Sunday, August 14, 2011

সিরিয়ার ওপর আরও অবরোধ আরোপের আহ্বান হিলারির

সিরিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন বন্ধে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন গত বৃহস্পতিবার দেশটির ওপর অধিকতর আন্তর্জাতিক অবরোধ আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। এদিন সিরিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর দমন অভিযানে ২৪ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়।
বৃহস্পতিবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিলারি ক্লিনটন বলেন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে অন্য দেশগুলোর তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করা উচিত।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাশারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য সিরিয়ার তেল ও গ্যাসশিল্পে অবরোধ আরোপ দরকার এবং আমরা চাই, এ বিষয়ে ইউরোপ আরও পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।’ তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, আমাদের সঙ্গে চীন ও ভারতও পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। কারণ, দেশ দুটি সিরিয়ার জ্বালানি খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে।’ একই সঙ্গে তিনি সিরিয়ার কাছে অস্ত্র বিক্রি না করার জন্য রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানান।
হোয়াইট হাউস বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান বৃহস্পতিবার ফোনালাপের সময় সিরিয়ার ‘গণতান্ত্রিক পথে উত্তরণের’ প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হন।
ওবামা প্রশাসন আসাদের ওপর অব্যাহত চাপ সৃষ্টি করে আসছে। তবে আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে আসাদ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান আরও জোরদার করেছেন।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আসাদের প্রতি পদত্যাগের আহ্বান জানানোর পরিকল্পনা করছে। এ আহ্বান জানানোর দিনক্ষণের বিষয়ে এখনো চিন্তাভাবনা চলছে। তবে আগামী সপ্তাহেই এ আহ্বান জানানো হতে পারে—এমন সম্ভাবনার কথা তিনি উড়িয়ে দেননি।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলেছে, গত মার্চে সিরিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত দুই হাজার ১৫০ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৭৪৪ জন বেসামরিক মানুষ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ৪০৬ জন সদস্য রয়েছেন।
ইতিমধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড জানান, দামেস্কে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট ফোর্ড সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ মুয়াল্লেমকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করা না হলে দেশটির ওপর অধিকতর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। এর আগে গত বুধবার সিরিয়ার প্রধান বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং মুঠোফোন কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।
এ ছাড়া রবার্ট ফোর্ড সিরিয়ার বিক্ষোভের খবর সাংবাদিকদের সংগ্রহ করতে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্যও ওয়ালিদ মুয়াল্লেমের প্রতি আহ্বান জানান। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে পরামর্শ করার পর দামেস্কে ফিরে যান ফোর্ড।
মানবাধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারও নিরাপত্তা বাহিনী হোমসে দমন অভিযান চালিয়েছে। এতে ২৪ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল শুক্রবার ফজরের নামাজের পর থেকে সিরিয়াজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

এক রেঞ্জার্স সদস্যের ফাঁসি ছয়জনের যাবজ্জীবন

নিরস্ত্র তরুণ সরফরাজকে গুলি করে হত্যার দায়ে পাকিস্তানি আধা সামরিক বাহিনী রেঞ্জার্সের এক সেনা সদস্যকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। করাচির সন্ত্রাস দমন আদালতের বিচারক বশির আহমদ খোসো গতকাল শুক্রবার এ রায় দেন। পাকিস্তানের কোনো বেসামরিক আদালত এই প্রথম আধা সামরিক বাহিনীতে কর্মরত কাউকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিলেন।
সরফরাজকে লক্ষ্য করে গুলি করার দায়ে রেঞ্জার্স সদস্য শহীদ জাফরকে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসিতে ঝুলিয়েমৃত্যুদণ্ড এবং দুই লাখ রুপি জরিমানার আদেশ দেন বিচারক। এ ছাড়া অভিযুক্ত আরও পাঁচ সেনা সদস্য ও এক বেসামরিক নাগরিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ওই বেসামরিক ব্যক্তি সরফরাজের বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ এনে তাঁকে সেনাদের কাছে টেনে নিয়ে যান। যাবজ্জীবন ছাড়াও তাঁদের প্রত্যেককে এক লাখ রুপি করে জরিমানা করা হয়। জরিমানার ওই অর্থ নিহত সরফরাজের পরিবারকে দেওয়া হবে। অপেক্ষাকৃত দ্রুত সময়ের মধ্যে এ মামলার বিচার সম্পন্ন হলো। হত্যাকাণ্ডের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
রায়ের পর সরফরাজের পরিবারের সদস্যরা স্বস্তি প্রকাশ করেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। সরকারি কৌঁসুলি মোহাম্মদ খান বুরিও বলেন, ঐতিহাসিক এই রায় প্রমাণ করে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। প্রতিষ্ঠান হিসেবে রেঞ্জার্স এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত নয়। আদালতে এটি অপরাধীদের নিজেদের কাজ বলে প্রমাণিত হয়েছে। সরফরাজের ভাই সালিক শাহ বলেন, এ রায়ে তাঁর পরিবার স্বস্তি পেয়েছে।
২২ বছর বয়সী সরফরাজ শাহকে গত ৮ জুন করাচির একটি উন্মুক্ত পার্কের খুব কাছে থেকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেন রেঞ্জার্সের সদস্যরা। ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে ওই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য টেলিভিশনে প্রচার করা হলে দেশজুড়ে ব্যাপক নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। সরফরাজকে একজন ডাকাত বলে দাবি করে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের সিন্ধু শাখা। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে সরফরাজের পরিবার।
ওই হত্যাকাণ্ডের ফুটেজে দেখা যায়, নিরস্ত্র সরফরাজ প্রাণ রক্ষার জন্য অনেক অনুনয়-বিনয় করার পরও তাঁকে পরপর দুবার গুলি করেন রেঞ্জার্সের এক সদস্য। এর পরও সরফরাজ সাহায্যের আবেদন করেন। কিন্তু নির্বিকার সেনারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেন ধীরে ধীরে সরফরাজের নিস্তেজ হওয়ার দৃশ্য। ওই ভিডিওচিত্রে কোনো প্রমাণ না থাকলেও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক দাবি করেন, সরফরাজের কাছে বেআইনি অস্ত্র ছিল। তবে পাকিস্তানের সরকারও এ ব্যাপারে নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং করাচি থেকে পুলিশ ও রেঞ্জার্সের প্রাদেশিক প্রধানদের প্রত্যাহার করে নেয়।

দেশের উন্নয়নে সরকারকে সহযোগিতা করবেন সু চি

মিয়ানমারের স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি ও জান্তা-সমর্থিত সরকার পরস্পরকে সহযোগিতা করবে।
মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে গতকাল শুক্রবার সু চি ও দেশটির শ্রমমন্ত্রী অং কিং প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন। এরপর এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা এ কথা জানান। গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সরকার ও সু চির মধ্যে এটি দ্বিতীয় বৈঠক।
এদিকে সু চির সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে সরকার। একই সঙ্গে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দূতকেও সে দেশে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। রাজধানী নেপিডোতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গতকাল দেশটির তথ্যমন্ত্রী কিয়া এইচসান এ কথা জানান। শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে সু চির বৈঠক শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।
গত নভেম্বরে বিতর্কিত এক নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে মিয়ানমারের বর্তমান সরকার। নামেমাত্র বেসামরিক এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর গতকাল প্রথম সংবাদ সম্মেলন করে। এতে ৫০ জন সাংবাদিক ও আড়াই শ কর্মকর্তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
ইয়াঙ্গুনে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন সু চি ও শ্রমমন্ত্রী অং কিং। পরে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষ পরস্পরকে সহযোগিতা করবে। গঠনমূলক সহযোগিতায় দেশের গণতন্ত্র এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে। দুই পক্ষের ‘পরস্পরবিরোধী মতামতগুলো’ এড়িয়ে চলা হবে।

বাফুফেকে ফিফার শুভকামনা

সবকিছু ঠিক করাই আছে। তবু আনুষ্ঠানিকতার একটা ব্যাপার থাকে। সেটিও শেষ। পরশু ফিফার চিঠি পেয়েছে বাফুফে। তাতে রয়েছে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের চূড়ান্ত সবুজ সংকেত। বাফুফে ম্যাচটার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফাকে জানানোর এক দিন পরই মিলল উত্তর। বাফুফেকে ফিফা বলেছে, ‘এই ম্যাচ নিয়ে তোমাদের জন্য শুভকামনা রইল।’
এটা বাফুফের জন্য একটা বড় মানসিক প্রশান্তি। এমনিতে ম্যাচটা নিয়ে অনিশ্চয়তা কখনোই ছিল না। তার পরও ফিফার চিঠি পাওয়া মানে সামান্যতম সংশয়-সন্দেহও দূর হওয়া। ফিফার চটজলদি উত্তর দেখে বাফুফে মনে করছে, ম্যাচটার ব্যাপারে পুরোপুরিই অবগত ফিফা।
ম্যাচ তো হচ্ছে, কিন্তু ভালোভাবে শেষ করা যাবে? প্রশ্নটা মাঠ তৈরির ধীরগতির কারণে আসছে। এমনিতে অনেক দেরিতে ঘুম ভেঙেছে সরকারের। তার ওপর কাজের খুব এটা অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
কাল বিকেলে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা গেল, কেউ নেই। শূন্য মাঠ। একজন এগিয়ে এসে জানালেন, সবে ড্রেসিংরুমের কাজ ধরেছে ক্রীড়া পরিষদ। কর্মীরা কাজ করে চলে গেছেন। ড্রেসিংরুম একটু বড় করা, মেসিদের জন্য শাওয়ার, বাথরুম ইত্যাদি তৈরি করার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানালেন তিনি।
তবে বড় চিন্তা মাঠ নিয়ে। মাঠে সার দেওয়া হয়েছে ঘাস গজানোর জন্য। দেখতে সবুজ লাগছে। তবে মাটি বেশ নরম। ওপর দিয়ে বোঝা যায় না। বৃষ্টিতে মাঠের অবস্থা খারাপ।
মাঠও না হয় ঠিকঠাক হলো। কিন্তু খরচ উঠবে তো? গ্যালারির টিকিট বিক্রির ধীরগতি সত্ত্বেও বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন আশাবাদী, ‘টিকিটের দাম কমানোর কোনো চিন্তা নেই। এই সফরে অনেক টাকা খরচ হবে। টিকিটের দাম কমালে লোকসান দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।’
লাভ-ক্ষতির সব দায়িত্বই যেহেতু বেক্সিমকো গ্রুপ নিয়েছে, কাজেই এটা নিয়ে বাফুফেকে না ভাবলেও চলছে।
ভিআইপি, ক্লাব হাউসসহ অন্য ক্যাটাগরির টিকিট প্রায় শেষ। গ্যালারির টিকিট যথাক্রমে সাড়ে ৭ হাজার ও সাড়ে ১০ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে আইএফআইসি ব্যাংকে। সালাউদ্দিনের বিশ্বাস, ‘মেসিরা ২ সেপ্টেম্বর কলকাতায় খেলে পরদিন ঢাকায় এলেই দেখবেন টিকিটের কেমন চাহিদা। অনেকে চেয়েও টিকিট পাবে না।’
বাফুফে ম্যাচ পরিচালনার জন্য রেফারি চেয়ে পাঠালে এএফসি চারজন রেফারি নিয়োগ করেছে। তাঁরা সবাই ইরানের। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৬টায় শুরু ম্যাচে কমিশনার হবেন একজন বাংলাদেশি। মনিরুল ইসলাম হতে পারেন সেই ভাগ্যবান।