Wednesday, March 9, 2011

আলজেরিয়ায় এবার পুলিশের বিক্ষোভ

বেতন বাড়ানোর দাবিতে আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে গতকাল সোমবার কমিউনিটি পুলিশের কয়েক হাজার কর্মকর্তা বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় তাঁরা নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে পার্লামেন্টে যাওয়ারও চেষ্টা করেন।
বার্তা সংস্থা এএফপির এক সাংবাদিক জানান, প্রায় ১০ হাজার পুলিশ ওই বিক্ষোভে অংশ নেন। তাঁদের অধিকাংশই ছিলেন ইউনিফর্ম পরা কমিউনিটি পুলিশ। তবে বিক্ষোভ শুরুর পরপরই নিয়মিত পুলিশ বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ঘিরে ফেলে। ১৯৯৪ সালে আলজেরিয়ায় কমিউনিটি পুলিশ বাহিনী প্রতিষ্ঠা করা হয়।

এবার বাহরাইনে বিক্ষোভের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি

বাহরাইনের যুবরাজ শেখ সালমান বিন হামাদ আল-খলিফা দেশটির চলমান বিক্ষোভের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় সংলাপের আগে সবাইকে ধৈর্য ধরারও আহ্বান জানান। সুন্নিশাসিত বাহরাইনে সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়ারা নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এ বিক্ষোভ করছে। এর আগে গত রোববার সৌদি আরব সে দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
গত শতকের নব্বইয়ের দশকের পর থেকে গত মাসে বাহরাইনে সবচেয়ে ভয়াবহ বিক্ষোভ হয়। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়। পরে যুবরাজ শেখ সালমান বিরোধী দলের সঙ্গে জাতীয় সংলাপে বসার উদ্যোগ নেন।

আফগানিস্তানে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ঝটিকা সফর

পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গতকাল সোমবার ঝটিকা সফরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস। দুই দিনের এ সফরে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই এবং সে দেশে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও যৌথ বাহিনীর কমান্ডারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
রবার্ট গেটসের প্রেস সচিব জিওফ মরেল জানান, গেটসের এ সফর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নয়। এদিকে গত রোববার মার্কিন শাসনের অবসানের দাবিতে কাবুলে হাজার হাজার আফগান নাগরিক বিক্ষোভ করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এবং রবার্ট গেটসের আগমন উপলক্ষে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চলতি মাসের শেষের দিকে হামিদ কারজাই দেশটিতে অবস্থানরত বিদেশি সেনাদের কাছ থেকে নিরাপত্তার দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার সময়সূচি ঘোষণা করবেন। এর আগে ওবামা প্রশাসন ঘোষণা দেয়, চলতি বছরের জুলাই থেকে আফগানিস্তানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে। আর তা পুরোপুরি সম্পন্ন হবে আগামী ২০১৪ সাল নাগাদ।
এদিকে দেশটিতে সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ এবং সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। গত সপ্তাহে ন্যাটো বাহিনীর বিমান হামলায় নয়টি আফগান শিশু নিহত হয়।

রাস লানুফ দখলে মরিয়া গাদ্দাফি বাহিনী

লিবিয়ায় প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফির অনুগত বাহিনী বিদ্রোহীদের কাছ থেকে বিন জাওয়াদ পুনর্দখলের পর গতকাল সোমবার তেলবন্দর হিসেবে পরিচিত রাস লানুফ পুনর্দখলে সর্বাত্মক হামলা শুরু করেছে। গত রোববারই তারা বিন জাওয়াদের একটি বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। গতকাল তারা সাঁজোয়া যান নিয়ে রাস লানুফের দিকে অগ্রসর হয়। তাদের সহায়তা করতে বিমান থেকে বোমা হামলা চালানো হচ্ছে। বিন জাওয়াদ ও রাস লানুফে কমপক্ষে ১৪ জন নিহত ও ১০১ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত বেনগাজির মিসরাতা এলাকায় ভারী কামানের গোলা নিক্ষেপের ফলে শিশুসহ ২১ জন মারা যান।
গত রোববার সন্ধ্যা থেকে বিন জাওয়াদের বিভিন্ন এলাকায় গাদ্দাফি বাহিনী বোমাবর্ষণ শুরু করে। এতে বিদ্রোহীরা সেখান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হন। রাস লানুফের রাস্তাঘাটে এখনো বিদ্রোহীরা টহল দিলেও তাদের মধ্যে অতর্কিত বোমা হামলার আশঙ্কা কাজ করছে। স্থানীয় লোকজন সেখান থেকে অন্যত্র পালিয়ে যাচ্ছেন। রাস লানুফ থেকে পালানোর সময় এক ব্যক্তি এএফপিকে বলেন, তাঁরা শুনেছেন গাদ্দাফির অনুগত বাহিনী বাড়ি বাড়ি ঢুকে লোকজনকে গ্রেপ্তার করছে এবং অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে কর্নেল গাদ্দাফি ফ্রান্সের একটি টেলিভিশনকে বলেছেন, আফ্রিকান ইউনিয়ন লিবিয়ার প্রকৃত ঘটনা পরিদর্শনের জন্য একটি ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি’ পাঠাচ্ছে। গাদ্দাফি দাবি করেন, ওই কমিটির সদস্যরা এসে বুঝতে পারবেন, লিবিয়ার ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যা প্রচার করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। গাদ্দাফি বলেন, তিনি আফ্রিকান নেতাদের জানিয়েছেন, লিবিয়ার ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে বিশ্বকে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে যে সেখানে বড় ধরনের সমস্যা চলছে। তাঁর দাবি, লিবিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।
এদিকে জর্ডানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেলিয়াহ্ আল-খতিবকে জাতিসংঘ লিবিয়ায় বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ করেছে। পাশাপাশি সেখানে উদ্ধার ও পুনর্বাসনকর্মী পাঠানোর ব্যাপারেও জাতিসংঘ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

যুক্তরাজ্যে সিগারেট বিক্রি হবে সাদা প্যাকেটে

যুক্তরাজ্যে সিগারেট বিক্রি হবে সাদা প্যাকেটে। এতে কোনো রং থাকবে না, প্রতিষ্ঠানের লোগো থাকবে না, থাকবে না গ্রাফিকসের কোনো কাজ। সিগারেটের প্রতি ধূমপায়ীদের আসক্তি কমাতে শিগগিরই এ ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার। গতকাল সোমবার ডেইলি মেইল পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে এ কথা জানা যায়।
সিগারেটের নতুন প্যাকেটে রং ও নকশাসহ ব্র্যান্ডের নাম না থাকলেও স্বাস্থ্যবিষয়ক সতর্কতা থাকবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তামাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নতুন করে আরোপ করা কঠোর আইনের অংশ হিসেবে সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে। কাল বুধবার জাতীয় ধূমপানবিরোধী দিবসে এ ব্যাপারে ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।
২০০৮-০৯ সালের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের ২২ শতাংশ লোক ধূমপান করে। ধারণা করা হচ্ছে, রংচংহীন প্যাকেটে সিগারেট বিক্রির আইনটি বাস্তবায়িত হলে ধূমপায়ীদের সিগারেটে আসক্তি কমে যাবে। অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন পার্লামেন্টও এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে।

সবচেয়ে জনপ্রিয় দেশ জার্মানি, দ্বিতীয় যুক্তরাজ্য

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় দেশ জার্মানি। এর পরে রয়েছে যুক্তরাজ্য। বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের এক জনমত জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
২৭টি দেশের অন্তত ২৯ হাজার মানুষের ওপর এই জরিপ চালানো হয়। জরিপে অংশ নেওয়া নাগরিকদের মধ্যে শতকরা ৬৩ জনের বিবেচনায় দেশ হিসেবে গড়পড়তায় জার্মানিই সবচেয়ে সেরা। জরিপে অংশ নেওয়া ২৭টি দেশের মধ্যে ২৪টির নাগরিকেরা যুক্তরাজ্য সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে।
যুক্তরাজ্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখে, এমন নাগরিকের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় এবার বেড়েছে। গত বছর এর হার ছিল ৫৩ শতাংশ। এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ শতাংশ। আবার যুক্তরাজ্য সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির হার দুই শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
জরিপে অংশ নেওয়া নাগরিকদের মধ্যে যুক্তরাজ্য সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করার দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা। এর হার ৮০ শতাংশ। এ তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকেরা; ৭৯ শতাংশ। এর পরের স্থানটি কানাডার। সে দেশের শতকরা ৬৯ ভাগ নাগরিকই যুক্তরাজ্য সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে।

ডিএমকেকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ না করতে অনুরোধ

ভারতের ক্ষমতাসীন জোটের অন্যতম শরিক ডিএমকে দলকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ না করার অনুরোধ জানিয়েছে কংগ্রেস। ডিএমকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কংগ্রেসের এ অনুরোধ বিবেচনা করে দেখবে।
ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ও লোকসভার নেতা প্রণব মুখার্জি গতকাল সোমবার ডিএমকে নেতা ও তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী করুণানিধির সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেন। এ ব্যাপারে ডিএমকের একজন নেতা বলেন, প্রণব করুণানিধির সঙ্গে প্রায় আধ ঘণ্টা আলোচনা করেছেন। এ সময় তাঁরা চলমান রাজনৈতিক সংকট নিয়ে আরও আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেন। করুণানিধি মন্ত্রিসভা থেকে তাঁর দলের মন্ত্রীদের পদত্যাগের বিষয়টিও স্থগিত করার কথা বলেন।
গতকাল দুপুরে দিল্লিতে কংগ্রেস ও ডিএমকের নেতাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে কংগ্রেসের পক্ষে প্রণব মুখার্জি ও কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী আজাদ এবং ডিএমকের পক্ষে দয়ানিধি মারন ও আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা চলমান সংকট নিয়ে আলোচনা করেন। তবে তাঁরা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন।
তামিলনাড়ুর আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি নিয়ে জোটের এই দুই দলের মধ্যে এ বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ১৩ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে কংগ্রেস ৬৩টি আসন চাইছে। কিন্তু ডিএমকে ৬০টির বেশি আসন দিতে চাইছে না।
কেন্দ্রীয় সরকারে ডিএমকের ছয়জন মন্ত্রী আছেন। লোকসভায় তাদের আসনসংখ্যা ১৮। লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে সরকারের টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন ২৭৪টি আসন। কংগ্রেসের একক আসনসংখ্যা ২০৭টি। ডিএমকেসহ আরও কয়েকটি দলের আসন মিলিয়ে বর্তমানে লোকসভায় কংগ্রেস জোটের আসনসংখ্যা ২৭৪। এ পরিস্থিতিতে ডিএমকে মন্ত্রিসভা থেকে সরে এলে এবং সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করলে কংগ্রেসের ক্ষমতায় টিকে থাকা দুষ্কর হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের মন্ত্রী

পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের প্রাদেশিক মন্ত্রী জুবাইয়ের খান অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন। গত রোববার রাতে অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতকারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। করাচির পুলিশ এ কথা জানায়।
হামলার সময় জুবাইয়ের হায়দরাবাদ শহরে অবস্থিত তাঁর বাসভবনের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় দুষ্কৃতকারীরা মোটরসাইকেলে থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তবে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং মন্ত্রী দ্রুত বাসার ভেতর চলে যান। মন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরা পাল্টা হামলা চালালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
জুবাইয়ের মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্টের (এমকিউএম) প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য। এমকিউএমের প্রধান আলতাফ হোসাইন লন্ডন থেকে বলেন, সরকারকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। যারা এ ঘটনার জন্য দায়ী, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।
দ্বিতীয়বারের মতো এমকিউএম প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যের ওপর এ ধরনের হামলা হলো। এর আগে গত বছরের ১০ আগস্ট অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকধারীরা রাজা হায়দারকে নাজিমাবাদের একটি মসজিদের বাইরে গুলি করে হত্যা করে।
পাকিস্তানের জোট সরকারের অন্যতম বৃহৎ শরিক দল হচ্ছে এমকিউএম। তবে জ্বালানি তেলির মূল্যবৃদ্ধি ও সরকারের নীতির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদ থেকে তাঁদের মন্ত্রীরা পদত্যাগ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে ইতিবাচক মনে করে চীন

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক এখন অনেকটা স্বাভাবিক ও ইতিবাচক। গতকাল সোমবার চীনের পার্লামেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াং জিয়েচি।
তাইওয়ান, ইন্টারনেট ব্যবহারের স্বাধীনতা, দালাইলামা. দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌ-মহড়া ইত্যাদি বিষয়কে কেন্দ্র করে গত এক বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক বেশ তিক্ত ছিল। কিন্তু চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিন তাওয়ের সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন সফর দেশ দুটির সম্পর্কের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। এখন দুই দেশের সম্পর্ক অনেকটাই স্বাভাবিক ও ইতিবাচক। জিয়েচি বলেন, তাঁদের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে হবে। এ জন্য দুই দেশের রাষ্ট্রনেতারা যেসব বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছেছিলেন, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে এবং পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা আরও বাড়াতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা, আফ্রিকায় চীনের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বহুমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য ও রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য চীনের মুদ্রার মূল্যমান অস্বাভাবিক করে রাখার বিভিন্ন অভিযোগের ওপরই বেশি গুরুত্ব দেন।
জিয়েচি বলেন, ‘চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখন খুব ভালো অবস্থা বিরাজ করছে। এ সম্পর্ক সামনের দিনগুলোতে আরও উন্নত করার চেষ্টা থাকবে আমাদের।’ প্রেসিডেন্ট হু জিন তাওয়ের সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন সফরের পর থেকে ওই সম্পর্ক ভালো হতে থাকে বলে তিনি মন্তব্য করেন। চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের পর চলতি গ্রীষ্মে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বেইজিং সফর করবেন বলে তিনি জানান। দুই দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও কূটনৈতিক পর্যায়ের বৈঠকও দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তবে সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করেন, সম্পর্ক ভালো থাকলেও দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু ব্যাপারে এখনো বেশ মতবিরোধ আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি। যুক্তরাষ্ট্র এ কাজ থেকে সরে না এলে দুই দেশের সুসম্পর্ক ভবিষ্যতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। চীন তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ড মনে করে।
এ ছাড়া তিব্বতের নির্বাসিত ধর্মীয় নেতা দালাইলামা, চীনাদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ নিয়ে মার্কিন আপত্তি এবং পীতসাগরে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ নৌ-মহড়াও দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে বলে তিনি জানান।

পাল্লেকেলেতে রিচার্ডসের পাশে মুরালি?

ভিভ রিচার্ডসকে তাহলে ছাড়িয়ে যাওয়া হলো না মুত্তিয়া মুরালিধরনের! খটকা লাগছে তো? ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা বোলারদের একজন কীভাবে ছাড়িয়ে যাবেন অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানকে? না, এই ছাড়িয়ে যাওয়া মাঠের লড়াই বা পরিসংখ্যানে নয়। এই ছাড়িয়ে যাওয়া সৌভাগ্যে!
জীবদ্দশায় নিজের নামে স্টেডিয়াম (অ্যান্টিগার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়াম) দেখে যেতে পারলেন, সেই স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখতে পারছেন, নিজেকে নিশ্চয়ই অনেক সৌভাগ্যবান ভাবেন রিচার্ডস। এর চেয়েও অনেক বড় গৌরবের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন মুরালিধরন। আরেকটু হলেই খেলে ফেলতেন নিজের নামে নামকরণ হওয়া স্টেডিয়ামে! মুরালিধরন স্টেডিয়ামে খেলছেন মুরালিধরন, ক্রিকেট ইতিহাস দেখত অবিস্মরণীয় এই ঘটনা। হলো না সময়ের মারপ্যাঁচে।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে নির্মিত দুটি নতুন স্টেডিয়ামের একটি হাম্বানটোটার স্টেডিয়ামটির নামকরণ হয়েছে প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষের নামে। রাজাপক্ষে হাম্বানটোটারই সন্তান। ক্যান্ডির স্টেডিয়ামটির নাম ক্যান্ডির সবচেয়ে বিখ্যাত সন্তান মুত্তিয়া মুরালিধরনের নামে করার প্রস্তাব করেন সেন্ট্রাল প্রভিন্সের গভর্নর টিকিরি কোব্বেকাদুওয়া। গত ২৭ জুলাই সেন্ট্রাল প্রভিন্সিয়াল কাউন্সিলে সর্বসম্মতিক্রমে পাসও হয়ে যায় এই প্রস্তাব। ক্যান্ডির নতুন ভেন্যুর নাম তাই ঠিক হয়ে যায় মুত্তিয়া মুরালিধরন আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম। বিশ্রাম বা হঠাৎ চোট না পেলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আগামী পরশুর ম্যাচে এই মাঠেই খেলতে নামছেন মুরালিধরন। কিন্তু ঝামেলা হয়ে গেছে অন্য জায়গায়। স্টেডিয়ামটির নাম যে এখনো পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম!
সেন্ট্রাল প্রভিন্সিয়াল কাউন্সিলে পাস হওয়ার পরও কেন এখনো নামকরণ হলো না মুরালিধরনের নামে? পরিষ্কার উত্তর কারও কাছেই নেই। শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপজয়ী পেসার ও বর্তমানে ক্রিকেট শ্রীলঙ্কার কোচ (নর্থ প্রভিন্স কোচ) রবীন্দ্র পুষ্পকুমারা জানালেন, ‘মাঠটা এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। সামান্য কিছু কাজ এখনো বাকি। মুত্তিয়া আমাদের কিংবদন্তি। পুরোপুরি তৈরি হলে তখন ঘটা করে ওর নামে স্টেডিয়াম উদ্বোধন করা হবে।’ শেষ মুহূর্তের কিছু কাজ সত্যি বাকি। কালও মাঠের এক পাশে অস্থায়ী কাঠের গ্যালারি বানানোর কাজ চলছিল। কিন্তু মুরালি নামাঙ্কিত হওয়ার পথে এটি বাধা হবে কেন? বিশ্বকাপের ম্যাচ দিয়ে উদ্বোধন করার মতো বড় ব্যাপার আর কী হতে পারে, বিশেষ করে, যেখানে স্বয়ং মুরালির খেলার সম্ভাবনা?
পাল্লেকেলের ভেন্যু ম্যানেজার রোলেন পেরেরার কথায় বোঝা গেল সমস্যা অন্য জায়গায়, ‘সেন্ট্রাল প্রভিন্সিয়াল কাউন্সিলে পাস হয়েছে ঠিকই। কিন্তু আমাদের তো ক্রিকেট শ্রীলঙ্কার কথা শুনতে হবে। বোর্ড এখনো আমাদের কিছু জানায়নি।’ শ্রীলঙ্কার প্রবীণ এক ক্রীড়া সাংবাদিক জানালেন স্টেডিয়াম মুরালির নামে করা হবে কি না, এ নিয়ে দ্বিধান্বিত বোর্ড। অনেক দেশে গ্রেট ক্রিকেটারদের নামে স্টেডিয়ামের বড়জোর কোনো স্ট্যান্ড থাকে। মধ্যপ্রাচ্যের একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের সঙ্গে মিলে স্টেডিয়ামটা নাকি মুরালি নিজেই বানাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু নানা ঝামেলায় শেষ পর্যন্ত সেটি হয়নি। পরে বোর্ড নিজেদের উদ্যোগেই করে ফেলে। এটির কোনো ভূমিকা থাকলেও থাকতে পারে।
এমনিতে স্টেডিয়ামটি অসাধারণ, এক পলক দেখলেই মন জুড়িয়ে যায়। প্রেসবক্স থেকে সামনে তাকালে মাঠের খেলা ছেড়ে মাঝেমধ্যেই মন হারিয়ে যেতে পারে অন্য কোথাও। পাশেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল সব পাহাড়! ভেন্যু ম্যানেজার পেরেরা জানালেন, সেঞ্চুরিয়নের সুপার স্পোর্ট পার্কের অনুকরণে গড়া হয়েছে এই স্টেডিয়াম। নিউজিল্যান্ড-পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে আজ ওয়ানডে অভিষেক হলেও এই মাঠের আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছে আসলে গত ডিসেম্বরে, শ্রীলঙ্কা-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট দিয়ে। তবে বৃষ্টির জন্য এক ইনিংসও শেষ হতে পারেনি। সুরঙ্গা লাকমলের সৌজন্যে এই মাঠ ঢুকে গেছে রেকর্ড বুকেও। এই মাঠের প্রথম বলেই ক্রিস গেইলকে আউট করেছিলেন লাকমল, টেস্ট ইতিহাসে কোনো মাঠের প্রথম বলেই উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব আছে আর শুধু কপিল দেব ও ইমরান খানের।
শ্রীলঙ্কার ক্রীড়া সাংবাদিকেরা জানালেন, প্রভিন্সিয়াল কাউন্সিলে যখন পাস হয়েছে, তখন মুরালির নামে হতেই হবে এই স্টেডিয়াম। হয়তো সময় লাগবে দু-এক বছর বা কয়েক বছর। তবে একদিন হবেই। তখন খেলতে নয়, রিচার্ডসের মতো মুরালিধরনও আসবেন দর্শক হয়ে। কষ্ট হয়তো একটু থাকবে, কিন্তু গর্বও কি হবে না!

বিশ্বকাপ-নগরে ইংল্যান্ড

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কী খেলাটাই না খেলল তারা’—এমন ফিসফাস শোনা গেল টিম বাসের অনেক দূরে দাঁড়ানো ছোট ছোট জটলা থেকে। বাসসহ পুরো বিমানবন্দর ঘিরে রাখা নিরাপত্তাকর্মীদের একজনের আফসোস, ‘কাল ইংল্যান্ড হারলে আমাদের সম্ভাবনা ছিল।’ আফসোস, আক্ষেপ সত্ত্বেও নিজেদের দায়িত্বে কোনো ঘাটতি ছিল না। কার্পণ্য ছিল না ইংলিশদের অভ্যর্থনায়ও।
১১ মার্চ স্বাগতিকদের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে অংশ নিতে ইংলিশ দলকে বহনকারী বিমানটি গতকাল বেলা দুইটায় চট্টগ্রামের মাটি ছোঁয়। এর অন্তত এক ঘণ্টা আগেই বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে গিয়ে উপস্থিত হন চট্টগ্রামের মেয়র এম মন্জুর আলম, চট্টগ্রামের ভেন্যু চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীরসহ অন্যরা। নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ছিল অতিথি দলটি। র্যাব-পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীরও সতর্ক প্রহরা ছিল। আড়াইটার দিকে লাল গালিচায় হেঁটে বের হয়ে আসে ইংল্যান্ড দল। মেয়র দলের অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের হাতে তুলে দেন চট্টগ্রাম নগরের প্রতীকী চাবি। তারপর স্কুলের শিক্ষার্থীরা ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে জানায় তাদের অভ্যর্থনা।
রুদ্ধশ্বাস এক জয়ের পরদিনই দীর্ঘ বিমান ভ্রমণজনিত ক্লান্তি কি ভর করেছিল বিদেশি এই দলটিকে! না করে পারেই না। কিন্তু ওই জয়ের আনন্দের রেশ দেখা গেল তাদের অভিব্যক্তিতে। বাসে উঠেই পর্দা তুলে বাইরে উঁকি দিলেন অ্যান্ডারসন, কলিংউডরা। এর আগেও দলটি দুবার চট্টগ্রামে এসেছে। প্রথমবার ২০০৩ সালে। শেষবার ঠিক এক বছর আগে গত মার্চ মাসে। সেবার ওয়ানডেতে বাংলাদেশ হেরেছিল ৪৫ রানে।
কিন্তু গত বছরের চট্টগ্রাম আর বিশ্বকাপ নগর চট্টগ্রামের সঙ্গে কিছুটা অমিল খুঁজে পাবেন তাঁরা, এটি নিশ্চিত। সেবার এত নিরাপত্তা ছিল না। বিমানবন্দরের মুখে সাম্পান, পথে পথে লাল-সবুজ পতাকার পাশাপাশি নিজেদের দেশের পতাকা ছিল। নিমতলা ও টাইগার পাস মোড়ের ক্রিকেটার ভাস্কর্য ও রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ভাস্কর্যও দৃষ্টি এড়ানোর কথা নয়। এই দুই জায়গায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে স্কুলছাত্ররা দুই দেশের পতাকা নেড়ে অভ্যর্থনা জানায় অতিথি ক্রিকেটারদের।
আরেকটি জিনিস তাঁদের নতুন মনে হতেই পারে। বিমানবন্দর থেকে পেনিনসুলা হোটেল পর্যন্ত পুরো সড়কের একপাশ বন্ধ করে সাইরেন বাজিয়ে ছুটে গেছে স্ট্রাউসদের বহনকারী গাড়িবহর। আর পাঁচ-দশ হাত পরপর দাঁড়িয়ে ছিল পুলিশ।

নিউজিল্যান্ডের ভাবনার বড় অংশে মিসবাহ

গত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে ফেরার পর থেকেই নিজেকে নতুনভাবে চেনাতে শুরু করেছেন পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক মিসবাহ- উল হক। ব্যাট হাতে পরিণত হয়েছেন পাকিস্তানের নির্ভরতার প্রতীকে। আজ ক্যান্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নামার আগে তাই মিসবাহকে নিয়ে বাড়তি সতর্ক নিউজিল্যান্ড। মিসবাহর এই নতুন রূপের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডই যে বেশি পরিচিত! বিশ্বকাপ শুরুর আগমুহূর্তে নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে চার ম্যাচে ২০৩ রান করেছিলেন ৩৬ বছর বয়সে নিজেকে নতুন করে ফিরে পাওয়া এই পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান। ব্যাট হাতে তাঁর দুর্দান্ত পারফরমেন্সের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন বিশ্বকাপেও। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে পাকিস্তানের তিনটি জয়েই রেখেছেন বড় ভূমিকা। তিন ম্যাচ মিলিয়ে করেছেন ১৮৫ রান।
মিসবাহকে তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে দিলেই বাকি কাজ সহজ হয়ে যায়-ব্যাপারটি বেশ ভালো মতোই রয়েছে নিউজিল্যান্ড শিবিরের মাথায়। কিউই পেসার টিম সাউদিও তেমনটি মনে করেন। নিউজিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণের অন্যতম প্রধান অস্ত্র সাউদি বলেন, ‘মিসবাহ খুব দারুণ একটা সময় কাটাচ্ছে। শুধু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই না, বিশ্বকাপেও সে খুব ভালো খেলছে। তবে নিউজিল্যান্ডে আমরা তার ব্যাটিং সম্পর্কে অনেক ধারণা পেয়েছি। আর সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই আমরা তাকে তাড়াতাড়ি সাজঘরে ফেরানোর চেষ্টা করব।’
প্রথম তিনটি ম্যাচের দুইটিতেই বড় জয় পেয়েছে নিউজিল্যান্ড। কেনিয়া ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। তবে ছোট দলগুলোর সঙ্গে জিতলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খুব বেশি সুবিধা করে উঠতে পারে নি তারা। অবশ্য আজ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামার আগে সেই হারটা নিয়ে খুব বেশি ভাবতে চাচ্ছেন না সাউদি। তিনি বলেছেন, ‘এখনো পর্যন্ত আমরা মোটামুটি ভালোই খেলেছি। দুইটা ম্যাচে খুব ভালোভাবেই জিতেছি। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আমাদের পারফরমেন্স খুব একটা ভালো ছিল না। তবে আমরা সেই ম্যাচের ভুল-ত্রুটি শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করছি। বিশ্বকাপের আসরে একটা ম্যাচের ব্যর্থতা নিয়ে খুব বেশি আলোচনা করে লাভ নেই। প্রতিটা ম্যাচ নিয়েই আমাদের সমানভাবে ভাবতে হবে।’

রাজ্জাককে তিন নম্বরে খেলানোর চিন্তা

পাকিস্তানি অল রাউন্ডার আবদুল রাজ্জাকের ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তিনি যে ব্যাটিংটা ভালোই পারেন, আর ব্যাট হাতে দলকে জেতাতে পারেন তার প্রমাণ তিনি অতীতে অনেকবারই রেখেছেন। এই তো সেদিন, আবুধাবিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ের সাক্ষর রেখে পাকিস্তানকে এনে দিয়েছিলেন অভাবনীয় এক জয়। ব্যাটসম্যান হিসেবে যিনি একজন ‘ম্যাচ উইনার’ তাঁকে সাত/আটে পাঠিয়ে তাঁর ব্যাটিং সামর্থ্যের সদ্ব্যবহার পাকিস্তান দল করছে কিনা এই প্রশ্ন খুব জোরের সঙ্গেই উঠে গেছে চারিদিকে।
প্রশ্ন উঠতো না যদি পাকিস্তান দলে সাঈদ আনোয়ার, ইনজামাম, ইজাজ, মোহাম্মদ ইউসুফদের মতো ব্যাটসম্যানরা থাকতেন। বিশ্বকাপের প্রথম থেকেই সুন্দর সূচনা এনে দিতে ব্যর্থ দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান দ্বয়। প্রতি ম্যাচেই মিসবাহ-উল-হক আর উমর আকমল জ্বলে উঠছেন দলের ত্রাণকর্তার ভূমিকায়। মাঝে-মধ্যে ইউনুস খান দলের ব্যাটিংয়ে এনে দিচ্ছেন নির্ভরতা। এই ক’জন বাদে বাকিরাতো সকলেই প্রায় ব্যর্থ। রাজ্জাক ব্যাট হাতে মাঠে নামছেন এমন একটি সময়ে যখন ইনিংসের আর বেশি বাকি নেই। ভেবে-চিন্তে নিজের ইনিংস গড়ে তোলার সময়ই পাচ্ছেন না দলের সফলতম এই অল রাউন্ডার। অথচ, তাঁর মতো একজন ব্যাটসম্যানকে যে ইনিংস গড়ে তোলার জন্য কিছু সময় দেওয়া উচিত-একথা মানেন সকলেই।
এমন একটি সময়ে পাকিস্তান দলের ভেতরেই রাজ্জাককে তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর কথা-বার্তা হচ্ছে। রাজ্জাক দলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানটিতে অতীতে অনেকবারই খেলেছেন এবং সফল হয়েছেন। নিরানব্বইয়ের বিশ্বকাপে কয়েকটি ম্যাচে রাজ্জাককে তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলেন তত্কালীন অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম। রাজ্জাক দলকে খুব একটা অখুশিও করেননি সেই স্থানটিতে।
সেই ওয়াসিম আকরামও মনে করেন, এই অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে আট নম্বরে পাঠিয়ে দল তাঁর ব্যাটিং সামর্থ্যের অপচয় করছে। তবে রাজ্জাককে আসলেই তিন নম্বরে পাঠানোটা ঠিক হবে কিনা সেটা নিয়ে তাঁর মধ্যে রয়েছে সংশয়। তিনি বলেন, ‘১৯৯৯ ও ২০১১ এই দুইটি সালের ব্যবধান এগারো বছর। নিরানব্বইয়ে হয়তো সে সফল ছিল, কিন্তু এখন সে আদৌ সফল হবে কিনা তা নিয়ে আমার সংশয় রয়েছে।’ ওয়াসিম আকরাম দলের একজন ব্যাটসম্যানকে বাদ দিয়ে অতিরিক্ত একজন বোলার খেলাতে পারে। সেক্ষেত্রে রাজ্জাকের ব্যাটিং সামর্থ্য ব্যবহার করার যথেষ্ট সুযোগ থাকছে।’
পাকিস্তানি দলের চিন্তা অন্য জায়গায়, যেখানে উদ্বোধনী জুটি তেমন একটা শুভ সূচনা এনে দিতে পারছে না, সেক্ষেত্রে রাজ্জাককে তিন নম্বরে নামিয়ে একটা পাওয়ার প্লে’র একটা সুযোগ নেওয়া যেতে পারে। তবে আরো দুই/একটি ম্যাচ বর্তমান কম্বিনেশনে দলকে রেখে দেখতে চায় ম্যানেজমেন্ট। তবে, রাজ্জাককে তিন নম্বরে ব্যাট করার ব্যাপারে মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও ম্যানেজমেন্ট জানিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

নতুন রণকৌশল ইংল্যান্ডের

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্নে বড়সড় আঘাত হেনেছে কেভিন পিটারসেনের ইনজুরি। ব্যাট হাতে নির্ভরযোগ্য ভূমিকা পালনের পাশাপাশি উপমহাদেশের স্পিন-বান্ধব উইকেটে তাঁর অফস্পিনের ওপরেও অনেকখানি নির্ভরশীল ছিলেন ইংলিশ অধিনায়ক অ্যান্ডি স্ট্রাউস। কিন্তু হার্নিয়া ইনজুরির কবলে পড়ে মাত্র চার ম্যাচ পরেই শেষ হয়ে গেল এই ইংলিশ অল রাউন্ডারের বিশ্বকাপ।
পিটারসেনের এ আকস্মিক বিদায়ের পর এখন বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোর জন্য নতুন করে রণকৌশল সাজাতে হচ্ছে ইংল্যান্ডকে। পিটারসেনের জায়গায় ২৪ বছর বয়সী ইয়ন মরগান দলে আসতে পারেন বলে জানা গেছে। বিশ্বকাপের আগে আঙুলের ইনজুরির কারণে চূড়ান্ত দল থেকে বাদ পড়েছিলেন মরগান। কিন্তু তিনি এখন পুরোপুরিই সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলে জানিয়েছে ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ড।
পিটারসেনের অনুপস্থিতিতে ব্যাটিং অর্ডারও কিছুটা নতুন করে সাজাতে হবে ইংল্যান্ডকে। উদ্বোধনী জুটিতে অধিনায়ক অ্যান্ডি স্ট্রাউসের সঙ্গে মাঠে নামতে হতে পারে উইকেটরক্ষক ম্যাট প্রিয়রকে। আগে শুরুতে ব্যাট করার অভিজ্ঞতা থাকলেও মাঝের ওভারগুলোতে স্পিন ভালো খেলতে পারেন বলে প্রিয়রকে মিডল অর্ডারে নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু এখন বাধ্য হয়েই তাঁকে নামতে হতে পারে শুরুতেই। স্ট্রাউসের উদ্বোধনী সঙ্গী হিসেবে দেখা যেতে পারে রবি বোপারাকেও।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ ম্যাচটাতে ৬ রানের অসাধারণ এক জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। স্টুয়ার্ট ব্রড, জেমস অ্যান্ডারসনদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ভর করে এ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটাতে জয় পেলেও বোলিং নিয়ে দুশ্চিন্তা এখনো শেষ হয়ে যায়নি ইংল্যান্ডের। আগের তিনটি ম্যাচেই বোলারদের ব্যর্থতা বেশ ভালোই ভুগিয়েছে ইংল্যান্ডকে। চেন্নাইয়ের চিদাম্বরম স্টেডিয়ামের উইকেটেরও অনেকখানি ভূমিকা আছে এ জয়ের পেছনে। অধিনায়ক স্ট্রাউসও স্বীকার করেছেন এ কথা। তিনি বলেছেন, ‘এ ধরনের পিচে সাধারণত খুব বেশি খেলা হয় না। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।’ আগামী ম্যাচগুলো জেতার জন্য বোলিংয়ের দিকে আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে বলে সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন স্ট্রাউস।

বরুণ-যামিনীর বিয়ে

বাঙালি মেয়ে যামিনী রায় চৌধুরী ও বরুণ গান্ধীর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল রোববার গঙ্গাতীরবর্তী বারানসিতে কাঞ্চি মঠ নামে পরিচিত কামকোটেশ্বর মন্দিরে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। মন্দিরের শঙ্করাচার্য স্বামী জয়েন্দ্র সরস্বতীর নেতৃত্বে একদল পুরোহিত সনাতন (হিন্দু) ধর্মমতে তাঁদের বিয়ের মন্ত্র পাঠ করান।
বিয়েতে বরুণ পরেছিলেন সিল্কের কুর্তা ও ধুতি। আর যামিনী পরেছিলেন গোলাপি রঙের শাড়ি। শাড়িটি বরুণের মা মেনকাকে তাঁর শাশুড়ি ইন্দিরা গান্ধী ৪০ বছর আগে উপহার দিয়েছিলেন।
স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে সাতটায় শুরু হয়ে মাত্র দেড় ঘণ্টার মধ্যে বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বরুণের মা মেনকা সব সময়ই নবদম্পতির পাশে ছিলেন। তবে সোনিয়া গান্ধী পরিবারের কেউ এ বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন না।
জয়েন্দ্র সরস্বতী বলেন, ‘সুন্দরভাবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। আমি দম্পতিকে আশীর্বাদ করেছি।’
বিয়েতে সানাই বাজান প্রয়াত বিসমিল্লা খানের জামাতা আব্বাস ও তাঁর সঙ্গীরা। বিয়ে উপলক্ষে গত শনিবার বরুণ গান্ধী ও যামিনী রায় চৌধুরীর পরিবারের সদস্যরা বারানসিতে পৌঁছান। তাঁরা একটি হোটেলে ওঠেন। সেখানেই বরুণ ও যামিনীর গায়েহলুদ হয়। কয়েক দিন আগে বরুণের নানির মৃত্যু হওয়ায় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কাল মঙ্গলবার নির্ধারিত বিবাহোত্তর ভোজ অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতনের সাবেক ছাত্রী যামিনী ইনকা নামে পরিচিত।

কবি সমরেন্দ্র সেনগুপ্তের জীবনাবসান

পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কবি সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত আর নেই। গতকাল রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দুরারোগ্য ক্যানসারে ভুগছিলেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি দুই ছেলেসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
কবি সমরেন্দ্র সেনগুপ্তের জন্ম ১৯৩৫ সালে ঢাকার পুরানা পল্টনে। ম্যাট্রিকুলেশন পাস করার পর ১৯৫১ সালে তিনি কলকাতায় চলে আসেন এবং বাম রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত ১৯৫৬ সালের দিকে লেখালেখি শুরু করেন। এ পর্যন্ত তাঁর ৩০টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, যার চারটি প্রকাশিত হয়েছে ঢাকা থেকে। কবির শেষ কাব্যগ্রন্থ অবৈষ্ণব পদাবলী সম্প্রতি কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত হয়। ঢাকা ও কলকাতা নিয়ে তিনি লিখেছেন দুই নগরী।
সমরেন্দ্র সেন আমার সময় অল্প কাব্যগ্রন্থের জন্য ২০০৭ সালে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার পান। কফি হাউজের সিঁড়ি কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯৯৮ সালে পান রবীন্দ্র পুরস্কার। এ ছাড়া বিষ্ণু দে পুরস্কারসহ পেয়েছেন আরও অনেক পুরস্কার।
সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ছুটে যান মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো ‘দেশ আমার স্বদেশ’। গতকাল সন্ধ্যায় দক্ষিণ কলকাতার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

ডিএমকের ছয় মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে বিপদে ফেলে দিয়েছে ক্ষমতাসীন জোটের অন্যতম শরিক দল ডিএমকে। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় ডিএমকে মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভা থেকে তাদের ছয়জন মন্ত্রী সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন।
সরকারের পতন ঠেকাতে এখন মনমোহন ডিএমকে নেতাদের বুঝিয়ে-শুনিয়ে জোটে রাখার সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী আজাদ সংকট নিয়ে ডিএমকে নেতাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য চেন্নাইয়ের পথে রওনা হয়েছেন।
এদিকে ডিএমকে নেতারা বলেছেন, আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁরা মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র দিয়ে যাবেন। তবে সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে শিগগিরই তাঁরা রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দেবেন কি না, সে ব্যাপারে কিছু বলেননি। এ ছাড়া কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক একেবারে ছিন্ন না করে বিষয়ভিত্তিক সমর্থন দিয়ে যাওয়ার একটা ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে ডিএমকের পক্ষ থেকে।
সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা: ভারত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র-বিধ্বংসী রকেটের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। ওডিশার একটি প্রতিরক্ষা ঘাঁটি থেকে গতকাল রোববার এটির পরীক্ষা চালানো হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে শত্রুদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে পারবে।

নেপালে সরকারে যোগ দিল মাওবাদীরা

নেপালের প্রধানমন্ত্রী ঝালানাথ খানাল গত শুক্রবার তাঁর মন্ত্রিসভায় চারজন মাওবাদীকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। মাওবাদীদের সরকারে যোগ দেওয়া না-দেওয়া নিয়ে এত দিন যে অনিশ্চয়তা ছিল, এই পদক্ষেপের ফলে তার অবসান হলো।
দীর্ঘ সাত মাসের রাজনৈতিক অচলাবস্থা শেষে মাওবাদীদের সহযোগিতায় খানাল গত মাসে নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় এত দিন মন্ত্রিসভা গঠন করা সম্ভব হয়নি।
নিয়োগ দেওয়া চার মাওবাদী মন্ত্রীর মধ্যে কৃষ্ণ বাহাদুর মাহারাকে উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করবেন। এ ছাড়া বাহাদুর রায়ামাজহিকে শারীরিক পরিকল্পনা ও শ্রম, বারশা ম্যান পুনকে শান্তি ও পুনর্গঠন এবং খাজা বাহাদুর বিশ্বকর্মকে পর্যটনমন্ত্রী করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপপ্রধানমন্ত্রী কৃষ্ণ বাহাদুর মাহারা বলেন, তাঁদের সরকারে যোগ দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশের সংবিধান রচনা ও চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা।

সৌদি আরবে বিক্ষোভ সমাবেশ নিষিদ্ধ

সৌদি আরবে সব ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। গতকাল রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করতে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে।
মধ্যপ্রাচ্যের দুটি দেশে গণবিক্ষোভের মুখে প্রেসিডেন্টের পতন এবং লিবিয়ায় ভয়াবহ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি সরকার এ ব্যবস্থা নিল। সৌদি আরবেও এর মধ্যে কয়েকটি ছোটখাটো বিক্ষোভ করেছে সংখ্যালঘু শিয়ারা। এই অবস্থায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাদশাহ আবদুল্লাহ গত মাসে জনগণের জন্য আবাসন, বিদেশে শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোসহ বেশ কিছু ঘোষণা দিয়েছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দেশের ইসলামিক আইনের এবং সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ বিক্ষোভ-সমাবেশ, অবস্থান ধর্মঘট বা এ ধরনের কর্মসূচি আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ করা হলো।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কেউ আইন ভঙ্গ করার চেষ্টা করলে আইনত সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সম্ভাব্য বড় ধরনের বিক্ষোভ ঠেকাতে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে সরকার। তবে এই অবস্থায় বিক্ষোভকারীরাও তাঁদের কৌশল পরিবর্তন করছেন। তাঁরা এখন বিক্ষোভের মিছিলে নারীদের নামানোর পরিকল্পনা করছেন, যাতে সেনারা সহজে গুলি চালাতে না পারেন।
বিভিন্ন সময়ে আটক বন্দীদের মুক্তির দাবিতে গত কয়েক দিনে তেলসমৃদ্ধ দেশের পূর্বাঞ্চলে বিক্ষোভ হয়েছে। গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে বিক্ষোভ করেন কয়েক শ মানুষ। বিক্ষোভকারীরা শিয়া সম্প্রদায়ের নেতা শেখ তৌফিক আল-আমিরের মুক্তির দাবি জানান। আমিরকে গত রোববার গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর মুক্তির দাবিতে গত কয়েক দিনে সামাজিক যোগাযোগের সাইট ফেসবুকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
পূর্বাঞ্চলীয়প্রদেশের আল-হুফুফ ও আল-কাতিফ শহরেও শুক্রবার একই ধরনের বিক্ষোভ হয়। তবে পুলিশ লাঠিপেটা করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এর আগে বৃহস্পতিবার আল-কাতিফ শহরে একটি বিক্ষোভ-সমাবেশ থেকে পুলিশ ২২ জনকে আটক করে। বন্দীদের মুক্তির দাবিতে তাঁরা বিক্ষোভ করছিলেন বলে জানান সৌদি আরবের হিউম্যান রাইটস ফার্স্ট সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম আল-মুগাইতিব।
মুগাইতিব বলেন, বিক্ষোভকারীরা আল-কাতিফের নয় বন্দী এবং শেখ আল-আমিরের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন। তাঁরা আল-আমিরের পোস্টার নিয়ে মিছিলে যোগ দেন। এ ছাড়া বিক্ষোভকারীরা দাবি আদায়ে শিয়া-সুন্নি ঐক্যের আহ্বান জানান।
সৌদি আরবে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানোয় গ্রেপ্তার করা হয়েছে আল-আমিরকে। দেশটির রাজপরিবার বর্তমানে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী।
গত শুক্রবার রাজধানী রিয়াদের আল-রাজহি মসজিদের সামনে জড়ো হয়ে কিছু মানুষ দমন-পীড়ন ও রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এ সময় সেখান থেকে তিনজনকে আটক করা হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

লিঙ্কন বর্ণবাদীছিলেন!

দাসপ্রথা অবসানের আন্দোলনের অন্যতম অগ্রপথিক হিসেবে বিবেচিত মার্কিন নেতা আব্রাহাম লিঙ্কনের ঐতিহাসিক গেটিসবার্গ ভাষণ প্রজন্মের পর প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করে আসছে। ওই ভাষণকে অসাম্য ও বর্ণবাদবিরোধী চেতনার অন্যতম উদাহরণ বলে মনে করা হয়। তবে সেই বিশ্বাসের ভিত্তিমূলে আঘাত হেনেছেন দুই মার্কিন গবেষক। তাঁরা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট লিঙ্কন মোটেও বর্ণবাদ বিরোধী নন বরং ঘোর বর্ণবাদী ছিলেন। তিনি কৃষ্ণাঙ্গদের যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে লাতিন আমেরিকায় চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত কালোদের তখনকার ব্রিটিশ হন্ডুরাসে (বর্তমানে বেলিজ) থাকার ব্যবস্থা করতে তিনি ব্রিটেনকে গোপনে অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্সে অবস্থিত জর্জ ম্যাসন ইউনিভার্সিটির দুই গবেষক ফিলিপ ম্যাগনেস ও সেবাস্টিয়ান পেগ যৌথভাবে লেখা একটি বইয়ে এমনটাই দাবি করেছেন। ‘কলোনাইজেশন আফটার ইমানসিপেশন’ নামের ওই গবেষণাগ্রন্থে তাঁরা বলেছেন, লিঙ্কন উপনিবেশবাদের সমর্থক ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র যে মুহূর্তে আব্রাহাম লিঙ্কনের প্রথম ভাষণের ১৫০তম বার্ষিকী উদ্যাপন করতে যাচ্ছে, সেই মুহূর্তে এই তথ্য প্রকাশ করা হলো।
ওই দুই গবেষক বলেছেন, ব্রিটিশ ন্যাশনাল আর্কাইভস ও ইউএস ন্যাশনাল আর্কাইভস থেকে উদ্ধারকৃত নথিপত্রের ভিত্তিতে তাঁরা বইটি লিখেছেন।
বইটিতে বলা হয়েছে, ১৮৬২ সালে হোয়াইট হাউসে ‘মুক্ত কৃষ্ণাঙ্গদের’ উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে লিঙ্কন তাদের যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে মধ্য আমেরিকায় বসতি গড়ার জন্য বলেছিলেন। লিঙ্কন কৃষ্ণাঙ্গদের বলেছিলেন, ‘আপনাদের জাতিগোষ্ঠীর বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনা করে এবং শ্বেতাঙ্গদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আপনাদের কিছু বিষয় ছাড় দেওয়া উচিত।’ তিনি বলেন, যেসব কৃষ্ণাঙ্গ স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করার স্বপ্ন দেখে, তারা ‘স্বার্থপর’।
ওই গবেষকেরা দাবি করেছেন, লিঙ্কন উপনিবেশবাদকে সমর্থন করতেন এবং এরই অংশ হিসেবে তিনি গোপনে ব্রিটেনের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছিলেন।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ইছাখালী চরে শিল্পপার্ক স্থাপনের উদ্যোগ

চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিদ্যমান শিল্প সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী চরে শিল্পপার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ১৭ হাজার একরেরও বেশি জায়গাজুড়ে এ শিল্পপার্ক স্থাপন করা হবে।
শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া গত বৃহস্পতিবার প্রস্তাবিত শিল্পপার্ক এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহমেদ, মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিনসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে শিল্পমন্ত্রী প্রকল্প এলাকার দিয়ারা জরিপ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, এ প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে। দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা সহজেই শিল্প কারখানা স্থাপনের জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজে পাবেন। তিনি দ্রুত এ শিল্পপার্ক স্থাপনের কাজ সমাপ্ত করার জন্য সংশিষ্ট সবার সহায়তা কামনা করেন।
প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের শিল্পমন্ত্রী বলেন, মহাজোট সরকার চট্টগ্রামের শিল্প উন্নয়নে অত্যন্ত সচেতন রয়েছে। চট্টগ্রামে বিদ্যমান বন্দরসুবিধা কাজে লাগিয়ে দেশের শিল্পায়নের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা সংযোজন করা হবে। তিনি এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য বেসরকারি উদ্যোক্তা, স্থানীয় প্রশাসন, রাজনীতিবিদ এবং জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শ দেন।
তিনি আরও বলেন, বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিল্প কারখানা স্থাপনের জন্য খুব শিগগির চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবেশ সড়ক থেকে সীতাকুণ্ড ও ফৌজদারহাট সমুদ্র উপকূল হয়ে মিরসরাই ও মুহুরী প্রজেক্টের ওপর দিয়ে ফেনী পর্যন্ত একটি সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এর ফলে সমুদ্র-উপকূলবর্তী অঞ্চলে জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ ভাঙাসহ অন্যান্য শিল্প কারখানার প্রসার ঘটবে। তিনি জাতীয় স্বার্থে গুণগতমান বজায় রেখে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে এ সড়ক নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি নিয়মিত মুনাফা করছে

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে ২০০৫ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে মুনাফা অর্জন করে আসছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি আট কোটি টাকারও বেশি মুনাফা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। চলতি বছর এ প্রতিষ্ঠান ১১ কোটি টাকারও বেশি মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে।
শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া গত শনিবার গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) পরিদর্শনকালে আয়োজিত বৈঠকে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে বিএমটিএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইফুর রহমান, মহাব্যবস্থাপক (উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ) লে. কর্নেল মো. আকতারুজ্জামানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে জানানো হয়, ধারাবাহিকভাবে আর্থিক ক্ষতির কারণে বন্ধ করে দেওয়া বিএমটিএফ ২০০০ সালের জুলাই মাসে উন্নত ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি সীমিত জনবল ও পুরোনো প্রযুক্তি দিয়েই সেনাবাহিনীর জন্য ট্রাক, পিকআপ, জিপ সংযোজন এবং ফুয়েল ভাউচার, ওয়াটার ভাউচার, ওয়াটার ট্রেইলার নির্মাণসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করে।
শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, সামরিক যানবাহন সংযোজন ও তৈরির পাশাপাশি বিএমটিএফকে বেসামরিক যানবাহন তৈরিরও উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, জাহাজ নির্মাণ, গাড়ি উৎপাদনসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় শিল্পের জন্য আমদানির বিকল্প খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরি করে বিএমটিএফ লাভবান হতে পারে। বাংলাদেশে হালকা প্রকৌশল শিল্পের বিশাল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি জাতীয় স্বার্থে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বিএমটিএফ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। দেশীয় শিল্পের স্বার্থে শিল্প মন্ত্রণালয় সব ধরনের নীতি-সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি দেশে টেকসই শিল্পায়নের ক্ষেত্রে কার্যকর অবদান রাখার জন্য বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির বিএমআরই করা প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
বৈঠক শেষে মন্ত্রী বিএমটিএফের বিভিন্ন ওয়ার্কশপে গাড়ি সংযোজন, তৈরি ও খুচরা যন্ত্রাংশ উৎপাদন-প্রক্রিয়া ঘুরে দেখেন।

মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি নিয়মিত মুনাফা করছে

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে ২০০৫ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে মুনাফা অর্জন করে আসছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি আট কোটি টাকারও বেশি মুনাফা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। চলতি বছর এ প্রতিষ্ঠান ১১ কোটি টাকারও বেশি মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে।
শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া গত শনিবার গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) পরিদর্শনকালে আয়োজিত বৈঠকে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে বিএমটিএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইফুর রহমান, মহাব্যবস্থাপক (উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ) লে. কর্নেল মো. আকতারুজ্জামানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে জানানো হয়, ধারাবাহিকভাবে আর্থিক ক্ষতির কারণে বন্ধ করে দেওয়া বিএমটিএফ ২০০০ সালের জুলাই মাসে উন্নত ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি সীমিত জনবল ও পুরোনো প্রযুক্তি দিয়েই সেনাবাহিনীর জন্য ট্রাক, পিকআপ, জিপ সংযোজন এবং ফুয়েল ভাউচার, ওয়াটার ভাউচার, ওয়াটার ট্রেইলার নির্মাণসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করে।
শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, সামরিক যানবাহন সংযোজন ও তৈরির পাশাপাশি বিএমটিএফকে বেসামরিক যানবাহন তৈরিরও উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, জাহাজ নির্মাণ, গাড়ি উৎপাদনসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় শিল্পের জন্য আমদানির বিকল্প খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরি করে বিএমটিএফ লাভবান হতে পারে। বাংলাদেশে হালকা প্রকৌশল শিল্পের বিশাল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি জাতীয় স্বার্থে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বিএমটিএফ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। দেশীয় শিল্পের স্বার্থে শিল্প মন্ত্রণালয় সব ধরনের নীতি-সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি দেশে টেকসই শিল্পায়নের ক্ষেত্রে কার্যকর অবদান রাখার জন্য বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির বিএমআরই করা প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
বৈঠক শেষে মন্ত্রী বিএমটিএফের বিভিন্ন ওয়ার্কশপে গাড়ি সংযোজন, তৈরি ও খুচরা যন্ত্রাংশ উৎপাদন-প্রক্রিয়া ঘুরে দেখেন

নতুন মূসক আইন সময়ের দাবি: অর্থমন্ত্রী

বিদ্যমান মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আইনটিকে জটিল বলে অভিহিত করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আইনটি প্রথম দিকে যা ছিল, বর্তমানে সেই আকারে নেই। এতে সংযোজন-বিয়োজন হয়েছে অনেক বেশি। সামগ্রিকভাবে এটি অনেক জটিল হয়ে পড়েছে। তাই নতুন আইন প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।
প্রস্তাবিত মূসক আইনের খসড়াটি ব্যবসায়ীরা ভালো করে পড়েননি বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।
গতকাল রোববার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে মূসক আইন-২০১১-এর ওপর অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সভায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি এ কে আজাদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এনবিআরের সদস্য আবদুল মান্নান পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ ও আইন বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। প্রস্তাবিত আইনের প্রধান প্রধান সংশোধিত অংশ তুলে ধরেন বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) কমিশনার জাহাঙ্গীর হোসেন।
প্রস্তাবিত আইনটিকে সমর্থন জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ভালো করে দেখলে একে গ্রহণ না করার মতো কিছু নেই। তবে আরও ব্যবসাবান্ধব করতে ব্যবসায়ীদের মতামত নেওয়া যেতে পারে।’
অর্থমন্ত্রী এনবিআরকে এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দিনব্যাপী একটি কর্মশালা আয়োজনেরও নির্দেশ দেন।
ব্যস্ততার কারণে অনুষ্ঠানের মাঝখানে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী। প্রস্তাবিত আইনটি অনেক সময়োপযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনটি সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের পুরোপুরি ধারণা না থাকায় তিনি বিস্মিত।
তবে ব্যবসায়ীরা মনে করেন, নতুন করে মূসক আইন প্রণয়নের দরকার নেই। বরং বিদ্যমান আইনটি সংশোধনের মাধ্যমে যুগোপযোগী করলেই হবে। যেভাবে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে তাতে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে বলে তাঁদের ধারণা।
প্রস্তাবিত মূসক আইনে মূল্য, ইনভয়েস পদ্ধতি, প্যাকেজ পদ্ধতি, কর অব্যাহতি, সেবা আমদানি, উৎসে কর, টার্নওভার এনলিস্টেড ফার্ম, রিফান্ড ও রিওয়ার্ডের জন্য আলাদা হিসাব, রিটার্ন দাখিল, মূসকের হার, আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি, নিবাসী ও অনিবাসীদের মূসক দেওয়ার বিষয়ে সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া এতে কোনো ব্যক্তি মূসক আরোপের যোগ্য হওয়ার পরও মূসক নিবন্ধন না নিলে জেল-জরিমানা আরোপের বিধান রাখা হয়েছে। সর্বনিম্ন এক লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে আইনে। এমনকি পাঁচ বছরের জেল দণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া মূসক কর্মকর্তারা কোনো ব্যবসায়ীর কাছে গিয়ে মূসক নিবন্ধন দেখতে চাইতে পারেন। ওই ব্যবসায়ী যদি মূসক নিবন্ধন সনদপত্র দেখাতে না পারেন, তবে ৫০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকা জরিমানা করার ক্ষমতা আইনে দেওয়া হয়েছে। এমনকি ছয় মাস পর্যন্ত জেল দেওয়ারও বিধান রাখা হয়েছে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কে আজাদ বলেন, প্রস্তাবিত আইনে শাস্তির যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে মূসক আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি নতুন আইনে কঠোর শাস্তির বিরোধিতা করে এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে বসে এনবিআরকে খসড়া তৈরির পরামর্শ দেন।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আমির হোসেন খান জানান, আইন প্রবর্তনের শুরুর দিকে দুই হাজার কোটি টাকা মূসক আদায় হলেও বর্তমানে আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। আদায়ের পরিমাণটিই বিদ্যমান আইনের শক্তিশালী অবস্থানের নির্দেশক। শঙ্কা হয়, নতুন আইন প্রণয়ন করতে গিয়ে না কোনো বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি বাড়ে।
ব্যবসায়ীদের জন্য পাঁচ স্তরে শাস্তির ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শুধু দড়ি দিয়ে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হবে—এ কথাটি বলা হয়নি। এ ছাড়া সব ধরনের শাস্তির কথাই বলা হয়েছে।’
হালকা প্রকৌশল শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক বলেন, প্রস্তাবিত আইনে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
এনবিআরের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ জানান, আগামী মাসেই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দিনব্যাপী একটি কর্মশালার আয়োজন করে তাঁদের মতামত আরও নিবিড়ভাবে নেওয়া হবে।

মূল্যস্ফীতির হার ৯ শতাংশ ছাড়াল

দেশে মূল্যস্ফীতির হার ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী হয়ে চলেছে। চলতি বছর জানুয়ারিতে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে জাতীয় মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। আর বার্ষিক গড় ভিত্তিতে এই হার ৮ দশমিক ১৪ শতাংশে ঠেকেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ভোক্তা মূল্যসূচকের ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতির এই হার নির্ণয় করে থাকে।
হালনাগাদ এই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, জানুয়ারিতে এসে খাদ্যের মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ১২ শতাংশের কাছাকাছি (১১ দশমিক ৯১ শতাংশ) পৌঁছে গেছে, যা কিনা ৩০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। আর পল্লি এলাকায় খাদ্যের মূল্যস্ফীতির হার প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশে উপনীত হয়েছে।
এর মানে হলো, মানুষকে খাদ্যের জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে; আর গ্রামের মানুষকে আরও বেশি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রার জোগানে লাগাম টেনে আর সরকার খোলাবাজারে সাশ্রয়ী মূল্যে চাল বিক্রিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েও মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রুখতে পারছে না।
বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণভাবে বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা বিশেষত সরবরাহজনিত কিছু সংকট মূল্যস্ফীতিকে ক্রমেই উসকে দিচ্ছে।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর উপাত্ত থেকে আরও দেখা যায়, পল্লি এলাকায় সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হার জানুয়ারিতে সাড়ে ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা কিনা ডিসেম্বরে ছিল পৌনে ৯ শতাংশ। আর শহর এলাকায় সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হার জানুয়ারিতে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৭২ শতাংশে; যা কিনা নভেম্বরে ছিল ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতির চাপ যে ক্রমশ বাড়বে, তা অবশ্য তিন-চার মাস আগে থেকেই বিভিন্নভাবে তার সুস্পষ্ট আভাস মিলেছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও ভোগ্যপণ্যের দাম গত বছরের শেষার্ধে যেভাবে বেড়েছে, তা অনিবার্যভাবে দেশের আমদানিজনিত ব্যয় বাড়িয়ে তুলেছে। এভাবে বেড়েছে আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতির চাপ।
২০১০ সালের জুলাই-নভেম্বর সময়কালে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল (ব্রেন্ট অশোধিত জ্বালানি), চাল (থাইল্যান্ড ২৫ শতাংশ ভাঙা), গম (এইচআরডব্লিউ) এবং ইউরিয়ার দাম বেড়েছে যথাক্রমে ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ, ১৭ দশমিক ৯০ শতাংশ, ৪২ দশমিক ৫০ শতাংশ ও ৩৭ দশমিক ৪০ শতাংশ হারে।
আবার মুদ্রা সরবরাহও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ২০১০ সালের ডিসেম্বরে মুদ্রার সরবরাহ বেড়েছে সাড়ে ২১ শতাংশ, যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই হার সাড়ে ১৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখতে চায়।
ডিসেম্বরের শেষে এসে মুদ্রা সরবরাহের স্থিতি দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৯৯ হাজার ২৭৯ কোটি টাকা। আর জুনের শেষে এই স্থিতির পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৬৩ হাজার ৩১ কোটি ২০ লাখ টাকা।
মুদ্রার জোগানে লাগাম টানতে বাংলাদেশ ব্যাংক ১ ডিসেম্বর থেকে ব্যাংকের বিধিবদ্ধ জমার হার (এসএলআর) সাড়ে ১৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৯ শতাংশ এবং নগদ জমার হার (সিআরআর) সাড়ে পাঁচ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ছয় শতাংশ নির্ধারণ করে।
এভাবে নিয়ন্ত্রণমূলক মুদ্রানীতির দিকে ধাবিত হয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এই পদক্ষেপের তাৎক্ষণিক বা দ্রুত প্রভাব পড়েনি। বরং আরও কয়েক মাস পর এর প্রভাব মুদ্রার সরবরাহের ওপর পড়বে বলে ধারণা করা যায়। কেননা, মুদ্রানীতির প্রলম্বিত প্রভাব (ল্যাগ অ্যাফেক্ট) সর্বত্রই বিদ্যমান।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বশেষ ঘোষিত মুদ্রানীতিতে চলতি অর্থবছরের গড় মূল্যম্ফীতি সাত শতাংশে বেঁধে রাখার কথা জানিয়েছে। অবশ্য গত বছর জুলাইয়ে ঘোষিত মুদ্রানীতিতে এই হার সাড়ে ৬ শতাংশ হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
বিশ্বজুড়েই এখন মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। খাদ্য ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এই মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে।
বিশ্ববাজারেও খাদ্যসামগ্রীর দাম হু হু করে বেড়ে চলেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ফাও) যে বিশ্বখাদ্য মূল্যসূচক প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বে খাদ্যের মূল্য টানা অষ্টম মাসের মতো বেড়েছে। ফেব্রুয়ারিতে এই সূচক দাঁড়িয়েছে ২৩৬ পয়েন্টে, যা জানুয়ারিতে ছিল ২৩১ পয়েন্ট।
ফাও এই বলে আরও সতর্ক করে দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার রাজনৈতিক সংকট এবং জ্বালানি তেলের দামে উল্লম্ফন বিশ্বে খাদ্যের মূল্যকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা

ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো (বিএটিবিসি) পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালের জন্য ৪৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আজ সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ১০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট ১৬ মার্চ। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ওই সময়ে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ২৮৭,৮৫,৯০,০০০ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট আয় ৪৭.৯৮ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য ১০৪.০২ টাকা এবং মোট নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ৫৩.৫৪ টাকা।

ঢাকার ঘটনা ভুলতে পারেননি গেইলরা

১১ মার্চ মোহালিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের চতুর্থ ম্যাচে মুখোমুখি হবে আয়ারল্যান্ডের। দল খুব চাঙা, শুধু ঢাকার ঘটনাটাই তাদের মনে হানা দিচ্ছে বারবার। ঢাকাকে ভুলতে পারছে না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতে ফিরেও তারা মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম থেকে হোটেলে ফেরার পথে তাদের টিম বাসে ঢিল পড়ার কথা মনে পড়ছে। এ ঘটনা নিয়ে এখনো টুইট করে যাচ্ছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়েরা। স্পিনার সুলিমান বেন লিখেছেন, ‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে বাংলাদেশ ছাড়তে পেরেছি।’
মিরপুরের ‘দুঃখজনক’ ঘটনাটা বাদ দিলে হল্যান্ড ও বাংলাদেশের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ে স্যামিদের নির্ভারই থাকার কথা। ‘দারুণ চনমনে আছে ছেলেরা’—বলেছেন দলের মিডিয়া ম্যানেজার ফিলিপ স্পুনার। তবে টিম বাসে ঢিল ছোড়ার ঘটনায় হতাশ তিনি, ‘শুক্রবারের ওই ঘটনা ছিল দুঃখজনক।’
বিশ্বকাপের মাঝপথে এসে মাঠের বাইরের ঘটনা নিয়ে পড়ে থাকলে নিজেদেরই যে ক্ষতি, সেটা মানছেন ফিলিপ স্পুনার, ‘গতকাল শনিবার সকালে আমাদের টিম মিটিং ছিল। তাতে ঢাকার ঘটনাটাও উঠেছিল। সবকিছুর ওপর আমরা এখানে ক্রিকেট খেলতে এসেছি। এখন আমাদের সব মনোযোগও ক্রিকেটে দিতে চাই এবং তাতে ভালো করতে চাই।’
এ মুহূর্তে তারা মোহালির তাজ হোটেলে অবস্থান করছে। ব্যাপক নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে তাদের। তৎপর সেখানকার পুলিশ। নিরাপত্তা নিয়ে আইসিসির সঙ্গে কথা বলে সন্তুষ্ট স্পুনার। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলোয়াড় সমিতির প্রধান দীননাথ রামনারায়ণ তাঁদের দলের খেলোয়াড়দের জন্য নেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থায় সন্তুষ্ট হতে পারছেন না।
ঢাকার ঘটনায় খেলোয়াড়দের কোনো ক্ষতি হয়নি জেনে তিনি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, ‘দুই বছর আগে বন্দুকধারীরা শ্রীলঙ্কান খেলোয়াড়দের বাসে যে হামলা চালিয়েছিল, তা যদি আমরা ভেবে দেখি, ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলোয়াড় সমিতি উদ্বিগ্ন না হয়ে পারে না। আর অন্য দলগুলোকে যেখানে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পরামর্শক দেয় তাদের বোর্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল সে রকমটা পায় না। খেলোয়াড় সমিতি স্বাভাবিকভাবেই এই হামলায় উদ্বিগ্ন, বিশেষত বাসে কারও হামলা চালানোর সামর্থ্য দেখে। টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় এ ঘটনা রোধ করার কোনো প্রতিশ্রুতি নেই।

সমর্থকদের দুঃখ বোঝেন সিডন্স

রাতের চট্টগ্রাম আর সকালের চট্টগ্রাম এক হলো না ক্রিকেটারদের কাছে। আগের রাতে বিমানবন্দর এবং বিমানবন্দর থেকে হোটেলে ফেরার পথে পেলেন ফুলেল সংবর্ধনা। আর কাল সকালে অনুশীলন করতে মাঠে যাওয়ার জন্য হোটেল থেকে বেরিয়ে দেখতে হলো এক সমর্থকের অশালীন অঙ্গভঙ্গি!
ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বাসে ঢিল ছুড়ে মারার মতো এটাও একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কিন্তু পরিস্থিতি যা, তাতে ‘উগ্রবাদী’ সমর্থকদের ঢিল ছোড়া, জুতো দেখানো বা অমন অঙ্গভঙ্গি করার মতো বিচ্ছিন্ন ঘটনা থেকে বিশ্বকাপকে মুক্ত রাখাটা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৎপর পুলিশ তাই সঙ্গে সঙ্গেই পাকড়াও করেছে ওই সমর্থককে। পরে অবশ্য কৃতকর্মের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই বাংলাদেশের ক্রিকেট-পাগল দর্শক আলোচনায়। বিশ্বকাপ উপলক্ষে নতুন সাজে সেজে ওঠা মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সামনে তাদের স্লোগানমুখর বর্ণিল উপস্থিতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রশংসা কুড়িয়েছে। প্রিয় দলের ব্যর্থতায় সেই দর্শক-সমর্থকেরই একটা অতি ক্ষুদ্র অংশ যখন হাতে ঢিল তুলে নেয়, সেটিরও সমালোচনা বাদ থাকবে কেন? কেউ কেউ তো লিখল, বাংলাদেশ থেকে নাকি বিশ্বকাপের ম্যাচই সরিয়ে নেওয়ার চিন্তা করছে আইসিসি! আইসিসির প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত সেই ভুল ভাঙিয়ে দিয়েছেন এর মধ্যেই।
ক্রিকেটারদের প্রতি ক্ষোভকে আক্রোশে পরিণত করা সমর্থকেরা যে বাংলাদেশ দলের মোট সমর্থকের হাজার ভাগের এক ভাগও নয়, সেটা সবাই জানে। কাল বাংলাদেশ দলের অস্ট্রেলিয়ান কোচ জেমি সিডন্সও প্রশংসাই করলেন এ দেশের ক্রিকেটপ্রেমী মানুষের। গত আড়াই বছরের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের দর্শকদের তো অন্তত ক্রিস গেইলদের চেয়ে ভালো চেনেন সিডন্স, ‘এখানকার দর্শক সব সময়ই ভালো। তবে গত ম্যাচে আর সবার মতো তারাও হতাশ হয়েছে। কিন্তু খেলোয়াড়দের চেয়ে বেশি খারাপ তো কারোরই লাগেনি। আমার মনে হয় মানুষের এটা বোঝা উচিত, হয়তো তারা তা বোঝেও।’
ক্ষোভ জানাতে গিয়ে কারও কারও অতিপ্রতিক্রিয়াশীল হয়ে ওঠাটাও স্বাভাবিক ঠেকছে কোচের চোখে, ‘এ রকম খারাপ খেললে অনেকেই প্রতিক্রিয়া দেখাবে। সারা বিশ্বেই এটা হয়। এ দেশের মানুষ ক্রিকেটের অনেক বড় সমর্থক, বাংলাদেশ দলের বড় সমর্থক। গতকাল (পরশু) যখন চট্টগ্রামে এলাম, বিমানবন্দরেও একই দৃশ্য দেখেছি—অবিশ্বাস্য সমর্থন।’ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫৮ রানে অলআউটে শোকস্তব্ধ দর্শকদের আশার বাণী শুনিয়েছেন বাংলাদেশের অস্ট্রেলীয় কোচ। বাংলাদেশে থাকতে থাকতেই হয়তো আশাবাদের শেষটা হলো এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে, ‘আমরা জানি সবাই হতাশ, সবচেয়ে বেশি বিধ্বস্ত খেলোয়াড়েরাই। সমর্থকদের বুঝতে হবে, এরাই বাংলাদেশের সেরা ১৫ ক্রিকেটার। তারা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করছে। আগের ম্যাচে খারাপ খেললেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরের ম্যাচে ভালো ক্রিকেট খেলতে চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।’
এই প্রতিজ্ঞা দলের মধ্যেও আছে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের লজ্জাজনিত বিব্রতভাব কাটিয়ে ওঠাটা একটু যেন কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে সব খেলোয়াড়ের জন্যই! কোচ সেটা মানছেন, সঙ্গে খেলোয়াড়দের বিব্রত করার কিছুটা দায়ভার তুলে দিলেন সমালোচকদের কাঁধে, ‘সাবেক খেলোয়াড়েরা যেভাবে সমালোচনা করছেন, তাতে দলের অনেক খেলোয়াড়ই হতাশ। অনেক সাবেক খেলোয়াড় আমার সম্পর্কেও মন্তব্য করেছেন। আশা করি তাঁরা সামনে এসে কথা বলার সাহস রাখবেন।’
আগের দিন নিজের লেখা কলামে প্রায় একই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। কাল কোচও যখন কথাটা বললেন, বাংলাদেশের বিশ্বকাপটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠার লক্ষণই পাওয়া যাচ্ছে।

আফ্রিদিতেই পাকিস্তানের বদল!

শুরুটা ডানহাতি লেগ ব্রেক বোলার তকমা নিয়ে। সেটা ১৯৯৬ সালের কথা। পরের গল্পটা কমবেশি সবারই জানা। অনুশীলনে ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং দেখে একদিন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নামিয়ে দেওয়া হলো তিন নম্বরে। বাজিমাত! মুরালিধরন, ভাসদের পাড়ার বোলার বানিয়ে ফিরলেন সাজঘরে। ততক্ষণে গড়া হয়ে গেছে নতুন ইতিহাস। ওয়ানডেতে দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক বনে গেলেন সাহেবজাদা মোহাম্মদ শহীদ খান আফ্রিদি। বিশ্ব ক্রিকেটের বিশাল ক্যানভাসে শহীদ আফ্রিদি নামেই যাঁর পরিচিতি। ৩৭ বলের ওই সেঞ্চুরির পর থেকেই সাহেবজাদার পিঠে ‘বুমবুম আফ্রিদি’র তকমা সেঁটে গেল, আজও যা অটুট।
কালের স্রোতে ১৪টি বছর পেরিয়ে গেছে। সিন্ধু নদে জলও গড়িয়েছে অনেক। সেদিনের সেই টগবগে তুর্কির মাথায় আজ পাকিস্তান অধিনায়কের টুপি। এ বিশ্বকাপে ব্যাটিং-দ্যুতি ছড়াতে না পারলেও বোলিং ও অধিনায়কত্ব দিয়ে মুগ্ধ করেছেন সমর্থকদের। আগের তিনটি বিশ্বকাপে ১২ ম্যাচ খেলে যেখানে মাত্র ৭টি উইকেট তাঁর, সেখানে এবার প্রথম তিনটি ম্যাচেই পেয়েছেন ১৪টি উইকেট।
পাকিস্তানের মতো একটা অস্থির দলের অধিনায়কত্ব সব সময়ই চ্যালেঞ্জের। আফ্রিদি চ্যালেঞ্জটাকে মনে হয় ভালোমতোই উপভোগ করছেন।
টানা তিন ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলেছে আফ্রিদির দল। অথচ কদিন আগেও কী বিধ্বস্তই না ছিল দলটি। লাহোরে শ্রীলঙ্কান খেলোয়াড়দের ওপর গুলি, স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে তিন প্রধান খেলোয়াড়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আর বিশ্বকাপের অধিনায়ক বিতর্কে পাকিস্তানের আশার সূর্যটা ঢাকা পড়েছিল। কিন্তু আফ্রিদির হাতে নিশান তুলে দিয়ে সব বিতর্ক মুছে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান।
ব্যাটিং নয়, বিশ্বকাপে বোলিংটাই বেশি উপভোগ করছেন আফ্রিদি, ‘বোলিংটাকেই প্রাধান্য দিচ্ছি। উইকেটে বল স্পিন করছে। স্কিডও করছে। সেটা কাজে লাগিয়েই উইকেট পাচ্ছি।’
আফ্রিদির অধিনায়কত্বে পাকিস্তান দলের চেহারাই আমূলে বদলে গেছে বলে মনে করেন পাকিস্তানের অনেক সাবেক তারকা। সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ যেমন বলেছেন, ‘আফ্রিদির নেতৃত্বে লড়াই করার মতো মনোবল ফিরে পেয়েছে পাকিস্তান। এত ঝক্কি-ঝামেলার পরও দলকে এ অবস্থায় দেখতে পারাটা সত্যিই অসাধারণ। দলটির সাফল্যের গোপন রহস্যই হলো আফ্রিদির অধিনায়কত্ব।

আয়ারল্যান্ড নয়, যুবরাজের দিন

বাঁহাতি স্পিনের বিষ ছড়িয়েছেন। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো তুলে নিয়েছেন ৫ উইকেট। তবে তাঁর মূল পরিচয় তো আর বোলার নয়। আসল যে কাজ, সেটাই হয়ে দাঁড়াল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিপদে পড়ে যাওয়া ভারতকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিল তাঁর অপরাজিত ৫০ রানের ইনিংস। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ উইকেটে জিতল ভারত।
আগের ম্যাচে ইংল্যান্ড-বধ করা আয়ারল্যান্ড ভারতের সামনে ছুড়ে দিয়েছিল মাত্র ২০৮ রানের লক্ষ্য। সেটা তাড়া করতে গিয়ে ভারত ১০০ রানের মাথায় হারিয়েছে শেবাগ, টেন্ডুলকার, গৌতম গম্ভীর আর বিরাট কোহলিকে। আরেকটি আইরিশ রূপকথার শঙ্কা কিংবা সম্ভাবনা যেটাই বলুন, সেটা ক্ষণিকের তরে উঁকি দিয়েছিল চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে। অধিনায়ক ধোনির সঙ্গে যুবরাজের ৬৭ রানের জুটি মেঘ কাটিয়েছিল। ধোনি ফিরে যাওয়ার পর ইউসুফ পাঠানের ৩০ রানের ঝোড়ো ইনিংসটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছিল পরিস্থিতি বিবেচনায়। তবে ব্যাটে-বলে এদিন অনন্য যুবরাজ।
দিনের চতুর্থ বলে দুর্দান্ত ডেলিভারিতে স্টার্লিংকে বোল্ড করেছিলেন জহির খান। নিজের দ্বিতীয় ওভারে ফিরিয়েছেন জয়েসকেও। ৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে আগের ম্যাচে অঘটন ঘটিয়ে উড়তে থাকা আইরিশরা তখন বাস্তবতার তপ্ত ভূমিতে।
শুরুর এই ধাক্কা সামলে নেওয়ার দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড। তাঁকে দারুণ সঙ্গ দেন ও’ব্রায়েন ভাইদের বড়জন নিয়াল। তৃতীয় উইকেটে দুজনের ১১৩ রানের জুটি দুশ্চিন্তার ভাঁজ বাড়াচ্ছিল ধোনির কপালে। কিছুতেই জুটিটা ভাঙছে না দেখে যুবরাজকে আক্রমণে নিয়ে আসেন ধোনি। যুবরাজ নিয়ে আসেন সৌভাগ্যও। না, তৃতীয় উইকেটের পতন তাঁর হাতে হয়নি। কিন্তু ২৬তম ওভারে যুবরাজ আক্রমণে আসার পরের ওভারে রানআউটের শিকার নিয়াল।
২ উইকেটে ১২২ থেকে আয়ারল্যান্ডের স্কোর মুহূর্তেই ১৪৭/৫ হয়ে যায়, যুবরাজ বাঁহাতি স্পিনের বিষ ছড়াচ্ছিলেন বলে। অ্যান্ড্রু হোয়াইটকে ফেরান মাত্র ৫ রানে। ‘ডেঞ্জারম্যান’ কেভিন মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে নড়েচড়ে বসেছিল বেঙ্গালুরুর গ্যালারি। কিন্তু গত ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান এদিন ৯ রানে ফিরতি ক্যাচ দিয়েছেন যুবরাজের হাতেই।
এখানেই শেষ নয়। দুশ্চিন্তার কাঁটা হয়ে থাকা পোর্টারফিল্ড ৭৫ রান তোলার পর যুবরাজের বলেই ক্যাচ দিয়েছেন হরভজনকে। জন মুনি, অ্যালেক্স কুসাক দুজনই পড়েছেন এলবিডব্লুর ফাঁদে। আয়ারল্যান্ডের টানা পাঁচ উইকেটের পতন যুবরাজের হাতেই। ৪৭.৫ ওভারে ২০৭ রানে অলআউট আয়ারল্যান্ড।
ভারতের শুরুটা কিন্তু ভালো হয়নি। ২৪ রানের মধ্যে ফিরে গিয়েছিলেন শেবাগ-গম্ভীর। টেন্ডুলকার-কোহলির ৬৩ রানের জুটি সেই ধাক্কা সামাল দেয়। এই দুজনও ফিরে গেলে শুরু হয় যুবরাজ-ধোনির মিশন। ৫৯ বলে ৪০ রান দরকার, এ অবস্থায় আউট হন ধোনি। কিন্তু ওই ওভারের শেষ চার বলে দুটি ছয় আর একটি চার মেরে যাবতীয় উত্তেজনার অবসান ঘটান পাঠান।

স্মিথও কৃতিত্ব দিচ্ছেন ব্রডদের

‘জানি, কথাটা শুনতে আপনার ভালো লাগবে না। কিন্তু প্রশ্নটা করতেই হচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকা কি আবার চাপে “চোক” করে গেল?’
আট বছরের অধিনায়ক-জীবনে কতবার এই প্রশ্ন শুনতে হয়েছে, গ্রায়েম স্মিথের তা মনে রাখা সম্ভব নয়। ৪১ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ডের ১৭১ রানকেই দুর্লঙ্ঘ বানিয়ে ফেলার পরও শুনতে হলো। না শুনলেই বরং অবাক হতেন স্মিথ। জানতেন, প্রশ্নটা আসবেই। উত্তরটা তাই গুছিয়েই রেখেছিলেন, ‘আমি তা বলব না। আমরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চাপ সামলে ভালো পারফর্ম করেছি। ইংল্যান্ডের বোলারদের স্কিলটাকে কৃতিত্ব দিচ্ছেন না কেন? ব্রড-অ্যান্ডারসন দু দিকেই বল রিভার্স সুইং করিয়েছে। বিশ্বে খুব কম ব্যাটসম্যানেরই এটা সামলানোর ক্ষমতা আছে।’
কথাটা মিথ্যা নয়। এত কম স্কোর তাড়া করতে নেমে আর কোনো দল কখনো হারেনি, ঘটনা তাও নয়। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা যখন এমন হারবে, কারণটা আর ব্যাটিং-বোলিংয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক। দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে যে চাপে ভেঙে পড়ার অসংখ্য উদাহরণ।
অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস সেটিকে আসল কারণ না মেনে তাঁর বোলারদের কৃতিত্ব দেবেন, এটাও স্বাভাবিক। ‘সোয়ানি আজ অসাধারণ ছিল। জিমি (অ্যান্ডারসন)-ব্রড তো রিভার্স সুইংয়ের দুর্দান্ত এক প্রদর্শনী দেখাল। এই বিশ্বকাপে আমাদের বোলিংটা ভালো হচ্ছিল না। আজ দারুণ হলো। ওরা দেখিয়েছে, ১৭০ রানও ডিফেন্ড করা যায়। ভবিষ্যতে ব্যাটিং-বোলিং একসঙ্গে ভালো হলে আমাদের দলের চেহারাই বদলে যাবে।’
আগের তিন ম্যাচে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ভালো হয়েছে, বোলিং ভালো হয়নি। কাল বোলিং ভালো হলো, ব্যাটিংয়ের অবস্থা কহতব্য নয়। স্ট্রাউসের আত্মহত্যা দিয়েই এর শুরু। মাথা পেতে দায়টাও নিলেন, ‘খুব বাজে ব্যাটিং করেছি আমরা। এত কম রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলাটা রীতিমতো ক্রিমিনাল।’
১৭১ অবশ্যই কম মনে হয়েছিল, তবে তাই বলে জয়ের আশা ছেড়ে দেননি স্ট্রাউস। কারণটা অবশ্যই উইকেট, ‘উইকেটে অনেক টার্ন আর বাউন্স ছিল। স্মিথ তো সোয়ানকে খেলতেই পারছিল না। রিভার্স সুুইং করছিল। জানতাম, টেল এন্ডারদের রিভার্স সুইং খেলার সাধ্য নেই।’
বিনা উইকেটে ৬৩ করে ফেলার পর অবশ্যই সহজ জয়ই দেখছিলেন, তবে বিরতির সময় ১৭২ করাটাকে সহজ বলে ভাবার ভুল করেননি গ্রায়েম স্মিথও। ‘এই উইকেটে স্বচ্ছন্দভাবে ব্যাটিং করা কঠিন। বাউন্স ছিল অসমান, বল খুব স্পিন করছিল, রিভার্স সুইংও হচ্ছিল। জানতাম, এ ধরনের উইকেটে ম্যাচ খুব ক্লোজ হবে।’
সেই ক্লোজ ম্যাচে জিততে না পারার কারণ হিসেবে কারও দিকে আঙুল তুললেন না স্মিথ। শুধু বললেন, শেষ ১৫ ওভারে রানের ধারাটা একদম শুকিয়ে গিয়েছিল। মিরপুরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন উপমহাদেশের উইকেট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মহেন্দ্র সিং ধোনি শ্লেষভরে বলেছিলেন, ‘এখানে এসে স্পিনিং উইকেট পেলে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলগুলো উইকেট “মিসবিহেভ” করেছে বলতে থাকে।’ কালকের ম্যাচে উপমহাদেশের কোনো দল প্রতিপক্ষ হলে স্ট্রাউস-স্মিথও হয়তো তেমন বলতেন। এখানে দুই দলের জন্যই সমস্যাটা সমান বলেই স্ট্রাউস বরং এমন উইকেটের ভালো দিকও খুঁজে পেলেন, ‘এমন উইকেট হলে খেলাটা অনেক ইন্টারেস্টিং হয়। আমি এতে আপত্তির কিছু দেখি না। ইংল্যান্ডে যদি সিম আর বাউন্সের উইকেট হয়, এখানে এমন হতে পারবে না কেন? তবে আজকের উইকেটটা সম্ভবত একটু বেশি ভেঙে গিয়েছিল।’
উইকেট যদি এই ম্যাচের এক নম্বর আলোচ্য হয়ে থাকে, দুই নম্বরে অবশ্যই ইউডিআরএস (আম্পায়ার্স ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম)। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত রিভিউ করা নিয়ে নাটকের পর নাটক হলো। অনেকবারই বদলে গেল মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত, যার মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যবাহী গ্রায়েম স্মিথের আউটটা। মাঠের আম্পায়ার নটআউট বলেছিলেন। কিন্তু ‘হাজার খানেক’ রিপ্লে দেখার পর টিভি আম্পায়ার জানালেন, সোয়ানের বলটা প্রিয়রের গ্লাভসে যাওয়ার আগে স্মিথের গ্লাভস ছুঁয়ে গেছে। শেষে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে গেল এটিই। স্মিথের ভালো লাগার কথা নয়, ‘ইউডিআরএসের ব্যাপারে অবশ্যই আমার মতামত আছে। তবে তা নিজের মনেই রাখতে চাই’ বলে পরোক্ষে তা জানিয়েও দিলেন। ইউডিআরএসের মাহাত্ম্য সবচেয়ে ভালো বুঝিয়ে দিলেন জ্যাক ক্যালিস। ব্রডের বলে কট বিহাইন্ডের আবেদনে সাড়া দেননি সাইমন টফেল। ক্যালিসও দাঁড়িয়ে ছিলেন, ইংল্যান্ড রিভিউ চাইতে যাচ্ছে বোঝার পরই হাঁটা শুরু করলেন।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন রবি বোপারা। হওয়া উচিত ছিল স্টুয়ার্ড ব্রডের। তবে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারক হওয়াটা যদি বিবেচ্য হয়, এই ম্যাচে স্বীকৃতিটা পাওয়া উচিত ছিল ইউডিআরএসের।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ তো আর বলা যায় না, না হয় ডিসাইডার অব দ্য ম্যাচই বলতেন!

ভালো খেলার প্রতিশ্রুতি

প্রশ্নটা তুললেন ভারতীয় এক সাংবাদিক। চেন্নাইয়ে হেরে যাচ্ছে ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত হেরে গেলে সেটা বাংলাদেশের জন্য হতো সুখবর। কাল দুপুরে যখন প্রসঙ্গটা উঠল, চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে তখন পর্যন্ত ‘ইংল্যান্ড ১৭১ রানে অলআউট’ খবরটাই জানতেন জেমি সিডন্স। বাংলাদেশ কোচের কণ্ঠে আশা ঝরল, ‘ইংল্যান্ড হারলে আমাদের জন্য ভালোই হবে...।’
কিন্তু ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ যে ছিল সেই ‘চোকার’ দক্ষিণ আফ্রিকা! এত কম রান করেও অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের দল এবারের বিশ্বকাপে দ্বিতীয় জয়ের স্বাদটা আজ ভারত থেকেই নিয়ে আসছে। জেমি সিডন্সের কাছে অবশ্য সেটিও কোনো সমস্যা না। অন্যের নাক কাটার চেয়ে নিজের মঙ্গলযাত্রাই কামনা এই অস্ট্রেলিয়ানের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১১ মার্চের সেই যাত্রায় দারুণ আত্মবিশ্বাসী কোচ। আত্মবিশ্বাসের মূলে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে পাওয়া একটা প্রতিশ্রুতি, ‘গত ম্যাচে তিন-চারটি আউট হয়েছে যেগুলো নিয়ে নেটে প্রতিদিনই কথা বলি। অথচ এ ম্যাচেও সেই ভুলগুলোই ধরা পড়ল। অবশ্য তারা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, পরের ম্যাচে ভালো খেলবে।’
এই ‘ভালো’র সঙ্গে তামিম ইকবালকে মিশে থাকতে হবে অনেকটাই। নিজের মাঠে বিশ্বকাপটাকে স্মরণীয় করে রাখার ইচ্ছার কথা আরও আগেই জানিয়ে রেখেছেন বাংলাদেশ সহ-অধিনায়ক। উপলক্ষটা যখন সমাগত, কোচ আস্থাই রাখতে চাইছেন তাঁর ওপর, ‘গত ম্যাচে ভালো না খেললেও আশা করছি, এই ম্যাচে তামিম ভালো কিছু করবে। দলের সেরা খেলোয়াড়দের একজন সে, ভালো একটা শুরু এনে দিতে হবে তাকে। তামিমও আত্মবিশ্বাসী। তা ছাড়া এ মাঠে সর্বশেষ ম্যাচটিতেও সে ভালো খেলেছে। আবারও সে রকম খেলতে না পারার তো কোনো কারণ দেখি না।’
শুধু তামিম নয়, কোচের আস্থা পুরো দলের ওপরই। আগের ম্যাচের ময়নাতদন্ত করে ইমরুল কায়েস, জুনায়েদ সিদ্দিক ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটিংকে সমালোচনায় বিঁধেও বলেছেন, ‘দেশে আর কোনো ক্রিকেটার নেই যারা কাজটা এই ১৫ জনের চেয়ে ভালো করতে পারে। কাজেই আমরা তাদের ওপর আস্থা রাখছি এবং আশা করছি, পরের ম্যাচে তারা ভালো করবে।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের দুঃখকে সঙ্গী করেই ইংল্যান্ড ম্যাচকে পাখির চোখ করছেন সিডন্স। আরেকটু বেশি রান করলে বা টস জিতে আগে ফিল্ডিং নিলে কী হতো—গত ম্যাচ নিয়ে এমন সব আফসোস ভিড় করছে কোচের মনে। আর এই ভিড় ঠেলেই মাথার ভেতর এগোচ্ছে ইংল্যান্ড-পরিকল্পনা, ‘ছেলেরা সবাই এখন পরের ম্যাচটার অপেক্ষায়। মনের মধ্যে সবারই হতাশা আছে, কিন্তু ভালো খেলেই তো সেটা দূর করতে হবে। আর কোনো উপায় নেই। ইংল্যান্ড ম্যাচের দিকে তাকাতে হলে এই ক্ষতটা ভুলে যেতে হবে। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এখানে এবং ঢাকায়ও আমরা ভালো খেলেছি।’
নিজের শহর, নিজের মাঠ বলেই কি না অনুশীলনে সবচেয়ে বেশি নির্ভার দেখাল তামিকে। নেটে গেলেন শেষ দিকে, তার আগ পর্যন্ত তিনি যেন সহকারী কোচ কিংবা টিম ম্যানেজার! কখনো উইকেট নিয়ে কথা বলছেন কিউরেটরদের সঙ্গে, কখনো বা গ্রাউন্ডসম্যানদের ডেকে পরদিনের অনুশীলনের পরিকল্পনা বুঝিয়ে দিচ্ছেন। কোন নেটে বোলিং মেশিন বসাতে হবে, বোলিং মেশিনে চাকা লাগানো কি না—এ রকম আরও অনেক আলোচনা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে নাক কাটা পরাজয়ের পর একটু হালকা হতেই হয়তো তামিমের নির্ভার মূর্তিটা বিভিন্ন রূপ নিয়ে থাকল পুরো দলের মধ্যে। অনুশীলনের আগে ফুটবল খেলায় সেই চনমনে বাংলাদেশকেই দেখল সবাই। মাঝে মাঠে গিয়ে বিসিবির দুই শীর্ষ পরিচালক মাহবুবুল আনাম ও দেওয়ান শফিউল আরেফিন অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের সঙ্গে কথা বলে এলেন, সাহস দেওয়ারই চেষ্টা করলেন বোধ হয়। আর বিশ্বকাপে সাকিব-তামিমদের শেফ দ্য মিশন ও বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির প্রধান এনায়েত হোসেন তো বলতে গেলে দলের ছায়াসঙ্গী হয়েই আছেন!
সিডন্স যতই বলুন, বোর্ড পরিচালকেরা যতই সাহস দিন, ৫৮ রানের ক্ষত সহজে শুকানোর নয়। ‘ভুলে যাব’ সিদ্ধান্ত নিয়েই যদি এমন দুঃস্মৃতি ভোলা যেত, ক্রিকেটটা অনেক সহজ হয়ে যেত তাহলে। তার পরও সেটা ভুলতে হবে এবং ভোলার সবচেয়ে ভালো উপায় বোধ হয় কোচকে দেওয়া খেলোয়াড়দের ভালো খেলার প্রতিশ্রুতিটা রক্ষা করা।

ভাগ্যের সহায়তাও চান হাফিজ

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম তিনটি ম্যাচে পাকিস্তানি ওপেনিং জুটির সংগ্রহ যথাক্রমে ১১, ২৮, ১৬ রান। তিনটি ম্যাচেই মোহাম্মদ হাফিজ ও আহমেদ শেহজাদ শুরুটা ভালো করেও নিজেদের জুটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন নি। তিনটি ম্যাচেই মিডল অর্ডার দাঁড়িয়ে দলকে সম্ভাব্য বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার কারণে এই দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের বাজে পারফরম্যান্সটি চাপা পড়ে গেছে। অন্যথায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পালেকেল্লের ম্যাচের আগেই হয়ত, এই জুটি পরিবর্তন নিয়ে কথা উঠে যেত।
শেহজাদ ও হাফিজের মধ্যে এখনো পর্যন্ত মোটামুটি স্বাচ্ছন্দ্য মনে হচ্ছে হাফিজকেই। সেই ২০০৩ সালের পাকিস্তানের হয়ে খেলা শুরু করলেও তাঁর পুনর্জন্মটি হয়েছে আসলে গত গ্রীষ্মের ইংল্যান্ড সফরে। সেই সফর থেকেই মূলত পাকিস্তান দলে নিয়মিত হয়েছেন তিনি। এবারের বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩১ রান করে দারুণ একটি ইনিংসেরই ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু দুঃখজনক এক রান আউট হাফিজের সেই স্বপ্নকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়। এখনো পর্যন্ত অসাধারণ কোনো কিছু না করলেও, দলের সকলের আস্থা হাফিজের ওপর রয়েছেই। বিশ্বকাপের আগের তিনটি সিরিজে তাঁর ব্যাটিং গড় তেত্রিশ। ধারাবাহিকতার প্রতীক হয়ে ওঠা মোহাম্মদ হাফিজও তাই মুখিয়ে রয়েছেন সকলের আস্থার প্রতিদান দিতে।
‘আসলে আমাদের শুরুটা ভালো হলেও প্রতি ম্যাচেই একটি/দুটি বলেই পুরো দৃশ্যপট পালটে যাচ্ছে। ব্যাপারটি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কাজ করে যাচ্ছি আমরা।’ বলেছেন হাফিজ।
কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম ও হাম্বানটোটার রাজাপক্ষে স্টেডিয়াম-দুটোতেই ইনিংসের শুরুতে বেশ সুইং পান বোলাররা এ কারণেই শেহজাদের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিটা জমছে না বলেই ধারণা হাফিজের।
আগেই বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের আগের তিনটি সিরিজে হাফিজের ব্যাটিং গড় তেত্রিশ। সে কারণে, বিশ্বকাপের তিনটি ম্যাচে হাফিজের অসাধারণ কিছু করতে না পারাটা সকলের চোখে ঠেকেছে। হাফিজ মনে করেন, ‘এটা কোনো সমস্যা নয়। একটি ম্যাচই সবকিছু পাল্টে দিতে পারে। তিনি বলেন, একটি ম্যাচে আমি রান আউটের শিকার হয়েছি, আরেকটিতে আম্পায়ারিং সিদ্ধান্ত গেছে আমার বিপক্ষে। ক্রিকেটে ভালো পারফর্ম করতে হলে ভাগ্যেরও কিছুটা সহায়তা প্রয়োজন।’
উদ্বোধনী জুটির একটি ভালো শুরু ইনিংসের চেহারাটাই পালটে দিতে পারে। যেহেতু পাকিস্তানের মিডল অর্ডার ভালো ফর্মে রয়েছে, তাই উদ্বোধনী জুটির নৈপুণ্য দলকে তুলে দিতে পারে রানের পাহাড়ে। ব্যাপারটি মানেন হাফিজও। তিনি বলেছেন, ‘এটা ঠিক মিডল অর্ডার আরো ভালো করতো যদি আমরা শুরুটা ভালো করতাম। আশা করছি পরের ম্যাচেই আমরা জ্বলে উঠতে পারব।’

‘মর্যাদার লড়াইয়ে’ কেনিয়া ১৯৮

ছোটদের ‘বড়’ ম্যাচ! নয়াদিল্লিতে চলমান দিবা-রাত্রির ম্যাচের কথা বাদ দিলে তিনটি করে ম্যাচে অংশ নিয়েছে কেনিয়া ও কানাডা। হার তিনটিতেই। আজ ‘মর্যাদার লড়াইয়ে’ কানাডার বিপক্ষে ১৯৮ রান তুলেছে কেনিয়া।
একদিক থেকে প্রথমার্ধের খেলায় দুই দলের অবস্থান সমান। কেনিয়া যেমন পুরো ৫০ ওভার ব্যাটিং করার আত্মতৃপ্তি পেতে পারে, কেনিয়াকে অল আউট করায় একইভাবে আত্মতৃপ্তি পেতে পারে কানাডাও।
রানের খাতা খোলার আগেই কেনিয়ার প্রথম উইকেটের পতন। দলীয় ৫৭ রানে নেই পঞ্চম উইকেট! কেনিয়ার ইনিংস কত দূর যেতে পারে এটাই যখন প্রশ্ন, তখন প্রতিরোধ তন্ময় মিশ্র ও টমাস ওডয়োর। প্রত্যেকে রানও করেছেন সমান, ৫১। কানাডার হয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট শিকার করেন হেনরি ওসিন্ডে। দুটি করে উইকেট নেন হার্ভির বাইদান ও রিজওয়ান চিমা।

`আমার স্বপ্ন পূরণ হলো’

বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন অভিজ্ঞ অসি ব্যাটসম্যান মাইক হাসি। ইনজুরি তাঁর সেই স্বপ্ন কেড়ে নিতে বসেছিল। কিন্তু, নিজের লড়াকু মন-মানসিকতা তাঁর সেই স্বপ্ন আবার ফিরিয়ে দিয়েছে। লড়াই করে ইনজুরির ছোবল থেকে মুক্ত হওয়ার পর বিশ্বকাপ স্কোয়াডে শেষ পর্যন্ত তাঁর ডাকটা এসেই পড়েছে অস্ট্রেলীয় বোলিং আক্রমণের অন্যতম অস্ত্র ডগ বলিঞ্জারের ইনজুরি। আরেক সতীর্থের দুঃখজনক ইনজুরি নিজের বিশ্বকাপ স্বপ্নকে নতুন জীবন দেওয়ার পরেও, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে শেষ পর্যন্ত খেলতে পারার স্বপ্নটা সার্থক হওয়ায় দারুণ খুশি-হাসি। বলেছেন, ‘আমার স্বপ্ন পূরণ হলো এতে।’
তিনি আরও বলেছেন, বিশ্বকাপ স্বপ্ন পূরণ হলেও, শিরোপার স্বপ্নটা পূরণ করতে পারলে, এ পৃথিবীতে তাঁর চেয়ে খুশি আর কেউ হবে না।’
গত জানুয়ারি মাসে হাঁটুর ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে চলে গিয়েছিলেন মাইক হাসি। অপারেশন করিয়ে সুস্থ হয়ে এসে হাসি এখন আত্মবিশ্বাসী বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে ভালো খেলার জন্য। সে সঙ্গে আত্মবিশ্বাসী তাঁর হাঁটু আর নতুন করে কোনো সমস্যা সৃষ্টি করবে না।
কাল মঙ্গলবার উপমহাদেশে উড়ে গিয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন মাইক হাসি। তাঁর মতে, এবারের বিশ্বকাপ জেতারও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সামনে।
১৫১টি একদিনের ম্যাচে ৫১ গড়ে ৪৪৬৯ রান করা ৩৫ বছর বয়সী এ অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান আগামী শনিবারই বেঙ্গালুরুতে কেনিয়ার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামতে পারবেন বলে জানা গেছে।

দয়া করে আমাদের চোকার্স বলবেন না’

রতিপক্ষের সংগ্রহ মাত্র ১৭১ রান। এ সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে ৩ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রানও করে ফেলার পরও ৬ রানের পরাজয়। দক্ষিণ আফ্রিকার এ ফলাফলকে আপনি কী বলবেন? চোকিং?
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন নিজের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৭১ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার পর গতকাল সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট টুইটারে নিজের ব্লগে লিখেছিলেন, ‘যদিও ইংল্যান্ডের ইনিংস ১৭১ রানেই শেষ হয়ে গেছে। তার পরও প্রোটিয়াদের সম্পর্কে আমি একটি কথাই বলতে পারি, তা হলো ওরা “চোকার্স”।’ দিন শেষে মাইকেল ভনের এই ভবিষ্যদ্বাণী যেভাবে মিলে গেল, তাতে দীর্ঘদিন নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকা এ বিশেষণটি কি সত্যে পরিণত হলো না?
স্প্রিংবক অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ অবশ্য নিজেদের এই ‘চোকার্স’ বিশেষণটি মন থেকে কখনোই মেনে নিতে পারেননি। এবারও পারলেন না। তিনি বলেছেন, ‘মানুষ যা-ই বলুক আমি সবাইকে জানাতে চাই যে আমরা চোকার্স নই।’ এর পক্ষে কয়েকটি যুক্তিও তুলে ধরেছেন তিনি। বলেছেন, ‘গত দুই বছর দক্ষিণ আফ্রিকা চাপের মুখে প্রচুর ম্যাচ জিতেছে। আমরা এ বিশেষণটি ঝেড়ে ফেলার পথে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছি।’
তবে, একটি জিনিস স্মিথ নিজেও স্বীকার করেছেন অকপটে। বলেছেন, ‘আজ যেভাবে আমরা খেললাম, তাতে অনেকের মনে হতে পারে যে আমরা সত্যিই চোকার্স।’
তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সহজ জয় মুঠো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার দায়ভার তিনি কোনোক্রমেই ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপাতে রাজি হননি।
‘আজ ছিল আমাদের ব্যাটিংয়ের একটি খারাপ দিন। এমন দিন তো আসতেই পারে। এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ফ্ল্যাফ ডু প্লেসিস চমত্কার খেলছিল। তাঁরা আমাদেরকে জয়ের অনেকটাই কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল। তবে তাঁদের উচিত ছিল খেলাটা শেষ করে ফেরা।’
স্মিথ স্বীকার করেন, প্রথম দিকে ব্যাটিংটা ভালো হলেও মাঝের ওভারগুলোতে এসে পুরো ব্যাটিং লাইনআপই খেই হারিয়ে ফেলেছিলেন।
চেন্নাইয়ের উইকেট নিয়ে কিছুটা সমালোচনা ঝরেছে স্মিথের কণ্ঠে। তাঁর মতে, ‘আজকের উইকেট রানের জন্য আদর্শ উইকেট নয়। আমরা জানতাম, এই উইকেটে রান তাড়া করাটা খুব কঠিন। তবে, সবার দিন তো সমান যায় না। কাল যেমন ব্যাটসম্যানদের দিন ছিল না। বোলাররা গতকাল এই উইকেটে সত্যিই উপভোগ করেছে।’
নিজেদের নিয়ে কথা বললেও বিজয়ী দল ইংল্যান্ডকে কৃতিত্ব দিতে ভোলেননি স্মিথ। তাঁর মতে, সত্যিকারের যোগ্য দল হিসেবেই এই জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। অভিনন্দনটা ওদের প্রাপ্যই।

‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটটা নিয়মিত খেলতে চাই’

জীবনে কোনো দিন টেস্ট খেলেননি। তার পরও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এক পরিচিত মুখ স্টিভ টিকোলো। একেক করে বিশ্বকাপেও খেলে ফেলেছেন ২৩টি ম্যাচ। আইসিসির কোনো সহযোগী সদস্য দেশের খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের মতো আসরে এতগুলো ম্যাচ খেলাও দারুণ অর্জনের মধ্যেই পড়ে। অনেকে তাঁকে টেস্ট না খেলা সেরা ক্রিকেটার হিসেবে অভিহিত করতে পছন্দ করতেন। সেই টিকোলো যেন এ মুহূর্তে অসহায়ভাবেই অবলোকন করে যাচ্ছেন নিজ দেশের ক্রিকেটীয় দৈন্য। তবে, দৃঢ়তার সঙ্গেই তিনি জানিয়েছেন, কেনিয়া বা ক্রিকেটে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোকে বেশি বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই আইসিসির সামনে।
কেনিয়া সর্বশেষ কোনো টেস্ট দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপের বাইরে সিরিজ খেলেছিল ২০০৬ সালে। বাংলাদেশের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সেই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছিল কেনিয়ার ক্রিকেটের দুঃস্বপ্নের যাত্রা। মাঝখানে খেলোয়াড় বিদ্রোহ, ক্রিকেট বোর্ডের ব্যর্থতা, আন্তর্জাতিক ম্যাচের সুযোগ হীনতা—সব মিলিয়ে কেনিয়ার ক্রিকেট রীতিমতো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তেই এসে দাঁড়িয়েছে। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ, ২০০৩ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট ও এককালের জায়ান্ট কিলার হিসেবে পরিচিত দেশটির চলমান বিশ্বকাপে শোচনীয় প্রদর্শনী।
একটি দেশের ক্রিকেট আট বছরের ব্যবধানে যেখানে উন্নত হবে, সেখানে কেন এই অধঃপতন? এ প্রশ্নের জবাব টিকোলো দিয়েছেন দারুণ হতাশার সঙ্গেই। তিনি বলেছেন, ‘২০০৩ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে আমাদের দেশের ক্রিকেট যে গতি এগোনোর কথা ছিল, সে গতিতে এগোয়নি। অনেক কারণ এর সঙ্গে জড়িত। তবে আমার মনে হয়, নিয়মিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে না পারাই কেনিয়ার ক্রিকেট পিছিয়ে পড়ার সবচেয়ে বড় কারণ।’ তিনি বলেন, কেনিয়ার বর্তমান বিশ্বকাপ দলের নয়জনই এ প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কঠিন উত্তাপ গায়ে মাখছে, এদেরকে তো একটু সময় দিতে হবে। আপনি যেখানে সুইমিং পুলেই ভালো সাঁতার কাটতে পারছেন না, সেখানে আপনাকে যদি সমুদ্রে নামিয়ে দেওয়া হয়, আপনার অবস্থা তো শোচনীয় হবেই।
‘টেলিভিশনে শোয়েব আকতার, লাসিথ মালিঙ্গা কিংবা মুত্তিয়া মুরালিধরনের বোলিং দেখাটা খুবই আনন্দদায়ক। কিন্তু, তাঁদের বল যখন আপনি খেলছেন, তা তো কঠিন ব্যাপার হবেই।’ টিকোলোর মন্তব্য।
স্টিভ টিকোলো আইসিসির প্রতি ক্রিকেটে পিছিয়ে পড়া দেশগুলোর প্রতি বাড়তি নজর ও সহানুভূতি দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘বেশি করে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ দিয়েই কেবল আইসিসি আমাদের ক্রিকেটের উন্নতিতে অবদান রাখতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০০২-০৩ সালের দিকে ভারতের এ দল নিয়মিত কেনিয়া সফর করত। আমরা সে সময় তাদের সঙ্গে খেলে দারুণ উপকৃত হয়েছিলাম। কিন্তু, কোনো কারণে সেই সফরটি এখন আর হয় না। প্রতিটি টেস্ট খেলুড়ে দল যদি নিয়মিত তাদের একাডেমি কিংবা এ দলকে কেনিয়া সফর করাত, তাহলে আমাদের ক্রিকেটাররা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পারত। বিশ্বকাপেই কেবল আমরা শীর্ষ দেশগুলোর সঙ্গে খেলার সুযোগ পাই। এমনকি আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গেও খেলার সুযোগ পাই না।’
আজ কানাডার সঙ্গে খেলতে নামার আগে দলের কাছে কেবল ভালো ক্রিকেটটাই চান টিকোলো। তিনি বলেন, আজই সুযোগ হারানো গৌরবটা কিছুটা হলেও ফিরে পাওয়ার। তিনি আশা করেন, আজকের ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে জিতে কেনিয়া দল তাদের সমর্থকদের মুখে কিছুটা হলেও হাসি ফোটাবে।

‘দুঃস্বপ্ন থেকে বেরিয়ে আসতে চাই’

তীর হারা ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেওয়ার মতোই কঠিন লড়াই সামনে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিপক্ষে দেশবাসীকে স্তম্ভিত করে দেওয়া পারফরম্যান্স মানসিক দিক দিয়ে অনেকটাই পিছিয়ে দিয়েছে বিশ্বকাপের আগেই নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইট ওয়াশ করে প্রত্যাশার পারদকে ওপরে তুলে দেওয়া বাংলাদেশ দলকে। শুক্রবার চট্টগ্রামে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘বাঁচা-মরা’র লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে হতাশ, বিধ্বস্ত দলটিকেই নতুন করে চাঙা করে তোলার কঠিন দায়িত্বটি পালন করে যাচ্ছেন দলের অস্ট্রেলীয় কোচ জেমি সিডন্স। সেই সিডন্স আজ সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ‘যদিও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পারফরম্যান্স কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়, তারপরেও বলছি, ওই একদিনের বাজে পারফরম্যান্সই আমাদের সবকিছু শেষ করে দেয়নি।’
গতকাল ইংল্যান্ডের কাছে দক্ষিণ আফ্রিকার পরাজয় বি গ্রুপ থেকে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনাল সমীকরণকে অনেকটাই কঠিন করে দিয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনাল স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের। কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন একটি লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে নিজের আত্মবিশ্বাসটাই অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান সিডন্স। তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যায়নি।’
তিনি আরো বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচের ভুলগুলো শুঁধরে দলকে নতুন করে গোছানো হচ্ছে। সব বিভাগেই কাজ চলছে। তবে, ব্যাটিং নিয়েই একটু সিরিয়াস সবাই।’
সিডন্সের মতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল একটি দুঃস্বপ্ন, একটি দুর্ঘটনা। আমরা ওই দুঃস্বপ্ন থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।’