Saturday, December 9, 2017

জেরুজালেম নিয়ে ক্ষোভ, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রক্রিয়ায় সৌদি আরব!

জেরুজালেমকে কেন্দ্র করে মুসলিম বিশ্ব সহ পশ্চিমা অনেক দেশ ক্ষোভে ফুঁসছে। কিন্তু সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিবাদ জানিয়েই ক্ষান্তি দিয়েছে। তারা দৃশ্যত এখন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি শান্তি প্রক্রিয়ায় ব্যাপকভাবে সমর্থন করছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনা আগে থেকেই নেয়া হয়েছে এবং তা এখন সামনে এগিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে নভেম্বরে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে রিয়াদের বৈঠকে অবহিত করেছেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি আব্বাসের কাছে এ বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছেন।
এ সব কথা বলেছেন আরবের কিছু কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়েছে, বুধবার জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন যুক্তরাস্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তাকে সতর্ক করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল এমন ঘোষণা দেয়া হলে তাতে ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে বিরোধ আরো গভীর হবে। কিন্তু তিনি সেই ঘোষণা দিয়েই দিয়েছেন। তারপর সৌদি আরবের রয়েল কোর্ট থেকে একে ‘অন্যায্য ও দায়িত্বহীনের’ মতো সিদ্ধান্ত বলে আখ্যায়িত করা হয়। বলা হয়, এর মাধ্যমে শান্তি প্রক্রিয়াকে অনেকটা পিছনে নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু ইসরাইল-ফিলিস্তিনের শান্তি স্থাপনের মার্কিন পরিকল্পনায় সৌদি আরব অংশ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন আরবের ওই কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফিলিস্তিনের চার কর্মকর্তা বলেছেন, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ও ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মধ্যে ব্যাপক দর কষাকষি হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার জামাই জারেড কুশনার ২০১৮ সালের প্রথম অর্ধাংশে একটি শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাশা করছেন। একজন কর্মকর্তা বলেছেন, নভেম্বরে রিয়াদে সাক্ষাত হয় প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ও মাহমুদ আব্বাসের। এ সময় মার্কিন প্রশাসনের শান্তি পরিকল্পনায় সমর্থন দিতে আব্বাসের প্রতি আহ্বান জানান  সৌদি আরবে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। ফিলিস্তিনের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ওই বৈঠকে মাহমুদ আব্বাসকে প্রিন্স মোহাম্মদ বলেন, ধৈর্য্য ধুরুন। আপনি ভাল খবর পাবেন। শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। ট্রাম্পের অধীনে নাটকীয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সম্পর্কে উন্নতি হয়েছে। এর একটি কারণ হতে পারে, এ দুটি দেশের নেতারা রিয়াদের ঘোর শত্রু বলে বিবেচিত ইরানকে মোকাবিলার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। ট্রাম্পের জামাই জারেড কুশনারের (৩৬) পিতা ভালভাবেই জানেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে। সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে শক্তিশালী ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন সেই কুশনর। এর ফলেই প্রিন্স মোহাম্মদ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ও তার নিজ দেশে ক্ষমতা প্রদর্শন করছেন। এ বিষয়ে রয়টার্স সৌদি রয়েল কোর্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তবে তারা কোনো মন্তব্য করে নি এ বিষয়ে। অন্যদিকে হোয়াইট হাউজ এর জবাব দিয়েছে। তারা বলেছে, মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার জন্য প্রিন্স মোহাম্মদকে বলেন নি কুশনার। এমন অবস্থায় আতঙ্কে আছেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা। অনেক আরব নেতা সন্দেহ করছেন, ফিলিস্তিনের ভবিষ্যত রাজধানী পূর্ব জেরুজালেমের দরজা এরই মধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জন্য সুযোগ সীমিত করে ইসরাইলের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন ট্রাম্প। ফলে ১৯৪৮ ও ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের ফলে যেসব মানুষ শরণার্থী হয়েছেন তাদের আর স্বভূমে ফেরার কোনো অধিকার থাকলো না। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ক্রাউন প্রিন্স যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা। আব্বাসকে বলা হয়েছে, প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে গাজায় একটি ‘ফিলিস্তিনি এনটিটি’ রখা হবে। পশ্চিম তীরের প্রশাসনিক এলাকা এ এবং বি’তে তাদের সুবিধা থাকবে এবং এরিয়া সি’তে শতকরা ১০ ভাগ এলাকায় তাদের অধিকার থাকবে।

ফখরুলকে চরম মূল্য দিতে হবে: হানিফ


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন। এ ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের জন্য তাকে (মির্জা ফখরুল) চরম মূল্য দিতে হবে।

বললেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

শনিবার (৯ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের পটিয়ায় আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, দুর্নীতিবাজ খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমানকে বাঁচাতে মির্জা ফখরুল মরিয়া। খালেদা ও তার ছেলের দুর্নীতি আড়াল করতে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমা চাইতে হবে বলেছেন।

তিনি বলেন, যারা আন্তর্জাতিকভাবে দুর্নীতিতে কুখ্যাতি অর্জন করেছে তাদের পক্ষে একজন রাজনীতিবিদ কিভাবে অবস্থান নিতে পারেন, এটা ভেবেই অবাক লাগে।’

তিনি আরো বলেন, বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ তুললেও আদালতে তা প্রমাণ করতে পারেনি। শেখ হাসিনার সরকার দেশের টাকা দিয়ে এখন পদ্মা সেতু নির্মাণ করছে।

দেশের নতুন নুতন মেগা প্রকল্প হাতে নিয়ে তিনি (শেখ হাসিনা) দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে গেছেন। বিদ্যুৎ সেক্টরে সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে বর্তমান সরকার বাংলাদেশের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিচ্ছে।

৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধী ও তাদের আশ্রয়দাতাদের যারা লালন করছে, তাদের ব্যাপারে দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি দলাদলি ভুলে নৌকার বিজয় নিশ্চতে কাজ করতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

২০১৮ সালে ২৪ দিন ব্যাংক বন্ধ

২০১৮ সালে ২২দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সাধারণ ছুটি থাকবে ২৪ দিন। মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
 
সরকার ঘোষিত ২২দিন সাধারণ ছুটির সঙ্গে ১ জুলাই ও ৩১ ডিসেম্বর ‘ব্যাংক হলিডে’ ছুটি যুক্ত হবে।
     
অন্য সাধারণ ছুটির মধ্যে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস, ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিন, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ২৯ এপ্রিল বৌদ্ধ পূর্ণিমা, মে দিবস ১ মে, ১৫ জুন পবিত্র জুমাতুল বিদা, ১৬ জুন ঈদ-উল ফিতর, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, ২২ আগস্ট ঈদ-উল আযহা, ২ সেপ্টেম্বর জন্মাষ্টমী, ১৯ অক্টোবর দুর্গাপূজা, ২১ নভেম্বর ঈদ-ই মিলাদুন্নবী, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস এবং ২৫ ডিসেম্বর যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন।
    
   
এছাড়া ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ, ২ মে শব-ই-বরাত, ১২ জুন শব-ই-কদর, ১৫ ও ১৭ জুন ঈদ-উল ফিতরের আগে ও পরের দিন, ২১ ও ২৩ আগস্ট ঈদ-উল আযহার আগে ও পরের দিন এবং আশুরায় ২১ সেপ্টেম্বর নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে।

হোয়াইট হাউজের সামনে নামাজ পড়ে প্রতিবাদ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভবন হোয়াইট হাউজের সামনে জুমার নামাজ পড়েছেন দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে আমেরিকার স্বীকৃতিদানের প্রতিবাদে তারা সেখানে নামাজ আদায় করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। খবর সাউথ চায়না মনিটর পোস্ট, টাইমস অব ইসরায়েলের।

শুক্রবার জুমার নামাজের আগে কয়েকশ মুসলিম হোয়াইট হাউজের সামনে জড়ো হন। এরপর পাটি বিছিয়ে তারা সেখানে জুমার নামাজ আদায় করেন।

নামাজ শেষে মুসল্লিরা সেখানে বিক্ষোভ করে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। এসময় বিক্ষোভকারীরা মাথায় ফিলিস্তিনিদের কেফিয়া এবং হাতে পতাকা বহন করেন। অনেকের হাতে ছিল ইসরায়েলের দখল করা পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও আল আকসা মসজিদের প্ল্যাকার্ড।

দ্য কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআ) নির্বাহী পরিচালক নিহাদ আওয়াদ এই বিক্ষোভে অংশ নেন।

তিনি বলেন, ট্রাম্প জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনের মাটির মালিক নন। তিনি ট্রাম্প টাওয়ারের মালিক। ইসরায়েলকে কিছু দিতে চাইলে এটি দিয়ে দিক।

এসময় নিহাদ আওয়াদ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খ্রিস্টান ধর্মের উগ্রপন্থী বলেও মন্তব্য করেন।
তিনি আরো বলেন, ট্রাম্পের উচিত আমেরিকার স্বার্থরক্ষায় সর্বপ্রথম কাজ করা। অন্যের লবিংয়ে তাদের ঘুঁটি হয়ে কাজ না করা।

আরেক বিক্ষোভকারী জাহিদ আল-হারশেহ বলেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত শান্তির জন্য নয়। তিনি সেখানে আরো গণ্ডগোল তৈরি করছেন। এতে মুসলিম বিশ্বের মনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

বুধবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

ওই ঘোষণার পরই ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীরে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েল গাজায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে কমপক্ষে দুই জন নিহত ও ২৫০ লোক আহত হয়েছে।

বেগম রোকেয়া দিবসে গুগলের ডুডল

আজ ৯ ডিসেম্বর শনিবার বেগম রোকেয়া দিবস। উনবিংশ শতাব্দীর একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। ১৮৮০ সালের এই দিনে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। গুগল ডুডলে আজকের দিনটি উৎসর্গ করা হয়েছে বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূতের সম্মানে।

তার প্রকৃত নাম 'রোকেয়া খাতুন' এবং বৈবাহিক সূত্রে নাম 'রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন'। তার বাবা জহীরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের সম্ভ্রান্ত জমিদার ছিলেন। তার মা রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানী।

রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও রোকেয়া নারী জাগরণের অগ্রদূতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। উনবিংশ শতাব্দীর একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক তিনি। ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

যে সময় এ উপমহাদেশে নারীদের শিক্ষা অর্জনের কথা ভাবাই যেত না, সে সময় বেগম রোকেয়া পরিবার ও সমাজের সমস্ত প্রতিকূলতা ডিঙ্গিয়ে শিক্ষার্জনে ব্রতী হন। তার সেই সাধনার পথ ধরেই রচিত হয় নারী শিক্ষার পথ। তারপর দিনে দিনে প্রশস্ত হয় সেই পথ। তারই ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশেও আজ শিক্ষা ও সব ধরনের কর্মক্ষেত্রে নারীদের সদম্ভ পদচারণা আমাদের দেশের উন্নয়নকে তরান্বিত করছে।

তৎকালীন মুসলিম সমাজব্যবস্থা অনুসারে বেগম রোকেয়া ও তার বোনদের বাইরে পড়াশোনা করতে পাঠানো হয়নি। তাদের ঘরে আরবি ও উর্দু শেখানো হয়। তবে রোকেয়ার বড় ভাই ইব্রাহীম সাবের আধুনিকমনস্ক ছিলেন। তিনি তার দুই বোন রোকেয়া ও করিমুন্নেসাকে ঘরেই গোপনে বাংলা ও ইংরেজি শেখান।

১৮৯৮ সালে বেগম রোকেয়ার বিয়ে হয় খান বাহাদূর সাখাওয়াত হোসেনের সাথে। তিনি ছিলেন উর্দুভাষী। তা সত্ত্বেও তিনি রোকেয়াকে শিক্ষা এবং সাহিত্য সাধনায় অনুপ্রেরণা দিতেন। ১৯০২ সালে রোকেয়া লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ‘পিপাসা’ রচনার মধ্য দিয়ে।

১৯০৯ সালে সাখাওয়াত হোসেন মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পাঁচ মাসের মাথায় বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ‘আঞ্জুমানে খাওয়াতিন’ নামে একটি ইসলামি নারী সংগঠনেরও প্রতিষ্ঠাতা।

বেগম রোকেয়ার উল্লেখিত রচনাসমূহ হলো ‘পিপাসা (১৯০২)’, ‘মতিচূর (১৯০৪)’, ‘সুলতানার স্বপ্ন (১৯০৮)’, ‘সওগাত (১৯১৮)’, ‘পদ্মরাগ (১৯২৪)’ ও ‘অবরোধবাসিনী (১৯৩১)’।
বেগম রোকেয়ার জন্মলগ্নে মুসলমান সমাজ ছিল নানাবিধ কুসংস্কারে আকণ্ঠ নিমজ্জিত ।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আলাদা বাণী দিয়েছেন।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রোকেয়া পদক-২০১৭ প্রদান ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে প্রধান অতিথি থাকবেন।

দিবসটি পালন উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আগামীকাল রোববার বিকেল ৪টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা প্রদান করবেন অধ্যাপক সোনিয়া নিশাত আমিন। সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক পারভীন হাসান।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ঢাকায় ও শাখাগুলোতে আলোচনা সভা, সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।

এছাড়া বেগম রোকেয়ার জন্মস্থান রংপুরের পায়রাবন্দে দিবসটি পালন উপলক্ষে বেগম রোকেয়া ফোরাম দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

শিক্ষিত মা ব্যতীত একটি শিক্ষিত জাতি গড়া অসম্ভব: রিজিয়া রেজা


নিজস্ব প্রতিবেদন: শিক্ষিত মা ব্যতীত একটি শিক্ষিত জাতি গড়া অসম্ভব আর শিক্ষিত জাতি ছাড়া উন্নতশীল রাষ্ট্র গড়া সম্ভবপর নয় বলে জানালেন বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক বিশিষ্ট নারী নেত্রী রিজিয়া রেজা চৌধুরী।

শনিবার ছদাহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় রিজিয়া রেজা চৌধুরী আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধার চেতনায় একটি উন্নতশীল রাষ্ট্র গড়তে মায়েরা সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।

ছদাহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি  আজাদ হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের  যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমদ লিটন, ১৫ নং ছদাহা ইউনিয়নের  চেয়ারম্যান মোসাদ হোসেন চৌধুরী, সাতকানিয়া মহিলা নারী নেত্রী নার্গিস আক্তার মুন্নি, সম্পা দেবে সোমা, রেহানা আক্তার, হামিদা বেগম, সাতকানিয়া উপজেলা তাঁতী লীগের সভাপতি সোহাব হোসেন মিন্টি এবং  সাধারন সম্পাদক মো. বেলালসহ ছদাহা ইউনিয়নের সদস্যবৃন্দ ।

মোদিকে সরাতে পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি!

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অভিযোগ করেছেন, তাকে সরিয়ে দিতে পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা মণিশঙ্কর আয়ারের বিরুদ্ধে তিনি এই অভিযোগ তুলেছেন। খবর এনডিটিভির।

মোদি অভিযোগ করে বলেন, পাকিস্তানে গিয়ে আমাকে সরানোর জন্য চুক্তি করেছিলেন মণিশঙ্কর।

তিনি বলেন, আমাকে সরিয়ে দেয়ার মানে কি? আমার অপরাধ কী? আমার প্রতি জনগণের আশীর্বাদ রয়েছে এটাই কী দোষ? আমাকে সরানোর চুক্তিতে জনগণ ভীত নয়। গুজরাট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের একদিন আগে গতকাল শুক্রবার রাজ্যটির বানাসকান্তায় এক সমাবেশে এই অভিযোগ করেন নরেন্দ্র মোদি।

ইতোমধ্যে আয়ারকে দল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করায় সাময়িক বরখাস্ত করে কারণ দর্শানোর নোটিসও দেয়া হয়েছে।

গতকাল গুজরাটে এক সমাবেশে কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর পদকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে। কংগ্রেস সবসময় প্রধানমন্ত্রীর পদকে সম্মান করে। এজন্য মণিশঙ্কর আয়ারকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানি একটি নিউজ চ্যানেলে প্যানেল আলোচনায় আয়ার বলেন, ভারত-পাকিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য ‘মোদিকে সরিয়ে দিতে’ হবে।

সিভাসুর’র ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে মুক্তিযোদ্ধা ও উপজাতীয় কোটসহ ২৪৫ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে মেধা তালিকায় এবং ২৬৬ জনকে অপেক্ষমান তালিকায় রাখা হয়েছে।
শুক্রবার (০৮ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে সিভাসুর ওয়েবসাইটে (www.cvasu.ac.bd) এ ফলাফল প্রকাশ করেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিভাসুর জনসংযোগ ও প্রটোকল অফিসের উপ-পরিচালক খলিলুর রহমান  জানান, সিভাসুর নির্ধারিত তিন অনুষদের ২৪৫ আসনে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় ৮৮৫৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৫২৭ জন অংশগ্রহণ করেছে। এরমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ও উপজাতীয় কোটাসহ ২৪৫ জনকে মেধাতালিকায় রাখা হয়েছে এবং ২৬৬ জন অপেক্ষমান তালিকায় রাখা হয়েছে।

মেধা তালিকা উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আগামী ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর মূল সনদ, ট্রান্সক্রিপ্ট, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল রেজিস্ট্রেশন কার্ড, প্রবেশপত্র, ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র এবং ৪ কপি পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত রঙিন ছবিসহ সাক্ষাতকারে অংশ নিতে হবে। পরে শূন্য আসন থাকা সাপেক্ষে ১৯ ডিসেম্বর বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত মেধাক্রমের ভিত্তিতে অনুষদ পরিবর্তন করতে পারবে।’

’শূন্য আসন সাপেক্ষে ২০ ডিসেম্বর দুপুর ২টা থেকে অপেক্ষমান তালিকা থেকে মেধাক্রমের ভিত্তিতে সাক্ষাতকার নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সিভাসুর ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ (১০০), ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদ (৮০) এবং ফিশারিজ অনুষদে (৬৫) মোট ২৪৫ টি আসনে ভর্তির সুযোগ রয়েছে।

কী করছেন শাকিব খান?

দেশের শোবিজ পাড়ায় এখন আলোচিত বিষয় শাকিব-অপুর বিচ্ছেদ। বিষয়টি নিয়ে নিরব ভূমিকায় রয়েছেন শাকিব। গত ২২ নভেম্বর তালাকানামায় সাক্ষর করার পর থেকে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

শাকিব-অপুর ডিভোর্স নিয়ে যখন তুমুল আলোচনা ছড়িয়েছে পাড়ার চায়ের দোকান থেকে অভিজাত পাড়ায়, তখন শাকিব খান ভারতের হায়দরাবাদের রামোজি ফিল্ম সিটিতে ব্যস্ত রয়েছেন নোলক সিনেমার শুটিংয়ে। তরুণ নির্মাতা রাশেদ রাহা পরিচালনা করছেন ছবিটি।

এই সিনেমায় ভিন্ন লুকে দেখা যাবে শাকিব খানকে। তার সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন গ্ল্যামার কন্যা ববি। পুরো ডিসেম্বর মাসজুড়ে ছবিটির শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকছেন শাকিব-ববি। আগামী ২৫ ডিসেম্বর শুটিং শেষ হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে নোলক ছবিতে কেমন দেখাবে শাকিবকে? নির্মাতা রাশেদ রাহা তার ফেসবুকে নোলক সিনেমার শাকিব খানের ছবি প্রকাশ করেছেন। সেখানে ভিন্ন লুকে দেখা গেছে তাকে।

মূলত ট্রেলার, টিজার দেখে সিনেমা সম্পর্কে দর্শক যেমন আগাম ধারণা পান, ঠিক তেমনি ফার্স্ট লুক দেখেও সিনেমাটি দেখার ব্যাপারে আগ্রহী হন। সিনেমা মুক্তির আগে তাই ভিন্ন লুকের শাকিবকে পাওয়া গেলো।

এই ছবি দেখে নোলক সিনেমায় শাকিব খানের চরিত্র সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাবেন দর্শক। এই সিনেমায় শাকিব খানকে একেবারে নতুন রূপে দেখা যাবে। সিনেমায় তিনি মোটরবাইক রেসিং করবেন।

পরিচালক রাশেদ রাহার প্রথম সিনেমা নোলক। শাকিব খান ও ববি ছাড়া নোলক সিনেমায় আরও আছেন মৌসুমী, ওমর সানী প্রমুখ।

ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী পাখি মেলা


চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলীস্থ ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে দিনব্যাপী পোষা পাখির মেলা। 
 
শনিবার সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. ইকবার বাহার, প্রফেসর ড. এ.কে.এম. সাইফুদ্দীন, প্রফেসর ডা. মো. রায়হান ফারুক, প্রফেসর ড. ভজন চন্দ্র দাস ও ডা. মো. সাদ্দাম হোসেন।

ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি তৃতীয় পাখি মেলা ও কবুতর, সৌখিন মাছ এবং পোল্ট্রি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়।

এবারের প্রদর্শনীতে  বিভিন্ন প্রজাতির ৩০০টি পোষা-পাখি, ২৫০টি সৌখিন কবুতর, ২০টি রেসার কবুতর এবং ৩০টি হাই ফ্লাইয়ার কবুতর প্রদর্শিত হচ্ছে।

মেলায় প্রদর্শিত পাখিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- বাজেরিগার, কুনোর, লরি, ককাটাইল, ফিঞ্চ, জাভা, কাকাতুয়া, ম্যাকাও, ব্লু-হেডেড ম্যাকাও, কেকালিনা কাকাতুয়া, গ্রে-প্যারট, র‌্যাম্প, ক্রিমসন, ভেলিট কুনোর, রুবিনো, রোজিলা, মিলি রোজেলা, ক্লু-ক্রাউন কুনোর, রেডলরি ও ক্যাটরিন লরি ইত্যাদি।
.

মেলায় প্রদর্শিত কবুতরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-কবুতর কিং, লাহোরি, জেকোবিন, বোখারা, আমেরিকান ফেনটেইল, হাউজ পিজিওন, পোমারিয়ান পোটার, ফিন্ডব্যাক, সর্ট ফেইস, লং ফেইস, হোয়াইট টপ বোখারা, মন্টেনা, ফ্রেঞ্চ মন্ডেইন, মংক কোমরনা, মুক্ষী, সাটিন, পেন্সিল বল, রেন্টি, আর্চ-এঞ্জেল, গ্রিজেল, ব্লু-চেক,কাচুরী, নোল্ডেন, ম্যাকপাই পোর্টার জাতের কবুতর প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর পাখি মেলার আয়োজন একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এতে করে পাখি পালনে সবাই উদ্ধুদ্ধ হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে দিন দিন ধান উৎপাদন বাড়লেও গো খাদ্য কমে যাচ্ছে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে মুরগী, মাছের মতো রেডিমেট গো খাদ্য উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়ার জন্য আহ্বান জানান। এটি করতে পারলে গবাদি পশু পালনে মানুষ উদ্ধুদ্ধ হবে।


চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, এসোসিয়েশন অব এভিয়ান ভেটেরিনারিয়ান, চিটাগাং বার্ড ব্রিডার্স এসোসিয়েশন ও চট্টগ্রাম ফেন্সী পিজিয়ন ব্রিডার্স এসোসিয়েশন যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী কাঁদলেন

মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের স্মৃতিচারণ করে কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বেগম রোকেয়া পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের বক্তব্যের পেছনে তার মায়ের ভূমিকা, ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করেন।

বাবা-মা, ভাই-বোনসহ পরিবারের প্রায় সবাইকে হারানোর সেই রাতটার কথা মনে করে এসময় তিনি কিছু মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যান।

আবেগরুদ্ধ কণ্ঠে কম্পিত গলায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই ঘটনার কথা মনে পড়লে ঠিক থাকতে পারি না।

এসময় দর্শক-সারিতে অনেককেই চোখ মুছতে  দেখা যায়।

রাজধানীর ওসমানি মিলনায়তনে এই পদক প্রদান অনুষ্ঠিত হয়। 

প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেই রাতে (১৫ আগস্ট) আমার মাকে হত্যাকারীরা নিয়ে যেতে চেয়েছিলো। কিন্তু তিনি তাদের সাথে যাননি। বরং তার স্বামী বঙ্গবন্ধুর সাথে মৃত্যুকেই বেছে নিয়েছিলেন।

“কোন সাধারণ নারী হলে হয়তো বাঁচার চেষ্টা করতো। কিন্তু তিনি মৃত্যুকেই আলিঙ্গন করেছেন।”

তিনি বলেন, আমার মা এভাবে নিজের জীবন দিয়েছিলেন। আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে নারী সমাজের অবদান রয়েছে। আমার মা সব সময় রাজনীতির ক্ষেত্রে এবং স্বাধীনতা অর্জনের বিষয়ে পাশে থেকে বাবাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী ৭ই মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণের প্রসঙ্গেও কথা বলেন।

তিনি বলেন, সেই ভাষণের আগে অনেকেই বঙ্গবন্ধুকে নানা ধরণের বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়েছিলো। কিন্তু বেগম ফজিলাতুন্নেছাই বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, তোমার মনে যা আসে তুমি তাই বলবে, কারণ তুমি এই বাঙলার মানুষদের জন্য এতদিন সংগ্রাম করেছো। তুমি জানো কি বলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী এসময় সবাইকে অবহেলিত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে নারী পুরুষ সবার সমান সহযোগিতা দরকার বলে জানান।

শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট করছে সোশ্যাল মিডিয়া : জাফর ইকবাল

পড়াশোনায় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট করছে সোশ্যাল মিডিয়া। টেকনোলজি ব্যবহার করতে হবে, তবে টেকনোলজি যেন আমাদের ব্যবহার না করে।

কিন্তু দেখা যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াই শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নিয়ন্ত্রণ করছে। শিক্ষার্থীরাসহ অভিভাবকদের এ বিষয়ে খুব ভালো মতো খেয়াল রাখতে হবে।

চিলড্রেনস ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড শীর্ষক সেমিনারে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এ কথা বলেন লেখক ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৭-এর তৃতীয় দিনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও সময় দুটাই কেড়ে নিচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অযথা সময় ব্যয় না করে মস্তিষ্ককে সঠিক কাজে লাগাতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, সবাইকে বই পড়তে হবে, বই পড়ার দিকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। বাবা-মাকে খুশি রাখতে বই পড়তে হবে।

মা-বাবা যদি বই পড়তে না দেন তাহলে রাতে টর্চলাইট জ্বালিয়ে বা বাথরুমে গিয়ে হলেও বই পড়তে হবে। বাবা-মা ভালো রেজাল্ট

চায়, একটু ভালো করে পড়লেই ভালো রেজাল্ট করা সম্ভব।

রোকেয়া দিবস আজ

বেগম রোকেয়া দিবস আজ। বেগম রোকেয়া ছিলেন বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত। এই মহীয়সী নারীর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর সরকারিভাবে দিবসটি পালন করা হয়।

বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুর থানার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও তিনি নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে কাজ করে গেছেন।

এ উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় রোকেয়া দিবস উপলক্ষে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রোকেয়া পদক-২০১৭ প্রদান ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি থাকবেন।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা বাণী দিয়েছেন। প্রদত্ত বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বেগম রোকেয়া নারীমুক্তি, সমাজ সংস্কার ও প্রগতিশীল আন্দোলনের পথিকৃৎ। সামাজিক নানা বিধিনিষেধ, নিয়ম-নীতির বেড়াজাল অগ্রাহ্য করে বেগম রোকেয়া আবির্ভূত হন অবরোধবাসিনীদের মুক্তিদূত হিসেবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি মুসলমানদের নবজাগরণের সূচনালগ্নে নারী শিক্ষা ও নারী জাগরণে তিনিই প্রধান নেতৃত্ব দেন। সাহিত্যচর্চা, সংগঠন পরিচালনা ও শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে বেগম রোকেয়া সমাজ সংস্কারে এগিয়ে আসেন এবং স্থাপন করেন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বেগম রোকেয়ার আদর্শ, সাহস, কর্মময় জীবন নারী সমাজের এক অন্তহীন প্রেরণার উৎস।’

এছাড়া বাংলা একাডেমি আগামীকাল রবিবার বিকেল ৪টায় কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

১৮৯৮ সালে বেগম রোকেয়ার বিয়ে হয় খান বাহাদুর সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে। তিনি ছিলেন উর্দুভাষী। তারপরও তিনি রোকেয়াকে শিক্ষা ও সাহিত্য সাধনায় অনুপ্রেরণা দিতেন। ১৯০২ সালে রোকেয়া লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ‘পিপাসা’ রচনার মধ্য দিয়ে।

১৯০৯ সালে সাখাওয়াত হোসেন মারা যান। স্বামীর স্মৃতি ধরে রাখতে তিনি বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ‘আঞ্জুমানে খাওয়াতিন’ নামে একটি ইসলামি নারী সংগঠনও প্রতিষ্ঠা করেন।

বেগম রোকেয়ার উল্লেখিত রচনাসমূহ হলো পিপাসা (১৯০২), মতিচূর (১৯০৪), সুলতানার স্বপ্ন (১৯০৮), সওগাত (১৯১৮), পদ্মরাগ (১৯২৪) ও অবরোধবাসিনী (১৯৩১)।

শাকিব-অপুর বিয়ের তারিখ কোনটি?

চলচ্চিত্রে অপু বিশ্বাসের ক্যারিয়ার শুরু ২০০৫ সালে। ২০০৮ সালে শাকিব খানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অপু। ৯ বছর গোপন রাখার পর চলতি বছরের ১০ এপ্রিল একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে বিয়ে ও সন্তানে খবর প্রকাশ করেন এই নায়িকা।

সেসময় তিনি জানান, ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় তাদের। এবার জানা গেলো নতুন তথ্য। গত ২২ নভেম্বর অপু বিশ্বাসকে আইনজীবীর মাধ্যমে তালাকনামা পাঠিয়েছেন শাকিব খান। সেই তালাকনামায় শাকিব বিয়ের তারিখ উল্লেখ করেছেন ২০০৮ সালের ১৬ মার্চ। এতে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি!

শাকিব-অপুর বিয়ে  হয়েছে, ১৮ এপ্রিল নাকি ১৬ মার্চ? বিষয়টি নিয়ে শাকিব-অপুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শাকিব খান এখন ভারতে ‘নোলক’ সিনেমার শুটিং করছেন। অন্যদিকে বিবাহবিচ্ছেদের বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলার জন্য সময় চেয়েছেন অপু বিশ্বাস। আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানাবেন তিনি।

গত ২২ নভেম্বর তালাকনামায় সাক্ষর করার পর থেকে পুরো প্রক্রিয়াটি আইনজীবীর উপর ছেড়ে দিয়েছেন শাকিব। তিনি এই বিষয়ে কোনো কথা বলছেন না।

শাকিব খানের আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলাম জানান, গত ২২ নভেম্বর শাকিব খান তার চেম্বারে গিয়ে বিবাহ বিচ্ছেদের কাগজে স্বাক্ষর করেন। শাকিবের পক্ষ থেকে ওই দিনই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মেয়রের কার্যালয়, অপু বিশ্বাসের ঢাকার নিকেতনের বাসা এবং বগুড়ার ঠিকানায় ওই তালাকের নোটিশ পাঠানো হয়। এই তালাক কার্যকর হবে নোটিশ পাঠানোর তারিখ থেকে তিন মাস পর।

অপুর ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) তালাকনামা হাতে পেয়েছেন অপু। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করছেন। তারপরই নিজের বক্তব্য জানাবেন তিনি।

অস্ত্রসহ বিমানবন্দরে আটক, তারপর কী হলো?

ঘোষণাবিহীন পিস্তল ও ম্যাগাজিন-ভর্তি গুলিসহ হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রী আটকের ঘটনায় কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আটক যাত্রী প্রভাবশালী হওয়ার কারণে পুলিশকে ম্যানেজ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়া হয়। সূত্র জানায়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে হংকংগামী যাত্রী আজমত রহমান (পাসপোর্ট নং-বিএম-০০৩৬৩৯১) তিন নম্বর গেটের স্ক্যানিং মেশিন অতিক্রম করে বোর্ডিং ব্রিজ ৬ দিয়ে পার হওয়ার সময় নিরাপত্তা তল্লাশির মুখে পড়েন। এ সময় তার সাথে থাকা ল্যাপটপ ব্যাগ স্ক্যানিং করে একটি ওয়ালথার পিস্তল ও ৮ রাউন্ড গুলি দেখতে পান নিরাপত্তাকর্মীরা। সাথে সাথে বিষয়টি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা শাখাকে জানানো হলে তোলপাড় শুরু হয়। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে হাজির হন। এরপর বিমানবন্দরের উপ-নিরাপত্তা কর্মকর্তা (ডিএসও) ওই যাত্রীকে আটক করেন। এ ঘটনায় ওই রাতেই বিমানবন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। থানা পুলিশ সেটিকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে গ্রহণ করে (নং-৭৫৪, তাং ১৬-০২-১৭ইং)। পুলিশ ওই যাত্রীকে আটক দেখায়। এরপর তাকে ছাড়ানোসহ ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য রাতজুড়ে বিভিন্ন মহলে দেনদরবার শুরু হয়। পরদিন ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রচার হলেও পুলিশ তদবিরের মুখে যাত্রীকে ছেড়ে দেয়। বিমানবন্দরে নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাধারণত উড়োজাহাজে ঘোষণা ছাড়া কোনো আগ্নেয়াস্ত্র বহন করা নিষিদ্ধ এবং আইনত অপরাধ। এ ক্ষেত্রে কোনো যাত্রী তার লাইসেন্সকৃত অস্ত্র বহন করতে হলে তাকে আগেই কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়ার নিয়ম রয়েছে; কিন্তু এ ক্ষেত্রে ওই যাত্রী কোনো নিয়ম ফলো করেননি, যা তিনি অপরাধ করেছেন। সূত্র জানায়, অস্ত্রসহ আটক ওই যাত্রীর পিতা ফারমার্স ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান। আর যাত্রী আজমত রহমান ওই ব্যাংকের পরিচালক। পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলে জোর তদবির করে থানা পুলিশের সাথে সমঝোতা করে আটক যাত্রীকে অস্ত্র-গুলিসহ ছাড়িয়ে আনা হয়। যাত্রীকে জিম্মায় ছেড়ে দেয়ার সময় থানায় দায়িত্বে ছিলেন এসআই সুকান্ত সাহা। তিনি ছেড়ে দেয়ার সময় থানার জিডি বইয়ে (নং ৭৬৯) উল্লেখ করেন, যাত্রী আজমত রহমানকে তার পিতার জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হলো। তিনি জিডিতে আরো উল্লেখ করেন, পুলিশের উত্তরা জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিধান ত্রিপুরার মৌখিক আদেশে আটক যাত্রীকে ছেড়ে দেয়া হয়। এ বিষয়ে এসআই সুকান্ত সাহা জানান, আটক যাত্রীর অস্ত্র ও গুলির লাইসেন্স ছিল। এই অস্ত্রগুলো সাথে রাখা তার মৌলিক অধিকার। ভুলবশত সাথে করে তিনি এগুলো নিয়ে বিদেশ যাচ্ছিলেন। অনৈতিক কিছুই ছিল না। এ কারণে আটক যাত্রীকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিমানবন্দরে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে।

দেশকে বধ্যভূমিতে পরিণত করা হয়েছে : খালেদা জিয়া

বাংলাদেশে এখন ভয়াবহ দুঃসময় বয়ে চলছে মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পূর্বাপর বাংলাদেশকে বধ্যভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। বর্তমান অবৈধ ক্ষমতাসীন জোট সীমাহীন রক্তপাত ও বেপরোয়া নিপীড়ন নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে জনগণের সকল গণতান্ত্রিক অধিকারকে হরণ করে নিয়েছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার মানবাধিকারের পরিপূরক। অথচ বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মানবাধিকার শূণ্যের নিচে অবস্থান করছে। আগামীকাল রোববার আন্তজার্তিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে বেগম জিয়া এসব বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মৌলিক মানবিক অধিকার হারা নির্যাতিত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জ্ঞাপন করে বলেন, যারা বাক, ব্যাক্তি, চিন্তা, প্রার্থনা, মূদ্রণসহ নাগরিক স্বাধীনতার জন্য সোচ্চার হতে গিয়ে ক্ষমতাসীন স্বেচ্ছাচারী গোষ্ঠির নৃশংস নিপীড়নে আত্মদান করেছেন তাদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। খালেদা জিয়া বলেন, আজো বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে মানুষ একদলীয় স্বেচ্ছাচারী শাসন, গোষ্ঠী, বর্ণ ও জাতিগত সংঘাতে অবলীলায় খুন ও গুপ্ত হত্যার শিকার হচ্ছে এবং অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। জাতিসংঘের সার্বজনীন ঘোষণায় বলা হয়েছে বিশ্বের সব জাতির সকল মানুষের মানবাধিকার সংরক্ষণের নিশ্চয়তা থাকতে হবে। কিন্তু দেশে দেশে নিষ্ঠুর স্বৈরাচারী শাসকেরা জাতিসংঘ কর্তৃক মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণার নির্দেশনাগুলোকে তাচ্ছিল্য করে নিজ দেশের জনগণের উপর চালিয়ে যাচ্ছে বর্বোরোচিত আক্রমণ। শুধু ক্ষমতাকে চিরস্থায়ীভাবে ধরে রাখার জন্য জনমতকে অগ্রাহ্য করতে হয়, আর সেজন্য এই সকল গণবিরোধী শাসক গোষ্ঠী জনগণের মানবাধিকারের তোয়াক্কা করেনা। সুতরাং দুঃশাসনের অচলায়তন তৈরী করতে গিয়ে তারা প্রতিবাদি জনগণের ওপর নামিয়ে আনে পৈশাচিক উৎপীড়ন। যারা সত্য উচ্চারণ করতে চায় তারা রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজিবিসহ নাগরিক সমাজের যেই হোকনা কেনো, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয় এবং কারাবাস, শারিরিকভাবে নির্যাতনসহ জখম, হত্যা ও গুমেরও শিকার হতে হয়। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এখন ভয়াবহ দুঃসময় চলছে। এদেশে শুধু বিরোধীদলের নেতাকর্মীরাই শুধু নয়, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক, নারী, শিশুসহ কারোই কোনো নিরাপত্তা নেই। এদের অধিকাংশই গুম, গুপ্ত হত্যা এবং বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হচ্ছেন। সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলেই বিরোধীদলের নেতাকর্মীরা ছাড়াও দল নিরেপক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষক, টকশো আলোচকদের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে এবং কাউকে কাউকে কারান্তরীণও করে রাখা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘মানবাধিকার দিবস’ এর এ বছরের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে “আমাদের অধিকার, আমাদের স্বাধীনতা; সর্বদা”। বর্তমানে বাংলাদেশে জনগণের না আছে নাগরিক স্বাধীনতা, না আছে মৌলিক মানবিক অধিকার। সুতরাং এই নৈরাজ্যকর দুঃশাসনের ছোবল থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের এই মুহুর্তে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। দেশের মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য জনগণের মিলিত কন্ঠের আওয়াজ তুলে বর্তমান অপশাসনের অবসান ঘটাতে হবে। জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকার দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গিকার।

সৌদিতে প্রথম কোনো নারীর কনসার্ট

ইতিহাস গড়লেন লেবানিজ শিল্পী হিবা তাওয়াজি। সৌদি আরবের ইতিহাসে প্রথম কোনো নারী হিসেবে কনসার্টে গান গেয়েছেন তিনি। খবর নিউজউইক, আরব নিউজের।

বুধবারের ওই আয়োজনের সঙ্গী হয়েছিলেন দেশটির হাজারো সৌদি তরুণী। হিবার কণ্ঠে গাওয়া হোয়াইটনি হাউসটন এবং সেলিনা ডিওনের মতো শিল্পীদের জনপ্রিয় গানগুলোর সঙ্গে চুল ঝাঁকিয়ে নেচে তালও মিলিয়েছিলেন তারা। সমবেত তরুণীদের উদ্দেশে কনসার্টের এক পর্যায়ে হিবা বলেন, ‘নারী ক্ষমতা’।

হিবাকে স্বাগত জানানোর সময় উপস্থাপক বলেন, সৌদি আরবের জন্য এটা অত্যন্ত গর্বের একটা সময়। সৌদি আরবে কোনো কনসার্টে এই প্রথম কোনো নারী গাইছেন। প্রত্যেক নারীর উচিত এটির প্রশংসা করা।

সৌদি আরবকে ‘আধুনিকায়ন ও পুনর্গঠন’র যে চেষ্টা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান করছেন, এ কনসার্টকে সেটিরই আরেকটি প্রমাণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

গেলো জুনে ক্ষমতা পাওয়ার পর থেকে সৌদি আরবে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন করছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সেপ্টেম্বরে তিনি ঘোষণা দেন, শিগগিরই সৌদিতে গাড়ি চালানোর অনুমতি পাবেন নারীরা।

সৌদির এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, এটা ভালো খবর যে, শেষ পর্যন্ত নারীদের অস্তিত্ব স্বীকার করা হচ্ছে।

এক তরুণের একক সংগ্রাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওয়ালিদ আশরাফ গত ২৫ নভেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে এককভাবে অনশন করছেন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বা কর্তৃপক্ষের কোনো পর্যায় থেকে কোনো রকম ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তো দেখাই যায়নি, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ওয়ালিদের ছাত্র পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁর সমর্থনে এগিয়ে আসা বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের কর্মীদের কার্যক্রমকে ‘নৈরাজ্য’ বলে চিহ্নিত করে এর মধ্যে ‘বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা’ খুঁজে পেয়েছেন (প্রথম আলো, ৪ ডিসেম্বর ২০১৭)। এই মন্তব্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আচরণ বিস্ময়কর না হলেও দুর্ভাগ্যজনক। গত কুড়ি বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে ছয়জন শিক্ষক বিভিন্ন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থানের ভিন্নতা থেকেছে, কিন্তু তাঁরা কেউই ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করেননি। বড়জোর তফসিল ঘোষণা করে তা থেকে পিছিয়ে এসেছেন; ফলে এ নিয়ে বর্তমান প্রশাসনের অবস্থান ভিন্ন বা নতুন কিছু নয়, তাতে বিস্ময়ের উদ্রেক হয় না। তবে এটা ইতিবাচক যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই দাবির পক্ষে সরব হয়ে উঠছেন, তাঁদের পক্ষ থেকে সমাবেশের আয়োজন হয়েছে। এই সমাবেশে এবং ওয়ালিদের অনশনের প্রতি সমর্থন ও সংহতি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কেউ কেউ; এর বাইরেও সমর্থনের লক্ষণ দেখা গেছে। তবে এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এক বড় অংশ সরব হয়নি, তার কারণ বোধগম্য। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষমতাসীন দলের শিক্ষার্থীদের আধিপত্য সর্বজনবিদিত; অতীতে ক্ষমতাসীনদের জন্য অস্বস্তিকর প্রতিবাদগুলো মোকাবিলা করার যে পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে, তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এর পাশাপাশি কেউ কেউ এ কথাও বলছেন যে ডাকসু নির্বাচন কেবল ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্তদের বিষয়, ফলে ডাকসু নির্বাচন হওয়া না-হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের কিছু যায়-আসে না। শিক্ষার্থীদের জীবনে ডাকসু ও ছাত্র সংসদের ভূমিকাকে কেবল রাজনৈতিক বলে বিবেচনাই তাঁদের এই ধারণার উৎস। কিন্তু সক্রিয় ছাত্র সংসদের ভূমিকা যে শুধু প্রচলিত অর্থে রাজনৈতিক নয়, সেটা উপলব্ধি করা দরকার। গত ২৭ বছরে ডাকসু (এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর ছাত্র সংসদের) নির্বাচন না হওয়ার ইতিহাস সুস্পষ্টভাবেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতার প্রামাণ্য দলিল। শুধু যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদেরই নির্বাচন হয়নি তা নয়, দেশের কোনো সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই এখন নির্বাচিত ছাত্র সংসদ নেই। ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ার একটি বড় প্রতিক্রিয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রকৃত রাজনীতির ধারার অবসান। গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে ছাত্ররাজনীতির নামে যা টিকে আছে, তার একটা বড় অংশই হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের আশ্রয়ে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা বণ্টনের প্রক্রিয়া। দলের নাম বদলে দিয়ে প্রধান দুই দলের ব্যাপারেই এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। এই পরিস্থিতি গত এক দশকে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে যেমন, তেমনি এ ক্ষেত্রেও ছাত্র সংসদ নির্বাচনের অনুপস্থিতি জবাবদিহির ব্যবস্থাকে চূর্ণ করে দিয়েছে; তাতে করে শিক্ষার্থীরা বিরাজনৈতিকীকরণকেই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ‘ছাত্র’ রাজনীতিবিদের সম্পর্ক, ছাত্ররাজনীতির নামে তাঁদের আচরণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনীতি বিষয়েই একধরনের বিরূপ মনোভাবের জন্ম দিচ্ছে বলে আমার আশঙ্কা। তরুণ শিক্ষার্থীদের সামনে প্রচলিত নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক রাজনীতিচর্চার পথ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে সৃষ্ট রাজনীতিবিমুখতা থেকে ক্ষমতাসীনেরা সুবিধা পাচ্ছেন বলে মনে করতে পারেন, আপাতদৃষ্টিতে তা সঠিকও। কিন্তু এ ধরনের পরিস্থিতি এমন সব শক্তিকেও প্রকারান্তরে সাহায্য করে, যারা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেই অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করে এবং যারা তরুণদের কাছে আবেদন তৈরির কাজে সক্রিয়। চরমপন্থী ও উগ্র সহিংস রাজনীতির আবেদন তখনই শক্তিশালী হয়, যখন প্রচলিত রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের পথ সীমিত হয়ে আসে। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের, বিশেষত ডাকসু নির্বাচনের পক্ষে বলতে গিয়ে অনেকেই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ডাকসুর নেতাদের রাজনৈতিক ভূমিকাকেই গুরুত্ব দিয়ে থাকেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে ডাকসু বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেতা তৈরির ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করেছে। যদিও এ কথা অস্বীকারের উপায় নেই যে গত ৬০ বছরে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ডাকসুর নেতারা ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন; তার মধ্যে ১৯৬৮-৬৯, ১৯৭০-৭১, ১৯৮২-৮৩, ১৯৯০-৯১-এর ডাকসুর সহসভাপতি তোফায়েল আহমেদ, আ স ম আবদুর রব, আখতারউজ্জামান ও আমানউল্লা আমানের কথা অবশ্যই স্মরণীয়। তাঁরা জাতীয় রাজনীতিতে নিজ নিজ দলের নেতৃত্বের কাঠামোয় কতটা ভূমিকা পালন করেছেন এবং করছেন, সেটা নিশ্চয় আমরা অবগত। এর বাইরেও অনেকেই ডাকসুর নেতৃত্বের আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রেই ডাকসুর নেতারা ছাত্রজীবন শেষে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করে তাঁদের দলের নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় সাফল্য লাভ করেননি। ফলে ডাকসু সব সময় জাতীয় রাজনীতির নেতৃত্ব তৈরি করে এমন ধারণার পক্ষে খুব বেশি প্রমাণ মেলে না। কিন্তু ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে জবাবদিহির রাজনীতির যে তাগিদ, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নেতৃত্বপ্রত্যাশীদের যোগাযোগ তৈরির যে সুযোগ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের রাজনীতির বিষয়ে উৎসাহের যে প্রাণবন্ত ধারা তৈরি হয়, সেটি কেবল শিক্ষার্থীদের জন্যই নয়, সামগ্রিকভাবে রাজনীতির জন্যই ইতিবাচক। নিয়মিতভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠান কেবল একটি দিনের বিষয় নয়, এমনকি তা কেবল এক বছরের বিষয়ও নয়। তার প্রস্তুতি সারা বছরের বিষয়ে পরিণত হয়। নির্বাচনের প্যানেলে বিভিন্ন ধরনের সম্পাদক পদের জন্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের কৃতিমানদের যুক্ত করার চেষ্টা ছাত্রসংগঠনগুলোর সারা বছরের কাজের অংশ হয়ে পড়ে। এতে করে শিক্ষার্থীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগও তৈরি হয় এবং তাঁদের মধ্য থেকেই কেউ কেউ রাজনীতির অঙ্গনে প্রবেশ করেন। সেই অর্থে ডাকসু ও অন্যান্য পাবলিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদগুলো দেশে অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতির একটি অনিবার্য অংশ। বাংলাদেশের রাজনীতির গত ২৭ বছরের ইতিহাস থেকে এটা স্পষ্ট যে রাজনীতি ক্রমাগতভাবে অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থা থেকে দূরে সরে গেছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম থেকে শুরু করে জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত তা ব্যাপ্ত হয়েছে। এই বৃত্তচক্র ভাঙতে হলে যেমন জাতীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য দাবি তুলতে হবে, তেমনি অন্যত্রও সেই ব্যবস্থার জন্য সক্রিয় থাকা দরকার। ডাকসু বা ছাত্র সংসদের ভূমিকা কেবল জাতীয় রাজনীতিকেন্দ্রিক নয়। শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের যেসব সমস্যা, তা ডাইনিং হলের খাবারের মানই হোক কিংবা পাঠাগারের উন্নতিই হোক, সেগুলোর সমাধানে কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টিও যে ছাত্র রাজনীতি, সেটি বিস্মৃত হওয়ার উপায় নেই। যেকোনো ছাত্র সংসদের দায়িত্বের অন্যতম হচ্ছে সাহিত্য, সাংস্কৃতিক, নাট্য, বিতর্ক, অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মতো বিষয়গুলোর আয়োজন করা, জাতীয় দিবসগুলো পালন করা এবং বার্ষিকীসহ বিভিন্ন ধরনের প্রকাশনার ব্যবস্থা করা। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস, অভিষেক অনুষ্ঠান, নবীনবরণ এই তালিকার উল্লেখযোগ্য দিক। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে এবং বিভিন্ন ছাত্র বা ছাত্রীনিবাসে এসব আয়োজনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট নির্বাচিত শিক্ষার্থী ও তাঁদের সহযোগীরা সাংগঠনিক নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং দলের বাইরে সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা লাভ করেন; এগুলো ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করার জন্য তাঁদের প্রস্তুত করে। এসব নিয়মিত আয়োজনকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ধরনের উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়, তার সঙ্গে যে হাজার হাজার শিক্ষার্থী দল-নির্বিশেষে যুক্ত হয়, সেটি যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে। ফলে যাঁরা ডাকসু ও ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিকে এই বলে নাকচ করে দিতে চান যে এটি কেবল রাজনীতিতে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত শিক্ষার্থীদের ব্যাপার, তাঁরা প্রকারান্তরে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভেতরের সম্ভাবনাগুলো বাস্তবায়নের সুযোগবঞ্চিত করার কথাই বলছেন জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে। ডাকসু কত ধরনের ঐতিহাসিক কাজের সঙ্গে যুক্ত হয় বা হতে পারে, তার একটি উদাহরণ হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ভাস্কর্য অপরাজেয় বাংলা। ডাকসুর নেতাদের উদ্যোগেই এই ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ শুরু ও শেষ হয়েছিল। মনে রাখা দরকার যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষই শুধু শিক্ষা লাভের জায়গা নয়।
শিক্ষার্থীরা কেবল শিক্ষকদের কাছ থেকেই শিখবেন, সেটা আশা করাও সমীচীন নয়। শ্রেণিকক্ষের বাইরের পরিবেশ ও কর্মকাণ্ড থেকে পাওয়া শিক্ষাও কোনো অংশেই কম নয়। ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে তিনটি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ আমার হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ১৯৭৯-১৯৮০ ও ১৯৮২-১৯৮৪ সালে দুই দফা ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে আমাকে নির্বাচিত করেছিলেন। এসব সাফল্যের গৌরবের পাশাপাশি ১৯৮০ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের অভিজ্ঞতাও আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছি। দ্বিতীয়বার দায়িত্ব পালনের সময় জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল, যার অগ্রভাগে ছিল ডাকসু। ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির পর তৎকালীন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক দলত্যাগী হয়ে সেনাশাসকের পক্ষে যোগ দিলে সাহিত্য সম্পাদকের দায়িত্বের অতিরিক্ত ভূমিকা পালনের অভিজ্ঞতা আমাকে একাদিক্রমে রাজনৈতিক ও রাজনীতির বাইরে ছাত্র সংসদের কার্যক্রম দেখার ও বোঝার সুযোগ করে দিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই ডাকসু ও ছাত্র সংসদের বিষয়ে এই কথাগুলো বলা। আলী রীয়াজ: যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক।

সমুদ্র অভিযানে দুই দিন



জেটি থেকে স্পিডবোটে উঠতেই শুরু হলো দুলুনি। এই ডানে তো এই বাঁয়ে। ফৌজি পোশাক পরা বোটচালক তোফাজ্জল হোসেন নির্বিকার। সাগরের দিকে মুখ করে বললেন, ‘সিটে বসে পড়েন। সামনে আরও বড় ঢেউ আছে।’ জেটির দুলুনিতে যে আতঙ্ক শুরু হয়েছিল, চালকের কথায় তা আরও বেড়ে গেল। হোটেল থেকে গোছগাছ করে বের হতেই মাঝরাত হয়ে গিয়েছিল। সৈকতে এসে দেখি আধখানা চাঁদ আকাশে হেলে পড়েছে। জেটিতে কয়েকজন কর্মকর্তা ওয়াকিটকি হাতে ব্যস্ত। একটু দূরে সারি সারি স্পিডবোট বাঁধা। কর্মকর্তাদের একজন সবাইকে সারিবদ্ধ করে নিজ নিজ গন্তব্যের বোট দেখিয়ে দিলেন। তিনি হাতের ইশারা দিতেই যাত্রা শুরু হলো। কক্সবাজারের ইনানী সৈকতের রিজু খাল বেয়ে ২৭ নভেম্বর গভীর রাতে আমরা চলেছি সাগরের দিকে, যুদ্ধজাহাজে উঠব বলে। জাহাজ নোঙর করা আছে সৈকত থেকে সাত কিলোমিটার দূরের পোতাশ্রয়ে। সে পর্যন্ত যেতে হবে স্পিডবোটে। চারদিকে বেশ অন্ধকার, দূরে নোঙর করা জাহাজের আলো ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না। কক্সবাজারে এসে রিজু খাল নিয়ে অনেক গল্প শুনেছি। কিছুদিন আগে রোহিঙ্গাদের একটি নৌকা এ খালে ডুবে যায়। খালটি যেখানে সাগরের সঙ্গে মিশেছে, সেখানে দিনরাত প্রচণ্ড ঢেউ। আবহাওয়া খারাপ হলে তো কথাই নেই। সারাক্ষণ পানি পাক খায়। স্পিডবোট মিনিট পাঁচেক চলার পর হঠাৎ চালকের চিৎকার, ‘ঢেউ আসছে ঢেউ আসছে...। বলতে বলতেই প্রকাণ্ড একটা ঢেউয়ে তলিয়ে গেল আমাদের ছোট স্পিডবোটটি। পানি স্পিডবোটের ওপরে আর আমরা বোটের ভেতরে। পানি ছাড়া কোনো কিছুই দেখা যাচ্ছে না। ভেবেছিলাম মরে যাচ্ছি। দোয়া–দরুদ পড়তে শুরু করেছি। হঠাৎ বোটের গতি বাড়িয়ে দিলেন চালক। দক্ষ হাতে গোঁয়ার বোটটিকে টেনে তুললেন পানির ওপরে। হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। আমার অবস্থা দেখে চালক হাসতে হাসতে বললেন, এই বোটের নাম ‘মেটাল শার্ক’, মেড ইন আমেরিকা। হেই জিনিস ডুবতে জানে না। ‘মাল্টিল্যাটারাল মেরিটাইম সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এক্সারসাইজ (ইমসারেক্স)’ নামে দুই দিনের (২৮-২৯ নভেম্বর) সমুদ্র মহড়ায় আটটি বিদেশি জাহাজসহ ৪১টি জাহাজ অংশ নেয়। আমরা যাচ্ছিলাম মহড়া দেখতে। আমাদের জাহাজে নেওয়ার যাবতীয় সরকারি অনুমোদন আগেই হয়ে গেছে। মহড়া শুরুর আগে সাগরের ভেতরে সব জাহাজ এক সারিতে রাখা হয়। ইনানীর টিউলিপ হোটেলের অনুষ্ঠানস্থল থেকে আলোকসজ্জা করা জাহাজগুলোকে খুব সুন্দর দেখাচ্ছিল। কিন্তু ঘন অন্ধকারে দূরের জাহাজের আলো ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না। ঝোড়ো গতি নিয়ে স্পিডবোট চলেছে সাগরের বুক চিরে। কোথাও ঢেউ কম কোথাও বেশি। ৩০ মিনিট চলার পর পৌঁছে গেলাম জাহাজের কাছে। কিন্তু এত উঁচু জাহাজে উঠব কী করে? জাহাজে ওঠার জন্য বিশেষ ধরনের সিঁড়ি আছে। যেদিকে সিঁড়ি আছে সেদিকে প্রচণ্ড ঢেউ। ছোট স্পিডবোটের পক্ষে কাছে ভেড়া সম্ভব না। বোটের চালক নিচ থেকে চিৎকার করে ক্যাপ্টেনকে বললেন, ‘স্যার, এরা নামতে গেলে পড়ে যাবেন, ল্যাডার লাগাতে হবে।’ স্পিডবোট থেকে জাহাজের পাটাতন দোতলা সমান উঁচু। এই পথ উঠতে হবে রশির সঙ্গে লাগানো মই দিয়ে। সামনে দুটি পথ—হয় ফিরে যেতে হবে, না হলে রশি দিয়ে জাহাজে উঠতে হবে। আগে রশি দিয়ে বেঁধে মালপত্র তোলা হলো। তারপর আমরা উঠলাম সেই রশির মই বেয়ে। ছোটবেলায় গাছে চড়ার অভ্যাসটা কাজে দিল। জাহাজের ডেকে নেমে দেখি, এ যেন একটা ফুটবল মাঠ। সাদা গোল দাগ দেখে এক নৌ সদস্যকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি জানালেন, এখানে হেলিকপ্টার নামে। জাহাজের ক্যাপ্টেন কমান্ডার মনিরুজ্জামান ডেকের ওপরে সবাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানালেন। আমরা যে জাহাজে উঠেছি তার নাম ‘বিএনএস সমুদ্র অভিযান’। এই দলে জনাবিশেক সাংবাদিক আর নৌবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা। এটি দেশের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ। হ্যামিলটন ক্লাসের ৩ হাজার ৩০০ টনের এই জাহাজ লম্বায় ৩৭৮ ফুট, আর প্রস্থে ৪৩ ফুট। সাততলা বাড়ির সমান উঁচু জাহাজে তিন শতাধিক মানুষের একসঙ্গে থাকার সুবিধা আছে। তবে বর্তমানে ২০ জন কর্মকর্তাসহ নৌবাহিনীর দুই শতাধিক সদস্য জাহাজে কাজ করছেন। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে পাওয়া জাহাজটির কমিশনিং হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। এতে একটি সামরিক হেলিকপ্টারসহ নানা ধরনের যুদ্ধ সরঞ্জাম রাখার ব্যবস্থা আছে। জাহাজের পেছনে আছে হেলিপ্যাড ও হ্যাঙ্গার। কর্মকর্তারা জানালেন, জাহাজটি একবার জ্বালানি ও রসদ নিলে ১৬ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিতে পারে। আমরা জাহাজে উঠলাম রাত সাড়ে ১২টার দিকে। জানানো হলো নোঙর করা সব জাহাজ রাতভর পোতাশ্রয়েই থাকবে। সকালে নোঙর তোলা হবে। ডেক থেকে একটি লম্বা করিডর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো শোবার ঘর ‘গান রুম’-এ। সকালে বাইরে উঁকি দিয়ে দেখি আমাদের জাহাজ পোতাশ্রয়েই আছে। আশপাশে নোঙর করা আছে আরও ৪০টি জাহাজ। এর মধ্যে ২৩টি যাবে গভীর সমুদ্রে, বাকি জাহাজগুলো দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করবে। ২৮ নভেম্বর সকাল সাড়ে সাতটায় একই সময়ে সব জাহাজের নোঙর তোলা হলো। সাড়ে নয়টার মধ্যে জাহাজগুলো এক সারিতে চলতে শুরু করল গভীর সমুদ্রের দিকে। একসঙ্গে এতগুলো যুদ্ধজাহাজ আগে কখনো দেখিনি। আমরা যে জাহাজটিতে উঠেছি সেটা থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল পুরো সমুদ্র মহড়ার কার্যক্রম। নৌবাহিনীর ভাষায় এটি ‘ফ্ল্যাগশিপ’ বা কমান্ড জাহাজ। সহকারী নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহিন ইকবাল আমাদের সঙ্গে জাহাজে ছিলেন। তিনি ব্রিজে (যে স্থান থেকে জাহাজ চালানো হয়) বসে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন। তাঁকে সহায়তা করছিলেন ফ্লিট কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আশরাফুল হক। কমান্ড জাহাজের নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল সাড়ে নয়টার মধ্যে জাহাজগুলো তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল। এরপর সেগুলো একই গতিতে এগিয়ে যেতে থাকল গভীর সমুদ্রের দিকে। মঙ্গলবার মধ্যাহ্নভোজের পর বেলা দেড়টার দিকে শুরু হলো প্রথম মহড়া। এর আগে চিফ স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন রাশেদ সাত্তার মহড়া সম্পর্কে আমাদের ধারণা দিলেন। কীভাবে মহড়া হবে, কোন স্থান থেকে ভালো করে দেখা যাবে—সবকিছু বুঝিয়ে দেন। প্রথম মহড়ায় দেখানো হলো গভীর সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে আগুন লাগার পর কী করে উদ্ধার করা হয়। দ্বিতীয় মহড়াটি শুরু হলো মঙ্গলবার বিকেলে। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে সাগরে ভেসে যাওয়া একটি মাছ ধরা ট্রলার ও তার লোকজনকে উদ্ধার করা হলো এতে। তৃতীয় মহড়াটি ছিল সাগরে নিখোঁজ হওয়া বিমান উদ্ধারের। ২৯ নভেম্বর দুপুরের মধ্যে শেষ হয়ে যায় সর্বশেষ মহড়া। মহড়া করতে করতে গাঢ় নীল জলরাশি কেটে জাহাজ চলেছে ঝড়ের গতিতে। আমরা চলেছি সমুদ্রের দিকে, গভীর থেকে গভীরে। ভূমি থেকে দূরত্ব বাড়ছেই। ডেকে বসে মহড়া দেখার ফাঁকে ফাঁকে কথা হয় জাহাজের নানা পদের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে। ভাসমান কর্মজীবনের নানা অভিজ্ঞতার ঝুলি তাঁরা খুলে দেন আমাদের সামনে। কিছু অভিজ্ঞতা ছিল গা শিউরে ওঠার মতো। যেমন ঘূর্ণিঝড় বা যেকোনো বড় ঝড়ঝাপটার সময় জাহাজকে কোনোভাবেই জেটিতে রাখা যাবে না। তাতে ক্ষতির আশঙ্কা বেশি। ওই সময় জাহাজ রাখতে হয় অগভীর চ্যানেলে অথবা সাগরে। নৌবাহিনীর সদস্যরা তখন পরিবার ছেড়ে জাহাজে এসে ওঠেন জাহাজকে ভালোভাবে হেফাজতে রাখতে। সঙ্গে থাকতে হয় পুরো দলকে। তখন একেকটি ঢেউ তিন-চারতলার সমান উঁচু হয়। খড়কুটোর মতো দুলতে থাকে জাহাজ। জাহাজের মানুষের সব গল্পের ভেতরেই আছে ঢেউয়ের কথা। ঢেউয়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকার গল্প। আছে কষ্ট ও বেদনার কথাও। এক কর্মকর্তা বললেন, দূরে দেখুন, যে ঢেউগুলো ভেঙে যাচ্ছে, তার সাদা অংশকে মনে হচ্ছে দৌড়ানো ঘোড়ার মাথা। এভাবে ঢেউ ভাঙার নাম ‘সি-হর্স’। মন খারাপ হলে আমরা ডেকে বসে সি-হর্স দেখি। এতক্ষণে আমরা বাংলাদেশের সমুদ্রসীমানার খুব কাছাকাছি চলে এসেছি। এবার বিদেশি জাহাজের বিদায় নেওয়ার পালা। বিদেশি জাহাজকে বিদায় দেওয়ার প্রথা হলো বাঁশি বাজানো। এর নাম ‘ফ্ল্যাগ হোয়েস্ট ড্রিল’। পতাকা নাড়িয়ে এক দেশ অন্য দেশকে শুভেচ্ছা ও বিদায় জানায়। দূরত্বের কারণে মুখের কথা নয়, কথা     হয় পতাকার ভাষায়। বিদেশি জাহাজকে বিদায় জানিয়ে আমরা ফিরতে থাকি ইনানীর দিকে। ২৯ নভেম্বর রাত নেমে আসে সাগরে। জাহাজ আবার পোতাশ্রয়ে ফেরে। তবে এবার আর ঢেউ নেই। শান্ত সাগর। ‘সমুদ্র অভিযান’ থেকে নেমে পড়ি সিঁড়ি দিয়ে। সেই মেটাল সার্কের পিঠে। এর পেটের ভেতরে বসে আমরা চলি ইনানীর পথে। পেছনে তখন যুদ্ধজাহাজ ‘সাগর অভিযান’ আর সঙ্গী দুই দিনের সাগর-বাসের মধুর স্মৃতি। 
কী আছে যুদ্ধজাহাজে
জাহাজের সব কম্পার্টমেন্টেরই একটি করে নাম আছে। নামগুলোও বেশ মজার। শোবার ঘরের নাম গান রুম। কেন? এক কর্মকর্তা বললেন, জাহাজটি তৈরির সময় এসব কক্ষে অস্ত্র রাখা হতো। এখন আর রাখা হয় না, কিন্তু গান রুম নামটা রয়ে গেছে। নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর এসব ঘরে সাধারণত জুনিয়র কর্মকর্তারা বসবাস করেন। জাহাজের ভেতরে শোবার ব্যবস্থাটি অনেকটা রেলগাড়ির বার্থের মতো। ওপর নিচে দুটি সিট, দুজন ঘুমাতে পারেন। ছোট ছোট কম্পার্টমেন্টের কোথাও ১০ জনের, আবার কোথাও ২০ জনের শোবার ব্যবস্থা। বিছানাপত্র বেশ আরামদায়ক হলেও এগুলো প্রস্থে এতই কম যে নড়াচড়া করলেই মনে হয় পড়ে যাব। নাবিকেরা এ রকম পরিবেশে দিনের পর দিন থাকেন। শোবার ঘরের পাশেই সারি সারি বাথরুম। সেখানে গোসল করার আলাদা ব্যবস্থা। বাথরুমের পুরো ব্যবস্থা বিমানের মতো। হাওয়ার চাপে ময়লা–আবর্জনা নিচে চলে যায়। সমুদ্রে জাহাজের কার্যক্রম সব বাঁধাধরা সময়ে। শুরু হয় ভোর সাড়ে চারটায় জাহাজে বাবুর্চির চুলায় আগুন জ্বালানোর মধ্য দিয়ে। যদিও এখনকার আধুনিক যুদ্ধজাহাজে আর চুলায় অগ্নিসংযোগ করতে হয় না। তবু পুরোনো শব্দগুলো রয়ে গেছে। এখন রান্না হয় বৈদ্যুতিক চুলায়। ভোর সাড়ে পাঁচটায় জাহাজে সবার জন্য রয়েছে ‘জাগরণাদেশ’। জাহাজের এক কোণে রয়েছে পিতলের ঘণ্টা যার নাম ‘শিপস বেল’। ঠিক সকাল আটটায় এটি বাজানো হয়, নৌ পরিভাষায় এর নাম ‘কলার্স’। এ সময় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। জাহাজের যে যেখানে যে অবস্থায় থাকেন, সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড়িয়ে জাতীয় পতাকার প্রতি দাঁড়িয়ে সম্মান দেখান। এভাবেই জাহাজে দিনের কর্মকাণ্ড শুরু হয়। ওপরের যে ঘর থেকে জাহাজ পরিচালনা করা হয়, তার নাম ব্রিজ। তার পাশে স্টার ডেক। ব্রিজে বসে পুরো জাহাজ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ব্রিজ নানা ধরনের যন্ত্রপাতিতে ঠাসা। এসব যন্ত্রপাতি দিয়ে যেমন পানির গভীরতা মাপা যায়, তেমনি জানা যায় আশপাশে কোন কোন জাহাজ অবস্থান করছে। জাহাজ কোন দিকে যাবে, কীভাবে যাবে—সবই ঠিক করা হয় ব্রিজ থেকে। জাহাজে একতলা থেকে অন্য তলায় ওঠানামার যে খাড়া সিঁড়ি, তার নাম ‘গ্যাংওয়ে’। প্রতিটি তলায় অনেক গ্যাংওয়ে আছে। গোলাবারুদ রাখার স্থানটির নাম ‘ম্যাগাজিন’ আর অস্ত্র রাখার স্থানের নাম ‘গানডেক’। জাহাজের সব স্থানে আছে মাইকের ব্যবস্থা। যেকোনো স্থান থেকে ঘোষণা দিলে সবাই তা শুনতে পান। যে স্থান থেকে হেলিকপ্টার ওড়ে তার নাম ‘ফ্লাইট ডেক’, আর হেলিকপ্টার যেখানে রাখা হয় তার নাম হ্যালো ‘হ্যাঙ্গার’। নৌবাহিনীর সদস্যদের পরিবার–পরিজন ছেড়ে দিনের পর দিন জাহাজে থাকতে হয়। তাই জাহাজ পোতাশ্রয় ছাড়ার আগে শুকনো ও তাজা খাবারের মজুত রাখা হয়। একঘেয়েমি কাটানোর জন্য জাহাজের খাবারের পরিবেশনাতেও রয়েছে ভিন্নতা। অতিথি হওয়ায় আমাদের জন্য বিশেষ খাবার আয়োজন করেন অধিনায়ক। নৌবাহিনীর খাবারের সুনাম সবখানে। রান্নাঘরকে বলে ‘গ্যালি’। রান্নার জন্য রয়েছে আলাদা বাবুর্চি, তবে খাবার পরিবেশন করে ‘স্টুয়ার্ড’। কর্মকর্তারা যে স্থানে বসে খাবার খান ও অফিসের বিভিন্ন কাজকর্ম করেন সেটা ‘ওয়ার্ড রুম’। আর নাবিকেরা সাধারণত খাবার খান মেস ডেকে। জাহাজে নৌ সদস্যদের সকালের নাশতা চা, মধ্যাহ্নভোজ, বিকেলের চা, রাত্রের খাবার সবই হয় নির্দিষ্ট সময়ে। রাত ১০টায় জাহাজের সমস্ত আলো নিভে যায়, আসে ‘নিদ্রাদেশ।’ জাহাজে আরও আছে ব্যায়ামাগার ও ক্যানটিন। একটি ছোট হাসপাতালও আছে। আছে ছোটখাটো অস্ত্রোপচার করার ব্যবস্থা। একজন চিকিৎসক ও কয়েকজন সহকারী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। জাহাজে প্রতিদিন যত পানি লাগে তার সবই জাহাজে পরিশোধন করা হয়। সমুদ্রের লোনা পানি পরিশোধন করে খাবার উপযোগী করা হয়। সমুদ্র অভিযান প্রতি ঘণ্টায় ৪০০ লিটার পানি পরিশোধন করতে পারে। দূর থেকে যেকোনো জাহাজের ওপরের দিকে মাস্তুলের মতো যে দণ্ডটি দেখা যায় তাতে রয়েছে সাধারণ রাডার, ফায়ার কন্ট্রোল রাডার, জিপিএস, বাতাসের গতিবেগ দেখার ব্যবস্থা, পানির গভীরতা দেখার ব্যবস্থাসহ নানা ধরনের নেভিগেশন সরঞ্জাম। জাহাজ চলার সময় সবগুলোকেই সচল রাখা হয়।

মাছের পটকা ও পাখনায় ভর করে আসছে টাকা

মাছ কাটার সময় আঁশের সঙ্গে এমনিতেই পাখনা ফেলে দেওয়া হয়। আবার মাছের পটকা (ফুলকা) খেতে চান না অনেকে। ফলে বাসার ময়লার ঝুড়িতে পাখনার সঙ্গে পটকারও জায়গা হয়। কিন্তু এই দুটি জিনিসের মূল্য কত, তা প্রকাশ রঞ্জন দাশগুপ্তের চেয়ে ভালো কে আর বোঝেন! তাঁর ব্যবসার মূল উপকরণই তো এই দুটি। মাছের ফেলে দেওয়া পাখনা আর পটকা রপ্তানি করে চট্টগ্রামের এই ব্যবসায়ী এ পর্যন্ত ১৪ বার বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা সিআইপির মর্যাদা পেয়েছেন। প্রকাশ রঞ্জন দাশগুপ্তের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘ফেক্সিনকো’ ১৯৮৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত সাতবার জাতীয় রপ্তানি ট্রফি পেয়েছে। এর মধ্যে ছয়বারই স্বর্ণপদক পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই ব্যবসায়ী প্রথম সিআইপি হন ১৯৮২ সালে। সর্বশেষ গত অক্টোবর মাসে ঘোষণা করা সিআইপি (২০১৪ সালের জন্য) তালিকাতেও তাঁর নাম রয়েছে। চট্টগ্রাম নগরের দেওয়ানজি পুকুরপাড়ের বাসিন্দা প্রকাশ রঞ্জন তাঁর মেজ ভাই শৈলেশ রঞ্জন দাশগুপ্তের (এখন প্রয়াত) কাছে প্রথম শোনেন, মাছের ফেলে দেওয়া পটকা ও পাখনা রপ্তানি করা সম্ভব। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকংসহ কয়েকটি দেশে পটকা-পাখনা শুকানোর পর একধরনের স্যুপ বানানো হয়। এর স্বাদ কেমন তা ভাই না বললেও অপ্রচলিত পণ্যের এই ব্যবসা করার জন্য প্রচণ্ড আগ্রহী হয়ে ওঠেন তিনি। সে আগ্রহ এতটাই বেপরোয়া ছিল যে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) লেখাপড়া ছেড়ে দিতে একটুও দ্বিধা করেননি তিনি। বুয়েটে ভর্তির দুই বছর পরই ১৯৭৭ সালে লেখাপড়ার পাট চুকিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম চলে আসেন প্রকাশ রঞ্জন। এরপর ভাইয়ের সঙ্গে ফ্রোজেন ফুডসের (হিমায়িত খাদ্য) ব্যবসায় নেমে পড়েন। তাঁরা দুই ভাই যখন শুরু করেন, তখন হাতে গোনা দু-একজন জানতেন দেশের বাইরে মাছের পটকা ও পাখনা বিক্রি করা সম্ভব। উদ্যোগ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ধীর ধীরে নিজেদের ব্যবসাকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করান দুই ভাই। সিঙ্গাপুর, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া রপ্তানি শুরু করেন তাঁরা। এক দশকের বেশি সময় পর আরও কয়েকজন সীমিত আকারে এই ব্যবসায় যুক্ত হন। প্রকাশ রঞ্জন দাশগুপ্ত প্রথম আলোকে বলেন, ফেলে দেওয়া পণ্যের ব্যবসা করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পেরে সন্তুষ্ট তিনি। যাঁর হাত ধরে তিনি এই ব্যবসায় এসেছিলেন, সেই মেজ ভাই শৈলেশ রঞ্জন মারা যান ১৯৯০ সালে। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই এই ব্যবসায়ীর। তিনি বলেন, পটকা ও পাখনা দিয়ে বানানো স্যুপ জাপান ও সিঙ্গাপুরে দারুণ জনপ্রিয়, এটি প্রথম শোনার পর বিস্মিত হয়েছিলেন। এই ব্যবসায়ীর বিষয়ে চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আলী আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অনেকটা নীরবেই অপ্রচলিত পণ্যের ব্যবসা করে আসছেন প্রকাশ রঞ্জন। দেশে এ ধরনের ব্যবসার ক্ষেত্রে অগ্রগামীদের একজন তিনি। প্রকাশ রঞ্জনের স্ত্রী মহুয়া দাশগুপ্ত এবং ছেলে প্রিয়ম দাশগুপ্তও তাঁর প্রতিষ্ঠান ফেক্সিনকোর পরিচালক। ছেলে প্রিয়ম বছরের বেশির ভাগ সময় লন্ডনে থেকে আমদানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। তিনি এখন রয়েছেন কানাডায়। গত রোববার রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে লাক্কা, কামিলা, কোরাল, লাল কোরালসহ বিভিন্ন বড় মাছের পটকা ও পাখনা সংগ্রহ করেন তাঁরা। এসব এলাকার বড় বাজারের মাছ কাটার সঙ্গে যুক্ত লোকজন এবং মাছ বিক্রেতাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা পটকা ও পাখনা প্রক্রিয়াজাত করেন কারখানায়। এরপর তা প্যাকেটে ভরে রপ্তানি করেন তাঁরা। তিনি বলেন, কাঁচা পটকা ও পাখনা সংগ্রহের পর প্রথমে রোদে শুকানো হয়। কয়েক দিন শুকানোর পর তা শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে পরিষ্কার করা হয়। এরপর তা ওজন করে প্যাকেট করা হয়। কারখানার কর্মীরা জানান, বিভিন্ন এলাকার বাজার থেকে মাছের কাঁচা পটকা (একটি) ২০ থেকে ১০০ টাকা দরে কেনেন তাঁরা। মাছ ও মাছের আকারভেদে শুকনা পটকা কেজি দরেও কেনেন তাঁরা। দাম পড়ে ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা। আর শুকনো পাখনার কেজি সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা। চট্টগ্রাম নগরের দেওয়ানজি পুকুরপাড়ে নিজের বাসার সঙ্গেই প্রকাশ রঞ্জন দাশগুপ্তের ব্যবসায়িক কার্যালয়, কারখানা ও গুদাম। গত রোববার তাঁর কারাখানার মেঝেতে পটকা শুকানোর কাজ চলছিল। কয়েকজন কর্মী শুকনো পটকা ওজন করে প্যাকেটজাত করছেন। প্রকাশ রঞ্জন নিজেই এসব তদারক করছেন। তিনি বলেন, কাঁচা পটকা এনে শুকানোর পর ফিমিউগেশন (ধোঁয়া দিয়ে শোধন) করা হয়। এরপর প্যাকেটে ভরে রপ্তানি করা হয়। কামিলা মাছের পটকার প্রতি কেজির রপ্তানিমূল্য প্রায় ৪০০ ডলার। লাক্কার রপ্তানিমূল্য কেজিপ্রতি ১০ ডলার। বছরে ১৫ কোটি টাকার পটকা-পাখনা রপ্তানি করেন তাঁরা। তিনি বলেন, দেশে এখন পাঁচ থেকে ছয়জন ব্যবসায়ী পটকা-পাখনা রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত। বছরে এই খাতে রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ২৩ কোটি টাকা।

স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও মুক্তিযোদ্ধার সনদ মিলেনি : গৃহহীন পরিবার

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশ্বনাথবাসীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা আজ ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ অঞ্চলের প্রায় দেড় শতাধিক বীরসন্তান অংশগ্রহন করেন সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে। মুক্তিযোদ্ধে শহীদ বিশ্বনাথের ৬ কৃতিন্তানদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন শহীদ সিপাহী মোবাশ্বের আলী। কিন্ত সিপাহী মোবাশ্বের আলী নামে যে বিশ্বনাথে একজন গর্বিত সন্তান মুক্তিযোদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন তা এখনো জানেন না এ অঞ্চলের অনেকেই। স্বামীর স্মৃতিকে বুকে আকড়ে ধরে বেঁচে আছেন শহীদ সিপাহী মোবাশ্বের আলীর স্ত্রী সুনু বিবি। তিনি অভাবের তাড়নায় স্বামীর ভিটেমাটি বিক্রি করে গৃহহীন হয়ে বসবাস করছেন অন্যত্র। স্বাধীনতার ৪৬বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো মিলেনি শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সনদ। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন নং মুবিম/প্রঃ৩/মুক্তিযোদ্ধা/গেজেট/২০০৩/৪৭৯ তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর ২০০৩ ইং মোতাবেক ২০০৪ সালের ১৫জুন প্রকাশিত শহীদ গেজেট’র ৪৯৩ নম্বারে এবং বিডিআর’র শহীদ তালিকায় ১১০১১ নাম্বারে নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে শহীদ মোবাশ্বের আলীর। জাতির গর্বিত সন্তান শহীদ সিপাহী মোবাশ্বের আলী বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের মরহুম তাখরেছ আলী ও মরহুমা পাকি বিবির পুত্র। তিনি ১৯৩১ সালের ২ জুন জন্মগ্রহন করেন। ১৯৫৮ (সম্ভাব্য) সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের বেঙ্গল রেজিমেন্ট (বিডিআর) এ তিনি যোগদেন। ১৯৬৩ সালে আপন চাচাতো বোন সুনু বিবির সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মোবাশ্বের আলী। ১৯৭১ সালে বাঙালী জাতির উপর যখন পাকহানাদার বাহিনী অতর্কিত ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন স্ত্রী, ৭বছর বয়সী এক কন্যা ও ২বছরের এক পুত্র সন্তানের মায়া ত্যাগ করে দেশ প্রেমিক মোবাশ্বের আলী জীবনের ঝুকি নিয়ে সশ্রস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। ১৯৭১ সালের ১৫ই এপ্রিল কুমিল্লা গঙ্গাসাগর মিরাসানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিরোধ যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর গুলিতে সিপাহী মোবাশ্বের আলী’সহ ১৪জন মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাতবরণ করেন। মিরাসানী বধ্যভূমিতে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভে শহীদ মোবাশ্বের আলী’সহ ১৪জন শহীদের নাম লিখা রয়েছে। এদিকে, দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে মুক্তিযোদ্ধারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন।
কিন্ত সিপাহী মোবাশ্বের আলী বাড়িতে ফিরে না আসায় এবং তার কোন সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা ব্যাকুল হয়ে পড়েন। এর কিছুদিন পর পরিবারের সদস্যরা একই গ্রামের কৃতিসন্তান মুক্তিযোদ্ধে বীরবিক্রম খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার (অবঃ) আব্দুল মালিকের মাধ্যমে জানতে পারেন মুক্তিযোদ্ধে শহীদ হয়েছেন সিপাহী মোবাশ্বের আলী। ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধের প্রায় ৫মাস পর চিকিৎসার অভাবে তাদের ২বছর বয়সী একমাত্র পুত্র মারা যায়। এরপর একমাত্র কন্যা সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন সুনু বিবি। তিনি দীর্ঘদিন মানষিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ছিলেন। মেয়ের বয়স ১৭ পূর্ণ হওয়ার পর তাকে পাড়া প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগীতায় নিজ গ্রামেরই যুবক সিরাজুল ইসলামের সাথে বিয়ে দেওয়া হয়। অভাবের তাড়নায় একপর্যায়ে নিজের ভিটে মাটি বিক্রি করে মেয়ের শশুর বাড়িতে আশ্রয় নেন সুনু বিবি। সেখানেই তিনি বসবাস করে আসছেন। আলাপকালে সুনু বিবি দৈনিক নয়া দিগন্তকে জানান, স্বামীর রেখে যাওয়া স্মৃতিকে বুকে নিয়ে তিনি আজও বেঁচে আছেন। অশ্রুসিক্ত চোঁখে তিনি বলেন ‘আমার স্বামী দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন। এতে আমি গর্বিত। ২০১৫ সালে বার্ডর গার্ড বাংলাদেশ সদর দপ্তরের রেকর্ড অফিসার-২ এস এম শামীম রেজা স্বাক্ষরিত শহীদ সিপাহী মোবাশ্বের আলীর মুক্তিযোদ্ধা প্রত্যয়নপত্র বুকে জড়িয়ে ধরে সুনু বিবি বলেন, স্বাধীনতার ৪৬বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো আমি আমার স্বামীর মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেটটি পাইনি। পেনশন ও মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা পেলেও শহীদ ভাতা এবং রেশন আমি পাচ্ছি না। তাছাড়া আমার মাথা গুজার ঠাই না থাকায় আমি মেয়ে জামাইর বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। এদিকে, শহীদ সুলেমানের নামে বিশ্বনাথের একটি গ্রামের নামকরণ করা হলেও এখনো শহীদ সিপাহী মোবাশ্বের আলী’সহ অপর ৪ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে কিছুই হয়নি। তবে সম্প্রতি উপজেলার রামপুর গ্রামে শহীদ সিপাহী মোবাশ্বের আলীর বাড়ির সামনে তাঁর স্মৃতিতে একটি নামফলক স্থাপন করা হয়েছে। আর এই নামফলকটি শহীদ সিপাহী মোবাশ্বের আলীর জামাতা সিরাজুল ইসলাম ও চাচাতো ভাই সিরাজুল ইসলামের উদ্যোগে করা হয়েছে।

৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন আর সম্ভব না : ফারুক

আগামীতে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে মন্তব্য করেছেন তার উপদেষ্টা বিরোধী দলীয় সাবেক হুইপ অ্যাডভোকেট জয়নুল আবদিন ফারুক। আর বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হলে অক্ষরে অক্ষরে ক্ষমতাসীন দলের লুটপাটের বিচার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। আজ শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, নির্বাচন অবশ্যই আপনাকে দিতে হবে। সেই নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে। সেই নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হবে। দেশের প্রতিটি মানুষ ভোট দিতে পারবে। যদি মনে করেন ২০১৪ এর ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচন করা আর সম্ভব না। জনগণ বিএনপির জনসমর্থন দেখেছে। তারা মনে করে দেশে যদি সত্যিকার অর্থে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হয় বেগম খালেদা জিয়া আবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। তখন অক্ষরে অক্ষরে ক্ষমতাসীন দলের লুটপাটের বিচার করা হবে। তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী কম্বোডিয়া সফর শেষে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন। সেখানে তিনি একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন বাংলাদেশের দুর্নীতি কোথায় গিয়েছে? সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাকি পাঁচ শত কোটি টাকার অধিক সৌদি আরবে রয়েছেন। তিনি আরো একটি প্রশ্নের জবাবে বলেছেন দেশে এমন কোনো সঙ্কট নেই যে কারণে দেশে আগাম নির্বাচন দিতে হবে। তবে এটুকু বলেছেন সংসদীয় রাজনীতিতে আগাম নির্বাচনের ব্যবস্থা করা যায়।
কিন্তু বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থাকাকালীন কোনো আগাম নির্বাচন দেয়া হবে না, দেয়া যাবে না। বিএনপির এই নেতা বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীকে একটা কথা জিজ্ঞাস করতে চাই গত সাড়ে আট বছর আপনি ক্ষমতায় বাংলাদেশে কোটি কোটি টাকা লুটপাট হয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হচ্ছে। দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গুলো ধ্বংস করে দিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন ধ্বংস করে দিয়েছেন দুদকের মত প্রতিষ্ঠানকে নিজের পক্ষে আনার জন্য ধ্বংস করে দিচ্ছেন, শেয়ার বাজারের হাজার কোটি টাকা লুটপাট হচ্ছে এসব ঘটনা কি বিএনপি সরকারের আমলে হলো? বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার মুক্তির দাবিতে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মো: রাসেলের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো বক্তৃতা করেন- বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ-সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূইয়া এবং সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রকিবুল ইসলাম প্রমুখ।

২২৮ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল রোববার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা আট মামলার একটির অভিযোগপত্র আগামীকাল রোববার দাখিল করার কথা রয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু জাফর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে অভিযোগপত্রটি দাখিল করা হবে। এতে ২২৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সূত্র জানায়, অভিযোগপত্রে দুই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, একাধিক আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল হাসেম, হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান, হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি (বহিষ্কারের সুপারিশ) ফারুক মিয়া, চাপরতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি (বহিষ্কারের সুপারিশ) সুরুজ আলী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হান্নান, হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জামাল, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হোসেন চকদার। চেয়ারম্যান আবুল হাসেম ও আবদুল হান্নান ছাড়া বাকি সবাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর নাসিরনগর উপজেলা সদরের গৌর মন্দিরে হামলা ভাংচুর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক নির্মল চৌধুরী দুই থেকে আড়াই হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন। এ মামলায় অভিযোগপত্র দেবে পুলিশ।

টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না মুক্তিযোদ্ধা বারেক

স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিযাদ্ধা আব্দুল বারেক অস্ত্র হাতে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে করেছেন। কিন্তু রণাঙ্গণের সেই মানুষটি কি কখনো ভেবেছেন শেষ বয়সে এসে হুইল চেয়ার তার সঙ্গী হবে। বছর তিনেক আগে গোসলখানায় পড়ে গিয়ে কোমরের হাড় ভেঙে যায় ষাটোর্ধ্ব বয়সী এই মুক্তিযোদ্ধার। দুইবার অস্ত্রোপচার করেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। চিকিৎকরা বলেছেন, আরেকবার অস্ত্রোপচার করলে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু টাকার অভাবে অস্ত্রোপচার করাতে পারছেন না আব্দুল বারেক। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের উদয়খালী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বারেক ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ নেন। ৩ নং সেক্টর কমান্ডার এ কে এম শফিউল্লাহ ও সেকশন কমান্ডার নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে যুদ্ধে অংশ নেন তিনি। আব্দুল বারেকের ছেলে কাজল মিয়া বলেন,  ভিটেমাটি বিক্রি করে বাবার চিকিৎসা করিয়েছি। এখনও তিনি সুস্থ হননি। হুইল চেয়ারেই বাবার দিন কাটে। চিকিৎসকরা আবারও অস্ত্রোপচার করার কথা বলেছেন। কিন্তু টাকা পাবো কই। আব্দুল বারেকের আব্দুল স্ত্রীও অসুস্থ। তার তিন ছেলে কৃষি কাজ করেন। আব্দুল বারেক বলেন, যখন সুস্থ ছিলাম তখন সবাই আমার খবর নিতো। 
এখন অসুস্থ হয়ে ঘরে পড়ে থাকলেও কেউ খোঁজ নেয় না। যুদ্ধের মাঠে মরে গেলেও কোনো আফসোস থাকতো না। এখন চিকিৎসার অভাবে ধুকে ধুকে মরতে হচ্ছে। তবে আমার খুব ইচ্ছে হয় জীবনের শেষ দিনগুলোতে যদি নিজের পায়ে হাঁটতে পারতাম। এ বিষয়ে তেলিহাটি ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল আউয়াল মৃধা বলেন, ‘বারেকের শারীরিক অবস্থা খুব ভালো নয়। তার চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তা চেষ্টা করেও পাইনি। পরে বিভিন্ন সময় নিজেরাই টাকা তুলে তার চিকিৎসায় সহায়তা করেছি। সরকার যদি তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতো তাহলে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা শান্তি পেতাম।’ এ ব্যাপারে শ্রীপুর উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘উনাকে প্রতি মাসের ভাতা দেয়া হচ্ছে। চিকিৎসা সহায়তার জন্য আবেদন করলে তাকে আর্থিকভাবে সহায়তা করা হবে।’ শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আকতার বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারেকের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়ে তাকে চিকিৎসা সহায়তা করা হবে।’

লামায় পিকআপের ধাক্কায় বৃদ্ধা নিহত

বান্দরবানের লামা উপজেলায় একটি বালুভর্তি পিকআপের ধাক্কায় মোমেনা বেগম (৯০) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লামা-আলীকদম সড়কের হরিণঝিরি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মোমেনা বেগম হরিণঝিরি গ্রামের বাসিন্দা মৃত আবদুল আজিজের স্ত্রী। লামা থানা পুলিশের ওসি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, সকালে বালু বোঝাই করে একটি পিকআপ আলীকদম যাচ্ছিল। গাড়িটি সড়কের হরিণঝিরি এলাকা নামক স্থানে পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পথচারী মোমেনাকে ধাক্কা দেয়। এতে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মোমেনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কে তীব্র যানজট

ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কে রসুলপুর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় জুরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকাল ৬টার দিকে কালিহাতীর পোংলি এলাকায় একটি ট্রাক বিকল হওয়ায় সড়কে এই যানজটের সৃষ্টি হয়। টাঙ্গাইল ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক এস এম শহীদুর রহমান জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চার লেইনের কাজ চলছে। এ কারণে এমনিতেই সব সময় গাড়ির ধীরগতি থাকে। এছাড়া শুক্রবার রাত থেকে বৃষ্টির কারণে গাড়ি চলছে থেকে থেমে।
তার ওপর মহাসড়কে হঠাৎ ট্রাক বিকল হয়ে পড়ায় যান চলাচল একেবারেই বন্ধ হওয়ার অবস্থা। শনিবার সকাল পর্যন্ত গাড়ি থেমে থেমে চলতে দেখা গেছে। যানজট নিরসনে জেলা ও হাইওয়ে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানান ওসি। সড়কে গাড়ির জটে আটকে পড়া শ্যমলী পরিবহনের যাত্রী জাহিদুল ইসলাম জানান, রাত থেকে গাড়ি চলছে ধীরগতিতে। কখন গন্তব্যে পৌঁছাব জানি না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক রোববার

দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রোববার রাত সাড়ে ৮টায় তার গুলশানের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে এ বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। বিশেষ করে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংলাপ নাকচ করে দেয়া এবং জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে দলের করণীয় নিয়ে মতামত নেবেন দলটির চেয়ারপারসন।

নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখিয়েছেন বেগম রোকেয়া

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নারীদের বর্তমান অবস্থানের পথিকৃত বেগম রোকেয়া। নারীদের নিজেদের মেধা নিজেদেরই প্রকাশ করতে হবে, কারো মুখাপেক্ষী হয়ে থাকলে হবে না। বাধা আসলেও এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, নিজ গুণেই নারীরা সব ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নিচ্ছে। শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রোকেয়া দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। নারী উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য এ বছর পাঁচ নারী রোকেয়া পদক পেয়েছেন। তাদের হাতে রোকেয়া পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার বেগম রোকেয়া পদক পেয়েছেন চিত্রশিল্পী সুরাইয়া রহমান, লেখক শোভা রাণী ত্রিপুরা, সাংবাদিক মাহফুজা খাতুন বেবী মওদুদ (মরণোত্তর), সংগঠন মাজেদা শওকত আলী ও সমাজসেবা মাসুদা ফারুক রত্না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজে বেগম রোকেয়ার আদর্শের পথ ধরে আমরা আলোর যুগে প্রবেশ করেছি। তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথেই আমরা এগিয়ে চলেছি। সমাজে নারী-পুরুষের অবদান সমান উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, নারী-পুরুষ একে অপরের পরিপূরক। নারী ছাড়া সমাজ কখনও পরিপূর্ণ নয়। খোড়া পা দিয়ে সমাজ কতদূর যেতে পারবে? সবাইকে সমানভাবে এগোতে হবে। বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার ১৩৭তম জন্ম ও ৮৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সে সময় সমাজ ছিল নানাবিধ কুসংস্কারে পূর্ণ। রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করে তিনি নারী জাগরণের অগ্রদূতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ঊনবিংশ শতাব্দীর এই খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

জরুরি বৈঠক ডেকেছেন খালেদা জিয়া

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান সাংবাদিকদের জানান, কাল রোববার রাতে গুলশান কার্যালয়ে ওই বৈঠক হবে। বৈঠকে বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে সহায়ক সরকার ও বিএনপির সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ এবং মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে সম্ভাব্য ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

ডিআর কঙ্গোতে ভয়াবহ হামলায় ১৫ শান্তিরক্ষী নিহত

গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোতে ভয়াবহ হামলায় জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী মিশনের কমপক্ষে ১৫ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ সংস্থার সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা। শুক্রবার কর্মকর্তারা একথা জানিয়েছেন। জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে নর্থ কিভু প্রদেশে শান্তিরক্ষী বাহিনীর এসব সদস্য নিহত হন। সেখানে হামলায় তাদের সাথে কঙ্গোর পাঁচ সৈন্যও প্রাণ হারান। এতে ৫৩ জন আহত হয়েছেন। জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব এ হামলার কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন এবং তিনি এটিকে একটি ‘জঘন্য’ কাজ হিসেবে অভিহিত করেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমি এই হামলার কঠোর নিন্দা জানাই। জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে এ ধরণের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।’ ডিআর কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা চললেও এ বছর সরকারি বাহিনী ও বিভিন্ন মিলিশিয়া গ্রুপের মধ্যে লড়াই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। এছাড়া দেশটিতে জাতিগত সঙ্ঘাতও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

জেরুসালেম ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদে তোপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র

ইসরাইলের রাজধানী হিসাবে জেরুসালেম স্বীকৃতি দেয়ার পর নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি আর ইউরোপীয় ইউনিয়নও এক বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই স্বীকৃতি অসহযোগিতামুলক। তবে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেছেন, জাতিসঙ্ঘ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষা করার বদলে শান্তি নষ্টের চেষ্টা করছে। নিকি হ্যালে বলছেন, "বহুবছর ধরেই জাতিসঙ্ঘ ইসরাইলের প্রতি অসংযতভাবে বৈষম্যমূলক আচরণ করে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে যা কিনা ক্ষতি এনেছে। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্র এর পক্ষে থাকতে পারে না।" পুরো বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র এমন অবস্থান নিলো যখন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার তীব্র বিরোধিতা ও নিন্দা জানানো হয় বৈঠকে। ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে আবারো বিষয়টির মীমাংসায় দুই দেশের আলোচনার প্রতি জোড় দেন। আর ফরাসি প্রতিনিধি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থান পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্যেই আরো ভয়ানক পরিণতি নিয়ে আসছে। জরুরি বৈঠকে কার্যত যুক্তরাষ্ট্র সবার প্রতিপক্ষে পরিণত হয়।
জাতিসঙ্ঘে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনে মদদ দেবার জন্যে যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করেন। তিনি বলেন, "এখানে খারাপ কাজের সহযোগিতাকে স্বীকার করতে হবে। অঞ্চলটিতে ইসরাইলের দমন পীড়ন আর বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত আরো উস্কে দিয়েছে। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার শান্তির মধ্যস্থতাকারীর অবস্থান হারিয়েছে।" তবে জাতিসঙ্ঘে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানোন বুধবারে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া স্বীকৃতিকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন। এদিকে ইসরাইলের রাজধানী হিসাবে জেরুসালেমের মার্কিন স্বীকৃতির প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মতো ফিলিস্তিনে বিক্ষোভ চলছে। দক্ষিণ ইসরাইলের শহর সেডেরোটে গাযা থেকে রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে, অন্যদিকে ইসরাইলি বিমান গাজার কিছু লক্ষ্যে হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলি সেনাদের সঙ্গে সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

কিস্তির টাকা যোগাতে শিক্ষার্থীর ঝুড়ি ভাজা বিক্রি

পায়ে পুরাতন একট বার্মিস পাদুকা। মাথার অংশ থেকে বেশ খানিকটা ছিড়েগেছে পাদুকার। এমনই এক জোড়া পাদুকা পায়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠে শিক্ষার্থীদের কাছে ঝুড়ি ভাজা বিক্রি করছে। হাতে ক্যামেরা দেখতেই ঝুড়ি ভাজা ফেলে ছবি উঠার জন্য প্রস্তুত। ভাইয়া, আমাকে একটা ছবি তুলবেন? ছেলেটির নাম শাহিন। বয়স দশ বছরের বেশি না।  সারা দেশ থেকে ছুটে এসেছে অভিভাবক শিক্ষার্থীরা। আর দশ জন শিক্ষার্থীর মত শাহিন ও তার জমজ ভাই সুমনও ইবি ক্যাম্পাসে এসেছে। তবে তাদের চাওয়া ভিন্ন। ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থীরা তাদের ঝুড়ি ভাজা কিনবে এটাই তাদের চাওয়া। ঝুড়ি ভাজা বিক্রি থেকে আয়কৃত টাকা দিয়ে সাপ্তাহিক কিস্তির টাকা যোগায় জমজ দুই ভাই। ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ড থানার ত্রিবেনী ইউনিয়নের বাসিন্দা সৌকত মোল্লার ছেলে বসির মোল্লা। স্ত্রী, দুই ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে তার সংসার। মেয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় পাশ করে মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ শ্রেণীতে লেখাপড়া করে। ছেলে দুইটা জমজ। শাহিন ও সুমন। শাহিন-সুমন চলতি বছরে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝুড়ি বিক্রি করতে আসলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্নের বুকে লালন করে তারা। শাহিনের ভাষ্য মতে, বাবা বসির মোল্লা ঝালমুড়ি বিক্রি করে। সাথে ঝুড়ি ভাজা। মা আর বড় বোন বাসায় ঝুড়ি ভাজা তৈরী করে। বাবা আর দুই ছেলে সেগুলো বাজারে/গ্রামে ঘুরে বিক্রি করে। বাড়িতে একটি গরু আছে। গরুর দেখা শোনা করে শাহিনের মা নিজেই। ঝালমুড়ি আর ঝুড়ি ভাজা বিক্রি করে আয়কৃত অর্থ দিয়ে সংসার চালায় শাহিনের বাবা। এছাড়াও তিনটি সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিয়েছে তার পরিবার। প্রতিমাসে ১১ হাজার ৫ শত টাকা কিস্তি দিতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে খেলাধুলা ছেড়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি অর্থ উপার্জনের জন্য ঝুড়ি ভাজা বিক্রি করে শাহিন-সুমন। সারা দিন বিক্রি করে চার থেকে পাঁচ শত টাকা হয়। পাঁচশত টাকা বিক্রি হলে দুই শত টাকার বেশি লাভ হয় বলে জানায় শাহিন। তবে ক্যাম্পাসে ভর্তি পরীক্ষার উপলক্ষ্যে লোকজন বেশি থাকায় বিক্রি এখন বেশি। জমজ ভাই সুমন বেচা-বিক্রিতে পারদর্শী না। তাই শাহিনের সাথে বিক্রি করে কোন দিনই পারে না সুমন। ঝুড়ি ভাজা বিক্রেতা শাহিন-সুমন লালন করে এক বুক আশা। আমরা বড় হয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করব। তখন আর ঝুড়ি ভাজা বিক্রি করতে হবে না। এত কষ্টও হবে না। আপনাদের মত আমরাও খেলতে পারব। আমি কিন্তু অনেক ভালো বল করতে পারি। কিন্তু আমার মা আমাকে খেলতে দেয় না। ঝুড়ি ভাজা বিক্রি না করলে আব্বার সপ্তাহ শেষে কিস্তির টাকা গোছে না। কথাগুলো হেসে হেসেই বলছিল শাহিন। তবে তার চার পাশে দাড়িয়ে থাকা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের চোখে ততক্ষনে পানি টলমল করছে। শাহিন বলে, ‘ প্রতিদিন বিক্রি করে যে টাকা হয়, তা দিয়ে ময়দা কিনে নিয়ে যাই। মা বাড়িতে ঝুড়ি ভাজে। আমরা দুই ভাই বিক্রি করি। আব্বা ঝাল মুড়ি বিক্রি করে।’

সেনবাগে সহকারি শিক্ষক সমিতির কমিটি গঠিত

নোয়াখালীর সেনবাগে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারি শিক্ষক সমিতি’র কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে মোঃ সাহাব উদ্দিন ভূইয়াকে সভাপতি ও দিলীপ কুমার ভৌমিককে সাধারণ সম্পাদক এবং নুর হোসাইন সুমনকে সাংগঠনিক সম্পাদক কওে ১৯ সদস্য বিশিষ্ঠ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গত ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মনির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও তারেক সালা উদ্দিনের সঞ্চালনায় নোয়াখালী জেলা কমিটির সভায় উক্ত কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর শুক্রবার বিকেলে সেনবাগ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাহাব উদ্দিন ভূইয়ার সভাপতিত্বে ও নূর হোসাইন সুমনের সঞ্চালনায় উক্ত কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম,সহ সভাপতি ছানা উল্যাহ ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার ভৌমিক, যুগ্ম সম্পাদক জসিম উদ্দিন,যুগ্ম সম্পাদক কামাল হোসেন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার শাদাত,সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদা আক্তার,দপ্তর সম্পাদক মায়দুল হক, সহঅর্থ সম্পাদক আশ্রাফুল আলম, প্রচার সম্পাদক কামাল হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক জিয়াউর রহমান, সামাজিক যোগাযোগ সম্পাদক আতাউর রহমান ভূইয়া, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক জহির উদ্দিন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মো: আবদুল্লাহ, আইন সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, উদ্ভাবনী ও পরিকল্পনা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, সহ উদ্ভাবনী সম্পাদক রিপন বড়ুয়া,সহ প্রাক প্রাথমিক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাহবুব, সদস্য আ,ক,ম মনিরুল ইসলাম প্রমূখ।

পাকিস্তানের আকাশে ড্রোন দেখলেই গুলি

পাকিস্তানের আকাশসীমায় যেকোনো অনুপ্রবেশকারী ড্রোন দেখলেই গুলির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেটা যদি মার্কিন ড্রোনও হয়, তাতেও গুলি চালানো যাবে। পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান সোহাইল আমান বৃহস্পতিবার দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে এক জনসভায় এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘কাউকে পাকিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করতে দেয়া হবে না। আকাশে ভিনদেশী ড্রোন দেখলেই গুলি করে নামাতে নির্দেশ দিয়েছি। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার স্বার্থে আমেরিকার ড্রোন হলেও গুলি চালাও।’ উল্লখ্য, দুই সপ্তাহ আগে আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে পাকিস্তানের ভেতরে উগ্রবাদী ঘাঁটিতে আঘাত হানে আমেরিকার ড্রোন। ঘটনায় তিন উগ্রবাদীর মৃত্যু হয়। ২০০৪ সাল থেকেই পাকিস্তানে হানা দেয়া শুরু করে মার্কিন ড্রোন। প্রত্যেক হামলার পরই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিন্তু স্বয়ংক্রিয় উড়ন্ত ড্রোন গুলি করে নামানোর নির্দেশ এই প্রথম। প্রচারাভিযান শেষে ভোটের অপেক্ষায় গুজরাট হিন্দুস্তান টাইমস
গুজরাটে ভোটের প্রচারাভিযান শেষ করেছে ভারতের প্রধান দুই দল বিজেপি ও কংগ্রেস। আজ শনিবার ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তার আগেই আঁটসাট বেঁধে প্রচারণা চালিয়েছে দুই দল। বিজেপির শেষ দিনের নির্বাচনী প্রচারণার নেতৃত্বে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সে সময় আরো উপস্থিত ছিলেন দলের প্রেসিডেন্ট অমিত শাহ এবং উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগি আদিত্যনাথ। তবে যতই শক্ত ঘাঁটি হোক এবারের নির্বাচনী পরীক্ষায় বিপাকে পড়েছে বিজেপি। গুজরাট ভোটের ঠিক আগে এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তার একটা বড় কারণ গুজরাটে ২২ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা বিজেপি সরকার এমন কোনো ইস্যু বা প্রতিশ্রুতি আমজনতার সামনে তুলে ধরতে পারেনি, যা তাদের মনে দাগ কাটবে। তাদের নির্বাচনী ইশতেহারও খুবই সাদামাটা হয়েছে বলে জানা গেছে। গুজরাটে বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করা হয়েছে শুক্রবার।

যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্কে প্রধান বাধা কী?

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হচ্ছে ইউক্রেন সঙ্কট। ভিয়েনায় ইউরোপের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা বিষয়ক সংস্থার (ওএসসিই) মিনিস্টারিয়াল কাউন্সিলের বৈঠকের ফাঁকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন একথা বলেন। খবর তাসের।
টিলারসন বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সর্বদা রাশিয়ার সাথে ভালো সম্পর্ক গড়তে চায়। এ লক্ষ্যে গত বছর উচ্চ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্মেলনের ফাঁকে এ দুই নেতা কয়েকবার সাক্ষাত করেন। তিনি বলেন, সিরিয়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে মত পার্থক্য থাকলেও এ দুই দেশের সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রধান বাধাই হচ্ছে ইউক্রেন সঙ্কট। ভিয়েনায় সংস্থার সদর দফতরে বৃহস্পতিবার ওএসসিই’র সদস্যভূক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দুই দিনব্যাপী বৈঠক শুরু হয়েছে। বৈঠকের আলোচ্য সূচিতে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে ইউক্রেন সঙ্কট, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ। সেগেই লাভরভ ও রেক্স টিলারসনসহ বৈঠকে ৪০ জন শীর্ষ কূটনীতিক অংশগ্রহণ করেন।

পরমাণু ক্লাবে ভারতকে চায় না চীন

নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার্স গ্রুপে (এনএসজি) ভারতকে সদস্যপদ দেয়ার বিরুদ্ধে অনড় অবস্থানে রয়েছে চীন। বৃহস্পতিবার চীন বলেছে, ভারতের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন বা তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি, যাতে ৪৮ সদস্যের এই অভিজাত নিউক্লিয়ার ক্লাবে নতুন সদস্য নেয়ার ব্যাপারে সবাই একমত হবে। ৬ ডিসেম্বর রাশিয়ার ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ নয়া দিল্লিতে বলেন, এনএসজিতে ভারতের সদস্যপদের ব্যাপারে চীনের সাথে কথা বলছে মস্কো। এ মন্তব্যের ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেং শুয়াং জানান, ‘এ বিষয়ে চীনের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি’। জেং বলেন, ‘এ বিষয়ে এনজিসির সদস্যভুক্ত দেশগুলোর সরকারপর্যায়ে স্বচ্ছ ও মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে সবার ঐকমত্যের যে মূলনীতি, তাকে সমর্থন করে চীন।’ এনএসজির অন্যতম প্রধান সদস্য চীন বরাবর দৃঢ়ভাবে ভারতকে সদস্যপদ দেয়ার বিরোধিতা করে আসছে। তাদের যুক্তি হলোÑ নয়া দিল্লি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতে (নিউক্লিয়ার নন-প্রলিফারেশন ট্রিটি) স্বাক্ষর করেনি। চীনের বিরোধিতার কারণেই ভারতের সদস্যপদ পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। কারণ এনএসজি কাজ করে ঐকমত্যের মূলনীতির ভিত্তিতে।
এনএসজিতে ভারতের সদস্যপদের বিরুদ্ধে বারবার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় চীনের সাথে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কও বারবার হোঁচট খেয়েছে। এই অভিজাত ক্লাবের সদস্যপদের জন্য ভারত আবেদন করার পর, চীনের সব সময়ের মিত্র পাকিস্তানও বেইজিংয়ের পরোক্ষ সমর্থনের কথা বিবেচনায় রেখে সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছে। পাকিস্তানি বিজ্ঞানী এ কিউ খানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক প্রযুক্তির মারাত্মক বিস্তার ঘটানোর অভিযোগ থাকলেও সদস্যপদের আবেদন জানিয়েছে পাকিস্তান। রিয়াবকভ বলেছেন, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণকারী এই ফোরামে ভারতের সদস্যপদের পক্ষে রাশিয়ার অবস্থান অবিচল রয়েছে এবং মস্কো বিষয়টি নিয়ে চীনের সাথে কথা বলছে। রিয়াবকভের মন্তব্যের জবাবে জেং বলেন, এনএসজির সব সদস্যই নতুন সদস্যপদের আবেদন পক্ষপাতহীনভাবে সমাধানের জন্য একটি ‘দুই-ধাপের’ প্রক্রিয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে, যেটা সব নন-এনপিটি দেশগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে।

ট্রাম্পেরঘোষণার পরিণতির দায় আমেরিকা-ইসরাইলের : ইরান

ফিলিস্তিনের ওপর ইসরাইলের দখলদারিত্বকে মধ্যপ্রাচ্যের সব সঙ্কটের মূল কারণ বলে উল্লেখ করেছে ইরান। তেহরান অভিযোগ করেছে, এই দখলদারিত্বকে বৈধতা দেয়ার লক্ষ্যেই জেরুসালেম বা আল-কুদস শহরকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতরাতে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের এক বৈঠকে এই সংস্থায় নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি গোলামআলী খোশরু এই অভিযোগ করেন। তিনি ট্রাম্পের ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন। খোশরু বলেন, আল-কুদস বা বায়তুল মুকাদ্দাস শহরের ওপর ফিলিস্তিনিদের একচ্ছত্র অধিকারকে অস্বীকার করা হলে ফিলিস্তিন পরিস্থিতির অবনতি ছাড়া অন্য কোনো ফল বয়ে আসবে না। আন্তর্জাতিক সমাজ ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের পরিণতির জন্য আমেরিকা ও ইসরাইলকে দায়ী করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য শান্তির ব্যাপারে আমেরিকাকে স্ববিরোধী অবস্থানে দাঁড় করিয়েছেন। মার্কিন সরকার ইসরাইলকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে গিয়ে সব আন্তর্জাতিক আইন ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার লঙ্ঘন করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি বায়তুল মুকাদ্দাস বা জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মার্কিন দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুসালেমে স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওই ঘোষণার পরপরই এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতি প্রকাশ করে ওই ঘোষণাকে আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসঙ্ঘের প্রস্তাবের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। বিশ্বের আরো বহু দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রাম্পের এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। ইসরাইল ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে বায়তুল মোকাদ্দাস বা জেরুসালেম শহর দখল করে নেয়।
ট্রাম্পের সমালোচনায় সাবেক মার্কিন কূটনীতিকেরা
ট্রাম্পের জেরুসালেমকে স্বীকৃতি দানে নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে তিউনিসিয়ার পার্লামেন্ট। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়। ১২১ জন এমপির মধ্যে মাত্র দু’জন এর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। বুধবার ট্রাম্পের ঘোষণার পরদিন তিউনিসিয়ার পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশন আহ্বান করা হয়। সেই বৈঠকে নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ততে মানবিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত, জাতিসঙ্ঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার আছে স্বাধীন রাষ্ট্রের, যার রাজধানী হবে জেরুসালেম। এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি হুমকি।
ইসরাইলের স্বীকৃতি বাতিল দাবি
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ইসরাইলের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি বাতিল করতে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি আইন পরিষদ। বৃহস্পতিবার গাজায় এক জরুরি বৈঠকের পর এই দাবিসহ বেশ কিছু প্রস্তাব ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। এ বিষয়ে জেরুসালেম আল আকসা কমিটির মুখপাত্র আহমেদ আবু হালাবিয়া বলেন, তাদের রিপোর্টে যুক্তরাষ্ট্রের জেরুসালেমকে স্বীকৃতি ও দূতাবাস স্থানান্তরের পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইসরাইল অবৈধ দখলের মাধ্যমে জেরুসালেম ও আল আকসা মসজিদকে ইহুদি ভূখণ্ড করার পাঁয়তারা করছে। যুক্তরাষ্ট্রকেও তাদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।
যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত মরক্কো
যুক্তরাষ্ট্রের এই অবৈধ পদক্ষেপের বিরোধিতা করতে প্রয়োজনে সব কিছু করবে বলে জানিয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো। রাজধানী রাবাতে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের মুখপাত্র মোস্তফা আল খালফি বলেন, তার দেশ এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং সম্ভাব্য সব পরিস্থিতি বিবেচনা করছে’। একই সাথে সরকার যুক্তরাষ্ট্রের অপরিপক্ব ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, মরক্কোর অবস্থান স্পষ্ট, আমরা কখনোই জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মেনে নেবো না।
ইসরাইলে মার্কিন দূতেরা বিরোধী
নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্তে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের বেশির ভাগেরই সমর্থন নেই। ইসরাইলে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে দায়িত্ব পালনকারী সাবেক ১১ জন রাষ্ট্রদূতের মধ্যে ৯ জনই জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসনের অধীনে ২০০১ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ইসরাইলে দায়িত্ব পালন করেছেন ড্যানিয়েল কুর্টজার। তিনি বলেন, ‘কূটনৈতিকভাবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিপ্রক্রিয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আন্তর্জাতিকভাবে আমরা আবারো একা হয়ে পড়েছি। ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রেসিডেন্ট যে ভূমিকা পালনের কথা বলেন আমরা সেখান থেকে এখন নিজেরাই নিজেদের সরিয়ে ফেলেছি।’ রিচার্ড জোনস ২০০৫ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ইসরাইলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বলেন, ‘এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ। এ পদক্ষেপের কারণে ইসরাইল ও অঞ্চলটিতে যে প্রাণহানি হবে সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। বিল ক্লিনটনের প্রশাসনের অধীনে ১৯৮৮ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত দায়িত্বপালনকারী উইলিয়াম আন্দ্রিয়াস ব্রাউন, ১৯৯২ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকারী উইলিয়াম ক্যাল্ডওয়েল হ্যারপ, ১৯৯৩ সাল থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা অ্যাডওয়ার্ড ডিজেরেজিয়ান, রিগ্যান প্রশাসনের অধীনে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনকারী থমাস পিকেরিং এবং বুশ ও ওবামা প্রশাসনের অধীনে দায়িত্ব পালনকারী রাষ্ট্রদূত জেমস কুনিংহামও অনুরূপ অভিমত ব্যক্ত করেন। - মিডলইস্ট মনিটর