Wednesday, February 10, 2016

বিজেপি নির্বাচিত হলে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশ বন্ধ করা হবে -অমিত শাহ

আসন্ন বিধান সভা নির্বাচনে বিজেপি নির্বাচিত হলে আসামে বাংলাদেশী অবৈধ অভিবাসী প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হবে। ভারতের বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ এ কথা বলেছেন। তিনি আরও বলেন, আসামের স্থানীয় লোকজনের কাজ নিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশী অবৈধ অভিবাসীরা। আসামের কোকড়াঝাতে বোড়োল্যান্ড চুক্তির ১৩ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য রাখেন আজ। এতে তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে অবৈধ অভিবাসী চিহ্নিত করন কাজ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবি বাজপেয়ী ওই চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে অমিত শাহ আরও ঘোষণা দেন যে, এ বছর বিধান সভা নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে বোড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট (বিপিএফ)। বোড়োল্যান্ডে রয়েছে বিধানসভার ১২টি আসন। উল্লেখ্য, বিজেপিকে সমর্থন করার জন্য এক হাজার রুপি অনুদান প্যাকেজ দাবি করেছে বিপিএফ। এ বিষয়ে অমিত শাহ বলেন, বোড়োল্যান্ডের উন্নয়নে আমরা মক হাজার কোটি রুপিরও বেশি অর্থ দেব। এই অর্থ কোথায় এবং কিভাবে খরচ হবে সে বিষয়ে এরই মধ্যে আমাকে ধারণা দিয়েছেন বিপিএফের লোকজন। আসামে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বিজেপি লোকসভার মতো প্রচারণা নেমেছে। অমিত শাহ এ রাজ্যে ক্ষমতাসীন কংগ্রেসকে ঘায়েল করতে গিয়ে বলেন, গত তিন বছরে ১০০ গ-ারকে হত্যা করা হয়েছে। যদি এখানে কংগ্রেস আরও দশ বছর ক্ষমতায় থাকে তাহলে আর কোন গ-ার এখানে খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে আসামের উন্নয়নকে পিছন দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আসামে প্রচুর প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদ থাকা সত্ত্বেও এ রাজ্যকে পশ্চাতদিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আসামে কংগ্রেসের শাসন চিহ্নিত হয়েছে দুর্নীতি দিয়ে। এতে লাভবান হয়েছে তাদের নিজস্ব পারিবারিক সদস্যরা। স্বাধীনতা লাভের সময় আসাম ছিল একটি সমৃদ্ধ রাজ্য। কিন্তু এখন এটি দেশের মধ্যে অন্যতম একটি দরিদ্র রাজ্য। ১৯৬২ সালে চীনের আক্রমণের মতো মুহুর্তে আসামের দিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী জওয়াহারলাল নেহরু। আমাদের সেনাদের কারণে আসাম এখনও ভারতের অংশ। এ সময় অমিত শাহ বলেন রাজস্থান, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ শাসন করছে বিজেপি। এসব রাজ্যে দিনরাত ২৪ ঘন্টা বিদ্যুত আছে। আছে ভাল সড়ক যোগাযোগ। আছে হাসপাতাল ও পানীয় জল। কিন্তু আসামে রয়েছে সবচেয়ে বেশি মাতৃমৃত্যুর হার। নারীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অপরাধ রয়েছে এ রাজ্যে। রাজ্যের শতকরা ৩৬ ভাগ মানুষের বিদ্যুত নেই। এক কোটির বেশি মানুষ বসবাস করেন দারিদ্র্যসীমার নিচে। বেকারের সংখ্যা ২৩ লাখ। আসামে প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র থাকা সত্ত্বেও এখানকার শতকরা ৪৬ ভাগ কৃষকের কৃষিকাজের সুবিধা নেই। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার যেসব স্কিম চালু করেছে তা ব্যবহার করতে হবে আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈকে।

বিশ্বব্যাপী খৎনার শিকার ২০ কোটির বেশি নারী -জাতিসংঘ

বিশ্বের ৩০টি দেশের ২০ কোটিরও বেশি নারী খৎনার শিকার হয়ে বেঁচে রয়েছে। গতকাল ‘জিরো টলারেন্স ফর এফজিএম’ দিবসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ইউনিসেফ। প্রতিবেদনটি বলছে, তাদের ধারণার চাইতেও সাত কোটি বেশি নারী এই নির্মম প্রথার শিকার হয়েছে। এ খবর জানিয়েছে সিএনএন। গতকাল ৬ই ফেব্রুয়ারি ছিল জিরো টলারেন্স ফর ফিমেল জেনিটাল মিউটিলেশন (এফজিএম) দিবস। নারীর জননাঙ্গ খৎনার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী আন্দোলন জোরদার করতেই এই দিনটি পালন করা হয়ে থাকে। এই দিনে এসেই ইউনিসেফ তাদের নারী জননাঙ্গের খৎনা বিষয়ক সর্বশেষ এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের ৩০টি দেশের ২০ কোটিরও বেশি নারী এই নৃশংস প্রথার শিকার। আর এই প্রথার শিকার নারীদের প্রকৃত সংখ্যা জানা যায়নি বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। সংস্থাটির ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর গীতা রাও গুপ্তা বলেন, ‘যেকোনো অর্থেই নারী জননাঙ্গের খৎনার প্রথা নারী ও শিশু অধিকারের লঙ্ঘন। সরকার, স্বাস্থ্যকর্মী, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, পরিবার, অভিভাবকÑআমাদের সবাইকেই এই প্রথা উচ্ছেদের জন্য প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে।’ ইউনিসেফেরে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশে এই প্রথার চর্চা থাকলেও এর প্রকোপ বেশি দেখা যায় ইন্দোনেশিয়া, মিশর ও ইথিওপিয়াতে। খৎনার শিকার নারীদের সংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি এই তিন দেশের। ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে খৎনার হার সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে সোমালিয়া, গিনি ও জিবুতিতে। এর বাইরে বেশিরভাগ দেশেই নারীদের খৎনা করানো হয়ে থাকে পাঁচ বছরের মধ্যেই। আর বিশ্বব্যাপী হিসাব করলে, এক-চতুর্থাংশ নারী খৎনাই করানো হয়ে থাকে ১৪ বছরের মধ্যে।
আইভরি কোস্টের একজন খৎনাকারী জোসেফিন আকিসি কোলিবেলি বলেন, ‘কন্যা শিশুদের বয়স তিন মাস হলেই খৎনা করানো যায়। সাধারণত ছোটবেলাতেই এটি করানো হয়ে থাকে। তবে অনেক সময় বিয়ের পরও এটা করানো হয়।’ কন্যা শিশুদের খৎনায় বেশিরভাগ সময়ই প্রচুর রক্তপাত ঘটে থাকে। তাছাড়া এটি তাদের মনে গভীর ভয়ের একটি অনুভূতি তৈরি করে যা অনেকে সারাজীবনের ভুলতে পারে না। শুধু তাই নয়, অনেক ক্ষেত্রেই খৎনা এমন একটি জায়গায় করানো হয়ে থাকে যে জায়গাটি অস্বাস্থ্যকর এবং যেখানে প্রয়োজনীয় ওষুধের জোগান থাকে না। ফলে বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ দেখা দেয় মেয়েদের মধ্যে। অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতাও দেখা যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে থাকে।
বিশ্বের অনেক দেশেই নারী খৎনা আইনত নিষিদ্ধ হলেও অনেক দেশেই একে নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। ইউনিসেফের অংশীদার ওআইএস আফ্রিকের ন্যাশনাল ডিরেক্টর মোলাও বোলিসো বলেন, ‘একজন খৎনাকারীকে বিষয়টি বুঝালে সে এতে কর্ণপাত করে না। কারণ এটি তার জীবিকা। তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি এবং এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, নারী খৎনার কারণে ভয়ানক শারীরিক ও মানসিক প্রভাব পড়তে পারে। অনেক মেয়েই খৎনার কারণে প্রবল মানসিক আঘাত পেয়ে থাকে। খৎনার শিকার এবং বর্তমানে এর বিরুদ্ধে কাজ করছেন এমন একজন হলেন ৫১ বছর বয়সী কিওউয়ালা কোন। তিনি বলেন, ‘আমার মধ্যে এখনও ওই ভয় রয়ে গেছে। এই কারণে আমি সবসময় ছেলেদের ভয় পেতাম। এখনও আমার মাথার মধ্যে ওই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা কাজ করে।’
ইউনিসেফ বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর পরিমাণ কমলেও এখনও এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এখনই এর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না করতে পারলে আগামী ১৫ বছরে এর পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। ইউনিসেফ আশা করছে সরকার এবং বিভিন্ন সম্প্রদায় ও ধর্মীয় নেতাদের সহায়তায় ২০৩০ সাল নাগাদ বেশিরভাগ দেশকেই এই প্রথা থেকে মুক্ত করা যাবে।

দুই মামলা

ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে ২টি মামলা হয়েছে। গতকাল লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ৫০ কোটি টাকা মানহানির অভিযোগে মামলা করেন জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি চৌধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেল। একইদিনে খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান সাগর বাদী হয়ে ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করেছেন।
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তারের আদালতে গতকাল বেলা ১২টায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি চৌধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেল বাদী হয়ে মামলা করেন। বিচারক বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ২০০৭ সালের ডেইলি স্টার পত্রিকায় যেসব খবর প্রকাশিত হয়েছে, ওই সব সংবাদের কপি আদালতে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বাদীকে। পরবর্তী সময়ে মামলাটি আদেশের জন্য রাখা রয়েছে। মাহমুদুন্নবী সোহেল জানান, এক-এগার পরবর্তী দিনগুলোতে বিবাদী ডিজিএফআইয়ের তথ্য যাচাই না করে বিভ্রান্তিমূলক ও মানহানিকর সংবাদ ডেইলি স্টার পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়। এতে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ছাত্রলীগের মানহানি হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে জানান, খুলনায় ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করা হয়েছে। গতকাল সকালে খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান সাগর মানহানির এ মামলাটি করেছেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অভিযোগটি তদন্ত করে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন। একই সঙ্গে আগামী ৩রা মার্চ মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।
এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান সাগর বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেন ও তার পরবর্তী সময়ে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রকাশ করায় নেত্রীর মানহানি হয়েছে। তাই ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়েছেন।’

জাগৃতি-শুদ্ধস্বরে ফুটে আছে নীরব প্রতিবাদ by মোছাব্বের হোসেন

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলার ভেতরে ঢুকতেই আলাদা করে চোখে পড়ে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জাগৃতির স্টলটি। এ যেন শুধু সাদামাটা কোনো দোকান নয়। দোকানের প্রতি পরতে পরতে ফুটে উঠেছে প্রতিবাদের ভাষা। এক কোণে টেবিলে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ আর কাদা মাটি, রক্তমাখা কলমদানি, রক্ত লেগে থাকা পাণ্ডুলিপি আর চটের বস্তা।
দোকানের ভেতরে মাঝে দীপনের ছবির নিচে লেখা—‘অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ যারা অন্ধ, সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দেখে তারা।’ স্টলের ওপর কালো ব্যানারে জাগৃতি প্রকাশনীর ডান দিকে দীপনের ছবি আর নিচে লেখা ‘সকলের মাঝে শুভবুদ্ধির উদয় হোক...’।
জাগৃতির স্টলটিতে যেন ফুটে উঠেছে
প্রতিবাদের ভাষা। ছবি: জাহিদুল করিম।
প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ফয়সাল আরেফিন দীপনকে গত বছরের ৩১ অক্টোবর শাহবাগে আজিজ কো-অপারেটিভ সুপার মার্কেটে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
জাগৃতির স্টলে দীপনকে আলাদাভাবে স্মরণ করার জন্য প্রতিটি নতুন প্রিন্ট করা বইয়ের শেষে কালো ব্যাজের প্রিন্টে ছাপানো হয়েছে দীপনের ছবি। স্টলে একটি ঝুড়িতে কিছু কাঠের চাবির রিং রাখা। সেখানেও দীপনের ছবি। কালো প্রিন্ট করা একটি প্রচারপত্রে দীপনের ছবিসহ সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখা হয়েছে। আগ্রহীরা অনেকে তা সংগ্রহ করছেন। স্টলে পাঠকের সমাগমও বেশ ভালো।
স্টলে দীপনের টেবিলে রক্তের ছোপ ছোপ
দাগ আর কাদা মাটি, রক্তমাখা কলমদানি,
রক্ত লাগা পাণ্ডুলিপি। ছবি: জাহিদুল করিম
এবার এই প্রকাশনী থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ছয়টি নতুন বই এসেছে। সব মিলে বিশটি বই বের হবে বলে জানা গেল। নিয়মিত না হলেও মাঝেমধ্যেই দীপনের বাবা অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক সেখানে আসেন। তবে নিয়মিত স্টলে বসছেন দীপনের স্ত্রী চিকিৎসক রাজিয়া রহমান। কালো ব্যাজ পরেন তিনিও। তিনি জানান, দোকানে নানাভাবে দীপন হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁকে স্মরণ করা হয়েছে। দীপনের কথা বলতেই বারবার আবেগাপ্লুত হলেন তিনি। বলেন, ‘মাত্র তিন মাস আগে যে মানুষটাকে হত্যা করা হলো, অথচ এই বইমেলায় তাঁকে স্মরণ করল না কেউ। হতে পারত এই বইমেলায় তাঁর নামে একটি আলাদা চত্বর কিংবা এই বইমেলাটা তাঁকে উৎসর্গ করা যেত। কেউই কিছু করল না। অথচ এই সৃজনশীল শিল্পের সঙ্গে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি যুদ্ধ করে চলে গেলেন।’
রাজিয়া আর কথা বলতে পারলেন না। চাপা কান্নায় মুখ ঢাকলেন তিনি। কিছুটা ধাতস্থ হয়ে জানালেন, এই বইমেলায় পুরোনো বইগুলোই পাঠক বেশি খুঁজছেন ও কিনছেন। এই দোকানে গত বছর বই কিনেছিলেন ইন্দিরা রোডের বাসিন্দা আরাফাত। এবারও এখানে বই কিনতে এসেছেন তিনি। দীপন হত্যার প্রতিবাদ জানালেন তিনিও। বললেন, মানুষকে এভাবে হত্যা করতে হবে কেন? এটি কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না।
দীপনকে হত্যা করার দিনই আরেক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান শুদ্ধস্বরের লালমাটিয়ার কার্যালয়ে ঢুকে স্বত্বাধিকারী আহমেদুর রশীদ টুটুলসহ তিনজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। বইমেলায় সেই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান শুদ্ধস্বরের স্টলেও দেখা গেল প্রতিবাদের ভাষা। কর্মচারীদের কেউ কিছু বলতে না চাইলেও দোকানের সবকিছুতে যেন প্রতিবাদের ভাষা ফুটে আছে। কালো আর লাল রঙে দোকান সাজানো হয়েছে। খুঁটিগুলো কালো রং করা হয়েছে।
এই স্টলের বই বিক্রেতা মো. আশরাফুল জানান, টুটুল এখনো বইমেলায় আসেননি। এখান থেকে নতুন বইও বের হয়নি। পাঠকেরা এখান থেকেও পুরোনো বইগুলোই ঘুরেফিরে কিনছিলেন। এখানেই মিরপুর থেকে আসা এক পাঠক আসিফ বলেন, এত বড় ঘটনা ঘটে গেল, একজন প্রকাশককে হত্যা করা হলো! আরেক প্রকাশকসহ তিনজনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হলো। এর বিচার এখনো হলো না। কেউ ধরা পড়ল না। কে জানে আবার এ ধরনের ঘটনা ঘটে কি না...!
শুদ্ধস্বরের দোকানেও মানুষ আসছেন। কিনছেন পুরোনো বই। ছবি: জাহিদুল করিম

কারা নাগরিকত্ব হারাচ্ছেন? by মাসুদ মজুমদার

দেশ পরিচিতি পাল্টায়। অনেক ক্ষেত্রে মানচিত্রও পাল্টে যায়। প্রাকৃতিক কারণে ভূগোলেও পরিবর্তন আসে। সামষ্টিক সিদ্ধান্ত ও গণসম্মতির ভিত্তিতে দেশের নাম, পতাকা এবং অবয়বও পাল্টে যেতে পারে। কিন্তু স্বেচ্ছায় বর্জন না করলে জন্মগত নাগরিকত্ব পাল্টায় না। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সক্রেটিসকে বিষপানে মৃত্যুবরণ, নয়তো দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। সক্রেটিস দেশত্যাগ করতে রাজি হলেন না, বিষপান করে মৃত্যুর সাথে আলিঙ্গন করলেন। তখনো জাতিরাষ্ট্রের ধারণা এতটা পুষ্ট ছিল কি না জানি না, তবে নগররাষ্ট্রের ধারণা শতভাগ কার্যকর ছিল। এ কালের মতো দেশপ্রেমের ধারণা যুক্তিনির্ভর না বিশ্বাসনির্ভর ছিল, সেটাও স্পষ্ট নয়। মানুষ বিশ্বনাগরিক আবার একটি দেশেরও। ইকবাল ভেবেছেন, ‘সারাজাহান আমাদের’। আরবি প্রবাদে ‘দেশপ্রেমকে বিশ্বাসের অংশ ভাবা হয়েছে’। হালে নাগরিকত্ব জন্মগত মৌলিক অধিকার কি না, সেই প্রশ্ন তোলা হলেও বিষয়টি মীমাংসিত। এ ব্যাপারে ক’জন বিজ্ঞ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ইতোমধ্যে তাদের অভিমত জানিয়ে দিয়েছেন। সবার মত, কাউকে রাষ্ট্রহীন করা এবং জন্মসূত্রে পাওয়া নাগরিকত্ব বাতিল করা যায় না। ডক্টর রেজোয়ান সিদ্দিকীসহ কয়েকজন কলামিস্টও নাগরিক অধিকার হরণের মতো অসাংবিধানিক উদ্যোগ না নিতে পরামর্শ দিয়েছেন। ভিন্ন আঙ্গিকে আমরা প্রসঙ্গটির ওপর আরো একটু দৃষ্টিপাত করতে পারি।
‘মৃত্যুর চেয়ে কঠিন হচ্ছে জীবন। কেননা দুঃখকষ্ট, বিপদ-আপদ কেবল জীবনকেই ভোগ করতে হয়। এসব থেকে মানুষকে মুক্তি দেয় মৃত্যু।’ এই নীতিকথাটিও সক্রেটিসের নামে প্রচারিত হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, সক্রেটিসের নামে যত নীতিকথা প্রচারিত হয়, তার ভিত্তি কী? দ্বিতীয় প্রশ্ন হচ্ছে, সক্রেটিস কি নিজের জীবনের কোনো গ্লানি বা যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে মৃত্যুকে শ্রেয় ভেবেছেন? এত কিছুর পরও নাগরিকত্ব হারাতে চাইলেন না কেন?
মহামতি সক্রেটিস- আসলে কোন স্তরের মানুষ ছিলেন- তা এখনো অকাট্যভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তার সম্পর্কে যেসব তথ্য আমাদের জানানো হয়- সেগুলো তার ক’জন কৃতী ছাত্রের বরাতে পাওয়া। তার মধ্যে প্লেটো এবং জেনোফোনের কথাই উল্লেখযোগ্য।
সক্রেটিসের জন্ম গ্রিসের এথেন্সে। খ্রিষ্টপূর্ব ৪৭০ অব্দে তার জন্ম। মৃত্যু ৩৯৯ অব্দে। এ হিসাব সত্য হলে, সক্রেটিস ৭১ বছর জীবিত ছিলেন। প্লেটো এবং জেনোফোনই ‘সক্রেটিক মেথড’ এর রূপকার। এই চিন্তা গ্রিসের সমাজকাঠামোর ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। তাতে রাজনৈতিক পরিস্থিতিও পাল্টে দেয়। এর দায় নিতে হয় সক্রেটিসকে। হেমলক বিষ পান করিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেয়া হয়। একই রায়ের বিকল্প ছিল, মৃত্যুদণ্ড এড়াতে হলে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে। সক্রেটিস দেশছাড়ার পরিবর্তে হেমলক পানের ব্যাপারেই ইতিবাচক মত দিলেন, যা আগেই উল্লেখ করেছি।
সক্রেটিস ধনী পিতামাতার আদরের দুলাল ছিলেন না। বাবা ছিলেন একজন পাথর খোদাইকার বা পাথরে নকশা তৈরির শিল্পী। মা ছিলেন ধাত্রী। বিয়ে করেছিলেন তার তুলনায় কম বয়সী এক তরুণীকে। নাম ছিল জেনথেপি। তিনি ছিলেন কলহপ্রবণ ও অবাধ্য প্রকৃতির। তাদের তিন পুত্র সন্তান ছিল। স্ত্রী মনে করতেন সক্রেটিস সুপুরুষ নন। তবে ভক্তদের কাছে সক্রেটিস ছিলেন আকর্ষণীয় ও প্রভাবক প্রকৃতির। তাদের সংসারজীবন সুখের ছিল না বলেই মনে করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, স্ত্রী সন্তান লালন পালনের চেয়ে তিনি এথেন্সের ভবিষ্যৎ বুদ্ধিজীবী সৃষ্টিতে বেশি আগ্রহী ছিলেন। তারুণ্যে সক্রেটিস তার দেশের হয়ে যুদ্ধে লড়েছেন। উল্লেখ্য, এথেন্সের সেই সময়কার রাষ্ট্রিক ধারণায় গণবাহিনী বা ‘সিটিজেন সোলজার’ হওয়া জরুরি ছিল। ১৮ থেকে ৬০ বছরের সব নাগরিকই দেশের পক্ষে যুদ্ধে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। সক্রেটিস কমপক্ষে তিনটি সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছেন। তার দৃঢ়তা ও সাহস প্রশংসিত হয়েছিল। তবে সক্রেটিস যুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার বিপক্ষে ছিলেন।
সক্রেটিসের ছাত্ররা তাকে যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, তার যে প্রতিকৃতি বা ভাস্কর্য অনুমোদন করেছেন, দার্শনিক ও চিন্তক হিসেবে যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, সেটাই আমাদের কাছে সক্রেটিস। তা ছাড়া তিনি সবার দৃষ্টিতে পড়ার মতো লোক ছিলেন না। তার আশপাশের লোকদের কাছে তিনি সব সময় ক’টি প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইতেন। জিজ্ঞাসা করতেন ‘স্রষ্টার ভীতি এবং প্রীতি কী জিনিস’, ‘প্রজ্ঞা কী,’ ‘সৌন্দর্য বা সুন্দর কাকে বলে’, ‘ঠিক কাজ কোনটি’। এই সময়টিতে তার বয়স ছিল ৪০। অনেকেই তাকে এড়িয়ে চলত। তবে ক’জন ছাত্র তাকে বুঝেছিল; তাদের কাছে সক্রেটিস এসব প্রশ্নের জবাব নিজেই দিতেন। সেই জবাবের মধ্য দিয়ে তার চিন্তা, দর্শন ও বুদ্ধিবৃত্তির গভীরতা বুঝা যেত। সাধারণ লোকেরা তাকে মতিভ্রষ্ট মানুষ মনে করে নির্যাতন করার চেষ্টাও করেছে। একদল তরুণ তার কাছে দীক্ষা নিয়েছিল বলে জানা যায়। এদের সংখ্যা ৪০ জনের মতো হবে। প্লেটো এদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না বলেই মনে করা হয়। কেউ বলেছেন, সক্রেটিস জ্ঞান বিতরণ করে কিছু পয়সা নিতেন। অবশ্য প্লেটোর মতো তিনি কখনো কারো কাছে পয়সা দাবি করার প্রমাণ নেই। এক সময় বাবার সাথে পাথর খোদাই করে, পরে যুদ্ধে গিয়ে, তাকে সংসার টানতে হয়েছে। যা হোক, এক ধরনের ধ্যান বা ঔদাসীন্য তাকে সব সময় ঘিরে থেকেছে।
অনেক বিশেষজ্ঞ তাকে আল্লাহর মনোনীত পয়গম্বর কি-না, সংশয় নিয়েও ইতিবাচক মত দিয়েছেন এ ব্যাপারে। এর কারণ, সক্রেটিস অকাজের বা বাহুল্য কোনো কথা কখনো বলেননি। তিনি মিথ্যা কিংবা শঠতার আশ্রয় নিয়েছেন, এমন কোনো নজিরও নেই। রাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিল কোনো নীতিগর্হিত পাপ কিংবা অপরাধের জন্য নয়, তারুণ্যের মনে চিন্তাগত আলোড়ন তোলার জন্য। তার জিজ্ঞাসাগুলো এবং এর জবাব কিছুটা প্রত্যাদেশের মতো মনে হয়। তার সব বক্তব্য কালজয়ী, নীতি বিধৌত এবং সত্যাশ্রয়ী। মূর্তিপূজা না করার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। তাকে অনুসরণকারী যুবকদের দেবতাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার বিষয়টিকে তার ধর্মহীনতার প্রমাণ হিসেবে খাড়া করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে বলা যেতে পারে, সক্রেটিস একত্ববাদী ছিলেন কি না সে ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করা হলেও, মূর্তিপূজারী ছিলেন না, এ কথা নিশ্চিত হওয়া যায়। গ্রিসের দেব-দেবী নিয়ে তার কোনো আগ্রহ ছিল বলে মনে হয় না।
মৃত্যু নিয়ে তার স্পষ্ট ধারণা কী ছিল, সেটা গবেষণার বিষয়। মৃত্যু জীবনের পরিসমাপ্তি- এটা সরল কথা। একত্ববাদীদের ধর্মবিশ্বাসে মৃত্যু অবশ্যই জীবনের পরিসমাপ্তি। তবে সেটা দুনিয়ার জীবনের। এরপর কবর থেকে হাশর নশর পর্যন্ত সময় জীবন বা রুহ সৃষ্টিকর্তার নির্ধারিত স্থানে অবস্থান করে। তারপর আদালতে আখেরাতের পর জান্নাত-জাহান্নাম বা স্বর্গ-নরকের ফয়সালা আসে।
একত্ববাদীরা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করেন, আদম আ: থেকে হজরত মুহাম্মদ সা: পর্যন্ত কমপক্ষে লক্ষাধিক নবী-রাসূল আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর সমসাময়িক মানুষকে তৌহিদ, আখেরাত, রিসালাতসহ মৌলিক সব জীবনাচার শিক্ষা দিয়েছেন। একই সময় বিভিন্ন গোত্র, ভাষাভাষী ও এলাকায় নবী-রাসূলগণ সক্রিয় ছিলেন। শেষ নবী ছিলেন একক এবং বিশ্বজাহানের। সব নবী-রাসূলের বিরুদ্ধে তো বটেই, শেষ নবীর বিরুদ্ধেও অনেক অভিযোগের মধ্যে অন্যতম ছিল, তিনি আরবের লোকদের বাপ-দাদার ধর্ম- মূর্তিপূজা থেকে বিচ্যুত করছেন। তাদের দেব-দেবীদের অবজ্ঞা করছেন। অতএব, আবদুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ নবী-রাসূল নন, ধর্মদ্রোহী। এ ধরনের অভিযোগ থেকে কোনো নবীই বাদ পড়েননি। ওল্ড ও নিউটেস্টামেন্ট তথা বাইবেলেও এ ব্যাপারে স্বীকৃত শ্লোক রয়েছে। ঈশ্বর একক ও অদ্বিতীয়- হিন্দুদের মৌলিক গ্রন্থেও এটাই রয়েছে।
আমরা এত বিজ্ঞ নই যে, সক্রেটিস নবী কি নবী নন- তা নিয়ে বিতর্কের সূচনা করতে পারি। সক্রেটিস কত বড় দার্শনিক কিংবা পণ্ডিত সেটা মূল্যায়নের মতো পাণ্ডিত্যও নেই। তবে সক্রেটিসকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ্যসূচিতে বন্দী রেখে প্লেটো, অ্যারিস্টটল ও জেনোফোনকে তার ভাষ্যকার বানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা পাশ্চাত্য পণ্ডিতদের কাজ হতে পারে। প্রাচ্য এটা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা উচিত নয়।
সক্রেটিস নিয়ে এ লেখা আজকের কলামের মূল প্রতিপাদ্য নয়। আমাদের আসল বক্তব্য, নাগরিকত্ব প্রশ্নে নতুন আইনের প্রস্তাবের ওপর একটা ঋজু মন্তব্য করা। রাষ্ট্রের আদালতের দৃষ্টিতে অপরাধী সাব্যস্ত হলে জেল-ফাঁসি দেয়া যায়। যাবজ্জীবনও হতে পারে; কিন্তু নাগরিকত্ব হরণ করা কিভাবে সম্ভব! জাতিরাষ্ট্রের এই যুগে একজন মানুষকে রাষ্ট্রহীন করা মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের সাথে কতটা সাযুজ্যপূর্ণ? আন্তর্জাতিক রীতিনীতি এটাকে অনুমোদন করেনি। কেউ স্বেচ্ছায় নাগরিকত্ব বর্জন করলে কিংবা দেশত্যাগ করে অন্য কোথাও চলে গেলে আলাদা প্রশ্ন। সক্রেটিসের যুগে জাতিরাষ্ট্রের ধারণার চেয়ে নগররাষ্ট্রের ধারণা অধিকতর পরিচিত ছিল বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। সেই যুগেও সক্রেটিস বিষ পান করে মৃত্যুবরণ করতে রাজি হলেন, শাস্তি হিসেবে দেশ ছাড়তে সম্মত হলেন না। বাংলাদেশের সংবিধানেও নাগরিকত্ব বাতিলের এমন আইনি অনুমোদন নেই। সংবিধানে শুধু বলা আছে, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হইবে ৬(১)। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব এর ঊর্ধ্বে। অনুমোদনসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া আলাদা আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়। তারপরও নতুন বিতর্কে জড়িয়ে যাওয়ার একটা পথ খোলা হচ্ছে কি না সেটাই প্রশ্ন।
প্রস্তাবিত ‘নাগরিকত্ব আইন-২০১৬’ জাতীয় সংসদে পাস হলেই মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত এবং তাদের সন্তানরা নাগরিকত্ব হারাতে পারেন, এখনো এটি আশঙ্কা মাত্র। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মত, এমনটি হলে নতুন আইন অনেক বিতর্কের জন্ম দেবে। যাদের বিচার করা হয়েছে তারা দেশের নাগরিক হিসেবে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। তাদের সন্তানেরা কেন জন্মের আগের দায় নেবেন? তা ছাড়া, অনেক সাংবিধানিক জটিলতাও সৃষ্টি হতে পারে। আদালতে এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। যারা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং সর্বোচ্চ আদালত থেকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত হয়েছেন, প্রস্তাবিত আইনের একটি ধারা অনুযায়ী তাদের এবং তাদের সন্তানদের নাগরিকত্ব থাকছে না বলে যে খবর বেরিয়েছে, সেটা কতটা সঠিক জানি না। তা ছাড়া প্রস্তাব বা মুসাবিদা হলেই তা আইন হয়ে যায় না। বাংলাদেশ নাগরিকত্ব আইন-২০১৬ এর খসড়া কিছু পরিবর্তন ও পরিমার্জন সাপেক্ষে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মন্ত্রিসভায় এই আইনটি উত্থাপন করেছে। প্রস্তাবিত আইনের ৫(২) ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোন ব্যক্তি বা তার পিতা বা মাতা বাংলাদেশের নাগরিক হবেন না যদি বিদেশী কোন সামরিক বা আধা সামরিক বাহিনী বা অন্য কোন বিশেষ বাহিনীতে যোগদানপূর্বক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন বা করে থাকেন বা বাংলাদেশের অস্তিত্ব অস্বীকার বা বাংলাদেশবিরোধী কোন কর্মকণ্ডে লিপ্ত থাকেন।’ বাস্তবে এ প্রস্তাব স্বব্যাখ্যাতও নয়।
খসড়া আইনের ১৮ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার বা থাকার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি (ক) দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্র ব্যতীত কোন বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আনুগত্য প্রকাশ করেন; (খ) বিদেশী রাষ্ট্রের কোন বাহিনীতে যোগদান করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বা অন্য কোনভাবে উক্ত বাহিনীকে সহায়তা করে থাকেন এবং এই আইন বলবৎ হওয়ার অব্যবহিত পূর্ব পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস না করেন (গ) এমন কোন রাষ্ট্রের নাগরিক বা অধিবাসী, যে রাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল বা আছে এবং (ঘ) বাংলাদেশে বেআইনিভাবে অভিবাসী হিসেবে বসবাস করেন বা করে থাকেন।’
কেউ কেউ মনে করছেন, এই আইন যেভাবে আছে সেভাবে পাস হলে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে যারা সর্বোচ্চ আদালত থেকে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন, তারা এবং তাদের সন্তানেরা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব হারাচ্ছেন, আপাতত এমনটি মনে করা হচ্ছে। এ ধরনের আইনের এমন ব্যাখ্যা করার সুযোগ আছে। তবুও ভিন্ন ব্যাখ্যার অবকাশও থেকে যায়। আইনজ্ঞদের মতে, কারো কোনো কৃত অপরাধের সাথে নাগরিকত্বের কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো কাজের শাস্তি হিসেবে জন্মগত নাগরিকত্ব হানি করা যায় না। যদি তা করা হয়, তা হবে আন্তর্জাতিক আইনেরও পরিপন্থী। নাগরিকত্ব দু’টি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল- একটি হলো নাগরিকের ইচ্ছা; অন্যটি হলো জন্মসূত্রের অধিকার। এর আগে অধ্যাপক গোলাম আযমের নাগরিকত্বের মামলায় এটি নিষ্পত্তি হয়েছে যে, জন্মসূত্রে যে নাগরিক, তাকে রাষ্ট্রবিহীন করা যায় না। এখন ‘নাগরিকত্ব আইন ২০১৬’ পাস হয়ে পূর্ণাঙ্গ রূপে এলে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে। তার আগে এটা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা, কারা নাগরিকত্ব হারাচ্ছেন সে প্রশ্ন তোলাকে অনেকেই সমীচীন মনে করেন না।

রাষ্ট্রীয় সম্মানে সুশীল কৈরালার শেষকৃত্য সম্পন্ন

পূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্মানে নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার পশুপতি আর্যঘাটে হিন্দু রীতি অনুযায়ী তার শব-দাহ করা হয়। হিমালয়ান টাইমসের খবরে বলা হয়, শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে চিতায় আগুন দেন তার দুই ভাতিজা অতুল কৈরালা ও সুধামশু কৈরালা। এ সময় নেপাল পুলিশের একটি দল প্রয়াত প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। একইসঙ্গে নেপাল সেনাবাহিনীর একটি দল ১৩ টি তোপধ্বনি দিয়ে সামরিক সালাম প্রদান করে। আর্যঘাটে শেষকৃত্যের জন্য নিয়ে যাওয়ার আগে চুড়ান্ত শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য দশরথ স্টেডিয়ামে মরদেহ রাখা হয়। পরে আর্যঘাটে হাজারো মানুষ সুশীল কৈরালার প্রতি সম্মান জানাতে উপস্থিত হন। শেষকৃত্যের সময় বিভিন্ন দলের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। নেপাল সরকার সুশীল কৈরালার মৃত্যুতে গতকাল রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করে। সুশীল কৈরালা ৯ই ফেব্রুয়ারি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। কাঠমান্ডুতে ভাতিজার বাসায় মারা যান তিনি। তার একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, ৭৬ বছর বয়সী সুশীল কৈরালা শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন।

পরাশক্তিদের সংঘাত এড়াতে হবে by রবার্ট ফিস্ক

সিরিয়ার ‘ইসলামি খিলাফত’ যতটা দীর্ঘমেয়াদি মনে হতো, সেটা এখন আর অতটা দীর্ঘমেয়াদি মনে হচ্ছে না। সে কারণেই কি সুন্নি সৌদিরা হঠাৎ করেই সিরিয়াতে স্থলসেনা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে? আবার তুর্কিরাই বা এতটা বিচলিত কেন?
পাঁচ বছর ধরে আইএসের সঙ্গে যুদ্ধ করে ৬০ হাজার সেনা হারিয়ে সিরীয় সেনাবাহিনী হঠাৎ করেই এ যুদ্ধের সবচেয়ে বড় জয় অর্জন করেছে, তারা আলেপ্পো শহরের আশপাশে জাবাত আল-নুসরাসহ অন্য বিদ্রোহীদের গুঁড়িয়ে দিয়ে নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণ করে ফেলেছে। ওদিকে শহরের বাইরে রুশ বিমান হামলা তো ছিলই।
তুরস্ক থেকে আলেপ্পো পর্যন্ত বিদ্রোহীদের সরবরাহ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, কিন্তু এটাই গল্পের শেষ নয়। বেশ কয়েক মাস ধরে সিরিয়ার সেনা কর্তৃপক্ষ আরও লাখ খানেক বেসামরিক মানুষসহ আলেপ্পো শহরের মধ্যে আটকা পড়েছিল, তারা একরকমভাবে নুসরা যোদ্ধাদের বোমা ও মর্টার গোলার মধ্যেই তাদের দয়ায় বেঁচে ছিল। এই বিদ্রোহীরা তাদের ঘিরে রেখেছিল, যতক্ষণ সেনাবাহিনী দক্ষিণমুখী মহাসড়কটি খুলে দেয়।
সে সময় আলেপ্পোতে যাওয়ার একমাত্র উপায় ছিল বিমানযাত্রা, কারণ বিমানবন্দরে যাওয়ার খুবই ছোট একটা উপদ্বীপ সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। এক রাতে আমি সিরিয়ার বিমানবাহিনীর একটি বিমানে চড়ে সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছিলাম, ওই বিমানে অনেক আহত যোদ্ধা ছিল।
কিন্তু পরিকল্পনা বদলে গেছে। এখন বিদ্রোহীরাই শহরে ঘেরাও হয়ে পড়েছে, যাদের সঙ্গে আছে লাখ খানেক বেসামরিক মানুষ, নিজ নিজ ঘরবাড়িতেই তারা আটকা পড়েছে। কিন্তু তাদের টিকিয়ে রাখতে পারে, এমন কোনো বিমানবন্দরও নেই, যেটা সেনাবাহিনীর ছিল।
এই আতঙ্কজনক যুদ্ধে আনুষঙ্গিক যেসব লড়াই হয়েছে তার ভিত্তিতে বলা যায়, এই শহরের কেন্দ্রে তেমন জোরালো হামলা হবে না। উল্লেখ্য, এটিই সিরিয়ার মহত্তম শহর। সিরিয়ার সেনাবাহিনী হয়তো সেখানে তীব্র হামলা না চালিয়ে বিদ্রোহীদের বহুদিন ধরে ঘেরাও করে রেখে তাদের আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করবে।
সিরিয়ায় নুবল ও জারা নামে দুটি শিয়া-অধ্যুষিত গ্রাম রয়েছে, এই গ্রাম দুটি এত দিন বিদ্রোহীদের দ্বারা ঘেরাও ছিল, টানা তিন বছর সেখানকার অধিবাসীরা খাদ্যাভাবে ভুগেছে। সে সময় সিরিয়ার সেনাবাহিনী বিমান থেকে যে খাদ্য ফেলত, সেটা দিয়েই ওই দুটি গ্রামের মানুষ খাবারের চাহিদা পূরণ করত। সেই দুটি গ্রাম এখন সিরিয়ার সেনাবাহিনীর দখলে, এটাকে সাম্প্রতিক ইতিহাসের উল্টো রথযাত্রা হিসেবে অভিহিত করা যায়।
সেখানকার শিয়ারা আলাওয়াইট গোত্রভুক্ত, দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদও ওই গোত্রের মানুষ। ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি গ্রামে শিয়ারা কোণঠাসা হয়ে গেছে, যদিও তাদের দুরবস্থার কথা এখন পর্যন্ত গণমাধ্যমে উঠে আসেনি।
আবার আলেপ্পোর বিদ্রোহী-অধ্যুষিত অঞ্চলের মানুষেরও এখন একই অবস্থা হবে, সেই একই বিচ্ছিন্নতার বোধ অনুভব করছে তারা। আর তার সঙ্গে ঘেরাওকারীদের বোমা তো আছেই। এই শহরের দুটি অংশের মানুষের মধ্যে সব সময়ই যোগাযোগ ছিল, সেই পথ কি এখন বন্ধ হয়ে যাবে? আর যে লাখো শরণার্থী উত্তরে তুরস্কের দিকে যাচ্ছে, তাদের কী হবে?
আলেপ্পো বেশ দেরি করেই এ যুদ্ধে যোগ দিল। এটা একধরনের ঐতিহাসিক অলৌকিক ব্যাপার, তারা ২০১২ সাল পর্যন্ত এই যুদ্ধ থেকে দূরে ছিল। ২০১২ সালে বিদ্রোহীরা দামেস্কের পথ ভেবে এই প্রাচীন শহরে ঢুকে পড়ে। কয়েক মাসের যুদ্ধে সেখানকার রাস্তায় রাস্তায় আগুন জ্বলেছে। তবে এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কোনো শহর সরকারের হাতে এল, কিন্তু এরপর কী হবে? রোমান শহর পালমিরার পুনর্দখল নেবে সরকার? দিরার আশপাশের ভূমি থেকে অবাঞ্ছিত মানুষের অপসারণ?
এদিকে আরও নাটকীয় ব্যাপার ঘটবে তখন, যখন কথা হচ্ছে, ওয়াশিংটন ও মস্কো যদি যুদ্ধ লাগায়, তাহলে আবারও বিশ্বযুদ্ধ সৃষ্টি হবে, যেটা আমাদের এড়াতে হবে।
হিজবুল্লাহ সহযোগীদের নিয়ে সিরিয়ার সেনাবাহিনী ও রুশ বিমানবাহিনী আইএসের ‘রাজধানী’ রাকা দখলের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে?
গত কয়েক দিনে যেসব অসাধারণ ব্যাপার ঘটেছে আইএস নিশ্চয়ই তা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করেছে, যদিও পালমিরা এখনো তাদের দখলেই আছে। সিরিয়ার ‘ইসলামি খিলাফত’ যতটা দীর্ঘমেয়াদি মনে হতো, সেটা এখন আর অতটা দীর্ঘমেয়াদি মনে হচ্ছে না। সে কারণেই কি সুন্নি সৌদিরা হঠাৎ করেই সিরিয়াতে স্থলসেনা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে? আবার তুর্কিরাই বা এতটা বিচলিত কেন? আমার মনে সন্দেহ, শিয়া ইরানে কেউ চোখের পানি ফেলছে কি না।
যা-ই হোক না কেন, অপমানজনক ইয়েমেন যুদ্ধ থেকে সৌদিরা ইতিমধ্যে পাততাড়ি গুটিয়ে নিচ্ছে। তুরস্ক সিরিয়ায় নিজের ন্যাটো সেনা পাঠালে সেটা এক দুঃস্বপ্নের মতো হবে, যদিও সেটা করলে তারা সম্ভবত রুশ হামলার মুখে পড়বে, কিন্তু ওয়াশিংটন ও মস্কো উভয়কেই তা এড়াতে হবে। গাভরিলো প্রিনসিপ নামের এক সার্ব ১৯১৪ সালে অস্ট্রিয়ার আর্চডিউক ফার্দিনান্দ ও তাঁর স্ত্রী সোফিকে হত্যা করেছিলেন, আর তার ফলে কী হয়েছিল আমরা সবাই জানি: প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। কথা হচ্ছে, ওয়াশিংটন ও মস্কো যদি যুদ্ধ লাগায়, তাহলে আবারও বিশ্বযুদ্ধ সৃষ্টি হবে, যেটা আমাদের এড়াতে হবে।
দ্য ইনডিপেনডেন্ট থেকে নেওয়া,
অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন
রবার্ট ফিস্ক: দ্য ইনডিপেনডেন্টের মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি।

দলভিত্তিক ইউপি নির্বাচন কতটা যৌক্তিক by বদিউল আলম মজুমদার

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পৌরসভার মেয়র পদে দলভিত্তিক নির্বাচনের পর ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। এ লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদ আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও ইতিমধ্যে আচরণবিধি চূড়ান্ত করে ফেলেছে বলে শোনা যায়। কিন্তু বিশেষত পৌর নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পাই না।
তবে দলভিত্তিক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন যৌক্তিক হতে পারে, যদি এর মাধ্যমে: (১) গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়; (২) জনকল্যাণ সাধনে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়; এবং/ অথবা (৩) ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর দলের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়, যা তাঁদের দায়বদ্ধ আচরণ নিশ্চিত করবে।
স্থানীয় সরকারব্যবস্থা, বিশেষত ইউনিয়ন পরিষদ হলো জনগণের দোরগোড়ার সরকার। তাই এর মাধ্যমেই ‘গ্রাস রুট ডেমোক্রেসি’ বা তৃণমূলে গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। আর নির্বাচনের মাধ্যমেই তা ঘটে থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে নির্বাচন দলভিত্তিক না হলে কিছু আসে-যায় না। কারণ, গণতন্ত্র হলো জনগণের সম্মতির শাসন এবং এই সম্মতি অর্জিত হয় জনগণের ভোটের মাধ্যমে। তাই তৃণমূলে গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনাবশ্যক।
অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায়, সম্পদ, দায়-দায়িত্ব ও ক্ষমতা যত জনগণের দোরগোড়ার সরকারের হাতে পৌঁছায়, তত বেশি তা তাদের কল্যাণে আসে। এর জন্য প্রয়োজন একটি বলিষ্ঠ বিকেন্দ্রীকরণ ও সম্পদ হস্তান্তর কর্মসূচি। তাই স্থানীয় সরকারপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পদ, ক্ষমতা ও স্বায়ত্তশাসন প্রদানের মাধ্যমে শক্তিশালী ও কার্যকর করা হলেই এগুলো জনগণকে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান এবং তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, দলভিত্তিক নির্বাচনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে বিকেন্দ্রীকরণ তথা নীতি-কাঠামোর এ ধরনের প্রয়োজনীয় সংস্কারের কোনো উদ্যোগই লক্ষ করা যায় না। এ ছাড়া বিকেন্দ্রীকরণ ও সম্পদ হস্তান্তর কর্মসূচির জন্য দলভিত্তিক নির্বাচনের প্রয়োজন হয় না।
দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর দলীয় শৃঙ্খলা আরোপের অভিজ্ঞতাও আমাদের ইতিবাচক নয়। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের একটি অংশ বর্তমানে অনেক গুরুতর গর্হিত কাজের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, দলের পক্ষ থেকে এসব অপকর্মের হোতাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া তেমন কোনো দৃষ্টান্ত আমাদের দেশে নেই। বস্তুত, অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, দলীয় শৃঙ্খলা বলতেই আমাদের দেশে কিছু নেই। বরং রাজনৈতিক দলের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই আমাদের দেশে অধিকাংশ দুর্নীতি ও অপকর্ম হয়ে থাকে। আবার অনেকের মতে, আমাদের দেশে যথাযথ গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ রাজনৈতিক দলই গড়ে ওঠেনি এবং আমাদের প্রধান দলগুলো অনেকটা ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটের মতোই আচরণ করে। প্রসঙ্গত, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ আফসোস করে বলেছিলেন, বাঙালি দলাদলিই করতে পারে, দল গড়ে তুলতে পারে না। তাই দলভিত্তিক নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের দেশে দলীয় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার যুক্তিও হালে পানি পায় না।
বরং দলীয় প্রতীকে নির্বাচন ভালোর পরিবর্তে মন্দই বয়ে আনতে পারে। সাম্প্রতিক পৌরসভা নির্বাচনের অভিজ্ঞতা অন্তত তা–ই বলে। দলীয়ভাবে নির্বাচন হলে শুধু যে এক দলের সঙ্গে অন্য দলের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষ হয় তা নয়, একই দলের অভ্যন্তরেও বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে চরম হানাহানি সৃষ্টি করতে পারে। গত পৌরসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ দিনে ৫০টি সহিংস ঘটনা ঘটেছে এবং এক দিনেই ঘটেছে ১১টি। সাধারণত জয়-পরাজয়ের উত্তাপে নির্বাচনের দিনেই সহিংসতা ঘটে থাকে, কিন্তু গত পৌর নির্বাচনে অনেক আগ থেকেই তা শুরু হয়। আর বিএনপি যদি দুর্বল অবস্থানে না থাকত এবং গ্রেপ্তার ও বিভিন্ন ধরনের মামলা-হামলা, ভয়ভীতির কারণে তারা যদি পলায়নপর না হতো, তাহলে আমাদের প্রধান দুই দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব-হানাহানি আরও অনেক বেশি হতো বলে অনেকের আশঙ্কা। অত্যন্ত ক্ষমতাধর সরকার তার প্রবল শক্তি ব্যবহার করে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ন্ত্রণ না করলে সরকারি দলের অভ্যন্তরেও সহিংসতা আরও ব্যাপক হতো। আমাদের আশঙ্কা, চেয়ারম্যান পদে দলভিত্তিক মনোনয়নের কারণে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
ক্ষমতাসীন দল থেকে চেয়ারম্যান পদে গড়ে অন্তত পাঁচজন প্রার্থী দলীয় মনোনয়নের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, (প্রথম আলো, ৩০ জানুয়ারি ২০১৬)। এটা দলের মধ্যে হানাহানি ব্যাপকভাবে উসকে দিতে পারে। সারা দেশে ৪ হাজার ৫৫৩টি ইউনিয়নে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের কারণে সহিংসতা ঘরে ঘরে পৌঁছাতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন হবে বলে অনেকের ধারণা। ইতিমধ্যে অনেক জায়গায় বলপ্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে মাঠছাড়া করার অশুভ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কয়েক দিন আগে নারায়ণগঞ্জের আলীরটেক ইউনিয়নে বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে সংঘর্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে (মানবজমিন, ২৬ জানুয়ারি ২০১৬)। প্রতিপক্ষ দলের সঙ্গে এবং একই দলের অভ্যন্তরে এ ধরনের অনৈক্য ও হানাহানি তৃণমূলে অহেতুক অস্থিরতাই সৃষ্টি করবে এবং সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করবে।
দলীয় প্রতীকে নির্বাচন নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথেও বিরাট বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। আমাদের দেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হলো প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক দলীয়করণ। দুর্ভাগ্যবশত, পক্ষপাতদুষ্টতার গুরুতর অভিযোগ আমাদের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও রয়েছে। অতীতে অধিকাংশ প্রার্থীর দলীয় পরিচিতি থাকলেও ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে দলীয় প্রতীক ব্যবহৃত হতো না। তাই নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত দলবাজ কর্মকর্তারাও তাঁদের দলীয় প্রার্থীদের প্রতি একধরনের নিরপেক্ষতা প্রদর্শন করতেন। ফলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ সুগম হতো। কিন্তু দলভিত্তিক নির্বাচনে দলান্ধ কর্মকর্তারা তাঁদের দল মনোনীত প্রার্থীদের জিতিয়ে আনা অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন, যা নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
দলভিত্তিক নির্বাচন প্রার্থীর সংখ্যাও কমিয়ে দেয়। উদাহরণস্বরূপ, ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত পৌরসভা মেয়র পদে গড় প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৫ দশমিক ১১। সাম্প্রতিক পৌর নির্বাচনে তা এসে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ০৩ শতাংশে। এর বড় কারণ নির্দলীয় প্রার্থীর অনুপস্থিতি। অতীতে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় অনেক ব্যক্তিকে স্থানীয় জনগণই নির্বাচনে দাঁড় করিয়ে দিতেন। কিন্তু পৌরসভা নির্বাচনে তাঁদের অনেকেই ভোটারদের প্রতীকের প্রতি আনুগত্যের কারণে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে উৎসাহিত বোধ করেননি। প্রার্থীর সংখ্যা কমে গেলে ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিধি ছোট হয়ে যায়, কম যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হন এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া দলভিত্তিক নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ভিকটিম হবেন নারীরা। কারণ প্রধান দলগুলোর মনোনয়নপ্রাপ্তদের বাইরে খুব কম নারীই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এগিয়ে আসবেন।
পরিশেষে, দলভিত্তিক নির্বাচন একটি অত্যন্ত অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত। গত পৌরসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে আমরা দেশের একাধিক জায়গায় নাগরিকদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সংলাপ করেছিলাম। সব ক্ষেত্রেই সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা, যার মধ্যে সরকারদলীয় নির্বাচিত স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিও ছিলেন, বিপুলভাবে দলভিত্তিক নির্বাচনের বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। উদাহরণস্বরূপ, গত ১৯ অক্টোবর ২০১৫ রংপুরে অনুষ্ঠিত একটি সংলাপে ২৮ জন বক্তার মধ্যে ২০ জনই পৌর নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের বিরোধিতা করেন, চারজন দলভিত্তিক নির্বাচনের পক্ষে মত দেন আর অন্য চারজনের মধ্যে দুজন বিষয়টি সম্পর্কে জনমত যাচাইয়ের পরামর্শ দেন। জনমতের কথা বলতে গেলে, ১৩ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে প্রথম আলোয় অনুষ্ঠিত একটি অনলাইন জরিপে অংশগ্রহণকারী ৩ হাজার ২০৮ জনের মধ্যে ৭৩ শতাংশই দলভিত্তিক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিপক্ষে মতামত দেন। আশা করি, আমাদের সম্মানিত রাজনীতিবিদেরা বিষয়টি আমলে নেবেন এবং জাতিকে আরও বিভক্ত করা থেকে বিরত থাকবেন। বিভক্তি কারও জন্যই কল্যাণ বয়ে আনবে না।
বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের ফের সংঘর্ষ, কার্যক্রম স্থগিত

চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ (ফাইল ছবি)
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সমর্থকদের মধ্যে আবার সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সংঘর্ষের ব্যাপারে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
পুরোনো বিরোধের জের ধরে গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সভাপতি আলমগীর টিপু ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বীর সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। আজ বুধবার সকাল ১০টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি শান্ত ছিল। এর আগে গত সোমবারও এই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, গতকাল রাত ১২টার দিকে সোহরাওয়ার্দী ছাত্রাবাসের ১১১, ১১৩, ১১৪ ও ১১৫ নম্বর কক্ষে ভাঙচুর হয়। এর পরপরই সোহরাওয়ার্দী ছাত্রাবাসে ও শাহ আমানত ছাত্রাবাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক ‘বিজয়’ গ্রুপের কর্মীদের সঙ্গে ‘সিক্সটি নাইন’ গ্রুপের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ বাধে।
সিক্সটি নাইনের নেতৃত্বে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি টিপু। বিজয় গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক রাব্বী।
সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীদের ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা যায়। সংঘর্ষের ঘটনায় কারও হতাহত হওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংঘর্ষের জন্য পরস্পরকে দায়ী করেছে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ।
সভাপতি টিপু প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংঘর্ষের কথা শুনেছি। ঘটনার সময় আমি ক্যাম্পাসে ছিলাম না। সংঘর্ষের সঠিক কারণ জানি না।’
সাধারণ সম্পাদক রাব্বীর অভিযোগ, বিনা উসকানিতে সভাপতি পক্ষের নেতা-কর্মীরা সোহরাওয়ার্দী ছাত্রাবাসে তাঁর পক্ষের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন।
গতকাল দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে প্রথম আলোকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শোকজ করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে তাঁদের তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সুনির্দিষ্ট জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টিপু বলেন, ‘আমার কাছে কেন্দ্র থেকে কোনো খবর আসেনি। আমি লিখিত কোনো কাগজ এখনো পাইনি।’
রাব্বী বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। আমি লিখিত কোনো কাগজও পাইনি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী গতকাল দিবাগত রাত দেড়টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইসমাইল বলেন, সোহরাওয়ার্দী ছাত্রাবাসের চারটি কক্ষে ভাঙচুর হয়েছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা হলের পেছন দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।
টিপুকে সভাপতি ও রাব্বীকে সাধারণ সম্পাদক করে প্রায় সাত মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনো হয়নি। এর মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সমর্থকদের মধ্যে অন্তত চারবার সংঘর্ষ হয়েছে।

দুষ্টু শাহরুখ

শাহরুখ খান
সংবাদ সম্মেলন যিনি পরিচালনা করছিলেন, বলে উঠলেন, ‘আর একটাই প্রশ্ন, শেষ প্রশ্ন।’ পাশ থেকে শাহরুখ খানই তাঁকে নিবৃত্ত করলেন, ‘আরে আরও তিন-চারটা প্রশ্ন হোক না। হাজার হোক, এটা তো দিল্লি!’
৩০ বছরের বেশি সময় ধরে শাহরুখ আছেন মুম্বাইয়ে। কিন্তু দিল্লির ছেলে শাহরুখ এই শহরকে প্রেমিকার মতো ভালোবাসেন। নারীর টান আর নাড়ির টান! দিল্লিতেই কেটেছে তাঁর শৈশব। ভারতের এই রাজধানীতে আসার পর শাহরুখ যেন ফিরে পেয়েছিলেন তাঁর শৈশবও।
শৈশবের সেসব দুষ্টুমিমাখা গল্পও শাহরুখ শোনালেন, ‘সে সময় দুটি দুষ্টুমি খুব করতাম, জানি না এখনকার বাচ্চারাও এটা করে কি না। তার মানে কিন্তু বলছি না, ওদের করা উচিত। একটা হলো কারও বাসার ডোরবেল চেপেই দৌড়ে পালাতাম। আরেকটা আরও সিরিয়াস ছিল, যেটা করতে গিয়ে একবার তো বেশ ঝামেলাতেই পড়েছিলাম। আমাদের অ্যাপার্টমেন্টে ফ্ল্যাটের সামনে চিঠির বাক্স বসানো থাকত। প্রতিবার দীপাবলির সময় সেগুলোর ভেতরে পটকা-বোমা ঢুকিয়ে উড়িয়ে দিতাম।’

মুরাদের আবৃত্তি আলেখ্য

মুরাদ
আরমান পারভেজ মুরাদ অভিনয়শিল্পী। আবৃত্তি ও বিজ্ঞাপনে শোনা যায় তাঁর কণ্ঠ। এবার এই শিল্পী আনছেন একটি আবৃত্তির অ্যালবাম, মুরাদের ভাষায় ‘আবৃত্তি আলেখ্য’। সেটার কারণও ব্যাখ্যা করলেন তিনি। ‘হাজার বছরের বাঙালি ও বাংলার যে ইতিহাস, সেই ইতিহাস তুলে ধরেছি অ্যালবামে। যেটা শুরু হয়েছে ব্রিটিশদের শাসনেরও আগে থেকে। তারপর দেশ ভাগ, আমাদের ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের জন্ম, স্বৈরাচার আন্দোলন এবং আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশের গল্প বলা হয়েছে কবিতার মাধ্যমে।’
জানালেন, মূলত ওই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে লেখা কবিদের কবিতা আবৃত্তি করেছেন তিনি। এ জন্য বেছে নিয়েছেন ১৯ জন কবির ২৩টি কবিতা। অ্যালবামটির নাম আমার মাতৃভূমি। এটি প্রকাশ করছে ইমপ্রেস অডিও ভিশন। তবে কবিতাগুলো শুধু আবৃত্তির আলেখ্যতেই বন্দী হচ্ছে না। এটি অলংকরণে সমৃদ্ধ হয়ে এই বইমেলাতে আসছে মলাটে বন্দী হয়ে। বইটি প্রকাশ করছে অনন্যা। কবিতাগুলো প্রসঙ্গে বললেন, ‘আমি বাংলাদেশের সেরা কবিদের কবিতা নিয়েছি। যেমন জসীমউদ্দীন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহসহ জনপ্রিয় সব কবির কবিতা।’ মুরাদ জানালেন, মেলার মাঝামাঝি সময়ে এটি বাজারে আসবে। এরই মধ্যে কণ্ঠ দেওয়ার কাজ শেষ। বই ছাপাও শেষ দিকে। বাকি রয়েছে শেষ মুহূর্তের টুকিটাকি কিছু কাজ।
এখানেই শেষ নয়, কবিতাগুলো নিয়ে একটি মঞ্চ প্রযোজনা করা হবে। কবিতার মুহূর্তগুলো ধারণ করা হবে আলো ও নানা ধরনের অনুষঙ্গ দিয়ে। সেটির আয়োজনও চূড়ান্ত পর্যায়ে। তবে দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২১ ফেব্রুয়ারি বা মার্চ পর্যন্ত।

স্কুলে ক্যাটরিনাকে কেউ পছন্দ করত না!

ক্যাটরিনা কাইফ
বলিউডের তারকা অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফের ভক্তের সংখ্যা কত? এমন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া নিঃসন্দেহে কঠিন কাজ। সহজ করে বললে জনপ্রিয়তার কারণেই ক্যাটরিনা আজ বলিউডের প্রথম সারির একজন তারকা। সেই ক্যাটরিনাই কিনা জানিয়েছেন যে স্কুলে তাঁকে নাকি কেউ পছন্দ করত না!
ক্যাটরিনা সম্প্রতি জানিয়েছেন, যদি কারও সঙ্গে প্রেম করতে হয় সে ক্ষেত্রে তিনি তাঁর ব্যক্তিত্ব আর সেই মানুষটির উপস্থিতির প্রভাবের বিষয়টি লক্ষ করতেন।
এ প্রসঙ্গে ক্যাটরিনা জানিয়েছেন, প্রেমের ক্ষেত্রে সবাই চান এমন একজন মানুষ, যার উপস্থিতি সুখকর ও আনন্দদায়ক।
স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে ক্যাটরিনা বলেন, ‘স্কুলে আমি খুব লাজুক ছিলাম। কারও সঙ্গেই তেমন কথা বলতাম না।’ জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি তেমন জনপ্রিয়ও ছিলাম না।’
স্কুলজীবনের বন্ধু সম্পর্কে বলতে গিয়ে ক্যাটরিনা বলেন, ‘একজন ভারতীয় ছেলেই স্কুলে আমার প্রথম বন্ধু হয়েছিল। সে আমার সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করত।’
অবশ্য ক্যাটরিনা জানিয়েছেন ১৬ বছর বয়স থেকে তাঁর বন্ধুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। আর তাঁর জনপ্রিয়তাও বাড়তে শুরু করে।
বলিউডের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী সর্বশেষ অভিনয় করেছেন অভিষেক কাপুরের ‘ফিতুর’ ছবিতে। এ ছবিতে ক্যাটরিনার বিপরীতে অভিনয় করেছেন আদিত্য রায় কাপুর। বিখ্যাত ঔপন্যাসিক চার্লস ডিকেন্সের ‘গ্রেট এক্সপেক্টেশনস’ কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত ‘ফিতুর’ ছবিটি মুক্তি পাবে ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে।

এক্সিম ব্যাংকে দুই নতুন ডিএমডি

মো. হুমায়ুন কবীর ও শাহ্ মো. আবদুল বারী
এক্সিম ব্যাংকের দুই সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসইভিপি) মো. হুমায়ুন কবীর ও শাহ্ মো. আবদুল বারী সম্প্রতি উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। হুমায়ুন কবীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর ১৯৮৪ সালে ন্যাশনাল ব্যাংকে প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে যোগ দেন। ১৯৯৯ সালে তিনি এক্সিম ব্যাংকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগ দেন। অন্যদিকে শাহ্ মো. আবদুল বারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকল্যাণে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯৮৮ সালে ন্যাশনাল ব্যাংকে প্রবেশনারি অফিসার পদে যোগ দেন। এরপর প্রাইম ও মার্কেন্টাইল ব্যাংক হয়ে তিনি ২০০১ সালে এক্সিম ব্যাংকে সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগ দেন।

সংবাদ একনেকে আট প্রকল্প অনুমোদন

২ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকার আটটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে ১ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা। আর প্রকল্প সাহায্য মিলবে ১ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা।
গতকাল মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রকল্পগুলো সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো ৮৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকার মোবারকপুর তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন; ৮১৬ কোটি টাকার পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প; ৭৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকার গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পাঁচপীর বাজার-চিলমারী উপজেলা সদর দপ্তরের সঙ্গে সংযোগকারী সড়কে তিস্তা নদীর ওপর ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ প্রকল্প; ৪২ কোটি ৮০ লাখ টাকার জাতীয় প্রাণিসম্পদ ও পোলট্রি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট এবং রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগার স্থাপন প্রকল্প; ৪৫৭ কোটি ৩০ লাখ টাকার আন্তজেলা সীমান্ত সড়ক নির্মাণ (ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলা অংশ) প্রকল্প; ১০২ কোটি ৩৩ লাখ টাকার ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প; ৭৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকার নরসিংদী বিসিক শিল্পনগরী সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং ৫৫১ কোটি ৫০ লাখ টাকার ভোলা জেলার দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলায় মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে পোল্ডার রক্ষা প্রকল্প।

আনোয়ার সিমেন্ট শিটের ডিলার সম্মেলন

সিমেন্ট শিট কোম্পানি আনোয়ার সিমেন্ট শিটের ডিলার সম্মেলন ৩ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের হোটেল সি-প্যালেসে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আনোয়ার গ্রুপের গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মানোয়ার হোসেন। সভাপতিত্ব করেন আনোয়ার সিমেন্ট শিট লিমিটেডের সিওও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান। আনোয়ার সিমেন্ট শিটের সেলস্ অ্যান্ড মার্কেটিং ডিরেক্টর আশরাফুজ্জামান ফারুকসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রায় দুই শতাধিক ডিলার এতে অংশ নেন।

টেকনাফ স্থলবন্দরে দ্বিগুণ রাজস্ব আয়

কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে সদ্যসমাপ্ত জানুয়ারি মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণের বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। আলোচ্য মাসে স্থলবন্দরটির রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ১২ কোটি ৯ লাখ টাকা। এতে প্রায় ৬ কোটি ৯৩ লাখ বেশি আদায় হয়েছে। স্থলবন্দরের শুল্ক কর্মকর্তা নু চ প্রু চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার থেকে প্রচুর পরিমাণে শুঁটকি, আচার ও কাঠ আমদানি করায় রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

পোশাকে ভর করে বাড়ছে রপ্তানি আয়

১৫২, ২২২, ২৬৭ ও ২৬৩ কোটি ডলার—গত চার মাসের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয়ের পরিসংখ্যান এসব। পোশাক খাতের স্বস্তিদায়ক এই আয়ের কারণে দেশের পণ্য রপ্তানির সামগ্রিক চেহারায় ইতিবাচক প্রবণতা টিকে আছে। তবে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, প্লাস্টিক, পাট ও পাটজাত, কৃষিজাত ও হোম টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানিতে হোঁচট খাচ্ছে বাংলাদেশ।
চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি পর্যন্ত সাত মাসে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৯২৬ কোটি ৯৫ লাখ মার্কিন ডলার। এই আয় ১ হাজার ৮৮৯ কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ৯৯ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া আয়টি গত অর্থবছরের একই সময়ের ১ হাজার ৭৮০ কোটি ডলারের চেয়ে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি। ছয় মাস শেষে প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) গতকাল সোমবার এই হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, মোট পণ্য রপ্তানির ৮১ দশমিক ৭৮ শতাংশ তৈরি পোশাক খাত থেকে এসেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ওভেন ও নিট পোশাকের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৭৬ কোটি ডলার। এ আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের ১ হাজার ৪৪৪ কোটি ডলারের চেয়ে ৯ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। ছয় মাস শেষে পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ।
তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘কর্মপরিবেশ উন্নয়নে পোশাক কারখানার পরিদর্শন শেষ হয়েছে। এখন সংস্কারকাজ চলছে। সেই হিসাবে পোশাক রপ্তানি আয় খারাপ বলা যাবে না। তবে ডলারের বিপরীতে ইউরোর দরপতনের কারণে পরিমাণ ঠিক থাকলেও অর্থের হিসাবে পোশাক রপ্তানি কম দেখা যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, বছরে পোশাক রপ্তানিতে অন্তত ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি থাকবে। কারখানার সংস্কারকাজ শেষ হলে রপ্তানি আয় অবশ্যই বাড়বে।’
এদিকে, পোশাক রপ্তানির আয় ইতিবাচক থাকলেও চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিজাত, হিমায়িত খাদ্য ও প্লাস্টিক, হোম টেক্সটাইল এবং পাট ও পাটজাত পণ্য নেতিবাচক বৃত্তেই ঘোরপাক খাচ্ছে। আলোচ্য সময়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ৬৬ কোটি, পাট ও পাটজাত পণ্যে ৪৯ কোটি, হোম টেক্সটাইলে ৪২ কোটি, হিমায়িত খাদ্যে ৩৩ কোটি, কৃষিজাত পণ্যে ৩০ কোটি এবং প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানিতে ৫ কোটি ডলার আয় হয়েছে। এসব পণ্যে রপ্তানিতে সর্বনিম্ন ৬ থেকে সর্বোচ্চ ২৬ শতাংশ পর্যন্ত কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
বাইসাইকেলসহ বিভিন্ন প্রকৌশল পণ্যে ৩১ কোটি, টেরি টাওয়েলসহ অন্যান্য বিশেষায়িত বস্ত্রজাত পণ্যে ৬ কোটি ডলার আয় হয়েছে।
শুধু জানুয়ারিতে ৩১৮ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এটি গত জানুয়ারির চেয়ে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চলতি অর্থবছর ৩ হাজার ৩৫০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আয় হয়েছিল ৩ হাজার ১২০ কোটি ৮৯ লাখ মার্কিন ডলার।

নেদারল্যান্ডসে রপ্তানি আরও বাড়ানো সম্ভব

নেদারল্যান্ডস থেকে বাংলাদেশ যা আমদানি করে, সে তুলনায় নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশ রপ্তানি করে পাঁচ গুণ বেশি। বাংলাদেশি পণ্যের প্রতি যেহেতু নেদারল্যান্ডসের আগ্রহ আছে, তাই দেশটিতে রপ্তানি আরও বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
সচিবালয়ে গতকাল সোমবার বাংলাদেশে নবনিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত লিওনি কিউলেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে নেদারল্যান্ডসে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চিংড়ি, প্লাস্টিক, চামড়াজাত পণ্য ও ওষুধ বাংলাদেশ থেকে ভালোই আমদানি করছে নেদারল্যান্ডস। আর তাই নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি বাংলাদেশের অনুকূলে।
মন্ত্রী জানান, গত বছর বাংলাদেশ নেদারল্যান্ডসে ৮৪ কোটি ৩ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে। একই সময়ে দেশটি থেকে আমদানি করা হয়েছে ১৪ কোটি ১৬ লাখ ডলার মূল্যের পণ্য।
নেদারল্যান্ডস পরীক্ষিত অংশীদার আখ্যা দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশটি বাংলাদেশের অনেক উন্নয়নকাজেরও বড় সহযোগী। ভোলায় নদীভাঙন রোধে ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের সহযোগী নেদারল্যান্ডস। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নেও সহযোগিতা করছে নেদারল্যান্ডস।
মন্ত্রী বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর ক্রেতাগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের যে ক্ষতিপূরণ দিয়েছে, তার মধ্যে নেদারল্যান্ডস অন্যতম।
রাষ্ট্রদূত বলেছেন, বাংলাদেশি পোশাক কারখানাগুলো এখন নিরাপদ এবং কর্মবান্ধব।

বাংলাদেশ নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা প্রধানের সতর্কবার্তা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে ছোট করে দেখার যে চেষ্টা করছেন তাতে দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটিতে বহুজাতিক সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর বিস্তার ঘটতে পারে। এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স-এর পরিচালক জেমস ক্লাপার। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। এতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী হুমকির বিষয়ে সিনেট শুনানিতে এ সব কথা বলেছেন তিনি। শুনানিতে তিনি ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশে বিদেশী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর ইসলামিক স্টেটের হামলা ও তার দায় স্বীকারের কথা তুলে ধরেন। একইভাবে তুলে ধরেন উদারমনা ১১ জন লেখক ও ব্লগারের ওপর আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ও আল কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্টের হামলা ও দায় স্বীকারের কথা। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদশে একটি মুসলিম প্রধান দেশ। এখানে রয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সহিষ্ণুতার রীতি। কিন্তু কট্টরপন্থি সহিংসতা এখানে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশে ইসলামিক স্টেটের উপস্থিতির কথা অস্বীকার করেছে। এসব সহিংসতার জন্য তারা দায়ী করছে ইসলামপন্থি গ্রুপ ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর থেকেই বাংলাদেশে বিরাজ করছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। ওই নির্বাচন বর্জন করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংঘটিত নৃশংসতার জন্য জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। এতেও রাজনীতিতে উত্তেজনা রয়েছে।

ভাটারা থানার ওসিকে তথ্য কমিশনের জরিমানা

তথ্য অধিকার আইনে তথ্য না দেওয়ায় রাজধানীর ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নূরুল মোত্তাকিনকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করতেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে তথ্য কমিশন।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁও এ তথ্য কমিশনের কার্যালয়ে এক শুনানি শেষে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রধান তথ্য কমিশনার গোলাম রহমান, কমিশনার নেপাল চন্দ্র সরকার ও অধ্যাপক খুরশীদা বেগম সাঈদ শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।
একটি মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশ ভাটারা থানায় পৌঁছেছে কি না, তা জানতে তথ্য চেয়েছিলেন আলাউদ্দিন আল মাছুম নামের এক ব্যক্তি। ভাটারা থানার ওসি ওই আবেদন গ্রহণে অস্বীকার করলে তিনি তথ্য কমিশনে অভিযোগ দেন। গতকাল শুনানিতে আলাউদ্দিন আল মাছুম উপস্থিত থাকলেও ওসি মোত্তাকিন উপস্থিত ছিলেন না।
কমিশনার নেপাল চন্দ্র সরকার প্রথম আলোকে বলেন, এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার ওসি মোত্তাকিনকে শুনানিতে হাজির হওয়ার জন্য ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তিনি কোনো বারই আসেননি। শুনানিতে গরহাজির থাকায় এবং কোনো সময়ের আবেদন না করায় তাঁকে জরিমানা এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে টেলিফোনে ভাটারা থানার ওসি নূরুল মোত্তাকিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আছে বা আজ শুনানি ছিল, সে সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। সংবাদিকদের কাছ থেকেই আমি এটা জানতে পেরেছি।’
নেপাল চন্দ্র সরকার জানান, তথ্য কমিশনের শুনানিতে এ পর্যন্ত ওসি মোত্তাকিনসহ মোট নয়জনকে বিভিন্ন জরিমানা করা হয়েছে।
তথ্য কমিশন গতকাল নয়টি অভিযোগের শুনানি করে পাঁচটি অভিযোগ নিষ্পত্তি করে। চারটি অভিযোগ শুনানির জন্য পরবর্তী সময়ে তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

নব্বই শতাংশ বই মানসম্মত নয়- বাংলা একাডেমি

বাংলাদেশ একুশে বইমেলা এখন তুঙ্গে, কিন্তু দোকানগুলোতে থরে থরে সাজানো বইয়ের কতগুলো মানসম্মত তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মেলার আয়োজক বাংলা একাডেমি।
প্রতিবছর একুশে মেলায় গড়ে তিন হাজারের মতো বই প্রকাশিত হয়।
কিন্তু এসব বইয়ের মধ্যে নব্বই শতাংশেই মানসম্মত নয় বলে মনে করে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ। তারা বলছেন, এর একটি বড় কারণ হচ্ছে অধিকাংশ বইয়ের ক্ষেত্রে কোন সম্পাদনা হয়না।
বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পে সম্পাদনার বিষয়টি দিন দিন গুরুত্ব হারাচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।
মেলায় প্রতিদিন যেসব বই প্রকাশিত হয় সেগুলোর মধ্যে উপন্যাস, গল্প এবং কবিতার সংখ্যা বেশি। অনেক বইয়ের বিজ্ঞাপন এবং মোড়ক দেখতে বেশ আকর্ষণীয়।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড: বিশ্বজিত ঘোষ বিবিসিকে বলেন, চকচকে মোড়কের আড়ালে অনেক বই ভুলে ভরা। তিনি মনে করেন কোন ধরনের সম্পাদনা ছাড়া বই প্রকাশ হওয়ায় এ ধরনের পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ এই সত্যটাই প্রতিষ্ঠিত হলো না যে বই প্রকাশের জন্য সম্পাদনার প্রয়োজন আছে।
তিনি বলেন অনেক বইয়ের বানান, বাক্য গঠন এবং বিষয় বিন্যাস একেবারেই মানসম্মত নয়। সাধারণত এই কাজটি একজন সম্পাদক করেন।
অধ্যাপক ঘোষ বলেন, আমার সীমাবদ্ধতা আমার চোখে ধরা পড়বে না। সেটি আরেকজনের চোখে ধরা পড়বে। সেজন্য প্রত্যেকের বই সম্পাদিত হওয়া উচিত। কারণ কোন মানুষই নির্ভুল নয়। বই সম্পাদনাকে পেশা হিসেবে নেয়া ব্যক্তির সংখ্যা খুব একটা বেশি নয়। গত এক দশক ধরে এ কাজ করেন রাখাল রাহা। বই সম্পাদনার জন্য তার একটি প্রতিষ্ঠানও আছে।
মি: রাহা বলছেন সম্পাদিত বইয়ের মান ভালো হতে বাধ্য।
মি: রাহা বলেন, পাণ্ডুলিপি হাতে পাওয়ার পরে আমরা দেখার চেষ্টা করি সেটার উন্নতির জায়গা কোথায় আছে। এরপর যে পরামর্শ দেয়া হয় তার ভিত্তিতে লেখক কাজ করেন।
বাংলা একাডেমি বলছে মেলায় প্রতিবছর ৩০০টির মতো প্রকাশনা সংস্থা অংশ নেয়। কিন্তু হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সম্পাদনা পরিষদ আছে।
এ বিষয়ে প্রকাশকদের এতো অনাগ্রহ কেন?
প্রকাশনা সংস্থা জ্যোৎস্না পাবলিশার্সের কর্ণধার স্বপন দত্ত মনে করেন বিষয়টি মূলত আর্থিক সামর্থ্যের উপর নির্ভর করে।
মি: দত্ত বলেন, বেশিরভাগ প্রকাশক কম পুঁজিতে ব্যবসায় নেমেছে। বই সম্পাদকদের বেতন দেবার মতো আর্থিক পুঁজি অনেক প্রকাশকের নেই। বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ মনে করে মেলায় অনেক নিম্নমানের বই যে আসছে সে বিষয়টি তারা অবগত।
একডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন অধিকাংশ প্রকাশনা সংস্থা বই সম্পাদনার গুরুত্ব বুঝতে পারছেনা বলে তিনি মনে করেন।
মি: খান বলেন, অমর্ত্য আমাকে বলেছিলেন তার বই সম্পাদকরা সম্পাদনা করেন। এতো বিখ্যাত লেখকের বই যদি সম্পাদনা হয়, তাহলে এখানকার লেখকের বই কেন সম্পাদনা করা হবেনা।
মহাপরিচালক বলেন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশী প্রকাশকদের টাকা দিয়ে বই ছাপায়। এতে করে বইয়ের গুনগত মান আরো নিচে নেমে যাচ্ছে বলে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক বিশ্বজিত ঘোষ মনে করেন বাংলা একাডেমির এমন নিয়ম করা উচিত যাতে সম্পাদনা পরিষদ ছাড়া কোন প্রকাশনা সংস্থা মেলায় আসতে না পারে।
সুত্রঃ বিবিসি

বাংলাদেশের ৮২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে

কলকাতা শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় এবারে বাংলাদেশের ৮২টি শিল্প-প্রতিষ্ঠান যোগ দিচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে কলকাতার সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে এ মেলা শুরু হবে। চলবে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ট্রেড প্রমোশন অর্গানাইজেশনের (আইটিপিও) সহায়তায় বেঙ্গল ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএনসিসিআই) মেলাটির আয়োজন করছে।ৎ
মেলায় দেশ-বিদেশের ৪০০টি শিল্প-প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন করবে। ভারত এবং বাংলাদেশ ছাড়াও মেলায় যোগ দিচ্ছে আরও ১০টি দেশ। এর মধ্যে রয়েছে তুরস্ক, মিসর, নেপাল, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, হংকং ও থাইল্যান্ড।
মেলা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বিএনসিসিআইয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি গৌরপদ সরকার। এ সময় কলকাতার শিল্পপতিরা উপস্থিত ছিলেন।

ইন্টারনেট ডেটা থেকে আয় বাড়ছে by আশরাফুল ইসলাম

দেশের মুঠোফোন অপারেটরদের মোট আয়ে ইন্টারনেট ডেটার অবদান ক্রমেই বাড়ছে। তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রিজি) টেলিযোগাযোগ সেবা চালুর আগে অপারেটরদের বার্ষিক আয়ে ইন্টারনেট ডেটার অবদান ছিল মাত্র ২ শতাংশ। ২০১৫ সালে এসে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৯ থেকে ১০ শতাংশ। তিন শীর্ষ অপারেটর গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের মোট আয়ে ইন্টারনেট ডেটার অবদানের চিত্র বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
গ্রামীণফোনের ২০১৫ সালের বার্ষিক আয় ছিল ১০ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইন্টারনেট ডেটা থেকে আয় হয়েছে ৮৫০ কোটি টাকা, যা প্রতিষ্ঠানটির মোট আয়ের সাড়ে ৮ শতাংশ। ২০১৪ সালে ডেটা থেকে গ্রামীণফোনের আয় ছিল ৫৫০ কোটি টাকা, যা ওই বছরের আয়ের ৫ শতাংশ ছিল। আর ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির মোট আয়ে ইন্টারনেট ডেটার অবদান ছিল ৩১৭ কোটি টাকা।
২০১৫ সালের প্রতি প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের ইন্টারনেট ডেটার আয় আগের প্রান্তিককে ছাড়িয়ে গেছে। বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) এ খাত থেকে অপারেটরটি আয় করে ১৬০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে সেটি বৃদ্ধি পেয়ে ২০০ কোটি টাকা, তৃতীয় প্রান্তিকে ২৩০ কোটি আর সর্বশেষ প্রান্তিকে সেটি ২৫০ কোটি টাকা হয়েছে। বছরের শেষ প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির মোট আয়ের ৯ দশমিক ২ শতাংশ এসেছে ডেটা থেকে।
জানতে চাইলে গ্রামীণফোনের প্রধান করপোরেট অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভয়েস কল আমাদের আয়ের মূল উৎস হলেও ইন্টারনেট ডেটা থেকে আয়ও বাড়ছে। ডিজিটাল জীবনযাত্রার সঙ্গে মানুষের অভ্যস্ততা প্রতিনিয়ত বাড়ছে, যেটা ইন্টারনেটের ব্যবহার ও আয় বৃদ্ধিকে সামনে আরও ত্বরান্বিত করবে।’
২০১৫ সালে আরেক অপারেটর রবি আজিয়াটার মোট আয়ের ১০ শতাংশের জোগান আসছে ইন্টারনেট ডেটা থেকে। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রবির মোট আয় ছিল ৩ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা, এর ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৩৮৫ কোটি টাকা এসেছে ডেটা থেকে। অথচ থ্রিজি চালুর আগে ২০১৩ সালের রবির মোট আয়ে ইন্টারনেট ডেটার অবদান ছিল নামমাত্র। ওই বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) রবির আয় ছিল ১ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা, যার ২ শতাংশ বা ২২ কোটি টাকা এসেছে ডেটা থেকে। থ্রিজি চালুর পরে ২০১৪ সালের প্রতিটি প্রান্তিকে ইন্টারনেট ডেটা থেকে রবির আয় হয়েছে ৬ থেকে ৮ শতাংশ,২০১৫ সালে যা বেড়ে ১০ শতাংশ হয়েছে।
বাংলালিংকের আয়েও ইন্টারনেট ডেটার অবদান গত দুই বছরে তিন গুণ বেড়েছে। থ্রিজি চালুর আগে ২০১৩ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ইন্টারনেট ডেটা থেকে প্রতিষ্ঠানটি আয় করেছে ২৯ কোটি টাকা। ২০১৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে এসে এই আয় হয়েছে ৮৯ কোটি টাকা।
খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ২০১৫ সালের শেষভাগে এসে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যম এক মাসের বেশি সময় বন্ধ না করলে ইন্টারনেট ডেটা থেকে আয় আরও বেশি হতো।

ভয় পায়নি ছাত্রজনতা by আহমদ রফিক

জেলায় জেলায় ভাষা আন্দোলন
রংপুর জেলার অন্তর্গত মহকুমা শহর নীলফামারী। বিভাগ–পূর্বকালের শিক্ষিত হিন্দু মধ্যবিত্তপ্রধান শহরগুলো রাজনীতি ও সাহিত্য-সংস্কৃতিতে বিশিষ্ট অবস্থানে ছিল। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর এসব স্থানে প্রগতিশীল চেতনা পিছিয়ে পড়তে দেখা যায়। এর কারণ দেশভাগের পর শিক্ষিত হিন্দু মধ্যবিত্তের ব্যাপক হারে স্বদেশত্যাগ। সে শূন্যস্থান পূরণ করে স্থানীয় ও ভারত থেকে আগত স্বাতন্ত্র্যবাদী মুসলিম মধ্যবিত্ত শিক্ষিত শ্রেণি। ফলে সেসব স্থানের গণতান্ত্রিক ও বাম প্রগতিবাদী রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ধারা দুর্বল হয়ে পড়ে। নীলফামারী তেমন একটি শহর।
এ ধরনের শহরগুলোয় প্রায়ই দেখা গেছে ১৯৪৮ সালের মার্চের ভাষা আন্দোলন জোরদার হয়ে ওঠেনি কিংবা আদৌ আন্দোলন শুরু করা যায়নি। নীলফামারীর ঘটনাবলির বিবরণ দিতে গিয়ে ফিরোজ আহমেদ লিখেছেন: ‘যে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়, তা মূলত সাম্প্রদায়িক চিন্তা, ধর্মীয় উগ্রতাসমৃদ্ধ ছিল। ১৯৪৮ সালে দেশের বিভিন্ন এলাকার মতোই নীলফামারীতে এর প্রভাব বিস্তৃত হয়। ফলে প্রগতিশীল রাজনৈতিক চিন্তাধারার প্রসার ঘটেনি।’
তা সত্ত্বেও এ কথা ঠিক যে এ অবস্থায়ও কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের একাধিক অঞ্চল থেকে আগতদের বসবাসের কারণে কোনো কোনো স্থানে সীমাবদ্ধ বৃত্তে প্রগতি চেতনার একটি পরিবেশ তৈরি হয়। নীলফামারীতে ১৯৪৮ সালের মার্চের ভাষা আন্দোলন সাংগঠনিক রূপ পায়নি। এমনকি ১৯৫০-এর মূলনীতি কমিটিবিরোধী ভাষা বিক্ষোভেও অংশ নিতে পারেনি নীলফামারী; যদিও সে সময় খয়রাত হোসেন প্রমুখ রাজনীতিবিদের চেষ্টায় নীলফামারীতে আওয়ামী মুসলিম লীগের মহকুমা কমিটি এবং পূর্ববঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের শাখা গঠিত হয়েছিল।
প্রকৃতপক্ষে নীলফামারীতে ভাষা আন্দোলনের সূচনা ১৯৫২ সালে শিক্ষায়তনকে কেন্দ্র করে। তত দিনে অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে আওয়ামী মুসলিম লীগ ও পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ। সিদ্ধান্ত, ৪ ফেব্রুয়ারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট, সেই সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের সমাবেশ ও মিছিল। কিন্তু ৪ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদের ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে সরকারি ছাত্র সংগঠনের বিরোধিতায় সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কিন্তু হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের হস্তক্ষেপে সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয় এবং ধর্মঘট ও মিছিল যথারীতি চলে। ছাত্রীদের তরফে এ কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন হালিমা খাতুন, জাহেদা বেগম, জাকিয়া সুলতানা, সালমা বেগম প্রমুখ ছাত্রী। আর ছাত্রদের নেতৃত্বে মোহাম্মদ আলী, শওকত আলী, শামসুল হক প্রমুখ।
নীলফামারীতে বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত কর্মসূচি যথাযথভাবে পালিত হয় শিক্ষায়তনে ধর্মঘট, প্রতিবাদ সভা ও মিছিলের মাধ্যমে। স্লোগান ওঠে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’। প্রতিবাদ সভায় সব মতের ছাত্রনেতাদের বক্তব্য দিতে দেখা যায়। অনেকটা ঢাকার মতো সর্বদলীয় চরিত্রের ধারায়।
কিন্তু ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ঘটনাবলির খবর শহরে পৌঁছালে ছাত্রজনতার মধ্যে বিপুল প্রতিবাদী আবেগ জন্ম নেয়। ছাত্রজনতার স্বতঃস্ফূর্ত এক মিছিল পূর্বোক্ত নেতৃত্বকে উপেক্ষা করেই পথে নেমে আসে। শহর প্রদক্ষিণ করার সময় বিভিন্ন স্তরের ও পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিছিলে শামিল হয়। মিছিলের আয়তন বিশাল হয়ে ওঠে।
এখানেই থেমে থাকে না প্রতিবাদী কর্মতৎপরতা। ঢাকায় পুলিশি বর্বরতা সুদূর নীলফামারীতে রক্তবর্ণ পতাকা উড়িয়ে ভাষার দাবি আদায়ে গভীর প্রেরণা সৃষ্টি করে। মিছিল, স্লোগান, আবেগ ও উত্তেজনা সংহত হয় শেষবিকেলে পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ছাত্র জনসভায়। এসব মিছিলে শহরের বাইরে আশপাশের স্থানীয় মানুষ শামিল হয়। এমনকি গ্রামের লোকও।
আন্দোলন শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে মূলত সভা ও মিছিলে জনসাধারণের অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে। ইতিমধ্যে পুলিশও তৎপর হয়ে ওঠে। আন্দোলনের কয়েকজন নেপথ্য নায়ককে গ্রেপ্তার করা হয়। ক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা তাঁদের মুক্তির দাবিতে থানা এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। সেই সঙ্গে ২৬ ফেব্রুয়ারি নীলফামারীতে সাধারণ ধর্মঘট, তথা হরতাল ও বিক্ষোভ মিছিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ উপলক্ষে পুলিশ ছাত্রনেতা শফিয়ার রহমান ও শামসুল হককে গ্রেপ্তার করে। ম্যাট্রিক পরীক্ষার্থী শফিয়ার রহমানকে শেষ পর্যন্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে আপন নিয়মে আন্দোলনের অবসান ঘটে।
কিন্তু এ আন্দোলনের প্রভাব ছড়িয়ে যায় নানা শ্রেণির মানুষের মধ্যে। ১৯৫৩ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্রসমাজ শহীদ দিবস পালনের উদ্যোগ নিলে তাতে সাধারণ মানুষের আন্তরিক সমর্থন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ছাত্রনেতাদের চেষ্টায় নীলফামারী ছাত্রাবাস প্রাঙ্গণে ছোটখাটো আকৃতির একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। শহরের সব অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে শহীদ মিনার।
পরে ‘১৯৭২ সালে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন প্রভৃতি সংগঠনের সম্মিলিত উদ্যোগে পৌরপার্কে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে নীলফামারীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার তৈরি করা হয়।’ স্বভাবতই পরবর্তী সময় থেকে নতুন এই শহীদ মিনারই হয়ে ওঠে শহরের সব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মূল কেন্দ্র।
ভয় পায়নি নীলফামারীর ছাত্রজনতা। বাঙালিবিদ্বেষী প্রশাসন ও অনুরূপ বিহারি ছাত্রদের বাধা অতিক্রম করে তারা ভাষার দাবি পূরণ করতে একুশের দায় মিটিয়েছে।

মাথাপিছু আয় ১৩১৬ ডলার

বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় এখন ১ হাজার ৩১৬ মার্কিন ডলার। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে মাথাপিছু আয় সাময়িক হিসাবের চেয়ে ২ ডলার বেড়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) চূড়ান্ত হিসাবে গত অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ। তাই মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে।
বাজেটের সময় দেওয়া বিবিএসের সাময়িক হিসাবে গত অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছিল। আর মাথাপিছু আয়ের সাময়িক হিসাব ছিল ১ হাজার ৩১৪ ডলার।
মাথাপিছু আয় প্রত্যেক বাংলাদেশির আলাদা বা ব্যক্তিগত আয় নয়। এটি সামগ্রিক আয়, যা মাথাপিছু ভাগ করে গণনা করা হয়।

মূল্যস্ফীতি আরও কমত বাড়িভাড়া না বাড়লে

মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমার মধ্য দিয়ে ২০১৬ সাল শুরু হলো। গত জানুয়ারি মাসে মাসওয়ারি ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৬ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ হয়েছে। গত ডিসেম্বর মাসে এ হার ছিল ৬ দশমিক ১০ শতাংশ।
কিন্তু মূল্যস্ফীতি কমার সুফল পায়নি সাধারণ মানুষ। জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। এর মানে হলো, জানুয়ারি মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি যে হারে বেড়েছে, সাধারণ মানুষের মজুরি বা আয় সেই হারে বাড়েনি। এর ফলে তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে।
বিবিএসের মজুরি হার সূচক অনুযায়ী, ২০১০-১১ ভিত্তিবছর ধরে গত জানুয়ারি মাসে জাতীয় মজুরি হার সূচক ছিল ১৩৩ দশমিক ৪৯, যা ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসের মাসের তুলনায় ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ বেড়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ মূল্যস্ফীতি ও জাতীয় মজুরি সূচক হিসাবে এ তথ্য পাওয়া গেছে। গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, খাদ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি না পাওয়ায় মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। তবে জানুয়ারি মাসে বাড়িভাড়া না বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও কমত বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে লক্ষ্য অনুসারে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ২০ শতাংশের মধ্যেই থাকবে।
বিবিএসের তথ্যানুযায়ী, জানুয়ারি মাসে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি কমেছে, কিন্তু বেড়েছে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে। খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ। আগের মাসে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে ডিসেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি বেশ বেড়েছে। এ মাসে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ডিসেম্বর মাসে ছিল ৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। শাকসবজি, ফল, ভোজ্যতেল ও মসলাজাতীয় পণ্যে জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি কমেছে দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। তবে পরিধেয় বস্ত্র, বাড়িভাড়া, আসবাব ও গৃহস্থালি, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন, শিক্ষা উপকরণ ও সেবার দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

শ্যামবাজারে ‘লোকসানের গল্প ’by শুভংকর কর্মকার

পুরান ঢাকার শ্যামবাজারে রাস্তার দুই পাশে আড়ত।
সারা দিনই ট্রাক থেকে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ চলে।
এ জন্য প্রায়ই লেগে যায় যানজট। শ্যামবাজার বি কে
দাশ রোড থেকে গতকাল বেলা দুইটার দিকে তোলা -প্রথম আলো
দোকানের এক পাশে বস্তা বস্তা ভারতীয় পেঁয়াজ। যশোরের বেনাপোলের আমদানিকারকদের কাছ থেকে ১৮ টাকা কেজি দরে কেনা। পেঁয়াজের বস্তাগুলো দেখিয়ে রাজীব বাণিজ্য ভান্ডারের কর্মকর্তা অনাথ সাহা বললেন, ৫৪ হাজার টাকা লোকসান।
জানতে চাইলাম, কেন? অনাথ সাহা বললেন, ‘তিন দিন আগে বেনাপোল থেকে এক গাড়ি, মানে ১৮ টন ভারতীয় পেঁয়াজ কিনে আনি। সেদিন কেজি ছিল ১৮ টাকা। ঢাকা পর্যন্ত আনতে কেজিতে ৩ টাকা খরচ। ফলে দাম দাঁড়াচ্ছে ২১ টাকা। কিন্তু ওদিকে বেনাপোলে পেঁয়াজের দাম কমে গেছে। কেজি এখন ১৫ টাকা। সে জন্য ঢাকায় পাইকারেরা ১৮ টাকার বেশি দামই বলছেন না। লোকসানে বিক্রি করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।’
পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের এটি একটি চিত্র, বিশেষ করে যাঁরা আমদানি করেন তাঁদের। তবে এখানে আড়তের সংখ্যাই বেশি, প্রায় ৩০০। আমদানিকারক ২০-২৫ জন। তাঁদের অধিকাংশের আবার আড়তদারি ব্যবসাও আছে। আড়তদারেরা মূলত আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের ‘কমিশন এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করেন। কমিশন এজেন্ট হচ্ছে, এক কেজি পেঁয়াজ বিক্রিতে আড়তদার সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকের কাছ থেকে ৩০ পয়সা এবং যে পাইকার পেঁয়াজ কিনবেন, তাঁর কাছ থেকে কেজিতে ৫০ পয়সা পাবেন। রসুনে কমিশন হচ্ছে ১ এবং ১ করে ২ টাকা। আর আদায় ১ টাকা ও ৫০ পয়সা।
শ্যামবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানালেন, ভোক্তার চাহিদার বিষয়ে এখানকার আমদানিকারকদের কোনো ধারণা নেই, জোগান নিয়েও নেই। সে জন্য প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পণ্য আমদানি করেন। এতে করে আরেকটি বড় সমস্যাও হচ্ছে। বাজারে পণ্যের জোগান বেশি হওয়ায় দাম পড়ে যাচ্ছে। তাতে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষতির মুখে পড়ছেন। যদিও পণ্যের দাম কমায় মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে খুচরা পর্যায়ে সেটির সুফল খুব একটা পান না সাধারণ ভোক্তারা।
গত সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্যামবাজারে গিয়ে দেখা যায়, বুড়িগঙ্গার নদীতীরে লালকুঠি ঘাটের মোড় থেকেই আড়ত শুরু। ফরাশগঞ্জের বি কে দাশ রোড ধরে এগোতেই চোখে পড়ল সারি সারি আড়ত। সেখানে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, শুকনো মরিচ, হলুদ, ধনে, আলু ইত্যাদি ভোগ্যপণ্যের বস্তা থরে থরে সাজানো। দু-চারটি ট্রাক থেকে পণ্য নামছে। গলি পথ ধরে হেঁটে নদীর পাশে গিয়ে সবজির ছোট আড়ত মিলল। নদীপথে মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ট্রলারে করে লাউ, ফুলকপি ইত্যাদি সবজি ঘাটে ভিড়ছে। বেশ কর্মচাঞ্চল্য। সদরঘাটের দিকে এগোতেই পানের আড়ত। হাঁকডাক দিয়ে পান বিক্রি হচ্ছে। সব মিলিয়ে ৫০-৫৫টি পানের আড়ত আছে। তবে ব্যবসায়ীরা জানালেন, শ্যামবাজারের মূল ব্যবসা ওই পেঁয়াজ, আদা, রসুন, হলুদ ও শুকনা মরিচের আড়তদারি।
বি কে দাশ রোডে ভাই ভাই ট্রেডার্স। শ্রমিকেরা পেঁয়াজের বস্তা ট্রাকে তুলে দিচ্ছেন। এর মধ্যেই আড়তের স্বত্বাধিকারী নারায়ণ চন্দ্র রায়ের সঙ্গে কথা হলো। ব্যবসা কেমন চলছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শ্যামবাজারে আগের মতো ব্যবসা নাই। আগে একসময় সারা দেশের পাইকাররা আসতেন। এখন কেবল ঢাকা ও আশপাশের জেলার পাইকারি ব্যবসায়ীরাই আসেন। চাহিদা কমে গেছে। কিন্তু পণ্য আমদানি কমে নাই। ধরেন, প্রতিদিন লাগবে ৫ গাড়ি পণ্য, কিন্তু আসছে ২৫ গাড়ি।’
নারায়ণ চন্দ্র বলেন, দেশে এবার প্রচুর পেঁয়াজ হয়েছে। কিন্তু আমদানি এতটাই বেশি যে দাম গেছে কমে। দেশি পেঁয়াজ ১৮-২০ টাকায় কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মেহেরপুরের একটি পেঁয়াজ আছে, সেটির দাম আরও কম, ১২-১৩ টাকা কেজি। কিন্তু চাষিদের পেঁয়াজ উৎপাদনের খরচই আছে কেজিতে ২২-২৫ টাকা।
এজেন্টের মাধ্যমেই শ্যামবাজারের ব্যবসায়ীরা ভোগ্যপণ্য আমদানি করেন। তেমনটি একটি প্রতিষ্ঠান রতন এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী রতন কুমার সাহা বলেন, শ্যামবাজারের ব্যবসা অন্ধকারে সাপ ধরার মতো হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা যে যার মতো পণ্য আমদানি করে লোকসানে পড়ছেন। তিনি বলেন, ‘দেশে উৎপাদিত পণ্যের উৎপাদন, মজুত ও চাহিদার হালনাগাদ পরিসংখ্যান ইত্যাদি দিয়ে তথ্যভান্ডার করে ব্যবসায়ীদের সেটি দিতে হবে, না হলে এই ব্যবসা ঠিকপথে আসবে না। তবে আমরা বহুবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে একটি তথ্যভান্ডার করে দেওয়ার অনুরোধ করেছি। কাজ হয়নি।’
শ্যামবাজার কৃষিপণ্য আড়ত বণিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ মহসিন উদ্দিন গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, লাভ-লোকসান এভাবেই ব্যবসায়ীরা পুষিয়ে নেন। তবে চলতি বছর ধারাবাহিকভাবে লোকসান গুনছেন ব্যবসায়ীরা। পচনশীল হওয়ায় কাঁচামাল দু-এক দিনের বেশি রাখা যায় না। সরকার যদি ইতিবাচক উদ্যোগ নেয়, তবেই এই সমস্যা কাটানো সম্ভব। কীভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেমন এবার প্রচুর পেঁয়াজ হয়েছে। সরকার চাইলে মাস খানেকের জন্য পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখতে পারত।

স্কুল-কলেজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কোচিং সেন্টার by মোশতাক আহমেদ ও আনোয়ার পারভেজ

সরকারি হিসাবে বগুড়া সদর উপজেলায় স্কুল ও কলেজ আছে ১৯৮টি। এর বাইরে আছে বেশ কিছু কিন্ডারগার্টেন। তবে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বাড়ছে কোচিং সেন্টার। কেবল লাইসেন্স পাওয়া কোচিং সেন্টারের সংখ্যা এখন ৩৬০টি।
তবে পৌরসভার লাইসেন্স শাখার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, কোচিং সেন্টার ছাড়াও রয়েছে ‘প্রাইভেট হোম’। এসব প্রাইভেট হোম মূলত একজন শিক্ষক চালান। সেখানে ব্যাচ করে শিক্ষার্থীরা পড়ে। ওই কর্মকর্তার আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, শহরে এমন প্রাইভেট হোম ও কোচিং সেন্টার হবে হাজার খানেক।
গত শনি ও রোববার বগুড়া শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এসব কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট হোমে প্রতিদিন সকাল-বিকেল-রাতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্রোত নামে। স্কুল-কলেজের সমান্তরালে শ্রেণিকক্ষের মতো আয়োজন করে এখানে পড়ানো হচ্ছে।
সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বলছেন, বগুড়া সদরে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে সদর উপজেলায় এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে শিক্ষার্থী পৌনে দুই লাখ। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, এমনকি স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও এখন কোচিং-প্রাইভেটমুখী হয়ে পড়ছে। স্কুল-কলেজে ঠিকমতো পড়াশোনা না হওয়ায় এবং অভিভাবকদের প্রতিযোগিতাপূর্ণ মনোভাবের কারণে পড়াশোনা কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেটনির্ভর হয়ে পড়ছে।
গত রোববার সকাল সোয়া ১০টায় বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলায় কথা হয় ওয়াইএমসিএ স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র জোবায়ের জিসানের সঙ্গে। সেখানে সে একটি কোচিং সেন্টারে ইংরেজি পড়ে। সে জানায়, সকাল আটটা থেকে নয়টা পর্যন্ত একজন শিক্ষকের কাছে গণিত, নয়টা থেকে ১০টা পর্যন্ত আরেকজন শিক্ষকের কাছে রসায়ন পড়েছে। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত স্কুলের ক্লাসে থাকবে। বিকেল পাঁচটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে প্রাইভেট পড়বে। যেদিন এসব বিষয়ে প্রাইভেট থাকে না, সেদিন আরেকজন শিক্ষকের কাছে জীববিদ্যা পড়তে যায়। তার পাঁচটি বিষয়ে মাসে প্রাইভেট ও কোচিং খরচ হয় আড়াই হাজার টাকা।
জোবায়ের বলছিল, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ওঠার পর কোচিং-প্রাইভেট আর স্কুলের ক্লাসেই প্রায় সব সময় চলে যায়। স্কুলে ভালোভাবে পড়াশোনা না হওয়ার কারণে তাকে কোচিং-প্রাইভেট পড়তে হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশ অনুযায়ী শিক্ষকদের নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগ নেই। অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বড়জোর ১০ জন শিক্ষার্থীকে পড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
কিন্তু বগুড়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী, কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই নিয়ম মানছেন না বগুড়ার অনেক শিক্ষক। তাঁরা ক্লাসের বাইরে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যেমন পড়াচ্ছেন, আবার অন্য প্রতিষ্ঠানের ৫০-৬০ জন করেও শিক্ষার্থী পড়াচ্ছেন। কোনো কোনো শিক্ষক নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরেই প্রাইভেট পড়ান।
বগুড়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষক বিদ্যালয়ের ভেতরে গণিত, ইংরেজি, বাংলা ও জীববিদ্যা বিষয়ে প্রাইভেট পড়ান।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, অতিরিক্ত ক্লাস হিসেবে তাঁরা পড়ান। তাঁর দাবি, অভিভাবকদের মধ্যে প্রতিযোগিতাপূর্ণ মনোভাবের কারণে স্কুলে ক্লাস হওয়া সত্ত্বেও সন্তানদের কোচিং-প্রাইভেট পড়ান।
গত শনিবার সরকারি আজিজুল হক কলেজের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের দুজন শিক্ষার্থী বলেন, তাঁরা ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং ও মাকেটিং বিভাগের তিনজন শিক্ষকের কাছে কলেজের শ্রেণিকক্ষেই প্রাইভেট পড়েন। এর মধ্যে সকাল নয়টায় একজন শিক্ষকের কাছে, বেলা একটায় আরেকজনের কাছে এবং বেলা তিনটায় আরেক শিক্ষক পড়ান। শিক্ষকের স্বল্পতায় এই বিভাগে ঠিকমতো ক্লাস হয় না।
জানতে চাইলে অবশ্য কলেজের অধ্যক্ষ সামস্-উল আলম বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
সকাল-বিকেল এমনকি রাতেও জলেশ্বরীতলাসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকায় কোচিং-প্রাইভেট পড়তে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ভিড় জমে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষার্থীরাও শহরে মেস ভাড়া করে থাকে শুধু কোচিং-প্রাইভেট পড়ার জন্য। জ্বলেশ্বরীতলায় কোনো কোনো ভবনে একসঙ্গে গড়ে উঠেছে কয়েকটি কোচিং সেন্টার।
কোচিং সেন্টার হিসেবে পরিচিত প্রগ্রেস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, শুধু জলেশ্বরীতলাতেই দেড় শতাধিক কোচিং বা প্রাইভেট হোম রয়েছে। এর মধ্যে ৫০টি সমিতিভুক্ত। তাঁর দাবি, স্কুলগুলোতে শিক্ষকদের জবাবদিহি না থাকায় তাঁরা ঠিকভাবে পড়ান না। এ জন্য শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়েই কোচিং-প্রাইভেট পড়তে হয়।
জলেশ্বরীতলা ছাড়া উপশহর, সেউজগাড়ী, কামারগাড়ী, খান্দার, জহুরুলনগর, ফুলবাড়ী, বৃন্দাবনপাড়াসহ কয়েকটি এলাকায় ‘কোচিং ব্যবসা’ এখন জমজমাট। জলেশ্বরীতলা এলাকায় কোনো কোনো কোচিং সেন্টার সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নাম পাল্টিয়ে স্কুল অ্যান্ড কলেজ বলে চালিয়ে দিচ্ছে।
জয়পুরহাট জেলার কালাই বিএম কলেজের শিক্ষক গোলাম রসুল বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে দিনে ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়ান। তবে তাঁর দাবি, ক্লাসের বাইরের সময়ে তিনি পড়ান।
সদর উপজেলার বাইরের শিক্ষার্থীরাও শহরে প্রাইভেট ও কোচিং পড়তে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে। দুপচাঁচিয়ার পাইলট স্কুলের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ হিল আসিফ জানায়, শুধু প্রাইভেট পড়তেই সে বগুড়া শহরে থাকে। থাকা-খাওয়া ছাড়াই কোচিং ও প্রাইভেট পড়ার খরচ হয় সাড়ে সাত হাজার টাকা। স্কুলে ঠিকমতো ক্লাস হয় না। মাঝেমধ্যে সে স্কুলে যায়।
বগুড়া শহরে কোচিং ও প্রাইভেট পড়ানোর বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোপাল চন্দ্র সরকার প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের অধীন কোনো শিক্ষক যদি আদেশ লঙ্ঘন করে কিছু করেন, তাহলে ব্যবস্থা নেবেন।
অবশ্য এই শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্যে আশ্বস্ত নন বগুড়ার সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি বজলুল করিম বাহার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় মূলত সরকারি তদারকি না থাকার কারণেই শিক্ষার্থীরা কোচিং-প্রাইভেটমুখী হচ্ছে। এটা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রে সর্বনাশ ডেকে এনেছে। তিনি এ বিষয়ে অভিভাবকদের সোচ্চার হওয়ার অনুরোধ জানান।

কুয়াশা-রোদের লুকোচুরি

বিদায়বেলায় মাঘ মাস যেন প্রকৃতির সঙ্গে লুকোচুরি খেলছে। কখনো মেঘ, কখনো বৃষ্টি, কখনো রোদ, কখনোবা কুয়াশা। গতকাল মঙ্গলবার ছিটেফোঁটা বৃষ্টি। আজ বুধবার ভোররাত থেকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায় পুরো দেশ। এর সঙ্গে ছিল হিমেল বাতাস। কিন্তু সকাল ১০টার পর নীলাকাশে হাসি দিয়ে ওঠে রোদ।
আবহাওয়াবিদদের মতে, শীতের শেষে প্রকৃতির রূপ এমনই হয়। দিন যত যাবে, শীত সরিয়ে গরমের মাত্রা আরও বাড়তে থাকবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দুদিনে রাজধানী ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে প্রায় ২ মিলিমিটার। তবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টির মাত্রা ছিল তুলনামূলক বেশি। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলায় বৃষ্টি হয়েছে ৭১ মিলিমিটার।
বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কমে গেছে, এর সঙ্গে কুয়াশাও পড়ছে।
আজ সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় রাজশাহীতে, ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল পটুয়াখালীতে, ২৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৫ এবং আজ সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এ সময় বৃষ্টি হলে সাধারণত কুয়াশা পড়ে। গত দুদিনের বৃষ্টির কারণেই আজ সকালে এই কুয়াশা পড়েছে। কুয়াশার মাত্রা ঢাকাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বেশি ছিল