Saturday, November 6, 2010

শিল্পি- 'আমি যে গান গেয়েছিলেম...কলিম শরাফী' by জাহীদ রেজা নূর

তরুণ বয়সেই স্বদেশি আন্দোলনের প্রতি ঝুঁকে পড়েছিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার ভয়রা ডিহি গ্রামে জন্ম নেওয়া মানুষটি। অনুভব করেছেন বঞ্চিত মানুষের হতাশ্বাস;

সে হতাশা ঝেড়ে ফেলতে নিয়েছেন গানের আশ্রয়। দুর্ভিক্ষের সময় দল বেঁধে গেয়েছেন ‘নবজীবনের গান’। জেলে বসেই গলা ছেড়ে গেয়েছেন রবীন্দ্রসংগীত। সেই থেকে রবীন্দ্রনাথ তাঁর চিরদিনের আবাসস্থল। তাঁর ভরাট কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত কিংবা গণসংগীত শোনা যাবে না আর। গত ২ নভেম্বর সকাল থেকে তিনি নেই। রবীন্দ্রসংগীতের প্রয়াত এই পুরোধা ব্যক্তিত্বকে নিয়ে এবারের মূল রচনা

প্রথম আলো: পাঠকের কাঠগড়া by আসিফ নজরুল

লন্ডনে থাকাকালে শামীম আজাদ খবরটি জানান। মতিউর রহমান ভোরের কাগজ ছেড়ে দিচ্ছেন। নতুন পত্রিকা বের করছেন, নাম প্রথম আলো। প্রথম আলো সুনীল গঙ্গোপ্যাধায়ের উপন্যাসের নাম। একা এবং কয়েকজন আর সেই সময় পড়ে আমাদের প্রজন্ম তখন সুনীলের উন্মাতাল ভক্ত। তাঁর উপন্যাসের নামে হবে মতিউর রহমানের নতুন দৈনিক! তত দিনে মতিউর রহমান চৌধুরী সম্পাদিত মানবজমিন (শীর্ষেন্দুর বিখ্যাত উপন্যাস) নামের দৈনিক পত্রিকাটি বের হয়েছে। তার পরও প্রথম আলো নামটি অভিনব মনে হয়।
২০০০ সালে চূড়ান্তভাবে দেশে ফিরে দেখি, মাত্র দুই বছরে দাঁড়িয়ে গেছে প্রথম আলো। আমার বাবা তখনো ইত্তেফাক-এর মহা ভক্ত, বাসায় তাই দ্বিতীয় পত্রিকা হিসেবে প্রথম আলোর প্রবেশ। অল্প দিনে এটিই হয়ে যায় একমাত্র পত্রিকা। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটের বিশাল বিজয়ের পর এর সম্ভাব্য কুফল প্রসঙ্গে লেখা নিয়ে হাজির হই প্রথম আলো অফিসে। মোটা ফ্রেমের চশমা পরা সিরিয়াস এক যুবক লেখা গ্রহণ করেন। তিনি শক্তিশালী কথাসাহিত্যিক মশিউল আলম।
প্রথম আলোর সঙ্গে আমার সরাসরি সম্পর্ক শুরু এভাবে। কিন্তু এর সঙ্গে আমার প্রতিদিনের এবং প্রকৃত সম্পর্ক পাঠক হিসেবে। প্রতিদিন প্রথম আলো পড়ে আমিও মুগ্ধ হই, বিস্মিত হই, কখনো কখনো অসন্তুষ্ট হই। এটাই স্বাভাবিক। একটি দৈনিক পত্রিকা কখনো নিখুঁত হতে পারে না, এমনকি সম্পূর্ণও হতে পারে না। এটি কখনো তার সব পাঠককে সমভাবে সন্তুষ্ট করতে পারে না। সংবাদপত্রের মানের পরীক্ষা হয় প্রতিদিন, প্রকাশ্যে এবং নানাভাবে।

২.
আশার কথা হচ্ছে, এই প্রবল পরীক্ষায় বাংলাদেশে সবচেয়ে মানোত্তীর্ণ পত্রিকাই সবচেয়ে বেশি পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। ইত্তেফাক, জনকণ্ঠ, আজকের কাগজ কিংবা যুগান্তর তাদের সবচেয়ে মানোত্তীর্ণ সময়েই সবচেয়ে পাঠকপ্রিয় ছিল। সব দেশে সব সময় এমন হয় না। ওয়াশিংটন পোস্ট, গার্ডিয়ান কিংবা দ্য হিন্দু যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ভারতে সবচেয়ে মানসম্পন্ন পত্রিকা হিসেবে অধিকাংশের কাছে বিবেচিত। কিন্তু সর্বাধিক পাঠকপ্রিয়তা এসব দৈনিক অর্জন করতে পারেনি।
প্রথম আলো সর্বাধিক পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছে রুচিমান ও মানসম্মত সাংবাদিকতা করে। এটি কোনো স্থূল, হলুদ বা অপসাংবাদিকতার পথ ধরেনি; বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর ‘শুচিবাই’ অসাধারণ পর্যায়ের। প্রথম আলো ভয়াবহ ছবি ছাপা থেকে বিরত থাকে, স্ক্যান্ডাল-জাতীয় খবর পরিহার করে, প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নাম নির্দিষ্টকরণ থেকেও বিরত থাকে। আমার জানামতে, প্রথম আলো বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র বাংলা দৈনিক, যার সাংবাদিকদের জন্য নিজস্ব আচরণবিধি রয়েছে।
প্রথম আলো বাংলাদেশের ইতিহাসে একমাত্র পত্রিকা হিসেবে প্রথমে তিন লাখ, পরে চার লাখ এবং বর্তমানে সাড়ে চার লাখের ওপর প্রচারসংখ্যা অর্জন করেছে। এটি বড় খবর নয়। বড় খবর হচ্ছে, দায়িত্বশীল ও মননশীল থেকে সবচেয়ে বেশি পাঠকের কাছে যাওয়া যায়, এটি এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। প্রথম আলো একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ থেকেছে। বাংলাদেশের মতো অপশাসনের দেশে একটি দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ পত্রিকা সরকারের বিরাগভাজন হবে, এটা স্বাভাবিক। প্রথম আলোর ক্ষেত্রে অব্যাহতভাবে তা হয়েছে, গত ১২ বছরে এটি সব সরকারের চক্ষুশূল হয়েছে, প্রথম আলোর সম্পাদক ও সাংবাদিকদের নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। এর নিরপেক্ষতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ এটাই।

৩.
প্রথম আলো তাই বলে কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়। এটা বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোর বাইরের কোনো জগৎ নয়। প্রথম আলোর মতো সাফল্য অন্য পত্রিকাগুলোরও রয়েছে, অন্য পত্রিকাগুলোর ব্যর্থতা প্রথম আলোর ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও রয়েছে। রাজনৈতিকভাবে অতি প্রভাবশালী ব্যক্তি বা মালিকপক্ষ জড়িত নয় অন্তত এমন ক্ষেত্রে অধিকাংশ গণমাধ্যম সোচ্চারভাবে দুর্নীতি, অনাচার ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এসিড নিক্ষেপ, নারী নির্যাতন, মাদকাসক্তি, ভণ্ডপীর—এসব সামাজিক সমস্যার ক্ষেত্রে অনেক গণমাধ্যম জনস্বার্থমূলক ভূমিকা পালন করেছে। মেধাবীদের সংগঠিত করা ও উৎসাহ প্রদান, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, দুস্থ মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে কিছু গণমাধ্যম অসাধারণ ভূমিকাও রেখেছে।
সমস্যা হয় রাজনৈতিক ক্ষেত্রে। ক্ষুদ্র কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে বাংলাদেশের গণমাধ্যম সব সময়ে গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে এ অবস্থান গ্রহণ অনেক ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট দলের দৃষ্টিকোণ থেকে নেওয়া হয়। ফলে বাংলাদেশের কিছু সংবাদপত্র এবং টিভি চ্যানেলের ক্ষেত্রে বলে দেওয়া সম্ভব যে তারা কোনো নির্দিষ্ট দলের পক্ষে রয়েছে। উন্নত বিশ্বের সংবাদপত্রও কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থন দিয়ে থাকে। কিন্তু এই সমর্থন যত না দলের পক্ষে, তার চেয়ে বেশি দলের কিছু নীতি ও আদর্শের পক্ষে। ফলে নীতি বা আদর্শবিরোধী অবস্থান নিলে সংবাদপত্রও তার সমর্থিত দলের বিরুদ্ধে সংবাদভাষ্য, এমনকি প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। বাংলাদেশে এটা সব সময় ঘটে না। প্রথম আলোর উজ্জ্বল একটি দিক হচ্ছে, বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দল এটাকে তাদের সমর্থক পত্রিকা মনে করে না। সন্ত্রাস, দুর্নীতি, অনিয়ম, দলীয়করণের বিরুদ্ধে প্রথম আলো বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধেও সোচ্চার আছে।
তাই বলে কি প্রথম আলোর কোনো পক্ষপাতিত্ব নেই, দুর্বলতা নেই? তার আগে বলে নিই, একজন নিবিষ্ট পাঠক হিসেবে বাংলাদেশে অধিকাংশ সংবাদপত্রের মধ্যে রাজনৈতিক প্রশ্নে কিছু পক্ষপাতিত্বের প্রবণতা আমি লক্ষ করেছি। এগুলো হচ্ছে—ক. সমর্থিত সরকারি দলের দুর্নীতি, অনিয়ম বা মানবাধিকার লঙ্ঘন সম্পর্কে স্ব-উদ্যোগী হয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশে শৈথিল্য, বিপক্ষ দল ক্ষমতায় গেলে তার দুর্নীতি ও অনিয়ম সম্পর্কে কখনো কখনো ভিত্তিহীন তথ্য প্রকাশ; খ. সংসদ কার্যকর করার ক্ষেত্রে বা প্রশাসন সচল রাখার ক্ষেত্রে সমর্থিত সরকারি দলের ব্যর্থতা সম্পর্কে প্রতিবেদন কম গুরুত্ব দিয়ে ছাপানো বা এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলের ব্যর্থতা বড় করে দেখানো; গ. সমর্থিত দলের জনসভার ছবি এবং বিবরণ অতিরঞ্জিত করে ছাপানো এবং বিরোধী দলের ক্ষেত্রে বিপরীত অবস্থান গ্রহণ; ঘ. সম্পাদকীয় পাতায় নির্দিষ্ট দলের পক্ষের লেখকদের লেখা ছাপানো এবং বিরোধীদের লেখা নিরুৎসাহিতকরণ; ঙ. সমর্থিত দলের পক্ষের রাজনীতিবিদেরা আইনজীবী বা নাগরিক সমাজের নামী ব্যক্তিত্ব হলে তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয়কে আড়াল করে বিশেষজ্ঞ হিসেবে তাঁদের মতামত গ্রহণ করে কোনো বিষয়ে প্রচারণা চালানো; চ. বিশেষ বিশেষ সময় ধর্ম, জঙ্গিবাদ, স্বাধীনতাযুদ্ধে অবদান—এ ধরনের রাজনৈতিকভাবে অতি স্পর্শকাতর বিষয়ে স্ব-উদ্যোগী হয়ে প্রচারণা চালানো; চ. নিজস্ব ঘরানার এনজিওদের সভা-সেমিনারে প্রদত্ত পছন্দনীয় ব্যক্তিদের নির্বাচিত বক্তব্য খুব গুরুত্বের সঙ্গে ছাপিয়ে পরে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সেই ্বক্তব্যকে জনগণের বক্তব্য বা সুশীল সমাজের আকাঙ্ক্ষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা; ছ. গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্নে পছন্দনীয় বক্তব্য প্রদান করবে শুধু এমন বিশেষজ্ঞদের মতামত গুরুত্ব দিয়ে ছাপানো; জ. দল বা গোষ্ঠীর প্রতি অন্ধ সমর্থন বা বিরোধিতা দেখাতে গিয়ে কখনো কখনো দেশের স্বার্থ বা ইমেজ খর্বকরণ ইত্যাদি।
প্রথম আলো এসব বৈশিষ্ট্য থেকে কি পুরোপুরি মুক্ত? কিংবা এসব বৈশিষ্ট্য থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকা কি কোনো গণমাধ্যমের জন্য উচিত কাজ? আমার ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছে, প্রথম আলো ওপরে বর্ণিত দু-একটি প্রবণতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত নয়। যেমন: ১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনা কিংবা জঙ্গিবাদী তৎপরতা প্রথম আলো অতিরিক্ত উৎসাহী হয়ে এবং জায়গা দিয়ে প্রকাশ করেছে। অবশ্যই এসব ঘটনা দেশের স্বার্থের জন্য বিপজ্জনক ও নিন্দাযোগ্য। অবশ্যই এসবের বিরুদ্ধে সংবাদপত্রের ভূমিকা থাকবে। কিন্তু তা হতে হবে পরিমিত মাত্রায়। ১০ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় প্রথম আলো অনেক সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জড়িত থাকার বিবরণ সবিস্তারে ছেপেছে সরকারের বিভিন্ন সূত্রে। দেশের স্বার্থে এ ঘটনা নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত যতটা প্রয়োজন, অতিরিক্ত প্রচারণা সম্ভবত ততটা প্রয়োজন ছিল না। আবার জঙ্গি তৎপরতার খবরও প্রথম আলো যতটা বিস্তৃতভাবে প্রকাশ করেছে, তাতে মনে হয়নি এটা বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা মাত্র, বাংলাদেশের সামগ্রিক চিত্র নয়।
প্রথম আলো বুদ্ধিজীবী মহলের সবার বক্তব্য সমান গুরুত্ব দিয়ে ছাপার ক্ষেত্রে কখনো কখনো সীমাবদ্ধতার পরিচয় দিয়েছে। একদল বুদ্ধিজীবীকে প্রথম আলো সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে বিশেষায়িত করে বিএনপিপন্থী বা জাতীয়তাবাদী ঘরানার হিসেবে, অন্য দলের ক্ষেত্রে শুধু বুদ্ধিজীবী, বিশেষজ্ঞ বা মানবাধিকার নেতা হিসেবে। কোনো কোনো সম্মানিত ব্যক্তি প্রথম আলোয় এত বেশি কাভারেজ পান যে তা কারও কারও কাছে দৃষ্টিকটুও লাগতে পারে।
এ ছাড়া প্রথম আলোয় প্রতিবেদন মিস হওয়ার ঘটনা ঘটে। দেখা গেল, অন্য কিছু পত্রিকা সংবাদটি ছেপেছে, কিন্তু প্রথম আলো ছাপেনি বা পরে ছেপেছে। এমন ঘটনা বেশি ঘটেনি, তার পরও সংবাদ-বুভুক্ষু কিছু পাঠকের কাছে বিষয়টি ভালো লাগার কথা নয়। বিজ্ঞাপন-আগ্রাসন থেকে এটি অনেক পত্রিকার তুলনায় মুক্ত। কিন্তু প্রথম আর শেষ পাতার অর্ধেক বিজ্ঞাপনে ভরে গেছে এমন ঘটনা প্রথম আলোর ক্ষেত্রেও কখনো কখনো ঘটে।

৪.
মানুষ হিসেবে আমরা কেউ পক্ষপাতমুক্ত নই। প্রথম আলোর বিরুদ্ধে এসব লিখতে আমার তাই ভালো লাগেনি। আমার অভিমতগুলো ভুল হতে পারে। এর সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্নমতও পোষণ করতে পারেন অনেকে। প্রথম আলো তার ওয়েব সংস্করণে এর অবাধ সুযোগ করে দিয়েছে। প্রথম আলোর প্রতি সরাসরি অভিযোগ করেছিলেন নিউ এজ-এর সম্পাদক নূরুল কবীর। সেটিও দেখলাম রীতিমতো হাইলাইট করে ছাপানো হয়েছে ৩ নভেম্বরের প্রথম আলোতেই। এটা বাংলাদেশে খুব বিরল একটি ঘটনা।
প্রথম আলোর আরও বহু ভালো দিক আছে। সেগুলো ঘটা করে বলার তেমন প্রয়োজন নেই। ভালো ভালো অনেক কিছু না থাকলে প্রায় পাঁচ লাখ পাঠক এটি কিনে পড়ার আগ্রহ অনুভব করতেন না।
আমাদের প্রত্যাশা প্রথম আলোর আরও সাফল্য ও দীর্ঘায়ু। প্রত্যাশা বাংলাদেশের গণমাধ্যমের সার্বিক সাফল্য। গণতন্ত্র, সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে অন্যান্য বহু প্রতিষ্ঠানের চেয়ে গণমাধ্যম বেশি ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। আরও ব্যাপক ও কার্যকর ভূমিকা পালনও গণমাধ্যমের পক্ষে সম্ভব। সেই আশার আলো আমরা গণমাধ্যমকে ঘিরেই দেখি।
আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

রিপাবলিকানদের জয় নয়, ডেমোক্র্যাটদের পরাজয় by জন বি জুডিস

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের দিন ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির চেয়ারম্যান টিম কাইনির কাছে ডেমোক্র্যাটদের আসন্ন পরাজয়ের তাৎপর্য নিয়ে তাঁর মূল্যায়ন জানতে চাওয়া হলে তিনি একে অনেকটা গতানুগতিক নির্বাচন হিসেবেই মন্তব্য করলেন। বললেন, ‘টেডি রুজভেল্টের সময় থেকেই গড়পড়তা মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল প্রতিনিধি পরিষদে ২৮ আসন আর সিনেটে চার আসন হারায়।’ কিন্তু প্রতিনিধি পরিষদে ৬০-এর অধিক আসন আর সিনেটে আটটি আসন হারানো কি গড়পড়তা ফলের চেয়ে খারাপ বলব, নাকি এই নির্বাচনে আরও গুরুতর ও তাৎপর্যপূর্ণ কিছু ঘটেছে?
রিপাবলিকানরা হয়তো বলতে পারেন, রক্ষণশীল রিপাবলিকান প্রাধান্যের পুনঃপ্রত্যাবর্তনের লক্ষণ এই নির্বাচন। আসলে তেমনটি ঘটেনি। এই নির্বাচন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ব্যবস্থাগত সংকটের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সামর্থ্য হারিয়েছে। এমন সংকট দেশটিকে কিছু সময় পর পরই মোকাবিলা করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্র যখন গৃহযুদ্ধ, ১৮৯০-এর মন্দা, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং মহামন্দা কিংবা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো বড় সংকট পার হয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তখন প্রতিবারই আগের থেকে বেশি শক্তিশালী হয়েছে—চাঙা অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অধিকতর প্রভাব অর্জন করেছে। এর বড় কারণ, দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থা সে সময়ের প্রয়োজনীয় নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হয়েছিল। এবারের নির্বাচনের পর মনে হয়, আর হয়তো তেমনটি ঘটবে না।
অর্থনীতির অধোগতির সঙ্গে ১৮৯০ ও ১৯৩০-এর মহামন্দার কাঠামোগত সাদৃশ্য দেখা যায়। ঋণে ডুবে থাকা মার্কিন জনগণের এখন প্রতি ছয়জনে একজনের পূর্ণকালীন কাজ নেই। তারা ব্যয় করছে না। বণিকেরা পণ্যের চাহিদা সম্পর্কে অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগ করছেন না। ফেডারেল রিজার্ভ কার্যত ক্ষমতাহীন। এ অবস্থায় ব্যক্তিগত চাহিদা ও বিনিয়োগের প্রণোদনা দেওয়ার একমাত্র পথ হলো সরকারি ব্যয়। ওবামা তাঁর প্রাথমিক কর্মসূচির মাধ্যমে সেটাই করার চেষ্টা করেছিলেন। স্বাস্থ্যসেবা বিল প্রত্যাহারের ম্যান্ডেট হয়তো রিপাবলিকানরা পাননি, কিন্তু ব্যয়সংকোচনের ম্যান্ডেট তাঁরা পেয়েছেন। অনেক ভোটার মনে করছেন, ওবামার প্রণোদনা কর্মসূচি আসলে বেকারত্ব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে এবং সরকারি ব্যয়সংকোচন অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের গতি ত্বরান্বিত করবে। এসবই বাজে কথা—১৯৩৭ সালের যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ১৯৯০ সালের জাপানের অভিজ্ঞতা তা-ই বলে। কিন্তু এমন চিন্তাই কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ করবে। ফলে ওবামা ও ডেমোক্র্যাটরা নতুন প্রণোদনা কর্মসূচি পাস করতে পারবেন না। রিপাবলিকানরা কর হ্রাসে সম্মত হবেন, বিশেষত যদি তা সম্পদশালীদের জন্য সহায়ক হয়। অর্থনীতির মন্থর গতি অব্যাহত থাকবে, যার ফল হবে দেশের জন্য ভয়াবহ।
এই নির্বাচনের ফলাফল ওবামা প্রশাসনের একটি আন্তর্জাতিক জলবায়ু চুক্তিতে পৌঁছার প্রচেষ্টাকে থামিয়ে দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে কার্বন নিঃসরণের সীমা নির্ধারণ হোঁচট খাবে।
যুক্তরাষ্ট্র যে সংকটে, তার জন্য বিভিন্নজনকে দোষ দেওয়ার সুযোগ অজস্র। রক্ষণশীল রিপাবলিকান পার্টির যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গঠনমূলক কিছু দেওয়ার নেই। প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা ওবামার চেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পেরেছে। ওবামার ঘাড়েও কিছু দোষ পড়ে। গৃহযুদ্ধ অথবা মহামন্দার মতো কাঠামোগত সংকট প্রেসিডেন্টদের সামনে ভয়ানক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি বিরাট সম্ভাবনাও হাজির করে। তিনি যদি ব্যর্থ হন, কলঙ্কের কালিমা পড়ে ব্যক্তি ও দলের ওপর। সংকটের সময় প্রেসিডেন্টকে হতে হয় বলিষ্ঠ, তাঁকে অর্থনৈতিক সংকটের মূল কারণগুলোকে মোকাবিলায় অভূতপূর্ব উদ্যোগ নিতে হয়। অন্যদিকে তাঁকে লোকরঞ্জনবাদী রাজনীতির দ্বারস্থ হতে হয়, যা এসব উদ্যোগের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করে আর বিরোধীদের শক্তি খর্ব করে। এবার উভয় ক্ষেত্রেই ওবামা ব্যর্থ। তাঁর অর্থনৈতিক কর্মসূচি অতীতের তুলনায় যত বিশালই হোক না কেন, তাতে বলিষ্ঠতা ছিল না। আর এসব উদ্যোগ যে অত্যন্ত জরুরি, সেটা জনগণের কাছে তুলে ধরতে তিনি আশ্চর্যজনক ব্যর্থতা দেখিয়েছেন।
এই নির্বাচনের ফলাফলে ওবামার রাজনৈতিক ব্যর্থতা বেশ ভালোভাবেই ফুটে উঠেছে। অর্থনৈতিক অধোগতি মার্কিনদের মনোজগতের লোকরঞ্জনবাদী দানবিকতাকে জাগিয়ে দিয়েছে। তারা নিজেদের এক বিস্তৃত মধ্যম শ্রেণীর অংশ মনে করে। এরা কাজ করে এবং আইন মেনে চলে। আবার মনে করে যে তাদের সুবিধাদি কেড়ে নিচ্ছে অবৈধ অভিবাসীরা, ওয়াল স্ট্রিটের ফাটকাবাজ এবং নিষ্ঠুর অভিজাততন্ত্র। ওবামা লোকরঞ্জনবাদী কথামালায় অস্বস্তি বোধ করেন। তিনি অর্থনীতির দুরবস্থার জন্য মেইন স্ট্রিটের পাশাপাশি ওয়াল স্ট্রিটকেও দায়ী করেন। নির্বাচিত হওয়ার পর ওবামা যে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি করেন, তা পূরণ করে ডানপন্থী টি পার্টিগুলো। এরা ওবামা ও ডেমোক্র্যাটদের ওয়াল স্ট্রিটের পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও চিত্রণ করতে সক্ষম হয়।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিনে বহু ভোটারকে জিজ্ঞাসা করা হয়, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের জন্য তাঁরা কাকে দায়ী মনে করেন। জবাবে অনেকে জর্জ ডব্লিউ বুশ বা বারাক ওবামার নাম না নিয়ে বলেন ওয়াল স্ট্রিটের ব্যাংকারদের কথা। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, রিপাবলিকান পার্টির প্রতিই এসব ভোটারের পক্ষপাত দেখা গেছে (৫৬ শতাংশ)। এটা ওবামা প্রশাসনের রাজনীতির চরম ব্যর্থতারই নজির।
ওবামার ব্যর্থতার আরেকটি কারণ ভোটকেন্দ্রে তরুণ ভোটারদের অপেক্ষাকৃত কম উপস্থিতি। ২০০৬ ও ২০০৮ সালে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের পেছনে বড় কারণ ছিল, তরুণদের মাঝে সমর্থন বৃদ্ধি এবং বেশি সংখ্যায় তাঁদের ভোট দিতে আসা। ২০০৮ সালে তরুণ ভোটারদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছিলেন ওবামা। এবারের নির্বাচনেও ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী ভোটাররা ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু এবার এই বর্গের ভোটার মোট ভোটারের মাত্র ১১ শতাংশ। ২০০৮ সালে তা ছিল ১৮ শতাংশ এবং ২০০৬-এ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। ওবামা ও তাঁর সহযোগীরা নির্বাচনের আগে আগে এসব ভোটারকে উদ্দীপ্ত করার চেষ্টা চালালেও তত দিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
ক্ষতিটা হয়েছে ওবামা ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই, যখন ওবামা ও তাঁর সহযোগীরা তাঁদেরই তৈরি স্থানীয়ভিত্তিক বিপুলসংখ্যক রাজনৈতিক সংগঠন ভেঙে দিলেন। ওবামা ফর আমেরিকা হয়ে গেল অর্গানাইজিং ফর আমেরিকা এবং শেষমেশ ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটিতে ঢুকে পড়ল। ফলে হয়ে পড়ল নখদন্তহীন। এভাবে ওবামার সাংগঠনিক প্রচেষ্টার উত্থান ও পতন ঘটল।
এ নির্বাচনের ফলাফলকে অতীতের মতো রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। কোনো গ্রহণযোগ্য জাতীয় নেতৃত্বের অভাবে রিপাবলিকানরা এখনো বিভক্ত। একদিকে আছেন কার্ল রোভ, হ্যালি বারবার, মিট রমনি ও মিচ ম্যাককোনেল আর অন্যদিকে টি পার্টি, সারাহ পেলিন, মাইক হাকাবি ও গ্লেন বেক। রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি কার্যত নিষ্ক্রিয়।
১৯৯৪ সালে কংগ্রেসের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয় শুধু ক্লিনটন প্রশাসনকে প্রত্যাখ্যান করাই নয়, তা ছিল রিপাবলিকান বিকল্পের প্রতি স্বীকৃতিও। কিন্তু এবারের নির্বাচন রিপাবলিকানদের কোনো বিজয় নয়, বরং ওবামা ও ডেমোক্র্যাটদের পরাজয়। এক্সিট পোল অনুযায়ী, কংগ্রেস সদস্য নির্বাচনের ৫৩ শতাংশ ভোটার রিপাবলিকান পার্টির প্রতি বিরূপ আর ৪১ শতাংশ দলটিকে পছন্দ করেন। এই নির্বাচনের ফল কোনো নতুন রাজনৈতিক বিন্যাস বা অ্যালাইনমেন্ট নয়, বরং বিদ্যমান আনুগত্যে মাঝারি মাপের পরিবর্তন নির্দেশ করে। ডেমোক্র্যাটরা কৃষ্ণাঙ্গ, ল্যাটিনো ও পেশাজীবী ভোটারদের আনুগত্য ধরে রাখতে পেরেছেন, যদিও কিছু হারে ভোট কমেছে। তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি কম হওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অন্যদিকে যেসব শ্বেতাঙ্গ ভোটারের কোনো কলেজ ডিগ্রি নেই, তাঁদের মধ্যে রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে ভোটের ব্যবধান বেড়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটের এই ধরন অতীতের মতোই।
এবারের নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন রাজনীতি কোন জায়গায় এসে দাঁড়াল? অর্থনীতির অধোগতি যদি অপ্রতিহত গতিতে চলতে থাকে (সে সম্ভাবনাই প্রবল), আর যদি রিপাবলিকানরা উগ্র ডানপন্থীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন এবং ২০১২ সালে মিট রমনির মতো কারও পেছনে একতাবদ্ধ হতে পারেন এবং যে আন্দোলন ওবামাকে হোয়াইট হাউসে পৌঁছে দিয়েছে, সেই আন্দোলন যদি ডেমোক্র্যাটরা ফিরিয়ে না আনতে পারেন, তাহলে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকানরা জিতে যেতে পারেন। কিন্তু দেশের ভেতরে ও বাইরে যুক্তরাষ্ট্র যেসব মৌলিক সমস্যার সম্মুখীন, সেগুলো রয়ে গেলে কোনো নেতার বা দলের বিজয় বেশি দিন স্থায়ী হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক বিন্যাস, যেখানে একটি দল এক দশক বা তারও বেশি সময় ধরে প্রাধান্যে থাকে। কিন্তু বিগত কয়েকটি নির্বাচনে এমনটি দেখা যায়নি। ২০০১ সালে কার্ল রোভ ভেবেছিলেন, জর্জ ডব্লিউ বুশ যে নতুন রিপাবলিকান প্রাধান্য তৈরি করেছেন, তা কয়েক দশক টিকবে। আবার ওবামা নির্বাচিত হওয়ার সময় বহু ডেমোক্র্যাট ভাবলেন, রুজভেল্টের মতো ডেমোক্র্যাটদের প্রাধান্য সৃষ্টির সম্ভাবনা তাঁর আছে। কিন্তু তা ঘটল না। দলীয় অনুগতদের জন্য এটা যেমন সুখবর নয়, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও। যে অচলাবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র নিমজ্জিত, তাতে দরকার বলিষ্ঠ ও দৃঢ় নেতৃত্ব। মধ্যবর্তী নির্বাচন কোনো বার্তা দিয়ে থাকলে তা হলো, আগামী দুই বছর কিংবা ১০ বছরেও হয়তো তেমন নেতৃত্বের দেখা মিলবে না।
ইংরেজি থেকে অনূদিত।
জন বি জুডিস: যুক্তরাষ্ট্রের দ্য নিউ রিপাবলিক ম্যাগাজিনের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক।

হাজরে আসওয়াদের ইতিকথা by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

‘হাজরে আসওয়াদ’ বা কালো পাথর একটি প্রাগৈতিহাসিক ইসলামি নিদর্শন এবং বেহেশতের বহু মূল্যবান বরকতময় উপকরণ। এটি পবিত্র কাবাগৃহের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে প্রায় চার ফুট উঁচু দেয়ালের কিছুটা ভেতরে পোঁতা কালো থালার মতো একটি গোল পাথর। কালো বর্ণের বলে এর নাম রাখা হয়েছে হাজরে আসওয়াদ। কিন্তু এটা প্রথমে কালো ছিল না; এর রং সম্পূর্ণ সাদা ছিল। ক্রমান্বয়ে এর মাথার রংটুকু কালো হয়ে গেছে; তা-ও হঠাৎ করে নয়। বরং আস্তে আস্তে দীর্ঘদিন ধরে কালো হয়েছে। আদম সন্তানের গুনাহ পাথরটিকে কালো করে দিয়েছে। মূলত হাজরে আসওয়াদ ছিল রুপার মতো ধবধবে সাদা বেহেশতের একটি ইয়াকুত পাথর। কোনো এক দুর্ঘটনায় তা কয়েকটি টুকরো হয়ে গিয়েছিল। এ টুকরোগুলো মূল্যবান ধাতুর সাহায্যে জোড়া দিয়ে একত্র করা হয়েছে। একটি চাঁদির পাত্রে কাবাগৃহের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে দেয়ালের সঙ্গে এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে, যা দেখলে ও স্পর্শ করলে একটু উঁচু অনুভূত হবে। হাদিস শরিফে হাজরে আসওয়াদকে বেহেশতি পাথর বলা হয়েছে। এ সম্পর্কে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘রোকনে আসওয়াদ অর্থাৎ হাজরে আসওয়াদ ও মাকামে ইব্রাহিম বেহেশতের দুটো ইয়াকুত পাথর।’ (তিরমিজি)
প্রতিবছর হজের সময় হাজিদের অন্যতম কাজ আল্লাহর প্রেমে ব্যাকুল হয়ে পবিত্র কাবাঘর জিয়ারত ও তাওয়াফ করা। হাজরে আসওয়াদ তাওয়াফ শুরুর স্থানে অবস্থিত। প্রথমে এখান থেকেই তাওয়াফ শুরু করতে হয়। ‘বায়তুল্লাহ’ বা কাবাগৃহ তাওয়াফ ও প্রদক্ষিণের সময় হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করা ও চুম্বন করা সুন্নত। হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন বা সম্মান দেখানোর কারণ সম্বন্ধে বিভিন্ন রকমের মতামত ও কাহিনি বর্ণিত আছে। সর্বজনস্বীকৃত ও অধিকাংশের অভিমতে বলা হচ্ছে, হজরত ইব্রাহিম (আ.) যখন আল্লাহ তাআলার নির্দেশে কাবাঘরের পুনর্নির্মাণকাজ শেষ করেন, তখন একটি পাথর ঘরের কাজে না লেগে অবশিষ্ট থেকে যায়। অবশিষ্ট এ পাথরটি আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করে বলেছিল, ‘হে আল্লাহ! আমি কী অপরাধ করেছি যে আমার সঙ্গী-সাথিরা তোমার ঘরে স্থান পেয়েছে, কেবল আমি তা থেকে বঞ্চিত হলাম।’ আল্লাহ তাআলা তার ফরিয়াদের প্রতি-উত্তরে হজরত ইব্রাহিম (আ.)কে যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তদনুযায়ী এ পাথরটিকে কাবাঘরের এক কোণে স্থাপন করা হয় এবং তাওয়াফকারীকে এ পাথরে চুম্বন দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। এমনিভাবে কাবাঘরের মধ্যে যেসব পাথর স্থান পেয়েছিল, কালো পাথরের মর্যাদা তাদের সমতুল্য রাখা হয়।
বিভিন্ন বর্ণনা থেকে জানা যায়, হজরত আদম (আ.)-এর নাজিল হওয়ার সময়ে হাজরে আসওয়াদও বেহেশত থেকে নাজিল হয়েছিল। হজরত আদম (আ.)কে পৃথিবীতে পাঠানোর সময় আল্লাহ তাআলা এ পাথরটিকে কাবা শরিফের স্থানে রেখে দিয়েছিলেন। তখন কাবাঘর ছিল না। জমিন ছিল পবিত্র, এতে কোনো গুনাহ সংঘটিত হতো না। হজরত নূহ (আ.)-এর মহাপ্লাবনের সময় যখন সবকিছু ডুবে গিয়েছিল, তখন হজরত জিব্রাইল (আ.) পাথরটি আবু কোবাইস পাহাড়ে লুকিয়ে রাখেন। হজরত ইব্রাহিম (আ.) কর্তৃক কাবাঘর নির্মিত হলে তাওয়াফ শুরু করার স্থান চিহ্নিত করার লক্ষ্যে হজরত ইসমাইল (আ.) একটি পাথর তালাশ করার সময় হজরত জিব্রাইল (আ.) ওই পাথরটি এনে দেন। অতঃপর হজরত ইব্রাহিম (আ.) তা বায়তুল্লাহ শরিফের সবচেয়ে মর্যাদাবান জায়গায় তথা দক্ষিণ-পূর্ব কোণে স্থাপন করেন। তাই এ পাথরটি সাধারণ কোনো পাথর নয়। এটি হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর তৈরি মূল ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
ইসলামের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুওয়াতপ্রাপ্তির পাঁচ বছর আগে মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশ কাবাঘর সংস্কার সাধনের পর ‘হাজরে আসওয়াদ’ স্থাপন নিয়ে মতভেদ দেখা দিলে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বহস্তে কাবাগৃহে সর্বসম্মতিক্রমে যথাস্থানে কৃষ্ণপাথর স্থাপন করেন। নবী করিম (সা.) হাজরে আসওয়াদে চুমু দিয়েছেন এবং এর ওপর দুই হাত বিছিয়ে দিয়েছিলেন। তাই এতে চুম্বন করার ফজিলত অনেক বেশি। মূলত এই পাথরকে চুমু দেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহর রাসুলের আনুগত্য করা। এই চুমু খাওয়া সুন্নত। পরকালীন কিছু কল্যাণ লাভের আশায় মুসলমানেরা এতে চুমু খায়। হাজরে আসওয়াদ উভয় হাত দিয়ে স্পর্শ ও চুম্বনের মাধ্যমে স্পর্শকারী ও চুম্বনকারী বান্দা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের হস্ত মোবারকে বায়আত করার গৌরব অর্জন করবেন।
নবী করিম (সা.)-এর সুন্নতের অনুসরণে সাহাবায়ে কিরাম হাজরে আসওয়াদকে স্পর্শ ও চুম্বন করেছেন। প্রখ্যাত সাহাবি হজরত উমর ফারুক (রা.) হাজরে আসওয়াদকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, ‘আমি জানি, তুমি একখানা পাথর, তোমার উপকার ও ক্ষতিসাধন করার কোনো ক্ষমতা নেই। যদি আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)কে তোমার গায়ে চুমু দিতে না দেখতাম, তাহলে আমি কখনো তোমাকে চুমু দিতাম না।’
সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমান নর-নারীর কাছে হজের সময় হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথর অত্যন্ত মূল্যবান। পাথরটির চারপাশে রুপার বৃত্ত লাগানো। হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, হাজরে আসওয়াদ [হজরত আদম (আ.)-এর সঙ্গে] জান্নাত থেকে অবতীর্ণ হয়। তখন তা দুধের চেয়েও সাদা ছিল; কিন্তু আদম সন্তানের গুনাহ একে কালো করে দিয়েছে।
প্রতিবছর হজের মৌসুমে মুসলমানদের মধ্যে কিছু লোক আছেন, যাঁরা বায়তুল্লাহ শরিফ তাওয়াফের সময় হাজরে আসওয়াদ চুম্বনের জন্য রীতিমতো যুদ্ধ শুরু করে দেন। যদি হাজরে আসওয়াদ চুম্বন দেওয়া সম্ভব না হয়, ডান হাত দিয়ে ইশারা করলেও হবে। কালো পাথরটির দিকে সম্প্রসারিত করে স্বীয় হস্তে চুম্বন করলেও সুন্নত আদায় হয়ে যাবে এবং আল্লাহ তাআলা হাজরে আসওয়াদ চুম্বনের অশেষ সওয়াব ও বরকত দান করবেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন হজযাত্রীদের নবী-রাসুলদের ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত হাজরে আসওয়াদকে স্পর্শ ও চুম্বন করার সৌভাগ্য দান করেন। আমিন।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়।
dr.munimkhan@yahoo.com

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুপরামর্শ -বেকার তরুণ-তরুণীরা উপকৃত হবেন

দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোকে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন ফি না নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক অত্যন্ত সুবিবেচনার পরিচয় দিয়েছে। দেশে কর্মহীন তরুণ-তরুণীর সংখ্যার তুলনায় চাকরির সংখ্যা নগণ্য। একেকজন চাকরিপ্রার্থীকে অসংখ্য জায়গায় চাকরির জন্য আবেদন করতে হয়। কর্মহীন বলে তাঁরা অর্থকষ্টে থাকেন; তদুপরি চাকরির জন্য আবেদন ফির অর্থ সংগ্রহ করা তাঁদের গোদের উপর বিষফোড়ার মতো কষ্টকর হয়ে যায়। তফসিলি ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরামর্শ অনুযায়ী চাকরির আবেদন ফি নেওয়ার বিধান প্রত্যাহার করলে বেকার চাকরিপ্রার্থী তরুণ-তরুণীদের অনেক উপকার হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পরামর্শ শুধু চারটি তফসিলি ব্যাংকের ক্ষেত্রেই নয়, সরকারি-বেসরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে তা বিবেচনা করা উচিত বলে আমাদের মনে হয়। বেকার তরুণ-তরুণীরা প্রতিটি চাকরিক্ষেত্রে আবেদনপত্রের সঙ্গে ফি জমা দিতে বাধ্য হন। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে এই ফি ৫০০ টাকা বা তারও বেশি। এই টাকা ফেরতযোগ্যও নয়। অনেক আবেদনকারীকে লিখিত পরীক্ষা বা ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকাও হয় না। ফলে তাঁদের অনেক ক্ষতি স্বীকার করেও বারবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির চেষ্টা করতে হয়।
মাঝেমধ্যে প্রথম আলোর চিঠিপত্র বিভাগে বেকার চাকরিপ্রার্থী তরুণ-তরুণীদের চিঠিপত্র আসে। এমন অভিযোগও কেউ কেউ করেন যে কিছু বেসরকারি সংস্থা চাকরির বিজ্ঞপ্তি ছাপিয়ে অর্থ আয় করে। আবেদনপত্রের সঙ্গে ফি হিসেবে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার ইত্যাদি আকারে জমা দিতে বলা হয়। বেকারের দেশে একেকটি পদের জন্য হাজার হাজার প্রার্থী আবেদন করেন; বিজ্ঞপ্তি প্রকাশকারী চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানটির কাছে হাজার হাজার ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার জমা হয়, যা অফেরতযোগ্য। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান চাকরিপ্রার্থীদের পরীক্ষা বা ইন্টারভিউয়ের আয়োজনই করে না। এ ধরনের প্রতারণা থেকে বেকার যুবসমাজকে বাঁচানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
সরকারি ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ফি ছাড়াই চাকরিপ্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ দেয়, তাহলে সবচেয়ে ভালো হয়। যদি সেটা একেবারেই অসম্ভব হয়, তাহলে যেন টাকার অঙ্ক হয় ন্যূনতম। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও একই নিয়ম হওয়া উচিত। আর যেসব প্রতিষ্ঠান সব আবেদনকারীকে পরীক্ষা বা ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকে না, শুধু বাছাই করা প্রার্থীদের ডাকে, তাদের উচিত বাকি সব আবেদনকারীর ফির টাকা ফেরত দেওয়া।

লোডশেডিং ও ষড়যন্ত্র - বিদ্যুতের ঘাটতি দূর করাই আসল কথা

‘মধ্যরাতে মানুষ যখন ঘুমায়, যখন বিদ্যুৎ ব্যবহার কম হয়, তখনো লোডশেডিং হয়। আমি একটা উদাহরণ দিলাম। এমন আরও ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই বক্তব্যে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে দেশে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে এবং মাঝরাতে যে লোডশেডিং হচ্ছে, তার পেছনেও ষড়যন্ত্র রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যখন এমন অভিযোগ তুলেছেন, তখন বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে উপায় নেই।
সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী তুলেছেন, তার একটি রাজনৈতিক দিক রয়েছে। যেকোনো রাষ্ট্রে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায় এমন অপশক্তি তৎপর থাকতে পারে এবং সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা খুবই জরুরি। সরকার যদি সত্যিই ষড়যন্ত্রের কোনো আভাস পেয়ে থাকে, তবে তা সামাল দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং কারা এই ষড়যন্ত্র করছে, দেশবাসীর কাছে তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন। কারণ, আমাদের দেশে বিভিন্ন সরকারের সময়ে ‘ষড়যন্ত্র’ নিয়ে এত অভিযোগ তোলা হয়েছে যে ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর একটি বিষয় অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্ব হারিয়েছে।
বিদ্যুৎ-সমস্যায় দেশ বিপর্যস্ত এবং দেশবাসীকে প্রতিদিন এর ভোগান্তি সহ্য করতে হচ্ছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সংকট সমাধানের নানা আশ্বাস দিয়েছে। বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। আমরা জানি, বিদ্যুৎ উৎপাদন একটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার এবং একই সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও প্রতিদিন বেড়ে চলেছে। সবকিছু মিলিয়ে দিনে-রাতে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ের অত্যাচার থেকে দেশবাসী মুক্তি পায়নি। এখন প্রধানমন্ত্রী গভীর রাতে লোডশেডিংয়ের পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। খুবই গুরুতর অভিযোগ। বিদ্যুৎসংকটের বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া ছাড়া দেশবাসীর সামনে কোনো পথ নেই। যদি কারও ষড়যন্ত্রের কারণে জনগণকে গভীর রাতে লোডশেডিংয়ের দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
প্রধানমন্ত্রীর এই অভিযোগের পর ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত এবং তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে যারা বিদ্যুৎসংকটের কারণে এমনিতেই দুর্ভোগের মধ্যে থাকা জনগণের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে তুলছে, সেই চক্রকে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা আশা করব, সরকার দ্রুত এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিয়ে প্রমাণ করবে যে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের যথার্থতা রয়েছে।
কোনো চক্র যদি সত্যিই ষড়যন্ত্র করে থাকে, তবে সেটা করা সম্ভব হয়েছে বিদ্যুতের ঘাটতি ও সংকটের সুযোগে। সুতরাং বিদ্যুতের ঘাটতি দূর করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। গভীর রাতের লোডশেডিং নাহয় ষড়যন্ত্র, কিন্তু দিনে-রাতে ঘণ্টায় ঘণ্টায় যে লোডশেডিং হচ্ছে, তার কারণ তো বিদ্যুতের ঘাটতি। এই ঘাটতি দূর করতে পারলে জনগণ যেমন দুর্ভোগ
থেকে মুক্তি পাবে, তেমনি কোনো ষড়যন্ত্রকারীও এর সুযোগ নিতে পারবে না।

অরুন্ধতী ও হুররিয়াত নেতা গিলানির বিরুদ্ধে মামলা

ভারতের বুকারজয়ী লেখিকা ও মানবাধিকারকর্মী অরুন্ধতী রায় এবং কট্টরপন্থী হুররিয়াত নেতা সৈয়দ আলী শাহ গিলানির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দিল্লি মহানগর বিচার বিভাগীয় আদালতে মামলা হয়েছে। সুশীল পণ্ডিত নামে একজন মামলাটি করেন। বিচারক নভিতাকুমারী রাঘা মামলাটি গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট থানাকে ১৬ নভেম্বরের মধ্যে এ ব্যাপারে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের রাজধানী চণ্ডীগড়ে একই অভিযোগে অরুন্ধতী রায়ের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। তাঁকে ১৭ জানুয়ারি আদালতে উপস্থিত হতে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

ম্যাজিস্ট্রেটকে ‘বন্ধু’ বলায় জেলহাজত

ম্যাজিস্ট্রেটকে ‘বন্ধু’ বলে সম্বোধন করায় অস্ট্রেলিয়ায় এক ব্যক্তির জেলহাজত হয়েছে। কুইন্সল্যান্ডের একটি আদালতে মামলার শুনানিকালে এ ঘটনা ঘটে।
কুরিয়ার মেইল জানায়, মামলার শুনানিকালে ম্যাজিস্ট্রেট ম্যাথিউ ম্যাকলাভলিনকে অন্তত দুবার ‘বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেন টমাস জন কলিন্স। প্রথমবার ভুল করার পর আদালত তা ধরিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আপনি ‘স্যার’ অথবা ‘মাননীয় বিচারক’ বলে সম্বোধন করুন। কিন্তু কলিন্স আবার ভুল করেন ও বলেন, ‘ঠিক আছে, বন্ধু’। এরপর আদালত তাঁকে স্বল্প সময়ের জন্য জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কিছুক্ষণ পর আবার তাঁকে আদালতকক্ষে ফিরিয়ে আনা হয়। তখন তিনি আদালতের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিকেরা দারুণ চটেছেন। কুইন্সল্যান্ডের ইপসউইচের কাউন্সিলর পল টালি বলেছেন, ম্যাজিস্ট্রেটকে বন্ধু বলায় এমন কিছু হয়ে যায়নি। অস্ট্রেলিয়ার বেশির ভাগ মানুষ অন্যদের ‘বন্ধু’ বলেই সম্বোধন করেন। ‘বন্ধু’ শব্দটি বলায় কাউকে জেলে ঢুকতে হবে, তা বিশ্বাস করতেই কষ্ট হচ্ছে।
পল টালি বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেটদের আচরণ সীমা ছাড়িয়ে গেছে। কিছু কিছু ম্যাজিস্ট্রেট নিজেদের সামন্ত যুগের লর্ড মনে করেন। ম্যাজিস্ট্রেটদের এটা উপলব্ধি করা উচিত, নানা শ্রেণীর লোকজনের সঙ্গে তাঁদের কাজ করতে হয়। সেসব লোকের মধ্যে কেউ কেউ ভালোবাসার সঙ্গে তাঁদের ‘বন্ধু’ বলে সম্বোধন করতেই পারেন।’

কান্দাহারে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে তিন লাখ ঘরবাড়ি ধ্বংস

আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর তালেবানবিরোধী অভিযানে গত সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত তিন লাখেরও বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। বিষয়সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে ব্যাপক। হতাহত হয়েছে অনেক লোক। আফগানিস্তানের একটি মানবাধিকার সংস্থা গতকাল বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছে।
আফগান রাইটস মনিটর (এআরএম) নামের ওই মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর তালেবানবিরোধী ‘অপারেশন ড্রাগন স্ট্রাইক’ নামের ওই অভিযান শুরুর পর ওই প্রদেশের আর্গহান্দাব, পাঞ্চওয়াই, জেরাইও দামান এলাকার কমপক্ষে তিন লাখ ঘরবাড়ি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১০ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত প্রদেশটিতে হতাহত হয়েছে অনেক লোক। জাতিসংঘের এক হিসাব অনুযায়ী ২০১০ সালের প্রথম ছয় মাসে কান্দাহারে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় হতাহতের সংখ্যা ৩১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এআরএমের প্রতিবেদনে বলা হয়, তালেবানের অবস্থানের ওপর মার্কিন বাহিনীর বিমান থেকে ব্যাপক বোমাবর্ষণ, তালেবান জঙ্গিদের ফাঁদে ফেলতে বেসামরিক ঘরবাড়িতে মাইন ও বোমা লুকিয়ে রাখার কারণেই এত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এআরএমের পরিচালক সামাদি আজমল জানান, ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে যুদ্ধের পর ওই এলাকায় ব্যাপক পুনর্গঠন কাজের দরকার হবে। এ জন্য প্রয়োজন হবে অনেক তহবিলের।

পাকিস্তানে বিপুল ব্যয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও সচিবালয় সংস্কার

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির সরকারি বাসভবন ও সচিবালয় ভবন সংস্কারে সে দেশের মুদ্রায় সাত কোটি ৪০ লাখ রুপি ব্যয় হয়েছে। পার্লামেন্টে পেশ করা নথিপত্র থেকে এ তথ্য জানা যায়।
গত বুধবার গৃহায়ণ ও পূর্তমন্ত্রী রেহমাতুল্লাহ কাকার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও সচিবালয়ের সংস্কারসংক্রান্ত দুটি পৃথক হিসাব পার্লামেন্টে পেশ করেন। গত ৩০ মাসে এই সংস্কারকাজ শেষ হয়। প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় ভবনে যে ব্যয় হয়েছে, এর দ্বিগুণের বেশি ব্যয় হয়েছে তাঁর বাসভবনের কাজে।
পার্লামেন্টে কাকার বলেন, গত ৩০ মাসে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন সংস্কারে পাঁচ কোটি তিন লাখ রুপি ব্যয় হয়েছে। নথিপত্রে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, সংস্কারকাজে ৬৬ লাখ রুপি ব্যয় হয়েছে বিভিন্ন জিনিস কেনার পেছনে। ছোটখাটো কাজে ব্যয় হয়েছে ৬৫ লাখ রুপি। তিন কোটি ৭১ লাখ রুপি ব্যয় হয়েছে মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণের উপকরণ কেনা ও অন্যান্য কাজে।
মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় ভবন মেরামতে মোট ব্যয় হয়েছে দুই কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার রুপি। এনডিটিভি অনলাইন।

মন্ত্রিপরিষদ ভেঙে দিলেন লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট

লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট এলেন জনসন সারলিফ মন্ত্রিপরিষদের একজন ছাড়া সব মন্ত্রীকে বরখাস্ত করেছেন। গতকালবৃহস্পতিবার তিনি এ ঘোষণা দেন। তবে কী কারণে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। ২০১১ সালের নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্টের এ পদক্ষেপকে তাঁর প্রশাসনের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট এলেন জনসন সারলিফ গত বুধবার সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদের সব সদস্যকে পদত্যাগের আহ্বান জানান। এর পরই মন্ত্রীরা পদত্যাগ করেন। তবে প্রেসিডেন্ট-বিষয়ক মন্ত্রী এডওয়ার্ড ম্যাকক্লেইনকে বরখাস্ত করা হয়নি।
মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট সারলিফ বলেছেন, তাঁর প্রশাসন একটা কঠিন সময় পাড়ি দিচ্ছে। বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ ভেঙে দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। নতুন মন্ত্রিসভা যত দ্রুত সম্ভব গঠন করা হবে জানিয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, বরখাস্ত করা মন্ত্রীদের মধ্যে কাউকে কাউকে পুনর্বহাল করা হতে পারে।
১৪ বছরের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের অবসানের পর লাইবেরিয়ায় ২০০৬ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে বিজয়ী হন সারলিফ। তিনি ২০১১ সালের নির্বাচনেও দ্বিতীয় মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন, যদিও ক্ষমতায় আসার পর মাত্র এক মেয়াদের জন্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।
মন্ত্রিপরিষদের পাশাপাশি সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও ঢেলে সাজানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা প্রেসিডেন্টের এসব পদক্ষেপকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন। দেশটির রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ টমাস নিমলি বলেছেন, প্রেসিডেন্টের এ সিদ্ধান্তকে অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। ‘আগামী নির্বাচন সামনে রেখে আমরা একটা নতুন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। ওই নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলে অধিকাংশ লাইবেরীয়র মন জয়ের জন্য প্রেসিডেন্ট সারলিফকে কিছু-না-কিছু করতেই হবে।’ বলছিলেন টমাস নিমলি।

ঘণ্টায় ৩১ হাজার ডলার আয়!

বলা হয়, এ প্রজন্ম খণ্ডকালীন চাকরির প্রজন্ম। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনেক পূর্ণকালীন চাকরিজীবীও এ চাকরি করেন। ঘণ্টা হিসেবে তাঁরা সেবা দেন। পারিশ্রমিকও পান সেই হিসাবে। ঘণ্টায় ২০ কিংবা ৫০ অথবা ১০০ ডলার পান। ক্ষেত্রবিশেষে এই সম্মানী হয়তো হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু তাই বলে ঘণ্টায় ৩১ হাজার ডলার! অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্যি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বখ্যাত ডোমিনোস পিৎজার জাপানি কোম্পানি লোভনীয় বেতনের এ চাকরির প্রস্তাব দিয়েছে।
জাপানে ডোমিনোস পিৎজার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে বিশাল অঙ্কের এ চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কোম্পানির ওয়েবসাইটে এ চাকরিসংক্রান্ত একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে।
ঘণ্টায় হাজার ডলারের চাকরি হলেও এর জন্য বিশেষ কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়নি। ১৮ বছরের বেশি যে কেউ এ চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে জাপানে কাজ করার অনুমতি থাকতে হবে প্রার্থীর।
জাপানের কর্মসংস্থানবিষয়ক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, সে দেশে খণ্ডকালীন চাকরিতে ঘণ্টায় গড় আয় ১২ ডলার।

হাইতিতে কলেরায় মৃত্যু বাড়ছে, ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়

দুর্যোগ যেন পিছু ছাড়ছে না ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ হাইতির। কয়েক দিন থেকে ছড়িয়ে পড়া কলেরায় এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪২ জনে। এরই মধ্যে দেশটির দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘টমাস’। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, গতিপথ পরিবর্তন না হলে আজ শুক্রবার টমাস আঘাত হানতে পারে। এতে নতুন করে আবারও দুর্যোগের কবলে পড়বে দরিদ্র এই দেশটির মানুষেরা।
স্বাস্থ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, গত শনিবার থেকে এ পর্যন্ত ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪২ জনে। এদিকে টমাস আঘাত হানলে কলেরার প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করবে বলে সাহায্য সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার অবনতি হবে। এতে দেখা দেবে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানায়, ঘূর্ণিঝড় টমাস হাইতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এতে দেশটির উপকূলীয় পাহাড়ি এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজন সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।
এদিকে হাইতিতে অবস্থিত নেপালের শান্তিরক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে এ রোগ ছড়িয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্ত করছে জাতিসংঘ। হাইতির স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যালেক্স লারসেন জানান, হাইতিতে এ জাতীয় কলেরার প্রাদুর্ভাব কখনো দেখা যায়নি।
চিকিৎসকেরা বলছেন, গত জানুয়ারি মাসের ভূমিকম্পের ফলে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ে। তারপর থেকে কলেরায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে গেছে। গত শনিবার থেকে এ পর্যন্ত ২০০ জন কলেরায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কলেরায় এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছয় হাজার ৭৪২ জন।

বিদেশিদের মিয়ানমারে আসার আহ্বান জানালেন সু চির সহযোগী

মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী অং সান সু চির ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী উইন তিন সে দেশের মানুষের দুর্দশা স্বচক্ষে দেখার জন্য বিদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে সু চি বিদেশিদের মিয়ানমারে ভ্রমণে না আসার আহ্বান জানালেও উইন তিন বলেছেন, তাঁরা এখন মনে করছেন, মিয়ানমারবাসীর দুঃখ বুঝতে বিদেশিদের সেখানে যাওয়া দরকার। ব্রিটেনের সংবাদপত্র দি টাইমস এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) সহযোগী প্রতিষ্ঠাতা উইন তিন তাঁদের বলেছেন, তাঁরা চাইছেন বিদেশিরা সামরিক জান্তাকে সহায়তা করতে নয়, বরং মিয়ানমারের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক তথা সার্বিক পরিস্থিতি বুঝে সেখানকার জনগণকে সহায়তা করতে সেই দেশ ভ্রমণ করুক।
১৯৯৬ সালে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার পর্যটন খাতে আয় বাড়ানোর জন্য বিদেশিদের সেই দেশে ভ্রমণ করার আহ্বান জানায়। সে সময় সু চি সরকারি প্রচারণার তীব্র বিরোধিতা করেন এবং মিয়ানমার থেকে বিদেশিদের দূরে থাকার পরামর্শ দেন। সু চি তখন বলেছিলেন, পর্যটকরা এলে সরকারের যে আয় হবে, তা শুধু জেনারেলদেরই পকেট ভারী করবে। ওই অর্থ জনগণের কাজে লাগবে না। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বহু পর্যটক মিয়ানমার সফর করা থেকে বিরত থাকেন।

ইরানের জুনদাল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র গত বুধবার ইরানের সুন্নি বিদ্রোহী গোষ্ঠী জুনদাল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। ইরানের সিরিজ বোমা হামলার জন্য জুনদাল্লাহকে দায়ী করা হয়। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে।
জুনদাল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দেওয়ার ফলে কোনো মার্কিন নাগরিক বা সংগঠন জুনদাল্লাহকে সহায়তা দিতে বা কোনো রকম সম্পর্ক রাখতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রে সংগঠনটির সব সম্পদ বা তহবিল আটকে দেওয়া হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, জুনদাল্লাহ ২০০৩ সাল থেকে বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো শুরু করে। এ পর্যন্ত গোষ্ঠীটির হামলায় ইরানের বহু বেসামরিক নাগরিক ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী হতাহত হয়েছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুনদাল্লাহ সন্ত্রাসী হামলা চালানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করে। এর মধ্যে প্রধান কৌশলগুলো হলো আত্মঘাতী হামলা, অতর্কিত আক্রমণ, অপহরণ প্রভৃতি।
জুনদাল্লাহর মতে, তারা দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের জাতিগত বালুচ সম্প্রদায়ের স্বার্থের জন্য লড়াই করছে। গত জুলাইয়ে সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী জাহেদানের প্রধান মসজিদে হামলা চালায় গোষ্ঠীটি। ইরানের এলিট ফোর্স রেভল্যুশনারি গার্ডের সদস্যদের লক্ষ্য করেই ওই হামলা চালানো হয়। হামলায় ২৮ জন নিহত হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে এই হামলায় হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।
ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র সারা বিশ্বে জুনদাল্লাহর মতো অনেক সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রামিন মেহমানপারাস্ত বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা সব দেশের সাধারণ দায়িত্ব। জুনদাল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দেওয়াকে আমরা স্বাগত জানাই।’
চার ব্যক্তিকে আটক করেছে ইরান: ইরান ‘ব্রিটেনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত চার সন্ত্রাসীকে আটক করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ওয়েবসাইটে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মারিভান থেকে চার ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে গত দুই বছরে অর্থের বিনিময়ে পাঁচজনকে হত্যা করার অভিযোগ রয়েছে। আটক হওয়া ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন, ইরাকের সুলায়মানিয়া শহরে জলিল ফাত্তাহি নামের এক ব্যক্তির নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড চালান। প্রতি হত্যাকাণ্ডের জন্য ২০ হাজার করে মার্কিন ডলার পাওয়ার কথা থাকলেও তাঁরা তা পাননি। জলিল ফাত্তাহি যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন বলে জানা গেছে।
এদিকে এ খবর প্রচারের পর ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

চট্টগ্রামে তিন দিনের পর্যটন মেলা শুরু

তিন দিনব্যাপী দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা ‘চট্টগ্রাম ট্রাভেল মার্ট-২০১০’ হোটেল আগ্রাবাদের ইছামতি হলে গতকাল বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে।
দেশের শীর্ষস্থানীয় ভ্রমণবিষয়ক পাক্ষিক পত্রিকা দি বাংলাদেশ মনিটর এই মেলার আয়োজক। মেলার প্রিমিয়াম পার্টনার ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ এবং ব্যাংকিং পার্টনার হিসেবে রয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড।
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দৈনিক আজাদী পত্রিকার সম্পাদক এম এ মালেক। আনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মনিটর সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম, ইত্তেহাদ এয়ারওয়েজের আঞ্চলিক ম্যানেজার আশরাফুল কবির ও ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্রান্ড এবং বিপণনের প্রধান জিয়াউল করিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দৈনিক আজাদীর এম এ মালেক পৃথিবীর অন্যান্য সমুদ্রসৈকতের মতো বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন স্থান কক্সবাজারকে সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে ঢেলে সাজানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম হচ্ছে পর্যটনের জন্য উল্লেখ্যযোগ্য স্থান। ‘প্রকৃতি যেভাবে আছে সেভাবে দেখুন’ এই স্লোগান নিয়ে চট্টগ্রামকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।
মনিটর সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, দ্বিতীয়বারের মতো এই চট্টগ্রাম শহরে আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা আয়োজন করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। আমিও প্রধান অতিথির সঙ্গে একমত যে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের আধুনিকীকরণের মাধ্যমেই চট্টগ্রাম শহরকে একটি পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
দেশ-বিদেশের ১৬টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিয়েছে। অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশি ও বিদেশি এয়ারলাইনস, ট্যুর অপারেটর, হোটেল, রিসোর্ট, ব্যাংক, বিনোদন পার্ক, রিয়েল এস্টেট কোম্পানি। মেলা চলাকালে প্রতিষ্ঠানগুলো বিমানের টিকিট, ট্যুর প্যাকেজ ও অন্যান্য পণ্য এবং সেবার ওপর বিশেষ মূল্য ছাড় দিচ্ছে।
পর্যটন মেলাটি আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উম্মুক্ত থাকবে।

৮০ হাজার টন খাদ্যশস্য কেনার প্রস্তাব অনুমোদন

৮০ হাজার টন খাদ্যশস্য কিনবে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে ৫০ হাজার টন গম এবং ৩০ হাজার টন সেদ্ধ চাল। এতে ব্যয় হবে ২৩২ কোটি টাকা।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই খাদ্যশস্য কেনার দুটি দর প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবেরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র জানায়, গম কেনা হবে ইমসন্স ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। এতে প্রতি টনের দর পড়বে ৩৬১ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় মোট ব্যয় ১২৭ কোটি ৬১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
আর চাল কেনা হবে সিঙ্গাপুরের ইন্দো-সিনো ট্রেড প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। প্রতি টন চালের দর পড়বে ৪৯১
দশমিক ৮০ ডলার। এতে মোট ব্যয় হবে ১০৪ কোটি ৩১ লাখ সাত হাজার ৮০০ টাকা।

ডেনমার্কের সঙ্গে বাণিজ্য বেড়েছে ৩০ শতাংশ

ডেনমার্কের সঙ্গে চলমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাংলাদেশের অনুকূলে রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ডেনমার্কের সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমাণ গত এক বছরে ৩০ শতাংশ বেড়েছে।
বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত সভেন্ট অলিংয়ের সঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান এ তথ্য জানিয়েছেন। ডেনমার্ক দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর মর্টেন সিয়েম লিনজ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, জাহাজ নির্মাণশিল্প, ওষুধ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাণিজ্য বাড়াতে ডেনমার্ক আগ্রহ ব্যক্ত করেছে বলে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা করা আগের চেয়ে সহজতর হয়েছে এবং এ দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বিদ্যমান। ফলে ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সভেন্ট অলিং।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য উন্নয়নে যেকোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রদূতকে সহায়তার আশ্বাস দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
জানা গেছে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে ডেনমার্কে ২৩১ দশমিক ৭২ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ। একই সময়ে সে দেশ থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয়েছে ৪৮ দশমিক ১৬ ডলারের পণ্য।
ডেনমার্কে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যগুলো হচ্ছে নিট ও ওভেন পোশাক, চিংড়ি, হোম টেক্সটাইল, কম্পিউটার সার্ভিসেস, জাহাজ, ওষুধ ইত্যাদি।

ক্ষুদ্রঋণ-গ্রহীতাদের প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়ন করছে পিকেএসএফ

দেশে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি প্রকৃত অর্থেই উপকারভোগী তথা গ্রহীতাদের কতটা কাজে আসছে, তা জানতে পল্লি কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এক গবেষণা ও মূল্যায়ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
পিকেএসএফের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ এ কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেসবাহউদ্দিন আহমেদ ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পারভীন মাহমুদ।
কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ জানান, এত দিন ধরে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে জন্ম দেওয়া নানা প্রশ্নের উত্তর জানতে এবং এর সমাধানের পথ খুঁজতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে পরিচালিত ব্যবসা থেকে অর্জিত মুনাফার হার অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত সুদের হার থেকে কম হয়। ঋণগ্রহীতাদের অনেকে বছরের পর বছর ধরে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে চলেছে, কিন্তু অবস্থার উন্নতি হয়নি।
কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, এত দিন ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে কিছু মৌলিক প্রশ্ন সেভাবে উত্থাপন করা হয়নি। এসব প্রশ্নের উত্তর জানা অতি জরুরি। যেমন—ক্ষুদ্রঋণের ব্যবসা থেকে অর্জিত মুনাফার হার প্রকৃত সুদের হার থেকে বেশি কি না বা গৃহীত কর্মকাণ্ডে কী পরিমাণ কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয় এবং তা টেকসই কি না।
খলীকুজ্জমান আহমদ আরও বলেন, ঋণগ্রহীতা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যের অবস্থা কী এবং একটি ঋণগ্রহীতা পরিবার স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য যথেষ্ট সম্পদ সংগ্রহের আগে কত দিন ক্ষুদ্রঋণের ওপর নির্ভরশীল থাকবে, এগুলোর উত্তর জানা নেই।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নিরবচ্ছিন্ন অর্থায়নের জন্য ১৯৯০ সালে শীর্ষ অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিকেএসএফ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটি প্রতিষ্ঠাকালে বাংলাদেশে এমনকি বিশ্বের কোথাও এ রকম কোনো ক্ষুদ্রঋণ অর্থায়নকারী শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ছিল না।
এতে আরও জানানো হয়, প্রতিষ্ঠার প্রথম বছরে পিকেএসএফ মাত্র ২৩টি সহযোগী সংস্থা ও মাঠপর্যায়ে প্রায় এক হাজার উপকারভোগীকে নিয়ে কাজ করে। আর বর্তমানে পিকেএসএফ সারা দেশে সক্রিয়ভাবে কর্মরত ১৯৩টি সহযোগী সংস্থার প্রায় ছয় হাজার শাখার মাধ্যমে দেশের সব জেলায় ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বর্তমানে সহযোগী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে পিকেএসএফের ঋণগ্রহীতার সংখ্যা ৮৩ লাখ ৮৬ হাজার ২১৪ জনে উন্নীত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পিকেএসএফের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার, পিকেএসএফের দেওয়া ঋণের উপকারভোগীদের পণ্য প্রদর্শনী, বিক্রির মেলাসহ নানা আয়োজন থাকবে।

আইআর বাল্ব কোম্পানি ও কাওয়ামুরা ইলেকট্রিকের মধ্যে চুক্তি সই

দেশে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক আইআর বাল্ব কোম্পানি লিমিটেডের বার্ষিক পরিবেশক সম্মেলন সম্প্রতি ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে কাওয়ামুরা ইলেকট্রিক ইনকরপোরেশনের সঙ্গে আইআর বাল্বের একটি ব্যবসায়িক চুক্তি হয়েছে। এতে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া প্রধান অতিথি ও ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত তামোৎসু শিনোৎসুকা এবং ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইআর বাল্ব কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইব্রাহীম। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আইআর বাল্ব কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীন ও পরিচালকেরা এবং কাওয়ামুরা ইলেকট্রিক ইনকরপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ারবাজারে লেনদেন ও সূচক বেড়েছে

দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছাড়ার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের পর থেকে দেশের পুঁজিবাজার কিছুটা সংশোধনের ধারায় ফেরে। এ সময় মূল্যসূচক কমার সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে লেনদেনের পরিমাণও। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই সূচক ও লেনদেন বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরবরাহ বাড়লে বর্তমানে তালিকাভুক্ত রয়েছে—এমন সরকারি কোম্পানির শেয়ারের দাম কমতে পারে, এ আশঙ্কা থেকে অনেকে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির শেয়ার হাতে রাখা নিরাপদ মনে করেননি। এ কারণে এসব খাতের শেয়ার বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। আবার নতুন করে এসব খাতে বিনিয়োগে অনেকে আগ্রহ দেখাননি। মূলত এ কারণে কয়েক দিন ধরে শেয়ারবাজারের মূল্যসূচক ও লেনদেন কমতে শুরু করে।
তবে সরকারি কোম্পানিগুলোর শেয়ার ঠিক কবে নাগাদ বাজারে আসবে, সে ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো শেয়ার ছাড়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর আদেশ পেলেও এ ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। আবার অনেক কোম্পানির শেয়ারের সরকারি অংশ এখনো অজড়করণ বা ডিমেট-প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। তাই বিনিয়োগকারীদের অনেকেরই ধারণা, ঘোষিত সময়ের মধ্যে শেয়ারগুলো বাজারে ছাড়তে পারবে না সরকার। এ ধরনের ভাবনা থেকে গতকাল অনেকে নতুন করে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির শেয়ার কেনায় আগ্রহ দেখিয়েছেন। এর প্রভাবেই গতকাল ধারার বিপরীতে বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে।
শেয়ারবাজারে গতকালের উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল দীর্ঘদিন পর মিউচুয়াল ফান্ডের মূল্যবৃদ্ধি। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ২৯টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে একটি ছাড়া সবগুলোর দামই বেড়েছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) গত বুধবার বেসরকারি খাতের প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড এইমস ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডে রাইট-বোনাস ছাড়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এ খবরে গতকাল ফান্ডটি লেনদেন শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যে বিক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে। এ সময়ে ফান্ডটির ৩৪ লাখ ৯০ হাজার ইউনিট হাতবদল হয়েছে। দাম বেড়েছে চার টাকা ১৫ পয়সা বা ২০ শতাংশের মতো।
বাজার পরিস্থিতি: ডিএসইতে গতকাল সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৫৫ পয়েন্ট বেড়ে সাত হাজার ৯৮৬ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। লেনদেন হয়েছে দুই হাজার ৯০২ কোটি টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৬৩টির, কমেছে ৭৩টির ও অপরিবর্তিত ছিল পাঁচটি কোম্পানির শেয়ারের দাম। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৩৯ পয়েন্ট বেড়ে ২২ হাজার ৫৮৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২০০ কোটি টাকার বেশি। লেনদেন হওয়া ১৯১টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১১৮টির, কমেছে ৬৮টির ও অপরিবর্তিত ছিল পাঁচটি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

দেশে ফিরবেন না মোদি

ভাবভঙ্গিতে মনে হচ্ছে লোলিত মোদি দেশ ছেড়ে বেঁচেছেন; নিন্দুকেরা বলবে, পালিয়েছেন। যদিও আইপিএলের মূল কারিগর বলছেন, তিনি পালাননি। শুধু এই মুহূর্তে লন্ডন থেকে দেশে ফিরে শুনানির মুখোমুখি হতে চান না। ক্রিকেটে ঢোকার কয়েক বছরের মধ্যে পৃথিবীর অন্যতম প্রভাবশালী ক্রীড়া সংগঠকে পরিণত হওয়া মোদি লন্ডনে গেছেন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা সম্মেলনে যোগ দিতে।
এদিকে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতিসহ অনেক অভিযোগে বিসিসিআইয়ের শুনানির মুখোমুখি হওয়ার কথা তাঁর। কিন্তু বিবিসির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মোদি বলছেন, এখনই দেশে ফেরার কোনো ইচ্ছে নেই তাঁর। তিনি বরং শুনানি যাঁরা করবেন, তাঁদের লন্ডনে আসার প্রস্তাব দিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে এঁদের লন্ডনের যাতায়াতের খরচও তিনি বহন করতে রাজি। বিসিসিআই পত্রপাঠ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিসিসিআইয়ের শুনানি ছাড়াও মোদির ঘাড়ের ওপর ঝুলছে কর ফাঁকি ও অর্থ পাচারের মতো অভিযোগ। এই অবস্থায় দেশে না ফেরা মানে নিজেকে অনেকটা ‘ফেরারি’তে পরিণত করা। তাতেও মোদি বিচলিত নন। বিবিসির অনুমান, মোদি নিজের জন্য নতুন বিচরণক্ষেত্র খুঁজে পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটে নাকি সম্পৃক্ত হতে চান মহা বিতর্কিত ও আধুনিক ক্রিকেটকে বদলে দেওয়া এই কর্মকর্তা।

আজ শুরু স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড স্কুল দাবা

আজ শুরু হচ্ছে স্কুল দাবা। এক যুগ ধরে পৃষ্ঠপোষণা দেওয়া স্কুল দাবার সঙ্গে এবারও আছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। বাংলাদেশের জাতীয় জুনিয়র চ্যাম্পিয়ন আবদুল্লাহ আল সাইফ, সাব-জুনিয়র চ্যাম্পিয়ন ইকরামুল হক (সিয়াম), ফরিদপুরের ফাহাদ রহমান, তাহমিন আক্তার, প্রতিভা তালুকদারসহ শ দুয়েক খুদে দাবাড়ু অংশ নিচ্ছে আজ শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টে। প্রতিযোগিতা চলবে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত।
এবারের প্রতিযোগিতায় ঢাকার বাইরের স্কুলের অংশগ্রহণ বেশ ব্যাপক। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা এবং নেপালের খেলোয়াড়দেরও। তবে দীপাবলি উৎসবের কারণে তাদের দিক থেকে সাড়া মিলেছে খুবই কম। তার পরও আয়োজক দাবা ফেডারেশন আশাবাদী, শেষ মুহূর্তে ভারতের খেলোয়াড়দের পাওয়া যাবে টুর্নামেন্টে। সে ক্ষেত্রে এক রাউন্ড বাই দেওয়া হতে পারে বিদেশি খেলোয়াড়দের।
‘ক’ গ্রুপে কেজি থেকে পঞ্চম শ্রেণী, ‘খ’ গ্রুপে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী ও ছাত্রীদের আলাদা একটি গ্রুপ—তিন বিভাগে সুইস লিগ পদ্ধতি হবে খেলা। বিজয়ীদের জন্য অর্থ পুরস্কারের পাশাপাশি ট্রফিও দেওয়া হবে। কাল সংবাদ সম্মেলনে তথ্যগুলো জানান ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোকাদ্দেস হোসাইন। উপস্থিত ছিলেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স প্রধান বিটপী দাশ চৌধুরী।

সিএবিকে ধসিয়ে দিলেন মোসাদ্দেক

বাংলাদেশ সফরে উষ্ণ আতিথেয়তা পাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি) অনূর্ধ্ব-১৭ দল। তবে মাঠের লড়াইয়ের প্রথম দিনেই তা ভুলে যাওয়ার কথা অতিথি দলের। কুমিল্লা স্টেডিয়ামে তিন দিনের ম্যাচের উদ্বোধনী দিনে সিএবিকে ১৪৩ রানে অলআউট করেছে বাংলাদেশ। সফরকারী দলকে ধসিয়ে দিয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন। ২০.২ ওভারে ৩৫ রানে ৬ উইকেট তুলে নিয়েছেন এই অফ স্পিনার।
বাংলাদেশ দল ২০ ওভার খেলে কাটিয়ে দিয়েছে দিনের বাকি সময়। দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আরাফাত সানি ১৭, রাফসান আল মাহমুদ ১০ রানে উইকেটে আছেন। দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ৪১।
অনেক দিন পর কুমিল্লা স্টেডিয়ামে এমন একটি ম্যাচ, তার ওপর এই ম্যাচের বাড়তি আকর্ষণ সিএবির কোচ হয়ে আসা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক কোচ ডেভ হোয়াটমোর। কুমিল্লার কিশোর-তরুণেরা হোয়াটমোরকে না দেখে ঘরে থাকতে পারে? কিন্তু কড়া পুলিশি নিরাপত্তার কারণে ওদের অনেকেই স্টেডিয়ামে ঢুকতে পারেনি।

অস্ট্রেলিয়ায় গৃহদাহ

একের পর এক পরাজয়ে জেরবার, নির্বাচকদের মধ্যে মতবিভেদ, দলের নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দল...না, কিছুদিন ধরে এ রকমই খবর জোগান দিয়ে চলা দলটার নাম পাকিস্তান নয়! বিস্ময় এখানে, দলটা অস্ট্রেলিয়া!
টানা ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক ম্যাচে হেরে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার দুই নির্বাচক অ্যান্ড্রু হিলডিচ ও গ্রেগ চ্যাপেলের মধ্যে নাকি মতবিরোধ চলছে অ্যাশেজের দল নির্বাচন নিয়ে। এর পরই খবর এল, রিকি পন্টিংয়ের জায়গায় নাকি অধিনায়ক হচ্ছেন মার্কাস নর্থ! ভাবী অধিনায়ক হিসেবে যে মাইকেল ক্লার্ককে প্রস্তুত করছে অস্ট্রেলিয়া, তাঁর নেতৃত্ব নাকি মেনে নিতে রাজি নয় দলের অনেকেই।
সর্বশেষ মেলবোর্নে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে যাওয়ার পর এ ধরনের খবর এসেছে অস্ট্রেলীয় পত্রপত্রিকায়। যদিও কাল নর্থ নিজে থেকে অস্বীকার করে বলেছেন, দলে কোনো কোন্দল নেই, ‘আজ (গতকাল) সকালে ঘুম থেকে উঠে এ ধরনের কিছু খবর পড়লাম, যেগুলো একেবারেই ভিত্তিহীন।’
যে মিডিয়া তাঁকে অধিনায়ক বানিয়ে দিচ্ছে, তাদেরই বরং ধুয়ে দিলেন এই অলরাউন্ডার, ‘গতকালই লেখালেখি হচ্ছিল আমাকে সরিয়ে দিয়ে কাকে দলে নেওয়া উচিত। আর আজ লেখা হচ্ছে, আমি নাকি অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যৎ অধিনায়ক। আসলে অ্যাশেজের মৌসুম চলছে। এখন অনেক কিছুই লেখা হবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করা হচ্ছে।’
এসব খবরে মজাই খুঁজে পেয়েছেন বলে জানালেন সেঞ্চুরি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা এই বাঁহাতি, ‘আমার কাছে খানিকটা মজাই লেগেছে। কিন্তু এটা স্রেফ গালগল্প। কালকেই সবাই ভুলে যাবে।’
অধিনায়ক হিসেবে তিনি যে অযোগ্য এমনটাও নয়। তাঁর নেতৃত্বেই ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া। নর্থ অবশ্য ভবিষ্যৎ অধিনায়ক হিসেবে ক্লার্কের নেতৃত্ব মেনে নিতে প্রস্তুত, ‘রিকি অবশ্যই আরও অনেক বছর অধিনায়কত্ব করবে। এরপর মাইকেল ক্লার্ক আছে, ওকে পরবর্তী অধিনায়ক হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। ও এরই মধ্যে যখনই রিকির কাছ থেকে দায়িত্ব নিয়েছে, প্রতিবারই দারুণ, দারুণ ভালো করেছে। তাই পরিষ্কার করেই বলছি, আমি এটি নিয়ে মোটেও ভাবছি না।’
সমস্যা হলো, এ ধরনের ‘গালগল্প’ যখন বেরোয়, পুরোটা না হলেও কিছুটা সত্যি কিন্তু খুঁজে পাওয়া যায় শেষ পর্যন্ত। যা রটে, কিছুটা সত্যি তো বটে!

পুরস্কার পেলেন তাঁরা

মহিলা হ্যান্ডবলে রানার্সআপ আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের ১২ জন খেলোয়াড়, কোচ-সহকারী কোচের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থ পুরস্কার দিয়েছেন ক্লাবের সভাপতি এনায়েত হোসেন (সিরাজ)। কাল এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে মহিলা হ্যান্ডবল খেলোয়াড়েরা ছিলেন উচ্ছ্বসিত। ২৫ হাজার টাকা তাঁদের কাছে যে অনেক বড় পুরস্কার!

জাতীয় বাস্কেটবল

সিটিসেল ২৪তম জাতীয় বাস্কেটবলে কাল ছিল ৮টি ম্যাচ। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ও রাজশাহীর ম্যাচেই যা ছিল একটু উত্তেজনার আঁচ। বাকি ম্যাচগুলো হয়েছে একেবারেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন। ধানমন্ডি ইনডোর বাস্কেটবল জিমনেসিয়ামে নারায়ণগঞ্জ ৪৭-৪১ পয়েন্টে হারিয়েছে রাজশাহীকে। অন্য ম্যাচে বাংলাদেশ পুলিশ ১০৩-৪২ পয়েন্টে যশোরকে, চাঁদপুর ৮৩-৫৭ পয়েন্টে ঢাকাকে, বিমানবাহিনী ৯৫-২৮ পয়েন্টে কুমিল্লাকে, গাজীপুর ৬৯-২৯ পয়েন্টে কুষ্টিয়াকে, বিকেএসপি ৬৯-৩৫ পয়েন্টে রংপুরকে ও বাংলাদেশ পুলিশ ৮৫-৫৪ পয়েন্টে রাজশাহীকে হারিয়েছে।

শেষ ষোলোয় চেলসি বায়ার্ন রিয়াল

তাঁর জার্সি নম্বর ৯। কিন্তু পরশু আরও দুটি জার্সি বানিয়ে নিয়ে এসেছিলেন ফিলিপ্পো ইনজাগি। ৬৮ মিনিটে প্রথম গোল করেই ছুটলেন বানিয়ে আনা সেই জার্সির একটি দেখাতে। তাতে জার্সি নম্বর খেলা ৬৯। ১০ মিনিট পর দ্বিতীয় গোল। এবার জার্সি নম্বর ৭০।
রিয়াল মাদ্রিদের প্রান্তে রাউল আর নেই। থাকলে ভালো করতেন। তাঁর জন্যই তো আসলে ওই জার্সি দুটি বানিয়ে রেখেছিলেন এসি মিলান স্ট্রাইকার। এতক্ষণে নিশ্চয়ই আসল ঘটনা খোলাসা হয়ে গেছে। ক্লাব পর্যায়ে ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে সর্বোচ্চ গোল নিয়ে রাউল-ইনজাগির দ্বৈরথ চলছেই। আগের মাসেই হ্যাপোয়েল তেল আবিবের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ইনজাগিকে টপকে গিয়েছিলেন রাউল (৬৯)। পরশু জোড়া গোলেই পাল্টা জবাব দিলেন ইনজাগি (৭০)।
শুধু এই ব্যক্তিগত প্রাপ্তিটাই অবশ্য শেষ পর্যন্ত সঙ্গী হয়েছে বুড়ো হাড়ের ভেলকি দেখিয়ে চলা ইনজাগির। ৩৭ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের দল ২-২ গোলে ড্র করেছে রিয়ালের সঙ্গে। জয়ই পেতে পারত। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজার একদম আগ মুহূর্তে পেদ্রো লিওনের গোলে সান সিরো থেকে ১ পয়েন্ট নিয়ে ফিরেছে রিয়াল। প্রথমার্ধের শেষ প্রান্তে প্রথম গোলটি করেছিলেন গঞ্জালো হিগুয়েইন।
এই ড্রই অবশ্য রিয়ালকে তুলে দিয়েছে দ্বিতীয় রাউন্ডে। স্পার্তাক মস্কোকে নিজেদের মাঠে চেলসি আর সিএফআর ক্লুজ তাদেরই মাঠে উড়িয়ে দিয়ে নকআউট পর্বে চলে গেছে বায়ার্ন মিউনিখও। শাখতার দোনেৎস্কের কাছে ২-১ গোলে হেরে যাওয়ায় আর্সেনালকে এখনো আটকে থাকতে হলো। তবে পরশু সত্যিকারের গোল-উৎসব করেছে মার্শেই। গিগন্যাকের হ্যাটট্রিকে জিলিনাকে তারা উড়িয়ে দিয়েছে ৭-০ গোলে।
তবে সবার চোখ আটকে ছিল আসলে মিলান-রিয়াল ম্যাচে। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেরা দুই দল, যাদের মধ্যে আছে ষোলোটি শিরোপা—তাদের খেলা দেখার জন্য তৃষিত চোখেই তাকিয়ে থাকে ফুটবল-দুনিয়া। ফুটবল-পিয়াসীদের চাওয়াটা সার্থক হয়েছে। আক্রমণ পাল্টা-আক্রমণে ঠাসা দুর্দান্ত এক ম্যাচই হয়েছে সান সিরোতে।
বায়ার্ন খুদে ক্লুজকে দাঁড়ানোর সুযোগই দেয়নি। ১২ ও ২৪ মিনিটে মারিও গোমেজ জোড়া গোল করে প্রথমার্ধেই যেন ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুটি গোল হজম করে ক্লুজ। ৭১ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেছেন গোমেজ। শেষে গোল করেছেন টমাস মুলার।
স্টামফোর্ড ব্রিজে কিন্তু প্রথমার্ধে ভালোই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল মস্কো। চেলসিকে গোলের খাতা খুলতেই দেয়নি রুশ ক্লাবটি। কিন্তু ৪৯ মিনিটে নিকোলাস আনেলকাকে দিয়ে শুরু, এরপর ৬২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে দিদিয়ের দ্রগবা; ৬৬ ও ৯০ মিনিটে ব্রানিস্লাভ ইভানোভিচের জোড়া গোল দ্বিতীয় রাউন্ডে তুলে দেয় চেলসিকে।
দ্বিতীয়ার্ধে এই তিন ‘বড়’র সঙ্গী হতে পারত আর্সেনালও। থিও ওয়ালকটের গোলে মাত্র ১০ মিনিটেই এগিয়ে গিয়েছিল সফরকারী দলটি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার পেছনে কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার দায়ী করেছেন শিষ্যদের আত্মতৃপ্তিকেই।
ওদিকে রিয়াল কোচ মরিনহো আবার তুলাধোনা করেছেন রেফারিকে। ইনজাগির দ্বিতীয় গোলটি অফসাইড থেকেই হয়েছে দাবি তাঁর। যদিও রেফারির আনুকূল্য রিয়াল বেশি পেয়েছে কি না—এমন প্রশ্ন উঠেছে মিলান শিবিরি থেকেও। মিলানের জন্য আক্ষেপ হতে পারে পাঁচ মিনিটের ইনজুরি সময়ও। ওই বাড়তি সময়েই তো সমতা ফেরাল রিয়াল। যদিও মরিনহো বলছেন, ‘আমরা এই ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছি। অতিরিক্ত সময়ে পাওয়া গোলটি আমাদের প্রাপ্যই ছিল।’
গ্রুপ পর্বে হাতে দুটি ম্যাচ, তার পরও চাইলে মরিনহো দ্বিতীয় রাউন্ডের ছক কষা শুরু করে দিতে পারেন। ‘স্পেশাল ওয়ান’ জেনে হয়তো তাগিদ অনুভব করতে পারেন, তাঁরই উত্তরসূরি কার্লো আনচেলত্তি এখনই ফাইনালের ছক কষছেন!

নিষিদ্ধ ত্রয়ীর চুক্তি বাতিল

সাময়িক নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল বাতিল হওয়ার পর এবার আরেকটা বড়সড় ধাক্কা খেলেন বাট-আমিররা। সালমান বাট, মোহাম্মদ আমির ও মোহাম্মদ আসিফের কেন্দ্রীয় চুক্তি বাতিল করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। শুধু তা-ই নয়, অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার লড়াইটাও এখন নিষিদ্ধ ত্রয়ীকে আলাদাভাবে করতে হবে। বোর্ড কোনো সাহায্য করবে না। আইসিসি আবার বাট ও আমিরকে সাবধান করে দিয়েছে বেফাঁস মন্তব্য না করতে।
গত মার্চের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ছিলেন বাট ও আসিফ, মাসিক বেতন পেতেন আড়াই লাখ রুপি। ‘বি’ ক্যাটাগরিতে থাকা আমিরের বেতন ছিল মাসে এক লাখ ৭৫ হাজার রুপি। আপিল বাতিলকেই চুক্তি ছিন্ন করার কারণ বললেন পিসিবির কর্মকর্তা জাকির খান, ‘আপিল আবেদনের শুনানি পর্যন্ত তাঁদের চুক্তি কার্যকর ছিল। আইসিসির কোড অনুযায়ী আপিল বাতিল হওয়ার পর চুক্তি বাতিল না করে আমাদের আর উপায় ছিল না।’
এ কথাটাই একটু ঘুরিয়ে বলেছেন পিসিবির আইনি উপদেষ্টা তাফাজ্জুল রিজভি, ‘যারা পাকিস্তানের হয়ে খেলতে পারবে, তারাই কেবল চুক্তিতে থাকবে। অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা বোর্ডের কোনো সুযোগ-সুবিধা পাবে না।’
সুরাহা কবে হবে, সেটা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কেউই। তবে আমিরের আইনজীবী শহিদ করিমের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী আগামী ২ ডিসেম্বরের মধ্যেই আইসিসিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে নিষেধাজ্ঞা থাকবে, নাকি তুলে নেওয়া হবে। আর স্বতন্ত্র ট্রাইব্যুনালে শুনানি নিতে হবে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে। করিম অবশ্য ধারণা করছেন, আইসিসি শুনানির সময় পেছাতে পারে।
বাট ও আমির আইসিসির ‘ধমক’ শুনেছেন প্রকাশ্যে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটির কঠোর সমালোচনা করায়। আপিল বাতিল করাকে বাট বলেছিলেন, ‘আগে থেকেই ঠিক করে আসা সিদ্ধান্ত।’ আর আমির বলেছিলেন, ‘পাকিস্তান ক্রিকেটের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র।’ কথাবার্তায় দুজনকেই আরও সতর্ক হতে বলেছে আইসিসি।
এই প্রসঙ্গেই আবার নিষিদ্ধ ত্রয়ীকে ভালো একটা বুদ্ধি দিয়েছেন সরফরাজ নেওয়াজ। সাবেক পেসারের কথা, আইসিসির ওপর যখন এতই অবিশ্বাস, তখন ব্যাপারটা ‘কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস’-এ নিয়ে গেলেই হয়। এমনিতে গঠনমূলক কথা সরফরাজের মুখ থেকে খুব কমই শোনা যায়। তবে এই পরামর্শটা কিন্তু আমিরদের জন্য খারাপ হবে বলে মনে হয় না!

আলোচনা- 'হাওয়ার হয়রানি নামে ঢেকে যায় যৌন সন্ত্রাস' by মির্জা তাসলিমা সুলতানা, সায়েমা খাতুন, নাসরিন খন্দকার

অবস্থাদৃষ্টে অনেকেই মনে করেছিলেন সরকারের টনক নড়েছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের নোটিশে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল ‘ইভ টিজিং নিষেধ’,

বিভিন্ন মহলে আলোচনার ফলে ইভ টিজিং রোধে কঠোর আইনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। সচেতনতার তৃপ্তির ঢেকুর তুলে মনোযোগ আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছুতে সরিয়ে নেওয়ার আগেই দেখা গেল গত ১৫ দিনে পত্রিকায় বারবার শিরোনাম হয়েছে ‘ইভ টিজিং’। মাত্র ক’দিনের ব্যবধানে হয়রানির শিকার নারী আত্মহত্যা করে এবং প্রতিবাদকারী শিক্ষক মিজানুর রহমানকে হত্যা করা হয়। অন্যায়ের প্রতিবাদকারী মিজানুর রহমানের মৃত্যুর খবর পত্রিকার পাতা থেকে সরে যেতে না যেতেই আবারো মরতে হলো প্রতিবাদী মা চাঁপা রানীকে, যিনি তার কন্যা সন্তানকে নিরন্তর নিপীড়নে পর্যুদস্ত জীবন থেকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন।

সাহিত্যালোচনা- 'মারিও ভার্গাস ইয়োসা'র সাহিত্যে নোবেলের রাজনৈতিক মোড়' by ফ্লোরা সরকার

পেরুর রাজনীতিক লেখক মারিও ভার্গাস ইয়োসা এবার সাহিত্যে নোবেল পেলেন। এবারের ফ্রাঙ্কফুট বইমেলায় সাহিত্যে নোবেল লোরিয়েটের নাম যখন দাবানলের মতো ছড়িয়ে গেল

তখন আর্জেন্টিনার বিখ্যাত নারী সাহিত্যিক লুইসা ভেলেনজুয়েলা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে মেক্সিকোর দৈনিক ‘লা জর্দানা’র সাংবাদিকদের এ বিষয়ে বলে উঠলেন-‘‘কী ভয়ঙ্কর! রাজনৈতিক মোড়টি শেষ পর্যন্ত মারিওর দিকেই গেল, এ ক্ষেত্রে আমি হলে কার্লোস ফুয়েনসকে পছন্দ করতাম।’’ টুইটার ওয়েবসাইটের একজন ব্যবহারকারী এবারের নোবেল বিজয়ী মারিও ভার্গাস ইয়োসা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন-‘‘এবারের সাহিত্যের নোবেল পুরস্কারটি বর্ণবাদী, ফ্যাসিস্ট, প্রো-হিসপানিক, স্বদেশ ও ইন্ডিজেনাস সংস্কৃতির পরিপন্থী এবং রক্ষণশীলতার প্রতিভূ লেখক মারিও ভার্গাস ইয়োসাকে দেওয়া হয়েছে, লাতিন আমেরিকা, যে দেশটি ইউরোপের পশ্চাৎভূমি নামে পরিচিত।’’ নোবেল বিজয়ী মারিও সম্পর্কে এসব মন্তব্যের কারণ তিনি একজন বিতর্কিত লেখক।

রাজনৈতিক আলোচনা- 'জনগণ ও সেনাবাহিনীর বিপজ্জনক বিচ্ছিন্নতা' by নূরুল কবীর

আমাদের জনগণের সঙ্গে আমাদেরই দেশের সেনাবাহিনীর দূরত্ব বাড়ছেই। ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে গণআন্দোলনের মুখে জেনারেল এরশাদের স্বৈরতান্ত্রিক সেনাশাসনের অবসানের পর

থেকে ২০০৬ সালের জানুয়ারি মাসে জেনারেল মঈন ইউ আহমেদের পরোক্ষ ক্ষমতা দখলের পূর্ব পর্যন্ত সময়কালে আমদের জাতীয় সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ, লেখাপড়া ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির প্রতি মনোনিবেশ করেছিল বলে শোনা যায়। পাশাপাশি নানান প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপদাপন্ন জনগণের পাশে তাদের দাঁড়াতে দেখা গেছে এই কালপর্বে।

রাজনৈতিক আলোচনা- 'নির্মানবীয় রাজনীতি ও জনসমাজের বিপজ্জনক নীরবতা' by নূরুল কবীর

প্রতিশ্রুতি রক্ষার সঙ্গে মানবীয় মর্যাদার প্রশ্নটি একান্তভাবে সম্পর্কিত। প্রাণীকূলে মানুষ ছাড়া অন্য কোনো জীব-জানোয়ার কিংবা পশুপাখি কি একে অন্যকে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়?

আপন আপন প্রজাতিকে সুচারুরূপে পরিচালনা করার জন্য কি নিজেদের মধ্যে সংগঠন গড়ে তোলে তারা? নিজেদের ভেতরে নেতা নির্বাচন করে? নেতৃত্ব লাভের জন্য প্রতিযোগিতা হয় প্রার্থীদের মধ্যে? ভোট সংগ্রহের জন্য প্রতিযোগী প্রার্থীদের কি কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে হয়? আমরা জানি না। প্রাণীবিজ্ঞানের কোনো গবেষণাই জন্তু-জানোয়ার, পশু-পাখির ব্যাপারে এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর আমাদের সামনে এখনো হাজির করেনি। কিন্তু মানুষের মধ্যে এসব আছে। ব্যক্তি মানুষ নিজেদের সুখ-সুবিধা ও নিরাপত্তার জন্য সমাজবদ্ধ হয়েছে।

আলোচনা- 'সত্য প্রকাশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের ত্রিমুখী অভিযান' by নূরুল কবীর

সংবাদমাধ্যম ও সংবাদকর্মীগণ সম্প্রতি রাষ্ট্রের ত্রিমুখী আক্রমণের মুখোমুখি হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা, এমনকি বিচার বিভাগও, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছে।

এই ত্রিমুখী আক্রমণের ভেতর কোনো সমন্বিত যোগাযোগ কিংবা অভিন্ন রাজনৈতিক লক্ষ্য আছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। কিন্তু এই ভিন্ন ভিন্ন আক্রমণের অভিন্ন কুফল সংবাদমাধ্যমকে ত্রিশঙ্কু অবস্থায় নিপতিত করে ফেলার উপক্রম করেছে।
সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতন্ত্রায়নের জন্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক, বিচারিক প্রভৃতি রাষ্ট্রীয় তথ্যের অবাধ প্রবাহ প্রয়োজন – প্রয়োজন সেই সব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সমাজের নানান শ্রেণীর মানুষের চিন্তাদীপ্ত আলাপ-আলোচনা ও বুদ্ধিদীপ্ত তর্ক-বিতর্ক জারি রাখা।