Thursday, October 15, 2009

আগেই মাঠে মোহামেডা

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও হকিতে চলছে নির্বাচনী তোড়জোড়। ৭১ জন কাউন্সিলরের নাম ২০ মের মধ্যে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) জমা দিতে হবে। এরপরই নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করবে এনএসসি।
হকির আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে কাল দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে মোহামেডান। ক্লাবটির হকি কমিটির চেয়ারম্যান শফিউল্লাহ আল মুনির সাধারণ সম্পাদক ও সাজেদ এ আদেলকে সহসভাপতি প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেন মোহামেডানের ডিরেক্টর ইন-চার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া। মুনির অবশ্য কাউন্সিলর হয়েছেন মেরিনার্স ক্লাব থেকে। তবে কাল ক্লাব ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দুজনকেই বিজয়ী করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মোহামেডানের এভাবে প্রার্থী ঘোষণায় একটু হতাশই হয়েছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক খাজা রহমতউল্লাহ। তিনি আশায় ছিলেন ঐকমত্যের একটি প্যানেল হবে, ‘আমরা যখন কাউন্সিলরদের সঙ্গে সর্বশেষ বসি তখন তারাই বলেছিল ঐকমত্যের ভিত্তিতেই প্যানেল হবে। কিন্তু উদ্যোগ নেওয়ার আগেই এভাবে ঘোষণা দিয়ে দিল। এটা হতাশার। ঐকমত্যের যে প্রক্রিয়াটা ছিল, এখন সেটা বাধাগ্রস্ত হলো।’ আবাহনী থেকে কাউন্সিলর হতে না পারলেও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাউন্সিলর হয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন রহমতউল্লাহ। কিন্তু মোহামেডানের সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন ঊষা ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রশিদ শিকদার, ওয়ারী ও অ্যাজাক্সের প্রতিনিধিরা। ছিলেন ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুল বারীও।
সাম্প্রতিক সময়ে হকির সাফল্য পুঁজি করছেন রহমতউল্লাহ। মুনিরকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বললেন, ‘একজন ব্যবসায়ী তাঁর ব্যবসা ফেলে রেখে কতটুকু সময় দিতে পারবে ফেডারেশনে সেটাও দেখার বিষয়। অতীতে আমাদের এটা নিয়ে বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছে। জেতার জন্য আমরা আমাদের মতো করে কাউন্সিলরদের কাছে যাব। সময়ই বলবে কার অবস্থা কেমন দাঁড়াবে।’

বর্ণবাদবিরোধী দ্রগবা

বর্ণবাদের কত রূপই না আছে! পরশু তুর্কি লিগে গ্যালাতাসারাই-ফেনেরবাচে ম্যাচে এক ফেনেরবাচে সমর্থক যেমন কলা ঝুলিয়ে দেখাল দুই আইভরিয়ান দিদিয়ের দ্রগবা ও ইমানুয়েল ইবুকে। ইঙ্গিত, বানরের সামনে কলা ঝোলানো! ক্যামেরুনের স্ট্রাইকার পিয়েরো ওয়েবোর দুই গোলে ম্যাচে ২-১ গোলে জিতেছে আগেই চ্যাম্পিয়ন হওয়া গ্যালাতাসারাই। কাল সেই সমর্থককে একহাত নিলেন দ্রগবা।
চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদ তত্ত্বের একটি ছবি এঁকে ইনস্ট্রাগামে পোস্ট করেছেন দ্রগবা। আর ক্লাবের ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, ‘তুমি আমাকে বানর বলেছ, কিন্তু ২০০৮ সালে চেলসি যখন ফেনেরবাচেকে হারিয়েছিল, তখন তুমি কেঁদেছিল। তুমি আমাকে বানর বলেছ, কিন্তু আমি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার পর তুমি টিভি পর্দার সামনে লাফঝাঁপ করেছ। তুমি আমাকে বানর বলেছ, কিন্তু গ্যালাতাসারাইয়ের হয়ে আমি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তুমি পাগল হয়ে গেছ। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো, তুমি আমাকে বানর বলেছ, কিন্তু আমার “বানর” ভাই যখন কাল দুই গোল করল, তুমি লাফিয়েছ...আর নিজেকে সত্যিকারের সমর্থক দাবি করছ? গ্যালাতাসারাইয়ের সমর্থকদের মন্তব্যগুলো দেখো, তাদের কাছ থেকে শেখো।’

‘নেইমার সহজেই ভেঙে পড়ে’

নেইমার
ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের অন্যতম ভরসা বলে ভাবা হচ্ছে তাঁকে। তবে বড় মঞ্চে নেইমার কতটুকু কী করতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় কিন্তু থাকছেই। শোনা যাচ্ছে, এই মৌসুম শেষেই ঠিকানা বানাতে পারেন বার্সেলোনাকে। সেখানে এই সান্তোস স্ট্রাইকার নিন্দুকদের মিথ্যা প্রমাণ করতে পারবেন কি না, সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগে তাঁকে নিয়ে সমালোচনা থেমে নেই। বিশেষ করে, রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে পরশু করিন্থিয়ানসের কাছে ২-১ গোলে হারার পর তো আরও। বার্সেলোনার সাবেক রাইট ব্যাক জুলিয়ানো বেলেত্তি তো মনে করেন নেইমার ফুলের ঘায়ে মূর্ছা যান, ‘সাধারণত সে টিটের (করিন্থিয়ানস কোচ) বিপক্ষে ভালো খেলে না। টিটের গেমপ্ল্যান অনেকটাই ইউরোপীয় ঘরানার। নেইমারকে পেছনের চারজন ভালোই মার্কিং করেছে। একজন সব সময় মার্কারকে কভার করেছে। এ জন্যই নেইমার স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারেনি। নেইমার যখন বোঝে সে খেলতে পারছে না, তখন সে সহজেই ভেঙে পড়ে।’
তবে শুধু নেইমারকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন না সাবেক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার, ‘আগে গানসো তা-ও কিছুটা করত। এখন তো এমন কোনো খেলোয়াড় নেই যে তার সঙ্গে দায়িত্বটাও ভাগাভাগি করতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রে মা দিবসের শোভাযাত্রায় গুলি আহত ১৯

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিউ অরলিয়েন্স শহরে গত রোববার মা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক শোভাযাত্রায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই শিশুসহ ১৯ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে খুঁজছে পুলিশ।
স্থানীয় পুলিশের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, রোববার স্থানীয় সময় বেলা পৌনে দুইটার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ, সাতজন নারী ও দুজন শিশু।
হামলার সময় শোভাযাত্রাটি নর্থ ভিলার স্ট্রিট দিয়ে যাচ্ছিল। হামলাকারীরা শোভাযাত্রার ভেতরেই ছিল, নাকি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে শোভাযাত্রা দেখছিল—এ ব্যাপারে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি।
তবে এ হামলার সঙ্গে উগ্রপন্থী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কোনো যোগসাজশ নেই বলে জানিয়েছে মার্কিন তদন্ত বিভাগ। নিউ অরলিয়েন্স এফবিআইয়ের মুখপাত্র মেরি বেথ বলেন, ‘আমরা আমাদের গোয়েন্দা সূত্রে জানতে পেরেছি, এটি কোনো সন্ত্রাসী হামলা নয়।’
পুলিশ কর্মকর্তা রোনাল সারপাসের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, ঘটনার পর তিনজনকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখেছে পুলিশ। তবে কাউকে আটক করা যায়নি। ওই তিনজনকেই এখন খোঁজা হচ্ছে।
নিউ অরলিয়েন্সের মেয়র মিচ ল্যান্ড্রিউ এ ঘটনাকে একটি ‘নির্মম হত্যাকাণ্ড’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, সহিংসতার সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে শহরটিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।
বোস্টন ম্যারাথনে সন্ত্রাসী হামলার এক মাসের কম সময়ের মধ্যে এ হামলার ঘটনা ঘটল। বোস্টন হামলায় তিনজন নিহত ও আড়াই শতাধিক লোক নিহত হয়।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নিউ অরলিয়েন্সের ফ্রেঞ্চ কোয়ার্টার এলাকার একটি নাইট ক্লাবের বাইরে এক অনুষ্ঠানে গুলিবর্ষণের ঘটনায় চারজন আহত হয়। এ ছাড়া গত ডিসেম্বরে কানেটিকাটে একটি স্কুলে বন্দুকধারীদের গুলিতে ২০ শিশুসহ ২৮ জন নিহত হয়।

নওয়াজের সামনে যত চ্যালেঞ্জ

১৯৯৯ সালে জেনারেল পারভেজ মোশাররফের অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানো নওয়াজ শরিফ ১৪ বছর পর আবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছন। দেশটির ইতিহাসে নওয়াজই প্রথম ব্যক্তি, যিনি তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর নওয়াজকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। কারণ, লাগাতার বিদ্যুৎ-বিভ্রাট থেকে শুরু করে তালেবান তৎপরতাসহ নানা সমস্যা সামনে নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছেন তিনি। এ ছাড়া অর্থনৈতিক দুরবস্থা তো আছেই।
নওয়াজ বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধে সহায়তা বন্ধ করবেন। পাশাপাশি আল-কায়েদা ও তালেবানের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইও অব্যাহত রাখবেন। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সব দলকে নিয়ে একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, পৃথিবীর যেকোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে ঝামেলা এড়াতে আমরা কাউকেই কখনো আমাদের মাটি ব্যবহার করতে দেব না।’
নির্বাচনে জয়ের আভাস পেয়ে শনিবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নওয়াজ বলেছিলেন, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে নয়াদিল্লির সঙ্গে বিদ্যমান বিবাদ নিরসনে কঠোর পরিশ্রম করেছেন তিনি। নওয়াজ বলেন, ‘আমরা যেখানে শেষ করেছি, সেখান থেকেই শুরু করব। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে কাশ্মীরসহ দুই দেশের মধ্যে বিবদমান অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর শান্তিপূর্ণ সমাধানে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।’ তিনি বলেন, তাঁর সরকার ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলবে এবং তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
শাসনক্ষমতায় এসব চ্যালেঞ্জ ছাড়াও নওয়াজের সামনে রয়েছে বেলুচিস্তান সংকটসহ দেশটির বিপর্যস্ত জ্বালানি খাত। তা ছাড়া জাতীয় পর্যায়ে জেঁকে বসেছে দুর্নীতি। তাই দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা এবং দুর্বল অর্থনীতিকে চাঙা করতে একগাদা সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিতে হবে নওয়াজকে। নিতে হতে পারে সরকারের ব্যয় কাটছাঁটের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপও।
নওয়াজ গতকাল সোমবার তাঁর বাসভবনে বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সেই ইঙ্গিতই দিলেন। তিনি বলেন, তাঁর সরকারের প্রধান কাজই হবে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার। তাঁর আমলেই পাকিস্তান হবে এশীয় বাঘ।
যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলার ব্যাপারে নওয়াজ বলেন, ড্রোন হামলা বন্ধে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে রাজি করানোর চেষ্টা করবেন। তাঁর সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের ওপর জোর দেবে। তা ছাড়া আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারেও তাঁর সরকার সহায়তা করবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

অর্থবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তার দুর্নীতি তদন্ত করছে চীন

চীনের অর্থনীতিবিষয়ক একজন জ্যেষ্ঠ নীতিনির্ধারকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে গতকাল সোমবার এ কথা জানানো হয়েছে।
লিউ তিয়েনান নামের ওই কর্মকর্তা চীনের জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের (এনডিআরসি) উপপ্রধান পদে রয়েছেন। লিউ ‘মারাত্মক শৃঙ্খলা ভঙ্গের’ ঘটনায় সন্দেহভাজন বলে জানানো হয়েছে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার খবরে।
লিউয়ের বিরুদ্ধে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে দুর্নীতির বেশ কিছু অভিযোগ ওঠে। সে সময় একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক তাঁর বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ তোলেন। দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শুরু করা উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে লিউয়ের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিনহুয়ার খবরে বলা হয়, ‘মারাত্মক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের উপপ্রধান লিউ তিয়েনানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হচ্ছে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) শৃঙ্খলা পরিদর্শনবিষয়ক কেন্দ্রীয় কমিশন গত রোববার এ কথা জানিয়েছে।’

ক্ষুধা মোকাবিলায় পোকামাকড়!

পোকামাকড় দিয়ে তৈরি বাগসালাদ
ক্ষুধা মোকাবিলায় পোকামাকড় খাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে জাতিসংঘ। সাধারণ খাদ্যদ্রব্যের ওপর চাপ কমাতে সংস্থাটি বিশ্ববাসীকে বেশি বেশি পোকামাকড় খাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, পোকামাকড়ে পুষ্টিমান যেমন রয়েছে, তেমনি তা পরিবেশের দূষণ রোধেও বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থার (এফএও) প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইতিমধ্যে বিশ্বের অন্তত ২০০ কোটি লোক সহায়ক খাদ্য হিসেবে পোকামাকড় ভক্ষণ করছে।
ভিমরুল, কাঁচপোকাসহ অন্যান্য পোকামাকড় বর্তমানে মানুষের খাদ্যের উপাদান ও জীবিকা হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। পোকামাকড় চাষ করার মাধ্যমে খাদ্যের চাহিদা ও নিরাপত্তা মেটানো সম্ভব।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের সর্বত্রই পোকামাকড় পাওয়া যায় এবং দ্রুতই এরা বংশ বৃদ্ধি করে। তাদের জন্মহার ও খাদ্য রূপান্তরের হার অনেক বেশি। পরিবেশগত ক্ষতির মাত্রাও কম।
কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, পোকামাকড়ে উচ্চমাত্রার প্রোটিনসহ অন্যান্য পুষ্টিগুণ যেমন চর্বি ও খনিজ উপাদান রয়েছে। তাঁরা বলেন, অপুষ্টিতে ভুগছে এমন শিশুদের জন্য পোকামাকড় হচ্ছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সহায়ক খাবার।
এফএও বলছে, সাধারণ খাবারকে ভোজ্য মাংসের মতো পুষ্টিমানসম্পন্ন খাবারে রূপান্তরের ক্ষেত্রে পোকামাকড়ের ব্যবহার ‘খুবই কার্যকর’। যেমন: একই পরিমাণ প্রোটিন উৎপাদনের জন্য গবাদিপশুর চেয়ে ১২ গুণেরও কম ঝিঁঝিপোকার প্রয়োজন হয়। তা ছাড়া বেশির ভাগ পোকামাকড়ের ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রাণীর চেয়ে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাস উৎপাদনের সম্ভাবনা কম। যেমন: শূকরের মতো প্রচলিত প্রাণীগুলোর চেয়ে পোকামাকড় থেকে অনেক কম অ্যামোনিয়া উদ্গীরণ হয়।

বাংলাদেশ-ফিলিপাইন চেম্বারের আত্মপ্রকাশ

বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে গত রোববার বাংলাদেশ-ফিলিপাইন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি নামে নতুন বাণিজ্য সংগঠন আত্মপ্রকাশ করেছে।
নবগঠিত এ চেম্বারের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি রাশেদ মাকসুদ খান। সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন চট্টগ্রামে নিযুক্ত ফিলিপাইনের কনসাল মোহাম্মদ এ আওয়াল।
এ ছাড়া ঢাকা চেম্বারের সাবেক দুই সভাপতি আবুল কাসেম খান ও আসিফ ইব্রাহীম নতুন এ চেম্বারের পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন।

ভারতে মোটরগাড়ি বিক্রিতে ধস

গুজরাটে টাটা ন্যানো গাড়ির কারখানা
ভারতে মোটরগাড়ি বিক্রিতে ধস নেমেছে। গত বছরের নভেম্বর থেকে টানা ছয় মাস মোটরগাড়ি বিক্রি কমেছে। বিগত ১৬ বছরের মধ্যে লাগাতার এত দিন গাড়ি বিক্রি কমেনি।
সর্বশেষ গত এপ্রিল মাসে ভারতে মোটরগাড়ি বিক্রি হয়েছে এক লাখ ৫০ হাজার ৭৮৯টি, যা ২০১২ সালের একই সময়ের চেয়ে ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ কম। ওই বছর মোট গাড়ি বিক্রি হয়েছিল এক লাখ ৬৮ হাজার ৩৫৪টি।
ভারতীয় গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন সোসাইটি ফর ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্সের (সিয়াম) উপমহাপরিচালক সুগত সেন এসব তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, গাড়িঋণের চড়া সুদ, ক্রেতাদের দুর্বল মানসিকতা ও অর্থনৈতিক মন্থরতার কারণে ভারতীয় বাজারে গাড়ির চাহিদা কমেছে।
এপ্রিলে পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি তিন রুপি করে কমলেও তাতে গাড়ির বাজারে কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি।
সুগত সেন আরও জানান, ১৯৯৮ সালের ৩১ মার্চ সমাপ্ত অর্থবছরের পর থেকে এ পর্যন্ত ভারতে কখনোই লাগাতার ছয় মাস গাড়ি বিক্রি কমেনি।
ইতিপূর্বে ২০০২ সালের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত টানা পাঁচ মাস ভারতে গাড়ি বিক্রি কমেছিল।
সিয়াম আরও জানিয়েছে, গাড়ি উৎপাদনকারী দেশীয় ১৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০টিরই বিক্রি কমেছে এপ্রিলে। এর মধ্যে হুন্দাই কোম্পানির গাড়ি বিক্রি কমেছে ৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ। আর টাটা মোটরসের বিক্রি কমেছে ৫২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

ঢাকায় লেনদেন হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার

আগের দিনের ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবারও দেশের শেয়ারবাজারের সবগুলো সূচকই ছিল ঊর্ধ্বমুখী। বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এদিন লেনদেন ৩০০ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। ২৭ ফেব্রুয়ারির পর গতকাল ডিএসইতে ২৯৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।
এদিন ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক প্রায় ৫৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৮৭৬ পয়েন্টে। নতুন সূচক ডিএসইএক্স ৪০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৬৮০ পয়েন্টে।
ডিএসইতে সূচক বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে টেলিকম খাতের কোম্পানি গ্রামীণফোন। এদিন কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম নয় টাকা ৮০ পয়সা বা সাড়ে ছয় শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১৫৯ টাকা ৫০ পয়সা।
ডিএসইতে সোমবার ২৭৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১৮১টিরই দাম বেড়েছে, কমেছে ৮৪টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১২টির দাম।

বলছি এক কিংবদন্তির কথা -স্মরণ by এম এ মজিদ

যাত্রাকে তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন এক অনন্য উচ্চতায়। লোকরীতির সঙ্গে আধুনিকতার সমন্বয়ে গড়ে তুলেছিলেন এ শিল্পকে। আমরা অমলেন্দু বিশ্বাসের কথা বলছি। দীর্ঘকাল তিনি যাত্রামঞ্চে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলো যেন সত্য হয়ে দেখা দিত মঞ্চে। দর্শক নিমিষেই হারিয়ে যেত ঐতিহাসিক চরিত্রগুলোর মধ্যে।
বাংলার রঙ্গমঞ্চের ইতিহাসে যেমন গিরিশচন্দ্র ঘোষ (১৮৪৪—১৯১২) এবং শিশির কুমার ভাদুড়ীকে (১৮৯৯—১৯৫১) যুগ-প্রবর্তক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, তেমনি শতবর্ষের যাত্রার ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছেন আরও তিনজন যুগান্তকারী প্রতিভা। স্বদেশি যাত্রার প্রবর্তক মুকুন্দ দাশ (১৮৭৮—১৯৩৪), আধুনিক যাত্রাপালা রচনার পথিকৃত্ ব্রজেন্দ্রকুমার দে এমএ, বি-টি (১৯০৭—১৯৭৬) এবং অভিনয়, নির্দেশনা ও পালা সম্পাদনায় অমলেন্দু বিশ্বাস (১৯২৫—১৯৮৭)। যাত্রাশিল্পে বহু শিল্পীর আবিষ্কারক তিনি। আধুনিক ধ্যান-ধারণায় কেটেছে তাঁর সারা জীবন। অভিনয় ক্ষেত্রেও তিনি আধুনিক। লোকজ আঙ্গিকের পালার সঙ্গে আধুনিক প্রয়োগ-কৌশল মিশিয়ে দর্শকনন্দিত পালা প্রযোজনায় তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। গড্ডলিকা প্রবাহ থেকে যাত্রাকে সমকালীন ধারায় উপস্থাপনের মাধ্যমে যাত্রার গুণগত মান বাড়াতে নানামুখী পরিকল্পনা করতেন। মাইকেল মধুসূদন, লেলিন, হিটলার, জানোয়ার, বিনয় বাদল দীনেশ-এর সার্থক রূপকার তিনি। এ-জাতীয় পালা প্রযোজনার পর বিশ্বাসের সঙ্গে নগর সংস্কৃতির যোগসূত্র গড়ে ওঠে। ব্যতিক্রমী প্রযোজনার বহুমাত্রিক অভিনয়গুণে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পের একক উত্তম পুরুষ হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন তিনি।
যাত্রামঞ্চে দাপুটে অভিনেতা অমলেন্দু বিশ্বাসকে কল্পনা করাও আজ অনেকের পক্ষে কষ্টকর হবে। আজ একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য এই যাত্রা-নট অমলেন্দু বিশ্বাসের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী। সংস্কৃতিকর্মীরা তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবেন আজ।
অমলেন্দু বিশ্বাস জন্মেছিলেন ১৯২৫ সালের ২৯ মে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন শহরে। যাত্রায় সঙ্গে তিনি মিতালি পাতিয়েছিলেন পাকিস্তান আমলে সিরাজগঞ্জের বাসন্তী অপেরার মাধ্যমে। প্রবেশিকা পরীক্ষার পর ১৯৪১ সালে ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্সে যোগদান, কিছুদিন পুলিশের চাকরি, সিনেমায় অভিনয়ের ব্যাকুলতা, ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রাম রেঞ্জে চাকরির পাশাপাশি নাটকে অভিনয় শুরু, ১৯৫৮-৫৯ সালে গণসংগীত স্কোয়াড গঠন, আইয়ুব সরকারের হুলিয়া জারি—এসব এড়াতেই তিনি যাত্রাদলকে নিরাপদ হিসেবে বেছে নেন। আমাদের এ তথ্য দিয়েছেন অমলেন্দু বিশ্বাসের দীর্ঘদিনের সহকর্মী মিলন কান্তি দে।
বাসন্তীর পর তদানীন্তন পূর্বপাকিস্তানে গীতশ্রী যাত্রা ইউনিট এবং কমলা অপেরা নামে আরও দুটি যাত্রাদলে চাকরি করেন বিশ্বাস। স্বাধীনতার পর বাবুল অপেরা, গীতশ্রী অপেরা ও বাণীশ্রী অপেরা হয়ে ১৯৭৪ সালে নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন চারণিক নাট্যগোষ্ঠী।
এ দলের মাধ্যমে মান্ধাতা আমলের রীতিনীতি বর্জন করে চিত্কার-সর্বস্ব অভিনয়ের ধরন থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজলেন, পেলেনও। তাঁর স্ত্রী যাত্রাসম্রাজ্ঞী জ্যোত্স্না বিশ্বাসসহ অন্য শিল্পীরা অমলেন্দু বিশ্বাসের এই উচ্চারণে অনুপ্রাণিত হয়ে সায় জানালেন। তাঁরা খুঁজে পেলেন আধুনিক যাত্রার নতুন ঠিকানা।
রাহুগ্রাস, সোহরাব-রুস্তম, চাঁদসুলতানা, জালিয়াত, রাজ সন্ন্যাসী, একটি পয়সা পালায় এল অসাধারণ সাফল্য।
মাইকেল মধুসূদন-এর পর অমলেন্দু বিশ্বাস ম্যাক্সিম গোর্কির মা আসরে নামাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তার আগেই ১৯৮৭ সালের ১৩ অক্টোবর লোকান্তরিত হন তিনি।
অমলেন্দু বিশ্বাস কী ধরনের শিল্প-ধারণায় বিশ্বাসী ছিলেন, তা বোঝা যাবে তাঁর পালাগুলোর দিকে দৃষ্টি রাখলে। মাইকেল পালায় তিনি বিদ্রোহী এই কবির জীবন যেমন তুলে এনেছেন, তেমনি লেনিন পালায় প্রলেতারীয় বিপ্লবের সিংহপুরুষ লেনিনকে পরিচিত করে তুলেছেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ থাকবে না, ভেদাভেদ থাকবে না ধর্মে-ধর্মে, তারই প্রকাশ ঘটেছে অমলেন্দু বিশ্বাসের পালাগুলোয়। আমাদের সংস্কৃতির আবহমান ধারায় তিনি যে আধুনিকতা যুক্ত করলেন, তা পুরোপুরি মানবতাবাদী। সবার উপরে মানুষ শ্রেষ্ঠ তাহার উপরে নাই—এ কথাটিই তাঁর পালাগুলোয় প্রস্ফুটিত হয়েছে। বোধের জায়গায় তিনি ছিলেন স্বচ্ছ। বাংলার মানুষকে সংস্কৃতি-সুধায় ভরিয়ে তোলার কাজটি করেছেন অমলেন্দু বিশ্বাস। পালা মঞ্চে সেই ধারাটি এখনো ক্ষীণ হয়ে যায়নি। বলা যায়, এ ধারা যত দিন যাত্রাশিল্পে জলসিঞ্চন করবে, তত দিনই লোকজ ও আধুনিকতার সমন্বয়ে ঋদ্ধ হবে এই শিল্প।
যাত্রাশিল্পে অবদান রাখায় তিনি বাচসাস, শিল্পকলা একাডেমী, থিয়েটার সিকোয়েন্সসহ মরণোত্তর একুশে পদক লাভ করেন। আর অগণিত যাত্রা-দর্শকের হূদয়ে তিনি থাকবেন উত্তম পুরুষ হিসেবে। মধ্যরাতের যাত্রার আসর থেকে এখনো যেন ভেসে আসে বিশ্বাস অভিনীত মাইকেল মধুসূদন-এর অন্তিম মুহূর্তের সেই পঙিক্ত ‘দাঁড়াও পথিক বর, জন্ম যদি তব বঙ্গে তিষ্ঠ ক্ষণকাল।’

বাংলাদেশের সামুদ্রিক অঞ্চল: সহজ পাঠ -বিচারের বাণী by মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী

২ অক্টোবর দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন পড়ে বঙ্গোপসাগরের অন্তঃস্থ খনিজ সম্পদে বাংলাদেশের কর্তৃত্ব ও মালিকানা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে জেনে চমকে উঠেছি এবং তাত্ক্ষণিক এ লেখাটির জন্ম হয়েছে বিক্ষুব্ধ অন্তরে। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৩ অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তির যে তালিকা দেওয়া আছে, তার অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় জলসীমার অন্তর্বর্তী মহাসাগরের অন্তঃস্থ কিংবা বাংলাদেশের মহীসোপানের উপরিস্থ মহাসাগরের অন্তঃস্থ সকল ভূমি, খনিজ এবং অন্যান্য মূল্যসম্পন্ন সামগ্রী।’ এই অনুচ্ছেদের ২ দফায় বলা আছে, জাতীয় সংসদ ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় জলসীমা ও মহীসোপানের সীমা-নির্ধারণের বিধান’ করতে পারবে। সেই মতো জাতীয় সংসদ কর্তৃক ১৯৭৪ সালে ‘বাংলাদেশ জলসীমা ও সমুদ্রোপকূল অঞ্চলসমূহ আইন’ প্রণীত হয়েছে এবং আইনটির ভিত্তিতে সরকারি বিজ্ঞপ্তি দ্বারা বাংলাদেশের যে জলসীমা নির্দিষ্ট করা হয়েছে, সেটা এই—বঙ্গোপসাগরের জলের ১০ ফ্যাদম (১ ফ্যাদম = ৬ ফুট বা ১.৮ মিটার) গভীরতা যেখানে শেষ হয়েছে, সেই ভিত্তিরেখা থেকে আরও দক্ষিণে ১২ নটিক্যাল মাইল (১ নটিক্যাল মাইল = ৬০৮০ ফুট বা ১৮৫২ মিটার) পর্যন্ত।
প্রতিবেদনটি পড়ে কেন চমকে উঠেছিলাম সেটা এখন বলছি। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জানিয়েছেন, অতি শিগগিরই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় জলসীমার মধ্যে তিনটি ব্লক তেল-গ্যাস অনুসন্ধান-উত্তোলনের জন্য বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়া হবে। অপরদিকে ওই প্রতিবেদন পড়ে জানা গেল, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বলেছেন, ভারত সরকার ও মিয়ানমার সরকার উভয়ই ইজারা দেওয়ার আপত্তি জানিয়েছে এই মর্মে যে ওই ব্লক তিনটি তাদের নিজ নিজ রাষ্ট্রের জলসীমার অন্তর্ভুক্ত। এখানে দুঃখের সঙ্গেই বলতে হয়, আন্তর্জাতিক আইনগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭৪ সালের আইনবলে প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত ভিত্তিরেখা থেকে বাংলাদেশের জলসীমা প্রকৃত পক্ষে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল বা ৬৫০ কিলোমিটার, কিন্তু অদ্যতক ওই বিজ্ঞপ্তিটি সংশোধন করা হয়নি এবং জাতিসংঘ কর্তৃক গঠিত বিশেষ কমিশনে সেই মতো দাবি জানানো হয়নি, অথচ সে দাবি জানানোর নির্দিষ্ট শেষ সময় ২০১১ সালের ২৭ জুলাই এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সে জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার প্রকাশ্য তত্পরতা জোট সরকার কিংবা তত্ত্বাবধায়ক সরকার উভয়ের আমলেই দেখা যায়নি।
প্রিয় পাঠক/পাঠিকা, এখন লক্ষ করুন, এই লেখার সঙ্গে ছাপা বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার মানচিত্র এবং সেটার ভেতরে ভারত ও মিয়ানমারের আগ্রাসী রেখাচিত্র। এই মানচিত্রটির ফটোকপি নেওয়া হয়েছে কমোডর মোহাম্মদ খুরশেদ আলমের লেখা বাংলাদেশ’স মেরিটাইম চ্যালেঞ্জেস ইন দ্য টোয়েন্টি ওয়ান সেঞ্চুরি নামের গবেষণামূলক বই থেকে। কমোডর আলমের অভিমত এই যে বাংলাদেশের উপকূলরেখা খিলানাকৃতি হওয়ায় ন্যায়পরতার নীতি ও পদ্ধতি অনুযায়ী এ তিনটি দেশের জলসীমা নির্ধারণ করা সঠিক হবে। তদুপরি ঐতিহাসিক স্বত্ব অর্থাত্ জলভাগটির নাম বঙ্গোপসাগর বিবেচনায় রাখতে হবে। জলসীমা নির্ধারণে কমোডর আলমের প্রস্তাবটির সমর্থন পাওয়া যায় আরেকটি পুস্তকে, যার নাম ডেলিমিটেশন অব মেরিটাইম বাউন্ডারি। এ পুস্তকটির লেখক রাজশাহী বিশ্ববািদ্যালয়ের অধ্যাপক হাবিবুর রহমান।
অধ্যাপক রহমানের অভিমত এই যে ন্যায়পরতা নীতির ভিত্তিতে ‘ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস’ নর্থ সি কন্টিনেন্টাল কেসে যে রায় দিয়েছে, তারই ভিত্তিতে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়নামারের জলসীমা নির্ধারণ করা যায়। রায়টির সংশ্লিষ্ট অংশটির বঙ্গানুবাদ এই: ‘(ক) জলসীমা নির্ধারণ করতে হবে ন্যায্যতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বোঝাপড়ার মাধ্যমে ও সব কটি পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় রেখে এ মতো উদ্দেশে যেন প্রত্যেক পক্ষকে যথাসম্ভব দেওয়া যায় মহীসোপানের ওই অংশটি, যেটা পক্ষ-দেশটির মূল ভূভাগ থেকে সমুদ্র বরাবর জলের অভ্যন্তরস্থ প্রাকৃতিক বর্ধিত অংশ এবং অন্য পক্ষ দেশ বা দেশগুলোর বর্ধিত অংশের তেমন সীমানা লঙ্ঘন করে না। (খ) যদি উপরিউক্ত নীতিটি প্রয়োগে দেখা যায় যে পক্ষ-দেশগুলোর মহীসোপানের কোনো অংশ পরস্পরকে আবৃত করেছে, সে ক্ষেত্রে সে অংশটি আপসে ভাগ-বণ্টন হবে কিংবা আপস ব্যর্থ হলে সে অংশটির যৌথ মালিকানা দেওয়া হবে।’ প্রিয় পাঠক/পাঠিকা, ইউরোপের মানচিত্রটি লক্ষ করুন। দেখবেন, নর্থ সি বা উত্তর সাগরকে কেন্দ্র করে আটটি দেশের অবস্থান। ঘড়ির কাঁটা যেদিকে ঘোরে, সেভাবে অবস্থিত দেশগুলোর নাম হচ্ছে নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, জার্মানি, নেদারল্যান্ড, বেলজিয়াম, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য।
এখন অন্য মতটি উল্লেখ করা যাক। প্রকৌশলী ইনামুল হক বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এবং তিনি ওয়াটার রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট ইন বাংলাদেশ নামের এক গবেষণামূলক বইয়ের লেখক। প্রকৌশলী হকের মতটি হচ্ছে, সমদূরত্ব নীতি ও পদ্ধতি অনুযায়ী এ তিনটি দেশের জলসীমা নির্ধারণ করা সঠিক হবে। এই মতটি আলোচনা করার আগে আমাদের জানা দরকার যে জাতিসংঘের উদ্যোগে সমুদ্র আইন সম্পর্কীয় কনভেনশন বা মতৈক্য গৃহীত এবং কার্যকর হয় ১৯৯৪ সালের ১০ নভেম্বর। প্রকৌশলী হকের অভিমত এই: উপরিউক্ত কনভেনশনের ৩ আর ১৫ ধারা অনুযায়ী পশ্চিমে হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মধ্যস্রোত ধরে ভারত ও বাংলাদেশের উপকূলরেখা থেকে সমদূরত্বে এবং বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের ছেড়া দ্বীপ ও ওয়েস্টার দ্বীপের মাঝামাঝি উপকূলরেখা ধরে সমদূরত্বে হবে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা এবং সেটা পশ্চিমের ও পূর্ব দিকের উপকূলের শেষ পয়েন্ট থেকে উপরিউক্ত রেখা দুটির দক্ষিণ বরাবর দূরত্বের ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত হবে। প্রকৌশলী হকের আরও অভিমত হচ্ছে, ভারত যে অতল সমুদ্রের পূর্ব দিকে মহীসোপানের ওপর দাবি জানিয়েছে, সেটা বাংলাদেশের নদীবাহিত পলি দ্বারা গঠিত হওয়ায় জাতিসংঘ কনভেনশনের ৭৬ ধারার লঙ্ঘন এবং মিয়ানমার যে বঙ্গোপসাগরে দক্ষিণমুখী খাড়ির পশ্চিমে মহীসোপানের ওপর দাবি জানিয়েছে, সেটাও বাংলাদেশের নদীবাহিত পলি দ্বারা গঠিত হওয়ায় একই ৭৬ ধারার লঙ্ঘন। দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপটি ভাটায় জাগে, জোয়ারে ডুবে যায় এবং দ্বীপটি হাড়িভাঙ্গা নদীর মধ্যস্রোতের পূর্ব দিকে অবস্থিত, যা বাংলাদেশের জলসীমার অন্তর্গত।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের স্থলভাগের আয়তন কিছু কম দেড় লাখ বর্গকিলোমিটার আর বাংলাদেশের সমুদ্র এলাকার আয়তন দুই লাখ বর্গকিলোমিটার। অন্যভাবে বলা যায়, বাংলাদেশের স্থলভাগের চেয়ে জলভাগের আয়তন বেশি। শুধু তা-ই নয়, এই জলভাগে মহীসোপানের ওপরে ও সমুদ্রের অভ্যন্তরে আছে অফুরন্ত সম্পদ। প্রিয় পাঠক/পাঠিকা, আসুন সবাই মিলে দাবি করি, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও সমুদ্রসম্পদ রক্ষা করার জন্য অবিলম্বে একটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করা হোক। শুধু তা-ই নয়, পৃথক মন্ত্রণালয় জরুরি এ জন্য যে সমগ্র আদি বাখেরগঞ্জ ও নোয়াখালী জেলার দ্বীপগুলো নিয়ে সক্রিয় বদ্বীপ অঞ্চল, যা ক্রমাগত সে অঞ্চলের প্রবাহিত নদীগুলো পলি বহন করে ভূমি গঠনপ্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।
মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী: অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, আপিল বিভাগ, সুপ্রিম কোর্ট

টি-টোয়েন্টি লিগে ফিকশ্চার-রঙ্গ

প্রিমিয়ার টি-টোয়েন্টি লিগের ফিকশ্চার নিয়ে কথা তুললেই সিসিডিএম চেয়ারম্যান জি এস তামিম বলছেন, ফিকশ্চার হয়েছে ফরম্যাট মেনে। সেটা শুনে এক ক্লাব কর্মকর্তার রসিকতা মেশানো প্রশ্ন, ‘ফরম্যাট তাহলে কয়টা?’ ফিকশ্চারের ফরম্যাট বলে যদি কিছু থাকেই, তাহলে তো একটাই ফিকশ্চার হওয়ার কথা! কিন্তু এই প্রতিবেদকের হাতেই যে আজ থেকে শুরু টি-টোয়েন্টি লিগের তিন রকম ফিকশ্চার!
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকে গত রোববার সন্ধ্যায় প্রথম যে ফিকশ্চারটি সরবরাহ করা হয়, সেটিতে আবাহনীর দিবারাত্রির ম্যাচ চারটি। এ নিয়ে অন্য বড় ক্লাবগুলোর মধ্যে অসন্তুষ্টি ছড়িয়ে পড়লে ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই আসে নতুন ফিকশ্চার, যাতে আবাহনীর দিবারাত্রির ম্যাচ কমে হয় তিনটি। বিস্ময়কর হলো, পরদিন টি-টোয়েন্টি লিগের সংবাদ সম্মেলনের আগে বদলে গেছে সেই ফিকশ্চারও। সংবাদ সম্মেলনে সরবরাহ করা সর্বশেষ ফিকশ্চারে দেখা যাচ্ছে, আবাহনীর দিবারাত্রির ম্যাচ দুটি। আশা করা যাচ্ছে, আজ থেকে চারটি ভেন্যুতে এই ফিকশ্চার মেনেই শুরু হবে বিগবস প্রিমিয়ার ডিভিশন টি-টোয়েন্টি লিগ।
টি-টোয়েন্টি লিগে এবার বড় আকর্ষণ ফ্লাডলাইট আর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল দেশ টিভিতে সাতটি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচারের উদ্যোগ। কিন্তু বাইরের মোড়কের চাকচিক্যকে ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে ভেতরের সমন্বয়হীনতা।
মোহামেডান ক্রিকেট কমিটির প্রধান লুত্ফর রহমানের দাবিটা যৌক্তিক, ‘ফিকশ্চারে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন-রানার্সআপরা সুবিধা পাবে, এটাই স্বাভাবিক। সেসবের তোয়াক্কা না করে আবাহনী সর্বোচ্চ দুটি ম্যাচ খেলছে দিবারাত্রির, গতবারের চ্যাম্পিয়ন হয়েও আমরা খেলব মাত্র একটা ম্যাচ। ফিকশ্চার করতে গিয়ে বিসিবি ও সিসিডিএম তাদের নিরপেক্ষতা হারিয়েছে।’ বারবার ফিকশ্চার পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি, ‘প্রথম ফিকশ্চারে মোহামেডানের একটাও দিবারাত্রির ম্যাচ ছিল না, অথচ আবাহনীর ছিল চারটা। এমনকি গতবার প্রিমিয়ারে না খেলা কলাবাগানেরও ছিল একটা। পরে টেলিফোনে আমরা এ নিয়ে অসন্তুষ্টি জানানোর পর আমাদের মাত্র একটা দিবারাত্রির ম্যাচ দেওয়া হয়। কিন্তু কলাবাগানের ম্যাচ বেড়ে হয় দুইটা! একটা ফিকশ্চার এক দিনের মধ্যে এতবার বদলায় কীভাবে?’
দিবারাত্রির ম্যাচ বরাদ্দ নিয়ে সিসিডিএম চেয়ারম্যানের বক্তব্য, “সকালে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচ আর বিকেলে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচ রাখা হয়েছে। গতবারের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মোহামেডান ‘এ’ গ্রুপে থাকায় তাদের ম্যাচগুলো সকালে বেশি পড়েছে। তার পরও আমরা তাদের একটা দিবারাত্রির ম্যাচ দিয়েছি।’ সিসিডিএমের নিরপেক্ষতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে তাঁর বক্তব্য, ‘আমরা এক শ ভাগ নিরপেক্ষ থেকেই কাজ করার চেষ্টা করছি। তার পরও যদি কারও ওরকম অভিযোগ থাকে, তাহলে তারা এসেই ফিকশ্চার করে দিয়ে যাক।’
লিগের ফিকশ্চার তৈরির জন্য সিসিডিএমের পাঁচ সদস্যের কমিটির সদস্য মোহামেডানের ক্রিকেট সম্পাদক হানিফ ভুঁইয়া। অথচ ফিকশ্চার যে এক দিনের মধ্যেই এতবার রূপ বদলাল, সেটা নাকি তিনি জানেনই না!
ফিকশ্চার নিয়ে ধূম্রজাল ছাড়াও টি-টোয়েন্টি লিগের রং কিছুটা কেড়ে নিতে পারে প্রথম দিনেই তিন বিশ লাখি ক্রিকেটারের অনুপস্থিতি। ইনজুরির কারণে মাশরাফি টি-টোয়েন্টিতে খেলবেন না, কুঁচকির ইনজুরি থেকে মাত্রই সেরে ওঠা সাকিবকেও আবাহনী খেলাবে না প্রথম দুই ম্যাচে। আর মোহামেডানও সম্ভবত প্রথম দিনে পাচ্ছে না ফ্লুতে আক্রান্ত ওপেনার তামিম ইকবালকে।

চশমা, চটিজুতা ও ছাতা হারিয়ে কী পেলাম -সহজিয়া কড়চা by সৈয়দ আবুল মকসুদ

বিপুল ভোটারের অংশগ্রহণে ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে যে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাতে আমারও অবদান রয়েছে। বলতে লজ্জা নেই, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আমি খুইয়েছি আমার একটি চশমা, দেড় জোড়া চটিজুতা (এক জনসভায় এক জোড়া চুরি হয়, আরেক জনসভায় মঞ্চ থেকে বক্তৃতা দিয়ে নেমে দেখি এক পাটি নেই) এবং একটি ছাতা।
একবার এক জনসভায় পূর্ববর্তী বক্তার অফুরন্ত কথা শেষ হওয়ার আশায় অধীর আগ্রহে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলাম। ‘এই ধরনের গণতন্ত্র আমরা ছুড়ে ফেলে দিই’—বলেই উত্তেজিত অনলবর্শী বক্তা এমনভাবে বাহু উত্তোলিত বা প্রসারিত করলেন যে তাঁর হাত লেগে আমার চশমাটি ছিটকে গিয়ে পড়ল মঞ্চ থেকে ১০ হাত দূরে। এক শ্রোতা তত্ক্ষণাত্ ওটা উদ্ধার করল বটে, কিন্তু অক্ষত অবস্থায় নয়। এক মতবিনিময় সভায় গণতন্ত্রের একটা বিহিত করে বাড়ি ফেরার জন্য উঠে দাঁড়িয়ে দেখি ছাতাটা নেই।
জুতা, ছাতা যা-ই হারাই না কেন, বাস্তবতা ও সত্য হলো সাধারণ সচেতন মানুষের মধ্যে গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য একটা তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল। সেই আকাঙ্ক্ষার সপক্ষে জনমত গঠনের উদ্দেশ্যে গত পাঁচ-ছয় বছরে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান সভা-সমাবেশ, গোলটেবিল, সেমিনার, মতবিনিময় অনুষ্ঠান করেছে। তাতে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ যুক্ত ছিলেন। তবে অবসরপ্রাপ্তদের সংখ্যা ছিল আশঙ্কাজনকভাবে বেশি। তাঁদের সম্মিলিত নামকরণ সিভিল সমাজ। ভাষাজ্ঞানহীন কেউ তার বঙ্গানুবাদ করেছিল সুশীল সমাজ। গণতন্ত্রের প্রবক্তা সেই নাগরিক সমাজের প্রধান চরিত্রগুলোর চারিত্রিক সংহতি অর্থাত্ তাদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সততা নিয়ে মানুষের সন্দেহ ছিল। সন্দেহের কারণও ছিল বটে। কোনো দিন তাঁদের কিছু ত্যাগ করতে দেখেনি কেউ। আমাদের দেশে সামরিক-বেসামরিক আমলা, শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রভৃতি শ্রেণীর কাছে বড় থেকে বৃহত্তর চাকরিই জীবনের ধ্রুবতারা। সেদিকে তাকিয়েই নিয়ন্ত্রিত হয় তাঁদের জীবনের গতি। তাঁদের কাছে একটি উঁচু বেতনের চাকরি পাওয়ার যে সুখ তার কাছে ম্লান প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সঙ্গী হয়ে কোনো নির্জন হ্রদে নৌবিহার করা অথবা শিল্পা শেঠীকে নিয়ে জোছনারাতে সাগরসৈকতে ঘুরে বেড়ানো কিংবা মাধুরী দীক্ষিতের মায়াবী হাসির সামনে মুখোমুখি নির্জনে বসে থাকা।
কথিত সিভিল সোসাইটির একজন মানুষ হিসেবে আমি মাঝেমধ্যে গ্লানি বোধ করি। প্রথম যৌবনে আমরা অনেকেই অর্থকষ্ট ভোগ করেছি। এক জোড়া স্যান্ডেল ও দুটোর বেশি শার্ট ছিল না। পরে যত ভালো চাকরিই করি না কেন এবং দুটো গাড়ি থাকলেও আরও বেশির জন্য প্রাণ কাঁদে। পুরোনো মডেলের টয়োটায় মন ভরে না—নিজেরও না, গিন্নি-ছেলেমেয়েদের মন তো ওঠেই না। তাই পেনশনের অনেকগুলো টাকাসহ অবসরে গিয়েও কনসালটেন্সি বা একটি চাকরির জন্য উমেদারি করি, এনজিও গড়ে তুলি। তারপর সামাজিক অবস্থান মজবুত করতে দেশকে গণতন্ত্র উপহার দেওয়ার জন্য গোলটেবিলের আয়োজন করি এবং গণতন্ত্রের সভা থেকেই একেবারে সোজা বিমানবন্দর উড়োজাহাজ যেদিকে নিয়ে যায়।
সমালোচনা হতেই পারে। তবু অস্বীকার করা যাবে না যে আমাদের নাগরিক সমাজের বহু দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও তারা মূলধারার সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেলগুলোর সহযোগিতায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বড় ভূমিকা পালন করেছে। যে কাজ রাজনীতিকদের করার কথা তা করেছে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজ। তারা সরকারকে চাপে রেখেছে, বিরোধী দলকেও তাদের ভুলের জন্য সমালোচনা করেছে। আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অনেক দিন থেকেই বিদেশিরা যুক্ত হয়েছে—একসময় ছিল তলে তলে, অর্থাত্ নেপথ্যে, এখন প্রকাশ্যে। বিদেশিদের আমাদের রাজনীতির অন্দরমহলে নিয়ে যাওয়ার কাজটি রাজনীতিকেরাই তাঁদের স্বার্থে করেছেন, অন্য কেউ নয়। তারপর বিদেশিদের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থে বন্ধুত্ব জমে উঠেছিল নাগরিক সমাজের নেতাদের। তবে বিদেশিরা নাওয়া-খাওয়া বাদ দিয়ে শুধু আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রই করে যাচ্ছে সকাল সাতটা থেকে রাত একটা পর্যন্ত—সেটাও মনে করা খুবই হীনম্মন্যতা এবং সে কথা বড় বড় শিরোনাম দিয়ে প্রচার করা আরও ক্ষতিকর।
গত নির্বাচন সম্পর্কে আবদুল জলিল সাহেব লন্ডনে যা বলেছেন তা বহুকাল উদ্ধৃত হবে। তাঁর বক্তব্যের সত্যতা-অসত্যতা প্রমাণও চাট্টিখানি কাজ নয়। তবে তাঁর বক্তব্য মানসিক ভারসাম্যহীন একজন মানুষের প্রলাপ মাত্র—এ কথা যে মনে করে তারও মানসিক ভারসাম্য নিয়ে সন্দেহ হওয়া স্বাভাবিক। অন্যান্য বিষয়েও তিনি যা বলেছেন তা নিয়ে আমাদের বলার কিছু নেই, তা তাদের দলের নিজস্ব ব্যাপার। বিব্রত হলে দলীয় নেতৃত্ব হবেন, অন্য কেউ নয়।
বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার খুব একটা বাজে অবস্থার সৃষ্টি করেছিল। সরকার হয়ে উঠেছিল উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর উদার পৃষ্ঠপোষক। দুর্নীতি পেয়েছিল প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। ওই পরিস্থিতিতে ২০০৩-০৪ সাল থেকে সুশাসন, নির্বাচনী সংস্কার, নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি প্রভৃতি প্রশ্নে ‘রাজনৈতিক সংস্কার’-এর একটা দাবি ওঠে। সে ব্যাপারে জনমত সৃষ্টি করতে কয়েকটি সংগঠনও দাঁড়িয়ে যায়। কার কী উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল তা তারা ও তাদের পৃষ্ঠপোষকেরাই ভালো বলতে পারবেন। কীভাবে যেন আমিও ওগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে যাই। দেখেছি নির্বাচনী সংস্কার ও সুশাসনের কথায় বিএনপি-জামায়াত বিরক্ত হলেও সাধারণ মানুষ তাকে স্বাগত জানিয়েছে।
২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচন-পূর্ববর্তী সাড়ে চার বছর অনেকের সঙ্গে আমিও বান্দরবান থেকে বাংলাবান্ধা, কক্সবাজার থেকে কুড়িগ্রাম, সুন্দরবন থেকে সুনামগঞ্জ ঘুরে বেরিয়েছি। অন্তত ৩৫টি সংগঠনের আমন্ত্রণে চার শর মতো আলোচনা সভা, গোলটেবিল, মতবিনিময়, মানববন্ধন, শোভাযাত্রা প্রভৃতিতে অংশ নিয়েছি। বিষয় একটাই: সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করে একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর। একটি পর্যায়ে সেই প্রক্রিয়ায় বাধা আসে। দোষ শুধু জোট সরকারকে দেওয়া যাবে না, চৌদ্দদলীয় বিরোধী মহাজোটেরও ছিল। অচলাবস্থার সৃষ্টি হলে সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে ১১ জানুয়ারি একটি প্রেরিত সরকার ক্ষমতাসীন হয়। সেই সরকারের খোসাটি ছিল বেসামরিক কিন্তু পুরো শাঁস ও আঁটি পর্যন্ত ছিল সামরিক। হরতাল-অবরোধে ক্লান্ত জনগণ সেই সরকার আসায় সাময়িক স্বস্তি বোধ করে। তাদের দুর্নীতিবিরোধী তত্পরতাও সমর্থন করে। কিন্তু অবিলম্বেই সেই সরকারের প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ডে মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তাদের একটিমাত্র কৃতিত্ব, তা হলো একটি ভালো ভোটার তালিকা তৈরি। নির্বাচনও শান্তিপূর্ণ হয়। ভোট পড়ে কিছুটা মাত্রার বেশি। তার পরও দেশে ও বিদেশে ওই নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের বিজয় অপ্রত্যাশিত ছিল না। এত বেশি অর্থাত্ ২৬২ আসন ছিল অপ্রত্যাশিত। অন্যদিকে তাঁর সরকারের ওপর জনগণ বিরক্ত হলেও বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তাও কম ছিল না। নির্বাচনের আগের জনসভাগুলো থেকে তা বোঝা যায়। নির্বাচনের ১০-১২ দিন আগে কয়েকজন বিদেশি পর্যবেক্ষক আমাকে বলেছিলেন, সরকার গঠন না করতে পারলেও বিএনপি ভালো আসনই পাবে বলে তাঁদের ধারণা। এত কম অর্থাত্ ২৯টি আসন কাম্য ছিল না জনগণের। সে কারণেই সন্দেহ। মানুষ লক্ষ করেছে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে বৈরিতামূলক এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ একটি প্রীতির সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন জেনারেল মইন উ আহমেদ। তাঁকে পুরস্কৃত করারও একটা পাঁয়তারা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি না হলেও জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি করার আয়োজন প্রায় সাঙ্গ হয়ে এসেছিল। অথচ নির্বাচিত সরকারের প্রাথমিক দায়িত্বই ছিল দুবছরী অনির্বাচিত সরকারের কাজের ওপর একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ। সে প্রসঙ্গেই জলিল সাহেব বলেছেন, ওই সরকারের সঙ্গে মহাজোটের নেতার একটা বোঝাপড়া হয়েছিল।
পুরো দিনটি বদলের ঘোষণা দিয়ে এই সরকার জনগণের রায় নিয়েছে। বাস্তবে দিনের একটি প্রহরের যদি পরিবর্তন ঘটাতে পারত এই সরকার তা হলেই জনগণ খুশি হতো। পুরো মেয়াদের ছয় ভাগের এক ভাগ পার করেছে সরকার। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো সরকার এমন সুশান্ত ও সহানুভূতিশীল বিরোধী দল পায়নি, যা পেয়েছে বর্তমান সরকার। ১৪৯টি আসন পেলেও তারা সংসদে যেত না। বিএনপি তার মহাসচিবকে করেছে দলের মুখপাত্র—দলটি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার মুখপাত্র হতে পারল না। অন্যদিকে সরকারের মুখপাত্র অসংখ্য।
প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মূসা বলেছেন, পৃথিবীতে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার, মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার রয়েছে বিভিন্ন দেশে, বাংলাদেশে পেয়েছি আমরা উপদেষ্টাশাসিত সরকার। চমকের মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টারা চমক লাগানো কথাবার্তা বলছেন প্রথম রাত থেকেই, তাঁদের ও এমপিদের পুত্ররা পিলে চমকে দেওয়া শুরু করেছেন পরদিন থেকে। এখন অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডের এলাকার মানুষ শুধু নয়, কথায় কথায় চমকে উঠছে সারা দেশের মানুষ।
মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়া বিরোধী দল গত ১০ মাসে সরকারকে বিব্রত করার মতো কিছু করেনি। কিন্তু মন্ত্রীদের অনেকের কথাবার্তার ভাবে সরকারের মূর্তি বিএনপির মেরুদণ্ডের মতো অনেকখানি চুর্ণ হয়ে গেছে। যাঁরা জনগণের সেবক, বিশেষ করে যাঁদের ওপর রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব অর্পিত হয়, তাঁদের কথাবার্তা হবে পাথরের মতো ভারী, শিমুল তুলার মতো হালকা নয়। পিলখানার বর্বরতা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও বিডিআরের ডিজি এত রকম পরস্পরবিরোধী কথা বলেছেন, তা দিয়ে একটি বই হতে পারে। বিচার কোন আইনে হবে—একেক দিন একেক কথা। বিডিআরের আটককৃত সদস্যরা শুধু ‘হার্ট অ্যাটাকে’ই মরতে লাগলেন। নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা না করে বিডিআরের নাম ও পোশাক পরিবর্তন নিয়ে যা হলো তার জবাব একসময় মানুষ চাইবে। শেষ পর্যন্ত ডিজির ঈদ কার্ড নিয়ে যা হয়েছে তাতে প্রমাণিত হয়েছে অনেক ব্যাপারেই সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
রাষ্ট্রপতি জিয়ার মৃত্যুর পর বেগম জিয়াকে সরকার থেকে একট বাড়ি দেওয়া হয়। হঠাত্ শোনা গেল পিলখানায় নিহত সেনা অফিসারদের পরিবারকে দুটো করে ফ্ল্যাট দেওয়া হবে। সে ফ্ল্যাট নির্মিত হবে, অন্য কোথাও নয়, ৬ নম্বর শহীদ মইনুল সড়কে। কালবিলম্ব না করে বেগম জিয়াকে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ দেওয়া হলো। কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে—পিলখানার নিহতের পরিবার যদি দুটো ফ্ল্যাট পায় নিহত রাষ্ট্রপতির স্ত্রী দুটো বাড়ি পাবেন না কেন? তা ছাড়া সেনাবাহিনীর বহু সদস্য দেশে ও বিদেশে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিহত হচ্ছেন। তাঁদের পরিবার দুটো ফ্ল্যাট পাবে না কেন? কাউকে কোনো কিছু দিয়ে ফেরত নেওয়াটা অনুচিত। কোনো ব্যাপারেই প্রতিহিংসার প্রকাশ ঘটানো আরও অনুচিত। যা হতে পারে তা হলো, আমার ব্যক্তিগত অভিমত, বাড়িটাড়ি যা দেওয়া হয়েছে তা শুধু বেগম জিয়াই ভোগ করবেন, তাঁর সন্তানদের তাতে কোনো অধিকার থাকা উচিত নয়। যিনি দেশের জন্য ত্যাগ করেন তিনিই গুরুত্বপূর্ণ—তাঁর বংশধরেরা নয়।
হঠাত্ সংসদ থেকেই শোনা গেল, সাত বছর সেনাবাহিনীতে যেসব নিয়োগ পোস্টিং হয়েছে তা নিয়ে তদন্ত হবে। প্রতিরক্ষা বিভাগ অন্য বিভাগের মতো নয়। সব জায়গা থেকে সব কথা ঘোষণা দিতে নেই। কিছু রীতি বা কনভেনশন সব রাষ্ট্র মেনে চলে। সেই রীতি ভাঙা হঠকারিতা অথবা অর্বাচীনতা। পৃথিবীর কোনো দেশে তিন বাহিনীর নেতিবাচক বিষয় সংসদে আলোচনা হয় না। সংসদীয় কমিটিতে হতে পারে।
সরকার ও তাদের কিছু স্বনামধন্য ব্যক্তি বলে বেড়াচ্ছেন, ১৯৭২-এর সংবিধান পুনঃপ্রবর্তন করবেন। কোন জ্ঞানে তা বলছেন আমার মতো পিএইচডিহীন মানুষের মাথায় তা আসে না। সময়ের প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধিত হওয়া এক জিনিস, আর অতীতে ফিরে যাওয়া অন্য জিনিস। ওই সংবিধানে ‘সমাজতন্ত্র’ আছে। আওয়ামী লীগ কি চীন, কিউবা, ভেনেজুয়েলা বা উত্তর কোরিয়ার পথ গ্রহণ করতে চাইছে? তা যদি চায় ব্যক্তিগতভাবে আমি স্বাগত জানাব, শান্তিবাদী বারাক হোসেন ওবামা স্বাগত জানালে ঢাকার রাজপথে আনন্দ মিছিলও করতে পারি। ১৯৭২-এর সংবিধানে সেক্যুলারিজমও ছিল—রাষ্ট্রে সেক্যুলারিজমের নামগন্ধ না থাকলেও। ধর্মীয় রাজনীতি বন্ধ করার বহু পথ আছে। ইউরোপের প্রত্যেক দেশেই ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক বা কনজারভেটিভ পার্টি আছে। বাংলাদেশে কেউ ইসলামিক গণতান্ত্রিক দল গঠন করতে চাইলে তা কোন যুক্তিতে বাধা দেওয়া হবে। বাধা দিলে উগ্র মৌলবাদ মাথা খাড়া করবে। ভারতেও মুসলিম লীগ রাজনীতি করছে। তা ছাড়া ১৯৭২-এর সংবিধানে রয়েছে কিছু মারাত্মক গলদ। এখন তা পুনঃপ্রবর্তন হবে আওয়ামী লীগের জন্য আত্মঘাতী।
সরকারি দলের লোকদের সংযত আচরণ করতে হয়। কে কার জন্মদিন কীভাবে পালন করবে তা তাঁর ও তাঁর ভক্তদের ব্যাপার। জন্মদিন সকালবেলা কাঙালিভোজ দিয়ে করবে, না বিকেলে কেক কেটে করবে তা তাঁর মর্জি। বাংলাদেশের প্রতিটি ম্যাট্রিক বা এসএসসি পাস মানুষের দুটো জন্মদিন। ড. জাকির হোসেন ভারতের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর মিডিয়ার মানুষ জানতে চেয়েছিলেন তাঁর জন্মদিন কবে। তিনি বলেছিলেন, ‘জন্মেছি যখন জন্মদিন একটা নিশ্চয়ই আছে।’ বেগম জিয়ার জন্মদিন পালন নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা করাটা চরম রুচিবিবর্জিত কাজ। দুই বা সোয়া দুইবার তিনি হন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। যুগ যুগ মানুষ তাঁর ‘জন্মদিন’ পালন করবে। বাঙালির ১২৪ বছরের রাজনীতির ইতিহাসে জঘন্য ক্ষুদ্রতার প্রকাশ ঘটেছে বেগম জিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জন্মদিন নিয়ে প্রশ্ন তোলায়। এই নোংরামিকে ব্যক্তিগতভাবে আমি ধিক্কার জানাই।
সরকারের সামনে কত কাজ। সব বাদ দিয়ে হাবিজাবি ব্যাপার নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আইন প্রতিমন্ত্রী বলতে থাকলেন, ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের বিচার ও শাস্তি হবে। আশ্বাসের পর আশ্বাস দিচ্ছেন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টারা। শ্রমমন্ত্রী শাহজাহান সাহেব বলেছেন, চিহ্নিত অপরাধীদের গুলি করে মারা চমত্কার কাজ। ফরিদপুরের আরেক মন্ত্রী জনগণকে গরুচোরদের চোখ উপড়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। বিচার বিভাগ চলছে নির্বাহী বিভাগের নির্দেশে। চিনি ব্যবসায়ীদের একটি চুলেও টান পড়ল না। দুর্নীতি দমন কমিশন এখন সরকারের হাতের মুঠোয়। মানবাধিকার কমিশনকে গলা টিপে ধরা হয়েছে।
সিরাজদ্দৌলা নাটকের সিরাজের কণ্ঠে কাল্পনিক সংলাপই যেন আজ নিরেট বাস্তবতা: গোলাম হোসেন, বাংলার আকাশে আজ দুর্যোগের ঘনঘটা...। মিয়ানমার আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী, তারা সত্ প্রতিবেশীর মতো আচরণ করছে না। আমাদের সমুদ্রসীমার মাছ তারা নিয়ে যায়। সমুদ্রবক্ষে গ্যাস উত্তোলনে বাধা দেয়। তাদের রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু আমাদের অর্থনীতি ও পরিবেশের ক্ষতি করছে। এখন তারা কোনো কারণ ছাড়াই বাংলাদেশ সীমান্তে সেনা জড়ো করছে। সরকারের পক্ষ থেকে কী করা হচ্ছে আমরা জানি না।
শুধু সরকারকে দোষ দেব না। কপাল আমাদের। অসহায় জনগণ নেতৃত্বহীন। আগের সেই আত্মত্যাগী ছাত্র ও যুবসমাজ নেই। সন্ত্রাসী আছে—সংগ্রামী ছাত্রনেতা নেই। নির্বাচন-পূর্ব বিপ্লবী সাংস্কৃতিক নেতারা এখন প্রাপ্তির জন্য দেনদরবারে ব্যস্ত। ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেসব বুদ্ধিজীবী ও নাগরিক সমাজের নেতা গণতন্ত্রের জন্য শেষ রক্তবিন্দু দিতেও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁরা ১০ মাস ধরে জীবিত যে আছেন তা বোঝার উপায় নেই। ১০ মাসের মধ্যে একবার প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে শুধু দেখা গেছে তাঁদের তত্পরতা। সুতরাং প্রার্থনা করি: আল্লাহই বাংলাদেশকে রক্ষা করুন।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।

রাশিয়া সফরে হিলারি ক্লিনটন

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন আজ মঙ্গলবার রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন। হিলারি ক্লিনটনের এই সফরে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া পরমাণু চুক্তি এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে রাশিয়ার সহায়তা চাইবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কূটনীতিক হিসেবে এই প্রথমবারের মতো রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন হিলারি ক্লিনটন। এই সফরে তিনি রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ও প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই বৈঠকে অন্যান্য এজেন্ডা ছাড়াও আফগানিস্তানে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা ও মধ্যপ্রাচ্য শানি্ত প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যাপারে সবসময়ই রাশিয়ার সহায়তার কথা বলে আসছে। হিলারি ক্লিনটনের এই সফরে রাশিয়া কীভাবে ইরানের ওপর পরমাণূ কর্মসূচি বন্ধে চাপ প্রয়োগ করতে পারে, সে প্রশ্নে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ শক্তিধর সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, রাশিয়া, ফ্রান্স ও চীন ইরানের পরমাণু কর্মসূচির প্রশ্নে বেশ সোচ্চার। এই পাঁচটি দেশের পাশাপাশি জার্মানিও অনেক আগেই ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছে। এই দেশগুলো মনে করে, ইরানের এই পরমাণু কর্মসূচির অন্তরালে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অশুভ উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে। তবে ইরান বারবার বলে আসছে তারা এই পরমাণু কর্মসূচিকে শানি্তর উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করতে চায়। সম্প্রতি ইরান তার একটি নবনির্মিত পরমাণু কেন্দ্রে জাতিসংঘ পর্যবেক্ষকদের পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছে। এ ছাড়া জেনেভায় ছয় জাতির বৈঠকে অংশ নিয়ে ইরান পরমাণু প্রশ্নে সহায়তার ব্যাপারে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্বযক্ত করেছে।

সন্ত্রাস-অনিয়মের লাগাম টেনে ধরা দরকার -যুবলীগ নেতা বলে কথা!

শাসক দল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের দেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও অবৈধ দখলের মতো ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে প্রতিদিন। আইনকানুনের তোয়াক্কা না করে শাসক দলের নেতা-কর্মীরা যেন নিজ নিজ এলাকায় নিজস্ব রাজত্ব কায়েম করেছেন। সামাজিক সন্ত্রাস চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর খবরদারি যেন তাঁদের উত্তরাধিকার। সাংসদ থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মী, কেউই পিছিয়ে নেই। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, সরকার নানা সময়ে এঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে এর দেখা মিলছে না।
এমনই এক পীড়াদায়ক ঘটনার কথা জানাচ্ছে সোমবারের প্রথম আলো; কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সুতি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢুকে এক শিক্ষার্থী ও তার মাকে আহত করেছেন যুবলীগের এক নেতা। প্রভাবের দিক থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘটনা না হলেও এটি শাসক দলের নেতাদের বেপরোয়াপনার এক দৃষ্টান্ত। প্রধান শিক্ষকের কী কী করতে হবে, সে বিষয়েও নির্দেশনা দিয়েছেন যুবলীগের ওই নেতা। দলের পক্ষ থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে হয়তো আমাদের এমন বেপরোয়া সন্ত্রাস দেখতে হতো না।
শাসক দলের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তিরা সন্ত্রাস ও অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত হলে জনগণ অত্যন্ত অসহায় হয়ে পড়ে। এঁদের প্রতিরোধ করা কঠিন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ ক্ষমতাকাঠামোর নানা অংশের আনুকূল্যও পান তাঁরা। দলের কেন্দ্র ও শাখা কমিটিগুলো তাঁদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান না নিলে অবস্থা আরও খারাপ হবে, যার দায় সরকার এড়াতে পারবে না।
এ ধরনের ঘটনা আমরা নিয়মিত সরকার ও দলের নজরে আনার চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু এর পরও এ ধরনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। সরকারের মন্ত্রী বা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও সত্যিকারের কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এখনই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও অবৈধ দখলের লাগাম টেনে ধরা জরুরি।

প্রত্যাশা ও সামর্থ্য রয়েছে, প্রয়োজন সাহসী উদ্যোগ -সম্ভাবনার শক্তিশালী বাংলাদেশ

সমস্যা ও সম্ভাবনার জোড়লাগা ভূমি এই বাংলাদেশ। ৩৮ বছরের পথচলায় এই সমস্যা আর সম্ভাবনা কখনো পালা করে, আবার কখনো সমান্তরালে বিরাজ করেছে। স্বাধীনতা যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করে দিয়েছিল, একের পর এক রাষ্ট্রীয় দুর্যোগ আর রাজনৈতিক হোঁচট তাকে সীমিত করে দেয়। ক্ষমতার মধ্যে জন্ম নেওয়া দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা যখন চোখের বালি হয়ে ওঠে, তখনই জনগণের উত্থান ও উদ্যোগ উত্তরণ ঘটিয়ে দেয়। তবে সমস্যার দিকটি যত নজরে এসেছে, সম্ভাবনার দিকটি রয়ে গেছে ততই আড়ালে। এই বাংলাদেশই দরিদ্র দেশ থেকে মাঝারি আয়ের দেশের দিকে যাচ্ছে, অনুন্নত দেশের সিঁড়ি ডিঙিয়ে উঠছে উন্নয়নশীল দেশের সোপানে। ২০০৫-০৬ সাল থেকে ২০০৭-০৮ বছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি আশাপ্রদভাবে ছয়ের ঘরেই ছিল। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনারে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের বিপুল সম্ভাবনার কথাও ঘোষিত হয়েছে। উচ্চারিত হয়েছে জনগণের সৃষ্টিশীলতা ও গণতান্ত্রিকতার জয়গান। আশার এ উচ্ছ্বাস যেমন সত্য, তেমনি সত্য সমস্যার চাপও। এ দুইকে একসঙ্গে বিবেচনায় রেখেই জাতীয় অবস্থার খতিয়ান করা উচিত।
এ বছর জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ দুই ধাপ এগিয়ে ১৮২টি দেশের মধ্যে ১৪৬তম হয়েছে। অর্থনীতিতে বৈষম্য বাড়ার পাশাপাশি গড় জাতীয় উত্পাদন আবার ছয়ের ঘরে উঠতে যাচ্ছে, ২০০৫-২০০৭ সালে যা সাত ছুঁই ছুঁই করছিল। সন্তোষজনক না হলেও এটা অগ্রগতি। একদিকে দেশ বিশিল্পায়িত হলেও প্রবাসী শ্রমিকদের আয় ও কৃষি উত্পাদন বৃদ্ধি খাদ্যনিরাপত্তা এনেছে এবং বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়কে স্বাস্থ্যবান করেছে। কোটি কোটি তরুণ-তরুণী আত্মকর্মসংস্থানের পথে বাড়িয়েছে সার্বিক গতিশীলতা। সামাজিক সেবা প্রসারিত হলেও সরকারি সেবার মান কমেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অগণতান্ত্রিকতা বহাল থাকলেও নাগরিকদের মধ্যে গণতান্ত্রিকতা ও গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা বেড়েছে। মোদ্দাকথা, সমাজ যতই এগোতে চেয়েছে, রাষ্ট্রের দুর্বলতা তাতে শক্তি জোগানোর চেয়ে বাধাই সৃষ্টি করেছে বেশি।
খেয়াল করলেই দেখা যাবে, সাফল্য এসেছে জনগণের উদ্যোগ ও উদ্যমের ফলে, আর সমস্যা জন্মেছে ওপরতলার বৃত্তে। হার্ভার্ড সেমিনারের গবেষকেরা আশা করেছেন, সরকার পরিচালনায় নতুন চিন্তার সন্নিবেশ ঘটবে, বিনিয়োগ ও সম্পদের প্রবাহ নতুন মাত্রা পাবে ইত্যাদি। বিশেষভাবে নজর দিতে হবে শিক্ষা, কৃষি, শিল্প ও জ্বালানিক্ষেত্রে। অব্যবস্থাপনা, জবাবদিহির অভাব, দুর্নীতি ও দলীয়পনার প্রতিকার করতে হবে কঠোরভাবে। দুর্বলতা নিয়ে সচেতনতার পাশাপাশি ইতিবাচক দিকগুলো সামনে তুলে ধরে অগ্রযাত্রার আত্মবিশ্বাস জাগাতে হবে। জনগণের উদ্যোগ ও কর্মকুশলতাকে পৃষ্ঠপোষকতা, সীমিত সম্পদের সুদূরপ্রসারী ব্যবহার এবং সব পর্যায়ে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি জোরদার করতে হবে। কিন্তু এই উপলব্ধি জনগণের মধ্যে যত, নবীন প্রজন্মের মধ্যে যত, শাসকদের মধ্যে ততটা নয়।
ব্রিটিশ লেখক রবার্ট লুই স্টিভেনসনের উপন্যাস ড. জেকিল অ্যান্ড মিস্টার হাইড ছিলেন একই ব্যক্তি। তিনি দিনে এক আর রাতে আরেক চরিত্র। একটি দিক আলোকিত, অন্যটি অন্ধকার। বাংলাদেশও এখনো আলো-অন্ধকারে দুলছে। এই দোলাচল জনগণের মধ্যে নেই। তারা নিজেদের জীবন ও দেশের অবস্থানকে সমৃদ্ধ ও সম্মানজনক দেখতে চায়। এটা যেহেতু সম্ভব, সেহেতু এর কম প্রত্যাশা হতে পারে না।

অর্থসংকটে আল-কায়েদা?

সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ আর্থিক সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে জঙ্গি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল-কায়েদা। মার্কিন গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। মার্কিন গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে জানা গেছে, আল-কায়েদা আর্থিক সংকটের ভেতর দিয়ে গেলেও অপর জঙ্গি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন তালেবানের কোষাগার বেশ ভালোভাবেই ফুলে-ফেঁপে উঠছে। গোয়েন্দাদের কাছে খবর রয়েছে এ বছর আল-কায়েদা বিভিন্ন মাধ্যমে বেশ কয়েকবার অর্থ সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদ দমনের দায়িত্বে নিয়োজিত গোয়েন্দারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের আল-কায়েদা-বিরোধী অব্যাহত অভিযানের ফলেই তাঁদের বিভিন্ন আর্থিক সহায়তার নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়েছে। আফগানিস্তানে বিভিন্ন মাদক উত্পাদন ও এর বাজারজাতকরণের মাধ্যমে আল-কায়েদা বিপুল অর্থ আয় করে থাকে। সেই মাদকলব্ধ অর্থেই এই সংগঠন বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসী তত্পরতা চালায়।
আল-কায়েদার নেতৃস্থানীয়রা ইতিমধ্যেই অর্থসংকট নিয়ে নিজেদের মধ্যে একাধিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। আল-কায়েদা নেতারা আশঙ্কা করছেন, পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে আল-কায়েদার জঙ্গি নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ইত্যাদি ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলোর আর্থিক সংগতিবিষয়ে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ডেভিড কোহেন বলেন, ‘সাত বছরের মধ্যে এবারই আল-কায়েদা সবচেয়ে ব্যাপক আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। তাদের আর্থিক সংকট দিন দিন বেড়েই চলেছে। সে কারণে সন্ত্রাস ও অপরাধ-বিশ্বে তাদের প্রভাব ক্রমেই কমছে।’ তবে কোহেন মনে করেন, আল-কায়েদার অনেক দাতা রয়েছে যারা আল-কায়েদাকে অর্থ সাহায্য দিতে ইচ্ছুক ও প্রস্তুত, সেই সব দাতার আর্থিক সংগতিও অনেক বেশি।
এদিকে আল-কায়েদা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় থাকলেও তালেবানদের আর্থিক সংগতি দিন দিন বেড়েই চলেছে। আল-কায়েদার মতো তালেবানদের অর্থপ্রবাহে নজরদারি থাকলেও তাদের আর্থিক সংগতি কীভাবে বাড়ছে তা নিয়ে চিন্তিত মার্কিন গোয়েন্দারা। তাঁদের মতে, তালেবানরা বেশির ভাগ অর্থসাহায্য পেয়ে থাকে মধ্যপ্রাচ্য তথা উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। তালেবানদের অর্থসাহায্য দাতাদের সংখ্যা আল-কায়েদার চেয়ে অনেক বেশি, সে কারণে এই অর্থপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন গোয়েন্দাদের।
মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে আরও জানা যায়, জঙ্গি সংগঠনগুলো সন্ত্রাস ছাড়াও অন্যান্য অপরাধমূলক কাজে জড়িত হয়ে নিজেদের প্রয়োজনীয় অর্থ নিজেরাই জোগাড় করছে। লেবাননের জঙ্গি সংগঠন হিজবুল্লাহ বিভিন্ন জাল সফটওয়্যার বিক্রি ও চোরাচালান করে নিজেদের অর্থ জোগাড় করে থাকে।

ভারতের তিন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন আজ

ভারতের তিনটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে আজ মঙ্গলবার ভোট নেওয়া হবে। গত এপ্রিল-মে মাসে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের পর এই প্রথম ভারতের তিনটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজ্য তিনটি হলো মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা ও অরুণাচল প্রদেশ। তিনটি রাজ্যেই ক্ষমতায় রয়েছে কংগ্রেস জোট।
মহারাষ্ট্রের ২৮৮টি, হরিয়ানার ৯০টি ও অরুণাচল প্রদেশের ৬০টি বিধানসভা আসনে ভোট নেওয়া হবে।
এদিকে মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার নির্বাচন নিয়ে স্টার আনন্দ-এসি নেলসন একটি সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছে, মহারাষ্ট্রে কংগ্রেস-এনসিপি জোট এবং হরিয়ানায় এককভাবে জিততে চলেছে কংগ্রেস।

প্রকাশিত হলো মাইকেল জ্যাকসনের নতুন গান ‘দিস ইজ ইট’

প্রয়াত পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের নতুন গান বাজারে এসেছে। গতকাল সোমবার ‘দিস ইজ ইট’ নামের একটি গান প্রকাশ করা হয়। মাইকেলের মৃত্যুর প্রায় চার মাস পর গানটি প্রকাশিত হলো। সংগীত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান সনি মিউজিক এন্টারটেইনমেন্ট এক বিবৃতিতে এ কথা জানায়।
প্রতিষ্ঠানটির বিবৃতিতে বলা হয়, মাইকেল জ্যাকসন ডটকম নামের ওয়েবসাইটে গানটি প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে জানানো হয়, মাইকেল জ্যাকসন’স দিস ইজ ইট নামের চলচ্চিত্রের শেষ দৃশ্যে গানটি থাকবে। চলচ্চিত্রটি ২৮ অক্টোবর মুক্তি পাওয়ার কথা। লস অ্যাঞ্জেলেসের স্ট্যাপলস সেন্টারে মহড়ার সময় তোলা মাইকেল জ্যাকসনের নতুন একটি ছবিও উন্মোচন করা হবে। এ ছাড়া দুটি সিডি-ডিস্কের একটি অ্যালবামও প্রকাশ করা হবে। চলতি মাসের শেষ দিকে অ্যালবামটি বাজারে আসবে।

গণমাধ্যমসংক্রান্ত আইনের বিরোধিতায় জেলায়ার সমর্থকেরা

হন্ডুরাসের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল জেলায়ার সমর্থকেরা অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, সরকার গণমাধ্যমের ওপর কোনো ধরনের দমননীতি চালানোর চেষ্টা করলে তা চলমান সমঝোতা আলোচনাকে ভুল পথে নিয়ে যেতে পারে। ২৮ জুন সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জেলায়াকে ক্ষমতাচ্যুত করে হন্ডুরাসের সামরিক বাহিনী। এর পর থেকে সেখানে রাজনৈতিক সংকট চলছে।
গত শনিবার গণমাধ্যমসংক্রান্ত একটি নতুন আদেশ জারি করে হন্ডুরাসের অন্তর্বর্তী সরকার। ওই আদেশ অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি বা জনগণের মধ্যে হিংসাত্মক মনোভাব ছড়ানোর অভিযোগে সরকার এখন দেশের যেকোনো গণমাধ্যম বন্ধ বা সেটির সম্প্রচারের অনুমতি বাতিল করতে পারবে। নতুন এই সরকারি আদেশের বিরোধিতা করছে জেলায়ার সমর্থকেরা।

বিচ্ছেদ ঠেকাতে এবার সরকারি খরচে মধুচন্দ্রিমা

বিবাহবিচ্ছেদ ঠেকাতে ভারতে দম্পতিদের পর্যটনে পাঠানোর উদ্যোগের কথা জানার পরপরই মালয়েশিয়া থেকে এসেছে একটু ভিন্ন ধরনের সংবাদ। দেশটিতে বিবাহবিচ্ছেদ ঠেকানোর লক্ষ্যে বিচ্ছেদের দ্বারপ্রান্তে থাকা দম্পতিদের বিনা খরচে মধুচন্দ্রিমায় পাঠানোর প্রকল্প হাতে নিয়েছে মালয়েশিয়ার একটি রাজ্যের কর্তৃপক্ষ। ওই রাজ্যে বিবাহবিচ্ছেদের উচ্চহারের প্রেক্ষাপটে কর্তৃপক্ষ এ পদক্ষেপ নিল।
দাম্পত্য কলহের অবসান ঘটিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে তেরেঙ্গনু রাজ্য কর্তৃপক্ষ এ উদ্যোগ নিয়েছে। গতকাল সোমবার এ খবর দিয়েছে দ্য স্টার পত্রিকা।
চলতি বছরের শেষের দিকে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। মধুচন্দ্রিমার খরচ বহন করবে রাজ্য সরকার।
কমিউনিটি উন্নয়ন কাউন্সিল ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। রাজ্যের কল্যাণ, কমিউনিটির উন্নয়ন ও নারীবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান আশারি ইদ্রিস বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিবাহবিচ্ছেদের দ্বারপ্রান্তে থাকা ২৫ জোড়া দম্পতিকে তখন মধুচন্দ্রিমায় পাঠানো হয়েছিল। তাঁরা তিন দিন তিন রাত বাড়ি থেকে দূরে অবস্থান করেন। সেই পাইলট প্রকল্পের ফলাফল ছিল ইতিবাচক।
তবে এ মধুচন্দ্রিমার ফলে ঠিক কত জোড়া দম্পতির বিয়ে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে, সেটা জানাননি তিনি। আশারি ইদ্রিস জানান, যখন কোনো দম্পতির ভালোবাসার সম্পর্ক তিক্ততার দিকে গড়াবে, তখন তাঁদের স্বাভাবিক পরামর্শ দেওয়া হবে। কিন্তু যেসব দম্পতির বিয়ে ভাঙনের দিকে গড়াবে, তাঁদের দ্বিতীয়বারের মতো মধুচন্দ্রিমার প্রস্তাব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, নববিবাহিত দম্পতিদের বোঝাপড়ায় সমস্যা হতে পারে। সামান্য বিবাদের ফলে সম্পর্ক ভাঙনের দিকে গড়াতে পারে। কিন্তু দুই দশক ধরে সংসার করা কোনো দম্পতি যদি বিবাহবিচ্ছেদ ঘটাতে চান, তাহলে সেটা গ্রহণযোগ্য নয়।

বিমান ছিনতাইয়ের অভিযোগ, ৪০ বছর পর কিউবার এক নাগরিক গ্রেপ্তার

৪১ বছর আগে সংঘটিত এক যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাইয়ের অভিযোগে কিউবার একজন নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। গত রোববার দুপুরে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে তাঁকে আটক করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) চার দশক ধরে হন্যে হয়ে খুঁজছিল লুইস আরমান্ডো পেনা সোলটার্ন নামের এই কিউবান নাগরিককে। তাঁর বর্তমান বয়স ৬৬ বছর। ১৯৬৮ সালের ২৪ নভেম্বর প্যান আমেরিকান এয়ারলাইনসের ২৮১ ফ্লাইটের বিমানটি ছিনতাইয়ের সঙ্গে লুইস আরমান্ডো জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এফবিআই তাদের অভিযোগপত্রে বলেছে, ৯৬ জন যাত্রী ও সাতজন ক্রুসহ পুয়ের্তোরিকোগামী ফ্লাইটটি ছিনতাই করেছিলেন লুইস। তিনি অন্য দুজন সহযোগীসহ অস্ত্রের মুখে বিমানের ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেন। পাইলটকে পুয়ের্তোরিকোর পরিবর্তে কিউবার হাভানায় বিমানটি অবতরণ করাতে বাধ্য করেন।
১৯৬৮ সালের দিকে কিউবার বিপ্লবীদের হাতে মার্কিন বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা অহরহ ঘটছিল। চরমপন্থী বিপ্লবীরা বন্দিমুক্তি ও মুক্তিপণ আদায়ের জন্য বিমান ছিনতাই করতেন। ১৯৬৮ সালেই কমপক্ষে ৩০টি মার্কিন বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ওই বছরের ২৪ নভেম্বর এক দিনেই দুটি বিমান ছিনতাই হয়। এর একটির সঙ্গে লুইস আরমান্ডো জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক কারণে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন কিউবা ছিল এই ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য। এফবিআই কখনো এঁদের পিছু ছাড়েনি। কিউবা থেকে এসব ছিনতাইকারীকে ধরে আনার বহু উদ্যোগ নেয় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তবে এ ব্যাপারে কিউবার সরকারের সহযোগিতা পায়নি এফবিআই।
গত মাসে লুইস আরমান্ডোর মামলাটি পুনরায় চালু করার জন্য আবেদন করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়, কর্তৃপক্ষের কাছে সংবাদ রয়েছে যে ফেরারি লুইস আরমান্ডো তাঁর স্বজনদের দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসার চেষ্টা করছেন। এরপর রোববার হঠাত্ করেই ঘোষণা দেওয়া হয়, তাঁকে বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লুইস আরমান্ডোকে কিউবা থেকে এফবিআই ধরে নিয়ে এসেছে কি না—এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কিউবার বর্তমান সরকারের কোনো সহযোগিতার কথাও জানানো হয়নি।
এ ব্যাপারে এফবিআইয়ের নিউইয়র্ক দপ্তরের সহকারী পরিচালক জোসেফ ডেমারেন্ট বলেছেন, ফেরারি অপরাধীকে গ্রেপ্তার ও বিচার-প্রক্রিয়ায় নিয়ে না আসা পর্যন্ত এফবিআই ক্ষান্ত হয় না; লুইসের গ্রেপ্তারে তা আবার প্রমাণিত হয়েছে।
দোষী প্রমাণিত হলে লুইস আরমান্ডোর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। এর আগে ওই বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় লুইসের অপর দুই সহযোগী জো রিওস ও মিগুয়েল কাস্ত্রোকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছিল এফবিআই। বিচারে তাঁদের যথাক্রমে ১৫ ও ১২ বছরের কারাদণ্ড হয়।

ঝাড়খন্ডে রেললাইন উড়িয়ে দিয়েছে মাওবাদীরা

ভারতের ঝাড়খন্ড ও বিহারে মাওবাদীদের ডাকা দুই দিনের বনেধর প্রথম দিনে ঝাড়খন্ডে রেললাইন উড়িয়ে দিয়েছে মাওবাদীরা। আগুন দেওয়া হয়েছে ট্রাকে। মাওবাদীরা জানিয়েছে, শক্তি প্রয়োগ করে সিপিআইয়ের (মাওবাদী) আন্দোলন দমনে কেন্দ্রীয় সরকারের চেষ্টার প্রতিবাদে তারা এই বনেধর ডাক দিয়েছে।
ধানবাদ রেল বিভাগের জ্যেষ্ঠ জনসংযোগ কর্মকর্তা অমরেন্দ্র দাস সাংবাদিকদের বলেন, মাওবাদীরা রাত আড়াইটার দিকে ধানবাদের কয়লাখনি অঞ্চলে রেললাইনের একাংশ উড়িয়ে দিয়েছে। তিনি জানান, রেললাইন উড়িয়ে দেওয়ায় শক্তিপুঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি আটকা পড়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে ঝাড়খন্ডের রাজধানী রাঁচির সঙ্গে দিল্লির রেল যোগাযোগ।
গিরিডির পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট রবি কান্ত ধন বলেন, রাত একটার দিকে গিরিডির ইসরি এলাকায় প্রায় ১২ জন সশস্ত্র মাওবাদী তিনটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় গাছ কেটে ডুমরি-গিরিডি সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বিদ্রোহীরা।
এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বিস্ফোরক দিয়ে ডুমরি ও গ্রান্ড ট্রাংক রোড সংযোগকারী একটি সেতুর অংশবিশেষ উড়িয়ে দিয়েছে মাওবাদীরা। গিরিডির পরশনাথ এলাকার দেয়ালে পোস্টার সেঁটেছে বিদ্রোহীরা।
এদিকে গতকাল সোমবার পাকুর জেলার ছোটপাহাড় এলাকায় একটি বেসরকারি খনি কোম্পানির দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা। মাওবাদীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
মাওবাদীদের ডাকা বন্ধ সামনে রেখে বিহারে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নীলমনি বলেন, বন্ধ্ সামনে রেখে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নীলমনি জানান, মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য ছাড়াও স্পেশাল অক্সিলিয়ারি পুলিশ (এসএপি) ও বিহার মিলিটারি পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
মাওবাদীদের হাতে চার বছরে দুই হাজারের বেশি খুন
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত চার বছর অর্থাত্ ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত এই প্রায় চার বছরে মাওবাদীদের হাতে ভারতের মাওবাদী অধ্যুষিত চার রাজ্যে খুন হয়েছে দুই হাজার ২১২ জন। রাজ্য চারটি হলো ঝাড়খন্ড, বিহার, ছত্তিশগড় ও উড়িষ্যা। পুলিশ, আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষ তাদের হাতে খুন হয়েছে।