Friday, January 22, 2010

ডেনমার্কে বোরকা ও স্কার্ফের স্থান নেই: প্রধানমন্ত্রী

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী লার্স লোয়েক্কে রাসমুসেন বলেছেন, ডেনমার্কে বোরকা ও স্কার্ফের কোনো স্থান নেই। তিনি আরও বলেন, তাঁর সরকার বোরকা ও স্কার্ফ নিয়ন্ত্রণ করার কথা বিবেচনা করছে।
রাসমুসেন সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। ডেনিশ সমাজে বোরকা ও স্কার্ফের কোনো জায়গা নেই। তিনি বলেন, ‘ডেনমার্ক একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক সমাজ। এখানে আমরা যাঁর সঙ্গে কথা বলি, তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে কথা বলি। সেটা হোক শ্রেণীকক্ষ কিংবা চাকরিস্থল।’ রাসমুসেন বলেন, ‘এ কারণে আমরা ডেনিশ সমাজে ওই পোশাক দেখতে চাই না।

পরমাণু হামলা প্রতিহত করার আগেই আক্রমণ হবে উত্তর কোরিয়ায়

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু হামলা ঠেকাতে দেশটির ওপর হামলার হুমকি দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম তাওয়ি ইয়ুং হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, সিউল আক্রান্ত হতে পারে—এ আভাস পাওয়া গেলে বা এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেলে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর হামলা চালানো হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইয়োনহ্যাপ গতকাল বুধবার এ তথ্য জানায়।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, উত্তর কোরিয়ার ওপর আগেভাগেই এ হামলা চালানো হবে। কারণ, যদি পিয়ংইয়ং পরমাণু অস্ত্র নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর হামলা চালানো শুরু করে, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যাবে। সিউলকে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পেরে ওঠা দুষ্কর হবে।
কিম তাওয়ি ইয়ুং এর আগে ২০০৮ সালেও একই ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তখন তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর ওই হুঁশিয়ারির পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর কোরিয়া ব্যাপক উষ্মা প্রকাশ করেছিল। তাত্ক্ষণিকভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নে পরিচালিত কায়েসং শিল্প এলাকা থেকে সিউলের কর্মকর্তাদের বহিষ্কার করেছিল পিয়ংইয়ং।

সিডনিবাসীর উষ্ণ অভ্যর্থনায় অভিভূত উইলিয়াম

সিডনিবাসীর উষ্ণ অভ্যর্থনায় এত বেশি অভিভূত হয়েছেন যে সেখানে একটি বাড়ি কেনার কথা ভাবছেন অস্ট্রেলিয়া সফররত ব্রিটেনের প্রিন্স উইলিয়াম। গতকাল বুধবার সিডনিতে তাঁর সম্মানে আয়োজিত এক ভোজসভায় এ কথা বলেন উইলিয়াম। প্রিন্স বলেন, এখানেই তিনি সবচেয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন।
উইলিয়াম আরও বলেন, ‘সিডনিতে খুব ভালো দুটো দিন কাটিয়েছি এবং এ কারণেই আমি এখানে একটি বাড়ি কেনার চেষ্টা করছি। সুতরাং কারও যদি বিক্রি করার মতো বাড়ি থাকে, আমাকে জানাবেন দয়া করে।’
তিন দিনের অস্ট্রেলিয়া সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রিন্স উইলিয়াম সিডনির বিখ্যাত অপেরা হাউস ও সিডনি হারবার ব্রিজ পরিদর্শনে এলে কয়েক শ ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষী তাঁকে ঘিরে ধরে। অস্ট্রেলিয়ায় নেমেই উইলিয়াম জানিয়েছিলেন, তিনি সব সময়ই সিডনি অপেরা হাউস দেখতে চেয়েছেন। তিনি ১৯৮৩ সালে তাঁর অস্ট্রেলিয়া সফরের কথা স্মরণ করেন।
উইলিয়াম বলেন, ‘গতবার আমি যখন এখানে এসেছিলাম, তখন বেশ ছোট ছিলাম। ওই সময়ের সিডনি অপেরা হাউস সম্পর্কে আমার তেমন কিছু মনে নেই।’ নিজের ভদ্রতাপূর্ণ আচরণ আর রসবোধ দিয়ে সমবেত জনতার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের কর্মীদেরও মন জয় করে নিয়েছেন উইলিয়াম। ভিড়ের মধ্যে তাই অনেকেই তাঁকে ‘উইলি ওমব্যাট’ ডাকনামে সম্বোধন করে ওঠে। ১৯৮৩ সালের সফরে এ নামটি পেয়েছিলেন তিনি।
এর আগে সিডনি শহরের প্রান্তে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শন করেন ব্রিটেনের সিংহাসনের এ উত্তরাধিকার। সেখানে তিনি নিশানবাজিতে অংশ নেন এবং নিজেকে একজন দক্ষ নিশানাবাজ হিসেবে প্রমাণ করেন।
গত মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়া সফরে এসে সেখানকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। ওই সময় ভিড়ের মধ্যে থেকে একজন তাঁকে প্রশ্ন করেন, প্রিন্স তাঁর বান্ধবী কেট মিডলটনকে বিয়ে করবেন কি না। কিন্তু উইলিয়াম সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গিয়ে জবাব দেন, ‘আমি বলেছি তো, ধৈর্য ধরুন, দেখুন কী হয়।’ ব্রিটেনের গণমাধ্যমে জল্পনা রয়েছে, প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের মধ্যে শিগগিরই বাগদান হবে।

ইয়েমেনভিত্তিক একিউএপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ইয়েমেনভিত্তিক আল-কায়েদা ইন অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলাকে (একিউএপি) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সঙ্গে ওই সংগঠনের নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সংগঠনটির প্রতি সমর্থন কমাতে যুক্তরাষ্ট্র গত মঙ্গলবার এ উদ্যোগ নেয়। যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে জাতিসংঘের কাছে একিউএপি ও এর নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রগামী বিমানে বোমা হামলার ব্যর্থ চেষ্টার জন্য একিউএপিকে দায়ী করা হয়। সংগঠনটিও এ দায় স্বীকার করেছে। খবর এএফপি ও পিটিআইয়ের।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানভিত্তিক আল-কায়েদার শাখা আল-কায়েদা ইন অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলার (একিউএপি) সদর দপ্তর ইয়েমেনে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের অন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে গত মঙ্গলবার একিউএপির প্রধান নাসির আল-ওয়াহিশি ও উপপ্রধান সাইদ আল-শিরিকে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করেন।
হিলারি ক্লিনটনের মুখপাত্র ফিলিপ ক্রাউলি বলেন, ইয়েমেনভিত্তিক একিউএপি সৌদি আরব, কোরিয়া ও ইয়েমেনের বিভিন্ন নাগরিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার দায় স্বীকার করেছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে তারা।
ইয়েমেনে আল-কায়েদা নেতার বাড়িতে বিমান হামলা: ইয়েমেনে আল-কায়েদার সন্দেহভাজন নেতা আয়েদ আল-শাবানির বাড়িতে গতকাল বুধবার বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির সরকার। উপজাতি এক সূত্র এ কথা জানিয়েছে।
এর আগে ইয়েমেন সরকার গত সপ্তাহে জানিয়েছিল, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আল-কায়েদার ওই নেতাসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। তবে একিউএপি সরকারি বাহিনীর ওই হামলায় তাদের কোনো সদস্য নিহত হওয়ার খবর সত্য নয় বলে দাবি করেছে।

পাকিস্তানি নারী বিজ্ঞানীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

নিউইয়র্কের একটি আদালত গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের স্নায়ুবিজ্ঞানী আফিয়া সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনী ও এফবিআইয়ের সদস্যদের হত্যাচেষ্টার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছেন। তবে আফিয়ার আইনজীবীরা এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, এ অভিযোগের সমর্থনে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ নেই। খবর ডন অনলাইন।
ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মার্কিন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এম ডাবস বলেছেন, আফিয়া সিদ্দিকী একটি এম-৪ রাইফেল দিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনী ও এফবিআইয়ের সদস্যদের হত্যা করতে চেয়েছিলেন। তবে এ অভিযোগের ব্যাপারে আফিয়ার আইনজীবী চার্লস ডি সুইফট বলেন, সিদ্দিকী এম-৪ অস্ত্র ধরেছেন এবং গুলি চালিয়েছেন—এ রকম কোনো প্রমাণ নেই। তিনি বলেন, এম-৪ দিয়ে গুলি চালানোর সময় সিদ্দিকী কোথায় ছিলেন এবং কতটি গুলি চালিয়েছিলেন, সে ব্যাপারে মার্কিন সেনাসদস্যরা অসামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।
এর আগে মার্কিন কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, আল-কায়েদার সঙ্গে আফিয়া সিদ্দিকীর (৩৭) যোগাযোগ রয়েছে। ২০০৮ সালের ১৮ জুলাই আফগানিস্তানে আটকের পর তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের হত্যার ব্যর্থ চেষ্টা করেন। তাঁরা আরও বলেন, বিচারপূর্ব শুনানিকালে আফিয়া আদালতকে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানান।
হত্যাচেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হলে আফিয়ার ২০ বছর এবং আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

মুম্বাইয়ের মতো হামলায় ধৈর্য হারাতে পারে ভারত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার জঙ্গিরা এ অঞ্চলের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার সুযোগ খুঁজছে। পরমাণু শক্তিধর ভারত ও পাকিস্তানকে আরেকটি যুদ্ধে উসকে দিতে পারে তারা। গতকাল বুধবার ভারতের নয়াদিল্লিতে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে এন্টনির সঙ্গে বৈঠকে গেটস এ কথা বলেন। খবর এএফপি ও রয়টার্স অনলাইন।
রবার্ট গেটস বলেন, ‘মুম্বাইয়ে হামলার পর ভারত অনেক সংযত থাকে। কিন্তু পাকিস্তানভিত্তিক কোনো জঙ্গি সংগঠন যদি আবার এ ধরনের হামলা চালায়, ভারত খুব সহজেই ধৈর্য হারাতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভারতের ধৈর্য হারানো অযৌক্তিক বলে আমি মনে করি না।’
গেটস বলেন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানভিত্তিক আল-কায়েদানিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেট ও পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবা এ অঞ্চলের জন্য বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা শুধু আফগানিস্তান বা পাকিস্তান নয়, পুরো এ অঞ্চলের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। উসকানিমূলক কিছু কাজের মাধ্যমে সম্ভবত তারা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বন্দ্বকে আরও উসকে দিতে চাচ্ছে। এ জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ যে অঞ্চলগুলো কী পরিমাণ হুমকি মোকাবিলা করতে পারবে।
১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর ভারত ও পাকিস্তান এ পর্যন্ত তিনবার যুদ্ধে জড়িয়েছে। ২০০৮ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে জঙ্গিদের হামলায় ১৬৬ জন নিহত হওয়ার পর আবার উত্তেজনা তৈরি হয়। মুম্বাইয়ের ওই হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তাইয়েবাকে দায়ী করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের বিশ্বাস, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি হামলায় সহায়তা করছে। মুম্বাইয়ে হামলার পর পাকিস্তানে হামলা চালানোর জনদাবি প্রতিহত করতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে।

ম্যাসাচুসেটসে ৩৮ বছর পর রিপাবলিকান প্রার্থীর জয়

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে সিনেট উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হেরে গেছেন। সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডির শূন্য আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর পরাজয়কে দলের জন্য অশনিসংকেত বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনে ৫২ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী স্কট ব্রাউন। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মার্থা কোয়াকলি পেয়েছেন ৪৭ শতাংশ ভোট।
ডেমোক্রেটিক পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ম্যাসাচুসেটস। ১৯৭২ সালের পর ওই রাজ্য থেকে কোনো রিপাবলিকান প্রার্থী জয়ী হতে পারেননি। সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডির মৃত্যুতে শূন্য হওয়া আসনে গত মঙ্গলবার ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী জয়ী হওয়ায় কংগ্রেসের উচ্চকক্ষে ৬০ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাল ডেমোক্রেটিক পার্টি। ১০০ আসনের সিনেটে ৪১টি এখন রিপাবলিকানদের দখলে। ডেমোক্রেটিক পার্টির যেকোনো আইন প্রণয়নের উদ্যোগ এখন বিতর্ক দিয়ে বাধাগ্রস্ত করতে পারবেন রিপাবলিকানরা।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বহুল আলোচিত স্বাস্থ্য সংস্কার কর্মসূচির বাস্তবায়নও এখন অনিশ্চয়তায় মুখে পড়েছে। গত মাসে সিনেটে পাস হওয়া স্বাস্থ্য সংস্কার প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হওয়ার অপেক্ষায়। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে এর আগে অনুমোদিত হওয়া পৃথক একটি স্বাস্থ্য সংস্কার প্রস্তাবের সঙ্গে এর সমন্বয়ের কাজ চলছে। উপনির্বাচনের ফলাফলের পর প্রস্তাবিত স্বাস্থ্য সংস্কারের বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বিগ্ন ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকেরা। সিনেটে অনুমোদন হওয়া প্রস্তাবে কোনো পরিবর্তন আনা হলে পুনরায় আস্থা ভোটের প্রয়োজন পড়বে। আস্থা ভোটের জন্য পর্যাপ্ত ৬০ ভোট এখন ডেমোক্র্যাটদের হাতছাড়া হয়ে গেছে। রিপাবলিকান আইন প্রণেতারা এখন সহজেই আইন প্রস্তাবটি বাধাগ্রস্ত করতে পারবেন।
ক্ষমতা গ্রহণের এক বছরের মাথায় বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। সম্প্রতি নিউ জার্সি ও ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে। অর্থনৈতিক মন্দা, বেকারত্ব, স্বাস্থ্যবিমা ও আবাসনসংকট নিয়ে দেশজুড়ে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। ম্যাসাচুসেটস উপনির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের হতাশার বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। নাটকীয় কোনো পরিবর্তন না ঘটলে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভরাডুবি অবশ্যম্ভাবী বলে মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
উপনির্বাচনের ফলাফল আসার পর বিজয়ী স্কট ব্রাউন বলেছেন, ‘ম্যাসাচুসেটসের জনগণ স্পষ্টভাবে তাঁদের রায় দিয়েছেন। আমি কোনো দলের নয়, জনগণের প্রতিনিধি। কোনো বিলম্ব না করে আমি ওয়াশিংটনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত।’
সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হ্যারি রিড বলেছেন, ‘স্কট ব্রাউনকে আমরা আইনসভায় স্বাগত জানাই। যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর শিগগির ব্রাউন সিনেটের অধিবেশনে যোগ দেবেন।’
দলীয় প্রার্থী কোয়াকলির পরাজয়ে হতাশা ও ক্ষুব্ধ ডেমোক্র্যাট শিবির। সিনেটর টেড কেনেডির শূন্য আসনে রিপাবলিকান প্রার্থীর জয়কে দলের জন্য অশনিসংকেত বলে মনে করা হচ্ছে। ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের অভিযোগ, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং দুর্বল প্রচারণাই মার্থা কোয়াকলির পরাজয়ের কারণ। মার্থা মূলত প্রচারণা চালিয়েছেন নগর এলাকায়। এর মধ্যে মার্থা নিজেই বড়দিন উপলক্ষে পুরো এক সপ্তাহ নির্বাচনী প্রচারণায় অনুপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী স্কট ব্রাউন টানা প্রচারণা চালিয়েছেন। শহরতলি ও প্রত্যন্ত জনপদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট ওবামার বিরোধী বিভিন্ন মহল এ উপনির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিল। টি-পার্টি আন্দোলনসহ রক্ষণশীল শিবিরের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল স্কট ব্রাউনের প্রচারণায়। স্বতন্ত্র ভোটারদেরও ব্যাপকভাবে কাছে টানতে সক্ষম হয়েছে রিপাবলিকান পার্টি। অর্থনৈতিক মন্দা, বেকারত্ব ও স্বাস্থ্য সংস্কার বিষয়ে বিভক্ত জনমতকে চাঙা করার সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন রক্ষণশীলেরা।

নাইজেরিয়ায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় নিহত ৩০০

নাইজেরিয়ায় মুসলমান ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে তিন দিনে প্রায় ৩০০ ব্যক্তি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ৮০০ জন। গৃহহীন হয়েছে তিন হাজার মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারফিউ জারি করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে সহিংসপূর্ণ এলাকায়। দেশটির সরকার দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে চলমান সহিংসতার স্থায়ী সমাধানের ঘোষণা দিয়েছে। খবর এএফপি ও বিবিসির।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে খিষ্টান অধ্যুষিত যশ শহরে গত রোববার সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে এ সংঘর্ষ আশপাশের শহরগুলোতেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছে, যশ শহরে একটি মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূচনা হয়।
নাইজেরিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট গুডলাক জোনাথন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারফিউ জারি করে সেখানে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সহিংসপূর্ণ এলাকার পরিস্থিতি বুঝে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বিমান কর্তৃপক্ষ জানান, সংঘর্ষের কারণে প্লেটিয়ু প্রদেশের রাজধানী যশের সব ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
খ্রিষ্টান ও মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতা এবং হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত সংঘর্ষে প্রায় ৩০০ লোক মারা গেছে। তবে সরকারের তরফ থেকে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো হিসাব জানানো হয়নি।
নাইজেরিয়ার খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সংগঠনের সেক্রেটারি রেভারেন্ড চাং ডাবো বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) পর্যন্ত যশ শহরে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ৫০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা গেছে। এ ছাড়া যশের পার্শ্ববর্তী শহর বুকুরুতে আরও ১৫ জন নিহত হয়েছে।
মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতা বালারাবি দাউদ বলেন, মঙ্গলবার ১৯২টি মরদেহ যশ শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদে আনা হয়েছে। সোমবার আনা হয়েছে আরও ২৬টি মরদেহ। তিনি জানান, সংঘর্ষে প্রায় ৮০০ লোক আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ৯০ জনকে সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
যশ শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ শিততু বলেন, আহত লোকজনে ভরে গেছে মসজিদ । আশপাশের হাসপাতালগুলোও ভর্তি হয়ে গেছে। অনেক হাসপাতালের চিকিত্সা সরঞ্জাম ফুরিয়ে গেছে।
একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিত্সক মরিয়ম মোহাম্মদ বলেন, বুকুরুতে মঙ্গলবার আরও পাঁচ ব্যক্তি মারা গেছে। তিনি বার্তা সংস্থা এএফপির সংবাদদাতাকে বলেন, ‘আমি যখন আপনার সঙ্গে কথা বলছি, তখনো সংঘর্ষ চলছে। যদিও সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত আমরা আহত ৫০ জনকে পেয়েছি। তাদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।’
রেডক্রস বলেছে, সংঘর্ষে শতাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছে। ঘরছাড়া হয়েছে অন্তত তিন হাজার মানুষ। তারা সহিংসপূর্ণ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।
যশের প্রাদেশিক তথ্য কমিশনার গ্রেগরি ইয়েনলং বলেন, স্থিতিশীলতা ফিরে না আসা পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যশ শহরের বাসিন্দা ডেভিড মাইয়াকি বলেন, কারফিউ ঘোষণার পরও সংঘর্ষ চলছে। তিনি বলছিলেন, ‘আজ গুলির শব্দে আমাদের ঘুম ভেঙেছে। আমাদের চারদিকে গোলাগুলি চলছে। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’ ইব্রাহিম মুদি বলেন, ‘এখান থেকেই গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। যশের উত্তরাঞ্চলে ঘরবাড়ি থেকে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।’
সহিংসপূর্ণ কুরু কারামা শহর থেকে যশে পালিয়ে এসেছেন ইদ্রিস কারকি। তিনি বলেন, ‘কুরু কারামা, বিসিজি ও সাবোনগিদান ও কানারে এখনো সংঘর্ষ চলছে। আমার মতো যারা ভাগ্যবান তারা পালিয়ে আসতে পেরেছে। সেখানে অনেককেই হত্যা করা হয়েছে।’
ভাইস প্রেসিডেন্ট জোনাথন এ সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, যশ সংকটের একটা চূড়ান্ত সমাধানে আসতে কেন্দ্রীয় সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
এর আগে ২০০৮ সালের নভেম্বরে যশ শহরে খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের মধ্যে দুই দিনব্যাপী সংঘর্ষে কয়েক শ লোক নিহত হয়। ২০০৯ সালের জুলাইয়ে প্লেটিয়ু প্রদেশের পার্শ্ববর্তী বরনো প্রদেশে সংঘর্ষে অন্তত ৮০০ লোক নিহত হয়। ডিসেম্বরে বাউচি প্রদেশে নিহত হয় ৭০ জন।

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ -ঢাকা-লন্ডন পথে সপ্তাহে পাঁচটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে

প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ বাংলাদেশ লিমিটেড ঢাকা-লন্ডন (গ্যাটউইক) পথে সপ্তাহে পাঁচটি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করছে।
বেসরকারি এ বিমান সংস্থা গত ২১ নভেম্বর থেকে ঢাকা-লন্ডন পথে উড্ডয়ন শুরু করে। সংস্থাটি বর্তমানে এ পথে সপ্তাহে দুই দিন ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
ইউনাইটেড এয়ার ঢাকা-লন্ডন পথে একমুখী টিকিটের ভাড়া ৩০ হাজার টাকা ও দ্বিমুখী টিকিটের ভাড়া ৫৫ হাজার টাকা (সব ট্যাক্স ও সারচার্জসহ) নির্ধারণ করেছে। ১ জানুয়ারি শুরু হওয়া এ অফার আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে।
আগামী ফেব্রুয়ারি মাসেই ঢাকা-ব্যাংকক পথে এবং এপ্রিলে ঢাকা-জেদ্দা পথে বিমান চালানোরও পরিকল্পনা করছে ইউনাইটেড এয়ার।
বাংলাদেশ বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) ও যুক্তরাজ্যের বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বিসিএডি) সম্প্রতি ঢাকায় এক যৌথ সভায় উভয় দেশের মধ্যে বিমান চলাচল বাড়ানোর ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মত হয়েছে। সে অনুযায়ী ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ঢাকা-লন্ডন পথে ফ্লাইট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। লন্ডন ছাড়াও ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহামে সপ্তাহে আরও দুটি ফ্লাইট বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে এ সংস্থা।
বর্তমানে ইউনাইটেডের দুটি এডি-৮৩ এবং দুটি ড্যাশ-৮-১০০ এয়ারক্রাফট রয়েছে। এ বছরের গ্রীষ্মের শুরুতে দুটি বোয়িং ৭৬৭-৩০০/২০০ ইআর ইউনাইটেড এয়ারক্রাফটের বিমানবহরে যোগ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চীনে ঋণপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের খবরে বিশ্ববাজার অস্থির

চীন সরকার দেশটির বড় ব্যাংকগুলোকে ঋণ কম দিতে বলেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, ঋণপ্রবাহ অনেক বেড়ে গেছে। সুতরাং এটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
কিন্তু এই খবরের প্রভাব চীনের ভৌগোলিক সীমা ছাড়িয়ে গেছে। গতকাল বুধবার এশিয়া ও ইউরোপের শেয়ারবাজার অস্থির হয়ে উঠেছে।
চীনা কর্তৃপক্ষের মতে, গত বছর দেশটিতে ঋণ বিতরণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ তৈরি করেছে। তাই এবার ঋণপ্রবাহের রাশ টেনে ধরার সময় এসেছে।
গত মঙ্গলবার রাতে চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও যে বক্তব্য দেন, তা অনেকেই ঋণনীতি কঠোর করার পূর্বাভাস বলে মনে করছেন।
ঋণপ্রবাহ হ্রাস পেলে তা চীনের অর্থনীতির গতিময়তাকে শ্লথ করে দিতে পারে—এমন ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। এই মনোভাবের প্রভাবে শেয়ারবাজারে পতন ঘটেছে।
তাই বুধবার দিন শেষে সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের সমন্বিত সূচক ৯৫ পয়েন্ট বা প্রায় তিন শতাংশ কমে গেছে।
এশিয়ার মধ্যে হংকংয়ের শেয়ারবাজার প্রায় ৩৮২ পয়েন্ট কমে গেছে। অন্যদিকে টোকিওর নিক্কি সূচক কমেছে ২৭ পয়েন্ট।
অবশ্য জাপানের শেয়ারবাজার পতনের পেছনে আগের দিন জাপান এয়ারলাইনসের দেউলিয়া ঘোষণার জেরই বেশি কাজ করেছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।
এ ছাড়া সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান ও থাইল্যান্ডের প্রধান সূচক যথাক্রমে দশমিক ৭০ শতাংশ, দশমিক ৩০ শতাংশ ও দশমিক ৮০ শতাংশ হারে কমে গেছে।
অবশ্য এই প্রবণতার ভিত্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারদ্বয় যথাক্রমে দশমিক ১০ শতাংশ ও দশমিক ২০ শতাংশ বেড়েছে।
এশিয়ার বাইরে ইউরোপের তিনটি প্রধান বাজারেই দরপতন ঘটেছে। লন্ডনের এফটি ১০০ সূচক দশমিক ৩০ শতাংশ, জার্মানির ড্যাক্স সূচক দশমিক ৩০ শতাংশ ও ফ্রান্সের ক্যাক সূচক দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কমেছে।
বিশ্ব শেয়ারবাজারে দরপতনের পাশাপাশি জ্বালানি তেলের বাজারদরও পড়ে গেছে। এটি অবশ্য চীনের নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মজুদের খবরে প্রভাবিত হয়েছে।
নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে জ্বালানি তেলের ফেব্রুয়ারির আগাম দর ৬৪ সেন্ট কমে নেমে এসেছে ৭৮ ডলার ৩৮ সেন্টে।
অন্যদিকে মুদ্রাবাজারে ইয়েনের বিপরীতে মার্কিন ডলার কিছুটা দুর্বল হলেও ডলারের বিপরীতে ইউরো আবার কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে

উত্তরা ইপিজেডে চীনা কোম্পানির বিনিয়োগ

চীনা কোম্পানি এভারগ্রিন প্রোডাক্টস ফ্যাক্টরি (বিডি) লিমিটেড উত্তরা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) উইগ ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানা সম্প্রসারণ করবে।
সম্পূর্ণ বিদেশি এই কোম্পানি মোট দুই কোটি এক লাখ ৯১ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে উইগ ও এ সম্পর্কিত অন্যান্য পণ্যসামগ্রী উত্পাদন ও রপ্তানি করবে। এভারগ্রিন প্রোডাক্টস ফ্যাক্টরি (বিডি) লিমিটেডে মোট ৫০১৭ জন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এ ব্যাপারে সম্প্রতি ঢাকায় বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) ও এভারগ্রিন প্রোডাক্টস ফ্যাক্টরি (বিডি) লিমিটেডের মধ্যে একটি লিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. মোয়েজ্জদীন আহমেদ এবং এভারগ্রিন প্রোডাক্টসের পরিচালক চেন চি ওয়াই আলফ্রেড নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এ লিজ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল আহমেদ খান, সদস্য (প্রকৌশল) এম মাহবুব-উল-আলম, সদস্য (অর্থ) এ কে এম মাহবুবুর রহমান, সচিব মো. শওকত নবী, মহাব্যবস্থাপক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) এ জেড এম আজিজুর রহমান এবং বেপজার অন্যান্য কর্মকর্তা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সামনে চারটি বাধা

খাদ্য-জ্বালানি ও আর্থিক-সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বাহ্যিক অভিঘাতের কারণে উন্নয়নের পথ থেকে ছিটকে পড়তে পারে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলো (এলডিসি)।
সম্ভাব্য এ অভিঘাতগুলো মোকাবিলায় স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পক্ষ থেকে উন্নত দেশের বাজারে অর্থবহ প্রবেশাধিকারের পাশাপাশি উত্পাদন-সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার দাবি জানানো হয়েছে।
সেই সঙ্গে তাগিদ দেওয়া হয়েছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ কাজে লাগাতে বাণিজ্য অবকাঠামো গড়ে তোলা, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের জন্য সাহায্য বাড়ানোর ব্যাপারেও।
রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্বল্পোন্নত দেশগুলোর তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের শেষ দিনে এক যৌথ ঘোষণায় গতকাল বুধবার এ আশঙ্কা ও দাবির কথা তুলে ধরা হয়।
গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সম্মেলনের এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও এসকাপের নির্বাহী সচিব নোয়েলিন হেইজার। এ সময় বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
১১ দফার এ ঘোষণায় বলা হয়, এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে বৈদেশিক সাহায্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এসব দেশের জাতীয় অগ্রাধিকার ও সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যের (এমডিজি) সঙ্গে তালমিলিয়ে সাহায্যের টাকা ছাড়ের বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
নোয়েলিন হেইজার বলেন, স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তীর্ণ হতে হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো মোকাবিলার সামর্থ্য অর্জন করতে হবে। এটা করতে হলে কর্মসংস্থান ও আয়ের নিরাপত্তা বিধানসহ সামাজিক নিরাপত্তাবলয় সৃষ্টি এবং ব্যবসার অবকাঠামোর উন্নয়ন জরুরি।
হেইজার বলেন, স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে উন্নত দেশগুলোর বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়াতে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) দোহা উন্নয়ন রাউন্ডের আলোচনার সমাপ্তির জন্য চাপ সৃষ্টি করতে হবে। এ আলোচনাটি শেষ হলে স্বল্পোন্নত দেশগুলো উন্নত দেশের বাজারে কোটা ও শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। দূর হবে অশুল্ক বাধাও।
আরেক প্রশ্নের জবাবে হেইজার বলেন, এ অঞ্চলের স্বল্পোন্নত দেশগুলোর চার ট্রিলিয়ন ডলারের মজুদ রয়েছে। উপ-আঞ্চলিক ব্যবসা প্রসার ও উত্পাদন-সক্ষমতা বাড়াতে মজুদ কাজে লাগানো উচিত।
এবারের ঢাকা ঘোষণায় আরও বলা হয়, সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আর্থিক প্রবাহের মাধ্যমে লাভবান হওয়ার ব্যাপারে মতৈক্যে পৌঁছেছে।
একই সঙ্গে এতে বলা হয়েছে, দেশগুলো সরবরাহ সক্ষমতার অভাব, দুর্বল অবকাঠামো সুবিধা ও সম্পদের অপ্রতুলতার কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সুবিধাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া উন্নত দেশগুলোর নানা বিধিনিষেধও এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে রয়েছে। তাই এগুলো অপসারণ করা দরকার।
ঘোষণায় পরিবেশবান্ধব প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে প্রযুক্তি ও অর্থ-সহযোগিতার ব্যাপারেও গুরুত্বারোপ করা হয়।
২০১১ সালে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে চতুর্থ এলডিসি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এ সম্মেলন সামনে রেখেই এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৫টি সদস্য দেশ নিয়ে গত সোমবার বাংলাদেশে শুরু হয় উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতিমূলক আঞ্চলিক সম্মেলন।
অবশ্য ইস্তাম্বুল সম্মেলনের আগে আগামী মে মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠেয় আরেকটি সম্মেলনে ঢাকা ঘোষণা পর্যালোচনা করে চূড়ান্তভাবে গ্রহণ করা হবে।
জাতিসংঘের এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্থা (এসকাপ) এবং বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে ঢাকায় এ সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

অশুল্ক বাধা অপসারণের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ জানা নেই ব্যবসায়ীদের

ভারতের সঙ্গে রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে অশুল্ক বাধাকে বরাবরই অন্যতম প্রতিবন্ধক হিসেবে উল্লেখ করে আসছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা।
কিন্তু ভারতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হওয়া ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা এই সফর শেষে তাঁদের এ সমস্যা সমাধানের বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো পদক্ষেপের কথা জানাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
তবে এ সফর থেকে আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে এবং দেশের স্বার্থ বিরোধী কোনো সমঝোতা হয়নি বলে তাঁরা জোরের সঙ্গে উল্লেখ করেন।
গতকাল ঢাকায় শেরাটন হোটেলে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাঁদের বক্তব্যে এসব কথাই বেরিয়ে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য দেন বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের প্রধান ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী আকরামউদ্দিন আহমদ। এ সময় ৫০ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধিদলের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে ভারত সফরে ভারতীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে তাঁদের বিভিন্ন বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়।
কাজী আকরাম বলেন, ‘রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যদি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শীতল থাকে, আমরা মনে করি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়বে এবং এটাই স্বাভাবিক। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সফরের সবচেয়ে বড় অর্জন বরফ গলতে শুরু করেছে, গলছে। পারস্পরিক সুসম্পর্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে কাজী আকরাম বলেন, ‘আমরা আশ্বস্ত হয়েছি, তবে এখনো পাইনি। সমস্যা নিরসনের যেসব আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়নই গুরুত্বপূর্ণ। আর এই বাস্তবায়নের জন্য কিছু সময়ও লাগবে।’
প্রধানমন্ত্রীর সফরের ফলে বাণিজ্য সম্প্রসারণে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অশুল্ক বাধা অপসারণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে কি না—একাধিকবার এ প্রশ্ন করার পরও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা এর কোনো সুস্পষ্ট জবাব দেননি।
তবে তাঁরা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের পাঁচ বছরের মাল্টিপল ভিসা দেওয়ার প্রস্তাব করে এসেছেন বলে জানান।
প্রতিনিধিদলের সদস্য ও বাংলাদেশ নিট পোশাক মালিক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি ফজলুল হক বলেন, ‘পারস্পরিক আস্থার জায়গা তৈরি হচ্ছে, এটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই সফর থেকে প্রাপ্তির বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো কিছু বলার সময় এখনো আসেনি। এটা সবে শুরু।’
ফজলুল হক আরও বলেন, ভারতের বস্ত্র খাতের প্রভাবশালী বাণিজ্য সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তাঁরা ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন। তাই বর্তমানে ৮০ লাখ পিস তৈরি পোশাক বিনাশুল্কে যে প্রবেশাধিকার ভারত দিয়েছে, তা বেড়ে এক কোটি ৪০ লাখ পিস হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
ফজলুল হক ব্যাখ্যা করে বলেন, ভারতে এখন তৈরি পোশাকের দুই হাজার ৭০০ কোটি ডলারের বাজার রয়েছে, যা বছরে ১৮ শতাংশ হারে বাড়ছে। এই চাহিদা মেটাতে ভারতকে বাইরে থেকে পোশাকপণ্য আমদানি করতে হচ্ছে। সুতরাং, বাংলাদেশি পোশাকপণ্যের এই বাজারে প্রবেশ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি আবদুস সালাম মোর্শেদী বলেন, ‘আমরা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে এবার কোনো নেতিবাচক মনোভাব দেখিনি। তাঁরা বাংলাদেশি পণ্য সম্পর্কে ভালোভাবে জানাতে আমাদের সে দেশে একক বাণিজ্য মেলা করার পরামর্শ দিয়েছেন।’
প্রাণ গ্রুপের প্রধান নির্বাহী আমজাদ খান চৌধুরী বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলো বাংলাদেশেরই বাজার। প্রাণের পানীয় ও প্লাস্টিকপণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি এর প্রমাণ।
ভারতে মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে দিলে বাংলাদেশি পণ্য এই বাজার হারিয়ে ফেলবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশি পণ্য ইতিমধ্যে নিজের জায়গা করে নিয়েছে। কাজেই ভীত হওয়ার কিছু নেই।
২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আমদানি বাংলাদেশের জন্য কতটুকু লাভজনক হবে—জানতে চাইলে কাজী আকরাম বলেন, ‘আমরা শুধু এই ২৫০ মেগাওয়াটের দিকে তাকিয়ে নেই। নিজস্ব উত্পাদন বাড়ানোর বিভিন্ন পদক্ষেপও সরকার নিচ্ছে।’
এ প্রসঙ্গে ফজলুল হক বলেন, ‘বাইরে থেকে বিদ্যুত্ আমদানির পদক্ষেপ কতটা কাজ করে, তা বোঝার জন্য প্রথমে এ ধরনের ছোট উদ্যোগই ভালো। এটার সাফল্য পরীক্ষা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া যাবে।’
বাংলাদেশ চেম্বারের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর অনেকটাই সফল হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, দেশের স্বার্থপরিপন্থী কোনো কিছু এখানে হয়নি।
বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের সহসভাপতি আবুল কাশেম আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ছিল রাজনৈতিক সফর, যা শতভাগ সফল হয়েছে। এখানে কোনো গোপন চুক্তি হয়নি।

তৃতীয় স্থানে জিয়া

ভারতের দিল্লিতে চলছে অষ্টম পরশনাথ আন্তর্জাতিক দাবা, কাল নবম রাউন্ডে রাশিয়ার আন্তর্জাতিক মাস্টার তলস্তিক নিকোলাইয়ের সঙ্গে ড্র করেছেন বাংলাদেশের গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান। ৯ খেলায় জিয়ার পয়েন্ট ৭। যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে আছেন তিনি।

গার্দিওলা বার্সায়ই থাকবেন

বার্সেলোনার সঙ্গে এখনো চুক্তি নবায়ন করেননি পেপ গার্দিওলা। গুঞ্জন উঠেছে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যেতে পারেন তিনি। কিন্তু এই গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন বার্সেলোনার সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা। দ্য সান পত্রিকা লাপোর্তাকে উদ্ধৃত করেছে এভাবে, ‘আমরা অনুমানকে এড়াতে পারি না। সে বিশ্বের সেরা কোচ এবং অনেক ক্লাবই তাকে পেতে আগ্রহী হবে। তবে সে আরও অনেক দিন বার্সেলোনার থাকবে।

অপমানিত আফ্রিদিরা ভীষণ ক্ষুব্ধ

সাকিব আল হাসান আর তিনি একই পথের পথিক। তবে সাকিবের মতো সৌজন্যের ধার ধারলেন না শহীদ আফ্রিদি। বরং সমালোচনায় ধুয়ে দিলেন আইপিএল এবং ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডকে। কারণ তাঁর চোখে কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটারকে না কেনাটা এক ধরনের অপমান, ‘আইপিএল আর ভারত আমাদের এবং আমাদের দেশের সঙ্গে ঠাট্টা করেছে। আমরাই টি-টোয়েন্টির বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। আইপিএলের দলগুলোর এই আচরণে আমি খুবই মর্মাহত। ভারতীয় দর্শকদের জন্যও আমার খারাপ লাগছে। কারণ আমার ধারণা, ওরাও আমাদের খেলা দেখতে চেয়েছিল।’
পরশু আইপিএলের নিলামে মোট ১১ জন খেলোয়াড় বিক্রি হয়েছে। সর্বোচ্চ সাড়ে সাত লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের শেন বন্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাইরন পোলার্ড। কিন্তু তাতে জায়গা হয়নি নিলামের তালিকায় থাকা ১১ পাকিস্তানি ক্রিকেটারের কারোরই। ধারণা করা হচ্ছে, দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে আবারও ভিসা-জটিলতা হতে পারে ভেবে এঁদের কিনতে আগ্রহী হয়নি দলগুলো।
আরেক বঞ্চিত অলরাউন্ডার আবদুল রাজ্জাকও ক্ষুব্ধ, ‘তারা আসলে আমাদের ক্রিকেট আর ভাবমূর্তিতে আঘাত হেনেছে। আমাদের কাছে এটা সবচেয়ে হতাশার, কারণ খেলার মধ্যে রাজনীতি মেশানো উচিত নয়।’ নিলামে যদি না-ই কেনা হবে, তাহলে কেন তাদের নাম তালিকায় রাখা হলো—সেই প্রশ্নও তুলেছেন রাজ্জাক। তাঁর মতে, ‘বিশ্বের সেরা টি-টোয়েন্টি তারকা’ পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের না নিয়ে শেষতক ক্ষতি হলো আইপিএলেরই।
আইপিএলের প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন সোহেল তানভির। টুর্নামেন্টের সেরা বোলারও হয়েছিলেন। তিনিও সতীর্থদের সঙ্গে একমত, ‘তারা আসলে বোঝাতে চেয়েছে আমরা আইপিএলে খেলার যোগ্য নই। দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, দলগুলো এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটীয় নয়, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই নিয়েছে। এটা খুবই লজ্জাজনক।’
সাবেক অধিনায়ক রমিজ রাজা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির একটা সুযোগ হারাল আইপিএল আর ভারত। ওদিকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান ইজাজ বাট জানাচ্ছেন, এতে খুব একটা ভাবিত তিনি নন। আইপিএলে খেলার জন্য সব ক্রিকেটারকে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে এ ঘটনার জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকেও দায়ী করেছেন তিনি। এই ‘অপমানের’ প্রতিবাদ জানিয়ে পাকিস্তানের ক্রীড়ামন্ত্রী আইজাজ হোসেন জাখরানি ভারতের ক্রীড়ামন্ত্রীকে ফোনও করেছিলেন।
এদিকে আফ্রিদিরা যখন হতাশায় ভুগছেন, তৃতীয় নিলামে বিক্রি হওয়া ক্রিকেটারদের মধ্যে তখন উচ্ছ্বাস। ওয়েস্ট ইন্ডিজের উঠতি তারকা পোলার্ড জানিয়েছেন, শচীন টেন্ডুলকারের সঙ্গে একই দলে খেলার সুযোগ পেয়ে তিনি ধন্য। আর দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েইন পারনেল (দিল্লি ডেয়ার ডেভিলস) জানিয়েছেন, ছয় লাখ ১০ হাজার ডলারে বিক্রি হবেন, এটা তিনি ভাবতেই পারেননি।

হকির ব্রোঞ্জ ফেরানোর মিশন

ইউরোপের পাঁচটি দেশ সফরের সুফল আশা করি গেমসে পাব আমরা। ব্রোঞ্জ অবশ্যই জিতব, তবে স্বপ্ন ফাইনালে খেলা’—পিটার গেরহার্ড।
‘আমাদের মূল লক্ষ্য ব্রোঞ্জ। ভারত বা পাকিস্তানকে হারানোর চেষ্টা থাকবে। তাহলে ফাইনালে খেলা সম্ভব। আমাদের প্রস্তুতি ভালো’—মশিউর রহমান বিপ্লব।
‘ফাইনালে খেলবই, এটা বলব না। অবাস্তব কল্পনা করে লাভ নেই। তবে এবার আর ব্রোঞ্জ হাতছাড়া করতে রাজি নই আমরা’—খন্দকার জামিলউদ্দিন।
প্রথমজন বাংলাদেশ হকি দলের জার্মান কোচ, দ্বিতীয়জন জাতীয় হকি দলের নতুন অধিনায়ক, তৃতীয়জন বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। দক্ষিণ এশীয় গেমসের জন্য বাংলাদেশ হকি দল ঘোষণা ও আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির লক্ষ্যের কথা বলতে গিয়ে কাল সংবাদ সম্মেলনে প্রায় অভিন্ন সুরই তুললেন তিনজন।
গেমস হকির প্রস্তুতি নিতে বাংলাদেশ দলকে তিন মাস রাখা হলো ইউরোপে। তাতে ঘরোয়া লিগই হলো না গত বছর। এত বড় ‘ত্যাগের’ ঘুরেফিরে সেই ব্রোঞ্জ! এত দিন রুপা জয়ের স্বপ্ন দেখানো হচ্ছিল ঠারে-ঠোরে, হকি ফেডারেশন এখন ফিরে গেল বাস্তবতার জমিনে।
ভারত-পাকিস্তানকে হারানো বলতে গেলে অসম্ভব। ১৯৯৫ মাদ্রাজ সাফে গেমস হকির প্রথম আসরে ভারত-পাকিস্তানের পেছনে থেকে বাংলাদেশের বোঞ্জ জয়ই সেই প্রমাণ দিয়েছে। গত কলম্বো গেমস দিয়ে হকি আবার ফিরলে শ্রীলঙ্কার কাছে পরাজয় কেড়ে নিল সেই ব্রোঞ্জটাও! এবারও যুক্তিযুক্ত কারণেই বলা হচ্ছে ‘ব্রোঞ্জই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত’। তাই বলে একটা বছর ঘরোয়া হকি হিমাগারে চলে যাবে?
সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের সম্পাদক যুক্তি দিলেন, ‘ব্রোঞ্জ জেতাও তো সহজ নয়। গতবার স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে ব্রোঞ্জও আসেনি। কাজেই এবার ব্রোঞ্জ জেতাও একটা অর্জন হবে।’ কথাটা ঠিকই। তাই বলে একটা বছর লিগ হবে না! খন্দকার জামিলের যুক্তি, ‘এসএ গেমসের প্রস্তুতির জন্য কিছুটা ছন্দপতন হয়েছে। তবে আমরা জাতীয় দলটাকে তৈরি করার জন্য প্রচুর কাজ করেছি।’
সেই ‘কাজের’ আড়ালে হারিয়ে যেতে বসেছে ঘরোয়া হকির প্রাণচাঞ্চল্য। ফেডারেশন সম্পাদক যদিও ‘হকিতে জাগরণ আসছে। অন্য অনেক কিছুর সঙ্গে মহিলা হকিও শুরু করছি আমরা’—দাবি করছেন। তবে বিদায়ী বছরে ঢাকা লিগের পাশাপাশি জাতীয় হকি, যুব হকি, স্কুল হকির মতো অত্যাবশ্যকীয় টুর্নামেন্টগুলো হয়নি; দেশের হকির জন্য যা ভালো লক্ষণ নয়।
এসএ গেমসে ভালো কিছু করতে পারলে তবু হকি ফেডারেশনের মুখ রক্ষা হবে। ৩০ জানুয়ারি নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু বাংলাদেশের গেমস মিশন। এর পর বাকি তিন প্রতিপক্ষ ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ম্যাচ।
‘চাই শক্তিশালী একটা দল’—এই লক্ষ্যে ইউরোপ সফরের দল থেকে কৃষ্ণ, শুভ, হাসান ও রিমনকে বাদ দিয়ে ১৮ সদস্যের দলে ফিরোজ, ইরফান ও জাহেদকে প্রথম সুযোগ দিয়েছেন কোচ গেরহার্ড। দলে ফিরিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক আশিকুজ্জামানকে। ফেডারেশনের কোচিং কমিটির প্রধান জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুর রশিদের দাবি, ‘এটি কোচেরই দল, তাঁর কাজে কোনো রকম হস্তক্ষেপ করা হয়নি।’
হকি দল: কামরুজ্জামান, আসাদুজ্জামান, আশিকুজ্জামান, মশিউর রহমান, মামুনুর রহমান, ইরফান, রাসেল মাহমুদ, সাজ্জাদ, মেহরাব, শেখ নান্নু, জাহিদুল, ফিরোজ, মোস্তফা, মোশাররফ, ইমাম হাসান, পুষ্কর, তাপস, জাহিদ।

শেষ আটে ঘানা

ফেবারিট আইভরিকোস্টকে রুখে দিয়ে ‘বি’ গ্রুপে যে চমকটা দেখিয়েছিল বুর্কিনা ফাসো—সেটার জোরেই শেষ আটে ওঠার স্বপ্ন দেখছিল তারা। ভালো একটা সুযোগও এসে গিয়েছিল—গ্রুপের শেষ ম্যাচে ঘানাকে রুখে দিলেই হতো। কিন্তু সেটা হয়নি। পরশু চারবারের আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন ঘানার কাছে ০-১ গোলে হেরে গেছে তারা। ওয়েবসাইট।
ঘানার জন্যও ম্যাচটি ছিল বাঁচামরার লড়াই। নিজেদের প্রথম ম্যাচে আইভরিকোস্টের কাছে ১-৩ গোলে হেরে যাওয়ায় এই ম্যাচে জিততেই হতো তাদের। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলের মুখে হাসি ফোটান আন্দ্রে অ্যায়ু। আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে তেমন পরিচিত না হলেও চেনা যায় এমন একটা পরিচয়ও আছে তাঁর। আফ্রিকার কিংবদন্তি ফুটবলার আবেদি পেলের ছেলে তিনি। ৩০ মিনিটের মাথায় করা তাঁর একমাত্র গোলটিই ম্যাচে গড়ে দেয় ব্যবধান। ৬৬ মিনিটে ঘানার আসামোয়া গিয়ানকে অবৈধ বাধা দিতে গিয়ে মামাদু টল লাল কার্ড দেখলে ১০ জনের দল হয়ে যায় বুর্কিনা ফাসো। এই জয়ে আইভরিকোস্টের পরে গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ আটে উঠল ঘানা।

দুঃসময়কে উড়িয়ে স্বরূপে নাদাল

টেনিস কোর্টে তাঁর সর্বশেষ সুখস্মৃতি এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেই। রজার ফেদেরারকে কাঁদিয়ে জিতেছিলেন শিরোপা। তারপরই রাফায়েল নাদালকে পেয়ে বসে দুঃসময়। ফ্রেঞ্চ ওপেনে হারেন, উইম্বলডনে খেলতে পারেননি চোটের কারণে।
২০০৯-কে বিদায় জানানোর পাশাপাশি এই স্প্যানিয়ার্ড কি বিদায় জানিয়েছেন দুঃসময়কেও? কাল কিন্তু দুর্দান্ত এক জয় দিয়েই জানিয়ে দিলেন, অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপাটি ধরে রাখতে তিনি প্রস্তুত। স্লোভাকিয়ার লুকাস লাকোকে ৬-২, ৬-২, ৬-২ গেমে হারিয়ে উঠে গেলেন তৃতীয় রাউন্ডে।
অবসর ভেঙে ফেরা জাস্টিন হেনিন এবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে খেলছেন অবাছাই খেলোয়াড় হিসেবে। তাই দ্বিতীয় রাউন্ডেই পেলেন এলেনা দেমেন্তিয়েভার মতো শক্ত প্রতিপক্ষকে। রুশ তারকাকে ৭-৫, ৭-৬ (৮/৬) গেমে হারিয়ে হেনিন আবারও মনে করিয়ে দিলেন, তিনি আসলেই জাত লড়াকু।
পুরুষদের কোর্ট কাল দেখেছে এক ক্লাসিক লড়াই। ৪ ঘণ্টা ১৭ মিনিটের সেই লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার হুয়ান মার্টিন দেল পোত্রো ৬-৪, ৬-৭ (৩/৭), ৫-৭, ৬-৩, ১০-৮ গেমে হারিয়েছেন জেমস ব্লেককে। তৃতীয় রাউন্ডে উঠেছেন অ্যান্ডি রডিক, অ্যান্ডি মারে আর ফার্নান্দো গঞ্জালেসও। ওদিকে মেয়েদের এককে জিতেছেন কিম ক্লাইস্টার্স ও দানিয়েলা হানতুচোভা।
কদিন আগে দোহায় নিকোলাই ডেভিডেঙ্কোর কাছে হেরে যাওয়ার পর নাদালের ফর্ম আর ফিটনেস নিয়ে সংশয় জানিয়েছিলেন কেউ কেউ। কিন্তু লাকোর পাশাপাশি নাদাল যেন উড়িয়ে দিলেন সব সংশয়। ম্যাচ শেষে জানিয়ে দিলেন, ‘আমি খুবই ভালো আছি। আমার কোনো সমস্যাই হচ্ছে না। যার যা খুশি বলতে পারে। কিন্তু নিজের সেরা ফর্মে পৌঁছাতে আমি পরিশ্রম করে যাচ্ছি।’
এবার লক্ষ্য কী? নিশ্চয়ই শিরোপা জিততে চান। ফিরে পেতে চান র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর জায়গাটি। নাদালের উত্তর শুনে মনে হলো, র্যাঙ্কিং তাঁর কাছে স্রেফ একটা সংখ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়, ‘আমি শুধু শিরোপা জিততে চাই। সেটা দুয়ে থেকেই হোক, চার কিংবা পাঁচে—তাতে কিছু এসে যায় না।

লক্ষ্মণের জন্য কুলক্ষণ

ভিভিএস লক্ষ্মণের জন্য কি শেষই হয়ে গেল সিরিজটা! শাহরিয়ার নাফীসের ক্যাচ নিতে গিয়ে কাল বাঁ হাত ফেটে গেছে ভারতের এই মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যানের। দিন শেষে মাঠ থেকে হোটেলে না ফিরে তাঁকে তাই যেতে হলো চট্টগ্রামের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে। বাঁ হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল আর তর্জনীর সংযোগস্থলে সেলাই পড়েছে পাঁচটা। সেলাই খোলা হবে পাঁচ দিন পর।
লক্ষ্মণকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া বিসিবির চিকিত্সক দেবাশিস চৌধুরী টেলিফোনে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, ‘ওর হাতে পাঁচটা সেলাই পড়েছে। হাত এখন ব্যান্ডেজ করা। পাঁচ দিন পর ব্যান্ডেজ খোলার পরই বোঝা যাবে অবস্থা।’ তার মানে আজ চট্টগ্রাম টেস্টের শেষ দিনে দলের হয়ে ফিল্ডিং করতে পারবেন না লক্ষ্মণ। অনিশ্চিত তিনি ২৪ জানুয়ারি থেকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুরু দ্বিতীয় টেস্টেও। ‘ব্যান্ডেজ খোলার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটা ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টই নেবে। তবে আমরা যেটি বুঝতে পারছি পরের টেস্টে সে খেলতে পারবে না’—জানিয়েছেন ডা. দেবাশিস।

আবারও শেষ ওভারের দুঃখ

কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে হলে বাংলাদেশকে এ ম্যাচে জিততেই হতো। কিন্তু পাকিস্তানের কাছে কাল ৪ উইকেটে হেরে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের কাপের লড়াই থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। পাকিস্তান নাটকীয়ভাবে ম্যাচটা জিতে নিয়েছে শেষের আগের বলে।
প্রথমে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৫০ রান তোলে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। সর্বোচ্চ ৬৩ রান করেন অধিনায়ক মাহমুদুল হাসান। জবাবে ৪৯.৫ ওভারে ৪ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নেয় পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল। অথচ ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণই একসময় ছিল বাংলাদেশের হাতে। গত ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছেও এভাবে শেষ ওভারেই হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে। পার্থক্য হলো, ওই ম্যাচে বাংলাদেশ ধাওয়া করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বেঁধে দেওয়া লক্ষ্য। আর এবার বাংলাদেশের রান তাড়া করল পাকিস্তান।
উদ্বোধনী জুটিতেই ১০৪ রান তুলে নিয়ে পাকিস্তান ইঙ্গিত দিয়েছিল সহজ জয়ের। এরপর সাব্বির রহমান ও মাহমুদুল তাঁদের লেগ স্পিন ও অফ স্পিনে ৯ রানের মধ্যে দুই উইকেট তুলে ম্যাচে ফেরান বাংলাদেশকে। ৪৬.৩ ওভারে পাকিস্তান ৬ উইকেট হারিয়ে তুলতে পারে ১৯৯ রান। বাকি ২১ বলে জয়ের জন্য তখনো পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৫২ রান, আর শেষ দুই ওভারে ৩৯ রান। এমন সময় পাকিস্তানের ‘সহায়’ হয়ে আসেন বাংলাদেশের দুই বোলার আবুল হাসান ও মমিনুল হক। ম্যাচের ৪৯তম ওভারে আবুল হাসান দেন ১৯ রান। শেষ ওভারে মোমিনুল হকের ৫ বল থেকে প্রয়োজনীয় ২০ রান তুলে নেয় পাকিস্তান। মূলত পাকিস্তানের হামাদ আজম ও মোহাম্মদ ওয়াকাসের কাছেই হেরেছে বাংলাদেশ। ১৪ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৪ রান করেন ওয়াকাস, ২২ বলে ২৭ রান করেন আজম। সপ্তম উইকেটে তারা দুজন তোলেন অপরাজিত ৫২ রান।
আসল লড়াই থেকে (কাপ) বিদায় হয়েছে, বাংলাদেশ এখন লড়বে ‘প্লেট চ্যাম্পিয়ন’ হওয়ার আশায়। কাল নিউজিল্যান্ড থেকে টেলিফোনে দলের ম্যানেজার তানজীব আহসান সাদ জানালেন, ‘ছেলেরা খুব হতাশ। এভাবে শেষ ওভারে গিয়ে হারতে হবে সেটা আমরা কল্পনাও করিনি। তবে এটাই ক্রিকেট। এখন আমরা প্লেট চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য লড়ব।’ আগামী ২৪ জানুয়ারি হংকংয়ের বিপক্ষে প্লেট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচ মাহমুদুলদের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৫০/৫ (মাহমুদুল ৬৩, আনামুল ৫৫, অমিত ৩৬, মমিনুল ৩৫, সাব্বির ৩৪*; উসমান ২/৪৪, বাবর ১/৫৪, শাহজায়েব ১/৩৭)। পাকিস্তান: ৪৯.৫ ওভারে ২৫১/৬ (বাবর ৯১, শেহজাদ ৫২, ওয়াকাস ৩৪*, হাম্মাদ ২৭*; মাহমুদুল ২/৩৬, সাব্বির ১/৫১, শাকের ১/৩১, আবুল হাসান ১/৬৯)। ফল: পাকিস্তান ৪ উইকেটে জয়ী।

বিধ্বস্ত হাইতির গল্প ও একটি অনাগত আশঙ্কার কথা -সুমন রহমান |

যত যা-ই হোক, হাইতির ভূমিকম্প নিয়ে কিছু লিখব না, ভেবে রেখেছিলাম। কী আর লিখব, যেখানে রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার এক ভূকম্পনে পোর্ট অ প্রিন্স শহরটি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ৫০ হাজারের মতো মানুষকে গণকবর দেওয়া হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে জ্যান্ত কবর হয়েছে আরও কমপক্ষে ৫০ হাজার কি এক লাখ মানুষের। এত বড় মানবিক বিপর্যয় নিয়ে কি-ই বা বলার আছে, ব্যথিতচিত্তে চুপ করে থাকা ছাড়া? তার ওপর, আপনি যদি এমন কোনো শহরের অধিবাসী হোন, যেটি একই ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কার ওপর দাঁড়িয়ে, তাহলে হাইতির ভূমিকম্প আপনার কাছে কিছু বাড়তি বার্তা বহন করবে নিশ্চয়ই। অর্থাত্, এই দুর্ঘটনা শুধু দূর থেকে দেখে যাওয়ার নয়, বরং আশঙ্কার সঙ্গে বাস্তবের ফারাককে কমিয়ে দেয় অনেক। নয়া উদরনৈতিক অর্থনীতির মন্ত্রে যেসব শহর দরিদ্র গ্রামবাসীর অসহায় অভিবাসনে ফুলে-ফেঁপে টইটম্বুর হয়ে উঠছে, একটা প্রাকৃতিক ধ্বংসযজ্ঞ সেখানে কত বড় মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, হাইতির ভূমিকম্প তারই নমুনা।
সত্যি বলতে কি, ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরের সুনামি কিংবা ২০০৮ সালে চীনের সিচুয়ান প্রদেশের ৮ মাত্রার ভূমিকম্পও এত গল্প, এত অভিঘাত তৈরি করতে পারেনি। যদিও চীনের মতো দেশ সিচুয়ানের ভূমিকম্প সামাল দিতে হিমশিম খেয়েছে। আর সুনামির ধাক্কাটা বিভিন্ন দেশ ভাগ করে নেওয়ায় এর বিপর্যয়টুকু একসঙ্গে দৃশ্যমান হয়নি। হাইতির ক্ষেত্রে সেটা হয়েছে—ভূমিকম্পে হাইতির রাজধানী পোর্ট অ প্রিন্স বিধ্বস্ত হলো। এই এক শহর, যেটি তার ঔপনিবেশিক সংগ্রামের ঐতিহ্য সত্ত্বেও বিকশিত হয়েছে মার্কিন মদদপুষ্ট অর্থনীতির গিনিপিগ হিসেবে; যে অর্থনীতি হাইতির গ্রামীণ কৃষিকে অনেক আগেই ধ্বংস করেছে, ফলে শহরমুখী মানুষের ঢল সামাল দিতে পোর্ট অ প্রিন্স বেড়ে উঠেছে নিদারুণ অপরিকল্পনায়। আবার চীনের ক্ষেত্রে যা সম্ভব হয়নি, ভূমিকম্প-উত্তর হাইতিতে গণমাধ্যম পৌঁছাল তড়িত্গতিতে। ত্রাণসামগ্রীরও বহু আগে। আমরা দেখেছি, রাষ্ট্রীয় ভবন ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় মার্কিন সাংবাদিক হাইতির প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞেস করছেন, তিনি আজ রাতে কোথায় থাকবেন? প্রেসিডেন্ট বিব্রতমুখে বললেন, তাঁর থাকার ব্যবস্থা কিছু একটা হবে, কিন্তু এ শহরের অনেকেরই হবে না—সেটা নিয়ে তিনি ভাবছেন। সে সময় হাইতির প্রেসিডেন্ট নিশ্চয়ই মার্কিন মুল্লুককেই ত্রাতা হিসেবে ভাবছিলেন, নয়তো এমন নির্দয় প্রশ্নের জবাব আরও অন্যরকম হতে পারত। সত্যি বলতে কি, এমন ধ্বংসস্তূপের ওপরে গণমাধ্যমের দাপাদাপি আমাদের হয়তো অনেক তথ্যের জোগান দিয়েছে, কিন্তু কখনো কখনো অনেক নির্দয় লেগেছে ভ্রাম্যমাণ টিভি ক্যামেরাগুলোকে। খোদ হাইতিবাসী অনেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, দোহাই আর গণমাধ্যম নয়, দরকার সত্যিকারের ত্রাণ, সত্য উদ্ধার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ‘সুইফট অ্যান্ড অ্যাগ্রেসিভ’ ত্রাণ সহায়তার আশ্বাস এই বিপুল ধ্বংসযজ্ঞের ডামাডোলে ফাঁকা বুলিতে পরিণত হলো। একমাত্র বিমানবন্দরটিরও কাঠামো ভেঙে পড়েছে, জোড়াতালি দিয়ে একে ন্যূনতম কাজের উপযোগী করে তোলা হয়েছে পরে। প্রাথমিক ত্রাণ বলতে খাদ্য, ওষুধসামগ্রী আর কাপড়চোপড়। কিন্তু সেগুলো কোথায় কীভাবে যাবে? সব কটি হাসপাতাল ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে। বাড়িঘরেরও বেশির ভাগ। আফটার শক হতে পারে এই আশঙ্কায় বেঁচে যাওয়া মানুষ রাস্তায় বা খোলা জায়গায় অবস্থান করছে। জ্যান্ত মানুষ আর লাশের মধ্যে ফারাক করা যাচ্ছে না, পাশাপাশি পড়ে আছে সব। ভূগর্ভস্থ পানির লাইন বা বিদ্যুত্ব্যবস্থা সবই অতীতের স্মৃতিমাত্র। বিদ্যুত্হীন, পানিহীন, যোগাযোগ-ব্যবস্থাহীন একটি শহরের তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া ভবনগুলোর ভেতরে আটকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে তরিয়ে যাচ্ছে প্রায় এক লাখ মানুষ। অসম্ভব ঘুটঘুটে অন্ধকার নেমে আসছে সন্ধ্যাবেলাতেই, অদ্ভুত এক নৈঃশব্দ, আর তাকে ভারী করে তুলছে এখানে ওখানে মানুষের আহাজারি, আর্ত চিত্কার। জ্যান্ত কবর খুঁড়ে মুমূর্ষু বা মৃত মানুষকে বের করে নিয়ে আসার মতো ভারী যন্ত্রপাতি বা বুলডোজার নেই একটাও। আবার শহরের কারাগার ভেঙে যাওয়ায় সেখান থেকে পালিয়ে গোটা শহরে ছড়িয়ে পড়ছে পাঁচ হাজারের মতো দাগী অপরাধী। একদিকে জীবিত মানুষদের একটি দল জড়িয়ে পড়েছে লুটতরাজ, ছিনতাইয়ের মতো কর্মে; অন্যদিকে মানুষ মরছে, শহরময় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা লাশের গন্ধ তৈরি করছে নারকীয় এক পরিস্থিতি। আলবেয়ার কাম্যুর দ্য প্লেগ উপন্যাসে প্লেগের মহামারিতে গোটা শহর ধ্বংস হয়ে যাওয়ার বর্ণনা, কিংবা হোসে সারামাগোর ব্লাইন্ডনেস উপন্যাসে যেভাবে একটা শহরের সব মানুষ প্রায় একসঙ্গে অন্ধ হয়ে যাওয়ার কাহিনি বলা হয়েছে, তার থেকেও নারকীয় যেন পরিস্থিতি! পৃথিবীতে এর চেয়ে ভয়াবহ কোনো পরিস্থিতির কথা ভাবা যায়?
পড়ছিলাম কানাডাপ্রবাসী হাইতিয়ান এক গায়িকার লেখা: হাইতি থেকে তাঁর মা তাঁকে নিয়ে পালিয়ে এসেছিলেন। অন্যান্য আত্মীয়স্বজনকে কুকুরের মতো গুলি করে মেরেছিল হাইতির সামরিক জান্তা। হাইতি তাঁর কাছে শৈশবের এক দুঃস্বপ্নমাত্র। তবু এই ভূমিকম্প তাঁকে ব্যাকুল করে তুলেছে। তিনি হয়তো কোনো দিনই ফিরবেন না সে শহরে। তবু সে শহরটার বেঁচে থাকা তাঁর অনাবাসী সত্তাকে কোথাও নোঙর করতে দেয় নিশ্চয়ই! ভূমিকম্পের পর পোর্ট অ প্রিন্সের কোনো হোটেলে আটকে থেকে টুইটার ব্লগম্যাসেজ লিখছিলেন একজন শিল্পী। তিনি লিখেছেন, যতক্ষণ তাঁর ল্যাপটপে ব্যাটারি সাপোর্ট ছিল, কীভাবে একের পর এক ‘আফটার শক’ হলো, মানুষ আটকে পড়ল ধ্বংসস্তূপে, আর মরতে থাকল রাস্তায়, ঘরে, বাইরে, চার্চে কি হোটেলে—সর্বত্রই লাশ, লাশ, লাশ, লাশ আর লাশ! একসময় চার্চের এক ফাদার তাঁর হোটেলে এলে তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ঈশ্বরের আরাধনার জায়গা হয়েও চার্চগুলো কেন ধসে গেল? ফাদার কী জবাব দিয়েছিলেন, সেটা লেখেননি তিনি। শুধু লিখেছেন, ঈশ্বরের লীলা বোঝা ভার!
দুটো উপন্যাসের কথা মনে পড়ছে: লর্ড লিটনের লেখা দ্য লাস্ট ডে’জ অব পম্পেই নিয়ে সিনেমাও হয়েছে। খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতকে ইতালির পম্পেই শহর আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুত্পাতে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এক নাটকীয় কাহিনি সাজিয়েছেন তিনি। সেই কাহিনি কিন্তু প্রচলিত ভালো-মন্দের ধারণা, অর্থাত্ দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন-জাতীয় আবহের ওপরই দাঁড়ানো। হতে পারে, লেখক লর্ড লিটনের উনবিংশ শতকের বাস্তবতা থেকে প্রথম শতকের পম্পেই শহরের বাস্তবতা যোজন যোজন দূরে ছিল। তুলনায় ভলতেয়ারের আলোচিত কাহিনি কাঁদিদ বেড়ে উঠেছে উনবিংশ শতকের লিসবন শহরের ভূমিকম্পকে কেন্দ্রে রেখে। সেই ভূমিকম্পে লক্ষাধিক লোক নিহত হয়। কাঁদিদ উপন্যাসে ভলতেয়ার লর্ড লিটনের মতো ঐতিহাসিক দূরত্বের মহিমা গ্রহণ করেননি। কারণ হয়তো এটা, তিনি ঘটনার সমসাময়িক ছিলেন। ভূমিকম্পের আঁচ তাঁর গায়েও লেগেছিল। উপন্যাসে তিনি বারবারই যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, সেটা হলো, এত বড় মানবিক বিপর্যয়ের কোনো ঐশ্বরিক ব্যাখ্যা নেই, কোনো নৈতিক ব্যাখ্যা নেই। বিজ্ঞান এখানে প্রায় প্রতিবন্ধী, ঈশ্বর এখানে নিয়তির হাতে বন্দী। হাইতির ভূমিকম্প সে কথাই বলে। কখনো কোনো ঔপন্যাসিক নিশ্চয়ই হাইতির ভূমিকম্প নিয়েও ঢাউস উপন্যাস ফাঁদবেন। তিনি যদি কার্যকারণ আর ব্যাখ্যাসন্ধানী হন, তাহলে এই ভূমিকম্পের অছিলায় নব্য উদারনৈতিক অর্থনীতি আর অপরিকল্পিত নগরায়ণকে একহাত নেবেন। আবার তিনি যদি ভলতেয়ারের মতো ভাবেন, হয়তো দেখবেন যে এত বড় বিপর্যয়ের সামনে মানব সভ্যতা, এর ভাবনাপদ্ধতি, এর রাজনীতি, এর অগ্রগতির ধ্যানধারণা কত ঠুনকো, কতখানি অসহায়!
তবু নানারকম গল্প তো তৈরি হতেই থাকে। এই যেমন, ভূমিকম্পের পাঁচ দিন পর বেঁচে যাওয়া পিতা এভয়েল কর্মেইলে তাঁর পোর্ট অ প্রিন্সের বাড়ির ধ্বংসাবশেষ বেপরোয়াভাবে খোঁড়ার চেষ্টা করছেন। কারণ, সেখান থেকে তাঁর স্ত্রীর স্যুটকেসটি বের করতে হবে, যেখানে আছে তাঁদের পরিবারের সবার পাসপোর্ট আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা! এভয়েল যখন তাঁর বাড়ি খোঁড়ার চেষ্টায় রত, অদূরেই তখন ছিনতাইকারীরা জুতা, টিস্যু পেপার, এমনকি ক্যাসেট প্লেয়ার পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে, যেখানে যা পাচ্ছে। তবু এভয়েল বেপরোয়া, কারণ, তিনি বুঝেছেন, একমাত্র মার্কিন ভিসাই তাঁর পরিবারকে এই মৃত্যুপুরী থেকে রক্ষা করতে পারে। এই ধ্বংস হয়ে যাওয়া শহরটার আর কোনো ভবিষ্যত্ নেই। বুলডোজারহীন শহরে তিনি নিজের ধসে যাওয়া বাড়িটা খালি হাতেই খুঁড়ে চলেছেন, যা কিছুই মিলছে, সুযোগসন্ধানীরা সেসব নিয়ে পালাচ্ছে। এই যেমন শ্যাম্পুর একটা বোতল নিয়ে দৌড়াল এক যুবা দম্পতি। সেসবে থোড়াই ভ্রুক্ষেপ করছেন এভয়েল, কারণ, তাঁকে হাতছানি দিচ্ছে ফ্লোরিডার সমুদ্রসৈকত!
হাইতির পোর্ট অ প্রিন্সের কথা এটুকুই লিখলাম, আরেকটি শহরের এ ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কায় কাঁপতে কাঁপতে। যে শহরটি পৃথিবীর দ্রুত বর্ধিষ্ণু শহরগুলোর চূড়ার দিকে অবস্থান করছে, অপরিকল্পিত নগরায়ণকে যে তার শিরোভূষণ বানিয়ে নিয়েছে কয়েক দশক ধরে, যেখানে নদী ভরাট করে মধ্যবিত্তের আবাসন আর খালপাড়ে নিম্নবর্গের বস্তিবিকাশ ঘটছে বিরামহীনভাবে, আবার প্রাকৃতিকভাবেও যে শহর বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে বলে সবাই জানেন—প্রায় দেড় কোটি মানুষের এই ঢাকা শহরে এ ধরনের একটি বিপর্যয়ের চেহারা কেমন হতে পারে? আমাদের নগরনির্মাতারা কি তাঁদের কল্পনাকে এতদূর পর্যন্ত এখনো বিন্যস্ত করতে পারছেন না?
সুমন রহমান: কবি ও গল্পকার।
sumanrahman@hotmail.com

সুখ চাহি নাই, জয় জয় চেয়েছিনু -এবিএম মূসা

শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফর নিয়ে কেন কিছুই লিখিনি, অনেকে এই প্রশ্ন করেছেন। বস্তুত কিছু না লিখলেও তাঁর দিল্লি যাওয়ার আগে আমি একটি টেলিভিশন টক-শোতে বলেছি, ‘শেখ হাসিনা দেনা-পাওনার হিসাব মেলাতে নয়, পুরোনো সম্পর্ক ঝালাই করতে যাচ্ছেন।’ এ নিয়ে উচ্ছ্বসিত বা হতাশা ব্যক্ত করার কারণ খুঁজে পাইনি। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এক জমানায় সম্পর্কের টানাপোড়েন চলে, আবার রাষ্ট্রীয় বা সরকারব্যবস্থার পরিবর্তনের পর নতুন করে সম্প্রীতি গড়ে ওঠে। সর্বোপরি দুটি রাষ্ট্র পররাষ্ট্রনীতিতে নিজ দেশের স্বার্থ ও জনগণের মঙ্গলামঙ্গলকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। তখন দেনা-পাওনা, কী দিলাম আর পেলাম তার হিসাব মুখ্য হয়ে দেখা দেয়। তাই আমি বলেছি, শেখ হাসিনা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উষ্ণ করার জন্য দিল্লি গিয়েছিলেন, কিছু দিতে বা নিতে নয়। বাংলাদেশের অনেক কিছু পাওয়ার আছে ভারতের কাছে। আবার ভারতও বাংলাদেশের কাছে বিনিময়ে কিছু চাইতে পারে। সে সবের একটি প্রাথমিক সুরাহা অথবা পথটি প্রশস্ত হয়েছে এই সফরে।
প্রধানমন্ত্রী সফর শেষে ঢাকায় এসে যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সেখানে সাংবাদিক-সম্পাদকদের হাতে দুটি লিখিত বক্তব্যপত্র ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নিজেই একটি পড়ে বললেন, ‘জয়ী আমি আজ।’ তাঁর পঠিত দিল্লি সফর-সম্পর্কীয় পরিপত্রটি শুনে ও পড়ে পুরোপুরি বুঝতে পারলাম না আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরে জয়-পরাজয়ের বিষয়টি এল কেন! তিনি যেসব চুক্তি আর সমঝোতার কথা বলেছেন তার পূর্ণ বিবরণ জানা নেই। তবে যা জেনেছি তাতে বুঝলাম সেসবের বাস্তবায়ন সুদূরপ্রসারী, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব মেলাতে অনেক দিন অপেক্ষা করতে হবে। তাই দূর ভবিষ্যতে যখন চুক্তির বিস্তারিত প্রভাবটি বুঝতে পারব, সমঝোতাগুলোর বাস্তব প্রয়োগ দৃশ্যমান হবে, তখনই শেখ হাসিনার ভাষণের শুরুর বাক্যটি ‘জয়! জয় চেয়েছিনু, জয়ী হয়েছি আজ’ উদ্ধৃতিটির মর্মার্থ পরস্ফুিট হবে। আবার পরদিন বিরোধীদলীয় নেত্রী সংবাদ সম্মেলন করে যে বললেন, ‘শেখ হাসিনা দেশ বেচে এসেছেন, সবই ভারতকে দিয়ে এসেছেন’, এই বক্তব্যও দুর্বোধ্য মনে হয়েছে। কারণ তিনি বিক্রীত পসরার বিবরণ দিতে পারেননি। বরং বলেছেন, কী প্রক্রিয়ায় কী বেচা হয়েছে তা জানেন না। মোট কথা, শেখ হাসিনার পাওয়ার উত্ফুল্ল আর বেগম জিয়ার হারানোর মনোবেদনা—কোনোটিই দেশের সাধারণ মানুষের মনে আপাতত রেখাপাত করেছে এমনটি মনে হচ্ছে না।
মূল প্রশ্ন হচ্ছে, তাঁর ভারত সফরের উদ্দেশ্য যদি ছিল অর্জন তবে তা যতটুকু হয়েছে অথবা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তা যদি ‘জয়’ বলেন, এই বিজয় অর্জনে বাংলাদেশের মানুষ সুখী হবে তো? সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই তিনি রবিঠাকুরের ‘গান্ধারীর আবেদন’ কবিতার সূচনার একটি পঙিক্ত উদ্ধৃত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই কবিতাংশ উদ্ধৃতিটি আমার কাছে বেখাপ্পা মনে হয়েছে। মঙ্গলবারের প্রথম আলোয় সৈয়দ আবুল মকসুদ পঙিক্তগুলো উদ্ধৃতির সূচনায় লিখেছেন, ‘যাঁরা রবীন্দ্রনাথ থেকে উদ্ধৃতি দিতে তাঁকে উত্সাহিত করেছেন, তাঁরা সঠিক কাজটি করেননি।’ আমি তাঁর সঙ্গে একমত, পঙিক্ত বাছাই সঠিক হয়নি। প্রথমত, বক্তব্যটি মহাভারতের এক নম্বর ভিলেন একজন খলনায়ক দুর্যোধনের—তাঁর জয়ের বড়াইয়ের দৃষ্টান্ত অবশ্যই অনুকরণীয় নয়। দ্বিতীয়ত, সৈয়দ মকসুদ পঙিক্তটি গুরুত্বপূর্ণ প্রারম্ভ বাক্যটি বাদ দিয়ে উদ্ধৃত করেছেন। বাক্যটি হচ্ছে, ‘সুখ চাহি নাই মহারাজ—জয়!—জয় চেয়েছিনু।’ এই প্রেক্ষাপটে দুর্জনেরা যদি বলে, প্রধানমন্ত্রী ‘জয়’ করতে গিয়েছিলেন তাই ব্যক্তিগতভাবে ‘জয়ী’ হওয়ার কথা বলেছেন। বাংলাদেশের অন্য অর্জিত ‘সুখের’ বিস্তারিত বিবরণ দেননি। তাই বাংলাদেশের মানুষ ব্যক্তিগত ‘জয়’ আর সামগ্রিক ‘সুখ’কে দুটি ভিন্ন আঙ্গিকে বিচার করবে। ‘জয়’ বলতে বোঝাবে তিনি ভারতের রাষ্ট্রীয় নেতাদের মন জয় করে এসেছেন। তাঁরা সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও প্রীতি উজাড় করে দিয়েছেন এবং পেয়েছেনও। এই পাওয়া কতখানি তা এখনি বোঝা যাচ্ছে না। পরিপূর্ণ প্রাপ্তির জন্য মনে হয় অপেক্ষা করতে হবে। কারণ, কী পরিমাণ ‘সুখ’ আর কতটুক ‘জয়’ তা পরিমাপ করা যাচ্ছে না। ‘সুখ’ বলতে বুঝি তিস্তার পানির নিশ্চয়তা, টিপাইমুখে বাঁধ তৈরির পরিকল্পনা বাতিল, বাংলাদেশের নদীগুলোর নাব্যতা বৃদ্ধি, এতদসম্পর্কীয় ভারতীয় সদিচ্ছার প্রকাশ্য নিশ্চয়তা রাখঢাক অপরদিকে বন্দর ব্যবহার করায় অথবা বাংলাদেশের ওপর দিয়ে পণ্য পরিবহনে বাণিজ্যে উভয় পক্ষের সুবিধা, সামান্য পরিমাণ বিদ্যুত্ সরবরাহের নিশ্চয়তা তাহলে সে সবই বাংলাদেশের ‘পাওয়া’র খাতায় পরোক্ষ অর্জন বলেও মনে করা যেতে পারে। কারণ ভারতকে এই দেশে হাজারো কোটি টাকা বিনিয়োগ করেই বন্দর ও যোগাযোগব্যবস্থার অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে। ভারতের এই বিনিয়োগ কয়েক শ হাজার কোটি টাকা ঋণের চেয়েও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখবে।
শুধু উচ্ছ্বাস দিয়ে জনগণের মনে নির্দিষ্ট কোনো ধারণা সৃষ্টি করা যায় না। প্রধানমন্ত্রীকে এই কারণে বিস্তৃতভাবে ‘জয়’ ব্যাখ্যা করতে হবে। বিরোধী দলের নেত্রীও ‘সব দিয়ে এসেছে’ এমন ঢালাও মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর ‘জয়’ নস্যাত্ করে দিতে পারবেন না। ‘দেশ বেচা’ এখন বস্তাপচা বুলি হয়ে গেছে। আসল সত্যি হচ্ছে, দেশের মানুষকে সব বোঝাতে হলে, চুক্তি আর সমঝোতা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলকে যথাস্থানে মুখোমুখি হয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও বাহাস করতে হবে। পৃথিবীর সব দেশের সরকারই আন্তরাষ্ট্রীয় সব চুক্তি, সমঝোতা, সমস্যা বা সংকট জনপ্রতিনিধিদের কাছেই প্রথমে পেশ করে থাকে। তাই ভাবছিলাম প্রধানমন্ত্রী যদি তাঁর ভারত সফরের ‘জয়’ কিংবা ‘সুখ’ অর্জন বিস্তারিতভাবে সংসদে পেশ করেন তবে কৌশলগতভাবে বিরোধী দলকে সংসদের আলোচনায় অংশ নিতে বাধ্য করে বিপাকে ফেলতে পারবেন। বিরোধী দলও পারবেন সব ‘গেল-গেল’ চিত্কার না করে সরকারের গোপন ঝুড়ি থেকে শেখ হাসিনার ‘জয়’ কতখানি সেই অজানা তথ্য বের করে আনতে। তাই অনুরোধ, বিরোধী দলকে, ফাঁকা বুলি দিয়ে শুধু বিরোধিতার রাজনীতি না করে প্রধানমন্ত্রী ‘সুখ’ না কি ‘জয়’ এনেছেন তা সংসদে এসে ব্যাখ্যা করুন।
এবিএম মূসা: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

নাসফিয়ার আত্মহত্যা

বখাটে যুবকের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে আরেকজন স্কুলছাত্রীকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হলো। নারীর অবমাননা, তাদের উত্ত্যক্ত করা ও যৌন হয়রানি গুরুতর অপরাধ। কিন্তু এ সমাজে নারী প্রায় ক্ষেত্রেই বিচার-বঞ্চনার শিকার। তাই হয়তো অপমানিত স্কুলছাত্রী নাসফিয়া আত্মহত্যার পথ বেছে নিল। রাজধানী ঢাকার শ্যামলী এলাকার এক যুবক প্রায়ই তাকে উত্ত্যক্ত করত বলে অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার সে তাকে মারধর করলে নাসফিয়া মৃত্যুর পথ অবলম্বন করে। এ জন্য দায়ী সেই অভিযুক্ত যুবক। তাকে এই মুহূর্তে গ্রেপ্তার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোই এখন পুলিশের প্রধান দায়িত্ব।
নারীর ক্ষমতায়নের কথা সব সময় বলা হয়। কিন্তু কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে পথেঘাটে, এমনকি নিজ গৃহে নারী যৌন হয়রানির শিকার। কোনো সভ্য দেশে এ রকম চলতে পারে না। নারীর অবমাননার বিচার ও সমুচিত শাস্তি নিশ্চিত করা হয় না বলেই এই অসহনীয় অবস্থা। আমাদের দেশে নারীদের উত্ত্যক্ত করা এবং যৌন হয়রানির অধিকাংশ ঘটনাই ধামাচাপা দেওয়া হয়। তথাকথিত সমাজপতিদের দৌরাত্ম্যে নির্যাতিত নারীকে সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করতে হয়। নয়তো আত্মহত্যার পথে যেতে হয়।
অথচ নারীর যৌন হয়রানি রোধে আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ২০০৯ সালের ১৪ মে হাইকোর্ট এ বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রদান করেন। সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে পালনীয় কিছু দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়। এর অন্যতম হলো যৌন হয়রানির শিকার কোনো নারীর তাঁর পরিচয় গোপন রেখেই অভিযোগ পেশ ও প্রতিকার দাবির সুব্যবস্থা করা। এ জন্য সব কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্তৃপক্ষ কমপক্ষে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করবে, যার অধিকাংশ সদস্য হবেন নারী এবং সম্ভব হলে কমিটির প্রধান হবেন নারী। এখন প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তব্য হলো, কমিটিগুলো গঠন এবং সেখানে সব অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সংবিধান অনুযায়ী, এ বিষয়ে আইন প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত আদালতের নির্দেশনাই আইন হিসেবে গণ্য হবে। তাই এই নির্দেশনার ব্যাপক প্রচার ও সর্বস্তরের নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা দরকার। নির্দেশনায় যৌন হয়রানির বিশদ সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নারীর উদ্দেশে অশ্লীল মন্তব্য, অঙ্গভঙ্গি, মুঠোফোনে উত্ত্যক্ত করা থেকে শুরু করে শারীরিক ও মানসিক হয়রানি—সবই শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই নির্দেশনাগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলে এ ধরনের অপরাধ কমে আসার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বিশ্ব পরিসরে ক্রমেই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে এখন কর্মজীবীদের অর্ধেক নারী। গবেষণাভিত্তিক এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সেখানে নারী কর্মজীবীদের সংখ্যা মোট কর্মজীবীদের অর্ধেকের বেশি হয়ে যাবে। আমাদের দেশেও এই ধারাই অনুসৃত হবে, তার লক্ষণ এখনই দৃশ্যমান। সংখ্যাগুরু অংশের অবমাননার ওপর কোনো ন্যায়ভিত্তিক সমাজ টিকে থাকতে পারে না। নারী-পুরুষের সমানাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সমাজের এই অসংগতির অবসান সম্ভব।

পৃথক তেলেঙ্গানা রাজ্যের দাবিতে ডাকা বনেধ অচল ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ

পৃথক তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনে বিলম্ব হওয়ার প্রতিবাদে ডাকা বনেধ অচল হয়ে পড়েছে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যের রাজধানী হায়দরাবাদ ও তেলেঙ্গানা অঞ্চলের আরও নয়টি জেলা। জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি (জেএসি) নামে ছাত্রদের একটি সংগঠন গতকাল বুধবার থেকে ৪৮ ঘণ্টার এ বন্ধ্ ডেকেছে।
তেলেঙ্গানা রাজ্যে গঠনের দাবি মানতে দেরি হওয়ায় গত সোমবারের পর থেকে আন্দোলনে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। আন্দোলনের কেন্দ্রস্থল হায়দরাবাদের ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও গতকাল সহিংসতা হয়েছে। পুলিশের লাঠিপেটায় সেখানে ৪৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
গতকাল বনেধর প্রথম দিনে মেদাক, নিজামাবাদ, নালগোণ্ডা ও করিমনগরসহ নয়টি জেলায় স্কুল-কলেজ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ ছিল। বিক্ষোভকারীদের হামলার ভয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনও তাদের বাস সার্ভিস বন্ধ রাখে। কিছু বেসরকারি যানবাহন ও ট্যাক্সি চলাচল করলেও যাত্রীদের গুনতে হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া। ফলে চাকরিজীবী মানুষ কর্মস্থলে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। হায়দরাবাদের অনেক এলাকায় আগের দিন রাত থেকে বন্ধ ছিল বেশির ভাগ পেট্রলপাম্প।
পৃথক তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনে কেন্দ্রীয় সরকারের বিলম্বের প্রতিবাদে ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গত সোমবার গায়ে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যা করেন ভেনুগোপাল রেড্ডি নামের এক ছাত্র। পরদিন মঙ্গলবার মাহবুবনগরে একইভাবে আত্মহত্যা করেন সুবর্ণামা নামে এক ছাত্রী।
দুই শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার পর বুধবার থেকে দুই দিনের হরতাল ডাকে জেএসি। রাজ্যের সব রাজনৈতিক দল এ কর্মসূচিতে সমর্থন দিয়েছে।
ভেনুগোপাল রেড্ডির মৃতদেহ নিয়ে ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার রাতভার তাঁরা মৃতদেহ নিয়ে বসে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে। তাঁরা জানান, তেলেঙ্গানা রাজ্যের দাবিতে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ওই অঞ্চলের সব সাংসদ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাঁরা লাশ নিয়ে যেতে দেবেন না। বুধবার সকালে পুলিশ মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।
তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি এবং প্রজা রাজ্যম পার্টির ছয় সাংসদ তাঁদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার জন্য গত মঙ্গলবার রাতে রাজ্য বিধানসভার স্পিকার কিরণকুমার রেড্ডির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তবে স্পিকার সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য দুই-তিন দিন সময় চেয়েছেন

ইরাকের কারাবন্দী তারিক আজিজকে মুক্তি দিতে ওবামার কাছে আবেদন

মানবিক দিক বিবেচনা করে অসুস্থ কারাবন্দী ইরাকের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী তারিক আজিজকে মুক্তি দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাছে আবেদন করা হয়েছে। তারিক আজিজের আইনজীবী বদি আরেফ গতকাল বুধবার এ আবেদন করেন। খবর এএফপির।
গত শুক্রবার রাতে ইরাকের কারাগারে বন্দী অবস্থায় ৭৩ বছর বয়সী তারিক আজিজের ব্রেনস্ট্রোক হয়। পরে তাঁকে বাগদাদের উত্তরে বালাদে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জর্ডানের আম্মানের আইনজীবী বদি আরেফ গতকাল বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘মানবিক দিক বিবেচনা করে আমার মক্কেল তারিক আজিজকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য বারাক ওবামার কাছে আবেদন জানিয়েছি। মুক্তি পেলে তারিক আজিজকে আমরা ইরাক থেকে নিয়ে আসব এবং তাঁকে রক্ষা করতে পারব।’
আইনজীবী আরও বলেন ‘আমি বুধবার ইরাকে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে, তারিক আজিজের অবস্থা স্থিতিশীল কিন্তু বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অপরাধে তারিক আজিজের সাজা চলছে।

দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে মারা যেতে পারেন কিম জং ইল

উত্তর কোরিয়ার অসুস্থ নেতা কিম জং ইল দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে মারা যেতে পারেন। তাঁর মৃত্যুর পর কমিউনিস্ট দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থান, গণ-অসন্তোষ ও গণহত্যার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি গবেষণা সংস্থার প্রতিবেদনে এমন ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে।
দ্য কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের (কেআইএনইউ) প্রতিবেদনে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়, এ ধরনের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার কারণে কোরীয় উপদ্বীপে সংক্ষিপ্ত যুদ্ধ বাধিয়ে দিতে পারে উত্তর কোরিয়া।
চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত ‘স্টাডি অন ইউনিফিকেশন’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, কিম জং ইল হয়তো ২০১২ সাল পর্যন্ত বেঁচে থাকবেন না।
২০১২ সালের মধ্যে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তরিত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে উত্তর কোরিয়া। ২০১২ সালে উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সুংয়ের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন করবে দেশটি।
আগামী মাসে ৬৮ বছর বয়সে পা দিতে যাচ্ছেন কিম জং ইল। ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে, ২০০৮ সালের আগস্টে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। কিম জং ইল ডায়াবেটিস ও হূদরোগেও ভুগছেন বলে শোনা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কিম জং ইল-পরবর্তী সময়ে খুব সম্ভবত ক্ষমতার পালাবদল দেখা যেতে পারে। কিমের মৃত্যুর পর সামরিক অভ্যুত্থান, গণ-অসন্তোষ ও গণহত্যার মতো ঘটনা ঘটতে পারে এবং বিপুলসংখ্যক শরণার্থী দেশত্যাগ করতে পারে।
প্রতিবেদনে কিম-পরবর্তী তিনটি সম্ভাব্য দৃশ্যকল্প বর্ণনা করা হয়েছে। প্রথমত, কিমের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে জুং উন ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারেন। যৌথ সামরিক নেতৃত্ব আসতে পারে কিংবা সেনাবাহিনী থেকে একক নেতৃত্বের উত্থান হতে পারে।
কিম-পরবর্তী নেতৃত্বে শূন্যতার কারণে দুর্নীতি গুরুতর আকার ধারণ করবে। আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়তে পারে, যা সেনাবাহিনীকে ক্ষমতা দখলের অজুহাত তৈরি করে দেবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বন্দুকধারীর গুলিতে ৮ জন নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে গত মঙ্গলবার এক বন্দুকধারীর গুলিতে আটজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ঘাতককে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানোর সময় পুলিশের একটি হেলিকপ্টারকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। তবে এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। খবর এএফপির।
পুলিশ বলেছে, গতকাল বুধবার সকালে ভার্জিনিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে এপোমেটক্স শহরের পার্শ্ববর্তী একটি এলাকায় এক ব্যক্তিকে ঘেরাও করা হয়। ক্রিস্টোফার স্পাইট নামের ৩৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে পুলিশের ধারণা।
কর্মকর্তারা বলেন, সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের হেলিকপ্টারের সহায়তা চাওয়া হয়। এরপর একটি হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলে এলে ওই ব্যক্তি হেলিকপ্টারকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে হেলিকপ্টারের জ্বালানি ট্যাংক ফুটো হয়ে যায়। পরে হেলিকপ্টারটি তড়িঘড়ি করে অবতরণ করতে বাধ্য হয়। তবে এতে পুলিশের কোনো সদস্য আহত হননি।
ভার্জিনিয়ার পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ঘাতককে গ্রেপ্তারের জন্য শতাধিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।’
ভার্জিনিয়ার পুলিশের মুখপাত্র টমাস মোলনার বলেন, হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনা মঙ্গলবার দুপুরে প্রকাশ পায়। বন্দুকধারীর গুলিতে আহত এক ব্যক্তি পুলিশ স্টেশনে ফোন করলে বিষয়টি সবার নজরে আসে। আহত ওই ব্যক্তি রাস্তার পাশে বসে কাতরাচ্ছিলেন। তাঁকে উদ্ধারে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলে এ সময় তাঁরা বেশ কয়েকটি গুলির শব্দ শুনতে পান। টমাস মোলনার বলেন, আহত ব্যক্তিকে উদ্ধারের পর হেলিকপ্টারে করে যখন পার্শ্ববর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা একটি বাড়ির বাইরে চারটি মরদেহ দেখতে পান। পরে তাঁরা বাড়ির ভেতরে আরও তিনটি মরদেহ দেখতে পান। আহত ওই ব্যক্তি পরে হাসপাতালে মারা যান।
পুলিশ ধারণা করছে, এক ব্যক্তিই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারীও রয়েছে।
পুলিশ সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। কী কারণে তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, সে সম্পর্কেও কিছু বলা হয়নি।

ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে প্রতিমন্ত্রীদের নালিশ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের কাছে পূর্ণ মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে নালিশ করেছেন প্রতিমন্ত্রীরা। তাঁরা বলেছেন, তাঁদের কোনো কাজ নেই। পূর্ণ মন্ত্রীরা তাঁদের কোনো কাজ দিচ্ছেন না।
মনমোহন সিং মঙ্গলবার তাঁর বাসভবনে মন্ত্রিসভার ৩৮ জন প্রতিমন্ত্রীকে ডেকে ছিলেন এক বৈঠকে। উদ্দেশ্য, প্রতিমন্ত্রীদের মুখে তাঁদের কাজের মূল্যায়ন, অগ্রগতির বা কাজ নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা নিজের কানে শোনা। এ বৈঠকেই ১২ জন প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কাছে পূর্ণ মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি তোলেন, তিনি যেন প্রতিটি মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীদের কাজ ভাগ করে দেন। যদিও অভিযোগের পাল্লা ভারী ছিল রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। রেল দপ্তরের দুজন প্রতিমন্ত্রী হলেন কংগ্রেসের কে এইচ মুনিয়াপ্পা এবং মুসলিম লীগের ই আহমেদ। তাঁদের কথা, মমতা দিল্লিতে কম সময়ই দিয়ে থাকেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁর মন্ত্রকের প্রচুর ফাইল জমে থাকে। অথচ তাঁদের সেই ফাইল দেখার ক্ষমতা নেই। এর আগে মমতার বিরুদ্ধে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছিল।
মমতার দলের নগর উন্নয়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী সৌগত রায় বলেন, এখন প্রতিমন্ত্রীদের কোনো কাজ নেই, তা সবাই জানেন। তবে অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মন্ত্রকের দুই প্রতিমন্ত্রী এস এস পালামানিক্কম ও নমোনারায়ণ মিনা কিন্তু প্রশংসাই করলেন অর্থমন্ত্রীর। বাণিজ্য ও শিল্প দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এবং সার ও রসায়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী শ্রীকান্ত জেনা বললেন, তাঁদের ঠিকমতো কাজে লাগানো হচ্ছে না। এসব কথা শোনার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি এ বিষয়গুলো নিয়ে পূর্ণ মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলবেন।

আফগানিস্তানে ২৫০ কোটি ডলারের ঘুষ লেনদেন

আফগানিস্তানে গত এক বছরে আড়াই শ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি ঘুষ লেনদেন হয়েছে। এই অর্থ দেশটির মোট জাতীয় উত্পাদনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার প্রকাশিত জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয়ের (ইউএনওডিসি) ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর বিভিন্ন সরকারি অফিসে কমপক্ষে একবার করে ঘুষ দিয়েছে আফগানিস্তানের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষ।
আফগানিস্তানের এক হাজার ৬০০ গ্রামের সাত হাজার ৬০০ মানুষের ওপর জরিপ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

সুখ চাহি নাই, জয়! জয় চেয়েছিনু by এবিএম মূসা

শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফর নিয়ে কেন কিছুই লিখিনি, অনেকে এই প্রশ্ন করেছেন। বস্তুত কিছু না লিখলেও তাঁর দিল্লি যাওয়ার আগে আমি একটি টেলিভিশন টক-শোতে বলেছি, ‘শেখ হাসিনা দেনা-পাওনার হিসাব মেলাতে নয়, পুরোনো সম্পর্ক ঝালাই করতে যাচ্ছেন।’ এ নিয়ে উচ্ছ্বসিত বা হতাশা ব্যক্ত করার কারণ খুঁজে পাইনি। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এক জমানায় সম্পর্কের টানাপোড়েন চলে, আবার রাষ্ট্রীয় বা সরকারব্যবস্থার পরিবর্তনের পর নতুন করে সম্প্রীতি গড়ে ওঠে। সর্বোপরি দুটি রাষ্ট্র পররাষ্ট্রনীতিতে নিজ দেশের স্বার্থ ও জনগণের মঙ্গলামঙ্গলকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। তখন দেনা-পাওনা, কী দিলাম আর পেলাম তার হিসাব মুখ্য হয়ে দেখা দেয়। তাই আমি বলেছি, শেখ হাসিনা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উষ্ণ করার জন্য দিল্লি গিয়েছিলেন, কিছু দিতে বা নিতে নয়। বাংলাদেশের অনেক কিছু পাওয়ার আছে ভারতের কাছে। আবার ভারতও বাংলাদেশের কাছে বিনিময়ে কিছু চাইতে পারে। সে সবের একটি প্রাথমিক সুরাহা অথবা পথটি প্রশস্ত হয়েছে এই সফরে।
প্রধানমন্ত্রী সফর শেষে ঢাকায় এসে যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সেখানে সাংবাদিক-সম্পাদকদের হাতে দুটি লিখিত বক্তব্যপত্র ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নিজেই একটি পড়ে বললেন, ‘জয়ী আমি আজ।’ তাঁর পঠিত দিল্লি সফর-সম্পর্কীয় পরিপত্রটি শুনে ও পড়ে পুরোপুরি বুঝতে পারলাম না আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরে জয়-পরাজয়ের বিষয়টি এল কেন! তিনি যেসব চুক্তি আর সমঝোতার কথা বলেছেন তার পূর্ণ বিবরণ জানা নেই। তবে যা জেনেছি তাতে বুঝলাম সেসবের বাস্তবায়ন সুদূরপ্রসারী, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব মেলাতে অনেক দিন অপেক্ষা করতে হবে। তাই দূর ভবিষ্যতে যখন চুক্তির বিস্তারিত প্রভাবটি বুঝতে পারব, সমঝোতাগুলোর বাস্তব প্রয়োগ দৃশ্যমান হবে, তখনই শেখ হাসিনার ভাষণের শুরুর বাক্যটি ‘জয়! জয় চেয়েছিনু, জয়ী হয়েছি আজ’ উদ্ধৃতিটির মর্মার্থ পরস্ফুিট হবে। আবার পরদিন বিরোধীদলীয় নেত্রী সংবাদ সম্মেলন করে যে বললেন, ‘শেখ হাসিনা দেশ বেচে এসেছেন, সবই ভারতকে দিয়ে এসেছেন’, এই বক্তব্যও দুর্বোধ্য মনে হয়েছে। কারণ তিনি বিক্রীত পসরার বিবরণ দিতে পারেননি। বরং বলেছেন, কী প্রক্রিয়ায় কী বেচা হয়েছে তা জানেন না। মোট কথা, শেখ হাসিনার পাওয়ার উত্ফুল্ল আর বেগম জিয়ার হারানোর মনোবেদনা—কোনোটিই দেশের সাধারণ মানুষের মনে আপাতত রেখাপাত করেছে এমনটি মনে হচ্ছে না।
মূল প্রশ্ন হচ্ছে, তাঁর ভারত সফরের উদ্দেশ্য যদি ছিল অর্জন তবে তা যতটুকু হয়েছে অথবা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তা যদি ‘জয়’ বলেন, এই বিজয় অর্জনে বাংলাদেশের মানুষ সুখী হবে তো? সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই তিনি রবিঠাকুরের ‘গান্ধারীর আবেদন’ কবিতার সূচনার একটি পঙিক্ত উদ্ধৃত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই কবিতাংশ উদ্ধৃতিটি আমার কাছে বেখাপ্পা মনে হয়েছে। মঙ্গলবারের প্রথম আলোয় সৈয়দ আবুল মকসুদ পঙিক্তগুলো উদ্ধৃতির সূচনায় লিখেছেন, ‘যাঁরা রবীন্দ্রনাথ থেকে উদ্ধৃতি দিতে তাঁকে উত্সাহিত করেছেন, তাঁরা সঠিক কাজটি করেননি।’ আমি তাঁর সঙ্গে একমত, পঙিক্ত বাছাই সঠিক হয়নি। প্রথমত, বক্তব্যটি মহাভারতের এক নম্বর ভিলেন একজন খলনায়ক দুর্যোধনের—তাঁর জয়ের বড়াইয়ের দৃষ্টান্ত অবশ্যই অনুকরণীয় নয়। দ্বিতীয়ত, সৈয়দ মকসুদ পঙিক্তটি গুরুত্বপূর্ণ প্রারম্ভ বাক্যটি বাদ দিয়ে উদ্ধৃত করেছেন। বাক্যটি হচ্ছে, ‘সুখ চাহি নাই মহারাজ—জয়!—জয় চেয়েছিনু।’ এই প্রেক্ষাপটে দুর্জনেরা যদি বলে, প্রধানমন্ত্রী ‘জয়’ করতে গিয়েছিলেন তাই ব্যক্তিগতভাবে ‘জয়ী’ হওয়ার কথা বলেছেন। বাংলাদেশের অন্য অর্জিত ‘সুখের’ বিস্তারিত বিবরণ দেননি। তাই বাংলাদেশের মানুষ ব্যক্তিগত ‘জয়’ আর সামগ্রিক ‘সুখ’কে দুটি ভিন্ন আঙ্গিকে বিচার করবে। ‘জয়’ বলতে বোঝাবে তিনি ভারতের রাষ্ট্রীয় নেতাদের মন জয় করে এসেছেন। তাঁরা সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও প্রীতি উজাড় করে দিয়েছেন এবং পেয়েছেনও। এই পাওয়া কতখানি তা এখনি বোঝা যাচ্ছে না। পরিপূর্ণ প্রাপ্তির জন্য মনে হয় অপেক্ষা করতে হবে। কারণ, কী পরিমাণ ‘সুখ’ আর কতটুক ‘জয়’ তা পরিমাপ করা যাচ্ছে না। ‘সুখ’ বলতে বুঝি তিস্তার পানির নিশ্চয়তা, টিপাইমুখে বাঁধ তৈরির পরিকল্পনা বাতিল, বাংলাদেশের নদীগুলোর নাব্যতা বৃদ্ধি, এতদসম্পর্কীয় ভারতীয় সদিচ্ছার প্রকাশ্য নিশ্চয়তা রাখঢাক অপরদিকে বন্দর ব্যবহার করায় অথবা বাংলাদেশের ওপর দিয়ে পণ্য পরিবহনে বাণিজ্যে উভয় পক্ষের সুবিধা, সামান্য পরিমাণ বিদ্যুত্ সরবরাহের নিশ্চয়তা তাহলে সে সবই বাংলাদেশের ‘পাওয়া’র খাতায় পরোক্ষ অর্জন বলেও মনে করা যেতে পারে। কারণ ভারতকে এই দেশে হাজারো কোটি টাকা বিনিয়োগ করেই বন্দর ও যোগাযোগব্যবস্থার অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে। ভারতের এই বিনিয়োগ কয়েক শ হাজার কোটি টাকা ঋণের চেয়েও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখবে।
শুধু উচ্ছ্বাস দিয়ে জনগণের মনে নির্দিষ্ট কোনো ধারণা সৃষ্টি করা যায় না। প্রধানমন্ত্রীকে এই কারণে বিস্তৃতভাবে ‘জয়’ ব্যাখ্যা করতে হবে। বিরোধী দলের নেত্রীও ‘সব দিয়ে এসেছে’ এমন ঢালাও মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর ‘জয়’ নস্যাত্ করে দিতে পারবেন না। ‘দেশ বেচা’ এখন বস্তাপচা বুলি হয়ে গেছে। আসল সত্যি হচ্ছে, দেশের মানুষকে সব বোঝাতে হলে, চুক্তি আর সমঝোতা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলকে যথাস্থানে মুখোমুখি হয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও বাহাস করতে হবে। পৃথিবীর সব দেশের সরকারই আন্তরাষ্ট্রীয় সব চুক্তি, সমঝোতা, সমস্যা বা সংকট জনপ্রতিনিধিদের কাছেই প্রথমে পেশ করে থাকে। তাই ভাবছিলাম প্রধানমন্ত্রী যদি তাঁর ভারত সফরের ‘জয়’ কিংবা ‘সুখ’ অর্জন বিস্তারিতভাবে সংসদে পেশ করেন তবে কৌশলগতভাবে বিরোধী দলকে সংসদের আলোচনায় অংশ নিতে বাধ্য করে বিপাকে ফেলতে পারবেন। বিরোধী দলও পারবেন সব ‘গেল-গেল’ চিত্কার না করে সরকারের গোপন ঝুড়ি থেকে শেখ হাসিনার ‘জয়’ কতখানি সেই অজানা তথ্য বের করে আনতে। তাই অনুরোধ, বিরোধী দলকে, ফাঁকা বুলি দিয়ে শুধু বিরোধিতার রাজনীতি না করে প্রধানমন্ত্রী ‘সুখ’ না কি ‘জয়’ এনেছেন তা সংসদে এসে ব্যাখ্যা করুন।
এবিএম মূসা: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর: নতুন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ -যুক্তি তর্ক গল্প by আবুল মোমেন

ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক সহজও নয়, স্বাভাবিকও নয়। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দান, অস্ত্র সরবরাহ এবং চূড়ান্ত পর্বে ভারতীয় সেনাদের সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগ ছাড়াও ভারত তখন এক কোটি শরণার্থীর বোঝা বহন করেছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও দুই দেশের সম্পর্ক কখনো সহজ স্বাভাবিক হয়নি। আমাদের স্বাধীনতার জন্য ভারতের এই বিশাল ভূমিকা ও বিপুল ত্যাগ ঠিকভাবে স্বীকৃত হয়নি।
প্রায়ই বাঁকাভাবে বলা হয়েছে, ভারত নিজের স্বার্থেই পাকিস্তানকে ভেঙেছে। এটা যে বাংলাদেশের বিবেচনা ও বিবেকের কথা হওয়া উচিত নয়, হতে পারে পাকিস্তানের পরাভূত মনের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া—সেটুকুও এই মানস বুঝতে অপারগ। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বহুমাত্রিক—ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি। সম্পর্কের এতসব সদর্থক উপাদান ছাপিয়ে ভারত রয়ে গেল একটি জ্বলন্ত রাজনৈতিক ইস্যু। এটা আদতে আমাদের পাকিস্তানি উত্তরাধিকার। পাকিস্তানে একজন নাগরিকের দেশপ্রেমের পারদের ওঠানামা নির্ভর করে তার ভারত-বিরোধিতার মাত্রার ওপর। ফলে পাকিস্তানের শত্রু হিসেবে অনেকেই চিহ্নিত ও নিন্দিত হয়েছেন তাঁদের মধ্যে ভারত-প্রেম আবিষ্কারের ভিত্তিতে। শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের মতো মানুষও এই অপবাদ থেকে রেহাই পাননি। পাকিস্তান ভারত ও হিন্দুকে সমার্থক করে দেখেছে। তাই রবীন্দ্রনাথকে ঠেকিয়ে নজরুলকে বড় করে দেখতে চায় পাকিস্তানি মানস। তাঁরা যে নিজ নিজ প্রতিভায় স্বতন্ত্র মাহাত্ম্যে পরিপূর্ণ, বড়-ছোটর বিষয়টি মুখ্য নয়, তা বিবেচনায় থাকে না।
আটত্রিশ বছর পরও দেখা যাচ্ছে পাকিস্তানকে প্রত্যাখ্যান করে স্বদেশকে দখলমুক্ত করলেও পাকিস্তানি মানস থেকে মুক্তি মেলেনি আমাদের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরের পর বিএনপির প্রতিক্রিয়ায় তারই প্রকাশ ঘটছে।
তা বলে আমরা বলি না ভারতের সঙ্গে চোখ-কান বুজে গলবস্ত্র হয়ে বন্ধুত্বের হাত বাড়াতে হবে। তেমনি আবার আজ সময় এসেছে বাস্তবতার আলোকেই কথা বলা, সব বিষয় বিচার করা।
বাস্তব জগতে কোনো দেশ যেমন স্থায়ীভাবে বন্ধুদেশ নয়, তেমনি স্থায়ীভাবে শত্রুও কোনো দেশ নয়। সম্পর্কগুলোর মূল্যায়ন, নবায়ন ও পরিমার্জন প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের সমাজে এমন অনেকে আছেন, যাঁরা ধর্মীয় অঙ্গন এবং রাজনীতির মাঠ উভয়ই গরম রাখেন, তাঁদের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রচারণার স্থায়ী প্রতিপক্ষ হলো হিন্দু ও ভারত। এমনটাই আমরা ৫০ বছর ধরে তাঁদের ওয়াজ-নসিহত, বক্তৃতা-বিবৃতিতে দেখে আসছি। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, প্রধান বিরোধী দল বিএনপি তার মূল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করতে গিয়ে আওয়ামী লীগকে ভারতপন্থী ও হিন্দুঘেঁষা দল হিসেবে চিহ্নিত করে জনমানসের ভারত-বিরোধিতার উপাদানটিকে পুঁজি করে রাজনীতি করতে চায়। এতে বিএনপির সঙ্গে ধর্মান্ধ মৌলবাদী দলের রাজনৈতিক পার্থক্য বিশেষ থাকে না। মানুষের মনের পুরোনো সন্দেহ ও অবিশ্বাসকে চাঙা করে তোলা সহজ বলে বিএনপির এই রাজনৈতিক কৌশলের কারণে আমাদের রাজনীতিতে একদিকে নেতিবাচক উপাদান—ভারত ও হিন্দুর প্রতি সন্দেহ অবিশ্বাস, আর অন্যদিকে ভয় ও আতঙ্কের উপাদান—ইসলাম গেল গেল, সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হলো—যুক্ত হওয়ায় রাজনীতি থেকে যাচ্ছে অপরিণত ও ভঙ্গুর আর হয়ে পড়ছে তামাদি ও অকার্যকর।
ভারতের সঙ্গে আস্থার ও বন্ধুত্বের সম্পর্কই আমাদের জন্য মঙ্গলজনক। অবশ্য স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে বন্ধুত্বও হয় না, কোনো সম্পর্কই গড়ে ওঠে না। কিন্তু স্বার্থটা যদি হয় দেশ ও মানুষ, বর্তমান ও ভবিষ্যত্ ছাপিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধতা তাহলে তা আদতে দলীয় স্বার্থ। ক্ষমতার ক্ষুদ্র স্বার্থে বাঁধা পড়ে মুসলিম লীগের বিনাশ দেখেছে এ দেশ। মুসলিম লীগ বস্তুত পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তার মূল রাজনৈতিক প্রতিপাদ্য ও বক্তব্য প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে এবং রাজনীতির অসারতার চোরাবালিতে ডুবেই বিলুপ্ত হয়ে গেল।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের ভারত সফরের মাধ্যমে প্রধান প্রাপ্তি হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা। এটা স্থাপন বেশ কঠিনই ছিল। কারণ পঁচাত্তরের পর থেকে পাকিস্তানের আইএসআই এখানে সক্রিয় ছিল, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর নিরাপদ আশ্রয়স্থল এবং অস্ত্রপ্রাপ্তির মাধ্যম হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ। তদুপরি আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ পাঁচ বছরের শাসনামল ছাড়া বাকি সময়টা ভারতবৈরী পাকিস্তানি স্বার্থ হাসিলের দোসরের ভূমিকা ছিল বাংলাদেশের। তাতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক সহজ হওয়ার উপায় ছিল না।
যা হোক, পারস্পরিক আস্থা হচ্ছে সমস্যা মেটানোর সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। সেটা এবারে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে অর্জিত হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা এই আস্থার সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনাগুলোকে দেখব, নাকি অনাস্থাকেই টেনে বেড়াব। বিএনপি এবং কিছু ইসলামপন্থী দল অনাস্থাকেই পুঁজি করতে চাইছে। বুঝতে খুব অসুবিধা হয় না, গত দীর্ঘ ৩০ বছরে ভারতবিরোধী ও পাকিস্তানঘেঁষা যে রাজনীতি তারা দাঁড় করিয়েছিল তার অবসান হলে নিজেরা রাজনৈতিক শূন্যতার মধ্যে পড়ে যাওয়ার ভয়ে আছে তারা। ফলে কী চুক্তি হলো, তার ভূমিকা কী হবে তা তলিয়ে না দেখেই তড়িঘড়ি প্রত্যাখ্যান করে জোরেশোরে ভারত-বিরোধিতার রাজনীতি প্রাসঙ্গিক করে তুলতে চাইছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। যেন এ সুযোগ হাতছাড়া হলে তাদের রাজনীতি দেউলিয়া হয়ে পড়বে। বোঝা যায়, এটা আত্মবিশ্বাস হারানো ভীত ও বেদিশা মানুষের রাজনীতি। এটা প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতি, যা সহজেই আক্রমণাত্মক রূপ নিতে পারে এবং ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে জড়িয়ে যায়। একুশে আগস্টের বোমা হামলা বিএনপি-জামায়াত জোটের এ রকমই ষড়যন্ত্র ও প্রতিক্রিয়ার রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ বলেই এখন মনে হচ্ছে।
মুশকিল হচ্ছে, বাস্তব ভৌগোলিক সম্পর্ক এবং সুদীর্ঘকালের ঐতিহাসিক-সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কারণে ভারতকে এড়িয়ে আমাদের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া প্রায় অসম্ভব। ভারত আমাদের এড়িয়ে চললেও তার বিশেষ ক্ষতি নেই, কিন্তু আমাদের বিকল্প পথই নেই। তা বলে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আমার স্বাতন্ত্র্য, মর্যাদা ও অধিকার অবশ্যই বজায় রাখতে ও আদায় করতে হবে। কিন্তু লক্ষ্য হবে এতকালের শত্রুতা-বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে আস্থা ও বন্ধুত্বের পর্ব শুরু করা। শেখ হাসিনার এবারের ভারত সফরকে সেদিক থেকে এক ঐতিহাসিক সফর বলা যায়। মুক্তিযুদ্ধেও যে গ্রন্থি মোচন করা যায়নি, তা যেন এবারে শেখ হাসিনার সফরে ঘুচে গেল।
সাত হাজার কোটি টাকার ঋণ বা আড়াই শ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ সম্পর্কে কিছু খুঁটিনাটি প্রশ্ন থাকলেও জোরালো প্রতিবাদ উঠবে না। সন্ত্রাস দমনসংক্রান্ত চুক্তি নিয়েও বেশি আপত্তির সুযোগ নেই। প্রতিবাদ উঠবে চট্টগ্রাম-চালনা বন্দর ব্যবহার ও সড়ক যোগাযোগের প্রসঙ্গে।
ভারত এই সুবিধা দীর্ঘদিন ধরে চাইছে। তার উত্তর-পূর্বের সাতটি রাজ্যের পণ্য পরিবহনে বিপুল সুবিধা সে এতে পাবে। আর এই সুবিধা ভারতকে দিয়ে বাংলাদেশ ভালো ব্যবসা করবে, আয় করবে। শুধু তা-ই নয়, শেখ হাসিনা এই সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে নেপাল ও ভুটানের জন্য আমাদের বন্দর ব্যবহার এবং ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহারের সুবিধাও আদায় করে নিয়েছেন। এতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য বাণিজ্যের দিগন্ত আরও বিস্তৃত হয়ে গেল।
ভারত-বৈরিতার রাজনীতিকেরা এ প্রসঙ্গে অনেক যদির অবতারণা করে থাকেন—যদি ভারত আমাদের বন্দর দিয়ে অস্ত্র নিয়ে আসে, যদি তারা ট্রানজিট-সুবিধাকে অস্ত্র চালানের কাজে ব্যবহার করে, যদি তারা বেনাপোল থেকে তামাবিল দিয়ে সামরিক সরঞ্জাম ও ব্যক্তি পরিবহন করে ইত্যাদি। প্রথমত, বন্দর আমাদের, এশিয়ান হাইওয়ের বাংলাদেশ অংশটুকুর মালিকানা আমাদের। আমাদের বন্দর ও সড়ক কী কাজে কোন পণ্য বা যাত্রীর জন্য ব্যবহূত হবে তা তো শর্তযুক্ত চুক্তির মাধ্যমেই নির্ণিত হবে। এর অন্যথা হলে আমরা চুক্তি বাতিল করব, ব্যবসা স্থগিত করব, প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ফোরামের দ্বারস্থ হব।
এটাও আমাদের বুঝতে হবে এক দেশ কর্তৃক অন্য দেশের বন্দর ব্যবহার কোনো অভিনব ব্যতিক্রমী ব্যাপার নয়। মধ্যপ্রাচ্যে, ইউরোপে, আফ্রিকায় এ রকম দৃষ্টান্ত অনেক। তা ছাড়া, আজকের পৃথিবীর প্রবণতা ও প্রয়োজনীয়তা দুটোই বুঝতে হবে।
একদিকে আছে বিশ্বায়নের চাপ, পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের মতো বৈশ্বিক সমস্যা আর অন্যদিকে দারিদ্র্য-অশিক্ষা-ক্ষুধা-বেকারত্ব-রোগ মোকাবিলার জন্য প্রয়োজন হচ্ছে আঞ্চলিক সমঝোতা সহযোগিতার। জাতি ও দেশের বেঁচে থাকার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা, আদানপ্রদান অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। যুগের এই চাহিদা শেখ হাসিনা উপলব্ধি করেছেন বলেই প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে আস্থা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন।
পার্বত্য শান্তি চুক্তির সময়ও বিএনপি ভারতবিরোধী ভাবাবেগকে পুঁজি করতে চেয়েছিল। খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ফেনী নদীর ওপাড় ভারতের অংশ হয়ে যাবে এবং পাসপোর্ট ভিসার প্রয়োজন হবে চট্টগ্রাম যেতে। এখনো তাঁদের প্রচারণায় এ মনোভাবই মুখ্য।
বিরোধিতার অস্ত্র হিসেবে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের সার্ধশত জন্মশতবার্ষিকী দুই দেশের যৌথভাবে উদযাপনের সিদ্ধান্তকেও কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি। বলছেন, নজরুল উপেক্ষিত হয়েছে। সার্ধশত অর্থাত্ জন্মের দেড় শ বছর একটি বড় উপলক্ষ যখন, কেবল ভারত-বাংলাদেশ নয়, রবীন্দ্র স্মরণে বিশ্বব্যাপী নানা অনুষ্ঠান হবে। সম্ভবত ইউনেসকোর উদ্যোগেও নানা দেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। এ উপলক্ষে তাঁর স্মৃতিধন্য দুই দেশ তাদের নিজ নিজ জাতীয় সংগীতের রচয়িতাকে নিয়ে যৌথ উদ্যোগে তাত্পর্যপূর্ণভাবে এ উপলক্ষ উদযাপন করবে তাতে ভয় পাওয়ার, নিন্দার কী থাকতে পারে বোঝা গেল না। এতে নজরুল উপেক্ষিত হচ্ছেন বলে সমালোচনার অবকাশ কোথায়, যদি না তাঁর এ রকম একটি উপলক্ষ এলে তাঁকে উপেক্ষা করা না হয়?
আমরা নিশ্চিত জানি ইরানের জাতীয় কবি ফিরদৌসির জন্মবার্ষিকী ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে পালন করলে এ প্রশ্ন উঠত না। ইংল্যান্ডের সঙ্গে শেক্সপিয়রের জন্মবার্ষিকীর ক্ষেত্রেও কোনো সমস্যা হতো বলে মনে হয় না। কিন্তু যাকে আমাদের মনন-মানস গড়ে তোলার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাঁর ক্ষেত্রেই বারবার এ রকম আপত্তি উঠতে দেখা যায়। এটা পাকিস্তানি মনোবৃত্তি, এই ভূত এখনো তাড়া করছে, এটা বেশ অদ্ভুত মনস্তত্ত্ব। তবে যুক্তিযুক্ত একটা বিষয় তাঁরা তুলেছেন, সেটি হলো সীমান্তে বিএসএফের বাড়াবাড়ি এবং বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ইস্যুটি। বিষয়টি আলোচনায় তুলতে হবে এবং অপকর্মটি বন্ধ করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানাতে চাই যে সাধারণভাবে আমরা কিন্তু আমাদের বেকার ভাগ্যান্বেষী দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিপজ্জনক পথে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা ও তার পরিণাম নিয়ে ততটা ভাবিত নই। আমাদের বহু তরুণ ইউরোপসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অবৈধ ও পলাতকের জীবন বেছে নিচ্ছে। এই বিপজ্জনক ‘সুযোগের’ জন্যও তারা বহু অর্থ ব্যয় করছে। অনেকে চরম অমানবিক পরিবেশে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছে। বরফে, মরুতে, উত্তাল সমুদ্রে কত তরুণ প্রাণ হারাচ্ছে আমরা খবর রাখি না। পত্রিকায় খবরে বেরিয়েছে শুধু মধ্যপ্রাচ্য থেকেই প্রতি মাসে আট-দশজন শ্রমিক লাশ হয়ে ফিরে আসেন। প্রায় কোনো মৃত্যুই স্বাভাবিক নয়। ইউনিসেফের এক জরিপে দেখা যায়, প্রতি মাসে বাংলাদেশ থেকে ৪০০ নারী পাচার হয়ে যায়। নিউজ নেটওয়ার্কের ২০০০ সালের জরিপে দেখা যাচ্ছে, প্রতিবছর দেশ থেকে ২৫ হাজার নারী পাচার হয়ে থাকে। একটি বেসরকারি সংস্থা শুধু পাকিস্তানের পতিতালয়ে এক লাখ ৬৫ হাজার বাংলাদেশি নারীকে শনাক্ত করেছে। এই পরিণতি তো এক একটি জীবনের অবসানের শামিল। এই নীরব হত্যাকাণ্ডকে আমরা নীরবতা ও উপেক্ষার মাধ্যমে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছি।
আজ যদি ১০০ জন বেকার তরুণকে—সে গ্রাম বা শহরের, শিক্ষিত বা অশিক্ষিত, যে রকমই হোক না কেন—বলা হয় একটু ঝুঁকি নিয়ে সীমান্ত পেরুতে পারলেই ভালো ব্যবসা, ভালো চাকরির সুযোগ আছে তাহলে, আমার ধারণা, ১০০ জনই সেই ঝুঁকি নেবে। আমরা কি নিয়মিত পড়ছি না কাগজে জীবনের কী ভয়াবহ রকম ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষিত তরুণেরাও বরফ, মরু, সমুদ্র পাড়ি দিতে যায়—এমনকি দালাল-প্রতারকদের ধারকর্জ করে বিপুল টাকা দিয়ে? আমরা কি জানি না প্রতারণাপূর্ণ বিয়ের মাধ্যমে কত দরিদ্র বাবা-মা প্রতারকদের হাতে সঁপে দিয়ে তাদের কন্যার সর্বনাশ করছেন?
অনিয়মের অপঘাত বন্ধ করতে হলে আমাদের দিক থেকেও কিছু করার আছে। দেশটাকে সবার জন্য বাসযোগ্য করতে হবে এবং সবার জীবনের বিকাশের নিশ্চয়তা দিতে হবে। সে কাজ গঠনমূলক সমালোচনার পথ ছেড়ে যেকোনো মূল্যে সরকার-বিরোধিতায় হবে না। প্রতিবেশীর সঙ্গে অযথা অনাস্থা ও বৈরিতার পরিবেশ তৈরি করে হবে না, কঠোর আন্দোলনেও আসবে না। সেটা শুধু আস্থা ও বন্ধুত্বের পরিবেশ এবং জনকল্যাণমুখী গঠনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব।
সেদিক থেকে বলব, শেখ হাসিনার ভারত সফর পরিবর্তনের পথে একটি ইতিবাচক মাইলফলক হতে পারবে। সম্ভাবনাটাকে কাজে পরিণত করতে নেতৃত্ব দিতে হবে সরকারকে, সরকার-প্রধান শেখ হাসিনাকে। বিরোধী দলকেও পুরোনো অভ্যাস ও গতানুগতিক রাজনীতির বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে আসতে হবে। বলা যায়, শেখ হাসিনা এই সফর ও চুক্তি সমঝোতার মাধ্যমে আদতে বিরোধিতার রাজনীতির পথ খুলে দেননি, বরং চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন সে পথ পরিহার করে সহযোগিতার গঠনমূলক নতুন ধারার রাজনীতির মাধ্যমে দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের। চ্যালেঞ্জ অনুধাবনে ও কৌশল নির্ধারণে ভুল হলে নিশ্চয় তার মূল্য বিএনপিকেই দিতে হবে।
আবুল মোমেন: কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক।

অতিথি পাখি শিকার -‘অপনা মাঁসে হরিণা বৈরী...’

‘অপনা মাঁসে হরিণা বৈরী/ক্ষণহ ন ছাড়অ ভুসুকু অহেরী’—প্রাচীন বাংলা কাব্য চর্যাপদের এ পঙিক্তটি অবিস্মরণীয়। হরিণের শত্রু যেমন তার নিজের মাংসের স্বাদ, শিকারি ভুসুকু তা সামনে পেয়েও কি লোভ ছাড়তে পারে? সেকালে যেমন, একালেও এই কথা সমান সত্য। উষ্ণতার সন্ধানে বাংলাদেশের হাওর-বিল-জলাশয়ে আশ্রয় নিতে আসা অতিথি পাখিদেরও কাল হয়েছে তাদের শরীরের মাংস। এর লোভেই একশ্রেণীর রসনাকাতর মানুষের ভোগের জন্য অতিথি পাখিদের শিকার করে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এটা কেবল নিষ্ঠুরতাই নয়, বর্বরতারই নামান্তর।
অথচ পাখি হলো প্রকৃতির শিশু। পাখির স্বভাবের অমলিন উচ্ছলতা শিশুদের মতোই, তা হূদয়ে স্নেহবোধের জন্ম দেয়, মনকে দেয় সুন্দরের সাহচর্য। পাখির সৌন্দর্য আমাদের মধ্যে মমতার অনুভব জাগায়। অথচ হাজার হাজার পাখির কলকাকলিতে যখন কেউ দেখে প্রকৃতির অপরূপ লীলা, তখন অন্য কেউ হয়তো একগুচ্ছ স্বাদু মাংসের ওড়াউড়ি দেখে লোভী হয়ে ওঠে। গত বুধবারের প্রথম আলোয় পাশাপাশি প্রকাশিত দুটি ছবি পাখিদের প্রতি মানুষের নির্মমতা ও ভালোবাসার দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বিষটোপের শিকার হয়ে মরে পড়ে থাকা মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরের অনেক অতিথি পাখি। শিকারিরা বিক্রির জন্য তাদের বিষটোপ দিয়ে হত্যা করেছে। পাশের ছবিটি সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সেবায় সুস্থ হয়ে ওঠা একটি বিরল লক্ষ্মীপেঁচার। ওই শিক্ষার্থী আহত পাখিটিকে সেবা দিয়ে বাঁচিয়ে তুলে বনে ছেড়ে দিয়েছেন। দুটি চিত্র কত আলাদা। কবি রণজিত্ দাশগুপ্ত লিখেছিলেন, বৃক্ষে হাত দিয়ে ব্যবসায়ী দেখে কেবলই কাঠ আর কবি টের পায় প্রাণ। ওপরের দুটি ঘটনা প্রকৃতির শিশুদের প্রতি মানুষের অন্যায় আর ভালোবাসার দুটি বিপরীত নজির হয়ে আছে।এ দুয়ের সহাবস্থান সম্ভব নয়। আমরা চাই, পাখি হত্যা বন্ধ করায় বন বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রশাসন ও গণমাধ্যমে যার যার ভূমিকা পালন করবে।

‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ -হঠকারী সিদ্ধান্তটি বাতিল করুন

রাজধানী ঢাকায় আগামী এক মাস কোনো দলকে সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর কী যুক্তি ও কোন আইনের বলে এ ঘোষণা দিলেন? গত রোববার তিনি যখন এ ঘোষণা দেন, তখন কি বিস্মৃত হয়েছিলেন যে বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রত্যেক নাগরিকের সভা-সমাবেশ করার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে? অথবা তিনি ও তাঁর সরকার কি মনে করছেন যে তাঁরা ইচ্ছা করলেই জনগণের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতে পারেন?
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদে পরিষ্কার ভাষায় লেখা রয়েছে: ‘জনশৃঙ্খলা ও জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হইবার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।’ রাজধানীতে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার এই সিদ্ধান্ত জানানোর সঙ্গে সঙ্গে সরকার বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কর্তব্য ছিল, কী কারণে তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা জনসাধারণকে ব্যাখ্যা করে বলা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এই বলে যে, রাজনৈতিক দলগুলোর সভা-সমাবেশের সময় ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও ইত্যাদি দুর্বৃত্তপনা করা হয় বলে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বললেন, সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণকার্য পরিচালনার সুবিধার্থে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কার কথা কতটা সত্য কে জানে, তবে সরকারের ভেতরে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ঘাটতি বেশ স্পষ্ট।
সভা-সমাবেশের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। সে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন ব্যবস্থা করতে চান, যেন দায়িত্বটা আদৌ পালন করতে না হয়। দেশে যদি এমন গুরুতর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে থাকে যে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা অপরিহার্য বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করছে, তাহলে সে কথা পরিষ্কার ভাষায় জনগণকে বলা দরকার। একদিকে তাঁরা বলবেন, সবকিছু তাঁদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, অন্যদিকে সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার খর্ব করবেন—এটা তো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার গুরুতর অবনতি ছাড়া সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার দৃষ্টান্ত সাম্প্রতিক ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল। বিপজ্জনক পরিস্থিতির আশঙ্কা সৃষ্টি হলে কিছু নির্দিষ্ট স্থানে বা এলাকায় সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার মতো নিবর্তনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয় কেবল জরুরি আইনে। সরকার কি বলতে চায়, দেশে এখন সে রকম অবস্থাই বিরাজ করছে? রাজধানীতে এক মাস সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার মানে কি সেই অর্থে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’?
সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করতে গিয়ে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি থেকে বিচ্যুত হয়ে এমন দমনমূলক আচরণ করছে, যা স্বৈরতান্ত্রিক। এভাবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অধিকারচর্চার গণতান্ত্রিক পথগুলো বন্ধ করে দিলে অস্থিরতা ও উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকটতর হবে। সেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সরকার হঠকারী সিদ্ধান্তটি বাতিল করলেই ভালো হবে।

ওসাকার মেয়রের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান জাপানিদের

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নারীদের যৌনকর্মে বাধ্য করার ঘটনা ‘সামরিক প্রয়োজনীয়তা’ বলে জাপানের ওসাকা শহরের মেয়র তোরু হাশিমাতো বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন, জনমত জরিপে তার বিরোধিতা করা হয়েছে।
মূল ধারার ইতিহাসবিদদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কোরিয়া, চীন, ফিলিপাইন ও অন্যান্য দেশের প্রায় দুই লাখ নারীকে জাপানি সেনাবাহিনীর তৈরি গণিকালয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। হাশিমাতোর বক্তব্যের সঙ্গে জাপানিদের সবাই একমত নয়। মাইনিচি শিমবান পত্রিকার জরিপে অংশগ্রহণকারী এক হাজার ৫৫০ গ্রাহকের ৭১ শতাংশ মনে করেন, হাশিমাতোর বক্তব্য ‘সঠিক নয়’। অপরদিকে ২০ শতাংশ গ্রাহকের মতে ওই বক্তব্য ‘সঠিক’।
এ ছাড়া, আসাহি শিমবান পত্রিকার এক জরিপে তিন হাজার ৬০০ গ্রাহকের মধ্যে ৭৫ শতাংশ মনে করেন, ওই বক্তব্য ‘সমস্যাযুক্ত’। আর ২০ শতাংশের মতে, বক্তব্যটিতে তেমন কোনো সমস্যা নেই কিংবা এটি সমস্যামুক্ত।

ইরাকে সিরিজ গাড়িবোমা হামলায় নিহত ৫৪

ইরাকের রাজধানী বাগদাদসহ বিভিন্ন শহরে গতকাল সোমবার একের পর এক গাড়িবোমা হামলায় কমপক্ষে ৫৪ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে দুই শতাধিক। পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা এই তথ্য জানিয়েছেন।
কর্মকর্তারা বলেছেন, বাগদাদের শিয়া-অধ্যুষিত এলাকাগুলোর বাসস্টেশন ও বিপণিবিতানের বাইরে গতকাল আটটি গাড়িবোমা হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ২০ জন নিহত হয়।
এদিকে বাগদাদ থেকে ৪২০ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর বসরায় দুটি পৃথক গাড়িবোমা হামলা চালানো হয়। প্রথমটি হানানিয়ার পার্শ্ববর্তী একটি ব্যস্ততম বাজার ও রেস্তোরাঁর কাছে এবং দ্বিতীয়টি সাদ মোড়ের একটি বাস টার্মিনালের ভেতরে চালানো হয়। এই দুটি হামলায় নিহত হয় ১১ জন।
শিয়া-অধ্যুষিত বসরা নগরী তুলনামূলকভাবে অনেকটা শান্ত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেখানেও সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ছত্তিশগড়ে তিন শিশুসহ আট গ্রামবাসীর মৃত্যু

ভারতের মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্য ছত্তিশগড়ে গত শনিবার নিরাপত্তা বাহিনী ও মাওবাদী বিদ্রোহীদের মধ্যে গুলিবিনিময়ের সময় ক্রসফায়ারে পড়ে আটজন গ্রামবাসী নিহত হয়েছে। দেশটির পুলিশ গতকাল সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে। তবে বিরোধী রাজনীতিকেরা বলছেন, ওই আটজন ‘গণহত্যার শিকার’ হয়েছে। তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
ছত্তিশগড়ের মাওবাদীবিরোধী অভিযানের প্রধান রাজিন্দর ভিজ জানান, রাজ্যের রাজধানী রায়পুরের ৫৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে বিজয়পুর জেলার এদাসমেতা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী ও মাওবাদীদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের পর পুলিশ আটটি মরদেহ উদ্ধার করেছে। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ তিনটি শিশুও পাওয়া গেছে।
রাজিন্দর ভিজ বলেন, ‘আমরা সন্দেহ করছি, নিরাপত্তা বাহিনী ও মাওবাদীদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের সময় ক্রসফায়ারে পড়ে গ্রামবাসী মারা গেছে। এ ঘটনায় একজন পুলিশ সদস্যও নিহত হয়েছে।’ তাঁর দাবি, নিহতদের মধ্যে একজন ‘সন্দেহভাজন মাওবাদী’ও রয়েছে।
তবে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা একটি ‘ভুয়া অভিযান’ চালিয়ে ‘নিষ্পাপ গ্রামবাসীদের’ হত্যা করেছে।

করাচির স্থগিত আসনে ইমরানের দলের জয়

পাকিস্তানের করাচির একটি স্থগিত আসনের পুনর্নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে জয় পেয়েছে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।
ভোট জালিয়াতির অভিযোগে করাচির ওই আসনের প্রথম দফার নির্বাচন বাতিল হয়ে যায়। এরপর গত রোববার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আসনটির ৪৩টি কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ হয়। এতে ৭৭ হাজার ৬৫৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন পিটিআইর প্রার্থী আরিফ আলভি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমকিউএমের খুশবখত সুজাত পেয়েছেন ৩০ হাজার ৩৬৫ ভোট।
আলভি বলেন, ‘করাচিতে আমাদের জয় শান্তি ও সহিষ্ণুতার নতুন যুগের সূচনা করল। এই শহরের রাজনৈতিক মঞ্চে পরিবর্তন আনার জন্য জনগণ তাঁদের দৃঢ় প্রত্যয়ের পরিচয় দিয়েছেন।’
করাচি এমকিউএমের শক্ত ঘাঁটি। জাতীয় পরিষদে করাচির ১৯টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয় পেয়েছে এমকিউএম। বাকি আসনটি পেল পিটিআই। এই নির্বাচনের এক দিন আগে একই এলাকায় পিটিআইর শীর্ষ নেত্রী জাহরা শাহিদ হুসেইন অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন।

নওয়াজকে নিয়ে ভয়ে আফগানিস্তান!

পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ (পিএমএল-এন) জয় পাওয়ার পর থেকে তাঁর ওপর সতর্ক নজর রাখছে আফগানিস্তান। দেশটির নেতারা ভাবছেন, নওয়াজ শরিফ পাকিস্তানি তালেবানের সঙ্গে আলোচনা করে সে দেশে জঙ্গিবাদ ও সহিংসতার অবসান ঘটাতে পারেন। পরিণামে পাকিস্তান বাদ দিয়ে তালেবানের পুরো নজর পড়তে পারে আফগানিস্তানের ওপর। এতে দেশটির স্থিতিশীলতা চরম হুমকির মধ্যে পড়তে পারে।
পাকিস্তানের ভাবী সরকারকে নিয়ে অস্থির হামিদ কারজাই শিগগিরই ভারত সফরে যাচ্ছেন। তাঁর এক মুখপাত্র গত রোববার বলেন, ভারত সফরে কারজাইয়ের মূল আলোচনার বিষয় হবে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের সীমানা নির্ধারণ-রেখা ‘ডুরান্ড লাইন’ এবং নিরাপত্তা প্রশ্ন।
২০১১ সালে কাবুলের সঙ্গে একটি কৌশলগত চুক্তি করে নয়াদিল্লি। এরপর কয়েক বছর ধরে আফগান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে ভারত।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে রোববার জানানো হয়, নওয়াজ শরিফের জয় অনেক আফগানের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এতে আফগানিস্তানে ‘অস্থিতিশীলতা’ সৃষ্টি হতে পারে।
নওয়াজ শরিফ মনে করেন, আফগানিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা দেওয়া পাকিস্তানের বন্ধ করে
দেওয়া উচিত। নওয়াজ পাকিস্তানের সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউল হকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। আফগানিস্তানে সোভিয়েত কর্তৃত্ব খর্ব করতে জিয়া ও নওয়াজ সাতটি জঙ্গি সংগঠনকে সংগঠিত করেন। এসব সংগঠনকে তাঁরা পাকিস্তানে আশ্রয়ও দেন।
বেনজির ভুট্টোর আমলে আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থান হলেও ১৯৯৭ সালে নওয়াজ শরিফের সরকার তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৯৮ সালে নওয়াজ সংবিধান সংশোধন করে পাকিস্তানে শরিয়া আইন প্রবর্তনের চেষ্টা করেছিলেন।
অনেকে মনে করছেন, গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ারের হিজবে ইসলামের মতো আফগানিস্তানের অনেক দলের সঙ্গে নওয়াজের সখ্য আছে। আফগানিস্তানের সরকার ও তালেবানের মধ্যে মধ্যস্থতার দায়িত্ব পালন করছে হিজবে ইসলাম। সে ক্ষেত্রে নওয়াজের প্রভাবও থাকবে।

ঐতিহাসিক সফরে ওয়াশিংটনে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন গতকাল সোমবার ঐতিহাসিক সফরে ওয়াশিংটন পৌঁছেছেন। প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে এই প্রথম মিয়ানমারের কোনো প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেলেন।
সফরে মিয়ানমারের সাবেক জেনারেল থেইন সেইন প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর তিনি মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসার ক্ষেত্র সৃষ্টির জন্য সে দেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
সমালোচকেরা বলছেন, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টকে ওবামার আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্তটি সুবিবেচনাপ্রসূত হয়নি। কারণ, মিয়ানমারে সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা মুসলিমবিরোধী সহিংসতায় বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ক্ষমতার এ ধরনের অপব্যবহারের কারণে মিয়ানমার চাপের মধ্যে রয়েছে। তবে ওবামার আমন্ত্রণ মিয়ানমারের এ চাপকে অনেকটাই হালকা করে দিল বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।
২০১১ সালে নামে মাত্র নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে থেইন সেইন বেশ কিছু রাজবন্দীকে মুক্তি দেন। গণমাধ্যমের ওপর থাকা নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা হয়েছে। দীর্ঘদিন গৃহবন্দী থাকা গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চিও পার্লামেন্টে যোগ দিয়েছেন।
ভয়েস অব আমেরিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে থেইন সেইন বলেছেন, হোয়াইট হাউসে তিনি প্রেসিডেন্ট ওবামাকে বলবেন যে মিয়ামারের সংস্কার সঠিক পথেই এগোচ্ছে। তাই তিনি মিয়ানমারের ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ পুরোপুরি তুলে দেওয়ার আহ্বান জানাবেন। অবশ্য এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর থেকে বেশ কিছু অবরোধ স্থগিত করেছে।

ওকলাহোমায় টর্নেডো, নিহত ১

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গত রোববার বেশ কয়েকটি টর্নেডো আঘাত হেনেছে। ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যে টর্নেডোর আঘাতে একজন নিহত এবং বহু লোক আহত হয়েছে। সেখানকার ১৬টি কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা চলছে।
টর্নেডোতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওকলাহোমা শহরের ৫৫ কিলোমিটার দূরবর্তী শহর শনি। এ শহরের কাছে একটি মোবাইল পার্ক টর্নেডোর আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। পার্কের অস্থায়ী বাড়িঘরগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
ওকলাহোমা ছাড়াও আইওয়া, মিনেসোটা, কানসাস ও ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে টর্নেডো আঘাত হেনেছে।
জাতীয় আবহাওয়া সার্ভিস (এনডব্লিউএস) তাদের পূর্বাভাসে বলেছে, একটি শক্তিশালী টর্নেডো কানসাস অঙ্গরাজ্যের উইশিটা শহরের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে।
এর আগে এনডব্লিউএস ওকলাহোমার কয়েকটি এলাকা থেকে লোকজনকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানায়।
স্থানীয় টেলিভিশনের খবরে জানানো হয়, টর্নেডোর আঘাতে ওকলাহোমায় একজন নিহত হয়েছে। বহু গাছপালা বিনষ্ট হয়েছে। ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। বিদ্যুতের লাইন উপড়ে সড়কে পড়ে আছে।
এডমন্ড শহরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। টর্নেডো-কবলিত বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে।
ওকলাহোমার গভর্নর মেরি ফলিন জানান, অঙ্গরাজ্যের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত ত্রাণসহায়তা পৌঁছে দিতে ১৬টি কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
গত রোববার অন্তত চারটি অঙ্গরাজ্যে টর্নেডো আঘাত হেনেছে। এরপর টর্নেডোর একাংশ উত্তর-পূর্বাঞ্চল হয়ে মধ্য-পশ্চিমের অঙ্গরাজ্যগুলো ও টেক্সাসের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।

দুবাইয়ে নজিরবিহীন শ্রমিক ধর্মঘট চলছে

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সর্ববৃহৎ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান আরবটেকের হাজার হাজার শ্রমিক গত শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছেন। রোববার এই ধর্মঘট আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে। মজুরি বৃদ্ধি ও সেই সঙ্গে অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক প্রদানের দাবিতে তাঁরা এ ধর্মঘট শুরু করেছেন।
উপসাগরীয় আরব দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে শ্রমিকদের এমন বিক্ষোভের ঘটনা একেবারেই বিরল। দেশটিতে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন নিষিদ্ধ। উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত শ্রমিকদের বেশির ভাগই অভিবাসী। তাঁরা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে চুক্তি ভিত্তিতে ওই সব দেশে যান। এসব দেশে শ্রমিকদের কর্মবিরতি বা ধর্মঘটকে সাধারণ ঘটনা হিসেবে দেখা হয় না।
আরব আমিরাতের সরকারি তালিকাভুক্ত বৃহত্তম নির্মাণ প্রতিষ্ঠান আরবটেকে শনিবার থেকে শ্রমিকদের কর্মবিরতি শুরু হলেও রোববার তা প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন প্রকল্পে ছড়িয়ে পড়ে। দুজন শ্রমিক জানান, প্রতিষ্ঠানটির কয়েক হাজার শ্রমিক রোববার কাজে যোগ দেননি। এদিন তাঁরা নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করেন। মজুরি বৃদ্ধি না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
আরবটেকের একজন সহযোগী ঠিকাদার (সাব-কন্ট্রাক্টর) এ খবর নিশ্চিত করে বলেন, প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে তিনি একটি প্রকল্প থেকে তাঁর শ্রমিকদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
একজন শ্রমিক অভিযোগ করেন, এই প্রকল্পে শ্রমিকদের মাসে ১৬০ থেকে ১৯০ ডলার মজুরি দেওয়া হয়। আবার তাঁদের অতিরিক্ত সময়ের পারিশ্রমিকও দেওয়া হয় না।
তবে আরবটেকের পক্ষ নিয়ে দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, শ্রমিকদের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ীই বেতন-ভাতা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। মজুরির বাইরে প্রতিষ্ঠানটি শ্রমিকদের বিনা মূল্যে খাবার, যাতায়াত, বাসস্থান, চিকিৎসা খরচ এবং বিমা ও অন্য সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে। আর্থিক মূল্যে এগুলো শ্রমিকদের মজুরির সমপরিমাণ হবে।
আরবটেকের একজন মুখপাত্র জানান, বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত অবসানে শ্রম মন্ত্রণালয় ও পুলিশের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের আলোচনা চলছে। শ্রম মন্ত্রণালয় বলেছে, শ্রমিক-সংকট নিরসনবিষয়ক শ্রম মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি কর্মবিরতির বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।

বিকল্প ভাবছে এইচঅ্যান্ডএম!

লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার দেশে পোশাক
উত্পাদন আকর্ষণীয় হতে পারে কার্ল জোয়ান
পিয়ারসন প্রধান নির্বাহী, এইচঅ্যান্ডএম
বাংলাদেশি পোশাকের সবচেয়ে বড় ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান এইচঅ্যান্ডএম লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছে।
সুইডেনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি নতুনভাবে বিবেচনা করছে নিজেদের শোরুমগুলোতে যে পোশাক তারা বিক্রি করে, তা আমেরিকা ও আফ্রিকার দেশগুলোতে উৎপাদন করা যায় কি না। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে গতকাল সোমবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন তথ্যই দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কার্ল জোয়ান পিয়ারসন।
পিয়ারসন বলেছেন, ‘বিশ্বের ওই অংশটিও (লাতিন আমেরিকা) এগিয়ে যাচ্ছে। সে কারণেই দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার দেশগুলোতে পোশাক উৎপাদন কার্যক্রম আকর্ষণীয় হতে পারে। আমরা সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে চাই। আমরা আফ্রিকার দিকেও নজর দিচ্ছি।’ বিশ্বের খ্যাতনামা সব গণমাধ্যমে এখন এই সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বড় বড় সব প্রতিবেদন তৈরি হচ্ছে।
এইচঅ্যান্ডএম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম খুচরা পোশাক বিক্রেতাপ্রতিষ্ঠান। বিশ্বব্যাপী প্রায় দুই হাজার ৬০০ শোরুম রয়েছে এদের।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে কার্ল জোয়ান পিয়ারসনের নেতৃত্বে এইচঅ্যান্ডএমের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে সফরে এসেছিল। ৩ সেপ্টেম্বর তৈরি পোশাকশিল্প মালিক সমিতি বিজিএমইএর সঙ্গে বৈঠক করে তারা। বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএর তৎকালীন সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেছিলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ১০০ কোটি ডলারের পোশাক কেনে এইচঅ্যান্ডএম। প্রতিষ্ঠানটি আগামী পাঁচ বছরে তাদের ব্যবসার পরিধি দ্বিগুণ করতে চায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানিও দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।
তবে নভেম্বরে সাভারে তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। আর গত মাসে রানা প্লাজা ধসে এক হাজার ১২৭ জন নিহত হওয়ার পর অনেক ক্রেতা-প্রতিষ্ঠানই এ দেশের পোশাক থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে এমন আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে কিছু দুঃসংবাদও এসেছে। আমেরিকার প্রতিষ্ঠান ডিজনি জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে তারা আর কোনো পোশাক কিনবে না। কয়েক দিন আগে ওয়াল-মার্ট বাংলাদেশের অনুমোদনহীন ২৫০টি পোশাক কারখানার তালিকা প্রকাশ করেছে। মানোন্নয়ন না করা পর্যন্ত ওই সব কারখানা থেকে পণ্য না কেনার ঘোষণাও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই বড় খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান।
বাংলাদেশের কারখানা ধসের পরিপ্রেক্ষিতে এইচঅ্যান্ডএম পোশাক কেনার বর্তমান কৌশল পরিবর্তন করছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে পিয়ারসন বলেন, ‘অবশ্যই। আমাদের বিষয়টি নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। কারণ, এটা (বাংলাদেশের ভবনধসের ঘটনা) মর্মান্তিক। কী ঘটছে ওই দেশটিতে!’
বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম অবশ্য এখনই এমনটি হবে না বলে মনে করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা পোশাকের ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছি। তারা এখান থেকে পোশাক কেনা বন্ধ করবে না। তবে তারা দ্বিতীয় আরেকটি দেশ খুঁজছে, এটাও সত্য।’
এইচঅ্যান্ডএমের প্রধানের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শহিদউল্লাহ আজিম বলেন, ‘এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। ২৫-৩০ বছর ধরে আমরা যে উন্নয়ন ঘটিয়েছি, চাইলেও রাতারাতি কোনো দেশ তা করতে পারবে না। অন্য দেশগুলো থেকে আমরা এ জায়গায় এগিয়ে আছি। হয়তো এখান থেকে পোশাক কেনা কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে তারা। কিন্তু একেবারে চলে যাবে না।’
তবে রানা প্লাজায় যেসব কারখানা ছিল, তার কোনোটিতেই এইচঅ্যান্ডএমের জন্য পোশাক তৈরি হতো না বলে মন্তব্য করেন পিয়ারসন। সাক্ষাৎকারে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব একটি নীতিমালা আছে। এতে আবাসিক ভবনে পোশাক কারখানা গড়ে তোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।’
এইচঅ্যান্ডএমের প্রধান পিয়ারসন জানান, এ বছরই চিলিতে পোশাক বিক্রির শোরুম খোলার মধ্য দিয়ে তাঁর প্রতিষ্ঠান লাতিন আমেরিকার বাজারে প্রবেশ করছে। মেক্সিকো ও ব্রাজিলের দিকেও নজর রয়েছে তাঁর প্রতিষ্ঠানের।
এদিকে এইচঅ্যান্ডএম, ইন্ডিটেক্স, প্রাইমার্ক ও সিঅ্যান্ডএ বাংলাদেশে পোশাক খাতে দক্ষতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিয়েছে। এরা এ খাতে ৫০ লাখ ডলার ব্যয় করবে। এ নিয়ে গতকাল সোমবার বাংলাদেশের এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সঙ্গে বৈঠক করে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মনে হয় না, তারা রাতারাতি এ দেশ থেকে চলে যাবে। কারণ, তারা এ দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ পোশাক কেনে।’

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান

এম আমানউল্লাহ সম্প্রতি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
এম আমানউল্লাহ মার্কেন্টাইল ব্যাংকের একজন অন্যতম উদ্যোক্তা। তিনি আমান গ্রুপ অব কোম্পানিজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তিনি দৈনিক আমাদের সময়-এর স্বত্বাধিকারী ও নতুন ভিশন লিমিটেডের পরিচালক। এ ছাড়া তিনি আমান স্পিনিং মিলস, অ্যারিনা এইচআরআই, অ্যারিনা সিকিউরিটিজ, অ্যারিনা কনজুমার প্রডাক্টস ও মৌসুমী এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান।
এম আমানউল্লাহ বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত।

বিশ্বের শীর্ষ ধনী দেশ সিঙ্গাপুর

সিঙ্গাপুর এখন বিশ্বের শীর্ষ ধনী দেশ। এর পেছনেই অবস্থান করা চার ধনী দেশ হচ্ছে নরওয়ে, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও সুইজারল্যান্ড।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সম্প্রতি বিশ্বের শীর্ষ ৫০ ধনী দেশের মধ্যে পাঁচটির এই তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে নাগরিকদের মাথাপিছু বার্ষিক জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) পরিমাণ ৬১ হাজার ৫৬৭ মার্কিন ডলারে উন্নীত হওয়ার সুবাদে প্রথম দখল করে পূর্ব এশিয়ার সিঙ্গাপুর। ২০১৮ সালের মধ্যে দেশটিতে মাথাপিছু জিডিপি ৭৭ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
আইএমএফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দায় মানুষের জীবনযাত্রার মান হ্রাস পেয়েছে। দেশে দেশে কর্মহীনতা বেড়েছে। এর মধ্যেও বিশ্বের বেশ কিছু দেশে মাথাপিছু জিডিপি ও জীবনযাত্রার মান বেড়েছে।
সিঙ্গাপুর সম্পর্কে সংস্থাটির মূল্যায়ন হচ্ছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। মুক্ত বাণিজ্য ও উদার করব্যবস্থার কারণে সিঙ্গাপুর এখন বিশ্বের অন্যতম এক বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সারা বিশ্বের বিনিয়োগের একটি বড় গন্তব্য হয়ে উঠেছে দেশটি।
সাম্প্রতিক মন্দা ভালোভাবে সামাল দিয়েছে ইউরোপের দেশ নরওয়ে। তেল ও জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল নরওয়ের মাথাপিছু জিডিপি এখন ৫৬ হাজার ৬৬৩ ডলার, যা ২০১৮ সালের মধ্যে দেশটির গড় আয় যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে ৬৬ হাজার ডলারে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্দার সঙ্গে লড়াই করলেও বিশ্বের প্রধান অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা এখনো শক্তিশালী। মার্কিনিদের জীবনে বিলাসিতায় ভাটা পড়েনি। দেশটির নাগরিকদের মাথাপিছু জিডিপি এখন ৫১ হাজার ২৪৮ ডলার, যা ২০১৮ সাল নাগাদ ৬৩ হাজার ডলারে পৌঁছাবে বলে আইএমএফ মনে করে।
আধুনিকতার দিকে ঝুঁকে পড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইতিমধ্যে বিশ্ব পর্যটনের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। দেশটির নাগরিকদের মাথাপিছু জিডিপি এখন ৪৯ হাজার ৮৮৩ ডলার, যা ২০১৮ সালে ৫৭ হাজার ডলারে উন্নীত হবে।
মন্দা সামলে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ড। পঞ্চম শীর্ষ ধনী এই দেশের বর্তমান মাথাপিছু জিডিপি ৪৬ হাজার ৪৪৭ মার্কিন ডলার, যা ২০১৮ সালে ৫৪ হাজার ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করছে আইএমএফ।

লেনদেনে আধিপত্য ছিল ব্যাংকিং খাতের

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন ও মূল্যবৃদ্ধিতে গতকাল সোমবার আধিপত্য বিস্তার করেছে ব্যাংকিং খাতের কোম্পানি। এর ফলে দিন শেষে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত ছিল। যদিও এদিন ঢাকার বাজারে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দরপতন ঘটেছে।
ডিএসইর সাধারণ সূচক গতকাল দিন শেষে ১৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৯৭ পয়েন্টে। নতুন সূচক ডিএসইএক্স ২৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৯০২ পয়েন্টে।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক প্রায় ৫৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ১০৬ পয়েন্টে।
বাজার বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গত কয়েক দিনে বাজারে কিছুটা গতি সঞ্চার হয়েছে। এতে বিভিন্ন খাতের শেয়ারের দাম বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় ব্যাংকিং খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বাড়েনি। তাই বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ অন্যান্য খাতের শেয়ারের মুনাফা তুলে নিয়ে তা ব্যাংকিং খাতের শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন। এর ফলে এ খাতের শেয়ারের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দামও বেড়েছে।
ঢাকার বাজারে গতকাল ব্যাংকিং খাতের লেনদেন হওয়া ২৯ কোম্পানির মধ্যে ২৮টিরই দাম বেড়েছে। দিন শেষে এ খাতের সম্মিলিত লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৬ কোটি টাকা, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। এদিন লেনদেন হওয়া প্রতিটি ব্যাংকের শেয়ারের দাম গড়ে ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়েছে বলে কসমোপলিটন ফিন্যান্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
জানতে চাইলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও বেসরকারি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় অনুষদের শিক্ষক মোহাম্মদ মূসা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের বাজারটা এখনো পরিপক্ব না। তাই কোম্পানিভিত্তিক তথ্যের চেয়ে বিনিয়োগকারীদের ভাবনার প্রভাব বেশি এই বাজারে। বেশির ভাগ বিনিয়োগকারী গতকাল অন্যান্য খাতের শেয়ার বিক্রি করে ব্যাংকিং খাতের শেয়ারের প্রতি ঝুঁকেছেন। যদিও সম্প্রতি প্রকাশিত প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) কমেছে। তা সত্ত্বেও খাতভিত্তিক গতি-প্রকৃতির কারণে এ খাতের দর বৃদ্ধি ঘটেছে।’
মোহাম্মদ মূসা আরও বলেন, ‘গত কয়েক দিনের লেনদেনের গতি দেখে মনে হচ্ছে, বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিশ্রেণীর উভয় বিনিয়োগকারী বাজারে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এক খাতের শেয়ার বিক্রি করে অন্য খাতে তা আবার বিনিয়োগ করছেন।’
এদিকে ব্যাংকের শেয়ারের দর বৃদ্ধির দিনে গতকাল অন্যান্য খাতে কিছুটা মূল্য সংশোধন হয়েছে। এদিন ডিএসইতে ২৭৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১৭০টি কোম্পানির শেয়ারেরই দাম কমেছে, বেড়েছে ৮৯টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৪টির শেয়ারের দাম। দিন শেষে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪৭০ কোটি টাকা, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৬৯ কোটি টাকা কম।
লেনদেন কমে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, শেয়ারের মালিকানা নির্ধারণী তারিখের (রেকর্ড ডেট) কারণে সোমবার নয়টি কোম্পানির লেনদেন বন্ধ ছিল। এর মধ্যে ছিল বেক্সিমকো, বেক্সিমকো ফার্মা, জিবিবি পাওয়ার, ইউনিক হোটেলের মতো কোম্পানিও। এসব প্রতিষ্ঠান সাধারণত ঘুরেফিরে ডিএসইতে শীর্ষ লেনদেনকারী কোম্পানির তালিকায় থাকে।
চট্টগ্রামের বাজারে গতকাল ১৯৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১২২টি কোম্পানির শেয়ারেরই দাম কমেছে, বেড়েছে ৬৩টির আর অপরিবর্তিত ছিল নয়টির শেয়ারের দাম। দিন শেষে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৭ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে চার কোটি টাকা বেশি।