Thursday, July 4, 2019

জাবিতে ছাত্রলীগের আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া, সামলাতে ‘ব্যর্থ’ কী প্রশাসন? by শাহাদাত হোসাইন স্বাধীন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের পদধারী নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে  অভ্যন্তরে বিভিন্ন সংঘর্ষে প্রত্যক্ষভাবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে আসছে। আধিপত্য বিস্তার ও নিয়োগ বাণিজ্যের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে হল ইউনিটের মধ্যে বার বার সংঘর্ষে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে আসছে নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বরাবরই ‘ব্যর্থ’ বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন ও শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।
গত বুধবার তুচ্ছ ঘটনায় কথা কাটাকাটির জের ধরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও মওলানা ভাসানী হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে লাঠিসোটা, রামদা, চাপাতিসহ অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া দেয় উভয় পক্ষ। এসময় বঙ্গবন্ধু হলের তিন ছাত্রলীগ নেতাকে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা যায়। তারা হলেন, শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আফফান হোসেন আপন, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ সম্পাদক রাকিবুল হাসান শাওন, সহ-সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটন। এ ঘটনায় বিশ^বিদ্যালয়েল শিক্ষক পুলিশ সদস্যসহ প্রায় ৬৫ জন আহত হন।
অস্ত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে আফফান হোসেন বলেন, জুনিয়রদের হাতে অস্ত্র ছিলো। তারা বার বার ফায়ার করতেছিলো।
আমি তাদের হাত থেকে মেশিন কাইড়া নিছিলাম। তখনই মনে হয় আমার হাতে দেখা গেছে।
রাকিবুল হাসান শাওন বলেন, আমি গুলি ছুড়ি নাই। তবে আপন ভাইকে গুলি ছুড়তে দেখছি। আমি জুনিয়রদের ফেরানোর চেষ্টা করেছি। হাবিবুর রহমান লিটন বলেন, সংঘর্ষে গোলাগুলির ঘটনা সত্য। তবে আমরা সামনে থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছি। গুলি জুনিয়ররা করে থাকতে পারে। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা ভিত্তিহীন।
এছাড়া চলতি বছরের ১৩ই ফেব্রুয়ারি নিয়োগ বাণিজ্যের টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শহীদ সালাম বরকত হলে আক্রমন করে। এতে দুই গ্রুপের মধ্যে বেধে যায় তুমুল সংঘর্ষ। সংঘর্ষে শাখা ছাত্রলীগের এক সহ-সভাপতি ও এক সম্পাদক পদধারীকে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা যায়।
এর আগে গত বছরের ২রা অক্টোবর ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে মীর মশাররফ হোসেন হল ও আল বেরুনী হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায়ও মীর মশাররফ হোসেন হলের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা যায়।
এদিকে শাখা ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রশাসন ও শাখা ছাত্রলীগের সম্পাদকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ত্বের অভিযোগ আনে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শাখা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক আখতারুজ্জামান সোহেল বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। প্রক্টরিয়াল টিম এসে পরিস্থিতি সামাল না দিয়ে ভিডিও করতে ব্যস্ত ছিলো। যারা আমাদের অভিভাবক তারা যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন না করে ভিডিও করায় ব্যস্ত থাকে তারা কিভাবে প্রক্টরিয়াল টিমে থাকে তা আমাদের প্রশ্ন।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু হল আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে। কিন্তু প্রক্টরের নির্দেশে পুলিশ আমাদের দিকেই টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। প্রশাসনের এরকম পক্ষপাতমূলক আচরনে আমরা ক্ষুব্ধ।
শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক হাসান বলেন, প্রশাসন এক পাক্ষিক আচরণ করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ব্যর্থ। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা না করে উষ্কানি দিয়েছে। তিনি সংঘর্ষকে বড় আকার ধারনের চেষ্টা চালিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চেয়েছেন। তার আচার ব্যবহার কর্মকান্ড ন্যাক্কারজনক। সে রাজনৈতিক কর্মসূচীতে অনিয়মিত। আর তিনি কয়টি প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকেন তার চেয়ে আমরা বেশি প্রোগ্রাম করেছি।
উষ্কানির বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল বলেন, উষ্কানি দিলেতো ওখানে যাওয়ার দরকার নাই। পোলাপান কথা না শুনলে কি করতে পারি! বিশ^বিদ্যালয়ে গ্যাঞ্জাম করাতো ভাল না। আমি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। এখন যে অভিযোগ করছে তা ভিত্তিহীন।
প্রশাসনের ব্যর্থতার বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, গতকালের (বুধবার) ঘটনা অপ্রত্যাশিত। এ ধরণের ঘটনায় অভিযোগ উঠতেই পারে। আমি ঘটনাস্থলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে উপস্থিত হই। আমাদের কাজের কোনো গাফিলতি ছিলনা। পাঁচ-পাঁচবার ঘটনা থামানোর চেষ্টা করার পরও ঘটনার পুনরাবৃত্তি রহস্যজনক! আমি কোন ব্যক্তি বা গ্রুপকে প্রমোট করিনা ও করবোও না। কেউ আমার কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা চাইবেনা এটাই আমার প্রত্যাশা।
ভিডিও ধারণের ব্যাপারে তিনি বলেন, একজন সহকারী প্রক্টর মোবাইলে ভিডিও ধারণের পাশাপাশি পরিস্থিতি সামলানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন।

ট্রাম্প-কিম বৈঠকের ফল কী?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের তৃতীয় বৈঠকটি পূর্বনির্ধারিত ছিল না। হঠাৎ আয়োজিত হলেও সেটি ছিল নাটকীয়তা আর উত্তেজনায় ভরা। তবে এই বৈঠকের আনুষ্ঠানিক ফলাফল বা ঘোষণা আসেনি। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও বিবৃতি যা এসেছে, তা দুই পক্ষের ব্যক্তিগত ঘোষণা হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছেন পর্যবেক্ষকেরা। তাঁরা বলছেন, কিম-ট্রাম্প শেষ বৈঠকের মাধ্যমে পাঁচটি বিষয় সামনে এসেছে।
সামনে কী ঘটবে?
কিমের সঙ্গে আধা ঘণ্টার বেশি সময় বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা আবার শুরুর বিষয়ে একমত হয়েছেন তাঁরা। এই আলোচনা গত ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামের হ্যানয় সম্মেলনে ভেস্তে যায়। বিশ্লেষকেরা বলছেন, গত বছরের জুনে সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প-কিম প্রথম বৈঠকে পরবর্তী আলোচনার সময়সূচি, একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা—সবই ছিল। কিন্তু এবারের বৈঠকে এসবের কিছুই নেই।
পরবর্তী আলোচনায় কারা থাকবেন?
কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করতে ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে আলোচনা প্রক্রিয়া থেকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এরপরও ট্রাম্প বলেছেন, আলোচনায় মার্কিন দলের নেতৃত্ব দেবেন পম্পেও। উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে কারা নেতৃত্বে থাকবেন, সেটা অবশ্য স্পষ্ট নয়। সম্প্রতি খবর বেরিয়েছে, ট্রাম্প-কিম দ্বিতীয় বৈঠকের ‘ব্যর্থতার দায়ে’ আলোচনার মধ্যস্থতাকারীদের ছেঁটে ফেলা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে সম্মেলন হবে?
ট্রাম্প সাক্ষাৎ করার আগ্রহ প্রকাশের পর তাতে সাড়া দেন কিম। ওয়াশিংটন এটিকে ‘আকস্মিক সম্মেলন’ আর ওয়াশিংটন ‘ব্যক্তিগত আলোচনা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এই বৈঠক আয়োজনকে ‘অস্বাভাবিক’ মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক এক কূটনীতিক। তিনি বলেন, একটি ‘অনমনীয়’ বিষয়কে অপ্রচলিত উপায়ের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কাজেই সামনে আরও বৈঠক হতে পারে।
ওয়াশিংটনে যাবেন কিম?
কিমকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম যদি এই সফরে যান, তাহলে সেটা হবে সবচেয়ে বড় চমক এবং অপ্রত্যাশিত কূটনৈতিক তৎপরতা।
ট্রাম্পের বন্ধু কারা?
কিমকে প্রায়ই বন্ধু বলে থাকেন ট্রাম্প। দুই কোরিয়ার অসামরিকায়িত অঞ্চলে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় কিমের মুখেও ছিল একই কথা। আবার ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনকেও বন্ধু বলেছেন।

লিবিয়ায় বিমান হামলায় নিহতদের একজন বাংলাদেশি

লিবিয়ার একটি অভিবাসী আটক কেন্দ্রে বিমান হামলায় নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশিও রয়েছেন। তার নাম শাহজালাল কাজী। বাড়ি মাদারিপুর জেলার সদর থানার কাগসারা গ্রামে। বাবার নাম ফজলে হক কাজী। রাষ্ট্রদূত শেখ সিকান্দার আলী বিষয়টি মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোর রাতে ত্রিপোলির পূর্বাঞ্চলের ওই অভিবাসী আটক কেন্দ্রে  ওই বিমান হামলা চালানো হয়। এতে ৪০ জন নিহত হন। আহত হন কমপক্ষে ৮০ জন।
বিমান হামলায় বিস্ফোরণে নিহতদের অধিকাংশই আফ্রিকান অভিবাসী।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা যায়, ইউরোপে পাড়ি জমানোর জন্য অভিবাসীরা অন্যতম পথ হিসেবে বেছে নিয়েছে লিবিয়াকে। উন্নত জীবনের আশায় লিবিয়া হয়ে সহজে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা।
২০১১ সালে দেশটির দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক মুয়াম্মার আল গাদ্দাফি নিহত হওয়ার পর  থেকে দেশটিতে সহিংসতা এবং বিভাজন বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির জরুরি সেবা বিভাগের মুখপাত্র ওসামা আলী ফরাসী বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, যে ভবনটিতে বিমান সরাসরি আঘাত হেনেছে, সেটিতে ১২০ জন অভিবাসী ছিলেন।
জাতিসংঘ সমর্থিত লিবিয়ার জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের (জিএনএ) প্রধানমন্ত্রী ফায়েজ আল-সেররা ত্রিপোলির তাজোরা শহরের অভিবাসী কেন্দ্রে বিমান হামলার জন্য স্বঘোষিত লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মিকে (এলএনএ) দায়ী করেছেন।

উড়ন্ত বিমান থেকে মৃতদেহ পড়লো বাড়ির বাগানে

লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর
লন্ডনের দক্ষিণে ক্ল্যাফাম এলাকার একজন বাসিন্দা রোববার বিকালে তার বাড়ির বাগানে রোদ পোহাচ্ছিলেন।
বিকাল আনুমানিক পৌনে চারটার দিকে তিনি তার চোখের সামনে যা দেখলেন তা তার কল্পনারও অতীত ছিল।
তার মাত্র কয়েক গজ দুরে আকাশ থেকে ধপ করে একটি মৃতদেহ এসে পড়ে। রক্তে ভেসে যায় তার বাগানের একাংশ।
পুলিশ জানাচ্ছে, হিথরো বিমানবন্দর-গামী কেনিয়ান এয়ারওয়েজের একটি বিমান থেকে মৃতদেহটি এসে পড়েছে।
যে বাড়ির বাগানে মৃতদেহটি পড়েছে, সেটির পাশের বাড়ির বাসিন্দা বিবিসিকে বলেন, হঠাৎ 'ধপাস' করে পতনের জোর একটি শব্দ শুনে দোতলার জানালা থেকে বাইরে তাকিয়ে পাশের বাড়ির বাগানে একটি মৃতদেহ দেখতে পান। "বাগানের দেয়ালে ভরা ছিল রক্ত।"
"আমি দ্রুত বাইরে বেরিয়ে দেখি আমার প্রতিবেশীও বাইরে বেরিয়ে আসছে। ভয়ে কাঁপছিল সে।"
ঐ ব্যক্তি, যিনি তার নাম প্রকাশ করতে চাননি, বলেন, তার এলাকার একজন 'প্লেন স্পটার' আকাশে একটি বিমান থেকে মৃতদেহটি পড়তে দেখেছেন ।
পুলিশ আসার প্রায় সাথে সাথেই ঐ 'প্লেন স্পটার' ঐ বাড়ির সামনে হাজির হন। তিনিই তখন বলেন, কেনিয়ান এয়ারওয়েজের একটি বিমান থেকে ঐ মৃতদেহটি পড়েছে।
ঐ প্রতিবেশী বলেন, "দুই সেকেন্ড দেরী হলেই, মৃতদেহটি এমন এক জায়গায় পড়তো যেখানে কয়েকশ মানুষ ছিল। আমার দুই বাচ্চা ১৫ মিনিট আগেও বাগানে ছিল।"
"আমি হিথরো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে প্রতি পাঁচ বছরে গড়ে এরকম একটি ঘটনা ঘটে।"

মৃতদেহটি ছিল 'বরফের দলা'

এত ওপর থেকে পড়লেও মৃতদেহটি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়নি। ঐ ব্যক্তি বলেন, "মৃতদেহটি যে ছিন্নভিন্ন হয়নি তার প্রধান কারণ সেটিকে একটি বরফের দলার মত দেখাচ্ছিল।"
লন্ডনের দক্ষিণে ক্ল্যাফাম এলাকা। এখানে একটি বাড়ির বাগানে বিমান থেকে ছিটকে এসে পড়ে একটি মৃতদেহ
পুলিশ বলছে, মৃতদেহের ময়না তদন্ত করা হবে। তবে তারা এই ঘটনার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র দেখছেন না।
কেনিয়ান এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, তারা তাদের বিমানটি পরীক্ষা করেছেন। কোনো ক্ষতি হয়নি।
তবে বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ারের খোপের ভেতর একটি ব্যাগ, পানি এবং কিছু খাবার পাওয়া গেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, নিহত ঐ ব্যক্তি ব্রিটেনে আসার জন্য নাইরোবি বিমানবন্দরে লুকিয়ে ল্যান্ডিং গিয়ারের খোপের মধ্যে গিয়ে উঠেছিল।
দূরপাল্লার বিমান আকাশে ওঠার পর ল্যান্ডিং গিয়ারের খোপের ভেতরের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত নীচে নেমে যেতে পারে। সেখানে তখন দীর্ঘক্ষণ বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব।
অবতরণের আগে চাকা খোলার জন্য ল্যান্ডিং গিয়ারের ঢাকনা খোলার পর মৃতদেহটি ছিটকে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতি পাঁচ বছরে একটি ট্রাজেডি

কেনিয়ান এয়ারওয়েজের একজন মুখপাত্র বলেন, "৬,৮৪০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে লাগে আট ঘণ্টা ৫০ মিনিট। এটা দুঃখজনক যে লুকিয়ে আমাদের একটি ফ্লাইটে উঠে একজনের জীবন গেছে। আমরা শোকাহত।"
মুখপাত্র জানান, ঘটনা তদন্তে তারা হিথরো এবং নাইরোবি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে কাজ করছেন।
লুকিয়ে বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ারের খোপে উঠে হিথরো বিমান বন্দরে আসার পথে এ ধরণের ট্রাজেডি আগেও হয়েছে।
২০১৫ সালে জুন মাসে লন্ডনের রিচমন্ড এলাকায় একটি অফিসের ছাদে একজনের মৃতদেহ এবং আরেকজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় পাওয়া যায়। তারা দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ থেকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি বিমান লুকিয়ে উঠেছিল।
২০১২ সালের অগাস্টে কেপ টাউন থেকে আসা একটি বিমানের মালপত্র রাখার খোলের ভেতর একটি মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল।
কেনিয়া এয়ারওয়েজের একটি বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ারের খোপ থেকে ছিটকে পড়ে মৃতদেহ

চীনের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে: প্রধানমন্ত্রী

চীনের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সবার সঙ্গে বিশেষ করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, গত ৭০ বছরে চীন নিজেকে বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। চীনের কাছ থেকে অনেক কিছুই শেখার আছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় সময় আজ বুধবার সন্ধ্যায় বেইজিংয়ের লিজেনডেল হোটেলে তাঁর সম্মানে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনায় এ কথা বলেন। বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে চীনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর উপলক্ষে এই সংবর্ধনার আয়োজন করেন। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিওইএফ) বার্ষিক মিটিংয়ে যোগদান উপলক্ষে দ্বিপক্ষীয় সরকারি সফরে চীনে অবস্থান করছেন। সফরকালে তাঁর চীনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষার্থী যারা চীনে লেখাপড়া করছে তাদের আমি বলব, এই দেশটির কাছ থেকে তারা অনেক কিছুই শিখতে পারে, কী করে চীনের জনগণ দিনরাত এত পরিশ্রম করে।’
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নই করছে না, উপরন্তু দেশের পররাষ্ট্রনীতি—সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়, এর আলোকে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবেও সামনে এগিয়ে নিচ্ছে।’
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, তাঁকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বাংলাদেশ কীভাবে একই সঙ্গে ভারত এবং চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখছে। তিনি বলেন, ‘এর উত্তরে তাঁদের বলেছি যে, ওই দুটি দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা কোনো সমস্যাই নয়।’
বাংলাদেশ প্রতিবেশীসহ সবার সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা এ ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর নীতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করছি এবং যে কারণে কারও সঙ্গেই আমাদের বিরূপ সম্পর্ক নেই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকায় বাংলাদেশে বিনিয়োগ আসছে। আর বিনিয়োগ তখনই আসে, যখন দেশে স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক সরকার বিদ্যমান থাকে।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, চীনের সহযোগিতায় কর্ণফুলী টানেলসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। আর চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকার কারণেই তা সম্ভব হচ্ছে।
ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা সমাধান এবং মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা সমস্যার সমাধান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন, বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রতিবেশীদের সঙ্গে অমীমাংসিত সমস্যাসমূহ সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘এটা দেখা গেছে যে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ছিটমহল বিনিময়কালে যুদ্ধ বেধে যায়, কিন্তু ভারতের জনগণ বাংলাদেশের বিষয়ে একতাবদ্ধ ছিল। কেননা, ভারতীয় সংসদে দলমত–নির্বিশেষে সবার সর্বসম্মতিক্রমে সীমান্ত আইনটি অনুমোদিত হয়।’
বিগত এক দশকে দেশের চমকপ্রদ আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি দেশ তখনই উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করে, যখন এর স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করা এবং ত্যাগ স্বীকার করা শক্তি তথা জনগণের জন্য শুভ শক্তি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকে।’
‘আপনারা এর প্রমাণ দেখেছেন’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত এবং ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দেশে বলবৎ থাকা অপশাসনের স্মৃতিচারণা করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘তখন কেন দেশের উন্নতি হয় নাই। আমি জানি না আপনারা এর কী কারণ খুঁজে পাবেন। কিন্তু কারণটা খুবই পরিষ্কার যে যারা দেশের স্বাধীনতাই কখনো চায়নি এবং যারা এখনো পাকিস্তানের জন্য অন্তরে দরদ অনুভব করে, তাদের কাছ থেকে দেশের জন্য কিছুই আশা করা যায় না।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষে শামসুল হক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফজলুল করিম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, চিকিৎসকসহ তিন জনের মৃত্যু by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

রাজধানীতে বেড়েই চলছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। ঘণ্টায় তিনজনের বেশি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৩ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন। আর চলতি জুলাই মাসে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৮৪ জন করে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন জুন মাসে ১৬৯৯ জন ডেঙ্গু জ্বরের রোগী চিহ্নিত হয়েছেন। এবছর চিকিৎসকসহ এই পর্যন্ত তিন জন মারা গেছেন। আর ২ হাজার ২২৭ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। এখনও হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২৬২ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ১৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে, গতকাল রাজধানীতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ডা. নিগার নাহিদ দিপু নামে এক নারী চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ৩২ ব্যাচের ছাত্রী ছিলেন ডা. নিগার। সর্বশেষ তিনি কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে। স্কয়ার হাসপাতালের কাস্টমার কেয়ারের এক কর্মকর্তা জানান, সকালে জরুরি বিভাগ থেকে আইসিইউতে ভর্তি হন ডা. নিগার। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ১০টায় তার মৃত্যু হয়। এই বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তান ডা. নিগারের মৃত্যুর নিশ্চিত করেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার আগেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী আসছেন হাসপাতালে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, চলতি বছর হঠাৎ হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় ডেঙ্গু বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুন, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর মশার উপদ্রব বাড়ে। কিন্তু এবার যেহেতু আগেই বৃষ্টি হয়েছে তাই মশা উপদ্রব আগ থেকেই দেখা গেছে। থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে। জমে থাকা বৃষ্টির পানি থাকলে মশার প্রজনন বাড়ে। তাই বাড়ি বা বাড়ির আঙিনার কোথাও যেন পরিষ্কার পানি জমে না থাকে সে ব্যাপারে সচেতনও সতর্ক দৃষ্টি রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ডেঙ্গু আক্রান্তদের সম্পূর্ণ ভালো না হওয়া পর্যন্ত বিশ্রামে থাকতে হবে। এ ছাড়া যথেষ্ট পরিমাণে পানি, শরবত ও অন্যান্য তরল খাবার খেতে হবে। জ্বর কমানোর জন্য শুধু প্যারাসিটামল জাতীয় ব্যথার ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। অ্যাসপিরিন বা ডাইক্লোফেনাক জাতীয় ব্যথার ওষুধ খাওয়া যাবে না। এতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ৪ থেকে ৫ দিন জ্বর থাকলে ঘরে বসে না থেকে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে বিশেষ করে বেসরকারি হাসপাতালে প্রচুর ডেঙ্গু রোগী আসছেন। রাজধানীর ধানমন্ডি সেন্টাল হাসপাতালে ৫২ জন, ইবনে সিনা হাসপাতালে ১৯ জন, বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালে ১১ জন, স্কয়ার হাসপাতালে ২০ জন, পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৪ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ২৮ জন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ১৯ জন, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ২৫ জন, বিজিবি হাসপাতালে ২৭ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
কন্ট্রোল রুম সূত্র জানা গেছে, জানুয়ারিতে ৩৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফের্রুয়ারিতে এই সংখ্যা ছিল ১৮ জন, মার্চে ১৭ জন, এপ্রিলে ৫৮ জন, মে মাসে ১৯৩ জন, জুন মাসে ১৬৯৯ জন এবং জুলাই মাসে এ পর্যন্ত ২৫৪ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে ২৬২ জন ছাড়া অন্য রোগীরা সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু অথবা চিকুনগুনিয়া জ্বরই হোক তা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মশার বিস্তার কমাতে হবে। এডিস মশার দুইটি প্রজাতি এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস অ্যালবুপিকপকটাসের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়াচ্ছেন আবার মানুষ থেকে মশার মাধ্যমে আসছে। পরে মশা থেকে আবার মানুষকে সংক্রমিত করছে। একবার ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে বার বার ডেঙ্গু হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অন্যান্য মশা ময়লা নোংরা পানিতে বংশ বিস্তার করলেও এডিস মশা এর ব্যতিক্রম, পরিষ্কার পানিতে ডিম ছাড়ে। সহজে চোখে পড়ে না এমন জায়গার পরিষ্কার পানিতে এ মশারা ডিম ছাড়ে। ফলে শহরে বিশেষ করে অভিজাত এলাকায় এডিস মশা বেশি দেখা যায়।
ডেঙ্গুর চিকিৎসা সম্বন্ধে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিনের অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, ডেঙ্গুজ্বর হলে প্রচুর পানি পান করতে হবে ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। জ্বর বাড়লে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ অথবা আরো বেশি জ্বর হলে তা কমিয়ে রাখার জন্য সাপোজিটরি ব্যবহার করতে হবে। ডেঙ্গুর চিকিৎসা বাড়িতে রেখেও হতে পারে। বেশি দুর্বল বা শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়লে, নাক ও দাঁত দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকলে হাসপাতালে নেয়াই ভালো। ডেঙ্গুজ্বর সাধারণত ১০ দিনের মধ্যে সেরে যায়। কিন্তু দুর্বলতা আরো কিছু দিন থেকে যেতে পারে। ভাইরাসজনিত জ্বর বলে এর কোনো চিকিৎসা নেই। কেবল লক্ষ্মণ বুঝেই চিকিৎসা দিতে হবে।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুলাহ বলেন, মে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বর হয়ে থাকে। শীতের সময়ে কমে আসবে। তিনি বলেন, এই সময়ে জ্বর বা গায়ে ব্যথা হলে ডেঙ্গুর কথা মাথায় রাখতে হবে। সাধারণ ডেঙ্গু জ্বর তেমন মারাত্মক রোগ নয়। ডেঙ্গু জ্বরের রোগীর যখন বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের প্রমাণ মেলে (যেমন মাড়ি বা নাক থেকে রক্তক্ষরণ, মলের সঙ্গে রক্তক্ষরণ ইত্যাদি) তখন একে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বলা হয়। অধিক রক্তক্ষরণের ফলে শরীরের জলীয় উপাদান কমে যায়। ডেঙ্গু জ্বর হলে প্রচুর পানি পান করতে হবে ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। জ্বর বাড়লে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ অথবা আরো বেশি জ্বর হলে তা কমিয়ে রাখার জন্য সাপোজিটরি ব্যবহার করতে হবে।
ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও করণীয়: জ্বর ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফা., মাথা ব্যথা, চোখের পিছনে ও হাড়ে প্রচণ্ড ব্যথা, চামড়ায় লালচে ছোয়া (র‌্যাশ) থাকে। হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বর ও ডেঙ্গু শক্‌সিনড্রোম হলে দাঁতের মাড়ি, নাক, মুখ ও পায়খানার রাস্তা দিয়ে রক্তপাত হতে পারে। সেক্ষেত্রে রোগীকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে।
প্রতিরোধ: মশার বিস্তার রোধে ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, এসি ও ফ্রিজের তলায় ইত্যাদিতে পানি জমি থাকতে দেয়া যাবে না। বাড়ির আঙিনা, নির্মাণাধীন ভবনে পানির চৌবাচ্চা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। দিনেও ঘুমানোর সময় মশারী ব্যবহার করতে হবে।

দিল্লিতে হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে একটি মন্দিরে ছোটখাট এক হামলার ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের উর্ধ্বতন মহল সচেষ্ট হয়েছে। শান্তির জন্য মুসলিম ও হিন্দু নেতারা বৈঠক করেছেন। তারা পদযাত্রা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বুধবার দিল্লি পুলিশের কমিশনারকে তলব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ওই বৈঠকের পর দিল্লি পুলিশের প্রধান জানিয়েছেন মন্দিরে হামলাকারীদের কয়েকজনকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
এতে বলা হয়েছে, পুরনো দিল্লির ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হাউজ কাজি এলাকায় রোববার গভীর রাতে দুই হিন্দু ও মুসলিম প্রতিবেশীর মধ্যে বাড়ির সামনে মোটরসাইকেল পার্ক করাকে কেন্দ্র করে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। এর কয়েক ঘন্টা পরে স্থানীয় একটি দুর্গা মন্দিরে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতি।
কিন্তু এলাকাটিকে গঙ্গা-যমুনা তেহজিব বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক পীঠস্থান বলে অভিহিত করেছেন স্থানীয় এমএলএ অলকা লাম্বা। তিনি বিবিসিকে জানিয়েছেন, মোটর সাইকেল পার্কিংকে কেন্দ্র করে ঝগড়ার জেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ ছড়িয়ে পড়ে যে, এলাকায় ‘মব লিঞ্চিং’ চলছে। তিনি স্বীকার করেন দুর্গা মন্দিরে পাথর ছোড়া হয়েছে। তাতে কিছু কাচ ভেগে গেছে। মন্দিরেরও কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে মন্দিরে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বা আগুন দেয়া হয়েছে বলে যেসব রটনা চলছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। তিনি একে মিথ্যা বললেও তিনদিন ধরে সেখানে চলছে তীব্র সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা। বিবিসি লিখেছে, চাঁদনি চকের বিজেপি এমপি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হর্ষবর্ধন এলাকা পরিদর্শন করে শান্তি বজায় রাখার আবেদনও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনা যতই যন্ত্রণাদায়ক ও হৃদয়বিদারক হোক তারপরও মহল্লায় সৌহার্দ্য রক্ষা করতেই হবে। পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধেও কঠোরতম পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে আমাকে জানানো হয়েছে।

পুরনো দিল্লির ফতেহপুরী শাহী মসজিদের প্রভাবশালী ইমাম মুফতি মুকাররম আহমেদ আবার জানাচ্ছেন, প্রায় তিন দশক আগে লালকৃষ্ণ আদভানির রথযাত্রাও কিন্তু এই রাস্তা দিয়েই যাচ্ছিল। তখনও কিন্তু আমাদের মসজিদের ওপর ইটপাটকেল ছোড়া হয়েছিল, ইমামসাহেবকে আঘাত করা হয়েছিল ত্রিশূল দিয়ে। তবে আমরা ওই ঘটনায় তেমন কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে আপোস করেছিলাম- কোনও মামলা হয়নি, কেউ গ্রেপ্তারও হয়নি। এবারেও মুসলিমরা প্রয়োজনে মন্দির পুনর্নিমাণে সাহায্য করবে বলে জানিয়ে এই মুফতি বিষয়টা আপোসে মিটিয়ে নেওয়ারই আবেদন জানাচ্ছেন। বিবিসি আরো লিখেছে, ড. সুরেখা নাঈমের মতো স্থানীয় বাসিন্দারাও একবাক্যে জানাচ্ছেন, এলাকার সম্প্রীতির পরিবেশ যে কোনও মূল্যে রক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, চাঁদনি চকের হিন্দু-মুসলিমরা যেভাবে একে অন্যের উৎসবে ও আনন্দে চিরকাল ভাগীদার হয়ে এসেছেন, সেই সংস্কৃতি তারা কিছুতেই নষ্ট হতে দেবেন না। পাশ থেকে সুধীর ত্রিপাঠীও যোগ করেন, খুব সম্ভবত বাইরের লোকেরা এসেই এই ধরনের অসামাজিক কাজ করে গেছে। কিন্তু আমাদের দুই সম্প্রদায়ের মুরুব্বিরাই একমত, তার জন্য নিজেদের মধ্যেকার এতদিনকার ভালবাসার সম্পর্ক নষ্ট করা চলবে না।
হাউজ কাজি ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতার দিকে এগোলেও বুধবার সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দিল্লি পুলিশের প্রধানকে দিল্লির নর্থ ব্লকে মন্ত্রণালয়ের সদর দফতরে তলব করেন। এর পর থেকেই এলাকায় নতুন করে নানা জল্পনা ও উত্তেজনা ছড়াতে থাকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ব্রিফ করে আসার পর দিল্লির পুলিশ কমিশনার অমূল্য পটনায়ক  জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। আমরা এর মধ্যেই চারজনকে গ্রেপ্তার করেছি, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বাকিদেরও আটক করার চেষ্টা চলছে।
তবে দিল্লির ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র চাঁদনি চকে বুধবারও সব দোকানপাট খোলেনি। সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার রেশ সেখানে যে এখনও পরিস্থিতি থমথমে করে রেখেছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

‘আমার বাবাকে ফিরিয়ে দিন’ -নিখোঁজ শাহীনের ছেলের আকুতি

‘আমার বাবা দুই মাস ধরে নিখোঁজ। বাবা বাসায় ফিরে আসবে বলে অপেক্ষা করি। কেউ দরজায় নক করলে মনে হয় বাবা এই বুঝি ফিরে এলো। দরজা খুলে দেখি বাবা আসেনি। কিন্তু, কখন আসবে বাবা?’ সাদা পোশাকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ আইটি পেশাজীবী আতাউর রহমান শাহীনের ছেলে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র তাশদীদ আন নাফি তার বাবাকে ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আকুতি জানিয়েছে।
গতকাল সকালে রাজধানীর সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ‘সাগর রুনি’ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে নাফি এ আকুতি জানায়। গত ২রা মে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন আকিজ গ্রুপের অফিসের সামনে থেকে সাদা পোশাকে একটি মাইক্রোবাসে কে বা কারা শাহীনকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে।
তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার মুহূর্তটি আকিজ গ্রুপের অফিসের সামনের সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এই ঘটনায় নিখোঁজের পরিবারের পক্ষ থেকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী তানিয়া আক্তার জানান, গত ২রা মে অফিসের কাজ শেষ করে শাহীন বাসার উদ্দেশ্যে আসার জন্য অফিসের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন বলে অফিসের লোকজনের মুখে শুনতে পান। সেদিন বিকালে তার সঙ্গে আমার মোবাইল ফোনে শেষ কথা হয়েছিল। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে আচমকা ৪ জন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে তাকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।
তানিয়া জানান, তার স্বামী একজন কর্মজীবী মানুষ। কম্পিউটারের ওপর উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন। কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও তিনি জড়িত নন। কেন তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা এখন পর্যন্ত বুঝতে পারছি না। দুই মাস কেটে গেলো। তার কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।  সংবাদ সম্মেলনে শাহীনের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

লিবিয়ায় অভিবাসী বন্দি শিবিরে বিভীষিকা: বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ by মিজানুর রহমান

ভয়-আতঙ্ক তাড়া করছে লিবিয়ায় থাকা হাজার হাজার বাংলাদেশিকে। বিশেষ করে রাজধানী ত্রিপোলী এবং এর আশপাশের এলাকায় থাকা প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশী প্রাণে বাঁচতে এখন নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে বেড়াচ্ছেন। তারা নিজ ঘরেও নিরাপদ নন। স্থানীয় সূত্র এবং বাংলাদেশ মিশনের বরাতে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ত্রিপোলীর উপকণ্ঠে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটারের মধ্যে গত ক’দিন ধরে তুমূল যুদ্ধ চলছে বিবদমান দু’গ্রুপের মধ্যে। গতকাল ত্রিপোলির বাইরে একটি অভিবাসী বন্দী শিবিরে বিমান হামলায় অন্তত ৪০ জন অভিবাসী নিহত হয়েছেন। ত্রিপোলিতে প্রায় প্রতিদিনই সরকারপন্থী মিলিশিয়া ও দেশটির এক সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতা খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির মধ্যে লড়াই চলছে। জাতিসংঘ সমর্থিত দেশটির সরকারের প্রধানমন্ত্রী ফায়েজ আল-সেরাজ অভিযোগ করেন, স্বনিয়ন্ত্রিত লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (এলএনএ) ওই শিবিরে হামলা চালিয়েছে। তবে খলিফা হাফতার নেতৃত্বাধীন ওই বাহিনী এলএনএ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, যে এলাকায় হামলাটি হয়েছে সেখানেই সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ছেন তারা।
পাল্টাপাল্টি এ অভিযোগের মধ্যে অভিবাসীদের প্রাণ যাচ্ছে।
মঙ্গলবারের হামলায় নিহতদের বেশিরভাগই আফ্রিকা অঞ্চলের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তবে তাতে কোন বাংলাদেশি রয়েছেন কি-না? সেটি খতিয়ে দেখতে ওই এলাকায় দূতাবাসের একজন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঢাকায় প্রাপ্ত রিপোর্ট বলছে, এর আগে গত সোমবারও ওই এলাকায় বিমান হামলা হয়েছে। তাতে হতাহতের ঘটনা রয়েছে। ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন, যুদ্ধাবস্থায় দূতাবাসের তরফে বাংলাদেশিদের সময় সময় নোটিশ করা হচ্ছে। তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির অবনতিতে বাংলাদেশিদের সরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়াও থমকে গেছে! তবে গত ক’দিনে শ’ খানেক বাংলাদেশি দেশে ফিরতে পেয়েছেন। আরও কয়েক শ’ ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানান, এপ্রিলের সূচনাতে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতিতে সেখানে অতীব জরুরি সতর্কতা (স্টেট অব এলার্ট) ঘোষণা করে সরকার। এ অবস্থায় লিবিয়ার ত্রিপোলী ও এর পার্শ্ববর্তী শহরসমূহে বসবাসরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাবধানতা অবলম্বন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে নোটিশ জারি করে বাংলাদেশ দূতাবাস।
সে সময় দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামপ্রতিক আইনশৃঙ্খলাজনিত পরিস্থিতির কারণে লিবিয়ার সরকার অতীব জরুরি সতর্কতা ঘোষণা করেছে। স্ব-স্ব নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের স্বার্থে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ত্রিপোলী ও এর পার্শ্ববর্তী শহরসমূহে বসবাসরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশিকে রাস্তাঘাটে চলাফেরা সীমিত করে যথাসম্ভব সাবধানতা অবলম্বন ও সতর্কভাবে বাসায় অবস্থান করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। দূতাবাস ওই সময়ই লিবিয়ায় থাকা প্রবাসীদের যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে দূতাবাসের হটলাইন নাম্বার +২১৮৯১৬৯৯৪২০৭ ও +২১৮৯১০০১৩৯৬৮ যোগাযোগ করতে বিশেষভাবে অনুরোধ করে। গতকাল এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, আগের সতর্কতা কেবল বলবৎই নয়, এখন এটি মানতে বাংলাদেশিদের মাঝে রীতিমত ক্যাম্পেইন চলছে। নিরাপত্তার স্বার্থেই এটি করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানান, উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় যুদ্ধাবস্থার মুখে ভয় ও আতঙ্কে দলে দলে দেশ ছাড়ছেন বিদেশীরা। মঙ্গলবার সকালে ২৯ বাংলাদেশীর একটি দল নিরাপদে ঢাকায় পৌছায়। তার্কিশ এয়ারে তারা ঢাকা পৌঁছান। সহিংসতা থেকে প্রাণে বাঁচতে কেবল ত্রিপোলী থেকেই প্রায় ১০ হাজার অভিবাসী পালাচ্ছেন জানিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে রিপোর্ট হয়েছে।
ওই অভিবাসীদের মধ্যে কেউ কেউ মানবপাচারের শিকার বা মানবপাচারকারীদের সহায়তায় ইউরোপ পাড়ি দেয়ার চেষ্টায় রয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে। বাংলাদেশি নাগরিকদের লিবিয়া ছাড়ার কারণ হিসেবে ত্রিপোলীস্থ বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ সেকান্দর আলী গণমাধ্যমকে বলেন, লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে গত একমাস ধরে যুদ্ধ চলছে। পরিস্থিতির দিনে দিনে অবনতি হচ্ছে। ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৭০০ মানুষ নিহত হয়েছেন জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, এ অবস্থায় ভিন দেশি অনেকেই নিজ নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছেন। বাংলাদেশিরাও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে রয়েছেন, অনেকে এরইমধ্যে দেশে ফিরে গেছেন।
২০১১ সালে দেশটির দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে অপসারণ ও হত্যার পর থেকেই সংঘাতের কারণে বিভক্তি দেখা দেয়। কোন কর্তৃপক্ষই লিবিয়ার পুরো নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। চরমভাবে অস্থিতিশীল দেশটির নিয়ন্ত্রণ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক এবং সামরিক গোষ্ঠীর হাতে। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে একটি প্রধানমন্ত্রীর সারাজের নেতৃত্বাধীন এবং অপরটি জেনারেল হাফতারের নিয়ন্ত্রণাধীন। গত এপ্রিলে সরকারের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে জেনারেল হাফতার। গত চার দশক ধরে লিবিয়ার রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন জেনারেল হাফতার। ১৯৮০র দশকে মত বিরোধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনের আগ পর্যন্ত গাদ্দাফির কাছের মিত্র ছিলেন তিনি। ২০১১ সালের আন্দোলনের পর দেশে ফিরে পূর্বাঞ্চলে নিজের শক্ত ঘাঁটি গড়ে তোলেন তিনি। সমর্থন পান ফ্রান্স, মিশর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের। গাদ্দাফি সংশ্লিষ্টতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ থাকার কারণে তার প্রতি মানুষের মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তবে বেনগাজি এবং এর আশেপাশের এলাকাগুলো থেকে কথিত ইসলামপন্থী জঙ্গিদের বিতাড়ি করায় অনেকে তাকে কৃতিত্ব দেন।
লিবিয়ার অভিবাসী বন্দিশিবিরে ‘অকল্পনীয় বিভীষিকা’
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও সহিংসতা থেকে লিবিয়ায় পলায়মান ১০ হাজারের বেশি অভিবাসীর মধ্যে বেশির ভাগের ভাগ্য নির্ধারিত হয় মানব পাচারকারীদের হাতে বা অন্ধকার বন্দিশিবিরে। এদের মধ্যে বেশির ভাগই আফ্রিকান নাগরিক। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে আইপিএস।
খবরে বলা হয়,  ইউরোপে অভিবাসন প্রত্যাশীদের সবচেয়ে বড় প্রস্থান পয়েন্ট হচ্ছে লিবিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় উপকূল। একইসঙ্গে আধুনিক দাসত্বের সবচেয়ে বড় চর্চাও হয়ে থাকে সেখানে। কেউ আটক হন স্থলে, কেউ সমুদ্রে, কেউ আহত হন মিলিশিয়াদের হামলায় আর কেউ ফেঁসে যান মানব পাচারের জালে। সেখান থেকে অনেকের স্থান হয় বন্দিশিবিরে, যেখানে সম্ভাব্য সকল প্রকারের নির্যাতনের শিকার হয় তারা।
লিবিয়ায় জাতিসংঘের সহায়ক মিশনের (ইউএনএসএমআইএল) এক প্রতিবেদনে জানায়, অভিবাসীরা লিবিয়ার মাটিতে পা রাখা মাত্রই তারা বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, অসদাচরণ, বাছবিচারহীন আটক, চলাফেরার স্বাধীনতার ওপর অবৈধ হস্তক্ষেপ ও ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। তবে, এসব বিষয়ে কোনো যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের বদলে লিবিয়া কর্তৃপক্ষ বন্দিশিবিরের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
‘আমি জানি না এই দুনিয়ায় আমার স্থান কোথায়!’
লিবিয়ার বন্দিশিবিরগুলো নিয়ন্ত্রণ করে থাকে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সেগুলো পাহারার দায়িত্বে থাকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল একর্ড বা জিএনএ সরকার সমর্থনকারী মিলিশিয়ারা। প্রায় প্রতি বন্দিশিবিরেই অল্প জায়গায় আটকে রাখা হয় কয়েক শ’ অভিবাসীকে। তাদের দেয়া হয় না যথাযথ ভেন্টিলেশন বা বিশুদ্ধ পানি। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, কিছু শিবিরে টয়লেট ভরে মল উপচে পড়ছে। শিবিরের ভেতরেই কয়েকদিন ধরে পড়ে থাকছে আবর্জনা ও মল। সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির। এতে একাধিক রোগ মহামারি আকারে দেখা দিয়েছে।
জিনতানে একটি শিবির পরিদর্শন শেষে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংগঠন ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্সের (এমএসএফ) কর্মীরা জানিয়েছেন, এ যেন কোনো বিপর্যয়। শত শত অভিবাসী মাত্র চারটি টয়লেট ব্যবহার করেন। টয়লেটগুলোর অবস্থা যাচ্ছেতাই। এগুলোতে নেই শাওয়ারের কোনো ব্যবস্থা। পানি সরবরাহের পরিমাণও স্বল্প।
এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) লিবিয়া সমন্বয়ক ড. হুসেইন হাসান বলেন, প্রায় ৩৪টি কেন্দ্রের বিভিন্ন অভিবাসী যক্ষ্মাসহ অন্যান্য শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা, এইচআইভি ও চর্ম রোগে ভুগছে। জানুয়ারিতে কেন্দ্রগুলোতে টিবি ক্যামেপইন চালানো হয়। তাতে যাদের যক্ষ্মা আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তাদের আলাদা কক্ষে না রেখে বাকি সবার সঙ্গেই রাখা হয়।
দ্য আইরিশ টাইমসে জাতিসংঘের ফাঁস হওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জিনতান বন্দিশিবিরের অন্তত ৮০ শতাংশ অভিবাসী যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত। এমএফএফ জানায়, যক্ষ্মা ছাড়া আরো অনেক রোগে আক্রান্ত শিবিরের বন্দিরা। অনেকে অপুষ্টি, চর্মরোগ, আমাশয়, শ্বাসনালীতে সংক্রমণসহ নানা রোগে ভুগছেন। এর সঙ্গে অপর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা দুর্দশা আরো বৃদ্ধি করছে। এরকম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের একইসঙ্গে রাখা হচ্ছে।
আইপিএস জানায়, অভিবাসীদের এসব দুর্দশা থেকে রক্ষা করার কেউ নেই। স্থানীয় জনগণ ছাড়া বাইরের কারো সেখানে প্রবেশ আইনত নিষিদ্ধ। এমনকি প্রায়ই আটকে রাখা হয় মানবাধিকার কর্মীদেরও। একজন এরিত্রিয়ান শরণার্থী এমএফএফকে বলেছে, আমাদেরকে এখানে ফেলে রাখা হয়েছে। আমি ফিরে যেতে পারছি না, আর অন্য কেউ আমাদের নিতেও চাইছে না। আমি জানি না, এই দুনিয়ায় আমার স্থান কোথায়।
আমরা মারা যাচ্ছি
মানব পাচারকারীদের দ্বারা শোষিত ও পণ্যদ্রব্যের মতো বিক্রি হয়ে নিজেদের বেঁচে থাকা নিয়ে সংশয়ে থাকেন এই অভিবাসীরা। ইউএনএসএমআইএল’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দি শিবিরগুলোতে অভিবাসীদের প্রায়ই না খেয়ে থাকতে হয়। তাদেরকে নিয়মিত মারধর করা হয়, গরম লোহা দিয়ে গায়ে ছেঁকা দেয়া হয়। এমনকি বৈদ্যুতিক শকও বাদ দেয়া হয় না। নানা ধরনের অত্যাচারের মাধ্যমে তার পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে থাকে পাচারকারীরা।
২০১১ সালে লিবিয়ার সামরিক স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতন হয়। এরপর দেশটির বিরোধী দল ও ইসলামপন্থি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে লিবিয়ার শাসন নিয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। দেশটির তেলক্ষেত্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ লেগেই থাকে। এই সময় দেশজুড়ে অস্থিরতা বিরাজমান থাকে। ফলে, লিবিয়ার সীমান্ত অঞ্চল ও সমুদ্র তীরবর্তী এলাকাগুলোতে চোরচালান ও মানব পাচার ভয়াবহ মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। বেশির ভাগ অভিবাসীই দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে। এই অঞ্চলটি লিবিয়ার সব থেকে বেশি অস্থিতিশীল। সেখান থেকে তাদেরকে ত্রিপলিতে নিয়ে আসা হয় এবং মাত্র কয়েক শ’ ডলারের বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়া হয়। দেশজুড়ে চলমান সহিংসতা ও যুদ্ধের মধ্যে অভিবাসীরা অসহায়ের মতো বাস করছে। প্রতিদিন সেখান থেকে পালাচ্ছেন অসংখ্য অভিবাসী।
রিপোর্ট অনুযায়ী, মানব পাচারকারীদের হাতে বন্দি থাকা অবস্থায় অসংখ্য অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই গুলি খেয়ে কিংবা নির্যাতনের কারণে মারা গেছে। এ ছাড়া আছে, অনাহার ও বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু। ইউনিসেফকে এসব বন্দি  জানিয়েছে, আমরা মারা যাচ্ছি। আমরা পশুর মতো বাস করছি, তারা প্রতিদিন আমাদের ওপর অত্যাচার চালায়।
এত কিছুর পরও অনেক অভিবাসী পালাতে সক্ষম হয়। তারা লিবিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় উপকূল দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তখন ইউরোপীয় পেট্রোল জাহাজগুলো তাদেরকে তাড়া করে এবং ভূমধ্যসাগরের মাঝ থেকে তাদেরকে আবার সেই লিবিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়। জানুয়ারিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এ ধরনের পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে অক্সফাম ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।
২০১৭ সালে ইতালির পার্লামেন্ট নতুন এক আইন পাস করে। এ আইন অনুযায়ী অভিবাসীদের ইউরোপে প্রবেশ ঠেকাতে ইতালির নৌবাহিনী ভূমধ্যসাগরের অপরপাশে লিবিয়ার কোস্টগার্ডদের সাহায্য করার অনুমতি পায়। ২০১৪ সালের পর থেকে এই রুটে ১০ হাজারেরও বেশি অভিবাসন প্রত্যাসীর মৃত্যু হয়েছে।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আজ -বেইজিং-এ প্রধানমন্ত্রী

চীনের ডালিয়ানে দাভোস সম্মেলন শেষে বেইজিং পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল দালিয়ান ঝৌশুজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে আসা প্রধানমন্ত্রী এবং তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী চীনা বিমানটি দুপুরে বেইজিং ক্যাপিটাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বেইজিং বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয় এবং ছোট একটি শিশু ফুলের তোড়া দিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানায়। এ সময় চীনের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রীকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে দিয়ায়োতাই স্টেট গেস্ট হাউজে নেয়া হয়। চীনের রাজধানীতে সফরকালে শেখ হাসিনা এখানেই অবস্থান করবেন। ডালিয়ানে ২রা জুলাই ডব্লিউইএফ সম্মেলনে যোগদান ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী ডব্লিউইএফ’র প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী চেয়ারম্যান ক্লাউস সোয়াবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং ‘কো-অপারেশন ইন দ্যা প্যাসিফিক রিম’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন। ৩রা জুলাই প্রধানমন্ত্রী বেইজিং ভিত্তিক চীনের কেন্দ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেলের অংশ এবং চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক গ্রুপের আন্তর্জাতিক ইংরেজী ভাষার চ্যানেল সিজিটিএনকে সাক্ষাৎকার প্রদান করেন।
সেইসঙ্গে লেজেনডেল হোটেল ওয়াংফুজিং’তে প্রবাসী বাংলাদেশীদের আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা ও নৈশভোজে যোগ দেন। আজ চীনের প্রধানমন্ত্রী লী কেকিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। দিনের শুরুতে তিনি একটি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন এবং গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ বীরদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। পরে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন এবং গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এখানে ঢাকার সঙ্গে বেইজিংয়ের বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতামূলক একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ চীনের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত এক ভোজসভাতেও যোগ দেবেন। একই দিন বিকেলে তিনি সিসিপিআইটিতে চীনের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একটি বিজনেস রাউন্ডটেবিলে অংশ নেবেন। আগামীকাল ৫ই জুলাই দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
বিকালে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দিয়ায়োতাই রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় হাই প্রোফাইল ওই বৈঠক হবে। একই স্থানে চীনা প্রেসিডেন্টের আয়োজিত একটি ভোজ সভায়ও যোগ দেবেন বাংলাদেশের সরকার প্রধান। দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনের থিংক ট্যাংক ‘পাঙ্গোয়াল ইনস্টিটিউশন’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন। চীনের বিভিন্ন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাগণেরও তার সঙ্গে গেস্ট হাউসে দেখা করার কথা রয়েছে। ওই দিনে এনপিসি’র চেয়ারম্যান লি ঝাংশুর সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর একটি বৈঠক হবে বলে জানানো হয়েছে। চীন সফর শেষে ৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা। উল্লেখ্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন আগেই জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে রোহিঙ্গা সমস্যাটি আলোচনায় সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে। এ সঙ্কটের ভুক্তভোগী বাংলাদেশ বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে পূর্ণ নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের জন্মমাটি মিয়ানমারের রাখাইনে ফেরৎ পাঠাতে চীনের সহযোগিতা চাইবে। ঢাকা আশা করে প্রত্যাবাসনসহ রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বেইজিং কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এছাড়া দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে দুই দেশের মধ্যে নতুন ৮টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বরগুনায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা: রিফাত ফরাজী ৭ দিনের রিমান্ডে by মো. মিজানুর রহমান

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর এবার দ্বিতীয় আসামি  রিফাত ফরাজী (২৫)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত দুইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রিফাত ফরাজীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল দুপুরে আদালতে হাজির করলে ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠায় বিচারক। বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বুধবার রিফাত ফরাজীকে গ্রেপ্তার ও এই মামলার অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার নিয়ে তথ্য জানাতে সংবাদ সম্মেলন করেন বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত দুইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রিফাত ফরাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে কীভাবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তদন্তের স্বার্থে তা বলা যাচ্ছে না।’ রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। মামলাটি মাত্র প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। অপরাধকে আমরা অপরাধ হিসেবেই দেখবো।
এর সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।’
এদিকে গত সোমবার রাতে বরগুনা শহরের শেখ রাসেল স্কয়ারে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য দেলোয়ার হোসেনের বাসায় অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় শুধু চেয়ারম্যানের বাসায়ই নয়, তার কার্যালয়েও অভিযান চালানো হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এসব অভিযানের ব্যাপারে কোনো তথ্য দেননি। ধারণা করা হচ্ছে, রিফাত শরীফ খুনের মামলার অন্য দুই প্রধান আসামি রিফাত ফরাজী ও তার ভাই রিশান ফরাজীকে ধরতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। এ দুই আসামি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের ভায়রার ছেলে। ওই অভিযানের পরই বরগুনায় রিফাত ও রিশানকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
রিফাত ফরাজীর ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর: গ্রেপ্তারকৃত রিফাত ফরাজীকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। বুধবার দুপুর ২টার দিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে রিফাত ফরাজীকে হাজির করে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির রিমান্ডে নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বরগুনা সদর থানার ওসি (তদন্ত) ও রিফাত হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, বেলা ২টার দিকে তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করি। আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।’
রিফাত ও রিশান ফরাজীর খতিয়ান: রিফাত ও রিশান আপন ভাই। একসঙ্গেই তারা সব অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতো। বরগুনা পৌরসভার ধানসিঁড়ি সড়ক এলাকার মো. দুলাল ফরাজীর বড় ছেলে রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী। বুধবার সকালে ধানসিঁড়ি সড়কের রিফাত ও রিশান ফরাজীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির মূলফটক ও বাসার দরজা তালাবদ্ধ। রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজীর বখাটেপনায় বাবা দুলাল ফরাজীর ছিল প্রত্যক্ষ সমর্থন। কাউকে কুপিয়ে জখম, মারধর কিংবা লাঞ্ছিতের খবরে শাসন তো দূরে থাক বরং সন্তানদের এমন অপকর্মে নিজেকে গর্বিত পিতা মনে করতেন দুলাল ফরাজী। রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজীর বাবা দুলাল ফরাজী সম্পর্কে এমন তথ্যই দিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
খোঁজ নিয়ে রিফাত ও রিশানের পিতা দুলাল সম্পর্কে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। দুলালের পৈতৃক বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার ৬ নং বুড়িরচর ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে বরগুনা পৌরসভায় চার নং ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি সড়কে জমি কিনে বাড়ি তৈরি করেন। সেখানেই পর্যায়ক্রমে জন্ম ও বেড়ে ওঠা রিফাত ও রিশানের। বড় ছেলে রিফাত কিশোর বয়স থেকেই বখাটে স্বভাবের ছিল। মাধ্যমিকের স্তর অতিক্রমের আগেই পড়াশোনা সাঙ্গ হয় তার। ছোট ছেলে রিশান বরগুনা সরকারি কলেজে উচ্চমাধ্যমিকের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। পড়াশোনায় মেধাবী হলেও বড় ভাইয়ের আছর লাগে রিশানের। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে ‘বড়ভাই’ হওয়ার নেশায় পেয়ে বসে উভয়কে। ‘বড়ভাই’ হওয়ার মিশনে কারণে-অকারণে বিভিন্ন সময়ে নানা শ্রেণি-পেশার লোকজনকে লাঞ্ছিত করতে থাকে তারা। এর মধ্যে রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি নয়ন বন্ডের সঙ্গে রিফাতের সখ্য গড়ে ওঠে। ২০১৭ সালের দিকে নয়ন বন্ড তৈরি করে ০০৭ গ্রুপ। এই গ্রুপে যুক্ত হয় বেশ কিছু উঠতি বয়সী তরুণ। এলাকায় নতুন কোনো তরুণের আকস্মিক আগমন ঘটলে তাকে বাধ্য করা হতো গ্রুপের সদস্য হতে। মাদকব্যবসায়ী নয়ন বন্ডের সঙ্গে সখ্যে যোগ হয় নতুন মাত্রা।
ধানসিঁড়ি সড়কের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রিফাত শরীফ খুন হওয়ার পর থেকে রিফাত ফরাজীদের ঘরের দরজা তালাবদ্ধ ও বাড়ির গেট ভেতর থেকে আটকানো দেখতে পান তারা। ধানসিঁড়ি সড়কের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, নয়ন বন্ডের ডান হাত ও বাম হাত হিসেবে কাজ করতো এই দুই ভাই। মাদকসেবন ও মাদক ব্যবসাই ছিল এদের মূল পেশা। এদের বিরুদ্ধে একাধিক ছিনতাই ও ছাত্রদের মেসে ঢুকে মুঠোফোন কেড়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭ সালের ১৫ই জুলাই সন্ধ্যায় তরিকুল ইসলাম (২১) নামে এক প্রতিবেশীকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেন রিফাত ফরাজী।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী তরিকুল জানান, একদিন তার সঙ্গে রিফাত ফরাজীর সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। তখন রিফাত ফরাজী তাকে কুপিয়ে জখম করার হুমকি দেন। রিফাত ফরাজীর ভয়ে তিনি দেড় মাস ওই সন্ত্রাসীর বাসার সামনে দিয়ে না গিয়ে আধা কিলোমিটার পথ ঘুরে নিজ বাসায় যাওয়া-আসা করতেন। এতেও ক্ষোভ কমেনি রিফাত ফরাজীর। দেড় মাসের মাথায় একদিন সন্ধ্যায় তরিকুল তার বাসার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হয়। এসময় রিফাত দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তরিকুলের মাথায় গুরুতর জখম করে। এ ঘটনায় তরিকুলের বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।
২০১৭ সালে বরগুনার হোমিও চিকিৎসক ডা. আলাউদ্দিন আহমেদের ডিকেপি রোডের বাসার ছাত্র মেসে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের মুখে বাসায় থাকা সব ছাত্রদের জিম্মি করে, তাদের ১৪টি মোবাইল ফোন ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ রিফাত ফরাজীর বাবা দুলাল ফরাজীকে আটক করে মোবাইলগুলো উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে ডা. আলাউদ্দিন আহমেদের ছেলে ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, ‘ডিকেপি রোডে আমাদের ভাড়া দেয়া বরগুনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মেসে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের মুখে ১৪টি মোবাইল ফোন ছিনতাই করে রিফাত ফরাজী। এ ঘটনা জানার পর আমি বরগুনা সদর থানায় গিয়ে অভিযোগ করায় রিফাতের বাবা দুলাল ফরাজীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরে তিনি রিফাতের কাছ থেকে ছিনতাই করা ১৪টি মোবাইলের মধ্যে ১১টি উদ্ধার করেন। আর বাকি তিনটি উদ্ধার করতে না পেরে নতুন মোবাইল কিনে দিয়ে থানা থেকে মুক্তি পান।’
রিফাতের বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ওসি আবির মোহাম্মদ হোসেন বলেন, রিফাত ফরাজীর বিরুদ্ধে বরগুনা থানায় চারটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মারামারি এবং একটি মাদকের মামলা। ওসি আবির মোহাম্মদ হোসেনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৮ই নভেম্বর রিফাতের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছিল। এরপর রিফাতের বিরুদ্ধে মাদকের আর কোনো মামলা হয়নি। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায়, চলতি বছরের ২১শে ফেব্রুয়ারির আগে রিফাতকে পুলিশ মাদকসহ আটক করেছিল। ওই ঘটনার পর তাকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাও দেয়া হয়েছিল।
বরিশালের মাদক নিরাময় কেন্দ্র হলিকেয়ারের তৎকালীন চেয়ারম্যান আরিফ খান বলেন, প্রায় বছর তিনেক আগে রিফাতের পরিবার তাকে হলিকেয়ারে ভর্তি করেছিল। কিছুদিন চিকিৎসার পর হলিকেয়ার থেকে নিয়ে আসে। পুরো চিকিৎসা না করানোর ফলে বরগুনায় এসেই রিফাত আবার মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।
বরিশালের আরেকটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র ‘সেইফ দ্য লাইফের’ চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমন বলেন, পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। এরই অংশ হিসেবে মাদকসেবীদের আটক করে পুলিশের জিম্মায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল। বরগুনার রিফাত ফরাজীকে পুলিশ আটক করে তাদের জিম্মায় রেখে ‘সেইফ দ্য লাইফে’ চিকিৎসা করিয়েছিল।
মামলার বর্তমান অবস্থা: রিফাত ফরাজীকে নিয়ে রিফাত শরীফ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৫ জন এবং সন্দেহভাজন হিসেবে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া এ মামলার প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। এ মামলার এজাহারভুক্ত গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মামলার ২ নম্বর আসামি রিফাত ফরাজি (২৩), ৪ নম্বর আসামি চন্দন (২১), ৯ নম্বর আসামি মো. হাসান (১৯), ১১ নম্বর আসামি মো. অলিউল্লাহ অলি (২২) ও ১২ নম্বর আসামি টিকটক হৃদয় (২১)। রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্ততে গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মো. নাজমুল হাসান (১৯), তানভীর (২২), মো. সাগর (১৯), কামরুল হাসান সাইমুন (২১) ও মো. রাফিউল ইসলাম রাব্বি। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে চন্দন ও হাসান সাত দিনের এবং সাগর, সাইমুন ও নাজমুল পাঁচদিনের রিমান্ডে রয়েছেন। আর রিফাত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার ১১ নম্বর আসামি অলি ও ফুটেজ দেখে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক হওয়া অভিযুক্ত তানভীর।

ভারতে ‘ব্রেইন ফিভার’ ছড়িয়ে পড়ার আসল কারণ দারিদ্র, লিচু নয়

চলতি মাসে ভারতের পূর্বাঞ্চলে প্রায় ১২০ শিশু মারা গেছে। তাদের মারা যাওয়ার কারণ বিভিন্ন। লিচু খাওয়া থেকে নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত তাপপ্রবাহে মারা গেছে তারা। কিন্তু এগুলোর মূলে রয়েছে দুটো প্রধান কারণ, যেগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব – সেগুলো হলো দারিদ্র আর সুশাসনের অভাব।
বিহারের হিছাড়ার কথায় ধরুন। রোগের প্রাদুর্ভাব এখনও রয়েছে সেখানে। সেখানকার গ্রামগুলোর কুঁড়ে ঘরগুলোতে যারা থাকেন, তাদের কোন টয়লেট নেই, পানির ব্যবস্থা নেই এবং এমনকি রান্নার গ্যাসও নেই।
অর্ধনগ্ন একটা শিশু সর্দি নিয়েও খেলছে। বিদ্যুৎ আছে, কিন্তু ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থেকে বাঁচার জন্য কোন ফ্যান নেই, এয়ার কন্ডিশনের কথা তো কল্পনাই করা যাবে না।
তিন সন্তানের মা ৩৬ বছর বয়সী শাকিলা খাতুন এএফপিকে বলেন, “আমাদের পান করার মতো বিশুদ্ধ পানি নেই। অন্য গ্রামের ট্যাপ থেকে পানি নিয়ে আসি আমরা। স্বাস্থ্যকর খাবার আমরা পাবো কোথায়?”
তিনি বলেন, “সরকার আমাদের কথা ভাবে না। তারা শুধু ভোটের জন্য আসে আমাদের কাছে। এরপরই আমাদের কথা ভুলে যায় তারা”।
বিহারে যারা মারা গেছে, তাদের রোগকে বলা হচ্ছে অ্যাকিউট এনসিফ্যালাইটিস সিনড্রোম (এইএস)। ১০ বছরের কম বয়সী অপুষ্ট শিশুদের ব্রেনের যেটা ক্ষতি করছে এবং আতঙ্কজনকভাবে দ্রুত ঘটছে এটা।
রোগের মূল কেন্দ্র মুজাফফরপুর জেলা। এই জেলাতেই লিচুর চাষ হয় বেশি, গ্রীষ্মে যেটা পাকে। এবং এ সময়টাতেই ভয়ঙ্কর এই রোগটা বাড়ে।
১৮ জুন এইএস রোগে আক্রান্ত এক শিশু চিকিৎসা নিচ্ছিল সরকার পরিচালিত শ্রী কৃষ্ণ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় বিহার রাজ্যে এই হাসপাতালটি অবস্থিত।
ওই এলাকায় লিচু গাছ চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এবং সেগুলোতে তখন প্রচুর লিচু ঝুলছে। ক্ষুধার্ত স্থানীয় শিশুরা স্বাভাবিকভাবেই প্রলুব্ধ হয়েছে সেগুলো খাওয়ার জন্য।
রোগ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করেছেন শিশু বিশেষজ্ঞ অরুণ শাহ। তিনি বললেন, “লিচুগুলো কাঁচা হওয়ার কারণেই সমস্যাটা হয়েছে”।
শাহ এএফপিকে বলেন, “এতে একটা টক্সিন রয়েছে। অপুষ্ট শিশুরা যদি এটা খায়, তাহলে তাদের শরীরে গ্লুকোজের পরিমাণ হঠাৎ করে কমে যায় যেটা তাদের ব্রেনের ক্ষতি করে”।
কপর্দকশূণ্য ও ক্ষমতাহীন
কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লিচুকে যদি দোষ দেয়াও হয় এবং এখন পর্যন্ত সেটাই করা হচ্ছে, এর পরও এই মৃত্যু এড়ানো যেতো যদি মানুষের আরও ভালো স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ থাকতো।
গত বছরের গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সে ১১৯টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ছিল ১০৩তম। জাতীয় আয়ের মাত্র এক শতাংশ তারা স্বাস্থ্যসেবার পেছনে খরচ করে – যে হারটা বিশ্বের নিম্নতম হারের একটি।
ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে জানিয়েছে, মুজাফফরপুরের পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রায় অর্ধেকেরই শারীরিক বিকাশ অস্বাভাবিক কম। প্রায় ৬০ শতাংশ শিশু রক্তস্বল্পতায় ভুগছে, এবং ৪০ শতাংশেরও বেশি শিশুর ওজন কম।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরিপে দেখা গেছে যে, মুজাফফরপুরের ১০৩টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র – যেগুলো সেখানকার একমাত্র স্বাস্থ্যসেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান – সেগুলোর একটিও এমনকি মানের দিক দিয়ে বিবেচনা করার উপযুক্তও নয়। টাইমস অব ইন্ডিয়া তাদের রিপোর্টে এ তথ্য জানিয়েছে।
গত এক দশকে এই রাজ্যে এই রোগে ১,৩৫০ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালেই মারা গেছে ৩৫৫ জন। হিন্দুস্তান টাইমসের রিপোর্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গর্ব আছে প্রশ্নও আছে by পিন্টু আনোয়ার

ইশ! তামিম যদি রোহিতের ক্যাচটা না ছাড়তেন, সাইফুদ্দিন যদি ইনিংসের শেষ ১২ বল খেলতে পারতেন, অযথা শট খেলে মুশফিক-লিটন যদি উইকেট না দিতেন- ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে আফসোস ঝরছিল ভক্ত- সমর্থকদের কণ্ঠে। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক বিরাট কোহলির কণ্ঠে ঝরে প্রশংসা আর ক্রিকেট লিজেন্ড শচীন টেন্ডুলকারের বাহ্‌বা। মঙ্গলবার ভারতের কাছে ২৮ রানের হার শেষে সেমিফাইনালের আশা শেষ বাংলাদেশের। আগামীকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের মিশন শেষ করবে টাইগাররা। বিশ্বকাপটা কেমন কাটলো বাংলাদেশের? প্রত্যাশাটা বেশি থাকলেও এবারের বিশ্বকাপে প্রাপ্তিও কম নয়। এক সাকিব আল হাসানই ব্যাটে-বলে যা করলেন তা ইতিহাস। মুশফিকুর রহীমের সেঞ্চুরি মোস্তাফিজুর রহমানের ইনিংসে পাঁচ উইকেটের কীর্তিটাও বড়ই। তবে, আসরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতাটা ছিল বোলিংয়ে।
পরিসংখ্যানও তাই বলে।
ক্যারিয়ারে অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফি বিন মুর্তজার প্রাপ্তির খাতাটা ঝলমলে। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে বাস্তবতাটা ভিন্ন। এক পরিসংখ্যানে এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বাজে বোলিংটা বাংলাদেশের। আর বাংলাদেশ দলের অন্যতম পেসার মাশরাফি বিন মুর্তজা ৭ ম্যাচে পেয়েছেন মাত্র এক উইকেট। ব্যাট হাতে তার সাকুল্যে  সংগ্রহ ১৯ রান। আর মঙ্গলবার বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রশ্ন তোলা হয়, শুধু অধিনায়ক বলেই কি বাংলাদেশ দলে মাশরাফি! বাংলা  দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, মাশরাফির ফর্মহীনতায় কার্যত ১০ নিয়ে খেলছে বাংলাদেশ। এটা মাশরাফির ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ, সন্দেহ নেই। তবে বিশ্বকাপের পর তিনি খেলা চালিয়ে যাবেন কিনা, আর খেলা চালিয়ে গেলেও অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেবেন কিনা, এ নিয়ে উঠেছে গুঞ্জন।  ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ স্টিভ রোডস বলেন, এটা বোর্ড এবং মাশরাফির নিজের সিদ্ধান্ত।
এবারের বিশ্বকাপে তিনবার দলীয় ৩০০ রানের কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ। আসরে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোরটাও ২৪৪। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩২২ রান তাড়া করে ৫১ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটে জয় কুড়ায় বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দাপুটে জয় দেখে ৩৩০ রানের পুঁজি নিয়ে। আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারলেও টাইগাররা গড়ে নিজেদের দলীয় সর্বোচ্চ ৩৩৩ রানের রেকর্ড। ভারতীয় ব্যাটসম্যান শচীন টেন্ডুলকার বলেন, এবারের বিশ্বকাপে কেবল দুই এক ম্যাচে নয় ধারাবাহিকভাবে ভালো  খেলেছে বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশ-ভারত লড়াইকে আসরের সেরা ম্যাচের আখ্যা দেন এ ক্রিকেট কিংবদন্তি।  ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রিকেট সমর্থকরাও টাইগারদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ভারতীয় ক্রীড়া লেখক কে. আশিষ তার টুইটার বার্তায় লিখেছেন, ‘ভালো খেলেছো বাংলাদেশ। সঠিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়ে অবশ্যই ২০২৩ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের দাবিদার।’
আসরে বাংলাদেশের ব্যাটিং এবং বোলিংয়ের চেহারা একেবারেই আলাদা। ব্যাটিংয়ে যতটা উজ্জ্বল সাকিব-মুশফিকেরা, বোলিংয়ে যেন ততটাই বিবর্ণ মাশরাফি বাহিনী। পরিসংখ্যানও সেই বিষয়টির দিকেই ইঙ্গিত করছে, বিশ্বকাপের অন্যতম বাজে বোলিং আক্রমণ বাংলাদেশের।
পেস বান্ধব ইংলিশ কন্ডিশনে যেখানে গতি আর স্লোয়ারে আতঙ্ক জাগিয়েছেন, অন্যান্য দলের বোলাররা সেখানে যেন রান দিতেই যেন ব্যস্ত ক্যারিবীয় পেস কিংবদন্তি কোর্টনি ওয়ালশের শিষ্যরা। 
ভারত ম্যাচের আগে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বোলাররা ৪২ উইকেট নিতে পেরেছিলেন।  ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের পেছনে শুধু শ্রীলঙ্কাই ছিল। আর মঙ্গলবার মোস্তাফিজ ও সাকিবের নৈপুণ্যের সুবাদে আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও পেছনে ফেলে বাংলাদেশ। কিন্তু এ তিন দলের ব্যাটসম্যানরা বেশ কিছু ম্যাচেই বোলারদের লড়াই করার পুঁজি দিতে পারেননি।
এবারের বিশ্বকাপে ওভার প্রতি গড়ে ৬ এর ওপরে রান দিয়েছে দুটি দল। একটি ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর অপরটি বাংলাদেশ। তবে প্রতি ওভারে প্রতিপক্ষের ঝুলিতে ৬.১৮ রান যুক্ত করে বাংলাদেশ ওভার প্রতি সবচেয়ে বেশি রান দেয়ার ক্ষেত্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও (৬.০৫) পেছনে ফেলেছে। বোলিং গড় তথা প্রত্যেকটি উইকেট পেতে কত রান খরচ করতে হয়েছে, সেই পরিসংখ্যানেও বাংলাদেশ সবার তলানিতে ছিল। উইকেট তুলে নিতে কমপক্ষে ৪৩.৩০ রান খরচ করছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। ভারতের বিপক্ষে পাওয়া ৮ উইকেটে (অপরটি রানআউট) সেটা ৪২.৫৪তে নেমে এসেছে। এ ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে আছে কারা? আফগানিস্তান (৪২.৯৭) ও শ্রীলঙ্কা (৪৩.২৫)।
বাংলাদেশের পেস আক্রমণ দক্ষিণ এশীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গেই পেরে উঠছে না। প্রিয় প্রতিপক্ষ ভারতকে পেয়ে উইকেটে সাকিবকে (১১) টপকে গেছেন মোস্তাফিজ (১৫)। কিন্তু আসরে তার ইকোনমি রেট ৬.৫৭।  বল হাতে ১০ উইকেট পাওয়া সাইফুদ্দিনের ইকোনমি ৬.৯৩। দলের মতো পেস আক্রমণের নেতৃত্বও দেয়ার কথা ছিল মাশরাফির। কিন্তু ৭ ম্যাচে মাত্র ৪৯ ওভার বল করা কিংবা ৩১৫ গড়ে ১ উইকেট পাওয়া অথবা ৬.৪২ ইকোনমিতে রান দেয়া বলছে, মাশরাফি তার কাজে ব্যর্থ হয়েছেন।
স্পিনারদের মাঝেও এক সাকিব ছাড়া বাকিরা মোটামুটি মানের বোলিং করেছেন। ৫.৩৪ ইকোনমিতে ১১ উইকেট তুলে নিয়ে সাকিবই সবচেয়ে উজ্জ্বল। ৬ ম্যাচে ৫ উইকেট পাওয়া মিরাজের ইকোনমিও ছয়ের নিচে (৫.৪৫)। ৩ উইকেট পাওয়া মোসাদ্দেকেরও তাই (৫.৮৭)। রান আটকে রাখার দিক দিয়ে স্পিনাররা কিছুটা অবদান রাখতে পারলেও মিডল ওভারে উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলতে পারেননি সাকিব ছাড়া অন্য কেউ।
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে মাত্র ৫ ওভার বল করেন মাশরাফি। ৩৬ রান দিয়ে টাইগার অধিনায়ক থাকেন উইকেটশূন্য। আর ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ শেষে আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, হারের পিছনের কারণগুলো বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বার বার উঠে আসছে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফির নাম। এই ম্যাচে প্রথম ওভারেই বল করতে এসে ১০ রান দেন তিনি। তার ৫ ওভারে ভারত নেয় ৩৬ রান। দলে বোলার হিসেবে থাকা মাশরাফি পুরো ১০ ওভার বল করার মতো সাহস দেখাতেও ব্যর্থ। রুবেল এবং মোস্তাফিজের মতো বোলার দলে থাকতেও তাদের ঠিক মতো ব্যবহারই করতে পারলেন না তিনি। ২০০৭-এর বিশ্বকাপে একাই ৪ উইকেট নিয়ে ভারতকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন ২৩ বছরের মর্তুজা।

চাপে কাবু মধ্যবিত্ত by এম এম মাসুদ

বাজেটের প্রভাবে খরচের খাতায় যোগ হয়েছে বাড়তি অর্থ। হাতের মোবাইল ফোনটি থেকে কথা বলতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ। বাজেটের পর ইতিমধ্যে বেড়েছে কিছু নিত্যপণ্যের দাম। সর্বশেষ যুক্ত হলো গ্যাসের বর্ধিত মূল্য। চতুর্মুখী ব্যয় বাড়ার চাপে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন বিত্ত শ্রেণির মানুষ। বাজেট বিশ্লেষকরা জানান, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে আয় বাড়ানোর জন্য যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষ চাপে পড়বে। এছাড়া মধ্যবিত্ত শ্রেণি উপেক্ষিত হয়েছে। ৫টি মৌলিক চাহিদার ৩টির বিপরীতেই কর বাড়ানো হয়েছে।
বরাদ্দের ক্ষেত্রে মধ্যবিত্তকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। বাজেটের কর কাঠামো নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্তের ওপর নানাভাবে চাপ বাড়াবে। বিশেষ করে সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর উৎসে কর সমাজের মধ্যবিত্ত ও ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের আয়ের ওপর আঘাত করবে। বাজেটে মোবাইল ফোনসহ ডিজিটাল সেবায় যেসব করারোপ করা হয়েছে তাতে শুধু মধ্যবিত্তেরই নয়, নিম্নবিত্তের ওপরও চাপ বাড়বে।
প্রস্তাবিত বাজেটে সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হয়েছে পরোক্ষ করের ওপর। অর্থাৎ মোট জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে (এনবিআর) আদায় হওয়া ৩ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার করের মধ্যে ভ্যাট থেকে আসবে ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা। আর তা নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের কাছ থেকে আদায় করা হবে। এ বছরও আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে মধ্যবিত্তদের টার্গেট করা হয়েছে। যাদের দৈনিক আয় ১০ থেকে ৪০ ডলারের মধ্যেই, তারাই মধ্যবিত্ত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, এবারের বাজেট সাধারণ মানুষের পক্ষে যায়নি। বড় ধনী শ্রেণির পক্ষে গেছে। তার মতে, সাধারণ মানষের আয়ের একমাত্র উৎস সঞ্চয়পত্রে কর বাড়ানো হয়েছে। অপরদিকে, শেয়ারবাজারের বড় ব্যবসায়ীদের কর হার কমিয়ে সুবিধা দেয়া হয়েছে। যা চরম বৈষম্য বলে তিনি মনে করেন।
একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করেন আমিনুল ইসলাম। মাসে সর্বসাকুল্যে বেতন পান ৩৫ হাজার টাকা। দুই সন্তান নিয়ে থাকেন মিরপুরের একটি ভাড়া বাসায়। তিনি বলেন, মাসে ১৩ হাজার টাকা বাসা ভাড়া দিতে হয়। দুই সন্তানের স্কুলের খরচ লাগে অন্তত ৮ হাজার টাকা। এছাড়া নিজের ও সন্তানদের যাতায়াতের খরচ হয় আরো অন্তত ৪ হাজার টাকা। বাকি ১০ হাজার টাকায় পুরো মাসের খরচ চালাতে হয়। তিনি বলেন, জরুরি কোনো প্রয়োজন হলে ধার কর্জ করতে হয়। এ অবস্থায় বছর শেষেই বাড়ি ভাড়া অন্তত ৫০০ টাকা বাড়ে। সন্তানদের স্কুলে প্রতিবছর তাদের বেতন বাড়ায়। বাজেটের পর যোগ হয়েছে নতুন খরচ। গ্যাসের দাম বেড়েছে পৌনে দুইশ টাকা। এ অবস্থায় ঠিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
রাজধানীর একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক আমিনা ইসলাম। তিনি বলেন, তিন বছর ধরে বেতন বাড়ে না। কিন্তু এই সময়ে অন্তত ৩০ ভাগ খরচ বেড়েছে। এ অবস্থায় চলতে কষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ বাজেটের পর নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং গ্যাসের নতুন দাম বিপাকে ফেলেছে। তিনি বলেন, নিজে শিক্ষকতা করি। কিন্তু আমার দুই সন্তানকে চাহিদা মতো শিক্ষার খরচই দিতে পারি না।
আবদুল হালিম। তিনি একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের কর্তা। মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে তার সংসার। চাকরি করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। মাসে বেতন সর্বসাকুল্যে ৪০ হাজার টাকা। থাকেন ঢাকার বাসাবো এলাকায়।
দুই সন্তানের মধ্যে ছেলে অষ্টম আর মেয়ে পড়ে পঞ্চম শ্রেণিতে। ভালো ফলের জন্য দু্থজনেরই প্রয়োজন প্রাইভেট টিউটরের। প্রাইভেট টিউটর রাখা হয়েছে তাদের জন্য। প্রতি মাসে ছেলেমেয়েদের স্কুল ও প্রাইভেট টিউটরের বেতন মিলিয়ে খরচ ১০ হাজার টাকা। বাসাভাড়া দিতে হয় ১০ হাজার টাকা। অসুস্থ মায়ের ও নিজেদের প্রয়োজনীয় ওষুধের পেছনে যায় ৩ হাজার টাকা। পানি, গ্যাস বিদ্যুৎ, নাইটগার্ড, ডিশ অ্যান্টেনা, ময়লা পরিষ্কারের জন্য সিটি করপোরেশনের বিলসহ অন্যান্য মিলিয়ে ইউটিলিটি চার্জ দেন আড়াই হাজার টাকা। অফিসে যাতায়াত ও দুপুরের খাবার হিসেবে নিজের হাত খরচ রাখেন মাসে ৩ হাজার টাকা। অবশিষ্ট থাকে সাড়ে ১২ হাজার টাকা। তা দিয়ে পরিবারের সবার খাওয়া-দাওয়ার জন্য মাসের বাজার ও অন্যান্য খরচ মেটাতে হয় আবদুল হালিমকে। নিজের সংসারের হিসাব তুলে ধরে উল্টো জানতে চান- ‘কী খাই, তা আপনিই বলেন? এ অবস্থায় সামনে খরচ বাড়লে জীবন চলবে কি করে?
এদিকে বাজেট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সুনির্দিষ্টভাবে এবারের বাজেটের যেসব উদ্যোগ মধ্যবিত্তকে চাপে ফেলবে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- করমুক্ত আয়ের সীমা না বাড়ানো, টেলিফোনে কথা বলার ওপর সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি, পোশাকে ভ্যাট বাড়ানো, বাড়ি ভাড়া, সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় উৎসে কর বাড়ানো এবং খাদ্যপণ্যে ট্যারিফ মূল্য বিলুপ্ত। এছাড়া পুরো বাজেটে প্রত্যক্ষ করের চেয়ে পরোক্ষ করে বেশি জোর দেয়া হয়েছে, যা ভোক্তা শ্রেণির ব্যয় বাড়াবে। তবে তুলনামূলকভাবে উচ্চ ও নিম্ন আয়ের মানুষকে সুবিধা দেয়া হয়েছে। ব্যয়ের ক্ষেত্রে মধ্যবিত্তদের গুরুত্ব কম বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।
গত কয়েক বছর বাস্তবায়ন করতে না পারা ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) আইন এবারই বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এ ভ্যাট আইনে বেশকিছু নিত্যপণ্যে ভ্যাট ছাড় দেয়া হয়েছে। তারপরও এ আইন বাস্তবায়নে অনেক পণ্যে নতুন করে ভ্যাট আরোপ হবে কিংবা আরোপকৃত ভ্যাটের পরিমাণ বাড়বে। বাজেটে বেশকিছু ক্ষেত্রে নতুন করে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা জনগণকেই পরিশোধ করতে হবে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে নাভিশ্বাস উঠবে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের। অর্থাৎ দেশের প্রতিটি মানুষের জীবন-যাপনে খরচের বাড়তি চাপ দিয়েই শুরু হলো নতুন অর্থবছর।
নতুন অর্থবছরে ইটিআইএন ছাড়া সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা এলাকায় বিদ্যুৎ বিল দেয়া যাবে না। বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে গেলেও লাগবে ইলেকট্রনিক ট্যাক্সপেয়ার্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর)। জমি রেজিস্ট্রি করতে হলে দলিলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের ইটিআইএন উল্লেখ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ভুয়া নম্বর দিলে দলিল বাতিল হবে। বাজেটে শুল্ক বাড়ানোর কারণে বাজারে বিদেশি গুঁড়া দুধের দাম এরই মধ্যে বেড়ে গেছে। বেড়েছে আরো কিছু নিত্যপণ্যের দাম। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও গত তিন বছরের মতো একই থাকছে করমুক্ত আয়সীমা। এতে মাসে ২০,৮৩৪ টাকা নিট আয় থাকলেই একজন ব্যক্তিকে সরকারি কোষাগারে করের অর্থ জমা দিতে হবে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের পর থেকেই সংসদের ভেতরে বাইরে সঞ্চয়পত্রে বাড়তি উৎস কর প্রত্যাহারের দাবি উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত তা কমানো হয়নি। করপোরেট কর কমানোর দাবি ছিল বেসরকারি খাতের।
কমানো হয়নি করপোরেট কর হার। মোবাইল কলরেট ও স্মার্টফোনের ওপর বাড়তি কর আরোপে এ ক্ষেত্রেও মানুষকে গুনতে হবে পকেটের টাকা। অগ্রিম কর প্রত্যাহার না হওয়ায় এবং জোগানদারের ভ্যাট বাড়ানোয় ব্যবসায় খরচ বেড়ে যাবে। নতুন অর্থবছর থেকে ভ্যাটের সব হারে রেয়াত নেয়ার সুযোগও থাকছে না।
এছাড়া বাজেটে শিল্পের সব কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর পরিশোধের বিধান রাখা হয়েছে এবং জোগানদারের ক্ষেত্রে ভ্যাট ৫ শতাংশর পরিবর্তে ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের উৎসে কর কর্তনকারী সত্তা ও প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভারের সীমা এক কোটি টাকার পরিবর্তে তিন কোটি টাকা করার দাবি আমলে আনা হয়নি। ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর হারে ছাড় দেয়া, সব রপ্তানি আয়ের উৎসে ন্যূনতম করহার কমানোর প্রস্তাব করা হলেও চূড়ান্ত বাজেটে আনা হয়নি।
এবারের বাজেটে ব্যক্তিগত সব গাড়ি নিবন্ধন, রুট পারমিট, ফিটনেস, মালিকানা সনদ নেয়া ও নবায়নের মাশুলের ওপর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এতে ব্যয় বেড়েছে। মোটরসাইকেলের বিদেশি টায়ারে কর বাড়ানো হয়েছে। চিনি আমদানিতে বাজেটে বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ভোজ্যতেলে আরোপ করা হয়েছে ভ্যাট।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে যা ছিল, চূড়ান্তভাবেও মোটামুটি তাই রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে মধ্যবিত্তের ওপর করের চাপ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েই গেল। তিনি বলেন, করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়নি। প্রস্তাবিত বাজেটে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর ৫ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। মানুষের প্রত্যাশা ছিল এটি কমতে পারে, তা কমেনি। তিনি বলেন, ভ্যাটের কারণে বেশকিছু পণ্যের দাম বাড়বে। কয়েকটি পণ্যের আমদানি শুল্ক ও সম্পূরক শুল্কের প্রভাবে আমদানি ব্যয় বাড়বে। এতে ব্যবসা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাবে। এ অর্থনীতিবিদ বলেন, বিভিন্ন করের পর গ্যাসের দাম বাড়ানো হলো। এতে মানুষের জীবনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, জ্বালানি ও ভ্যাটের সঙ্গে সবকিছু জড়িত। বিশেষ করে পণ্যের দাম, পরিবহন ব্যয় এবং বাসাভাড়া। ফলে এর প্রভাব জীবনযাত্রার সবগুলো খাতেই পড়বে। তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার ফলে বড় একটি শ্রেণীর মানুষের জীবনযাত্রার মান কমে যাবে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মধ্যবিত্তরা হয়তো সঞ্চয় ভেঙে খাবে, অথবা তাদের জীবনযাত্রার মান কমবে।

লা মেরিডিয়ানে বিশ্বকাপ দেখে হংকং ভ্রমণ ও আইফোন জেতার সুযোগ

বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপলক্ষে ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য র‌্যাফেল ড্র আয়োজন করেছে লা মেরিডিয়ান ঢাকা। পাঁচতারকা হোটেলটির পুলসাইড ক্যাফে ফ্যাবোলায় থাকছে এই জমজমাট আয়োজন। এতে খেলা উপভোগের পাশাপাশি অতিথিরা জিততে পারেন আকর্ষণীয় পুরস্কার।
লা মেরিডিয়ানের ইনফিনিটি পুল
ভাগ্যবান র‌্যাফেল ড্র বিজয়ীরা পাবেন ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারলাইনসের ঢাকা-হংকং-ঢাকা রুটের টিকিট। বিশেষ পুরস্কার হিসেবে ভাগ্যবান বিজয়ীরা পাবেন আইফোন টেন। এছাড়া রয়েছে আকর্ষণীয় গিফট ভাউচার। এ সুযোগ আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত থাকবে।
ফ্যাবোলায় সর্বনিম্ন ১ হাজার ৪০০ টাকা খরচ করে যেকোনও অতিথি র‌্যাফেল ড্রতে অংশগ্রহণ করতে পারেন। রেস্তোরাঁটির সুইমিং পুলের পাশ থেকে দেখা যায় ঢাকা শহরের বিস্তৃত ও উন্মুক্ত এলাকা। এখানেই বিশাল বড় এলইডি পর্দায় উপভোগ করা যাচ্ছে ইংল্যান্ডে চলমান আইসিসি বিশ্বকাপের খেলাগুলো।
লা মেরিডিয়ানের ইনফিনিটি পুল
রেস্তোরাঁটির ইতালিয়ান শেফ ভল্টার বেলি স্থানীয় রসনার আদলে প্রস্তুত করেন হরেক রকম পিৎজা। এর মধ্যে রয়েছে চিকেন টিক্কা পিৎজা, স্পাইসি মাটন পিৎজাসহ অনেক কিছু।
লা মেরিডিয়ান ঢাকার জেনারেল ম্যানেজার কনস্ট্যানটিনোস এস. গ্যাভরিয়েল বলেন, ‘বড় পর্দায় বিশ্বকাপের খেলা বিশেষ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পারফরম্যান্স দেখার আনন্দ অন্যরকম। তাই ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। এখানে বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে দারুণ কিছু মুহূর্ত উপভোগ করতে পারছেন তারা। বিশ্বকাপের টানটান উত্তেজনার মধ্যে অতিথিদের জন্য র‌্যাফেল ড্র আয়োজন করতে পেরে আমরা আনন্দিত।’
লা মেরিডিয়ানের ইনফিনিটি পুল
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক এভিয়েশন নির্ভর প্রতিষ্ঠান স্কাইট্র্যাক্স প্রকাশিত ২০১৯ সালের বিশ্বসেরা ১০ বিমান সংস্থার তালিকায় ক্যাথে প্যাসিফিক আছে চার নম্বরে। তাই তাদের উড়োজাহাজে চড়ে হংকং ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দারুণ হবে বলে দেওয়া যায়।

কংগ্রেসের কারণেই কাশ্মীর হাতছাড়া: অমিত শাহ

কাশ্মীরের এক-তৃতীয়াংশ ভারতের নিয়ন্ত্রণে নেই বলে জানিয়েছেন অমিত শাহ। এজন্য প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
তিনি বলেছেন, তাদের কারণেই জম্মু-কাশ্মীরের এক-তৃতীয়াংশ ভারতের নিয়ন্ত্রণে নেই। রাষ্ট্রপতি শাসন জারিবিষয়ক দেশটির সংবিধানের ৩৫৬ ধারার উল্লেখ করে অমিত শাহ বলেন, ‘দেশভাগের জন্য দায়ী কে’ সংবিধানের ওই ধারাকে ব্যবহার করে কোনো রাজ্যের ওপর কেন্দ্রীয় শাসন প্রয়োগ করা নিয়ে বিতর্ক চলাকালীন অমিত শাহ বলেন, ‘বিজেপি নয়, কংগ্রেসই সংবিধানের ৩৫৬ ধারাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।’ অমিত আরও বলেন, ‘কোনো বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হলে আমরা বাধ্য হয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করি। এর আগে ১৩২ বার সংবিধানের ৩৫৬ ধারাকে ব্যবহার করা হয়েছে। যার মধ্যে ৯৩ বার এটি ব্যবহার করেছে কংগ্রেস। তারা এখন শেখাবে কিভাবে এই ধারা ব্যবহার করা উচিত?’
৬ মাসেই কাশ্মীরে নির্বাচন : ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে আগামী ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার লোকসভায় তিনি বলেন, সরকার জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ রুখতে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে।
এখন সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটাই ভালো হয়েছে। আগামী ছ’মাসের মধ্যে সেখানে বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন করা যেতে পারে। এদিন লোকসভায় কাশ্মীরে রাষ্ট্রপতি শাসনের মেয়াদ বাড়ানোর বিল পেশ করলে সেখানে বিধানসভা নির্বাচনের দাবি ওঠে।
ওই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দাবি দীর্ঘদিনের। গত বছরের জুনে বিজেপি মেহবুবা মুফতির ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে জোট ভেঙে দিলে জম্মু ও কাশ্মীরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়। বছরের শেষে সেখানে নির্বাচন করতে গেলেও রাষ্ট্রপতি শাসনের মেয়াদ বাড়ানো প্রয়োজন। খবর এনডিটিভির।
গত মাসেই হয়ে গেল ভারতের লোকসভা নির্বাচন-২০১৯। কাশ্মীরে লোকসভার সঙ্গে বিধানসভার নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অজুহাতে নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।
লোকসভার মাধ্যমে সরকার গঠনের পর প্রথম অধিবেশনে রাজ্যটির নির্বাচনের প্রসঙ্গটি উঠে এলো। অমিত শাহ বলেন, সন্ত্রাসের প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’ ও সন্ত্রাসবাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে বিজেপি সরকার ওই রাজ্যে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি বলেন, অতীতে এখানে নির্বাচনের সময় রক্তের স্রোত বইতে দেখেছি আমরা। কিন্তু এখন নির্বাচনের সময় কোনো রক্তপাত ঘটে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মানুষকে তাদের অধিকার দিতে চেষ্টা করছি আমরা। মাত্র এক বছরে বহু ইস্যুর সমাধান করা গিয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পুলওয়ামা জঙ্গি হানার ঘটনায় ৪০ জন সেনার মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন কমিশন জম্মু ও কাশ্মীরে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজন করার প্রস্তাব দেয়।
কিন্তু রাজ্য সরকার আপত্তি জানায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে। নিরাপত্তা প্রসঙ্গ খতিয়ে দেখে কাশ্মীরের অনন্তনাগে তিন পর্বে লোকসভা নির্বাচন সম্পন্ন হয়।
রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ ছিল, বিজেপি রাজ্যে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি প্রয়োগ করতে দিচ্ছে না। গত মাসে কমিশন ইঙ্গিত করে নির্বাচন নিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে সবুজ সংকেত মিলেছে।

বিজেপির বিরুদ্ধে মমতার একসঙ্গে চলার আহ্বানে কী বলছে সিপিএম-কংগ্রেস?

লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে রাজ্যে প্রায় ১৩০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। ২০২১-এ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে তৃণমূল বিধায়ক, কাউন্সিলর থেকে জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সদস্যদের একাংশের এখনও নিয়মিত গন্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে বিজেপি কার্য্যালয়। সব মিলিয়ে লোকসভা ভোটের পর বাংলায় রীতিমতো কোণঠাসা ঘাসফুল শিবির। এমতাবস্থায় গেরুয়া আগ্রাসন রুখতে ‘চিরশত্রু’ সিপিএম এবং প্রাক্তন দল কংগ্রেসকে কাছে টানার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সিপিএম-কংগ্রেসকে বার্তা দেওয়ার জন্য বুধবার বিধানসভার অধিবেশনকেই বেছে নেন মমতা। এদিন তিনি বলেন, “সিপিএম-কংগ্রেস দেশটাকে ভাঙবে না। আমার ভয় হচ্ছে, (বিজেপি) সংবিধান না বদলে দেয়। আমাদের যৌথভাবে আসা দরকার”। এরপরই আবদুল মান্নান জানান, কংগ্রেসের অনেক পার্টি অফিস তৃণমূল দখল করে নিয়েছে। এর উত্তরে মমতা বলেন, “আমাকে তালিকা দিন”। সিপিএম ও কংগ্রেসের উদ্দেশে এরপরই তিনি বলেন, “আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। আমরা বিষয়টা দেখছি”। এদিন বিধানসভা কক্ষে বক্তব্য শেষ করে মমতা ‘জয় হিন্দ’ এবং ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি তোলেন।
তবে মমতা যতই কাছে টানার বার্তা দিয়ে থাকুক, এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে সিপিএম ও কংগ্রেস নেতৃত্ব। লোকসভা নির্বাচনের প্রচারেও বিজেপির সঙ্গে কংগ্রেস-সিপিএমকে এক বন্ধনীতে রেখেই আক্রমণ হেনেছিলেন তৃণমূলনেত্রী। সে কথা এখনও ভুলতে পারছে হাত-কাস্তে কোনও পক্ষই। এদিকে, বিজেপি মমতার এই বার্তাকে গুরুত্ব দিতেই নারাজ। তিন দল একসঙ্গে লড়াই করলেও আখেরে কোনও লাভ হবে না বলে মনে করছে বিজেপি।
এবার রাজ্যে লোকসভা নির্বাচনে একটি আসনও জোটেনি সিপিএমের। তবু মমতার এই আবেদনে সাড়া দিতে চাইছে না তারা। বরং অনেক আক্রমণাত্মক সুরে সিপিএম-এর পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম বলেন, “উনি ক’দিন আগে বলছিলেন সিপিএম, কংগ্রেস ও বিজেপি একসঙ্গে লড়ছে। উনি প্রথমে বলুন, সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে ভোটের সময় মিথ্যাচার করেছি। গাজোয়ারি করে মানুষকে লুটপাঠের যাঁরা প্রতিবাদ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছেন। সমস্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। গ্রেফতার হওয়া রাজনৈতিক কর্মীদের মুক্তি দিন। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছেন, অন্য়ায় স্বীকার করে তা ফিরিয়ে দিন”। বিজেপির সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সখ্যের প্রসঙ্গও তুলেছেন সেলিম। তাঁর বক্তব্য, “সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে উনি কংগ্রেস-সিপিএমের সঙ্গে লড়েছেন, তা স্বাকীর করুন। দু’দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন দেখছিলেন, এখন বুঝতে পারছেন মুখ্যমন্ত্রীও হতে পারবেন না”।
অন্যদিকে রাজ্য কংগ্রেসও মমতার আহ্বানকে অগ্রাহ্য করেছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন, “তিনি কখনও বলছেন কংগ্রেসকে সাইনবোর্ড করে দেবেন। আবার কখনও বলছেন, কংগ্রেস দেশটাকে ভাঙবে না। কোনটা সত্যি আগে সেটা ঠিক করুন। এই কক্ষেই বলেছিলেন, কংগ্রেস এখন সাইনবোর্ড”। কিন্তু, কংগ্রেসের কাছে আবেদন করলে কী করবেন? সোমেনের সাফ জবাব, “যাব না। আগে ওঁর শুভবুদ্ধির উদয় হোক, তারপর তো আসবে। কী জন্য বললেন সেটা উনিই জানেন”।
মমতার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কংগ্রেস-সিপিএম পাল্টা তোপ দাগলেও বিজেপি সামগ্রিকভাবে এই বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিতে চাইছে না। এসব করে আদতে কোনও লাভ হবে না বলেই মনে করে রাজ্য বিজেপি। বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, “খড়কুটো অবলম্বন করে বাঁচতে চাইছেন উনি। জণগনকে সঙ্গে না নিয়ে একটা খড় আর কুটোকে নিয়ে কি বাঁচতে পারবেন? যা ঢেউ এসেছে তাতে মুছে যাবেন। একটা সময় বিজেপির হাতে-পায়ে ধরতেন সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য। আর এখন নিজেকে রক্ষা করার জন্য সিপিএমের পা ধরতে হচ্ছে। অদৃষ্টের পরিহাস। ওনার অবস্থা দেখে আমাদের অনুকম্পা জাগে। আমার চ্যালেঞ্জ, হিম্মত থাকে একসঙ্গে লড়ে বিজেপিকে হারান।”

বাইডেনকে নিয়ে নতুন হিসাব

২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন পেতে ২৪ জন নেতা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মধ্যে জনমত জরিপে এগিয়ে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি মধ্যপন্থী। জরিপ বলছে, ট্রাম্পকে পরাজিত করতে তিনি সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী। তবে গত সপ্তাহে ডেমোক্রেটিক পার্টির ২০ জন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর মধ্যে দুটি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর অনেকে নতুন করে অঙ্ক কষতে শুরু করেছেন।
সবাই বলছেন, বিতর্কে জয়ী হয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নির্বাচিত সিনেটর কমলা হ্যারিস। ভারতীয় মা ও কৃষ্ণকায় বাবার সন্তান কমলা নিজেকে একজন আফ্রিকান-আমেরিকান হিসেবে পরিচয় দেন। গত বৃহস্পতিবার এনবিসি টিভি প্রযোজিত বিতর্কে তিনি বর্ণবাদ প্রশ্নে জো বাইডেনের অতীত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এই ইস্যুতে তিনি একদিকে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টকে নাকাল করেছেন, অন্যদিকে নিজেকে আলোচনার মধ্যমঞ্চে নিয়ে এসেছেন।
সিনেটর কমলা হ্যারিসের অভিযোগ, সত্তরের দশকে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলব্যবস্থায় বর্ণবিভাজন ঘোচাতে কৃষ্ণকায় ছেলেমেয়েদের বাসে করে আনা-নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাইডেন এর বিরোধিতা করেছিলেন। বাইডেন সে সময় বলেন,‘আপনি বর্ণবাদী, আমি সে কথা বিশ্বাস করি না। কিন্তু আপনি ভুল করেছিলেন, তাতেও কোনো সন্দেহ নেই।’ বাইডেনকে লক্ষ্য করে কমলা হ্যারিসের এই আক্রমণ এখন সবার মুখে মুখে। বর্ণবাদী হিসেবে পরিচিত দুজন রিপাবলিকান সিনেটের প্রতি তিনি বন্ধুভাবাপন্ন ছিলেন, বাইডেনের সে বক্তব্যও সমালোচনার মুখে পড়েছে।
বিতর্কের সময় কমলা হ্যারিসের তির্যক মন্তব্যের জবাব দিতে পারেননি বাইডেন। পরে তথ্যবিবরণী দিয়ে বাইডেনকে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে হয়েছে। তবে দলের বেশির ভাগ সমর্থক সেই ব্যাখ্যা যথাযথ মনে করেননি। বিতর্কের পর জাতীয় জরিপে বাইডেন ৩১ পয়েন্ট পেয়ে এখনো প্রথম স্থানে, দ্বিতীয় স্থানে ১৯ পয়েন্ট পেয়ে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। ১২ পয়েন্ট পেয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন কমলা হ্যারিস। বিতর্কের আগে বাইডেনের পয়েন্ট ছিল ৩৮, আর কমলার ৬। অর্থাৎ, এই বিতর্কের পর বাইডেন হারিয়েছেন ৫ পয়েন্ট, কমলা হ্যারিসের সংগ্রহ অতিরিক্ত ৬ পয়েন্ট।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাইডেন দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে এত দিন যে নিশ্চিত ধারণা ছিল, তা এখন আর মোটেই নিশ্চিত নয়। এ কথা ঠিক, ‘ভোটার গ্রুপ’ হিসেবে আফ্রিকান-আমেরিকানরা এখনো তাঁকে সমর্থন করে যাচ্ছেন। কিন্তু দলের প্রগতিশীল অংশ বাইডেনের ব্যাপারে দ্রুত উৎসাহ হারাচ্ছে। বার্নি স্যান্ডার্সের ক্যাম্পেইন ম্যানেজার ফয়েজ শাকির এই নতুন মূল্যায়নের সারসংক্ষেপ করেছেন। তিনি বলেন, জো বাইডেন যেখানে কমলা হ্যারিসের সমালোচনার জবাব দিতে পারেননি, সেখানে ট্রাম্পের আক্রমণ কীভাবে ঠেকাবেন, সেটা চিন্তার বিষয়।
বাইডেনের সমর্থক হিসেবে পরিচিত মধ্যপন্থী থিংক ট্যাংক থার্ডওয়ের প্রতিষ্ঠাতা ম্যাট বেনেট আরও সরাসরি কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘নাহ, মোটেই ভালো ফল দেখাতে পারেননি বাইডেন।’ তিনি আশা করেছেন, বাইডেন সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবেন। তবে তাঁকে সে জন্য যথেষ্ট খাটতে হবে।
মনোনয়নপ্রার্থী অনেকেই এখন বাইডেনের সমালোচনায় মুখর। ৭৬ বছর বয়সী বাইডেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে অতি বৃদ্ধ ইঙ্গিত করে কংগ্রেসম্যান এরিক সোয়ালওয়াল বলেছেন, ‘জো বাইডেন গতকালের মানুষ। এখন সময় এসেছে তাঁর হাতে ধরা মশালটি অন্য কারও হাতে হস্তান্তরের।’
বাইডেনকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন কমলা হ্যারিস। তবে কমলা হ্যারিসও দলের অনেক নেতা-কর্মীর, বিশেষত আফ্রিকান-আমেরিকানদের কাছে সমালোচিত হয়েছেন। বাইডেন ওবামার অনুগত সহকারী ছিলেন। অনেক আফ্রিকান আমেরিকান মনে করেন, বাইডেনকে আক্রমণ করা মানে ওবামাকে আক্রমণ করা।
সাবেক আফ্রিকান-আমেরিকান সিনেটর ক্যারল মোসলি ব্রাউন বলেন, বাইডেন সম্বন্ধে কমলা হ্যারিস যা বলেছেন, তা ভুল। তিনি অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষী। আর তাতেই ভুলটা হয়েছে।
অনেকেই কমলা হ্যারিসকে একসময় জো বাইডেনের রানিং মেট হিসেবে প্রস্তাব করেছিলেন। এই বিতর্ক ও যুদ্ধের পর সেই সম্ভাবনা আর নেই। সান ফ্রান্সিসকোর সাবেক মেয়র উইলি ব্রাউন অবশ্য এখনো তেমন সম্ভাবনা বাতিল করেননি। তাঁর কথায়, জো বাইডেনের টিকে থাকার একমাত্র পথ হলো কমলা হ্যারিস যদি তাঁর রানিং মেট হতে রাজি হন। অন্যথায় বাইডেন এখনই তাঁর নির্বাচনী আশাকে বিদায় জানাতে পারেন।

আফগানিস্তানে সেনাদেরকে ক্ষুদে পকেট ড্রোন দেবে মার্কিন সামরিক বাহিনী by জেমস ফ্যারেল

আফগানিস্তানে আগামীতে কিছু মার্কিন সেনাদের পাঠানো হচ্ছে যাদেরকে নতুন একটি পকেট সাইজের নজরদারী ড্রোন দেয়া হবে, যেটাকে বলা হয় ব্ল্যাক হর্নেট পার্সোনাল রেকনায়শান্স সিস্টেম।
আফগানিস্তানে এই ড্রোনগুলো মোতায়েনের মাধ্যমে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশানের ৫০৮তম প্যারাশুট ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের প্রথম ব্যাটালিয়ন এটা পরীক্ষা করে দেখবে যে কিভাবে এই ড্রোনগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার করা যায়। স্টার্স অ্যান্ড স্ট্রাইপসে শুক্রবার প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুসারে, সেই দিন বেশি দূরে নেই, যেদিন সব সেনার সাথেই এই মিনি ড্রোন থাকবে।
এই ড্রোনটির ডিজাইন করেছে ওরিগন-ভিত্তিক এফএলআইআর সিস্টেমস। মাত্র ছয় ইঞ্চি লম্বা এই ড্রোনের ওজন মাত্র ৩৩ গ্রাম। প্রতিটি ড্রোনের দুটো ক্যামেরা এবং থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে এই ড্রোনগুলো অপারেটরের কাছ থেকে ২ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত জায়গা পরীক্ষা করতে পারে এবং এক নাগারে ২৫ মিনিট পর্যন্ত উড়তে পারে। এ সময়টাতে ড্রোনগুলো অপারেটরের কাছে ছবি পাঠাতে পারে। এই ড্রোনগুলো লুকিয়ে থাকা শত্রু ও বিস্ফোরক চিহ্নিত করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সার্জেন্ট রায়ান সুবার্স এক সেনা বিবৃতিতে বলেছেন, “এই ধরনের প্রযুক্তি আমাদের জন্য জীবন রক্ষাকারী হিসেবে কাজ করবে কারণ এটা আমাদেরকে বিপদ থেকে সতর্ক করবে এবং আমাদের নিজেদের মিশন কার্যকরে সক্ষমতা যোগাবে”।
২০১৬ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিশেষ বাহিনীতে ব্ল্যাক হর্নেটের পরীক্ষা শুরু করেছে এবং এরপর ফরাসী ও ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীও এফএলআইআর-এর কাছ থেকে এটা কিনেছে। কোম্পানি লিখেছে যে, মাত্র দুই মিনিটেই একজন সেনা বুঝতে পারবেন কিভাবে এটা চালাতে হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যেই একজন ইন্সট্রাক্টর এটা পরিচালনায় প্রশিক্ষণ দিতে পারবেন। এতে অয়্যারলেস কমান্ড এনক্রিপ্ট করা আছে বলে এটা হ্যাক করাও যাবে না।
গত বছর মার্কিন সেনাবাহিনী এফএলআইআরের সাথে ২.৬ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে। এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেনাবাহিনীর সোলজার বর্ন সেন্সর কর্মসূচির জন্য এই ড্রোন সরবরাহের জন্য ৪০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে তারা। এর অর্থ হলো ৯০০০ সিস্টেম কিনবে মার্কিন সেনাবাহিনী, এবং প্রতিটি সিস্টেমে দুটি করে ড্রোন রয়েছে।

‘দঙ্গল’ কন্যার অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের ঝড়

দঙ্গল কন্যা জায়রা ওয়াসিমের অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের ঝড় তৈরি হয়েছে। সকলে হতবাকও। ‘দঙ্গল’ এবং ‘সিক্রেট সুপারস্টার’ এই দু’টি ছবি করেছেন জায়রা। ‘দঙ্গল’ ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি ‘স্কাই ইজ পিঙ্ক’ ছবিতে অভিনয় করেছেন এই কাশ্মিরী কন্যা। তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও ফারহান আখতারের মতো অভিনেতারা। সম্প্রতি সোস্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে প্রতিভাবান অভিনেত্রী জায়রা লিখেছেন, আমার কাজের সঙ্গে আমার ধর্মবিশ্বাসের সংঘাত হচ্ছে। জায়রার কথায়, যাত্রাটা খুব ক্লান্তিকর ছিল।
দীর্ঘদিন ধরে নিজের আত্মার সঙ্গে যুদ্ধ। জীবনটা খুব ছোট কিন্তু নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য খুব বড়। তাই আমি আজ এই সিদ্ধান্ত নিলাম। এই সিনে-জগৎ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে এই সংঘাতের কারণেই অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অনেকেই নিন্দা করেছেন এই অভিনেত্রীর। জায়রা তার দীর্ঘ পোস্টে আরও লিখেছেন, আমার কাজ, আমার পরিচিতি নিয়ে আমি খুশি নই। অনেক দিন ধরে আমার মনে হচ্ছে অন্য কেউ হওয়ার জন্যই আমি পরিশ্রম করছি। যখনই আমি বুঝতে শিখেছি কিসের জন্য আমি সময় দিচ্ছি, পরিশ্রম করছি, তখনই আমি বুঝেছি এখানে আমাকে মানালেও আমি এর জন্য উপযুক্ত নই। এই জগৎ আমাকে অনেক ভালবাসা, সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু পাশাপাশি এর জন্য আমি আমার বিশ্বাস থেকে সরে গিয়েছি। আমার কাজের সঙ্গে আমার ধর্মবিশ্বাসের সংঘাত হচ্ছে।
জায়রার এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তিনি নিজের টুইটারে লিখেছেন, বলিউডের প্রতিভাবান অভিনেত্রী জায়রা ওয়াসিম অভিনয় ছেড়ে দিচ্ছেন শুধুমাত্র এই কারণে যে, তার কাজের জন্য আল্লাহর ওপর থেকে তার বিশ্বাস হারিয়ে গিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে খুব বোকামি করেছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের কত প্রতিভা এই ভাবেই বোরখার অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে। তাদের জোর করে বোরখার আড়ালে নিয়ে আসা হচ্ছে। তসলিমা আরও বলেছেন, সবাই বলছে ধর্মীয় কারণে জায়রার অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা করা উচিৎ। সত্যি? এই নারীবিদ্বেষী পিতৃশাসিত সমাজ মেয়েদের মগজধোলাই করছে। তাদের নমনীয়, পরনির্ভরশীল, অশিক্ষিত, ভৃত্য, যৌন বস্তু, সন্তান তৈরি করার যন্ত্র বানিয়ে রেখেছে। তাদের কোনও স্বাধীনতা নেই। এই পিতৃশাসিত সমাজের বিরুদ্ধে পুরুষ ও নারী দুজনকেই লড়াই করে এমন সমাজ তৈরি করতে হবে যেখানে সবাই সমান। অভিনেত্রী রাবিনা ট্যান্ডনও ট্যুইট করে জায়রার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন,  দুটো ছবি করে এই জগতের প্রতি কেউ অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে তাতে কিছু যায় আসে না। শুধু তারা ভালভাবে বেরিয়ে যান এবং তাদের বিতর্কিত মতামত নিজেদের কাছেই রাখুন। এটাই কাম্য।

ফের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘোষণায় ইইউতে পণ্য রফতানি নিয়ে লংকান ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ

শ্রীলংকার একটি পোশাক তৈরির কারখানা
শ্রীলংকায় আবারো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর শুরু করবেন বলে অনমনীয় প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনার ঘোষণায় দেশটির রফতানি পণ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জিএসপি+ বাণিজ্য সুবিধা বাতিলের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সিরিসেনা চারজন মাদক অপরাধীর ফাঁসি অনুমোদন করেছেন। ফলে ইইউ’র জিএসপি প্লাস ‍সুবিধা বাতিল হলে ব্যবসার কি হবে হবে সেই চিন্তায় লংকান পোশাকশিল্প মালিকাদের মধ্যে আতংকে কাঁপুনি ধরে গেছে।
প্রায় সাত বছর পর ২০১৭ সালের মাঝামাঝি শ্রীলংকা আবারো জিএসপি+ সুবিধা ফিরে পায়। ২০১০ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসার আমলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে এই বাণিজ্য সুবিধা বাতিল করা হয়। এতে শ্রীলংকা ১৫০ থেকে ২৫০ বিলিয়ন রুপি’র রফতানি রাজস্ব হারায়।
২০১৫ সালের জানুয়ারিতে রানিল বিক্রমাসিঙ্ঘের ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) টিকেটে নির্বাচিত হয়ে প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা ক্ষমতায় আসার দুই বছরের মাথায় জিএসপি পুনর্বহাল করা হয়।
পাঁচ বছর পর এখন প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিঙ্গের সঙ্গে সিরিসেনার সম্পর্কে চরম অবনতি ঘটেছে। সিরিসেনার শ্রীলংকা ফ্রিডম পার্টি (এসএলএফপি) এতদিন ইউএনপি জোটে থাকলেও এখন তারা বিরোধী দলে।
মাদক চোরকারবারীদের জন্য মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহালে সিরিসেনার চেষ্টাটিকে তার ক্ষয়িষ্ণু জনপ্রিয়তা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা হিসেবে অনেক বিশ্লেষক দেখছেন।
জনপ্রিয়তা হারানোর কারণে আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এসএলএফপি থেকে আলাদাভাবে তার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তিনি শ্রীলংকা পদুজানা পেরামুনা (এসএলপিপি) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আশা করলেও এখন তা উবে গেছে। এসএলপিপি তাকে দুর্বল নেতা হিসেবে মনে করে।
এই অবস্থায় পেশীশক্তি প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন সিরিসেনা। মাদক চোরাকারবারীদের ফাঁসিকে সমাজের ভালো করতে তার নেয়া কঠোর ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত সপ্তাহের শেষ দিকে ইইউ’র দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, শ্রীলংকা নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক কভেন্যান্টসহ, জিএসপি+ অঙ্গীকার সংশ্লিষ্ট ২৭টি আন্তর্জাতিক কনভেনশন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করছে কিনা তার উপর অব্যাহত নজর রাখা হবে।
ইইউ আরো জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উপর ৪৩ বছরের স্বেচ্ছা নিষেধাজ্ঞার অবসান হলে তা হবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ৭৩তম জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে শ্রীলংকার দেয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
ইউএনপি’র কেউ সিরিসেনার নীতির ব্যাপারে কোনরকম আগ্রহ দেখায়নি। অর্থমন্ত্রী সামারাবিরা বেশ কয়েকবার বলেছেন যে, ৪০ বছরেরও বেশি সময় পর খুন ও মাদক চোরাচালানের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা কোন সমাধান নয়। কারণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর জালে শুধু চুনোপুটিই ধরা পড়ছে, রাঘব-বোয়াল ধরা পড়ছে না।
উল্লেখ্য, বৌদ্ধধর্ম সংঘের একজন শীর্ষস্থানীয় পুরোহিত সাবেক প্রতিরক্ষাসচিব ও মাহিন্দা রাজাপাকসার ভাই গোতাভায়া রাজাপাকসাকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেন এবং শ্রীলংকাকে মাদকের আতংক ও অন্যান্য বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্তির আহ্বান জানানোর পর থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সিরিসেনার মনোভাব কঠোর হয়। ২০১৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গোতাভায়ার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
গত বুধবার চিকিৎসকদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা জানান যে তিনি এরই মধ্যে চার অভিযুক্তের দণ্ড কার্যকর করার জন্য কাগজপত্রে সই করেছেন। মাদকের অপরাধে এরা দণ্ডিত হয়।
গত মাসে সিরিসেনা এটাও বলেন যে তিনি মাদক মাফিয়াদের শায়েস্তা করছেন বলে ২১ এপ্রিল আইএসআইএস-স্টাইলে হামলা চালানো হয়েছে। এটা এমন ধারণাও জন্ম দিয়েছে যে এর মাধ্যমে তিনি বুঝাতে চাচ্ছেন শ্রীলংকার সব মাদক ব্যবসায়ী হলো মুসলমান।
দ্বীপদেশটির মাদক মাফিয়া মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে বলে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বৌদ্ধ ধর্মগুরুও অভিযোগ তোলার চেষ্টা করছেন।