Monday, August 22, 2011

মসজিদে ইতিকাফের গুরুত্ব ও ফজিলত by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

মাহে রমজানের শেষ দশ দিন মসজিদে অবস্থান বা ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদায়ে কিফায়া। আরবি ইতিকাফ শব্দের আভিধানিক অর্থ অবস্থান করা, স্থির থাকা, কোনো স্থানে আটকে পড়া বা আবদ্ধ হয়ে থাকা। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় রমজান মাসের শেষ দশ দিন অথবা অন্য কোনো দিন জাগতিক কাজকর্ম ও পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ইবাদতের নিয়তে মসজিদে বা ঘরে নামাজের স্থানে অবস্থান করা ও স্থির থাকাকে ইতিকাফ বলে। ইতিকাফ করার মূল উদ্দেশ্য হলো—মসজিদে বসে আল্লাহর আনুগত্য করা। সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ লাভের আশা করা, সওয়াব অর্জনের আশা করা এবং লাইলাতুল কদর লাভের আশা করা।
প্রতিবছর রমজান মাসের শেষ দশ দিন রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিতভাবে মসজিদে ইতিকাফ করতেন এবং সাহাবায়ে কিরামও ইতিকাফ করতেন। নবী করিম (সা.) ইতিকাফের এত বেশি গুরুত্ব দিতেন যে কখনো তা ছুটে গেলে ঈদের মাসে আদায় করতেন। উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা (রা.)-এর হাদিস সূত্রে জানা যায়, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি রমজানের শেষ দশ দিন (মসজিদে) ইতিকাফ করতেন। এ আমল তাঁর ইন্তেকাল পর্যন্ত কায়েম ছিল। নবী করিম (সা.)-এর ওফাতের পর তাঁর বিবিগণও এ নিয়ম পালন করেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)
ইতিকাফের বিধিসম্মত সময় মাহে রমজানের ২০ তারিখ সূর্য অস্ত যাওয়ার কিছু আগে থেকে শুরু হয় এবং ঈদের চাঁদ দেখার সঙ্গে সঙ্গেই তা শেষ হয়ে যায়। ইতিকাফকারী পুরুষ রমজান মাসের ২০ তারিখ আসরের নামাজের পর সূর্যাস্তের আগে মসজিদে পৌঁছাবেন এবং মসজিদের কোণে একটি ঘরের মতো পর্দা দিয়ে ঘেরাও করে অবস্থান নেবেন। ঘেরাওকৃত কক্ষে পর্দা এমনভাবে স্থাপন করবেন, যেন প্রয়োজনে জামাতের সময় তা খুলে মুসল্লিদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা করা যায়। এ স্থানে পানাহার ও শয়ন করবেন এবং নিষ্প্রয়োজনে এখান থেকে বের হবেন না। তবে প্রাকৃতিক প্রয়োজনে অথবা ফরজ গোসল প্রভৃতি কাজে অথবা শরিয়তের প্রয়োজনে যেমন জুমার নামাজ প্রভৃতির জন্য বের হওয়া জায়েজ। কিন্তু প্রয়োজন পূরণের সঙ্গে সঙ্গেই ইতিকাফের স্থানে ফিরে যেতে হবে। ঈদের চাঁদ দেখা গেলে মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসবেন।
পার্থিব কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করে মহান আল্লাহর ইবাদতে আত্মনিয়োগের জন্য পুরুষদের মসজিদে এবং নারীদের জন্য গৃহে অবস্থ্থান করাই ইতিকাফ। স্ত্রীলোকের মসজিদে ইতিকাফ করা মাকরুহ। ঘরের নির্দিষ্ট স্থানে, যেখানে তিনি নামাজ আদায় করেন, সেখানেই ইতিকাফ করবেন। বাড়ির নির্দিষ্ট স্থান না থাকলে যেকোনো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্থানে ইতিকাফ করবেন এবং ঈদের চাঁদ উদয় না হওয়া পর্যন্ত ইতিকাফের স্থান ত্যাগ করবেন না। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে যে কেউ ইতিকাফ করলে সুন্নতে কিফায়া আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু গ্রামের বা পাড়া-মহল্লার কেউ ইতিকাফ না করলে সবাই গুনাহগার হবে।
ইতিকাফকারী একাগ্রচিত্তে ইবাদত-বন্দেগির ফলে তার অন্তরে আল্লাহর ভয় বা তাকওয়া গভীরভাবে রেখাপাত করে। এ সময় দুনিয়ার চাকচিক্য তাকে আল্লাহর জিকির থেকে দূরে সরাতে পারে না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হবে না, যখন তোমরা মসজিদে ইতিকাফে থাকবে।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৭)
ইতিকাফ পালনকালে যেকোনো ধরনের পার্থিব বিষয় থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকতে হবে। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ইতিকাফকারী রোগী দেখতে যাবে না, জানাজায় উপস্থিত হবে না, স্ত্রী স্পর্শ করবে না। বিশেষ জরুরি কাজ ব্যতীত বাইরে যাবে না।’ (বুখারি, মুসলিম ও আবু দাউদ) হজরত আয়েশা (রা.) বলেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন ইতিকাফ করতেন, মসজিদে বসে আমার দিকে মাথা বাড়িয়ে দিতেন এবং আমি তাঁর কেশবিন্যাস করে দিতাম।’ অপর একটি হাদিসে বর্ণিত আছে, ‘নবী করিম (সা.) ইতিকাফের সময় পীড়িতকে দেখতে যেতেন এবং নিজ ইচ্ছামতো চলতেন, কিন্তু কারও সঙ্গে কথা বলতেন না।’
শুধু প্রাকৃতিক প্রয়োজনে ও অজু ব্যতীত ইতিকাফের স্থান ত্যাগ করে বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ। অবশ্য এসব কারণ ছাড়াও প্রয়োজনের তাগিদে কারও জীবন রক্ষার্থে বাইরে যাওয়া যেতে পারে। তবে এ জন্য ইতিকাফের কাজা আদায় করতে হবে। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) এক বছর ইতিকাফ করতে পারেননি, পরবর্তী বছর তিনি ২০ রাত ইতিকাফ করেন।’ (তিরমিজি) হজরত্রআবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, ‘নবী করিম (সা.) প্রতি রমজান মাসের শেষ ১০ দিন ইতিফাক করতেন। তারপর যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন, সে বছর ২০ দিন ইতিফাক করেন।’ (বুখারি)
রমজান মাসের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করা সুন্নত এবং এর ফজিলত অপরিসীম। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করবে, তার জন্য দুই হজ ও দুই ওমরার সওয়াব রয়েছে।’ (বায়হাকি) ইতিকাফের ফজিলত সম্পর্কে অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একদিনের ইতিকাফ করল, আল্লাহ পাক তার ও দোজখের মধ্যখানে এমন তিনটি পরিখা তৈরি করে দেবেন, যার একটি থেকে অপরটির দূরত্ব হবে পূর্ব ও পশ্চিমেরও বেশি।’ (তিরমিজি ও বায়হাকি)
যে ব্যক্তি ইবাদত মনে করে সওয়াবের নিয়তে ইতিকাফ করে, তার সব সগিরা গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। নবী করিম (সা.) ফরমান, ‘ইতিকাফকারী ব্যক্তি যাবতীয় পাপ থেকে মুক্ত থাকে আর ইতিকাফে লিপ্ত থাকার জন্য কোনো ব্যক্তি বাইরের কোনো নেক কাজ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকলেও ওই নেক কাজসমূহের পূর্ণ নেকি সে লাভ করবে।’ (ইবনে মাজা) হজরত্র ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসুলে করিম (সা.) বলেছেন, ‘ইতিকাফকারী মূলত গুনাহ থেকে দূরে থাকে এবং তাকে ইতিকাফের বিনিময়ে এত বেশি নেকি দেওয়া হবে যেন সে সব নেকি অর্জনকারী।’ (ইবনে মাজা)
ইতিকাফের সর্বনিম্ন সময়সীমা এক রাত বলে হাদিস শরিফে উল্লেখ আছে। তবে ইতিকাফ দীর্ঘ সময় ধরে করা উত্তম, বিশেষত মাহে রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ অবস্থায় থাকায় ‘লাইলাতুল কদর’ বা হাজার মাসের শ্রেষ্ঠতম ভাগ্যের রজনী লাভের সৌভাগ্য হতে পারে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে পবিত্র মাহে রমজানে মসজিদে ইতিকাফ করার মাধ্যমে গুনাহের পাপরাশি থেকে বেঁচে থেকে অশেষ নেকি লাভের মোক্ষম সুযোগ দান করুন!
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com

ঈদের আগে কেন ধর্মঘট?

টার্মিনাল সংস্কারসহ কয়েক দফা দাবিতে রংপুর মোটর-শ্রমিকেরা শনিবার সকাল ছয়টা থেকে ধর্মঘট শুরু করায় উত্তরাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ ভয়াবহ বিপদে পড়েছে। অন্যদিকে কুষ্টিয়ার বাসমালিক ও শ্রমিকেরা সড়ক সংস্কারের দাবিতে সোমবার থেকে ধর্মঘটে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘোষিত ধর্মঘটের বাইরে দেশের বিভিন্ন সড়কে চলছে অঘোষিত ধর্মঘট। কোথাও বাস চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে, কোথাও বা তিন ঘণ্টার রাস্তা পেরোতে সময় লাগছে সাত-আট ঘণ্টা।
ঈদের আগে সারা দেশে বেহাল সড়কের কারণে যখন লাখ লাখ মানুষের বাড়ি যাওয়া অনিশ্চিত, তখন পরিবহনশ্রমিক বা মালিক সংগঠনের নামে এ ধরনের ধর্মঘট কেবল অনৈতিক নয়, অমানবিকও। জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে গতকাল বিকেল চারটায় মোটর-শ্রমিকেরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেও উত্তরাঞ্চলের মানুষকে ১০ ঘণ্টা সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। মানুষকে জিম্মি করে বা কষ্ট দিয়ে দাবি আদায়ের পথ পরিহার করতে হবে।
কেবল রংপুর বা কুষ্টিয়া নয়, সারা দেশেই সড়ক-মহাসড়কগুলো বেহাল, খানাখন্দে ভরা। যে কারণে কয়েক দিন আগে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিলেন পরিবহনমালিকেরা। যোগাযোগমন্ত্রীর অনুরোধে সড়ক দুটিতে সীমিত পর্যায়ে যানবাহন চলাচল শুরু করলেও এখনো নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ঢাকা-মুন্সিগঞ্জসহ কয়েকটি আঞ্চলিক রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ঈদ সামনে রেখে প্রতিবছর ট্রেন ও বিআরটিসির যাত্রীসেবা বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও অতিরিক্ত বাস নামানো হয়। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমে, বাসমালিকেরাও অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পান। কিন্তু এ বছর সড়ক-মহাসড়কগুলোর অবস্থা এতই নাজুক যে বেসরকারি পরিবহনমালিকেরা বাড়তি বাস নামাতে আগ্রহী নন। তাই সরকারি ও বেসরকারি প্রতিটি পরিবহন সংস্থার টিকিট কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড়। টিকিট না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে অনেকে।
এই অবস্থায় কোনো রুটে ধর্মঘট পালন মানুষের কষ্ট বাড়িয়ে দেবে সন্দেহ নেই। এ কারণেই সংশ্লিষ্ট সবার কাছে আমাদের আহ্বান, ধর্মঘটের নামে ঈদের আগে মানুষকে আর কষ্ট দেবেন না। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কুষ্টিয়া অঞ্চলের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পরিবহনমালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে অবিলম্বে আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা।
সড়ক মেরামতের কাজ তদারকির জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু ছুটি বাতিল করাই যথেষ্ট নয়। এ মুহূর্তে ভাঙাচোরা সড়কগুলো এমনভাবে মেরামত করতে হবে, যাতে ঈদের আগে যানবাহন চলাচলের উপযোগী হয়, যাতে পরিবহনমালিকেরা বলতে না পারেন—রাস্তা খারাপ, বাস চালানো যাবে না। দেশবাসী কোনো অজুহাত শুনতে চায় না। নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্যই এই মন্ত্রণালয়, মানুষকে কষ্ট দেওয়ার জন্য নয়। কথাটি মন্ত্রী মহোদয় এবং তাঁর অধীন সবাই মনে রাখবেন আশা করি।

মেগরাহিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল

স্কটল্যান্ড সরকার বলেছে, দুই বছর পর্যবেক্ষণের পর বলা যায়, লকারবি বিমান হামলার দায়ে কারাদণ্ড পাওয়া আবদেল বাসেত মেগরাহিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ঠিক ছিল। গতকাল শনিবার স্কটল্যান্ড সরকার আবারও জোর দিয়ে বলেছে, অন্য কোনো কারণে নয়, করুণাবশতই মেগরাহিকে মুক্তি দেওয়া হয়।
প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত মেগরাহি আর মাত্র তিন মাস বাঁচবেন—চিকিৎসকেরা এ কথা বলার পর ২০০৯ সালের ২০ আগস্ট স্কটল্যান্ডের কারাগার থেকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।
গতকাল স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার অ্যালেক্স স্যালমন্ডের এক মুখপাত্র বলেন, দুই বছর ধরে সূক্ষ্ম পর্যালোচনার পর স্কটল্যান্ড, ব্রিটেন ও মার্কিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা একমত হয়েছেন যে শুধু মানবিক কারণেই ওই মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা এখনো ওই সিদ্ধান্তকে সঠিক মনে করি। মেগরাহি ক্যানসারে মরতে চলেছেন।’
১৯৮৮ সালের ২১ ডিসেম্বর অধুনালুপ্ত প্যান আমেরিকান বিমান সংস্থার একটি বিমানে বোমা বিস্ফোরিত হলে সেটি স্কটল্যান্ডের লকারবি গ্রামের আকাশে বিধ্বস্ত হয়। ওই ঘটনায় ২৭০ জনের মৃত্যু হয়।

ছত্তিশগড়ে মাওবাদী-পুলিশ সংঘর্ষে নিহত ১৫ আসামে ৭ জঙ্গির মৃত্যু

ভারতের ছত্তিশগড়ে মাওবাদী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে ১১ জন পুলিশ ও চারজন মাওবাদী নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আসাম রাজ্যে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে সাতজন বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন সেনাবাহিনীর একজন মেজর ও তিনজন পুলিশ।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ছত্তিশগড় রাজ্যের বিজাপুর জেলার ভদ্রকালী থানার জঙ্গলঘেরা মেটলাপেরু গ্রামে মাওবাদীদের সঙ্গে এক সংঘর্ষে ছত্তিশগড়ের সশস্ত্র পুলিশের ১১জন সদস্য নিহত হন। পুলিশের পাল্টা আক্রমণে চার মাওবাদী নিহত হয়। এ ছাড়া তিনজন পুলিশ গুরুতর জখম হয়।
ছত্তিশগড় পুলিশের এডিজি (নকশাল অপারেশন) রামনিবাস বলেন, মাওবাদীরা মেটলাপেরু গ্রামে জড়ো হয়েছে—এই খবর পেয়ে পুলিশ ওই গ্রামে ঢুকলে মাওবাদীরা অতর্কিতভাবে পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মাওবাদীদের ধরার জন্য ওই গ্রামে পুলিশ ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।
এদিকে গত শুক্রবারই বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি অধ্যুষিত আসামের করিমগঞ্জ জেলার বাতাবাড়ী থানার গুটগুটি গ্রামে টহলরত সেনাবাহিনীর একটি দলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় জঙ্গিরা। এ সময় সেনাবাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের সংঘর্ষ বাধে। এতে সাত বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গির মৃত্যু হয়।

বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের নেওয়া হলো ঘটনাস্থলে

নরওয়ের রাজধানী অসলোর অদূরে উটোয়া দ্বীপে নৃশংস সেই হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া শত শত মানুষ গতকাল শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নরওয়ের সিকিউরিটি সার্ভিসের তত্ত্বাবধানে তাঁরা ওই স্থান পরিদর্শন করে।
চরম ডানপন্থী যুবক অ্যান্ডার্স ব্রেইভিক গত ২২ জুলাই নরওয়ের ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টির যুব সম্মেলনে গুলি চালান। এতে ৬৯ জন নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হয়েও কেউ কেউ বেঁচে আছেন।
বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের একজন ২১ বছর বয়সী আড্রিয়ান প্রাকোন। গতকাল অনেকের সঙ্গে তিনিও উটোয়া দ্বীপে গেছেন। আড্রিয়ান বলেন, গতকাল ছিল কঠিন একটি দিন। কিন্তু এই দুঃস্বপ্নের বোঝা হালকা করার জন্য উটোয়া দ্বীপে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল।’
আড্রিয়ান ওই দিন দুইবার ব্রেইভিকের মুখোমুখি হয়েছিলেন। জীবন বাঁচাতে অনেকের সঙ্গে উটোয়া দ্বীপ থেকে মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার জন্য পানিতে লাফ দিয়েছিলেন তিনি। আড্রিয়ান বলেন, “ব্রেইভিকের কাছ থেকে পাঁচ থেকে ১০ গজ দূরে ছিলাম। পানিতে লাফিয়ে পড়া ব্যক্তিদের লক্ষ্য করেও সে গুলি চালিয়ে যাচ্ছিল।”
নরওয়ের সিকিউরিটি সার্ভিস জানায়, হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া এবং তাঁদের বন্ধু-স্বজনসহ অন্তত সাড়ে ৭০০ মানুষকে উটোয়া দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জেনস স্টলটেনবার্গেরও উটোয়া দ্বীপে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন।

মেদভেদেভের সঙ্গে বৈঠক করতে রাশিয়া সফরে কিম

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং ইল বিশেষ একটি ট্রেনে চড়ে গতকাল শনিবার রাশিয়া পৌঁছেছেন। এ সফরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এক বিবৃতিতে ক্রেমলিন এ তথ্য জানিয়েছে।
২০০২ সালের পর এই প্রথম রাশিয়া সফরকালে প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভের সঙ্গে সাইবেরিয়ার একটি শহরে বৈঠক করবেন কিম। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু প্রকল্প খাদ্যসংকট ছাড়াও দুই দেশের অর্থনৈতিক ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দুই নেতা আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ক্রেমলিনের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, এই সফরের মূল আকর্ষণই হলো মেদভেদেভের সঙ্গে কিমের বৈঠক। এতে আরও বলা হয়, কিম দেশটির দূরপ্রাচ্য ও সাইবেরিয়া অঞ্চলও সফর করবেন। তবে এর বেশি আর কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানায় ক্রেমলিন।
রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের একজন মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, উত্তর কোরিয়ার নেতার ওই বিশেষ ট্রেন গতকাল সকালে রাশিয়া প্রবেশ করে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে সে দেশের ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, বিশেষ ট্রেনে করে গতকাল সকালে রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় খাসান শহরে পৌঁছান কিম। আগামী মঙ্গলবার সাইবেরিয়ার উলান উদে শহরে বৈকাল হ্রদের কাছে কিম ও মেদভেদেভের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, কিম আগামী এক সপ্তাহ রাশিয়ায় অবস্থান করবেন। স্নায়ুযুদ্ধের সময় মিত্র দেশ রাশিয়ায় এর আগে ২০০২ সালে সফর করেন কিম। তখন তিনি দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ভ্লাদিভোস্তোকে বৈঠক করেন।
গোপন পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনার জন্য উত্তর কোরিয়ার ওপর অর্থনৈতিকসহ নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব নিষেধাজ্ঞা ও বন্যায় ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে উত্তর কোরিয়া। এ সংকট নিরসনে আর্থিক সহায়তা পেতে দেশটি এখন তৎপর।
গত শুক্রবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, উত্তর কোরিয়ার খাদ্যসংকট মোকাবিলায় মস্কো শিগগিরই অন্তত ৫০ হাজার টন গম পাঠাবে। সিউলে উত্তর কোরিয়ান স্টাডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়াং মু-জিন বলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে খাদ্য ও অর্থনৈতিক সহায়তা পেতে কিম দেশটি সফর করছেন।

প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় উৎসাহিত হয়েছি: সু চি

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি বলেছেন, দেশের প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি উৎসাহিত হয়েছেন। তিনি এ ব্যাপারে অবশ্য বিস্তারিত কিছু জানাননি। গতকাল শনিবার রাজধানী নেপিডোতে সাংবাদিকদের সু চি এ কথা বলেন।
সু চি গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে এক ঘণ্টার বৈঠক করেন। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এটাই ছিল তাঁর প্রথম বৈঠক।
নবনির্বাচিত বেসামরিক সরকার যে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন চাইছে, শুক্রবারের বৈঠকে এর আভাস পাওয়া গেছে। বিশেষ করে জান্তার শাসনামলে যেসব জেনারেল সু চিকে বছরের পর বছর গৃহবন্দী রেখেছিলেন, তাঁদেরই একজন তাঁকে বৈঠকে ডাকলেন। সাবেক জেনারেল থেইন সেইন এর আগে জান্তা সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
বৈঠকের ব্যাপারে সাংবাদিকদের সু চি বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতে আমি খুশি। আমি উৎসাহিত হয়েছি।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে খুবই আন্তরিক ও খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। তবে রুদ্ধদ্বার ওই বৈঠকে দুজনের আলোচনার বিষয় কী ছিল, তা তিনি জানাননি।
সরকারের মুখপত্র নিউ লাইট অব মিয়ানমার পত্রিকা গতকাল এক প্রতিবেদনে জানায়, আলোচনায় দুই পক্ষই মতপার্থক্য ভুলে জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেছে।

ইসরায়েল থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত মিসরের

ইসরায়েল থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মিসর। গাজায় ইসলামি জঙ্গিদের ওপর গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় সীমান্তে পুলিশের পাঁচজন কর্মকর্তা নিহত হওয়ার প্রতিবাদে মিসর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল শনিবার মিসরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রকাশিত খবরে এ কথা জানানো হয়।
এদিকে গতকাল গাজা থেকে ইসরায়েলের দিকে রকেট ছুড়েছে জঙ্গিরা। এতে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে তিনজন আহত হয়। ইসরায়েল পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
মিসরের টেলিভিশনে প্রচারিত খবরে বলা হয়, পুলিশের পাঁচজন কর্মকর্তা নিহত হওয়ার ঘটনায় ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলের কূটনৈতিক কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়।
মিসরের দাবি, সন্দেহভাজন ফিলিস্তিনি জঙ্গিদের ধাওয়া করার সময় পুলিশের ওই কর্মকর্তাদের হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। এ ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় ১৫ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আজ রোববার এক জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে আরব লিগ। আরব লিগের মুখপাত্র মাহমুদ আবদেল আজিজ বলেন, ফিলিস্তিনের অনুরোধে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর আরব লিগের স্থায়ী প্রতিনিধি পর্যায়ে এক জরুরি সভার সিদ্ধান্ত হয়।
গত এক দশকে এই প্রথম কোনো রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নিল মিসর। লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইসরায়েলি অবকাশ যাপনকেন্দ্র আইলাতের কাছাকাছি এলাকায় বৃহস্পতিবার কয়েকটি বাসে হামলা চালিয়ে বন্দুকধারীরা আটজনকে হত্যা করার পর থেকে সহিংসতা শুরু হয়। মিসরের সরকারি কর্মকর্তারা বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী সীমান্তে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের ধাওয়া করছিল। তখন পুলিশের ওই পাঁচজন সদস্যসহ কয়েকজন নিহত হন।
কায়রোতে ইসরায়েলের দূতাবাসের সামনে বৃহস্পতিবার রাতভর বিক্ষোভ করেছে শত শত মিসরীয় নাগরিক। এ সময় তারা ইসরায়েলের পতাকা পোড়ায় এবং মিসর থেকে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের দাবি জানায়।
আইলাতের হামলার পর সিনাই উপত্যকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইসরায়েল জানায়, ফিলিস্তিনি হামলাকারীরা গাজা থেকে সিনাই উপত্যকার ভেতর দিয়ে মিসরে প্রবেশ করার পর আইলাতে পৌঁছায়। তবে মিসর এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ওই হামলার ঘটনাকে তারা ১৯৭৯ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তির লঙ্ঘন বলে মনে করে।

গাদ্দাফির পতন ঘনিয়ে এসেছে

লিবিয়ার বিদ্রোহীদের বেনগাজিভিত্তিক ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এনটিসি) প্রধান মুস্তাফা আবদেল জলিল গতকাল শনিবার বলেছেন, লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতন ঘনিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, আমরা গাদ্দাফি সরকারের ভেতরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সব তথ্য-প্রমাণে এটি স্পষ্ট যে অচিরেই গাদ্দাফির পতন হবে।
লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির পথে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শহর দখল করার দাবি করেছে বিদ্রোহীরা। তবে সরকার বিদ্রোহীদের এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, শহর দুটি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বিদ্রোহীদের মিসরাতা মিলিটারি কাউন্সিলের কর্মকর্তা মুনির রামজি বলেন, গত শুক্রবার গাদ্দাফি বাহিনীর সঙ্গে প্রচণ্ড লড়াই শেষে ত্রিপোলির ১৬০ কিলোমিটার পূর্বাঞ্চলীয় জ্লিতান এবং ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমাঞ্চলীয় জাওয়িইয়া শহর দখল করা হয়।
মুনির রামজি বলেন, বিদ্রোহীরা জ্লিতান দখলের পর শহরটির পশ্চিমাঞ্চলে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, শুক্রবারের লড়াইয়ে ৩১ জন বিদ্রোহী নিহত ও আরও ১২০ জন আহত হয়। মিসরাতা থেকে ত্রিপোলি যাওয়ার ক্ষেত্রে জ্লিতান শহর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এত দিন গাদ্দাফির অনুগত বাহিনী শহরটি ঘিরে রেখেছিল।
জাওয়িইয়ার একজন বিদ্রোহী বিবিসিকে বলেন, এখানকার সব জায়গা থেকে গাদ্দাফির অনুগত বাহিনীকে হটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এখন আমরা শহরের কেন্দ্রে ব্যাপক উল্লাস করছি।
বিদ্রোহীরা জাওয়িইয়া দখলের পর ত্রিপোলি থেকে তিউনিসিয়া যাওয়ার মূল সড়ক বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এতে গাদ্দাফির বাহিনীর কাছে রসদ পৌঁছানোর প্রধান সড়কটি বন্ধ হয়ে গেছে। গত মঙ্গলবার বিদ্রোহীরা জাওয়িইয়ার বাইরে একটি তেল শোধনাগার দখল করে নেয়। এ শোধনাগার থেকে গাদ্দাফি বাহিনীর জন্য জ্বালানি সরবরাহ করা হতো। শুক্রবার রাতে গাদ্দাফি সরকারের তথ্যমন্ত্রী মুসা ইব্রাহিম বলেন, জ্লিতান ও জাওয়িইয়া দুটি শহরের ওপরই তাঁদের সেনাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
এ ছাড়া বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, লিবিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী আবদেল সালাম জাল্লাউদ তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। তবে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে বিদ্রোহীরা কিছু জানায়নি। ১৯৬৯ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলে জাল্লাউদ গাদ্দাফিকে সহায়তা করেছিলেন। তবে নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে গাদ্দাফির সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

ক্রীতদাসের মতো সেই জীবন

লেবাননের বিত্তশালী বিভিন্ন পরিবারে ১৫ বছর ধরে ‘ক্রীতদাসীর’ মতো কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন মাদাগাস্কারের নারী অ্যাবেলিন বাহোলিয়ারিসোয়া (৫৯)। গত মার্চে তাঁর মুক্তি মিলেছে। অ্যাবেলিনসহ আরও ৮৫ জন নারীকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি বিমানের ব্যবস্থা করে মাদাগাস্কার সরকার।
অ্যাবেলিন যখন চার সন্তান ছেড়ে লেবানন যান, তখন তাঁর সবচেয়ে ছোট সন্তানের বয়স ছিল মাত্র ছয় বছর। বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া সেই সন্তানই তাঁকে দেশে ফিরিয়ে নিতে মূল ভূমিকা পালন করেন। এসব গৃহকর্মীকে প্রত্যাবাসনে সহায়তাকারী একটি কল্যাণমূলক সংস্থার মাধ্যমে তাঁকে খুঁজে বের করা হয়।
অ্যাবেলিন বলেন, লেবাননে গিয়ে তিনি প্রতারণার শিকার হন। বছরের পর বছর ধরে একটি ‘জীবন্ত নরকে’ বন্দী করে রাখা হয়েছিল তাঁকে। চাকরিদাতা একটি সংস্থার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল, লেবাননে সেবিকার চাকরির জন্য তাঁকে প্রতিমাসে ৮০০ মার্কিন ডলার করে দেওয়া হবে। লেবানন যাওয়ার পর তাঁর স্বপ্নসাধ ভেঙে যায়।
অ্যাবেলিনের ভাষ্য, ‘এটি ছিল ফাঁদ। কারণ আমি সেখানে পৌঁছামাত্র তারা আমার কাগজপত্র কেড়ে নেয়। এরপর ১৫টি বছর আমার সঙ্গে ক্রীতদাসীর মতো ব্যবহার করা হয়।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের রাতে ও দিনে খাওয়া ও ঘুমানোর জন্য কোনো সময় ছিল না। এমনকি নিজেদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার সময়ও দেওয়া হতো না আমাদের। ২৪ ঘণ্টাই কাজ করতাম আমরা।’ সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি দেখছেন মাদাগাস্কারের জনসংখ্যাবিষয়কমন্ত্রী নাদিন রামারোসন। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের ‘একটি সংঘবদ্ধ চক্র’ নব্বইয়ের দশক থেকে মানব পাচার শুরু করে।

মুন্নু জুটেক্স ও মুন্নু সিরামিকের শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা

মুন্নু জুটেক্স ও মুন্নু সিরামিক বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৫ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ২০১১ সালের ৩০ জুন সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান দুটি এ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আজ রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
মুন্নু জুটেক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ৩০ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকার ধামরাইয়ের ইসলামপুরে কারখানা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট ৮ সেপ্টেম্বর। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, এ সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ২৬.০৫ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য এক হাজার ৬৩৯.২৩ টাকা এবং নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ২৩.৪০ টাকা।
মুন্নু সিরামিক কর্তৃপক্ষ জানায়, এ সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ১৮.৬৪ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য ২৩০.৯৩ টাকা এবং নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ৫৩.০৯ টাকা।

তিনটি বিদ্যুেকন্দ্রসহ আটটি বিষয়ে দরপ্রস্তাব অনুমোদন

তিনটি বিদ্যুেকন্দ্রসহ মোট আটটি বিষয়ে দরপ্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
আজ রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব নুরুল করিম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি জানান, দরপ্রস্তাব অনুমোদন করা বিদ্যুেকন্দ্রগুলো হলো চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও খুলনা। এ ছাড়া মালয়েশিয়া, চীন ও ফিলিপাইন থেকে জুলাই থেকে ডিসেম্বর প্রান্তিকে যে জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে, তার প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয় এই বৈঠকে।
বৈঠকে ৫০ হাজার টন গম আমদানিরও প্রস্তাব অনুমোদন হয় বলে জানান নুরুল করিম।

বিমা গ্রাহকেরা অল্প টাকায় ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবেন: অর্থমন্ত্রী

বিমা গ্রাহকদের জন্য অল্প টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অর্থমন্ত্রী বলেন, বিমা গ্রাহকেরা টাকা পান না, কারণ তাঁদের ব্যাংক হিসাব নেই। অথচ আইনে আছে বিমা গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাব থাকতে হবে। ১০ টাকা দিয়ে কৃষকদের জন্য ব্যাংক হিসাব খোলার যে সুযোগ, বিমা গ্রাহকদের জন্যও অল্প টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ দেওয়া হবে।
আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
বিআইএর সভাপতি শেখ কবির হোসেনের নেতৃত্বে সংগঠনটির অন্য সদস্যরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা কৃষিবিমা, স্বাস্থ্যবিমা চালুরও দাবি জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিমা খাতে দক্ষ জনশক্তির অভাব রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ জনশক্তিকে দক্ষ করে তোলা হবে।

পাঁচজনের বিরুদ্ধে এসইসির মামলা

ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আজ রোববার সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) পরিচালক মাহবুবুর রহমান চৌধুরী বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা করেন।
মহানগর হাকিম এ জি এম আল মাসুদ বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারির আদেশ দেন। বাদীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী রেজাউল করিম, তরিকুল ইসলাম ও কামরুল ইসলাম শিকদার।
একটি মামলায় আবু শাহাদাত মো. সায়েম, তাঁর ভাই মো. আবুল মুবিন মোল্লা এবং অপর মামলায় সৈয়দ সিরাজদ্দৌলা, তাঁর স্ত্রী রাশেদা আক্তার মায়া ও মো. হাবিবুর রহমান মোড়লকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি পুঁজিবাজারে অস্বাভাবিক উত্থান-পতনের বিষয়ে খন্দকার ইব্রাহিম খালেদসহ তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ বিষয়ে গত ২৬ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়। ওই কমিটি গত ৩১ মার্চ সরকারের কাছে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এ প্রতিবেদনে দেখা যায়, আসামিরা পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের শেয়ারের মূল্য কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করেন। এতে এসইসির ১৯৬৯ সালের অর্ডিন্যান্স ১৭ (ই)(ভি) ধারা লঙ্ঘন করেছেন তাঁরা।

এই ভারতকে দেখে ব্যথিত কারস্টেন

গ্যারি কারস্টেন কিছুটা বিস্মিত। যে দলটাকে টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের একে তোলার পর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করে এলেন, সেই দলটার এখন এই হাল! ইংল্যান্ড সফরে ভারতীয় দলের ব্যর্থতায় আরও অনেকের মতো অবাক হয়েছেন দলটার সাবেক এই দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ। অবাক হয়েছেন, তবে ভারতকে নিয়ে এখনো আশাবাদীদেরই দলে কারস্টেন।
ভারত টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানচ্যুত হলেও কারস্টেন মনে করেন, আতঙ্কিত হওয়ার মতো সময় এখনে আসেনি। ‘এই ফলাফল আমাকে একটু অবাকই করেছে, তবে নেতিবাচক অর্থে নয়। একটা দল কেন খারাপ পারফর্ম করে, সেটা বোঝা সব সময়ই কঠিন’—বলেছেন ভারতের সাবেক কোচ। মাঠের বাজে খেলা তো আছেই, ভারতীয় দলের টানা তিন টেস্ট হারের পর বলা হচ্ছে, দলটার মধ্যে সুষ্ঠু পরিকল্পনারও যথেষ্ট অভাব আছে। যদিও কারস্টেন মনে করছেন, ব্যর্থতার ময়নাতদন্ত এত সহজ নয়। তিনি বরং সম্ভাব্য কয়েকটা কারণের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। দলীয় সংস্কৃতি, নতুন কোচের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া—এসবও আছে কারস্টেনের সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে। ‘নতুন কোচ আসার পর তিনি দলের মধ্যে বিরাজমান সংস্কৃতিটাই অনুসরণ করবেন। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ’—বলেছেন বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের কোচ কারস্টেন।
ভারতের সফল কোচদের মধ্যে গ্যারি কারস্টেনের নামটা ওপরের দিকেই রাখতে হবে। দলের মধ্যে একটা ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান, খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে সেরাটা বের করে আনার সামর্থ্য যেমন ছিল, আচরণে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বন্ধুর মতো। এসবের সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতার কারণেই ভারত থেকে সফলভাবে বিদায় নিতে পেরেছেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান। তবে সাফল্যের এই ধারা টেনে নেওয়াটা নতুন কোচ ডানকান ফ্লেচারের জন্য সহজ না-ও হতে পারে বলে মনে করেন কারস্টেন।

অস্ট্রেলিয়ায়ও চ্যাপেলের দুঃসময়

ভারতে নিজের বিদায়ের ধরনটি নিশ্চয়ই ভুলে যাননি। একই পরিস্থিতি অস্ট্রেলিয়ায় তৈরি হওয়ার আগেই হয়তো মানে মানে কেটে পড়তে চাইছেন গ্রেগ চ্যাপেল। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট-কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে ক্ষমতা খর্ব হয়েছে ‘ন্যাশনাল ট্যালেন্ট ম্যানেজার’-এর দায়িত্বে থাকা চ্যাপেলের। নির্বাচকের ক্ষমতা আর নেই তাঁর হাতে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে চ্যাপেল নাকি ন্যাশনাল ট্যালেন্ট ম্যানেজারের পদটাও ছেড়ে দিতে চাইছেন। এমন খবরই দিয়েছে অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম।
অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের ক্রমাবনতির কারণ অনুসন্ধানে গত অ্যাশেজ পরাজয়ের পর গঠন করা হয়েছিল ডন আর্গাস রিভিউ কমিটি। সাত সদস্যের ওই কমিটি দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষে তাদের সুপারিশ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) কাছে পেশ করেছে। তাতে প্রধান নির্বাচক অ্যান্ড্রু হিলডিচ ছাড়াও কোপ পড়েছে চ্যাপেলের ওপর। কিন্তু সিএর এই সিদ্ধান্তে চ্যাপেল নাকি নাখোশ। এ কারণেই ন্যাশনাল ট্যালেন্ট ম্যানেজারের পদেও আর থাকতে চাইছে না।
তবে চ্যাপেলকে রেখে দেওয়ার ব্যাপারেও সিএ জোরাজুরি করবে না। সাদারল্যান্ডের কথায় সেটি পরিষ্কার, ‘তাঁর নিজের ব্যাপারে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপার নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার তাঁর ওপরেই।’
এদিকে এমন খবরও এসেছে, অস্ট্রেলিয়া ড্রেসিংরুমে চ্যাপেল নাকি একরকম অবাঞ্ছিত ঘোষিত হয়েছেন। দলের সঙ্গে শ্রীলঙ্কা সফরে গেলেও ড্রেসিংরুমে চ্যাপেলের উপস্থিতি ক্রিকেটাররা ভালোভাবে নিচ্ছেন না। সাদারল্যান্ডের কানেও নিশ্চয়ই সেই খবর গেছে। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে সুকৌশলে সেটি এড়িয়ে গেছেন প্রধান নির্বাহী।

লিভারপুলের কাছে আর্সেনালের হার

প্রথম ম্যাচে ড্র। আর্সেনাল কাল নিজেদের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে হেরেই গেল। নিজেদের মাঠে ২০০০ সালের পর এই প্রথম লিভারপুলের কাছে হার ‘গানার’দের। আর্সেনালকে ২-০ গোলে হারিয়েছে লিভারপুল।
আর্সেনালকে প্রথম পিছিয়ে দিয়েছে ৭৮ মিনিটে ওয়েলশ মিডফিল্ডার অ্যারন রামসের আত্মঘাতী গোল। ডিফেন্ডার ইগনাসিও বল ক্লিয়ার করতে গিয়েছিলেন, সেই বল রামসের মাথায় লেগে ঢুকে যায় আর্সেনালের জালে। ইনজুরি সময়ে লিভারপুলের দ্বিতীয় গোলটি করেন লুইস সুয়ারেজ। ১১ বছর পর আর্সেনালের মাঠে জয়ের উৎসব করে লিভারপুল।
শুধু কি পরাজয়? এর আগে ৭০ মিনিটে ইমানুয়েল ফ্রিমপং দুই হলুদ কার্ডের খাড়ায় কাটা পড়েন। প্রথম ম্যাচে গোলশূন্য ড্রয়ের সঙ্গে একটি লাল কার্ডের লজ্জা, দ্বিতীয় ম্যাচে হার, এর আগে সেস ফ্যাব্রিগাসের চলে যাওয়া। আর্সেনালের ইতিহাসে সবচেয়ে হতাশাজনক সপ্তাহই বুঝি কাটল।
সামির নাসরিরও আর্সেনাল ছেড়ে যাওয়ার কথা চলছে। মৌসুমের প্রথম ম্যাচে এ কারণেই তাঁকে দলে রাখেননি কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার। তবে কাল প্রথম একাদশে ছিলেন ফরাসি মিডফিল্ডার।
ম্যাচে সুস্পষ্ট গোলের সুযোগ খুব বেশি তৈরি করতে পারেনি আর্সেনাল। ডিফেন্স চেরা নিখুঁত পাস দেওয়ার লোকেরই যে অভাব ছিল! ওদিকে মৌসুম শুরুর আগেই দলকে ভালো কিছু উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সুয়ারেজকে প্রথম একাদশে নামাননি লিভারপুল কোচ কেনি ডালগ্লিস। তবে বদলি হিসেবে নেমে নিজের কাজটি ঠিকই করেছেন। প্রিমিয়ার লিগের প্রথম দুই ম্যাচে তাঁর গোল হলো দুটি।
এদিকে জার্মান বুন্দেসলিগায় বিশাল জয় পেয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। কাল ঘরের মাঠে তারা ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে হামবুর্গকে। গোল করেছেন ফন বাইটেন, ফ্রাঙ্ক রিবেরি, আরিয়েন রোবেন, মারিও গোমেজ ও ইভিকা ওলিচ। এই জয়ে তিন ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল বায়ার্ন।

এই ভারতকে দেখে ব্যথিত কারস্টেন

গ্যারি কারস্টেন কিছুটা বিস্মিত। যে দলটাকে টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের একে তোলার পর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করে এলেন, সেই দলটার এখন এই হাল! ইংল্যান্ড সফরে ভারতীয় দলের ব্যর্থতায় আরও অনেকের মতো অবাক হয়েছেন দলটার সাবেক এই দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ। অবাক হয়েছেন, তবে ভারতকে নিয়ে এখনো আশাবাদীদেরই দলে কারস্টেন।
ভারত টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানচ্যুত হলেও কারস্টেন মনে করেন, আতঙ্কিত হওয়ার মতো সময় এখনে আসেনি। ‘এই ফলাফল আমাকে একটু অবাকই করেছে, তবে নেতিবাচক অর্থে নয়। একটা দল কেন খারাপ পারফর্ম করে, সেটা বোঝা সব সময়ই কঠিন’—বলেছেন ভারতের সাবেক কোচ। মাঠের বাজে খেলা তো আছেই, ভারতীয় দলের টানা তিন টেস্ট হারের পর বলা হচ্ছে, দলটার মধ্যে সুষ্ঠু পরিকল্পনারও যথেষ্ট অভাব আছে। যদিও কারস্টেন মনে করছেন, ব্যর্থতার ময়নাতদন্ত এত সহজ নয়। তিনি বরং সম্ভাব্য কয়েকটা কারণের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। দলীয় সংস্কৃতি, নতুন কোচের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া—এসবও আছে কারস্টেনের সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে। ‘নতুন কোচ আসার পর তিনি দলের মধ্যে বিরাজমান সংস্কৃতিটাই অনুসরণ করবেন। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ’—বলেছেন বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের কোচ কারস্টেন।
ভারতের সফল কোচদের মধ্যে গ্যারি কারস্টেনের নামটা ওপরের দিকেই রাখতে হবে। দলের মধ্যে একটা ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান, খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে সেরাটা বের করে আনার সামর্থ্য যেমন ছিল, আচরণে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বন্ধুর মতো। এসবের সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতার কারণেই ভারত থেকে সফলভাবে বিদায় নিতে পেরেছেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান। তবে সাফল্যের এই ধারা টেনে নেওয়াটা নতুন কোচ ডানকান ফ্লেচারের জন্য সহজ না-ও হতে পারে বলে মনে করেন কারস্টেন।

সিরিজই জিতে গেল অস্ট্রেলিয়া

সিরিজে এবার নিয়ে চতুর্থবারের মতো প্রথমে ব্যাট করল শ্রীলঙ্কা এবং তৃতীয়বারের মতো পুরো ৫০ ওভার না খেলেই হয়ে গেল অলআউট! এমন শ্রীলঙ্কাকে ছাড়বে কেন অস্ট্রেলিয়া? মাত্র ৩৮.৪ ওভারে শ্রীলঙ্কাকে ১৩২ রানে অলআউট করে দিয়ে তারা ২২ ওভার বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নিল ৫ উইকেটে। এক ম্যাচ বাকি থাকতে সিরিজও।
অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট নিয়ে মাঠের বাইরে যতই হইচই হোক, মাঠের অস্ট্রেলিয়া প্রতিপক্ষের টুঁটি চেপে ধরার মতোই শক্তিশালী এখনো। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে কাল দলের হয়ে সেই কাজটি করে দিলেন পেসার ব্রেট লি ও বাঁহাতি স্পিনার জেভিয়ার ডোহার্টি। চার-চার আটটি উইকেট নিয়েছেন শুধু এ দুজনই। শ্রীলঙ্কার ইনিংস ধসিয়ে দিতে আর কিছু লাগল না।
২৪ রানে ২ ওপেনারের বিদায়ের পর তৃতীয় উইকেটে কুমার সাঙ্গাকারা-মাহেলা জয়াবর্ধনের ৭১ রানের জুটিটাই হয়ে থাকল শ্রীলঙ্কা ইনিংসের চুম্বক অংশ। শেষ সাত ব্যাটসম্যান মিলে করেছেন ১৪ রান, চার জন তো কোনো রানই করেননি! জয়াবর্ধনের ৫৩ ও সাঙ্গাকারার ৩১-এর পর দলের পক্ষে তৃতীয় সর্বোচ্চ অতিরিক্ত ১৪ রান।
২৬ রানে ২ উইকেট পড়ার পরও মনে হচ্ছিল, অস্ট্রেলিয়ার জয়টা হবে জলবৎতরলং। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৯৭ রান করে ওপেনার শন মার্শ ও অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক অনেকটাই সেরে ফেলেন জয়ের আনুষ্ঠানিকতা। কিন্তু শ্রীলঙ্কার লেগ স্পিনার সিকুগে প্রসন্ন জ্বলে উঠলেন হঠাৎই। প্রতিপক্ষের রানটা ১২৩-এ রেখেই চার বলে তুলে নিলেন ৩ উইকেট! ইনিংসের ২৭তম ওভারের প্রথম বলে কট বিহাইন্ড মার্শ, পরের বলে একইভাবে আউট মাইক হাসিও। মাঝে এক বল বিরতি দিয়ে চতুর্থ বলে বোল্ডই করে দিলেন ডেভিড হাসিকে। অবশ্য জয়ের জন্য তখন আর মাত্রই ১০টা রান দরকার ছিল অস্ট্রেলিয়ার। হাডিনকে সঙ্গে নিয়ে ক্লার্কই সারেন সেই আনুষ্ঠানিকতা। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে অস্ট্রেলিয়া এখন এগিয়ে ৩-১ এ। ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
শ্রীলঙ্কা: ৩৮.৪ ওভারে ১৩২ (জয়াবর্ধনে ৫৩, সাঙ্গাকারা ৩১, দিলশান ১২। লি ১৫/৪, ডোহার্টি ৪/২৮, ওয়াটসন ১/২০, বলিঞ্জার ১/২৮)। অস্ট্রেলিয়া: ২৮ ওভারে ১৩৩/৫ (ওয়াটসন ১২, মার্শ ৭০, পন্টিং ০, ক্লার্ক ৩৮*, মাইক হাসি ০, ডেভিড হাসি ০, হাডিন ৫*। প্রসন্ন ৩/৩২, মালিঙ্গা ২/১৮)। ফল: অস্ট্রেলিয়া ৫ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: জেভিয়ার ডোহার্টি।

মেসির বিয়ে

গত মৌসুমে যেখানে শেষ করেছিলেন, এই মৌসুমে সেখান থেকেই যেন শুরু করলেন লিওনেল মেসি। গোলপোস্টের সামনে এবারও ক্ষুধার্ত বাঘের মতো হামলে পড়েন। দুই ম্যাচে এরই মধ্যে করেছেন তিন গোল। মনে করিয়ে দিচ্ছেন গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে ৫৫ ম্যাচে ৫৩ গোলের সেই অবিস্মরণীয় ফর্মের কথাই। মাঠের মেসির মধ্যে দুই মৌসুমে হয়তো কোনো পার্থক্য নেই। কিন্তু মাঠের বাইরের ব্যক্তি মেসির জীবনে নাকি বড় পরিবর্তন এসে গেছে। মেসি নাকি আর একলা নেই, হয়ে গেছেন ‘দোকলা’!
নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে খবরটি পাওয়া যায়নি বলে গুঞ্জন মনে হচ্ছে। সেই গুঞ্জনটি হলো, প্রেমিকা আন্তোনেল্লা রোকুজ্জোকে বিয়ে করে ফেলেছেন মেসি! স্পেনের ইবিজা দ্বীপে একেবারেই ঘরোয়া আয়োজনে নাকি হয়েছে বিয়েটা। এই খবর চাউর করেছেন আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত আর্জেন্টাইন ধারাভাষ্যকার মার্সেলো আরাউজো। টুইটারে মেসির বিয়ের ‘এক্সক্লুসিভ’ খবরটি দিয়ে আরাউজো দিব্যি কেটেছেন, খবর মিথ্যা প্রমাণিত হলে টুইটারের অ্যাকাউন্টটাই বন্ধ করে দেবেন।
বার্সেলোনার প্রাক-মৌসুম সফরে মেসি যোগ দেননি। কোপা আমেরিকায় খেলার ধকল সামলাতে ওই সময়টায় ছুটিতে ছিলেন। সেই ছুটির এক ফাঁকে দীর্ঘদিনের প্রেমিকা রোকুজ্জোকে নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন ইবিজা দ্বীপে। সেই সময়ই নাকি বিয়েটা হয়। যে বিয়েতে ছিলেন মেসির বার্সা সতীর্থ দানি আলভেজ আর মেসির চাচাতো ভাইয়েরা। রোকুজ্জোকের অনামিকায় নাকি বিয়ের আংটিও দেখা যাচ্ছে।
পাকা খবর পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন নাকি এখনই মেসিকে শুভেচ্ছা জানাবেন, সেটি নিতান্তই আপনার ব্যাপার!

ব্যর্থতায়ও তাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বী

রজার ফেদেরার, রাফায়েল নাদাল—শুধু বিশ্ব টেনিসের দুই ধ্রুপদি প্রতিদ্বন্দ্বী। এঁদের দ্বৈরথ দেখতে উন্মুখ থাকে সারা বিশ্ব। অনেকগুলো কালজয়ী ম্যাচ টেনিসকে উপহার দিয়েছেন এঁরা। দুজনের দাপটে মাত্র কিছুদিন আগেও পাত্তা পায়নি কেউ। ফেদেরার একটি শিরোপা জেতেন, তো পরেরটি নাদাল। দুজনের মিলিত গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপার সংখ্যা ২৬টি।
কিন্তু এঁদের দাপট কি শেষ হয়ে গেল? এক জোকোভিচের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ছায়ায় কি ঢাকা পড়ে গেলেন তাঁরা? আগে সাফল্যের ক্ষেত্রে ছিলেন পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। আর এখন ব্যর্থতার ক্ষেত্রেও হয়েছেন ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’। আজ নাদাল হারেন, তো কাল ফেদেরার। গত সপ্তাহে মন্ট্রিয়ল মাস্টার্সে একদিন আগে-পরে বিদায় নিয়েছেন দ্বিতীয় ও তৃতীয় রাউন্ড থেকে। পরশু একই দিনে বিদায় নিলেন সিনসিনাটি ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে।
নাদাল হেরেছেন মার্ডি ফিশের কাছে ৬-৩, ৬-৪ গেমে এবং ফেদেরার টমাস বারডিচের কাছে ৬-২, ৭-৬ (৭/৩) গেমে। অবস্থা এমনই হয়েছে এই দুটি হারকেও তেমন বড় কোনো অঘটন হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ফিশকে বলা হচ্ছে হার্ড কোর্টের পরীক্ষিত খেলোয়াড়। অন্যদিকে বারডিচের কাছে গত বছরই দুবার হেরেছিলেন ফেদেরার।
এখন হরহামেশাই চোটের দেখা পাচ্ছেন নাদাল। খেলতে পারছেন না নিজের সেরাটা। তার ওপর এ সপ্তাহের শুরুতেই গরম খাবারের থালা ধরে পুড়িয়ে ফেলেছেন হাতের আঙুল। আর ঠিক আগের রাউন্ডেই সাড়ে তিন ঘণ্টার এক ম্যাচ খেলতে হয়েছিল স্বদেশি ফার্নান্দো ভারদাসকোর বিপক্ষে। তবে এসবকে অজুহাত হিসেবে দেখেন না নাদাল, ‘আমি হেরেছি কারণ মার্ডি (ফিশ) আমার থেকে ভালো খেলেছে। তা ছাড়া কিছু সময় আপনি ভালো খেলবেন, কিছু সময় খারাপ। আমি এখন একটু বেশিই খারাপ খেলছি।’
ফেদেরারের কিন্তু চোটসংক্রান্ত কোনো সমস্যা নেই। বারডিচের কাছে হারার আগে তাঁকে বেশ সজীব দেখাচ্ছিল। সহজেই জিতেছিলেন হুয়ান মার্টিন ডেল পোত্রো ও জেমস ব্লেকের বিপক্ষে। মনে হচ্ছিল, ফিরে এসেছেন সেই আগের ফেদেরার। এরপরই ছন্দপতন।
ইউএস ওপেনের নয় দিন আগে নাদাল ও ফেদেরারের জন্য এটা অশনিসংকেত। অন্যদিকে আক্ষরিক অর্থেই উড়ছেন নোভাক জোকোভিচ। বছরের ৫৬তম জয়ের পথে হারিয়েছেন গায়েল মনফিলসকে। প্রথম সেট হারলেও সহজেই জিতেছেন পরের দুই সেট। জিতেছেন ৩-৬, ৬-৪, ৬-৩ গেমে। সেমিফাইনালে জোকোভিচ খেলবেন বারডিচের সঙ্গে এবং ফিশ মুখোমুখি হবেন অ্যান্ডি মারের।

৩-২ নিয়ে ফেরা যাবে তো

খেলাধুলায় জয় হলো সর্বরোগহর সেই ওষুধ, যা রাতারাতি একটা দলের চেহারা পাল্টে দেয়। আর সেই জয় যদি আসে পাঁচ মাসে টানা নয় পরাজয়ের পর, তাহলে তো কথাই নেই। জিম্বাবুয়ে সফরে প্রথম জয়টা এমনই এক কারামুক্তির আনন্দ হয়ে এসেছে বাংলাদেশ দলে।
সেই বিশ্বকাপে হল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর হারতে হারতে অবস্থাটা এমনই হয়েছিল যে ‘কারামুক্তি’ দিয়েও ঠিক বোঝানো যাচ্ছে না স্বস্তিটা। বরং বলুন, রাষ্ট্রপতির বিশেষ অনুকম্পায় ফাঁসির আসামির মুক্তি পাওয়ার মতো আনন্দ।
আজ ওয়ানডে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচ কী নিয়ে অপেক্ষা করছে, সেটি শুধু ক্রিকেট-বিধাতাই জানেন। তবে একটা জয়ের টনিকেই দুই দিন আগেও ৫-০ বিভীষিকা দেখা সাকিব আল হাসান এখন ম্যাচ শুরুর আগেই ৩-২ দেখছেন।
বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টেস্টের সময় ক্রিকইনফোতে এক পাঠক মন্তব্য করেছিলেন, তথাকথিত এক ‘মার্কি’ সিরিজের চেয়ে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাময় ক্রিকেট হচ্ছে এখানে। ইংল্যান্ড-ভারত সেই ‘মার্কি’ সিরিজ একপেশে হতে হতে এখন দর্শকদের বিরক্তির কারণ। বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়েও তেমনই হয়ে যাচ্ছিল প্রায়। ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচটা প্রথম অন্য সুরে গান গাইল। চতুর্থ ম্যাচে তো বিপুল বিক্রমেই ফিরে এল বাংলাদেশ। মনে মনে কী বলছেন, তা অনুমান করাই যায়। হ্যাঁ, বাংলাদেশ ফিরেছে বটে, তবে সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়ার পর!
যা হয়ে গেছে, সেটি তো আর বদলানো যাবে না। এই সফর থেকে বড়জোর ওয়ানডে সিরিজে ৩-২-এর সান্ত্বনাই পেতে পারে বাংলাদেশ। সেটি পেলেই সবাই খুব খুশিতে আটখানা হয়ে যাবেন, তা নয়। তবে অখুশির মাত্রাটায় হেরফের তো হবেই। ৫-০-এর চেয়ে তো বটেই; ৪-১-এর চেয়েও ৩-২ অনেক ভালো দেখায়!
চতুর্থ ম্যাচে বাংলাদেশ যখন নিশ্চিত জয়ের পথে, প্রেসবক্সে বাংলাদেশের সাংবাদিকের রসিকতায় জিম্বাবুইয়ানরাও খুব মজা পেলেন। একটা নির্দোষ প্রস্তাব—সফরে আসলে দুটি আলাদা ওয়ানডে সিরিজ হচ্ছে। হারারেতে তিন ম্যাচের সিরিজে জিম্বাবুয়ে ৩-০ জিতেছে। বুলাওয়েতে দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০-তে এগিয়ে। শেষ ম্যাচটাও জিতলে ওয়ানডে সিরিজ আসলে ১-১ ড্র!
ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ৩-০ হয়ে যাওয়ার পর ইংলিশ অফ স্পিনার গ্রায়েম সোয়ান একটা দলের জয় আর পরাজয়ের মধ্যে থাকা পার্থক্যটা খুব সুন্দর তুলে ধরেছিলেন। টানা জয়ের মধ্যে থাকা একটা দল মহা বিপদে পড়েও ভাবে, আরে কোনো ব্যাপার নাকি, এই ম্যাচ আমরাই জিতব। আর টানা পরাজয়ে থাকা দলের খেলোয়াড়দের সামান্যতম সমস্যায় পড়লেই মনে হয়, হায় রে, এই ম্যাচটাও হারছি!
এই সিরিজেও তা-ই হয়ে আসছিল। ওয়ানডে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচ গল্পটা বদলে দিয়েছে। তবে পঞ্চম ম্যাচটাতেও গল্পের ধারাবাহিকতা থাকবে কি না, সেটি খুব জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না। জয়ের আবরণ ভেদ করেও যে বাংলাদেশের এই দলের দগদগে ক্ষতগুলো প্রবলভাবে দৃশ্যমান। তামিম তামিমের রূপে দেখা দিয়েছেন। কিন্তু টপ-অর্ডারে আর কারও ব্যাটে ভরসা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ইমরুল কায়েস টানা ব্যর্থতার পরও দলে আছেন তামিমের সঙ্গে তাঁর উদ্বোধনী জুটির অতীত সাফল্যের নস্টালজিয়ার কারণে।
জুনায়েদ সিদ্দিককে প্রস্তুতি ম্যাচেই ছন্নছাড়া লেগেছিল। তার পরও দুটি ম্যাচ খেলে ফেললেন অন্যদের ব্যর্থতায়। নিজে আরও ব্যর্থ। মোহাম্মদ আশরাফুল ও শাহরিয়ার নাফীসের ওপর কোপটা একটু তাড়াতাড়িই পড়েছিল কি না, এই প্রশ্নও তাই উঠে গেছে। কিন্তু জুনায়েদকে বাদ দিলে তো ওই দুজনের কাউকেই ফেরাতে হবে। ব্যর্থ বলে অভিহিত কারও ফেরা হবে আরেকজন ‘আরও ব্যর্থ’ বলে। এই সফরে বাংলাদেশের একাদশ নিয়ে ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা জড়িত’ এমন বিষয়ের মতো গোপনীয়তা। তবে আভাসে ইঙ্গিতে যা বোঝা গেল, এই তিতে বড়িটা হয়তো গিলতে যাচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
বোলিংয়ের অবস্থাও সুবিধার নয়। দুই পেসার রুবেল ও শফিউল ভালো করছেন। তবে মূল দুই স্পিনার সাকিব ও রাজ্জাককে স্বচ্ছন্দে খেলে দিচ্ছে জিম্বাবুইয়ানরা। বুলাওয়ের উইকেট একটু মুখ তুলে তাকিয়েছে বলে স্পিনাররা চতুর্থ ম্যাচে তা-ও একটু মন্দের ভালো। তবে ম্যাচ তো জেতালেন রুবেল হোসেনই।
ওয়ানডে সিরিজের চার ম্যাচে ১০ উইকেট। আজও তাই বাংলাদেশের তুরুপের তাস এই পেসারই। তবে ব্যাটসম্যানরা বড় রান না করলে তাঁর জন্যও কাজটা অসাধ্য হয়ে যাবে। প্রতি ম্যাচেই তো আর জিম্বাবুয়ে ১৬ রানে শেষ ৬ উইকেট হারাবে না। গত পরশুর ম্যাচটা আসলে ব্যতিক্রম। নইলে বুলাওয়েতে কোনো দল ২৬০-৭০ করার পরও অধিনায়ককে ভাবতে হয়, বোলিংটা যদি ভালো হয় তাহলে জিতব।
সফরের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ দলের আরেকটা সমস্যাও থাকে। মনে মনে সবাই দেশে ফেরার বিমানে উঠে যায়। এবার তো সেই বিমানে ওঠার আগেও অনেক ঝক্কি। এয়ার জিম্বাবুয়ের পাইলটদের ধর্মঘটের কারণে বুলাওয়ে থেকে জোহানেসবার্গে যাওয়া হচ্ছে না। বাসে হারারে গিয়ে সেখান থেকে উঠতে হবে বিমানে। শেষ পর্যন্ত পুরো দল যে একসঙ্গে যেতে পারছে, সেটিই বড় স্বস্তি।
সেই স্বস্তিতে আচ্ছন্ন সাকিবরা দেশে ফেরার তাড়ায় ৩-২-এর মাহাত্ম্যটা ভুলে না গেলেই হয়!

চা বেচা আর দাবা খেলা

কাকডাকা ভোরেই দোকানে যেতে হয়। চায়ের কেতলিতে পানি না ফোটালে যে পেটেও কিছু পড়বে না মোহাম্মদ সাগরের। চা বানায়, ক্রেতাদের পরিবেশন করায়। এর মধ্যেও সময় বের করে বসে যায় দাবা নিয়ে। মাগুরার কেশব মোড়ে চায়ের দোকানের বেঞ্চেই চলে দাবা খেলা। খেলতে খেলতে জেলা শহরের গণ্ডি ছাড়িয়ে এসেছে জুনিয়র দাবার জাতীয় পর্যায়ে। গত পরশু শেষ হওয়া প্রতিযোগিতায় হয়েছে রানারআপ।
বাবা মোশারফ হোসেন ছেলেকে ক্রিকেটার বানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ক্রিকেটার হতে পারেনি সাগর। নিজেরও ছিল সেই স্বপ্ন। কিন্তু ক্রিকেট খেলতে হলে সারা দিন মাঠে থাকতে হবে। চায়ের দোকানের ঝাঁপ না উঠলে যে সংসার চলবে না। ক্রিকেটার আর হতে পারল না সাগর। ২০০০ সালে হঠাৎ করেই বাবা মারা গেলেন মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে। সংসারের হালটা ধরতে হলো সাগরকেই। মা আমেনা খাতুনও পৃথিবী ছেড়ে গেছেন গত বছর। বড় ভাই বিবাহিত, নিজের সংসার নিয়ে সে ব্যস্ত। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তাই লেখাপড়াটা ঠিকমতো চালিয়ে যেতে পারেনি। তিন-চার বছর বিরতির পর আবারও ভর্তি হয়েছে মাগুরা শ্রীখণ্ডী উচ্চবিদ্যালয়ে।
সাগরের দাবা খেলায় আসার গল্পটা মজার। মাগুরায় তখন ফুটবলার মেহেদি হাসান উজ্জ্বলের বেশ নাম। ঢাকা থেকে ফিরলেই আবাহনীর এই মিডফিল্ডারকে নিয়ে শোরগোল পড়ে যেত। হইচই পড়ত জাতীয় দলের দাবাড়ু মাহফুজুর রহমানকে (ইমন) নিয়েও। ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, শ্যুটার শারমিন আক্তার রত্নাদের সাফল্য তাঁকে ভেতরে ভেতরে তাতিয়ে দিচ্ছিল। খেলোয়াড় তাকে হতেই হবে। একদিন সাগরই ইচ্ছাটা জানাল উজ্জ্বলকে, ‘ভাই, আমি ফুটবলার হব।’ দোকান ছেড়ে ফুটবলে সময় দিতে পারবে না বলে তাকে দাবা খেলার পরামর্শ দেন উজ্জ্বল, ‘আমি তোমাকে দাবা খেলতে দেখেছি, মন দিয়ে দাবাই খেলো।’ উজ্জ্বলই সাগরের প্রথম দাবার গুরু।
দাবায় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। ১৭ বছর বয়সী সাগর বলল, ‘দাবা যে লিখে খেলতে হয়, জানতাম না। প্রথম জানলাম মহানগর টুর্নামেন্টে খেলার সময়। তখন ইমন ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয়। উনি মাগুরায় গেলে আমাকে কিছু বই দেন। সেখান থেকেই আস্তে আস্তে শুরু করি খেলা শেখা।’
সারা দিন দোকানদারি করেও রাতে ঘণ্টা চারেক দাবার অনুশীলন করে সাগর। এর পর পড়াশোনা করে ঘুমাতে যায়। মাগুরার ছোট-বড় টুর্নামেন্টে গত কয়েক বছরে ৪৫ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। গত বছর স্কুল দাবায় হয়েছে রানারআপ। নিজের একটা ল্যাপটপ হবে, আধুনিক দাবার সব নিয়মকানুন শিখবে, এটা এখনো তার কাছে আকাশকুসুম কল্পনা, ‘চা বিক্রি করে কি ল্যাপটপ কেনা সম্ভব?’ জানাল, ‘মাগুরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয় একবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ল্যাপটপ দেবে। কিন্তু এখনো পাইনি।’
বাংলাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদের সঙ্গে ফেডারেশনে দেখা হলেও কথা হয়নি কখনো। ইচ্ছা আছে, নিয়াজ মোরশেদের কাছে প্রশিক্ষণ নেওয়ার। নিয়াজকেও ছাড়িয়ে যেতে চায় সে একদিন। মফস্বলের চা-দোকানি হলেও ইচ্ছাটাকে আকাশের সীমানায় বাঁধতে দোষ কী?

মেসিদের কোচ সবুজ সংকেত দেবেন?

আর কত ‘খেলা’ দেখা যাবে! মেসিদের অনুশীলন মাঠের জন্য এবার সামনে আনা হলো আর্মি স্টেডিয়াম। কাল দুপুরে ওই স্টেডিয়ামটি পরিদর্শন করে এসেছেন বাফুফের সহসভাপতি বাদল বায়। বিকেলে তিনি ফুটবল ভবনে আসতেই দুই কর্মকর্তা শওকত আলী খান ও আনোয়ারুল হক হেলাল বেশ কৌতূহলী হয়ে উঠলেন। সেখানে কি মেসিদের নেওয়া যাবে?
উত্তরটা তখন পর্যন্ত মোটামুটি হ্যাঁ-বোধকই ছিল। বাদল রায় বললেন, ‘এমনিতে বাইরে থেকে স্টেডিয়ামটা দেখতে ভালোই লাগে। পরিবেশটাও ভালো। কিন্তু মূল সমস্যা ড্রেসিংরুম-বাথরুম নিয়ে। এগুলোর তো মেসিদের মানের নয়।’ এই কথা বলে তিনি চারদিকে ফোন করা শুরু করেন।
আজ সকালে আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ জুলিয়ান কামিনো ঢাকা আসছেন এক দিনের সফরে। সঙ্গে আরও দুজন। ম্যাচের উদ্যোক্তা ভারতের সেলিব্রিটি ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের দুজন কর্মকর্তাও আসবেন। তাঁরা হোটেলে বিশ্রাম নিয়ে বেরিয়ে পড়বেন আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতি দেখতে।
প্রথমে তাঁদের আনা হবে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। তারপর কমলাপুরে ঘুরে আর্মি স্টেডিয়াম। ম্যাচ আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক হেলাল কাল রাতে জানালেন, ‘আমরা অনুশীলন মাঠ হিসেবে কমলাপুর এবং আর্মি দুটোই দেখাব। যেটা তাঁদের পছন্দ হয়।’ দুটোরই এমন অবস্থা, পছন্দ হওয়ার কোনো কারণ নেই বলছেন খোদ কর্মকর্তারাই। তবে একটা জায়গায় ম্যাচ আয়োজক কমিটির প্রধান একমত, ‘কমলাপুর থেকে আর্মি স্টেডিয়াম অন্তত ভালো হবে।’
এখানেই শেষ নয়। রাতে বাদল রায় দিয়েছেন নতুন তথ্য, ‘প্রয়োজনে ফতুল্লাও দেখাব আমরা। এ নিয়ে বিসিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছি।’ এর আগে বিকেলে সেনা ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের কাছে আর্মি স্টেডিয়াম চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ‘জাতীয় স্বার্থে’ মাঠ পাওয়া গেলেও কর্তাদের কথায় বোঝা গেল, যদি প্রতিনিধিদল ‘দয়া’ করে ছাড় দেয়, নইলে উন্নত মাঠ, ড্রেসিংরুম, বাথরুম, আইসবাথ ছাড়া সহজেই ‘হ্যাঁ’ বলে দেবে এটা ভাবা বাড়াবাড়ি।
পুরো ব্যাপারটা এমনই লেজেগোবরে যে মূল ভেন্যু বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামও প্রস্তুত নয়। কাল বিকেলে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠ দেখে মনে হলো, বড় রকমের শঙ্কা রয়ে গেছে। মাঠের কোথাও কোথাও ঘাস নেই। কোথাও প্রচুর ঘাস, কিন্তু ফুটবলের উপযোগী ঘাস নয় এগুলো। কিছু জায়গা জঙ্গলের মতো হয়ে আছে। প্রয়োজন ছিল মাঠে নতুন ঘাস লাগানো, কিন্তু লাগানো হয়নি।
ঘরোয়া ফুটবল শেষে অল্প কদিন আগে কাজ শুরু হয়েছে মাত্র। মাঠে দাঁড়িয়ে মাঠের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ইয়াহিয়া বললেন, ‘আরও ১৫ দিন সময় আছে। ১০ দিন সময় পেলেই মাঠ এর চেয়ে আরও অনেক ভালো করা যাবে।’ উপস্থিত এএফসির ম্যাচ কমিশনার মনিরুল ইসলাম তাতে সায় দিলেন। তবে আজ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে এসে মাঠ দেখলে কামিনোর পছন্দ হবে, এমন নিশ্চয়তা তিনিও দিতে পারেননি।
গোলরক্ষক যেখানে দাঁড়ান, সেই জায়গাটা ন্যাড়া। ঘাস লাগানো হলেও সেভাবে এখনো ওঠেনি। কামিনোর চোখ যে তা এড়াবে না, শতভাগ নিশ্চিত বলা যায়।
বাফুফের জন্য স্বস্তির খবর, কলকাতার যুবভারতী দেখে সবুজ সংকেত দিয়েছে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিদল। ২ সেপ্টেম্বর কলকাতায় আর্জেন্টিনা-ভেনেজুয়েলা প্রীতি ম্যাচ। ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ম্যাচ। ম্যাচ পরের কথা, আজ কামিনোরা এসে কী বলেন, সেটিই বড় প্রশ্ন।

উপন্যাস- আমরা কেউ বাসায় নেই-(দশ) by হুমায়ূন আহমেদ

ড্রাইভার ইসমাইলের আজ বিয়ে। কনে রহিমার মা। চার লাখ টাকার কাবিন, অর্ধেক জেওর এবং শাড়িতে উসুল। বিয়ে পড়াচ্ছেন ব্যাঙা ভাইয়ের পরিচিত মাওলানা। বিয়ের খাবারের খরচ দিচ্ছে ব্যাঙা ভাই। হাজি নান্নামিয়া বাবুর্চি উঠানে ডেগ বসিয়ে রান্না চড়িয়েছে। আয়োজন ব্যাপক—
প্লেইন পোলাও
জালি কাবাব (সঙ্গে এক পিস পনির)
মুরগির রোস্ট (দেশি, ফার্মের না)
খাসির রেজালা

উপন্যাস- আমরা কেউ বাসায় নেই-(নয়) by হুমায়ূন আহমেদ

মার ধারণা ছিল, ‘টেলিগ্রাম’ বিষয়টা মোবাইল ফোনের কারণে দেশ থেকে উঠে গেছে। এখন কেউ আর ‘Mother serious come sharp’ জাতীয় টেলিগ্রাম করে না। ট্রেনে চলার সময় রাস্তার পাশে টেলিগ্রাফের খুঁটিও দেখি না। সংগত কারণেই মনে হয়, লোকজন টেলিগ্রাফের খুঁটি বিক্রি করে কটকটি কিনে খেয়ে ফেলেছে।

উপন্যাস- আমরা কেউ বাসায় নেই-(আট) by হুমায়ূন আহমেদ

মা জেনেছেন, তাঁর পাকস্থলীতে ক্যানসার। অল্পদিনের মধ্যেই মারা যাবেন। তিনি যে খুব চিন্তিত, এ রকম মনে হচ্ছে না। এত বড় অসুখ বাঁধানোয় নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। অন্যদের সঙ্গে টেলিফোনের কথাবার্তায় সে রকমই মনে হয়। তাঁর টেলিফোনে কথাবার্তার নমুনা—
রুনি! আমার খবর শুনেছিস। কী আশ্চর্য! কেউ বলে নাই? আমার ক্যানসার হয়েছে। চিকিৎসা চলছে। বাঁচব মনে হয় না। কথায় আছে না, ক্যানসার নো আনসার। ক্যানসারের কারণে বিদেশ যাচ্ছি।

উপন্যাস- আমরা কেউ বাসায় নেই-(সাত) by হুমায়ূন আহমেদ

সালামত এসেছে। ভাইয়ার ঘরে প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে আছে। সালামতকে ভয়ংকর দেখাচ্ছে। চোখ টকটকে লাল। দুটা চোখেই ময়লা। চোখ দিয়ে পানি ঝরছে। সালামতের মাথা কামানো। মুখ ভর্তি খোঁচা খোঁচা দাড়ি।
ভাইয়া বলল, আপনার ঘটনা কী? দশ দিন পরে আসবেন বলে গেলেন। এক মাস পার করে এসেছেন।

উপন্যাস- আমরা কেউ বাসায় নেই-(ছয়) by হুমায়ূন আহমেদ

‘রগট ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা টগর সাহেব আষাঢ়ি অমাবস্যায় গৃহত্যাগ করিয়াছেন। ঢাকার নিকটবর্তী গাজীপুর শালবনে তিনি কিছুদিন তপস্যায় থাকিবেন এমন আভাস পাওয়া গিয়াছে। ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়াছে, তাঁহার কিছু ভাবশিষ্য তাঁহার অনুগমন করিয়াছে। ইহাদের মধ্যে ব্যাঙা ভাইয়ের নাম উল্লেখযোগ্য।’
টগর ভাইয়ার গৃহত্যাগ খবরের কাগজের বিষয় হলে এ রকম একটা খবর হতে পারত। তা হলো না। ভাইয়া ঝড় ও শিলাবৃষ্টি মাথায় নিয়ে রাত নটায় বাড়ি ছাড়ল। বাবা তখন উঠানে বসে শিলাবৃষ্টি দেখছেন।

উপন্যাস- আমরা কেউ বাসায় নেই-(পাঁচ) by হুমায়ূন আহমেদ

ট্রাকড্রাইভার এবং ট্রাকচালক সমিতির পিআরও সালামত এসেছে ভাইয়ার কাছে। সালামত লম্বা, চেহারায় ইঁদুরভাব প্রবল। চোখ কোটর থেকে খানিকটা বের হয়ে আছে। লম্বা নাক, নাকের নিচে পুরুষ্ট গোঁফ। গায়ের রং কোনো একসময় হয়তো ফরসা ছিল। ময়লা জমে কিংবা রোদে পুড়ে কালচে ভাব ধরেছে। তাকে ঘিরে সস্তা সিগারেটের গন্ধের সঙ্গে মিলেছে জর্দার কড়া গন্ধ। তবে এখন সে পান খাচ্ছে না।

উপন্যাস- আমরা কেউ বাসায় নেই-(চার) by হুমায়ূন আহমেদ

দ্মকে নিয়ে রওনা হয়েছি। পদ্ম বলল, আমার স্যান্ডেল কেনার কোনো দরকার নেই, আপনার সঙ্গে জরুরি কিছু কথা বলা দরকার।
আমি বললাম, বলো।
পদ্ম বলল, একগাদা মানুষের মধ্যে জরুরি কথা কীভাবে বলব! আপনার কাছে যদি টাকা থাকে, কোনো একটা চায়নিজ রেস্টুরেন্টে যাই, চলুন।
আমার কাছে কুড়ি টাকার একটা নোট আছে। এই টাকা নিয়ে চায়নিজ রেস্টুরেন্টে যাওয়া যায় না।

উপন্যাস- আমরা কেউ বাসায় নেই-(তিন) by হুমায়ূন আহমেদ

দ্ম এবং তার মা এ বাড়িতে আছে দশ দিন ধরে। পদ্মর মায়ের নাম সালমা। ভাইয়া তাকে ডাকছে ‘ছোট মা’। আমি ভাইয়াকে জিজ্ঞেস করলাম, ওনাকে ছোট মা ডাকছ কেন?
ভাইয়া উদাস গলায় বলল, ঝামেলা লাগানোর জন্যে ‘ছোট মা’ ডাকছি, রগট ধর্মের অনুসারীরা ঝামেলা লাগাবে—এটাই তো স্বাভাবিক। আমার ‘ছোট মা’ ডাক শুনে বাবা আগুনলাগা মরিচবাতির মতো বিড়বিড় করে জ্বলবেন। মা ঘন ঘন ফিট হবেন। মজা না? দেখ, কেমন ঝামেলা লাগে।
ঝামেলা ভালোমতোই লেগেছে। পদ্ম-পরিবারের দশ দিন পার করার পর আমাদের সবার গতি ও অবস্থান জানানো যেতে পারে, যদিও কোনো কিছুরই গতি ও অবস্থান একসঙ্গে জানা যায় না। গতি জানলে অবস্থান বিষয়ে কিছু অনিশ্চয়তা থাকে, আবার অবস্থান জানলে গতির অনিশ্চয়তা।

উপন্যাস- আমরা কেউ বাসায় নেই-(দুই) by হুমায়ূন আহমেদ

কাল এগারোটা। বাবা কাজে চলে গেছেন। রহিমার মা ঘর ঝাঁট দিচ্ছে এবং নিজের মনে কথা বলছে। তার মন-মেজাজ খারাপ থাকলে অনর্গল নিজের মনে কথা বলে। মায়ের ঘর থেকে টিভির আওয়াজ আসছে। বাবা অফিসে যাবার পরপর মা একটা হিন্দি সিনেমা ছেড়ে দেন। রহিমার মা কাজের ফাঁকে ফাঁকে দু-তিন মিনিট করে দেখে।
ভাইয়া চিৎ হয়ে শুয়ে আছে। তার হাতে উল্টা করে ধরা বই। ভাইয়া উল্টা করে বই পড়লে ধরে নিতে হবে তারও মন খারাপ। ভাইয়া বই নামিয়ে রাখতে রাখতে বলল,

উপন্যাস- আমরা কেউ বাসায় নেই-(এক) by হুমায়ূন আহমেদ

মাদের বাসায় একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে। আরও খোলাসা করে বললে বলতে হয় দুর্ঘটনা ঘটেছে বাসার শোবার ঘরের লাগোয়া টয়লেটে। কী দুর্ঘটনা বা আসলেই কিছু ঘটেছে কি না তাও পরিষ্কার না। গত ৩৫ মিনিট ধরে বাবা টয়লেটে। সেখান থেকে কোনো সাড়াশব্দ আসছে না। মা কিছুক্ষণ পরপর দরজা ধাক্কাচ্ছেন এবং চিকন গলায় ডাকছেন, এই টগরের বাবা! এই!
মা হচ্ছেন অস্থির রাশির জাতক। তিনি অতি তুচ্ছ কারণে অস্থির হন। একবার আমাদের বারান্দায় একটা দাঁড়কাক এসে বসল, তার ঠোঁটে মানুষের চোখের মতো চোখ। মা চিৎকার শুরু করলেন। মা মনে করলেন দাঁড়কাকটা জীবন্ত কোনো মানুষের চোখ ঠোকর দিয়ে তুলে নিয়ে চলে এসেছে। একপর্যায়ে ধপাস অর্থাৎ জ্ঞান হারিয়ে