Friday, September 27, 2024
পরাজিত ফ্যাসিবাদী হাসিনা ছাত্র-জনতার বিপ্লবকে নস্যাৎ করার চেষ্টা চালাচ্ছে -দেশে ফিরে বিমানবন্দরে মাহমুদুর রহমান
মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘প্রবাসে নির্বাসনে থাকার পর আপন মাতৃভূমিতে আসতে পেরে মহান আল্লাহতায়ালার দরবারে হাজার শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। সেইসঙ্গে ছাত্র-জনতার মহান বিপ্লবে যারা শহীদ হয়ে ভারতের দালাল শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের উৎখাত করেছেন তাদের বিদেহী আত্মার উদ্দেশ্যে পরম কৃতজ্ঞতা ও অকৃত্রিম শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি’।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এই বিপ্লবে শহীদদের কোনোদিনও ভুলে যেতে পারি না। ইনশাল্লাহ এই শহীদদের আমরা কখনো ভুলবো না।’
মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘গত ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আমি আমার মতো করে ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে লড়াই করে গেছি। রাজনৈতিক দল বিএনপি বলেন, জামায়াত বলেন, অন্যান্য দল বলেন, তারা তাদের মতো করে লড়াই করেছে। আর আমি লড়াই করেছি আমার মতো করে ‘আমার দেশ’ পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে। আমার লড়াই ছিল বুদ্ধিবৃত্তির লড়াই, আমার লড়াই ছিল কালচারের লড়াই।’
কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘শহীদ আবু সাঈদ নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে ফ্যাসিজমকে কবর দিয়েছেন। এক সময় বাংলাদেশের যে তরুণরা কিউবা বিপ্লবের নায়ক চে গুয়েভারাকে বিপ্লবের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করতো, সেই তরুণরা এখন আবু সাঈদকে তাদের আদর্শ হিসেবে জানে। বাংলাদেশের বিপ্লবের আইকনের নাম আবু সাঈদ। আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে ফ্যাসিস্ট পুলিশের উদ্যত রাইফেলের সামনে উদ্ভাসিত মুখে দাঁড়িয়ে শাহাদত বরণ করেছেন। তার এই মৃত্যু বাংলাদেশের জনগণকে যুগের পর যুগ অনুপ্রেরণা দেবে।’
তিনি বলেন, ‘আজ থেকে ২০০ বছর আগে তিতুমীর বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে শহীদ হয়েছিলেন। ১৮৩১ সালের অর্থাৎ প্রায় ২০০ বছর পরে আমরা শহীদ তিতুমীরকে পরম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। আমি আশাবাদী আজ থেকে ২০০ বছর পরে আগামী প্রজন্ম আবু সাঈদের কথা বলে তিতুমীরের মতো গর্ব অনুভব করবে। শতাব্দীর পর শতাব্দী আবু সাঈদ আমাদের কাছে বিপ্লবের আইকন হিসেবে থাকবেন।’
ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের কথা স্মরণ করে মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানবতাবোধের মহানায়কের নাম বলতে গেলে আমাদের মুগ্ধের নাম মনে পড়ে। এই উত্তরার রাজপথে এক সুদর্শন তরুণ পরম মমতায় রাস্তায় দৌড়ে বের হয়ে বলেছে পানি লাগবে ভাই? এই দৃশ্য মনে করলে আমি আবেগ ধরে রাখতে পারি না।’
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মাহমুদুর রহমান। শেখ হাসিনার সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে সারা দেশে ১২৪টি মামলা করা হয়। ২০১০ সালের জুনে প্রথম দফায় আমার দেশ বন্ধ করাসহ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে আটক করা হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল আমার দেশ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা করা হয়।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মাস্টারমাইন্ড প্রসঙ্গে যা বললেন উপদেষ্টা নাহিদ
তবে ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটির সঙ্গে একমত নন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলন, কেউ কেউ হয়তো ভালোবাসার জায়গা থেকে বলছেন। কিন্তু তিনি (মাহফুজ) এবং আমরা (সমন্বয়করা) কেউই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড শব্দটির সঙ্গে একমত নই। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ঠিকানা টিভির প্রধান সম্পাদক খালেদ মুহিউদ্দীনের মুখোমুখি হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও অন্তর্বর্তী সরকারসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি।
নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ ইউটিউব চ্যানেলে। যেখানে অতিথি হিসেবে আরও ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। উপস্থাপনা করেন ঠিকানা টিভির প্রধান সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) খালেদ মুহিউদ্দীন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনীতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাম্প্রতিক অনেক প্রসঙ্গ আসে আলোচনায়। এসব নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দুই অতিথি। যে আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে, তাতে কোনো একক নেতৃত্ব ছিল না, বলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ একে এগিয়ে নিয়ে গেছে। আন্দোলনটাকে কয়েকজন মিলে পরিচালনা করতে হয়েছে। নিতে হয়েছে নানাজনের বুদ্ধি-পরামর্শ। তবে আমরা একে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন হিসেবেই দেখি।
আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ নিয়ে করা খালেদ মুহিউদ্দীনের করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্ল্যাটফর্ম সাধারণ শিক্ষার্থীদের জায়গা। এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারাও ছিলেন। এই আন্দোলনে একক কোনো নেতৃত্ব ছিল না। সাধারণ মানুষ এটাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। একটা সময় আন্দোলন পরিচালনা করতে অনেকেই বুদ্ধি পরামর্শ দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে যার (মাহফুজ আলম) কথা বলা হয়েছে তিনি বিশেষভাবে আমাদের পরামর্শ দিয়েছেন।
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, ‘মাহফুজ আলম বা আমরা কেউই এ মাস্টারমাইন্ড শব্দের সঙ্গে একমত নই। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা শব্দটাকে হয়তো ভালোবেসে ব্যবহার করেছেন।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে ’৬৯ এবং ’৯০-এর গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্ররা নেতৃত্ব দিলেও সামনে রাজনৈতিক দল ছিল। আন্দোলনের পর তারা ক্ষমতা নেয়। এবারের আন্দোলনে কোনো রাজনৈতিক দল সামনে ছিল না। ৫ আগস্টের পর এ দায়িত্বটা আমাদের ওপর এসে পড়েছে। যার জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না।’
রাজনৈতিক নেতৃত্বের বাইরে গিয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতন হয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের। সেখানে গত এক দশকে একাধিকবার সরকার পতনের ডাক দিয়ে সফল হতে পারেনি বিএনপি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশের অভ্যুত্থান বিশ্বব্যাপী মানুষকে প্রেরণা যুগিয়ে যাবে -জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টা
স্থানীয় সময় শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ছাত্রজনতার অদম্য সংকল্প ও প্রত্যয় স্বৈরাচারী ও অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি দিয়েছে। তাদের সম্মিলিত সংকল্পের মধ্যেই আমাদের দেশের ভবিষ্যত নিহিত, যা এ দেশটিকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মাঝে একটি দায়িত্বশীল জাতির মর্যাদায় উন্নীত করবে।
ড. ইউনূস বলেন, এই জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে যে যুগান্তকারী পরিবর্তন সংঘটিত হয়েছে, তার প্রেক্ষিতেই আজ আমি বিশ্বসম্প্রদায়ের এ মহান সংসদে উপস্থিত হতে পেরেছি। আমাদের গণমানুষের, বিশেষ করে তরুণসমাজের, অফুরান শক্তি আমাদের বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল রূপান্তরের এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। আমাদের ছাত্র ও যুবসমাজের আন্দোলন প্রথমদিকে মূলত ছিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন। পর্যায়ক্রমে তা গণআন্দোলনে রূপ নেয়। এরপর সারা পৃথিবী অবাক বিস্ময়ে দেখেছে কীভাবে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ একনায়কতন্ত্র, নিপীড়ন, বৈষম্য, অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজপথ এবং সামাজিক-যোগাযোগ মাধ্যমে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিল।
অধিবেশনে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দেয়া বক্তব্যে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ত্যাগের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি মুক্তি ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে বিশ্বসম্প্রদায়কে নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে নতুনভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। পতিত শেখ হাসিনা সরকার রাষ্ট্রের মূল প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্মম দলীয়করণের আবর্তে বন্দি করেছেন উল্লেখ করে অতীতের ভুল সংশোধন করে প্রতিযোগিতামূলক ও শক্তিশালী অর্থনীতি এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলাই তার সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানান। বলেন, আমরা মানুষের মৌলিক অধিকারকে সমুন্নত ও সুরক্ষিত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। রাষ্ট্রব্যবস্থার সকল পর্যায়ে সুশাসন ফিরিয়ে আনাই আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্য। টেকসই সংস্কারের মাধ্যমে অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ সময় রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, ফিলিস্তিন-ইসরাইল যুদ্ধে নিয়েও কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মুক্তি এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক জাগরণ ব্যতীত শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। বক্তব্যের শুরুতে ড. ইউনূস অধিবেশনের সভাপতিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের পাশাপাশি জাতিসংঘের ম্যান্ডেটকে সমুন্নত রাখা এবং বৈশ্বিক সংকটসমূহ নিরসনে মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁর দৃঢ়প্রত্যয় ও সাফল্যমণ্ডিত নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। সম্মেলনে যে ‘ভবিষ্যতের জন্য চুক্তি’ এবং ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ঘোষণাপত্র’ সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে তা এজেন্ডা ২০৩০ পরবর্তী বৈশ্বিক উন্নয়ন কর্মপন্থা নির্ধারণে বিশেষ সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন। জুলাই-আগস্টের আন্দোলন নিয়ে প্রফেসর ইউনূস বলেন, এই গণআন্দোলন রাজনৈতিক অধিকার ও উন্নয়নের সুবিধাবঞ্চিত বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশীদারিত্ব চেয়েছিল। আমাদের জনগণ একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, যার জন্য আমাদের নতুন প্রজন্ম জীবন উৎসর্গ করেছিল। আমাদের এই তরুণরা যে প্রজ্ঞা, সাহস ও প্রত্যয় দেখিয়েছে তা আমাদের অভিভূত করেছে। জনগণের এই আন্দোলনে আমাদের জানা মতে, প্রায় আটশত-এরও বেশি জীবন আমরা হারিয়েছি স্বৈরাচারী শক্তির হাতে। এ সময় বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে বিশ্বসম্প্রদায়কে নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে নতুনভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা। বলেন, যে রাষ্ট্রকাঠামো দুঃসহ হয়ে গেছে, তার পুনর্গঠনের জন্য আমাদের তরুণেরা এবং দেশের আপামর জনসাধারণ একমত হয়ে আমার এবং আমার উপদেষ্টা পরিষদের ওপর আস্থা রেখে সরকার পরিচালনার এক মহান দায়িত্ব অর্পণ করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর আমরা গভীর বিস্ময় ও হতাশার সঙ্গে দেখতে পাচ্ছি কীভাবে সর্বগ্রাসী দুর্নীতি একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে, কীভাবে রাষ্ট্রের মূল প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্মম দলীয়করণের আবর্তে বন্দি করে রাখা হয়েছিল, কীভাবে জনগণের অর্থসম্পদকে নিদারুণভাবে লুটপাট করা হয়েছিল, কীভাবে একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সমস্ত ব্যবসা-বাণিজ্যকে অন্যায়ভাবে নিজেদের হাতে কুক্ষিগত করে দেশের সম্পদ অবাধে বিদেশে পাচার করে দিয়েছে। এককথায়, কীভাবে প্রত্যেকটি পর্যায়ে ন্যায়, নীতি ও নৈতিকতা অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। এরকমই এক অবস্থায় দেশকে পুনর্গঠন এবং জনগণের কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রব্যবস্থা ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আমাদের ওপর দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। অতীতের ভুলগুলোকে সংশোধন করে একটি প্রতিযোগিতামূলক ও শক্তিশালী অর্থনীতি এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই মুহূর্তে আমাদের মূল লক্ষ্য।
প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে, সকল রাজনৈতিক দল এখন স্বাধীনভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারছে। যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় কাজ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত, তাদের প্রত্যেকের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা মানুষের মৌলিক অধিকারকে সমুন্নত ও সুরক্ষিত রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আমাদের দেশের মানুষ মুক্তভাবে কথা বলবে, ভয়ভীতি ছাড়া সমাবেশ করবে, তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে এটাই আমাদের লক্ষ্য। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংরক্ষণ এবং সাইবার ডোমেনসহ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুসংহতকরণেও আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমাদের একজন কৃষক বা শ্রমিকের সন্তানও যেন সমাজের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছতে পারে, সেই লক্ষ্যে বিশালাকার অবকাঠামো নির্মাণের বদলে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির ওপর আমরা গুরুত্ব আরোপ করছি। রাষ্ট্রব্যবস্থার সকল পর্যায়ে সুশাসন ফিরিয়ে আনাই আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্য। বাংলাদেশ যেসব আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক এবং দ্বিপক্ষীয় চুক্তির পক্ষভুক্ত, সেগুলো প্রতিপালনে আমাদের সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘসহ বহুপক্ষীয় বিশ্বকাঠামোতে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও অবদান অব্যাহত থাকবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মর্যাদা ও স্বার্থ সংরক্ষণের ভিত্তিতে বাংলাদেশ বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাতিসংঘ বিজয় by ডা. ওয়াজেদ খান
গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন তিনি। এই বিশ্বনেতা বাংলাদেশের ৫৯ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রাথমিকভাবে প্রকাশ করা হয় ৭ জন সফর সঙ্গীর একটি তালিকা। পরবর্তীতে জাতিসংঘে তার কর্মসূচির কলেবর বৃদ্ধি পেলে একদিন এগিয়ে আনা হয় নির্ধারিত সফরের তারিখ। বাড়ানো হয় কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সংখ্যা। জানা গেছে, প্রতিনিধি দলের মোট সংখ্যার প্রায় অর্ধেকই হচ্ছে প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা ও প্রটোকলে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ।
ড. ইউনূস নিউইয়র্ক এসে পৌঁছানোর পরদিন সকাল থেকেই একের পর এক বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও বৈঠকে বিরামহীনভাবে যোগদান করছেন। প্রথম দিনেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাথে বৈঠক করেছেন। দুই নেতার মাঝে প্রায় আধা ঘণ্টার এই বৈঠক ছিলো ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন। সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিতর্ক শুরুর প্রথম দিন প্রথা অনুযায়ী স্বাগত ভাষণ দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। এ সময় তিনি সর্বোচ্চ দু’দিন অবস্থান করেন নিউইয়র্কে। তার ভাষণের পরপর হাঁটা পথে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানের সাথে অনির্ধারিত দেখা হয়। সেলফিও তোলেন অনেকে। কিন্তু পূর্ব নির্ধারিত ছাড়া আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠকে মিলিত হন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। ড. ইউনূসের সঙ্গে জো বাইডেনের যে আলোচনা হয়েছে, বিগত তিন দশকের মধ্যে এটি নজিরবিহীন এক ঘটনা। সাধারণত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অন্য দেশের সরকার প্রধানের সাক্ষাৎ ঘটে লবিতে। সেখানে তিনি কারো সাথে কোনো বৈঠকে মিলিত হন না। সেজন্য জাতিসংঘ সদর দফতরে বাইডেন-ইউনূস বৈঠক ছিল ব্যতিক্রমী ঘটনা। এই বৈঠকে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন জো বাইডেন। ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের। সবচেয়ে বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে বৈঠকটির অন্তরঙ্গতা। ছবি কথা বলে এর সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে এবার। জো বাইডেন ড. ইউনূসকে জড়িয়ে ধরে বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন বিরল আন্তরিকতার। এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে এই সফরের সার্থকতা।
এ বৈঠক নিয়ে হোয়াইট হাউজ প্রকাশ করেছে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি। বাংলাদেশের রাষ্ট্র সংস্কারে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নে অংশীদার হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। এর মধ্য দিয়ে দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নিঃসন্দেহে সৃষ্টি হবে নতুন দিগন্ত। জো বাইডেন ছাড়াও একই দিন ড. ইউনূসের সাথে আলোচনা হয়েছে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, ইতালীর প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস, আইএম এফ প্রধান ক্রিস্টিলিনা জর্জিভা, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের চ্যারিটি প্রতিষ্ঠান ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভসহ বিভিন্ন সংস্থার নেতৃবৃন্দের সাথে।
প্রতিটি বৈঠকেই ড. ইউনূস বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের নিকট নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নের কথা ব্যক্ত করেছেন। বিজয় গাঁথা তুলে ধরেছেন ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের। বিশ্ব দরবারে দাঁড়িয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়েছেন গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের বেদনার কথা স্মরণ করে। জাতিসংঘের প্রতিটি অনুষ্ঠানেই তিনি বাংলাদেশ ও তার মানুষের কথা অকপটে তুলে ধরেন। পরিচয় করিয়েছেন তার সফরসঙ্গী গণঅভ্যুত্থানের সমন্বয়ক শিক্ষার্থীদেরকে।
গ্রামীণ পোশাক পরা ড. ইউনূস একজন অতি সাধারণ মানুষ মনে হলেও তার নেতৃত্ব তাকে দক্ষতা, প্রজ্ঞা ও দেশাত্মবোধ অসাধারণ করে তুলেছে। সাধারণ পরিষদে তার সফর কালে বাহ্যিক কোনো চাকচিক্য নেই। কিন্তু আছে বিশাল অন্তর্নিহিত সম্ভাবনা ও প্রাপ্তি। তার সফরের দ্বিতীয় দিনেও ছিলো এক ডজন কর্মসূচি। বাকি দিনগুলো আরো গুরুত্ব বহন করবে বাংলাদেশের জন্য এব্যাপারে সবাই অত্যন্ত আশাবাদী।
ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গত ১৫ বছরে ১৪ বার এবং এর আগে ‘৯৬ থেকে ২০০১ সাল মেয়াদে মোট তিনবারসহ মোট ১৭ বার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অংশ নেন শেখ হাসিনা। প্রতিটি সফরেই তিনি পরিবার, দল ও প্রশাসনের দু’শতাধিক ব্যক্তিকে করেছেন সঙ্গী। দু’সপ্তাহ যুক্তরাষ্ট্রে তিনি আমোদে সময় কাটিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় অর্থের শ্রাদ্ধ করে কুড়িয়েছেন অনারারি ডক্টরেট ডিগ্রি ও নানাবিধ পুরস্কার। জাতিসংঘে হাসিনার যোগদানের প্রতিটি সফরই ছিলো বিলাসী। ফি-বছর সেপ্টেম্বরের শেষার্ধে হাসিনার নিউইয়র্ক আগমনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী হাট বসতো তার হোটেল লবিতে। অর্থ পাচার ও লুটপাটের দেন দরবার চলতো সেখানে। দলীয় সংবর্ধনা নিলেও সাধারণ প্রবাসীদের সাথে কোনো যোগাযোগ ছিলো না হাসিনার। এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানেই ব্যতিক্রম ফ্যাসিবাদী শাসকের সাথে।
সময়ের স্বল্পতার কারণে এবার প্রবাসীদের সাথে মিলিত হতে পারছেন না ড. ইউনূস। শুনশান নীরবতা ম্যানহাটানের গ্র্যান্ড-হায়াত হোটেলের লবি। নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন ড. ইউনূস ও তার সফর সঙ্গীরা। এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন নানা কারণেই বাংলাদেশের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ড. ইউনূসের নির্মোহ নেতৃত্ব দেশকে ইতোমধ্যেই পৌঁছে দিয়েছে বিশ্ব দরবারে নতুন এক উচ্চতায়। আমরা আশাবাদী ড. ইউনূসের দূরদর্শিতা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারবে। বিদ্যমান সকল বাধা-বিপত্তি ও ষড়যন্ত্র কাটিয়ে বাংলাদেশকে অভীষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে যাবেন তিনি। চুরাশি বছর বয়সে তার উদ্যোম, কর্মস্পৃহা ও বিরামহীন এগিয়ে চলা অনুকরণীয় হয়ে থাকবে নতুন প্রজন্মের জন্য। ক্যারিশম্যাটিক এই নেতার সম্মোহনী বক্তৃতা শ্রোতাদেরকে করে মন্ত্রমুগ্ধ। তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের সাফল্য আজ দুনিয়াজুড়ে আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক ও অদ্বিতীয়। একজন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাতিসংঘ বিজয়ে আমাদের উষ্ণ অভিনন্দন।
লেখক: ডা. ওয়াজেদ খান
সম্পাদক
সাপ্তাহিক বাংলাদেশ, নিউইয়র্ক

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যেভাবে ছাত্র বিপ্লবের মুখ নাহিদ ইসলাম: টাইম ম্যাগাজিনের রিপোর্ট
খুব বেশি আগের কথা নয়। নাহিদ ইসলাম ছিলেন তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক একজন টিউটর। সরকারের গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন। আর এখন তিনি তথ্যপ্রযুক্তি ও মিডিয়া বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। জুনে অন্য কিছু শিক্ষার্থীর সঙ্গে নাহিদ ইসলাম প্রবেশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে। তাদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড। তাতে অন্যদেরকে রাজপথে নামার আহ্বান জানানো হয়। ওই সময় সরকারি চাকরিতে বিতর্কিত কোটা ব্যবস্থা হাইকোর্ট পুনঃস্থাপন করেছিল। কিন্তু নাহিদ ইসলাম ও তার সঙ্গীরা এর পরিবর্তে সবার জন্য সুষ্ঠু সুযোগের দাবি জানাতে থাকেন। কোটাবিরোধী আন্দোলন বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শুরু হয় প্রথম ২০১৮ সালে। ওই সময় সরকার পশ্চাৎধাবন করে এবং আন্দোলন মরে যায়। নাহিদ ইসলাম বলেন, এ বছরও তারা (সরকার) কোটা ব্যবস্থার ইস্যুকে শেষ করে দিতে পারতো।
কিন্তু তার পরিবর্তে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরাসরি গুলি শুরু করে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা। ১৬ই জুলাই প্রসারিত খোলা হাতে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ছাত্র আবু সাঈদ। তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নাহিদ বলেন, তাকে হত্যা করায় আন্দোলনের গতি মুহূর্তের মধ্যে ঘুরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে সারা দেশে জনগণের বৃহৎ অংশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এই আন্দোলন। ভয়াবহ দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী শাসনের ফলে জনগণের মধ্যে যে পাহাড়সম হতাশা দেখা দিয়েছিল তার ফলে জনগণ নেমে আসে রাজপথে।
এসময় বিক্ষোভকারীরা তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে দৃষ্টি দেয়। ৩রা আগস্ট তারা একদফা দাবি তুলে ধরে। এই দাবি ঘোষণা করেন নাহিদ ইসলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তিনি ঘোষণা করেন- শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে। এরপর ৫ই আগস্ট লাখ লাখ মানুষ ঢাকায় শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবনের খুব কাছাকাছি চলে যান। তখন হেলিকপ্টারে আরোহণ করেন শেখ হাসিনা এবং পালিয়ে ভারতে চলে যান। তারপর থেকে সেখানেই তিনি নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন।
অফিসে চামড়ায় আবৃত বিশাল চেয়ার ঘুরিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন- তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা যাবে তা কেউই ভাবেননি। সেনাবাহিনীর সমর্থনে ছাত্ররা ১৭ কোটি মানুষের এই দেশের দায়িত্বে চলে আসেন আকস্মিকভাবে। তারা শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস (৮৪)কে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার অনুরোধ করেন। ড. ইউনূস তার ক্ষুদ্রঋণ ধারণা ছড়িয়ে দিয়ে এক বিপ্লব সৃষ্টি করেছেন। এতে তিনি খ্যাতির শিখরে পৌঁছেছেন। এই অর্থনীতিবিদ তখন নিজে বিদেশে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সরকারের মামলা ছিল। তিনি ছাত্রদের আহ্বানে সাড়া দিলেন। তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ তুলে নেয়া হলো।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. ইউনূস এখন নাহিদ ইসলামের বস। এর একমাত্র কারণ হলো তারা এভাবে তাকে চেয়েছিলেন। কে কার কাছ থেকে নির্দেশ নিচ্ছেন- এমনটা প্রশ্ন করতেই নাহিদ ইসলাম হাসেন। তারপর বলেন, বড় সব সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেই ড. ইউনূস আমাদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। তার মন্ত্রণালয়ে টেবিলের ওপর লাল একটি টেলিফোন দেখিয়ে বলেন, এই যে ভিআইপি ফোন। আমার কোনো ধারণা নেই যে, কীভাবে এটা ব্যবহার করা উচিত। ফলে হোয়াটসঅ্যাপে আমি ড. ইউনূসকে টেক্সট মেসেজ পাঠাই। বিগত কতোগুলো সপ্তাহে তার জীবনে যেসব ঘটনা ঘটে গেছে তার সবটাতে তিনি এখনো বিভ্রান্ত হতে পারেন, কিন্তু তার আচরণ তা দূরে সরে যেতে দেয় না।
তার যে ব্যক্তিগত সেক্রেটারি তাকে দেখে মনে হয় তারচেয়ে বেশি বয়সী একজন কর্মকর্তা। তিনি কক্ষের ভেতরে এবং বাইরে যাওয়া-আসা করছিলেন। ডকুমেন্ট নিয়ে যাচ্ছিলেন তার স্বাক্ষরের জন্য। নাহিদ ইসলামের দুটি মোবাইল ফোন ক্রমাগত বেজে চলছিল। ঢাকার একটি অপরূপ এলাকায় তার বাসভবনে খুব সকালেই উপস্থিত হন দর্শনার্থীরা। সেখানে তার লিভিং রুমটিতে ঝাড়বাতি এবং সাদা ভেলভেটের সোফা আছে। এটি তার পুরনো বাসভবনের মতোই বড়।
সমাজবিজ্ঞানে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করা এই যুবক বিগত সরকারের বিপক্ষে অবস্থানকারীদের মধ্যে অন্যতম। ঢাকায় জন্ম নেয়া নাহিদ একজন শিক্ষকের ছেলে। তিনি ২০১৭ সালের প্রথম সপ্তাহে সুন্দরবনের কাছে একটি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেন। ২০১৯ সালে তিনি ক্যাম্পাসে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। পরে সিনিয়রদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গঠন করেন ছাত্র বিষয়ক সংগঠন ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্ট ফোর্স। কিন্তু এ বছর জুলাই মাসে তাকে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা অপহরণ করে নির্যাতন করে। এটি হলো সরকারের সমালোচকদের জোরপূর্বক গুম করে দেয়ার একটি রীতি। সেই থেকে ব্যাপকভাবে পরিচিতি পান নাহিদ ইসলাম। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি এক বন্ধুর বাসায় আত্মগোপন করেছিলেন। এক তীব্র গরমের রাতে সাদা পোশাকে প্রায় ৩০ জন কর্মকর্তা সেই বাড়িতে গিয়ে হাজির হয়। তিনি বলেন, তারা তার মাথায় কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে ফেলে। তারপর বলে- বিশ্ব তোমাকে আর কখনো দেখতে পাবে না।
নাহিদ ইসলাম মনে করেন তাকে তাদের গোপন বন্দিশিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রহার করা হয়। নাহিদ মনে করেন লোহার রড দিয়ে তাকে প্রহার করা হয়েছে। এতে তার বাহুতে এবং পায়ে কালশিটে দাগ হয়ে যায়। প্রচণ্ড ব্যথা, বিকট শব্দ এবং অতি উজ্জ্বল আলো তার দিকে সেট করে দেয়া হয়। এতে তার মাথা ঘুরতে থাকে। মাঝে মাঝেই তিনি চেতনা হারান। নাহিদ বলেন, তারা জানতে চায়- এই আন্দোলনের মূল হোতা কে? কোথা থেকে অর্থ আসছে? তিনি আরও বলেন, একদিন পর তাকে একটি ব্রিজের পাশে ফেলে রাখা হয়। স্থানীয় মিডিয়ায় তার আহতের ছবি প্রকাশ হয়। তাতে ক্ষোভ আরও বাড়ে।
তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলনের নেতা, যারা পরিচিত মুখ তাদের খুঁজছিল গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। কিন্তু আমরা তো একজন ছিলাম না। এটাই ছিল আমাদের শক্তি। তিনি আস্থার সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে নতুন দায়িত্বে মনোনিবেশ করছেন। তারপরও বলেন, আন্দোলন ছিল একটি টিমওয়ার্ক। তার ভাষায়- মিডিয়া সব সময় একটি মুখ খুঁজেছে। কিন্তু এই আন্দোলনে আমিই একমাত্র নেতা ছিলাম না। আমরা ছিলাম অনেকজন।
শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়ার পর ক্ষমতায় যে শূন্যতা সৃষ্টি হয় তা পূরণ হয় দ্রুততার সঙ্গে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের প্রফেসর ড. সামিনা লুৎফে বলেন, যেদিন অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা সেদিন তিনি নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বলেন- সে খুবই তরুণ। এটা বিশাল এক দায়িত্ব।
তাদেরকে পুনর্বিবেচনা করার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। এই নতুন বাংলাদেশে ছাত্রদের কাছ থেকে তারা সর্বোত্তম প্রত্যাশা করেন। এই ছাত্ররাই তাদের নির্দেশনা দিয়ে একজন স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্ত করেছেন। এখন বহু মানুষ ওই শাসককে প্রকাশ্যে স্বৈরশাসক বলে অভিহিত করার সাহস দেখান।
নাহিদ ইসলামের ফোন আবার বাজতে থাকে। কথিত অবহেলার দায়ে একজন ছাত্র মারা যাওয়ার পর ছাত্ররা চিকিৎসকদের ওপর হামলা করেছে। এ ঘটনায় ঢাকার হাসপাতালে মধ্যস্থতা চাওয়া হয় তার কাছে। ওই ঘটনায় চিকিৎসকরা ধর্মঘট করেন। যখন তিনি মুরগির মাংস দিয়ে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন, তখনই আরেকটি কল আসে।
যেসব শিক্ষার্থী সরকারি চাকরি দাবি করেছিলেন তাদের কারও কাছে কি তার (নাহিদ) নাম্বার প্রফেসর ইউনূসের অফিস শেয়ার করতে পারে? নাহিদ ইসলাম বলেন, এটা অদ্ভুত। আন্দোলনকারীদের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, একদা আমরা সবাই একসঙ্গে ছিলাম। এখনো আমরা এক আছি। আমাদেরকেই সব ম্যানেজ করতে হবে। ভোট জালিয়াতি, সমালোচকদের দমনপীড়ন এবং ভয়ের পরিবেশে ১৫ বছরের শাসনের মধ্যে থাকার পর জনগণের কণ্ঠস্বর সফলতা পেয়েছে এ জন্য বাংলাদেশিরা শক্তি পেয়েছেন। জনগণ এখন তাদের নতুন স্বাধীনতা ব্যবহার করছে। হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন নারীরা। কয়েক সপ্তাহে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে বিঘ্ন ঘটার কারণে স্থগিত পরীক্ষা বাতিল চাইছেন শিক্ষার্থীরা। এমনকি ঢাকার উঁচু স্তরের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে। তারা বলছিলেন- তাদের প্রিন্সিপালকে পছন্দ নয়। নাহিদ বলেন- ১৫ বছর ধরে মানুষ কথা বলতে পারেনি। এখন সুযোগ পেলেই তারা কথা বলছেন।
তবু তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সামনে। দেশে স্বস্তির পরিবেশ থাকলেও তা উদ্যাপনের অনেক বেশি সময় নেই। নতুন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো আইনশৃঙ্খলা পুনঃস্থাপন। নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ হলো দেশ থেকে দুর্নীতির মূলোৎপাটন করা, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দেশকে গণতন্ত্রের পথে নিয়ে আসা। তিনি আরও বলেন, আমরা অল্প সময়ের জন্য এ দায়িত্বে আছি। সব রকম দুর্নীতি এবং সহিংসতা জনগণ আর চায় না। নতুন প্রজন্মের পালস আমাদের বোঝা উচিত। আমাদের উচিত সামনে এগিয়ে যাওয়া।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জাহিনকে নিয়ে নানা প্রশ্ন
জাহিন রোহান সম্পর্কে মাহফুজ আলম ফেসবুকে লেখেন, ওই ব্যক্তি অনুপ্রবেশকারী এবং অসৎ। তিনি নিজ ব্যবস্থাপনায় ক্লিনটন ইনিশিয়েটিভের আয়োজনে যোগ দিয়েছেন। আমরা তার উপস্থিতি ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতাম না। তিনি ডেলিগেশন দলের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। স্যার যখন আমাদের মঞ্চে ডাকলেন, তিনি তড়িঘড়ি করে দাঁড়িয়ে আমাদের আগে মঞ্চের দিকে ছুটে গেলেন। আমার সন্দেহ হলেও তার মঞ্চে যাওয়া আমি আটকাতে পারিনি। উপস্থিত বিশ্বনেতা ও গণ্যমান্যদের জন্য অসহায় বোধ করছিলাম। মাহফুজ মনে করেন, এটা ছিল ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর একটি পূর্বপরিকল্পিত কাজ। ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকার বার্তা দিয়ে আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের নেতৃবৃন্দ, সমন্বয়কারী ও যোদ্ধাদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন মাহফুজ। এ বিষয়ে জাহিন রোহান একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ওই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ আমি পেয়েছিলাম সিজিআই ফেলো হিসেবে। যখন ড. ইউনূস ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দকে ডাকলেন তখন আমি দর্শক সারি থেকে করতালি দিচ্ছিলাম। আমার পাশে বসেছিলেন দুই বিদেশি ভদ্রলোক। তারা আমাকে বললেন যে, তুমি তো বাংলাদেশি তরুণ, তুমিও যাও। তাই আমিও কিছু না ভেবেই স্টেজে উঠে গেছি মাহফুজ ভাইদের পেছন পেছন। আমি ২০২১ সালের ইউনূস অ্যান্ড ইয়ুথ ফেলো। আমার প্রতিষ্ঠান হাইড্রোকো প্লাসের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমি প্রফেসর ড. ইউনূসের সঙ্গে দেখা করতে চাচ্ছিলাম। নিউ ইয়র্কে সিজিআইয়ের অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস আসবেন শুনে আমি খুবই খুশি হয়েছিলাম যে তার কাছাকাছি যাওয়ার একটা সুযোগ হবে।
অন্যদিকে জাহিনের সাবেক ব্যবসায়িক পাটর্নার মো. সানাউল মানবজমিনকে বলেন, বিশ্ব মঞ্চে ড. ইউনূস যে তিনজনকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন এর একজন জাহিন রোহান রাজিন। সে একসময় আমার বন্ধু ও সহকর্মী ছিল। সে বিদেশে বড় হয়েছে ও বেশির ভাগ সময় দেশের বাইরে থাকে। সে এই আন্দোলনের নেতা ও সমন্বয়ক তো দূরের কথা, সে আন্দোলনের বিপক্ষে ছিল। সে একজন ভণ্ড ও প্রতারক। সে চিহ্নিত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট পরিবারের সন্তান। তার বাবা রবিন-টেক্স গ্রুপের মালিক ও গুলশান ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট। সে আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষকতায় ২০২০ সালে জাতিসংঘের ইয়াং লিডার ও পরে ইউথ এনভয় হয়। বহির্বিশ্বে সে আওয়ামী লীগের দালালি করে। ড. ইউনূসের পাশে মঞ্চে দাঁড়ানো একটা ষড়যন্ত্রের অংশ।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জৌলুস হারাচ্ছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত by ওয়াহিদুর রহমান রুবেল
এদিকে বড় কোনো আয়োজন না থাকলেও আজ শুক্রবার র্যালি, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কক্সবাজারে পালিত হবে বিশ্ব পর্যটন দিবস। পর্যটক না আসায় হোটেল-মোটেলগুলোতেও আয়োজন করা হয়নি কোনো অনুষ্ঠান।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আতাউল গনি ওসমানী বলেন, পর্যটন দিবস সামনে রেখে গতকাল বৃহস্পতিবার রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে শিশু একাডেমি। সৈকতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম করে পৌরসভা। আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হবে। এটি লাবনী পয়েন্টে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। সন্ধ্যায় স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে লাবনী পয়েন্টের ওপেন মঞ্চে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন রয়েছে। অক্টোবরের শেষের দিকে প্রতি বছরের মতো এবারও কার্নিভালের আয়োজন করা হবে।
তথ্য বলছে, কক্সবাজারে ঘুরে বেড়ানোর প্রধান স্পট সমুদ্রসৈকত। দেখার জন্য রয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়ের বৌদ্ধ মন্দির ও প্যাগোডা, ধাতু ও ব্রোঞ্জের তৈরি বুদ্ধমূর্তি, ছোট-বড় ১৩টি বুদ্ধমূর্তি নিয়ে লাল সিং ও পাশে সাদা সিং নামের বৌদ্ধবিহার, বৈচিত্র্যময় জীবনধারা, ডুলাহাজারার বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, সোনাদিয়া দ্বীপ, কুতুবদিয়া দ্বীপ, চকরিয়া ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, হিমছড়ি ঝরনা। রয়েছে দেশের একমাত্র ফিশ অ্যাকুয়ারিয়াম।
অভিযোগ রয়েছে, এসব পর্যটন স্পট সুরক্ষায় কিংবা সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে সংশ্লিষ্টদের কোনো পদক্ষেপ দেখা যায় না। সরকার বিভিন্ন সময় নানামুখী পদক্ষেপের কথা বললেও কার্যত তার কিছুই হয়নি। উল্টো কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা, কলাতলী, লাবনী পয়েন্টসহ বিভিন্ন স্থানের বালুকাবেলা দখল হয়েছে অসাধু চক্রের হাতে। আর বালিয়াড়ি দখল করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাইসেন্সও দেওয়া হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন সময় পর্যটকরা বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। আবার অনেক সময় ছিনতাইকারী ও টমটম চালকদের হাতে হেনস্তার শিকার হয়েছেন অনেক পর্যটক। রয়েছে ভাতের হোটেল ও আবাসিক হোটেলগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও।
সরেজমিন কক্সবাজার সুগন্ধা পয়েন্ট ও কলাতলী পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, বর্ষার পানির তীব্র স্রোতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে সমুদ্রসৈকত। গর্ত হয়ে পানি জমে থাকায় ঝুঁকি তৈরি করছে পর্যটকদের জন্য। রয়েছে জেলা প্রশাসনের দেওয়া টোকেন দিয়ে তৈরি করা ঝুপড়ি দোকান। এতে সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে পড়ছে। দরিয়ানগর ও হিমছড়ির অবস্থাও একই। জোয়ারের আঘাতে ভেঙে গেছে সৈকতের পাড়। তলিয়ে গেছে কয়েকশ ঝাউগাছ। প্রতিনিয়ত সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট হলেও তা রক্ষায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি। পর্যটক হয়রানি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কক্সবাজার পর্যটন শিল্পের ভবিষ্যৎ বাধা হতে পারে সুপেয় পানির সংকট। এ ছাড়া পর্যটকদের বিনোদনের জন্য নেই কোনো জাতীয় উদ্যান, থিম পার্ক, হেরিটেজ পার্ক, মেরিন মিউজিয়াম, নেই কোনো আন্তর্জাতিক মানের কনফারেন্স সেন্টার। অতিরিক্ত গাড়ি ভাড়া, হোটেল ভাড়া, খাবার বিল, নিত্য পর্যটক হয়রানি, ছিনতাই, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় যেখানে সেখানে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ছাড়া সৈকতে ঝুপড়িগুলো সৌন্দর্য নষ্ট করছে। রাতদিন ভিক্ষুকদের দৌরাত্ম্য ও বখাটের উৎপাত পর্যটন শিল্প বিকাশের পথে বাধা। এ ছাড়া সাগরে নেই নেটিং ব্যবস্থা। ফলে পানিতে ভেসে গিয়ে ঘটছে মৃত্যুর মতো দুর্ঘটনা। এসব বাধার পাশাপাশি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গা শিশু-কিশোর এখন পর্যটন এলাকায় ছিনতাই ও ভিক্ষুকের কাজ করছে।
কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটক রহিম উল্লাহ বলেন, কয়েক মাস আগে বন্ধুদের নিয়ে কক্সবাজার এসেছিলাম। সে সময় সৈকতের যে পরিবেশ ছিল, এখন তা নেই। পুরো সৈকতের বেহাল অবস্থা। কলাতলী ও সুগন্ধা পয়েন্টে বালিয়াড়ি বিভক্ত হয়ে গেছে।
সাইফুল করিম নামে আরেক পর্যটক বলেন, বউ-বাচ্চা নিয়ে হিমছড়ি গিয়েছি। ওখানে টমটম চালকের টানাহেঁচড়া চরম অসহ্য। আর হিমছড়িতে যে পরিমাণ দোকান নির্মাণ করা হয়েছে, হাঁটাচলাও করা মুশকিল।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সভাপতি এইচএম এরশাদ কালবেলাকে বলেন, অবৈধ পাহাড় কাটা, বনাঞ্চল নিধন, সরকারি খাসভূমি দখল, অপরিকল্পিত ইমারত তৈরির ফলে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। ব্যবসার নামে যত্রতত্র নির্মাণ করা হচ্ছে ইট-পাথরের স্থাপনা। সৈকতে গড়ে তোলা হয়েছে ঝুপড়ি দোকান। এতে সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট করছে। এ ছাড়া পর্যটন করপোরেশনের কোনো কর্মকাণ্ডও আমাদের চোখে পড়ে না।
আমরা কক্সবাজারবাসী সংগঠনের সমন্বয়ক মো. কলিম উল্লাহ বলেন, এখন পর্যটন শিল্পের অন্যতম সমস্যা রোহিঙ্গা ও মাদক। আর যেভাবে পাহাড় ও পরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে মরুভূমি হবে কক্সবাজার। তাই এসব অনিয়ম বন্ধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
কক্সবাজার সিটি কলেজের প্রভাষক ও ট্যুরিজম এবং হসপিটালিটি বিভাগের বিভাগীয়প্রধান মঈনুল হাসান পলাশ কালবেলাকে বলেন, পর্যটন শিল্পের বিকাশে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
পর্যটন করপোরেশন কক্সবাজারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও হোটেল শৈবালের ব্যবস্থাপক রায়হান উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ করা হচ্ছে। আর পর্যটন বোর্ড পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কাজ করছে। আশা করছি ভালো কিছু হবে।
রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ডালিম বলেন, বিভিন্ন সময় দেশে নানা সমস্যার কারণে ব্যবসা অত্যন্ত মন্দা গেছে। অনেকে তো রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তা করেছিল। তবে এখন কিছুটা পরিবর্তন হচ্ছে। আস্তে আস্তে বন্ধ থাকা রেস্তোরাঁও খুলছে। তবে আগের মতো সে অবস্থা নেই। তারপরও আমরা আশাবাদী ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব।
কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম নেওয়াজ বলেন, সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষায় বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে বারবার দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। মাঝে মাঝে পর্যটক হেনস্তার ঘটনায়ও এ শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে আমাদের।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার আবুল কালাম কালবেলাকে বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন কালবেলাকে বলেন, আমি সবেমাত্র দায়িত্ব নিয়েছি। ইতোমধ্যে পর্যটন নগরীকে কীভাবে সাজানো যায়, সেটা নিয়ে হোমওয়ার্ক শুরু করেছি। পর্যটন এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে কউক, সড়ক ও জনপথ, কক্সবাজার পৌরসভা, পর্যটন করপোরেশনের শৈবাল-প্রবাল, বিমানবাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে বৈঠক করে ছয়টি করণীয়ও নির্ধারণ করেছি। নাগরিকদের নিয়ে একটি সুপারভিশন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এক কথায় কক্সবাজার ঘিরে আমাদের সামগ্রিক প্ল্যান রয়েছে। তবে সবার সমন্বিত উদ্যোগ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘রগ কাটা’ নিয়ে ঢাবি শিবির সেক্রেটারির জবাব
বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে ঢাবির টিএসসিতে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে ফরহাদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো বিষয়ে কাউকে হ্যাঁ বা না বলা অথোরিটি তিনজনের। সিনেট, সিন্ডিকেট এবং একাডেমিক কাউন্সিল। এ ৩টির বাহিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে আর কোনো অথোরিটি হ্যাঁ বা না বলার অধিকার রাখে না। আর ছাত্রশিবির যাতে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করে সেখানে এ প্রশ্ন কখনোই আসবে না।
‘রগ কাটা’ অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে সেক্রেটারি বলেন, এটা আমি সহজ করে বলি, আপনি রগকাটা লিখে গুগুলে সার্চ করেন দেখবেন সব ক্রাইম ছাত্রলীগের নামে। সেখানে শিবির নামে কোনো ডকুমেন্ট পাবেন না।
এ নামটা (রগ কাটা) আপনাদের সঙ্গে এত জড়িত কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা খুবই স্বাভাবিক, ফ্যাসিবাদরা যখন একটা ব্যাপারকে রিপিটেটলি এস্টাবলিশ করতে চাইবে যেখানে আপনি কথা বললে আপনাকে ট্যাগ দিয়ে মেরে ফেলবে। আপনি এখানে একটা বয়ান এস্টাবলিশ করবেন এটা খুবই স্বাভাবিক। এখানে (রগ কাটা) বিষয়টাকে প্রত্যেকটা উপাদান হেল্প করছে। কেউ এ উপাদনটাকে বিরোধিতা করতে পারেনি। নেগেটিভ বিষয় যে এস্টাবলিশ করুক না কেন, কেউ হয়তো সমর্থন দেয় নাই, কিন্তু কেউ এর বিরোধিতা করতে পারেনি। সমন্বিত সামগ্রিক এফোর্ড দিয়ে যখন কোনো কিছু দাঁড় করায় তখন সেখানে নেগেটিভ এস্টাবলিশ হতে বাধ্য। এখন এ নেগেটিভ রাইট অর রং এটার ডিসিশন দিবেন আপনারা। আপনারা সাংবাদিক যারা আছেন তারা এ বিষয়টাকে যাছাই অথবা অ্যানালাইসিস করবেন এটা সত্য কি না।’
এরআগে রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সভাপতির পরিচয় প্রকাশ্যে আসার পর এবার আলোচনায় এসেছেন শিবিরের সেক্রেটারি।
সমন্বয়ক আব্দুল কাদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৯ দফা সম্পর্কে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সেক্রেটারির প্রসঙ্গ টেনে আনেন তিনি। এর পরই শুরু হয় তুমুল আলোচনা।
আব্দুল কাদের ওই স্ট্যটাসে ফরহাদ নামের একজনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের সেক্রেটারি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেও বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র বলছে, শিবিরের সেক্রেটারি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া ফরহাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৭-১৮ সেশনের এবং কবি জসিম উদদীন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তিনি ২০২২-২৩ সেশনে জসীম উদদীন হল ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতিও ছিলেন।
এ ছাড়া এস এম ফরহাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
![]() |
| ঢাবির টিএসসিতে সাংবাদিক সম্মেলনে শাখা ছাত্রশিবিবের সেক্রেটারি এস এম ফরহাদ। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অবশেষে আঁতুড়ঘরেই শিবিরের আত্মপ্রকাশ
সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদিক কাইয়ুম ও সেক্রেটারি এস এম ফরহাদ। এতে বেশ নড়েচড়ে বসেছে অন্যান্য রাজনীতিক দলের ছাত্রসংগঠন। অনেকটা নাটকীয়ভাবে তাদের আত্মপ্রকাশ। আত্মগোপনে থেকে ভেতরে ভেতরে সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বাড়াতে সক্ষম শিবিরকে অনেকে তুলনা করছেন বিশ্বখ্যাত গোয়েন্দা বাহিনীর সঙ্গে।
নেটিজেনরা বলছেন, তারা ক্যাম্পাসেই ছিলেন। কিন্তু তার সহপাঠী, শিক্ষক, বন্ধু-বান্ধব এমনকী রুমমেট যার সঙ্গে রাতের পর রাত কাটিয়েছেন, সেই ছেলেটিও বিন্দুমাত্র টের পাননি। আর এতেই অবাক হচ্ছেন তারা।
সাধারণত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হতো ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঘাঁটি। বিশেষ করে চার দলীয় জোট সরকারের আমলে তাদের ক্যাম্পাসভিত্তিক কার্যক্রম বেশ জোরে শোরেই চলছিল। পরবর্তীতে আওয়ামী সরকারের ব্যাপক দমনপীড়নে স্থবির হয়ে পড়ে শিবিরের প্রকাশ্য কার্যক্রম। তালা মারা হয় কেন্দ্রীয় দপ্তরসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সব কার্যালয়।
ঢালাওভাবে হামলা-মামলা ও নির্যাতনের মুখে সাংগঠনিক পরিচয় গোপন রেখে ক্যাম্পাস বা ক্যাম্পাসের আশেপাশে থাকতে শুরু করেন শিবিরের নেতাকর্মীরা। অন্য ছাত্র সংগঠনের কাছে ধরা না দিয়ে কীভাবে শিবির নেতাকর্মীরা সংগঠনের বিস্তৃতি ঘটান, তা যেন এক মহাবিস্ময়। বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেই সংগঠনের গঠনতন্ত্র মেনে প্রতিবছর যথারীতি হয়েছে তাদের নেতৃত্ব বদল, পর্যালোচনা আর নতুন পরিকল্পনা প্রণয়ন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই মাস যেতে না যেতেই ক্যাম্পাসে নিজেদের অবস্থান জানান দেয় ছাত্রশিবির। নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এর মধ্য দিয়ে নিজেদের আঁতুড়ঘর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রকাশ্যে এল তারা।
অনেকেই মনে করতে পারেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে শিবিরের আঁতুড়ঘর হয়? সংগঠনটির ইতিহাস ঘেঁটে দেখা গেছে, ১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। এর প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন মীর কাশেম আলী।
জানা গেছে, গত ১ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধের পাশাপাশি ছাত্রশিবিরকেও নিষিদ্ধ করা হয়। এর চারদিন পর শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে ২৮ আগস্ট জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠা লাভ করে সেই ক্যাম্পাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে জামায়াতে ইসলামীর ভাতৃপ্রতীম এ সংগঠন। তবে শিবিরে ছাত্রীদের প্রবেশাধিকারের কেনো সুযোগ নেই।
ছাত্রশিবিরের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটিতে সভাপতি হিসেবে মঞ্জুরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে জাহিদুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৭৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত এই সংগঠনে ৩৩ জন সভাপতি এবং ২৬ জন সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেছেন।
সংগঠন পরিচালনার অর্থ কর্মী, সাথী, সদস্য প্রার্থী, সদস্য ও শুভাকাঙ্খীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে আদায় করা হয়। শিবিরের এই তহবিলকে বলা হয় বায়তুলমাল। সাংগঠনিক প্রকাশনীর মুনাফা ও শরিয়াত অনুমোদিত অন্যান্য খাত এই তহবিলের অন্যতম উৎস। দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত ২১ সেপ্টেম্বর ফেসবুক বার্তায় নিজের পরিচয় প্রকাশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি সাদিক কায়েম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।
সম্প্রতি ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, ১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকেই ছাত্রশিবিরের যাত্রা শুরু হয়। সেই ঢাবিতে শিবিরের কার্যক্রম থাকবে না এটা কীভাবে সম্ভব!
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সংবাদ মাধ্যমে বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির সভাপতি ও সেক্রেটারির আত্মপ্রকাশকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তবে একজন একজন করে নয়, ক্যাম্পাসে সবার পরিচয় প্রকাশ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পারমাণবিক অস্ত্রনীতিতে বদল আনলেন পুতিন, পশ্চিমা বিশ্বে চিন্তার ভাঁজ
গতকাল রাশিয়ার পরমাণু কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন পুতিন। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনো পরমাণু শক্তিহীন দেশ হামলা চালালে তা একরকম। কিন্তু সেই দেশ যদি পরমাণু শক্তিধর অন্য দেশ বা একাধিক দেশ থেকে সাহায্য পায়, তাহলে রাশিয়া বিষয়টিকে যৌথ হামলা হিসেবে ধরে নেবে এবং সেইমতো ব্যবস্থা নেবে।’
পুতিনের এই বক্তব্যে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে পশ্চিমা বিশ্বে। ইউক্রেন সাহায্যকারী দেশগুলোর কাছ থেকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছে। দেশটি সম্প্রতি রাশিয়ার ভেতরে হামলার কৌশল গ্রহণ করেছে। আগস্টে তারা রাশিয়ার সীমান্ত অঞ্চল কুরস্কের একাংশের দখল নেওয়ার দাবি করেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি বলেছেন, ইউক্রেনের পারমাণবিক চুল্লিগুলোতে হামলার ছক কষছে রাশিয়া। যেভাবেই হোক তা ঠেকানো প্রয়োজন।
পুতিন বলেছেন, ১৯৯৯ সালে বেলারুশের সঙ্গে রাশিয়ার বিশেষ চুক্তি হয়েছিল। বেলারুশ রাশিয়ার কাছের বন্ধু। বেলারুশে কোনো রকম হামলা হলে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে বাধ্য হবে।
ইউক্রেন যুদ্ধে বেলারুশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তারা সরাসরি ইউক্রেনে সেনা না পাঠালেও রুশ সেনাদের জন্য রাস্তা খুলে দিয়েছে। পুতিন বলেন, বেলারুশের আকাশ ব্যবহার করে ইউক্রেন রাশিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে, বিমান পাঠাচ্ছে। এমনটা আর হতে দেওয়া যাবে না।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র এত দিন ধরে রাশিয়ার জনগণকে সম্ভাব্য হামলার হাত থেকে রক্ষা করেছে। রাশিয়ার হাতে পারমাণবিক অস্ত্র আছে, এ কথা জেনে বহু দেশ রাশিয়ায় হামলা করেনি। বর্তমান সময়ে যুদ্ধের কৌশল বদলেছে। রাশিয়াও নিজেদের লড়াইয়ের কৌশল বদলেছে। তাই দেশের মানুষকে নিরাপদে রাখতে পারমাণবিক অস্ত্রকে সর্বশেষ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। কেবল কোনো উপায় না থাকলেই রাশিয়া ওই অস্ত্র ব্যবহার করতে বাধ্য হবে। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বশান্তি বজায় রাখতে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে রাশিয়া। তবে রাশিয়ার ওপর আক্রমণ হলে তার জবাব দেওয়া হবে।
![]() |
| বক্তব্য দিচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাজধানী মস্কোয় রাশিয়ান এনার্জি উইকের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশের নতুন যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের অংশীদারত্ব চাইলেন ড. ইউনূস
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের একটি হোটেলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকে ড. ইউনূস এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে আপনাদের কথা শুনতে এসেছি এবং আমাদের বিনিয়োগ পরিবেশ কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, সে বিষয়ে আপনাদের পরামর্শ চাই। আমাদের এই নতুন যাত্রায় আপনাদের অংশীদারত্ব চাই।’
মধ্যাহ্নভোজের এ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের (ইউএসবিবিসি) অ্যাম্বাসেডর অতুল কেশাপ বক্তব্য দেন।
এ সময় ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ শুধু ১৭ কোটি মানুষের বাজার নয়। এটি দ্রুত বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ভোক্তা বাজারের একটি হিসেবে বিকশিত হচ্ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ কৌশলগতভাবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং চীনের ৩০০ কোটি মানুষের বাজার ধরার সম্ভাবনাময় জায়গায় রয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘কোনো দেশই সমস্যামুক্ত নয়। বাংলাদেশও সমস্যামুক্ত নয়। তবে আমি একটি বিকাশমান বাংলাদেশ দেখি, যে দেশটি স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে অঙ্গীকারবদ্ধ।’
ড. ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী নেতাদের বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের প্রধান রপ্তানির দেশ এবং আমাদের এফডিআইরও (সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ) শীর্ষ উৎস। কিন্তু বাণিজ্য অস্বাভাবিক রকমের কম।’
ড. ইউনূসের মতে, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ বিনিয়োগই হচ্ছে জ্বালানির মতো ঝুঁকিহীন কিংবা কম ঝুঁকিপূর্ণ খাতে। তিনি বলেন, ‘যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল নীতির আওতায় সরবরাহব্যবস্থায় বৈচিত্র্য খুঁজছে, এই লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশ কৌশলগভাবে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হওয়ার অবস্থানে রয়েছে।’
অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসার বিকাশে সহায়তার জন্য সবকিছু করবেন, যেন তারা সরবরাহব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনতে পারে।
![]() |
| স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের একটি হোটেলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: ইউএনবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরায়েলের হামলা সত্ত্বেও অটুট হিজবুল্লাহর সুড়ঙ্গ ও যোগাযোগব্যবস্থা
গত সপ্তাহে ইসরায়েলের হামলায় হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ কমান্ডারদের নিশানা করা হয়েছে। তা ছাড়া পেজার ও ওয়াকি–টকি বিস্ফোরণেও অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন।
গত শুক্রবার ইসরায়েলের হামলায় হিজবুল্লাহর অভিজাত রাদওয়ান বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা ও নেতৃত্ব দেওয়া ইব্রাহিম আকিল নিহত হন। সোমবার বৈরুতে ইসরায়েলের হামলায় ৫৬০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ৫০ শিশুও ছিল বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
রোববার ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর প্রধান হার্জি হালেভি দাবি করেছেন, আকিলের মৃত্যু হিজবুল্লাহকে নাড়া দিয়েছে। তাঁর দাবি, হামলায় হিজবুল্লাহর হাজার হাজার রকেট ও শেল ধ্বংস হয়েছে।
তবে হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরিচিত দুটি সূত্র জানিয়েছে, গোষ্ঠীটি দ্রুতই হামলায় নিহত আকিল ও অন্য জ্যেষ্ঠ কমান্ডারদের দায়িত্ব প্রতিস্থাপন করেছে। হিজবুল্লাহ নেতা সাইয়েদ হাসান নাসরাল্লাহ গত ১ আগস্টের একটি বক্তৃতায় বলেছিলেন, যখনই কোনো নেতাকে হত্যা করা হয়, তখন দলটি দ্রুত শূন্যস্থান পূরণ করে।
হিজবুল্লাহর একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, যোগাযোগ ডিভাইসে হামলায় দেড় হাজার যোদ্ধা আহত হয়েছেন। তাঁদের অনেকেই অন্ধ হয়ে গেছেন বা তাঁদের অনেকের হাত উড়ে গেছে।
এটি একটি বড় ধাক্কা হলেও হিজবুল্লাহর শক্তির একটি ভগ্নাংশই কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের একটি প্রতিবেদনে গোষ্ঠীটির যোদ্ধার সংখ্যা ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার বলে উল্লেখ করা হলেও নাসরাল্লাহর দাবি, দলটিতে এক লাখ যোদ্ধা রয়েছেন।
গত বছরের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মিত্র হামাসের সমর্থনে ইসরায়েলে নানা সময় ছোট আকারে হামলা করেছে হিজবুল্লাহ। তিনটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, তখন থেকে লেবাননের দক্ষিণের ফ্রন্টলাইন এলাকায় হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের পুনরায় মোতায়েন করা হয়েছে। এসব যোদ্ধার অনেকে এসেছেন সিরিয়া থেকে।
হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের সঙ্গে সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়াতে চাইছে। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আভাস পেয়ে গোষ্ঠীটি দ্রুতগতিতে অনেক রকেট জড়ো করেছে বলেও জানিয়েছে রয়টার্সের সূত্রগুলো।
হিজবুল্লাহর প্রধান সমর্থক ও অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ ইরান। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিভিন্ন দেশে ইরানের মিত্র বাহিনীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী গোষ্ঠী এই হিজবুল্লাহ। তাদের অনেক অস্ত্রই ইরানি। কিছু অস্ত্র রাশিয়া বা চীনা মডেলের।
রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা সূত্রগুলো নাম প্রকাশ করতে রাজি হয়নি। তারা হিজবুল্লাহর হাতে নতুন আসা অস্ত্রগুলো সম্পর্কে বা কোথা থেকে কেনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
নিজেদের প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে হিজবুল্লাহর গণমাধ্যম কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো উত্তর পায়নি রয়টার্স।
কিংস কলেজ লন্ডনের স্কুল অব সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, গত সপ্তাহের হামলায় হিজবুল্লাহর কার্যক্রম ব্যাহত হলেও নেটওয়ার্কভিত্তিক সাংগঠনিক কাঠামো এটিকে একটি অত্যন্ত স্থিতিশীল শক্তিতে পরিণত হতে সাহায্য করেছে। তিনি বলেন, ‘সংখ্যা ও প্রযুক্তি বিবেচনায় নয়; বরং স্থিতিশীলতা বিবেচনায় ইসরায়েল যুদ্ধক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী শত্রুর মুখোমুখি হয়েছে।’
শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র
চলতি সপ্তাহে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বেড়েছে। মঙ্গলবার ইসরায়েল হিজবুল্লাহর আরেক শীর্ষ কমান্ডার ইব্রাহিম কুবাইসিকে হত্যা করেছে। তারপরও হিজবুল্লাহ সামরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছে। এত হামলা সত্ত্বেও ইসরায়েলের গভীরে শত শত রকেট ছুড়েছে তারা।
গতকাল বুধবার হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, সীমান্ত থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে তেল আবিবের কাছে একটি ইসরায়েলি গোয়েন্দা ঘাঁটি লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তেল আবিবে একটি ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলি বিমান বাধা দেওয়ায় সতর্কীকরণ সাইরেন বেজে উঠেছিল।
হিজবুল্লাহর সবচেয়ে শক্তিশালী রকেটগুলোর মধ্যে কোনটি ছোড়া হয়েছে, তা এখনো জানায়নি গোষ্ঠীটি। হিজবুল্লাহর কাছে ইরান নির্মিত ফাতেহ-১১০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যার রেঞ্জ ২৫০-৩০০ কিলোমিটার। ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ২০১৮ সালের একটি গবেষণাপত্র অনুসারে, হিজবুল্লাহর ফাতেহ-১১০–এর ৪৫০-৫০০ কেজি ওয়ারহেড রয়েছে।
এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা দাবি করেছেন, পেজার ও ওয়াকি–টকি বিস্ফোরিত হওয়ার পরও হিজবুল্লাহর রকেট হামলা চালাতে সক্ষম হওয়াটাই প্রমাণ করে যে গ্রুপটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মুখেও চেইন অব কমান্ড বজায় রেখে কাজ করতে পারছে।
ফিক্সড লাইন টেলিফোন নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য ডিভাইস ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে। অনেক যোদ্ধা পেজারের পুরোনো মডেল বহন করছিলেন, ফলে গত সপ্তাহের আক্রমণে তাঁদেরও কোনো ক্ষতি হয়নি।
রয়টার্স এ তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করতে পারেনি। বেশির ভাগ পেজার বিস্ফোরিত হয়েছে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে, যা মূল ফ্রন্টলাইন থেকে অনেক দূরে।
এর আগে ইসরায়েলের হামলায় বেশ কয়েকজন কমান্ডার নিহত হওয়ায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নিজেদের যোদ্ধাদের মুঠোফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল হিজবুল্লাহ। মূলত এরপরই তারা পেজার ব্যবহার বাড়িয়েছিল।
রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চেইন অব কমান্ড ভেঙে গেলেও সীমান্তের কাছে কয়েকটি গ্রাম নিয়ে গঠিত ছোট কিন্তু স্বাধীন গ্রুপে কাজ করার জন্য ফ্রন্টলাইন যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে হিজবুল্লাহ। তারা স্বাধীনভাবেই দীর্ঘ মেয়াদে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করতে সক্ষম বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ২০০৬ সালে সর্বশেষ যুদ্ধ হয়েছিল। তখনো ইসরায়েলের হামলার মুখে গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা কয়েক সপ্তাহ ধরে সীমান্তের গ্রামগুলোতে যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিলেন।
মাটির নিচে ক্ষেপণাস্ত্র
দুটি সূত্র জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ বেশ ভালোভাবেই তাদের অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছে। রোববার দক্ষিণ লেবাননের এমন এলাকা থেকে রকেট ছোড়া হয়েছিল, যেখানে তার কিছুক্ষণ আগেই ইসরায়েল হামলা চালিয়েছিল।
হিজবুল্লাহর একটি ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগার রয়েছে বলে মনে করা হয়। গত মাসে প্রকাশিত একটি ফুটেজে দেখা যায়, হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা রকেট লঞ্চার নিয়ে টানেলের মধ্য দিয়ে ট্রাক চালাচ্ছেন। রোববার ছোড়া রকেটগুলো ভূগর্ভ থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল কি না, সেটি অবশ্য রয়টার্সের সূত্র জানাতে পারেনি।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট দাবি করেছেন, সোমবারের হামলায় হিজবুল্লাহর হাজার হাজার রকেট ও যুদ্ধাস্ত্র ধ্বংস হয়েছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ১০০ কেজি বিস্ফোরক বহন করতে সক্ষম ওয়ারহেডসহ রকেট, স্বল্পপাল্লার রকেট ও বিস্ফোরক ইউএভি সোমবারের আঘাতে ধ্বংস হয়েছে।
তবে ইসরায়েলের এ দাবির সত্যতাও রয়টার্স আলাদাভাবে যাচাই করতে পারেনি।
মার্কিন কংগ্রেসের এক প্রতিবেদন অনুসারে হিজবুল্লাহর অস্ত্রাগারে প্রায় দেড় লাখ রকেট রয়েছে। সবচেয়ে শক্তিশালী ও দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মাটির নিচেই রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
| বাবা, মা ও ছেলেকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান লেবাননের নারী। লেবাননের জুন গ্রামে, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট পাওয়ার পর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক, ট্রানজিট ও জ্বালানি নিয়ে আলোচনা: ওদিকে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে ব্যবসা, জ্বালানি ও ট্রানজিট সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির মধ্যকার বৈঠকে। নিউ ইয়র্কে বুধবার ওই বৈঠক হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে নেপালের শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির প্রসঙ্গও আসে। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। বলেন, নেপাল থেকে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য আগামী মাসে একটি চুক্তি হতে পারে। মিস্টার আলম বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে চায় চীন: ওদিকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, তার দেশ বাংলাদেশে সোলার প্যানেলে বিনিয়োগ করতে চায়। বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার মাধ্যমে কৌশলগত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতেও আগ্রহী বেইজিং। নিউ ইয়র্কে বুধবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব গণমাধ্যমকে বলেন, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, অধ্যাপক ইউনূসের আহ্বানে সাড়া দিয়ে চীনা সোলার প্যানেল প্রস্তুতকারকরা বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনে আগ্রহী। চীনা সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। গত মাসে ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি চীনের সোলার প্যানেল প্রস্তুতকারকদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশে সোলার প্যানেলে চীনা বিনিয়োগ এলে সেটি আমাদের বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মাইলফলক হবে। সাক্ষাৎকালে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অধ্যাপক ইউনূসকে চীনের জনগণের পুরনো বন্ধু বলে উল্লেখ করেন। তাকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দনও জানান। ড. ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধ থাকবে উল্লেখ করে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা আপনার নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থাশীল। আশা করি আপনি বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বেইজিং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতা এবং অংশীদারিত্ব বাড়াতে উৎসাহিত করবে। তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় গুরুতর আহত ছাত্র-জনতাকে চিকিৎসা দিতে চীনের রেডক্রস চিকিৎসকদের একটি টিম ঢাকায় পাঠিয়েছে।
সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে ৩.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক: এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগকে সমর্থন করতে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার সহজশর্তে ঋণ প্রদান করবে। বুধবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে নিউ ইয়র্কে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি বিশ্বব্যাংকের এই সহায়তার ঘোষণা দেন। অধ্যাপক ইউনূসের দীর্ঘদিনের বন্ধু অজয় বাঙ্গা বলেন, কমপক্ষে ২ বিলিয়ন ডলার হবে নতুন ঋণ এবং আরও ১.৫ বিলিয়ন ডলার বিদ্যমান কর্মসূচি থেকে পুনঃব্যবহার করা হবে। তিনি জানান, বিশ্বব্যাংক ডিজিটালাইজেশন, তারল্য সংকট উত্তরণ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং পরিবহন খাতের সংস্কারে সহায়তা দিতে এই ঋণ দেবে। সাক্ষাৎকালে অধ্যাপক ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গৃহীত ব্যাপকভিত্তিক সংস্কার কর্মসূচির জন্য বিশ্বব্যাংকের সহায়তা কামনা করেন। তিনি বিশ্বব্যাংকের ঋণ কর্মসূচিতে উদ্ভাবন আনার আহ্বান জানান।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক: সার্কের পুনরুজ্জীবন চান ইউনূস: এদিকে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে পাকিস্তানের সমর্থন চাইলেন অধ্যাপক ইউনূস। নিউ ইয়র্কে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ আহ্বান জানান ড. ইউনূস। বলেন, সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার এখনই ভালো সুযোগ। বৈঠকে দুই নেতা পারস্পরিক সহযোগিতা করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। শাহবাজ শরীফ বলেন, বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘নতুন অধ্যায়’ শুরুর মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করা খুবই জরুরি।’ প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও চামড়া খাতে বিনিয়োগে পাকিস্তানের আগ্রহের কথা জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী। এসময় দুই দেশের মধ্যে ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম করার প্রস্তাব দেন অধ্যাপক ইউনূস। এ ছাড়াও বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের আলোচনা নবায়ন এবং দুই দেশের মধ্যে যৌথ কমিশনকে সক্রিয় করার বিষয়েও আলোচনা করেন তারা। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
অন্যান্য প্রসঙ্গ: ওদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দাতব্য সংস্থা বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে আরও সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। নিউ ইয়র্ক স্থানীয় সময় বুধবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক সুজমান সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশে তাদের সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উপেক্ষা করে পূর্ণ শক্তি নিয়ে লেবাননে হামলা করছে ইসরাইল
মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাত্মক একটি যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সেই হুঁশিয়ারিকে উপেক্ষা করে লেবাননে স্থল আগ্রাসন চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছে ইসরাইল। তারা বলেছে, যোদ্ধা গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ’র বিরুদ্ধে সম্ভাব্য স্থল অভিযান চালাতে তাদের সেনাদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। ইসরাইলের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারজি হ্যালেভি বলেছেন, লেবাননে হামলা চালাচ্ছে একটি ট্যাংক ব্রিগেড। তাদেরকে লেবাননের ভেতরে প্রবেশ করে সম্ভাব্য অভিযান চালাতে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। গত তিন দিনে লেবাননে হিজবুল্লাহ’র কমপক্ষে ২০০০ টার্গেটে হামলা করেছে তারা। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত উত্তরের সীমান্তে সংঘর্ষের ফলে স্থানীয় অধিবাসীরা নিরাপদে বাড়ি ফিরতে না পারবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত হিজবুল্লাহ’র বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ হবে না। তেল আবিবের বাইরে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদর দপ্তরে হিজবুল্লাহ হামলা চালানোর পর এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা মনে করে লেবাননে ইসরাইলের স্থল অভিযান খুব শিগগিরই হবে না। সাংবাদিকদের এমনটা জানিয়েছেন পেন্টাগনের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সাব্রিনা সিং। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সার্বিক এক যুদ্ধের বিষয়ে সতর্ক করেছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। তিনি একটি নিউজ চ্যানেলকে বলেছেন, সর্বাত্মক একটি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা আছে। এমন অবস্থায় বুধবার যৌথ এক বিবৃতিতে ইসরাইল-লেবানন সীমান্তে অবিলম্বে ২১ দিনের অস্ত্রবিরতির আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তাদের মিত্র কিছু দেশ। লেবাননে অবিলম্বে অস্ত্রবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরাঁ। অন্যদিকে লেবাননে ইসরাইলি অভিযানের কড়া নিন্দা জানিয়েছে হিজবুল্লাহ’র প্রধান সমর্থক ইরান। তারা সতর্ক করেছে যে, এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে পুরো মাত্রায় বিপর্যয়ের মুখে আছে। তারা আরও সতর্ক করে বলেছে, ইসরাইল যদি আক্রমণ অব্যাহত রাখে, উত্তেজনা বাড়ায় তাহলে সার্বিকভাবে লেবাননকে সহযোগিতা করবে তেহরান।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অসাধারণ ও বিতর্কিত এক অধ্যায়ের সমাপ্তি
সময়টা মাঠের বাইরে বা ভেতরে, কোথাও ভালো যাচ্ছিল না অনেকদিন ধরে। মাঠের ক্রিকেটে সাকিব অনেকদিন ধরেই বিবর্ণ। ক্যারিয়ারে তাকে এত খারাপ সময় আগে কাটাতে দেখা যায়নি। এই প্রথম তাকে বাদ দেবেন কিনা প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে কোনো অধিনায়ককে। আজ ভারতের বিপক্ষে সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। গতকাল অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তরই সংবাদ সম্মেলনে আসার কথা। কিন্তু জানা যায়, আসছেন সাকিব আল হাসান। তবে কিছুটা অদ্ভুত লাগলেও তখনো কেউ টের পাননি সাকিব আসছেন বিদায়ের গান শোনাতে।
সবশেষ জাতীয় নির্বাচনে মাগুরা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য হন সাকিব। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয় গত মাসে। এরপর আন্দোলনে গার্মেন্টসকর্মী রুবেল হত্যার ঘটনায় তার বাবা রফিকুল ইসলামের দায়ের করা মামলায় ১৫৬ জন আসামির তালিকায় ২৮ নম্বরে আছে সাকিবের নাম। মামলাটি হওয়ার সময় সাকিব ছিলেন বাংলাদেশ দলের সঙ্গে পাকিস্তান সফরে। ওই সফরের পর তিনি আর দেশে ফেরেননি। পাকিস্তান থেকে ইংল্যান্ডে যান ঘরোয়া কাউন্টি ক্রিকেটে খেলতে। সেখান থেকে সরাসরি ভারতে দলের সঙ্গে যোগ দেন সাকিব। হত্যা মামলা মাথায় নিয়ে দেশে ফেরা ও পরে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে ফেরা নিয়ে সাকিব নিজেও আছেন শঙ্কিত।
আগামী মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। এই সিরিজে খেলবেন কিনা প্রশ্নের উত্তরে সাকিব জানিয়ে দেন টেস্ট থেকে অবসরের পরিকল্পনা। বলেন, ‘দেখুন, এখন পর্যন্ত আমি তো অ্যাভেইলেবল। দেশে যেহেতু অনেক পরিস্থিতি আছে, সবকিছু অবশ্যই আমার ওপরে না। আমি বিসিবির সঙ্গে এসব নিয়ে আলোচনা করেছি। তাদের বলা হয়েছে আমার কী পরিকল্পনা। এই সিরিজ আর হোম সিরিজটা আমি ফিল করেছিলাম আমার শেষ সিরিজ হবে, টেস্ট ক্রিকেটে স্পেশালি।’
দেশে ফিরলে কী হবে বা হতে পারে সেটা নিয়েও চিন্তায় আছেন সাকিব। খুব ভালো করেই জানেন, কীভাবে সমালোচিত হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে। আর সে কারণেই দেশে ফেরা ও সিরিজ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে নির্বিঘ্নে ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা চেয়েছেন তিনি। কণ্ঠে অসহায়ত্ব নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় তারকা বলেন, ‘আমি যেন গিয়ে খেলতে পারি এবং নিরাপদ অনুভব করি। যখন দেশের বাইরে আসার দরকার হবে, দেশের বাইরে আসতেও যেন আমার কোনো সমস্যা না হয়। বোর্ড খেয়াল করছে। বিষয়গুলোর সঙ্গে যারা জড়িত, তারা দেখছেন। তারা হয়তো আমাকে একটা সিদ্ধান্ত দেবেন, যেটার ভিত্তিতে আমি দেশে গিয়ে খুব ভালোভাবে খেলে অন্তত টেস্ট ফরম্যাটটা ছাড়তে পারবো।’
বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের সঙ্গে কথা হয়েছে সাকিবের। টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ২৪২ উইকেটের মালিক বলেন, ‘ফারুক ভাইয়ের সঙ্গে ও নির্বাচকদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। যদি সুযোগ থাকে, আমি যদি দেশে যাই, খেলতে পারি, তাহলে মিরপুর টেস্ট হবে আমার জন্য শেষ। সেই কথাটা বোর্ডের সবার সঙ্গে বলা হয়েছে। তারা চেষ্টা করছেন কীভাবে সুন্দরভাবে আয়োজন করা যায়।’
অভিমান নয়, নতুনদের সুযোগ দিতেই এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের হয়ে ৭০ টেস্ট খেলা সাকিবের। তিনি বলেন, ‘কষ্ট কিংবা অভিমান থেকে নেয়া নয়। আমার মনে হয় এটাই সঠিক সময়, সরে যাওয়ার জন্য এবং নতুনদের আসার সুযোগ তৈরি করে দেয়ার জন্য।’ সাকিব জানিয়ে দেন বাংলাদেশের জার্সিতে আর টি-টোয়েন্টিও খেলবেন না। বলেন, ‘আমার তো মনে হয়, টি-টোয়েন্টিতে আমার শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছি বিশ্বকাপে।’
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরিকল্পনার দিকে তাকালে এখন আর এই সংস্করণে খেলার কোনো মানেই নেই সাকিবের কাছে। বাংলাদেশের হয়ে ১২৯ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা সাকিব বলেন, ‘এই সিরিজগুলো আমার খেলার কোনো কারণ আছে বলে মনে করি না। আমার মনে হয় নতুনদের সুযোগ দেয়া উচিত। তাদের দেখা এটাই সবচেয়ে ভালো সুযোগ। ২০২৬ সালের দিকে যদি বাংলাদেশ ক্রিকেট তাকায়, তাহলে এটাই বাংলাদেশের জন্য ভালো। আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সবাই একমত।’
তবে টি-টোয়েন্টিকে বিদায় বললেও দলের প্রয়োজনে ফেরার রাস্তাও খোলা রেখেছেন সাকিব। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৪৯ উইকেটের মালিক বলেন, ‘আমি ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগগুলো খেলতে থাকি, ছয় মাস এক বছর পরে যদি বিসিবি মনে করে আমার টি-টোয়েন্টিতে কন্ট্রিবিউট করার সুযোগ আছে, আমি পারফর্ম করছি এবং ফিট আছি, দেন আমরা ডিসাইড করতে পারি। কিন্তু এই মুহূর্তে নিজেকে টি-টোয়েন্টিতে দেখছি না। সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে আমার ইচ্ছা আছে টেস্টে শেষ সিরিজ হওয়ার। মোটামুটি বলতে পারেন, আমি অন্তত দুটি সংস্করণে আমার শেষটা দেখছি।’
গত বছর সাকিব বলেছিলেন ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলবেন। সেক্ষেত্রে বাকি থাকলো ওয়ানডে ফরম্যাট। সেটাও নিশ্চিত করলেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘(ওয়ানডে অবসর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি দিয়ে?) আমি তা-ই আশা করি। তো আর হয়তো ৯টা ওয়ানডে।’
২০০৬ থেকে ২০২৪, অন্তত এই ১৮ বছরের ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো আক্ষেপ, অনুশোচনা নেই সাকিবের। ১৯ টেস্ট ও ৩৯ টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেয়া এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘আমি মনে করি, আমি রিজনেবলি ওকে করেছি। আমি খুশি। কোনো অনুশোচনা নেই। জীবনে কখনো অনুশোচনা ছিল না। এখনো নেই। যত দিন উপভোগ করেছি, আমি ক্রিকেট খেলেছি। আমার মনে হয়েছে, এটা বাংলাদেশ ক্রিকেট ও আমার জন্য সঠিক সময়, যে কারণে এই সিদ্ধান্তগুলো নেয়া। কোচ, অধিনায়ক, নির্বাচক, বোর্ড- সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া।’

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে: এএনআইকে মির্জা ফখরুল
প্রণয় ভার্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আমরা পানি বণ্টন ইস্যু, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, বাণিজ্যে অসামঞ্জস্যতা নিয়ে কথা তুলেছি। একই সঙ্গে ভারতের প্রধান ইস্যু হলো নিরাপত্তা সমস্যা। আমরা নিশ্চয়তা দিয়েছি যে, আমরা যদি ক্ষমতায় আসি তাহলে এটা নিশ্চিত করবো যে- আমাদের এই দেশ ব্যবহার করতে পারবে না বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।
মির্জা ফখরুল বলেন, সব সময়ই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক আছে। কিন্তু বিএনপি ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে কিছু ভুল বোঝাবুঝি আছে। আমি মনে করি বরফ গলতে শুরু করেছে। আমি আশা করি এই সম্পর্ক এ সময়ে আরও উন্নত হবে। আমাদের পরিস্থিতি তারা বোঝার চেষ্টা করবে। আমরা বিশেষ করে পুনর্ব্যক্ত করেছি যে, বাংলাদেশের জনগণের পালস বোঝার চেষ্টা করা উচিত ভারতের। সব ডিম তাদের একটি বাস্কেটে রাখা উচিত হবে না। তাদের উচিত হবে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক গড়ে তোলা।
এরই মধ্যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনের এক ফাঁকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তারপরই ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক একধাপ অগ্রগতি হয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, অবশ্যই এটা খুব বড় বিষয়। বাংলাদেশে ক্ষমতার রাজনীতিতে এই পরিবর্তনের পর জয়শঙ্করের সঙ্গে পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সাক্ষাৎ বড় একটি বিষয় এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বিশ্বাস করি- এই বৈঠকের পর সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হওয়া উচিত। দুই দেশের সম্পর্ক শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের তিক্ত বিরোধী বিএনপি। তারা মনে করে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত দেয়া উচিত, যাতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের মুখোমুখি হন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, আমি এখনো জানি না যে, সরকার এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করেছে কিনা। কিন্তু আমি মনে করি, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর উচিত ফেরত এসে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের মুখোমুখি হওয়া এবং তার জবাবদিহিতার মুখোমুখি হওয়া।
৯ থেকে ১৩ই অক্টোবর হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা উৎসব। তাকে সামনে রেখে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য সব ইউনিটকে সতর্ক করেছে বিএনপি। বাংলাদেশে ৩২,৬৬৬টি প্যাভিলিয়নে এই পূজা উদ্যাপন করা হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায় ভয়াবহ সমস্যা মোকাবিলা করছেন এমন ভুল প্রচারণা নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। ভয়াবহ কোনো সমস্যা এখনো চলমান- এমনটা আমি মনে করি না। প্রতিটি পরিবর্তনের পরই কিছু সমস্যা হয় রাজনৈতিক, সেটা ধর্মীয় বা সম্প্রদায়গত নয়। কিছু ঘটনা ঘটে। এর প্রকৃতি রাজনৈতিক, সাম্প্রদায়িক নয়। পূজাকে সামনে রেখে বিশেষ করে সারা দেশে আমাদের ইউনিটগুলোকে সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দিয়েছি। বিএনপি আরও বিশ্বাস করে বাংলাদেশ শিগগিরই অন্তর্বর্তী সরকার থেকে একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারে ফিরে যাবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সেভেন স্টার গ্রুপে জিম্মি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক by এম এম মাসুদ
সেভেন স্টার গ্রুপ নামের পরিচিতিরা হলেন- কামাল হোসেন, আসমা হক, ফরহাদ হোসেন, হাসনা হেনা, মো. সাইফুল ইসলাম, মাসুদুর রহমান ও সৈয়দ ইমরান। এদের বাঁচাতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন একাধিক কর্মকর্তা।
ব্যাংকের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠাকালে ব্যাংকটির দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অস্থায়ী ও দৈনিক ভিত্তিতে কয়েকজন ইন্টার্ন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের নিজস্ব সার্ভিস রুল তৈরি করতে। সার্ভিস রুল তৈরি না হওয়া পর্যন্ত কর্মসংস্থান ব্যাংকের সার্ভিস রুল অনুসরণ করতে বলা হয়। কিন্তু ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ওই নির্দেশনা মানেনি, নিয়োগ দিয়েছে পছন্দের ব্যক্তিদের। সরকারি চাকরিবিধির চেয়ে বেশি বয়স হওয়া সত্ত্বেও এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করেও অনেকে নিয়োগ পান। এসব কর্মকর্তার সম্মিলিত চক্রই এখন ব্যাংকের কলকাঠি নাড়ছে। অনিয়মের মাধ্যমে চাকরি পাওয়া ওই কর্মকর্তাদের অনেকে এখন আর্থিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, একজন শাখা ব্যবস্থাপক, যিনি ঋণ ইস্যু করে নিজেই অর্থ তুলে নিয়েছেন। এ ছাড়া ওই শাখার পিয়নের নামে ইস্যু করেছেন প্রবাসী কর্মীর ঋণ। এভাবে নামে-বেনামে ঋণ তৈরি করায় তা ফেরত আসছে না। খেলাপি ঋণের উচ্চহারের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের প্রথম পর্যায়ে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয়া একজন হচ্ছেন হাসনা হেনা পারভীন, যার জন্ম-তারিখ ১৯৭৪ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর। ২০১১ সালের ১৩ই এপ্রিল তিনি ওই ব্যাংকে যোগ দেন। শিক্ষাগত জীবনে চারটিতেই দ্বিতীয় শ্রেণি। নিয়োগের বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩০ বছর হলেও তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৩৭ বছর বয়সে। পারভীনের সঙ্গে আরও যেসব কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তাদের বেশির ভাগ কর্মীর বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা বা চাকরি লাভের শর্ত মানা হয়নি।
সূত্র জানায়, এসব কর্মকর্তাকে প্রথম পর্যায়ে দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। তখনো প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক আইন পাস হয়নি। ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠাকালে তাদের অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু স্থায়ী নিয়োগ দেয়ার সময়ে তাদের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। ব্যাংকের অডিটের সময়ে এটিসহ কয়েকটি বিষয় বেরিয়ে আসে। এর মধ্যে ব্যাংকটির বরিশাল শাখায় সৈয়দ মেহেদী হাসানকে কখনো দৈনিক এবং কখনো অফিসার ও এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে বেতন-ভাতা দেয়া হয়েছে। আবার এক মাসের ব্যবধানে তাকে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে বেতন দেয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে সাতজনের বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। এরা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ব্যতীত, জেলা কোটা, মেধা কোটা ও অন্যান্য কোটা পরিপালন ছাড়াই প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে নিয়োগ পেয়েছেন। এর মধ্যে সেভেন স্টার গ্রুপের সদস্য কামাল হোসেন চাকরির বয়স না থাকা ও কম্পিউটার অপারেটর হয়েও ব্যাংকটিতে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি ২০১১ সালে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ। তিনি বছরের পর বছর ব্যাংকের ক্রয় বিভাগে কর্মরত আছেন। ক্রয় বিভাগের সকল অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এবছর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে শুদ্ধাচার পুরস্কারে ভূষিত করেছে। এতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের পরীক্ষণকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের কমিটিতে তিনি শেখ কামাল পাশা নামে পরিচিত। কমিটিতে তিনি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন। তার নাম ঠিক আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন নাম ঠিক আছে। কিন্তু তিনি কমিটিতে নেই বলে অস্বীকার করেন।
সেভেন স্টার গ্রুপের আরেক সদস্য আসমা হক। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাতি বৌ হিসেবে পরিচয় দিতেন। তিনি অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং এজিএম হিসেবে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত হয়েছেন, যা গত জুন মাসের আফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ২০১১ সালে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। বিভিন্ন অপকর্ম থেকে বাঁচাতে প্রধান কার্যালয় থেকে গত ৮ই আগস্ট কেরানীগঞ্জ শাখায় শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে বদলি করা হয় তাকে।
স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের সভাপতি ফরহাদ হোসেন। তিনিও ওই সাতজনের একজন। বাড়ি ফরিদপুর। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়ার পরও তিনি ব্যাংকটিতে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত এজিএম। স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের সদস্য হাসনা হেনা। সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত এজিএম। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শাখার শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।
আরেক সদস্য স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি প্রিন্সিপাল অফিসার। বাড়ি ফরিদপুর। তিনি প্রায় এক যুগ ধরে প্রধান কার্যালয়ের মানবসম্পদ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। সমপ্রতি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে বাঁচানোর জন্য ব্যাংকের কাকরাইল শাখায় বদলি করেছে।
স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ ইমরান। তিনিও সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল অফিসার। বাড়ি ফরিদপুর। ব্যাংকটিতে যোগদানের পর থেকেই ব্যবস্থাপনা পরিচালকের একান্ত সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মূলত তার মাধ্যমেই স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদ ব্যাংকের প্রধান কর্মকর্তার সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে সকল ধরনের অনৈতিক সুবিধা আদায় করতেন। ব্যাংকে সকল অবৈধ কর্মকাণ্ডের মূলহোতা হিসেবে সুপরিচিত। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে বাঁচানোর জন্য সমপ্রতি প্রধান শাখার দ্বিতীয় কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুর রহমান। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার ছিল বিশেষ সখ্য। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদ সমর্থিত এই গ্রুপটি বিধি-বহির্ভূতভাবে পদোন্নতি নিয়েছে। এমনকি এক বছরে দু’বার পদোন্নতি ও ইনক্রিমেন্ট নিয়েছে। ব্যাংক থেকে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, বদলি বাণিজ্য, গ্রুপিং তৈরি করা, পছন্দের প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাংকের কেনাকাটা করার সঙ্গে জড়িত ছিল।
অভিযোগ রয়েছে- ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৮০ কোটি টাকার কেনাকাটা হয়েছে। ওই ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে একটি নিরপেক্ষ অডিট ফার্ম দিয়ে নিরীক্ষার দাবি তোলা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, ব্যাংকের বিভিন্ন পদে ১১৮ জন অবৈধ নিয়োগের বিষয়ে বাণিজ্যিক অডিটের আপত্তির বিষয়ে ব্যাংক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বরং বর্তমান ম্যানেজমেন্ট বিভিন্নভাবে তাদের স্বার্থ রক্ষা করে চলেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আদেশ মোতাবেক, ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য লোকবল নিয়োগের ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান ব্যাংকের চাকরি প্রবিধানমালা অনুসরণের নির্দেশনা প্রদান করা হলেও উল্লিখিত ১১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্র তা করা হয়নি। এই অবৈধভাবে নিয়োগকৃতরাই এখন ব্যাংকের হর্তাকর্তা। আরও অভিযোগ আছে প্রবাস গমনেচ্ছুদের নামে ঋণ ইস্যু করে নিজেই সেই ঋণের অর্থ তুলে নিয়েছেন ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক। ব্যাংকের পিয়নের নামেও ইস্যু করা হয়েছে বিদেশগামীদের ঋণ।
নিয়োগ ও বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবর রহমান ব্যস্ততার কথা জানিয়ে কথা বলতে চাননি।
উল্লেখ্য, বিদেশগামী ও প্রবাসীদের সুবিধার জন্য ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় ব্যাংকটি। বিশেষ উদ্দেশ্য পূরণে গঠিত এ ব্যাংকটি সামপ্রতিক সময়ে তফসিলি ব্যাংক হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানার এ ব্যাংকটি তফসিলভুক্ত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকেও অভিযোগ জমা হয়েছে ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া ও নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগ্যতা নিয়ে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বজায় রেখে সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকবে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনের সাইডলাইনে “ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ“ শীর্ষক একটি সম্মেলন তিনি এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর এনআরবি ‘র উদ্যোগে আয়োজিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন এনআরবি সেন্টারের চেয়ারপার্সন এম এম এস সেকিল চৌধুরী। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জাতিসংঘ স্কলার ও চিন্তাবিদ ইন্দোনেশিয়ার ড. শামসী আলী, জাতিসংঘের পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ইনা ইসলাম, লন্ডন ব্রান্ট কাউন্সিলের প্রাক্তন মেয়র পারভেজ আহমদ ও বাংলাদেশের ব্যবসায়ী নেতা মো. সবুর খান।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ নেন এনআরবি সেন্টার আমেরিকার সাপোর্ট গ্রুপের প্রতিনিধি ব্যবসায়ী সানওয়ার চৌধুরী, লেখক সাংবাদিক শামসাদ হুসাম, সমাজসেবী বদরুন নাহার মিতা ও কবির চৌধুরী, মহিলা উদ্যোক্তা তহুরা চৌধুরী, এডভোকেট নাসির উদ্দীন, কমিউনিটি নেতা রোকন হাকিম, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বদরুল আলম, ব্যবসায়ী নেতা লিটন আহমদ, ব্যাংকার ওয়াসেফ চৌধুরী, সমাজসেবী আব্দুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার মোজাফ্ফর আহমদ, তরুণ উদ্যোক্তা শেখ ফরহাদ প্রমুখ।
বক্তারা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে প্রবাসী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি দল নিরপেক্ষ মেধাবী ব্যক্তিদেরও কাজে লাগাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে এম এস সেকিল চৌধুরী বলেন, প্রবাসীরা বিদেশে দেশের ব্র্যান্ডিং করছেন, রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখছেন সুতরাং রাষ্ট্রকে প্রবাসীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, এনআইডি কার্ড, পাসপোর্ট নবায়নসহ অত্যাবশ্যকীয় কনসুলার সেবাগুলো সহজলভ্য করতে হবে। সেকিল চৌধুরী বলেন, আমাদের শান্তিরক্ষীরা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে চলেছেন, তাদের ত্যাগ বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে এ কাজকে আরও এগিয়ে নিতে যেতে হবে।
তিনি বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে দলবাজির বাইরে রাখতে হবে, কূটনৈতিকদের দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে দূরে রাখতে হবে, মিশনগুলোতে দলমত নির্বিশেষে সকল প্রবাসীকে সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে, মিশন কর্মকর্তাদের অযথা কাজে যোগদান থেকে বিরত রাখতে হবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৪০ আইনজীবী ও সাবেক ডিবি প্রধান হারুনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণের নির্দেশ
মামলার বাদী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বার এসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী সদস্য এবিএম ইব্রাহিম খলিল মানবজমিনকে বলেন, গত ১৯শে সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় ৪০ আইনজীবী ও সাবেক ডিবি প্রধান হারুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করি। কিন্তু শাহবাগ থানা মামলা গ্রহণ না করে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করি। গত বুধবার আদালত শুনানি শেষে অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করতে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে- সাবেক আইনমন্ত্রী মো. আনিসুল হক, সাবেক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এম আমিন উদ্দিন, বারের সাবেক সভাপতি এডভোকেট মমতাজ উদ্দিন ফকির, বারের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুন নুর দুলাল, সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান চৌধুরী, বারের সাবেক সম্পাদক এডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক, ব্যারিস্টার খন্দকার রেজা-ই-রাকিব, ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম, সাবেক ডিএজি এডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু, এডভোকেট মেসবাহুর রহমান (তাপসের সহযোগী), সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মো. মোরশেদ, এডভোকেট মনিরুজ্জামান, এডভোকেট ওজিউল্লাহ, এডভোকেট আজাহারুল্লা ভূঁইয়া, এডভোকেট সৌমিত্র সরদার, এডভোকেট শুভ, (সিলেট), এডভোকেট কাজল রশিদ বিশ্বাস, ব্যারিস্টার ইমরান (তাপসের সহযোগী), সাবেক ডিএজি এডভোকেট আসাদুজ্জামান মনির, সাবেক এ.এ.জি, এডভোকেট মিজান (বরগুনা), ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক জগলুল কবির, সাবেক এ.এ.জি সাইফ, এডভোকেট শাহ নেওয়াজ, সাবেক এ.এ.জি, মুকিম, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন-অর-রশিদ, ডিসি রমনা, (সুপ্রিম কোর্ট ইনচার্জ, ডিসি) মোহাম্মদ মমিন, রমনা জোনের সাবেক এডিসি হারুন, শাহবাগ থানার এসআই গোলাপ উদ্দিন মাহমুদ, এ.সি রমনা জোনের মো. বায়েজীদুর রহমান, ধানমণ্ডি জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল আল মাসুম, নিউ মার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ ফারুক, শাহবাগ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাহফুজুল হক ভূঞা, পুলিশ পরিদর্শক মো. গোলাম মোস্তফা, নায়েক মো. বাকী বিল্লাহ, মো. মঈনুদ্দীন, রাকিব সরকার, কিবরিয়া, রকিবুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ৪০/৫০ জন সন্ত্রাসী প্রকৃতির আইনজীবী ও ১০০ জন স্পেশাল পুলিশ সদস্য।
অভিযোগে যা বলা হয়, আসামি সাবেক ডিবি প্রধান হারুন-অর-রশিদের নির্দেশক্রমে রমনার সাবেক ডিসি মোহাম্মদ মমিন ও রমনা জোনের সাবেক এডিসি হারুনের নেতৃত্বে ২০২৩ সালের ১৫ই মার্চ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৩-২০২৪ নির্বাচনকে বানচাল করার উদ্দেশ্যে ১,২ ও ৩নং আসামির নির্দেশনা ও সার্বিক পরিকল্পনায় ৪-২৫নং আসামিদের উপস্থিতিতে পুলিশ ও অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী আইনজীবী আসামিগণসহ অজ্ঞাতনামা ১০০ পুলিশ সদস্য সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে জোরপূর্বক প্রবেশ করে বিএনপি সমর্থক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও ভোটারদের হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। তৎসময়ে সদস্য পদপ্রার্থী আইনজীবী কাজী মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ প্রতিবাদ করলে ২৯নং আসামি রাইফেলের বাঁট দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। অতঃপর ২৯নং আসামির সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যগণ আইনজীবী আহাদকে ফ্লোরে ফেলে বুট জুতা দিয়ে পিষ্ট করতে থাকে। এতে আইনজীবী আহাদ মারাত্মকভাবে আহত হন। তৎপর ৪নং আসামি আইনজীবী রেজাকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং ২৮নং আসামি ও তৎসঙ্গীয় পুলিশ সদস্যগণ আইনজীবী রেজাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় বারের নির্বাচিত সহ-সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান খান এগিয়ে আসলে ৩৪নং আসামি ও তার সঙ্গীয় পুলিশ তাকেও রাইফেলের বাঁট ও বুট জুতা দিয়ে এলোপাতাড়ি লাথি ও আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। আইনজীবী আয়েশা আক্তার নির্বাচন কমিশনারের সদস্য দায়িত্ব পালন করতে গেলে ৬নং আসামি মারধর করে ফ্লোরে ফেলে দেয়। এরপর আয়েশা আক্তারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি মেরে নীলা ফোলা জখম করে। ২৩নং আসামি তার হাতে থাকা পিস্তলের বাঁট দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। অতঃপর ৬নং ও ২৩নং আসামি আয়েশা আক্তারকে টানা-হেঁচড়া করে অডিটোরিয়াম থেকে বের করে দেন। এ ছাড়াও এদিন পুলিশের লাঠিচার্জে ২৫ সাংবাদিক গুরুতর আহত হওয়া কথা উল্লেখ করা হয়।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইউপি বহাল রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না: বিএনপি
পার্বত্য জেলাগুলোতে উদ্ভূত সংঘাতের ঘটনাগুলোতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অস্থিতিশীল করার সুদূর প্রসারী চক্রান্তের অংশ হিসাবে এধরনের সংঘাতের সৃষ্টি করা হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ রূপে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই ঘটনা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্তের প্রতি হুমকি স্বরূপ। এই ঘটনাগুলো হালকা করে দেখার কোন সুযোগ নেই। পার্বত্য জেলাগুলোতে শান্তি স্থাপনের জন্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল, পার্বত্য জেলায় সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের একটি জাতীয় কনভেনশন আহ্বান করা জরুরি। এই লক্ষে পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয় বৈঠকে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মনে করেন, পতিত ফ্যাসিবাদ ক্ষমতায় ফিরে আসার জন্য পরিকল্পিতভাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মাজারে হামলা, ভাংচুর ও ‘মবলিংচিং’ এর মত ঘটনা ঘটিয়ে শিল্পাঞ্চল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সরকারের উদ্যোগে সকল গণমাধ্যমে জন সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং সকল দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার প্রচারণা বাড়ানো প্রয়োজন। এসব সমাজবিরোধী এবং ঐক্য বিনাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান হয় এবং অবিলম্বে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা জরুরি বলেও মনে করেন তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে সম্প্রতি ‘বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করা হবে’ বলে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যে হুমকি দিয়েছেন তার তীব্র নিন্দা করা হয় এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য অন্তরায় হিসাবে কাজ করার বিষয়ে ভারতীয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও নেতৃবৃন্দকে এই ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এধরনের মন্তব্যে কঠোর সমালোচনা এবং বিরত থাকার আহ্বান জানানোয় সন্তোষ প্রকাশ করা হয় বৈঠকে।
বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সবাই একটা জিনিসই চেয়েছে, শেখ হাসিনার পতন: মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
ওই পোস্টে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালে এসে কেউ যদি নিউটনের গতিসূত্র আবিষ্কার করেন এবং সেই আবিষ্কারের আনন্দে ইউরেকা ইউরেকা বলে চিৎকার করতে থাকেন, তাহলে কি বলা যাবে? ছাত্র-জনতার আন্দোলনে জামায়াত ছিলো না, এই কথাটা কে বলেছে কবে? বাংলাদেশের সবাই জানে এই আন্দোলনের প্রথম থেকে বিএনপি, জামায়াত ও বাম দলসহ দল-মত নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণ ছিল। সবাই একটা জিনিসই চেয়েছেন, শেখ হাসিনার পতন।’
নিরাপদ সড়কের দাবিতে কিশোর আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘আরেকটু পরিষ্কার করে বলি, শুধু এবারই প্রথম চেয়েছে তা না। যখন নিরাপদ সড়কের দাবিতে কিশোর আন্দোলন হয়েছে তখনও প্রত্যেকে ওয়াটার টেস্ট করে দেখেছে, এটা কি সরকার পতনের আন্দোলনের দিকে নেওয়া সম্ভব কিনা। জিও পলিটিক্যাল বাস্তবতা এবং সেনাবাহিনীর বাস্তবতায় সেটা সম্ভব ছিল না বুঝতে পেরে আবার প্রত্যেকে দমেও গেছে। নুরুল হক নুরুদের নেতৃত্বে কোটা আন্দোলনে একই জিনিস টেস্ট করে দেখেছে বাংলাদেশ। যখন দেখলো এটা সরকার পতনের আন্দোলন হিসেবে সফল হবে না, তখন সবাই আবার চেপেও গেছে।’
তিনি বলেন, ‘এবারও পুরো জাতি ওয়াটার টেস্ট করেছে এবং করে ২০ জুলাই এর মধ্যে বুঝতে পেরেছে যে, এই আন্দোলনে সরকার পতন সম্ভব। ফলে মানুষ সরকার পতন ঘটিয়েছে!’
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের প্রতি প্রশ্ন রেখে এই চলচ্চিত্র নির্মাতা আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের উচিত হবে ভাবা, কেন সবাই তাদের পতন চেয়েছে। ক্লিয়ার?’

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1422)
- ► 2025 (3281)
-
▼
2024
(2551)
-
▼
September
(772)
-
▼
Sep 27
(30)
- পরাজিত ফ্যাসিবাদী হাসিনা ছাত্র-জনতার বিপ্লবকে নস্য...
- মাস্টারমাইন্ড প্রসঙ্গে যা বললেন উপদেষ্টা নাহিদ
- বাংলাদেশের অভ্যুত্থান বিশ্বব্যাপী মানুষকে প্রেরণা ...
- ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাতিসংঘ বিজয় by ডা. ওয়াজেদ খান
- যেভাবে ছাত্র বিপ্লবের মুখ নাহিদ ইসলাম: টাইম ম্যাগা...
- জাহিনকে নিয়ে নানা প্রশ্ন
- জৌলুস হারাচ্ছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত by ওয়াহিদুর রহ...
- ‘রগ কাটা’ নিয়ে ঢাবি শিবির সেক্রেটারির জবাব
- অবশেষে আঁতুড়ঘরেই শিবিরের আত্মপ্রকাশ
- পারমাণবিক অস্ত্রনীতিতে বদল আনলেন পুতিন, পশ্চিমা বি...
- বাংলাদেশের নতুন যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের...
- ইসরায়েলের হামলা সত্ত্বেও অটুট হিজবুল্লাহর সুড়ঙ্গ ...
- সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট পাওয়ার পর নির্বাচনের তারিখ...
- মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ
- যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উপেক্ষা করে পূর্ণ শক্তি নিয়ে ...
- অসাধারণ ও বিতর্কিত এক অধ্যায়ের সমাপ্তি
- ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে: এএনআইক...
- সেভেন স্টার গ্রুপে জিম্মি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক by...
- রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বজায় রেখে সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর...
- ৪০ আইনজীবী ও সাবেক ডিবি প্রধান হারুনের বিরুদ্ধে মা...
- ইউপি বহাল রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না: বিএনপি
- সবাই একটা জিনিসই চেয়েছে, শেখ হাসিনার পতন: মোস্তফা ...
- ‘ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ’ অনুষ্ঠান: জাহিন রাজিন...
- শেখ পরিবার ভদ্রতা-শিষ্টাচারের কালচার শেখেনি: রিজভী
- ‘সুইসাইড পড’ ব্যবহার করে প্রথম স্বেচ্ছা মৃত্যুবরণ ...
- শাহপরান (রহ.) মাজার পরিচালনা: ওয়াক্ফ’র নির্দেশনা ...
- ‘আমি কীভাবে খেলছি, এটা আল্লাহ্ই জানেন’ by সৌরভ কু...
- লাশ লঞ্চের ছাদ থেকে ফেলে দেয় প্রেমিক: ধর্ষণের পর জ...
- সাভারে দখলের হাত বদল, সংঘাত by শরিফ রুবেল
- আতাউস সামাদের স্মরণসভায় বক্তারা: বস্তুনিষ্ঠ সংবাদে...
-
▼
Sep 27
(30)
-
▼
September
(772)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


