Wednesday, December 22, 2010

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ গতকাল সোমবার কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর করেছেন। সেখানে তিনি প্রায় চার ঘণ্টা অবস্থান করেন। কুরিল দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে মস্কো ও টোকিওর মধ্যে কয়েক দশক ধরে বিরোধ চলা সত্ত্বেও মেদভেদেভের এ সফরে জাপান ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এ সফরের প্রতিবাদে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টোকিওতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে।
রাশিয়ার কোনো নেতা হিসেবে এই প্রথমবারের মতো ওই দ্বীপপুঞ্জে মেদভেদেভের সফরের প্রতিক্রিয়ায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান পার্লামেন্টে বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলীয় চারটি দ্বীপ আমাদের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে অবস্থিত। তা সত্ত্বেও রুশ প্রেসিডেন্টের এ সফর সত্যি দুঃখজনক।’
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেইজি মায়েহারা বলেছেন, মেদভেদেভের এ সফর জাপানের নাগরিকদের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। এটা চরম পরিতাপের বিষয়। জিজি প্রেস জানিয়েছে, এ ঘটনায় জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুশ রাষ্ট্রদূত মিখাইল বেলিকে তলব করেন। মিখাইল তাঁকে জানিয়ে দেন, এটি রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিষয়ে জাপানকে ঠান্ডা মাথায় নড়াচড়া করার অনুরোধ জানান তিনি।
কুরিল দ্বীপপুঞ্জকে রাশিয়ার খুব গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মন্তব্য করে গত সেপ্টেম্বর মাসে মেদভেদেভ ওই দ্বীপপুঞ্জ সফরের ঘোষণা দেন। তখনই জাপান হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলে, মেদভেদেভের এ ধরনের সফর দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটাবে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষদিকে সোভিয়েত সেনাসদস্যরা জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের উত্তরে অবস্থিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ন্ত্রণে নেন। এর পর থেকে ওই দ্বীপপুঞ্জ মস্কোর দখলে রয়েছে। টোকিও ওই দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা দাবি করে আসছে।

ঘন ঘন নীতি পরিবর্তন না করার পরামর্শ এসইসিকে

বাজার নিয়ন্ত্রণে ঘন ঘন নীতি পরিবর্তন না করে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোনোর ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এসইসিকে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অপেক্ষাকৃত কম মূলধনের কোম্পানিগুলোকে নিয়ে আলাদা লেনদেনব্যবস্থা চালুরও সুপারিশ করা হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এ ধরনের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার ফলে সামগ্রিক বাজারকে অতিমূল্যায়িত মনে হয়। প্রকৃত অর্থে বাজার অতিমূল্যায়িত নয় উল্লেখ করে বাজারের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে কম মূলধনের অতিমূল্যায়িত কোম্পানিগুলোকে আলাদা করার যুক্তি দেওয়া হয়েছে। দেশের পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বাজার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব পরামর্শ ও সুপারিশ করা হয়। এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এ সময় সংস্থাটির সদস্য মনসুর আলম ও ইয়াসিন আলী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সভাপতি শাকিল রিজভী, পরিচালক রকিবুর রহমান, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সভাপতি ফখরউদ্দিন আলী আহমদ, পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সালমান এফ রহমান, মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরিফ খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলমসহ এসইসির অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জিয়াউল হক খোন্দকার বৈঠকের শুরুতে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে উপস্থিত সবার মন্তব্য জানতে চান। এ সময় সালমান এফ রহমান এসইসির কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা সব সময় বলেন বাজার অতিমূল্যায়িত। কিন্তু সামগ্রিক বাজার অতিমূল্যায়িত নয়।’
সালমান এফ রহমান সঙ্গে করে আনা কাগজ দেখিয়ে বলেন, বাজারে অনেক কোম্পানি রয়েছে, যার মূল্য-আয় অনুপাত বা পিই এখনো যথেষ্ট কম। তবে এটা ঠিক, স্বল্প মূলধনের কোম্পানিগুলোর শেয়ার অতিমূল্যায়িত। এগুলোকে আলাদা লেনদেনব্যবস্থায় নিয়ে গেলে বাজারকে আর অতিমূল্যায়িত মনে হবে না। তবে বাজার অতিমূল্যায়িত নয়—এ বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন ইয়াসিন আলী। তিনি বলেন, বাজার অবশ্যই অতিমূল্যায়িত। এখান থেকে বাজারের মূল্য সংশোধন অনিবার্য। বক্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান বাজারের পিই ৩০। এ অবস্থায় কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ থেকে বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্তি দুই-তিন শতাংশের বেশি হবে না। অথচ ব্যাংক সুদের হার ১০ শতাংশের মতো। তাই বাজার অতিমূল্যায়িত নয়—এ বক্তব্য সঠিক নয়। জবাবে সালমান এফ রহমান কিছুটা উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন, ‘তাহলে আপনি কী চাইছেন, পিই অনুপাত ৮/৯-এ নেমে আসুক।’ এ সময় তিনি সব কোম্পানির অভিহিত মূল্য একসঙ্গে পরিবর্তন করার পক্ষে মত দেন। রকিবুর রহমান এসইসির কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘বাজারের সূচক পড়লেই আপনারা ভীত হয়ে যান কেন? ভারতেও তো কিছুদিন আগে সূচক কমেছিল। কিন্তু সেখানে কোনো মিছিল হয়নি। আর এখানে মিছিল হলেই জরুরি বৈঠকে বসে পড়বেন—এটাও ঠিক নয়।’ শাকিল রিজভী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক দিনক্ষণ ঘোষণা দিয়ে ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয়ের কথা বলছে। এতে অনেক বিনিয়োগকারীর মধ্যে এ ভীতি ছড়াচ্ছে যে, ওই দিনের পর বাজার হয়তো আর থাকবে না। এ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কথা মাথায় রেখেই বিধিবদ্ধ নগদ জমা বা সিআরআর বাড়িয়েছে। চার-পাঁচ মাস আগেই ব্যাংকগুলোকে এ ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তারা তখন থেকে প্রস্তুতি না নিয়ে হঠাৎ করে শেষ মুহূর্তে এসে সমন্বয় করতে গেছে। এটা ব্যাংকগুলোর তহবিল-ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা।অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয়ের সময় এবং সিআরআরের হার কমানো হবে কি না, এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান জাহাঙ্গীর আলম। আরিফ খান এসইসির ঘন ঘন নীতি পরিবর্তনের বিষয়টি উত্থাপন করেন। বলেন, ‘এনএভি সূত্র প্রয়োগে না যাওয়ার জন্য মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু এসইসি সে সময় তা আমলেই নেয়নি। অথচ পাঁচ মাস পরে এসে এসইসি নিজেই এনএভি তুলে দিল।’
আরিফ খান ঋণ দেওয়ার বিষয়টি মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে পিই বেঁধে দেওয়ার সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, এর ফলে কোম্পানিগুলোর মধ্যে আয়-কারসাজির প্রবণতা বাড়বে।এ ছাড়া বৈঠকে এসইসিতে যেসব কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) জমা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত অনুমোদনের তাগিদ দেওয়া হয়।
পরে বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে জিয়াউল হক খোন্দকার বলেন, ‘বৈঠকে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এখন থেকে আমরা শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক অবস্থা ধরে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এগোবো। এ ছাড়া স্বল্প মূলধনের কোম্পানিগুলোকে আলাদা লেনদেনব্যবস্থায় নেওয়া যায় কি না, সে বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে।’

টালমাটাল শেয়ারবাজার

দেশের শেয়ারবাজার কিছুদিন ধরে বেশ টালমাটাল অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে কয়েক দিনই মূল্যসূচকে বড় ধরনের পতন ঘটছে। অর্থাৎ বাজারে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। এই ধারাবাহিকতায় গত রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাধারণ মূল্যসূচকের স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন ঘটেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ এমনই বেসামাল আচরণ করেছে, যা আবার মনে করিয়ে দিয়েছে যে আমাদের পুঁজিবাজারটি বড় ও স্ফীত হলেও ঠিক পরিপক্বতা অর্জন করতে পারেনি। একশ্রেণীর বিনিয়োগকারী রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিভিন্ন বিধিনিষেধ শিথিল করে ফেলেছে। মনে হচ্ছে, শেয়ারবাজারে শুধু দাম বাড়বেই, কখনো কমতে পারবে না—এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গিতে তারা আচ্ছন্ন, যা বাস্তবতাবর্জিত এবং পুঁজিবাজারকে সত্যিকারভাবে শক্তিশালী করার বড় অন্তরায়।
বস্তুত বেশ অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশের শেয়ারবাজার যেভাবে ফুলে-ফেঁপে উঠছিল, তা ছিল বহুলাংশে কৃত্রিম ও যৌক্তিকতাহীন। ফাটকাবাজির বাজারে ক্রমাগত অর্থের জোগান নির্বিচারে বিভিন্ন শেয়ারের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছিল। আর এতে প্রলুব্ধ হয়ে স্বল্প পুঁজি নিয়ে ছুটে আসছিল বিভিন্ন মানুষ। বাজারের ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় না নিয়ে এভাবে অনেকেই সহজে টাকা বানানোর দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ম ভেঙে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করছিল। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, আরও দাম বাড়ার ও নিরন্তর মুনাফা করার অনেকটা কল্পিত প্রত্যাশায় প্রায় সবাই যেন বুঁদ হয়ে বসে ছিল। অদক্ষ এসইসিও ঘন ঘন নীতি-নির্দেশনা পরিবর্তন করে বাজারের অস্থিরতাকে উসকে দিচ্ছিল। সর্বোপরি পুঁজিবাজারের বড় বড় ক্রীড়নক সরকারসহ নীতিনির্ধারকদের বিভিন্নভাবে চাপের মুখে রাখার কৌশল নিয়েছিল যেন বাজারের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতিতে রাশ টানতে না পারে। এসবের অনিবার্য পরিণতি যে একপর্যায়ে বাজারের বড় পতন—তা বুঝেও কেউ বুঝতে চায়নি।
এই বাস্তবতায় শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন বিনিয়োগকারীদের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও অস্বাভাবিক ছিল না। যাঁরা কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ করেছেন, দাম বাড়ার একটা পর্যায়ে তাঁরা শেয়ার বেচে মুনাফা তুলে নেবেন—এটাই স্বাভাবিক, যা দরপতনকে ত্বরান্বিত করেছে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতিজনিত চাপ প্রশমনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাবাজারে তারল্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের দিকে জোর দিয়েছে। শিল্পঋণের টাকা শেয়ারবাজারে খাটানোর প্রবণতা রোধেও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নজরদারি কঠোর করতে হয়েছে। এসবের কিছুটা প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে। কিন্তু সার্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলার স্বার্থে এ ধরনের কঠোরতার কোনো বিকল্প নেই। সে ক্ষেত্রে শেয়ারবাজারের বড় দরপতন হওয়াটাও বাজার সংশোধনের প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখতে হবে। বিনিয়োগকারীদেরও বুঝতে হবে, যতটা লাভের প্রত্যাশা তাঁরা করেন, ততটা লোকসানের ঝুঁকিও রয়েছে। এটাই কঠিন সত্য। কারণ, পুঁজিবাজারে ফাটকাবাজি থাকবেই। সর্বোপরি এসইসিকে সুপরিকল্পিতভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করতে হবে, যা হতে হবে দীর্ঘমেয়াদি। বাজার বাড়া-কমার সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানো এসইসির কাজ নয়।

ডিএসইতে লেনদেনের শুরুতে চাঙাভাব

চাঙাভাবের মধ্য দিয়ে আজ মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে দাম বেড়েছে বেশির ভাগ শেয়ারের। বেলা পৌনে ১২টা পর্যন্ত সাধারণ মূল্যসূচক ১৮২ পয়েন্ট বেড়ে আট হাজার ১৪২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
এখন পর্যন্ত লেনদেন হওয়া ২১৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৭৭টির, কমেছে ৩৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। এ সময়ে মোট লেনদেন হয়েছে ৪০৯ কোটি টাকা।
এখন পর্যন্ত লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে—গ্রামীণফোন, এনবিএল, তিতাস গ্যাস, ইউসিবিএল, গোল্ডেন সন, বেক্সিমকো, আফতাব অটো, বে লিজিং, সাইথ ইস্ট ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংক।

ব্রায়ান হানরাহানের জীবনাবসান

বিবিসির বিশ্বখ্যাত সাংবাদিক ব্রায়ান হানরাহান গতকাল সোমবার মারা গেছেন। তিনি ক্যানসারে ভুগছিলেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬১ বছর।ব্রায়ান বার্লিন প্রাচীরের পতন, ফকল্যান্ড যুদ্ধ, তিয়েনআনমেন স্কয়ারের ছাত্র বিক্ষোভ, সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচভের উত্থান এবং ইন্দিরা গান্ধী হত্যাকাণ্ডসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নানা ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করেছেন।

ইরানে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ইরানে এক ক্রমিক নারী খুনির ফাঁসির আদেশ কার্যকর হয়েছে। মাহিন কাদিরি নামের ওই নারী পাঁচজন নারীকে হত্যা করেছেন। এ ছাড়া সুন্নি জঙ্গিগোষ্ঠী জুনদুল্লাহর ১১ জন সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাদেরও ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা গতকাল সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে।
সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের বিচার বিভাগীয় প্রধান ইব্রাহিম হামিদি জানান, জুনদুল্লাহ গোষ্ঠীর ফাঁসি হওয়া ১১ জন সদস্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। তারা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। তাদের হাতে কয়েকজন বেসামরিক ব্যক্তি খুন হয়েছেন।
ইরনা জানায়, ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০৯ সালের মে মাস পর্যন্ত মাহিন কাদিরি পাঁচ নারীকে হত্যা করেন। কৌশলে অজ্ঞান করে পরে শ্বাসরোধ করে তাঁদের হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু জানানো হয়নি।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, ইরানে এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত ১৫১ জনকে ফাঁসিতে ঝোলানো হলো।

মালয়েশিয়ায় বাস দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত

মালয়েশিয়ায় গতকাল সোমবার একটি বাস দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ২৮ জন আরোহী নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই থাইল্যান্ড থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, মালয়েশিয়ার পর্যটন এলাকা ক্যামেরন হাইল্যান্ড থেকে ৩৭ জন যাত্রী নিয়ে কুয়ালালামপুরে ফেরার পথে দ্বিতল বাসটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ২৮ জন যাত্রী নিহত হয়। এদের মধ্যে তিনজন মালয়েশিয়ার নাগরিক। বাকি সবাই থাই পর্যটক। এ ঘটনায় অপর নয়জন যাত্রী আহত হয়েছে। তারাও থাই পর্যটক। আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর তোলা ছবিতে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বাসটি একটি পাহাড়ের পাদদেশে পড়ে আছে। কাছেই পলিথিনে মোড়ানো মৃতদেহগুলো সারিবদ্ধ করে রাখা আছে। এ ছাড়া দুর্ঘটনাস্থল থেকে আহত ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্যও ছবিতে দেখা গেছে।

তিব্বতি শরণার্থীদের গ্রেপ্তার করতে নেপালকে অর্থ দিচ্ছে চীন

নেপালে আশ্রয় নেওয়া তিব্বতি শরণার্থীদের গ্রেপ্তার করতে সে দেশের পুলিশকে অর্থ দিচ্ছে চীন সরকার। আলোচিত ওয়েবসাইট উইকিলিকসে প্রকাশিত গোপন মার্কিন নথি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গত রোববার এ বার্তা প্রকাশ করা হয়।
উইকিলিকসে প্রকাশিত বার্তা অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে দিল্লির মার্কিন দূতাবাস থেকে পাঠানো একটি বার্তায় বলা হয়েছে, যেসব তিব্বতি দেশ ছেড়ে নেপালে আশ্রয় নিয়েছে, তাদের ধরিয়ে দিতে সে দেশের পুলিশের কর্মকর্তাদের পুরস্কার হিসেবে নগদ অর্থ দিচ্ছে চীন সরকার। তিব্বতি শরণার্থীদের ধরিয়ে দিতে পুলিশি অভিযান জোরদার করতে নেপাল সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এর ফলে তিব্বতি শরণার্থীদের নেপালে প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
তবে নেপাল পুলিশের একজন মুখপাত্র এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এসব তথ্য ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, যারাই অবৈধভাবে নেপালে প্রবেশ করে. তাদেরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পরে গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের নেপালের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তিব্বতে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নির্যাতন এড়াতে প্রতিবছর সেখানকার অসংখ্য বাসিন্দা নেপালে পাড়ি জমায়। আগে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ও কাঠমান্ডু কর্তৃপক্ষের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক একটি চুক্তির আওতায় তাদের নেপালে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া হতো। পরে তাদের নেপাল থেকে ভারতে পৌঁছে দেওয়া হতো। ১৯৮৯ সালে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
তবে ২০০৮ সালে তিব্বতে সংঘটিত সহিংসতার পর থেকে নেপালে শরণার্থীদের আসা অনেক কমে যায়। ওই ঘটনার পর চীন সরকার সীমান্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে। সেই সঙ্গে শরণার্থীদের আসা ঠেকাতে নেপাল সরকারকে সতর্ক করে দেয়।

যুক্তরাজ্যে হামলার পরিকল্পনা জড়িত অভিযোগে ১২ জনকে গ্রেপ্তার

যুক্তরাজ্যে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জাতীয় সন্ত্রাস প্রতিরোধ অভিযানের একটি বিশেষ দল গতকাল সোমবার তাদের কার্ডিফ, স্টোক অন ট্রেন্ট এবং লন্ডন থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি রয়েছে। পুলিশ বলেছে, বড়দিনের উৎসব সামনে রেখে তারা গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় বোমা হামলার পরিকল্পনা করেছিল বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার করা ১২ জনের মধ্যে পাঁচজনকে কার্ডিফ থেকে, চারজনকে স্টোক অন ট্রেন্ট থেকে এবং তিনজনকে লন্ডন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের বয়স ১৭ থেকে ২৮ বছরের মধ্যে। নিজ নিজ বাসা অথবা বাসার কাছাকাছি এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন তাঁদের পরিবারের ঘরবাড়ি তল্লাশি করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের মধ্য লন্ডন, উত্তর-পশ্চিম মিডল্যান্ড এবং পশ্চিম মিডল্যান্ডের বিভিন্ন থানার হাজতে রাখা হয়েছে।
পুলিশ বলেছে, মেট্রোপলিটন পুলিশ ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার এবং জাতীয় সন্ত্রাস প্রতিরোধ সমন্বয়ক স্টুয়ার্ট অসবর্নের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়।
মেট্রোপলিটন পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার জন ইয়েটস বলেছেন, এটি একটি সুসংগঠিত ও সমন্বিত অভিযান ছিল। বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা এ অভিযানে অংশ নিয়েছেন। যাঁরা ধরা পড়েছেন, তদন্তের স্বার্থে তাঁদের নাম আপাতত ঘোাষণা করা হচ্ছে না।

মস্তিষ্কের শতাধিক রোগের নেপথ্যে

মস্তিষ্কের ১৩০টির বেশি রোগের কারণ হিসেবে কাজ করছে গুচ্ছাকারে থাকা আমিষ। গত রোববার গবেষণার মাধ্যমে এসব আমিষ আবিষ্কারের কথা দাবি করেছেন একদল বিজ্ঞানী। নেচার নিউরোসায়েন্স সাময়িকীতে তাঁদের এই গবেষণাবিষয়ক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। ব্রিটেনের ওয়েলকাম ট্রাস্ট স্যাঙ্গার ইনস্টিটিউটের গবেষকদের এই গবেষণাকাজে নেতৃত্ব দেন শেঠ গ্রান্ট।
বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, এই গবেষণা থেকে তাঁরা যে তথ্য পেয়েছেন, এতে আলঝেইমার, পারকিনসন্সসহ মস্তিষ্কের বেশ কিছু সমস্যার সঙ্গে ওই আমিষের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এ ছাড়া মৃগী রোগ এবং শিশুদের অটিজমের জন্যও এসব আমিষ দায়ী।
মানবমস্তিষ্ক হচ্ছে কোটি কোটি বিশেষায়িত স্নায়ুকোষের কেন্দ্র। এসব কোষ ‘সিনাপস’ নামে কোটি কোটি আন্তপথের মাধ্যমে পরস্পর সংযুক্ত। এসব সিনাপসের ভেতর কিছু আমিষ মিলে একটি আণবিক ক্রিয়া তৈরি করছে, যা পোস্ট-সিনাপটিক ডেসটিনি বা পিএসডি নামে পরিচিত। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই ক্রিয়া সিনাপসের কাজ ব্যাহত করছে, যা থেকে জন্ম নিচ্ছে জটিল রোগ এবং পরিবর্তন ঘটছে ব্যক্তির আচার-আচরণে। বিজ্ঞানীদের দাবি, তাঁরা যেসব পিএসডি পেয়েছেন, এতে এ পর্যন্ত এক হাজার ৪৬১টি আমিষ পাওয়া গেছে। এসব আমিষের প্রতিটি পৃথক জিনের মাধ্যমে সংকেতাবদ্ধ।
শেঠ গ্রান্ট বলেন, ‘আমরা ১৩০টির বেশি মস্তিষ্কের রোগের সন্ধান পেয়েছি, যেসব রোগের সঙ্গে পিএসডির সম্পর্ক রয়েছে।’ বিভিন্ন রোগীর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের সময় এসব পিএসডি আহরণ করা হয় বলে তিনি জানান।
গ্রান্ট দাবি করেন, ‘মস্তিষ্কের রোগের ব্যাপারে আমরা যা পেয়েছি, তা আশাতীত। মস্তিষ্কের রোগে আক্রান্ত কোটি কোটি মানুষের সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পিএসডি।
গবেষকেরা দাবি করেন, তাঁদের এই নতুন আবিষ্কার মস্তিষ্কের বিভিন্ন রোগ আরও ভালোভাবে শনাক্ত করার বেলায় যেমন কাজে লাগবে, তেমনই এসব রোগ নিরাময়ে সমাধান খুঁজে বের করতেও বেশ কাজ দেবে।

মেক্সিকোয় তেলের পাইপলাইনে বিস্ফোরণ, নিহত ২৮

মেক্সিকোয় তেলের একটি পাইপলাইনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কমপক্ষে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিস্ফোরণের পর পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও গাড়িতে আগুন ধরে যায়। অতিরিক্ত তাপে ওই এলাকার বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যবহূত ধাতব পদার্থ গলে বিকৃত রূপ ধারণ করে।
গত রোববার ভোরে মধ্যাঞ্চলীয় পুয়েবলা প্রদেশের সান মার্টিন টেক্সমেলিউকান শহরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর শত শত মানুষ বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার জন্য তেলচোরদের দায়ী করেছে।
প্রদেশের স্বরাষ্ট্রসচিব ভ্যালেনটিম মেনেসেস জানান, একটি অপরাধীচক্র পাইপলাইন ছিদ্র করে তেল চুরি করার সময় উচ্চচাপের কারণে তা ফেটে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ সময় রাস্তাঘাটে তেল ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে আগুন ধরে যায়। তখন সড়কগুলোকে আগুনের নদী বলে মনে হয়।
স্থানীয় লোকজন জানায়, ওই এলাকায় একটি চক্র তেল চুরি করে ট্রাকচালকদের কাছে বিক্রি করে। এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় ৫২ জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া ৩২টি বাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে।
প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো ব্লেক জানান, তিনি উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শন করেছেন। নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।
নিহতদের মধ্যে ১২ জন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া একই পরিবারের সবাই মারা যাওয়ার ঘটনাও রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ফেলিপে ক্যালডেরন নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। এ ঘটনার তদন্ত করা হবে বলে তিনি অঙ্গীকার করেন।

অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি করা হবে: বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ একজন ‘উচ্চপ্রযুক্তি ব্যবহারকারী’ সন্ত্রাসী। মার্কিন কূটনীতির গোপন নথি প্রকাশ করায় তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এনবিসি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাইডেন এসব কথা বলেছেন।
এর আগে অ্যাসাঞ্জ নিজেই আশঙ্কা করছিলেন, তাঁকে ওয়াশিংটনের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরেও বলা হয়, মার্কিন কৌঁসুলিরা অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। অবশেষে এ আশঙ্কা সত্যি হতে যাচ্ছে।
এই প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষপর্যায় থেকে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলো। এনবিসির মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে বাইডেন বলেন, ‘এই লোকটা (অ্যাসাঞ্জ) সারা বিশ্বে মার্কিনদের জীবন ও জীবিকা ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। আমাদের মিত্র ও বন্ধুদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক অব্যাহত রাখা দুরূহ করে তুলেছে।’
সুইডেনে দুই নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অ্যাসাঞ্জকে (৩৯) লন্ডনে গ্রেপ্তার করা হয়। লন্ডন কারাগার থেকে ১৬ ডিসেম্বর জামিনে মুক্তি পান অ্যাসাঞ্জ। তিনি বর্তমানে পূর্ব লন্ডনে এক বন্ধুর বাড়িতে আছেন। ওই বাড়িতেই তাঁকে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মুক্তির এক দিন পর ওই বাড়িতে বসেই সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় ঝুঁকি, যে ঝুঁকিটা নিয়ে আমরা সব সময় উদ্বিগ্ন, আমাকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তুলে দেওয়া হতে পারে। এই ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি এবং দিনে দিনে তা বাড়ছে।’
তাঁর বিরুদ্ধে আনা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ বরাবরই ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছেন অ্যাসাঞ্জ।
মার্কিন কূটনীতিকদের হাজার হাজার গোপন নথি প্রকাশ করে এরই মধ্যে সারা বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে উইকিলিকস। এতে অ্যাসাঞ্জ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোপানলে পড়েন। তাঁকে এসব গোপন নথি প্রকাশে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে ব্যর্থ হয়েছে ওয়াশিংটন। অ্যাসাঞ্জের এক কথা, জেল-ফাঁসি যা-ই হোক, সত্য তথ্য বিশ্ববাসীকে জানাতে হবে। এ কাজে পিছপা হবেন না তিনি। শত প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মার্কিন গোপন নথি প্রকাশ করে যাবেন তিনি।
অ্যাসাঞ্জকে রুখতে এবার কৌশল পাল্টাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষকদের বরাত দিয়ে এর আগে ওয়াশিংটন পোস্ট-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গুপ্তচরবৃত্তি অথবা এ রকম অন্য কোনো আইনে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে মামলা করা হতে পারে। তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিচার করা হতে পারে।’
গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে অ্যাসাঞ্জকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে।
অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে বাইডেন বলেন, ‘আমরা এখনো বিচার-বিশ্লেষণ করছি।

পাকিস্তানকে উড়িয়ে ফাইনালে ভারত

সাফ মহিলা ফুটবলের প্রথম সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দিল ভারত। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বলে যেটুকু উত্তেজনা ছিল শুরুর আগে, সেটা ম্যাচ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই শেষ। প্রথমার্ধেই পাকিস্তান হজম করে বসে ৭ গোল। ম্যাচটা ‘কোমায়’ চলে গেছে এর আগেই।
কাল সাইড বেঞ্চের দলটাকেই খেলিয়েছেন ভারতের কোচ মোহাম্মদ শহীদ জব্বার। বিশ্রাম দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ খেলোয়াড়কে। দ্বিতীয়ার্ধে উঠিয়ে নেওয়া হয় সাসমিতা ও বালা দেবীকেও। তবে এর আগেই যা করার করে ফেলেছেন দুজন। বালা টুর্নামেন্টে তাঁর দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক করে টুর্নামেন্টে তাঁর গোলসংখ্যা বাড়িয়ে নেন আটে। সাসমিতাও করেছেন ১টি গোল। ১৩ গোল করে এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা ওডিশার এই তরুণী। ২টি গোল করেছেন গায়ত্রী। মন্দাকিনী ও মনপ্রিত ১টি করে।
ফাইনালে উঠে দারুণ খুশি ভারতের কোচ, ‘কত ব্যবধানে জিতলাম, সেটা বড় ব্যাপার নয়। আমার প্রথম লক্ষ্য ছিল জয়। জিতেছি, তাতেই খুশি।’ আর পাকিস্তানের কোচ তারিক লুতফি ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বললেন পুরোনো কথাই, ‘ভারত পেশাদার দল। এই উপমহাদেশের সেরা দল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ওদের বিপক্ষে খেলাটা আমাদের মেয়েদের জন্য ভালো অভিজ্ঞতা হলো।’ অধিনায়ক সানা মাহমুদ আট গোলে হেরেও তৃপ্তির জায়গা খুঁজে পাচ্ছেন, ‘নেপালের চেয়ে ভারত অবশ্যই ভালো দল। নেপালের কাছে আমরা ১২ গোল খেয়েছি, আর ভারতের কাছে ৮ গোল। তাই বলতে হবে এই ম্যাচে ভালো করেছি আমরা।’ আট গোল খেলেও চোখে পড়েছে পাকিস্তানি গোলরক্ষক সায়েদা মাহাপারার খেলা। দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর কারণেই ভারত এক গোলের বেশি দিতে পারেনি। টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছেন মাহাপারা।

ইনিংসেই হারল ভারত

আগের দিন শচীন টেন্ডুলকারের ৫০তম টেস্ট সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরিয়ন টেস্ট নিয়ে আগ্রহ ছিল কেবল একটিই, ভারত ইনিংস পরাজয় এড়াতে পারে কি না। লজ্জা এড়াতে প্রয়োজন ছিল ৩০ রান, টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলটি করতে পেরেছে মাত্র ৫। শেষ ২ উইকেট তুলে নিতে দক্ষিণ আফ্রিকার লেগেছে মাত্র ৩৫ বল। ইনিংস ও ২৫ রানে জিতে সিরিজে ১-০-তে এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারতের সর্বশেষ ইনিংস পরাজয়টিও ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেই, গত ফেব্রুয়ারিতে নাগপুরে তারা জিতেছিল ইনিংস ও ৬ রানে।
ভারতকে হারাতে পারলেও টেন্ডুলকারকে হারাতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। ইতিহাস গড়ার ইনিংসটিতে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছেড়েছেন ব্যাটিং-বিস্ময়। দারুণ দুটি বাউন্সারে শ্রীশান্ত ও জয়দেব উনাদকরকে আউট করে ভারতের ইনিংস শেষ করে দিয়েছেন ডেল স্টেইন ও মরনে মরকেল।
দুই দলের প্রথম ইনিংসের পরই ম্যাচের ভাগ্য ঠিক হয়ে গিয়েছিল বলে ধারণা মহেন্দ্র সিং ধোনির। ভারতকে ১৩৬ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংস ঘোষণা করে ৪৮৪ লিড নিয়ে। ব্যাটসম্যানরা দ্রুতই সামলে নিয়েছেন, ভারত অধিনায়কের মূল দুশ্চিন্তা বোলিং নিয়ে, ‘এ ধরনের পিচে উইকেট নিতে না পারলেও ব্যাটসম্যানদের অন্তত দ্রুত রান করতে দেওয়া যাবে না। কিন্তু আমরা কোনোটাই পারিনি। বোলিংটা নিয়ে ভাবতে হবে।’
স্মিথ আবার প্রথম ইনিংসের চেয়ে তাঁর বোলারদের দ্বিতীয় ইনিংসের বোলিং দেখেই বেশি খুশি, ‘প্রথম ইনিংসে কন্ডিশনটা বোলিং উপযোগী ছিল, কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে উইকেট অনেক সহজ হয়ে এসেছিল। ভারতও শুরুটা দারুণ করেছিল। আমাদের বোলারদের জন্য এই ইনিংসটা ছিল বড় এক পরীক্ষা, পরীক্ষায় তারা ভালোভাবেই উতরে গেছে।’ ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির সঙ্গে ম্যান অব দ্য ম্যাচের রেকর্ডটা ২১-এ নিয়ে গেছেন জ্যাক ক্যালিস, এই টেস্টেই শততম উইকেট পাওয়ার জন্য পল হ্যারিস ও মরকেল পেয়েছেন স্মারক ট্রফি।

নিউজিল্যান্ডের নতুন কোচ রাইট

ভারত সফরের পর থেকে যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, সত্যি হলো সেটাই। মার্ক গ্রেটব্যাচকে সরিয়ে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের কোচ করা হয়েছে জন রাইটকে। ভারত সফরের বিপর্যয় পর্যলোচনা করার জন্য গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট নিউজিল্যান্ড।
অধিনায়ক হিসেবে টিকে গেলেও ওই কমিটির সুপারিশেই খর্ব করা হয়েছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের ‘সর্বেসর্বা’ ড্যানিয়েল ভেট্টোরির ক্ষমতা। এখন থেকে আর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচক প্যানেলে থাকছেন না ভেট্টোরি। গ্রেটব্যাচের বিদায়টা কিন্তু একেবারে অসম্মানজনক হয়নি। নির্বাচক কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে তাঁকে। তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটির বাকি দুই সদস্য সাবেক ওপেনার গ্লেন টার্নার ও অলরাউন্ডার ল্যান্স কেয়ার্নস।
রাইটকে দিয়ে গত দুই বছরে চারজন কোচ দেখছে নিউজিল্যান্ড জাতীয় দল। দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকার পর ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে সরে দাঁড়ান জন ব্রেসওয়েল, এরপর বছর খানেক ছিলেন অ্যান্ডি মোলস। খেলোয়াড়-বিদ্রোহে মোলসের বিদায়ের পর গ্রেটব্যাচ দায়িত্ব নিয়েছিলেন গত জানুয়ারিতে। বাংলাদেশ ও ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর গ্রেটব্যাচকে সরিয়ে দেওয়াটা প্রায় অবধারিতই ছিল। নতুন দায়িত্ব নিয়ে ৫ বছর পর আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোচ হিসেবে ফিরছেন রাইট। ভারতের কোচ হিসেবে ৫ বছর সফলভাবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা আছে সাবেক কিউই অধিনায়কের। ভারতীয় ক্রিকেটের পালাবদলের কৃতিত্ব অনেকেই দেন সৌরভ গাঙ্গুলীর সঙ্গে তাঁর জুটিকে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৬ ডিসেম্বর টি-টোয়েন্টি দিয়েই শুরু হতে যাচ্ছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটে রাইট-যুগ, চুক্তি অনুযায়ী দায়িত্বে থাকবেন ২০১২ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর পর্যন্ত। তবে তাঁর প্রথম কাজ হবে টানা ১১টি ওয়ানডে হারা দলকে বিশ্বকাপের আগে জয়ের রাস্তায় ফেরানো। ২০০৩ বিশ্বকাপের আগে একই অবস্থা ছিল ভারতীয় দলের। সেই অভিজ্ঞতাই আশাবাদী করছে রাইটকে, ‘আমি জানি, এটা বড় একটা চ্যালেঞ্জ। তবে আমি রোমাঞ্চিত। আমার কিছু অসমাপ্ত কাজ আছে, কোচ হিসেবে নিজের আরও পরীক্ষা নিতে চাই। আমি জানি, আমাকে এগোতে হবে ছোট পদক্ষেপে। আমাদের ওয়ানডে দলটির অনেক সম্ভাবনা আছে। কিন্তু মূল কাজ হলো ধারাবাহিক হওয়া, ক্রিকেটারদের ফর্ম ও আত্মবিশ্বাস খুঁজে পেতে সাহায্য করা। আত্মবিশ্বাস একেবারে তলানিতে থাকা একটি দলকে নিয়ে বিশ্বকাপে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আমার আছে।

বাজল বিশ্বকাপের ঢোল

কারও প্ল্যাকার্ডে লেখা ‘ক্যাচ দ্য স্পিরিট’, কারোটায় ‘কাপ কিন্তু একটাই’। অনেকেই ওড়ালেন লাল-নীল পতাকা। সামনের বড় ব্যানারটিতে লেখা, ‘ক্যাচ বাংলাদেশ ক্যাচ’। বিশ্বকাপের মাসকট হস্তীশাবক ‘স্টাম্পি’ জীবন্ত হয়ে হেঁটে চলল সবার আগে, পেছনে ঘোড়ার গাড়ির ছোটখাটো বহর। ঢোল-বাদ্যিতে ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ গানের সুর তুলে পুরো উৎসবে আবহসংগীত বাজিয়ে চলল ব্যান্ড দল।
বিশ্বকাপের উন্মাদনা গোটা দেশে ছড়িয়ে দিতে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশব্যাপী হবে ‘ক্যাচ বাংলাদেশ ক্যাচ’ রোড শো। বিশ্বকাপের ঠিক দুই মাস আগে বেলুন উড়িয়ে সেটিরই উদ্বোধন হলো কাল বিকেলে। এর আগে জাতীয় ঈদগাহ মাঠের গেট থেকে পল্টন ময়দান পর্যন্ত হেঁটে চলল ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থা আয়োজিত ওই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় পল্টন-প্রেসক্লাব এলাকায় মানুষ যানজটেও নাকাল হলো বেশ। তবে সবাই এতে কেবল বিরক্তই হয়েছেন বলা যাবে না। ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা পথিক কিংবা যানজটে আটকে পড়া বাসের যাত্রী তাহলে কেন মোবাইলের ক্যামেরায় তুলতে চাইবেন বিশ্বকাপ পদযাত্রার ছবি?
শোভাযাত্রা শেষে পল্টন ময়দানে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা হলো রোড শোর। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিসিবির সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল রোড শোর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করলেন, ‘বিশ্বকাপ আয়োজনে দেশের সব মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। সারা দেশে ক্রিকেটকে আরও জনপ্রিয় করতে হবে। সে লক্ষ্যেই রোড শোর ব্যবস্থা।’ অনুষ্ঠানে আরও অনেকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহিদ আহসান রাসেল, বিশ্বকাপের স্থানীয় আয়োজক কমিটির (এলওসি) আহ্বায়ক দেওয়ান শফিউল আরেফীনসহ বিসিবি ও ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা।
রোড শোর বাড়তি আকর্ষণ ছিল দর্শকদের অংশগ্রহণে ক্যাচ নেওয়ার প্রতিযোগিতা এবং ব্যান্ড দল লালনের সংগীত পরিবেশন। আজ রোড শোটি ঢাকা থেকে দুটি রুটে রাজশাহী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশে রওনা দেবে। এভাবে সেটি বিশ্বকাপের প্রচারণা চালাবে সারা দেশেই।
রোড শোর মধ্যেই আগামী ১ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে একযোগে বিক্রি শুরু হবে বিশ্বকাপের টিকিট। সিটি ব্যাংকের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করবে মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠান মানিগ্রাম। তবে যেখানে সিটি ব্যাংকে মানিগ্রামের কার্যক্রম নেই, সেখানে বিকল্প ব্যবস্থা হবে। কাল এলওসির সভা শেষে বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস জানিয়েছেন, আগামী ২৭-২৮ ডিসেম্বর সিটি ব্যাংকের কোন কোন শাখায় টিকিট বিক্রি হবে, সে ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। কিছুদিন আগে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভেন্যু পরিদর্শন করে যাওয়া আইসিসির প্রতিনিধিদলের প্রতিবেদন নিয়েও আলোচনা হয়েছে এলওসির সভায়। ভারত ও শ্রীলঙ্কার তুলনায় বাংলাদেশের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়ে নাকি সন্তোষই প্রকাশ করেছে আইসিসির লোকজন। ছোট্ট যে দুটি পরামর্শের কথাও জানা গেল। ফ্লাডলাইট জ্বালানোর জন্য বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা রাখা এবং মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের একটি সাইট স্ক্রিন আরেকটু পেছনে সরানো।
বিশ্বকাপ রোড শো শুরুর দিনে আইসিসির সন্তোষটাও বোধ হয় একটা সুখবর।

আজই বাংলাদেশের ‘ফাইনাল’

কক্সবাজারের বিডিআর মাঠটা এক টুকরো সবুজের গালিচা। সারি সারি নারকেলগাছে ঘেরা ছোট্ট মাঠে অনুশীলনে আসার কথা বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দলের। সেই অপেক্ষায় ঢাকা থেকে আসা জনা বিশেক সাংবাদিক। দুই দফা সময় বদলে অবশেষে লাল-সবুজ জার্সি পরে বেলা দেড়টায় এল মহিলা দল। হাসি ফুটল সাংবাদিকদের মুখে। শুধু এই বিশ জন সাংবাদিক নন, আজ সারা দেশের ফুটবল অনুরাগীদের মুখেই হাসি ফোটানোর দায়িত্ব এই মেয়েদের। নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জিতে তা কি ফোটাতে পারবেন সাবিনা, অম্রা, সুইনু প্রুরা?
এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে যা খেলা হয়েছে, তাতে নেপালকেই একটু এগিয়ে রাখতে হয়। তবে বাংলাদেশের পক্ষে আছে নিজেদের মাঠ ও দর্শক সমর্থন। তবে সেটি কি আবার উল্টো চাপও নয়? স্ট্রাইকার অম্রা চিং মারমা প্রশ্নটাকে উড়িয়ে দিতে চাইলেন। চুইংগাম চিবাতে চিবাতে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বললেন, ‘না। চাপ কিসের?’
তবে সেমিফাইনালটা যে জীবন-মরণ পরীক্ষা, সেটি বুঝিয়ে দিলেন পরের কথাতেই, ‘যে করেই হোক, এই ম্যাচটা আমাদের জিততেই হবে। ভারতের সঙ্গে আমরা ভালো খেলতে পারিনি, এটা সত্যি। তবে এই ম্যাচে অবশ্যই ভালো খেলার চেষ্টা করব।’ আরেক স্ট্রাইকার সাবিনা ফাইনালের স্বপ্ন পূরণে করণীয়টাও বলে দিলেন, ‘ওদের অনু লামা ও যমুনা বিপজ্জনক খেলোয়াড়। এ দুজনকেই আটকাতে হবে আমাদের।’ কোচ গোলাম রব্বানীরও ভয় ওই দুজনকে নিয়েই, ‘ওদের কড়া মার্কিংয়ে রেখে নেপালকে নিষ্ক্রিয় করতে চাই। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, এটাই আমাদের কাছে ফাইনাল ম্যাচ।’সকালে পুলিশ লাইন মাঠে ঘণ্টা খানেকের অনুশীলন শেষে দুপুরে জেলা স্টেডিয়ামে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে এল নেপাল দল। মাঠে গোল করায় যেমন নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলকে, তেমনই টিম বাস থেকেও সবার আগে নামলেন অনু লামা ও যমুনা। টুর্নামেন্টে টানা তিন হ্যাটট্রিকসহ ১০ গোল করেছেন অনু লামা। বলে দিলেন, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষেও হ্যাটট্রিক করতে চাই।’ যমুনারও একটি হ্যাটট্রিক আছে, গোল করেছেন ৮টি। তাঁর কথা শুনে তো মনে হলো ফাইনাল নিয়ে ভাবতে শুরু করে দিয়েছেন, ‘বাংলাদেশ নিয়ে ভাবছি না। গোল করে দলকে ফাইনালে ওঠাতে চাই।’
গত এসএ গেমসে এই যমুনার গোলেই গ্রুপ ম্যাচে নেপালের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই নেপালের চেয়ে গতিতে, কৌশলে, অভিজ্ঞতায় অনেক এগিয়ে এই নেপাল। আর বাংলাদেশ বাস্তবতা বুঝেছে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে। নেপালের কোচ ধ্রুব বাহাদুর অবশ্য প্রশংসাই করলেন বাংলাদেশকে, ‘বাংলাদেশ ভালো দল। ওদের বেশ কয়েকজন ভালো খেলোয়াড় আছে। তা ছাড়া স্বাগতিক হিসেবেও এগিয়ে থাকবে ওরা। চেষ্টা করব আমাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলে ম্যাচ বের করে নিয়ে যেতে।’এসএ গেমসে হারের বদলা, নাকি আবারও হার? উত্তরের জন্য না হয় আর কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষাতেই থাকুন।

বিসিবির অধিনায়ক-ভাবনা

মাশরাফি বিন মুর্তজা নাকি সাকিব আল হাসান—ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন কে? এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা এখন শুধু জাতীয় কৌতূহল নিবারণের জন্যই নয়, ২০১১ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের ভালোমন্দের বিবেচনায়ও জরুরি। অথচ বিসিবি সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল কাল চমকে যাওয়ার মতো তথ্যই দিলেন—বিশ্বকাপের অধিনায়কত্ব নিয়ে নাকি বোর্ডে এখনো আলোচনাই হয়নি!
‘বোর্ডে আমরা এটা নিয়ে আলোচনা করিনি এখনো। আলোচনা করার কোনো প্রয়োজনই মনে করিনি। যখন প্রয়োজন হবে আলোচনা করব’—কাল পল্টন ময়দানে বিশ্বকাপের রোড শো উদ্বোধন শেষে বলেছেন বিসিবির সভাপতি। বিশ্বকাপের অধিনায়ক নির্বাচনের কাজটা বোর্ডের জন্য স্পর্শকাতর হয়ে পড়েছে কি না—প্রশ্নের জবাবেই কথাটা বললেন তিনি। তাঁর ঠিক পেছনেই দাঁড়ানো বিসিবির সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুবুল আনামও সমর্থনসূচক মাথা নাড়লেন, ‘একদমই না। আমরা জানি আমরা কী করছি...।’ কাল বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের নির্ধারিত সভাটি শুরু হয়ে মাত্র ১০-১৫ মিনিট পরই মুলতবি হয়ে গেছে। তবে সভার আলোচ্যসূচিতে অধিনায়ক প্রসঙ্গটি ছিলই না। মুলতবি সভা হবে ২৭ ডিসেম্বর, সেদিনও নাকি এটা নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা নেই।
বিশ্বকাপের অধিনায়ক প্রশ্নে বিসিবি পরিচালকদের মধ্যে পরিষ্কার মতভেদ আছে। একটা অংশ মনে করে নেতৃত্বভার সাকিবের হাতেই থাকা উচিত। কারণ মাশরাফির অনুপস্থিতিতে সাকিব সফলভাবেই নেতৃত্বভার সামলেছেন। তা ছাড়া ইনজুরিপ্রবণ মাশরাফিকে অধিনায়কত্বের বাড়তি ভার না দেওয়ার বিবেচনাও আছে। আরেকটা পক্ষ আবার মাশরাফিকেই চায়। তাদের চোখে সাকিব ছিলেন ‘আপৎকালীন’ অধিনায়ক।
একটা চাপা গুঞ্জনও আছে। অধিনায়কত্বের প্রশ্ন নাকি ঝুলে আছে আবাহনী-মোহামেডানের অদৃশ্য লড়াইয়ে! ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট অনেকের মুখেই শোনা যায়, বেশির ভাগ পরিচালক সাকিবকে অধিনায়ক করার পক্ষে হলেও বোর্ড সভাপতি আবাহনীর লোক বলে তিনি আবাহনীর খেলোয়াড় মাশরাফিকে অধিনায়ক করতে চান। অভিযোগটা অবশ্য কাল উড়িয়েই দিয়েছেন মোস্তফা কামাল। তাঁর সঙ্গী হয়ে মিডিয়ার সামনে আসা মাহবুবুল আনাম আবার মোহামেডান কর্মকর্তাও। অন্যসব প্রসঙ্গের মতো এখানেও তিনি সভাপতির সঙ্গে সুর মেলালেন।
তাহলে অধিনায়ক ঘোষণায় দেরি কেন? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া একটু কঠিন হলো, কারণ বিশ্বকাপের মাত্র দুই মাস আগেও অধিনায়ক নিয়ে অনিশ্চয়তাকে কোনো ব্যাপারই মনে করছে না বোর্ড! বিসিবি সভাপতি তো দুই দফায় পাল্টা প্রশ্নই করলেন—
বিশ্বকাপের অধিনায়কের ব্যাপারে দেরি হয়ে গেল কি না জানি না, আপনারাই ভালো বলতে পারবেন। আগামীকাল খেলা আছে নাকি?
কোন দেশের অধিনায়ক ঠিক হয়েছে আপনারাই বলেন। পাকিস্তান দলের অধিনায়ক কে? অধিনায়ক দিলে কী কাজটা হবে আমাকে বলেন?
পেছন থেকে মাহবুবুল আনাম উপসংহার টানতে চেয়েছেন, ‘সময় হলেই আমরা অধিনায়ক ঘোষণা করব।’
আগামী ১৯ জানুয়ারির মধ্যে বিশ্বকাপের জন্য ১৫ জনের চূড়ান্ত দল জমা দিতে হবে আইসিসির কাছে। বোর্ড সভাপতি জানিয়েছেন, তার আগেই অধিনায়ক ঠিক করা হবে, ‘আমরা একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। যথাসময়ে অধিনায়কের নাম ঘোষণা করা হবে। আগে আমাদের দল ঠিক করতে হবে। আমাদের হাতে তো এখনো চূড়ান্ত দলই নেই।’ কিন্তু আগে দল পরে অধিনায়ক মানেই তো দল নির্বাচনে অধিনায়কের মতামত না থাকা! এই প্রশ্নের উত্তরে বোর্ড সভাপতি ঠিক কী বলতে চাইলেন বোঝা গেল না, ‘অধিনায়কের মতামত অবশ্যই থাকবে। আগে দল হবে। পরে অধিনায়ক।’
তবে মোস্তফা কামাল যেন এটাও বোঝাতে চাইলেন, বিশ্বকাপের অধিনায়ক নির্বাচন একটু কঠিনই হয়ে দাঁড়িয়েছে, ‘কিছু জায়গা আছে খুব স্পর্শকাতর। সেখানে আবেগ কাজ করবে না, পেশাদার হতে হবে। কেউ এসে বলল, আমার দরকার (অধিনায়কত্ব) নেই। আমি নেব না, এটা ও রকম ব্যাপার না। এটা সিরিয়াস ইস্যু। পুরো জাতি এখানে সম্পৃক্ত। সবাইকে বুঝিয়ে, সবার সমর্থন নিয়ে করা কঠিন কাজ।’ বোর্ড সভাপতির কথা শুনে এমন মনে হওয়াও স্বাভাবিক, বাংলাদেশ দলে অধিনায়ক হওয়ার মতো খেলোয়াড়ের খুব অভাব, ‘আমাদের অধিনায়ক হওয়ার মতো ও রকম ক্রিকেটার থাকলে এই প্রশ্ন উঠত না। সাকিবকে দিয়ে আমরা এত দিন করিয়েছি, মাশরাফি ছিল না বলেই করিয়েছি।’
অধিনায়ক ‘সংকটের’ কথা বলতে গিয়ে জাতীয় দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বোর্ড সভাপতি। নিউজিল্যান্ড-জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জিতলেও দলের সার্বিক পারফরম্যান্সকে সন্তোষজনক মানতে রাজি নন তিনি।

মেলবোর্নে ঘুরে দাঁড়াতে চায় ইংল্যান্ড

২৬ ডিসেম্বর মেলবোর্নে শুরু হচ্ছে ‘বক্সিং ডে টেস্ট’ অর্থাৎ ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার চলমান অ্যাশেজ সিরিজের চতুর্থ লড়াই। পার্থ টেস্টে পরাজয়ের ধাক্কা সামলাতে এই মুহূর্তে রীতিমতো হিমশিম অবস্থা ইংলিশদের। প্রথম দুই টেস্টে চমত্কার ব্যাটিং পারফরম্যান্সের পর পার্থে সেই একই ব্যাটসম্যানদের যাচ্ছেতাই খেলা ভাবিয়ে তুলেছে ইংল্যান্ড দলকে। দলের সিদ্ধান্ত, এই মুহূর্তে অ্যাশেজ প্রত্যাশাকে আবার জাগিয়ে তুলতে দলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের বিকল্প নেই।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইয়ান বেলকে ব্যাটিং অর্ডারের পাঁচ নম্বরে তুলে নিয়ে আসতে চাইছেন ইংল্যান্ড কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ইয়ান বেলের বর্তমান ফর্ম। বেল এই মুহূর্তে যে ফর্মে রয়েছেন, সেখানে পরে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে অযথাই তাঁকে অপচয় করতে চাইছেন না কোচ ফ্লাওয়ার। ইয়ান বেল পার্থে ইংল্যান্ডের চরম ব্যাটিং ব্যর্থতার মাঝেও ৫৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। তিনি চমত্কার ব্যাটিং ফর্মের স্বাক্ষর রাখলেও বাকি ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় তিনি দলকে সেভাবে সাহায্য করতে পারেননি। ইয়ান বেল পাঁচ নম্বরে উঠে এলে অবধারিতভাবেই জায়গা হারাবেন পল কলিংউড। ফর্মের বিচারে ইয়ান বেলের ঠিক উল্টো জায়গাতেই দাঁড়িয়ে তিনি।
দলের বোলিংয়েও কিছু পরিবর্তন আনার চিন্তাভাবনা করছে ইংলিশ ম্যানেজমেন্ট। তবে বোলিং লাইন-আপে পরিবর্তন আনার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছেন ফ্লাওয়ার।
তবে সবকিছু ছাপিয়ে ব্যাটিং নিয়েই বেশি চিন্তিত ইংল্যান্ড। আরও নির্দিষ্ট করে বললে পল কলিংউডের ফর্মহীনতা আরও বেশি করে ভোগাচ্ছে দলকে। গত মার্চে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচটির পর কলিংউডের পারফরম্যান্স বলতে গেলে নেইই। অ্যাশেজ সিরিজ শুরু হওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ায় ট্যুর ম্যাচগুলোতে দুটো নব্বইয়ের ঘরে স্কোর রয়েছে তাঁর, একাদশের ছিলেন গত তিনটি টেস্টে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
পল কলিংউডের পাশাপাশি তরুণ বোলার স্টিভ ফিনের পারফরম্যান্সেও স্বস্তিতে নেই ইংল্যান্ড দল। ২১ বছর বয়সী এই বোলার অ্যাশেজ সিরিজের চাপের কাছে ভেঙে পড়েছেন বলেই মনে করে টিম ম্যানেজমেন্ট। তা ছাড়া টুকটাক ইনজুরি সমস্যাও রয়েছে। ফিনকে এই মুহূর্তে বিশ্রাম দেওয়ার চিন্তা বেশ ভালোভাবেই রয়েছে ইংলিশ থিঙ্ক ট্যাংকের। ফিনের জায়গায় দলে আজমল শেহজাদের ঢুকে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে মেলবোর্নে।
কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার চাপটা ভালোই টের পাচ্ছেন। ব্রিসবেনে চমত্কার খেলে ড্র আর অ্যাডিলেডে জয় ইংলিশ দলের আত্মবিশ্বাস অনেক ওপরে নিয়ে গেলেও মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানেই পার্থে বাজে পরাজয় সেই দলটিকেই অন্যমাত্রায় নিয়ে গেছে। অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারও মনে করেন, অ্যাশেজ সিরিজে অনেক কিছুই ভালোভাবে চললেও পার্থের বাজে পরাজয়ই ইংল্যান্ড দলকে একটু ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে। তবে তিনি সব শেষ হয়ে গেছে বলে মনে করতে নারাজ। অ্যান্ডির ধারণা, এমনিতেই সবকিছু ঠিক থাকলেও পার্থের পারফরম্যান্সের কারণে এই মুহূর্তে একটু নড়েচড়ে বসতে হয়েছে। তাঁর মতে, অ্যাশেজ ঘরে নিয়ে যেতে হলে ভালো পারফরম্যান্সের বিকল্প নেই। আর পুরো ইংলিশ দল এই মুহূর্তে মেলবোর্নে ঘুরে দাঁড়িয়ে ভালো পরফর্ম করার মন্ত্রেই জপে যাচ্ছে

ওয়ানডেতে ফিরলেন শচীন

সর্বশেষ খেলেছেন গত ফেব্রুয়ারিতে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেই ম্যাচে ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকেন শচীন টেন্ডুলকার। দীর্ঘ ১১ মাস পর ওয়ানডে ক্রিকেটে ফিরলেন ভারতের এই লিটল মাস্টার। কাকতালীয় হলেও প্রতিপক্ষ সেই একই, দক্ষিণ আফ্রিকা।
রয়টার্স জানায়, বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শেষ সিরিজের জন্য ১৬ সদস্যের পূর্ণশক্তির দল ঘোষণা করেছেন ভারতীয় নির্বাচকেরা। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে ছিলেন না শচীনসহ অধিনায়ক ধোনি, বীরেন্দর শেবাগ ও হরভজন সিং। আসছে সিরিজে ফিরিয়ে আনা হয়েছে সবাইকেই। আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় এ সিরিজে পাঁচটি ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
ভারতীয় দল: মহেন্দ্র সিং ধোনি (অধিনায়ক), বীরেন্দর শেবাগ, গৌতম গম্ভীর, শচীন টেন্ডুলকার, বিরাট কোহলি, সুরেশ রায়না, যুবরাজ সিং, হরভজন সিং, জহির খান, আশীষ নেহরা, প্রাভিন কুমার, মুনাফ প্যাটেল, রবীচন্দ্র অশ্বিন, ইউসুফ পাঠান, পিযূষ চাওলা ও শ্রীশান্ত।

ব্যক্তির স্বাধীনতা হরণ ও মর্যাদাহানির পরিণাম কখনই শুভ হয় না

ণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা আমাদের আরাধ্য শুধু নহে, ইহা লইয়া আমরা গর্বও করিয়া থাকি। গর্ব করার যৌক্তিক কারণও রহিয়াছে। মানবসভ্যতার বিকাশের ধারায় অদ্যাবধি আমরা যতো প্রকার শাসন ব্যবস্থা দেখিয়াছি তন্মধ্যে গণতন্ত্রকে উত্তম বা অধিকতর গ্রহণযোগ্য বলিয়া বিবেচনা করা হয়। গণতন্ত্র সরাসরি মানুষের অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের মতো মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা বিধান করে না, তথাপি গণতন্ত্রের প্রতি এতোটা পক্ষপাত কেন_সেই প্রশ্ন উঠিতেই পারে।

আলোচনা- ঘুষ ও লুটপাট উভয়ের বিরুদ্ধে একই সাথে লড়তে হবে by মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ক্ষেত্র কোন্টি, সম্প্রতি তা নিয়ে আবার বেশ জোরালো তর্ক উঠেছে। দিন দশেক আগে দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ক্ষেত্রগুলোকে চিহ্নিত করে একটি জরিপ রিপোর্ট প্রচার মাধ্যমে বেশ ফলাও করে প্রকাশ ও প্রচারিত হয়েছে। রিপোর্টটিতে বলা হয়েছে যে_ পুলিশ, জনপ্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও বিচার বিভাগে দুর্নীতি হলো সবচেয়ে প্রবল। তার মধ্যে আবার সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত হলো পুলিশ বিভাগ।

আলোচনা- সুনীতি ও সুশাসন by আফতাব চৌধুরী

স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের ৩৯ বছর পূর্ণ হলো। প্রতি বছরই স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে আমরা হিসাব মিলাই। কীসের হিসাব, না প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির জমা খরচ। এ হিসাব কোনদিনই কড়ায় ক্রান্তিতে মিলে না। জানি তবুও ক্ষেপার পরশ পাথর খোঁজার মতোই সেস্নটে ঢ্যাড়া কাটি। ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে সে ঐতিহাসিক 'ট্রিস্ট উইথ ডেস্টিনি'র মুখস্ত হয়ে যাওয়া লাইনগুলো আবার পড়ি।

আমি কেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের পক্ষে by জেমিমা খান

মি কেন একজন অভিযুক্ত ধর্ষকের জামিনের জন্য অর্থের যোগানের প্রস্তাব করব বিশেষ করে যার সাথে আমার কখনো সাক্ষাৎ হয়নি? এমনকি আমার মা এ প্রশ্ন আমাকে করেছেন যখন আমি জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের জন্য আদালতে হাজির হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ঐ সকালে আপনি তাঁর গ্রেপ্তারের খবর পড়বার পর আমি কোন পূর্ব বিবেচনা ছাড়াই ইমেইলে অ্যাসাঞ্জের আইনজীবী থার্ক স্টিফেনের কাছে একটি বার্তা পাঠাই। তিনি তাড়াতাড়ি আমার বার্তায় সাড়া দিয়ে জিজ্ঞাসা করেন আপনি কি এক ঘন্টা মধ্যে আদালতে অ্যাসাঞ্জের জামিনদার হিসাবে উপস্থিত হতে পারবেন।