Thursday, October 10, 2024
একযোগে চাকরি ছাড়ার হুমকি ইসরায়েলি সেনাদের
বৃহস্পতিবার (০৯ অক্টোবর) ডেইলি সাবাহর এক প্রতিবেদেনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় যুদ্ধবিরতি ও বন্দিবিনিময় চুক্তি সফল না হলে একযোগে ইসরায়েলের ১৩০ সেনা চাকরি ছাড়ার হুমকি দিয়েছেন। বুধবার তারা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে এ সংক্রান্ত চিঠি দিয়েছেন।
ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, চিঠিতে ইসরায়েলের ১৩০ সেনা স্বাক্ষর করেছেন। তারা জানিয়েছেন যে গাজায় যুদ্ধবিরতি ও বন্দিবিনিময় চুক্তি সফল না হলে আর সেনাবাহিনীতে যোগ দেবেন না। ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার সদস্য ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রধানকে উদ্দেশ্যে করে তারা এ চিঠি লিখেছেন।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক ইউনিটের রিজার্ভ ফোর্স ও নিয়মিত সেনারা রয়েছেন। তাদের মধ্যে আর্মার্ড কর্পস, আর্টিলারি কর্পস, হোম ফ্রন্ট কমান্ড, বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন।
গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের বিরোধিতা করে তারা বলেন, এ সংঘাত বন্দিদের মুক্তিকে বিলম্বিত করছে। এ ছাড়া এটি তাদের জীবনের ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। কেননা আইডিএফের হামলায় অনেক জিম্মি নিহত হয়েছেন। সামরিক অভিযানে তাদের রক্ষা করার পরিবর্তে তাদের অনেকে মারা গেছেন।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার জিম্মিদের বিনিময়ের চুক্তির দিকে না আগালে আমরা যোগদান করব না। আমাদের মধ্যে কয়েকজনের ইতোমধ্যে রেড লাইন পার হয়ে গেছে। এছাড়া অন্যদেরও সেই সময় দ্রুত চলে আসছে।
এর আগে গাজায় যুদ্ধের বর্ষপূতি উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় হামাসের সামরিক মুখপাত্র আবু উবায়দা বলেন, যখন জিম্মিদের কথা আসে– আমি দখলদারদের এবং জিম্মিদের পরিবারকে বলতে চাই, আপনারা এক বছর আগে সমস্ত জিম্মিকে জীবিত মুক্ত করতে পারতেন। কিন্তু নেতানিয়াহুর উচ্চাকাঙ্ক্ষা সবসময় জিম্মিদের বিরুদ্ধে এবং জিম্মিদের পরিবারের বিরুদ্ধে ছিল।
হামাসের এ মুখপাত্র বলেন, আমরা প্রথম দিন থেকেই জিম্মিদের নিরাপদ স্থানে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ আমরা আমাদের ধর্মের নিয়ম এবং মানবতার নিয়ম মেনে চলি। বন্দি বিনিময়ের জন্য আমরা তাদের নিরাপদ স্থানে রেখেছি। উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রবেশ করে নজিরবিহীন হামলা চালিয়ে ১২০০ ইসরায়েলিকে হত্যার পাশাপাশি প্রায় ২৫০ ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিককে গাজায় বন্দি করে নিয়ে আসে হামাস। একই দিন হামাসকে নির্মূল এবং বন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী এই সংগঠনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ইসরায়েল। গত নভেম্বরে সাতদিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিনিময়ে ১১০ ইসরায়েলি বন্দিকে হামাস মুক্তি দিলেও এখনো তাদের হাতে শতাধিক বন্দি আছেন।
অন্যদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪১ হাজার ৯০৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৯৭ হাজার ৩০৩ জন।
গত এক বছর ধরে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েল অব্যাহতভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটির এ হামলায় গাজা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। যা পরিষ্কার করতে অন্তত ১৫ বছর সময় লাগবে। এ জন্য প্রতিদিন ১০০টি লরি ব্যবহার করতে হবে।
জাতিসংঘের হিসাবমতে, গাজায় ভবন ধসে এ পর্যন্ত ৪২ মিলিয়ন টনেরও বেশি ধ্বংসস্তূপ জমা হয়েছে। এ ধ্বংসস্তূপগুলো যদি একসঙ্গে এক জায়গায় রাখা যায়, তাহলে তা মিসরের ১১টি গ্রেট পিরামিডের সমান হবে। এ ধ্বংসস্তূপ সরাতে ব্যয় হবে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি)।
ইউএন এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রামের হিসাব অনুসারে, গাজায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৭টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা অঞ্চলটির মোট ভবনের অর্ধেকের বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এ ছাড়া এক-দশমাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক-তৃতীয়াংশ বেশ খানিকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফেলার জন্য ২৫০ থেকে ৫০০ হেক্টর জমির প্রয়োজন পড়বে
গাজাভিত্তিক জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তা গত সপ্তাহে গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘অবকাঠামোর যে পরিমাণ ক্ষতি করা হয়েছে, তা পাগলামির পর্যায়ে পড়ে। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে একটি ভবনও নেই যেখানে ইসরায়েল হামলা চালায়নি।’
![]() |
| ইসরায়েলি বাহিনীর সেনারা। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাকিস্তানে ‘র’ এর এজেন্ট গ্রেপ্তার
এতে বলা হয়, সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির নাম মুহাম্মদ সেলিম। গত সোমবার পাকিস্তানের মনিপুর এলাকা থেকে ভারতীয় গয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর এজেন্ট সন্দেহে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানের অপরাধ তদন্তকারী সংস্থা স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন ইউনিট (এসআইইউ)। তাদের দাবি সেলিমের কাছে অবৈধ অস্ত্র এবং বিস্ফোরক পাওয়া গেছে। এছাড়া তার ঘর থেকে বেশ কিছু গোপন নথি উদ্ধার করেছে ইনভেস্টিগেশন ইউনিট।
মঙ্গলবার, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) সন্দেহভাজনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। পরে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডের পর তদন্তের বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্তকারী উচ্চ পদস্থ এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সন্ত্রাস দমন অভিযানের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকা থেকে হ্যান্ড গ্রেনেড, একটি রকেট লঞ্চার, ৯ এমএম পিস্তল সহ বেশ কয়েকটি জাল সার্ভিস কার্ড জব্দ করা হয়।
সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির কাছে একাধিক দেশের পাসপোর্ট এবং একাধিক জাতীয় পরিচয় পত্র রয়েছে। ব্যক্তিগত এসব ডকুমেন্টে একাধিক নাম, পরিচয় ব্যবহার করেছে ‘র’ এর সন্দেহভাজন ওই এজেন্ট। তিনি বেশ কয়েকবার ভিন্ন পরিচয় পত্র এবং পাসপোর্ট নিয়ে নেপাল হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছেন। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, করাচিতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সৃষ্টিতে ‘র’ এর হয়ে কাজ করছিলেন মুহাম্মদ সেলিম। তিনি গোপনে স্থানীয় সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের কাজে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছে এসআইইউ।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘আমাকে মোয়া বানানো হচ্ছে’
সাবেক ডিবি প্রধান হারুন সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেল নাগরিক টিভিতে একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমাকে মোয়া বানানো হচ্ছে।” তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে এবং বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হচ্ছে।
হারুন জানান, অন্তর্বর্তী সরকার যখন সকল পুলিশ কর্মকর্তাকে কাজে যোগ দিতে নির্দেশ দেয়, তখন তিনিও ৮ আগস্ট ডিএমপি কমিশনারের সাথে যোগাযোগ করেন। কমিশনার তাকে যোগ দিতে নিষেধ করেন এবং নিরাপদ স্থানে থাকতে বলেন।
তার কিছুদিন পর তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি ও কমিশনারের সঙ্গে তাকে হুকুমের আসামি করা হয়। হারুন বলেন, ‘আমি তো ডিবিতে কাজ করি। আমার কাজ হলো মামলা তদন্ত করা। অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে আমি মারামারিতে জড়িত হওয়ার প্রশ্নই আসে না।’
তিনি আরও জানান, বিষয়টি জানার পর তাকে চাকরিতে যোগ দিতে নিষেধ করা হয় এবং অন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে হারুন মনে করেন, তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে।
৫ আগস্টের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হারুনের গণপিটুনির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। তিনি এসবকে গুজব বলে অভিহিত করেছেন এবং জানান, “এগুলো বলার পিছনে যারা রয়েছেন, তারা টাকা-পয়সা কামানোর জন্য এসব করেন।”
সাবেক ডিবি প্রধান হারুন আরও বলেন, অন্তবর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা যখন বললেন, যেসব পুলিশ কর্মকর্তা জয়েন করেননি আপনারা তাদের ধরে নিয়ে আসেন। আমি তখন আরো অবাক হলাম। আমি যদি চাকরিতে জয়েন না করি তাহলে প্রসিডিং করবে। আর যোগ দিলে আমাকে দিয়ে জোর করে চাকরি করাবেন। এটা শোনার পরে আমার মনে হলো রিস্ক। মানে আমার লাইফ ঝুঁকির মধ্যে। এখন মানুষকে ধরে যেভাবে পেটানো, ডিম মারা হচ্ছে। যদি আমাকে…। আগে তো বাঁচতে হবে। আমি ইচ্ছাকৃতভাবে একটু চুপ আছি।
পুলিশ সদর দপ্তরের দেয়াল টপকে পালাতে গিয়ে ব্যথা পাওয়ার বিষয়ে সাবেক ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি পুলিশ সদর দপ্তরে যাইনি।’
সাবেক সরকারপ্রধান (শেখ হাসিনা) সবাইকে বিপদে ফেলে চলে গেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ বলেন, এ নিয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। আমি ছোট মানুষ। আমি ডিএমপির প্রধানও না, পুলিশের প্রধান না। আমাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমাকে মোয়া বানানো হচ্ছে। আমি কেন আলোচিত-এর একটাই কারণ যেখানে অপরাধ হয়েছে সেখানে আমি মানুষকে সেবা দিয়েছি। মানুষ যখন যে সমস্যায় পড়েছে তারা থানায় না গিয়ে ডিবিতে আসত। ডিবিতে আমার চাকরিজীবনে মানুষের উপকার করেছি। কারো ক্ষতি করিনি।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি অনেক বড় বড় কাজ করেছি, তবে পুরস্কার পাইনি। আমি আমার বিবেকের তাড়নায় কাজ করেছি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরুর সময়ে এক প্রশ্নের জবাবে হারুন বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে আমেরিকা এসেছিলাম ছুটি নিয়ে। জুলাইয়ের ১৫ তারিখ দেশে ফিরি। দেশে যাওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কোর কমিটির বাসায় একটা মিটিং হয়। নিয়মিত সেই মিটিং হতো। মিটিংয়ে স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার, এনএসআই, ডিজিএফআই, এসবি, বিজিবি প্রধান ছিল। এছাড়াও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ও এনটিএমসির প্রধান।
সে সময় প্রতিদিন কোর কমিটির মিটিং হচ্ছিল। একদিন মিটিংয়ে আমাকে ডাকা হলো। আমার কাছে গ্রেফতারের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়। তখন আমি বলি আমার কাছে কেউ গ্রেফতার নেই। তবে র্যাব নুরুকে গ্রেফতার করে আমার কাছে দিয়েছে, নজরুল ইসলাম খানকে দিয়েছে। গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে তিনজন সমন্বয়ক আছে। তাদেরকে এসবি পাহারা দিচ্ছিলো। আমাকে বলা হলো- তাদের নিরাপত্তার জন্য ডিবিতে আনার জন্য। তখন বলি আমি তাদের কিভাবে নেবো?
সে সময় তারা বলে এতকিছু বুঝার দরকার নাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবো আপনি নিয়ে রাখেন। আমাকে কমিশনারসহ কোর কমিটির সবাই এ কথা বলেছে। এরপর আমি ডিবির রমনা বিভাগের ডিসি হুমায়ুনকে সমন্বয়ক তিনজনকে নিয়ে আসতে বলি। হুমায়ুন তাদের নিতে আসে। তাদের মোবাইল আগেই ডিজিএফআই নিয়ে গেছিলো
পরবর্তী সময়ে রাত ২টা-তিনটার দিকে আমাকে ডিজিএফআইয়ের দুইজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ফোন দিয়ে বলে সারজিসসহ আরও দুইজনকে ডিবি গেইটে আনা হয়েছে। আপনার কোনো এক কর্মকর্তাকে বলেন রিসিভ করতে। পরে আমি ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শাহেনশাহ মাহমুদকে ফোন দিয়ে বলি রিসিভ করতে। পরে তাদের সাইবারের একজন এডিসি রিসিভ করে।
পরের দিন ডিজিএফআই প্রধান আমাকে ফোন দিয়ে বলেন একটি মেয়ে (নুসরাত তাবাসসুম) খুব উৎপাত করছে তাকেও তুলে আনতে হবে। আমি মিরপুরের ডিসি মানস কুমার পোদ্দারকে বলি তাকে আনতে। এরপর আমাকে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হলো।
এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐ সময় পুলিশ হাসপাতালে পরিদর্শনে যাওয়ার পরে আমাকে কাজের আপডেট জানতে চান এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম। আমি বিস্তারিত তাকে পাঠাই। আগে তাদের বিভিন্ন সংস্থা মারধর করেছে। কিন্তু আমি তাদের (সমন্বয়ক) স্বজনদের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিয়েছি। আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে আমি ভাতও খেয়েছি। ওই মেয়েটার মাকে এনে তার সঙ্গে রাখা হয়েছে।
এরআগে আরেকটি রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিলো আইন সচিবের সঙ্গে আমার কথার। আমি আইন সচিবকে বলি আমি তাদের ধরি নাই। কিন্তু আমাকে কালার করা হচ্ছে। তখন কিন্তু বিভিন্ন মিডিয়ায় আসছিলো তাদের ডিবিতে আটকে রাখা হয়েছে। আমি তো কোনো কুলই পাচ্ছি না। সাধারণ মানুষ জানতেছে তাদের আমি আটকে রেখেছি। আমি হারুন তাদের সঙ্গে কোনো খারাপ কথা বলিনি। ভিপি নুরের সঙ্গেও দুজন সমন্বয়কের কথা বলিয়ে দিয়েছি। তারা যাওয়ার পরে কিন্তু এখন পর্যন্ত বলে নাই হারুন তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে। আমার ক্ষতিটা হলো মানুষ জানলো হারুন তাদের ধরে নিয়েছে।
সরকারের লাঠিয়াল হিসেবে কাজ করে আপনি অনুতপ্ত কি না জানতে চাইলে ডিবির সাবেক এই কর্মকর্তা বলেন, আমি লাঠিয়াল হিসেবে কাজ করিনি। আমি সরকারি চাকরি করি। আমার সঙ্গে কোনো দিন শেখ হাসিনার দেখা হয় নাই। ১৫ বছরের ক্ষমতাকালীন সময়ে কোনো দিন শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে যাইনি। আমার সঙ্গে কথা হয় নাই। আমাকে বলা হচ্ছে হুকুমদাতা। আমি হুকুমদাতা কিভাবে হলাম। আমি তো ডিএমপি কমিশনারের অধীনে কাজ করেছি। আমি যা করেছি ন্যায়বোধ থেকে করেছি। অন্যায় করিনি। ন্যায়বোধ দিয়ে কাজ করায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রোষানলে পড়েছি। কিন্তু মানুষ আমার কাজের প্রশংসা করেছে। আমাকে ভুল বুঝার অবকাশ নাই।
দেশবাসী কেন আপনাকে ঘৃণা করে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ১২ বছর চাকরি করেছি। আমার কোনো অন্যায় থাকলে আপনারা আমাকে ছাড়তেন? তখন আপনারা কোথায় ছিলেন? এখন আমি একটু অড পজিশনে পড়ে গিয়েছি, এখন যদি বলে হারুন খুব খারাপ... তাহলে আমি কী খারাপটা করেছি বলেন। আমি কার ক্ষতি করেছি? আমার কাছে যারা-যেসকল আসামিরা ছিল... এমনও বড় বড় বিএনপি নেতারা আমার কাছে গিয়েছিল.. তারা আমাকে বলতো আমার ফ্যামিলি প্রবলেম আছে, আমার ফ্যামিলি প্রবলেম সলভ করে দিও। এসব বিষয়ে আমি আরেকদিন কথা বলবো।
![]() |
| সাবেক ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। ছবি : সংগৃহীত। |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আ.লীগ সরকারের রাজনৈতিক ‘হাতিয়ার’ ছিল উচ্চ আদালত
বিশ্লেষকরা বলছেন, চরম দলীয়করণের কারণেই বিচার বিভাগে নজিরবিহীন ইতিহাস তৈরি হয়েছে। একযোগে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের ছয়জন বিচারপতি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। তবে এখনো হাইকোর্ট বিভাগে দলীয় লেজুড়বৃত্তিতে জড়িত অনেক বিচারপতি তাদের পদে বহাল রয়েছেন। সে কারণে বিভিন্ন মহল থেকে তাদেরও পদত্যাগের দাবি উঠেছে।
সর্বশেষ গত ৭ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে সাধারণ আইনজীবীদের ব্যানারে ৩০ বিচারপতির পদত্যাগ দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন থেকে দলবাজ ও দুর্নীতিগ্রস্ত বিচারপতিদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় আগামী ১৮ অক্টোবর এসব বিচারপতির ছবিসংবলিত নামের তালিকা প্রকাশ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি শেষে আইনজীবীদের একটি প্রতিনিধিদল সেসব বিচারপতির অপসারণে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রধান বিচারপতিকে স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘তাজা রক্তের বিনিময়ে ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আপনি এখন আমাদের বিচার বিভাগের অভিভাবক। কিন্তু নতুন বাংলাদেশে হাইকোর্ট বিভাগ ও বিচার বিভাগীয় প্রশাসন এবং অধস্তন বিচার বিভাগে বিচারক হিসেবে ফ্যাসিবাদী শাসনের সমর্থক ও সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে কিছু বিচারক। বিচারকের আসনে যখন আমরা তাদের দেখতে পাই তখন আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। এতে আরও বলা হয়, এসব বিচারক দায়িত্ব পালনে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত ছিলেন। তাই বিচার বিভাগের অভিভাবক হিসেবে আপনাদের কাছে আমাদের প্রথম ও প্রধান অনুরোধ এবং দাবি জানাচ্ছি, যে রক্তের ঋণ শোধের জন্য ‘জুলাই বিপ্লব, ২৪’ সংঘটিত হয়েছিল তার জন্য রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্টতা ও দুর্নীতির ভিত্তিতে এসব দলবাজ ও দুর্নীতিগ্রস্ত বিচারপতিকে অবিলম্বে তাদের পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। যাতে ‘জুলাই বিপ্লবে’ প্রাণ উৎসর্গ ও রক্তের বলিদানকারীদের জীবন অর্থবহ করে তোলে।
জানা গেছে, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর টানা ১৬ বছর ক্ষমতায় ছিলেন শেখ হাসিনার সরকার। এই পুরো সময়ে উচ্চ আদালতে যত বিচারপতি নিয়োগ হয়েছে, তার প্রায় অধিকাংশই হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। বিচারপতি নিয়োগের কোনো নিয়মনীতি না থাকায় এই সুযোগ আরও বেশি করে কাজে লাগিয়েছে বিগত সরকার।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিচারপতি নিয়োগ হয় মূলত সিনিয়র জেলা জজ, অ্যাটার্নি জেনারেল কার্যালয়ে কর্মরত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনজীবীদের মধ্য থেকে। জেলা জজদের মধ্যে যারা সরকারের অনুগত ছিলেন, তারাই উচ্চ আদালতে নিয়োগে প্রাধান্য পেয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা এবং বিডিআর হত্যা মামলার মতো স্পর্শকাতর মামলায় নিম্ন আদালতে রায়প্রদানকারী বিচারপতিরা এখন উচ্চ আদালতে কর্মরত। এ ছাড়া আইনজীবী ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল থেকে যাদের নিয়োগ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে কেউ ছিলেন সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আবার কারও কারও কপালে ছিল ছাত্রলীগের তিলক। অনেকে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতাদের আত্মীয়স্বজন ও আশীর্বাদপুষ্ট।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর পরই ওয়ান-ইলেভেনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা সব দুর্নীতির মামলায় খালাস দেন হাইকোর্ট। আর এই রায়গুলোর বেশিরভাগ দিয়েছিলেন তৎকালীন বিচারপতি শামসুল হুদা মানিক। তিনি ১৯৮৬-৮৭ সালে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। এরপর ২০১০ সালে ১১ এপ্রিল ১৭ জনকে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন বিগত সরকার। ১৮ এপ্রিল বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস বাবু ও খসরুজ্জামান ছাড়া বাকিদের শপথবাক্য পাঠ করান সাবেক প্রধান বিচারপতি মো. ফজলুল করিম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হত্যা মামলার আসামি বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস এবং চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৬ সালে প্রধান বিচারপতির এজলাস ও অ্যাটর্নি কার্যালয় ভাঙচুর মামলার আসামি হওয়ায় মো. খসরুজ্জামানকে সাবেক প্রধান বিচারপতি শপথ পাঠ করাননি।
পরে সাবেক সরকারের আরেক ঘনিষ্ঠ সহচর ও সরকারের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নকারী হিসেবে পরিচিত বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নিয়ে তাদের শপথ পাঠ করান। বিচারপতি খায়রুল হক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ ত্রয়োদশ সংশোধনী, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলের বৈধতা প্রদান সংক্রান্ত পঞ্চম সংশোধনী এবং হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের শাসনামলের বৈধতা প্রদান সংক্রান্ত সপ্তম সংশোধনী বাতিল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়ে সাবেক সরকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। আর এর বিনিময়ে বিগত সরকারের পতন পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির সমান সুযোগ-সুবিধায় আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে যান।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি নুরুজ্জামান নোনি ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বাদলের বাড়ি কিশোরগঞ্জে হওয়ায় তারা সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের কোটায় নিয়োগ পান। এদের মধ্যে বিচারপতি নুরুজ্জামান নোনি ঢাকা আইনজীবী সমিতির আওয়ামী ফোরাম থেকে সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া জাহাঙ্গীর হোসেন বাদল অধস্তন আদালতের অন্তত ৬০ জন সিনিয়র জেলা জজকে ডিঙিয়ে নিয়োগ পান। সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের আপন বড় ভাই বিচারপতি মাহমুদ হাসান তালুকদার এখন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি। সাবেক ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার জামাই বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকার। আর বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকারের ভগ্নিপতি বিচারপতি রিয়াজ উদ্দিন খান। সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের ভাতিজি জামাই বিচারপতি জাফর আহমেদ।
বিচারপতি খিজির হায়াত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন এমন অনেকেও রয়েছেন হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে। বিচারপতি সর্দার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীর ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের এমপি সর্দার মো. জাহাঙ্গীরের ছেলে। ব্যারিস্টার তাপসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসান। সাবেক আইনমন্ত্রী ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত এবং গোপালগঞ্জে বাড়ি হওয়ায় নিয়োগ পান কে এম ইমরুল কায়েস। বিচারপতি মো. বদরুজ্জামান ছাত্রলীগের নেতা ও তার স্ত্রী সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জান্নাতুল ফেরদৌসী রূপা। এই রূপার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এবং সে দুবার বগুড়া থেকে আওয়ামী লীগের নমিনেশন চেয়েছিলেন। সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে নিয়োগ পান বিচারপতি বিশ্বজিত দেবনাথসহ বেশ কয়েকজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল। তাদের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ১৬ জুলাই ৬ জনের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে আওয়ামী সরকার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিচারপতি খন্দকার দিলীরুজ্জামানকে দিয়ে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে। এই কমিশনকে দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতের তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্য ছিল সাবেক সরকারের।
‘সরকারের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করলেই পদোন্নতি’ একদিকে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ, আর অন্যদিকে সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করলেই পদোন্নতির দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পদোন্নতির লোভে অনেক বিচারপতিই নিজের বিচারিক সত্তাকে ভুলে দলীয় সত্তাকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে কাজ করেছেন। আর এই প্রবণতা অনেক বিচারককে অতিমাত্রায় রাজনীতিতে ঝুঁকতে সহায়তা করেছিল বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছিল যুদ্ধাপরাধের বিচার করা হবে। আর সেই ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার ২০১০ সালে গঠন করে যুদ্ধাপরাধ বিচার ট্রাইব্যুনাল। সরকারের এই রাজনৈতিক ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দলীয় ঘেঁষা বিচারপতিদের নিয়োগ দেওয়া হয় ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি হিসেবে। স্বাধীনতা যুদ্ধের দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর পর অনেকটাই তথ্য-উপাত্তহীন ঘটনার বিচার করতে গিয়ে অনেক বিতর্কের জন্ম দেয়। আর সেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন বিচারপতিরা। তাদের দেওয়া রায় দেশে-বিদেশে সমালোচিত হয়েছে। দিন শেষে রায় প্রদানকারী বিচারপতিদের অনেকেই পরে পদোন্নতি পেয়ে আপিল বিভাগের বিচারপতি হয়েছেন। সর্বশেষ গত ১০ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের মুখে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, মো. আবু জাফর সিদ্দিকী, জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. শাহিনুর ইসলাম ও কাশেফা হোসেন পদত্যাগ করেন। এই ছয় বিচারপতির মধ্যে চারজনই ছিলেন যুদ্ধাপরাধ বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক। বাকি দুজনের মধ্যে বিচারপতি কাশেফা হোসেন সজীব ওয়াজেদ জয়ের টিচার ছিলেন বলে কথা প্রচলিত রয়েছে আদালত অঙ্গনে।
এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সাজা দেন বিচারক মো. আখতারুজ্জামান। পরে তাকে পদোন্নতি দিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে আনা হয়। এ ছাড়া আরেকটি রাজনৈতিক মামলা হিসেবে পরিচিত একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় দেন বিচারক মো. শাহেদ নুর উদ্দীন। এ মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে ফাঁসির আদেশ দেন তিনি। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে দেন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন তিনি। তাকেও পরে হাইকোর্টের বিচারপতি বানিয়ে আনা হয়।
একইভাবে প্রায় একই সময়ে যুদ্ধাপরাধ বিচার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীন ও বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। একই সময়ে দায়িত্ব পালন করলেও বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনকে আপিল বিভাগে নিয়োগের পর দীর্ঘদিন হাইকোর্টেই থাকেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিম্ন আদালতের দেওয়া ৫ বছরের সাজার রায় বৃদ্ধি করে ১০ বছর করে রায় দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। এরপর বিচারপতি ইনায়েতুর রহিমকে আপিল বিভাগে নিয়োগ করা হয়। এভাবে সরকারের উদ্দেশ্য যারা বাস্তবায়ন করেছেন, তাদের বিভিন্নভাবে মূল্যায়ন করতে দেখা গেছে বিগত সরকারের আমলে। আর এ কারণেই অতিমাত্রায় রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তিতে জড়িয়ে পড়েন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা। গত বছর ১৫ আগস্টে শোক দিবস পালন অনুষ্ঠানে শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করতে গিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম নিজেদের শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ হিসেবে উল্লেখ করে করেন। অনুষ্ঠানে বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের যে মৌলিক অধিকার জনগণের রয়েছে তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, ‘সারা পৃথিবীতে নির্বাচন হয়, কেউ তাকিয়েও দেখে না; কিন্তু নির্বাচন ঘিরে সব নজর বাংলাদেশের দিকে কেন? এ ছাড়া বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার জামায়াতের বিচার করতে গিয়ে যদি গুলি খেতেও হয়, তাহলেও বুক পেতে দিতে প্রস্তুত উল্লেখ করে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে বক্তব্য শেষ করেন। এরপর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জাফর আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা সভা-সমাবেশ করেন।
এদিকে বিচার বিভাগের দলীয়করণ নিয়ে মুখ খুলে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে দেশত্যাগ করতে হয়েছে। ষোড়শ সংশোধনীর মামলার শুনানিকালে বিচারপতি এস কে সিনহা বলেছিলেন, সরকার নিম্ন আদালতকে কবজায় নিয়েছে, এখন উচ্চ আদালতকেও তাদের কবজায় নিতে চায়। এই অপ্রিয় সত্য প্রকাশ করার পর তার ওপর শাস্তির খড়্গ নেমে আসে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ির লিজ চুক্তি বাতিলের রায়ের সমালোচনা করে আপিল বিভাগের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হয়েছে সাবেক বিচারপতি শরীফ উদ্দিন চাকলাদারকে। এভাবে তিরস্কার-পুরস্কারের মাধ্যমেও রাজনৈতিকভাবে বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা গেছে।
‘বিশ্লেষকরা যা বলছেন’ জানতে চাওয়া হলে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এম এ মতিন কালবেলাকে বলেন, উচ্চ আদালতে রাজনৈতিকভাবে বিচারপতি নিয়োগ হয়েছে এবং চরম দলীয়করণ হয়েছে—এটাই সত্য। জনগণও এটাই মনে করে। আর এজন্যই জনগণের দাবির মুখে আপিল বিভাগের ছয়জন বিচারপতি পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। সাবেক এই বিচারপতি আরও বলেন, যাদের সরকার পছন্দ করেছে, তাদেরই বিচারপতি বানিয়েছে। আর এ কারণে তাদের মাধ্যমে সরকার তার উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করেছে। আর দীর্ঘদিনেও বিচারপতি নিয়োগে কোনো আইন না করায়, এটা সম্ভব হয়েছে। সরকার আইন না থাকার সুযোগ নিয়েছে। বিচারপতি নিয়োগের আইন করা হলে এই সংকট কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসবে।
এদিকে গতকাল আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের অনেক বিচারপতি ফ্যাসিবাদী সরকারের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করেছেন। ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে তাদের পদত্যাগের দাবি উঠেছে। এসব বিচারপতির বিরুদ্ধে আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে সুপ্রিম কোর্টের নিজেদেরই ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব কালবেলাকে বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে শেখ হাসিনা বিচার বিভাগকে তার অধীন করার একটি প্রকল্প হাতে নেন। তার ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও তা বহাল রাখার জন্য বিচারপতি থেকে শুরু করে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ পর্যন্ত তিনি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। প্রধান বিচারপতিসহ ৬ জন পদত্যাগ করলেও ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে যারা কাজ করেছেন, তাদের অনেকেই এখনো উচ্চ আদালতে বহাল রয়েছেন। এটা আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়। ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে বিচার ব্যবস্থাকে জনগণের বিচার ব্যবস্থায় পরিণত করতে হলে বিচারপতি নিয়োগের আইন এবং তাদের অপসারণে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল সচল করতে হবে। ব্যক্তি পছন্দে বিচারপতি নিয়োগ হলে আমরা সেই পুরোনো বৃত্ত থেকে কখনোই বের হতে পারব না।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গুজব গুঞ্জনের নেপথ্যে by শুভ্র দেব ও পিয়াস সরকার
শুরুটা হয়েছিল সরকার পতনের পর দেশব্যাপী পুলিশের অনুপস্থিতে চুরি ডাকাতি ও মন্দির ভাঙচুর নিয়ে। তখন প্রায়ই ফেসবুকে ভেসে বেড়াতো ডাকাতি, সংখ্যালঘু নির্যাতন, মন্দির ভাঙচুরের ঘটনাগুলো। বিশেষকরে মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কয়েক বছর আগের পুরাতন ছবি ছড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়। গুজব ছড়িয়ে একটি পক্ষ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্দোলনে নামাতে বাধ্য করে। যদিও পরে তারা বুঝতে পারেন এটি গুজব। তবে বিচ্ছিন্ন পরিসরে কিছু ঘটনাও ঘটেছিল। সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সোচ্চার হওয়ার পরে গুজব বন্ধ হয়ে যায়। তারপর বন্যার সময়ও বিভিন্ন পেজ থেকে গুজব ছড়ানো হয়। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে প্রতিমা ভাঙচুরের গুজবও ছড়ানো হয়। উপদেষ্টা ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদের আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে তাকে হেয় করার চেষ্টা করা হয়। শেখ হাসিনা পরিবারকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও সোহেল তাজ। এমন গুজবে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হয়। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ৯৪ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান শেখ হাসিনাকে বৈধ বলে ঘোষণা দিয়েছেন এমন গুজবও কিছুদিন আগে ছড়িয়ে দেয় আওয়ামী লীগ। হাসিনা শিগগিরই দেশে ফিরবেন বলে এখনো গুজব ফেসবুকে ভেসে বেড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধান উপদেষ্টাকে নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।
সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে পলায়নের আগে থেকেই গুজবের বাহনে হাঁটছে দলটি। দলটির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে একের পর এক গুজব। নানান সময় গুজব ছড়িয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে অস্থিরতা। এই গুজবগুলো ছড়ানো হয়েছে মূলত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের গ্রুপ ও পেজ থেকে। গুজব ও অসত্য তথ্য যাচাইকারী সংশ্লিষ্ট পেজ ‘রিউমার স্ক্যানার’ বলছে- শুধু আগস্ট মাসেই ৩৭০টি গুজব যাচাই করেছেন তারা, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। গত ৪ঠা আগস্ট ছাত্র-জনতার বিশাল জমায়েত থেকে আওয়ামী সরকারের পতনের একদফা ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণার পরই জানানো হয় একদিন এগিয়ে এনে পরদিনই হবে রোডমার্চ টু ঢাকা। এদিন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক গুজব ছড়ানো হয়। তারকাদের ছবি ব্যবহার করে ‘কোটা সংস্কারের পক্ষে ছিলাম, কিন্তু একদফার পক্ষে নাই’। আবার এদিন রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুকে ব্যাপক প্রতিরোধের ঘোষণা দেয়া হয়। রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, শাহবাগ দখলে নিয়েছে ছাত্রলীগ এমন প্রচারণা চালানো হয়। অথচ তেমন কোনো কিছুই ছিল না সে রাতে। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছিল সুনসান নীরবতা।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে ভিডিও ছড়িয়ে বলা হয়- অন্তর্বর্তী সরকারের বিপক্ষে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ মানুষ। পরবর্তীতে জানা যায় এগুলো ছিল পুরনো দিনের ভিডিও। এরপরই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়া হয়- সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর, হামলা, হত্যা, ধর্ষণ করা হচ্ছে নির্বিচারে। এসবে ব্যবহৃত ছবি ব্যবহার করা হয় পুরনো। আবার শাহবাগে বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলন করেন। কিন্তু এরপর ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিওতে কোথায় হামলা হয়েছে এটা বলা হলে তারা ‘নিজ বাড়ির’ ঠিকানা পর্যন্ত বলতে পারেননি। এর পরপরই ফের একটি গুজব ছড়ানো হয় এদেশে পূজা উদ্যাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এরপর শুরু হয় জাতীয় সংগীত নিয়ে গুজব। এরপর ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়া হয় জাতীয় সংগীতের বদলে পাঠ করা হবে সুরা ফাতিহা।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দুটি আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দেয়া হয়। এটি ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয় বিভিন্ন পেজ এবং গ্রুপে। তবে পরবর্তীতে এটা যে ইডিট ছবি তা জানা যায়। কয়েকটি নকল পদত্যাগপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে বলা হয়- পদত্যাগ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান। এরপর মামুনুল হকের ছবি ব্যবহার করে বলা হয়- হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আবার ব্যাপকভাবে প্রথম আলোর লোগো ব্যবহার করে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল- বদলে গেল পুলিশের লোগো। নৌকা বাদ দিয়ে আল্লাহু। আবার ভারতীয় মিডিয়ায় অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধনের ভিডিও ছড়িয়ে বলা হয়- হিন্দু নারীর কান্না। ভারতীয় মিডিয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাসভবন যমুনার সামনে নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে রাস্তায় বসে পড়া নারীদের ছবি ব্যবহার করে পরিচয় দেয়া হয়- বাসস্থানে হামলার প্রতিবাদে আন্দোলন। ভারতীয় মিডিয়ায় এরকম অসংখ্য ঘটনাকে হিন্দুু নির্যাতন বলে চালানো হয়।
এলিটফোর্স র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল মুনীম ফেরদৌস মানবজমিনকে বলেন, র্যাবের সাইবার ক্রাইম ইউনিট থেকে সাইবার পেট্রোলিং করা হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম মানবজমিনকে বলেন, সবসময়ই একটা পক্ষ গুজব ছড়িয়ে অস্থির পরিবেশ তৈরি করতে চায়। আমরা যারা সাইবার ক্রাইম নিয়ে কাজ করি তারা সাইবার পেট্রোলিং, নজরদারি করে থাকি। যেগুলো প্রপাগান্ডা সেগুলো শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেই। তিনি বলেন, দুর্গাপূজাকে ঘিরে বিভিন্ন স্থান থেকে গুজব ছড়ানো হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে হয়তো দুয়েকটা ঘটনা ঘটেছে তবে সেটাকে বড় করে গুজব ছড়িয়ে দিচ্ছে একটি পক্ষ। এগুলো নিয়েও আমরা কাজ করেছি এবং এখনো করছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও সমাজ এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক মানবজমিনকে বলেন, একটা দেশে গুজব রটনাকারীরা গুজব ছড়ানোর সুযোগ তখনই পায় যখন বিষয়গুলো বিশ্বাস করার মতো লোক থাকে। আমাদের এখানে গুজব বিশ্বাস করার লোক সবসময়ই আছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যারা বিরোধী অবস্থানে থাকে বা যারা সরকারে থাকেন তাদের সমর্থকগোষ্ঠী অথবা নিজেদের অর্থায়নে তৈরি সমর্থকগোষ্ঠী নানাভাবে মানুষকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করে। বিভ্রান্ত করলে লাভ হলো যারা সরকারে থাকে তারা ভুল তথ্য ছড়িয়ে বিরোধীপক্ষে যারা তাকে তাদের সম্পর্কে যদি একটা নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা যায় তবে তারা মনে করে এটা রাজনৈতিক সফলতা। একইভাবে বিরোধী অবস্থানে যারা থাকে তারাও এরকম করে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এই সাফল্য ধরে রাখতে হবে by বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী
অতি সমপ্রতি টাঙ্গাইলের এক সামরিক সদস্য নিহত হওয়ায় তার আত্মীয়স্বজনকে সান্ত্বনা দিতে গিয়েছিলাম। সেখানে বলেছিলাম, গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের নয়, শাসন ছিল শেখ হাসিনার। অন্যায়- উৎপীড়ন যা হয়েছে তার ৯০ ভাগ দায়ী শেখ হাসিনা। কিছু কিছু স্তাবকের গায়ে জ্বালা ধরেছে- তারা বলেছে, আমি নাকি শেখ হাসিনাকে আরও ১০ বছর ক্ষমতায় থাকার কথা বলেছিলাম। সেদিন ইত্তেফাকে লিখেছিলাম, ‘এখানে পেশাব করিবেন না, করিলে ১০ টাকা জরিমানা’। একই জিনিস যদি আবার লেখা হয় ‘এখানে পেশাব করিবেন, না করিলে ১০ টাকা জরিমানা।’ একটা কমাতে বাক্যের কতোটা হেরফের। নিশ্চয় আমি বলেছিলাম, দশ বছর কেন, কেয়ামত পর্যন্ত শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে আমার আপত্তি কোথায়? ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। ভোট চুরি করে ক্ষমতা নয়। দেশ সবার, সবাইকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিরোধী দল কোনো কিছু করলেই সেটা ষড়যন্ত্র- এমন মনোভাব নিয়ে আর যা কিছু হোক দেশ চালানো যায় না। নেত্রী শেখ হাসিনা তেমনটাই করেছেন। সতী নারীর পতি যেমন একজন, একজন রাজনৈতিক কর্মীর নেতাও একজন। আমার রাজনৈতিক নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। শেখ হাসিনা কখনো আমার নেতা ছিলেন না। তিনি দলীয় নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব করেছেন। দলের নেতা বহু হয় কিন্তু একজন প্রকৃত কর্মীর নেতা একজনই। তাই আমার নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমি হাসিনা লীগ করি না। আমি করি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। আমাদের প্রতীক নৌকা নয়, গামছা। যতক্ষণ সম্ভব এটাকেই বুকে লালন করবো। জীবন শুরু করেছিলাম বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে। যেটুকু এসেছি আর কতোই বা বাকি। তাকে হৃদয়ে ধারণ করে, লালন করে পরপারে যেতে চাই। তাই দেশবাসীর কাছে সবসময়ই আমার আন্তরিক অনুরোধ হাসিনা লীগ আর আওয়ামী লীগ এক করে বিচার করবেন না। বঙ্গবন্ধু আর শেখ হাসিনা এক না। শেখ হাসিনার সন্তানরা এক না। আল্লাহ্-রাসুল বাবা-মা’র পরেই যারা রাজনীতি করে তাদের জনতার প্রতি আস্থা থাকতে হয়। তা যারা রাখতে পারে না- তারা আর যাই হোক রাজনৈতিক নেতাকর্মী হতে পারেন না, দেশপ্রেমিক হতে পারেন না। তাই বিষয়গুলো একটু গভীরভাবে ভেবে দেখতে হবে।
নানা জনের নানা মত, তেমনটা হওয়াই স্বাভাবিক। নির্বিঘ্নে সবাই সবার মত ব্যক্ত করতে পারলে আর কিছু না হোক আমাদের কোথায় কোনদিকে যেতে হবে বা যাচ্ছি- তার একটা রাস্তা সহজ হয়।
চাপা দেয়া আগুন খুব একটা নিরাপদ নয়। আগুন যত চাপা দেয়াই হোক এক সময় সেটা বেরিয়ে আসবেই। তাই সবাই মিলে চেষ্টা করে যেকোনো আগুন নিভিয়ে ফেলা উত্তম। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান অধ্যাপক মো. ইউনূসকে নিয়ে অনেক বড় বড় পণ্ডিতের অনেক বড় বড় কথা শুনছি। আমি যখন যা বলার বলেছি, সম্পূর্ণ নিজস্ব উপলব্ধি থেকে বলেছি। এক্ষেত্রেও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার স্তাবকেরা অধ্যাপক ইউনূসকে যত ছোট করেই দেখুন, বিবেচনা করুন, গালি দিন, কিন্তু আমার চোখে অধ্যাপক ইউনূসই বাংলাদেশের একমাত্র ব্যক্তি যিনি দেশে-বিদেশে সমানভাবে সমাদৃত, গ্রহণযোগ্য। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হয়েছেন, অনেক সংস্কারে হাত দিয়েছেন, আরও দিবেন। কিন্তু সব কিছু করতে পারবেন না। তিনি যদি দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, ভালো পুলিশি ব্যবস্থা করতে পারেন, অন্যদিকে বিচার ব্যবস্থায় অযোগ্যদের ঝেটিয়ে বিদায় এবং বিবেকবান যোগ্যদের দিয়ে বিচার কাঠামো দাঁড় করাতে পারেন তাহলে ইতিহাসে স্থান করে নিবেন। এসব কিছুর জন্য অবশ্য অবশ্যই একটি নির্ভেজাল সরকারি প্রভাবমুক্ত পক্ষপাতহীন জাতীয় নির্বাচনের প্রয়োজন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শেষ পর্যন্ত সব ক’টি নির্বাচনে ১০-১৫ শতাংশ ভোটারের বেশি অংশগ্রহণ করেনি। কিন্তু আমার দৃঢ়বিশ্বাস অধ্যাপক মো. ইউনূসের আহ্বানে ঠিক উপযুক্ত সময়ে নির্বাচন হলে তাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ৭০-৮০ শতাংশ ভোটার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করবে। ব্যাপক ভোটারের উপস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে ভোট চোরদের সম্পূর্ণভাবে বিরত করবে। তেমন একটা উৎসবমুখর পরিবেশে অনেকের নির্বাচনে দুর্নীতি করার সুযোগ থাকবে না। ভোটারের অংশগ্রহণই ভোটে অর্ধেক কারচুপি আপনা-আপনি বন্ধ হয়ে যাবে।
নানাদিকে নানা আলোচনা। স্বাধীনতার এই ৫৩-৫৪ বছরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এক মহান কর্ম সাধন করেছে। ধীরে ধীরে তারা যেমন মানুষের শ্রদ্ধা-ভালোবাসা, আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিল, সেটা পুরো মাত্রায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমান সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানকে নিয়ে নানা জন নানা কথা বলেছে। কিন্তু তিনি জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে যে অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছেন- জনতার কণ্ঠে ‘এই মুহূর্তে দরকার-সেনাবাহিনীর সরকার’। এটা খুব সহজ কথা নয়। সত্যিই আমাদের সামরিক বাহিনীর সরকার দরকার নেই। কিন্তু দুর্যোগ-দুর্বিপাকের সময় মানুষ যে তাদের অতটা ভরসা করেছে এসব স্লোগান তারই প্রমাণ। মানুষের অন্তর থেকে পতিত সেনাবাহিনী বুকের ঠিক মধ্যখানে-যে অন্তরে স্রষ্টার বাস সেইখানে জায়গা করে নিয়েছে। তার স্বজন বংশধরবৃন্দ ভবিষ্যতে এর সুফল পাবে। জানি খুব উতলা হওয়ার কারণ নেই। সময় সব সমস্যা সমাধানে মস্ত বড় নিয়ামক।
অন্য একটা প্রসঙ্গ নিয়ে দু’কথা বলি। ইদানীং যেখানে সেখানে যে অসঙ্গতি দেখি তা আমাকে আহত করে। প্রায় ১ যুগ পর টাঙ্গাইল কোর্টে গিয়েছিলাম। সেটা এক জর্জ কোর্ট। জেলা জজের পরই কেউ হবেন। সওয়াল জবাবের শেষে মাননীয় জজ সাহেবের অনুমতি নিয়ে দু’কথা বলেছিলাম। প্রায় ১ ঘণ্টা তার সাক্ষ্য শুনছিলাম তিনি একটি প্রতিষ্ঠিত নামকরা কলেজের অধ্যক্ষ। ১০-১২ ফুট দূর থেকে তার সাক্ষ্য শুনছি। ও রকম একটা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যে সাক্ষী তিনি দিলেন তাতে আমি বিস্মিত হয়েছি। তার যদি অক্ষর জ্ঞান না থাকতো, তিনি যদি অতি সাধারণ হতেন, তাহলে তার ঐ সাক্ষ্য মানাতো। ওরকম একজন অনুপযুক্ত ব্যক্তি যদি অমন একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হয়, তাহলে সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে যারা বের হবেন, তারা জাতি ও সমাজের জন্য কিছু করতে পারবেন না। জজ সাহেবের সামনে আমার নিবেদন তুলে ধরে ভালো লেগেছে। জজ সাহেবের ধারণ ক্ষমতা, বাচন ভঙ্গি আমার কাছে অতুলনীয় মনে হয়েছে। কিন্তু কোর্ট কাচারির পরিবেশ একেবারেই ভালো লাগেনি। মনে হয় জেলা জজের পরেই তিনি। তার বিচারালয়টি খুবই অপরিষ্কার, দেয়ালে রঙ নেই, মেঝেতে ঝাড়ু পড়েনি। যে আসনে বসেছিলেন, সে আসনেরও রঙ চটা। উকিল বার থেকে জর্জ কোর্ট পর্যন্ত কোনো মাছের বাজারের চাইতে সুন্দর দেখিনি। আশেপাশে যে নোংরা আবর্জনা পড়ে আছে আমাকে বললে তা পরিষ্কার করতে বড়জোড় একদিনের প্রয়োজন হবে। জেলা সদরের ফৌজদারি আদালতের আশপাশ দেখে বড় হতাশ হয়েছি। জেলা সদরে আমার তেমন যাতায়াত নেই। একদিকে ডিসির, অন্যদিকে এসপি’র অফিস। দু’চার- ছ’মাসে দু’একবার গেছি। কিন্তু কোর্ট কাচারিতে তেমন যাওয়া হয়নি। নোংরা দেখে বড় হতাশ হয়েছি। বেঁচে থাকলে জায়গাগুলো পয়-পরিষ্কার পবিত্র দেখলে আনন্দে হৃদয় ভরে যেতো।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মহামারিকালে পুতিনকে গোপনে করোনা পরীক্ষার কিট পাঠিয়েছিলেন ট্রাম্প
বব উডওয়ার্ড দাবি করেছেন, ২০২০ সালে করোনাভাইরাস যখন মহামারি রূপ ধারণ করেছিল যুক্তরাষ্ট্রে তখন মস্কোতে পুতিনের কাছে এই ভাইরাস পরীক্ষার একটি ব্যাচ গোপনে পাঠিয়েছিলেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের পাঠানো এই সরবরাহ গ্রহণ করেন পুতিন এবং তিনি ট্রাম্পের রাজনৈতিক পতন এড়ানোর চেষ্টা করেন। বইতে বলা হয়, পুতিন প্রতিশ্রুতি দেন তিনি এসব মেডিকেল সরঞ্জামের কথা প্রকাশ করবেন না। উডওয়ার্ডের মতে, ট্রাম্পকে পুতিন বলেন- ‘আমি চাই আপনি এ বিষয়টি কারও কাছে বলবেন না। কারণ, তাহলে মানুষ আমার ওপর নয়, আপনার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করবে। ট্রাম্পের একজন সহযোগীকে উদ্ধৃত করে বব উডওয়ার্ড জানান, ওই সহযোগী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ২০২১ সালে হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর সাতবার পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন পুতিন। অথচ রাশিয়ার আগ্রাসন রুখতে ইউক্রেনকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে মস্কোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ভয়াবহ অবনতি হয়। উডওয়ার্ডের বর্ণনা থেকে ওয়াশিংটন পোস্ট খবরে লিখেছে, এ বছর শুরুর দিকে এক পর্যায়ে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো আবাসন থেকে একজন সহযোগীকে বের করে দিয়েছিলেন। কারণ, ওই সহযোগী নিজে সাবেক কেজিবি বস পুতিনের সঙ্গে ব্যক্তিগত কল করতে চেয়েছিলেন। এরপর মঙ্গলবার পেনসিলভ্যানিয়ার সিনেটর বব ক্যাসির নির্বাচনী প্রচারণায় প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছেন, করোনা মহামারি যেভাবে মোকাবিলা করেছেন ট্রাম্প তা হতাশাজনক। তিনি বলেন, ওই মহামারিতে কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষ মারা গেছেন। কিন্তু আন্দাজ করুন তিনি তার ভালো বন্ধু পুতিনকে ফোন করেছেন। বিষয়টি কোনো কৌতুক নয়। ফোন করে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন যে, পুতিন করোনার পরীক্ষা করিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক তিন সপ্তাহ আগে ১৫ই অক্টোবর থেকে বব উডওয়ার্ডের লেখা ‘ওয়্যার’ বইটি বিক্রি শুরু হবে। এই নির্বাচনে ডেমোক্রেট প্রার্থী কমালা হ্যারিসের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ট্রাম্প। বইটিতে ডেমোক্রেট কমালা হ্যারিস সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তাকে দেখা হচ্ছে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ভূমিকার সমর্থক হিসেবে। তিনি নিজেই কঠোরভাবে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করতে চান। রেডিও উপস্থাপক হাওয়ার্ড স্টার্ন মঙ্গলবার এ বই সম্পর্কে কমালা হ্যারিসের কাছে জানতে চেয়েছিলেন। জবাবে কমালা বলেছেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র স্বাস্থ্যগত বিপর্যয়ে, প্রতিদিন শত শত মানুষ মারা যাচ্ছিলেন, তখন তা নিয়ে প্রহসন করেছেন ট্রাম্প। তিনি সবাই যখন (করোনার) কিট পেতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছিলেন, তখন তিনি (ট্রাম্প) কিট পাঠিয়েছেন রাশিয়ায় একজন খুনি স্বৈরাচারের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সি নিয়ে ৫০ বছরের ঘটনাবলী সাজিয়েছেন বব উডওয়ার্ড। ২০১৬ সালে হতাশাজনকভাবে ট্রাম্পের বিজয়ের পর ‘ওয়্যার’ হলো তার চতুর্থ বই। বইটির উপসংহারে পুতিনকে উদ্দেশ্য করে উডওয়ার্ড বলেছেন, যুদ্ধে লিপ্ত একজন কর্তৃত্ববাদী প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রতা তাকে (ট্রাম্প) প্রেসিডেন্ট নিক্সনের চেয়ে বেশি অযোগ্য করে তোলে। তিনি লিখেছেন, ‘ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেপরোয়া এবং আবেগপ্রবণ প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০২৪ সালে এসেও তিনি প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে সেই একই আচরণ প্রদর্শন করছেন’।
জবাবে এ বইকে বানোয়াট কাহিনী বলে উড়িয়ে দিয়েছে ট্রাম্পের প্রচারণা শিবির। একই সঙ্গে ক্রেমলিন থেকেও প্রকাশিত তথ্য প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তবে বার বার পুতিনের প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় রিপাবলিকানরা মস্কোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল তখন ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের হাজার হাজার ই-মেইল ফাঁস করতে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করে বলে, যুক্তরাষ্ট্রের ওই নির্বাচনে ট্রাম্পকে জেতাতে হস্তক্ষেপ করেছিল রাশিয়া।
![]() |
| বব উডওয়ার্ড |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গোয়েন্দা পরিচয়ে তুলে নেয়ার ৩ মাসেও খোঁজ মেলেনি শাকিলের by ফাহিমা আক্তার সুমি
শাকিলের বোন পিকিং মানবজমিনকে বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন ১৩ই জুলাই ঘটনাটি ঘটে। যখন ওরা শাকিলকে নিয়ে যায় তখন ওই ব্যক্তিদের পা পর্যন্ত ধরেছি ছেড়ে দেয়ার জন্য। মো. জয় নামের ওর এক বন্ধু ডেকে নিয়ে যায় সে মামলার ২ নম্বর আসামি। মো. সুরুজ মিয়া নামে মামলার ১ নম্বর আসামি এই ঘটনার নেতৃত্বে ছিলেন। সে তার নাম গোপন করে ফিরোজ পরিচয় দিয়েছিলেন এবং নিজেকে গোয়েন্দা সংস্থার লোক পরিচয় দেন। সে আসলে গোয়েন্দা সংস্থার লোক কিনা সেটাও আমরা জানি না। তুলে নেয়ার সময় ফিরোজ পরিচয়দানকারী ব্যক্তির সঙ্গে আরও চারজন ছিল। পরে শাকিলকে একটা অটোর মধ্যে তুলে অজানাস্থানে নিয়ে যায়। শাকিল বিএনপিপন্থি ছিল। এই সুবাধে অনেকের সঙ্গে পরিচয় ছিল। যে ছেলেগুলো শাকিলকে ডেকে নিয়ে যায় তারাও একসঙ্গে রাজনীতি করে। আমাদের জন্মই ঢাকায়। ছোট থেকে এই ঢাকায় বড় হয়েছি। শুরু থেকেই ভাষানটেকে থাকি। বাবা চায়ের দোকান দেয়। আমরা তিন ভাইবোন। ভাইয়ের মধ্যে শাকিল ছিল বড়। ছোট ভাই অটোগাড়ি চালায়। শাকিল ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টে কাজ করতো। ১৩ই জুলাই রাত সাড়ে দশটা থেকে সে নিখোঁজ। আমার ধারণা রাজনৈতিকভাবে আমার ভাইয়ের সঙ্গে এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, সজীব নামে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা রয়েছে; তার লোকেরা এসে আমার বাবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে হুমকি দিচ্ছে। যদি বেশি বাড়াবাড়ি করি, তাহলে রাস্তা থেকে তুলে নিখোঁজ করে ফেলবে। শাকিল বেঁচে আছে, নাকি নেই- এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। আজ তিন মাস ধরে আমরা কাশিমপুর, ময়মনসিংহ, ডিবি, সিআইডি, র্যাবসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছি কিন্তু আমার ভাইয়ের কোনো সন্ধান পাচ্ছি না। সব জায়গায় ছবি দিয়ে এসেছি, তারা সবাই বলছে কোনো খোঁজ পেলে জানাবে কিন্তু এখনো কোনো খবর পাচ্ছি না। শাকিলকে যখন থেকে তুলে নিয়েছে সেদিন থেকেই ওর মোবাইল বন্ধ। এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকেও ধরা হয়নি। মামলা থেকে জয়ের নাম ও মামলা তুলে নেয়ারও হুমকি দেয়া হচ্ছে আমাদের।
শাকিলের স্ত্রী জবা বলেন, ওইদিন রাতে আমি গার্মেন্টস থেকে বাসায় এসেছি। পরপর শাকিলও বাসায় আসে। পরে রাত আটটায় বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। এই যে বের হয়েছে আর ফিরে আসেনি। আমি রান্না করে অনেক রাত পর্যন্ত বসে ছিলাম। রাতে তার মোবাইলে কল দিলে বিজি বলে। রাত সাড়ে দশটায় আবার কল দেই তখন ধরে কেটে দেয়। কিছুক্ষণ পরে শাকিলের বন্ধু অনিক এসে বলে তাকে ধরে নিয়ে গেছে গোয়েন্দা পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি। এটি শোনার পরে রাত সাড়ে তিনটা পর্যন্ত আমরা থানায় থানায় খুঁজেছি- কোথাও শাকিলকে পাইনি। তিনি বলেন, শাকিল যার হাত ধরে রাজনীতির জগতে গেছে তার নাম শফিক। তাকে আমি প্রথম দিনেই শাকিলকে তুলে নেয়ার বিষয়টি জানাই। সে খোঁজ নেয়ার কথা জানায়। এক সপ্তাহ পরে শফিক ভাই বলে, ‘চিন্তা করিও না শাকিল একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে আছে।’ পরের দিন শফিক আমাকে বলে, ‘তোমার স্বামী তো আছে; এখন তাকে বের করতে পাঁচ লাখ টাকা লাগবে।’ পরে আমরা বলেছি, এত টাকা কোথায় পাবো? এরপর থেকে সে আমাদের আর কোনো খবর জানায় না। ১৩-১৪ বছর ধরে শফিকের সঙ্গে শাকিলের সম্পর্ক। একটা টিনশেডের বাসায় এক রুম নিয়ে আমার শ্বশুর, আমি আর শাকিল থাকতাম। শাকিলের আয়ে সংসার চলতো। আমি গার্মেন্টসে কাজ করতাম। শাকিলকে তুলে নেয়ার পর চাকরি ছেড়ে দিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো আসামি ধরেনি পুলিশ। শাকিল কোথায় আছে এখনো জানি না। আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দিক আর কোনো চাওয়া নেই আমাদের।
এদিকে শাকিলকে তুলে নেয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে মানবজমিনের হাতে। ওই সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি বাইকে করে শাকিলের বন্ধু অনিককে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেই বাইকটি চালাচ্ছিলেন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী ফিরোজ। তার পেছনে একটি অটোতে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল শাকিলকে। তবে কিছুদূর এসে অনিককে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে দেয়। এ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অনিক মানবজমিনকে বলেন, গোয়েন্দা সদস্যের পরিচয় দিয়ে শাকিলকে একটি অটোতে তুলে নিয়ে যায়। এসময় পাঁচজন ব্যক্তি ছিলেন। ফিরোজ নামে ব্যক্তি আমাকে মোটরসাইকেলে মিরপুর-১৪ নম্বরে নামিয়ে দেয়। তারা কেন নিয়েছে, কোথায় নিয়েছে- এ বিষয়ে কিছু বলেনি। উল্টো আমাকেও নিয়ে যাওয়ার ভয় দেখিয়েছিল। তখন আমি বলেছি, শাকিলকে যখন নিচ্ছেন তখন আমাকেও নিয়ে যান। শাকিলের বাসার সঙ্গে আমার বাসা। সেদিন রাতে এলাকায় আমার সঙ্গে দেখা হয় শাকিলের। তখন আমাকে বলে, ভাই আপনাকে নিয়ে আমি একটু বটতলায় যাবো। পরে শাকিল বলে, আমাকে জয় নামের এক বন্ধু ফোন দিয়ে যেতে বলেছে। যখন আমাদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক করে তখন তাদের পরিচয় জানতে চাইলে গোয়েন্দা সংস্থার লোক বলে জানায়। তখন তাদের কার্ড দেখতে চাইলে সেটি দেখাতে রাজি হননি। শাকিলের হাতে হাতকড়াও পরিয়েছিলেন তারা। সে সময় শাকিল পা ধরে কান্নাকাটি করেছে তবুও ছাড়েনি। মিরপুর-১৩ নম্বর কাফরুল থানাধীন রাকিন সিটি থেকে তুলে নিয়ে যায়। আমরা কাফরুল থানা পুলিশের কাছে গিয়ে ঘটনাটি খুলে বলি। থানার সিসিটিভি ফুটেজ থেকে আমি ফিরোজকে শনাক্ত করি। তিনি বলেন, এখনো শাকিলের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সব সময় আমাকে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। এভাবে যখন আমার বন্ধুকে তুলে নিয়ে গেছে তখন তো আমাকেও আবার তুলে নিতে পারে।
এ ঘটনায় ২৫শে সেপ্টেম্বর কাফরুল থানায় একটি মামলা করেন নিখোঁজ শাকিলের বাবা আঙ্গুর মিয়া। মামলার এজাহারে বলেন, গত ১১ই জুলাই আনুমানিক দুপুর ২টার সময় ভাষানটেক থানাধীন ভাষানটেক ৩ নং মোড়ে শাহজাহানের ছেলে সুমন (১৭)-এর সঙ্গে গোয়েন্দা পরিচয়দানকারী মো. সুরুজ মিয়া ও তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা একজনের রাস্তায় অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটি হয়। এসময় আমার ছেলে মো. শাকিল (২৬) ঘটনাস্থলে গিয়ে সুমনের পক্ষ নিলে সুরুজ মিয়া ও সঙ্গে থাকা অজ্ঞাত ব্যক্তির সঙ্গে আমার ছেলে শাকিল ও সুমনের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তখন স্থানীয় লোকজন সেখানে উপস্থিত হলে তারা নিজেদের গোয়েন্দা সদস্য পরিচয় দিয়ে শাহজাহানের ভাগ্নে কাজীর কাছে মোবাইল নাম্বার ও তার নাম ফিরোজ পরিচয় দিয়ে চলে যায়। যাওয়ার সময় বলে যায় যে, সন্ধ্যায় তারা আসলে সৃষ্ট বিষয় নিয়ে আপস মীমাংসা করা হবে। পরবর্তীতে সন্ধ্যায় তারা আসলে শাহজাহান তার ছেলের সঙ্গে সুরুজ মিয়া ও তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাত ব্যক্তির মীমাংসা করে দেয়। মীমাংসার সময় তারা আমার ছেলে শাকিলকে সেখানে ডাকে নাই। পরবর্তীতে গত ১৩ই জুলাই রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টার সময় মো. জয় আমার ছেলেকে ফোন করে কাফরুল থানাধীন মিরপুর-১৩ বটতলায় যেতে বলে। তখন শাকিল তার বন্ধু অনিক জয়ের কাছে যায়। সেখান থেকে তারা রিকশায় করে রাত আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটে কাফরুল থানাধীন মিরপুর সেকশন-১৫ (ব্লক ডি), রূপসী হাউজিংয়ের উত্তর-পূর্ব পাশের শেষ মাথায় খাল পাড়ে গেলে সুরুজ মিয়ার নেতৃত্বে গোয়েন্দা সংস্থার লোক পরিচয়দানকারী আরও চার জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি আমার ছেলেকে অটোরিকশায় জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। সুরুজ মিয়া তার মোটরসাইকেলে অনিককে নিয়ে মিরপুর-১৪ নম্বর মোড়ে আসে এবং অনিককে দেয়। এ সময় অনিককে বলে, ‘তুই যা, ওকে যেখানে পাঠানোর পাঠাইয়া দিছি।’ পরে অনিক শাকিলের স্ত্রীকে ঘটনাটি জানায়। পরবর্তীতে আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করে আমার ছেলে শাকিলের কোনো সন্ধান না পেয়ে কাফরুল থানায় ১৭ই জুলাই জিডি করি। যার নং-১৩৪২। এজাহারে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ঘটনার পর ৩ নম্বর আসামি শফিক (৩৫) আমার কাছে বলে, তাকে ৫ লাখ টাকা দিলে আমার ছেলে শাকিলকে ফেরত এনে দিবে। ৪ নম্বর আসামি বাবুল (৪০) ও ৫ নম্বর আসামি মো. আবুল হোসেন (৫০) স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে ঘটনার বেশ কিছুদিন আগে শাকিলকে নিখোঁজ করার হুমকি দিয়েছিলেন। বিএনপি’র পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে তাদের সঙ্গে আমার ছেলের ঝগড়া হয়। এলাকায় জনশ্রুতি ছিল যে, ৪নং ও ৫নং আসামি বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ধরিয়ে দিতো। তারা পরস্পরের যোগসাজশে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে শাকিলকে অপহরণ করে অজ্ঞাতস্থানে আটকে রেখেছে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর আবু হানিফ মানবজমিনকে বলেন, ঘটনাটির বিষয়ে আমরা প্রাথমিকভাবে গোয়েন্দা পরিচয়দানকারী ফিরোজ (সুরুজ মিয়া) নামের ওই ব্যক্তির তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। আমাদের পক্ষ থেকে তাকে চিঠির মাধ্যমে তলব করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত সেই চিঠির কোনো জবাব আমাদের কাছে আসেনি। আমরা শাকিলের নিখোঁজের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। এই মামলায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তদন্ত চলমান রয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় নিহতের সংখ্যা ৪২,০০০ ছাড়িয়েছে: লেবানন থেকে রকেট হামলায় ২ ইসরাইলি নিহত
তিনি সৌদি আরবের রিয়াদে পৌঁছে বলেছেন, আমরা আশা করি এসব আলোচনা ফিলিস্তিন, লেবানন এবং আঞ্চলিক শান্তি সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে। সৌদি আরবের সঙ্গে তার দেশের সম্পর্ক ইতিবাচকভাবে এবং সঠিক পথে ধাবিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন আব্বাস। ওদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব দেয়ার বিষয় নেতানিয়াহু ও বাইডেনের টেলিসংলাপে স্থান পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের অফিস বলেছে, বাইডেনের সঙ্গে কথা বলার কারণে তার পূর্বপরিকল্পিত ওয়াশিংটন সফর স্থগিত করেছেন নেতানিয়াহু। অন্যদিকে লেবাননের যোদ্ধাগোষ্ঠীকে একটি সুসংগঠিত সংগঠন বলে আখ্যায়িত করেছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা বলেছে, ইসরাইলের হামলা সত্ত্বেও হিজবুল্লাহর চেইন অব কমান্ড ভাঙ্গেনি। সাংবাদিকদের কাছে এসব তথ্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ জিইয়ে রাখার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেনসহ পশ্চিমাদের দায়ী করেন। বলেন, তারা কাপুরুষের মতো ইসরাইলকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গণহত্যাসহ নানা অভিযোগে বিএনপি’র ১২৩ মামলা by কিরণ শেখ
বিএনপি’র মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচিতে বাধা দেয়ার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে আসামি করে ৫ই অক্টোবর রাজধানীর গুলশান থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি করেন কৃষকদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মো. শরীফুল ইসলাম। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ২৯শে ডিসেম্বর বিএনপি’র মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অংশগ্রহণ করতে চাইলে তাকে বাধা দেয়া হয়। পুলিশ সদস্যরা রাস্তায় বালুর ট্রাক দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, একেএম শহীদুল হকসহ ১১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বিএনপি’র মামলা তথ্য ও সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মকর্তা সালাহ উদ্দীন মানবজমিনকে বলেন, ঢাকাসহ সারা দেশে মামলা করা হচ্ছে। এসব মামলা বিএনপি’র এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এবং ভুক্তভোগীরা করছেন। আর এ পর্যন্ত সারা দেশে ১২৩টি মামলা করা হয়েছে।
ওদিকে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে এবং দুই বছর আগে নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশি অভিযানের নামে লুটপাট ও ডাকাতির অভিযোগে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন ও ডিএমপি’র সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদসহ ৩০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ১৪ই সেপ্টেম্বর পল্টন মডেল থানায় দুটি অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির মামলা তথ্য ও সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মকর্তা সালাহ উদ্দীন খান অভিযোগ দু’টি দায়ের করেন। একটি মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ৮ই ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশ প্রবেশ করে লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়। ডাকাতি করা মালামালের দাম ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ক্ষতির পরিমাণ তিন লাখ ৫২ হাজার ৫শ’ টাকা। এ মামলায় পুলিশ প্রধানসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য মামলায় বলা হয়, ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে গত ১৬ই জুলাই ডিবি কর্মকর্তা হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন সাদা পোশাকের পুলিশ নয়াপল্টনে বিএনপি অফিসে প্রবেশ করে এবং বাইরে আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা অস্ত্র-গোলাবারুদ, বাঁশের লাঠিসোটা, রড, পিস্তল নিয়ে মহড়া দেয়। তারা কেন্দ্রীয় কার্যালয় তছনছ করে এবং অবৈধ অস্ত্র রেখে দেয় ভেতরে। তারা দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীসহ মহানগর নেতৃবৃন্দকে আসামি করে মিথ্যা মামলা করে। এ মামলায় হারুন অর রশীদ ছাড়াও ডিএমপি’র ১৬ জন কর্মকর্তার নাম দেয়া হয়েছে।
যুবদল নেতা মিজানুর রহমানকে অপহরণ করে হত্যার অভিযোগে ১৩ই সেপ্টেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি করেন মিজানুরের বাবা আলহাজ আইনাল হক। মামলায় বলা হয়েছে, মিজানুর রহমান ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য ছিলেন। ২০১৬ সালের ১৭ই আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতারা পুলিশসহ বেআইনিভাবে দলবল নিয়ে তার বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করেন। তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিলে বাধা দেয়া হয়। কিন্তু বাধাকে উপেক্ষা করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ মারধর করে জোরপূর্বক মিজানুর রহমানকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ১৮ই সেপ্টেম্বর সকালে গ্রামের লোকজন থানায় গিয়ে মিজানুর রহমান কোথায় আছে জানতে চাইলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রমজান আলী প্রকাশ করে যে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান পিপিএম রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এম খুরশীদ হোসেনের অফিসে নিয়ে গিয়েছেন। বলা হয়, ২০ লাখ ঢাকা চাঁদা দিলে মিজানুর রহমানকে ফেরত দিবে। এতে আরও বলা হয়, টাকা না দিলে তাকে হত্যা করে লাশও গুম করে ফেলবে। কিন্তু মিজানুরকে হত্যা করে গোপন রাখা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া মিজানুরের ভাই রেজাউল এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে বলেও উল্লেখ রয়েছে। এ মামলায় আওয়ামী লীগ ও পুলিশের কর্মকর্তাসহ অজ্ঞাতনামাদের নাম দেয়া হয়েছে।
এদিকে বিএনপি নেতা কুদরত আলীকে হত্যার অভিযোগে ২রা অক্টোবর কুষ্টিয়া জেলা দৌলতপুর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলাটি করেন মো. ফেরদৌস। এজাহারে বলা হয়, কুদরত আলীকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ও কিছু সুবিধাভোগী পুলিশ মিথ্যা মামলায় আটক ও হত্যা করার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২০২০ সালের ২৩শে জুলাই রাতে তারা বাড়িতে আসে এবং দরজার প্রাচীর টপকে অবৈধভাবে প্রবেশ করেন। তাকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ২৫শে জুলাই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বুকের ডান দিকে ও বামদিকে দু’টি গুলির চিহ্ন, দুই হাতে, পিঠে, মুখে ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেও উল্লেখ রয়েছে। এ মামলায় পুলিশ কর্মকর্তার নাম দেয়া হয়েছে।
বিএনপি’র আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মানবজমিনকে বলেন, আগে মামলা করার জন্য চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ফ্যাসিস্ট রেজিম যখন ক্ষমতায় থাকে এবং রক্ষক ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। তখনকার সময়ের প্রেক্ষাপটে আমরা বহুবার আদালতে এবং থানায় গিয়েছি। আমাদের মামলা করতে দেয়া হয়নি। আদালতে গিয়েছিলাম, সেখান থেকেও আমাদের মামলা খারিজ করা হয়েছে। আমরা মনে করি, এদেশে এখন আইনের শাসন কায়েম হয়েছে কিংবা হচ্ছে। যেকারণে শুধুমাত্র বিএনপি না যেকোনো রাজনৈতিক দলের আইনি আশ্রয়ের অধিকার আছে। যেকোনো নাগরিকের আইনি লাভের অধিকার আছে। সেজন্য এখন আমরা আইনের আশ্রয় নেয়ার জন্য শরণাপন্ন হচ্ছি। সেটা আদালতেও যাওয়া হচ্ছে এবং থানায়ও যাওয়া হচ্ছে। বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় বহুবার তছনছ ও ভাঙা হয়েছে। যেসব পুলিশ এসব করেছিল তাদের বিরুদ্ধে তখন আমরা আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারি নাই। এখন আমরা আইনের আশ্রয় নিচ্ছি। যেন তাদের আইনের আওতায় আনা হয়।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শাবি’র ক্যাম্পাসে বেপরোয়া ছিল ছাত্রলীগের অমিত by ওয়েছ খছরু

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সড়কের উন্নয়ন প্রকল্প: ১৪ বছরে ৫০ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকার দুর্নীতি
গবেষকরা জানিয়েছেন, গবেষণার আওতায় রয়েছে ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে ২০২১-২২ অর্থবছরের মধ্যে সমাপ্ত প্রকল্পসমূহ (এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরুর সময় ২০১০-১১ থেকে ২০১৮-১৯ পর্যন্ত)। গবেষণায় সড়ক নির্মাণ, সড়ক উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ, সেতু উন্নয়ন (অনূর্ধ্ব ১৫০০ মিটার) ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ সম্পর্কিত প্রকল্প পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। সমাপ্ত প্রকল্প সংখ্যা, ধরন, বরাদ্দ ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ১০টি জোনের ১৩টি সার্কেলের ২১টি বিভাগীয় দপ্তরের (জেলা পর্যায়) আওতাধীন এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির পরিমাণ বেশি। প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদারদের লাইসেন্স ভাড়া নেয়া, কোনো ঠিকাদারের প্রাপ্ত কার্যাদেশ ক্রয়, নিয়ম বহির্ভূতভাবে সাব-কন্ট্রাক্ট নেয়া, প্রতিযোগী ঠিকাদারের সঙ্গে সমঝোতা বা স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক চাঁদাবাজি ইত্যাদি ক্ষেত্রে কার্যাদেশের মোট অর্থমূল্যের দুর্নীতি ২ থেকে ৬ শতাংশ। নির্মাণকাজের কার্যাদেশ প্রাপ্তি ও ঠিকাদারের বিল প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ঘুষের পরিমাণ ১১ থেকে ১৪ শতাংশ। নির্মাণকাজে রাজনীতিবিদ, ঠিকাদার ও উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ত্রিপক্ষীয় আঁতাতের মাধ্যমে দুর্নীতির হার ১০ থেকে ২০ শতাংশ। দরপত্র লাইসেন্স ভাড়া, কার্যাদেশ বিক্রয়, সমঝোতা, স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক চাঁদাবাজি ইত্যাদি ক্ষেত্রে দুর্নীতির হার ২ থেকে ৬ শতাংশ। নির্মাণকাজে প্রাক্কলিত দুর্নীতির পরিমাণ ২৯ হাজার ২৩০ কোটি টাকা থেকে ৫০ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা যা ২৩ থেকে ৪০ শতাংশ। ঠিকাদার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, কয়েকজন সংসদ সদস্য ও রাজনীতিবিদ এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে দুর্নীতির টাকা ভাগাভাগি হয়েছে বলেও জানিয়েছে টিআইবি।
গবেষণায় দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি জানায়, ঠিকাদারগণ নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে বা বিভিন্ন উপকরণ কম দেন; সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক/প্রকৌশলীরা এই অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ করে দেন। পাথরের ঘনত্ব কম দেয়া, নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার বা কম দেয়া, ট্যাক কোট বিটুমিন না দেয়া বরাদ্দ থাকলেও বৃক্ষরোপণ, রোড সেফটি সাইন, রক্ষাপ্রদ কাজ, আর্থ ওয়ার্ক এবং সার্ফেসিং না করা, অর্ধসমাপ্ত রাখা হয়।
টিআইবি বলছে, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা ও ঠিকাদারগণ সরাসরি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের আনুকূল্য পাওয়ায় নিম্নমানের কাজ করা বা প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতির জন্য তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয় না। ইজিপি’র তথ্য অনুসারে সওজ-এর ঠিকাদারি কাজ পেতে জালিয়াতি করায় ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ৩৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওপর বিভিন্ন মেয়াদে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়; তবে ২৬টি প্রতিষ্ঠানের নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে। কয়েকজন ঠিকাদারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দৃষ্টান্ত নেই। কিছু ঠিকাদারের রাজনৈতিক প্রভাব ও উচ্চ পর্যায়ে যোগসাজশ থাকার কারণে সওজ-এর কর্মকর্তা ঠিকাদারদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে না।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়নে সওজ-এর পরিকল্পনা উইং-এর সম্পৃক্ততা কম; প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখার জন্য সওজ-এর বিভিন্ন পর্যায়ের কার্যালয় প্রধান কর্তৃক প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়ন করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প অনুমোদন সভায় দ্রুততার সঙ্গে প্রস্তাব উত্থাপন এবং গোপনে প্রকল্প প্রস্তাব মূল্যায়ন সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করতে সওজ-এর কোনো কোনো কর্মকর্তা পরিকল্পনা কমিশনের কিছু কর্মচারীদের ২ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দেয়। প্রকল্প প্রণয়নের সময় অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে অতিরিক্ত প্রকল্প ব্যয় প্রাক্কলন; এক্ষেত্রে কখনো কখনো প্রাক্কলিত বাজেটের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ অতিরিক্ত প্রাক্কলন হয়েছে।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, একজন কর্মকর্তাকে একাধিক প্রকল্পে পরিচালক বানানো হয়েছে। ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে একজন কর্মকর্তাকে ১২টি প্রকল্পের পরিচালক পদে পদায়ন করা হয়। বিগত পাঁচ বছরে সমাপ্ত প্রকল্পসমূহের ৩৮ দশিমিক ৮ শতাংশ চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সমাপ্ত হয়েছে। ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ প্রকল্প পাঁচ বছরের বেশি সময় নিয়ে বাস্তবায়িত হয়েছে। সর্বোচ্চ ১৭ বছরে একটি প্রকল্প সমাপ্ত হয়েছে। প্রকল্পসমূহের প্রাথমিক প্রাক্কলিত বাজেটের চেয়ে পরবর্তীতে সর্বোচ্চ ৯৩ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। একটি প্রকল্পে একজন ঠিকাদারকে কার্যাদেশ প্রদানের ৫ বছর ৯ মাস ১৬ দিন পর ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
প্রতিবেদন উপস্থাপন শেষে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জনস্বার্থে নেয়া প্রকল্পগুলোতে রাজনীতিবিদ, আমলা ও ঠিকাদারদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আঁতাত রয়েছে। একেবারে নিম্ন পর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায় পর্যন্ত এসব দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের ঘুষ লেনদেনে ৪০-৪৩ শতাংশ অর্থ লোপাট হয়। এখন ত্রিপক্ষীয় সিন্ডিকেট যদি আমরা ভাঙতে না পারি, তাহলে দুর্নীতিবিরোধী কোনো কার্যক্রম সফল হবে না।
গবেষণা তৈরিতে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের নানা প্রকল্পের তথ্য চাইতে গেলে অনেক তথ্য দেয়া হয়নি অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা, যেসব তথ্য প্রকাশযোগ্য সেগুলো যেন প্রকাশ করা হয়। তবে বাস্তব কথা হলো, প্রতিষ্ঠানে কিছু ব্যক্তির পরিবর্তন হয়েছে তবে প্রাতিষ্ঠানিক চর্চার তো পরিবর্তন হয়নি। তাই রাতারাতি পরিবর্তন আশা করছি না।
এক প্রশ্নের জবাবে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক বলেন, আমাদের গবেষণা প্রতিবেদন শুধু দেশীয় অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প নিয়ে হয়েছে। তবে বিদেশি অর্থায়নের প্রকল্পগুলোতেও কম বেশি দুর্নীতি হয়েছে। এতে আমরা দেশীয় আমলাতন্ত্রের সঙ্গে বিদেশি আমলাতন্ত্রের যোগসাজশ হয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অনুতপ্ত সাকিব বিদায় বেলায় দেশবাসীকে পাশে চাইলেন
তার ফেসবুকে দেয়া সেই বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো-
আসসালামু আলাইকুম, আমার দেশের প্রতিটি মানুষের ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা।
আমার প্রতি আপনাদের দোয়া ও ভালবাসা আমাকে আজকের এই সাকিব আল হাসান হিসেবে বিশ্ব দরবারে সমাদৃত করেছে।
শুরুতেই আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সে সকল আত্মত্যাগকারী ছাত্রদের, যারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন। তাদের প্রতি এবং তাদের পরিবারের প্রতি আমার অন্তরের অন্তস্তল থেকে শ্রদ্ধা এবং সমবেদনা। যদিও স্বজন হারা একটি পরিবারের ত্যাগকে কোন কিছুর বিনিময়ে পূরণ করা সম্ভব না। সন্তান হারানো কিংবা ভাই হারানোর বেদনা কোন কিছুতেই পূরণযোগ্য নয়।
এই সংকটকালীন সময়টাতে আমার সরব উপস্থিতি না থাকায় আপনারা যারা ব্যথিত হয়েছেন বা কষ্ট পেয়েছেন তাদের অনুভূতির জায়গাটার প্রতি আমার শ্রদ্ধা এবং এজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
আপনাদের জায়গায় আমি থাকলে হয়তো এভাবে মনঃক্ষুণ্ন হতাম।
আমি খুবই স্বল্প সময়ের জন্য মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ছিলাম। আমার রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হওয়াটা ছিল মূলত আমার জন্মস্থান অর্থাৎ আমার মাগুরার মানুষের উন্নয়নের জন্য সুযোগ পাওয়া। আপনারা জানেন যে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নির্দিষ্ট কোন দায়িত্ব ছাড়া নিজের এলাকার উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখাটা একটু কঠিন। আর আমার এই এলাকার উন্নয়ন করতে চাওয়া আমাকে সংসদ সদস্য হতে আগ্রহী করে। যাইহোক দিনশেষে আমার পরিচয় আমি একজন বাংলাদেশের ক্রিকেটার। আমি যখন যেখানে যে অবস্থাতেই থেকেছি অন্তর থেকে ক্রিকেটাকেই ধারণ করেছি।
এই ক্রিকেটকে ধারণ করে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের সম্মান অর্জন করার পথে এগিয়ে নিয়ে গেছেন -আপনারা । আপনাদের ভালোবাসা এবং সমর্থন আমাকে আজকের সাকিব আল হাসান বানিয়েছে। আমি যখন দেশের জন্য ক্রিকেটের মাঠে ব্যাট ধরেছি তখন আমার সাথে ব্যাট ধরেছেন আপনারা সবাই। গ্যালারি থেকে আপনাদের চিৎকার, আপনাদের সমর্থন আমাকে ভালো খেলার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। ক্রিকেট ম্যাচের দিন চায়ের দোকানে টেলিভিশনের সামনে উপচেপড়া ভিড় -আমাকে শক্তি যুগিয়েছে।
আমি জিতলে, আপনারা সবাই জিতেছেন। আমি হেরে গেলে, হেরে গেছেন আপনারা সবাই!
আপনারা জানেন, খুব শীঘ্রই আমি আমার শেষ ম্যাচটি খেলতে যাচ্ছি। আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরু থেকে আজকের সাকিব আল হাসান হয়ে ওঠা পর্যন্ত এই পুরো জার্নিটাকে ড্রাইভ করেছেন আপনারা।
এই ক্রিকেটের এই গোটা গল্পটা আপনাদের হাতেই লেখা! তাই আমার শেষ ম্যাচে, এই গল্পের শেষ অধ্যায়ে, আমি আপনাদেরকে পাশে চাই। আমি আপনাদের সবাইকে সাথে নিয়ে বিদায় নিতে চাই। বিদায়বেলায়, সেই মানুষগুলোর হাতে হাত রাখতে চাই, যাদের হাতের তালি আমার ভালো খেলতে বাধ্য করেছে। বিদায়বেলায়, সেই মানুষগুলোর চোখে চোখ রাখতে চাই, আমার ভালো খেলায় যাদের চোখ আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়েছে। আবার আমার খারাপ খেলায় যাদের চোখ ছলছল করেছে।
আমি আশা করি, শুধু আশা না বিশ্বাস করি –এই বিদায় বেলায় আপনারা সবাই আমার সাথে থাকবেন। সবাই সাথে থেকে সেই গল্পের ইতি টানবেন, যে গল্পের নায়ক –আমি নই, আপনারা!
.jpeg)
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লেবানন নিয়ে বিপাকে ঢাকা
এ ছাড়াও বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবানন থেকে দেশে ফিরতে আগ্রহী প্রবাসী বাংলাদেশিদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। লেবাননে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে দেশটিতে আটকে পড়াদের ফেরাতে একযোগে কাজ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যেই পররাষ্ট্র সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব এবং বাংলাদেশ বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অংশগ্রহণে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের মিশন প্রধানরা ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লেবাননে আটকে পড়াদের নিরাপদে প্রত্যাবর্তনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দেশটিতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেখানে অবস্থানরত যে সব প্রবাসী বাংলাদেশি দেশে আসতে ইচ্ছুক নয়, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে পররাষ্ট্র সচিব। প্রাথমিকভাবে হাজারখানেক অভিবাসী কর্মী প্রত্যাবাসনে ইচ্ছুক বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ওদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, লেবানন থেকে ফিরতে আগ্রহী প্রবাসী বাংলাদেশিদের তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে। নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, তারা যেন যুদ্ধকবলিত এলাকা থেকে আরেকটু উত্তরে সরে যান। আমরা আইওএমকে বলেছি, একটা ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে। তারা সেটা করবে। তবে সমস্যা হলো বৈরুত এয়ারপোর্ট থেকে ফ্লাই করা রিস্কি। সে কারণে বিকল্প পথে ফ্লাই করা যায় কি-না, সে চেষ্টাও করছি।
দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, হাজার খানেকের বেশি বাংলাদেশি দেশে ফেরত আসতে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। দূতাবাসের হটলাইন, হেল্পলাইন ছাড়াও লেবাননে থাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির মাধ্যমে এসব বাংলাদেশি দেশে ফেরার বিষয়ে তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে। লেবাননের পরিস্থিতি যত খারাপ হতে থাকবে দেশে আসতে চাওয়া বাংলাদেশিদের সংখ্যা তত বাড়তে থাকবে বলে ধারণা করছেন দূতাবাস সংশ্লিষ্টরা। দূতাবাস সংশ্লিষ্টরা জানান, লেবাননের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক বাংলাদেশি কর্মী দেশটি ছেড়ে গেছেন। বর্তমানে দেশটিতে ৭০-৮০ হাজার বাংলাদেশি অবস্থান করছেন। তবে তাদের বেশির ভাগই অবৈধ কর্মী। ওদিকে একদিন আগে লেবাননে আটকে পড়া বাংলাদেশি প্রবাসীদের সরিয়ে নিতে চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)কে অনুরোধ করেছে ঢাকা। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, চ্যালেঞ্জ হলো বৈরুতের বিমানবন্দর বর্তমানে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য অনিরাপদ। আমরা বাংলাদেশি নাগরিকদের সরিয়ে নেয়ার জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে বিকল্প স্থান খোঁজার পরামর্শ দিয়েছি। বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান সংঘাতের কারণে অবনতিশীল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে হাজার হাজার বাংলাদেশি অভিবাসী নিরাপত্তার সন্ধানে দক্ষিণ লেবানন থেকে বৈরুতে পালিয়েছে।
লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাস ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার জন্য প্রচেষ্টা সমন্বয় করছে। সংঘাতপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি হওয়ার কারণে গত সপ্তাহে অস্থায়ীভাবে দূতাবাসকে একটি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত করা হয়। ইসরাইল বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিমান অভিযান শুরু করলে ২৩শে সেপ্টেম্বর লেবাননে সহিংসতা তীব্রতর হয়। এতে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়ার সতর্কতা জারি করার পরে দক্ষিণ লেবাননের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। আন্তর্জাতিক মিডিয়ার খবর অনুসারে ১,৩০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে। এর বেশির ভাগই দক্ষিণাঞ্চলে। এটি ছিল সামপ্রতিক সময়ে সবচেয়ে ভারী বোমা হামলা। গত মাসে ইসরাইল বিমান হামলা শুরু করার পর থেকে সংঘাতে এ পর্যন্ত ২,০৮০ জনেরও বেশি প্রাণ গেছে এবং প্রায় ৯,৮৭০ জন আহত হয়েছেন। সহিংসতা থেকে আশ্রয়ের সন্ধানে এক লাখের বেশি মানুষ লেবানন থেকে প্রতিবেশী সিরিয়ায় পালিয়েছে। এরইমধ্যে লেবাননে সর্বাত্মক যুদ্ধ বেধে যেতে পারে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরাঁ। তিনি বলেছেন, লেবাননের সে যুদ্ধ গোটা পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জামায়াতের ১০ দফা প্রস্তাবনা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে দেড় সহস্রাধিক প্রাণের বিনিময়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ৫ই আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে চলে যান। ৮ই আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো- স্বল্পতম সময়ের মধ্যে মৌলিক সংস্কার সম্পন্ন করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অর্থবহ করার জন্য নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। সংস্কার ব্যতীত নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে না।
জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মূলত তাদের সংস্কার প্রস্তাব ৪১ দফা, সেটা বিস্তারিত। এখন তারা সংক্ষেপে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। এই মুহূর্তে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য যেগুলো প্রাধান্য দেয়া দরকার, সেগুলো দিয়েছেন। পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এসে বাকিগুলো দেখবে।
সংসদবিষয়ক সংস্কার: সংসদের প্রধান বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার মনোনীত করতে হবে, সংসদীয় বিরোধীদলীয় নেতার নেতৃত্বে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, সংসদে বিরোধীদলীয় সদস্যদের পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে।
নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা (পিআর) চালু করতে হবে, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কেয়ারটেকার সরকারব্যবস্থা সংবিধানে স্থায়ীভাবে সন্নিবেশিত করতে হবে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন দেশে প্রত্যাখ্যাত ইভিএম ভোটিং ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে, কোনো সরকারি চাকরিজীবী তাদের চাকরি ছাড়ার কমপক্ষে তিন বছরের মধ্যে কোনো ধরনের নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করতে হবে, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ২০০৮ সালে প্রবর্তিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রথা বাতিল করতে হবে, নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনার নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে সার্চ কমিটি গঠিত হবে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন একাধিক দিনে অনুষ্ঠিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবস্থাপনা নির্বাচন কমিশনের অধীন আনতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা সংস্কার: ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রণীত পুলিশ আইন পরিবর্তন এবং পুলিশের জন্য একটি পলিসি গাইডলাইন তৈরি করতে হবে, পুলিশ সদস্যদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং চাকরিচ্যুতির জন্য স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন করতে হবে, নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক ব্যক্তির সুপারিশের সুযোগ রাখা যাবে না তথা সর্বপ্রকার দলীয় ও ব্যক্তিগত প্রভাব বা হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে, পুলিশ ট্রেনিং ম্যানুয়ালের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক অনুশাসন অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, পুলিশের মধ্যে মারণাস্ত্রের ব্যবহার বাতিল করতে হবে, রিমান্ড চলাকালে জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে আসামিপক্ষের আইনজীবীর উপস্থিতি এবং মহিলা আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের অভিভাবকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে, বিচার বিভাগীয় সদস্যদের দ্বারা পুলিশ ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান থাকতে হবে, পুলিশের ডিউটি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা উন্নত করতে হবে, ‘পুলিশ আইন’ পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের মাধ্যমে আধুনিকায়ন করতে হবে।
র্যাব-বিষয়ক সংস্কার: র্যাব ও অন্যান্য বিশেষায়িত বাহিনীর প্রতি জনসাধারণের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে, গত সাড়ে ১৫ বছর যারা র্যাব-এ কাজ করেছেন, তাদের নিজ নিজ বাহিনীতে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং তাদের পুনরায় র্যাব-এ নিয়োগ দেয়া যাবে না, বিচারবহির্ভূত সব ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে, র্যাব’র সামগ্রিক কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য সেল গঠন করতে হবে, কোনো র্যাব সদস্য আইনবহির্ভূত কোনো কাজে জড়িত হলে এই সেল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করবে। মিডিয়ার ক্ষেত্রে নীতিমালা প্রণয়ন ও অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে।
জনপ্রশাসন সংস্কার: জনবল নিয়োগ, বদলি, পদায়নে তদবির, সুপারিশ ও দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততাকে প্রাধান্য দিতে হবে, যেকোনো চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে শুরু করে নিয়োগ পর্যন্ত সময়ক্ষেপণ না করে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। সরকারি চাকরিতে আবেদন বিনামূল্যে করতে হবে, চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা আগামী দুই বছরের জন্য ৩৫ বছর ও পরবর্তী বয়সসীমা স্থায়ীভাবে ৩৩ বছর এবং অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর নির্ধারণ করতে হবে, চাকরির আবেদনে সব ক্ষেত্রে বয়সসীমার বৈষম্য নিরসন করতে হবে, সব সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি নিরোধকল্পে বিশেষ ব্যবস্থা তৈরি করা যাতে করে কেউ দুর্নীতি করার সুযোগ না পায়, এজন্য প্রয়োজনীয় মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। চাকরিতে বিরাজমান আন্তঃক্যাডার বৈষম্য দূর করতে হবে। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে সরকারি চাকরিতে যারা প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি, জালিয়াতি ও দলীয় বিবেচনায় চাকরি পেয়েছেন, তাদের নিয়োগ বাতিল করতে হবে।
দুর্নীতি: দুর্নীতি দমন কমিশনে পরীক্ষিত সৎ, ন্যায়পরায়ণ, দক্ষ ও যোগ্য লোক নিয়োগ দিতে হবে। রাষ্ট্রের সব সেক্টরে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে, দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার স্বাধীনতা দিতে হবে, বিগত সরকারের আমলে দেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার উপযুক্ত বিধান প্রণয়ন ও তা কার্যকর করার পদক্ষেপ নিতে হবে, মন্ত্রণালয়ভিত্তিক দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করতে হবে, দুর্নীতি দমন কমিশনের আইন সংস্কার, জনবল ও পরিধি বৃদ্ধি করতে হবে, রাষ্ট্রীয় ও জনগণের সম্পদ অবৈধভাবে ভোগ দখলকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সুস্পষ্ট আইন প্রণয়ন করতে হবে।
সংবিধান সংস্কার: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রাখার বিধান সংযুক্ত করতে হবে। একই ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।
শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংস্কার: ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিকে উচ্চমাধ্যমিক হিসেবে বলবৎ রাখতে হবে। অষ্টম শ্রেণির পাবলিক পরীক্ষা বাতিল করে পূর্বের পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে হবে। সব শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে ধর্মীয় মূল্যবোধবিরোধী উপাদান বাদ দিতে হবে। সব শ্রেণিতে নবী করিম (সা.)-এর জীবনীসহ মহামানবদের জীবনীসংবলিত প্রবন্ধ সংযোজন করতে হবে। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিদ্যমান স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে সরকারিকরণ করতে হবে। প্রতিটি জেলায় কমপক্ষে একটি করে কামিল মাদ্রাসাকে সরকারিকরণ করতে হবে। কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে সাধারণ শিক্ষার মূলধারায় যুক্ত করতে হবে। ‘ডিপার্টমেন্ট অব হায়ার এডুকেশন’- নামে একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন করতে হবে। শিক্ষা সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত শিক্ষা কমিশনের সব ধারা তথা সাধারণ, আলিয়া, কওমির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
(খ) সংস্কৃতি সংস্কার: জাতির ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রাম ও মূল্যবোধের আলোকে বিভিন্ন ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হবে। জাতির ঐতিহাসিক দিনগুলোকে স্মরণীয় করার লক্ষ্যে বিশেষ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় তা পালনের ব্যবস্থা করতে হবে। নাটক, সিনেমাসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানগুলো অশ্লীলতামুক্ত করতে হবে। নাটক, সিনেমা ও বিভিন্ন কনটেন্টে বিভিন্ন ধর্ম, বিশেষ করে ইসলামকে হেয় করা থেকে বিরত থাকার বিধান প্রণয়ন করতে হবে। প্রাণীর মূর্তিনির্ভর ভাস্কর্য নির্মাণ না করে দেশীয় প্রকৃতি, ঐতিহ্যকে বিভিন্ন চিত্রাঙ্কন-ভাস্কর্যে তুলে আনতে হবে। সব গণমাধ্যমে শিক্ষামূলক কর্মসূচির প্রচার নিশ্চিত করতে হবে।
পররাষ্ট্রবিষয়ক সংস্কার: পররাষ্ট্রীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে সব গণতান্ত্রিক দেশের সঙ্গে সাম্য ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় চীন, নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানিবণ্টন চুক্তির উদ্যোগ নিতে হবে। আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে হবে। অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে বিগত সরকারের আমলে সম্পাদিত সব চুক্তি রিভিউ করতে হবে। এক্ষেত্রে একটি রিভিউ কমিশন গঠন করতে হবে। বাংলাদেশকে আসিয়ান জোটভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। শক্তিশালী সার্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। কোনো দেশের সঙ্গে চুক্তি অথবা সমঝোতা চুক্তি হলে পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে সেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক উত্থাপন করে আলোচনাপূর্বক তা অনুমোদন করতে হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় সংস্কার: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশকে (ইফাবা) রাষ্ট্রের কল্যাণে অর্থবহ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিকে স্বতন্ত্র সংস্থা বা দপ্তরে রূপান্তর করতে হবে, যাতে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। ইসলামিক মিশনকে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বতন্ত্র সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। হজ ব্যবস্থাপনার জন্য স্বতন্ত্র অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করতে হবে। হজ ও ওমরাহ্র খরচ কমানোর জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে দেশের বরেণ্য আলেমরা সম্পৃক্ত থাকবেন। বিতর্কিত সব বই বাতিল ও প্রকাশনা বন্ধ করতে হবে। সব ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- দলের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, আ ন ম শামসুল ইসলাম, এটিএম মা’ছুম, কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল আলম খান, রফিকুল ইসলাম খান, মতিউর রহমান আকন্দ, হামিদুর রহমান আযাদ, আবদুল হালিম, এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, নূরুল ইসলাম বুলবুল, সেলিমউদ্দিন ও মোবারক হোসেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1403)
- ► 2025 (3281)
-
▼
2024
(2551)
-
▼
October
(563)
-
▼
Oct 10
(15)
- একযোগে চাকরি ছাড়ার হুমকি ইসরায়েলি সেনাদের
- পাকিস্তানে ‘র’ এর এজেন্ট গ্রেপ্তার
- ‘আমাকে মোয়া বানানো হচ্ছে’
- আ.লীগ সরকারের রাজনৈতিক ‘হাতিয়ার’ ছিল উচ্চ আদালত
- গুজব গুঞ্জনের নেপথ্যে by শুভ্র দেব ও পিয়াস সরকার
- এই সাফল্য ধরে রাখতে হবে by বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী
- মহামারিকালে পুতিনকে গোপনে করোনা পরীক্ষার কিট পাঠিয়...
- গোয়েন্দা পরিচয়ে তুলে নেয়ার ৩ মাসেও খোঁজ মেলেনি শাক...
- গাজায় নিহতের সংখ্যা ৪২,০০০ ছাড়িয়েছে: লেবানন থেকে র...
- গণহত্যাসহ নানা অভিযোগে বিএনপি’র ১২৩ মামলা by কিরণ শেখ
- শাবি’র ক্যাম্পাসে বেপরোয়া ছিল ছাত্রলীগের অমিত by ও...
- সড়কের উন্নয়ন প্রকল্প: ১৪ বছরে ৫০ হাজার ৮৩৫ কোটি টা...
- অনুতপ্ত সাকিব বিদায় বেলায় দেশবাসীকে পাশে চাইলেন
- লেবানন নিয়ে বিপাকে ঢাকা
- জামায়াতের ১০ দফা প্রস্তাবনা
-
▼
Oct 10
(15)
-
▼
October
(563)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


