Saturday, July 11, 2026

ওয়াশিংটনে বসে যেভাবে ভেনেজুয়েলা চালাচ্ছেন রুবিও

ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কার্যত ওয়াশিংটনে বসেই ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ছয় মাসে দেশটির অর্থনীতি, প্রাকৃতিক সম্পদ, সরকারি সিদ্ধান্ত এবং নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রুবিওর ভূমিকা অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার অভিযানের পর দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। এরপর থেকে মার্কো রুবিও ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃত অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে রুবিও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। এমনকি তারা স্প্যানিশ ভাষায় হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা আদান-প্রদান করেন, যেখানে রাষ্ট্রীয় বিষয় ছাড়াও ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা ও অনানুষ্ঠানিক কথোপকথনও হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

দাবি করা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার অধিকাংশ রপ্তানি আয়ের অর্থ প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারিতে জমা হয়। পরে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে দেশটির বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে সেই অর্থ ধাপে ধাপে ভেনেজুয়েলা সরকারকে দেওয়া হয়। অর্থ কী খাতে ব্যয় হবে এবং কারা তা ব্যবহার করতে পারবে এসব বিষয়ে রুবিও ও তার টিমের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একদিকে ভেনেজুয়েলায় বড় ধরনের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের চাপ থেকে দেশটির সরকার কিছুটা সুরক্ষা পাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে এতে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এছাড়া ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন, দেশটির তেল খাতে সংস্কার এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও রুবিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এমনকি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নিয়োগের বিষয়েও অন্তর্বর্তী প্রশাসন তার সঙ্গে পরামর্শ করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত মাসে ভেনেজুয়েলায় দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারকে সহায়তা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ পর্যন্ত প্রায় ৯০০ মার্কিন সামরিক সদস্য মোতায়েন, প্রায় ৪০ কোটি মার্কিন ডলারের সহায়তা এবং নগদ অর্থ সরবরাহ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা কিছুটা বাধাগ্রস্ত হলেও দেশটির পুনরুদ্ধার ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর কৌশলগত লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে প্রতিবেদনে উপস্থাপিত এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ভেনেজুয়েলার সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

ওয়াশিংটনে বসে যেভাবে ভেনেজুয়েলা চালাচ্ছেন রুবিও
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও

হরমুজ প্রণালিতে নৌ-ফি চালুর প্রস্তাব বিবেচনা করছে ইউরোপ

হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল ফি বা নেভিগেশনাল ফি আদায়ের জন্য ইরানের দেয়া প্রস্তাবগুলো খতিয়ে দেখছে ইউরোপ । তবে তারা উল্ল্যেখ করেছে এই টোল কোনোভাবেই বাধ্যতামূলক করা যাবে না এবং সামুদ্রিক পরিবহন নিয়ন্ত্রণকারী জাতিসংঘ সংস্থার সমর্থন থাকতে হবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান। বৃটেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি জানিয়েছেন, বাধ্যতামূলক টোল আরোপ করা হলে তা বিপর্যয় ডেকে আনবে। তবে তার মন্ত্রিসভার কিছু সহকর্মী স্বীকার করেছেন যে মালাক্কা প্রণালি এবং ইংলিশ চ্যানেলসহ অনেক প্রাকৃতিক জলপথে নির্দিষ্ট নেভিগেশনাল সেবার জন্য অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা অনুমোদিত রয়েছে।

এমন এক সময়ে এই প্রস্তাবের কথা সামনে এলো যখন মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ইরান যেন জনসমক্ষে একটি বিবৃতি দিয়ে জানায় যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ করিডোর ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর ওপর আর কোনো হামলা চালানো হবে না। মার্কিন কর্মকর্তারা তেহরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো এবং তা মেনে চলার ক্ষেত্রে মূল বাধা হিসেবে দায়ী করেছেন। ডনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে শেষ বলে মনে করছেন, তবে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা চালিয়ে যাবে। এর কয়েক ঘণ্টা পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে তাকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ এনে নতুন করে হুমকি দিয়ে বলেন, ১০০০ মিসাইল লক ও লোড করা আছে এবং সেগুলো ইরানের দিকে তাক করা রয়েছে। মালাক্কা প্রণালির নীতিমালার আদলে হরমুজ প্রণালির জন্য একটি প্রস্তাব ইতোমধ্যে বৃটিশ আইনজীবীদের সহায়তায় ওমান তৈরি করেছে। মাস্কট এখন এই পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য তেহরানে তাদের আইনি বিশেষজ্ঞদের পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম শুক্রবার জানিয়েছে, এই প্রণালি নিয়ে আলোচনার জন্য শনিবার ওমান পৌঁছেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেইকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, এই সফর হরমুজ প্রণালি এবং নৌ-চলাচলের নিরাপত্তার ওপর কেন্দ্র করে হবে এবং এটি গত এক বা দুই মাস ধরে ওমানের সাথে শুরু হওয়া পরার্মশেরই ধারাবাহিকতা। হরমুজ প্রণালির বেশিরভাগ নৌ-চলাচলযোগ্য জলপথ ওমানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তারা বাধ্যতামূলক টোলের বিরোধিতা করছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের পরিপন্থী উপায়ে ইরানকে এই প্রণালির ওপর সার্বভৌমত্ব দেয়া হবে মূলত যে কোনো উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর কাছে জিম্মি হওয়া মেনে নেয়া, যারা যখন-তখন এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়।

তবে ওমানের এই বিকল্প পরিকল্পনা ইরানিদের, বিশেষ করে ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) উচ্চাকাক্সক্ষার সাথে নাও মিলতে পারে। একজন কূটনীতিক বলেছেন, আইআরজিসির কিছু অংশ বলছে যে যুক্তরাষ্ট্র গত ফেব্রুয়ারিতে তাদের ওপর একটি অবৈধ হামলা চালিয়েছিল, তাই তারা কেন আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন মেনে চলবে? আবার অন্যরা সহযোগিতা করতে চায়। তেহরানের ভেতরে এই বিষয়ে বিভাজন রয়েছে। ইরান এই ফি আদায়ের বিষয়টি বাস্তবে বাধ্যতামূলক করবে কিনা, তা স্পষ্ট করার জন্য আঞ্চলিক দেশগুলোর পক্ষ থেকেও চাপের মধ্যে রয়েছে। লন্ডনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস জানিয়েছে, এনার্জি পলিসি রিসার্চ গ্রুপের স্বাধীনভাবে প্রস্তুত করা প্রস্তাবগুলোর প্রতি তাদের আগ্রহ রয়েছে। ওই গবেষণাপত্রে যুক্তি দেয়া হয়েছে যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক আঞ্চলিক ব্যবস্থার মধ্যে স্বচ্ছ সেবা ফি যুক্ত থাকলে তা সব পক্ষকে সহযোগিতা করতে উৎসাহিত করবে। এটি কেবল প্রণালি পার হওয়ার জন্য জাহাজের ওপর আরোপিত কোনো টোল নয়। গত বৃহস্পতিবার লন্ডনে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) লন্ডনের বৈঠকে কিছু উপসাগরীয় ও ইউরোপীয় দেশের জোট একটি প্রস্তাব পাসের জন্য চাপ দেয়, যেখানে জাহাজে হামলা চালিয়ে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার জন্য ইরানের নিন্দা জানানো হয়। তবে এই প্রস্তাবটি রাশিয়া বা চীন সমর্থন করেনি।

রাশিয়া বলেছে, এই সংঘাতমূলক প্রস্তাবটি সংকটের মূল কারণগুলোকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করেছে। অন্যদিকে চীন এটিকে একতরফা এবং আইএমও-এর ম্যান্ডেটের বাইরে বলে অভিহিত করেছে। চলতি সপ্তাহে ড্রোন, মিসাইল ও ছোট নৌকার সাহায্যে জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়ার ইরানি সক্ষমতা ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ১৫০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পর এই প্রস্তাবটি আসে। ইরান এর জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হেনেছে। একজন কূটনীতিক বলেন, নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ার দুটি কারণ রয়েছে। একটি হলো প্রণালিটি পুনরায় খোলার সময় এর বিতর্কিত নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যটি হলো এই জলপথের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা, যার মধ্যে মালাক্কা প্রণালির মডেলটি ইরানের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে কিনা তা অন্তর্ভুক্ত।

গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি আলোচনার রোডম্যাপ বা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ইরান কেবল ৬০ দিনের জন্য কোনো ফি ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। কারিগরি ও সামরিক বাধাগুলো দূর হওয়ার পর, ৩০ দিনের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল স্বাভাবিক করার কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে যে এই সমঝোতা স্মারকের অর্থ এই নয় যে জাহাজগুলো কেবল ইরানের অনুমতি নিয়ে এবং তেহরানের নির্দিষ্ট করে দেয়া রুটেই প্রণালি পার হতে পারবে। আলাদাভাবে, এই স্মারকে ইরান ওমানের সাথে প্রণালির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী দাবি করেছে যে তারা মূলত সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতিগুলো তাদের নিজস্ব ব্যাখ্যা অনুযায়ী পূরণ করেছে।

আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি যে এই ভূখণ্ডে বা হরমুজ প্রণালিতে বিদেশিদের কোনো ভূমিকা নেই। কূটনীতিকরা এখন খতিয়ে দেখছেন যে তেহরান আটকে থাকা জাহাজের জট কমাতে সব জাহাজকে ইরানের কাছের উত্তরাঞ্চলীয় রুট ব্যবহারের জন্য জোর দিচ্ছে, নাকি দক্ষিণাঞ্চলীয় রুট ব্যবহারের জন্য দেশের পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটির অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক করছে।

হরমুজ প্রণালিতে নৌ-ফি চালুর প্রস্তাব বিবেচনা করছে ইউরোপ

বিশ্বকাপের একটি মিশর-আর্জেন্টিনা ম্যাচ যেভাবে ফিলিস্তিন ইস্যুর প্রতীক হয়ে উঠল

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশর ও আর্জেন্টিনার লড়াই শুধু ফুটবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিতর্কিত রেফারিং, ভিএআর ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন এবং গ্যালারিতে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শনের ঘটনায় ম্যাচটি দ্রুতই ফিলিস্তিন ইস্যুকে ঘিরে বৈশ্বিক রাজনৈতিক বিতর্কের প্রতীক হয়ে ওঠে।

ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সময় মিশরের দ্বিতীয় গোল বাতিল করা হয়। এছাড়া আর্জেন্টিনার একটি গোলের আগে ভিএআর পর্যালোচনার আবেদনও গ্রহণ করা হয়নি। এতে অনেক সমর্থক ও বিশ্লেষক অভিযোগ করেন, ভিএআর সমানভাবে ব্যবহার করা হয়নি এবং মিসরের ৩-২ গোলের হার ন্যায়সংগত ছিল না।

মিশরের কোচ হোসাম হাসান ম্যাচ শেষে বলেন, খেলাটি ‘ন্যায্য হয়নি’। তিনি ইঙ্গিত দেন, ফিফা হয়তো আর্জেন্টিনা ও তাদের তারকা লিওনেল মেসিকে জেতাতে চেয়েছিল। পরে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয়।

এই বিতর্কের আড়ালে আরও বড় একটি বিষয় সামনে এসেছে। ফিলিস্তিন ইস্যু এখন আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনেও রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ডে পরিণত হচ্ছে।

ম্যাচের আগে থেকেই কোচ হোসাম হাসান প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে আসছিলেন। ৩ জুলাই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মিসরের জয় পাওয়ার পর তিনি মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ান এবং সেই জয় ফিলিস্তিনের জনগণকে উৎসর্গ করেন।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনেও তিনি ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘যার ফিলিস্তিনিদের জন্য সহানুভূতি নেই, সে মানুষই নয়।’

ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতেও এই রাজনৈতিক মতপার্থক্যের প্রকাশ দেখা যায়। গাজার ফিলিস্তিনিরা মিসরের পতাকা উড়িয়ে দলটিকে সমর্থন জানান। অন্যদিকে স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার কিছু সমর্থক ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শন করলে মিসরের সমর্থকেরা ফিলিস্তিনের পতাকা তুলে ধরেন।

আর্জেন্টিনার জনগণের একটি বড় অংশ ইসরায়েলের সমালোচক হলেও দেশটির বর্তমান সরকার ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই নিজেকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে জায়নবাদপন্থী প্রেসিডেন্ট’ বলে উল্লেখ করেছেন। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইসরায়েলের দৃঢ় সমর্থক।

ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও কারো অজানা নয়। তাদের এ সম্পর্ক ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ফিফা ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর দ্রুত রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করলেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি। এ নিয়েও ক্রীড়াঙ্গনে সমালোচনা রয়েছে।

এসব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণেই মিসর-আর্জেন্টিনা ম্যাচের বিতর্ককে অনেকেই কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ হিসেবে দেখেননি। বরং অনেক সমর্থকের কাছে এটি এমন একটি বিশ্বব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে, যেখানে শক্তিশালী পক্ষ তুলনামূলক বেশি সুবিধা পায় । এতে করে আস্থার সংকট তৈরি হয় নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর।

এর মানে এই নয় যে ফিফা গোপনে আর্জেন্টিনাকে জেতানোর ষড়যন্ত্র করেছে। ক্ষমতার প্রভাব সব সময় পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে কাজ করে না, কখনও তা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থার সংকটের মধ্য দিয়েও প্রকাশ পায়।

মিশর-আর্জেন্টিনা ম্যাচের বিতর্ক হয়তো দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকবে। তবে একইসঙ্গে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে কোচ হোসাম হাসানের ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানো এবং ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরার ঘটনাও অনেকের মনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। 

বিশ্বকাপে আর্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেয় মিশর। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে আর্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেয় মিশর। ছবি: সংগৃহীত

‘শেখ মুজিবের পাকিস্তান ভাঙার ইচ্ছা ছিল না, তাই স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি’ -স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ১৯৭১ সালে শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান ভাঙতে চাননি। সে কারণেই ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী গণহত্যা চালানোর আগে তাজউদ্দিন আহমেদের অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।

শনিবার (১১ জুলাই) ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)’ আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তাজউদ্দিন সাহেব শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে গিয়ে বলেছিলেন, পাকিস্তানিরা আক্রমণ করতে যাচ্ছে, মানুষ স্বাধীনতা চায়। কিন্তু শেখ সাহেব তখন বলেছিলেন, আমি বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে পারি না, পাকিস্তান ভাঙতে আমার কোনো অবদান থাকুক এটি আমি চাই না। সুতরাং তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।’

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত আক্রমণের মুখে যখন জাতি দিশেহারা ও অবদমিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখনই ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সাহসের সাথে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই সংকটময় মুহূর্তে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত করেছিল। তিনি বলেন, এটিই হলো প্রকৃত সত্য। ​ মেজর হাফিজ উদ্দিন জোর দিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল একটি জনতার যুদ্ধ। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর ক্ষমতায় এসে একটি বিশেষ গোষ্ঠী ইতিহাস বিকৃত করে শুধু ৭ই মার্চের ভাষণের ওপর ভিত্তি করে স্বাধীনতার কৃতিত্ব নিতে চেয়েছিল, যা ছিল চরম অন্যায়।

তিনি বলেন, রাজনীতিবিদরা সাধারণত অন্যের কৃতিত্ব হাইজ্যাক করেন এবং নিজের দলের নেতাকে ছাড়া কাউকে কৃতিত্ব দিতে চান না। ​ আলোচনায় তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের গৌরবময় ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, তখন পূর্ব পাকিস্তানে রেজিমেন্টের মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন ছিল। একেকটি ক্যান্টনমেন্টে তারা কোনো পূর্বপরিকল্পনা বা যোগাযোগ ছাড়াই পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে বিদ্রোহ করে এবং জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়। এই প্রতিরোধ যুদ্ধই ছিল ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি।

সেনাবাহিনীতে যোগদানের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে তিনি জানান, তিনি মূলত ফুটবল খেলার টানেই সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের অনুপ্রেরণাতেই তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি স্বাধীনতার মহান ঘোষক এদেশের মহান রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমানকে, যিনি আমাকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।

এছাড়াও তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রধান সংগঠক মেজর আব্দুল গনি এবং ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের রেজিমেন্ট কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুর রহমান মজুমদারের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। পরিশেষে, তিনি সৈনিকদের সাথে অফিসারদের সম্পর্কের যে চিরাচরিত বন্ধন তা পুনরায় শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

আলোচনায় তিনি মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের গৌরবময় ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, তখন পূর্ব পাকিস্তানে রেজিমেন্টের মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন ছিল। একেকটি ক্যান্টনমেন্টে তারা কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে বিদ্রোহ করে এবং জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়। এই প্রতিরোধ যুদ্ধই ছিল ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি। 

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

কে হবেন তত্ত্বাবধায়কের বিধায়ক by মোস্তফা কামাল

নতুন কোনো খুঁত না পাকলে, কেওয়াজ-ভেজাল না বাধলে আপিল বিভাগের রায় দৃষ্টে আগামী জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে। কে হবেন সেই সরকারের প্রধান?—এ প্রশ্নের কিন্তু নিষ্পত্তি হলো না। কিছু ফের-ফ্যারকা-ফাঁক এখনো রয়ে গেছে? সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের রায় বহাল রেখে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহাল করলেও তা পরিষ্কার নয়। সেই বিধান পাকা করতে সরকার আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চায় বলে আভাস দিয়েছেন আইনমন্ত্রী। সেই আলোকে বিষয়টি নিষ্পত্তিহীন বলা যায়। এখানে সরকার ও বিরোধীপক্ষের বোঝাপড়ার বিষয় এখনো অবশিষ্ট। ভাব-নমুনায় স্পষ্ট, বহুল আলোচিত-চর্চিত ‘ঐকমত্য’ ধরনের কিছু আবারও সামনে আসার সমূহ সম্ভাবনা।

বিধায়ক শব্দের আভিধানিক অর্থ বিধানকারী। ফয়সালা, সুরাহা, নিষ্পত্তি বা বিধান দেওয়ার এখতিয়ার যার। প্রচলিত অর্থে তিনি কোনো রাজ্যের বা প্রদেশের আইনসভার প্রতিনিধি। ভারত বা অন্যান্য যেসব দেশে বিধানসভা থাকে সেখানে তিনি অনেক কিছুর ফয়সালা দেন। বাংলাদেশে এ ধারণা বা বিষয় নেই। তবে, তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি পাকাপোক্তভাবে চালুর প্রশ্নে রায় দৃষ্টে বিধানটা সংসদ থেকেই আসতে হবে। আদালত সেই বিধানের সিদ্ধান্ত সংসদের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। বলেছে, বাকি সুরাহার ভার সংসদের। কেবল তত্ত্বাবধায়ক নয়, এ রায়ের সঙ্গে বাড়তি যোগ হয়েছে গণভোটও। চলমান রাজনীতিতে এ গণভোটও বড় প্রাসঙ্গিক, বার্নিং ইস্যু। পঞ্চদশ সংশোধনীর কারণে ২০১৪, ১৮ ও ২৪-এর জাতীয় নির্বাচন আওয়ামী লীগের সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়। এসব নির্বাচন বয়কট করে ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াতসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। চব্বিশের ৫ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট করে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন। এ রিটের নিষ্পত্তি করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করাসহ কয়েকটি বিষয়কে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে চারটি পক্ষ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় হুবহু বহাল রেখে আপিল খারিজ করে দিয়েছেন। সংবিধানের পরিবর্তন, পরিমার্জন সংসদের উপর ছেড়ে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।

রিটকারী সংগঠন সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর রিভিউ করা হবে। আর আইনজীবী জানান, আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে অস্পষ্টতা থেকেই গেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার, গণভোটের বিধান, সংবিধান পরিবর্তনসহ চারটি বিধান বাতিল করায় জুলাই চার্টার অনুযায়ী সংসদ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে জানান জামায়াতের আইনজীবী। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হয়েছিল। আবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মধ্য দিয়েই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে দেওয়া হলো। গণভোট যোগ হলো। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপ নির্ধারণ করবে জাতীয় সংসদ। গোটা বিষয়টি দেশের নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কে নতুন বাঁক এনে দিয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের পথ খুলেছে। সঙ্গে গণভোটের বিধানও। সংবিধানের ৭(ক) ও ৭(খ) অনুচ্ছেদও বাতিলই থাকছে। ফলে ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যেসব গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছিল, তার কয়েকটি আর বহাল থাকল না। এটি অবশ্যই দেশের সাংবিধানিক ইতিহাসের অন্যতম সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ রায়। কিছু প্রশ্নও যোগ হয়েছে? পরবর্তী নির্বাচনকালীন সরকারের নাম কি তত্ত্বাবধায়ক সরকারই হবে? নির্বাচনটাও সত্যিই নিরপেক্ষ হবে? সব রাজনৈতিক দলের হবে? দীর্ঘদিনের নির্বাচন-সংকট আর হবে না? ১৯৯৬ সালে দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার জন্ম রাজনৈতিক সংকট থেকে। তীব্র আন্দোলনের মুখে তখন সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যবস্থাটির অভিযাত্রা। উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনের সময় একটি নির্দলীয় সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করবে এবং নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে ভোট আয়োজনের সুযোগ দেবে। ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় তত্ত্বাবধায়কের অধীনে। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কাছে ওই তিনটি নির্বাচন তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত। ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার সময় বাধে বিপত্তি। প্রায় দুই বছর দায়িত্বে থাকা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

সেই ঘটনার ছুঁতায় প্রশ্নাক্রান্ত হয় ব্যবস্থাটি। কড়ায়-গন্ডায় সুযোগ নেয় আওয়ামী লীগ। ২০১১ সালে ক্ষমতার জোসে আদালতের ওপর ভর করে ব্যবস্থাটি বাতিল করে দেয় তারা। সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ২০১১ সালের ১০ মে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাসংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে সংক্ষিপ্ত রায় দেন। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের আগেই ওই বছর ১১ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান বাতিলসহ ৫৪টি বিষয়ে সংশোধন এনে সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ করে আওয়ামী লীগ সরকার। যুক্তি দেখায় সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে এ ব্যবস্থা অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছে। তাই নির্বাচিত মানে তাদের সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। আর পায় কে? বিএনপি, জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলো আওয়ামী রীগ সরকারের কাছে পাত্তা পায়নি। কিন্তু, মানুষের আবেদন পেয়েছে। প্রায় এক যুগ দেশের রাজনীতির সবচেয়ে বড় ইস্যু হয়ে ওঠে নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো। রাজনীতির ধারাপাতে যোগ হয় রাতের ভোট, বিনাভোট, আমি-ডামি ভোট। ক্রমেই গণধিক্কারের শিকার হতে থাকে আওয়ামী লীগ। এরপর করুণ পতন। চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থান। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ। এ ধারাবাহিকতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের দলগুলোরও একই পরিণতি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের বড় একটি অংশ নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজনীয়তার কথা আবারও সামনে আনতে থাকে। এ প্রেক্ষাপটে পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দুটি রিট করা হয়। ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্টের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত বিধান অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করা হয়। সংবিধানের ৭(ক), ৭(খ) ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদও বাতিল ঘোষণা করা হয়। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে তিনটি আপিল হয়। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তি, নওগাঁর মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আপিল করেন। আপিল বিভাগের সর্বশেষ রায়ে একদিকে সেই আপিলগুলো খারিজ, আরেক দিকে নতুন ইতিহাস।

রায়টি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক গুরুত্বে ভরপুর। আদালত সরাসরি নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো নিয়ে নতুন বাস্তবতা সামনে এনে দিয়েছে। নিরপেক্ষ-সুষ্ঠু নির্বাচন কেবল আইনি পরিবর্তনে হবে না, রাজনৈতিক ঐকমত্য, শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন, নিরপেক্ষ প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকাও প্রাসঙ্গিক। বহু বছর ধরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করা দল ক্ষমতাসীন বিএনপির ওপর পড়লো বাড়তি ভার। রূপ বা বিধান ঠিক করার বড় ভার সংসদের ওপর। এ ব্যবস্থার কাঠামো, সরকারের প্রধান, সরকারের মেয়াদ, ক্ষমতার সীমা, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তাদের সম্পর্কসহ আরও অনেক কিছুর স্পষ্ট বিধান ও বিহিত করতে হবে এ সংসদকে। বিধান তথা ফয়সালা করতে হবে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কেও। ত্রয়োদশ সংশোধনীর সংক্ষিপ্ত রায় পঞ্চদশ সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে রায়ে বলা হয়েছে, একমাত্র গণভোটের মাধ্যমে সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং মৌলিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনা যায়। গণতন্ত্র হচ্ছে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো। গণতন্ত্র বিকশিত হয় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা মূল সংবিধানে না থাকলেও একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সংসদ নির্বাচনের অভিপ্রায়ে ১৯৯৬ সালে তা সংবিধানে যুক্ত করা হয়েছিল। ফলে এ ব্যবস্থাটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোরই অংশে পরিণত হয়েছে। কারণ, এই ব্যবস্থা বিলুপ্তির পর বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৫) জনগণের আস্থার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। এ তিনটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং নির্বাচনি ব্যবস্থার পাশাপাশি জনগণের আস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। যে কারণে সর্বশেষ সরকারকে জনগণের আন্দোলনের মুখে বিতাড়িত হতে হয়েছে। সরকারকে বিতাড়িত করতে গিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। গণভোটের বিধান বাতিল করা নিয়ে রায়ে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী মাধ্যমে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান যুক্ত করা হয়েছিল।

পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই বিধান বাদ দেওয়া হয়। এ ছাড়া জনমত বা জনআকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৮, ৪৮ ও ৫৬ অনুচ্ছেদ অসংশোধনযোগ্য ঘোষণা করা হয়, যা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোবিরোধী এবং অসংগতিপূর্ণ। তাই পঞ্চদশ সংশোধনী আইন, ২০১১ এর ৪৭ ধারার মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের বিধান বাতিল করাকে বাতিল ঘোষণা করা হলো। ফলে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদে যুক্ত করা গণভোটের বিধান পুনরুদ্ধার হলো। সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা নিয়েও রায়টিতে কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সংবিধান হচ্ছে একটি দেশের সর্বোচ্চ আইন। অন্য সব আইনই সংবিধানের নিরিখে হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট হচ্ছে সংবিধানের অভিভাবক। যে কোনো আইনোর বৈধতা-অবৈধতা নিরূপণ করার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের রয়েছে। সর্বসাকুল্যে একের মধ্যে অনেক কিছু বিধানের কথা চলে এসেছে সরকারের ওপরও, সংসদের ওপরও। গোটা রাজনীতির ওপর তো বটেই।

লেখক: কলামিস্ট, ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন 

কে হবেন তত্ত্বাবধায়কের বিধায়ক

হামলা-সমঝোতা ব্যর্থ, ইরান নিয়ে ট্রাম্পের পরবর্তী পরিকল্পনা কী

নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণঃ গত ১৭ জুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে ইরানের সঙ্গে একটি প্রাথমিক চুক্তি করেন। এই চুক্তির আগে তিনি ও তার সহযোগীরা বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি আবার জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে আবার তেল বিক্রি করার সুযোগ দেবে, যাতে ইরান শত শত কোটি ডলার উপার্জন করতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ধারণা ছিল, বহু বছর ধরে নিষেধাজ্ঞায় থাকা ইরান যখন আবার তেল বিক্রি করে বিপুল অর্থ পাবে, তখন তারা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার এই সুবিধা হারাতে চাইবে না এবং শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে।

ট্রাম্পের ধারণা ছিল, বহু বছর ধরে নিষেধাজ্ঞায় থাকা ইরান যখন আবার তেল বিক্রি করে বিপুল অর্থ পাবে, তখন তারা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার এই সুবিধা হারাতে চাইবে না এবং শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে।

তিনি বলেছিলেন, ‘এটা ইরানের জন্য খুব ভালো চুক্তি। তারা বারবার হামলার শিকার হয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।’

কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।

চুক্তির এক মাসও পার হয়নি, এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালির কাছে তিনটি জাহাজে হামলা হয়েছে। এরপর ট্রাম্প ইরানকে তেল বিক্রির যে অনুমতি দিয়েছিলেন, তা বাতিল করে দেন। যুক্তরাষ্ট্র দুই রাত ধরে ইরানের ১৭০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়।

এখন দুই দেশের মধ্যে নতুন আলোচনা হওয়ারও কোনো সময়সূচি ঠিক করা নেই।

অর্থাৎ, ট্রাম্পের আগের দুটি পরিকল্পনা—বোমা হামলা ও চুক্তি—দুটিই ব্যর্থ হয়েছে। এখন তার নতুন কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, সেটিও পরিষ্কার নয়।

এখন যুক্তরাষ্ট্র আবার আগের মতো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক হামলার পথেই ফিরছে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ‘যদি তারা জাহাজে হামলা করে, তাহলে আমরা তাদের ওপর কঠোর হামলা চালাব।’

কিন্তু অনেক বিশেষজ্ঞ প্রশ্ন তুলছেন—আগেও যখন নিষেধাজ্ঞা ও হামলা কাজ করেনি, এবার কেন করবে?

সাবেক মার্কিন কূটনীতিক রিচার্ড হাস বলেন, ‘আমরা এখন এমন এক অবস্থায় আছি, যেখানে কোনো ভালো কৌশল দেখা যাচ্ছে না।’

তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যত বেশি ইরানে হামলা করছে, ইরান তত বেশি উপসাগরের তেল ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা করছে। আর যুক্তরাষ্ট্র এখন এসব স্থাপনা পুরোপুরি রক্ষা করতে পারছে না।

তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রথমে ভেবেছিলেন বোমা মেরে ইরানের সরকার বদলে ফেলবেন। পরে ভেবেছিলেন, বোমা মেরে ইরানকে আত্মসমর্পণ করানো যাবে। কিন্তু কোনোটাই সফল হয়নি।

এরপর ট্রাম্প ইরানকে তেল বিক্রির সুযোগ দিয়ে সম্পর্ক ভালো করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেটিও ব্যর্থ হয়েছে।

ইরানের ভেতরেও এখন বড় ধরনের রাজনৈতিক বিভক্তি রয়েছে।

সাম্প্রতিক হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার জানাজায় অনেক মানুষ সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির দিকে পাথর ছোড়া হয় এবং তাকে ‘সমঝোতাকারী’ বলে গালি দেওয়া হয়। এমনকি তার মৃত্যু কামনা স্লোগানও দেওয়া হয়।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকেও বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে নিরাপত্তারক্ষীরা সরিয়ে নিতে বাধ্য হন।

তবে ট্রাম্প সাধারণত এসব অভ্যন্তরীণ বিভক্তির কথা বলেন না। তিনি এমনভাবে কথা বলেন যেন ইরানের সব সিদ্ধান্ত একদল নেতা সহজেই নিয়ে থাকে।

এখনো যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় এবং ভবিষ্যতে আবার আলোচনা হতে পারে।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যাগুলো শুধু প্রযুক্তিগত নয়; এগুলো পুরোপুরি রাজনৈতিক। তাই প্রশাসনের নিচের দিকের কর্মকর্তারা এগুলোর সমাধান করতে পারবেন না।

সবচেয়ে বড় বিরোধের একটি হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ইরান তাদের পারমাণবিক জ্বালানি রেখে দিতে পারবে, নাকি তা অন্য কোথাও পাঠাতে হবে- নতুন চুক্তিতে তা পরিষ্কারভাবে বলা হয়নি।

২০১৫ সালের ওবামা সরকারের চুক্তিতে ইরান তাদের পারমাণবিক জ্বালানির ৯৭ শতাংশ ছেড়ে দিয়েছিল।

ট্রাম্প চান না এমন কোনো চুক্তি করতে, যাতে তিনি ওবামার চেয়ে কম কিছু পান।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। চুক্তিতে লেখা ছিল, ইরান সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে যাতে জাহাজ নিরাপদে চলতে পারে।

কিন্তু দুই দেশ এই কথার অর্থ আলাদাভাবে বুঝেছে। যুক্তরাষ্ট্র ভেবেছিল, ইরান শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। ইরান ভেবেছে, তারা ঠিক করবে কোন পথে জাহাজ চলবে এবং ভবিষ্যতে সেই পথ ব্যবহার করতে অর্থও নেবে।

এরপর মার্কিন নৌবাহিনী ওমানের কাছের অন্য একটি পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল করাতে শুরু করলে ইরান কিছু জাহাজে গুলি চালায়।

ফলে এখন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল অনেক কমে গেছে।

এতে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে ঘোষণা করেন যে এই চুক্তি এখন আর কার্যকর নয়।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, চুক্তি ভঙ্গ করেছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র নয়। কারণ তাদের মতে, চুক্তি কার্যকর থাকবে কি না, তা ইরানের আচরণের ওপর নির্ভর করছিল।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আবার আগের জায়গায় ফিরে এসেছে।

ট্রাম্প বুঝতে পারছেন, শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। অন্যদিকে, ইরানিও বিশ্বাস করেন যে কূটনৈতিক আলোচনা শুধু সময়ক্ষেপণের একটি উপায়; পরে আবার যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল হামলা চালাতে পারে।

হামলা-সমঝোতা ব্যর্থ, ইরান নিয়ে ট্রাম্পের পরবর্তী পরিকল্পনা কী

ইরানের কাছ থেকে হরমুজে হামলা বন্ধের অঙ্গীকার চায় যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং সেখান দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের বিষয়ে ইরানের কাছ থেকে প্রকাশ্য অঙ্গীকার চায় যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার থেকে যে দুই পক্ষের মধ্যে যে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা, সেখানে এ বিষয়টি রাখতে চায় ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, তেহরান ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের কাছে স্বীকার করেছে যে জাহাজে গুলি চালানো একটি ভুল ছিল।

তবে ইরানিরা এ ঘটনার জন্য নিজেদের ভেতরের একটি নিয়ন্ত্রণহীন গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে বলেও জানা গেছে।

ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এ সপ্তাহের সংঘর্ষ সত্ত্বেও উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে, যদিও হোয়াইট হাউজ এটিকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে দেখেছে।

জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার অংশ হিসেবে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার কথা ছিল ইরানের।

বিবিসির যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অংশীদার সিবিএস নিউজকে জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, কট্টরপন্থিদের একটি পথভ্রষ্ট গোষ্ঠী বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়ে আলোচনাকে ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করছিল বলে তেহরান জানিয়েছে।

মার্কিন একজন কর্মকর্তা টিভি নেটওয়ার্কটিকে বলেন, ‘তারা (ইরানিরা) আবার আলোচনায় ফিরে এসে বলেছে, আমরা ভুল করেছি। আমরা একটি ভুল করেছি। চলুন আলোচনা চালিয়ে যাই।’

শুক্রবার সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের নেতৃত্বের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ইরানকে প্রণালিটি উন্মুক্ত রয়েছে মর্মে একটি বিবৃতি দিতে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানো বন্ধ করার ঘোষণা দিতে বলা হয়েছে এতে, একাধিক গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের উদ্ধৃতিতে একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা হয় আমাদের ওই বিবৃতি দেবে, নয়তো তাদের জন্য ফল ভালো হবে না।’

সিবিএস জানিয়েছে, হোয়াইট হাউজ আরও চায় যে, ইরান প্রকাশ্যে স্বীকার করুক যে জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো একটি ভুল ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা দুই ব্যক্তি– বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার—আলোচনায় নেতৃত্ব দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ওই আলোচনা শনিবার ওমানে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে, উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল সহজ করার লক্ষ্যে আলোচনার জন্য শুক্রবার কাতারের একটি প্রতিনিধিদল ইরান সফর করেছে।

শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আমাদেরকে আলোচনা চালিয়ে যেতে বলেছে। আমরা তাতে সম্মত হয়েছি, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে!’

গত সপ্তাহে উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর শুক্রবার নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। জুনে দুই দেশ একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষরের পর এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র গোলাগুলির ঘটনা।

ওমানের জলসীমা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশ করা একটি পথ ব্যবহার করার সময় তিনটি জাহাজ আঘাতের শিকার হয়। ইরান বারবার বলেছে, একমাত্র নিরাপদ পথ হলো তার নিজস্ব জলসীমা দিয়ে যাওয়া একটি পৃথক রুট।

সামগ্রিক অগ্রগতি ঘটে গত মাসে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়। এর লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণ এবং সব ক্ষেত্রে সংঘাতের অবসান ঘটানো।

চুক্তির অংশ হিসেবে, প্রণালিটির ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও সামুদ্রিক সেবা নির্ধারণে ইরান ও ওমানকে অন্যান্য উপসাগরীয় রাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।

সংঘাত চলাকালে ইরান প্রণালিটির ওপর নিজের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। এর মধ্যে ছিল পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্' প্রতিষ্ঠা, যা তাদের ভাষ্য অনুযায়ী নিরাপদ যাতায়াতের অনুমতির বিষয়টি পরিচালনা করবে।

ইরানের ফার্স বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তির আওতায় প্রণালিটি শেষ পর্যন্ত ওমানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ইরান পরিচালনা করবে। এর মধ্যে জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর জন্য সম্ভাব্য সেবা ফি নির্ধারণের বিষয়ও থাকতে পারে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

ইরানের কাছ থেকে হরমুজে হামলা বন্ধের অঙ্গীকার চায় যুক্তরাষ্ট্র

বিয়ে বিচ্ছেদ করে বিপুল সম্পদের মালিক পুতুল

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। দীর্ঘ ২৫ বছর সংসারে করে দাম্পত্য জীবনের ইতি টানেন তিনি। স্বামী খন্দকার মাশরুর হোসেনের সঙ্গে ২০২১ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের একটি আদালতে তার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। যদিও বিষয়টি সে সময় সামনে আসেনি, সম্প্রতি আদালতের নথি ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সম্পত্তির রেকর্ডে বিচ্ছেদ-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, বিচ্ছেদ চুক্তির অংশ হিসেবে খন্দকার মাশরুর হোসেন সায়মা ওয়াজেদকে নগদ আড়াই লাখ মার্কিন ডলার দিয়েছেন। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এর মূল্য তিন কোটি টাকারও বেশি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে তাদের যৌথ মালিকানাধীন দুটি বাড়ির মালিকানাও তার কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাড়ি দুটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে নগদ অর্থ ও সম্পত্তির মূল্য প্রায় ১৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা সমান।

দুবাই আদালতের ফ্যামিলি গাইডেন্স অ্যান্ড রিফর্মেশন বিভাগে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে, ফ্লোরিডার সেন্ট জনস কাউন্টির ফ্রুট কোভ এলাকার ৪৫৬ বে পয়েন্ট ওয়ে এবং মেইটল্যান্ডের ৮৪৫ ইয়র্ক ওয়ে-এ অবস্থিত দুটি বাড়ি ‘নেভা ইনকরপোরেটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ওই প্রতিষ্ঠানের একমাত্র আইনি মালিক ও সুবিধাভোগী সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।

চুক্তিতে আরো বলা হয়েছে, বিয়ের সময় পাওয়া উপহার, ব্যক্তিগত আসবাবপত্র, পোশাক, অলঙ্কার ও অন্যান্য স্মারকও পুতুলকে ফিরিয়ে দিতে হবে। তিনি যেখানে নির্দেশ দেবেন, সেখানে এসব সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও থাকবে খন্দকার মাশরুরের।

সরকারি সম্পত্তি রেকর্ড অনুযায়ী, সেন্ট জনস কাউন্টির বাড়িটি ২০০৫ সালের ১ নভেম্বর যৌথ নামে ২ লাখ ৪৫ হাজার ডলারে কেনা হয়েছিল। বর্তমানে এর বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৪৪০ ডলার। অন্যদিকে মেইটল্যান্ডের চার শয়নকক্ষ ও দুই বাথরুমবিশিষ্ট একতলা বাড়িটির বর্তমান মূল্য প্রায় ৪ লাখ ৮৪ হাজার থেকে ৫ লাখ ডলারের মধ্যে।

পুতুল ও মাশরুরের চার সন্তান। বিচ্ছেদের চুক্তিতে, অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই সন্তানের আইনগত অভিভাবক থাকবেন খন্দকার মাশরুর, তবে তাদের কাস্টডি বা জিম্মায় থাকবেন সায়মা ওয়াজেদ। সন্তানদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ জীবনযাপনের সব ব্যয় বহন করবেন মাশরুর।

খন্দকার মাশরুর হোসেন আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে। ১৯৯৫ সালে ঢাকায় পুতুল ও মাশরুরের বিয়ে হয়। সে সময় শেখ হাসিনা ছিলেন বিরোধীদলীয় নেত্রী। দুজনই কানাডার নাগরিক ছিলেন।

পরিবারের এই সম্পর্কের পরই খন্দকার মোশাররফ হোসেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৯৬ সালে ফরিদপুর-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেলেও নির্বাচিত হতে পারেননি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০০৯ সালে মন্ত্রিসভায় স্থান পান। প্রথমে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী এবং পরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের পর থেকে পুতুল ও মাশরুরের দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন শুরু হয়। একই সময়ে খন্দকার মোশাররফের রাজনৈতিক প্রভাবও কমে আসতে শুরু করে। তিনি মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েন এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদও হারান। ২০২১ সালে পুতুল ও মাশরুরের বিবাহবিচ্ছেদের পর খন্দকার মোশাররফের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ তুলে অভিযান শুরু হয়। ২০২২ সালে তার ভাই খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর গ্রেপ্তার হন। পরে খন্দকার মোশাররফ দেশ ছেড়ে সুইজারল্যান্ডে চলে যান।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের মনোনয়নে সায়মা ওয়াজেদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হন এবং ভারতের দিল্লিতে দায়িত্ব পালন করেন। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আপত্তির মুখে তিনি অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। প্রতিবেদনে আরো দাবি করা হয়েছে, বর্তমানে তিনি কানাডার পাসপোর্ট ব্যবহার করে দুবাইয়ে সন্তানদের কাছে এবং দিল্লিতে মায়ের কাছে যাতায়াত করেন।

বিয়ে বিচ্ছেদ করে বিপুল সম্পদের মালিক পুতুল

পৃথিবী থেকে ১৮ আলোকবর্ষ দূরে সুপার-আর্থের খোঁজ by জাহিদ হোসাইন খান

মহাবিশ্বের অন্য কোনো প্রান্তে জীবনের বসবাস আছে কি না, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা ২৪ ঘণ্টা আকাশের নানা কোণে উঁকি দিচ্ছেন। সেই উঁকিতে এবার পৃথিবী থেকে মাত্র ১৮ আলোকবর্ষ দূরের একটি গ্রহের খোঁজ মিলেছে। পৃথিবীর মতো কিন্তু আকারে বড় বলে এ ধরনের গ্রহ সুপার-আর্থ নামে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া (ইউসি), আরভিনের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই রোমাঞ্চকর সুপার–আর্থ আবিষ্কার করেছেন।

নতুন আবিষ্কৃত গ্রহটি তার নক্ষত্রের বাসযোগ্য অঞ্চল থেকে প্রদক্ষিণ করছে। এই অঞ্চলের তাপমাত্রার কারণে তরল পানি থাকার সম্ভাবনা বেশ। গ্রহটিতে জীবনধারণের উপযোগী পরিবেশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। এই নতুন আবিষ্কৃত গ্রহটি মিল্কিওয়ে ছায়াপথের একটি নিকটবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত। এটি পাথুরে বলে মনে করা হচ্ছে। আকারে পৃথিবীর সমান হলেও ওজনে পৃথিবীর চেয়ে বহু গুণ বেশি। গ্রহের বিভিন্ন তথ্য দ্য অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ইউসি আরভিনের পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের বিজ্ঞানী পল রবার্টসনের বলেন, আজকাল নতুন বহির্গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার করা সাধারণ হয়ে গেছে। নতুন এই গ্রহকে বিশেষ বলা যায়। এর নক্ষত্রটি আমাদের খুব কাছাকাছি অবস্থিত প্রায় ১৮ আলোকবর্ষ দূরে। মহাজাগতিক পরিভাষায়, এই দূরত্বকে প্রায় আমাদের প্রতিবেশে থাকার মতো বলা যায়।

জিজে ২৫১ সি নামের এই গ্রহ একটি এম-বামন নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে। এই নক্ষত্র মিল্কিওয়েতে সবচেয়ে সাধারণ ও প্রাচীন নক্ষত্রের মধ্যে অন্যতম। এই সব নক্ষত্রের মধ্যে তারার মতো দাগ ও সৌরশিখার মতো তীব্র কার্যকলাপ দেখা যায়। এমন সংকেত দেখে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা গ্রহ খোঁজার চেষ্টা করেন। প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও, নতুন গ্রহটি স্বল্প দূরত্বের কারণে বেশ আকর্ষণীয়। ভবিষ্যতে সরাসরি চিত্রগ্রহণের সুযোগ রয়েছে গ্রহটির। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার থার্টি মিটার টেলিস্কোপের মতো শক্তিশালী টেলিস্কোপ এমন ক্ষীণ বহির্গ্রহের স্পষ্ট ছবি তুলতে ও পানির সম্ভাব্য উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সক্ষম হতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানী কোরি বেয়ার্ড বলেন, নতুন গ্রহটির মতো গ্রহের সরাসরি ছবি তোলার ক্ষমতা রয়েছে অনেক টেলিস্কোপের।

এই বহির্গ্রহ আবিষ্কার করতে হাবিটেবল-জোন প্ল্যানেট ফাইন্ডার থেকে পাওয়া ডেটা ব্যবহার করা হয়। এই সব যন্ত্র কাছাকাছি গ্রহ থেকে সৃষ্ট মহাকর্ষীয় টানের কারণে নক্ষত্রের আলোতে খুব সামান্য পরিবর্তন শনাক্ত করতে পারে। যখন গ্রহটি তার নক্ষত্রের ওপর মহাকর্ষীয় বল প্রয়োগ করে, তখন নক্ষত্রের আলোতে ক্ষুদ্র ও নিয়মিত তারতম্য দৃশ্যমান হয়। এই দুর্বল সংকেত রেকর্ড করে গ্রহটিকে চিহ্নিত করা হয়।

সূত্র: এনডিটিভি

নতুন সুপার-আর্থ গ্রহের খোঁজ পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা
নতুন সুপার-আর্থ গ্রহের খোঁজ পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। ছবি: নাসা

মঙ্গল গ্রহের আগ্নেয়গিরির নতুন ছবি প্রকাশ করল ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা

মঙ্গল গ্রহ, তার লালচে আভার কারণে সৌরজগতের সবচেয়ে রহস্যময় গ্রহের মধ্যে অন্যতম। আমাদের পৃথিবীর যেকোনো পর্বতের চেয়ে বহুগুণ বড় অলিম্পাস মন্স নামের দৈত্যাকার এক আগ্নেয়গিরি রয়েছে সেখানে। মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠতলে রয়েছে সুবিশাল উপত্যকা, প্রাচীন নদী খাত এবং জমে যাওয়া লাভার প্রবাহ। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইএসএ) সম্প্রতি মঙ্গল গ্রহে থাকা অলিম্পাস মন্স আগ্নেয়গিরির পাদদেশের চমকপ্রদ ছবি প্রকাশ করেছে। অলিম্পাস মন্স প্রায় ২৭ কিলোমিটার উঁচু ও এর ভিত্তি ৬০০ কিলোমিটারের বেশি চওড়া। এটি আমাদের সৌরজগতের বৃহত্তম আগ্নেয়গিরি।

অলিম্পাস মন্স ১৯৭১ সালে নাসার মেরিনার ৯ মহাকাশযান আবিষ্কার করে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার প্রকাশিত ছবিতে অলিম্পাস মন্স থেকে প্রবাহিত লাভার জমে যাওয়া ছবি দেখা যায়। ধারণা করা হয়, মঙ্গল গ্রহের প্রাথমিক ভূতাত্ত্বিক যুগে, প্রায় ৩৫০ কোটি বছর আগে অলিম্পাস মন্স গঠিত হয়। আগ্নেয়গিরিটি বর্তমানে সুপ্ত অবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিককালে সেখানে কোনো অগ্ন্যুৎপাত ঘটেনি। এর মৃদু ঢাল এবং উল্কাপিণ্ডের আঘাতের গর্তের অভাব দেখে অনুমান করা যায়, সেখানকার পৃষ্ঠতল তুলনামূলকভাবে নতুন।

মার্স এক্সপ্রেস অরবিটারের তোলা ছবিতে আগ্নেয়গিরির দক্ষিণ-পূর্ব দিকে লাভা প্রবাহের স্তর, খাড়া পর্বতখণ্ড  ও প্রাচীন ধসের চিহ্ন দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইএসএ জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরিকে ঘিরে থাকা ৯ কিলোমিটার পর্যন্ত উঁচু খাড়া ঢাল বিশাল ভূমিধসের ফলে গঠিত হয়েছে। এই ঢালের কারণে শত শত কিলোমিটার দূরে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে যায়। লাভার প্রবাহ এখন কঠিন শিলা। একসময় আগ্নেয়গিরির ঢাল বেয়ে নেমে এসেছিল। বিশাল ফ্যান বা পাখা-আকৃতিতে ছড়িয়ে পড়েছিল চারদিকে। ঠান্ডা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে খাল ও নল তৈরি হয়। কিছু প্রবাহ সমতল ভূমিতে পৌঁছানোর আগে মসৃণ, গোলাকার জিহ্বার মতো আকার নিয়ে থেমে গিয়েছিল। নিচের সমভূমিতে একটি ঘোড়ার নালের আকারের চ্যানেল একসময় লাভা ও পানি বহনের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব কাঠামো মঙ্গলের জটিল অতীতের ইঙ্গিত দেয়। এখানে সামান্য কিছু ছোট গর্ত থাকায় পৃষ্ঠটি ভূতাত্ত্বিকভাবে নবীন। সম্ভবত মাত্র কয়েক কোটি বছরের পুরোনো।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এই পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, আমি এখানে আমার সকালের দৌড়টি দিতে চাই। আরেকজন মন্তব্য করেছেন, আমি অবাক হয়ে ভাবছি এই বিশাল লাভা প্রবাহের কারণে মঙ্গল তার চৌম্বকক্ষেত্র হারিয়েছে কি না? একজন লিখেছেন, পরিষ্কার করা হলে এই ধাপে একটি ভালো শহর ও আগ্নেয়গিরিতে প্রবেশের পথ তৈরি করতে পারত।

সূত্র: এনডিটিভি

মঙ্গল গ্রহের অলিম্পাস মন্স আগ্নেয়গিরি
মঙ্গল গ্রহের অলিম্পাস মন্স আগ্নেয়গিরি। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা