Thursday, July 28, 2011

শিক্ষা-অন্তঃপ্রাণ একজন শিক্ষক

বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পদে ছিলেন তিনি। তা সত্ত্বেও নিজেকে একজন শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করতেন। শিক্ষকতা ছিল তাঁর কাছে নেশার মতো। তাই দেখা যেত, বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের দায়িত্ব পালনের সময়ও তিনি প্রিয় ছাত্রছাত্রীদের যেকোনো একটি কোর্সে নিয়মিত ক্লাস নিতেন, ছাত্রছাত্রীদের দক্ষ ও যোগ্য করে তুলতে নিজের মেধা ও মননের প্রয়োগ ঘটাতেন। তিনি অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য। শিক্ষা-অন্তঃপ্রাণ এ মানুষটির সন্তান হওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব। আজ ২৭ জুলাই। ২০০৬ সালের এমন দিনে তিনি আকস্মিকভাবে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন না-ফেরার ভুবনে।
মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের জন্ম হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলায় ১৯৪২ সালে। প্রগতিশীল সামাজিক আন্দোলনের অগ্রপথিক হাবিবুর রহমান তাঁর দীর্ঘ ৩৬ বছরের কর্মজীবনের একটি বড় সময় কাটিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, গবেষণা আর সামাজিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত থেকে। ১৯৯২ সালে নবগঠিত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগদান করে স্থায়ীভাবে চলে আসেন সিলেটে। পরবর্তী সময়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই সমাজকর্ম বিভাগের প্রধান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে যেমন দায়িত্ব পালন করেছেন, তেমনি ১৯৯৭-২০০১ সাল পর্যন্ত দক্ষতা, ন্যায়পরায়ণতা আর সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন উপ-উপাচার্য আর উপাচার্যের কঠিন দায়িত্ব। অবসর নেওয়ার পর সিলেটের অন্যতম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির সঙ্গে তিনি নিজেকে সম্পৃক্ত করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন।
ব্যক্তিজীবনে তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন। বাবা হিসেবে ছিলেন দায়িত্বশীল। পেশাজীবনে ছিলেন নীতির প্রশ্নে আপসহীন। সিলেটে বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজেকে যুক্ত করেছিলেন সিলেটের সব প্রগতিশীল আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে। আটপৌরে গড়নের এই অকুতোভয় মানুষটি সিলেটের যেকোনো প্রগতিশীল সামাজিক আন্দোলনে থাকতেন সামনের কাতারে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় গড়ে ওঠা সিংহবাড়ী আন্দোলনে তাঁর সাহসী ভূমিকা আজও স্মরণীয়। কতিপয় গোষ্ঠীর রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে সিলেটের মানুষ যখন ১৯৯৫ সালে কবি শামসুর রাহমানকে সংবর্ধনার আয়োজন করে, তখন তিনিই হন সেই সংবর্ধনা প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক; যদিও বাধার কারণে ওই সংবর্ধনা সভা আর হয়নি। ১৯৯৯ সালে যশোরে উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলার পুনঃ তদন্তের দাবিতে সিলেটে যে কমিটি হয়, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সভাপতি হিসেবে এর দায়িত্ব পালন করেন।
স্বপ্ন দেখতেন মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে গড়ে ওঠা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের। তাঁর অসংখ্য লেখায় উঠে এসেছে একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রূপরেখা। তিনি চাইতেন এ দেশের মানুষ হবে অসাম্প্রদায়িক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঋদ্ধ ও পরমতসহিষ্ণু। উদীচী, বৃহত্তর সিলেট ইতিহাস প্রণয়ন পরিষদ, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশসহ (টিআইবি) অসংখ্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল আত্মিক আর আদর্শিক। তাই তো জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ছুটে গেছেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের যেকোনো আয়োজনের মধ্যমণি হয়ে। শারীরিক অসু্স্থতার মধ্যেও ছুটে গেছেন উদীচীর অনুষ্ঠানে, শহীদ সোলেমান হলে, সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কিংবা সিলেট বিভাগের যেকোনো কাছের বা প্রত্যন্ত জনপদে।
তাঁর সংস্পর্শে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা দেখেছেন, একজন বুদ্ধিজীবী হিসেবে তিনি কতটা সমাজ-সচেতন। তাঁর পাণ্ডিত্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ ছাপিয়ে বাইরেও ছড়িয়ে ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা তিনি ব্যয় করতেন সামাজিক বিজ্ঞানসহ জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা থেকে জ্ঞানচর্চায়। সমাজবিজ্ঞানী হিসেবেও তিনি মৌলিক গবেষণায় রেখেছেন বিশেষ অবদান।
বাংলাদেশের সবচেয়ে আত্মহত্যাপ্রবণ এলাকা ঝিনাইদহের ওপর তিনিই প্রথম নিয়মতান্ত্রিক সামাজিক গবেষণা পরিচালনা করেন। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত তাঁর মৌলিক গ্রন্থ ১০টি, আর যৌথভাবে সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ছয়টি। তাঁর অধিকাংশ গ্রন্থই বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীদের জন্য রেফারেন্স বুক হিসেবে ব্যবহূত হয়।
একজন সফল শিক্ষক হিসেবেও মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান পরিচিত তাঁর অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর কাছে। তিনি যখন শ্রেণীকক্ষে বক্তব্য দিতেন, তখন পিনপতন নীরবতা বিরাজ করত। ছাত্রছাত্রীরা তন্ময় হয়ে শুনত তাঁর কথা। দীর্ঘ ৩৬ বছরের শিক্ষকতা জীবনে প্রগতিশীল শিক্ষক বলয়ের মানুষ হয়েও নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে দলমত-নির্বিশেষে সব ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছে তিনি ছিলেন ন্যায়পরায়ণতার এক চমৎকার উদাহরণ।
মনে পড়ে ১৯৯৮ সালে একদিনের কথা। তিনি তখন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের বেশ কয়েকজন ছাত্রকে শাস্তি দেওয়া হয়, যার মধ্যে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনের কয়েকজন ছাত্রনেতাও ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে যদিও সেই শাস্তি বহুলাংশে মওকুফ করা হয়েছিল, কিন্তু অনেক চাপের মধ্যেও তিনি কারও প্রতি বিশেষভাবে পক্ষপাতিত্ব করেননি। নিরপেক্ষভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এ ধরনের সাহস আর দৃঢ়তা খুব কম উপাচার্যই দেখাতে পেরেছিলেন। তাঁর সময় সিলেটের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাটি গড়ে উঠেছিল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে, আর সেটি হলো আবহমান বাঙালির গর্বের ধন, রক্ত, ঘাম আর সংগ্রামের প্রতীক—শহীদ মিনার।
তিনি আর আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু সিলেটে শিক্ষার বিস্তারে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা আর বহুবিধ কর্মকাণ্ডে মানুষের কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণে আছেন তিনি। যেকেনো বিপৎসংকুল পরিবেশে যে মানুষটি সবার আগে দৃশ্যমান থাকতেন, আজ তিনি নেই। দেশকে ভালোবাসতেন তিনি, ভালোবাসতেন এ দেশের মাটি আর মানুষকে। তাই তো মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি ছিলেন মানুষের পাশাপাশি।
এনামুল হাবীব
মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের বড়  ছেলে।

ব্যবসায়ীরা তো দেখি বেশ বোকা! by রুশাদ ফরিদী

প্রতিবছর রমজান মাস আসার আগে যখন জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকে, তখন সবাই বলাবলি করতে থাকেন, ব্যবসায়ীরা জিনিসপত্রের দাম বাড়াচ্ছেন। এর মানে হলো, ব্যবসায়ীরা চাইলেই জিনিসপত্রের দাম বাড়াতে পারেন এবং তাঁরা আর কোনো মাস নয়, শুধু রমজান মাসটাকেই বেছে নেন দাম বাড়ানোর জন্য। যদিও তাঁরা জানেন, এ মাসের অনেক আগে থেকেই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরকার অনেক সতর্কতামূলক কথা বলতে থাকে, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া এ সময় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে শোরগোল তোলে এবং এর পরও তাঁরা এই সংবেদনশীল সময়টাকেই বেছে নেন দাম বাড়ানোর জন্য।
ব্যবসায়ীরা যদি ইচ্ছা করেন কোনো দ্রব্যের দাম ভবিষ্যতে বাড়বে, তাহলে দেখা যায়, সেটি এখন থেকেই বাড়া শুরু করে। কারণ, ব্যবসায়ী ওই মুহূর্ত থেকে দ্রব্যটির সরবরাহ কমিয়ে দেবে ভবিষ্যতে বেশি দামে বিক্রি করার জন্য। তাই রমজান মাসে যদি আশা করা হয় কোনো জিনিসের দাম বাড়বে, তাহলে এর দাম আগে থেকেই বাড়বে। তাহলে ব্যবসায়ীরা কেন প্রত্যাশা করেন, রমজান মাসে পণ্যের দাম বাড়বে? যদি আমরা ধরে নিই, ওই দ্রব্যের সরবরাহজনিত কোনো সমস্যা নেই, তাহলে দামটা বেড়েছে চাহিদা বাড়ায়। চাহিদা আর সরবরাহের বিশ্লেষণ একটু জটিল হওয়ায় অনেক বিশ্লেষক সেদিকে না গিয়ে সোজাসুজি ‘সিন্ডিকেট থিওরি’ প্রয়োগ করেন। তাঁরা বলতে চান, ব্যবসায়ীরা একজোট হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে সরবরাহ কমিয়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করছেন।
সিন্ডিকেটকে অর্থনীতির পরিভাষায় বলা হয় কার্টেল। এ ধরনের কার্যকলাপ প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থার পরিপন্থী হওয়ায় অনেক দেশে এটা আইনের চোখে নিষিদ্ধ। কিন্তু এই সিন্ডিকেট-তত্ত্ব বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। কিছু হলেই টিভি, মিডিয়া ও টকশোগুলোতে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে সিন্ডিকেট-তত্ত্ব প্রয়োগ করা হয়। বাস্তবে এই সিন্ডিকেট প্রমাণ করাটা বেশ কঠিন কাজ। সাধারণত সরবরাহ ও চাহিদার অনেক নিয়ামকের যেকোনো একটির পরিবর্তন দ্বারাই দ্রব্যের মূল্য পরিবর্তিত হতে পারে। সেগুলোর যথাযথ বিশ্লেষণে না গিয়ে এ প্রসঙ্গ আসামাত্র সিন্ডিকেট-ব্যাখ্যায় চলে যাওয়া একটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। আর সিন্ডিকেট যদি এতই শক্তিশালী হবে, তাহলে তো জিনিসপত্রের দাম কখনোই কমার কথা নয়। যখন দাম কমে যাবে, তাহলে তখন কি আমরা ধরে নেব যে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ‘যাক বাবা, অনেক তো লাভ হলো; চলুন, আমরা এবার সবাই মিলে দাম কমিয়ে কিছু লোকসান করি। নয়তো ব্যাপারটা একটু খারাপ দেখা যায়।’
অনেকে বলেন, রমজান মাসে ব্যবসায়ীরা সুযোগ নেন ভোক্তাদের চাহিদা বৃদ্ধির। ব্যবসায়ীরা অবশ্য এ প্রসঙ্গে বলতে পারেন, রমজান মাসে মূল্যবৃদ্ধির সুযোগটা তাঁদের দেওয়া হয় বলেই তাঁরা এ সুবিধা নেন। আমরা সব সময় আশা করি, ব্যবসায়ীর কাজ হচ্ছে সর্বদা ন্যায্য দামে বিক্রি করা। ন্যায্য দাম বলতে আমরা অবশ্যম্ভাবীভাবেই আমাদের মনের মতো কম দামকেই মনে করি।
অর্থনীতিতে ন্যায্যমূল্য ব্যাপারটা সংজ্ঞায়িত করা খুব কঠিন কাজ। চালের দাম কত হলে ন্যায্য হয়? বহুল আলোচিত আর বিতর্কিত ১০ টাকা কেজি? কেউ বলতে পারে, পাঁচ টাকা হলে ভালো হয়। কেউ আরেক ধাপ এগিয়ে বলতে পারে, সবচেয়ে ন্যায্য দাম হবে বিনা পয়সায় চাল দেওয়া, বিশেষত গরিব মানুষকে। এদিকে, একজন চাষি বলতে পারেন, আমার তো এক কেজি চাল উৎপাদন করতে খরচই পড়ে যায় ২০ টাকার মতো। আমি তো কোনোমতেই এর চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে পারব না। তাহলে দেখা যাচ্ছে, ন্যায্য দামের দাবি চটজলদি করা যায়, কিন্তু ন্যায্য দামটা কত হবে জিজ্ঞেস করলে অনেকেই বিপদে পড়ে যাবেন।
অর্থনীতির পরিভাষায়, একটি বাজার যদি যথেষ্ট পরিমাণে প্রতিযোগিতামূলক হয়, তাহলে কিন্তু ক্রেতা ও বিক্রেতা দুজনে মিলে একটি জিনিসের মূল্য নির্ধারণ করেন। কখনোই একজন বিক্রেতার হাতে অসীম ক্ষমতা থাকে না মূল্য নির্ধারণের। সত্যি কথা বলতে কি, প্রতিযোগিতামূলক বাজার অর্থনীতিতে বিক্রেতা বা ব্যবসায়ীদের হাতে তেমন ক্ষমতাই নেই।
আপনি যদি গত পাঁচ বছরের পেঁয়াজের খুচরা মূল্য লেখচিত্রে দেখেন, তাহলে দেখা যাবে, বছরের মাঝামাঝি বা তার পর থেকে (যা রমজানের আগের সময়ের সঙ্গে মিলে যায়) দাম বাড়ছে এবং বছরের শেষ ভাগ পর্যন্ত দাম কমছে না (যেটি ঈদুল আজহা পর্যন্ত বিস্তৃত)। শুধু পেঁয়াজ নয়, যেকোনো উৎসবে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যে এই একই ধারা দেখা যেতে পারে। এর কারণ আর কিছুই নয়, উৎসবের সময়গুলোতে এসব পণ্যের বর্ধিত চাহিদা।
আমি কিন্তু মনে করছি না যে ব্যবসায়ীরা ধোয়া তুলসীপাতার মতো পবিত্র—তাঁরা কখনো কোনো অন্যায় করেন না। ব্যবসায়ীরা অবশ্যই কারসাজি করে দাম বাড়াতে পারেন, তাঁরা অনেক সময় এটা করেনও। বিশেষ করে, যেসব পণ্যের বিক্রেতার সংখ্যা অনেক কম, সেখানে এই কারসাজি হওয়ার আশঙ্কা বেশি। কিন্তু যথাযথ গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ সাপেক্ষে তাঁদের অভিযুক্ত করতে হবে। অনেক দেশেই এ-সংক্রান্ত আইনে পরিষ্কার বলা আছে, ব্যবসায়ীদের কী ধরনের কৌশল (অবশ্যই প্রমাণ সাপেক্ষে) প্রতিযোগিতামূলক বাজারের পরিপন্থী এবং এ জন্য কী ধরনের শাস্তি হওয়া উচিত।
সবচেয়ে বড় কথা, রমজান মাসের মূল্যবৃদ্ধি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, রমজান মাসে টিভি-রেডিওতে যতই বয়ান করে সংযমের কথা বলা হোক না কেন, এ মাসটিতেই আমরা চরম অসংযমের পরিচয় দিই। এটাকে অনেকের কাছে মনে হতে পারে, একটা খাদ্য-উৎসবের মাস। দিনের বেলায় অভুক্ত থেকে আমরা আমাদের যাবতীয় ক্ষুধা-পিপাসা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ি ইফতারের টেবিলে। বাজারমূল্য আমাদের এই আচরণের জ্বলন্ত সাক্ষী। কিন্তু আমরা তা বুঝি না বা বুঝতেও চাই না। আমরা নির্দ্বিধায় ব্যবসায়ীদের ওপর আমাদের এই অসংযমের দায়ভার চাপিয়ে থাকি। রমজান মাসে জিনিসপত্র অন্যান্য সময়ের মতো দামেই যদি আমরা পেতে চাই এবং যদি সরবরাহের তেমন কোনো ঘাটতি না থাকে, তাহলে আমাদের নিজেদের একটু সংযত করতে হবে। তাহলে বাজারে চাহিদার বৃদ্ধি ঘটবে না, ব্যবসায়ীদের মূল্যবৃদ্ধির প্রত্যাশা তৈরি হবে না এবং জিনিসপত্রের দাম রমজান মাসে বাড়ার সম্ভাবনা অনেকাংশেই কমে যাবে। মুখে সংযমের কথা বলে ইফতারের সময় ভূরিভোজে ঝাঁপিয়ে পড়ে আর যা-ই হোক, খাদ্যদ্রব্যের দাম কমিয়ে রাখা যাবে না।
ড. রুশাদ ফরিদী: সহকারী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
rushad@econdu.ac.bd

আইপিওর মূল্য নির্ধারণে পর্যালোচনা কমিটি গঠন

নির্ধারিত মূল্য পদ্ধতিতে আসা কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) শেয়ারের মূল্য পর্যালোচনার জন্য একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন ও কার্যপরিধি নির্ধারণের বিষয়টি অনুমোদন করা হয়েছে।
একই সঙ্গে বুকবিল্ডিং পদ্ধতির প্রস্তাবিত খসড়া নীতিমালা সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীদের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে এসইসির মুখপাত্র সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের জানান।
কমিটির সদস্যরা হলেন, ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট বাংলাদেশের (আইসিএবি) চেয়ারম্যান, দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যান্টেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) চেয়ারম্যান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিইও এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অথবা হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি বা তাঁদের নির্ধারিত প্রতিনিধি।
অন্যদিকে বুকবিল্ডিং পদ্ধতির খসড়া নীতিমালার ওপর সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীদের (স্টেকহোল্ডার) মতামত পাওয়ার পর সাধারণ মানুষের মতামতের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে।
এই দুটি সিদ্ধান্ত ছাড়াও বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসে কর্মরত ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদের (অথরাইজড রিপ্রেজেন্টেটিভ) নিয়ে ভুলভ্রান্তি পরীক্ষার জন্য একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কমিটি ভুলভ্রান্তি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করবে।
একই সঙ্গে গবেষণা ও উপদেষ্টা সেবা নীতিমালা প্রণয়নের জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাইট শেয়ার: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ১: ১ রাইট শেয়ার অনুমোদন করেছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। গতকাল মঙ্গলবার এসইসির নিয়মিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি বাজারে ২১ কোটি শেয়ার ছেড়ে ৩১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এ ক্ষেত্রে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের দাম পাঁচ টাকা প্রিমিয়ামসহ ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের পরিচালনা পর্ষদ গত ২০ মার্চ শেয়ারধারীদের জন্য ১: ১ রাইট শেয়ার (প্রতিটি শেয়ারে একটি রাইট শেয়ার) ঘোষণা করে। এ ক্ষেত্রে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের দাম ১০ টাকা প্রিমিয়ামসহ ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ২১০ কোটি টাকা।
এ ছাড়া গতকালের সভায় বেক্সটেক্সকে একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বেক্সিমকো লিমিটেডের পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে এসইসি।
এই অনুমোদনের ফলে বেক্সটেক্সকে অধিগ্রহণের জন্য বেক্সিমকো লিমিটেড ১০৭ কোটি ২৮ লাখ ২৯ হাজার ২০০ টাকা মূল্যের ১০ কোটি ৭২ রাখ ৮২ হাজার ৯২০টি শেয়ার ইস্যু করবে। কোম্পানি আইন অনুযায়ী উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বেক্সিমকোর সঙ্গে একীভূত হলে বেক্সটেক্সের শেয়ারধারীরা তাঁদের কাছে থাকা বেক্সটেক্সের পাঁচটি শেয়ারের বিপরীতে বেক্সিমকো লিমিটেডের একটি করে শেয়ার পাবেন।

নাভানা সিএনজির লভ্যাংশ ঘোষণা

নাভানা সিএনজি লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ ২০১১ সালের ৩০ মার্চ সময়ের জন্য ১৮ শতাংশ নগদ ও ১৪ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আজ বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২২ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে নয়টায় ঢাকার বারিধারায় বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ওই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ৬ দশমিক ৯১ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য ২৭ দশমিক ১৫ টাকা এবং নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ৮ দশমিক ২৬ টাকা।

যমুনা ও মেঘনার আরও শেয়ার আজ থেকে বাজারে আসছে

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সরকারি মালিকানাধীন জ্বালানি খাতের কোম্পানি যমুনা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের আরও শেয়ার বিক্রি শুরু করেছে সরকার। এর মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারে শেয়ার সরবরাহ বাড়াতে সরকারের দেওয়া ঘোষণা বাস্তবায়নের কিছুটা অগ্রগতি হলো।
দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে গতকাল সোমবার কোম্পানি দুটির শেয়ার বিক্রিসংক্রান্ত পৃথক ঘোষণা প্রকাশ করা হয়। এতে জানানো হয়, আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মালিকানায় থাকা যমুনা অয়েলের ৫৩ লাখ ৫৫ হাজার শেয়ার বিক্রি করা হবে। সংস্থাটির হাতে বর্তমানে তিন কোটি ১৪ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৪টি শেয়ার রয়েছে।
আর মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ৫৪ লাখ ৯৭ হাজার ৮০০টি শেয়ার ছাড়া হবে। বিপিসির কাছে এ প্রতিষ্ঠানটির তিন কোটি ২৩ লাখ ৩৯ হাজার ৯৯৪টি শেয়ার রয়েছে।
উভয় কোম্পানির ক্ষেত্রেই বিপিসির হাতে থাকা শেয়ারের ১৭ শতাংশ বাজারে ছাড়া হচ্ছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) শেয়ার বিক্রির দায়িত্বে থাকবে। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফায়েকুজ্জামান জানান, ‘আজ থেকে বিক্রি শুরু হবে।’
সরকারের শেয়ার ছাড়ার এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দুই স্টক এক্সচেঞ্জের নেতারা। তাঁরা ঘোষণা অনুযায়ী সরকারের বাকি কোম্পানিগুলোর শেয়ারও দ্রুত বাজারের ছাড়ার তাগিদ দেন।
যমুনা অয়েলের পরিশোধিত মূলধন ৫৪ কোটি টাকা, যা পাঁচ কোটি ৪০ লাখ শেয়ারের বিভক্ত। এর মধ্যে ১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারী এবং ১৫ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মালিকানায় রয়েছে। বিপিসির মালিকানায় রয়েছে ৭০ শতাংশ শেয়ার।
২০০৭ সালে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে কোম্পানিটি ৩০ শতাংশ শেয়ার বাজারে ছেড়েছিল। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী কোম্পানিটির মোট শেয়ারের আরও ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার ছাড়া হবে। সেই হিসাবে সরকারের মালিকানায় আরও ৬০ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ শেয়ার থাকবে।
মেঘনা পেট্রোলিয়ামের পরিশোধিত মূলধন ৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা চার কোটি ৮৫ লাখ ১০ হাজার শেয়ারে বিভক্ত। এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ১৬ দশমিক ৩১ শতাংশ শেয়ার। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মালিকানায় রয়েছে ১৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
মেঘনা পেট্রোলিয়ামও ২০০৭ সালে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে মোট শেয়ারের ৩০ শতাংশ বাজারে ছেড়েছিল। নতুন ঘোষণায় আরও ১১ দশমিক ৩৩ শতাংশ শেয়ার ছাড়া হচ্ছে। সেই হিসাবে সরকারের মালিকানায় কোম্পানিটির ৫৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ শেয়ার থাকবে।
উল্লেখ্য, গত অক্টোবর মাসে বাজারে শেয়ারের সরবরাহ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশ অনুযায়ী ২৬টি কোম্পানির শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রূপালী ব্যাংক ছাড়া আর কোনো প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছাড়া সম্ভব হয়নি।
বাজার পরিস্থিতি: এদিকে সরকারি শেয়ারের সরবরাহ আসার ঘোষণায় দেশের শেয়ারবাজারে আরেক দফা মূল্য সংশোধন হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল মঙ্গলবার সাধারণ সূচক ৫৪ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট কমে ছয় হাজার ৬৪২ পয়েন্টে নেমে এসেছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৯৮ পয়েন্ট কমে ১৯ হাজার নয় পয়েন্ট হয়েছে।
ডিএসইতে গতকাল লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৬৮০ কোটি টাকার শেয়ার, যা আগের দিনের চেয়ে ২০২ কোটি টাকা কম। আর সিএসইতে ১৬৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।

এসইসিতে দুটি কমিটি গঠন

শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়াদেশ প্রদানে অনুমোদিত প্রতিনিধিদের অনিচ্ছাকৃত ভুল-ত্রুটি নিরীক্ষা এবং বিনিয়োগকারীদের সঠিক দিক-নির্দেশনা প্রদানে দুটি পৃথক কমিটি গঠন করেছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। কমিটি দুটি হলো পাঞ্চিং এরর কমিটি এবং গবেষণা ও উপদেষ্টা কমিটি।
আজ বুধবার এসইসি মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান কমিটি দুটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন।
পাঞ্চিং এরর কমিটির সদস্যরা হলেন এসইসির সদস্য মো. আমজাদ হোসেন, নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদ ও আনোয়ারুল ইসলাম। কমিটির আহ্বায়ক মো. আমজাদ হোসেন।
গবেষণা ও উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরা হলেন কমিশনের নির্বাহী পরিচালক এ টি এম তারিকুজ্জামান, পরিচালক মাহাবুবুল আলম ও পরিচালক প্রদীপ কুমার বসাক। এই কমিটির আহ্বায়ক হলেন তারিকুজ্জামান

আট প্রতিষ্ঠান ও দুই ব্যক্তিকে এসইসির জরিমানা

সিকিউরিটিজ-সংক্রান্ত আইন ভঙ্গ করায় আট প্রতিষ্ঠান ও দুই ব্যক্তিকে এক কোটি ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। গতকাল মঙ্গলবার এসইসির নিয়মিত সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আজ বুধবার এসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান জানান স্টক ডিলার, স্টক ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধিদের আচরণ বিধিমালা ২০০০-এর দ্বিতীয় তফশিলের কতিপয় বিধি ভঙ্গ করায় ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডকে ২০ লাখ, এআইবিএল ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসকে ২৫ লাখ, পিএফআই সিকিউরিটিজ লিমিটেডকে ২৫ লাখ, এনসিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডকে ২০ লাখ, আইআইডিএফসি সিকিউরিটিজ লিমিটেডকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আর জেড ক্যাটাগরির শেয়ারে ঋণ দেওয়ার অভিযোগে ইব্রাহিম সিকিউরিটিজ লিমিটেডকে পাঁচ লাখ, রাইট শেয়ার বিতরণে অনিয়ম করায় ইসলামিক ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডকে ১০ লাখ এবং ঢাকা ডাইংয়ের নিরীক্ষক নিয়োগে নিয়ম ভঙ্গ করায় পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এ ছাড়া শেয়ার ক্রয়ে সুবিধাভোগী ব্যবসা নিষিদ্ধসংক্রান্ত আইন ভঙ্গে দায়ে মমতাজ বেগম ও আবদুল ওয়াদুদ মালিককে ১০ লাখ টাকা করে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ কোম্পানির পরিচালক আব্বাস উদ্দিন আহমদ ও নাজমা আব্বাস এসইসির নির্দেশনা না মানায় প্রথমবারের মতো সতর্ক করা হয়েছে।

শিল্পী মার্গারেট ওলির জীবনাবসান

অস্ট্রেলিয়ার চিত্রশিল্পী মার্গারেট ওলি (৮৮) আর নেই। সিডনি শহরের ইনার ইস্টে অবস্থিত পেডিংটনের নিজ বাড়িতে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে তিনি মারা গেছেন। নিউ সাউথ ওয়েলসের আর্ট গ্যালারি গতকাল মঙ্গলবার এ কথা জানায়।
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে সম্মানিত শিল্পীদের মধ্যে ওলি একজন। বর্ণিল ‘স্টিল লাইফ’ চিত্র আঁকার জন্য তিনি বিখ্যাত। গ্যালারির পরিচালক অ্যাডমুন্ড ক্যাপন বলেন, মার্গারেট ওলি ছিলেন একজন পরিপূর্ণ শিল্পী। আর কোনো পেশা তাঁর ছিল না। তিনি আরও বলেন, ফুল ও ফল রাখার পাত্র এবং ঘরের ভেতরের বিভিন্ন ছোটখাটো ও গতানুগতিক জিনিসের মধ্যে এই শিল্পী মার্গারেট খুঁজে পেয়েছিলেন সৌন্দর্য, মানবতা ও অনুপ্রেরণার মতো সম্পদ।

সিঙ্গুর মামলার বিচারপতি বদল

টাটা মোটরসকে জমি ইজারা মামলার বিচারক সৌমিত্র পালের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন বিচারপতি আই পি মুখার্জি। মামলাটি পরিচালনা করতে অস্বীকৃতি জানালে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি বিচারক সৌমিত্র পালকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।
মামলাটি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমিত্র পালের আদালতে চলছিল। ব্যক্তিগত কারণে তিনি এই মামলা চালাতে অপারগতা প্রকাশ করে তা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে জানান। তাঁর ইচ্ছার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি এই মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেন বিচারপতি মুখার্জির হাতে। এখন নতুন বিচারপতি ফের এই মামলার শুনানি গ্রহণ করবেন।
সিঙ্গুরে ন্যানো গাড়ি কারখানা নির্মাণে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক সরকার ১৯৯৬ সালে টাটা মোটরসকে ৯৯৭ দশমিক ১৭ একর জমি ইজারা দেয়। সেই জমি ফের যাতে কৃষকদের মধ্যে বিলি করা না হয়, সেই আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে ২২ জুন অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চেয়েছিল টাটা।

মরিশাসের ছয় মন্ত্রীর পদত্যাগ

মরিশাস সরকারের অর্থমন্ত্রীসহ ছয় মন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার পদত্যাগ করেছেন। স্থানীয় বেতার এ কথা জানিয়েছে। এতে দেশটিতে রাজনৈতিক গোলযোগ সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হলো।
পদত্যাগ করা সব মন্ত্রীই অর্থমন্ত্রী প্রবিন্দ জুগনাথের নেতৃত্বাধীন মিলিট্যান্ট সোশ্যালিস্ট মুভমেন্টের (এমএসএম) নেতা। গত সপ্তাহে দুর্নীতির অভিযোগে দলটির নেতা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী শান্তি বাই হনুমানজিকে গ্রেপ্তারের পর তিনিসহ ছয় মন্ত্রী পদত্যাগ করলেন।
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্ত্রীর কাছ থেকে মন্তব্য জানা যায়নি। স্থানীয় বেতার স্টেশন জানায়, এমএসএম নেতা জুগনাথ সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী মনমোহনকে ফের দুষলেন এ রাজা

ভারতের সাবেক টেলিকমমন্ত্রী এ রাজা প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে দোষারোপ করেছেন।
নয়াদিল্লির বিশেষ আদালতে গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীকে দোষারোপ করে রাজা বলেছেন, ২জি (দ্বিতীয় প্রজন্মের) স্পেকট্রামের জন্য বরাদ্দসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিরীক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী ‘গ্রুপ অব মিনিস্টারস’ (জিওএম) গঠন করেননি।
ক্ষমতাসীন জোট সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চার (ইউপিএ) শরিক দল ডিএমকে নেতা রাজা বলেন, ২জি মোবাইলের লাইসেন্স-সংক্রান্ত নথিটি তিনি পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছিলেন। নথিতে কোনো গরমিল থাকলে তিনি জিওএম সদস্যদের ডেকে পাঠাতে পারতেন। অ্যাটর্নি জেনারেলকেও এই মামলার সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির করতে তিনি দাবি জানান।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে আরেকটি আদালতে এ রাজা তৎকালীন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরমকেও ২জি স্পেকট্রাম মামলার সাক্ষী হিসেবে হাজির করতে অনুরোধ করেন। তবে তখন তিনি এ মামলায় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে না জড়ানোর আভাস দেন।

সার্ব-নিয়ন্ত্রিত সীমান্ত চৌকি দখলে কসোভোর অভিযান

সার্বিয়ার-নিয়ন্ত্রিত উত্তরাঞ্চলীয় কয়েকটি সীমান্ত চৌকি নিজেদের দখলে নিতে অভিযান শুরু করেছে কসোভোর পুলিশ। এতে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে সার্বিয়া থেকে কসোভোয় সব ধরনের আমদানি বন্ধের ঘোষণার পর পুলিশ এ অভিযান শুরু করে।
কসোভোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী অলিভার ইভানোভিৎস রয়টার্সকে বলেছেন, গত সোমবার গভীর রাতে পুলিশের বিশেষ বাহিনী তিনটি সীমান্ত চৌকি দখলের চেষ্টা করে। সার্বিয়া থেকে কসোভো যাওয়া-আসার দুটি প্রধান সড়কের একটির সীমান্ত পারাপার নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে কসোভোর পুলিশ। তবে স্থানীয় সার্বরা অপর একটি প্রধান সীমান্ত পারাপার অবরোধ করে রেখেছে। উত্তরাঞ্চলীয় এ এলাকায় কসোভোর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নেই।
কসোভোর উপপ্রধানমন্ত্রী হাজেরদিন কুচি বলেন, ‘এ অভিযান স্থানীয় জনগণের বিরুদ্ধে নয়। আমাদের সীমান্ত পারাপারের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতেই অভিযান চলছে। ওই এলাকাকে আইনের শাসনের আওতায় আনা ও সেখানে অভিন্ন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের দেশের ওই এলাকাটিতে অনেক বছর ধরে অভিন্ন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কাজ করছে না।’
কসোভোর এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, সোমবার রাতে হাত-গ্রেনেড বিস্ফোরণে তাঁদের এক সদস্য আহত হয়েছেন।
উভয়পক্ষের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ন্যাটোর শান্তিরক্ষী বাহিনী কসোভোয় নিয়মিত টহলে রয়েছে।

হাসপাতালে হামলা

এদিকে লিবিয়া অভিযোগ করেছে, রাজধানী ত্রিপলির পূর্বে জ্লিতেন শহরের একটি ছোট হাসপাতালে সোমবার সকালে ন্যাটো জোট বিমান হামলা চালালে সাতজন নিহত হয়। বিদেশি সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলে একটি ভবন সম্পূর্ণ ধসে যেতে দেখেছেন বলে জানান। মেঝেতে এলোমেলো অবস্থায় পড়ে ছিল অস্ত্রোপচারে ব্যবহূত দস্তানা, অক্সিজেনের বোতল, ওষুধ, স্ট্রেচার।
শহরের আরেকটি অংশে তিনটি খাদ্য সংরক্ষণ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরেকটি দেখা গেছে জ্বলতে। গুদামে থাকা চাল, টমেটো, শাকসবজি চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গেছে। দমকলকর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।

নরওয়ের ঘটনা ইউরোপে চরম ডানপন্থী জাগরণের প্রকাশ

নরওয়ের রাজধানী ওসলোতে বোমা হামলা ও উটোয়া দ্বীপে নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যার ঘটনার সঙ্গে ইউরোপে চরম ডানন্থীদের জাগরণের যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁরা বলেছেন, ইউরোপে মুসলিম অভিবাসী ও ইসলামের বিরুদ্ধে কী পরিমাণ বিদ্বেষ দানা বাঁধছে, তা এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সহজেই অনুমান করা যায়।
আত্মস্বীকৃত হামলাকারী অ্যান্ডারস বেহরিক ব্রেইভিক হামলা চালানোর আগে তাঁর নিজের লেখা দেড় হাজার পৃষ্ঠার যে বক্তব্য ইন্টারনেটে পোস্ট করেছিলেন, তাতে ইউরোপে অভিবাসী ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তিনি তীব্র বিষোদ্গার করেছেন। ব্রেইভিক নিজে নরওয়ের ডানপন্থী দল প্রোগ্রেস পার্টির সঙ্গে একসময় সক্রিয় ছিলেন। এই দলটি চরম মুসলিমবিদ্বেষী।
বিশ্লেষকেরা বলেছেন, ব্রেইভিক এমন সময়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটালেন, যখন ইউরোপের দেশগুলোতে চরম দক্ষিণপন্থীরা মুসলিমবিরোধী বক্তব্যকে পুঁজি করে রাজনৈতিক সাফল্য অর্জন করে চলেছে।
নরওয়ের পুলিশ সিকিউরিটি সার্ভিস গত জানুয়ারি মাসে তাদের প্রকাশ করা এক প্রতিবেদনে বলেছিল, ‘নরওয়ের ইসলামবিরোধী দলগুলো বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমকে তাদের প্রচারকাজে ব্যবহার করছে। তাদের সক্রিয় হওয়ার মাত্রা এতটাই তীব্র হচ্ছে যে তারা যেকোনো সময় সহিংস হয়ে উঠতে পারে।’
প্যারিসের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জেমস কোহেন বলেন, ‘এই ঘটনা ইউরোপের ক্রমবর্ধমান (ইসলামবিদ্বেষী) আবহের অংশ। এটি এমন এক দর্শনজগতের অংশ, যেখান থেকে ব্রেইভিকের মতো লোক প্রেরণা পাচ্ছে।’
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ইতালি থেকে ফ্রান্স, ফ্রান্স থেকে ফিনল্যান্ড তথা ইউরোপজুড়েই ডানপন্থী দলগুলো রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলছে। ডানপন্থীরা ইউরোপের বাইরের দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে দেওয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম বংশোদ্ভূত লোকদের ইউরোপে অভিবাসন পাওয়ার বিষয়ে তারা ঘোর বিরোধী অবস্থানে রয়েছে। এই জাতীয়তাবাদী নীতিকে পুঁজি করে তারা উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোটারের সমর্থন পেতে সক্ষম হয়েছে।
২০০৫ সালে ডেনমার্কের এক কার্টুনিস্ট মহানবী (সাঃ)-এর একটি ব্যঙ্গচিত্র আঁকায় বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। তবে ওই কার্টুনিস্টের পক্ষ নেওয়ায় ডেনমার্কের ডানপন্থী দল ডেনিস পিপলস পার্টির জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। গত মে মাসে ডেনমার্কের সরকার সীমান্ত পুনর্নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা কার্যকর করে। ডেনিশ পিপলস পার্টির দাবি, তাদের আন্দোলনের কারণেই সরকার অবাধ সীমান্তনীতি থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে। তবে যেসব নেতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৫টি দেশের মধ্যে অবাধ যাতায়াত অব্যাহত রাখার পক্ষে, তাঁরা ডেনমার্কের ওই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নেদারল্যান্ডে গত বছরের নির্বাচনে সেখানকার ফ্রিডম পার্টি ‘ইসলাম হঠাও’ স্লোগান দিয়ে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেতে সক্ষম হয়। সুইজারল্যান্ডে বর্তমানে মাত্র চারটি মসজিদ রয়েছে।

মরক্কোয় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৮১

মরক্কোর একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এর আরোহী ৮১ জনের সবাই নিহত হয়েছেন। বিমানটিতে নয়জন ক্রু, ৬০ সেনা এবং ১২ জন বেসামরিক যাত্রী ছিলেন।
সেনা সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলেই নিহত হন ৭৮ জন। বাকি তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।
সেনা সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার হারকিউলিস সি-১৩০ সামরিক বিমানটি পশ্চিম সাহারার দাখলা থেকে উত্তর মরক্কোর কিনিত্রা এলাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। সেটি গুয়েলমিম সামরিক ঘাঁটিতে অবতরণের প্রস্তুতিকালে একটি পাহাড়ের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে বিধ্বস্ত হয়। গুয়েমিম এলাকাটি গোলযোগপূর্ণ পশ্চিম সাহারা এলাকার উত্তরে অবস্থিত। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে সেনা সূত্র জানিয়েছে।

পাকিস্তান আঘাত হানলে কঠোর জবাব

ভারতের ওপর পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি করেছেন ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল পি ভি নায়েক। প্রতিবেশী পাকিস্তানের অস্ত্রভাণ্ডারে নতুন পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজনের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
পি ভি নায়েক বলেন, পাকিস্তানের গৃহীত নতুন পরিকল্পনায় পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র অথবা অস্ত্রভাণ্ডার সম্প্রসারণের ব্যাপারে চিন্তিত নয় ভারত। আইএএফ প্রধান আরও বলেন, তাঁর দেশ কখনোই আগে থেকে পারমাণবিক হামলা করবে না। তবে ভারতে এ ধরনের হামলা চালানো হলে পাল্টা জবাব হবে ‘খুবই কঠোর’।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়, পাকিস্তান তাদের অস্ত্রভাণ্ডারে স্বল্পপাল্লার ২৪টি পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজনের পরিকল্পনা নিয়েছে, যা ভারতের সব বড় শহরে আঘাত হানতে সক্ষম। মূলত ভারতের বিরুদ্ধে ন্যূনতম প্রতিরোধ গড়তেই পাকিস্তান এ পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছে কয়েকটি সূত্র।
পাকিস্তান সম্প্রতি একটি ছোট পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায়। এটি ৬০ কিলোমিটার দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।