Friday, April 30, 2010

হলিউড কেমন করে যুদ্ধের বিভীষিকা আড়াল করে by স্লাভো জিজেক

জেমস ক্যামেরনের অ্যাভাটার ছবিকে পেছনে ফেলে ক্যাথরিন বিগেলোর দ্য হার্ট লকার প্রধান প্রধান অস্কার পুরস্কার জিতে নিল। হলিউডের বিদ্যমান পরিস্থিতির জন্য এ বিজয়কে একটি ভালো লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়েছে। মাঝারি খরচের এই চলচ্চিত্রটি স্পষ্টত বিধ্বস্ত করল অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি প্রযোজনাকে, যার কৌশলগত অসাধারণত্ব কাহিনির বৈচিত্র্যহীন সরলতাকে ঢাকতে পারেনি। দ্য হার্ট লকার-এর বিজয়ের মানে কি হলিউড শুধু এক ব্লকবাস্টার তৈরির যন্ত্র নয়, হলিউড এখনো প্রান্তের সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করতে জানে? হয়তো—কিন্তু এই ‘হয়তো’ অনেক জোরালো।
সব রহস্যময়তা সত্ত্বেও অ্যাভাটার-এর পক্ষপাতিত্ব স্পষ্টত বৈশ্বিক মিলিটারি-ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সের বিরোধীদের প্রতি। অ্যাভাটার-এ প্রচণ্ড শক্তিধর সেনাবাহিনী বড় বহুজাতিক কোম্পানির স্বার্থরক্ষায় নিয়োজিত বর্বর বিধ্বংসী ক্ষমতাসম্পন্ন এক বাহিনী হিসেবে উপস্থিত। অন্যদিকে দ্য হার্ট লকার যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর যে চিত্র আঁকে, তা অনেক বেশি সংগতিপূর্ণ মানবিক হস্তক্ষেপ ও সমরবাদী শান্তি আন্দোলনের এই সময়ে সেনাবাহিনীর সর্বজনীন প্রতিচ্ছবির সঙ্গে।
দ্য হার্ট লকার ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের মতো বড় ধরনের বিতর্ককে অনেকাংশে অগ্রাহ্য করে গেছে। ঝুঁকি ও ধ্বংসাত্মক বিষয়-আশয় নিয়ে কাজ করতে বাধ্য হওয়া সাধারণ সেনারা প্রতিদিন যেসব অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন হয়, তাতেই কেন্দ্রীভূত ছবিটির মনোযোগ। আপাত-প্রামাণ্যচিত্রশৈলী ব্যবহার করে এ ছবিতে বলা হয়েছে একটি এক্সপ্লোসিভ অর্ডন্যান্স ডিসপোজাল (ইওডি) স্কোয়াডের গল্প। স্কোয়াডের সদস্যরা পেতে রাখা বোমা নিষ্ক্রিয় করার সম্ভাব্য প্রাণঘাতী কাজ করে চলে। গল্পটি বাছাই গভীর ইঙ্গিতবহ—যদিও তারা সেনা, তবুও হত্যা করে না, কিন্তু প্রতিদিন সন্ত্রাসীদের পুঁতে রাখা বোমা নিষ্ক্রিয় করতে জীবনের ঝুঁকি নেয়। এসব বোমা জীবন্ত থাকলে বেসামরিক লোকজন মারা পড়বে। দর্শকের উদার সংবেদনশীলতার প্রতি এর চেয়ে সহানুভূতিশীল আর কিছু হতে পারে? সন্ত্রাসবিরোধী চলমান যুদ্ধে পশ্চিমা সেনারা শেষতক ইওডি স্কোয়াডের মতোই নয় কি? এমনকি, যখন তারা বোমা হামলা করে, ধ্বংসযজ্ঞ চালায়, তখনো বেসামরিক মানুষের জীবন অধিকতর নিরাপদ করার জন্য তারা কি ধৈর্যসহকারে সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক ধ্বংসের কাজ করে চলে না?
ছবিটির আরও গুরুতর কিছু দিক আছে। ১৯৮২ সালের লেবানন যুদ্ধের ওপর নির্মিত আরি ফোলম্যানের অ্যানিমেটেড ডকুমেন্টারি ওয়ালত্স উইথ বশির এবং স্যামুয়েল মাওজের লেবানন-এর মতো সাম্প্রতিক ইসরায়েলি ছবি দুটির সাফল্যের পেছনে যে প্রবণতা কাজ করছে, সেই প্রবণতাই হলিউডে নিয়ে এসেছে দ্য হার্ট লকার।
তরুণ বয়সে মাওজের সেনাবাহিনীতে কাজ করার স্মৃতির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে লেবানন। ছবিটির অধিকাংশ অ্যাকশন ট্যাংকের ভেতর থেকে চিত্রায়নের মাধ্যমে যুদ্ধের ভীতিকর দিক এবং আবদ্ধ থাকার আতঙ্কজনিত ব্যাধির রূপদান করা হয়েছে। এ ছবিতে চার অনভিজ্ঞ সেনা ট্যাংকের ভেতর বসে লেবাননের এক শহরে শত্রু খতম করার দায়িত্বে নিয়োজিত। এই চার সেনাকেই অনুসরণ করা হয় ছবিটিতে। যে শহরে তারা শত্রু নিধনে নিয়োজিত, সেটি এরই মধ্যে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর বোমা বর্ষণে বিধ্বস্ত। মাওজের চরিত্রে রূপদানকারী অভিনেতা ইওয়াভ দোনাত ২০০৯ সালে ভেনিস চলচ্চিত্র উত্সবে এক সাক্ষাত্কারে বলেন, ‘ওই ছবি দর্শকের মনে এমন ভাবনা জাগাবে না, “আমি শুধু একটি ছবি দেখলাম।” এই ছবি আপনার মধ্যে এমন অনুভূতি তৈরি করবে, যেন আপনি নিজেই যুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত।’ একইভাবে ওয়ালত্স উইথ বশির ছবিটিও ইসরায়েলি সেনাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ১৯৮২ সালের সংঘাতের বিভীষিকা রূপায়িত করে।
মাওজ বলেন, ইসরায়েলি নীতির নিন্দা নয়, তাঁর ছবিটি একজন সেনা কী অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে গেছে, তার ব্যক্তিগত বিবরণ। ‘ছবির নামটি লেবানন রাখা ঠিক হয়নি। কারণ, লেবাননের যুদ্ধ সারবস্তুর দিক থেকে অন্য কোনো যুদ্ধের চেয়ে আলাদা কিছু নয়। রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার কোনো চেষ্টা ছবিটির ধার কমিয়ে দিত।’ এ বক্তব্য বিশুদ্ধভাবে মতাদর্শিক। অপরাধ সংঘটনকারীর মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা পুনরায় মনোযোগে আনার কাজটি সংঘাতের নৈতিক-রাজনৈতিক পুরো পটভূমি মুছে ফেলা সম্ভব করে তোলে। লেবাননের গভীরে ঢুকে ইসরায়েলি বাহিনী কী করেছিল, তা আড়াল করা যায়। এভাবে ‘মানবিকীকরণ’ আচ্ছন্নতা তৈরি করে: রাজনৈতিক-সামরিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমরা কী করছি এবং আমাদের ঝুঁকির জায়গাগুলো কী, তা নির্দয়ভাবে বিশ্লেষণ করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। আমাদের রাজনৈতিক-সামরিক সংগ্রাম যা আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের অন্তরঙ্গ জমিনে ভয়াবহ ব্যাঘাত ঘটায় তা কোনো জড় ইতিহাস নয়। এসব সংগ্রামে আমরা পূর্ণ মাত্রায় অংশগ্রহণ করি।
আরও সরলভাবে বলা যায়, এভাবে কোনো সেনার চরিত্রের ‘মানবিকীকরণ’ (মানুষ মাত্রেই ভুল হয়—এই প্রবাদের মতো) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মতাদর্শিক (আত্ম)উপস্থাপনের প্রধান উপাদান। ইসরায়েলি গণমাধ্যম তাদের সেনাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি ও মানসিক আঘাতের বিষয়ে আলোচনা করতে পছন্দ করে। পছন্দ করে তাদেরকে উপস্থাপন করতে নিখুঁত সামরিক যন্ত্র বা অতিমানবিক বীর হিসেবে নয়, বরং সাধারণ মানুষ হিসেবে, যারা ইতিহাস ও যুদ্ধের ময়দানের মর্মান্তিক বিভীষিকার মধ্যে থেকেও যেকোনো স্বাভাবিক মানুষের মতো ভুল করে এবং হারিয়ে যেতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী সন্দেহভাজন এক সন্ত্রাসীর পারিবারিক বাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়। তারা কাজটি সম্পাদন করে অত্যন্ত সদয়চিত্তে, এমনকি বুলডোজার দিয়ে বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার আগে বাড়ির আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়ার কাজে পরিবারটিকে সাহায্য করে। তারও আগে ইসরায়েলি গণমাধ্যম একই ধরনের আরেকটি ঘটনার খবর প্রচারিত করেছিল। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের খোঁজে এক ফিলিস্তিনির বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছিল এক ইসরায়েলি সেনা। তখন সেই পরিবারের মা তার আতঙ্কিত মেয়েকে শান্ত থাকার জন্য তাঁর নাম ধরে ডাকেন। সেই সেনাটির মেয়ের নামও একই ছিল। মেয়েটির নাম শুনে সেনার হূদয়ানুভূতি জেগে ওঠে। সে তার ওয়ালেট বের করে ফিলিস্তিনি মাকে তার মেয়ের ছবি দেখায়।
অন্যের আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার এমন আচরণের মধ্যে মিথ্যা প্রতারণামূলক দিক আছে—এটা উপলব্ধি করা সহজ। রাজনৈতিক অবস্থানের ভিন্নতা সত্ত্বেও আমরা সবাই মানুষ, একই ধরনের ভালোবাসা আর উদ্বেগ আমাদের আছে—এমন ভাবনা এ মুহূর্তে সেনাটি যে কাজ কার্যকরভাবে সম্পাদন করছে, সেটির প্রভাব নিয়ে ভাবতে উত্সাহী করে না। সেই মায়ের একমাত্র যথার্থ জবাব হওয়া উচিত, সেই সেনার কাছে একটি প্রশ্নের জবাব চাওয়া: ‘তুমিও যদি আমার মতোই মানুষ, তবে কেন তুমি এখন এই কাজটি করছো?’ সেনাটি তখন তাঁর ওপর চাপানো দায়িত্বের দোহাই দিতে পারে, ‘আমি এই কাজ পছন্দ করি না, কিন্তু এটা করার জন্য আমার ওপর নির্দেশ আছে।’ এভাবে সে তার নিজের কর্মকাণ্ডের দায় নিজে না নিয়ে অন্যের ওপর চাপাতে পারে।
এমন মানবিকীকরণের মর্ম হচ্ছে, ব্যক্তির জটিল জীবনবাস্তবতা এবং সেই জীবনে সে নিজের স্বভাবের বিরুদ্ধে গিয়ে যা যা করতে বাধ্য হয়, এ দুয়ের মধ্যকার তফাতটাকে গুরুত্ব দেওয়া। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ওপর নির্মিত ক্লদ লেনজম্যানের একটি প্রামাণ্যচিত্রে একজন সেনা কর্মকর্তা, যিনি কখনো সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার কথা ভাবেননি, তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী আমার পরিবারের কোনো জেনেটিক ব্যাপার নয়।’
এ প্রসঙ্গে আবার দ্য হার্ট লকার-এ ফিরে আসি। যুদ্ধের ময়দানে কাজ করার দৈনন্দিন বিভীষিকা ও মানসিক যন্ত্রণার প্রভাব চিত্রায়ন ছবিটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর মানবিক ভূমিকার আবেগগত উদ্যাপন থেকে বহু দূরে ঠেলে দেয় বলে মনে হয়। জন ওয়েইনির কুখ্যাত চলচ্চিত্র গ্রিন বেরেটস-এ সেনাবাহিনীর মানবিক ভূমিকার যে হূদয়কাড়া উপস্থাপনা, তা থেকে দ্য হার্ট লকার অনেক দূরে। তবে সবসময় আমাদের মনে রাখা উচিত, দ্য হার্ট লকার-এ যুদ্ধের উদ্ভটতার বাহুল্যবর্জিত বাস্তববাদী উপস্থাপনও আচ্ছন্নতা তৈরি করে। আর এ ছবির নায়কেরা গ্রিন বেরেটস ছবির নায়কদের মতো একই ভূমিকা রেখে চলে। মতাদর্শের অদৃশ্যমানতার মধ্যেই মতাদর্শ উপস্থিত, এ উপস্থিতি যেকোনো সময়ের থেকে তীব্র: দর্শকেরা যুদ্ধের ময়দানে সেনাদের সঙ্গে নিজেও চলে যায়, সেনাদের আতঙ্ক ও নিদারুণ যন্ত্রণার সঙ্গে দর্শক একাত্মতা বোধ করে। সেই যুদ্ধে তারা কী করছে সেই প্রশ্ন আর জাগে না।
ইন দিজ টাইমস থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: আহসান হাবীব
স্লাভো জিজেক: স্লোভেনীয় দার্শনিক।

অগ্রপথিক চাই, পশ্চাত্পথিক নয় by মোজাফ্ফর আহমদ

বাংলাদেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা ও গভীরতা নিয়ে জনমনে কোনো সন্দেহ নেই। প্রতিদিন সংবাদপত্রে দুর্নীতির খবরাখবর বের হয়। এক হিসাব অনুযায়ী, দুর্নীতির মাত্রা কমিয়ে আনা গেলে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার বাড়বে লক্ষণীয়ভাবে। দুর্নীতির মাধ্যমে অনার্জিত আয়ের পথ উন্মুক্ত হয় বলেই উত্পাদনবিমুখ দ্রুত ধনশালী হওয়ার এক মানসিকতা সরকারি ও বেসরকারি খাতে পরিব্যাপ্ত হয়। এ ছাড়া, স্মরণ রাখা প্রয়োজন, দুর্নীতির অভিঘাত সবচেয়ে বেশি পড়ে ক্ষমতাহীন নিম্নবিত্ত মানুষের ওপর। এর মাধ্যমে আয়-বৈষম্যের যে বৃদ্ধি ঘটে, তাও সুষম সমাজ গঠনে সহায়ক হয় না। দুর্নীতির চক্রে ক্ষমতার অবস্থান অত্যন্ত প্রকটভাবে ক্রিয়াশীল। এ জন্য সরকারি খাতে আমলাতন্ত্রের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দুর্নীতি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এর সঙ্গে সহায়ক ভূমিকায় থাকে ব্যবসায়ীদের সুবিধাভোগী গোষ্ঠী এবং তাদের মদদে রাজনীতিবিদদের অবস্থানও জনস্বার্থবিরোধী হয়ে পড়ে। এই তিনের স্পর্শে জনসম্পদের পাচার ও অপচয় নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই।
দুর্নীতি দমনের বিষয়ে এ দেশে যে আন্দোলন গত কয়েক দশক ধরে হয়ে আসছে, তার ধারাবাহিকতায় স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনের বিষয়টি সামনে চলে আসে। এ দেশে দুর্নীতি দমন ব্যুরো অনেক কাল ধরে ক্রিয়াশীল ছিল। সে ব্যুরোর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ এমন কঠিন ছিল যে তাদের প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এমন মামলাগুলো আদালতে অনেক সময়ই রুজু হয়নি অনুমতির অভাবে, যেগুলো রুজু হয়েছে দুর্বল উপস্থাপনার কারণে আদালতে সেগুলোর নিষ্পত্তি হতে সময় লেগেছে অনেক কাল। ব্যুরোতেও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ছিল ব্যাপক হারে। ব্যুরোর বেহাল দশার পেছনে ছিল রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব। এ পরিপ্রেক্ষিতেই আইনের ভিত্তিতে অন্যান্য সংসদীয় সংস্থার আদলে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনের দাবি ওঠে। কেবল বাংলাদেশে নয়, এ দাবি ওঠে পৃথিবীর নানা দেশে। নাগরিক সমাজের দাবির মুখে জাতিসংঘ এ সম্পর্কে একটি সনদ গ্রহণ করে। বাংলাদেশ সে সনদে স্বাক্ষর করেছে এবং পরবর্তী সময়ে সরকারিভাব অনুসমর্থন (র্যাটিফাই) করেছে। সম্প্রতি সরকার ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট সম্পর্কীয় সনদে মানবতাবিরোধী বিচারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অনুস্বাক্ষর দিয়েছে। সে সনদের মতোই জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী সনদের বিভিন্ন করণীয় এখন সরকারের দায়িত্বের আওতায় পড়ে। স্মরণীয় যে আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাধীন, কার্যকর ও শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশনের বিষয়ে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রী অনেকবার সংসদে ও সংসদের বাইরে দুর্নীতি দমনের জন্য কার্যকর প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের কিছু সংশোধনী এনে অধ্যাদেশ জারি করেছিল, যেটি বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশনে অনুমোদিত হয়নি। আদালতেও বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা দুর্নীতি দমন কমিশনের নানা কর্মকে স্থবির করে তুলেছে এবং কিছু কিছু মামলায় প্রক্রিয়াকে মূল অভিযোগ ও তার সঙ্গে যে প্রমাণাদি উত্থাপিত হয়েছিল তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করায় এক জটিলতার সৃষ্টি হয়। মামলা স্থগিত করে জামিন নিয়ে সাজাপ্রাপ্ত কিছু লোক নির্বাচনী বিধিমালার ফাঁকফোকর গলে বর্তমানে সংসদে এসে বিভিন্ন অযৌক্তিক কথা বলে চলেছেন। তাঁদের অনেকে যেহেতু আগে আমলা ছিলেন তাঁদেরই প্রভাবে আমলাতন্ত্রের সুরক্ষার জন্য সচিব কমিটি ক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে। তারই ফলে সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় দুর্নীতি দমন কমিশন-সম্পর্কিত আইনের কিছু সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে, যা সংসদের আগামী বৈঠকে আইন হিসেবে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। যেসব সংশোধনী আনা হয়েছে সেটি দুর্নীতি দমন কমিশনকে দুর্বল করবে এবং আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ওয়াদাকে হাস্যকর করে তুলবে।
সংশোধনীতে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে সরকারের (তথা প্রধানমন্ত্রীর) অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এখানে আমলাতন্ত্রকে সুরক্ষা দেওয়ার অকারণ প্রচেষ্টা লক্ষণীয়। বিয়াল্লিশের মন্বন্তর ও বার্মা থেকে আশ্রয়হীনদের ভারতে প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে যে দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়, সেখানেও এমনতর সুরক্ষা ছিল না। সবচেয়ে সার্থক দুর্নীতি দমন কমিশন হংকং ও সিঙ্গাপুরে এমনটি নেই। এমনকি দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানসহ অন্যান্য দেশেও এর উপস্থিতি খুঁজে পাওয়া যাবে না। এমন সুরক্ষা এটিই প্রমাণ করবে যে বাংলাদেশে নতুন করে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একটি হাস্যকার বিধান। তদন্তের জেরায় নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ব্যাপারে যুক্ত হতে পারবেন না। ফৌজদারি বিধিতেও এমন বিধান নেই। অপরাধী বা অভিযুক্তকে সে দৃষ্টিতেই দেখতে হবে। না হলে মন্ত্রী অভিযুক্ত হলে তাঁকে জেরা করতে আবার মন্ত্রী নিয়োগের বিষয় এসে যাবে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের জবাবদিহিতার জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে ব্যবহার করা যায় অথবা সংসদের একটি বিশেষ কমিটিকে এ দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। দুর্নীতি যেহেতু মূলত ‘একজিকিউটিভ’ ব্রাঞ্চের ব্যাপার, সে কারণে একে সে বিভাগের অধীনে আনার প্রস্তাব গ্রহণীয় নয়।
বিএনপির শাসনামলে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে দুর্নীতি দমন কমিশন অকার্যকর ছিল। তেমনি বর্তমান সরকারের আমলে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে এটি স্থবির হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সচিব নিয়োগের প্রস্তাব এবং সচিবের ক্ষমতার এখতিয়ার। কমিশন প্রয়োজনে প্রেষণে সচিব নিয়োগের অনুরোধ করতেই পারে কিন্তু এটা বাধ্যতামূলক করা হলে নির্বাচন কমিশনের উপাখ্যানের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। বর্তমান সরকার জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী যেসব করণীয় ছিল, সেদিকে এখনো দৃষ্টিপাত করেনি। বিশেষ করে, তথ্য প্রদানকারীর সুরক্ষা (whistleblowers protection) কিন্তু এর বিপরীতে মিথ্যা তথ্য প্রদানকারীর জন্য শাস্তির বিধান রাখছে। এসবই এ দেশে দুর্নীতির ব্যাপ্তি ও গভীরতাকে বাড়িয়ে দেবে, যেমন আমরা দেখছি নানা দখলের উন্মাদনার মধ্যে।
মোজাফ্ফর আহমদ: শিক্ষাবিদ, টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য।

ধর্ষণের রাজধানী কঙ্গো

জাতিসংঘের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ও ইউরোপীয় কমিশনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মারগট ওয়ালস্ট্রম বলেছেন, বিশ্বে ধর্ষণের রাজধানী হলো আফ্রিকার দেশ কঙ্গো। যারা এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত তারা যেন রেহাই না পায়, তা নিশ্চিত করার জন্য ওয়ালস্ট্রম জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান। খবর এএফপির।
ওয়ালস্ট্রম বলেন, কঙ্গোতে নারীরা অব্যাহতভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তবে এটা এই কারণে নয় যে তাঁদের রক্ষা করার জন্য পর্যাপ্ত আইন নেই। বরং আইন প্রয়োগের অভাবে এসব ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, যারা এসব অপরাধ করছে তাদের যদি শাস্তি দেওয়া না হয়, তাহলে নারীর অধিকার বলে কিছু থাকবে না।
ওয়ালস্ট্রম বলেন, কঙ্গোতে নারীরা এখনো নিরাপদ নন। এমনকি তাঁরা তাঁদের ঘরেও নিরাপদ নন। তাঁর সাম্প্রতিক কঙ্গো সফরের বিস্তারিত ঘটনা নিরাপত্তা পরিষদকে অবহিত করার সময় ওয়ালস্ট্রম এসব কথা বলেন।
এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচআরসি গত সপ্তাহে জানায়, কঙ্গোতে প্রতিদিন গড়ে ১৪ জন নারী যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে।

চীনে আট শিশুর হত্যাকারীর ফাঁসি কার্যকর

চীনে গতকাল বুধবার এক ব্যক্তির ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। গত মাসে আট স্কুলশিশুকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার অপরাধে তাঁকে এ ফাঁসি দেওয়া হয়। সে দেশের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সিনহুয়া সংবাদ সংস্থা এ কথা জানায়।
ঝং মিনশেং (৪১) পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশে গত ২৩ মার্চ এ হত্যাকাণ্ড ঘটান। সে সময় ওই শিশুরা ক্লাস শুরুর আগে স্কুলের বাইরে তাদের মা-বাবার সঙ্গে অপেক্ষা করছিল।
এ মাসের শুরুতে বিচারের সময় ঝং মিনশেং আদালতে এ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। ঝং জানান, সে সময় তাঁর প্রেমিকা তাঁকে ছেড়ে চলে যাওয়ায় এবং প্রেমিকার ধনাঢ্য পরিবার তাঁর প্রতি দুর্ব্যবহার করায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।
১৯ জনকে ছুরিকাঘাত
চীনে এক ব্যক্তি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঢুকে এক শিক্ষক ও ১৮ শিক্ষার্থীকে ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে আঘাত করেছেন। দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংদং প্রদেশের লেইঝাউ শহরে গতকাল এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে।

নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করছেন মোশাররফ

ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার দুই বছর পর আবার রাজনীতিতে ফিরতে চাইছেন পাকিস্তানের সাবেক সামরিক শাসক পারভেজ মোশাররফ। এ জন্য তিনি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পরিকল্পনা করছেন। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা গতকাল বুধবার এ কথা জানিয়েছেন।
নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পেতে মোশাররফ নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন এক নির্বাচনী কর্মকর্তা।
সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমানে মোশাররফের আইনি উপদেষ্টা মোহাম্মদ আলী সাইফ জানিয়েছেন, নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ ১০ মে আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে।
সাইফ বলেন, ‘নতুন দলের নিবন্ধন পেতে আমি আবেদন করেছি। দলের নাম নির্ধারণ করা হয়েছে “অল পাকিস্তান মুসলিম লিগ”। পারভেজ মোশাররফ হবেন দলের প্রধান। নিবন্ধন পাওয়ার পর আমরা এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেব।’
নতুন দল গঠনের লক্ষ্যে মোশাররফের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন সাইফ। তিনি জানান, লন্ডনে পারভেজ মোশাররফের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং মোশাররফ জানিয়েছেন, তিনি দেশে ফিরে আইনি লড়াই করতে চান।

জার্মানি সফরে বুশকে সম্ভবত বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল

জার্মানিতে জি-৮ সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়া তত্কালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ও তাঁর স্ত্রীসহ কয়েকজন সফরসঙ্গীকে সম্ভবত বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল। বুশের স্ত্রী সাবেক ফার্স্ট লেডি লরা বুশ স্বয়ং এ কথা লিখেছেন তাঁর নতুন বইতে। স্পোকেন ফ্রম দ্য হার্ট নামের বইটি আগামী মাসে প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।
জি-৮ সম্মেলনে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় সফরের একটা বড় সময় বুশকে শয্যাশায়ী থাকতে হয়েছিল। সম্ভবত এবারই প্রথম বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন লরা বুশ।
লরা বুশের বইয়ের একটি কপি অগ্রিম সংগ্রহ করেছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। লরা বুশ এতে লিখেছেন, বুশ এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের ওপর বিষ প্রয়োগের সম্ভাব্যতা নিয়ে তদন্ত করেছিল মার্কিন গোয়েন্দারা। শেষ পর্যন্ত চিকিত্সকেরা শুধু এটুকু বলতে পারেন যে তাঁরা একটি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে এমন রহস্যময়ভাবে অন্য কোনো দেশের প্রতিনিধি অসুস্থ হয়েছিলেন কি না তা জানতে পারেননি লরা বুশ।
লরা বুশ তাঁর বইতে বুশকে ‘গালমন্দ’ করার জন্য তাঁর রাজনৈতিক বিরোধীদের ভর্ত্সনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বুশকে বলেছিলেন ‘একজন অযোগ্য নেতা’ যাঁর বিচক্ষণতা, জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতায় ঘাটতি আছে। আর সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা হ্যারি রিড বুশকে ‘মিথ্যাবাদী’ অভিহিত করেছিলেন।
লরা লিখেছেন, বুশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বিরোধীদের সমালোচনা বেশ কয়েকবারই নাকচ করে দিয়েছেন লরা। তিনি লিখেছেন, ‘নিউ অরলিন্সে হারিকেন ক্যাটরিনা আঘাত হানার পর প্রেসিডেন্ট বুশ বিমানে করে আকাশ থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন না করেই চলে এসেছিলেন—এ নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। তবে প্রকৃত বিষয় হলো, তিনি চাননি তাঁর সফরের কারণে একটি জীবনও নষ্ট হোক। তিনি সেখানে নামলে তাঁর নিরাপত্তাবহরের কারণে রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিতে হতো। আর এতে করে খাদ্য, পানি ও জরুরি চিকিত্সা সরঞ্জামবাহী কোনো ট্রাক রাস্তায় আটকে পড়তে পারত।’
সাবেক ফার্স্ট লেডি ১৭ বছর বয়সে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় পড়েছিলেন। নতুন বইতে সেই দুর্ঘটনার বিষয়ে অনেক কথাই বলেছেন তিনি।

ভুটানে মনমোহন ও গিলানির বৈঠক আজ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছেন। ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে শান্তি-আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য এ বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, দুই দিনব্যাপী সার্ক সম্মেলনে যোগদানের পাশাপাশি মনমোহন সিং ও ইউসুফ রাজা গিলানির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আজ বিকেলে হতে পারে। কিন্তু কত সময় ধরে তাঁদের মধ্যে এ বৈঠক হবে বা বৈঠকের আলোচ্য বিষয় কী—এ ব্যাপারে তিনি কিছুই বলেননি।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি থিম্পুতে গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘শান্তি-আলোচনা শুরু করার জন্য যেকোনো ধরনের বৈঠক খুবই জরুরি। কোন বিষয়ে ভারত আলোচনা করতে চায় বা কোন বিষয়ে আলোচনা করতে চায় না, সে বিষয়ে তাদের মনস্থির করা প্রয়োজন। যদিও আমি মনে করি, আলোচনাই হচ্ছে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র ্পথ।’
কুরেশি বলেন, এটাই হচ্ছে ভারতের জন্য সামনে এগিয়ে যাওয়ার উপযুক্ত সময় এবং ভারতের উচিত পাকিস্তানের নিন্দা না করা। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাসবাদকে একটি অভিন্ন চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করি। এখানে আমার বা আপনার বলে কিছুই নেই।’
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সার্কভুক্ত সব দেশকে একত্র হওয়ার আহ্বান জানান।
২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বাইয়ে হামলার পর দুই দেশের মধ্যে শান্তি-আলোচনা বন্ধ রয়েছে। ওই হামলায় ১৬৬ জন নিহত হয়। সে সময় থেকেই এ হামলার জন্য পাকিস্তানভিক্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীকে দায়ী করে আসছে ভারত।

হিজবুল্লাহকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করছে ইরান ও সিরিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস অভিযোগ করেছেন, লেবাননের কট্টরপন্থী শিয়া সংগঠন হিজবুল্লাহকে অত্যাধুনিক রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করছে ইরান ও সিরিয়া। এতে করে ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে।
ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাকের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে গেটস বলেন, ‘ইরান ও সিরিয়া হিজবুল্লাহকে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের জোগান দিচ্ছে। হিজবুল্লাহর কাছে এখন যত রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র আছে, বিশ্বের অনেক দেশের সরকারের হাতে তা নেই। এতে করে ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে। আমরা খুবই সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি লক্ষ করছি।’
ইসরায়েলের অভিযোগ, হিজবুল্লাহকে স্কাড ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে সিরিয়া। তবে সিরিয়া বারবার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

কুকুরের জন্য ব্লাড ব্যাংক

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজধানী চেন্নাইয়ের একটি পশুবিষয়ক হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় কুকুরের রক্ত সংরক্ষণাগার (ব্লাড ব্যাংক) চালু করেছে। তামিলনাড়ু ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি নামের ওই প্রতিষ্ঠান গত সোমবার সেখানে এই কার্যক্রম শুরু করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য পি থাঙ্গারাজু বলেছেন, ইতিমধ্যে কুকুরের ২৮ জন মালিক নিজ নিজ কুকুরের রক্তদানের জন্য নিবন্ধন করিয়েছেন। গত সোমবার একটি ব্ল্যাক ল্যাব্রাডার জাতের কুকুরের দেহ থেকে রক্ত সংগ্রহের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়।
থাঙ্গারাজু বলেন, পশুবিজ্ঞানীরা কুকুরের দেহে আট ধরনের (গ্রুপের) রক্তের অস্তিত্ব পেয়েছেন। এই সবগুলো গ্রুপের রক্তের মজুদ পেতে তাঁদের দাতা কুকুর দরকার।

সার্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগস্টে

আগামী আগস্ট মাসেই ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে সার্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম। সার্কভুক্ত আটটি দেশের ছাত্রছাত্রীরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবেন। প্রথম অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়টি অস্থায়ীভাবে চালু হবে দিল্লির একটি ভবনে। পরে এটি চলে যাবে এর নিজস্ব ক্যাম্পাসে।
এ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দক্ষিণ দিল্লির মেহেরৌলিতে ইতিমধ্যেই জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৪ সালের মধ্যে ক্যাম্পাস তৈরি হয়ে গেলে সেখানেই স্থানান্তরিত হবে এটি।
প্রথমে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবেন চার হাজার ছাত্রছাত্রী। পরে অবশ্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাত হাজারে উন্নীত করা হবে। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অর্ধেক হবেন ভারতীয়। বাকিরা আসবেন সার্কের অন্য সাতটি সদস্য রাষ্ট্র থেকে। এ সাতটি দেশের প্রতিটি দেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীর সংখ্যাও নির্ধারিত হতে পারে দেশটির জনসংখ্যার ভিত্তিতে। তবে তা কোনোভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্রছাত্রীর মোট সংখ্যার চার শতাংশের কম হবে না।

কাতিন গণহত্যার নথিপত্র প্রকাশ করেছে রাশিয়া

সোভিয়েত সেনাদের হাতে হাজার হাজার পোলিশ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার যে ঘটনা ইতিহাসে কুখ্যাত কাতিন গণহত্যা বলে পরিচিত, সেই ঘটনার কিছু দলিলপত্র ইন্টারনেটে প্রকাশ করেছে রাশিয়া। রাশিয়া-পোল্যান্ড সম্পর্কের সাম্প্রতিক বরফ গলার ধারাকে আরও ত্বরান্বিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ওই সংক্রান্ত নথিপত্র প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর এএফপির।
গণহত্যার ঘটনায় নিহত পোলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এ মাসের শুরুতে পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট লেস কাচজিনস্কি রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কাতিন সফর করতে গিয়ে সেখানে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন। তাঁর সঙ্গে মারা যান তাঁর স্ত্রীসহ আরও ৯৪ জন কর্মকর্তা। এ দুর্ঘটনায় শত্রুভাবাপন্ন দেশ রাশিয়ার পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। সেই সূত্রে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার রাশিয়া এ-বিষয়ক নথিপত্র ইন্টারনেটে প্রকাশ করে।
১৯৯২ সালে তত্কালীন প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলিসন এই নথিগুলোর অনুলিপি প্রথমবারের মতো পোল্যান্ড সরকারকে দেখানোর অনুমতি দিলেও এত দিন তা সাধারণের কাছে গোপন রাখা হয়েছিল।
প্রকাশিত নথিপত্রে ১৯৪০ সালে সোভিয়েতের একনায়ক জোসেফ স্তালিনের কাছে লেখা গোপন পুলিশ বিভাগ এনকেভিডির প্রধান ল্যাভরেন্তি বেরিয়ার একটি চিরকুট সংযুক্ত করা হয়েছে। ওই চিরকুটে সোভিয়েত বাহিনীর হাতে আটক ২৫ হাজার পোলিশ কর্মকর্তার নিয়তি নির্ধারণের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। এতে এনকেভিডির প্রধান দ্রুততার সঙ্গে বন্দীদের গুলি করে মেরে ফেলার বিষয়টি বিবেচনার জন্য স্তালিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন।
১৯৪০ সালের মার্চ মাস উল্লেখ করা ওই দলিলপত্রের প্রথম পাতায় স্তালিনের সই রয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর ওপর ‘টপ সিক্রেট’ লেখা একটি সিলমোহরও রয়েছে।
১৯৯০ সাল পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন ওই গণহত্যার কথা স্বীকার করেনি। শেষ পর্যন্ত সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ স্বীকার করে বলেন, স্তালিনের সময়ে ‘সোভিয়েত শক্তির শত্রু’ বিবেচনায় পোলিশ কর্মকর্তাদের এনকেভিডি হত্যা করে।

কাঠমান্ডুতে জড়ো হচ্ছে লাখ লাখ মাওবাদী

আগামী মে দিবসে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু করতে নেপালের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে লাখ লাখ মাওবাদী কর্মী-সমর্থক রাজধানী কাঠমান্ডুতে এসে জড়ো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপালের নেতৃত্বাধীন সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ওই দিন মাওবাদীরা কাঠমান্ডুর রাজপথে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবে। মে দিবসের পরের দিন অর্থাত্ ২ মে থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য হরতাল ও অবরোধ পালন শুরু করবে। ইতিমধ্যেই মাওবাদীরা কাঠমান্ডুসহ আশপাশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। ২ মে থেকে সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা ও বাণিজ্যকেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে পুরো দেশ অচল করে দেওয়া হবে বলে আগাম ঘোষণা দিয়েছে মাওবাদীদের দল ইউনিফায়েড কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (মাওয়িস্ট)। খবর নেপাল নিউজ ও এশিয়ান ট্রিবিউন অনলাইনের।
কর্মকর্তারা বলেছেন, কাঠমান্ডু থেকে ৬০০ কিলোমিটার দূরের তিরাই জেলার প্রত্যন্ত বারদিয়া গ্রামের মতো অসংখ্য নিভৃত পল্লি এলাকা থেকে মাওবাদীরা কাঠমান্ডুতে আসছে। পুলিশ বলেছে, থানকোট, সাঙ্গা, সানখু ও দক্ষিণকালী পয়েন্ট দিয়ে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি লোক রাজধানীতে এসে পৌঁছেছে। ৩০ মে পর্যন্ত গ্রাম থেকে প্রতিদিন অন্তত ২০ হাজার লোক জড়ো করার লক্ষ্য নিয়েছেন মাওবাদী নেতারা। ধাড়িং, কাবেরি, গোর্খা ও তানাহুনের মতো আশপাশের জেলা থেকে এখনো নেতা-কর্মীরা আসা শুরু করেননি। বিক্ষোভ শুরুর আগের দিন শহর এলাকার কর্মীরা রাজধানীতে আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, রাজধানীর বাইরে থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে মাওবাদীরা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা তুলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজের ভবন, দলীয় কার্যালয়, মন্দির এলাকা, সাধারণ নির্মাণাধীন ভবন ইত্যাদি জায়গায় এসে কর্মীরা জড়ো হচ্ছেন। অনেকে থাকার জায়গার অভাবে খোলা আকাশের নিচেও অবস্থান করছেন।
বহিরাগত কর্মীদের খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্কুল, ব্যাংক, গৃহনির্মাণ প্রতিষ্ঠান এমনকি মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও তাঁরা চাঁদা আদায় করছেন।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, চিতওয়ান ও নওয়াল পাড়াশি জেলার মতো অনেক জায়গাতেই মাওবাদীরা প্রতিটি পরিবারকে তাদের অন্তত একজন সদস্যকে মে দিবসের বিক্ষোভে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
কয়েক দিন আগে মাওবাদীদের নেতা পুষ্পকমল দহল প্রচণ্ড এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, নেপালের নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং প্রতিশ্রুত মেয়াদের মধ্যে শান্তি চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের জন্য তাঁরা আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের দাবি, মাধব কুমার নেপালের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে এবং তার জায়গায় নতুন জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করতে হবে। প্রচণ্ড হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আন্দোলনকারীদের ওপর সরকারের পক্ষ থেকে দমনাভিযান চালানো হলে যদি কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তাহলে তাঁরা তার দায় নেবেন না।

ইরাকে দ্রুত সরকার গঠনে হিলারির আহ্বান

নির্বাচন-পরবর্তী বিতণ্ডা বন্ধ করে দ্রুত সরকার গঠনের জন্য ইরাকি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। তবে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী আইয়াদ আলাবি অন্তর্বর্তীকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, নির্বাচনী ফলাফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা প্রতিহত এবং দেশকে সম্ভাব্য সহিংসতার হাত থেকে বাঁচাতে হলে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা প্রয়োজন।
গত ৭ মার্চ ইরাকে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কোনো দলই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। অন্যদের থেকে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে প্রথম স্থানে আছে আলাবির জোট। নির্বাচনের পর প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও সরকার গঠনের জন্য মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেননি ইরাকি নেতারা।
এর মধ্যেই গত সোমবার আলাবির জোট থেকে নির্বাচিত এক পার্লামেন্ট সদস্যকে অযোগ্য ঘোষণা করেছে বিচারকদের একটি প্যানেল। ওই সাংসদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সাবেক স্বৈরশাসক সাদ্দাম হোসেনকে সহযোগিতা করেছিলেন। এ ছাড়া বিজয়ী আরও সাত প্রার্থীর বিষয়ে বিচারক প্যানেলে গতকাল বুধবার সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল। এর আগে আরও ৫০ প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। তবে তাঁরা কেউ নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারেননি।
নির্বাচনের পর প্রার্থীদের এভাবে অযোগ্য ঘোষণা এবং সরকার গঠনের বিষয়ে নেতারা মতৈক্যে পৌঁছাতে না পারায় ইরাকের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আশঙ্কার সৃষ্টি হচ্ছে। নির্বাচনী ফলাফল এখন নতুন করে যাচাইয়ের ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন হিলারি ক্লিনটন।
গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে হিলারি বলেন, ‘প্রার্থীদের যোগ্যতা এবং নির্বাচনী ফলাফল যাচাইয়ের জন্য ইরাক যে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে, আমরা তার প্রতি সম্মান জানাই। তবে তা অবশ্যই স্বচ্ছ এবং নির্বাচনী বিধিবিধান মোতাবেক হতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো একক দল বা প্রার্থীকে সমর্থন করে না বরং শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সার্বভৌমত্বের জন্য ইরাকি দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারি চায়।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নিজেদের মতপার্থক্য সরিয়ে রেখে জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে দ্রুত সরকার গঠনের জন্য ইরাকি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।’
এদিকে নিজের দলের এক পার্লামেন্ট সদস্যকে অযোগ্য ঘোষণার পর আলাবি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের এ আহ্বান জানিয়েছেন। আলাবির জোটের কোনো প্রার্থী অযোগ্য ঘোষিত হলে এতে লাভবান হবে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নূরি আল-মালিকির জোট। মালিকির জোট নির্বাচনী ফলাফলে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। আলাবির জোট পেয়েছে ৯১ আসন। আর মালিকির জোট জিতেছে ৮৯ আসনে।
আলাবি বলেন, ‘ইরাকি জনগণের রায় চুরি করা হচ্ছে এবং অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আমরা আর চুপ থাকতে পারি না। আমরা নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি।’
অযোগ্য ঘোষণা করে শত শত প্রার্থীকে নির্বাচন করতে দেয়নি ইরাকের অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি অ্যান্ড জাস্টিস কমিশন। আর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এমন অনেক প্রার্থীকে এখন অযোগ্য ঘোষণা করছে এ কমিশন।
আলাবি বলেন, এই কমিশনের কোনো বৈধতা নেই। তারা ইচ্ছামতো যা খুশি তা-ই করছে। তারা সংবিধান মেনে কাজ করছে না।

ফেদেরারের হার

ফেদেরার আসলেই মাটির কোর্টে নড়বড়ে। না হলে রোম মাস্টার্সের তৃতীয় রাউন্ডে কেন হেরে যাবেন অখ্যাত আর্নেস্ট জিলবিসের কাছে (২-৬, ৬-১, ৭-৫ গেম)। আগামী মাসে শুরু হবে ফ্রেঞ্চ ওপেন। এর আগে এই পরাজয়ে ফেদেরার কি চিন্তিত? ‘না, আমি চিন্তিত নই’—না-বোধক উত্তরই দিলেন এক নম্বর তারকা।

ব্রাজিল আবার শীর্ষে

ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর জায়গাটি নিয়ে স্পেন আর ব্রাজিলের মধ্যে ইঁদুর-বিড়াল খেলা চলছে। আবারও স্পেনকে হটিয়ে দিয়ে এক নম্বরে উঠে এল ব্রাজিল। দক্ষিণ আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে সরিয়েই এক নম্বরে উঠে এসেছিল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। পাঁচ মাসের রাজত্ব শেষে দুইয়ে নেমে গেল স্পেন। ওয়েবসাইট।
র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে বড় ধরনের লাফ দিয়েছে আর্জেন্টিনা। দুই ধাপ এগিয়ে তারা এখন সাতে। এক ধাপ এগিয়ে পর্তুগাল এখন তিনে। চার-পাঁচ-ছয়ে নেদারল্যান্ড, ইতালি, জার্মানি; আট-নয়-দশে ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ফ্রান্স। দুই ধাপ নিচে নেমে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৬০-এ।

পাতানো ছিল আইপিএল ফাইনাল!

আইপিএলের গত রোববারের ফাইনালটি তাহলে পাতানো হয়েছিল! অন্তত একটা সন্দেহ জাগছেই। আর এই প্রশ্ন তুলে ধরেছে ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া। পত্রিকাটি জানিয়েছে, একটা বিশালসংখ্যক জুয়াড়ি অভিযোগ করেছে, বাজিকরেরা নাকি ‘চেন্নাই সুপার কিংস জিতবে’ এর পক্ষে বাজি ধরাই বন্ধ করে দিয়েছিল।
সেদিন ম্যাচে চেন্নাইয়ের শুরুটা হয়েছিল একদমই বাজে। ১০ ওভার শেষে তাদের স্কোর ছিল ৫৮/২। ওভারপ্রতি রান তোলার হার ছিল মাত্র ৫.৮। ওই অবস্থাতেও চেন্নাইয়ের পক্ষে বাজি ধরতে চেয়েও পারেননি। এর থেকেই ধারণা করা হচ্ছে, বাজিকরেরা আসলে আগে থেকেই জানত, ম্যাচটা চেন্নাইই জিততে চলেছে।
সূত্রগুলো টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছে, আইপিএলের ৬০টি ম্যাচে ১১০০ কোটি মার্কিন ডলারের বাজির ব্যবসা হয়েছে! বাংলাদেশি মুদ্রায় যে অঙ্কটা প্রায় ৭৫ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকার! গড়ে প্রতিটি ম্যাচে বাজি ধরা হয়েছে সাড়ে আট শ কোটি রুপির! এখানে মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে, খোদ আইপিএলের মূল্যমান ধরা হচ্ছে ৪০০ কোটি ডলার। অর্থাত্ আইপিএলের মোট মূল্যের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি টাকা লগ্নি হচ্ছে বাজিতেই!
বৈধ এবং অবৈধ বাজিকরেরা আইপিএল থেকে এবার কয়েক হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ফাইনাল ম্যাচটি বিত্তের পরিমাণ তাদের রাতারাতি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ ফাইনালে ফেবারিট ছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। ফাইনালের আগে ১৫টি ম্যাচের ১১টিই জিতেছিল যারা।
একজন শীর্ষস্থানীয় জুয়াড়ি টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, ‘কয়েক হাজার কোটি রুপি মুম্বাইয়ের জয়ের ওপরই বাজি ধরা হয়েছিল। কারণ ম্যাচের শুরুতেও ওরাই ছিল ফেবারিট। সবাই ধরেই নিয়েছিল, মুম্বাইয়ের জয় নিশ্চিত। কিন্তু চেন্নাই যখন ম্যাচে ফিরে আসতে শুরু করল, বাজিকরদের বসেরা তাদের নির্দেশ দিয়েছিল, চেন্নাইয়ের পক্ষে বাজি ধরা বন্ধ করে দিতে। এ ধরনের অপেশাদার আচরণের প্রতিবাদ করার কেউ সাহস পায়নি। কারণ এই বাজিকরদের সঙ্গে আন্ডার ওয়ার্ল্ডের ভালো সখ্য আছে। এর ফলেই বাজিকরেরা অভাবনীয় লাভ করেছে।’
সবচেয়ে বেশি লাভ করেছে কুখ্যাত ‘গডফাদার’ দাউদ ইব্রাহিমের গ্যাংটাই। দাউদের ‘ডি কোম্পানি’র হয়ে করাচির নুমান মিয়া নামের এক ব্যক্তি পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশের একটি সূত্র। আর ভারতে রাজেশ জয়পুর নিয়ন্ত্রণ করেছেন ভারতের বাজির ব্যবসা।

দিনটাই শুভ গেল একাডেমির

দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচের প্রথম দিনটা ভালোই কাটল জিপি-বিসিবি একাডেমি দলের। প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি দলকে ২২২ রানে অলআউট করে দিয়ে দিন শেষে বিসিবি একাডেমি দলের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১০৭ রান। অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন ৩৩ ও শুভাগত হোম ২০ রান নিয়ে খেলছিলেন।
ওবুস পিয়েনারের (১১০*) সেঞ্চুরি আর ওপেনার অব্রে সোয়ানপলের (৫২) ফিফটিতেই কোনোরকমে মান বাঁচানো একটা স্কোর দাঁড় করাতে পেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি দল। নইলে বাকিদের ইনিংসগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ রানটা মাত্র ১১! ৭৯ রানে ৫ উইকেট নেওয়া বিসিবি একাডেমির শেখর আহমেদের সামনেই মূলত ধসে পড়েছে সফরকারীরা। এ ছাড়া সাকলাইন সজীব ৩টি ও শুভাশিস রায় ২টি উইকেট নিয়েছেন।
দুই ওপেনার নাদিমউদ্দিন (১৬) ও রনি তালুকদার (৩৩) দলীয় ৫০ রানের মধ্যে ফিরে গেলেও তৃতীয় উইকেটে ৫৭ রানের জুটি গড়ে বিসিবি একাডেমি দলের ইনিংসটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন মিঠুন ও শুভাগত।

অনলাইনে বিশ্বকাপের টিকিট ১ জুন থেকে

আগামী ১ জুন থেকে শুরু হবে ২০১১ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় ম্যাচগুলোর টিকিট বিক্রির কার্যক্রম। তবে শুরুতে অনলাইনের মাধ্যমেই সংগ্রহ করতে হবে টিকিট। কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রির তারিখ পরে জানানো হবে।
কাল বিশ্বকাপের স্থানীয় আয়োজক কমিটির এক সভা শেষে বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস বলেছেন, ‘আপাতত মোট টিকিটের পাঁচ শতাংশ অনলাইনে ছাড়া হবে। পরে সেটা বাড়তেও পারে। আগ্রহীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে টিকিট বুকিং দিয়ে একটি ভাউচার সংগ্রহ করবেন। ম্যাচের আগে সেই ভাউচার দেখিয়ে তাঁরা কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করবেন। অনলাইনে টিকিট বিক্রি কার্যক্রম চলবে আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে।’ টিকিট বিক্রির ওয়েবসাইটের ঠিকানা এখনো চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছেন জালাল ইউনুস।
প্রাথমিকভাবে কিছু টিকিটের দাম জানা গেছে বিসিবি সূত্রে। পূর্ব গ্যালারির ‘ডি’ শ্রেণীর টিকিটের দাম ৩ মার্কিন ডলার, উত্তর ও দক্ষিণ গ্যালারির ‘সি’ শ্রেণীর ৬ ডলার, ক্লাব হাউস (উত্তর-দক্ষিণ) ‘বি’ শ্রেণীর ১০ ডলার ও আন্তর্জাতিক গ্যালারি (উত্তর-দক্ষিণ) ‘এ’ শ্রেণীর টিকিট ৩০ ডলার করে। আন্তর্জাতিক গ্যালারি মার্কি, গ্র্যান্ডস্ট্যান্ড সিটিং ও হসপিটালিটি বক্স, করপোরেট বক্স ও প্রেসিডেন্ট বক্সের টিকিটের দাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১১ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। খেলা শুরু হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে।

জাতীয় মহিলা দাবা

নাজরানা খানকে (ইভা) টপকে আরলিন ডেভেলপার জাতীয় মহিলা দাবায় শীর্ষে উঠে গেলেন শারমীন সুলতানা (শিরিন) ও শামীমা আক্তার (লিজা)। পঞ্চম রাউন্ড শেষে দুজনেরই পয়েন্ট সাড়ে চার পয়েন্ট। চার পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে শারমীন। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে কাল মাসুদা বেগমের কাছে হেরেছেন নাজরানা খান। হেরে গেছেন আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার রানী হামিদও। তাঁকে হারিয়েছেন শারমীন। এটা রানী হামিদের দ্বিতীয় হার। জিতেছেন শামীমা, জাকিয়া সুলতানা ও দিলারা জাহান। শামীমা জাহানারা হককে, জাকিয়া মাহমুদা হককে ও দিলারা ইয়ন সরকারকে হারিয়েছেন।

চ্যাম্পিয়নস লিগ বার্সাকে বিদায় দিয়ে ফাইনালে বায়ার্নের সামনে ইন্টার

এ এক অদ্ভুত বৈপরীত্য। জয়ী দলের মুখে হাসি নেই। হেরে যাওয়া দল আনন্দ করল। আসলে চ্যাম্পিয়নস লিগের পদ্ধতিটাই এমন যে, অঙ্কের মারপ্যাঁচ এক দলকে হাসায়, আরেক দলকে কাঁদায়।
কাল ন্যু ক্যাম্পে যেমন হেরেও হাসল ইন্টার মিলান। ৩৮ বছর পর চ্যাম্পিনস লিগের ফাইনালে যাওয়ার মুহূর্তটা তো তাদের কাছে আনন্দেরই হবে। ওদিকে ঘরের মাঠে বার্সেলোনার স্বপ্নভঙ্গ। পারল না তারা টানা দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপাটা জিততে। সেমিফাইনালেই এবার থামতে হলো মেসিদের।
ইন্টারের মাঠে ৩-১ গোলে হেরে আসায় সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে সরল সমীকরণে বার্সার প্রয়োজন ছিল ২-০ জয়। কিন্তু তারা জিতল ১-০ গোলে। সেই গোল এল ৮২ মিনিটে। করলেন গোরার্ড পিক। দ্বিতীয় গোলটার জন্য মরণপণ চেষ্টা করে যাওয়া বার্সা ইন্টারের জালে বলও ঢুকিয়েছিল। কিন্তু আগেই হ্যান্ডবলের কারণে ওই গোল দেওয়া হয়নি।
শুরু থেকেই গোলের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়া বার্সা ইন্টারকে কোণঠাসা করে রাখল গোটা ম্যাচেই। তাদের সুবিধা হয়ে গেল ২৭ মিনিটে ইন্টার ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ায়। লঘু পাপে গুরুদণ্ড পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ইন্টারের থিয়াগো মোতাকে। ১০ জনের সেই ইন্টার যে একটির বেশি গোল করতে দিল না বার্সার মতো দলকে, সেটি তাদের বড় কৃতিত্বই।
মেসি চেষ্টা করেছেন। কিন্তু পারলেন না। ২২ মের ফাইনালে দেখা যাবে না মেসিকে, মেসিভক্তদের জন্য এটিই সবচেয়ে হতাশার।

অনুশীলন ঘাটতিকেই দায়ী করলেন মারুফ

ড্রেসিংরুমের এক কোনায় পাওয়া গেল মারুফুল হককে। হতাশ-বিষণ্ন। একটু আগে ফরাশগঞ্জের সঙ্গে ড্রয়ে পেশাদার ফুটবল লিগের শিরোপার আশা যেন শেষ হয়ে গেছে বলেই ধরে নিয়েছেন মোহামেডান কোচ। সে জন্যই হয়তো বলে দিলেন, ‘কোনো সম্ভাবনা নেই আর।’
আবাহনীর চেয়ে ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে। ম্যাচ বাকি পাঁচটি। কাগজ-কলমে সম্ভাবনা বেঁচে থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে আবাহনীকে পেছনে ফেলা অবাস্তব মনে হচ্ছে মারুফের কাছে, ‘আবাহনী পয়েন্ট হারাবে আর আমরা লড়াইয়ে ফিরে আসব—এ রকম চিন্তাই করতে পারছি না। ওরা কি আর এই সুযোগ ছাড়বে?’
মোহামেডান কোচ তাঁর দলের এই দুর্দশার জন্য দায়ী করলেন অনুশীলন ঘাটতিকে, ‘গত ২৩ তারিখের পর আর অনুশীলন হয়নি। ২৪ তারিখ ম্যাচ খেলার পরদিন বিশ্রাম ছিল। আজ আবার খেললাম।’ কেন অনুশীলন হয়নি সেটা তিনি খুলে বলেননি। ‘পরে বলব’ বলে অপেক্ষায় রাখলেন।
বেতন না পেয়ে বিদেশিরা বিদ্রোহ করার পর স্থানীয় খেলোয়াড়েরা বিদ্রোহ করেছেন। গত এক সপ্তাহ সিরিয়াস অনুশীলন না হওয়ায় খেলোয়াড়দের ফিটনেসে ঘাটতি ছিল। এসব কারণে কোচ মারুফ ক্ষুব্ধ। শিরোপা জিততে পারবেন না ধরে নিয়ে আগেই এক প্রশ্নে বলে দিলেন, ‘গতবার আমি ব্যর্থতার দায় নিয়েছি। এবার নেব না। এবার আমার অনেক কিছু বলার আছে।’
দুই গোলে এগিয়ে গিয়ে ড্র করার কারণটা বললেন মোহামেডান কোচ, ‘মাঝমাঠ ভেঙে পড়েছিল। রক্ষণ ছিল অগোছালো। আমরা ওদের (ফরাশগঞ্জ) গোল করার সুযোগ করে দিয়েছি। আমাদেরই ব্যর্থতা।’
গোলরক্ষক আমিনুল সব দায় নিজেদের কাঁধেই নিলেন, ‘আমরা দুই গোলের পর বাজে ফুটবল খেলেছি। নির্ভার হয়ে গিয়েছিলাম। আমাদের কাছে লোকে এমন ফুটবল আশা করে না।’
নিস্তব্ধ ড্রেসিংরুমে আর সবার মতো মাথা নিচু ছিল অধিনায়ক আরমান আজিজের। বললেন, ‘আমাদেরই দোষ। আমরা কেন ওভাবে নির্ভার হয়ে যাই!’

অস্ট্রেলিয়াকে আবারও হারাল জিম্বাবুয়ে

শিরোপা তো নয়ই, গত দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালেও খেলতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। এবারও ফাইনালের পথটা তাদের জন্য সহজ হবে না—প্রস্তুতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সেই বার্তাই দিয়ে রাখল জিম্বাবুয়ে। গ্রস আইলেটের বোসেজো স্টেডিয়ামে পরশু জিম্বাবুয়ে ১ রানে হারিয়েছে মাইকেল ক্লার্কের দলকে। দিনের অন্য প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান ৬৮ রানে উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডকে এবং নিউজিল্যান্ড ৪০ রানে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়েছে।
২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই জিম্বাবুয়েই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের অভিষেকটাই হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় দিয়ে। সেই জিম্বাবুয়ে আবারও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিল। এলটন চিগুম্বুরার ৩৫ বলে ৭৬ রানের (৫টি চার ও ৬টি ছয়) সুবাদে প্রথমে ব্যাট করে জিম্বাবুয়ে ৭ উইকেটে তুলেছিল ১৭৩ রান। ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার এক প্রান্ত আগলে রেখে ৭২ রান করলেও অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে ১৭২ রানের বেশি তুলতে পারেনি। ওয়ার্নারের ৪৯ বলের ইনিংসটিতে আছে ৪টি চার ও ৫টি ছয়। মাইকেল ক্লার্ক দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৯ রান করেন।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১৩ রান দরকার ছিল অস্ট্রেলিয়ার। কিন্তু শেষ ওভারে দুটি উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১৭২ রানে থামিয়ে দেয় জিম্বাবুয়ে। পোফুর ওভারটিতে মাইকেল ক্লার্ক হয়েছেন বোল্ড। মিচেল জনসন রানআউট। তবে এই ম্যাচের পরাজয় অস্ট্রেলিয়ার আত্মবিশ্বাসে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেই দাবি জনসনের, ‘অবশ্যই ম্যাচটি জিততে চেয়েছিলাম আমরা। যখন খেলবেন, নিজেদের সেরা খেলাটাই খেলতে চাইবেন। তবে এটা (পরাজয়) আমাদের পেছনে ঠেলে দেবে না। প্রস্তুতি ম্যাচে হেরে যাওয়াটা হতাশাজনক, তবে এগিয়েই যেতে হবে আমাদের।’ পরাজয় পেছনে ঠেলে না দিলেও ব্রেট লির ইনজুরি অস্ট্রেলিয়াকে বড় ধাক্কাই দিয়েছে। চোটের কারণে বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না এই অস্ট্রেলিয়ান তারকার।
একই মাঠে উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডের বিপক্ষে মোহাম্মদ হাফিজের ফিফটিতে (৫৭) ১৬০ রান করেছিল পাকিস্তান। উইন্ডওয়ার্ড ২০ ওভার খেললেও ৪ উইকেটে ৯২ রানের বেশি তুলতে পারেনি।
গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে রাইডারের ৩০ বলে ৬০ রানের সুবাদে ৫ উইকেটে ১৮৭ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। আয়ারল্যান্ড ৯ উইকেটে করে ১৭৪ রান।

১২৬ করে কি জেতা যায়?

ওয়েস্ট ইন্ডিজে দ্বিতীয় অনুশীলন ম্যাচটায় বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল কচ্ছপ গতির মতো। এত ধীর ব্যাটিং টি-টোয়েন্টিতে বেমানান। ঠেলাগাড়ির মতো ঠেলে-ধাক্কিয়ে বাংলাদেশ দল ২০ ওভারে ৭ উইকেটে করতে পারল ১২৬। এই রান নিয়ে আর যাই হোক ইংল্যান্ডের মতো দলের সঙ্গে লড়াই করা কঠিন। শেষ পর্যন্ত সেটিই হলো। ইংল্যান্ড লক্ষ্যে পৌঁছাতে খেলেছে ১৭.১ ওভার পর্যন্ত। উইকেট হারিয়েছে ৩টি।
পরশু বারবাডোজের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি অনুশীলন ম্যাচে বাংলাদেশ করেছিল ১৬৬। ৩৬ রানের জয় দিয়ে শুরু করা গেছে এই সফর। কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগে দ্বিতীয় ম্যাচের ব্যাটিংটা মনমতো হলো না বাংলাদেশের। গোটা ইনিংসে ৯টি চার আর ছক্কা মাত্র ১টি। এটা টি-টোয়েন্টির ব্যাটিং বিজ্ঞাপন হতে পারে না।
প্রথম ম্যাচে সর্বোচ্চ ৫৭ রান করা ইমরুল কায়েস এদিন ১৪ রান করে অ্যান্ডারসনের বলে ক্যাচ দিয়েছেন লুম্বকে। ১৩ বলে ১টি চার ও ১টি ছয়। আগের ম্যাচে ৩৫ করেছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল, এ ম্যাচে ২৩ বলে ৩টি চারে ২১ করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। বাংলাদেশ তখন ৭ ওভারে ৫০/২। পরের ১০ বলে রান এল মাত্র ৫। কিন্তু উইকেট পড়ল আরেকটি। আফতাব ১৩ বলে ৮। বাংলাদেশ ৫৫/৩। এভাবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকল। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা উইকেটে গিয়েছেন আর ফিরে এসেছেন।
ব্যতিক্রম একজনই—মাহমুদউল্লাহ। ১৭.২ ওভারে ১০৪ রানে ৭ উইকেটে হারা বাংলাদেশ ১২৬ রান করতে পারল তারই কল্যাণে। তৃতীয় উইকেট পড়ার পর ক্রিজে এসে ৩০ বলে চারটি চারে অপরাজিত ছিলেন ৩৮ রানে।
বাংলাদেশ: ১২৬/৭ (ইমরুল ১৪, আশরাফুল ২১, আফতাব ৮, সাকিব ৭, মাহমুদউল্লাহ ৩৮*, নাঈম ৯, মুশফিকুর ২, জহিরুল ৪, মাশরাফি ১৩*। অতিরিক্ত ১৩ (লেবা ৫, ও ৬, নো ২)। ইয়ার্ডি ২০/৩, অ্যান্ডারসন ২৩/২, কলিংউড ১৩/১। উইকেট পতন: ১-৩৯, ২-৫০. ৩-৫৫, ৪-৬৬, ৫-৮৫, ৬-৮৯, ৭-১০৪।
ইংল্যান্ড: ১৭.১ ওভারে ১২৭/৩: (লুম্ব ৮, ক্রিয়েসউইটার ২২, রোপারা ৬২, কলিংউড ৩২*, মরগান ০*। অতিরিক্ত ৩। সাকিব ৪ ওভারে ২৩/১, রাসেল ২ ওভারে ২৩/১, মাশরাফি ২ ওভারে ১২/০, রাজ্জাক ৪ ওভারে ১৯/০।)
ফল: ইংল্যান্ড ৭ উইকেটে জয়ী।

ইমরুলের ব্যাটে বাংলাদেশের জয়

ফর্মহীনতার কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে বাদ পড়েছিলেন। এর মধ্যে আর কোথাও নিজেকে এমন কিছু প্রমাণও করতে পারেননি। তার পরও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে আশা কথা শুনিয়ে গিয়েছিলেন, ‘সুযোগ পেলে যে পজিশনেই বলা হোক না কেন, ভালো রান করার চেষ্টা করব। ওপেনিং করতেও আপত্তি নেই।’
তামিম ইকবালের ইনজুরির কারণে ওপেনিংয়েই সুযোগ পাওয়া মোহাম্মদ আশরাফুল কথা রেখেছেন। গত পরশু কেনসিংটন ওভালে প্রস্তুতি ম্যাচে বারবাডোজকে ৩৬ রানে হারানোর পথে আশরাফুল করেছেন ৩৫ রান। তবে বাংলাদেশের ব্যাটিং-নায়ক আশরাফুল নন, ইমরুল কায়েস।
টি-টোয়েন্টির শুরুটা যেমন হওয়া চাই, ঠিক তেমনই করেছিলেন ইমরুল। ৩৫ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছয়ে ৫৭ রান। সেই সঙ্গে আফতাব আহমেদের ২১ বলে ২৬ রান নিয়ে ৫ উইকেটে ১৬৬ রান তুলেছিল বাংলাদেশ।
সদ্যসমাপ্ত আইপিএল অভিজ্ঞতা বলে ১৬৬ রান টি-টোয়েন্টিতে এমন কিছু নিরাপদ স্কোর না। কিন্তু প্রতিপক্ষ বারবাডোজ বলেই কি না, একেবারে শুরু থেকে চড়ে বসেছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। শুরুটা করেছিলেন আরেক ‘কামব্যাক হিরো’ মাশরাফি বিন মুর্তজা। ইনিংসের চতুর্থ বলেই আশরাফুলের ক্যাচ বানিয়েছেন তিনি ওপেনার রশিদি বাউচারকে। তাতে অবশ্য বাংলাদেশের ভয় কমেনি। এর পর ৪৯ বলে ৫০ রান করে বেশ শক্ত একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতার গন্ধ ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান টেস্ট-ওয়ানডে ক্রিকেটার রায়ান হাইন্ডস। তবে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিচ্ছিলেন ২৯ বলে ৪৫ রান করা কার্টার। দুজনই অপরাজিত ছিলেন। শেষ পর্যন্ত রান-বলের সমীকরণের সঙ্গে পেরে ওঠেননি হাইন্ডস-কার্টার।
নাঈম ইসলাম, আবদুর রাজ্জাক, আশরাফুলদের আঁটোসাটো বোলিংয়ে ৩ উইকেটে ১৩০ রানে থেমে গেছে বারবাডোজের ইনিংস। বাংলাদেশের হয়ে বাকি দুটি উইকেট নিয়েছেন রাজ্জাক ও রুবেল হোসেন।
ম্যাচটা অবশ্য ঠিক প্রথাসিদ্ধ হয়নি। অনুশীলনের স্বার্থে দুদলই উল্টেপাল্টে ১৪ জন করে খেলোয়াড় খেলিয়েছে। ক্রিকইনফো।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ: ১৬৬/৫ (ইমরুল ৫৭, আশরাফুল ৩৫, আফতাব ২৬, সাকিব ১১, নাঈম ৯*, মাহমুদউল্লাহ ১৪, মুশফিকুর ৪*; মার্টিন নার্স ৩/২১, অ্যাশলি নার্স ১/২৯, ব্র্যাথওয়েট ১/৩৪)। বারবাডোজ: ১৩০/৩ (মার্টিন নার্স ১৮, বাউচার ০, হাইন্ডস ৫০*, এডওয়ার্ডস ৮, কার্টার ৪৫*; মাশরাফি ১/২৭, রাসেল ০/৩৩, নাঈম ০/১৩, সাকিব ০/২৭, রাজ্জাক ১/৭, আশরাফুল ০/৪, রুবেল ১/১৮)। ফল: বাংলাদেশ ৩৬ রানে জয়ী

Thursday, April 29, 2010

ভারতীয় এক কূটনীতিক নয়াদিল্লিতে গ্রেপ্তার

ইসলামাবাদে ভারতীয় দূতাবাসের এক নারী কূটনীতিককে নয়াদিল্লিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাকিস্তানের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয় টেলিভিশনের খবরে গতকাল মঙ্গলবার এ কথা জানানো হয়। স্বরাষ্ট্রসচিব গোপাল পিল্লাই জানিয়েছেন, ইসলামাবাদে ভারতীয় দূতাবাসের মহিলা কূটনীতিক মাধুরী গুপ্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খবর এএফপি।
সন্দেহ করা হচ্ছে, মাধুরী গুপ্ত পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে গোপন তথ্য পাচার করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি র-এর কাছ থেকে তথ্য নিয়ে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাকে দিতেন। মাধুরী ইসলামাবাদ দূতাবাসে প্রায় তিন বছর ধরে কাজ করছেন। তিনি সেখানে তথ্য শাখার কর্মকর্তা ছিলেন।
ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব কে সি সিং ‘টাইমস নাউ’ সংবাদ চ্যানেলকে বলেন, অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। এদিকে ভারতের গোয়েন্দা ব্যুরোর সাবেক প্রধান অরুণ ভগত ওই চ্যানেলকে মাধুরীর গ্রেপ্তার সম্পর্কে বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ ব্যাপারে পরিপূর্ণ তথ্য নিয়ে একটি বিবৃতি দেওয়া হবে। তবে জানা গেছে, ওই কূটনীতিক তাঁর অপরাধ স্বীকার করেছেন।

জাতীয় মহিলা দাবা

আরলিন ডেভেলপার জাতীয় মহিলা দাবায় শীর্ষে নাজরানা খান (ইভা)। চতুর্থ রাউন্ড শেষে তাঁর সংগ্রহ চার পয়েন্ট। সাড়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে শামীমা আক্তার (লিজা) ও শারমীন সুলতানা (শিরিন)। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে কাল নাজরানা রোকসানা তিতলীকে, আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার রানী হামিদ মাহমুদ হক চৌধুরীকে, প্রতিভা তালুকদার জাকিয়া সুলতানাকে হারিয়েছেন। মাসুদা বেগম দিলারা জাহানকে এবং জাহানারা হক রুনু ইয়ন সরকারকে হারিয়েছেন। শামীমা ও শারমীনের ম্যাচটি ড্র হয়েছে।

আইসিসিতেও পদত্যাগ

২০০০ সালের ম্যাচ পাতানো কেলেঙ্কারির পর আরেকটা মহাধাক্কা আসতে যাচ্ছে ক্রিকেটে? এক আইপিএল নিয়েই কত না কেলেঙ্কারির খবর, কত না গুঞ্জন! সেসব সত্যি হোক বা নাই হোক, ঠিক এই অবস্থায়ই পদত্যাগ করে বসলেন আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ও নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা রবি সাওয়ানি। সাওয়ানির পদত্যাগের সঙ্গে আইপিএলের সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও সন্দেহের আঙুল সেদিকেই। এদিকে সাওয়ানির এই পদত্যাগ আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগকেই নেতৃত্বশূন্য করে দিতে যাচ্ছে। কারণ, আগামী জুনে অবসর নিতে যাচ্ছেন বিভাগের দীর্ঘকাল ধরে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা পল কনডনও।

শেষ রক্ষা হচ্ছে না উডসের

সম্পর্ক ধরে রাখার জন্য কত কিছুই না করলেন টাইগার উডস! কিন্তু কাজ হচ্ছে না কোনো কিছুতেই। উডসের স্ত্রী এলিন নরদেগ্রেনের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র শিকাগো সান টাইমসকে জানিয়েছে, দিনের বেশির ভাগ সময়টা এলিনের এখন কাটছে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে, প্রসঙ্গ—বিবাহবিচ্ছেদ। একজন-দুজন নয়, আলোচনা চলছে যুক্তরাষ্ট্র ও নিজের শহর স্টকহোমের বেশ কজন আইনজীবীর সঙ্গে। শোনা যাচ্ছে, ডিভোর্স হলে উডসকে গুনতে হবে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
সান টাইমস-এর সেই সূত্রই জানিয়েছে, এত বিশাল অঙ্কের অর্থ দাবি করার কারণ একটি বই। সম্প্রতি লেডি কলিন ক্যাম্পবেলের এমপ্রেস বিয়াঙ্কা বইটি পড়েছেন এলিন, যেটিতে ধনকুবের একজন লোক স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর সব সম্পদ সন্তানদের না দিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে দিয়ে দেন। বই পড়ে চিন্তিত এলিন তাই নিজের দুই সন্তানের ভবিষ্যত্ নিশ্চিত করতে চাইছেন। অ্যারিজোনায় একটা নতুন বাড়ি কেনার কথাও নাকি চিন্তা করছেন এলিন।

বাংলাদেশ ১৬৬/৫

বারবাডোজকে জয়ের জন্য ১৬৭ রানের টার্গেট দিয়েছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে কাল কেনসিংটন ওভালে ইমরুল কায়েসের ৫৭ রানের সুবাদে ১৬৬ রান করেছে সাকিব আল হাসানের দল। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশকে ভালো একটা সূচনা এনে দেন ইমরুল কায়েস ও মোহাম্মদ আশরাফুল। নবম ওভারের তৃতীয় বলে আশরাফুলের আউট হওয়ার আগে উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৬৪ রান। ৩৫ রান করেন আশরাফুল। তাঁর ৩৫ বলের ইনিংসে আছে ৪টি চার ও ১টি ছয়। ইমরুলের ৫৭ রানই বাংলাদেশ ইনিংসের একমাত্র ফিফটি। তাঁর ৩৫ বলের ইনিংসটি ৪টি চার ও ৩টি ছয়ে সাজানো। ১টি চার ও ১টি ছয়ে ২১ বলে ২৬ রান করেন আফতাব আহমেদ। ৭ বলে ১১ করেন সাকিব। বল হাতে সবচেয়ে সফল বোলার মার্টিন নার্স। ২১ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
১ মে গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে আরও একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। আজ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই প্রস্তুতি ম্যাচটিও হবে কেনসিংটন ওভালে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৬৬/৫ (ইমরুল ৫৭, আশরাফুল ৩৫, আফতাব ২৬, সাকিব ১১, নাঈম ৯* মাহমুদউল্লাহ ১৪, মুশফিকুর ৪*; মার্টিন নার্স ৩/২১, অ্যাশলি নার্স ১/২৯, বাথওয়েট ১/৩৪)।

বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন কিউইদের চোখে

সেমিফাইনালের দল—ক্রিকেটের বড় আসরে নিউজিল্যান্ডের পরিচিতি যেন এটাই। তবে এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফাইনালে ওঠাটাই টার্গেট নিউজিল্যান্ডের। এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকাটা যে তাঁকেই নিতে হবে, সেটা ভালোই জানেন অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টোরি।
বোলিংয়ে ভেট্টোরিই নিউজিল্যান্ডের বড় অস্ত্র। তবে দলের স্পিন আক্রমণে সহযোগী হিসেবে তিনি পাচ্ছেন নাথান ম্যাককালামকে। অলরাউন্ডার রব নিকোলও স্পিন বল করতে পারেন। আর এঁদের সঙ্গে আছেন শেন বন্ড-জ্যাকব ওরামের মতো পেসাররা। দলের বোলিং শক্তিটাই স্বপ্ন দেখাচ্ছে ভেট্টোরিকে, ‘আমরা খুবই আশাবাদী। কাইল ফিরে এসেছে। তার ওপরও ভরসা করা যায়। টিম সাউদি ভালো করছে। ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছে বাটলার; সেও দলের সফল বোলার।’ তবে ভেট্টোরির বেশি প্রত্যাশা স্পিনারদের কাছে, ‘আমি মনে করি ক্যারিবীয় ধীরগতির পিচে স্পিনই বড় একটা ভূমিকা রাখবে। আশা করছি, নাথান ম্যাককালাম এবং আমি নিজে গুরুত্বপূর্ণ একটা ভূমিকা রাখতে পারব।’
এবার শিরোপা জেতার লক্ষ নিউজিল্যান্ডের। যেমনটা বললেন স্কট স্টাইরিস, ‘শুধু সুপার এইট কিংবা সেমিফাইনাল খেলার কথাই ভাবছি না আমরা, টুর্নামেন্ট জয়েরও সত্যিকারের সম্ভাবনাই দেখছি।

সিলেট বিকেএসপি পেল বাফুফে

একাডেমি গড়তে আগামী পাঁচ বছরের জন্য সিলেট বিকেএসপিকে ব্যবহার করতে পারবে বাফুফে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় দু দিন আগে বাফুফেকে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে। এর মাধ্যমে অবসান হতে চলেছে বাফুফে-মন্ত্রণালয় প্রায় এক বছরের চিঠি চালাচালি।
সিলেট বিকেএসপিতে একাডেমি গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে এত দিন সরকারের দিকে চেয়ে ছিল বাফুফে। সরকার সিলেট বিকেএসপির অর্ধেক দিতে রাজি হয়েছিল প্রথমে। কিন্তু বাফুফে চায় পুরোটাই। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শেষ পর্যন্ত তাদের ইচ্ছাই পূরণ হলো। যদিও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও ৫ মাস পেরিয়ে গেছে।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেএসপির বোর্ড অব গভর্নরসের ২১তম সভায় এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, শর্তসাপেক্ষে ৫ বছরের জন্য সিলেট বিকেএসপি বাফুফেকে লিজ দেওয়া যেতে পারে। এই সময়ের মধ্যে সরকার অথবা বাফুফের উদ্যোগে একটি ফুটবল একাডেমি গড়া হবে।
৫ বছরের জন্য বিকেএসপি নেবে কি না সে ব্যাপারে নির্বাহী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেবে বাফুফে। সেই সিদ্ধান্ত বিকেএসপি নেওয়ার পক্ষেই যাবে বলে জানা গেছে। তবে কবে নাগাদ একাডেমির কাজ শুরু হবে বলা যাচ্ছে না।
পুলিশের দ্বারস্থ: চলমান বাংলাদেশ লিগে পাতানো খেলা বন্ধের জন্য পুলিশের সাহায্যপ্রার্থী বাফুফে। কাল বাফুফের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা মহানগর পুলিশের দপ্তরে গিয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়েছেন এবং খুব শিগগিরই অভিযানে নামবেন তাঁরা—বাফুফে থেকে এমনটিই জানানো হয়েছে। তবে অতীতেও পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিল বাফুফে। কিন্তু এ ব্যাপারে কখনোই কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

প্রস্তুতি ম্যাচ জিতল বাংলাদেশ

জয় দিয়েই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হলো বাংলাদেশের। কাল কেনসিংটন ওভালে বারবাডোজের বিপক্ষে ৩৬ রানে জিতেছে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ১৬৬ রান তোলে। জবাবে স্বাগতিকেরা ৩ উইকেটে করে ১৩০ রান।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশকে উদ্বোধনী জুটিতে ভালোই একটা সূচনা এনে দিয়েছিলেন ইমরুল কায়েস ও মোহাম্মদ আশরাফুল। নবম ওভারের তৃতীয় বলে আশরাফুলের আউট হওয়ার আগে উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৬৪ রান। ৩৫ রান করেন আশরাফুল। তাঁর ৩৫ বলের ইনিংসে আছে ৪টি চার ও ১টি ছয়। ইমরুল সমান ৩৫ বলে করেন ইনিংস-সর্বোচ্চ ৫৭ রান। দলীয় ১১৭ রানে আউট হওয়ার আগে আফতাব আহমেদকে নিয়ে ইমরুল দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৫৩ রান করেন। ৪টি চার ও ৩টি ছয়ে সাজানো ইমরুলের ইনিংস। ১৩৯ রানে বারবাডোজের তৃতীয় শিকার হওয়ার আগে আফতাব ২১ বলে করেন ২৬। এর এক বল পরই আউট হয়ে যান অধিনায়ক সাকিব (৭ বলে ১১ রান)।
রান তাড়া করতে আসা বারবাডোজকে প্রথম ওভারেই আঘাত করেন মাশরাফি বিন মুর্তজা; চতুর্থ বলে রশিদি বাউচারকে ফিরিয়ে দেন। দুই নম্বরে ব্যাটিংয়ে আসা অধিনায়ক রায়ান হাইন্ডস ৪৯ বলে ৫০ (৫টি চার) রানে অপরাজিত থাকলেও ৩ উইকেটে ১৩০ রানের বেশি তুলতে পারেনি বারবাডোজ।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ১ মে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে আরও একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। আজ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই প্রস্তুতি ম্যাচটিও হবে কেনসিংটন ওভালে। ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৬৬/৫ (ইমরুল ৫৭, আশরাফুল ৩৫, আফতাব ২৬, সাকিব ১১, নাঈম ৯* মাহমুদউল্লাহ ১৪, মুশফিকুর ৪*; মার্টিন নার্স ৩/২১, অ্যাশলি নার্স ১/২৯, বাথওয়েট ১/৩৪)।
বারবাডোজ: ২০ ওভারে ১৩০/৩ (হাইন্ডস ৫০*, মার্টিন নার্স ১৮, বাউচার ০, কির্ক এডওয়ার্ডস ৮, কার্টার ৪৫*; মাশরাফি ১/২৭, রাসেল ০/৩৩, নাঈম ০/১৩, সাকিব ০/২৭, রাজ্জাক ১/৭, আশরাফুল ০/৪, রুবেল ১/১৮)।
ফল: বাংলাদেশ ৩৬ রানে জয়ী।

স্বপ্ন দেখছেন লুকা টনি

রূপকথার গল্প শেষে বাস্তবের মাটিতে নেমে এসেছেন অনেক আগেই। তবে গলা ছেড়ে হাল না ছাড়ার গান ঠিকই গেয়ে যাচ্ছেন লুকা টনি। ২০০৬ বিশ্বকাপের আগের রূপকথার মতো সেই সময়টা হয়তো আর আসবে না, লুকা টনি তবু স্বপ্ন দেখছেন। স্বপ্ন আরেকটা বিশ্বকাপ খেলার। ইতালিয়ান স্ট্রাইকারের আশাবাদী হয়ে ওঠার কারণ দুটি। যে মার্সেলো লিপ্পি তাঁকে প্রথম ইতালি দলে ডেকেছিলেন, সেই লিপ্পিই যে এবারের বিশ্বকাপেও ইতালির কোচ! ধারে খেলতে আসা রোমায় তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সটাও ভালোই।
২০০৩ থেকে ২০০৬ বিশ্বকাপের আগে পর্যন্ত, দারুণ এক সময়ই এসেছিল টনির ক্যারিয়ারে। পেশাদার ক্যারিয়ারটা সেই ১৯৯৪ সালে শুরু করলেও টনির প্রথম ছয়টি বছর কেটেছে মডেনা, ফিওরেনজুওলা, লোডিজিয়ানি, ট্রেভিসো, ব্রেসসিয়া নামের অখ্যাত ক্লাবগুলোতে যেনতেন মানের ফুটবল খেলেই। ক্যারিয়ারের বাঁক ঘুরে যায় ২০০৩ সালে। সে বছর পালের্মোতে যোগ দেন তিনি। দু বছরে এই ক্লাবে ৮০টি ম্যাচ খেলেছেন ইতালিয়ান স্ট্রাইকার, করেছেন ৫০ গোল। ২০০৪ সালে জিওভান্নি ত্রাপাত্তোনির জায়গায় ইতালির কোচ হয়ে আসেন মার্সেলো লিপ্পি। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা টনিকে দলে নিয়ে নেন তিনি।
২০০৫-০৬ মৌসুমে লিগে ৩৮ ম্যাচে ৩১ গোল করে জায়গা করে নেন বিশ্বকাপ দলেও। কিন্তু রূপকথার গল্পেরও তো শেষ আছে! অনেক আশা জাগিয়েও তাই হতাশ একটা বিশ্বকাপই কাটাতে হলো তাঁকে। ইতালি বিশ্বকাপ জিতলেও মাত্র দুটি গোলই করতে পেরেছিলেন টনি।
বিশ্বকাপের হতাশা হয়তো ভুলে ছিলেন বায়ার্ন মিউনিখের ডাক পেয়ে। জার্মানি ২০০৬ বিশ্বকাপের হতাশা ভুলে ২০০৭ সালে জার্মানির ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন। কিন্তু জার্মানি যেন অপয়া একটা দেশই তাঁর জন্য! ২০০৭-০৮ ও ২০০৮-০৯, এ দুটি মৌসুম মোটামুটি কাটালেও নতুন মৌসুমটা একেবারেই বাজে গেল টনির। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মাত্র ৫টি ম্যাচেই তাঁকে মাঠে নামিয়েছিলেন কোচ লুই ফন গল। গোল পেয়েছেন একটি।
এরপর টনির অনুরোধে বায়ার্ন তাঁকে ইতালির ক্লাব এএস রোমায় ধারে খেলতে পাঠায়। রোমাতে ১০ ম্যাচ খেলে ৫টি গোলও পেয়েছেন। এই পারফরম্যান্সই তাঁকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ‘ভালো কিছু ম্যাচ খেলেছি আমি। ফিরে পাওয়া ফর্মটা ধরে রাখতে পারলে তো স্বপ্ন দেখা যায়ই।’

ব্যর্থতা ঘোচাতে চায় অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার আগে বলেছিলেন মাইকেল ক্লার্ক। ওয়েস্ট ইন্ডিজে পৌঁছার পর অধিনায়কের কণ্ঠে সুর মিলিয়ে ডেভিড হাসিও বললেন, অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ব্যর্থতা ঘোচানোর সময় এটাই। এমন বিশ্বাসের পেছনে এই অলরাউন্ডারের বাজি, দলে টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্টদের আধিক্য।
প্রথম দুই বিশ্বকাপে প্রথাগত খেলোয়াড়দের ওপরই ভরসা করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকেরা। তাতে কাজ হয়নি। প্রথমবার তবুও সেমিফাইনালে উঠতে পেরেছিল, গতবার তো বিদায় নিতে হয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকেই! অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার বিশ্বকাপের দলে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্টদের। গত দুই বিশ্বকাপের অধিনায়ক রিকি পন্টিং তো টি-টোয়েন্টিই ছেড়ে দিয়েছেন। দলে নেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট হিসেবে নজর কাড়া ডেভিড ওয়ার্নার, ডার্ক ন্যানেসসহ ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি বিগ ব্যাশে ভালো করা দুই অলরাউন্ডার ড্যারিয়েল ক্রিস্টিয়ান ও স্টিভেন স্মিথ এবং উইকেট-কিপার ব্যাটসম্যান টিম পাইনকে।
প্রায় নতুন চেহারার দলটিই বিশ্বাসের রসদ জোগাচ্ছে হাসিকে, ‘গতবার আমরা সুপার এইটেও যেতে পারিনি, এটা ছিল চরম ব্যর্থতা। এবার সবাই যদি নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করতে পারি, তাহলে সুপার এইট তো বটেই, আশা করি আরও বেশি কিছু আমরা করতে পারব। আমি মন থেকে বিশ্বাস করি ফাইনাল খেলার মতো, এমনকি শিরোপা জয়ের মতো দলও এবার আমাদের আছে।’ হাসি ভ্রাতৃদ্বয়ের ছোট ডেভিড নিজেও দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। ঘরোয়া, আন্তর্জাতিক মিলিয়ে টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৪৪৯ রান তাঁর, উইকেটও আছে ২৯টি।
হাসির মতো একই বিশ্বাস ব্রেট লিরও, তবে এই ফাস্ট বোলারের বাজি দলের ভয়ংকর পেস আক্রমণ, ‘আমাদের দলে চারজন বোলার আছে, যারা ১৫০ কিলোমিটারের চেয়ে বেশি গতিতে বোলিং করতে পারে, অনেকটা আশির দশকের ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো। পুরো ক্রিকেট-বিশ্বই বলছে, “এই পেস কোয়াট্রেটের দিকে লক্ষ রাখুন।” এমনকি এখানে (ওয়েস্ট ইন্ডিজে) রাস্তায় দাঁড়ালেও লোকে একই কথা বলছে। এই সুবিধা আমরা অবশ্যই কাজে লাগাব।’ নিজের খেলা নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও লি আশা করছেন মাঠে নামার, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে বুড়ো আঙুলে চোট লাগায় আট দিনের মতো মাঠের বাইরে থাকতে হবে। তবে আমি এখানে ক্রিকেট খেলতে এসেছি, পানি টানার জন্য নয়।’
গতকালই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা। ২ মে তাদের প্রথম ম্যাচ পাকিস্তানের বিপক্ষে, বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ ৫ মে

Wednesday, April 28, 2010

অলিচের হ্যাটট্রিকে ফাইনালে বায়ার্ন

ইভিচা অলিচ নন, বায়ার্ন মিউনিখের বড় নাম আরিয়েন রোবেন। জার্মানির পত্রপত্রিকায় বন্দনা রোবেনকে ঘিরেই। কেউ কেউ তো তাঁকে অ্যাখ্যা দিয়েছেন বায়ার্নের ‘মেসিয়া (ত্রানকর্তা)’ বলে। তবে কাল আসল কাজটি কিন্তু করে দিয়েছেন ইভিচা অলিচই। সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে হ্যাটট্রিক করলেন । তাঁর সেই হ্যাটট্রিকে লিওঁকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠে গেছে বায়ার্ন। আগামী ২২ মে রিয়াল মাদ্রিদের স্টেডিয়াম সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ফাইনালে বায়ার্নের প্রতিপক্ষ হবে বার্সেলোনা বা ইন্টার মিলানের একটি।
বায়ার্নের মাঠ অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনা থেকে ০-১ গোলে হেরে আসা লিওঁ কাল নিজেদের মাঠে নেমেছিল কঠিন প্রত্যয় নিয়ে। কোচ ক্লদ পুয়েল হুমকিই দিয়ে রেখেছিলেন—প্রশ্ন যখন জয়ের, লিওঁ তখন বুক চিতিয়ে লড়তে জানে; প্রতিপক্ষ যত বড় নামই হোক না কেন। বুক চিতিয়ে লড়াই করার এই প্রতিশ্রতিতটা মাত্র মিনিট দুই-ই রাখতে পেরেছে পুয়েলের দল। শুরুর ওই মিনিট দুই বাদ দিলে লিওঁর মাঠে প্রায় পুরোটা সময় দাপিয়ে বেড়িয়েছে পরাক্রমশালী বায়ার্ন। চারবারের ইউরোপ সেরারা প্রথম গোল পায় ২৬ মিনিটে। গোলদাতা ইভিচা অলিচ। গত কয়েক ম্যাচ ধরে যিনি হয়ে গেছেন বায়ার্নের ব্রেক থ্রু এনে দেওয়ার প্রতীক। কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে দুই লেগেই গোল করেছেন তিনি। গোল করেছেন বুন্দেসলিগায় বায়ার্নের সর্বশেষ ম্যাচেও। প্রথমার্ধের প্রায় পুরোটা সময় নিয়ন্ত্রণ করলেও আর গোল পায়নি বায়ার্ন। ৬৭ মিনিটে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল করেন অলিচ। আর হ্যাটট্রিক গোলটি করেন এর ঠিক ১১ মিনিট পর।

বাঘের গ্রামে ঢোকা ঠেকানোর এখনই সময় by খসরু চৌধুরী

দীর্ঘদিন সুন্দরবনের বাঘের পিছু লেগে একটি বিষয় লক্ষ করেছি, গ্রীষ্মের এই প্রচণ্ড দাবদাহের কালে সুন্দরবনের বাঘ জঙ্গল ছেড়ে গ্রামে ঢুকে গরু, মহিষ, কুকুর মারে; নিজেরাও গ্রামবাসীর পিটুনিতে মারা যায়।
সুন্দরবন, বিশেষ করে চাঁদপাই রেঞ্জের জয়মণি থেকে নাংলী পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকা একেবারে বনসংলগ্ন। এলাকার খালগুলো শুকনো। গ্রামবাসী গরু-মহিষ জঙ্গলে ঢোকায়। কিছু শূকর ছাড়া বাঘের স্বাভাবিক খাদ্য নেই বললেই চলে। জঙ্গলের ভেতরে বড় গাছ কম, কিন্তু জঙ্গল বলা, কেয়াকাঁটা, আসামিলতা, হরগেজা, লতাসুন্দরী, কুটুমলতায় আকীর্ণ। বাতাসহীন তীব্র দাবদাহে তলার জঙ্গলের আবহাওয়া অসহনীয় গরম।
এই গরমে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানিক বাঘ বিকেলের দিকে একটু ঠান্ডা হাওয়ার আশায় জঙ্গলের সীমানার ফাঁকা এলাকায় চলে আসে। এই বাঘ গ্রামবাসী, বিশেষ করে গরুর রাখালদের চোখে প্রায়ই পড়ে। বাঘ জঙ্গলের সীমানায় হাঁটাচলা করার সময় লোকালয়ের গরু-মহিষের খাটাল দেখে খাদ্যের খোঁজে হামলা চালায়।
এ অবস্থায় করণীয় হচ্ছে, বাঘ বনের ধারে দিনের বেলা দেখা গেলেই গ্রামবাসীর উচিত বন বিভাগের কর্মীদের সহায়তায় ঢোল, পটকা ব্যবহার করে হইহুল্লোড় করে বাঘকে গভীর জঙ্গলে ঢুকিয়ে দেওয়া। গ্রামের তরুণদের দিয়ে পাহারার ব্যবস্থা করা। গরু-মহিষের খাটালগুলো শক্ত করে তৈরি করা। বাঘ একবার গ্রামে ঢুকে গরু-মহিষ মারতে পারলে তাকে ঠেকানো প্রায় অসম্ভব। এ অবস্থায় পৌঁছানোর আগেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাতে মানুষ ও বাঘ—দুয়েরই উপকার হবে
খসরু চৌধুরী: বন বিশেষজ্ঞ।

দুর্বিনীত ছাত্রলীগ

ছাত্রলীগের সঙ্গে সরকারের সংস্রব ত্যাগ করার আহ্বানসংবলিত দেশের খ্যাতনামা পাঁচজন বুদ্ধিজীবীর যৌথ বিবৃতি প্রকাশের পর আশা করা গিয়েছিল, সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কিছুটা হলেও সংযত হবেন। কিন্তু ছাত্রলীগের রাশ কোনোভাবেই টেনে ধরা যাচ্ছে না। তাদের বেআইনি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম দিন দিন বেড়ে চলেছে। কোনো নিন্দা, প্রতিবাদ কিংবা ধিক্কার সংগঠনের নেতা-কর্মীদের গায়ে লাগছে না।
এত দিন ছাত্রলীগ প্রতিপক্ষ ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করে দিয়ে নিজেদের বাহাদুরি দেখিয়ে আসছিল। ইদানীং মারধরের জন্য বাইরের কাউকে দরকার হচ্ছে না, নিজেরাই আত্মঘাতী সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। রোববার বগুড়ার আযিযুল হক কলেজে পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে যে সংঘর্ষ হয়, তাতে ছয়জন শিক্ষার্থী আহত হন। সব কাগজেই তাদের সশস্ত্র মহড়ার ছবি ছাপা হয়েছে। ক্যাম্পাসে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলতে পারে না। যারা প্রতিপক্ষের ছাত্রাবাস ভাঙচুর করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্রলীগের এক পক্ষ অন্য পক্ষের সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা শুধু উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে ক্ষান্ত হয়নি, শিক্ষকদের বাসেও কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে। অবরোধের নামে এসব ছাত্র নামধারী বিশ্ববিদ্যালয়কে অচল করে রেখেছে। তাদের সন্ত্রাসী হামলায় দুজন শিক্ষকও আহত হয়েছেন। যে ছাত্ররা শিক্ষকদের বহনকারী বাসে হামলা চালানোর মতো কাজ করতে পারে, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার অধিকার নেই। অবিলম্বে হামলাকারীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও আযিযুল হক কলেজে যারা মারধর করেছে, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারে সোপর্দ করা হোক। অপরাধ করে শাস্তি না হওয়ার কারণেই ছাত্রলীগের কর্মীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
তাঁদের কারণে যে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে এবং শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, ক্ষমতাসীনদেরও তা অনুধাবন করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে সহযোগী ছাত্রসংগঠনের ব্যাপারে নতুন করে চিন্তাভাবনা করা প্রয়োজন। ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসীদের হাতে শিক্ষাঙ্গনকে জিম্মি রাখা কিংবা শিক্ষার সর্বনাশ ঘটতে দেওয়া যায় না। শিক্ষাঙ্গন ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থানুকূল না হলে ছাত্ররাজনীতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তিও কাম্য নয়। দেশের পাঁচ শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবীর বিবৃতিতেও অনুরূপ বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীনদের বোধোদয় ঘটলে দেশ ও জাতি রক্ষা পাবে।

আল-কায়েদাবিরোধী অভিযানে নেমেছে ইরাকি বাহিনী

আল-কায়েদা এবং অন্যান্য জঙ্গিদের বিরুদ্ধে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে ইরাকি বাহিনী। সেনাবাহিনী এবং পুলিশের প্রায় ২৬ হাজার সদস্য এ অভিযান চালাচ্ছেন।
আল-আনবার প্রদেশের পুলিশ-প্রধান জেনারেল বাহাই হুসেইন আল-কারখি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করতে পারে এমন সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র নস্যাত্ করতে এ অভিযান চালানো হচ্ছে ।

দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল ফিডেসজ পার্টি

হাঙ্গেরির সাধারণ নির্বাচনে মধ্য-ডানপন্থী ফিডেসজ পার্টি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এর ফলে দলটি সরকার গঠন করে ব্যাপক সংস্কার ও ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষমতা অর্জন করল।হাঙ্গেরির সাধারণ নির্বাচনে গত রোববার দ্বিতীয় দফায় ভোট নেওয়া হয়। ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ভিক্টর ওরবানের নেতৃত্বাধীন ফিডেসজ পার্টি ২৬৩টি আসন পেয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য ২৫৮টি আসন পেলেই চলে।

ইয়েমেনে অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত

ইয়েমেনে নিযুক্ত ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত টিমোথি একিলি টোরলট আত্মঘাতী বোমা হামলা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন। গতকাল সোমবার রাজধানী সানায় ব্রিটিশ দূতাবাসের কাছে তাঁর গাড়িবহর লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। এতে আত্মঘাতীর দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলেও রাষ্ট্রদূত ও তাঁর সঙ্গে থাকা কেউ আহত হননি। খবর বিবিসি অনলাইনের।
কর্মকর্তারা বলেছেন, রাষ্ট্রদূত বাইরে থেকে গাড়িবহর নিয়ে দূতাবাসের কার্যালয়ে ফিরছিলেন। কার্যালয়ের খুব কাছাকাছি আসার পর আত্মঘাতী হামলাকারী তার শরীরে বাঁধা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, হামলাকারী ধীরগতিতে আসার কারণে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফলে সে নিজেই উড়ে যায়। এ সময় পাশে থাকা দুজন আহত হন। এর আগের খবরে বলা হয়েছিল, হামলাকারীর সঙ্গে তার এক সহযোগীও নিহত হয়েছে। তবে কর্মকর্তারা আত্মঘাতী একাই মারা গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন।
ব্রিটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা সাময়িকভাবে ইয়েমেনের দূতাবাস সাধারণের জন্য বন্ধ রাখতে যাচ্ছে।

২০ বছর পর বাগদাদ লন্ডন বিমান চলাচল শুরু

দীর্ঘ ২০ বছর পর বাগদাদ ও লন্ডনের মধ্যে আবার বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। বাগদাদ থেকে ছেড়ে আসা ফ্লাইট আইএ-২৩৭ সুইডেনের ম্যালমো বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি শেষে গত রোববার স্থানীয় সময় রাত ১১টা আট মিনিটে লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। গত ১৬ এপ্রিল ফ্লাইট চালুর কথা থাকলেও আইসল্যান্ডের আগ্নেয়গিরির কারণে তা পিছিয়ে যায়। গ্যাটউইক বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়।
ইরাকের বেসামরিক বিমান চলাচল বিভাগের পরিচালক আদনান ব্লেবিল বলেন, বাগদাদ-লন্ডন ফ্লাইট শুরু হওয়ায় তিনি খুশি। তবে পশ্চিমা দেশের বিমান কোম্পানিগুলো আরও সহযোগিতামূলক মনোভাব দেখালে কয়েক বছর আগেই এটা শুরু করা যেত। তিনি জানান, এখন থেকে সপ্তাহে দুটি ফ্লাইট বাগদাদ থেকে লন্ডনের উদ্দেশে যাবে।
গত রোববারের ফ্লাইটে পরিবহনমন্ত্রী আমের আবদুল জব্বার ইসমাইল এবং ইরাকি এয়ারওয়েজের প্রধান কিফাহ্ হাসানসহ মোট ৩০ জন ইরাকি ও বিদেশী যাত্রী ছিলেন।
১৯৯০ সালে সাদ্দাম সরকার কুয়েত দখল করার পর জাতিসংঘ ইরাকের ওপর অবরোধ আরোপ করায় এতদিন এ ফ্লাইট বন্ধ ছিল

নেপালে মাওবাদীদের মোকাবিলায় বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী

নেপালে সরকার উত্খাতের লক্ষ্যে আগামী ১ মে থেকে চূড়ান্ত যুদ্ধের ডাক দিয়েছে সে দেশের মাওবাদীরা। তাদের এই কর্মসূচি মোকাবিলায় করণীয় ঠিক করতে গতকাল সোমবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপালের বাসভবনে বৈঠক হয়েছে। এই বৈঠকে ক্ষমতাসীন ১০টি দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বিষ্ণু রিজাল এক বিবৃতিতে জানান, বৈঠকে মাওবাদীদের পূর্বঘোষিত আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপরও যদি মাওবাদীরা আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যায়, তাহলে সে সময় দেশটির শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারকে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান শীর্ষস্থানীয় নেতারা।
ক্ষমতাসীন দলের নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মাওবাদীরা হাজার হাজার তরুণকে ‘সামরিক প্রশিক্ষণ’ দিচ্ছে। আন্দোলন কর্মসূচির সময় ওই সব তরুণকে মাঠে নামাবে মাওবাদীরা। তারা আন্দোলনের নামে দেশে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইউসিপিএন (মাওবাদী) যদি সহিংস পথ পরিহার করে একটি বেসামরিক পার্টি গঠন করে, তাহলে সরকার মাওবাদীদের সঙ্গে সব ধরনের আলাপ-আলোচনা করতে রাজি আছে। ক্ষমতাসীন দলগুলোর নেতারা বলেছেন, মাধব কুমার নেপালের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। যতদিন না মাওবাদীরা সহিংসতার সময় দখল করা জমি ফিরিয়ে দেয় এবং মাওবাদী গেরিলা সংগঠনটির আধাসামরিক আদলে গড়া যুববাহিনী (ইউসিএল) বিলুপ্ত ঘোষণা না করাসহ অন্যান্য শর্ত পূরণ করে। ততদিন কোনো অবস্থাতেই মাওবাদীদের হাতে দেশের ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে না।
এদিকে মাওবাদি নেতা পুষ্পকমল দহল প্রচন্ড গতকাল বর্তমান সরকারকে উত্খাতের জন্য দেশজুড়ে সড়ক অবরোধ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

তালেবানের ফাঁদে পা না দিতে কারজাইকে মনমোহনের সতর্কতা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং গতকাল সোমবার সফররত আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ সময় তথাকথিত উদারপন্থী তালেবানের সঙ্গে আফগান সরকারের প্রস্তাবিত আলোচনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মনমোহন।
দুই দিনের সফরে গতকাল সকালে নয়াদিল্লি পৌঁছান হামিদ কারজাই। এরপর রেস কোর্স রোডে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। এ সময় আফগানিস্তানের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়।
মনমোহন জানান, আফগানিস্তানের পুনর্গঠনকাজে ভারতের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। আফগানিস্তানে কর্মরত সাড়ে তিন হাজার ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তার বিষয় নিয়েও তিনি আফগান প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করেন।
তবে আফগানিস্তানে তথাকথিত উদারপন্থী তালেবানদের রাজনীতির মূল ধারায় নিয়ে আসতে তাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মনমোহন। দুই সপ্তাহ আগে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে বৈঠকের সময়ও মনমোহন বিষয়টি তুলেছিলেন।
ভারত আশঙ্কা করছে, তালেবানের সঙ্গে আফগান সরকারের ক্ষমতা ভাগাভাগি হলে আফগানিস্তানের ওপর পাকিস্তানের প্রভাব বৃদ্ধি পাবে। এ কারণে ভারতের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
১৬তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আগামীকাল মঙ্গলবার ভারত থেকে ভুটানে যাবেন কারজাই

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশ by ইব্রাহীম চৌধুরী

অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে প্রণীত অভিবাসনবিরোধী কালো আইনের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়েছে।
গত রোববার অ্যারিজোনার ফিনিক্স নগরে অভিবাসীদের বিশাল বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়েছে। রাজ্য ভবনের সামনে হাজার হাজার জনতার বিক্ষোভ সমাবেশটি ছিল শান্তিপূর্ণ।
সমাবেশে অংশ নেওয়া ডেমোক্রেটদলীয় কংগ্রেসম্যান এবং বিশিষ্ট মানবাধিকার সংগঠক রাউল গ্রিজালভা বলেছেন, ‘বৈষম্যমূলক অভিবাসন আইনের বিরুদ্ধে আমরা রুখে দাঁড়াব।’ তিনি অভিবাসনবিরোধী এ আইনটি বাতিলের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। সুদূর টেক্সাসসহ অন্য অঙ্গরাজ্যথেকে লোকজন এসে বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিয়েছে। এ ছাড়া নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডা, নিউজার্সিসহ বেশ কয়েকটি স্থানে অভিবাসীরা অভিবাসনবিরোধী আইন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে।
নিউইয়র্কে আয়োজিত এক সমাবেশে মানবাধিকার সংগঠক আল শার্পটন বলেছেন, ‘১৯৬০ সালের মানবাধিকার আন্দোলনের মতো সংগ্রামে আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ব।’ অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে প্রণীত আইনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলা করার ঘোষণা দেন আল শার্পটন। অভিবাসনবিরোধী আইন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ পদযাত্রার কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্য সরকারের প্রণয়ন করা আইনকে বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। অভিবাসনবিষয়ক আইনটি সংবিধান সম্মত কি না, যাচাই করার জন্য বিচার বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
গত শুক্রবার অ্যারিজোনার গভর্নর অভিবাসনবিরোধী আইনের অনুমোদন দিয়েছেন। গভর্নর জেন ব্রিউয়ার বলেছেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা সংরক্ষণের স্বার্থেই আইনটির প্রয়োগ হবে। নতুন আইনে রাজ্য পুলিশ সন্দেহজনকভাবে যেকোনো ব্যক্তিকে তল্লাশি করতে পারবে। পুলিশ যেকোনো ব্যক্তির গ্রিনকার্ড পরীক্ষা করতে পারবে। গ্রিনকার্ড প্রদর্শনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার এবং বহিষ্কারের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে রাজ্য পুলিশকে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো অঙ্গরাজ্যে অভিবাসনবিরোধী এমন আইন নেই। অ্যারিজোনার পর অভিবাসনবিরোধী এ ধরনের আইন অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও প্রণীত হতে পারে—এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভেঙে পড়া অভিবাসনব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিচ্ছে রক্ষণশীল অভিবাসনবিরোধীরা। সম্প্রতি রক্ষণশীলদের ব্যবস্থাপনায় ‘টি-পার্টি’ আন্দোলনে অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে রক্ষণশীলদের উচ্চকণ্ঠ হতে দেখা যাচ্ছে।
কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত প্রভাবশালী ডেমোক্রেটদলীয় কংগ্রেসম্যান ক্রিসটোফার ডড বলেছেন, অভিবাসন সংস্কার নিয়ে কেন্দ্রীয় আইনপ্রণেতাদের দ্রুত সক্রিয় হতে হবে। অন্যথায় অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও অভিবাসনবিরোধী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ক্রিসটোফার ডড এনবিসি টিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগের অভাবে রাজ্য সরকারগুলো নিজেদের মতো আইন প্রণয়নের সুযোগ গ্রহণ করছে।
এদিকে মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান দলীয় নেতা সিনেটর মিচ ম্যাককনেল ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘অভিবাসন নিয়ে কথা বলার উপযুক্ত সময় এখন নয়। দেশে যখন বেকারত্বের হার ১০ শতাংশ, তখন অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে আমাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।’
সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা সিনেটর হেরি রিড অবশ্য অভিবাসন সংস্কার নিয়ে দ্রুত তৎপর হওয়ার জন্য নিজ দলের আইনপ্রণেতাদের তাগিদ দিয়েছেন।

বড়দের প্রতি আফগান-হুমকি

আইসিসির স্বীকৃতি পেয়েছে তারা ২০০১ সালে। দুই বছরও হয়নি, ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লিগ ডিভিশন ফাইভে জার্মানি, নরওয়ে, ভানুয়াতুর মতো দেশগুলোর সঙ্গে খেলত। সেই আফগানিস্তানই এখন প্রস্তুত হচ্ছে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামার জন্য। মাঠে নামা মানে স্রেফ অভিজ্ঞতা অর্জন নয়। প্রতিষ্ঠিত দুই শক্তিকে চমকে দেওয়ার বাসনা নিয়েই তারা যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে।
ক্রিকেট এখন আফগানিস্তানে বিশাল এক উন্মাদনার নাম। ২০০৮ সালেও ডিভিশন ফাইভে খেলা দেশটি ডিভিশন ফোর, থ্রি হয়ে তরতর করে এগিয়ে গেছে। অল্পের জন্য ২০১১ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগটা হাতছাড়া করেছে, তবে আয়ারল্যান্ড, আরব আমিরাতের মতো দেশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে। উন্মাদনার শুরু মূলত বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের পর থেকেই। রাইফেল, মেশিনগান আর গেরিলা পোশাক ছেড়ে ব্যাট-বল হাতে ক্রিকেটের পোশাকে কোচদের কাছে ছুটছে তরুণেরা। দলের সাফল্য আর এই উন্মাদনা দেখে ক্রিকেটের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকারও। জাতীয় দলের জন্য বছরে ৫ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়, মাসে ৩০০ ডলার বেতন পাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। একটি ক্রিকেট একাডেমিও হয়েছে, যেখানে আছে শ-খানেক ছাত্র।
এই উন্মাদনাই আরও প্রেরণা জোগাচ্ছে আফগান ক্রিকেটারদের। কোনো রাখঢাক না রেখেই ভারতকে হারানোর লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন দলের কোচ, সাবেক পাকিস্তানি পেসার কবির খান, ‘ভারতের বিপক্ষে খেলা নিয়ে আমরা রোমাঞ্চিত। ওদের জন্য কাজটা আমরা কঠিন করে তুলব। আশা করছি, অঘটনও ঘটাতে পারব।’ প্রত্যাশার চাপ না থাকাটাকেই নিজেদের বড় শক্তি বলে মনে করেন দলের অলরাউন্ডার আসগর স্টানিকজাই।

টেন্ডুলকার নন ধোনি

যাঁরা বলছেন আইপিএলের ফাইনালে সেরা দলটা জিতল না, তাঁদের সঙ্গে মহেন্দ্র সিং ধোনিও আছেন। শিরোপা জেতার পরও চেন্নাই সুপার কিংস অধিনায়ককে পরশু অতৃপ্ত লাগল, ‘আমরা আরও ভালো খেলতে পারতাম।’ কিন্তু আসলে অতৃপ্ত তাঁর প্রতিপক্ষ অধিনায়ক শচীন টেন্ডুলকার। দুর্দান্তভাবে মুম্বাইকে ফাইনালে তুলে এলেও ঘরের মাঠে শেষ বাধাটা পেরোতে পারলেন না ভারতের ‘ব্যাটিং দেবতা’।
ফাইনালে দলের ব্যাটিং দেখেই অতৃপ্ত ধোনি। সুরেশ রায়নার ফিফটির সৌজন্যে ৫ উইকেটে মাত্র ১৬৮ রানের লক্ষ্য দেওয়া গিয়েছিল শচীন টেন্ডুলকারের মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের সামনে। ধোনির অতৃপ্ত থাকারই কথা। শেষ পর্যন্ত বোলারদের সাফল্যে সে অতৃপ্তি কিছুটা হলেও দূর হয়েছে। অধিনায়ক টেন্ডুলকার ৪৮ রান করে গেলেও মুম্বাইয়ের বাকি সব ব্যাটসম্যান মিলে করলেন ৯৮! মুম্বাইয়ের ডি ওয়াই পাতিল স্পোর্টস একাডেমি মাঠের ফাইনালটা ২২ রানে জিতে উৎসবে ভাসল ধোনির দল চেন্নাই সুপার কিংসই। এই সাফল্যের পর এ পর্যন্ত হওয়া আইপিএলের তিন আসরেরই সেরা দল বলতে পারেন চেন্নাইকে। প্রথমবার ফাইনালে উঠেও তারা হেরে গিয়েছিল শেন ওয়ার্নের রাজস্থান রয়্যালসের কাছে, পরেরবারও উঠেছিল সেমিফাইনালে, এবার তো চ্যাম্পিয়নই।
বোলারদের সৌজন্যেই শিরোপা জিতেছে চেন্নাই, আবার এই বোলারদের নিয়ে সামান্য একটু হতাশাও আছে ধোনির, ‘আমাদের ঘরোয়া পেসাররা ভালো বল করতে পারেনি।’ তবে নতুন বলে অস্ট্রেলিয়ান পেসার ডগ বলিঞ্জারের সঙ্গী অফ স্পিনার রবিচন্দ্রন আশ্বিনকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন ধোনি, ‘পেসারের কাজটা সে-ই করে দিয়েছে। তার বোলিংটা খুবই কার্যকর, ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্ত করা সেই ক্যারম বলটা তার হাতে আছে।’
তবে শিরোপা জয়ের পেছনে ধোনি টিম স্পিরিটের অবদানটাই বেশি দেখছেন, ‘টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রস্তুতির জন্য আমরা মাত্র ১০ দিন হাতে পেয়েছিলাম। বেশ কিছু ইনজুরির সমস্যাও ছিল। কাজেই দ্রুত একটা দল হয়ে ওঠাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের জন্য।’
ধোনির জন্য আইপিএল জেতাটা অন্য কারণেও গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই সাফল্য ভারত অধিনায়ককে অনুপ্রেরণা জোগাবে সন্দেহ নেই। এমনকি তাঁর বিশ্বাস, আইপিএল তাঁর খেলোয়াড়দের জন্য ক্লান্তির কারণও হবে না, ‘ক্লান্তি দূর করার খুব বেশি সুযোগ পাওয়া না গেলেও পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েই আমরা বিশ্বকাপে যাচ্ছি

কারাতে দলের সাফল্য

গোজো রিউ কারাতের একক কাতা ও কুমিতে তিনটি সোনা জিতেছে বাংলাদেশ। ২২-২৩ এপ্রিল ভারতের ঝাড়খন্ডে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক এই টুর্নামেন্টে ছেলেদের ৭০ কেজি ওজন শ্রেণীতে সৈয়দ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, মেয়েদের ৬০ কেজি ওজন শ্রেণীতে কামরুন নাহার (সাথী) ও ৭০ কেজি ওজন শ্রেণীতে শাহনেওয়াজ বেগম সোনা জিতেছেন।

লিওঁর মাঠ আর বায়ার্নের ইতিহাস

বায়ার্ন মিউনিখ চারবারের চ্যাম্পিয়ন, ফাইনাল খেলেছে আরও তিনটি। অলিম্পিক লিওঁর অপেক্ষা ক্লাবের ইতিহাসে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ফাইনাল খেলার। বায়ার্ন-লিওঁর লড়াইটাকে অসমই বলতে হবে। আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে দুই দলের এই অসম লড়াই।
গত সপ্তাহে বায়ার্নের মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় প্রথম লেগের লড়াইয়েও দুই দলের ব্যবধানটা খুব করে চোখে পড়েছে। প্রথম লেগে বায়ার্নের জয়টা ১-০ গোলের। তবে ৩৭ মিনিটেই ১০ জনের হয়ে পড়া বায়ার্ন লিওঁকে উড়িয়েই দিয়েছিল সেই দিন।
প্রথম লেগে পিছিয়ে থাকা তো আছেই। ইতিহাস, ঐতিহ্য আর পারফরম্যান্সের দিক থেকেও পিছিয়ে লিওঁ। এ সবই জানেন ফরাসি ক্লাব লিওঁর কোচ ক্লদ পুয়েল। সবকিছু জেনেও বায়ার্নকে একটা হুমকি দিয়ে রেখেছেন তিনি—বুক চিতিয়ে লড়তে জানে লিওঁ, আর জয় যখন একান্তই প্রয়োজন তখন আমরা ঠিকই সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে জানি।
সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার ম্যাচে অন্তত একটি বিষয় নিজেদের দিকে পাচ্ছে লিওঁ—আজকের ম্যাচটি হচ্ছে লিওঁর নিজেদের মাঠে। নিজেদের মাঠে, নিজেদের দর্শকদের সামনে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ক্লদ পুয়েলের দলের। তবে পরিকল্পনায় বাস্তবতার রং চড়াতে হলে আগের ম্যাচের ভুলগুলো করলে চলবে না, ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের এই উপদেশই দিচ্ছেন পুয়েল, ‘দলের মানসিকতায় অবশ্যই পরিবর্তন আনতে হবে। আমরা গত বুধবারের ম্যাচে বল দখলে ভালোই করেছি। তবে বল পেয়েও তা ধরে রাখতে পারিনি। নিজেদের অর্ধে বেশি সময় কাটিয়েছি। এই কৌশলটা শুদ্ধ করতে হবে আমাদের।’
লিওঁর ভাবনা যখন কৌশলে শুদ্ধতা আনা নিয়ে, বায়ার্ন ভাবছে চোট নিয়ে। প্রত্যয়ী লিওঁর সামনে পুরো শক্তির দল নিয়ে আজ হয়তো নামতে পারছে না জার্মান পরাশক্তি বায়ার্ন। বুন্দেসলিগার সর্বশেষ ম্যাচে পায়ের ইনজুরিতে পড়েছেন দলের দুই সেন্টার ব্যাক ড্যানিয়েল ফন বাউতেন ও মার্টিন ডেমিচেলিস। আজকের ম্যাচে এ দুজনের খেলার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোঠায়।
বায়ার্ন মিউনিখের ডাচ কোচ লুইস ফন গল আর কী বলবেন! অন্তত একজন যেন আজকের ম্যাচের আগে ফিট হয়ে ওঠেন—এই প্রার্থনাই করছেন তিনি, ‘আশা করি, একজন সেন্টার ব্যাক অন্তত ফিট হয়ে উঠবে। যে ফিট থাকবে তার সঙ্গে হলগার বাডস্টুবারকে নামিয়ে দেব।’ চোট-হতাশা যেমন আছে, বায়ার্নে আছে একটি খুশির খবরও। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে মাঝমাঠে ফিরছেন অধিনায়ক মার্কো ফন বোমেল। তবে ফন গলের আনন্দে বিষাদ ঢালতে প্রস্তুত পুয়েল। পুয়েলের কথা, ‘তারা কোয়ার্টার ফাইনালে যে দলটিকে (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড) হারিয়েছে আমরা তাদের চেয়ে বেশি ভালো নই। তবে এই দল নিয়ে আমরা বড় দলকে হারাতে পারি।’

রানীর প্রথম জয়

আরলিন ডেভেলপার জাতীয় মহিলা দাবার তৃতীয় ম্যাচে এসে জয়ের দেখা পেলেন আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার রানী হামিদ। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে কাল রানী হামিদ সাদা ঘুঁটি নিয়ে ৩৫ চালের মাথায় হারিয়ে দেন ফিদে মাস্টার জাকিয়া সুলতানাকে। তৃতীয় রাউন্ডে জিতেছেন শারমিন সুলতানা (শিরীন), শামীমা আক্তার (লিজা), নাজরানা খান (ইভা) ও রোকসানা তিতলী। কাল শারমিন ইয়ন সরকারকে, শামীমা মাহমুদা হককে, নাজরানা প্রতিভা তালুকদারকে এবং রোকসানা দিলারা জাহানকে হারিয়েছেন। মাসুদা বেগম ড্র করেছেন জাহানারা হকের সঙ্গে। তৃতীয় রাউন্ড শেষে ৩ পয়েন্ট নিয়ে যৌথভাবে সবার ওপরে শারমিন, শামীমা ও নাজরানা।

ভালোবাসার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ ‘শোয়েনিয়া’

ভারত থেকে পাকিস্তান পৌঁছে মানুষের উচ্ছ্বাস দেখে অভিভূত হয়েছিলেন শোয়েব-সানিয়া। তবে মাত্রাতিরিক্ত ‘ভালোবাসা’র বিড়ম্বনাটা টের পেতে শুরু করেন এর পর থেকেই। দিন দুয়েক আগে শোনা গিয়েছিল উৎসাহী মানুষের ভিড়ে সানিয়া নাকি কেঁদেই ফেলেছিলেন। অত্যুৎসাহীদের যন্ত্রণায় এবার পণ্ড হতে বসেছিল শিয়ালকোট হকি স্টেডিয়ামে হওয়া শোয়েব-সানিয়া বৌভাত অনুষ্ঠানও। ঝামেলার শেষ নেই এখানেই, প্রাদেশিক সরকারের আইন ভঙ্গের অভিযোগে শোয়েবের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দুই লোক।
কৃচ্ছ্রসাধনের জন্য গত বছর থেকেই বিয়েতে খাবারের একটির বেশি পদ পরিবেশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পাঞ্জাব সরকার। তা ছাড়া এ ধরনের অনুষ্ঠান রাত ১০টার মধ্যেই শেষ করতে বলা হয়েছে। দুটি আইনই ভঙ্গ করার অভিযোগে লাহোর হাইকোর্টে পিটিশন করেছেন হাসান শেরাজ নামের একজন। শেরাজের দ্বিতীয় অভিযোগ, বিদ্যুৎ-সমস্যার জন্য রাজ্য সরকার যখন সবাইকে মিতব্যয়ী হতে বলেছে তখন শোয়েবের বিয়েতে অতিরিক্ত আলোকসজ্জাও করা হয়েছে। আরেকটি অভিযোগ তো আরও বিব্রতকর। শোয়েবের এক নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে ১৫ হাজার রুপি দিয়ে বিয়ের নিমন্ত্রণ কার্ড কিনেও অনুষ্ঠানে যেতে না পারায় লাহোরের দেওয়ানি আদালতে মামলা ঠুকেছেন সফদার আলী নামের এক ব্যক্তি। ৫ থেকে ১০ হাজার রুপিতে বিয়ের কার্ড অনেকের কাছেই বিক্রি করেছেন শোয়েবের আত্মীয়রা, এমন অভিযোগও শোনা যাচ্ছে।
বিয়েতে নিরাপত্তারক্ষী ছিল প্রচুর, কিন্তু দাওয়াত না পাওয়ায় এত লোক ভিড় করেছিল যে নিরাপত্তারক্ষীদের হিমশিম খেতে হয়। অব্যবস্থাপনায় সানিয়ার বাবা-মা বিরক্ত হয়ে অনুষ্ঠান ছেড়ে আগেই নাকি লাহোরের উদ্দেশে রওনা দেন, যেখানে আজ হওয়ার কথা শোয়েনিয়া জুটির ‘ওয়ালিমা’ সংবর্ধনা। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হলে শোয়েব-সানিয়াও হকি স্টেডিয়াম ছেড়ে যান অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই। তারকা হওয়ার যন্ত্রণাটা এবার নিশ্চয়ই ভালোই টের পাচ্ছেন দুজন!

সাকিবদের প্রস্তুতি ম্যাচ আজ বারবাডোজে

প্রায় ২৭ ঘণ্টার দীর্ঘ বিমানভ্রমণ শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বারবাডোজে পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল। দলের ম্যানেজার তানজীব আহসান বিসিবিকে জানিয়েছেন নিরাপদে পৌঁছানোর খবর।
বাংলাদেশ দল ২৪ এপ্রিল রাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্দেশে দেশ ছাড়লেও উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম পরীক্ষার কারণে দলের সঙ্গী হতে পারেননি সেদিন। পরদিন রওনা দিয়ে তাঁর বারবাডোজ পৌঁছানোর কথা কাল রাতে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ১ মে, প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। তবে তাদের মাঠে নেমে যেতে হচ্ছে আজই। বারবাডোজের বিপক্ষে সাকিব আল হাসানের দল আজ প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচটি খেলবে কেনসিংটন ওভালে। একই মাঠে আগামীকাল বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

সফরকারী-আয়োজক দুপক্ষই খুশি

এই সফর নিয়ে দুই পক্ষই খুব খুশি। এক পক্ষের খুশির কারণটা বোঝাই যায়—তারা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশটিতে ভ্রমণ করতে পেরেছে। আরেক পক্ষ অর্থাৎ যারা সফরটা আয়োজন করেছে তারা খুশি, সফরটা ‘খুব সফল হয়েছে’।
বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীদের ১২ সদস্যের ফুটবল দলের আমেরিকা সফরকে এভাবেই দেখছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ও ঢাকায় আমেরিকান দূতাবাস। আমেরিকার স্টেট বিভাগের সংস্কৃতি বিনিয়ম কর্মসূচির অংশ হিসেবেই ছিল ১২ দিনের এই সফর। যা শেষ করে পরশু ঢাকা ফিরেছে বাংলাদেশের সৌভাগ্যবান দলটি।
কাল বাফুফে ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরল দুই পক্ষ। তাতে জানা গেল, সফরে যাওয়া বাংলাদেশ দলের কাছে ওই কয়েকটা দিন ছিল স্বপ্নের মতো। ওয়াশিংটন ঘুরিয়ে দেখানো হয়েছে। নেওয়া হয়েছে ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ড রাজ্যেও। ওয়াশিংটনে স্টেট ডিপার্টমেন্ট, হোয়াইট হাউস, বিভিন্ন স্কুল, ওখানকার সেরা ৫ মহিলা ফুটবলারের সঙ্গে অনুশীলন, দর্শনীয় স্থান দেখানোসহ পেশাদার ফুটবল লিগে শিকাগো আর ডিসি ইউনাইটেডের ম্যাচ দেখানো হয়েছে বাংলাদেশের দলটিকে।
সফরে ছিল অনূর্ধ্ব-১৬ বছর বয়সী ছয় ছেলে ও ছয় মেয়ে। তাদেরই দুজন ওমর ফারুক ও আঞ্জুমান খন্দকার (শান্ত) জানাল, তাদের কাছে অনেক ভালো লেগেছে এই সফর। সঙ্গে যাওয়া কর্মকর্তা সত্যজিৎ দাস (রুপু) সফর নিয়ে অভিভূত, ‘যেখানেই গিয়েছি আমরা সবার প্রশংসা পেয়েছি। আমরা ওদের মন জয় করে এসেছি।’ আরেক সফরসঙ্গী কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তারের (কিরণ) কথা, ‘ওরা উষ্ণ আতিথেয়তা দিয়েছে আমাদের। আমাদের ছেলেমেয়েরা এই সফর থেকে অনেক কিছু শিখেছে।’
ভবিষ্যতেও এমন সফর অব্যাহত রাখতে চান ঢাকায় আমেরিকান দূতাবাসের তথ্য বিভাগের প্রধান মেরিনা ইয়াসমিন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বললেন, ‘স্টেট ডিপার্টমেন্ট খুবই খুশি এই সফর নিয়ে। বাংলাদেশের এই সফরটা সবার মনেই দাগ কটেছে বলে জেনেছি। এমন সফর ভবিষ্যতেও করতে চাইব আমরা।’ দূতাবাসের সংবাদ ও তথ্য কর্মকর্তা হার্ভি ডব্লু সারনোভিেজর কথা, ‘এই সফরে দু দেশের মানুষ আরও কাছকাছি এল।’
বাফুফে কর্মকর্তা কাজী নাবিল আহমেদ, সিরাজুল ইসলাম (বাচ্চু) ধন্যবাদ জানান সফর আয়োজকদের।

কাকার ‘দেশপ্রেমে’ অন্য গন্ধ

২০০৭ সালে কোপা আমেরিকায় খেলতে যাননি ইউরোপিয়ান ফুটবল খেলার ক্লান্তি কাটিয়ে উঠতে না পারায়। সে সময় ব্রাজিল জাতীয় দলের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ নিয়েই প্রশ্ন তুলে ফেলেছিল সংবাদমাধ্যম। বলেছিল, কাকা ক্লাবের, ব্রাজিলের নয়।
হায় রে নিয়তি! তিন বছর পর সেই কাকাকে আজ শুনতে হচ্ছে, ‘কাকা ব্রাজিলের হয়ে খেলার জন্য ক্লাবের খেলায় ফাঁকি দিচ্ছেন।’ বিশ্বকাপে নিজেকে ফিট রাখতে তিনি নাকি কুঁচকির ইনজুরির ‘অজুহাত’ দিয়ে মাঠের বাইরে ছিলেন।
আলোচনাটা কিছুদিন ধরেই চলছিল। কুঁচকির ইনজুরি নিয়ে কাকা মাঠের বাইরে যাওয়ার পর থেকেই বলা হচ্ছিল, তিনি রিয়ালকে ফাঁকি দিচ্ছেন। বিশেষত স্পেনের সংবাদমাধ্যমই বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিল, কাকা অস্ত্রোপচার করাতে রাজি না হওয়ায়। বলা হলো, কাকা ‘এভানজেলিকাল খ্রিষ্টান’ বলে ধর্মীয় কারণে অস্ত্রোপচার করাচ্ছেন না।
এই কথায় বিশ্বাস করল না স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম। তারা সমানে কাকার প্রতি সন্দেহের তীর ছুড়ে গেল। অবশেষে ৪৩ দিন পর মাঠে নামলেন কাকা। মাঠেই শুধু নামলেন না, ফিরেই নিজেকে প্রমাণ করলেন। জারাগোজার বিপক্ষে রিয়ালের ম্যাচ এবং লিগ শিরোপা-স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখা গোলটা করলেন।
প্রায় দুই মাস পর পাওয়া তাঁর প্রথম গোল রিয়ালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে সংবাদমাধ্যম চুপ থাকতে পারত। কিন্তু এবার তারা আরও আক্রমণাত্মক। আরও বেশি করে তারা ষড়যন্ত্র খুঁজে পাচ্ছে। মাদ্রিদভিত্তিক ক্রীড়া দৈনিক এএস লিখেছে, ‘যিশুর পুনরুত্থানে তিন দিন সময় লেগেছিল। আর তার অনুসারী কাকার সময় লাগল ৪৩ দিন!’ বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হতে পারেন, মাদ্রিদ কিন্তু কাকাকে এই ইনজুরির কারণে ভালোবাসতে পারেনি। সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য, মানুষ তোমাকে যত কম সন্দেহ করবে, তোমার জনপ্রিয়তা ঠিক ততটাই বেশি।
চুক্তির হিসাবে রোনালদোর পর এই গ্রহের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় কাকাকে প্রচ্ছন্নভাবে মিথ্যাবাদী বলা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে খেলার জন্য নিজেকে আগলে রাখছেন কাকা। কিন্তু কাকা নিজে কী বলছেন?
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের এই আচরণে যারপরনাই বিরক্ত ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার, ‘অনেক দিন ধরে ফুটবলে আছি। কিন্তু মানুষ যখন আমার ইনজুরির ব্যাপকতা নিয়ে সন্দেহ করে, তখন জঘন্য লাগে। আমি সমর্থকদের বলি, যখন আমি ব্যথা পাই, তখন অন্তত সন্দেহ করবেন না।’
বললেই কি আর লোকে শোনে? মানুষের কাজই যে এমন সন্দেহ করা। তবু এই সন্দেহের অন্য একটা দিক ভাবতে পারেন কাকা। তাঁর যে ব্রাজিল-প্রেম নিয়ে একদিন সন্দেহ তোলা হয়েছিল, আজ এই সন্দেহে সেই প্রেমটা উল্টো প্রতিষ্ঠা পেল।
কাকা তাহলে ব্রাজিলকে আরেকটা বিশ্বকাপ এনে দিয়ে দেশপ্রেমের প্রমাণ দিতে প্রস্তুত হচ্ছেন!

শেষ পর্যন্ত ইনিংস পরাজয়ই

লক্ষ্য ছিল একটাই—ইনিংস পরাজয় এড়ানো। বাংলাদেশ ‘এ’ দল ব্যর্থ সেখানেই। নাজিমউদ্দিন, ফয়সাল হোসেন আর সগীর হোসেনের লড়াইয়ের পরও শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের কাছে ইনিংস ও ৪ রানের ব্যবধানে হেরেছে তারা।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে কাল শেষ দিনে আর ১৮৩ রান করলেই ইনিংস পরাজয় এড়াতে পারত বাংলাদেশ ‘এ’ দল। ফয়সাল-নাজিম মিলে সেই সম্ভাবনা জাগিয়েও ছিলেন। আগের দিন ৯৪ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর চতুর্থ উইকেটে ১১৫ রানের জুটি গড়েছেন দুজন, কিন্তু লাঞ্চের আগেই শাবালালার বলে এলবিডব্লু হয়ে ফয়সালের বিদায়ে সেটা আর হয়নি। লাঞ্চের পর আর ১১৭ রান তুলতেই বাকি ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ ‘এ’ দল।
১৫৩ বল খেলে ১২টি চার আর দুটি ছক্কায় নাজিমউদ্দিনের করা ৮২ রানই ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস স্বাগতিকদের। এক ছক্কা আর চার চারে ফয়সালের ৫১ রান এসেছে ১০৯ বলে। এ ছাড়া সগীর হোসেন ৯৯ বলে ৪৪ রান করেছেন। বাঁহাতি স্পিনে ৬৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের সবচেয়ে সফল বোলার ডিন এলগার।
বিকেএসপিতে দুই দলের দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচটি শুরু হবে আগামী পরশু।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’: ৬৭৬/৯ ডিক্লে.। বাংলাদেশ ‘এ’: ৩৪৬ ও ৩২৬ (নাজিমউদ্দিন ৮২, ফয়সাল ৫১, সগীর ৪৪, নূর হোসেন ১৭, শাহাদাত ৪, এনামুল জুনিয়র ৮, রবিউল ৪*; এলগার ৩/৬৮, ফিলান্ডার ২/৭৭, শাবালালা ২/৮১, তোতসবে ১/৩০, ফন ডার ওয়াথ ১/৫১)। ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ ইনিংস ও ৪ রানে জয়ী।

Tuesday, April 27, 2010

সাংবিধানিক সংস্কারের শক্তি ও বিপদ by আসমা জাহাঙ্গীর

বহুপ্রতীক্ষিত সাংবিধানিক সংস্কার জাতীয় পরিষদ ও সিনেটের গণ্ডি হয়তো পার হয়েছে, কিন্তু এটি বিচারের কাজ সামনে পড়ে আছে। সিনেটর রাজা রাব্বানিসহ সংস্কারের বিষয়ে কাজ করার জন্য গঠিত কমিটির সব সদস্যরই প্রশংসা প্রাপ্য। প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো নিখুঁত নয়, কিন্তু এগুলো ভবিষ্যতের স্পষ্টতর দিশার ভিত্তিভূমি তৈরি করেছে।
তবে সংশোধনীগুলো প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে পারে—দুর্বলতার জন্য নয়, বরং এদের শক্তিমত্তার কারণে। তিনটি মৌলিক প্যারামিটারের ওপর এগুলো আলোকপাত করেছে: গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালীকরণ, প্রাদেশিক অধিকারের স্বীকৃতি এবং তথ্য ও প্রাথমিক শিক্ষার অধিকারের মতো নতুন দুটি মৌলিক অধিকারের সম্প্রসারণ।
কোনো কোনো জায়গায় সংস্কার অযৌক্তিক হয়েছে; অধিকারের মৌলিক প্রত্যয়কে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। সংখ্যালঘুদের কাছে ধর্মের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিতে গিয়ে কমিটি অবজেকটিভস রেজুলিউশনে ‘স্বাধীনভাবে’ শব্দটি ফিরিয়ে এনেছে। কিন্তু অন্যত্র সহিষ্ণুতা উৎসাহিত করার এই চেতনার বিরোধিতা আছে। ১৮তম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭৩ সালের মূল সংবিধানে ফিরে যাওয়ার ফলে এখন কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে হলে তাঁকে অবশ্যই মুসলমান হতে হবে। তবে কোনো অমুসলমান ব্যক্তি মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন।
বাস্তবে পাকিস্তানের ক্ষমতাহীন ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা ক্ষমতার এমন সীমায় পৌঁছার কথা কল্পনাও করতে পারে না। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে সংবিধানে নির্লজ্জ বৈষম্যের সুযোগ রাখা অসমর্থনযোগ্য। কোনো অমুসলমান ব্যক্তি জাতীয় পরিষদের সদস্যপদে নির্বাচন করতে পারেন এবং পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হতে পারেন না। ফলে কেবল মুসলমানেরাই সংসদীয় নেতা হতে পারবেন। পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে মনস্থির করতে হবে, তাঁরা সংখ্যালঘুদের প্রতি অবৈষম্যমূলক নীতির অঙ্গীকার করবেন, নাকি গোঁড়ামিতেই আস্থা রাখবেন। কেন্দ্রশাসিত উপজাতীয় অঞ্চলের (এফএটিএ) জন্য সংসদে অন্য সময়ের মতোই প্রচুর আসনের কোটা বরাদ্দ আছে, কিন্তু অঞ্চলটিতে নারীর জন্য সংরক্ষিত আসন নেই। এ অঞ্চলে কি কোনো নারী বাস করেন না বা তাঁদের কি কোনো দুঃখ-বেদনা নেই? অন্য সব জায়গার মতো এখানকার নারীরাও বিশেষ প্রতিনিধিত্ব দাবি করার মতো ততটাই অরক্ষিত নন কি?
সংবিধানের ৬২ ও ৬৩ অনুচ্ছেদ দুটি রেখে দিয়েছে কমিটি। এখানে সাংসদদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়ে বলা হয়েছে। কমিটি অল্প কয়েকটি চাতুর্যপূর্ণ পরিবর্তন করেছে, কিন্তু তাতে কোনো উপকার হলো না। আদালতের ভিন্ন রায় না থাকলে ধরে নেওয়া হয়, সাংসদেরা এবং সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তিরা ‘সুস্থ বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন, নীতিবান, সচ্চরিত্র, সত্ ও নিয়মের প্রতি অনুগত’। অর্থাৎ সংসদের সব সদস্যকে সত্ বলে গণ্য করা হবে, যদি না মানবিক দুর্বলতার ফলে তাঁর চরিত্রে বিপরীত বৈশিষ্ট্যের প্রমাণ মেলে। অপরাধ করার অভিযোগে দণ্ডিত বা মিথ্যা সাক্ষ্যদানকারী ব্যক্তি অযোগ্য বলে বিবেচিত হওয়ার যে বিধি ছিল, তা এই কমিটি বাদ দিয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোতে সামন্ততান্ত্রিকতার বিস্তার ঘটেছে এবং যেকোনো প্রকারের ঘৃণার অবাধ বিস্তার ঘটানোর স্বাধীনতা তাদের দেওয়া হয়েছে। দলত্যাগবিষয়ক বিধানটি নিবর্তনমূলক; এটি সাংসদকে দলের মুষ্টিমেয় কর্তাব্যক্তির সিদ্ধান্তে বন্দী করে ফেলে। দলীয় কর্তাব্যক্তিরা ৭০ জন নারী ও সংখ্যালঘু সদস্য ঠিক করেন, যাঁদের কোনোরূপ মূল্যায়নের ভেতর দিয়ে যেতে হয় না, শুধু কর্তাব্যক্তিদের কাছে গ্রহণযোগ্য হলেই চলে। দলের অভ্যন্তরে নির্বাচন এখন ঐচ্ছিক বিষয়। সাম্প্রদায়িক, জাতিগত বা আঞ্চলিক ঘৃণার বিস্তার ঘটানো রোধে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা বাদ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে লস্কররা ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠিগুলো বৈধভাবে ঘৃণা ছড়াতে পারবে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে।
কিছু দুর্বলতা সত্ত্বেও এই কমিটি বেশ কিছু ইতিবাচক সংস্কার শুরু করেছে। সবচেয়ে সজীব যে সংস্কার তা হলো দেশীয় বা আন্তর্জাতিক ঋণ সংগ্রহ করার দায়িত্ব প্রাদেশিক সংস্থাগুলোকে প্রদান এবং ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের (এনইসি) তত্ত্বাবধানে প্রাদেশিক সামষ্টিক তহবিলের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া। তদুপরি খনিজ, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কোনো প্রদেশ বা এর কাছাকাছি জলসীমার মধ্যে মিললে, এর অধিকার এখন প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় সরকার যৌথভাবে সমপরিমাণে পাবে। এটির বাস্তবায়ন হবে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। কারণ যেসব প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় সরকারের উদার দানের ওপর ভর করে চলে, তাদের হূদয়ে আঘাত লাগবে। এস্টাবলিশমেন্টের তরফ থেকে অষ্টাদশ সংশোধনীর ওপর প্রকৃত হুমকিটা আসে এসব পরিবর্তন থেকে, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত প্রদেশের (এনডব্লিউএফপি) নতুন নামকরণ বা সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের নিয়োগ-পদ্ধতির পরিবর্তন থেকে নয়।
কাউন্সিল অব কমন ইন্টারেস্ট (সিসিআই) এবং এনইসিকে শক্তিশালী করা হয়েছে। এদের প্রতিবেদনগুলো এখন সংসদের উভয় কক্ষে পেশ করতে হবে। কোনো প্রদেশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যকার বিরোধ মীমাংসার প্রথম প্রচেষ্টা নিতে হবে সিসিআই পর্যায়ে। নির্বাচন কমিশনকে স্থায়ী কাঠামো দান করা হয়েছে। প্রাদেশিক নির্বাচন কমিশনাররা আর কর্মরত বিচারপতি হবেন না। কোনো ব্যক্তি তত্ত্বাবধায়ক কেবিনেটে স্থান পাবেন না যদি তাঁর সন্তান বা স্বামী-স্ত্রী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জরুরি আইন জারি করার ক্ষমতা দেওয়া হলো আইন প্রণয়নকারী সংস্থাকে; গভর্নরকে নয়। সংশোধনী অনুযায়ী গণভোট দেওয়ার কোনো ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে থাকবে না। এ ক্ষমতা দেওয়া হলো সংসদকে। প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ অনুযায়ী, একমাত্র সংসদই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত দিতে পারবে। স্বৈরাচারী অধ্যাদেশ ঘোষণার ওপরও কিছু নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের ভার সামগ্রিকভাবে বর্তাবে চলতি বা সাবেক বিচারপতি ও আইনজীবীদের প্রতিনিধির ওপর। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি কমিশন তাদের মনোনীত ব্যক্তিদের নাম পাঠাবে সংসদীয় কমিটিতে। সংসদীয় কমিটি কেবল এ প্রস্তাব অগ্রাহ্য করতে পারে তিন-চতুর্থাংশ ভোটে।
গভর্নরের অনুপস্থিতিতে বিচারপতি হিসেবে কর্মরত কেউ আর ভারপ্রাপ্ত গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অন্য কোনো সরকারি পদ গ্রহণ করলে, হয় তাঁর পেনশন পাবেন না অথবা নতুন পদের জন্য পারিশ্রমিক নেবেন না। অ্যাটর্নি জেনারেল ও অ্যাডভোকেট জেনারেলরা দায়িত্বে থাকাকালে তাঁদের ব্যক্তিগত আইন ব্যবসা চালাতে পারবেন না। অতীতে কেন্দ্রীয় শরিয়া আদালতের বিচারপতিদের তিনজন ছিলেন ‘ইসলামি আইনে প্রাজ্ঞ’ ব্যক্তি। এই যোগ্যতার বদলে ইসলামি আইনে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, গবেষক বা শিক্ষাদানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার বিধান করা হয়েছে।
দুর্বলতা প্রসঙ্গে আবারও ফিরে আসি। মৌলিক অধিকারগুলো দুর্বল রয়ে গেছে। এমনকি নির্যাতনও পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়নি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, চলাচল ও ধর্মচর্চার অধিকার সীমিত রয়ে গেছে। সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের পদ্ধতি সবচেয়ে অসন্তোষজনক। গণতন্ত্রের সনদে যে সাংবিধানিক আদালতের প্রতিশ্রুতির কথা আছে, তাতে ছদ্মাবরণ দেওয়া হয়েছে এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতিকে জবাবদিহি করার বিধানটি স্পষ্ট করা হয়নি। কেন্দ্র ও প্রদেশশাসিত উপজাতীয় অঞ্চলের মর্যাদা কী হবে, সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া থেমে না গিয়ে অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি। যদি শাসনব্যবস্থার কাঠামোগত অসংগতিগুলোর দিকে আগে দৃষ্টি দেওয়া হয়, তবেই পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এগিয়ে যেতে পারে। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সুষ্ঠু শাসনের জন্য একটি আইনি কাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু গণতান্ত্রিক রূপান্তরের অর্জনগুলো ধরে রাখতে প্রয়োজন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উচ্চপর্যায়ের নিষ্ঠা।
পাকিস্তানের ডন পত্রিকা থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: আহসান হাবীব
আসমা জাহাঙ্গীর: পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন।

প্রকৃত দিনবদলের সংস্কৃতি চাই by মোহাম্মদ কায়কোবাদ

বর্তমান সরকারের দিনবদল আর ডিজিটাল বাংলাদেশের ইশতেহার যুগ যুগ ধরে সুবিধাবঞ্চিত এবং আশ্বাসে প্রতারিত মানুষকেও নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছে, বিপুল ভোটে ক্ষমতাসীন করেছে বর্তমান সরকারকে। বর্তমান সরকার এক বছরের অধিক ক্ষমতায়। আশ্বাস আর অঙ্গীকারের বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
পত্রপত্রিকার প্রতিবেদন আর খবরে কিন্তু দিনবদলের নিশানা দেখা যাচ্ছে না। আগের মতোই শক্তিশালী সাংসদেরা স্কুলের ছেলেমেয়েদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে দাঁড় করিয়ে তাঁদের প্রতাপ দেখাচ্ছেন, সাত বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা সাংসদদের সোনার নৌকা উপহার দেওয়া অব্যাহত রয়েছে, সরকারদলীয় ছাত্র বাহিনীর চাঁদাবাজি আর টেন্ডারবাজি থেকে দিনবদলের ধারা অনুমান করা যাচ্ছে না। সরকারদলীয় প্রভাবশালী নেতাদের মোটরসাইকেল বাহিনীর যেকোনো অনুষ্ঠানে বিনা আমন্ত্রণে অত্যাচার অব্যাহত রয়েছে। সরকারদলীয় ছাত্রদের প্রত্যাশিত প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণে বন্দুকযুদ্ধ হচ্ছে। দিনবদলের মতোই নিজস্ব এলাকায় সার্বক্ষণিক সাংসদদের অভিপ্রেত ও অনভিপ্রেত নজরদারি, খবরদারি চলছে স্কুল-কলেজে, মাঠে, মসজিদে কিংবা ক্লাবে। বিদ্যুৎ-বিভ্রাট আগের থেকে বেশি, ঠিক যেমনটি যানজট। সাধারণ মানুষ দিনবদলের আশা করেছিল উন্নতির দিকে। আগের মতো জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পেলেই আন্তর্জাতিক বাজারের কারণ দেখানো হয়, নয়তো সিন্ডিকেটের। এমন নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর যদি সিন্ডিকেট ভাঙা না যায়, তাহলে কিসের দিনবদলের সরকার আমরা পেলাম? চারদিকে নামবদলের হিড়িক, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, বিদ্যুৎ-বিভ্রাট, পানিসংকট কিংবা যানজট নিরসনের তেমন কার্যকর পদক্ষেপ এখনো দেখা যাচ্ছে না। বিপণিবিতানগুলোর সময় পরিবর্তন যানজটে কিছুটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখলেও এখনো যানজট গ্রহণযোগ্য মাত্রায় কমে আসেনি। স্কুলের ছাত্ররা স্কুলের ছাত্রদের মেরে ফেলছে—এ রকম একাধিক ঘটনা অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে ঘটেছে। তা ছাড়া রাজধানী ও এর বাইরে বিভিন্ন হত্যাসম্পর্কিত অপকর্ম ঘটে চলেছে। এসব কারণে অন্তত এ কথাটি বলা যায়, সরকার সাধারণ মানুষকে উজ্জীবিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সরকারের কোনো রকম প্রশংসনীয় অর্জন নেই।
অতি ক্ষুদ্র ভূখণ্ডের এ দরিদ্র দেশটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের বাস, প্রাকৃতিক সম্পদের সমৃদ্ধি সম্পর্কেও তেমন বলার কিছু নেই, গ্যাস-সংকটে বিপন্ন কলকারখানা। এই সপ্তম জনবহুল দেশে চাহিদা অনেক এবং তা মেটানোর জন্য সম্পদ অপ্রতুল। সুতরাং অচিরেই মানুষের বিদ্যুৎ, পানি কিংবা যাতায়াতের চাহিদা—খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের চাহিদা মেটানো যাবে, তা কেউ আশা করেন না। তবে এ খাতগুলোয় অনুভবযোগ্য পরিবর্তন হবে, তা দিনবদলের সরকারের কাছ থেকে সবার প্রত্যাশা। এমন একটি জনবহুল দেশের দিনবদল চাট্টিখানি কথা নয়। এ জন্য যে অঙ্গীকার ও প্রত্যয় থাকা দরকার তা কিন্তু অনুভূত হচ্ছে না। প্রকৃতপক্ষে দিনবদল একটি স্লোগান না হয়ে উন্নয়ন-অনুকূল সংস্কৃতির সূচনা হতে পারে এবং তা-ই হওয়া উচিত। কয়েক দিন আগে আমরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন পালন করলাম কেক কেটে এবং কাজ না করে। এখানে একটি সুস্থ সংস্কৃতির সূচনা হতে পারত। এ দিন আমরা রাস্তাঘাট পরিষ্কার কিংবা মেরামতে ব্যয় করতে পারতাম এবং এই কাজে বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা নেতৃত্ব দিয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পারতেন। অবশ্য একই সঙ্গে দেখা যেত ছাত্রলীগ, যুবলীগ কিংবা আওয়ামী লীগে কতজন বঙ্গবন্ধুর সৈনিক রয়েছেন। উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলো কিছু উন্নয়ন-অনুকূল সংস্কৃতির সূচনা করলে নিশ্চয়ই আগামী বছর দেশবাসীও তাতে শামিল হতো। এমনটি তো হয়নি। দিনবদলের দিনে উন্নয়ন-প্রতিকূল ধারাবাহিকতা তো বজায় থাকল। শুধু গ্রামাঞ্চলেই নয়, খোদ রাজধানীতে অকল্পনীয় বিদ্যুৎ-বিভ্রাটে জনজীবন বিপর্যস্ত। তার চেয়েও আশঙ্কার বিষয় হলো, কলকারখানাগুলোর উৎপাদন বিদ্যুতের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দিনবদলের ইশতেহারে মানুষের যে প্রত্যাশা, তা মিটছে না। বিদ্যুৎ উৎপাদন সামান্য বাড়লেও বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে আরও বেশি। চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে যে বিশাল ব্যবধান, তা অল্প সময়ে মেটানো সম্ভব নয়। তাই উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে মানুষের বঞ্চিত হওয়ার অনুভূতিকে সামান্য হলেও কমানো যেতে পারে, মন্ত্রী ও অন্যান্য নেতৃস্থানীয় মানুষের এলাকায় বিদ্যুতের প্রথম লোডশেডিং করার মাধ্যমে। জনগণের নেতারা জনগণের দুর্ভোগ পোহাবেন না, অনুভব করবেন না—তা কী করে হয়? এমন সিদ্ধান্তে মানুষের কষ্টের অনুভূতি এক লাফে অর্ধেকে নেমে আসবে। এর থেকে ব্যয়সাশ্রয়ীভাবে মানুষের অভাবের অনুভূতি মেটানোর আর কোনো পদ্ধতি নেই। তা ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহারের সাশ্রয়ও নেতারা নিজেরা অনুশীলন করে আমাদের শেখাতে পারেন। একইভাবে যানজটের দুর্ভোগও আমাদের নেতাদের পোহানো উচিত। কারণ তাঁদের সুযোগ্য নেতৃত্বেই তো এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুঃখ-কষ্ট ভাগ করে নেওয়ায় উভয়ের প্রতি উভয়ের যে সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠিত হবে, তা তাঁদের ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যাওয়াটাকেও নিশ্চিত করবে। বিদ্যুতের সুষম ব্যবহারের জন্য সময় অনুসারে এর মূল্য পরিবর্তন করে জনগণকে তা র্যাশনালি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা উচিত। একইভাবে গ্যাসের ব্যবহারের জন্যও মিটার-ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শোনা যাচ্ছে, যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে যে ট্রান্সমিশন লাইন রয়েছে তা অব্যবহূত পড়ে আছে, আবার নতুন করে খাম্বা ক্রয়ের খবরও পত্রিকায় এসেছে। সীমিত সম্পদের দেশে অব্যবহূত বিনিয়োগ কোনো অবস্থাতেই কাঙ্ক্ষিত নয়। যেখানে বর্তমানের জরুরি চাহিদাই মেটানো যাচ্ছে না, সেখানে ভবিষ্যতের জন্য সম্পদ আগলে রাখার মানে হয় না।
হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে যমুনা সেতু তৈরি করা হলো। এলাকায় বসবাসরত মানুষ ও তাঁদের অধিগৃহীত জমির জন্য নিশ্চয়ই ফসলি জমি ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হয়েছে। এই হাজার হাজার লোকের জন্য অল্প জায়গায় পরিকল্পিত আবাসন তৈরি করে অপ্রতুল ভূমির দেশে একটি অনুকূল সংস্কৃতি তৈরি করা যেত।
ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সরকারের বড় বড় কর্মসূচিতে, প্রজেক্টে কম্পিউটারের ব্যবহার প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা দরকার। আমাদের মুদি দোকানদারেরা কম্পিউটার ব্যবহার করুক এই প্রত্যাশার পূর্বশর্ত হলো, বড় বড় প্রকল্পে কম্পিউটারের ব্যবহার নিশ্চিত করা। এটা মনে রাখতে হবে, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সরকার সহায়কের ভূমিকা যেমন পালন করবে, তেমনি উদ্যোগীর ভূমিকাও পালন করবে। জনগণকে প্রতিষ্ঠানগুলোতে কম্পিউটারের ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য নানাভাবে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করবে। তথ্যপ্রযুক্তির যে ভৌত অবকাঠামো ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে, তার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার সাপেক্ষে অবকাঠামোগুলোর সম্প্রসারণ করা উচিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তির ভৌত অবকাঠামোর বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত হবে বলেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ইন্টারনেটসহ অন্য সুবিধাদির নির্মিত ভৌত অবকাঠামোর সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত। দেশের কাজে দেশের সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমেও দিনবদলের সংস্কৃতির সূচনা হতে পারে।
মোহাম্মদ কায়কোবাদ: অধ্যাপক, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ, বুয়েট। ফেলো, বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্স।

ভোলায় উপনির্বাচন

ভোলা-৩ আসনের উপনির্বাচনে সরকারদলীয় প্রার্থী নূরনবী চৌধুরীর বিজয়ের খবরটি অনেকাংশে চাপা পড়ে গেছে সেখানে বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংসতার ঘটনায়। বিএনপির সমর্থক-অধ্যুষিত এলাকায় ভোটদাতাদের পথে পথে বাধা দেওয়া, কোথাও মারপিট, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, বিএনপির নির্বাচনী এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া—এ রকম বেশ কিছু অভিযোগের কারণে সরকারি দলের আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
তবে এটাও ঠিক যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল, কোথাও গোলাগুলির মতো ঘটনা ঘটেনি। সব অভিযোগ নিজস্ব কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তদন্ত করে নির্বাচন কমিশন মোট ৮৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে মাত্র নয়টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছে। এতে বোঝা যায়, বলপ্রয়োগের ঘটনা সীমিত ছিল। ব্যাপক সহিংসতা হলে প্রায় ৬৭ শতাংশ ভোট পড়ার সুযোগ ছিল না। স্মরণ করা যেতে পারে, বিগত সাধারণ নির্বাচনে এই আসনে ভোট পড়েছিল প্রায় ৮৫ শতাংশ। উপনির্বাচনে ভোট দেওয়ার হার কিছু কমে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। যদি বিগত নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ও সুষ্ঠুভাবে হয়েছে বলে স্বীকৃতি পেয়ে থাকে, তাহলে এই উপনির্বাচন মোটামুটি গ্রহণযোগ্য বলে ধরে নেওয়া যায়।
কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আরও সংযত আচরণ কাম্য ছিল। কারণ তাদের সামান্য মারামারির ঘটনা বড় অন্যায় বলে প্রতিভাত হয়, যেহেতু তারা ক্ষমতায়। প্রাথমিক হিসাবে দেখা যায়, বিগত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের প্রায় কাছাকাছি ভোটই পেয়েছেন তাদের এবারের প্রার্থী। কিন্তু বিগত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হাফিজউদ্দিন আহমেদের ভোট প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। স্থগিত নয়টি কেন্দ্রের মোট ভোট প্রায় ৩২ হাজার। এর বড় অংশ যদি বিএনপির প্রার্থীর প্রাপ্য হয়, তাহলেও বিগত নির্বাচনের তুলনায় এবার তিনি ২৫-৩০ হাজার ভোট কম পেয়েছেন। কেন এত কমল? এর একটি কারণ হতে পারে ভোটদাতাদের সরল মনস্তত্ত্ব, যার অর্থ হলো সরকারদলীয় প্রার্থী জিতলে এলাকার উন্নয়নের সুবিধা। তবে বিএনপি সে রকম মনে করে না। ভয়ভীতি ও কারচুপির মাধ্যমে তাদের প্রার্থীকে হারানোর অভিযোগ সত্য হলে বলতে হয়, ৩০-৩৫ হাজার ভোট জালিয়াতি করা হয়েছে। এ রকম গুরুতর অভিযোগের ভিত্তি আছে কি না, তা তদন্তের দাবি রাখে। নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এটা অনস্বীকার্য যে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করেছে। যখন কোনো অভিযোগ এসেছে, তদন্ত করে কমিশন অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বদলি করেছে। মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের এলাকায় যাওয়া নিষিদ্ধ করে নির্বাচনে বাইরের হস্তক্ষেপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। সিইসি বলেছেন, শতভাগ না হলেও উপনির্বাচন সফল হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে দেখা যায়, নির্বাচনী এলাকায় বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া পরিস্থিতি শান্ত ছিল। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও বিজয় মিছিল বা এমন কোনো কর্মসূচি না নিতে বলা হয়েছে, যেন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে না ওঠে।
লক্ষণীয় বিষয় হলো, বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচন নিয়ে তাত্ক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। আওয়ামী লীগের সভানেত্রীও এ ব্যাপারে মৌনব্রত পালন করেছেন। কিছু বলার আগে পুরো বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করার জন্য সময় নেওয়ার এই অনুশীলন গণতন্ত্রের জন্য শুভ। এই ধারাটি বিকশিত হোক।

প্রধানমন্ত্রী পদে প্রচণ্ড ছাড়া অন্য কেউ হলে পদত্যাগে রাজি

মাওবাদী নেতা পুষ্পকমল দহল প্রচণ্ড ছাড়া প্রধানমন্ত্রী পদে অন্য কোনো প্রার্থীর ব্যাপারে মতৈক্য হলে পদত্যাগে রাজি নেপালের প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপাল। গতকাল রোববার এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
শান্তি-প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ব্যর্থতা ও নতুন সংবিধানের খসড়া প্রণয়নে বিলম্বের অভিযোগে পদত্যাগের জন্য নিজ দল সিপিএন (ইউএমএল) ও প্রধান বিরোধী দল ইউসিপিএনের (মাওবাদী) দিক থেকে চাপের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপাল।
বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার জন্য ইউসিপিএন (মাওবাদী), বিশেষ করে ওই দলের চেয়ারম্যান প্রচণ্ডকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী নেপাল বলেন, প্রচণ্ড ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থীর ব্যাপারে দলগুলো একমত হলে তিনি পদত্যাগ করতে রাজি।
ইউসিপিএনের (মাওবাদী) কর্মীদের হামলায় আহত কয়েকজন দলীয় ক্যাডারকে দেখতে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি টিচিং হাসপাতালে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন।
মাধব কুমার নেপাল আরও বলেন, যদি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে তিনি শান্তিপ্রক্রিয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়াবেন না।
তবে মাওবাদী চেয়ারম্যান প্রচণ্ডকে মতৈক্যের প্রার্থী হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নেপাল বলেন, ‘যদি মাধব কুমার নেপাল প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে না পারেন, তাহলে প্রচণ্ডও প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না।’
তিনি বলেন, মাওবাদীরা দেশজুড়ে সহিংসতা চালাচ্ছে। তারা অন্য রাজনৈতিক দলের ক্যাডার ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে।
১ মে থেকে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত যুদ্ধ’ চালানোর প্রস্তুতি হিসেবে হাজার হাজার তরুণকে ‘সামরিক প্রশিক্ষণ’ দিচ্ছে মাওবাদীরা।
বেসরকারি বিদ্যালয়ে ধর্মঘট: মাওবাদী সমর্থিত ছাত্রসংগঠনের ডাকে গতকাল রোববার নেপালজুড়ে হাজার হাজার বেসরকারি বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। ফি বাড়ানোর প্রতিবাদে গতকাল রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্কুল বন্ধের ডাক দেয় সংগঠনটি।
বর্ধিত ফি প্রত্যাহার না করায় মাওবাদী সমর্থিত ছাত্রসংগঠন অল নেপাল ন্যাশনাল ফ্রি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (বিপ্লবী) সদস্যরা কয়েকটি বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীবাহী বাসে হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

হাঙ্গেরির সাধারণ নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহণ

হাঙ্গেরির সাধারণ নির্বাচনে গতকাল রোববার দ্বিতীয় দফায় ভোট নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রথম দফার নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে রক্ষণশীল বিরোধী ফিডেসজ পার্টি।
প্রথম দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১১ এপ্রিল। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের নেতৃত্বাধীন ফিডেসজ পার্টি ৩৮৬টি আসনের মধ্যে ২০৬টিতে জয়লাভ করেছে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে এক-তৃতীয়াংশ আসনের ভাগ্য নির্ধারিত হবে।
প্রথম দফার নির্বাচনে যেসব আসনে কোনো প্রার্থীই শতকরা ৫০ ভাগের বেশি ভোট পাননি, ওইসব আসনে দ্বিতীয় দফায় ভোট নেওয়া হচ্ছে। এ রকম আসনের সংখ্যা ১২১টি। পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ৫২টি আসন দরকার ফিডেসজ পার্টির।
আগামী ১০ বছরে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ওরবান।