Saturday, July 27, 2013

যুদ্ধদিনের সাথী বিপুল ভট্টাচার্য by ফকির আলমগীর

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন প্রচারিত হতো উদ্দীপনামূলক গান। সেসব গান একদিকে যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের মনে সাহস জোগাত, তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দিত, তেমনি অন্যদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় করত উদ্দীপ্ত। যুদ্ধদিনের সেসব গান আজও কারও কণ্ঠে বেজে উঠলে সবাইকে মনে করিয়ে দেয় সেসব দিনের কথা। বিশেষ করে আমাকে মনে করিয়ে দেয় যুদ্ধদিনের স্মৃতি। সেদিনের সেই সাথীদের কথা ও যুদ্ধদিনের গানের অনেক গল্প। নতুন প্রজšে§র কাছে তুলে ধরতে ইচ্ছে করছে তেমনি এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু যুদ্ধদিনের সাথী, নন্দিত কণ্ঠশিল্পী বিপুল ভট্টাচার্যের কথা। এক অবিস্মরণীয় কণ্ঠযোদ্ধার বিদায়ের কথা। ইতিমধ্যে দেশবাসী জেনে গেছেন তার মরণব্যাধি ক্যান্সারের কাছে পরাজয়ের কথা। আমরা জানি, ভারতের বোম্বের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ব্যয়বহুল চিকিৎসা অসমাপ্ত রেখে দেশে ফিরে আসার কথা। অথচ তিনি কারও কাছে কিছু চাননি, শুধু বিনয়ের সঙ্গে বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে শুভানুধ্যায়ী, শুভাকাক্সক্ষী ও দেশবাসীর কাছে আমার একটাই চাওয়া- আপনারা শুধু আমার জন্য দোয়া করবেন। সুস্থ হয়ে আবার যেন গাইতে পারি।’ আমাদের সবার শুভ কামনা ছিল তার জন্য। সুস্থ হয়ে আবার যেন গাইতে পারেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের এই দরদি কণ্ঠশিল্পী। কিন্তু সেই চাওয়া আর পূরণ হল না। তবে এই সাহসী মুক্তিযোদ্ধা কণ্ঠশিল্পীর প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে না কোনোদিন। মানবতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার সাংস্কৃতিক লড়াইয়ে তার দরাজ কণ্ঠের গান বিশেষভাবে প্রয়োজন ছিল। এই শিল্পী একদিন দেশের ডাকে কণ্ঠে ধারণ করেছিলেন জাগরণের গান, মুক্তির গান। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যোগ দিয়েছিলেন মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থায়। একজন কণ্ঠসৈনিক হিসেবে ঘুরে বেড়িয়েছেন শরণার্থীদের ক্যাম্পে ক্যাম্পে। গান গেয়ে তাদের উজ্জীবিত করেছিলেন। বলতে গেলে মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থার শিল্পীদের ঘরবাড়ি, জীবনই হয়ে উঠে ছিল ট্রাক। নানা সমস্যা, কষ্টের কথা ভুলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে ঘুরে ঘুরে অন্য সাথীদের সঙ্গে বিপুল ভট্টাচার্য সেদিন মুক্তাঞ্চলে জাগরণী গান গেয়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন সেসব গানে। এখানে উল্লেখযোগ্য, আমাদের রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে সাংস্কৃতিক আন্দোলন পরস্পর হাত ধরাধরি করে চলেছে। বিশ্বের দরবারে স্বাধীন দেশের আÍপ্রকাশকে বেগবান করছে মুক্তিযুদ্ধের গান। মুক্তিযুদ্ধের গান বলতে সাধারণত আমরা স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে পরিবেশিত গানগুলোকে বুঝলেও এর পরিধির ব্যাপকতা এবং এর পটভূমি কিন্তু সুবিশাল ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যেকার ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ প্রভৃতির মধ্যে থেকেই এই গান উৎসারিত। তাই সার্বিক পর্যালোচনায় মুক্তিযুদ্ধের গানকে তিনটি ধারায় বিভক্ত করা যায়।
১. স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের গান, ২. মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থার গান, ৩. বিশ্বখ্যাত শিল্পী সমাজের গান। আর বিপুল ভট্টাচার্যের কৃতিত্ব তিনি স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র এবং মুক্তি সংগ্রামী শিল্প সংস্থার শিল্পী ছিলেন। মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী মাহমুদুর রহমান বেনু, মোশাদ আলী, শাহীন সামাদ, ডালিয়া নওশিন, ডা. লায়লা প্রমুখ শিল্পীর সঙ্গে বিপুল ভট্টাচার্য বিভিন্ন শহর, মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প ও শরণার্থী শিবিরে জাগরণী গান পরিবেশন করেছেন। পরবর্তী পর্যায়ে মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থার কার্যক্রম থেকেই বেরিয়ে আসে মুক্তির গান শীর্ষক মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য দলিল। আর সেই কার্যক্রমের অন্যতম নায়ক কণ্ঠসৈনিক বিপুল ভট্টাচার্য।
১৯৫৩ সালের ২৫ জুলাই কিশোরগঞ্জে  নেয়া এই নন্দিত কণ্ঠশিল্পী সারাটা জীবন সঙ্গীতে নিবেদিত থেকেছেন। গেয়েছেন স্বাধিকার আন্দোলনের গান, ভাষা আন্দোলনের গান, মুক্তির গান। ১৯৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় পল্লীগীতিতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদক লাভ করেন। সেই থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আমাদের পরিচয়টাও সেই সময় থেকে। তারপর একত্রে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে অংশগ্রহণ। তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে সেদিনের কত স্মৃতি, কত গানের, কত অনুষ্ঠানের স্মৃতি, যা লিখে শেষ করা যাবে না। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের পরিবেশিত জাগরণী গানগুলো মুক্তিসেনারা সারাদেশে স্বাধীনতাকামী মানুষের মধ্যে প্রেরণা সঞ্চারে এক অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে এবং সেই কারণে মুক্তিযুদ্ধের গান এবং কণ্ঠদানকারী শিল্পীরা স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। যেসব গানে বিপুল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন সেগুলো হচ্ছে- ‘মানুষ হ মানুষ হ’, ‘এই না বাংলাদেশের গান গাইতে রে’, ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি’, ‘বিপ্লবেরই রক্তে রাঙা জনতার সংগ্রাম চলবে’, ‘হিমালয় থেকে সুন্দরবন’, ‘সোনা সোনা সোনা লোকে বলে’, ‘, ‘বেরিকেড বেয়নেট বেড়াজাল’, ‘মুক্তির একই পথ সংগ্রাম’, ‘তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর’ ইত্যাদি।
ফকির আলমগীর : শব্দসৈনিক, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র

অর্থনীতির নিয়ম মানছে না দ্রব্যমূল্য by মুহাম্মদ রুহুল আমীন

কৃচ্ছ্র সাধনের মাস রমজানের শুরু থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের দাম প্রায় ২০০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়ে প্রায় ১৬ কোটি ভোক্তার কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক পেশিশক্তি ও আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেট জাতির ওপর যে অবর্ণনীয় জুলুম চালিয়ে আসছে, তা থেকে মুক্তির জন্য খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির রাজনৈতিক অর্থনীতি অনুধাবন করা প্রয়োজন। বাজার অর্থনীতিতে কোনো দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির যে কারণগুলো উল্লেখ করা হয় এবং ব্যাস্টিক অর্থনৈতিক তাত্ত্বিকরা যেভাবে তা ব্যাখ্যা করেন- সেসব কোনো তত্ত্বের আলোকেই বাংলাদেশের শ্বাসরুদ্ধকর বাজারমূল্যের ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। বিশ্বের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদরা চাহিদা ও জোগানের সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের যে সম্পর্ক নির্ণয় করেছেন, তাও রমজান মাসে বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রযোজ্য হচ্ছে না। কোনো দ্রব্যের দাম বাড়লে তার সরবরাহ কমে যায়। কারণ ক্রেতারা ওই দ্রব্য ক্রয়ে অনিচ্ছুক হয়ে ওঠে। সেই অনিচ্ছুক ভোক্তাদের ক্রয়-ইচ্ছা বাড়ানোর জন্য অনেক সময় দ্রব্যমূল্য হ্রাস করা হয় বিশেষ সরকারি নীতির মাধ্যমে।
রমজান মাসে বাংলাদেশে কী হয়? দ্রব্যমূল্যের আকাশচুম্বী উল্লম্ফন। অথচ স্বাভাবিকভাবে এ সময় পণ্যের সরবরাহ কমে যাওয়ার কথা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি বাণিজ্য সংস্থাগুলো একাধিকবার নিশ্চিত করে বলেছে, এ বছর সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ে নিত্যপণ্যের বিরাট মজুদ রয়েছে। জনগণের চাহিদার তুলনায় জিনিসপত্রের পাহাড় সমান মজুদ গড়ে তোলা হয়েছে সরকারি ও বেসরকারি খাতে। টিসিবি জানিয়েছে, এ বছর রমজান মাসে কোনো নিত্যপণ্যের সরবরাহ ঘাটতি থাকবে না। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানে আমাদের সরকারি ও বেসরকারি খাতে ২,০৩,৫৩৫ মেট্রিক টন পরিমাণ ভোজ্যতেল মজুদ রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ মজুদের সঙ্গে আরও ১,০৭,৮৫৭ মেট্রিক টন পাইপলাইনে আছে। এমনিভাবে পেঁয়াজ, রসুন, চিনি, আদা, ধনেপাতা, লেবু, কাঁচামরিচ, শাকসবজিরও বিপুল সরবরাহ রয়েছে। অর্থনীতির তত্ত্ব অনুযায়ী এসব দ্রব্যের মূল্য নিশ্চয়ই কমে গেছে, ফলে সরবরাহ বেড়েছে। কিন্তু বাস্তবে চিত্রটা সম্পূর্ণ উল্টো। এসব দ্রব্যের মূল্য বেড়েছে অকল্পনীয়ভাবে, আবার সরবরাহও বেড়েছে অনেকটা আনুপাতিক হারে। ব্যাস্টিক অর্থনীতিবিদরা নিশ্চয়ই হাঁটুতে মাথা গুঁজবেন তত্ত্ব-বিভ্রাটের দুশ্চিন্তায়!
নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে ব্যবসায়ী ও সরকারি মহল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত তুলে ধরা হয় এবং ভোক্তাদের ঠকানো হয়। বাণিজ্য ও আর্থিক বাজার-সংক্রান্ত প্রধান ওয়েবসাইট ব্ল–মবার্গের তথ্য থেকে জানা যায়, ৮ জুলাই (২০১২) থেকে ১ জানুয়ারি (২০১৩) সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম ১১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দামও একই সময়ে ২০ ভাগ কমেছে। এভাবে অন্যান্য দ্রব্যমূল্যও আন্তর্জাতিক বাজারে হ্রাস পেয়েছে। তা সত্ত্বেও ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকদের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সম্পর্কের কারণে বাংলাদেশে তা দ্বিগুণ-তিনগুণ বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।
মূল্যবৃদ্ধির আরেকটি কারণ হিসেবে জনগণের ব্যাপক ভোগের বিষয়টি সামনে আনা হয়। অর্থাৎ রমজান মাসে মানুষ বেশি খায়। সেজন্য দ্রব্যমূল্য বাড়ে। এ ব্যাখ্যাও অর্থনীতি তত্ত্বের আলোকে ভুল। কারণ জনগণের ব্যাপক ভোগের কারণে যে চাহিদা বৃদ্ধির উপাদান তৈরি হয়, তা এমন এক অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি করে যেখানে প্রচুর উৎপাদান ও বিক্রি হয়। এভাবে উৎপাদন-বিক্রি-লাভের একটি চক্র তৈরি হয়। যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য কল্যাণকর। এমন অবস্থায় ক্রেতারা খুব কম দামে বেশি বেশি দ্রব্য ক্রয় করে থাকে। দুর্ভাগ্যবশত পবিত্র রমজানে বাংলাদেশের ক্রেতারা অর্থনীতির এ স্বাভাবিক সুবিধাটুকু থেকেও বঞ্চিত হয় কেবল ব্যবসায়ী-রাজনীতিকদের তথা রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের দুষ্টচক্রের কারণে।
এখন রমজানে শ্বাসরুদ্ধকর বাজারমূল্যের দিকে একটু তাকানো যাক। ১২ জুলাই ঢাকা ট্রিবিউন পত্রিকায় প্রকাশিত বারগ্রাফে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ১ জুলাই ও ১১ জুলাইয়ের দ্রব্যমূল্যের তুলনামূলক বিবরণে দেখা যায়, ১ জুলাই বেগুন, রসুন, আদা, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ ইত্যাদির দাম ছিল কেজিপ্রতি যথাক্রমে ৩৫, ৫০, ৫৫, ৩৬ ও ৩০ টাকা। মাত্র ১০ দিন পর ১১ জুলাই ওই দ্রব্যগুলোর মূল্য দাঁড়ায় যথাক্রমে ৮০, ৮৫, ৮৫, ৫৫ ও ২০০ টাকা। ১ জুলাই এক হালি লেবু এবং একমুঠো ধনেপাতার দাম ছিল যথাক্রমে ১০ ও ৪০ টাকা, যা ১১ জুলাই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ ও ২১৫ টাকায়। এ পরিসংখ্যান অনুযায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের দাম এক সপ্তাহে বৃদ্ধির হার প্রায় ১৮৯ শতাংশ। চাল, মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, ইত্যাদির দামও অনেক বেড়ে মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় বাইরে চলে গেছে। কোনো কোনো নিত্যপণ্যের দাম তিনগুণ আবার কোনোটির দ্বিগুণ বেড়েছে, যা ক্রেতাদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশার জš§ দিচ্ছে।
পবিত্র রমজানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ব্যাপারে সরকার এবং ব্যবসায়ী মহলের দায়িত্ব, দায়বদ্ধতা ও অবদান কতটুকু তা বিশ্লেষণ করা যাক। রমজানের আগে মাসব্যাপী বাজার পর্যবেক্ষণ ও বাজার নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত সরকারের হাঁকডাকে সাধারণ মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছিল। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ীদের ঘন ঘন মিটিং, মন্ত্রী-এমপিদের বাগাড়ম্বর সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের মনে গভীর হতাশা সৃষ্টি হয়েছে আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্যের কারণে। ২ জুলাই বাণিজ্য সচিবসহ সরকারি কর্মকর্তাদের দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। ২ জুলাই এফবিসিসিআই সভাপতির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইডঊঙইঅ-এর সভাপতি মোহাম্মদ গোলাম মাওলা উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে ঘোষণা দেন : ‘পানির দরে ভোজ্যতেল বিক্রি করা হবে এবং লবণের দরে চিনি ভোক্তাদের হাতে তুলে দেয়া হবে।’ সরকার সমর্থিত ও আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ এফবিসিসিআই সভাপতি বৈঠকে প্রতিশ্র“তি দেন, সরকার ও ব্যবসায়ীরা এক জোট হয়ে এ বছর রমজানে মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। ওই বৈঠক থেকে বাণিজ্য সচিব ব্যবসায়ীদের দোকানে দোকানে মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে দেয়ার নিয়মও বেঁধে দেন। অধিকন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১৪টি পর্যবেক্ষণ দল গঠন করে রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করে।
এত ঢাকঢোল পিটানোর পরও কেন নিত্যপণ্যের এমন মূল্যবৃদ্ধি ঘটতে পারল? পত্রপত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার খবরে জানা যায়, আমদানিকারক, ব্যবসায়ী ও খুচরা বিক্রেতাদের সবাই পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। গোলাম মাওলা সাহেবকে কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি আমদানিকারকদের ওপর দোষ চাপিয়ে কিছুটা স্বস্তির ঢেকুর গিলেছেন। তিনি একটি দৈনিকের প্রতিবেদককে কর্কশ ভাষায় বলেছেন, ‘আমদানিকারকদের জিজ্ঞেস করুন, তারাই সঠিক উত্তর দিতে পারবেন।’ প্রশ্ন হল, পানির দরে ভোজ্যতেল ও লবণের দরে চিনি বিক্রির তার প্রতিশ্র“তি কী কারণে চুরমার হয়ে গেল?
আগেই বলেছি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির একটি বড় কারণ রাজনৈতিক অর্থনীতি। অসাধু ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের যোগসাজশে একটি কায়েমী স্বার্থান্ধ চক্র গড়ে উঠেছে, যার কারণে সরকারি-বেসরকারি সব উদ্যোগ সত্ত্বেও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাত্ত্বিকভাবে রাজনৈতিক অর্থনীতি বলতে আমরা রাজনীতি ও অর্থনীতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে বুঝে থাকি। অন্য কথায়, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া ছাড়া অর্থনৈতিক দুষ্কর্ম পরিচালিত হতে পারে না। বাংলাদেশে রাজনৈতিক সুবিধাবাদীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ন্যক্কারজনক ও ঘৃণ্য অপতৎপরতায় লিপ্ত হতে পারছে। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া ছাড়া কখনোই আমদানিকারক, ব্যবসায়ী, মধস্বত্বভোগী বা খুচরা বিক্রেতারা কোনো ফন্দি বাস্তবায়ন করতে পারে না। কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি কাজী ফারুক দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেছেন, রাজনৈতিক বাটপারদের সহযোগিতায়, সমর্থনে ও যোগসাজশে ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের বর্ধিত চাহিদাকে পুঁজি করে অবৈধভাবে পকেট ভারি করে।
সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে রমজানে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিতে রাজনৈতিক অর্থনীতির সংশ্লিষ্টতা ও দায়-দায়িত্বের বিষয়টি খুবই স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, চিনি, ডালের মূল্য হ্রাস এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে বর্তমানে বাংলাদেশী টাকার মূূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে যে পরিমাণে আমদানি খরচ কমে যাওয়ায় কথা, তার কোনো লক্ষণ বাজারে দেখা যায় না। কেন? বাণিজ্য মন্ত্র্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ীবৃন্দ- এদের মধ্যকার প্রতিনিয়ত যোগাযোগ ও সমন্বয়ে, যা খুবই প্রয়োজন, তা হয় না কেন? সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সচিব, নীতিনির্ধারক সবাই ব্যাপারটি জানেন। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে যে অবৈধ অর্থ অর্জিত হচ্ছে, সে অর্থ কে কতটুকু ভাগ করে নিচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত হওয়া দরকার। আমরা সরকারকে অনুরোধ করব, অবিলম্বে রাজনৈতিক অর্থনীতির ষড়যন্ত্র চক্রের কবল থেকে রমজানের বাজারকে মুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হোক। কয়েক মাস পর সাধারণ নির্বাচন। এ স্পর্শকাতর সময়ে দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন মূল্যবৃদ্ধি সরকারের প্রতি ব্যাপক গণঅনাস্থা সৃষ্টি করবে। ঈদ ও রমজানকে উৎসব হিসেবে বিবেচনা করে নিত্যপণ্যে বিশেষ ছাড় দিয়ে সরকার সাধারণ মানুষকে আস্থায় আনতে পারে, যারা এরই মধ্যে নানা ইস্যুতে সরকারের প্রতি বিরাগভাজন হয়েছেন। পরপর পাঁচটি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর আবার যেন এমন কোনো ইস্যু তৈরি না হয়, যা সরকারকে জনগণ থেকে অনেক দূরে ঠেলে দেবে।
মুহাম্মদ রুহুল আমীন : সহযোগী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আয়কর কেন ভীতিকর by শরীফুল ইসলাম খান

বাড়ছে অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি। ২০১৫ সালের মিলেনিয়াম গোলের যে লক্ষ্যমাত্রা বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনে ও প্রবৃদ্ধিতে অর্জনের কথা, ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই আমাদের সে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হতে যাচ্ছে। গত ৫ বছর ধরে বাংলাদেশের জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি) ৬ শতাংশের ওপরে। বিশ্ব যখন টালমাতাল বিভিন্ন অর্থনৈতিক খরায়, তখনও এদেশের কৃষক জোগান দিয়ে গেছে ১৬-১৭ কোটি মানুষের খাদ্য শুধুই নিজস্ব উদ্যোগে। এ দেশে ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী লোকের মধ্যে কর্মক্ষম প্রায় ৫৫ থেকে ৫৮ শতাংশ। পৃথিবীর আর কোথাও তা বিরল। অমর্ত্য সেন তার নতুন প্রকাশিত বই ‘এন আনসারটেন গ্লোরিতে’ উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশ ভারতের চেয়েও কিছু বিষয়ে মান উন্নয়ন সূচকে চমকে দেয়ার মতো এগিয়ে আছে, অথচ ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় অর্ধেক। ব্যক্তি থেকে শুরু করে প্রায় সর্বক্ষেত্রে যে রাষ্ট্রের কানায় কানায় ভরে আছে অনৈতিকতা, স্বার্থপরতা, চরম অব্যবস্থা ও সার্বক্ষণিক অস্থিরতা, যে দেশে প্রকৃতিও বিরূপ আচরণ করে সময়ে সময়ে, যে দেশ থেকে বিদেশীরা নানা অজুহাতে বারবার মুখ ফিরিয়ে নেয়ার ভান করে গড়তে চায় বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যবাদের বসতি- সেদেশে ধুঁকে ধুঁকে হলেও সাধারণ মানুষ চালাচ্ছে উন্নয়নের প্রচেষ্টা, বদলে দিচ্ছে যতটুকু সাধ্য এ দেশকে। কৃষি, শিল্প, সেবাখাতে উন্নয়ন সূচক বাড়ছে। একটি দেশের নিজস্ব অর্থ ও মানবসম্পদ দিয়ে সেই দেশটাকে গড়তে পারাই হচ্ছে মূল উন্নয়ন। রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, সরকারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পুলিশ, র‌্যাব ইত্যাদির মান উন্নয়নে সরকারকেই করতে হয় প্রচুর ব্যয়। যে দেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের অভাবে বিদেশী পুঁজি বা বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মতো রাষ্ট্রীয় কাঠামো বা ব্যবস্থা নিতান্তই অপ্রতুল, সে দেশের নিজস্ব মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডই মূল চালিকাশক্তি দেশকে বিশ্বদরবারে এমন একটি অবস্থানে টেনে আনার জন্য, যাতে করে বিশ্ব তার প্রয়োজনের খাতিরেই তাদের দিকে আকর্ষিত হয়।
আমি নিশ্চিত সামাজিক ও রাজনৈতিক মূল্যবোধের উন্নয়ন ও বিকাশের মধ্যে নিহিত আমাদের ভালো থাকার বিষয়টি, এর অন্য কোনো বিকল্প নেই। যে বিষয়টি মূল আলোচনার তা হচ্ছে, আমাদের অভ্যন্তরীণ জোগান দিয়ে আমরা কিভাবে অনেক দূর পথ এগোতে পারি। আমাদের রাজস্ব আদায়ের গুণগত ও সংখ্যাগত পরিমাণ বাড়িয়ে এবং এই আদায়কৃত রাজস্ব সঠিক খাতে বণ্টন করে উন্নয়ন প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের দেশে প্রতি বছর রাজস্ব আয় বাড়ানোর প্রচেষ্টা প্রত্যেক সরকারই অব্যাহত রেখেছেন। আমাদের দেশের রাজস্ব আয়ের সিংহভাগই আসে পরোক্ষ কর থেকে। পরোক্ষ করের মূল স্রোত বা উপাদান হচ্ছে মূল্যসংযোজন কর, সাধারণ শুল্ক, আমদানি শুল্ক, রফতানি শুল্ক ইত্যাদি। মোট রাজস্ব আয়ের ৭০ থেকে ৭৫ ভাগই এই পরোক্ষ করের অংশ। বাকি ২৫ থেকে ৩০ ভাগ প্রত্যক্ষ কর আয়করের অংশ। বর্তমান অর্থবছরের রাজস্বের মাত্রা ধরা হয়েছে (২০১৩-১৪) ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০ কোটি টাকা। রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি প্রবাহের ওপর নির্ভর করবে পরোক্ষ করের আদায়ের পরিমাণ। কিন্তু আমাদের দেশের একটি বিরাট অংশ যা প্রত্যক্ষ কর বা আয়কর থেকে আসে তা শুধু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর বাড়বে সেটি বোধ করি নয়। বরং এই আয়কর আদায়ের পরিমাণ বাড়ানোর কলা-কৌশল একদিকে যেমন রাজস্ব আদায়ে নিয়োজিত কর্মীদের দক্ষতা, নৈতিকতা, কর অবকাঠামো ইত্যাদির ওপর নির্ভরশীল, তেমনিভাবে প্রণোদনা ব্যক্তি খাতের আয়কর বাড়িয়ে দিতে পারে প্রচণ্ডভাবে। সেদিকে আমাদের দেশের সরকার, আইনপ্রণেতা, বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকদের নজর অনেক কম। আমরা যদি একটু খতিয়ে দেখি এ দেশে শুধু আয়ের ওপর কর প্রদান করতে হয় তেমনটি নয়, যে কোনো ব্যয়ের ওপরও আমাদের কর প্রদান করতে হয় ভ্যাটের নামে। যে কোনো পণ্য ক্রয়ে কখনও ভ্যাট, কখনও অন্য খরচের বোঝা যেমন পথিমধ্যে বিভিন্ন ধরনের চাঁদা ও ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার ভার ক্রেতাদের ওপরই বর্তায়। সামান্য খাবার গ্রহণ করতে গেলেও বিলের সঙ্গে যে ভ্যাটযুক্ত হয় তাও বহন করতে হয় ক্রেতাকেই। কিন্তু আয়কর প্রদানে আগ্রহী করে তোলার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রণোদনামূলক কোনো কিছু এখন পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করতে পারেনি। প্রণোদনা বলতে বছরে গুটিকয়েক ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ আয়কর প্রদানকারী হিসেবে পুরস্কৃত করা, সিআইপি প্রদান করা, এতটুকু। অন্যদিকে রাজস্ব বা আয়কর সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো এর সামগ্রিক বা সুদূরপ্রসারী প্রভাবকে কখনও মাথায় নেয়া হয় বলে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। বরং বড় বড় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক দিক ও স্বার্থ বিবেচনা করে অনেক সময় রাজস্ব সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। করের আওতাভুক্ত ক্ষুদ্র একটি অংশ মাত্র আয়কর হিসেবে পরিশোধ করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক কলা-কৌশলের অভাবে আমাদের প্রত্যক্ষ করের একটি বিরাট পরিমাণ অংশ থেকে সরকার বঞ্চিত হয়। অন্যদিকে যারা আয়কর প্রদান করেন তারাও মন থেকে আয়কর প্রদান করেন না, কখনও ভয়ে, কখনও এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না বলে ট্যাক্সের বিরাট অংশের ফাঁকি দিয়ে কর পরিশোধ করেন এবং কর আদায়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অনৈতিকতা এ ক্ষেত্রে সহায় হয়। তাছাড়া এনবিআরের অনেক কলা-কৌশল ও সিদ্ধান্ত কর প্রদানকারীদের জন্য যুগোপযোগী ও মনস্তাত্ত্বিকবান্ধব নয়। এই অর্থবছরে আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৮ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা। মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৪.৮৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। যদিও গত অর্থবছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার আয়কর বকেয়া রয়েছে, যা আয়কর বিভাগের জন্য হতাশার বিষয়। অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি-প্রকৃতি ইত্যাদি খুব একটা ভালো নেই দেশের। তবুও এ দেশের বেশির ভাগ মানুষ আমৃত্যু নিজের অবস্থান যাই হোক দেশকে দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ অর্থবছরেও আয়কর অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা হয়তো অর্জিত হবে। তাই বলে যারা আয়কর প্রদান করেন তাদের ভোগান্তি তৈরি করে তা অর্জন করা ফলপ্রসূ নয়। একজন আয়কর প্রদানকারী হিসেবে আমার মনে হয়, সরকারি কিছু ইতিবাচক ভূমিকা আমাদের আয়কর প্রদানে উৎসাহী করবে। করদাতা যেন কর প্রদানে উৎসাহ পান, সে ধরনের কিছু প্রণোদনা সরকারকে অচিরেই চালু করা প্রয়োজন। পৃথিবীতে যারা কর প্রদান করেন তারা নিজেদের গৌরান্বিত মনে করেন। ট্যাক্স পেয়ি সিটিজেন এ উচ্চারণের মধ্যে দিয়েও তারা অনেক ক্ষেত্রে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও আদায় করতে পারেন। আমাদের দেশে এ ধরনের কোনো কথা যদি কোনো করদাতা বলে বসেন, তবে ভোগান্তির মাত্রা আরও বেড়ে যাবে, এটা পরীক্ষিত সত্য। অথচ জনগণের কর দিয়ে সরকারি প্রশাসনের বেতন, ভাতা ও সুবিধা প্রদান করা হয়। যদিও ইতিমধ্যে সরকারিভাবে এবং এনবিআর কিছু ক্ষেত্রে প্রণোদনা দেয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু তা একেবারেই নগণ্য। সরকার শনাক্তকৃত করদাতাদের কিছু সুযোগ-সুবিধা প্রদান করার মাধ্যমে প্রণোদনা সৃষ্টি করে আরও বেশি পরিমাণ কর আদায় করতে পারেন। শনাক্তকৃত করদাতাদের বিষয়টি একটি উপমা দিয়ে বোঝালে কিছুটা সহজবোধ্য হয়। মনে করি সরকার সিদ্ধান্ত নিলেন ব্যক্তি করদাতাদের মধ্যে যিনি বছরে ৫ লাখ টাকা আয়কর প্রদান করেন তিনি বিশেষ শ্রেণীর প্রিভিলাইজড কার্ড হোল্ডার হবেন। যে কার্ডের বদৌলতে দেশের বিভিন্ন সরকারি ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারমূলক সেবা ও সম্মান পাবেন। যেমন যাতায়াত বা পরিবহনে টিকিট কাটায়, হাসপাতালে, থানা-পুলিশে, টেলিফোন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, ওয়াসা এসব জায়গায় তাদের সেবার প্রয়োজনের বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। তাহলে যদি কোনো করদাতা দেখেন কোনো অর্থবছরে তার ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা আয়কর নিরূপিত হয়েছে তখন ৫ লাখ টাকার বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক কার্ডটি অর্জনের জন্য ২০ হাজার টাকা বেশি আয়কর দিতে কুণ্ঠাবোধ করবেন না, এতে সরকারের আয়কর অর্জিত হবে বেশি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ওপরের উপমায় বর্ণিত ক্ষেত্রে ১০-১৫ হাজার টাকা যথাস্থানে খরচ করে আয়কর কমিয়ে ফেলেন, নিদেনপক্ষে নিরূপিত আয়করের ৩০-৪০ ভাগ, কখনও তারও বেশি। এতে সরকার রাজস্বের বিরাট অংশ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হন। বর্তমান বাস্তব পরিপ্রেক্ষিতে একজন প্রকৃত এবং সঠিক করদাতা হয়েও রাস্তায় ট্রাফিক বা সার্জেন্টের, থানা-পুলিশে, বিশেষ বাহিনীতে, হাসপাতালে, সরকারি পরিবহনে টিকিট কাটায় ইত্যাদিতে যে বিড়ম্বনা ও আচার-আচরণের শিকার হন তাতে কর প্রদানে তার অনীহা ছাড়া আর কী থাকতে পারে? আমরা জানি অনেক বিত্ত ও ক্ষমতাধর বিলাসবহুল গাড়ি, বাড়ির মালিক হয়েও কৃষিখাতে আয় দেখিয়ে কর ফাঁকি দেন অথচ তাদের হাতের মুঠোয় থাকে কর বকেয়া নেই, এ ধরনের সনদ। তাদেরও তো আমরা বাহবা বাহবা রবে সম্মান দেখাই। তাহলে করদাতাদের বেলায় কিছু সুযোগ-সুবিধা তৈরিতে সরকারের বাধা কোথায়? প্রশাসনের ভারি ব্যক্তি, রাজনীতিবিদ, আমলা, অন্যান্য পেশার বিশেষ ব্যক্তি অনেক সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন, একজন বিশেষ শ্রেণীর করদাতাও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেমন সুযোগ-সুবিধার দাবিদার। প্রকৃত করের একটি অংশ যদি সরকার, করদাতাদের অবসরের সময়ে এককালীন বা মাসিক পেনশন হিসেবে প্রদানের প্রতিশ্র“তি দেয় তাহলেও ভবিষ্যৎ খোরাকের প্রাপ্য অংশ হিসেবে বহুজন সঠিকভাবে কর প্রদানে উৎসাহী হবে। কর আদায়ে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সহযোগিতামূলক আচরণ (বর্তমানে কর কর্মকর্তাদের প্রতি আমাদের ভয়-কম্পন ইত্যাদি কাজ করে), তথ্যের অবাধ প্রবাহ, আয়কর আদায়ের পন্থা সহজীকরণের বিষয়টিতে আরও নজর দিতে হবে। যদিও এ বিষয়ে আগের তুলনায় এনবিআর যথেষ্ট চেষ্টা করছেন। আয়কর নির্ধারণের আগে সরকারকে ইনফ্লেশন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রবাহ, হিডেন ট্যাক্স, (সামগ্রিক ভোক্তা হিসেবে দ্রব্যের ওপর নির্ণীত কর, ভ্যাট, চাঁদা ইত্যাদি আমাদেরই বহন করতে হয়) ইত্যাদি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। জাকাত যেমন আমরা ধর্মীয় অনুভূতির কারণে মনের ভেতর থেকে দিই, করও তেমনই দেশের জন্য, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নয়নের জন্য মন থেকে দিতে হবে। করযোগ্য ব্যক্তিদের বোঝাতে হবে একজন সার্বিক করদাতা রাষ্ট্র উন্নয়নের বিনিয়োগকারী। বোঝাতে হবে সেই কর দিয়ে রাষ্ট্রের কী কী খাত পরিচালিত হয়, কারা এর সুবিধাভোগী। বক্তৃতায়, বিশেষ গোষ্ঠীর সিম্পোজিয়ামে, আসার প্রচারে নয়, মানুষের ভেতরকার চিরে যাওয়া মনটাকে জাগাতে হবে। সাধারণ মানুষের ঘামে ধোয়া হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার নয়, বরং দিনে দিনে ক্ষেত্র ও প্রণোদনা বাড়িয়ে প্রকৃত করদাতাদের উপযুক্ত সম্মান দিয়ে দেশের ভেতর থেকেই কর-রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে গড়তে হবে অর্থনীতির শক্ত ভিত, বদলে দিতে হবে বহির্বিশ্বে আমাদের ইমেজ।
শরীফুল ইসলাম খান : ব্যাংকার

কাউকে না কাউকে বলে যেতেই হবে by ফরহাদ মজহার

শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেবেন না, তিনি পণ করেছেন তার অধীনেই নির্বাচন হতে হবে। এর পক্ষে তিনি আদালতের বরাত দিচ্ছেন। আদালত রায় দিয়েছে, তিনি আদালতের কথামতোই চলবেন। আদালত ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ইচ্ছা-অনিচ্ছার বাইরে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, সেই সত্য আদালত কিংবা আওয়ামী লীগ দুইয়ের কেউই প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। বলা বাহুল্য, খালেদা জিয়া জানেন, এর অর্থ হচ্ছে নির্বাচনে কারচুপি করে বিরোধী দলকে হারিয়ে দেয়ার পন্থা হিসেবেই শেখ হাসিনা নিজের অধীনে নির্বাচন চাইছেন। অতএব, খালেদা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন করবেন না। তার তত্ত্বাবধায়ক চাই। ক্ষমতাসীনদের অধীনে সিটি কর্পোরেশনগুলোর নির্বাচন হয়ে গেল। সেখানে আওয়ামী লীগের পরাজয় হয়েছে। যদি কারচুপিই হবে তাহলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকেও স্থানীয় নির্বাচনে হারল কেন? বিরোধী দলের যুক্তি হচ্ছে, ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে জনগণের ক্রোধ ও ক্ষোভের মাত্রা যে পর্যায়ে রয়েছে তার কারণে ভোটের সময় জনগণের নজরদারি প্রখর ছিল, তেমনি গণমাধ্যমেরও একটা ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ এক নয়। জাতীয় নির্বাচন কিছুতেই শেখ হাসিনার অধীনে করা যাবে না। আঠারো দলীয় জোটের জন্য সেটা হবে আত্মঘাতী। অতএব, জাতীয় নির্বাচন একমাত্র তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হতে হবে। সে ব্যবস্থা করা মোটেও কঠিন নয়। জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের দিয়ে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। এটাই পথ। নইলে?
নইলে রমজানের পরে আন্দোলন!
এটা সত্য যে, বিপুল ভোটে জিতে এসেও আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মধ্যে মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী কোনো অবস্থান তৈরি দূরের কথা বরং কুশাসন, দুর্নীতি, সহিংসতা, চরম অর্থনৈতিক অব্যবস্থা কায়েম ও আদালতকে দলীয় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে গিয়ে তার সমর্থকদেরও দূরে সরিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া তার ঘাড়ের ওপর ইতিহাসের যে ভার এসে চেপে বসেছে, সেটা ভূতের মতো এই দলটিকে সামনের দিনগুলোতে তাড়িয়ে ফিরবে। তার মধ্যে শুরুতেই রয়েছে বিডিআর হত্যাকাণ্ড। অফিসারদের বিরুদ্ধে সাধারণ জওয়ানদের বিদ্র্রোহের যে কারণই থাকুক, বিপুলসংখ্যক অফিসার ও তাদের অনেকের পরিবারবর্গকে যেভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে তার জন্য অভিযোগের আঙুল এখনও আওয়ামী লীগের দিকেই তোলা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্রোহী জওয়ানদের বন্দি অবস্থায় নির্যাতন ও অনেকের সন্দেহজনক মৃত্যু। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনা আসলে কী ঘটেছে তার নির্ভরযোগ্য তথ্যের উৎসগুলো অপসারণ করা হয়েছে। বিডিআর বলে আর কিছু নেই, সেখানে গঠিত হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দেশের নিরাপত্তার দিক থেকে দেখলে সীমান্ত পাহারা দেয়ার সশস্ত্র বাহিনীর পরিবর্তে সেখানে পুরো বাহিনীকে স্রেফ সীমান্তের দারোয়ানে পরিণত করা হয়েছে, হচ্ছে। তারা সীমান্ত পাহারা দেয়ার জন্য ভারতের বিএসএফকে সহযোগিতা করবে।
দ্বিতীয় যে ভূত আওয়ামী লীগকে তাড়া করে ফিরবে সেটা হচ্ছে মানবাধিকারের বিপর্যয়। এটা বিএনপির আমলেও ছিল। কিন্তু চৌদ্দদলীয় জোটের আমলে সেটা যে মাত্রা লাভ করেছে, তার নিন্দা কুড়িয়েছে আওয়ামী লীগ। আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, হেফাজতে মৃত্যু, মানুষ গুম করা এবং গুম করে খুন কিংবা লাপাত্তা করে দেয়ার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নাম জড়িয়ে পড়েছে। শেখ হাসিনার এই শাসনকাল শেখ মুজিবুর রহমানের বাকশালের চেয়েও ভয়াবহ। বিশেষত এর সঙ্গে যদি আমরা সংবাদপত্র দলন, পীড়ন এবং সাংবাদিকদের গ্রেফতার, রিমান্ড, নির্যাতন ও কারাগারে নিক্ষেপের ঘটনাগুলো একত্র করি। দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এখনও কারাগারে। বেআইনিভাবে পত্রিকার ছাপাখানা বন্ধ। একই সঙ্গে দিগন্ত, ইসলামিক টিভি ও চ্যানেল ওয়ান বন্ধ। সাগর-রুনী হত্যার কোনো মীমাংসা হচ্ছে না। এসব কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমেছে প্রচণ্ড। এসবকে সাময়িক ভাববার কোনো কারণ নেই। আওয়ামী শাসনের ভয়াবহতা তরুণদের বিশাল একটি অংশ নতুনভাবে দেখল। বিশেষত যারা বাকশালী আমল দেখেনি, শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া ও সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্লোগানে যারা আকর্ষণ বোধ করেছিল, ডিজিটাল শাসনের রূপ কেমন হতে পারে সে সম্পর্কে তাদের হাড়ে হাড়ে অভিজ্ঞতা হয়েছে।
ইতিহাসের তৃতীয় যে ভার ভূতের মতো আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চেপে বসেছে সেটা হচ্ছে আলেম-ওলামাদের ওপর নির্যাতন, দমনপীড়ন এবং তাদের নির্বিচারে হত্যা। ৫ মে দিবাগত রাত্রে শাপলা চত্বরে মানুষগুলো লাল রঙ মেখে শুয়েছিল আর পুলিশ আসায় দৌড়ে পালিয়েছে, শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে এ কথা বলে নিজেকে যেভাবে নিষ্ঠুর ও নির্মম শাসক হিসেবে হাজির করলেন, তার কোনো তুলনা চলে না। তার পক্ষে এতদিন যুক্তি দেয়া হচ্ছিল যে বাড়াবাড়ি কিছু হয়েছে, কিন্তু রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিবেচনায় এই ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিকল্প ছিল না। যা ঘটেছে তা বাড়াবাড়ি ছিল না, ছিল গণহত্যা। কিন্তু শেখ হাসিনা বাড়াবাড়ি হয়েছে ও প্রয়োজনের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে, নিদেনপক্ষে এই সত্য মানতে, কিংবা আদৌ এই অভিযোগ সত্য কি-না তার নিরপেক্ষ তদন্ত করতেও রাজি নন। আলেম-ওলামাদের রক্তে তার শাসনামল রঞ্জিত। মতিঝিল ধুয়ে সাফ করা যাবে, কিন্তু রক্তাক্ত ইতিহাসের এই দাগ আওয়ামী লীগ নিজের কপাল থেকে মুছতে পারবে না।
আর চতুর্থ যে ভার, সেটা নতুন কোনো ওজন বয়ে বেড়াবার দায় নয়, বরং পুরনো দায়কে কাঁধ থেকে এবার মাথায় তুলে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। সেটা হচ্ছে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক। আওয়ামী লীগ এই ধারণাই পোক্ত করেছে যে, দিল্লির ভূরাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বার্থ রক্ষা করার মধ্য দিয়েই একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে টিকে থাকতে চায়। এই স্বার্থ রক্ষা একতরফা। এর পরিবর্তে দিল্লির কাছ থেকে কোনো সুবিধা আদায় করে নেয়া আওয়ামী লীগের লক্ষ্য নয়। এমনকি করিডোর দিয়েও তিস্তার পানি না পাওয়ার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের পররাষ্ট্রনীতির করুণ দুর্দশা ইতিমধ্যেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।
বিএনপি ধরে নিয়েছে এই সব কারণে জনগণের যে ক্ষোভ, তার সুফল তারা পাবে। বলা যায়, পাওয়া শুরু করেছে। কিন্তু বিএনপির রাজনীতি এখনও নেতিবাচক। এই অর্থে যে, এই রাজনীতির প্রধান উপজীব্য আওয়ামী লীগের বিরোধিতা। জনগণ আওয়ামী লীগের ওপর ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত বলে নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দেয়। কিন্তু বাংলাদেশের রাষ্ট্র কিংবা সমাজের আদৌ কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন বিএনপি চায় কি-না এবং চাইলে কী সেই চাওয়া এবং কিভাবে সেই চাওয়াকে বিএনপি সত্যকারের পাওয়ায় নিয়ে যেতে চায়, তার কোনো ইঙ্গিত, ইশারা বা হদিস বিএনপির কাছ থেকে এখনও পাওয়া যায়নি।
যেহেতু আওয়ামী লীগের বিরোধিতাই বিএনপির উপজীব্য, অতএব বিএনপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার চালানো আওয়ামী লীগের জন্য খুবই সহজ। সেটা বেশ কার্যকরীও বটে। সে প্রচার হচ্ছে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের শক্তি, ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাসম্পন্ন রাজনীতির ধারক ও বাহক। বিএনপি সাম্প্র্রদায়িক এবং সে কারণে ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে তার গাঁটছড়া বাঁধা। এই ক্ষেত্রে গণমাধ্যমগুলোর অধিকাংশই আওয়ামীপন্থী ভূমিকা পালন করে। এই প্রচারের মুখে বিএনপি নিজেও খুব এলোমেলো হয়ে পড়ে। নিজেকে পাল্টা মুক্তিযুদ্ধের দল হিসেবে প্রমাণ করার জন্য বিএনপি ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কিংবা নিজেকে একটি ‘আধুনিক’ চিন্তা-চেতনাসম্পন্ন দল হিসেবে হাজির করার মধ্য দিয়ে বিএনপি আওয়ামী লীগের এই প্রচারের জবাব দিতে চেষ্টা করে।
এই রাজনীতি ভুল। বিএনপি এতে পিছিয়ে পড়বে। পড়ছেও। উপরে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে যে কথাগুলো বলা হল তা বিচার করলে আমরা দেখব, মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু, কিন্তু সেই ইস্যুগুলোকে বিবেচনায় রাখলেও বাংলাদেশের রাজনীতির ভারকেন্দ্র মোটেও সেখানে নয়। আওয়ামী লীগের প্রচারে ভীত হওয়ার কিছুই নেই। যে দেশে নব্বই ভাগ মানুষের ধর্ম ইসলাম, সেখানে ইসলাম রাজনীতির নির্ধারক হয়ে উঠবে। কেউ চাক বা না চাক। কিন্তু ইসলাম তো আর একাট্টা এক রকমের নয়। তার নানা বয়ান রয়েছে। এ দেশের জনগণ রাজনীতিতে সেই বয়ানই গ্রহণ করবে, যে বয়ান জালিমের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করে। ইনসাফ কায়েমের জন্য শহীদ হতে ভয় পায় না। মানুষে মানুষে সাম্যের প্রশ্নে নিরাপস ও অটল থাকে। মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রক্তাক্ত সংগ্রামে পিছু হঠে আসে না। কারণ বাংলাদেশের রাজনীতির ভারকেন্দ্র হচ্ছে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণমানুষের আÍমর্যাদা ও অধিকার কায়েমের লড়াই। গণতন্ত্রের লড়াই। ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থার রূপান্তর চায় মানুষ। জনগণ চায় তাদের মানবিক ও নাগরিক অধিকার কায়েম হোক। এমনভাবে নতুন ‘গঠনতন্ত্র’ (ঈড়হংঃরঃঁঃরড়হ) প্রণয়ন করা হোক যাতে রাষ্ট্রের নির্বাহী, আইন প্রণয়নী ও বিচার বিভাগ কারোরই জনগণের মৌলিক নাগরিক ও মানবিক অধিকার কেড়ে নেয়ার কোনো ক্ষমতা না থাকে। যাতে যখন-তখন রাষ্ট্রের কনস্টিটিউশন কেউ বদলাতে না পারে। রাষ্ট্রকে জনগণের কাতার থেকে এমনভাবে গড়ে তোলা হোক যাতে সমাজের সব স্তরে প্রতিটি নাগরিকের প্রত্যক্ষভাবে দেশ গঠনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ থাকে। জনগণ কার্যকরভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে। জনগণ ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন চায় না, বরং চায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা। রাজধানী ঢাকা আর সব জেলা ও ইউনিয়নের ওপর জোঁকের মতো শাসন-শোষণ চালিয়ে যাক, সেটা কেউই চায় না। বাংলাদেশকে আসলে নতুনভাবে গড়তে হবে। এর বিকল্প নেই।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র মাত্রই অসাম্প্র্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অর্থ ভারতের আগ্রাসন ও আধিপত্য মেনে নেয়া নয়, বরং তার উল্টা। সেই আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেয়া। সীমান্তে নিরন্তর যে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী, তার অবসান চায় জনগণ। ভারতের সঙ্গে অবশ্যই এ দেশের জনগণ মৈত্রী চায়। কিন্তু সেটা হতে হবে মর্যাদার ভিত্তিতে। দাসত্বের দাসখৎ দিয়ে নয়। এর জন্য বাংলাদেশের গণপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করে তোলা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। সেটা করতে হলে একদিকে সৈনিকের মর্যাদা ও পেশাদারী দক্ষতা বৃদ্ধি যেমন জরুরি, একই সঙ্গে জরুরি বাধ্যতামূলক সামরিক শিক্ষা।
বলা বাহুল্য, বিএনপির যে শ্রেণী-চরিত্র তার কারণে এ রাজনীতি গড়ে তোলা কঠিন। এখানেই আওয়ামী লীগের স্বস্তির জায়গা। এ কাজটি ঐতিহাসিকভাবে যারা গণমানুষের রাজনীতি করেন, তাদেরই করার কথা। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও বিএনপির চেয়ে তাদের ধর্মের চুলকানি আরও বেশি। অর্থাৎ তারা অধিকাংশই মনে করেন, ধর্মের বিরোধিতা করাই প্রগতিশীলতা। একাট্টা ধর্মের বিরোধিতার কারণে জনগণ থেকে তারা বিচ্ছিন্ন। একটি বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে তাকে নতুনভাবে গড়ার যে রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি ও বিচক্ষণতা দরকার, সেটা তাদের নেই। তাদের কাছ থেকে আমরা ইতিবাচক কিছু আশা করতে পারি না। ঐতিহাসিক কারণে জনগণের মধ্যে নানা ভুল চিন্তা, ভুল মতাদর্শ ও ভুলভাবে নিজেদের স্বার্থ হাজির করার প্রবণতা থাকে। তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। যদি জনগণের সঙ্গে কাজ করাই ঐতিহাসিক কর্তব্য বলে কেউ গণ্য করে, তাহলে বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনগণের যে কোনো লড়াই-সংগ্রামের সময় জনগণের আকাক্সক্ষার দিকটি বুঝতে পারা ও তাকে স্পষ্ট করে তোলা জরুরি কাজ। ওর মধ্য দিয়ে ইতিহাসের অভিমুখকে শনাক্ত করে তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক দূরদৃষ্টি, ধৈর্য ও বিচক্ষণতার দরকার। সমাজ যখন বড় কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য তৈরি হয়, তখন সে কাজটা সরলরেখায় সরলভাবে সম্পন্ন হয়- ইতিহাসে তার পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।
ফলে আমাদের এখনকার কাজ হচ্ছে রাজনৈতিক কর্তব্যগুলোকে সুস্পষ্টভাবে শনাক্ত করা এবং বারবার সেই কর্তব্যের কথা বলে যাওয়া। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং চৌদ্দ দলকে হঠিয়ে দিয়ে আঠারো দলকে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসানোর রাজনীতি প্রবল হয়ে উঠবে কি-না জানি না। কিংবা আদৌ নির্বাচন হবে কি-না সেটাও তো নিশ্চিত করে বলা কঠিন। কিন্তু গণমানুষের দরকার রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর। সে কথা কাউকে না কাউকে তো বারবার বলে যেতেই হবে।

নির্বাচনে তিস্তা ও সীমান্ত চুক্তির প্রভাব পড়বে : দীপু মনি'বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক সরকার চান মনমোহন'

বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন ভারতের রাজ্যসভার বিরোধীদলীয় নেতা বিজেপির অরুণ জেটলি। তবে তিনি বিষয়টি নিয়ে তাঁর দল বিজেপির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।

স্বাচিপের ভয়ে পরিচালক হাসপাতাল-ছাড়া!ঢাকা শিশু হাসপাতালে অচলাবস্থা by তৌফিক মারুফ

সরকারি দল সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) একটি গ্রুপের ভয়ে দুই সপ্তাহ ধরে হাসপাতাল থেকে এক রকম পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক।

কাজ পেতে হলে আবুল হোসেন! by আরিফুজ্জামান তুহিন

গোয়েন্দা কাহিনীগুলোতে 'বিদেশি এজেন্ট' নিয়ে জমজমাট সব ঘটনা থাকে। এসব এজেন্ট আরেক দেশে গিয়ে নিজ নিজ দেশের হয়ে দুঃসাহসী সব কাজ করে থাকেন। বিশেষ করে বড় বড় যুদ্ধের সময় বিদেশি এজেন্টদের কাজ অনেক বেড়ে যায়।

অস্ট্রেলিয়ার শরণার্থী নীতিউদ্বিগ্ন জাতিসংঘ

অস্ট্রেলিয়ার নতুন শরণার্থী নীতিতে সে দেশে আশ্রয়প্রার্থীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার বিধান নেই বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। নতুন নীতি অনুযায়ী নৌকায় করে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের পাপুয়া নিউগিনিতে (পিএনজি) নিয়ে আবেদন যাচাই-বাছাই করিয়ে নেওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় আসার অনুমতি দেওয়া হবে।

ত্রিকাল দর্শিনী জোহানা মাজিবুকো!

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক যুগ দেখেছেন। দেখেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী যুগ। এখন দেখছেন নেলসন ম্যান্ডেলার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হওয়া গণতান্ত্রিক দক্ষিণ আফ্রিকা। ইতিহাসের এত কিছু দেখা দক্ষিণ আফ্রিকার এ নারীর নাম জোহানা মাজিবুকো।

প্রধানমন্ত্রী পদে রাহুল-মোদি যোগ্য নন : আন্না হাজারে

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পদে বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদি কিংবা কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী কেউই যোগ্য নন বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের নেতা আন্না হাজারে। এ দুজনের কাউকেই তিনি এ পদে দেখতে চান না।

'বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে'

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা চন্দন মিত্র। অমর্ত্য সেনের ভারতরত্ন উপাধি কেড়ে নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

উত্তর কোরিয়াকে আলোচনায় বসার আহবান চীনের

কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার লক্ষ্যে আলোচনায় যোগ দিতে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন। গত বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে কিমের সঙ্গে এক বৈঠকে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট লি ইউয়ানচাও এই আহ্বান জানান।

'শান্তিচুক্তি করতে ভূখণ্ড ছাড় দিতেও প্রস্তুত ইসরায়েল'

ফিলিস্তিনের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে ইসরায়েল খুবই আন্তরিক। ইসরায়েল প্রয়োজনে 'ভূখণ্ড ছাড়' দিতেও রাজি আছে। ইসরায়েলের গোয়েন্দা এবং কৌশলবিষয়ক মন্ত্রী ও লিকুদ পার্টির নেতা ইউভাল স্টেইনিৎজ এ কথা জানিয়েছেন।

পাখিটা নির্দোষ

তুরস্কের এলাজিগ প্রদেশের গ্রাম আলতিনাভিয়া। গ্রামবাসীর হাতে কিছু দিন আগে ধরা পড়ে একটি ছোট বাজ পাখি। এর গায়ে পরানো ছিল ধাতুর তৈরি একটি রিং। তাতে খোদাই করে লেখা, '২৪৩১১ তেল আভিভুনিয়া ইসরায়েল'।

বিরোধী নেতা হত্যার প্রতিবাদে তিউনিসিয়ায় ধর্মঘট পালিত

তিউনিসিয়ার বিরোধী দলের নেতা মোহাম্মদ ব্রাহমি হত্যার প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার দেশটিতে সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়েছে। বিরোধী দলের পার্লামেন্ট সদস্য ব্রাহমি গত বৃহস্পতিবার রাজধানী তিউনিসের আরিয়ানা এলাকায় নিজ বাসভবনের সামনে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। চলতি বছর এ নিয়ে এটি দ্বিতীয় রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। বামপন্থী পপুলার মুভমেন্টের নেতা ব্রাহমির পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এ হত্যাকাণ্ডে ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থী গোষ্ঠী এননাহদার হাত রয়েছে। তবে দলটির পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর রাজধানী ছাড়াও ব্রাহমির জন্ম শহর সিদি বুজিদে হাজারো সমর্থক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। তাঁরা সরকারের পদত্যাগের দাবি জানান। ‘সন্ত্রাস, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের’ প্রতিবাদে জেনারেল ইউনিয়ন অব তিউনিসিয়ান লেবার (ইউজিটিটি) গতকাল সারা দেশে ধর্মঘটের ডাক দেয়। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। ধর্মঘটের কারণে জাতীয় বিমান পরিবহন সংস্থার সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এননাহদার প্রধান রেচেদ ঘানাউচি ব্রাহিমি হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এ হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত থাকুক না কেন, তারা গণতন্ত্রের দিকে যাত্রাকে ব্যাহত করে দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে। এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি বিরোধী দলের আরেক নেতা চকরি বেলেইদকে আততায়ীরা হত্যা করে। এএফপি।

স্পেনের সেই ট্রেনের চালক আটক

স্পেনে দুর্ঘটনার শিকার ট্রেনের চালককে আনুষ্ঠানিকভাবে আটক করা হয়েছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, তিনি ‘বেপরোয়া’ গতিতে ট্রেন চালাচ্ছিলেন। গতকাল শুক্রবার পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। উত্তর-পশ্চিম স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত গালিসিয়া অঞ্চলে গত বুধবার অতিরিক্ত গতিতে একটি বাঁক ঘোরার সময় ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। এতে অন্তত ৭৮ জন নিহত হয়। গালিসিয়া অঞ্চলের পুলিশের প্রধান জেইম ইগলেসিয়াস গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ট্রেনচালককে গত বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে আটক করা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, চালকের বিরুদ্ধে ‘বেপরোয়া গতিতে’ ট্রেন চালানোর অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ট্রেনচালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বৃহস্পতিবারই দেশটির একজন বিচারক পুলিশকে নির্দেশ দেন। পরে তাঁকে আটক করে পুলিশ। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ এখনো আনা হয়নি। সান্তিয়াগো দে কম্পোসতেলা শহরের বাইরে দুর্ঘটনাস্থলের বাঁকটিতে সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চালানোর নির্দেশনা থাকলেও, ট্রেনটি ১৯০ কিলোমিটার বেগে ছুটছিল। ট্রেনের চালকের নাম পুলিশ প্রকাশ করেনি। তবে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে তাঁর নাম ফ্রান্সিসকো হোসে গারসন আমো (৫২)। দুর্ঘটনায় তিনি সামান্য আহত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই তাঁকে নজরদারিতে রেখেছিল পুলিশ। একজন তদন্তকারী কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এল পেইস পত্রিকার এক খবরে বলা হয়, দুর্ঘটনার পর চালক ফ্রান্সিসকো তাঁর কক্ষে আটকা পড়েছিলেন। সেখান থেকে এক রেল কর্মকর্তাকে ফোন করে দুর্ঘটনার আগে ১৯০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চালানোর কথা জানিয়েছিলেন তিনি। দুর্ঘটনার পরপর সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছে। তবে গতকাল পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির সংখ্যা ৭৮। আট বগির ট্রেনটিতে দুই শর বেশি যাত্রী ছিল। শতাধিক আহত যাত্রীর মধ্যে গতকাল ৮৩ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৩২ জনের অবস্থা গুরুতর। এএফপি।

হত্যা করেও পার পেয়ে গেছেন জিমারম্যান

মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ ট্রেভন মার্টিন হত্যার বিচারে গঠিত জুরিবোর্ডের একমাত্র অশ্বেতাঙ্গ নারী সদস্য বলেছেন, অভিযুক্ত জর্জ জিমারম্যান ‘হত্যা করেও পার পেয়ে’ গেছেন। প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যমপ্রতিষ্ঠান এবিসির ‘গুড মর্নিং আমেরিকা’ অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাৎকারে ওই জুরি সদস্য বলেন, আইনের কারণেই জিমারম্যানকে দোষী সাব্যস্ত করা যায়নি। ৩৬ বছর বয়সী পুয়ের্তোরিকার বংশোদ্ভূত ওই নারী বলেন, ‘আমাদের মন বলছে, তিনি (জিমারম্যান) দোষী, কিন্তু এর পরও আমরা তাঁকে কারাগারে পাঠাতে পারছি না। মনটাকে এক পাশে রেখে আমাদের তাকাতে হচ্ছে আইন ও সাক্ষ্য-প্রমাণের দিকে।’ বিচারের সময় সাংকেতিক নাম বি-২৯ হিসেবে উল্লেখিত ওই জুরি সদস্য জানান, জুরিবোর্ড জিমারম্যানকে খালাস দেওয়ার পর তাঁর মনে হচ্ছে, মার্টিনের বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। এবিসির সাক্ষাৎকারে তাঁকে ম্যাডি নামে উল্লেখ করা হয়। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ফ্লোরিডায় নিরস্ত্র মার্টিনকে গুলি করে হত্যা করেন স্থানীয় নাগরিক নিরাপত্তা সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী জিমারম্যান। গুলি করার কথা স্বীকার করলেও তিনি দাবি করেন, জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে গুলি চালিয়েছিলেন। ছয় নারীর সমন্বয়ে গঠিত জুরিবোর্ডের একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ সদস্য ম্যাডি বলেন, ‘আমাকে যেভাবে সংশ্লিষ্ট আইন বোঝানো হয়েছে, তাতে জিমারম্যান ইচ্ছাকৃতভাবে মার্টিনকে হত্যা করেছেন—এ কথা প্রমাণ করতে না পারলে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব নয়। জিমারম্যান হত্যা করেও পার পেয়ে গেছেন। কিন্তু ঈশ্বরের কাছ থেকে আপনি মুক্তি পাবেন না। সবকিছুর শেষে একদিন তাঁকে অনেক প্রশ্ন-উত্তরের মুখোমুখি হতে হবে।’ জুরিবোর্ডে জিমারম্যানের বিচারকে একটি ‘লোক ভোলানোর কায়দা’ হিসেবে অভিহিত করেন ম্যাডি। কেননা তাঁর মতে, ফ্লোরিডায় বিদ্যমান আত্মরক্ষার অধিকারবিষয়ক বিতর্কিত ‘স্ট্যান্ড ইওর গার্ড’ আইন অনুযায়ী জিমারম্যানকে দোষী সাব্যস্ত করার কোনো সুযোগ ছিল না। এএফপি।

হত্যা, অপহরণের অভিযোগ-মুরসির বিরুদ্ধে ১৫ দিনের আটকাদেশ

ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ১৫ দিনের আটকাদেশ দিয়েছে আদালত। ফিলিস্তিনের জঙ্গি সংগঠন হামাসের সঙ্গে সম্পর্ক, সেনা হত্যা, অপহরণসহ বেশ কিছু অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই তাঁকে আটক করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার নতুন শরণার্থী নীতিতে জাতিসংঘের উদ্বেগ প্রকাশ

নৌকায় করে অস্ট্রেলিয়ায় আসা আশ্রয়প্রার্থীদের পাপুয়া নিউগিনিতে (পিএনজি) পাঠানোর বিষয়ে কেভিন রাড সরকারের নতুন নীতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। বিশ্ব সংস্থার উদ্বাস্তুবিষয়ক শাখা ইউএনএইচসিআর গতকাল শুক্রবার বলেছে, অস্ট্রেলিয়ার ওই সিদ্ধান্ত তাদের ‘অস্বস্তিতে’ ফেলেছে। কারণ, পাপুয়া নিউগিনিতে শরণার্থীদের পর্যাপ্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই। অস্ট্রেলিয়ার সরকার এক সপ্তাহ আগে নতুন কঠোর অভিবাসন নীতি ঘোষণা করে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে আশ্রয়প্রার্থী বা শরণার্থীদের কিছুটা উত্তরে অবস্থিত পিএনজির মানুস দ্বীপে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। অস্ট্রেলিয়ার ওই কঠোর নীতির বিষয়ে গতকাল প্রথমবারের মতো বিবৃতি দেন জাতিসংঘের উদ্বাস্তুবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর)। বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, তারা উদ্বিগ্ন যে এ নীতির আওতায় আরও বেশিসংখ্যক আশ্রয়প্রার্থীকে দরিদ্র দেশটিতে পাঠানো হতে পারে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘পাপুয়া নিউগিনিতে বর্তমানে শরণার্থীদের পর্যাপ্ত সুরক্ষার মানের ঘাটতি নিয়ে ইউএনএইচসিআর অস্বস্তিতে রয়েছে।’ অস্ট্রেলিয়া ২০১২ সালে মানুস দ্বীপ ও নাউরুতে শরণার্থী পাঠানো আবার শুরু করে। নৌকায় করে আসা শরণার্থীর ঢল কমানোর লক্ষ্যে ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিন্তু এবার বলা হয়েছে, তাদেরকে পাপুয়া নিউগিনিতে শুধু তালিকাভুক্ত বা বাছাই করা হবে না সেখানেই স্থায়ীভাবে রাখা হবে। ইউএনএইচসিআর বলছে, এ ক্ষেত্রে আইনি বিষয়ও রয়েছে। সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সরেজমিনে পরিদর্শনের আলোকে ইউএনএইচসিআরের মূল্যায়ন হচ্ছে, আশ্রয়প্রার্থীদের অস্ট্রেলিয়া থেকে পিএনজিতে পাঠানোর ক্ষেত্রে আইনি কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় সক্ষমতার অভাব, অবকাঠামোগত অবস্থার বেহাল দশা, অযৌক্তিকভাবে আটক ইত্যাদি। এই অবস্থায় সেখানে পাঠানো শরণার্থীদের, বিশেষ করে পরিবার ও শিশুদের শারীরিক ও মনঃসামাজিক অবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ইউএনএইচসিআর বলছে, পিএনজিতে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করা হচ্ছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার নতুন নীতির আওতায় সেখানে আরও বেশি আশ্রয়প্রার্থী বা শরণার্থী পাঠানো হলে, তাদের যথাযথ সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়াটা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার মানবাধিকার কমিশনও দেশটির নতুন ঘোষিত নীতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। কমিশন বলেছে, বিতর্কিত ওই নীতির মাধ্যমে সরকার অস্ট্রেলিয়ার আইনি বাধ্যবাধকতাকে লঙ্ঘন করতে পারে। সম্প্রতি পিএনজির একটি অভিবাসী অন্তরীণ কেন্দ্রের সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা সেখানে বন্দীদের ওপর ধর্ষণসহ বিভিন্ন নির্যাতনের অভিযোগ করেন। এএফপি।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা পিপিপির

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল পাকিস্তান পিপলস পার্টিসহ (পিপিপি) তিনটি রাজনৈতিক দল। কোনো প্রকার ‘পরামর্শ করা ছাড়াই’ তারিখ নির্ধারণের প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার এই ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল আগামী ৬ আগস্ট। তবে পবিত্র রমজান মাসের শেষ এবং নির্বাচনের ওই তারিখ সাংঘর্ষিক এ যুক্তি দিয়ে ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ (পিএমএল-এন) তারিখ পরিবর্তনের জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানায়। আবেদনটি বিবেচনায় নিয়ে আদালত গত বুধবার নির্বাচনের তারিখ এগিয়ে এনে ৩০ জুলাই নির্ধারণ করেন। আদালত বলেছেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির উত্তরসূরি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনপ্রণেতাদের অনেকেই রমজান মাসের শেষের দিকে হজযাত্রায় না হয় বিশেষ প্রার্থনায় ব্যস্ত থাকবেন। প্রধান বিরোধী দল পিপিপির নেতা সিন্ধু প্রদেশের সাবেক আইনমন্ত্রী আয়াজ সুমরো প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বর্জন করার বিষয়ে তাঁর দলের সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জানিয়ে দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পিপিপির প্রার্থী সিনেটর রাজা রাব্বানি বলেন, ‘এই নির্বাচন বর্জন করা ছাড়া আমাদের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না। সুপ্রিম কোর্ট আমাদের কাছে কোনো নোটিশ পাঠাননি, তাঁরা আমাদের কথা শোনেননি বা আমাদের মতামত উপস্থাপনের কোনো সুযোগও দেননি...একেবারে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটাকে আমরা কেন্দ্রের শাসন চাপিয়ে দেওয়া হিসেবে দেখছি।’ পিপিপির পাশাপাশি আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টি (এএনপি) এবং বেলুচিস্তান ন্যাশনাল পার্টিও (বিএনপি) প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। তিনজনের মনোনয়নপত্র অনুমোদন: পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য সারা দেশ থেকে কমিশনে মোট ২৪ জন প্রার্থী ৩৩টি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন গতকাল শুক্রবার তিনজনের মনোনয়নপত্র অনুমোদন করেছে। তাঁরা হলেন মামনুন হুসাইন, ইকবাল জাফর ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ওয়াজিহউদ্দিন আহমেদ। মামনুন হুসাইন ও ইকবাল জাফর জাগ্রা উভয়েই পিএমএল-এন-এর প্রার্থী। জাফরকে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে রাখা হয়েছে। তিনি শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন। আর ওয়াজিহউদ্দিন ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত প্রার্থী। কমিশন ছয়জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে। এএফপি ও ডন।

'প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে কটূক্তি করা যাবে'

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে কটূক্তি আর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে না। এ-সংক্রান্ত ১৮৮১ সালের একটি আইন সংশোধনের ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার আইন প্রণেতারা একমত হয়েছেন।

পাকিস্তানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা পিপিপির

পাকিস্তানে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল পাকিস্তান পিপলস পার্টিসহ (পিপিপি) কয়েকটি দল। নির্বাচনী প্রচার চালাতে যথেষ্ট সময় না দেওয়া এবং আলোচনা ছাড়াই নির্বাচনের তারিখ এগিয়ে আনার প্রতিবাদে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কেউ ভোলে না কেউ ভোলে

কোরীয় যুদ্ধের শিকার মা ও শিশু ষ ফাইল ছবি: এএফপি
মার্কিনদের কেউ কেউ একে বলে থাকে ‘বিস্মৃত যুদ্ধ’। ১৯৫০ সালে নিজ দেশ থেকে যোজন যোজন দূরে সংঘটিত ওই যুদ্ধ এতটাই বেদনাদায়ক ছিল যে, বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরাও সেই স্মৃতিকে ভুলে যাওয়ার প্রাণান্ত চেষ্টা করেছেন। তবে ভুলতে পারেনি উত্তর কোরীয়রা। কোরীয় যুদ্ধ অবসানের ৬০ বছর পরও তাদের স্মৃতিতে তা অম্লান। কমিউনিস্ট উত্তর কোরিয়া ২৭ জুলাই দিনটিকে ‘বিজয় দিবস’ হিসেবে উদ্যাপন করে থাকে। ১৯৫৩ সালের ২৬ জুলাই এই যুদ্ধের শেষ গুলিটি ছোড়া হয়। আজ শনিবার ঘটা করে দিবসটি উদ্যাপন করবে উত্তর কোরিয়া। যদিও দুই পক্ষ (একপক্ষে ছিল উত্তর কোরিয়া ও চীন, অন্যপক্ষে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ ও দক্ষিণ কোরিয়ার বাহিনী) সেদিন একটি সাময়িক অস্ত্রবিরতিতে স্বাক্ষর করেছিল মাত্র। আজ পর্যন্ত তাদের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়নি। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কাছে সাবেক সেনাদের জন্য নতুন একটি কবরস্থান উদ্বোধনের মাধ্যমে গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে কোরীয় যুদ্ধের ৬০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। পিয়ংইয়ংয়ের রাস্তাগুলো এখন ‘বিজয় দিবসের’ ব্যানারসহ বিভিন্ন সাজসজ্জায় ছেয়ে গেছে। ১৯৫০ সালের ২৫ জুন ভোর চারটায় কোরীয় যুদ্ধ শুরু হয়। এ যুদ্ধ শুরুর দায় নিতে আজ পর্যন্ত রাজি হয়নি কোনো পক্ষই। ঐতিহাসিকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার সেনারা সীমান্তে আক্রমণ শুরু করলে যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে। তবে উত্তর কোরিয়ার দাবি, মার্কিন বাহিনীই প্রথম আক্রমণ করেছিল। ‘প্রমাণ’ হিসেবে পিয়ংইয়ংয়ের যুদ্ধবিষয়ক জাদুঘরে একটি ছবি রাখা হয়েছে, যাতে দেখা যায়, মার্কিন সেনারা রাইফেল হাতে ৩৮ অক্ষাংশ অতিক্রম করছে। এপি ও দ্য টেলিগ্রাফ।

বিরোধী নেতা নিহতের জের-সরকার পতনের দাবিতে ফের উত্তাল তিউনিসিয়া

বিরোধী দল বামপন্থী পপুলার মুভমেন্টের নেতা মোহাম্মদ ব্রাহমিকে হত্যার প্রতিবাদে আবারও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে তিউনিসিয়া। রাস্তায় নেমেছে হাজারো মানুষ। তাদের অভিযোগের আঙুল ক্ষমতাসীন এন্নাদাহ পার্টির দিকে।

বিষাক্ত পানি বের হওয়া নিয়ে টেপকোর তীব্র সমালোচনা

সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক প্রকল্পের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিদেশি পরমাণু বিশেষজ্ঞরা। একজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, বিষাক্ত পানি বের হওয়ার ব্যাপারে টেপকোর যে অস্বচ্ছতা, তাতে মনে হয়, এ কাজ সম্পর্কে তাদের ধারণাও অস্পষ্ট। দুর্ঘটনাকবলিত পরমাণুকেন্দ্রটিতে একের পর এক সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে এ কড়া সমালোচনার ঘটনা ঘটল। চলতি সপ্তাহের গোড়ার দিকে প্রকল্প পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার (টেপকো) প্রথমবারের মতো স্বীকার করে, পরমাণুকেন্দ্রটি থেকে তেজস্ক্রিয় পদার্থমিশ্রিত পানি সমুদ্রে গিয়ে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু নিয়ন্ত্রণ কমিশনের সাবেক প্রধান ডেল ক্লেইন বলেন, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় ঘাটতির কারণে পানি নিঃসরণের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘এতে বোঝা যায়, পরমাণু স্থাপনা কর্তৃপক্ষ জাপানের জনগণকে পর্যাপ্ত তথ্য দেয়নি। তারা কী করছে, তা জানে না। তাদের কোনো পরিকল্পনাও নেই। সর্বোপরি তারা পরিবেশ ও মানুষকে রক্ষায় প্রতিকারমূলক যেসব ব্যবস্থা নিতে পারত, সেগুলো নেয়নি।’ ফুকুশিমা পারমাণবিক প্রকল্প সংস্কারের জন্য টেপকোর প্রধান নির্বাহীসহ জাপানের চারজন ও বিদেশি দুজন বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে একটি প্যানেল গঠন করা হয়। এই প্যানেলের সঙ্গে দেখা করে গতকাল শুক্রবার এসব কথা বলেন ক্লেইন। প্যানেল সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পানিদূষণের ঘটনায় আমরা গভীর হতাশা প্রকাশ করছি। আমরা মনে করি, এতে ফুকুশিমা প্রকল্পে চলমান পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কার অভিযান বাধাগ্রস্ত হবে।’ যুক্তরাজ্যের পরমাণু শক্তি কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বারবারা জাজ বলেন, কোম্পানির যেসব ঘাটতির কথা জানা গেছে, তাতে তিনি হতাশ। ২০১১ সালের মার্চ মাসে সংঘটিত ভয়াবহ সুনামিতে ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক প্রকল্পের ছয়টি চুল্লির মধ্যে চারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন চুল্লিগুলোর শীতলীকরণ প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনটি থেকে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। এএফপি।

অপরাধ বাড়ছে-নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক উদ্যোগ প্রয়োজন

নির্বাচনের বছর হওয়ায় রাজনৈতিক সংঘাত ও খুন-খারাবি ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত খুন-খারাবি এবং অন্যান্য অপরাধ কর্মকাণ্ড। কেবল গতকালের পত্রিকায়ই এ রকম বহু খবর রয়েছে, যা সুস্থ ও বিবেকবান প্রত্যেক মানুষের হৃদয়কে ভারাক্রান্ত করে তোলে।

ঘরে ফেরার বিড়ম্বনা-নির্বিঘ্ন হোক ঈদযাত্রা

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে প্রতিবছরই ঈদের সময় কয়েক লাখ মানুষ রাজধানী ছাড়ে। এ সময় যানবাহনের টিকিট পাওয়ার কষ্ট, মহাসড়কে দুঃসহ যানজট এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি- এই তিন স্তরের বাধা পেরিয়ে তবেই ঘরে ফেরা সম্ভব হয়।

ওবামার স্বাস্থ্যসেবা রোধে সরকার অচলের হুমকি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বহুল আলোচিত স্বাস্থ্যসেবা নীতি বাস্তবায়নে তহবিল সরবরাহ বন্ধ করা না হলে সরকার অচল করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বিরোধী রিপাবলিকান দলের নেতারা। রক্ষণশীলদের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ওবামার ঐতিহাসিক স্বাস্থ্যসেবা-ব্যবস্থা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ওবামা সরকার অচলের হুমকি দিয়েছেন ১২ জন রিপাবলিকান সিনেটর। তাঁদের মধ্যে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী মার্কো রুবিও ও র‌্যান্ড পলও রয়েছেন। রিপাবলিকানদের দাবি, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের জন্য এই স্বাস্থ্যসেবা নীতি হবে খুবই ব্যয়বহুল। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা দেওয়াই ওবামার এ কর্মসূচির লক্ষ্য। এটি এ পর্যন্ত তাঁর শাসনামলের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ আইনি উদ্যোগ। যুক্তরাষ্ট্রের চলতি অর্থবছরের বাজেটের সময়সীমা ছয় মাস বাড়াতে হচ্ছে। ২০১৪ সালের অর্থবছর শুরু হচ্ছে ১ অক্টোবর। রিপাবলিকান দলের বেশি রক্ষণশীল সিনেটররা এটাকেই সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে চাইছেন। কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধান হ্যারি রিডের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ওই রিপাবলিকান সিনেটররা বলেছেন, ‘আমরা মনে করি, বিপর্যয় এড়ানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে ওবামাকেয়ার বাতিল করা এবং আমাদের স্বাস্থ্যসেবা-ব্যবস্থা সংস্কারে খুবই যুক্তিসম্মত ও বাস্তবসম্মত একটি পদক্ষেপ নেওয়া।’ তাঁরা বলেন, ‘আমরা এমন কোনো পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানাতে পারি না, যেখানে কিনা ওবামার স্বাস্থ্যসেবা নীতি বাস্তবায়নে কিংবা কার্যকরে আরও তহবিলের প্রয়োজন পড়বে।’ রিপাবলিকান দলের এই সিনেটরদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের সিনেটর মাইক লি। সিনেটর রিচার্ড বুর বলেন, ‘বারাক ওবামা যত দিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে থাকবেন, তত দিন তাঁর স্বাস্থ্যসেবা বিলটিও আইন হিসেবে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। জনগণের ওপর এই আইনের প্রয়োগ ঠেকাতে আমাদের সম্ভাব্য সবকিছু করতে হবে। আর এটা করতে সেপ্টেম্বরই হচ্ছে আমাদের জন্য শেষ সুযোগ।’ এএফপি।

ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি কাম্য নয় by ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন

মানবজাতির ইতিহাসে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি কখনোই কোনো কল্যাণ বয়ে আনেনি, বরং পৃথিবীতে যখনই কোনো সম্প্রদায় ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করেছে, তখনই তাদের পতন ত্বরান্বিত হয়েছে। ধর্মের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘন করে মানব ইতিহাসে অনেক জাতি-গোষ্ঠী ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।

ভাইপোর সঙ্গে অনেক মজা করবেন প্রিন্স হ্যারি

প্রিন্স জর্জ
বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়ামের প্রথম সন্তান ভাইপো প্রিন্স জর্জের সঙ্গে অনেক মজা করবেন বলে ঠিক করেছেন চাচা প্রিন্স হ্যারি। এ জন্য আলাদা করে সময় দেবেন তাকে। চার দিন বয়সী ভাইপোর জন্য বৃহস্পতিবার এই অঙ্গীকার করেন তিনি।
ব্রিটিশ সিংহাসনের তৃতীয় উত্তরাধিকারী জর্জ আলেকজান্ডার লুইসের সঙ্গে ইতিমধ্যে দেখা হয়েছে হ্যারির (২৮)। প্রথম দেখায় ভাইপো তাঁকে পছন্দ করেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ওই সময় চোখ খুলেই নাকি কেঁদে ফেলেছে ‘ভবিষ্যৎ রাজা’! তবে উদ্দাম জীবনযাপনের জন্য পরিচিত ডানপিটে স্বভাবের হ্যারি যে তাকে মজা দিতে পারবেন, সেটা বোধ হয় ধরে নেওয়াই যায়। হ্যারি মজা করে বলেছেন, ভাইপো তাঁর কাছে সস্তায় ‘সার্ভিস’ পাবে না! ‘আশা করি, ভাইয়া জানেন ভাইপোর জন্য আমার সার্ভিসের কী দাম দিতে হবে!’ বলেন হ্যারি। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘এটা অসাধারণ যে পরিবারে আরও একজন যুক্ত হলো।’ আফ্রিকাভিত্তিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান সেন্টেবল-এর এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন হ্যারি। ডিউক অব কেমব্রিজ প্রিন্স উইলিয়াম ও ডাচেস অব কেমব্রিজ কেট মিডলটনের ঘরে গত সোমবার জন্ম নেয় জর্জ আলেকজান্ডার। তার জন্মের ফলে ব্রিটিশ সিংহাসনের তৃতীয় উত্তরাধিকারীর স্থান থেকে পিছিয়ে পড়লেন প্রিন্স উইলিয়ামের একমাত্র ছোট ভাই হ্যারি। জর্জ আলেকজান্ডার প্রিন্স জর্জ অব কেমব্রিজ নামে পরিচিত হবেন। উইলিয়াম ও কেট এখন নবাগত সন্তানকে নিয়ে বিশ্ব গণমাধ্যম থেকে দূরে ইংল্যান্ডের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এক পারিবারিক বাড়িতে। এএফপি।

পবিত্র কোরআনের আলো-প্রতিটি উদ্ভিদের মধ্যে স্ত্রী-পুরুষের যুগল আছে

৩. ওয়া হুয়াল্লাযী মাদ্দাল আরদা ওয়া জা'আলা ফীহা- রাওয়া-সিয়া ওয়া আনহা-রাও* ওয়া মিন কুল্লিস ছামারা-তি জা'আলা ফীহা যাওজাইনিছনাইনি য়ুগশিল লাইলান নাহা-রা, ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিকাউমিন ইয়াতাফাক্কারূন। সুরা রা'আদ।

মুরসিকে ১৫ দিন আটক রাখার নির্দেশ আদালতের

কায়রোর রাবা আদাউইয়া স্কয়ারে গতকাল মোহাম্মদ
মুরসির সমর্থকদের বিক্ষোভ ষ ছবি: এএফপি
মিসরের রাজধানী কায়রোয় গতকাল শুক্রবার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সমর্থকদের সঙ্গে বিরোধীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনের কট্টরপন্থী সংগঠন হামাসের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে মুরসিকে ১৫ দিন আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মিসরের একটি আদালত। আগে থেকেই মুরসি সমর্থক ও বিরোধীরা শুক্রবার কায়রোর রাজপথে পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিল। সেনাপ্রধান আল-সিসি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় জনগণকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছিলেন। উভয় পক্ষের সমর্থকদের সংঘর্ষে তাক্ষণিকভাবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মিসরের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেনা গতকাল জানায়, ২০১১ সালে আরব বসন্ত বিপ্লবের সময় কারাগার থেকে পালাতে সহায়তার জন্য ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন মুরসি। এটিসহ কিছু রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আদালত গতকাল তাঁকে ১৫ দিনের জন্য আটক রাখার নির্দেশ দেন। এই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে ওই অভিযোগগুলোর তদন্ত চলবে। তদন্তের সময় বাড়ানো হলে মুরসির আটকাদেশের মেয়াদও বাড়ানো হবে। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে মুরসিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তারপর এই প্রথম সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর সম্পর্কে কোনো তথ্য জানানো হলো। কায়রোয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল দুপুরের পর রাজধানীর লাগোয়া শহর সুব্রায় মুরসির সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে তা আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। টিভির ফুটেজে দেখা যায়, সংঘর্ষে অংশ নেওয়া লোকজন পরস্পরের দিকে পাথর ও ইট-পাটকেল ছুড়ছে। কায়রোর রাজপথে গতকাল সাঁজোয়া যান নিয়ে সেনা সদস্যদের টহল দিতে দেখা যায়। সেনাবাহিনী সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মুক্তি দেওয়ার আহ্বান: এদিকে মিসরের সার্বিক পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মুরসিকে মুক্তি দিতে দেশটির সামরিকবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। বান কি মুনের উপমুখপাত্র এডোয়ার্ডো ডেল বুয়ে গত বৃহস্পতিবার জানান, মুরসি ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের দ্রুত ছেড়ে দেওয়া কিংবা তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো স্বচ্ছতার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তি করার আহ্বান জানিয়েছেন মহাসচিব। সার্বিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: মিসরে সেনা অভ্যুত্থান হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলবে না যুক্তরাষ্ট্র। ওবামা প্রশাসনকে এটা নিশ্চিত করতে বলতেই হবে—এমন কোনো আইনও নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ কথা বলেছেন। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু নয় বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা। নির্ভরযোগ্য মিত্র মিসরে সহায়তা অব্যাহত রাখতেই দৃশ্যত এই কৌশল নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন কায়রোকে বছরে সামরিকসহ ১৫৫ কোটি ডলার সহায়তা দেয়। মিসরের অভ্যুত্থানকে ‘সামরিক অভ্যুত্থান’ বললে আইনত ওয়াশিংটন আর কায়রোকে সহায়তা দিতে পারবে না। এএফপি, বিবিসি ও রয়টার্স।

রিকশা ভাড়ার দৌরাত্ম্য by সনেট দেব

আমাদের দেশে শহরের মধ্যে সড়ক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম রিকশা। কিন্তু শহরাঞ্চলে এই কয়েক বছরে রিকশা ভাড়া দেড় থেকে দুই গুণ বেড়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে রিকশাচালকরা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি বা সংসার চালাতে না পারার নানা কাহিনী বলে থাকেন।

খাদ্যে রাসায়নিক দূষণ by নওরীন ওশিন

খাদ্য দূষণ নিয়ে সবাই শঙ্কিত। দেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা পূরণের জন্য অধিক উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষিজমিতে ব্যবহৃত হচ্ছে নানা ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ এবং কীটনাশক।

শিশুশ্রম বন্ধ করুন by আসিফ আল আজাদ

শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ। সাংবিধানিক ও আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও দেশের অধিকাংশ শিশু নানাভাবে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত। অনেক শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত।

শ্রম আইন :একটি পর্যালোচনা by শরিফুল ইসলাম সেলিম

ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর ১৫ জুলাই সংসদে সংশোধিত শ্রম আইন-২০১৩ পাস হয়েছে। মহাজোট সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল এই আইন। সংসদে অনুমোদিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সরকার একে দেশের শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিশাল অগ্রগতি বলে আখ্যায়িত করেছে।

নামের অবদান by একরামুল হক শামীম

ব্রিটিশ রাজপরিবারের তৃতীয় উত্তরাধিকারীর নাম কী হবে তা নিয়ে বেশ আলোচনা তৈরি হয়েছিল। এই আলোচনার সুযোগে বাজিকররা জেঁকে বসেছিল। প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের পুত্রের নাম কী হবে তা নিয়ে বাজি ধরেছেন অনেক মানুষ।

মানবতাবিরোধী অপরাধ-বিচার :প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা by ডা. এমএ হাসান

গোলাম আযম এবং মুজাহিদ গংয়ের বিচার সম্পন্নের মধ্য দিয়ে বিচারহীনতার নীরবতা কিছুটা হলেও ভেঙেছে। তবে এতে সামগ্রিক সত্য যে উদ্ঘাটিত হয়নি এবং '৭১-এর ঘাতক গোষ্ঠী কর্তৃক সংঘটিত ভয়াবহ অপরাধের ক্ষুদ্রতম অংশও যে আমরা উন্মোচিত করতে পারিনি, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ-গণতান্ত্রিক সমাজের পথে বাধা অসহিষুষ্ণতা by হারুন হাবীব

ধর্ম কখনোই গুটিকয়েক ধর্মবেত্তা বা তালেবানদের হাতে রক্ষিত হয়নি। যুগে যুগেই ধর্ম রক্ষিত হয়েছে সাধারণ মানুষের হাতে। কারণ ধর্ম মানুষের আদি বিশ্বাস, যা মানুষ শ্রদ্ধা করে এসেছে, লালন করে এসেছে নিজের আত্মার তাগিদে।

নতুন মুদ্রানীতি- শঙ্কা ও সম্ভাবনার দোলাচল

বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার চলতি বছর জুলাই থেকে ডিসেম্বর পরিসরে ছয় মাসের জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির ভারসাম্য রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক যত্নবান থাকবে।

হবিগঞ্জে বালুখেকো- ব্যক্তিস্বার্থে সামষ্টিক সর্বনাশ!

ছড়া কিংবা নদী 'বালুমহাল' ঘোষণার যে কুফল দেশজুড়েই দেখা যাচ্ছে, তার নিকৃষ্ট নজির হচ্ছে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার রূপাইছড়া এলাকা। শুক্রবার সমকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়,

গৃহহীনদের গৃহ যখন যুক্তরাজ্য by নুজহাত নূর সাদিয়া

রাতের লন্ডন শহর তার ব্যস্ততায় নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক মনোহর চাদরে ঢেকে আছে। পর্যটকদের আকর্ষণ লন্ডন ব্রিজের এক পাশে উদ্দেশ্যবিহীন হাঁটছিলাম। টেমস নদীর বুকের ওপর ভেসে থাকা জাহাজগুলোর রংবেরঙের বাতির জমকালো উপস্থাপনা পথশ্রমে ক্লান্ত চোখের পাতাকে চুম্বকের মতো টানছিল।

মনের কোণে হীরে-মুক্তো-গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় পরিবারতন্ত্রের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ by ড. সা'দত হুসাইন

সম্প্রতি ফরিদপুর অঞ্চলের এক বর্ষীয়ান নেতা তাঁর পুত্র এবং পুত্রবধূকে একটি (রাজনৈতিক) সভায় এলাকার জনগণ তথা ভোটারদের কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাঁদের জন্য সবার দোয়া চেয়েছেন।