Saturday, November 30, 2024
প্রান্তিক পর্যায়ের অসুস্থ মানুষকে মৃত্যুতে সহায়তা বিষয়ক বিল পাস বৃটেনে
এতে বলা হয়েছে, লেবার দলের এমপি কিম লিডবিটার ঐতিহাসিক এই আইনের প্রস্তাবক। বিবিসি লিখেছে, বিলটি পাস হওয়ার আগে পার্লামেন্টের বাইরে পক্ষ ও বিপক্ষে উভয়ে আলাদা স্থানে সমবেত হতে থাকেন। এমপি লিডবিটারসের বিলের পক্ষে যারা তারা অধিকারকর্মী মিলিসেন্ট ফসেটের মূর্তির কাছে পার্লামেন্ট স্কয়ারের পশ্চিম পাশে অবস্থান নেন। সেখানে সবার মাথায় ছিল গোলাপি হ্যাট ও জাম্পার। এসব সরবরাহ দিয়েছে ডিগনিটি ইন ডাইং গ্রুপ। তার মধ্যে আমান্ডা অন্যতম। তিনি যোগ দিয়েছেন ব্রাইটন থেকে। ক্যান্সারে আক্রান্ত একজন বন্ধু সহ যেসব মানুষ জীবনের শেষ প্রান্তে রয়েছেন তাদের দেখাশোনা করেন তিনি। স্মরণ করে, তার বন্ধু তাকে অনুরোধ করেছেন- আর সহ্য করতে পারছিনা। আমাকে এখনই মেরে ফেলো। কোনো প্রিয়জনের কাছ থেকে এমন কথা শোনা যে কারো জন্য খুব কষ্টের। সু নামে আরেকজন নারী মাথায় গোলাপী হ্যাট পরে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি এই দিনটি একটি ঐতিহাসিক দিন হয়ে থাকবে। তার কাছ থেকে অর্ধ মিনিট হাঁটার দূরত্বে এক প্রান্তে দাঁড়ানো বিলের বিরোধীরা। বিধ্বস্ত একজন বিচারকের ১০ ফুট লম্বা পাপেটের পাশে যোগ দিয়েছেন তারা। ওই বিচারকের হাতে একটি বিশাল আকারের সিরিঞ্জ। আকাশের দিকে একটি আঙ্গুল তুলে দাঁড়িয়ে আছেন। সেখানে উপস্থিতরা স্লোগান দিচ্ছেন- এই বিলকে বন্ধ করো। অসুস্থ মানুষদের হত্যা করো না। হান্নাহ একটু দূরে দাঁড়িয়ে। তিনি আশঙ্কা করেন এই বিল পাস হলে বিকলাঙ্গ মানুষগুলোকে আমরা যেভাবে দেখি তার ধারা বদলে যেতে পারে। নিজের পিতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তাকে ৬ মাস সময় দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি চার বছর বেঁচে ছিলেন। এই যে চার বছর বেঁচে ছিলেন এর অর্থ হলো তিনি তার নাতিপুতিদের সঙ্গ দিতে পেরেছেন।
ওই বিক্ষোভে যোগ দেয়া উভয়পক্ষের প্রতিজন মানুষেরই ব্যক্তিগত কাহিনী আছে। তাদের ওয়েস্টমিনস্টারে শুক্রবারে জমায়েত হওয়ার কারণ ছিল। গত বছর পর্যন্ত নিজের মায়ের দেখাশোনা করেছেন জেন। তিনি বলেন, ওই সময়টা খুব কঠিন ছিল। কিন্তু তা ছিল মূল্যবান সময়। তিনি মনে করেন এই বিল পাস হলে তার মায়ের মতো মানুষদেরকে একটি প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়া হবে। জানতে চাওয়া হবে, তিনি মারা যেতে সহায়তা চান কিনা। তিনি বলেন, আমি জানি এসব সিদ্ধান্তে একজন বিচারকের সংশ্লিষ্টতা থাকবে। কিন্তু কিভাবে কার ভাগ্যে কি আছে তা নির্ধারণ করবেন তারা। কেউ হয়তো মুখে বলতে পারেন যে, তিনি মারা যেতে চান। কিন্তু একজন বিচারক কিভাবে জানবেন যে, ওই ব্যক্তির মাথায় আসলে কি চলছে।
ওদিকে পার্লামেন্টের ভিতরে এ নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা হয়েছে। লেবার দলের এমপি লিডবিটার তার বিলের ওপর বিতর্ক শুরু করেছেন। স্পেন ভ্যালি থেকে নির্বাচিত তিনি। এর আগে এই আসনে প্রতিনিধিত্ব করছিলেন তার বোন জো কক্স। তাকে ২০১৬ সালে হত্যা করা হয়। পার্লামেন্টের পরিবেশ সাধারণ সময়ের মতোই পাল্টাপাল্টি ছিল। তবে তার মধ্যে ছিল চিন্তা ও শ্রদ্ধা। কিন্তু পার্লামেন্টের বাইরে ছিল উত্তেজনা। পক্ষ-বিপক্ষ উভয়েই তাদের নিজেদের এলাকায় অবস্থান নেয়। কেউ অবস্থান নেয় পার্লামেন্ট গেটের কাছে। কেউ কেউ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। মারা যাওয়ায় সহায়তা বিষয়ক এই বিলের পক্ষে থাকা এক নারী তার পিতার ভয়াবহতার ছবি উপরে তুলে ধরেছিলেন। তার পিতা বেঁচে আছেন। তবে তিনি বেদনায় কুঁকড়ে যাচ্ছিলেন। তিনি পার্লামেন্টের দিকে এবং তারপর ছবির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, পার্লামেন্টে থাকা ব্যক্তিদের কাছে জানতে চাই আমাকে তারা বলুক কেন এটা চলতে থাকবে। পাশেই এই বিলের বিরোধিতা করে একটি প্লাকার্ড তুলে ধরেছেন একজন নারী। তার দিকে প্রথম নারী চিৎকার করে বললেন- আপনি যা দেখাচ্ছেন তা অপরাধ। আপনি কি বলতে চাইছেন আমার পিতার দেখাশোনা করা উচিত নয় আমার।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাশিয়ার অভিযোগ: শান্তি রক্ষার ছদ্মবেশে ইউক্রেন ‘দখলের’ পরিকল্পনা করছে ন্যাটো
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এসভিআরের কাছে থাকা তথ্যমতে, রণক্ষেত্রে রাশিয়াকে কৌশলগতভাবে পরাজিত করার সম্ভাবনায় স্পষ্ট ঘাটতি রয়েছে। তাই ন্যাটো ক্রমেই ইউক্রেন সংঘাতকে স্থগিত করার পরিকল্পনার দিকে ঝুঁকছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নকে পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীগুলোর যুদ্ধ করার সক্ষমতা পুনর্গঠিত এবং কিয়েভকে সম্ভাব্য প্রতিশোধ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করার সুযোগ হিসেবে দেখছে। ন্যাটো এরই মধ্যে ইউক্রেনে প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করেছে। এসব প্রশিক্ষণকেন্দ্রে তারা ইউক্রেনের অন্তত ১০ লাখ সেনাকে প্রশিক্ষণ দিতে চায়।’
রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাটি আরও জানাচ্ছে, নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ন্যাটো পশ্চিমা সামরিক-শিল্প সংস্থাগুলোর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। উদাহরণ হিসেবে জার্মানির অস্ত্র প্রস্তুতকারী কোম্পানি রাইনমেটালের কথা বলা যায়। ন্যাটো এসব সামরিক-শিল্প সংস্থাগুলোকে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানাচ্ছে। এসব কিছুর পাশাপাশি সামরিক জোটটি ইউক্রেনে বিশেষজ্ঞ ও সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে। যুদ্ধবিরতির (স্থগিত) সময়ে ইউক্রেনের সামরিক-শিল্প সংস্থা পুনর্গঠনের দিকে মনোযোগ দেওয়ার আশা করছে ন্যাটো।
পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনে প্রায় এক লাখ শক্তিশালী ‘শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্য’ মোতায়েন করতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে এসভিআরের বিবৃতিতে।
এসভিআরের তথ্যমতে, ইউক্রেনের ভূখণ্ডকে কয়েকটি ‘দখলদার’ দেশের মধ্যে ভাগবাঁটোয়ারা করারও প্রস্তাব করেছে ন্যাটো। ইউক্রেনের কৃষ্ণ সাগর তীরবর্তী অঞ্চলে মোতায়েন করা হবে রোমানিয়ার ‘শান্তিরক্ষীদের’। পশ্চিমাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করবে পোল্যান্ড। মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের অংশগুলো হস্তান্তর করা হবে জার্মানির হাতে; আর রাজধানী কিয়েভসহ উত্তর দিকের অঞ্চলগুলো থাকবে যুক্তরাজ্যের হাতে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। তখন থেকে পশ্চিমা দেশগুলো কিয়েভকে বিপুল পরিমাণে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। রাশিয়া বারবার বলে আসছে, পশ্চিমাদের সামরিক অস্ত্র সরবরাহের কারণে ইউক্রেন সংঘাতের অবসান ব্যাহত হচ্ছে। অস্ত্র সরবরাহ করে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ছে বলেও দাবি করছে মস্কো।
![]() |
| জ্বালানি অবকাঠামোতে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎ–বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। বিদ্যুৎ–বিভ্রাটের সময়ে একটি জেনারেটরের ওপরে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আছেন এক নারী। কিয়েভে, ২৮ নভেম্বর ২০২৪ ছবি : এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভোপালের রাজকন্যা আবিদা সুলতান চালাতেন রোলস রয়েস, শিকার করতেন বাঘ
ভোপালের সাহসী এক পরিবারে জন্ম আবিদার—১৯১৩ সালে। এই পরিবার ১০০ বছরের বেশি সময় ব্রিটিশ-ভারতের ভোপাল রাজ্য শাসন করেছিল। তিনি ছিলেন ভোপালের শেষ নবাব হামিদুল্লাহ খানের বড় মেয়ে। তৎকালীন সমাজে সাধারণ ও মুসলিম নারীদের মধ্যে যে বাঁধাধরা প্রথা ছিল, তা অতিক্রম করে গিয়েছিল এই পরিবার। আবিদাও ব্যতিক্রম ছিলেন না।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে ভোপালের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হন আবিদা। এক দশকের বেশি সময় ধরে বাবার মন্ত্রিসভা পরিচালনা করেছিলেন তিনি। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দেওয়া খ্যাতনামা সব ব্যক্তির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছিলেন। খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন সাতচল্লিশের দেশভাগের সময়ের সহিংসতা।
২০০৪ সালের আবিদার আত্মজীবনী ‘মোমোয়ারস অব আ রেবেল প্রিন্সেস’ প্রকাশিত হয়। তা থেকে জানা যায়, প্রতিদিন ভোর চারটায় তাঁকে ঘুম থেকে উঠতে হতো। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করতেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে তাঁর দৈনিক কর্মকাণ্ড শুরু হতো। এর মধ্যে ছিল খেলাধুলা, সংগীতচর্চা, ঘোড়ায় চড়া। পাশাপাশি তাঁকে ঘর মোছা ও গোসলখানা পরিষ্কারও করতে হতো।
এক সাক্ষাৎকারে নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণা করেছিলেন আবিদা। তখন বলেছিলেন, ‘মেয়ে হওয়ার কারণে আমরা হীন, এমন কোনো অনুভূতি আমাদের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়নি। সবকিছুই ছিল সমতাভিত্তিক। একজন ছেলের যে স্বাধীনতা, আমাদেরও তা–ই ছিল। আমরা ঘোড়ায় চড়তে পারতাম, গাছে উঠতে পারতাম, ইচ্ছেমতো যেকোনো খেলাধুলা করতে পারতাম। কোনো বাধা ছিল না।’
১২ বছর বয়সে আবিদার বিয়ে হয়েছিল পার্শ্ববর্তী আরেক রাজ্য কুরওয়াইয়ের রাজপরিবারের সারওয়ার আলী খানের সঙ্গে। সারওয়ার আলী খান ছিলেন আবিদার শৈশবের বন্ধু ও কুরওয়াই রাজ্যের শাসক। আত্মজীবনীতে তিনি এই বিয়ে নিয়ে হাস্যরসাত্মক বর্ণনা দিয়েছেন।
নিজের বিয়ের সম্পর্কে বর্ণনা দিতে গিয়ে আবিদা বলেন, একদিন তিনি চাচাতো ভাইবোনদের সঙ্গে ‘বালিশযুদ্ধ’ করছিলেন। এমন সময় ঘরে আসেন তাঁদের দাদি। একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য তিনি আবিদাকে জামা-কাপড় পরতে বলেন। তবে তিনি যে কনে হতে যাচ্ছেন, তখন পর্যন্ত এ কথা তাঁকে জানানো হয়নি।
আবিদার সংসারজীবন বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। এক দশকের কম সময়ের মধ্যে তাঁর বিচ্ছেদ হয়। দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল না। আত্মজীবনীতে আবিদা লিখেছেন, ‘দাম্পত্য জীবন যে এতটা ভয়ংকর ও নিরানন্দ হবে, তা আমি বুঝতে পারিনি।’
বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর আবিদা কুরওয়াই ছেড়ে ভোপালে চলে এসেছিলেন। কিন্তু একমাত্র সন্তান শাহরিয়ার মোহাম্মদ খানকে নিয়ে সাবেক স্বামীর সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছিল। ছেলে কার হেফাজতে থাকবে, তা নিয়ে বাদানুবাদ চরম আকারে পৌঁছেছিল। এসব নিয়ে আবিদা খুব হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে একটি সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তিনি।
১৯৩৫ সালের মার্চের এক রাতে তিন ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে কুরওয়াইতে যান আবিদা। প্রবেশ করেন সাবেক স্বামীর ঘরে। একটি রিভলবার বের করে ছুড়ে দেন তাঁর কোলে। তারপর আবিদা বলেন, ‘আমাকে গুলি করো, না হলে আমি তোমাকে গুলি করব।’
এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ছেলের হেফাজত নিয়ে বিতর্কের অবসান হয়েছিল। সিংহাসন সামলানোর পাশাপাশি তিনি একাই ছেলেকে বড় করেছিলেন। ১৯৩৫ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত তিনি ভোপালের মন্ত্রিসভা পরিচালনা করেন। দেশভাগের পর ভোপাল ভারতের মধ্য প্রদেশের অংশ হয়ে যায়।
ভারত ভাগের আগে ব্রিটিশ সরকারের আহ্বানে বেশ কয়েকটি গোলটেবিল আলোচনা হয়েছিল। ভারতের ভবিষ্যৎ সরকারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই ছিল ওই আলোচনার লক্ষ্য। এসব আলোচনায় যোগ দিয়েছিলেন আবিদাও। এ সময় মহাত্মা গান্ধী, মতিলাল নেহরু ও জওহরলাল নেহরুর মতো প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে দেখা হয়েছিল তাঁর। জওহরলাল নেহরু ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন।
আত্মজীবনীতে আবিদা বলেন, তাঁর পরিবার কয়েক পুরুষ ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোপালে বসবাস করে আসছিল। দেশভাগের পর তিনি সেখানে বৈষম্যের মুখোমুখি হন। তাঁদের সঙ্গে ‘বহিরাগতদের মতো’ আচরণ শুরু হয়। এমন এক পরিস্থিতির মুখে ১৯৫০ সালে সন্তানকে নিয়ে পাকিস্তানে চলে যান তিনি। সেখানে গণতন্ত্র ও নারী অধিকার নিয়ে কাজ শুরু করেন। ২০০২ সালে করাচিতে মারা যান আবিদা।
আবিদা পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পর তাঁর বোনকে ভোপালের সিংহাসনে বসিয়েছিল ভারত সরকার। তবে এখনো আবিদাকে ভোপালের মানুষ স্মরণ করেন। সেখানে এখনো তিনি পরিচিত ‘বিয়া হুজুর’ নামে।
![]() |
| আবিদা সুলতান বিবিসির ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এটাই বাংলাদেশ! by সাজেদুল হক
একটি জানাজা, জাতীয় ঐক্যের প্রতীক
সাইফুল ইসলাম আলিফ ছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টেও। তার সামনে ছিল অনেক পথ পাড়ি দেয়ার হাতছানি। কিন্তু ঘাতকরা দুঃসাহস দেখিয়ে হত্যা করেছে তাকে। শহীদ আলিফের অবুঝ সন্তান জানেও না তার বাবা আর কোনো দিন ফিরবে না। সন্তানের জন্য আহাজারি করতে করতে আলিফের বাবা বার্তা দিয়েছিলেন, সম্প্রীতি রক্ষার। কার সাধ্য আছে তার মাকে সান্ত্বনা দেয়! তবে বাংলাদেশ তার এক শ্রেষ্ঠ সন্তানকে বিদায়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সম্মানই দেখিয়েছে। আমাদের ইতিহাসে অল্প কিছু জানাজাই বারবার আলোচনায় আসে। নিশ্চিতভাবেই সে তালিকায় যোগ হলো সাইফুল ইসলাম আলিফের নাম। চট্টগ্রামে তার জানাজায় যোগ দিয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। তারা চোখের পানিতে বিদায় জানিয়েছেন আলিফকে। কিন্তু কোথাও সামান্য বিশৃঙ্খলাও করেননি। জানাজায় শরিক হয়েছিলেন ৫ই আগস্টের পটভূমিতে বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা সব পক্ষের প্রতিনিধি। ছিলেন উপদেষ্টা, ছাত্র আন্দোলনের নেতা, বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং পক্ষের প্রতিনিধিরা।
ভারতীয় মিডিয়ার বিরামহীন অপপ্রচার
৫ই আগস্টের পর থেকে বিরামহীনভাবে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় মিডিয়ার একটি অংশ। ডনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ের দিন এমনকি এ খবরও দেয়া হয়েছিল যে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফ্রান্স চলে গেছেন। পাশের বাড়ির মিডিয়ার এ ধরনের প্রচারণা থেমে নেই। সাংবাদিকতার রীতিনীতির বাইরে গিয়ে প্রতিনিয়ত তারা ছড়াচ্ছে নানা গুজব, দিচ্ছে উস্কানি। তবে বাংলাদেশের জনগণ এসব উস্কানির ফাঁদে পা দেয়নি। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ পরম ধৈর্যের সঙ্গে তার প্রতিবেশীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে গেছেন। তবে কিছু বিচ্যুতি যে ঘটেনি তা নয়। যদিও এর প্রায় সবই রাজনীতি সংশ্লিষ্ট। ধর্মীয় কারণে কারও ওপর কিংবা কারও বাড়িঘরে হামলা এমন প্রমাণ পাওয়া যায় না।
জাতীয় ঐক্যের বার্তা রাজনৈতিক দলের
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এরইমধ্যে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা। আলাদা দিনে বৈঠক করেছেন তারা। বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি এবং জামায়াত দু’টি দলের পক্ষ থেকেই জাতীয় ঐক্যের কথা বলা হয়েছে। যদিও বিশেষত বিএনপি নির্বাচনের রোডম্যাপের দাবিও জানিয়ে আসছে।
ছাত্র-জনতাকে অভিবাদন
বর্তমান পরিস্থিতির ভূমিকার জন্য জনগণকে অভিবাদন জানিয়েছেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম। মাহফুজ আলম এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, দায়িত্ব ও দরদের নজির দেখিয়ে আপনারা বাংলাদেশকে গর্বিত করেছেন। বাংলাদেশ আর কারও ষড়যন্ত্রের সামনে পরাস্ত হবে না। ইনশাআল্লাহ। তিনি আরও লিখেছেন, আমাদের ব্যক্তি ও সমষ্টির ‘শক্তি’ সাধনায় দরদি ও দায়িত্ববান হয়ে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হয়ে ওঠা মোক্ষ। আমাদের এ অভ্যন্তরীণ শক্তি যেকোনো বহিঃশত্রুকে পর্যুদস্ত করবে। আমরা আর Colonizable হবো না।
বিশেষ ধন্যবাদ প্রাজ্ঞ আলেম ও মুসলিম নেতৃবৃন্দের প্রাপ্য। আপনারা এ গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে বাঙালি মুসলমানকে দায়িত্বশীল আচরণে অনুপ্রাণিত করেছেন। ধর্ম, বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে আপনাদের আজ ও আগামীর প্রাজ্ঞ উদ্যোগ বাংলাদেশ রাষ্ট্রে আপনাদের ইজ্জত ও শরিকানা নিশ্চিত করবে। পোস্টে আরও বলা হয়, হঠকারিতা, নেতিবাচকতা ও ভাঙনের মানসিকতা থেকে বের হয়ে আমাদের সৃজনশীল ও ইতিবাচক মানসিকতায় এ রাষ্ট্রকে গড়তে হবে। এ রাষ্ট্র পরিগঠন করলেই কেবল জুলাই শহীদানসহ শহীদ আলিফের শাহাদাত অর্থবহ হয়ে উঠবে।
অন্যদিকে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম লিখেছেন, মঙ্গলবার দেশের মানুষ; রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও নাগরিক সমাজ এবং স্থানীয় ও বিদেশে অবস্থানরত প্রভাবশালী বাংলাদেশিরা অভূতপূর্ব রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি আরও লিখেছেন, ‘এখনো কিছু বিষয়ে উত্তেজনা থাকলেও আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, আমরা মাথা উঁচু করে কঠিন এই পরীক্ষায়ও উতরে যাবো। স্বার্থান্বেষী কিছু গোষ্ঠী ও ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসকের পাতা ফাঁদে বাংলাদেশের মানুষ কখনো পা দেবে না। দেশের মানুষের বৈপ্লবিক চেতনা যে দারুণভাবে জ্বলজ্বল করছে, সেটা বেশ স্পষ্ট। এটা কয়েক দশক ও শতক ধরে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
সংখ্যালঘু সমপ্রদায় আগের তুলনায় বেশি নিরাপত্তা পাচ্ছে
ভয়েস অফ আমেরিকা (ভিওএ) বাংলার এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের চেয়ে বেশি নিরাপত্তা দিতে পারছে। জরিপের ফলাফলে নিরাপত্তা নিয়ে ধারণায় মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে।
গত অক্টোবর মাসের শেষের দিকে পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, ৬৪ দশমিক ১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের তুলনায় অন্তর্বর্তী সরকার ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে বেশি নিরাপত্তা দিচ্ছে। মাত্র ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, বর্তমান সরকার সংখ্যালঘুদের জন্য আগের চেয়ে খারাপ নিরাপত্তা দিচ্ছে। ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, পরিস্থিতি আগের মতোই আছে।
জরিপে এক হাজার উত্তরদাতাকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনের তুলনা করতে বলা হয়। বাংলাদেশের জনতত্ত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জরিপের জন্য এক হাজার উত্তরদাতা বাছাই করা হয়। উত্তরদাতাদের মধ্যে সমানসংখ্যার নারী ও পুরুষ ছিলেন, যাদের মধ্যে ৯২ দশমিক ৭ শতাংশ মুসলিম। উত্তরদাতাদের মধ্যে অর্ধেকের একটু বেশির বয়স ৩৪ বছর বয়সের নিচে। উত্তরদাতাদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ শহুরে মানুষ।
শেষ কথা: যুগের পর যুগ ধরে হিন্দু-মুসলমান পাশাপাশি বাস করেছে এ ভূমিতে। মর্মান্তিক ঘটনা যে কখনও ঘটেনি তা নয়। তবে শেষ পর্যন্ত জয় হয়েছে সৌহার্দ্য আর ভালোবাসারই। আরও একবার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয়েছে। মানুষ আগলে রেখেছে মানুষকে। পরাভূত করেছে চক্রান্ত আর প্রচারণাকে। তবে এ লড়াই এখানেই শেষ হবে না। সামনে দীর্ঘ কঠিন পথ।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নভোথিয়েটার দুর্নীতি মামলা: যেভাবে অব্যাহতি পান হাসিনা by মারুফ কিবরিয়া
ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ করে দুর্নীতির মামলা থেকে অব্যাহতি পান শেখ হাসিনা। জানা গেছে, ২০০১ সালে ক্ষমতা ছাড়ার দু’দিন আগে তড়িঘড়ি করে বিধি অমান্য করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার প্রকল্পের অনুমোদন দেন শেখ হাসিনা। ১২০ কোটি টাকা মূল্যের সেই প্রকল্প অনুমোদনের সময় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) পূর্ণাঙ্গ কোরাম ছিল না। ফলে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সেই কমিটি অনুমোদন দেয়া ও প্রকল্পে পছন্দের ঠিকাদারকে দিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দেয়ার অভিযোগে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো ২০০২ সালে মামলা করে।
সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় থাকাকালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পরামর্শক নিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ১২০ কোটি টাকা লোপাটের খবর পায় ওই সময়ের দুর্নীতি দমন ব্যুরো। এরপর ২০০১ সালে ক্ষমতা ছাড়ার ঠিক দুই দিন আগে ১৩ সদস্যের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুপস্থিতিতে মাত্র ছয় সদস্যের উপস্থিতিতে নিয়ম লঙ্ঘন করে এই প্রকল্পের বৈধতা দেয় একনেক। ২০০২ সালে শেখ হাসিনাসহ ছয় মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় পৃথক তিনটি মামলা করা হয়। অন্য আসামিরা ছিলেন সাবেক মন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া, এ এস এইচ কে সাদেক, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী ও মহীউদ্দীন খান আলমগীর। তাদের তিনজনই এখন মৃত।
মামলা চলাকালে পুরো তথ্য-প্রমাণসহ জমা দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করলে হাইকোর্টে রিট করেন শেখ হাসিনা। এরপর দীর্ঘদিন তা থমকে থাকার পর ২০১০ সালে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের হাইকোর্ট বেঞ্চ অভিযোগপত্র দাখিলের আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করে। আদালত বলেছিলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ মামলা করা হয়েছে। তা ছাড়া এতে মামলার গুণগত ভিত্তি নেই। তারপর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে মামলা থেকে সব আসামিকে অব্যাহতি দেয়। শেখ হাসিনাকে অব্যাহতি দেয়ার পেছনে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেন সে সময়ের দায়িত্ব পালন করা দুদকের এক কমিশনার ও একজন বিচারপতি।
দুদক মামলাটিতে শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিদের অব্যাহতি দিলেও সে সময়ের তদন্তকারী কর্মকর্তার তৈরি করা প্রতিবেদন মানবজমিনের হাতে এসেছে। ওই প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাসহ সব আসামির অপরাধের প্রমাণ মিলেছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার প্রকল্প বিষয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের কার্যনির্বাহী পরিষদের (একনেক) সিদ্ধান্তকে আমলে নিয়ে তিনটি মামলা করে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো। একনেকের সিদ্ধান্তগুলো ছিল-প্রকল্পের পরামর্শকের ব্যয় বৃদ্ধি, ভবন নির্মাণের ব্যয় বৃদ্ধি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যয় বৃদ্ধি। তিনটি মামলায়ই শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হয়। মামলার পর থেকেই শেখ হাসিনা এবং অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন আইনি লড়াই করেছেন। ব্যুরো থেকে কমিশন হওয়ার পর ২০০৫ সালের ২৪শে আগস্ট বিচারপতি সুলতান হোসেন খানের কমিশন মামলাগুলোর অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ দেন। বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে শেখ হাসিনা আলাদা দু’টি রিট আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ২০১০ সালের ৪ঠা মার্চ অভিযোগপত্র দাখিলের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেন।
অভিযোগ সম্পর্কে আদালত বলেন, অভিযোগগুলো ফৌজদারি আইনের কোনো বিধানের আওতায় পড়ে না। মামলা চললে বিবাদী আরও হয়রানির সম্মুখীন হবেন। আদালত পর্যবেক্ষণে এও বলেন, মামলার নথিপত্র উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। আদালতের ওই সিদ্ধান্তের পর দুদকের ওই তিন মামলায় অভিযোগপত্র দেয়া হয়নি। পড়েছিল দুদকের অনিষ্পন্ন শাখায়। এখানে পড়ে থাকা ব্যুরোর আমলের মামলাগুলো নিষ্পত্তির উদ্যোগের অংশ হিসেবে তিনটি মামলা পুনঃতদন্তের জন্য উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোরশেদকে দুদকের পক্ষ থেকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনটি মামলারই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করেন শেখ হাসিনাসহ এজাহারভুক্ত সব আসামিকে। যাচাই বাছাই শেষে ২২শে জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।
দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মঈদুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেসব মামলা ছিল, সেই মামলাগুলো আদালত মানে হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়েছিলেন। এভাবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সব মামলার নিষ্পত্তি হয়েছিল।
এদিকে দুর্নীতি দমন ব্যুরোর আমলে দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, একনেকের সভায় নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার নির্মাণ প্রকল্পে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ দেয়ার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। নিয়ম ভঙ্গ করে শেখ হাসিনা তার পছন্দের ঠিকাদার দিয়ে কার্যাদেশ দেয়ার কৌশল অবলম্বন করেন। এতে সরকারের ৪ কোটি টাকারও বেশি অর্থ ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে প্রমাণ হয়। এ ছাড়া যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ অর্থ ক্ষতি হয়েছে বলে দুর্নীতি দমন ব্যুরোর তদন্তে প্রমাণ হয়। এসব বিষয় আমলে নিয়ে ব্যুরো সব রকম প্রমাণাদি ও আলামত সংগ্রহ করে ব্যুরোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দাখিলের সুপারিশ করেন। কিন্তু পরে আর তা সম্ভব হয়নি। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা ফের ক্ষমতায় এসে নিজ ও দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা থেকে কৌশলে অব্যাহতি নেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করা উচিত
গতকাল রাজধানীর এফডিসিতে ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন, প্রার্থী ও নাগরিকের ভূমিকা’ নিয়ে আয়োজিত ছায়া সংসদে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘বিগত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে যারা নির্বাচনী অপরাধ করেছে তাদের সবাইকেই বিচারের আওতায় আনতে হবে। প্রজাতন্ত্রের যেসব কর্মচারী নির্বাচনী অপরাধ করেছে তাদের বিচারের জন্য সুস্পষ্ট আইন রয়েছে। তবে শপথ ভঙ্গ করে যেসব নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনী অপরাধে জড়িত ছিলেন তাদের বিচার কোনো প্রক্রিয়ায় হবে তা নির্ধারণ করা উচিত।’
এ ছাড়া অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের স্বার্থে দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান মনোনয়ন বাণিজ্য বন্ধের উপায় বের করতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আগামী নির্বাচন রাজনৈতিক চাপমুক্ত থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ওপর কোনো রাজনৈতিক চাপ থাকবে না, তাই কমিশন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করবে বলে আশা করা যায়।’
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে নির্বাচন আয়োজন করা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান দায়িত্ব। যদিও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বলেছেন নির্বাচনের ট্রেন যাত্রা শুরু করেছে, এটা আর থামবে না। কিন্তু এই ট্রেন শেষ স্টেশনে কখন পৌঁছাবে তা জনগণ জানতে পারলে ভালো হয়।
‘বর্তমান সরকারের বিবেচনায় নেয়া উচিত নির্বাচন বিলম্বিত হলে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার শঙ্কা রয়েছে। এজন্য নির্বাচনী ট্রেনের যাত্রা শুরু হওয়ার পাশাপাশি সরকারকে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত।’
পতিত সরকার জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল উল্লেখ করে কিরণ বলেন, ‘বাংলাদেশে শতভাগ ভোট পেয়েও নির্বাচিত হওয়ার নজির রয়েছে। মৃত ব্যক্তিদের ভোট প্রদানের ঘটনাও ঘটেছে। পতিত সরকারের অধীনে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বাকশালী কায়দায় একতরফা নির্বাচন হয়েছিল। আমি আর ডামি, দিনের ভোট রাতে ও একতরফা নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ এ দেশে নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে।’
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের চেয়ে প্রার্থীসহ জনগণের ভূমিকাই বেশি’ শীর্ষক ছায়া সংসদে কবি নজরুল সরকারি কলেজের বিতার্কিকদের পরাজিত করে তেজগাঁও কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক একরামুল হক সায়েম, সাংবাদিক সাইদুর রহমান ও সাংবাদিক মশিউর রহমান খান।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রিকশায় চড়লেন, চালালেন আইরিশ নারী ক্রিকেটাররা
ঢাকা শহরের ঐতিহ্যের মধ্যে অন্যতম রিকশা। ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এটি। এই বাহন ঢাকার অলিগলিতে যেমন প্রয়োজনীয়, তেমনি বিদেশিদের কাছে কৌতূহলের বিষয়। একদিন আগেই বিসিবি জানিয়েছিল, রিকশায় চড়বেন আইরিশ ক্রিকেটাররা। সে কারণে হয়তো আগের রাতেই এই বাহন সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পেয়েছিলেন গ্যাবি লুইস, লরা ডেলানি, আভা ক্যানিংরা। এছাড়া হোটেল আর স্টেডিয়ামে যাওয়া-আসার পথে হয়তো এই বাহনটি চোখে পড়েছে তাদের। এবার সেটাতে চড়ে নতুন অভিজ্ঞতা হলো তাদের। বিসিবি তাদের জন্য আয়োজন করে একটি বিশেষ রিকশা সফর, যা তাঁদের ঢাকা সফরকে এনে দিল এক ভিন্নমাত্রা।
বিসিবির মূল ফটক থেকে শুরু হয়ে স্টেডিয়ামের ২ নম্বর গেট থেকে ৪ নম্বর গেট পর্যন্ত রিকশা ট্যুরের পরিকল্পনা করা হয়। পরে অবশ্য রিকশাগুলো মেয়েদের নিয়ে স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর শুক্রবারের ফাঁকা রাস্তায় ঘুরে বেড়ান তারা। এসময় রিকশাচালকের সঙ্গে অনেককে ছবিও তুলতে দেখা যায়।
ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এই বাহনে বসার পর আইরিশ ক্রিকেটারদের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। লুইস ও হান্টারকে দেখা যায় সেলফি তুলতে আর ভিডিও ধারণ করতে। অনেকে আবার রিকশার ভিন্নধর্মী সজ্জা নিয়ে কৌতূহলী হয়ে সেটি নেড়েচেড়ে দেখছিলেন। একজন সতীর্থকে বসিয়ে প্যাডেল চালিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যান তারা। কয়েকজন ক্রিকেটার গণমাধ্যমকর্মীদের দিকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছাও জানান।
আইরিশ ক্রিকেটারদের এই অভিজ্ঞতা একদিকে যেমন ছিল বিনোদনমূলক, অন্যদিকে এটি তাদের স্মৃতিতে বাংলাদেশের সংস্কৃতি তুলে ধরার এক বিশেষ উপলক্ষ। বাংলাদেশ সফরে এসে রিকশায় চড়ে সেই ঐতিহ্যের অংশ হওয়ার অনুভূতি গ্যাবি লুইস, অ্যামি হান্টাররা অনেক দিন ধরে মনে রাখবেন।
বিদেশি ক্রিকেটারদের বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে অবশ্য এমন আয়োজন বিসিবির নতুন নয়। এর আগে ২০১১ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রতিটি দলের অধিনায়ককে রিকশায় করে মাঠে নিয়ে আসা হয়েছিল। সেই স্মরণীয় মুহূর্তে রিকশায় চড়েছিলেন সাকিব আল হাসান, মাহেন্দ্র সিং ধোনি, শহীদ আফ্রিদি, রিকি পন্টিং, এউইন মরগান, কুমার সাঙ্গাকারা, অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসসহ বিশ্ব ক্রিকেটের তারকারা। এরপর ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও লাসিথ মালিঙ্গাকে রিকশায় চড়ে টুর্নামেন্টের শিরোপা নিয়ে ফটোসেশনে অংশ নিতে দেখা যায়।


About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রথমবার জনসমক্ষে বুশরা বিবি, পাকিস্তানে রাজনীতিতে কীসের ইঙ্গিত?
ইসলামাবাদে আন্দোলনের আগে পিটিআই সমর্থকদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো দেখা করেছিলেন বুশরা। ইমরান খানকে রক্ষার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। এরপর ইসলামাবাদে যখন আন্দোলনকারী ও নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল, তখন হঠাৎই একটি ট্রাকের উপর দেখা যায় তাকে। এরপরই বুশরার দিকে সকলের নজর আসে। ট্রাকের পর থেকে পিটিআই সদস্যদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বুশরা বিবি বলেন, আজ আপনাদের একটি প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। সেটি হলো ইমরান খান এখানে না আসা পর্যন্ত আপনারা চলে যাবেন না। ইসলামাবাদে আন্দোলন ঘিরে সংঘাতের জন্য বুশরার এ বক্তব্যকে দুষছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। তিনি বলেছেন, এর জন্য শুধু বুশরা বিবিই দায়ী। রাজনৈতিক যাত্রাপথে আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনার জন্য বুশরা বিবি’র কাছে গিয়েছিলেন ইমরান খান। সে সূত্রে তারা ঘনিষ্ঠ হন। এরপর ২০১৮ সালে বিয়ে করেন। পাকিস্তানের রাজনীতিকে পরিবারতন্ত্র থেকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সে বছরই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন ইমরান খান। ২০২২ সালের এপ্রিলে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতাচ্যুত হন ইমরান। এরপর চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনের কয়েকদিন আগে তার তৃতীয় স্ত্রী বুশরা বিবিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ইসলামী আইন ভঙ্গ করে ইমরান খানকে বিয়ের অভিযোগ আনে পাকিস্তান সরকার। ওয়াশিংটনভিত্তিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ইমরান খানের সঙ্গে বুশরার সম্পর্কের কারণেই বিক্ষোভকারীদের কাছে তিনি বিশ্বাসযোগ্যতা পেয়েছেন। এই বিক্ষোভকারীরাই সেদিন ইমরানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদে বিক্ষোভ করেছেন। তবে বিক্ষোভে বুশরার ভূমিকার জেরে পিটিআইয়ের মধ্যে বিভেদ দেখা দিতে পারে বলে মনে করেন কুগেলম্যান। তিনি বলেন, বিক্ষোভে বুশরার উপস্থিতি বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। কারণ, দলের অনেক নেতার সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব রয়েছে। এরপরও বুশরার এই ভূমিকা দলকে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। এটিই এখন দলটির কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। এদিকে ইসলামাবাদে বিক্ষোভের আগে কারাগার থেকে নিজের দলের উদ্দেশ্যে একটি বার্তা দিয়েছিলেন ইমরান খান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেছিলেন, রাজনীতির সঙ্গে বুশরা বিবির কোনো সম্পর্ক নেই। স্ত্রী হিসেবে তিনি শুধু আমার বার্তাগুলো পৌঁছে দেন। ইমরানের সঙ্গে সুর মিলিয়ে আজ পিটিআইয়ের জনসংযোগ বিভাগও বলেছে, তিনি ইমরানের স্ত্রী হিসেবে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছেন, দলের কোনো রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়। পাকিস্তানে অনেক নারীই হঠাৎ রাজনীতিতে পা রেখেছেন। যেমন বলা চলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজীর ভুট্টোর কথা। বাবার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের সময় থেকে তিনি রাজনীতি শুরু করেন। রয়েছেন মরিয়ম নওয়াজ শরীফও। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের ভাতিজি। বাবা নওয়াজ শরীফ কারাবন্দি হওয়ার পর তিনি রাজনীতিতে নাম লেখান। এই দু’জনের সঙ্গে বুশরা বিবিকে মিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পাকিস্তানের এক বাসিন্দা লিখেছেন, ‘যখন দাবার সৈনিকেরা পরাজিত হয়, তখন (রাজাকে রক্ষা করতে) রানী এগিয়ে আসেন।’ বুশরা বিবির এই এগিয়ে আসাটা হয়তো কাজে লাগছে। বিক্ষোভে ট্রাকের উপর তার ছবিকে প্রশংসা করছেন অনেক পাকিস্তানি। এখন দেখার বিষয়, রাজনীতিতে ভুট্টো ও শরীফ পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে কথা বলা ইমরান খানও এখন বুশরার ঘাড়ে ভর দিয়ে একই পথে হাঁটেন কিনা।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্বৈরাচারের কামড় এবং সোহেল তাজ by শামীমুল হক
দেশ এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে একের পর এক দাবি আদায়ের নামে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে। এমনটা কেন হচ্ছে? এ প্রশ্ন সর্বত্র। গত প্রায় ষোল বছরে পুলিশ প্রশাসন, সিভিল প্রশাসনসহ সকল ক্ষেত্রে স্বৈরাচারের দোসররা কামড় দিয়ে বসেছে। এ অবস্থায়ই দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। আর স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালায় তার দোসরদের রেখে। এখন ভিন দেশে বসে দোসরদের নির্দেশ দিচ্ছে দেশকে কীভাবে ব্যর্থ করা যায়। কীভাবে ধ্বংস করা যায়। বিভিন্ন সময় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে ফাঁস হওয়া কথাবার্তায় তা স্পষ্ট। সর্বশেষ ইসকনকাণ্ডে তার বিবৃতিও এটাই প্রমাণ করে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী সোহেল তাজ তার ফেসবুক পেইজে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তাতে সরাসরি তিনি স্বৈরাচারকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন-হত্যা, গুম, খুন, গণহত্যা, নির্যাতন-নিপীড়ন, গণতন্ত্র ধ্বংস করে, দুর্নীতি করে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে, দেশটাকে শেষ করে ছাত্র-জনতার ঝাঁটাপেটা খেয়ে পালিয়ে গিয়ে এখন দেশ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে। ও কতো বড় নির্লজ্জ বেহায়া দেশটাকে এক মুহূর্তের জন্য শান্তিতে থাকতে দিবে না। প্রথমে ডিজিটাল জুডিশিয়াল ক্যু-এর চেষ্টা, তারপর একের পর এক অপচেষ্টা- আনসার বাহিনী দিয়ে, ব্যাটারি রিকশা, নূর হোসেন দিবসে ট্রাম্পকার্ড, ঋণ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শাহবাগে মানুষের জমায়েত করার চেষ্টা, বিভিন্ন কলেজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা আর এবার ধর্মীয় সমপ্রীতি নষ্ট করে লাশের উপর ক্ষমতায় ফিরে আসার চেষ্টা। সোহেল তাজ লিখেন- দুইটা বই সবাইকে পড়তে অনুরোধ করবো: ১. আমার ফাঁসি চাই। ২. অন্তরালের হত্যাকারী প্রধানমন্ত্রী। এই দুইটা বই মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান রেন্টুর লেখা। স্ট্যাটাসে সোহেল তাজ লিখেন-নীতি আদর্শ বিচ্যুত খারাপ মানুষের প্রশংসা আমার প্রয়োজন নাই- আমি আপাদেরকে চিনি।
বি.দ্র.: আওয়ামী লীগের ব্রেইন ওয়াশড নষ্ট পচা নীতি/আদর্শ বিচ্যুত লুটেরা খুনি হত্যা গুম নির্যাতনকারীদের সমর্থক সকলকে বলবো অনতিবিলম্বে আমার এই ফেসবুক পেইজটি আনফলো করতে- আর অনুরোধ থাকবে নিজের বিবেককে জাগিয়ে আত্মোপলব্ধি আত্মসমালোচনা করে অনুশোচনা করার। সোহেল তাজ এক সময় এই দলের এমপি ছিলেন। হয়েছিলেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও। যদিও এই মন্ত্রিত্ব তার কাছে হয়ে উঠেছিল বিষাদময়। তার পিতা ছিলেন মুজিবনগর সরকার বা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল এই সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ করেন। ১২ই জানুয়ারি ১৯৭২ সাল পর্যন্ত মন্ত্রিসভা কার্যকর ছিল। শেখ হাসিনা যখন ভিন্ন দেশের আশ্রয়ে তখন সোহেল তাজের মা জোহরা তাজউদ্দীন ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট। আওয়ামী লীগের হাল ধরে তিনি দলকে এগিয়ে নিয়ে যান অনেকদূর। দুঃখের বিষয় হলো-এই তাজউদ্দীনকেই এক সময় বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেয়া হয়। আর শেখ হাসিনার আমলে সোহেল তাজ বাধ্য হয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিতে হয়েছিল। আর কেন ছেড়ে দিতে হয়েছিল। তার সঙ্গে শেখ হাসিনার আচরণ সবই তিনি মিডিয়ার সামনে তুলে ধরেছেন। দেশের প্রতি তার পরিবারের আত্মত্যাগ, তার পরিবারের অবদান শেখ হাসিনাই স্বীকার করেন না। তাইতো শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে হাজারো বার বলেছেন এই দেশটা আমার বাবা স্বাধীন করেছে। এমনভাবে বলতেন যেন তার পিতা একা দেশটা স্বাধীন করেছে। অন্য কারও কোনো ভূমিকা ছিল না। অথচ দেশটাকে স্বাধীন করতে যে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে এ যুদ্ধে তার বাবাকে অস্ত্র ধরতে হয়নি। এ যুদ্ধ করতে গিয়ে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন। সম্ভ্রম হারিয়েছেন দুই লাখ মা-বোন। আর তার পিতা ছিলেন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানিরা আত্মসমর্পণ করলে দেশ স্বাধীন হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম একটি রাষ্ট্র হয়। কিন্তু এ আত্মসমর্পণ নিয়েও কতো নাটক হয়েছে সবাই জানেন। দেশ স্বাধীনের এক বছরেরও বেশি সময় পর ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফেরেন। কারাভোগের পর পাকিস্তানের কারাগার থেকে তিনি ৮ই জানুয়ারি মুক্তি লাভ করেন। পরে তিনি পাকিস্তান থেকে লন্ডন যান এবং দিল্লি হয়ে ঢাকা ফেরেন। তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ের লেখা বইয়ে উল্লেখ রয়েছে দেশে ফিরে বিমানবন্দর থেকে একই গাড়িতে বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দীন ফিরছিলেন। ওই সময় বঙ্গবন্ধু বলেন, তাজউদ্দীন আমার তো প্রধানমন্ত্রী হতে মন চাইছে। তাজউদ্দীন বললেন, হবেন। তাই হয়েছিলেন। দুইদিন যেতে না যেতেই ১২ই জানুয়ারি তাজউদ্দীনের মন্ত্রিসভা বিলুপ্ত করে বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী হয়ে সরকার গঠন করেন। কিন্তু যে উদ্দেশ্য নিয়ে দেশ স্বাধীন হলো সে উদ্দেশ্য থেকে বঙ্গবন্ধু সরকার বিচ্যুত হয়ে পড়েন। দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করেন। নিজ দল আওয়ামী লীগকে বিলুপ্ত করে গঠন করেন বাকশাল নামে নতুন দল। এই বাকশালে দেশের সকল সরকারি- বেসরকারি মানুষকে সদস্য হতে বাধ্য করেন। দেশে চারটি সংবাদপত্র রেখে বাকি সব বন্ধ করে দেন। ফলে মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়ে পড়ে। যে চারটি পত্রিকা রাখা হয়েছিল সেগুলোও বঙ্গবন্ধুর চাটুকারীতে লিপ্ত হয়ে পড়ে। এরপর ঘটে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট দেশের ইতিহাসে নির্মম হত্যাকাণ্ড। বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হন। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় তারা বেঁচে যান।
আওয়ামী লীগ সবসময়ই ছিল স্বাধীন মত প্রকাশের বিরোধী। এটা প্রমাণিত সত্য। শেখ হাসিনার গত প্রায় ষোল বছরের শাসনামলে দেশবাসী তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিরোধী দলগুলো কোনো কথা বলবে তাতেও বাধা। একদলীয় শাসন থেকে নিষ্ঠুরতম স্বৈরশাসকে পরিণত হন হাসিনা। পরপর তিনটি নির্বাচন তার আমলে হয়েছে যা ছিল নির্বাচনের নামে তামাশা। নির্বাচনের পরদিন শেখ হাসিনা আবার নির্লজ্জের মতো আওয়ামী লীগকে পুনরায় ভোট দিয়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেন। তা শুনে মানুষ হাসতেন। গুম, খুন, মামলা, হামলার সংস্কৃতি গড়ে তুলেন দেশে। ছাত্রলীগকে হামলার কারিগর হিসেবে লাইসেন্স দিয়ে দেন। তাই তো প্রকাশ্যে দিনে- দুপুরে ছাত্রলীগ বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে হত্যা করলেও তাদের কিছু হয় না। বিশ্বজিৎকে যখন কোপানো হচ্ছিল তখন ছাত্রলীগ বলছিল সে শিবিরের লোক। অথচ বিশ্বজিৎ চিৎকার করে বলছিলেন আমি শিবির নই। আমি হিন্দু। প্রয়োজনে আমার প্যান্ট খুলে দেখতে পারেন। কিন্তু ছাত্রলীগ কারও কথা শুনেনি। অন্যদিকে এ হত্যাকাণ্ডের পর কোনো হিন্দু নেতাকে প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিতেও দেখা যায়নি। কিন্তু এখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনা নিজের প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে হিন্দু নেতাদের কেউ কেউ জেগে উঠেছেন। তারা রাজপথে নেমে আসেন হিন্দুদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে বলে। কিন্তু দেশবাসী জানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর কোনো হামলা হয়নি। বরং বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশেই হিন্দু সম্প্রদায় মুসলমান সম্প্রদায়ের চেয়ে বেশি শান্তিতে রয়েছে। তবে দু’একটি হামলার ঘটনা যে ঘটেনি তা কিন্তু নয়। এ হামলা ছিল রাজনৈতিক। অবশ্যই ধর্মীয় নয়। দেশে এখনো স্বৈরাচারের দোসররা রয়েছে। কিন্তু তারা নীরবে নিভৃতে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর কীভাবে তা করছে বৃহস্পতিবার সোহেল তাজ তার ফেসবুক পেইজের স্ট্যাটাসে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, প্রথমে ডিজিটাল জুডিশিয়াল ক্যু-এর চেষ্টা করা হয়। তারপর একের পর এক অপচেষ্টা-আনসার বাহিনী দিয়ে, ব্যাটারি রিকশা, নূর হোসেন দিবসে ট্রাম্পকার্ড, ঋণ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শাহবাগে মানুষের জমায়েত করার চেষ্টা, বিভিন্ন কলেজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা আর এবার ধর্মীয় সমপ্রীতি নষ্ট করে লাশের উপর ক্ষমতায় ফিরে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু সবখানেই ব্যর্থ হয়েছেন হাসিনা। তিনি তারপরও বসে নেই। আবার কোন খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন শেখ হাসিনা একমাত্র তিনিই জানেন। হাসিনার একমাত্র ইচ্ছা দেশটাকে ধ্বংস করা। অন্যথায় তিনি তার নেতাকর্মীদের বলে দিতেন এখন তোমরা চুপ থাকো। সময়মতো মানুষের কাছে যাবে। তাদের হৃদয় জয় করবে। গত ষোল বছরের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইবে। যদিও এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনাসহ তার দলের কোনো নেতা ষোল বছরের আকামের জন্য অনশোচনা করেছেন কিংবা দুঃখ প্রকাশ করেছেন- এমন কথা শোনা যায়নি। যারা নিজেদের ভুল স্বীকার করতে এত কার্পণ্য করে তাদের দিয়ে আর কিছু হবে বলে মনে হয় না। এ কারণেই হয়তো আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদী দল। যখনই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে তখনই দেশ স্বৈরশাসনের কবলে পড়েছে। শেখ হাসিনা তো নিজে স্বৈরাচার হয়েছে আবার তার সঙ্গে টেনে নিয়েছে আরেক স্বৈরাচার এরশাদের দল জাতীয় পার্টিকে। দুই স্বৈরাচার মিলে দেশটাকে লুটেপুটে খেয়ে ফোকলা করে এখন দেশছাড়া হয়েছে। এ অবস্থায় দেশের সকল দলকে এক কাতারে এসে সরকারকে সহায়তা করতে হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে দলমত নির্বিশেষে সবাই এক কাতারে দাঁড়াতে হবে। হাতে হাত রেখে দেশ রক্ষার শপথ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে ছাত্র- জনতার রক্তের বদলে পাওয়া নতুন বাংলাদেশকে হারতে দেয়া যাবে না।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গুলিতে বাবার মৃত্যু,৭ মাসের শিশুটি অসহায় by ফাহিমা আক্তার সুমি
ওয়াসিম শেখের স্ত্রী রেহানা আক্তার মানবজমিনকে বলেন, আমার স্বামী ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আমাদের ৭ মাসের একমাত্র সন্তান রয়েছে। সে জন্মের পর থেকে তাকে কেনা দুধ খাওয়াতে হয়। বাবা ছাড়া সংসার পরিচালনা করা একজন মায়ের জন্য অনেক কষ্টের। ঘটনার দিন বিকাল ৪টায় বাসা থেকে বের হয়। ওইদিন আমি ও আমার শাশুড়ি খাবার খাচ্ছিলাম সেসময় সে মেয়েকে ঘুমিয়ে রেখে বাইরে চলে যায়। আমাদের বিয়ের ৮ বছর পর মেয়েটি হয়। তার সন্তানকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। তাকে কোথায় ঘুরতে নিবে, কোথায় পড়াবে সেসব চিন্তা করতো সবসময়। মেয়ের ২ মাস ১২ দিন বয়সে ওর বাবা মারা যায়।
তিনি বলেন, আমার চিন্তা এখন মেয়েকে নিয়ে। আমি দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে আর পড়তে পারিনি। এখন মেয়ের কথা চিন্তা করে আমাকে চাকরি করতে হবে, না হলে মেয়েকে নিয়ে কোথায় কার কাছে যাবো। ওর বাবার ইচ্ছা ছিল মেয়েকে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করাবে কিন্তু সেই ইচ্ছা তো আর পূরণ করতে পারেনি। সে তো একদিকে দেশের জন্য জীবন দিয়েছে, আরেক দিকে আমার সন্তান তার বাবাকে হারিয়েছে। ওর বাবার একমাত্র সন্তান ছিল। এর প্রতি অনেক টান ছিল, মেয়েও তার বাবাকে পেলে আর কাউকে চিনতো না। সারাদিন বাইরে থেকে যখন কাজ শেষে বাসায় আসতো তখন ওর বাবাকে ছাড়া কিছুই বুঝতো না, অনেক রাত পর্যন্ত বাবার সঙ্গে খেলতো। এখন বাবাকে দেখতে না পেয়ে চারিদিকে খুঁজতে থাকে। আমি তো মা আমি বুঝি আমার সন্তান কি চায়। হয়তো সে বলতে পারে না কিন্তু বাবা না থাকার শূন্যতা ঠিকই বুঝতে পারে।
নিহতের মা জোসনা বেগম বলেন, আমি আমার সন্তানরে দুপুরের খাবার খাইয়ে দিলাম। ও বের হওয়ার সময় বলেছিল মা আমি একটু দোকান দেখে আসি যদি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় দোকানটা। এ কথা শুনে আমি তাকে বাধা দেইনি আমি খাবার খাইয়ে দিলাম কিন্তু আমার সন্তান তো আর ফিরে এলো না। এখন আমার ছোট ছেলেটি ব্যবসা চালায়। আমার সন্তান যেভাবে বেচাকেনা করতো এখন সেটি আর হয় না। এখন সবসময় মনে হয় আমার সন্তান যেন কোথায় গিয়েছে। আমাদের গ্রামে কোনো বাড়িঘর নেই, নদীতে ভেঙে গেছে। অনেক আগে আমরা ঢাকায় এসেছি। ওর বাবাও গুলিস্তানে ব্যবসা করতো। সরকার থেকে এখানো কিছু পাইনি, আমার আত্মীয়স্বজনরা কিছু সহযোগিতা করেছে। ছেলে থাকতে আগে তিন রুমের একটি ফ্ল্যাট নিয়ে থাকতাম এখন একটি টিনশেডের বাসায় উঠেছি। তখন ১০ হাজার টাকা বাসা ভাড়া দিতাম এখন ৫ হাজার টাকা দেই। এত টাকা কীভাবে জোগাড় করবো আমরা।
ওয়াসিমের বোন তামান্না ওইদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, গত ১৮ই জুলাই দুপুরে খাবার খেয়ে দোকান দেখার কথা বলে বাইরে যায়। শনির আখড়ায় ভাইয়ের দোকানটি ছিল। এভাবে প্রায়ই সে আন্দোলনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পানি খাওয়াতো। আমার ভাই মারা যাওয়ার ৪ মাস আগে আমার বাবা ব্রেন স্ট্রোক করে মারা যায়। বাবা গুলিস্থানে ব্যবসা করতো। ওইদিন বিকাল ৫টায় আমার মোবাইলে কল আসে। তখন তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাটি জানতে পারি। তাকে উদ্ধার করে শিক্ষার্থীরা ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যায়। এটি শোনার পর আমরা সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা মেডিকেলে যাই। সেখানে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ভাইকে খুঁজতে থাকি। এক ঘণ্টা পরে মর্গে গিয়ে ভাইকে পাই। সেখানে অসংখ্য লাশ ছিল। আমার ভাইয়ের মাথার একপাশের খুলি উড়ে যায় গুলিতে। পরদিন অনেক ঝামেলার মধ্যে গিয়ে আমরা মরদেহ হাতে পাই। কাজলা ব্রিজের সামনে মারা যায়। তিনি বলেন, ফুটপাথে প্যান্টের দোকান ছিল। এই দোকানের আয় দিয়ে পরিবার চলতো। তার পরিবারে মা, তার স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। আমরা তিন ভাই দুই বোন। এই ভাই মেজো ছিল। একামাত্র সন্তান রেখে ভাই মারা যায়। বাবার মৃত্যুর ৪ মাসের মাথায় ভাই মারা গেল। পরিবারে একজনের শোক কাটাতে না কাটাতে আরেক জনের মৃত্যু হলো। এখন সবচেয়ে ভাইয়ের সন্তানটিকে দেখলে কষ্ট হয় কিছু বুঝে উঠতে না উঠতেই বাবাকে হারালো। ও বাবার অনেক আদরের ছিল। এখন মা, ভাবী ও তার সন্তানের চলতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। মা অসুস্থ, ভাবী তার ছোট সন্তানকে নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। এখনো পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে আমরা কোনো সহযোগিতা পাইনি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিলেটে তারাপুর চা বাগানে ভূমি দখলের মহোৎসব by ওয়েছ খছরু
পরবর্তীতে প্রশাসনের তদন্ত রিপোর্টে উঠে এসেছে বাগানের জমিতে ৭২৩টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। এ কারণে বৃটিশ শাসনের সময় থাকা মোট ৫০০ একর ভূমির মধ্যে এখন সেটি ১৩০ একরে ঠেকেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন- বাগানের অভ্যন্তরে মেডিকেলের প্রধান ফটকের সামনে প্রায় ৫০ শতক ভূমি দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে ওই দোকানপাটের ভাড়ার টাকা নিচ্ছেন বাগান কর্তৃপক্ষ। বাগানের গোয়াবাড়ি সড়কের প্রবেশমুখে প্রায় ৬০ শতক ভূমি দখল করে দোকানপাট সহ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে একটি আবাসিক এলাকাও। হাওলাদারপাড়া, জগদীশটিলা, করেরপাড়ার কয়েক একর ভূমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতা সুদীপ দে প্রায় ৮ শতক ভূমিতে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চালান। পরে আইনি লড়াইয়ে বাগান কর্তৃপক্ষ জমি পায়। তবে; বর্তমানে মন্দিরের উন্নয়নের কথা বলে ওই ভূমিতে বাগান কর্তৃপক্ষ দোকানপাট নির্মাণ করে বিক্রি করে দিচ্ছে। ভূমি ক্রয়কারী দোকানের মালিকরা জানিয়েছেন- ৮ থেকে ১০ লাখ টাকায় ৮টি দোকান তারা বাগান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিজ নিয়েছেন। দোকানের পজিশন নিয়ে বর্তমানে মালিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। লাখাউড়া এলাকায় প্রায় ৫৩ একর ভূমি বেহাত রয়েছে। পীর মহল্লার শেষাংশে প্রায় ২০ বিঘা ভূমি দখল করে বাসাবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে ৫ই আগস্টের পর থেকে বাগানের নিকটবর্তী ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপাড়া এলাকায় অন্তত এক বিঘা ভূমিতে অট্টালিকা নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনা চলছে। অভিযোগ উঠেছে- স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শরীফ বক্সের নেতৃত্বে আলাউদ্দিন বক্স, রুমেল বক্স, সুমন বক্স, রুক্কল বক্স সহ ১৬ জন ব্যক্তি ওই ভূমি দখলে নিয়ে বর্তমানে বাসা নির্মাণ করছেন।
দখলের বিষয়টি বুধবার সরজমিন তদন্ত করেছেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি টিম। তারা সরজমিন ভূমি দখলের সত্যতা পেলেও সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করেননি। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। আওয়ামী লীগ নেতা শরীফ বক্স ওই ভূমি দখলে তার নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান- কয়েক বছর পূর্বে ওই ভূমিতে অস্থায়ী স্থাপনা ছিল। তখন বাগান কর্তৃপক্ষ কোনো নিষেধ করেনি। স্থাপনা নির্মাণকারী হাজীপাড়া এলাকার রুমেল বক্স মানবজমিনকে জানিয়েছেন- ২০১৭ সালে ৩৫ শতক ভূমি বাগান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিজ নিয়ে তারা বাড়ি নির্মাণ করছেন। জমি দখলের বিষয়টি সত্য নয়। রুমেলের এই বক্তব্য সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন বাগানের ম্যানেজার রিংকু চক্রবর্তী। তিনি জানিয়েছেন- পূর্বের স্থাপনা তিনি নিজেই উচ্ছেদ করেছেন। প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সময় তিনি সহ বাগানের শ্রমিক নেতাদের মামলা হওয়ায় বর্তমানে তেমন পদক্ষেপ নিতে পারছেন না। এ কারণে ভূমি দখলের জন্য স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় তিনি সাধারণ ডায়েরি ও সেনাবাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ৭ নং ওয়ার্ডের সদ্য সাবেক কাউন্সিলর সাঈদ আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন- একটি বাগান ধ্বংস করে স্থাপনা নির্মাণ করা অপরাধ। এ কারণে আমাদের দাবি হচ্ছে বাগান এলাকা এবং বসতি এলাকার সীমানা নির্ধারণ করা। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সেটি করা হচ্ছে না। তারাপুর বাগান শুধু হাজীপাড়া অংশই নয়, চতুর্দিকে দখলের মহোৎসব চলছে। এদিকে বাগানের জমি দখলের কথা জানিয়ে সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন পাঠানটুলা এলাকার মুহিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। পাঠানটুলা এলাকার সালেক আহমদ জানিয়েছেন- বর্তমানে তারাপুর চা বাগানের ভূমি বাগানের ম্যানেজার বাগানের প্যাডে লিখিত করে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এই বিক্রির বৈধতা কতোটুকু প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন- বাগানে ভূমি বেচা-বিক্রির বিষয়টি এখন এলাকায় ওপেন সিক্রেট। ঘোষণা দিয়ে দোকানপাট বিক্রি করা হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকায় অসন্তোষ বিরাজ করছে। তার বাসার গলির উল্টো দিকে এক ব্যক্তির কাছে বালু ব্যবসার জন্য টাকার বিনিময়ে জমি লিজ দেয়া হয়েছে। বাগান ম্যানেজার রিংকু জানিয়েছেন- তিনি কোনো লিজ দিচ্ছেন না। লোকসানে থাকা বাগানের ঘাটতি পূরণে সংশ্লিষ্ট সবার অনুমতি নিয়ে সেটি করা হচ্ছে। এ টাকার একাংশ মন্দিরের উন্নয়নে ব্যয় করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অর্জন বৃথা যেতে দেয়া হবে না
তিনি বলেন, ভারতের পত্র-পত্রিকাগুলোতে, আমাদের সোশ্যাল মিডিয়াতে এমনভাবে লেখা হচ্ছে, যেন বাংলাদেশে এখন এই ধরনের সমস্ত নিকৃষ্ট ঘটনা ঘটছে। আসলে তা না। কারা এগুলো করছে? কেন করছে? আমি এই কথাটা এজন্য বলছি যে, এই আনন্দে আমাদের থাকার অবকাশ নাই যে, আমরা জিতে গেছি, সব হয়ে গেছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের মাথার ওপরে সেই খড়গ এখনো আছে এবং চতুর্দিকে তারা চেষ্টা করছে আবার অন্ধকারে নিয়ে যাওয়ার। এজন্য খুব সজাগ থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। কোনো রকম হটকারিতা, কোনো রকম বিশৃঙ্খলা যাতে কেউ করতে না পারে, সেটাকে রুখে দিতে হবে।
ছাত্র-সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান রেখে তিনি বলেন, আমি তোমাদেরকে ভারাক্রান্ত করতে চাই না। কারণ নিঃসন্দেহে তোমরা নতুন স্বপ্ন দেখছো, নতুন পৃথিবী দেখছো। সবচেয়ে বড় বিষয়টা তোমরা চিন্তা করছো, এর পরে কি? হ্যাঁ এটাই তোমাদের চিন্তা করতে হবে। এখন এই বাংলাদেশকে তৈরি করা, এখন এই বাংলাদেশটাকে গড়ে তোলা।
ফখরুল বলেন, শেষ করে দিয়ে গেছে আওয়ামী লীগ। কোথাও কোনো অবশিষ্ট রাখেনি, একেবারে লুটপাট করে- আমি সব সময়ে আমার বক্তৃতার মধ্যে বলতাম মেঠো ভাষায় ফোকলা করে দিয়ে গেছে। অর্থনীতি নাই, ব্যাংক লুট, সব জায়গায় লুট, ঘুষ, দুর্নীতি, সমাজটাকেই শেষ করে দিয়ে গেছে। এ বিষয়গুলোকে আমাদেরকেই বন্ধ করতে হবে, আমাদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জনগণ যদি রুখে দাঁড়ায় কোনো শক্তি নাই, সেটাকে কেউ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। আমার অনুরোধ তোমরা ছাত্র, তোমরা আন্দোলনে অংশ নিয়েছো, তোমরা অংশীদার, তোমরা এই বিষয়গুলোর দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখবে কেউ যেন আমাদের অর্জিত সম্পদ কেড়ে না নিতে পারে সেইদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
তিনি বলেন, এখন একটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আছে, দেশের জন্য কিন্তু চারদিকে আবার অন্ধকার আসছে। এটা তোমরা ভালো করে জানো। আমি ভীষণ কষ্ট পাই যখন দেখি যে, আমার ছেলেরা ছেলেরা মারামারি করছে, যখন তুমি এতো বড় একটা বিজয় অর্জন করলে, একটা ফ্যাসিস্টকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিলে, একটা ইতিহাস সৃষ্টি করলে সেই সংঘাত আমাদেরকে দেখতে হবে যে, আমরা সোহ্রাওয়ার্দী কলেজ ও মোল্লা কলেজের ছাত্ররা মারামারি করে রক্তাক্ত হয়ে যাচ্ছে। এটা তো কোনো মতেই গ্রহণযোগ নয়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা তো একটা নতুন জায়গায় এসেছি, নতুন স্বপ্ন দেখছি, নতুন দিগন্ত দেখছি- সেখানে এই ধরনের ঘটনা আমরা দেখতে চাই না। আমি খুব হতাশ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা লাখ লাখ ছাত্রের মিছিল নিয়ে বেরিয়ে এসেছে যে, আমরা শান্তি চাই, আমরা এই ধরনের ঘটনা দেখতে চাই না, ইতিমধ্যে অনেকে প্রতিবাদ করেছে। আমি বয়স্ক মানুষ, জীবনের প্রায় শেষ সময় এসে গেছি, একটাই অনুরোধ আমরা যেটা অর্জন করেছি, সেটা যেন আমাদের বৃথা না যায়।
আয়োজক সংগঠনের সমন্বয়ক মিলন মাহমুদের সভাপতিত্বে কনভেনশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক শরিফ উদ্দিন আহমেদ, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হোসেন শাহরিয়ার, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আমির হোসেন, শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এরফান আলী, অধ্যাপক এসএম মাহবুবুর রহমান, তেজগাঁও সরকারি কলেজের অধ্যাপক সোলায়মান আলী, বিএনপি’র পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য জেড মূর্তজা চৌধুরী তুলা, ঠাকুরগাঁও বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সাল, যুবদলের কামাল আনোয়ার আহম্মেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিএনপি’র মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান, মহানগর বিএনপি’র পাপ্পু সরকারসহ ঠাকুরগাঁওয়ের ছাত্র-যুব সংগঠনের নেতারা ছিলেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
-
▼
2024
(2551)
-
▼
November
(469)
-
▼
Nov 30
(12)
- প্রান্তিক পর্যায়ের অসুস্থ মানুষকে মৃত্যুতে সহায়তা ...
- রাশিয়ার অভিযোগ: শান্তি রক্ষার ছদ্মবেশে ইউক্রেন ‘দখ...
- ভোপালের রাজকন্যা আবিদা সুলতান চালাতেন রোলস রয়েস, ...
- এটাই বাংলাদেশ! by সাজেদুল হক
- নভোথিয়েটার দুর্নীতি মামলা: যেভাবে অব্যাহতি পান হাস...
- রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনী রোডম্য...
- রিকশায় চড়লেন, চালালেন আইরিশ নারী ক্রিকেটাররা
- প্রথমবার জনসমক্ষে বুশরা বিবি, পাকিস্তানে রাজনীতিতে...
- স্বৈরাচারের কামড় এবং সোহেল তাজ by শামীমুল হক
- গুলিতে বাবার মৃত্যু,৭ মাসের শিশুটি অসহায় by ফাহিমা...
- সিলেটে তারাপুর চা বাগানে ভূমি দখলের মহোৎসব by ওয়েছ...
- ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অর্জন বৃথা যেতে দেয়া হবে না
-
▼
Nov 30
(12)
-
▼
November
(469)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

