Sunday, January 21, 2018

সঙ্ঘকে ধরে দিল্লির কাছে পৌঁছতে চাইছেন খালেদা -আনন্দবাজারের রিপোর্ট

ভোটের ঢাকে কাঠি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তেতে উঠছে ঢাকার রাজনীতি। গদি ধরে রাখতে এক দিকে যেমন কৌশল রচনা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তেমনই এ বারের ভোটে যোগ দিয়ে ক্ষমতা দখলে মরিয়া বিএনপি ও জামাতে ইসলামি জোটের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
কূটনৈতিক সূত্রের খবর, এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে গত কয়েক মাস ধরে দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন খালেদা। এ জন্য আরএসএস তথা সংঘ পরিবারের মাধ্যমে মোদী সরকারের কাছে বার্তা পৌঁছনোর চেষ্টা করছে বিএনপি-জামাত জোট। সেই বার্তাটি হল, শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন আওয়ামি লিগের প্রতি কূটনৈতিক পক্ষপাত বহাল না-রেখে তাঁদের সঙ্গেও একটা বোঝাপড়ার দিকে এগোক সাউথ ব্লক। নয়াদিল্লিকে এটা বোঝানোর চেষ্টা হচ্ছে, বিএনপি তাদের কর্মসূচিতে সর্বদা বাণিজ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে। ক্ষমতায় এলে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে নানা ধরনের ছাড়া দেবে তারা।
পাশাপাশি বাংলাদেশে সংখ্যালঘু অধিকারের বিষয়টি নিয়েও এ বারে যে তারা তৎপর হতে চায়, সে কথাও দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।সূত্রের খবর, এ বিষয়ে নাগপুরে আরএসএস-এর একটি অংশের সঙ্গে বিএনপি-র কয়েক জন প্রতিনিধি সম্প্রতি দেখা করে এসেছেন। তা ছাড়া গত বছরের শেষে খালেদা জিয়া যখন লন্ডনে যান, সেখানেও সঙ্ঘের প্রবাসী কিছু নেতার সঙ্গে কথা হয় তাঁর।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক বা বাংলাদেশ হাইকমিশন— প্রকাশ্যে অবশ্য কোনও পক্ষই এই ধরনের বৈঠকের কথা স্বীকার করছে না। বিএনপি-ও সঙ্গত কারণেই এ নিয়ে চুপ। কিন্তু আরএসএস সূত্র জানাচ্ছে, দিল্লির সঙ্গে তারা একটা বোঝাপড়ায় আগ্রহী বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতৃত্ব। খালেদা জিয়ার দল মোদী সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করছে, হাসিনা সরকারের সময়ই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর সব চেয়ে বেশি অত্যাচার হয়েছে এবং এখনও হয়ে চলেছে। মন্ত্রিসভায় অথবা জাতীয় সংসদে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব নামমাত্র। বিএনপি ঘরোয়া ভাবে এ কথাও আরএসএস-কে জানিয়েছে যে তারা অন্তত ৫০ জন সংখ্যালঘু প্রার্থীকে আগামী ভোটে প্রার্থী করতে ইচ্ছুক। ক্ষমতায় এলে মন্ত্রিসভায় হিন্দু প্রতিনিধিত্বও এখনকার থেকে বেশ খানিকটা বেশি থাকবে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক অবশ্য জানাচ্ছে, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ভারত নাক গলায় না। কোনও রাষ্ট্রে যখন যে দলের সরকার থাকে, নয়াদিল্লি তার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বাংলাদেশে এর আগে বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, ভারত তাদের সঙ্গেও সম্পর্ক বহাল রেখে চলেছে। কিন্তু বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, খালেদার এই অতিসক্রিয়তাকে ভাল চোখে দেখছে না দিল্লি। বিএনপির উদ্দেশ্য নিয়েও সন্দিহান বিদেশ মন্ত্রক। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, নভেম্বরে ‘দাঁতের চিকিৎসা’ করাতে লন্ডনে গিয়ে খালেদা পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর কর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে গিয়েছেন। লন্ডনের পাকিস্তান হাই কমিশনের কর্তাদের সঙ্গেও অনেক বার বৈঠকে বসেছিলেন খালেদা, বাংলাদেশে যা নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। তবে বিএনপি নেতৃত্ব এই সব অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন ও বানানো’ বলে উড়িয়ে দিয়ে এসেছেন। কিন্তু খালেদা যে পাকিস্তানের একটি কট্টরপন্থী অংশের হাতে তামাক খেতে অভ্যস্ত, তাদের মাধ্যমে অভ্যুত্থানে ক্ষমতা দখলের চক্রান্তে লিপ্ত বলেই নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা চালাচ্ছেন— এই অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছে আওয়ামি লিগ। তাই সব মিলিয়ে কিছুটা সতর্ক ভাবেই বাংলাদেশ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে মোদী সরকার।
সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা

কমমূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট চাই

দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়ে চলেছে। ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গত ১০ বছরে ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথের মূল্য অনেক কমলেও জনসাধারণ এর সুফল পাচ্ছে না। ২০০৯ সালে যেখানে প্রতি এমবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের মূল্য ছিল ২৭ হাজার টাকা, তা বর্তমানে ৬২৫ টাকায় নেমে এলেও গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের সেবার মানোন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়েনি। গত বছর জুনে প্রকাশিত তথ্যানুসারে, সার্কভুক্ত দেশগুলোর জনসংখ্যার অনুপাতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ শীর্ষে অবস্থান করছে। অথচ সে অনুপাতে সেবার মান, আউটসোর্সিংসহ তথ্যপ্রযুক্তি খাত থেকে আমাদের আয় বৃদ্ধির কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। ইতিমধ্যে দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথমটির চেয়ে আটগুণ বেশি গতিসম্পন্ন ব্যান্ডউইথের পরও দেশে ইন্টারনেটের গতি বা সেবার মানবৃদ্ধির কোনো লক্ষণ নেই। এখনও নানা অজুহাতে ইন্টারনেটের মূল্য অপরিবর্তিত রাখার পক্ষেই কথা বলছেন ইন্টারনেট সেবাদাতারা। মোবাইল ফোন অপারেটরদের জন্য ফোর জি নীতিমালাও চূড়ান্ত হয়েছে। তবুও ব্যবহারকারীদের আশ্বস্ত করার মতো কোনো সুসংবাদ নেই। কিছুদিন আগে পত্রিকান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আমরা দেখেছি, প্রতি গিগাবাইট ইন্টারনেট ডাটা কিনতে সেলফোন অপারেটরদের ব্যয় গড়ে ২৬ পয়সা হলেও গ্রাহকের কাছে একই পরিমাণ ডাটা ২০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি করছে অধিকাংশ অপারেটর। তাছাড়া মেয়াদও বেঁধে দিচ্ছে তারা।
এটা স্পষ্টতই গ্রাহক ঠকানো ছাড়া কিছুই নয়। এ ক্ষেত্রে অপারেটরের পাশাপাশি বিটিআরসির দায়ও কম নয়। আমরা ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে, এমনকি ভারতের তুলনায়ও এগিয়ে থাকার আত্মতুষ্টিতে ভুগছি। অথচ ভারত তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বছরে লাখ লাখ লোকের নতুন কর্মসংস্থান করছে। কিন্তু আমাদের দেশে সবরকম সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের আয় এখনও সন্তোষজনক নয়। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করছে আমাদের সরকার। কিন্তু ডাটাভিত্তিক সেবা গ্রাহকদের জন্য ব্যয়সাশ্রয়ী যেমন নয়, তেমনি ধীরগতির কারণে সর্বোচ্চ সুফলও মিলছে না। এটা সার্বিকভাবে ডিজিটালাইজেশনের পথে অন্তরায় বলে আমরা মনে করি। এ পরিস্থিতিতে বছরের শুরুতে সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার। দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে তিনি বলেছেন, ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধি এবং মূল্যহ্রাসই তার প্রথম অগ্রাধিকার। এটা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। আমরা দেখেছি, বেশ কয়েক বছর ধরেই তিনি ডাটাভিত্তিক ইন্টারনেট সেবার অন্যায্য দাম নিয়ে মুখর ছিলেন। দেশের গ্রামগঞ্জে ইন্টারনেটের যে করুণ অবস্থা, প্রতিনিয়ত সেটাও তুলে ধরেছেন। এখন তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। আমরা আশা করি, এবার পরিস্থিতি বদলাবে, আমরা কম মূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা পাব।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক পার্বতীপুর, দিনাজপুর

ঢাকা সিটি মেয়র নির্বাচন স্থগিত প্রসঙ্গে

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অনুষ্ঠেয় নির্বাচন আদালতের আদেশে স্থগিত করা হয়েছে। এভাবে আদালত কর্তৃক নির্বাচন স্থগিতের আদেশকে লঘুভাবে নেয়ার কিছু নেই। কারণ এই আদেশের কারণে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মতো একটি সংস্থা নির্বাচিত মেয়রের পরিবর্তে অন্যদের দ্বারা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য পরিচালিত হওয়া এ ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নাকচ করারই নামান্তর। ‘‘জাতীয় নির্বাচনের আগে ঢাকার ভোট অনিশ্চিত’ শীর্ষক একটি রিপোর্টে যুগান্তর পত্রিকায় বলা হয়েছে, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, আদালতের নির্দেশে নির্বাচন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে আপিল করার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না। এমনকি তফসিল ঘোষণার আগেই বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের ত্রুটি চিহ্নিত করে তা সংশোধনের সুপারিশ করা হলেও আমলে নেয়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি) বা স্থানীয় সরকার বিভাগ। তখন আরও বলা হয়েছিল, এ জটিলতা রেখে তফসিল ঘোষণা করা হলে রিট হতে পারে, স্থগিত হয়ে যেতে পারে নির্বাচনও। শুধু তাই নয়, কমিশনের এক সভার কার্যপত্রে আইনগত জটিলতার বিষয়গুলো উত্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপই নেয়া হয়নি। উল্টো ইসির পক্ষ থেকে ‘রহস্যজনকভাবে’ বারবার বলা হচ্ছে কোনো জটিলতা তারা দেখছেন না।
এমন পরিস্থিতিতে এ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে ইসি ও সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।’’ (যুগান্তর, ১৯.০১.২০১৮)। আদালতের নির্দেশে নির্বাচন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে আপিল করার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না বলে উপরোক্ত রিপোর্টটিতে যা বলা হয়েছে তার কারণ এ ব্যাপারে আপিল করার কোনো ইচ্ছাই সরকারের নেই। শুধু তাই নয়, নির্বাচন স্থগিতের ব্যবস্থা যেভাবে করা হয়েছে তার থেকে স্পষ্টভাবেই বোঝা যায় যে, এক্ষেত্রে সরকার ও নির্বাচন কমিশন নিজেদের মধ্যে যোগসাজশ করেই নির্বাচন বন্ধ রাখার পরিকল্পনা কার্যকর করেছে। আদালতের নির্দেশের পরই বিরোধী দলের সমালোচনার মুখে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল! এই ‘শ্রদ্ধাশীলতা’ কোথায় ছিল প্রধান বিচারপতি কর্তৃক ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের সময়? আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে তারা প্রধান বিচারপতির রায়কে মেনে নিতে অস্বীকার করে কেন তাকে নানাভাবে হেনস্থা ও অপমান করলেন? এর থেকে কি বোঝার অসুবিধা আছে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের মতলব যে রায়ের দ্বারা সিদ্ধ হয় সেই রায়ের প্রতি তারা ‘শ্রদ্ধাশীল’ এবং যে রায়ে তাদের স্বার্থে ও আঁতে ঘা লাগে তা যতই যুক্তিসঙ্গত ও ন্যায্য হোক, তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার প্রয়োজন তাদের নেই! উপরন্তু এভাবে স্বার্থসিদ্ধির ক্ষেত্রে দেশের প্রধান বিচারপতিকে পর্যন্ত অপমান করতেও তারা কোনো অসুবিধা বোধ করেন না! ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নিয়ে আওয়ামী লীগ অনেক খেলা তাদের শাসনকালে দেখিয়েছে। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করার পর ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নির্বাচনের কথা ছিল। কিন্তু সেই নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনে কোনো নির্বাচন তারা দেয়নি। শুধু তাই নয়, এজন্য বিএনপির নির্বাচিত মেয়রকে তার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তারা বহাল রেখেছিল। পরে তারা কোনোমতেই নির্বাচনে জয়লাভের সম্ভাবনা না দেখে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে উত্তর ও দক্ষিণ দুই ভাগে বিভক্ত করে প্রশাসক বসিয়ে পূর্ববর্তী নির্বাচনের আগে পর্যন্ত কাজ চালিয়ে এসেছিল। সে নির্বাচনেও তারা কারচুপি করছিল। কিন্তু এখন পরিণতি এমন দাঁড়িয়েছে যে কারচুপি করেও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচনে তাদের জয়ের কোনো সম্ভাবনাই নেই। পরাজয়ের এই আশঙ্কা স্পষ্টভাবে দেখেই তারা খুব আগে থেকে নির্বাচন হতে না দেয়ার পরিকল্পনা করেছিল। সেই সঙ্গে নির্বাচনে প্রার্থী দেয়া ইত্যাদির মহড়াও তারা দিয়েছিল! এ সবই ছিল জনগণকে প্রতারিত করে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করা।
তাদের এই কার্যকলাপের কারণ, ঢাকা সিটি নির্বাচনে পরাজিত হলে আগামী সাধারণ নির্বাচনের ওপর তার বড় রকম প্রভাব পড়বে এবং তাদের পরাজয়ের আশঙ্কা আরও বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ এখন যতই চেষ্টা করুক, জাতীয় নির্বাচনের মুখে তারা যতই জনগণকে প্রতারিত করার চেষ্টা করুক, পরিস্থিতি এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, তারা নিজেদের লোক ছাড়া অন্য কাউকেই আর ‘প্রতারণা’ করতে পারার মতো অবস্থায় নেই! এ উপলব্ধি যে তাদের একেবারে নেই তা নয়। উপরন্তু পরাজয়ের আশঙ্কাতেই তারা এখন সাংগঠনিকভাবে বিপর্যস্ত। সিটি কর্পোরেশনে পরাজিত হওয়ার ষোল আনা নিশ্চিত হয়েই যে তারা এই নির্বাচন বন্ধের জন্য পরিকল্পিতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এটা এতই স্পষ্ট যে, এ নিয়ে কারও সন্দেহ নেই। কিন্তু প্রকৃত অবস্থা যাই হোক, যে কোনো বিরোধী সমালোচনা মোকাবেলার উদ্দেশ্যে তারা বিরোধী পক্ষের সবাইকেই বিএনপির লোক বা তাদের দরদী বলে আখ্যায়িত করতে অসুবিধা বোধ করে না। এর কারণ তাদের চিন্তা-চেতনার ক্ষুদ্রতা ও সামান্যতা। দেশের ভূমি বাস্তবতার সঙ্গে পরিচয় না থাকা। চুরি-দুর্নীতি-সন্ত্রাসের মাধ্যমে শহর থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত জনগণের ক্ষোভ ও বিরোধিতার মুখে তারা সব বিরোধিতাকে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত করে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু এর দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য সফল হওয়ার নয়। কারণ তাদের ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি-সন্ত্রাসের ফায়দা বিএনপি জনগণের জন্য কিছু না করেই ইতিমধ্যে পেয়ে বসে আছে, যেমনভাবে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে বিরোধী দল পেয়ে থাকে। কাজেই বিএনপির ঘাড়ে সব দোষ চাপিয়ে, তাকে নন্দঘোষ বানিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার সম্ভাবনা আওয়ামী লীগের নেই বললেই চলে। তাদের এমন অবস্থা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সময়েও ছিল। এ কারণেই তারা নানারকম ফন্দি-ফিকির করে বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রেখে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের জোরে এক ভুয়া নির্বাচন করে ক্ষমতায় ফিরে এসেছিল। এবার কিন্তু পরিস্থিতি ঠিক আগের মতো নেই। কাজেই ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো নির্বাচন করার চেষ্টা যদি আওয়ামী লীগ করে তাহলে দেশে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। আওয়ামী লীগ পরপর দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থেকে ‘উন্নয়নের’ নামে যেভাবে লুটপাট, সন্ত্রাস, জনগণের পকেটমারি করেছে তাতে তারা এখন দেশের সমগ্র জনগণ থেকেই বিচ্ছিন্ন। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন, পুলিশ এবং ভারতের সাহায্যের ওপর ভিত্তি করে বিগত নির্বাচনের পুনরাবৃত্তির চেষ্টা যদি আওয়ামী লীগ করে, তাহলে তার ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির মোকাবেলা করে টিকে থাকা তাদের পক্ষে সম্ভব হওয়ার নয়। বুদ্ধিমানের কাজ হচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে, জনগণের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষার বিষয় বিবেচনা করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। কিন্তু ক্ষুদ্র স্বার্থচিন্তার বশবর্তী আওয়ামী লীগের পক্ষে এমনটি যে সম্ভব হবে তা মনে করার কারণ নেই। এ পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ যদি তাদের ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পুনরাবৃত্তির চেষ্টা করে, তাহলে তার থেকে উদ্ভূত ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মোকাবেলা তাদের নিজেদেরকেই করতে হবে।
বদরুদ্দীন উমর : সভাপতি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল

মূল্যস্ফীতিই প্রধান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

চলতি ২০১৮ সাল দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতির জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং একটি বছর। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলছে, সরকারকে এ বছর বিভিন্ন কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এই সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ আসবে মূলত রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে, যা পর্যায়ক্রমে অর্থনীতিকেও বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে। রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ আসবে প্রধানত প্রধান সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। এ বছর ডিসেম্বর অথবা আগামী বছর জানুয়ারি মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো অংশগ্রহণ করবে কিনা তা নিয়ে এখনও সংশয় কাটেনি। সরকার বলছে, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অন্য দিকে সংসদের বাইরে মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বলছে, বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। তাই তারা নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবি উত্থাপন করছেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ ছাড়া বিএনপির সামনে খুব বেশি পথ খোলা আছে বলে মনে হয় না। শেষ পর্যন্ত তারা অস্তিত্ব এবং দলের নিবন্ধন রক্ষার জন্য হলেও নির্বাচনে অংশ নেবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। সরকার এই সুযোগটাই নিতে চাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে কোনো সমঝোতায় আসতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না। তাহলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও তা কতটা শান্তিপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক হবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাবে। আগামী জাতীয় নির্বাচন যে কোনো মূল্যেই হোক সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং ব্যাপকভিত্তিক অংশগ্রহণমূলক হওয়া জরুরি। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন ছিল। তাই যে কোনোভাবেই হোক আগামী নির্বাচন অবশ্যই সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য হতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। কারণ জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হলে দেশে নানা ধরনের অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়। আর অনিশ্চিত অবস্থায় অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হতে বাধ্য। যেমন দশম জাতীয় নির্বাচনের পর ২০১৫ সালের প্রথম তিন মাস দেশে ব্যাপক রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টি হয়। কিন্তু তারপর বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের স্থিতিশীলতা বিরাজ করে। স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ একটি দেশে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আহরণের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক অঙ্গনে স্থিতিশীলতা বিরাজ করা সত্ত্বেও স্থানীয় এবং বিদেশি বিনিয়োগে কাক্সিক্ষত মাত্রায় গতি আসেনি। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, ব্যক্তি খাতে কাক্সিক্ষত মাত্রায় বিনিয়োগ না হওয়ার পেছনে অন্যান্য কারণ থাকলেও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। কারণ অনিশ্চিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো উদ্যোক্তা বিনিয়োগের মতো দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সব সময়ই দ্বিধান্বিত থাকেন। আগামী জাতীয় নির্বাচন যদি ব্যাপকভিত্তিক অংশগ্রহণমূলক এবং সুষ্ঠু না হয় তাহলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বৃদ্ধি পাবে। এটা দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও বিপন্ন করতে পারে। এ বছর দেশে রাষ্ট্রীয় খাতে বিনিয়োগ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে সরকার দলীয় লোকদের সুবিধার্থে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক ব্যয় বরাদ্দ দেয়া হতে পারে। উল্লেখ্য, সরকারি খাতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ার অর্থই হচ্ছে দুর্নীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা বেড়ে যাওয়া। স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের একটি স্বাভাবিক প্রবণতা হচ্ছে, নির্বাচনের আগের সময়গুলোতে বাজারে মুদ্রা সরবরাহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। কারণ এ সময় সরকারদলীয় সমর্থক এবং অন্যান্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা জনকল্যাণের নামে ব্যাপকভাবে অর্থ খরচ করতে থাকেন। এতে বাজারে সব ধরনের পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়।
সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। সাধারণ মানুষও এ সময় বাড়তি আয়ের পথ খুঁজে নিতে সচেষ্ট হয়। ইতিমধ্যেই বাজারে আমরা মূল্যস্ফীতির প্রবণতা লক্ষ করছি। শীতকাল হচ্ছে আমাদের শাক-সবজির মৌসুম। এ সময় সব ধরনের সবজি প্রচুর পরিমাণে বাজারে পাওয়া যায়। সরবরাহজনিত ব্যাপকতার কারণে অর্থনীতির সাধারণ সূত্র অনুযায়ী বাজারে কোনো পণ্যের উপস্থিতি ব্যাপক মাত্রায় বৃদ্ধি পেলে সেই পণ্যের মূল্য হ্রাস পায়। বর্তমানে বাজারে শীতকালীন বিভিন্ন শাক-সবজির উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও স্বাভাবিক নিয়ম অনুসারে মূল্য হ্রাস পাচ্ছে না। বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব পণ্যের মূল্য বেড়ে গেছে। আগামী মাসগুলোতে বাজারে বিভিন্ন পণ্যের মূল্য আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই অবস্থায় এটা প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যেতে পারে, চলতি পঞ্জিকা বছরের জন্য অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে মূল্যস্ফীতির এই ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করা। গত বছর সিলেটের হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যা এবং দেশের উত্তরাঞ্চলে দু’দফা বন্যার কারণে খাদ্য পণ্যের উৎপাদন এবং জোগান হ্রাস পেয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে যদি খাদ্য পণ্যের উৎপাদন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করে বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা না যায় তাহলে আগামী মাসগুলোতে দেশে খাদ্য পণ্যের ঘাটতি ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে। এটা খাদ্য মূল্যস্ফীতি যে আরও উসকে দেবে তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আগামী দিনগুলোতে অর্থনীতিতে কালো টাকার প্রভাব বেড়ে যেতে পারে। কারণ যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন তারা কালো টাকা বাজারে নিয়ে আসতে পারেন। আমাদের দেশে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে পড়ছে। রাজনৈতিক দলগুলোও এমন সব প্রার্থীকে মনোনয়ন দেন যিনি প্রচুর টাকা ব্যয় করার সামর্থ্য রাখেন। কাজেই যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন তারা কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যয় করবেন এতে কোনোই সন্দেহ নেই। আগামী মাসগুলোতে দেশের বাইরে টাকা পাচারের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাবে। সাধারণত রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনকারীরা অনিশ্চিত নির্বাচনী ফলাফলের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের দখলে থাকা টাকা দেশের বাইরে পাচার করে দিতে পারেন। নিকট অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের আগে অর্থাৎ ২০১৩ সালে দেশ থেকে মুদ্রা পাচার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। আগামী জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের বিষয়েও এক ধরনের অনিশ্চয়তা অনেকের মনেই বিরাজ করছে। কাজেই অতি সাবধানী কালো টাকার মালিকরা কোনো ধরনের রিস্ক নেবে না। তারা মুদ্রা পাচার করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আমদানি ব্যয় অনেকটাই বেড়ে গেছে। কিন্তু দেশের ভোগ ব্যয় এবং শিল্পায়নের গতি যেভাবে ক্রমশ মন্থর হয়ে পড়ছে তাতে আমদানি ব্যয় এতটা বৃদ্ধি পাওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।
কিন্তু ঘটনাটি ঘটছে। অনেকেই মনে করছেন, মূলত মুদ্রা পাচারের প্রবণতার কারণেই আমদানি ব্যয় হঠাৎ করেই অনেকটা বেড়ে গেছে। আগামী মাসগুলোতে এই প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। চলতি অর্থবছরের বাকি সময়ে এবং সামগ্রিকভাবে পঞ্জিকা বছরের অন্যতম একটি সমস্যা বা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে। ইতিমধ্যেই সে রকম আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠছে। রফতানি আয় ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে না। রফতানির আড়ালে মুদ্রা পাচার হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত হচ্ছে রেমিটেন্স। এক অর্থে রেমিটেন্সকে প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত বলা যেতে পারে। যদিও এখন পণ্য রফতানি থেকে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়, কিন্তু এ খাত শতভাগ স্থানীয় কাঁচামালনির্ভর না হওয়ার কারণে জাতীয় অর্থনীতিতে এর মূল্য সংযোজনের হার তুলনামূলকভাবে কম। অন্যদিকে জনশক্তি রফতানি খাতের জন্য কোনো কাঁচামাল আমদানি করতে হয় না বিধায় এ খাতের মূল্য সংযোজনের হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানি খাত কার্যত মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশকেন্দ্রিক। আরও সুনির্দিষ্ট করে বললে হয় বাংলাদেশ যে বিপুল পরিমাণ রেমিটেন্স আয় করে তার বেশিরভাগই আসে সৌদি আরব থেকে। কিন্তু দেশটি বর্তমানে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। ফলে তারা অনেক উন্নয়ন প্রকল্প বাতিল অথবা স্থগিত করতে বাধ্য হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মুসলিম দেশের অবস্থাও প্রায় একইরকম। কোনো কোনো মুসলিম দেশ পরস্পর রাজনৈতিক বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে। এই সংকট খুব সহসাই মিটবে বলে মনে হয় না। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য অনেকটাই বেড়েছে। নিকট অতীতে জ্বালানি তেলের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার কারণে রেমিটেন্স আসা কমে গিয়েছিল। কিন্তু জ্বালানি তেলের বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যও এসব দেশের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তেমন একটা প্রভাব ফেলতে পারছে না। মধ্যপ্রাচ্যের কোনো কোনো দেশ কর্মরত শ্রমিকদের ফেরত পাঠিয়েছে। অনেকেই নতুন করে শ্রমিক নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক শিল্পে বেশ অগ্রগতি অর্জন করেছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু এ খাতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ লোকবল আমরা সরবরাহ করতে পারছি না। প্রতি বছর তৈরি পোশাক খাত থেকে অন্তত ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার আয় করছে ভারত, শ্রীলংকা ও পাকিস্তানি এক্সপার্টরা। আমরা যদি এ খাতের জন্য দক্ষ লোকবল জোগান দিতে পারতাম তাহলে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশেই থেকে যেত। উপযুক্ত ও মানসম্পন্ন শিক্ষা হচ্ছে একটি জাতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ। কিন্তু আমরা শিক্ষিতের সংখ্যা বাড়াতে পারলেও এখনও মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারিনি। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। আমাদের ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও এখনও ১২ শতাংশের বেশি নয়। অথচ প্রতিবেশী প্রতিটি দেশেই এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে আছে। এ দিকটিতে বিশেষ দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।
এম এ খালেক : অর্থনীতিবিষয়ক কলাম লেখক

ঝুঁকিতে নাগরিকদের তথ্যভাণ্ডার

প্রায় সাড়ে ১০ কোটি নাগরিকের ভোটার তথ্যসংবলিত ডাটা ফাইল হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে গুরুতর এবং এই আশঙ্কার কথা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ। ঝুঁকি দেখা দেয়ার কারণও রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আওতাধীন তথ্যভাণ্ডারের (ডাটাবেজ) হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার আপডেট করা হয়নি; উপরন্তু নেই প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার। কমিশনের ওরাকল এক্সাডাটা সিস্টেমের স্টোরেজ ক্ষমতা শেষ হওয়ায় সেখানে নতুন কোনো ডাটা সংযোজন করা হচ্ছে না। এ ছাড়া আটটি ডাটাবেজ সার্ভারের তিনটি সতর্কবার্তা দিয়েই চলেছে। অটোমেটেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেমসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সফটওয়্যারও আপডেট না করায় সেগুলো নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বিপদও ঘটেছে এসব কারণে। বছরের শুরুর দিন সব ভোটারের তথ্য নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, পরে ব্যাকআপ ডাটাবেজ থেকে তা পুনরুদ্ধার করা হয়। এমতাবস্থায় নাগরিকদের তথ্যভাণ্ডার নিরাপদ ও নিশ্চিত রাখার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে ৩৭২ কোটি টাকার জরুরি বাজেট চাওয়া হয়েছে।
বোঝাই যাচ্ছে, সংকট গভীর; যদিও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ বলছে, সার্ভার নিয়ে কারিগরি ঝুঁকি থাকলেও নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঝামেলা নেই। আমাদের কথা হল, সার্ভারের সুরক্ষার বিষয়টি এই নাজুক অবস্থায় পড়ল কেন? প্রধান সার্ভার ডাউন থাকলে ওই সময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সেবা দিতে পারেন না কমিশনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এর অনিবার্য ফল হচ্ছে নাগরিকদের ভোগান্তি। দ্বিতীয়ত, খসড়া ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণের প্রশ্নটিও সার্ভারের কার্যকারিতার ওপর নির্ভরশীল। ২ জানুয়ারি সারা দেশে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে এবং তাতে রয়েছে নানা অসঙ্গতি ও ত্রুটি। সার্ভারের ত্রুটির কারণে ভোটারের বায়োমেট্রিক ম্যাচিং রেজাল্ট যথাসময়ে সঠিকভাবে করা হয়নি, ফলে খসড়া ভোটার তালিকায় ভুলভ্রান্তি থেকে গেছে। নাগরিকদের তথ্যভাণ্ডার একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষণাগার। এই সংরক্ষণাগারের সুষ্ঠু কার্যকারিতার ওপর শুধু সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশ্নই জড়িত নয়, এর সঙ্গে সম্পর্কিত রয়েছে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সুতরাং সার্ভারের ত্রুটিসহ যেসব কারণে নাগরিকদের তথ্যসমূহ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে, সেগুলোর মেরামত জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই সমস্যা সমাধানে নির্বাচন কমিশনের কাছে যে অর্থ চাওয়া হয়েছে, জরুরি ভিত্তিতেই তা মঞ্জুর করতে হবে। সব ধরনের ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে নাগরিকদের ডাটাবেজের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হবে বলেও ধরে নেয়া যায়।

ছিনতাই থামানো যাচ্ছে না কেন? by সফিউল্লাহ আনসারী

ঢাকাসহ সারা দেশে একের পর এক ঘটছে প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনা। এসব ঘটনায় সর্বস্ব খোয়ানোর পাশাপাশি হতাহতও হচ্ছেন অনেকে। মানুষের কষ্টে উপার্জন করা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নানা ভয়-ভীতি দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা। পুলিশ সদস্যরাও এদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। বস্তুত রীতিমতো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারী চক্র। ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো জনমনে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে রাস্তায় চলাচলকারী লোকজনের মনে সারাক্ষণ ছিনতাই আতঙ্ক লেগেই থাকে। পুলিশের ভাষ্য মতে, ছিনতাইকারীরা বেশিরভাগ সময় ফাঁকা রাস্তাকেই বেছে নেয়। যেসব রাস্তায় যানজট হয় সেগুলো তারা এড়িয়ে চলে। তারা প্রায়ই ভোরবেলায় রেল ও বাস স্টেশনে যাতায়াতকারী যাত্রী ও অফিসগামীদের অনুসরণ করে ছিনতাই করে থাকে। এছাড়াও তারা অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল নিয়ে সাধারণের মতো ঘুরে বেড়ায়। তাদের কাউকে যখন তল্লাশি করা হয় তখন তাদের কাছ থেকে কিছুই পাওয়া যায় না। ছিনতাইকারীদের মূল টার্গেটে থাকে পথচারী নারী ও ব্যবসায়ীরা। রিকশাযাত্রী কোনো নারীকে পেলেই তারা মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা থেকে টান দিয়ে ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালায়। ছিনতাইকারীদের কিছু গ্রুপ টার্গেটভিত্তিক কাজ করে। তাদের মূল টার্গেট হল ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের টাকা উত্তোলনকারী ব্যক্তি এবং বিকাশসহ মোবাইল ব্যাংক কর্মীরা। এছাড়া বিদেশ ফেরত যাত্রীরাও রয়েছে তাদের টার্গেটে। পুলিশ এদের ব্যাপারে বিস্তারিত জানলেও ছিনতাইয়ের ঘটনা থামানো যাচ্ছে না কেন- এমন প্রশ্ন ভুক্তভোগীদের। এর একটি কারণ ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করা হলে তারা জামিনে বেরিয়ে এসেই আবার ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।
ছিনতাইকারী চক্রের নতুন সদস্যরা কোনো ঘটনা ঘটানোর পর গা ঢাকা দিয়ে এলাকা পরিবর্তন করে থাকে। বেশিরভাগ ছিনতাইকারীই নেশাগ্রস্ত। নেশার টাকা জোগাতে তারা এ পথ বেছে নেয়। সচেতন মহলের ধারণা, মাদকের চালান আটকাতে না পারলে মাদকাসক্তদের ছিনতাই থেকে ফেরানো অসম্ভব। কারণ যখই মাদকাসক্তরা নেশাদ্রব্য গ্রহণের ইচ্ছা পোষণ করে তখনই তাদের প্রয়োজন হয় টাকার। আর রাস্তাঘাটে ছিনতাই করা অর্থ বা পণ্য তাদের সে চাহিদা পূরণ করতে পারে। এজন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনেক ছিনতাইকারী নেশার টাকার জন্যই ছিনতাইয়ের মতো খারাপ ও সমাজবিরোধী কাজে জড়িয়ে পড়ছে। সূত্রমতে, ছিনতাইকারীদের অনেকেই ভালো পরিবারের সন্তান। সঙ্গদোষে মাদকাসক্তে পরিণত হয়ে তারা ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। ছিনতাইকারীদের আঘাতে যখন-তখন প্রাণ হারাচ্ছে নিরীহ মানুষ। আবার অনেকে আহত হয়ে বয়ে বেড়াচ্ছে দুর্বিষহ জীবন। ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধে পুলিশের তৎপরতা বাড়িয়ে জনগণের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা এই অপরাধের লাগাম টেনে ধরতে না পারায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। ছিনতাইয়ের ঘটনা যেন আর না বাড়ে, এমন প্রত্যাশা সব নাগরিকের। জনমনে আতঙ্ক কাটাতে ছিনতাইকারীদের সমূলে নির্মূল করা জরুরি। দেশবাসী নিরাপদ পথচলার গ্যারান্টি চায়। এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা যথাযথ ব্যবস্থা নেবে, এমন প্রত্যাশা সবার।
সফিউল্লাহ আনসারী : শিক্ষক
shofiullahansari@gmail.com

ভারী গোলা বর্ষণের পর কুর্দিদের অবস্থানে বিমান হামলা তুরস্কের

উত্তর সিরিয়ার কুর্দি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে তুরস্ক। এর ফলে সিরিয়ার সাত বছরের সংঘাতে আরও একটি যুদ্ধক্ষেত্র যোগ হলো। সিরিয়ার কুর্দি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে তুরস্ক তাদের এই অভিযানের নাম দিয়েছে অপারেশন ‘অলিভ ব্রাঞ্চ ’।
aকুর্দি বিরোধী অভিযানের বিষয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান শুরু হয়ে গেছে। মূলত কুর্দি মিলিশিয়া গোষ্ঠী ওয়াইপিজি এবং জঙ্গী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট তাদের এই অভিযানের লক্ষ্য। ঘোষণার পর তুরস্কের যুদ্ধবিমানগুলো সিরিয়ার আফরিন অঞ্চলে কুর্দি মিলিশিয়াদের অবস্থান লক্ষ্য করে বোমা বর্ষণ করছে। এরআগে গত কদিন ধরেই তুরস্ক সেখানে কুর্দি অবস্থানগুলোর ওপর ভারী গোলা বর্ষণ শুরু করে। এর আগে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত প্রায় ৭০টি কামানের গোলা নিক্ষেপ করা হয় বলে জানান তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নুরুদ্দিন জানিকলি। সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন, তুর্কী যুদ্ধ বিমানগুলো আফরিন অঞ্চলের কুর্দি অবস্থান লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালাচ্ছে। কুর্দি গোষ্ঠী ওয়াইপিজি বলছে, কয়েকটি গ্রামে এবং আফরিন শহরে বিমান হামলা হয়েছে। এদিকে সিরিয়া ইতিমধ্যে এরকম অভিযানের ব্যপারে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, তুর্কি বিমান উড়তে দেখলে তা গুলি করে নামানো হবে। তবে সিরিয়ার মিত্র রাশিয়া অবশ্য বলেছে আফরিনের লড়াইয়ে তারা হস্তক্ষেপ করবে না।

রাজধানী থেকে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তাকে অপহরণ

রাজধানীর বসিলা থেকে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেনকে তুলে নিয়ে গেছে অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিরা। শনিবার বিকালে তাকে অপহরণ করা হয় বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর আলিমুজ্জামান।
তিনি জানান, শনিবার বিকাল ৪টার দিকে মোতালেবকে বসিলা থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিরা তুলে নিয়ে যায় বলে পরিবারের অভিযোগ করেছে। এ বিষয়ে শনিবার রাতেই পরিবারের পক্ষ থেকে হাজারীবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি-জিডি করা হয়েছে। জিডির বরাতে ওসি মীর আলিমুজ্জামান জানান, বসিলা এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করছেন মোতালেব হোসেন। শনিবার ওই কাজের অগ্রগতি দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। এরপর বাড়ির নিচ থেকে অজ্ঞাত কয়েকজন লোক তাকে গাড়িতে ‍তুলে নিয়ে যায়। ওই সময়ে তার সঙ্গে দুজন আত্মীয় থাকলেও তারা কাউকে চিনতে পারেননি। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানী থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গ্রহণ ও বিতরণ শাখার উচ্চমান সহকারী নাসির উদ্দিন নিখোঁজ হয়েছেন।

কোন কোন অঞ্চল থেকে শৈতপ্রবাহ কেটে যেতে পারে

দেশের কোন কোন অঞ্চল থেকে শৈত প্রবাহ কেটে যেতে পারে। রোববার সকালে আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক এ কথা জানান। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে তিনি জানান, দেশের উত্তরাঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং অন্যত্র প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।
আবুল কালাম মল্লিক আরও জানান, শনিবার রাজশাহীতে তাপমাত্রা ছিল ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আজ রোববার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হলো ৮ দশমিক ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এতে দেখা যায় ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে দেশের কোন কোন অঞ্চল থেকে শৈতপ্রবাহ কেটে যেতে পারে। তিনি জানান, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, সীতাকুন্ড, বরিশাল ও ভোলা অঞ্চলসহ খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। মৃদু শৈত্যপ্রবাহ কিছু কিছু এলাকা থেকে প্রশমিত হতে পারে বলে জানান আবুল কালাম মল্লিক। এ আবহওয়াবিদ জানান, আগামী ২৫ জানুয়ারির পর থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ কিছু অঞ্চলে স্বাভাবিক তাপমাত্রা কমে যেতে পারে। ফলে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে। রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। রোববার সকালে আবহাওয়া অধিদফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। রোববার সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আদ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫টা ৩৭ মিনিটে এবং আগামীকাল সোমবার সূর্যোদয় ভোর ৬টা ৪৩ মিনিটে। আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

মা-বাবা-সন্তানের সম্পর্কের দূরত্ব বাড়াচ্ছে ফেসবুক

কী বললে, ফেসবুক বন্ধ করব? মাথা খারাপ! আমাকে অন্য কিছু বাদ দিতে বল, ফেসবুক না। এ কথা আপনার সন্তানদের মুখেই অহরহ শুনতে পারবেন। ইন্টারনেট ছাড়া যেন জীবন অচল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য এখন খুবই জনপ্রিয় ফেসবুক।এত এত বন্ধু, অনুসারী, আর কতশত পোস্ট; এসব নিয়ে সে এক আজব রঙের দুনিয়া। ফেসবুক যেন এখন আসক্তিতে পরিণত হয়েছে। ফেসবুকের টানে উঠতি বয়সে শিশু-কিশোররা এখন কৃত্রিম আড্ডার দুনিয়ায় ডুবে আছেন। মা-বাবা যতই বারণ করেন, সন্তানরা যেন কোনো কথাই শুনতে নারাজ। ফেসবুকে সন্তানের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ও থাকে বাবা-মায়ের। কৃত্রিম এই সম্পর্কে মা-বাবা-সন্তানের সম্পর্ক চিড় ধরাচ্ছে। আবার বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের বন্ধুত্ব হওয়ার পর তাদের মধ্যে সম্পর্ক পাল্টে যাচ্ছে। আপনার সন্তান ফেসবুকে কী করছে, কী দেখছে, কী পোস্ট করছে— তা জানতে বাবা-মায়ের উঠেপড়ে লাগাই স্বাভাবিক। কারণ তার সন্তান কোনো ধরনের সমস্যায় পড়ুক- তা চান না বাবা-মা। এ কারণে ফেসবুক ব্যবহার নিয়ে হয়তো প্রতিদিনই বাবা-মায়ের জেরার সম্মুখীন হতে হয় সন্তানদের। ফেসবুকের বিষয়ে বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী মুহিত কামাল যুগান্তরকে বলেন, ফেসবুকের ফলে মা-বাবার বন্ধু হচ্ছে সন্তান। এতে করে আপনার সন্তান কী করছে, কোথায় যাচ্ছে -সাবই আপনি জানতে পারছেন। এতে করে সন্তানের আপত্তিকর কোনো পোস্ট দিতে বা কোনো বন্ধুর সঙ্গে মিশতে বারণ করায় সন্তানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন হচ্ছে। তিনি বলেন, এই তো কয়েক দিন আগের ঘটনা। এক অভিভাবক অভিযোগ করেন, তার ছেলে ফেসবুকে আপত্তিকর একটি ছবি পোস্ট করে। এ সময় তিনি বাধা দেন। সেই থেকেই সন্তানের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। ফলে ঘটে সম্পর্কের অবনতি।
তিনি আরো বলেন, উঠতি বয়সে শিশু-কিশোরীদের জন্য ফেসবুকিং একটি ভয়াবহ আসক্তি। শিশু-কিশোররা যেন ফেসবুকে আসক্তি হয়ে না পড়ে সেজন্য বাবা-মাকে সচেতন হতে হবে। আর এক্ষেত্রে পরিবারই হতে পারে প্রতিরোধের প্রথম হাতিয়ার। মা-বাবা-সন্তানের সম্পর্ক ভালো রাখতে ও ফেসবুকের আসক্তি কমাতে বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী মুহিত কামাল কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। নিচে অভিভাবকদের জন্য কিছু পরামর্শ তুলে ধরা হলো - শিশুদের সময় দিন শিশুদের ফেসবুকের আসক্তি কমাতে অভিভাবকরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।সন্তানকে অবশ্যই সময় দিতে হবে। সন্তান কখন কী করছে, কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে চলছে- সে বিষয়ে খোঁজ নিতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন তাকে বাইরে বেড়াতে নিয়ে যান। স্কুলে সচেতনতামূলক কর্মশালা ফেসবুকের আসক্তি কমাতে স্কুলে স্কুলে সচেতনতা প্রচার শুরু করলে এখনকার তরুণ প্রজন্মকে ওই কুপ্রভাব থেকে রক্ষা করা যাবে। স্কুলগুলোতে কর্মশালার আয়োজন করা যেতে পারে। কর্মশালায় ইন্টারনেট ও সোশাল মিডিয়ার কুফল নিয়ে আলোচনা, পাঠচক্র করা যেতে পারে। খেলাধুলা মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেটের কুফল থেকে সন্তানদের বাঁচাতে বিকল্প হিসেবে খেলাধুলা বা পরিবারের সদস্যদের সময় দেওয়া একান্ত প্রয়োজন। প্রতিদিন বিকেলে পড়া শেষে তাকে খেলাধুলার সময় দিতে হবে। শিশুদের বন্ধু হোন শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলুন। সবকিছু খোলামেলা আলোচনা করুন। তাহলে অনেক সমস্যাই সমাধান হয়ে যাবে। শিশুদের বই উপহার দিন জন্মদিন কিংবা বিশেষ দিনে শিশুদের বই উপহার দিন। তাকে আস্তে আস্তে বই পড়ার অভ্যাস নিয়ে যান। বই পড়লে এক তো জ্ঞান বাড়বে অন্যদিকে ফেসবুকের আসক্তি কমবে।
নাগালের বাইরে রাখুন মোবাইল
সম্ভব হলে শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন মোবাইল। শিশুদের হাতে মোবাইল না দেয়া গেলেই ভালো।

দিল্লিতে অবৈধ আতশবাজি কারখানায় আগুন, নিহত ১৭

ভারতের নয়াদিল্লিতে একটি আতশবাজি কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ওবিস্ফোরণে সাত নারীসহ অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার রাতের এই দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন অগ্নিদদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। দিল্লি পুলিশের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ভাবনা শিল্প এলাকার একটি তিনতলা ভবনে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
অবৈধভাবে আতশবাজি বানানো আর গুদামজাতের জন্য ভবনটি ব্যবহার হতো। দুর্ঘটনার সময় ভেতরে ৫০ জনের মতো শ্রমিক আটকা পড়েন। ফলে ঘটনাস্থলেই পুড়ে ও দমবন্ধ হয়ে মারা যান ১৭ জন। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় অন্যান্য শ্রমিকদের উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনার মূল কারণ জানা না গেলেও, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- অসর্তকতায় আতশবাজির বারুদে আগুন লাগায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

ইসরাইলে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে; গ্রেফতার দাবি

ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে টানা ৮ম সপ্তাহ হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ চলছে। দুর্নীতির অভিযোগে নেতানিয়াহুকে কারাগারে পাঠানোর দাবিতে এ বিক্ষোভ হচ্ছে। শনিবার রাতে তেল আবিবে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা নেতানিয়াহুকে কারাগারে পাঠানোর দাবিতে নানা স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীদের হাতে বিভিন্ন রকমের প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, নেতানিয়াহুর পুরো পরিবারই দুর্নীতিগ্রস্ত। তার ছেলের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়া, প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। এরইমধ্যে আলাদা দুটি মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উপহারের নামে ঘুষ গ্রহণ এবং বিনিময়ে একটি পত্রিকায় ভালো কভারেজ দেয়ার জন্য পত্রিকার মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে দেয়া। অন্যটি হচ্ছে- জার্মানি থেকে সাবমেরিন কেনার ক্ষেত্রে দুর্নীতি। ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। ২০১৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্টের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দেড় বছর জেল খাটতে হয়েছে।

এক টেস্টে শনাক্ত হবে ৮ ধরণের ক্যান্সার

রক্তে ক্যান্সারের উপস্থিতি শনাক্তে সার্বজনীন একটি পরীক্ষার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন বিজ্ঞানীরা, যাকে চিকিৎসা শাস্ত্রের ইতিহাসে অন্যতম যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, শরীরে ছড়িয়ে পড়ার আগেই রক্তের একটি মাত্র পরীক্ষার মাধ্যমে দেহে আট ধরনের ক্যান্সারের প্রাথমিক অস্তিত্ব শনাক্ত করা সম্ভব। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এমন একটি রক্ত পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন, যাতে রক্তপ্রবাহে থাকা টিউমারের পরিবর্তিত ডিএনএ ও প্রোটিনের ক্ষুদ্র চিহ্ন শনাক্ত করা যায়। এরই মধ্যে ক্যান্সার আক্রান্ত হাজারো রোগীর মধ্যে পরীক্ষা চালিয়ে এ পদ্ধতির সফলতা দেখতে পেয়েছেন তারা। এবার তাদের লক্ষ্য ক্যান্সার শণাক্ত হয়নি এমন ব্যক্তিদের মধ্যে পদ্ধতিটির পরীক্ষা চালানো। গবেষকেরা বলছেন, মানবদেহের রক্তপ্রবাহে ক্যান্সারের কারণে সৃষ্ট টিউমারের পরিবর্তিত ডিএনএ ও প্রোটিনের ক্ষুদ্র চিহ্ন থাকে।
তাদের পরীক্ষায় মানবদেহের ১৬টি জিনের পরিবর্তন হয়েছে কি না তা দেখা হয়, খোঁজা হয় আটটি প্রোটিন, যা ক্যান্সার রোগীর রক্তে প্রায়ই নির্গত হয়। পদ্ধতিটি কার্যকর বলে নিশ্চিত হলে বছরে মাত্র একবার রক্ত পরীক্ষাতেই যে কেউ তার দেহে ক্যান্সারের অস্তিত্ব আছে কি না তা জানতে পারবেন। এর মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যান্সার ধরা পড়বে, সম্ভব হবে জীবন বাঁচানো। যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞরা বিজ্ঞানীদের এ আবিষ্কারকে ‘বেশ চমকপ্রদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব মেডিসিনের ড. ক্রিস্টিয়ান টমাসেট্টি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে (ক্যান্সার) শনাক্ত করা বেশ কঠিন, যদিও এ পরীক্ষার ফল বেশ চমকপ্রদ। আমার ধারণা, এটি ক্যান্সারজনিত মৃত্যু কমাতে বিরাট ভ‚মিকা রাখবে।’ যত দ্রুত ক্যান্সার শনাক্ত করা যাবে ততই রোগটি থেকে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। আটটির মধ্যে পাঁচ ধরনের ক্যান্সারেই প্রাথমিক অবস্থায় তা শনাক্ত করার কোনো উপায় নেই। অগ্নাশয়ের ক্যান্সারের লক্ষণও এতই কম এবং ধরাও পড়ে এত দেরিতে যে, এ ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রতি পাঁচজনের চারজনই ক্যান্সার শনাক্তের বছরই মারা যান। টমাসেট্টি বলেন, অপারেশন করে সারিয়ে ফেলা যাবে তেমন অবস্থাতেই টিউমার শনাক্ত করা গেলে তা এখনকার পরিস্থিতির সাথে তার ‘রাত-দিন তফাত’ সৃষ্টি করবে।
ক্যান্সার রুখতে প্রতিদিন এই ফলের রস খান
ফলের দোকানে রূপের যাদুতে প্রথমেই আপনার নজরে কেড়ে নেয় বেদানা। শুধু রূপের লালিমা নয়, সুমিষ্ট আস্বাদে তার জুড়ি মেলা ভার। সেইসাথে আছে ফলটিতে নানা উপকারি উদ্ভিজ্জ পদার্থের সংমিশ্রণ। শুধু তা-ই নয় একাধিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এ ফলটি বহু রোগের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করে। অতি উপকারি এ ফলটি তাই খাবার তালিকায় নিয়মিত রাখলে অনেক সুফল পান।
১.হু গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যোপাদানে সমৃদ্ধ :
এক কাপ, ১৭৪ গ্রাম বেদানায় থাকে প্রায় সাত গ্রাম ফাইবার, তিন গ্রাম প্রোটিন, ভিটামিন সি থাকে ৩০% আর ডি এ, ভিটামিন কে রয়েছে ৩৬% আর ডি এ, আছে ১৬% আর ডি এ ফোলেট। এছাড়াও ছোট্ট ফলটায় উপস্থিত ১২% আর ডি এ পটাশিয়াম নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে। প্রসঙ্গত, আর ডি এ হলো দেহের প্রয়োজনীয় মোট পুষ্টির পরিমাণ। এক্ষেত্রে আরেকটি বিষয়ও খেয়াল রাখতে হবে যে, শুধু বেদানার রস নয়, এর বীজও পুষ্টি গুণে ভরপুর। এক কাপ বেদানার বীজে প্রায় ১৪৪ ক্যালরি মজুত থাকে। এছাড়াও বেদানায় বহু ঔষুধী গুণ সম্পন্ন উদ্ভিজ্জ পদার্থও আছে।
২.
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধি :

পুনিক্যালাজিন হলো একটি অসাধারণ শক্তি সম্পন্ন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। বেদানার রসে এবং খোসায় প্রচুর পরিমাণে এটি পাওয়া যায়। গ্রিন টি-এর থেকে প্রায় তিন গুণ বেশি পরিমাণে এই পুনিক্যালাজিন বেদানার রসে উপস্থিত থাকে।
৩. পুনিসিক অ্যাসিড রয়েছে প্রচুর পরিমাণে :
বেদানার বীজের তেলে মজুত রয়েছে পুনিসিক অ্যাসিড। বিজ্ঞানের ভাষায় পুনিসিক অ্যাসিড হলো একটি কনজুগেটেড লিনোলেয়িক অ্যাসিড এবং এটি নানা জৈব গুণসমৃদ্ধ। শুধু তাই নয়, এটি একটি উপকারী স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাটি অ্যাসিড হওয়ায় এই উপাদান রক্তে মজুত অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে আনে। ফলে কমে আসে হৃদরোগের সমস্যাও।
৪. প্রদাহজনিত সমস্যা কমায় :
বেদানা নানা ধরনের প্রদাহজনিত সমস্যা নিবারণে সিদ্ধহস্ত। শুধু তাই নয়, পরিপাক তন্ত্রের প্রদাহ এমনকি কোলোন ক্যান্সার প্রতিরোধেও এই ফলটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আমাদের শরীরে প্রদাহজনিত সমস্যার মূল কারণ হল সি আর পি এবং ইন্টারলিউকিন-৬। পরীক্ষায় দেখা গেছে, ২৫০ মিলিলিটার বেদানার রস প্রতিদিন টানা ১২ সপ্তাহ পান করলে শরীরে প্রদাহজনিত সমস্যার ঝুঁকি অনেকাংশেই কমে যায় এবং ইন্টারলিউকিন-৬ এর ক্ষতি করার ক্ষমতা প্রায় ৩২-৩০% কমে যায়।
৫. প্রোস্টেট ও স্তন ক্যান্সার রোধ করে :
বর্তমানে বহু পুরুষই প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত। পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, বেদানার রস ক্যান্সারের কোষের বিভাজনে বাধা দেয়। এমনকি ক্যান্সারের কোষ বিনষ্ট করতেও পারে। তাই প্রতিদিন ২৩৭ মিলিলিটার বেদানার রস খেলে বা বেদানার রস থেকে তৈরি পিওএমএক্স ক্যাপসুল সেবন করলে প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক কমে আসে। আজকের বিশ্বে নারীদের স্তন ক্যান্সার একটি বিরাট সমস্যা। পুরুষদের প্রোস্টেট ক্যান্সার ঠেকানোর পাশাপাশি নারীদের স্তন ক্যান্সার রোধেও বেদানা বেশ কার্যকরী।
৬. উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে :
হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের একটি অন্যতম কারণ হলো উচ্চ রক্তচাপ। সমীক্ষায় জানা গেছে, টানা দুই সপ্তাহ, দিনে ১৫০ মিলিলিটার করে বেদানার রস খেলে রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রায় চলে আসে। ফলে হঠাৎ কোনো অঘটন ঘটার সম্ভাবন কমে।
৭. জীবাণুঘটিত নানা রোগের ওষুধ বেদানার রস :
মুখের ভিতর ঘা, দাঁতের সমস্যা, মাড়ি ফোলা এগুলো সবই আমাদের কাছে খুব পরিচিত সমস্যা। এই সব রোগের পিছনে মূলত ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস অনেকাংশে দায়ি থাকে। বেদানার রসের ঔষুধী গুণ এই সব জীবাণুদের মেরে ফেলে। এছাড়াও বেদানার রস স্মৃতি শক্তি ধরে রাখতে এবং স্নায়ুজনিত নানা সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
সূত্র : ইন্টারনেট

হজের চুক্তি সই : সাগর পথে সৌদির না

চলতি বছরের জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে হজ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ সরকার। চুক্তি অনুসারে, এবার বাংলাদেশ থেকে মোট এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে পারবেন। এর মধ্যে, সরকারিভাবে সাত হাজার ১৯৮ জন আর বেসরকারিভাবে যাবেন এক লাখ ২০ হাজার জন। আজ রোববার সচিবালয়ে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ১৪ জানুয়ারি সৌদি আরবের মক্কায় এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। পানিপথে জাহাজের মাধ্যমে হজযাত্রী পরিবহনে বাংলাদেশ প্রস্তাব দিলেও সৌদি আরব এই প্রস্তাব অনুমোদন করেনি বলেও জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী। ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান জানিয়েছেন, এবারের হজযাত্রী সৌদি এয়ারলাইন্স ও বাংলাদেশ বিমান অর্ধেক অর্ধেক ভাগাভাগি করে পরিবহন করবে।
‘সৌদি আরব সরকার সম্প্রতি সে দেশের নাগরিকদের ওপর পাঁচ ভাগ ভ্যাট আরোপ করেছে। তা হজযাত্রীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করতে চায় সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যেন বাংলাদেশি হজযাত্রীরা এ ভ্যাটের আওতামুক্ত থাকেন’, বলেন তিনি।  এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী আরো বলেন, গত বছর যেসব হজ এজেন্সি অনিয়ম করেছে, যাদের মাধ্যমে হজে গিয়ে বাংলাদেশিরা ফিরে আসেননি, চুক্তি অনুযায়ী সেবা দেয়নি এবং চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত আছে। তদন্তকাজ শেষ হলেই সেসব এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ধর্মমন্ত্রী। গতবারও একই সংখ্যক মুসল্লি হজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। এবারের হজের জন্য এরই মধ্যে মুসল্লিরা প্রাক-নিবন্ধন করেছেন। মন্ত্রণালয় হজ প্যাকেজ ঘোষণা করার পর চূড়ান্ত নিবন্ধন করবেন হজে যেতে ইচ্ছুকরা। সংবাদ সম্মেলন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

টাকা বন্ধ, তাই চাকা বন্ধ

ফেডারেল বাজেটের জন্য অর্থ বরাদ্দে ব্যর্থ হওয়ায় শুক্রবার মধ্যরাতের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের অধিকাংশ অফিসের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গেছে। গভীর রাত ও সপ্তাহের শেষ দিন হওয়ায় এই চাকা বন্ধের প্রতিক্রিয়া এখনো ব্যাপকভাবে অনুভূত হয়নি। তবে দু-এক দিনের মধ্যে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা যদি তাঁদের মতপার্থক্য দূর করতে না পারেন তাহলে উভয় দলই ভোটারদের রোষের শিকার হতে পারে।
হোয়াইট হাউস থেকে বলা হয়েছে, সরকারের কার্যক্রম বন্ধের প্রতিক্রিয়া যাতে সীমিত হয়, সে জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফেডারেল সরকারের কার্যক্রম বন্ধের এই ঘটনা ঘটল ঠিক ২০ জানুয়ারি, যেদিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের এক বছর পূর্ণ হলো। ট্রাম্প নিজেকে সেরা ‘ডিল মেকার’ বা চুক্তি সম্পাদনকারী হিসেবে বারবার উপস্থিত করেছেন, অথচ তাঁর ব্যক্তিগত নেতৃত্বের অভাবেই শেষ পর্যন্ত বাজেট প্রশ্নে কোনো চুক্তি অর্জিত হয়নি। দুই দলের ছয় সদস্যের একটি গ্রুপ তাঁর বিবেচনার জন্য একটি প্রস্তাব রেখেছিল, কিন্তু সরকারের অতিরক্ষণশীল সদস্যদের আপত্তির কারণে ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেন। শুক্রবার রাতে ডেমোক্রেটিক সিনেট নেতা চাক শুমার সমঝোতার লক্ষ্যে ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন, কিন্তু সেখানেও কোনো সমঝোতা অর্জিত হয়নি। বর্তমানে রিপাবলিকান দলের হাতে শুধু হোয়াইট হাউস নয়, কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ১৯৭৬ সাল থেকে এই পর্যন্ত মোট ১৭ বার যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল সরকারের কার্যক্রম বন্ধের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটল যখন একই দলের হাতে সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সরকারের কার্যক্রম বন্ধ বা ‘শাটডাউন’ চলাকালীন ৮ লাখ ফেডারেল কর্মীকে ছুটি দেওয়া হবে। এর মানে হলো এ সময় সরকারি সব পার্ক এবং স্মিথসোনিয়ান জাদুঘরগুলো বন্ধ থাকবে, পাসপোর্ট, ভিসা বা আগ্নেয়াস্ত্রের অনুমতি জুটবে না। তবে ডাক বিভাগ খোলা থাকবে। ফলে চিঠিপত্র লেনদেন করা যাবে। সামাজিক ভাতা অব্যাহত থাকবে। উভয় দলই দাবি করেছে তারা সরকারের কার্যক্রম বন্ধের বিরুদ্ধে। ডেমোক্রেটিক পার্টির দাবি, বাজেট সমঝোতার অংশ হিসেবে ‘ড্রিমার’ হিসেবে পরিচিত প্রায় আট লাখ তরুণ-তরুণী, যাঁরা এ দেশে শিশু অবস্থায় বাবা-মায়ের সঙ্গে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন, তাঁদের পূর্ণ বৈধতা দেওয়া হোক।
ওবামা আমলে তাঁদের সাময়িকভাবে বৈধতা দেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরের মার্চের মধ্যে তাঁদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত না হলে তাঁরা অবৈধ হয়ে পড়বেন ও দেশ থেকে বহিষ্কারের হুমকির মুখোমুখি হবেন। জনমত জরিপ অনুসারে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ তাঁদের বৈধতা প্রদান সমর্থন করে। ট্রাম্প নিজেও নীতিগতভাবে ‘ড্রিমার’দের বৈধতা প্রদানে রাজি। কিন্তু তিনি শর্ত দিয়েছেন এর বদলে তাঁর প্রস্তাবিত মেক্সিকোর সঙ্গে দেয়াল তৈরির জন্য অর্থ বরাদ্দ করতে হবে এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় রকমের পরিবর্তন আনতে হবে। এই পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো এবং ভিসা লটারি ও পারিবারিক ভিসা ব্যবস্থা বাতিল। এক দিন আগে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ আরও এক মাসের জন্য বাজেট বরাদ্দ অনুমোদন করে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। ডেমোক্র্যাটদের প্রলুব্ধ করতে এই প্রস্তাবে ‘চিপ’ নামে পরিচিত শিশু জীবনবিমা কর্মসূচির সমর্থনে আগামী ছয় বছরের জন্য অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা রাখা হয়। শুক্রবার রাতে একই প্রস্তাব সিনেটে উত্থাপিত হলে মোট ৬০টি হ্যাঁ-বাচক ভোট লাভে ব্যর্থ হওয়ায় তা গৃহীত হতে পারেনি। দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ৪ জন রিপাবলিকান সিনেটর প্রস্তাবটির বিপক্ষে ও ৫ জন ডেমোক্রেটিক সিনেটর প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। উভয় দলই মনে করে, সরকারের কার্যক্রম বন্ধের কারণে এ বছরের নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দল ভোটার রোষের শিকার হবে। সর্বশেষ জনমত জরিপে অবশ্য প্রায় ২০ পয়েন্টের ব্যবধানে অধিকাংশ আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টিকেই এই অচলাবস্থার জন্য দায়ী করেছেন, কারণ তারাই এখন ক্ষমতায়। রিপাবলিকান পার্টি দাবি করেছে, অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা প্রদানের মতো অন্যায্য প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটদের একগুঁয়েমিপনার কারণে বাজেট বরাদ্দ প্রশ্নটি গৃহীত হয়নি। ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকদের কাছে এই যুক্তি আদৃত হবে বলে রিপাবলিকানদের ধারণা। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা ভাবছেন ‘ড্রিমার’দের প্রশ্নে অনড় থেকে নিজেদের সমর্থকদের মধ্যে তাঁদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনে সে কারণে তাঁরা পুরস্কৃত হবেন। যেসব রিপাবলিকান-প্রধান অঙ্গরাজ্য থেকে ডেমোক্রেটিক সিনেটররা নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরা রক্ষণশীল ভোটারদের রোষের শিকার হতে পারেন, এই বিবেচনা থেকে শুক্রবার রাতের সিনেট ভোটে বাজেট বরাদ্দ প্রশ্নে রিপাবলিকান প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। বাজেট প্রশ্নে এই দুই দলের পিং পং খেলা অবশ্য থেমে নেই। দুই দলের নেতারাই জানিয়েছেন, এই সপ্তাহান্তের মধ্যেই একটি সমঝোতা প্রস্তাব তাঁরা চূড়ান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন, যাতে সোমবার কার্যদিবসের শুরুতে সরকারের কার্যক্রমের বন্ধ চাকা ফের খুলে যায়।

ট্রাম্পের এখতিয়ার খতিয়ে দেখবেন সুপ্রিম কোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের এখতিয়ার রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করবেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী জুন মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ কয়েকটি দেশের ওপর ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আদালত যে রুল দেবেন, তাকে বলা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার জন্য বড় একটি পরীক্ষা। কারণ, জাতিকে সুরক্ষা দিতে প্রেসিডেন্টের যে দায়িত্ব, তা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের কর্তৃত্ব দেয় কি না, তা পর্যালোচনা করবেন আদালত। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আদেশ সংশোধনের পর গত শরতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন তৃতীয় দফায় আট দেশের ওপর তা আরোপ করে। এই আট দেশ হলো সিরিয়া, লিবিয়া, ইরান, ইয়েমেন,
চাদ, সোমালিয়া, উত্তর কোরিয়া ও ভেনেজুয়েলা। এর মধ্যে উত্তর কোরিয়া ও ভেনেজুয়েলা বাদে বাকি ছয় দেশ মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ। আগের দুই দফাসহ সর্বশেষ দফার ওই নিষেধাজ্ঞাও আটকে যায় নিম্ন আদালতে। তবে গত মাসে সর্বোচ্চ আদালত এই নিষেধাজ্ঞা আংশিক বাস্তবায়নের অনুমতি দেন। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে চলমান আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়ে দেন। সর্বোচ্চ আদালত থেকে জানানো হয়েছে, সানফ্রান্সিসকোয় মার্কিন আপিল আদালতের নবম সার্কিট আদালতের তিন বিচারক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সর্বসম্মতিক্রমে যে রুল দিয়েছেন, তা পর্যালোচনা করবেন সুপ্রিম কোর্ট। ওই রুলে তিন বিচারক বলেছিলেন, ট্রাম্পের আরোপ করা তৃতীয় দফার নিষেধাজ্ঞায়ও প্রথম দুই দফার ত্রুটিগুলো রয়ে গেছে।

দেশীয় পর্যটকে এগোচ্ছে পর্যটনশিল্প

দেশের বিভিন্ন জায়গায় মানুষের বেড়াতে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে বাড়তি এক-দুই দিনের ছুটি পেলে এখন অনেকেই পরিবার, বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন। আবার একদল তরুণ আছেন, নতুন দর্শনীয় স্থান আবিষ্কারের নেশায় সারা বছরই দেশের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়ান। মানুষের এই ঘুরতে যাওয়ার প্রবণতা কাজে লাগিয়ে দেশীয় পর্যটনশিল্প এখন ক্রমেই বাড়ছে।  পর্যটন খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পর্যটকদের পছন্দের বেড়ানোর তালিকায় এক নম্বরে আছে কক্সবাজার। পরের অবস্থানে আছে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি। পছন্দের তালিকার তৃতীয় অবস্থানে আছে সিলেট। হজরত শাহজালাল ও শাহপরানের মাজার জিয়ারত ছাড়াও সিলেটের চা-বাগানসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত জায়গাগুলোতে যাচ্ছেন পর্যটকেরা। বেড়ানোর তালিকায় আরও আছে সুন্দরবন, কুয়াকাটা, সেন্ট মার্টিন, পাহাড়পুর প্রভৃতি। ঘুরতে যাওয়ার জন্য ঢাকার খুব কাছে গাজীপুরের বিভিন্ন রিসোর্টও এখন বেশ জনপ্রিয়। পর্যটন ব্যবসায়ীদের সংগঠন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) হিসাব অনুযায়ী, বছরে এখন ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যান। বছর পাঁচেক আগেও এ সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ লাখ ছিল। আর ২০০০ সালের দিকে এ সংখ্যা ছিল মাত্র ৩ থেকে ৫ লাখ। ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের পর্যটন খাতে সরাসরি কর্মরত ১৫ লাখ মানুষ। আর পরোক্ষভাবে আরও ২৩ লাখ লোক এ খাতের সঙ্গে যুক্ত।
সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান তৈরি করেছে এ খাত। আর্থিক মূল্যে দেশীয় পর্যটন খাতের আকার দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৪ হাজার কোটি টাকার। সমুদ্র ও পাহাড় একসঙ্গে দেখার সুযোগ থাকায় কক্সবাজার দেশীয় পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয়। আগে শীতের মৌসুমে বেশি ভিড় থাকলেও এখন প্রায় সারা বছরই কক্সবাজারে পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর থাকে। পর্যটকদের আবাসন সুবিধার জন্য কক্সবাজারজুড়ে এখন ৪৫০ হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে পাঁচতারকা মানের হোটেল যেমন রয়েছে, তেমনই আছে কম খরচে থাকার ব্যবস্থা। পরিবহন ব্যবসায়ীদের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে গড়ে কমপক্ষে ১০০টি বাস ছেড়ে যায়। বাংলাদেশ বিমান ও তিনটি বেসরকারি বিমান সংস্থার প্রতিদিন গড়ে ১০টি ফ্লাইট কক্সবাজারে যায়। এ হিসাবে সড়ক ও আকাশপথে কক্সবাজারে যান বছরে ১৫ লাখ মানুষ। এ ছাড়া রেলপথে চট্টগ্রামে গিয়ে সেখান থেকে সড়কপথে ও ব্যক্তিগত গাড়িতে আরও ২-৩ লাখ লোক কক্সবাজারে যান। সব মিলিয়ে বছরে প্রায় ২০ লাখ পর্যটককে আতিথেয়তা দেয় কক্সবাজার। পার্বত্য তিন জেলা পর্যটকদের প্রিয় হলেও এখানে আবাসনব্যবস্থা কম। তাই এখানে দিনে বেড়ানো পর্যটকের সংখ্যাই বেশি। কিন্তু সিলেটে আবার বিষয়টি উল্টো। সিলেট চেম্বার অব কমার্সের হিসাবে, পুরো সিলেট শহরে এখন ৩২৫টি ছোট-বড় হোটেল রয়েছে। এর বাইরেও কিছু হোটেল আছে যেগুলো হিসাবের বাইরে। সব মিলিয়ে প্রতিবছর সিলেটে ১০ থেকে ১২ লাখ মানুষ আসেন, যা দেশের ভেতরে পর্যটকসংখ্যায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
দক্ষিণাঞ্চলে পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য সুন্দরবন। বছরে আড়াই লাখ লোক এখন সুন্দরবনে বেড়াতে যান। উত্তরবঙ্গে পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে আছে নওগাঁর পাহাড়পুর, বগুড়ার মহাস্থান ও দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দির। এসব জায়গায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ পর্যটক যান। টোয়াবের সভাপতি তৌফিক উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, অভ্যন্তরীণ পর্যটক বৃদ্ধির মূল কারণ দেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ। মানুষের আর্থিক সামর্থ্য এখন আগের চেয়ে বেড়েছে। ফলে ট্যুর অপারেটরদের ব্যবসা আগের চেয়ে ভালো হচ্ছে।
অপরিকল্পিত অবকাঠামো ও যোগাযোগব্যবস্থার সমস্যা
খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের অনেক পর্যটনকেন্দ্রেই পর্যাপ্ত অবকাঠামো সুযোগ-সুবিধা নেই। আবার যেখানে অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে, সেখানে পরিকল্পিত উপায়ে কাজ হচ্ছে না। অপরিকল্পিত অবকাঠামোর সবচেয়ে বড় উদাহরণ কক্সবাজার। অতিরিক্ত পর্যটকের ভারে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও এখন হুমকির মুখে পড়েছে। একই অবস্থা তৈরি হয়েছে সুন্দরবন, সিলেটের রাতারগুল, জলারবনসহ বেশ কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্রে। আবার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র পর্যন্ত যাওয়ার যোগাযোগব্যবস্থাও ভালো নয়। সরকারিভাবে দেশে পর্যটনশিল্পের প্রসারে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড কাজ করছে। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা পর্যটনকেন্দ্র এবং এগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে ১৭টি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২০১০ সালে তৈরি জাতীয় পর্যটন নীতিমালায় এ বিষয়ে সমন্বয়ের কথা বলা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। জানতে চাইলে বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় যদি তাদের উন্নয়ন ভাবনায় পর্যটনকে সম্পৃক্ত করে, তাহলেই এ খাতের প্রত্যাশিত উন্নয়ন সম্ভব। এ জন্য পর্যটন বোর্ড চেষ্টা করে যাচ্ছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে নদীর দুই পারে আলাদা পর্যটনকেন্দ্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত নেই। অথচ এ প্রকল্প ঘিরে নদীভিত্তিক একটা পর্যটনব্যবস্থা সহজেই তৈরি করা সম্ভব।
কমছে বিদেশি পর্যটক
অভ্যন্তরীণ পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও উল্টো অবস্থা বিদেশি পর্যটক আগমনে। দেশে এখন বছরে বিদেশ থেকে কত পর্যটক আসেন, এর সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে নেই। তবে জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএনডব্লিউটিও) হিসাবে দেখা যাচ্ছে, দেশে গত সাত-আট বছর ধরে বিদেশি পর্যটক কমেছে।
ইউএনডব্লিউটিওর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ সালে বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ছিল ৩ লাখের কিছু বেশি। ২০১৪ সালে এ সংখ্যা কমে ১ লাখ ২৫ হাজারে নেমে এসেছে। বিদেশি পর্যটক নিয়ে এরপর আর কোনো তথ্য বাংলাদেশ থেকে ইউএনডব্লিউটিওকে দেওয়া হয়নি। একই সময়ে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপালে পর্যটকসংখ্যা প্রতিবছরই বেড়েছে। যেমন ভারতে ২০১০ সালে বিদেশি পর্যটক ছিল ৫৭ লাখ ৭৬ হাজার, ২০১৬ সালে বৃদ্ধি পেয়ে ১ কোটি ৪৫ লাখ হয়েছে। একাধিক দেশীয় ট্যুর অপারেটর কোম্পানির সঙ্গে কথা বলেও বিদেশি পর্যটকসংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি জানা গেছে।
ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির ভূমিকা
দেশীয় পর্যটনের প্রসারে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক একটা বড় ভূমিকা রাখছে। সুযোগ পেলেই দেশের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তরুণেরা। সেই ভ্রমণের ছবি ও গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর সেই স্থানে যেতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন অন্যরা। তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই রাতারগুল, বিছনাকান্দি, হামহাম, সাজেকের মতো বিভিন্ন জায়গা মানুষের কাছে পরিচিতি পেয়েছে। দেশের মানুষের পাশাপাশি অনেক বিদেশিও ইন্টারনেটে এসব স্থানের বর্ণনা দেখে বাংলাদেশে আসতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। অল্প পরিচিত কিংবা নতুন নতুন স্থান হয়ে উঠছে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র। প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে দেশের পর্যটন খাত গতিশীল হচ্ছে।
ভ্রমণ নিয়ে ফেসবুকে অনেক পেজ রয়েছে। এর মধ্যে ট্রাভেলার্স অব বাংলাদেশ, হ্যালো ট্রাভেলার্সের মতো গ্রুপগুলো জনপ্রিয়। ট্রাভেলার্স অব বাংলাদেশ গ্রুপের সঙ্গে সংযুক্ত প্রায় সাড়ে ৭ লাখ লোক। বেড়াই বাংলাদেশে রয়েছেন ৮২ হাজার, হ্যালো ট্রাভেলার্সে সাড়ে ৩ হাজার মানুষ সংযুক্ত রয়েছেন। এ ছাড়া ফেসবুকে ব্যক্তিগত অনেক পেজ আছে, যেখানে ভ্রমণবিষয়ক অনেক লেখা, ছবি পোস্ট করা হয়। এসব গ্রুপ বা পেজ ঘেঁটে দেখা গেছে, কোথাও ঘুরে এসে পর্যটকেরা ভ্রমণ-সম্পর্কিত ছবি, লেখা প্রকাশ করছেন। অন্যদিকে নতুন কোথাও যেতে চাইলে কীভাবে যেতে হবে, কেমন খরচ হবে-এমন প্রশ্নের উত্তরও দিচ্ছেন গ্রুপের সদস্যরা।

পুঁজিবাজার ফাটকা বাজার নয়: অর্থমন্ত্রী

পুঁজিবাজার কোনোমতেই ফাটকা বাজার নয়, বলেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যাঁরা এমনটি মনে করেন, তাঁরা পুঁজিবাজারের শত্রু।’ গতকাল সিলেটে দিনব্যাপী ‘বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা কনফারেন্স এবং বিনিয়োগ শিক্ষা মেলা ২০১৮’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী। অথচ ২০১২ সালের সংসদে বাজেট অধিবেশনে সম্পূরক বাজেটের ওপর এক আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী শেয়ারবাজারকে ‘দুষ্টু শেয়ারবাজার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ওই সময় মন্ত্রী আরও বলেন, ‘১১ লাখ বিনিয়োগকারীর হাতেই শেয়ারবাজার সীমাবদ্ধ।
এটা নিয়ে চিন্তা না করলে অর্থনীতির কোনো ক্ষতিই হবে না।’ ২০১২ সালের ১২ জুন এ খবর ‘অর্থমন্ত্রী বললেন “দুষ্টু শেয়ারবাজার”’ শিরোনামে প্রথম আলোতে ছাপা হয়েছিল। এদিকে গতকাল সিলেটের আরামবাগ এলাকায় আমানউল্লাহ কনভেনশন সেন্টারে বিনিয়োগ শিক্ষা মেলার উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‌‘সরকার সাত বছরে পুঁজিবাজারের ভিত্তি মজবুত করতে সক্ষম হয়েছে। এখন পুঁজিবাজার বিকাশের সময়। আইপিও বৃদ্ধির মাধ্যমে পুঁজিবাজার ব্যাপক প্রসার লাভ করবে, ফলে শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে।’ বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ে অর্থমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজার এখন আন্তর্জাতিক মানের একটি বাজারে পরিণত হয়েছে। সব সমস্যা কাটিয়ে দ্রুত বিকাশমান খাত। পুঁজিবাজার বিকাশে জনগণের অংশগ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেবল ভাগ্যের ওপর নির্ভর না করে বিনিয়োগকারীদের জেনেশুনে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা উচিত।’ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন।

নির্বাচনী বছরে ঋণে লাগাম নয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণের লাগাম টানার উদ্যোগে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি এমন পরিকল্পনা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, নির্বাচনী বছরে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তাতে সুদহার ও মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে। এমনকি নতুন ঋণসীমা নির্ধারণ করা হলে তা সমন্বয় করতে বাড়তি ২০-২৫ হাজার কোটি টাকা নতুন আমানত প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এমন মতামত তুলে ধরেছে এবিবি। সংগঠনটির পক্ষে ভাইস চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হুসেইন ১৫ জানুয়ারি এ চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে এবিবি বলেছে, ঋণের হার কমানো হলে চলতি মূলধন, সাধারণ ঋণ বিতরণ, আমদানি বিল ও বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন অব্যাহত রাখা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়বে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের পাশাপাশি করপোরেট উদ্যোক্তারা তহবিল সংকটে পড়বে। তাই নির্বাচনী বছরে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করা ব্যাংকগুলোর জন্য কঠিন হবে বলে মনে করছে এবিবি। ৩ জানুয়ারি সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সর্বশেষ মুদ্রানীতিতে ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ। মুদ্রানীতিতে লক্ষ্য ছিল এ খাতে ঋণপ্রবাহ ১৬ দশমিক ২ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকবে, নভেম্বরেই তা ১৯ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ হয়ে গেছে। তাই ঋণের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে ঋণ আমানত অনুপাত (অ্যাডভান্স ডিপোজিট রেশিও বা এডিআর) কমিয়ে আনা হবে বলে ওই সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে উন্নয়ন ব্যাহত হবে, এমন যুক্তি তুলে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা এখন এ সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমানে প্রচলিত ব্যাংকগুলোর জন্য ঋণ আমানত অনুপাত ৮৫ শতাংশ ও ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর জন্য ৯০ শতাংশ। জানতে চাইলে এবিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও যমুনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা নির্বাচনী বছর, তাই উন্নয়নকাজ বেশি হবে। ঠিকাদারসহ অনেকের ঋণের চাহিদাও বাড়বে। আর উন্নয়ন না হলে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হবে।
এ কারণে হঠাৎ করে ঋণ আমানত অনুপাত কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত আসবে না বলে আমরা মনে করি।’ গভর্নরের কাছে পাঠানো চিঠিতে এবিবি বলেছে, ‘আমরা উদ্বিগ্ন যে নিকট ভবিষ্যতে ঋণ আমানত অনুপাত কমিয়ে ৮০ দশমিক ৫ শতাংশ বা এর আশপাশে নামিয়ে আনা হবে। এমনটা হলে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার আমানতের প্রয়োজন হবে। আমরা আরও উদ্বিগ্ন যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদের হার বাড়বে। কারণ, বাড়তি আমানত সংগ্রহের জন্য ব্যাংকগুলোকে আমানতের সুদ বাড়িয়ে দিতে হবে। তাতে শুধু এক ব্যাংকের আমানত আরেক ব্যাংকে চলে যাবে, নতুন আমানত আসবে না। কারণ, যে ব্যাংক আমানতের সুদ বাড়াবে, বিদ্যমান আমানতকারীরা অন্য ব্যাংক থেকে অর্থ তুলে সেই ব্যাংকে খাটাবে। আবার আমানতের সুদ বাড়লে ব্যাংকগুলো ঋণের সুদও বাড়িয়ে দেবে, যা মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করবে।’ এ অবস্থায় নতুন ঋণসীমা নীতিমালা করা হলে তা বাস্তবায়নে এক বছর সময় চেয়েছে এবিবি। সংগঠনটি বলেছে, যাদের ঋণসীমা বেশি, তাদের ক্যামেলস রেটিং নেতিবাচক করা যেতে পারে। এ ছাড়া ব্যাংকের মূলধনের ভিত্তি বাড়াতে টায়ার-২-এর আওতায় সাব-অর্ডিনেটেড বন্ডের যে তহবিল রয়েছে, সেটা ঋণসীমা হার হিসেবে গণ্য করার দাবি জানিয়েছে এবিবি। একই সঙ্গে অব ব্যালেন্সশিট আইটেমের বিপরীতে ব্যাংকের যে ১ শতাংশ সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হয়, তাতেও ছাড় চেয়েছে এবিবি। ৩ জানুয়ারি ব্যাংকার্স সভা শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেছিলেন, ‘ঋণ বিতরণ প্রবৃদ্ধি ১৯ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এতে তারল্য সংকট হতে পারে। এ জন্য ঋণসীমা কমানো হতে পারে। নতুন মুদ্রানীতিতে এ বিষয়ে নির্দেশনা থাকবে।’ সূত্র জানায়, ঋণসীমা কমানো হবে, এমন পরিকল্পনা নিয়ে মুদ্রানীতি প্রণয়নের কাজ চলছে। তবে শেষ পর্যায়ে সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রবীণের করুণ মৃত্যু

গান বা সংগীত মানুষের মনকে সুন্দর ও শুদ্ধ করে বলে এত দিন যে ধারণা ছিল, সেটিকে মিথ্যা প্রমাণ করলেন গোপীবাগের আর কে মিশন রোডের বাসিন্দা আলতাফ হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা। উচ্চ স্বরে সংগীত বাজানোর আপত্তি করায় তাঁরা ৬৫ বছর বয়সী এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে কার্যত হত্যা করতেও দ্বিধা করেননি। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ভাতিজার গায়েহলুদ উপলক্ষে ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন বাড়ির ছাদের ওপর কমিউনিটি হলে উচ্চ স্বরে গান বাজাতে থাকলে সেই ভবনেরই আরেক বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হকের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছিল। তাঁর ছেলে নাসিমুল হক বিষয়টি বাড়ির কেয়ারটেকারকে জানালে আলতাফ হোসেন তাঁর সঙ্গে রূঢ় আচরণ করেন।
কিন্তু ঘটনা এখানেই শেষ হয়ে যায়নি। পরদিন আলতাফ হোসেন নাসিমুল হককে ডেকে পাঠালে বিপদ আঁচ করতে পেরে তাঁর সঙ্গে অসুস্থ বাবা, মা, বোন ও স্ত্রীও নিচে নেমে আসেন। সেখানে পৌঁছাতেই আলতাফ হোসেন দলবল নিয়ে নাসিমুলের ওপর হামলা চালান। এ সময় বাবা নাসিমুলকে রক্ষায় এগিয়ে এলে আক্রমণকারীরা তাঁকেও মারধর করেন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। ঘটনাটি এতটাই ঘৃণ্য যে নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। তাহলে কি একজন অসুস্থ মানুষের ঘুমের সমস্যা হলে প্রতিকার চাওয়া যাবে না? সমাজে মনুষ্যত্ব, ভ্রাতৃত্ববোধ বলে কি কিছু নেই? যেখানে একজন প্রবীণের ঘুমের ব্যাঘাত হওয়ার কথা জেনে আলতাফ হোসেন ও তাঁর সহযোগীদের লজ্জিত হওয়ার কথা, সেখানে সদলবলে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।  নিহত নাজমুল হকের ছেলে নাসিমুল বলেছেন, আলতাফ হোসেন ও তঁার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবেই তাঁদের ওপর চড়াও হয়েছেন। ঘটনা পরিকল্পিত হোক আর যা-ই হোক, এই ঘটনার পরিণতিতে একজনের মৃত্যু ঘটেছে। এর যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আলতাফ হোসেন ও তাঁর সহযোগীদের জানার কথা আবাসিক এলাকায় উচ্চ স্বরে গান বাজানো যায় না। শব্দদূষণের বিষয়ে উচ্চ আদালতেরও নির্দেশনা রয়েছে।

আজ আখেরি মোনাজাত

টঙ্গীর তুরাগতীরে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং পরিবার, দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহসহ সারা দুনিয়ার শান্তি ও কল্যাণ কামনার মধ্য দিয়ে আজ শেষ হচ্ছে তাবলিগ জামাতের বার্ষিক সম্মেলন বিশ্ব ইজতেমা। এটা ছিল বিশ্ব ইজতেমার ৫৩তম আসর। ১২ জানুয়ারি শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ১৪ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রথম পর্ব। এতে বাংলাদেশ ছাড়াও ৯৮টি দেশের প্রায় ২০ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান অংশ নেন। দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা শুরু হয় ১৯ জানুয়ারি। এ উপলক্ষে নেওয়া হয়েছিল সাত স্তরের নিরাপত্তা। মুসলমানদের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ তুরাগতীরের এই বিশ্ব ইজতেমা। এর প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে, দেশ-বিদেশের ইমানদার ত্যাগী আলেম-ওলামাদের মাধ্যমে পবিত্র কোরআন ও ইসলামের শান্তির বাণী সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। মানুষকে দ্বীনের পথে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করা। ইজতেমায় যাঁরা আসেন, তাঁরা ইসলামের পবিত্র শিক্ষাকে বুকে ধারণ করে জাগতিক ও পারলৌকিক মুক্তির পথ খুঁজে পেতেই আসেন। এবার ইজতেমা শুরুর আগে বিশ্ব তাবলিগ মারকাজের শীর্ষ মুরব্বি ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীর আগমনকে কেন্দ্র করে অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় তাবলিগ জামাতের মুরব্বিদের মধ্যে যে ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল, তা আলোচনার মাধ্যমে আগেই নিষ্পত্তি করা গেলে ভালো হতো।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে এমন একটি মহতী সমাবেশের আগে অবরোধ করে রাস্তা বন্ধ করার ঘটনা ঘটেছে এবং এতে জনগণ দুর্ভোগের মুখে পড়েছিল। কোনো বিষয়ে মতভেদ দেখা দিলে তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সুরাহা করা প্রয়োজন এবং শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে। স্বস্তির বিষয় যে সুষ্ঠুভাবে বিশ্ব ইজতেমা শেষ হচ্ছে আজকের আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে। ভবিষ্যতে যাতে এমন কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। এ ধরনের ভুল–বোঝাবুঝি সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে বিশ্ব ইজতেমা ও বাংলাদেশ সম্পর্কে ভুল বার্তা দিতে পারে। এবারের বিশ্ব ইজতেমার উল্লেখযোগ্য দিক হলো, আরবির পাশাপাশি বাংলায় হেদায়েতি বয়ান ও আখেরি মোনাজাত করার উদ্যোগ। এতে আমাদের দেশের মুসল্লিরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আমরা আশা করব, ভবিষ্যতে আমাদের দেশে বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে বিশ্ব মুসলিমের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হবে। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অব্যাহতভাবে ভূমিকা পালন করে যাবে।

কুর্দিরা আবারও প্রতারিত হবে by রবার্ট ফিস্ক

কর্নেল টমাস ভিয়েলকে এক অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ করতে হয়েছে। সিরিয়াকে জাতিভিত্তিক দল-উপদলে বিভক্ত করার যে প্রচেষ্টা পশ্চিমারা হাতে নিয়েছে, তা ঘোষণা দেওয়ার দায় তাঁর ওপরই বর্তেছে। এই ব্যক্তি ক্যানসাস বিশ্ববিদ্যালয় ও মার্কিন মিলিটারি একাডেমির স্নাতক। এই ঘোষণার মর্ম তিনি বুঝুন আর না বুঝুন, তিনি বেশ খোলামেলাভাবে আরেকটি নতুন ও প্রধানত কুর্দি বাহিনীর জন্মের কথা বলেছেন, যারা কাগজে-কলমে সিরিয়ার শত শত বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করে আছে। ৩০ হাজার সেনা নিয়ে গঠিত শক্তিশালী ‘বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স’ ইউফ্রেটিস নদীর দক্ষিণ পারের তল্লাশিচৌকি পাহারা দেবে।
উল্লিখিত কর্নেলের কথা উদ্ধৃত করে বলতে হয়, ‘এমনভাবে এই বাহিনী গঠন করা হয়েছে যাতে এটি জনগণের সব অংশের প্রতিনিধিত্ব করে, লৈঙ্গিক ও জাতিগত-উভয় দিক থেকেই।’ অর্থাৎ কুর্দি সেনারা কুর্দি জনগণের নিরাপত্তা দেবে। অন্যদিকে তুরস্ক সীমান্তের পাশে আরব সেনারা অ-কুর্দি জনগণকে পাহারা দেবে। কিন্তু এর মাধ্যমে গৃহযুদ্ধকে আরও উসকে দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত যে কতটা দ্ব্যর্থবোধক, সেটা বোঝা যায় সিরিয়ার সরকার ও তুরস্কের মধ্যে তারা যে ক্ষণস্থায়ী ঐকমত্য গঠন করিয়েছিল, তা দিয়ে। সিরিয়ার সরকার একদিকে দেশটির প্রতি ইঞ্চি ভূমি আইএস, আল-কায়েদা এবং বিভিন্ন পশ্চিমা ও ইউরোপীয় বাহিনীর হাত থেকে উদ্ধার করতে মরিয়া ছিল, যেখানে তুরস্ক সেই একই সময়ে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে উৎখাত করতে চাইছিল। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এই নতুন মার্কিন প্রক্সি ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’কে গলাটিপে শেষ করার অঙ্গীকার করেছেন। তুরস্ক মনে করে, এই নতুন বাহিনী ‘সন্ত্রাসী’ কুর্দিশ ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকের নিয়ন্ত্রণাধীন। আসাদ সরকার এই নতুন বাহিনীকে সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের প্রতি ‘নির্লজ্জ আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়া দেশভাগের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছে। তবে তুরস্ক ও সিরিয়া উভয়ই ঠিক। আর রাশিয়ার তো ইউক্রেন ভাগ করার অভিজ্ঞতা আছে।
সে কারণে তারা জানে, কীভাবে মার্কিনদের শঠতা ধরতে হয়। এর সূত্রপাত যুদ্ধের শুরুর দিকে। ওই সময় স্থানীয় কুর্দিদের ‘পিপলস প্রোটেকশন ইউনিট’কে (ওয়াইপিজি) দামেস্কের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আইএস, আল-কায়েদা (পরবর্তীকালে নুসরা) ও অন্যান্য জিহাদি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে উৎসাহিত করেছে, যারা সিরিয়া রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। সিরিয়ার সেনাবাহিনী এই ওয়াইপিজিকে আত্মরক্ষার জন্য শত শত অস্ত্র দিয়েছে। এমনকি যুদ্ধের শুরুর দিকে আইএস ও আল-কায়েদা ‘সন্ত্রাসীদের’ প্রতিহত করার জন্য কুর্দিদের প্রশংসাও করেছে। এই কেবল তিন বছরের কিছু সময় আগের কথা, তুরস্কের কামিশলি সীমান্তে আমি এক সপ্তাহ সিরীয় বাহিনী ও তাদের কুর্দি ‘মিত্রদের’ সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। কুর্দিরা বরাবরের মতো উত্তরাঞ্চলে ‘ফেডারেল’ মধ্যাঞ্চল গঠনের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে জানায়, সিরিয়া সরকারের হাতে তারা যেভাবে নির্যাতিত হয়েছে, সেটা তারা কখনো ভুলবে না। সিরিয়ার সেনাবাহিনী জোর দিয়ে বলেছে, তারা কখনো কুর্দিদের জন্য ‘জায়গা ছেড়ে’ দেবে না। কিন্তু এরপরই যুক্তরাষ্ট্র আইএসকে ধ্বংস করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। একে একে তারা ইরাকের মসুল এবং সিরিয়ার ভেতরে আইএসের ঘাঁটি রাকায় হামলা চালাল। এরপর ওয়াশিংটন প্রথমবারের মতো আসাদ ও আইএসবিরোধী জঙ্গি দল ‘সিরিয়ান ডিফেন্স ফোর্স’ গঠন করে। অন্য সব গোষ্ঠীর মতো এরা জাতিগতভাবে ‘সিরীয়’ ছিল না। কারণ, এতে কুর্দিরাই বেশি ছিল। আবার সিরিয়া রাষ্ট্রকে ‘রক্ষা’ করার ইচ্ছাও এদের ছিল না। আর মার্কিনদের ‘বিমান’-সহায়তা ছাড়া তাদের ভিন্ন ‘শক্তি’ ছিল না। কিছুদিনের মধ্যেই দলটির আদ্যক্ষরা ‘এসডিএফ’ প্রণীত হলো। আর গণমাধ্যমও দ্রুত এর পাশে উদ্ধৃতি চিহ্ন দেওয়া বন্ধ করে দিল। এর মাধ্যমে তারা গোষ্ঠীটিকে মেকি ‘আইনি ভিত্তি’ দিল। এরপর দ্রুতই এর নাম হলো ‘মার্কিন-সমর্থিত এসডিএফ’। তারা সাহসের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলে যুদ্ধ চালিয়ে শেষমেশ গত অক্টোবরে রাকা দখল করল। কিন্তু সিরিয়ার সরকার রাকার মাত্র ১২ মাইল দূরে ছিল। তারা তত দিনে ইউফ্রেটিস নদীতীরবর্তী একটি কাদার দেয়ালঘেরা গ্রামে সমন্বয় কেন্দ্র তৈরি করে ফেলেছে, যেখানে সিরিয়ার সেনাবাহিনী, মার্কিন অস্ত্রে সজ্জিত কুর্দি যোদ্ধা ও রুশ বিমানবাহিনীর কর্নেলরা নিয়মিত সমবেত হতেন। রাকা পুনর্দখলের কয়েক দিন আগে আমার সঙ্গে তাদের সবার দেখা হয়েছে। সিরিয়ার সরকার তত দিনে রাকার পশ্চিমে আসাদপন্থী স্থানীয় সরকার বসিয়েছে। অন্য কথায়, মার্কিন অস্ত্রে সজ্জিত কুর্দিরা রাকার রাস্তা দখল করে রাখলেও সিরিয়া সেখানে তার সার্বভৌমত্ব বজায় রাখবে। এই অঞ্চলে অবশ্য অন্য জাতিগোষ্ঠীরও বসবাস আছে। সেখানে যেমন সুন্নি মুসলমান আছে, তেমনি আছে সিরকাসিয়ান খ্রিষ্টান, আর্মেনিয়ান, তুর্কমেন ও এমনকি চেচেনরা। সে কারণেই উল্লিখিত কর্নেল অঙ্গীকার করেছেন, ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে জাতিভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠা হবে।
ফলে পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে, সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের দিন ফুরিয়ে এসেছে। তারা তো মার্কিনদের সহায়ক সেনা হিসেবে কাজ করেছে, তাই তাদের আরেকটি দ্ব্যর্থবোধক নাম ধারণ করে আবার আবির্ভূত হতে হবে। এবারও গণমাধ্যমে উদ্ধৃতি চিহ্ন ছাড়াই তাদের আদ্যক্ষরা প্রকাশ করবে। যারা তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তের বেশ দূরে সিরিয়ার কিছু ভূমি দখলে রাখবে, যারা তুরস্কের ‘নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করতে পারবে না। এরা পুরোনো নাম এসডিএফের মতো শক্তির জন্য মার্কিন অস্ত্রের ওপর নির্ভর করবে। প্রয়োজনবোধে মার্কিনরা তাদের বিমান-সহায়তাও দেবে। এটা নিশ্চিত, কুর্দিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। নতুন ‘শক্তি’ তত দিনই টিকবে, যত দিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করবে, তাকে টিকিয়ে রাখার দরকার আছে। এরপর তাদের তুরস্ক ও সিরিয়ার দয়ার ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে, যারা আবার উভয়ে তাকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে। এরদোয়ান ও আসাদ বহুদিন ধরে রাষ্ট্রের শত্রুকে ‘সন্ত্রাসী’ মনে করেন। ব্যাপারটা হলো, সিরিয়া তার ভূখণ্ডে ছোটখাটো কুর্দি রাষ্ট্র সহ্য করতে পারবে না। তুরস্ক দক্ষিণ সীমান্তে এরূপ রাষ্ট্র সহ্য করতে পারবে না, তা সে নিজেকে যত ধর্মনিরপেক্ষ, উদার ও সমাজতন্ত্রী দাবি করুক না কেন। এখন এই বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স যদি দাঁড়িয়ে যায় এবং এক মার্কিনপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী থেকে আরেক গোষ্ঠীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে, তাহলে এরদোয়ান, আসাদ ও পুতিনকে আবারও সমস্বার্থে আলোচনায় বসতে হবে। আর সেটা হলো, সিরিয়ায় মার্কিন রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার অবসান ঘটানো।
অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন, দ্য ইনডিপেনডেন্ট থেকে নেওয়া।
রবার্ট ফিস্ক: দ্য ইনডিপেনডেন্ট-এর মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি।

কে রাবিশ, কে বোগাস? by মীযানুল করীম

১৫ জানুয়ারি পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় প্রবীণ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের একটি বক্তব্য এসেছে শিরোনামে। তা হলো- ‘এটা রাবিশ অ্যান্ড বোগাস’। তিনি হরহামেশাই নানা বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে এ ধরনের কথা বলে থাকেন। তাই এখন আর এটা কাউকে অবাক করে না। সবাই জানেন, মানুষের মুদ্রাদোষ থাকে। তবে এবার যে ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী রাবিশ আর বোগাস বলে গালি দিলেন, তা বিশেষ কোনো দল বা ব্যক্তি প্রসঙ্গে নয়। জনজীবনের সাথে সম্পৃক্ত একটি বিষয়ের ওপর এভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। তাই কৌতূহল হওয়াই স্বাভাবিক যে, মন্ত্রী দেশের অর্থনীতি সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন নিয়ে এত ক্ষেপে গেলেন কেন? এর যুক্তি বা প্রয়োজন আছে কি না।
১৩ তারিখে প্রকাশিত সিপিডির ওই গবেষণা প্রতিবেদন প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলছেন, সিপিডির প্রতিবেদন প্রকাশ করার পেছনে দুরভিসন্ধি আছে এবং তাদের দেয়া তথ্য বাস্তবভিত্তিক নয়। বেসরকারি ‘থিংকট্যাংক’ সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) গত ১৩ জানুয়ারি তাদের একটি ‘গবেষণা প্রতিবেদন’ প্রকাশ করেছে আনুষ্ঠানিকভাবে। ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের পশ্চিম পাশে অবস্থিত সিরডাপ অডিটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সিপিডি তার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। বিষয় ছিল, বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতি। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের মূল সুর ছিল, দেশে প্রবৃদ্ধির হার বাড়লেও আয়ের বৈষম্য ও দারিদ্র্য কমছে না। ফলে চলতি বছর দেশের অর্থনীতি অতিরিক্ত ঝুঁকির মুখে পড়বে। ২০১৭ সালের আর্থিক দুর্বলতার পাশাপাশি ব্যাংক দখল, অর্থপাচার, দারিদ্র্য ও সম্পদের বৈষম্য বৃদ্ধি, জিডিপি প্রবৃদ্ধির মান উন্নত না হওয়া, প্রভৃতির পরিণামে দারিদ্র্য ও বৈষম্য থাকবে অব্যাহত। গত বছরটি বাংলাদেশে ‘ব্যাংক-কেলেঙ্কারির বছর’ হিসেবে চিহ্নিত হবে। আর্থিক খাতের অব্যবস্থাপনার সাথে আসন্ন সংসদ নির্বাচন যোগ করবে বাড়তি ঝুঁকি। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারকে তাগিদ দেয়া হয়েছে অর্থনৈতিক সুব্যবস্থাপনার জন্য। সিপিডি মনে করে, এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দূরদর্শিতাসহ যথাযথ নীতি অনুসরণ করতে হবে। এসব কিছু শুধু সিপিডির পর্যবেক্ষণ নয়, দেশের সচেতন নাগরিকসহ ওয়াকিবহাল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানমাত্রই প্রায় অভিন্ন উপলব্ধি প্রকাশ করে আসছেন। প্রবৃদ্ধির তোড়জোড়ের পাশাপাশি বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে কি না, কিংবা ধনী আরো ধনী এবং গরিব আরো গরিব হচ্ছে কি না, দুর্নীতি ও দলবাজি দেশে বেড়েছে না কমেছে- এসব কিছু জনগণের ভালো করেই জানা। দখলবাজি আর লুটপাটের চৌহদ্দির আওতায় ব্যাংকও যে চলে এসেছে, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে না। সজাগ দেশবাসী মনে করেন, গণতন্ত্রকে এতিম বানিয়ে, সুশাসন লাটে তুলে, উন্নয়নের ধুয়া তোলা জনমনে বিভ্রান্তির ধোঁয়া সৃষ্টির অপপ্রয়াস। তবুও জাতীয় অর্থনীতি নিয়ে কারো তিক্ত সত্য উচ্চারণ কিংবা স্পষ্ট বক্তব্য সরকারের কাছে সহনীয় নয়। তাই পত্রিকায় দেখা গেল, দুই মন্ত্রী সিপিডিকে একচোট নিলেন। সিপিডি বা আর কোনো প্রতিষ্ঠান বড় কথা নয়; কথা হলোÑ তাদের প্রতিবেদনে যেসব উদ্বেগজনক তথ্য রয়েছে, তা অনেকটাই বাস্তব।
এটা সবার জানা। সবাই দেখছেন, পত্রিকায় পড়ছেন এবং প্রাজ্ঞ অর্থনীতিবিদদের মুখে এসব শুনে আসছেন বছরের পর বছর। ১৫ জানুয়ারি নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর, অর্থমন্ত্রী বলেছেন- সিপিডি বাংলাদেশকে টেনে নামানোর চেষ্টা করছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বললেন, সিপিডি দেশের উন্নয়ন খুঁজে পায় না। অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, সিপিডির রিপোর্ট All are Rubbish. অর্থাৎ মন্ত্রী আলোচ্য প্রতিবেদনটি পুরোই প্রত্যাখ্যান করছেন। এখন মন্ত্রীদের দায়িত্ব হলো, আসলে দেশের অর্থনীতির কী অবস্থা, তার প্রামাণ্য চিত্র তুলে ধরা, যা হবে জনগণের বিশ্বাসযোগ্য ও বাস্তব তথ্য-উপাত্ত-পরিসংখ্যানপূর্ণ। তা যদি সিপিডির উত্থাপিত বক্তব্য থেকে ভিন্ন হয় এবং তার পক্ষে যথেষ্ট যুক্তি-প্রমাণ থাকে, তাহলে দেশের মানুষ সরকারের কথাকেই সঠিক বলে মনে করবে। অন্যথায়, বেসরকারি বা আন্তর্জাতিক মহলের বক্তব্যই অধিক গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হওয়া স্বাভাবিক। অর্থমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়ার একটি স্ববিরোধী দিক রয়েছে। সিপিডির সমালোচনা করে, ২০১৭ কে ‘ব্যাংক কেলেঙ্কারির বছর’ বলা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেছেন, কই- ‘অতবড় কেলেঙ্কারি (হলমার্ক) হয়ে গেল, তখন তো তারা কিছু বলেনি।’ যদি সত্যিই সিপিডি সে ব্যাপারে নিশ্চুপ থাকে, তার সমালোচনা করা যায়। কিন্তু খোদ মন্ত্রী হলমার্কের চার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লুণ্ঠন করার ব্যাপারে বলেছিলেন, ‘এই অর্থের পরিমাণ বেশি নয়।’ বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্য কোনো কোনো পত্রিকায় যেভাবে এসেছে, তাতে মনে হতে পারে সিপিডির গবেষণার চেয়েও এই গবেষণার রিপোর্ট প্রকাশ করে দেয়া বেশি অন্যায়। মন্ত্রী এটাকে ‘দুরভিসন্ধিমূলক’ বলেই ক্ষান্ত হননি, সিপিডির এ রিপোর্ট আর বিএনপির বক্তব্যকে তিনি এক করে দেখেছেন। এর মধ্য দিয়ে যা ফুটে ওঠে তা হলো, যারাই সরকারের প্রচারিত বক্তব্যের সাথে একমত হবে না, তারাই যেন ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোক! অথচ এটা কে না জানে যে, সিপিডি যারা চালান, তারা আর যা-ই হন, অন্তত বিএনপিকে সমর্থন দেবেন না।
তারা আদর্শিকভাবে আওয়ামী লীগের মতোই সেক্যুলার। বিএনপির প্রচারিত ‘ইসলামি মূল্যবোধ’ কিংবা ‘বাংলাদেশী’ জাতীয়তাবাদকে সিপিডির মতো প্রতিষ্ঠান সমর্থন করবে বলে কেউ বিশ্বাস করে না। সিপিডির রিপোর্টে বিগত বছরটাকে ‘ব্যাংক কেলেঙ্কারির বছর’ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে। এটা তো কোনো অতিরঞ্জন কিংবা বিষোদগার নয়। আসলে বাংলাদেশে ফ্রি স্টাইলে ‘আপনজন’রা ব্যাংকের ভাণ্ডার লোপাট করার অপকর্মে নেমেছেন আরো কয়েক বছর আগেই। এটা যদি ব্যাংক খাতের কেলেঙ্কারি না হয়, তো কেবল যৌন অপকর্মই কি ‘কেলেঙ্কারি’ হিসেবে গণ্য হবে? এখনকার সংসদে কারা আছেন, তা জাতি দেখে আসছে ২০১৪ থেকে। কোনো প্রকৃত বিরোধী দল নেই। ‘বিরোধী’ তকমা এঁটে যারা আছেন সেখানে, তারা ‘গাছেরও খান, তলারও কুড়ান’। সবাই ‘আমরা আমরাই তো’। সেই সংসদ পর্যন্ত ব্যাংকিং সেক্টরের নৈরাজ্যে ক্ষুব্ধ না হয়ে পারছে না। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ‘সরকারি’ ও ‘বিরোধী’ উভয় পক্ষের এমপিরা ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট বন্ধ করতে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা শুধু ঋণখেলাপিদের নয়, দুর্নীতি-লুণ্ঠন-অনিয়মের দোসর ব্যাংক কর্মকর্তাদের নামের তালিকাও মিডিয়ায় প্রকাশ করতে বলেছেন। তাদের কথা, ব্যাংকিং খাতের লুটপাট, দুর্নীতি ও অনিয়ম সরকারের যাবতীয় অর্জনকে শেষ করে দিচ্ছে। সংসদ সদস্যরা নতুন করে কোনো ব্যাংকের অনুমতি দেয়ার বিরোধিতা করেছেন। স্মর্তব্য, সম্প্রতি স্বয়ং অর্থমন্ত্রী বলে দিয়েছেন, ‘আমার কাছে নতুন ব্যাংকের অনুমতি চাইলে তা দিয়ে দেবো।’ বিশিষ্ট গবেষক ও কলামিস্ট আফসান চৌধুরী গত বুধবার ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ-এ তার নিবন্ধের শিরোনাম করেছেন- Saying 'rubbish' won't make economic disparity go away (‘রাবিশ’ বললেই অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর হবে না)। সিপিডি বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান দেশের অবস্থা কিংবা অর্থনীতির দশা খারাপ বললে জনগণ কেবল তখনই খারাপ বলে বিশ্বাস করবে, তা নয়। আসলে আমাদের দেশে দীর্ঘ দিনের যে ট্র্যাডিশন দাঁড়িয়েছে সরকারি বক্তব্যÑ বয়ান আর শুমারি-সংখ্যার, তাতে সাধারণ মানুষ তেমন আস্থা রাখতে পারে না। লোকে মনে করে, প্রশাসন বা কর্তৃপক্ষ, এমনকি সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্বও নিজেদের ঢোলটা বেশি বাজায়, আর ‘ময়লা আবর্জনা কারপেটের তলায় লুকিয়ে’ সব সাফসুতরো দেখায়। এ ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক আমলের ‘ঐতিহ্যবাহী’ আমলাতন্ত্রের চরিত্র এবং ক্ষমতাসীনদের সব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের প্রবণতা- এই দুটোরই দায় রয়েছে।
রাবিশ-বোগাস-স্টুপিড-ইডিয়ট
মাননীয় অর্থমন্ত্রী প্রায় সময় কোনো ব্যাপারে নিজের ক্ষোভ, বিরক্তি, আপত্তি, অসন্তোষ প্রভৃতি প্রকাশ করতে গিয়ে যে ক’টি ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করেন, সেগুলোর মধ্যে আছে রাবিশ, বোগাস, ইডিয়ট, স্টুপিড প্রভৃতি। কোনো কোনো সময় তিনি ননসেন্স কথাটাও বলেছেন। স্মর্তব্য, তিনি বিগত পঞ্চাশের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন। অর্থমন্ত্রী সাধারণত কোনো ব্যক্তির ওপর চটলে স্টুপিড আর ইডিয়ট এবং তার কাছে অগ্রহণযোগ্য- এমন বক্তব্য বা বিষয়কে রাবিশ ও বোগাস বলে থাকেন। আমরা জানি, ইংরেজিতে যে কয়েকটা শব্দ গালি বা ভর্ৎসনা হিসেবে বেশি প্রচলিত সেগুলো হচ্ছে- ইডিয়ট, ননসেন্স, স্টুপিড, স্কাউন্ড্রেল, বাস্টার্ড প্রভৃতি। আমাদের সৌভাগ্য যে, কোনো নেতা কিংবা সরকারি কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত শেষের শব্দ দু’টি অন্তত প্রকাশ্যে প্রয়োগ করেননি। যা হোক, আমরা এখন অর্থমন্ত্রীর উল্লিখিত চারটি গালির তাৎপর্য কী, তা দেখব। Oxford Advanced Learner's Dictionary of Current English থেকে জানা যায়, IDIOT-এর দু’টি অর্থ। ক. Person so weak-minded that he is incapable of rational conduct (যে ব্যক্তি এত দুর্বলমনা যে, যুক্তিসঙ্গত আচরণ করতে অক্ষম)। খ. Fool (বোকা)।
STUPID শব্দটির অর্থ : ক. Slow-thinking (দ্রুত চিন্তা করতে অক্ষম); Foolish (সোজা কথায়, ‘বেকুব ও বেআক্কেল’)। খ. In a state of stupor (প্রায় অচেতন অবস্থায় থাকা যার কারণ হতে পারে আঘাত, মাদক সেবন বা মদ্যপান)।
RUBBISH মানে, ক. Waste material (বর্জ্য বস্তু, যা মূল্যহীন ও পরিত্যক্ত বিধায় ছুড়ে ফেলে দিতে হয়। খ. Nonsense, Worthless ideas (অর্থহীন ও মূল্যহীন চিন্তাভাবনা ও ধারণা) গ. Nonsense!(এত বাজে ও বোকামিপূর্ণ যে হতবাক হতে হয়)।
আর Bogus-এর অর্থ হলো, Sham (মেকি) ও Counterfeit (নকল)।
৮৩ বছর বয়সী, তথা আমাদের সবচেয়ে সিনিয়র মন্ত্রী উল্লিখিত চারটি কথা কোন অর্থে বারবার ব্যবহার করে তার ক্ষোভের প্রকাশ ঘটান, তা এই আলোচনা থেকে স্পষ্ট। তিনি সম্প্রতি দেশের প্রধান বিরোধী দল (যে দল কয়েক দফায় সরকার পরিচালনা করেছে) বিএনপি আর যারা এ দল সমর্থন করেন, তাদের ইডিয়ট-স্টুপিড বলেছেন বলে পত্রপত্রিকার খবরে জানা যায়। কিন্তু মন্ত্রীপ্রবরের দলটিকে কেউ আজ পর্যন্ত ইডিয়ট বা স্টুপিড বলেছেন বলে জানা যায় না। যদি বলা হতো, তা হলে প্রতিক্রিয়া যে কত চরম রূপ ধারণ করত, তা বলা বাহুল্য মাত্র। যা হোক, ইডিয়ট-স্টুপিড ধরনের কথাকে সাধারণত মারাত্মক ধরনের গালি হিসেবেই ধরে নেয়া হয়। যিনি এসব বলেন, তিনি তার প্রচণ্ড ক্ষোভ, ঘৃণা ও অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে থাকেন এমন ব্যক্তি বা দল কিংবা কাজের ব্যাপারে যা তার মোটেও সহ্য হয় না এবং যা তার দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ অন্যায় ও অবাঞ্ছিত। আর যাকে বা যাদের এমন গালি দেয়া হয়, তারা সাঙ্ঘাতিক রকম অপমানিত বোধ করে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। কখনো বা এ ধরনের গালি দেয়ার ফলে বেকায়দায় পড়ে কেউ কেউ সুবিধা মতো ‘ব্যাখ্যা’ দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন এবং অভিযুক্তের প্রতি নমনীয় হওয়ার প্রয়াস পান। তবে মাননীয় অর্থমন্ত্রীর এসব ভর্ৎসনা অনেক সময় অর্থহীন হলেও তাকে দুঃখ প্রকাশ অথবা ভুল স্বীকার করতে দেখা যায় না।

অপ্রকৃতিস্থ সমাজের আবির্ভাবের পথ মুক্ত by আলমগীর মহিউদ্দিন

"When plunder becomes a way of life for a group of men in the society, over the course of time they create for themselves a legal system that authorizes it and a moral code that gratifies it"- Claude Frederic Bastiat, French economist.
ফরাসি সংসদ সদস্য ও অর্থনীতিবিদ ক্লদ ফ্রেডারিক বাসতিয়াত তার সমকালীন আর্থ-রাজনৈতিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মন্তব্যটি করলেও তিনি বাস্তবতার নিরিখে একটি সর্বজনীন সর্বকালের সত্য উচ্চারণ করেছিলেন। সমাজের একদল মানুষ উচ্চাকাক্সক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে যদি ক্ষমতা হরণ করে তবে বেশির ভাগ সময়েই দেখা যায়, তারা রাষ্ট্রের সম্পদ লুণ্ঠন করছে। জনগণকে নিষ্পেষণ করছে এবং সামাজিক অনাচার বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাসতিয়াত সত্যই বলেছেন, এরা ক্ষমতায় গিয়ে এমন আইন প্রণয়ন করে এবং প্রশাসন এমনভাবে চালায় যেখানে কেবল তারাই লাভবান হয়। প্রতিবাদী বা বিরোধীরা কোনো উচ্চবাচ্য করতে পারে না অথবা তাদের সেসব অধিকারও কেড়ে নেয়া হয়। এমনও প্রায়ই দেখা যায়, এমন ক্ষমতাবানেরা তাদের প্রতিপক্ষের সব ভালো কাজ ও কথাকে প্রবল প্রচারের মাধ্যমে খারাপ ও বিকৃত বলে প্রচার করছে। বাসতিয়াত মূলত এ গোষ্ঠীর আর্থিক অনাচারের ওপর জোর দিয়েছিলেন এ কথা বলে যে, এটাই সব অন্যায়ের মূল। বাসতিয়াত তাঁর বিখ্যাত বই ‘দি ল’ লেখেন নিজের অভিজ্ঞতা থেকে। ফরাসি পার্লামেন্টে সদস্য হিসেবে তিনি দেখেছেন আইনের ব্যবহার এবং অপব্যবহার। তিনি ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত হয়েছেন আইনের এই অপব্যবহারের দরুণ। তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন এর ব্যবহারের জন্যও। কারণ এই আইন ব্যবহার করেই অমানবিক এবং জনবিরোধী কর্মকাণ্ডগুলোও সম্পাদন করে এক ক্ষুদ্র গোষ্ঠী।
তিনি লিখেছেন, "Legal plunder can be committed in an infinite number of ways, because, there are an infinite number of plans for organizing it : Tariffs, protection, bonuses, subsidies, incentives, the progressive income tax, free education, the right of employment, the right to profit, the right to wages, the right to relief, the right to the tools of production, interest free credit etc etc. And the aggregate to all these plans, in respect to what they have in common, legal plunder, that goes under the name of socialism."
উদ্ধৃতিটা একটু বড় হলেও, বর্তমান অবস্থার চিত্র এত চমৎকার অন্যত্র পাওয়া কঠিন। ভালো ভালো কথা বলে কেমন করে আইন দিয়ে লুণ্ঠন করা হচ্ছে, তা বাসতিয়াত দেখিয়েছেন।
আইন নিয়ে আইনজ্ঞ বাসতিয়াতের আরেকটি মন্তব্য আরো শক্ত অথচ খুব পরিচিত। তিনি বলেছেন, "ometimes the law defends plunder and participates in it, sometimes the law places the whole apparatus of judges, police, prisons and gendarmes at the services of the plunderers, and treats the victim- when he defends himself-as criminal."
এখন খবরের কাগজের পাতায় এবং মুখে মুখে প্রায়ই শোনা যায় বিচারপ্রত্যাশীদের হা হুতাশ। আর শোনা যায় অপরাধীদের হুঙ্কার, অবাধ বিচরণ। বাসতিয়াত ১৬৯ বছরের আগের অবস্থা বর্ণনা করলেও চিত্রটি এখন কতই না পরিচিত। রাজনৈতিক মঞ্চে, খবরের কাগজে এবং ঘরোয়া আলোচনায় এ কখাগুলো উচ্চারিত হচ্ছে। এমনকি এটাও বলছে, আদালত নির্দেশের ছকে চলে। বিচারপ্রার্থীরা বিচার চাইতে এলে অপরাধীর সারিতে পড়ে যাচ্ছে। আইন অপরাধীকে সাজা না দিয়ে নির্যাতিতদের শাস্তি দিচ্ছে। ভাবটা এমন, কেন তুমি প্রতিবাদ করছ, নালিশ করছ? এর সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে অপপ্রচার। মানুষ যখন একটু স্বস্তির বাতাসের জন্য কথা বলছে, তখনই তাদের ওপর খড়গ থেমে আসছে। তারা মিছিল করে প্রতিবাদ করতে পারবে না, সমাবেশ করা হবে নিষিদ্ধ। এ অবস্থাকে বাসতিয়াত এমনভাবে বর্ণনা করেছেন- "They would be shepherds on us, their sheep" জনগণ ভেড়া এবং তারা হলো মেষপালক। এই অবাধ ব্যক্তিগত সুবিধাভোগের জন্য ছোট্ট গোষ্ঠীটি কখনো ক্ষমতা থেকে সরতে চায় না। এরা প্রায়ই ক্ষমতা এবং সম্পদ কুক্ষিগত রাখতে দুর্নীতির প্রশ্রয় দিয়ে তারস্বরে প্রচার করে, কোনো দুর্নীতি নেই। এ জন্যই তারা মিছিল সমাবেশ নিষিদ্ধ করে যেন তাদের কর্মকাণ্ড কখনো সাধারণের গোচরে না আসে। আইন যেন নিজেকেই ধ্বংস করছে।
বাসতিয়াত ‘দি ল’ বইটি লিখেছিলেন ফরাসি বিপ্লবের প্রাক্কালে (১৮৪৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে)। তখন তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণের জন্য এই বইটি লিখেছিলেন। তার প্রধান বার্তা ছিল, ‘প্রায় সব বিপ্লব অবশেষে বিপ্লবকারীদের স্বার্থ রক্ষা করে, জনগণের কথা ভুলে যায়। আর্থিক ক্ষমতার অপব্যবহার দেখা যায় সবচেয়ে বেশি।’ রাদারফোর্ড ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট জন ডাবলু হোয়াইট হেড এই অবস্থার নাম দিয়েছেন ‘ফিনানসিয়াল টিরানি’ (আর্থিক নিপীড়ন)। কারণ এই ক্ষুদ্র ক্ষমতাবান গোষ্ঠী রাষ্ট্র ও জনকল্যাণের কথা বলে ট্যাক্স, চাঁদাসহ আর্থিক নানা বাধা-নিষেধ আরোপ করে, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের নিজেদের স্বার্থেই। দেখা গেছে, এরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ‘গণতন্ত্রের বাহক এবং ধারকে’র লেবাস পরে এ কর্মটি করে থাকে। সমস্যা হয় তখনই যখন অন্য কোনো গোষ্ঠী এর বিরোধিতা করে এবং ভাগ চায়। একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এ দুই গোষ্ঠীই ধর্মের বিরোধিতা করে নানাভাবে। এর মূল কারণ নৈতিকতা। ধর্ম নৈতিকতা শিক্ষা দেয় এবং জীবনধারণের অন্যতম ভিত্তি নির্ধারণ করে দেয়। সেকুলারিজমসহ অন্য কোনো মতবাদে নৈতিকতার স্থান নেই কিংবা থাকেলও তা অনেক নিচে। সেখানে নৈতিকতা তথাকথিত আইন বা নিয়মভিত্তিক; হৃদয় বা মনোবৃত্তিক নয়। ফলে অবিচার-অনাচার সেখানে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে সহজেই করা যায়। তবে এ গোষ্ঠী ধর্মকেও ব্যবহার করে সুকৌশলে এবং জনগণ এখানেই ফেঁসে যায়। কারণ তারাও ধার্মিকের লেবাস পরে থাকে।
বিখ্যাত নৃবিজ্ঞানী রাউল নারোল তার সাড়া জাগানো ‘দি মোরাল কোড’ বইতে মানুষের আচরণ ও কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণে নৈতিকতা কতখানি কাজ করে, তার বিশদ আলোচনা করেছেন। তিনি ‘নৈতিক জাল’ (মোরাল নেট) বলে একটি অবস্থার বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, এটা মানসিক বিষয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং এই জালই মানুষের মন-আধ্যাত্মিক-সামাজিক প্রয়োজনগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং জোগান দিয়ে থাকে। যখন এটার অভাব ঘটে তখনই মানসিক অশান্তি থেকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অশান্তি সৃষ্টি হতে থাকে। ঠিক একই কথা বলেছেন এরিক ফ্রম তার ‘দি সেইন সোসাইটি’ বইতে। তিনি বলেছেন, ‘আজকের দুনিয়াতে সবকিছুই বাজারজাত করা হচ্ছে, এমনকি মানসিকতাকেও। এটা করতে গিয়ে ‘নতুন নতুন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে জীবনযাত্রার প্রয়োজনগুলোকে (এক্সিসটেনশিয়াল নিডস) বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। প্রশ্ন তোলা হচ্ছে পরিচয়, মূল এবং অধিবাসী হওয়া নিয়ে। এমনকি, মানসিক সুস্থতা নিয়ে। অর্থাৎ কোনো সমাজ বা সংস্থার সাথে জড়িত থাকলে এ প্রচারগোষ্ঠী মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। প্রগতিশীলের নামে প্রচলিত সব ব্যবস্থা ভেঙে ফেলতে চায়।
তাই বিশ্বব্যাপী চলছে সামাজিক অস্থিরতা, এরিক মন্তব্য করেছেন। এ সবের মূলে আছে করপোরেশন এবং মুনাফালোভীরা যারা রাষ্ট্রকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। এদের প্রয়োজনে জোগান দিতে সবাইকে বাধ্য করছে; কখনো প্রত্যক্ষভাবে বা কখনো তাদের অজান্তে। রাজনীতি এবং রাজনৈতিক দল ও তাদের সংগঠনগুলোকে প্রধানত ব্যবহার করা হচ্ছে এই সাংস্কৃতিক যাত্রার অঙ্গ হিসেবে। কিন্তু কেউই বুঝতে পারছে না, তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। এরিক ফ্রম মন্তব্য করেছেন, ‘এ অবস্থা ধারণ করে অপ্রকৃতিস্থ সমাজের’ (ইনসেইন সোসাইটি) সৃষ্টি হয়েছে। জালটি এমনভাবে বিছানো যেন কেউ এটা ছিন্ন করতে না পারে। ‘অতীতে কোনো সাংস্কৃতিক আন্দোলন এমনভাবে মানুষকে শৃঙ্খলিত করতে পারেনি। ফলে সমাজ নির্বীর্য, নীতিভ্রষ্ট হয়ে পড়েছে; অশুভ শক্তিগুলো চেপে বসেছে এবং মানুষ অসহায় হয়ে আত্মসমর্পণ করেছে।’ John F Schumaker তার প্রবন্ধ ‘ডিমরালাইজ মাইন্ড’-এ বলেছেন, যদি এখনই এ অবস্থার পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা না করা হয় তবে বিশ্বব্যাপী এক মহাধ্বংসের সূত্রপাত হতে পারে। আর এরিক বলেছেন, ‘গণতন্ত্র বর্তমানের অবয়বে অপ্রকৃতিস্থ সংস্কৃতির অভিভাবক হয়ে অবস্থান করছে।’ এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে সেই মহাবিপর্যয় হবে অবশ্যম্ভাবী।

অভিষেকের দিনেও বউয়ের সাথে ঝগড়া by মাইকেল উলফ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে লেখা বই ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি : ইনসাইড দ্য ট্রাম্প হোয়াইট হাউজ প্রকাশের পরই তোলপাড় শুরু হয়েছে মার্কিন মুল্লুকে। অনুসন্ধানী সাংবাদিক মাইকেল উলফের বইটির প্রকাশনা ঠেকাতে আইনি পদক্ষেপও নিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে তাতে কাজ হয়নি। বরং নির্ধারিত তারিখের আগেই গত ৫ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে বইটি। প্রকাশের প্রথম দিনেই শেষ হয়ে যায় সব কপি। অগ্রিম অর্ডার দেয়া হয় ১০ লাখ কপির। বইটির চুম্বক অংশ নয়া দিগন্তের পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো। ভাষান্তর করেছেন আহমেদ বায়েজীদ।
[পর্ব-৫]
পুরো প্রচারাভিযানের সময় এবং নির্বাচনের পরে আরো জোরালোভাবে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিআইএ, এফবিআই, এনএসসিসহ ১৭টি গোয়েন্দা সংস্থাকে অযোগ্য ও মিথ্যাবাদী বলেছিলেন তিনি। তার ঘনিষ্ঠ একজন জানিয়েছেন, এটি অনেকটা বিমানের অটো পাইলট মুডের মতো, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছেই। তার এই অনর্গল ও বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ অনেক ক্ষেত্রে এমনকি রক্ষণশীল মানসিকতারও বিরোধী ছিল। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে তার সমালোচনায় উঠে এসেছে ইরাকের গণবিধ্বংসী অস্ত্র বিষয়ে মিথ্যা তথ্য, যা ইরাক যুদ্ধের মূল কারণ। আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া ও অন্যান্য যুদ্ধসংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা ব্যর্থতা এবং সর্বশেষ রাশিয়ার সাথে তার সম্পর্কবিষয়ক অতিরঞ্জিত তথ্য ফাঁস করা ছিল এর মধ্যে। ট্রাম্পের এসব সমালোচনা তাকে বামপন্থীদের কাতারে নিয়ে গেল, যারা পঞ্চাশ বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে ‘ভয়ের ছায়ামূর্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আবার উল্টো উদারপন্থীরা এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উভয়ই এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে ভয়ের মধ্যে আছে। বামদের বেশির ভাগই এতদিন অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেনের বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অভিযোগ বিশ্বাস করেননি। তারা মনে করতেন স্নোডেন জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, বরং ভালো কোনো উদ্দেশ্যে তথ্য চুরি করে ফেরারি হয়েছেন। তারাই এখন ট্রাম্পের নিকৃষ্ট রুশ-সংযোগের বিষয়ে গোয়েন্দাদের কথা বিশ্বাস করছেন। ট্রাম্প গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে তাই পাত্তা দিতে চাননি; কিন্তু কুশনার ভেবেছেন, নতুন প্রশাসনের প্রথম কাজগুলোর একটি হওয়া উচিত- সিআইএ’র সাথে আলোচনা। সে অনুযায়ী তিনি সিআইএ কার্যালয়ে গেলেন (পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত আসবে)। অভিষেক অনুষ্ঠান নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প মোটেই সন্তুষ্ট ছিলেন না। তিনি চেয়েছিলেন অনুষ্ঠানটি আরো জাঁকজমকপূর্ণ হোক। ট্রাম্পের বন্ধু টম বারাক দায়িত্ব নিয়েছিলেন অভিষেক অনুষ্ঠানের তহবিল সংগ্রহ ও আয়োজনের। যদিও তার আয়োজনের পরিকল্পনাটি ছিল নতুন প্রেসিডেন্টের চরিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত। ট্রাম্প তার বন্ধুদের বলেছিলেন তাদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে শীর্ষস্থানীয় কিছু তারকাকে অভিষেক অনুষ্ঠানে হাজির করতে; কিন্তু ওইসব তারকা আসলে ট্রাম্পের অভিষেককে এক রকম বয়কট করেছিলেন।
তাদের উপস্থিত করতে না পারায় ট্রাম্প রেগে গিয়ে বলতে থাকেন, ওইসব তারকা আমাকে অপদস্থ করতে চেয়েছেন। পেশাদার সংগঠক স্টিভ ব্যানন শান্তকণ্ঠে প্রেসিডেন্টকে বোঝাতে চাইলেন তাদের অর্জনের গুরুত্ব। বললেন, তার এই সফলতা পরিমাপ করা সম্ভব নয়, কিংবা এটি নিশ্চিতভাবেই ছিল তাদের প্রত্যাশার বাইরে। সংবাদমাধ্যম ও উদারপন্থীরা তবু নিজেদের ব্যর্থতাকে ঠিক মনে করবে। ট্রাম্প ওয়াশিংটনে এসে নিজের প্রতিষ্ঠান ‘ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে’ উঠতে চাইলেও সঙ্গীরা সেটি করতে দেননি। হোয়াইট হাউজের কাছেই সরকারি অতিথি ভবন ব্লেয়ার হাউজে উঠেছিলেন তিনি। তবে অভিষেকের দিন সকালে তার ঘুম ভেঙেছে সিদ্ধান্ত পাল্টানো নিয়ে অনুশোচনায়। ব্লেয়ার হাউজের বিষয়ে একের পর এক অভিযোগ করে যাচ্ছিলেন তিনি। ‘খুব গরম, পানির সরবরাহ ভালো নয়, বিছানা ভালো নয়’ ইত্যাদি। ট্রাম্পের মেজাজের আর উন্নতি হয়নি। সকাল বেলায়ই একচোট ঝগড়া করেছেন স্ত্রীর সাথে। সে সময় মেলানিয়াকে দেখে মনে হয়েছে তার চোখে পানি টলমল করছে এবং হয়তো পরের দিনই ফিরে যাবেন নিউ ইয়র্কে। বেশ কড়া কণ্ঠে স্ত্রীর সাথে কথা বলছিলেন তিনি। কেলিয়ানি কনওয়ে মেলানিয়াকে বোঝাতে চেষ্টা করেন যাতে তিনি প্রেসিডেন্টের পাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে অবস্থান নিতে পারেন; পাশাপাশি তার নিজের অধিকারও বুঝে নিতে পারেন। আর ট্রাম্পকে এটি বোঝাতে চেষ্টা করেছেন যে, মেলানিয়াও হোয়াইট হাউজে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের অভিষেক মানেই, বড় কিছু। সংবাদমাধ্যমের জন্য এ উপলক্ষে একগাদা খবরের ক্ষেত্র তৈরি হয়। দলীয় কর্মীদের জন্য আনন্দের আরেকটি মুহূর্ত এটি। কিন্তু ব্যাননের চেষ্টা ছিল অন্তত তিনটি বিষয় তার বসের মাথায় ঢুকিয়ে দিতে হবে। সেগুলো হলো- তার প্রেসিডেন্সি হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন, অ্যান্ড্র, জ্যাকসনের পর যা আর দেখা যায়নি। তারা জানেন, কারা তাদের শত্রু এবং তাদের ‘বন্ধুত্ব’ তৈরির ফাঁদে পা দেয়া যাবে না। আর সর্বোপরি, প্রথম দিন থেকেই নতুন প্রেসিডেন্টকে ভাবতে হবে যে, তিনি একটি যুদ্ধে আছেন। ব্যানন নতুন প্রেসিডেন্টকে বোঝাতে চেয়েছেন এখানে যে বন্ধুরা আছে তারা হয়তো অন্যত্র শত্রু তৈরি করছে এবং এর কারণ। অভিষেক অনুষ্ঠানের জন্য স্টিভ ব্যানন যে ভাষণ লিখেছিলেন, তার সাথে যেন ট্রাম্পের সে দিনের আগ্রাসী মেজাজটা পুরোপুরি মিলে গেল। ১৬ মিনিটের সেই বক্তৃতার বেশির ভাগ জুড়েই ছিল আমেরিকা ফার্স্ট, সহিংসতা আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পরিকল্পনা। এ সবই যেন ব্যাননের প্রতিদিনকার চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু এটি আরো ভয়ানক হয়ে উঠল ট্রাম্প যখন তার হতাশ আর কাঠিন্য ভরা চেহারা নিয়ে বক্তৃতাটি উপস্থাপন করলেন। নতুন প্রশাসনের মনের কথাটিই ব্যানন সবার কাছে পৌঁছে দিলেন যে, দেশ পাল্টে যাচ্ছে। বক্তৃতা শেষে মঞ্চ থেকে নেমে ট্রাম্প নিজেই কয়েকবার নিজের বক্তৃতার প্রশংসা করলেন। ‘এই বক্তৃতা কেউ ভুলতে পারবে না’। সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ডায়াসে উঠে ট্রাম্পের এই বক্তৃতা সম্পর্কে যে মন্তব্য করলেন সেটি হয়তো উদ্বোধনী বক্তৃতার ঐতিহাসিক পাদটীকা হয়ে থাকবে।
তিনি বললেন, ‘যত্তসব ফালতু কথা’। ওয়াশিংটন তাকে যথাযথভাবে স্বাগত জানাতে ব্যর্থ হয়েছে এই হতাশার মধ্যেও ট্রাম্প পরদিন সকালে অভিষেক অনুষ্ঠান খুবই সফল হয়েছে মর্মে সবার সমর্থন চাইলেন। অনেক বন্ধুর কাছে ফোন করলেন তিনি। বললেন, ‘বেশ ভিড় হয়েছিল। অন্তত ১০ লাখ লোক উপস্থিত হয়েছে; তাই না?’ বন্ধুদের অনেকেই তাতে সম্মতি দিলেন। ব্যাপক লোক সমাগমের বিষয়টি নিশ্চিত করলেন কুশনার, সম্মতি দিলেন রেইন্স প্রিবাস। আর ব্যানন কোনো মন্তব্য না করে একটি কৌতুক বললেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের প্রথম পদক্ষেপগুলোর একটি ছিল, হোয়াইট হাউজের ওয়েস্ট উইংয়ের উদ্দীপনামূলক ছবিগুলো সরিয়ে সেখানে তার অভিষেক অনুষ্ঠানের লোক সমাগমের ছবি টাঙানো। তার বাস্তবিক বিকৃতিকে যুক্তিযুক্ত করতে চাইছিলেন ব্যানন। তিনি বুঝতে পেরেছেন, ট্রাম্প যা ভাবেন, তাই করেন। ভনিতা ও ছল নেই বলেই হয়তো বেশি কথা বলেন কিংবা সত্যকে এড়িয়ে চলেন কখনো। ট্রাম্পের বিষয়ে দু’টি ভিন্ন ভিন্ন তত্ত্ব দাঁড়িয়ে গেল। একটি হলো, তাকে বোঝা যায় এবং স্বাগত জানানো যায়। এই দলে আছেন ট্রাম্পের সমর্থকরা। তারা মনে করতেন ট্রাম্প অধ্যবসায়ী নন, অভিজ্ঞ, সাহসী এবং সাধারণ। অন্য দিকে এর বিপরীত ভাবনা ছিল ট্রাম্পের প্রতি বিরূপ লোকদের। সংবাদমাধ্যম ধরে নিলো ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি বেজন্মা। ট্রাম্পের কৃতিত্ব খাটো করে দেখাতে এবং তাকে ভুল প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লাগল তারা। মিডিয়া এই সত্যটি অনুধাবন করতে ব্যর্থ হলো যে, ভুল যতই থাক তার পরও কাউকে শেষ করে দেয়া যায় না। ট্রাম্প সম্পর্কে ব্যাননের ভাবনাগুলোর সারসংক্ষেপ করলে দাঁড়ায়- ১. ট্রাম্প কখনোই পাল্টান না ২. তাকে পাল্টানোর চেষ্টা করা হলে সেটি বরং তার কাজের ধারাকে নষ্ট করবে ৩. তিনি কেমন সেটি তার সমর্থকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয় ৪. সংবাদমাধ্যম তাকে কখনোই পছন্দ করবে না ৫. সংবাদমাধ্যম নিজেকে যে বস্তুনিষ্ঠতা ও ন্যায়ের রক্ষাকর্তা বলে দাবি করে, সেটি একটি লজ্জা ৬. ট্রাম্পের বৈপ্লবিক বিজয় ছিল প্রচলিত অনুমান ও অভিজ্ঞতার ওপর একটি আঘাত, কাজেই ট্রাম্পের আচরণে বাধা না দিয়ে কিংবা তাকে সংশোধনের চেষ্টা না করে এগুলো মেনে নেয়াই ভালো। সংবাদমাধ্যম ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছে, তার অনেক কিছুই হয়তো সহজে মিথ্যা প্রমাণ করা যেত; কিন্তু ট্রাম্পের অতি কঠোর প্রতিরক্ষা নীতির ফলে সংবাদমাধ্যম তাদের আক্রমণ দ্বিগুণ করল এবং ট্রাম্পকে তিরস্কার করতে শুরু করে দিলো। ট্রাম্প তার বন্ধুদের কাছ থেকেও তিরস্কার পেতে শুরু করলেন। শুধু যে তাকে নিয়ে ভীত বন্ধুরাই তা নয়, তার কর্মীরাও জনগণকে বলতে থাকে তাকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানাতে। জো স্কারবরো একবার টেলিফোনে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করলেন, ‘ওখানে তোমার ঘনিষ্ঠ কে? কার ওপর আস্থা আছে? কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে কার সাথে তুমি আলাপ করো? জ্যারেড কুশনার? জবাবে ট্রাম্প বললেন, ‘ভালো প্রশ্ন করেছ; কিন্তু এর উত্তর হয়তো তোমার পছন্দ হবে না। উত্তর, আমি নিজেই। নিজের সাথে কথা বলে আমি সিদ্ধান্ত নেই।