ্য হেগে আন্তর্জাতিক আদালত পর্যন্ত যাবেন।করিম খান ও তাঁর আইনজীবী মির্জা শেহজাদ আকবর গতকাল সোমবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। করিম খান বলেন, উত্তর ওয়াজিরিস্তানের মির আলী এলাকায় তিনি বাস করেন। তিনি ও তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে জড়িত নন। অথচ ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর মার্কিন চালকবিহীন বিমান থেকে তাঁদের বাড়ির ওপর বোমা হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে, তাঁর এক ভাই ও এক প্রতিবেশী নিহত হন।আইনজীবী শেহজাদ আকবর বলেন, তাঁরা পাকিস্তানের আদালতে যুক্তরাষ্ট্র ও সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন। একই সঙ্গে ৫০ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন। পাকিস্তানের আদালতে বিচার না পেলে তাঁরা প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতে যাবেন।আকবর বলেন, এটা কোনো রাজনৈতিক মামলা নয়। এটা সম্পূর্ণরূপে ব্যক্তি পর্যায়ের একটি অভিযোগ।

জঙ্গি হামলার জন্য দুটি ইউনিট গঠনের সিদ্ধান্ত তেহরিক-ই-তালেবানের

পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) বিদেশি, বিশেষত পশ্চিমা নাগরিক ও নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর হামলা চালানোর জন্য দুটি ইউনিট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক গোপন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এর এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিটিপি তাদের অন্যতম দুই কমান্ডার মুজাহিদ আবু আসিম ও আবদুল গনির তত্ত্বাবধানে দুটি জঙ্গি ইউনিট গঠন করেছে। বিদেশি নাগরিক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হবে ওই ইউনিট দুটির মূল কাজ। এ ছাড়া তাদের তহবিল সংগ্রহ করার জন্য তারা আরেকটি আলাদা ইউনিটও গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়।

ইরানে বোমা হামলায় এক পরমাণুবিজ্ঞানী নিহত, আহত ৩

ইরানে গতকাল সোমবার দুটি বোমা হামলায় দেশটির একজন শীর্ষস্থানীয় পরমাণুবিজ্ঞানী নিহত ও অপর একজন বিজ্ঞানীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। তেহরান এ হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদস্যদের দায়ী করেছে। গাড়িযোগে সস্ত্রীক কর্মস্থলে যাওয়ার পথে বোমা হামলার শিকার হন বিজ্ঞানীরা। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বিদেশি গোয়েন্দারা পরমাণুবিজ্ঞানী মজিদ শাহরিয়ারি ও ফেরেদুন আব্বাসির ওপর বোমা হামলা চালায়। দুটি পৃথক স্থানে তাঁদের ওপর বোমা হামলা চালানো হয়। হামলায় পরমাণুবিজ্ঞানী মজিদ শাহরিয়ারি নিহত ও তাঁর স্ত্রী আহত হন। এদিকে ফেরেদুন আব্বাসিসহ তাঁর স্ত্রীও আহত হন। ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স জানায়, দুষ্কৃতকারীরা মোটরসাইকেল নিয়ে ওই দুই বিজ্ঞানীকে অনুসরণ করে এবং সুযোগ বুঝে তাঁদের গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালায়। সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, শাহরিয়ারি ও আব্বাসি দুজনই তেহরানের শহিদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরমাণু প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক। তেহরানের ডেপুটি গভর্নর জানান, ব্যক্তিগত কোনো কারণে এ হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।

অন্ধ্র প্রদেশে কংগ্রেসদলীয় সাংসদের ইস্তফা নতুন দল গঠন

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যে দলীয় কোন্দলের জেরে গতকাল সোমবার ক্ষমতাসীন কংগ্রেস দলের সাংসদ ওয়াই এস জগনমোহন রেড্ডি লোকসভা ও তাঁর মা বিজয়াম্মা রাজ্য বিধানসভার সদস্যপদে ইস্তফা দিয়েছেন।জগনমোহন অন্ধ্র প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস রাজশেখর রেড্ডির ছেলে। রাজশেখর রেড্ডি গত বছরের সেপ্টেম্বরে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর জগনমোহনকে মুখ্যমন্ত্রী করার দাবি জানালে কংগ্রেস তা প্রত্যাখ্যান করে। দল কে রোসাইয়াকে মুখ্যমন্ত্রী করে। পরে জগনমোহন অন্ধ্র প্রদেশের কাডাপা কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন।তাঁর মা বিজয়াম্মা হন বিধায়ক।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর পর থেকে জগনমোহনের সঙ্গে রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্বের কোন্দল প্রকট হয়। এর জেরে কয়েকদিন আগে কে রোসাইয়া মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন। এর পরও জগনমোহনকে মুখ্যমন্ত্রী না করে বিধানসভার স্পিকার কিরণ কুমার রেড্ডিকে ওই পদ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জগনমোহন ব্যাপক ক্ষুব্ধ হন।জগনমোহন গতকাল সকালে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর কাছে খোলা চিঠি লিখে দল ছাড়ার ঘোষণা দেন এবং লোকসভার স্পিকার মীরা কুমারের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।জগনমোহন গতকাল তাঁর নির্বাচনী এলাকা কাডাপায় নতুন দল গড়ার কথা কথা ঘোষণা দেন। তাঁর নতুন দলের নাম দেওয়া হয়েছে ওয়াই এস আর কংগ্রেস।

কাশ্মীর নিয়ে হুররিয়াত নেতার মন্তব্য, কলকাতায় বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ২৫

ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন হুররিয়াত কনফারেন্সের চেয়ারম্যান মিরওয়াইজ ওমর ফারুক কাশ্মীর নিয়ে কলকাতায় আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্যদিয়ে প্রচণ্ড বিক্ষোভের মুখে পড়েন।
ওই সেমিনারে তিনি বলেছেন, কাশ্মীর ভারতের অংশ নয় এটাই কাশ্মীরের সবচেয়ে বড় সমস্যা। কাশ্মীরের প্রধান সমস্যা উন্নয়ন বা জীবিকা নয়। সেখানে প্রধান ইস্যু হলো স্বাধীনতা। সেটা পেলেই কাশ্মীরে শান্তি ফিরে আসবে।
গত রোববার কলকাতার একাডেমি অব ফাইন আর্টস প্রাঙ্গণে, ‘কাশ্মীর সমস্যা: বেরোনোর পথ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তাঁর এ মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতার অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্যরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। সেমিনার শেষে ফেরার পথে মিরওয়াইজের গাড়ি লক্ষ্য করে বিক্ষোভকারীরা ডিম ও জুতা ছুড়ে মারেন। এ সময় পুলিশ ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করে।
সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল শংকর রায় চৌধুরী (অব.) ও কলকাতা পৌর করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। শংকর রায় চৌধুরী বলেন, কাশ্মীর ভারতের অংশ নয় এ কথা ঠিক নয়। সেখানে সমস্যা রয়েছে। এ নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। তবে কাশ্মীরকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রশ্নই ওঠে না।
বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, 'কাশ্মীরের জণগণের যদি ভারতের সংবিধানের ওপর বিশ্বাস না থাকতো তাহলে সেখানকার নির্বাচনে মানুষের ঢল নামতোনা'।

এফআইএর পাঠানো প্রশ্নপত্র গ্রহণ করেননি পারভেজ মোশাররফ

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেনজির ভুট্টো হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এফআইএ) পাঠানো প্রশ্নপত্র গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
গত মাসে বিশেষ মেইলে এফআইএ ৩২টি প্রশ্নসংবলিত একটি প্রশ্নপত্র লন্ডনে স্বেচ্ছানির্বাসিত পারভেজ মোশাররফের কাছে পাঠায়। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ডন পত্রিকা এ কথা জানিয়েছে।
গত শনিবার এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক জানান, প্রশ্নপত্রটি মোশাররফের কাছে পাঠানো হয়েছে; কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। এফআইএ নতুন প্রশ্নপত্র তৈরি করে মোশাররফের বাসভবনে পাঠানোর উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
এফআইএর প্রধান ওয়াসিম আহমেদ জানান, ‘পারভেজ মোশাররফের জবানবন্দি নেওয়ার জন্য আমরা নতুন করে আরেকটি প্রশ্নপত্র তৈরি করেছি।’ তিনি জানান, এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার জবানবন্দি নেওয়া হবে।
এর আগেই অবশ্য মোশাররফের আইন উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন, বেনজির ভুট্টো হত্যা মামলায় সে দেশের কর্তৃপক্ষ পারভেজ মোশাররফের কাছে কোনো প্রশ্নপত্র পাঠালে তিনি কোনো উত্তর দেবেন না।
বেনজির ভুট্টো ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে আততায়ীর বোমা হামলায় নিহত হন। সে সময়ে পারভেজ মোশাররফ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি বেনজিরের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বান কি মুনের ওপর নজরদারি করতে বলেছেন হিলারি

জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনসহ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের ওপর নজরদারি করতে মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলা।
নজরদারি ওয়েবসাইট উইকিলিকসের প্রকাশ করা আড়াই লাখ বার্তায় এ রকম আরও অসংখ্য সংবেদনশীল তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বিশ্বব্যাপী মার্কিন দূতাবাসগুলোর নিজেদের মধ্যে বিনিময় করা ও ওয়াশিংটনে পাঠানো এসব তথ্যের সিংহভাগই পাকিস্তান, ইরাক, ইরান, আফগানিস্তান, ইয়েমেন ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট। প্রকাশ করা বেশির ভাগ বার্তাই গত তিন বছরের মধ্যে পাঠানো।
গোপন এসব তথ্য ফাঁস করে দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রসহ অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও ইরাক সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, এর ফলে সারা বিশ্বে কূটনৈতিক সংকট দেখা দেবে।
গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমস, যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ান, ফ্রান্সের ল্য মঁদে, জার্মানির ডের স্পিগেল ও স্পেনের এল পাইসে একযোগে এসব বার্তা প্রকাশিত হয়।
একটি বার্তায় দেখা গেছে, পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সরকার খুবই শঙ্কিত। তারা বলেছে, পাকিস্তানের অর্থনীতি ভেঙে পড়ায় দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা পারমাণবিক সরঞ্জাম বিক্রি করে দিতে পারে।
অপর একটি বার্তায় দেখা গেছে, সন্ত্রাস দমনসহ নানা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করলেও ব্রিটিশ রাজনীতিবিদদের সমালোচনায় পিছিয়ে নেই ওয়াশিংটন। তাদের সমালোচনা থেকে বাদ যাননি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনও।
একটি বার্তায় বলা হয়, মার্কিন কূটনীতিকেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছেন, রুশ সরকার ও তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য মাফিয়া চক্রকে ব্যবহার করছে। মাফিয়াদের সঙ্গে তাদের এ সম্পর্ক এতই জোরালো যে, দেশটি কার্যত মাফিয়া দেশে পরিণত হয়েছে।
রুশ প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনির মধ্যকার সম্পর্ক নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন মার্কিন কূটনীতিকেরা। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, আফগান সরকারের দুর্নীতির বিষয়টি তাঁদের চোখের সামনেই ঘটছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জিয়া মাসুদ নগদ পাঁচ কোটি ২০ লাখ ডলার নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান। তাঁরা বলেন, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই মানসিক বৈকল্যে ভুগছেন।
একটি বার্তায় দেখা গেছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে নাৎসি বাহিনীর প্রধান এডলফ হিটলারের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের ব্যাপারে বলা হয়েছে, তিনি খুবই সৃজনশীল। তবে ঝুঁকি নিতে একদমই পছন্দ করেন না তিনি।
আরেক বার্তায় দেখা যায়, সৌদি আরবের অনেকে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত। তাঁরা এসব সংগঠনের পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢালছেন। ইয়েমেন ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির কথাও ফাঁস করে দেওয়া হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, ইয়েমেনে আল-কায়েদার লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র বোমা হামলা চালাবে কিন্তু এর দায়িত্ব নেবে ইয়েমেন সরকার। গত জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কমান্ডার জেনারেল ডেভিড পেট্রাউসের সঙ্গে এক বৈঠকে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ সালেহ বলেন, ‘আমরা সব সময়ই বলব, এসব বোমা হামলা আমরাই চালিয়েছি, আপনারা (যুক্তরাষ্ট্র) নন।’
এক বার্তায় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস ফ্রান্সের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য ছাড়াই ইরানে হামলা চালানোর সামর্থ্য রাখে ইসরায়েল। তবে এককভাবে এই হামলা চালালে তা সফল নাও হতে পারে। লিবিয়ার প্রবীণ নেতা মুয়াম্মের গাদ্দাফি সম্পর্কে বলা হয়েছে, পানির ওপর দিয়ে তিনি বিমানে চড়তে ভয় পান। সাধারণত নিচতলাতে থাকতেই পছন্দ করেন তিনি। কোথাও গেলে তাঁর বিশ্বস্ত ইউক্রেনিয়ান সেবিকাকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে কখনোই ভুল হয় না তাঁর।
উইকিলিকসের তথ্য প্রকাশের নিন্দা জানিয়ে হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘গোপন ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি স্পর্শকাতর তথ্য প্রকাশের নিন্দা জানাচ্ছি আমরা।’ তবে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসানজে বলেন, মার্কিন কর্তৃপক্ষ দায়ভার নিতে ভয় পাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়া এসব বার্তা প্রকাশের সমালোচনা করে উইকিলিকসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল রবার্ট ম্যাকলিল্যান্ড বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার উইকিলিকসের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিলে তাতে সমর্থন জানাবে অস্ট্রেলীয় সরকার। ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোশিয়ার জিবারি বলেন, গোপন তথ্য প্রকাশের ফলে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘ইরাকিরা কঠিন সময় পার করছে। তাঁরা বহুল প্রতীক্ষিত সরকার গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। আশা করছি, ইরাকের রাজনীতিবিদ ও নেতাদের মধ্যে এ ঘটনা কোনো প্রভাব ফেলবে না।’ ফ্রান্স সরকারের মুখপাত্র ফ্র্যাসিয় বারোন বলেন, গোপন তথ্য প্রকাশের ফলে গণতান্ত্রিক অধিকার হুমকির মুখে পড়বে।

পাকিস্তানে এক নারীর নাক কেটে দেওয়া হয়েছে

ব্যভিচারের অভিযোগে পাকিস্তানে এক নারীর নাক কেটে দিয়েছেন তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ অপরাধে তাঁর মাথাও ন্যাড়া করে দেওয়া হয়েছে। পাঞ্জাব প্রদেশের গুজরানওয়ালায় সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটেছে।
ওই নারীর নাম আসিয়া বিবি। প্রতিবেশীর সঙ্গে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ভাশুর আনওয়ার, তাঁর স্ত্রী কুলসুম এবং দুই ছেলে ওয়াকাস ও আওয়াইস মিলে তাঁর নাক ও মাথার চুল কেটে দেন।আসিয়া বিবির এক প্রতিবেশী নিদার বরাত দিয়ে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানায়, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে প্রায় সাত বছর ধরে বসবাস করছেন আসিয়া। তাঁর স্বামী কাজ করেন মুলতানে। এ কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে খুব কম সময়ই সাক্ষাৎ হয়। এ সুযোগে আসিয়ার ওপর প্রায়ই নির্যাতন চালাতেন তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন।পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর আসিয়াকে একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। সেখানে তিন দিন গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন তিনি। পরে পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। আসিয়া বলেছেন, ‘তারা আমাকে ঘরে আটকে রেখে পিটিয়েছে। আমাকে ঠিকমতো খাবারও দেয়নি। আমার শরীর থেকে এখনো রক্ত ঝরছে।’পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, আসিয়াকে উদ্ধার করার সময় তাঁর অবস্থা ছিল খুবই শোচনীয়। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে ক্ষতস্থানে সেলাই দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বড় ধরনের সংক্রমণ থেকে তিনি অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন। মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট আজম শেখ বলেন, ‘ঘটনার তিন দিনেও চিকিৎসা না হওয়ায় ক্ষতস্থানে কোনো সংক্রমণ না ঘটায় আমরা বিস্মিত।’ তিনি বলেন, আসিয়ার চিকিৎসা চলছে। আশা করা হচ্ছে, পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন তিনি। বর্বরোচিত এ ঘটনায় মোটেও অনুতপ্ত নন আসিয়ার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তাঁর ভাশুর আনওয়ার বলেন, ‘প্রতিবেশী এক ব্যক্তির সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। আমরা তাকে হাতেনাতে ধরেছি এবং এর শাস্তি দিয়েছি। সে যা অপরাধ করেছে, তার উপযুক্ত শাস্তিই দেওয়া হয়েছে।’

ওয়ানডের নেতৃত্বেও স্যামি

কিছুদিন আগেও তাঁর গায়ে ছিল ওয়ানডে বিশেষজ্ঞের তকমা, টেস্ট দলে ছিলেন অনিয়মিত। সেই ড্যারেন স্যামি-ই এখন টেস্ট দলের অধিনায়ক, ওয়ানডের নেতৃত্ব তো তাঁরই পাওয়ার কথা। পেয়েছেনও। টেস্ট সিরিজের পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ও একমাত্র টি-টোয়েন্টিতেও অধিনায়ক থাকছেন স্যামি। দলে ফিরেছেন ওপেনার আড্রিয়ান বারাথ, কার্লটন বাফ ও ডেভন স্মিথ। প্রথম দুজন টেস্ট দলের সঙ্গে এখন শ্রীলঙ্কাতেই আছেন। গল টেস্টে অভিষিক্ত অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল সুযোগ পেয়েছেন ওয়ানডে দলেও। একদম নতুন মুখ এ বছরই ‘এ’ দলের হয়ে বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া ২৬ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান কার্ক এডওয়ার্ডস। পোলার্ড-মিলারের মতো সীমিত ওভারের স্পেশালিস্টরা আছেন দলে, তবে উপেক্ষিতই থাকলেন অভিজ্ঞ রামনরেশ সারওয়ান। সিরিজ শুরু ৯ ডিসেম্বর। ওয়েবসাইট।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের সীমিত ওভারের দল: ড্যারেন স্যামি (অধিনায়ক), আড্রিয়ান বারাথ, কার্লটন বাফ, সুলিমান বেন, ড্যারেন ব্রাভো, ডোয়াইন ব্রাভো, শিবনারায়ণ চন্দরপল, কার্ক এডওয়ার্ডস, ক্রিস গেইল, নিকিতা মিলার, কাইরন পোলার্ড, রবি রামপল, কেমার রোচ, আন্দ্রে রাসেল, ডেভন স্মিথ।

এইডসের বিরুদ্ধেও লড়বেন সাকিব

কুমার সাঙ্গাকারা, গ্রায়েম স্মিথ, বীরেন্দর শেবাগ, নাথান ব্র্যাকেনের পাশে নাম লেখালেন সাকিব আল হাসানও। আইসিসি, ইউএনএইডস, ইউনিসেফ ও গ্লোবাল মিডিয়া এইডস ইনিশিয়েটিভের এইডসবিরোধী প্রচারণা ‘থিংক ওয়াইজ’-এ বিশ্বসেরা এই ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করবেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। কাল এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে আইসিসির ‘থিংক ওয়াইজ ক্যাম্পেইন স্পোকসপারসন’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে সাকিবের।
এইডস রোগের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তোলাই ‘থিংক ওয়াইজ’ প্রচারণার লক্ষ্য। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আইসিসির ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রড এতে সাকিবের সম্পৃক্ততা ঘোষণার পর বাংলাদেশে ইউনিসেফের যোগাযোগ কর্মকর্তা ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ সামনে রেখেই আমরা এই প্রচারণায় সাকিবকে এনেছি। এইডসের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করতে অনেক কার্যক্রমেই অংশ নেবেন সাকিব। এটা এইডসের বিরুদ্ধে তারকাদের একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা।’
বাংলাদেশের মুখপাত্র হিসেবে থিংক ওয়াইজ প্রচারণায় সাকিবের দায়িত্ব একটু বেশিই। ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীই জানিয়েছেন, কেবল টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোতেই এইচআইভিতে আক্রান্ত মানুষ আছে ১ কোটি, যা সারা বিশ্বের মোট এইচআইভিতে আক্রান্তের এক-চতুর্থাংশ। এই ১ কোটি এইচআইভিতে আক্রান্ত মানুষের বেশির ভাগেরই বসবাস আবার দক্ষিণ এশিয়ায়। ‘এটা তাই এখন আর অন্যের সমস্যা নয়, এটাকে এখন আমাদের সমস্যাও ভাবতে হবে। ক্রিকেটাররা এ ব্যাপারে জনমত সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারেন বলে আমাদের বিশ্বাস’—বলেছেন ইউনিসেফের যোগাযোগ কর্মকর্তা।
নতুন এই দায়িত্ব পেয়ে সাকিবকেও মনে হলো বেশ রোমাঞ্চিত, ‘নিজের কাছেই ভালো লাগছে এ ধরনের একটা কাজ করার সুযোগ পেয়ে। আমি তাই সঙ্গে সঙ্গেই রাজি হয়ে গেছি। আমাদের দেশের অনেক মানুষই এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো জানে না। আশা করি, তাদের সেসব তথ্য জানিয়ে আমিও থিংক ওয়াইজ প্রচারণায় সাহায্য করতে পারব।’
ক্রিস ব্রড, সাকিব আল হাসান ও ইফতেখার আহমেদের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ইউএনএইডসের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর সলিল থানা করন বলেছেন, ‘সাকিব তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি। এইডসের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে তাঁর মতো তরুণেরাই বেশি ভূমিকা রাখতে পারেন।’ আইসিসি, ইউএনএইডস, ইউনিসেফ ও গ্লোবাল মিডিয়া এইডস ইনিশিয়েটিভ ২০০৩ সাল থেকে যৌথভাবে থিংক ওয়াইজ প্রচারণা চালাচ্ছে।
আগামী ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষেও আছে আইসিসির বিশেষ উদ্যোগ। চলতি সপ্তাহের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচে এইডসের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে শার্টে লাল ফিতা লাগাবেন খেলোয়াড় ও ম্যাচ অফিশিয়ালরা।

স্পিনের ফাঁদ দেখল জিম্বাবুয়ে

হ্যামিল্টন মাসাকাদজা কি নিজের কথাটা তুলে নেবেন? ঢাকায় পা রেখেই জিম্বাবুইয়ান সহ-অধিনায়ক বলেছিলেন, ‘আমরা জানি, বাংলাদেশে আমাদের এক গাদা স্পিনারের মোকাবিলা করতে হবে। আমরাও প্রস্তুত হয়েই এসেছি।’ স্পিন মোকাবিলায় জিম্বাবুয়ে কতটা প্রস্তুত, বোঝা যাবে আগামীকাল শুরু হওয়া পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে। তবে সিরিজ শুরুর আগে কাল বিকেএসপিতে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে স্পিনেই ধরাশায়ী তারা!
৯ উইকেটে ২২৩ রানের পুঁজি গড়েও যে বিসিবি একাদশ ২৯ রানে জিতেছে, সে স্পিনারদের কাঁধে চেপেই। জিম্বাবুয়ের ১০ উইকেটের ৭টিই তুলে নিয়েছেন স্পিনাররা।
সিরিজের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা হয়ে গেছে আগের দিনই। দলে জায়গা পাওয়ার হাতছানি তাই বিসিবি একাদশের কারও জন্যই ছিল না। তবে নিউজিল্যান্ড সিরিজে ভালো করার পরও বাদ পড়ার সিদ্ধান্তকে এ ম্যাচে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিতে পারতেন শাহরিয়ার নাফীস। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে দলকে জয় এনে দিলেও ব্যাট হাতে নির্বাচকদের জবাব দিতে পারেননি তিনি। ওপেনিংয়ে নেমে আউট হয়েছেন মাত্র ১০ রান করে।
অনুশীলনটাই বড় বলে প্রস্তুতি ম্যাচে দুই দলে খেলেছে ১৩ জন করেন ক্রিকেটার (ব্যাটিং করেছেন ১১ জনই)। টসজয়ী বিসিবি একাদশের ২২৩ রানের জবাবে জিম্বাবুয়ে অলআউট ১৯৪ রানে।
উইকেটে শীতের শিশির জমে থাকার কারণেই কি না, সকালে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসে বিসিবি একাদশ। এর পরও ২২৩ রানের পুঁজি পাওয়া আসিফ আহমেদ (৪৬), সগির হোসেন (৪৯) ও টেলএন্ডারদের কিছুটা মেরে খেলার সৌজন্যে। এর আগে পঞ্চম আসিফ ও মার্শাল আইয়ুবের ৪৩ জুটিতে শুরুর বিপর্যয়টা এড়িয়েছিল শাহরিয়ারের দল। ষষ্ঠ উইকেটে আসিফ-সগির গড়েন ৫৩ রানের জুটি। বিসিবি একাদশের স্পিনাররা সফল হলেও জিম্বাবুয়ের বোলিংয়ে সফল পেসাররা। দুই পেসার ক্রিস্টোফার পোফু ও কিগান মিথ মিলেই নিয়েছেন ৭টি উইকেট।
জিম্বাবুয়ে ইনিংসের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে শূন্য হাতে ফিরিয়ে দেন সহ-অধিনায়ক সৈয়দ রাসেল। দলের ৩০ রানের সময় আলাউদ্দিন ফিরিয়ে দেন ব্রেন্ডন টেলরকেও। এরপর চিবাবা, টাটেন্ডা টাইবু মিলে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও স্পিনের ফাঁদে দুজনকেই আটকে ফেলেন নূর হোসেন। সঙ্গে অলক-ফজলে মাহমুদদের স্পিনও যোগ হওয়ায় ১০৮ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে বসে জিম্বাবুয়ে। উতসেয়া-কিগান মেথের ৫৩ রানের জুটিতে খানিক আশা জাগলেও আসিফের বলে এলবিডব্লু হয়ে ফিরে যান দুজনই। ব্যর্থ হ্যামিল্টন মাসাকাদজার ভাই সিঙ্গিরাই মাসাকাদজাও। ৭ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে থেকেছেন উইকেট শূন্য। হার দিয়ে সফর শুরু, তার পরও হতাশ নয় জিম্বাবুয়ে শিবির। কোচ অ্যালান বুচার বললেন, ম্যাচটাকে তাঁরা নিয়েছিলেন অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হিসেবে। অন্য দিকে দল থেকে ছিটকে পড়া শাহরিয়ার নাফীস মনে করছেন, এই জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশই করা উচিত বাংলাদেশের।
প্রস্তুতি ম্যাচে হারিয়ে শুরুতেই জিম্বাবুয়ের মনোবল নাড়িয়ে দেওয়ার কাজটা করে দিয়েছে বিসিবি একাদশ। বাকি কাজটা সাকিব আল হাসানদের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বিসিবি একাদশ: ৫০ ওভারে ২২৩/৯ (ফজলে আহমেদ ৩০, নাফিস ১০, জহিরুল ৭, অলক ১, আসিফ ৪৬, মার্শাল ১৩, সগীর ৪৯, মাহমুদুল ২৮, আলাউদ্দিন ১৪, ফরহাদ ১০; মেথ ৪/৪৬, পোফু ৩/৩৭, প্রাইস /১১৯, ক্রেমার /১৩৬, উতসেয়া ১/৩৪)।
জিম্বাবুয়ে: ৪৬.১ ওভারে ১৯৪ (টেলর ১৭, চিবাবা ২৪, টাইবু ৩২, কিগান ২৫, উতসেয়া ২৬, ক্রেমার ২১; নূর হোসেন ৩/৪০, আসিফ ২/২২, অলক ১/১৩, আলাউদ্দিন ১/১৬, ফজলে আহমেদ ১/৩৩, রাসেল ১/৩৮)।
ফল: বিসিবি একাদশ ২৯ রানে জয়ী।

হাজার্ডকে নিয়ে টানাটানি

ইডেন হাজার্ড বেলজিয়ামের এক বিস্ময়বালক। তাঁর প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে পেতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে লিভারপুল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও আর্সেনাল। রিয়াল মাদ্রিদেও পৌঁছে গেছে হাজার্ডের প্রতিভার খবর। লিলের ১৯ বছর বয়সী এই প্লে-মেকারকে দলে নিতে চায় রিয়ালও। কিন্তু ফ্রান্স কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের আগ্রহই ইংলিশ ক্লাব তিনটির জন্য সতর্কবার্তা। কারণ রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক মহাতারকা বেলজিয়ান তরুণকে দেখতে চান রিয়ালে।
রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের উপদেষ্টা জিদান। খেলোয়াড় কেনাবেচায় পেরেজ জিদানের পরামর্শ নেন। সুতরাং জিদানের এই কথায় পরিষ্কার একটা বার্তা তো থাকেই। পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চি উচ্চতার এই ফুটবলার লিলে-মোনাকো ম্যাচে প্রথম চোখে পড়েন লিভারপুলের স্কাউটদের। ওই ম্যাচ লিলে জিতেছিল ২-১ গোলে। ওয়েবসাইট।

যে ড্রয়ে ইংল্যান্ডের জয়

নিজে টেস্ট খেলেছেন ৬৩টি, ধারাভাষ্যকক্ষে বসে দেখেছেন পাঁচ শর বেশি। সেই রিচি বেনো পর্যন্ত বিস্মিত কণ্ঠে বললেন, এমন স্কোর কার্ড আগে দেখেছেন কিনা সন্দেহ। বেনোর দেখার প্রশ্নই ওঠে না, কারণ টেস্ট ইতিহাসই এমন স্কোর কার্ড আগে কখনো দেখাই যায়নি!
১ উইকেটে ৫১৭, একটি মাত্র উইকেট হারানো কোনো দলের ইনিংস শেষে এত রান আর কখনো দেখেনি টেস্ট ক্রিকেট। তিনজন ব্যাটসম্যান ব্যাটিং করেছেন, স্কোরকার্ডে পরপর দেখা যাচ্ছিল—১১০, অপরাজিত ২৩৫ ও অপরাজিত ১৩৫। রিকি পন্টিং তো বটেই, অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসও হয়তো একটু চমকেই গেছেন।
ম্যাচের ভাগ্যে যা ছিল, তা-ই হয়েছে। নাটক আর রং বদলের পর চার দিন শেষেই বোঝা যাচ্ছিল, ড্র-ই নিয়তি এই টেস্টের। কুক-ট্রটের ম্যারাথন জুটি নিশ্চিত করেছে সেই ফলাফল। চা-বিরতির আধঘণ্টা আগে ইনিংস ছাড়ার সময় স্ট্রাউস নিশ্চয়ই ম্যাচ জয়ের আশা করেননি। ৪-৫টি উইকেট তুলে নিয়ে ব্রিসবেন টেস্টের ‘নৈতিক জয়’ পাওয়াটাই লক্ষ্য ছিল। ৪১ ওভারে ২৯৭ রান তাড়া করার কথাও নিশ্চয়ই ভাবেননি রিকি পন্টিং। অস্ট্রেলীয় অধিনায়কের ভাবনায় ছিল, বরং ওই সময়টুকুতে নিজেদের মিইয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস কিছুটা হলেও ফিরে পাওয়া। ৫ রানে সাইমন ক্যাটিচকে হারানোর পর ওয়াটসন-পন্টিংয়ের ১০২ রানের জুটি আর পন্টিংয়ের দ্রুতগতির ফিফটিতে সেই ‘কিছু একটা’ পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
তবে সবচেয়ে বেশি পেল তো ইংল্যান্ডই। প্রথম ইনিংসে ২২১ রানে পিছিয়ে পড়ার পর চোখ রাঙাচ্ছিল পরাজয়। সেখান থেকেই স্ট্রাউস-কুক-ট্রটের অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ, যা উল্টো নাস্তানাবুদ করে ছাড়ল অস্ট্রেলিয়াকে।
ব্যাটিং অর্ডার অনুযায়ী লেখা হলো, নইলে কুকের নামটা সবার আগে আসত। বাজে ফর্মের জন্য অ্যাশেজ দলে থাকা নিয়েই সংশয় ছিল, যেটি দূর করেছেন গত আগস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওভালে সেঞ্চুরি করে। সেই কুক এবার নাম লিখিয়ে ফেললেন ইতিহাসে। ডন ব্র্যাডম্যানকে (২২৬) ছাড়িয়ে গ্যাবার সর্বোচ্চ ইনিংস, ষষ্ঠ ইংলিশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিশতক—ছাড়িয়ে গেছেন তো নিজেকেও। টেস্টে আগের সর্বোচ্চ ছিল ১৭৩, ডাবল সেঞ্চুরি ছিল না প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটেই। অস্ট্রেলিয়ায় গত অ্যাশেজে ৫ টেস্টে করেছিলেন ২৭৬, এবার প্রথম টেস্টেই ৩০২! ট্রটের সঙ্গে তাঁর ৩২৯ রানের জুটিটি যেকোনো উইকেটেই অস্ট্রেলিয়ায় ইংলিশদের সর্বোচ্চ।
২০০৯ অ্যাশেজে টেস্ট অভিষেকে দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছিলেন ট্রট। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্টেও দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি। ১৪ টেস্টে এটি ট্রটের চতুর্থ সেঞ্চুরি, টেস্ট গড় এখন ৫৯.৯৫!
গত বছর ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ অ্যাশেজ সিরিজের সঙ্গে যেমন মিল খুঁজে পাচ্ছেন ট্রট, ইংল্যান্ড দলও খুঁজে নিচ্ছে এমন মিল। সেবার কার্ডিফে সিরিজের প্রথম টেস্টে শেষ উইকেট জুটির বীরত্বে প্রায় নিশ্চিত মনে হওয়া পরাজয়কে ড্র বানিয়ে ফেলেছিল ইংল্যান্ড। এবার তো আরও ‘দাপুটে’ ড্র। এই ‘ড্র’-ই তবে ঠিক করে দেবে অ্যাশেজের গতিপথ? স্ট্রাউস কিন্তু বলেই দিয়েছেন, ‘এই ড্র আমাদের জোগাচ্ছে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস।’

সেই ঝলমলে ফেদেরার

ইতিহাসের পাতায় দুজনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেহেতু ধ্রুপদি বলে ঠাঁই নিয়েছে, সে কারণে দুজনের মুখোমুখি হওয়া মানেই তো তা মহাকাব্যিক লড়াই। কিন্তু এই প্রথম রজার ফেদেরার ও রাফায়েল নাদালের লড়াই মহাকাব্যিক দূরে থাক, একটা বড় উচ্চতায়ও উঠল না। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং-শ্রেষ্ঠ নাদালকে তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী, র‌্যাঙ্কিংয়ের দুইয়ে থাকা ফেদেরার এটিপি ট্যুরস ফাইনালসে হারালেন সুস্পষ্ট ব্যবধানে। পরশু লন্ডনের ও-টু অ্যারেনায় নাদালের বিপক্ষে (৬-৩, ৩-৬, ৬-১) এই জয় ফেদেরারকে দিল বছর শেষের মর্যাদার টুর্নামেন্টের পঞ্চম শিরোপা, এর আগে যে কৃতিত্ব ছিল শুধু ইভান লেন্ডল ও পিট সাম্প্রাসের।
২০০৭-এর পর আবার বছর শেষের টুর্নামেন্টের জয় ফেদেরারকে দিল ১৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার প্রাইজমানি, ১৫০০ র‌্যাঙ্কিং পয়েন্টে আবারও র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠার পথের দিশা। তবে সবচেয়ে বেশি করে তাঁকে যা দিল, তা আত্মবিশ্বাস। সঙ্গে এ-ও বলে দিল, টেনিসের মহান শিল্পীর এপিটাফ যদি লিখে ফেলে থাকেন কেউ, সে বড় ভুল। অস্তগামী বছরটায় শুধু একটি গ্র্যান্ড স্লাম জয় তাঁর মনের মধ্যে যে যন্ত্রণার কাঁটা ফুটিয়ে দিয়েছিল, সেটি যেন তুলে ফেলতে পেরেছেন। টেনিস তাই আবার দেখা দিয়েছে আনন্দ হয়ে, ‘আমি সত্যিই এই সপ্তাহে এখানে খেলাটা উপভোগ করেছি। এখানে দুর্দান্ত একটি পরিবেশ পেয়েছি আবার।’ প্রবল প্রতিপক্ষ নাদালকে ‘সকৌতুকে’ অভিবাদনও জানিয়েছেন, ‘আমি রাফার ছুটিটা মাটি করিনি। সে তো অসাধারণ একটা বছর কাটাল, যা কোনো খেলোয়াড় কেবল স্বপ্নেই ভাবতে পারে।’
সত্যিই স্বপ্নের মতোই গেছে নাদালের বছর। জিতেছেন শেষ তিনটি গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা। মাত্র চব্বিশেই ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্লামের সঙ্গে ফেদেরারের হাত থেকে র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর জায়গাটা কেড়ে নেওয়া, নিজেকে ক্রমান্বয়ে অস্পর্শনীয় জায়গায় নিয়ে যাওয়া—নাদাল বছর শেষের টুর্নামেন্টেও ফেবারিট ছিলেন। মুখোমুখি ২১ লড়াইয়ে ১৪-৭-এ এগিয়ে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বীর পক্ষেই বাজিটা থাকে স্বাভাবিক। কিন্তু লন্ডনে এসে এবার ফেদেরার নিজেকে জাগিয়ে তুললেন হতাশার বৃত্ত ভেঙে। ডেভিড ফেরার, অ্যান্ডি মারে, রবিন সোদারলিং ও নোভাক জোকোভিচের বিপক্ষে দারুণ খেলে সেই পুরোনো ফেদেরারে ফেরার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন। ২০০৮ গ্র্যান্ড স্লামের মহাকাব্যিক ফাইনালটা যেখানে হেরেছিলেন নাদালের কাছে, সেখানেই তাঁকে পারস্পরিক ২২তম লড়াইয়ে চুরমার করলেন। আবার দেখা গেল তাঁর সেই ভয়ংকর ফোরহ্যান্ডগুলো। নাদালের মধ্যে জয়ের জন্য সেই ভয়ংকর আগ্রাসনই দেখা যায়নি, যদিও দ্বিতীয় সেট জিতে তিনি ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন। এই সাফল্যে ফেদেরার আবার নতুন করে উজ্জীবিত হলেন আশায়—২০১১ সালের মধ্যেই ফিরে পাবেন হারানো শীর্ষস্থান।
কিন্তু ফেদেরার আসলে বদলে গেছেন কিসে? বছর শেষের টুর্নামেন্ট জেতায় প্রশংসা করেছেন তিনি কোচদের। উইম্বলডন ও ফ্রেঞ্চ ওপেনের উইম্বলডনের ব্যর্থতার পর ১৬ গ্র্যান্ড স্লামের মালিক কোচ করে আনেন পল অ্যানাকোনেকে। তাঁর কোচিং স্টাফে যুক্ত হন সুইস ডেভিস কাপ অধিনায়ক সেভেরিন লুথি। এঁদের কাছে সুইস তারকার কৃতজ্ঞতার কারণটাও বোঝা যাচ্ছে তাঁর এ কথায়, ‘আমার মনে হয়, শারীরিকভাবে আমি আগের দুই বছরের চেয়ে ভালো বোধ করছি।’
নাদাল বরাবরের মতোই তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, ‘ক্লান্ত ছিলাম বলেই কিন্তু আমি হারিনি। আমি দুর্দান্ত ফেদেরারের কাছে হেরেছি তাঁর অন্যতম প্রিয় সারফেসে। ও যদি এভাবে খেলতে থাকে, তাকে থামানো খুবই কঠিন।’ তাহলে বছর শেষে পুনর্জন্ম হলো রজার ফেদেরারের?

চেলসিতে আনচেলত্তির দিন শেষ?

আরও একটা হেঁচকি উঠেছে চেলসির। আরও একজন কোচের পতন দেখতে যাচ্ছে ‘নীল দুর্গ’? পরশু নিউক্যাসলের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে শীর্ষস্থান হারিয়েছে চেলসি। ক্লাবটির পুরোনো ইতিহাস বিবেচনা করে ইংলিশ সংবাদমাধ্যমও একটি ভবিষ্যৎ পড়ে ফেলেছে—চেলসিতে কোচ কার্লো আনচেলত্তির দিন শেষ!
চ্যাম্পিয়নস লিগে গত মঙ্গলবার জিলিনার বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ের আগেই চাপের মুখে ছিলেন আনচেলত্তি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ৪ ম্যাচের ৩টিতেই হেরে ওই ম্যাচটি খেলতে নেমেছিল ‘ব্লু’রা। সেই চাপ আনচেলত্তি কাটিয়ে উঠতে পেরেছিলেন জিলিনাকে হারিয়ে। ম্যানইউর কাছে শীর্ষস্থান হারানোর পর আবার চাপে পড়ে গেছেন। ১৫ ম্যাচ শেষে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ম্যানইউ, চেলসির পয়েন্ট ২৯। অথচ তিন সপ্তাহ আগেও লিগের দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলের সঙ্গে ৫ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল চেলসি।
এর আগে দুটি লিগ শিরোপা জিতিয়েও হোসে মরিনহোকে স্টামফোর্ড ব্রিজ ছাড়তে হয়েছিল, কারণ চ্যাম্পিয়নস লিগ তিনি জেতাতে পারেননি। পরে আভরাম গ্রান্টকে বিদায় নিতে হয় টানা কয়েকটা ম্যাচে দল ভালো না করায়। ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতানো কোচ লুই ফেলিপে স্কলারির বিদায়ের কারণও একই। দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে ইংলিশ সংবাদমাধ্যম আনচেলত্তির শেষ দেখতেই পারছে।
চেলসিতে আনচেলত্তির উত্তরসূরি নিয়েও জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে। কেউ কেউ বলছে, পেপ গার্দিওলাই হতে যাচ্ছেন স্টামফোর্ড ব্রিজের পরবর্তী গুরু। বার্সেলোনাকে এক বছরে রেকর্ড ৬টি শিরোপা জেতানো গার্দিওলার প্রতি একটা মোহ চেলসি মালিক রোমান আব্রামোভিচের আগে থেকেই যে আছে, এটা সবারই জানা।
কিন্তু আনচেলত্তি কোথায় যাচ্ছেন? জল্পনা, ইতালির মানুষ ফিরে যাচ্ছেন ইতালিতে। দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন এএস রোমার। নিজের দেশের এই ক্লাবের কোচ হওয়ার একটা ইচ্ছা এসি মিলানের সাবেক কোচের ছিল। তবে রোমা চেলসির সাবেক কোচ ক্লদিও রানিয়েরিকে নিয়ে নাকি সুখেই আছে।
আনচেলত্তি অবশ্য এসবকে ‘কিছু নয়’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। বলছেন চেলসিতে তাঁর চাকরিটা নিরাপদ, ‘বাস্তবতা হচ্ছে এসব গুঞ্জনের ব্যাপারে শেষটা কোচই ভালো জানে। আমি গার্দিওলাকে চিনি। কিন্তু আমাদের এখন মাঠের বাইরের ব্যাপার নিয়ে মোটেই আগ্রহ নেই। আমরা চোখ রাখছি শুধু অনুশীলন ও ম্যাচে।’
অনেকের ধারণা, মাঠের বাইরের ঘটনাই চেলসির এই অবস্থার কারণ। কদিন আগে সহকারী কোচ রে উইলকিনসকে বরখাস্ত করেছে চেলসি। উইলকিনসও এটা সহজভাবে মানতে না পেরে আইনি লড়াইয়ে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে চেলসিতে একটা গুমোট পরিবেশ।
এর ওপর আবার জন টেরি, মাইকেল এসিয়েন, অ্যালেক্স, ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডদের মতো খেলোয়াড়দের বাইরে রেখেই খেলতে হচ্ছে চেলসিকে। কেউ চোট, কেউ নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে আটকে আছেন। আনচেলত্তি নিজের চাকরি নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে আপাতত ভাবছেন ওঁদের ফিরে আসা নিয়ে, তাহলেই সব আবার ঠিক হয়ে যাবে বলে বিশ্বাস তাঁর।
টেরি-ল্যাম্পার্ডরা ফিরলে হয়তো চেলসি মাঠে ভালো করবে। কিন্তু লিভারপুলের বাজে অবস্থা কিছুতেই কাটছে না। পরশু টটেনহাম হটস্পারের কাছে ২-১ গোলে হেরে গেছে ‘অল রেড’রা। ৪২ মিনিটে গোল করে এগিয়ে দেওয়া লিভারপুলকে আত্মঘাতী গোল করেই সমতায় নামিয়েছেন ওই স্কার্টেল। এরপর অ্যারন লেননের ইনজুরি সময়ের গোলে জয় তুলে নেয় ‘স্পার’রা।

একটি সোনার পদকের জন্য

সদ্য সমাপ্ত গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে ১৯৯টি সোনার পদক নিয়ে সবার ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছে চীন। স্বাগতিক হিসেবে যেকোনো দেশেরই সোনার পদক জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। কারণ স্বাগতিকেরা সব সময়ই নিজেদের পছন্দমতো কিছু খেলা এসব গেমসে অন্তর্ভুক্ত করে, যেগুলোতে তাদের সব ধরনের পদক জয়ের সম্ভাবনা থেকে যায়। এবারের এশিয়ান গেমসেও চীন এমনই কিছু খেলা অন্তর্ভুক্ত করেছিল, যেসব খেলায় তাদের অধিপত্য প্রশ্নাতীত। উইকি ও জিয়ানকির মতো একেবারে আবহমান চীনা খেলার এশিয়ান গেমসে অন্তর্ভুক্তি তারই প্রমাণ।
স্বাগতিক দেশ হিসেবে চীন তাদের পছন্দমতো খেলা অন্তর্ভুক্তি করতেই পারে। এতে অস্বাভাবিকতার কিছু নেই। তবে অস্বাভাবিক ব্যাপার যেটা, সেটা হলো সোনা জয়ের জন্য অন্য কোনো দেশকে পৃষ্ঠপোষকতা করা। এবারের এশিয়ান গেমসে এমনই একটা ঘটনা ঘটেছে, যেখানে চীন সোনা জয়ের জন্য অন্য একটি দেশকে নিজেদেরে খরচে গুয়াংজু এনেছে, এমনকি তাদের যাবতীয় আতিথেয়তার ভারও বহন করেছে।
এই ‘অন্য আরেকটি দেশ’ হলো ভারত। আর খেলাটি হলো মেয়েদের ওয়াটার পোলো। আজ মঙ্গলবার টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক খবরে বলা হয়েছে, মেয়েদের ওয়াটার পোলোতে প্রাথমিকভাবে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা তিন হওয়াতে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির নিয়মানুযায়ী খেলাটি এশিয়ান গেমসের ‘পদকবিহীন’ খেলায় পরিণত হতে যাচ্ছিল। অলিম্পিকের নিয়মানুযায়ী পদকের লড়াই হতে হলে যেকোনো খেলায় কমপক্ষে চারটি দলের অংশগ্রহণ হতে হবে। মেয়েদের ওয়াটার পোলোতে চীনের সোনা জয়ের সম্ভাবনা ছিল শতকরা এক শ ভাগ। কিন্তু তিনটির বেশি কোনো দেশ এতে অংশ না নেওয়ায় সেই সম্ভাবনা ধূলিসাত্ হওয়ার উপক্রম হয়। এ রকম সময়ে চীন ভারতের কাছে একটি দল পাঠানোর অনুরোধ করে। কিন্তু মেয়েদের ওয়াটার পোলোতে ভারতের অবস্থান তথৈবচ হওয়ায় ভারতীয় অলিম্পিক কমিটি দল পাঠানোর ব্যাপারে বেশ দোটানায় ছিল। চীন ভারতকে দল পাঠানোর ব্যাপারে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেয়। এমনকি এই দলটির আসা-যাওয়ার বিমান ভাড়া, থাকা-খাওয়া এমনকি কেনাকাটারও সব ব্যয়ভার বহন করার প্রতিশ্রুতি দেয় চীন। এমন লোভনীয় প্রস্তাব পেয়ে ভরাডুবির সম্ভাবনা সত্ত্বেও ভারতীয় অলিম্পিক কমিটি মেয়েদের ওয়াটার পোলোতে দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রতিযোগিতা শুরুর পর ভারতীয় ওয়াটার পোলো দলের পারফরম্যান্স ছিল লজ্জাজনক। তিন খেলায় ৯৬ গোল হজম করে দলটি দেশে ফেরে। চীন ও কাজাখস্তানের কাছে ৩৮টি গোল ও উজবেকিস্তানের কাছে ২০টি করে গোল খায় ভারত। মেয়েদের ওয়াটার পোলো দলের এই পারফরম্যান্স ইতিমধ্যেই ক্ষোভের সঞ্চার করেছে ভারতজুড়ে। যেখানে এবারের এশিয়ান গেমসের সাফল্যকে ভারতের সেরা সাফল্য হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, সেখানে মেয়েদের ওয়াটার পোলো দলটি ছিল শুভ্র দুধে এক ফোঁটা গোবর জলই।
ভারতের সাঁতার ফেডারেশন অবশ্য পুরো ব্যাপারটিকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছে। সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বীরেন্দ্র নানাভাতি বলেন, ‘মেয়েদের ওয়াটার পোলোতে একটা অভিজ্ঞতা সঞ্চারের দরকার ছিল। গুয়াংজু এশিয়ান গেমস এই সুযোগটি এনে দিয়েছে। আর যেখানে চীনা কর্তৃপক্ষ দলটির এশিয়ান গেমসে যাওয়ার সব খরচ বহন করেছে, সেখানে দল না পাঠানোর কোনো কারণ ছিল না।’

রিয়ালকে ৫ গোলের লজ্জা দিল বার্সেলোনা

ডাচ কিংবদন্তি জোহান ক্রুইফের অধীনে ৯০-এর দশকের বার্সেলোনাকে ডাকা হতো ‘স্বপ্নের দল’ বলে। এল ক্ল্যাসিকোতে রিয়ালের বিপক্ষে বার্সেলোনার সবচেয়ে বড় ব্যবধানে ৫-০ গোলের জয়ও শেষবার এসেছিল সে সময়ই। সেই ম্যাচটাতে মাঠে থেকে জয় উদ্যাপন করেছিলেন বার্সার বর্তমান কোচ পেপ গার্দিওলা। এবার তিনি সেই একই কীর্তি করে দেখালেন কোচ হিসেবে। মরিনহোর রিয়াল মাদ্রিদকে গোলবন্যায় ডুবিয়ে অব্যাহত রাখলেন টানা পাঁচ ম্যাচের জয়যাত্রা। অন্যদিকে ‘এল ক্ল্যাসিকোর মর্যাদার লড়াইয়ে ন্যু ক্যাম্প থেকে ৫-০ গোলের লজ্জা নিয়ে ফিরে যেতে হলো রিয়াল মাদ্রিদকে। হারাতে হলো লা লিগার পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থানটাও।
বার্সেলোনার এই গোল উত্সবে ন্যু ক্যাম্প যার দিকে সবচেয়ে বেশি তাকিয়ে ছিল, সেই মেসিই যোগ দিতে পারেননি। অবশ্য ন্যু ক্যাম্পে রিয়ালের বিপক্ষে প্রথম গোলটা আসতে পারত তাঁর পা থেকেই। খেলার শুরুতেই পাঁচ মিনিটের মাথায় দুর্দান্ত এক চিপে রিয়াল গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াসকে পরাস্ত করলেও শেষ পর্যন্ত সেটা গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। কিন্তু প্রথম গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি কাতালানদের। ১০ মিনিটে রিয়ালের গোলমুখের দ্বার খুলে দেন জাভি। কয়েক মিনিট পর রিয়ালের পক্ষেও একটা ভালো সুযোগ তৈরি করেছিলেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার এঙ্গেল ডি মারিয়া। কিন্তু বার্সা গোলরক্ষক ভিক্টর ভালদেজ সেই গোলপ্রচেষ্টা রুখে দেন অসাধারণ দক্ষতায়। এবার ১৭ মিনিটের মাথায় পাল্টা আক্রমণে রিয়ালকেই আবার গোল দিয়ে বসেন বার্সার ১৭ নম্বর জার্সিধারী পেদ্রো। ২ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করার পর দ্বিতীয়ার্ধে রিয়ালের ওপর আরও চড়াও হয়ে খেলতে থাকে বার্সেলোনা। গোল করতে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধে ৫৫ আর ৫৮ মিনিটে স্প্যানিশ স্ট্রাইকার ডেভিড ভিয়াকে দিয়ে দুটি গোল করিয়েছেন মেসি। ৮৭ মিনিটে পেদ্রোর বদলি হিসেবে নেমে এল ক্ল্যাসিকোতে গোল করার দুর্লভ সুযোগ পেয়ে যান জেফরেন সুয়ারেজ। ক্যাসিয়াসের মাথার ওপর দিয়ে আলতো চিপে রিয়ালের জালে পঞ্চমবারের মতো বল জড়িয়ে দেন এই তরুণ বার্সা স্ট্রাইকার।
গত দুই মৌসুমে টানা চার ম্যাচে বার্সার কাছে হারের প্রতিশোধ নিতেই ন্যু ক্যাম্পে এসেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। এসেছিল এ সময়ের অন্যতম সেরা কোচ হোসে মরিনহোর অনুপ্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে। টানা ১৯টি ম্যাচে হারের মুখ না দেখার আত্মবিশ্বাসও ছিল তাদের বড় শক্তি। কিন্তু সেগুলো সবই নস্যাৎ হয়ে গেল মেসি, জাভি, পেদ্রো, ভিয়াদের দুর্দান্ত দাপটে। প্রতিশোধের স্পৃহা অবশ্য একটু ভিন্নভাবে হলেও বার্সেলোনারও ছিল। সেটা অবশ্য রিয়ালের বিপক্ষে নয়, মরিনহোর বিপক্ষে। গত মৌসুমে মরিনহোর ইন্টার মিলানের কাছে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে হেরেই শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছিল তাদের। এবার রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে মরিনহোকেও যেন একহাত দেখিয়ে দিল গার্দিওলার শিষ্যরা!

বিশ্বকাপে নেই পাকিস্তানের শীর্ষ পাঁচ ক্রিকেটার!

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ ক্রিকেটে পাকিস্তান না-ও পেতে পারে দলের শীর্ষ পাঁচ ক্রিকেটারকে। ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে পিটিআই আজ মঙ্গলবার জানিয়েছে, বিশ্বকাপে পাঁচ ক্রিকেটারকে দলে না রাখতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে পরামর্শ দিয়েছে আইসিসি।
পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের নাম হয়তো অনেকেই আঁচ করতে পারবেন— লর্ডস টেস্টে স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত বর্তমানে আইসিসির সাময়িক নিষেধাজ্ঞায় থাকা সালমান বাট, মোহাম্মদ আমির ও মোহাম্মদ আসিফ। তাহলে বাকি দুজন কে? উইকেটরক্ষক কামরান আকমল ও লেগস্পিনার দানিশ কানেরিয়া!
আগামী ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যে বিশ্বকাপের প্রাথমিক দল চূড়ান্ত করবে পাকিস্তান। সূত্র জানায়, তিনজনের বিরুদ্ধে স্পট ফিক্সিংয়ের সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। সন্দেহ রয়েছে কামরান আকমল ও কানেরিয়াকে নিয়েও। তাই এই পাঁচ ক্রিকেটারকে বিশ্বকাপের দলে না রাখার পরামর্শ দিয়েছে আইসিসি।
সূত্র আরও জানায়, এর মধ্যে বোর্ড কামরান আকমলকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কারণ নিরাপত্তাহীনতার কারণে আরেক উইকেটরক্ষক জুলকারনাইন হায়দার যুক্তরাজ্যে পালিয়ে অবসরের ঘোষণা দেওয়ায় উইকেটের পেছনে সমস্যায় পড়ে যেতে পারে পাকিস্তান। কিন্তু পাকিস্তানের আবেদনে সেভাবে সাড়া দিচ্ছে না বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

খেলা- 'বাংলাদেশকে মাটিতে নামাল জিম্বাবুয়ে' by উত্পল শুভ্র

মাঠের মাঝখানে একটা লাল ফুল! সেটির পাশে দাঁড়িয়ে আবদুর রাজ্জাক। বিজয়ীদের অভিনন্দন জানানোর ক্রিকেটীয় রীতি পালনের অপেক্ষায়। কিন্তু তাঁর বাড়িয়ে দেওয়া হাত খেয়াল করার মতো অবস্থায় থাকলে তো আনন্দে আত্মহারা জিম্বাবুইয়ানরা! (ছবিঃ জিম্বাবুয়ে দলকে অভিনন্দন জানাতে গিয়ে অপেক্ষায় থাকতে হলো বাংলাদেশ দলের আবদুর রাজ্জাককে। জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করার পর জিম্বাবুয়ের কাছে তখন উৎসবের আনন্দটাই আসল, অভিনন্দন নেওয়া পরে)
এমন না হলেই তা আশ্চর্যের ব্যাপার হতো।

'ধরিত্রীকে বাঁচাতে কানকুনে সফল হতেই হবে' সুত্রঃ কালের কণ্ঠ

ষ্ণায়ন থেকে ধরিত্রীকে বাঁচাতে যেকোনো মূল্যে সমঝোতায় পেঁৗছতে মেঙ্েিকার কানকুনে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনের অনেক প্রতিনিধি সোচ্চার আওয়াজ তুলেছেন। মেঙ্েিকার প্রেসিডেন্ট ফেলিপ কালদেরন সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রতিনিধিদের জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার চেয়ে মানবতার বিষয়টি মাথায় রেখে সবাইকে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান। জাতিসংঘের জলবায়ু প্রধান ক্রিস্টিয়ানা ফিগুয়েরেস সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে জানান, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে একটা বড় উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

স্মরণ- 'চিত্রা ভট্টাচার্যের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি' by মালেকা বেগম

ই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেলেন আমাদের প্রিয় চিত্রা ভট্টাচার্য (২৯ নভেম্বর, ভোর সোয়া চারটায়)। বিজয়ার প্রণাম পাঠিয়েছিলাম মুঠোফোনে, ভাইফোঁটার দিনও ফোনে জানালাম এই দিনটির সূত্রে বাঁধা তিনি এবং প্রয়াত দাদা দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য। ততটা ভালো না থাকলেও মনে তো হয়েছিল ভালো আছেন কিছুটা! তবে বলেছিলেন, শ্বাসকষ্ট বেড়েছে। ভেবেছিলাম, দেখা হবে আবার।

রাজনৈতিক আলোচনা- 'আওয়ামী লীগে মিলন ও বিচ্ছেদের নাটক' by বিশ্বজিৎ চৌধুরী

রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই, এ তো অনেক পুরোনো প্রবাদ। উপদলীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে এই প্রবাদ যে আরও বড় বাস্তবতা হয়ে ওঠে, তা আরেকবার প্রমাণিত হলো চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক মেরুকরণের মধ্য দিয়ে। এ অঞ্চলের আওয়ামী রাজনীতির খবর যাঁরা রাখেন, তাঁরা এক মঞ্চে সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, পদবঞ্চিত নেতা আ জ ম নাছির উদ্দিন ও সাংসদ এম এ লতিফকে দেখে চমকে উঠবেন সন্দেহ নেই। অন্যদিকে তাঁদের জন্য সমান বিস্ময়ের সংবাদ মন্ত্রী আফছারুল আমীন, সাংসদ নুরুল ইসলাম বিএসসি ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের একাত্মতাও। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, এভাবে বাঘে-মোষে এক ঘাটে পানি খাওয়াল কে?

খবর- উইকিলিকসের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

ইকিলিকসের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি গোপন নথি প্রকাশের বিষয়টিকে অপরাধ হিসেবেই দেখছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন গোপন নথি প্রকাশের বিষয়টিকে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর হামলা বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এসব তথ্য ‘চুরির’ সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চীন উইকিলিকসের তথ্য ফাঁসের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতি যথাযথভাবে মোকাবিলা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

রাজনৈতিক আলোচনা- 'প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ সমাজের প্রত্যাশা by শহিদুল ইসলাম

ব্যারিস্টার সৈয়দ ইকবাল হায়দার পাকিস্তানের আমজনতার অংশ নন। পাকিস্তানি শাসকশ্রেণীরই একজন প্রথম শ্রেণীর প্রতিনিধি। ১৯৯৩ সাল থেকে দুই বছর তিনি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের আইন, বিচার ও সংসদীয় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে তিনি সিনেটের সদস্য নির্বাচিত হন।