Showing posts with label প্রযুক্তি. Show all posts
Showing posts with label প্রযুক্তি. Show all posts

Monday, August 24, 2026

রোবট মানুষের চেয়ে দ্রুত দৌড়াতে পারছে; কিন্তু সূক্ষ্ম কাজে কতটা দক্ষ

রয়টার্সঃ চীনের হিউম্যানয়েড বা মানবসদৃশ রোবটগুলো যে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির অ্যাথলেটের চেয়েও দ্রুত দৌড়াতে পারে, তা তারা দেখিয়ে দিয়েছে।

কিন্তু কোনো কিছু প্যাকেটজাতকরণ ও গুদামের কাজের পাশাপাশি বিদ্যুতের তার–সংযোগের মতো সূক্ষ্ম কাজ রোবট মানুষের মতো নিখুঁতভাবে করতে পারবে কি না, সেটিই এখন তাদের সামনে আসল পরীক্ষা।

 শনিবার (২২ আগস্ট) থেকে বেইজিংয়ে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনের বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমস। এখানে মানুষের খেলাধুলার আদলে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা রয়েছে। পাশাপাশি সিমুলেটেড কারখানা, রেস্তোরাঁ, অফিস ও জরুরি পরিস্থিতিতে রোবটের সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্যও বিভিন্ন আয়োজন রাখা হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত এই আয়োজনে মোট ৫১টি ইভেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং ২১টি বিভিন্ন পরিস্থিতিভিত্তিক প্রতিযোগিতা। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব ইভেন্টের ৪০ শতাংশের বেশি রোবটকে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।

শনিবার ১০০ মিটার দৌড়ে দুটি রোবট অ্যাথলেটদের ৯ দশমিক ৫৮ সেকেন্ডের বিশ্ব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এই রেকর্ডের মালিক বিশ্বের দ্রুততম অ্যাথলেট উসাইন বোল্ট। রোবটের ক্ষেত্রে এটা ২০২৫ সালের তুলনায় বড় অগ্রগতি। গত বছর ১০০ মিটার দৌড়ে বিজয়ী রোবটটি ২০ সেকেন্ডের বেশি সময় নিয়েছিল।

তবে রোবটগুলো দৌড় শেষে থামতে গিয়ে সমস্যায় পড়ে। ফিনিশিং লাইনের কয়েক মিটার পর আয়োজকেরা যে মোটা ম্যাট (মাদুর) রেখেছিলেন, তারা সেগুলোতে গিয়ে সজোরে ধাক্কা খায়।

হিউম্যানয়েড রোবট গেমসের এবারের আসরে ১০০ মিটার দৌড়ের বিজয়ী রোবটটির একই মডেলের আরেকটি রোবট ৪০০ মিটার দৌড়ে ৩৯ দশমিক ৭ সেকেন্ডে প্রতিযোগিতা শেষ করে। এতে আরেকটি নতুন রেকর্ড হয়। ভেঙে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েড ভ্যান নিকের্কের ৪৩ দশমিক ০৩ সেকেন্ডের বিশ্ব রেকর্ড।

দর্শক ও রোবোটিকস খাতে বিনিয়োগকারী শু ছিয়াওশেং বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এবার প্রতিযোগিতার তীব্রতা বেশি। এর ফলে রোবটের ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা ও তাপনিয়ন্ত্রণ সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের চাপ পড়ছে।’

ছিয়াওশেং মনে করেন, ‘চীনের শিল্প খাতের উন্নয়নে এর (রোবটের) বিশাল গুরুত্ব রয়েছে।’

এবারের গেমসে কিছু রোবট দড়ি টানাটানি ও ভারোত্তোলন প্রতিযোগিতাতেও অংশ নিয়েছে। তাই চি ও ‘পিচ-পট’-এর মতো ঐতিহ্যবাহী চীনা খেলাতেও দেখা যাবে রোবটের অংশগ্রহণ। পিচ-পটে সরু মুখের পাত্রে তিরের মতো কাঠি ছুড়ে ফেলতে হয়।

ছোটখাটো ভুলেই আসল পরীক্ষা

দৃষ্টিনন্দন এসব প্রদর্শনীর বাইরে রোবটগুলো বাস্তব জগতের ছোটখাটো সমস্যা কতটা সামলাতে পারে, সেটিই হবে আরও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। ছোটখাটো সমস্যার উদাহরণ হিসেবে কোনো বিদ্যুতের তার ভুল কোণে থাকা, কোনো কিছু হাতের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া, প্যাকেটের অবস্থান বদলে যাওয়া কিংবা কাজের কোনো ধাপে ভুল করার কথা বলা যায়।

এসব পরীক্ষার মাধ্যমে রোবট কোনো বস্তু ঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারে কি না, নির্ভুলভাবে হাত ও শরীরের অবস্থান ঠিক করতে পারে কি না, নিয়ন্ত্রিতভাবে শক্তি প্রয়োগ করতে পারে কি না এবং মানুষের সাহায্য ছাড়া ভুল শুধরাতে পারে কি না, তা বোঝা যাবে।

রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লুমোস রোবোটিকসের প্রধান নির্বাহী ইউ চাও বলেন, এই প্রতিযোগিতা রোবটের হার্ডওয়্যার উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে শিল্পটির সক্ষমতাও তুলে ধরা সম্ভব। তবে রোবটগুলো বাস্তব জীবনের সমস্যা কতটা ভালোভাবে সমাধান করতে পারে, তার ওপরই দীর্ঘমেয়াদে এসব প্রতিযোগিতার গুরুত্ব নির্ভর করবে।

ইউ চাও আরও বলেন, ‘বাস্তব (জগতের) কাজের শেষ ধাপগুলোতে রোবট কাজ করতে পারলেই এর প্রকৃত মূল্য তৈরি হবে। শুধু দৌড়ানো আর লাফানো দক্ষতা বাড়ায় না।’

মানুষের খেলাধুলার আদলে তৈরি পরিচিত ইভেন্টগুলোর পাশাপাশি রোবটগুলো বৈদ্যুতিক গাড়িতে চার্জ দেওয়া, রেস্তোরাঁয় কাজ করা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং হাতের সূক্ষ্ম নড়াচড়ার সক্ষমতা যাচাইয়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। শিল্পকারখানায় যন্ত্রাংশ জোড়া লাগানো ও মালামাল তোলার ইভেন্টও রয়েছে। বিদ্যুতের তার সংযোগের একটি প্রতিযোগিতায় রোবটের দৃষ্টিশক্তি, যান্ত্রিকভাবে সঠিক সংযোগ স্থাপন এবং শক্তিনিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা যাচাই করা হবে।

বেইজিংভিত্তিক রোবট নির্মাতা স্টার্টআপ গ্যালবট জানিয়েছে, তারা স্বয়ংক্রিয় হিউম্যানয়েড রোবটের টেনিস ম্যাচ আয়োজন করবে। এতে একক ও দ্বৈত দুই ধরনের ম্যাচেই রোবট অংশ নেবে। বলের গতিপথ অনুসরণ, সার্ভ করা ও প্রতিপক্ষের শট ফেরানোর মতো কাজ করতে হবে তাদের।

রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জিরোথের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা হুয়া রং বলেন, প্রদর্শনী শেষ হওয়ার পরই আসল পরীক্ষা শুরু হবে। তাঁর ভাষ্যমতে, পণ্যটি (রোবট) বিক্রি হওয়ার পর সেটি সত্যিই ব্যবহারকারীদের সমস্যার সমাধান করতে পারে কি না, (মূল) প্রতিযোগিতাটা হবে সেখানে। 

দড়িতে দৌড়াচ্ছে একটি হিউম্যানয়েড রোবট। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। ২২ আগস্ট ২০২৬
দড়িতে দৌড়াচ্ছে একটি হিউম্যানয়েড রোবট। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। ২২ আগস্ট ২০২৬ ছবি: রয়টার্স

Wednesday, August 12, 2026

মঙ্গল গ্রহের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল নাসার কিউরিওসিটি রোভার

প্রকাশ ২৬ নভেম্বর ২০২৫ঃ পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী মহাকাশ অভিযানের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নাসার মার্স সায়েন্স ল্যাবরেটরি মিশন। এ মিশনের প্রাণ হলো কিউরিওসিটি রোভার। ২০১১ সালের ২৬ নভেম্বর অ্যাটলাস ভি নামের রকেটে করে মঙ্গল গ্রহের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে রোভারটি। প্রায় ৯ মাসের দীর্ঘ মহাজাগতিক ভ্রমণের পর ২০১২ সালের ৬ আগস্ট রোভারটি মঙ্গল গ্রহের গেল ক্রেটারে সফলভাবে অবতরণ করে, যা ‘ব্র্যাডবেরি ল্যান্ডিং’ নামে পরিচিত।

মঙ্গল গ্রহে দুই বছর পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য তৈরি করা হয়েছিল কিউরিওসিটি রোভার। তবে বিজ্ঞানীদের অবাক করে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মঙ্গল গ্রহে কাজ করছে রোভারটি। নাসার তথ্যমতে, মঙ্গল গ্রহে কখনো অণুজীবের জীবনধারণের জন্য অনুকূল পরিবেশ ছিল কি না, তা খুঁজে বের করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে মানব অভিযানের জন্য মঙ্গল গ্রহের বিকিরণ স্তর পরিমাপ করছে রোভারটি। বর্তমানে রোভারটি গেল ক্রেটারের কেন্দ্রে অবস্থিত বিশাল মাউন্ট শার্প বা ইওলিস মন্সের স্তরের তথ্য সংগ্রহ করছে।

গাড়ির আদলে তৈরি কিউরিওসিটি রোভারটি ২.৯ মিটার লম্বা, ২.৭ মিটার চওড়া ও ২.২ মিটার উঁচু। এর শক্তির উৎস সৌর প্যানেল নয়, বরং একটি অত্যাধুনিক মাল্টি-মিশন রেডিওআইসোটোপ থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটর। এটি প্লুটোনিয়াম-২৩৮ মৌলে তেজস্ক্রিয় ক্ষয় থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করে। এটিকে রাতের বেলা বা ধূলিঝড়ের সময়ও একটানা কাজ করতে পারে। কিউরিওসিটির চলাচলের জন্য ছয়টি চাকার একটি জটিল গতিশীলতা ব্যবস্থা রয়েছে। রোভারটির রোবোটিক বাহুতে ড্রিল করার এবং নমুনা সংগ্রহের ক্ষমতা রয়েছে।

গত সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত মঙ্গল পৃষ্ঠে ৩৫ দশমিক ৯৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে কিউরিওসিটি রোভার। ২০১৮ সালে রোভারটি গেল ক্রেটারে থাকা ৩০০ কোটি বছরের পুরোনো শিলার নমুনায় বেনজিন ও প্রোপেনের মতো জৈব অণু আবিষ্কার করে। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে এটি কাদাপাথরে দীর্ঘ-শৃঙ্খলের অ্যালকেন আবিষ্কার করে, যা জৈব বা অজৈব উৎস থেকে উদ্ভূত হতে পারে। রোভারটি এমন শিলা এবং কাদামাটির উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, যা একসময় দীর্ঘস্থায়ী হ্রদ বা নদীর তলদেশ ছিল।

সূত্র: নাসা

কিউরিওসিটি রোভারের ফাইল ছবি
কিউরিওসিটি রোভারের ফাইল ছবি। নাসা

বিশ্বে হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহের ৯৭ ভাগ চীনের দখলে

চীনের অত্যাধুনিক শিল্পোন্নয়ন সোমবার দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এর মাধ্যমে হিউম্যানয়েড রোবট প্রযুক্তিতে চীনের পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক নেতৃত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে এবং দেশটির তথাকথিত ‘নিউ নিউ থ্রি’ কৌশলগত খাতÑ রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং উদ্ভাবনী চিকিৎসা- আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। শিল্প খাতের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বিশ্বের মোট হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহের ৯৭ শতাংশেরও বেশি এসেছে চীনা নির্মাতাদের কাছ থেকে।

একই দিনে চীনা রোবোটিক্স প্রতিষ্ঠান ইউনিট্রি রোবোটিক্স সাংহাইয়ের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য শেয়ার সাবস্ক্রিপশন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি হিউম্যানয়েড রোবট খাতের প্রথম এ-শেয়ার তালিকাভুক্ত কোম্পানি হতে যাচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গ্লোবাল টাইমস।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বব্যাপী হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহ প্রায় ১৯১০০ ইউনিটে পৌঁছেছে। এই সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭২ শতাংশ বেশি। এ সময় বাজারে নেতৃত্বেরও পরিবর্তন হয়েছে। চীনা রোবোটিক্স কোম্পানি এজিবট ইউনিট্রিকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সর্বশেষ স্মার্ট অ্যানালিটিক্স গ্লোবাল (এসএজি) গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বের হিউম্যানয়েড রোবটের চাহিদার ৮৫ শতাংশেরও বেশি চীন থেকে এসেছে।

২০২৫ সালে বার্ষিক ৫৫০০ ইউনিট সরবরাহ করে বিশ্বের শীর্ষ হিউম্যানয়েড রোবট নির্মাতা হওয়া ইউনিট্রি রোবোটিক্স সোমবার তাদের আইপিওর শেয়ারপ্রতি মূল্য নির্ধারণ করেছে ১৫০.৮ ইউয়ান। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক আইপিও মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬.১ বিলিয়ন ইউয়ান সংগ্রহ করতে পারে। এতে কোম্পানিটির আনুমানিক বাজারমূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ৬১ বিলিয়ন ইউয়ান। ইউনিট্রি জানিয়েছে, অনলাইন সাবস্ক্রিপশনে চূড়ান্ত শেয়ার পাওয়ার সম্ভাব্য হার হবে মাত্র ০.০১৮১ শতাংশ।
হিউম্যানয়েড রোবোটিক্সে এই অগ্রগতি চীনের দ্রুত বিকাশমান ‘নিউ নিউ থ্রি’ শিল্পের সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এসব খাত চীনের উচ্চপ্রযুক্তির উৎপাদনব্যবস্থা উন্নয়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল স্তম্ভ হিসেবে উঠে আসছে।

বিশ্বে হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহের ৯৭ ভাগ চীনের দখলে

Wednesday, May 20, 2026

সাইবার বুলিং কাদের ওপর সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব ফেলে by কুমকুম হাবিবা জাহান

প্রযুক্তির বিপ্লব আমাদের জীবনযাত্রাকে সহজ ও উন্নত করার পাশাপাশি কিছু সংকটও তৈরি করেছে। ক্রমশ বাড়তে থাকা সাইবার বুলিং যার মধ্যে অন্যতম। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যকে ভয়ানকভাবে প্রভাবিত করছে। আজ ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। বিশেষ এই দিনে জেনে নেওয়া যাক কাদের ওপর সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে সাইবার বুলিং। আর আমাদের করণীয়ই–বা কী।

বেড়েই চলেছে সাইবার বুলিং

বিনোদন থেকে শুরু করে পড়াশোনার জন্যও শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনকার সময়ের একটা বড় অংশ কাটে ইন্টারনেটে। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে ইন্টারনেটের পরিসরও এখন অনেক বড়। কৌতুক করার নামে ট্রল, আক্রমণাত্মক মিম, বডিশেমিং, মিথ্যাচার, অনলাইনের দুনিয়ায় দল বেঁধে চেহারা ও অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে কটু কথা বলা—এমন সব ঘটনা বেড়েই চলেছে।

‘বাংলাদেশ সাইবার ক্রাইম ট্রেন্ড ২০২৩’–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বাংলাদেশে রিপোর্ট করা সাইবার অপরাধের মধ্যে ৫২ শতাংশই ছিল সাইবার বুলিং। আর এর বড় একটা অংশের শিকার হলো স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থী। সাইবার বুলিং এমন ব্যাপক আকার ধারণ করার পেছনে রয়েছে সামাজিক আর মনস্তাত্ত্বিক কারণ। যেমন ধর্মের অপব্যাখ্যা, অতিরিক্ত রক্ষণশীলতা, সংবেদনশীলতা ও শিক্ষার অভাব ইত্যাদি। এ ধরনের হয়রানির সবচেয়ে ভয়ানক ফল হলো মানসিক বিপর্যয়। হতাশা, মানসিক চাপ, হীনম্মন্যতা, আত্মবিশ্বাসহীনতা ও একাকিত্বসহ বিভিন্ন মানসিক রোগে ভোগেন ভুক্তভোগীরা। নিজের ওপর আত্মবিশ্বাসও কমে যায়। যে কারণে তাঁদের সামাজিক আচরণও বদলে যায়।

বুলিংয়ের শিকার শিশু-কিশোরদের মানসিক এই অবস্থা সব সময় বাইরে থেকে বোঝাও যায় না। অথচ মানসিক অবসাদ, উদ্বেগ, আত্মসম্মানের অভাব ও একাকিত্বের মতো সমস্যা তাঁদের ওপর স্থায়ী প্রভাব ফেলে যায়। একজন কিশোর বা কিশোরীর জন্য এ ধরনের মানসিক চাপ অত্যন্ত ক্ষতিকর। কেননা এগুলোর সঙ্গে ‘বোঝাপড়া’ বা পাত্তা না দেওয়ার মতো মানসিক পরিপক্বতা এই বয়সে তাঁদের ভেতর থাকে না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাঁর স্বাভাবিক বিকাশ। এগুলো কখনো কখনো তাদের মধ্যে প্রতিহিংসার মনোভাব তৈরি করে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক হলো, সাইবার বুলিংয়ের কারণে আত্মহননের পথও বেছে নেন কেউ কেউ।

এখন তবে কী করণীয়?

দেশের সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাইবার অপরাধ রোধে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে কাজ করছে পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট। কিছু আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে শুধু এ পদক্ষেপ গ্রহণই যথেষ্ট নয়। সমাজের বড় একটি অংশ এখনো এই সমস্যার প্রকৃত গভীরতা বুঝতে পারেনি। এই সংকট প্রতিরোধে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রয়োজন মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা। স্কুল থেকেই শিশুদের ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে। ডিজিটাল শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের সহমর্মিতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার শেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

দেশের কিছু স্কুলে ইতিমধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। যেমন শিক্ষার্থীদের মানসিক ও আবেগীয় স্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সোশ্যাল ইমোশনাল লার্নিং (এসইএল) ক্লাস চালু করেছে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিশু ও তরুণ শিক্ষার্থীদের মানবিক ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এমন পাঠ্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

* কুমকুম হাবিবা জাহান, হেড অব জুনিয়র স্কুল, গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ঢাকা। 

সাইবার বুলিংয়ের ভুক্তভোগীরা হতাশা, মানসিক চাপ, হীনম্মন্যতা, আত্মবিশ্বাসহীনতা ও একাকিত্বসহ বিভিন্ন মানসিক রোগে ভোগেন
সাইবার বুলিংয়ের ভুক্তভোগীরা হতাশা, মানসিক চাপ, হীনম্মন্যতা, আত্মবিশ্বাসহীনতা ও একাকিত্বসহ বিভিন্ন মানসিক রোগে ভোগেন। ছবি: প্রথম আলো

Sunday, May 17, 2026

এআই নিয়ে কেন বিশ্বজুড়ে এত আলোচনা, কেনই–বা এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা by মো. মিন্টু হোসেন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রায় ৪ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা মানব ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত। মার্কিন বিশ্লেষকদের মতে, এআই বাজারের আকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১ হাজার ৩৪৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২৩ সালে এআই বাজার ছিল মাত্র ১৫০ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।

শিল্প খাতে এআইয়ের দ্রুত বিস্তার ইতিমধ্যে চোখে পড়ছে। আইবিএমের ২০২৩ সালের এক জরিপে দেখা যায়, বিশ্বের ৪২ শতাংশ বড় প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে তাদের কার্যক্রমে এআই যুক্ত করেছে, আর অতিরিক্ত ৪০ শতাংশ সংস্থা এই প্রযুক্তি প্রয়োগের পরিকল্পনায় করছে।

এই প্রযুক্তি গ্রহণের ঢেউ এখন জেনারেটিভ এআইয়ের ক্ষেত্রেও প্রবাহিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, জেনারেটিভ এআই হলো একধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যা কোনো নির্দেশ মেনে জেনারেটিভ মডেল ব্যবহার করে পাঠ্য, ছবি, ভিডিও বা অন্যান্য ডেটা তৈরি করতে সক্ষম। বর্তমানে ৩৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠান তাদের কাজের অংশ হিসেবে জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট কর্মীর ৪৯ শতাংশের প্রায় অর্ধেক কাজেই কোনো না কোনোভাবে এআই জড়িত থাকবে, যা কর্মপরিবেশ ও মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগের ধরন আমূল বদলে দেবে।

২০৩০ সালে এআইয়ের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস

এই দশকের শেষে এআইয়ের সক্ষমতা কোথায় পৌঁছাবে? প্রযুক্তিবিদদের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমন কিছু যুগান্তকারী উন্নয়নের মধ্য দিয়ে যাবে, যা বর্তমান ব্যবস্থার পরিধিকে ছাড়িয়ে যাবে। শুধু বিদ্যমান এআইকে আরও কার্যকর করা নয়—এই অগ্রগতি শিল্প খাতজুড়ে এক মৌলিক পরিবর্তন আনবে।

কোয়ান্টাম কম্পিউটিং শতগুণ দ্রুত কর্মক্ষমতা অর্জন করবে

কোয়ান্টাম এআই হলো কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এক শক্তিশালী সমন্বয়। এই প্রযুক্তিতথ্য প্রক্রিয়াকরণের এমন গতি এনে দেয়, যা আজকের সর্বাধুনিক কম্পিউটারগুলোকেও প্রাচীন মনে হয়।

এর মূল রহস্য হলো কোয়ান্টাম বিট বা কিউবিট, যা একই সময়ে একাধিক অবস্থায় থাকতে পারে—এটিকে বলা হয় সুপারপজিশন। এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে কোয়ান্টাম কম্পিউটার কিছু গণনা প্রচলিত সিস্টেমের তুলনায় বহু গুণ দ্রুত সম্পন্ন করতে পারে।

প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, কোয়ান্টাম এআইয়ের মাধ্যমে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় ৫০ থেকে ১০০ গুণ বেশি পারফরম্যান্স অর্জন সম্ভব। ইতিমধ্যে মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, গুগল ও আইবিএমের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কোয়ান্টাম কম্পিউটিং অ্যাজ–এ সার্ভিস হিসেবে এটি চালু করেছে।

কোয়ান্টাম এআই প্রযুক্তি ওষুধ উদ্ভাবন, বাজার বিশ্লেষণ আরও গভীরভাবে করে ঝুঁকি মূল্যায়ন, সরবরাহ ব্যবস্থা ও উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় দক্ষতা বাড়ানোসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনার পাশাপাশি বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে।

কোয়ান্টাম সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ের কোয়ান্টাম ট্রান্সফরমার কাজ করলেও চ্যাটজিপিটি বা জেমিনির মতো সিস্টেমের সক্ষমতা অর্জনে কম্পিউটার বিজ্ঞানীদের শত শত কিউবিট ব্যবহার করে নতুন কোড তৈরি করতে হবে।

বৃহৎ ভাষা মডেলের বিকল্প হবে ছোট এআই মডেল

বৃহৎ ভাষা মডেল বা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) নিয়ে যত আকর্ষণই থাকুক না কেন, এখন শিল্প খাতে এক বিপরীত ধারা দেখা যাচ্ছে। আইবিএম, গুগল, মাইক্রোসফট এবং ওপেনএআই—সবাই সম্প্রতি এমন কিছু ছোট ভাষা মডেল (স্মল ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এসএলএম) প্রকাশ করেছে, যেগুলো মাত্র কয়েক বিলিয়ন প্যারামিটারে চলে, বৃহৎ মডেলগুলোর তুলনায় অনেক ছোট আকারে।

এসব ক্ষুদ্র মডেল নির্দিষ্ট ও সীমিত কাজের ক্ষেত্রেই অসাধারণ ফল দেখাচ্ছে—যেমন কথোপকথন সংক্ষেপ করা, চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে হেলথকেয়ার চ্যাটবট হিসেবে কাজ করা কিংবা স্মার্ট ডিভাইসের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা। এগুলো ল্যাপটপ বা মোবাইল ফোনে সরাসরি চলতে পারে, বিশাল ডেটা সেন্টারের প্রয়োজন হয় না। ফলে খরচ কমে, পরিবেশের ওপর প্রভাবও হ্রাস পায় এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা আরও সুরক্ষিত থাকে।

গবেষকেরা এই ছোট মডেলগুলোকে আরও কার্যকর করতে নলেজ ডিস্টিলেশন ও প্রুনিংয়ের মতো কৌশল ব্যবহার করছেন। নলেজ ডিস্টিলেশনে বড় মডেল থেকে শেখা তথ্য ছোট মডেলে স্থানান্তর করা হয়, আর প্রুনিং প্রক্রিয়ায় নিউরাল নেটওয়ার্কের অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দেওয়া হয়। ফলে নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক প্রয়োজন অনুযায়ী এই ছোট মডেলগুলো সহজেই কাস্টমাইজ করা যায়।

মাল্টিমোডাল এআই টেক্সট ও ছবির সীমা পেরিয়ে যাবে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ কেবল লেখা বা টেক্সট বোঝাতেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০৩০ সালের মধ্যে মাল্টিমোডাল এআই সিস্টেম একসঙ্গে টেক্সট, ছবি, অডিও, ভিডিও ও ডকুমেন্ট প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে, যা প্রধান ধারার প্রযুক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এগুলোর শক্তি কোথায়? বর্তমান এআই সাধারণত একধরনের তথ্য নিয়ে কাজ করে, কিন্তু মাল্টিমোডাল সিস্টেম একাধিক তথ্যধারা একসঙ্গে বিশ্লেষণ করতে পারে—মানুষের যোগাযোগের ধরনকে অনেক বেশি বাস্তবভাবে অনুকরণ করে।

এক শিল্পবিশেষজ্ঞের ভাষায়, ‘মানুষ প্রকৃতিগতভাবে মাল্টিমোডাল যোগাযোগকারী, তাই এআই-ও এখন টেক্সটভিত্তিক সীমিত যোগাযোগ থেকে জটিল, বহুমাত্রিক যোগাযোগের দিকে এগোচ্ছে।’ এই পদ্ধতির ফলে এআই এখন দৃশ্য, শব্দ ও অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য মিলিয়ে আরও প্রাসঙ্গিক ও বাস্তবসম্মত দ্বিমুখী কথোপকথন চালাতে পারবে, যা সত্যিকার অর্থে ‘মানুষসদৃশ’ যোগাযোগের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাবে।

শিল্পে আধিপত্য বিস্তার করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

২০৩০ সালের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্দিষ্ট কিছু শিল্প খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আনবে। বিশেষত স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন শিল্প ও আর্থিক খাত—এই তিন ক্ষেত্রের পরিবর্তন হবে সবচেয়ে গভীর ও বিস্তৃত।

২০২৮ সালের মধ্যে ৭৫ শতাংশ রোগ নির্ণয়প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় হবে। বর্তমানে ভুল রোগনির্ণয়ের কারণে প্রায় ১০ শতাংশ রোগীর মৃত্যু ও ১৭ শতাংশ জটিলতা সৃষ্টি হয়। এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে স্বাস্থ্যসেবা খাত দ্রুত এআই প্রযুক্তি গ্রহণ করছে।

চিকিৎসায় রোগনির্ণয়ে এআইয়ের বৈশ্বিক বাজার ২০২৩ সালের ১৩০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ২০২৮ সালে ৩৭০ কোটি ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা বার্ষিক বৃদ্ধির হার প্রায় ২৩ দশমিক ২ শতাংশ।

প্রথম দিকে এআই চিকিৎসকদের সহায়ক সরঞ্জাম হিসেবেই কাজ করবে, প্রতিস্থাপক নয়। তবে সময়ের সঙ্গে চিকিৎসক-এআই সহযোগিতা আরও নির্ভুলতা আনবে এবং শেষ পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয় এআইয়ের প্রতি আস্থা তৈরি হবে।

উৎপাদন শিল্পে প্রভাব রাখবে

বিশ্ব অর্থনীতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে এআই প্রায় ১৩ ট্রিলিয়ন ডলার নতুন অর্থনৈতিক কার্যক্রম সৃষ্টি করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যা বর্তমানে বৈশ্বিক জিডিপির তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে উৎপাদন খাত একাই পাবে ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত মূল্য।

যেসব প্রতিষ্ঠান আগে থেকেই এআইয়ে বিনিয়োগ করবে, তারা প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে অনেক এগিয়ে যাবে। বিশ্লেষকদের মতে, আগে এআই ব্যবহার করা প্রতিষ্ঠানগুলো দশকের শেষে তাদের নগদ প্রবাহ দ্বিগুণ করতে পারে এবং বার্ষিক গড় ৬ শতাংশ অতিরিক্ত বৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হবে।

কর্মসংস্থানে এআইয়ের প্রভাব

প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও শিল্পপ্রয়োগ ছাড়াও এখন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে এআই কীভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক কর্মসংস্থান কাঠামো বদলে দেবে। নতুন গবেষণা বলছে, এতে যেমন বিশাল বদল আসবে, তেমনি নতুন সুযোগও তৈরি হবে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এআই বৈশ্বিকভাবে ৪০ শতাংশের বেশি চাকরিকে প্রভাবিত করতে পারে, যাকে অর্থনীতিবিদেরা বলছেন ‘ডিসরাপশন থ্রেশহোল্ড’। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ২০৩০ সালের মধ্যে মোট কর্মঘণ্টার ৩০ শতাংশ স্বয়ংক্রিয় হতে পারে, বিশেষ করে জেনারেটিভ এআইয়ের কারণে। এতে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ মানুষকে সম্পূর্ণ নতুন পেশায় যেতে হতে পারে। এই প্রভাব অবশ্য সবার জন্য সমান নয়।

নারীরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে—তাঁদের ৩৬ শতাংশ এমন পেশায়, যেখানে জেনারেটিভ এআই কাজের সময় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারে, পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ২৫ শতাংশ। কম আয়ের কর্মীরা (যাঁদের বার্ষিক আয় ৩৮ হাজার ২০০ ডলারের নিচে) সর্বোচ্চ আয়কারীদের তুলনায় ১৪ গুণ বেশি হারে পেশা পরিবর্তনের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

নতুন পেশার উত্থান ঘটবে

যদিও কর্মক্ষেত্রে চাকরি হারানো নিয়ে বেশি উদ্বেগ রয়েছে। তবে বাস্তবে এআই তৈরি করছে একদম নতুন পেশার দিগন্ত। ২০৩০ সালের মধ্যে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিতভিত্তিক চাকরির চাহিদা ২৩ শতাংশ বাড়বে, আর এআই ও মেশিন লার্নিং বিশেষজ্ঞদের চাহিদা ২০২৭ সাল পর্যন্ত ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

বেশি চাহিদা বাড়বে ডেটা অ্যানালিস্ট ও ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন বিশেষজ্ঞ (৩০-৩৫ শতাংশ), স্বাস্থ্যসেবা টেকনিশিয়ান ও পেশাজীবী (প্রায় ৩৫ লাখ ও ২০ লাখ নতুন চাকরি), এআই ট্রেইনার, কোয়ালিটি কন্ট্রোলার ও প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারের।

কর্মী প্রশিক্ষণসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে ৪২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এআইভিত্তিক প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেবে, আর ৩৬ শতাংশ সংস্থা বিদ্যমান কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ করবে—এআইয়ের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য।

লড়াই এশিয়া বনাম যুক্তরাষ্ট্রের

বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নের চিত্রে অঞ্চলভেদে আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি ও বিনিয়োগের ধারা দেখা যাচ্ছে, যা ২০৩০ সাল পর্যন্ত এআইয়ের গতিপথ নির্ধারণ করবে। প্রযুক্তিগত অগ্রাধিকারের প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন অঞ্চলে সুস্পষ্ট নেতৃত্ব ও কৌশল গড়ে উঠেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এআইয়ের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এআই ইনডেক্স অনুযায়ী, ২০১৮ সালে চীনকে পেছনে ফেলার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।

এই নেতৃত্ব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যায় বেসরকারি বিনিয়োগে, যেখানে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এআই খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৭২০ কোটি ডলার, আর চীনে ছিল ৭৮০ কোটি ডলার। একই বছরে যুক্তরাষ্ট্র ৬১টি গুরুত্বপূর্ণ মেশিন লার্নিং মডেল তৈরি করেছে, যা চীনের ১৫টির তুলনায় অনেক বেশি।

তবু চীন গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগামী। ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশটি ৪৪ হাজারের বেশি এআই পেটেন্ট অনুমোদন করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ হাজারের প্রায় তিন গুণ।

বৃহত্তর আঞ্চলিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, ২০৩০ সাল পর্যন্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির হার অর্জন করবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কে কী বলছেন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এ খাতের উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞরা নতুন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন, এই ভবিষ্যৎ এখনো বহু দূরে, আবার কারও কাছে তা যেন একেবারে দোরগোড়ায়। এআইয়ের সবচেয়ে পরিচিত নাম ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান সম্প্রতি বলেছেন, মানুষ এআইয়ের সঙ্গে ক্রমেই বেশি ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলছে এবং এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গভীর হবে।

এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং বলেন, ‘আমরা এখনো এআই বিপ্লবের শুরুতেই আছি।’ তাঁর মতে, এআই মানুষের কাজের ধরন পাল্টে দেবে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করবে এবং নতুন নতুন ধারণা অনুসন্ধানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

মেটার প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের মতে, সুপারইন্টেলিজেন্স এখন নাগালের মধ্যে বা দোরগোড়ায়। তাঁর ভাষায়, ‘এআই আমাদের বিদ্যমান প্রতিটি ব্যবস্থাকে উন্নত করবে এবং এমন সবকিছু তৈরি করবে, যা আজ কল্পনাতেও নেই।’

অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। তিনি মনে করেন, এটি এমন এক যুগ নিয়ে আসবে, যেখানে মানুষ কম কাজ করবে, আর রোবট ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ভার বহন করবে।

অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী ডারিও আমোডেই মনে করেন, হোয়াইট-কলার বা অফিসভিত্তিক চাকরিজীবীদের এখন থেকেই সতর্ক হওয়া উচিত। তিনি বলেন, এআই আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই প্রায় অর্ধেক এন্ট্রি-লেভেল চাকরি প্রতিস্থাপন করতে পারে এবং ১০-২০ শতাংশ বেকারত্ব তৈরি হতে পারে।

তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন ভিন্নমুখী দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই বোঝা যায়, এটি একদিকে বিপ্লবের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে অনিশ্চয়তার এক নতুন যুগের সূচনা করতে পারে।

তথ্যসূত্র: সিএনএন, কোয়ার্টজ ম্যাগাজিন, নেটগুরু, টেকনোলজি ম্যাগাজিন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে। ছবি রয়টার্স

কম্পিউটার ভাইরাসের জন্ম ১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর by জাহিদ হোসাইন খান

আধুনিক ডিজিটাল জীবনযাত্রার এক অনিবার্য অনুষঙ্গ কম্পিউটার। সেই কম্পিউটারে ভাইরাস আক্রমণের মাধ্যমে আমাদের তথ্য চুরির ঝুঁকি থাকে। ভাইরাসের কারণে পুরো কম্পিউটার অচল হয়ে যেতে পারে। কম্পিউটার ভাইরাসের শুরু হয়েছিল সাধারণ একটি পরীক্ষা থেকে।

কম্পিউটার ভাইরাসের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামের মধ্যে অন্যতম হলেন গবেষক ফ্রেড কোহেন। তিনি ১৯৮০–এর দশকে ভাইরাস প্রথমবার বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করেন। কম্পিউটার ভাইরাসের ধারণাগত আলোচনা অনেক আগেই শুরু হয়েছিল। বাস্তব ও কার্যকরী প্রমাণ আসে ১৯৮৩ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার প্রকৌশল স্নাতক ফ্রেড কোহেন তাঁর অধ্যাপক অ্যাডলম্যানের তত্ত্বাবধানে একটি গবেষণা প্রকল্পে কাজ করার সময় একটি ছোট প্রোগ্রাম তৈরি করেন। প্রোগ্রামটি নিজেকে একটি অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে কপি করতে ও অন্যান্য প্রোগ্রামের সঙ্গে সংযুক্ত করতে সক্ষম ছিল। বিষয়টা ঠিক একটি জৈবিক ভাইরাসের মতো।

১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বরে একটি ভিএএক্স ১১/৭৫০ কম্পিউটারে মাত্র আট লাইনের কোড ব্যবহার করে কোহেন তাঁর এই নমুনা ভাইরাসটির পরীক্ষা চালান। কোহেনের তৈরি করা এই প্রোগ্রাম মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে সিস্টেমের সব নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেদ করে সিস্টেমের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। প্রোগ্রামটি সম্পূর্ণভাবে অন্য একটি প্রোগ্রামের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম ছিল। ফ্রেড কোহেনই প্রথম ব্যক্তি যিনি এ ধরনের সফটওয়্যারের জন্য কম্পিউটার ভাইরাস শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনি তাঁর গবেষণা প্রবন্ধে কম্পিউটার ভাইরাসের একটি স্পষ্ট সংজ্ঞা দেন। তিনি বলেন, একটি প্রোগ্রাম যা অন্য প্রোগ্রামকে সংক্রমিত করতে পারে এবং নিজের অনুলিপি তৈরি করতে পারে। তাঁর গবেষণাপত্র ১৯৮৪ সালে কম্পিউটার ভাইরাসের গবেষণা শীর্ষক একটি গবেষণাপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয়।

সূত্র: ওয়্যার্ড ডট কম

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-09%2F5ddx8v8t%2Fvirus.jpg?rect=0%2C0%2C960%2C640&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
একটি পরীক্ষার মাধ্যমে কম্পিউটার ভাইরাসের জন্ম হয়েছিল। ছবি: রয়টার্স

Tuesday, May 5, 2026

স্মার্ট টিভি: ঘরে বসেই উপভোগ করুন থিয়েটারে সিনেমা দেখার অনুভূতি by দিনার হোসাইন

একসময় টেলিভিশন মানেই ছিল বড় আকারের একটি বাক্স, গুটিকয় চ্যানেল আর তাতে চলত ধরাবাঁধা কিছু অনুষ্ঠান, নাটক কিংবা সিনেমা। চাইলেও নিজের ইচ্ছেমতো কিছু উপভোগ করার সুযোগ থাকত না। এ ছাড়া সে সময় টেলিভিশনে ছবি ও শব্দও খুব স্পষ্ট ছিল না বললেই চলে। নব্বইয়ের দশকের সেই সময়টিতে টেলিভিশন বলতেই চোখে ভাসে এই চিত্রগুলো।

এখন যুগ বদলেছে, বদলেছে চাহিদা। প্রযুক্তি, ডিজাইন আর পারফরম্যান্সের এমন সমন্বয় ঘটেছে যে টিভি এখন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, হয়ে উঠছে এক অনন্য ভিজ্যুয়াল এক্সপেরিয়েন্স। বর্তমান সময়ের স্মার্ট টিভিগুলো এখন ঘরের নান্দনিকতার অংশ, আবার একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির এক বিস্ময়। এমনকি এখন মন না চাইলে থিয়েটারে গিয়েও সিনেমা দেখার খুব একটা প্রয়োজন পড়ে না, ঘরেই বানিয়ে নেওয়া যায় ‘হোম থিয়েটার’। কারণ, ঘরেই থিয়েটারের এক্সপেরিয়েন্স পেতে স্মার্ট টিভিগুলোয় এখন রয়েছে উন্নত সব প্রযুক্তি।

শক্তিশালী প্রসেসর

আধুনিক টেলিভিশন মানেই কিন্তু শুধু বড় স্ক্রিন কিংবা ডিজাইন নয়। বড় স্ক্রিন আর ডিজাইন স্মার্ট টিভিকে আকর্ষণীয় করে তোলে বটে, কিন্তু এর প্রাণ আসলে প্রসেসরে। সেই জায়গাটিতেই সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এনেছে উন্নত মানের এআই প্রযুক্তি। যেমন স্যামসাংয়ের সাম্প্রতিক ‘২০২৫ সিরিজ’ টিভিতে ব্যবহৃত এনকিউ৪ এআই জেন৩ সেই পরিবর্তনের এক অনন্য উদাহরণ। এতে রয়েছে ৫১২টি নিউরাল নেটওয়ার্ক, যা কনটেন্ট অনুযায়ী রিয়েলটাইমে বিশ্লেষণ চালায়। ফলে ছবির উজ্জ্বলতা, রঙের ভারসাম্য ও কনট্রাস্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামঞ্জস্য হয়ে যায়। স্পোর্টস, সিনেমা, ডকুমেন্টারি কিংবা নিউজ—সব ধরনের কনটেন্টই হয়ে ওঠে বাস্তবের মতো প্রাণবন্ত।

শুধু ছবি নয়, সাউন্ডের ক্ষেত্রেও প্রসেসর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এআই সাউন্ড অপটিমাইজেশন প্রযুক্তি পরিবেশ অনুযায়ী সাউন্ডকে সমন্বয় করে, যেন সংলাপের সঙ্গে ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড হয় আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিষ্কার। টিভির আশপাশের আওয়াজের মাত্রা অনুযায়ীও সিস্টেম নিজে থেকেই শব্দ নিয়ন্ত্রণ করে নেয়।

গ্লেয়ার–ফ্রি টেকনোলজি

স্ক্রিনে আলোর প্রতিফলনের কারণে টিভি দেখা অনেক সময় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঘরের লাইট, জানালার রোদ, এমনকি পাশে থাকা টেবিল ল্যাম্পের আলোও অনেক সময় টিভির পর্দায় প্রতিফলিত হয়ে ছবির মান নষ্ট করে দেয়। এই অসুবিধার কারণে অনেক সময় টিভি দেখা হয়ে ওঠে বিরক্তিকর। এ সমস্যার সমাধান হিসেবেই এসেছে গ্লেয়ার–ফ্রি ডিসপ্লে প্রযুক্তি, যা বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে স্ক্রিনের প্রতিফলন কমিয়ে আরামদায়ক ডিসপ্লের জন্য। স্যামসাং ২০২৫ সিরিজের প্রিমিয়াম টিভিগুলোয় রয়েছে গ্লেয়ার–ফ্রি টেকনোলজি, যা ইউএল সার্টিফায়েড, আলো প্রতিফলনের দিক পরিবর্তন করে এবং অতিরিক্ত উজ্জ্বলতা নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে যেকোনো আলোয়ও ছবির স্পষ্টতা অটুট থাকে। দিন হোক বা রাত—রোদেলা ঘর হোক বা অল্প আলোয় সাজানো লিভিং রুম—সব জায়গায়ই পাওয়া যায় সমান স্বচ্ছ ও আরামদায়ক ভিউয়িং অভিজ্ঞতা। আলোর প্রতিফলনজনিত ক্লান্তি কমে যায়, আর দীর্ঘক্ষণ দেখলেও চোখে কোনো রকম চাপ পড়ে না। এমন প্রযুক্তিযুক্ত আধুনিক টিভিগুলো তাই শুধু ছবির মানেই নয়, গ্রাহকদের স্বস্তি ও অভিজ্ঞতার মানেও এক নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে।

আধুনিক ডিজাইন

বর্তমানের টিভিগুলো এখন ঘরের ডিজাইনের অংশ হয়ে উঠেছে। মিনিমালিস্ট নকশা, স্লিম বেজেল আর দেয়ালের সঙ্গে মিশে যাওয়ার মতো স্লিম ফর্ম—সব মিলিয়ে টিভি এখন আর কেবল একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস নয়; বরং একটি স্টাইল স্টেটমেন্ট। প্রায় বর্ডারলেস স্ক্রিন ও ভাসমান পর্দার মতো লুক ঘরের সৌন্দর্যে এনে দেয় আধুনিকতার ছোঁয়া।

আজকাল মানুষ টিভি দেখার সময় পেতে চান নিখুঁত ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা। আর সেই চাহিদা পূরণেই প্রযুক্তি, ডিজাইন ও পারফরম্যান্সের এই মেলবন্ধন। শক্তিশালী প্রসেসর, উন্নত ডিসপ্লে ও এআই নিয়ন্ত্রিত সাউন্ড সিস্টেম মিলে এখন ঘরেই পাওয়া যায় থিয়েটারে সিনেমা দেখার অনুভূতি। প্রযুক্তির এই ধারাবাহিক অগ্রগতি আমাদের টেলিভিশন দেখার অভিজ্ঞতা বদলে দিচ্ছে। দিন দিন উন্নত থেকে উন্নততর হচ্ছে আধুনিক টিভিগুলো। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রযুক্তির এই বিকাশ অব্যাহত থাকলে টেলিভিশনের ভবিষ্যৎ অফুরন্ত সম্ভাবনাময়।

টিভি এখন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, হয়ে উঠছে এক অনন্য ভিজ্যুয়াল এক্সপেরিয়েন্স
টিভি এখন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, হয়ে উঠছে এক অনন্য ভিজ্যুয়াল এক্সপেরিয়েন্স। ছবি: স্যামসাংয়ের সৌজন্যে

Saturday, March 28, 2026

কোটি কোটি টাকার বিমানে কেন স্মার্টফোন বন্ধ করতে বলা হয় by জাহিদ হোসাইন খান

প্রকাশ ০৭ মার্চ ২০২৬ঃ মুঠোফোন, ট্যাবলেট বা পোর্টেবল ভিডিও গেম এই সময়ের বড় সঙ্গী। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার বিমান ভ্রমণে যখন আসন থেকে ওঠা বারণ, তখন সময় কাটানোর জন্য এই যন্ত্রই আমাদের প্রধান ভরসা হওয়ার কথা; কিন্তু যাঁরা বিমানে ভ্রমণ করেছেন, তাঁরা সবাই একটি পরিচিত বার্তার সঙ্গে পরিচিত। বিমানে ভ্রমণের সময় বলা হয়, ইলেকট্রনিক যন্ত্র বন্ধ করুন বা ফ্লাইটজুড়ে এয়ারপ্লেন মোড বা ফ্লাইট মোডে রাখুন।

যাত্রী হিসেবে আমাদের সতর্ক করা হয়, সেলুলার ফোনের নেটওয়ার্ক চালু থাকলে তা বিমানের নেভিগেশন বা দিকনির্ণয় যন্ত্রপাতিতে বিঘ্ন ঘটাতে পারে; কিন্তু আসলেই কি তা ঘটে? পকেটে থাকা একটি সস্তা স্মার্টফোন কি সত্যিই কোটি টাকা মূল্যের একটি বিশাল বিমানকে বিপদে ফেলতে পারে?

বিশেষজ্ঞদের মতে এ প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো সম্ভবত কোনো বিপদে ফেলতে পারে না মুঠোফোন। তবে ফোন কীভাবে বিমানের যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য যাত্রীর ওপর প্রভাব ফেলে, তা জানা জরুরি। একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র কীভাবে কাজ করে তা বোঝা প্রথম ধাপ। সাধারণত একটি তারহীন নেটওয়ার্ক বা টাওয়ারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য মুঠোফোনগুলো নিম্ন ক্ষমতার রেডিও তরঙ্গ প্রেরণ করে (যা সাধারণত শূন্য দশমিক ২৫ ওয়াট পর্যন্ত হয়)। ফোনটি একই সঙ্গে সংকেত পাঠায় এবং গ্রহণ করে। যদি টাওয়ার কাছে থাকে, তবে ফোনকে খুব বেশি শক্তি খরচ করতে হয় না; কিন্তু বিমান যখন অনেক উঁচুতে থাকে, তখন ফোনটি সিগন্যাল পাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহার করে ক্রমাগত সার্চ করতে থাকে।

যখন ফোন সক্রিয় (অ্যাকটিভ) মোডে থাকে, তখন এটি বেতার সংকেত পাঠাতে থাকে: কিন্তু এয়ারপ্লেন মোডে থাকলে তা বন্ধ হয়ে যায়। এয়ারলাইনস বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বেতার সংকেত বিমানের গুরুত্বপূর্ণ সেন্সর, নেভিগেশন সরঞ্জাম এবং সংঘর্ষ এড়ানোর যন্ত্রপাতির কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। বাস্তবে আধুনিক বিমানের সংবেদনশীল ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি রেডিও তরঙ্গ থেকে সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী শিল্ড যুক্ত থাকে। যদিও ২০০০ সালে সুইজারল্যান্ডে এবং ২০০৩ সালে নিউজিল্যান্ডে দুটি বিমান দুর্ঘটনার পেছনে মুঠোফোনের সংকেতকে আংশিকভাবে দায়ী করা হয়েছিল। বর্তমান সময়ে এই সংকেত বিমানকে বিপদে ফেলার চেয়ে চালকদের বেশি বিরক্ত করে।

ফোনের সিগন্যাল যখন সচল থাকে, তখন পাইলট এবং রেডিও অপারেটরদের হেডফোনে একধরনের কর্কশ শব্দ শোনা যায়। আমরা যখন কোনো স্পিকারের পাশে একটি ফোন রাখি এবং তাতে কল বা মেসেজ আসে, তখন স্পিকারে যেমন শব্দ হয় পাইলটরাও তাঁদের হেডফোনে অনেকটা তেমনই শব্দ শুনতে পান। এর ফলে তাঁদের যন্ত্রপাতিগুলো সঠিকভাবে পড়া বা একে অপরের সঙ্গে কথা বলা কঠিন হয়ে পড়ে। মূলত পাইলটদের বিরক্তি এড়ানোর জন্যই যাত্রীদের ফোন বন্ধ রাখতে বলা হয়।

২০১৪ সালে ইউরোপীয় এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি ঘোষণা করে ইলেকট্রনিক যন্ত্র নিরাপত্তার জন্য বড় কোনো ঝুঁকি নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা চীনের মতো দেশ এখনো কড়া নিয়ম বজায় রেখেছে। চীনে ফ্লাইটের সময় ফোন বন্ধ না রাখলে জেল বা কয়েক হাজার ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে।

অনেকেই চান বিমানের দামী এয়ারফোন ব্যবহার না করে নিজের স্মার্টফোন দিয়ে কথা বলতে। এটি সম্ভব করার জন্য বিমানে পিকো সেল নামের ছোট ইন-ফ্লাইট টাওয়ার বসানো হচ্ছে। এটি ফোনের সংকেতকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখে যাতে পাইলটদের কোনো সমস্যা না হয়। অনেক ইউরোপীয় বিমান সংস্থা ইতিমধ্যে অ্যারোমোবাইলের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে যাত্রীদের কথা বলার সুযোগ দিচ্ছে। মার্কিন সংস্থাগুলো এখনো দ্বিধায় আছে। তাদের ভয় হলো, ফোনে কথা বলার অনুমতি দিলে শান্ত একটি ফ্লাইট একটি কোলাহলপূর্ণ ও বিরক্তিকর যাত্রায় পরিণত হতে পারে।

সূত্র: ব্রিটানিকা

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-03-07%2Fxcoxsm9p%2Fairplane.jpg?rect=95%2C0%2C1080%2C720&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
সাধারণত বিমানযাত্রার সময় স্মার্টফোনে এয়ারপ্লেন মোড রাখতে হয়। ছবি: রয়টার্স

মাছ নিয়ে ফারজানার সফল উদ্যোগ, এখন কর্মী ৭০ by রাহিতুল ইসলাম

কিশোরগঞ্জের ভৈরব কিংবা চট্টগ্রামের ফিশারিঘাট মাছের আড়ত। রাত ৩টা থেকে ৪টার দিকে যখন কর্মচাঞ্চল্য তুঙ্গে, তখন সেখানে ভিড়ের মধ্যে দেখা মিলত এক নারীর। কাদা-পানির মাখামাখি আর হাজারো পুরুষের ভিড়ে তিনি মাছ চিনছেন, শিখছেন মাছ সংরক্ষণের কায়দা। তিনি ফারজানা আকতার । একসময় করতেন টেলিভিশন সাংবাদিকতা, আর এখন তিনি সফল উদ্যোক্তা। তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘রিভার ফিশ’ এখন অনেকের কাছেই আস্থার নাম। ফারজানা একা শুরু করেছিলেন ২০১৯ সালে, এখন তাঁর প্রতিষ্ঠানে ৭০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। গত শুক্রবার রাজধানীর হাতিরঝিল সংলগ্ন এলাকায় রিভার ফিশের কার্যালয়ে কথা হয় ফারজানা আকতারের সঙ্গে।

সংগ্রামের শুরু যেখানে

ফারজানা আকতারের বড় হয়ে ওঠা কুমিল্লায়। ১৯৯৭ সালে খুব ছোটবেলায় বাবাকে হারান তিনি। মা আর ছোট বোনকে নিয়ে শুরু হয় এক কঠিন জীবনযুদ্ধ। সংসারের হাল ধরতে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালীন ৩০০ টাকা বেতনে শুরু করেন টিউশনি। পড়াশোনার পাশাপাশি কখনো এনজিওতে কাজ করেছেন, কখনো কিন্ডারগার্টেন স্কুলে পড়িয়েছেন, আবার কখনো দর্জির কাজ করে চালিয়েছেন সংসারের চাকা। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা থামাননি। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে সমাজকর্মে উচ্চশিক্ষা শেষ করে ২০১৪ সালে আসেন ঢাকায়। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর টেলিভিশন সাংবাদিকতার নতুন অধ্যায়।

উদ্যোক্তা হওয়ার ঝোঁক ও ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা

টেলিভিশন সাংবাদিকতা বাইরের মানুষের কাছে আকর্ষণীয় মনে হলেও, ঢাকার আকাশছোঁয়া ব্যয়ের জীবনে টিকে থাকা ফারজানার জন্য ছিল এক নীরব সংগ্রাম। বাড়তি আয়ের আশায় ২০১৮ সালে ‘টুশিস কিচেন’ নামে ফুডপান্ডার মাধ্যমে খাবার সরবরাহ শুরু করেন তিনি। এরপর ‘ফেরিওয়ালা’ নামে একটি অনলাইন পেজ খুলে জামদানি শাড়ি ও রুহিতপুরের লুঙ্গি বিক্রি করতেন।

কিন্তু শাড়ি–লুঙ্গির ব্যবসায় নিজেকে ঠিক মানিয়ে নিতে পারছিলেন না ফারজানা। সাংবাদিকতার ব্যস্ত শিডিউলের কারণে শাড়ির সূক্ষ্ম খুঁটিনাটি—যেমন কুঁচি কিংবা ব্লাউজ পিস সম্পর্কে তাঁর ধারণা ছিল সীমিত। ক্রেতাদের নানা কারিগরি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে না পেরে তিনি দ্রুতই একটি বড় সত্য উপলব্ধি করেন, যে পণ্য সম্পর্কে নিজের গভীর আবেগ বা পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই, সেখানে সফল হওয়া অসম্ভব। এই উপলব্ধি থেকেই ২০১৯ সালে শাড়ির ব্যবসা গুটিয়ে নেন তিনি। তবে দমে যাননি, বরং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার শুরু করেন।

নদী থেকে ব্যবসায় ফেরা

সাংবাদিকতা করার সময় ফারজানা দীর্ঘদিন নদী দখল ও দূষণ নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন। এই কাজের সূত্রেই তিনি গভীরভাবে খেয়াল করেন, রাজধানীর বাজারে সাধারণ মানুষের জন্য ফরমালিনমুক্ত এবং নদীর তাজা মাছ পাওয়া কতটা দুঃসাধ্য। তিনি লক্ষ করেন, মূলত সঠিক সংরক্ষণের অভাব ও বিক্রেতাদের অসচেতনতার কারণে মাছের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। নাগরিক জীবনের এই বড় সংকটকেই তিনি নিজের নতুন সম্ভাবনায় রূপ দেন। বাজারব্যবস্থার এই ফাঁকটুকু পূরণ করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৯ সালের মার্চে শুরু করেন মাছ নিয়ে তাঁর স্বপ্নের উদ্যোগ।

সফটওয়্যার প্রকৌশলী স্বামী যখন পাশে

বাঙালির চিরন্তন পরিচয় ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ ঐতিহ্যকে ডিজিটাল যুগে আরও সহজলভ্য করে তুলছেন এই দম্পতি। ব্যস্ত নাগরিক জীবনে নদী বা হাওরের টাটকা মাছ খুঁজে পাওয়া যখন দুষ্কর, তখন সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরাসরি জলাশয়ের মাছ পৌঁছে দিতে কাজ করছেন ফারজানা আকতার ও তাঁর স্বামী সফটওয়্যার প্রকৌশলী তানভীর আজাদ। তাঁদের যৌথ প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে অনলাইন মাধ্যম ‘রিভার ফিশ’।

শুরু থেকেই ফারজানার উদ্যোগের সঙ্গে ছায়ার মতো ছিলেন তানভীর আজাদ। ফারজানা ঘুরে বেড়ান দেশের বিভিন্ন জেলায়, পরিচয় করিয়ে দেন বিল ও নদীর বিলুপ্তপ্রায় সব দেশি মাছের সঙ্গে। আর সেই মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দী করেন তানভীর। ২০২০ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর তাঁদের এই পেশাদার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। বর্তমানে তানভীর তাঁর সফটওয়্যার প্রকৌশল জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল মার্কেটিং এবং ওয়েবসাইটের কারিগরি দিকগুলো সামলাচ্ছেন।

তানভীর আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা মূলত নদী, হাওর, বিল এবং সমুদ্রের প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা মাছ সংগ্রহ করি। আমাদের লক্ষ্য হলো মাছের কৃত্রিমতা দূর করে একদম টাটকা স্বাদ গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া।’ তাঁদের সংগ্রহে রয়েছে হাওরের মাছ, ধনু নদীর পাঁচমিশালি মাছ, বাতাসি, গুতুম, বিলের দেশি কই, মাগুর ও শোল। নদীর কাজলি, মধু টেংরা, পাবদা এবং বড় আকারের কাতল, কোরাল। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে আছে কাপ্তাই লেকের পাবদা, হাকালুকি হাওরের বড় মাছ, সুনামগঞ্জের কালো চিংড়ি, প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা গলদা ও ডিমা চিংড়ি।

মাঝরাতে আড়তে আড়তে

ব্যবসা শুরুর আগে ফারজানা একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নেন—তাঁকে আগে মাছ চিনতে হবে। এই সংকল্প থেকে টানা তিন মাস তিনি গভীর রাতে চষে বেড়িয়েছেন রাজধানীর কারওয়ান বাজার কিংবা যাত্রাবাড়ীর বড় বড় মাছের আড়ত। একজন নারীর জন্য রাত ২টা বা ৪টার দিকে ওই পুরুষতান্ত্রিক পরিবেশে যাওয়াটা ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। কিন্তু অভিজ্ঞতাটা ছিল একেবারেই ভিন্ন ও ইতিবাচক। সেখানকার তথাকথিত ‘অশিক্ষিত’ শ্রমিক ও মহাজনেরা তাঁকে দেখে কটু কথা বলা তো দূরের কথা, বরং পরম মমতায় মাছ চিনতে সাহায্য করেছেন। ফারজানা আকতার স্মৃতিচারণা করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাকে দেখে আড়তদারেরা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করতেন আপা, এত রাতে এখানে কী করেন? আমি যখন বলতাম মাছের ব্যবসা করার জন্য মাছ চিনতে এসেছি, তাঁরা দারুণ উৎসাহ দেখাতেন। বলতেন, আসেন আপা আপনাকে মাছ দেখাই। কাদা-পানিতে মাখামাখি সেই ভিড়েও কেউ আমাকে ধাক্কা পর্যন্ত দিত না। উল্টো মহাজনেরা যত্ন করে শিখিয়ে দিতেন কোন মাছ কোন জেলা বা কোন নদী থেকে এসেছে।’

সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা যখন ব্যবসায়িক কৌশল

একজন দক্ষ সাংবাদিকের গবেষণার অভ্যাসকে ফারজানা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন তাঁর ব্যবসায়। মাছের সঠিক উৎস নিশ্চিত করতে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ করতেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে। এমনকি কোনো নির্দিষ্ট মাছ কোন জনপদে ভালো পাওয়া যায়, তা জানতে সাহায্য নিয়েছেন বাংলাপিডিয়ারও। মাছ যেন ঢাকায় আনার পথে গুণগত মান না হারায়, সে জন্য জেলেদের কাছ থেকে শিখে নিয়েছেন প্যাকিংয়ের বিশেষ কৌশল। মাছের খোঁজে তিনি ছুটে গিয়েছেন দেশের নানা জেলার নদী, খাল আর বিলের পাড়ে।

সাফল্যের জয়গান

শুরুর পথটা ফারজানা পাড়ি দিয়েছেন একদম একা। সারা দিন অফিস করে রাতে নিজেই ক্রেতাদের বার্তার উত্তর দিতেন। ২০১৯ সালের আগস্টে মাত্র দুজন কর্মী নিয়ে শুরু হওয়া সেই ছোট উদ্যোগটি আজ ডালপালা মেলে বিশাল মহিরুহে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন ৭০ জন কর্মী। ২০২০ সালে করোনা মহামারির কঠিন সময়ে যখন চারদিকে কর্মসংস্থানের সংকট, তখন ফারজানা সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। সাংবাদিকতার পেশা ছেড়ে পূর্ণকালীন উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মনিয়োগ করেন নিজের প্রতিষ্ঠান ‘রিভার ফিশ’-এ। দেশ ছাড়িয়ে প্রবাসেও তারা জায়গা করে নিয়েছে।

বিদেশে অবস্থানরত অনেক বাংলাদেশিই দেশের মাছের স্বাদ মনে মনে খোঁজেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক ভ্রমণে কাঁচা মাছ বহন করা বেশ ঝক্কির ব্যাপার। এই সমস্যার সমাধানে ‘রিভার ফিশ কিচেন’ চালু করেছে এক অভিনব সেবা। তারা গ্রাহকের পছন্দ অনুযায়ী মাছ ঐতিহ্যবাহী বাঙালি স্বাদে ভেজে এমনভাবে প্যাকিং করে দেয়, যা প্রবাসীরা সহজেই সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারেন। এ ছাড়া তারা বিমানবন্দরে সরবরাহের সুবিধাও প্রদান করে থাকে। শুধু মাছই নয়, রিভার ফিশে পাওয়া যাচ্ছে গ্রামের দেশি মুরগি, হাঁস এবং প্রি-অর্ডারের মাধ্যমে খাসির মাংস। যাঁরা শুঁটকিপ্রেমী, তাঁদের জন্য রয়েছে কিশোরগঞ্জের বিখ্যাত চ্যাপা শুঁটকি, নিরাপদ ছুরি ও লইট্টা শুঁটকি ইত্যাদি।

ফারজানা আকতার প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিজেকে কেবল “নারী” ভাবলে চলবে না, ভাবতে হবে মানুষ হিসেবে। জীবনের যেকোনো পরিস্থিতিতে আত্মবিশ্বাস থাকলে সব বাধা জয় করা সম্ভব।’ ফারজানার এই দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প আর রিভার ফিশের সাফল্য এখন অসংখ্য নারীর জন্য সাহসের উৎস। বর্তমানে তিনি নতুন নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করছেন; প্রশিক্ষণ আর ক্ষুদ্র বিনিয়োগের মাধ্যমে তাঁদের স্বাবলম্বী করে তোলাই এখন তাঁর লক্ষ্য।

ফারজানা আকতার
ফারজানা আকতার। ছবি: সংগৃহীত

Friday, March 27, 2026

বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই–অক্সাইডের মাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, কারণ কী

২০২৪ সালে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই–অক্সাইডের মাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড মেটেরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএমও)। জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থাটির তথ্যমতে, ২০২৩ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কার্বন ডাই–অক্সাইডের বৈশ্বিক গড় ঘনত্ব ৩.৫ পার্টস পার মিলিয়ন (পিপিএম) বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৫৭ সাল থেকে গণনা শুরু করার পর থেকে ২০২৪ সালেই সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

ওয়ার্ল্ড মেটেরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষের নানা ধরনের কার্যকলাপের কারণে কার্বন ডাই–অক্সাইডের ক্রমাগত নির্গমন ঘটছে। দাবানলের মতো ঘটনা এই রেকর্ড বৃদ্ধির জন্য দায়ী। পৃথিবীর মহাসাগর ও ভূখণ্ডও এখন কম কার্বন–ডাই অক্সাইড শোষণ করেছে। কার্বন ডাই–অক্সাইডের বৃদ্ধি খারাপ জলবায়ুচক্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার সঙ্গে সঙ্গে মহাসাগর ও ভূখণ্ডে গ্রিনহাউস গ্যাস শোষণ ও সঞ্চয় করার ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। অন্য দুটি প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডও ২০২৪ সালে নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বর্তমানে কার্বন ডাই–অক্সাইডের মাত্রা ৪২৩ পিপিএমে পৌঁছেছে। এই মাত্রা প্রাক্‌-শিল্প স্তরের ২৭৮ পিপিএমের চেয়ে ৫২ শতাংশ বেশি। বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই–অক্সাইডের পরিমাণ দ্রুত হারে বাড়ছে। এই মাত্রা ১৯৬০ দশকের বার্ষিক গড় শূন্য দশমিক ৮ পিপিএম থেকে বেড়েছে। ২০১১-২০ দশকে বছরে ২ দশমিক ৪ পিপিএম মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ওয়ার্ল্ড মেটেরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশনের তথ্যমতে, প্রতিবছর নির্গত কার্বন ডাই–অক্সাইডের প্রায় অর্ধেক বন ও অন্যান্য স্থলজ বাস্তুতন্ত্র ও মহাসাগর শোষণ করে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মহাসাগর কার্বন ডাই–অক্সাইড কম শোষণ করছে। শক্তিশালী এল নিনো আবহাওয়ার ধরন ও রেকর্ড উষ্ণতম বছর হওয়ার কারণে ২০২৪ সালে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই–অক্সাইডের রেকর্ড বৃদ্ধি হয়েছে বেশি। স্থলভাগ ও সমুদ্র সে বছর কার্বন ডাই–অক্সাইড কম শোষণ করেছে। এল নিনোর বছরে শুষ্ক গাছপালা ও বন্যায় কার্বন সঞ্চয় হ্রাস পেয়েছে। ২০২৪ সালে অ্যামাজন ও দক্ষিণ আফ্রিকায় খরা ও আগুনের প্রভাব ছিল বেশ।

ওয়ার্ল্ড মেটেরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশনের ডেপুটি সেক্রেটারি-জেনারেল কো ব্যারেট জানান, কার্বন ডাই–অক্সাইড ও অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাস আবদ্ধ তাপ আমাদের জলবায়ুকে টার্বো চার্জ করছে। আরও চরম আবহাওয়ার দিকে চলে যাচ্ছে পৃথিবী। নির্গমন হার হ্রাস করতে না পারলে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও মানুষের ঝুঁকি বাড়বে।

সূত্র: ডেইলি মেইল

বিশ্বে কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ বেড়েছে
বিশ্বে কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ বেড়েছে। ফাইল ছবি: রয়টার্স

Sunday, January 4, 2026

মাঠে সার-কীটনাশক দিচ্ছে ড্রোন, সময় লাগে কম, খরচেও সাশ্রয়ী by ইয়াহইয়া নকিব

 - দেশের কৃষিতে নতুন দিগন্ত খুলছে ড্রোন প্রযুক্তি।
- এক বিঘা জমিতে কীটনাশক দিতে লাগে মাত্র ৩-৫ মিনিট। খরচও কম।
- স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়িয়ে আধুনিক চাষাবাদের সুযোগ।

কৃষিকাজেও প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। সনাতনী পদ্ধতির কাস্তে দিয়ে  ধান বা শস্য কাটার বদলে এখন হারভেস্টারের সাহায্যে একসঙ্গে কাটা, মাড়াই ও ঝাড়াই—তিনটি কাজই করা যাচ্ছে। ড্রোন দিয়ে কীটনাশক ও সার প্রয়োগের অত্যাধুনিক যান্ত্রিক পদ্ধতিও এসে গেছে।

কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকেরা জানান, ড্রোনের সাহায্যে করলে জমিতে পরিমিত মাত্রায় সার–কীটনাশক ছিটানো যায়। এতে কৃষকের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিও এড়ানো সম্ভব। এক বিঘা জমিতে কীটনাশক ছিটাতে একজন মানুষের যেখানে দুই ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে ড্রোনের লাগে মাত্র পাঁচ মিনিট, খরচও কম পড়ে।

জিনিয়াস ফার্মস লিমিটেড ও ফ্লাইমেক নামের দুটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে প্রাথমিকভাবে মাঠপর্যায়ে ড্রোনের মাধ্যমে কীটনাশক প্রয়োগ করছে। এতে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। চীনের যন্ত্রাংশ দিয়ে দেশে তৈরি এসব ড্রোন পাঁচ কেজি ওজনের কীটনাশক বহনে সক্ষম।

নরসিংদীর বেলাব উপজেলা ও মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায় কৃষকদের স্থানীয় দুটি সমিতির মাধ্যমে এ সেবা দেওয়া হচ্ছে। আপাতত দুটি ড্রোন দিয়ে নির্দিষ্ট ফির বিনিময়ে কৃষকেরা এ সেবা নিতে পারছেন। সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এসএমই মেলায় এই ড্রোন প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়।

ড্রোনের মাধ্যমে মাঠে কীটনাশক দেওয়ার সুবিধা সম্পর্কে জানতে চাইলে জিনিয়াস ফার্মসের কৃষি বিভাগের প্রধান সমীরণ বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ড্রোনের সাহায্যে প্রতি বিঘা জমিতে কীটনাশক দিতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা নেওয়া হয়। আর কৃষিশ্রমিকের মাধ্যমে খরচ হয় ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার মতো। এ কাজে একজন মানুষের দুই ঘণ্টা লাগে। অথচ ড্রোনে মাত্র তিন থেকে পাঁচ মিনিটে কাজটি করা যায়।

জানা গেছে, বর্তমানে আলোচ্য দুই উপজেলার প্রায় ২০০ কৃষকের ৫০ থেকে ৬০ একর জমিতে এই আধুনিক প্রযুক্তিতে কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে।

এদিকে সাভারের বিরুলিয়াতেও একই কাজে ড্রোন ব্যবহার হচ্ছে। এ নিয়ে কৃষক মোক্তার হোসেন জানান, রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে ড্রোন চালিয়ে জমিতে কীটনাশক দেওয়া হয়েছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে কীটনাশক প্রয়োগের দিন শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। মাস্ক ব্যবহার করলেও ক্ষতি হয়। কিন্তু যন্ত্র দিয়ে স্প্রে করলে সেই ঝুঁকি কম মনে হয়। তা ছাড়া প্রতি বিঘা জমিতে কীটনাশক দিতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে।

জিনিয়াস ফার্মস লিমিটেড ও ফ্লাইমেকের কর্মকর্তারা জানান, তাঁরা ভবিষ্যতে ড্রোনের মাধ্যমে কীটনাশক প্রয়োগকে একটি ব্যবসায়িক মডেলে রূপ দিতে চান। সে অনুযায়ী, গ্রামে কৃষক সমিতির মাধ্যমে ড্রোন পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা গেলে একটি ড্রোনে মাসে দুই থেকে তিন লাখ টাকা ভাড়া পাওয়া যেতে পারে।

প্রতিষ্ঠান দুটির কর্মকর্তারা জানান, হাতে প্রয়োগ করলে বেশি সময় লাগে। আবার কীটনাশকের ব্যবহারও হয় বেশি। ড্রোনে জিপিএসের মাধ্যমে কীটনাশকের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ড্রোন না কিনেও ভাড়ায় সেবা নিতে আগ্রহী হচ্ছেন অনেক কৃষক। একটি লাভজনক ব্যবসায়িক মডেল দাঁড় করানো গেলে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোও বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হবে।

ফ্লাইমেকের কর্মকর্তারা জানান, কৃষিতে ব্যবহৃত এসব ড্রোন এখন দেশেই তৈরি হচ্ছে। ফলে তা তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকায় পাওয়া যায়। বিশেষ করে ড্রাগনবাগানে গাছে বেশি কাঁটা থাকায় হাতে কীটনাশক দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে ড্রোন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

ফ্লাইমেকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাওয়াদ রশিদ প্রথম আলোকে জানান, তাঁরা ড্রোন বিক্রিও করেন। কেউ চাইলে অর্ধেক মূল্য, অর্থাৎ পৌনে দুই লাখ টাকা জমা দিয়ে ড্রোন নিতে পারবেন। বাকি টাকা পরে সার্ভিস ফি থেকে পরিশোধ করা যাবে। আগামী বছর থেকে ফ্লাইমেক পুরোদমে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করবে। পাশাপাশি ড্রোনের কীটনাশক বহনের সক্ষমতা ১০ থেকে ২০ লিটারে উন্নীত করার কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

তবে দেশে কৃষিজমির আকার তুলনামূলক ছোট হওয়ায় ড্রোন ওড়ানো একটু কঠিন। সে জন্য কয়েকটি জমির কৃষক একসঙ্গে ড্রোন ব্যবহার করলে সুবিধা পাওয়া যাবে।

জিনিয়াস ফার্মস মূলত একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান। কৃষিতে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে গত পাঁচ বছর ধরে কাজ করছে তারা। ‘ডাক্তার চাষি’ নামের একটি ফ্রি অ্যাপের মাধ্যমে ৪১টি প্রধান ফসলের রোগ ও কীটনাশক ব্যবহারের পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

এ ছাড়া ‘ড্রোন বাংলাদেশ’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানও কৃষিকাজে ব্যবহারের উপযোগী ড্রোন বিক্রি করছে। প্রতিষ্ঠানটি মূলত অস্ট্রেলিয়ার তৈরি ডিজিআই ড্রোন বাজারজাত করে। ২০১৫ সাল থেকে দেশে ড্রোন বিক্রি করছে তারা। তবে এখনো সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণা ও প্রকল্পের কাজেই মূলত এসব ড্রোন বেশি ব্যবহার করছে বলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান।

ড্রোন বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী কামরান আহমেদ জানান, তাঁদের কাছে ১৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা দামের ড্রোন রয়েছে। ২০ থেকে ৩০ লিটার, এমনকি ১০০ লিটার কীটনাশক বহনে সক্ষম ড্রোনও আছে। তবে দেশে ১০ লিটারের ছোট ড্রোনের চাহিদা বেশি। ভবিষ্যতে নিজস্ব অ্যাসেম্বল প্ল্যান্ট বা সংযোজন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করছেন বলে জানান এ উদ্যোক্তা।

সার ও কীটনাশক ছিটাতে ব্যবহার হচ্ছে ড্রোন
সার ও কীটনাশক ছিটাতে ব্যবহার হচ্ছে ড্রোন। ছবি : সংগৃহীত

Tuesday, April 29, 2025

লাইসেন্স পেলো স্টারলিংক

মার্কিন এনজিএসও সেবাদাতা স্টারলিংকের লাইসেন্স অনুমোদন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার তিনি এই লাইসেন্স অনুমোদন করেন বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। এক বার্তায় প্রেস উইং জানায়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কর্তৃক গত ২৫শে মার্চ Non-Geostationary Orbit (NGSO) Satellite Services Operator In Bangladesh শীর্ষক লাইসেন্সিং গাইডলাইন জারি করে। উক্ত গাইডলাইনের আওতায় Starlink Services Bangladesh Non-Geostationary Orbit (NGSO) Satellite Services Operator License প্রাপ্তির জন্য প্রযোজ্য ফি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিটিআরসি বরাবর আবেদন করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে আবেদনকৃত লাইসেন্স ইস্যুর জন্য গত ২১শে এপ্রিল অনুষ্ঠিত ২৯৪তম কমিশন সভায় নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। স্টারলিংক বাংলাদেশের ইন্টারনেটে নতুন সংযোজন। শ্রীলংকার পরে দক্ষিণ এশিয়ার ২য় দেশ হিসেবে বাংলাদেশে বৈশ্বিক এই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান যাত্রা শুরু করল। এ প্রসঙ্গে ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের উপর্যুপরি ইন্টারনেট বন্ধের প্রতিবাদে স্টারলিংককে বাংলাদেশের নিয়ে আসা একটা গণদাবীতে পরিণত হয়েছিল। তিনি বলেন, পাশাপাশি বাংলাদেশকে বিনিয়োগ বান্ধব হিসেবে একটা বার্তা পৌঁছে দেয়ার ইচ্ছা ছিল প্রধান উপদেষ্টার। বাংলাদেশের হাওর বাওড় দ্বীপাঞ্চলে, দুর্গম পার্বত্য এলাকায়, বিশেষভাবে উপকূলীয় দুর্যোগ প্রবণ এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন এবং মানসম্পন্ন ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেসব অঞ্চলে এখনো ফাইবার পৌঁছেনি সেখানে দ্রুততম সময়ে মানসম্পন্ন ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়ার চাহিদার প্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টা স্বউদ্যোগী হয়ে স্পেইসএক্স সিইও ইলন মাস্ককে ফোন করে ৯০ দিনের মধ্যে স্টারলিংককে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করার আহ্বান জানান। এ লক্ষ্য অর্জনে বিডা, বিটিআরসি, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় নিবিড়ভাবে কাজ করেছে। ফয়েজ তৈয়্যব বলেন, স্টারলিংকের সেবাগুলো মধ্যে একটা প্রাথমিক সেবা হচ্ছে নিরবচ্ছিন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেট, যেখানে লোডশেডিংয়ের সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাবে না, যেটা আইএসপির ক্ষেত্রে হয়। অনেক ক্ষেত্রে যদি লম্বা সময় ধরে লোডশেডিং থাকে, মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারির ব্যাকআপ ফুরিয়ে গেলে মোবাইল ইন্টারনেটেও বিঘ্ন ঘটে। স্টারলিংকের ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যা হবে না।

তিনি বলেন, আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, বাংলাদেশে ফাইবার নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি সীমিত। উপরন্তু এই ফাইবার নেটওয়ার্কের উল্লেখযোগ্য অংশ  টেলকো গ্রেডের নয়। বাংলাদেশের অন্তত ৬৫ শতাংশ টেলিযোগাযোগ টাওয়ার এখনো ফাইবারাইজেশনের বাইরে, সেখানে মাইক্রোওয়েভ দিয়ে সেবা দেওয়া হয়, খুবই সীমিত ধারণক্ষমতা। আবার আমাদের মোবাইল নেটওয়ার্কের যে কাভারেজ ও ক্যাপাসিটি আছে, তাতেও সমস্যা আছে, হাইওয়ে মোবিলিটি কভারেজের সমস্যা আছে। স্টারলিংক এসব সমস্যার সমাধান করবে। তিনি জানান, স্টারলিংক বাংলাদেশের মোবাইল এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বাজারকে প্রতিযোগিতামূলক করবে। এর মাধ্যমে ভয়েস কল এবং ডেটা বান্ডেল ভিত্তিক গতানুগতিক ইন্টারনেট সেবাদান ব্যবস্থা ডিজিটাল সার্ভিস কেন্দ্রিক নতুন রূপান্তরে মধ্য দিয়ে যাবে। তিনি বলেন, স্টার্লিংকের সার্ভিসের ফলে কমিউনিকেশন ইন্ডাস্ট্রিতে ডিরেগুলেশনের সূচনা হবে, প্রতিযোগিতা বাড়বে, শহর কিংবা গ্রামভেদে নিরবচ্ছিন্ন এবং মানসম্পন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেট প্রাপ্তির নিশ্চয়তা তৈরি হবে।

mzamin

Friday, November 15, 2024

বিলুপ্তির ঝুঁকিতে ৪০ শতাংশ প্রবাল

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিলুপ্তির হুমকিতে আছে বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী। বিলুপ্তির ঝুঁকির তালিকা দিন দিন বড় হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা সেই তালিকায় বিভিন্ন ধরনের প্রবালের অবস্থা সম্পর্কে শঙ্কার তথ্য দিয়েছেন। বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি প্রবালের বাসস্থান ও বাস্তুতন্ত্র তীব্র হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। নতুন গবেষণা অনুসারে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের প্রবাল প্রাচীরের একটি বড় অংশ বেঁচে থাকবে কি না, তার সম্ভাবনা কমিয়ে দিচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন)-এর রেড লিস্ট অব থ্রেটেনড স্পিসিস অনুসারে, বিশ্বব্যাপী রিফ-বিল্ডিং প্রবাল প্রজাতির প্রায় ৪৪ শতাংশ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। বিভিন্ন প্রবাল প্রজাতির বিরুদ্ধে প্রধান হুমকির মধ্যে রয়েছে ব্লিচিং, তেলদূষণ ও বিভিন্ন রোগের প্রভাব। অন্যান্য হুমকির মধ্যে রয়েছে মাছ ধরা, গভীর সমুদ্রে খনন, তেল ও গ্যাসের জন্য খনন বা গভীর সমুদ্রে স্থাপনা করার মতো কার্যক্রম প্রবালদের বাস্তুতন্ত্রের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

আইইউসিএন ২০০৮ সালে ৮৯২টি উষ্ণ পানির রিফ-বিল্ডিং প্রবাল প্রজাতির অবস্থা বর্ণনা করে। তখন প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এই ঝুঁকির হার বেড়েছে। উষ্ণায়নের ঘটনা ও ব্লিচিংয়ের কারণে ঝুঁকি বাড়ছে। আইইউসিএন দুটি প্রবালের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। স্ট্যাগহর্ন প্রবাল ও এলখর্ন প্রবাল ক্যারিবীয় অঞ্চলের দুটি বিপন্ন প্রজাতির প্রবাল। উষ্ণতা বৃদ্ধি, দূষণ, ঘূর্ণিঝড় ও প্রবাল রোগের কারণে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

এ বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নোয়া) বিশ্বের চতুর্থ বৈশ্বিক প্রবাল ব্লিচিংয়ের ঘটনার কথা প্রকাশ করে। আগামী কয়েক মাসে আরও কয়েকটি প্রবাল ব্লিচিংয়ের ঘটনা দেখা যাবে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। রাসায়নিক বা প্রাকৃতিক কারণে প্রবাল তার রঙের উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে, এ বিষয়টিকে ব্লিচিং বলা হয়।

প্রবাল রক্ষা করা না গেলে উপকূলীয় অনেক মাছ ও প্রাণী হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রবাল প্রাচীর উপকূলরেখা ও উপকূলীয় আবাসস্থলকে স্থিতিশীল রাখছে। এসব প্রাচীর ধ্বংস হলে সমুদ্রতীরবর্তী এলাকার বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করেন বিজ্ঞানীরা। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসে বড় ভূমিকা রাখতে পারে প্রবাল প্রাচীর। সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে বিভিন্ন দেশের প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন বিজ্ঞানীরা।

সূত্র: এবিসি নিউজ

অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের প্রবালও উজ্জ্বলতা হারাচ্ছে
অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের প্রবালও উজ্জ্বলতা হারাচ্ছে। ছবি: অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস/রয়টার্স

Sunday, September 15, 2024

সফলভাবে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দাবি ইরানের

মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দাবি করেছে ইরান। নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই প্রযুক্তি খাতে নিজেদের সক্ষমতা জানান দিলো দেশটি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। এতে বলা হয়, শনিবার দেশটির আধাসামরিক বিপ্লবী গার্ড দ্বারা নির্মিত একটি রকেটের মাধ্যমে মহাকাশে ওই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে তেহরান। মহাকাশের কক্ষপথে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের এটি তেহরানের দ্বিতীয় প্রচেষ্টা বলে দাবি করা হয়েছে। দেশটির মহাকাশ বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছে যে, স্যাটেলাইটটি নির্দিষ্ট দূরত্ব পরিভ্রমণ করে কক্ষপথে পৌঁছেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, মোবাইল লঞ্চার থেকে রকেট বিস্ফোরণ হয়েছে। এপির বিশ্লেষণে বেরিয়ে এসেছে যে, তেহরানের প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার পূর্বে শাহরুদ শহরের উপকণ্ঠে বিপ্লবী গার্ডের একটি ঘাঁটি থেকে এই উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হয়েছিল। স্যাটেলাইট বহনকারী রকেটটি কায়েম-১০০ নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর আগে জানুয়ারিতে একই নামের স্যাটেলাইট বহনকারী রকেট ব্যবহার করেছিল ইরান।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, তিন স্তর বিশিষ্ট এই রকেটটির ৬০ কিলোগ্রাম ওজনের চামরান-১ নামের স্যাটেলাইটটিকে ৫৫০ কিলোমিটার কক্ষপথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছে। রকেটটিতে পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত লিখা ছিল। ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সহায়ক সংস্থা এবং মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা ‘অরবিটাল ম্যানুভার প্রযুক্তির বৈধতার জন্য হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার সিস্টেমগুলো পরীক্ষা করে এই স্যাটেলাইটটি তৈরি করা হয়েছে।’ বিপ্লবী গার্ডের প্রধান জেনারেল হোসেইন সালামি এক বিবৃতিতে মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, নিপীড়ক বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বিজ্ঞানীরা দারুণ সফলতা পেয়েছে।

গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরাইল-হামাস সংঘাতে গোটা মধ্যপ্রাচ্য ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের খবর এল। এর কয়েক মাস আগেই তেহরান ইসরাইলকে লক্ষ্য করে শতাধিক ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। এদিকে ইরান অস্ত্র-গ্রেড স্তরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে চলছে। এতে পশ্চিমাদের উদ্বেগ বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও ইরানের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, ইরান আমাদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ স্পষ্ট করে দিয়েছে। তেহরানের মহাকাশ উৎক্ষেপণ যানের প্রোগ্রামগুলো দেশটির দূর-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পথ প্রসারিত করছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও বলেছে, ‘আমরা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির আরও অগ্রগতি এবং ক্ষেপণাস্ত্র বিস্তারের ক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির মোকাবিলায় আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছি।’ ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে দূর-পাল্লার অস্ত্র সরবরাহ করার অভিযোগে গত সপ্তাহে ইরানকে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্র দেশগুলো। এর মাধ্যমে ইরানের সাথে ইউরোপের দেশগুলোর বাণিজ্য কঠিন হয়ে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের দেশে ইরান থেকে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল হতে পারে। যদিও ইরানের জন্য মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞা নতুন কিছু নয়।

‘নিষেধাজ্ঞা আরোপকারীদের বিরুদ্ধে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ একটি সুস্পষ্ট জবাব’

Friday, September 13, 2024

ইঞ্জিন তৈরিতে পশ্চিমা বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ তুরস্কের

বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিখাতে ব্যবহৃত যেসব জিনিস উৎপাদন করা কঠিন ও কষ্টসাধ্য তার মধ্যে অন্যতম উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ইঞ্জিন। উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ইঞ্জিন বলতে মূলত জঙ্গিবিমান ও অন্যান্য বাণিজ্যিক বিমানে ব্যবহৃত ইঞ্জিনকে বুঝানো হয়।

সাধারণত স্থল, আকাশ বা জলপথে যেসব শক্তিশালী যান চলাচল করে তাতে যেসব ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয় সেগুলো এক হাজার হর্সপাওয়ারের হয়ে থাকে। বিশেষভাবে বলতে গেলে এফ-১৬ জঙ্গিবিমান, বোয়িং ৭৩৭ ও সেনাবাহিনীর গোলন্দাজ বিভাগের ব্যবহৃত হাউইটজারে ব্যবহার করা হয় এক হাজার হর্সপাওয়ারের ইঞ্জিন।

প্রযুক্তির এই খাতে এবার নজরকাড়া সাফল্য দেখিয়েছে তুরস্ক। এরই মধ্যে পশ্চিমা নির্ভরশীলতা কমিয়ে বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে দেশটি।

বলা হয়ে থাকে উড়োজাহাজের ইঞ্জিন তৈরি করা একটি পরমাণু বোমা তৈরির চেয়েও কঠিন বিষয়। এটা এতটাই কঠিন যে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স ও স্পেন যখন টর্নেডো জেটের জন্য ইঞ্জিন তৈরির উদ্যোগ নেয় তখন তারা ভাবতে পারিনি যে এতে ১৭ বছর লাগবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া ও ফ্রান্স এককভাবে জেট ইঞ্জিন তৈরি করতে পারে।

জার্মানি ও জাপানের উৎপাদন সক্ষমতা ও সম্ভাবনা থাকলেও এখনও কোনো সাফল্য আসেনি। অন্যদিকে চীন রাশিয়া ও ইউক্রেনের সহায়তায় জেট ইঞ্জিন তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভারত এ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তা বাদ দেয়। তবে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প ইঞ্জিন তৈরিতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এ চেষ্টার অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন তৈরি করেছে তুরস্ক। এছাড়াও আরও বিভিন্ন ধরণের ইঞ্জিন উন্নয়ন ও পরীক্ষার জন্য অপেক্ষমান রয়েছে। 

কুচকাওয়াজে তুর্কি সামরিক বাহিনী। ছবি : সংগৃহীত

Friday, September 13, 2019

যানজট এড়াতে আসছে উবার এয়ার

অফিস টাইম। রাস্তায় প্রচণ্ড জ্যাম। গাড়ি পাচ্ছেন না। এই জটিলতা থেকে মুক্তি দিতে বেসরকারি উদ্যোগে অনেক পরিবহন সেবা এসেছে বিশ্বে। মোবাইল অ্যাপভিত্তিক এসব সেবার মধ্যে রয়েছে ট্যাক্সি, মোটরসাইকেল ভাড়া পাওয়ার ব্যবস্থা। তাতে খরচ একটু বেশি পড়লেও জীবন হয়েছে অনেকটা সহজ। কিন্তু সেই সুযোগকে আরো এক ধাপ বাড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্য স্থির হয়েছে। একবার ভাবুন তো, অফিসে যাবেন।
রাস্তায় জ্যাম। হাতে সময় নেই। এমন সময় কোনো একটি অ্যাপের বাটন চাপলেন। অমনি আপনার বাসার ছাদে বা উপযুক্ত একটি স্থানে উড়ে এলো একটি ট্যাক্সি। আপনি তার ভেতর উঠে বসলেন। আপনাকে নিয়ে আকাশপথে উড়ে চললো সেই ট্যাক্সি গন্তব্যে। যথাসময়ে অথবা তার আগেই আপনি পৌঁছে গেলেন গন্তব্যে। বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর মতো শোনালেও এটাই বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে।
হ্যাঁ, এমনই এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে এসেছে উবার। তারা প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে এমন সেবা নিয়ে আসছে। এ সেবা নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। সেখানে যাত্রী নিয়ে আকাশে উড়বে যে ট্যাক্সি তার নাম দেয়া হয়েছে ‘উবার এয়ার’। এজন্য উবার বেছে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নকে। এমন কর্মসূচি চালু হচ্ছে তিনটি পাইলট সিটি মেলবোর্ন, ডালাস ও লস অ্যাঞ্জেলেসে। ২০২০ সাল থেকে এমন ফ্লাইট পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। আর বাণিজ্যিকভিত্তিতে তা চালু হওয়ার কথা ২০২৩ সাল থেকে।
ভবিষ্যৎ পরিবহনের জন্য এরই মধ্যে বেশ কিছু কোম্পানি উড়ন্ত ট্যাক্সি উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছে। সে যাত্রায় উবার অগ্রগামী। তারা এক্ষেত্রে সফল হলে শহরগুলোতে যে গা-ঘামা ট্রাফিক জ্যাম তা থেকে মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারবে।
উবারের বেসামরিক বিভাগ উবার এলিভেট-এর বৈশ্বিক প্রধান এরিক অ্যালিসন বলেছেন, যেহেতু বড় বড় শহরগুলো বৃদ্ধি পাচ্ছেই। তাই ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকানা থাকলেই তার ওপর নির্ভর করা টেকসই পদক্ষেপ হবে না। এজন্য সড়কে যানজট এড়াতে ব্যাপক সুবিধা নিয়ে আসছে উবার এয়ার।
তিনি বলেন, মেলবোর্নের মূল বাণিজ্যিক এলাকা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত দূরত্ব ১৯ কিলোমিটার। এই পথ পাড়ি দিতে উবার এয়ারের লাগবে মাত্র ১০ মিনিট সময়। অন্যদিকে গাড়িতে করে সেখানে যেতে সময় লাগে এক ঘণ্টা।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সঙ্গে উড়ন্ত ট্যাক্সি তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে উবার। তাদের রয়েছে দুটি এয়ারক্রাফট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। তা হলো এমব্রায়ের এবং পিপিস্ট্রিল এয়ারক্রাফ। গত বছর উবার বলেছে, তারা উড়ন্ত ট্যাক্সি তৈরির জন্য প্যারিসে একটি ল্যাবরেটরি খুলবে।
এখানে উল্লেখ্য, উড়ন্ত ট্যাক্সি তৈরির জন্য শুধু উবারই একমাত্র কোম্পানি এমন নয়। এ কাজ করে যাচ্ছে আরো অনেকে। যাত্রী বহনকারী স্কাই ট্যাক্সি আবিষ্কারের জন্য প্রযুক্তি বিষয়ক কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতা করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে এয়ারবাস এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজের মতো করে উড়ন্ত ট্যাক্সির বিষয়ে পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৭ সালে প্রথমবার ড্রোন ট্যাক্সি চালিয়েছে দুবাই। আলাদাভাবে গুগল প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের অর্থায়নে একটি ইলেকট্রিক এবং স্বচালিত এয়ার ট্যাক্সি তৈরি করা হয়েছে, যা ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে।

Sunday, June 16, 2019

বিটিআরসি ও অপারেটরদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

মোবাইলফোনের ভয়েস কল, ইন্টারনেট সেবা, নেটওয়ার্ক সমস্যা, গোপন চার্জ, স্বয়ংক্রিয় প্যাকেজ চালু থেকে শুরু করে নানা অভিযোগের কথা জানালেন গ্রাহকরা। পাশাপাশি কাঠগড়ায় তুললেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)কে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে গ্রাহকদের বেশির ভাগ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে বিটিআরসি। আবার কিছু প্রশ্ন সরাসরি এড়িয়ে গেছে। গতকাল রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (আইইবি) অডিটরিয়ামে ‘টেলিযোগাযোগ সেবা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রম’ বিষয়ে গণশুনানিতে এসব ঘটনা ঘটে। এদিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিটিআরসি’র গণশুনানিতে সন্তুষ্ট নয় বলে জানিয়েছে মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন। প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, অসন্তুষ্ট হওয়ার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। শুনানিতে অনেক প্রশ্ন উত্থাপন করেছি।
কিন্তু বেশিরভাগ প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেনি বিটিআরসি। মূলত তারা অপারেটরদের পক্ষে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। গ্রাহকদের স্বার্থ তারা খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না। গণশুনানি কমিটির সভাপতি ও বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক এবিএম হুমায়ুন কবির।
শুনানিতে ডি-অ্যাক্টিভেটেড নম্বর দিয়ে ইমো, ভাইবারের মতো অ্যাপস ব্যবহার বন্ধের দাবি জানান জাহিদুল ইসলাম এবং ইমরান আহমেদ নামের গ্রাহক। এ বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করছে আইটিইউ, আমরাও কাজ করছি। আশা করি দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটকের সেবার মান নিয়ে এক গ্রাহকের প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসি জানায় টেলিটক সরকারি প্রতিষ্ঠান। সৌদি টেলিকম আসছে, টেলিটক যাতে আরো উন্নতর হয়। যত্রতত্র টাওয়ার বসানো নিয়ে টাওয়ার শেয়ারিং বিষয়ে এক গ্রাহকের প্রশ্নে বিটিআরসির মহাপরিচালক মাহফুজুল করিম মজুমদার বলেন, টাওয়ারের রেডিয়েশনের যে ফলাফল পেয়েছি তা আন্তর্জাতিকমানের চেয়ে অনেক নিচে। আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
টাওয়ারের চেয়ে মোবাইল ফোনের রেডিয়েশনের ঝুঁকিটা বেশি, এটাও মাথায় রাখতে হবে। টাওয়ার শেয়ারিং নিয়ে অপারেটর ও টাওয়ারকো কাজ করছে। মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহিদুজ্জামান বলেন, টাওয়ারের জন্য ক্ষতি হচ্ছে-এটা অমূলক ধারণা। যদি ক্ষতি হতো তাহলে উন্নত দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহার করত না। সারা দেশে বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও জনবহুল এলাকায় রেডিয়েশন পরীক্ষা করে হাইকোর্টকে জানাবো। গণশুনানিতে প্রশ্নকারী রাজকুমার সাহা জানতে চান, ইন্টারনেটের মূল্য কমানো ও ন্যুনতম মেয়াদ ৮ দিন করা যায় কি না? জাকির হোসেন নামে একজন গ্রাহক ইন্টারনেটের মূল্য কমানোর দাবি জানান। এ বিষয়ে বিটিআরসির এবিএম হুমায়ুন কবির বলেন, অপারেটররা আশা করি বিবেচনায় নেবেন। ইন্টারনেটের মূল্য কমানো নিয়ে পর্যবেক্ষণে আছে। পর্যবেক্ষণ শেষে মূল্য ও সীমা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। আব্দুস সালাম নামের একজন গ্রাহক অযাচিত নম্বর থেকে কল আসা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ডিএনডি (ডু নট ডিস্ট্রার্ব) অপশন কাজ করছে। এছাড়া অপারেটররাও ব্যবস্থা নেবে।
আব্দুস সালাম নামে এক গ্রাহক অভিযোগ করেন, তিনি প্রতি সেকেন্ড পালসের প্যাকেজ কিনে কথা বললেও অতিরিক্ত টাকা কেটে নেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে মহাপরিচালক শহিদুজ্জামান বলেন, সুস্পস্ট অভিযোগ দিন। যথাযথ ব্যবস্থা নেবো। অপারেটররাও সতর্ক থাকবেন, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অভিযোগ না আসে। তিনি বলেন, আমরা সেন্ট্রাল মনিটরিং সিস্টেম চালু করতে যাচ্ছি। এ বছরেই চালু করবো। এ সিস্টেম চালু হলে অভিযোগ করলে পরীক্ষা করে দেখবো কোনো ধরনের ফাঁকি দেয়া হয়েছে কি না এবং করে থাকলে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারবো। হুমায়ুন কবির জানান, শুনানিতে প্রায় ২২টি প্রশ্ন এসেছে। অভিযোগের সমাধানের তথ্য আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে ওয়েবসাইটে দেয়া হবে।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, অভিযোগগুলো নিশ্চয়ই কমিশন সমাধান করবে। কল সেন্টার সপ্তাহে ৫ দিন ছিল, এখন সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হবে। ফেসবুকসহ ওয়েবসাইটে অভিযোগ নেয়া হবে। তিনি বলেন, অপারেটরের যারা আছেন, কি কি অভিযোগ এসেছে তা শুনেছেন, কি কি সমস্যা? আমরা এটুকু শুনেছি আমরা অপারেটরদের বেশি বেশি সমর্থন করি! সত্যিকার অর্থে বিটিআরসি কখনও কাউকে সমর্থন করে না। আইন যেভাবে আছে আমরা সেভাবে আচরণ করি। মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশনের বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, হাইকোর্ট যে নির্দেশনা দিয়েছে আমরা খুবই তৎপর। আমরা টেস্ট করেছি, রেডিয়েশন নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ফাইভ-জি’র জরিপ কাজ শেষ করা হবে বলে জানান একজন কর্মকর্তা।
সন্তুষ্ট নয় মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন: এদিকে গণশুনানীতে অংশ নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর আগে অনুষ্ঠিত গণশুনানির অভিযোগ আজ কেন প্রকাশ করা হচ্ছে? বিইআরসি’র গণশুনানীর ৯০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের নিয়ম থাকলেও বিটিআরসির কেন এ ধরণের বাধ্যবাধকতা নেই? সেই সঙ্গে আজ গ্রাহকরা অপারেটরদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছেন তার পক্ষে অপারেটররা মতামত না দিয়ে কমিশন কেন তাদের পক্ষপাতিত্ব করছে? ভয়েস কলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে কমিশনের কাছে জানতে চাইলে কমিশনের উত্তর বিশ্বের দুই-একটি দেশ ছাড়া বাংলাদেশের কলরেট সব চাইতে কম। এমএনপি’র ডিপিং চার্জ কেন? এর উত্তরে কমিশনের বক্তব্য বিষয়টি ভবিষ্যতে খতিয়ে দেখা হবে।
ফোর-জি সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে স্পেকট্রাম একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়। কিন্তু স্পেকট্রামের উচ্চমূল্যের কারণে অপারেটররা নিলামে প্রয়োজনীয় স্পেকট্রাম কিনছে না। এ বিষয়ে কমিশনের কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নাই। ফোর’জি’র গতি নিয়ে কমিশনের বক্তব্য ফোর’জি সেবা পেতে আরো সময় লাগবে। ফাইভ’জি নিয়ে গ্রাহকদের মতামত নেয়া হয়েছে কি না? জানতে চাইলে কমিশন বলেন,বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেলে ৬ মাসের মধ্যে ফাইভ’জি চালু করা হবে। প্রযুক্তির অপব্যবহার সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করার দাবী জানালে কমিশনের উত্তর সামাজিক উন্নয়ন তহবিলের অর্থ দিয়ে হাওর ও দুর্গম এলাকায় নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে। ফিক্সড ইন্টারনেট ব্যবসায় নৈরাজ্য ও মূল্য নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কমিশন এ নিয়ে উদ্বিগ্ন বলে গণশুনানীতে জানান। সাড়ে সাত লাখ রিটেইলারকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রতি জেলায় বিটিআরসি’র কার্যালয় ও লোকবল নিয়োগ করে তদারকির তাগিদ দেন।

Tuesday, March 20, 2018

স্পর্শকাতর পুরুষাঙ্গ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সেক্স রোবট!

নারীদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সেক্স রোবটের চাহিদা। এমন তথ্য উঠে এসেছে এক গবেষণায়। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গণিত বিশেষজ্ঞ ড. ক্যাথি ও’নিল জানিয়েছেন, অদূর ভবিষ্যতে ‘ম্যান রোবটস’-এ মজবেন নারীরা, এসব পুরুষ রোবট রান্নাও করতে পারে।

গবেষকের মতে, নারীরা শুধু ভালোবাসা ও যৌনতার বাইরে চান যেন তাদের ঘরের কাজকর্মও কেউ শেয়ার করে। স্বাভাবিকভাবেই বাড়ির সব কাজ মানুষের থেকে বেশিই ভালোভাবে করবে রোবট। তাই আগামী দিনে নারীদের ম্যান রোবটের আকৃষ্ট হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।

বিশ্বের স্বনামধন্য পাঁচটি সেক্স রোবট নির্মাণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যাদের ম্যান রোবটসের দাম ৫,৪০০ ডলার থেকে ১৫,৭০০ ডলার পর্যন্ত। ডিলাক্স মডেলের সবচেয়ে বেশি দাম। যদিও বর্তমানে অনেক পুরুষই সেক্স রোবট ব্যবহার করে থাকে, তবে খুব শিগগিরই ছবিটা পাল্টে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

হার্ভার্ডের ওই গবেষকের মতে, এতে পুরুষদেরই বিপদ বাড়বে। কারণ রোবটেরা তাদের ছাপিয়ে যাবে।

এ বছরই বাজারে আসছে সত্যিকারের অনুভূতিসম্পন্ন স্পর্শকাতর পুরুষাঙ্গ বিশিষ্ট পুরুষ সেক্স রোবট। রিয়েলবোটিক্স এর প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্মাতা ম্যাট ম্যাককুলেন ‘হারমনি’ নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাযুক্ত অ্যাপ তৈরী করেছেন, যা তিনি বসিয়ে দেবেন ওই পুরুষ সেক্স রোবটগুলোর মস্তিষ্কে। পুরুষাঙ্গের আকার এবং গড়ন হবে ক্রেতার চাহিদা অনুসারে। ক্রেতা নিজের পছন্দের পুরুষাঙ্গ বেছে নিতে পারবেন।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক গবেষক ড. ডেভিড লেভি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এই পুরুষ সেক্স রোবটগুলো অচিরেই সেক্স টয় এর স্থান দখল করে নিবে। বাজারে থাকা বিভিন্ন প্রকার সেক্স টয় যেমন ভাইব্রেটর ও ডিল্ডো হারিয়ে যাবে এদের কারনে। নারীদের কাছে এই রোবটগুলো পুরুষদের চাইতেও বেশি আকর্ষণীয় মনে হবে। লেভি বলেন, সেক্স টয়ে যে সুবিধাটুকু নেই, যেমন যৌনতার সময় সঙ্গিনীকে জড়িয়ে ধরা, এই রোবটগুলো জড়িয়ে ধরবে- এই অনুভূতি যে কোন নারী ক্রেতাকে আকৃষ্ট করতে যথেষ্ট।

এই অ্যাপের মাধ্যমে সঙ্গিনীর (পড়ুন নারী ক্রেতা) পছন্দ, যৌন অভ্যাস, যৌনতা বিষয়ক বিভিন্ন খুঁটিনাটি শিখে যাবে দ্রুততর সময়ের মধ্যেই। ফলে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবটগুলো যৌনতার প্রকৃত স্বাদ দিতে সক্ষম হবে। আর এই গুণগুলো একে পুুরুষ সঙ্গীর বিকল্প হিসেবে নারীদের কাছে আদরণীয় হয়ে উঠবে বলে ম্যাট দাবি করেছেন।

হারমনির মাধ্যমে এই রোবটগুলো সঙ্গিনীর সাথে কথা বলবে, শিখবে আর অনুভূতিপ্রবণ হয়ে উঠবে দ্রুত। হারমনি অ্যাপযুক্ত নারী রোবট ইতিমধ্যেই বাজারে আছে। যেগুলোর মূল্য ১১,০০০ পাউন্ডের মতো। পুরুষ সংস্করণটি এখনও বাজারজাত করা হয়নি। এ বছরের শেষের দিকে বাজারে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


সেক্স রোবট তৈরিতে নিষেধাজ্ঞার দাবী

Monday, January 15, 2018

মহাকাশ থেকে একমাস পর ফিরল ড্রাগন ক্যাপসুল

কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই গেলো শনিবার আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র থেকে ফিরেছে স্পেসএক্সের ড্রাগন ক্যাপসুল। আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে প্রায় এক মাস ছিল ক্যাপস্যুলটি। খবর ইয়াহু নিউজ ও নাসার।

গেলো শনিবার একটি ফ্যালকন-৯ রকেটে করে ক্যাপসুলটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত একটি জাহাজে এসে নামে।

এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মহাকাশে গিয়ে প্রত্যাশামতো ফিরে এসেছে ড্রাগন ক্যাপসুল। ফেরার সময় এতে ৪ হাজার ১শ’ পাউন্ডের বিভিন্ন জিনিস পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে মহাকাশে চালানো বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষার ফলাফলের নমুনা রয়েছে, যা পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র থেকে যাত্রা শুরু করে ছয় ঘণ্টায় পৃথিবীতে পৌছায় ড্রাগন। শনিবার সকালে মাটিতে নামার আগে সফলভাবে প্যারাসুট খুলেছে ক্যাপস্যুলটির। ২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাঠানো হয় ড্রাগন ক্যাপসুল। এতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রের জন্য ৪ হাজার ৮শ’ পাউন্ড সরবরাহ পাঠানো হয়।

স্পেসএক্সের পুনর্ব্যবহারযোগ্য মহাকাশযান প্রকল্পের এটি আরেকটি সাফল্য। প্রতিষ্ঠানটির পুনর্ব্যবহারযোগ্য ফ্যালকন-৯ রকেট দিয়েই মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল ড্রাগন ক্যাপসুল। মহাকাশ থেকে মালপত্র আনার একমাত্র কার্গো হচ্ছে ড্রাগন। একই ক্যাপসুল দুইবার মহাকাশ থেকে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া পৃথিবীতে ফিরে আসার মাধ্যমে এটাই প্রমাণ হয় যে অদূর ভবিষ্যতে অনেক কম খরচে এবং ঝামেলা ছাড়াই মানুষ মহাকাশ ভ্রমণ করতে পারবে।

২০০২ সালে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এলন মাস্ক স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে মঙ্গলগ্রহে বসতি স্থাপনের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা। সে উদ্দেশ্য এখনো পর্যন্ত কার্যকর না হলেও ড্রাগন ক্যাপস্যুলের ফিরে আসায় তার সে আকাঙ্ক্ষা বাস্তবে পরিণত হওয়ার পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলো।

নেদারল্যান্ডসের ট্রেন এখন শতভাগ বায়ুচালিত

নেদারল্যান্ডসের সব বৈদ্যুতিক ট্রেন এখন বায়ুশক্তির দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এটি জানিয়েছে দেশটির জাতীয় রেলওয়ে কোম্পানি নেদারল্যান্ডিজ স্পুরউইগেন (এনএস)। খবর ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের।

এনএসের একজন মুখপাত্র টন বুন বলেছেন, ১ জানুয়ারি ২০১৭ থেকে আমাদের ট্রেনগুলো শতভাগ বায়ুশক্তি চালিত।

দুই বছর আগে এনএসের টেন্ডারের মাধ্যমে ওই কাজটি পায় নেদারল্যান্ডসের বৈদ্যুতিক কোম্পানি এনেকো। কোম্পানি দুটি ১০ বছরের জন্য চুক্তি করে। ওই চুক্তি অনুযায়ী ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে এনএসের সব ট্রেন বায়ুচালিত করতে বলা হয়।

বুন আরো বলেন, আমরা আমাদের পরিকল্পনার এক বছর আগেই লক্ষ্যে পৌঁছতে পেরেছি। সারাদেশ ও উপকূলবর্তী এলাকায় উইন্ডমিল বা বায়ুচাকা থাকায় আমাদের অর্জন দ্রুততার সঙ্গে হয়েছে।


এনেকো ও এনএস একটি যৌথ ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ছয় লাখ যাত্রী ‘বিশ্বের প্রথম’ বায়ুচালিত ট্রেন ব্যবহার করছেন। এনএস প্রতিদিন প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ট্রিপ পরিচালনা করে।

এনএস বলছে, একটি বায়ুচাকা এক ঘণ্টা চললে তা একটি ট্রেনের ১২০ মাইল পর্যন্ত যাওয়ার জন্য শক্তি যোগাতে পারে। কোম্পানিটি বলছে, ২০২০ সালের মধ্যে তারা যাত্রী প্রতি এই শক্তি খরচ আরো কমিয়ে আনতে চান। যেটি ২০০৫ সালের চেয়ে ৩৫ শতাংশ কম হবে।