Saturday, May 14, 2011

গল্প- এভাবেই ভুল হয় by আলীম আজিজ

‘আমি শুধু তোমাকে চাই। এই পৃথিবীতে শুধু আমি আর তুমি!’ বলে নাসেরের চোখ থেকে ধীরে ধীরে দৃষ্টি নামিয়ে নিল সিমিন। নাসের বুঝল, খুব ভালোভাবেই বুঝল সিমিনের ইঙ্গিত। এরপর থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিল সে। পাড়ার দোকানদারের সঙ্গে অফিসে যাওয়া-আসার পথে অকারণেই খাতির করেছে হাউজিংয়ের সিকিউরিটি গার্ড কাম কেয়ারটেকার মোস্তফার সঙ্গে। মোস্তফার বই পড়ার নেশা আছে। প্রচন্ড নেশা। সস্তা সেবা প্রকাশনীর থ্রিলার ধরনের বই পড়ে ও। নাসের জিজ্ঞেস করা মাত্রই প্রবল উৎসাহ নিয়ে একেকটা থ্রিলারের রুদ্রশ্বাস বর্ণনা দিয়ে যায়।

গল্প- মাঠরঙ্গ by হুমায়ূন আহমেদ

গুপ্তধন পাওয়ার মতো ব্যাপার ঘটেছে। আমার হাতে বিশ্বকাপের দুটো টিকিট। বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ডের খেলা মাঠে বসে দেখতে পারব। টিকিট দুটি এমপি হিসেবে শাওনের মা পেয়েছেন। তাঁর হাত থেকে ছিনতাই করে নিয়ে নিয়েছে তাঁর ছোট দুই মেয়ে। শাওন দুই বোনের হাত থেকে গোপনে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছে। চোরের ওপর বাটপারি একেই বলে। আড়াইটার সময় খেলা শুরু হবে, আমরা সাড়ে ১২টার সময় ঘর থেকে বের হলাম। স্টেডিয়ামে ঢুকতে হলে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হবে, নিরাপত্তা চেকিং, আগেভাগে যাওয়াই ভালো।

ফয়েজ আহমেদ ফয়েজঃ স্মৃতিতে চিঠিতে by মুর্তজা বশীর

৯৫৮ সাল, ঢাকা প্রেসক্লাব। বর্তমানে যা জাতীয় প্রেসক্লাব। সেপ্টেম্বরের ২০ তারিখ সেখানে প্রেসক্লাবের পৃষ্ঠপোষকতায় আমার এক্সিবিশন শুরু হয়। এটিই ছিল ঢাকায় আমার প্রথম একক প্রদর্শনী। এর আগে ১৯৫৮ সালেই ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে আমি আমার জীবনের প্রথম একক প্রদর্শনী করি। সেখানে দুই বছর থাকাকালীন আমার ছবি ও ড্রয়িংগুলো করা হয়েছিল। ’৫৮ সালের শেষ দিকে আমি ঢাকায় ফিরে আসি এবং কিছুদিন পর করাচি চলে যাই। সেখানে সাঈদ আহমেদের ঘরে ও পরে আমেরিকান ফ্রেন্ডস অব দ্য মিডল ইস্ট তার পরিচালক স্ট্যানলি ওয়াটসন, তার ১১ নম্বর বোনাস রোডের বাসায় ছবি আঁকি।

অরুন্ধতী রায়ের সাক্ষাৎকারঃ উপন্যাসের জগতের সঙ্গে আমার সম্পর্ক নেই

০১০ সালের নভেম্বরে কাশ্মীরের মুক্তিসংগ্রাম নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখায় অরুন্ধতী রায়ের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা দায়েরের হুমকি দেওয়া হয়। ভারতের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বেশ কয়েকজন বিখ্যাত ব্যক্তি অরুন্ধতী রায়ের পক্ষে দাঁড়ালেও উদারবাদীদের এই গোষ্ঠীটির বেশ উল্লেখযোগ্য অংশ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রায়ের পক্ষে তাঁদের সমর্থন আসলে বাক্স্বাধীনতার পক্ষাবলম্বন। রায়ের কোন জিনিসটা ভারতীয় মধ্যবিত্ত ও অভিজাত গোষ্ঠীর বিরক্তি উদ্রেক করে?

ইতিহাস ও জাতি দিয়ে ঘেরা by আফসান চৌধুরী

ক্ষিণ এশীয় সাহিত্যে ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ এক অমীমাংসিত মহৎ রহস্য হয়ে রইলেন। কবি ফয়েজ কোথায় শেষ আর কোথায় শুরু রাজনীতিক ফয়েজ? কোথায় শেষ প্যান-দক্ষিণ এশীয় মার্ক্সবাদী আর কোথায় শুরু পাকিস্তানি সত্তা? এসব বিপরীতমুখী পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকার বিষয়টি তাঁর অনুরাগীদের জন্য পীড়াদায়ক এক ধাঁধা হয়ে আছে। কোনো বাংলাদেশি অনুরাগীর জন্য এটি আরও জটিল। এই নিবন্ধের লেখক একজন বাংলাদেশি; তাঁর জন্ম ১৯৫০-এর দশকে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রকৌশলী নেতৃত্বের বিকল্প নেই

অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রকৌশলীদের নেতৃত্বের বিকল্প নেই। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে প্রকৌশলীদের মেধা ও প্রকৌশলজ্ঞান কাজে লাগানো উচিত। বিশেষ করে নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগ করে সর্বসাধারণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে প্রকৌশলীদের এগিয়ে আসতে হবে।
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ‘ইঞ্জিনিয়ার্স ডে’ উপলক্ষে আইইবি আয়োজিত পাঁচ দিনের অনুষ্ঠানমালায় শেষ দিনের সেমিনারে এ মন্তব্য করা হয়। তড়িৎ কৌশল বিভাগের উদ্যোগে গত সোমবার আইইবির কার্যালয়ে এ সেমিনার হয়।
সেমিনারে সভাপতি ছিলেন তড়িৎ কৌশল বিভাগের ভাইস চেয়ারম্যান মো. নূরুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) সভাপতি এম এম খাবীরুজ্জামান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন তড়িৎ কৌশল বিভাগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল ইসলাম।

ইসলামে পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত পরিবার by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ধর্মীয় শিক্ষা, আদর্শ, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা মানুষকে যেমন অধিকারসচেতন করে তোলে, তেমনি বিভিন্ন আর্থসামাজিক অবস্থা ও পারিবারিক সমস্যা মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অধ্যুষিত এ দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও জীবনাচরণের মূূল উৎসও ধর্মীয় অনুভূতিপ্রসূত। মানুষের সার্বিক কল্যাণে পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত পরিবার গঠনের জন্য ইসলাম পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ জীবন বিধানের সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। কিন্তু পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশের জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রে আশানুরূপ সাফল্য না আসায় জনসংখ্যা দেশের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় হয়ে উঠেছে।
নর-নারীর মধ্যে সুস্থ-স্বাভাবিক ও পরিকল্পিত পদ্ধতিতে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের পথ বৈবাহিক ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনের মাধ্যমে প্রশস্ত হয়। পারিবারিক জীবনে দাম্পত্য সম্পর্কের দ্বারাই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতা গড়ে ওঠে। একে অন্যের সন্তুষ্টি ও স্বস্তির জন্যই নয়, বৈরী পরিস্থিতির মোকাবিলায় যুগল সম্পর্কজাত শক্তি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। আর সংসারে নতুন অতিথি তথা নবজাত সন্তান-সন্ততির আবির্ভাবের ফলে দাম্পত্য সম্পর্ক সাংগঠনিক পরিপূর্ণতা লাভ করে। পরিকল্পিত পরিবারে সন্তান আগমনে নতুন দায়দায়িত্ব, চিন্তা-চেতনা ও কর্তব্যবোধ স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মানসিকতার পরিবর্তন সাধন করে দেয়। সুস্থ, সুন্দর ও পরিকল্পিত দাম্পত্য সম্পর্ক নির্মিত হওয়ার মাধ্যমেই পরিবারে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও শান্তিময় পরিবেশ বিরাজ করতে পারে। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন না করে, যারা উদাসীন হবে, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।’ (সূরা আল-মুনাফিকুন, আয়াত-৯)
প্রজননস্বাস্থ্য বা পরিবার পরিকল্পনায় ইসলামের বিধান বা নির্দেশগুলো সুস্পষ্ট। পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বামী-স্ত্রী পরস্পর আলাপ-আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাদের পরিবার গঠন করবে। একটি আদর্শ দম্পতি নিজেদের আয়ের সঙ্গে ও পারিপার্শ্বিক আর্থসামাজিক অবস্থার সঙ্গে সংগতি রেখে কয়টি সন্তান গ্রহণ করবে বা তার পরিবারের আয়তন কী হবে, তা ঠিক করে নেওয়াই হলো পরিকল্পিতভাবে পরিবার গড়ে তোলা। প্রাপ্তবয়সে প্রথম সন্তান নেওয়ার আগেই একটি দম্পতিকে ঠিক করে নিতে হবে তার পরিবারের আয়তন কেমন হওয়া উচিত। পবিত্র কোরআনে সাবধান করা হয়েছে, ‘তারা যেন ভয় করে যে, অসহায় সন্তান পেছনে ছেড়ে গেলে তারাও তাদের সম্বন্ধে উদ্বিগ্ন হতো।’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত-৯) আরও বলা হয়েছে, ‘জেনে রাখো যে, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তো এক পরীক্ষা।’ (সূরা আল-আনফাল, আয়াত-২৮)
ইসলামের দৃষ্টিতে ধন-সম্পদ ও সন্তানের আধিক্যহেতু বিপথগামিতা অনভিপ্রেত; আবার অভাব-অনটনও কাঙ্ক্ষিত নয়। দারিদ্র্য, অপরিকল্পিত পরিবার ও অভাব-অনটনের সংসারে সন্তানদের মানুষ করা সম্ভব হয় না। ইসলামে যে সহজ-সরল জীবনব্যবস্থার পথনির্দেশনা রয়েছে, তা পরিকল্পিত উপায়ে নিয়ন্ত্রিত পরিবার গঠন করার মাধ্যমেই লাভ করা যেতে পারে। তাই গ্রাম পর্যায়ে নিম্নবিত্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে মাতৃস্বাস্থ্যসেবা ও জন্মনিয়ন্ত্রণের আগ্রহ বৃদ্ধি এবং উপায়সমূহ সুলভ করে তোলার কার্যক্রম জোরদার করা বাঞ্ছনীয়।
ইসলামের আলোকে পরিকল্পিতভাবে নিয়ন্ত্রিত পরিবার গঠনে সন্তানসংখ্যা সীমিত রাখতে বা দুটি সন্তানের মাঝে জন্মবিরতি দিতে পরিবার পরিকল্পনার কোনো না-কোনো পদ্ধতি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অবলম্বন করতে হবে। যেহেতু ইসলামের প্রাথমিক যুগে অন্য কোনো পদ্ধতি ছিল না, সে জন্য সাহাবায়ে কিরাম অসুবিধাজনক হলেও ‘আজল’ অবলম্বন করেছেন। মূল উদ্দেশ্য ছিল গর্ভবিরতীকরণ, যাতে ঘন ঘন সন্তান না হয়। কিন্তু আধুনিক যুগে বর্তমান সমাজে অনেক সহজলভ্য ও নিরাপদ পদ্ধতি আছে। স্বামী-স্ত্রী দুজনে একমত হয়ে সন্তান নিতে না চাইলে বা গর্ভবিরতি দিতে চাইলে পছন্দমতো ইসলামের আলোকে পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন শরিয়তসম্মত আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সমকালীন জন্মহার প্রতিরুদ্ধ বা হ্রাস করার অনুমোদিত গর্ভনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির নাম ‘আজল’ এবং আধুনিক পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন পদ্ধতি এরই উন্নত সংস্করণ। যেহেতু আজল অনুমোদিত, সেহেতু আধুনিক পদ্ধতিও অনুমোদিত। নবী করিম (সা.) আজলের বিষয়টি অবহিত ছিলেন এবং অনুমোদন করেছেন। সন্তান জন্মদান থেকে বিরত থাকার জন্য প্রাচীনকাল থেকে মানুষ এসব পদ্ধতি অবলম্বন করত। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কোনো কোনো বিশিষ্ট সাহাবিও সন্তান জন্মদান থেকে বিরত থাকার জন্য আজল পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন।
হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, হজরত জাবের (রা.) বলেছেন, ‘আমরা রাসুলে করিম (সা.)-এর জীবদ্দশায় যখন আজল করতাম, এ সময় আল-কোরআন নাজিল হতো (কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো নিষেধ বাণী আসেনি)। আজল করার বিষয়টি নবী করিম (সা.) জানতেন, তবু তিনি আমাদের আজল করতে নিষেধ করেননি।’ (বুখারি ও মুসলিম) অন্য হাদিসে আছে, হজরত ওমর (রা.) বলেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে আজল করতে নিষেধ করেছেন।’ (ইবনে মাজা) সুতরাং স্ত্রীর অনুমতি থাকলে সন্তান না নেওয়ার জন্য স্বামী আজল বা বাইরে বীর্যপাত ঘটানো পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারে। পরিকল্পিত পরিবার গঠনের লক্ষ্যে স্ত্রীর যৌন ও প্রজনন অধিকারও ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করেছে। সাহাবায়ে কিরাম গর্ভবিরতীকরণে যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন ধর্মপ্রাণ লোকেরা তা অনায়াসে গ্রহণের জন্য পরিবার পরিকল্পনার আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।
দেশের তরুণ ও যুবসমাজকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি হতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বাণী প্রদান করেছেন,্র‘তোমাদের সন্তানদেরকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করবে এবং তাদেরকে উত্তম মূল্যবোধ শেখাবে।’ নবী করিম (সা.) আরও বলেছেন, ‘তোমাদের সন্তানদের শিক্ষা দাও। কারণ, তোমাদের জমানা থেকে ভিন্ন আরেক জমানার জন্য তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে।’ (মুসলিম)
ধর্মীয় নেতা বা ইমামগণ দেশের জাতীয় উন্নয়নে সীমিত জনসংখ্যা ও পরিবার পরিকল্পনার অপরিসীম ভূমিকা বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া প্রদান করে বিভিন্ন মসজিদে খুতবা, ব্যক্তিগত পর্যায়ে যোগাযোগ ইত্যাদির মাধ্যমে জনগণকে পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত পরিবার গঠনে উদ্বুদ্ধ ও সচেতন করছেন। শিক্ষিত পরিবার ও উন্নত জাতির অগ্রযাত্রায় দেশের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে হলে ইসলামের আলোকে পরিবার পরিকল্পনার মাধ্যমে জন্মহার বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সীমিত জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করার জন্য পরিবার পরিকল্পনাকে সামাজিক আন্দোলনরূপে প্রতিষ্ঠা করে পারিবারিক শান্তি, ইহকালীন কল্যাণ ও পারলৌকিক মুক্তি লাভে সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com

রপ্তানিকারকেরা উৎসে কর হ্রাসের সুপারিশ করেছে

আগামী ২০১১-১২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে রপ্তানি-আয়ের ওপর বিদ্যমান উৎসে করের হার দশমিক ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ২৫ শতাংশে নির্ধারণের সুপারিশ করেছে দেশের রপ্তানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি)। একই সঙ্গে সংগঠনটি ব্যাংকঋণের সুদের হার কমিয়ে আনার তাগিদ দিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতারা এসব কথা বলেন। এ সময় তাঁরা ক্যাপটিভ জেনারেটরে ব্যবহূত ডিজেল ও বয়লারে ব্যবহূত ফার্নেস অয়েল শুল্কমুক্তভাবে আমদানির সুযোগসহ মোট ১৫টি সুপারিশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বক্তব্য দেন। এ সময় সমিতির ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি শফিউল্লাহ চৌধুরী, সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম, বিটিএমএ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামীন, বিজিএমইএর সহসভাপতি ফারুক হাসান, বাংলাদেশ টেরিটাওয়েল এবং লিনেন প্রস্ততকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মো. আনিসুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সালাম মুর্শেদী বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, চট্টগ্রাম বন্দরের অব্যবস্থাপনা, ব্যাংকঋণের সুদের হার বৃদ্ধিসহ নানা কারণে রপ্তানিকারকদের ব্যবসায়িক ব্যয় বেড়েছে। সম্মিলিতভাবে এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে রপ্তানিকারকদের এই সংগঠন ঢেলে সাজানো হয়েছে। বর্তমানে ৩৫টির বেশি সংগঠন এ সমিতির সদস্য হয়েছে।
মুর্শেদী আরও বলেন, বিশ্বমন্দা, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি এবং আনুষঙ্গিক কর্মকাণ্ডের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই উৎসে কর আগের বছরগুলোর মতো দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
তিনি অফিস ও কারখানার ভাড়া এবং জাহাজভাড়ার ক্ষেত্রে ভ্যাট শতভাগ প্রত্যাহারের সুপারিশ করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনে পরিদর্শন ফি, ব্যাংকের সব সেবা মাশুল ও উপযোগ বিলের বিপরীতে ভ্যাট রহিত করার সুপারিশ করেন।
ইএবি সভাপতি জানান, বিদ্যুৎ-সংকটের কারণে অনেক শিল্পকারখানা ডিজেলচালিত ক্যাপটিভ জেনারেটর ও বয়লারে ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করে। ব্যয়সাশ্রয় ও মূল্য প্রতিযোগিতাসক্ষমতা ধরে রাখার স্বার্থে এসব কাজে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের আমদানি শুল্কমুক্ত করারও সুপারিশ করেন তিনি।
মুর্শেদী আরও বলেন, সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে অনুমোদন নিয়ে শিল্প স্থাপন করার পর অনেককেই গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হয়নি। তাই তাঁরা কারখানা চালু করতে পারেননি। অথচ ব্যাংকঋণের সুদ গুনতে হচ্ছে। গ্যাসের সংযোগ না দেওয়া পর্যন্ত ব্যাংকঋণের সুদ মওকুফ করার সুপারিশ করেন তিনি।
সমিতি ইতিমধ্যে স্থাপিত শিল্পকারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ প্রদানের এবং নতুন স্থাপিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ শিল্পকারখানার জন্য বরাদ্দ রাখারও দাবি জানিয়েছে।

আবদুর রব পুনরায় ন্যাশনাল হাউজিংয়ের এমডি হলেন

মো. আবদুর রব ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে পুনরায় নিয়োগ পেয়েছেন। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ সম্প্রতি তাঁকে আগামী তিন বছরের জন্য প্রতিষ্ঠানের এমডি হিসেবে নিয়োগ দেয়।
আবদুর রব কর্মজীবনে প্রিমিয়ার ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকে ঊর্ধ্বতন পদে দায়িত্ব পালন করেন।
মো. আবদুর রব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এমকম (স্নাতকোত্তর) ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সিম্ফনি নিয়ে এল প্রজেকশন ফোন

মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্র্যান্ড সিম্ফনি সম্প্রতি নতুন প্রজেকশন ফোন ‘সিম্ফনি জেড১০০’ নামের নতুন একটি পণ্যের বিপণন শুরু করেছে।
ঢাকার একটি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সেটটির বিপণন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন অভিনেত্রী ও মডেল মীম। অনুষ্ঠানে সিম্ফনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুর রশিদ ও পরিচালক রেজওয়ানুল হক বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিম্ফনির সিএফও জাকারিয়া শহীদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পরিবেশক প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ গড়পড়তা মানের নিচে

দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার সাতটি দেশের মধ্যে টেলিযোগাযোগ খাতে সার্বিকভাবে বাংলাদেশের অবস্থান গড়পড়তা মানের নিচে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে স্থানীয় একটি হোটেলে ‘টেলিকম রেগুলেটরি এনভায়রনমেন্ট সার্ভে’ (টিআরই সার্ভে) শীর্ষক একটি জরিপের ফলাফলে বাংলাদেশ সম্পর্কে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। লার্ন এশিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রোহান সমরজীব প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করেন।
দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে প্রযুক্তিবিষয়ক নীতিনির্ধারণী গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়া আয়োজিত ও প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে একই সময়ে জরিপ চালানো হয়েছে। সময়কাল ছিল এ বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাস।
জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, ফিক্সড লাইন টেলিফোন খাতে বাংলাদেশের মান (স্কোর) সবচেয়ে কম—২ দশমিক ৩। তবে মোবাইল ফোন খাতে মান সর্বোচ্চ, যা ২ দশমিক ৯। আর ব্রডব্যান্ড খাতে মান ২ দশমিক ৫। তবে কোনো খাতেই মান ৩-এর ওপরে নয়। তাই সামগ্রিক অবস্থান গড়পড়তা মানে পড়েছে।
প্রতিটি খাতে বাজারে প্রবেশ, অপ্রতুল সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ, আন্তসংযোগ, ট্যারিফ নিয়ন্ত্রণ, অপ্রতিযোগিতাপূর্ণ চর্চা, ইউনিভার্সাল সার্ভিস অবলিগেশন (ইউএসও) ও সেবার গুণগত মান—এই সাতটি মাত্রায় মূল্যায়ন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১ হচ্ছে খুবই অকার্যকরী এবং ৫ হচ্ছে খুবই কার্যকরী এবং ৩ হলে মাঝারি অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সম্পর্কে লার্ন এশিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ফিক্সড ফোনের ব্যবহার কমে যাওয়া এবং শীর্ষ পাঁচ পিএসটিএন কোম্পানির লাইসেন্স বাতিলের কারণে এ খাতে মান কমেছে।
অন্যদিকে মোবাইল ফোন কোম্পানি খাতের মান সবচেয়ে বেশি হওয়ার পেছনে রয়েছে ছয় কোম্পানির মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরিতে নিয়ন্ত্রণকারী কমিশনের ভূমিকা, কম ট্যারিফ (পৃথিবীর সর্বনিম্ন ট্যারিফসমৃদ্ধ দেশগুলোর একটি), দেশজুড়ে কভারেজ ও আন্তসংযোগের সুবিধা।
টেলিযোগাযোগ আইন ২০১০-এ স্বাধীন নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) অনেক নিয়ন্ত্রণমূলক ক্ষমতা টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এভাবে আইন সংশোধনের কারণে টেলিযোগাযোগ বাজারে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা ও সম্প্রতি দ্বিতীয় প্রজন্মের (টুজি) লাইসেন্স নবায়ন নীতিমালা নিয়ে অসামঞ্জস্যতায় মোবাইল ফোন খাতের মান কমেছে।
অনুষ্ঠানে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের সহকারী অধ্যাপক ফাহিম হোসেইন বলেন, এ প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য কাউকে হেয় না করে কার্যকর দিকনির্দেশনা দেওয়া।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ-ব্যবস্থা উন্নয়নে লার্ন এশিয়ার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হেলেনি গ্যালপায়া কয়েকটি সুপারিশ উপস্থাপন করেন। এগুলো হলো—বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় রেখে টুজি লাইসেন্স নবায়ন-প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, তরঙ্গ-মূল্য স্বচ্ছ ও যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ। এ ক্ষেত্রে বাজার নির্ধারণী ভিত্তিতে (নিলাম) বা নিলাম ও কমিশনের নির্ধারিত মূল্যের সমন্বয়ে জোর দেন গ্যালপায়া। এ ছাড়া মুঠোফোনের ব্যবহার বাড়াতে সংযোগ কর (সিমট্যাক্স) তুলে নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

দ্রুত এসইসির চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ: অর্থমন্ত্রী

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নতুন চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়নি বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘আগে অনেক তারিখ দিয়ে ঠিক রাখতে পারিনি। তাই এবার আর কোনো তারিখ দিচ্ছি না। তারিখ বলাটা খুব মুশকিল। তবে নতুন চেয়ারম্যান ও সদস্য কয়েক দিনের মধ্যেই নিয়োগ দেওয়া হবে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারী, যুগ্মসচিব গকুল চাঁদ দাস এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
নিয়োগ-প্রক্রিয়া দেরির কারণে দুঃখ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেশে ছিলাম না। প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন না। প্রধানমন্ত্রী ১৫ মে আবার দেশের বাইরে যাবেন। তিনি যাওয়ার আগে সবকিছু চূড়ান্ত করে যাবেন বলে আশা করছি।’
নিয়োগ দেওয়ার আগে এসইসির নতুন চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
মুহিত বলেন, যেভাবেই হোক দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এসইসির চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ হবে। তবে চেয়ারম্যান এখনো খুঁজতে হচ্ছে।
স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচুয়ালাইজেশন (ব্যবস্থাপনা থেকে মালিকানা পৃথক্করণ) যথাসময়ই হবে বলে জানান তিনি।
বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজারে সম্প্রতি ভীতি তৈরি হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তার নিজের মতো করে কাজ করছে। তবে সংস্থাটির গোয়েন্দা কার্যক্রমের তথ্য যদি বাইরে প্রকাশ হয়ে যায়, তাহলে তো সেই কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া দরকার।
উল্লেখ্য, গত বুধবার এনবিআর এসইসির চেয়ারম্যানসহ পুঁজিবাজারে সংশ্লিষ্ট ১৫ জনের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এ খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।
বরং দেশের শেয়ারবাজার গতকাল বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে হঠাৎ করেই ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে। দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই এ দিন মূল্যসূচক ও লেনদেন বেড়ে যায়।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল সাধারণ মূল্যসূচক ১২৯ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট বা দুই দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়ে পাঁচ হাজার ৬১২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৩৬১ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৬৭৪ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে।
দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই দিনের শুরু থেকেই সূচকের ওঠানামা ছিল চোখে পড়ার মতো। নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে গতকাল দিনের লেনদেন শুরু হয়। এর ১০ মিনিটের মাথায় ডিএসইতে সূচক ৪৯ পয়েন্ট পড়ে যায়। তবে লেনদেনের আধা ঘণ্টা পর সূচক আবার সাত পয়েন্ট কমে। বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটের পর থেকে সূচক ঘুরে দাঁড়িয়ে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দিকে যায়, যা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
ডিএসইতে গতকাল তালিকাভুক্ত ২৪৯টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ২২৮টির, কমেছে ১৭টির ও অপরিবর্তিত ছিল চারটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
স্টক এক্সচেঞ্জটিতে গতকাল ৪৪৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ১৪২ কোটি টাকা বেশি।
অন্যদিকে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৮৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৭১টির, কমেছে ১৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের দাম। সিএসইতে গতকাল ৭২ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৩২ কোটি টাকা বেশি।
ডিএসইতে গতকাল লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে বেক্সিমকো, বেক্সটেক্স, বিএসআরএম স্টিল, তিতাস গ্যাস, আফতাব অটো, ইউনাইটেড এয়ার, আরএন স্পিনিং, আর এ কে সিরামিকস, পিপলস লিজিং ও ম্যাকসন স্পিনিং।

সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ

সিরিয়ার বিভিন্ন শহর থেকে সেনা অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবিতে গত বুধবার দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পোতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। সরকারের দমন-পীড়ন উপেক্ষা করে হাজার হাজার শিক্ষার্থী এই বিক্ষোভে অংশ নিয়ে হোমস, দেরা ও বানিয়াস শহর থেকে সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
মানবাধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন, এ দিন আলেপ্পো ছাড়াও সিরিয়ার আরও বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। সেনাবাহিনী ও অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা সারা দেশে বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তাদের গুলিতে অন্তত ১৯ জন বেসামরিক ব্যক্তি মারা গেছে।
নিহতদের মধ্যে আট বছরের একটি বালক রয়েছে বলে সিরিয়ার ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের প্রধান আমর কুরাবি জানিয়েছেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অপরাধীর পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

‘মৃত্যুশিবির’ বলে পরিচিত জার্মানির নাৎসি বন্দীশিবিরের সাবেক রক্ষী জন দেমজানজুককে (৯১) গতকাল বৃহস্পতিবার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন মিউনিখের একটি আদালত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ওই বন্দী শিবিরে প্রায় ৩০ হাজার লোকের হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে তাঁকে এই দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
মিউনিখের ওই আদালতের বিচারক র্যাল্ফ অ্যাল্ট বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দেমজানজুক সবিবর ডেথ ক্যাম্পের রক্ষী ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কয়েক দশক যুক্তরাষ্ট্রে বাস করেন দেমজানজুক। ২০০৯ সালে তাঁকে জার্মানির কাছে প্রত্যর্পণ করে যুক্তরাষ্ট্র।

দুই সপ্তাহ পর টিভিতে দেখা গেল গাদ্দাফিকে

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির বাসভবন চত্বরে গত বুধবার হামলা চালিয়েছে ন্যাটো। এতে তিনজন নিহত হয়। দুই সপ্তাহ পর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে গাদ্দাফির ভিডিও ফুটেজ দেখানোর কয়েক ঘণ্টা পর এ হামলা চালানো হয়।
গত ৩০ এপ্রিল গাদ্দাফির বাসভবনে ন্যাটোর হামলায় তাঁর ছোট ছেলে নিহত হন। এরপর আর গাদ্দাফিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তাঁর ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন অনেকে। ফুটেজ দেখানোর পর সংশয়ের অবসান ঘটে। কিন্তু ন্যাটোর হামলা চালানোর পর গাদ্দাফির ভাগ্যে কি ঘটেছে তা জানা যায়নি।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ভিডিও ফুটেজে গাদ্দাফিকে ত্রিপোলির একটি হোটেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করতে দেখা যায়। কর্মকর্তাদের দিকে ইঙ্গিত করে তাঁদের কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে গাদ্দাফি বলেন, ‘আমরা বিশ্বকে জানিয়ে দিতে চাই, এখানে উপস্থিত নেতারাই লিবিয়ার জনগণের প্রতিনিধি।’ সেখানে উপস্থিত একজন গাদ্দাফিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘চলমান যুদ্ধে আপনারই জয় হবে।’
ভিডিও ফুটেজে গত বুধবারের তারিখ উল্লেখ ছিল। ত্রিপোলির ওই হোটেলে অবস্থান করা বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একজন সাংবাদিক জানান, ওই দিন একটি অনুষ্ঠানের জন্য হোটেল সারা দিন বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু তাঁরা গাদ্দাফিকে সেখানে যেতে দেখেননি।
লিবিয়ার কর্মকর্তারা দাবি করেন, বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ওই ভিডিও ফুটেজ ধারণ করা হয়। তবে নিরপেক্ষ কোনো সূত্রে এর সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
৩০ এপ্রিল গাদ্দাফির বাসভবন চত্বরে ন্যাটোর হামলায় তাঁর ছোট ছেলে ও তিন নাতি নিহত হন। এরপর এই প্রথম গাদ্দাফিকে দেখা গেল।
লিবিয়ার একজন কর্মকর্তা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালের দিকে গাদ্দাফির বাব আল আজিজিয়ার বাসভবন চত্বরে হামলায় তিন জন নিহত হয়েছে। অন্য একটি স্থানে হামলায় আরও তিনজন নিহত হয়। আহত হয় অন্তত ১০ জন।

মিয়ানমারে কোনো অর্থবহ পরিবর্তন আসেনি

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি বলেছেন, ২০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পরও এখন পর্যন্ত সে দেশে কোনো ‘অর্থবহ পরিবর্তন’ আসেনি। জার্মানির ডিডব্লিউ টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি গত মঙ্গলবার রেকর্ড করা হয়। এই সপ্তাহে তা সম্প্রচারের কথা রয়েছে।
টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সু চি বলেন, ‘নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে নতুন সরকার ক্ষমতা নিয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের আগে যাঁরা ক্ষমতায় ছিলেন, তাঁরাই এখনো ক্ষমতায় রয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোনো অর্থপূর্ণ পরিবর্তন আমার চোখে পড়েনি।’
সু চি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত এবং দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আমাদের সবাইকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়া পর্যন্ত অর্থবহ পরিবর্তন আসবে না।’
সু চি আরও বলেন, ২০১৪ সালের জন্য মিয়ানমারকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনৈতিক জোটের (আসিয়ান) সভাপতি করা হয়েছে। কিন্তু এই পদক্ষেপ দেশটিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কোনো ভূমিকা রাখবে বলে মনে হয় না।

যুক্তরাষ্ট্রে আরেকটি বড় হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন লাদেন

মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে হটাতে ৯/১১-এর মতো আরও একটি ব্যাপক বিধ্বংসী হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেন। তিনি মনে করছিলেন, মার্কিন স্বার্থের ওপর যে ছোট ছোট আঘাত হানা হচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিতাড়িত করার জন্য যথেষ্ট নয়। অ্যাবোটাবাদের গোপন আস্তানা থেকে উদ্ধার করা লাদেনের ডায়েরি থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, লাদেন তাঁর শেষ দিনগুলোতে কতসংখ্যক মার্কিন নাগরিককে হত্যা করতে পারলে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য থেকে পাততাড়ি গোটাবে, সেই হিসাব কষছিলেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, লাদেন ব্যক্তিগত ডায়েরিতে নিজের হাতে লিখেছেন, ছোট ছোট হামলায় আল-কায়েদা তাঁদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না। ৯/১১-এর মতো যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত আরেকটি আঘাত হানতে পারলে মার্কিনদের টনক নড়বে। এটা করতে পারলে তারা মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে তাদের নীতি বদলাতে বাধ্য হবে। তবে লাদেন তাঁর অনুসারীদের ছোট ছোট শহরের স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন লাইনে হামলা চালানোরও আহ্বান জানিয়েছেন বলে ওই সব নথিপত্রে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
নথিপত্রে দেখা গেছে, বড় ধরনের হামলার সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস ৪ জুলাই এবং ৯/১১ হামলার দশম বার্ষিকীর মতো তাৎপর্যপূর্ণ দিনকে লাদেন বেছে নিয়েছিলেন। হামলার লক্ষ্য হিসেবে শুধু নিউইয়র্ক নয়, লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো শহরগুলোও তাঁর পছন্দের তালিকায় ছিল।
কর্মকর্তারা বলেছেন, অ্যাবোটাবাদের বাড়ি থেকে ডায়েরি ও কাগজপত্র ছাড়াও প্রায় এক শ ফ্ল্যাশ ড্রাইভ এবং পাঁচটি কম্পিউটার জব্দ করা হয়। মার্কিন বিশেষজ্ঞরা সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, বাড়িতে টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ না রেখে লাদেন ফ্ল্যাশ ড্রাইভের মাধ্যমে অনুসারীদের নির্দেশনা দিতেন।
লাদেনের লাশের ছবি: মার্কিন সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির একজন রিপাবলিকান সদস্য গত বুধবার সিএনএনকে বলেছেন, তিনি স্বচক্ষে বিন লাদেনের লাশের ছবি দেখেছেন। ওকলাহোমা থেকে নির্বাচিত জেমস ইনহোফ নামের ওই সিনেটর বলেছেন, সিআইএ আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্যদের মোট ১৫টি ছবি দেখিয়েছে। এর মধ্যে অ্যাবোটাবাদের বাড়িতে ওসামার গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে তোলা নয়টি ছবি রয়েছে। তিনটি ছবিতে ইউএসএস.ভিনসেন নামের বিমানবাহী রণতরীতে রাখা লাদেনের লাশ দেখা গেছে। ওই রণতরী থেকে তাঁর লাশ আরব সাগরে সমাহিত করা হয়। বাকি তিনটি ছবি ছিল লাদেনের আগের ছবি। লাশটি যে আসলেই লাদেনের, তা বোঝার জন্য তুলনামূলক প্রমাণ হিসেবে শেষোক্ত তিনটি ছবি তাঁদের দেখানো হয়।
ইনহোফ বলেছেন, ছবিগুলো দেখে তিনি শতভাগ নিশ্চিত হয়েছেন যে লাশটি আসলেই লাদেনের। তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, সে (লাদেন) নেই। সে এখন কেবলই ইতিহাস।’ তিনি আরও বলেন, তিনি দেখেছেন, একটি চোখের কোটরে বিশাল গর্ত। মাথার পেছন দিক থেকে মগজ বেরিয়ে গেছে। ছবিগুলো দেখতে আসলেই বীভৎস। ছবিগুলোকে ‘বীভৎস’ বলে স্বীকার করলেও তিনি এ ছবি প্রকাশ করার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে এ ছবি প্রকাশ করলে মুসলমানদের মধ্যে মার্কিন-বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তা প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

‘পাকিস্তানে লুকিয়ে থাকা’ শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম প্রকাশ দিল্লির

ভারত গত বুধবার ৫০ ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে, যারা তাদের ভাষ্যমতে পাকিস্তানে লুকিয়ে আছে। এই তালিকায় মুম্বাইয়ের অপরাধ জগতের শীর্ষনেতা দাউদ ইব্রাহিম, মুম্বাইয়ে ২০০৮ সালের সন্ত্রাসবাদী হামলার কথিত মূল হোতা লস্কর-ই-তাইয়েবার (এলইটি) প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সাইদ এবং কথিত সন্ত্রাসী জাকিউর রেহমান লাখভির নাম রয়েছে। তালিকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পাঁচজন মেজরেরও নাম আছে। ৫০ জনের এই তালিকায় ১৭ জন পাকিস্তানের নাগরিক।
২ মে পাকিস্তানে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সেনাদের অভিযানে ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর থেকে ইসলামাবাদ এরই মধ্যে চাপে রয়েছে। এই অবস্থায় ভারত কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের এই তালিকা প্রকাশ করল।
গত মার্চে ভারত ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের আলোচনায় নয়াদিল্লি ইসলামাবাদের কাছে এই তালিকা হস্তান্তর করে। ভারত জনসমক্ষে বুধবার এটি প্রকাশের আগের দিনই পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক দাবি করেন, দাউদ ইব্রাহিম পাকিস্তানে নেই।
তালিকার চার নম্বরে রয়েছেন মেজর ইকবাল, যিনি পাকিস্তানের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইএ কর্মরত বলে সন্দেহ করা হয়। জানা গেছে, মুম্বাই হামলা নিয়ে শিকাগোর আদালতে এফবিআইয়ের দেওয়া অভিযোগপত্রে ইকবালের নাম আছে।
এর আগে সোমবারই ভারত শিকাগোর আদালতে মুম্বাই হামলার বিষয়ে দেওয়া দ্বিতীয় অভিযোগপত্রে উল্লিখিত পাঁচ পাকিস্তানি নাগরিকের নাম প্রকাশ করে। তারা মুম্বাই হামলার ষড়যন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে অভিযোগ।
৫০ জনের তালিকায় জইশে মোহাম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারেরও নাম আছে। ২০০১ সালে ভারতের পার্লামেন্ট ভবনে হামলার প্রধান অভিযুক্ত মাসুদ আজহার। ১৯৯৯ সালে আফগানিস্তানে ছিনতাই হওয়া একটি ভারতীয় বিমানের যাত্রীদের মুক্তির বিনিময়ে মাসুদ আজহারসহ তিন জঙ্গিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তালিকার আরেকটি বড় নাম হলো ইলিয়াস কাশ্মীরি। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশে অপরাধ সংঘটন এবং ভারতে বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী হামলার ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। আল-কায়েদায় ওসামা বিন লাদেনের সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের তালিকায় ইলিয়াস কাশ্মীরির নাম উঠে এসেছে।
তালিকায় আরও আছে মেমন ইব্রাহিম ওরফে টাইগার মেমন, শেখ শাকিল ওরফে ছোট শাকিলসহ দাউদ ইব্রাহিমের বেশ কয়েকজন সহযোগীর নাম। এরা সবাই মুম্বাইয়ের ১৯৯৩ সালের ক্রমিক বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযুক্ত।

বিন লাদেন নিহত হওয়ার ঘটনা ‘গুপ্ত হত্যা’ নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডার বলেছেন, মার্কিন কমান্ডোদের অভিযানে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার ঘটনা ‘গুপ্ত হত্যাকাণ্ড নয়’। গত বৃহস্পতিবার বিবিসিকে তিনি এ কথা বলেন।
ওসামার ছেলে ওমর বিন লাদেন তাঁর বাবাসহ পরিবারের নিরস্ত্র সদস্যদের গুলি করে হত্যার সমালোচনা করে এটাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করার পর মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল এ কথা বললেন। ঘটনা তদন্তের জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ওসামার ছেলে।
এরিক হোল্ডার বলেন, পাকিস্তানে বিন লাদেনের ওই আস্তানায় মার্কিন কমান্ডোদের অভিযান ছিল, ‘হত্যা নইলে গ্রেপ্তার অভিযান’। কাজেই বিন লাদেন আত্মসমর্পণ করলে তাঁকে হত্যা করা হতো না। কিন্তু মার্কিন বাহিনী তাদের নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রেখেছিল বলে জানান হোল্ডার।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমি মনে করি বিন লাদেনের বিরুদ্ধে আমরা যে ব্যবস্থা নিয়েছি তা জাতীয় প্রতিরক্ষার বিষয় হিসেবেই দেখা হবে। বিদ্রোহী শিবিরের কোনো কমান্ডারকে লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করাকে বৈধ হিসেবেই নিতে হবে।’
মার্কিন শীর্ষ আইন কর্মকর্তা আরও বলেন, বিন লাদেন আত্মসমর্পণ করতে চেয়েছিলেন বলে যেসব কথা বলা হচ্ছে তার কোনো ভিত্তি নেই। এ ছাড়া ওই সময় তিনি সম্ভবত আত্মঘাতী হামলার সুযোগ নিতে পারতেন। তাঁর কক্ষে অস্ত্র ও বিস্ফোরক ছিল এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এরিক হোল্ডার বলেন, বিন লাদেন হলেন সেই মানুষ যিনি কখনো জীবিত অবস্থায় ধরা দেবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন।

সহযোগীদের জন্য আশার আলো

আন্দোলনে’র সুফল হয়তো পেতে যাচ্ছে আইসিসির সহযোগী দেশগুলো। ২০১৫ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের জন্য কোয়ালিফাইং পদ্ধতির সুপারিশ করেছে আইসিসির ক্রিকেট কমিটি। ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন আইসিসির ক্রিকেট কমিটির দুই দিনের সভায় সুপারিশটি পাস হয়েছে সর্বসম্মতিক্রমে। এটা কেবলই ‘সুপারিশ’, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে জুনে আইসিসির নির্বাহী কমিটির সভায়। তার পরও সহযোগী দেশগুলোর আশার পালে জোর হাওয়া জোগাবে এই খবর। ক্রিকেট কমিটিতে সহযোগী দেশগুলোর প্রতিনিধি, সাবেক আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক ট্রেন্ট জনস্টন যেমন টুইটারে লিখেছেন, ‘২০১৫ বিশ্বকাপের জন্য কোয়ালিফাইং পদ্ধতির সুপারিশ সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে, দারুণ ব্যাপার!’
‘কোয়ালিফাইং’ কীভাবে হবে, কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন করে, নাকি ওয়ানডে র্যাঙ্কিং অনুসারে, সে ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। তবে আইসিসির মহাব্যবস্থাপক ডেভ রিচার্ডসনের মত, ‘র্যাঙ্কিং অনুযায়ী হলে ওয়ানডে ম্যাচগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও আকর্ষণ বাড়বে।’ ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে আয়ারল্যান্ড এখন দশে, জিম্বাবুয়ের ওপরে।
গত ৪ এপ্রিল আইসিসি ঘোষণা দিয়েছিল আগামী দুটি বিশ্বকাপে অংশ নেবে শুধু ১০টি পূর্ণ সদস্যদেশ। স্বাভাবিকভাবেই সিদ্ধান্তটি ব্যাপক সমালোচিত হয় সহযোগী দেশগুলোতে, গত দুটি বিশ্বকাপে নজরকাড়া আয়ারল্যান্ড ছিল এর অগ্রভাগে। অনেক সাবেক তারকা ক্রিকেটারও এগিয়ে এসেছেন তাদের পাশে।

লাদেনের মৃত্যুতে উল্লাস প্রকাশ অধিকাংশ মার্কিনের অপছন্দ

মার্কিন সেনারা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার পর জনগণের উল্লাস প্রকাশ করা নিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে আপত্তি প্রকাশ করেছিলেন অনেক মার্কিনই। এবার এক জনমত জরিপে তার আনুষ্ঠানিক প্রতিফলন পাওয়া গেল। জরিপের ফল বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ মানুষ মনে করে, একজন মানুষ যত নিকৃষ্ট হোক, তার মৃত্যুতে উল্লসিত হওয়ার কিছু নেই। শত্রুর নিষ্করুণ পতনে উল্লাস প্রকাশ করা অমানবিক।
গত বুধবার প্রকাশিত এ জরিপটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক রিলিজিয়ন ইনস্টিটিউট এবং ওপিনিয়ন রিসার্চ করপোরেশন। ৫ থেকে ৮ মে পর্যন্ত পরিচালিত এ জরিপে দেখা গেছে, মার্কিন জনগণের ৬২ শতাংশ মনে করে, বিন লাদেনের নিহত হওয়ার ঘটনায় উল্লাস প্রকাশ করা সমীচীন হয়নি। এমন উল্লাস প্রকাশ অনৈতিক। ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করে, একান্ত শত্রুরও নির্মম পতনে উল্লসিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
একই জরিপে দেখা গেছে, তথ্য আদায়ের জন্য নিষ্ঠুর পন্থা অবলম্বন নিয়ে মার্কিন জনমত প্রায় সমানভাগে বিভক্ত। জঙ্গিদের কাছ থেকে তথ্য বের করতে প্রয়োজনে নিষ্ঠুর হওয়ার পক্ষে ৪৯ শতাংশ লোক। তবে ৪৩ শতাংশ মনে করে, জিজ্ঞাসাবাদের নামে নিষ্ঠুরতা কোনোভাবেই সঠিক নয়। দলীয়ভাবে ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থকদের মধ্যে ৬০ শতাংশ নিষ্ঠুরতার বিপক্ষে। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের মধ্যে ৫১ শতাংশই মনে করে, তথ্য আদায়ের জন্য নিষ্ঠুরতা অবলম্বন যথার্থ। জরিপে আরও দেখা গেছে, ৬৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করে, কৃত ‘পাপকর্মের জন্য’ বিন লাদেনকে নরকে শাস্তি পেতে হবে।

আগামী বছরই দিবা-রাত্রির টেস্ট

‘দুই দিনের সভায় এত্তগুলো সুপারিশ!’—টুইটারে লিখেছেন সঞ্জয় মাঞ্জরেকার। লর্ডসে আইসিসির ক্রিকেট কমিটির সভা থেকে ‘এত্তগুলো সুপারিশ’-এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, টেস্ট ক্রিকেটে ডিআরএস (ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম) বাধ্যতামূলক করা। তবে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতেও ডিআরএস থাকলে অসফল আবেদন দুটির পরিবর্তে একটি করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া দিবা-রাত্রি টেস্টের পথে এগোনোর জন্য কিছু প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট গোলাপি বলে খেলা, ব্যাটসম্যানদের রানার নেওয়ার সুযোগ না দেওয়া, ওভার রেট ঠিক না থাকার শাস্তি আরও কঠিন করার সুপারিশ করা হয়েছে। আইসিসি ক্রিকেট কমিটি শুধু সুপারিশই করতে পারে। এগুলো মানা হবে কি হবে না, সেটা ঠিক করবে আইসিসি, আগামী ২৬ থেকে ৩০ জুন হংকংয়ে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাহী কমিটির সভায়।
সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বে আইসিসির ক্রিকেট কমিটিতে আছেন প্রেসিডেন্ট শরদ পাওয়ার, প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত, মার্ক টেলর, ইয়ান বিশপ, রবি শাস্ত্রী, গ্যারি কারস্টেন, ক্লেয়ার কনর, রঞ্জন মাদুগালে, জাস্টিন ভন, ডেভিন কেনডিক্স, টিম মে (ফিকার প্রধান নির্বাহী), কুমার সাঙ্গাকারা (বর্তমান ক্রিকেটারদের প্রতিনিধি), ট্রেন্ট জনস্টন (সহযোগী দেশগুলোর প্রতিনিধি) ও স্টিভ ডেভিস (আম্পায়ার প্রতিনিধি)।
২০০৯ সালের জুলাইয়ে ভারত-শ্রীলঙ্কার টেস্ট সিরিজ দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছিল ডিআরএসের ব্যবহার। তবে এটি এখনো বাধ্যতামূলক নয়। এর কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক আছে। শচীন টেন্ডুলকার ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বরাবরই এটির বিরোধিতা করে এসেছে। তবে সেটিকে কোনো সমস্যা বলে মনে করছেন না আইসিসির মহাব্যবস্থাপক ডেভ রিচার্ডসন, ‘বল ট্র্যাকিং পদ্ধতির বিশ্বাসযোগ্যতা আগের চেয়ে বেড়েছে। আমরা আশা করছি সদস্য দেশগুলোর বোর্ড, খোলামেলাভাবে বললে ভারতীয় বোর্ড এটা বুঝতে পারবে। আমাদের প্রয়োজন ধারাবাহিকতা। এক সিরিজে ডিআরএস থাকে, আরেকটাতে থাকে না, এতে দর্শক ও ক্রিকেটাররা সংশয়ে পড়ে যায়।’ তবে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিসিসিআই বলেছে, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি আগের মতোই থাকবে। নির্বাহী কমিটির সভায় এর বিরোধিতা করবে তারা।
ডিআরএস ব্যবহারের আরেকটি বড় সমস্যা অর্থ। উন্নত প্রযুক্তির ক্যামেরার জন্য সম্প্রচারকারী সংস্থাকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। অনেক বোর্ড এই বাড়তি খরচটা করতে চায় না। তবে রিচার্ডসন জানিয়েছেন, সব সিরিজে ডিআরএসের ব্যবহার সদস্য দেশগুলো মেনে নিলে এই অর্থ আইসিসি দিতে পারে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অসফল আবেদন একটিতে নামিয়ে আনার পেছনে রিচার্ডসনের যুক্তি, ‘আমরা ভুল সিদ্ধান্তগুলো কমাতে চাইছি, ফিফটি-ফিফটি সিদ্ধান্তগুলো নয়।’
দিবা-রাত্রি টেস্টের সম্ভাব্যতা নিয়ে কথা হচ্ছে অনেক দিন থেকেই। কৃত্রিম আলোয় লাল বল দেখতে অসুবিধা, সাদা বল বেশিক্ষণ টেকে না—এসব কারণে কমলা, হলুদ বল নিয়ে গবেষণা হয়েছে। সর্বশেষ ‘গিনিপিগ’ গোলাপি বল। পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেট ও আবুধাবিতে এমসিসির দুটি ম্যাচে গোলাপি বলের ব্যবহারে সন্তুষ্ট আইসিসি। ক্রিকেট কমিটির সুপারিশ, প্রত্যেক দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘ পরিসরের খেলায় অন্তত এক রাউন্ড এবং এ বছরের আইসিসি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে যেন এই বল ব্যবহার করা হয়। এই পরীক্ষা সফল হলে আগামী বছরই হয়তো পরীক্ষামূলকভাবে আয়োজন করা হবে দিবা-রাত্রি টেস্ট ম্যাচ!
রানার নেওয়ার সুযোগের অপব্যবহার হয় বলে এই প্রথা তুলে দেওয়ার সুপারিশ ক্রিকেট কমিটির। ওয়ানডেতে ৩৪ ওভারের পর নতুন বল নেওয়ার পরিবর্তে দুই প্রান্ত থেকে দুই বলে বোলিং শুরু করা, ১৬ থেকে ৪০ ওভারের মধ্যে ব্যাটিং ও বোলিং পাওয়ার প্লে নেওয়াকে বাধ্যতামূলক করারও সুপারিশ করা হয়েছে। ঘরোয়া ওয়ানডেতে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষারও প্রস্তাব করা হয়েছে। যেমন বোলারদের কোনো কোটা না রাখা, ওভারে দুটি বাউন্সার, পাওয়ার প্লে ছাড়া অন্য সময়ে ৩০ গজি বৃত্তের বাইরে চারজন ফিল্ডার রাখা।

মহিলা ক্লাব ক্রিকেটে বিকেএসপির জয়

কাল বিকেএসপি (৩৯ ওভারে ১৪৭) ৯৫ রানে হারিয়েছে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে (১৮.১ ওভারে ৫২)। ম্যাচ সেরা বিকেএসপির ফারজানা হক অপরাজিত ৪৬ রান করেন। হালিমা নিয়েছেন ৪ উইকেট।

আন্তজেলা ক্রিকেট

কাল মিনহাজের হাফ সেঞ্চুরিতে (৬৮*) নারায়ণগঞ্জ (২৫১/৬) ৯৭ রানে হারিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে (১৫৪)। অপু ৫টি উইকেট নিয়েছেন। অন্য ম্যাচে রাজশাহী (২৮৭/৭) ১৭৩ রানে হারিয়েছে রাজবাড়ীকে (১১৪)। রাজশাহীর কানন করেছেন অপরাজিত ৮৫ রান।

এবার মুখ খুলল অস্ট্রেলিয়াও

ইংল্যান্ডের পর এবার সরব হলো অস্ট্রেলিয়াও। ২০১৮ বিশ্বকাপ আয়োজক হওয়ার দৌড়ে ইংল্যান্ড যেমন রাশিয়ার কাছে হেরেছিল; অস্ট্রেলিয়ার ‘অপ্রত্যাশিত’ পরাজয় ঘটেছে কাতারের কাছে, ২০২২-এর আয়োজক হওয়ার দৌড়ে। ইংল্যান্ডেরই সানডে টাইমস সম্প্রতি ব্রিটেনের সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে, আয়োজক হওয়ার দৌড়ে কাতারকে জেতাতে ফিফার নির্বাহী কমিটির দুই সদস্য ১৫ লাখ পাউন্ড ঘুষ খেয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী এই খবরের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, তাঁরা কোনো নালিশ জানাবেন না। তবে অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল সংস্থার প্রধান ফ্রাঙ্ক লোয়ি কাল মন্তব্য করলেন, বিশ্বকাপের আয়োজক বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ। লোয়ি পরোক্ষে এমন অভিযোগ করলেন, ভোট দেওয়ার বিনিময়ে ভোটাররা দেনদরবারের সুযোগ পেয়েছেন, ‘পুরো প্রক্রিয়াটাই ছিল ত্রুটিপূর্ণ। একই সময়ে দুটো আয়োজক নির্বাচন করার ফলে লোকজন এ নিয়ে একে অন্যের সঙ্গে কথাবার্তা বলার সুযোগ পেয়েছে।’
‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ছিল না মন্তব্য করে লোয়ি বলেছেন, ‘কোনো কোনো দেশের সরকার বিষয়টিকে ফুটবল সংস্থাগুলোর বাইরে নিয়ে গিয়ে দেনদরবার করেছে। কেউ কেউ তাদের পুরো অর্থ এর পেছনেই ঢেলেছে। সেটি না করায় আমরা কি ভুল করেছি? হ্যাঁ করেছি। দুটো আসরের জন্য মোট ৪৪ ভোটের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড আর যুক্তরাষ্ট্র মিলে মাত্র চারটি ভোট পেয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায়, সংখ্যায় কম হলেও আমাদের পক্ষে ভালো লোকগুলোই আছেন।’
স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, ডেভিড ট্রাইজম্যানের অভিযোগ ভালোই তোলপাড় শুরু করে দিয়েছে। ১ জুন ফিফার নির্বাচনের আগে হুট করে দুর্নীতি হয়ে গেছে প্রধান ইস্যু। খোদ সেপ ব্ল্যাটারও তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় দুর্নীতি সমূলে উচ্ছেদের কথা বলছেন। এ নিয়ে দেখা দেওয়া অচলাবস্থা নিরসনেও উদ্যোগী হয়েছেন ফিফার বর্তমান সভাপতি। এএফপি, রয়টার্স।
ফিফার মহাসচিব জেরম ভালক ইংলিশ ফুটবল সংস্থা ও সানডে টাইমস-এর কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে অভিযোগ প্রমাণের জন্য সব তথ্য-প্রমাণ ফিফার কাছে হস্তাস্তরের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ফিফার দুর্নীতি খতিয়ে দেখার জন্য যে এথিকস (নৈতিক) কমিটি আছে, তাদের তদন্ত শুরু করতে বলার নির্দেশ ভালকেই দেবেন। এই কমিটিই এর আগে দুর্নীতির অপরাধে নির্বাহী কমিটির দুই সদস্যকে নিষিদ্ধ করে। ২৪ জনের বদলে ভোট দিতে পেরেছিলেন ২২ জন।
এদিকে নতুন করে অভিযুক্ত ছয় নির্বাহী সদস্যের বাকিরাও আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছেন। ইংল্যান্ডকে ভোট দেওয়ার বিনিময়ে প্যারাগুয়ের নিকোলাস লিওজ নাইটহুড উপাধি চেয়েছিলেন বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটিকে পুরোপুরি মিথ্যা বলেছেন লিওজের মুখপাত্র। তাঁর বক্তব্য, লিওজ শুরু থেকেই খোলাখুলি বলে এসেছেন, তিনি ভোট দেবেন স্পেনকে। ফলে সমর্থন যেখানে প্রকাশ্য ছিল, সেখানে অন্য কারও কাছে সুবিধা দাবি করার প্রশ্নই আসে না।

এগিয়ে চলেছেন শামীমা

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছেন শামীমা আক্তার লিজা। আরলিন ডেভেলপার ৩২তম জাতীয় মহিলা দাবায় ৯ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে এককভাবে শীর্ষে এই আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার। সাড়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আরেক আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার রানী হামিদ। তৃতীয় নাজরানা খান ইভার পয়েন্ট ৭। কাল নবম রাউন্ডে শামীমা হারিয়েছেন তানজিনা আক্তার তানিকে।

জানেত্তির এক হাজার

‘১৯৯৫ সাল থেকে আজ, অশ্রু থেকে শিরোপা পর্যন্ত; তোমাকে নিয়ে আমরা সহস্রবার গর্ব করি।’
পরশু সান সিরোর স্টেডিয়ামে শোভা পেল এই ব্যানার। যাঁকে উদ্দেশ করে ইন্টার মিলানের সমর্থকেরা এই ব্যানার বানিয়েছেন, তিনি তখন আবেগকে মাঠের বাইরে রেখে এসে আগলে যাচ্ছেন রক্ষণ। নিজের পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারে সহস্রতম ম্যাচেও এতটাই পেশাদার হাভিয়ের জানেত্তি!
১০০০তম ম্যাচটায় একটা উপহারও পেয়ে গেলেন এই আর্জেন্টাইন। ইতালিয়ান কাপের সেমিফাইনালে ফিরতি লেগে রোমার সঙ্গে অবশ্য ১-১ গোলে ড্র করেছে ইন্টার। কিন্তু প্রথম লেগে রোমার মাঠ থেকে জিতে আসার সুবাদে ফাইনালে চলে গেল কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। তিনটা শিরোপা হাতে তোলা জানেত্তির। এবার কেবল একটা ট্রফিই জেতার সম্ভাবনা থাকল। ২৯ মে কাপ ফাইনালে ইন্টারের প্রতিপক্ষ পালের্মো।
৩৭ বছর বয়সী চিরতরুণ এই ডিফেন্ডার অবশ্য খেলা শেষেই হয়ে গেলেন আবেগময়। ‘সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। শুরুতেই ধন্যবাদ জানাই স্ত্রী পলা এবং আমার বাচ্চাদের; আজ যারা গ্যালারিতে এসেছে। আজকের ম্যাচটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা ফাইনালে যেতে পারছি। এখন উৎসব করাই যায়’—বলেছেন জানেত্তি।

আশীর্বাদ আর আতঙ্কের নাম গেইল

‘বুলেটপ্রুফ চেস্ট গার্ড না নিয়ে আগামী মৌসুমে ফিরছি না’—ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য দেশ ছাড়ার আগে বলে গেছেন তিলকরত্নে দিলশান। ক্রিকেটারের কেন বুলেটপ্রুফ চেস্ট গার্ডের প্রয়োজন হলো বুঝতে পারছেন না? তাহলে বিরাট কোহলির কথা শুনুন, ‘নন-স্ট্রাইক প্রান্ত থেকে গেইলের ব্যাটিং দেখতে ভালো লাগে ঠিকই, ভয়ও কম লাগে না। ওর একেকটা শট যেন বুলেট...।’
সতীর্থদেরই যখন এই অবস্থা, তখন বোলারদের কথা চিন্তা করুন! বিস্ফোরক ইনিংস খেলার ক্ষমতা তাঁর আছে, সবাই জানত। কিন্তু এমন ধারাবাহিক ‘বিস্ফোরণ’ সম্ভবত আগে কখনো দেখা যায়নি। ক্রিস গেইল এখন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর আশীর্বাদ আর প্রতিপক্ষ দলগুলোর জন্য আতঙ্কের নাম। বেঙ্গালুরুর জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল আসলে ডার্ক ন্যানেসের চোট। সুযোগটা কাজে লাগাল বিজয় মালিয়ার দল, বদলে গেল দলের ভাগ্যও। গেইল আসার আগে পাঁচ ম্যাচের মাত্র একটিতে জয় পাওয়া বেঙ্গালুরু গেইল আসার পর ছয় ম্যাচের সব কটিই জিতে ছুঁয়েছে আইপিএল রেকর্ড!
দ্বিতীয় ম্যাচটি ছাড়া সব কটি জয়েই সরাসরি অবদান আছে গেইলের। ওই ম্যাচটিতেও ঠিকই এনে দিয়েছিলেন বিস্ফোরক শুরু। মাত্র ৬ ম্যাচ খেলেই সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর তালিকায় দুইয়ে, ওপরে থাকা শেবাগ মাত্র ২৬ রান এগিয়ে। ৩৯৮ রানের ৩২৮-ই এসেছে চার-ছক্কায়, অর্থাৎ মোট রানের ৮২ দশমিক ৪১ শতাংশতেই দৌড়াদৌড়ির ঝামেলায় যাননি। তাঁর ৩০টি ছক্কা অনায়াসেই এবারের সর্বোচ্চ, দুইয়ে থাকা শেবাগের ১৮ ছক্কা ১১ ম্যাচে! দুটি সেঞ্চুরিও করে ফেলেছেন। এক আসরে তো দূরের কথা, আইপিএলের চার আসর মিলিয়েও কারও একাধিক সেঞ্চুরি নেই। চাইলে এমন উন্মত্ত গেইল কৃতিত্ব দিতে পারেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডকে। বোর্ডের সঙ্গে তিক্ততার কারণেই হয়তো এমন ফুঁসে আছেন। ইনজুরির পুনর্বাসনের সময় বোর্ড নাকি তাঁর খোঁজ রাখেনি। কাল অবশ্য বোর্ড ফিজিওর সঙ্গে গেইলের যাবতীয় খুদে বার্তা প্রকাশ করে জানিয়ে দিয়েছে দায়টা গেইলেরই।
বিজয় মালিয়াদের এসব ভাবার সময় নেই। গত ম্যাচ শেষেই ভারতীয় ধনকুবের জানালেন, আগামী মৌসুমে গেইলকে ধরে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। ধরে রাখার প্রশ্ন আসছে, কারণ ন্যানেস সেরে উঠলে তো গেইল আর বেঙ্গালুরুর নন। তাতে গেইলও মনে হয় খুব একটা অখুশি হবেন না। এমন পারফরম্যান্সের পর তাঁকে নিয়ে টানাটানি পড়ার কথা। আর টানাটানি মানেই তো...ডলার!

মেসিরা বলছেন, সময়টা উপভোগের

আরেকটি পালক যোগ হলো লিওনেল মেসির মুকুটে। মাত্র ২৩ বছর বয়সে জিতে নিলেন পঞ্চম লিগ শিরোপা। এর মধ্যে টানা তিনটি শিরোপা জিতেছেন পেপ গার্দিওলার রাজত্বে। বাকি দুটো জেতার সময় কোচ ছিলেন ফ্রাঙ্ক রাইকার্ড।
এই পাঁচ শিরোপার মধ্যে এবারেরটিকেই সবচেয়ে কঠিন অর্জন বলে মানছেন মেসি, ‘আমি খুবই খুশি। কারণ, এবারের শিরোপা জেতাটা আমাদের জন্য ছিল খুবই কঠিন। চ্যাম্পিয়ন হতে আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের মতো দুর্দান্ত এক প্রতিপক্ষ ছিল বলেই সেটি আরও কঠিন হয়ে গিয়েছিল।’
সত্যিই রিয়াল একদমই স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি বার্সাকে। বার্সা একটু এগিয়ে যায় তো রিয়াল আবারও তাদের ধরে ফেলে। লিগের ১২তম রাউন্ড পর্যন্ত শীর্ষে ছিল রিয়ালই। ১৩তম পর্বে এসে শীর্ষস্থানে রিয়ালকে ধরে ফেলে বার্সা। শেষ ২৬ ম্যাচে এই শীর্ষস্থান হাতছাড়া করেনি বার্সা। তবে এক ম্যাচের জন্য হলেও মাঝেমধ্যে রিয়াল শীর্ষে উঠেছিল ঠিকই।
অবশেষে লেভান্তের বিপক্ষে ড্র করে দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই টানা তৃতীয় শিরোপা নিশ্চিত করে ফেলা। মেসি তাই আছেন উপভোগের আনন্দে, ‘হ্যাঁ, এখন আমরা উপভোগ করতেই পারি।’
উৎসবের আহ্বান অধিনায়ক কার্লোস পুয়োলের কণ্ঠেও। চোটের কারণে পুয়োল অবশ্য মাঠের বাইরে ছিলেন পরশু। এ জন্য একটু মন খারাপও মনে হচ্ছে এই সেন্টার ব্যাকের, ‘আমি খুবই আনন্দিত। যদিও বাইরে থেকে বসে শিরোপা জেতার অভিজ্ঞতাটা অন্য রকম। আমাকে তো বাইরেই বসে থাকতে হয়েছিল। তবে আমি খুবই তৃপ্ত। আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। সেটার ফসলই পেলাম। এখন আমরা উৎসব করব। কিন্তু আমাদের একটু বিশ্রাম নিতে হবে। কারণ, চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল এখনো বাকি।’
বার্সার শিরোপা-উৎসব পুরো মাত্রা পাচ্ছে না চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালটার জন্যই। এরই মধ্যে আবার মেসি-পুয়োলদের জন্য মন খারাপ করা খবর এসেছে। এই মৌসুমের শেষে নাকি আর চুক্তি নবায়ন করবেন না পেপ গার্দিওলা। ক্লাব ইতিহাসে অন্যতম সফল তরুণ এই কোচ বার্সা ছাড়ব ছাড়ব করছেন বেশ কিছুদিন ধরেই। গত দুই মেয়াদে চুক্তি বাড়িয়েছেন ঠিকই, কিন্তু কোনোটাই এক বছরের বেশি নয়।

নতুন বলে হাফিজের স্পিন

নতুন বলে মোহাম্মদ হাফিজ তাহলে বিশেষজ্ঞই হয়ে গেলেন! ওয়ানডেতে নতুন বলে সাফল্য তো আছেই, হাফিজকে নতুন বল দেওয়ার আরেকটি কারণ অবশ্যই ওপেনিংয়ে ডেভন স্মিথের ফেরা। টানা চার ওয়ানডেতে স্মিথকে এলবিডব্লু করা হাফিজ কালও তুলে নিয়েছেন তাঁর প্রিয় শিকারকে। এবার অবশ্য লাইন মিস করে বোল্ড স্মিথ (১৩)। দুই টেস্টের সিরিজের প্রথমটিতে গায়ানায় কাল টস জিতে ব্যাটিং করছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৫৫ ওভারে ৩ উইকেটে তোলে ১৩১ রান। ওয়াহাব রিয়াজের বলে আঘাত পেয়ে ওপেনার লেন্ডল সিমন্স অবশ্য রিটায়ার্ড হার্ট (৪১) হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন। পরে ড্যারেন ব্রাভোকে (২৫) আউট করেছেন রিয়াজ। ২০ রানে ব্যাট করছিলেন শিবনারায়ণ চন্দরপল, সঙ্গী ব্রেন্ডন ন্যাশের রান ৪।

সাকিবের প্রতিবেশী ভালোবাসে ফুটবল

ছেলেটার ভূগোলজ্ঞান একটু কমই। ইরান দেশটা কোথায়, ঠিকঠাক বলতে পারল না। শুধু এটুকুই জানাল, ‘ইরানে খেলতে যাচ্ছি।’ ১৮-২৩ মে ইরানে হচ্ছে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৩ ফুটবল-উৎসব। সেখানে খেলতে যাওয়ার জন্য মাগুরার ছেলে ইমন বিশ্বাস ঢাকায় এসেছে প্রথম। কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ব্যস্ত অনুশীলন ক্যাম্পে। ক্যাম্প শেষে ১৬ মে ইরানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে ইমনের মতো বাংলাদেশের ২২ খুদে ফুটবলার। ইয়াজদ শহরের এই উৎসবে বাংলাদেশ ছাড়াও অংশ নিচ্ছে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ইরান।
যে ছেলে ঢাকা শহরে পা রাখল প্রথম, সে যাবে ইরানে! ব্যাপারটা শুনে ইমনের তো প্রথমে বিশ্বাসই হচ্ছিল না। বাড়ির পাশের নদীতে গোসল করছিল সে। তাকে খবরটা দিয়েছিল ওর এক বন্ধু। কিন্তু তখনো ওর মধ্যে অবিশ্বাস, নিশ্চিত হতে বাড়ি এসে আবারও মায়ের কাছে জিজ্ঞাসা করে, ‘মা, আমি কি সত্যি ডাক পেয়েছি?’ মায়ের হাসিমুখ দেখে সঙ্গে সঙ্গে দে ছুট কোচ আহমদ আলীর কাছে। ‘আহমদ স্যার যখন ইরানে যাওয়ার কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে বললেন, তখনই মনে হলো, যাচ্ছি’—পা দোলাতে দোলাতে বলছিল ইমন। বাসচালক বাবা আহমদ বিশ্বাসকেও তখন খুশির খবরটা ফোনে জানিয়ে দিয়েছিল সে।
গত বছর রাজবাড়ীতে ডানোন নেশনস কাপে খেলতে গিয়েছিল ইমন। সেখানেই কোচের চোখে পড়া। তারপর প্রাথমিক বাছাই এবং চূড়ান্ত ট্রায়াল দিয়ে ঢাকায়। একইভাবে সারা দেশের সাতজন কোচ আঞ্চলিক পর্যায়ে এই ফুটবলারদের বাছাই করেছেন।
প্রথম দেশের বাইরে যাচ্ছে সোহাগও। রাজধানী-সংলগ্ন নারায়ণগঞ্জে বাড়ি হওয়ায় ঢাকায় খেলেছে টুকটাক। ডানোন নেশনস কাপে সেও খেলেছিল। তবে গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছিল তাদের স্কুল ইসদাইর রাবেয়া উচ্চবিদ্যালয় প্রাথমিক রাউন্ডে বাদ পড়ায়। এই নিয়ে আফসোস ছিল। কিন্তু এবার কোচ আক্তার হোসেনের কাছ থেকে মনোনীত হওয়ার খবরটা শুনে আনন্দে লাফিয়ে উঠেছিল। ভ্যানচালক বাবা মোহাম্মদ ফজল খুশি হয়েছিলেন আরও বেশি। ছেলেকে যে বড় ফুটবলার বানানোর স্বপ্ন দেখেন।
সোহাগ নিজে ডিফেন্ডার বলে ওর প্রিয় খেলোয়াড় বার্সেলোনার কার্লোস পুয়োল। দেশে ওয়ালি ফয়সালেরও ভক্ত। আর মাগুরা এজি একাডেমির ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র ইমনের প্রিয় খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। রাত জেগে ইউরোপের খেলা সে নিয়মিতই দেখে। খেলা দেখে এদের প্রায় সবাই।
টাঙ্গাইলের শুভ, মিশু, অনিক, বিশ্বনাথরা অবশ্য গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলতে গিয়েছিল ডানোন নেশনস কাপের মূল পর্বে। সেবার ওরা অস্ট্রেলিয়া, মোজাম্বিক ও মরক্কোর বিপক্ষে জিতেছিল। কিন্তু সেটি শুধুই স্কিল দিয়ে। না হলে স্ট্যামিনা, শারীরিক গড়নে তো ওরা বিদেশি কিশোরদের চেয়ে জন্মগতভাবেই পিছিয়ে। তবে এবার অনেক পরিশ্রম করেছে ওরা। এবার তাই স্বপ্নটাও বড়। জানাল, ‘আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।’
পরিবার ছেড়ে ক্যাম্পে থাকতে কি মন খারাপ হয়? না, ওরা বরং ক্যাম্পে আনন্দই পায়। শরীফের কথা, ‘আমরা এখানে অনেক মজা করি। বিদ্যুৎ চলে গেলে এ-ওকে ভূতের ভয় দেখাই। কেউ গোসল করতে ঢুকলে বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে দিই। জার্সি লুকিয়ে রাখি। আবার কখনো গানের কলির প্রতিযোগিতাও করি।’ মাত্র এক মাসেই যেন একটা পরিবার হয়ে উঠেছে ১২-১৩ বছরের এই কিশোরেরা।
সাকিব আল হাসানের প্রতিবেশী হয়েও ক্রিকেটার না হয়ে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখে ইমন। নারায়ণগঞ্জের শরীফও তা-ই। কে জানে, মেসি-রোনালদোর ভক্ত এই খুদে ফুটবলাররাই একদিন হয়ে উঠবে বাংলাদেশের মেসি অথবা রোনালদো।

পাকিস্তানের শুভসূচনা

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর টেস্ট সিরিজের সূচনাটাও ভালোভাবেই করেছে সফরকারী পাকিস্তান। স্পিনারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রথম দিন শেষে মাত্র ২০৯ রান তুলতেই ৯ উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অফস্পিনার সাঈদ আজমল মাত্র ৬৩ রানের বিনিময়ে তুলে নিয়েছেন চারটি উইকেট।
টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন উইন্ডিজ অধিনায়ক ড্যারেন সামি। ষষ্ঠ ওভারেই ওপেনার ডেভন স্মিথের উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে ভালো সূচনা এনে দিয়েছিলেন মোহাম্মদ হাফিজ। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৬ রানের জুটি গড়ে সেই ধাক্কা কিছুটা সামলে নিয়েছিলেন লেন্ডি সিমন্স ও ড্যারেন ব্রাভো। কিন্তু দলীয় ৭১ রানের মাথায় ওয়াহাব রিয়াজের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন ব্রাভো। তৃতীয় উইকেটে জুটিতে অনেকক্ষণ উইকেটে থেকে স্কোরবোর্ডে ৪৬ রান যোগ করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান রামনরেশ সারওয়ান ও শিবনারায়ণ চন্দরপল। ৫৫তম ওভারে ২৩ রান করে সারওয়ান সাজঘরে ফেরার পরই শুরু হয় উইন্ডিজের ব্যাটিং বিপর্যয়। এরপর বড় আর কোনো জুটি গড়তে পারেননি কেউই। পাকিস্তানি স্পিনারদের ঘূর্ণির ফাঁদে পড়ে নিয়মিত বিরতিতে আসা-যাওয়া করতে থাকেন উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানরা। শেষ পর্যন্ত ২০৯ রানে নয় উইকেট হারিয়ে দিন শেষ করে স্বাগতিকেরা। দিন শেষে ১৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন কুমার রোচ। ১০ রান নিয়ে ব্যাট করছেন দেবেন্দ্র বিশু।
মোহাম্মদ হাফিজ ও আবদুর রেহমান নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।

‘ড্রিম টিমে’র হ্যাটট্রিক

‘আগডুম বাগডুম’ খেলাটা যে বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের এত পছন্দ, জানা ছিল না। যেমন জানা ছিল না, বার্সার রিজার্ভ গোলরক্ষক হোসে ম্যানুয়েল পিন্টো ‘ঘোড়াডুম’ সাজতে খুব পছন্দ করেন। পরশু রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতে না বাজাতেই শুরু হয়ে গিয়েছিল বার্সেলোনার টানা তৃতীয় লিগ শিরোপা জয়ের উৎসব। পিন্টোর কাঁধে তখন সওয়ার হচ্ছেন কখনো ডেভিড ভিয়া, কখনো জাভি, কখনো বা ইনিয়েস্তা।
আনন্দ এতটাই লাগাম ছাড়িয়ে গিয়েছিল, আর কাউকে কাছেপিঠে না পেয়ে দানি আলভেজ এক সাংবাদিকেরই পিঠে চড়লেন। বেচারা সাংবাদিক ওই অবস্থাতেও মাইক্রোফোন বাগিয়ে জানতে চাইছেন প্রতিক্রিয়া। অনেক দিক দিয়েই লেভান্তের মাঠে ফিরে এসেছিল ছয় বছর আগের স্মৃতি। ২০০৫ সালে এই মাঠেই ১-১ গোলে ড্র করে শিরোপা নিশ্চিত করেছিল ফ্রাঙ্ক রাইকার্ডের বার্সেলোনা।
পরশুও তা-ই হলো। গোলমুখের সামনে জনা আষ্টেক খেলোয়াড়ের জঙ্গল তৈরি করে রাখা লেভান্তের জালে অনেক কষ্টে একটা গোল বার্সেলোনা ঢোকাল ঠিকই, কিন্তু জাভির অনেক দূর থেকে বাতাসে ভাসিয়ে দেওয়া বলে হেড করে সেইডু কেইটার করা ২৮ মিনিটের গোলটি প্রথমার্ধের শেষ প্রান্তে ঠিকই শোধ করে দিল লেভান্তে। বার্সা গোলরক্ষক ভিক্টর ভালদেজ ও ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝিতে। আরও স্পষ্ট করে বললে ভুলটা জেরার্ড পিকের। ঠিকমতো বলটা ক্লিয়ার করতে পারেননি এই সেন্টার ব্যাক।
অনেক চেষ্টাচরিত্র করেও আর গোল করতে পারেননি মেসি-ভিয়ারা। মেসির একটা শট অবশ্য পোস্টে লেগেছিল। কিন্তু ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে লিগে গোল-ব্যবধানটি পাঁচ থেকে আর কমাতে পারলেন না। তা না পারুন। রোনালদো পিচিচি ট্রফিটা নিয়ে উৎসবে মাতুন। আরও বড় ট্রফি তো হাতে তুলতে পারছেন মেসি। টানা তৃতীয়বার রিয়ালকে দর্শক বানিয়ে লিগ শিরোপা জিততে পারার চেয়ে বড় আনন্দ আর হয় নাকি!
হয় না বলেই কাল আসল উৎসবটা হলো বার্সেলোনা শহরে। রাতভর গান, নাচ, ড্রামের বাদ্য বাজল। আতশবাজি পুড়ল। ‘পুড়ন্ত’ উড়ন্ত সেই উৎসবে মাতোয়ারা গোটা কাতালোনিয়া রাজ্য। কিন্তু চাইলেও সেই উৎসবে যোগ দিতে পারলেন না বার্সার খেলোয়াড়েরা।
লিগের এখনো দুটো ম্যাচ বাকি। তার চেয়েও বড় কথা, সত্যিকারের ম্যাচটি তো ২৮ মে, ওয়েম্বলিতে। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জাভিকে তাই কষ্টটা বুকচাপা দিয়েই রাখতে হলো, ‘শিরোপা জেতার আনন্দ সব সময়ই অন্য রকম। এই শিরোপার আসল দাবিদার আসলে আমাদের সমর্থকেরা। আমি কল্পনা করে নিচ্ছি, বার্সেলোনার পথে আজ (গত পরশু) রাতে আমরাও তাদের সঙ্গে উৎসবে যোগ দিয়েছি।’
শিষ্যদের উৎসব করতে দিলেও তাতে খুব একটা যোগ দেননি পেপ গার্দিওলা। দ্রুতই আবেগের দরজায় খিল এঁটে দিয়েছেন। তাঁর মাথাতেও ঘুরছে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল। খুব সংক্ষেপে নিজের প্রতিক্রিয়া সারলেন, ‘লিগ শিরোপা জেতা সব সময়ই কঠিন ছিল। এবারেরটিও জিততে অনেক লড়াই করতে হয়েছে। এখন আমরা মুহূর্তটা উপভোগ করতেই পারি। এরপর আমাদের সবচেয়ে সুন্দর খেলাটি—চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।’
গত দশ বছরে এটি বার্সার পঞ্চম লিগ শিরোপা। তার চেয়েও বড় কথা, ১৯৯৪ সালের পর এই প্রথম টানা তিনটি শিরোপা জিতল তারা। সেবার ১৯৯১-১৯৯৪ পর্যন্ত টানা চারটি লিগ জিতেছিল ইয়োহান ক্রুইফের ‘ড্রিম টিম’। গার্দিওলার ‘ড্রিম টিমে’র সামনে এখন সেই সম্ভাবনার হাতছানি।

কার্তিক ঝড়ে ম্যাচ পাঞ্জাবের

মাহেলা জয়াবর্ধনে খেললেন ৭৬ রানের ইনিংস। অধিনায়কের ব্যাটের উপর ভর করে কোচি টাস্কার্সের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১৭৮ রান। ১৭৯ রানের লক্ষ্যটা পাঞ্জাবের মতো দলের কাছে সহজ ছিল না মোটেই। তবে ব্যাটে ঝড় তুলে কঠিন ম্যাচকে সহজ করে দেন দিনেশ কার্তিক।
৩৩ বলে ৬৯ রান—৭ চার, ৫ ছয়! শন মার্শ দলীয় সংগ্রহে যোগ করেন ৪২ রান। এতেই অনেকটা জয় নিশ্চিত হয়ে যায় পাঞ্জাবের। শেষ পর্যন্ত জয়টা আসে ৬ উইকেটে, ৭ বল বাকি থাকতে।
এ জয়ের সুবাদে শুক্রবার পর্যন্ত আইপিএলের পয়েন্ট তালিকায় পাঞ্জাবের অবস্থান ষষ্ঠ। দলটির অর্জন ১১ ম্যাচের ১০ পয়েন্ট। ১২ ম্যাচে সমান ১০ পয়েন্ট অর্জন করা কোচির অবস্থান পাঞ্জাবের ঠিক পরই।