Tuesday, January 21, 2025

ট্রাম্প ঝড়

তুষার ঝড় আর কনকনে ঠাণ্ডা। এমন এক আবহাওয়ার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন ডনাল্ড ট্রাম্প। শুরু হলো ট্রাম্প ২.০ যুগের। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে ট্রাম্প ঝড়। আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বলেছেন, শপথ নেয়ার প্রথম দিনেই নির্বাহী আদেশের ঝড় তুলে দেবেন।

এই ঝড়ের শিকার হওয়ার কথা অবৈধ অভিবাসী, পরিবেশ রক্ষায় নিয়মের কড়াকড়ি কমানো, ডাইভারসিটি প্রোগ্রাম বন্ধ করার মতো ইস্যু। ট্রাম্প আগেই জানিয়েছেন, সোমবার শপথ নিয়েই কমপক্ষে দুই শত নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করবেন। এর মধ্যে আছে নির্বাহী আদেশ ও অন্যান্য নির্দেশনা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশ মানে তা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক।

অন্যদিকে অন্য নির্দেশনার অর্থ তা সাধারণত বাধ্যতামূলক নয়। শপথ নেয়ার আগেই তিনি বলেছেন- বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের প্রতিটি উগ্র ও উদ্ভট নির্বাহী আদেশ তিনি শপথ নেয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাতিল করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের সময় সোমবার দুপুর ১২টার দিকে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ডনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২০তম সংশোধনীর অধীনে এই শপথ অনুষ্ঠিত হয়। এর সঙ্গে সঙ্গে জো বাইডেনের নামের আগে যোগ হয়েছে সাবেক প্রেসিডেন্ট। ডনাল্ড ট্রাম্পের নামের আগে যুক্ত হয়েছে প্রেসিডেন্ট বিশেষণ। এর মধ্যদিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়। শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করেন মিনেসোটার ডেমোক্রেট সিনেটর অ্যামি ক্লোবুচারের নেতৃত্বে জয়েন্ট কংগ্রেসনাল কমিটি অন ইনঅগুরাল সিরিমনিস। এর মধ্যে ছিল ক্যাপিটলে শোভাযাত্রা, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের শপথ গ্রহণ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠান, তার উদ্বোধনী ভাষণ, বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিসের সম্মানজনক বিদায়, স্বাক্ষর অনুষ্ঠান, মধ্যাহ্নভোজ, সামরিক পর্যালোচনা এবং প্রেসিডেন্সিয়াল প্যারেড।

উল্লেখ্য, এবার ভয়াবহ ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে এসব অনুষ্ঠান হয় ওয়াশিংটনে ক্যাপিটল ওয়ান এরিনাতে। এবারের শপথ অনুষ্ঠানে থিম হলো ‘আমাদের স্থায়ী গণতন্ত্র: একটি সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি’। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সকে শপথ পড়ান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ব্রেট কাভানাহ। ওদিকে সোমবার ওয়ান এরিনাতে বিজয় সমাবেশে হাজার হাজার সমর্থকের সামনে বক্তব্য রাখেন ডনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তিনি তার ক্ষমতার চার বছরে যেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চান, তার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে অবৈধ অভিবাসীদেরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেবেন। তিনি বলেন, আমরা আমেরিকাকে প্রথমে রাখবো। আর সোমবার থেকেই এর কাজ শুরু হবে। বিবিসি’র তথ্যমতে, সোমবার তার শপথ অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, সোমবার আপনারা টেলিভিশন দেখে অনেক মজা পাবেন। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে উন্নত করা, সরকারের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য একটি বিভাগ গঠন করা, জন এফ কেনেডি হত্যা সম্পর্কিত রেকর্ড প্রকাশ করা, সামরিক বাহিনীকে আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করার নির্দেশনা দেয়া, সেনাবাহিনী থেকে বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি নীতি বাতিল করার প্রতিশ্রুতি দেন।

ট্রাম্প আরও বলেছেন, ট্রান্সজেন্ডার নারীদের ‘নারী’ ক্রীড়া বিভাগে প্রতিযোগিতা বন্ধ করা এবং আমেরিকার রাজ্যগুলোর হাতে শিক্ষার নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেবেন। তার ক্ষমতা গ্রহণ নিয়ে চলে ব্যাপক আলোচনা। উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু। জাপান থেকে লস অ্যানজেলেস, অস্ট্রেলিয়া, ভানুয়াতু পর্যন্ত সর্বত্রই আলোচনা ট্রাম্প। কারণ, তার ক্ষমতার মেয়াদে বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি সাজবে নতুন রূপে। এ কারণে সব চোখ ছিল গতকাল ক্যাপিটল হিলে এবং সব চোখ থাকবে এখন থেকে ট্রাম্পের দিকে। তার নীতি বিশ্বকে বদলে দিতে পারে। এ জন্য নির্বাহী আদেশকে ঝড়ের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। এর মধ্যদিয়ে সবকিছুকে তিনি ওলটপালট করে দিতে পারেন। তাই দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের প্রশাসনকে ট্রাম্প ঝড় হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। সাধারণত, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে প্রেসিডেন্টরা নির্বাহী আদেশ জারি করে থাকেন। গতরাতে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার ওইসব আদেশ হাতে পাওয়া যায়নি। তবে মিডিয়ায় এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ছিল।

বিবিসি’র মতে, ট্রাম্পের প্রথম দিনের আদেশের সংখ্যা তার পূর্বসূরিদের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে এবং এর অনেকগুলো আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দেন, সোমবার তার নির্বাহী পদক্ষেপগুলো অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলাকেন্দ্রিক হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাখ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কার করার প্রতিশ্রুতি বিশাল লজিস্টিক বাধার সম্মুখীন হবে এবং সম্ভবত কয়েক বিলিয়ন ডলারের খরচও হতে পারে তার জন্য। ২০২১ সালের ৬ই জানুয়ারি ক্যাপিটলে দাঙ্গার ঘটনায় দোষী সাব্যস্তদের জন্য ট্রাম্প ক্ষমা  ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ওই হামলার নেতৃত্বে তার সমর্থকরাই ছিলেন। সোমবারের বিজয় সমাবেশে ট্রাম্পের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরাও মঞ্চে  যোগ দেন। এর মধ্যে ছিলেন  ছেলে ডনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র, এরিক এবং এরিকের স্ত্রী লারা ট্রাম্প। এবারই গত ৪০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ও তুষারপাতের কারণে শপথ অনুষ্ঠান ক্যাপিটলের ভেতরে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ট্রাম্প শপথ নেয়ার পর সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। তার ভাষণের মূল বিষয়- ঐক্য, শক্তি এবং ন্যায়বিচার।

কেমন প্রভাব পড়বে বিশ্বে: দ্বিতীয় বারের মতো হোয়াইট হাউসে ফিরলেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তার এই ফেরা বৈশ্বিক রাজনীতি ও নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বিবিসি বলছে, তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ এজেন্ডা আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নতুন রূপ  দেয়ার পাশাপাশি বিশ্ব জুড়ে লাখ লাখ মানুষের জীবনে প্রভাব  ফেলতে পারে। নির্বাচনী প্রচারণার সময়েই ট্রাম্প বলেছেন, তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ একদিনেই  শেষ করতে পারবেন, তবে তিনি কীভাবে সেটা করবেন, তা বিস্তারিত বলেননি। তিনি ইউক্রেনকে বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দেয়ার সমালোচনা করেছেন। এতে উদ্বেগ  দেখা দিয়েছে যে, তিনি হয়তো ইউক্রেনকে আঞ্চলিক সমঝোতা করতে চাপ দিতে পারেন।  ট্রাম্পের মনোনীত বিশেষ দূত কিথ  কেলগ ১০০ দিনের মধ্যে এ সংকট সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছেন এবং ইউক্রেনকে শান্তি আলোচনায় অংশ নেয়ার শর্তে সহায়তা দেয়ার কথা বলেছেন। ন্যাটো নিয়েও সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। তিনি ইউরোপীয় সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপি’র পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার দাবি জানিয়েছেন।

যদিও তিনি ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের কথা স্পষ্ট করেননি। তবে তিনি ইউরোপে মার্কিন সেনাদের সংখ্যা কমিয়ে ন্যাটোকে দুর্বল করে দিতে পারেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলপন্থি অবস্থান ধরে রাখবেন। আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের ভিত্তিতে সৌদি আরব এবং ইসরাইলের মধ্যে চুক্তি করার চেষ্টা করতে পারেন। ইরানের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক প্রতিরোধ জারি করতে পারেন। গাজার যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জও তার নেতৃত্বের পরীক্ষা  নেবে।

চীনের প্রতি ট্রাম্পের কঠোর মনোভাব আরও তীব্র হতে পারে। তিনি চীনা পণ্যের উপর ৬০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন আগে। তার প্রশাসন চীনকে একটি বড় হুমকি হিসেবে  দেখে, বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে। ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করলেও তাইওয়ানের প্রতি চীনের  যেকোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে ট্রাম্প আবার প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিতে পারেন এবং জীবাশ্ম জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে পারেন। তিনি সবুজ শক্তির জন্য আর্থিক প্রণোদনা কমানো এবং  তেল ও গ্যাস ড্রিলিং বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অভিবাসন নিয়ে ট্রাম্প লাখ লাখ অনথিভুক্ত বা অবৈধ অভিবাসীকে বিতাড়িত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের পরিকল্পনা করেছেন। তার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বিতর্কিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা কঠোর করা। তবে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তার এই পরিকল্পনাগুলো আইনি, লজিস্টিক এবং আর্থিক দিক থেকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

ট্রাম্প কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের কথা উল্লেখ করে গ্রিনল্যান্ড  কেনার এবং পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার ব্যাপারে তার বিতর্কিত ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছেন।  যদিও এই পদক্ষেপগুলো সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে এটি বিশ্বব্যাপী মার্কিন আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি প্রকাশ করে।

mzamin

বিডিআর বিদ্রোহ: সেদিন যেভাবে বেঁচে যান মেজর ইকবাল by রাশিম মোল্লা

২০০৯ সালে সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় দু’টি মামলা হয়। একটি হত্যা মামলা, অপরটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলা। হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট বিভাগে রায় হলেও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাটি এখনো রয়েছে সাক্ষী পর্যায়ে। এখন পর্যন্ত ২৮৩ জন সাক্ষী দিয়েছেন। গতকাল সাক্ষী দিয়েছেন মেজর (অব.) সৈয়দ মো. ইউছুফ ইকবাল। তিনি আদালতের কাছে বিডিআর বিদ্রোহের নানা ঘটনা ও নিজের বেঁচে যাওয়ার কথা তুলে ধরেন। এ বিষয়ে স্পেশাল প্রসিকিউটর সরকার মো. নূরে এরশাদ সিদ্দিকী মানবজমিনকে বলেন, মেজর (অব.) সৈয়দ মো. ইউছুফ ইকবাল আদালতে সাক্ষী দিয়েছেন। সেদিনের বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা আদালতের কাছে তুলে ধরেছেন। 

আদালতে সাক্ষী প্রদানকালে ইউছুফ ইকবাল বলেন, আমি মেজর সৈয়দ মো. ইউছুফ ইকবাল। রাইফেলস সপ্তাহ/২০০৯ উপলক্ষে ১৬ই ফেব্রুয়ারি সিগন্যালস, রাইফেলস ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড স্কুল থেকে ঢাকার বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় আসি। ৩রা ফেব্রুয়ারি আমার ছোট ভাই শহীদ মেজর সৈয়দ মো. ইদ্রিস ইকবাল তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্যারেডে পতাকাবাহী কন্টিনজেন্টের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার জন্য বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় যোগদান করে। আমার দায়িত্ব ছিল ভিআইপিগণের দাওয়াত কার্ড পৌঁছে দেয়া এবং আমার ছোট ভাই শহীদ সৈয়দ মো. ইদ্রিস ইকবালের দায়িত্ব ছিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্যারেডে পতাকাধারী কন্টিনজেন্টের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। ২৪শে  ফেব্রুয়ারি  আমার ছোট ভাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্যারেডে পতাকাবাহী কন্টিনজেন্টের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিল। ২৫শে ফেব্রুয়ারি তারিখে আমি নিজে পিলখানায় উপস্থিত ছিলাম। পিলখানার সদর দপ্তরে কর্মরত জিএসও-১ (অপস ও গোয়েন্দা) শহীদ লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম ওইদিন সকাল সাড়ে ৮টায় আমাকে অফিসে আসতে বলেন এবং ২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য অনুষ্ঠানে কোন কোন ভিআইপি অংশগ্রহণ করবেন তা নিশ্চিত করার বিষয়ে অফিসে বসে দায়িত্ব পালন করতে বলেন। আমি সামান্য সময়ের জন্য পিলখানার বাহিরে যেতে চাইলে তিনি পরে যাওয়ার অনুমতি দেবেন বলে জানান। আমি তখন পিলখানায় জিএসও-২ গোয়েন্দা হিসেবে কর্মরত শহীদ মেজর মাহমুদুল হাসানের অফিসে টেলিফোনের মাধ্যমে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে থাকি। ২৫শে ফেব্রুয়ারি আনুমানিক সকাল সাড়ে ৯টায় আমার ছোট ভাই শহীদ মেজর সৈয়দ মো. ইদ্রিস তার ব্যক্তিগত মোবাইল  ফোনে আমাকে জানায় দরবার হলে গোলাগুলি হচ্ছে। আমি তাকে বিস্তারিত জানাতে বলি এবং আরও বলি আমিও ব্যাপারটা জেনে তোকে জানাচ্ছি। সে মোবাইল ফোনে আমাকে জানায় ডিজি মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদকে বিডিআর সদস্য গুলি করেছে। তার অবস্থান জিজ্ঞাসা করলে জানায় সে দরবার হলেই আছে। তখন তাকে পরিস্থিতি বুঝে কাজ করতে বলি এবং আল্লাহ্‌কে ডাকতে বলি। ঘটনাটি শুনে আমি দ্রুত অফিসের বারান্দায় এসে দেখতে পাই বিডিআরের পোশাক পরিহিত সদস্যরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ছে এবং ছোটাছুটি করছে। তখন আমি আমার ভাইয়ের ব্যক্তিগত মোবাইন ফোনে ফোন করি। কিন্তু সে ফোন রিসিভ করেনি। তখন আমি দরবার হলে উপস্থিত লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম সাহেবকে ফোন করে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে গুলি হচ্ছে, তুমি অফিস এলাকায় অবস্থান করো। চারদিক থেকে সৈনিকদের ছোটাছুটি ও গুলির আওয়াজ আরও বেশি করে আসতে থাকে, তখন আমি নিচতলায় উপস্থিত সদস্যদের অফিসের বাহিরে না গিয়ে আমার সঙ্গে থাকার জন্য বলি। তারাও আমার সঙ্গে থাকে। গুলির তীব্রতা আরও বাড়তে থাকলে আমি একই অফিস বিডিংয়ের দোতলায় চলে যাই। সেখানে উপস্থিত বিডিআর সদস্যদেরকে (সহকারী বা ক্লার্ক) বাহিরে না যাওয়ার জন্য বলি।  তখন গোলাগুলি এত বেশি হচ্ছিল যে, সমস্ত অফিসের সদস্যদেরকে নিয়ে একটি রুমের ফ্লোরে শুয়ে পড়ি এবং আমার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তারা আমার র‌্যাঙ্ক ব্যাজ খুলে দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যে শুনতে পাই, একদল বিডিআর সদস্য গুলি করতে করতে অফিসের দিকে ছুটে আসছে। তখন উপস্থিত বিডিআর সদস্যরা অফিস থেকে চলে যায়। আমাকে দুশ্চিন্তা করতে নিষেধ করে এবং তখন উপায়ন্তর না দেখে আমি উক্ত অফিসে রক্ষিত কম্পিউটার টেবিলের নিচে ঢুকে পড়ি। আনুমানিক সকাল ১১টার দিকে মহিলাদের উদ্দেশ্যে গালিগালাজ শুনতে পাই। আমার মোবাইলের মাধ্যমে এসএমএস দিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে আমার ভাই ইদ্রিস ইকবালের খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। কারণ তার মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। আমি যে রুমের টেবিলের নিচে ছিলাম তার বিপরীত পার্শ্বে থাকা যোগাযোগ পরিদপ্তরের পরিচালক শহীদ কর্নেল মশিউর রহমান এবং লে. কর্নেল সৈয়দ কামরুজ্জামান সাহেবের অফিস ছিল। সেখানে তিন থেকে চার গ্রুপ বিদ্রোহী বিডিআর সদস্য এসে গুলি ও গালাগালি দিতে থাকে। আমার রুমে এসে কম্পিউটারে গুলি করতে চাইলে অপর সদস্য বাধা দেয় এবং বলে কম্পিউটার থাক। এখন থেকে তো আমরা বিডিআর চালাবো বলে রুম ত্যাগ করে। আমি টেবিলের নিচে ২৫শে ফেব্রুয়ারি আনুমানিক ১০টা থেকে ৭টা পর্যন্ত অবস্থান করি। পানির পিপাসা, খাদ্য এবং টয়লেট না করতে পারায় কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়ি। বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে মনে হলো কোনো সদস্য অফিসের রুম বন্ধ করছে। তখন আমি যেহেতু অসুস্থ তাই আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে তাকে দেখেই ডাকলাম। সে কাছে এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করে, স্যার আপনি বেঁচে আছেন? আমি বলি আল্লাহ্‌ রক্ষাকর্তা তাই বেঁচে আছি।  সে আরও বলে যে স্যার আপনি আমাকে কীভাবে ডাকলেন। আমি যদি ওদের কেউ হতাম? উত্তরে বলি, আমি তোমাদের সঙ্গে ১৫ মিনিট কাজ করে বুঝতে পেরেছি তুমি ভালো। উপরন্ত আমার সঙ্গে তোমার কোনো শত্রুতা নেই। তখন সে আমাকে বাথরুম থেকে পানি এনে খাওয়ায়। আমার পোশাক সে নিজে পড়ে এবং তার নিজের পোশাক আমাকে দেয়। উক্ত বিডিআর সদস্যর নাম ল্যান্স নায়েক সহকারী কামাল। তিনি বিপথগামী সদস্যদের ব্যাপারে তিরস্কার করে এবং বলে আমি ক্লার্ক, কাজেই আমি জানি ডাল-ভাত বা অন্য কোনো রেজিস্ট্রারে এন্ট্রি করত কর্মকর্তার স্বাক্ষর করা হয়। যেখান থেকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো টাকা নিতে পারে না এবং আরও বলে “স্যার আমাকে যদি এখন কর্মকর্তার কাজ করতে বলে তবে আমি করতে পারবো না, কারণ আমি তো উক্ত পণ্যের যোগ্য নই। সে আরও বলে, “স্যার আপনি বেঁচে থাকলে পরবর্তীতে আমাকে বাঁচাবেন, আমি গরিব মানুষ”।

২৫শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর আমি তাকে অফিস রুমের (যেখানে আমি ছিলাম) তালা বন্ধ করে চলে যেতে বলি এবং আমার ভাইয়ের চেহারা ও পোশাকের বর্ণনা দিয়ে তাকে অনুরোধ করি তার খোঁজ নিয়ে আমাকে যেন জানায়। সে কিছুক্ষণ পর এসে জানায় তাকে কোয়ার্টার গার্ডের (যেখানে জিম্মিরা ছিল) এবং দরবার হলের আশপাশে বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা যেতে দিচ্ছে না। দূর থেকে কোয়ার্টার গার্ডে কিছু অফিসারকে জিম্মি দেখে আমাকে জানায় ইনশাআল্লাহ্‌ আপনার ভাই জীবিত আছেন বলে সান্ত্বনা দেয়। আমি ছোট ভাইয়ের ব্যাপারে খুবই উদ্বিগ্ন ছিলাম। বারবার তাকে আমার ছোট ভাই মেজর ইদ্রিস ইকবালকে খোঁজ করতে পাঠাই। ২৬শে ফেব্রুয়ারি উক্ত ল্যান্স নায়েক সহকারী কামাল ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টায় তালা খুলে আমার রুমে আসে এবং তাদের মেসে দেয়া খিচুড়ি ও বিস্কুট এনে আমাকে খেতে দেয়। তখন তাকে আবার দরজা বন্ধ করে চলে যেতে বলি। পরিস্থিতি সম্বন্ধে সে বলে, “স্যার কিছুই বুঝতে পারছি না, কেউ মাইকে বলে অস্ত্র জমা করো, কেউ বলে দরকার নেই, আর্মি আসবে ইত্যাদি ইত্যাদি”। উক্ত রুমে অবস্থানকালীন সময়ে ২৫শে ফেব্রুয়ারি মাগরিবের সময় মাইকে শুনতে পাই এখন আর্মিরা অ্যাটাক করতে পারে। সবাই প্রস্তুত থাকবে, রাতে কেউ ঘুমাবে না। আবার ২৬শে ফেব্রুয়ারি ফজরের নামাজের সময় একই কথা শুনতে পাই। এখন আর্মি অ্যাটাক করতে পারে, সবাই প্রস্তুত থাকুন বলে। বিডিআরের সৈনিক জান দেবো শুধু তবু মান দেব না ইত্যাদি ইত্যাদি। দুপুর অনুমান ৩টায় ল্যান্স নায়েক কামাল আরও কয়েকজন বিডিআর সদস্য আমাকে বেসামরিক পোশাক এনে দিয়ে পরতে বলে এবং জানায় কোয়ার্টার গার্ড থেকে জিম্মিদের ছেড়ে দিচ্ছে, আপনাকে ওখানে নিয়ে গিয়ে পিকআপ গাড়িতে উঠায়ে দিব, আপনি চলে যাবেন। তখন আমি তাদের দেয়া পোশাক পরে ২৬শে ফেব্রুয়ারি আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটের দিকে পিকআপ গাড়িতে উঠে পিলখানার বাহিরে আসি।

mzamin

গাজীপুরে রেহানা পরিবারের বিপুল সম্পদ অনুসন্ধানে দুদক by মারুফ কিবরিয়া

গাজীপুরে একের পর এক রিসোর্ট ও বাগানবাড়ির সন্ধান মিলছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা পরিবারের সদস্যদের। বিভিন্ন সময়ে কেনা এসব রিসোর্ট ও বাগানবাড়ি করা হয় অবসর সময় কাটানোর জন্য। সরকার পতনের পর কয়েকটি রিসোর্ট ও বাগানবাড়িতে বিক্ষুব্ধ মানুষের হামলার ঘটনাও ঘটে। যুক্তরাজ্যে রেহানাকন্যা টিউলিপের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা নেয়ার অভিযোগ ওঠা এবং তার পদত্যাগের পর দেশেও রেহানা পরিবারের সদস্যদের সম্পদের খোঁজ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য মিলেছে।

গাজীপুর মহানগরীর কানাইয়া। জয়দেবপুর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এলাকাটি। কাঁচা-পাকা রাস্তা আর সারি সারি গাছপালা। অনেকটা সবুজে ঘেরা এই কানাইয়ায় গড়ে উঠেছে শেখ হাসিনার ভাগ্নি ও সদ্য পদত্যাগ করা বৃটিশমন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের নামে একটি বাগানবাড়ি। প্রায় ৩৫ বিঘার ওপর নির্মিত বাগানবাড়িতে কী নেই! বাংলো, পুকুর, হরেক রকমের ফুল ও ফলের গাছ। এর নামকরণও করা হয়েছে টিউলিপের নামে ‘টিউলিপ’স টেরিটরি’।

সরজমিন ঘুরে জানা যায়, শুধু টিউলিপ সিদ্দিকের নামে বাগানবাড়ি নয়, গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে দেড়শ’ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সম্পদ রয়েছে শেখ রেহানা পরিবারের। বাংলো, পুকুর আর সবুজে ঘেরা এসব বাগানবাড়ি নির্মাণ করে রাখা হয়েছে শুধুমাত্র নিজেদের একান্ত সময় কাটানোর জন্য।
বাগানবাড়ির দায়িত্বরতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শেখ হাসিনার পতনের পর কেউই আসেননি টিউিলিপ’স টেরিটরিতে। তারা আরও জানান, শেখ রেহানার স্বামী শফিক সিদ্দিক এ বাগানবাড়ি তত্ত্বাবধান করেন। দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তারক্ষী ও মালিকদের বেতন-ভাতাও তিনি পরিশোধ করেন।
সরজমিনে আরও জানা যায়, টিউলিপ’স টেরিটরির দায়িত্বে রয়েছেন একজন নিরাপত্তারক্ষী আর দু’জন মালি। রোববার সেখানে গিয়ে নিরাপত্তারক্ষী আবদুর রহিম ও মালি নজরুল ভূঁইয়ার দেখা মেলে।

নজরুল ভূঁইয়া জানান, তিন বছর ধরে টিউলিপ’স টেরিটরির মালির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, এই বাগানবাড়ির মালিক শফিক সিদ্দিক। স্যার এখানে আসেন না। আগে পরিবারের সদস্যরা সবাই আসতেন আবার চলে যেতেন। ৫ই আগস্টের পর তারা আর কেউ আসেনিন।
বেতন কীভাবে পান জানতে চাইলে নজরুল বলেন, বেতন আগেও স্যার পাঠিয়ে দিতেন এখনো ওভাবেই দেন।

বাগানবাড়িটির দায়িত্বে থাকা আবদুর রহিম মানবজমিনকে বলেন, আমি পাঁচ বছর ধরে এখানে থাকি। গণ্ডগোলের পর থেকে কেউ আসেনি। ৫ই আগস্ট কারা যেন এসে দুটো বাংলো ভাঙচুর করে। গ্লাস ভেঙে গুঁড়ো করে দিয়ে গেছে। ভেতরে আসবাবপত্র ছিল লুটপাট করছে। আমরা তো নিরীহ মানুষ কাউকে কিছু বলতে পারিনি।

কানাইয়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের আগেও এই বাগানবাড়ি ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। বাইরে থেকে পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তা দিতেন। এ ছাড়া যেদিন শেখ রেহানা পরিবারের সদস্যরা বেড়াতে আসতেন সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হতো।

স্থানীয় বাসিন্দা ওয়াদুদ হোসেন মানবজমিনকে বলেন, এখানে বাগানটা ১৭ থেকে ১৮ বছর ধরে দেখছি। শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানাদের। এলাকার মানুষের কাছ থেকে জমি কিনে কিনে বিশাল বাগানবাড়ি বানিয়েছে। যারা কাজকর্ম করতো তাদের কাছে শুনেছি পার্কের মতো সুন্দর করে সাজানো। আমরা লোকাল মানুষ কখনো ঢুকতে পারিনি।

আবদুস সোবহান নামে এক বাসিন্দা বলেন, এই জায়গা আনুমানিক ৩৫ বিঘার ওপর আছে।

কানাইয়ার বাসিন্দা হাফিজ উদ্দিন বলেন, আমরা গরিব মানুষ। কথা বললে যদি কোনো বিপদ হয়। এই বাগানবাড়ি শেখ রেহানার মেয়েদের নামে বানানো। আসল মালিক তার স্বামী শফিক সিদ্দিক।

এদিকে গাজীপুর মহানগরীর বাঙালগাছ এলাকায় ২৫ বিঘা জমির ওপর বাগানবিলাস, ২৩ বিঘা জমির ওপর ফাওকাল বাগানবাড়ি, ১৫ থেকে ১৬ বিঘা জমির ওপর কালিয়াকৈরে মৌচাকের বাগানবাড়ির তথ্য পেয়েছে দুদকের অনুসন্ধান দল। সূত্র জানায়, স্থানীয়রা এগুলো শেখ রেহানার বাগানবাড়ি বলেন জানতেন, তবে  এগুলোর মালিকানায় রয়েছেন তার স্বামী শফিক আহমেদ সিদ্দিক, দেবর তারিক আহমেদ সিদ্দিক ও তাদের নিকট আত্মীয়-স্বজনের।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুর মহানগরীর ফাওকাল এলাকায় বাংলাদেশ সমরাস্ত্র ও টাকশালের পাশেই ২৩ বিঘা জমি নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে একটি বাগানবাড়ি। বড় সীমানা প্রাচীরে ঘেরা, ভেতরে নান্দনিক ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে সেখানে। ২০১২ সালে সনাতন ধর্মাবলম্বী স্থানীয় অনিল ও অক্ষয়দের থেকে কিনে এই বাংলো তৈরি করা হয়। ৩৫ লাখ টাকা বিঘা মূল্য ১৪ বিঘা জমি ক্রয় করা হয় এবং কাগজপত্রে সমস্যা থাকায় ৮ বিঘার কোনো দাম দেয়া হয়নি। বর্তমানে সেখানকার বিঘা প্রতি জমির মূল্য আড়াই কোটি টাকা। জমিটি স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যবসায়ী স্বপনের মধ্যস্থতায় কেনেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও শেখ রেহানার দেবর তারিক সিদ্দিক।

মহানগরীর বাঙালগাছ এলাকায় প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে আরেকটি বাংলো বাড়ি। এর নামকরণ করা হয়েছে ‘বাগান বিলাস’। কয়েকশ’ গাছ নিয়ে বাংলোর ভেতরে চমৎকার পরিবেশ। অবকাশ যাপনের জন্য আছে তিন রুমের একটি দোচালা ঘর। পাশেই ছোট আরেকটি ঘর। সামনে বড় পুকুর, বিল। এ ছাড়া একটি ওয়াচ-টাওয়ারও রয়েছে ভেতরে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে বাংলাদেশ স্কাউট প্রশিক্ষণের পূর্ব পাশে অবস্থিত ১৫-১৬ বিঘা জমির ওপরে আরেকটি বাংলো রয়েছে। যেটি শেখ রেহানার। প্রতি বছর শেখ রেহানার পরিবারের সদস্যরা একান্ত সময় কাটাতে আসতেন। এ ছাড়াও সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিয়মিত বৈঠক করতেন এখানে।

দুদক জানায়, টিউলিপ’স টেরিটরিসহ শেখ রেহানা পরিবারের বেশ কিছু স্থাপনার তথ্য পাওয়া গেছে সংস্থাটির অনুসন্ধানে। এসব স্থাপনার আনুমানিক মূল্য ১৬৫ কোটি টাকার বেশি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, এখন পর্যন্ত চারটি বাগানবাড়ির তথ্য আমাদের অনুসন্ধানে রয়েছে। এগুলো সরজমিন দেখা হচ্ছে। 

mzamin

আরজিকর কাণ্ডে রায় দিতে গিয়ে বললেন বিচারক: 'দেখে মনে হয়নি বিরলতম ঘটনা, তাই ফাঁসি নয়' by সেবন্তী ভট্টাচার্য্য

আরজিকরে তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ-খুন মামলায় ১৬৪ দিনের মাথায় দোষী সঞ্জয় রায়ের  সাজা ঘোষণা করলেন শিয়ালদহ আদালতের বিচারক অনির্বাণ দাস। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪ (ধর্ষণ), ৬৬ (ধর্ষণের জন্য মৃত্যু), ১০৩ (১) (খুন) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয় তাকে। বিচারক জানিয়েছেন, আরজি করের ঘটনাকে ‘বিরল থেকে বিরলতম অপরাধ’ বলে মনে করছেন না। তাই আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে সঞ্জয়কে। জরিমানাও করা হয়েছে। সেইসঙ্গে নির্যাতিতা চিকিৎসকের পরিবারকে ১৭ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য সরকারকে। সেই রায়ের বিরুদ্ধে সঞ্জয় এবং নির্যাতিতার পরিবারের সামনে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার সুযোগ আছে।  শিয়ালদহ আদালতের ২১০ নম্বর কোর্টরুম। কোর্টরুমে সঞ্জয়ের আইনজীবীরা দাবি করেন, এটা বিরলের মধ্যে বিরলতম ঘটনা নয়। মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে সওয়ালও করেন তারা। সঞ্জয় তখন নির্লিপ্ত ভাবে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ফের দাবি করতে থাকল সে নির্দোষ। ফাঁসানো হয়েছে তাকে। বিচারক সঞ্জয়ের কাছে জানতে চান, 'আপনি আপনার কথা আগেও বলেছেন। যা হয়েছে, আপনার থেকে ভাল আর কেউ জানেন না। বাড়িতে কে আছেন আপনার?' উত্তরে সঞ্জয় বলে, 'মা'। বিচারক জানতে চান, 'বাড়ির লোকের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে?' সঞ্জয় জানায়, সে ব্যারাকে থাকত। মায়ের- তার কোনও যোগাযোগই ছিল না। এরপরই বিচারক জানতে চান, 'আপনি যে নির্দোষ সেটা ছাড়া আর কিছু বলতে চান?' সঞ্জয় জানায়, 'যে কাজটা আমি করিনি তাতে দোষী বলা হচ্ছে। আরজি কর মামলার শুনানি শুরু হওয়ার পর একদিনও সঞ্জয়ের মা শুনানিতে যাননি। এই নিয়ে তার মন্তব্য, ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ যদি মিথ্যে হত, তাহলে হয়তো তিনি যেতেন। কিন্তু দোষ প্রমাণ হয়েছে। তাই নির্যাতিতার বাবা-মার মতো তিনিও তার কঠোর শাস্তি চাইছেন। সঞ্জয়ের মায়ের কথায়, ‘নিহত চিকিৎসক আমার মেয়ের মতোই। তাই তার মায়ের যন্ত্রণা আমি অনুভব করতে পারি।’ গত বছরের ৯ আগস্ট, হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ, ধর্ষণ করে খুন করা হয় তাকে। তদন্তে নামে কলকাতা পুলিশ। ১০ আগস্ট এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়।

কলকাতায় চাঞ্চল্যকর নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাবাস

কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় এক নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারকে আমৃত্যু যাবজ্জীবন কারাবাসের শাস্তি দিযেছেন শিয়ালদহ আদালতের অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক অনির্বাণ দাস। সোমবার বিচারক এই শাস্তির রায় ঘোষণা করেন। সেই সঙ্গে তিনি নির্যাতিতার পরিবারকে ১৭ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন। সাজা ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, এটি বিরলতম অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না। এর আগে গত শনিবার বিচারক নারী চিকিৎসককে খুন ও ধর্ষণে যুক্ত থাকার অভিযোগে এককভাবে কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করেন। সেদিনই তিনি জানিয়েছিলেন, সোমবার শাস্তির রায় ঘোষণা করবেন।

গত বছরের ৯ আগস্ট কলকাতার আরজি কর হাসপাতালের চেস্ট মেডিসিন বিভাগের সেমিনার হল থেকে এক নারী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। তাকে ধর্ষণ এবং খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। গত ৪ নভেম্বর মামলায় চার্জ গঠনের পরে ১১ নভেম্বর থেকে দীর্ঘ শুনানি চলে। গত ১৮ জানুয়ারি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪ (ধর্ষণ), ৬৬ (ধর্ষণের পর মৃত্যু) এবং ১০৩ (১) (খুন) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে।

সোমবার রায় ঘোষণার আগে বিচারক অভিযুক্তের বক্তব্য শোনেন। আগের দিনের মতই অভিযুক্ত সঞ্জয় রায় দাবি করেন, তিনি নির্দোষ। তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। তবে সিবিআইয়ের আইনজীবী অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানান। নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবীও অভিযুক্তের মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে সওয়াল করেন।

তবে বিচারকের শাস্তির রায়কে সকলে স্বাগত জানালেও নির্য়াতিতা নারী চিকিৎসকের পরিবারসহ নাগরিক সমাজের বৃহৎ অংশ মনে করেন, অভিযুক্তের একার পক্ষে এই নারকীয় কাজ করা সম্ভব নয়। এর সঙ্গে আরও অনেকে যুক্ত। তাদের কন্যার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ন্যায় বিচার না পাওয়া পর্যন্ত নির্যাতিতার পিতা-মাতা লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন। তারা বলেন , আমরা ক্ষতিপূরণ চাই না। আমরা বিচার চাই। ইতিমধ্যেই তারা সুপ্রিম কোর্টেও আবেদন করেছেন। নির্যাতিতার পিতা জানান, তারা যে ৬৭টি প্রশ্ন তুলেছেন তার উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত তারা থামবেন না।

প্রথমে ঘটনার তদন্তে নেমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করেছিল কলকাতা পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একাধিক ‘বায়োলজিক্যাল’ এবং ‘ডিজিটাল’ তথ্যপ্রমাণও সংগ্রহ করেছিল তারা। পরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তের ভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। সিবিআইও তদন্ত চালিয়ে আটক সিভিক ভলান্টিয়ারকেই ‘একমাত্র অভিযুক্ত’ হিসাবে বর্ণনা করে আদালতে চার্জশিট পেশ করে।

তার দু’মাস পর রায় ঘোষণা হলো। তবে ধর্ষণ-খুনের মামলায় তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবং টালা থানার তৎকালীন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকেও গ্রেপ্তার করে সিবিআই। যদিও তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দিতে পারেনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ফলে ওই মামলায় সন্দীপ এবং অভিজিৎ দু’জনেই জামিন পেয়েছেন। এদের বিরুদ্ধে কবে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দেয়া হবে তা এখনও জানা যায়নি।

অভিযুক্তের শাস্তি প্রসঙ্গে আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের বক্তব্য,  জুনিয়র ডাক্তার থেকে সিনিয়র ডাক্তার ,সমাজের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সবাই বলেছি, একটা বৃহত্তর প্রমাণ লোপাটের ষড়যন্ত্র এর সঙ্গে যুক্ত ছিল। বারে বারে তা প্রমাণিত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট সিবিআই জমা দিতে পারেনি। অনেক প্রশ্নচিহ্ন এখনও রয়ে গিয়েছে। যার উত্তর আমাদের কাছে অজানা।

আরজিকর কাণ্ডে অভিযুক্ত সঞ্জয়ের আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজায় অসন্তুষ্ট মমতা

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সোমবার ২০ জানুয়ারি দোষী সঞ্জয় রায়ের আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে শিয়ালদহ কোর্ট। কিন্তু এই সাজাতে খুশি নন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।আরজি কর -কাণ্ডে প্রথম দিন থেকেই মুখ্যমন্ত্রী দোষীর ফাঁসির সাজা দাবি করেছিলেন। আজ আদালতের রায় ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ”ফাঁসি হলে মনকে সান্ত্বনা দিতে পারতাম।”সোমবার মালদায় তিনি বলেন, ‘আমাদের হাত থেকে ইচ্ছে করে কেসটা কেড়ে নিয়ে চলে গেল। আগেই বলেছিলাম না পারলে সিবিআইকে কেসটা দিন, আপত্তি নেই। আমরা চাই বিচার হোক।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই নরপিশাচদের চরমতম শাস্তি চেয়েছিলাম।’ আরজি করের তদন্ত প্রথমে করছিল কলকাতা পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় সঞ্জয় রায়কে। তবে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সেই তদন্তের ভার যায় সিবিআই-এর হাতে। তা নিয়ে আগেও আক্ষেপ শোনা গিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। বলেছিলেন, “আমি মা-বাবাকে বলেছিলাম সময় দিন। তারপর না হলে সিবিআই দিতেন। কিন্তু তার আগেই সিবিআই-এর হাতে চলে গেল তদন্তভার।” এরপর সময় যত গড়িয়েছে, তদন্ত নিয়ে সিবিআই-কে আক্রমণ করতেও শোনা গিয়েছে মমতাকে। কখনও বলেছেন, কলকাতা পুলিশ যাকে গ্রেফতার করেছে তারপর সিবিআই কাউকে নতুন করে ধরতে পারেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংযোজন, ‘আপনারা দেখেছেন আমরা ৫৪ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে ফাঁসির অর্ডার করিয়ে দিয়েছি। এই কেসে আমাদের ফাঁসির দাবি সকলের ছিল। সেক্ষেত্রে বিচারের রায় নিয়ে কিছু বলব না। আমাদের হাতে কেস থাকলে অনেকদিন আগেই ফাঁসির অর্ডার করিয়ে দিতে পারতাম। প্রথম দিন থেকেই ফাঁসি চেয়েছি। 'সিবিআই তদন্তে গাফিলতি রয়েছে কি না, তা নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি মমতা।
mzamin

গাজা যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার সাথে সাথে মুক্তির স্বাদ পেলেন জিম্মি তিন ইসরাইলি নারী

১৫ মাস ধরে চলা একটানা যুদ্ধের পর ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড প্রায় ছিন্নভিন্ন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত, যুদ্ধে ক্লান্ত ফিলিস্তিনি বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা জুড়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য যাত্রা শুরু করেছেন ।জাবালিয়ার উত্তরাঞ্চলে, শত শত লোক একটি বালুকাময় পথ বেয়ে ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে নিজেদের আস্তানায় ফেরা শুরু করেছেন। গাজা থেকে মুক্তি পেয়েছেন  তিনজন ইসরাইলি জিম্মি। মুক্তিপ্রাপ্ত তিন পণবন্দি হলেন রোমি গোনেন, এমিলি দামারি এবং ডোরন স্টেইনব্রেচার।

তিন ইসরাইলি পণবন্দিকে রেড ক্রসের হাতে তুলে দেয় হামাস গোষ্ঠী।  ‘দ্য হোস্টেজেস ফ্যামিলিজ় ফোরামে’র দেওয়া তথ্য অনুসারে, ২৪ বছর বয়সী রোমি গোনেন থাকেন ইসরাইলের কফার ভ্রাদিম এলাকায়। তিনি নাচতে এবং বেড়াতে ভালোবাসেন। ২০২৩-এর ৭ অক্টোবর, তাকে নোভা উৎসব থেকে অপহরণ করা হয়েছিল। রোমির চার ভাইবোন রয়েছে। ২৮ বছর বয়সী এমিলি দামারি, কফার আজা শহরের বাসিন্দা হলেও, তিনি আদতে বৃটিশ নাগরিক। বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়। বারবিকিউ এবং কারাওকে তার বিশেষ পছন্দের বিষয়। বিভিন্ন ধরনের টুপি সংগ্রহ করতে ভালোবাসেন।

৭ অক্টোবর, কফার আজায় তার বাড়ি থেকেই অপহরণ করা হয়েছিল তাকে। তার বন্ধু গ্যালি এবং জিভ বারম্যান এখনও হামাসের হাতে বন্দি। ডোরন স্টেইনব্রেচারের বয়স ৩১ বছর। তিনি থাকেন কফার গাজার শহরে। ডোরন, পশুচিকিৎসার নার্স। ছোটবেলা থেকেই তিনি পশুপ্রেমী। এ ছাড়া, তিনি খেলাধুলা করতে, বিশেষ করে দৌড়াতে খুব ভালোবাসেন।

প্রতি শনিবার ভোরে তিনি কিবুটজের চারপাশে দৌড়ান। মুক্তি পাবার পর এর পর তারা কোথায় যাবেন? ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, গাজ়া-ইসরাইল সীমান্তের কাছে একটি সামরিক ঘাঁটিতে প্রথমে এই তিন মুক্তিপ্রাপ্ত পণবন্দির মেডিক্যাল টেস্ট হবে। তার পর তাদের এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে। আইডিএফ আরও জানিয়েছে, এর জন্য তারা তাদের বায়ুসেনার একটি হেলিকপ্টার তৈরি রেখেছে। তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে এই তিন জনের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র পাঠানো হয়েছে। হেলিকপ্টারেই সেগুলি রাখা আছে। ৪৭১ দিন পর এমিলি অবশেষে বাড়িতে ফিরছে।  

তার মা ম্যান্ডি দামারি বলছেন, ‘আমার মেয়ে ফিরলেও অন্য অনেক পরিবার তাদের প্রিয় জনের অপেক্ষায় রয়েছে। ‘যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার কয়েক মিনিট পরে, জাতিসংঘ বলেছে যে মানবিক সহায়তা বহনকারী প্রথম ট্রাকগুলি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি খেয়াল রাখতে হবে যাতে যুদ্ধবিরতির সময় মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে যেতে পারে।
সূত্র : দ্য হিন্দু

mzamin


একটি ছবি, হাজার কথা

প্রিয় পাঠক এই লেখার সঙ্গে ছবিটির দিকে একবার তাকান! কী দেখলেন! ভয়াবহ এক ধ্বংসযজ্ঞ! একবার কল্পনা করুন, গাজায় কি নির্মমতা, কি নিষ্ঠুরতা চালিয়েছে ইসরাইল। ছবিতে বিশাল একটি এলাকা দেখা যাচ্ছে। সেখানে কোনো একটি স্থাপনা দাঁড়িয়ে নেই। মাটির সঙ্গে মিশে গেছে সব। চারদিকে এই ধ্বংসস্তূপের মাঝে ফিরছেন গাজাবাসী। সহায় সম্বল বলতে যা কিছু আছে, তাই নিয়ে তারা ফিরছেন নিজস্ব ঠিকানায়। যেখানে তাদের বাড়ি ছিল, ঠিকানা ছিল তা এখন অনেকটাই অচেনা। কোথায় বাড়ি, কোথায় ঘর ছিল- অশ্রুসজল চোখে খুঁজছেন তারা। সেখানেই আবার নতুন করে বাঁচার, নতুন জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজার উত্তরের এলাকা জাবালিয়া। সেখানকার অধিবাসী আবু জিয়াব বলেন,  উত্তরে আর বসবাস করার মতো কোনো অবকাঠামো নেই। বাড়িঘর, স্কুল, হাসপাতাল- সব গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। জনপদের কোনো চিহ্নই নেই। সাহায্যকর্মীরা বলছেন-  খাদ্য, বাসস্থান ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট বিরাজ করছে। উল্লেখ্য, কাঙ্খিত সময়ের তিন ঘণ্টা পর রোববার শুরু হয় হামাস-ইসরাইল যুদ্ধবিরতি। কিন্তু চুক্তি কার্যকরের পূর্ব পর্যন্ত গাজায় হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। সে সময় বোমার আঘাতে প্রাণ হারান ১৯ জন ও আহত হন ২৫। যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ৩ জন ইসরাইলি নারী জিম্মিকে মুক্তি দেয় হামাস। বিনিময়ে আটক ৯০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয় ইসরাইল। হামাসের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, আগামী শনিবার মুক্তি দেয়া হবে জিম্মিদের পরবর্তী দলকে। এদিকে ত্রাণের মিশরের এক সূত্র জানান, রোববার ১৬ ট্রাক জ্বালানি ও ২৬০ ট্রাক সাহায্য উপকরণ প্রবেশ করেছে গাজায়। মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আব্দেল্লাতি বলেন, প্রয়োজনীয় খাদ্য ও অন্য সাহায্য উপকরণ নিয়ে দৈনিক ৬০০টি ট্রাক প্রবেশ করবে গাজায়। এদিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্ব নেতারা। দুই পক্ষকে চুক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জোর তাগিদ দেয়া হয়। চুক্তির প্রথম মেয়াদকে ‘সাময়িক যুদ্ধবিরতি’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন আছে। প্রয়োজন হলে তারা পুনরায় যুদ্ধে জড়াবেন। 
mzamin