Friday, August 16, 2019

ভুটান সফরে শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিক, ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে আইনভিত্তিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান

ভুটান সফরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন জে সুলিভান ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আইন-ভিত্তিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

সুলিভান ১২-১৩ আগস্ট ভুটানের রাজধানী থিম্ফু সফর করেন। নবীন হিমালয়ান গণতান্ত্রিক দেশটিতে এটা গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে উঁচু মাপের মার্কিন কূটনীতিকের সফর।

দুই দিনের সফরকালে সুলিভান ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক, প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং, পররাষ্ট্রমন্ত্রী তানদি দর্জি ও অর্থমন্ত্রী লোকনাথ শর্মার সঙ্গে সাক্ষাত করেন।

চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভুটান সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

২০১৭ সালের ১৬ জুন ভুটান, ভারত ও চীনের ত্রিসংযোগ দোকলামে ভারত ও চীনা সেনাদের মধ্যে অচলাবস্থা তৈরি হয়, যা ৭৩ দিন বজায় ছিলো। ভুটানের দাবি করা একটি ভূখণ্ডে চীনের সেনারা সড়ক নির্মাণ শুরু করলে ভারতীয় সেনারা সেখানে গিয়ে বাধা দেয়। চীনা ভূখণ্ডে প্রবেশের জন্য ভারতীয় সেনাদের অভিযুক্ত করে বেইজিং। তবে ভুটানের অনুরোধে সাড়া দিয়ে সেনারা সেখানে গিয়েছে বলে ভারত দাবি করে। যদিও ভারতের দাবির পক্ষে ভুটানের তরফ থেকে স্পষ্ট কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

২৮ আগস্ট উভয় পক্ষের সেনারা পিছিয়ে গেলে অচলাবস্থার নিরসন হয়। ভূখণ্ডটি নিয়ে চীনের সঙ্গে ভুটানের সমস্যা এখনো রয়ে গেছে।

ভুটানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে সুলিভান নানাবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বলে পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র মরগান ওর্তাগাস জানিয়েছেন। এসব বিষয়ের মধ্যে ‘ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আইন-ভিত্তিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও জোরদারের গুরুত্ব’ও রয়েছে।

মুখপাত্র বলেন, তিনি আমাদের দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং মানবপাচার মোকাবেলায় যৌথ প্রচেষ্টা জোরদারের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন।

এদিকে, এক টুইটে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, আমার ডেপুটি সুলিভান চলতি সপ্তাহে ভুটান সফর করায় আমি পুলকিত, যা গত দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরকারি সফর, যা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আইন-ভিত্তিক শৃঙ্খলা এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে অবদান রাখা ভুটানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সম্মান প্রদর্শনকে তুলে ধরেছে।

লোডেন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে এক বৈঠকে উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক সংরক্ষণের জন্য ভুটানের প্রচেষ্টাগুলো সম্পর্কে অবগত হন সুলিভান।

ওর্তাগাস বলেন, মার্কিন উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভুটানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তাদের সুবিধার জন্য বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ক কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ভুটানে আগ্রাসী চমক সৃষ্টির জন্য প্রস্তুত মোদি by গোপিলাল আচার্য

ভারতের সাম্প্রতিক পুনর্নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১৭ আগস্ট থিম্পুতে আসছেন। হিমালয় অঞ্চলের দেশটিতে এটা তার দ্বিতীয় সফর।

ভুটানে প্রধানমন্ত্রী মোদি রাজা জিগমে সিঙ্গে খেসার নামগেল ওয়াংচুক এবং চতুর্থ রাজা জিগমে সিঙ্গে ওয়াংচুকের সাথে সাক্ষাত করবেন। সেই সাথে এই সফরে বেশ কিছু প্রকল্প উদ্বোধন এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে এই সফর একটা মাইলফলক সফর হতে যাচ্ছে।

প্রধান এজেন্ডাগুলোর মধ্যে রয়েছে ৭২০ মেগাওয়াট মাংদেচ্ছু জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং সংশোধিত শুল্ক, যেটা ভুটানের ১২তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার অংশ। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর নয়াদিল্লী সফরের সময় রফতানি শুল্ক সংশোধন করে প্রতি ইউনিট ৪.১২ গুলট্রাম (ভুটানের মুদ্রা) করা হয়। ভারত একই সাথে ভুটানের ১২তম পরিকল্পনার জন্য ৪৫ বিলিয়ন গুলট্রাম-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং বাণিজ্য সহায়তা ও ভারতে ভুটানের রফতানি বৃদ্ধির জন্য আরও অতিরিক্ত ৪ বিলিয়ন গুলট্রাম-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

মোদি একইসাথে রু পে কার্ডেরও উদ্বোধন করবেন। ভারতে কেনাবেচার জন্য অনেকটা ভিসা বা মাস্টারকার্ডের মতোই এটা ব্যবহার করা যায় এবং এটিএম মেশিনে এই কার্ড ব্যবহার করা যায়। সিঙ্গাপুরের পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে রু পে কার্ড ব্যবহার করতে যাচ্ছে ভুটান।

সাউথ এশিয়ান স্যাটেলাইটের জন্য একটি গ্রাউন্ড স্টেশানও উদ্বোধন করা হবে। দুই দেশের মধ্যে যে নয়টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে, তার মধ্যে ভুটানের নতুন মহাকাশ প্রযুক্তির উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণে ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশানের সহযোগিতার বিষয়টিও রয়েছে।

যুবকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদির এজেন্ডা

একটা উল্লেখযোগ্য ভারতীয় এজেন্ডার মধ্যে রয়েছে ভারত-ভুটান সম্পর্কের ব্যাপারে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা।

দিল্লীতে গত সপ্তাহে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ভুটানের সাথে সম্পর্ককে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সীমানা ছাড়িয়ে আরও সামনে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।

পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখলে বলেছেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পর্যটন খাতের বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভুটানের রয়েল ইউনিভার্সিটিতে ভুটানের তরুণ প্রজন্মের সাথে সরাসরি কথা বলবেন।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদি দুই দেশের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা বলবেন। আমাদের উদ্দেশ্য হলো ভুটানের তরুণদের আরও কাছাকাছি যাওয়া এবং তাদেরকে এটা বোঝানো যে আমরা ভুটানের সাথে আরও ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়তে চাই”।

যদিও স্কলারশিপ নিয়ে বা নিজ খরচে উচ্চশিক্ষার জন্য ভুটানিজ শিক্ষার্থীদের ভারত গমন অব্যাহত রয়েছে, এর পরও দুই দেশের তরুণদের মধ্যে বিনিময়ের মাত্রা যথেষ্ট কম। তাছাড়া ভারতের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভুটানিজ শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ভারত সরকার অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

সচিব বিজয় গোখলে বলেছেন, এ কারণেই যে সব সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে, সেখানে অনেকগুলো স্বাক্ষরিত হবে দুই দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে, বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশলী, এবং গণিতের ব্যাপারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। তিনি বলেন, স্কলারশিপ এবং অন্যান্য উপায়ে ভারত সরকার ভুটানিজ শিক্ষার্থীদের ভারতে নেয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

২০১৮ সালে ভারত-ভুটান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের সময় চিত্রকলা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের ভুটানিজদের সাথে বিনিময় বৃদ্ধির বিষয়ে জোর দেয়া হয়।

ভুটানের তরুণ জণগোষ্ঠির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ব্যাপারে একটা অস্বচ্ছ ধারণা রয়েছে। অনেকে ভারতকে বন্ধুপ্রতীম সহায়ক প্রতিবেশী মনে করেন। অন্যেরা মনে করেন, এই সম্পর্কের ভেতরে ভারসাম্যহীন উপায়ে বিনিময় হচ্ছে, সেটা ভুটানের জন্য ইতিবাচক নয়।

তরুণ কলেজ গ্র্যাজুয়েট দর্জি ফুন্তশো বলেন, “আমাদের রাজারা সবসময় ভারতের সাথে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন, এবং আমাদেরকেও অবশ্যই সেই একই কাজ করতে হবে”।

অন্যেরা শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিনিময় বৃদ্ধির কথা বলেছেন। ভুটানিজ এবং ভারতীয়রা একত্র হয়ে চলচ্চিত্র প্রযোজনা করছে, এবং বার্ষিক ‘মাউন্টেন ইকোজ’ অনুষ্ঠানে দুই দেশের লেখক, একাডেমিক, চিত্রশিল্পী, এবং অন্যান্য পেশাদারদের সমাগম ক্রমেই বাড়ছে। ভারতের টিভি সোপ অনুষ্ঠানগুলো ভুটানিজ নারীদের মধ্যে জনপ্রিয়, এবং সব বয়সের ভুটানিজরা ব্যবসায় ও তীর্থভ্রমণে ভারত সফর করে থাকেন।

অন্যদিকে, ভারত-বিদ্বেষী একটা মনোভাবও মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে, বিশেষ করে যখন ভুটান-চীন সম্পর্কের বিষয় এসেছে এবং ভুটান যেখানে চীনের সাথে ইস্যুগুলোকে সরাসরি সমাধান করতে চেয়েছে। ভুটানিজরা ভারতের ভুটান নীতিকে বল-প্রয়োগমূলক এবং বড় ভাইসুলভ হিসেবে দেখে থাকে।

২০১৭ সালের দোকলাম অচলাবস্থার মতো ঘটনা – যেখানে ভুটান দুই বড় প্রতিবেশীর মধ্যে আটকা পড়েছিল। এই ঘটনা ভারতের ভূ-রাজনৈতিক কবল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য ভুটানিজদের আকাঙ্ক্ষাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এক তরুণ ভুটানিজ ব্লগার লিখেছেন, “ভারতের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও বৃহৎ সমতা অর্জনের ক্ষেত্রে আমাদের ভৌগলিক অবস্থানটি সবচেয়ে বড় অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের ভারতের বন্ধুত্ব ও উন্নয়ন সহায়তা প্রয়োজন, আর সেটার জন্য আমাদের মূল্য দিতে হচ্ছে”।

এরপরও, নরেন্দ্র মোদি ভুটানের জনগণকে চমৎকৃত করতে চান এবং হিমালয় অঞ্চলের ক্ষুদে এ দেশটির সাথে ঐতিহ্যগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে চান, কারণ এই রাষ্ট্রটি তার বৃহৎ প্রতিবেশীকে স্বাচ্ছন্দ্যে রেখেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব গোখলে ভারতীয় মিডিয়াকে বলেছেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভুটান সফরের জন্য প্রতীক্ষা করছেন। সেখানকার মহামান্য রাজা ও মহামান্য চতুর্থ রাজাসহ প্রধানমন্ত্রী ড. লোটে শেরিংয়ের সাথে তার শক্তিশালী ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে”।

তিনি আরও বলেন, “আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, এই সফরের মধ্য দিয়ে ভুটানের সাথে আমাদের অনন্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে”।

প্রতিবেশী প্রথম

মোদি সরকারের প্রতিবেশী প্রথম নীতির অংশ হিসেবে নতুন নির্বাচিত ও উদ্দীপ্ত নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে তার প্রথম বিদেশ সফরে ভুটানে এসেছিলেন। তিনি সে সময় নেপালও সফর করেছিলেন এবং ভারতের সীমান্তকে মুক্ত বাণিজ্য ও ব্যবসায়ের দুয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

তবে, তার উচ্ছ্বাস ও আশাবাদ শিগগিরই উধাও হয়ে যায় যখন মাধেসি জনগোষ্ঠির আঞ্চলিক স্বায়ত্বশাসনের দাবি বাস্তবায়নের জন্য নেপালের সংবিধানে পরিবর্তন আনতে নেপালি এমপিদের উপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে ভারত। এই সূত্রে দুই দেশের মধ্যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয় এবং নেপালের জ্বালানি সরবরাহ আটকে দেয় ভারত। নেপালের জনগণ তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতীয় হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে এবং সোশাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ জানায়। ভারত সরকারের পদক্ষেপকে তারা দেশকে বিচ্ছিন্ন করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছে এবং সামাজিক যাতনা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বিবেচনা করেছে, বিশেষ করে ২০১৫ সালের এপ্রিলে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর যে অনানুষ্ঠানিক অবরোধ আরোপ করা হয়, সে সময় থেকে ভারতকে এইভাবে বিবেচনা করেছে নেপাল। জ্বালানির ব্যাপক সঙ্কটের কারণে সে সময় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছিল।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক মেরামত চেষ্টার অংশ হিসেবে মোদি জুনে মালদ্বীপ ও শ্রীলংকা সফর করেছেন। এই দুই দ্বীপরাষ্ট্র তার সফরকে সফল হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পের মাধ্যমে চীনা প্রভাবের মোকাবেলার তার সফরকে সফল হিসেবে দেখা হচ্ছে। মোদি দুই দেশেই উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সাময়িক বাধা বাদ দিলে, প্রতিবেশী প্রথম নীতিতে ফল মিলছে, যদিও সেটা ধীরগতিতে। ভারত ভুটানের সাথে দৃঢ় বন্ধুত্ব ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। একইভাবে, বিগত পাঁচ বছরে ভারত ও বাংলাদেশও আরও কাছাকাছি হয়েছে। শেখ হাসিনার অধীনে, ঢাকা দিল্লির সাথে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর করেছে এবং দ্বিপাক্ষিক বিনিময় বাড়িয়েছে।

আসলে ভারত যদি তার প্রতিবেশী ছোট দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক গভীর করার আশা করে থাকে, তাহলে এর জন্য এই মুহূর্তের চেয়ে উত্তম সময় আর হতে পারে না। বিবিআইএন (বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল) উপ-আঞ্চলিক ব্লক আঞ্চলিক শান্তি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সাহায্য করতে পারে। বৃহৎ পরিসরে, ভারত যদি বিমসটেকের মধ্যেও একই ধরণের ভূমিকা রাখতে পারে, তাহলে সেটাও সংযোগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

তবে, ভারতীয় নেতৃবৃন্দকে তাদের ত্রুটি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। ভারতকে সচেতন থাকতে হবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের সমতাকে গ্রহণ করে নিতে হবে, তা তাদের আকার যত ছোটই হোক না কেন। তা না হলে এ অঞ্চলের উন্নয়নে এবং চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতে ভারত যে ভূমিকা রাখতে চায়, সেটা ভেস্তে যাবে এবং এ জন্য তাদেরকে উচ্চমূল্য দিতে হবে।

এমনকি ভারত তাদের সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর কাশ্মীর যেভাবে উত্তপ্ত হওয়া অব্যাহত রেছে, সেখানে ভারতের ক্ষুদে প্রতিবেশী দেশগুলো তাদের বৃহৎ প্রতিবেশী দেশটির প্রতিটি পদক্ষেপের উপর নজর রাখবে। এই মুহূর্তে এটা একটা সচেতন অপেক্ষার খেলা যদিও ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখলে বলেছেন যে, ভুটান কাশ্মীর ইস্যুকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবেই জানে।

শিগগিরি বাবর-৩৭৩ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্মোচন

বাবর-৩৭৩ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আগামী সপ্তাহে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বাবর-৩৭৩ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্মোচন করবে। এ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ইরানি এস-৩০০ হিসেবে পরিচিত।

এ ব্যবস্থা উন্মোচন করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক বাহিনীতে যুক্ত করা হবে। ইরানি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাসেম তকিজাদেহ আজ (শুক্রবার) এসব তথ্য জাানিয়েছেন।

ইরানে আগামী ২২ আগস্ট জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প দিবস উদযাপিত হবে। তার আগে দক্ষিণাঞ্চলীয় শিরাজ নগরীতে আজ জুমা নামাজে সমবেত মুসল্লিদের উদ্দেশে জেনারেল তকিজাদেহ এ ঘোষণা দিলেন। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা উন্মোচন করা হবে।

সক্ষমতার দিক দিয়ে এ ব্যবস্থা রাশিয়ার এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার চেয়েও উন্নত বলে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আগেই জানিয়েছেন, বাবর-৩৭৩ ব্যবস্থা নিয়ে কয়েক দফা সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে। জেনারেল তকিজাদেহ বলেন, নতুন এ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে দেশীয়ভাবে তৈরি এবং এটি সারা বিশ্বের কাছে ইরানের সামরিক সক্ষমতা তুলে ধরবে। এটি আমেরিকা ও রাশিয়ার একই ধরনের ব্যবস্থার চেয়ে লাঞ্চার, রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ অনেক দিক দিয় ভিন্নতর।

হারুন আল রশিদের বাড়িতে তাণ্ডব: যে সাত জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন আল রশিদের বাড়ি ভাঙার বিষয়টি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এখন ব্যাপক আলোচিত। দেখা দিয়েছে সর্বত্র ক্ষোভ। ভাঙা বাড়ি দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন নানা শ্রেণির মানুষ। বাড়ি ভাঙায় জড়িতদের সাহস-শক্তি নিয়েও হচ্ছে আলোচনা। এদিকে পুলিশ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে। এর আগে এবিষয়ে থানায় আলাদা অভিযোগ দেন ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া মডার্ন এক্সরে ক্লিনিকের পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন আহমেদ ও হারুন আল রশিদের চাচাতো ভাই শামিম রশিদ। ক্লিনিক পরিচালক তার এজাহারে ভাঙচুর ও লুটপাটে ৮২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করেন। তার এজাহারে আসামি অজ্ঞাত উল্লেখ করা হলেও শামীম রশিদের এজাহারে ঘটনায় জড়িত ৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

তারা হচ্ছেন প্রস্তাবিত ডা. জাকারিয়া মা ও শিশু জেনারেল হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মো. জাকারিয়া, শহর যুবলীগের আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন রনি,  জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন, সদর উপজেলার দারিয়াপুর এলাকার মিজান ওরফে জামাই মিজান, আবু কাউসার, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মনির হোসেন ও  পৈরতলা এলাকার মিজান মিয়া। মঙ্গলবার রাতে শহরের হাসপাতাল রোডের পাশে ওই বাড়িটি ভাঙা হয়। এরআগে উপর থেকে ভাঙার পারমিশন হয়ে গেছে বলে রাত ১২টার দিকে  মডার্ন এক্স-রে ও প্যাথলজি ক্লিনিকের মালিক আজিজুল হককে ফোন দেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা। ভাঙন শুরু হলে রাত দুটোর দিকে আবার তাকে ফোন দিয়ে ভাঙন শুরু হয়েছে বলে জানিয়ে দেন ওই নেতা। এ সময় ক্লিনিক মালিক মালপত্র সরানোর জন্য একদিনের সময় চান তার কাছে। ভাঙনের সময় ক্লিনিক কর্মচারীদের পৌরসভা থেকে ভাঙতে এসেছে বলে জানানো হয়।

বাড়ি ভাঙনে আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতা ছাড়াও একাধিক ডাক্তার ও ব্যবসায়ী জড়িত বলে ঘটনার পরই অভিযোগ উঠে। তারা হারুন আল রশিদের বাড়ির পশ্চিম পাশে একটি জায়গা কিনে সেখানে হাসপাতাল করার উদ্যোগ নেন। সেই হাসপাতালে যাওয়ার রাস্তা প্রশস্ত করতে তারা ওই বাড়ির সীমানা প্রাচীর ও বাড়ির ভেতরের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেন। করাত দিয়ে বাড়ির ভেতরের বড়গাছও কেটে ফেলা হয়। বিদ্যুৎ সংযোগ  বিচ্ছিন্ন ও সিসি ক্যামেরা অচল করে কয়েক ঘণ্টা ধরে এই তাণ্ডব চালানো হয় শহরের প্রাণকেন্দ্রের ওই বাড়িটিতে। এই ঘটনায় বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মডার্ন এক্সরে অ্যান্ড প্যাথলজি ক্লিনিকের পরিচালক জসিম উদ্দিন আহমেদ অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দেন। এরপর রাত সাড়ে ১১টায় হারুন আল রশিদের চাচাতো ভাই শামীম রশিদ বাদী হয়ে আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন। জসিম উদ্দিন আহমেদের এজাহারে খননযন্ত্র  (ভেকু), বুলডোজার, রামদা, লোহার শাবল, কুড়াল ইত্যাদি অস্ত্র দিয়ে ক্লিনিকের লোহার ফটক, ভবনের দেয়াল, সীমানা প্রাচীর, ভেতরের গোডাউন ভাঙচুর করার কথা উল্লেখ করা হয়।

ক্লিনিকের তিনটি জেনারেটর, তিনটি আলট্রাসনোগ্রাফ মেশিন, চারটি এসিসহ ৮০ লাখ টাকার বিভিন্ন সরঞ্জামাদি ট্রাকে তুলে লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। এ ছাড়া ক্লিনিকের ভেতরে থাকা প্রাচীন তিনটি গাছ ইলেকট্রিক করাত দিয়ে কেটে দুই লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়। হামলা ও ভাঙচুরের সময় বাধা দিতে গেলে প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখানো হয়। এনিয়ে মামলা করা হলে রাতের অন্ধকারে প্রতিষ্ঠানটি আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়। শামীম রশিদের এজাহারে বলা হয়, হারুন আল রশিদের দুটি প্লটের পশ্চিম পাশে  অভিযুক্ত সাতজন ব্যক্তি কিছু ভূমি খরিদ করেন। তাদের খরিদ করা জায়গায় গাড়ি নিয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ওই জায়গা থেকে বের হতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের পাশে একটি রাস্তা বিদ্যমান। ক্লিনিকের সঙ্গে লাগোয়া এই রাস্তাটি ওই সাতব্যক্তি মনগড়া মতো বড় করার জন্য পূর্ব থেকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছিল। তাদের ইচ্ছামতো জায়গা ছেড়ে না দিলে পরিণাম ভয়াবহ হবে বলে হুমকি প্রদান করা হয়। একারণেই গত মঙ্গলবার দিনগত রাতে বিদ্যুৎ ও গোপন ক্যামেরা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে হারুন আল রশিদের জায়গায় থাকা ওই ক্লিনিকের দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশের সীমানা প্রাচীর বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। পরে ক্লিনিকের ভেতরে ভাঙচুরের তাণ্ডব চালানো হয়। ক্লিনিকের ভেতরের পুরনো আম ও মেহগনি গাছ কেটে ফেলা হয়। পরে ওই ক্লিনিকের চিকিৎসার বিভিন্ন সরঞ্জামাদি লুটপাট করে ট্রাকে ভরে নিয়ে যাওয়া হয়।  

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন বলেন,ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ক্লিনিক মালিকপক্ষ একটি মামলা করেছেন। বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে তার চাচাতো ভাই একটি অভিযোগ দিয়েছেন। একই ঘটনায় দুটি মামলা হয় না। তার অভিযোগটি মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করেই পুলিশ কাজ করছে। এদিকে গতকাল বিকালে এ ঘটনায় জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

প্রতিটি ইটের জবাব পাথর দিয়ে দেয়া হবে, আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে যে কোন পদক্ষেপের ব্যাপারে মোদিকে সতর্ক করলেন ইমরান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের অ্যাসেম্বলির বিশেষ অধিবেশনে বুধবার দেয়া এক বক্তৃতায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন পাকিস্তানের ভেতরে ভারতের যে কোন পদক্ষেপকে আরও কঠিন শক্তি দিয়ে জবাব দেয়া হবে।

এজেকে’র প্রধানমন্ত্রী রাজা ফারুক হায়দার তার বক্তৃতায় বলেন যে, ভারত পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরেও সমস্যা সৃষ্টির চেষ্টা করবে। তার বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করে ইমরান খান বলেন: “এটা কাশ্মীরের মধ্যেই থেকে থাকবে না – এই ঘৃণার আদর্শ পাকিস্তানের দিকেও ধেয়ে আসবে”।

তিনি তার বক্তৃতায় বলেন, “আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে এবং আমরা ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিটির (এনএসসি) দুটো বৈঠক করেছি। আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য ভারত যে পরিকল্পনা করেছে, সে ব্যাপারে পূর্ণ অবগত রয়েছে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী। আমাদের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পুলওয়ামার পরে বালাকোটে তারা যে ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছে, তার চেয়েও অশুভ পরিকল্পনা করছে তারা”।

“অধিকৃত কাশ্মীর থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতেই তারা আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে পদক্ষেপ নিতে চায়”।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উদ্দেশ্য করে ইমরান খান বলেন: “আপনার প্রতি আমার বার্তা এটাই: আপনি যদি কোন পদক্ষেপ নেন, তাহলে প্রতিটি ইটের জবাব পাথর দিয়ে দেয়া হবে”।

“সেনাবাহিনী প্রস্তুত; শুধু সেনাবাহিনী নয়, পুরো জাতি আমাদের সামরিক বাহিনীর সাথে মিলে কাজ করবে। আগ্রাসী যুদ্ধ ইসলামের পরিপন্থী, কিন্তু মুসলিমরা যখন মুক্তির জন্য লড়েছে, তারা বড় বড় সেনাবাহিনীকে পরাজিত করেছে।

“আমরা প্রস্তুত থাকবো। যা-ই করবেন আপনারা, তার জবাব দেয়া হবে – আমরা এর শেষ পর্যন্ত যাবো”।

‘মোদি একটা কৌশলগত কেলেঙ্কারি করেছেন’

ভারত দখলকৃত কাশ্মীরকে নিয়ে পদক্ষেপ নেয়ার পর কাশ্মীরীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশের জন্য এ বছর স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের জন্য মুজাফফরাবাদ যান প্রধানমন্ত্রী।

বক্তৃতায় তিনি বলেন, “পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে, আমি কাশ্মীরী ভাই ও বোনদের সাথে আছি”।

প্রধানমন্ত্রী ধারাবাহিক কতগুলো টুইটে বলেছেন যে, তিনি বিশ্বের সামনে “নরেন্দ্র মোদি এবং ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আসল চেহারা উন্মুক্ত করে দিয়েছেন”।

“আমাদের সামনে একটা আতঙ্কজনক আদর্শ রয়েছে – হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) আদর্শ, মোদি শিশুকাল থেকেই যেটার সদস্য।

“নাৎসী আদর্শের মতো এই আদর্শে ভারত থেকে মুসলিমদের জাতিগতভাবে নির্মূলের বিষয়টিও রয়েছে। আপনি যদি এই আদর্শ বোঝেন, তাহলে বহু কিছু বুঝতে পারবেন।

“কায়েদে আজম ব্যক্তিগত ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠেছিলেন; ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পর তিনি প্রতিটি মানুষের স্বাধীনতার কথা ভেবেছিলেন।

‘আতঙ্কজনক আদর্শ’

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “আরএসএসের আদর্শ সম্পর্কে বিশ্বকে জানাতে হবে আমাদের। ১৯৪৫ সালের পর জাতিসংঘ গঠিত হয়েছে, জেনেভা কনভেনশান গৃহীত হয়েছে। বিশ্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে এটা আর ঘটতে দেয়া যাবে না। বিশ্ব জানে না যে আরএসএসের আদর্শ (নাৎসী আদর্শের মতো) একটা বিপজ্জনক আদর্শ”।

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, “কোন স্বাভাবিক মানুষ কাশ্মীরের নারীদের নিয়ে এ ধরণের কথা বলতে পারে না, যেটা বলা হয়েছে”।

“এই (আরএসএসের) আদর্শ ভারতের সংবিধানকে অবজ্ঞা করেছে। তারা (বিজেপি) মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে। বিরোধী দলের নেতারা কথা বলছেন আতঙ্কের মধ্যে।

“আরএসএসের গুন্ডারা মানুষকে সম্মেলনে অংশ নিতে দিচ্ছে না, বিচারপতিরা তাদের ভয়ে আতঙ্কিত। এমনটা ঘটেছিল নাৎসী জার্মানিতে।

“বুদ্ধিজীবীরা সরকারের ব্যাপারে কথা বলতে ভয় পাচ্ছে। তারা (বিজেপি) ভারতকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ভারতে মানুষ আতঙ্কের মধ্যে বাস করছে”।

কাশ্মীরী নেতাদের সম্পর্কে তিনি বলেন, ফারুক আব্দুল্লাহর মতো যারা এক সময় ভারতপন্থী ছিলেন, তারাও এখন কায়েদে আজমের দ্বিজাতি তত্ত্বের সাথে একমত হচ্ছেন।

‘যুদ্ধ হলে সেখানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দায়ি থাকবে’

প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আমাদের বার্তা হলো, যদি যুদ্ধ বাঁধে, তাহলে তারা দায়ি থাকবে”।

তিনি বলেন যে, পুরো বিশ্ব, এবং বিশেষ করে পুরো মুসলিম বিশ্বের জনগণ জাতিসংঘের দিকে তাকিয়ে আছে।

“সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশের সময় কি বিপুল সংখ্যক মানুষ এই দাবি জানায়, সেটা তখন দেখবেন”।

'খাঁচাবন্দী কাশ্মীর'র কথা জানালেন রাজনৈতিক-সামাজিক কর্মীরা by অমিতাভ ভট্টশালী

ছররা গুলিতে আহত এক কাশ্মীরি
ভারত-শাসিত কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রদানকারী ৩৭০ এবং ৩৫-এ ধারা দুটি প্রত্যাহার করে নেয়ায় সেখানকার মানুষ ক্ষোভে ফুটছে।
পাঁচ দিন ধরে কাশ্মীরের নানা প্রান্ত ঘুরে সেই ক্ষোভের আঁচ পেয়েছেন ভারতের কয়েকজন রাজনৈতিক আর সামাজিক কর্মী।
শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করারও পরিস্থিতি নেই সেখানে। সেই ক্ষোভ যাতে সামনে না আসে, তার জন্য একদিকে রয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে চলছে সংবাদমাধ্যমের ওপরে অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ।
ভারত-শাসিত কাশ্মীর থেকে ঘুরে এসে বুধবার দিল্লিতে সেই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন ওই রাজনৈতিক আর সামাজিক কর্মীরা।
পাঁচ দিনের সফর শেষে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন ওই রাজনৈতিক আর সামাজিক কর্মীরা, তার নাম দেয়া হয়েছে 'কাশ্মীর কেজড,' অর্থাৎ খাঁচাবন্দী কাশ্মীর।
তারা রাজধানী শ্রীনগরসহ রাজ্যের নানা প্রান্তে ঘুরে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে বুঝেছেন যে ৩৭০ ধারা বিলোপ করা এবং যেভাবে গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, তা নিয়ে একটা ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে মানুষের মধ্যে।
কিন্তু সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ করার কোনও সুযোগ নেই।
কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ঈদের দিন
ওই দলেরই সদস্য, অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রঁজ বিবিসিকে বলছিলেন, "শ্রীনগর হোক বা তার বাইরে, সব জায়গাতেই মানুষ ক্ষুব্ধ। তারা বলছেন, যেন একটা জেলখানায় তাদের রেখে দেয়া হয়েছে। খুব বেশী প্রতিবাদ করতে পারছেন না মানুষ।"
"সরকার নিষেধাজ্ঞা একটু শিথিল করলেই মানুষ প্রতিবাদ জানাতে বেরিয়ে পড়ছেন, তাই আবারও নিষেধাজ্ঞা বলবত হয়ে যাচ্ছে। আর সৌরার মতো যেখানে কিছুটা প্রতিবাদ হয়েছে, সেখানেই ছররা গুলি চালাচ্ছে।"
হাসপাতালগুলোতে ছররা গুলিতে আহত এরকম বেশ কয়েকজনকে তারা দেখতে পেয়েছেন বলে জানালেন মি. দ্রঁজ।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৬০০ রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে আটক করে রাখা হয়েছে।
এছাড়াও শহরে বা গ্রামে যেখানেই তারা গেছেন, সেখানেই দেখেছেন তরুণ বা যুবক, এমনকি স্কুল ছাত্রদেরও আটক করে রাখা হয়েছে।
অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তাবাহিনী মাঝরাতেও বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালিয়ে আটক করছে। এক বৃদ্ধকে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই কেন রাস্তায় যেতে দিতে অনুরোধ করেছিলেন নিরাপত্তা বাহিনীকে, এই অভিযোগে ছররা গুলি ছোঁড়া হয়েছে এক যুবকের দিকে।
প্রতিনিধিদলটির আরেক সদস্য সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির নেত্রী মইমুনা মোল্লা জানান, "মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর সর্বোচ্চ আর দ্বিতীয় পর্যায়ের নেতাদের তো আটক করা হয়েছে। কিন্তু প্রায় প্রতিটা গ্রাম থেকেই অনেক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।"
প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ সংগঠিত করার দক্ষতা আছে, এমন লোকদেরই আটক করা হয়েছে। কত লোক যে জেলে আছে, কেউ জানে না, বলছিলেন মইমুনা মোল্লা।
সরকারি অবরোধের মুখে কাশ্মীরে গ্যাসের জন্য লম্বা লাইন
অর্থনীতিবিদ অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রঁজ আরও জানালেন, সেখানে সংবাদমাধ্যমের ওপরে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
"কাশ্মীরি সংবাদমাধ্যম তো কোনও কাজই করতে পারছে না। তাদের কাছে কোনও সংবাদ পৌঁছচ্ছে না। তাদেরও খবর যোগাড় করার কোনও উপায় নেই।"
"একটা দুটো খবরের কাগজ হয়তো কোনোভাবে বেরচ্ছে। কখনও দু'পাতা, চার পাতার কাগজ ছাপছে। তাও সেই কাগজ বিক্রি করার সুযোগ বিশেষ নেই। তাদের ওপরেও খবরদারি চলছে।"
"আর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে হাতে গোনা কয়েকজন সাংবাদিকই আছেন, যারা সত্য চিত্রটা তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।"
তবে আন্তর্জাতিক মাধ্যমগুলো অনেকটা আসল ছবি তুলে ধরতে পারছে বলে মন্তব্য করেন মি. দ্রঁজ।
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে বেশীরভাগ ভারতীয় সাংবাদিকই শ্রীনগরের যে অংশ থেকে কাজ চালাচ্ছেন, সেখানে মাঝে মাঝে যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে না, তা নয়।
কিন্তু সেটাকেই কাশ্মীরের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে আসছে বলে যে সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে, সেটা অসত্য।
কাশ্মীরের জনজীবন যে কতটা বিপর্যন্ত তার প্রমাণ এসব অনুষ্ঠান বাতিলের বিজ্ঞপ্তি

আবারো সামরিক বাহিনীকে উদ্ধারে এগিয়ে এসেছে এনএলডি

মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্যানুসন্ধান মিশন সম্প্রতি ৫ আগস্ট তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এটা সরকারকে একটি সুযোগও দিয়েছে।

প্রতিবেদনটি ছিল মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর (তাতমাদাও) বিপুল অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট। এসবের মধ্যে ছিল বিদেশী অংশীদারিত্ব ও আকর্ষণীয় রত্নপাথর শিল্পের সাথে এর সম্পর্ক।

বেশির ভাগ মিডিয়া কভারেজে প্রতিবেদনটিতে সামরিক বাহিনীর কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বিশেষ করে মিয়ানমার ইকোনমিক হোল্ডিংস লিমিটেড ও মিয়ানমার ইকোনমিক কোরপোরেশনের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করার সুপারিশবিষয়ক অংশটি ফলাও করে প্রচার করে।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই মিয়ানমারের অনেকে একে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশী হস্তক্ষেপ হিসেবে সমালোচনা করে।

তবে বিনিয়োগের ওপর যতটা গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, সে অনুযায়ী লাইমলাইটে আসেনি রাখাইন রাজ্য ও মিয়ানমারের অন্যান্য অংশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য সামরিক বাহিনীকে শাস্তি প্রদানের বিষয়টি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পার্লামেন্টে ঘোষিত বাজেটের বাইরে অন্যান্য উৎস থেকে বিপুল পরিমাণে অর্থ সংগ্রহ করতে পারার ফলেই মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ওপর বেসামরিক কর্তৃপক্ষের নজরদারি থাকে অনেক কম। প্রতিবেদেন আরো বলা হয়, জেড শিল্পসহ খনিতে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সম্পৃক্ততার কারণেই উত্তর মিয়ানমারে সঙ্ঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বেসামরিক সরকারকে দায়মুক্তি দেয়া হয়নি। বিশেষ করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ নষ্ট করা, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর স্বাভাবিক প্রত্যাবর্তন প্রয়াস নস্যাত করার করার জন্য দায়ী মিয়ানমারের বেসামরিক সরকার।

তবে প্রতিবেদনে স্বল্প আলোকপাতের ফলে সরকারকে তার সামরিক বাহিনীর নীতি থেকে দূরে থাকা ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না গ্রহণের সুযোগ দেবে।

সরকার বলতে পারে, তারা সামরিক বাহিনীর ওপর বেসামরিক তদারকিকে সমর্থন করে। কিন্তু বাস্তব অবস্থা তা নয়।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের এক দিন পরই মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সরকার এই প্রতিবেদন ও এর সুপারিশমালাকে প্রত্যাখ্যান করছে।

এতে বলা হয়, মিয়ানমার ও এর জনগণের স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্যই এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে মিয়ানমারের বেসামরিক সরকার আবারো তাদের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের পথ বন্ধ করে দিলো।

সামরিক বাহিনীর অর্থের উৎস সম্পর্কে জানিয়ে দিয়ে তথ্যানুসন্ধানী কমিটি আসলে মিয়ানমার বেসামরিক সরকারকে একটি পথ দেখিয়ে দিয়েছে। তা হলো সামরিক বাহিনীর ওই উৎসগুলো যদি বেসামরিক নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, তবে দেশের জন্য সার্বিক কল্যাণকর হবে। দেশের অর্থনীতি বেগবান হবে।

উল্লেখ্য, এনএলডি ২০১৫ সালে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে সামরিক বাহিনীকে নির্বাহী বিভাগে আনার অধীনে আনার কথা বলেছিল।

কিন্তু এরপর থেকে অবস্থা অনেক বদলে গেছে। এনএলডি নেতৃত্ব রাখাইন রাজ্যের বাইরে থাকা বৃহত্তর দৃশ্য দেখতে পাচ্ছে কিনা তাই এখন দেখার বিষয়।

৪০ ঘণ্টা পর যমুনায় ভেসে উঠলো শিশু রাবেয়ার লাশ

ছবি তুলতে গিয়ে যমুনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার ৪০ ঘণ্টা পর ৫ বছরের শিশু রাবেয়ার লাশ পেয়েছে পরিবার। আজ শুক্রবার সকাল ৯ টার দিকে নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকালে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই লাশের অপেক্ষায় দিনরাত নদীর তীরেই পড়ে থাকতেন মা নাসরিন বেগম,  বাবা এরশাদ আলী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
আজ সকালে ৯ টার দিকে বালুবাহী সেই ভলগেটের পাশে হঠাৎ করেই রাবেয়ার লাশ  ভেসে উঠে। পরে লাশটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় রাবেয়ার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের সিরাজকান্দি গ্রামের এরশাদ আলী ঈদ উপলক্ষে বুধবার বিকালে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ল্যাংড়া বাজার এলাকার যমুনা নদীর তীরে ঘুরতে যায়। এ সময় রাবেয়াকে বালুবাহী ভলগেটের ওপর দাঁড় করিয়ে ছবি তুলতে গেলে সে নদীতে পড়ে যায়। স্রোত বেশি থাকায় পরিবারের সদস্যরা চেষ্টা করেও তার কোন খোঁজ পায়নি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় টাঙ্গাইল ও ভূঞাপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তারা উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও অতিরিক্ত বালুবাহী ভলগেট থাকায় রাত ৯ টার দিকে প্রথম দফা উদ্ধার কাজ চালিয়ে ফিরে যায়। বৃহস্পতিবার পুনরায় দ্বিতীয় দিনের মতো তারা উদ্ধার কাজ চালিয়েও ব্যর্থ হয় ফায়ার সার্ভিস।

কাশ্মিরের রাজনৈতিক নেতাকে বিদেশ যেতে বাধা, গ্রেফতার

তুরস্কের ইস্তানবুলগামী বিমানে উঠতে জম্মু কাশ্মির পিউপিলস মুভমেন্টের নেতা শাহ ফয়সালকে বাধা দেওয়া হয়েছে। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে বিমানে উঠতে বাধা দিয়ে শ্রীনগরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে জননিরাপত্তা আইনে তাকে গ্রেফতার করেছে কাশ্মির পুলিশ। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, শাহ ফয়সালকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের পরিচিত প্রায় সব রাজনৈতিক নেতাকে আটক করলো ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

ভারতের প্রশাসনিক সার্ভিস (আইএএস) পরীক্ষায় শীর্ষ ফলাফল করা কাশ্মিরি শাহ ফয়সাল সরকারি চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল গড়েছেন। গত ৫ আগস্ট ভারত সরকারের কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিলের ঘোষণার পর উপত্যকা ছেড়ে দিল্লি চলে আসেন তিনি। তারপর থেকেই ভারত সরকারের কাশ্মির নীতির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ১০ আগস্ট ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাশ্মির ইস্যুতে ভারত সরকারের সিদ্ধান্তকে সামগ্রিক ইতিহাসের বিপর্যয়কর মোড় বলে অভিহিত করেন। এরপরে বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এখন কাশ্মিরিদের সামনে প্রতিরোধ ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই।

বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটায় ইস্তানবুলগামী বিমানে উঠতে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান শাহ ফয়সাল। ওই সময়ে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে দিল্লি পুলিশের হাতে তুলে দেয় বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র। পরে দিল্লি পুলিশ তাকে শ্রীনগরগামী একটি ফ্লাইটে তুলে দেয়। ওই বিমানটি শ্রীনগরে অবতরনের পর শাহ ফয়সালকে জননিরাপত্তা আইনে আটক করে জম্মু পুলিশ।

নিরাপত্তা সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, নিজের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে জননিরাপত্তার বিঘ্ণ ঘটাতে পারেন এমন আশঙ্কাতেই শাহ ফয়সালকে বিদেশ যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। ওই সূত্রটি বলেছে, এই ধরণের রাজনৈতিক নেতারা বাইরে গিয়ে উপত্যকায় সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে প্রচুর নজির রয়েছে। আমরা কোনও প্রবাসী সরকার তৈরি করার মতো পরিস্থিতি হতে দিতে পারি না।

শাহ ফয়সালকে আটকের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের পরিচিত প্রায় সব রাজনৈতিক নেতাকে আটক করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমের আবদুল্লাহসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকে গ্রেফতার করে কারাবন্দি করা হয়েছে। কাশ্মিরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যায়ক্রমে সেখানে আারোপ করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা ভাবছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

সুযোগ পেলেই নেপালকে সিকিমে পরিণত করবে ভারত: নেপালি কংগ্রেস এমপি

নেপালি কংগ্রেসের আইনপ্রণেতা প্রদীপ গিরি সতর্ক করে বলেছেন যে ভারত সুযোগ পেলেই নেপালকে সিকিমে পরিণত করবে।

বুধবার প্রতিনিধি পরিষদের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কমিটির এক বৈঠকে বক্তব্যকালে তিনি বলেন, ভারত পারলে নেপালকে সিকিমে পরিণত করবে। ১৯৭৫ সালে সিকিমকে দখল করে নেয় ভারত।

সিপিএন চেয়ারম্যান পুস্প কুমার দহলের নাম উচ্চারণ না করে গিরি বলেন, যেসব নেতা নেপাল-ভারত সীমান্তে বেড়া দেয়া ও গুহা যুদ্ধের কথা বলতেন তারা এখন ক্ষমতায়। তারা এখন ভারতের তৎপরতাকে মাথা নেড়ে সম্মতি দিচ্ছেন।

শুধু কথা বলে কূটনৈতিক সমস্যার সমাধান হবে না উল্লেখ করে এনসি নেতা সরকারের প্রতি কূটনৈতিক দক্ষতা প্রদর্শনের আহ্বান জানান। ভারত সুযোগ পেলে নেপালকে সিকিমে পরিণত করবে এই বাস্তবতা চিন্তা করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গিরি ব্যাখ্যা করে বলেন, বিরোধী দলের আসনে বসে এমন কোন দাবি তোলা ঠিক নয় যখন সে সরকারে গেলে তা পূরণ করতে পারবে না। কূটনীতি নির্বাচনী প্রচারণার গলাবাজী নয়। কূটনৈতিক ব্যর্থতাই সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। ভারত পারলে নেপালকেও সিকিম বা ভুটানে পরিণত করবে। এটাই সত্য কথা।

সিপিএন এমপি ভিম রাওয়াল উল্লেখ করেন যে নেপালের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড ভারত দখল করে নিচ্ছে। এটা থামানোর জন্য তিনি পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি দাবি করেন যে নেপালের ৬০৬ বর্গকিলোমিটার ভূখণ্ড দখল করেছে ভারত এবং সীমান্তের ৭১টি জায়গায় বিরোধ রয়েছে।

ভারত সীমান্তে সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করায় নেপালে বন্যা দেখা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন রাওয়াল।

উত্তর রাখাইনের মিনবায়ায় লোকজনের চলাচল নিষিদ্ধ করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী

মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে মিনবায়া টাউনশিপের কাছে ৩০টির মতো গ্রামকে চলতি মাসের শুরু থেকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। ওই এলাকাকে যুদ্ধক্ষেত্র বিবেচনা করে তারা এই কাজটি করেছে বলে স্থানীয় অধিবাসী ও আরাকানি আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন।

রাখাইন রাজ্যসভায় মিনবায়া থেকে নির্বাচিত এমপি উ লা থিয়েন অং জানান যে তিনি ও আরো দুই এমপি এবং কিছু স্থানীয় লোকজন অবরুদ্ধ গ্রামগুলোর পরিস্থিতি দেখতে ৯ আগস্ট হোপন থা চাউং নদীর পাশে ওই এলাকায় সফরে যাওয়ার সময় লেট খোটে গ্রামের কাছে সেনাবাহিনী তাদের আটকে দেয়।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনী লেট খোটে গ্রামের পাশে একটি পাহাড়ের উপর কামান বসিয়েছে, যে স্থানটি কবরস্থান হিসেবে গ্রামবাসী ব্যবহার করে। আশপাশের আরো অনেক এলাকায় পর্বত চুঁড়ায় কামান মোতায়েন করা হয়েছে বলে অং উল্লেখ করেন।

সেনাদের কাছে অং বাধাদানের কারণ জানতে চাইলে তারা জানায় যে হোপন থা চাউং এলাকাকে সক্রিয় যুদ্ধ জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সফরকারীদের নিরাপত্তার জন্য সেখানে কাউকে যেতে দেয়া হচ্ছে না।

সেনাবাহিনী ওই এলাকা থেকে কাউকে বের হতে দিচ্ছে না বলেও অং জানিয়েছেন।

কাশ্মীরিদের ছাড়াই কাশ্মীরে ভারতের স্বাধীনতা দিবস by শুভজ্যোতি ঘোষ

ভারত সরকার গত সপ্তাহে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার পর আজ ভারতের স্বাধীনতা দিবস বাকি দেশের সঙ্গে কাশ্মীরেও পালিত হয়েছে - তবে সাধারণ কাশ্মীরিদের কোনও যোগদান ছাড়াই।
কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাজধানী শ্রীনগরের একটি সুরক্ষিত স্টেডিয়ামে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের রাজ্যপাল।
তবে সেখানে শুধু নিরাপত্তা বাহিনী, সরকারি কর্মকর্তা বা তাদের পরিবারের সদস্যদেরই দেখা গেছে।
কাশ্মীর থেকে বিবিসি সংবাদদাতারা আরও জানাচ্ছেন, শ্রীনগর শহরের কেন্দ্রস্থলে কিছু বিজেপি সমর্থক ভারতের পতাকা উত্তোলনের চেষ্টা করলেও তাদের চেষ্টা সফল হয়নি।
শ্রীনগরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে জম্মু ও কাশ্মীরের গভর্নর সত্যপাল মালিক
এদিকে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পর শহরের কোনও কোনও জায়গায় কারফিউ কিছুটা শিথিল করা হয়েছে বলেও খবর আসছে।
ঠিক দশদিন আগে ভারত সরকার তাদের সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ করার পর আজই ছিল সে দেশের প্রথম স্বাধীনতা দিবস।
শ্রীনগরে বরাবরই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যেখানে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়, সেটা হল শহরের বকশি স্টেডিয়াম।
গ্যালারিতে ঘেরা একটি সুরক্ষিত স্টেডিয়াম এটি, আর সেখানেই এবারেও ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের বর্তমান গভর্নর সত্যপাল মালিক।
শ্রীনগর থেকে বিবিসি উর্দুর রিয়াজ মাসরুর জানাচ্ছেন, মাছি গলতে পারবে না এমন কঠোর নিরাপত্তা ছিল গোটা স্টেডিয়ামে।
তবে গ্যালারিতে কিন্তু আম কাশ্মীরিদের, বা শহরের সাধারণ লোকজনকে একেবারেই দেখা যায়নি।
শ্রীনগরের বকশি স্টেডিয়াম যাওয়ার পথে নিরাপত্তা চৌকি
সেখানে ছিলেন নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা, জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের সিনিয়র অফিসার কিংবা তাদের স্ত্রী-ছেলেমেয়েরাই।
আর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে ভারতের এনএসএ বা জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালকেও, যিনি গত বেশ কয়েকদিন ধরে কাশ্মীর ভ্যালিতেই ঘাঁটি গেড়ে আছেন।
গভর্নর মালিক তার ভাষণে বলেছেন, ''কাশ্মীর এখন এক নতুন ভবিষ্যতের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাবে, উন্নয়ন হবে, বিনিয়োগ আসবে।"
এমন কী পুলিশকর্মীদের বেতনভাতা বাড়ানোর কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।
কিন্তু যে আম কাশ্মীরিদের উদ্দেশে কথাগুলো বলা, সেটা শোনার জন্য আজ তারাই শুধু হাজির ছিলেন না।
এদিকে ভারতের শাসক দল বিজেপির কিছু সদস্য এদিন শ্রীনগরের কেন্দ্রস্থলে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলনেরও চেষ্টা করেছিলেন, তবে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
এদিন শ্রীনগরে অজিত ডোভাল (বাঁয়ে) ও সত্যপাল মালিক
আসলে শ্রীনগর শহরের প্রাণকেন্দ্রে যে লালচক - সেখানে ভারতের তেরঙা ঝান্ডা ওড়ানোর স্বপ্ন দেখেন বিজেপির বহু নেতা-কর্মীই।
কাশ্মীর যে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, সেটা প্রমাণ করার জন্য তাদের কাছে এই লালচকে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর একটা প্রতীকী তাৎপর্যও আছে।
এবারে যেটা হয়েছে, হরিয়ানার - ওই রাজ্যে দুচারমাসের মধ্যেই ভোট - সেখান থেকে বিজেপির জনাবিশেক নেতা-কর্মী গতকালই শ্রীনগরে এসে হাজির হয়েছিলেন।
তাদের ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রী মোদী যখন দিল্লির লাল কেল্লা থেকে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ দেবেন - তখন তারাও শ্রীনগরের লালচক থেকে তেরঙা ঝান্ডা ওড়াবেন।
শ্রীনগরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিএসএফের অংশগ্রহণ
কিন্তু কাশ্মীরের পুলিশ এদিন তাদের লালচকের ধারেকাছেই ঘেঁষতে দেয়নি।
বলা হয়েছে গোটা শহরে যেহেতু ১৪৪ ধারা জারি আছে, তাই লালচক বা অন্য কোনও জায়গায় কোনও জমায়েতই করা চলবে না এবং কারফিউ ভাঙার চেষ্টা করলে গ্রেপ্তারও হতে হবে।
কাজেই 'মিশন লালচক' পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ওই বিজেপি কর্মীদেরও এদিন বিকেলেই শ্রীনগর ছাড়তে হয়েছে।
এদিকে রাজ্যের হিন্দু-প্রধান জম্মু অঞ্চলে কিন্তু কারফিউ গতকাল থেকেই প্রত্যাহার করে নেওয়া হলেও মুসলিম-গরিষ্ঠ কাশ্মীরে তা এখনও পুরোদস্তুর বহাল আছে।
তবে বিবিসি উর্দুর রিয়াজ মাসরুর যেটা জানাচ্ছেন তা হল, সকালে স্বাধীনতা দিবসের সরকারি অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ার পর শ্রীনগরের কিছু কিছু এলাকায়, স্থানীয় পর্যায়ে এবং সাময়িকভাবে আজ কারফিউ শিথিল করা হয়েছিল।
কিছু কিছু দোকানপাটও খুলতে দেওয়া হয়েছে, মানুষকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দ্রুত কিনে নেওয়ার জন্য অল্প সময়ও দেওয়া হয়েছিল।
শ্রীনগরের লালচক। ১২ আগস্ট, ২০১৯
তবে আগামিকাল কী হবে, কারফিউ কঠোরভাবে বলবৎ হবে না কি মানুষ কিছুটা শিথিলতার সুযোগ পাবেন তা এখনই বোঝা যাচ্ছে না।
যদিও গভর্নর মালিক এরই মধ্যে আভাস দিয়েছেন যে স্বাধীনতা দিবসের পর কাশ্মীরেও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করে তোলার চেষ্টা হবে।
এদিকে এদিন কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলওসি) ভারত ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মধ্যে তীব্র গোলাবর্ষণ হয়েছে বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ভারতীয় সেনাবিাহিনী দাবি করছে, এলওসি-র কৃষ্ণা ঘাটি বা কেজি সেক্টরে পাকিস্তানি সেনা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গোলাগুলি চালাতে শুরু করে, যা থেমেছে ভারতীয় সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ।
বকশি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে কিছু দর্শকের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

জাপানে জুয়ার আসর ভেঙ্গে তৈরী হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন মসজিদ by মাহবুব মাসুম

জাপানের রাজধানী টোকিও শহরের ঠিক গা ঘেঁষেই সাইতামা প্রিপেকচারের কোশিগায়া সিটির গামো স্টেশন এলাকায় একটি অত্যাধুনিক বড় জুয়ার আসর (পাচিঙ্কু) ভেঙ্গে তৈরী করা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন সর্ববৃহৎ মসজিদ কমপ্লেক্স। এটি হবে জাপানের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মসজিদ কমপ্লেক্স।এখানে থাকছে শিক্ষা, গবেষণা, অতিথিদের আবাসন ও ইসলামি সংস্কৃতি বিনিময়ে ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন ও দাওয়াতি বিভাগ। সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ বিশেষ করে জাপানিরা ২৪ ঘন্টা ইসলামি সংস্কৃতি ও মুল্যবোধ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারবে। এখানে একসাথে প্রায় ২ হাজার লোক নামাজ আদায় করতে পারবে। সেইসাথে রয়েছে গাড়ি পার্কিংয়ের বিশাল স্টেশন। প্রবাসী মুসলমান বিশেষ করে বাংলাদেশীদের সহযোগিতায় জাপান সরকার অনুমোদিত সর্ববৃহৎ এ ইসলামিক সেন্টারটি সারা জাপানব্যাপী দাওয়াহ কার্যক্রমের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। এটির নাম দেয়া হয়েছে “বায়তুল আমান মসজিদ কমপ্লেক্স”। শিগগিরই বিশাল এ মসজিদটি প্রথম ও দ্বিতীয় তলা নিয়ে কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। পরে আর্থিক সামর্থ ও সময় নিয়ে ১০ তলা বিশিষ্ট পুর্নাঙ্গ কমপ্লেক্স করার পরিকল্পনা রয়েছে। জাপানের সর্ববৃহৎ মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়েছেন ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন জাপান।

জানা যায়, বিশাল এ মসজিদের কার্যক্রমের পাশাপাশি ইসলামি শিক্ষা, কুরআন গবেষনা, জাপানিজদের জন্য সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক স্কুল, পূর্ণাঙ্গ হিফজুল কুরআন মাদরাসা চালু করা হবে। এছাড়া ধর্মীয় বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান, ইসলাম ও বর্তমান প্রেক্ষাপটের উপর সেমিনার-সিম্পুজিয়াম, শিশু ও বড়দের পৃথক কুরআন শিক্ষা কার্যক্রম ও জাপানিদের জন্য ইংরেজি ও জাপানি ভাষায় ইসলামি জ্ঞান লাভের বিশেষ বিভাগ থাকছে। এছাড়াও বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রবাসী মুসলিম কমিউনিটিকে সংগঠিত করে তাদের মাঝে প্রকৃত ইসলামী জীবন বিধানের দায়িত্বানুভূতি জাগিয়ে তোলার সুমহান ব্রতী নিয়ে কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি সামাজের কল্যাণমূলক বিভিন্ন ধরণের সামাজিক কাজ বাস্তবায়ন করবে।

এদিকে, জাপান সরকার অনুমোদিত ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন থেকেই সারা জাপান ব্যাপী দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই পরিপ্রেক্ষিত্রে প্রতিবছর অসংখ্য জাপানি ইসলাম সম্পর্কে জেনে শ্বাশ্বত শান্তির পথ ইসলামের ছায়াতলে আসছে। বর্তমানে জাপানের জুয়ার আসর পাচিঙ্কুর ভবনসহ জায়গাটি ক্রয় করতে প্রায় ১৮০,০০০,০০০ জাপানি ইয়েন বা ১৬ লাখ ৬২ হাজার মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে। টোকিও শহর থেকে গা্মো স্টেশন ট্রেন এ ২০ মিনিট। গামো স্টেশন থেকে ১০ মিনিটের হাঁটার দূরত্বে দোতলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক এই মসজিদ কমপ্লেক্সটির কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হচ্ছে। প্রায় দেড় হাজার স্কয়ার মিটার আয়তনের এই বিশাল কমপ্লেক্সটি কার্যক্রম শুরু হলে এটি হবে জাপানের সর্ববৃহৎ মসজিদ কমপ্লেক্স। এখানে একসাথে অর্ধ শতাধিক গাড়ি পার্কিং করা যাবে। এছাড়াও প্রয়োজনে আশপাশে আরো শতাধিক কয়েন গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

মসজিদ কমপ্লেক্সটিতে বর্তমানে যা থাকছে- অত্যাধুনিক সুবিধা সম্বলিত দোতলা বিশিষ্ট ভবনটিতে পুরুষ-নারীদের জন্য পৃথক অজুখানা ও ৫ ওয়াক্ত নামাজের ব্যবস্থা। সাধারণ মুসলিম ও জাপানিজদের জন্য সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক স্কুল, পূর্ণাঙ্গ হিফজুল কুরআন মাদরাসা, জাপানিজ ও অন্যদের জন্য ইসলামি দাওয়াহ বিভাগ, বার্ষিক সাংস্কৃতি বিনিময়ে কারি ফেস্টিভ্যাল ও কোরিওকাই ফর জাপানিজ, ইসলামিক শিক্ষা ও কুরআন গবেষণা কেন্দ্র, রামাদান-ঈদ, নিকাহ কার্যক্রম,ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, স্পেশাল চাইল্ড কেয়ার ও এক্টিভিটি, কাউন্সিলিং, ক্বিরাত-রচনা-কুইজ প্রতিযোগিতা, সীরাত মাহফিল, বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মেহমানদের আবাসন ও বিদেশি পর্যটকদের পরিদর্শন, মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত কার পার্কিং স্টেশন।

ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল মোমিন জানান, জাপানিজদের মাঝে ইসলামের কালজয়ী আহবান পৌঁছানোর পাশাপাশি মুসলিমদের জন্য নামাজ ও ধর্মীয় শিক্ষা, সাংস্কৃতি ও ইসলামি মূল্যবোধের লালন ও পরিস্ফুটন ঘটাতে এই মসজিদ কমপ্লেক্স জাপানে ইসলামের একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।সময়োপযোগী এই বিশাল দাওয়াতি কর্মযজ্ঞে সার্বিক পরামর্শ ও মুক্ত হস্তে এগিয়ে আসতে জাপান ও জাপানের বাইরের সর্বস্তরের মুসলিম নারী-পুরুষকে সবিশেষ আহবান ও আবেদন জানান তিনি।

উল্লেখ্য জাপানে প্রতিবছর বাড়ছে মসজিদ। বাড়ছে মুসলমানের সংখ্যা। জাপানের রাজধানী টোকিওসহ সারাদেশে বর্তমানের প্রায় তিন শতাধিক মসজিদ রয়েছে। শুধুমাত্র টোকিওতেই ২ শতাধিক মসজিদ ও মুসাল্লা (নামাজঘর) আছে। ১৯৭০ সালের দিকে টোকিওতে মসজিদের সংখ্যা ছিল মাত্র দু’টি।

এদিকে আগামী বছর অলিম্পিক উপলক্ষে জাপান সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে দৃষ্টিনন্দন বেশ কিছু মোবাইল মসজিদ নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়াও টোকিও বেশ কয়েকটি স্টেশন ও বড় বড় শহরগুলোর স্টেশন ও এয়ারপোর্ট গুলোতে স্থায়ীভাবে নামাজের রুম চালু করেছে জাপান সরকার। বর্তমানে টোকিওর ইয়োগি ইউহেরা এলাকায় তুর্কি মুসলিম কর্তৃক তুর্কি নির্মাণশৈলীর চমৎকার একটি মসজিদ রয়েছে। এটি টোকিও জামে মসজিদ নামে পরিচিত। জাপানে মসজিদ নির্মাণের রয়েছে অনেক লম্বা ইতিহাস। ভারতীয় মুসলিম অভিবাসীরা ১৯৩১ সালে ‘নাগোয়া মসজিদ’ এবং ১৯৩৫ সালে ‘কোবে মসজিদ’ নির্মাণ করেন। রাশিয়ায় বিপ্লব সংঘটিত হলে সেখান থেকে তাতার মুসলিমরা জাপানে এসে ১৯৩৮ সালে তারা টোকিও মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত করে। মসজিদটি নির্মাণে শুধু জাপান সরকারই সহায়তা করেনি, জাপানি অনেক কোম্পানিও আর্থিকভবে সাহায্য করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মিতসুবিশি।

বর্তমানে জাপানে মুসলমানের সংখ্যা কত তার সরকারি কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে ইসলামিক কালচারাল সেন্টারের হিসাব অনুযায়ী এ সংখ্যা ২ লক্ষাধিক বলে ধারণা করা হয়। এসব মুসলমানদের ১০ শতাংশই জাপানি বংশোদ্ভূত। জাপানে লোকসংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি।

ট্রাম্প-ইমরান বৈঠকের পর শান্তির আশা by আতা রাসুল মালিক

যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাম্প্রতিক সফর নিয়ে মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। ২২ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ইমরানের বৈঠকটি উভয় দেশের জন্যই ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই পুরনো বন্ধু ও মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান দৃশ্যত কোনো কারণ ছাড়াই একে অপরের প্রতি উদাসিন হয়ে পড়েছিল।

আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো হঠাৎ করেই পাকিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করতে থাকে, এমনকি সাধারণ পাকিস্তানি নাগরিকেরা পর্যন্ত কষ্ট অনুভব করতে থাকে। একইসাথে ট্রাম্প যত দ্রুত সম্ভব আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করতে চেয়েছেন। অবশ্য যে তালেবানের ওপর পাকিস্তানের কিছুটা প্রভাব রয়েছে, তারা পাশ্চাত্য বাহিনীর মুখ রক্ষাকর প্রত্যাহারে সম্মত হচ্ছিল না।

অন্য কথায় বলা যায়, ইমরান-ট্রাম্প বৈঠকটি বেশ আগ্রহ সৃষ্টিকারী ছিল। দুই নেতাই স্পষ্টভাষী হিসেবে পরিচিত, তারা তাদের সম্পর্ক ও কঠিন জাতীয় স্বার্থগুলোর সমাধান নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। অনেকের কাছে এই বৈঠকের ফলাফল মনে হয়েছে অনিশ্চিত। অবশ্য সবশেষে, সবকিছুই ঠিকমতো হয়েছে। দুই নেতা একে অপরের দৃষ্টিকোণ থেকে পরস্পরকে বুঝতে পেরেছেন, এগিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মনে হচ্ছে তাদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। আফগান সরকারের সাথে ‘যথার্থ’ ক্ষমতার ভাগাভাগিতে তালেবানকে রাজি করাবে পাকিস্তান। আর আফগানিস্তানে ভারতের ‘নেতিবাচক’ প্রভাব নিয়ন্ত্রণে ও কাশ্মির প্রশ্নে ভারতের সাথে বিদ্যমান দীর্ঘ দিনের সমস্যা সুরাহা করতে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্র সফর করে দেশে ফিরলে ইমরান খানকে বীরোচিত সংবর্ধনা দেয়া হয়। ইসলামাবাদ বিমানবন্দরের সংবর্ধনায় ইমরান খান পর্যন্ত বিস্মিত হয়ে পড়েন।

আন্তর্জাতিক মিডিয়াতেও ইমরান খানের যুক্তরাষ্ট্র সফর বেশ সাড়া ফেলে। মূলধারার ও সামাজিক মাধ্যমে ইতিবাচকভাবে সফরটির কথা প্রচার করা হয়। আফগানিস্তানে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে সহায়তা করার জন্য পাকিস্তানের প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি মর্যাদাপূর্ণ প্রস্থানের জন্য তালেবানের সাথে চুক্তি চান। আর তিনি তা করতে চান ২০২০ সালের নির্বাচনের আগে।

ট্রাম্প বলেন, আমরা গত কয়েক সপ্তাহে অনেক অগ্রগতি হাসিল করেছি। এই অগ্রগতিতে পাকিস্তান সহায়তা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনেক ভালো কিছু ঘটছে। ইমরানের নেতৃত্ব পাকিস্তানেও ভালো অনেক কিছু হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট অনেক আত্মবিশ্বাস ও আশাবাদ প্রদর্শন করেন।

যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান শান্তি আলোচনায় পাকিস্তান অন্যতম পক্ষ। আফগানিস্তানের সাথে পাকিস্তানের রয়েছে ২,৪০০ কিলোমিটার সীমান্ত, তাছাড়া ১০ লাখের বেশি আফগান উদ্বাস্তু আশ্রয় নিয়েছে পাকিস্তানে। পাকিস্তানের কাছ থেকে ট্রাম্প সবচেয়ে কঠিন একটি সমস্যা সমাধানে সহায়তা পাবেন। এতে করে আগামী সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকানেরা বেশি ভোট পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বিপুল সফট ও হার্ড পাওয়ার। আবার পাকিস্তানের আন্তরিকতা প্রমাণের অবকাশও রয়েছে সামান্য। দুর্ভাগ্যজনকভাবে গত শনিবার আফগান সীমান্তে পাকিস্তান তার ১০ সৈন্যকে হারিয়েছে। সেখানে ভারতীয় সম্পৃক্ততাকে মোকাবিলা করা/সংযত করার পর্যাপ্ত গোয়েন্দা সক্ষমতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে চীনকে সংযত করার জন্য ভারতের গুরুত্ব অনুভব করছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকেই ভারত নিজেকে স্থানীয়ভাবে শক্তিধর মনে করছে, ভাবছে সে ওয়াশিংটনের কাছে অপরিহার্য।

চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র- প্রত্যেককে কিছু না কিছু দিয়ে সবাইকেই খুশি রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে ভারত। এ কারণেই ২০১৮ সাল থেকে চীনের সাথে সম্পর্ক পুনঃবিন্যাস করছে ভারত, রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কিনছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নিরাপত্তা (সিওএমসিএএসএ) চুক্তি সই করেছে।

আবার ট্রাম্পের আন্তরিক মধ্যস্ততার প্রস্তাব গ্রহণ করার বদলে ভারত অধিকৃত কাশ্মিরে আরো ১০ হাজার সৈন্য পাঠিয়েছে। ভারত এই অঞ্চলে আগে থেকেই ৫ লাখ ভারী অস্ত্রে সজ্জিত সৈন্য মোতায়েন রেখেছে। ভারতীয় সংবিধানে কাশ্মিরের বিশেষ সুবিধা থাকা-সংবলিত ধারা ৩৭০ ও ৩৫এ বাতিল করার পরিকল্পনা থেকেই নতুন করে সৈন্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

পাকিস্তান, ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস, কাশ্মিরের হুরিয়াত কনফারেন্স, জম্মু ও কাশ্মিরের আঞ্চলিক দলগুলো সংবিধানের ৩৫এ ও ৩৭০ ধারা বাতিলের বিরুদ্ধে কথা বলেছে। তারা বলছে, এটি জম্মু ও কাশ্মিরের বিশেষ অধিকার।

ভারত ও পাকিস্তান কয়েকটি যুদ্ধে লড়াই করেছে, দুদেশই মনে করে কাশ্মির একটি রাজনৈতিক সমস্যা, এটি শক্তির মাধ্যমে সমাধান করা যাবে না। উভয় দেশই চায় মুখ রক্ষাকারী সমাধান। মার্কিন প্রেসিডেন্টের রয়েছে বাস্তব অন্তর্দৃষ্টি। এ কারণেই তিনি মধ্যস্ততার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি কাশ্মির বিরোধের সমাধানের মাধ্যমে শতাব্দীর সেরা চুক্তি করতে পারেন।

দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি নির্ভর করছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ওপর। এটি সন্দেহাতীতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোত্তম রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী ইমরানের উচিত হবে সাম্প্রতিক বৈঠকের সময়কার প্রতিশ্রুতির ওপর অনড় থাকা।

মিয়ানমার নগরীতে উচ্চপ্রযুক্তির ব্যাপক বিস্তার, গুপ্তচরগিরির ভয় বৃদ্ধি by শুন নাইঙ

একসময় রাজদরবার সমৃদ্ধ উত্তর মিয়ানমারের মান্দালয়কে ১৬২ বছরের ইতিহাসে গোলযোগপূর্ণ অধ্যায় বিবেচনা করা হতো। এখানেই বার্মার শেষ রাজবংশের পতন ঘটে কয়েক দশকের উপনিবেশিক শাসনের সূচনা ঘটেছিল। এখন কর্মকর্তারা সাবেক রাজকীয় রাজধানীকে দেশটির প্রথম ‘স্মার্ট নগরী’তে পরিণত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

মিয়ানমারে অন্যান্য স্থানের কর্মকর্তারা যেখানে মোটামুটি কলম-কালি নিয়ে ঘাম ঝরান, চারপাশে কাগজের স্তুপ জড়ো করে রাখেন, সেখানে মান্দালয় কর্তৃপক্ষ সামাজিক মিডিয়ার ব্যবহার করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সফটওয়্যারসহ নতুন নতুন প্রযুক্তিতে শান দিয়ে যাচ্ছেন, এমনকি অলস আমলাতন্ত্রকে চাঙ্গা করতে ড্রোনও কাজে লাগান।

মিয়ানমারে ২০১১ পর্যন্ত সামরিক শাসক কর্তৃপক্ষের আমলে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরীর লোকজন মনে হয় টেরও পেত না যে কে তাদের কর্তা। এখন তারা ফেসবুকে মেয়রের সাথে কথা বলে, কিউআর কোড দিয়ে পরিষেবার বিল প্রদান করে। অথচ দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনেও এমন সুবিধা নেই।

কর্তৃপক্ষ জিপিএস দিয়ে আবর্জনা চিহ্নিত করে, রিমোর্ট সেন্সরের মাধ্যমে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে।

৫৫ বছর বয়সী ট্যাক্সিচালক কি থিন বলেন, আমরা যে এখন মেয়রের সাথে এভাবে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারি, তা ভালো বিষয়। আগে আমরা কেবল তাদের মোটর বহর দেখতাম।

আগে এই নগরী ছিল সামরিক-সম্পর্কিত লোকজনের প্রাধান্যবিশিষ্ট ও দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার উর্বর ক্ষেত্র। তবে বেসামরিক প্রাধান্যবিশিষ্ট নগরীর প্রথম মিউনিসিপ্যাল সরকার আঞ্চলিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে নতুন পরিকল্পনা হাজির করেছে।

পরিবর্তনের গতি আঞ্চলিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এমনকি মে মাসে প্রবাসী বর্মীরা মেয়রকে ‘সিটিজেন অব বার্মা’ পুরস্কারেও ভূষিত করেছে।

তবে কিছু কিছু পরিবর্তন বাধার মুখে পড়েছে। তবে তা কেবল মান্ধাত্যার আমলের আমলাতন্ত্রের কাছ থেকেই নয়, অ্যাক্টভিস্টরাও এর বিরুদ্ধে রয়েছে। তারা আশঙ্কা করছে, পর্যান্ত নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই স্মার্ট প্রযুক্তি প্রযোগ করা হলে তা তাদের ওপর ঘনিষ্ঠভাবে নজরদারি করার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।

সিঙ্গাপুরে ২০১৮ সালের এপ্রিলে ওই সময়কার আসিয়ান চেয়ারম্যান ২৬টি স্মার্ট নগরীর একটি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন। দীর্ঘ দিন ধরে বিরাজমান কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটাই একমাত্র প্রতিকার বলে তিনি জানান।

এ কাজের জন্য মিয়ানমারের তিনটি নগরী বাছাই করা হলেও দেশের মধ্যভাগে থাকা মান্দালয়ই প্রস্তাবটি সবচেয়ে উষ্ণভাবে গ্রহণ করে।

ওই সময়ে নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল মান্দালয়। ট্যাপের পানি পান করা যেত না, রাস্তাগুলো ছিল জ্যামে বিশ্রি অবস্থায়, রাস্তায় রাস্তায় ছিল গর্ত। ময়লা আবর্জনা ছিল পুরো শহরে।

অনেকেই সাবেক চক্ষু সার্জন মেয়র ইয়ে লউইনকে এসব সমস্যা সমাধানের জন্য কৃতিত্ব দিয়ে থাকে। ২০১৫ সালের নির্বাচনের পর বেসামরিক সরকার তাকেই মেয়র পদে নিয়োগ করে। তিনি ফেসবুক পেইজে প্রতি দিন নজর রাখতেন, অধীনস্তদের নির্দেশ দিতেন।

মিয়ানমারের সবচেযে জনপ্রিয় বর্মি ভাষার ফ্রন্ট সৃষ্টিকারী আইটি বিশেষজ্ঞ ইয়ে মিত থু বলেন, আমাদের লক্ষ্য এমন নগরী সৃষ্টি করা, যা পরিবেশের কোনো ক্ষতি করবে না। আমরা এমন নগরী গড়তে চাই যা হবে অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য ভালো। তিনি বলেন, আমরা তা করার জন্যই প্রযুক্তির ব্যবহার করছি।

তিনি বলেন, আবর্জনা ব্যবস্থাপনায় উন্নতির জন্য এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক কিছু টাকা দিলেও বেশির ভাগ সংস্কার করা হয়েছে করের টাকায়।

কর্তৃপক্ষ নগরীর ডিজিটাল সার্ভে করেছে, ড্রোন দিয়ে ৩ডি ইমেজ ব্যবহার করেছে, জিএসপি সরঞ্জাম নিয়ে মিউনিসিপ্যাল কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্যও সংগ্রহ করেছে।

অবশ্য পরিবর্তন খুব সহজে আসেনি। আমলাতন্ত্রের কাছ থেকে বিপুল বাধার মুখে পড়তে হয়েছে এজন্য।

আবার ডিজিটাল সরঞ্জাম দিয়ে গুপ্তচর বৃত্তির কার্যক্রম পরিচালনা করা হতে পারে বলেও অভিযোগ ওঠছে। বিশেষ করে চীনের কাছ থেকে ১.২৪ মিলিয়ন ডলারের সিসিটিভি ক্যামেরা কেনা, চীনা হুওয়ে প্রযুক্তির সহায়তা গ্রহণকে অনেকে ভালোভাবে নিচ্ছে না।

তবে কর্তৃপক্ষ হাল ছাড়ার লোক নয়। এমসিডিসির এয় মিত থু বলেন, আমরা অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছি। আমরা আমাদের নিজেদের মতো করে সবকিছু পরিবর্তন করার চেষ্টা করছি।

মোদির ফেডারেলবিরোধী এজেন্ডায় হুমকির মুখে ভারতের ঐক্য by সুবীর ভৌমিক

ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইউনিয়ন অব স্টেটস’ হিসেবে অভিহিত করা হলেও কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে রয়েছে বিপুল ক্ষমতা। এ কারণে ভারতকে বলা হয়, ‘শক্তিশালী ইউনিটারি বায়াজ ফেডারেশন।’
অবশ্য, অস্বীকার করার উপায় নেই যে ভাষার ভিত্তিতে গঠিত রাজ্যগুলোকে নিয়েই ভারত একটি ফেডারেশন। সুপ্রিম কোর্টের অনেক রায়ে ভারতীয় সংবিধানের অপরিবর্তনযোগ্য ‘মৌলিক কাঠামো’ নিয়ে গঠিত ‘ফেডারেল নীতিমালা’র কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অধীনে বিজেপি এই মৌলিক কাঠামোটাই ধীরে ধীরে ওই পর্যায় পর্যন্ত ক্ষয় করার চেষ্টা করছে যাতে ‘হিন্দু, হিন্দি, হিন্দুস্তান’ নিয়ে আরএসএসের ভিশনের পথ তৈরি হয়ে যায়।
মোদির ‘সহযোগিতামূলক ফেডারেলবাদ’ এমন প্রত্যাশার ওপর ভিত্তি করে প্রণীত যেখানে রাজ্যগুলো নিঃশর্তভাবে কেন্দ্রকে সমর্থন করবে, কোনো আলোচনা বা বিতর্ক ছাড়াই এর নির্দেশনা অনুসরণ করবে।
নোট বাতিলকরণসহ কেন্দ্রের নেয়া অন্য সব সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া ছাড়া রাজ্যগুলোর আর কোনো উপায় ছিল না। এটা পরিণত হয়েছে একমুখী রাস্তা।
বিজেপির পরিচালিত রাজ্যগুলো সর্বোচ্চ নেতার সাথে কোনো ধরনের মতবিরোধে যাবে না বলেই প্রত্যাশা করা হয়ে থাকে এবং আঞ্চলিক দলগুলো শাসিত যেসব রাজ্য বহন-অসাধ্য মনোভাবের বিরোধিতা করবে, তাদেরকে দেশ ভাঙ্গার চক্র হিসেবে গালিগালাজ করা হবে কিংবা ‘মহামিলাওয়াতের’ অংশ হবে।
মোদি ও অন্যান্য বিজেপি নেতা ২০১৯ সালের নির্বাচনের সময় বিরোধী জোট গড়ার চেষ্টাকারীদের ‘মহামিলাওয়াত’ হিসেবে আক্রমণ করে।
আঞ্চলিক দলগুলো অপরিহার্য
কিন্তু ভারতীয় রাজনৈতিক দৃশ্যপটে আঞ্চলিক দলগুলো অপরিহার্য ও অবিভাজ্য। তামিল নাড়ুর দ্রাভিদা মুনেত্রা কাজগাম (ডিএমকে) স্থানীয় শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলনগুলো থেকে সৃষ্টি হয়েছিল। কাশ্মিরের ন্যাশনাল কনফারেন্সের মতো কিছু দল এমনকি ভারত বিভক্তিরও আগে আত্মপ্রকাশ করেছিল। আবার তেলুগু দেশমের মতো অনেক দল দিল্লির বাড়াবাড়ি রকমের নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করার সময় আবির্ভূত হয়।
ইন্দিরা গান্ধীর আমল থেকে কংগ্রেসের ব্যক্তি পূজার ফলেও দলে ভাঙনের সৃষ্টি হয়ে মহারাষ্ট্রে শরদ পাওয়ারের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) ও পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম হয়। কংগ্রেস থেকে বের হয়ে যাওয়া এসব গ্রুপের একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক পরিচিতি রয়েছে।
আঞ্চলিক দলগুলো মুছে ফেলা যায় না, কারণ এগুলো ভারতের বহুজাতিক পরিচিতির প্রতিফলন ঘটায়। এগুলোর মধ্য দিয়ে ভারতের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের অনিবার্য প্রকাশ ঘটেছে।
যারা বিশ্বাস করে যে ভারতকে কেন্দ্রীয়ভাবে শাসন করা যাবে, তারা মোগল বা দিল্লি সালতানাতের সময়ে যেসব ভুল করেছিল, সেই একই ভুল করছে। যারা প্রত্যন্ত এলাকায় বাস করে, দিল্লি আসলেই অনেক দূরে।
মোদির ‘এক জাতি, এক নির্বাচন’ ফেডারেল ভারতের ধারণাকেই আঘাত করছে। বিজেপির এই উদ্যোগ গ্রহণ করার কারণ হলো, তারা মনে করছে, যুগপৎভাবে সব রাজ্য ও কেন্দ্রে নির্বাচন হলে শক্তিশালী মোদি ব্র্যান্ডের ফলে তাদের ক্ষমতা দখল সহজ হবে।
২০১৯ সালের লোকসভার নির্বাচনের সাথে যে রাজ্যটির নির্বাচন হয়েছে, তার ফলাফলে দেখা যায়, উড়িষ্যায় বিজু জনতা দলের (বিজেডি) মতো শক্তিশালী আঞ্চলিক দলগুলো কিভাবে ভোট দেয়।
মোদির ‘এক দেশ, এক ভোট’ নির্বাচনী খরচ হিসেবে ৫৫ হাজার মিলিয়ন রুপি বাঁচাবে বা বারবার নির্বাচন আয়োজনে ঝামেলা থেকে রক্ষা করবে বলে বিজেপি যে কথা বলছে, তা একেবারে আনাড়ি বক্তব্য।
তাহলে বিজেপি কেন গুজরাটের রাজ্য সভার দুটি আসনে একই তারিখে ভোট আয়োজনের বিরোধিতা করেছিল? বাস্তবতা হলো, বিজেপি-আরএসএস জুটি পেশীশক্তির জাতীয়তাবাদীর মোদি ব্র্যান্ডকে জাতীয় শক্তি কাঠামোতে (কেন্দ্র ও রাজ্য) অন্তর্ভুক্তকরণ নিশ্চিত করতে চায়।
সম্প্রতি একজন ভাষ্যকার দেখিয়ে দিয়েছেন, অর্থনীতিতে অন্তত ১০টি ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে ৫০ হাজার মিলিয়ন রুপি বা তার চেয়ে বেশি সাশ্রয় করা সম্ভব। এসবের মধ্যে বড় ধরনের একটি ব্যয় হ্রাস হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রচারণা বাজেটে। আরেকজন বিশ্লেষক বলেছেন, এক জাতি, এক ভোট ধারণাটি আসলে সেতুর কিছু কাঠামোগত সমস্যার কারণে নদীর ধারা বদলে দেয়ার মতো।
হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তান
বিজেপির ফেডারেলবাদের ওপর আক্রমণের উৎস হলো আরএসএসের ‘হিন্দি, হিন্দু, হিন্দুস্তানের’ ওপর ভিত্তি করে প্রণীত ‘এক ভারত’ দর্শন।
জাতীয় শিক্ষানীতিতে তৃতীয় ভাষার মাধ্যমে হিন্দিকে বাধ্যতামূলক করার চেষ্টা ওই মতাদর্শ প্রচারই প্রতিফলিত করে। তামিল নাড়ু ও আরো কয়েকটি রাজ্যে কঠোর প্রতিবাদের ফলে হিন্দিতে শিক্ষার প্রয়াস বাতিল করা হয়েছে। তবে আরএসএস জানিয়েছে, তারা চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
হিন্দির পরিচিতি জোরদার করা ও সুসংহত করার অনেক চেষ্টা চলছে। এসবের মধ্যে রয়েছে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানে জোর দেয়া, অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা, সন্ত্রাসে অভিযুক্ত প্রজ্ঞা ঠাকুরের মতো হিন্দু কট্টরপন্থীদের জন্য পার্লামেন্টে আসনের ব্যবস্থা করা, রাম মোহন রায়ের মতো বাংলার রেনেসাঁস ব্যক্তিত্বদের সুনাম হানি করা।
হিন্দি ও হিন্দুর বেলাও প্রায় একই কথা। তারপর আসে ‘এক হিন্দুস্তান।‘ আর তা প্রতিষ্ঠা করতে চাওয়া হচ্ছে ‘এক জাতি, এক নির্বাচনের’ মাধ্যমে।
কলামিস্ট স্বামিনাথান আয়ার ‘এক জাতি, দুই নির্বাচনের’ পরামর্শ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনের দুই বা তিন বছর পর সব রাজ্যের নির্বাচন হতে পারে। তার মডেলটি মার্কিন মডেলের মতো। সেখানে প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচন হয় সাধারণত প্রেসিডেন্ট ও সিনেট নির্বাচনের অনেক পর।
কোনো রাজ্যে সরকার যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়, তখন কী হবে? যেসব রাজ্য কেন্দ্রীয় শাসনের আওতায় আসবে, সেগুলো কি অন্য রাজ্যগুলোর জন্য অপেক্ষা করবে? কেন্দ্রে সরকারের পতন হলে কী হবে? এটা কি ৫ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে? এসব প্রশ্নের সমাধান দিতে হবে।
মিডিয়ার বিতর্কে ইতোমধ্যেই এই আইডিয়াটির অসম্ভব প্রকৃতির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। তবে বিজেপি পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাবটি নিয়ে কথা বলেই যাবে। বর্তমানে লোকসভায় বিজেপির ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও ২৪৫ আসনবিশিষ্ট রাজ্য সভায় রয়েছে তাদের ১০৬ জন।
ভারত আসলে কিভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে
ভারতীয় সেনাবাহিনীর বন্দুকের মাধ্যমে নয়, বরং ঐকমত্য ও ভদ্রোচিত মিলের মাধ্যমে ভারতীয় ইউনিয়ন একত্রিত হয়েছিল। আঞ্চলিত পরিচিতিগুলোর সহিষ্ণুতা এর অংশ। এখন এর কোনো ধরনের ক্ষতি ফেডারেল ব্যবস্থার ভিত্তিকেই দুর্বল করে দিয়ে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।
ধর্মভিত্তিক কেন্দ্রীয় রাজনীতি পাকিস্তানকে এক রাখতে পারেনি। ইসলাম ও একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী পাকিস্তানকে এক রাখতে পারেনি। এমনকি ১৯৭১ সালের পরও শক্তিশালী বিচ্ছিন্নতাবাদ ও স্বায়ত্তশাসনবাদী আন্দোলন পাঞ্জাবের বাইরের সব প্রদেশে দেখা যাচ্ছে।
কিন্তু আমাদের প্রতিবেশীদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো শিক্ষা গ্রহণ করার বদলে মোদির বিজেপি ধর্ম চালিত জাতি-রাষ্ট্রের ব্যর্থ পাকিস্তানি মডেলকে ভারতে নিয়ে আসছে।
১৯৭১ সালের যুদ্ধক্ষেত্রে পূর্ব বাংলার লোকজন জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব সমাহিত করে দিয়েছে। এখন হিন্দুত্ববাদী ধর্মীয় উন্মাদনা জিন্নাহর দ্বিজাতীয় তত্ত্বকে নতুন করে বৈধতা দিতে যাচ্ছে।
প্রতিবেশীদের ওপর প্রভাব
পশ্চিমবঙ্গে ত্রুটিপূর্ণ জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি প্রদানের মাধ্যমে বিজেপি একটি প্যান্ডোরা বাক্স খুলছে। এর মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশের পুরো পূর্বাঞ্চলে অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হতে পারে। উল্লেখ্য আসামের এনআরসির ফলে প্রায় ৩০ লাখ বাঙালি হিন্দু ও মুসলিম বহিস্কৃত যদি নাও হয়, তবুও অন্তত ভোটাধিকার হারাতে চলেছে।
এনআরসির কোনো বিরূপ প্রভাব যদি বাংলাদেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে পড়ে, তবে মোদির ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ আকাঙ্ক্ষার ওপর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে, উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
আর স্রেফ সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গকে ‘কাশ্মিরের চেয়েও খারাপ’ হিসেবে উপস্থাপনের মাধ্যমে মোদি-শাহ জুটি আসলে ইন্দিরা গান্ধীর ভুলেরই পুনরাবৃত্তি করছে। উল্লেখ্য, ইন্দিরা গান্ধী ১৯৮৪ সালে নির্বাচিত ফারুক আবদুল্লাহ সরকারকে হঠিয়ে দিয়ে জঙ্গিবাদের ভিত্তি প্রস্তুত করেছিলেন। ভারত এখনো এই সমস্যায় রয়েছে।
মোদি দৃশ্যত বুঝতে পারছেন না যে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ তার ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ প্রজেক্টের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বর্ষার নাচ by হাসান মাহমুদ

আপডেট- ০৪ আগস্ট ২০১৯: এখন বর্ষাকাল। পাবনার নৃত্য সংগঠন গন্তব্যের নৃত্যশিল্পীরা তাই বৃষ্টির গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেছে। নৃত্যানুষ্ঠান জলতরঙ্গে অংশ নেয় ২১ জন শিক্ষানবিশ নৃত্যশিল্পী। গোপালপুর ললিতকলা ইফা মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান হয়।
চলছে বর্ষার নাচ।চলছে বর্ষার নাচ।বর্ষার গানের সঙ্গে ছিল নাচ।বর্ষার গানের সঙ্গে ছিল নাচ।শিশু শিল্পীদের নাচও ছিল আকর্ষণীয়।শিশু শিল্পীদের নাচও ছিল আকর্ষণীয়।বৃষ্টি নিয়ে প্রেম, ভালোবাসা, বিরহ ফুটে ওঠে শিল্পীদের নাচে।বৃষ্টি নিয়ে প্রেম, ভালোবাসা, বিরহ ফুটে ওঠে শিল্পীদের নাচে।একক, দ্বৈত বা দলীয় সব নাচেরই মূল বিষয় ছিল বর্ষা।একক, দ্বৈত বা দলীয় সব নাচেরই মূল বিষয় ছিল বর্ষা।নৃত্যানুষ্ঠান মুগ্ধ করে দর্শকদের।নৃত্যানুষ্ঠান মুগ্ধ করে দর্শকদের।একসঙ্গে সব শিল্পীরা।একসঙ্গে সব শিল্পীরা।

মিয়ানমারের অনিশ্চিত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ by ল্যারি জ্যাগান

রাশিফল, কুসংস্কার এবং ভবিষ্যৎ বক্তাদের বিশেষ কদর রয়েছে মিয়ানমারে। সবসময় তাদের পরামর্শ চাওয়া হয় এবং ধর্মীয়ভাবে সেটার অনুসরণও করা হয়। ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও সমাজের নেতা সবাই জ্যোতির্বিদদের অনুমানকে বিশেষ গুরুত্ব দেন।

চলতি মাসটাও এখানে সেরকমই। ভবিষ্যদ্বক্তারা বলেছেন যে, দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসন্ন, তাই সর্বত্র এখন ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। জ্যোতির্বিদদের ধারণা অনুযায়ী একটা সামরিক অভ্যুত্থান অত্যাসন্ন। তাদের ভবিষ্যদ্বাণীতে অবশ্য বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা অত গুরুত্ব দেন না, কিন্তু এরপরও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ক্রমেই অস্থির ও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

১৯৮৮ সালে যে গণতান্ত্রিক আন্দোলন হয়েছিল, সেটা স্মরণ করা হয় এই আগস্ট মাসে। সে কারণে এই মাসটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এ বছরও কোন ব্যতিক্রম নয়। দেশ, বিশেষ করে রাজনীতিবিদরা ২০২০ সালের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছেন। আসলে এই মুহূর্তে সবখানেই প্রাধান্য বিস্তার করেছে ‘সিনড্রম ২০২০’, যদিও মূল মনোযোগ হলো সংবিধান পরিবর্তনের ব্যাপারে ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির প্রচেষ্টা।

ছয় মাস আগে, সরকার একটি পার্লামেন্টারি কমিটি গঠন করেছিল – যেখানে পার্লামেন্টের সবগুলো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা ছিলেন। সংবিধান সংশোধনের বিষয়গুলি নিয়ে এই কমিটিতে আলোচনা হয়েছে এবং সেটা গত মাসে পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হয়েছে। এখন এটা নিয়ে আলোচনা ও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের পালা।

অধিকাংশ বিশ্লেষকের মতো, পার্লামেন্টের এই সিদ্ধান্ত একটা সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরি করতে যাচ্ছে এবং এটা বেসামরিক সরকারকে সমারিক বাহিনীর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেবে। উল্লেখ্য সামরিক বাহিনীর এমপিরা সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে এবং জানিয়েছে যে, আসন্ন পার্লামেন্ট অধিবেশনে তারা নীরব থাকবে।

তবে সিনিয়র এনএলডি এমপি অং কি নাইউন্ত – যিনি সংবিধান সংশোধন কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন – তিনি মনে করেন যে, এই পার্লামেন্টারি বিতর্ক বরং ভবিষ্যতে সংবিধান নিয়ে সঙ্ঘাতের পথ বন্ধ করে দেবে।

তবে, তিনি স্বীকার করেন যে, সফল হতে হলে দেশের নেতাদের মধ্যে সহযোগিতার প্রয়োজন। এটা ঘটতে হবে, যতি সেনা অভ্যুত্থানের বিপদ কাটিয়ে উঠতে হয়।

এনএলডির দিক থেকে দেশের গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য সংবিধান পরিবর্তন করাটা জরুরি। নিম্নকক্ষের এনএলডি এমপি ই মোন বলেন, “সংবিধান যদি সংশোধন করা না হয়, তাহলে জনগণ কখনই দায়িত্বশীল একটা সরকার পাবে না, আর সেটা না হলে আমরা কখনই বলতে পারবো না যে, আমরা গণতান্ত্রিক দেশে আছি”।

এনএলডি দলের বিশিষ্ট এমপি ও সাবেক রাজনৈতিক কর্মী বো বো উ সাউথ এশিয়ান মনিটরকে সম্প্রতি বলেন, ২০১৫ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় সংবিধান পরিবর্তনের বিষয়টি একটা প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল। তিনি আরও বলেন, তাই পার্লামেন্টারি কমিটি গঠন করাটা হলো এই প্রতিশ্রুতি পূরণের প্রথম ধাপ।

এতে কোন সন্দেহ নেই যে, এনএলডি সরকারের কৌশলের মূলেই রয়েছে এটা – দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং সরকারের মধ্যে বর্ধিত মাত্রায় দায়বদ্ধতা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে আসা।

দেশের বেসামরিক নেতা স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু কি নিজের প্রতিশ্রুতির বিষয়টি কখনও গোপন রাখেননি যে, তিনি চান যাতে সেনারা ব্যারাকে ফিরে যায় এবং যাতে তিনি সরকারকে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বেসামরিক নেতৃত্বের হাতে ছেড়ে যেতে পারেন। প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি ‘প্যাংলং’ শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যবহারের চেষ্টা করেন, যেখানে জাতিগত সশস্ত্র গ্রুপগুলো এবং রাজনৈতিক দলগুলো একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ‘ফেডারেল, গণতান্ত্রিক’ রাজ্য গঠন করবে। কিন্তু সেটা একটা দীর্ঘ ও জটিল পথ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই এই অচলাবস্থার অবসানের জন্য, স্টেট কাউন্সিলর পার্লামেন্টে ফিরে গেছেন যাতে সংবিধান পরিবর্তনের চেষ্টাকে এগিয়ে নেয়া যায়।

সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে এবং ২০২০ সালের নির্বাচনের আগেই সংবিধান পরিবর্তনের প্রয়োজন এনএলডির। স্থানীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, আর কিছু না হলেও এটা এনএলডিকে আগামী নির্বাচনে একটা শক্ত ভিত্তি তৈরি করে দেবে। কিন্তু এই জায়গাটা বিপজ্জনক কারণ এটা সন্দেহাতীতভাবে এনএলডিকে সামরিক বাহিনীর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেবে, যদি ক্রমবর্ধনাম উত্তেজনা প্রশমন এবং সঙ্ঘাত এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়া হয়।

কার্যত এনএলডি নেতৃবৃন্দ সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারে একটা শক্তিশালী, কৌশলগত পথ অবলম্বন করেছেন। কিন্তু এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলা থেকে বিরত আছেন তারা। অং কি নাইউন্ত ব্যাখ্যা করে বলেন, সংবিধান সংশোধনের চেষ্টাটা সরাসরি সামরিক বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে যাওয়ার জন্য নয়। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের এক নেতা এসএএমকে বলেন যে, গণতান্ত্রিক ক্ষমতা বদলের রোডম্যাপ সম্পূর্ণ করার জন্য এটা হলো প্রথম পদক্ষেপ। এনএলডির প্রস্তাবনার মধ্যে এটাকে সেইভাবেই উল্লেখ করা হয়েছে যেটা পার্লামেন্টে সামরিক বাহিনীর কোটাকে ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী তিনটি নির্বাচনের মাধ্যমে কমিয়ে আনবে এবং ২৫% থেকে তাদের প্রতিনিধিত্ব শূণ্যে নামিয়ে আনা হবে।

কিন্তু এটাকে ইতিবাচক শোনালেও এবং এখানে সুস্পষ্ট ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা থাকলেও এটা তখনই সফল হবে যদি সব নেতা, স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু কি এবং কমান্ডার-ইন-চিফ সিনিয়র জেনারেল মিন অং লাইংয়ের মধ্যে এ ব্যাপারে ঐক্যমত থাকে।

এ জন্য দুই পক্ষকে আলোচনা ও দর কষাকষিতে বসতে হবে। এখন পর্যন্ত এমন কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না যে সেটা হতে চলেছে, কিন্তু এটা প্রায় নিশ্চিত যে, সেদিকেই যেতে হবে। অবশ্যই, সফল হতে হলে গোপনীয়তাও বজায় রাখতে হবে।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর উপর যে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক হামলা হচ্ছে – যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং জাতিসংঘ তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার উপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে। এ সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে তাদের উভয়ের জন্য একসাথে কাজ করাটা জরুরি।

জাতিসংঘের আহ্বানের জবাবে সরকার দ্রুততার সাথে প্রত্যাখ্যার করেছে, যদিও সেটা ছিল দুর্বল। তবে এর মাধ্যমে ইঙ্গিত মিলেছে যে, সরকার ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে কিছু অভিন্ন অবস্থান তৈরি হয়েছে।

কিন্তু এটাকে সংবিধান পরিবর্তনের জায়গায় নেয়ার জন্য বহু দূর যেতে হবে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এখানে মিন অং লাইংয়ের ভবিষ্যৎ। সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সূত্র মতে, আগামী বছরের মাঝামাঝি তিনি অবসরে যাবেন, যদিও গুঞ্জন রয়েছে যে, মেয়াদের আগেই আগাম অবসরে যেতে পারেন তিনি। এরপর সবকিছুই নির্ভর করবে মিন অং লাইংয়ের ভবিষ্যতের ব্যাপারে তার নিজের পরিকল্পনার উপর। এখন পর্যন্ত এটা ধারণা করা হয় যে, ২০২০ সালের নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট হওয়ার দিকে তার আগ্রহ রয়েছে।

সিঙ্গাপুরের ঐতিহাসিক র‌্যাফেলস হোটেলের দরজা খুললো আবারও by ওয়াসিদ রাজা

সিঙ্গাপুরের ঐতিহাসিক র‌্যাফেলস হোটেল
সিঙ্গাপুরের ঐতিহাসিক র‌্যাফেলস হোটেলে এখন ছড়িয়ে আছে নতুন রঙের ঘ্রাণ। বড়সড় সংস্কারের পর গত ১ আগস্ট অতিথিদের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে এটি। রাজকীয় ছাপের সঙ্গে আধুনিকতার মিশ্রণ ঘটানোর সুবাদে নতুন রূপে সেজেছে পাঁচতারকা এই স্থাপনা।
র‌্যাফেলস হোটেলের কোর্টইয়ার্ড স্যুট
র‌্যাফেলস হোটেলের কোর্টইয়ার্ড স্যুট
এবারের সংস্কার কাজের সুবিধার্থে প্রায় দুই বছর বন্ধ ছিল র‌্যাফেলস। এর আগে ১৯৯১ সালে শেষবার সংস্কার করা হয়েছিল এটি। এর আগেই ঐতিহাসিক এই হোটেল ১৯৮৭ সালে সিঙ্গাপুরের জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভের স্বীকৃতি পায়।
র‌্যাফেলস হোটেলের রেসিডেন্স স্যুট
র‌্যাফেলস হোটেলের রেসিডেন্স স্যুট
১৮৮৭ সালে ১০ রুমের একটি বাংলো দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বিলাসবহুল ‘র‌্যাফেলস হোটেল সিঙ্গাপুর’। এর দাম্ভিকতা বোঝাতে নামটাই যথেষ্ট। ২০০ বছর আগে সিঙ্গাপুরে ব্রিটিশ উপনিবেশের দায়িত্বে থাকা স্যার স্ট্যামফোর্ড র‌্যাফেলসের নামে এর নামকরণ হয়।
র‌্যাফেলস হোটেলের টিফিন রুম
র‌্যাফেলস হোটেলের টিফিন রুম
সময় গড়ানোর সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম সেরা হোটেলের রূপ পেয়েছে র‌্যাফেলস। এবারের সংস্করণে সৌন্দর্য বেড়েছে আরও।
র‌্যাফেলস হোটেলের বুটিক
র‌্যাফেলস হোটেলের বুটিক
ইতিহাসের রথী-মহারথীদের স্পর্শ মিশে আছে র‌্যাফেলসে। বিখ্যাত অনেক ব্যক্তির আনাগোনা ছিল এখানে। তাদের মধ্যে পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসন, ব্রিটিশ চলচ্চিত্র নির্মাতা আলফ্রেড হিচকক, চার্লি চ্যাপলিন, শিশুতোষ বই ‘দ্য জঙ্গল বুক’-এর ব্রিটিশ কথাশিল্পী রুডইয়ার্ড কিপলিং, মার্কিন ঔপন্যাসিক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে আতিথ্য নিয়েছেন এখানে। শুধু তারা নন, ব্রিটিশ অভিনেতা-পরিচালক নোয়েল কাওয়ার্ড, বিখ্যাত সাহিত্যিক জোসেফ কনরাড, সমারসেট মম ও পাবলো নেরুদা থেকেছেন এই হোটেলে।
র‌্যাফেলস হোটেলের সুইমিং পুল
র‌্যাফেলস হোটেলের সুইমিং পুল
গ্ল্যামার জগতের মানুষের আনাগোনাও কম ছিল না র‌্যাফেলসে। কিংবদন্তি অভিনেত্রী এলিজাবেথ টেলর, আভা গার্ডনার থেকে শুরু করে হালের হার্টথ্রব অভিনেতা জনি ডেপ এবং ডিউক ও ডাচেস অব ক্যামব্রিজ আলোকিত করেছেন হোটেলটিকে। ১৯৮৯ সালে হোটেলটি পরিদর্শন করেন ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ।
র‌্যাফেলস হোটেলের কোর্টইয়ার্ড স্যুট বাথরুম
র‌্যাফেলস হোটেলের কোর্টইয়ার্ড স্যুট বাথরুম
দুই বছর কঠোর পরিশ্রমের সুবাদে আবারও বিশ্বের সামনে নতুনভাবে র‌্যাফেলসকে তুলে ধরতে পারার আনন্দ এর জেনারেল ম্যানেজার ক্রিশ্চিয়ান ওয়েস্টবেল্ডের চোখেমুখে। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমরা ভাবিনি এই সময়ের মধ্যে সব কাজ সম্পন্ন করা যাবে। সংস্কারের বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেছি। ফলে র‌্যাফেলসের দরজা আবারও খোলা গেছে। তবে ঔপনিবেশিক ঐতিহ্যের মুগ্ধকর স্থাপত্যকে ধরে রাখা ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য।’
র‌্যাফেলস হোটেলের করিডোর
র‌্যাফেলস হোটেলের করিডোর
নতুনভাবে গড়লেও ঐতিহ্য, রূপ কিংবা রাজকীয় সাজে হাত পড়েনি। বরং আগের সবকিছু ঠিক রেখে আধুনিকতার ছোঁয়া যোগ করে ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী র‌্যাফেলসের ঐশ্বর্যকে আরও বড় পরিসর দেওয়া হয়েছে। সংস্কার কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন ডিজাইন প্রতিষ্ঠান শ্যাম্পালিমোদের প্রতিষ্ঠাতা আলেক্সান্দ্রা শ্যাম্পালিমোদ।
র‌্যাফেলস হোটেলের রেসিডেন্সিয়াল স্যুট
র‌্যাফেলস হোটেলের রেসিডেন্সিয়াল স্যুট
১৩০ বছরেরও বেশি পুরনো হোটেলটিতে রয়েছে ৯ ক্যাটাগরির স্যুটস। এগুলো হলো– স্টেট রুম স্যুটস, কোর্টইয়ার্ড স্যুটস, পাম কোর্ট স্যুটস, পার্সোনালিটি স্যুটস, রেসিডেন্স স্যুটস, প্রোমেনাড স্যুটস, গ্র্যান্ড হোটেল স্যুটস ও প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটস। এর মধ্যে সংস্কারের মাধ্যমে রেসিডেন্স, প্রোমেনাড ও স্টুডিও স্যুটস যুক্ত করা হয়েছে। সব রুমই নিরিবিলি, কোনও হৈচৈ কানে আসার সুযোগ নেই!
র‌্যাফেলস হোটেলের রেস্তোরাঁ ল্যু দাম দে পিক
র‌্যাফেলস হোটেলের রেস্তোরাঁ ল্যু দাম দে পিক
অতিথিরা রুমের ট্যাবলেট দিয়ে ডিজিভ্যালেট অ্যাপের মাধ্যমে ওয়েটার ডাকতে পারেন। একজন ওয়েটার একটি রুমের জন্য বরাদ্দ। ফলে যখন ইচ্ছে তাকে ডাকলে পাওয়া যাবে। অতিথিদের গাইড হিসেবে কাজ করেন লেসলি ড্যাঙ্কার। ৪৫ বছর ধরে এই হোটেলে আছেন তিনি।
র‌্যাফেলস হোটেলের গ্র্যান্ড লবি
র‌্যাফেলস হোটেলের গ্র্যান্ড লবি
১৮৯২ সাল থেকে র‌্যাফেলসে উত্তর ভারতীয় খাবার পরিবেশন করা হয়। সংস্কারের মাধ্যমে এতে গতে তোলা হয়েছে নতুন রেস্তোরাঁ ‘ল্যু দাম দে পিক’।
র‌্যাফেলস হোটেলের আফটারনুন টি
র‌্যাফেলস হোটেলের আফটারনুন টি
গ্র্যান্ড লবিতে আফটারনুন টি মিস করা ঠিক হবে না! এতে থাকে দারুণ চা, শ্যাম্পেন, ক্ল্যাসিক স্যান্ডউইচ, ঘরে বানানো বিস্কুট ও কেক। হোটেলটির বুটিক আর টিফিন রুমও বেশ দর্শনীয়। 
র‌্যাফেলস হোটেলের অভিজাত সিঁড়ি
র‌্যাফেলস হোটেলের অভিজাত সিঁড়ি
>>>সূত্র: সিএনএন