Monday, September 14, 2015

জাতিসংঘের অনুরোধ উপেক্ষা করে শিশু সেনা ব্যবহারকারী দেশে ব্রিটিশ অস্ত্র বিক্রি

যুক্তরাজ্য জাতিসংঘের অনুরোধ উপেক্ষা করে শিশু সেনা ব্যবহার করা হয় এমন দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রি করছে। এ রকম বেশ কয়েকটি দেশকে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে লন্ডনে অনুষ্ঠেয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সরঞ্জামের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে দেশটি। খবর গার্ডিয়ানের।
জাতিসংঘ যুদ্ধে শিশুদের ব্যবহার করে শিশু অধিকার লঙ্ঘন করছে এমন ২৩টি দেশের তালিকা তৈরি করেছে। যুক্তরাজ্য গত পাঁচ বছরে এর মধ্যে ১৯টি দেশেই সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করেছে। দেখা গেছে, ২০১০ সালের জুন থেকে এ বছরের মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য শিশু অধিকার লঙ্ঘনের দায়ে জাতিসংঘের কালো তালিকাভুক্ত দেশে ৭৩ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের অস্ত্র বিক্রি করে।
কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে শিশু সেনা ব্যবহার করা হয়, যার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আছে। এরপরও ২০১০ সাল থেকে দেশটির কাছে যুক্তরাজ্য ২৪ লাখ পাউন্ডের অস্ত্র বিক্রি করেছে। আফ্রিকার আরেক দেশ সোমালিয়া ৬৭ লাখ পাউন্ডের রাইফেল, গোলাবারুদ এবং যানবাহন কিনেছে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে। জাতিসংঘ বলছে, সোমালিয়ায় সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন আল-শাবাব এবং সোমালি ন্যাশনাল আর্মিতে ১ হাজার ২৯৩ শিশু রয়েছে। পাকিস্তানে সাড়ে এগারো কোটি পউন্ডের অস্ত্র ও যুদ্ধে ব্যবহৃত হেলিকপ্টার বিক্রি করা হয়। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সম্প্রতি বলেছে, পাকিস্তানে সক্রিয় সশস্ত্র দলগুলোতে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীসহ শিশু যোদ্ধা রয়েছে।
নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত অ্যাঙ্গোলা, আজারবাইজান, মিসর, কাজাখস্তান ও থাইল্যান্ডেও অস্ত্র বিক্রি করেছে যুক্তরাজ্য। লন্ডনের ডকল্যান্ডের মেলায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও কলাম্বিয়াকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর এসব দেশকে ‘উদ্বেগজনক রাষ্ট্র’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

তারুণ্যের বিজয়, শুভবুদ্ধির বিজয় by সাজেদুল হক

বাংলাদেশের তরুণদের গৌরবোজ্জ্বল অতীত ছিল। বৃটিশবিরোধী আন্দোলনে এ দেশের তরুণরা অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিল। ইতিহাস সাক্ষী, কিভাবে বাঙালি তরুণরা স্বাধিকার আন্দোলনকে স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ দেয়ার জন্য জাতীয় নেতৃত্বের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ত্যাগ এই তরুণরাই স্বীকার করেছিল। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও মূল চালিকাশক্তি ছিল তারুণ্য। বলা বাহুল্য, এসব আন্দোলনে নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। পৃথিবীর আর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এমন গৌরবদীপ্ত অধ্যায় আছে কি-না তা বলা মুশকিল। তবে গণতান্ত্রিক জমানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চেহারা ক্রমশ ম্লান হতে শুরু করে। ডাকসু নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায়। অন্যান্য ছাত্র সংসদ নির্বাচনও বন্ধ রয়েছে বহুদিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতৃত্ব সরকারের স্বার্থরক্ষায় নিজেদের ব্যস্ত রেখেছেন। এসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণমানুষের পক্ষে আর কোন আন্দোলন হয়নি।
সাম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশে প্রাইভেট উচ্চ শিক্ষার দ্রুত বিকাশ হয়েছে। ৫ লাখের কাছাকাছি শিক্ষার্থী এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখন পড়ালেখা করছে। সাধারণভাবে ধারণা করা হতো, সমাজের উচ্চবিত্তের ছেলেমেয়েরাই এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করে। কিন্তু এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫০ ভাগের বেশি শিক্ষার্থীই নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের। মূলত মধ্যবিত্তরাই এখন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংখ্যাগরিষ্ঠ। তবুও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোন বিষয়ে আন্দোলনের সামর্থ্য নিয়ে সংশয় ছিল।
প্রাইভেট উচ্চ শিক্ষায় সাড়ে সাত ভাগ ভ্যাট আরোপের সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিন মাসের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। তবে তাদের সে আন্দোলন খুব কম লোকেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছিল। গত বুধবার এ আন্দোলনটি নতুন মোড় নেয়। ওইদিন রামপুরায় ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরদিন সব কয়টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এক যোগে রাস্তায় নেমে আসে। তারা পুরো রাজধানী অচল করে দেয়। রোববারও একই ঘটনা ঘটে। এ আন্দোলনের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে-
১.আন্দোলন ছিল অহিংস। কোথায়ও কোন গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেনি। ২. আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথেষ্ট ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। আন্দোলনে তারা বড় কোন বাধা দেয়নি। ৩. অহিংস আন্দোলন সত্ত্বেও জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। কিলোমিটারের পর কিলোমিটার তাদের পায়ে হাঁটতে হয়েছে।
সোমবারও যথারীতি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ-অবরোধ চলছিল। তবে এরই মধ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতিগত সিদ্ধান্তের খবর এসেছে যে,  উচ্চ শিক্ষায় টিউশন ফির ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার করা হবে। এ সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মন্ত্রিসভা অবশ্যই ধন্যবাদ পেতে পারে। সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে।
দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশে কোন আন্দোলন সফল হলো। একই সঙ্গে সরকারও খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে। ভ্যাট প্রত্যাহারের এ সিদ্ধান্ত একই সঙ্গে তারুণ্যের বিজয় এবং সরকারের শুভবুদ্ধির বিজয়।

আইনে ‘যদি’ ‘তবে’ ‘কিন্তু’ শর্ত মানা হবে না

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনে ‘যদি’, ‘কিন্তু’, ‘তবে’ এ ধরনের কোনো শর্ত জুড়ে দিলে, তা মানা হবে না। আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘বিবাহযোগ্য বয়স এবং শিশু বিবাহ: বর্তমান পরিস্থিতি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে আইন চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে শর্ত বাদ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শর্ত বাল্যবিয়ের হার না কমিয়ে বাড়িয়ে দেবে। সরকার যে যুক্তিতে বিয়ের বয়স কমাতে চায়, তা-ও গ্রহণযোগ্য নয়।
সরকারের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের খসড়া আইনে বিশেষ পরিস্থিতিতে বাবা-মায়ের সম্মতিতে এবং আদালতের অনুমোদনের ভিত্তিতে ১৬ বছরের কমবয়সী মেয়েদের বিয়ে দেওয়া যাবে বলে শর্ত রাখার চিন্তাভাবনা চলছে। এ ক্ষেত্রে মেয়েরা যদি পালিয়ে যায় বা বিয়ের আগেই শারীরিক সম্পর্ক হওয়ার ফলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে, তবে বিশেষ পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করার কথা চিন্তাভাবনা চলছে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের করা আইনের খসড়াটি বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে যাচাইবাছাই চলছে।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে বাল্যবিবাহের বয়স এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। দেশের সাতটি বিভাগের ২৪টি জেলার ২৪টি উপজেলায় গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ২৩৭ জন বাল্যবিবাহের শিকার নারী ও তার পরিবারের সদস্য এবং কমিউনিটির সঙ্গে আলোচনা করে এ গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। ফলাফল অনুযায়ী, ২৪টি জেলায় বিয়ের গড় বয়স ছিল ১৫ দশমিক ৫৩ বছর। এসব এলাকায় ৬৫ শতাংশেরই পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় ১৬ বছর বয়সের আগে। বিয়ের সময় প্রায় ৬৪ শতাংশই ছিল শিক্ষার্থী। ১ হাজার ২৩৭ জনের মধ্যে মাত্র ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভালোবেসে পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে করে। পালিয়ে বা বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক হওয়ার কারণে বিয়ে হয় ১ দশমিক ৫ শতাংশের। তবে ১৬ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রেই পালিয়ে বা বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক হওয়ার ঘটনা ঘটে।
সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী বনশ্রী মিত্র নিয়োগী এবং মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন বিভাগের প্রধান জুবায়ের আলী খান। গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রায় ২৬ শতাংশ মা-বাবা মেয়েকে কম বয়সে বিয়ে দিতে বাধ্য হন। দারিদ্র্যের কারণে ১৯ এবং সামাজিক রীতিনীতির কারণে প্রায় ২৩ শতাংশ মা-বাবা মেয়েকে বিয়ে দেন। বিবাহিত মেয়েদের মধ্যে প্রায় ৫৫ শতাংশের পরিবারই ছিল অতিদরিদ্র। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ৭৬ দশমিক ২২ শতাংশ মেয়ের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর, এটা বলতে পেরেছে। ছেলেদের ন্যূনতম বিয়ের বয়স ২১ বলতে পেরেছে মাত্র ২৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ। বিয়ের সময় ৫৫ শতাংশ মেয়ের মতামত নেওয়া হয়নি।
বনশ্রী মিত্র নিয়োগী বলেন, মাঠপর্যায়ে অনেকে ধরে নিয়েছেন, সরকার মেয়েদের বিয়ের বয়স কমিয়ে ফেলেছে। ফলে তাঁরা উল্টো প্রশ্ন করেন, কেন বিয়ের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের কথা বলা হচ্ছে।
আলোচনায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, ‘সরকার ১৯২৯ সালের বিদ্যমান আইনের সংশোধন করতে গিয়ে আইনে যে ধরনের শর্ত দিতে চাইছে, এতে আমরা বিস্মিত, দুঃখিত। সমাজ অগ্রসর করার মূল চাকাটি যে নারীরা ঠেলছে, সেই নারীদের কয়েক শ বছর পিছিয়ে দিতে চাচ্ছে সরকার। আমরা কথাটি খুব পরিষ্কার করে হাজারবার বলছি, আইনে “কোনো”, “কিন্তু”, “তবে” এ ধরনের অব্যয়ের ব্যবহার চলবে না।’
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ‘সরকার অনেক সময়ই নারী আন্দোলনের কথা শুনেছে। আশা করছি এবারও শুনবে। সরকার যতদিন কথা না শুনবে, আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শাহনাজ হুদা বলেন, ‘আইনে শর্ত দিয়ে ১৬ বছর বয়সের কথা উল্লেখ করার কোনো প্রয়োজন নেই। ১৮ বছর বয়সের আগেও মেয়েদের বিয়ে দেওয়া যাবে, শুধু মানুষের মধ্যে এ ধারণা দেওয়ার জন্যই আইন করা হচ্ছে।’

‘আমরা ধ্বংস হয়ে যাব’

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ
সম্মেলনে বক্তব্য দেন অটো রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল
মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাসাদুল আলম
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক কমলেও দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে সরকার। সরকারের এই সিদ্ধান্তে দেশের অনেক স্টিল রি-রোলিং মিল বন্ধ হয়ে যাবে। এ শিল্পে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। আবার যখন দেশে বিদ্যুতের সংকট ছিল তখন সরকার ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রকে উৎসাহিত করেছে। ব্যবসায়ীরা ক্যাপটিভ পাওয়ারের মাধ্যমে নিজের শিল্পের চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় গ্রিডেও বিদ্যুৎ সরবরাহ করতেন। এত দিন এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৪ টাকা ১৮ পয়সায় প্রতি ঘনমিটার গ্যাস দেওয়া হলেও এখন দেওয়া হচ্ছে ৮ টাকা ৩৬ পয়সায়। এর ফলে কোটি কোটি টাকায় গড়া এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস হয়ে যাবে। এই দুই খাতসহ তিনটি খাতের পাঁচ ব্যবসায়ী সংগঠন গতকাল রোববার সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানিয়েছে। নেতারা বর্ধিত গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য কমানোর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা ডিপিডিসি, আরইবি এবং ডেসকোর বিদ্যুতের মূল্য সমান করার দাবিও জানিয়েছেন।
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ অটো রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ স্টিল মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ রি-রোলিং মিলস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ক্যাপটিভ পাওয়ার প্রোডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।
লিখিত বক্তব্যে অটো রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাসাদুল আলম বলেন, দেশের ইস্পাতশিল্পের বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ৮০ লাখ টন। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে উৎপাদন হচ্ছে অর্ধেক, ৪০ লাখ টন। এর মধ্যে দেশের চাহিদা হলো ৩০ লাখ টন। উদ্বৃত্ত থাকছে ১০ লাখ টন। ফলে এই শিল্পের উদ্যোক্তারা লোকসান গুনছেন। সরকারিভাবে নির্মাণকাজ তেমন না হওয়ায় ইস্পাতপণ্যের প্রধান ক্রেতাই বেসরকারি খাত। এ অবস্থায় বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানায় গ্যাস-সংযোগ বন্ধ রাখলে রডের ব্যবহার আরও কমে যাবে। গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কারণে রডের দাম আরও বাড়বে। বিক্রিও কমে যাবে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বর্ধিত মূল্য কমানো না হলে দেশের ইস্পাতশিল্প হুমকির মুখে পড়বে। পর্যায়ক্রমে এসব শিল্প বন্ধ হয়ে যাবে। স্থানীয় বাজার আমদানিনির্ভর হয়ে পড়বে। ফলে দেশ শিল্পবান্ধব না হয়ে বিদেশি পণ্যের একটি বাজারে পরিণত হবে।
পরে মাসাদুল আলম বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীরা আন্দোলন করতে চাই না। কিন্তু আমাদের মিল-ফ্যাক্টরি যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে কি আমরা ঘরে বসে থাকব। তবে সবার প্রথমে আমরা এফবিসিসিআই ঘেরাও করব। কারণ তারা এখনো কেন এটা নিয়ে মাঠে নামেনি।’
সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার গ্রুপের ইস্পাত ও নির্মাণসংক্রান্ত বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মনোয়ার হোসেন বলেন, সরকারের অদক্ষতা ঢাকার জন্যই গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। তাদের সেই অদক্ষতা আমাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা আসলে বাংলাদেশে অস্বাভাবিক ঘটনা না। তিনি আরও বলেন, ‘সরকার বলছে বিশ্ববাজারের চেয়ে দেশে গ্যাসের দাম অনেক কম। আমার দেশের সম্পদ গ্যাস আমি কেন আন্তর্জাতিক বাজার দরে কিনব। তাহলে কি আমি বাংলাদেশের সেকেন্ড সিটিজেন।’
বাংলাদেশ রি-রোলিং মিলস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘আমাদের আগে ৪০০ মিল ছিল। গ্যাস-বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে ১০০-১৫০টি বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আবারও দাম বাড়ানো হলো। আরও মিল বন্ধ হয়ে যাবে।’
সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ও মেট্রোসেম ইস্পাতের এমডি শহিদউল্লাহ বলেন, দেশের মোট চাহিদার ৫০ শতাংশ সিমেন্ট এখন দেশীয় বিনিয়োগে করা হচ্ছে। আবার রপ্তানিও হচ্ছে। কিন্তু বর্ধিত গ্যাস-বিদ্যুতের দামের কারণে এসব বন্ধ হয়ে যাবে। কম দামে সিমেন্ট সরবরাহও সম্ভব হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বেসরকারি ক্যাপটিভ পাওয়ারে সরবরাহ করা প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম দ্বিগুণ করা হলেও সরকারিভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়নি। সেখানে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস দেওয়া হচ্ছে ২ টাকা ৮২ পয়সায়। ফলে বেসরকারি ক্যাপটিভ পাওয়ারগুলো অসম প্রতিযোগিতায় টিকবে না। তাই আগের দামেই এখানে গ্যাস সরবরাহের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে স্টিল মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মো. শাহজাহান, ক্রাউন সিমেন্টের এমডি আলমগীর হোসেন,
বন্দর স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি আবুল কালাম উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকার খসড়া পরিকল্পনায় আপত্তি মেয়রদের

রাজউক মিলনায়তনে গতকাল ‘ঢাকার খসড়া কাঠামো
পরিকল্পনা’ শীর্ষক সেমিনারে (বাঁ থেকে) ঢাকা দক্ষিণ
সিটির মেয়র সাঈদ খোকন, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী
মোশাররফ হোসেন, ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র
আনিসুল হক ও নারায়ণগঞ্জ সিটির মেয়র
সেলিনা হায়াৎ আইভী l প্রথম আলো
ঢাকার নতুন কাঠামো পরিকল্পনাকে (ডিএসপি) অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন চার সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেছেন, এ পরিকল্পনা প্রণয়ন-প্রক্রিয়ায় তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে এ পরিকল্পনা বাস্তবমুখী হয়নি। ঢাকার সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে রাজউকের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের যে সমন্বয় প্রয়োজন, তার প্রতিফলন এখানে নেই।
২০১৬ সাল থেকে পরবর্তী ২০ বছরের জন্য ঢাকার খসড়া কাঠামো পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার জন্য দুই দিনব্যাপী এক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের মেয়ররা এসব কথা বলেন। গতকাল রোববার সকালে রাজউক মিলনায়তনে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরে সেমিনারে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞ পেশাজীবীরাও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়রদের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে গলা মিলিয়ে বলেন, এ খসড়া পরিকল্পনাকে নতুন পরিকল্পনা হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। এটিকে বড়জোর পুরোনো পরিকল্পনার একটি পর্যালোচনা বলা যেতে পারে, যা প্রতি পাঁচ বছর অন্তর করার বা হওয়ার কথা।
ঢাকার উন্নয়নে প্রথম মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয় ১৯৬০ সালে। সর্বশেষ ১৯৯৫ সালে নেওয়া হয় ঢাকা মহানগর উন্নয়ন পরিকল্পনা (ডিএমডিপি)। ২০১৫ সালে তারও মেয়াদ শেষ হবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে রাজউক এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তায় ‘নগর উন্নয়ন প্রকল্প’র আওতায় খসড়া পরিকল্পনা করে, যার মেয়াদ ২০১৬ থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত। রাজউকের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কোরিয়ার সামান করপোরেশন ও হান আ আরবান রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশের ডেভেলপমেন্ট কনসালট্যান্ট লিমিটেড ও শেল্টেক্ (প্রা.) লিমিটেড যৌথভাবে নতুন এ কাঠামো পরিকল্পনাটি প্রণয়ন করেছে।
এ পরিকল্পনার খসড়ায় বলা হয়, ২০১১ সালে ঢাকার জনসংখ্যা ছিল দেড় কোটি, ২০৩৫ সালে তা দাঁড়াবে ২ কোটি ৬০ লাখ। এই জনসংখ্যা মাথায় রেখেই সেবা সংস্থাগুলোর প্রসার ও বিন্যাসের কথা চিন্তা করা হয়েছে। পরিকল্পনায় পুরো ঢাকা মহানগরকে ছয়টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরকে কেন্দ্র করে প্রতিটি অঞ্চলে বিভিন্ন স্তরের নগর কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এর মধ্যে ঢাকার প্রাণকেন্দ্রকে ঘিরে গড়ে উঠবে আরও পাঁচটি অঞ্চল। এগুলো হলো গাজীপুর সদর উপজেলা নিয়ে হবে উত্তরাঞ্চল, রূপগঞ্জ ও কালীগঞ্জ নিয়ে পূর্বাঞ্চল, নারায়ণগঞ্জ সদর, বন্দর ও সোনারগাঁ নিয়ে দক্ষিণাঞ্চল, কেরানীগঞ্জ নিয়ে হবে দক্ষিণ-পশ্চিম এবং সাভার এলাকা নিয়ে হবে পশ্চিমাঞ্চল। এর বাইরে থাকবে ১৮টি উপাঞ্চলিক এবং ছয়টি বিশেষায়িত এলাকা। খসড়া পরিকল্পনায় চারটি সিটি করপোরেশন—ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর; পাঁচটি পৌরসভা এবং ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার ৭০টি ইউনিয়ন পরিষদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পরিকল্পনায় বলা হয়, প্রত্যেক অঞ্চলকে স্বয়ংসম্পূর্ণ নগর এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ওই সব অঞ্চলে নাগরিক ও কর্মসংস্থানের সুবিধা বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। ঢাকা শহরে দ্রুতগামী পরিবহনসুবিধা থাকবে। চারদিকে থাকবে বৃত্তাকার সড়ক। মূল শহরের সঙ্গে অঞ্চলগুলোর সংযোগও থাকবে। ভূমি স্বল্পতাকে বিবেচনায় নিয়ে এসব পরিকল্পনা করা হবে। শহরের চারপাশে থাকবে বিশেষায়িত জোন। ট্রানজিট স্টেশনকে কেন্দ্র করে কর্মক্ষেত্রের চারপাশে মানুষের বসতির সুযোগ থাকবে। প্লটের পরিবর্তে ব্লক হাউজিং গুরুত্ব দেওয়া হবে। নদী, খাল, জলাশয়, সংরক্ষণ ও পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা হবে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য ঠিক রাখা হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পরিকল্পনায় পুরো ভূমি ব্যবস্থাপনাকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এলাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও সাভার এলাকা নগর এলাকার বাইরের ভূমি যেসব জমি আসলে কৃষি থেকে শহুরে আবাসনে রূপান্তরিত হচ্ছে।
গতকালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনও বলেছেন, ঢাকার জন্য বাস্তবমুখী ও গ্রহণযোগ্য কাঠামো পরিকল্পনা করতে হবে। ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নও করতে হবে মেয়রদের দিকনির্দেশনা নিয়ে।
রাজউকের চেয়ারম্যান জি এম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম খসড়া কাঠামো পরিকল্পনার সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক এ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আগের পরিকল্পনায় কী দুর্বলতা ছিল এবং নতুন করে আপনারা কতটুকু পরিবর্তন করেছেন, তা আপনারা এখানে বলেননি। ফলে শুধু এলাকা বৃদ্ধি ও বাড়তি জনসংখ্যার হিসাব ছাড়া এ খসড়া পরিকল্পনাটি বিদ্যমান পরিকল্পনার চর্বিতচর্বণে পরিণত হয়েছে।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘রাজউকের সমন্বয়হীনতা আমাদের জটিল একটা সমস্যার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা করতে না পারলে ঢাকাকে বাসযোগ্য করা সম্ভব নয়।’
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘তাড়াহুড়োয় টেকসই উন্নয়ন হয় না। আমরা কি শুধু পরিকল্পনা করব, নাকি সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়নও করতে হবে?’
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান বলেন, ১৯৯৫ সালে প্রণীত ড্যাপেও অসংখ্য ভুল ছিল। এর জন্য গাজীপুরের মানুষ তখন রাস্তায় নেমেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর কারিগরি অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে তিনটি নিবন্ধ উপস্থাপন ও তার ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্বে আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক আখতার মাহমুদ ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, এ পরিকল্পনাটি হয়েছে অন্ধের হাতি দেখার মতো। ঢাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন-প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের জনসম্পৃক্ততা নেই। এখানে পেশাজীবীদের যেভাবে অবহেলা করা হয়েছে, তাতে এটি কোনো পরিকল্পনাই হতে পারে না। এ ছাড়া রিহ্যাব ও বিজিএমইএর প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেন।
আজ সোমবার সেমিনারের দ্বিতীয় দিনের কারিগরি অধিবেশনে নতুন কাঠামো পরিকল্পনা নিয়ে আরও চারটি নিবন্ধ উপস্থাপন করবেন বিশেষজ্ঞরা।

পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতো শীর্ষ সন্ত্রাসী তুষার! by নুরুজ্জামান লাবু

হাতে তার অত্যাধুনিক অস্ত্র। মাথায় ১৯ মামলা। এর মধ্যে খুনের মামলা ৫টি। আছে অস্ত্র আইনেও একাধিক মামলা। খিলগাঁও-রামপুরা এলাকার ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল সে। সর্বশেষ যেই অস্ত্র সে ব্যবহার করতো সেটি আর দশটি সাধারণ অস্ত্র নয়, এই পিস্তল সাধারণত ব্যবহার করে থাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। প্রতিপক্ষ গ্রুপের কাছে হিরো সাজার জন্য লাখ টাকা ব্যয় করে এই অস্ত্র কিনেছিল সে। অত্যাধুনিক পিস্তল বহনের জন্য প্রতিপক্ষরা তাকে সমীহ করতো। আড়াই বছর জেল খাটার পর বছর পাঁচেক ধরে আত্মগোপনে ছিল। আড়াল থেকেই খিলগাঁও-রামপুরা এলাকার সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতো। অনেক দিন ধরেই তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালিয়ে আসছিল র‌্যাব-পুলিশের একাধিক দল। অবশেষে অত্যাধুনিক সেই অস্ত্রসহ ডিবি পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে সে। তার নাম ইব্রাহীম খান ওরফে তুষার (২৬)। গোয়েন্দা পুলিশের ধারণা, তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সদস্যের। খোয়া যাওয়া অস্ত্রটি কয়েক হাত বদল হয়ে তুষারের কাছে এসেছে। গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশের অস্ত্রাগারের তালিকার সঙ্গে উদ্ধারকৃত পিস্তলের নম্বর মিলিয়ে দেখার প্রক্রিয়া চলছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইকবাল হোছাইন বলেন, তুষারকে গ্রেপ্তারের জন্য বহুদিন ধরে চেষ্টা চলছিল। তাকে গ্রেপ্তার করায় রামপুরা-খিলগাঁও এলাকার অপরাধ অনেক কমে যাবে। সে মূলত রামপুরা-খিলগাঁও এলাকার ত্রাস ছিল। ইকবাল হোছাইন জানান, আমাদের কাছে তথ্য ছিল তুষারের কাছে ৪-৫টি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। একটি উদ্ধার হয়েছে। বাকিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি অত্যাধুনিক ও আগে এটি পুলিশ ব্যবহার করতো। এই অস্ত্র কোন পুলিশ সদস্যের খোয়া যাওয়া অস্ত্র কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রামপুরা এলাকার ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী তুষার। তার বিরুদ্ধে ৫টি হত্যা মামলা রয়েছে। অস্ত্র মামলা রয়েছে ৮টি। এ ছাড়া ছিনতাই-চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে অসংখ্য। তুষারের মামা কাইল্যা পলাশও রামপুরা-খিলগাঁও এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী। মূলত মামার হাত ধরেই অপরাধ জগতে পদচারণা শুরু হয় তুষারের। অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় ২০০৪ সালে প্রথম অস্ত্র হাতে তুলে নেয় সে। মামা কাইল্যা পলাশের তখন এলাকায় ব্যাপক প্রভাব। মামার হয়ে কাজ করতে থাকে সে। ছিনতাই চাঁদাবাজি তার নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। ওই বছরই কুঞ্জবনের প্রতিপক্ষ দীলিপকে প্রথম সে গুলি করে হত্যা করে। পরের বছর ২০০৫ সালে একজনকে, ২০০৬ সালে একজনকে, ২০০৯ সালে একজনকে ও সর্বশেষ ২০১৩ সালে একজনকে হত্যা করে সে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, তুষার ছিল দুঃসাহসী সন্ত্রাসী। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সে নিজে উপস্থিত থেকে অস্ত্র চালিয়েছে। সবসময় নিজের কাছে অস্ত্র রাখতো সে। গত মার্চ মাসে প্রতিপক্ষ গ্রুপকে ভয় দেখাতে রামপুরার  প্রকাশ্যে লোকজনের সামনে ১০-১২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। যাতে প্রতিপক্ষ গ্রুপের কেউ তার কাজে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। এসময় তার সঙ্গে আরও অন্তত ২০-২২ জন শিষ্যও ছিল।
পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর তুষার জানায়, বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান সে। তার নানা ইউনূস আলী খান রামপুরা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ছিলেন। তাদের অনেক সম্পত্তিও রয়েছে। এলাকায় মামা কাইল্যা পলাশের ব্যপক প্রভাব ছিল। মামার দেখাদেখি সে নিজেও প্রভাব খাটাতে গিয়ে অন্ধকার জগতে ঢুকে যায়। তার গ্রুপে অন্তত ৩০-৪০ জন ছেলে ছিল। এদের সবার খরচ বহন করতো সে। প্রতি মাসে তার আয় ছিল অন্তত ১০ লাখ টাকা। আয়ের প্রধান উৎস চাঁদাবাজি। এ ছাড়া রামপুরা-খিলগাঁও এলাকার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করতো সে। রামপুরা থানার ছাত্রলীগ নেতা তপুর সঙ্গে তার ভাল  সখ্য ছিল। তপুর হয়ে কাজ করতো সে। এ কারণে তপুও তার চাঁদাবাজির একটি অংশ তাকে দিত। তুষার জানায়, প্রথম দিকে সে রামপুরা এলাকার শীর্ষ আরেক সন্ত্রাসী কারাবন্দি শাহাজাদা ও ঘাতক স্বপনের সঙ্গে কাজ করতো। পরে নিজেই বাহিনী তৈরি করে। রামপুরা-খিলগাঁও এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালালেও এলাকায় রাত্রি যাপন করতো না সে। বেশির ভাগ সময় গাজীপুরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতো। এ ছাড়া মাঝেমধ্যে পুলিশের অভিযানের কড়াকড়ি হওয়ায় সে রাজশাহী ও জামালপুরেও থেকেছে। তবে মোবাইল ফোন ও ক্যাডার বাহিনীর মাধ্যমে রামপুরা-খিলগাঁও এলাকা নিয়ন্ত্রণে ছিল তারই। তুষার জানায়, সে নানা ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছে। তার অনেক দিনের শখ ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে থাকা অত্যাধুনিক ৭.৬২ বোরের অস্ত্র ব্যবহার করবে। এ কারণে তপুর কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা দিয়ে এই অস্ত্রটি কিনেছিল সে। অস্ত্রটি সবসময় নিজের সঙ্গেই রাখতো। তবে অস্ত্রটি তপু কোথায় পেয়েছে তা জানাতে পারেনি সে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, সহযোগীদের গ্রেপ্তারের জন্য তুষারকে রিমান্ডে  নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

সীমান্ত রক্ষায় ব্যর্থ ইউরোপ : জার্মানি

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। ভেস্তে গেছে রেকর্ড পরিমাণ শরণার্থী অনুপ্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টাও। রোববার ইইউ’র নীতির ব্যর্থতার প্রতি কটাক্ষ করে এসব কথা বলেছেন জার্মানির যোগাযোগমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ড। খবর এএফপি’র। শনিবার জার্মানির মিউনিখে প্রায় ১২ হাজার ২০০ শরণার্থী প্রবেশ করে। এ বছর দেশটি ৮ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার প্রতিশ্র“তি দিলেও অভিবাসীদের অপ্রত্যাশিত অনুপ্রবেশ রাজনৈতিক নেতাদের মারাত্মকভাবে বিচলিত করেছে। এরই মধ্যে চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল কনজারভেটিভ মিত্রদের কাছ থেকে কড়া সতর্কবাণী পেয়েছেন। তারা বলেন, মার্কেল রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শরণার্থীদের আশ্রয় দিলে তা বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। তাদের এ হুশিয়ারির পরপরই ইইউ’কে কটাক্ষ করে বক্তব্য দিলেন ডব্রিন্ড। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ভয়াবহতম এ অভিবাসী ও শরণার্থী সংকট মোকাবেলায় ইউরোপকে আরও কঠোর অবস্থান নিতে হবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া দরকার। আর এজন্য যেসব দেশ থেকে তারা পালচ্ছে সেখানে অর্থ সহায়তা দেয়া এবং আমাদের নিজ নিজ সীমানায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে শরণার্থীদের উপচেপড়া ভিড়ে নাকাল জার্মানি। দেশটির মিউনিখ শহরে একদিনেই ১৩ হাজার ১৫ জন শরণার্থী ঢুকেছে। রোববার মিউনিখ পুলিশ সুপার জানান, ‘আমরা আমাদের ধারণক্ষমতার সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গেছি।’ জার্মানিতে চলতি বছরেই সাড়ে চার লাখের বেশি শরণার্থী ঢুকেছে। স্মরণকালের ভয়াবহ এ শরণার্থী সংকটে ইউরোপকে জরুরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে বার্লিন। একদিনে ৪ হাজার শরণার্থীর হাঙ্গেরি প্রবেশ : সার্বিয়া থেকে রোববার রেকর্ডসংখ্যক চার হাজারের বেশি অভিবাসী হেঁটে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে হাঙ্গেরিতে প্রবেশ করেছে। এদিকে হাঙ্গেরি কর্তৃপক্ষ সীমান্ত বন্ধ করার প্রস্তুতি শেষ করেছে। বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর চাপ সামলাতে ইউরোপকে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। এদের অধিকাংশই সিরিয়া থেকে এসেছে। সহিংসতা ও দারিদ্র্যের কারণে তারা দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে। যারা সীমান্ত পার হয়ে হাঙ্গেরিতে প্রবেশ করেছে তাদের সঙ্গে দেশটির আচরণ ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে। কর্মকর্তারা অনুমান করেছেন, চলতি বছর এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজার অভিবাসী সার্বিয়া থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে হাঙ্গেরি প্রবেশ করেছে। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান দেশের সীমান্ত বন্ধ এবং অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেফতারের অঙ্গীকার করেছেন। দেশটি সার্বিয়া সীমান্তে ৪ মিটার (১৩ ফুট) উঁচু বেড়া নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ করছে। এদিকে ইউরোপের ১৫টি দেশে অভিবাসনের জন্য আবেদন করছে সিরিয়ান শরণার্থীরা।
এরই মধ্যে জার্মানিতে পৌঁছেছে ৯৮ হাজার ৭৮৩ জন, ব্রিটেন ৭ হাজার ৩০ জন, সুইডেন ৬৪ হাজার ৬৮৫ জন অভিবাসী গ্রহণ করেছে আনুষ্ঠানিকভাবে। অন্যদিকে সিরিয়ার নিকটবর্তী দেশ তুরস্ক ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৯৯৯ জন অভিবাসীকে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দিয়েছে। এ তালিকায় জর্ডান ৬ লাখ ২৯ হাজার ২৬৬ জনকে আশ্রয় দিয়েছে। লেবাননে আশ্রয় নিয়েছে ১১ লাখ ১৩ হাজার ৯৪১ জন। অন্যদিকে যুদ্ধকবলিত ইরাকেও ১ লাখ সিরীয় শরণার্থী আশ্রয় গ্রহণ করেছে। শরণার্থীদের স্বাগত জানিয়ে ইউরোপজুড়ে মিছিল : শরণার্থী ও অভিবাসীদের সমর্থনে ডাকা বিশেষ কর্মসূচি ‘ডে অব অ্যাকশন’ উপলক্ষে ইউরোপের বেশ কয়েকটি শহরে ও অস্ট্রেলিয়ায় আয়োজিত মিছিলে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছে। তবে কয়েকটি দেশে শরণার্থী ও অভিবাসীবিরোধী মিছিলও হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শরণার্থীদের ঢল সামলাতে হিমিশিম খাচ্ছে ইউরোপ। এসব শরণার্থীর অধিকাংশই সিরিয়ার নাগরিক, নিজ দেশে চলমান গৃহযুদ্ধ ও দারিদ্র্যের মুখে তারা পালিয়ে ইউরোপে চলে আসছেন। লন্ডনে প্রায় লাখো মানুষ শরণার্থী ও অভিবাসীদের সমর্থনে মিছিল করে ডাউনিং স্ট্রিটে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে এগিয়ে যায়। এদের অনেকের হাতেই ‘সীমান্ত খুলে দাও’ ও ‘শরণার্থীরা আসো’ লেখা প্লাকার্ড ছিল। যুক্তরাজ্যের অন্যান্য শহরেও একই ধরনের মিছিল হয়েছে। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, তারা আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার শরণার্থীকে গ্রহণ করবে। তবে এদের ইউরোপে হাজির হওয়া শরণার্থীদের থেকে না, সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের শরণার্থী শিবিরগুলো থেকে গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে। সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে এক হাজারের মতো মানুষ মিছিল করে শরণার্থীদের জন্য আরও বেশি সহায়তা দেয়ার আবেদন জানিয়েছে। ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে পার্লামেন্ট ভবনের সামনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ জড়ো হয়ে স্লোগান তোলে, ‘উচ্চৈঃস্বরে এবং পরিষ্কারভাবে বলুন, শরণার্থীদের এখানে স্বাগতম।’ জার্মানির হামবুর্গে গত সপ্তাহের শুরুর দিকে উগ্র-ডানপন্থীদের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়। নব্য-নাৎসিদের বহন করা হচ্ছে এমন ধারণা থেকে শহরটিতে একটি ট্রেনে হামলা চালায় বামপন্থী মিছিলকারীরা। এরপর শনিবার হামবুর্গের প্রধান রেলস্টেশন বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ডস ও অস্ট্রেলিয়ায় শরণার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মিছিল হয়েছে। পূর্ব ইউরোপের কয়েকটি দেশে শরণার্থী ও অভিবাসীবিরোধী মিছিলও হয়েছে।

আগামী দুই নির্বাচন হারবে লেবার পার্টি : জরিপ

ব্রিটেনের লেবার পার্টিতে চমক দেখিয়ে নেতা নির্বাচিত হলেও বামপন্থী জেরেমি করবিনকে এর মধ্যে অপসারণের পাঁয়তারা শুরু করে দিয়েছেন তার বিরোধীরা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার গর্ডন ব্রাউনসহ দলের মধ্যপন্থী প্রভাবশালী নেতারা বরাবরই তার বিরোধিতায় সরব ছিলেন। এবার তাদের দলে যোগ দিয়েছেন আরও অনেক ঝানু নেতা।
তারা বলেন আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগেই করবিনের বিদায় ঘণ্টা বাজবে। এছাড়া আগামী দুটি সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টি জয়ের মুখ দেখবে না বলেও মনে করছেন তারা। খবর ডেইলি মেইলের। মধ্যপন্থীরা বলেন, নির্বাচনে জয়ের জন্য লেবার পার্টির উপযুক্ত নেতা নয় করবিন। তিনি এ আসনে থাকলে অনেক সমর্থক ভোট থেকে বিরত থাকবেন। কেননা কট্টর বামপন্থী হিসেবে জেরেমি করবিনই যুক্তরাজ্যের লেবার দলের নতুন নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া তিনি লেবার দলের নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে দলটির দীর্ঘ নীতি ও কর্মপদ্ধতিতে ব্যতিক্রম দেখা দেবে। শনিবার দলীয় নেতা নির্বাচনে লেবার দলের মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৬৬৪ ভোটার ভোট দিয়েছেন।
এর মধ্যে জেরেমি করবিন পেয়েছেন ২ লাখ ৫১ হাজার ৪১৭ ভোট বা ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ। অপর তিন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে অ্যান্ডি বার্নহাম ১৯ শতাংশ, ইভেট কুপার ১৭ শতাংশ এবং লিজ ক্যান্ডেল ৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। দলের ডেপুটি লিডার নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক মন্ত্রী টম ওয়াটসন। নির্বাচনের সময় নিজ দলের মধ্যপন্থী নেতাদের কাছ থেকে চরম সমালোচনার শিকার হলেও করবিন বিজয়ী হওয়ার পর দেয়া ভাষণে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন। দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে লেবার দলের এমপি নির্বাচিত হলেও করবিনকে কখনও মন্ত্রিসভায় স্থান দেয়া হয়নি। লেবার দলের নেতা নির্বাচনে প্রার্থী হতে দলের ৩৫ জন এমপির সমর্থন লাগে।

প্লুটোর ভৌগোলিক গঠন বৈচিত্র্যময়

এবার বামন গ্রহের তালিকায় থাকা প্লুটোর ভৌগোলিক বৈচিত্র্য সংবলিত ছবি পাঠাল নিউ হোরাইজন। সম্প্রতি নাসার এ পরমাণু শক্তিচালিত মহাকাশ যানটি কিছু উচ্চ রেজ্যুলেশন সম্পন্ন ছবি প্রেরণ করেছে। ছবিতে দেখা গেছে প্লুটোর উপরিভাগে উঁচু-নিচু পাহাড়, বালু, ভাসমান বরফখণ্ড ও বরফের আস্তরণ বিদ্যমান। এর ফলে বিজ্ঞানীদের গবেষণার তালিকা থেকে প্রায় বাদ পরা এ গ্রহটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছেন নাসার বিজ্ঞানীরা।
খবর এএফপির। সাউথ ওয়েস্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের প্রধান অবেক্ষক অ্যালান স্টার্ন বলেন, প্লুটোর ব্যতিক্রমী ভূমিরূপ এবং জটিল পদ্ধতিগুলো সৌরজগতের যে কোনো গ্রহ থেকে আলাদা। নাসার এ আবিষ্কার প্লুটো সম্পর্কে আমাদের সম্যক ধারণা দেবে বলে আশা করছেন তিনি। এছাড়া সৌরজগতের শেষপ্রান্তে কী আছে, তাও জানা যাবে। নাসা জানায়, ২০১৬ সালের শেষ পর্যন্ত প্লুটোর ছবি পাঠাবে নিউ হোরাইজন। তারা আরও বলেন, আগামী সপ্তাহে প্লুটোর চাঁদখ্যাত চ্যারন, নিক্স ও হাইড্রার ছবি প্রকাশ করবে যানটি।

হজ মৌসুমে ৪০ বছরে ৩ সহস্রাধিক মুসল্লির মৃত্যু

হজ করতে লাখ লাখ মানুষ সৌদি আরব যান। শত শত বছর ধরে ধর্মীয় এ আনুষ্ঠানিকতা পালন করছেন সারা বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠী। বিশ্বের সবচেয়ে বড় জনসমাবেশ বিবেচনা করা হয় এ হজকে। গত ৪০ বছরের ইতিহাসে পবিত্র হজ পালনে এসে দুর্ঘটনা রোগে ভুগে তিন সহস্রাধিক মুসল্লি মারা গেছেন। তবে সুদূর অতীতের তুলনায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুর্ঘটনার হার বেশি। বাড়তি ভিড় সামলাতে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাই এর পেছনে দায়ী কিনা তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। শুক্রবারের ঘটনার আগে হজের আনুষ্ঠানিকতা পালনের সময় সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা ছিল- মিনায় শয়তানের উদ্দেশে পাথর নিক্ষেপ করতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ৩৪০ জনের মৃত্যুর ঘটনা। মিনার জামারাত ব্রিজে হুড়োহুড়িতে আহত হন আরও অন্তত ২৯০ জন।
ওই বছর হজ পালন করতে জড়ো হয়েছিলেন প্রায় ২৫ লাখ মুসল্লি। এ দুর্ঘটনার পরই জামারাত ব্রিজ প্রশস্ত করার জন্য নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়। জামারাত ব্রিজে আগেও এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। ২০০৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করতে গিয়ে এই একই স্থানে পদদলিত হয়ে প্রাণ হারান ২৫১ জন। আহত হন ২৪৪ জন। ২০০৩ সালে পাথর নিক্ষেপের আনুষ্ঠানিকতায় গিয়ে একইভাবে পদদলিত হয়ে প্রাণ হারান ১৪ মুসল্লি। ২০০১ সালে একইভাবে মারা যান ৩৫ জন। ১৯৯৮ সালে জামারাত ব্রিজে পদদলিত হয়ে মারা যান অন্তত ১১৮ জন হাজি। ওই ঘটনায় আহত হন প্রায় ১৮০ জন। ১৯৯৪ সালের ২৩ মে পাথর নিক্ষেপের সময় জামারাতে মারা যান ২৭০ জন। ১৯৯০ সালের ২ জুলাই মক্কায় হাজিদের চলাচলের একটি টানেলের ভেতর পদদলিত হয়ে প্রাণ হারান এক হাজার ৪২৬ মুসল্লি। এসব ঘটনাই ছিল পদদলিত হয়ে নিহতের। তবে অন্য ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটেছে। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান কয়েক ডজন হাজি। ২০০৬ সালে মক্কার কাবা শরিফের অদূরে বহুতল আল-গাজা হোটেল ভেঙে পড়ে নিহত হন ৭৬ জন। আহত হন আরও অন্তত ৬৪ জন। ১৯৯৭ সালের ১৫ এপ্রিল মিনায় তাঁবুতে আগুন লেগে পুড়ে মারা যান ৩৪০ জন মুসল্লি। ওই সময় আহত হন আরও প্রায় দেড় হাজার। ২০০৬ সালের আগে জামারাহ ব্রিজ : ১৯৮৯ সালের ৯ জুলাই মক্কায় দুটি বোমা বিস্ফোরণে নিহত হন এক হাজি এবং আহত হন আরও ১৬ জন। ১৯৮৭ সালের ৩১ জুলাই মক্কায় সৌদি নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে শিয়াদের সংঘর্ষে ৪০২ জন হাজি নিহত হন। তাদের বেশিরভাগই ছিলেন ইরানি। ওই ঘটনায় আহত হন ৬৪৯ জন। ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে তাঁবুতে আগুন লেগে গেলে নিহত হন ২০০ হাজি। এপি।

সবেমাত্র ওজু সেরে উঠে দাঁড়িয়েছি

বাইরে তখন বালুঝড়ের দাপাদাপি। ভারি বাতাসে মরুঝড়ের আগমনী সাইরেন। মাগরিবের নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম আমরা। সবেমাত্র ওজু সেরে উঠে দাঁড়িয়েছি। হঠাৎ বেড়ে গেল দমকা হাওয়ার দাপট- মেঘ চমকানির বজ নিনাদের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হল তুমুল বৃষ্টি। ঝড়ো বাতাসে ভেঙেচূড়ে পড়ছিল জানালার কাচগুলো। ভাঙা কাচের ফাঁকা দিয়ে বৃষ্টি এসে পড়ছিল সবার গায়ে। কাগজের ঠোঙার মতো উড়ে বেড়াচ্ছিল নির্মাণাধীন স্থাপনা ঢেকে রাখার হার্ডবোর্ডগুলো। ঠিক এসময়ে কড়মড় শব্দে ভেঙে পড়ল একটি দানবাকৃতির ক্রেন। আর এরপরই ইতিহাসের পাতায় লেখা হল আরেকটি ‘মক্কা ট্র্যাজেডি’। শিকার হল নিচে বিশ্রাম নিতে থাকা হজব্রত পালনে আসা মানুষগুলো। শুক্রবার কাবা শরিফের মসজিদে ঘটা মর্মান্তিক দুর্ঘটনার এমন বর্ণনা দিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী ইয়াহিয়া আল হাশেমি (৩০)।
সিএনএনের স্থানীয় প্রতিবেদকের বাস্তব অভিজ্ঞতার এ ঘটনা শনিবার প্রকাশ করেছে সিএনএন। হাশেমি বলেন, আকস্মিক এ ঘটনার মুহূর্তে সবাই ছুটছিল বহির্গমন পথের দিকে। ক্রেনের নিচে চাপা পড়ে তাৎক্ষণিক মারা যায় অনেকেই। আহতদের চিৎকার শোকের বার্তা পৌঁছে দিয়েছিল এ গ্রান্ড মসজিদের আনাচে-কানাচে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এ যাবত নিহত হয়েছে ১০৭ জন, আহত ২৮৪ জন। হাজিদের কল্যাণে নির্মিতব্য স্থাপনায় ব্যবহৃত ক্রেনের নিচে চাপা পড়ে তাদেরই মৃত্যু এক দুর্ভাগ্যের ছাপ ফেলেছে। এটা খুবই দুঃখজনক। বলছিলেন সৌদির খালেক আল-মায়িনা পত্রিকার সম্পাদক। তিনি বলেন, হজ শুরুর মাত্র ১০ দিন আগের এ মর্মান্তিক ঘটনা খুবই হৃদয়বিদারক। তারপরও কপাল ভালো। কেননা ৪ বা ৫ ঘণ্টা আগে এ ঘটনা ঘটলে হতাহতের সংখ্যা হাজারে ছাড়াত। এ সপ্তাহে হজ উপলক্ষে অন্তত ৮ লাখ মানুষের সমাগম ঘটেছে। প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে মিনায় পাথর নিক্ষেপের সময় সংকীর্ণ পথে চলতে গিয়ে চাপা পড়ে মারা যায় ৩৬৩ জন। হজের ইতিহাসে এটাই ছিল ভয়াবহতম দুর্ঘটনা।

মিসরে মন্ত্রিসভার পদত্যাগ

গোটা মন্ত্রিসভা নিয়ে পদত্যাগ করলেন মিসরের প্রধানমন্ত্রী ইব্রাহিম মাহলাব। দেশটির প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে খবরটি নিশ্চিত করে বলা হয়, এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট আবদে ফাত্তাহ আল-সিসি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য তেলমন্ত্রী শেরিফ ইসমাইলকে নির্দেশ দিয়েছেন। সেইসঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন না হওয়া পর্যন্ত পুরান মন্ত্রিসভাকে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনেরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বিবৃতিতে তাদের পদত্যাগের কারণ জানানো হয়নি। তবে মিসরের এক সরকারি কর্মকর্তার বরাতে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়,
এ রদবদলের মধ্য দিয়ে সরকার থেকে ‘দুর্নীতির রক্ত বিশুদ্ধকরণের’ কাজ চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সপ্তাহখানেক আগে দুর্নীতির অভিযোগে মিসরের কৃষিমন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়। আগামী মাসে আরব বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ মিসরে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসমাইলকে নিয়োগ দেয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৩ সালে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সিসি নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী মিসরের ক্ষমতা থেকে মুসলিম ব্রাদারহুড নেতা এবং সেসময়কার প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে উৎখাত করে। পরে মিসরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন সিসি।

১০ বছর পর কিবরিয়া হত্যার বিচার শুরু by ওয়েছ খছরু

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মকবুল আহসানের আদালতে দুই ঘণ্টা শুনানির পর দেশজুড়ে আলোচিত এ হত্যা মামলার চার্জগঠনের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু হয়েছে। মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপির শীর্ষ নেতা হারিছ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের বরখাস্ত হওয়া মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জের বরখাস্ত হওয়া পৌর মেয়র জি কে গউছসহ ৩২ জনকে অভিযুক্ত করে বিচারকাজ শুরু হলো। এ সময় আদালত সিলেট সিটি করপোরেশনের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া গ্রেপ্তারকৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ ৫ জনের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। চার্জগঠনের আগে অব্যাহতি আবেদনের শুনানি হয় বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। তবে আদালত বরখাস্ত হওয়া কারান্তরীণ মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর অসুস্থতার আবেদনটি আমলে নিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তার চিকিৎসা-সংক্রান্ত রিপোর্ট পাঠাতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছেন। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া নিহত হয়েছিলেন ১০ বছর আগে। আলোচিত এ মামলার তদন্ত শেষ করতে দীর্ঘদিন লেগেছে। এরই মধ্যে পুলিশ, ডিবি ও সিআইডি এ মামলার তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করে। গেল বছর সিআইডির করা অধিকতর তদন্ত রিপোর্টে বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ কয়েকজনকে নতুন করে চার্জশিটভুক্ত করা হয়। গেল বছর চার্জশিট দেয়ার পর চলতি বছরের জুন মাসে মামলাটি সিলেটের বিচারিক আদালত দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ২১শে জুন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটির প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে সব আসামি উপস্থিত না থাকায় ইতিমধ্যে ৯ দফা তারিখ পেছানো হয়। অবশেষে দশ দফা শুনানিকালে মামলার চার্জগঠন করা হয়। গতকাল ছিল মামলার চার্জগঠনের শুনানির দিন। এ কারণে ঢাকায় থাকা সব আসামিকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসা হয়। গত মঙ্গলবার সর্বশেষ সিলেটে নিয়ে আসা হয় বরখাস্ত হওয়া মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে। তার অনুপস্থিতির কারণেই বারবার এ মামলার চার্জগঠন প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাচ্ছিল। তাকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসার পর গতকাল সকালে অ্যাম্বুলেন্সে করে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা হয়। এ সময় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ আসামিদেন আনা হয় প্রিজন ভ্যানের একটি গাড়িতে। তাদের আদালতে আনার আগে গোটা আদালতপাড়ায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় একে একে সব আসামিকে নিয়ে আদালত এলাকায় প্রবেশ করে গাড়ি। বেলা ১১টার আগেই তাদের সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়। আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই একে একে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বরখাস্ত হওয়া মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানসহ ৫ জনের অব্যাহতির আবেদন করেন আইনজীবীরা। এর ফলে আদালতে অব্যাহতি আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় এক ঘণ্টা শুনানির পর আদালত অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দেন। এরপর আরিফুল হক চৌধুরীর স্বাস্থ্য সম্পর্কিত আবেদনের শুনানি হয়। শুনানিকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য আরিফুল হক চৌধুরীকে বিদেশে নেয়ার কথা জানান আইনজীবীরা। আদালত তাদের আবেদন আমলে নিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তার স্বাস্থ্যগত রিপোর্ট আদালতকে অবহিত করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আলোচিত এ মামলার কারাবন্দি আসামি সিলেট সিটি করপোরেশনের সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র জি কে গউছ, হরকাতুল জিহাদের প্রধান মুফতি আবদুল হান্নান, দেলওয়ার হোসেন রিপন, বদরুল আলম, মিজানুর রহমান, হাফেজ নাঈম, মুহিবুল্লাহ, শরীফ শাহেদুল আলম, মুফতি মঈন উদ্দিন, আবদুল মাজেদ ভাট, শেখ মাওলানা আবদুল সালাম, শেখ ফরিদসহ জামিনে থাকা ৮ আসামি। ২০০৫ সালের ২৭শে জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরের বৈদ্যের বাজারে এক জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া। হামলায় নিহত হন কিবরিয়ার ভাতিজা শাহ মনজুরুল হুদা, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী। এ ঘটনায় হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ খান হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করেন। এ হত্যা মামলার ৩২ আসামির মধ্যে ১৪ জন কারাগারে, ৮ জন জামিনে এবং ১০ জন পলাতক রয়েছেন। দীর্ঘ ১০ বছর পর সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলার চার্জগঠন পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ১৯শে সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালত সূত্র জানিয়েছে, ২২ আসামির জামিনের প্রার্থনাও করা হয়। ট্রাইব্যুনালের বিচারক দীর্ঘ শুনানি শেষে এ আবেদনগুলোও খারিজ করে দেয়া হয়। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কিশোর কুমার কর জানিয়েছেন, মামলার আসামি আরিফুল হক চৌধুরী অসুস্থ থাকায় কয়েক দফা পিছিয়ে ছিল আলোচিত এ মামলার চার্জগঠন। মামলায় কারাবন্দি ও জামিনে থাকা ২২ আসামির উপস্থিতিতে মামলার চার্জগঠন হয়। এ ছাড়া পলাতক ১০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। আগামী তারিখের মধ্যে তাদের আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আরিফুল হকের পক্ষে দাখিলকৃত চিকিৎসার জন্য আবেদন মঞ্জুর করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মেডিক্যাল রিপোর্ট দাখিল করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আরিফুল হকের পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী মোহাম্মদ লালা। তিনি বলেন, আমরা আদালতের কাছে তার অব্যাহতির আবেদনের পাশাপাশি অসুস্থতার আবেদন করি। আদালত তার অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। তবে, তার স্বাস্থ্যগত সমস্যা প্রকট। বিষয়টি আদালতকে জানানোর পর আদালত কারা কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে, আরিফের কারণেই বারবার পিছিয়ে গিয়েছিল চার্জগঠন প্রক্রিয়া। গত ৬ই সেপ্টেম্বর ছিল কিবরিয়া হত্যা মামলার চার্জগঠনের সর্বশেষ তারিখ। তবে আসামি কারাবন্দি আরিফুল হক চৌধুরী অসুস্থ থাকায় এবং তাকে আদালতে হাজির না করায় ওই দিন চার্জগঠন হয়নি। এর আগে গত ২১শে জুন, ৬, ১৪ ও ২৩শে জুলাই এবং ৩, ১০, ১৮, ২৫ ও ৬ই সেপ্টেম্বর আলোচিত এ হত্যা মামলার চার্জগঠনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সব আসামি আদালতে হাজির করতে না পারায় চার্জগঠনের তারিখ পিছিয়ে যায়। সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ জানিয়েছেন, বারবার তারিখ পেছানোর পর সব আসামি উপস্থিত থাকায় চার্জগঠন করা হয়েছে। আদালত আসামিপক্ষের ও রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য শুনে চার্জগঠন করেন। এর ফলে আলোচিত এ হত্যা মামলার ন্যায়বিচার দ্রুততম সময়ে পাওয়া যাবে বলে মনে করেন তিনি। হবিগঞ্জ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মকবুল হোসাইন জানিয়েছেন, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ত্রুততম সময়ের মধ্যে এ মামলার বিচার শেষ হওয়ার কথা। ৩ মাসের মধ্যে বিচার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিচারক ইচ্ছা করলে কিছুটা সময় বাড়াতে পারেন। তবে, তিনি আশা করেন, খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাদীপক্ষ ন্যায়বিচার পাবে।
আদালত প্রাঙ্গণে ভিড়: সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলার চার্জগঠন উপলক্ষে দীর্ঘ ৮ মাস পর সিলেটের আদালতে আসেন সাময়িক বরখাস্ত হওয়া গ্রেপ্তারকৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে। এ কারণে আদালত এলাকায় ভিড় করেন লোকজন। এর মধ্যে অধিকসংখ্যক উপস্থিতির মধ্যে ছিলেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। সিলেট জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতা দিলদার হোসেন সেলিম, অ্যাডভোকেট নুরুল হক, অ্যাডভোকেট আবদুল গফ্‌ফার, বিএনপি নেতা নাসিম হোসাইন, জেলা বিএনপি নেতা আলী আহমদ, বিএনপি নেতা ও সিটি কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জিয়াউল গনি আরেফিন জিল্লুরসহ সিনিয়র নেতারা আদালত এলাকায় উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। আরিফুল হক চৌধুরীকে সকাল পৌনে ১১টায় অ্যাম্বুলেন্স করে যখন আদালতে নিয়ে আসা হয়, তখন তাকে একনজর দেখতে ভিড় করেন সবাই। এ সময় কারা সদস্যরা হুইল চেয়ারসহ আরিফুল হক চৌধুরীকে গাড়ি থেকে নামান। এ সময় তাকে দেখে স্লোগান দেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাদের স্লোগানের সময় হুইল চেয়ারে বসে থাকা আরিফুল হক চৌধুরী কান্নায় ভেঙে পড়েন। অস্রুভেজা চোখে তিনি হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের অভিবাদন জানান। পরে কারা সদস্যরা তাকে হুইল চেয়ারে করেই আদালতে নিয়ে যান। শুনানিকালে আরিফ হুইল চেয়ারেই বসে থাকেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা তারা আদালতে ছিলেন। এ সময়ও নেতাকর্মীদের উপস্থিতি কমেনি। আদালত থেকে বের করে নেয়ার সময়ও বিষণ্ন ছিলেন আরিফ। এ সময়ও নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা চালান। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে তাকে ফের কারাগারে নিয়ে যান।

খুন-ধর্ষণ : ভারতে কমছে নারী পর্যটক

বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম উৎস হিসাবে পর্যটন শিল্পের নাম প্রথম সারিতে থাকলেও এ ভারতে কমছে নারী পর্যটকের সংখ্যা। এমনটাই দাবি দেশটির বণিকসভা অ্যাসোচেম-এর।
কেন কমছে মহিলা পর্যটকের সংখ্যা?
ভারতের আকর্ষণ কি তাদের কাছে কমছে? নাকি বিদেশি মহিলারা ভারতে আর নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না? বণিকসভার তথ্য বলছে, দ্বিতীয়টাই সত্যি। ২০১২ সালে নির্ভয়া-কাণ্ডের পরই কমতে শুরু করেছে মহিলা পর্যটকদের সংখ্যা। তার পর দেশের রাজধানী-সহ বেশ কিছু বড় শহরে বিদেশি মহিলাদের সঙ্গে ঘটেছে একের পর এক ধর্ষণ করে খুনের মতো ঘটনা। এই সব ঘটনার পর বিদেশি মহিলারা ভারতে নিজেদের সুরক্ষিত মনে করছেন না। অ্যাসোচেম-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও কমছে বিদেশি মহিলা পর্যটকের সংখ্যা। যা ভারতের ভাবমূর্তির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।
২০১২ সালে মোট বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ছিল ৬৬ লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে ৫৮.৭ শতাংশ পুরুষ এবং ৪১.৩ শতাংশ মহিলা। এর পরের বছর মোট পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে হয় ৬৮ লক্ষ ৫০ হাজার। এর মধ্যে ৫৮.৮ শতাংশ পুরুষ এবং ৪১.২ শতাংশ মহিলা। পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও কমেছে মহিলা পর্যটকের হার। ২০১৪ সালের ছবিটা আরও শোচনীয়। মোট বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে ৭৪ লাখ ৬০ হাজারে পৌঁছলেও মহিলা পর্যটকের সংখ্যা কমে মাত্র ৪১ শতাংশ হয়।
বিদেশি পর্যটক
কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অবশ্য দাবি, বিদেশি মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য সব রকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের জন্য দেশের সব বিমানবন্দরে বিশেষ পুস্তিকা রাখা হয়েছে। থাকার ব্যবস্থা, গাড়ির ব্যবস্থা, পুলিশ হেল্পলাইনের নম্বর, খাওয়ার ব্যবস্থা এমনকি কেমন পোশাক পড়া উচিত, তারও নির্দেশিকা রয়েছে এই পুস্তিকায়। ভারতের পর্যটনমন্ত্রী মহেশ শর্মার বক্তব্য, একটি ট্যুরিস্ট হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি রাজ্যকে পর্যটন পুলিশ নিয়োগ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১২ সালে নির্ভয়া-কাণ্ড এবং তার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদেশি মহিলাদের সঙ্গে ঘটা বিভিন্ন অপ্রিয় ঘটনায় বিদেশে ভারতের ভাবমূর্তি ধাক্কা খেয়েছে। এই ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য এখনো অনেক বেশি কড়া পদক্ষেপ করা প্রয়োজন।
অল ইন্ডিয়া ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস-এর সভাপতি কমল গোয়েল অবশ্য পর্যটন মন্ত্রণালয়কেই দোষ দিচ্ছেন। ভারতের কোনো বিমানবন্দরেই মহিলা পর্যটকদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা নেই। জনসংযোগও সে ভাবে নেই। বিদেশিদের প্রতি পুলিশও বিশেষ সংবেদনশীল নয় বলে তার অভিযোগ। তার মতো পর্যটন ক্ষেত্রের সকলেরই বক্তব্য, সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। জনসংযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি বাড়াতে হবে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। বিদেশি পর্যটকদের জন্য পৃথক পুলিশি ব্যবস্থা চালু করতে হবে। শুধুমাত্র বলিউড স্টারদের নিয়ে বিজ্ঞাপন দিলেই ভারতের ভাবমূর্তি ভালো করা যাবে না বলে মত তার।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

আল-আকসা মসজিদ চত্বরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি পুলিশের হামলা

জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ চত্বরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি পুলিশ হামলা চালিয়েছে। আজ রোববার এ ঘটনা ঘটে। ইসরাইলি পুলিশ জোর করে মসজিদে প্রবেশ করলে ফিলিস্তিনি যুবকদের সাথে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা এ খবর জানিয়েছে। ইহুদী নববর্ষ 'রোস হাসানা' শুরুর প্রাক্কালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ইসরাইলি পুলিশ মসজিদে প্রবেশ করে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। পরে ফিলিস্তিনিদের সাথে সংঘর্ষ বাধে। এক পর্যায়ে মসজিদ চত্বরেও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ইসরাইলি পুলিশ এ সময় স্টান গ্রেনেড ছুঁড়ে। পরে তারা মসজিদ চত্বর বন্ধ করে দেয়। নামাজ পড়ার জন্য কোনো মুসল্লিকে মসজিদে প্রবেশ করতে দেয় না।
ইসরাইলি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, মসজিদের ভেতর থেকে ফিলিস্তিনিরা তাদের লক্ষ করে পাথর ছুঁড়ে মারায় তারা মসজিদে প্রবেশ করে। ওই ফিলিস্তিনিদের আটক করতেই পুলিশ সেখানে প্রবেশ করে বলে জানায় তারা। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ইসরাইলি পুলিশ মসজিদে প্রবেশ করে ভাঙচুর করে নামাজের বিছানায় আগুন জ্বালিয়ে দেয়।

৮০০ বাঁধ তৈরি হবে পশ্চিমবঙ্গে!

পশ্চিমবঙ্গে ৮০০ বাঁধ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। রোববার কলকাতাভিত্তিক একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের খবরে বলা হয়, বৃষ্টির পানি আটকে সারা বছর সেই পানি সরবরাহ করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। এর অংশ হিসেবে ৮০০ টি বাঁধ নির্মাণের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ”আমাদের সরকার ‘জলতীর্থ’ নামে একটি পরিবেশ-বান্ধব প্রকল্প তৈরি করছে”। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সারা বছর পানি পাওয়া যাবে ও কৃষিকাজে কোনো সমস্যা হবে না বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। চার জেলায় প্রথমে এই প্রকল্প শুরু হচ্ছে। বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুরে শুরু হচ্ছে এই প্রকল্প। এই প্রকল্প ভূমিক্ষয় রোধ করবে। এতে বাড়বে ফলন, মাছ চাষের ক্ষেত্রেও অনেক সুবিধা হবে। পশ্চিমবঙ্গে মোট ৩২,০০০ হেক্টর জমি ফলনশীল। চার হাজার কৃষক এতে উপকৃত হবে। এই স্কিমে রাজ্য সরকার মোট ৫০০ কোটি রুপি খরচ করতে চলেছে।

মক্কা ট্র্যাজেডিতে বাংলাদেশী নিহত: আল-আরাবিয়ার রিপোর্টের সত্যতা পায়নি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

মক্কার মসজিদ আল হারামে ক্রেন দুর্ঘটনায় আবুল কাশেম (সুফি) নামের এক বাংলাদেশী হজযাত্রী নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তিনি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের কাঞ্চনগঞ্জ গ্রামের আনু মিয়ার ছেলে । ওই ঘটনায় আবদুর রব নামের এক বাংলাদেশী হজযাত্রী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আহত ৪০ বাংলাদেশী বাংলাদেশী হজযাত্রীদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকি ৩৯ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন। চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার নিজাম উদ্দীন মক্কার এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এদিকে মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক দৈনিক আল-আরাবিয়ার এক রিপোটে ওই ক্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১০৭ জনের মধ্যে ২৫ জন বাংলাদেশী রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। হতাহতের ব্যাপারে প্রাথমিক রিপোর্ট যাচাইয়ের পর আল-আরাবিয়া বলছে, নিহতদের মধ্যে ২৫ বাংলাদেশী ছাড়া ১৫ পাকিস্তানি, ২৩ মিশরীয়, ১০ ভারতীয়, ২৫ ইরানি, ৬ মালয়েশীয়, এক আলজেরীয় ও এক আফগান নাগরিক রয়েছেন। গতকাল বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে আল আরাবিয়ার বরাতে খবরটি প্রকাশের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক সৌদি আরবস্থ দূতাবাস ও হজ অফিসে এর সত্যতা জানতে চায়। মানবজমিনের তরফেও খবরের সত্যতা জানার চেষ্টা করা হয়। তবে কোন সূত্রই এর সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ সত্যতা পায়নি বলে মন্ত্রণালয়ের ডিজি (কনসুলার) লুৎফুর রহমান জানান। সৌদি হজ অফিস পররাষ্ট্র দপ্তরে গতকাল সন্ধ্যায় সর্বশেষ যে রিপোর্ট পাঠিয়েছে এক বাংলাদেশীসহ ওই ঘটনায় বিভিন্ন দেশের ১০৮ জন নাগরিক নিহত এবং ৪০ বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন দেশের দুই শতাধিক হজ যাত্রী আহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
এদিকে বিবিসি জানিয়েছে, ঘটনার পরপর আতঙ্কিত মানুষের ছোটাছুটির কারণে পদপিষ্ট হয়ে এবং মসজিদের ভেতরে ছাদের ভগ্নাংশের নিচে চাপা পড়ে ঠিক কত মানুষ আহত হয়েছে তার প্রকৃত সংখ্যা এখনও নির্ণয় করা যায়নি। দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশী হজ পালনেচ্ছু ও প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য ইতিমধ্যে হটলাইন চালু করেছে দেশটিতে বাংলাদেশের হজ অফিস ও বাংলাদেশ মিশন। জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল ও মক্কার হজ মিশন দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের ও সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিগুলো এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। যে কোন সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্টদের মক্কায় বাংলাদেশ হজ অফিস কনসাল মো. জহিরুল ইসলামের সঙ্গে +৯৬৬(০)৫০৪৩২১৫২৭ এবং জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের ফার্স্ট সেক্রেটারি (লেবার) আলতাফ হোসাইনের সঙ্গে +৯৬৬(০) ৫৩৪৪৫৫৭১৬ নম্বরে যোগাযোগের জন্য বলা হয়েছে। এদিকে, শনিবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সৌদি বাদশাহ সালমান। হাসপাতালে আহতদেরও দেখতে যান তিনি। এই দুর্ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। আর সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক সুলাইমান আল-আমর জানিয়েছেন, ক্ষতি নির্ধারণ ও মসজিদের নিরাপত্তা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। হজ পালনের জন্য চলতি মাসে সারা বিশ্ব থেকে ২০ লাখেরও বেশি মুসলমান মক্কায় সমবেত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। হজ পালনে এই দুর্ঘটনার কোন প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। প্রতি বছর ৩০ থেকে ৪০ লাখ মুসলমান হজ পালন করতে মসজিদ আল-হারামে সমবেত হন। এবার প্রায় এক লাখ বাংলাদেশীর হজে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।
কাবা তাওয়াফের ব্রিজ সাময়িক বন্ধ থাকবে
নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এবার হজে পবিত্র কাবা তাওয়াফ করার জন্য ব্যবহৃত ব্রিজ সাময়িক বন্ধ রাখা হবে। সাধারণত এ ব্রিজের ওপর দিয়ে যারা হাঁটতে অক্ষম অথবা বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন তাদেরকে নিয়ে তাওয়াফ করানো হয়। গতকাল অনলাইন সৌদি গেজেট এ খবর দিয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, হজের ব্যস্ততার কারণে এ সপ্তাহ থেকেই হজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পবিত্র নগরী মক্কার সব স্কুল ও কলেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, শুক্রবার ক্রেন দুর্ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ আরও সতর্ক হয়েছে। বলা হয়েছে, কাবা শরিফ তাওয়াফ করার জন্য রয়েছে দ্বিতল ব্রিজ। এর প্রশস্ততা ১২ মিটার। মাটি থেকে এর উচ্চতা ৩৪ মিটার। পবিত্র দুই মসজিদবিষয়ক জেনারেল প্রেসিডেন্সির এক সূত্র বলেছেন, হজযাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবার ব্রিজের ওপর দিয়ে কাবা তাওয়াফ করার রীতি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ব্রিজ দুটি অস্থায়ী ভিত্তিতে নির্মাণ করা হয়েছিল। যতদিন মূল মাতাফ (ব্রিজের বিকল্প) তৈরি করা না হচ্ছে ততদিন এ ব্রিজ তাওয়াফে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। কিন্তু এবারের কথা ভিন্ন রকম। কারণ, এরই মধ্যে ক্রেন দুর্ঘটনায় শতাধিক মানুষের মৃত্যুতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে ওই ব্রিজ দুটি এবার বন্ধ থাকবে। ওদিকে মক্কা নগরীর শিক্ষাবিষয়ক পরিচালক মোহাম্মদ আল হারথি বলেন, মক্কার ২৫৩টি স্কুল ও কলেজের ক্লাস স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আজম আল দাখিল। পবিত্র হজকে সামনে রেখে এরই মধ্যে মক্কায় সমবেত হয়েছেন কয়েক লাখ হজযাত্রী। তার সঙ্গে আছেন স্থানীয় বাসিন্দা। ফলে রাস্তায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এ জন্য অনেক অভিভাবকও ক্লাস বন্ধের জন্য অনুরোধ করেছেন।
ওদিকে আল এরাবিয়া নিউজ বলেছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ২৫ বাংলাদেশী। তবে রিপোর্টে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয় নি। শুক্রবার মক্কায় ক্রেন ভেঙে আল হারাম শরিফের তৃতীয় তলায় পড়ে। এতে কমপক্ষে ১০৭ জন নিহত হন। ওই রিপোর্টে বলা হয়, তারা প্রাথমিক রিপোর্ট অনুসন্ধান করে দেখতে পেয়েছে যে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১৫ পাকিস্তানি, ২৩ মিশরীয়, ১০ ভারতীয়, ২৫ ইরানি, ৬ মালয়েশিয়ান, ২৫ বাংলাদেশী, একজন আলজেরিয়ান ও একজন আফগান। সৌদি আরবের বাদশা সালমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি ক্রেন দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি বলেছেন, তদন্ত চলছে। এর রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। সরকারি বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি বলেছে, বাদশা সালমান দুর্ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেন। এর কোন প্রভাব পবিত্র মসজিদে পড়বে কিনা তা নিয়েও আলোচনা করেন তিনি। ওদিকে সৌদি আরবের সুপরিচিত বিজ্ঞানী প্রফেসর মানসুর আলমাজরৌ বলেছেন, বাতাসের কারণেই ক্রেন ভেঙে পড়েছে। তিনি জেদ্দাভিত্তিক কিং আবদুল আজিজ ইউনিভার্সিটিতে সেন্টার অব এক্সিলেন্স ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ রিসার্চ-এর পরিচালক। তিনি বলেন, ক্রেনটি ভেঙে পড়ার আগে একদিকে যেমন ছিল বাতাস, তার ওপর একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে ক্রেনটির ওপর বজ্রপাত হয়েছে।
মক্কায় নিহতদের মধ্যে একজন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা
কলকাতা প্রতিনিধি জানান, সৌদি আরবের মক্কায় মসজিদ আর-হারামে ক্রেন ভেঙে যে শতাধিক ব্যক্তি মারা গিয়েছেন তার মধ্যে দুজন ভারতীয়। নিহত দুই ভারতীয়র মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোলের বাসিন্দা একজন রয়েছেন। তার নাম মনিজা আহমদ (৫৯) । এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের কয়েকজন আহতদের তালিকায় রয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিহতের পরিবারকে ১০ লাখ রুপি এবং আহতদের জন্য ১ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেবার কথা ঘোষণা করেছেন।  ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ জানিয়েছেন, আল-হারাম মসজিদের দুর্ঘটনায় দুই ভারতীয়র মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৫ জন ভারতীয়। আহতদের মধ্যে ১১ জনই হজ কমিটির সদস্য। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে জেদ্দায় ভারতীয় দূতাবাসকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখোপাধ্যায়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

জাতিসংঘের অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন মৌলভীবাজারের মনি

বাংলাদেশ থেকে একমাত্র শিক্ষার্থী হিসেবে  জাতিসংঘের ৭০তম অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সুযোগ পেলো মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সুলতানপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী মনি বেগম (১৬)। ক্যাম্পেইনে সারা দেশের মধ্যে মনি নিজের মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে প্রতিযোগীয় ঠিকে জাতিসংঘের অধিবেশনে বক্তব্য রাখার ও প্রধানমন্ত্রীর  সফর সঙ্গী হওয়ার বিষয়টি এখন নিজ ইউনিয়ন পৃথিমপাশাসহ পুরো উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে। স্থানীয় শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে এ বিষয়টি ক্লাসে তাদের শিক্ষার্থীদের বলছেন। মনির এমন সাফল্যের খবরে জেলার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বইছে আনন্দের বন্যা। নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের এ অধিবেশনে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান উপস্থিত থাকবেন। সেভ দ্য চিলড্রেন’র ‘এভরি ওয়ান ক্যাম্পেইন’-এর  মাধ্যমে সারা দেশ থেকে একমাত্র শিক্ষার্থী হিসাবে ৭০তম অধিবেশনের শিশু অধিকার সম্মেলন-২০১৫তে বক্তব্য রাখবে সে। জাতিসংঘের ৭০তম অধিবেশনে মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু, বাল্যবিয়েসহ মোট ৪টি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করবে কুলাউড়ার মনি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে আগামী ১৯শে সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক পৌঁছার কথা রয়েছে তার। আগামী ১৯শে সেপ্টেম্বর থেকে ২৯শে সেপ্টেম্বর মোট ১০ দিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিউ ইয়র্কে অবস্থান করবে মনিও। পৃথিমপাশা ইউনিয়নের গড়গাঁও গ্রামের এক দরিদ্র দিনমজুরের পরিবারে জন্ম এ মেধাবী শিক্ষার্থীর। পঞ্চমে এ প্লাস ও অষ্টমে ৪.৯৬ পেয়ে সে বর্তমানে সুলতানপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণীতে বাণিজ্যিক শাখায় পড়ছে। সে গড়গাঁও গ্রামের মহরম আলী ও হাওয়া বেগম দম্পতির কনিষ্ঠ সন্তান। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে মনি বেগম ৪র্থ। এ ব্যাপারে সুলতানপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু জাবেদ পাপ্পু ও অফিস সহকারী আবদুুল মালেক চৌধুরী মনি বেগমের জাতিসংঘের অধিবেশনে বক্তব্য রাখার তথ্য নিশ্চিত করে মানবজমিনকে জানান, সে রোববার এ উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে সবার কাছে দোয়া নিয়ে ঢাকায় পৌঁছায়। ১৯শে সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে তাকে ঢাকায় ৩ দিন বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। উচ্ছ্বসিত এ শিক্ষক আরও বলেন, তার এ সাফল্যে আমাদের বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ আনন্দে উদ্বেলিত। মনির উজ্জ্বল সাফল্য কামনা করে এ তার স্কুলের শিক্ষকরা জানান, মনি শুধু আমাদের প্রতিষ্ঠানের নয় পুরো কুলাউড়ার গর্ব। ডাকসুর সাবেক ভিপি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও কুলাউড়ার সাবেক এমপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আমহদ মনি বেগমের এই কৃতিত্বের জন্য তার নিজের এবং দেশবাসীর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা অভিনন্দন জানান। জাতিসংঘের অধিবেশনের ভাষণে মনির সাফল্য কামনা করে তিনি বলেন, আধ্যাত্মিক ভূমি সিলেটের মধ্যে শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কুলাউড়া এমনিতেই রয়েছে এগিয়ে। আমি আশাবাদী এই অধিবেশনে যোগদানের পাশাপাশি মনি সেভ দ্য চিলড্রেন তথা দেশবাসীর সহায়তায় বাকি শিক্ষাজীবন সুন্দর ও সফলভাবে শেষ করতে পারবে। সে নিজ এলাকা ও দেশের মানুষের কল্যাণে অবদান রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বাণিজ্যিক বিভাগের মেধাবী ছাত্রী মনির অনুভূতি জানতে চাইলে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে সে বলে, কখনও ভাবিনি রাজধানী ঢাকায় যেতে পারবো, সেখানে আমি আপনাদের দোয়ায় আমি আজ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হতে পেরেছি। আমি কখনও কল্পনাও করিনি এমনটা কোন দিন ঘটতে পারে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুুল লতিফ বলেন, আমরা অনেক আনন্দিত, আমাদের মনি এই এলাকার মুখ উজ্জ্বল করেছে। সে অতি দরিদ্র এক দিনমজুরের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও প্রমাণ করে দিয়েছে মেধা আর ইচ্ছা শক্তি থাকলে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনেও যাওয়া সম্ভব।

স্টিভ জবস: জিনিয়াস না নিষ্ঠুর ছিলেন? by অ্যান্ড্রু রস সরকিন

স্টিভ জবস কি এতটা শ্রদ্ধা পাওয়ার যোগ্য? এ প্রশ্নটিই তোলা হয়েছে অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতার জীবনী নিয়ে বানানো একটি নতুন প্রামাণ্যচিত্রে। অ্যালেক্স জিবনির ‘স্টিভস জবস: দ্য ম্যান ইন দ্য মেশিন’ নামের এ তথ্যচিত্রে তো বটেই, একই প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে আরন সরকিনের পরিচালনায় স্টিভ জবসের জীবনীকেন্দ্রিক চলচ্চিত্র ‘স্টিভ জবস’-এও। এ চলচ্চিত্রটি এ সপ্তাহান্তে টেলুরাইড চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। আগামী ৯ই অক্টোবর এটি মুক্তি পাবে। নিঃসন্দেহে জবস একজন জটিল নেতা। ভীষণ মেধাবী ও সৃজনশীল। একই সঙ্গে তিনি এত বদমেজাজি ছিলেন যে সহকর্মীরা প্রায়ই তার আচরণে কষ্ট পেয়ে কাঁদতেন। এ আচরণ থেকে বাঁচার কোন উপায়ও ছিল না। অনেক সময়, নিজের কথাই সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত করতেন জবস। সমপ্রতি সায়েন্টোলজি নিয়ে এইচবিও চ্যানেলের তথ্যচিত্র ‘গোয়িং ক্লিয়ার’ পরিচালনা করেছেন অ্যালেক্স জিবনি। ‘স্টিভস জবস: দ্য ম্যান ইন দ্য মেশিন’ প্রামাণ্যচিত্রের প্রথমেই জিবনি নিজ নেপথ্য কণ্ঠে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, কেন স্টিভ জবস নিয়ে প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করতে গেলেন তিনি। সে সময় তিনি বলেন, যখন স্টিভ জবস মারা গেলেন, আমি এক রহস্যে বাধা পড়লাম। এ কথাগুলো যখন জিবনি বলছিলেন, তখন চলচ্চিত্রে দেখানো হচ্ছিল জবসের মৃত্যুতে বিশ্বব্যাপী মানুষের শোক প্রকাশের বিভিন্ন ছবি। জিবনি বলে যাচ্ছেন, লাখো মানুষ কেন এমন একজনের মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন হবে যাকে তারা জানতোই না? জন লেনন ও মার্টিন লুথার কিং-এর মৃত্যুতেও একই অবস্থা দেখেছি আমি। কিন্তু স্টিভ জবস কোনো গায়ক বা নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা ছিলেন না। জবসের জন্য শোক প্রকাশের মাত্রা তার উদ্ভাবিত পণ্যকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। আমরা ওই ব্যক্তি বিশেষের জন্য শোক প্রকাশ করছিলাম। কিন্তু কেন? অত্যন্ত মেধাবী চলচ্চিত্র নির্মাতা জিবনি এর পরের দুই ঘণ্টায় যুক্তি দিয়ে দেখালেন, জবস মানুষ হিসেবে অতটা অনুসরণীয় তকমা পাওয়ার যোগ্য নন, যতটা তিনি পেয়েছেন। পুরো তথ্যচিত্রে বহু মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জিবনি। এর মধ্যে রয়েছে বহুদিন ধরে জবসের অস্বীকৃত সন্তানের মায়ের সাক্ষাৎকারও। চূড়ান্তভাবে পরিচালক স্টিভ জবসকে রূপায়িত করেছেন একজন ‘নির্মম, ঠগ ও নিষ্ঠুর’ ব্যক্তি হিসেবে। জবসের পাপের রীতিমতো তালিকা বানিয়েছেন জিবনি। এর মধ্যে রয়েছে, পণ্য উৎপাদনের তারিখ পরিবর্তন, চীনে অ্যাপলের কারখানার নিম্নমাণের কর্ম ও শ্রম পরিবেশ, কর্মী হাতিয়ে নেয়া ঠেকাতে সিলিকন ভ্যালির অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গোপন চুক্তি ইত্যাদি। কিন্তু জবসকে নায়ক বা ভিলেন প্রমাণের গোটা প্রচেষ্টায় একটি বড় সত্যকে যোগ করা হয় না। সেটি হলো, তিনি কিন্তু একাধারে নায়ক ও ভিলেন দু’টিই হতে পারেন। এবং এরপরও, যে প্রশংসা তিনি পেয়েছেন, তা পাওয়ার যোগ্যও তিনি হতে পারেন। এ সমীকরণ কেউই ভেবে দেখেনি। বিশ্বব্যাপী ৭০ কোটি আইফোন বিক্রি হয়েছে। বিশ্বের কোটি মানুষ অন্য যে কোন ডিভাইসের চেয়ে আইফোনেই এখন অধিক সময় কাটায়। চিন্তা করুন: জবস মানুষের সঙ্গে একটি যন্ত্রের আবেগী সমপর্ক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। আপনি এ লোকটি সমপর্কে যা ইচ্ছা তা বলতে পারেন। কিন্তু এ প্রজন্মের সময় বিশ্বকে পাল্টে দেয়ার কৃতিত্ব্ব দাবি করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে তার। এ বিষয়টি স্বীকার করতে হলে আপনাকে অ্যাপল ব্যবহারকারী হতে হবে না। বিশ্বে ব্যাপক প্রভাব রাখতে সক্ষম এমন বেশিরভাগ মানুষই ত্রুটিযুক্ত। এতে অবাক হবার কিছু নেই। এক দিকে বা অন্য দিকে বেশিরভাগ মানুষই ত্রুটিযুক্ত। জিবনি নিজের চলচ্চিত্রে জন লেনন ও লুথার কিং-কে দোষত্রুটির ঊর্ধ্বের ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনজনের মৃত্যুতেই বিশ্বজুড়ে শোকাবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু জিবনির মতে, জবস এসবের যোগ্য না হলেও, লেনন ও লুথার কিং এসবের যোগ্য। কিন্তু সত্য হলো, এরা উভয়ই জবসের মতো বহু দোষের অধিকারী। ১৯৯৮ সালে লেননের নিজের ছেলে দ্য লন্ডন টেলিগ্রাফকে বলেছিলেন, আমার মনে হয় সে (লেনন) একজন ভণ্ড। বিশ্বকে চিৎকার করে ভালবাসা ও শান্তির কথা বলতে পারতেন পিতা। কিন্তু তার সবচেয়ে কাছের মানুষ হওয়ার কথা ছিল যাদের, সেই স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতিই তিনি ভালবাসা দেখাতে পারেননি কখনই। যার নিজের পরিবারই ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন, যে ব্যক্তি পরিবারের সঙ্গে কোন যোগাযোগ রাখেনি, বরং অবাধ ব্যাভিচার আর ছাড়াছাড়িতেই ব্যস্ত ছিল সবসময়, সে ব্যক্তি কিভাবে শান্তি আর ভালবাসার আহ্বান জানাতে পারে? লুথার কিং-এর বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ ছিল। তিনি ছিলেন একজন সিরিয়াল ব্যভিচারী। দুঃখজনক হলেও সত্য, ত্রুটিযুক্ত ব্যক্তিরাই সফল হয়। দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিনে ‘হোয়াই ইট পেইস টু বি আ জার্ক?’ শীর্ষক একটি নিবন্ধে লেখক জেরি উসীম বেশ কয়েকটি গবেষণাকে উদ্ধৃত করে দেখিয়েছিলেন, ভাল মানুষরা সাধারণত সফল হন না। গত বছর ভ্যানিটি ফেয়ারকে অসাধারণ একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন অ্যাপলের বিখ্যাত ডিজাইনার ও স্টিভ জবসের দীর্ঘদিনের বন্ধু জনি আইভ। সেখানে তিনি এমন এক সময়ের কথা স্মরণ করেন, যে সময়টায় জবস তার কর্মীদের প্রতি ছিলেন ভীষণ কঠিন। একদিন আইভ তাকে পাশে ডেকে নিয়ে কর্মীদের প্রতি আরেকটু নরম হতে বললেন। জবসের পাল্টা প্রশ্ন, কেন? আইভ প্রত্যুত্তরে বলেন, কারণ আমি কর্মীদের প্রতি যত্নবান। কিন্তু এর পাল্টা উত্তরে স্টিভ জবস এমন এক কথা বলেন, যা আইভের মতে ছিল ‘নিষ্ঠুর ও বুদ্ধিদীপ্ত অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ মন্তব্য’। জবস বলেন, না, জনি। তুমি আসলে স্রেফ অসার একজন মানুষ। তুমি শুধু চাও, মানুষ তোমাকে পছন্দ করুক। আমি তোমার কথায় আশ্চর্য হয়েছি। কেননা, আমি ভাবতাম, মানুষ তোমার কাজকে কীভাবে গ্রহণ করবে, সে চিন্তার চেয়ে, তোমার কাজটি কত গুরুত্বপূর্ণ, তা ভেবেই তুমি কাজ কর। জনি আইভের ওই গল্প আর অ্যালেক্স জিবনির তথ্যচিত্র দেখে এখন দুটি প্রশ্নই মনে বাজছে। ১. তুমি কি এমন কোন অসাধারণ কাজ করবে, যার ফলে বিশ্বে লাখো মানুষের জীবনে উন্নতি ঘটবে? নাকি এমন কিছু যা কয়েকশ’ মানুষের পছন্দ হবে? ২. ওপরের দু’টি লক্ষ্য কি একে অপরটির বিকল্প হতে পারে? দুটি প্রশ্নের উত্তরই জবসের মতোই জটিল।
[অ্যান্ড্রু রস সরকিনের এ নিবন্ধটি নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে অনূদিত। অনুবাদ করেছেন নাজমুল আহসান]

মিসরের মন্ত্রিসভার আকস্মিক পদত্যাগ

পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী ইব্রাহিম মেহলাব
তেলসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট সিসি
মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি শনিবার প্রধানমন্ত্রী ইব্রাহিম মেহলাবের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন বলে আল-জাজিরা জানিয়েছে। কেবল প্রধানমন্ত্রী নন- শনিবার হঠাৎ করেই পদত্যাগ করেছে দেশটির গোটা মন্ত্রিসভা। পরে সাবেক তেলসম্পদমন্ত্রীকে এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করতে বলা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট সিসির দপ্তর থেকে প্রচারিত এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে। তবে মন্ত্রিসভা কেন পদত্যাগ করেছে তার কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি ওই বিবৃতিতে। ধারণা করা হচ্ছে, সর্বসাম্প্রতিক এক দুর্নীতি কেলেঙ্কারির কারণেই মিসরে মন্ত্রিসভার রদবদল করা হচ্ছে। ওই দুর্নীতির ঘটনায় সোমবার কৃষিমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তেলসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট সিসি এ দিকে প্রেসিডেন্ট সিসি বলেছেন, নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত কেয়ারটেকার সরকারের দায়িত্ব পালন করবেন পুরনো মন্ত্রিসভার সদস্যরা। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের জুলাই মাসে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যূত করার কিছুদিন পর থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন ইব্রাহিম। মুরসির আমলে ২০১২ সালে ইসমাইল ও তার অন্য চার মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের কাছে বাজার দরের চাইতে কম দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছিল। চলতি মাসের ফেব্রুয়ারি নাগাদ ওই অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস পান ওই চারজন।

প্রধান বিচারপতির অভিসংশন চেয়ে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর চিঠি

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে অভিশংসনের (ইমপিচমেন্ট) আবেদন জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দিয়েছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী। আজ রোববার প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘন, শপথ ভঙ্গের অভিযোগ এনে তিনি এই চিঠি পাঠিয়েছেন। রাতে চিঠির বিষয়ে বঙ্গভবন এবং আইন মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করে সূত্র জানান, তারা এ ধরণের কোনো চিঠি পাননি। তবে এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী আজ অভিশংসন চেয়ে যে চিঠি পাঠিয়েছেন সে বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। চিঠির অনুলিপি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। চিঠিতে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী তাকে বিচারিক বেঞ্চ হতে সরিয়ে দেয়া, তার প্রতি প্রতিহিংসা ও বৈষম্যমূলক আচরণসহ সুনির্দ্দিষ্ট কয়েকটি অভিযোগ করেন। চিঠির অনুলিপি তিনি প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, আইনমন্ত্রী এবং সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিগণের কাছে পাঠিয়েছেন। নয়া দিগন্তের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের কাছে জানতে চাওয়া হলে রাতে তিনি জানান, এ ধরণের কোনো চিঠি তিনি এখনো পাননি।
বিচারপতির সংবর্ধনা নিয়ে আইনজীবীদের পাল্টাপাল্টি সভা ও মিছিল
আপিল বিভাগের বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প থেকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়া হবে কি না তা নিয়ে পাল্টাপাল্টি মিছিল ও সংপ্তি সমাবেশ করেছেন বিএনপি ও আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা।
বিষয়টি নিয়ে গতকাল বেলা সোয়া ১টায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে সাধারণ সভার আয়োজন করা হয় সমিতির শামসুল হক চৌধুরী হলে। সভায় এই বিচারপতিকে সংবর্ধনা না দেয়ার জন্য রেজুলেশন পাস করার সময় আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা দ্বিমত পোষণ করেন। এ সময় উভয় পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাগি¦তণ্ডা ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সভার ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে যান।
সভায় সভাপতিত্ব করছিলেন বারের সিনিয়র সহসভাপতি এ এস এম মোক্তার কবির খান। উপস্থিত ছিলেন সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের, সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সমিতির নির্বাহী পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট মির্জা আল মাহমুদসহ বিএনপি ও আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা।
সভা শেষ হতে না হতেই মিছিল বের করেন দুই পক্ষের আইনজীবীরা। বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা মিছিল শেষে সমিতির সভাপতির করে সামনে সংপ্তি সমাবেশ করেন। মিছিলে নেতৃত্ব দেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সহসম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম তালুকদার রাজা, অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা প্রমুখ। মিছিলে অংশ নেন বিএনপিপন্থী আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক নির্বাহী সদস্য আইয়ুব আলী আশরাফী, মির্জা আল-মাহমুদ, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট পারভীন ইয়াসমিন প্রমুখ।
মিছিল শেষে সংপ্তি সমাবেশে বক্তারা বলেন, এই বিচারপতিকে সুপ্রিম কোর্টে সংবর্ধনা দেয়া হবে না। তারা সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিএনপিপন্থী আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম ইউ আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী পরোভাবে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন। এই বিচারপতিকে যেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি সংবর্ধনা না দেয় এ জন্য প্রতিদিন বেলা ১টায় কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।
অন্য দিকে বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীকে সংবর্ধনা দেয়ার পক্ষে সংপ্তি মিছিল করেন আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা। এতে নেতৃত্ব দেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদীসহ কয়েকজন আইনজীবী।