Sunday, April 10, 2016

দড়ির ওপর ঘুম!

দুই গাছের মাঝখানে দড়ির জালের বিছানা বা হ্যামকে ঝুলে ঘুমানো—সে তো আরামের ব্যাপার। কিন্তু চীনের গাও ইয়াং (৩৭) যে কাণ্ডটি করে থাকেন, এতে অনেকের চোখ ছানাবড়া হয়ে যাবে। দুই গাছের মাঝখানে সরু একটি দড়ি বেঁধে এর ওপর ঘুমান তিনি। সবাইকে তাক লাগানোর জন্য তা করেন ইয়াং। লক্ষ্য, গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম ওঠানো।
ইয়াং বলেন, এই কৌশল আয়ত্ত করতে তাঁর প্রায় ২৪ বছর লেগেছে। এখন তিনি টানা সাত ঘণ্টা দড়ির ওপর শুয়ে ঘুমাতে পারেন। চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় লিয়াওনিং প্রদেশের আনসান এলাকার বাসিন্দা ইয়াং বলেন, তিনি স্থানীয় একটি পার্কে প্রতিদিন সকালে ১০ ফুট উঁচুতে বেঁধে রাখা দড়ির ওপর শুয়ে থাকার চর্চা করেন। এনইএন নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমার বয়স যখন ১২, তখন এক শিক্ষকের সান্নিধ্যে আসি। তিনি আমাকে কিছু কৌশল শেখান। তারপর থেকে ২৪ বছর ধরে চর্চা করে আসছি।’
ইয়াং বলেন, একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে এ কাজ করা প্রায় অসম্ভব। এ ক্ষেত্রে শরীরের পেশিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্য-দক্ষতার যথাযথ সমন্বয় দরকার। ইয়াং বলেন, ‘আমি গিনেস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে প্রস্তুত এবং বিশ্ব রেকর্ড গড়ার ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।

৬০ বছর পর ডিএনএ টেস্টেই মিলল আসল বাবা

ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ব্রিটেনের ক্যান্টারবেরি আর্চবিশপের প্রকৃত পিতার খোঁজ মিলল। ৬০ বছর বয়সী আর্চবিশপ জাস্টিন ওয়েলবি এতদিন যাকে জন্মদাতা পিতা হিসেবে জানতেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সেটি ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফ আর্চবিশপের পিতৃপরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করার পর জাস্টিন ওয়েলবি ডিএনএ টেস্ট করিয়ে আসল জন্মপরিচয় সম্প্রতি জানতে পারেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ‘গত মাসেই আমি জানলাম, এতদিন ধরে যাকে আমি বাবা ডেকে আসছি, সেই গ্যাভিন ওয়েলবি আমার বাবা নন। আমার আসল বাবা প্রয়াত স্যার অ্যান্টনি মনটেগ ব্রাউন,’ এক বিবৃতিতে এমনটাই বলেন জাস্টিন। এই কথা জেনে নিজে পুরোপুরি ‘হতভম্ব’ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন জাস্টিন, যিনি চার্চ অফ ইংল্যান্ডের নেতা এবং সারাবিশ্বের অ্যাংলিকান খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ নেতা। আর্চবিশপ জাস্টিনের মা লেডি উইলিয়ামস অফ এলভেল স্বীকার করেছেন, গ্যাভিন ওয়েলবির সঙ্গে বিয়ের আগে চার্চিলের সহকারী অ্যান্টনি ব্রাউনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল এবং তারা এক বিছানায়ও গিয়েছিলেন।
১৯৫৫ সালে গ্যাভিন ওয়েলবিকে বিয়ের অল্প কয়েক দিন আগে স্যার অ্যান্টনির সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছিল। তবে এটি মাতাল অবস্থায় হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। সন্তানের পিতৃপরিচয় নিয়ে নতুন এই তথ্যকে নিজের ওপর ‘অবিশ্বাস্য এক আঘাত’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। বিবিসি জানিয়েছে, ১৯৫৫ সালে গ্যাভিন ওয়েলবিকে বিয়ে করেন লেডি উইলিয়ামস। তার নয় মাস পর জন্ম হয় জাস্টিনের। ১৯৫৮ সালে গ্যাভিনের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর ১৯৭৫ সালে আবার বিয়ে করেন লেডি উইলিয়ামস। গ্যাভিন ১৯৭৭ সালে মারা যান। চার্চিল প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় তার ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন ব্রাউন, প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর পরও ১৯৬৫ সালে চার্চিলের মৃত্যু পর্যন্ত তার সঙ্গেই থাকেন ব্রাউন। ২০১৩ সালে ব্রাউনের মৃত্যু হয়। ঠিক ওই বছরই ক্যান্টারবেরির বিশপ হিসেবে অভিষিক্ত হন জাস্টিন। ক্যামব্রিজে পড়াশোনা করা জাস্টিন তেল কোম্পানিতে বড় চাকরি করতেন। ১৯৮৩ সালে সাত বছর বয়সী মেয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে সব ছেড়ে ধর্ম-কর্মে মন দেন তিনি। তার তিন বছর পর প্রাইস্ট হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয়।

ঢাকা আবাহনীর প্রথম জয়

উত্তর বারিধারাকে হারাতে ঘাম ছুটে গেছে শেখ জামালের (বাঁয়ে)।
শনিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের ম্যাচে
-যুগান্তর
স্বাধীনতা কাপ ফুটবলে প্রথম জয় পেল ঢাকা আবাহনী। ৫-০ গোলে তারা উড়িয়ে দিয়েছে টিম বিজেএমসিকে। পাঁচটি গোলই করেছেন তাদের বিদেশীরা। নাইজেরীয় ফরোয়ার্ড সানডে চিজোবা ও সেনেগালের স্ট্রাইকার সারা কামারা দুটি করে এবং একটি গোল ইংল্যান্ডের লি টাকের। দিনের প্রথম ম্যাচে শেখ জামাল ১-০ গোলে জয়ী হয় উত্তর বারিধারার বিপক্ষে। দুটি ম্যাচই শনিবার অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচের ২০ মিনিটে লিড নেয় ঢাকা আবাহনী। বাঁপ্রান্ত থেকে নেয়া ওয়ালী ফয়সালের ফ্রিকিকে সেনেগালিজ ফরোয়ার্ড কামারা সারার হেড বিজেএমসির ডিফেন্স লাইন হয়ে ফিরে আসে লি টাকের পায়ে। ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়ান টাক (১-০)। ম্যাচের ৩০ মিনিটে তার বানিয়ে দেয়া বলে গোল করেন কামারা সাররা (২-০)।
৬৮ মিনিটে দলের তৃতীয় ও নিজের দ্বিতীয় গোল করেন কামারা সারা (৩-০)। টুর্নামেন্টে এটি তার তৃতীয় গোল। ৮৩ মিনিটে সানডে চিজোবার শট জালে প্রবেশ করে    (৪-০)। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সানডে আরও একটি  গোল করেন। এ জয়ে দুই ম্যাচ শেষে আবাহনীর পয়েন্ট চার। তিন ম্যাচ শেষে বিজেএমসির পয়েন্ট তিন। বি-গ্রুপে শেখ রাসেল দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে। এদিকে এ-গ্রুপে টানা তিন ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালের পথে এক পা বাড়িয়ে রাখল শেখ জামাল। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে উত্তর বারিধারাকে ১-০ গোলে হারায় তারা। প্রিমিয়ার লীগের চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল মৌসুমের প্রথম টুর্নামেন্ট স্বাধীনতা কাপে একের পর এক জয়ে শেষ চারের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে মোহামেডানকে ২-০ গোলে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ব্রাদার্সকে ৫-০ গোলে হারিয়েছে তারা। সেই তুলনায় প্রিমিয়ার লীগের দ্বিতীয় স্তর চ্যাম্পিয়নশিপ লীগের শিরোপাজয়ী উত্তর বারিধারার বিপক্ষে ১-০ গোলে জিততে ঘাম ঝরাতে হয়েছে তাদের। গোলটি হয়েছে উত্তর বারিধারার ভুলেই। ম্যাচের ২০ মিনিটে বক্সের ১০ গজ দূর থেকে শেখ জামালের ডিফেন্ডার লিংকনের উঁচু শট হেড করে ক্লিয়ার করতে যান প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার মনির আলম। কিন্তু বল জড়িয়ে যায় তাদের জালেই (১-০)। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ হাতছাড়া করে শেখ জামাল। আগের ম্যাচের হ্যাটট্রিক হিরো ওয়েডস আনসেলমির শট বারে লেগে মাঠের বাইরে চলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক আক্রমণ করে শেখ জামালের রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত রাখে বারিধারা। কিন্তু কোনো গোল আদায় করে নিতে পারেনি। ম্যাচ শেষ হওয়ার মিনিটতিনেক আগে বক্সের কোনায় ফ্রিকিক পায় শেখ জামাল। ওয়েডসনের ফ্রিকিক দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন বারিধারার গোলকিপার এরশাদ।

মুস্তাফিজ হায়দরাবাদের ‘ফায়ারপাওয়ার’

ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপের কয়েকটি ম্যাচ খেলতে পারেননি মুস্তাফিজুর রহমান। তবে যে তিনটি ম্যাচ খেলেছেন, তাতেই নিজের জাত চিনিয়েছেন। সদ্যসমাপ্ত বিশ্বমঞ্চে ৩ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ৯ উইকেট। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিয়েছেন টি ২০তে ক্যারিয়ারসেরা পাঁচ উইকেট। ওই ম্যাচে ৪ ওভারে খরচ করেছেন মাত্র ২২ রান। প্রথমবারের মতো আইপিএলে খেলতে বাংলাদেশের কাটার মাস্টার রয়েছেন ভারতে। বিশ্বকাপের পর আইপিএলের নবম আসরে সানরাইজার্সের হয়ে নিজেকে মেলে ধরার পালা। সেটা বাস্তবে রূপ দিতে পারবেন মুস্তাফিজ। ভারতীয় মিডিয়া তো তাকে হায়দরাবাদের বোলিং লাইন-আপে ‘ফায়ারপাওয়ার’ হিসেবেই দেখছে।
মুস্তাফিজের প্রশংসায় ভারতীয় মিডিয়া লিখেছে, ‘বাংলাদেশী পেস সেনশেসন এখন জাতীয় দলের অন্যতম ভরসার প্রতীক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টাইগারদের উত্থানে মুস্তাফিজের ভূমিকা রয়েছে। ওয়ানডেতে তার অভিষেকটাও ছিল চমৎকার। একদিনের ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচে তিনি নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। পরের ম্যাচে ছয় উইকেট। দুই ম্যাচে ১১ উইকেট। অসাধারণ পারফরম্যান্স! সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছেন তিনি। বিশ্বকাপেও নিজের জাত চিনিয়েছেন। ২০ বছর বয়সী মুস্তাফিজ অনেক দূর এগিয়েছেন।’ প্রথমবারের মতো আইপিএলে খেলতে গেছেন মুস্তাফিজ। হায়দরাবাদের বোলিং লাইনআপটা আরও শক্তিশালী হল। বাংলাদেশের কাটার মাস্টারকে নিয়ে ভারতীয় মিডিয়া লিখেছে, ‘এক লাখ ৪০ হাজার রুপির বিনিময়ে মুস্তাফিজকে দলে ভিড়িয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। এই দলে বোলার রয়েছেন আশিষ নেহরা, ট্রেন্ট বোল্ট, বারিন্দার স ান, ভুবনেশ্বর কুমারের মতো তারকারা। হায়দরাবাদের সেই বোলিং লাইন-আপে ‘ফায়ারপাওয়ার’ হিসেবে যোগ দিয়েছেন মুস্তাফিজ।’ ওয়েবসাইট।

পাখির যেমন সীমানা নেই তেমনি মানুষেরও

‘আমার এখনও কান্না আসে। যখন ‘শঙ্খচিল’ ছবিটির গল্প শুনি প্রিয় দু’দাদুর (গৌতম ঘোষ ও হাবিবুর রহমান খান) মুখ থেকে, তখন খুব একটা বুঝতে পারিনি। ছবিটিতে অভিনয় করতে গিয়ে বুঝেছি, পাখির যেমন সীমানা নেই, তেমনি মানুষেরও। দেশভাগের যন্ত্রণা, একই ভাষাভাষী, একই ভাবনার দুই বাংলার মানুষের জন্য রয়েছে বহু বিধিনিষেধ। যা দেশভাগের আগে ছিল না, দু’বাংলার মাঝে তারকাঁটার কঠিন সীমানা ও ভিসার জটিলতা থাকলেও ভাবনা কিংবা মননের কোনো বাঁধাই নেই’- কথাগুলো বলেছেন ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনায় ‘শঙ্খচিল’ ছবির শিশু শিল্পী চরিত্রে অভিনয় করা বাংলাদেশের মেয়ে আনুম রহমান খান সাঁঝবাতি। পহেলা বৈশাখে ছবিটি ভারত ও বাংলাদেশে একযোগে মুক্তি পাচ্ছে। এদিন সাঁঝবাতির উপস্থিতিতে ভারতের কলকাতায় ছবিটির প্রিমিয়ার-শো হবে। বাংলাদেশের ৬টি হলে মুক্তি পাবে ছবিটি। গৌতম ঘোষের পরিচালনায় এ ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন কলকাতার প্রসেনজিৎ। তার বিপরীতে রয়েছেন বাংলাদেশের অভিনেত্রী কুসুম শিকদার। ছবিতে তিনি প্রসেনজিৎ’র স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
তাদের ছোট মেয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের সাঁঝবাতি। ছোট্ট এ মেয়েটি জানায়, মানুষ এত সুন্দর, মেধাবী ভদ্র হয় তা গৌতম দাদুকে দেখে বুঝেছেন। শুটিংয়ের শুরুতে কিছুটা ভয় থাকলেও শুটিংয়ের সময় কোনো ভয়ই ছিল না। সবাই আমাকে অনেক আদর করেছেন। মনে হয়েছে আমি আমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই আছি। কুসুম আন্টি আর প্রসেনজিৎ আঙ্কেলকে ঠিক আমার মা-বাবার মতোই মনে হয়েছে। অভিনয় করতে গিয়ে তাদের যে ভালোবাসা পেয়েছি তা জীবনে কোনো দিন ভুলব না। ৫ম শ্রেণীতে পড়ুয়া সাঁঝবাতি ‘শঙ্খচিল’ ছবিটি সবাইকে পেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়ে বললেন, ‘আমি শিশু, ছবিটি করতে গিয়ে হাড়ে হাড়ে অনুভব করেছি দেশভাগের যন্ত্রণা, আইনের বিধিনিষেধ। শিশুরা এ ছবিটি দেখার পর বুঝতে পারবে দেশভাগের দুঃখের কথা, সংগ্রামের কথা।’ ছবির প্রযোজক হাবিবুর রহমান খান জানান, ছবির গল্পটিই মানবিক। মানবতার কাছে বিডিআর (বিজিবি) কিংবা বিএসএফ প্রায় হেরে যায়। ভুলে যান কঠিন দায়িত্বের কথাও। এখনও হয়তো তারকাঁটার বেড়া, এক সময় তা ছিল না। অনায়াসেই এপার-ওপার বাংলার মানুষ একাকার হয়ে যেতেন। ছবিটি সবাইকে দেখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইছামতি নদীর পাড়, কলকাতার টাকি শহরসহ ওপারের বেশ কয়েকটি হাসপাতালে ছবিটির শুটিং চিত্রায়িত হয়েছে। ছবিটির ভারতীয় প্রযোজক হচ্ছেন প্রসেনজিৎ। চিত্রনাট্য, চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক গৌতম ঘোষ।

ব্র্যাড পিটের ডিএনএ টেস্ট করতে চান জোলি

কয়েক মাস আগেই হলিউডের তারকা দম্পতি অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও ব্র্যাড পিটের সংসারে বিচ্ছেদের অনল লেগেছে। মাঝে সেই অনল কিছুটা স্থিমিত হয়ে এলেও ফের জ্বলে উঠেছে। পিটের পরনারী আসক্তির কারণেই নাকি সংসারে এ অশান্তি। সম্প্রতি ব্র্যাড পিটকে ডিএনএ টেস্ট করাতে বলেছেন জোলি। তিনি নিশ্চিত হতে চান, অভিনেত্রী-গায়িকা মেলিসা এথারিজের দুই সন্তান পিটের নয়। দিন কয়েক আগে একটি টকশোতে মেলিসা বলেন, পিটকে শুক্রাণু দানের জন্য অনুরোধ করবেন বলে ভেবেছিলেন তিনি। তবে পরবর্তীকালে আমেরিকান গায়ক ডেভিড ক্রসবির শুক্রাণু নিয়ে দুই সন্তানের জননী হন মেলিসা। জুলি সাইফার ছিলেন এ গায়িকা-অভিনেত্রীর সমকামী পার্টনার।
এজন্যই মা হতে শুক্রাণু নিতে হয়েছে তাকে। জোলির সন্দেহ হচ্ছে মেলিসার এমন বক্তব্য নিয়ে। তার ধারণা মেলিসার প্রকৃত সন্তানের বাবা ব্র্যাড পিট। তাই সন্দেহ দূর করতে পিটকে ডিএনএ টেস্ট করতে বলে দিয়েছেন ৪০ বছর বয়সী এ অভিনেত্রী। পিট যদি স্ত্রীর কথা মতো ডিএনএ টেস্ট না করেন- এ দুই সন্তানের প্রকৃত পরিচয় জানার মেলিসার কাছে যাবেন বলেও সতর্কবার্তা দিয়েছেন জোলি। এদিকে জোলির সন্দেহের কারণে নাকি মাথাব্যথা রোগে আক্রান্ত হয়েছেন পিট। ঘনিষ্ঠজনদের সেটাই বলে বেড়াচ্ছেন ৫২ বছয় বয়স্ক এ অভিনেতা। বেশ কয়েক বছর ধরে একসঙ্গে বসবাস করে আসা এ তারকা জুটি গেল বছর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরই মধ্যে ছয় সন্তানের বাবা-মাও হয়েছেন তারা।

ওয়াওমিং ককাসে স্যান্ডার্স জয়ী

বার্নি স্যান্ডার্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী বাছাইয়ের অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার ওয়াওমিং অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত দলীয় ককাসে হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করেছেন বার্নি স্যান্ডার্স। আজ রোববার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। ওয়াওমিংয়ে জয় পেলেও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে স্যান্ডার্সকে আরও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে। কারণ, এ পর্যন্ত মনোনয়ন পাওয়ার লড়াইয়ে স্যান্ডার্সের চেয়ে সুস্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছেন হিলারি। আগামী ১৯ এপ্রিল নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক দলের পরবর্তী প্রাইমারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গুরুত্বপূর্ণ ওই নির্বাচনের দিকে এখন হিলারি ও স্যান্ডার্সের নজর।

দোষ আমাকেই দিন: ক্যামেরন

লন্ডনের হোয়াইট হল এলাকায় গতকাল প্রধানমন্ত্রী ডেভিড
ক্যামেরনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়। অনেকের প্ল্যাকার্ডে লেখা
ছিল, ‘আমরা আর আপনাকে বিশ্বাস করি না, পদত্যাগ করুন
ক্যামেরন’, ‘ক্যামেরনকে ক্ষমতা ছাড়তেই হবে’ ইত্যাদি
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন স্বীকার করেছেন, তিনি পরিবারের অফশোর ফান্ড নিয়ে বিতর্কের বিষয়টি সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে পারেননি। এটা তাঁরই দোষ। ক্যামেরন আরও বলেন, তিনি তাঁর কর বিবরণী জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন। লন্ডনে গতকাল শনিবার ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের বসন্তকালীন ফোরামে ক্যামেরন বলেন, নিজের আর্থিক বিষয়গুলো নিয়ে বিতর্কের জন্য তিনি নিজেই দায়ী। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ সপ্তাহটা আমার ভালো যায়নি। এটা আরও ভালোভাবে মোকাবিলা করা উচিত ছিল আমার। আরও ভালোভাবে তা করতে পারতামও। ’ ক্যামেরন বলেন, ‘আমি জানি, এ থেকে শেখার বিষয় আছে। আমি সে শিক্ষাটা নেব।...১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট বা অজ্ঞাত উপদেষ্টাদের দুষবেন না। দোষটা আমাকেই দিন।’ সম্প্রতি ফাঁস হওয়া আলোচিত পানামা পেপারসের নথি অনুযায়ী ডেভিড ক্যামেরনের বাবা ইয়ান ক্যামেরন অফশোর ট্রাস্ট ‘ব্লেয়ারমোর হোল্ডিংস ইনকরপোরেট’-এর মালিক ছিলেন। নথি বলছে, এর মাধ্যমে ইয়ান যুক্তরাজ্যে কর ফাঁকি দিয়ে বিদেশে ৩০ বছর ধরে অর্থ জমা রেখেছিলেন। উত্তরাধিকার সূত্রে ওই তহবিলের লভ্যাংশ পেয়েছেন  ডেভিড ক্যামেরন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর প্রথমে আর্থিক বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের ‘একান্ত ব্যাপার’ দাবি করলেও পরে সমালোচনার মুখে একাধিকবার ব্যাখ্যা দেয়। এতে বলা হয়, ভবিষ্যতে আর ওই তহবিল থেকে লাভবান হবে না ক্যামেরন পরিবার। এ ছাড়া পানামা পেপারস ফাঁস হওয়ার পরপরই যুক্তরাজ্যের গার্ডিয়ান পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কর ফাঁকির বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সমন্বিত পদক্ষেপ থেকে অফশোর ট্রাস্ট রক্ষায় ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা চালিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী। মোসাক ফনসেকার কার্যালয়ে তল্লাশি: পানামা পেপারসের ঘটনায় জড়িত বহুজাতিক আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার একটি কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়েছে এল সালভাদরের পুলিশ। এল সালভাদরের রাজধানী স্যান সালভাদরের ওই কার্যালয়টিতে গত শুক্রবার তল্লাশি চালিয়ে বেশ কয়েকটি কম্পিউটার ও অনেক নথিপত্র জব্দ করা হয়। পানামা পেপারসের কর ফাঁকিবাজ তথা অর্থ পাচারকারীদের তালিকায় এল সালভাদরের ৩৩ জন বিত্তবানের নাম থাকায় গত বুধবার দেশটির সরকার ঘোষণা দেয়, ওই ব্যক্তিরা আদতেই কোনো আইন ভেঙেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এরপরই মোসাক ফনসেকার কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হলো। সরকারি কৌঁসুলি ডগলাস মেলেন্দেস শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, সেখান থেকে ২০টি কম্পিউটার এবং বেশ কিছু নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সাতজন কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে কাউকে আটক করা হয়নি।
ডেভিড ক্যামেরন
প্রতিষ্ঠানটি বাইরের সাইনবোর্ড খুলে ফেলার পরই তাঁরা সেখানে তল্লাশির সিদ্ধান্ত নেন। এদিকে আইসল্যান্ডের পার্লামেন্ট শুক্রবার নতুন সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের অনাস্থা ভোট প্রত্যাখ্যান করেছে। পানামা পেপারস নথি ফাঁসের পর ওই সরকার ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে। কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। দেড় ঘণ্টা আলোচনার পর অনাস্থা প্রস্তাবটি ৩৮-২৫ ভোটে নাকচ হয়ে যায়। অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের একটি আন্তর্জাতিক জোট সম্প্রতি বিশ্বের শত শত ক্ষমতাসীন নেতা এবং ক্রীড়া ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের তারকাদের কর ফাঁকি দেওয়ার বিপুল পরিমাণ তথ্য ফাঁস করে। পানামাভিত্তিক আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার কাছ থেকে ওই নথিগুলো ফাঁস করা হয় বলে এগুলো পানামা পেপারস নামে পরিচিতি পেয়েছে।

কেজরিওয়ালকে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ

কেজরিওয়াল
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে লক্ষ্য করে জুতা ছুড়েছেন এক ব্যক্তি। তবে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। আজ শনিবার দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে। ওই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।  দিল্লির ওই অনুষ্ঠানে শহরের বায়ু দূষণ ও যানজট কমাতে জোড়-বিজোড় নিবন্ধন নম্বর অনুযায়ী গাড়ি ভিন্ন দিনে রাজপথে নামানোর পরিকল্পনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে এই পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু করার কথা। এর আগে ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে জোড়-বিজোড় নম্বরের গাড়ি ভিন্ন দিনে রাস্তায় চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অনুষ্ঠানে কেজরিওয়াল ওই প্রকল্প নিয়ে কথা বলা শুরু করতেই বেদ প্রকাশ নামের একজন তাঁকে লক্ষ্য করে জুতা ও একটি সিডি ছুড়ে মারেন। যদিও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। জুতা-সিডি ছুড়ে মারার আগে বেদ প্রকাশ চিৎকার করে বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশার ফিটনেস যাচাই প্রকল্প নিয়ে কেজরিওয়ালের বক্তব্য জানতে চান। বেদ প্রকাশ নিজেকে আম আদমি সেনা বলে পরিচয় দেন। এএপি থেকে বেরিয়ে যাওয়া একটি ছোট অংশ আম আদমি সেনা নামের একটি সংগঠন করেছে। জুতা-সিডি ছোড়ার পর পর উপস্থিত লোকজন বেদ প্রকাশকে আটক করে। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে বেদ প্রকাশকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে নিয়ে যায়। এরপর অবশ্য কেজরিওয়াল তাঁর পরিকল্পনা বিস্তারিত উপস্থাপন করেন। ‘সিএনজি কেলেঙ্কারির’ অংশ হিসেবে জোড়-বিজোড় নম্বরের গাড়ি ভিন্ন দিনে রাস্তায় নামানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে অভিযোগ তুলে গত জানুয়ারিতে কেজরিওয়ালের মুখে কালি ছুড়েছিলেন এক নারী।

কেরালায় মন্দিরে আগুনে বহু হতাহত

ভারতের কেরালা রাজ্যে একটি মন্দিরে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৭৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে দুই শতাধিক। আজ রোববার টাইমস অব ইন্ডিয়া ও বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। মন্দিরটি রাজ্যের কোল্লাম এলাকায় অবস্থিত। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে উৎসব চলাকালে আতশবাজির স্তূপে বিস্ফোরণ থেকে আগুনের ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন কেরালার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা।

ফনসেকার এল সালভাদরের কার্যালয়ে পুলিশি অভিযান

এল সালভাদরে মোসাক ফনসেকার কার্যালয়ে গতকাল
শুক্রবার অভিযান চালায় ন্যাশনাল সিভিল পুলিশ
পানামার আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার এল সালভাদরের কার্যালয়ে গতকাল শুক্রবার অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। সেখান থেকে বেশ কিছু কম্পিউটার ও দলিল-দস্তাবেজ জব্দ করেছে পুলিশ। কাউকে আটক করা হয়নি। সালভাদরের রাষ্ট্রীয় কৌঁসুলির কার্যালয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে দেওয়া বার্তায় এ কথা জানিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় কৌঁসুলি ডগলাস মেলেন্দেজ গতকাল ফনসেকার কার্যালয়ে যান। তিনি বলেন, সেখান থেকে ২০টি কমপিউটার ও বিপুল পরিমাণ নথি জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশি অভিযান নিয়ে গতকাল গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন
এল সালভাদরের রাষ্ট্রীয় কৌঁসুলি ডগলাস মেলেন্দেজ
সাতজন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গত বুধবার এল সালভাদর কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়, পানামা পেপারসের তালিকায় আসা ৩৩ জনের ব্যাপারে তদন্ত করা হবে। সালভাদরের স্থানীয় অনলাইন পত্রিকা এল ফারো এক খবরে জানায়, দেশটির নাগরিকেরা মোসাক ফনসেকাকে ব্যবহার করে হাজার হাজার ডলারের লেনদেন করত।

ভোটের আগেই হিলারি ও স্যান্ডার্সের বাগ্যুদ্ধ

নিউইয়র্ক রাজ্যে ডেমোক্রেটিক (এবং রিপাবলিকান) পার্টির পরবর্তী প্রাইমারি নির্বাচন। এ পর্যন্ত রিপাবলিকান দলের ট্রাম্প ও তাঁর সহযোদ্ধারা একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত কাদা-ছোড়াছুড়ির জন্য পরিচিত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ঠিক ততটা নিচে না নামলেও দুই ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও বার্নি স্যান্ডার্স তুমুল বাগ্যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন। তর্কের মুখ্য বিষয় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি কে যোগ্য। কথাটা প্রথমে তুলেছিলেন হিলারি। স্যান্ডার্স অযোগ্য, ঠিক আক্ষরিকভাবে এ কথা তিনি বলেননি, তবে পরোক্ষভাবে হলেও তাঁর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গত এক সপ্তাহে একাধিকবার আক্রমণের তির তিনি ছুড়েছেন। প্রথমে নিউইয়র্কে, পরে ফিলাডেলফিয়ার জনসভায় হিলারি প্রশ্ন তোলেন, স্যান্ডার্স নানা প্রস্তাব করেছেন বটে, কিন্তু তার অধিকাংশই বাস্তবসম্মত নয়। নিউইয়র্কের ডেইলি নিউজ পত্রিকায় গত সপ্তাহে স্যান্ডার্স একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তাঁর অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বিষয়ে বেশ কিছু কথা বলেন, ক্লিনটন শিবির থেকে তাঁকে অস্বচ্ছ ও অগভীর বলে সমালোচনা করা হয়েছে। হিলারি নিজে বলেন, স্যান্ডার্স এসব কথা বলার আগে তাঁর ‘হোমওয়ার্ক’ করে ওঠেননি। হিলারির জবাবে স্যান্ডার্স পাল্টা প্রশ্ন রাখেন, তাঁকে অযোগ্য বলার আগে হিলারি নিজে প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্যতা রাখেন কি না, তা ভাবা দরকার। তিনি বলেন, ওয়াল স্ট্রিট থেকে কোটি কোটি ডলার চাঁদা গ্রহণের পর হিলারি নিজেকে আর যোগ্য ভাবতে পারেন না। হিলারির অভিযোগ, স্যান্ডার্স আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে বিরোধিতা করেছেন, অতএব বেপরোয়া গুলিবর্ষণে যেসব স্কুলছাত্র মারা গেছে, তাদের বাবা-মায়ের কাছে তাঁর উচিত হবে ক্ষমা চাওয়া। স্যান্ডার্সের জবাব, ‘আমি বলব, ইরাক যুদ্ধের ফলে যে হাজার হাজার মানুষ মারা গেল, সেক্রেটারি ক্লিনটনের উচিত হবে তাদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাওয়া।’ হিলারির যোগ্যতা নিয়ে স্যান্ডার্সের এ সমালোচনা হিলারির মিত্রদের কাছে ভালো লাগেনি। নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাজিও ও মিসৌরির সিনেটর ক্লেয়ার ম্যাক কস্কাল কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ভারমন্টের এই স্বতন্ত্র সিনেটর ‘সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছেন।’ হিলারির সমর্থকেরা অবশ্য এ বিষয়ে সচেতন যে স্যান্ডার্সকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করলে তার উল্টো ফল হতে পারে। নিউইয়র্কে জনমত জরিপে হিলারি স্যান্ডার্সের চেয়ে প্রায় ১০ পয়েন্টে এগিয়ে থাকলেও জাতীয় পর্যায়ে তিনি পিছিয়ে। জাতীয় পর্যায়ে তাঁকে সমর্থন করে—এমন লোকের সংখ্যা মাত্র ৪৬ শতাংশ। সমর্থন করে না—এমন লোকের সংখ্যা ৫০ শতাংশ। শুধু মেয়েদের মধ্যে হিলারিকে সমর্থন করে না তাদের সংখ্যা ৫৮ শতাংশ। জাতীয় পর্যায়ে হিলারির চেয়ে এখন পর্যন্ত সামান্য এগিয়ে থাকলেও আফ্রিকান-আমেরিকান ও হিস্পানিকদের মধ্যে স্যান্ডার্সের সমর্থন দ্রুত বাড়ছে।

হিটলারের বাড়ি দখলে নিতে চায় অস্ট্রিয়া

জার্মানির সাবেক নাৎসি নেতা এডলফ হিটলার ১৮৮৯
সালের ২০ এপ্রিল এই বাড়িতেই জন্মগ্রহণ করেন
জার্মানির সাবেক নাৎসি নেতা এডলফ হিটলারের বাড়ির মালিকানার দখল নিতে চায় অস্ট্রিয়া কর্তৃপক্ষ। বিবিসি অনলাইনের খবরে আজ শনিবার এ কথা জানানো হয়। একটি তিক্ত আইনি লড়াইয়ের অবসান ও হিটলারের জন্ম নেওয়া বাড়িটিকে নব্য-নাৎসিদের কাছে আদর্শিক তীর্থকেন্দ্রে পরিণত হওয়া ঠেকাতে এক ব্যক্তির কাছ থেকে এর মালিকানার দখল নিতে চায় দেশটি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কার্ল-হেইনজ গ্রান্ডবোয়েক এএফপিকে বলেন, ‘আমরা হিটলারের বাড়ি ও সম্পদের মালিকানা পরিবর্তন এবং অস্ট্রিয়া প্রজাতন্ত্রের হাতে তা তুলে দিতে একটি আইন তৈরির জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছি। কয়েক বছরে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে এই ভবনকে নাৎসিদের আদর্শিক তীর্থকেন্দ্রে পরিণত হওয়া ঠেকাতে স্বত্ব নিয়ে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’ রাষ্ট্র বর্তমান মালিককে ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দেবে বলে তিনি জানান। ১৮৮৯ সালে ২০ এপ্রিল হিটলার এ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। গার্লিন্ডে পোমারের পরিবার এ বাড়ির একটা বড় অংশের মালিক। ভবনটি অস্ট্রিয়ার উত্তরাঞ্চলের ব্রাওনাও শহরে অবস্থিত। ২০১১ সালে বর্তমান মালিক গার্লিন্ডে পোমারের সঙ্গে সরকারের বিরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি খালি পড়ে আছে। ১৯৭০-এর দশকে অস্ট্রিয়া সরকার পোমারের সঙ্গে একটি ইজারা চুক্তি করে এবং এটিকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের একটি কেন্দ্রে পরিণত করা হয়। তবে পাঁচ বছর আগে পোমার ভবনটির সংস্কার কাজের অনুমতি না দিলে সমস্যার শুরু হয়।

বিদ্যুৎ​ সংকটে নারীদের প্রতি প্রেসিডেন্ট মাদুরোর পরামর্শ

নিকোলা মাদুরো
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সে দেশের নারীদের চুল শুকানোর জন্য ‘হেয়ার ড্রায়ার’ ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় একজন নারীকে তখনই খুব ভালো লাগে যখন সে তার চুলের মধ্য দিয়ে নিজের আঙুল চালিয়ে নেয় এবং প্রাকৃতিকভাবেই চুলগুলো শুকোয়।’ খবর ইনডিপেনডেন্টের। অনেক দিন ধরেই বিদ্যুৎ সংকট চলছে দেশটিতে। এ কারণে আগামী দুই মাস প্রতি শুক্রবারে সরকারি অফিসগুলো বন্ধ রাখারও নির্দেশ জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট মাদুরো। সংকট মোকাবিলায় গত মাসে মাদুরো কর্মীদের পুরো এক সপ্তাহের ছুটি দিয়েছিলেন এবং প্রায় ১০০ টিরও বেশি শপিং সেন্টারে কর্মঘণ্টা কমিয়ে এনেছিলেন। ভেনেজুয়েলার নারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাদুরো বলেন, তারা যেন চুল শুকানোর কাজে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার না করেন। দেশ​বাসীকে তাদের দৈনন্দিন রুটিনেও পরিবর্তন আনার অনুরোধ করে তিনি বলেন, মানুষ যেন প্রাকৃতিক গরম হাওয়াটাই গায়ে মাখে আর কাপড়গুলো বাইরে সূর্যের তাপে শুকিয়ে নেয়। প্রেসিডেন্টের এই আহ্বানের পর রাজধানী কারাকাসের বাসিন্দা এক নারী বলেন, ‘যদি প্রেসিডেন্ট মনে করেন যে আমরা হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল না শুকালেই সমস্যার সমাধান হবে, তাহলে সমস্যাটা আমরা যতটুকু চিন্তা করেছিলাম তার চেয়েও গুরুতর।’ ভেনেজুয়েলার গুরি দাম এলাকার একটি হাইড্রোইলেকট্রিক প্ল্যান্ট থেকে ​দেশটির মোট চাহিদার ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়। কারনি নদীর পানি এই প্ল্যান্টে ব্যবহার করা হয়। কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, নদীর পানির স্তর কমে গেছে। এ কারণে প্ল্যান্টটি শিগগিরই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে ভেনেজুয়েলার বিদ্যুৎ সংকট আরও বাড়বে।

কেরালায় মন্দিরে আগুনে নিহত ৭৫

ভারতের কেরালা রাজ্যে একটি মন্দিরে ভয়াবহ আগুনে ৭৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে দুই শতাধিক। হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আজ রোববার টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি ও বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। খবরে বলা হয়, রাজ্যের কোল্লাম এলাকায় অবস্থিত পুত্তিঙ্গল মন্দিরে গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে ওই আগুনের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, মন্দিরে একটি উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রচুর লোকসমাগম হয়েছিল। সেখানে আতশবাজি পোড়ানো হচ্ছিল। আতশবাজির স্তূপে বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনডিটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, উৎসবে ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল। ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন কেরালার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা।
মন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় এখনো যারা আটকে আছে, তাদের উদ্ধারে সব চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ আছে।

কেরালায় মন্দিরে আগুন, নিহত ৮৩

ভারতের কেরালা রাজ্যের কোললাম জেলার পারাভুরের পুট্টিঙ্গন মন্দিরে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় অন্তত ৮৩ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে তিন শতাধিক। হতাহতের সংখ্যা বাড়াতে পারে। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে ওই আগুনের ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেরালায় মন্দিরে আগুনে নিহত ৭৫ দেশটির গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, দক্ষিণ ভারতের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ‘নবরাত্রি’ উৎসবে যোগ দিতে গতকাল ওই মন্দিরে কয়েক হাজার পুণ্যার্থী সমবেত হয়েছিল। গভীর রাত থেকে সেখানে আতশবাজি পোড়ানোর উৎসব শুরু হয়। আতশবাজি থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। উৎসবের একপর্যায়ে মন্দিরের পাশে থাকা আতশবাজির গুদামে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে মন্দির চত্বরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় লোকজন ছুটোছুটি করতে থাকে। এতে অনেকে আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যায়। অনেকে মারা যায় পদপিষ্ট হয়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কেরালায় মন্দিরে আগুনে বহু হতাহত এনডিটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, উৎসবে ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষ সমবেত হয়েছিল। ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন কেরালার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা। মন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় এখনো যারা আটকে আছে, তাদের উদ্ধারে সব চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ আছে। আগুনে হতাহতের ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি কেরালায় যাচ্ছেন। আগুনে হতাহতের ঘটনায় গভীর দুঃখ ও সমবেদনা জানিয়েছেন কেরালার মুখ্যমন্ত্রী ওমেন চণ্ডী। তিনি দুর্ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছেন।

নেইমারকে নিয়ে বার্সা-ব্রাজিল টানাটানি

নেইমার
যে পক্ষ বেশি জোর দেখাতে পারবে জয় তাদেরই হবে। কোপা আমেরিকা ও অলিম্পিকে নেইমারকে খেলানো নিয়ে ব্রাজিল ও বার্সেলোনার মধ্যে যেন চলছে রশি টানাটানি। ব্রাজিল বলছে, নেইমার দুটি টুর্নামেন্টেই খেললে ভালো হয়। কিন্তু বার্সা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, একটির বেশি নয়! নেইমার যাতে দুটি টুর্নামেন্টেই খেলতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে গত মার্চে বার্সেলোনাকে অনুরোধ করেন ব্রাজিল কোচ কার্লোস দুঙ্গা। স্প্যানিশ ক্লাবটি তখনই জানিয়ে দেয়, ব্রাজিল অধিনায়ককে যেকোনো একটিতে খেলার অনুমতি দেওয়া হবে। ব্রাজিলিয়ান কিছু সংবাদমাধ্যমের খবর, গত সপ্তাহে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনকে (সিবিএফ) সেটি লিখিতভাবে জানিয়েও দিয়েছেন কাতালান ক্লাবটির সভাপতি হোসে মারিয়া বার্তোমেউ, ‘দুটি টুর্নামেন্টের জন্য তাকে ছাড়তে আমাদের রাজি করানো অসম্ভব। কোপা আমেরিকার গুরুত্ব আমরা বুঝি, কিন্তু আমাদের মনে হচ্ছে টানা দুই মৌসুমে খেলার ধকল কাটাতে ওর বিশ্রাম দরকার।’ বার্সার শর্তে ব্রাজিল রাজি হলে জুনের কোপা আমেরিকা নয়, আগস্টে রিওতে হতে যাওয়া অলিম্পিকেই নেইমারের খেলার সম্ভাবনা বেশি। বিশ্বক্রীড়ার সর্বোচ্চ আসরের সোনার পদক যে এখনো পায়নি ব্রাজিল! ঘরের মাঠের সেটি পেতে অলিম্পিকে ২৩ বছরের বেশি তিন খেলোয়াড়ের একজন হিসেবে নেইমারকে চায় ব্রাজিল। তবে তাঁকে হারাতে চায় না শতবর্ষপূর্তির কোপাতেও। বার্তোমেউর চিঠির প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার এক বিবৃতিতে সিবিএফ লিখেছে, ‘কোপা ও রিও ২০১৬ অলিম্পিকে নেইমারকে খেলাতে সম্ভাব্য সব চেষ্টাই করা হবে।’ ফিফা বর্ষপঞ্জির ‘এ’ তালিকাভুক্ত না হওয়ায় অলিম্পিকে খেলোয়াড়দের ছাড়তে বাধ্য নয় ক্লাবগুলো। বার্সাও সুবিধাটা নিয়েই সিবিএফকে শর্ত দিয়ে রেখেছে, ক্লাবের ইচ্ছের বাইরে গিয়ে কোপাতে যদি নেইমারকে খেলানোই হয়, অলিম্পিকে তাঁকে ছাড়া হবে না। যদিও নেইমার নিজে অনেকবারই দুটি টুর্নামেন্টেই খেলার ইচ্ছে জানিয়েছেন। স্প্যানিশ পত্রিকা মুন্দো দেপোর্তিভোর খবর, ইচ্ছে পূরণে নেইমার বিকল্প একটা উপায়ও বের করেছেন। উপায়টা হলো—জুনে যুক্তরাষ্ট্রে হতে যাওয়া ‘বিশেষ’ কোপায় গ্রুপ পর্বের কোনো ম্যাচে খেলবেন না ব্রাজিল অধিনায়ক। যদি সেলেসাওরা গ্রুপ পর্ব পেরোয়, তাহলে শুধু নকআউট ম্যাচগুলোয় খেলবেন। সঙ্গে অলিম্পিেক তো থাকছেনই।
বার্সা কি এই শর্তে রাজি হবে?

দুর্ঘটনায় রিভালদোর পরিবার

ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ রিভালদো—গাড়ি দুর্ঘটনায় বেঁচে গেছে তাঁর পরিবার। গত বৃহস্পতিবার রাতে সাও পাওলোয় গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হন তাঁর স্ত্রী এলিজা কামিনস্কি ফেরেইরা ও মেয়ে থামিরি। দুজনকেই কাছাকাছি এক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কারোরই আঘাত গুরুতর নয় বলে জানিয়েছেন ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য। স্ত্রী হাসপাতালে থাকলেও মেয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েই হাসপাতাল ছেড়েছেন।

গিলক্রিস্টের দুই আতঙ্ক

মুরালিধরন ও হরভজনকেই সবচেয়ে বেশি সমীহ করছেন গিলক্রিস্ট
নিজের সময়ে অনেক বোলারের দুঃস্বপ্ন ছিলেন। কিন্তু অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছেন কোন বোলাররা? সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান মুত্তিয়া মুরালিধরন ও হরভজন সিংয়ের নামই বলেছেন।  খুদে ক্রিকেটারদের কোচিং করাতে গিলক্রিস্ট এখন দিল্লিতে। সেখানেই মুখোমুখি হলেন এমন প্রশ্নের—কোন বোলারদের মুখোমুখি হতে চাইতেন না? গিলক্রিস্টের উত্তর, ‘মুরালি ও ভাজ্জি (হরভজন)।’ মুরালির কথাই আলাদা করে বলেছেন, ‘আমি মুরালির আঙুলের কাজ কখনোই বুঝতে পারতাম না। ওর বিপক্ষে খেলতে নামলেই আমার নিজেকে ১০ বছরের ছেলের মতো মনে হতো।’ ক্যারিয়ারে মুরালি বেশ কয়েকবারই আউট করেছেন গিলক্রিস্টকে। সেই স্মৃতিও মনে পড়ে গেল গিলির, ‘কোনো দ্বিধা থাকলেই ওর বলে আমি সুইপ করতাম। একবার তো ঠিকই করে রেখেছিলাম সুযোগ পেলেই সুইপ করব। প্রথম বলটা চার হলো। দ্বিতীয় বলে আবার সুইপ করলাম, এবার সেটা বল উঠে গেল আকাশে। ক্যাচ আউট হয়ে গেলাম। পরের ম্যাচে আবার সুইপ করতে গেলাম। এবার মুরালির প্রথম বলেই আমি পরিষ্কার এলবিডব্লু।’  অবশ্য রেকর্ড কিন্তু অন্য কথা বলছে। টেস্টে মুরালিধরন চারবার আউট করলেও ৯ ইনিংসে গিলক্রিস্টের গড় দারুণ, ৫২! ওয়ানডেতে ৩২ বার মুরালির মুখোমুখি হয়েছেন গিলক্রিস্ট, আউট হয়েছেন মাত্র দুবার। সেই তুলনায় হরভজন সিংয়ের বিপক্ষেই তাঁর রেকর্ড বেশি খারাপ। ১০ টেস্টে হরভজন সাতবার আউট করেছেন গিলিকে, হরভজনের মুখোমুখি হওয়া টেস্টগুলোতে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানের গড়ও তাঁর ক্যারিয়ার গড়ের চেয়ে অনেক কম, ২৫।

ধোনির স্ত্রীকে খুব পছন্দ সরফরাজের স্ত্রীর!

ধোনির সৌভাগ্যের নেপথ্যে স্ত্রী সাক্ষী?
‘প্রতিটি সফল পুরুষের পেছনে থাকে একজন নারীর অবদান’— এই আপ্তবাক্যটি খুব করেই বিশ্বাস করেন পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের স্ত্রী সৈয়দা খুশবখত। তাঁর মতে, ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির সাফল্যের পেছনে আছেন তাঁর স্ত্রী সাক্ষী। ধোনির স্ত্রী সাক্ষীকে দারুণ পছন্দ খুশবখতের। দূর থেকে দেখেছেন তাঁর সৌন্দর্য, তাঁর ব্যক্তিত্ব। দেখে অবাক হয়েছেন। মনে মনে তাঁর প্রশংসাও করেছেন। এখন অপেক্ষায় আছেন একদিন সাক্ষীর সঙ্গে কথা বলারও সুযোগ হবে, ‘আমি তাকে খুবই সম্মান করি। মহেন্দ্র সিং ধোনির জন্য সে সৌভাগ্যের কারণ।’ তাঁর ‘খুশবখত’ নামের অর্থও ‘সৌভাগ্যবতী’—তাহলে তিনিও কী তাঁর স্বামী সরফরাজের জন্য সৌভাগ্য বয়ে নিয়ে আসবেন? এটি তো আর নিশ্চিত করে বলতে পারেন না খুশবখত, তবে এটুকু বলেছেন যে তাঁর স্বামী ধোনির অনেক কিছুকেই আদর্শ মানেন, ‘ধোনি একজন জীবন্ত কিংবদন্তি। যে ট্রফির জন্য ধোনি লড়েছেন,সেটি তিনি জিতেই ছেড়েছেন। সরফরাজ তাঁর কাছ থেকে ভালো অনেক কিছুই নেওয়ার চেষ্টা করে।’ ধোনিকে ভালো ​লাগে সরফরাজের, আবার ধোনির স্ত্রীকে পছন্দ খুশবখতের। তাহলে তো দুইয়ে দুইয়ে চার হতেই পারে! স্বামীর অধিনায়কত্ব নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত খুশবখত স্বামীর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে চান। হতেই পারে, সাক্ষীর মতোই খুশবখতের ভাগ্যেই হয়তো সরফরাজ নিজেকে নিয়ে যাবেন অন্য উচ্চতায়। একবার তো বলেই ফেলেছেন, তাঁর স্বামীর হাতেই বিশ্ব সেরার ট্রফিটি দেখার ইচ্ছে তাঁর!

টেন্ডুলকারকে ভারতের কোচ চান কাম্বলি

টেন্ডুলকারকেই ভারতের কোচ চান কাম্বলি
রবি শাস্ত্রী ভারতের টিম ডিরেক্টর থাকছেন না—এমন খবর আগেই চাউর হয়ে গেছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এই মুহূর্তে শাস্ত্রীর জায়গায় নতুন কাউকে খুঁজছে—এমন তথ্যও এসেছে গণমাধ্যমে। বোর্ডের বিশেষ উপদেষ্টা পর্ষদ রাহুল দ্রাবিড়কে কোচের দায়িত্ব দিতে চায়, এটা পত্রিকায় পড়ে বিনোদ কাম্বলির টুইট বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমে বেশ ব্যস্ত কাম্বলি সম্প্রতি টুইট করে বলেছেন, রবি শাস্ত্রীর জায়গায় শচীন টেন্ডুলকারের চেয়ে যোগ্যতম আর কেউই নেই। নতুন কোচ খুঁজতে বিসিসিআইয়ের যে উপদেষ্টা পর্ষদ কাজ করছে, সেটির অন্যতম সদস্য শচীন টেন্ডুলকার নিজেই। কিন্তু কাম্বলির দাবি, দ্রুত তাঁর বাল্যবন্ধুকে ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচ করা হোক। তাঁর ভাষায়, যোগ্যতা, মেধা—সব বিচারেই ভারতীয় দলের কোচ হিসেবে টেন্ডুলকারই যোগ্যতম। টুইটারে অনেক কথাই বলেছেন কাম্বলি। কখনো কখনো তাঁর কথাবার্তা চিন্তাশীল বার্তার চেয়ে অন্যের হাসির খোরাকও জাগায়। এই তো এক দিন আগেই টুইট করলেন, পাকিস্তান ক্রিকেট দলের কোচের চাকরিটা পেতে চান। টেন্ডুলকারকে ভারতীয় দলের কোচ করার এই টুইটের আড়ালেও অন্য কিছু আছে কি না, স্বাভাবিকভাবেই এমন প্রশ্ন এসেই যায়। যেখানে দুই বাল্যবন্ধুর সম্পর্কটা বর্তমানে মোটেও মধুর কিছু নয়। মুম্বাইয়ের স্কুলের দিনগুলোতে একসঙ্গে অনেক ক্রিকেট খেলেছেন কাম্বলি-টেন্ডুলকার। স্কুলজীবনে রেকর্ড গড়া এক জুটি গড়েই দুজনেই পাদপ্রদীপের আলোয় এসেছিলেন একই সঙ্গে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকটাও মোটামুটি কাছাকাছি সময়ে। একসময় প্রতিভার দিক দিয়ে যেখানে দুজনকে একই পাল্লায় মাপা হতো, সেখানে একটা সময় এসে কাম্বলি পথ হারালেন। ২৪ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে টেন্ডুলকার যেখানে পরিণত হয়েছেন কিংবদন্তিতে, কাম্বলিকে সেখানে আছেন বড় এক ‘আফসোস’ হয়েই।

‘অচেনা’ রিয়ালের বড় জয়

রিয়ালের জয়ে মূল ভূমিকা ছিল রোনালদোরই
ম্যাচের আগে জিনেদিন জিদান ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন, এই ম্যাচে দলে অনেক পরিবর্তন আনবেন। এমনই পরিবর্তন আনলেন যে, চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বশেষ ম্যাচের একাদশ থেকে শুধুই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, পেপে ও কাসিমেরো থেকে গেলেন। একভাবে দেখলে, ‘অচেনা’ একটা দল নিয়েই তো আজ ঘরের মাঠে এইবারের সঙ্গে খেলল রিয়াল। অচেনা! এমন পারফরম্যান্সের পর অমন বিশেষণ দেওয়া কী ঠিক? কে বলবে এই দল একসঙ্গে সব সময় খেলেনি? কী আক্রমণ, কী রক্ষণ—পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত খেলল রিয়াল। আর প্রতিপক্ষ যখন এইবার, সেখানে জয়-পরাজয় ছাপিয়ে প্রশ্নটা হতে পারে জয়ের ব্যবধান কত? সেখানে উচ্ছ্বাসই অপেক্ষা করছে রিয়াল সমর্থকদের জন্য, ৪-০ গোলে জিতেছেন রোনালদোরা। মঙ্গলবার ভলফসবুর্গের সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগে বেঁচে থাকার ম্যাচ। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ২-০ গোলে হেরে যাওয়ায় সেই ম্যাচে দুর্দান্ত কিছু করে দেখাতেই হবে রিয়াল মাদ্রিদকে। এই ম্যাচে তাই নিয়মিত একাদশের অনেককেই বাইরে রাখবেন কোচ জিদান, সেটি অনুমিতই ছিল। কিন্তু তাঁদের অভাবটা একটুও টের পেতে দিলেন না ইসকো-হামেস-ভাসকেজরা। শুরুটা করেছিলেন হামেস। ম্যাচের চার মিনিটেই বক্সের বাইরে ফ্রি কিক থেকে অসাধারণ গোল করে রিয়ালকে এগিয়ে দিয়েছিলেন কলম্বিয়ান মিডফিল্ডার। প্রথমার্ধেই বাকি গোলগুলো পেয়ে গেছে রিয়াল, যেটিকে এক বাক্য ‘রোনালদো শো’-ও বলতে পারেন। ১৮ মিনিটে লুকাস ভাসকেজ ও ৩৯ মিনিটে হেসে রদ্রিগেজকে দিয়ে গোল করিয়েছেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। কিন্তু শুধু গোল করালেই হবে? রিয়াল গোল-উৎসব করবে আর স্কোরশিটে রোনালদোর নাম থাকবে না, তা কী হয়? ভাসকেজ-হেসের গোলের মাঝে দলের তৃতীয় গোলটিও করেছেন রিয়াল ফরোয়ার্ড। এই মৌসুমে লিগে তাঁর ৩০ গোলও হয়ে গেল। লিগে টানা ষষ্ঠ এই জয়ে লিগ শিরোপার আশায় হয়তো খুব বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার ম্যাচের আগে রিয়ালের আত্মবিশ্বাসে জোর হাওয়া ঠিকই লেগেছে। কে জানে, এই আত্মবিশ্বাসে ভর করেই মঙ্গলবার দুর্দান্ত কোনো প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ফেলেন কি না রোনালদোরা!

নিজেকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় মুশফিক

আজ বিকেলে এলজিইডি ভবনে এক অনুষ্ঠানে
আগারগাঁওয়ের এলজিইডি ভবনে আজ বিকেলে মুশফিকুর রহিম এসেছিলেন বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠান শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়ক শুরুতেই বলে দিলেন, ক্রিকেট নিয়ে কোনো কথাই বলবেন না। তবে অটিজম নিয়ে যত ইচ্ছে প্রশ্ন করা যেতে পারে। ক্রিকেট বাদে মুশফিকের কাছে প্রশ্ন করার তেমন কিছু ছিল না। গত তিন মাসে বাংলাদেশ শুধু টি-টোয়েন্টি খেলেছে। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে তাঁর ব্যাট যেন হাসতেই ভুলে গেছে! জিম্বাবুয়ে সিরিজ ও এশিয়া কাপে রান পাননি। ফর্মে ফিরতে পারেননি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও। কিন্তু সব ছাপিয়ে মুশফিক বলতেই চোখে ভেসে উঠবে বেঙ্গালুরুতে ভারতের বিপক্ষে সেই ১ রানে হার। হার্দিক পান্ডিয়ার বলে তাঁর ক্যাচ তুলে দেওয়া, তীরে এসে বাংলাদেশের তরি ডোবার দুঃখ। বিশ্বকাপ থেকে ফিরে কয়েক দিনের ছুটি কাটিয়ে আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এসেছিলেন অনুশীলন করতে। ঘণ্টা দু-একের অনুশীলন শেষে বিকেলে গিয়েছিলেন সোসাইটি ফর দ্য ওয়েলফেয়ার অব অটিস্টিক চিলড্রেনের (সোয়াক) অনুষ্ঠানে। সেখানেই মুশফিক জানালেন, ২২ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে নিজেকে ফিরে পেতে চান, ‘প্রিমিয়ার লিগ আসছে। চেষ্টা করব এখানে ভালো করতে। কাল দেখি কোন দলে যাই (প্লেয়ার্স বাই চয়েস)। যেহেতু এখন বাংলাদেশ দলের খেলা নেই, চেষ্টা করব লিগ দিয়ে যেন নিজেকে ফিরে পাই।’

টুইটারে পিকে-আরবেলোয়ার ‘ইট-পাটকেল’

টুইটারে চলছে পিকে-আরবেলোয়ার ‘লড়াই’
মনে মনে জবাব দেওয়ার উপলক্ষ খুঁজছিলেন আলভেরো আরবেলোয়া। রিয়াল সোসিয়েদাদের কাছে বার্সেলোনার হারের পরেই সেটি পেয়ে গেলেন। জেরার্ড পিকেকে টুইট করে খোঁচা দিলেন। পিকেও বসে থাকেননি, পরে পাল্টা টুইটে জবাব দিয়েছেন। কাল সোসিয়েদাদের মাঠে গিয়ে আবার হেরে বসেছে বার্সেলোনা। তার আগে রিয়াল ও অ্যাটলেটিকো জয় পেয়ে ব্যবধানও একটু কমিয়ে এনেছে। বার্সার হারের পরেই আরবেলোয়া টুইট করেছেন, ‘১১ জনের সঙ্গে জেতা কত কঠিন!’ তিন দিন আগেই দশজনের অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে চ্যাম্পিয়নস লিগে হারিয়েছিল বার্সা। আরবেলোয়া যে সেটিই মনে করিয়ে দিয়েছেন, সেটা কারও বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়। তবে পিকেও চুপ করে থাকেননি। তাঁর টুইটটা আরবেলোয়ার গায়ে একেবারে জ্বালা ধরিয়ে দেওয়ার মতোই, ‘৩২ ম্যাচে মাত্র এক বার যে খেলোয়াড় প্রথম একাদশে ছিল তার মুখে এ কথা শোভা পায় না।’ এই মৌসুম প্রায় পুরোটাই বেঞ্চে কাটাতে হয়েছে আরবেলোয়াকে, পিকে সেটাই একেবারে চাছাছোলাভাবে বললেন। আরবেলোয়াও থামেননি। আবার টুইট করেছেন, ‘দারুণ ছবি। ‘দ্য ট্রুথ হার্টস’।’ এবারের খোঁচাটাও পিকেকে। দুই দিন আগে চ্যাম্পিয়নস লিগে মাদ্রিদের হারের পর পিকের টুইট ছিল, ‘কনকাশন, দারুণ একটা ছবি। উইল স্মিথ অসাধারণ অভিনেতা।’ সেটাও যে একটা প্রচ্ছন্ন খোঁচা, সেটা ধরে নিতে কষ্ট হয়নি। মজার ব্যাপার, আরবেলোয়া আবার টুইট করতে গিয়ে বানান ভুল করেছেন। পরে পিকে আবার সেটি মনে করিয়ে দিয়েছেন। পরে অবশ্য আরবেলোয়া আর কিছু বলেননি।
তবে বার্সা আরেকবার হারলে নিশ্চয় পিকেকে আবার খোঁচা দেবেন!

‘যা চেয়েছি তা করতে পারিনি’

ওয়াকার ইউনিস
এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ব্যর্থতার মূল্যে ওয়াকার ইউনিসকে কোচের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত ছাড়তে হয়েছে। এই ব্যর্থতার দায় কতটুকু তাঁর, পাকিস্তান ক্রিকেটই বা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে—ক্রিকইনফোর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সেসব প্রশ্নেরই জবাব দিয়েছেন একসময়ের বিশ্ব-কাঁপানো পাকিস্তানি পেসার
* আবার কি কখনো পাকিস্তানের কোচ হবেন?
ওয়াকার ইউনিস: আমি জানি না। আমার মনে হয়, জীবনে কোনো সুযোগ এলে সেটাকে ‘না’ বলা উচিত নয়। খুব সম্প্রতি পাকিস্তান ক্রিকেটে যা হয়েছে, সেটার পেছনে কিছু কারণ তো অবশ্যই আছে। দায়িত্ব পালনকালে বেশির ভাগ সময় আমার পরামর্শগুলোকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এ জন্যই আমি বাইরে থেকে কথা বলতে শুরু করেছি। আমি চেয়েছি বোর্ড যাতে সমস্যাগুলো বোঝে। আমি খুশি যে অবশেষে আমার পরামর্শ গ্রহণ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে। আমাকে বলির পাঁঠা বানানোর পর তারা সেটা বুঝতে শুরু করেছে। অন্তত এটা তো বুঝতে পারল যে আমিই সঠিক ছিলাম। আমি জানি, অনেক খেলোয়াড়ই তাঁদের সুনাম, ভাবমূর্তিকে ক্রিকেটের চেয়ে বড় মনে করেন এবং সেই ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটের দায়িত্ব নিতে চান না। কিন্তু আমি পাকিস্তান ক্রিকেটের ভালো করতে চেয়েছি এবং সেটা করার জন্য আবার আসতে রাজি।
* দুবার পাকিস্তানের কোচ হয়ে দুবারই কেন পদত্যাগ করতে হলো?
ওয়াকার: প্রথমবার ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছিলাম। এবার বিরূপ পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব ছাড়তে হলো। তবে আমার কোনো আফসোস নেই।
* এই অভিজ্ঞতা থেকে আপনি কী শিখেছেন?
ওয়াকার: খুব অল্প সময়ের জন্য প্রথম যুক্ত হয়েছিলাম বব উলমারের সময়ে বোলিং কোচ হিসেবে। পরেরবার আমি দায়িত্ব পেয়ে সময়টা খুব উপভোগ করেছি। ইজাজ বাট (তখনকার পিসিবি চেয়ারম্যান) আমাকে পুরো স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। তাঁকে সরাসরি সবকিছু বলাও যেত। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এবার সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল পাকিস্তান ক্রিকেটে দুজন প্রধান (নাজাম শেঠি ও শাহরিয়ার খান) থাকায়। এ কারণে শুধু আমরা কোচরা নই, পাকিস্তান ক্রিকেটও ভুগেছে। পিসিবির ভেতর থেকে সব সময় দুই রকম নির্দেশনা আসছে। এটা নিয়ে আসলেই ভাবা উচিত।
* আপনি কি মনে করেন দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব নিয়ে কোনো ব্যবধান গড়তে পেরেছেন?
ওয়াকার: যা চেয়েছি তা করতে পারিনি। আমি সব সময় চাই তরুণদের সাহায্য করতে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু শক্তি ছিল যারা আমাকে সেটি করতে দেয়নি।
* কোচ হিসেবে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করা কতটা কঠিন?
ওয়াকার: আইপিএলে বোলিং উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার সময় আমি দেখেছি, সবাই ফল নিয়ে ভাবে। দিন শেষে ক্রিকেট কীভাবে আরও সমৃদ্ধ হবে সেটাই সবার কাছে অগ্রাধিকার পায়। আমাদের এখানে সম্ভবত এটি খুব অগ্রাধিকার পায় না। আপনার বোর্ড যদি সবার আগে ক্রিকেটের কথা ভাবে, তাহলে দায়িত্ব পালন করা খুব কঠিন কিছু না।
* আপনার রিপোর্টে বলেছেন, নির্বাচক কমিটি, কোচ ও সীমিত ওভারের অধিনায়কের মধ্যে বোঝাপড়ায় সমস্যা আছে...
ওয়াকার: আমি মনে করি, কোচকেও নির্বাচক কমিটির অংশ করা উচিত। দল নির্বাচনের সময় তাঁর উপস্থিতি জরুরি এবং তাঁর সই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত না। অধিনায়কেরও নির্বাচক কমিটিতে থাকা উচিত। তিন নির্বাচকের যদি তিন ভোট হয়, তাহলে কোচ ও অধিনায়কের মিলিতভাবে অন্তত একটা ভোট থাকতে পারে। দুজনের দুটি ভোটের কথাটা না হয় না-ই বললাম।
* মিসবাহ-উল-হক, শহীদ আফ্রিদি আর সালমান বাটের সঙ্গে আপনার সম্পর্কটা নিয়ে কিছু বলুন।
ওয়াকার: মিসবাহর সঙ্গে চমৎকার সম্পর্ক, কারণ ওর ক্রিকেটবোধ দারুণ। সালমান বাটের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক ছিল। ২০১০ সালে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওই স্পট ফিক্সিংয়ের ঘটনাটা না ঘটলে তো মিসবাহ আর আফ্রিদি অধিনায়কই হয় না। আফ্রিদির যেসব অপূর্ণতা আছে, সেটা সবাই জানে। ও এক জায়গায় সুস্থির হয়ে বসে কোনো পরিকল্পনা করতে পারে না কিংবা সেটা বাস্তবায়ন করতে পারে না। আমি আমার রিপোর্টে সেটাই লিখেছিলাম। এই রিপোর্টটা বাইরে আসার কথা ছিল না, কিন্তু কীভাবে যেন ফাঁস হয়ে গেল।
* আপনার সঙ্গে কি শহীদ আফ্রিদির কোনো সমস্যা আছে?
ওয়াকার: ও তো আমার অনেক ছোট। আমার খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার যখন শেষের দিকে, তখন ওর শুরু। সুতরাং ওর সঙ্গে ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব জাতীয় কিছুই কখনো ছিল না।
* একটা সময় পাকিস্তান টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ২ নম্বর ছিল, কিন্তু সীমিত ওভারের দুই সংস্করণে পাকিস্তান এখন ৭ ও ৮ নম্বরে।
ওয়াকার: বড় কারণ নেতৃত্ব। ওয়ানডে অধিনায়ক আজহার আলী একেবারেই তরুণ। ওকে কিছুটা সময় তো দিতে হবে। আমরা যখন গত বছর বাংলাদেশের কাছে সিরিজ হারলাম, তখন দায় বর্তাল তাঁরই ওপর। যেটা উচিত হয়নি। ও দিন দিন উন্নতি করছে। অন্যদিকে মিসবাহ অনেক ধীরস্থির। ও যেকোনো কিছু গ্রহণ করতে পারে, সেই অনুযায়ী পরিকল্পনার বাস্তবায়নও করতে পারে। অধিনায়কের সেটাই দায়িত্ব। এখন সরফরাজ টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হয়েছে। ওর কাছেও হঠাৎ করে কোনো অলৌকিক কিছু প্রত্যাশা করলে হবে না। সময় দিতে হবে।
* আপনি যে সিস্টেমের সমালোচনা করলেন, সেখান থেকেই তো আপনি নিজেই উঠে এসেছেন। তাহলে এই সিস্টেমের মধ্যে কাজ করতে পারলেন না কেন?
ওয়াকার: পিসিবির গভর্নিং বোর্ডে কোনো ক্রিকেটার নেই। বড় বড় পদে এমন সব লোকজন বসে আছেন যাঁরা ক্রিকেটার ছিলেন না। এটাই বড় উদ্বেগের। এই লোকগুলো কোত্থেকে এলেন? এঁদের কি সত্যিই পাকিস্তান ক্রিকেট চালানোর মতো সামর্থ্য আছে? ক্রিকেটাররা সব কোথায় গেলেন! এসব দেখেশুনে চোখ বন্ধ করে থাকলে হবে না।
* ব্যর্থতার দায়দায়িত্ব কতটা কোচের?
ওয়াকার: দেখুন, কোচের কাজের সীমাবদ্ধতা আছে। কোচ পরিকল্পনা করতে পারেন, কিন্তু সেটা বাস্তবায়ন করবেন অধিনায়ক। আমি বলছি না যে শুধু আফ্রিদিকেও সব দোষ দিতে হবে। কিন্তু আপনি যদি ক্রিকেট ইতিহাসের দিকে তাকান, দেখবেন অধিনায়কদের নামগুলোই জ্বলজ্বল করে। সবাই রিকি পন্টিং, স্টিভ ওয়াহদের মনে রাখে, কোচ কে ছিল সেটা কজন জানে! অধিনায়কই তো সবকিছু পরিচালনা করেন।

আর্সেনালের এমন ড্র!

হ্যাটট্রিক করেও ওয়েস্ট হামকে জেতাতে পারেননি ক্যারল
মহামূল্যবান ১ পয়েন্ট, নাকি ২ পয়েন্ট খুইয়ে আসা—কাল ওয়েস্ট হামের সঙ্গে ম্যাচটাকে কীভাবে দেখছে আর্সেনাল? উত্তরটা জটিলই হওয়ার কথা। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও পরে হারের মুখ থেকে ফিরে এসে ৩-৩ গোলে ড্র করতে হওয়াকে কীভাবেই বা ব্যাখ্যা করবেন? কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন রিয়াল মাদ্রিদের এমন ‘অচেনা’ দলের অসাধারণ পারফরম্যান্সকেও? ম্যাচের আগে কোচ জিনেদিন জিদান ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন, চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ সামনে রেখে দলে বদল আনবেন। এমনই যে, শুধু রোনালদো, পেপে আর কাসেমিরো ছাড়া এইবারের বিপক্ষে ম্যাচে কাল দলে আটটি বদল! কিন্তু কে বলবে এই দল একসঙ্গে দীর্ঘ সময় খেলেনি? ৪-০ গোলে জিতেছে রিয়াল। গোলদাতা ভিন্ন চারজন—হামেস রদ্রিগেজ, লুকাস ভাসকেজ, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও হেসে রদ্রিগেজ। ওয়েস্ট হামের মাঠেও কাল এমন বড় জয়ই হয়তো আশা করছিলেন আর্সেনাল সমর্থকেরা! ১৮ মিনিটে মেসুত ওজিল, এর ১৭ মিনিট পর অ্যালেক্সিস সানচেজের গোলে লিগে টানা তৃতীয় জয়ের অপেক্ষায় ছিল আর্সেন ওয়েঙ্গারের দল। কিন্তু ৬ বছর পর হ্যাটট্রিক করে অ্যান্ডি ক্যারল অপেক্ষাটাকে তেতো করে দিলেন। মৌসুমে এর আগে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৪ ম্যাচে করেছিলেন মাত্র ৪ গোল, কাল প্রথমার্ধের শেষ দিকে ১৬০ সেকেন্ডেই দুটি! আর্সেনালের ২-০ গোলে এগিয়ে থাকার আনন্দটাও তাতে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে মাটি। চিত্রনাট্যের ওখানেই শেষ নয়। ৫২ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে উল্টো আর্সেনালকেই হারের শঙ্কায় ফেলে দেন ক্যারল। তবে শেষ পর্যন্ত ৭০ মিনিটে লরাঁ কসিয়েলনি গোল করে আর্সেনালকে হারের মুখ থেকে বাঁচিয়েছেন। আর্সেনালকে বাঁচিয়েছেন, ওয়েঙ্গারকে কীভাবে লজ্জা থেকে বাঁচাবেন? লিগে ৬ ম্যাচ বাকি, এই ড্র শীর্ষে থাকা লেস্টারের চেয়ে ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে দিল আর্সেনালকে। তাহলে আরও একটি শিরোপাশূন্য মৌসুম যাচ্ছে! ম্যাচ শেষে ওয়েঙ্গারকে উদ্দেশ করে আর্সেনালের সমর্থকের ব্যানারটিই হয়তো অনেক কিছু বলে দিল—‘সব সুন্দরেরই একটা সমাপ্তি থাকে!’ ইএসপিএন। অর্থ কি এই—আর্সেনালে নিজেকে কিংবদন্তির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া ওয়েঙ্গারের যাওয়ার সময় হলো!

সেই লেস্টারে রানিয়েরি এখন...

ক্লদিও রানিয়েরি
এক বছর আগে যখন লেস্টারে নাম লেখান, অনেকেই ভুরু কুঁচকে ফেলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত কিনা ৬৩ বছর বয়সী ক্লদিও রানিয়েরি, কদিন আগে যাঁকে গ্রিসের কোচের দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছে? ওটা ছিল আসলে পুঁচকে ফারো আইল্যান্ডের কাছে গ্রিসের হারের মূল্য। আগের মৌসুমে অবনমন থেকে একটুর জন্য বেঁচে যাওয়া লেস্টারে রানিয়েরি কতটা কী করতে পারবেন, সেটা নিয়ে সংশয়বাদীদের অভাব ছিল না। এখন নিশ্চয়ই সেই সংশয়-দ্বিধা সব উড়ে গেছে। গত মৌসুমের ঠিক এই সময়ে যে দলটির অবনমন নিশ্চিত বলে মনে হচ্ছিল, তাদের সামনে এখন প্রিমিয়ার লিগ জয়ের হাতছানি। রূপকথা শব্দটা ফুটবলে অতি ব্যবহারে কিছুটা ক্লিশে হয়ে গেছে, তবে এই মৌসুমে লেস্টারের ক্ষেত্রে সেটি বাহুল্য মনে হচ্ছে না। ছয় ম্যাচ বাকি থাকতে লেস্টার এখন দুইয়ে থাকা টটেনহামের চেয়ে ৭ পয়েন্ট এগিয়ে। শিরোপা জয়ের রাঙা সকালটা যেন এখন একটু একটু করে কাছে আসছে। তবে রানিয়েরি এখনই অত দূরে তাকাতে চাইছেন না। একটা একটা ম্যাচ হিসাব করেই এগোতে চান এই ইতালিয়ান কোচ। আজ অবনমন অঞ্চলে থাকা সান্ডারল্যান্ডের বাধা আগে পার হতে হবে! সেটা হলে চ্যাম্পিয়নস লিগও নিশ্চিত হয়ে যেতে পারে। তবে রানিয়েরি দূরের বাদ্যে বিভোর না হয়ে কাছের সুরেই আচ্ছন্ন, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতে পারলে সেটা হবে অসাধারণ। কল্পনা করুন তো পরের মৌসুমে এখানে বায়ার্ন মিউনিখ, বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাব খেলছে। আমাদের সমর্থক আর গোটা ক্লাবের জন্যই এটা হবে দারুণ একটা অর্জন। তবে এ মুহূর্তে আমাদের ধ্যানজ্ঞান শুধু সান্ডারল্যান্ড।’ পা মাটিতে রেখে নিজেদের কাজ ঠিকঠাক করে যাওয়া—এটাই রানিয়েরির সাফল্যের গোপন ফর্মুলা। এই মৌসুমে লেস্টারের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের যে কথাগুলো বলেছিলেন, সেগুলো অন্য সব ক্লাবের জন্যই প্রেরণা, ‘আমরা হয়তো দল হিসেবে ছোট, কিন্তু আমি চাই সবাই হৃদয় দিয়ে খেলুক। প্রতিপক্ষ কে, সেটি নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। আমি চাই, তোমরা যেন হারার আগে না হারো। যদি প্রতিপক্ষ আমাদের চেয়ে ভালো হয়, তাহলে ঠিক আছে, আমি অভিনন্দন জানাব। কিন্তু ওদের দেখাতে হবে ওরা আমাদের চেয়ে ভালো।’ নিচে পড়ে থাকা কোনো ক্লাবকে টেনে তোলার কীর্তি রানিয়েরির এটাই প্রথম নয়। ১৯৮৮ সালে যখন ইতালিয়ান ক্লাব ক্যালিয়ারির দায়িত্ব নেন, তখন তারা তৃতীয় বিভাগ সিরি ‘সি’তে ধুঁকছে। পর পর দুই মৌসুমে উত্তরণে সেই ক্যালিয়ারিই উঠে আসে সিরি ‘আ’তে। ১৯৯৩ সালে ফিওরেন্টিনার দায়িত্ব নিয়ে তুলে আনেন সিরি ‘আ’তে, পরে তাদের জেতান কোপা ইতালিয়া। ২০০৪ সালে ভ্যালেন্সিয়ার হয়ে জেতেন উয়েফা সুপার কাপ। ২০০৭ সালে সিরি ‘বি’ থেকে মাত্রই উঠে আসা জুভেন্টাসকে তুলে আনেন তিনে। ৬৪ বছর বয়সী এই কোচের গল্পই এ রকম—ধুঁকতে থাকা ক্লাবকে চূড়ায় নিয়ে যাওয়া!

চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা

কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইজিপি কাপ কাবাডির চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা
আইজিপি কাপ জাতীয় যুব কাবাডিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কুমিল্লা। পল্টন কাবাডি স্টেডিয়ামে কাল ফাইনালে কুমিল্লা ১টি লোনাসহ ৩৭-২৩ পয়েন্টে নীলফামারীকে হারিয়েছে। সাতক্ষীরাকে ২০-১৬ পয়েন্টে হারিয়ে তৃতীয় হয়েছে রাজশাহী। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন নীলফামারী জেলার বাসুদেব রায়। ফাইনালের ম্যাচসেরা হয়েছেন কুমিল্লার সম্রাট। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার। উপস্থিত ছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক ও কাবাডি ফেডারেশনের সভাপতি এ কে এম শহীদুল হক।

জ্বলে উঠল আবাহনী

প্রথম গোলের পর আবাহনীর ইংলিশ ফরোয়ার্ড লি টাক
গোল দেওয়ার মতো কোনো ফুটবলার নেই দলে—কয়েক মৌসুম ধরে আবাহনী ক্লাবে কান পাতলেই এমন হাহাকার শোনা যেত। স্বাধীনতা কাপের প্রথম ম্যাচে ফেনী সকারের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর অনেকে ভেবেছিলেন, এবারও সেই আক্ষেপ তাদের সঙ্গী হচ্ছে। কিন্তু কাল নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে কী দারুণভাবেই না জ্বলে উঠল আবাহনী! ১০ জনের দল হয়ে পড়া বিজেএমসিকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে আকাশি-নীল দলটি। দুটি করে গোল করেছেন কামারা ও সানডে। অন্য গোলটি লি টাকের। এ মৌসুমে ইংলিশ ফুটবলার লি টাকের সঙ্গী হয়েছেন নাইজেরিয়ার সানডে সিজোবা ও সেনেগালের কামারা সারবা। এই ত্রয়ীর আগুনেই কাল পুড়ে ছাই হলো বিজেএমসি। আবাহনীর এমন রুদ্রমূর্তি গত মৌসুমে কমই দেখা গেছে। আবাহনী গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে ম্যাচ শেষে যাঁরা কর্মকর্তাদের গালাগালি করেন, সেই সমর্থকেরাই কাল খেলার পর দাঁড়িয়ে রইলেন অনেকক্ষণ। মাঠে ঢুকে দলের ফুটবলারদের পেছন পেছন হেঁটে কয়েকজন ড্রেসিংরুম পর্যন্তও গেলেন। লি টাক কাল নিজে গোল করেছেন, করিয়েছেন। ২৩ মিনিটে তাঁর গোলেই প্রথমে এগিয়ে যায় আবাহনী। ২৮ মিনিটে লির নেওয়া কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে মাথা ছুঁয়ে ব্যবধান বাড়ান কামারা। ৫০ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বিজেএমসির মিডফিল্ডার স্যামসান ইলিয়াসু। সংখ্যাগত সুবিধা পেয়ে আরও আক্রমণাত্মক আবাহনী ৬৭ মিনিটে কামারার আরেকটি দর্শনীয় হেডে স্কোর করে ৩-০। ৮৪ ও ৮৯ মিনিটে গোল করেছেন সানডে। শেখ জামালের কষ্টের জয়: ব্রাদার্সের সঙ্গে শেষ ম্যাচে দাপুটে জয় পাওয়া শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব কাল গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ম্যাচে উত্তর বারিধারার সঙ্গে আত্মঘাতী গোলে জিতেছে। এটি তাদের টানা তৃতীয় জয়। চৈত্রের প্রচণ্ড গরমে এমনিতেই হাঁসফাঁস অবস্থা ছিল ফুটবলারদের। গরমে ফুটবলারদের মাঠে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। যা একটু খেলেছেন ওয়েডসন। হাইতিয়ান এই ফরোয়ার্ড দুটি দারুণ সুযোগও পেয়েছিলেন। কিন্তু দুটি শটই ক্রসবারে লেগে ফিরেছে। ম্যাচের ২০ মিনিটে লিঙ্কনের ক্রস বারিধারার ডিফেন্ডার মনিরের গায়ে লেগে ঢোকে জালে। উত্তর বারিধারাই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত। কিন্তু ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় সেটা হয়ে ওঠেনি। ৪৩ মিনিটে শেখ জামাল গোলরক্ষক হিমেলকে একা পেয়েও গোল করতে পারেনি বারিধারার ফরোয়ার্ড ফয়সাল আহমেদ শিতুল। ৮৯ মিনিটে সবুজের ক্রসে আলমগীর শুধু মাথা ছোঁয়াতে পারলেই গোল হতো। কিন্তু বলের লাইনেই তিনি যেতে পারেননি। ম্যাচ শেষে শেখ জামাল কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক এটিকে বললেন সৌভাগ্যপ্রসূত জয়, ‘আজকের ম্যাচে ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল।’ আগামীকাল রাতে এএফসি কাপে খেলতে মালয়েশিয়া যাবে শেখ জামাল। ১২ এপ্রিল মালয়েশিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন সেলাঙ্গর এফসির সঙ্গে তাদের খেলা।
আজকের খেলা: ফেনী সকার-আরামবাগ, ব্রাদার্স-মুক্তিযোদ্ধা (বিকেল ৪টা ও সন্ধ্যা ৬-৩০ মি., বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম)