Sunday, August 16, 2026
কেন জাপানের এই দুটি শহর বিশ্বের অন্যতম বাসযোগ্য
একটি শহরকে সত্যিকার অর্থে বসবাসের উপযোগী করে তুলতে আকাশচুম্বী ভবন, পর্যটন আকর্ষণ কিংবা আধুনিক প্রযুক্তি নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ। তবে শহরে ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য আরও জরুরি কিছু সাধারণ বিষয় আছে। গাড়ি ছাড়া কর্মস্থলে যাওয়া যায় কি না, হেঁটে বাজার করা যায় কি না, হুইলচেয়ারে রেলস্টেশন ব্যবহার করা যায় কি না, কিংবা বেবি স্ট্রলার (শিশুর ঠেলাগাড়ি) নিয়ে ফুটপাত দিয়ে নিরাপদে চলা যায় কি না—এসবই শহরের বাসযোগ্যতার বড় মাপকাঠি।
এই সাধারণ বিষয়গুলোতেই এগিয়ে জাপানের শহরগুলো। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) ‘গ্লোবাল লাইভেবিলিটি ইনডেক্স ২০২৬’-এ বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের তালিকায় সপ্তম হয়েছে ওসাকা, দশম টোকিও। শীর্ষ ১০-এ দুটি শহর নিয়ে জায়গা করে নেওয়া এশিয়ার একমাত্র দেশ জাপান।
সূচকে স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষায় পূর্ণ নম্বরের পাশাপাশি শক্তিশালী অবকাঠামো জাপানের শহরগুলোকে এগিয়ে রেখেছে। তবে বাসিন্দা ও নগর–পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞদের মতে, আরও কিছু সুচিন্তিত ব্যবস্থা দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করে তুলেছে। এর মধ্যে চারটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
১. রোজকার জীবনকে কেন্দ্র করে শহর
জাপানের শহরগুলোতে পাড়ার মধ্যেই দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর সুযোগ রয়েছে। এর বড় উদাহরণ ‘শোতেনগাই’। সরু সড়কের দুই পাশে ছোট ছোট দোকানপাটে গড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক এলাকা। সাধারণত এসব সড়কে ডেলিভারি ভ্যান ছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করে না, স্থানীয় মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাবারের দোকানই বেশি থাকে। শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়, শোতেনগাই স্থানীয় মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনস্থলও। পুরোনো শোতেনগাইয়ের অনেকগুলো বড় মন্দির বা উপাসনালয়ের পথে গড়ে উঠেছে, আর আধুনিকগুলো রেলস্টেশন বা জনসমাগমের স্থানকে ঘিরে তৈরি হয়েছে। জাপানের শহর ও শহরতলিতে ছড়িয়ে থাকা এসব শপিং স্ট্রিট দেশটির স্থানীয় জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির এক অনন্য পরিচয় বহন করে।
১৮ বছর ধরে টোকিওতে বসবাসকারী পাওয়ার হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী জশ গ্রিসডেল বলেন, ছাদঢাকা ব্লকের মধ্যেই সবজির দোকান, পুরোনো কফিশপ, ক্লিনিক, ১০০ ইয়েনের দোকান এবং রাতের খাবারের নানা ব্যবস্থা পাওয়া যায়।
২. সবার জন্য পরিবহন
সময়ানুবর্তিতা, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার জন্য জাপানের গণপরিবহন বিশ্বজুড়ে পরিচিত। হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী গ্রিসডেলের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। জাপানের প্রায় যেকোনো স্টেশনে আগাম পরিকল্পনা ছাড়াই যাওয়া যায়। লিফট নষ্ট থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থা থাকে।
এর পেছনে রয়েছে ২০০৬ সালের ‘ব্যারিয়ার-ফ্রি’ আইন। এরপর দুই দশক ধরে দেশজুড়ে গণপরিবহনব্যবস্থা প্রতিবন্ধীবান্ধব করা হয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে ব্যস্ত রেলস্টেশনগুলোর ১০টির মধ্যে ৯টির বেশি এমনভাবে পরিবর্তন করা হয়, যাতে সিঁড়ি ব্যবহার না করেও চলাচল করা যায়।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হলুদ উঁচু রেখাযুক্ত পথের উদ্ভাবনও জাপানে। ১৯৬৭ সালে প্রকৌশলী সেইইচি মিয়াকে দৃষ্টিশক্তি হারাতে থাকা এক বন্ধুকে সাহায্য করতে এটি তৈরি করেন।
৩. জায়গার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ধরে রাখা
আধুনিকতা মানেই পুরোনো সবকিছু সরিয়ে ফেলা নয়—জাপানের শহরগুলোতে এরও উদাহরণ রয়েছে। ওসাকার কাছে কায়াশিমা স্টেশনের ছাদ ভেদ করে বেড়ে ওঠা প্রায় ৭০০ বছরের পুরোনো কর্পূরগাছটি তার একটি উদাহরণ।
শহরের ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকাতেও পুরোনো মন্দির, ছোট রেস্তোরাঁ, গাছপালা ও স্থানীয় জীবনের উপস্থিতি ধরে রাখা হয়েছে। ফলে আধুনিক শহরের মধ্যেও মানুষ নিজের জায়গার সঙ্গে একটি সম্পর্ক অনুভব করতে পারে।
৪. গণপরিসরে শিষ্টাচার
শুধু অবকাঠামো নয়, বাসযোগ্য শহর তৈরিতে বাসিন্দাদের আচরণও গুরুত্বপূর্ণ। ট্রেনের প্ল্যাটফর্মে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো, ট্রেনে নীরবতা বজায় রাখা, অগ্রাধিকার আসন ছেড়ে দেওয়া, যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলা কিংবা পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য আলাদা করা—এসব অভ্যাস শহরের জীবনকে শান্ত রাখে।
জাপানের বাসযোগ্য শহরের গল্প তাই শুধু উন্নত রেলব্যবস্থা, লিফট বা সুন্দর রাস্তার গল্প নয়। বরং শহরকে এমনভাবে গড়ে তোলার গল্প, যেখানে দৈনন্দিন জীবন সহজ, চলাচল সবার জন্য উন্মুক্ত, পুরোনো ও নতুনের সহাবস্থান রয়েছে এবং নাগরিকেরাও গণপরিসরের প্রতি দায়িত্বশীল। শহরকে বাসযোগ্য করে তোলার এই চার সহজ নিয়মই হয়তো ওসাকা ও টোকিওকে বিশ্বের সেরা শহরগুলোর কাতারে নিয়ে গেছে।
সূত্র: বিবিসি
![]() |
| জাপানের টোকিও শহর। ছবি: পেক্সেলস |
Thursday, June 18, 2026
গ্রামের অনেক মানুষের কাছে কু-পাখির ডাক ভীষণ অমঙ্গলের সংকেত, চেনেন কি এই কু-পাখি by সরওয়ার পাঠান
পরে একসময় বাবার কাছ থেকে জানতে পারলাম, সন্ধ্যা কিংবা গভীর রাতে কু-কু-কু শব্দে যে পাখিটি ডাকাডাকি করে, সে হচ্ছে একধরনের প্যাঁচা। কৈশোরের শুরুতে শব্দের উৎস লক্ষ করে বেশ কয়েকবার টর্চ মেরে কু–পাখি দেখার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। কারণ, ঝাঁকড়া পাতার গভীরে সে বসে থাকত, ইচ্ছা করলেও সহজে তার দেখা পাওয়া যেত না।
অবশেষে নিকষ কালো এক রাতে তার দেখা মিলল। বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের ঝাঁকড়া আমগাছের মাথা থেকে ভেসে আসছিল কু-পাখির ডাক। তারার আলোয় আবছা দেখতে পাচ্ছিলাম, তির তির করে কাঁপছে গাছের পাতা। এই গাছ লক্ষ্য করে আগেও টর্চ ধরেছি কিন্তু কোনো লাভ হয়নি, আজকেও সে ঝোপালো পাতার আড়ালেই ছিল। হঠাৎ তার ডাক থেমে গেল। আমিও থমকে দাঁড়িয়ে রইলাম। অল্প সময়ের মধ্যেই আমার খুব কাছেই আবার শোনা গেল সেই শিহরণ জাগানো ডাক, কু–কু–কু। একমুহূর্ত দেরি না করে টর্চের সুইচে চাপ দিলাম। আমার কাছ থেকে একটু দূরে বিদ্যুতের তারে সে বসে আছে। অসাধারণ সুন্দর একটা পাখি। দেখতে ঠিক প্যাঁচার মতো না, যেন ছোটখাটো এক বাজপাখি। তখনো সে ডাকছিল, ডাকের তালে তালে ফুলে উঠছিল তার গলা, সেখানে সাদা আর ধূসর রং দ্যুতি ছড়াচ্ছিল। তবে চোখেমুখে আলো পড়ায় কিছুক্ষণের মধ্যে ডাক বন্ধ হয়ে গেল। তখন আমার জানা ছিল না তীব্র আলো নিশাচর প্যাঁচার জন্য খুবই ক্ষতিকর, বেশিক্ষণ চোখে আলো ধরে রাখলে এমনকি জন্মের মতো অন্ধ হয়ে যেতে পারে। কোটরে কিংবা ভুতুম প্যাঁচার চোখে লাইট ধরলে ওরা মানুষের সঙ্গে রীতিমতো ঘাড় ঘুরিয়ে খেলা শুরু করে। কিন্তু এই প্যাঁচা দ্রুতই ডানা মেলে অন্ধকারে হারিয়ে গেল। যতটুকু দেখলাম, তাতে মনে হলো সে মাঝারি আকৃতির বাদামি রঙের একটি পাখি, বুকের দিকটা সাদাটে বাদামি দাগ। লম্বাটে লেজের নিচের দিকটা সাদাটে, চোখের চারপাশে হলুদ বলয়; অন্তর্ভেদী দৃষ্টি। বসে থাকার সময় তার ডানার দুপাশ খয়েরি দেখাচ্ছিল।
সেই রাতেই জেনেছিলাম, কু-পাখি আসলে এক জাতের প্যাঁচা। অনেকের কাছে কালপ্যাঁচা, কেউ বলে খয়েরি শিকড়ে প্যাঁচা। ইংরেজিতে এদের নাম ব্রাউন বুবুক, অনেকের কাছে ব্রাউন হক আউল। আসলে তার ডাকটা হচ্ছে, বুবুক...বুবুক...বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভাষার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শুনেছে কু-হ, কু-হ কিংবা কু...কু...কু...মানে খারাপ কিছু, তাই পাখির ডাক হয়ে গেল মানুষ মরার সংকেত।
গ্রামবাংলার হাজার বছরের ইতিহাসের সঙ্গে মিশে আছে আরও এক জাতের কু-পাখি। আজও সন্ধ্যায় কিংবা রাতে তার ডাক শুনে হিম হয়ে আসে অনেকের রক্ত। অনেকের কাছে সে শুধু অশুভই নয়; বরং এক অতি রহস্যময় পাখি। শিকারিজীবনে আমি প্রথম তার দেখা পেয়েছিলাম এক বাঁশঝাড়ের গহিনে। শুকনা বাঁশ আর পাতার সঙ্গে যেভাবে সে মিশে ছিল, অনেকের পক্ষে খুঁজে পাওয়াই মুশকিল। আকারে খুব বেশি বড় না, তবে চেহারাটা সত্যিই ভুতুড়ে, মাথায় আবার দুটো পালকের শিং। ওদের ধীরলয়ের কু-হ, কু-হ ডাকে আজও বিষণ্ন হয়ে ওঠে গ্রামের সন্ধ্যা। মানুষ আঁতকে ওঠে, জ্বলন্ত চুলায় শিক ঢুকিয়ে দেয় কেউ, কেউ আবার অমঙ্গলের আশঙ্কায় কেঁপে ওঠে। আসলেই কি সে অশুভ পাখি? মোটেও না, এ হচ্ছে প্রকৃতির এক আদরের সন্তান কণ্ঠী নিমপ্যাঁচা। ইংরেজিতে যাদের বলা হয় কলার্ড স্কোপস–আউল।
কালপ্যাঁচা আর কণ্ঠী নিমপ্যাঁচা, দুটোকেই কু–পাখি হিসেবে জানে মানুষ। অনেকের কাছে দুটোর ডাক আবার একরকম। আসলে কিন্তু তা না, কালপ্যাঁচা একনাগাড়ে আট–নয়টা ডাক দিয়ে কিছুক্ষণের জন্য বিরতি দেয়, তারপর আবার ডাকতে শুরু করে। অন্যদিকে কণ্ঠী নিমপ্যাঁচা স্বল্প সময়ের বিরতিতে একনাগাড়ে ডেকে চলে দীর্ঘক্ষণ।
এই যে পাখিরা শুধু ডাকের জন্য মানুষের কাছে অশুভ হয়ে গেল। আসলে কেন ওরা ডাকে? নিজেদের মধ্যে ভাবের আদান-প্রদানের জন্য আমরা যেমন কথা বলি, ওরা অনেকটা সেই কারণেই ডাকাডাকি করে। কখনো কখনো নিজের সীমানা নির্ধারণের জন্যও ওরা ডেকে থাকে। প্রজনন ঋতুতে ডাকাডাকিটা বেড়ে যায়। কিন্তু এতে মানুষের ক্ষতি হওয়ার কোনো শঙ্কা নেই। হাস্যকর একটা বিষয় যেন দৃঢ় সত্য হয়ে দাঁড়িয়ে আছে যুগের পর যুগ। আর মানুষ যাদের কু–পাখি মনে করে, এরা কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে মানুষের উপকার করে থাকে। কালপ্যাঁচা কিংবা কণ্ঠী নিমপ্যাঁচা—দুটোই ফসলের ক্ষতিকারক পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের জীবনে কল্যাণ বয়ে আনে। আর কালপ্যাঁচা বাজপাখির মতো ছোঁ মেরে ইঁদুর শিকার করে থাকে। তাই এর মতো বন্ধু আর দ্বিতীয়টি নেই।
তাই শুধু বিশেষ পাখির ডাকে নয়, যেকোনো বিচিত্র শব্দে যেন আমরা আতঙ্কিত না হয়ে আসল সত্যটি জানার চেষ্টা করি।
![]() |
| কু-পাখি, কণ্ঠী নিমপ্যাঁচা; চেহারাখানা সত্যি রহস্যময়। ছবি: শুভব্রত সরকার |
Sunday, June 7, 2026
ঘণ্টা দুয়েক আগে হাসিঠাট্টা করা মানুষটাকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটছি সেকেন্ডের হিসাব করে by কানিজ ফাতেমা
রাত দুইটায় বাসায় ঢুকে দেখি, রাকিব ছাড়া সবাই ঘুমাচ্ছে। পরদিন একটা ওয়ার্কশপের জন্য সে অনলাইন মিটিং করছে। ওকে ঘুমানোর তাড়া দিই। সাংসারিক আলাপের ফাঁকে ঠাট্টাচ্ছলে তাকে উৎসব সিনেমার ‘কিপটা জাহাঙ্গীর’ বলতেও ভুলি না। তারপর ঘুমিয়ে পড়ি।
ভোর পাঁচটার দিকে হঠাৎ আমাকে ডেকে তুলে রাকিব বলে, ‘বুকে ব্যথা করছে, তোমার কাছে কি ওষুধ আছে?’
ওষুধ খাওয়ানোর পরও ব্যথা কমে না। ডাক্তারের কাছে যেতে চাই, সে চায় না। দুজনই চ্যাটজিপিটি ও জেমিনিকে দিয়ে লক্ষণ মেলানোর চেষ্টা করি, মেলে না। ব্যথা বাড়লে সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে হাসপাতালে যেতে রাজি হয় ও।
জরুরি বিভাগে পৌঁছালে ফার্মেসি থেকে আমাকে চারটি ওষুধ আনতে দেন ডাক্তার।
দ্রুত ওষুধ কিনে আনি। খাওয়ানোর পর রাকিবকে ইসিজি করতে পাঠানো হয়। রিপোর্ট দেখে ডাক্তারদের কানাঘুষা করতে দেখি। তারপর দ্রুত আমাদের জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যেতে বলেন এক ডাক্তার। কী মনে করে পেছনে ফিরে ডাক্তারদের দিকে তাকাই। তাঁদের একজন আমাকে বলেন, ‘ওনাকে কথা কম বলতে দেবেন, দাঁড় করিয়ে রাখবেন না।’
ডাক্তারের শঙ্কিত চোখ আমাকে আরও অনেক কিছু বলে। আমি বৃষ্টিকে ফোন করে কেঁদে ফেলি, ‘আব্বুকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে আয়।’
আমার তখনো ভাবতে অবাক লাগছিল, ঘণ্টা দুয়েক আগে হাসিঠাট্টা করা মানুষটাকে নিয়ে ছুটছি সেকেন্ডের হিসাব করে। আমার কাছে রাস্তার হিসাব, সময়ের হিসাব বেশি মনে হয়। প্রতিটি মুহূর্ত মনে হচ্ছিল, এক্ষুনি সব মুহূর্ত ছবি হয়ে যাবে! স্মৃতি হয়ে যাবে! কিছুতেই আমি এটা মানতেই পারছিলাম না।
আমার ছোট ছেলেটার মুখ মনে ভেসে উঠছিল। এখনো সে এত ছোট। ২০১৭ সালে ঠিক এ রকম এক বৃহস্পতিবার রাতে আমাদের ছেলে তীহানকে নিয়ে দৌড়াতে হয়েছিল। আমার সেই বান্ধবীর কথা মনে পড়ছিল, যার জীবনসঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না। কতটা সংগ্রাম করে তারা এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে জীবন যাপন করার চেষ্টা করে। কিছু একটা আঁকড়ে ধরে এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে চায়। মন থেকে সব অশুভ চিন্তা দূর করতে আয়াতুল কুরসি পড়তে থাকি এবং তখনই আমার মনে হয়, এখনো আমাদের একসঙ্গে অনেক গান শোনা বাকি, এখনো পড়া হয়নি অনেক বই, দেখা হয়নি কত সিনেমা। ছেলেকে সঙ্গে করে ঘোরা হয়নি অনেক জায়গা, এখনি চলে যাওয়ার সময় কোনোভাবেই এটা না।
হাসপাতালে ডাক্তার দেখে বললেন, ‘হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, এখনই সিসিইউয়ে নিতে হবে।’
সিসিইউয়ে নার্স জানালেন, ম্যাসিভ অ্যাটাক, এনজিওগ্রাম বা এসটিকে ইনজেকশন দিতে হবে, ঝুঁকি আছে।
ইনজেকশনের অনুমতি দিলাম। কাঁদতে কাঁদতে ওষুধ নিয়ে ফিরে এলে টেকনিশিয়ান ভাই বললেন, ‘মনে হয় কাজ হচ্ছে।’
দ্রুত তাকে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে স্থানান্তর করি। সেখানে পৌঁছালে ডাক্তার বলেন, ‘আল্লাহর শুকরিয়া, ৩০ শতাংশ রোগী পথে মারা যায়। আপনারা সময়মতো এনেছেন।’
এনজিওগ্রাম করার জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় শুধু বললাম, ‘এত তাড়াতাড়ি তো হার মানব না বন্ধু, সাহস রাখো।’
কিছুক্ষণ পর ডাক্তার জানালেন, ‘এক জায়গায় শতভাগ ব্লক, আরেকটিতে সামান্য, দুটি রিং পরানো হয়েছে।’
শঙ্কা কমলে বিকেলে সিসিইউয়ে রাকিব বলল, ‘তুমিও তো সারা রাত ঘুমাওনি!’
হাসি পেল, আর একটু হলে সারা জীবনের ঘুম উধাও করে দিচ্ছিল, এখন খবর নিচ্ছে এক রাতের ঘুমের!
![]() |
| জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। ছবি: প্রথম আলো |
Saturday, June 1, 2019
এক কাতারে, এক আহারে by উজ্জ্বল মেহেদী

রান্নায় রান্নায় ৫০ বছর
২২ মে বেলা তিনটা। দরগাহের রান্নাঘরে চলছে এমনই ইফতারি তৈরির প্রস্তুতি। লঙ্গরখানার ঘরে ছোট-বড় ১২টি চুলার মধ্যে ৪টি চুলায় রান্নায় ব্যস্ত ষাটোর্ধ্ব মো. মানিক মিয়া। তাঁর সঙ্গে আছেন ফারুক মিয়া ও মিজানুর রহমান নামের দুই সহযোগী। রান্নাঘরেই আলাপ হয় মানিক মিয়ার সঙ্গে। কিশোর বয়স থেকে এ কাজ করছেন। কথায় কথায় হিসাব কষলেন। প্রায় ৫০ বছর ধরে দরগাহে রান্নার কাজ করছেন। এর আগে তাঁর বাবাও এ কাজ করতেন। মানিক মিয়া জানান, রমজান মাসজুড়ে দরগাহে ইফতার ও সাহ্রির আয়োজন করা হয়। ইফতারিতে থাকে ভুনা খিচুড়ি, ছোলা। অনেকে খেজুরসহ ফল, মাংস দিয়ে যান। ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষের পাতে দেওয়া হয় ইফতারি। এর মধ্যে বৃহস্পতি ও শুক্রবার দরগাহে ভক্তদের ভিড় বেশি থাকায় আয়োজন দ্বিগুণ করতে হয়। ২৫ কেজি পরিমাণ চাল ও ডালের খিচুড়ি রান্না করা হয়।
ব্যস্ততা বাড়ল লঙ্গরখানায়
বিকেল সাড়ে পাঁচটা। রান্নাঘরের ব্যস্ততা শেষ। ব্যস্ততা বাড়ল পাশের লঙ্গরখানায়। খিচুড়ির বড় পাতিল থেকে প্লাস্টিকের থালায় নিতে ব্যস্ত মানিকের দুই সহযোগী ফারুক মিয়া ও মিজানুর। তাঁদের সঙ্গী স্বেচ্ছাসেবী আরও কয়েকজন তরুণ। একজন খিচুড়ির বড় পাতিল থেকে থালায় নিচ্ছেন, অন্যজন সেই থালায় ছোলা তুলছেন; আবার অন্যজন খেজুর দিয়ে থালাগুলো স্তর করে সাজিয়ে রাখছেন। আবদুল মুকিত নামের স্বেচ্ছাসেবী ছয় বছর ধরে মাজারে ইফতার আয়োজনে সহযোগিতা করেন। তাঁর সঙ্গী বাবলু মিয়া ও ইনসান আলী। তাঁরা স্বেচ্ছায় এ কাজ করছেন। মানুষের সেবা করার জন্য স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন বলে জানান তাঁরা।
সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। লঙ্গরখানার নিচতলায় নারী মুসাফিররা। দ্বিতীয় তলায় পুরুষ মুসাফির। সবাই সারিবদ্ধভাবে নির্দিষ্ট আসনে বসা। প্রবেশপথে মুসাফিরদের নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বে থাকা বোরহান উদ্দিন নামের আরও একজন স্বেচ্ছাসেবী জানান, আগে টোকেন দিয়ে ইফতারের আয়োজন করা হতো। এখন টোকেন পদ্ধতি আর করা হয় না। গত বছর থেকে এই পদ্ধতি বন্ধ করা হয়েছে। বোরহানের সঙ্গে কথা বলার ফাঁকে দেখা যায় মাজারের কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী থালায় পরিবেশন করা ইফতারি বিশ্রামাগারের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যাচ্ছেন।
দ্বিতীয় তলায় মুসাফিরদের হাতে হাতে ইফতারি তুলে দেওয়া হচ্ছে। এর আগেই মুসাফিরদের হাতে পানির গ্লাস তুলে দিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। আজানের সঙ্গে সঙ্গে সবাই একসঙ্গে ইফতারে অংশ নেন।
মুসাফিরখানায় প্রায় অধিকাংশ নিরন্ন শ্রেণির মানুষ। এর মধ্যে মাজারভক্ত থেকে মুসাফিরদের সঙ্গে এক সারিতে বসে ইফতার করতে বসতে দেখা গেছে অবস্থাসম্পন্ন মানুষজনকে। মাজারভক্ত থেকে এ ইফতারে অংশ নেওয়া ইমন আহমদ জানান, প্রতিবছর মাজারে একদিন ইফতারে অংশ নেন। তাঁর ভাষ্য, সবাই একসঙ্গে এক কাতারে বসে ইফতার, এতে মনে অন্য রকম এক প্রশান্তি মেলে।
সিলেটের বিশ্বনাথ থেকে মুসাফিরখানায় এসেছেন ফারুক আহমদ। ইফতারের আয়োজন তাঁর দাদার মুখ থেকে শুনেছেন। বললেন, ‘অইজকু (মঙ্গলবার) শহরে কিছু কাজ আছিল। কাজ সেরে মাজারে আইছি। ইফতারি রান্না দেখছি, এক পাতে অংশ নিছি।’
মুসাফিরদের সঙ্গে আছেন মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী একজন। আবু তাহের নামের ওই তরুণ বলেন, ‘কলেজ বন্ধ থাকায় তিন বন্ধু সিলেটে বেড়াতে এসেছিলাম। মাজারে ঘুরতে এসে জানতে পারি ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিন একসঙ্গে এত মানুষ এক জায়গায় ইফতারের আয়োজন করা হয় শুনে অবাক লেগেছে। দেখেছি, ইফতারও করেছি।’
ঐতিহ্যের ইফতারি
দরগাহের অভ্যর্থনা দপ্তর থেকে জানা গেছে, রোজার মাসে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ নারী-পুরুষের ইফতারি তৈরি হয়। বৃহস্পতি ও শুক্রবার আয়োজন থাকে দ্বিগুণ। এই ইফতারি শুধু বিতরণ করা হয় সিলেটের বাইরে থেকে আসা মুসাফিরদের জন্য। এটি দরগাহখানার একটি অন্যতম আয়োজন হিসেবে পরিচিত। দরগাহ পরিচালনায় অন্যান্য দপ্তরের সঙ্গে এর কোনো যোগাযোগ নেই। বংশপরম্পরায় সরাসরি তত্ত্বাবধান করা হয় দরগাহের মোতোয়ালি পরিবার থেকে। কথা হয় বর্তমান মোতোয়ালি সরেকুম ফতেহ আল আমানের সঙ্গে। মুসাফিরদের নিয়ে লঙ্গরখানার এমন আয়োজনের ইতিহাস ৭০০ বছরের পুরোনো বলে তিনিও পরম্পরায় শুনেছেন। তবে এ-সংক্রান্ত কোনো নথি রাখার রেওয়াজ নেই বলে তা সংরক্ষণের মধ্যে নেই। হজরত শাহজালাল (রহ.) রমজান মাসে তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে একসঙ্গে বসে ইফতার করতেন। তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর অনুসারীরা একইভাবে ইফতার করতেন।
সরেকুম ফতেহ আল আমান বলেন, সেই ঐতিহ্যের ধারায় ইফতার চলছে। ধনী-গরিব ভেদাভেদ নেই, সবাই এক কাতারে বসে পরিবেশন করা একই খাবারে ইফতার করেন। রেওয়াজ অনুযায়ী এ আয়োজন এককভাবে মোতোয়ালি পরিবারের। তবে এতে চাইলে অন্য যে কেউ অংশ নিতে পারেন।
Saturday, October 5, 2013
আজ ত্বকীর জন্মদিন
আরও একবার আমি মানুষ হয়ে মরব,
উত্থিত হতে নিষ্কলঙ্ক ফেরেশতাদের পাশে—
তবে তা থেকেও উন্নীত হতে হবে আমাকে, কারণ
ঈশ্বর ছাড়া সকলেই যে ধ্বংস হবে—
যেদিন আমার স্বর্গ পবিত্র আত্মার বলি দিব,
আমি হব তাই,
যা ছিল না কখনো কারও কল্পনা চিন্তায়—
আমার যেন বিলুপ্তি ঘটে, কারণ
অনস্তিত্ব ইন্দ্রিয়ে সুর তুলে আমি তাঁর কাছে ফিরব—
এই ঝড়ের মধ্যেও চোখের সামনে ভেসে উঠল কাহিলল জিবরানের মুখ। সেদিনই ওর এ-লেভেল পরীক্ষার প্রথম বর্ষের ফল প্রকাশিত হলো। পদার্থবিদ্যা ও রসায়নে বিশ্বের সর্্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে। ও-লেভেল পরীক্ষায়ও পদার্থবিদ্যায় দেশের সর্বোচ্চ নম্বর ছিল। কিন্তু ভালো ফলাফলে কোনো আগ্রহ ছিল না ওর। ওর চোখ ছিল অন্যখানে। জগৎ, মহাকাশ এবং এর সৃষ্টি নিয়ে ছিল অপার জিজ্ঞাসা। সবকিছুর গভীরে যেতে চাইত। সাধারণ ভালো ওর কাছে ভালো ঠেকত না। চোখ ছিল হিমালয়ের চূড়ায়। আকাশছোঁয়া স্বপ্ন ছিল চোখে।
ও যখন ক্লাস সিক্স থেকে সেভেনে উঠেছে, বাংলায় নম্বর ছিল ৬৭ কি ৬৮। আমি বললাম, ‘দ্যাখো, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা, তুমি আর যাই শেখো না কেন, নিজের ভাষাটা ভালো করে শিখতে হবে। জানতে হবে। একে অবহেলা করলে চলবে না।’ সেদিন ও কিছুই বলল না। দুই দিন পর বলল, দেখো বাবা, আগামী বছরই বাংলায় আমি ভালো করব। পরের বছর বাংলায় ওর নম্বর ছিল সম্ভবত ৮৩ কি ৮৪। ও নিজেকে বুঝতে পারত। নিজেকে নিজেই নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা ওর ছিল।

কৌতূহলী এক কিশোর
আক্ষরিক অর্থেই নিভৃতচারী বলতে যা বোঝায়, ত্বকী ছিল তা-ই। ওর ভালো নাম তানভীর মুহাম্মদ। মগ্ন চৈতন্যে অন্তর্মুখী অথচ জগৎ ও চারপাশ সম্পর্কে উদাসীন নয়, কৌতূহলী এক কিশোর। আবৃত্তি ভালো করত। একবার শুনলেই কবিতার মূল সুরটি ধরতে পারত। দীর্ঘ কবিতা মুখস্থ করে ফেলত। ওর কণ্ঠের আবৃত্তি বাতাসে কান পাতলে এখনো শুনতে পাই—
মেঘের মধ্যে মাগো যারা থাকে
তারা আমায় ডাকে, আমায় ডাকে—
ত্বকী এই আহ্বান প্রকৃতই শুনতে পেয়েছিল কি না, জানি না। বন্ধুবান্ধব হইহুল্লোড় খুব একটা পছন্দ করত না। বন্ধু তেমন একটা ছিলও না। বন্ধু বলতে হয়তো আমিই ছিলাম। কারণ ওর যা বলার, যতটুকু বলার প্রয়োজন বোধ করত, আমার সাথেই করত। কারও বিরুদ্ধে কখনো অভিযোগ ছিল না। বন্ধু, পরিজন, শিক্ষক কারও সম্পর্কে কখনো কোনো অভিযোগ করেনি। কেউ দুঃখ পাবে, এমন আচরণ ছিল ওর নীতি ও রীতিবিরুদ্ধ। দূরের বা অপছন্দের কেউ হলেও না। ছিল স্বল্প ও মৃদুভাষী। প্রকৌশলী হওয়ার ইচ্ছে ছিল। বলেছিলাম, এ-লেভেল শেষে দেশের বাইরে চলে যাও। পড়াশোনা শেষ করে ফিরে এসো। ও দেশের বাইরে যেতে চাইত না। মাকে বলত, দেশে থেকে কি লেখাপড়া হবে না? দেশের পড়াশোনা কি এতই খারাপ যে বাইরে যেতেই হবে? আমি শুনে বললাম, বাইরে যাওয়াটা দোষের কিছু না। আমাদের সামনের যে মানুষগুলো রয়েছেন, তাঁরা সবাই তো বাইরে গিয়েছেন, বিশ্ব ঘুরেছেন। বাইরে না গেলে ভেতরটাকে ঠিক জানা যায় না। ভেতরটা ভালো করে জানার জন্য, বোঝার জন্য হলেও বাহিরটাকে জানার প্রয়োজন পড়ে। আমার সঙ্গে কিছুই বলল না। পরে মাকে বলল, তোমাদের ছেড়ে আমি কোথাও যাব না, থাকতে পারব না। আজ বড় জানতে ইচ্ছে করে, আমাদের চিরতরে ছেড়ে ওখানে কী করে আছ?
একজন শহীদের ময়নাতদন্ত
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের বোর্ডপ্রধান এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘ত্বকীকে মাথার তিন দিক থেকে আঘাত করা হয়েছে। এ আঘাতই তার মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু হত্যাকারীরা মৃত্যুটা ত্বরান্বিত করার জন্য গলা চেপে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করেছে। একটি চোখ উপড়ে এনে দেহের মধ্যভাগের একটি অঙ্গ থেঁতলে দিয়েছে।’ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকারী এক ঘাতক বলেছে, গজারির লাঠি দিয়ে পিটিয়ে অজ্ঞান করার পর ত্বকীর বুকের ওপর উঠে গলা টিপে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘাতকেরা যখন ওকে মাথায় আঘাত করেছে, আমি জানি না জোরে কথা বলতে না চাওয়া ত্বকী তখন চিৎকার করেছে কি না! কী বলেছে ওদের? কাউকেই কখনো কষ্ট দিতে না চাওয়া ছেলেটির কী আচরণ ছিল তখন? ঘাতকের শক্ত বাহু যখন ওর কণ্ঠ সজোরে সাঁড়াশির মতো আঁকড়ে ধরেছিল, তখন মানুষ সম্পর্কে, সমাজ সম্পর্কে, জগৎ সম্পর্কে মানবতা-মনুষ্যত্ব—এসব সম্পর্কে ওর নতুন কোনো ধারণা তৈরি হয়েছিল কি না। এত দিন যে ধারণা ওর মধ্যে তিলে তিলে গড়ে উঠেছিল, তার কোনো বদল হয়েছিল কি না, আজ তা জানতে ইচ্ছে করে। ‘একজন শহীদের ময়নাতদন্ত’ শিরোনামে ইংরেজি একটি কবিতায় ত্বকী লিখেছে—
ওরা ছুরি ও
ধারালো অস্ত্র দিয়ে
দ্বিখণ্ডিত করে কণ্ঠনালি
ওরা উল্লাসে দেখে
কীভাবে শরীর থেকে
বৃষ্টির মতো রক্ত গড়ায়।
ধারালো অস্ত্র দিয়ে
শরীরের চামড়া ছিলে নেয়
এবং দেখে ভেতরের মাংসপেশি ও হাড়গোড়
ওরা টুকরো টুকরো করে হাড়গোড়
খণ্ডবিখণ্ড করে ফেলে
বীভৎস উল্লাসে
এই সব হাড়গোড় শরীরে জড়িয়ে
জানান দেয় নিজেদের সাহসিকতা
স্মারক চিহ্ন করে
ঝুলিয়ে নেয় গলায়—
ওরা সেই সব মৃত মানুষের মাংস খায়
বর্বর অন্ধকার যুগে যেমনি মানুষখেকোরা
ভক্ষণ করেছে তাদের স্বজাতিকে
ত্বকীর শেষ দিনগুলো
ত্বকীর পছন্দের রং ছিল কালো। কালো জামা প্রিয় ছিল। ৬ মার্চ বিকেলে বাসা থেকে যখন বের হবে, পরনে কালো জিনস আর গায়ে সাদা টি-শার্ট। আমি বললাল, জামাটা বদলে নাও। ও কালো একটা জামা পরে নিল। জীবনের সব ধকল ওই জামাটির ওপর দিয়ে গেল। ৮ মার্চ সকালে শীতলক্ষ্যার পাড়ে যখন কাদা-বালুতে পড়ে ছিল, চেনার জো ছিল না। এ জামাটিই ত্বকীকে চিনতে সাহায্য করেছে।
ছোট থেকেই পাঠ্য তালিকার বাইরের বইয়ের প্রতি ঝোঁক ছিল। ত্বকী যখন ক্লাস এইটে, তখন আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের খোয়াবনামা, চিলেকোঠার সেপাই, লিয়েভ তলস্তোয়ের ওয়্যার অ্যান্ড পিস পুরোটা পড়েছিল। ও-লেভেল পরীক্ষার শেষে এডওয়ার্ড সাঈদের ওরিয়েন্টালিজম, রিপ্রেজেন্টেশনস অব দি ইন্টেলেকচুয়াল পড়েছে। পরে দেখেছি জ্যাক দেরিদা মনোযোগ দিয়ে পড়তে। জিজ্ঞেস করলাম, এটা কি তুমি বুঝতে পারছ? উত্তর না দিয়ে শুধু হাসল। নিখোঁজ হওয়ার মাস খানেক আগে থেকে দেখেছি ফ্রেডরিক নিটশের জড়থুস্ত্র বললেন গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ছে, সঙ্গে তলস্তোয়ের ছোটগল্প। আইনস্টাইন ওর প্রিয় ছিল। প্লেটোর রিপাবলিক ও পড়েছে। লালনের প্রতি আকর্ষণ ছিল। আগ্রহ ছিল সুফিবাদে। সুধীজন পাঠাগার থেকে আনা ওর বইয়ের তালিকায় মূলত ছিল গণিত ও পদার্থবিদ্যার বই।

১০ বছর বয়সে ত্বকী কোরআন শরিফ পাঠ শেষ করেছিল। রমজান মাসে পুরো ৩০টি রোজা রাখত। আমি মাঝেমধ্যে নিষেধ করতাম, কিন্তু জোর করতাম না। আমরা কখনোই ওর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ওকে কিছু বলিনি। বলার প্রয়োজন পড়েনি। ওর পড়াশোনার নিজস্ব একটা নিয়ম ও নিজেই তৈরি করে নিয়েছিল। স্কুল থেকে বিকেলে এসে ঘুম। রাতে উঠে খাবার সেরে পড়া শুরু করে টানা ভোর তিনটা-চারটা। কিন্তু সারাক্ষণ বইয়ে মুখ গুঁজে থাকাটা ওর স্বভাব ছিল না। যতক্ষণই পড়ত মনোযোগ দিয়ে পড়ত। পড়াটাকে ও উপভোগ করত। স্কুলে বা বাইরে কখনো কোচিং করেনি। বিভিন্ন সময়ে কোচিং করার প্রয়োজন আছে কি না, জিজ্ঞেস করলে মাথা নেড়ে উত্তর দিয়েছে, প্রয়োজন নেই। ত্বকীর এ-লেভেল পরীক্ষার আগে ওর স্কুলের এক শিক্ষক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলেন, তাঁর কোচিং না নিলে ত্বকী পরীক্ষায় ভালো করতে পারবে না। বিষয়টা ত্বকী বাসায় বলেনি। ফল প্রকাশের পর সেই শিক্ষক কেঁদে বলেছিলেন, ‘চ্যালেঞ্জে ত্বকী আমাকে হারিয়ে দিয়ে গেল।’
এ-লেভেল পরীক্ষার পর ও একদিন বলল, আচ্ছা, পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের দরকারটা কী? আমাদের সামনের বড় বড় মানুষের কারোরই তো পরীক্ষায় ফল ভালো দেখছি না। বড় হতে তো ভালো ফলাফলের প্রয়োজন পড়ে না। বললাম, বড় হতে বা মানুষ হতে হলে ভালো ফলাফলের প্রয়োজন পড়ে না ঠিকই, তবে যে সময়টা তুমি এই পড়াশোনার জন্য ব্যয় করছ, তার সঠিক ব্যবহারটা নিশ্চিত হলো।
কখনো বাসায় ফিরতে দেরি হলে ফোনে জানিয়ে দিতাম খেয়ে নিতে। কিন্তু গিয়ে দেখতাম, সবাই খেয়ে নিলেও ত্বকী না খেয়েই বসে আছে। খাবারদাবারে খুব একটা আগ্রহ ছিল না। খুব কম খেত। ওকে জোর করে খাবার দিতে হতো। আমি ছাড়া অন্য কেউ দিলে আবার নিতে চাইত না। মুখ ফুটে কখনোই কিছু চাওয়া ওর স্বভাবে ছিল না। দাবা খেলতে ভালোবাসত। ক্রিকেট খেলাটা পছন্দ করত।
ত্বকীর খেরো খাতা
মৃত্যুর পর খেরো খাতায় দেখলাম, এক জায়গায় লিখেছে—‘হূদয়ে আজ নব বসন্তের গান/ পাখির ডাকের সাথে ধ্বনিত হচ্ছে শাহবাগের স্লোগান।’ শাহবাগের জাগরণ মঞ্চের প্রতি ওর প্রবল আগ্রহ ছিল। নিজের ইচ্ছার কথা কখনোই সরাসরি বলত না। ঘুরিয়ে বলত। একদিন বলল, ওর সহপাঠীরা আগামী দিন সবাই শাহবাগে যাবে বলে ঠিক করেছে; ত্বকী তাদের সাথে যাবে কি না, তারা জানতে চেয়েছে। সেই দিনটিতে ছিল শাহবাগে জাগরণ মঞ্চের এক মহাসমাবেশ। পাশাপাশি বিএনপি ও জামায়াতেরও একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি। চলমান সহিংস ও সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে অনিবার্য আশঙ্কা থেকে বলেছিলাম, আগামীকাল যেয়ো না; দু-চার দিন পর আমিই তোমাকে শাহবাগে নিয়ে যাব। আমাদের নারায়ণগঞ্জে গড়ে ওঠা জাগরণ মঞ্চের ব্যস্ততায় ত্বকীকে নিয়ে আর শাহবাগে যাওয়া হয়ে ওঠেনি। পরে দেখলাম ত্বকী তার খাতায় লিখেছে, ‘লুকোচুরি খেলব বলে চলে এলাম তোমার আগে/ সংগ্রাম চলছে শাহবাগে।’ শাহবাগ নিয়ে ইংরেজিতে ‘শাহবাগ সংগ্রাম’ নামে একটি নিবন্ধ লিখেছে। রাজীব হায়দারকে নিয়ে লিখেছে—
ফুলের মতো দৃশ্যমান
রক্তমাখা রাজীবের চোখ
সবুজ পাতার সাথে
দৃশ্য জুড়ায়
লাল-সবুজের পতাকা-
যেন বলে ওঠে
এই তো স্বদেশ
লাল-সবুজের বাস যেখানে
প্রকৃতি ও সংগ্রামে-
এই পৃষ্ঠায়ই দুটি লাইন লিখেছে ‘কোকিলের পাশাপাশি উড়ে চলে/ শোকের কালো পতাকা’। লাইন দুটি আবার কেটে দিয়েছে। শোকের পতাকা হয়তো ত্বকী ওড়াতে চায়নি। অন্তহীন শোকের পূর্বাভাস হয়তো তার আগেই জানা ছিল। একটি কবিতায় লিখেছে—
সমগ্র মানব জাতি আজ
এক কাতারে দাঁড়াবে
...
জলাঞ্জলি দিয়ে হিসেব কষা
ছড়িয়ে দেবে ভালোবাসার গান
বলবে মানুষ চাই সমানে সমান।

এটা বিশ্বাসের কথা; স্বপ্নের কথা। সভ্যতার উষালগ্ন থেকেই সমগ্র মানব জাতিকে এক কাতারে দাঁড় করানোর সেই যে কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে, তাতে আমাদের সমাজনীতি, অর্থনীতি, রাজনীতি—সব এরই দোহাই দিয়ে আজ অন্ধ গলিতে ঢুকে পড়ছে। আজকের কর্তব্যটি তারই বিরুদ্ধে। সে কাজ সম্পর্কে কতটা ধারণা ছিল ত্বকীর জানি না। তবে সে তার জন্য নিজেকে যে ধীরে ধীরে তৈরি করে চলেছিল, সেটি বোঝা যায়। কিন্তু ত্বকী অবশেষে অঙ্কুরেই নিঃশেষ হয়ে যাওয়া স্বপ্নগুলোর সঙ্গে গিয়ে মিশে গেল, মিশে গেল ঝরা পাতাদের দলে।
‘ফিরে এসো বাংলাদেশ’ শিরোনামে ইংরেজিতে একটি কবিতায় লিখেছে—
যারা যুদ্ধের ডাক দিয়েছিল,
যারা অপেক্ষায় আছে আজও একটি বিচারের—
একটি বিচার
যা শেষ করার জন্য
তারা
যুদ্ধের সেই সব নায়কেরা
ডাক দিয়ে যায়—
জাতির জন্য, জেগে ওঠার জন্য
ওই জাতির জন্য; যারা ধ্বংসের মধ্যেও
নতুন জীবনের ডাক দিয়ে যায়;
তুমি কি শুনতে পাওসেই সব শহীদের কণ্ঠস্বর? কবিতা লেখার কথা ত্বকী বলেনি কখনো। এগুলো হয়তো নিখোঁজ হওয়ার আগের দু-তিন মাসের মধ্যে হবে। ইংরেজিতে লেখা কয়েকটা গল্প, নিবন্ধ ইতিপূর্বে সে দেখিয়েছে। খাতার এক জায়গায় লিখেছে, ‘ধ্যান, পড়াশোনা, গান, লেখালেখি, সমাজ’। কোথাও লিখেছে, ‘প্রবন্ধ লিখব, গল্প লিখব, ভালো লিখব’। লেখালেখির ইচ্ছে ওর মধ্যে ছিল। একদিন জিজ্ঞেস করল, ভালো লিখতে হলে কী করতে হবে? বললাম, পড়তে হবে, চারপাশটা দেখতে হবে, তারপর লিখতে হবে। তারপর আবার পড়তে হবে, একে চারপাশের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে, পরে আবার লিখতে হবে; এভাবে করে করেই একসময় লেখা হয়ে যাবে। শৈশব থেকেই ত্বকী ছবি আঁকতে ভালোবাসত। প্রথম আলোর ‘গোল্লাছুট’ পাতায় প্রায়ই ওর আঁকা ছবি ছাপা হতো। ‘যুদ্ধ নয় শান্তি চাই’ শিরোনামে ও একটি ছবি এঁকেছিল। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে শিশুদের মিছিল। শান্তির মিছিল। যুদ্ধের বিপক্ষে ত্বকী ছিল শান্তিপ্রিয়।
গান শিখত। শাস্ত্রীয় সংগীত। মাঝেমধ্যে রবীন্দ্রসংগীত গাইত। লালন ও হাসন রাজার গান ওর প্রিয় ছিল। সময় পেলেই লালনের গান শুনত। ওর খেরো খাতায় দেখলাম, লালনকে নিয়ে ‘ফকির লালন সাঁই’ শিরোনামে ইংরেজিতে লেখা ছোট্ট একটি নিবন্ধ লিখেছে। সেখানে লিখেছে, ‘লালনের দর্শন গড়ে উঠেছে বৌদ্ধ ও বৈষ্ণবদের সহজিয়া, ইসলামের সুফি ও লোকায়ত দর্শনের সমন্বয়ে।... তাঁর গানের ভিত্তি বৈষ্ণববাদ হলেও তাঁকে শুদ্ধ বৈষ্ণববাদ বা শুদ্ধ সুফিবাদ কোনোটাতেই ফেলা যাবে না।’ সুফিবাদের প্রতি আকর্ষণের কারণেই হয়ত এ বিষয়ে কিছু পড়াশোনা করেছে। মাঝেমধ্যে ও মেডিটেশন করত। শেষ সময়টায় দেখতাম প্রায়ই মেডিটেশন করত। সৃষ্টি, স্থিতি, সত্য-অসত্য, জগৎ ও মহাকাশ নিয়ে কৌতূহলের সীমা ছিল না। কখনো প্রশ্ন করত, কখনো বা নিজেই উত্তরের খোঁজে পথ হাতড়ে বেড়াত। সামগ্রিকতায় আস্থা ছিল।

Saturday, July 20, 2013
ঘর-মন-জানালা আশা আপু
কা র্য কা র ণ কালো কি কোনো রং? by আব্দুল কাইয়ুম
লেখক হওয়ার পালা আপনার
Saturday, July 13, 2013
মনের জানালা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মেহতাব খানম। তিনি আপনার মানসিক বিভিন্ন সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান দেবেন। অল্প কথায় আপনার সমস্যা তুলে ধরুন।
বিশেষ রচনা ভূতের সঙ্গেই উঠবোস! by রাজীব হাসান
মূল রচনা নিখোঁজ ছয় নাবিকের সন্ধানে by মাসুদ মিলাদ
কা র্য কা র ণ একবার হাঁটবেন না তিনবার? by আব্দুল কাইয়ুম
লেখক হওয়ার পালা আপনার
Saturday, July 6, 2013
ঘর-মন-জানালা অপেক্ষা
মূল রচনা যেমন আছি তেমনই থাকতে চাই—নাসির হোসেন
রংপুরে অগ্রণী ক্লাবের হয়ে খেলার সময় ইউটি নামের একটা ব্যাট দিয়ে খেলেছিলাম। ওটাই আমার জীবনের প্রথম ব্যাট।
কা র্য কা র ণ ক্যামেরার ফ্ল্যাশ কি বিদ্যুৎ টেনে আনে? by আব্দুল কাইয়ুম
Saturday, June 22, 2013
কা র্য কা র ণ এক পাশে হৃদযন্ত্র আরেক পাশে ফুসফুস কেন? by আব্দুল কাইয়ুম
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(1756)
-
▼
August
(303)
-
▼
Aug 27
(10)
- দৈনন্দিন খাবারে সিসার ঝুঁকি থেকে কীভাবে মুক্ত হবেন...
- ফিলিস্তিনে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে ইউএনআরডব্লিউএ
- ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় ‘বোর্ড অব পিস’ ব্যর্থ ...
- ইয়েমেনের আল-মাখা বন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- মার্কিন শক্তি প্রদর্শনের মিশনে ব্যর্থ রণতরী আব্রাহ...
- ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যু ‘মুছে ফেলতে’ চায় ইসরাইল ...
- ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ছাড়া শান্তি আসবে না: জা...
- ভারতে হিজাব পরায় বাধা, ক্ষুব্ধ ওয়াইসি বললেন ‘এটি ই...
- ব্রিটেনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র গড়ছেন না মুসলিমরা—এটি ...
- পুরুষের সমস্যা ভেরিকোসিল কেন হয়, চিকিৎসা কী? by অধ...
-
▼
Aug 27
(10)
-
▼
August
(303)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


