Tuesday, March 11, 2014

প্রেম দিয়েছ তুমি কিন্তু পানি দিতে পারলাম না আমি by অলিউল্লাহ নোমান

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আওয়ামী লীগের জনসভা। সভানেত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথির ভাষণ দিলেন। শিক্ষণীয় অনেক বাণী দিয়েছেন। তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই সব কথা বলেছেন। ভোটারবিহীন জবরদস্তির নির্বাচনে বিজয়ী প্রধানমন্ত্রী তিনি। তার বক্তব্য ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য অনেক শিক্ষণীয়। শব্দচয়নে ছিল সাহিত্যের ছোঁয়া।

দোলাচলে মোদি, রাজনাথ

রাজনাথ সিং -নরেন্দ্র মোদি
ভারতের লোকসভা নির্বাচন ২০১৪: ভারতের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস, বিজেপিসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থী মনোনয়ন চলছে। নরেন্দ্র মোদি গুজরাটের বাইরে উত্তর প্রদেশের একটি আসনে প্রার্থী হতে চান। অন্যদিকে গাজিয়াবাদ এলাকায় এএপির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাড়ি। তাই ওই আসনে বিজেপির সভাপতি রাজনাথ সিং প্রার্থী হতে চান না
ভারতের কেন্দ্রের ক্ষমতা দখলে উত্তর প্রদেশ ও বিহারের ওপর বাজি ধরলেও নির্বাচনী টিকিট বণ্টনের ক্ষেত্রে এ দুই রাজ্য নিয়ে বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদি এখনো বেশ চিন্তিত। বারানসি আসন ছাড়ের ব্যাপারে প্রবীণ মুরলী মনোহর জোশির ক্ষোভের পর লক্ষেৗ নিয়ে লালজি ট্যান্ডন ও কানপুর নিয়ে কলরাজ মিশ্র তাঁদের আপত্তি জানালেন। এর ফলে গুজরাটের বাইরে উত্তর প্রদেশের কোন আসন থেকে মোদি লড়বেন, তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। একইভাবে দলের সভাপতি রাজনাথ সিংয়ের কেন্দ্র বদলের বিষয়টি সুনিশ্চিত করাও কঠিন হচ্ছে। বিজেপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দলকে চাঙা করতে মোদি গুজরাটের বাইরে উত্তর প্রদেশ থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এ জন্য বারানসি ও লক্ষেৗ আসন বেছে নেওয়া হয়েছে। বারানসিকে বাছার কারণ, এটি হিন্দুদের কাছে পবিত্র শহর। অন্যদিকে লক্ষেৗ বাছাইয়ের কারণ, অটল বিহারি বাজপেয়ি সেখান থেকে জিতেই প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। আগামী বৃহস্পতিবার বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠক।
প্রতিদিন যেভাবে বিজেপিতে নতুন নতুন বিতর্ক মাথাচাড়া দিচ্ছে, তাতে বৃহস্পতিবারের আগে এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো নিয়ে সংশয় রয়েছে। বারানসি আসনটি জোশির। আসনটি মোদিকে ছেড়ে তাঁকে কানপুরে যেতে বলা হয়েছে। তিন দিন আগে দলীয় বৈঠকে এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ জোশির সঙ্গে কথা বলে। জোশি কিছুটা নরম হলেও বিতর্ক দেখা দেয় রাজ্যসভার সদস্য কলরাজ মিশ্রের বক্তব্যে। গতকাল সোমবার তিনি বলেন, কানপুর থেকে লড়াইয়ে তিনি প্রস্তুত। অন্যদিকে লক্ষেৗ থেকে নির্বাচিত লালজি ট্যান্ডন একমাত্র মোদি ছাড়া অন্য কারও জন্য আসন ছাড়তে নারাজ। বিজেপির সভাপতি রাজনাথ সিং নির্বাচিত হন দিল্লির লাগোয়া উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ থেকে। ওই এলাকায় আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাড়ি ও সদর দপ্তর। এ কারণে রাজনাথ আসন পাল্টাতে চান। এই সময় দল ও আসন বদলের খেলাই প্রধান আকর্ষণ। সমাজবাদী পার্টির সাবেক নেতা অমর সিং ও অভিনেত্রী জয়া প্রদা গতকাল যোগ দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজিত সিংয়ের রাষ্ট্রীয় লোক দলে (আরএলডি)।

মোনালিসার হাসির রহস্য উদ্ঘাটিত!

ছবির মানুষ মোনালিসা।
ছবির মানুষ মোনালিসা। মুখে তাঁর রহস্যময় হাসি। সেই রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে যুগ যুগ ধরে। যুক্তরাষ্ট্রের এক আনাড়ি গবেষক সম্প্রতি দাবি করেছেন, মোনালিসার হাসিতে নারীবাদের প্রকাশ ঘটেছে। ইউরোপীয় রেনেসাঁ যুগের বিখ্যাত শিল্পী লেওনার্দো দা ভিঞ্চির অমর কীর্তি মোনালিসা নিয়ে রীতিমতো একটি বই লিখেছেন টেক্সাসের ওই শিল্প-ইতিহাস গবেষক উইলিয়াম ভারভেল। সদ্য প্রকাশিত ১৮০ পৃষ্ঠার ওই বইয়ের নাম দ্য লেডি স্পিকস: আনকভারিং দ্য সিক্রেটস অব দ্য মোনালিসা। লেখক দাবি করেন, ছবিটির ওই হাসিমাখা নারীর নাম লা গিওকন্দা। তিনি ছিলেন ষোড়শ শতকের একজন নারীবাদী। ক্যাথলিক গির্জায় নারীর ভূমিকা ও অবদান রাখার সুযোগ আরও জোরদার করার পক্ষে কাজ করেন তিনি। মজার ব্যাপার হলো, গণিতের সাবেক অধ্যাপক ৫৩ বছর বয়সী ভারভেল বহু বছর ধরে মোনালিসা নিয়ে গবেষণা করলেও এখনো চিত্রকর্মটি কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাননি তিনি। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন,
গিওকন্দাকে নারী অধিকার আন্দোলনের একটি বড় উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। ‘মোনালিসা’ শীর্ষক ছবিটি সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত চিত্রকর্ম। এটি দেখতে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ল্যুভর জাদুঘরে প্রতিদিন অনেক পর্যটক ভিড় করেন। ইতিহাসবিদদের কেউ কেউ বলেন, মোনালিসা ছবির ওই নারী ছিলেন ইতালির ফ্লোরেন্স নগরের একটি অভিজাত পরিবারের সদস্য। তাঁর আসল নাম লিসা দেল গিওকন্দো। তিনি পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তাঁর স্বামী ছিলেন কাপড় ও রেশমি সুতার ব্যবসায়ী। রেনেসাঁ যুগের শিল্পকর্ম বিশেষজ্ঞ বেলজিয়ামের লিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লর ফনার্ত মনে করেন, মোনালিসার মধ্যে গোপন কিছুই নেই। এই প্রতিকৃতি তৎকালীন বুর্জোয়া অনেক নারীর মধ্যে একজনকে তুলে ধরেছে। তবে এটি অন্যান্য চিত্রকর্মের চেয়ে জটিল বলেই মনে হয়। এএফপি।

চীনে দুই মাসে বার্ড ফ্লুতে ৭২ জনের মৃত্যু

চীনে বার্ড ফ্লু
চীনে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে দুই মাসে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত বছরের মোট সংখ্যার তুলনায় এই সংখ্যাটি অনেক বেশি। সরকারি সূত্র জানায়, শুধু গত মাসে চীনে অন্তত ১৪০ জন এইচ-৭এন-৯ এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়। তাদের মধ্যে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত বছর আক্রান্ত হয় প্রায় ১৪৪ জন। তাদের মধ্যে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়। চীনের জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা কমিশন জানায়, চলতি বছর দেশটিতে অন্তত ২২৬ জন এইচ-৭এন-৯ ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, মানুষ থেকে মানুষে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
সারা বিশ্বে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে। তবে এই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, এখনো মানুষ থেকে মানুষের শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমণের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সংস্থার চীনের প্রতিনিধি বারনার্ড সোয়ার্তল্যান্ডার গত মাসে সাংবাদিকদের বলেন, এই সংক্রমণ মৌসুমি, ঋতু পরিবর্তনজনিত কারণে ঘটছে। এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, শীতকালে সাধারণত বার্ড ফ্লুর ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এই মৌসুমে মানুষের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও থাকে কম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি বছর এইচ-৭এন-৯ ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণের হার বেশি। হংকংয়ে ইতিমধ্যে ছয়জন এইচ-৭এন-৯ ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়েছে বলে গত সপ্তাহে কর্তৃপক্ষ জানায়। এ ছাড়া কম্বোডিয়ায় বার্ড ফ্লুতে ১১ বছর বয়সী আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে গতকাল সোমবার হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর দেশটিতে তিনটি শিশুর মৃত্যু হলো। এএফপি।

সৌন্দর্যকে ব্যবহার করতে চান মুনমুন

মুনমুন সেন
ভারতে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বাঁকুড়া আসনে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী মুনমুন সেন। তিনি নিজের হাসি ও সৌন্দর্যকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে কাজে লাগাতে চান। টাইমস অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন মুনমুন। তিনি বলেন, সৌন্দর্যকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কারণ তাঁর অজানা।
ভারতের রাজনীতিতে ইতিমধ্যে একজন ইতালীয় বংশোদ্ভূত নারীর (সোনিয়া গান্ধী) গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর সাবেক অভিনেত্রী জয়ললিতা একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। তাই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সে রকম দৃষ্টান্ত আসতেই পারে। তিনি দেখতে চান, জনগণের চোখে সৌন্দর্যের তাৎপর্য আসলে কী। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

‘আঁধার ভাঙার শপথ’

নারী দিবস
শনিবার পুরো দিনটি তোলা ছিল নারীদের জন্য, যেমন বছরের একটি দিন তোলা থাকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য, যদিও এ দুই দিন নারী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের অবস্থার কোনো হেরফের হয় না। শনিবারজুড়ে নারীরা অত্যাচার সয়েছেন ঘরে, অপমান সয়েছেন বাইরে, অধিকারবঞ্চিত হয়েছেন ঘরে ও বাইরে। অবশ্য এদিন তাঁদের নিয়ে নানা অনুষ্ঠান হয়েছে, গোলটেবিল-টক শো হয়েছে। অনেক ভালো কথা বলা হয়েছে, অনেক আশাবাদ ব্যক্ত হয়েছে। কিন্তু দিনশেষে নারীরা রয়ে গেছেন সেই পুরোনো তিমিরেই। ভালো কথার প্রয়োজন যে নেই, তা নয়; যথেষ্টই আছে। কিন্তু যাঁরা ভালো কথা বলেন, তাঁদের বেশির ভাগই তা কাজে প্রমাণ করার সুযোগ পান না। যাঁদের সে সুযোগ আছে, তাঁরা কাজ থেকে কথা বলাটাকেই বেশি পছন্দ করেন। ফলে কাজের সঙ্গে কথার সংযোগটা হয় না। এই না হওয়াটা আর দশটা ক্ষেত্রেই যেখানে প্রায় একটা প্রথায় দাঁড়িয়ে গেছে, সেখানে নারীদের উন্নয়নে কোনো কাজ না হওয়াটা তো আর অস্বাভাবিক কিছু নয়। বলা যায়, আমাদের প্রকৃতিগত অসামর্থ্যের মধ্যেই তা এখন পড়ে গেছে। এই শনিবার (৮ মার্চ), আর সব বছরের মতো নারীদের ওপর জোরালো আলো ফেলেছে মিডিয়া। তাঁদের অবস্থা নিয়ে শিরোনাম হয়েছে। ‘কেমন আছেন নারীরা’ অথবা ‘নারীমুক্তি কত দূর’—এ রকম প্রতিবেদন-নিবন্ধ ইত্যাদি লেখা হয়েছে, আলোচনা অনুষ্ঠান হয়েছে। এসবের বাইরে ছিল নারীদের অবস্থা তুলে ধরে কিছু পরিসংখ্যান।
এ দেশে পরিসংখ্যান মোটামুটি নারী-অবান্ধব বলেই প্রমাণিত। কিন্তু এতটা পিলে চমকানো হবে কিছু পরিসংখ্যান, ভাবতে পারিনি। প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠায় একটি খবরের শিরোনাম ‘স্ত্রীকে মারার অধিকার পুরুষের আছে’! ভেতরের খবর হলো, আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র, বাংলাদেশের এক গবেষণায় দেখা গেছে, শহর-গ্রামনির্বিশেষে পুরুষদের বিশ্বাস (গ্রামে ৮৯%, শহরে ৮৩%), স্ত্রীকে মার দেওয়া যায়। উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র আরেকটু খোঁজ নিলে দেখতে পেত, অনেক নারীও বিশ্বাস করেন, তাঁদের প্রহার করাটা স্বামীদের অধিকারের মধ্যে পড়ে। এর একটা কারণও সেই উদর—একটি প্রচলিত প্রবাদে তো বলাই আছে, পেটে খেলে পিঠে সয়। স্বামীর অন্নে উদর একটুখানি পূর্তি হচ্ছে, এখন তাঁর পিঠে কিল-ঘুষি মেরে ফুর্তি করাটা তো স্বামীপ্রবরের বিরাট একটা অধিকার। উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র আরও অনেক পরিসংখ্যান দিয়েছে, যেমন শহরের ৬৯ শতাংশ আর গ্রামের ৭৮ শতাংশ পুরুষ মনে করেন, যৌনতার বিষয়টি নারীর চেয়ে পুরুষের বেশি দরকার। এক নারী বলেছেন, ‘মেয়েমানুষের জীবনে বিয়া একবারই হয়’, যদিও পুরুষের ক্ষেত্রে ওই সীমাবদ্ধতা নেই। তবে শুধু বাংলাদেশে নয়, নারীরা বিপন্ন পশ্চিমেও। রয়টার এক গবেষণার বরাতে জানাচ্ছে, ইউরোপে তিনজন নারীর একজন যৌন হেনস্তার শিকার। সেসব দেশে উদরপূর্তি কোনো সমস্যা নয়, তার পরও অনেক নারীকে হেনস্তা সইতে হচ্ছে। তবে তফাতটা এই, পশ্চিমে আইন আছে, আইনের প্রয়োগ আছে (আমাদেরও আইন আছে, যদিও প্রয়োগ নেই); পশ্চিমে ধর্মের নামে কেউ মেয়েদের ওপর চড়াও হয় না, এবং নির্যাতন সয়ে হাড়মাস কালা না করে একটা সমাধান মেয়েরা নিজেরাই খুঁজে নিতে পারে। ৮ মার্চ প্রথম আলো ৬ মার্চের একটি ছবিকে প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপিয়েছে। ছবিটি বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেট দলের। পাকিস্তানি মেয়েদের দুই খেলায় হারিয়ে এই প্রথম তারা জ্বলে ওঠার পরিচয় দিল। যেদিন বাংলাদেশের ছেলেরা হারল পাকিস্তানের কাছে, সেদিনও মেয়েরা জিতল।
কিন্তু পরদিন ওই হেরে যাওয়া ছেলেদের ছবিটাই প্রথম পৃষ্ঠাজুড়ে ছাপা হলো। বিজয়ী মেয়েদের পাঠিয়ে দেওয়া হলো খেলার পাতায়। ছোট্ট একটি ছবি। ভাবটা এমন, মেয়েরা তো! মেয়েরা মেয়েরা খেলেছে, তা আর এমন কী। আমি আশা করেছিলাম, হারতে হারতে দিশেহারা ছেলেদের খবরটা প্রতিটি পত্রিকায় যাবে খেলার পাতায়, ছোট্ট একটা ছবি ছাপা হবে। আর মেয়েদের ছবিটা থাকবে প্রথম পাতাজুড়ে। কিন্তু এটাও জানি, ছেলেদের খেলা দেখেছে সারা দেশ। এর ‘খবরমূল্য’ অনেক বেশি। কিন্তু এই খবরমূল্য তো আরোপিত। বরং খবরমূল্য নির্ধারকেরা একটু ভাবলেই দেখতেন, মেয়েরা শুধু একটি বিদেশি দলের সঙ্গেই জেতেনি, জিতেছে আরও অসংখ্য প্রতিপক্ষের সঙ্গে। এসব প্রতিপক্ষ পাকিস্তানি মেয়েদের থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী—এর একটি হচ্ছে রক্ষণশীলতা, যার দেয়াল আমাদের মিডিয়াও ভাঙতে পারে না। মেয়ে ক্রিকেটাররা খেলে টাকা পায় না, ছেলেরা পায়। মেয়ে ক্রিকেটাররা ছেলেদের মতো স্পনসরশিপ পায় না। তারা খেলে একটা ব্যক্তিগত ভালোবাসা, নিষ্ঠা ও জেদ থেকে। এই মেয়েগুলো স্কুল-কলেজের কত অসংখ্য মেয়েকে যে অনুপ্রাণিত করেছে, তার একটা হিসাব নিলে অবাক হতে হবে। না, অনুপ্রাণিত এসব প্রত্যেক মেয়েই যে ক্রিকেট খেলবে, তা নয়, তবে তারা বড় বড় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখবে। নিশাত-ওয়াসফিয়াকে দেখে অনেক মেয়ে এভারেস্টে চড়ার স্বপ্ন দেখছে; তাদের পাঁচজনও শেষ পর্যন্ত বেস ক্যাম্প অতিক্রম করবে কি না সন্দেহ। কিন্তু নিজেদের জীবনের এভারেস্ট শৃঙ্গগুলো যদি তারা জয় করতে নামে, এবং অর্ধেক অর্জনও যদি তাদের করতলগত হয়, সেটিই হবে অনেক পাওয়া। অনেকে হয়তো বলবেন, মেয়ে ক্রিকেটারদের ছোট্ট একটি বা দুটি জয়কে এত বড় করে দেখার কী আছে। হয়তো তা-ই, হয়তো মাঠের জয়টা ছোট্টই। দলটা যে ৮ মার্চের টি-টোয়েন্টি খেলায় হেরে গেছে, সেটাও তো ঠিক। কিন্তু অন্যরা যেখানে মাঠের জয় দেখছে, আমি দেখছি ভিন্ন সব জয়। যেসব জয়ের তালিকা এখানে না দিলেও চলে। একটুখানি ভাবলেই সেগুলোর হদিস মিলবে। আমাদের জীবনের প্রতিদিনের বাস্তবতাতেই সেগুলো আছে।
২. পিলে চমকানো পরিসংখ্যান অবহেলা করার সুযোগ নেই। কিন্তু এসব মেনে নিয়ে চুপ করে বসে থাকারও কারণ নেই। এ রকম বসে থাকলে খারাপ পরিসংখ্যানের দৈত্যরা সারা দেশে দাবড়ে বেড়াবে। এই দৈত্যদের বোতলে ভরতে হবে। এবং সে জন্য একটা পরিবর্তন প্রয়োজন। পরিবর্তনটা অসম্ভব কিছু নয়, কঠিন হলেও। সমাজতত্ত্ববিদ, আইনজ্ঞ, জেন্ডার বিশেষজ্ঞ অথবা অর্থনীতিবিদেরা তাঁদের মতো করে বলবেন এই পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা—সমাজ, আইন, লিঙ্গসমতা অথবা অর্থনীতির ক্ষেত্রে, তৃণমূলের মানুষ বলবেন তাঁদের মতো করে তাঁদের প্রতিদিনের জীবনের অভিজ্ঞতায়। আমি পেশায় একজন শিক্ষক, আমি ধারণা করতে পারি, শিক্ষার কোন জায়গাটাতে পরিবর্তন এলে নারীর জীবনে পরিবর্তন আসতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পার হতে হতে বদলে যাওয়া—এবং বদলে না যাওয়া—অসংখ্য শিক্ষার্থীকে আমি দেখেছি এবং তাদের মধ্যে ফারাকটা যে কোথায়, মোটামুটি তা ধরতে পেরেছি। এবং ধরতে পেরে ক্রমেই আশাবাদী হচ্ছি। ৮ মার্চ প্রথম আলোর ভেতরের পাতায় একটি ছবি ছাপা হয়েছে ‘আঁধার ভাঙার শপথ’ নামে। শুক্রবার রাত ১২টার পর শনিবার শুরুর এক মিনিটের মাথায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হাজারো নারী আঁধার ভাঙার শপথ নেন। গভীর রাতে মোমবাতির আলোয় শহীদ মিনার আলোকিত হয়েছিল। তবে এই আলো উজ্জ্বল রাখতে যে বাতিটি শিখা চিরন্তনের মতো জ্বলতে পারে, তা হচ্ছে শিক্ষা। এই একটা জায়গাতেই আমরা সমাধান খুঁজতে পারি,
এবং পেতে পারি আমাদের অসংখ্য সমস্যার। ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করেন লাভের জন্য। যদি এমন হয়, লাভ আসবে বিনিয়োগের কয়েক শ গুণ, তাহলে জমি বিক্রি করে, ধার-কর্জ করে বিনিয়োগের টাকাটা তাঁরা জোগাড় করবেন। সেই বিনিয়োগ ফুলে-ফেঁপে লাভ হয়ে ঘরে এলে তা দিয়ে করা যায় আরও বিনিয়োগ। শিক্ষা হচ্ছে তেমন এক জায়গা, যেখানে যা বিনিয়োগ হয়, তা থেকে লাভ আসে হাজার গুণ বেশি। অথচ আমরা সেই বিনিয়োগে কোনো উৎসাহ পাই না। অবাক! এমন না তো বাঙালি এখনো ব্যবসা বোঝে না, এককালে না বুঝলেও। এখন সংসদে বসেন যাঁরা, অর্ধেকেরই বেশিই তো ব্যবসায়ী। তাহলে এই সহজ সমীকরণটা কেন তাঁরা আমলে আনেন না? আমাকে যদি তাঁদের কেউ জিজ্ঞেস করতেন, কত বিনিয়োগে কী লাভ, আমি বলতাম, শিক্ষাক্ষেত্রে ‘বরাদ্দ’টাকে প্রথমেই বিনিয়োগ হিসেবে ভাবেন। তারপর অঙ্ক কষে দেখাতাম, যদি প্রতিবছর শিক্ষাক্ষেত্রে বর্তমান বরাদ্দের কয়েক গুণ আমরা বিনিয়োগ করি, তাহলে দুই প্রজন্মের মধ্যেই লাভ আসবে ভরা বর্ষায় মেঘনার স্রোতের মতো। কিন্তু এই স্রোত যে দুই পর্যায়ের নানা অচলায়তন, রক্ষণশীলতার নানা স্থাপনা, বিভাজনের নানা দেয়াল ভাসিয়ে নিয়ে যাবে, সেগুলোর আনুমানিক অর্থমূল্য (বাজার অর্থনীতিতে দেখেছি সন্তানের প্রতি মায়ের যত্নেরও অর্থমূল্য হিসাব করা হয়!) ধরলে এই লাভ তো সারা দেশে উর্বর পলি ছড়িয়ে দেবে। চক্রবৃদ্ধির সুদের কথা শুনেছি, এ লাভ হবে চক্রবৃদ্ধির। পাহাড় থেকে গড়িয়ে নামা বরফের গোলকের মতো, যত নিচে গড়াবে, তত আকৃতিতে বাড়বে। শুরুটা করতে হবে গোড়াতেই। সেই প্রাথমিক পর্যায়ে।
শ্রীলঙ্কার গল্প বলি, শ্রীলঙ্কার গ্রামের স্কুলে গিয়েছি, শহরের স্কুলে গিয়েছি, কোনো পার্থক্য নেই, গ্রামের স্কুলে যে শিক্ষা পায় ছেলেমেয়েরা, তা দিয়ে বিশ্বজয় করতে পারে। সঙ্গে আছে সংস্কৃতির তালিম, ভদ্রতা আর সৌজন্যের পাঠ। বইয়ের প্রতি ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া। দেশটির ক্রিকেট দল যে আমাদের ছেলেদের বেধড়ক হারায়, তার মূলে গোড়ার সেই শিক্ষা। আত্মবিশ্বাস, নিয়মানুবর্তিতা। স্থির লক্ষ্যে থেকে নিজের কাজটি করে যাওয়া। প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনিয়োগ হোক। সেই বিনিয়োগে কেউ প্রশ্ন না তুলুক। প্রতিরক্ষা, যোগাযোগ, স্বরাষ্ট্র আগে না শিক্ষা আগে, এ নিয়ে কোনো কথা না উঠুক, শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হোক সরকারের তথাকথিত ‘সামর্থ্যের’ বাইরে গিয়ে। বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, সাহিত্য-দর্শন শেখানো হোক শিক্ষার্থীদের, আনন্দিত পাঠদান হোক, খেলাধুলা, নিয়মানুবর্তিতা, গান-আবৃত্তি-ছবি আঁকা সব শেখানো হোক। শিশুরা লিঙ্গবিভাজনকে জীবনের প্রথম শর্ত হিসেবে দেখে না, সমাজই একসময় তাদের তা শিখিয়ে দেয় এবং পুরুষেরা যে শ্রেয়, সেই মন্ত্রও। জীবনের শুরুতেই যদি শিশুদের শিক্ষাটাকে আমরা আনন্দময় গ্রহণের এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের লক্ষ্যে জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে একদিন আসবে, যেদিন ৮ মার্চ খারাপ পরিসংখ্যানের দৈত্যগুলোকে সত্যি সত্যি বোতলে ভরতে পারব আমরা। এই বিনিয়োগই হতে পারে আমাদের আঁধার ভাঙার শপথ।
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম: কথাসাহিত্যিক। অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

আওয়ামী লীগ পারলে বিএনপি কেন পারবে না

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল
গরিবের দেড় টাকা, ধনীর দুই পয়সা!
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সবচেয়ে গরিব আবাসিক গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট (এক কিলোওয়াট ঘণ্টা) বিদ্যুতের দাম এক টাকা ৩৭ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। আর সবচেয়ে ধনী আবাসিক গ্রাহকের প্রতি ইউনিটের দাম বাড়াতে বলেছে মাত্র দুই পয়সা। এ ব্যাপারে পাঠক সোলায়মানের মন্তব্য: এ তো দেখা যাচ্ছে ধনীবান্ধব সরকার! সব জায়গায় গরিবের ওপর বোঝা কমাতে সরকার তৎপর। কিন্তু এখানে উল্টো! কুইক রেন্টালের মাধ্যমে বিদ্যুতের অপচয় কিংবা চুরির দায় আমরা সাধারণেরা কেন নেব? সরকারের কর্মকাণ্ডই আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা কমার কারণ; যা আগামীর উপজেলা নির্বাচনেও প্রভাব পড়বে। এফ রহমান: গরিবের রক্ত মনে হয় মিষ্টি। তাই যুগে যুগে গরিবেরই রক্ত চুষে খায় সব ক্ষমতাসীনের দল। সৈয়দ এইচ কাজী: সবাই তো অনেক কথা বলল, কিন্তু সিস্টেম লসের নামে যে হাজার কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে, যেটা মিটার রিডারদের আর বস্তির নেতাদের পকেটে যাচ্ছে, সেটার কথা তো কেউ বলল না। বাংলাদেশে সঠিক বিল দেয় কতজন? সবাই মিটার রিডারদের সঙ্গে মাসকাবারি সিস্টেম করে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ বিল দেয়। যার কারণে তাদের অপচয় করতেও গায়ে লাগে না। এর জন্য কি আমরা দায়ী নই? এসব কথা গণশুনানিতে তোলা হলো না কেন? দেশের মানুষ যত দিন সচেতন না হবে, তত দিন এ রকম ঘটতেই থাকবে। রুমান রাজ: ধনীদের বিদ্যুতের দাম না বাড়ালেই তো ভালো হতো। বেচারা দুই পয়সা দেবে কোথা থেকে? আবার নিশ্চয়ই গরিবের সম্পদ চুরি করবে...। এই তো বাংলাদেশ, এখানে সবই সম্ভব!!
কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ, ছাত্রলীগের নেতৃত্বে অনিয়মিতরা
অনিয়মিত ছাত্রদের নেতৃত্বে চলছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বেশির ভাগ নেতাই এখন আর নিয়মিত ছাত্র নন। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের জুলাইয়ে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, এ কমিটির ‘কার্যকারিতা লোপ’ পেয়েছে। এ নিয়ে ইন্দ্রনীল দেব শর্মা লিখেছেন: অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের তুলনায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কাউন্সিল অনেক বেশি নিয়মিত। প্রকৃত ছাত্ররাই এই সংগঠনের নেতৃত্বে থাকেন এবং আছেন। যাঁরা নিজ নিজ নেতৃত্বের প্রমাণ রেখেছেন। কাজী এস আহমেদ: ১২-১৪ বছরেও যাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোতে পারেননি, তাঁরা স্কুল-কলেজ এত তাড়াতাড়ি শেষ করলেন কীভাবে? আগে ভাবতাম ছাত্রদলেই বুঝি চাচার বয়সী অছাত্ররা নেতার পদ আঁকড়ে আছেন। এখন দেখছি সোনার ছেলেরা আরেক কাঠি সরেস। অবশ্য টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজি করে এমন অবাধ ইনকামের সুযোগ পেলে ৪০ বছর বয়সেও হাফপ্যান্ট পরে স্কুলে যাওয়া যায়। মহীউদ্দিন মাসুদ: নৈতিকতাহীন রাজনীতিতে এটাই স্বাভাবিক চর্চা। এখানে কেউ রাজনীতির চর্চা করে না, করে ভাগ্যের বিপুল পরিবর্তনের চর্চা। আর সে জন্য তাঁদের অনুগামীদেরও কোনো মাথাব্যথা নেই কে তাঁদের নেতৃত্বে। তাই তাঁরা দাদা-নানা হয়েও ছাত্ররাজনীতি ধরে রাখতে পারেন। মূল দল আরও এক কাঠি ওপরে। ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজন মনে করে না, তারা মনে করে, তাদের একটি শক্তিশালী বাহিনী, যা বিভিন্ন সময়ে তাদের প্রয়োজন মেটাতে পারে। তাতে দেশের ভবিষ্যৎ কোথায় কোন চুলায় গেল কিছু যায়-আসে না। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখলে থাকা প্রয়োজন, ছাত্ররাজনীতি নয়। এ ব্যবস্থা তাদের অনেক সুবিধা দিয়েছে, সুতরাং এই-ই চলবে। তন্ময়: নিয়মিত, সুবোধ ছাত্ররা ছাত্রলীগ করলে আজ ছাত্রলীগের এই দশা হতো না।
পাওয়া হলো না সান্ত্বনার জয়ও
শ্রীলঙ্কা সিরিজ থেকেই জিততে জিততে হেরে যাওয়ার গ্লানি বয়ে বেড়াচ্ছে বাংলাদেশ দল। সেই ‘ধারাবাহিকতা’ থাকল এশিয়া কাপে নিজেদের শেষ ম্যাচেও। মিরপুরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে সুবাস ছড়িয়েও জয়টা মিলিয়ে গেছে হতাশায়। এ নিয়ে পাঠক রাজীব চৌধুরীর মন্তব্য: তার পরও আমরা হতাশ নই। এখন টাইগারদের সময় এবং ভাগ্যটা একটু খারাপ যাচ্ছে। আশা করছি, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সব ঠিক হয়ে যাবে। তৌফিক রিয়াজ: আফগানিস্তানের ম্যাচটা ছাড়া, খুব বেশি খারাপ খেলেননি আমাদের খেলোয়াড়েরা। টি-টোয়েন্টির প্রথম ম্যাচে জিতে গেলে মোমেনটাম ফিরে আসবে আশা করি। আমিনুল: কোনো সান্ত্বনার জয় চাই না। টি-টোয়েন্টিতে বিজয় চাই, বিজয়। সে যে দলই হোক না কেন বাংলাদেশের বিপরীতে। আমরা অবশ্যই পারব, ইনশা আল্লাহ। শেখর রনি: বাংলাদেশ টিমকে চাপমুক্ত করার জন্য কিছু মেন্টাল ট্রেনিং বা যোগব্যায়াম করানো হোক ওয়ার্ল্ড কাপের আগেই। ক্রিকেট ফুরফুরে মেজাজে খেলতে পারলেই দ্রুততা কাজ করবে। এই টিম দেখেই মনে হয় ভগ্ন-ভঙ্গ, চেহারায় কোনো আনন্দের ছাপ নেই, দাড়ি-ঝাড়ি অবস্থা, স্মার্টনেস নেই। এক ম্যাচে হারার পর পরের ম্যাচে গা-ঝাড়া দিয়ে উঠতে হবে। দিনের শেষে এটা একটা খেলা, কেউ মারা যাচ্ছে না।
বিএনপির দৃষ্টি এখন ভারতের নির্বাচনের দিকে
দল গুছিয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পর আন্দোলন শুরুর ঘোষণা দিলেও বিএনপিতে এ নিয়ে কার্যত কোনো তৎপরতা নেই। দলটির নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি এখন ভারতের লোকসভা নির্বাচনের প্রতি। এ ছাড়া উপজেলার বাকি তিনটি পর্বের নির্বাচনের প্রতি দলটির বিশেষ মনোযোগ রয়েছে। এর সমালোচনা করে পাঠক ঈমন লিখেছেন: ভারত কিসের কী? আওয়ামী লীগ, বিএনপি, সবাই দেখি ভারতের দয়ার আশায় বসে থাকে, কেন? আমরা ভারতের খাই না পরি? একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও অন্য দেশের কথায় যদি ওঠা-বসা করতে হয়, তাহলে পরাধীন থাকার সঙ্গে সামগ্রিকভাবে কোনো পার্থক্য কি আছে? মো. শাহ আলম: ভারতের লোকসভার দিকে তাকানোর দরকার নেই, দরকার নেই বিদেশি কূটনীতিকদের দিকে তাকানো। শুধু বিদ্যুতের দাম বাড়ানো ইস্যুটাকে কাজে লাগালেই চলবে। বিএনপি যদি এই ইস্যুতে রাস্তায় নামে জনগণ পিলপিল করে তাদের পেছনে দাঁড়াবে। একমাত্র জনগণই পারে এ দেশের ক্ষমতার পালাবদল করতে। বন্দুকের নলকে রাজনীতিবিদেরা ভয় পেলেও জনগণ কখনোই ভয় পায়নি। কারণ, শাসককেও জনগণের ভয় পেতে হয়, শাসকও জনগণকে ভয় পায়। আর স্বৈরশাসক হলে তো কথাই নেই। আবদুল্লাহ আল মারুফ: এখানেই বিএনপির দোষ! এরা খালি অনুসরণই করে, নিজে কিছু আবিষ্কার করে না। আবদুল্লাহ আল মামুন: ভারতের রাজনীতিকে ধার নিয়ে চলতে হয়। আওয়ামী লীগ পারলে বিএনপি কেন পারবে না।
যকৃতের চিকিৎসক পদোন্নতি পেয়ে মূত্রতন্ত্রের অধ্যাপক!
যকৃৎ, পাকস্থলী ও পিত্তথলির চিকিৎসককে ইউরোলজি বা মূত্রতন্ত্রের অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এক বিষয়ের চিকিৎসককে সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়ের অধ্যাপক করায় পেশাজীবী চিকিৎসকেরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এ নিয়ে পাঠক নজরুল ইসলাম: সব সম্ভবের এই দেশে তাঁকে যে অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়নি এই ঢের বেশি। স্বাস্থ্য খাত হলো দেশের অনিময়ের এক আখড়া। বেশির ভাগই পদায়ন হয় রাজনৈতিক। শফিকুল ইসলাম: নন-টেকনিক্যাল লোকেরা অনিয়ম করতে চেয়েছে বলে এমন হয়েছে। মাহফুজা বুলবুল: যকৃৎ, পাকস্থলী ও পিত্তথলির চিকিৎসককে ইউরোলজি বা মূত্রতন্ত্রের অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। দুটো যে ভিন্ন বিষয় তা বুঝতে নন-টেকনিক্যাল মানুষদেরও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়, নেহাত মূর্খ ছাড়া। সমস্যা অন্য কোথাও। ফজলুল হক ভূইয়া: পদোন্নতি দিয়েছেন ভালো কথা। যাঁরা পদোন্নতি দিয়েছেন, অযোগ্যতার অপরাধে তাঁদের পদাবনতি করা হোক।