Sunday, July 19, 2026

ইরানের গুপ্তচরবৃত্তি ঠেকাতে মাঠে নামানো হলো ইহুদি ধর্মগুরুদের

ইসরাইলের ভেতরে ইরানের গুপ্তচরবৃত্তি ও নাগরিক নিয়োগের প্রক্রিয়া ঠেকাতে এবার মাঠে নেমেছেন দেশটির প্রভাবশালী ইহুদি ধর্মগুরু বা রাব্বিরা। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে ইরানি এজেন্টরা যেভাবে ইসরাইলিদের ফাঁদে ফেলছে, তা রুখতে রাব্বিদের সম্পৃক্ত করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

রাব্বিদের মাধ্যমে সচেতনতা

ইসরাইলের প্রধান রাব্বিনিকাল কাউন্সিলের সদস্য ও প্রভাবশালী সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রাব্বি ইগ্যাল কোহেন অনুসারীদের সতর্ক করে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, ইরানি এজেন্টরা ছবি তোলা, অস্ত্র লুকিয়ে রাখা বা হত্যার মতো কাজের জন্য ইসরাইলের ভেতরে লোক নিয়োগের চেষ্টা করছে।

তিনি অনুসারীদের এই ফাঁদে পা না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এটি চরম ধর্মদ্রোহিতা এবং এর পরিণতি হবে জেল ও জীবন ধ্বংস।

নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের অনুরোধেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। এছাড়া কট্টর রক্ষণশীল (হারিদি) সম্প্রদায়ের পরিচিত মুখ ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ইসরাইল কোহেনও রাব্বিদের সঙ্গে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের যোগাযোগ করিয়ে দিয়ে এই প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। জুলাইয়ের শুরুতে হারিদি সম্প্রদায়ের আরেক সাংবাদিক উইদ্দিশ ভাষায় এই সতর্কবার্তা প্রচার করেছেন।

৬০টির বেশি মামলা

ইসরাইলি পুলিশ ও প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেনা, বেসামরিক নাগরিক, ধর্মীয় ও ধর্মনিরপেক্ষ ইহুদি এবং আরবদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ৬০টিরও বেশি মামলা করা হয়েছে।

পুলিশ তদন্তকারী আমিচাই প্যানেট্টা জানান, সন্দেহভাজনদের অনেকেই যুদ্ধের সময়েও শত্রুকে সাহায্য করেছেন।

টেলিগ্রাম ও এসএমএসের ফাঁদ


২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলা এবং ২০২৫ সালের জুনে ইরানের ওপর ইসরাইলের প্রথম হামলার পর তেহরান এই তৎপরতা বাড়িয়েছে। মূলত টেলিগ্রাম অ্যাপ ও ভুয়া নামে এসএমএস পাঠিয়ে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করা হয়। প্রথমে নিজের এলাকার সাধারণ ছবি বা ভিডিওর বিনিময়ে সহজ উপায়ে টাকা দেওয়ার লোভ দেখানো হয়। পরে ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো সংবেদনশীল তথ্য চাওয়া হয়।

সাবেক শিন বেত কর্মকর্তা শালোম বেন হানান জানান, তার স্ত্রীও প্রতিনিয়ত বড় পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে ইরানি গোয়েন্দাদের কাছ থেকে এমন বার্তা পান। হাজারো চেষ্টার মধ্যে দু-একটি সফল হওয়াই ইরানের জন্য বড় সাফল্য।

উল্লেখযোগ্য কিছু গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনা

মার্কিন শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

গত ৯ জুন জেরুজালেমের একটি ধর্মীয় শিক্ষালয় থেকে এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। টাকার বিনিময়ে সংবেদনশীল ছবি তোলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে মার্কিন দূতাবাস কোনো মন্তব্য করেনি।

সেনার কারাদণ্ড

২০২৫ সালের সংঘাতের সময় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের ভিডিও ইরানি এজেন্টের কাছে পাঠানোর দায়ে চলতি মাসে এক ইসরাইলি সেনাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে সামরিক আদালত।

আয়রন ডোম ও বিমানবাহিনীর তথ্য ফাঁস

আইরন ডোম ইউনিটের এক রিজার্ভ সেনা ব্যাটারির অবস্থান, ৭টি বিমান ঘাঁটি ও পরিচালনা পদ্ধতির ভিডিও পাচারের অভিযোগে আটক হয়েছেন। এছাড়া বিমানবাহিনীর দুই টেকনিশিয়ান সার্জেন্ট টেলিগ্রামে তথ্য পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন।

নেতা হত্যার ষড়যন্ত্র

হাইফা থেকে ২২ বছর বয়সি এক যুবককে রাজনৈতিক নেতা হত্যা ও বিস্ফোরক তৈরির প্লটে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি হাইফা বন্দর ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের স্থানের ছবি তুলেছিলেন।

চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে জালিয়াতি

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর মামলাটি ঘটেছে ২৪ বছর বয়সি হারিদি শিক্ষার্থী মেইর নাহুম ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে। তিনি চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে ইসরাইলের বিশেষ '৮২০০' গোয়েন্দা ইউনিটের ভুয়া নথিপত্র তৈরি করেন।

তিনি ইরানি এজেন্টকে জানান, ২০২৪ সালে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পেছনে ইসরাইল জড়িত ছিল।

এছাড়া এক সাধারণ ইরানি নাগরিকের নাম ইসরাইলি তথ্যদাতা হিসেবে দেন, যাকে পরে ইরান জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়। এই কাজের জন্য তারা ডিজিটাল কারেন্সিতে ১ লাখ শেকেল (৩৫ হাজার ডলারের বেশি) নেন।

তাদের আইনজীবী আরিয়েল আতারি দাবি করেছেন, তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে ইরানকে ঠকিয়ে টাকা নিয়েছেন এবং ইসরাইলকে ঝুঁকিতে ফেলেননি।

তবে পুলিশ বলছে, রাইসিকে নিয়ে করা মিথ্যা দাবি যুদ্ধ লাগিয়ে দিতে পারত। আজ রোববার আদালতে এই দুই ভাইয়ের শুনানি রয়েছে।

সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

ইরানের গুপ্তচরবৃত্তি ঠেকাতে মাঠে নামানো হলো ইহুদি ধর্মগুরুদের
ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের একগুঁয়েমির কারণে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার এক মাস পার হতে না হতেই দেশটিতে পুনরায় বিমান হামলা শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

ঝুঁকিপূর্ণ জুয়া ও চুক্তির পতন

গত ১৭ জুন ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে স্থায়ী শান্তি ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছিল দুই দেশ। তবে ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তিটিকে ‘কার্যকারিতাহীন’ দাবি করে গত সপ্তাহে পুনরায় ইরানের সামরিক ও অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করে।

এর জবাবে ইরানও পারস্য উপসাগরে মার্কিন মিত্রদের ওপর পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

সমালোচকদের মতে, চুক্তিটি ছিল ট্রাম্পের একটি সাময়িক কৌশল।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক মন্তব্য থেকে জানা যায়, মূলত কৌশলগত তেল রিজার্ভ গড়ে তোলার সময় পেতেই ওয়াশিংটন এই চুক্তি করেছিল, যাতে ইরানের ওপর চাপ বজায় রেখে সাময়িকভাবে জ্বালানি তেলের দাম কমানো যায়।

নির্বাচনী ও অর্থনৈতিক প্রভাব

আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে মরিয়া। এমন সময়ে ভোটারদের কাছে অত্যন্ত অপ্রিয় এই যুদ্ধ নতুন করে শুরু করায় ট্রাম্প নিজের দলের জন্যই রাজনৈতিক বিপদ ডেকে আনছেন। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে।

মার্কিন সাময়িকী ‘আমেরিকান কনজারভেটিভ’-এর নির্বাহী সম্পাদক কার্ট মিলস এটিকে ট্রাম্পের একটি ‘ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা’ এবং নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য একটি সম্পূর্ণ পরাজয়ের কারণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ

এই সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দু কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি এই সমুদ্রপথ দিয়ে রপ্তানি হতো। ইরান এই প্রণালি বন্ধের হুমকি দিয়ে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের ধনী দেশগুলোকে এক প্রকার জিম্মি করে ফেলেছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই বিমান হামলা শেষ পর্যন্ত ইরানে স্থল অভিযানের রূপ নিতে পারে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও একটি দীর্ঘমেয়াদি ও অন্তহীন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে, যা ট্রাম্প নিজেই অতীতে এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

কূটনৈতিক ব্যর্থতা

হোয়াইট হাউসের সাবেক ইরান বিষয়ক উপদেষ্টা নেট সোয়ানসন এবং মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো অ্যালেন ভাটানকা জানান, ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসনে অভিজ্ঞ ইরান বিশেষজ্ঞদের চরম অভাব রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিয়েছেন। এর পরিবর্তে ট্রাম্প তার পুরোনো ব্যবসায়ী দল ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের ওপর ভরসা করছেন। ফলে তারা ইরানি ব্যবস্থার মনস্তত্ত্ব বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন।

সাবেক মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান জেনারেল জোসেফ ভোটেল মনে করেন, এই সংঘাত সপ্তাহের পর সপ্তাহ বা মাসব্যাপী চলতে পারে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তার অপমানিত ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে কূটনৈতিকভাবে এগোতে হবে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ট্রাম্পের একগুঁয়েমির কারণে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এপি

যুক্তরাষ্ট্রকে এমন শিক্ষা দেওয়া হবে, যা তারা ভুলতে পারবে না: মোজতবা খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হুঁশিয়ার করে বলেছেন, তেহরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের হাতে যুক্তরাষ্ট্র এমন শিক্ষা পাবে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন।

গতকাল শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মোজতবা খামেনির নামে একটি লিখিত বিবৃতি পাঠ করা হয়। সেখানে সর্বোচ্চ নেতা বলেন, গত মাসের সমঝোতা স্মারক যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে লঙ্ঘন করেছে, তা প্রমাণ করে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর ‘সম্পূর্ণ মূল্যহীন ও অবৈধ’।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘চুক্তির ক্ষেত্রে মহাশয়তান বারবার অঙ্গীকার ভঙ্গ করে আবারও সবার কাছে প্রমাণ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর এখন সম্পূর্ণ মূল্যহীন ও অবৈধ। আর জুলুম, আধিপত্যবাদ ও বর্বরতা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাস ও নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

মোজতবা খামেনি লিখিত ওই বিবৃতিতে হুঁশিয়ার করে আরও বলেন, ‘এখন যখন মার্কিন শত্রু যুদ্ধ উসকে দিতে চাইছে এবং আরও বড় মূল্য ও অপমানের মুখোমুখি হতে চলেছে, তখন তাদের জানা উচিত যে প্রিয় ইরানি জাতি ও প্রতিরোধ ফ্রন্ট তাদের জন্য এমন শিক্ষা প্রস্তুত রেখেছে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না।’

যুক্তরাষ্ট্র এ সপ্তাহে ইরানের ওপর তাদের আক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করেছে। তারা ইরানের সেতু, রেলপথ, সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কারখানাসহ বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে।

জবাবে বাহরাইন, কাতার, কুয়েতসহ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোয় হামলা চালানোর কথা নিশ্চিত করেছে তেহরান। সেই সঙ্গে তেহরান ভারত মহাসাগরের উত্তরে অবস্থানরত একটি মার্কিন জাহাজে হামলার দাবি করেছে।

কুয়েত কর্তৃপক্ষ বলেছে, দেশটির একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও একটি পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির কর্তৃপক্ষ সবাইকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

মোজতবা খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার ‘আসল চেহারা’ উন্মোচন করেছে। আর এর মাধ্যমে তাদের ‘প্রতারণাপূর্ণ চরিত্র, অযৌক্তিকতা, অবিশ্বস্ততা ও কু-অভিপ্রায়’ প্রকাশ পেয়েছে।

দেশকে রক্ষা করার জন্য নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখার এবং সংঘাত চলমান থাকায় জনগণকে ‘সতর্ক’ ও ‘সক্রিয়’ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মোজতবা খামেনি।

সাম্প্রতিক দিনগুলোয় এমন খবর সামনে এসেছে যে ইয়েমেনের হুতিরা তাদের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ইরানের সমর্থনে লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা সৃষ্টি হবে, মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং হামলা বন্ধ করতে ট্রাম্পের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে।

এ যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় এবং এটি মার্কিনদের ওপর অর্থনৈতিক ক্ষতি ডেকে এনেছে।

গত মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করা।

কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটন একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ওই সমঝোতাকে ‘সমাপ্ত’ বলে ঘোষণা করেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ছবি হাতে মিছিল
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ছবি হাতে মিছিল। ছবি: এএফপি

নিউইয়র্কে এলে গ্রেপ্তার হতে পারেন নেতানিয়াহু, আবারও বললেন মামদানি

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে শহরটিতে এলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। তাঁর কার্যালয় থেকে এখনো বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান মামদানি।

নিউইয়র্ক টাইমসের ‘দ্য ইন্টারভিউ’ পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, তাঁর প্রশাসনের আইন বিভাগ সক্রিয়ভাবে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে।

নির্বাচনী প্রচারের সময় মামদানি এমন পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

মামদানি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান দ্য হেগে। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত অভিযোগ গঠন করেছেন। আর আপনি দেখবেন, অনেক মানুষই শুধু কয়েক বছর ধরে তাঁর কর্মকাণ্ডের ফলে যা ঘটেছে, সে কারণেই এর সঙ্গে একমত পোষণ করেন।’

আইন তাঁকে এমন কিছু করার অনুমতি দেয় কি না, প্রশ্নের জবাবে মামদানি বলেন, ‘এ নিয়ে আমাদের আইন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলমান। তবে আমরা জাতীয় পর্যায়ে যা দেখেছি, তা হলো, কখনো কখনো নিজের মতো করে আইন তৈরি করা এবং আইনের সীমা অতিক্রম করে যাওয়ার প্রবণতা। তবে এমন কিছুতে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২০২৪ সালে নেতানিয়াহু ও অন্য ইসরায়েলি নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আইসিসির এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানার নিন্দা জানিয়েছেন।

মামদানি ইসরায়েল সরকারের একজন কঠোর সমালোচক। তিনি বারবার গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধকে জাতিগত নিধন বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তবে ইসরায়েল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গতকাল শনিবার জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ মেয়র মামদানির মন্তব্যকে ‘নিছক রাজনৈতিক নাটক’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়।

সপ্তাহের শুরুতে ডব্লিউএবিসি রেডিওর উপস্থাপক সিড রোজেনবার্গের সঙ্গে কথা বলার সময় নেতানিয়াহু বলেন, নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি সেখানে গেলে তাঁকে গ্রেপ্তার করার সম্ভাবনা নিয়ে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা নিয়ে তিনি একেবারেই উদ্বিগ্ন নন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গতকাল জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যাননও বলেন, ‘নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে আসবেন, গর্বের সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন এবং বিশ্বের সামনে দাঁড়িয়ে ইসরায়েলের সত্য ও নিজের নাগরিকদের রক্ষা করার অটুট অধিকার তুলে ধরবেন।’

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি: এএফপি

ইরান নয়, ট্রাম্পই এখন বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ by সায়মন টিসডাল

হঠকারী এবং দিশাহারা ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে নিজের শুরু করা এই বিপর্যয়কর যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। মার্কিন সামরিক বাহিনী আবারও দেশটিতে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। আগের মতোই, এই বেআইনি হামলাগুলো কট্টরপন্থী একটি সরকারের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করছে।

এই সপ্তাহেও প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন যে তিনি ‘বিশাল জয়’ পাচ্ছেন। ট্রাম্প এবং পেন্টাগনের যুদ্ধবাজ প্রধান পিট হেগসেথ কতবার এমন ভুয়া বিজয়ের দাবি করেছেন? কেউ তাঁকে বিশ্বাস করে না।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন হোয়াইট হাউসের একটি সীমিত ও অধরা লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহি মনোভাবের কারণেই প্রণালিটি বন্ধ হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বৃহত্তর যুদ্ধের লক্ষ্যগুলো এখন আগের চেয়ে আরও বেশি অলীক মনে হচ্ছে।

মার্কিন বাহিনী যে অকার্যকর হয়ে পড়েছে, তার কারণ ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) শক্তি নয়, ট্রাম্পের কাপুরুষোচিত নেতৃত্ব। ইরান যদি সত্যিই তাদের দাবি অনুযায়ী এতটা বিপজ্জনক হতো, তবে যৌক্তিক পথ ছিল পূর্ণমাত্রায় আক্রমণ চালানো। জর্জ ডব্লিউ বুশ যখন ইরাককে বিপজ্জনক মনে করেছিলেন, তখন তিনি ১ লাখ ৭০ হাজার পদাতিক সৈন্য নিয়ে আক্রমণ করেছিলেন। সেটিও এক বিপর্যয় ছিল।

ট্রাম্প ইরানে তেমন কিছু করার সাহস দেখাবেন না। এই সামান্য স্বস্তির জন্য বিশ্ববাসীর অবশ্যই কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কিন্তু ট্রাম্প নিজের ভুল স্বীকার করবেন না। তিনি একটি অসমাপ্ত যুদ্ধ অবলীলায় শুরু করেছিলেন। ট্রাম্প বরং বেসামরিক মানুষ ও মার্কিন সৈন্যদের একটি অন্তহীন ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিতে পছন্দ করেন।

ট্রাম্প উপসাগরীয় আরব মিত্রদের বিপদে ফেলছেন, বিশ্ব অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করছেন, অনুন্নত দেশগুলোতে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি বাড়াচ্ছেন এবং মস্কো থেকে বেইজিংয়ের স্বৈরশাসকদের আনন্দ দিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছেন এবং তাঁর নিজের রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচনী সম্ভাবনা নষ্ট করছেন। এত কিছুর পরও তিনি নিজের ভুল মেনে নিয়ে ‘শান্তি আলোচনা’র মাধ্যমে কূটনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটবেন না।

ইরান নয়, ট্রাম্পের আত্ম–অহংকারই এখন বিশ্বের এক নম্বর শত্রু। এই যুদ্ধ অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছড়িয়ে পড়ার পেছনে মূল কারণ তিনিই। তিনি একাই একটি জীবন্ত গণবিধ্বংসী অস্ত্র।

এখানে একটি চেনা চিত্র দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্প কংগ্রেস, মার্কিন মিত্র বা আমেরিকার জনগণের সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করেই যুদ্ধে জড়িয়েছেন। তাঁর কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা বা দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ছিল না। তিনি ইসরায়েলের বিতর্কিত প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত বিজয়ের ভুয়া আশ্বাস সহজে বিশ্বাস করেছিলেন।

সামরিক ও আঞ্চলিক ঝুঁকি নিয়ে ট্রাম্পের যে অগাধ অজ্ঞতা ছিল, তা বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন দিয়েও দূর করা যায়নি। কারণ, তিনি সেই প্রতিবেদনগুলো পাত্তাই দেননি। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, ট্রাম্প ভেবেছিলেন, প্রণালিটি বন্ধ করার আগেই ইরান আত্মসমর্পণ করবে।

উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টাহামলায় ট্রাম্প ‘হতবাক’ হয়েছিলেন। কিন্তু বাকি কেউ অবাক হয়নি। এখন তিনি অথই সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছেন।

গত বছরের গাজার উচ্চাভিলাষী ২০ দফার ‘শান্তি পরিকল্পনা’তেও একই ধরনের অহংকার ও দায়িত্বহীনতা দেখা গিয়েছিল। পুনর্গঠন, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠন বা নিরস্ত্রীকরণের মতো প্রধান বিষয়গুলোর কোনো অগ্রগতি হয়নি। ট্রাম্প নিজেই এখন এর ওপর থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।

হামাস অস্ত্র সমর্পণ করেনি, ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে, মানবিক সহায়তা এখনো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং অক্টোবরের ‘যুদ্ধবিরতি’র পর থেকে এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ট্রাম্পের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রেও একই সমালোচনা প্রযোজ্য। তিনি কখনোই যুদ্ধের মূল কারণ বা ভ্লাদিমির পুতিনের অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে মাথা ঘামাননি। তিনি শক্তিশালী পক্ষকে সমর্থন জুগিয়েছেন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে আধা-আত্মসমর্পণে বাধ্য করার জন্য চাপ দিয়েছেন। সেই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে কিয়েভের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন।

ট্রাম্পের সেই বোকামি, অধৈর্য ও দায়িত্বহীনতার পুনরাবৃত্তি ঘটছে ইরানে।

এই পরিস্থিতি থেকে নিজেকে মুক্ত করতে না পেরে ট্রাম্প এখন ছটফট করছেন। চলতি সপ্তাহের উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে জুনের একটি ‘পারস্পরিক সমঝোতা স্মারক’। এই চুক্তির মাধ্যমে মূল আলোচনার স্বার্থে ৬০ দিনের জন্য সংঘর্ষ স্থগিত রাখার কথা ছিল। ট্রাম্প এই চুক্তিকে নিজের ব্যক্তিগত বিজয় হিসেবে প্রচার করেছিলেন।

কিন্তু ট্রাম্পের অন্য সব চুক্তির মতো এটিও ছিল মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ। এখন এর পরিণতি স্পষ্ট হতে শুরু করায় তিনি পিছুটান দিচ্ছেন। তেহরান যে তাঁকে বিশ্বাস করে না, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আসলে তাঁকে কে বিশ্বাস করে?

ট্রাম্পের ইরান বিপর্যয়ের কারণে হওয়া ক্ষতি এখন সীমাহীন বলে মনে হচ্ছে। বিশ্ব খুব কমই এমন দৃশ্য দেখেছে। একজন মদ্যপায়ী যেমন প্রতিবার নতুন করে মদ্যপান করার সময় ভাবে যে এবার ফলাফল ভিন্ন হবে, ট্রাম্পও তেমনি প্রতিদিন বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ আগের কোনো হামলাই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল এনে দিতে পারেনি। তিনি যত বেশি বোমা ফেলছেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠী তত বেশি অনড় হচ্ছে। সংঘাত তত বেশি তীব্র ও বিস্তৃত হচ্ছে।

এটি স্পষ্ট যে ট্রাম্পের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। তিনি হরমুজ প্রণালিতে নৌ-টোল আরোপের ঘোষণা দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা প্রত্যাহার করে নেন। বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার তদারকি করছেন, যা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে। ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতিদের মাধ্যমে লোহিত সাগর অবরোধের মতো মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। এই গভীর জলাভূমি থেকে কীভাবে রক্ষা পাবেন, তা ট্রাম্পের জানা নেই।

ইউরোপীয় মিত্ররা সন্দেহের চোখে তাকাচ্ছে, ওয়াশিংটনের শত্রুরা আনন্দে হাসছে, বিশ্ববাজার আতঙ্কিত এবং তেলের দাম আবার বাড়ছে। প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বে আমেরিকার সুনাম ও প্রভাব কমছে। যখন কেউ আপনাকে সম্মান করে না, তখন পরাশক্তি হওয়া বেশ কঠিন।

ট্রাম্পকে কে থামাবে? কংগ্রেস তাকে যুদ্ধ বন্ধ করতে অথবা আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে বলেছে। তিনি তা উপেক্ষা করছেন। জরিপ বলছে, অধিকাংশ আমেরিকান এই ১০০ বিলিয়ন ডলারের মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টিকারী সংকটের বিরুদ্ধে। তবু ট্রাম্প শুনছেন না।

ন্যাটোর আঙ্কারা সম্মেলনে ট্রাম্পের তিরস্কারের শিকার হয়ে ব্যথিত মিত্ররা স্থায়ী ফাটলের ভয়ে তাঁকে থামাতে সাহস পাচ্ছে না। পোপ লিও তাঁর সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এখন হয়তো কেবল প্রার্থনাই বাকি আছে।

নিজের সামরিক বিভ্রান্তির ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ক্রেমলিনে বসে পুতিন আনন্দের সঙ্গে দেখছেন যে কীভাবে আমেরিকানরা ইউক্রেন থেকে দূরে, মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি অন্তহীন যুদ্ধে তাদের মূল্যবান ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টর, অর্থ ও শক্তি অপচয় করছে।

পশ্চিমা জোটের মধ্যে ফাটল যত বাড়বে, পুতিন তত বেশি খুশি হবেন। আর চীনের মনোভাব নিয়ে যদি কারও সন্দেহ থাকে, তবে গত সপ্তাহে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে তাদের সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণ করা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার দিকে তাকানো উচিত। চীন ইতিমধ্যেই অর্থনৈতিক ও নরম শক্তির দিক থেকে বিশাল সুবিধা পাচ্ছে। আজ হোক বা কাল, সি চিন পিং সামরিকভাবে এর ফায়দা তুলবেন।

ট্রাম্পের এই জটিল ধাঁধার সমাধান শেষ পর্যন্ত আমেরিকার জনগণকেই করতে হবে। তাঁরা তাঁকে নির্বাচিত করেছেন। তাঁরা এই বিপজ্জনক দানবকে বিশ্বের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। তাঁর এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের জন্য শেষ পর্যন্ত তাঁদেরই সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হতে পারে।

* সায়মন টিসডাল, গার্ডিয়ানের কলামিস্ট। গার্ডিয়ান থেকে অনূদিত।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প। রয়টার্স

সিনেমা মুক্তির আগেই অন্তরঙ্গ দৃশ্য ফাঁস

‘তিতলি’র পর ‘আগ্রা’বানিয়েছেন কানু বেহেল। ছবিটি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উৎসবে প্রশংসিতও হয়েছে। সম্প্রতি সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে ভারতের প্রেক্ষাগৃহে। এ ছাড়া ছবিটি মুক্তির আগেই এর অন্তরঙ্গ দৃশ্যগুলো অন্তর্জালে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে কথা বলেছেন ‘আগ্রা’র অভিনেত্রী রুহানি শর্মা।

কান উৎসবে সাফল্যের পরেও ‘আগ্রা’ আলোচনায় ছিল কেবল এর অন্তরঙ্গ দৃশ্যের জন্য। মুক্তির আগে শুরুতে অন্তরঙ্গ দৃশ্য, পরে পুরো সিনেমাটিই ইন্টারনেটে ফাঁস হয়। যা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে, বিশেষ করে ছবির সাহসী দৃশ্যগুলোকে কেন্দ্র করে।

পাইরেটেড সংস্করণ দেখার পর কিছু দর্শক রুহানি শর্মার সমালোচনা শুরু করেন, সাহসী দৃশ্যে অভিনয়ের জন্য তাঁকে কটাক্ষ করেন। ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরে আবার শুরু হয়েছে সেই পুরোনো আলোচনা।

যা নিয়ে রুহানি শর্মা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। নিজের হতাশা ও অসন্তোষ ব্যক্ত করে ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার কাজ ও পরিশ্রমকে শুধু কয়েকটি ক্লিপ দিয়ে পরিমাপ করা ঠিক নয়। এই ছবিটি আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমি আশা করি দর্শকেরা পুরো ছবি দেখবেন এবং আমাদের পরিশ্রমকে মূল্য দেবেন।’

অনেকে ভেবেছিলেন, ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগে ব্যাপকভাবে কাঁচি চালাবে ভারতের সার্টিফিকেশন বোর্ড। কিন্তু বলিউড হাঙ্গামাকে নির্মাতা কানু বেহেল জানান, তাঁর ‘আগ্রা’ ছবির কেবল একটি নগ্ন দৃশ্যসহ কিছু গালাগালের সংলাপ বাদ দেওয়া হয়েছে; এরপর ছবিটি পেয়েছে ‘এ’ বা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সার্টিফিকেট।

কানু বেহেলের ভাষ্য, ‘আমার অভিজ্ঞতায় সেন্সরের কাছ থেকে কোনো ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া পাইনি। উল্টো তারা খুবই সহযোগিতা করেছে। তারা ছবিটা পছন্দ করেছে। পরিবর্তনগুলোও করেছি আমি নিজেই। তারা শুধু তিনটি শট কাটতে বলেছিল। বলেছিল, “আমরা ছবিটা পছন্দ করেছি, কাটতে চাই না; কিন্তু আজকের দিনে এ সার্টিফিকেট পেলেও নগ্নতা ও অশ্লীল ভাষা রাখা যায় না।”’

কানু বেহেল আরও বলেন, ‘তিনটি নগ্ন শটের মধ্যে দুটির গুরুত্ব বোঝাতে সক্ষম হই। সামান্য বদল করে সেগুলো রেখে দিই। শেষ পর্যন্ত কেবল একটি শট বাদ গেছে। গালাগালের সংলাপও সরানো হয়েছে—এ নিয়ে আমি আপত্তি করিনি। কারণ, সেটি বড় কাঠামোগত প্রশ্ন এবং কমিটিও সে বিষয়ে কিছু করতে পারত না। তারা খুব খোলামেলাভাবে বিষয়টি বুঝিয়ে বলেছে, এটা আমি সম্মান করি।’

পরবর্তী চলচ্চিত্র নিয়ে প্রশ্ন করলে কানু বেহেলের জবাব, ‘এখন বলার মতো কিছুই নেই। “আগ্রা”র জন্য আরও শো পাওয়ার লড়াই চালিয়ে যেতে চাই। স্বাধীন সিনেমার জায়গা নিয়ে বড় পরিসরের আলাপ শুরু হোক—এটাই চাই। এখনকার পুরো ব্যবস্থাটা কিছু নির্দিষ্ট ধরনের বিনোদনমূলক ছবির পক্ষেই দাঁড়িয়ে আছে। এর বাইরে থাকা চলচ্চিত্রগুলোর জায়গা ক্রমে সংকুচিত হচ্ছে।’

কইমইডটকম অবলম্বনে 

রুহানি শর্মা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
রুহানি শর্মা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

কাশ্মিরের শহীদদের দোহাই দিয়ে বলছি by হামিদ মীর

জম্মু-কাশ্মিরের রাজনৈতিক সংগ্রামে তিনটি দিবস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমটি ২৩ মার্চ, দ্বিতীয়টি ১৩ জুলাই এবং তৃতীয়টি ১৪ আগস্ট। এই তিন দিবসের গুরুত্ব অনুধাবনে আসুন আমরা ১৯২৪ সালের ২১ জুলাই শ্রীনগরের রেশম কারখানায় কর্মরত হাজার হাজার কাশ্মিরি শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পটভূমি জেনে নিই। ওই কারখানাগুলোর মালিক ও কর্মকর্তা সবাই ছিলেন হিন্দু, যারা মোটা অঙ্কের বেতন পেতেন। অন্য দিকে মুসলিম শ্রমিকরা দৈনিক মাত্র সাড়ে চার আনা মজুরি পেতেন। এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে কাশ্মিরি মুসলিম শ্রমিকরা তাদের সন্তান-সন্ততিদের নিয়ে মিছিল বের করেন। তারা মজুরি বাড়ানোর দাবি করেন। এ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের গ্রেফতার করা হয়। এ বিক্ষোভ কাশ্মিরি মুসলমানদের মধ্যে সেই রাজনৈতিক জাগরণের পরিচয় দেয়, যা ১৯২৩ সালে জম্মুতে ইয়ংমেনস মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। এরপরে ১৯২৯ সালে পুঞ্ছ অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় করের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়।

২৩ মার্চ, ১৯৩১ সালে লাহোরে ব্রিটিশ সরকার স্বাধীনতাকামী ভগত সিংকে ফাঁসি দিলে ওই দিন ইয়ংমেনস মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন ছাড়াও মীর ওয়ায়েজ মুহাম্মদ ইউসুফ শাহ এই ফাঁসির তীব্র নিন্দা জানান। পরের দিন প্রতিবাদী বিক্ষোভও করেন। এই ফাঁসির কয়েক দিন পর ২৯ এপ্রিল, ১৯৩১ সাল ছিল ঈদুল আজহার দিন। জম্মুর মুসলমানরা শালিমার বাগে ঈদের নামাজ আদায় করছিলেন। মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক তার খুতবায় ফেরাউন ও নমরুদের অত্যাচার ও নিপীড়নের কথা উল্লেখ করলে সেখানে উপস্থিত ডোগরা পুলিশের অন্যতম ইন্সপেক্টর লালা খেম চাঁদ এই খুতবা বন্ধ করে দেন। ওই দিন ইয়ংমেনস মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন জম্মুর জামে মসজিদে একটি সভা করে। লালা খেম চাঁদকে বরখাস্ত করার দাবি জানায়।

৪ জুন, ১৯৩১ সালে জম্মুর সেন্ট্রাল জেলে লম্বুরাম নামে এক হিন্দু ইন্সপেক্টর কুরআন অবমাননা করেন। ৬ জুন এ ঘটনার বিরুদ্ধে পুরো জম্মুতে হরতাল পালন করা হয়। প্রতিবাদের এ ধারা মোজাফফরাবাদ ও রাওলাকোট থেকে মিরপুর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ৫ জুন, ১৯৩১ সালে শ্রীনগরের খানকায়ে মুয়াল্লায় কুরআন অবমাননার বিরুদ্ধে একটি বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবেশে আবদুল কাদির নামে এক পাখতুন যুবক ডোগরা সরকারের বিরুদ্ধে এক অগ্নিঝরা বক্তব্য প্রদান করেন; যার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। আবদুল কাদিরের বিরুদ্ধে মামলার শুনানি সাধারণ আদালতে করার পরিবর্তে শ্রীনগরের সেন্ট্রাল জেলে করা হয়। হাজার হাজার কাশ্মিরি মুসলমান শ্রীনগর সেন্ট্রাল জেলের বাইরে জড়ো হয়ে আবদুল কাদিরের পক্ষে সেøাগান দিতে থাকেন। দিনটি ছিল ১৯৩১ সালের ১৩ জুলাই। নামাজের সময় হয়ে গেল। মুসলমানরা জেলের দেওয়ালে চড়ে আজান দেয়া শুরু করলে তাদের ওপর গুলি চালানো হয়। গুলিবর্ষণে ২২ কাশ্মিরি মুসলমান শহীদ হন। পরবর্তীতে দিনটিকে কাশ্মিরি শহীদ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনার পর শ্রীনগরে মার্শাল ল জারি করা হয়। চৌধুরী গোলাম আব্বাস ও শেখ আবদুল্লাহসহ সব শীর্ষস্থানীয় কাশ্মিরি নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। ৩ আগস্ট গ্রেফতারকৃত সব নেতাকে মুক্তি দেয়া হয়। কিন্তু আবদুল কাদিরকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এসব ঘটনার প্রতিবাদে ১৯৩১ সালের ১৪ আগস্ট লাহোরের মোচি গেটের বাইরের বাগানে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আল্লামা ইকবাল কাশ্মিরের স্বাধীনতা আন্দোলনের ঘোষণা দেন। এ দিনে অপর কিছু শহরেও কাশ্মির দিবস পালন করা হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৩১ সালে মীর ওয়ায়েজ মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ শাহ ডোগরা সরকারের বিরুদ্ধে জিহাদের ফতোয়া দেন। এসব কিছু মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ঘটেছিল। ২৩ মার্চ সমগ্র জম্মু-কাশ্মির রাজ্য ভগত সিংয়ের ফাঁসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে। এরপর কুরআন অবমাননার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। ১৩ জুলাই ২২ কাশ্মিরি মুসলমান শহীদ হন। সেই সাথে ১৪ সেপ্টেম্বর শ্রীনগর থেকে ডোগরা সরকারের বিরুদ্ধে জিহাদের ফতোয়া আসে। এই তারিখগুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, তখন পর্যন্ত অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের পক্ষ থেকে একটি পৃথক স্বদেশের আনুষ্ঠানিক দাবি উত্থাপিত হয়নি। কিন্তু জম্মু-কাশ্মিরের স্বাধীনতা আন্দোলন ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছিল। চৌধুরী গোলাম আব্বাস ও সরদার ফতেহ কারেলবিসহ বেশ কয়েকজন কাশ্মিরি নেতা লাহোর এসে আল্লামা ইকবালের সাথে পরামর্শ করেন। একই সাথে ১৯৩২ সালে অল জম্মু-কাশ্মির মুসলিম কনফারেন্স নামে একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৩৪ সালে জম্মু-কাশ্মির রাজ্যে প্রথমবারের মাতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মুসলিম কনফারেন্স সব ক’টি মুসলিম আসনে জয়লাভ করে। ১৯৩৯ সালে শেখ আবদুল্লাহ মুসলিম কনফারেন্স ভেঙে ন্যাশনাল কনফারেন্স গঠন করেন। ১৯৪৫ সালে শেখ আবদুল্লাহ পণ্ডিত জওয়াহের লাল নেহরুকে ন্যাশনাল কনফারেন্সের বার্ষিক অধিবেশনে বিশেষ অতিথি করেন। এভাবে ন্যাশনাল কনফারেন্স কংগ্রেসের সুরে সুর মেলানোর পথ অবলম্বন করে। অন্য দিকে ২৩ মার্চ, ১৯৪০ সালে লাহোরে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের অধিবেশনে মুসলিম কনফারেন্সের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। ওই দলে জম্মু, শ্রীনগর, মোজাফফরাবাদ, পুঞ্ছ ও মিরপুরের পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব ছিল। এভাবে মুসলিম কনফারেন্স প্রকাশ্যে মুসলিম লীগের পাশে এসে দাঁড়ায়।

১৯৪৪ সালে কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ শ্রীনগর সফর করেন। তিনি শেখ আবদুল্লাহকে পুনরায় মুসলিম কনফারেন্সে ফিরে আসার আমন্ত্রণ জানান। শেখ আবদুল্লাহ তা প্রত্যাখ্যান করেন। ১৭ জুন, ১৯৪৪ সালে শ্রীনগরে মুসলিম কনফারেন্সের বার্ষিক অধিবেশনের বিশেষ অতিথি ছিলেন কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ। এসব ঘটনার পটভূমিতে ১৯ জুলাই, ১৯৪৭ মুসলিম কনফারেন্স শ্রীনগরে তাদের অধিবেশনে পাকিস্তানের সাথে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব পাস করে।

প্রফেসর এম নাজির আহমদ তেশনার ‘তারিখে কাশ্মির (কাশ্মিরের ইতিহাস ৩২৪ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে ২০২১)’ গ্রন্থের তথ্যানুযায়ী, সরদার ইবরাহিম খানের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন চৌধুরী হামিদুল্লাহ খান। অন্য দিকে জম্মু থেকে চৌধুরী গোলাম আব্বাস, ডাক্তার গোলাম আহমদ জাররাহ, মিরপুরের কর্নেল আলি আহমদ শাহ ও চৌধুরী মুহাম্মদ রফিক, পুঞ্ছের হাজি মুহাম্মদ, মোজাফফরাবাদের মুহাম্মদ আলি কানওয়াল, শ্রীনগরের খাজা আহমদুল্লাহ রেজা, রাজৌরির মির্জা ফকির মুহাম্মদ, চৌধুরী নুর হোসাইন, প্রফেসর ইসহাক কুরাইশি, সোপুরের খাজা গোলাম মহিউদ্দিনসহ রাজ্যের প্রতিটি অঞ্চলের মুসলমান প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের সাথে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব অনুমোদনকারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

পাকিস্তান ১৪ আগস্ট, ১৯৪৭ সালে আত্মপ্রকাশ করে। কিন্তু কাশ্মিরি মুসলমানরা ১৪ আগস্টের অনেক আগেই পাকিস্তানি হয়ে গিয়েছিলেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে, ১৯ জুলাইয়ের প্রস্তাব অনুমোদনকারী নেতারা নিজেরাই স্বাধীন কাশ্মিরের সমর্থক হয়ে যান। তবে তারা পাকিস্তানের বিরোধী ছিলেন না। ঐতিহাসিক বাস্তবতা এটাই যে, কাশ্মিরিদের স্বাধীনতা ১৯৩১ সালের ১৪ আগস্ট শুরু হয়েছিল। আজো জম্মু-কাশ্মির রাজ্যের সব অঞ্চলে ১৩ জুলাই কাশ্মিরি শহীদ দিবস পালন করা হয়। এরা সেই সব শহীদ, যারা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর আগে শ্রীনগরে শহীদ হয়েছিলেন। আফসোস, আজ পাকিস্তান সরকারের কিছু মুসলিম লীগ মন্ত্রী দাবি করেন যে, তারা আজাদ কাশ্মিরের অধিবাসীদের পুরোপুরি কাশ্মিরি মনে করেন না। কারণ তাদের সংগ্রাম অধিকৃত কাশ্মিরের মানুষের চেয়ে কম। তাদের ভাষাও ভিন্ন।

১৯ জুলাই, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের সাথে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব অনুমোদনকারীদের দীর্ঘ তালিকায় শ্রীনগর থেকে জম্মু এবং মিরপুর থেকে মোজাফফরাবাদ পর্যন্ত রাজ্যের প্রতিটি অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বের দিকে লক্ষ্য করুন, এতে প্রতিটি ভাষাভাষী মানুষ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ১৩ জুলাই কাশ্মিরি শহীদ দিবস শুধু শ্রীনগরেই নয়, রাওলাকোট ও বাগ থেকে শুরু করে নিলম উপত্যকা ও জম্মুতেও পালন করা হয়।

কাশ্মিরিদের ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ পাকিস্তানের অযোগ্য শাসকগোষ্ঠী যেন ভুলে না যায় যে, ১৯৮৭ সালে অধিকৃত জম্মু-কাশ্মিরের রাজ্য নির্বাচনে কারচুপিই ভারত সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের জন্ম দিয়েছিল। শ্রীনগর থেকে সৈয়দ ইউসুফ শাহ নামে একজন প্রার্থীর সাথে কারচুপি করা হলে, তিনি সশস্ত্র প্রতিরোধকারীদের জন্য সৈয়দ সালাহুদ্দিনরূপে আবির্ভূত হন। ভারত সরকার অধিকৃত জম্মু-কাশ্মিরে যে ভুল করেছিল, সেই একই ভুল যেন আজাদ কাশ্মিরে করা না হয়। শক্তির ব্যবহার কাশ্মিরে আরো বেশি বিদ্রোহের জন্ম দেবে। বিশ্বাস না হলে সৈয়দ সালাহুদ্দিনকে জিজ্ঞাসা করুন। নির্বাচনে কারচুপি আরো বেশি প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। লাখ লাখ কাশ্মিরি শহীদের দোহাই দিয়ে বলছি, আজাদ কাশ্মিরে জোরজুলুম ও কারচুপির পথ বেছে নেবেন না।

লেখক: হামিদ মীর, পাকিস্তানের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলামিস্ট পাকিস্তানের উর্দু দৈনিক জং থেকে ভাষান্তর: ইমতিয়াজ বিন মাহতাব

কাশ্মীরে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং বিদ্রোহী তৎপরতা চলছে
কাশ্মীরে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং বিদ্রোহী তৎপরতা চলছে। ছবি: বিবিসি

১০ বছরের প্রেম, অতঃপর বিয়ে

প্রকাশ ২৩ নভেম্বর ২০২৫ঃ দশ বছর ধরে প্রেম করছেন দুই কোরীয় তারকা শিন মিন–আ ও কিম উ–বিন। প্রণয়ের সম্পর্কটা এবার পরিণয়ে রূপলাভ করছে। ডিসেম্বরে বিয়ে করছেন এই জুটি।

দুজনের এজেন্সি এএম এন্টারটেইনমেন্ট এক বিবৃবিতে বলেছে, ‘দীর্ঘদিনের সম্পর্কটা বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে; এবার শিন ও কিম আজীবনের জন্য সঙ্গী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

এজেন্সিটি জানিয়েছে, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ সিউলে দুই পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হবে।

তবে বিয়েটা কোন ভেন্যুতে হবে—তা খোলাসা করা হয়নি। এজেন্সির ভাষ্য, বিয়ের পরও দুজনই অভিনয়ে মনোনিবেশ করবেন।

এর আগে ফ্যান কমিউনিটিতে একটি হাতে লেখা চিঠি প্রকাশ করেছেন কিম। তিনি লিখেছেন, ‘যাঁরা সব সময় নিঃশর্ত ভালোবাসা ও সমর্থন দিয়েছেন—আমি সবার আগে তাঁদের সঙ্গেই খবরটি শেয়ার করছি।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি বিয়ে করতে যাচ্ছি। যে মানুষটি বহু বছর ধরে আমার পাশে থেকেছে, তার সঙ্গে আমি পরিবার গড়ে তুলতে যাচ্ছি, এবং আমরা একসঙ্গে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’

২০০৮ সালে মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন কিম, ২০১১ সালে অভিনয়ে নাম লেখান। ‘আওয়ার ব্লুজ’, ‘জেনি, মেক আ উইশ’, ‘দ্য হেয়ার্স’সহ বেশ কয়েকটি আলোচিত কে ড্রামায় অভিনয় করেছেন কিম।

এর মধ্যে ‘আওয়ার ব্লুজ’–এ কিমের সহশিল্পী ছিলেন শিন মিন-আ। ১৯৯৮ সালে একটি ফ্যাশন ম্যাগাজিনের দেখা গেছে শিনকে। ‘আওয়ার ব্লুজ’ ছাড়াও ‘হোমটাউন চা-চা-চা’সহ বেশ কয়েকটি হিট কে ড্রামায় অভিনয় করেছেন তিনি।

কোরিয়া হেরাল্ড অবলম্বনে

শিন মিন–আ ও কিম উ–বিন
শিন মিন–আ ও কিম উ–বিন। কোলাজ

তেলাপোকাকে কতটা পাত্তা দিচ্ছেন সাফল্য উদ্‌যাপনে বুঁদ মোদি by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

টানা ৪ হাজার ৩৯৯ দিন ধরে তাবড় কেষ্ট-বিষ্টুরা যা পারেনি, তেলাপোকারা সেই অসাধ্যসাধন করবে, আন্দোলনে আন্দোলনে জেরবার করে তুলবে সরকারকে, এমন অলক্ষুনে চিন্তা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর অন্ধ ভক্তরা মনে স্থান দিতে রাজি নন। জওহরলাল নেহরুকে ‘ছাপিয়ে যাওয়ার’ সাফল্য উদ্‌যাপনে তাঁরা এখন ব্যস্ত। দেশজুড়ে মোদি-বন্দনা চলছে। মন্দিরে মন্দিরে প্রার্থনা চলছে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনায়। গণমাধ্যমগুলো সয়লাব সরকারি বিজ্ঞাপনে।

জওহরলাল নেহরু প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ৬ হাজার ১২৯ দিন। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৬৪ সালের ২৭ মে মৃত্যু পর্যন্ত। টানা ১৬ বছর। মোদি সেখানে ১২ বছর পূর্ণ করলেন। কিন্তু তাতে কী! বিজেপি বলছে, ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত নেহরু ছিলেন অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি তাঁকে টপকেছেন! এটাই অনন্য সাফল্য।

প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও উত্তরোত্তর সাফল্য কামনায় দিল্লির জগন্নাথ মন্দিরে পূজা দিয়েছেন ওডিশার বিজেপি নেতা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তেলাপোকাদের তিরের লক্ষ্য আপাতত তিনিই। তাঁর পদত্যাগ চেয়ে তেলাপোকারা জানিয়েছে, দাবি মানা না হলে আরও বড় আন্দোলন শুরু হবে।

ধর্মেন্দ্রর ঈশ্বরের শরণাগত হওয়ার সেটাও আরেক কারণ। প্রধানমন্ত্রীর জন্য যতটা, তার চেয়েও বেশি নিজের জন্য। ধর্মেন্দ্র জানেন, তেলাপোকাদের দাবি সমর্থন করেছেন বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট নেতারাও। নিট পেপার লিক ও সিবিএসইর দুর্নীতি নিয়ে তাদের আন্দোলন ‘ইন্ডিয়া’ যথার্থ মনে করেছে। খাঁড়াটা ঝুলছে তাঁর ঘাড়ের ওপরেই।

নরেন্দ্র মোদি বিরোধীদের চাপে চটজলদি কোনো সিদ্ধান্ত আজ পর্যন্ত নেননি। বিরোধীরা দাবি জানাচ্ছে বলে কখনো কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলেননি। অশ্বিনী বৈষ্ণব ২০২১ সালের জুলাই মাস থেকে রেলমন্ত্রী। তাঁর আমলে অনেক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে। দায় ঘাড়ে নিয়ে পদত্যাগের দাবি জানানো হয়েছে বারবার। মোদি মানেননি। অশ্বিনী আজও রেলমন্ত্রী। এপস্টিন ফাইল কেলেঙ্কারির আঁচ পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ পুরীর গায়ে লাগতে দেননি। কিন্তু তাই বলে কি ব্যবস্থা নেন না? অবশ্যই নেন। নেন নিজের শর্তে। নিজের সুবিধামতো।

২০২১ সালে মন্ত্রিসভার রদবদলে এক ধাক্কায় বাদ দিয়েছিলেন ১২ জনকে। কোভিড তখন চরমে, অথচ স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধনকে ছেঁটে ফেললেন! টুইটারের বিরুদ্ধে জিহাদে নেমেছিলেন আইনমন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ। তাঁকে ছাঁটাই করলেন। সরালেন শিক্ষানীতির রূপকার শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিওয়াল, পরিবেশমন্ত্রী প্রকাশ জাভরেকর, সারমন্ত্রী সদানন্দ গৌড়, শ্রমমন্ত্রী সন্তোষ গাঙ্গোয়ারকে।

তাঁদের কেউ আর মন্ত্রী হতে পারেননি। কাজেই তেলাপোকারা চাইছে বলেই ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মোদি সরিয়ে দেবেন মনে হয় না। তা ছাড়া ধর্মেন্দ্রর প্রতি তিনি আস্থাশীল। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী দায়িত্ব তাঁকেই দিয়েছিলেন। কাজটা তিনি ভালোভাবেই উতরেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় ও সংসদীয় দলে ভাঙন ধরানোর প্রধান কারিগরও তিনি। ধর্মেন্দ্র হয়তো তাই নিজেকে খুব একটা বিপদগ্রস্ত মনে করছেন না।

তেলাপোকাদের নিয়ে বিজেপির চিন্তাভাবনারও বদল ঘটেছে। একশ্রেণির বেকার যুবকদের উদ্দেশে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর আলটপকা ‘তেলাপোকা ও পরজীবী’ মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক যে আন্দোলন শুরু, যার মধ্য দিয়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) জন্ম। শুরুতে এর পেছনে বিজেপি ‘পাকিস্তান ও মার্কিন ধনকুবের জর্জ সোরোস’-এর হাত দেখতে পেয়েছিল।

বলা হচ্ছিল, তেলাপোকা আন্দোলন ওদেরই চক্রান্ত। উদ্দেশ্য মোদির ভারতকে দুর্বল করা। কয়েক দিনের মধ্যে সিজেপির অনুগামী সংখ্যা বিজেপিকে ছাপিয়ে গেলে সরকার তাদের ‘এক্স’ হ্যান্ডল ব্লক করে দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যখন তেলাপোকাদের নিয়ে তোলপাড়, আমেরিকা থেকে অভিজিৎ দিপকে যখন জানালেন, ময়দানে নেমে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে তিনি ভারতে আসবেন, তখন তাঁকে গ্রেপ্তার করার ভাবনাও সরকারি মহলে মাথাচাড়া দিয়েছিল।

মনে রাখতে হবে, সেই সময় আমেরিকায় অভিজিৎ ও ভারতে তাঁর পরিবারের লোকজনদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। অভিজিৎ ‘এক্স’ হ্যান্ডলে লিখেছিলেন, ‘কে জানে, হয়তো দেশে ফিরলে আমার ঠিকানা হবে তিহার জেল।’ যেদিন রওনা হলেন, সেদিনও লেখেন, ‘ভারতে যাচ্ছি। দেশের সংবিধানের হাতে ভাগ্যকে সঁপে দিয়েছি।’

সুখের কথা, তেমন কিছু ঘটেনি। সমাবেশ রুখতে অতি উৎসাহীরা মামলা করেছিল। দিল্লি হাইকোর্টে আমল পায়নি। রাজধানীর যন্তর মন্তরে সমাবেশ করার অনুমতিও পুলিশ দেয়। সেখানে সিজেপি আলটিমেটাম দিয়েছে, এক সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী ইস্তফা না দিলে ফের আন্দোলন।

অভিজিৎদের ধরপাকড় না করা ও সমাবেশের অনুমতিদানের নেপথ্য কারণ একাধিক। প্রথম কারণ, তেলাপোকা আন্দোলনের আন্তর্জাতিকতা। ভারতের গণতন্ত্র নিয়ে পশ্চিমা দুনিয়ায় অনেক প্রশ্ন আছে। সেসব প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতিকে। অভিজিৎদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিত। সরকারকে সমালোচিত হতে হতো। দ্বিতীয় কারণ, শশী থারুরের মতো সরকারের শুভানুধ্যায়ীদের পরামর্শ, যাঁরা মনে করেন গণতন্ত্রে ক্ষোভ প্রকাশের সুযোগ থাকা দরকার। তৃতীয় কারণ, তড়িঘড়ি ব্যবস্থা না নেওয়ার পরামর্শ, যেহেতু তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে।

মনমোহন সিং সরকারকে ওই কারণে ভুগতে হয়েছিল নির্ভয়া–কাণ্ড ও আন্না হাজারের আন্দোলনের সময়। সরকারও দেখেছে, নিট পেপার লিক ও সিবিএসই রেজাল্ট কেলেঙ্কারি নিয়ে বিরোধীরা জোরালো কোনো আন্দোলনে নামেনি। তা ছাড়া সিজেপি নিয়ে বিরোধীরাও সন্দিহান। কাজেই শ্রেষ্ঠ পন্থা ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’।

সরকার সাফল্যের ঢাক পেটালেও সত্য হলো, বিশ্বের চতুর্থ অর্থনীতি ভারতে বেকারত্বের জ্বালা দিন দিন বাড়ছে। তার মধ্যে ঘটে চলেছে নিটসহ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা। কেন্দ্রীয় ও রাজ্যস্তরে অনাচার বাড়ছে অথচ কেউ দায় নিচ্ছে না। বিরোধীরাও নখদন্তহীন। যে আন্দোলন বিরোধীদের করার কথা, তা করতে সাহসী হলেন কোনো এক অজ্ঞাতকুলশীল অভিজিৎ দিপকে! মুহূর্তের মধ্যে আন্দোলিত হলো যুবসমাজ। যন্তর মন্তরে তেলাপোকা সমাবেশ ও বিক্ষোভ শুধু বিরোধী-ব্যর্থতার উদাহরণ নয়, সেটা ছিল শাসক ও বিরোধীদের প্রতি যুবসমাজের অনাস্থারও প্রকাশ।

সাফল্যে বুঁদ থাকা সরকার স্বীকার না করলেও সত্য হলো ভারতের কর্মসংস্থানের ক্যানভাস বড় বর্ণহীন। বড়ই অনুজ্জ্বল। চাকরি–বাকরির হাল কেমন, আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্টেট অব ওয়ার্কিং ইন্ডিয়া’র সর্বশেষ রিপোর্ট তা দেখিয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী শিক্ষিত ও স্নাতকদের ৪০ শতাংশ এবং ২৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের ২০ শতাংশই বেকার। দেশে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীর সংখ্যা ৩৭ কোটি ৭০ লাখ। তাঁরা কর্মক্ষম জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ। স্কুল-কলেজে লিঙ্গবৈষম্য কমেছে। উচ্চশিক্ষায় ভর্তির হার দ্বিগুণ হয়েছে। শ্রমবাজারে শিক্ষিতদের প্রবেশ বেড়ে চলেছে। ফি বছর গ্র্যাজুয়েট হচ্ছে ৫০ লাখ। অথচ চাকরি হচ্ছে মাত্র ২৮ লাখের!

সিজেপির হাতিয়ার শিক্ষা ও চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো মারাত্মক দুর্নীতি ও ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব। সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তায় শঙ্কিত মধ্যবিত্ত ভারতীয়ের মন তাই এত আলোড়িত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বেরিয়ে সবে ময়দানে নেমেছে তেলাপোকারা। সামাজিক আন্দোলনকে রাজনৈতিক করে তোলা সহজ নয়।

বাংলাদেশ, নেপাল বা শ্রীলঙ্কায় যা সফল, ভারতের মতো বিশাল, বৈচিত্র্যপূর্ণ ও নানা ভাষাভাষীর দেশ, যেখানে পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি দিন দিন মাথাচাড়া দিচ্ছে, সেখানে তা কতটা সম্ভবপর, প্রশ্ন সেটাই।

* সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রথম আলোর নয়াদিল্লি প্রতিনিধি
- মতামত লেখকের নিজস্ব

সিজেপির হাতিয়ার শিক্ষা ও চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো দুর্নীতি ও ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব
সিজেপির হাতিয়ার শিক্ষা ও চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো দুর্নীতি ও ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব। ছবি: এএফপি