Monday, April 24, 2017

আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের পদত্যাগ

সেনা পোশাকে আফগানিস্তানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে তালেবানের হামলার ঘটনায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধান পদত্যাগ করেছেন। সোমবার আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি তাদের এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। পরে এক টুইট বার্তায় প্রেসিডেন্ট প্যালেস জানিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আবদুল্লাহ হাবিবী এবং সেনাপ্রধান কাদেম শাহ শাহিমের পদত্যাগ জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর হবে। প্রেসিডেন্টর ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র শাহ হুসেইন মুর্তাজাইয়ি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, উত্তরাঞ্চলের শহর মাজার-ই শরিফের সেনা ঘাঁটিতে হামলায় ঘটনায় তারা পদত্যাগ করেছেন। খবর বয়টার্স ও বিবিসির।
আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলের বলাখ প্রদেশে মাজার-ই শরিফ শহরের সেনা ঘাঁটিতে গত শুক্রবারের ওই হামলায় অন্তত ১৬৫ জন সৈন্য নিহত হন। পরে আইনশৃংখলা বাহিনীর গুলি ১০ তালেবান জঙ্গি নিহত হয়। প্রথমে হামলায় ৫০ সৈন্য নিহত হয়ে বলা হলেও মাজার-ই শরিফের এক কর্মকর্তা শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, শুক্রবারের ওই হামলায় ১৬৫ সৈন্য নিহত ও বহু আহত হয়েছে। শনিবার তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে সম্প্রতি তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতাদের হত্যার জবাব দিতে তারা এই হামলা করেছে। আর আফগানিস্তানে ন্যাটো নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী জানিয়েছে, হামলায় বিদেশি কোনো সৈন্য মারা যায়নি। ওই সৈন্য ঘাঁটিতে স্থানীয়রা সৈন্যরা থাকেন। আফগান সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, হামলার সময় বেশিরভাগ সৈনিক নামাজে ছিলেন। তারা এখানে প্রশিক্ষণ নিতে এসেছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হতাহতের সংখ্যার বিষয় স্পষ্ট করেনি। তাদের ভাষ্যে, শতাধিক সৈন্য নিহত হয়েছে। তবে এক প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে জানিয়েছেন, তিনি ১৬৫টি মরদেহ গুণে দেখেছেন। এ ঘটনায় রোববার জাতীয় শোক পালন করে আফগানিস্তান।

বিরোধী নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার শুরু হয়েছে: বিএনপি

সরকারের নির্দেশে কোনো ইস্যু ছাড়াই বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার ও হয়রানি শুরু করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, কোনো ইস্যু বা আন্দোলন সংগ্রাম কিংবা কোনো কারণ ছাড়াই বিশেষ অভিযানের নামে দেশব্যাপী বিএনপিসহ বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ফের গণগ্রেফতার শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ অভিযানের নামে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে চলছে পুলিশ ও ডিবির তাণ্ডব। বাড়িতে নেতাকর্মীদের না পেলে তাদের পরিবারের সদস্যদের লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। রক্ষা পাচ্ছে না শিশুরাও। তিনি এ সময় ঢাকা, গাজীপুর, জামালপুর, সাতক্ষীরা,
ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, বাগেরহাট, পঞ্চগড়, কুমিল্লা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা, চুয়াডাঙ্গা, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি অভিযানের নামে ব্যাপক ধরপাকড়, হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক দেশব্যাপী বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার অভিযান, বাসায় বাসায় পোশাকধারী পুলিশ ও সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান এবং সরকারি ক্যাডারদের বেপরোয়া রক্তারক্তির শিকার হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি অবিলম্বে এ ধরণের অমানবিক, ন্যাক্কারজনক পুলিশি অভিযান বন্ধের আহবান জানান তিনি।

আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের পদত্যাগ

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি আজ সোমবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আবদুল্লাহ হাবিবি এবং সেনাপ্রধান কদম শাহ শাহিম পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি দেশটির বলখ প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে শুক্রবারে তালেবানের হামলা প্রায় ১৪০ সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার পর তারা পদত্যাগ করেন। আফগান প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ থেকে টুইটারে দেয়া বার্তায় বলা হয়েছে, তাদের এ পদত্যাগপত্র অবিলম্বে কার্যকর হবে। প্রেসিডেন্ট গনির ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র হোসেইন মুরতাজাভি বলেছেন, শুক্রবারের তালেবান হামলার কারণে তারা পদত্যাগ করেছেন। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় বলখ প্রদেশের মাজার-ই-শরীফ শহরে চালানো হামলাকে আফগানিস্তানের কোনো সেনা স্থাপনায় চালানো সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আফগান কর্মকর্তারা বলেছেন, হামলার সাথে প্রায় ১০ জন তালেবানের একটি দল জড়িত ছিল। তারা আফগান সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম পরে সামরিক যান নিয়ে ঘাঁটিতে ঢোকে। তারা দুপুরের খাবার খাওয়া অবস্থায় এবং জুমার নামাজ শেষে একটি মসজিদ থেকে বের হওয়া আফগান সেনাদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায়। হামলাকারীরা রকেট চালিত গ্রেনেড এবং রাইফেল ব্যবহার করেছে। উত্তর আফগানিস্তানে তালেবানের কয়েকজন প্রবীণ নেতাকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এ হামলা চালানোর দাবি করেন তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। শনিবার এক বিবৃতিতে এ দাবি করেন তিনি। সূত্র : ওয়েবসাইট

সাইক্লিং 'ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়'

কোন বাহনে চড়ে মানুষজন কাজে যান এবং স্বাস্থ্যের ওপর তার প্রভাব নিয়ে ব্রিটেনে ব্যাপক এক গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে - সাইকেল চালিয়ে কাজে গেলে ক্যান্সার এবং হৃদরোগের ঝুঁকি অর্ধেক কমে যায়। পাঁচ বছর ধরে ২৫০,০০০ অফিস যাত্রীর ওপর এই গবেষণা করা হয়। দেখা গেছে, দুই চাকার ওপর নির্ভরশীলরা অন্যদের চেয়ে প্রাণঘাতী কতগুলো রোগের ঝুঁকি কমাচ্ছেন। গবেষণার পাঁচ বছরে অংশ নেওয়া অফিস যাত্রীদের ২৪৩০ জন মারা গেছেন, ৩৭৪৮ জনের ক্যান্সার এবং ১১১০ জনের হৃদরোগ ধরা পড়ে। কিন্তু যারা সাইকেল চালিয়ে অফিস যান, তাদের এ সময়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়েছেন ৪৫ ভাগ, আর হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়েছেন ৪৬ ভাগ। সপ্তাহে গড়ে ৩০ মাইল সাইকেল চালিয়েছেন তারা। যারা তার চেয়ে বেশি সাইকেল চালান, তারা তত সুস্থ থাকেন। গবেষণা এই রিপোর্টটি ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। হেঁটে যারা কাজে যান তারাও হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়েছেন।
তবে সপ্তাহে অন্তত ছয় মাইল হাঁটলেই সেটা সম্ভব হয়। গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড জেসন গিল বিবিসিকে বলেন, "এটা এখন প্রমাণিত যে কে কোন উপায়ে কাজে যায়, তার সাথে তার স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে সাইকেল চালিয়ে কাজে যাওয়ার উপকার অনস্বীকার্য।" তিনি বলেন, সাইকেল চালালে অভ্যাস তৈরি হয়ে যায়। মনের সাথে যুদ্ধ করতে হয় না। ঠিক কেন সাইকেল চালালে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে - এই গবেষণায় সেটা দেখা হয়নি। তবে একটি ব্যাখ্যা - সাইক্লিং করলে শরীরে মেদ এবং প্রদাহ কমে। ব্রিটেনের শীর্ষ বেসরকারি ক্যান্সার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে'র ক্লেয়ার হাইড বলছেন - এই গবেষণা দেখিয়ে দিচ্ছে প্রতিদিনের জীবনযাপনে যারা যত বেশি সক্রিয় থাকেন, তাদের রোগের ঝুঁকি কমে। "আপনাকে প্রতিদিন জিমে যেতে হবেনা, ম্যারাথন দৌড়াতে হবেনা.. প্রাত্যহিক জীবনযাপনে কিছুটা সময় এমন পরিশ্রম করুণ যা আপনার নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের গতি বাড়িয়ে দেয়।" সূত্র : বিবিসি

তিন দশকে সর্বোচ্চ বৃষ্টি

বাংলাদেশে এ বছরের এপ্রিলে গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। আবহাওয়া অধিদফতর জানাচ্ছে, স্বাভাবিকের তুলনায় ২০১৭ সালের ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত ১১৯ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। মাসের বাকি সময়টা আর বৃষ্টি না হলেও স্বাভাবিকের তুলনায় এ মাসে ৬৮ শতাংশ বেশি বৃষ্টি থাকবে। এপ্রিলের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছিল সর্বশেষ ১৯৮৭ সালে। সেটি ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৬ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশে এপ্রিল মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৫,২৮৬ মিলিমিটার। আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানান, সোমবার থেকে বাংলাদেশের অনেক এলাকায়, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টি কমে যাবে বলে তারা আশা করছেন।
তবে সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টি কমতে আরো কয়েকদিন সময় লাগবে। বৈশাখ মাসের এ সময়টাতে যখন খটখটে রোদ থাকার কথা, সেখানে গত কয়েকদিন দেশব্যাপী অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত অনেককেই অবাক করেছে। বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বড় দুর্ভোগে পড়েছে হাওরাঞ্চলে মাসের শুরু থেকেই আকস্মিক বন্যার শিকার মানুষেরা। এছাড়াও চট্টগ্রাম শহরে প্রবল বর্ষণ এবং অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাসন ব্যবস্থার কারণে অনেক রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। রাজধানী ঢাকায়ও সাময়িকভাবে ডুবে গেছে বেশ কিছু রাস্তা। হঠাৎ এই অস্বাভাবিক বৃষ্টির কারণ ব্যখ্যা করতে গিয়ে আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পশ্চিমা লঘুচাপ দীর্ঘদিন যাবত সক্রিয় থাকায় অসময়ে বৃষ্টিপাত এবার বেশি হচ্ছে। তিনি বলেন, গতমাসেও বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ছিল। "বৃষ্টিপাত কমে গেলে তাপমাত্রা আবার বাড়তে শুরু করবে" বলে জানান তিনি। গত প্রায় ৩৭ বছরে আটবার এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হয়েছে বলে জানায় আবহাওয়া অধিদফতর। ১৯৮১ সালের এপ্রিলে স্বাভাবিকের তুলনায় ১৬৮ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছিল।

কুষ্টিয়ায় পার্টিকেল বোর্ড কারখানায় দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ১০

কুষ্টিয়ার বিআরবি গ্রুপের পার্টিকেল বোর্ডের কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ২ শ্রমিক নিহত এবং আরো ১০জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৪জনকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অগ্নিসংযোগে বিপুল পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যায়। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার সকাল ৯টার দিকে মুষলধারায় বৃষ্টিপাত হয়। ১০টার দিকে বৃষ্টি থামলে এমআরএস-এর বিআরবি প্লাইউডের পার্টিকেল বোর্ডের কারখানার টিনশেডের উপর কয়েকজন শ্রমিক উঠে আবর্জনা পরিষ্কার করতে। এসময় বিকট শব্দে শেডটি ধসে পড়ে। এ সময় সেখানে বিদ্যুৎ থেকে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়। এসময় কয়েকজন শ্রমিক লাফ দিয়ে জীবন বাাঁচাতে যায়।
এতে লোহার অ্যাঙ্গেলে আঘাত লেগে সাইফুল্লাহ (৪০) এবং এবিএম রফিকের (৫৫) ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। আহত হয় কমপেক্ষ ১০জন। তাদের মধ্যে ওমর ফারুক (৩৫), শামসুল ইসলাম (৪৫) এবং দেলওয়ার হোসেনকে (৫৫) কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিহত শ্রমিক সাইফুল্লাহর ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার নলডাঙ্গা গ্রামের আবুল হোসেনের পুত্র আর রশিদ চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার আন্দলবাড়িয়া গ্রামের মীর মকসুদুল হকের পুত্র। বিআরবির সকল ইউনিটের শ্রমিক ও কর্মচারীরা প্রথমে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করার দীর্ঘ সময় পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন নেভানোর সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়। এদের মধ্যে ফয়ার সার্ভিসের এক কর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

'উ. কোরিয়ায় ফিরলে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হবে শরণার্থীদের উপর'

চীনে গত মাসে আটক আট উত্তর কোরীয় নাগরিকের অবস্থান অবিলম্বে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। মানবাধিকার সংস্থাটির আশঙ্কা উত্তর কোরিয়ার কাছে হস্তান্তর করলে তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হবে। অধিকাংশ উত্তর কোরীয় শরণার্থী সীমান্ত পেরিয়ে চীনে প্রবেশ করে এবং এরপর অন্য কোন দেশে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। এরা প্রায়ই দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে চলে যায়।
সেখান থেকে তারা দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক আশ্রয় চায়। পালিয়ে যাওয়া এই সব শরণার্থী ধরা পড়ার পর তাদেরকে উত্তর কোরিয়ার কাছে হস্তান্তর করলে তাদের কঠিন শাস্তি দেয়া হয়। চীন নিয়মিতভাবেই উত্তর কোরিয়ার এই সব শরণার্থীকে অবৈধ ‘অর্থনৈতিক অভিবাসী’ হিসেবে অভিহিত করে। চীন ১৯৮৬ সালে গৃহীত সীমান্ত প্রটোকলের ওপর ভিত্তি করে তাদেরকে উত্তর কোরিয়ার কাছে ফিরিয়ে দেয়। উত্তর কোরিয়ার শরণার্থী দলটিতে অন্তত চার নারী রয়েছে। এরা মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শেনইয়াংয়ে ধরা পড়ে। সোমবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচটের এশিয়া বিষয়ক উপ-পরিচালক ফিল রবার্টসন বলেন, ‘এখন যদি তাদেরকে জোরপূর্বক উত্তর কোরিয়ায় পাঠিয়ে দেয়া হয়, তবে তাদের জীবন ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।’ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, বিগত নয় মাসে চীন শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ ৪০ জনের বেশি উত্তর কোরীয় নাগরিককে আটক করেছে। এদের মধ্যে অন্তত নয়জনকে জোরপূর্বক উত্তর কোরিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে।

কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা : শি-ট্রাম্প জরুরি ফোনালাপ

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার টেলিফোনে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং কোরীয় উপদ্বীপ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এসময় তারা অভিন্ন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দ্রুত মতবিনিময়ের মাধ্যমে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন।
শি বলেন, চীন জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন করে নেয়া পদক্ষেপের কঠোর বিরোধী। তিনি আরো বলেন, চীন আশা করে যে, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ কোরীয় উপদ্বীপ নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরবে এবং আগ্রাসী পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকবে। শি বলেন, এ ক্ষেত্রে কোনো পক্ষ আগ্রাসী পদক্ষেপ নিলে তার দায়-দায়িত্ব তাদেরকেই বহন করতে হবে।

বরযাত্রীর বাস দুর্ঘটনায় হতাহত অর্ধশতাধিক

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খন্ডের একটি রাস্তায় বাস মোড় নেয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে পড়ে আটজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ৫৬ জন। সোমবার দেশটির পুলিশ একথা জানিয়েছে। ঝাড়খন্ডের প্রাদেশিক রাজধানী রাঁচির পিথোরিয়ার কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হতাহতরা সবাই বরযাত্রী। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কয়েকজন লোক বাসের ছাদে বসে ছিলেন।’
পুলিশ জানায়, মোড় নেয়ার সময় গাড়ির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। আহতদের রাঁচির একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি হতাহতের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।

কোরিয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার আহ্বান চীনের

কোরিয় উপদ্বীপকে পুরোপুরি পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে উত্তর কোরিয়ার প্রধান মিত্রদেশ চীন। ওই উপদ্বীপে আমেরিকা ও পিয়ংইয়ং-এর মধ্যে যখন সামরিক সঙ্ঘাতের ব্যাপক আশঙ্কা দেখা দিয়েছে তখন এ আহ্বান জানাল বেইজিং। গ্রিস সফররত চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই রোববার এথেন্সে স্বাগতিক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোস কোতজিয়াসের সাথে বৈঠকের পর এ আহ্বান জানান। এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ওয়াং ই বলেন, কোরিয় উপদ্বীপে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার স্বার্থে ওই এলাকাকে সম্পূর্ণ পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার ঘোর সমর্থক চীন।
এর আগে মার্কিন সরকার পিয়ংইয়ংকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার জন্য উত্তর কোরিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। উত্তর কোরিয়ার প্রধান মিত্র ও অর্থের যোগানদাতা চীন এবার এই দাবিতে অটল থাকলে তা পিয়ংইয়ং-এর জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে। মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস কার্ল ভিনসনের নেতৃত্বে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি স্ট্রাইক গ্রুপ বর্তমানে কোরিয় উপদ্বীপ অভিমুখে রয়েছে। উত্তর কোরিয়া ওই রণতরীকে ‘এক আঘাতেই’ ডুবিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে। সূত্র : ওয়েবসাইট

চাটমোহরে পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা

পাবনার চাটমোহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত গুমানী নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি ও অসময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে চাটমোহরের নিম্নাঞ্চলের মাঠগুলোর পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের হাসুপুর, বেজপাটিয়াতা ও বড়বেলাই এলাকার মাঠের নিম্নাঞ্চল বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পানি বৃদ্ধি ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ব্যাপক এলাকার পাকা, আধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। ঝড়ের কারণে মাঠের ধানগুলো এলোমেলো হয়ে নেতিয়ে পড়ছে পানিতে। এর আগে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও এখন শঙ্কায় আছেন কৃষকেরা। চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রওশন আলম জানান, ইতিমধ্যে ৫০ হেক্টর জমির বোরো ধান আক্রান্ত হয়েছে।

কেরানীগঞ্জে হচ্ছে জবির হাজার আসনের হল

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা সমাধানে কেরানীগঞ্জে ১ হাজার আসনের হল নির্মাণ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান আজ বাসসকে জানান, আবাসন সমস্যা থেকে উত্তরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা সমাধানে বেশকিছু বড় প্রকল্প নেয়া হয়েছে। নতুন একাডেমিক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। কেরাণীগঞ্জে নবনির্মিত কারাগারের বিপরীতে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের পাশেই প্রায় ২৫ বিঘা জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে কেনা হয়েছে। এখানে ছাত্রদের জন্য এক হাজার আসনের ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ নামে একটি হল নির্মিত হবে এবং সেখানে শিক্ষকদেরও আবাসনের ব্যবস্থা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন সড়কের দক্ষিণ-পূর্বপাশে ‘বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব’ হল নামে ছাত্রীদের জন্য ২০-তলা বিশিষ্ট একটি হলের নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিকসহ অন্যান্য সমস্যা নিরসনে জরুরী ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন। ভিসি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়কে উচ্চশিক্ষার তীর্থস্থানে পরিণত করে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার রোল মডেলে পরিণত করতে চাই। ২০০৫ সালে সরকারি জগন্নাথ কলেজকে সরকার পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দেয়। জন্ম থেকেই হাজারো সমস্যা নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানটি তার পথচলা শুরু করে। তবে সব সমস্যা কাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রায় এক যুগেরও বেশি সময়ে তার স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে চলছে বলে জানান অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিকে ই-লাইবেরিতে রূপান্তর করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে স্বনামধন্য প্রকাশনা সংস্থার বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ২৪ হাজার বই ছাত্র, শিক্ষক ও গবেষকরা ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। লাইব্রেরিতে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, ই-জার্নাল, রেফারেন্স শাখা, পত্রিকা সংরক্ষণ শাখা রয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারের উদ্যোগের সাথে তাল মিলিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ই প্রথম অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস তৈরি করেছে জানিয়ে ভিসি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রি ওয়াই ফাই জোন, সাইবার সেন্টার রয়েছে।
সেখানে শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছে। প্রযুক্তিগত উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাইবার অপটিক ক্যাবলের সাহায্যে একটি ব্যাকবোন নেটওয়ার্ক তৈরি করা হবে। বর্তমানে টেন্ডার ইভালুয়েশনের কাজ চলছে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আরো দ্রুত গতির ওয়াই-ফাই-এর মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার নিমিত্তে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বিডিআরইএন প্রকল্পের আওতায় ক্যাম্পাসে একটি আধুনিক ভার্চ্যুয়াল ক্লাস রুম স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের স্বনামধন্য যেকোন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার, লেকচার ইত্যাদি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারবে। উপরন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে প্রথম এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের স্টুডেন্ট ডেটাবেজ অ্যান্ড এক্সামিনিশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এসডিইএমএস) সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে একটি সাংস্কৃতিক বলয় তৈরির পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিগত কয়েক বছর যাবৎ পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পিঠাপুলির আয়োজন ও মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক পুরান ঢাকার সাংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। আন্তঃক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন খেলাধুলার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়াও জাতীয় উৎসবগুলো ধুমধাম করে পালন করা হয়।

২০৫০ সালে বাংলাদেশে শিশুর চেয়ে প্রবীণের সংখ্যা বাড়বে

বাংলাদেশে আগামী ২০৫০ সালে শিশুর চেয়ে প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা বাড়বে। ওই সময় শিশুর সংখ্যা হবে ১৯ শতাংশ এবং এক শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা হবে ২০ শতাংশ। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ প্রবীণ বা সিনিয়র সিটিজেন রয়েছে। আগামী ২০২৫ সাল নাগাদ প্রবীণদের সংখ্যা হবে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ। ২০৫০ সালে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি এবং ২০৬১ সালে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি প্রবীণ জনগোষ্ঠী। ‘প্রবীণ বন্ধু’র নির্বাহী পরিচালক ডা. মহসীন কবির লিমন এক গবেষণা প্রতিবেদনে এইসব তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বাসসকে জানান, বাংলাদেশের ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে সরকার দেশের ১ কোটি ৩০ লাখ প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এরমধ্যে বয়স্ক ভাতা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার প্রায় ১ হাজার ৮শ’ ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল বলে মনে করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে আগামী ২০৫০ সালে শিশুর চেয়ে প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা এক শতাংশ বেশি হবে। ওই সময়ে শিশুর সংখ্যা হবে ১৯ শতাংশ এবং প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা হবে ২০ শতাংশ। পৃথিবীর সব দেশেই সিনিয়র সিটিজেনের সংখ্যা আরো বেড়ে যাবে এবং তাদের অসহায়ত্বও বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি এবং মানুষের নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার কারণে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে বলে গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশে সাধারণত যাদের বয়স ৬০ বছর তারাই প্রবীণ ব্যক্তি। তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অসাধারণ সাফল্যে বর্তমান বিশ্বে মানুষ প্রায় ১২০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারেন। বয়স বৃদ্ধির এ হারে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছর। দিন দিন বাড়ছে প্রবীণের সংখ্যা। সম্প্রতি সরকার প্রবীণ ব্যক্তিদের সিনিয়র সিটিজেন মর্যাদায় ঘোষিত করেছেন। গবেষণা প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বিশ্বের সর্বত্র ৮০ বছরের উপরে অতি প্রবীণের সংখ্যাও বাড়ছে দ্রুত হারে। বর্তমানে এটি বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে ১৯৯০ সালে সর্বপ্রথম জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এক প্রস্তাবে ১৯৯১ সাল থেকে বিশ্ব প্রবীণ দিবস পালিত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বাংলাদেশে ২০০০ সালের আগ পর্যন্ত বার্ধক্য বা প্রবীণব্যাক্তিদের সমস্যাটি তেমন গুরুত্ব পায়নি। ২০০০ সালের পর থেকে বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে আগামীতে প্রবীণদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সমস্যাটা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে বর্তমান সরকার বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সরকার ২০১৩ সালে পিতা-মাতা ভোরণ-পোষণ আইন কার্যকর করেছে। ২০১৩ সালের একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, দেশে দুই তৃতীয়ায়শ প্রবীণই দারিদ্র, শতকরা ৫৮ ভাগ প্রবীণের মৌলিক চাহিদা পূরণের সামর্থ নেই। এছাড়াও বার্ধক্যকালীণ সময়ে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের ফলে প্রবীণরা নানা ধরনের শারিরীক ও মানসিক রোগে ভোগে থাকেন। সবকিছু বিবেচনা করলে আমাদের দেশের প্রবীণরা এই মুহূর্তে ভালো নেই। তারা অনেকটা মানবেতরভাবেই দিন পার করছেন। এর কারণ হিসাবে বলা হয়,
বিশ্বায়নের এ যুগে আমাদের দেশের যৌথ পরিবারগুলো ভেঙে তৈরি হচ্ছে একক পরিবার, এতে করে পরিবারগুলোতে প্রবীণরা ছিটকে পড়ে অসহায় হয়ে পড়ছেন। ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতির কারণে এদেশের প্রবীণেরা এখনও অনেকটাই সম্মানিত হচ্ছেন। কিন্তু উল্টোচিত্রে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রবীণদের প্রধান সমস্যা হলো দারিদ্রতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.এস.এম আতিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের বার্ধক্য সমস্যা ও সমাধানে গণমাধ্যমকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বর্তমানে দেশে ৬০ বা তার চেয়ে বেশি নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ। রাষ্ট্রকে এদের দায়িত্ব নিতে হলে এখন থেকেই কর্র্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকার সামাজিক সুরক্ষা খাতে প্রায় ১৮৯০ কোটি টাকা ব্যয় করছে। তা বাংলাদেশের জন্য একটা বিশাল উদ্যোগ। বাংলাদেশ এজিং সাপোর্ট ফোরামের সভাপতি হাসান আলী বলেন, প্রবীণ জনগোষ্ঠী বিশ্ব অর্থনীতির একটি বড় ঝুঁকি। বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করতে হলে দেশের সোয়া কোটি প্রবীণদের জন্য অবশ্যই উদ্যোগ নিতে হবে। পল্লী উন্নয়ন সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জামান বলেন, দেশের প্রবীণদের কল্যাণে এখন থেকেই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে সরকারের এসডিজি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।

মান্দায় গ্রাহকের ৩৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে লাপাত্তা ঘটনায় মামলা

নওগাঁর মান্দায় বেসরকারি সংস্থা পল্লী শিশু ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ চৌবাড়িয়া বাজার শাখার ব্যবস্থাপক কামাল হোসেন গ্রাহকদের আমানত ও মঞ্জুরীকৃত প্রায় ৩৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরিয়া ম্যানেজার আতিকুর রহমানের সহযোগিতায় তিনি আমানত ও মঞ্জুরীকৃত ঋণের টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে গা ঢাকা দেন। ঘটনায় সংস্থার পক্ষে শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মান্দা থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি করেছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, ঋণ নেয়ার জন্য প্রত্যেকের নিকট থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাংক একাউন্টের স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেক,তিনশত টাকা মূল্যের নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও দুইকপি ছবি। ঋণের টাকা হাতে না পেলেও এনজিওর ওই শাখা কার্যালয়ে তাদের জমা রয়েছে এসব ডকুমেন্ট। এ অবস্থায় ভবিষৎ ঋণ পরিশোধের শঙ্কায় তারা দিশোহারা হয়ে পড়েছেন। চরম ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়েছে তাদের মাঝে। সংস্থার এরিয়া ম্যানেজার আতিকুর রহমান গ্রাহকের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কিছু অনিয়মের কারণে শাখা ব্যবস্থাপক কামাল হোসেনকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। গ্রাহকদের ঋণের টাকা বিষয়ে সমস্যা সমাধান করার চেষ্ঠা চলছে। প্রোগ্রাম অফিসার আব্দুল লতিফ মিয়া বলেন, এ শাখা ব্যবস্থাপককে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করাসহ তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, গ্রাহকদের ঋণ দেয়ার জন্য তাদেও নিকট থেকে ফাঁকা চেক নেয়ার কোনো বিধান নেই। শাখা ব্যবস্থাপক আইনত দোষনীয় কাজ করে ফেলেছেন। সংস্থার গ্রাহক উপজেলার বাঁকাপুর গ্রামের ইনতাজ আলী জানান, চৌবাড়িয়া বাজারে তার পেইন্টিং ব্যবসা রয়েছে। সংস্থা থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নেয়ার জন্য ১৫ হাজার টাকা সঞ্চয় ও দুইটি ফাঁকা চেক জমা দিয়েছেন। তবে শাখা ব্যবস্থাপক কামাল হোসেন সঞ্চয় টাকা জমার কোন রশিদ দেননি। মঞ্জুরীকৃত ঋণের টাকা উত্তোলনের জন্য চেক না দিয়ে নগদ টাকা দেয়া হবে জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু টাকা না দিয়ে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান।
মাদারীপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম ৫ লাখের জন্য ৪০ হাজার,বাঁকাপুর গ্রামের আলমগীর হোসেন ৫ লাখের জন্য ৫০ হাজার, আইওরপাড়া গ্রামের চয়ন উদ্দিন মন্ডল দেড় লাখের জন্য ১৫ হাজার, হুসেনপুর গ্রামের মালেকা বিবি ৩ লাখের জন্য ৩০ হাজার টাকা, একই গ্রামের জসিম উদ্দিন এক লাখ টাকার জন্য ১০ হাজার সহ ৫০ জনেরও বেশি গ্রাহকের নিকট একইভাবে সঞ্চয়ের টাকা উত্তোলন ও তাদের নামে ঋণ মঞ্জুর করেন শাখা ব্যবস্থাপক কামাল হোসেন। অভিযোগ রয়েছে তাদেরকে মঞ্জুরীকৃত ঋণের কোন টাকা আজ পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে না। গ্রাহকরা আরো জানান, ঋণ মঞ্জুরের আগে এরিয়া ম্যানেজার আতিকুর রহমান প্রত্যেক গ্রাহকের বাড়ি পরিদর্শন করেন। তার উপস্থিতিতে গ্রাহকরা শাখা ব্যবস্থাপকের হাতে সঞ্চয়ের টাকা প্রদান করেন। কিন্তু তাদের দেয়া জমা টাকারও কোনো ডকুমেন্ট দেয়া হয়নি বলে দাবি করেন গ্রাহকরা। টাকা গ্রহণ না করেও এখন তাদের মাথার ওপর নাকি ঝুলছে ঋণের বোঝা। তারা আরো দাবি করেন, যেসব গ্রাহক এ সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েছেন কিস্তি পরিশোধের জন্য তাদের পাশ বই পর্যন্ত দেয়া হয়নি। ঋণের কিস্তি পরিশোধের টাকা আদৌ তাদের নামে জমা হয়েছে কিনা এ নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তারা। পাশ বই নেয়ার জন্য শাখা ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে গিয়ে দিনের পর দিন ধর্ণা দিলেও বিভিন্ন কারণে তা পাওয়া যায়নি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার উপপরিদর্শক সুজন খান জানান, পল্লী শিশু ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ চৌবাড়িয়া শাখায় গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এজাহারে ৩৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা উল্লেখ করে মামলাটি দায়ের করেন ভারপপ্রাপ্ত শাখা ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান। তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে মামলার তদন্ত কাজ শুরু করা হয়েছে। তদন্তে আত্মসাতকৃত টাকার পরিমান আরো বাড়তে পারে বলেও তিনি দাবী করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নুরুজ্জামান জানান, এ ঘটনা গ্রাহকদের সাথে প্রতারণার শামিল। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চাটমোহরে বজ্রপাতে ৪জন আহত

পাবনার চাটমোহরে আজ সোমবার বজ্রপাতে ২ মহিলাসহ চারজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, উপজেলার বড়গুয়াখরা গ্রামের মৃত আসের খাঁর ছেলে খলিল খাঁ (৭০), নিমাইচড়া ইউনিয়নের মাঝগ্রামের বয়ান সরকারের স্ত্রী রোজিনা খাতুন (৪৫) ও পৌরসদরের চৌধুরী পাড়া মহল্লার মিজানুর রহমানের স্ত্রী লিপি খাতুন (২৬)। এছাড়া মূগ্রাম ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের অপর এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাকে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা গেছে, আজ সকালে প্রচন্ড ঝড়বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে তারা আহত হন। আহতরা চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উত্তর কোরিয়ার ভয়ে সরে যাচ্ছে মার্কিন রণতরী?

উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কি ক্রমশ যুদ্ধের রাস্তা থেকে সরে আসছে আমেরিকা! এটা কি তারা করছে ভয়ে? কোরীয় উপদ্বীপ থেকে ক্রমশ মার্কিন বিমানবাহী রণতরী কার্ল ভিনসন সরে যাচ্ছে। কিছুটা দিক পরিবর্তন করে আগামী আর কয়েক দিনের মধ্যেই পৌঁছে যাবে জাপান সাগরে। সম্প্রতি এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। মার্কিন রণতরীটির গতিবিধি সম্পর্কে কয়েকদিন ধরেই নানারকম জল্পনা চলছিল। মনে করা হচ্ছিল, উত্তর কোরিয়ার উপর যেকোনো মুহূর্তে হামলা করতেই মার্কিন এই বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজকে পাঠানো হয়েছিল।
কিন্তু তবে এখন সিঙ্গাপুর থেকে অস্ট্রেলিয়ার অভিমুখে এগোচ্ছে কার্ল ভিনসন। অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে মহড়া দেয়ার জন্যই এটি পাঠানো হচ্ছে। তাহলে কি মার্কিন নৌবাহিনী তার মিত্র শক্তিদের নিয়েই অভিযান চালানোর ছক কষছে? এই প্রশ্নই এখন বড় করে দেখা দিয়েছে। সব নিষেধাজ্ঞাকে উড়িয়ে একের পর এক মিসাইল পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। শুধু তাই নয়, আমেরিকার উপর চলছে পারমাণবিক হামলার হুঁশিয়ারিও। এমনকি মার্কিণ রণতরী ডুবিয়ে দেয়ার হুমকিও দিয়েছে। আর এর পরিপ্রেক্ষিতেই ইতিমধ্যে মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ পাঠিয়েছে আমেরিকা। কিন্তু মার্কিন রণতরীর অস্ট্রেলিয়ায় আসা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

অর্থের অভাবে থমকে গেছে ভারতীয় নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন কর্মসূচি

ভারতীয় নৌবাহিনী আধুনিকায়নের দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থ হবে। অর্থাভাব এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এমনটি হবে বলে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা এবং নয়াদিল্লির প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। ভারতীয় নৌবাহিনীর ১৫ বছর মেয়াদি প্রকল্পের জন্য ১২৩ বিলিয়ন ডলার সম পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন। চলতি বছরে এ খাতে ৮.৩ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রয়োজন থাকলেও বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৩ বিলিয়ন ডলার। এ অর্থের ৯৫ শতাংশই অতীতের চুক্তি খাতে দেয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
ফলে আধুনিকায়নের নতুন প্রকল্পের খাতের জন্য থাকছে মাত্র ১৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। কাজেই ভারতীয় নৌবাহিনী কোনোভাবেই আধুনিকায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারবে না। ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চীন যখন অধিক হারে ডুবোজাহাজ এবং বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করছে তখন এ উদ্বেগের মুখে পড়ল ভারতীয় নৌবাহিনী। ভারতীয় নৌবাহিনী ২০২৭ সালের মধ্যে ১৯৮টি যুদ্ধজাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছিল। এর মধ্যে ১২০টি হবে বিমানবাহী জাহাজ, ডেস্ট্রয়ার, ফ্রিগেট এবং ডুবোজাহাজের মতো ‘বড় ধরণের রণতরী।’ এ চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত এ পর্যন্ত ১৪০টি জাহাজ সংগ্রহ করেছে। এগুলোর অর্ধেকও ‘বড় ধরণের রণতরী’ নয়। এ ছাড়া, নেটওয়ার্ক সিস্টেম এবং লক্ষ্যবস্তুর দিকে সুনির্দিষ্টভাবে পরিচালনা যোগ্য গোলার মতো অত্যাধুনিক ব্যবস্থার প্রচলন ঘটাতে গিয়েও হিমসিম খাচ্ছে ভারতীয় নৌবাহিনী। ভারতীয় নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অ্যাডমিরাল অরুণ প্রাকেশ বলেন, ভারতীয় নৌ নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত ব্যাপক এখানে জোড়াতালি দিয়ে কাজ চালানোর বদলে নেতৃবৃন্দের পূর্ণ মনোযোগ দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। সূত্র : ওয়েবসাইট

'সামরিক শক্তি বাড়াতে সব কিছু করবে ইরান'

ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়াতে ইরান সব ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন দেহ্কান। সামরিক শক্তি বাড়াতে ইরানের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তেহরানে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ডারের সাথে বৈঠকে রোববার এ সব কথা তুলে ধরেন তিনি।
দেহ্কান বলেন, বলদর্পী শক্তিগুলোর কোনো ধরণের দাপট ইরান সহ্য করবে না। ইরানের ওপর তাদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টাও মানা হবে না বলে জানান তিনি। ইরানের পরমাণু তৎপরতা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করেন তিনি। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কোরিয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার আহ্বান চীনের

কোরিয় উপদ্বীপকে পুরোপুরি পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে উত্তর কোরিয়ার প্রধান মিত্রদেশ চীন। ওই উপদ্বীপে আমেরিকা ও পিয়ংইয়ং-এর মধ্যে যখন সামরিক সঙ্ঘাতের ব্যাপক আশঙ্কা দেখা দিয়েছে তখন এ আহ্বান জানাল বেইজিং। গ্রিস সফররত চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই রোববার এথেন্সে স্বাগতিক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোস কোতজিয়াসের সাথে বৈঠকের পর এ আহ্বান জানান। এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ওয়াং ই বলেন, কোরিয় উপদ্বীপে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার স্বার্থে ওই এলাকাকে সম্পূর্ণ পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার ঘোর সমর্থক চীন।
এর আগে মার্কিন সরকার পিয়ংইয়ংকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার জন্য উত্তর কোরিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। উত্তর কোরিয়ার প্রধান মিত্র ও অর্থের যোগানদাতা চীন এবার এই দাবিতে অটল থাকলে তা পিয়ংইয়ং-এর জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে। মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস কার্ল ভিনসনের নেতৃত্বে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি স্ট্রাইক গ্রুপ বর্তমানে কোরিয় উপদ্বীপ অভিমুখে রয়েছে। উত্তর কোরিয়া ওই রণতরীকে ‘এক আঘাতেই’ ডুবিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে। সূত্র : ওয়েবসাইট

ফ্রান্সে নির্বাচন : দ্বিতীয় রাউন্ডে যাচ্ছেন ম্যাক্রোঁ ও লা পেন

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথম দফার অনুমিত ফলাফলে এগিয়ে আছেন এন মার্কে পার্টির এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ফ্রন্ট ন্যাশনাল পার্টির মেরিন লা পেন। দুজনের যথাক্রমে ২৩.৭ ও ২১.৭ শতাংশ ভোট পেতে যাচ্ছেন বলে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে। এই দুজন আগামী ৭ মে দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে লড়াই করবেন প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে যাওয়ার জন্য।
নিয়ম অনুযায়ী প্রথম দফা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দীতা করা ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট প্রাপ্ত দুজন প্রতিদ্বন্দীতা করবেন দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে। তবে প্রথম দফায় কেউ ৫০ শতাংশ বা তার বেশি ভোট পেলে সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। সাবেক মন্ত্রী এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মধ্যডানপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত। আর মেরিন লা পেন কট্টর ডানপন্থী। মুসলিম ও অভিবাসী বিদ্বেষী হিসেবে তার পরিচিতি আছে। কট্টরজাতীয়তাবাদের কারণেই তিনি নির্বাচনে ভালো করবেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা ছিলো। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাদেঁর নানামুখী বদনামের কারণে তার দল সোসালিস্ট পার্টির প্রার্থী বেনোইট হ্যামন সুবিধা করতে পারবেন না সেটি আগেই বোঝা গেছে।

ধর্ষণ মামলায় পিতা-পুত্রের জেল

পিরোজপুরে আসামি তসলিম হাসান বাপ্পি (২৩) ও তার বন্ধু ইমরান হোসেনকে (২০) যাবজ্জীবন এবং তসলিম হাসান বাপ্পির বাবা শহিদুল ইসলাম ফরিদ মহাজনকে ৭ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। জেলার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এসএম জিল্লুর রহমান রোবরাব দুপুরে এই রায় দিয়েছেন। এ রায়ে বিচারক মামলার অপর দুই আসামি তাছলিমা বেগম ও আঃ জলিল মহাজনকে খালাস দিয়েছেন। দন্ডপ্রাপ্ত আসামি তসলিম হাসান বাপ্পি ও তার বাবাসহ প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ছেলেকে আরো ১ বছর ও পিতাকে আরো ৬ মাসের কারাদন্ড ভোগ করতে হবে। ইমরানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১ বছরের কারাদন্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। আসামিরা সবাই পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের কালিকাঠী গ্রামের বাসিন্দা।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২ জানুয়ারি রাতে শহিদুল ইসলাম ফরিদ মহাজনের ছেলে তসলিম হাসান বাপ্পি নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ইমরানের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে। তাকে বিয়ে করবে এমন লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন সময় ধর্ষণ করায় অন্তসত্ত্বা হয়ে পড়ে। ঢাকায় গিয়ে তাদের বিবাহ দেয়া হবে বলে বাপ্পির বাবা শহিদুল ইসলাম ফরিদ মেয়ের বাবাসহ তাদেরকে ঢাকা যায়। বিয়ে না দিয়ে সে বছরের ১৯ মে একটি ক্লিনিকে মেয়েটির গর্ভপাত করায়। পরে বিভিন্ন বাহানা করে তাদের মধ্যে বিবাহ না পড়িয়ে মেয়েটিকে ছেলের বাবা শহিদুল ইসলাম ফরিদ তাড়িয়ে দেন। মেয়ের বাবা নিরূপায় হয়ে ওই বছরের ৩ জুন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পিরোজপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে সদর থানার এসআই মনিরুজ্জামান ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দায়ের করেন। ধর্ষিতা মেয়েকে ছেলের সাথে বিয়ে না দিয়ে কৌশলে গর্ভপাত করানোর অপরাধে বাপ্পির বাবা শহিদুল ইসলাম ফরিদ মহাজনের ৭ বছরের কারাদন্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রাউধার লাশ উত্তোলন

মৃত্যুর ২৬ দিন পর দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রী মালদ্বীপের নাগরিক মডেল রাউধা আতিফের লাশ কবর থেকে তোলা হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে নগরীর হেতেম খাঁ কবরস্থান থেকে রাউধার লাশ তোলা হয়।
নির্বাহী হাকিম রক্তিম চৌধুরীর উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলনের সময় রাউধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফ, সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফি ইকবাল ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আসমাউল হক উপস্থিত ছিলেন। পরে লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়। সেখানে মেডিকেল বোর্ড রাউধার লাশের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করেন। ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আমিরুল চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

সৈয়দপুরে ছাত্রীকে প্রাণনাশের হুমকী দেয়ায় দুই বখাটে আটক

নীলফামারীর সৈয়দপুরে কলেজ ছাত্রীকে প্রাণনাশের হুমকী দেয়ায় দুই বখাটেকে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গোলাহাট ডাঙ্গাপাড়া বাজার থেকে দবির উদ্দিনের ছেলে অটোরিকশা চালক মিজানুর রহমান ওরফে মিজান (২২) ও তার সহযোগী হোটেল কর্মচারী আল-আমিন (২০) কে আটক করা হয়। জানা গেছে, ঘটনার দিন ওই এলাকায় এক কলেজ ছাত্রীর বিয়ে হওয়ার কথা।
কিন্তু মিজান ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে ছাত্রীটিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং তার সাথে বিয়ে না দিলে তাকে হত্যা করবে বলে হুমকী দেয়। মিজানের সহযোগী আল-আমিন পাত্র পক্ষকে মোবাইল ফোনে জানায় ওই ছাত্রীর সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক আছে এবং নোংরা ম্যাসেজ পাঠায়। রবিবার বিকেলে ছাত্রীর ভাই বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করলে সন্ধ্যায় পুলিশ তাদেরকে আটক করে। সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

রাণীনগরে পাকা বোরো ধান নিয়ে দিশেহারা কৃষক

নওগাঁর রাণীনগরে গত কয়েকদিন ধরে বৈরি আবহাওয়া আর ঝড় বৃষ্টির কারনে মাঠের উঠতি পাকা ধান নিয়ে দিশেহারা হয়ে পরেছে কৃষকরা । একদিকে শিলাবৃষ্টির আতংক অন্য দিকে ধান কাটা শ্রমিক সংকট নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পরেছেন কৃষকরা । দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মাঠের পাকা বোরো ধান শুয়ে পড়ায় ফলন বিপর্যয় হতে পারে বলে ধারনা করছেন তারা। রাণীনগর উপজেলা কুষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১৯ হাজার ৬ শ’ ১০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তার চেয়ে বেশি জমিতে ইরি-বোরো ধানের চাষ হয়েছে। ধান রোপনের শুরু থেকেই আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় তেমন কোন রোগ বালায় দেখা যায়নি। এছাড়া কৃষি অফিসের তৎপরতা আর কৃষকের সচেতনতার কারনে ধান খুব ভাল হয়েছিল।
কিস্তু চলতি সপ্তাহে ঝড় ও বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন জাতের ধানের সাময়িক ফলন বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে। উপজেলার কালীগ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম কবিরাজ,বিলকৃষ্ণপুর গ্রামের মমিন,দামকৃড়ি গ্রামের নাজমুল হোসেন জানান, এবার বোরো ধানের আবাদ খুব ভাল হয়েছিল কিন্তু গত কয়েক দিনের ঝড় বৃষ্টির কারণে জমির ধান মাটিতে পড়ে গেছে। জমি থেকে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ধানের ব্যাপক ক্ষতি হবে। পাশা-পাশি ধান পানিতে তলে যাওয়ায় ফলনে অনেক কম হবে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ আফিসার সবুজ কুমার সাহা জানান, ঝড় বৃষ্টিতে বেশকিছু পাকা-অধাপাকা ধান শুয়ে পড়েছে। দুই তিন দিন রোদ হলে ধানের তেমন কোন ক্ষতির সম্ভবনা নেই। ইতিমধ্যেই বেশকিছু জায়গায় কৃষকরা পাকা ধান কাটা শুরু করেছে।

দিনাজপুরে জেএমবির ২ সদস্য আটক

দিনাজপুরের রানীগঞ্জ থেকে দুই জেএমবি সদস্যকে রোববার গভীর রাতে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৩। তারা জেএমবির সারওয়ার তামিম গ্রুপের বলে জানিয়েছে র‌্যাব। সোমবার দুপুরে র‌্যাব-১৩ রংপুর এর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে র‌্যাবের অধিনায়ক এটিএম আতিকুল্লাহ জানান, গ্রেফতার হওয়া র‌্যাবের দুই সদস্য হলো দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার রানিরবন্দর রানিপুর এলাকার ফজলুর রহমানের পুত্র সেমিম (১৮) এবং একই উপজেলার নাশরতপুর এলাকার মোজাম্মেল হকের পুত্র খাদেমুল ইসলাম(২৭)।
র‌্যাব জানায়, এরা দুজনই জেএমবির সারওয়ার তামিম গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। এরমধ্যে সেলিম আত্মগোপনে থেকে এলাকায় চাদা ও কর্মী সংগ্রহ এবং প্রচার প্রচারণা চালাতেন। আর খাদেমুল দাড়ি টুপি ও লম্বা চুল কেটে এলাকা থেকে পালিয়ে ঢাকায় থাকতো। মাঝে মধ্যে এলাকায় আসতো। রোববার গভীর রাতে রানীগঞ্জের রামেশ্যাপুর দারুল হুদা ফাজিল মাদরাসা সংলগ্ন এলাকায় গোপন বৈঠক করার পুর্ব মুহুর্তে তাদের গেফদার করা হয়। তারা ওই বৈঠকে বড় ধরেনর নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছিলও বলে জানায় র‌্যাব। র‌্যাব জানায় সেলিমের নামে চিরিবন্দর থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা আছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব ১৩ এর টুআইসি মেজর আরেফিন, এএসপি খন্দকার গোলাম মোর্তজ্জাসগ র‌্যাবের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষকের স্বপ্নের সমাধি : শনির হাওরের পর বাঁধ ভেঙ্গে পাকনা হাওরও প্লাবিত

শনির হাওরের পর জামালগঞ্জের পাকনা হাওরও প্লাবিত হয়েছে। এই হাওর প্লাবিত হওয়ার মধ্য দিয়ে সুনামগঞ্জের কৃষকের সকল স্বপ্নের সমাধি হলো।  সুনামগঞ্জে জামালগঞ্জ উপজেলার সর্ববৃহৎ বোরো ফসলের ভান্ডার বলে খ্যাত ফেনারবাঁক ইউনিয়নের পাকনা হাওরের উরার বন্দ বাঁধ ভেঙ্গে হাওরের প্রবেশ করছে পানি। আর কয়েক দিন পরই কৃষকের ঘরে ঘরে উঠতো সোনালী ফসল। পাহাড়ি ঢল ভারি বৃষ্টি পাউবোর বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে গেছে হাওরের কাঁচা ধান। সব কিছু হারিয়ে নি:স্ব হয়ে পড়েছে হাওরের কৃষকরা। হাওরের গ্রামে গ্রামে এথন চলছে হাহাকার আর অর্তনাদ। পাকনা হাওরে আবাদ কৃত বোরো ছিল ৯৪৫৫ হেক্টর (২৩,৩৫৫ একর)। ওই হাওরে পানি প্রবেশ করায় পাকনা সংলগ্ন জামালগঞ্জ সদও ইউনিয়ন ও ভীম খালী ইউনিয়নসহ প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর বোরো জমি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। জামালগঞ্জ উপজেলা সর্ববৃহৎ ফসলী এলাকা বোরো ধানের ভান্ডা বলে খ্যাত পাকনা হাওরের উরার বন্দ বাঁধ, ডাইল্লা স্লুইচ গেট ও কাউয়াবাদা বাঁধে কয়েক দিন ধরে এলাকার কৃষকদের স্বেচ্ছাশ্রমে অক্লান্ত পরিশ্রমেও শেষ রক্ষা হয়নি। সোমবার ভোর সাড়ে ৫ টায় উরার বন্দ বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে যাচ্ছে হাওরের ফসল। কয়েক দিনের ভাতি বৃষ্টির কারণে পাকনা হাওরের কাউয়ারবাদা বাঁধ থেকে ঢাইল্যা স্লুইচ গেইট ও কাইল্যানী বাঁধ পর্যন্ত ২ কিলোমিটার জায়গা মরন ফাঁদে পরিণত হয়েছিল। এলাকার হাজার হাজার কৃষক স্বেচ্ছা শ্রমে ওই বাঁধে দিন রাত কাজ করেও কোন কুর কিনারা পাননি।
হাওরের কৃষক-কৃষানীদের কান্নয় ভারি হয়ে উঠেছে আকাশ-বাতাস। পাকনা হাওরের বাঁধভাঙ্গার খবরে উপজেলাবাসীর মাঝে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ফেনারবাঁক ইউপি সচিব অজিত কুমার রায় বলেন, বেশ কিছু দিন ধরে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় পাকনা হাওরের উরার বন্দ বাধ টিকানোর জন্য এলাকার হাজার হাজার কৃষক ভাইদের নিয়ে হাওরে কাজ করছি। গত রাতেও বাঁধে পাহারা দিয়েছি, কিন্ত শেষ রক্ষা হয়নি আজ ভোর সাড়ে ৫ টায় উরার বন্দ বাঁধটিভেঙ্গে পাকনা হাওরে পানি প্রবেশ করছে। গজারিয়ার গ্রামের কৃষক প্রবেল মিয়া বলেন, বাঁধে স্বেচ্ছা শ্রমে কাজ করে ফসল রক্ষা করতে না পারাটা মনে থাকবে সারা জীবন। পাকনা হাওরের বাসিন্দা কৃষক হরমুজ আলী চোখের জল ছেড়ে আক্ষেপ করে বলেন “চোখের সামনে কাঁচা ধান ফানির নীছে গেছে। গেলবার বার হিলে (শীলাবৃষ্টি) মারছে আর অহন মেঘের লাইগ্যা বাঁধ (বেড়ি বাঁধ) ভাইংগা সব জমি পানির নীছে। দেনা কইরা কৃষিজমি করছিলাম, দেনাই দিমু কেমনে আর বউ-বাচ্চা নিয়া কেমনে বাঁচমু এই চিন্তায় আছি। ৫০ বয়সের কিষাণী জুলেখা বেগম বলেন, বান ভাইঙ্গা (বাঁধ) আমরার আওর ফানিতে সাদা অইয়া গেছে কি খাইয়া বাঁচমুগো কি খাইয়া বাঁচমু। মাঝারী কৃষক (গৃহস্ত) ফেনারবাঁক গ্রামের তোফায়েল আলম ছানা বলেন, দেনা কইরা জমি করছিলাম, ধান তো পাকে নাই, কিছু ধান পানির ভয়ে কাটছি আধা পাকা কিয়ারে ৪ মণের মতো হবে কাজের লোকের বেতন দিমু কেমনে আমরাই কি খাইমু। আমরা তো আর লাইনেও দাঁড়াতে পারিনা সইতেও পারিনা কইতেও পারিনা আমাদের কি হবে। সব ক্ষেত ফানির নীছে চইলা গেছে। আর ধান হওয়ার আশা নাই। কৃষক রহিম মিয়া বলেন, আমরার ভাগ্য নিয়া পাইবোর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, ঠিকাদার আর পিাাইসি কমিটির লোক জন ছিনিমিনি খেলছে। হেরা আমরার পেটে লাথি দিছে আল্লায় যেন এরার বিচার করে। চৈত্রের শেষ দিকে অতিবর্ষণে প্রথম দফায় পানিতে তলিয়ে গেছে হাজার-হাজার হেক্টর বোরো জমি। াাংশিক জমি ভাসমান থালেও এবার বাঁধ ভাঙ্গার কারনে এগুলোও পানির নীচে তলিয়ে যাচ্ছে। বছরের একটি মাত্র বোরো ফসল বৈশাখে কাটা ও মাড়াই শুরু হয় এই অঞ্চলে।
এবার হাওরের ফসল ডুবে কৃষকদের স্বপ্ন ও মেরুদন্ড ভেঙ্গে গেছে। হাজার হাজার কৃষকের কান্নায় হাওর এলাকার আকাশ এখন ভারি হয়ে উঠেছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী চলতি বোরো মওসুমে উপজেলার ১৩ টি হাওরে বোরো ফসল আবাদ হয়েছিল প্রায় ২০ হাজার হেক্টর (৪৮ হাজার ৩৪৫ একর) জমিতে। কিন্তু কৃষকদের বেসরকারী হিসেব মতে আমন ছাড়াই বোরো জমি প্রায় ২৮ হাজার হেক্টর চাষ হয়েছে। এরম মধ্যে উপজেলার সর্ববৃহৎ ফসলী এলাকা ফেনারবাঁক ইউনিয়নের পাকনা হাওরের ৯৪৫৫ হেক্টর (২৩,৩৫৫ একর), হালির হাওরে ৫৪৯০ হেক্টর (১৩৫৭৫ একর), শনির হাওর আংশিক ৬৪০ হেক্টর (১৫৮০ একর), মহালিয়া হাওরে ২৫০ হেক্টর (৬২০ একর), চাঁদরা হাওর ৮০ হেক্টর (১১৫ একর), ধয়লার হাওর ১৫০ হেক্টর (৩৭০ একর), গজারিয়ার হাওর ৮১৫ হেক্টর (২০১৫ একর), দিরাই চাতল হাওর ৪ হেক্টর (৯৮৮ একর), সনোয়ার হাওর ২৩০ হেক্টর (৫৭০ একর), রৌয়ার হাওর ৪০০ হেক্টর (৯৮৮ একর), ডাকুয়ার হাওর ৫০০ হেক্টও (১২৩৫ একর), জোয়ার ভাঙ্গার হাওর ৩৪৫ হেক্টর (৮৫৫ একর), ঘনিয়ার হাওর ৪০০ হেক্টর (৯৮৮একর) জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ হয়েছিল। জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রসূন কুমার চক্রবর্তী বলেন, পাকনা হাওরের বাঁধ রক্ষায় আমি কয়েকবার সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। এলাকার কৃষকদের সেচ্ছায় শ্রম দেখে আমার বিশ্বস ছিল বাঁধ ভাংগবেনা, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রকার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদী প্রেরণ করেও শেষ রক্ষা হয়নি।

কমলনগরে হত্যা মামলার আসামী জলদস্যু গ্রেফতার

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে হত্যাসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামী মেঘনা নদীর দুর্ধর্ষ জলদস্যু মো. আবুল কালাম প্রকাশ কালাম ডাকাতকে (৩৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলার তোরাবগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত কালাম রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার ইউনিয়নের আসলপাড়া এলাকার শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকুল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জলদস্যু কালামকে গ্রেফতার করা হয়। হত্যা ও মেঘনা নদীতে মাছ শিকারি জেলেদের নৌকায় ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ছয় থেকে সাতটি মামলা রয়েছে। সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে তিনি আরও জানান।

বয়লার বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২

দিনাজপুরের সদর উপজেলায় চালকল ‘যমুনা অটোরাইস মিলে’ বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ আরো আটজন মারা গেছেন। এর আগে গত বুধবারের এ বয়লার বিস্ফোরণে চারজন মারা যান। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১২ জনে। গত শুক্রবার রাত থেকে গতকাল রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই আটজনের মৃত্যু হয়।
তাঁদের মধ্যে দুজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও বাকি ছয়জন রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বর্তমানে রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরো ছয়জন শ্রমিক। এ ঘটনায় নিহতরা হলেন চালকলের ম্যানেজার রণজিৎ বসাক, শ্রমিক শফিকুল ইসলাম, উদয়, দেলোয়ার, দুলাল চন্দ্র, অঞ্জনা দেবি, মোসাদ্দেক আলী, আরিফুল হক, রুস্তম আলী, মুকুল চন্দ্র, মুন্না ও রিপন।

হুহু করে বাড়ছে ডলারের দাম

টাকার বিপরীতে হু হু করে বাড়ছে ডলারের দাম। পণ্য আমদানির জন্য গতকাল গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ডলার কিনতে ব্যয় হয়েছে সর্বোচ্চ ৮৩ টাকা ৩০ পয়সা। যদিও আন্তঃব্যাংক ব্যাংকে এ দর ছিল ৭৯ টাকা ৯০ পয়সা। গ্রাহক পর্যায়ে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ কমতে কমতে তলানিতে নামছে। কমে যাচ্ছে রফতানি আয়। কিন্তু আমদানি ব্যয় কমছে না। একই সাথে অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ করা হয়েছিল তার মেয়াদ শেষে পরিশোধ শুরু হয়েছে। সব মিলে বাজারে ডলারের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে বাজারে ডলার ছাড়তে হবে, অন্যথায় আমদানি ব্যয় বেড়ে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করছেন। জানা গেছে, মূলধনী যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হয়। আমদানি দায় পরিশোধ করতে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনেন গ্রাহকেরা। সাধারণত আন্তঃব্যাংকের সাথে গ্রাহক পর্যায়ে ডলারের দামের পার্থক্য এক টাকার ওপরে হওয়ার কথা নয়। কিন্তু গতকাল গ্রাহক পর্যায়ের সাথে আন্তঃব্যাংকের ডলারের দামের পার্থক্য চার টাকার কাছাকাছি চলে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গতকাল দু’টি বিদেশী ব্যাংক গ্রাহক পর্যায়ে অর্থাৎ আমদানিকারকদের কাছে ডলার বিক্রি করেছে সর্বোচ্চ ৮৩ টাকা ৩০ পয়সা দরে। আর স্থানীয় ব্যাংকগুলো আমদানি পর্যায়ে ডলার বিক্রি করেছে সর্বোচ্চ ৮২ টাকা ৯০ পয়সা দরে। অথচ এক বছর আগে তা ছিল ৭৯ টাকা। কেন ডলারের সঙ্কট : ব্যাংকাররা জানিয়েছেন অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেদারচ্ছে আসছে বিদেশী ঋণ।
আগে শুধু রফতানিকারকরাই এ ঋণের সুবিধা পেতেন। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ নীতিমালা আরো শিথিল করে। এখন রফতানিকারকদের বাইরেও সার আমদানি, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্পসহ বিভিন্ন পর্যায়ে অফশোর ব্যাংকিংয়ের সুবিধা নিচ্ছে। আমদানিকারকরা যখন বৈদেশিক ঋণ নিয়ে পণ্য আমদানি করছে, তখন ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্স ও রফতানি আয়ের মাধ্যমে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ করত তা বাজারে উদ্বৃত্ত ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো ইচ্ছামাফিক নিজেদের কাছে বৈদেশিক মুদ্রা ধরে রাখতে পারে না। এ জন্য নির্ধারিত সীমা বেঁধে দেয়া হয় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে। নীতিমালা অনুযায়ী একটি ব্যাংক দিন শেষে তার মোট মূলধনের ১৫ শতাংশ সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা নিজেদের কাছে সংরক্ষণ করতে পারে। দিনশেষে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত ডলার থাকলে বাজারে বিক্রি করছে হবে। বাজারে বিক্রি করতে না পারলে ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে জরিমানা গুনতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের মান ধরে রাখার জন্য গত কয়েক বছরে বাজার থেকে উদ্বৃত্ত ডলার কিনে রিজার্ভের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছে। কিন্তু এখন রেমিট্যান্স প্রবাহ কমছে। আগে যেখানে প্রতি মাসে দেড় শ’ কোটি ডলার আসত এখন তা ১০০ কোটি ডলারের নিচে নেমে গেছে। অন্য দিকে রফতানি আয়ও কমে গেছে। এ দিকে অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ নেয়া হয় সর্বোচ্চ ছয় মাস মেয়াদে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৯০০ কোটি ডলারের ঋণ রয়েছে অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। এ ঋণও ধারাবাহিকভাবে মেয়াদ শেষে পরিশোধ শুরু হয়েছে। সব মিলে এক দিকে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বেড়ে গেছে। কিন্তু এর বিপরীতে সরবরাহ না বেড়ে বরং কমে গেছে। ফলে বেশির ভাগ ব্যাংকেরই ডলারের সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
সঙ্কট মেটানোর উপায় : ডলারের মূল্য বেড়ে যাওয়ার কারণ এবং এ থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) প্রেসিডেন্ট, ব্যাংকারদের শীর্ষ সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান এবং মেঘনা ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও এমডি মোহাম্মদ নূরুল আমিন গতকাল নয়া দিগন্তকে জানান, আমাদের রেমিট্যান্স কমে গেছে। রফতানি আয়ও কমে যাচ্ছে। কিন্তু আমদানি ব্যয় কমছে না। ফলে এর প্রভাব পড়েছে মুদ্রাবাজারে। তিনি মনে করেন, এ পরিস্থিতি সাময়িক। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সচেতন রয়েছে। বাজার বেশি খারাপ হলে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বিক্রি করেই হোক আর যেকোনো পদ্ধতি অবলম্বন করেই হোক তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দেশের প্রথম প্রজন্মের একটি ব্যাংকের এমডি গতকাল নয়া দিগন্তকে জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে হস্তক্ষেপ করে থাকে। বাজারে যখন উদ্বৃত্ত ডলার ছিল তখন তা কিনে নিয়ে বাজারকে স্বাভাবিক রাখে। এখন ডলারের সঙ্কট। কিন্তু এর বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে ডলার ছাড়ছে না। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক হস্তক্ষেপ না করলে অর্থাৎ বাজারে ডলার না ছাড়লে আমদানি পণ্যের দাম আরো বেড়ে যাবে। এতে মূল্যস্ফীতিকে আরো উসকে দেবে বলে তিনি মনে করেন।

শ্রমিক নিরাপত্তা : গার্মেন্টস খাতের বাইরের হালচাল

বাংলাদেশের শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং অধিকারের বিষয়টি নিয়ে যখন আলোচনা হয় তখন একমাত্র তৈরি পোশাক খাত গুরুত্ব পায়। সকল মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু এ খাতটি। অন্য শিল্পখাতের শ্রমিকদের অধিকার কিংবা নিরাপত্তার বিষয়টি ততটা আলোচিত হয় না। এর কারণও আছে। গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে অগ্নিকাণ্ড এবং নানা ধরনের দুর্ঘটনায় যত শ্রমিক নিহত হয়েছে সেটি অন্য কোনো শিল্পখাতে হয়নি। ২০১৩ সালে সাভারে রানা প্লাজা ধসে পড়ে প্রায় সাড়ে ১১শ শ্রমিক মারা যায়। পঙ্গু হয়েছে আরো অনেকে। সে দুর্ঘটনা বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে শ্রমিক নিরাপত্তার বিষয়টিকে বিশ্বের সামনে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। এরপর গার্মেন্টস খাত নিরাপদ করার ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু তৈরি পোশাক খাতের বাইরে অন্য খাতের শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি ততটা আলোচনায় আসে না। এতো বড় একটি দুর্ঘটনার পরে সার্বিকভাবে বাংলাদেশের শিল্পখাতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত হয়েছে? অনেকে এখন এ প্রশ্ন তুলছেন। শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংগঠন বিলস’র সুলতান উদ্দিন আহমেদ মনে করেন গত চার বছরে গার্মেন্টস খাত নিরাপদ করার যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তার মূলে রয়েছে বৈদেশিক বাণিজ্যকে নিরাপদ করার জন্য। মি. আহমেদ মনে করেন, যেহেতু গার্মেন্টস খাত সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে সেজন্য ক্রেতাদের চাপে পড়ে মালিক এবং সরকার সেদিকে বেশি নজর দিয়েছে। অন্য খাতগুলো যেহেতু গার্মেন্টেসের মতো বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে না সেজন্য সেসব খাতের শ্রমিকদের নিরাপত্তার দিকে নজর কম। মি. আহমেদ বলেন, ‘কেউই মনে করছে না যে তার কাজের পরিবেশ নিরাপদ করা দরকার।
যতক্ষণ পর্যন্ত তারা মনে না করবে যে তাদের অবহেলা এবং অবজ্ঞার কারণে কোন প্রাণহানি হলে মালিককে শাস্তি এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কিন্তু এটা হবে না।’ রানা প্লাজা ধসের পর গত চার বছরে ইউরোপ এবং আমেরিকার ক্রেতাদের উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা এবং বাংলাদেশ সরকার মিলে গার্মেন্টস কারখানা নিরাপদ করার উদ্যোগ নেয়। এর আওতায় প্রায় চার হাজার গার্মেন্টস কারখানা পরিদর্শন করা হয়। শ্রম মন্ত্রণালয় বলছে, পরিদর্শনের পর ৪২টি কারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে এবং প্রায় ২০০টির মতো কারখানায় ব্যাপক সংস্কার করতে হয়েছে। গত চার বছরে গার্মেন্টস শিল্পে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা না হলেও অন্যান্য শিল্পখাতে প্রাণহানি থেমে নেই। গত বছর টঙ্গিতে টাম্পাকো নামের একটি প্যাকেজিং কারখানায় প্রায় ৪০জন শ্রমিক নিহত হয়। বিভিন্ন সময় চাতাল এবং জাহাজ শিল্প খাতে দুর্ঘটনায় শ্রমিক মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। নিটওয়্যার রফতানিকারক ফজলুল হক মনে করেন বর্তমানে অন্য অনেক শিল্পখাতের তুলনায় গার্মেন্টস শিল্প অনেক নিরাপদ। মি. হক বলেন, ‘অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রি যেগুলো আছে সেগুলোতে কোনো ফোকাসে নেই। যত আলোচনা সব গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে। গার্মেন্টস শিল্পের বাইরে অনেক কারখানা আছে যেগুলোতে নিরাপত্তার খুবই ভঙ্গুর।’ শিল্প কারখানায় নিরাপত্তা তদারকির দায়িত্ব শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীনে কলকারখানা পরিদর্শন সংস্থার। কিন্তু রানা প্লাজা ধসের আগে কলকারখানা পরিদর্শক ছিল হাতে গোনা। গত চার বছরে দেড়শ পরিদর্শক নিয়োগ করা হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে আরো ২০০ পরিদর্শক নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক। শ্রম প্রতিমন্ত্রী জানালেন, গার্মেন্টস খাত থেকে যেহেতু সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আসে এবং এককভাবে এ খাতে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক কাজ করে সেজন্য এ খাত সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে। ‘আমরা একটা কর্মপরিকল্পনা করেছি। গার্মেন্টেসের পর আমরা এখন যেসব কারখানা বিস্ফোরক বা কেমিকেল জাতীয় সেগুলো ইন্সপেকশন (পরিদর্শন করবো)। তারপর রি রোলিং কারখানা আছে, জাহাজ ভাঙ্গা - এগুলো আমরা পরিদর্শন করবো,’ বলছিলেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী। মি. হক বলেন, একসাথে যেহেতু সব শিল্প পরিদর্শনের আওতায় আনা সম্ভব নয় সেজন্য সরকার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে। এ দৃষ্টিতে তৈরি পোশাক খাত বেশি অগ্রাধিকার পাচ্ছে। সূত্র: বিবিসি

ইস্যু ছাড়াই ফের গণগ্রেফতার চলছে : রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, কোনো ইস্যু বা আন্দোলন সংগ্রাম কিংবা কোনো কারণ ছাড়াই বিশেষ অভিযানের নামে দেশব্যাপি বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের আবারো গণগ্রেফতার শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ অভিযানের নামে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ ও ডিবি পুলিশ হানা দিয়ে ব্যাপক তান্ডব চালাচ্ছে। বাড়িতে নেতাকর্মীদের না পেলে তাদের পরিবারের সদস্যদের লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। এমনকি শিশুরাও রক্ষা পাচ্ছেনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিপীড়ণ থেকে। আজ সোমবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বলেন। নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। রিজভী বলেন, গতকাল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে সংবর্ধনা দিয়ে নয়াপল্টনস্থ ভাসানী ভবনে মহানগর বিএনপি কার্যালয় থেকে ফেরার পথে মতিঝিল থানার ৯নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মো: শামসুদ্দিন বকুল এবং মো: হারুন মিয়াকে মতিঝিল থানা পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। শিল্প নগরী টঙ্গী এলাকায় পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা মিলে অভিযানের নামে গোটা এলাকায় তান্ডব চালিয়ে এক ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এসময় ২০ দলীয় জোটের ১৫ জন নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এই তান্ডবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডার এমনকি মাদক ব্যবসায়ীরাও যুক্ত হওয়ায় পুরো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ত্ব কায়েম হয় এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এইভাবে টঙ্গীতে একযোগে ১৫টি ওয়ার্ডে বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বাসায় তল্লাশির নামে হামলা চালানো হয়। রিজভী বলেন, গত দুদিনে জামালপুরে বিশেষ অভিযানের নামে ১৮৯ জন বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সাতক্ষীরায় পুলিশের বিশেষ অভিযানের নামে ৪১ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। ঝিনাইদহ ও মেহেরপুরে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে, সেখানে গত কয়েকদিনে গ্রেফতার করা হয় শতাধিক নেতাকর্মীকে। গত দুদিন আগে বাগেরহাটে পুলিশী বিশেষ অভিযানে বিএনপি নেতা মোদাশ্বের আলী, কামরুল ইসলাম, গফফার, হুমায়ুন মোড়ল, ইদরিস তালুকদার, আলমগীর মেম্বার, আসাদ ও মোতাহারসহ বিরোধী দলীয় ৩৯ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, পঞ্চগড় জেলায় মেয়র তৌহিদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আব্দুল মজিদ, এ্যাডভোকেট হাসান প্রধান, আনোয়ার হোসেনসহ অনেক নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করা হয়েছে। গত তিন দিন আগে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হেলালউদ্দিনকে গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। গ্রেফতার করা হয়েছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর একরাম হোসেন বাবুকে। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নবনির্বাচিত মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর বিরুদ্ধে। মেহেরপুরে জেলা বিএনপির সভাপতি মাসুদ অরুনসহ ২০০ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা জেলা,
সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা, চুয়াডাঙ্গা, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশী অভিযানের নামে ব্যাপক ধরপাকড় ও হয়রানী নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। রিজভী লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ২২ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শওকত আলী ফরাজীকে দিনে-দুপুরে আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আওয়ামী লীগ ঐতিহ্যগতভাবেই প্রতিহিংসাপরায়ণ ও খুন-খারাবী নির্ভর একটি রাজনৈতিক দল। আমি শওকত আলী ফরাজীকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যাকারী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। নিহতের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা। তিনি বলেন, আকস্মিকভাবে দেশব্যাপী বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও গ্রেফতারে সাঁড়াশী অভিযান চালানোর কারনগুলির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- সরকারের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়ে চোরাবালির মধ্যে ডুবে যাচ্ছে, যে হেফাজতের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে নিরীহ ছাত্র ও আলেমদের ওপর পৈচাশিক রক্তাক্ত আক্রমণ চালিয়ে হত্যাকান্ড চালানো হয়েছে তা দেশব্যাপী ভুলে যায়নি। বিশেষ নজরদারির নামে সারাদেশে কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের জঙ্গীদের সাথে যুক্ত করে যেভাবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা পুলিশরা দলন-পীড়ণ করে হয়রানী ও জুলুম করেছে তা নজীরবিহীন। এখন আবার সরকার সেই হেফাজতের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলতে চাচ্ছে শুধুমাত্র ভোটের জন্য। এটা বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার ও সরকার প্রধানের আপোষকামী অনৈতিক রাজনীতির এক কলঙ্কজনক দৃষ্টান্ত। অতীতেও বর্তমান সরকারপ্রধান ধর্মীয় লেবাস পরিধান করে জনগণকে ধোকা দিয়েছেন। ভোট শেষ হওয়ার পরে লেবাস খুলে স্বমূর্তি ধারণ করেন। তাঁর এই দ্বিচারিমূলক রাজনীতি যাতে কেউ ধরতে না পারে সেজন্য দেশব্যাপী বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জুলুমের অভিযান চলছে। আরো হচ্ছে- সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী যেসব সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি করেছেন সেটি নিয়ে সারাদেশের মানুষ ক্ষোভে-বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে। দেশের মানুষের আকাঙ্খাকে তাচ্ছিল্য করে দেশের সার্বভৌমত্বকে বিকিয়ে দেয়ার জন্য দেশবাসী এই ভোটারবিহীন সরকারকে ধিক্কার জানাচ্ছে। ভারতের সাথে এই সমঝোতা স্মারক চুক্তিতে গোটা জাতির নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতের কাছ থেকে একটি সরিষার দানাও আদায় করতে পারেনি, তিস্তার এক বালতি পানি পাওয়ারও গ্যারান্টি পাননি। কুটনৈতিক প্রজ্ঞা প্রদর্শণের বদলে প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র দেশ বেচা-বিক্রির খেলায় মেতে উঠেছেন। সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জসহ হাওড় এলাকাগুলোতে মেঘালয়ের পাহাড় থেকে বয়ে আসা পানির ঢলে বিস্তীর্ণ এলাকার অধিবাসীরা এখন হাহাকার করছে। পাহাড়ী ঢলে হাওড় এলাকায় সরকারের সার্বিক ব্যর্থতা ঢাকতেই দেশব্যাপী বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে। রিজভী বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতি লুটপাটের ওপর নির্ভরশীল। প্রকাশ্যে দুর্নীতিকে সমর্থন ও আশকারা দিয়েছে বর্তমান ভোটারাবহীন আওয়ামী সরকারের প্রচন্ড ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা। তার ওপর মরার উপর খাঁড়ার ঘা’র মতো ডলালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, আর এই কারণে হু হু করে বাড়ছে আমদানি পন্যের দাম। ক্ষমতাসীনদের সৃষ্ট জাতীয় অর্থনীতির চরম দুর্দশা আড়াল করতেই দেশব্যাপী এখন বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চালানো হচ্ছে এই পুলিশী সাঁড়াশী অভিযান। রিজভী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক দেশব্যাপী বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতারী অভিযান, বাসায় বাসায় পোশাকধারী পুলিশ ও সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান এবং সরকারী ক্যাডারদের বেপরোয়া রক্তারক্তির শিকার হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

সারাদেশে লঞ্চ চলাচল বন্ধ

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। সোমবার বেলা পৌনে ১১টা থেকে আবারও লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
ভারি বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এরপর সকাল ১০টার দিকে আবহাওয়ার একটু উন্নতি হলে আবার লঞ্চ চলাচল শুরু হয়। কিন্তু পৌনে ১১টার দিকে আবহাওয়া আবারও খারাপ হওয়ায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

সরকার ছাত্রদল যুবদলকে ভয় পায় বলেই গুম করে : খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকার ছাত্রদল, যুবদলের নেতাকর্মীদের ভয় পায়। তারা মনে করে, তাদেরকে শেষ করে দিতে পারলেই বিএনপি শেষ হয়ে যাবে। এ কারণে যারাই আন্দোলনে নামে তাদের তারা ধরে নিয়ে যায়, গুম করে ফেলে। গত রাতে গুলশানে নিজ কার্যালয়ে সদ্য কারা মুক্ত যুবদলের নেতাকর্মীরা দেখা করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। যুবদল নেতাদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, অনেকেই অভিযোগ করে সারা দেশে তোমাদের কমিটিগুলো করা হচ্ছে না। যুবদলের ১০ বছর, ছাত্রদলের ১০ বছর হয়েছে কোনো কমিটি নেই। তাই তোমাদের এই কমিটিগুলো করতে হবে। এ সময় তিনি বিগত দিনে আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে বলেন, যারা আন্দোলন বেশি করেছে, তাদের ধরে নিয়ে যায় গুম করে ফেলে, খোঁজ পাওয়া যায় না। তারা (সরকার) ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলকে ভয় পায়। তিনি বলেন, যুবদলে আমাদের অনেক ছেলে আছে। যুবদলের কমিটি দিয়েছি; কিন্তু সবাইকে কমিটিতে স্থান দিতে পারিনি। আমি বলে দিয়েছে যারা বাদ পড়েছে তাদের মূল দল বিএনপিতে দেয়া হবে এবং যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে বলেছি। যারা যুবদলে বাদ পড়েছে তাদের বিভিন্ন জেলায় মূল দলে নিয়ে আসতে পারি। যাতে নেতৃত্ব সৃষ্টি হয়। তিনি আরো বলেন, যুবদলে জায়গা না হলে মন খারাপ করার কিছু নেই। মূল দলে যাবে, না হলে স্বেচ্ছাসেবক দল আছে সেখানে যাবে। নব গঠিত ঢাকা সিটি বিএনপির উত্তর ও দণি কমিটির কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন,
ঢাকা সিটিকে আমরা সাজিয়েছি। এখানে ছাত্রদল থেকে যারা উঠে এসেছে তারা জায়গা পেয়েছেন। আমি তাদের বলেছি সারা ঢাকা সিটিতে কমিটিগুলো করতে হবে। ঢাকাতে আগে যুবদল, ছাত্রদল কমিটিগুলোর মূল দলের সাথে যোগাযোগ ছিল না। এখন কিন্তু সবার সাথে সমন্বয় হয়। আমরা যেকোনো কর্মসূচি দেই না কেন এটা সফল কর্মসূচি হয়। তাই দেশের বিভিন্ন জেলায় কমিটিগুলোও করতে হবে। কমিটি থাকলে দল শক্তিশালী হয়।’ যুবদল নেতাদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, জেল-জুলুম, মামলা-হামলা সব আছে তার পরও নির্ভয়ে তোমারা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছ। ভবিষ্যতেও তোমরা সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালন করে যাবে। নেতাদের সাথে কর্মীদের যাতে ভালো সম্পর্ক থাকে সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেনÑ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহসভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নরুল ইসলাম নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, ঢাকা মহানগর দেিণর সভাপতি রফিকুল আলম মজনু, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহিন, মহানগর উত্তর সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক মিলটন প্রমুখ।

নিরঙ্কুশ জয় পাবে ক্ষমতাসীন দল

ব্রিটেনের আগাম নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দল। ৮ জুন অনুষ্ঠিতব্য ওই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’কেই সমর্থন দিতে যাচ্ছেন যুক্তরাজ্যের বেশিরভাগ ভোটার। ব্রিটিশ দৈনিক সানডে মিররের পক্ষে কমরেস জরিপ, সানডে টাইমসের পক্ষে ইউগভের জরিপ ও দ্য অবজার্ভারের মতামত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর দ্য ইনডিপেনডেন্টের। সানডে মিরর জানায়, যুক্তরাজ্যের ভোটারদের ৫০ শতাংশ তেরেসা মের দল কনজারভেটিভকে ভোট দেবে জানিয়েছে। ১৯৯১ সালের পর এ সমর্থন সর্বোচ্চ। জরিপ সংস্থা কমরেসের মতে, ২০০২ সালের এপ্রিলের পর যুক্তরাজ্যের কোনো দল ৫০ শতাংশ জনসমর্থন পায়নি। আর রক্ষণশীল টরি দল সর্বশেষ এত সমর্থন পেয়েছিল ১৯৯১ সালের জানুয়ারিতে। ইউগভ পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, কনজারভেটিভ দলের প্রতি ভোটারদের সমর্থন ৪৮ শতাংশ।
লেবার পার্টিকে সমর্থন দেয়ার কথা জানিয়েছেন মাত্র ২৫ শতাংশ ভোটার। দ্য অবজারভারের মতামত জরিপে তেরেসা মের দল সমর্থন পেয়েছে ৪৫ শতাংশ। আর লেবার পার্টি পেয়েছে মাত্র ২৬ শতাংশ। জেরোমি করবিন দায়িত্ব নেয়ার পর লেবার পার্টি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিভক্তিতে ভুগছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার (ব্রেক্সিট) রায়ের পর সৃষ্ট অস্থির সময়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন তেরেসা মে। ব্রেক্সিটের বিপক্ষে থাকায় গণভোটে হেরে পদত্যাগ করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। ইইউ ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে নিজের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন তেরেসা মে। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে ইউরোপের সঙ্গে ব্রেক্সিট সমঝোতার দরকষাকষি করা তার জন্য সহজ হবে।
বোরকা নিষিদ্ধের প্রতিশ্রুতি ইউকিপের : ব্রিটেনে ৮ জুনের নির্বাচনকে সামনে রেখে অভিবাসনবিরোধী দল ইউকে ইনডিপেনডেন্টস পার্টি বা ইউকিপ বোরকা নিষিদ্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আজ দলটি তাদের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো বা ইশতেহার ঘোষণা করবে। রোববার দলের নেতা পল নাটাল বিবিসিকে বলেন, তাদের ইশতেহারে মুসলিম মহিলাদের বোরকা বা নিকাব নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি থাকবে। কেউ না মানলে জরিমানা করা হবে। তিনি বলেন, জনসমক্ষে বোরকা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। ব্রিটেনে এখন নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেকে বেড়েছে, কিন্তু মুখ ঢাকা থাকলে সিসিটিভিতে তো তাকে শনাক্ত করা যাবে না। তিনি বলেন, আমি তো মুখোশ পরে বা মাথা-মুখ ঢাকা হেলমেট পরে ব্যাংকে ঢুকতে পারব না। আমি যদি না পারি, অন্যরা যদি না পারে, তাহলে কোনো একটি সম্প্রদায়ের জন্য ব্যতিক্রমী কেন হবে। নাটালের মতে, বোরকা মুসলিম নারীদের ব্রিটিশ সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত হওয়ার পথে বাধা তৈরি করছে।
তিনি বলেন, ব্রিটেনে ৫৮ শতাংশ মুসলিম নারী যে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে, তার অন্যতম কারণ বোরকা। ফ্রান্সসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে জনসমক্ষে বোরকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বোরকা নিষিদ্ধের পাশাপাশি ইউকিপ নেতা বলেন, ব্রিটেনে এখন মূল আইনের সমান্তরালে মুসলিম শারিয়াহ আইনের প্রয়োগ হচ্ছে। তার দল জিতলে তা বন্ধ করে দেয়া হবে। তিনি বলেন, এ দেশে এমন কোনো আদালত বা পরিষদ থাকতে পারে না, যেখানে নারীদের কথার দাম পুরুষের অর্ধেক। একটি উদার, গণতান্ত্রিক পশ্চিমা দেশে এটা চলতে পারে না। শারিয়াহ আদালত নিষিদ্ধের কথা বললেও রক্ষণশীল ইহুদি সমাজে প্রচলিত ধর্মীয় আদালতের বিরুদ্ধে কথা বলতে অস্বীকার করেন ইউকিপ নেতা।

আফগান সেনাদের স্মরণে জাতীয় শোক পালিত

আফগানিস্তানের একটি সেনাঘাঁটিতে তালেবান হামলায় অন্তত ১৫০ সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশটি একদিনের জাতীয় শোক পালন করেছে। প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির ঘোষণা অনুযায়ী, রোববার আফগানিস্তানজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রেখে নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। খবর বিবিসি ও এএফপির। শুক্রবার জুমার পর মাজার-ই-শরিফ শহরের ওই সেনাঘাঁটিতে চালানো হামলাটি এ পর্যন্ত দেশটির কোনো সেনাঘাঁটিতে চালানো সবচেয়ে প্রাণঘাতী জঙ্গি হামলা। শনিবার আক্রান্ত ঘাঁটিটি পরিদর্শন করেন প্রেসিডেন্ট গনি। এ সময় তিনি একদিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেন। আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ওই হামলায় শতাধিক সৈন্য নিহত অথবা আহত হওয়ার কথা জানালেও হতাহতের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে দেশটির এক সামরিক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, ওই হামলায় অন্তত ১৪০ সেনা নিহত ও বহু আহত হয়েছেন।
নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছেন অন্য কর্মকর্তারা। হামলার পর দেশটির ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট গনি। বৈঠকে সেনাঘাঁটিতে হামলার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এক বিবৃতিতে হামলার নিন্দা করে তিনি একে ‘কাপুরুষোচিত’ এবং ‘কাফেরদের’ কাজ বলে বর্ণনা করেন। ঘটনার দিন ১০ জনের মতো তালেবান জঙ্গি আফগান সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম পরে সামরিক জিপ চালিয়ে ঘাঁটিটিতে প্রবেশ করে। তারা রকেটচালিত গ্রেনেড ও স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিয়ে দুপুরের আহার গ্রহণরত ও জুমা শেষে মসিজদ থেকে বের হতে থাকা নিরস্ত্র সেনাদের ওপর নির্বিচার গুলি ছোড়ে। এ সময় কয়েকজন হামলাকারী আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় বলে জানিয়েছেন আফগান সেনা কর্মকর্তারা। ২০০৩ সাল থেকে আফগানিস্তানে তালেবানের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের হামলা চলছে। তবে এতে সশস্ত্র সংগঠনটিকে দুর্বল করা যায়নি। সম্প্রতি তালেবানরা হামলা আরও তীব্রতর করেছে।

বৃষ্টি-যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী

সকালে ঘুম ভেঙে দেখা গেলো আকাশ মেঘলা। তারপর কর্মস্থলমুখী মানুষ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামী ছাত্র-ছাত্রীরা যখন ঘর থেকে বের হবে ঠিক সে-মুহূর্তে সকালেই যেন নেমে আসল সন্ধ্যা। রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকার আজ সকালের চিত্র এটি। এরপর থেকে কখনো ভারি বর্ষণ, আবার কখনো মাঝারি বা গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। বৃষ্টিতে রাজধানীর অধিকাংশ সড়ক ডুবে গেছে। কোথাও কোথাও হাটু বা তার চেয়ে বেশি পরিমাণ জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে বিভিন্নস্থানে অভিমুখী মানুষ। তার ওপর আবার সড়কে দীর্ঘ যানজট। এ কারণে সপ্তাহের মাঝামাঝি কার্যদিবসের সকালেই বৃষ্টি ও যানজটে নাকাল হলো রাজধানীবাসী। রাজধানীর মালিবাগ, শান্তিনগর, মৌচাক, পল্টন, বাংলামোটর, কাকরাইল, ধানমন্ডি, বাড্ডা, শাহবাগ, ফার্মগেট ও বসুন্ধরা গেট এলাকাসহ বেশিরভাগ সড়ক বৃষ্টির পানি ও যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে। এতে গন্তব্যমুখী মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। বৃষ্টি আর যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসেই বসে থাকতে হয় যাত্রীদের। সোমবার সকালে আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়,
৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টায় সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা ও ময়মনসিংহের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া সারা দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তীত থাকতে পারে। আবহাওয়ার বার্তায় আরো বলা হয়, আজ সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, ঢাকা, যশোর কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে পশ্চিম ও উত্তর- পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বা কোথাও কোথাও আরো অধিক বেগে কালবৈশাখী ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বর্জসহ বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এ কারণে সারা দেশে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরো বলা হয়, উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করায় উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর সমূহকে ৩ নম্বর এবং নদী বন্দরসমূহকে ২ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকুলীয় এলাকার কাছাকাছি এসে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

সারা দেশে নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা

বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সারা দেশের সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিএ। সোমবার সকালে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মো. জয়নাল আবেদিন যুগান্তরকে জানান, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে সারা দেশের সব রুটের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে সোমবার আবহাওয়া অধিদফতরের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এজন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
সোমবার সকালে আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়, সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টায় সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা ও ময়মনসিংহের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া সারা দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তীত থাকতে পারে। আবহাওয়ার বার্তায় আরো বলা হয়, সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, ঢাকা, যশোর কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে পশ্চিম ও উত্তর- পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বা কোথাও কোথাও আরো অধিক বেগে কালবৈশাখী ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বর্জসহ বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এ কারণে সারা দেশে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হচ্ছে।

মডেল রাউধার লাশ উত্তোলন

দাফনের ২৩ দিন পর পুনঃময়নাতদন্তের জন্য মডেল কন্যা রাউধা আতিফের লাশ কবর থেকে তোলা হয়েছে। সোমবার সকাল ৯টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর হেতেমখাঁ কবরস্থান থেকে তার লাশ তোলা হয়। এর আগে সকাল ৮টার দিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডির) কর্মকর্তারা কবরস্থানে যান। সিআইডি কর্মকর্তাদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. শফি ইকবাল ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আসমাউল হক উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডা. রক্তিম চৌধুরীর উপস্থিতিতে লাশ কবর থেকে তোলা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করার পর বেলা পৌনে ১১টার দিকে লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল মর্গে নেয়া হয়। সেখানে লাশের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার দিনের মধ্যে পুনরায় দাফনের সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন সিআইডির কর্মকর্তারা। লাশের ময়নাতদন্ত করতে সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আমিরুল চৌধুরী, সিরাজগঞ্জের নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাহবুব হাফিজ এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাফিজুর রহমানকে নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। লাশ তোলার সময় কবরস্থানে রাউধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, 'প্রথম ময়নাতদন্তে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেয়া হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, তার মেয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।' দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলেও আশাবাদী ডা. মোহাম্মদ আতিফ। প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ রাজশাহীর নওদাপাড়ায় ইসলামী মেডিকেল কলেজের ছাত্রী হোস্টেল থেকে রাউধার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রাউধা এ কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। নীলনয়না রাউধা ছিলেন মালদ্বীপের একজন উঠতি মডেল। মাত্র একুশ বছরের রাউধার ছিল আন্তর্জাতিক খ্যাতি। এ ঘটনায় ওইদিনই কলেজ কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে নগরীর শাহমখদুম থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে। এরপর রামেকের মর্গেই রাউধার লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। পরে মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে গত ১ এপ্রিল রাউধার লাশ দাফন করা হয়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়, রাউধাকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ অভিযোগে গত ১০ এপ্রিল রাউধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফ রাজশাহীর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে তিনি রাজশাহীতেই অবস্থান করছেন। হত্যা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রাউধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ মামলায় রাউধার সহপাঠী সিরাত পারভীন মাহমুদকে (২১) একমাত্র আসামি করা হয়েছে। সিরাতের বাড়ি ভারতের কাশ্মীরে। মামলা হলেও এখন পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করা হয়নি।

বাজির ২৫০ টাকার জন্য কিশোরকে হত্যা

ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্রে করে দুই বন্ধুর মধ্যে বাজি। খেলা শেষে এ নিয়ে বাধে গণ্ডগোল। শেষ পর্যন্ত বাজির আড়াইশ' টাকার জন্য বন্ধুর হাতে প্রাণ হারায় বন্ধু। শনিবার পশ্চিমবঙ্গের হাওড়াতে বাজির টাকা নিয়ে বন্ধুর হাতে খুন হয় ১২ বছর বয়সী এক কিশোর। পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এর আগে শনিবার নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ও অভিযুক্ত কিশোরের বাড়ি হাওড়ার লিলুয়া পুলিশ স্টেশনের দাশপাড়া এলকায়। নিহতের বাবা কানাইয়া পোশন বলেন, 'আমার ছেলের সঙ্গে একটি ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে অন্য আরেক কিশোর বাজি ধরে। ম্যাচ শেষে ওই কিশোর বাজিতে হেরে যায়। পরে সে বাজির টাকা দিতে অস্বীকার করে।' তিনি বলেন, 'এ নিয়ে আমার ছেলের সঙ্গে তার ঝগড়া ও মারামারি হয়। পরে ওই কিশোর আমার ছেলেকে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে হত্যা করে।'

মার্কিন এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার ডুবিয়ে দেবে উ. কোরিয়া!

মার্কিন এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার ইউএসএস কার্ল ভিনসন যে কোনো মুহূর্তে ডুবিয়ে দিতে সেনাবাহিনী প্রস্তুত বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার বিপ্লবী সেনাবাহিনীর সক্ষমতা কতটা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এবার হাতেনাতে তার প্রমাণ দেয়া হবে বলেও হুমকি দিয়েছে দেশটি। খবর বাসস'র। উত্তর কোরিয়া একের পর এক পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ চালাতে থাকায় ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। এরই প্রেক্ষিতেই মার্কিন নৌসেনার কার্ল ভিনসন স্ট্রাইক গ্রুপকে কোরীয় উপদ্বীপের দিকে পাঠিয়েছে আমেরিকা। জাপানের নৌসেনাও মার্কিন নৌবহরের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। তার পরই রোববার ফের হুঁশিয়ারি দিল উত্তর কোরিয়া। কার্ল ভিনসন স্ট্রাইক গ্রুপ এই মুহূর্তে ঠিক কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স শনিবার জানিয়েছেন, 'কয়েক দিনের মধ্যেই' কোরীয় উপকূলের কাছে পৌঁছবে নৌবহরটির। রোববার উত্তর কোরিয়ার শাসক দল ওয়ার্কার্স পার্টির মুখপত্র রডং সিনমুনে লেখা হয়েছে,
'একটা মাত্র আঘাতেই যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু শক্তিচালিত এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ারটিকে ডুবিয়ে দিতে আমাদের বিপ্লবী সেনাবাহিনী প্রস্তুত।' ইউএসএস কার্ল ভিনসনে যে আঘাত হানা হবে, তাতে গোটা বিশ্ব হাতেনাতে প্রমাণ পাবে উত্তর কোরিয়া সেনাবাহিনীর সক্ষমতা ঠিক কতটা। এমন কথাও লেখা হয়েছে কোরীয় সংবাদপত্রটিতে। কোরীয় উপদ্বীপের দিকে যে মার্কিন নৌবহরটি এগোচ্ছে। সেটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জাপানি নৌসেনার দুটি যুদ্ধজাহাজও। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ মহড়া চালাবে। মার্কিন নৌসেনা সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে তেমনই একটি যৌথ মহড়া শেষ করেছে।

দিল্লিতে মহিষ বহন করায় তিন যুবককে বেধড়ক পিটুনি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে মহিষ নিয়ে যাওয়ার সময় তিন জনকে বেধড়ক পিটুনি দিয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী এক গ্রুপ। শনিবার মাঝরাতে দক্ষিণ দিল্লিতে ঘটনাটি ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই তিনজনকেই এইমস ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়েছে।
পুলিশ জানায়, রিজয়ান, কামিল এবং আসু নামে তিন যুবক গুরুগ্রাম থেকে গাজীপুর মান্ডির এক কসাইখানায় ট্রাকভর্তি মহিষ নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ খবরটা পিপলস ফর অ্যানিমেল (পিএফএ) সংস্থার কয়েকজন ব্যক্তির কাছে পৌঁছে যায়। এর পরই তারা হরিয়ানা থেকে ট্রাকটিকে অনুসরণ করতে শুরু করে। দক্ষিণ দিল্লিতে পৌঁছলে ট্রাকটিকে দাঁড় করিয়ে তাদের উপর চড়াও হয় পিএফএ কর্মীরা। বেধড়ক মার দেয়া হয় তাদের। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ওই তিন যুবককে উদ্ধার করে।

সন্তানদের সামনেই মাকে মারলেন বিমান কর্মী

মার্কিন বিমানসংস্থার ফ্লাইটে আবার যাত্রী হেনস্থার ঘটনা ঘটল। এবারে অভিযোগ আরও গুরুতর। এক নারী যাত্রীর ওপর চড়াও হয়েছেন আমেরিকান এয়ারলাইন্সের এক বিমান কর্মী। ছোট দুই শিশুকে নিয়ে বিমানে উঠেছিলেন ওই নারী। অভিযোগ, তার কাছ থেকে প্র্যামটি (শিশুকে বসিয়ে ঠেলে নিয়ে যাওয়ার গাড়ি কেড়ে নেন ওই কর্মী। এমনকি ওই নারীর গায়ে হাতও তোলেন। জখম হতে পারত শিশু দুটিও। এখানেই শেষ নয়। দুই শিশুসহ ওই নারীকে নামিয়েও দেয়া হয় বিমান থেকে। খবর এএফপির। শুক্রবার রাতে সানফ্রান্সিসকো থেকে ডালাস যাচ্ছিল বিমানটি। কিন্তু ওড়ার মুখে বিনা কারণেই ওই যাত্রীর ওপর চোটপাট শুরু করেন অভিযুক্ত বিমান কর্মী। কথা কাটাকাটি হতে হতে এক সময় হঠাৎই ওই নারীর সঙ্গে থাকা বাচ্চাদের প্র্যামটি কেড়ে নেন ওই কর্মী। দুই যমজ সন্তানকে নিয়ে তখন দিশাহারা ওই যাত্রী ভেঙে পড়েন কান্নায়। থাকতে না পেরে প্রতিবাদ করেন এক সহযাত্রী। ওই বিমানকর্মীকে বলেন, ‘আপনি যদি এটা আমার সঙ্গে করতেন, আমি আপনাকে মেরে শুইয়ে দিতাম।
আর একটু হলে আপনি একটা বাচ্চাকে আঘাত করতেন।’ এতেও দমে না গিয়ে ওই কর্মী বলেন, ‘আপনি পুরো ঘটনাটি জানেন না।’ হয়রানির এখানেই শেষ নয়। এর পরে দুই শিশুসহ ওই নারীকে বিমান থেকেই নামিয়ে দেয়া হয়। তাদের ফেলে রেখেই বাকি যাত্রীদের নিয়ে ডালাস উড়ে যায় বিমানটি। গোটা ঘটনাটি রেকর্ড করেন সুরাইন আদ্যন্তয় নামে আর এক যাত্রী। দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে ভিডিওটি। শনিবার সকালের মধ্যে প্রায় চার হাজার বার শেয়ার হয়েছে এটি। চাপের মুখে পড়ে এই ঘটনার নিন্দা করেছে মার্কিন বিমান সংস্থাটি। একটি বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘ভিডিওতে ওই মহিলার সঙ্গে যে ব্যবহার করা হয়েছে, তা একেবারেই আমাদের আদর্শের বিরোধী। আমরা যাত্রীদের সঙ্গে এই রকম ব্যবহার সমর্থন করি না।’ বিমান সংস্থাটি জানাচ্ছে, ওই কর্মীকে কাজ থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। গোটা ঘটনার জন্য ক্ষমাও চেয়ে নিয়েছে বিমান সংস্থাটি। শুরু হয়েছে তদন্ত।

পশ্চিম তীরে ইসরাইলি দখলদারদের তাণ্ডব

ইসরাইলি বাহিনীর সহযোগিতায় পশ্চিমতীরের সালফিট শহরে তাণ্ডব চালিয়েছে আট হাজার অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারী। সেখানে ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ভাংচুর ও দখল করেছে তারা। দখলকৃত এলাকায় ইহুদি রীতির ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান করেছে ওই অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা। ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার এমন একটি ভিডিও অনলাইনে ছেড়েছেন ইসরাইলের এক মানবাধিকার কর্মী। খবর আল জাজিরার। ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশ পরা ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা কেবল ফিলিস্তিনিদের নয়, পশ্চিম তীরে অবস্থানরত মানবাধিকার কর্মী ও সমাজকর্মীদেরও মারধর করেছে। পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে পাথরও নিক্ষেপ করে তারা। ইসরাইলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল সেভেনের এক খবরে বলা হয়েছে, ওই আট হাজার বসতি স্থাপনকারীর মধ্যে ফ্রান্স থেকে সম্প্রতি আসা ২৫০ ইহুদিও রয়েছে। তারা পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি গড়তে যাচ্ছে। এরই মধ্যে পশ্চিম তীরের তিনটি ঐতিহাসিক স্থানে অস্থায়ী আবাস গড়েছে তারা। তাঁবু তৈরি ও টয়লেট নির্মাণ করে তারা ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ফিলিস্তিনে অভিবাসন এবং বসতি স্থাপন অবৈধ। ২০ বছরের বিরতি শেষে সম্প্রতি অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন বসতি নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে ইসরাইলের নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিপরিষদ। পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি কমিয়ে আনতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলাকালেই বসতি সম্প্রসারণের এ বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয় ইসরাইল।
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নতুন অবৈধ বসতি অনুমোদনের নিন্দা জানিয়ে আবারও ইসরাইলকে শান্তির পথে বাধা হিসেবে শনাক্ত করেছে জাতিসংঘ। ’৯০-এর দশকের শুরু থেকে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে বেশ কয়েক দফায় শান্তি আলোচনা হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা চায় পশ্চিম তীরে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে এর রাজধানী বানাতে। ১৯৬৭ সালের আরব যুদ্ধের পর থেকে ইসরাইল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে। পূর্ব জেরুজালেমকে নিজেদের অবিভাজ্য রাজধানী বলে দাবি করে থাকে ইসরাইল। অবশ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পূর্ব জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ১৯৬৭ সালের পর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে একশরও বেশি বসতি স্থাপন করেছে ইসরাইল। পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে স্থাপিত প্রায় ১৪০টি বসতিতে ৬ লাখেরও ইসরাইলি বসবাস করে। আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এ বসতি স্থাপনকে অবৈধ বলে বিবেচনা করা হলেও তা মানতে নারাজ তেলআবিব। গত বছর ডিসেম্বরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদে এক প্রস্তাব পাস হয়। ওবামা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ ভূমিকায় পাস হওয়া ওই প্রস্তাবে বলা হয়, ‘১৯৬৭ সাল থেকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইল যে বসতি স্থাপন করে যাচ্ছে, তার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।’

মার্কিনিদের মন পেলেন না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের ১০০তম দিন ঘনিয়ে এসেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ২৯ এপ্রিল শনিবার হোয়াইট হাউসে পদার্পণের শততম দিন পালন করবেন তিনি। দিনটি উদযাপন উপলক্ষে সমর্থকদের নিয়ে বিশাল সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শনিবার এক ট্ইুট বার্তায় এ পরিকল্পনার কথা জানান ধনকুবের প্রেসিডেন্ট। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন রাজনীতিতে প্রেসিডেন্টের প্রথম ১০০ দিনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের সময় থেকে এটি গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হয়ে আসছে। সে সময় রুজভেল্ট প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার শততম দিনের মধ্যে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার টুইটার পোস্টে লিখেছেন, ‘আগামী শনিবার রাতে পেনসিলভানিয়ায় বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠান করব। সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।’ আগের দিন আরেক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘প্রথম ১০০ দিনে আমি যত ভালো কাজই করি না কেন, মিডিয়া নির্ধারিত হাস্যকর মানদণ্ডে তা ব্যর্থ হবে।’ নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্সির ১০০ দিন নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে এসেছেন। গত বছর প্রচারণার শেষ সপ্তাহে ট্রাম্প মিনেসোটা, ফ্লোরিডা, পেনসিলভানিয়া, নর্থ ক্যারোলিনাসহ বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করেন। এর প্রত্যেকটি সমাবেশে তিনি সমর্থকদের বলেছিলেন, ‘একবার কল্পনা করুন, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম ১০০ দিনে আমরা অনেক কিছুই অর্জন করতে পারি।’ ওহাইওতে রিপাবলিকান দলের কনভেনশনে নিজের প্রার্থিতা গ্রহণের বিশাল অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ক্ষমতা গ্রহণ করেই সরকারের সব বিভাগকে নির্দেশ দেব, অপ্রয়োজনীয় যত প্রকল্প চালু আছে তার তালিকা দিতে।
প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই আমি সেগুলো বাতিল করে দেব।’ এদিকে ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ১০০তম দিন উদযাপন করতে গেলেও জনপ্রিয়তা এখনও সর্বনিন্ম পর্যায়ে রয়েছে। তবে ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকদের প্রায় সবাই তার প্রতি সন্তুষ্ট রয়েছে। নতুন করে ট্রাম্পের কোনো সমর্থক বাড়েনি। ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের ১০০তম দিন পূর্তির এক সপ্তাহ বাকি থাকতে ওয়াশিংটন পোস্ট-এবিসি নিউজের এক যৌথ জরিপে দেখা যায়, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা মাত্র ৪২ শতাংশ। ১৯৪৫ সালের পর থেকে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের জনসমর্থন এত নিচুতে ছিল না। ৫৩ শতাংশ মার্কিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাজকর্মে সমর্থন দেননি। ১৯৯৩ সালে এ সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের ডিসঅ্যাপ্র“ভাল রেটিং ছিল ৩৯ শতাংশ। আট বছর আগে বারাক ওবামার ডিসঅ্যাপ্র“ভাল রেটিং মাত্র ২৬ শতাংশ ছিল। সে সময় ওবামার জনপ্রিয়তা ছিল ৬৯ শতাংশ। নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যারা ভোট দিয়েছিলেন তাদের ৯৬ শতাংশ জানিয়েছেন, ট্রাম্প ভালোভাবে দেশ শাসন করছেন। এখন আবার নির্বাচন হলে তারা ট্রাম্পকেই ভোট দেবেন। অন্যদিকে তার ভোটারদের মাত্র ২ শতাংশ মনে করেন তারা ভুল পাত্রে ভোট দিয়েছেন। এদিকে হিলারি ক্লিনটনকে যারা ভোট দিয়েছিলেন তাদের ৮৫ শতাংশ জানিয়েছেন, আবার নির্বাচন হলে তারা হিলারিকে ভোট দেবেন। এ হার ট্রাম্পের চেয়ে ১১ শতাংশ কম। সংকট মোকাবেলায় ট্রাম্পের ওপর আস্থা রাখা যায় কিনা- এমন প্রশ্নে সমগ্র জনগণের ৪৩ শতাংশ তাকে সমর্থন দিয়েছেন। অথচ এ প্রশ্নে ওবামাকে সমর্থন দিয়েছিলেন ৭৩ শতাংশ। এদিকে, প্রেসিডেন্সির ১০০তম দিন উদযাপনের ব্যয় নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার সতর্ক পদক্ষেপ নিয়েছেন। বিতর্ক এড়াতে পেনসিলভানিয়ার সমাবেশের খরচ হোয়াইট হাউস বহন করবে না। এ ব্যয় নির্বাহ করা হবে ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচন তহবিল থেকে। পরবর্তী নির্বাচনে লড়ার জন্য তিনি যে তহবিল গঠন করেছেন, সেখান থেকে এ সমাবেশের আয়োজন ও সরঞ্জামের ব্যয় সরবরাহ করা হবে। এতে ব্যানার, টি-শার্ট ও ক্যাপ থাকবে- যাতে লেখা থাকবে ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন।’

দ্বিতীয় পর্বে মুখোমুখি হচ্ছেন ম্যাক্রোঁ ও লি পেন

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম রাউন্ডে কট্টর-ডানপন্থী দল ন্যাশনাল ফ্রন্টের (এফএন) প্রার্থী ম্যারিন লি পেন ও উদার মধ্যপন্থি প্রার্থী এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জয়ী হয়েছেন। প্রাক্কলিত ফলাফলে ফ্রান্সের সাবেক  অর্থমন্ত্রী ম্যাক্রোঁ পেয়েছেন ২৩.৭ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে লি পেন পেয়েছেন ২১.৭ শতাংশ ভোট। তাদের ঠিক পরেই সমান করে ১৯.৫ ভাগ ভোট পেয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন মধ্য-ডানপন্থী রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থী ফ্রঁসোয়া ফিলোঁ এবং কট্টর-বামপন্থী প্রার্থী জঁ-লাক মেলেচঁ। ফলে দ্বিতীয় পর্বে আগামী ৭ মে মুখোমুখি হবেন ম্যাক্রোঁ ও লি পেন। খবর বিবিসি ও সিএনএনের। নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে পুলিশের ওপর চালানো প্রাণঘাতী হামলার পর কড়া নিরাপত্তায় দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম পর্বের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। প্রথম পর্বের ভোটে কোনো প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট না পাওয়ায় ৭ মে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় রাউন্ড ভোট গ্রহণ। অবশ্য ১৯৬৫ সালের পর থেকে ফ্রান্সের সবগুলো নির্বাচন দ্বিতীয় পর্বে গড়িয়েছে। বিবিসি জানায়, দেশজুড়ে নির্বাচনী বুথগুলোর নিরাপত্তায় ৫০ হাজার পুলিশ ও ৭ হাজার সন্ত্রাসবিরোধী সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়। ফ্রান্সে সম্প্রতি একের পর এক সন্ত্রাসী হামলার কারণে দেশটিতে প্রথমবারের মতো জরুরি অবস্থার মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল। প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ ভোটার এ নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য নিবন্ধিত। দেশজুড়ে ৬৬ হাজার ৫৪৬টি বুথে সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা) ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা) শেষ হয়। প্রথম পর্বের ভোটে ‘এগিয়ে চলো’ আন্দোলনের নেতা উদার মধ্যপন্থী এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর জয়ে ফ্রান্সের সবচেয়ে কম বয়সী প্রেসিডেন্টের ইতিহাস সৃষ্টি তৈরি হতে চলেছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা লি পেন জয়ী হলে তিনি হবেন দেশটির ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। যে কোন ভাবেই হোক ফ্রান্স নতুন রাজনৈতিক ইতিহাস গড়তে চলেছে। নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী ১৪ মের মধ্যে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলান্দের কাছ থেকে কার্যভার গ্রহণ করবেন।
আধুনিক ফ্রান্সের ইতিহাসে এ প্রথম ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য নির্বাচনে প্রার্থী হননি। সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলান্দের জনপ্রিয়তা তলানিতে নেমে যাওয়ায় তিনি নির্বাচনে লড়েননি। ইউরোপের ভবিষ্যৎতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধায় বিশ্বজুড়ে পর্যবেক্ষকরা এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন। ফ্রান্সের এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আন্তর্জাতিক মঞ্চেও বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রথমত, সে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে এমন অনিশ্চয়তা কখনও দেখা যায়নি। দ্বিতীয়ত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভবিষ্যৎও অনেকটা এবারের নির্বাচনের ফলের ওপর নির্ভর করছে। ম্যারিন লি পেনের মতো ইইউ ও জোটের একক মুদ্রা ইউরোবিরোধী নেত্রী ক্ষমতায় এলে এ রাষ্ট্রজোটের মৌলিক কাঠামো বড় ধাক্কা খেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ব্রিটেনের মতো ফ্রান্সও ইইউ থেকে বের হয়ে (ফ্রেক্সিট) যেতে পারে। এমন হুশিয়ারিও নির্বাচনী প্রচারণায় দেন লি পেন। ফ্রেক্সিট বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দিয়ে ‘অনলি ফ্রান্স’ (শুধু ফ্রান্স) স্লোগানে মাঠে নামেন পেন। ব্রেক্সিটের পর ফ্রান্সে অভিবাসী সংকট তীব্রতর হয়েছে উল্লেখ করে নির্বাচনী প্রচারণায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতোই অভিবাসীবিরোধী অবস্থানের ঘোষণা দেন তিনি। অন্যদিকে ম্যাক্রোঁ ইইউয়ের জোরালো প্রবক্তা। তিনি জার্মানির সমর্থন নিয়ে ইউরোপে সামাজিক সুরক্ষার কাঠামো আরও জোরদার করতে চান। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরেও গরম থাকবে ফ্রান্সের রাজনৈতিক জগত। কারণ তার ঠিক পরপরই অর্থাৎ ১১ ও ১৮ জুন সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৫৭৭ জন সংসদ সদস্যের এ নির্বাচনে প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটের ৩৪৮ আসনের মধ্যে ১৭০ জনকে সিনেট সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করবে ইলেক্টোরাল কলেজ।