Wednesday, May 27, 2015

বালু ফেলে হোটেল সুন্দরবনকে রক্ষার চেষ্টা

সুন্দরবন হোটেল ঘেঁষে নির্মাণাধীন একটি ভবনের জন্য করা
পাইলিংয়ের গর্তে হোটেলের সীমানা প্রাচীর ও সড়কের
একাংশ আজ বুধবার সকালে ধসে পড়ে। এতে হোটেলটি
ঝুঁকির মুখে পড়ে। ছবি: ইমরান আহম্মেদ
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কাছে সুন্দরবন হোটেলের পাশের দেবে যাওয়া সড়ক ও আশপাশের স্থানে বালু ফেলা হচ্ছে। বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত সেখানে ট্রাকে করে বালু এনে ফেলতে দেখা যায়। এর মাধ্যমে হোটেল ভবনটিকে ধসের হাত থেকে বাঁচানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সেখানে উপস্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী বলেছেন, এতে আরও দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
আজ বুধবার সকালে সুন্দরবন হোটেলের পাশে নির্মাণাধীন ভবনের জন্য খোঁড়া গর্তের কারণে পাশের একটি রাস্তা পুরোপুরি দেবে যায়। এর ফলে সুন্দরবন হোটেলের সীমানাপ্রাচীর ও বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়কের একাংশও ধসে পড়ে। এ নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে হোটেলটিতে আসা অতিথি ও অন্যান্যদেরও সরিয়ে নেওয়া হয়।
বিকেল চারটার দিকে দেবে যাওয়া সীমানাপ্রাচীর সংলগ্ন সুন্দরবন হোটেলের বেসমেন্টের কিছুটা ভেঙে পড়ে। তবে ভবনটির মূল পিলারগুলোর কিছু হয়নি। এ ছাড়া দুপুরের পর ধসে যাওয়া স্থানগুলোতে বস্তায় ভরে বালু ফেলা হলেও দুপুরের পর থেকে ট্রাকভর্তি বালু এনে সরাসরি ফেলা হচ্ছে।
দুপুর আড়াইটার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করতে এসেছিলেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনসার আলী খান ও প্রধান প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান।
এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে তাঁদের মনে হচ্ছে না যে হোটেল ভবনটি ধসে পড়তে পারে। দেবে যাওয়া অংশে দ্রুত বালু ফেলার কাজ চলছে। অতীত অভিজ্ঞতা দেখে বলা যায়, এতে আশপাশের রাস্তা ও ভবনকে রক্ষা করা যাবে।
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনসার আলী খান সাংবাদিকদের বলেন, দুর্ঘটনার কারণ সম্বন্ধে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না। তবে বর্ষার সময় মাটি সাধারণত নাজুক অবস্থায় থাকে। ফলে সে সময় পাইলিংয়ের কাজ করলে অনেক সময় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। তাই এ সময় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় তাঁরা সেটি ভেবে দেখবেন।
এদিকে দুপুরের দিকে সুন্দরবনের হোটেলের পানি ও গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

ভারতে দাবদাহে মৃতের সংখ্যা ৮০০

ভারতজুড়ে তীব্র দাবদাহে মৃতের সংখ্যা কেবলই বাড়ছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, কয়েক দিনের উচ্চতাপমাত্রায় মৃতের সংখ্যা ৮০০-তে পৌঁছায়। রাজধানী নয়া দিল্লির তাপমাত্রা বর্তমানে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিভিন্ন হাসপাতালে হিটস্ট্রোকের শিকার মানুষকে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা দেয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতির উত্তরণ ছাড়া মানুষকে ঘর ছেড়ে বের না হওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তর থেকে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে তেলাঙ্গানার আদিলাবাদ, খাম্মাম, নালগোন্ডা ও করিমনগর জেলায়। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু সব জেলা প্রশাসনকে এ বিষয়ে বাড়তি সতর্কতার নির্দেশ দিয়েছেন। রাজ্যবাসীকে সকাল ১১টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় না বেরুতে আহ্বান জানানো হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
প্রচণ্ড গরমে স্বস্তির খোঁজে কয়েকজন কিশোর।
ছবিটি সম্প্রতি নয়াদিল্লি থেকে তোলা। ছবি: এএফপি
এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যে। সেখানে গত এক সপ্তাহে গরমজনিত কারণে ৫৫১ জন মানুষ মারা গেছেন। সোমবারও রাজ্যজুড়ে তাপমাত্রা ছিল ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত বিশেষ কমিশনার পি তুলসি রানি বলেন, রাজ্য সরকার মানুষের জন্য বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। টেলিভিশন ও অন্যান্য গণমাধ্যমের মাধ্যমে সেসব প্রচার করা হচ্ছে। মানুষকে মাথায় টুপি পরা ছাড়া বাইরে বের না হতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বেশি বেশি পানি পান করাসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। রাজধানী দিল্লিসহ ভারতের বেশির ভাগ অংশেই গতকালও ছিল মাত্রাতিরিক্ত গরম। সব সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু থাকায় অনেকে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করছেন। হিন্দুস্তান টাইমস বলেছে, রাজধানীতে সোমবার তাপমাত্রা ছিল ৪৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ সময়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়েও এটি ৫ ডিগ্রি বেশি। অন্ধ্রপ্রদেশের সীমান্তবর্তী তেলেঙ্গানা রাজ্যে নিহত হয়েছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩১ জন। সেখানে সপ্তাহান্তে তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য ওড়িশাতে ১১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আজ ও আগামীকালও ৪৫ ডিগ্রির ওপরে থাকবে তাপমাত্রা। পশ্চিমবঙ্গে নিহত হয়েছেন আরও ১৩। সেখানে দিনের বেলায় গাড়িচালকদের গাড়ি না চালানোর আহ্বান জানিয়েছে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো। ভারতজুড়ে দাবদাহে নিহতদের বেশির ভাগই গরিব মানুষ। প্রতি বছরই এমন বহু মানুষের মৃত্যু ঘটে। এ ছাড়া, হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎ সংকটে ভোগে।

তরুণীকে ধর্ষণের দায় স্বীকার দুই যুবকের: র‍্যাব

আদিবাসী তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে
গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। ছবিটি আজ দুপুরে র‍্যাব সদর
দপ্তর থেকে তোলা। ছবি: আবদুস সালাম
তরুণীকে ধর্ষণের কাজ এ মাইক্রোবাসটি ব্যবহার করা হয়
বলে দাবি র‍্যাবের। ছবিটি বুধবার র‍্যাব সদর দপ্তর
থেকে তোলা। ছবি: আবদুস সালাম
রাজধানীর ভাটারা এলাকায় গারো তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। আজ বুধবার দুপুরে র‍্যাব-১ এর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া যুবকেরা হলেন আশরাফ ওরফে তুষার (৩৫) ও জাহিদুল ইসলাম ওরফে লাভলু (২৬)। তাঁরা সিগনেট বায়িং হাউস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের গাড়ির চালক। মুফতি মাহমুদ খানের ভাষ্য, গতকাল দিবাগত রাত একটার দিকে পটুয়াখালীর কলাপাড়া থেকে তুষারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আজ ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে রাজধানীর গুলশান-১ এলাকা থেকে লাভলুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক বলেন, গত ১৭ মে তুষার দুই আফ্রিকান ক্রেতাসহ যমুনা ফিউচার পার্কে টেক্সমার্ট ফ্যাশন হাউসে যান। সেখানে ওই তরুণী কাজ করেন। তুষারের সঙ্গে ওই তরুণীর কথা হয়। একপর্যায়ে তুষার তাঁকে চাকরির প্রলোভন দেখান। এভাবে তিন দিন ওই তরুণীর সঙ্গে কথা হয়। ঘটনার দিন গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে নয়টার দিকে তুষার ওই তরুণীকে ফোন করেন। তখন কাজ শেষ হওয়ায় তরুণী বেরিয়ে আসেন। পরে সড়কে মাইক্রোবাসের সামনে দাঁড়িয়ে তুষার ও লাভলু ওই তরুণীর সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে তুষার ওই তরুণীর গন্তব্য জানতে চান। তরুণী উত্তরা যাবেন বলে জানান। তুষার গাড়িতে করে পৌঁছে দেওয়ার কথা বললে তরুণী রাজি হননি। তখন তাঁরা জোর করে তরুণীকে মাইক্রোবাসে তোলেন।
তুষার ও জাহিদুলের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে মুফতি মাহমুদ খানের দেওয়া ভাষ্য, তরুণীকে গাড়িতে তুলেই লাভলু গাড়িটি চালাতে শুরু করেন। তখন তুষার প্রথমে তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে তুষার গাড়ি চালান, লাভলু এসে ধর্ষণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তুষারের ভাষ্য, ১৮ তারিখ তাঁরা ধর্ষণের পরিকল্পনা করেন। এ সময় ফিরোজ নামের আরেক গাড়িচালক তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালকের দাবি, তুষার এ ঘটনার পরিকল্পনা করেন। এ ঘটনার সঙ্গে তাঁরা দুজনই যুক্ত। ধর্ষণে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়েছে।

৬ই জুন ঢাকা আসছেন মোদি- ২০ চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা, বিরোধী নেতাদের সঙ্গে দেখা হতে পারে by মিজানুর রহমান

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা ও  দিল্লি। আগামী ৬ই জুন দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে তিনি বাংলাদেশে আসছেন। দু’দেশের পররাষ্ট্র দপ্তর গতকাল একই সময়ে সফরসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন। সেখানে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম সফরে আসছেন নরেন্দ্র মোদি। সরকারি ঘোষণায় বলা হয়, মোদির এ সফর দুই দেশের বিদ্যমান সুসম্পর্ককে আগামী দিনে আরও জোরদার করবে।  এখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। এদিকে মোদির সফরে ঢাকার প্রত্যাশা কি? জানতে চাইলে পররাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের তেমন কোন প্রত্যাশা নেই। তবে যেটুকু জানা গেছে তিনি ‘উদার’ মন নিয়ে এখানে আসছেন। তার সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব বিষয় নিয়েই আলোচনা হবে। ঢাকা-দিল্লি উভয়ে যোগাযোগে গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে দায়িত্বশীল ওই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ আশা করছে সফরটি অত্যন্ত সফল হবে। একটি সফরের সঙ্গে যত ধরনের উপাদান প্রয়োজন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরে তার সবই থাকবে। প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে নতুন এবং নবায়ন মিলে অন্তত ২০টি চুক্তি সইয়ের। এর মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক ও বিনিময়পত্র রয়েছে। আগামী দিনে দুই দিনের সম্পর্ক কিভাবে এগিয়ে যাবে সে সম্পর্কিত একটি যৌথ বিবৃতি সই করবেন দুই প্রধানমন্ত্রী। নতুন আরও ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে ভারত- এমন ঘোষণা আগেই এসেছিল। পররাষ্ট্র দপ্তর সূত্রে গতকাল যে খবর বেরিয়েছে তা হলো প্রস্তাবিত ঋণের পরিমাণ নাটকীয়ভাবে দ্বিগুণ বা তিনগুণও হতে পারে। বাংলাদেশের মানুষের বহুল প্রত্যাশিত তিস্তা চুক্তির বিষয়ে এ সফরে চূড়ান্ত কিছু হবে এমন আশা করছে না বাংলাদেশ। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আসছেন এমন কোন তথ্য এখনও পায়নি পররাষ্ট্র দপ্তর। সফর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অত্যন্ত ছোট একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে আসছেন নরেন্দ্র মোদি। ৬ই জুন সকালে বিশেষ বিমানে আসবেন, যাবেন ৭ই জুন সন্ধ্যায়। হিসাবে দুদিন হলেও কার্যত ৩৬ ঘণ্টা বাংলাদেশে অবস্থান করবেন তিনি। জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে যাবেন। প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ বিরোধী নেতাদের সঙ্গে তার দেখা হতে পারে। ঢাকার বাইরে কোন কর্মসূচি নেই তার। তবে রাজধানীতে তরুণদের উদ্দেশে বক্তৃতা করবেন দিল্লির কিং নরেন্দ্র মোদি।। ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে এই বক্তৃতার আয়োজন করছে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সেই বক্তৃতা হতে পারে।
বাংলাদেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে সহায়তা দিতে আগ্রহী ভারত চীনসহ অনেক দেশ।  মোদির সফরে ভারতের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা আসতে পারে। তবে বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় বাংলাদেশ এখনই এ নিয়ে কোন প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার করতে চায় না। এমনকি মোদির সফরেও নয়। পররাষ্ট্র দপ্তরের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফর কাভার করতে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার প্রায় ১০০ প্রতিনিধি ঢাকা আসছেন। মোদির সফরসঙ্গী হিসেবে নয়, ওই প্রতিনিধিরা নিজ খরচেই আসছেন। তারা এরই মধ্যে তাদের আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন, প্রক্রিয়াও শুরু করেছেন। সেগুনবাগিচার কর্মকর্তারা আশা করছেন আগামী ৬ ও ৭ই জুন দুনিয়ার দৃষ্টি ঢাকার ওপরেই থাকবে।

আসুন, আমরা লজ্জিত হই! by কামাল আহমেদ

কোথাও আশ্রয় পাচ্ছে না সাগরে ভাসা মানুষ। নারী, পুরুষ, শিশু
সবাই সেখানে গাদাগাদি করে কোনো রকমে বেঁচে আছেন
সপ্তাহ দু-এক ধরে সংবাদপত্রের পাতাজুড়ে ছাপা হয়েছে সাগরের বুকে করুণভাবে পরিত্যক্ত হাজার হাজার নারী-পুরুষ-শিশুর অসহায় আহাজারির মর্মস্পর্শী বিবরণ। রেডিও-টেলিভিশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এই মানবিক দুর্ভোগের বিষয় নিয়ে প্রচারিত হয়েছে নানা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত বুধবার বিভিন্ন দেশ তাদের প্রতি কিছুটা সদয় হওয়ার কথা ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন ঘটে। তার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন খবর, নিবন্ধ ও আলোচনায় সবার প্রধান চেষ্টা ছিল বিপন্ন নৌযানগুলোকে তীরে ভিড়তে না দেওয়া কতটা নিষ্ঠুর, সেটিই তুলে ধরা। অবশ্য ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের আচরণে নিষ্ঠুরতার চিত্র তুলে ধরার বিপরীতে এসবে আমাদের আত্মসমালোচনার লেশমাত্র ছিল না।
মাত্র দুই বছর আগের কথা। ২০১২ সালে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে যখন নতুন করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা শুরু হয় এবং তখনো হাজার হাজার রোহিঙ্গা ওই একই সমুদ্রের একটি প্রান্তে বিপজ্জনক নানা ধরনের নৌযানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের বাংলাদেশের উপকূলে ভিড়তে চেয়েছিল। ওই সহিংসতায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বিবিসির হিসাবে দুই শতাধিক। তবে অন্যান্য হিসাবে আরও বেশি। সে সময় প্রায় সোয়া লাখ রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছিল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (‘অল ইউ ক্যান ডু ইজ প্রে’ শীর্ষক প্রতিবেদন, এপ্রিল ২২, ২০১৩)। তারপর ২০১৩ এবং ২০১৪ সালে আরও কয়েক দফায় সেখানে রোহিঙ্গাদের ওপর সাম্প্রদায়িক সহিংসতা চলে, যেসব ঘটনায় নিহত হয় আরও শ খানেক মানুষ (হোয়াই ইজ দেয়ার কমিউনাল ভায়োলেন্স, জুলাই ৩, ২০১৪, বিবিসি ওয়েবসাইট)। সেই ২০১২ সাল থেকেই আমাদের সরকার পলায়নপর রোহিঙ্গাদের নৌযানগুলো ফিরিয়ে দিতে থাকে। সে সময় কিন্তু আমাদের সংবাদমাধ্যমে বিপন্ন মানুষের প্রতি কোনো সহানুভূতির ছায়া পড়েনি। মিয়ানমারের আধা সামরিক জান্তার মদদে বৌদ্ধ উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো যখন সেখানকার সংখ্যালঘু মুসলমান রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে দেশছাড়া করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল, সে সময় আমরা কতটা মানবিক আচরণ করেছি, সেই আত্মজিজ্ঞাসার কোনো লক্ষণ কিন্তু এখনো দৃশ্যমান নয়। রোহিঙ্গাদের নৌযান সাগরে ফিরিয়ে দেওয়ার নীতি এখনো বহাল আছে। এই নীতির পেছনে সবচেয়ে বড় যুক্তি—এমনিতেই দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কমপক্ষে ২৩ হাজার আর ভিন্ন হিসাবে লক্ষাধিক রোহিঙ্গার বোঝা বইতে বইতে মানবিক হওয়ার ক্ষমতা আমাদের আর নেই।
মানবিক বিবেচনার সঙ্গে সামর্থ্যের হিসাব কোনো দিনও মেলে কি না, সেই বিতর্কে না জড়িয়েও যে বিষয়টিতে আমাদের নজর দেওয়া উচিত তা হলো আমরা প্রতিবেশীর বাড়িতে একের পর এক খুনের ঘটনায় চুপ থেকেছি, হইচই করে অন্যদের জড়ো করে তার বিরুদ্ধে কোনো জোরালো প্রতিবাদও করিনি। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ইউরোপের অন্য দেশগুলো যদি তাদের বড় বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বার্থে মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে রাখতে পারে, তাহলে আমাদের ঝামেলা বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই বলেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কূটনৈতিক অঙ্গনে যে ধরনের ভূমিকা নিলে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়ন হয়তো আরও আগেই বন্ধ করা সম্ভব হতো, সেটুকু থেকেও আমরা পিছিয়ে থেকেছি। এমনকি, ওই ২০১২ সালেই মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টকে ঢাকায় লালগালিচা সংবর্ধনার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে সেই পরিকল্পিত সফর বাতিল করেন। নিষ্ঠুর নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তার নীতির জন্য যদি আমাদের কোনো আত্মপীড়া না হয়, তাহলে অন্যদের সমালোচনা কতটা যৌক্তিক? চলমান অভিবাসী সংকটের পটভূমিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সেই মিয়ানমারই এখন রোহিঙ্গাদের বিষয়ে অন্যদের সঙ্গে আলোচনায় রাজি হয়েছে।
আশ্রয়ের সন্ধান অথবা ভাগ্যান্বেষণ—যে কারণেই হোক না কেন অনিশ্চয়তাকে ভর করে যেসব নর-নারী বঙ্গোপসাগরের বুকে লাঞ্ছনা ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন—তাঁদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা, এমন কথা বলে আমাদের রাজনীতিক ও কর্তাব্যক্তিরা এখনো একধরনের সান্ত্বনা খোঁজেন। কথাটা স্থূল অর্থে ঠিক হলেও সূক্ষ্ম বিচারে যথার্থ নয়। জাতিসংঘের তিনটি সংস্থা—শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর, অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা আইওএম এবং মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর ওএইচসিএইচআরের হিসাবমতে, এসব অভিবাসনকামীর মধ্যে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিদের অনুপাত প্রায় ৬০: ৪০। আবার এদের মধ্যে মালয়েশিয়ার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থানকারীদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা ৬০ শতাংশের মতো। সুতরাং, মানব পাচারকারীদের হাতে হেনস্তা হওয়া এসব দুর্ভাগ্যপীড়িত মানুষের সংখ্যাগরিষ্ঠ রোহিঙ্গা এমন যুক্তি দেখিয়ে পার পাওয়ার অবকাশটা কই? এই মানবিক বিপর্যয়ের কবলে পড়া হতভাগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যাও তো কয়েক হাজার। আমাদের সরকারের দাবি অনুযায়ী শনৈঃশনৈঃ উন্নতির ছিটেফোঁটাও যদি এঁদের কাছে পৌঁছাত, তাহলে কি তাদের কপালে ‘অর্থনৈতিক অভিবাসী’র তকমা পড়ত?
কথিত অর্থনৈতিক অভিবাসন ঠেকাতে আমাদের বৃহৎ প্রতিবেশী ভারত ইতিমধ্যে আমাদের তিন দিকের সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে। আর যেটুকুতে এখনো বেড়া লাগানো শেষ হয়নি, সেই অংশগুলো পরিণত হয়েছে প্রাণঘাতী সীমান্তে। তবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জয়গান তখন আরও বেসুরো মনে হয়, যখন থাইল্যান্ডের সংখলার আশ্রয়শিবিরে আটকে পড়া কেউ কেউ স্বীকার করে নেন যে তাঁরা নিজেদের রোহিঙ্গা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন এই ভেবে যে হয়তো তাতে করে সে দেশে স্থায়ীভাবে আশ্রয় মিলবে। নিপীড়নের মুখে পলায়নপর যে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যদের আমরা আমাদের কূলে ভিড়তে দিই না, আমরা আবার তাদের পরিচয় ব্যবহারে কুণ্ঠিত হই না এই আশায় যে তাতে হয়তো নতুন করে ভাগ্য গড়ার সুযোগ মিলবে। অবশ্য এ কথাও সত্য যে বাংলাদেশে আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গাদের অনেকেই বাংলাদেশি পাসপোর্ট জোগাড় করে মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমিয়েছেন। তবে তাঁদের সেই সুযোগসন্ধানী আচরণের জন্য তাঁরা যতটা দায়ী তার চেয়ে আমাদের সরকারি কর্তাদের দুর্নীতি কোনো অংশেই কম দায়ী নয়।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে রাজনীতিক ও আমাদের বুদ্ধিজীবীদের অনেকের অভিযোগ যে এরা ইসলামি জঙ্গি তৎপরতা আমদানিতে জড়িত। এ ক্ষেত্রেও কথিত অপকর্মের দায় যতটা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ওপর বর্তায়, তার চেয়ে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী এবং প্রশাসনের দায় কোনোভাবেই নয়। বিশেষত, স্থানীয় রাজনীতিতে ক্ষমতার পাশা খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনীতিকেরা যখন তাঁদের হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগানোয় অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। তা ছাড়া বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ প্রসারে রোহিঙ্গাদের প্রভাবের চেয়েও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর ভূমিকা রাখার ইতিহাস হচ্ছে ক্ষমতায় থাকা রাজনীতিকদের, যেটা অতীতেও ছিল এবং এখনো আছে।
বঙ্গোপসাগর বা আন্দামান সাগরে মানবিক বিপর্যয়ের শিকার হতভাগ্য রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিদের চরম দুর্গতি হয়তো সীমিত আকারে সাময়িকভাবে লাঘব হবে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের এক বছর মেয়াদি সাময়িক আশ্রয় দেওয়ার ঘোষণায় অন্তত সেটুকু আশাবাদ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ফিলিপাইন, গাম্বিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র (সীমিতসংখ্যক) রোহিঙ্গাকে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের জন্য নিজ নিজ দেশে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কিন্তু মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূলকরণ অভিযান যদি বন্ধ না হয়, তাদের মৌলিক নাগরিক অধিকারগুলো যদি তারা ফিরে না পায়, যদি তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকারের স্বীকৃতি না মেলে এবং বাংলাদেশসহ নানা দেশে ছড়িয়ে থাকা শরণার্থীদের মর্যাদার সঙ্গে দেশে ফেরার ব্যবস্থা যদি না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে জটিলতা আরও বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে। ভিনদেশের সাগরপাড়ে ঠেলে দিলে যদি তাদের শেষ পর্যন্ত বিতাড়ন করা সম্ভব হয়, তাহলে মিয়ানমারের উগ্রবাদী বৌদ্ধগোষ্ঠীগুলো এবং সেখানকার সরকার আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। আবার একইভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে মানব পাচারে লিপ্ত মাফিয়ারাও লোভী হয়ে উঠতে পারে। এমনকি, রোহিঙ্গা পরিচয় ব্যবহারে প্রলুব্ধ করাও অসম্ভব নয়।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাগরে ভাসমান অভিবাসীদের নিয়ে যখন এসব উদ্যোগ-আলোচনা চলছে, তখন কিন্তু আমরা ভুলতে বসেছি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া অভিবাসনকামীদের কথা। অথচ মাত্র গত মাসেই আমরা ইতালির কাছে ডুবতে থাকা নৌযান থেকে উদ্ধার হওয়া জীবিত ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশি অর্থনৈতিক অভিবাসীদের কথা জেনেছি। ভূমধ্যসাগরের ওই পথ পাড়ি দিতে গিয়ে তাঁরা ইতিমধ্যেই প্রায় অর্ধেক দুনিয়া পার হয়েছেন। কেউ গেছেন তুরস্ক হয়ে, আবার কেউ গেছেন আফ্রিকার মরুভূমি বা জঙ্গল পেরিয়ে। ভয়ংকর গৃহযুদ্ধে লিপ্ত লিবিয়া হয়ে ইউরোপে ঢোকার চেষ্টাও হয়েছে বলে শোনা যায় এবং সর্বসম্প্রতি লিবিয়ায় বাংলাদেশিদের যাওয়ার ওপর দেশটি নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
মাঝদরিয়ায় পরিত্যক্ত লোকজন রোহিঙ্গা কিংবা রোহিঙ্গা নন, এই বিভাজন টানতে পারলে নানা অজুহাতে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকা দিতে রাজনীতিকদের হয়তো সুবিধা হয়। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বৈষম্য বাড়ায় যে মানুষ দেশ ছাড়তে বেপরোয়া, সে কথা স্বীকার করলে তো রাজনীতি থাকে না। তাই রাজনীতিকদের কথা বাদ থাকাই ভালো। কিন্তু ওই বিপন্ন মানুষের নৌকাগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার সময় নিশ্চুপ থাকার জন্য আমরাও কি একটু লজ্জিত হব না?
কামাল আহমেদ, সাংবাদিক

ওরা রাষ্ট্র বোঝে, মানুষ বোঝে না! by আনিসুল হক

মহাপুরুষেরা চিরকাল বলে এসেছেন, ভালোবাসো। অন্তর থেকে বিদ্বেষ বিষ নাশো। কিন্তু মাটি আর বায়ুতে বিষ ছড়ায় যারা, তাদেরও কি ভালোবাসতে হবে? ভগবান কি তাদেরও ক্ষমা করবেন?
প্রিয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আপনি লিখেছিলেন ‘প্রশ্ন’ নামের কবিতায়।
আজকে প্রিয় কবি, আপনাকেই আমি চিঠি লিখি। আমি বাংলাদেশের একজন সাধারণ মানুষ। প্রশ্নটা হলো, মানুষ কি মানুষ নামের যোগ্য? আমরা কি দিন দিন সভ্য হচ্ছি, নাকি দিন দিন পরিণত হচ্ছি পশুর অধিক পশুতে? আমাদের এই সভ্যতা, এই রাষ্ট্রসমূহ, এই জাতিসংঘ, এই সীমান্ত, এই আন্তর্জাতিক কনভেনশনগুলো, আমাদের যাবতীয় স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা, লাইব্রেরি, কবিতা, সংগীত, চিত্রকলা, চলচ্চিত্র—আমাদের যাবতীয় মধুর ভাষণরাশি—সবকিছুই কি অর্থহীন নয়? আমাদের এই জাতীয় আর আন্তর্জাতিক নীতি আর কূটনীতি, মানবতা আর মানবাধিকার রক্ষার বাজারসমূহ—সবকিছুই কি কেবল লোক দেখানো বিবেকের দংশন থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে চলার একটা নিমিত্তমাত্র নয়?
প্রিয় রবীন্দ্রনাথ, আপনার গান, আপনার কবিতা, আপনার লেখা গদ্য-পদ্য আমাদের নিরন্তর আশার কথা শোনায়, এই যে মহাজগৎ, আকাশভরা সূর্যতারা, ভোরের আলো, গাছে গাছে সবুজ পাতা, রঙিন ফুল—সবকিছু বয়ে চলেছে এক নিরন্তর শুভর দিকে, এই আশ্বাস আমরা আপনার কাছে লাভ করি। কিন্তু রবিবাবু, কী হবে সেই আশ্বাসে? প্রকৃতি মানুষকে কষ্ট দেয়, তার সাজানো বাগান কেড়ে নেয়—সে সময়ও না হয় আপনার এবং আপনার মতো মহাপুরুষদের পরিবেশিত আশ্বাসবাণী থেকে সান্ত্বনা খুঁজতে পারি। এমনকি যুদ্ধের সময় হিংসায় উন্মত্ত পৃথ্বী হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে, মানুষ পরিণত হয় পশুতে—সেটারও একটা সান্ত্বনা থাকে যে এই যুদ্ধ থেমে যাবে, একদিন বইবে শান্তির সুবাতাস, পৃথিবীতে মানবিকতার জয় হবে।
কিন্তু ঘোরতর শান্তির সময়ে আমরা যখন রাষ্ট্র আর সভ্যতার প্রহরী হয়ে নিজের দায়দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করার জন্যই আশ্রয় নিই অমানবিকতার, সিদ্ধান্ত নিই ঠান্ডা মাথায় শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে, এক চুমুক কফির সঙ্গে এক কামড় বিস্কুট চিবোতে চিবোতে যে, সাগরে ভাসতে থাকা ওই মানুষগুলোকে ভিড়তে দিয়ো না, ওরা মরলে মরবে—আর শোনো, জেলে-মাঝিরা, কেউ যদি সাগরে পড়ে গিয়ে ভাসতে ভাসতে ডুবে মরেও যায়, তাদের উদ্ধার করবে না।
তারও আগে আছে মর্মান্তিক সব কাহিনি। দাস ব্যবসার, অপহরণের, মানুষ কেনাবেচার, মানুষকে বন্দী করে রাখার, মানুষকে হত্যা করার।
রবিবাবু, কাহিনিটা নাহয় এমন করে বলি।
আমার মোবাইল ফোনটা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেবার যখন বেড়াতে গেলাম ঝিনাইদহে, তখনই পরিচয় আলাউদ্দিন শেখের সঙ্গে। ২৭-২৮ বছরের যুবক। তেমন কী আর লেখাপড়া করেছেন। কিন্তু নিশ্চয়ই লোকটা জাদু জানেন। আমার মোবাইল ফোনটা কাজ করছে না। তাঁর ছোট দোকানে তিনি বসে আছেন, তখন তাঁর কাঁধে ছিল একটা ঝুঁটিশালিক, শালিক পাখিও পোষেন তিনি। তাঁকে মোবাইল ফোনটা দিলাম। তিনি সেটা খুললেন। কী একটা পরীক্ষা করলেন। বললেন, সারবে। ৫০০ টাকা লাগবে।
আমার দামি সেট। ৫০০ টাকা কোনো ব্যাপার নয়, বিশেষ করে সেটটায় অনেকগুলো মোবাইল ফোনের নম্বর সেভ করা আছে, কাজেই আমি রাজি হলাম।
বললাম, ‘আপনার কাঁধের পাখিটা কি ময়না?’
তিনি বললেন, ‘না, শালিক পাখি।’
‘শালিক পাখি পোষা যায়?’
তিনি বললেন, ‘ভালোবাসা পেলে সবাই পোষ মানে। বনের পশুপাখিও।’
এক যুবা বয়সী মানুষের মুখে এই রকম দার্শনিক উক্তি শুনে চমকে উঠেছিলাম।
পরে তাঁর সঙ্গে প্রায়ই মোবাইল ফোনে কথা বলতাম। ঢাকায় ফেরার পরেও। তিনিই ফোন করতেন।
সেই আলাউদ্দিন শেখ, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের আলাউদ্দিন, বেড়াতে গিয়েছিলেন কক্সবাজারে। তাঁর এক পরিচিত বন্ধুই তাঁকে প্ররোচিত করে সাগর দেখানোর কথা বলে। তারপর, টুরিস্টের মতো তাঁরা যান মহেশখালী। এরপরে তিনি আর টুরিস্ট থাকেন না। একদিন নিজেকে আবিষ্কার করেন একটা ঝুপড়ি ঘরে। তাঁর হাত-পা বাঁধা।
তাঁর বন্ধু শহীদ তাঁকে বস্তা হিসেবে বিক্রি করে দিয়েছে ১০ হাজার টাকায়।
ঝুপড়ি ঘরে এই রকম বন্দীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। জনাপঞ্চাশেক হলে তাঁদের তোলা হয় ছোট নৌকায়। সেখান থেকে ট্রলারে। ট্রলার থেকে বড় জাহাজে। জাহাজে তখনো পর্যাপ্ত বন্দী জোটেনি, কাজেই মিয়ানমারের জলসীমায় জাহাজ অপেক্ষা করে ৮০ দিন। কেউ প্রতিবাদ করলে মেরে ফেলে দেওয়া হতো সমুদ্রে। খাবার নেই। পানি নেই।
সমুদ্রে নেমে যে গাছগাছালি পেয়েছেন, তা-ই চিবিয়ে খেয়েছেন এই রকম সমুদ্রবন্দীরা। পানি না পেয়ে মানুষের মূত্রপান করেছেন কেউ-বা। হাড্ডিসার সেসব ছবি ছাপা হচ্ছে কাগজে...
রবিবাবু, আলাউদ্দিনের গল্পটা সত্য। ইত্তেফাক–এ ছাপা হয়েছে ২১ মে ২০১৫। থাইল্যান্ডের জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হতো আলাউদ্দিনের মতো মানুষদের, বিক্রি করে দেওয়া হতো, মেরে ফেলা হতো। গণকবর উদ্ধার হয়েছে...মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ায় আকাশে-বাতাসে কত হাহাকার, কত অশ্রু, কত শেষনিশ্বাস ভেসে আছে।
তারপরও সাগরে ভাসছে হাজার হাজার মানুষ। কোনো একটা দেশে তারা নামতে চায়। তাদের নৌযানে পানি নেই, খাবার নেই। তারা মারা যাচ্ছে...উন্মাদ হয়ে যাচ্ছে...পৃথিবীর সভ্যতার ধ্বজাধারীরা, মানবতার রক্ষকেরা নিয়ম করছেন, হেলিকপ্টার পাঠাও, এতটা অমানবিক আমরা হতে পারি না, হেলিকপ্টার থেকে সমুদ্রের জলে ফেলা হচ্ছে খাবার কিংবা পানির পাত্র, ওই মানুষগুলো জাহাজ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ছে উত্তাল সমুদ্রে, একটুখানি খাবারের আশায়, পানির আশায় ওই ছবিও আমরা দেখছি।
কিন্তু নির্দেশ কড়া, একটা মানুষও যেন আমার সীমানায় পা রাখতে না পারে। মরলে মরুক।
তাঁদের কথায় যুক্তি আছে, একজনকে উঠতে দিলে অভিবাসীদের ঢল নামবে।
আমাদেরও যুক্তি আছে। আমরা, বাংলাদেশের মানুষেরাও, রোহিঙ্গাদের ঢুকতে দিইনি। কয়েক লাখ ঢুকতে দিয়েছি। তাদের ফেরানো যাচ্ছে না। আমাদের দেশে তারা নানা ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ফৌজদারি সমস্যা তৈরি করছে। কেন দেব তাদের আমরা ঢুকতে? তারা তো বাংলাদেশি না। রোহিঙ্গা।
আর মিয়ানমারের শাসক ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠী ওদের মেরে, জ্বালিয়ে, ধর্ষণ করে, তাদের লক্ষ্মণরেখা এঁকে, তার ভেতরে বন্দী করে, তাড়িয়ে দিচ্ছে। তাদের জমিজমা দখল করা যায়, এথনিক ক্লিনজিং করা যায়, কারণ ওদের ধর্ম আলাদা, ভাষা আলাদা।
তাহলে এই দাঁড়াল আমাদের সভ্যতা, মানবতা, মানবিকতা, মানবাধিকারের কোটি কোটি পাতার ইশতেহারের? আপনার এবং আপনার মতো কবি-সাহিত্যিকদের প্রেমময় পঙ্ক্তিগুলোর? যুগে যুগে প্রেমের বাণী নিয়ে, শান্তির বাণী নিয়ে আসা মহামানবদের অমৃতময় বচন আর শিক্ষাসমূহের?
রবিবাবু, আপনি ভগবানকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, যারা বায়ুদূষণ করে, মাটিকে বিষাক্ত করে, তাদের কি ভগবান ক্ষমা করে? রবিবাবু, আপনি বলেন, যারা প্যান্ট-শার্ট পরে, নিয়মকানুন রচনা করে, রাষ্ট্র আর বিশ্বব্যবস্থা তৈরি করে সভ্যতাকে পরিচালনা করছে, তারা কি আদৌ মানুষ?
বিকাশ করে কুড়ি হাজার টাকা পাঠানোর পরে আলাউদ্দিন শেখসহ ১৮ জনকে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। তাঁরা সাঁতরে কূলে উঠেছেন।
সেই শালিক পাখিটা অপেক্ষা করছে। ঝিনাইদহে ফিরে যাবেন আলাউদ্দিন। অপেক্ষা করছেন এই রকম হাজার হাজার আলাউদ্দিনের বাবা-মা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন। গোয়ালের গরু কিংবা পোষা বিড়াল।
কত হাজার মরলে পরে, রবিবাবু, বলবে এরা শেষে, বড্ড বেশি মানুষ গেছে আদম পাচারে ভেসে?
আলাউদ্দিন শেখ ফিরে যাবেন ঘরে। শালিক পাখিটা উড়ে এসে বসবে তাঁর কাঁধে। আলাউদ্দিনের মা দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরবেন তাঁকে। মায়ের আঁচলের গন্ধে আলাউদ্দিন বাক্যহারা হয়ে রইবেন। তাঁর মাও কথা বলতে পারবেন না। দুজনের চার চোখ দিয়ে বয়ে যাবে জলধারা। শালিক পাখিটা আনন্দে উড়তে থাকবে মাথার ওপর দিয়ে।
আমি অপেক্ষা করছি আলাউদ্দিনের ফোনের জন্য, আমার নম্বরটা খুঁজে পেলেই তিনি নিশ্চয়ই আমাকে ফোন করে বলবেন, ‘ভাইজান, ফিরে এয়েছি।’
রবিবাবু, আলাউদ্দিন শেখের কাহিনিটা সত্য। শালিক পাখি কিংবা আমার সঙ্গে তাঁর মোবাইল ফোনের কথা বলার গল্পটা বানানো। আপনি জানেন, মানুষ যখন সংখ্যা হয়ে যায়, তখনই মানবাধিকারের মৃত্যু ঘটে। আলাউদ্দিনরা যে সংখ্যা নয়, আমাদেরই মতো মানুষ, তা বোঝানোর জন্য কাহিনি কিছুটা আমি বানিয়েছি। কিন্তু আপনি জানেন, এই হাজার হাজার মানুষের প্রত্যেকের জীবনেই আছে এমনি সব মানবিক গল্প।
শুধু রাষ্ট্রগুলো মানুষ বোঝে না, তারা সীমান্ত বোঝে, বৃহত্তর স্বার্থ বোঝে। মানুষ বোঝে না।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

পামিরার পাখিরা আর ফিরবে না!

২০০২ সাল থেকে ‘নর্দান বলড আইবিস’ (উত্তরের টেকো আইবিস) নামের এ বিরল প্রজাতিকে পামিরার একটি প্রজনন কেন্দ্রে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিরা পামিরা দখল করার পর পাখিগুলো আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গত সপ্তাহে লড়াই শুরু হওয়ার পর সংরক্ষণে রাখা পাখিকে রেখে দ্বাররক্ষীরা পালিয়ে গেলে এরপর পাখিগুলোর কি হয়েছে তা আর জানা যায়নি। নিরুদ্দেশ অপর একটি পাখির সংবাদ প্রদানের জন্য ১ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছেন কর্মকর্তারা। লেবাননে প্রকৃতি সংরক্ষণ সমিতি বলেছে, জেনোবিয়া নামের একটি স্ত্রী-পাখির খোঁজ পাওয়া এখন খুবই জরুরি। এ প্রজাতির পাখিরা শীতকালে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে এবং ইথিওপিয়ায় গিয়ে আশ্রয় নেয়।
জোনেবিয়াই এ প্রজাতির একমাত্র পাখি যে ইথিওপিয়া যাওয়ার সেই রাস্তাটি চেনে এবং তাকে ছাড়া অন্য বন্দি পাখিগুলোকে ছাড়া সম্ভব হবে না। পাখি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাখিগুলোকে ছাড়ানো সম্ভব না হলে সিরিয়ায় প্রাকৃতিক পরিবেশে তারা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ‘সংস্কৃতি এবং প্রকৃতি হাতে হাত ধরে চলে। যুদ্ধ হয়তো বন্ধ হবে, কিন্তু এ প্রজাতিকে বিলুপ্তি থেকে কেউ ফিরিয়ে আনতে পারবে না’ বলেন প্রকৃতি সংরক্ষণ সমিতির প্রধান আসাদ সেরহাল। আইবিস পাখি মধ্যপ্রাচ্যের গ্রীষ্ম প্রধান অঞ্চলে আজ থেকে ১৮ লাখ বছর আগে থেকে বসবাস করে আসছে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা। প্রাকৃতিক পরিবেশে মানুষের আধিপত্যের কারণে এ প্রজাতির পাখি এখন বিলুপ্তপ্রায়। মধ্যপ্রাচ্যের মরুসীমায় সিরিয়ার পামিরাতেই এখন পর্যন্ত টিকে ছিল মাত্র চারটি পাখি। তাদের জন্য তৈরি করা হয় একটি ছোট্ট প্রজনন কেন্দ্র। উল্লেখ্য, ২০০২ সালে পামিরার আকাশে কয়েকটি আইবিস পাখি উড়তে দেখা যায়। তারপর তাদের মধ্যে চারটিকে ধরে প্রজনন কেন্দ্রে রাখা হয়। কিন্তু প্রায় ১০ বছর হয়ে গেল মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে মুক্ত আইবিসের আর দেখা মেলেনি। বিবিসি।

সেরা যত পুরস্কার

৬৮তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের আসরজুড়ে ছিল জাকালো অনুষ্ঠান আর নানা চমক। আনপ্রেডিক্টেবল এ উৎসবে চমকের শেষ পেরেক ঠুকে পর্দা টানা হল ২০১৫ সালের আয়োজন। তামিল গেরিলার গল্পের জন্যই ফরাসিদের ঘরে উঠলো সেরার পুরস্কার। স্বর্ণপাম জিতল জ্যাক অডিয়ার্ড পরিচালিত ফরাসি ছবি ‘ধীপান’।
সর্বোচ্চ পুরস্কার : স্বর্ণপাম
চলচ্চিত্র : ধীপান
পরিচালক : জ্যাক অদিয়াদ, ফ্রান্স
দ্বিতীয় পুরস্কার : গ্র্যাঁ প্রিঁ
চলচ্চিত্র : সান অব সাউল
পরিচালক : লাজলো নেমেস, হাঙ্গেরি
সেরা পরিচালক : হো সিয়াও সিয়েন
চলচ্চিত্র : দ্য অ্যাসাসিন, তাইওয়ান
সেরা চিত্রনাট্যকার : জিয়া ঝ্যাংকে
চলচ্চিত্র : এ টাচ অব সিন, চীন
সেরা অভিনেত্রী : রুনি মারা
চলচ্চিত্র : ক্যারল, আমেরিকা ও ইমানুয়েলে ব্যাকট মাই কিং, ফ্রান্স
সেরা অভিনেতা : ভিনসেন্ত লান্দন
ছবি : দ্য মেজার অব অ্যা ম্যান, ফ্রান্স
জুরি প্রাইজ : দ্য লবস্টার
পরিচালক : ইওর্গেস লানটিমস
সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র : ওয়েভস নাইন্টি এইট
পরিচালক : এলি ড্যাগোর
সেরা স্ক্রিনপ্লে : মাইকেল ফারাও
চলচ্চিত্র : ক্রোনিক
সেরা ক্যামেরা ফিচার : লা তিয়েরা ইয়া লা সম্বারা
শূন্য হাতে ফিরল যারা
গুস ভ্যান স্যান্ট : ২০০৩ সালে এলিফ্যান্ট চলচ্চিত্র নির্মাণ করে পেয়েছিলেন কান উৎসবের স্বর্ণপাম পুরস্কার। এবার তার বানানো ‘সি অব ট্রিস’ ছিল তালিকায়। তবে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেনি তার ছবি। ব্যর্থতার তালিকায় আরও আছেন-
চলচ্চিত্র পরিচালক প্রযোজিত দেশ
ম্যাড ম্যাক্স : ফিউরি রোড জর্জ মিলার অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
স্টানডিং টল ইম্মানুয়েল বারকোট ফ্রান্স
ইররেশনাল ম্যান উডি আলেন যুক্তরাষ্ট্র
ইনসাইড আউট পিটার ডক্টার যুক্তরাষ্ট্র
দ্য লিটল প্রিন্স মার্ক ওসবোর্ন ফ্রান্স
আইস অ্যান্ড দ্য স্কাই লুক জ্যাকেট ফ্রান্স

আমি রাষ্ট্রের প্রধান সেবক আমিই সবচেয়ে বিশ্বস্ত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেকে রাষ্ট্রের প্রধান সেবক ও সবচেয়ে বিশ্বস্ত নাগরিক বলে অভিহিতি করেছেন। বিজেপি সরকারের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সোমবার মথুরায় এক জনসভায় তিনি সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে জনগণকে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারে এক বছর উদযাপনের জন্য বিজেপির পরিকল্পনামাফিক ২০০টি সভার প্রথমটি অনুষ্ঠিত হয়েছে সোমবার। এদিন ছিল সরকারের ৩৬৫তম দিন।
৩৬৫ দিন যা শোনা যায়, এদিন তার থেকে আলাদা কিছু হবে বলে মনে করেছিলেন শ্রোতারা। কিন্তু, সেই আশায় জল ঢেলে সারা বছরের প্রকল্পগুলোর খতিয়ান তুলে ধরলেন মোদি। ইউপিএ’র দুর্নীতি, কয়লা কেলেংকারির অভিযোগ আর জনধন যোজনা এসবই ছিল তার এদিনের বক্তব্যের মূল উপজীব্য। কংগ্রেস সরকারকে ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে বারবার কটাক্ষ করেন তিনি। পাশাপাশি, মোদি সরকারের আমলে উন্নয়নের খতিয়ান পেশ করেন। অনুষ্ঠানে মোদি বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রের প্রধান সেবক ও সবচেয়ে বিশ্বস্ত নাগরিক।’ জনগণের উদ্দেশে মোদি বলেন, ‘এক বছর আগে আপনারা ৩০ বছরের খরা কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আমাদের একক সংখ্যাগরিষ্ঠ করে সরকারে পাঠিয়েছিলেন।
আজ তার এক বছর পূর্ণ হচ্ছে। আমাদের সরকার গরিবের সরকার। এ সরকার গরিবের জন্যই কাজ করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা থামব না, মচকাব না। আপনারা নিরন্তর কাজ করে যান। ভারতের রাজনীতিতে গান্ধী, লোহিয়া, দীনদয়াল- এ তিন মহাপুরুষের প্রভাব রয়েছে। তিন মহাপুরুষের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা আজ দেশকে সুশাসন দিচ্ছি।’ মোদি বলেন, আর এক বছর ইউপিএ সরকার থাকলে দেশের অবস্থা অনেক খারাপ হতো। কংগ্রেসকে রিমোট কন্ট্রোলের সরকার বলে কটাক্ষ করেন তিনি। পৃথিবীর ১৩০টিরও বেশি দেশে সরাসরি মোদির সভা সম্প্রচারিত হয়।

রোহিঙ্গাদের জোর করে পাচার করা হচ্ছে?

নৌকায় করে বিপজ্জনকভাবে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করা মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের অনেককে ইচ্ছার বিরুদ্ধে পাচার করা হচ্ছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সীমান্তে আটক হওয়া এসব মানুষদের কেউ কেউ বলছেন, মিয়ানমার থেকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রবেশের আগে পাচারকারীরা ‘সরকারি অনুমোদনের জন্য’ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছে। খবর ইনডিপেন্ডেন্টের।
মালয়েশিয়ার উত্তরাঞ্চলে পাচারকারীদের ক্যাম্পে ১৩৯টি কবরের সন্ধান পাওয়া গেছে সম্প্রতি। সেখানকার পুলিশপ্রধান বলেছেন, তিনি এসব আস্তানায় শিশুদের খেলনা এবং স্যান্ডেল দেখতে পেয়েছেন।
প্রশ্ন উঠেছে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশিরা বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে যদি কেবল কাজের সন্ধানেই আসত, তবে তারা সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে আসত না। অভিযোগ রয়েছে, পাচার হওয়া শিশু-কিশোরদের অনেককেই স্রেফ অপহরণ করা হয়। এমনই একজন ১৬ বছর বয়সী রেজুহারনার। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের রাজধানী সিতুইয়ের উত্তরের দার পায়াং আশ্রয়কেন্দ্রে পরিবারের সঙ্গে থাকত মেয়েটি।
মাস খানেক আগে এক শুক্রবার রেজুহারনারের ভাই মারমু হানসন (২০) এবং অন্য ভাইয়েরা মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। মারমু বলছিলেন, ‘বিকেলে ক্যাম্পে ফিরে দেখি বোন নেই। একেবারে হাওয়া হয়ে গেছে।’ বোনকে ফেরত পেতে এ পর্যন্ত মারমু ৫০০ ডলার খরচ করেছেন। ৪ মে রেজুহারনারের ফোন আসে। তখন সে আন্দামান সাগরে, নৌকায়। সে জানায়, তাকে ২০০ ডলারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তবে পাচারকারীরা তাকে মালয়েশিয়ায় নেওয়ার জন্য মারমুর কাছে ২ হাজার ২০০ ডলার চায়।
তবে দরিদ্র এই পরিবারটির পক্ষে এত অর্থ দেওয়া সম্ভব হয়নি। আর সেদিনের পর থেকে কোনো ফোনও আসেনি। মেয়েটি আদৌ বেঁচে আছে কি না, তা কেউ জানে না। কেউ কেউ ফিরে এসেছে পাচারকারীদের অর্থ দেওয়ার বিনিময়ে। এদের একজন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মোহাম্মদ (১৪, আসল নাম নয়)। ছেলেটি কাজের সন্ধানে রাজধানীর সিতুইয়ে গিয়ে পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে। সে বলে, ‘আমি জোর করলে ওরা আমাকে পেটাতে থাকে। ওরা বলল যে আমাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।’ মোহাম্মদ জানায়, পাচারকারীরা তাকেসহ ১৫ জনকে সমুদ্র উপকূলে বেশ কয়েক দিন রেখে দেয়। ওরা ‘সরকারের অনুমতির’ অপেক্ষা করছিল। এরপর আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রবেশ করে। পাচারকারীদের চাহিদামতো ৩০০ ডলার দেওয়ার প্রায় দুই মাস পর ফিরে আসে মোহাম্মদ।
আশ্রয়শিবির থেকে রোহিঙ্গাদের জোর করে পাচার করা হচ্ছে এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন রাখাইন প্রদেশের সচিব উ টিন মং সোয়ে। তাঁর কথা, প্রতিদিন এসব শিবিরের লোক গণনা করা হয়। নৌকায় যারা যাচ্ছে, তারা বাংলাদেশি।
তবে সমুদ্রে পাড়ি দেওয়ার আগে পাচারকারীদের ‘সরকারি অনুমতির জন্য’ অপেক্ষা মিয়ানমার সরকারের রোহিঙ্গানীতির সমালোচকদের মনে সন্দেহের উদ্রেক করছে।

যেখানে খুনিদের রাজত্ব by ওবায়েদ অংশুমান

খুনের দায়ে অভিযুক্ত (বাঁ থেকে ) আজগর, সোহরাব ও হাবিবুর
যুগের পর যুগ বিচার হয়নি ছিটমহলে ৩৬ হত্যাকাণ্ডের পঞ্চায়েত কমিটির সালিশে জরিমানা দিয়েই মুক্ত
‘মানুষ মারি ফেলেয়া ব্যাহে ছিটের লোকগুলা বুক ফুলিয়া বেড়াই। কাইও ওমাক কোনো কথা কবার সাহস পায় না। হামার এদিক কোনো আদালতও নাই, বিচারও নাই। এটি কোনো বিচার না থাকিয়া ব্যাহে ওমরা সারা জীবন হামাক হুমকি দিয়ে যাবার নাগছে। যারা মানুষ মারে ফেলায় ছিটমহলে তামার দাপট বেশি। এখন বাংলাদেশ হইছে, হামার স্বামীক যারা খুন করেছে তার বিচার চাই।’
কথাগুলো যুগান্তরের কাছে বলছিলেন কুড়িগ্রামের দাসিয়েরছড়া ছিটমহলের বাসিন্দা জোহরা বেগম। ১৫ মে এ ছিটমহলের নিজ বাসায় ক্ষোভের কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন তিনি। কিছুক্ষণ পর নিজেকে সামলে নিয়ে জোহরা জানান, তার স্বামী শরীয়ত উল্লাহ ৪৩ বছর আগে খুন হন। কিন্তু বিচার পাননি।
শুধু শরীয়ত উল্লাহ নন, গত ৪৫ বছরে তার মতো আরও ৩৬টি খুনের ঘটনা ঘটে ছিটমহলে। অদ্যাবধি বিচার হয়নি একটি খুনেরও। বরং খুনিরা এলাকায় যুগ যুগ ধরে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এমনকি তারা নিহতদের নিকটাত্মীয়দের হুমকি দিয়ে ছিটমহলে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে বসবাস করছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক যুগান্তরকে বলেন, ‘এ খুনগুলোর ব্যাপারে আমরা যখন নালিশ পাব তখন বিষয়টি খতিয়ে দেখব। কেননা কোনো ফৌজদারি অপরাধ তামাদি হয় না। এখানে দুটো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। মার্ডারগুলো সংঘটিত হয়েছে ভারতীয় ভূখণ্ডে আবার আইনে যখন এটা বাংলাদেশের ভূখণ্ড হবে, তখন প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হবে। আমার মনে হয়, এ দুটো বিষয় চুক্তির মধ্যে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকবে। তখন এ ব্যাপারটি আমরা দেখব।’
ছিটমহলবাসীর দেয়া তথ্য মতে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতীয় ১১১টি ছিটমহলে সংঘটিত খুন-ডাকাতির কোনো ঘটনারই সরকারি তদন্ত হয়নি। ভারতের সরকারি কোনো তদন্ত সংস্থা এসব ঘটনার তদন্ত করেনি। আবার কাঁটাতারের বেড়ার কারণে ভুক্তভোগী ছিটমহলবাসীও ভারতের সংশ্লিষ্ট থানায় গিয়ে কোনো অভিযোগ করেননি। তবে ছিটমহলের কথিত পঞ্চায়েত কমিটির চেয়ারম্যানরা খুনের ঘটনার বিচার করেছেন। নামমাত্র জরিমানা করে খুনিদের খালাস দেন তারা।
কয়েকটি খুনের ঘটনার বিচার করেছেন দাসিয়েরছড়া ছিটমহলের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান। যুগান্তরকে তিনি বলেন, ‘ছিটমহলে খুনের ঘটনায় বাংলাদেশ কিংবা ভারতের কোনো থানায় কোনো মামলা হয় না। আমরা নিজেদের মতো করে তদন্ত করে বিচার করি। আমরা জানি, খুনের বিচার করার ক্ষমতা আমাদের নেই। তারপরেও এলাকার শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখার স্বার্থে এসব বিচার করা হয়। বিচারে দোষী ব্যক্তিদের জরিমানাও করা হয়ে থাকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। আমি মনে করি, ছিটমহলের খুনের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। তাহলে ছিটমহলে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে তার অবসান হবে।’
গত ৪৫ বছরে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী এবং নীলফামারী জেলার ছয় ছিটমহলে খুন হয়েছেন ৩৬ জন। এর মধ্যে কুড়িগ্রামের দাসিয়েরছড়া ছিটমহলে খুন হয়েছেন ৯ জন, পঞ্চগড়ের শালবাড়ি, কাজলা দিঘী, নাটকটোকা ও বেলেডাঙ্গা ছিটমহলে খুন হয়েছেন ২২ জন, গরাতী সিট মহলে ১ জন, নীলফামারীর বড় খানকি ছিটমহলে ৩ জন এবং লালমনিরহাটের ভোটবাড়ী ছিটমহলে ১ জন খুন হয়েছেন। যারা খুন হয়েছেন, তাদের মধ্যে ১৪ জনকে ‘ডাকাত’ হিসেবে চিহ্নিত করে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলা হয়।
দাসিয়েরছড়া ছিটে যাদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ : যুগান্তরের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছিটমহলের বাসিন্দাদের মৌলিক অধিকার না থাকায় খুনসহ যে কোনো ধরনের ফৌজদারি অপরাধের ঘটনা ঘটলেও কোনো মামলা হয়নি। খুন করেও খুনিরা নির্বিঘেœ যুগের পর যুগ ঘুরে বেড়াচ্ছে। ইতিমধ্যে যাদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ রয়েছে, তাদের অনেকেরই স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। কথিত পঞ্চায়েত কমিটি জরিমানার মাধ্যমে তাদের খুনের দায় থেকে খালাস দিয়েছে। আর প্রসহনের এমন বিচারের কারণে খুনিরা রীতিমতো ছিটমহলে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। কুড়িগ্রামের দাসিয়েরছড়া ছিটমহলে খুন হয়েছেন- শরিয়ত, আজিম উদ্দিন, মোসলেম, আবদুল গনি, বনিজ, কামিনী, মকবুল, সফর ও সাবানা। উল্লেখিত আজিম উদ্দিন খুনের দায় যুগান্তরের কাছে স্বীকারও করে সোহরাব। বর্তমানে তার বয়স ৭০। কুড়িগ্রামের দাসিয়েরছড়া ছিটমহলের বাসিন্দা সে। স্বাধীনতার ৭ বছর পর প্রতিবেশী আজিমউদ্দিনকে খুন করে সে। খুনি সোহরাবের বিচার করেছিলেন দাসিয়েরছড়া পঞ্চায়েত কমিটির কথিত চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান। যুগান্তরকে এ চেয়ারম্যান বলেন, ‘আজিমউদ্দিনের স্ত্রী আলেয়ার সঙ্গে সোহরাবের পরকীয়া ছিল। এরই জেরে আলেয়া ও সোহরাবের পরিকল্পনা অনুযায়ী আজিমউদ্দিনকে খুন করে মনসার ও হাসমত। এরা বর্তমানে দিল্লিতে আছে। খুনের দায়ে সোহরাব, আলেয়া, মনসার ও হাসমতকে আর্থিক জরিমানা করেছিলাম।’ এক প্রশ্নের জবাবে ‘খুনি’ সোহরাব যুগান্তরকে জানায়, ‘আলেয়ার সঙ্গে আমার ভালোবাসা ছিল। আমি টাকা দিয়ে খুন করাই। পঞ্চায়েত কমিটি এর বিচার করেছে। এখন আবার কিসের বিচার।’
অন্যদিকে স্বাধীনতার আগের বছর খুন হন দাসিয়েরছড়া ছিটমহলের ধনাঢ্য ব্যক্তি বনিজ উদ্দিন ব্যাপারী। নিহত বনিজের ছেলে রমিজ ব্যাপারী যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার বাবা ধনাঢ্য ব্যক্তি ছিলেন। আমার চোখের সামনে হারুন, গফুর, একাব্বর, বাছির, ছাত্তার ও কাইন্দরা গুলি করে বাবাকে হত্যা করে। ভয়ে এতদিন কিছুই বলার সাহস পাইনি।’
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, যারা খুনের শিকার হয়েছেন তাদের অধিকাংশই বিচার-সালিশের (স্থানীয়দের ভাষায় দেওয়ানি) সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরে ‘খুনিরাই’ পঞ্চায়েতের দায়িত্ব পালন করেছে। এমন একজনের নাম আজগর আলী। দাসিয়েরছড়া ছিটের লোক যাকে আজগর চেয়ারম্যান হিসেবে চেনেন। স্বাধীনতার কয়েক বছর পরপরই লোক দিয়ে প্রতিবেশী শরিয়ত উল্লাহকে খুন করান বলে দাবি করেন নিহতের স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা। জানতে চাইলে নিহত শরিয়তের স্ত্রী জোহরা যুগান্তরকে বলেন, ‘মোর স্বামীক গোলঘরে মারে ফেলাইছে। মোর স্বামীর মারে ফেলার ব্যাপারে আজগর চেয়ারম্যান, হামিদ ডাক্তার, আনছার আলী, ছাত্তার মেম্বার ও নজরুলসহ ১২ জন জড়িত ছিল। পঞ্চায়েতে এর বিচার হয়ছে, এটা সগাই জানে। সেই সময় আজগর চেয়ারম্যান মোর স্বামী মারে ফেলার কথা স্বীকার করছিল। আর ৮ বিঘা জমি দিবার চাইছে, পরে আর দেয় নাই। ওমরা যখন হজত যাই তখন মোর কাছে মাপ নিবার আসছিল।’ তবে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা সরাসরি অস্বীকার করেন আজগর চেয়ারম্যান। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি এ খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। আর আমি কাউকে জমি দেয়ার কথাও বলিনি।’
জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছিটমহলে একাধিক খুনের ঘটনা ঘটেছে। আর নিজের আপন ভাই আবদুল গনিকে ভাড়াটে লোক দিয়ে ২৫ বছর আগে খুন করান আবদুল মজিদ নামের এক ব্যক্তি। খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে কোবাত মেম্বার, হাবিবুর, লোকমান, আবদুল মজিদ, সিরাজউদ্দিনসহ অন্তত ১০ জনের সাজা দেয় পঞ্চায়েত। এ প্রসঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত হাবিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘গনি খুনের ঘটনায় চেয়ারম্যান আমাকেও দোষী সাব্যস্ত করে। আমাকে জরিমানা করা হয়। জরিমানা দিয়ে আমি খালাস পেয়েছি।’
গনিকে খুন করে ঘরের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে যায় খুনিরা। অন্যদিকে মোসলেম নামের আরেক ব্যক্তির খুনের সঙ্গেও জড়িত ছিল কোবাত মেম্বার। নিহত মোসলেমের মেয়ে লাইলী যুগান্তরকে বলেন, ‘দেওয়ানি নিয়ে বাবার সঙ্গে কোবাত মেম্বারের বিরোধ ছিল। এ কারণে বাবাকে সে খুন করেছে বলে শুনিছি তার লোকজনের মুখে।’
শালবাড়ি-বেলেডাঙ্গা, ভোটবাড়ী ছিটমহলে যাদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ : কুড়িগ্রামের দাসিয়েরছড়া ছিটমহলের পর পঞ্চগড় জেলায় অবস্থিত শালবাড়ি, কাজলাদিঘী, নাটকটোকা ও বেলেডাঙ্গা ছিটমহলে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দাসিয়েরছড়া ছিটমহলের ন্যায় এখানে জমি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খুনের ঘটনা ঘটে। আর গত ৪৫ বছরে যারা খুনের শিকার হয়েছেন তারা হলেন, আজিমল হক, হামিদার রহমান, মোসাহার, মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল, ভবেন্দ্রনাথ রায়, আলাউদ্দিন ওরফে আলাল, মঈনুল ইসলাম ওরফে মঙ্গলু, আমিনুল, ইনসান চেয়ারম্যান, সাত্তার, ওমর ও দুলু ডাকাত। এদের মধ্যে ইনসান, সাত্তার, ওমর ও আলাল বাংলাদেশী নাগরিক ছিলেন।
উল্লিখিত চারটি ছিটমহলে গত ২২ বছর ধরে চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন সিরাজুল ইসলাম। ছিটমহলে খুনের বিষয়ে জানতে চাইলে যুগান্তরকে তিনি জানান, ‘আমিনুল নামের ৩৫ বছরের যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে তার চাচা, চাচাতো ভাই ও ভাবী। আমিনুলের মা আমিনা ও তার স্ত্রী খালেদা যুগান্তরকে বলেন, ‘জমিতে সেচ দেয়ার জন্য ড্রেন কাটাকে কেন্দ্র করে আমিনুলকে খুন করে গমিজ, গনি ও সুন্দরী। এরা আমাদের আত্মীয়। বিচারে এরা দোষ স্বীকার করেছিল। আমরা আর এর বিচার চাই না।’
কয়েক বছর আগে পঞ্চগড়ের শালবাড়ি ছিটে দিনে দুপুরে খুন হন বোদা উপজেলার বাবনহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াসিন, সাত্তার ও ওমর। আর এ খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন ছিটের লোকজনই। জমির বিরোধের জের ধরে কাজলাদিঘীতে খুন হন মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল ইসলাম। এ বিষয়ে পঞ্চায়েত কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজুল বলেন, ‘জমির দখল নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় নজরুল, মোবারক, অলিয়ার, মতিয়ার ও আবুলসহ ১৫ জন শহীদুলকে প্রকাশ্য দিবালোকে খুন করে। পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে সহোদর দুই ভাই হামিদার রহমান ও মোসাহারকে খুন করে তার প্রতিবেশীরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিহতদের ভাতিজা মো. মোস্তফা সরকার যুগান্তরকে অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ২৫ বছর আগে আমার দুই চাচাকে খুন করে মাটিতে পুঁতে রাখে লুৎফর, ছয়ফুল্লাহ, গুলজার ও দুলু। লুৎফর ও ছয়ফুল্লাহর পিতার নাম সবির উদ্দিন। খুনিরা প্রভাবশালী। এখন আমি নিজে পঞ্চায়েত কমিটির মেম্বার হলেও সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকি।’
পঞ্চগড় জেলার বেলেডাঙ্গা ছিটমহলের বাসিন্দা ভবেন্দ্রনাথ রায় নামের এক ব্যক্তি কয়েক বছর আগে খুন হন। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান সিরাজুল বলেন, ‘ভবেন্দ্রনাথ একজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি ছিলেন। সেদিন তিনি স্থানীয় টেপরিগঞ্জ বাজার থেকে বাড়ির পথে আসছিলেন। ওই সময় তার পথরোধ করে খুনিরা অপহরণ করে খুন করে। আজ পর্যন্ত তার লাশ পাওয়া যায়নি।’ এ বিষয়ে ভবেন্দ্রনাথের ছেলে নৃপেন্দ্রনাথ রায় যুগান্তরকে বলেন, ‘ইধর নামের তার এক মামার পক্ষে আমার বাবা দেওয়ানিগিরি করেছিলেন। এতে তার প্রতিপক্ষরা আমার বাবার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। স্থানীয় লোকমুখে জানতে পারি, স্থানীয় আরমান, রশিদ, ভোলা ও কাদেরসহ ৯ জন মিলে আমার বাবাকে খুন করে। এখন আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার পর স্থানীয় মজিবর রহমানরা মিলে আমাদের কাছ থেকে ১২ বিঘা জমি লিখে নেয়। সেই জমি এখন ভোগ-দখল করছে মজিবর।’
মঈনুল ইসলাম ওরফে মঙ্গলু নামের ১৭ বছরের কিশোরের খুনের কাহিনী সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। মঙ্গলুর বড় ভাই মুনজি যুগান্তরকে বলেন, ‘নিজেদের স্বার্থে নিরীহ মঙ্গলুকে খুন করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসায় নাটকটোকা ছিটের সৈয়দ মেম্বার, সোহরাব তালুকদার, করিম তালুকদার, আসমত তালুকদার, লোকমান ও লেবুসহ ১১ জন। এরা আমার ভাইকে মার্ডার করিয়া কেস সাজাইল।’ যুগান্তরের কাছে খুনের কাহিনী বর্ণনার পুরো সময়টা হু হু করে কেঁদে ফেলেন মঙ্গলুর ওই বড় ভাই। এছাড়া দুলু নামের এক কথিত ডাকাত হত্যার কথা জানান তার নিজ মেয়ে আসমা। যুগান্তরকে তিনি বলেন, ‘শুনেছি, আমার বাবাকে গ্রামবাসী ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। আমার বাবা নাকি বড় ডাকাত আছিল।’ লালমনিরহাটের ভোটবাড়ী ছিটমহলে সেলিনা নামের এক গৃহবধূকে খুন করে তার স্বামী রুবেল। গত বছর এ খুনের ঘটনা সংঘটিত হয়।
জমি দখলের প্রচেষ্টার জন্য ৩ খুন : নীলফামারী জেলায় চারটি ছিটের মধ্যে ২৯ নম্বর বড় খানকি ছিটমহলটি বড়। চার দশক আগে জমি দখল করতে আসায় এ ছিটে তিনজন বাংলাদেশী এনতাজ আলী, আবদুল গনি ও আব্বাস আলীকে পিটিয়ে খুন করে ছিটমহলের লোকজন। এ বিষয়ে ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির স্থানীয় নেতা মতিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘জোরপূর্বক আমাদের ছিটের জমি দখল করতে এসেছিল এনতাজরা। এ কারণে এ ছিটের মধ্যে তাদের পিটিয়ে হত্যা করা হয়।’
তথ্য সংগ্রহে সহযোগিতা করেছেন কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি আহসান হাবীব নীলু, এসএ মাহমুদ সেলিম, আবিদ মোস্তফা এবং ফুলবাড়ী ও হাতিবান্ধা উপজেলা প্রতিনিধি আবদুল আজিজ মজনু ও মিজানুর রহমান দুলাল

দুর্নীতির একটা অভিযোগও কেউ আনতে পারেনি -বর্ষপূর্তির ভাষণে মোদি by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

কোনো বড় শহর না বেছে মথুরার এক প্রত্যন্ত গ্রামে বর্ষপূর্তির জনসভা করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গ্রামের নাম চন্দ্রভান। এই গ্রামেই ভারতীয় জনসংঘের তাত্ত্বিক নেতা দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্ম।
সরকারের এক বছরের ‘সাফল্যের খতিয়ান’ একে একে তুলে ধরে মোদি গতকাল সোমবার এই জনসভায় বললেন, ‘ভালো দিন এসেছে কি না, তা দেশের গরিবরাই বুঝতে পারছেন। তবে, যারা এত বছর ধরে যাবতীয় খারাপ কাজ করে গেছে, তাদের জন্য যে আরও খারাপ দিন আসবে, তাতে সন্দেহ নেই।’
মোদি সরকার গোটা দেশে তাদের সাফল্য প্রচারে ২০০ বড় জনসভা ও ৫০০ ছোট সভার আয়োজন করেছে। গতকাল মথুরায় মোদির সভা থেকেই তার সূত্রপাত হলো। কেন মথুরা, তার ব্যাখ্যায় মোদি বলেন, ‘এটা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান, যিনি কাজ করে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। দীনদয়াল উপাধ্যায়ের উপদেশও ছিল কাজ আর কাজ। এক বছর ধরে গরিবদের জন্য সেই কাজ সরকার করে যাচ্ছে।’
নির্বাচনের আগে ‘আচ্ছে দিন’ বা সুদিন আসার কথা মোদি বারবার বলেছেন। সেই পরিবর্তনের ফিরিস্তি দিতে গিয়ে তিনি নাম না করে কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেন। বলেন, গত এক বছরে দুর্নীতির একটাও অভিযোগ কেউ আনতে পারেনি। ‘রিমোট কন্ট্রোলে’ কেউ সরকার চালাচ্ছে না। কোনো জামাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই। লুটেরাদের দিন গেছে।
কয়লাখনির ব্লক বণ্টনের উল্লেখ করে মোদি বলেন, আপাতত ২৯টি ব্লক নিলাম হয়েছে। সরকারের হাতে এই বাবদ ৩ লাখ কোটি রুপি আসবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খনি ও খনিজ পদার্থ নিলামের মাধ্যমে যে অর্থ সরকারের হাতে আসবে, তার একটা অংশ ওই অঞ্চলের আদিবাসীদের কল্যাণে খরচ করা হবে।
মোদি বলেন, তাঁর সরকার এই এক বছরে দালালদের রাজত্ব সম্পূর্ণভাবে শেষ করে দিয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি এসেছে। সর্বনিম্ন পেনশনের পরিমাণ এক হাজার রুপি হয়েছে। পেনশন প্রাপকদের বছর বছর বেঁচে থাকার প্রমাণ দিয়ে যেতে হতো। প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সেই হয়রানি বন্ধ করা হচ্ছে। আগামী দিনে মোট ১ হাজার ৩০০ ‘বাজে’ আইন বাতিল করে দেওয়া হবে। মাসে মাত্র এক রুপির বিনিময়ে গরিবদের জন্য বিমা করা হয়েছে। গরিবদের জন্য মুদ্রা ব্যাংক স্থাপন করা হয়েছে, যা থেকে অতি ছোট ব্যবসায়ীদের ১০ হাজার থেকে ১০ লাখ রুপি ঋণ দেওয়া হবে। এর ফলে ২০ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
২০২২ সালে ভারতের স্বাধীনতার ৭৫তম বার্ষিকীতে সব গরিবের জন্য বাসস্থান করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও মোদি নতুনভাবে দেন।
বিজেপির সাফল্যগাথা তুলে ধরতে ভারতব্যাপী প্রচার অভিযানের জবাব দিতে বিরোধী দল কংগ্রেসও নানা কর্মসূচি নিয়েছে।
সরকারের বর্ষপূর্তির দিনেই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সাবেক অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম বলেছেন, মোদি সরকার তার কাজকর্মের প্রচার দুর্দান্তভাবে করেছে সন্দেহ নেই। তবে, তারা ইউপিএ সরকারের শুরু করা কাজগুলোই অন্য মোড়কে তুলে ধরেছে। চিদাম্বরম বলেন, ‘আমরা আমাদের সাফল্যের ঢাক এমন চাতুরীর সঙ্গে পেটাতে পারিনি। আমরা খুশি, মোদি সরকার আমাদের কাজই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।’

মাঝপথে সেই মেয়েটির স্বপ্ন ভেঙে গেল by নুর মোহাম্মদ

উপজেলার প্রত্যন্ত হাতিলেট এলাকায় পরিবারটির বাস। অন্য দশটি গারো পরিবারের মতোই সাধারণ। মাটির দেয়াল আর টিনের চালার দুটি ঘর। পাঁচ মেয়েকে নিয়ে মা-বাবার টানাপড়েনের সংসার। বাবা একটি বেসরকারি কলেজের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী। মা গৃহিণী। পরিবারের পাঁচ মেয়ের বড় দুই জন এইচএসসি পাস করার পরই বাবাকে সাহায্য করতে কাজের খোঁজে আসেন ঢাকায়। নিজের পড়াশোনার খরচ যোগানো আর বোনদের মতো বাবাকে একটু আর্থিক সাহায্য করতে তিনিও এসেছিলেন ঢাকায় (গণধর্ষণের শিকার গারো তরুণী)। পরিবারটির আরেক মেয়ে কাজ করেন একটি মিশনারিতে। একজন কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। পরিবারের ছোট সদস্যটি তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী। অভাব অনটনের সংসার হলেও শিক্ষার প্রতি অনুরাগী বাবা-মা সন্তানদের মানুষ করতে যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তা মাঝ পথে ঝড়ের মতো এক আঘাত করলো দুর্বৃত্তদের আদিম লালসা। ভাগ্য বদলাতে এসে আদিবাসী তরুণীটি মুখোমুখি হয়েছে এক সর্বনাশা অভিজ্ঞতার।
গতকাল ফুলবাড়িয়া উপজেলার হাতিলেট এলাকার সেই মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মা মানসিক ও শারীরিকভাবে পুরেপুরি ভেঙ্গে পড়েছেন। তাকে সান্ত্বনা দেয়ার জন্য গ্রামের লোকজন আসছেন বাড়িতে। কারও সঙ্গে তিনি কথা বলতে পারছেন না। বাড়িতে অবস্থান করে লোকজনের সঙ্গে কথা বলছেন, নির্যাতিতার এক মামা। তিনি মানবজমিনকে জানান, এই ঘটনার পর থেকে নির্যাতিতার মা নিয়মিত খাবার দাবার ছেড়ে দিয়েছেন। এই ধরনের ঘটনা তিনি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। শুধু তার মা নন, পুরো গারো সম্প্রদায়কে ভাবিয়ে তুলেছে এ ঘটনা। উদ্বেগ আর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো গারো সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে।
এই ঘটনার বিচার চেয়ে নির্যাতিত তরুণীর প্রতিবেশীরা জানান, এর আগে আমাদের সম্প্রদায়ের উপর এ ধরনের তিনটি ঘটনা ঘটেছে। কোনটির বিচার হয়নি। এবার আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাইতে চলতি সপ্তাহে ফুলবাড়িয়ায় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষদের নিয়ে মানববন্ধন করার কথাও জানান তারা। দোষীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তারা। গারো আদিবাসী সদস্যরা অভিযোগ করেন, আত্মীয়স্বজন, সন্তানদের নিয়ে তারা ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন। পেশা ও পড়াশুনার জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় থাকেন এ সম্প্রদায়ের লোকজন।
নির্যাতিতার মামা মানবজমিনকে জানান, ভাগ্য পরিবর্তন করার জন্য ২০১৩ সালে ঢাকায় যান নির্যাতিত সেই তরুণী। ওই বছর এইচএসসি পাস করার পর ময়মনসিংহের আবুল মনসুর মিন্টু মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজে স্নাতক শ্রেণীতে ভর্তি হন। এর আগে ২০১১ সালে হাতিলেট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০১৩ সালে ফুলবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। পাঁচ বোনের মধ্যে নির্যাতিতা চতুর্থ। বড় তিন বোনের মধ্যে সবার বড় বোন এইচএসসি পাস করার পর ঢাকায় একটি বিউটি পার্লারে কাজ নেন। দ্বিতীয় বোন কাজ করেন একটি মিশনারিতে। নির্যাতিত  তরুণী বড় বোনের সঙ্গে থাকেন ঢাকার উত্তরায়। সেখানে তাদের এক খালাও থাকেন।
গত ২০শে এপ্রিল নির্যাতিত তরুণী ঢাকায় যান। এর আগে তিনি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে পার্টটাইম কাজ করতেন। যমুনা ফিউচার পার্কে কাজে যোগ দেয়ার আগে গ্রামের বাড়িতে ছিলেন আড়াই মাস।
নির্যাতিতার মামা জানান, ঘটনার দিন রাত ১২টার দিকে ফোনে ঘটনার কথা শুনতে পান তারা। এরপর থেকে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন নির্যাতিতার মা-বাবা। খবর শোনে মেয়েকে দেখতে ঢাকা গেছেন বাবা। গ্রামের বাড়িতে আগে কৃষিজমিতে কাজ করতো এই গারো পরিবারের কর্তা। এক বছর আগে ময়মনসিংহে একটি বেসরকারি কলেজে চতুর্থ শ্রেণীর চাকরি পান তিনি।
নির্যাতিত তরুণীর প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ওই পরিবারের পাঁচ মেয়েই খুব মেধাবী। পড়াশোনায় বেশ মনোযোগী। বাবা-মা কষ্ট করে তাদের পড়াশোনা করাচ্ছেন। সংসারে টানাপড়েন থাকলেও সন্তানদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে তাদের কোন কার্পণ্য নেই। গতকাল দুপুরে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, এলাকার গারো লোকজন ভিড় জমাচ্ছেন। তারা নির্যাতিত তরুণীর মাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। ঘটনার চার দিন পরও ধর্ষকদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় তাদের অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গারো সম্প্রদায়ের একজন শিক্ষক বলেন, এ ঘটনার যেমন পুরো দেশকে নাড়া দিয়েছে, তেমনি আমাদের হতবাক করেছে। এর প্রতিবাদ করা ছাড়া আমাদের কোন বিকল্প নেই। আমাদের সন্তানরা পড়াশুনা, চাকরি করতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে। তাদের নিয়ে আমরা ভীষণ  চিন্তিত। তিনি বলেন, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি না হলে এমন ঘটনা বারবার ঘটবে। গারো তরুণীকে ধর্ষণের খবরটি স্থানীয় রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার সুরুজ চৌধুরী জানেন না বলে জানিয়েছেন। যোগাযোগ করা হলে মানবজমিনকে তিনি বলেন, এ খবরটি আমি শুনিনি। তবে গারো সম্প্রদায়ের কারও কোন সমস্যা হলে আমি তাদের পাশে থাকবো।  ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বনানী বিশ্বাস মানবজমিনকে বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে কেউ আমাকে কিছু জানায়নি। গারো সম্প্রদায়ের কেউ যদি নিরাপত্তার অভাব বোধ করেন এবং প্রশাসনের সহায়তা চান আমরা সহযোগিতা করবো।

ক্যালিফোর্নিয়ায় মানুষের মলমূত্রই হবে খাবার পানি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় আক্ষরিক অর্থেই মলমূত্র খাওয়ার আয়োজন শুরু হতে যাচ্ছে। দীর্ঘকালীন খরায় তীব্র পানি সংকটে বিকল্প উপায়ে মলমূত্রই খাবার পানি হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মানুষের ত্যাগ করা বৈর্জ্য শোধন করে তা নিরাপদ খাবার পানি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। লস এঞ্জেলস টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মলমূত্র শোধন করে খাবার পানি বানানোর প্রক্রিয়া ক্যালিফোর্নিয়ানরা বিরোধিতা করছে। যদিও বিজ্ঞানীরা বলছেন, মূত্র সঠিক উপায়ে শোধন করে তা পান করা একেবারেই নিরাপদ। ক্যালিফোর্নিয়া ওয়াটার এজেন্সির নির্বাহী পরিচালক টিম কুইন বলেন, আমাদের যে পরিমাণ মূত্র সাগরে চালান হয়ে যায়, তা চিরদিনের জন্য হারিয়ে যায়। কিন্তু আগামী ২৫ বছরের মধ্যে এটাই হবে পানির একক বৃহৎ উৎস।
ইতিমধ্যে মূত্র থেকে শোধিত পানি ক্যালিফোর্নিয়ার মাঠের কাজে ব্যবহার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু খাবার পানি হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে জনগণের মধ্যে ব্যাপক বিরোধিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে খরার চাপে জনগণ বাধ্যই হবে। ক্যালিফোর্নিয়ার একজন অধিবাসী ক্রিস্টোফার হুটন জানান, ‘আমি এই পানি পান করা সমর্থন করি না। তবে অন্য উপায়ও দেখছি না।

প্রভাবশালীদের দখলে রাতের থানা by মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নু

১২ জুন রাত পৌনে ১০টা। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় ওসির (অপারেশন) এবং তদন্তের রুমে জমজমাট আড্ডা চলছে। আড্ডার ফাঁকে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারা করছেন তদবির। কথা শুনতে না চাইলে ওসিকে ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে একটু চাপও দিচ্ছেন। বিনিময় হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। তদবিরের ফাঁকে নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে উচ্চস্বরে গল্প করছেন। চা-সিগরেট ফুঁকছেন বিরামহীনভাবে। চেয়ারের ওপর পা তুলে বসে হুকুম দিচ্ছেন ওসির অডারলিকে। এ অবস্থায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফোন রিসিভ করতে অনেক সময় ওসিকে রুম ছেড়ে বাইরে চলে যেতে হচ্ছে। থানায় বিভিন্ন কাজে আসা সাধারণ মানুষকে ওসির কক্ষে দাঁড়িয়ে থেকেই কাজ সেরে ফিরতে হচ্ছে।
যাত্রাবাড়ী থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জাহিদ হোসেন জুয়েল, স্থানীয় থানা আওয়ামী লীগের নেতা কমল গোস্বামী, রফিকুল ইসলাম, ৫০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব আলম, কমল গোস্বামী, সেলিম খান, শেখদি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মান্নান, সাবেক যুবলীগ নেতা মোক্তার হোসেন, স্থানীয় ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম ও মাহবুব আলমসহ ১০-১৫ নেতাকর্মী দুই ওসির রুম দখল করে বসে আছেন।
আসর জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন। নিজেদের মধ্যে গল্পের ফাঁকে আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম খান ও রফিকুল ইসলাম শনির আখড়া এলাকায় একটি ছিনতাই মামলায় গ্রেফতারকৃত এক আসামি কামালকে ছাড়িয়ে নেয়ার তদবির করছেন। ছিনতাইকারী কামালকে স্থানীয় ইউনিট পর্যায়ের কর্মী দাবি করে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য ওসিকে চাপ দিচ্ছিলেন। অন্যদিকে সাবেক যুবলীগ নেতা মোক্তার হোসেন তদবির করছিলেন সম্প্রতি ২০ দলীয় জোটের সহিংসতা মামলায় এজাহারভুক্ত এক আসামিকে ছাড়াতে। তার দাবি আওয়ামী লীগ কর্মীকে ভুলে নাশকতার মামলায় গ্রেফতার করেছে। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম ও মাহবুব আলমসহ ১০-১৫ নেতাকর্মী তদবির করছেন অন্য মামলার। এদের মধ্যে দুই নেতা মামলায় চার্জশিট থেকে এক আসামিকে বাদ দেয়ার তদবিরে ব্যস্ত।
রাত বাড়ে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জমে ওঠে রাজধানীর বিভিন্ন থানার আড্ডা। এক নেতা চলে যান, আসেন আরও দু’জন। যাত্রাবাড়ী থানার ওসি (অপারেশন) অবনি শংকর কর এবং ওসি (তদন্ত) কাজী শহীদুজ্জামানদের মতো অন্য থানার ওসিরাও তাদেও কক্ষের আড্ডার অসহায় অংশীদার। চুপচাপ দেখে যাওয়া ছাড়া তাদের করার তেমন কিছুই থাকে না। তবে ব্যতিক্রমও আছে। অনেক ওসি এসব আড্ডার মধ্যমণি হয়ে ওঠেন প্রায়ই। এ ধরনের আসরে তারা সক্রিয়ভাবেই অংশ নেন। সব মিলে যাত্রাবাড়ী থানার অবস্থা ভায়বহ। রাতে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে এসব দৃশ্য।
পরিচয় দিয়ে এই থানায় গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডা দেয়া নেতাদের কাছে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা কমল গোস্বামী যুগান্তরকে বলেন, ‘থানায় কত কাজ থাকে। দল করি, তাই বিভিন্ন কাজেই আসতে হয়। আজ এসেছি (১২ জুন রাত) ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ওসিকে দাওয়াত দিতে।’ অপর নেতা রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দলের এক কর্মীকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাই এ ব্যাপারে তিনি পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে এসেছিলেন। একই কথা বলেন অপর নেতা সেলিম খান। যুবলীগ নেতা মোক্তার হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান। আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব আলমের কাছে থানায় আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন. ‘ভাই আমি প্রতিদিন আসি না। মাঝে-মধ্যে আসি। দলের কেউ বিপদে পড়লে আসতে হয়।’
থানায় সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের ভিড় প্রসঙ্গে কথা বলতে চাইলে ওসি অবনি শংকর কর কিছুই জানাতে চাননি।
শুধু যাত্রাবাড়ী নয়, রাজধানীর ৪৮ থানার চিত্র প্রায় একই। ব্যতিক্রম শুধু ক্যান্টনমেন্ট থানা। রাতে নয়, দিনের বেলাও এই থানায় দলীয় নেতাকর্মীদের দেখা পাওয়া যায় না। বাকি ৪৮টি থানায় প্রায় প্রতি রাতেই বসে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতাকর্মীদের আড্ডার আসর। এই আসর থেকেই চলে নানা ধরনের তদবির। কেউ মামলা দেয়ার আবার কেউ মামলা না দেয়ার, অথবা আসামি গ্রেফতার না হয় ছেড়ে দেয়ার তদবির নিয়ে বসেন তারা। আড্ডা এদের কাছে মুখ্য নয়, তদবিরই আসল। এই তদবিরের মাধ্যমেই প্রতি রাতেই মোটা অংকের অর্থও লেনদেন হচ্ছে বলে সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে থানায় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরাই জানিয়েছেন কিভাবে তদবির হয়, কোন কাজের জন্য কত টাকা ধার্য ইত্যাদি বিষয়।
জানা গেছে, রাজধানী ঢাকাকে ৮টি ক্রাইম জোনে ভাগ করা হয়েছে। যুগান্তরের প্রতিনিধি ৯ জুন থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত প্রতি রাতে ক্রাইম জোনের অধিকাংশ থানা সরেজমিন ঘুরেছেন। ১৩ দিনের অনুসন্ধানে প্রতিটি থানা থেকে প্রায় একই ধরনের চিত্র উঠে এসেছে।
রাতের থানার চিত্রগুলো নিয়ে কথা হয় ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, এ ধরনের ঘটনা পুলিশের জন্য বিব্রতকর। এতে স্বাভাবিক কাজকর্মের ব্যাঘাত ঘটে এবং সাধারণ মানুষের মনে পুলিশ সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হয়। তিনি বলেন, এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এটা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। এজন্য অল্প সময়ের মধ্যে তিনি থানার ওসিদের উদ্দেশে এ ব্যাপারে নির্দেশনা জারি করবেন বলেও জানান।
৯০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বাবুল আহমেদ, স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত হোসেন, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ও রমজান, সেলিম ও মাসুদকে দেখা গেল শ্যামপুর থানার ওসির রুমে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। সেটা ছিল ৯ জুন রাতের ঘটনা। গভীর রাত পর্যন্ত ওসি নূরে আজম মিয়ার কক্ষে বিভিন্ন মামলা প্রসঙ্গে কথা বলছিলেন ক্ষমতাসীন দলের এসব স্থানীয় নেতা। আওয়ামী লীগ নেতাদের মামলা সম্পর্কে কোনো পরামর্শ দেয়ার এখতিয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওসি নূরে আজম মিয়া কথা বলতে চাননি। অবশ্য কয়েকদিন আগে নূরে আজম মিয়া শ্যামপুর থানা থেকে ধানমণ্ডি থানায় বদলি হয়েছেন।
১০ জুন রাত ১১টার দিকে সরেজমিন দক্ষিণখান থানায় গিয়ে দেখা মেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সামসুল হক, আবদুল গাফফার, লুৎফর রহমান, তোফাজ্জল হোসেন, যুবলীগ নেতা মাসুম ব্যাপারী ও ছাত্রলীগ নেতা মিঠুর সঙ্গে। এরাও গল্পের ফাঁকে ফাঁকে তদবির করছেন। একই অবস্থা উত্তরখান থানারও। সরেজমিন পরিদর্শনকালে ওসির কক্ষে যুবলীগ নেতা শিপন মিয়া, ছাত্রলীগ নেতা নাসিম, রাসেল, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মনির হোসেন ওরফে মনির মাস্টার, ফাইজুল ইসলাম, নূরুল ইসলাম, সবুজ, আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে দেখা মেলে। ওসি ইউনুস আলী এ সময় থানায় না থাকলেও সরকারদলীয় এসব স্থানীয় নেতা তার কক্ষে জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন।
১১ জুন রাত সোয়া ১০টার দিকে সরেজমিন মিরপুর থানা পরিদর্শনের সময় স্থানীয় নেতা আয়নালকে দেখা যায় ডিউটি অফিসারের কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে এক মহিলার সঙ্গে কথা বলছেন। পাশে গিয়ে জানা যায়, মাদক আইনে গ্রেফতার এক আসামিকে ছাড়িয়ে দেয়ার জন্য তাদের স্বজনদের সঙ্গে টাকার চুক্তি করছেন তিনি। তার সঙ্গে রয়েছেন আরও ৪ থেকে ৫ জন। আওয়ামী লীগ নেতা আয়নালের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী মহিলা তার পরিচিত। তার স্বামীকে পুলিশ আটক করেছে। তাই তিনি পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে ওই মহিলাকে নিয়ে থানায় এসেছেন। এ সময় তিনি টাকা-পয়সা লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
একই রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহ আলী থানায় গিয়ে দেখা মেলে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা মান্নান শেখের সঙ্গে। গভীর রাতে তিনিও একজনের পক্ষ হয়ে একটি মামলা রেকর্ড করতে ওসির সঙ্গে দেনদরবার করছিলেন। আলাপকালে যুগান্তরকে তিনি জানান, তার পরিচিত এক ব্যক্তির মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। এ চুরির ঘটনায় মামলা দায়ের করতে তিনি ওই পরিচিত জনকে নিয়ে থানায় এসেছেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতি রাতে নয়, তিনি মাঝে মধ্যে থানায় আসেন।
১২ জুন রাত পৌনে ১২টার দিকে কদমতলী থানায় গিয়ে দেখা হয় স্থানীয় থানা ওলামা লীগ সভাপতি আদম আলী, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও বুড়িগঙ্গা সেতুর ইজারাদার ও মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী নাজমা আক্তারের। এর মধ্যে নাজমা আক্তার ওসি আবদুস সালাম মিয়াকে একটি মামলার আসামিকে গ্রেফতারের ব্যাপারে অনুরোধ করছিলেন। ওলামা লীগ নেতা আদম আলী জানান, থানার পাশেই তার বাসা। বাসায় যাওয়ার পথে মাঝে মধ্যে তিনি থানায় আসেন বলে যুগান্তরকে জানান। ওসির কক্ষে মহিলা নেত্রী নাজমা আক্তারের সঙ্গে আরও অন্তত ৭ জন নারী-পুরুষ ছিলেন। ওসি (তদন্ত) আরশেদুল হকের কক্ষেও ছিল একই চিত্র। ওই কক্ষে গিয়ে দেখা মিলল ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আবদুস সালাম ও মাইনুদ্দিন মাইনুর সঙ্গে। তারাও এসেছেন একটি মামলার তদবির নিয়ে। যুগান্তরের পক্ষ থেকে আবদুস সালামের সঙ্গে থানায় আসার বিষয়ে কথা বলতে চাইলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
১৪ জুন রাত পৌনে ১১টার দিকে পল্লবী থানা পরিদর্শনের সময় দেখা গেছে আরও ভয়াবহ চিত্র। স্থানীয় থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম বাপ্পীকে দেখা যায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জনকে নিয়ে ওসির কক্ষে আড্ডা দিচ্ছেন। কথার ফাঁকে ফাঁকে মামলা সংক্রান্ত কাজে ওসিকে নানা নির্দেশনা-পরামর্শ দিচ্ছেন। কোন মামলা নেয়া যাবে আর কোন মামলা নেয়া ঠিক হবে না এমন অযাচিত হস্তক্ষেপ করছেন কেউ কেউ। আবার কেউ ফোনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে (ফোনের অপর প্রান্তে কে আছেন তা অজানা) কথা বলছেন। কথার ফাঁকে টেলিফোনে ওসির সামনে বসে সুনামও করছেন কেউ কেউ। সরকারদলীয় এসব নেতার যন্ত্রণায় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের ফোন এলে কয়েক দফা উল্টো ওসিকেই তার কক্ষ থেকে বেরিয়ে গিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। এ ব্যাপারে পল্লবী থানার ওসি দাদন ফকিরের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি রাজি হননি। যুবলীগ নেতা তাজুল ইসলাম বাপ্পীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তাজুল ইসলাম বাপ্পী বলেন, ‘কি কারণে থানায় এসেছি সেটাও কি আপনাকে জানাতে হবে?’ তিনি উল্টো এ প্রতিবেদক কি কারণে থানায় এসেছেন তা জানতে চান।
১৫ জুন রাত পৌনে ১০টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানা পরিদর্শনের সময় ওসি রফিকুল ইসলামের কক্ষে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা আজাদ, মোতালেব হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নাঈম ও যুবলীগ নেতা রাশেদের সঙ্গে দেখা মেলে। এছাড়া ওসি তদন্ত মঈনুল কবীরের কক্ষে দেখা যায় সরকারদলীয় স্থানীয় ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতা আক্তার ও এনা চৌধুরীকে। রাত ১১টার দিকে উত্তরা পূর্ব থানায় গিয়ে দেখা মেলে ছাত্রলীগ নেতা রুবেলের সঙ্গে।
১৯ জুন রাতে হাজারীবাগ থানা সরেজমিন পরিদর্শনের সময় দেখা মেলে স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি এমএ খান মজলিশ চপল, ২২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধরণ সম্পাদক মো. বিল্লাল হোসেন পারভেজ, যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাইসুল ইসলাম রবিনসহ ক্ষমতাসীন দলের ১০ থেকে ১২ জন ওসি কাজী মঈনুল ইসলামের কক্ষে চুটিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন। স্থানীয় এসব নেতাকর্মীদের কারণে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে থানায় আসা লোকজন ওসির কক্ষে ঢুকতেই পারছেন না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, থানা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাইসুল ইসলাম রবিনের নিয়ন্ত্রণে হাজারীবাগ সুইপার কলোনির মাদক ব্যবসা। প্রায় প্রতি রাতেই তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত থানায় আড্ডা দেন। মামলা নেয়া থেকে শুরু করে কাকে ছাড়তে হবে কাকে গ্রেফতার করতে হবে তার দিকনির্দেশনাও দেন তিনি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এমএ খান মজলিস যুগান্তরকে বলেন, প্রতি রাতে নয়, তিনি মাঝে মধ্যে থানায় আসেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। এমএ খান মজলিশ চপল বলেন, দলের ছেলেদের বিভিন্ন প্রয়োজনে মাঝে মধ্যে তাকে থানায় আসতে হয়। তিনি কোনো তদবির করেন না বলেও দাবি করেন।
একই রাতে কামরাঙ্গীরচর থানা পরিদর্শনের সময়ও একই চিত্র দেখা যায়। ওই থানায় গিয়ে ওসি এবং ডিউটি অফিসারের কক্ষে দেখা মেলে কামরাঙ্গীরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সলেমান মাতবর, ৬৫ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহ আলম কিরণ, থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদৌস মোল্লা ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সভাপতি স্বপন দেবনাথসহ স্থানীয় ৭ থেকে ৮ জন নেতাকর্মীকে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় প্রতি রাতেই স্থানীয় এসব নেতা থানায় আড্ডা দেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা সলেমান মাতবর বলেন, দলের ছেলেদের বিপদে-আপদে মাঝে মধ্যে থানায় আসতে হয়। এছাড়া সমাজের বিভিন্ন কাজে পুলিশের কাছে আসতে হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজধানীর বেশ কয়েকটি থানার ওসি যুগান্তরকে বলেছেন, এ চিত্র রাজধানীর ৪৮ থানার। তবে কোনো কোনো থানার অবস্থা খুবই নাজুক। তারা বলেন, স্থানীয় এসব নেতাকে থানায় ভিড় করতে নিষেধ করলেও তারা শোনেন না। তদবির না শুনলে অনেকে কেন্দ্রীয় নেতা কিংবা মন্ত্রীর ভয় দেখান। সব মিলিয়ে সরকারি দলের স্থানীয় নেতাদের কারণে বিপর্যস্ত থানা প্রশাসন। থানা পুলিশের জন্য বিব্রতকর এ বিষয়টি বেশ কয়েকটি থানার ওসি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ভুক্তভোগী এসব ওসির বেশ কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেছেন, এখন মুখ বুজে তাদের এসব সহ্য করা ছাড়া আর কিছু করার নেই।

৩৭০ আসন দাও রামমন্দির দেব

ভারতে নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তির দিনে তার দল বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রামমন্দির নির্মাণ বা মুসলিম শারিয়া আইন বাতিলের ম্যান্ডেট (৩৭০ আসন) তারা পায়নি। প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজে এক খোলা চিঠিতে লিখেছেন, গত এক বছরে তিনি দেশকে একটি দুর্নীতিমুক্ত সরকার দিয়েছেন। যদিও বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সরকার অজস প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণ, মুসলিমদের শরিয়া বাতিল করে সব ভারতীয়ের জন্য অভিন্ন মদেওয়ানি বিধি চালু করা কিংবা জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদাবাহী সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করা। এগুলোকে বিজেপি তাদের দলের মূল লক্ষ্য বা কোর ইস্যু বলে বর্ণনা করে থাকে। কিন্তু এতদিন কোনো বিজেপি সরকারই তার বাস্তবায়নে এগোতে পারেনি। আর তার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, তাদের সরকার অন্য শরিকদের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
কিন্তু ২০১৪ তে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করার ঠিক এক বছরের মাথায় বিজেপি মঙ্গলবার জানিয়ে দিল, এই সংখ্যাগরিষ্ঠতাও যথেষ্ট নয়। সরকারের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ডাকা এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ সাফ জানিয়ে দিলেন, দলের কোর ইস্যুগুলো বাস্তবায়ন করার মতো গরিষ্ঠতা এখনো বিজেপির হাতে নেই। তিনি বলেন, ‘আপনাদের জানা উচিত- এর জন্য পার্লামেন্টে আমাদের অন্তত ৩৭০টা আসনে জিতে আসতে হবে, অর্থাৎ অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগবে। আপনারা সংবিধানটা ঠিকমতো পড়ে নিন, তাহলেই ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়ে যাবে। ইন্ডিয়া টুডে।
নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তিতে সারা দেশজুড়ে সব মন্ত্রী ও নেতারা যে শত শত সাংবাদিক সম্মেলন করছেন, তাতে তাদের বেশি ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে- কী করা যায়নি আর কেন যায়নি, তার সাফাই দিতেই। নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির স্লোগান ছিল আচ্ছে দিন আনেওয়ালা হ্যায় অর্থাৎ সুদিন আসছে।
সেই বিপুল প্রত্যাশাতে ভর করেই ৩০ বছর পর ভারতে এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল কোনো দল। যদিও সেই প্রত্যাশা অনেক ক্ষেত্রেই অপূর্ণ রয়ে গেছে। নরেন্দ্র মোদি নিজে দাবি করছেন দেশকে তিনি একটা দুর্নীতিমুক্ত সরকার দিতে পেরেছেন।

সালাহউদ্দিন হাসপাতাল থেকে পুলিশ হেফাজতে- আদালতে হাজির করা আজ

মেঘালয়ের নর্থ ইস্টার্ন ইন্দিরা গান্ধী রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড মেডিক্যাল সায়েন্সেস (নেগ্রিমস) থেকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। গত ২০শে মে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এ হাসপাতালে আনা হয়েছিল। নেগ্রিমস হাসপাতাল তাকে ছেড়ে দেয়ায় গতকাল বিকাল থেকে তিনি শিলং সদর পুলিশ স্টেশনে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ভাস্কর বরগাইন জানান, স্থানীয় সময় সাড়ে চারটায় সালাহউদ্দিন আহমেদকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। শারীরিকভাবে হাসপাতালের ডাক্তারদের কাছে তাকে পুরোপুরি ফিট মনে হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সুপার (সিটি) ভিবাক সিয়াম জানান, চিকিৎসকরা এখন সালাহউদ্দিনকে সুস্থ মনে করছেন। এ কারণে তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সালাহউদ্দিনকে এখন শিলংয়ের সদর থানাতে রাখা হবে। আগামীকাল (আজ) তাকে আদালতে তোলা হবে। এর আগে আনুষ্ঠানিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হবে।
নিখোঁজ হওয়ার দুই মাস পর গত ১১ই মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ের গলফ লিঙ্ক এলাকায় উদ্ধার হন সালাহউদ্দিন। পুলিশ তাকে প্রথমে মীমহ্যানস নামের মানসিক হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর শিলংয়ের সিভিল হাসপাতালে সালাহউদ্দিনকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। ওই হাসপাতালের আন্ডার প্রিজনার সেলে (ইউটিপি) তাকে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়। সিভিল হাসপাতালে বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় তাকে নেগ্রিমসে গত এক সপ্তাহ ধরে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়। ওই হাসপাতালেই তার চিকিৎসা চলছিল। শিলং পুলিশের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সিভিল হাসপাতালে সালাহউদ্দিনের সঙ্গে দু’দফায় কথা বলেছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। কিন্তু অসুস্থতার কারণে গত ১৫ দিনে গোয়েন্দা সংস্থা বা পুলিশের তরফ থেকে তাকে কোন ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। গতকাল হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়ার পর সদর পুলিশ স্টেশনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। সালাহউদ্দিনের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন নেগ্রিমস হাসপাতালে তার হার্ট, কিডনি ও প্রোস্টেটের বিভিন্ন পরীক্ষা- নিরীক্ষা করা হয়েছে। এ ছাড়া চর্মের বিভিন্ন সমস্যারও পরীক্ষা করা হয়। এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পরই সালাহউদ্দিন শারীরিকভাবে ফিট বলে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। এদিকে স্ত্রী হাসিনা আহমেদ চাচ্ছেন জামিনের মাধ্যমে স্বামী সালাহউদ্দিনকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যেতে। ওই ভাবেই নিয়োগকৃত আইনজীবীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইনজীবীদের সিঙ্গাপুরের চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র ও পাসপোর্টসহ বিভিন্ন ডকুমেন্ট দেয়া হয়েছে। এখন আইনি প্রক্রিয়া কি হয় তা দেখার অপেক্ষায় আছেন পরিবারের সদস্যরা।

বৃত্ত ভাঙার বাজেট আসছে by মিজান চৌধুরী

গতবারের আশাবাদের বাজেট থেকে এবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কঠিন স্বপ্নবিলাসী এক বাজেটের দিকে যাত্রা শুরু করেছেন। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়ানো ও দারিদ্র্যের হার কমাতে প্রবৃদ্ধির হার আরও বাড়ানোর কৌশল নিয়েছেন। এজন্য মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হারের গত ৬ বছরের প্রচলিত ধারা বা ছক কিংবা বৃত্ত ভেঙে নতুন চ্যালেঞ্জের পথে যাত্রার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এই লক্ষ্য নিয়েই আগামী ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের কাঠামো চূড়ান্ত করেছেন। বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদের ৫ বছরের প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের ঘরেই সীমাবদ্ধ ছিল। দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরেও প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের ঘর অতিক্রম করতে পারেনি। প্রবৃদ্ধির হারের গত দীর্ঘ সময়ের বৃত্ত ভেঙে আগামী অর্থবছরে সরকার ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্য যাতে অর্জিত হয় সেজন্য সব ধরনের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনাও মন্ত্রণালয়গুলোতে ইতিমধ্যে দেয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে সরকার গতানুগতিক বাজেটের কাঠামো থেকেও বের হয়ে আসার চেষ্টা করছে। তবে বাজেটের বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রাকে উচ্চাভিলাষী হিসাবেই অনেকে মনে করছেন। কেননা বাজেটের আকার যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে ঘাটতির পরিমাণ। এই বিশাল অংকের ঘাটতির বাজেট দিয়ে সরকার আগামী অর্থবছরে সরকারি-বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, পিপিপিকে আরও কার্যকর করা, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির পূর্ণ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিচ্ছে। চার বছর ধরে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা হলেও বাস্তবে ৬ শতাংশের ছকেই রয়েছে। নতুন বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে।
পাশাপাশি প্রবৃদ্ধির ছক ভেঙে তিনি আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের উচ্চতর প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিরূপণ করেছেন। ওই সময়ে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, শিল্পের প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ নির্ধারণ করে আশার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। আগামী ৪ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আগামী ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করবেন। ইতিমধ্যে প্রস্তাবিত বাজেট প্রণয়ন প্রায় শেষ করেছেন। বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৫ হাজার ১৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের চেয়ে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার বাড়ছে প্রায় পৌনে ১৮ শতাংশ। তবে গত শুক্রবার অর্থমন্ত্রী সিলেটে সাংবাদিকদের বলেছেন, আগামী বাজেটের আকার ৩ লাখ কোটি টাকার সামান্য বেশি হবে। বিশাল এ ব্যয় মেটাতে ২ লাখ ৮ হাজার ৭৭০ কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই রাজস্ব আদায় করতে সরকারকে করের জাল আরও বাড়াতে হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বিশাল ব্যবধান থাকায় ঘাটতির পরিমাণও হচ্ছে রেকর্ড পরিমাণে। ্আগামীতে এই ঘাটতি বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৮৬ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে সাড়ে ২৭ শতাংশের বেশি। বুধবার প্রস্তাবিত এ বাজেট প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সেখানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদসহ বাজেট সংশ্লিষ্ট অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সম্ভাব্য এ বাজেটের তথ্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭ শতাংশ। টাকার মূল্যে জিডিপি হচ্ছে ১৭ লাখ ১৬ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা। চলতি মূল্যের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হ্রাস পাওয়া ও দ্রব্যমূল্য কম থাকায় আগামী অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। মূল্যস্ফীতিকে সহনীয় রাখতে বাজেটে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাাপক কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ব্যক্তি খাতকে উৎসাহিত করা, বিনিয়োগ বাড়ানোর জটিলতা দূর করা, জমির অভাব মেটানো এবং ঋণের সুদের হার কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজেট পরিসংখ্যান : অর্থমন্ত্রী ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ২ লাখ ৯৫ হাজার ১৮ কোটি টাকা বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছেন। এ বাজেট জিডিপির ১৭ দশমিক ১ শতাংশ। একই সঙ্গে চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকার হচ্ছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অনুন্নয়নসহ অন্যান্য ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৯৮ হাজার ১৮ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১১ দশমিক ৭ শতাংশ। অনুন্নয়ন ব্যয়ের মধ্যে থাকছে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৪২ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা, সরবরাহ ও সেবা খাতে ২০ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা, ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ ৩৫ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা, সরকারি প্রণোদনা, ভর্তুকি ও নগদ ঋণ বাবদ ২৪ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাতে ৭৫ হাজার ৩১ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। এছাড়া এবার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৯৭ হাজার কোটি টাকা। স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়নে এডিপি বাস্তবায়নের পক্ষে এর আকার আরও বেড়ে ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
রাজস্ব আদায় : প্রস্তাবিত বাজেটে করের পরিমাণ বাড়ানো হবে না। তবে করের আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব আদায়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সরকারের ব্যয় বাড়ার কারণে আয় বাড়াতে গিয়ে করের আওতা বাড়াতে হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে সম্ভাব্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২ লাখ ৮ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ১২ দশমিক ১০ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে জিডিপির ১ দশমিক ৪ শতাংশ হারে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এ রাজস্ব আয়ের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রাজস্ব হচ্ছে এক লাখ ৭৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ১০ দশমিক ২০ শতাংশ। এনবিআরবহির্ভূত রাজস্ব হচ্ছে ৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। করবহির্ভূত রাজস্ব (এনবিআর) আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২৬ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির এক দশমিক ৫ শতাংশ।
ঘাটতি বাজেট : বিশাল ঘাটতি রেখে আগামী বাজেটে তৈরি করা হয়েছে। সম্ভাব্য ঘাটতি অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৮৬ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা। এ লক্ষ্যমাত্রা মোট জিডিপির ৫ শতাংশ। এই ঘাটতি বাজেট চলতি সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৯ হাজার ১৩ কোটি টাকা বেশি। এ ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক উৎস থেকে ৩০ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে সরকার। বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩২ হাজার ২৬৯ কোটি টাকা, বৈদেশিক অনুদান হচ্ছে ৬ হাজার কোটি টাকা এবং ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা।
ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেয়া হবে ৫৫ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকে নেয়া হবে ৩৮ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র খাত থেকে ১৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নেয়া হবে।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি : প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ধরা হয়েছে ৯৭ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি। নতুন এডিপিতে প্রকল্প সহায়তার পরিমাণ হচ্ছে ৩৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বাকি ৬২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা হচ্ছে স্থানীয় মুদ্রায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এডিপিতে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে চলতি অর্থবছরের সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত প্রকল্প, পদ্মা সেতুসহ ফাস্ট ট্রাক মনিটরিং, বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্র“তি প্রকল্পগুলো।
অগ্রাধিকার পাচ্ছে যেসব খাত : প্রস্তাবিত বাজেটে মানবসম্পদ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। প্রথম অগ্রাধিকার থাকছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে সার্বিক মানবসম্পদ উন্নয়ন। দ্বিতীয় অগ্রাধিকার পাচ্ছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সড়ক, রেলপথ ও বন্দরসহ সার্বিক ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন। কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানে থাকছে তৃতীয় অগ্রাধিকার খাত হিসেবে। চতুর্থ অগ্রাধিকার তালিকায় থাকছে সরকারি সেবা প্রদানে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার বৃদ্ধি ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন। পর্যায়ক্রমে জলবায়ু মোকাবেলায় সক্ষমতা অর্জন ও বহির্বিশ্বের অর্থনৈতিক সুযোগ অধিকতর ব্যবহার ও প্রবাস আয় বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন রফতানির বাজার অনুসন্ধান।
উচ্চ প্রবৃদ্ধির স্বপ্ন : কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি বর্তমানে ৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। আগামী ২০১৯-২০ সালে এ প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সময় শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করার স্বপ্ন দেখিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। আগামী বাজেটে উচ্চ প্রবৃদ্ধির স্বপ্নের এই ঘোষণা অর্থমন্ত্রী দেবেন বলে জানা গেছে।
উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে তিনি একটি রূপরেখা তৈরি করেছেন। এই রূপরেখায় বিনিয়োগের মাধ্যমে মূলধন মজুদ বৃদ্ধি, সরকারি বিনিয়োগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, শিক্ষা, পরিবহন, যোগাযোগ, বন্দর উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আইসিটি খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এডিপি পূর্ণ বাস্তবায়ন, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কার্যক্রমের গতিশীল আনয়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা দূর, শ্রমশক্তির দক্ষ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ, বহির্বাজার সম্প্রসারণ, গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখা, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহের কথা থাকছে।
এই বিশাল বাজেট বাস্তবায়নে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীল বজায় রাখার ঘোষণা থাকছে প্রস্তাবিত বাজেটে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি সহনশীল রাখা, বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, মুদ্রা বিনিময় হার কাক্সিক্ষত পর্যায়ে রাখার কথা বলা হয়। পাশাপাশি পদ্মা সেতুসহ ফাস্ট ট্রাক প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন, রাজস্ব খাতের পরিকল্পিত সংস্কার কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রফতানি বাড়ানোর প্রয়াস অব্যাহত ও জোরদার এবং সঠিক সময়ে এডিবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাজেট বাস্তবায়ন করা হবে বলে প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে।