Monday, January 25, 2010

রাজ্জাকই হারিয়ে দিলেন সিলেটকে

এবারের জাতীয় লিগে প্রথম জয় পেল খুলনা। কাল তারা ৪৯ রানে হারিয়েছে সিলেটকে। দুই ম্যাচ থেকে কিছুই হাতে জমাতে পারল না সিলেট।
কাল দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেই পিছিয়ে পড়েছে সিলেট। আর সিলেটকে যিনি পিছিয়ে দিয়েছেন তিনি আবদুর রাজ্জাক। তবে বল হাতে ঔজ্জ্বল্য ছড়ানোর আগে ব্যাট হাতেও দলকে উদ্ধার করেছেন রাজ্জাক। খুলনা যে সিলেটের সামনে ১৯৬ রানের লিড নিতে পারল, তা দ্বিতীয় ইনিংসে রাজ্জাকের ৭৪ রানের কল্যাণেই। পরে বল হাতে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে জাতীয় দলের এই বাঁহাতি স্পিনারের হাতে।
৩০ রান পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছিল খুলনা। পরশু তৃতীয় দিনেই ৮ উইকেট হারিয়ে তুলেছিল মাত্র ১৮৮ রান। কাল আরও ৩৮ রান যোগ করে দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হয় তারা ২২৬ রানে। জয়ের জন্য খুব যথেষ্ট ছিল না, তবে ৭৮ রানে ৭ উইকেট পড়ে যাওয়ার কথা ভাবলে খুলনার এই স্কোরেও খুশিই হওয়ার কথা অধিনায়ক হাবিবুল বাশারের। ৭ উইকেট পতনের পরই উইকেটে আসেন রাজ্জাক। হাবিবুলের সঙ্গে ১০৯ রানের জুটি গড়ে সামাল দেন পরিস্থিতি, গড়ে দেন জয়ের ভিত্তি।
১৯৭ রানের জয়ের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সিলেট। ২১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ৭৮ রানের জুটি গড়ে গোলাম রহমান ও অলক কাপালি কিছুটা স্থিরতা দেন দলকে। বাঁহাতি পেসার সৈয়দ রাসেলের শিকার হওয়ার আগে ৫২ রান করেন অলক। তবে ৯৯ থেকে ১২৬—এই ২৭ রানের মধ্যে আরও ৪ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের প্রান্তে চলে যায় তারা। তাদের পরাজয়টা আনুষ্ঠানিকতা পায় ১৪৭ রানের মাথায়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
খুলনা: ২৪২ ও ৬৩ ওভারে ২২৬ (রাজ্জাক ৭৪, হাবিবুল ৫৭, রাসেল ২২; তাপস ৩/৩৫, নাজমুল ২/৪২, সাজু ২/৩২, নাবিল ২/৫৪)। সিলেট: ২৭২ ও ৪৮.৫ ওভারে ১৪৭ (অলক ৫২, গোলাম রহমান ২৩, তানভির ১৮, গোলাম মাবুদ ১৮; রাসেল ৩/১৯, রাজ্জাক ৩/৬৪, রবিউল ২/৪১, মাশরাফি ১/১৬)।
ফল: খুলনা ৪৯ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: আবদুর রাজ্জাক

রজনী দেখছেন শেষের শুরু

জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল ১৯৯৯ কাঠমান্ডু সাফ গেমসে। ১০ বছর টানা খেলার পর এখন অনেকটা ‘ক্লান্ত’ ডিফেন্ডার রজনীকান্ত বর্মণ। তারই ফল—খুব সম্ভবত আলফাজ, জয়, নজরুল, মতিউর মুন্নাদের দলে ঢুকতে চলেছেন ২০০৩ সাফ ফুটবলজয়ী অধিনায়ক।
এসএ গেমসের জন্য অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল দলে ডাকা তিনজন সিনিয়রের মধ্যে রজনী ছিলেন না। এরপর অবশ্য চ্যালেঞ্জ কাপের জন্য জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাকা হয়েছিল তাঁকে। কলকাতায় ছিলেন বলে তখন ক্যাম্পে যোগ দিতে পারেননি। ফিরে আসার পরও নীরব দেখা যাচ্ছে রজনীকে। এই নীরবতা জাতীয় দলে খেলার ব্যাপারে তাঁর অনীহাই প্রকাশ করছে।
পরশু দেশে ফেরার পর জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তাঁর কথাবার্তায় একটু যেন দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত খোলাখুলি না বলে রেখে দেন রহস্য, ‘আমি এখন কিছু বলব না। কাল (গতকাল) ফেডারেশনের সঙ্গে কথা বলব। দেখি, তারা কী বলে। তারপর জানাব।’ কিন্তু কাল ফেডারেশনের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেননি। তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।
নীরবতা ভেঙে রজনী যদি ক্যাম্পে যোগ দিতে চান? জানতে চাইলে বাদল রায় বললেন, ‘ও কলকাতা যাওয়ার সময় আমাকে ফোনে বলে গেছে, আপাতত দলে ওকে পাওয়া যাবে না। ব্যক্তিগত সমস্যা আছে। তার পরও কোচ ডেকেছেন তাকে। এখন কোচ ডাকবেন কি না কোচই জানেন। তবে রজনী চাইলেও এখন আর ডাকার সুযোগ দেখছি না।’
পরের টুর্নামেন্টে ডাকার সুযোগ থাকছেই। তবে এখন তারুণ্যে প্রাধান্য দেওয়ার চিন্তাটা অগ্রাধিকার পাচ্ছে। রজনী নিজেও উত্সাহ হারিয়ে ফেলেছেন। সব মিলিয়ে অনেকেরই ধারণা, রজনী বোধ হয় শেষের শুরু দেখছেন!

পাকিস্তানে আসছে না দক্ষিণ আফ্রিকা

সর্বশেষ পাকিস্তানে খেলতে এসে কোনো ক্রিকেট দলকে কী পরিণতি ভোগ করতে হয়েছিল—এখনো সেটি ভোলেনি ক্রিকেট-বিশ্ব। আর তাই আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে নির্ধারিত পাকিস্তান সফরে আসতে রাজি নয় দক্ষিণ আফ্রিকা। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) এরই মধ্যে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে তারা। ওই সিরিজে তিনটি টেস্ট ও পাঁচটি ওয়ানডে খেলার কথা ছিল গ্রায়েম স্মিথদের।
দক্ষিণ আফ্রিকা সর্বশেষ পাকিস্তান সফর করে গেছে ২০০৭-এর অক্টোবরে। এর পর এই দুই দেশের মধ্যে কোনো টেস্টই হয়নি। এর ওপর বাতিল হয়ে যাচ্ছে নির্ধারিত সফরটা। মন্দের মধ্যে একটা ‘ভালো’ খবর শুনিয়েছেন পিসিবি সভাপতি ইজাজ বাট। জানিয়েছে, পাকিস্তান চাইলে ওই একই সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে ‘হোম সিরিজ’ হিসেবে খেলে আসতে পারবে। নিজেদের মাটিতেই সিরিজটা আয়োজনের ‘জোর চেষ্টা’ চলছে বলে জানিয়েছেন বাট। শেষ পর্যন্ত সেটি সম্ভব না হলে নিরপেক্ষ ভেন্যুর কথাই ভাবতে হবে তাদের। দক্ষিণ আফ্রিকাতে না হলেও হয়তো শ্রীলঙ্কা বা আবুধাবিতে নিজেদের পরিচিত কন্ডিশনেই সিরিজটা খেলতে আগ্রহী পাকিস্তান।

কামালের বক্তব্যে ক্রিকেটারদের ক্ষোভ

পুরস্কার নিতে গিয়ে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে কে জানত! গত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে সিরিজের সাফল্যের জন্য যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার পূর্বঘোষিত পুরস্কার তুলে দিতে পরশু জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ডেকেছিলেন সোনারগাঁও হোটেলে। সেখানেই মুখোমুখি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল ও জাতীয় দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। বোর্ড সভাপতি প্রশ্ন তুললেন খেলার প্রতি দলের ক্রিকেটারদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে। মাইক্রোফোন হাতে সাকিব পাল্টা জবাব দিলেন, ক্রিকেটারদের নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই। তাঁরা শতভাগ উজাড় করে দিতেই মাঠে নামেন। এ ব্যাপারে কারও সন্দেহ থাকলে সেটা ভুল।
কাল বাংলাদেশ-ভারত দ্বিতীয় টেস্টের আগের দিনটা মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম পার করল সাকিব বনাম বোর্ড সভাপতির দ্বৈরথের আলোচনা দিয়েই। জাতীয় দলের অনেক ক্রিকেটারই ক্ষুব্ধ বোর্ড সভাপতির বক্তব্যে। অনেকে আবার মনে করেন, এসব কথা কানে তোলাই উচিত না। সব মিলিয়ে মোস্তফা কামালের বক্তব্য প্রত্যাখ্যানই করলেন তাঁরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের এক সিনিয়র ক্রিকেটার বললেন, ‘পুরস্কার দিতে ডেকে এমন অপমান করার কোনো মানে হয় না। তা ছাড়া এর এক দিন আগে তো বোর্ড সভাপতিও প্রথম টেস্টে ভালো খেলার জন্য পাঁচ ক্রিকেটারকে পুরস্কৃত করলেন। আমরা যদি কিছু না-ই পারি তো আমাদের পুরস্কার দেওয়া কেন? আমরা তো পুরস্কার চাইনি কারও কাছ থেকে।’ অনুশীলনের ফাঁকে সভাপতির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে দলের আরেক ক্রিকেটারের কণ্ঠে রসিকতা, ‘বিশ্বাস করেন, আমি ওনার (বোর্ড সভাপতি) কথা কিচ্ছু বুঝি না। উনি কথা শুরু করেন একভাবে, তার পর কোথা থেকে যেন কোথায় চলে যান...আমি ধরতে পারি না। এদিনও উনি কী বলেছেন, আমি আসলে বুঝিনি।’
বোর্ড সভাপতি প্রশ্ন তুলেছেন ক্রিকেটারদের সামর্থ্য নিয়ে, ক্রিকেটারদের কেউ কেউ আবার প্রশ্ন তুলতে চান সভাপতি এবং বোর্ডের সামর্থ্য নিয়েই। ‘ওনারা চান প্রতিদিন আমরা ভালো খেলি, সফল হই। বোর্ডও কি সেটা সব সময় পারে? সবকিছু করতে চেয়ে পারে? বোর্ড সভাপতি তো ব্যবসা করেন। উনি কি সব সময় দেশের এক নম্বর ব্যবসায়ী থাকেন?’—বলেছেন জাতীয় দলের এক ক্রিকেটার। তবে ক্রিকেটারদের প্রতিক্রিয়ার উপসংহার হওয়ার মতো কথাটা বললেন দলের আরেকজন, ‘এসব কথা এক কানে শুনে আরেক কানে বের করে দিতে হয়। এটাই নিয়ম।’
বোর্ড সভাপতির বক্তব্যের জবাব সাকিব আল হাসান পরশু পুরস্কার বিতরণীর মঞ্চেই দিয়েছেন। কাল তাঁর সেই কণ্ঠে একটু যেন পরিবর্তন, ‘আমার মনে হয় ওনার ঠিক এভাবে বলার উদ্দেশ্য ছিল না, যেভাবে তিনি বলেছেন। পরে ওনার সঙ্গে আমার আরও কথা হয়েছে। বক্তৃতায় ওনার বলার ধরনটা হয়তো একটু অন্যরকম ছিল।’ কিন্তু পুরস্কার বিতরণীর মঞ্চ থেকে কাল দুপুর পর্যন্ত যে ঘটনা অনেক দূর গড়াল! সাকিব নাকি তাঁর বক্তব্যের জন্য পরশু ক্ষমাও চেয়েছেন বোর্ড সভাপতির কাছে! এই গুঞ্জনের তীব্র প্রতিবাদ করেছেন সাকিব, ‘এটা সম্পূর্ণ ভুল। ক্ষমা চাওয়ার কোনো ঘটনাই ঘটেনি। আমি তো ক্ষমা চাওয়ার মতো কিছু বলিনি। শেষ পর্যন্ত ক্ষমাই যদি চাইব তাহলে তো তখন ওনার কথার প্রতিবাদ করতাম না। অনুষ্ঠান শেষে সভাপতি আমাকে ডেকে দ্বিতীয় টেস্টের দল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছেন। দল পরিচালনায় অধিনায়ক হিসেবে আমার আর কী ধরনের সাহায্য লাগবে সেটা জানতে চেয়েছেন। এ ছাড়া আর কোনো বিষয়ে কথা হয়নি আমাদের।’ বোর্ড সভাপতি মোস্তফা কামালও বলছেন একই কথা, ‘মাপ চাইবে কেন? ও জাতীয় দলের অধিনায়ক, আমি বোর্ড সভাপতি—আমাদের মধ্যে তো মাপ চাওয়ার সম্পর্ক না! আমি ওর কাছে জানতে চেয়েছি, দলের ভালোর জন্য বোর্ড থেকে আর কী ধরনের সাহায্য তাকে করা যায়। সাকিব সেসব আমাকে জানিয়েছে এবং আমরা চেষ্টা করব তার সব দাবি মেটানোর।’ ঘটনাস্থলে উপস্থিত বোর্ডের সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুবুল আনামও বলেছেন, সাকিবের ‘স্যরি’ বলার মতো কিছু ঘটেনি।
সাকিব ‘স্যরি’ বলুন আর না-ই বলুন বোর্ড সভাপতির সঙ্গে তাঁর কথার যুদ্ধ দ্বিতীয় টেস্টের আগেও ফিরিয়ে আনল প্রথম টেস্টের আবহ। প্রথম টেস্টের আগে বাংলাদেশকে ‘অর্ডিনারি’ দল বলে তাতিয়ে দিয়েছিলেন ভারতের সহ-অধিনায়ক বীরেন্দর শেবাগ। এবার ‘দায়িত্বশীলতা’ নিয়ে নিজেদের বোর্ড থেকে ওঠা প্রশ্নটাও কি সে রকমই কিছু দেখাবে ঢাকা টেস্টে

স্কুলপড়ুয়াদের জন্য বিনা টিকিটে খেলা

স্কুলপড়ুয়াদের জন্য সুসংবাদ। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ থেকে শুরু বাংলাদেশ-ভারত দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচের প্রতিদিনের খেলা বিনা টিকিটে দেখতে পারবে তারা। তবে খেলা দেখতে আসা স্কুল ছাত্রছাত্রীদের অবশ্যই পরে আসতে হবে স্কুলের ইউনিফর্ম, সঙ্গে আনতে হবে স্কুলের পরিচয়পত্র।
স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা বিনা টিকিটে খেলা দেখতে পারলেও অন্যদের টিকিটে কেটেই ঢুকতে হবে গ্যালারিতে। টেস্টের জন্য সাধারণ গ্যালারির টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ৫০ টাকা। এ ছাড়া স্পেশাল এনক্লোজার ১০০ টাকা, ক্লাব হাউস ২০০ টাকা ও ভিআইপি গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের টিকিটের দাম ৫০০ টাকা।