Saturday, November 22, 2014

আমাদের আঘাত করলে প্রত্যাঘাতের জন্য তৈরি থাকুন -মোদিকে মমতা

সারদা চিট ফান্ড সংস্থার আমানত কেলেঙ্কারিতে তৃণমূল কংগ্রেস এমপি এবং কলকাতার একটি দৈনিক সংবাদপত্র ও তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপত্র জাগো বাংলার সম্পাদক সৃঞ্জয় বসুকে গ্রেপ্তারের চব্বিশ ঘন্টার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, আমাদের আঘাত করলে প্রত্যাঘাতের জন্য মোদী সরকার তৈরি থাকুক। রীতিমত চ্যলেঞ্জের সুরে মমতা বলেছেন, আামাদের চোখ রাঙিয়ে কোনও লাভ হবে না। আমরা কারও উপর নির্ভরশীল নই। শনিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের কর্মিসভায় একযোগে বিজেপি, কংগ্রেস এবং সিবিআই-কে আক্রমণ করেন মমতা। বিজেপিকে ‘দাঙ্গাবাজের দল’ বলে কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেন, রাজ্যসভায় বিল পাশ করাতে চাইছে বিজেপি। তাই বেছে বেছে তৃণমূলের সাংসদদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ষড়যন্ত্র করে আঘাত হানছে বিজেপি। মমতা অভিযোগ করেছেন, দিল্লিতে জওহরলাল নেহরুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম বলেই এই গ্রেপ্তারি। এরই পাশাপাশি সংবাদ মাধ্যমের একাংশের বিরুদ্ধেও এ দিন সরব হন মমতা।  সারদা কেলেঙ্কারিতে মমতা ও তার দলের নেতাদের যোগ থাকা নিয়ে বিজেপি যে অভিযোগ তুলেছে তার প্রত্যুত্তরে মমতা বলেছেন, আমার কারও সার্টিফিকেটের প্রযোজন হয় না। আমার যোগ্যতা বাংলার মানুষ জানে। সারদা কান্ডে ইতিমধ্যেই দুই তৃণমূল কংগ্রেস এমপিকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। গ্রেপ্তার হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও সাবেক পুলিশ ডিজি । আর জেরার মুখে পড়তে চলেছেন রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী ও মমতা ঘনিষ্ট মদন মিত্র। একের পর এক তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যদের সারদা কান্ডে যোগ থাকার অভিযোগে সিবিআই যেভাবে উঠেপড়ে লেগেছে তাতে শঙ্কিত মমতা  হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, বিজেপি যদি মনে করে পশ্চিমবঙ্গে দাঙ্গা বাধাবে তবে তৃণমূল কংগ্রেস তা কোনওভাবেই হতে দেবে না। মোদীর নাম না করে তিনি অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার বিভাজনের নীতি নিয়ে চলেছে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাড়ছে। চ্যালেঞ্জ নিতে তৈরি জানিয়ে মমতা বলেছেন, আমরা লড়াই করে যাব। তবে কুনালের পাশে না দাঁড়ালেও  সৃঞ্জয়ের পাশে দাড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, সারদা কাদের প্রতারণা করেছে সেই তদন্ত না করে সিবিআই এখন সারদাকে কারা প্রতারণা করেছে সেই তদন্তে ব্যস্ত। এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এ দিনের প্রতিক্রিয়াকে ‘স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া’ বলে কটাক্ষ করেছেন সিপিএম নেতা মানব মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, খাঁচায় পোরা হলে সবাই নখ-দাঁত বের করে। বিজেপি দাঙ্গাবাজ দল সেটা এত দিনে জানতে পারলেন মমতা ? কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান বলেন, নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করছে সিবিআই। যারা লুট করেছে, স্বাভাবিক ভাবেই তারা ভয় পাচ্ছে।

জোট নেতাদের সঙ্গে খালেদার বৈঠক

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। শনিবার রাত নয়টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার  নতুন বার্তা ডটকমকে বৈঠকের কথা নিশ্চিত করেছেন। সূত্র জানায়, জানুয়ারিকে টার্গেট করে আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হতে পারে এই বৈঠকে। এছাড়া জোটকে আরো কার্যকর করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এছাড়া আগামী রোববার বেগম খালেদা জিয়া সঙ্গে নির্বাচনের আগে আন্দোলনে নিহত গফরগাঁও পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইবনে আযাদ কমলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বৈঠকে উপস্থিত আছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য ডা. রিদওয়ান উল্লাহ শাহেদী, ইসলামী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) প্রধান শফিউল আলম প্রধান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জাতীয় পার্টি (জাফর) টি আই এম ফজলে রাব্বি ও মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি এইচ এম কামরুজ্জামান খান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তুজা, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, খেলাফত মজলিশের মাওলানা মো. ইব্রাহিম, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল মবিন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ভাসানী) চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম চৌধুরী, ডেমোক্রেটিক পার্টি (ডিএল) মহাসচিব সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, পিপলস লীগের সভাপতি গরীবে নেওয়াজ, সাম্যবাদী দলের চেয়ারম্যান সাঈদ আহমেদ।

৬ বছরে কর্মক্ষেত্রে নিহত তিন সহস্রাধিক শ্রমিক

গত প্রায় ছয় বছরে বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রে তিন হাজার ২৯৬ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বিগত ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত একাধিক ঘটনায় এসব শ্রমিক মারা যান। এর মধ্যে শুধু চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে ২১৭টি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ২৬০ জন শ্রমিক। এর মধ্যে অগ্নিকাণ্ডে ১২ জন।   সেফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটি ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) তাদের এক প্রতিবেদনে একথা জানায়। শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তারা এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত পাঁচ বছরে (২০০৯-২০১৪) পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় তিন হাজার ৩৬ শ্রমিক নিহত হন। যার মধ্যে অগিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন ২৪৭ জন। এতে বলা হয়, চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ২১৭টি কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ২৬০ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন ১২জন। সংবাদ সম্মেলনে গার্মেন্টসের মতো প্রতিটি সেক্টরে নিরাপত্তা কার্যক্রম বর্ধিত এবং রাজউক, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরসহ আইন বাস্তবায়নকারী অন্যান্য সংস্থার দক্ষাতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধি করাসহসহ ছয়টি সুপারিশ করা হয়।

‘সীমান্তে গুলি করে মারলে বন্ধুত্ব রক্ষা হয় না’

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেছেন, ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র, কিন্তু এর জন্য তাদেরকে বন্ধুত্বের প্রমাণ রাখতে হবে। সীমান্তে নিরীহ জনগণকে গুলি করে মারলে বন্ধুত্ব রক্ষা হয় না। শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ইন্ডিয়া সিটিজেন সোসাইটি (বিআইসিএস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ভারত বন্ধুত্ব দুদেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের সোপান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় বন্ধু দেশ ভারতের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মনে করেন মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, “দুই দেশের মধ্যে তিনবার ফ্রেন্ডশিপ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। সর্বশেষ ৩য় চুক্তিতে ১২ লাইন ছিল, যাকে ইন্দ্রিরা চুক্তি বলেন। কিন্তু এই চুক্তিটা আওয়ামী লীগ সরকার কখনো জনসম্মুখে প্রকাশ করতে সাহস পায় না। এজন্য বিরোধীরা এই চুক্তিকে গোলামীর চুক্তি বলে।” চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ওই চুক্তি জনসম্মুখে এলে দশ ট্রাক অস্ত্র নিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিতে পারতো না।” সভায় সংগঠনের সভাপতি জাফর ইকবাল সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহারিয়ার আলম, ভারতীয় হাইকমিশনের তথ্য ও রাজনীতি বিষয়ক কাউন্সিলর সুজিত ঘোষ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক দুর্গা দাস ভট্টাচার্য, নাট্যজন ড. এনামুল হক প্রমুখ।

‘ছাত্রলীগ-যুবলীগ দিয়ে বিরোধী দলকে দমাতে চায় সরকার’

সরকার ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীদের দিয়ে বিরোধী দলকে দমন করতে চায়। তাই তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপের এ পর্বে প্যানেল আলোচক হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর এবং সাংবাদিক ও টেলিভিশন উপস্থাপক কাজী জেসিন। বিবিসি সংলাপের এ পর্বে প্রথম প্রশ্ন ছিল, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকারের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে কি না। জবাবে হান্নান শাহ বলেন, “আওয়ামী লীগের হাতে এখন যে অস্ত্র আছে, অন্য কোনো দলের হাতে কিন্তু এখন আর সেই অস্ত্র নেই। কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নিচ্ছে না সরকার। কারণ সরকার ছাত্র বা যুবলীগের সন্ত্রাসীদের দিয়ে বিরোধী দলকে দমন করতে চায়।” হান্নান শাহ বলেন, “সন্ত্রাস যে করে সে-ই সন্ত্রাসী। সে ছাত্রদল, ছাত্রলীগ বা শিবির যেই হোক না কেন, তাদের বিচার হওয়া উচিত।” তবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, “ছাত্রলীগের ভেতর জামায়াত-শিবিরসহ অন্যান্য নৈরাজ্যবাদী শক্তির অনুপ্রবেশ ঘটেছে। তাই সংগঠনটিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।” তা না হলে এমন ঘটনা হতো না বলে মনে করেন তিনি। তানিয়া আমীর বলেন, “নিয়ন্ত্রণ করতে হবে কেন? কারণ বর্তমানের ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে কোনো রাজনৈতিক আদর্শ নেই। তাদের কোনো নেতৃত্ব নেই। তাই তারা নতুনদের দলে টানতে পারছে না।”   বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন ও বিবিসি বাংলা যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ এবং উপস্থাপনা করবেন আকবর হোসেন।

ট্রাইব্যুনালের মামলাগুলোর সর্বশেষ অবস্থা

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত ১২ মামলায় রায় প্রদান, তিনটি মামলার রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ (সিএভি) এবং দুটি মামলার বিচার শেষ পর্যায়ে রয়েছে। রায় ঘোষণার অপেক্ষায় থাকা তিন মামলার আসামিরা হলেন, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোবারক হোসেন ও জাতীয় পার্টির নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার। জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সুবহান ও জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বারের (পলাতক) মামলায় বিচার শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ দুই আসামির বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলার শেষ ধাপ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে। ট্রাইব্যুনালের জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী বাসস’র সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন। শিগগিরই অপেক্ষমাণ থাকা তিন মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, আব্দুস সুবহান ও আব্দুল জব্বারের বিষয়ে আনা মামলায় বর্তমানে যুক্তিতর্ক পেশ চলছে। যুক্তিতর্ক শেষ হলেই মামলার রায় ঘোষণা বিষয়ে আদেশ দেবে ট্রাইব্যুনাল। গত ১৩ নভেম্বর ঘোষিত ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র ও বিএনপি নেতা পলাতক জাহিদ হোসেন ওরফে খোকন রাজাকারের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ট্রাইব্যুনালের দ্বাদশ রায়। এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধে আনীত মামলায় আরো এগারটি রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম রায়ে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রোকন আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির আদেশ দিয়ে প্রথম রায় ঘোষণা করা হয়। পলাতক থাকায় তিনি আপিলের সুযোগ পাননি। এর পর একই বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় রায়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। আপিলে গত বছর ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ এ মামলার চূড়ান্ত রায়ে কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। যা গত বছর ১২ ডিসেম্বর কার্যকর করা হয়। ট্রাইব্যুনালের তৃতীয় রায়ে গত বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশ হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের রায়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর তার সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেয় আপিল বিভাগ। গত বছর ৯ মে চতুর্থ রায়ে জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শেষে কামারুজ্জামানকে ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখে গত ৩ নভেম্বর রায় দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। পঞ্চম রায়ে মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াতের আমির গোলাম আযমকে গত বছর ১৫ জুন ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি অপেক্ষমাণ থাকাবস্থায় গত ২৩ অক্টোবর কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। গত বছর ১৭ জুলাই ষষ্ঠ রায়ে জামায়াতের বর্তমান সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আনা আপিল শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। গত বছর ১ অক্টোবর সপ্তম রায়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসির রায় হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। গতবছর ৯ অক্টোবর বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। দণ্ড ভোগের মধ্যে ৮৩ বছর বয়সে গত ৩০ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন তিনি। বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ৭১’ এর দুই আল-বদর নেতা আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মুঈনুদ্দীনকে গত বছর ৩ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। তারা দুজনেই পলাতক রয়েছেন। ফলে তারা আপিলের সুযোগ পাননি। দশম রায়ে গত ২৯ অক্টোবর জামায়াতের বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করা হয়। তার আইনজীবীরা জানান, আইন অনুযায়ী রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। একাদশ রায়ে গত ২ নভেম্বর জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। তার আইনজীবী জানান আইন অনুযায়ী রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিলো যুদ্ধপরাধীদের বিচার করা। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বধীন মহাজোট দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। সরকার গঠনের পর সংসদের প্রথম অধিবেশনেই যুদ্ধপরাধীদের বিচারে সর্বসম্মত প্রস্তাব গৃহীত হয়। এরপর ২০১০ সালের ২৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল, তদন্তকারী সংস্থা ও প্রসিকিউশন গঠন করা হয়। প্রথমে একটি ট্রাইব্যুনালে এ বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে এ বিচারকে ত্বরান্বিত করতে ২০১২ সালের ২২ মার্চ আরো একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে পুনরায় সরকার গঠনের পর ট্রাইব্যুনালে তিনটি এবং আপিলে দুটি মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়। সূত্র: বাসস

এক মঞ্চে মন্ত্রী-সাংসদ-পুলিশ–পলাতক আসামি

(ছবি: একটি অনুষ্ঠানের মঞ্চে লাল গোলচিহ্নিত ব্যক্তি নাজিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল বেপারি। তিনি অপহরণ মামলার পলাতক আসামি। মঞ্চে এ সময় উপস্থিত ছিলেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি: প্রথম আলো) পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার এক মঞ্চে মন্ত্রী, সাংসদ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (এএসপি) সঙ্গে এক ফেরারি আসামিকে দেখা গেছে। আজ শনিবার এ ঘটনা ঘটে। ওই আসামির নাম এনামুল বেপারি। তিনি নাজিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। অপহরণ মামলায় তিনি পুলিশের খাতায় পলাতক আসামি। ‘পলাতক’ এই আসামিকে আজ দেখা গেল এক অনুষ্ঠানের মঞ্চে। নাজিরপুর উপজেলার ওই মঞ্চে তখন উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পিরোজপুর-১ আসনের সাংসদ এ কে এম এ আউয়াল ও পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানী ঢাকার ওয়ারী থানার একটি অপহরণ মামলার ২ নম্বর আসামি এনামুল বেপারি। মামলাটি বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে। মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে দুজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। অপর দুই আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। এনামুল পুলিশের খাতায় এখনো পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারে সিআইডির পক্ষ থেকে নাজিরপুর থানায় বার্তা পাঠানো হলেও তিনি প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) মনজুরুল রহমান ভূইয়া প্রথম আলোকে বলেন, এনামুল ওয়ারী এলাকার একটি অপহরণ মামলার পলাতক আসামি। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে উল্টো মন্তব্য করলেন নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, এনামুলের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলায় এখনো আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি। মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে। তবে তাঁর নামে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ দুপুরে উপজেলার বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা মহাবিদ্যালয় মাঠে নবীনবরণ ও কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের এক অনুষ্ঠান হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু দিয়ে রেল চলবে। পদ্মা সেতু এখন কোনো রঙিন স্বপ্ন নয়, দৃশ্যমান বাস্তবতা। নিজস্ব অর্থায়নে আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণ করব।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ক্ষমতা কারও চিরদিন থাকে না। যতদিন ক্ষমতায় থাকব, প্রতিটি মুহূর্ত মানুষের জন্য কাজ করে যাব।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, জীবিকার জন্য শিক্ষা নয়, জীবনের জন্য শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। ছাত্ররাজনীতির নামে যে অপরাজনীতি চলছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পিরোজপুর-১ আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম এ আউয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক এ কে এম শামিমুল হক ছিদ্দিকী, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী লায়লা ইরাদ প্রমুখ।
স্থানীয় লোকজন জানান, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির পেছনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এনামুল। অপহরণ মামলার পলাতক আসামিকে মঞ্চে দেখে লোকজন বিস্ময় প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠান শেষে এনামুলের সঙ্গে এই প্রতিবেদক নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। নাজিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হাসান বলেন, ‘এনামুল উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তাঁর নামে মামলা আছে কি না, আমি জানি না।’

কী মিশন নিয়ে ফের আসছেন নিশা?

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠেয় সার্ক সম্মেলন শেষ ঢাকা আসছেন আমেরিকার সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল। শুক্রবার আমেরিকার পররাষ্ট্র দফতরের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সূত্র জানায়, নিশা দেশাই তার ওই সফরে বিগত ৫ জানুয়ারি নির্বাচন নিয়ে আমেরিকার বর্তমান অবস্থান জানাবেন এবং নিরপেক্ষ নতুন নির্বাচনের জন্য তাগিদ দেবেন। সফরকালে নিশা দেশাই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। আমেরিকার পররাষ্ট্র দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২৩ নভেম্বর সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সফরের মধ্যে দিয়ে এই অঞ্চলে তার সফর শুরু করবেন। সেখান থেকে ১৮তম সার্ক সম্মেলনে যোগ দিতে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে যাবেন তিনি। কাঠমান্ডুর ব্যস্ততা শেষে বিসওয়াল বাংলাদেশে আসবেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়। তবে কবে তিনি বাংলাদেশে আসবেন এবং কতদিন অবস্থান করবেন সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি বিবৃতিতে। আগামী ২৭ নভেম্বর সার্ক শীর্ষ সম্মেলন শেষ হবে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি এর পরপরই আসবেন। পররাষ্ট্র দফতর জানায়, ঢাকা থেকে উজবেকিস্তানের তাসখন্দে যাবেন বিসওয়াল। এ বছর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে গত বছরের ১৬ নভেম্বর প্রথমবারের মতো ঢাকায় এসে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে হরতাল, অবরোধ ও রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যে সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের চেষ্টা করেছিলেন বিসওয়াল। তবে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপির বয়কটের মধ্যেই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অর্ধেকের বেশি আসনের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ায় ওই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য মনে করছে না আমেরিকা। এর মধ্যেই সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আবারো নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

সাগরপথে বিদেশ, হারিয়ে যাচ্ছে শত শত যুবক

(ছবি:১-বাবা শফিকুরের খোঁজ নেই তিন মাস ধরে। সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে তিনি নিখোঁজ। বোঝার বয়স হয়নি বলেই হয়তো মায়ের কোলে এত নিশ্চিন্তের ঘুম। তার মা রহিমা সিরাজগঞ্জ থেকে আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এসে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। ছবি:২-রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আজ শনিবার সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়ে হারিয়ে যাওয়া মানুষদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আয়োজন করে অভিবাসন বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রামরু। ছবি: প্রথম আলো) ‘আমার স্বামী শফিকুর ট্রলারে করে মালয়েশিয়া গেছে। কীভাবে গেল, কার মাধ্যমে গেল, আমরা কিছুই জানি না। হঠাৎ করে একদিন ফোন করে কান্নাকাটি করল। বলল, তাঁর ওপর ভয়াবহ অত্যাচার হচ্ছে। দুই লাখ ২০ হাজার টাকা দিতে হবে। দালালরা একটা বিকাশ নম্বর পাঠালো। সেখানে টাকা দিলাম। কিন্তু তিন মাস ধরে স্বামীর খোঁজ নেই। বেঁচে আছে কি মরে গেছে, তা–ও জানি না।’ আজ শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ থেকে আসা মোসাম্মৎ রহিমা এসব কথা বলেন। সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে অভিবাসন–বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রামরুর (রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট)।
সিরাজগঞ্জ থেকে আজ সংবাদ সম্মেলনে এসে অঝোরে কাঁদছিলেন হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের স্বজনেরা। তাঁদের কারও সন্তান, কারও বাবা আবার কারও বা স্বামী নিখোঁজ। হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের বেশির ভাগেরই গল্প রহিমার স্বামীর মতোই।
এসব মানুষ জানেন না, তাঁদের স্বজন আদৌ বেঁচে আছেন কি নেই। কথা বলতে গিয়ে তাই তাঁরা বারবার কাঁদছিলেন। তাঁদের সেই কান্না ছুঁয়ে যাচ্ছিল উপস্থিত সবাইকে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় অভিবাসন করতে গিয়ে বাংলাদেশের বহু যুবক সাগরে কিংবা থাইল্যান্ডে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অনেকে সমুদ্রেই মারা যাচ্ছেন। নিখোঁজ হচ্ছেন শত শত। কেবল বাংলাদেশের দালালরাই নয়, আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রও এর সঙ্গে জড়িত। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে একটি মামলাও করা হয়নি। সরকারকে দ্রুত এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেন তাঁরা। রামরুর চেয়ারম্যান তাসনিম সিদ্দিকী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা সিরাজগঞ্জে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালিয়েছি। আজকে আপনাদের সামনে সেখানকার ভুক্তভোগী কিছু মানুষকে উপস্থাপন করলাম। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী সিরাজগঞ্জের সাতটি উপজেলা থেকে চার হাজারের অধিক তরুণ অবৈধভাবে মালয়েশিয়া গেছে। এর মধ্যে চার শতাধিক নিখোঁজ। এই যদি হয় একটি জেলার চিত্র, তবে পুরো দেশের চিত্র কতটা ভয়াবহ, আমরা সহজেই অনুমান করতে পারি।’
বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের পরিচালক শিপা হাফিজ বলেন, ‘যেভাবে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় দালালরা লোক পাঠাচ্ছে, সেটি সরাসরি পাচার। এভাবে আর কত মানুষ হারিয়ে গেলে সবার হুঁশ হবে? সিরাজগঞ্জের দালালদের বিরুদ্ধে কেন পুলিশ, সেখানকার প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না? আর আইন যতই থাকুক, সাধারণ মানুষকেও এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।’
আইন ও শালিস কেন্দ্রের পরিচালক নূর খান বলেন, ‘আজকে এখানে নয়-দশজন মানুষ তাদের দুর্দশরা কথা জানালেন। সারা দেশে এমন হাজারও ভুক্তভোগী মানুষ আছেন। আমাদের দ্রুত এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন রামরুর সমন্বয়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সি আর আবরার, অভিবাসন–বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা ওয়্যারবির চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুল হক, বেসরকারি আরেকটি সংস্থা অকুপের চেয়ারম্যান শাকিরুল ইসলাম, নারী অভিবাসী–বিষয়ক সংস্থা বমসার নির্বাহী পরিচালক শেখ রোমানা।
বায়রার মাসিক ফোরামের সভা
সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার মাসিক ফোরামের দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় জনশক্তি রপ্তানি খাতের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। সভার বিশেষ অতিথি ভোরের কাগজ–এর সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, সরকারিভাবে কর্মী পাঠানো নিয়ে কোথাও ভুল থাকলে অবশ্যই সেটা সংশোধন করতে হবে। কিন্তু অবৈধভাবে কর্মী যাওয়া বন্ধ করতে হবে।

জাপানে পার্লামেন্ট ভেঙে দিলেন আবে

প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের ঘোষণা মোতাবেক, জাপানে আগাম সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে শুক্রবার পার্লামেন্টের নিুকক্ষ ভেঙে দেয়া হয়েছে। আগামী মাসের ১৪ ডিসেম্বর দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্পিকার বানমেই ইবুকি পার্লামেন্টে বক্তৃতায় বলেন, জাপানের সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিুকক্ষ ভেঙে দেয়া হয়েছে।
আবেনোমিক্স বা আবে অর্থনীতি নামে পরিচিত তার অর্থনৈতিক নীতির বিষয়ে নতুন করে জাপানি জনগণের ম্যান্ডেট নেয়ার জন্য দেশটিতে আগাম নির্বাচন দেয়া হবে। তারই পদক্ষেপ হিসেবে সংসদের নিুকক্ষ ভেঙে দেয়া হল। জাপানের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার প্রতিশ্র“তি দিয়ে মাত্র দুবছর আগে ক্ষমতায় এসেছেন আবে।
২০১৬ সালের আগে দেশটির সংসদের নিু পরিষদের কোনো নির্বাচন দেয়ার প্রয়োজন ছিল না। বর্তমানে দেশটির ৪০ ভাগ মানুষ আবের নীতিকে সমর্থন করছে বলে বেশ কয়েকটি মতামত জরিপে উঠে এসেছে। জাপানি মানদণ্ডে আবের জনপ্রিয়তা এখনও বজায় আছে। এ জনপ্রিয়তা আরও হ্রাস পাওয়ার আগে ক্ষমতার ওপর নিজের প্রভাব নিরঙ্কুশ করার জন্য আগাম নির্বাচনের পথ বেছে নিয়েছেন আবে। এএফপি, বিবিসি

পাক-রুশ মাইলফলক সামরিক চুক্তি সই

পাকিস্তান ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে একটি মাইলফলক চুক্তি সই হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উপমহাদেশে শান্তি ও নিরাপত্তা আনতে এ চুক্তি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
বৃহস্পতিবার ৪১ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু পাকিস্তান সফর করেন। সফরে তিনি পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের সঙ্গে বৈঠক করার পর চুক্তি সই করেন। খবর এএফপির।
চুক্তির পর দুদেশের প্রতিরক্ষা খাতে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন খাজা আসিফ। তবে চুক্তির বিস্তারিত বিষয় জানানো হয়নি। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যখন আফগানিস্তান থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন রাশিয়া ফেডারেশনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এ সফর অনুষ্ঠিত হল। দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্ক উন্নয়নের অংশ হিসেবে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য দুদেশ এখন থেকে হাত বাড়িয়ে দিতে পারবে।
দীর্ঘদিন ধরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ ছিল রাশিয়া। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে আমেরিকার সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক উন্নয়নের ফলে রাশিয়া পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে।
গত জুন মাসে রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছিল, পাকিস্তানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে মস্কো এবং সামরিক হেলিকপ্টার বিক্রির বিষয়ে ইসলামাবাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে পাকিস্তানের কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছিল, প্রাথমিকভাবে পাকিস্তান রাশিয়ার কাছ থেকে ২০টি এমআই-৩৫ হেলিকপ্টার কিনছে। সফরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী। বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার দেশ রাশিয়ার সঙ্গে বহুমুখী সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, পাকিস্তান ও রাশিয়ার মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৫৪ কোটি ডলারের বাণিজ্য চলছে, যা মোটেই বাণিজ্য সম্ভাবনার কথা বলে না। তিনি পাকিস্তানের বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ করতে রুশ ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান।

মানুষ প্রথম বসতি স্থাপন করে পৃথিবীর ছাদে

গবেষকরা বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, ৩ হাজার ৬০০ বছর আগে মানুষ তিব্বত মালভূমিতে বসবাস শুরু করে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ধরনের উচ্চতায় মানবজাতির এটি প্রথম বসবাস বলে মনে করা হয়।
মার্কিন জার্নাল সায়েন্সে প্রকাশিত এক সমীক্ষায় বলা হয়, তখন থেকে মানুষ পৃথিবীর ছাদ হিসেবে পরিচিত তিব্বত মালভূমির প্রায় ৩ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতায় স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপনে সমর্থ হয় এবং তারা সেখানে চাষাবাদ ও পশুপালন শুরু করে। ব্রিটেনের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা জানান, তারা মধ্যপ্রাচ্যের তথাকথিত ফার্টাইল ক্রিসেন্ট থেকে গম ও বার্লি আমদানি এবং চীন থেকে আনা গুল্মবিশেষ উদ্ভিদ রোপণ ও পশু শিকার করে জীবন ধারণ করে। বিজ্ঞানীরা এ সমীক্ষার জন্য বিভিন্ন প্রাণীর দাঁত, হাড় ও গাছপালার বিভিন্ন অংশ নিয়ে গবেষণা করেন। ক্যামব্রিজের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বিশিষ্ট গবেষক মার্টিন জোনস বলেন, এমন উচ্চতায় বছরব্যাপী বেঁচে থাকা লোকজনকে বাস্তবে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
প্রায় ২০ হাজার বছর আগে এ মালভূমিতে বিক্ষিপ্তভাবে মানুষের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। গবেষকরা জানান, পশু শিকার করতেই মানুষ প্রথমে তিব্বত মালভূমিতে যায় বলে ধারণা করা হয়। গবেষকরা তিব্বত মালভূমির উত্তরাঞ্চলের প্রায় ৮০০ মাইল এলাকাজুড়ে ৫৩টি স্থানে বিভিন্ন প্রাণী ও গাছপালা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এমন ধারণা পোষণ করেন। এএফপি

পাবনায় ডিবি পরিচয়ে অপহৃত যুবককে কুপিয়ে হত্যা

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ করা আবুল বাশার ওরফে বাছেদ নামে যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে চাটমোহর উপজেলা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। চাটমোহর থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার জানান, চাটমোহর কুকড়াগাড়ী নতুনপাড়া গোরস্থানের পাশে মাঠের মধ্যে একজনের ক্ষত-বিক্ষত লাশ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা পাঠায়। নিহতের স্বজনরা চাটমোহর থানায় গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।
পুলিশ জানায়, আটঘরিয়া বাড়ইপাড়া গ্রামের আবদুস সাত্তারের ছেলে বাছেদকে বাড়ি থেকে ১২ নভেম্বর ভোরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ করা হয়। এরপর তাকে চাটমোহরের কুকড়াগাড়ী নতুনপাড়া গোরস্থানের পাশে মাঠের মধ্যে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। শুক্রবার বিকাল ৩টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

কাপল অফিসার জড়িত

সোনা চোরাচালানের চাঞ্চল্যকর আরও তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। বিমানের, বিমানবালা ও প্রকৌশল বিভাগের আরও কয়েকজনের তথ্য খতিয়ে দেখছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এর মধ্যে কয়েকজন বিমানবালা দীর্ঘদিন ধরে এ কারবার করে আসছেন। তাদের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসূত্র আছে। গ্রেফতার মাহমুদুল হক পলাশ ডিবি পুলিশের কাছে এসব তথ্য দেন। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গুলশান এবং বনানীর তিনজন মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীর কোটি কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পান গোয়েন্দারা। দু-একদিনের মধ্যে তাদের গ্রেফতার করা হতে পারে বলে জানা গেছে। চাঞ্চল্যকর তথ্য হল, বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের কাপল অফিসারদের (স্বামী-স্ত্রী) প্রায় সবাই সোনা চোরাচালানে জড়িত।
জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্যাপ্টেন হাসান ও তার স্ত্রী এফপি আরজু দীর্ঘদিন ধরেই বিমানে চাকরি করছেন। সোনা চোরাচালানে দক্ষ এই কাপল অফিসারদের সঙ্গে দেশ-বিদেশের সিন্ডিকেট জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
ক্যাপ্টেন ইমরানের সঙ্গে সোনা চোরাচালানে অর্থ লেনদেনকারী উত্তরার মোহাম্মদ আলী ও খুলনার দৌলতপুরের হোসেন আসকর লাবুর সম্পৃক্ততা রয়েছে। গ্রেফতার পলাশের দুই স্ত্রী সোনা চোরাচালানে জড়িত। এছাড়া নিশি নামে এক বিমানবালাকে গ্রেফতারের জন্য মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় গতকাল অভিযান চালানো হয়েছে। চোরাচালানে ফ্লাইট অফিসার ফয়সাল ও আরেক কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন রাজকে গ্রেফতারেও চলছে অভিযান।
ডিবি পুলিশ জানায়, শাহজালালে সোনা চোরাচালানি চক্রের অন্যতম হোতা মোহাম্মদ আলী। তার সঙ্গে রাজিব শুভ্র নামে এক ভারতীয় নাগরিকের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। রাজিব শুভ্র ও পাপ্পু সাজ্জেল হংকংয়ের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে স্বর্ণের বার ক্রয় করে বাংলাদেশে পাঠায়। আর তাদের সহায়তা করতেন গ্রেফতার পলাশ ও ক্যাপ্টেন শহীদ।
ঢাকা-হংকং ফ্লাইটের যাত্রী মো. সেলিমের (পাপ্পু সারজেলের বাবা) গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ১৪৪ পিস স্বর্ণের বার বাংলাদেশে পাঠায়। ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানের হংকং ফ্লাইট পৌঁছার পর স্বর্ণের বারগুলো বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট দিয়ে খুলনার দৌলতপুরের হোসেন আসকর লাবুর কাছে হস্তান্তর করা হয়। ক্যাপ্টেন শহীদ ও ইমরান এই চালান নিরাপদে যেতে সহায়তা করেন।
গ্রেফতার পলাশ স্বীকার করেন, কত চালান এ পর্যন্ত নিরাপদে পৌঁছে দিয়েছেন তার কোনো হিসাব নেই। পাপ্পু সাজ্জেল নামে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে অনেক দিনের পরিচয়। তার বিমানবালা স্ত্রীর পরিচয়ের সূত্র ধরে হংকংয়ে পরিচয় হয়। তখন থেকেই জানতে পারেন সাজ্জেল বাংলাদেশে স্বর্ণ পাঠাত। সাজ্জেলের মাধ্যমে প্রতি মাসে হংকং থেকে বিভিন্ন অংকের ২টি চালান ঢাকায় আসে। গত বছরের নভেম্বর মাসে ১১০ পিস সোনার চালান মোতালিব প্লাজার সামনে পংকজ নামে এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। অক্টোবর মাসে দুই দফায় আরও ৮৮ পিস ও ৫৬ পিস স্বর্ণের বার পৌঁছানো হয়। আর এদের সঙ্গে ক্যাপ্টেন শহীদ, ক্যাপ্টেন ইমরান ও হাসানের আগের পরিচয়। হাসানের স্ত্রীকেও চিনত পাপ্পু সাজ্জেল।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) শেখ নাজমুল আলম যুগান্তরকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। কারণ যেভাবে একে একে সবার নাম আসছে তাতে মনে হচ্ছে, বেশির ভাগ কর্মকর্তা ও কর্মচারী এ অপরাধকেই আয়ের পথ হিসেবে বেছে নেয়। ডিসি বলেন, যতই রাঘববোয়াল হোক না কেন, তাদের ধরা পড়তেই হবে।
গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মিনহাজ উদ্দীন যুগান্তরকে বলেন, মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীদের প্রায় সবাই সোনা চোরাচালানিদের সঙ্গে যুক্ত। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের নজরদারি করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিমানের কয়েকজন কর্মকর্তাকেও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

দক্ষিণে মন্থর বিএনপি : দায়সারা কর্মসূচি

কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচিসহ দলীয় সব কাজই অনেকটা দায়সারাভাবে পালন করছে দক্ষিণের ছয় জেলার বিএনপি। বৃহস্পতিবার দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন পালনেও একই চিত্র দেখা গেছে। শুধু বরিশাল নগরী ছাড়া আর কোথাও এখন খুব একটা নড়াচড়া নেই দলটির। এ যেন কোনোরকমে বিএনপি নেতাদের চাকরি বাঁচানো! জেলার সভাপতি-সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা প্রভাবশালী নেতাদের সিংহভাগের দেখা মেলে না কোনো কর্মসূচিতে। ২-৩ মাস পরপর মাঝে-মধ্যে এলাকায় এসে চেহারা দেখিয়ে যাওয়া ছাড়া টিকিটিও মিলছে না তাদের। এদিকে জেলায় জেলায় দলের ভেতর চলছে অন্তর্দ্বন্দ্ব-কোন্দল। আওয়ামী লীগ যখন একের পর এক জেলা সম্মেলনের মাধ্যমে গুছিয়ে নিচ্ছে সংগঠন, তখন আধিপত্য ধরে রাখার নেশায় মত্ত কিছু বিএনপি নেতার কারণে ভেঙে টুকরো টুকরো হচ্ছে মাঠের বিএনপি। এসব বিষয়ে কেন্দ্রের কাছে বারবার নালিশ জানিয়েও কোনো ফল মিলছে না।
৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ঢাকায় সমাবেশ করার অনুমতি না পেয়ে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছিল বিএনপি। বরিশালের ছয় জেলায়ও পালিত হয়েছে কর্মসূচি। কিন্তু সেই চিত্র ছিল এতটাই দৈন্য যে মানতে কষ্ট হয়েছে এটা বিএনপির মতো বড় কোনো দলের কর্মসূচি। এর আগে ৭ মার্চের কর্মসূচি পালনের চিত্রও ছিল অনেকটা একই রকম। বিভিন্ন জেলা-উপজেলার একাধিক বিএনপি নেতাকর্মী যুগান্তরকে বলেন, রাজপথ নয়, আমাদের বেশিরভাগ কর্মসূচিই এখন পরিণত হয়েছে ঘরোয়া আলোচনায়। পুলিশি বাধার কারণেই যে এমনটা হচ্ছে তা নয়, নির্ভরযোগ্য নেতাদের অনুপস্থিতি আর তাদের আগ্রহের অভাবের কারণে মাঠের কর্মীরা এখন আর ঝুঁকি নিচ্ছেন না। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর ব্যর্থতা এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে খুব শিগগিরই বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ায় সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যাওয়ায় নেতারা এখন আর খুব একটা মাঠেও আসছেন না।
৭ নভেম্বর কেন্দ্রিক কর্মসূচির পাশাপাশি বৃহস্পতিবার তারেক রহমানের জন্মদিন পালনের ক্ষেত্রেও ঘটে একই ঘটনা। জন্মদিনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী জেলা পর্যায়ে বড় ধরনের শোডাউন করার পরিকল্পনা ছিল কেন্দ্রের। তারেক রহমানের জনপ্রিয়তার বিষয়টিকে সামনে আনার টার্গেটও ছিল তাদের। কিন্তু পুরো দক্ষিণে একমাত্র বরিশাল মহানগর এবং পিরোজপুর ছাড়া আর সব জায়গাতেই জন্মদিনের অনুষ্ঠান ঢুকে গেছে দলীয় কার্যালয়ে। মাঝ রাতে কেক কাটা আর মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে শেষ হয়েছে সব। পটুয়াখালীতে পাল্টাপাল্টি কেক কাটার আয়োজন করে স্থানীয় বিএনপির আলতাফ এবং কুট্টি সমর্থকরা। তবে উপস্থিত ছিলেন না জেলা সভাপতি আলতাফ চৌধুরী। ঝালকাঠীতেও ঘরোয়াভাবে কেক কাটার আয়োজন হয় এবং যথারীতি অনুপস্থিত থাকেন জেলা সভাপতি শাহজাহান ওমর। একই চিত্র ছিল ভোলা এবং বরগুনায়। তবে এসবের বাইরে বরিশাল এবং পিরোজপুরে কেক কাটার পাশাপাশি র‌্যালি, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল হয়েছিল। বরিশালে রাতে জেলা ও মহানগর বিএনপির আয়োজনে কেক কাটেন সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল। আর দিনে ছাত্রদলের বিশাল র‌্যালির নেতৃত্ব দেন সাবেক এমপি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার।
বিভিন্ন জেলার বিএনপি নেতাকর্মীরা যুগান্তরকে বলেন, কর্মসূচি পালন প্রশ্নে এখন সবচেয়ে বড় যে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে তা হল নির্ভরযোগ্য আর প্রভাবশালী নেতাদের ধারাবাহিক অনুপস্থিতি। যে কোনো কর্মসূচি পালন প্রশ্নে জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা নেতাদের এলাকায় থাকার বিষয়ে বহু আগে নির্দেশ দিয়েছিলেন দলীয় চেয়ারপারসন। কিন্তু সেই নির্দেশ কখনোই পালিত হয়নি দক্ষিণের অধিকাংশ জেলায়। দলীয় কর্মসূচি তো দূর, জিয়াউর রহমানের জন্ম এমনকি মৃত্যুবার্ষিকীতেও এলাকায় থাকেন না পটুয়াখালীর সভাপতি আলতাফ চৌধুরী, ঝালকাঠীর সভাপতি শাহজাহান ওমর, বরগুনার খন্দকার মাহবুব, ভোলার মেজর (অব.) হাফিজ, বাউফলের ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার, রাজাপুরের রফিকুল ইসলাম জামাল, উজিরপুরের সরফুদ্দিন সরদার সান্টু, সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদার, কেন্দ্রীয় নেতা জেবা খান, সাবেক এমপি ইলেন ভুট্টো এবং মঠবাড়িয়ার কর্নেল (অব.) শাহজাহান মিলন। এবার তারেক রহমানের জন্মদিনেও এদের কেউ এলাকায় ছিলেন না।
ঝালকাঠী জেলা বিএনপির এক নেতা যুগান্তরকে বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে দল ক্ষমতায় যাবে বুঝে মনোনয়ন আর এমপি হওয়ার আশায় প্রায় প্রতিদিন এলাকায় আসতেন ডজন খানেক নেতা। কিন্তু আন্দোলনের ব্যর্থতা আর ক্ষমতায় যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ার পর তাদের প্রায় কারোরই টিকিটিও মিলছে না। একমাত্র জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মিঞা আহম্মেদ কিবরিয়া ছাড়া সবাই যেন মিলিয়ে গেছেন হাওয়ায়। শুধু ঝালকাঠী নয়, দক্ষিণের প্রায় সব জেলা-উপজেলাতেই এখন বিরাজ করছে এই পরিস্থিতি। মাঠের কর্মীদের বাঘের মুখে ফেলে গা ঢাকা দিয়েছেন সুবিধাভোগী নেতারা। যাদের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে রেখেছে কেন্দ্রীয় কমিটি।
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মাঠ পর্যায়ের নেতাদের এই অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। গত মাসে ঢাকায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠককালেও একই অভিযোগ করেছিলেন দক্ষিণের বিএনপি নেতারা। ধরে এনে জেলা-উপজেলার সভাপতি-সম্পাদক বানিয়ে দেয়ার বিরুদ্ধে কঠিনভাবে প্রতিবাদ করেছিলেন তারা। বিভিন্ন জেলার মাঠ পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মীরা যুগান্তরকে বলেন, সাংগঠনিক মানসিকতার বাইরে থাকা লোকজনকে বড় বড় পদে বসানোর ফলে জেলায় জেলায় এখন ভেঙে টুকরো টুকরো হচ্ছে দল। আওয়ামী লীগ যেখানে একের পর এক জেলা সম্মেলনের মাধ্যমে দল চাঙা করছে সেখানে পটুয়াখালী-বরগুনা-ঝালকাঠী আর পিরোজপুরে বিএনপির বিরুদ্ধে এখন বিএনপি।
সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে নেতার বিরুদ্ধাচারণ করলেই যখন-তখন বহিষ্কার হতে হচ্ছে দল থেকে। এমনকি আজন্ম বিএনপি করা লোকজনও বাদ পড়ছেন না এক্ষেত্রে। যেমনটা হয়েছে পটুয়াখালীতে। ত্যাগী আর পরীক্ষিতদের একেবারে বাদ দিয়ে শিল্পপতি-বিত্তশালীদের নেতৃত্বে এনে গঠন করা হচ্ছে কমিটি। এক্ষেত্রে আলোচনা হচ্ছে টাকার বিনিময়ে পদ বিক্রির। এসব ব্যাপারে কেন্দ্রকে জানিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না।
পুরো বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, প্রতিনিয়ত এ ধরনের অভিযোগ আসছে। বিশেষ করে পটুয়াখালীর গলাচিপা আর দশমিনায় কমিটি নিয়ে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল তা নিরসনে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিল কেন্দ্র। উভয় পক্ষের সমন্বয়ে কমিটি করার প্রস্তাব এবং দুই উপজেলার দুটি খসড়া কমিটি করে কেন্দ্রে জমাও দিয়েছি। কিন্তু এ ব্যাপারে কিছু বলেনি কেন্দ্র। পুরো বিষয়টি বর্তমানে ঝুলে আছে। এটি কেন্দ্রের অবহেলা কিনা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, কেন্দ্র নানা বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকে। সে কারণে হয়তো দেরি হচ্ছে।
নেতার বিরোধিতা করলেই দল থেকে বহিষ্কার বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই নিয়ে বহুদিন ধরেই জটিলতা চলছে। আমি এ ব্যাপারে কেন্দ্রে লিখিত প্রতিবেদনও দিয়েছি। মতের মিল না হলেই যে কাউকে বাদ দিতে হবে এমন কর্মকাণ্ডের সর্মথন করে না বিএনপি। সবাইকে নিয়েই দল। আর আমরা সেভাবেই দলকে এগিয়ে নিয়ে যাব। যেসব জটিলতা রয়েছে তা খুব শিগগিরই সমাধান হয়ে যাবে বলে আমি মনে করি।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন আয়োজিত যুব সম্মেলনে অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন আয়োজিত যুব সম্মেলনে অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্

মহানগর বিএনপি পুনর্গঠনে বেকায়দায় মির্জা আব্বাস

কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে চরম বেকায়দায় ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস। বেঁধে দেয়া দিনক্ষণের দ্বিগুণ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও অর্ধেক কাজও শেষ করতে পারেনি আব্বাস নেতৃত্বাধীন আহ্বায়ক কমিটি। ৪ মাসের বেশি সময়ে এ পর্যন্ত ৫৬টি ওয়ার্ড ও একটি থানা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি গঠনে ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করায় নেতাকর্মীদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা। কমিটি নিয়ে ধীরে চলো নীতি এবং পকেট কমিটি বানানোর বিষয়ে খালেদা জিয়ার কাছে নানা মাধ্যমে অভিযোগ আসে। এ ব্যাপারে সম্প্রতি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও আব্বাসের ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আহ্বায়ক হয়েও কমিটি গঠনে এখন পর্যন্ত কোনো থানা বা ওয়ার্ডে যাননি মির্জা আব্বাস। এমনকি শ্যামপুর থানার দায়িত্ব খোদ আব্বাসের হলেও ৪ মাসে কোনো কর্মিসভা করেননি তিনি। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কিভাবে কমিটি করছেন সেদিকেও কোনো নজর নেই তার। কোনো তদারকি না থাকায় নানা সুবিধা পেয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তরা পকেট কমিটি বানাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে যেসব কমিটি গঠন করা হয়েছে তার একটিও কাউন্সিলের মাধ্যমে হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে আব্বাসের প্রতি মহানগর নেতাকর্মীদের আস্থা দিন দিন কমে যাচ্ছে। মহানগরের অনেক নেতা প্রকাশ্যেই আব্বাসের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করছেন। মির্জা আব্বাসকে আহ্বায়ক ও হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে সদস্য সচিব করে ১৮ জুলাই ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। তাদের ১ মাসের মধ্যে সব ওয়ার্ড ও থানা কমিটি এবং ২ মাসের মধ্যে মহানগরীর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল।
জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল যুগান্তরকে বলেন, কমিটি পুনর্গঠনে ধীরগতি এটা বলা যাবে না। নানা সংকটের মধ্যেও তারা কাজ করে যাচ্ছেন। কাজের অগ্রগতি চেয়ারপারসনকে নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে। চেয়ারপারসনও দ্রুত কমিটি শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী মাসের মধ্যে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর ৪৯টি থানা ও ১০০টি ওয়ার্ড এবং বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ১৫টি টিম গঠন করা হয়। গত ঈদুল আজহার আগে সব ওয়ার্ড কমিটি শেষ করার নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্তু ১ মাসের বেশি সময় ঈদ পেরিয়ে গেলেও তা শেষ করতে পারেনি। সূত্র জানায়, কমিটি গঠনের পর সদস্য সচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে নিয়ে চরম দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস।
সাদেক হোসেন খোকা অনুসারীরা সোহেলকে সামনে রেখে আব্বাসের বিরুদ্ধে একটি বলয় গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু সোহেল এই মুহূর্তে কোনো পক্ষের হয়ে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে কৌশল পরিবর্তন করেন খোকা অনুসারীরা। যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন খোকার পরামর্শে সোহেলকে বাদ দিয়ে যারা আছেন তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্র্দেশ দেন। যে কোনো ভাবে মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা কমিটিতে নিজস্ব লোকদের আনার নির্দেশ দেন খোকা। তার নির্দেশে কাজ শুরু করেন খোকা সমর্থকরা। ইতিমধ্যে যেসব কমিটি গঠন করা হয়েছে এর বেশির ভাগেই খোকা অনুসারীরা স্থান পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, কমিটি ঘোষণার পর আব্বাসের একক নিয়ন্ত্রণ থাকলেও তা এখন নেই। সবকিছুই নেতাকর্মীদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারছেন না। প্রথমে তার বক্তব্যে কেউ প্রতিবাদ না করলেও দিন যত যাচ্ছে তার নেতৃত্ব ততটা দুর্বল হয়ে পড়ছে। সম্প্রতি তার শাহজাহানপুরের বাড়িতে অনুষ্ঠিত মোহাম্মদপুর-আদাবর থানা নেতাদের কর্মিসভায় তার উপস্থিতিতেই হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। আমি যেভাবে চাইব সেভাবেই কমিটি হবে- ওই সভায় মির্জা আব্বাসের এমন বক্তব্য দেয়ার সময় প্রতিবাদ করেন খোকা অনুসারী কয়েকজন নেতা। তারা বলেন, বিগত সময়ে যারা মাঠে ছিলেন তাদের দিয়ে আন্দোলনমুখী কমিটি করতে হবে। আব্বাসের বক্তব্যের প্রতিবাদ করায় যুবদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। এ নিয়ে খোকা অনুসারীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। সূত্র জানায়, কমিটি গঠনের পর টিমগুলো ঢিলেতালে শুরু করে তাদের কার্যক্রম। যেসব ওয়ার্ডে কোন্দল কম সেখানকার নেতাকর্মীদের নিয়ে কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। যেসব থানায় কোন্দল জটিল সেখানে যেতেই সাহস পাচ্ছেন না অনেকে। বিশেষ করে সাবেক আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকার এলাকা হিসেবে পরিচিত পুরনো ঢাকায় এখনও কোনো প্রস্তুতি সভা হয়নি।
সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন খোকা তার সমর্থকদের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি দেশে না ফেরা পর্যন্ত যেন তার এলাকায় কোনো কমিটি গঠন করা না হয়। তার এমন নির্দেশে ওইসব এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সেখানে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। একই অবস্থা সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর এলাকায়ও। জেলখানা থেকে সম্প্রতি আব্বাসের উদ্দেশে তিনি সংক্ষিপ্ত এক চিঠি লিখেছেন। সেখানে বলা হয়েছে আব্বাস ভাই, সালাম নিবেন, আমার এলাকায় আমার লোকজনের দিকে একটু খেয়াল রাইখেন। পিন্টুর এমন চিঠিকে হুমকি হিসেবেই নিয়েছেন মহানগর নেতারা। লালবাগ, হাজারীবাগসহ পিন্টুর এলাকায় তার নিজস্ব লোকের বাইরে কমিটি করা আদৌ সম্ভব হবে না। এ নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তরা পড়েছেন বিপাকে। এছাড়া বংশাল, যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুরসহ আরও কয়েকটি থানায় এখন পর্যন্ত কোনো কর্মিসভা করা হয়নি। এমন বাস্তবতায় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন খালেদা জিয়া। ১৫ নভেম্বর মহানগর নেতাদের নিয়ে খালেদা জিয়ার কাছে যান মির্জা আব্বাস। মহানগর পুনর্গঠনের সার্বিক চিত্র তাদের দিয়ে খালেদা জিয়াকে অবহিত করেন। ইতিমধ্যে ৫৬টি ওয়ার্ড কমিটি গঠন শেষ হয়েছে জানানো হলেও তিনি বলেন এগুলো কেন ঘোষণা করা হচ্ছে না। আব্বাস এ সময় বলেন, সব ওয়ার্ড একসঙ্গে করে ঘোষণা করা হবে। যাতে বিদ্রোহ হলে একসঙ্গে সামাল দেয়া যায়। খালেদা জিয়া বলেন, যদি প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫ জন করে বিদ্রোহ করে তবে ১০০ ওয়ার্ডে সে সংখ্যা দাঁড়াবে ৫০০ জন। এত লোক একসঙ্গে বিদ্রোহ করলে কিভাবে সামাল দেবে। তার চেয়ে বরং যেসব কমিটি পুনর্গঠন হয়েছে সেগুলো ঘোষণা করে দেয়াই ঠিক হবে। খালেদা জিয়ার এমন পরামর্শের পর পুনর্গঠিত ওয়ার্ড কমিটিগুলো ঘোষণার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে এসব কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে বলে মহানগরের কয়েকজন নেতা জানান। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে শিগগিরই মহানগরের জরুরি সভা ডাকা হতে পারে।
এই বিষয়ে মহানগরের সদস্য আতিকুল ইসলাম মতিন যুগান্তরকে বলেন, ম্যাডাম এলাকায় গিয়ে কমিটি করার নির্দেশ দিলেও অনেকেই তা মানছেন না। তাদের কার্যক্রমে মনে হচ্ছে তারা পকেট কমিটি বানাতে চাচ্ছেন। তিনি বলেন, তার এলাকার নেতাকর্মীদের নিয়ে মহানগর আহ্বায়ক মির্জা আব্বাসের বাসায় বৈঠক হলেও সেখানেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহ্বায়কের সামনে এমন ঘটনা খুবই দুঃখজনক। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না করে উল্টো তার দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়।

তদন্ত নিয়ে বিপাকে পুলিশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শফিউল ইসলাম হত্যার কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বহুল অলোচিত এ ঘটনার তদন্তে র‌্যাব ও পুলিশের একাধিক টিম কাজ করলেও কোনো কূলকিনারা পাওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডে স্বাধীনতাবিরোধী দল হিসেবে পরিচিত একটি রাজনৈতিক দল নাকি কোনো জঙ্গি সংগঠন জড়িত তা নিয়েই পুলিশ বেকায়দায় পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষকরা ওই বিতর্কিত রাজনৈতিক দলের প্রতি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। কিন্তু ড. শফিউল ইসলামের ফেসবুকসহ তার চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করে পুলিশ জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার জোরাল ইঙ্গিত পাচ্ছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। ড. শফিউল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার ১১ জনকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হত্যার ঘটনায় তাদের কাছ থেকে কোনো তথ্য পায়নি পুলিশ। তাই ফের তাদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হয়েছে। রোববার রিমান্ড শুনানি হবে। শুক্রবার বিকালে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. শামসুদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তদন্তে যেসব তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে, তাতে অধ্যাপক শফিউল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে জঙ্গি সম্পৃক্ততার বিষয়টিই বেশি আলোচনায় আসছে। তবে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের নানা ধরনের দ্বন্দ্ব বা টানাপোড়েনের বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তা ছাড়া তার পুরনো কোনো ছাত্রের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ছিল না কিনা তাও খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে অন্ধকারে রয়েছে পুলিশ। ক্যাম্পাসে বিভিন্ন মহল থেকে এ হত্যাকাণ্ডে জামায়াত-শিবিরের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষকদের সংগঠন ‘প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’-এর একাধিক সদস্য অভিযোগ করে বলেছেন, জামায়াত-শিবিরই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা বলেন, অতীতের ন্যায় এবারও মৌলবাদী জামায়াত-শিবিরের প্রশিক্ষিত ক্যাডাররা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত।
মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা জামায়াত-শিবিরের প্রতি ইঙ্গিত করে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী চক্রই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তবে প্রগতিশীল সমাজের আহ্বায়ক অধ্যাপক জাহিদুল হাসান বলেন, ড. শফিউল ইসলাম ছিলেন প্রগতিশীল একজন মানুষ। যারা তার এই বিশ্বাস বা প্রগতির বাধা তারাই তাকে হত্যা করেছে। তবে এটি জামায়াত-শিবিরের কাজ নাকি জঙ্গিগোষ্ঠীর তা পুলিশকেই তদন্ত করে বের করতে হবে। এ বিষয়ে রাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক কামরুল হাসান মজুদার বলেন, জামায়াত না জঙ্গি তা আমাদের বিতর্ক নয়, আমরা চাই প্রকৃত খুনিদের অবিলম্বে খুঁজে বের করা হোক।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সরদার তমিজ উদ্দিন আবারও বলেছেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ঘটনার বর্ণনায় এটি মোটামুটি নিশ্চিত যে, প্রশিক্ষিত জঙ্গিরাই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। অধ্যাপক শফিউল প্রচলিত ধর্মীয় ধ্যান-ধারণার বাইরে গিয়ে নানান ব্যক্তিগত আচরণ ও মন্তব্য করেছিলেন। তিনি লালনচর্চার নামে প্রতি সপ্তাহেই বাসায় গানের আসর বসাতেন। তিনি ফেসবুকেও ধর্ম নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। এ কারণে উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠীদের টার্গেট হয়ে থাকতে পারেন বলে তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।
বৃহস্পতিবার সমাজবিজ্ঞান সমিতি আয়োজিত শোকসভায় নিহতের বোন ওয়াসিম রুমানা বলেন, স্বাধীনতাবিরোধীরাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। খুনিদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। হত্যাকাণ্ডের জন্য জঙ্গিদের দায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও নিহত শফিউলের একমাত্র ছেলে সৌমিন শাহরিদ জেভিন ওই শোকসভায় বলেছেন, ‘এটা সম্পূর্ণ জঙ্গি হামলা, মৌলবাদী জঙ্গিগোষ্ঠীর দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন আমার বাবা।’
পুলিশের অপর একটি সূত্র জানায়, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেলেও ক্যাম্পাসে গড়ে ওঠা আন্দোলন থেকে অভিযোগ করা হয় একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে। তাই নিশ্চিতভাবে কোনো দিকেই এগোচ্ছে না তদন্তকাজ। ফলে এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে অনেকটা রাজনৈতিক চাপে বিপাকে পড়েছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের ফের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন : ঘটনায় সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ ইতিমধ্যে জামায়াত-শিবির-সমর্থক অন্তত ১১ জনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়েছে। শুক্রবার দু’দিনের রিমান্ড শেষে দ্বিতীয় দফা আরও সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ১১ জনকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন যুগান্তরকে জানিয়েছেন, দু’দিনের রিমান্ডে আসামিদের কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই ফের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। রোববার রিমান্ড শুনানি হবে। এর আগে বুধবার রিমান্ডের শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-৩ আদালতের বিচারক শারমিন আখতার আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরা হলেন- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন জামায়াত নিয়ন্ত্রিত বিনোদপুর ইসলামিয়া কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ন কবির, ওই কলেজের শিক্ষক ফজলুল হক, চৌদ্দপাই এলাকার পল্লী চিকিৎসক মোশারফ হোসেন, আবদুল্লা আল মাহামুদ, মশিউর রহমান, হাসিবুর রহমান, জিন্নাত আলী, সাইফুদ্দিন, রেজাউল করিম, সাগর ও আরিফ।
১৫ নভেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক শফিউল ইসলামকে নগরীর চৌদ্দপাই এলাকায় বাসার সামনে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এন্তাজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মতিহার থানায় একটি মামলা করেন।

৫০ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দিলেন ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ৫০ লাখ অবৈধ অভিবাসী এবার বৈধতা পাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে নিজের নির্বাহী ক্ষমতা বলে এ ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এর ফলে ৫ বছরের বেশি সময় ধরে যারা অবৈধভাবে দেশটিতে বসবাস করছেন তারা বৈধতার জন্য আবেদনের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন। উচ্চ ডিগ্রিধারী ও দক্ষ প্রযুক্তিকর্মীদের জন্য এ সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। তবে ওবামার এমন ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রিপাবলিকানরা। তারা বলেছেন, কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে এ ঘোষণা দেয়ার এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের নেই। তার এ সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও তিক্ত করবে। খবর রয়টার্স, বিবিসি ও এএফপির। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় এক কোটি ১০ লাখ লোক অবৈধভাবে বসবাস করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এই অবৈধ অভিবাসীদের একটি অংশকে সরকার দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে, কেননা তাদের একটি বড় অংশের সন্তানরা বৈধ নাগরিক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে ওবামা বলেন, ছায়া থেকে বেরিয়ে আসুন, বৈধভাবে বসবাসের সুযোগ নিন। তিনি বলেন, তার এ পদক্ষেপ অবৈধ ব্যক্তিদের প্রতি কোনো সাধারণ ক্ষমা নয়। সম্প্রতি যারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে অবৈধভাবে বাস করছেন, তারা এ সুবিধা পাবেন না। তিনি বলেন, অপরাধীদের বিতাড়িত করা হবে। ওবামা বলেন, এই পদক্ষেপ অভিবাসন-সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। অভিবাসন আইনের ভয়ে যারা তাড়িত, মজুরি ও কাজের ক্ষেত্রে যারা অবৈধতার কারণে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন, তাদের জন্য এ ঘোষণা সাময়িক সুবিধা। উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের সমন্বিত অভিবাসন সংস্কার আইন প্রস্তাব গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়ে ওবামা বলেন, যে দিন আমি সমন্বিত অভিবাসন আইনে স্বাক্ষর করব, সেদিন থেকে এই নির্বাহী পদক্ষেপ অকার্যকর হবে।
কারা বৈধতার সুযোগ পাবেন : অনেকে পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর আর ফিরে যাননি। অনেকে নানা পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর বিয়ে করেছেন। তাদের পরিবারে সন্তান-সন্ততি এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেই জন্মসূত্রে সে দেশের নাগরিক হওয়া যায়। ফলে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া সন্তানের বাবা-মা’রা ওবামার নির্বাহী আদেশে বৈধতার সুযোগ পাচ্ছেন।
ওবামার ঘোষণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব রয়েছে এমন সব সন্তানদের যেসব বাবা-মা সেখানে ৫ বছর ধরে বসবাস করছেন তারা ৩ বছরের জন্য বৈধভাবে কাজের অনুমতির আবেদন করতে পারবেন। এই মানদণ্ডে প্রায় ৪০ লাখের মতো অবৈধ অভিবাসী বৈধতার সুযোগ পাবেন। একইভাবে আরও কয়েকটি মানদণ্ডে রূপরেখা দিয়েছেন ওবামা। যে অবৈধ অভিবাসীরা শৈশবে পিতামাতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিল, তারা থাকার অনুমতি পাবে। বৈধ কাগজপত্র না থাকলে, সেক্ষেত্রেও বৈধভাবে বসবাসের সুযোগ রয়েছে। তবে তারা ভোটাধিকার বা সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও বীমা সুবিধা পাবেন না। যুক্তরাষ্ট্রে তারা সহজে চলাচল করতে পারবেন। গাড়ি চালানোর লাইসেন্স ও ব্যাংক হিসাব খোলাসহ ন্যূনতম সুবিধাগুলো তাদের জন্য সম্প্র্রসারিত হবে।
এছাড়া উচ্চ ডিগ্রিধারী ও দক্ষ প্রযুক্তিকর্মীদের জন্য বৈধতার এ সুযোগ সম্প্রসারিত করা হয়েছে। ওবামার নির্বাহী আদেশের সুযোগ গ্রহণকারীদের আবেদনের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে এবং তাদের কর দিতে হবে। এক্ষেত্রে তাদের অতীত কর্মকাণ্ডের রেকর্ড যাচাই করা হবে। আগে কোনো অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে বা কোনো মামলা থাকলে, তারা এ সুযোগ পাবেন না।
বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া : ওবামার এ ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন রিপাবলিকানরা। রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইন বলেছেন, ‘আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থার অকার্যকারিতার মূল কারণ মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়ে ওবামা তার ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। কংগ্রেসের স্পিকার রিপাবলিকান জন বোয়েনার এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ওবামা এর আগে বলেছিলেন তিনি কোনো রাজা বা সম্রাট নন। কিন্তু কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে অভিবাসীদের জন্য সুবিধা দিয়ে তিনি রাজা-বাদশাহর মতো আচরণ করলেন। তারা বলছেন ওবামার এই সিদ্ধান্ত ‘অসাংবিধানিক’ এর পরিণতি ভালো হবে না। এমনকি এ ঘোষণার জন্য ওবামাকে পস্তাতে হবে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনগণের আস্থা হারানো ডেমোক্রেট দলের ভোট ভাণ্ডার বাড়াতেই এ ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছেন ওবামা। সিনেট ও হাউসে বর্তমান মেয়াদের অবসান হবে এ বছরের ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ। জানুয়ারিতে নবনির্বাচিত সিনেটর এবং কংগ্রেসম্যানরা দায়িত্ব বুঝে নেবেন। জানুয়ারি থেকেই দুই হাউসে একচ্ছত্র আধিপত্য পাবে রিপাবলিকানরা। তার আগেই ওবামা চাচ্ছেন অভিবাসন বিষয়ে তার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করতে।
সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশীরাও : যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসরত বিদেশীদের মধ্যে লাখখানেক বাংলাদেশী আছেন বলে ধারণা করা হয়। অভিবাসন আইন নিয়ে কর্মরত যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিমকোর্টের অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, অবৈধ অভিবাসনে আছেন এমন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশী এই আদেশের কোনো সুবিধা পাবেন না। তবে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশী এ সুযোগ ভোগ করতে পারবেন। টেক্সাসে বসবাসকারী এক বাংলাদেশী বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় এতদিন সঠিক মজুরির কাজ করতে পারেননি। ওবামার ঘোষণায় বৈধভাবে এবার কাজ করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।
ওয়াশিংটনভিত্তিক অভিবাসী বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মাইগ্রেশন পলিসি ইন্সটিটিউট’র এক পর্যালোচনা মতে, অন্তত ৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাস করছেন এমন ৩ দশমিক ৩ মিলিয়ন মানুষ ওবামার উদ্যোগের সুবিধা পাবেন। এছাড়া যারা শিশু বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন এমন কাগজপত্রহীন অবৈধ অভিবাসী এবং যেসব বাবা-মার শিশুসন্তান আছে এমন অতিরিক্ত আরও ১ মিলিয়ন অভিবাসী প্রেসিডেন্ট ওবামার এই নির্বাহী আদেশের সুবিধা ভোগ করবেন। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় এক কোটি ১০ লাখ লোক অবৈধভাবে বসবাস করছেন।

তিতাসে আলীগ-যুবলীগ টেঁটাযুদ্ধ : নিহত ১

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার কলাকান্দি বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কলাকান্দি বাজারের একজন ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে আট পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৩৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলার কলাকান্দি বাজারে। গুলিবিদ্ধ ১৫ জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পুলিশ নারীসহ উভয় পক্ষের দুজনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। টেঁটাবিদ্ধ হয়ে নিহত কলাকান্দি বাজারের ব্যবসায়ী রেয়াজুল করিম সেন্টু মিয়া কলাকান্দি গ্রামের আবদুল জব্বারের ছেলে। পুলিশ জানায়, কলাকান্দি বাজারের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুল্লাহ বাহার ও নাছির গ্র“পের সঙ্গে স্থানীয় যুবলীগ নেতা ইব্রাহিম গ্রপের দীর্ঘদিনের শত্র“তা রয়েছে। গত কোরবানি ঈদের পর দুই গ্র“পে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। ওই সময় উভয় পক্ষের মামলায় যুবলীগ নেতা ইব্রাহিম জেল থেকে বুধবারে বের হয়ে আসেন। বৃহস্পতিবার বিকালে ইব্রাহিম গ্র“পের যুবলীগ সদস্য ফরিদ উদ্দিন বাজারে গেলে তাকে মারধর করে। এর জের ধরে শুক্রবার সকালে ইব্রাহিম গ্র“পের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় বাহার ও নাছির গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করে। এতে উভয় পক্ষ ৪ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে শতাধিক রাউন্ড গোলাগুলি হয়। বাহার গ্রুপের ছোড়া টেঁটা বিদ্ধ হয়ে বাজারের ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী রেয়াজুল করিম সেন্টু নিহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিতাস থানা পুলিশ ৩৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে।
যুবলীগ নেতা ইব্রাহিম সাংবাদিকদের জানান, আমি জেল থেকে বের হওয়ার পর আমার কর্মী ফরিদ উদ্দিন বাজারে গেলে বাহার গ্র“পের লোকজন তাকে মারধর করে। শুক্রবার আমার লোকজন বাজারে গেলে বাহার-নাছির গ্র“পের লোকজন টেঁটা-বল্লমসহ দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে আমাদের ধাওয়া করে। এ সময় তাদের ছোড়া টেঁটা বিদ্ধ হয়ে বাজারের ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী সেন্টু নিহত হন। এছাড়া আমার পক্ষের ২০-২৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
কলাকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি হাবিবুল্লা বাহার সাংবাদিকদের জানান, যুবলীগ ক্যাডার ইব্রাহিম জেল থেকে বের হয়ে অস্ত্র নিয়ে বাজারে আমার পক্ষের লোকজনের দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাট করে নিয়ে যায়। এ সময় তার বাহিনী শতাধিক রাউন্ড গুলি ও টেঁটা বল্লম ছুড়লে বাজারের এক ব্যবসায়ী নিহত হন। এতে আমার পক্ষের ১৫-২০ জন গুলি ও টেঁটাবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক মোহাম্মদ আবদুল হান্নান জানান, আওয়ামী লীগের বাহার-নাছির ও ইব্রাহিমগ্রেুপের সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছি। উভয় পক্ষের হাতে টেঁটাসহ বিভিন্ন অস্ত্র থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৩৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। এ সময় তাদের ইট-পাটকেলের আঘাতে আমিসহ আট পুলিশ আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে এক নারীসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-রাজশাহীতে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে আরও দুটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া যেসব সেনানিবাসের সঙ্গে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল আছে, সেসব জায়গায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। আজ শনিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) শহীদ ডা. মিলন হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি বিএসএমএমইউতে বহির্বিভাগ ভবন (আউটডোর কমপ্লেক্স) উদ্বোধন করেন। (ছবি:১-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আজ শনিবার বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি:২-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ শনিবার বহির্বিভাগ ভবন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা)
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মানুষ যে দলকে পছন্দ করে, সে দলকে ভোট দেবে। তবে সরকারের কাজ হলো মানুষের সেবা করে যাওয়া।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিক করেছিলাম জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে। সেটা বন্ধ করে দেওয়া আমি মনে করি খুবই ক্রুয়েল (নিষ্ঠুর) কাজ।’
কমিউনিটি ক্লিনিক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালে যেতে নারীরা আগে স্বামী, দেবর, ভাসুরের অপেক্ষায় থাকতেন। এখন ভ্যানে করে বা পায়ে হেঁটে কমিউনিটি ক্লিনিকে যেতে পারছেন।’
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মৌলিক চাহিদা পূরণ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। প্রথমেই আমরা খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। আল্লাহর রহমতে সফল হয়েছি। এখন আমরা পুষ্টির দিকে নজর দিচ্ছি। গর্ভবতী নারী ও ল্যাকটেটিং মাদারদের ভাতা দেওয়া হচ্ছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর চাপ কমাতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া কুর্মিটোলা ও মুগদায় দুটি জেনারেল হাসপাতাল চালু করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে জনগণের সেবা বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় মানুষ যেন অল্প খরচে সেবা পায়, এ জন্য গবেষণা খাতে উন্নয়নের ওপর জোর দেন।
‘সারাক্ষণ গলাবাজি করে বেড়াতে হয় তো, তাই’
প্রায় ২৫ মিনিট দীর্ঘ বক্তৃতার শেষ দিকে এসে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আর বক্তৃতা বাড়াব না। শরীরটা ভালো না। এতগুলো ডাক্তার দেখলে এমনিই নানান রোগের কথা মনে হয়...গলাটায় একটু সমস্যা। সারাক্ষণ গলাবাজি করে বেড়াতে হয় তো, তাই রেস্ট হয় না।’

প্রত্যেক জেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স করা হবে

দেশের ৬৪টি জেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা যারা দুস্থ অবস্থায় আছেন, তাদের থাকা-খাওয়া ও বাসস্থানের ব্যবস্থা আমরা করে দেব। প্রত্যেক জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নে মুক্তিযোদ্ধাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। শুক্রবার সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রায় ২২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ভূমিহীন অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ’ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা ১৯৭২ সালে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের কল্যাণের জন্য মুক্তিযোদ্ধা ট্রাস্ট গঠন করেন। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এ প্রতিষ্ঠানটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়, রুগ্ন হয়ে পড়ে। সরকার এ ট্রাস্টকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে উদ্যোগ নিয়েছে। ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ৫৯ জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের হাতে সম্মানী চেক ও উপহার তুলে দেন। বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী এ অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর ২৬ জন সদস্যকে পদকও দেন।
স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৬৭৬ জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠদের ভাতা ১২ হাজার টাকা, বীর উত্তমদের জন্য দশ হাজার টাকা, বীরবিক্রমদের জন্য আট হাজার এবং বীরপ্রতীকদের জন্য ছয় হাজার টাকায় উন্নীত করার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতার পরিমাণ ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা এখন ৯ হাজার ৭০০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাতা পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার আওতায় আনার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এটা আমরা করব। তিনি বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী শুধু দেশেই নয়, বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। তাই আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যেন বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে, সে পদক্ষেপ নিয়েছি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন করা হবে।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূইয়া, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল এম ফরিদ হাবীব, বিমান বাহিনী প্রধান মোহাম্মদ ইনামুল বারী, সাবেক সেনা প্রধান মোহাম্মদ আবদুল মুবীন, সাবেক নৌবাহিনী প্রধান জহির উদ্দিন আহমেদ, সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান শাহ মো. জিয়াউল রহমান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীসহ ১৪ জনকে বাহিনীর পদক পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া ১২ জনকে দেন ‘অসামান্য’ পদক। শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, আমরা যেভাবে মুক্তিযুদ্ধে জয়ী হয়েছি, সেভাবেই দারিদ্র্যকে জয় করব। বাংলাদেশ আর পিছিয়ে থাকবে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ব।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূইয়া, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল এম ফরিদ হাবিব, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল মোহাম্মদ ইনামুল বারীসহ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ছাত্রলীগ: ওবায়দুল কাদের

(পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা মহাবিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে আজ শনিবার বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি: এ কে এম ফয়সাল) রাজনৈতিক নেতাদের অপব্যবহার ও দীর্ঘদিন ছাত্রসংসদ নির্বাচন না হওয়ায় দেশব্যাপী ছাত্রলীগ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ শনিবার সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন। এর আগে তিনি টুঙ্গিপাড়ার পাটগাতি এলাকায় মধুমতি নদীর ওপর নির্মাণাধীন শেখ লুৎফর রহমান সেতু পরিদর্শন করেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, কিছু কিছু স্থানীয় নেতা তাঁদের প্রভাব বলয় বিস্তার করতে ছাত্রলীগকে ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন দেশের কলেজগুলোতে ছাত্রসংসদ নির্বাচন না হওয়ায় ছাত্রলীগের মধ্যে বেপরোয়া মানসিকতা কাজ করছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সব দলেই বিজয়ের পরপর কিছু আবর্জনা, আগাছা ও পরগাছা ঢুকে যায়। আমাদের দলেও এমনটি হয়েছে। তবে অন্যায় করলে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
ওবায়দুর কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটাক্ষ করে বিএনপি যে বক্তব্য রাখা শুরু করেছে, তার মাশুল বিএনপিকেই দিতে হবে। এ দলটি গত ছয় বছর ধরে বার বার আন্দোলনের ডাক দেয়, কিন্তু তাদের ডাকে জনগণ সাড়া দেয় না। ফলে দিন দিনে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিএনপি।
পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সেতুর জন্য নদী শাসনের কাজ শেষ হয়েছে। শুধু দেশেই নয়, সেতু নির্মাণের নানা কাজ বিদেশেও চলছে। তিনি জানান, ২০১৮ সালের মধ্যে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে ও যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। দোতলা পদ্মা সেতুর একতলায় রেললাইন ও অপর তলায় যানবাহন চলাচল করবে বলেও জানান মন্ত্রী।
এ সময় গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম, সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল কাশেম ভূইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ছাত্র রাজনীতির নামে অপরাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে
গোপালগঞ্জে নির্মাণাধীন শেখ লুৎফর রহমান সেতু পরিদর্শন শেষে দুপুরে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় যান ওবায়দুল কাদের। সেখানে উপজেলার বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা মহাবিদ্যালয়ে নবীণবরণ ও কৃতী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রিক লেখাপড়া না করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জীবিকার জন্য শিক্ষা নয়, জীবনের জন্য শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। ছাত্র রাজনীতির নামে যে অপরাজনীতি চলছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ক্ষমতা কারও চিরদিন থাকে না। যতদিন ক্ষমতায় থাকব, প্রতিটি মুহূর্ত মানুষের জন্য কাজ করে যাব।’

দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন এইচটি ইমামের ছেলে

সন্মেলনে বিনা প্রতিদ্ব›িদ্ধতায় উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হওয়ার ৯দিনের ব্যবধানে দলীয় পদ ছেড়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমামের ছেলে ও স্থানীয় এমপি তানভীর ইমাম। তার স্থলে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে অন্য একজন দায়িত্ব পালন করবেন। শনিবার সকালে উল্লাপাড়ার খান সোনতলার নিজ বাড়িতে এক জরুরী সভা ডেকে তানভীর ইমাম এ সিদ্বান্ত নেন। এসময় পৌর কমিটি ও ১৪টি ইউনিয়নের ১৯৭ জন কাউন্সিল উপস্থিত ছিলেন। একই সম্মেলনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনরায় নির্বাচিত সভাপতি মীর শহিদুল ইসলাম এ সভায় সভাপতিত্ব করেন। ১৪ নভেম্বর উল্লাপাড়া আকবর আলী কলেজের আবু তাহের ছাত্রাবাস মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ বিষয়ে এমপি তানভীর ইমাম বলেন, এমপি নির্বাচিত হওয়ার কারনে আমাকে অধিকাংশ সময় ঢাকায় থাকতে হচ্ছে। দলের জন্য বেশি সময় দিতে পারছি না। এ অবস্থার কারনে আগামীতে দলের ক্ষতি হতে পারে। যে কারনে জরুরী সভা ডেকে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক গোলাম মোস্তফাকে পুনরায় ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছি। এমপি হিসাবে দায়িত্ব পালনের মধ্যদিয়ে কাজের পরিধি কমে আসলে পুনরায় এ পদে ফিরে আসবো কি-না তা চিন্তা ভাবনা করবো। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম ছাত্রলীগ নিয়ে বক্তব্যের কারনে দেশব্যাপী আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে। এ অবস্থার মধ্যেই ১৪ নভেম্বর উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তানভীর ইমাম সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হওয়ায় দল ও দলের বাইরে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

‘সরকার নারীদের জন্য সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে’ -স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আরও এগিয়ে নিতে হলে নারীদেরও এগিয়ে আসতে। এজন্য বাল্যবিবাহ ও মাতৃমৃত্যু বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরী। এজন্য মায়েদের পাশাপাশি পরিবারকেও সচেতন হতে হবে। আর এক্ষেত্রে সফল হলেই আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হবে।
শনিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার হাজী কোরব আলী মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ মাঠে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও ইউনাইটেড নেশনস পপুলেশন ফান্ডের (টঘঋচঅ) উদ্যোগে আয়োজিত বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করে মাতৃমৃত্যু রোধ করুন বিষয়ক সমাবেশে স্পিকার আরও বলেন, দারিদ্রতা ও অশিক্ষার দোহাই দিয়ে আর কোন বাল্যবিবাহ ও মাতৃমৃত্যু যাতে না হয় সেদিকে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এছাড়াও বাল্যবিবাহের কারনে অকাল মৃত্যু ও অপুষ্ট শিশুর জন্ম হতে পারে এ বিষয়টি পরিবার, অভিভাবক ও নিজেরা যদি সচেতন হই তাহলে অবশ্যই এটি দূর করা সম্ভব। বর্তমান সরকার নারীদের জন্য সম্ভবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। মনে রাখতে হবে দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, আর পুরুষের পাশাপাশি যদি নারীরাও এগিয়ে যেতে পারে তাহলে দেশও এগিয়ে যাবে।
সিরাজগঞ্জ-২ আসনের এমপি প্রফেসর হাবিবে মিল্লাত মুন্না’র সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত মি. জারবান জং, এমপি রেবেকা মোমিন, জাহিদ হাসান রাসেল, আব্দুল মজিদ মন্ডল, তানভীর ইমাম, সংরক্ষিত নারী এমপি সেলিনা বেগম স্বপ্না, ইউনাইটেড নেশনস পপুলেশন ফান্ডের প্রতিনিধি মিস. আরজেনটিনা মাটাভেল পিচিন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধকারী কিশোরী গাজীপুরের শাহিদা বানু স্বর্না, জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, কামারখন্দ উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন চৌধুরী ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এসপিসিপিডি’র প্রকল্প পরিচালক এবং যুগ্ন সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম খান বক্তব্য রাখেন। শুরুতেই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা।

লন্ডনে ‘চরমপন্থা’র ঝুঁকিতে ছয়টি স্কুল

পূর্ব লন্ডনের ছয়টি স্কুলে ইসলামিক শিক্ষার ওপর অতিমাত্রায় জোর দেয়া হচ্ছে। স্কুলের শিক্ষাথীদের বৃটিশ মূল্যবোধ সংস্কৃতি, গণতন্ত্র, ব্যক্তিস্বাধীনতার মতো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষা পাচ্ছে না। ফলে মারাত্মক ‘চরমপন্থায়’র ঝুঁকিতে রয়েছে এই স্কুলগুলো। যুক্তরাজ্যের স্কুলগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফস্টেড এর এক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে এমনই খবর দিয়েছে বিবিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামিক শিক্ষার ওপর অতিমাত্রায় গুরুত্ব ও আধুনিক শিক্ষাকে অবহেলার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা চরমপন্থায় জড়ানোর মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। তারা বৃটিশ আইন ও শরীয়া আইনের মধ্যে পার্থক্য অনুধাবন করতে জানে না। বৃটিশ সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধ বিষয়েও তাদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে। উগ্রপন্থা বা চরমপন্থার ঝুঁকিতে থাকা স্কুলগুলো হলো মাজাহিরুল উলুম স্কুল, জামিয়াতুল উম্মা, ইব্রাহিম একাডেমি, আল মিজান একাডেমি, দি লন্ডন ইস্ট একাডেমি ও স্যার জনকাস ফাউন্ডেশন। স্যার জনকাস ফাউন্ডেশন ছাড়া বাকি স্কুলগুলো বাংলাদেশীরা নিয়ন্ত্রণ করে।  আল দি লন্ডন ইস্ট একাডেমি ইস্ট ও মিজান একাডেমি ইষ্ট লন্ডন মসজিদ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। এদিকে, বৃটিশ মূল্যবোধ ও সমাজব্যবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কোন শিক্ষা এই স্কুলগুলোতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বৃটেনের শিক্ষা বিষয়ক কর্মকর্তা নিকি মর্গান। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে স্কুল গুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।

‘আওয়ামী লীগ বাকশালের দিকে এগুচ্ছে’ -মির্জা আব্বাস

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার বাকশালের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস। বলেছেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই দেশে গণতন্ত্র থাকে না। ৭২ থেকে ৭৫ সালে বাকশাল কায়েম করা হয়েছিল। এখনও শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার বাকশালের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আজ বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে তারেক রহমানের ৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘আগামীর বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আন্দোলনের মাধ্যমে তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনা হবে মন্তব্য করে মির্জা আব্বাস বলেন, তারেক রহমান দৃঢ়চেতা, দেশের মানুষের ভালবাসায় সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন। তুমুল আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের মানুষ তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে। কোন শক্তি তাকে এয়ারপোর্টে আটকে রাখতে পারবে না। মহানগর বিএনপির এ আহ্বায়ক বলেন, ষড়যন্ত্র থাকবে, আগামী দিনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের এগিয়ে যাবে। সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে  আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক  প্রোভিসি আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামছুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মাজহারুল ইসলাম দোলন বক্তব্য রাখেন।

পুলিশেও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা!

পুলিশের বিশেষ শাখায় কর্মরত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মাহবুব হোসেনের জন্ম মুন্সীগঞ্জে ১৯৬০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল ১১ বছর। তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনদ নিয়েছেন। ১৯৭১ সালের মার্চের শেষ দিকে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় তখন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি এসএম মনির-উজ-জামানের বয়স ছিল সাড়ে ১২ বছর। তিনিও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনদ নিয়েছেন।
শুধু বয়স নয়, চাকরিতে যোগদানের সময় তারা কেউই নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি বা উল্লেখ করেননি। একই সঙ্গে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ প্রদানে সরকার যে চারটি মানদণ্ড বেঁধে দেয়, তাদের ক্ষেত্রে সেগুলোও অনুসরণ করা হয়নি। ফলে তাদের মুক্তিযোদ্ধা সনদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এ রকম ভেজাল সনদ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে চাকরি করছেন পুলিশের অন্তত ১৯ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এর মধ্যে একজন অতিরিক্ত আইজিপি, ৯ ডিআইজি, ৩ অতিরিক্ত ডিআইজি এবং ৬ সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার। মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি চাকরির মেয়াদ ২ বছর বাড়ানোর পর তারা নিজের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দেয়া শুরু করেন। কেউ কেউ সনদ সংগ্রহ করে চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেছেন। আবার কেউ আবেদন করেও পরে কোনো কারণে তা প্রত্যাহার করে নেন। মুক্তিযোদ্ধা সনদ গ্রহণকারী সচিব, যুগ্ম সচিবসহ পদস্থ কর্মকর্তাদের বিষয়ে দুদক অনুসন্ধানে নামলে এসব তথ্যও উদ্ঘাটিত হয়। এগুলোর ব্যাপারেও পদক্ষেপ নেবে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি।
দুদকের দায়িত্বশীল কয়েকটি সূত্র জানায়, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে উল্লিখিত জন্মসাল অনুযায়ী কারও বয়স ১১ বছর, কারও বয়স ১২ কিংবা ১৩ বছর। উল্লিখিত বয়স অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া অবিশ্বাস্য। অথচ ‘মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে পুলিশ কর্মকর্তারা চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের বয়সসীমা বৃদ্ধি করেছেন।
পুলিশের উচ্চপদে আসীন এই কর্মকর্তারা হলেন- পুলিশের অতিরিক্ত আইজি শেখ হিমায়েত হোসেন, অতিরিক্ত আইজি নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা এনডিসি, পুলিশ সদর দফতরে কর্মরত ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবির, ডিআইজি বিনয় কৃষ্ণ বালা, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. নওশের আলী, এসবিতে কর্মরত ডিআইজি মাহবুব হোসেন, সিআইডিতে কর্মরত সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. সিরাজুল ইসলাম, ডিএমপির ডিআইজি মো. আবদুল জলিল মণ্ডল, খুলনা রেঞ্জে চলতি দায়িত্বে থাকা ডিআইজি এসএম মনির-উজ-জামান, ঢাকা রেঞ্জে কর্মরত ডিআইজি এসএম মাহফুজুল হক নূরুজ্জামান, সিআইডিতে চলতি দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হোসেন, সিআইডিতে চলতি দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত ডিআইজি এসএম হাফিজুর রহমান, রাজশাহীর পুলিশ কমিশনার হিসেবে অবসর-পূর্ব ছুটি (পিআরএল) ভোগরত ডিআইজি মো. ওবাইদুল্লাহ, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মকবুল হোসেন ভূঁইয়া, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি ডা. মো. আবদুর রহিম, র‌্যাব থেকে পিআরএল ভোগরত সহকারী পুলিশ সুপার একেএম হাবিবুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের পুুলিশ সুপার শাহ আলম বকাউল, এসবিতে কর্মরত সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সৈয়দ এমদাদুল হক এবং সিআইডিতে কর্মরত সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল আওয়াল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সরকারের বেঁধে দেয়া মানদণ্ড অনুযায়ী, ১. যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সময় নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন, ২. যাদের নাম মুক্তিবার্তা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল, ৩. মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যাদের নাম গেজেটে প্রকাশিত হয়েছিল এবং ৪. মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যারা প্রধানমন্ত্রীর সই করা সনদ নিয়েছেন, তারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বাড়তি চাকরি করার সুযোগ পাবেন। কিন্তু এই ১৯ পুলিশ কর্মকর্তা এই মানদণ্ড অনুসরণ করেননি। ফলে তারা যে সনদ নিয়েছেন তা জাল হিসেবেই বিবেচিত হবে।
তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযোদ্ধা কর্মচারীদের চাকরির বয়সসীমা ২ বছর বাড়ানোর ঘোষণা দিলে সনদ গ্রহণের হিড়িক পড়ে। চাকরিতে যোগদানের সময় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা না দিলেও নানা কৌশলে বহু সরকারি চাকরিজীবী সনদ বাগিয়ে এ সুবিধা গ্রহণ করেন। সরকার চারটি মানদণ্ড নির্ধারণ করলেও অনেকে নানা কৌশল ও জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে সরকারি চাকরিতে বাড়তি সুবিধা ভোগ করছেন। সচিব থেকে শুরু করে এমএলএসএসরা পর্যন্ত রয়েছেন এ তালিকায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরির সময় ২ বছর বাড়ানোর ঘোষণার পর গত পাঁচ বছরে ১১ হাজার ১৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা সনদ গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিবের ৬ সনদ সম্পর্কে অনুসন্ধান করছে দুদক।
উল্লেখ্য, এর আগে চাকরির মেয়াদ বাড়াতে বা অন্যান্য সুযোগ নিতে বেআইনিভাবে পাঁচ সচিবের সনদ নেয়ার অভিযোগ ওঠে। এরপর অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ওই পাঁচ সচিব সরকারি নির্দেশনা, পরিপত্র ও আইন অমান্য করে মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়েছেন উল্লেখ করে দুদক প্রতিবেদন দেয়। এরপর পাঁচ সচিবের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করা হয়।
‘মুক্তিযোদ্ধা’ দাবিকারী নব বিক্রম ত্রিপুরা এনডিসির জন্ম ১৯৫৬ সালের ৪ এপ্রিল রাঙ্গামাটিতে। ১৯৮৪ সালে তিনি ক্যাডারে যোগদান করেন। পর্যায়ক্রমে পদোন্নতি নিয়ে ২০০৭ সালের ১১ জুলাই অতিরিক্ত আইজি হন। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. নওশের আলীর জন্ম পাবনায় ১৯৫৮ সালে ২১ জানুয়ারি। মুক্তিযুদ্ধকালে তার বয়স ছিল ১৩ বছর। ১৯৮৮ সালের ১৫ ফেব্র“য়ারি তিনি ক্যাডারে যোগদান করেন। ২০১২ সালে ডিআইজি পদে উন্নীত হন। ডিআইজি বিনয় কৃষ্ণ বালা বিপিএমের জন্ম গোপালগঞ্জে ১৯৫৮ সালের ১৬ ফেব্র“য়ারি। মুক্তিযুদ্ধকালে তার বয়সও ছিল ১৩ বছর। ক্যাডারে যোগদান করেন ১৯৮৮ সালে। ডিআইজি পদে উন্নীত হন ২০১০ সালের ১৮ আগস্ট।
ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডলের জন্ম পাবনায় ১৯৫৭ সালের ১ এপ্রিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় বয়স ছিল ১৪ বছর। পুলিশে যোগদান করেন ১৯৮৮ সালে। ডিআইজি পদে উন্নীত হন ২০১২ সালের ১৪ অক্টোবর। সহকারী পুলিশ সুপার শাহ আলম বকাউলের জন্ম চাঁদপুরে ১৯৫৮ সালের ১৪ মার্চ। ১৯৭১ সালে তার বয়স ছিল ১৩ বছর। সহকারী পুলিশ সুপার সিএ হালিম-পিপিএমের জন্ম ১৯৫৮ সালের ৪ মার্চ বরিশালে। ১৯৭১ সালে তার বয়সও ছিল ১৩ বছর। সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সৈয়দ এমদাদুল হকের জন্ম ১৯৫৭ সালের ২ জানুয়ারি ফরিদপুরে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল ১৪ বছর। ডিআইজি (চলতি দায়িত্ব) এসএম মাহফুজুল হক নূরুজ্জামান বিপিএমের জন্ম গোপালগঞ্জে ১৯৫৭ সালের ৮ মার্চ। তার বয়সও ছিল ১৪ বছর। পুলিশে যোগদান ১৯৮৯ সালে। ২০১১ সালের ২০ ডিসেম্বর তিনি অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি নেন।
অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হোসেন পিপিএমের জন্ম ১৯৫৭ সালের ১ নভেম্বর। তার বয়স ছিল ১৩ বছরের কিছু বেশি। পুলিশে যোগদান ১৯৮৮ সালে। ২০০০ সালের ২২ মে পুলিশ সুপার পদে উন্নীত হন তিনি। অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্ব) এসএম হাফিজুর রহমানের জন্ম নড়াইলে ১৯৫৭ সালের ২১ অক্টোবর। তার বয়স সাড়ে ১৩ বছর। পুলিশ ক্যাডারে যোগদান করেন ১৯৮৮ সালে। পদোন্নতির মাধ্যমে পুুলিশ সুপার হন ২০০৩ সালের ২৫ মার্চ। সাড়ে ১২ বছর বয়সে কীভাবে মুক্তিযুদ্ধ করলেন- জানতে চাইলে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি এসএম মনির-উজ-জামান যুগান্তরকে বলেন, আমার প্রকৃত জন্ম তারিখ ১৯৫৬ সালের ৩০ জুন। গ্রামের ছেলে আমি। বাবা-মা সার্টিফিকেটে প্রকৃত বয়স উল্লেখ করেননি। তবু বলছি, জনযুদ্ধের কোনো বয়স নেই। তিনি দাবি করেন, আমি ১৯৭১ সালে ভারতে ট্রেনিং নিয়েছি। এরশাদের সামরিক শাসনামলে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনদ গ্রহণ করি। ৯ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছি। আমার কমান্ডার সুবেদার আবুল কাশেম। প্রকৃত তথ্য জানতে হলে আমার গ্রাম মোকসেদপুর, কাউনিয়া ঘুরে আসুন।
সরকারের মানদণ্ডের কথা জানালে তিনি বলেন, আমি কোনো ক্রাইটেরিয়া বুঝি না। দেশে একজনমাত্র প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা থাকলে সেটি আমি। একজন গর্বিত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি কোনো সুযোগ-সুবিধা চাই না। মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার বিষয়ে জানতে ডিআইজি বিনয় কৃষ্ণ বালাকে ফোন করা হয়। জবাবে তিনি এসএমএস পাঠিয়ে মিটিংয়ে আছেন বলে জানান। পরে আর কথা বলেননি। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ সম্পর্কে জানতে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মকবুল হোসেন ভূঁইয়ার সঙ্গে বারবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
মুক্তিযোদ্ধার ভেজাল সনদে চাকরিরত পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার যুগান্তরকে বলেন, এ মুহূর্তে কিছু বলতে পারছি না। আমার সামনে কোনো ফাইল নেই। একই বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, জালিয়াতির বিষয়টি দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধ। তাই বিষয়টি দুদক অনুসন্ধান করে দেখবে।

নেপথ্যে টেন্ডারবাজি নিয়োগ-বাণিজ্য

ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বারবার রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দখল ও নিয়োগ-বাণিজ্যে সুযোগ নিতেই বিভিন্ন সময়ে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। সংঘর্ষে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ক্যাম্পাসে আনা হচ্ছে বহিরাগত ক্যাডারদের। আর এই শক্তি দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের দুই গ্র“পের সংঘর্ষে প্রাণ হারায় সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সুমন চন্দ্র দাস।
শাবিতে এখন ছাত্রলীগের প্রতিপক্ষ ছাত্রলীগ। আর এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে হামলায় আহত হয়ে পঙ্গু জীবনযাপন করছেন কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা। প্রতিটি গ্রুপ নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে এবং বিভিন্ন সংঘর্ষের আগে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের নিয়ে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতে জেলার আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতারা অনুসারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বহিরাগত ক্যাডার ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করে থাকেন। এক সময় সাবেক কাউন্সিলর জগদীশ চন্দ্র দাশ, মহানগর আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক বিধান কুমার সাহা ও মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক পীযূষকান্তি দে’র মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতেন। পরে নিজেদের মধ্যে কোন্দল দেখা দিলে টেন্ডার-বাণিজ্যে জগদীশের নিয়ন্ত্রণ কমে আসে। এখন টেন্ডার ও নিয়োগ-বাণিজ্যেও সুযোগ নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ, বিধান কুমার সাহা, জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক রঞ্জিত সরকার ও পীযূষকান্তি দে’র অনুসারীরা। শাবিতে তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্র“পকে কাজে লাগিয়ে তারা টেন্ডার-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবন নির্মাণের সময় শাবি ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্র“পকে কাজে লাগিয়ে সিলেটের আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে সমঝোতা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি সেন্টার নির্মাণের সময় টেন্ডারবাজির অভিযোগে তখনকার ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ঠিকাদার হাবিব মালিথা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অডিটোরিয়ামের কাজ নিয়েও টেন্ডারবাজির অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি আইসিটি ভবনের আসবাবপত্র ও কম্পিউটার সরবরাহের কাজ পেতে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে আওয়ামী লীগ নেতা বিধান কুমার সাহার বিরুদ্ধে।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে হলে ফাও থাকা-খাওয়া সুবিধা চালু রেখেছে।
গত বছরের ৮ মে শাবি ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের পর কমিটিতে স্থান পাওয়া ও পদবঞ্চিতরা ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারে বেপরোয়া হয়ে উঠে। ফলে ক্যাম্পাসের অবস্থা দিন দিন অস্থিতিশীল হয়ে উঠে। কমিটির গঠনের পর শাবি ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক শামসুজ্জামান চৌধুরী সুমন ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন। ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দুর্বৃত্তের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে ছাত্রলীগ নেতা উত্তম এখনও সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উত্তম গ্রুপের কর্মীরা এ হামলার জন্য ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নাঈম হাসান ও সহ-সম্পাদক শামসুজ্জামান চৌধুরী সুমনকে দায়ী করেছেন। একইভাবে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্র“পের সংঘর্ষের সময় গুলিতে নিহত হন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সুমন চন্দ্র দাস।
ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, শাবিতে সংঘর্ষের আগে বুধবার রাতে নগরীর তেলিহাওর গ্রুপের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পার্থ-ইমরান গ্র“পের কর্মীদের গোপন বৈঠক হয়।

ছাত্রলীগকে বাঁচান

সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি) ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রলীগকে বাঁচাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। শুক্রবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘরে বঙ্গবন্ধু একাডেমি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ করে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, বিগত সময়ে সিলেটের এমসি কলেজের হোস্টেলের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তখন শিক্ষামন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী দুজনই গিয়েছিলেন। তখন শিক্ষামন্ত্রী সেখানে গিয়ে কেঁদেছিলেন। আমি এবারও শিক্ষামন্ত্রীকে বলব, আর কিছু না পারেন অন্তত একবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে কাঁদেন। আর অর্থমন্ত্রীকে বলব সেখানে গিয়ে রাবিশ খোবিশ বলে আসেন। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে শাবিপ্রবিতে ছাত্রলীগের দুগ্র“পের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়। সারা দিনব্যাপী সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
ছাত্রলীগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের এ প্রবীণ নেতা বলেন, ছাত্রলীগকে রক্ষা করতে হবে। গুটিকয়েককর্মী ছাত্রলীগের গৌরবজ্জ্বল ইতিহাসকে ম্লান করে দিচ্ছে। সময় চলে যাচ্ছে, এখনই বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ছাত্রলীগকে আবার নীতি ও আদর্শের পথে নিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী কষ্ট করে যা কিছু অর্জন করছেন তা কয়েকজনের কারণে ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
সোনা চোরাচালানে বিমান কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সুরঞ্জিত বলেন, এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা দরকার। বিমানের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা বিমান চালানো বাদ দিয়ে এখন সোনা চোরাচালানের দায়িত্ব নিয়েছেন। এবার রাঘব বোয়াল নয়, ছোট পদের রুই, মৃগেল ধরা পড়েছে। এর পেছনে আরো বড় রাঘব-বোয়াল রয়েছে। এ জন্য উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, আশা করেছিলাম সোনা চোরাচালানে বিমান কর্মকর্তা আটকের পর মন্ত্রী অন্তত একবার বিমানবন্দরে যাবেন। কিন্তু তিনি যাননি। আশা করি বিমানমন্ত্রী ও বিমানের চেয়ারম্যান দায়িত্ব নিয়ে বলবেন, এ বিষয়ে তারা কি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বলেন, সোনা চোরাচালানের ঘটনায় বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয়কেও এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হত্যার ঘটনার শাস্তি দাবি করে সুরঞ্জিত বলেন, গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ বাহিনী নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করলে আমাদের বিচলিত হতে হয়। শিক্ষকের হত্যাকাণ্ডের পরে আইনশৃংখলা বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের লোকজনকে বদলি করা হয়েছে। এটা আরও আগে করা দরকার ছিল। গতকালকে (বৃহস্পতিবার) সিলেটের ঘটনায় আমরা দেখলাম ঘণ্টার পর ঘণ্টা সংঘর্ষের ঘটনা, পুলিশ বাহিনী পরে এসেছে। পরে এসেও তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ সেলিম।

সাকিব বর্ষণে সিক্ত দীর্ঘ খরা

প্রভাতের সূর্য সবসময় দিনের সঠিক পূর্বাভাস দেয় না। শিশির তত্ত্ব নিয়ে চাপা উদ্বেগের মধ্যে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই পথ হারিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শুক্রবার দিনটা ছিল সাকিব আল হাসানের। শিশিরের সঙ্গেই যার বসবাস (তার সহধর্মিণীর নাম শিশির)। শুরুর বিপর্যয় সামলে সাকিবের হাত ধরেই শেষ হাসি হাসল স্বাগতিকরাই। টেস্টের পর ওয়ানডেতে বাংলাদেশের আরেকটি লাল-সবুজ জয়ের সাক্ষী হল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম। ম্যাচটা ছিল বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের। সেটা হয়ে গেল সাকিব ও জিম্বাবুয়ের। ব্যাটে-বলে তার শাণিত শৈলী ২৮৩ দিন পর বাংলাদেশকে এনে দিল আরাধ্য জয়। দিবারাত্রি প্রথম ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে ৮৭ রানে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল টাইগাররা। দুর্দান্ত অলরাউন্ড নৈপুণ্যে সাকিব একাই ব্যবধান গড়ে দিলেন। ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ওয়ানডে সেঞ্চুরির পাশাপাশি বল হাতে ৪১ রানে নিলেন চার উইকেট। ২৮২ তাড়া করতে নেমে ৪২.১ ওভারে ১৯৪ রানে অলআউট জিম্বাবুয়ে।  হ্যামিল্টন মাসাকাদজা (৪২) ও ব্রেন্ডন টেলর (৫৪) ছাড়া জিম্বাবুয়ের কোনো ব্যাটসম্যানই বাংলাদেশের স্পিনারদের সামনে দাঁড়াতে পারেননি। সাকিবের চার উইকেটের পাশাপাশি সমান দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ, আরাফাত সানি ও অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা। এ বছর ১৪তম ওয়ানডেতে এসে প্রথম জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ। এর আগে ১৩টি ওডিআই ছিল খরাজর্জর। ম্যাচে অনেক পার্শ্বচরিত্র থাকলেও খরা ঘোঁচানো এই স্বস্তির জয়ের নায়ক একজনই- সাকিব আল হাসান। ওয়ানডে ইতিহাসের মাত্র ১২তম ক্রিকেটার হিসেবে একই ম্যাচে সেঞ্চুরির পাশাপাশি চার উইকেট নিলেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। একই সঙ্গে ইতিহাসের মাত্র চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতে দেশের মাটিতে দুই হাজার রান ও ১০০ উইকেটের ‘ডাবল’ পূর্ণ করলেন সাকিব। তার সেঞ্চুরির ও মুশফিকের ফিফটিতে শুরুর ধাক্কা সামলে সাত উইকেটে ২৮১ রানের বড়সড় পুঁজি পেয়েছিল বাংলাদেশ। পঞ্চম উইকেটে দেশের পক্ষে ১৪৮ রানের রেকর্ড জুটি গড়েন সাকিব ও মুশফিক। ৬৫ রান করার পথে মুশফিক আবার বাংলাদেশের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে তিন হাজারি ক্লাবে জায়গা করে নিয়েছেন। সবমিলিয়ে অনেক প্রাপ্তির এক জয়।
শিশিরের কারণে টসের ব্যাপারটি আগে থেকেই আলোচনায় ছিল। সন্ধ্যায় শিশিরভেজা বলে বিপাকে পড়তে পারেন স্পিনাররা। এমন ধারণা থেকে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতে নির্দ্বিধায় স্বাগতিকদের হাতে ব্যাট ধরিয়ে দেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক এলটন চিগুম্বুরা। কাল আবারও প্রমাণিত হল অধিনায়ক মাশরাফির টস ভাগ্য মোটেও সুবিধার নয়! টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটাও ছিল ভীতিজাগানিয়া। স্কোর বোর্ডে ৩১ রান যোগ হতেই নেই তিন উইকেট। শেষ পর্যন্ত ভয়ের সেই মেঘ তাড়ালেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। পঞ্চম উইকেটে বাংলাদেশের পক্ষে রেকর্ড জুটি গড়ে। সাকিবের সেঞ্চুরি ও মুশফিকের ফিফটিতে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় সাত উইকেটে ২৮১। শেষ দিকে মাত্র ২৫ বলে অপরাজিত ৪৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে তাতে বড় অবদান রাখেন অভিষিক্ত সাব্বির রহমানও।
কেন তাকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের রূপকথার রাজপুত্র বলা হয়, তা আরেকবার দেখিয়ে দিলেন সাকিব। চাপের মুখে সাবলীল খেলেই বিপর্যয় থেকে দলকে উদ্ধার করলেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। ৫৭ বলে ফিফটির পর ৯৫ বলে পূর্ণ করলেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ওয়ানডে সেঞ্চুরি। চার বছর পর ওয়ানডেতে তিন অংকের ম্যাজিক ফিগারের দেখা পেলেন সাকিব। তার উদযাপনটাও ছিল দেখার মতো। সাকিব যখন ক্রিজে আসেন তখন ভীষণ চাপে ছিল বাংলাদেশ। পঞ্চম ওভারেই তিনাশে পানইয়ানগারার বল ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হয়ে যান তামিম ইকবাল। এরপর চাতারার বলে আত্মঘাতী শট খেলে ৩১ রানের মধ্যেই ফিরে আসেন এনামুল হক ও মাহমুদউল্লাহ। দ্বাদশ ওভারে ক্রিজে এসে মুমিনুল হককে (৩১) নিয়ে প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়েন সাকিব। মুমিনুলের বিদায়ে ৩৯ রানের এই জুটি ভাঙার পর সাকিব ও মুশফিকের দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।
পঞ্চম উইকেটে ১৪২ বলে বাংলাদেশের পক্ষে রেকর্ড ১৪৮ রানের জুটি গড়েন সাকিব ও মুশফিক। পঞ্চম উইকেটে আগের রেকর্ডটিতেও ছিলেন সাকিব। ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে রকিবুল হাসানের সঙ্গে ১১৯ রানের সেই জুটি গড়েছিলেন তিনি। ৪৪তম ওভারে কামুনগোজির শিকার হওয়ার আগে ৯৯ বলে ১০১ রান করেন সাকিব। মুশফিকুর ফেরেন ৭২ বলে ৬৫ করে। তিনবার জীবন পাওয়ার সুবাদে ততক্ষণে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে তিন হাজারি ক্লাবে জায়গা করে নিয়েছেন মুশফিক। সাকিব-মুশফিকের পর শেষ দিকে ঝড় তোলেন সাব্বির। ২৫ বলের ইনিংসে সমান তিনটি করে চার ও ছক্কা হাঁকিয়েছেন এই তরুণ অলরাউন্ডার। সবমিলিয়ে শেষ ৯০ বলে বাংলাদেশ তুলেছে ১২৬ রান। ৬৬ রানে তিন উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের সবচেয়ে সফল বোলার পানইয়ানগারা। চাতারার শিকার দুই উইকেট। (স্কোর কার্ড খেলার পাতায়)

আরও সাত প্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষের আশংকা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের দু’গ্র“পে সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে। এর বাইরে ১১টি জেলা শাখার অবস্থাও ভালো নয়। ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে এসব তথ্য। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘর্ষের এ আশংকা করা হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন কমিটিতে পদ লাভের আশা বা বঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভ, অপেক্ষাকৃত কম যোগ্য ব্যক্তিকে নেতা করা, স্থানীয় রাজনীতির প্রভাব, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতি। এছাড়া নানা ধরনের অপরাধের দায়ে সংগঠন থেকে বহিষ্কৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার পরিবর্তে প্রশ্রয়ের ঘটনাও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষকে উস্কে দিচ্ছে। ছাত্রলীগের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অশান্তি সৃষ্টির প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রংপুরের রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. একেএম নূর-উন-নবী বলেন, ‘সমস্যা এড়ানোর মূল উপায় হচ্ছে ছাত্র সংগঠনগুলোকে কাছ থেকে নজরে রাখা। প্রয়োজনে আলাপ-আলোচনা করা যেতে পারে। কিন্তু রাজনীতি বন্ধ করা সমাধান নয়। ভেতর থেকেই তাকে কলুষমুক্ত করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘ছাত্র সংগঠনের মূল সমস্যা হল তা বর্তমানে দল-উপদলে ভাগ হয়ে গেছে। এর বাইরে জাতীয় ও স্থানীয় রাজনীতির প্রভাবেও এর আলাদা চরিত্র নষ্ট হয়েছে। এসব সমস্যা দূর করতে হবে।’ সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষের ঘটনাটি মূলত কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়। গত বছরের ৮ মে এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু একটি অংশের কমিটি পছন্দ হয়নি। এ কারণে পরদিনই নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমরান খানের ওপর হামলা চালায় বঞ্চিত-অসন্তুষ্ট অঞ্জন-উত্তম গ্র“পের কর্মীরা। হামলাকারীরা ইমরানকে এমনভাবে কুপিয়েছে যে, তিনি বর্তমানে পঙ্গু। জীবনে তার আর স্বাভাবিক জীবনে ফেরা অসম্ভব বলে চিকিসৎকরা জানিয়েছেন। ওই ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে গত জুলাইয়ে উত্তমকে কুপিয়ে পা বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। এরপর উত্তম ক্যাম্পাসছাড়া হন। উত্তমের অনুপস্থিতির সুযোগে নবগঠিত পার্থ-ইমরান কমিটির নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়ার চেষ্টা চালান। কিন্তু উত্তমের ওপর হামলার পাল্টা প্রতিশোধের আগুনে এদিন জীবন গেল সুমনের।
ইমরানের ওপর হামলার ঘটনায় উত্তমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এরপর তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনকেও অনুরোধ করা হয়েছিল বলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ দাবি করেন। তিনি বলেন, উত্তমকে গ্রেফতার করা হলে হয়তো ব্যতিক্রম ফলাফলও পাওয়া যেত শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি এ সময় বাকৃবি, যশোর, হাজী দানেশ, রংপুর রোকেয়াসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘এসব প্রতিষ্ঠানেও আমরা সমস্যার আশংকা করছি। তবে যদি কোনো অঘটন ঘটে তবে তা ছাত্রলীগের কারণে নয়, শিক্ষক রাজনীতির কারণে ঘটতে পারে। শিক্ষকরা ছাত্রলীগকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে থাকেন বলে অভিযোগ তার।’
শুধু উত্তম নয়, গত ছয় বছরে ছাত্রলীগ থেকে এ পর্যন্ত মোট ১০৭৪ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে ৬৩০ জনই বহিষ্কৃত হন বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির গত প্রায় সাড়ে ৩ বছরের মেয়াদে। বাকিরা ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের জুলাইয়ে বর্তমান কমিটি গঠনের আগে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হন।
এর আগে ২০১২ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও জুবায়ের আহমেদ নামে ছাত্রলীগেরই আরেক কর্মী নিজ দলের বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের হাতে খুন হন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বহিষ্কৃতরা যেমন ছাত্রলীগকে এভাবে নানা উপায়ে ডোবাচ্ছে। বিপরীত দিকে, এসব বহিষ্কারের ঘটনার বেশির ভাগই লোক দেখানো। অভিযোগ রয়েছে, অনেক সময়েই কোনো একটা ঘটনার পর ব্যাপক সমালোচনার পর কাউকে বহিষ্কার করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেলে এরপর সংশ্লিষ্টরা ফের সংগঠনের মিছিল-সমাবেশসহ কর্মসূচিতে সক্রিয় হন। ২০১২ সালের ১১ ডিসেম্বর ঢাকার পুরান ঢাকায় বিশ্বজিৎ দাশকে যারা প্রকাশ্যে খুন করেছেন, তাদের অনেকেই বর্তমানে সাংগঠনিক কাজেও সক্রিয়। ঢাকা কলেজে দু’গ্র“পে বন্দুকযুদ্ধ ও একজন নিহতের ঘটনায় কমিটি স্থগিত করা হয়। কিন্তু ওই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়মিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে দেখা যায়। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সূর্যসেন হলের যে ৫ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে তারাসহ তাদের স্থগিত কমিটির নেতারাও বর্তমানে সংগঠনে সক্রিয়। বৃহম্পতিবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ ঘটনার পেছনেও বহিষ্কৃতরা মূল ভূমিকা রাখেন বলে জানা গেছে।
বহিষ্কৃতদের ব্যাপারে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘যাদের আমরা বহিষ্কার করি, তারা ছাত্রলীগের কেউ নয়। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও আমরা পুলিশ প্রশাসনকে বলে থাকি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই আমরা সহযোগিতা পাই না। তাই কোথাও যদি ত্যাজ্যপুত্র কোনো অঘটন ঘটায়, তাহলে তার দায় পিতার ওপর বর্তায় না। আমরা তাদের দায়ভার নেব না।’
১৩ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে মতবিনিময় করেন। ওইদিন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি জানান যে, শৃংখলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে এ পর্যন্ত ৬৩০ জনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জানা গেছে, এর আগে ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১০ সালের মে মাস পর্যন্ত মোট ২৬৪ জনকে বহিষ্কার করা হয়। বাকি ১৮০ জনকে পরের এক বছরে বহিষ্কার করা হয় সংগঠন থেকে।
এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের দফতর সম্পাদক শেখ রাসেল বলেন, সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ পেলে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের ঘটনা ঘটে। তাদের হাতে এটাই সর্বোচ্চ শাস্তি। এর বাইরে ফৌজদারি অপরাধে কেউ জড়ালে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করে থাকেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যে সহস্রাধিক নেতাকর্মী বিগত দিনে বহিষ্কৃত হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষ, সংগঠনের শৃংখলা ভঙ্গ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। তবে এর চেয়ে আরও বেশি নেতিবাচক এবং নিন্দিত কর্মকাণ্ড করেও অনেকে রেহাই পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, সন্ত্রাসী বা আইনশৃংখলা পরিপন্থী ঘটনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হয়েছেন, পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন, এমনকি যে ঘটনার কারণে সংগঠনের ‘সাংগঠনিক নেত্রী’র পদ থেকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করা সত্ত্বেও বহিষ্কার করা হয়নি এমন ঘটনাও রয়েছে। এসব অভিযোগ সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশ না করে সংগঠনের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, নানা অপরাধে জড়ানোর পরও মূলত যারা সংগঠন থেকে বহিষ্কারের ‘লোক দেখানো’ শাস্তিটাও পান না, তারা মূলত বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের লোক হিসেবে পরিচিত। গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এরশাদ চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। কিন্তু তিনি বহিষ্কারের শাস্তি পাননি।
১৪ জেলা শাখায় সংঘর্ষের আশংকা : কমিটি গঠন দ্বন্দ্বকে ঘিরে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছিল। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠিত সংঘর্ষের পর ছাত্রলীগের ঝামেলা ও বিরোধপূর্ণ অন্যান্য জেলা শাখা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ মুহূর্তে ১৪টি জেলা শাখা নিয়ে সমস্যা রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল মহানগর, চট্টগ্রাম জেলা দক্ষিণ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ জেলা, ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ জেলা, ঠাকুরগাঁও জেলা, রংপুর মহানগর, রাজশাহী জেলা ও পটুয়াখালী জেলা। এগুলোর মধ্যে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর মেডিকেল কলেজ, বরিশাল বিএম কলেজ, রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং বরিশাল মহানগরের পরিস্থিতি বেশি জটিল। কমিটি নিয়ে জটিলতার কারণে গত কয়েক দিনে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রংপুর জেলা কমিটি স্থগিত করতে হয়েছে। কিশোরগঞ্জ কমিটি গঠন নিয়ে খোদ কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কুমিগ্রাম জেলা কমিটি নিয়ে মারামারি হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) এবং ময়মনসিংহ জেলা কমিটি নিয়ে জটিলতার ঢেউ লেগেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে বাকৃবি বর্তমানে অচল রয়েছে।