Friday, May 6, 2011

এমআই সিমেন্ট সিএসইতে তালিকাভুক্ত

এমআই সিমেন্ট ফ্যাক্টরি লিমিটেডকে আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে এমআই সিমেন্টের মহাব্যবস্থাপক মুক্তার হোসেন তালুকদার জানিয়েছেন।
মুক্তার হোসেন তালুকদার বলেন, সিএসইর সঙ্গে কথা বলে লেনদেন শুরুর তারিখ ঠিক করা হবে।
অবশ্য প্রতিষ্ঠানটিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়নি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। গত ২০ জানুয়ারি কোম্পানিটির শেয়ার অতিমূল্যায়িত উল্লেখ করে সরকার তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া স্থগিত করে। পরে সরকারের নির্দেশে শর্তসাপেক্ষে তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেয় এসইসি।
এদিকে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের কোম্পানির শেয়ারের দাম কোনোভাবেই অতিমূল্যায়িত নয়। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী কোম্পানির শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত ১৬-এর নিচে, সিমেন্ট খাতের খাতের তালিকাভুক্ত যেকোনো কোম্পানির চেয়ে কম।

ডিএসইতে লেনদেন তিন মাসের সর্বনিম্ন

টানা তিন দিনের দরপতনের পর গতকাল বুধবার দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেনের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। তবে বেড়েছে মূল্যসূচক।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল মাত্র ৩৮১ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৭২ কোটি টাকা কম এবং গত তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি স্টক এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেনের পরিমাণ ২০৬ কোটি টাকায় নেমে আসে।
এ ব্যাপারে পুঁজিবাজার বিশ্লেষকেরা বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) গতকাল বাংলাদেশ ফান্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে ফান্ডের ব্যবস্থাপকেরা চাইলে আজ বৃহস্পতিবার থেকে বিনিয়োগে যেতে পারবে।
দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগে আসছে—এ খবর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আশাবাদী করে তোলে। মূলত এর প্রভাবেই দরপতনের ধারার বিপরীতে বাজার বেড়ে যায়।
বিশ্লেষকেরা বলেন, বাজার বাড়তে শুরু করায় বিনিয়োগকারীদের অনেকেই আর শেয়ার হাত ছাড়া করতে চাননি। ফলে গতকাল বাজারে ক্রেতা থাকলেও খুব বেশি শেয়ার হাতবদল হয়নি বলে তাঁরা মনে করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আহমেদ খান এ ব্যাপারে বলেন, লেনদেন কম হওয়ার বিষয়টি বিশ্লেষণে না যাওয়াই ভালো। বেশ কয়েক দিন পর বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে এটাই বাজারের জন্য ইতিবাচক।
ডিএসইতে গতকাল সূচক বাড়ার মধ্য দিয়েই লেনদেন শুরু হয়। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৮০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এর পরের আধা ঘণ্টায় সূচক একই গতিতে কমতে শুরু করে। এ সময় বাংলাদেশ ফান্ডের চূড়ান্ত অনুমোদনের খবর ছড়িয়ে পড়লে সূচক আবার বাড়তে শুরু করে, যা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
ডিএসইতে গতকাল সাধারণ মূল্যসূচক ১০৭ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৯৭৩ পয়েন্ট হয়েছে। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৪৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ২১৬টির, কমেছে ২৬টির ও অপরিবর্তিত ছিল একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ২৫৯ পয়েন্ট বেড়ে ১৬ হাজার ৬৬১ দশমিক ৯৪ পয়েন্টে দাঁড়ায়। গতকাল সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৮৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৬২টির, কমেছে ১৯টির ও অপরিবর্তিত ছিল দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। এদিন ৬০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
বাংলাদেশ ফান্ড: পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা ফেরানোর লক্ষ্যে গঠিত বাংলাদেশ ফান্ডের অনুমোদনের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। নিবন্ধনসংক্রান্ত কাগজপত্র ও ফি জমা দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল এসইসি ফান্ডটির কার্যক্রম শুরুর জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। ফলে ফান্ডটি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা থাকল না।
এ ব্যাপারে ফান্ডটির মূল উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফায়েকুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এসইসির চূড়ান্ত অনুমোদনপত্র হাতে পেয়েছি। সুতরাং ফান্ডটি বাজারে আসার ব্যাপারে আর কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। ফান্ড থেকে কালই (আজ) পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ শুরু করা হবে।’ ফান্ডটি বাজারে স্থিতিশীলতা আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পুঁজিবাজারে লেনদেন বেড়েছে

দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই আজ বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে লেনদেন বেড়েছে। তবে কমেছে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম। এর ফলে সূচকের নিম্নগামী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে।
বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আজ বাংলাদেশ ফান্ডের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর সূচক বেশ বেড়ে যায়। তবে একপর্যায়ে শেয়ার বিক্রির চাপ বেশি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ধরে রাখতে পারে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ। তবে সূচক নিম্নগামী হলেও লেনদেন বাড়ায় বিষয়টি স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বাজার-সংশ্লিষ্টরা।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে আজ ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে সূচক ৯০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে যায়। এর পর সূচক নামতে শুরু করে। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর সাধারণ সূচক ৭৩.৬৯ পয়েন্ট কমে ৫৮৯৯.৪০ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ডিএসইতে হাতবদল হওয়া ২৪৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ২৫টির, কমেছে ২১৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৫৩১ কোটি টাকার লেনদের হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ১৫০ কোটি টাকা বেশি। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয় ৩৮১ কোটি টাকা।
ডিএসইতে আজ লেনদেন শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে তিতাস গ্যাস, বেক্সিমকো, ইউসিবিএল, বিএসআরএম স্টিল, বেক্সটেক্স, আর এন স্পিনিং, এনবিএল, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড, আফতাব অটো ও ইউনাইটেড এয়ার।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ২১৬.৭৫ পয়েন্ট কমে ১৬৪৪৫.২০ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসইতে আজ লেনদেন হওয়া ১৯১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ২৯টির, কমেছে ১৫৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৭৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ১৪ কোটি টাকা বেশি।

মানবতাবিরোধী অপরাধ-দ্রুত বিচার-প্রক্রিয়া শেষ হোক

একাত্তরে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার-প্রক্রিয়া সম্পর্কে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিফেন জে র্যাপ বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক, তদন্ত সংস্থা, আইনজীবী প্যানেলের সদস্যরা যেভাবে কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন, তা বেশ প্রশংসনীয়।’ তিন দিনের সফর শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাঁর এ মন্তব্য দেশবাসীকে আশান্বিত করেছে। তিনি আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। প্রথমত, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষ ও বিপক্ষের সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ন্যায়বিচারের স্বার্থেই এটা করা দরকার। যেকোনো সাক্ষী উপযুক্ত নিরাপত্তার আবেদন করতে পারেন। আদালত সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন। সুতরাং, সাক্ষীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বের অবকাশ নেই। বিশেষত, ১৯৭২-৭৫ কালপর্বে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের যে বিচার চলেছিল, সে সময় কোনো সাক্ষীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার উল্লেখযোগ্য উদাহরণও নেই। আজ ৪০ বছর পর এ প্রশ্নে নতুনভাবে উদ্বেগ সৃষ্টির কারণ নেই।
দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর কিছু বিধি সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা। র্যাপ মনে করেন, এ সংশোধন ট্রাইব্যুনালের বিচারকেরাই করতে পারেন, এ জন্য আইনটি পার্লামেন্টে সংশোধনের প্রয়োজন নেই। প্রকৃতপক্ষে ১৯৭৩ সালের ট্রাইব্যুনাল আইনেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করার কথা রয়েছে। তাই এ ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সক্ষম। স্টিফেন র্যাপ মনে করেন, যে আইনের আওতায় বিচার-প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাতে কিছু সংশোধনী আনার মাধ্যমে অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বিচার সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ অন্য দেশের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। বাংলাদেশ বারবার বলে আসছে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে এই শর্তগুলো পূরণে কোনো ত্রুটি থাকবে না। আন্তর্জাতিক পরিসরে একটি দৃষ্টান্তস্থানীয় বিচার সম্পন্ন করার আন্তরিক প্রচেষ্টা নিশ্চয়ই সফল হবে।
প্রথম আলোর কার্যালয়ে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে র্যাপের মতবিনিময় সভায় আলোচকেরা আন্তর্জাতিক সমর্থনের কথা বলেছেন। কিন্তু সহায়তা যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের নামান্তর না হয়ে দাঁড়ায়। আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিনিধিরা এ বিচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে সাদরে আমন্ত্রিত। তাঁরা আসবেন, দেখবেন, কোনো মতামত বা সুপারিশ থাকলে তা প্রকাশ করবেন। বাংলাদেশ নিশ্চয়ই সেসব আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পরামর্শগুলো গ্রহণ করবে। এ ব্যাপারে র্যাপের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, ‘সবার সঙ্গে কথা বলে আমি সন্তুষ্ট। আমরা আশাবাদী, বাংলাদেশ এই বিচার করে সারা বিশ্বে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে।’
মতবিনিময় সভায় সমাপনী বক্তব্যে র্যাপ বলেছেন, ১৯৭১ সালে মানবতার বিরুদ্ধে যে অপরাধ হয়েছে, তাতে সন্দেহ নেই। এই মন্তব্য অত্যন্ত মূল্যবান। ন্যায়বিচারের স্বার্থে এই উপলব্ধি সর্বাগ্রে থাকা দরকার। অপরাধ যে হয়েছে তাতে যখন আন্তর্জাতিক মহলের সন্দেহ নেই, তাহলে সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করা ও আইন অনুযায়ী তাদের শাস্তি দেওয়া নিশ্চয়ই সম্ভব। যত দ্রুত এ কাজটি করা যাবে, ততই মঙ্গল। ইতিহাসের জঘন্যতম অপরাধের যথাযথ বিচার ও প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি সবারই কাম্য।

সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল কনজারভেটিভ পার্টি

কানাডার ৪১তম জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পারের কনজারভেটিভ পার্টি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।
নির্বাচনে ৩০৮টি আসনের মধ্যে কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ১৬৭টি আসন। গত নির্বাচনে ১৭টি আসন পাওয়া নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) ১০২টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা লাভ করেছে। লিবারেল পার্টি ৩৪টি আসন পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে নেমে এসেছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৫৫টি আসন।
লিবারেল পার্টির নেতা মাইকেল ইগনেটিয়েভ টরন্টোতে তাঁর নিজের আসনে হেরে গিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এনডিপির প্রধান জ্যাক লেটন তাঁর দলের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার প্রতিশ্রুত জনস্বাস্থ্যসেবা, অবসরকালীন নিরাপত্তা ও পারিবারিক সুবিধার প্রতি আস্থা রেখে জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে।’
মাইকেল ইগনেটিয়েভ পরাজয় মেনে নিয়ে বলেন, ‘গণতন্ত্র আমাদের কঠিন শিক্ষা দিল এবং এটা আমাদের মনে রাখতে হবে।’
অন্টারিও এবং টরন্টোকে বলা হয় লিবারেলদের ঘাঁটি। তবে এখানে লিবারেল পার্টির কয়েকজন বাঘা বাঘা নেতা কনজারভেটিভ এবং নিউ ডেমোক্র্যাটদের কাছে হেরে গেছেন।
মোট ভোটের ৩৮ ভাগ পেয়েছে কনজারভেটিভ পার্টি, ৩০ ভাগ এনডিপি এবং ২৯ ভাগ লিবারেল পার্টি।
কনজারভেটিভ পার্টির সাফল্যের কারণ ব্যাখ্যা করে বিশ্লেষকেরা বলেন, কানাডার অর্থনীতির শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখার জন্য স্টিফেন হার্পারের ভূমিকাকে জনগণ ইতিবাচকভাবে নিয়েছে।

অক্টোবরে বিশ্বের জনসংখ্যা ৭০০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে

আগামী ৩১ অক্টোবরে বিশ্বের জনসংখ্যা ৭০০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। চলতি শতক শেষে জনসংখ্যা এক হাজার কোটি বা তার বেশি হবে। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি শতকের মাঝামাঝি সময় বিশ্বের জনসংখ্যা ৯৩১ কোটি হবে। দুই বছর আগে জাতিসংঘের প্রকাশিত অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চলতি শতকের মাঝামাঝি সময় বিশ্বের জনসংখ্যা ৯১৫ কোটি হবে।
এদিকে বিশ্বের জনসংখ্যা বেড়ে গেলেও চীন এবং রাশিয়ার জনসংখ্যা কমে যাবে। জাতিসংঘের কর্মকর্তা গেরহার্ড হেইলগ সংবাদ সম্মেলনে জানান, চীনের বর্তমান জনসংখ্যা ১৩৪ কোটি। ২১০০ সালে জনসংখ্যা কমে ১০০ কোটিতে নেমে যাবে।

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী নিহত

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী দর্জি খান্ডু হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কথা নিশ্চিত করেছে।
তাওয়াং জেলার কাছে কাইয়েলা ও লোবাথাং এলাকার মাঝামাঝি চার হাজার ৯০০ মিটার উঁচুতে চারদিন আগে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। ব্যাপক তল্লাশির পর গতকালহেলিকপ্টারের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর মৃতদেহ পাওয়া গেছে। এছাড়া আরও চারটি পুড়ে যাওয়া মৃতদেহ পাওয়া গেছে।
গত শনিবার সকালে দর্জি খান্ডুকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই হেলিকপ্টারটির সঙ্গে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হেলিকপ্টারটিতে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও তাঁর দেহরক্ষী, দুই পাইলট এবং অপর একজন যাত্রী ছিলেন।
দর্জি খান্ডু ভারতের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস দলের নেতা। ২০০৭ সালে তিনি অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ওবামার জনপ্রিয়তা বেড়ে গেছে

মার্কিন সেনাদের অভিযানে ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর ওই দেশের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জনপ্রিয়তা বেড়ে গেছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপের ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়। গতকাল বুধবার ইউএসএ টুডে, ওয়াশিংটন পোস্ট, পিউ রিসার্চ ও গ্যালাপ পোলের জরিপের ফল প্রকাশিত হয়। এতে ওবামার জনপ্রিয়তা নয় শতাংশ বেড়েছে।
জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ৯৩ শতাংশ মার্কিন লাদেন হত্যার অভিযানকে সমর্থন করেছেন। ৭৯ শতাংশের মত, এই হত্যার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়, লাদেনকে খুঁজে বের করা ও হত্যার ব্যাপারে ওবামা, বুশ, সিআইএ ও মার্কিন সেনাবাহিনীর মধ্যে কাকে কতটা কৃতিত্ব দিতে চান তাঁরা। জবাবে ৮৯ শতাংশ লোক সেনাদের এই কৃতিত্ব দেন। এর পরই চলে আসে সিআইএর নাম।
জরিপ চালানো প্রতিষ্ঠানগুলোর বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ওবামার জনপ্রিয়তা নয় শতাংশ বেড়ে ৫৬ শতাংশ হয়েছে।

ধারণার চেয়ে দ্রুত বাড়ছে সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা

আগে যা ধারণা করা হয়েছিল, এর চেয়ে দ্রুত বাড়ছে বিশ্বের সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা। উত্তর মেরুর জলবায়ু পরিবর্তন ও গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলতে থাকা এর আংশিক কারণ। এতে ২১০০ সাল নাগাদ সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা পাঁচ ফুট ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।
গত মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। অসলোভিত্তিক আর্কটিক মনিটরিং অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রাম প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে আর্কটিক কাউন্সিলভুক্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, কানাডা, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, নরওয়ে ও আসইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ১২ মে গ্রিনল্যান্ডে বৈঠকে বসবেন।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ থেকে শুরু করে ফ্লোরিডা পর্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, পানি বাড়তে থাকায় ২১০০ সালের মধ্যে সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা অন্তত ৫ দশমিক ২ ফুট (১ দশমিক ৬ মিটার) বৃদ্ধি পাবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ছয় বছর (২০১০ সাল পর্যন্ত) ধরে উত্তর মেরু অঞ্চল ছিল সবচেয়ে উষ্ণ। এ সময় ওই অঞ্চলের তাপমাত্রা ২০০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল।
২০০৭ সালে জাতিসংঘের ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জের এক সমীক্ষায় বলা হয়েছিল, ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১৮ থেকে ৫৯ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

দুঃখ প্রকাশ করবে না যুক্তরাষ্ট্র

আকাশসীমা লঙ্ঘন করে পাকিস্তানে গিয়ে আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেনের বিরুদ্ধে পরিচালিত একতরফা সামরিক অভিযানের জন্য কোনো ধরনের দুঃখ প্রকাশ করবে না যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউস গতকাল বুধবার এ কথা জানিয়েছে।
পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বিন লাদেনকে ধরতে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে অভিযান চালানো উচিত হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জে কার্নি বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করব না।’
কার্নি আরও বলেন, বিন লাদেন ছিলেন তাঁর দেশের প্রধান শত্রু এবং তিনি অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছেন। তাই কোনো দুঃখ প্রকাশ নয়।
পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে বিন লাদেনকে হত্যায় মার্কিন বাহিনীর কমান্ডো অভিযান সম্পর্কে পাকিস্তান গত মঙ্গলবার বলেছে, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত এ অভিযান ছিল সম্পূর্ণ একতরফা।
কার্নি দাবি করেন, ‘এটা ছিল পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের মুসলমান এবং মার্কিন মুসলমানদের প্রতি আমাদের সহযোগিতা।’ তিনি আরও বলেন, বিন লাদেন সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ওবামার মনোভাবের কোনো পরিবর্তন হয়নি। কারণ, ওসামা বিন লাদেন ছিলেন এমন একজন খুনি, যিনি বহু মুসলমানসহ অসংখ্য মানুষের হত্যাকারী।

এখনো বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে বিন লাদেন

অ্যাবোটাবাদের ওই বাড়িতে ওসামা বিন লাদেন লুকিয়ে থাকতে পারেন এমন সন্দেহের কথা ২০০৯ সালে সিআইএকে জানিয়েছিল আইএসআই। পশ্চিমা অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাকেও এই সন্দেহের কথা জানানো হয়’

আফগানিস্তান থেকে ব্রিটিশ সেনা দ্রুত প্রত্যাহার হতে পারে

আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ায় আফগানিস্তান থেকে ব্রিটিশ সেনা দ্রুত প্রত্যাহার করা হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। ওসামার মৃত্যুকে তিনি আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান ‘পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সহায়ক’ বলে উল্লেখ করেন। তবে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দ্রুত সেনা প্রত্যাহার করা হলে আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে অনেক বেশি শক্তি প্রয়োগ করতে হবে।
বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন বলেন, ‘আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি পরিবর্তন করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। তবে ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যু আমাদের একটি সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা তালেবান গোষ্ঠীকে বলতে চাই, এখন আপনাদের আল-কায়েদা থেকে পৃথক হওয়ার সময় এসেছে। আপনারা অস্ত্র সমর্পণ করুন। আফগানিস্তানের সংবিধান মেনে নিন।’
এর আগে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন ইঙ্গিত দেন, চলতি বছরে কিছুসংখ্যক ব্রিটিশ সেনাসদস্য আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার করা হতে পারে। তবে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যার ডেভিড রিচার্ডস ২০১২ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে সেনা অবস্থানের পক্ষে কথা বলেন। প্রসঙ্গত, আফগানি-স্তানের হেলমান্দ প্রদেশে ১০ হাজার ব্রিটিশ সেনা রয়েছে।
ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্কতা উচ্চারণ করে বলেন, আফগানিস্তান থেকে দ্রুত ব্রিটিশ সেনা প্রত্যাহার করা হলে এ জন্য বড় ধরনের খেসারত দিতে হতে পারে। তাই দ্রুত সেনা প্রত্যাহার করা হলেও তা শুরু হতে হবে আগামী বছরের বসন্ত থেকে।

ঘেরাও করা হলো অ্যাবোটাবাদের সেই বাড়িটি

আল-কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানের যে বাড়িতে আত্মগোপন করেছিলেন, সে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর হাতে নিহত হওয়ার আগে জঙ্গি নেতার বসবাসকারী বাড়িটি দেখতে লোকজন ভিড় করতে শুরু করলে গতকাল বুধবার এলাকাটি ঘেরাও করে রাখা হয়। স্থানীয় পুলিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র এ কথা জানায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে অ্যাবোটাবাদের বিলাল এলাকার বাড়িটিতে ঢোকার রাস্তাগুলোর মাথায় তিন শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া বাড়ির সামনে ও আশপাশের এলাকায় কয়েক ডজন সেনাও পাহারা দিচ্ছেন।
বাড়িঘরে ফেরার পথে স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিচয়পত্র দেখাসহ তাদের দেহ তল্লাশি করা হচ্ছে। এএফপির একজন সাংবাদিক জানিয়েছেন, গত সোমবার ভোর থেকে স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিককে তাঁদের কাজেও যেতে দেওয়া হচ্ছে না।
গত সোমবার ভোররাতে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে আল-কায়দা নেতা নিহত হওয়ার পর থেকে বিলাল এলাকায় তাঁর বাসস্থানটি ঘিরে বিশ্ব প্রচারমাধ্যমের সংবাদকর্মী ও উৎসুক স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় জমে ওঠে। গত মঙ্গলবার বাড়িটির সামনে কিছু পাকিস্তানি যুবক বিক্ষোভও করে। তারা ‘ওসামা বেঁচে আছেন’ বলে স্লোগান দেয়।

লাদেনের শেষ ইচ্ছে!

সারা বিশ্বে আল-কায়েদাপ্রধান ওসামা বিন লাদেনের অসংখ্য অনুসারী রয়েছে, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু খোদ লাদেনের কিনা শেষ ইচ্ছে ছিল, তাঁর সন্তানেরা যেন তাঁর মতোই জিহাদি পথে পা না বাড়ায়। তাঁর আদর্শ অনুসরণ না করে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত আল-কায়েদার সদস্য না হয়। আর তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রীরা যেন অন্য কোনো পুরুষকে বিয়ে না করেন। লাদেনের ইচ্ছাপত্র বা উইলের বরাত দিয়ে কুয়েতভিত্তিক আল-অ্যানবা পত্রিকার এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়।
পত্রিকাটির খবরে বলা হয়, লাদেন ২০০১ সালের ১৪ ডিসেম্বর কম্পিউটারে চার পৃষ্ঠার একটি উইল লেখেন। পরে ওই উইলে স্বাক্ষরও করেন তিনি। কারণ, লাদেন আশঙ্কা করতেন তাঁকে হত্যা করা হতে পারে। নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলার পর লাদেনকে ওই হামলার পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযোগ করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে তাঁকে জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় পাকড়াও অভিযান শুরু করা হয়।
আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা বিন লাদেনের স্ত্রী ও সন্তানদের সঠিক সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে। এ ক্ষেত্রে নিশ্চিত করে কিছু বলা প্রায় অসম্ভব। তবে বিভিন্ন খবরে বলা হয়, লাদেন চার থেকে পাঁচটি বিয়ে করেছিলেন। তাঁর সন্তানের সংখ্যা ১২ থেকে ২৬ জন।
জিহাদি কর্মকাণ্ড চালাতে গিয়ে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারায় উইলে সন্তানদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন লাদেন।

আজ গ্রাউন্ড জিরোতে যাচ্ছেন ওবামা, বুশ যাবেন না

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আজ বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরো পরিদর্শন করবেন। মার্কিন বাহিনীর অভিযানে ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো গ্রাউন্ড জিরোতে যাচ্ছেন তিনি। ওবামা সেখানে ওয়ান-ইলেভেনের ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন।
এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ওবামার আমন্ত্রণ সত্ত্বেও বুশ গ্রাউন্ড জিরোতে যাচ্ছেন না। বুশের একজন মুখপাত্র এ কথা জানান।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার জন্য বিন লাদেনের সংগঠন আল-কায়েদাকে দায়ী করা হয়। ওই হামলায় অন্তত তিন হাজার লোক নিহত হয়। পরে হামলাস্থলের নামকরণ করা হয় গ্রাউন্ড জিরো।
বুশের মুখপাত্র ডেভিড সারজার গত মঙ্গলবার জানান, জর্জ বুশ প্রেসিডেন্ট ওবামার আমন্ত্রণকে স্বাগত জানিয়েছেন। কিন্তু ক্ষমতা ছাড়ার পর কিছুটা আড়ালে থাকার সিদ্ধান্তের কারণেই গ্রাউন্ড জিরোতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ওই মুখপাত্র আরও জানান, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ জয়ের সাফল্য জর্জ বুশ যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের সঙ্গে উপভোগ করছেন।
জর্জ বুশকে গ্রাউন্ড জিরো আমন্ত্রণ জানানো বা আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান নিয়ে হোয়াইট হাউস থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
টুইন টাওয়ারে হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জর্জ বুশ। হামলার পর বিন লাদেন ও তাঁর সংগঠন আল-কায়েদাকে নিশ্চিহ্ন করার ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধ শুরু করেন। গত ১ মে পাকিস্তানে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে ওসামা বিন লাদেন নিহত হন।

অবশেষে দাড়ি কামানোর সিদ্ধান্ত

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পেন্টাগন ও টুইন টাওয়ারে আল-কায়েদার সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর গ্যারি ওয়েডল নামের যুক্তরাষ্ট্রের এক স্কুলশিক্ষক পণ করেছিলেন যে ওসামা বিন লাদেন নিহত বা আটক না হওয়া পর্যন্ত তিনি তাঁর দাড়ি কামাবেন না। স্কুলে একটি বিজ্ঞানের ক্লাসে তিনি এই ঘোষণা দেন।
গত ১০ বছরে তাঁর দাড়ি হয় প্রায় ১৫ ইঞ্চি লম্বা। তিনি যখন বাস্কেট বল খেলতেন, তখন লম্বা দাড়ির কারণে বেশ বেকায়াদায় পড়তেন। তাঁর ছাত্রছাত্রীরা প্রায়ই এ নিয়ে হাসাহাসি করত এবং তাঁর কাছে দাড়ি না কামানোর কারণ জানতে চাইত। দাড়ি রাখার কারণে তাঁকে কিছুটা ওসামার মতোও দেখাত।
গত রোববার মার্কিন অভিযানে ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর অবশেষে গ্যারি ওয়েডল তাঁর দাড়ি কামিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন।
ওয়েডল জানান, ‘আমি যেকোনো ধরনের মৃত্যু এবং ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে খুবই ব্যথিত হই। ১১ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনা আমি ভুলতে চাইনি, ভুলতেও পারিনি।’
ওয়েডল যে বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন, তার নাম দি ইফ্রাটা মিডল স্কুল। এটি ওয়াশিংটনের ডগলাস কাউন্টির ওয়েনাটচি শহরে অবস্থিত। গত সোমবার ওই বিদ্যালয় এক বিবৃতিতে ওয়েডলকে তাঁর প্রতিশ্রুতি পালনের জন্য স্বাগত জানিয়েছে। বিবৃতিতে ওয়েডলকে উদ্দেশ করে বলা হয়, ‘১০ বছর ধরে রক্ষা করা আপনার দৃঢ় প্রত্যয় থেকে বিদ্যালয়ের দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী শিক্ষা নিতে পারবে।

লাদেনকে গ্রেপ্তার করতে না পারার ব্যর্থতা পাকিস্তানের একার নয়: গিলানি

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি বলেছেন, নিরাপত্তা রক্ষা এবং সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই করা কেবল একটি দেশের একার কাজ নয়, এ ব্যাপারে গোটা বিশ্বের সমর্থন প্রয়োজন। তিনি বলেন, আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে এত দিন গ্রেপ্তার করতে না পারার ব্যর্থতার দায় কেবল পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার একার নয়, বিশ্বের সব গোয়েন্দা সংস্থাই এ ব্যর্থতার জন্য দায়ী। গতকাল বুধবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সাংবাদিকদের গিলানি এসব কথা বলেন। এদিকে লাদেন হত্যায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানকে ‘অনুমোদনহীন একতরফা কাজ’ বলে সমালোচনা করেছে পাকিস্তান সরকার।
একই দিন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব সালমান বশির দাবি করেন, লাদেন হত্যার অভিযানে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এ অভিযানের ব্যাপারে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর প্রধান লিওন প্যানেট্টার একটি মন্তব্যকে ‘উদ্বেগজনক’ অভিহিত করে তিনি বলেন, যে বাড়িতে লাদেন নিহত হয়েছেন, ওই বাড়ির ব্যাপারে সন্দেহের কথা সিআইএকে পাকিস্তান ২০০৯ সালেই জানিয়েছিল।
প্যারিসে সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রী গিলানি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছি এবং এর জন্য চড়া মাশুলও গুনতে হচ্ছে। আমরা শুধু পাকিস্তানের জন্য লড়ছি না; বিশ্বের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির জন্য লড়ছি।’
লাদেন বছরের পর বছর কীভাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন—এ নিয়ে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সন্দেহ, পলাতক জীবনে লাদেন বেশির ভাগ সময় পাকিস্তানেই ছিলেন। এদিকে ইঙ্গিত করে গিলানি এসব কথা বলেন।
পশ্চিমা প্রভাবশালী দেশগুলোর উদ্দেশে গিলানি বলেন, ‘পাকিস্তানের ব্যাপারে নেতিবাচক বার্তা পাঠানোর বদলে ইতিবাচক বার্তা পাঠান।’
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লাদেনকে এত দিন গ্রেপ্তার করতে না পারা অবশ্যই ব্যর্থতা। তবে এই ব্যর্থতার দায় কেবল পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের একার নয়, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারাও এ জন্য দায়ী।’
গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়, লাদেনকে হত্যার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র বিনা অনুমতিতে যে একতরফা অভিযান চালিয়েছে, তা আইনসংগত বলে মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের অভিযান বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
গতকাল বিবিসি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব সালমান বশির বলেন, লাদেনের ব্যাপারে পাকিস্তান বরাবরই সিআইএকে সহযোগিতা করে এসেছে।
লাদেন নিহত হওয়ার পর সিআইএর প্রধান লিওন প্যানেট্টা বলেন, ভণ্ডুল হওয়ার আশঙ্কায় লাদেনের বাড়িতে চালানো অভিযান সম্পর্কে পাকিস্তানের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তাঁরা কিছু জানাননি। এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে সালমান বশির বলেন, এর আগে পাকিস্তানের বিভিন্ন নগর ও শহর থেকে আল-কায়েদার যেসব নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার সবই করেছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। তিনি বলেন, অ্যাবোটাবাদের ওই বাড়ির ব্যাপারে সন্দেহের কথা ২০০৯ সালে সিআইএকে জানিয়েছিল আইএসআই। পশ্চিমা অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাকেও এই সন্দেহের কথা জানানো হয়।

মুম্বাই ও চেন্নাইয়ের জয়

পুনেকে ২১ রানে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে চলে এল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। নবম ম্যাচে সপ্তম জয় পাওয়া মুম্বাই কাল নিজেদের মাঠে প্রথম ব্যাট করে তোলে ৭ উইকেটে ১৬০ রান। শেষ ৯ ওভারে ৯১ রান তোলা মুম্বাইয়ের ইনিংসে ১৬ বলে সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন টি সুমন। জবাবে ৭ উইকেটে ১৩৯ রান করে ৯ ম্যাচের ৭টিতেই হারা পুনে। মনীষ পান্ডে করেন ৫৯ রান। ৩ উইকেট নিয়েছেন মালিঙ্গা। ৪ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নেওয়া পুনের রাহুল শর্মা হয়েছেন ম্যাচসেরা।
দিনের প্রথম খেলায় রাজস্থান রয়্যালসকে ৮ উইকেটে হারিয়ে টানা চতুর্থ জয় পেয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংস। নয় ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে তৃতীয় স্থানে। রায়না ৫১ বলে ৬১ ও ৫৫ বলে অপরাজিত ৭৯ রান করেন মাইক হাসি। দ্বিতীয় উইকেটে হাসি ও রায়না গড়েন ১৩৭ রানের জুটি।এর আগে রাজস্থানকে ৬ উইকেটে ১৪৭ রানের পুঁজি জোগায় দ্রাবিড়ের ৫১ বলে ৬৬ রান। মাইক হাসি হয়েছেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ।

রাগবির ভিলিওন ক্রিকেটার

বার্নি মোহাম্মদ দলের যাঁদের মধ্যে সম্ভাবনার আলো দেখতে পাচ্ছেন, সেখানে এক নম্বরে আছেন হার্ডাস ভিলিওন। যেমন তাঁর বলের গতি, তেমন খেলার প্রতি একাগ্রতা। দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি দলের কোচ প্রত্যয়ন করলেন, ‘জাতীয় দলে যাওয়ার আগে উদীয়মান দল এবং “এ” দলে ভালো খেলতে হবে। আমার বিশ্বাস, সবগুলো ধাপই ও পেরিয়ে যাবে দ্রুত। হার্ডাসকে (ভিলিওন) জোর করেও বিশ্রাম দেওয়া যায় না।’
যদি কখনো বড় তারকা হন, হার্ডাস ভিলিওন হয়ে উঠতে পারেন রূপকথার চরিত্র। হওয়ার কথা ছিল রাগবি খেলোয়াড়, হলেন কিনা ক্রিকেটার! দিনে দিনে যত ভালো ক্রিকেটার হবেন ততই বিস্ময়টা বাড়বে। ভিলিওন রাগবি খেললে কী জিনিসটাই না হারাত ক্রিকেট!
প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩৩ ম্যাচ খেলে ১২৪ উইকেট। সেরা বোলিং এক ইনিংসে ১০৫ রান দিয়ে ৮ উইকেট। ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন দুবার। দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি দলের হয়ে বাংলাদেশ সফরে এসেও ২২ বছর বয়সী ভিলিওন নিজেকে চেনাচ্ছেন। দুটি চারদিনের ম্যাচ ও তিনটি একদিনের ম্যাচ মিলে নিয়েছেন ২৩ উইকেট। টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দুটি তো এখনো বাকি।
বাবা ভালো রাগবি খেলতেন। ভাই খেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেশাদার রাগবি লিগের দল লায়ন্সে। আরেক ভাই খেলেন হকি। ছোটবেলায় ভিলিওনও রাগবিতেই বেশি ভালো ছিলেন। এই যখন অবস্থা, ক্যারিয়ারের পথরেখা ঠিক করতে শুরুতেই পড়ে গেলেন সমস্যায়। ‘স্কুলে পড়ার সময়ই কঠিন সিদ্ধান্তটা নিতে হয়েছে—আমি রাগবি খেলব, না ক্রিকেট? পরিবারের সবাই এটা নিয়ে আলোচনায় বসল, আমার আসলে কী খেলা উচিত’—কাল টিম হোটেলে বসে কৈশোরে ফিরে যাচ্ছিলেন ভিলিওন। রাগবিতে ইনজুরির আশঙ্কা বেশি। আর ক্রিকেটার হলে ক্যারিয়ার লম্বা করা যায়, পারিবারিক বৈঠকে এসব যুক্তিতর্কের পর সিদ্ধান্ত হলো ভিলিওন ক্রিকেটই খেলবে। সময়ের পরিক্রমায় ভিলিওনের এখন মনে হচ্ছে, সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল, ‘মনে হচ্ছে, সঠিক সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে। সামনে অনেক পথ, তবে এই পর্যন্ত আসতে পেরেও আমি সন্তুষ্ট।’
টেনিস বল কিনে আনতেন বাবা। তাতে টেপ লাগিয়ে ক্রিকেটে হাতেখড়ি বাড়ির আঙিনায়। তবে পুরোদস্তুর ক্রিকেটার হয়ে ওঠার পেছনে কিছু মানুষের কাছে বিশেষ কৃতজ্ঞ ভিলিওন, ‘সামনে এগোনোর জন্য সঠিক লোক পেয়েছিলাম আমি। ফ্যানি ডি ভিলিয়ার্স বোলিংয়ের টেকনিক থেকে শুরু করে ক্রিকেটীয় সবকিছুতেই আমাকে সাহায্য করেছেন। এরপর রিচার্ড পাইবাসের সান্নিধ্যেও অনেক কিছু শিখেছি।’
চলতি একাডেমি সিরিজে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ভয় ধরানো নাম হার্ডাস ভিলিওন। জিপি-বিসিবি একাডেমি দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনের অনুমান, বলের গতি ঘণ্টায় ১৪০-এর কম না। কিন্তু ক্রিকইনফোর প্রোফাইলে যে বলা আছে, তিনি ডানহাতি মিডিয়াম ফাস্ট বোলার! প্রসঙ্গটা তুলতেই মৃদু হেসে প্রতিবাদ জানালেন ভিলিওন, ‘প্রোফাইলে ভুল আছে। ১৪০-১৪৫ কিমি গতিতে যেহেতু বল করি, নিজেকে ফাস্ট বোলারই ভাবি। অন্যরাও বলে মাঠে নাকি আমি খুবই আক্রমণাত্মক। তবে মাঠের বাইরে আমি নিপাট ভদ্রলোক।’
পুমালাঙ্গার উইটব্যাঙ্কে জন্ম হলেও দুই বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে চলে আসেন জোহানেসবার্গে। এই শহরেরই আলবাটসনে বেড়ে ওঠা ভিলিওনের। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেটের জন্য তৈরি হতে স্কুলে পড়ার শেষ বছরে চলে যান জোহানেসবার্গের প্রতিবেশী শহর প্রিটোরিয়ায়, ফ্যানি ডি ভিলিয়ার্সের কাছে। ঠিক যে উদ্দেশ্য নিয়ে প্রিটোরিয়ায় আসা, সেটা পূরণ হয়নি। তবে ভিলিওন ক্রিকেটার হওয়ার দরজাটা খুঁজে পান এখানেই, ‘মূল উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার স্কুল ক্রিকেটে খেলা। সেটা পারিনি এবং তাতে কিছুটা হতাশও হয়ে পড়ি। তবে সবকিছুর পেছনেই বোধহয় কোনো না-কোনো কারণ থাকে। আমি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে সুযোগ পেলাম এবং সেখান থেকেই একাডেমি দলে এলাম।’ সিঁড়িটা যখন পায়ের তলায়, ছাদে ওঠার স্বপ্ন দেখাই যায়। ভিলিওনের দৃষ্টি এখন তাই উদীয়মান বা ‘এ’ দল ছাপিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কিংবা আইপিএলের মতো অ্যাকুয়ারিয়াম ক্রিকেট, অলরাউন্ডারদের জয়জয়কার সবখানেই। ভিলিওনও শুনতে পাচ্ছেন এই জয়ধ্বনি, ‘আমি এমন একজন ক্রিকেটার হতে চাই, যে বোলিংয়ের পাশাপাশি ভালো ব্যাটিংও করতে পারে। তাতে দক্ষিণ আফ্রিকা দলই বলুন অথবা আইপিএল—সবখানেই সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।’
একসময় ম্যালকম মার্শালের বোলিং ভালো লাগলেও আদর্শ মানেন অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফকে। কিছুটা বোলিং অ্যাকশনে মিল থাকার কারণে, বাকিটা হয়তো ফ্লিনটফ অলরাউন্ডার বলেই।

দল ছোট করবে এসি মিলান

অপ্রয়োজনীয় খেলোয়াড় দিয়ে দল ভারী করার কোনো মানেই হয় না। এটা বরং সাফল্যের পথে অন্তরায়! সামনের গ্রীষ্মেই তাই দলের ওপর কাঁচি চালাবে এসি মিলান। মানে দলের গুরুত্বহীন খেলোয়াড়দের ছেঁটে ফেলে পরিধি ছোট করবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনির ক্লাব। দল ছোট করে মিলান মনোযোগ দিতে চায় ইউরোপিয়ান ফুটবল অর্থাৎ চ্যাম্পিয়নস লিগের দিকে।
‘চোটগ্রস্ত খেলোয়াড়সহ এই বছর আমাদের দলটি ৩১ জনের। এটাকে ২৫-২৫-এ নামিয়ে আনা দরকার’—বলেছেন মিলানের সহসভাপতি আদ্রিয়ানো গালিয়ানি। বেরলুসকোনির দল সর্বশেষ সিরি ‘আ’ জিতেছিল ২০০৩-০৪ মৌসুমে। সাত বছর পর এবারের স্কুডেট্টো প্রায় তাদের হয়েই গেছে। ১৮তম লিগ শিরোপা থেকে মাত্রই ১ পয়েন্ট দূরে তারা। অপেক্ষার অবসান ঘটাতে বাকি তিন ম্যাচে একটি ড্র-ই যথেষ্ট মিলানের জন্য। তা না হলে প্রতিদ্বন্দ্বী ইন্টার মিলান বাকি তিন ম্যাচের যেকোনোটিতে জয়বঞ্চিত হলেও চলবে।
তবে মিলানের ভাবনায় চ্যাম্পিয়নস লিগ। সর্বশেষ ২০০৭ সালে ইউরোপ-সেরার মুকুট পরার পর থেকেই চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলানের জন্য হতাশা। এরপর শেষ ষোলোরই ওপরে যেতে পারেনি সাতবারের চ্যাম্পিয়নরা। ২০০৮-০৯ মৌসুমে ইউরোপিয়ান মঞ্চে খেলার যোগ্যতাই অর্জন করতে পারেনি। গত মৌসুমে খেললেও দুই লেগ মিলিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে হারে ৭-২ ব্যবধানে!
লিগ শিরোপার সুবাস পেয়ে মিলান তাই নড়েচড়ে বসতে চাইছে। এ জন্য শুধু গুরুত্বহীন খেলোয়াড়দের ছেঁটে ফেলাই নয়, দলকে ইউরোপীয় মানে তুলতে কয়েকটি চুক্তিও করতে যাচ্ছে বেরলুসকোনির দল। গালিয়ানির কথায় সেই সুর, ‘এই শহরেরই অন্য ক্লাবের অনেক বছরের সাফল্যের পর এবার যদি আমরা লিগ জিতি, আমাদের দলবদলের পরিকল্পনা হবে চ্যাম্পিয়নস লিগ মাথায় রেখে, অতীতের চেয়েও বেশি অগ্রাধিকার দিয়ে।’
মিলানের দল সংস্কারের কাঁচিটা কি দলের বুড়ো খেলোয়াড়দের ওপর চলবে? এসি মিলানকে বলা হয় ‘বুড়ো’দের দল। ফিলিপ্পো ইনজাগি, সিডর্ফ, আলেসান্দ্রো নেস্তা, জামব্রোত্তা, জেনারো গাত্তুসোদের মতো মধ্যতিরিশের খেলোয়াড়দের ঠিকানা তো মিলানই।

হতাশার আঁধারে মাদ্রিদ

খেলাটেলার ঝামেলায় গিয়ে কাজ নেই। ট্রফিটা সরাসরি বার্সেলোনার হাতেই তুলে দেওয়া হোক! এই ‘আহ্বান’ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। পরশু ম্যাচে রোনালদোর বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকে বল জালে ঢুকিয়ে দেন গঞ্জালো হিগুয়েইন। কিন্তু এর আগেই বাঁশি বাজিয়ে দেন বেলজিয়ান রেফারি ফ্রাঙ্ক ডি ব্লিকিয়ার। এ কারণেই ভীষণ চটেছেন রিয়ালের পর্তুগিজ উইঙ্গার। পরশু ম্যাচ শেষে গুরু মরিনহোর ‘ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব’ পুরোপুরি সমর্থন করে বলেছেন, রেফারি সব সময়ই নাকি আনুকূল্য দেয় বার্সাকে!
‘আবারও বাধা হয়ে দাঁড়ালেন রেফারি। আমরা বার্সাকে হারাতে পারতাম। কিন্তু রেফারি সেটি হতে দেননি। হিগুয়েইনের গোলটা ঠিকই ছিল। পিকেই আমাকে ধাক্কা দিয়েছে বলে আমি মাচেরানোর ওপর পড়েছি। লিভারপুলে খেলার সময় মাচেরানো এমনটা ছিল না। ও নির্ঘাত বার্সেলোনাতে এসেই ও এসব প্রতারণা শিখেছে’—বলেছেন রোনালদো। তাঁর দাবি, রেফারিরা সব সময় বার্সাকে জিতিয়ে দেয়, ‘পরের বছর থেকে আমাদের উচিত হবে ঘরে বসে থাকা। বার্সা একাই খেলুক। কাপটা সরাসরি বার্সার হাতে তুলে দেওয়া হোক।’
হিসাব বলছে, এই গোলটা হলেও খুব একটা সুবিধা হতো না রিয়ালের। রোনালদো কিন্তু বলছেন, ‘এই গোলটা হলে খেলার ছবিটাই হয়তো পাল্টে যেত। যারা ফুটবলের খোঁজখবর রাখে, তারা ভালো করেই জানে, বার্সাকে সব সময় আগলে রাখা হয়। আমাদের এই অন্যায় যেন মেনে নিতেই হবে।’ অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াসের দাবিও যেন এ রকম, ‘আগেও এমনটা হয়েছে, এবারও হলো।’
মিডফিল্ডার জাবি আলোনসো বলছেন, ‘অনেক সিদ্ধান্তই আমাদের বিপক্ষে গেছে। আমরা এতে মোটেও সন্তুষ্ট নই। গোলটা বহাল রাখা হলে পরিস্থিতি অন্য রকম হতো। আমাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতো। কিন্তু গোল বাতিল করায় আমাদের কাজ অনেক কঠিন হয়ে গেছে।’
ভারপ্রাপ্ত কোচ আইতর কারাঙ্কাও বলছেন, ‘মরিনহো ঠিকই বলেছেন। তিনি আগেই বলেছেন, আমাদের ফাইনালে যাওয়া হবে না। শেষ পর্যন্ত সেটাই হলো। টিভিতে কোটি কোটি লোকও সেটি দেখেছে।’
রিয়ালের কোচ-খেলোয়াড়দের মতো ফুঁসে উঠেছে মাদ্রিদভিত্তিক পত্রিকাগুলোও। ‘এটা ছিল মিশন ইম্পসিবল’ শিরোনাম দিয়ে মার্কা লিখেছে, ‘আরেকটি বাজে রেফারিং মাদ্রিদের ফিরে আসার লড়াই ভেস্তে দিল।’ এএস লিখেছে, ‘রেফারি বৈধ গোলটি বাতিল করে দিলেন, যে গোলটি হলে মাদ্রিদ এগিয়ে যেত।’
মাদ্রিদের এই হতাশার আঁধারের উল্টো ছবি বার্সেলোনায়। আনন্দের উজ্জ্বল আলোয় উদ্ভাসিত উৎসব। তারই প্রতিচ্ছবি পত্রিকাগুলোতেও। মুন্দো এল দেপোর্তিভো ‘ছিঁচকাঁদুনে’ মাদ্রিদকে খোঁচাও দিয়েছে এই বলে, রিয়াল বারবার নিজেদের ‘ভিকটিম’ হিসেবে হাজির করছে। আরও বড় খোঁচা দিয়েছে বার্সেলোনা ডেইলি স্পোর্ত লিখেছে, ‘গুডবাই মাদ্রিদ, আমরা ওয়েম্বলিতে যাচ্ছি।’
রিকার্ডো কারভালহো কেন লাল কার্ড দেখল না—এই প্রশ্নও করছে বার্সা শিবিরের একাংশ। তবে সব মিলে রেফারি যে উত্তেজনার বারুদে ঠাসা একটি ম্যাচ ভালোমতো সামাল দিয়েছেন, তারও প্রশংসা করেছে অনেকেই।

সেই জ্বালা ফিরিয়ে দিল বার্সা

গত বছর ২৮ এপ্রিল এই ন্যু ক্যাম্পেই উদ্বাহু নৃত্য করেছিলেন, বিজয়োল্লাসে ভোঁ দৌড় দিয়েছিলেন মাঠের এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত। গত পরশু হোসে মরিনহোকে খুঁজে পাওয়া গেল না বার্সেলোনার মাঠে। হয়তো ছিলেন, ভিআইপি গ্যালারির কাচঘেরা সুশীতল আড়ালে। ম্যাচ শেষে কী করলেন জানা গেল না। তবে প্রতিশোধের আনন্দে উদ্বাহু নৃত্য করল বার্সেলোনা, সঙ্গে ভোঁ দৌড়। প্রতিশোধ! এই মরিনহোর ইন্টার মিলানই গতবার সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে দিয়েছিল বার্সেলোনাকে।
গতবার ফিরতি লেগে ১-০ গোলে জিতেও মাথা নিচু করে মাঠ ছেড়েছিল বার্সা। শোকস্তব্ধ ছিল ন্যু ক্যাম্প। আর পরশু মরিনহোর এবারের দল রিয়ালের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র ম্যাচেও তারা উল্লাস করল দুকূলপ্লাবী আনন্দে। দুই লেগ মিলে যে ৩-১ ব্যবধানে ওয়েম্বলির ফাইনালের টিকিট পেয়ে গেল পেপ গার্দিওলার দল; ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী এই স্টেডিয়ামেই ১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম ইউরোপ-সেরার মুকুট পরেছিল বার্সেলোনা। সেই দলেরই খেলোয়াড় গার্দিওলার সামনে এখন একই মাঠে কোচ হিসেবেও শিরোপা জেতার সুবর্ণ সুযোগ।
ম্যাচটা ড্র হলেও ফুটবলীয় শক্তি-সামর্থ্য-সৌন্দর্য প্রকাশের দিক দিয়ে জয়ী বার্সেলোনাই। প্রায় একতরফা প্রথমার্ধে রিয়াল অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াস দুর্দান্ত তিনটি সেভ না করলে প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকে না। প্রথমার্ধের ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি দ্বিতীয়ার্ধে মাঝারি বর্ষণে রূপ নেওয়ার পর পাল্টে যায় ম্যাচের চেহারাও। ১০ মিনিটের মাথায় ইনিয়েস্তার দারুণ এক থ্রু থেকে গোল করেছেন পেদ্রো। খাদের কিনারে এক পা চলে যাওয়ার শিহরণ পেয়েই যেন গা ঝাড়া দেয় মাদ্রিদীয় অহং। দারুণ পাল্টা আক্রমণে ১০ মিনিটেই গোল শোধ করে দেন মার্সেলো, যাঁকে ‘মনো, মনো’ বলে নাকি প্রথম লেগে উত্ত্যক্ত করেছিলেন বুসকেটস। শেষ পর্যন্ত স্কোরলাইন ওই ১-১-ই। অবশ্য রিয়ালের একটি গোল বাতিল হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই। গঞ্জালো হিগুয়েইন বল জালে ঢোকানোর আগেই মাচেরানোকে ফাউল করার দায়ে রোনালদোর বিপক্ষে ফাউলের বাঁশি বাজান রেফারি।
মার্সেলোর ওই গোলটাই বার্সার গোলমুখে নেওয়া রিয়ালের একমাত্র শট, যেখানে বার্সেলোনা গোলে শট নিয়েছিল ছয়টি। বার্সা যথারীতি বল দখলে রাখার লড়াইয়ে নিরঙ্কুশ বিজয়ী, ৬৯ শতাংশ বল দখল। বার্সাময় ম্যাচ। যদিও পরশু দায়িত্বপ্রাপ্ত কোচ আইতর কারাঙ্কার অধীনে আক্রমণাত্মক মেজাজেই খেলেছে রিয়াল। শুরুতেই আক্রমণভাগে রোনালদো, হিগুয়েইন, অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়ার সঙ্গে ছিলেন কাকাও। প্রথম ১০ মিনিটে অবশ্য রোনালদোর দারুণ কিছু ঝলকও ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে খেলার জন্য রিয়ালের অপেক্ষাটা গড়াল দশম বছরে।
অন্যদিকে এখন বার্সা এখন অপেক্ষায় তিন বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার ইউরোপ-সেরার মুকুট পরার। ২৮ মের ফাইনালে ওয়েম্বলিতে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ঠিক হয়ে গেছে কাল রাতের অন্য সেমিফাইনালে। ধারণা ছিল, ২০০৮-০৯-এর ফাইনালেরই পুনরাবৃত্তি হবে। বার্সা মুখোমুখি হবে ম্যানইউর। গার্দিওলাও ম্যানইউকেই সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ধরে আগাম ছক কাটা শুরু করে দিয়েছিলেন, ‘আমরা আগামীকালের (বুধবার) ম্যাচটি দেখব। তবে মনে হচ্ছে ম্যানচেস্টারই ফাইনালে যাবে। ওরা শেষ মুহূর্তে প্রাণপণ লড়াই-ই করবে। আমরাও কিন্তু ফাইনালে ছাড় দেব না। ওদের দুর্বল জায়গা খুঁজে বের করে আঘাত হানব।’
ওয়েম্বলির ফাইনাল যে তাঁর জন্য বিশেষ কিছু, সেটিও জানিয়েছেন ৪০ বছর বয়সেই কোচ হিসেবে দুটি ইউরোপ-সেরা ট্রফি জয়ের সম্ভাবনার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা গার্দিওলা, ‘আমরা আবার ওয়েম্বলিতে খেলব। এটা অনেক সম্মানের। ফুটবল তার নিজের ঘরে ফিরছে। জানি না ওই ম্যাচে সবাই ম্যানইউকেই সমর্থন দেবে কিনা। তবে পুরো বিশ্বকে আমরা আমাদের ফুটবল স্টাইল দেখিয়ে মুগ্ধ করার চেষ্টা করব।

দিলশান সফল হবে না: ওয়াটসন

বিশ্বকাপের পর চারদিকে নতুনের হাওয়া। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল নিজেদের খোলনলচেই পাল্টে দিয়েছেন। অধিনায়ক থেকে শুরু করে দলে অনেক পরিবর্তন। অস্ট্রেলিয়াও রিকি পন্টিংকে বিদায় জানিয়ে নতুন অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ককে বরণ করে নিয়েছে। তাঁর ডেপুটি নির্বাচিত হয়েছেন শেন ওয়াটসন। আর কিছুদিন পরেই অস্ট্রেলিয়া দ্বিপক্ষীয় সিরিজে মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কার। সেই সিরিজের ঠিক আগে ওয়াটসন আক্রমণ করলেন নতুন লঙ্কান দলপতি তিলকরত্নে দিলশানকে।
ওয়াটসন বলেছেন, শ্রীলঙ্কার নতুন অধিনায়ক দিলশানের মধ্যে ভালো অধিনায়ক হওয়ার গুণাবলি নেই। তিনি আরও বলেছেন, দিলশানের পূর্ববর্তী কুমার সাঙ্গাকারা যেমন সবার সম্মান অর্জন করেছিলেন, তেমনটি দিলশানের পক্ষে অর্জন করা সম্ভব না-ও হতে পারে।
কুমার সাঙ্গাকারার প্রশংসা করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘সাঙ্গাকারা দারুণ একজন ক্রিকেটার। তিনি নিজেকে দুর্দান্তরূপে তৈরি করেছে। তাঁর ব্যক্তিত্বটাও দুর্দান্ত।’
এর পরপরই সাঙ্গাকারার সঙ্গে দিলশানের তুলনায় গিয়ে ওয়াটসন বলেন, ‘দিলশানের পক্ষে সাঙ্গাকারার ছায়া এড়িয়ে সফল হওয়া খুবই কষ্টকর। সে নিজেকে কখনোই সাঙ্গাকারার মতো তৈরি করতে পারবে না।’
অস্ট্রেলিয়ার নতুন নেতৃত্বের জন্যও শ্রীলঙ্কা সিরিজ একটি বড় পরীক্ষা হিসেবেই মনে করেন ওয়াটসন। মাইকেল ক্লার্ক অধিনায়ক হওয়ার পর অসিরা প্রথম সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশের বিপক্ষে। সেই সিরিজটা গত মাসে খুব সহজেই ৩-০ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে তাঁরা।
ওয়াটসনও তাই মনে করেন। তিনি বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আমাদের ভালো পরীক্ষায় পড়তে হবে। কারণ, দলটি খুবই শক্তিশালী। এটা নতুন নেতৃত্বের জন্যও একটা বড় পরীক্ষা।’
ওয়াটসন আশা করেন, মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান দলটি অসি ক্রিকেটের স্বর্ণযুগ আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারবে।

বার্সেলোনার প্রতিপক্ষ ম্যান ইউ

প্রতিপক্ষ সহজই ছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। জার্মানির ক্লাব শালকে ০৪-কে ৪-১ গোলে সহজেই হারিয়ে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের দল এখন আরও একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ গৌরবের অপেক্ষায়। তবে সেই গৌরব হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখতে তাদের পার হতে হবে মেসি-ইনিয়েস্তাদের বার্সেলোনা বাধা। সব মিলিয়ে এ বছরের চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল নিয়ে দুই ধরনের ইউরোপীয় ফুটবলের ধ্রুপদী লড়াই-ই প্রত্যাশা করতে পারেন ফুটবলামোদীরা।
গতকাল অনুষ্ঠিত ম্যাচে নিজেদের মাঠে শালকের বিপক্ষে প্রথমার্ধে ম্যান ইউ এগিয়ে ছিল ২-০ গোলের ব্যবধানে। ফাইনাল মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে থাকায় দ্বিতীয় লেগের এই ম্যাচে একেবারে দ্বিতীয় সারির দল নামিয়েছিলেন কোচ ফার্গুসন। এই দ্বিতীয় সারির দল কোচকে একেবারেই নিরাশ করেননি। ম্যাচের ২৬ মিনিটেই প্রথম গোল করে এগিয়ে যায় ম্যানচেস্টারের ক্লাবটি। গোল করেন অ্যান্তোনিও ভ্যালেন্সিয়া। আইরিশ ফুটবলার ড্যারন গিবসন প্রায় মধ্যমাঠ থেকে চমত্কার এক থ্রু বাড়ালে একটু পেছন থেকে দৌড়ে গিয়ে সেই বল ধরে দুর্দান্ত গোলটি করেন ভ্যালেন্সিয়া।
দ্বিতীয় গোলটি আসে ৩১ মিনিটে। শালকের সীমানায় প্রাপ্ত থ্রো-ইন থেকে রাফায়েল বল ফেলেন একেবারে বক্সের মধ্যে সেখান থেকে এক পা-দুই পা করে বল আসে বক্সের মাথায় দাঁড়ানো গিবসনের পায়ে। সেখান থেকেই তীব্র শটে তিনি জড়িয়ে দেন শালকের জালে।
২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর একটু জ্বলে ওঠার চেষ্টায় ছিল শালকে। এ সময় একটি গোলও পরিশোধ করে দেয় তারা। গোলটি করেন জুরাডো।
দ্বিতীয়ার্ধের ৭২ ও ৭৬ মিনিটের সময় পরপর দুটি গোল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে এগিয়ে নিয়ে যায় ৪-১ গোলে। সব মিলিয়ে সেমিফাইনালে শালকের বিপক্ষে ম্যান ইউর অগ্রগামিতা পরিণত হয় ৬-১-এ।
এবার নিয়ে চতুর্থবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠে গেল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ২০০৯ সালে বার্সেলোনার কাছে ফাইনালে পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়ার নতুন মওকা এবার তাদের। দেখা যাক, এবার ভাগ্য তাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করে!

পাকিস্তান দলের প্রয়োজন মিয়াঁদাদকে: মালিক

জাভেদ মিয়াঁদাদের ব্যাপারটি পরিষ্কার। কোনো সন্দেহ নেই। তাঁকে পাকিস্তান দলের ব্যাটিং কোচ হওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার পরও তিনি তা নেননি কেবল ওয়াকার ইউনুসের জন্য। মিয়াঁদাদের চেয়ে অনেক জুনিয়র ওয়াকার যখন দলের প্রধান কোচ, মিয়াঁদাদ তাঁর অধীনে ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব কীভাবে পালন করেন! তিনি সরাসরি এ কথা না বললেও, পুরো ইঙ্গিত খুব স্পষ্ট।
তবে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের মধ্যে একটা প্রত্যাশা ডাল-পালা মেলেছিল। সবাই কায়মনোবাক্যে চাচ্ছিলেন মিয়াঁদাদ দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্বটি নিন। তবে ব্যক্তিগত সমস্যার দোহাই দিয়ে মিয়াঁদাদের প্রস্তাব এড়িয়ে যাওয়া, পাকিস্তান ক্রিকেটের আবহমানকালীন কোন্দলকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
এদিকে সাবেক অধিনায়ক শোয়েব মালিক মনে করেন, ‘পাকিস্তান দল যদি তাদের ব্যাটিং-দুর্বলতা থেকে বেরিয়ে আসতে চায়, তাহলে জাভেদ মিয়াঁদাদের মতো ক্রিকেট ব্যক্তিত্বকে ব্যাটিং পরামর্শকের দায়িত্ব দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। তিনি যদি, রাজি হতেন, তাহলে খুব ভালো হতো। কারণ, মিয়াঁদাদের চেয়ে ক্রিকেটটা ভালো আর কেউ বুঝতে পারবেন না। তিনি পাকিস্তানের সেরা ক্রিকেট মস্তিষ্ক।’
শোয়েব মালিক পাকিস্তান দলে নেই বেশ কিছুদিন। গত বিশ্বকাপেও তিনি দলের জন্য বিবেচিত হননি, ম্যাচ ফিক্সিং-সংক্রান্ত অভিযোগের অধীনে সন্দেহের তালিকায় থাকায়। তবে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য সবকিছুই করে যাচ্ছেন ভারতীয় টেনিস তারকা সানিয়া মির্জাকে বিয়ে করা এ পাকিস্তানি ক্রিকেটার। তিনি বলেছেন, ‘দলে ফেরার জন্য ও নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য আমি সবকিছুই সম্পন্ন করেছি। এখন বাকিটা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ব্যাপার।’ তিনি আরও বলেন, বিয়ের পর সব হতাশা থেকে তাঁকে বের করে নিয়ে আসার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে তাঁর স্ত্রী সানিয়া। শোয়েব এখন নিয়মিতই বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক কসরত অনুশীলন করে যাচ্ছেন। এর মধ্যে ইয়োগাও রয়েছে।
২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই পাকিস্তান থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটটা নির্বাসিত। শোয়েব মালিক মনে করেন, এ ব্যাপারটির অবসান হওয়া উচিত। পাকিস্তানের ক্রিকেটের স্বার্থেই বিদেশি দলগুলোর পাকিস্তানে খেলতে আসার ব্যাপারটি জরুরি। তিনি বলেন, ভারতীয় ক্রিকেট দলের সঙ্গে এ মুহূর্তেই পাকিস্তানের ক্রিকেট সম্পর্কের পুনঃস্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে।

পুনের সমস্যা বুঝতে অপারগ যুবরাজ!

যুবরাজ সিং কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছেন না আইপিএলে তাঁর দল সাহারা পুনে ওয়ারিয়র্সের সমস্যাটা কোথায়। এবছরই নিবন্ধিত, সাহারা শিল্পগোষ্ঠীর মালিকানাধীন এই দলটি ইতিমধ্যেই টানা সাত ম্যাচে হেরে লড়াই থেকে অনেকটাই ছিটকে পড়েছে। দলটির সর্বশেষ পরাজয়-কাল মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে ২১ রানে।
গতকালের ম্যাচে যুবরাজ সিংয়ের একমাত্র পরিতৃপ্তি-তিনি মুম্বাই দলপতি শচীন টেন্ডুলকারের উইকেটটি নিয়েছেন। সেইসঙ্গে তিনি খুশি হতে পারেন লেগ স্পিনার রাহুল শর্মার দুর্দান্ত বোলিং। চার ওভার বল করে মাত্র সাত রানের খরচায় শর্মা নিয়েছেন ২টি উইকেট।
মুম্বাইয়ের রান তাড়া করা একেবারে কঠিন কিছু ছিল না। তারপরেও দিনশেষে ২১ রানে পরাজয়ের জন্য যুবরাজ দুষেছেন নিজেদের ব্যাটিং দৈন্যতাকেই। তিনি বলেন, ‘১৬০ রান তাড়া করাটা অসম্ভব কিছু ছিল না। কিন্তু আমরা পারিনি। তিনি বলেন, ‘পুনের ওয়ারিয়র্সের মূল সমস্যা দলে বিগ হিটারের অভাব রয়েছে। আমরা অনেক বল নষ্ট করে ফেলছি। প্রয়োজনের সময় দ্রুত রান তুলতে পারছিনা।’
শচীন টেন্ডুলকারকে আউট করলেও দল পরাজয়ে সেই তৃপ্তিতে ঢেঁকুর তুলতে পারছেন না যুবরাজ। তিনি বলেন, ‘সবই ঠিক ছিল, আমরা বল ভালো করেছিলাম, ১৬০ রান তাড়া করার মতো ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা ম্যাচটি হেরেছি। সত্যি কথা বলতে কি, সমস্যাটা কোথায়, বুঝতে পারছি না!’