Monday, August 19, 2019

চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে তোড়জোড়

বরিস জনসন
পরিণতি যা–ই হোক, আগামী ৩১ অক্টোবর প্রয়োজনে চুক্তি ছাড়াই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বিচ্ছেদ (ব্রেক্সিট) কার্যকর করতে অটল যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। কিন্তু সংসদে বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের অনেক আইনপ্রণেতা চুক্তিবিহীন বিচ্ছেদ (নো ডিল ব্রেক্সিট) ঠেকাতে উঠেপড়ে লেগেছেন। আস্থা ভোটে হারিয়ে বরিস জনসনকে বিদায় করতেও একমত বিরোধীরা। কিন্তু বরিস জনসনকে বিদায় করার পর প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক।

বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, বরিসকে আস্থা ভোটে পরাজিত করলে তাঁকেই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী করতে হবে। সর্বদলীয় আইনপ্রণেতাদের সমর্থন চেয়ে করবিন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর কাজ হবে উপযুক্ত সময়ের জন্য ব্রেক্সিট পিছিয়ে দেওয়া ও এরপর সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করা। করবিন বলেন, কনজারভেটিভ দল ব্রেক্সিট পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। একমাত্র সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে এর সমাধান হতে পারে।

কিন্তু ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের বিদ্রোহীরা বামপন্থী করবিনকে প্রধানমন্ত্রী মানতে নারাজ। ব্রেক্সিটবিরোধী লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা জো সুইনসনও করবিনকে প্রধানমন্ত্রী করার বিরোধী। জেরেমি করবিনকে ‘বিভাজন সৃষ্টিকারী’ বলে আখ্যায়িত করেন সুইনসন। তিনি কনজারভেটিভ দলীয় প্রবীণ আইনপ্রণেতা কেন ক্লেয়ার্ক কিংবা লেবার পার্টির সাবেক নেতা হ্যারিয়েট হারমেনকে প্রধানমন্ত্রী করার প্রস্তাব করেন। বামপন্থী করবিনের আদর্শগত অবস্থান নিয়ে গৃহবিবাদে লিপ্ত লেবার আইনপ্রণেতাদের একটি অংশও করবিনের বিরুদ্ধে সরব।

তবে করবিনের অনুসারী শ্যাডো চ্যান্সেলর জন ম্যাকডোনাল্ড বলেছেন, বরিসকে আস্থা ভোটে সরানোর পর করবিন অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হবেন, এটি কোনো সমঝোতার বিষয় নয়। তিনি বলেন, বরিসকে পরাজিত করার আলামত স্পষ্ট হলেই সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব আনবে লেবার পার্টি।

গ্রীষ্মের ছুটি থাকায় যুক্তরাজ্য পার্লামেন্টের কার্যক্রম আগামী ৩ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়ার কথা। তবে গত রোববার প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে সর্বদলীয় শতাধিক আইনপ্রণেতা দ্রুত পার্লামেন্টের অধিবেশন চালুর দাবি জানিয়েছেন। চুক্তিবিহীন বিচ্ছেদের পরিণতি নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরে তাঁরা বলেন, গণতান্ত্রিক রীতিতে বিশ্বাসী যেকোনো নেতা এমন পরিস্থিতিতে পার্লামেন্টের ভূমিকা উপেক্ষা করতে পারেন না।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের মন্ত্রিসভায় ছিলেন এমন আইনপ্রণেতারা বরিসের ‘নো ডিল’ বিচ্ছেদ ঠেকাতে বিরোধীদের সঙ্গে এককাট্টা। ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) সমর্থনসহ মাত্র একজনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আছে কনজারভেটিভ দল। ফলে ক্ষমতাসীন দলের মাত্র একজন আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধাচরণ আস্থা ভোটে সরকারের পতন ঘটাতে যথেষ্ট। গুঞ্জন ছড়িয়েছে, আস্থা ভোটে হারলে বরিস জনসন ৩১ অক্টোবরের পরে সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঠিক করবেন। আর ইইউর সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী ৩১ অক্টোবর আপনা-আপনি বিচ্ছেদ ঘটে যাবে।

নিয়ম অনুযায়ী আস্থা ভোটে সরকার পরাজিত হলে বিরোধীরা নতুন সরকার গঠনের জন্য দুই সপ্তাহ সময় পাবেন। কিন্তু সেই সরকার গঠনে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন মিলবে কি না, তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।

প্রধানমন্ত্রী বরিস নিজ দলের বিদ্রোহীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, পার্লামেন্ট বিচ্ছেদ আটকে দিতে সক্ষম হবে প্রতীয়মান হলে ইইউ যুক্তরাজ্যের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী চুক্তিতে রাজি হবে না। নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আগ পর্যন্ত ইইউর সঙ্গে আলোচনা না করার কৌশল নিয়েছিলেন বরিস। কিন্তু চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েলে মাখোঁ এবং জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন।

এদিকে গত রোববার দ্য টাইমসের খবরে ফাঁস হওয়া সরকারি এক নথিতে চুক্তিবিহীন বিচ্ছেদের ধ্বংসাত্মক পরিণতির কথা উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, চুক্তিবিহীন বিচ্ছেদ হলে যুক্তরাজ্যে খাদ্য ও ওষুধের ঘাটতির পাশাপাশি জন–অসন্তোষ দেখা দিতে পারে।

তবে চুক্তিবিহীন বিচ্ছেদ প্রস্তুতির দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী মাইকেল গোভ দাবি করেন, ওই নথিতে সর্বোচ্চ খারাপ পরিণতির কথা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বরিস দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এসব ধকল মোকাবিলায় বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

কাশ্মীরে কিছু স্কুল খুলল

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের শ্রীনগরে সরকারি অফিস ও কিছু স্কুল আজ সোমবার খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ঝামেলা এড়াতে দুই সপ্তাহব্যাপী যে কড়া নিরাপত্তা জারি করা হয়েছিল, ধীরে ধীরে তা শিথিল করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সরকারি অফিস ও কিছু স্কুলের কার্যক্রম আজ শুরু হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, কাশ্মীর উপত্যকায় দুই-তৃতীয়াংশ টেলিফোনে পুনরায় সংযোগ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবাও পুনরায় চালু করে দেওয়া হবে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিসহ কয়েকশ রাজনীতিবিদ এখনো পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
শ্রীনগরের ডেপুটি কমিশনার শহীদ ইকবাল বলেন, সেখানকার ৯০০ প্রাথমিক স্কুলের মধ্যে মাত্র ১৯৬টি আজ থেকে চালু হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অল্প কিছু এলাকায় স্কুল খুলে দেওয়া হয়েছে। যেসব স্কুলে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু হয়েছে, সেখানকার অভিভাবকদের শিশুদের স্কুলে পাঠানোর অনুরোধ জানাচ্ছি। বাচ্চাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের।’
তবে এনডিটিভি অনলাইন জানিয়েছে, সকালে খোলার কিছুক্ষণ পরেই অনেক স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। শ্রীনগরের খ্যাতনামা এক স্কুলের কর্মচারী বলেন, শিক্ষক ও কর্মীদের কয়েকজন এলেও শিক্ষার্থীরা কেউ আসেনি।
প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার তথ্যানুযায়ী, বেমিনার পলিসি পাবলিক স্কুলসহ কেন্দ্রীয় কয়েকটি বিদ্যালয়ে হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষার্থীর দেখা পাওয়া গেছে।
শনিবার রাতভর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলে কাশ্মীরের নাগরিকদের। গুজব ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে জম্মুর বেশ কিছু অংশে এখনো মুঠোফোনের ব্যবহার বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা। জম্মু ও কাশ্মীরের প্রধান সচিব রোহিত কানসাল বলেছেন, পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর আরও কয়েক ঘণ্টার জন্য বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে। দুটি বা তিনটি সংঘর্ষের ঘটনার কথা তিনি স্বীকার করেছেন। তবে এ ঘটনায় মাত্র দু'জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
কাশ্মীরের অধিবাসীদের চলাচল ও ইন্টারনেট বা ফোন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আর কত দিন চলবে— এমন প্রশ্নের উত্তরে জম্মু ও কাশ্মীরের গভর্নর সত্যপাল মালিকের উপদেষ্টা কে বিজয়া কুমার বলেন, ‘২০১০ সালে প্রায় ১১০ জন মারা যায়। এবার জনগণের জান বাঁচানোই আমাদের প্রধান কাজ।’ তিনি বলেন, খুব শিগগিরই শতভাগ টেলিফোন চালু করে দেওয়া হবে।
শ্রীনগরে সরকারি অফিস আর স্কুল চালু শুরু হলেও দোকান এখনো বন্ধ রয়েছে। রাস্তাগুলোর বেশির ভাগই এখনো জনশূন্য।

ইরানি তেল ট্যাংকার হস্তান্তরের মার্কিন অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করল জিব্রাল্টার

জিব্রাল্টার বন্দর (ফাইল ছবি)
ব্রিটেনের স্বায়ত্বশাসিত দূরবর্তী অঞ্চল জিব্রাল্টারের স্থানীয় সরকার বহুল আলোচিত ইরানি তেল ট্যাংকার হস্তান্তরের মার্কিন অনুরোধ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। জিব্রাল্টার গতকাল (রোববার) এক সরকারি ঘোষণায় বলেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ’র নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার সঙ্গে মার্কিন আবেদন সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় তা প্রত্যাখ্যান করা হলো।

গত বৃহস্পতিবার জিব্রাল্টারের সুপ্রিম কোর্ট ইরানি তেল ট্যাংকার মুক্ত করার নির্দেশ দেয়ার পর তেহরানের পক্ষ থেকে এটির নাম পরিবর্তন করা হয়। আগে এটির নাম গ্রেস-ওয়ান থাকলেও বর্তমানে এই সুপার তেল ট্যাংকারের নাম আদরিয়ান দারিয়া।

জিব্রাল্টার সরকারের ঘোষণায় বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ইরানি তেল ট্যাংকারটির আটকাদেশের মেয়াদ বাড়িয়ে এটিকে ওয়াশিংটনের হাতে তুলে দেয়ার যে আবেদন জানিয়েছে তা তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের আরোপিত একতরফা নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও ইইউ’র নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে মানানসই না হওয়ায় তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

ব্রিটিশ নৌবাহিনী গত ৪ জুলাই জিব্রাল্টার প্রণালীর আন্তর্জাতিক পানিসীমা থেকে ২১ লাখ ব্যারেল তেলবাহী ইরানি ট্যাংকার ‘গ্রেস-ওয়ান’ আটক করে।  ট্যাংকারটি সিরিয়ায় যাচ্ছিল বলে দাবি করে ব্রিটেন জানায়, সিরিয়ার ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে গিয়ে ইরানি তেল ট্যাংকার আটক করা হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো জানায়, ইরানের ওপর আরোপিত আমেরিকার একতরফা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ওয়াশিংটনের অনুরোধে লন্ডন ওই জলদস্যুবৃত্তি করেছে।

এরপর কূটনৈতিক চ্যানেলে ইরানের ব্যাপক প্রচেষ্টার পর গত বৃহস্পতিবার জিব্রাল্টারের সুপ্রিম কোর্ট সুপার তেল ট্যাংকারটি মুক্ত করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু শনিবার মার্কিন বিচার বিভাগ তেল ট্যাংকারটিকে মুক্ত না করে আমেরিকার কাছে হস্তান্তর করার জন্য জিব্রাল্টারকে অনুরোধ জানায়। ওই অনুরোধ পাওয়ার পরপরই জিব্রাল্টার জানিয়েছিল, তারা তেল ট্যাংকারটি মুক্ত করে দেয়ার পর আমেরিকার অনুরোধ বিবেচনা করবে। কিন্তু সে অবস্থান পরিবর্তন করে জিব্রাল্টার রোববার সরাসরি আমেরিকার অনুরোধ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করল।

ভারতের পারমাণবিক হুমকির বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে জেগে উঠার আহ্বান ইমরানের

ভারত ও পাকিস্তানের নেতাদের মধ্যে বাকযুদ্ধের মধ্যে বিশ্ববাসীকে ভারতের পারমাণবিক হুমকির বিরুদ্ধে জেগে উঠার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। রোববার তিনি দিল্লিতে ‘ফ্যাসিস্ট’ ও ‘রেসিস্ট’ সরকারের অধীনে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার আহ্বান জানান। ভারত ইস্যুতে ধারাবাহিক টুইট করেন তিনি। একটি টুইটে ইমরান বলেছেন, ফ্যাসিস্ট, রেসিস্ট হিন্দু আধিপত্যবাদী মোদি সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি অবশ্যই বিশ্বকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। এটি এমন একটি ইস্যু যা শুধু আঞ্চলিক নয়, পুরো বিশ্বের ওপর প্রভাব ফেলছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।
আরেক টুইটে ইমরান খান বলেছেন, হিন্দু আধিপত্যবাদী সরকার শুধু ভারতের সংখ্যালঘুদের জন্য হুমকি নয়, নেহরু ও গান্ধীর ভারতের জন্যও হুমকি, একই সঙ্গে তা পাকিস্তানের জন্যও হুমকি। তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির কট্টর মনোভাব ও তাদের আদর্শিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) সম্পর্কে আরও ভালভাবে জানার জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ভারতীয় মুসলিমদের দুর্দশা সম্পর্কে ইমরান লিখেছেন, এরই মধ্যে ৪০ লাখ ভারতীয় মুসলিম বন্দিশিবিরে আটক থাকার মুখে পড়েছেন। তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হচ্ছে। দৈত্য যখন বোতলের বাইরে বেরিয়ে এসেছে এবং ঘৃণা-গণহত্যার তত্ত্ব ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে, আরএসএসের দৃর্বৃত্তরা তান্ডব চালাচ্ছে, তখন অবশ্যই বিষয়টি আমলে নিতে হবে বিশ্বকে। আর যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তা বন্ধ করতে ব্যবস্থা না নেয় তাহলে এ ধারার বিস্তার ঘটতে থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ৫ই আগস্ট আকস্মিকভাবে কাশ্মীরকে দেয়া স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে ভারত। এমনিতেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চিরদিনের। সেই উত্তেজনায় যেন ঘি ঢেলেছে এই কাশ্মীর ইস্যু। চীনের সমর্থনে ইস্যুটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নিয়ে গেছে পাকিস্তান। শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ১৫ সদস্যের পরিষদ কাশ্মীর সঙ্কট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সব পক্ষকে সংঘাত এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে। ওই একই দিনে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং লাইমলাইটে নিয়ে আসেন ভারতের পারমাণবিক ইস্যু। তিনি ইঙ্গিত দেন ভারত তার পারমাণবিক ইস্যু প্রথম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নীতির পরিবর্তন করতে পারে।
সঙ্গে সঙ্গে এমন মন্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যায়িত করে এর নিন্দা জানায় পাকিস্তান। তারা এমন মন্তব্যকে দুর্ভাগ্যজনক বলেও অভিহিত করে। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সর্বশেষ মন্তব্য এটাই বলে যে, পাকিস্তানের সঙ্গে কোনোই আলোচনা নয়, যদিও বহু দেশ এমন আলোচনাকে উৎসাহিত করেছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদি পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করতেই হয় কখনো, তাহলে তা হতে পারে আজাদ কাশ্মীর নিয়ে। উল্লেখ্য, আজাদ কাশ্মীর হলো পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর।
রাজনাথ সিং এ সম্পর্কে যে টুইট করেছেন তা এরকম: কিছু মানুষ বিশ্বাস করেন এবং বলেন যে, পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা হওয়া উচিত। কিন্তু পাকিস্তান যতদিন পর্যন্ত সন্ত্রাসে সমর্থন দেয়া বন্ধ না করবে, ততদিন কিছুই হবে না। যদি পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করতে হয় তাহলে তা হবে আজাদ কাশ্মীর নিয়ে।
রাজনাথ সিংয়ের এমন মন্তব্যকে ভারতের মনোভাবের সঙ্কট বলে আখ্যায়িত করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। তিনি বলেছেন, কাশ্মীর ইস্যুতে এটা হলো বিতর্কিত ও অবৈধ মন্তব্য। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন তা আমরা দেখেছি।

কাশ্মীরে নির্বিচারে ধরপাকড়

কাশ্মীরে বিক্ষোভকারীদের ওপর ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় আহত হয়েছে অন্তত ৬ জন। শনিবার ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের প্রধান শহর শ্রীনগরে বিক্ষুব্ধ কাশ্মীরিদের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। দুই পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, শুক্রবার বিকাল থেকেই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।
শ্রীনগরের স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনে তারা ক্রমাগত ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে  ব্যাপক শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতিত হয়ে আসছেন। পাথর ছোড়ার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেও তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। জম্মু ও কাশ্মীরের কর্মকর্তারা এখনো কোনো তথ্য দেয়নি যাতে স্পষ্ট হয় এখন পর্যন্ত পাথর ছোড়া ও এতে আহতের সংখ্যা কত। কাশ্মীর কর্তৃপক্ষ শ্রীনগরে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে দাবি করেছে, এই অঞ্চলে ‘শান্তিপূর্ণ’ অবস্থা বিরাজ করছে। তবে তারা শ্রীনগরে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে জড়ানোর ঘটনার বিষয়ে অবগত কিনা তা স্পষ্ট করা হয়নি।
এদিকে কাশ্মীর কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও কার্যত এখনো অবরুদ্ধ গোটা উপত্যকা।
শনিবার কর্তৃপক্ষ জানায়, সমগ্র জম্মুতে এবং কাশ্মীরের বেশ কিছু এলাকায় পরিষেবাগুলো চালু হয়েছে। কিন্তু সেখানকার বেশিরভাগ শহুরে এলাকাই এখনো অবরুদ্ধ হয়ে আছে। সেখানে চালু হয়নি ইন্টারনেট কিংবা টেলিফোন সেবা। একইসঙ্গে, এখনো ছেড়ে দেয়া হয়নি কাশ্মীরের আটক অর্ধসহস্র নেতাকর্মীকে। তাদের মধ্যে থেকে অনেককেই অন্য রাজ্যের কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শনিবার হরি মহারাজা সিং হাসপাতালের দুই কর্মকর্তা জানান, শ্রীনগরের সৌরা ও চাদুরা জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর পেলেটে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুজন। হাসপাতালটি আহতদের তথ্য সংগ্রহ করছে। তাদের মধ্যে একজনের নাম গোলাম রাসুল। তিনি আলিকাদাল এলাকায় একটি দোকান পরিচালনা করতেন। হাসপাতালে তার সন্তান নাসির জানান, তার পিতাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কমপক্ষে ২০টি পেলেটবিদ্ধ করে।
শ্রীনগরের বেমিনা এলাকায় প্রায় এক ডজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন যে, সেখানকার পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যরা বেশ কয়েকটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে। এ সময় তারা কমপক্ষে ৬ জনকে ধরে নিয়ে যায় ও বাড়িগুলো রড দিয়ে পিটিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করে। এর আগে সকালে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর স্থানীয়দের পাথর নিক্ষেপের তুচ্ছ ঘটনা ঘটে।
এদিকে কাশ্মীরজুড়ে বিরাজ করছে আতঙ্ক। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বাছবিচারহীনভাবে গ্রেপ্তার করতে শুরু করেছে সেখানে। শাহিদা নামের এক গৃহিণী জানান, তিনি ও তার বর রিয়াজ আহমেদ তার বাড়ির নিচতলায় বসে চা খাচ্ছিলেন। এমন সময় নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ১৫ সদস্য তাদের বাড়িতে ঢুকে রিয়াজ আহমেদকে নিয়ে চলে যায়। যাওয়ার আগে তারা বাড়ির জানালা ভাঙচুর করে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে শাহিদা বলেন, আমি আমার ২ মাস বয়সী শিশুকে আগলে রাখলেও তারা রিয়াজকে নির্মমভাবে পেটাতে থাকে। সে ব্যবসা করে, কখনো পাথর ছোড়েনি। ১৮ বছর বয়সী আরেক কিশোর সিমরান শাহনেওয়াজের পায়ে ব্যান্ডেজ দেখা যায়। সে জানায়, একজন পুলিশ কর্মকর্তা রাস্তায় তাকে লোহার দণ্ড দিয়ে নির্দয়ের মতো আঘাত করেছে। 
গত ৩০ বছর ধরে কাশ্মীরে নানা ধরনের নির্যাতন চালিয়ে আসছে ভারতীয় বাহিনী। এই সময়ের মধ্যে হত্যা করা হয়েছে কমপক্ষে অর্ধলাখ কাশ্মীরিকে। বিশ্লেষকদের ধারণা, মোদি সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্ত কাশ্মীরকে আরো উত্তপ্ত করে তুলবে এবং তাদের সশস্ত্র আন্দোলনে আরো জ্বালানি সরবরাহ করবে। যদিও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দাবি, ৩৭০ ধারা বাতিল কাশ্মীরের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। কিন্তু কাশ্মীরিদের রয়েছে মোদি সরকারের প্রতি তীব্র অবিশ্বাস। কাশ্মীরিদের না জানিয়েই তাদের বিশেষ অধিকার বাতিলের ঘোষণা আসার পরই এর বিরুদ্ধে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা উপত্যকা।
এ ছাড়া, নতুন এ সংকট উত্তাপ ছড়িয়েছে সীমান্তের ওপারেও। লাইন অব কন্ট্রোলে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব বিরাজ করছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঘোষণা দিয়েছে নির্যাতিত কাশ্মীরিদের পক্ষে থাকার। শনিবার পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে এক ভারতীয় সেনা নিহত হয়। গত সপ্তাহে সীমান্ত যুদ্ধে আরো ৫ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল পাকিস্তান।

পাথর হাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে লড়ছে কাশ্মিরি জনতা!

পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর প্রবল উপস্থিতি সত্ত্বেও ভারতের পক্ষে জম্মু-কাশ্মিরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর থেকে জানা গেছে, শুক্র ও শনিবার দুই দিন পাথর হাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে কাশ্মিরি জনতা। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে রয়টার্স জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর স্থানীয়দের পাথর নিক্ষেপের ঘটনার পর বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযানের সময় তাদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন নিপীড়ন চালানো হয়েছে। অবশ্য পাথর নিক্ষেপকে ‘বড় কোনও ঘটনা’ মনে করছেন না স্থানীয় পুলিশ প্রধান। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতার সংঘর্ষের পর শ্রীনগরের কিছু এলাকায় পুনরায় বিধিনিষেধ কঠোর করা হয়েছে।
সোমবার (৫ আগস্ট) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। এদিকে জম্মু-কাশ্মিরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে একটি বিলও পাস করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত সেনা। গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানকার শতাধিক স্থানীয় নেতাকে। ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবা সীমিত রয়েছে। চলাচলেও রয়েছে বিধিনিষেধ। তা সত্ত্বেও ক্ষোভে ফুঁসছে সেখানকার সাধারণ মানুষ।
দুই পুলিশ কর্মকর্তা ও একদল প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে বলেছেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় জম্মু-কাশ্মিরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। শ্রীনগরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দুই দিন ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর কাশ্মিরিদের পাথর নিক্ষেপের পর পুলিশ বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে। জম্মু-কাশ্মিরের রাজ্য সরকার কিংবা বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের কেউই বাড়িতে বাড়িতে পুলিশি অভিযানের অভিযোগ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। পাথর নিক্ষেপ, তল্লাশি অভিযান, গ্রেফতার কিংবা হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কেও কোনও তথ্য দেয়নি তারা। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, শ্রীনগরের বেমিনা এলাকায় শুক্রবার সকালে কয়েকটি বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী। এই অভিযানের সময় তারা পাথর ও রড দিয়ে কয়েকটি বাড়িতে তাণ্ডব চালায়। সে সময় কমপক্ষে ছয় ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে যায় তারা।
রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্র ও শনিবার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর পাথর নিক্ষেপের পর বিক্ষোভ প্রদর্শন করে একদল মানুষ। তবে জম্মু-কাশ্মিরের পুলিশ প্রধান দিলবাগ সিং বলেছেন, উপত্যকার এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চলে বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে এবং সেখানকার মানুষ কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা দিচ্ছে। সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে তিনি বলেন, দুই/একজন দুষ্কৃতকারী যদি নিরাপত্তা বাহিনীকে পাথর ছুড়েও থাকে, তো সেটা ‘বড় কোনও ঘটনা’ নয়।
ভারতীয় বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই) সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরব থেকে হজের প্রথম বহর কাশ্মিরে ফেরার একদিন আগে শনিবার রাতে শ্রীনগরের বেশ কিছু এলাকায় সংঘর্ষ হয়েছে। সে সময় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। তবে আহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি। সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের পর ওইসব এলাকায় রবিবার শ্রীনগরের কিছু অঞ্চলে বিধিনিষেধ দ্বিগুণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ত্রিপুরার চাকমা সংগঠনের দাবি: পার্বত্য চট্টগ্রাম ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করেছে ত্রিপুরার চাকমা সমপ্রদায়। বৃটিশদের কাছ থেকে ভারতের স্বাধীনতার সাত দশক পর এমন দাবি করেছে তারা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) আদিবাসী নির্যাতনের অভিযোগে বিচারের দাবিও জানিয়েছে স্থানীয় চাকমা সংগঠনগুলো। এ খবর দিয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

এতে বলা হয়, চলতি বছর ত্রিপুরার ১১টি অংশে বিক্ষোভ করেছে চাকমা ন্যাশনাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া ও ত্রিপুরা চাকমা স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন। ২০১৬ সাল থেকে ১৭ই আগস্টকে কালো দিন হিসেবে পালন করে আসছে সংগঠন দুটি। সমপ্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতের অংশ হিসেবে দাবি করেছে তারা। ১৭ই আগস্ট ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে চাকমা ন্যাশনাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার সাধারণ সমপাদক উদয় জ্যোতি চাকমা বলেন, দেশভাগের সময় পার্বত্য চট্টগ্রামকে তৎকালীন পাকিস্তানের কাছে দিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবেই দিনটিকে কালো দিন হিসেবে পালন করা হয়।

সংগঠনটির ভাইস প্রেসিডেন্ট অনিরুদ্ধ চাকমা বলেন, আমরা বিগত বছরগুলোর মতো এবারো কালো দিন পালন করছি। চাকমা জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো নির্যাতন, জাতিগত নিধন ও অন্যায়ের প্রতিবাদ হিসেবে দিনটি পালন করা হচ্ছে।
আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করি এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের কাছে ন্যায়বিচার ও সহানুভূতির আবেদন জানাচ্ছি।

সন্দেহের বশে ৩ ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর!

‘গাজা উপত্যকার নিরাপত্তা বেষ্টনীতে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে’; ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এমন ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে সেখানে ৩ ফিলিস্তিনির প্রাণহানীর কথা জানা গেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ হয়ে আরও একজন ব্যক্তি মারাত্মক আহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গাজা উপত্যকা ও পশ্চিমতীরে বেসামরিক হত্যার বিশ্ব ইতিহাসে ভয়াবহতার এক নৃশংস নজির স্থাপন করেছে ইসরায়েল। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ইসরায়েলি বাহিনীকে ফিলিস্তিনেদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর আইনি অধিকার দেওয়া হয়। তখন থেকে স্রেফ সন্দেহের বশে বিপুল সংখ্যক মানুষকে হত্যা করেছে ইসরায়েল।
রবিবার ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে গুলিতে তিন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার কথা জানানো হলেও তাদের বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, নিরাপত্তা বেষ্টনীর কাছে সশস্ত্র সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে তারা।
গাজাভিত্তিক মুক্তিকামী সশস্ত্র সংগঠনগুলো ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলে রকেট নিক্ষেপ জোরালো করার পর থেকে সেখানকার বেসামরিক অঞ্চলে (বাফার জোন) উত্তেজনা বেড়েছে। শনিবার ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করে, গাজা থেকে তাদের দেশে তিনটি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তার মধ্যে দুইটি রকেট আইরন ডোম বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত করা হয়েছে।
গত সপ্তাহেও চুরি করে ইসরায়েলে প্রবেশ চেষ্টার অভিযোগ তুলে নিরাপত্তা বেষ্টনীর কাছে চার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে সেনাবাহিনী।
এ বছর মে মাসের প্রথম সপ্তাহে টানা তিনদিনের আগ্রাসনে গাজা উপত্যকায় কয়েক শ’ অবস্থানে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ২৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়। এক পর্যায়ে মিসরীয় মধ্যস্থতাকারীর উদ্যোগে অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হয় ফিলিস্তিনি জাতিমুক্তি আন্দোলনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস ও ইসরায়েল।
টানা এক যুগের ইসরায়েলি অবরোধে পৃথিবীর বৃহত্তম উন্মূক্ত কারাগারে রূপান্তরিত হয়েছে গাজা উপত্যকা। অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিতে গত বছর থেকে সীমান্তে সাপ্তাহিক বিক্ষোভ করে আসছে ফিলিস্তিনিরা। তখন থেকে  এ পর্যন্ত সেখানকার বেসামরিক অঞ্চলে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে ২৭০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে। আহত হয়েছে কয়েক হাজার।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গ্রুপ বহুদিন থেকে ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ আন্দোলনে ইসরায়েলের গুলি চালানোর নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তা সত্ত্বেও ইসরায়েলি নৃশংসতা থামেনি।

নাটোরের দর্শনীয় স্থানগুলোতে উপচেপড়া ভিড় by কামাল মৃধা

হালতিবিলে নৌকায় ভ্রমণপ্রেমীরা
নাটোরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঈদুল আজহার ষষ্ঠ দিনেও বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম লক্ষ্য করা গেছে। বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও তাদের ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন আয়োজকরা। উত্তরা গণভবন, ‘মিনি কক্সবাজার’ খ্যাত নলডাঙ্গা উপজেলার হালতিবিল, সিংড়া উপজেলার চলনবিল, নাটোর শিশু পার্ক, গুরুদাসপুর উপজেলার বিলসা, বাগাতিপাড়া উপজেলার গ্রিনভ্যালি পার্ক ও নাটোর রাজবাড়িতে ভ্রমণপ্রেমীরা ঈদ আনন্দ উপভোগ করছেন।
পাটুল বাজারের সেতুর আগে থেকে হালতিবিল পর্যন্ত মানুষের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। বিলে নৌকা ভাড়া করে দারুণ সময় কেটেছে তাদের। পাটুল বাজার থেকে শুরু করে হালতিবিল পর্যন্ত বসেছে শিশুদের খেলনা থেকে শুরু করে নানান মুখরোচক খাবারের দোকান। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত আছে পুলিশ বাহিনী।
সিংড়ার চলনবিল স্পট, গুরুদাসপুর উপজেলার বিলসা, নাটোর রাজবাড়ি আর লালপুরের গ্রিনভ্যালি পার্কেও ভ্রমণপ্রেমীরা ঈদ উদযাপন করেছেন। গ্রিনভ্যালি পার্কে দায়িত্বরত রায়হান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ঈদের দিন থেকেই শত শত দর্শনার্থী পার্কে এসেছে। সকাল ১০টা থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে ভিড়।
গ্রিনভ্যালি পার্ক দেখে খুশি সপরিবারে আসা মাসৌরা বেগম কাকলী। পার্কে বেড়ানো সদর উপজেলার দীঘাপতিয়া এলাকার শিশু কনক জানায়, গ্রিনভ্যালি পার্কে এসে তার ভালো লেগেছে। ট্রেন, নাগরদোলা, পাহাড় ও ইঞ্জিনবোটে উঠেছে সে। ভেতরের সেতুতে ছবিও তুলেছে।
নাটোরের উত্তরা গণভবন

সিংড়া উপজেলা থেকে মা-বাবার সঙ্গে গণভবন দেখতে এসেছে শিশু কুমকুম। এখানকার মিনি চিড়িয়াখানা, সংগ্রহশালা ও লেক দেখে তার ভালো লেগেছে। একই স্থানে বেড়াতে আসেন রাজশাহীর বাসিন্দা মুকুল।
নাটোরের এনডিসি জিয়াউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ঈদের দিন থেকে উত্তরা গণভবনে দর্শনার্থীরা ভিড় করেছে। সেদিন দুপুর ২টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। ওইদিন আয় হয় ২৮ হাজার টাকা। এর পরদিন টিকিট বিক্রি থেকে এসেছে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। শুক্রবার (১৬ আগস্ট) ঈদের পঞ্চম দিনে আয় হয়েছে ৫১ হাজার টাকা। শনিবার সকাল থেকেও বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর উপস্থিতি ছিল।
শনিবার দুপুরে উত্তরা গণভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, দর্শনার্থীরা মোটরসাইকেল, অটোচার্জার, মাইক্রোবাস ইত্যাদি নিয়ে গণভবনে হাজির হচ্ছেন। টিকিট কাউন্টারে লক্ষ্য করা গেছে তাদের লাইন।
দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত লোকবল নেই গণভবনে বলে জানান এনডিসি জিয়াউর রহমান। এ কারণে তাদের খুব হিমশিম খেতে হচ্ছে।
নাটোরে ঈদের ছুটিতে ভ্রমণপ্রেমীদের নদী ভ্রমণ

কে বেশি প্রিয় স্মার্টফোন না আমি!

স্মার্টফোনের ব্যবহার
একটা সময় তমাকে ভালোবাসার কথা বলতে প্রতিদিন কতদূর ছুটে গেছে রিয়াজ। তমার ক্লাস থাকলে অপেক্ষা করেছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তার সম্মতির জন্য বন্ধুদের পর্যন্ত সাহায্য নিয়েছে রিয়াজ।

কিন্তু এখন বিয়ের পরে যতক্ষণ ঘরে জেগে থাকে রিয়াজের হাতে স্মার্টফোন। ঘুম থেকে উঠে প্রথম তার হাতে সেই ফোন। তমা কী বলছে, কী করছে তেমন পাত্তাই নেই রিয়াজের কাছে। মাঝে মাঝে তমার মনে হয় সে একটা ফোনপ্রেমী রোবটের সংসার করছে।

শুধু রিয়াজদের দোষ দিয়ে লাভ নেই একই সমস্যা অনেক তমাদেরও রযেছে। আজকাল স্মার্টফোনের ব্যবহার অতিরিক্ত বেড়েছে। যা আমাদের ব্যক্তিগত জীবনেও প্রভাব ফেলছে।

অনেক সঙ্গীই বিরক্ত হয়ে জানতে চাইছেন তোমার কাছে কে বেশি প্রিয় স্মার্টফোন না আমি(!)? এই প্রশ্নের উত্তর সঙ্গীরা যে কি দিচ্ছেন, আর সেটা সঠিক কথা বলছেন কিনা, তা বোঝা বেশ কঠিন। কারণ ভারতের আজকাল পত্রিকায় সম্প্রতি এক রিপোর্টে জানা গেছে, দেশটির জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশই ভালোবাসার মানুষের চেয়ে স্মার্টফোনের সঙ্গেই বেশি সময় কাটাচ্ছেন। এই জরিপ থেকেই বাংলাদেশের অবস্থাটা অনেকেই অনুমান করে নিচ্ছেন।

সমীক্ষা জানিয়েছে বিশ্বের জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ মানুষ একাধিকবার ফোন চেক করেন। অন্তত ৪৪ শতাংশ বারবার ফোন চেক করেন। অবশ্য তরুণদের মধ্যেই স্মার্টফোন প্রীতি সবচেয়ে বেশি।

স্মার্টফোনের সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারছেন না অনেকেই। বিশেষ করে সোস্যাল মিডিয়ার বন্ধুত্ব আমরা সীমাবদ্ধ রাখতে পারছিনা এখানেই।যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আমাদের পারিবারিক জীবনেও।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন কাজে মনোযোগ বাড়াতে ও সংসার জীবনে সুখী হতে হাতের ফোনটি পাশে রাখুন। সঙ্গীকে সময় দিন, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কোয়ালিটি সময় কাটান।

তিব্বতে মিলেছে ‘রহস্যময় আদিম মানুষের’ বসবাসের নজির

তিব্বতের মতো অত্যন্ত উঁচু স্থানে মানুষের আদিম প্রজাতি রহস্যময় 'ডেনিসোভান'দের বসবাস ছিল বলে প্রমাণ মিলেছে। বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী 'নেচার’-এ এমন দাবি করেছেন গবেষকরা। তাদের দাবি, এর আগে কখনোই ধারণা করা যায়নি যে এত উঁচুতে ডেনিসোভানরা বসবাস করতে পারতো।
ডেনিসোভানরা ছিল মনুষ্য প্রজাতিগুলোর মধ্যে একটি রহস্যময় প্রজাতি, যারা এখনকার আধুনিক মানুষের আগে এশিয়ায় বসবাস করতো। ধারণা করা হয়, হাজার বছর আগে তারা পৃথিবীর অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে। চরম প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার ক্ষমতা একমাত্র বর্তমান মানব প্রজাতি হোমো স্যাপিয়েন্স-এর সাথেই এটি যুক্ত ছিল। আধুনিক মানুষের প্রাচীন এই পূর্বপুরুষ থেকে একটি জিন বর্তমান প্রজাতিতে এসেছে, যার মাধ্যমে আধুনিক মানুষ অনেক উঁচু কোনও স্থানে টিকে থাকার ক্ষমতা পেয়েছে।
১৯৮০ সালে তিব্বতের মালভূমিতে ৩ হাজার ২৮০ মিটার উচ্চতায় বৈশিয়া কার্স্ট গুহাতে পাওয়া যায় ডেনিসোভা প্রজাতির নিচের চোয়ালের হাড়। কার্বন টেস্টের বদলে ইউরেনিয়াম-সিরিজ ডেটিং করা হয় অস্থিগুলোর বয়স বের করার জন্যে। চোয়ালের হাড়গুলো প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার বছরের পুরনো বলে দাবি করেন গবেষকরা।
এই গবেষণাপত্রের সহ-লেখক জার্মানির লিপজিগের বিবর্তনবাদী নৃতাত্ত্বিক গবেষণা সংস্থা ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইন্সটিটিউটের জিন জ্যাকস হাবলিন বলেন, ‘যখন আমরা বর্তমান মানুষের আদি প্রজাতি নিয়েনডারথাল বা ডেনিসোভা নিয়ে গবেষণা করেছি তখন দেখা গেছে যে তাদের চরম পরিবেশে টিকে থাকার ক্ষমতা বেশি ছিল না।’
তিব্বত মালভূমিতে পাওয়া ডেনিসোভান সাইট সম্পর্কে মি. হাবলিন বলেন, ‘এটি একটি মালভূমি এবং অবশ্যই সেখানে বাস করার মতো প্রচুর সম্পদ ছিল, আর তারা শুধু মাঝে মাঝে আসতো এমনও নয়।’
গবেষকরা এই জীবাশ্মে সংরক্ষিত কোনও ডিএনএ’র খোঁজ পাচ্ছিলেন না। তখন তারা ভিন্ন পদ্ধতিতে প্রোটিন সংগ্রহ করেন। সেই কৌশলকে বলা যেতে পারে প্রাচীন প্রোটিন বিশ্লেষণ।
আরেক গবেষক ডেনমার্কের ইউনিভার্সিটি অব কোপেনহেগেনের ফ্রিডো ওয়েলকার বলেন, ‘আমাদের প্রোটিন বিশ্লেষণ থেকে পাওয়া তথ্য বলে যে, নিচের চোয়ালের হাড়টি হোমিনিন গোত্রের কারোর, যারা ডেনিসোভা গুহা থেকে প্রাপ্ত ডেনিসোভানদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত ছিল।"
এই আবিষ্কারটির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায়, ডেনিসোভা গুহাবাসীদের এমন একটি জিন ছিল, যা জাইপোক্সিয়া বা অধিকতর উচ্চতায় অক্সিজেনের অভাবের বিরুদ্ধে কাজ করে। এতদিন এটি ঘিরে একটি রহস্য ছিল। কেননা, সাইবেরিয়ার গুহাটি সমুদ্র সমতল থেকে মাত্র ৭০০ মিটার উচ্চতায়।
এর আগে পর্যন্ত সাইবেরিয়ার ডেনিসোভা গুহাতে পাওয়া জীবাশ্ম থেকে হাড় ও দাঁতের কিছু নমুনায় এই প্রজাতি সম্পর্কে জানা যায়। কিন্তু সেখান থেকে পাওয়া ডিএনএ থেকে জানা যায় যে এরা মানবজাতির একটি স্বতন্ত্র শাখা ছিল। এখন বিজ্ঞানীরা অন্য একটি সাইট থেকে প্রথম ডেনিসোভা জীবাশ্ম চিহ্নিত করলো।
এখনকার দিনে শেরপা, তিব্বতি এবং এ অঞ্চলের পার্শ্ববর্তী জনগোষ্ঠীরও একই ধরনের জিনগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যা কি-না হোমোসাপিয়েন্সরা হাজার হাজার বছর আগে ডেনিসোভানদের সাথে মিশে গিয়ে অর্জন করেছিল।

মিষ্টিকুমড়া ক্ষেতে ভাইরাসের প্রকোপ, কৃষক ও মৌচাষিরা বিপাকে by জাকির মোস্তাফিজ মিলু

বিবর্ণ হয়ে পচে যাওয়া মিষ্টি কুমড়া
গত বেশ কয়েক বছর যাবৎ ঠাকুরগাঁওয়ে মিষ্টিকুমড়া চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়ে আসছিলেন চাষিরা। এতে তারা তুলনামূলক অন্য ফসলের চেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছিলেন। কিন্তু এ বছর লাভের আশায় বেশি জমিতে মিষ্টিকুমড়া চাষ করে বিপদে পড়েছেন তারা। আগের মতো ওইসব ক্ষেতে এখন সারি সারি মিষ্টিকুমড়া তেমন চোখে পড়ছে না। কারণ, ব্যাপক হারে ‘মোজাইক’ নামক ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দিয়েছে জেলার মিষ্টি কুমড়া ক্ষেতে। শত শত বিঘা জমির কুমড়া গাছ ও সবুজ পাতা বিবর্ণ হয়ে গেছে।
ক্ষেতে বালাইনাশক ছিটিয়ে এই ভাইরাস থেকে ফসল বাঁচাতে পারছেন না কৃষক। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এক ক্ষেত থেকে অন্য ক্ষেতে। রোগ সারাতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক। দুশ্চিন্তার রেখা মৌচাষিদেরও কপালে। কারণ মিষ্টিকুমড়া ক্ষেত তাদের মধু আহরণের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র।
সদর উপজেলার নারগুণ গ্রামের কুমড়ো চাষি তাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ক্ষেতে গাছ বড় হয়েছে। ডগাও ছড়িয়ে পড়েছে। ফুল-ফল আসতে শুরু করেছে। আর এ সময়ে সবুজ ডগা, পাতা ও কুশি হলুদ হয়ে যাচ্ছে। এতে ফুল-ফল টিকছে না।’
একই গ্রামের বর্গা চাষি শাহ আলম জানান, তারা মিষ্টি কুমড়া সাথি ফসল হিসেবে আবাদ করেন। এ বছর আলু চাষ করে খুব একটা লাভ হয়নি। কুমড়া চাষ করে তারা সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেবেন বলে আশা করেছেন। এ ছাড়া আমন ধান ওঠা পর্যন্ত কুমড়া বিক্রির টাকা দিয়ে সংসারের খরচ মেটান তারা। কিন্তু এবার কুমড়া ক্ষেতে রোগ দেখা দেওয়ায় বিপদে পড়েছেন এলাকার কুমড়া চাষিরা।
বালিয়া গ্রামের আবদুল লতিফের অভিযোগ, তারা কোম্পানির বীজ কিনে প্রতারিত হয়েছেন।বীজ থেকে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে বলে ধারণা ভুক্তভোগী কৃষকদের। একই গ্রামের শুক জামাল বলেন, ‘কৃষি কর্মকর্তা ও কীটনাশক ব্যবসায়ীদের পরামর্শে ওষুধ ছিটিয়ে উপকার পাচ্ছেন না তারা। রোগ ছড়িয়ে পড়ছে এক ক্ষেত থেকে অন্য ক্ষেতে।’
শবদল হাট গ্রামের হাজী আবদুল হাই জানান, ২০-২৫ বছর ধরে তিনি মিষ্টিকুমড়া চাষ করছেন। এর আগে কুমড়া ক্ষেতে এ ধরনের মহামারি দেখা দেয়নি। লাভের আশায় অনেক বড় পুঁজি বিনিয়োগ করে তার পরিবার এখন ঝুঁকির মুখে।
এ দিকে কুমড়া চাষিদের পাশাপাশি মৌচাষিরাও ক্ষতির মুখে পড়েছে। ক্ষেতে ফুল না থাকায় তারা মধু আহরণ করতে পারছেন না। মৌচাষি কাদের বলেন, ‘কুমড়া চাষিদের পাশাপাশি মৌ-খামারিরাও ক্ষতিতে পড়েছেন। এ মৌসুমে কুমড়া ক্ষেতে মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে নিজেরা যেমন বাঁচে তেমনি আমরাও আর্থিকভাবে লাভবান হই। কিন্তু এবার চিত্র উল্টো। মৌমাছিকে চিনি কিনে খাওয়াতে হচ্ছে।’
কৃষি বিভাগ জানায়, আলু তোলার পর একই জমিতে মিষ্টিকুমড়া জাতীয় ফসল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন এ এলাকার কৃষক। বিশেষ করে কুমড়া একটি অর্থকরী ফসল হিসেবে সমাদৃত এখন কৃষকদের কাছে। উৎপাদন খরচ কম, লাভ পাওয়ায় প্রতিবছর কুমড়া আবাদ করছেন কৃষক।
জানা গেছে, সার-বীজ, কীটনাশক, সেচ ও পরিচর্যা বাবদ প্রতিবিঘা জমিতে কুমড়া চাষে খরচ হয়েছে প্রায়  ১২ হাজার টাকা। কিন্তু ফলনে বিপর্যয় দেখা দেওয়ায় এ ক্ষতি পোষাবে কীভাবে এ নিয়ে অনেক কৃষক আহাজারি করছেন।
ইতোমধ্যেই বীজ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়াসহ ক্ষতিপূরণ চেয়ে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন কুমড়াচাষিরা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, ‘মোজাইক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে মিষ্টিকুমড়া ক্ষেত। এই ভাইরাসের সরাসরি কোনও চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই।’ তবে তিনি জানান, কৃষকদের একটি আবেদনপত্র পেয়েছেন তিনি। কিন্তু এ ব্যাপারে তার করার কিছুই নেই।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় এক হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে মিষ্টিকুমড়া চাষ হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আফতাব উদ্দিন এ ব্যাপারে বলেন, ‘মিষ্টিকুমড়ো অত্যন্ত পুষ্টিকর খাদ্যগুণ সম্পন্ন ফসল। কখনও কখনও হেলাফেলা করেও বাড়ির চালে বা ক্ষেতেও বাম্পার ফলন হয়, বীজ ও রোপণকালীন পরিচর্যা ঠিক থাকলে অনেক রোগ থেকেই একে বাঁচানো সম্ভব। কিন্তু একবার রোগ ধরলে রক্ষা করা কঠিন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে চাষিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে এসব ফসল চাষের ব্যাপারে।’

রোহিঙ্গা শিবিরে অন্তঃসত্ত্বা ৩৪,০০০ by মিজানুর রহমান

উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনসংখ্যা। সম্প্রতি চালানো এক জরিপ বলছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নতুন করে সন্তান সম্ভবা হয়েছেন ৩৪ হাজার ৩’শ ৩৮ জন নারী। এ বছরই তাদের অনাগত সন্তানরা পৃথিবীর আলো দেখবে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ওই জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এটি এখনও চলমান। গত ২৩শে জুন ওই জরিপের প্রাথমিক পরিসংখ্যানসহ কক্সবাজারস্থ শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের একটি হালনাগাদ রিপোর্ট ঢাকায় জমা হয়েছে। সমন্বিত ওই রিপোর্টে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সাম্প্রতিক জরিপ এবং সংগ্রহ করা তথ্যের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে- বাংলাদেশে মানবিক কারণে আশ্রয় পাওয়া নিবন্ধিত ১১ লাখ ১৮ হাজার ৫’শ ৭৬ জন রোহিঙ্গার মধ্যে ৭ লাখ ৩৮ হাজার ৮’শ ৫ জন আশ্রয়প্রার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ২০১৭ সালের ২৫ শে আগস্টের পর।
বিশাল ওই জনগোষ্ঠির সঙ্গে এসেছে ৩৯ হাজার ৮ শ ৪১ জন এতিম শিশু। যাদের মধ্যে ১৯ হাজার ৫৯ জন ছেলে এবং ২০ হাজার ৭’শ ৮২জন মেয়ে। এতিম ওই শিশুদের মধ্যে ৮ হাজার ৩ শ ৯১ জনের বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। হয়ত তারা নিখোঁজ না হয় বর্মী বর্বরতায় প্রাণ হারিয়েছেন। এতিম ওই শিশুরা স্বজনদের সঙ্গে কোন মতে প্রাণ নিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিতে পেরেছে। বাংলাদেশ সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের তরফে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ যৌথভাবে ওই এতিম শিশুদের তত্ত্বাবধান এবং সুরক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে। পিতৃমাতৃহীন ওই শিশুদের নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে শুরু থেকেই। অবশ্য তাদের ট্রমা কাটাতে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে জাতিসংঘের সহায়তায় বিভিন্ন ধরণের মোটিভেশনাল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। রিপোর্ট বলছে, কেবল এতিম শিশু শরনার্থীই নয়, উঠতি বয়সী সব শিশুদের বিষয়ে সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে। যেসব নারীরা তাদের স্বামী ও স্বজন হারিয়েছেন তাদের সুরক্ষায়ও বাংলাদেশ সরকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জোর দিচ্ছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে- রোহিঙ্গাদের আশ্রয়, খাদ্য, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা, সেনিটেশন নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্যোগের কবল থেকে রক্ষায় সরকার সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায় তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। শিশু-কিশোর এবং উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা কার্যক্রম ক্যাম্প এলাকাতেই পরিচালিত হয়। রিপোর্টে এসব সেবার খাতওয়ারি পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। রিপোর্ট মতে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রাথমিকভাবে ২০০০ একর জমি বরাদ্দ ছিল রোহিঙ্গা শিবির নির্মাণের জন্য। কিন্তু আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ৩৫০০ একর জমি বরাদ্দ হয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে সেই লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে কেবল নবাগত রোহিঙ্গাদের দখলেই রয়েছে ৬২০০ একর জমি। রিপোর্ট বলছে, প্রাথমিকভাবে নবাগতদের জন্য ৮৪ হাজার অস্থায়ী ঘর নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক হয়েছিল। কিন্তু এটি এখন ২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় ৮ লাখ ৮১ হাজার, ৯ শ ৭৯জন আশ্রয় প্রার্থীসহ প্রায় সব রোহিঙ্গাকে নিয়মিতভাবে খাদ্য এবং অত্যাবশ্যকীয় ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। ক্যাম্প এলাকায় ৮ হাজারের বেশী নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে।  ল্যাট্রিন স্থাপন করা হয়েছে প্রায় ৫৮ হাজার। গোসল খানার সংখ্যা ১৬ হাজার। বিদ্যুতায়নের আওতায় এসেছে প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকা। স্বাস্থ্য খাতের বিস্তারিততে বলা হয়েছে- ক্যাম্প এলাকায় ৭টি ফিল্ড হাসপাতাল, ১৬২টি স্বাস্থ্য পরিচর্চা কেন্দ্র চালু রয়েছে। এছাড়া কেবল মা ও শিশুদের জন্য পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আওতায় ১২টি কেন্দ্র বিশেষ সেবা দিচ্ছে। সব ক’টি ক্যাম্পে সরকারি বেসরকারি ১২৪টি সংস্থা স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত আছে। রিপোর্টে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে চলতি বছরে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার শিশুকে ক্রিনিংসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থার বরাতে রিপোর্টে বলা হয়েছে- প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা ছেলে মেয়ের শিক্ষা সহায়তা প্রয়োজন। ওই টার্গেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ১ লাখ ৭৭ হাজারকে শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

ইউরেশিয়ার ৫ দেশ বাংলাদেশের রপ্তানির সম্ভাব্য বাজার by ফখরুল ইসলাম

রপ্তানি বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের চোখ এবার ইউরেশিয়ার দিকে। তারই অংশ হিসেবে ইউরেশীয় অর্থনৈতিক কমিশনের (ইইসি) সঙ্গে একটি সহযোগিতা চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে গত ৩১ মে ইইসির সদর দপ্তরে এ চুক্তি সই হয়। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং ইইসির মন্ত্রী পদমর্যাদার সদস্য তাতিয়ানা ভলোভিয়া।
পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশ রাশিয়া, বেলারুশ, কাজাখস্তান, আর্মেনিয়া ও কিরগিজস্তানের সমন্বয়ে গঠিত ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়ন (ইইইউ)। এই ইইইউ ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। অনেকটা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আদলে গড়া এই ইইইউর সদস্যদেশগুলো সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ।
তবে বর্তমানে তারা কমনওয়েলথ অব ইনডিপেনডেন্টস স্টেটসের সদস্য। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ১৯৯১-৯৩ সময়ে যে ১১টি দেশ হয়, এগুলোকে একসঙ্গে বলা হয় কমনওয়েলথ অব ইনডিপেনডেন্টস স্টেটস (সিআইএস)। ইইইউভুক্ত পাঁচটি দেশ একই সঙ্গে সিআইএসভুক্ত দেশও।
ইইইউর কার্যক্রম পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষই হচ্ছে ইইসি। ইইইউর আওতায় সদস্যদেশগুলোর মধ্যে কাস্টমস সীমান্ত নেই। ফলে বাধাহীনভাবে শুল্ক-কর পরিশোধ ছাড়াই এক দেশ থেকে অন্য দেশে পণ্য যাতায়াত করতে পারে। বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ইইইউর সব সদস্যদেশ একই শুল্ক হার এবং অভিন্ন বাণিজ্যনীতি অনুসরণ করে থাকে।
জানা গেছে, ইইইউর আওতায় মোট ২ কোটি বর্গকিলোমিটার এলাকার এই পাঁচ দেশে ১৮ কোটি ২৭ লাখ মানুষ বসবাস করে। এ অঞ্চলের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং মাথাপিছু আয় ২৭ হাজার মার্কিন ডলার। বিশ্বের চাষযোগ্য জমির ১৪ শতাংশ এ এলাকার অন্তর্ভুক্ত। গম, তুলা ও ভুট্টা যেমন এ অঞ্চলে ব্যাপক উৎপাদিত হয়; ইউরিয়া সার, প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তেল ও রাসায়নিক পণ্য এ অঞ্চলের আর্থিক ভিত্তির অন্যতম উৎস।
ইইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বিশেষ করে রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত মাছ, ওষুধ, আলু ও সবজি রপ্তানির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে রাশিয়ায় তৈরি পোশাক, পাট, হিমায়িত চিংড়ি, আলু ইত্যাদি পণ্য রপ্তানি হলেও বাজার অনুযায়ী পরিমাণ খুব বেশি নয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশ পণ্যের শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা চেয়ে আসছে বহু বছর। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি না থাকায় এবং রাশিয়া ইইইউর আওতায় গঠিত কাস্টমস ইউনিয়নের সদস্য হওয়ায় এককভাবে বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা দিতে পারছে না। ইইসির সঙ্গে এবারের চুক্তি শুধু রাশিয়া নয়, ইইইউর সব সদস্যদেশেই বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে এবং বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক হিসেবে কাজ করবে। কারণ সহযোগিতা স্মারকের আওতায় শিগগিরই একটি কার্যদল গঠিত হবে, যার মূল কাজ হবে বাংলাদেশ ও ইইইউর সদস্যদেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চিহ্নিত ১৯টি খাতের উন্নয়নে কাজ করা।
গত বছরের অক্টোবরে রাশিয়া বলেছিল, ইইইউভুক্ত দেশগুলোতে শুল্কমুক্তভাবে পণ্য রপ্তানির জন্য বাংলাদেশের উচিত হবে ইইসিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে বাংলাদেশ সে আবেদন এখনো করেনি বলে জানা গেছে। যদিও এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশকে এখনো ইইইউভুক্ত দেশগুলো শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেয়। তবে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিপণ্যে দেয় না। কমিশন অনুমোদন করলে তৈরি পোশাক, চামড়া, সিরামিক ইত্যাদি পণ্যের বড় বাজার হবে ইইইউভুক্ত দেশগুলো।
জানা গেছে, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য হওয়ার বড় সুযোগ থাকলেও রাশিয়ার সঙ্গে ব্যাংক যোগাযোগই নেই বাংলাদেশের। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আনতে সুষ্ঠু ব্যাংক লেনদেন জরুরি, যা বর্তমানে নেই। ফলে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা রাশিয়াসহ সিআইএসভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসা করতে অনেকটা নিরুৎসাহিত বোধ করেন। ব্যাংক লেনদেন চালু হলে তৃতীয় দেশ অর্থাৎ তুরস্ক, পোল্যান্ডের মতো দেশের ওপর আর নির্ভর করতে হবে না।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রাশিয়ায় রপ্তানি হয়েছে বাংলাদেশের ৮৮ কোটি ২০ লাখ ডলারের পণ্য, যা আগেরবারের চেয়ে ৩০ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। আর একই সময়ে রাশিয়া থেকে বাংলাদেশের আমদানি হয়েছে ৭৬ কোটি ২৯ লাখ ডলারের পণ্য, যা আগেরবারের চেয়ে দশমিক ৬ শতাংশ কম। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে উজবেকিস্তানে রপ্তানি হয় প্রায় ৩ কোটি ডলার, ইউক্রেনে ২ কোটি ১৪ লাখ ডলার, আর্মেনিয়ায় ২৮ লাখ ৯২ হাজার ডলার ও বেলারুশে ২৭ লাখ ৪৮ হাজার ডলার মূল্যের পণ্য। এ ছাড়া মালদোভায় ২৩ লাখ ৫৬ হাজার, আজারবাইজানে ৭ লাখ ১৭ হাজার, তাজিকিস্তানে ৭ লাখ, কাজাখস্তানে ৬ লাখ, কিরগিজস্তানে ৩ লাখ এবং তুর্কমেনিস্তানে ২ লাখ ডলার দামের পণ্য রপ্তানি করা হয়।
এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিআইএসভুক্ত দেশগুলোতে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হচ্ছে উচ্চ শুল্ক। শুল্কায়নের জটিলতাও আছে। তার চেয়েও বড় কথা দেশগুলোর সঙ্গে আধুনিক ব্যাংক যোগাযোগ নেই বাংলাদেশের। আবার বাণিজ্য করতে হয় তৃতীয় দেশের মাধ্যমে এবং মান্ধাতার আমলের টেলিগ্রাফিক লেনদেন (টিটি) পদ্ধতিতে।
এ ছাড়া ব্যাংক যোগাযোগের বিষয়ে কিছুটা অগ্রগতি হয়েও আবার পিছিয়ে গেছে উভয় দেশ। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছিল যে বাংলাদেশের সোনালী ব্যাংক ও রাশিয়ার স্পুতনিক ব্যাংক—উভয় দেশের ব্যাংক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে এবং উভয় দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মিলে ঠিক করবে ব্যাংক যোগাযোগ কীভাবে হবে। সে ব্যাপারেও কোনো অগ্রগতি নেই।
কমনওয়েলথ অব ইনডিপেনডেন্টস স্টেটসের বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিআই) সভাপতি মো. হাবীব উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশ-রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এখন ১৫০ কোটি ডলারের মতো। অথচ কিছু পদক্ষেপ নিলে আগামী তিন বছরের মধ্যেই এ বাণিজ্য ১ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।’

বাংলাদেশে দুর্লভ বৈশিষ্ট্যের ফড়িংয়ের সন্ধান by সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ

বাংলাদেশে দুর্লভ বৈশিষ্ট্যের একটি ফড়িংয়ের সন্ধান মিলেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষক দল এটির সন্ধান পেয়েছে। দেহে ভিন্ন পুরুষ ও স্ত্রীর বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান ছিল ফড়িংটির মধ্যে। এটা প্রাণিবিদ্যার ভাষায় গাইনেন্ডড্রমোরফিজম (Gynandromorphism) যা প্রাণী জগতের বিরলতম বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক মো: মোখলেছুর রহমান ও মো: মাহাবুব আলমের তত্ত্বাবধানে আশিকুর রহমান সমী ফরিদপুরের ফড়িং এবং বন্যপ্রাণী নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এ বিরল বৈশিষ্টের ফড়িংটির সন্ধান পান।
এ ব্যাপারে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র সমী জানান, এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রাণীর দেহে বৈশিষ্টটি প্রকাশিত হয়েছে। যার মধ্যে মাকড়সা, বিছা, মৌমাছি গোত্র, বিটিলস বা এক ধরনের গোবরেপোকা, প্রজাপতি, মশা ও ফলের মাছি অন্যতম। এ ছাড়া উভচর, সরীসৃপ, পক্ষী এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীতেও এ ধরনের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। তবে ফড়িংয়ের মধ্যে এ গাইনেন্ডড্রমোরফিজম বৈশিষ্ট্যটি একেবারে বিরল। পৃথিবীর সাড়ে ছয় হাজার ফড়িংয়ের মধ্য থেকে মাত্র ৩০টির মতো ফড়িংয়ে এ ধরনের ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে। আর এরই দেখা মিলল বাংলাদেশে।
প্রাণিবিদ্যা বিশারদদের মতে, প্রাণীর একটি ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যের নাম গাইনেন্ডড্রমোরফিজম যা প্রাণিজগতের বিরলতম বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি। গাইনেন্ডড্রমোরফিজম হলো জেনেটিক্যালি এবং পিনোটাইপিকেলি সিমেরিক জীব যার একই দেহে ভিন্ন পুরুষ এবং স্ত্রীর বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে। যেসব প্রাণী প্রজাতির মধ্যে পুরুষ এবং স্ত্রী প্রাণীর শরীরের রঙ, আকৃতি এবং বৈশিষ্ট্য ভিন্ন সাধারণত সেসব প্রাণীর মধ্যে এ ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। অপর দিকে নিউরোথেমিস টিউলিয়া ফড়িংটি বাংলাদেশে খুবই পরিচিত একটি ফড়িং। একে পুকুর ডোবার আশপাশে, ফসলের ক্ষেতে বা ঝোপঝাড়ে সহজেই দেখা যায়।
কিভাবে সন্ধান মিলল?
এ ব্যাপারে আশিকুর রহমান সমী জানান, ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট নিয়মিত ফিল্ড ভিজিটের সময় তারা নিউরোথেমিস টিউলিয়া নামক ফড়িংয়ের মধ্যে এ ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য গাইনেন্ডড্রমোরফিজম দেখতে পান। এটির মাথা ও পাখনা বাইলেটারিয়েল গাইনেন্ডড্রমোরফিজম প্রকাশ করে। অপর দিকে উদর অংশটি পুরুষের মতো। তবে এর উদরের শেষের অংশ স্ত্রী ফড়িংয়ের মতো।
সম্প্রতি জার্মানি থেকে প্রকাশিত 'Notulae odonatologicae' (A  semi-annual companion publication to Odonatologica,  published for the International Odonatological Foundation, Societas Internationalis Odonatologica (S.I.O.)) নামক জার্নালে unusual case of  gynandromorphism in Neurothemis tullia (Odonata: Libellulidae) শীর্ষক আশিকুর রহমান সমীর গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে এর আগে কোনো প্রজাতির প্রাণীতে এ বৈশিষ্ট্যটি পাওয়া যায়নি। আর ভারতীয় উপমহাদেশে ফড়িংয়ে এটি প্রথম বলে সমীক্ষা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়। এর আগে ২০০৯ সালে ভারতের কেরালা থেকে একই প্রজাতির ফড়িংয়ে গাইনেন্ডড্রমোরফিজম থাকার দাবি করা হলেও প্রমাণিত হয় সেটি আসলে এনড্রোমোরপিক ফিমেল এবং সমীর আবিষ্কৃত ফড়িংটি মূলত গাইনেন্ডড্রমোরফিজম বৈশিষ্ট্যের।
সমী তার কাজ সম্পর্কে নয়া দিগন্তকে জানান, প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ভর্তির পর থেকে শিক্ষকরা তাকে মা-বাবার মতো স্নেহ দিয়েছেন। প্রতিটি কাজে প্রতি মুহূর্তে উৎসাহ দিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন, সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এরই ফলে এ ধরনের গবেষণা কর্মটি সফল করতে পেরেছেন তিনি।

মিয়ানমারে বিদ্রোহী গোষ্ঠী একজোট হয়ে হামলা চালাচ্ছে

মিয়ানমারে সশস্ত্র জোটের হামলা
মিয়ানমারে ভিন্ন ভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী একজোট হয়ে হামলা চালাচ্ছে। এ সশস্ত্র জোট  গত ১৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার আর্মি একাডেমিসহ ছয়টি স্থানে সমন্বিত হামলা চালায়।

এ জোটের আক্রমণগুলিতে ১০৭ মিলিমিটার রকেট ব্যবহার করেছে বলে নিশ্চিত হয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনী। হামলায় সামরিক-বেসামরিকসহ কমপক্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন।

শান স্টেটের ন্যাংচো জনপদের নিকটে পাইয়ন ওও লুইন অঞ্চলে ডিফেন্স সার্ভিসেস টেকনোলজিকাল একাডেমিসহ বিদ্রোহী জোটটি ছয়টি ভিন্ন এলাকায় এ হামলা পরিচালনা করেছে।

আরাকান আর্মি (এএ), মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি এবং তাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি এক জোট হয়ে এ হামলা চালায়।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ
বিদ্রোহী জোট এক বিবৃতিতে বলেছে, সামরিক বাহিনী প্রথমে আক্রমণ শুরু করেছিল। এ আক্রমণ বন্ধ করার জন্য বারবার সতর্ক করা হয়। এখানে সেনাবাহিনী তিনটি গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলে প্রবেশ করে আক্রমণ চালিয়েছে। বাধ্য হয়ে আত্মরক্ষার্থে আমরা এ হামলা চালাই।

সামরিক বাহিনীর ট্রু নিউজ এজেন্সি জানায়, বিদ্রোহী জোটটি হালকা এবং ভারী উভয় অস্ত্র ব্যবহার করেছে। এ জোটের আক্রমণগুলিতে ১০৭ মিলিমিটার রকেট ব্যবহার করেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে হামলার পর পাইন ওও লুইন-লাশো সড়কের পূর্ব দিকের একটি পাহাড়ের পূর্ব থেকে ছয়টি রকেট পাওয়া গেছে। হামলায় একাডেমি ভবন এবং কিছু গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্য বিস্ফোরণে ন্যাংচো টাউনশিপের গোট টুইন ব্রিজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানেও বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। এখন ব্রিজের উপর বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং কোন যানবাহন চলাচল করছে না।

আক্রমণের ফলে ইয়াঙ্গুন-মান্ডালয়-মিউজি সড়কের পাইন ওও লুইন-থিবাউ বিভাগে কয়েক শত যানবাহনের যানজটের কারণে আটকে আছে। মান্দালয়-মিউজি পথে বাণিজ্য রুট স্থগিত করা হয়েছে।
ছয়টি ভিন্ন স্থানে এ হামলা চালানো হয়
সেনাবাহিনী একটি বিবৃতি জারি করার একদিন পরই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে দেরি না করে যুদ্ধবিরতির সময় স্থায়ী শান্তি আনতে আলোচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। যতদ্রুত সম্ভব সামরিক-জাতীয় পুনর্মিলন ও শান্তি কেন্দ্রের (এনআরপিসি) সঙ্গে  আলোচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাও মিন তুন বলেছেন, এ হামলা যুদ্ধবিরতিকে প্রভাবিত করবে না। শান্তি প্রক্রিয়া চলবে। যুদ্ধবিরতি বাতিল হবে না। সেনাবাহিনী উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পূর্ব, পূর্ব মধ্য কমান্ডগুলিতে একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে।

সামরিক বাহিনী বলছে, যে শান ও রাখাইন রাজ্যে জুলাই ও আগস্টে ২১০ কোটি মিয়ানমার মুদ্রার সমমূল্যের মাদক জব্দ করার কারণে আরাকান আর্মি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই হামলা চালিয়েছে।

পর্যটকে মুখর কুয়াকাটা

বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও ঈদুল আজহার ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের বেলাভূমি সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা।
যেখানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য সৈকতে দাঁড়ালে চোখে পড়বে দিগন্তজোড়া আকাশ আর সমুদ্রের রাশি রাশি নীলজল আর সমুদ্রের নীলজলের তরঙ্গায়িত ঢেউ ভাঙা গর্জন আছড়ে পড়ছে বেলাভূমিতে। উড়ে যাচ্ছে সাদা গাংচিলের দল এদিক ওদিক- মাছ শিকারের জন্য লড়াকু জেলেরা ট্রলারে ও নৌকায় ছুটে যাচ্ছে গভীর সমুদ্রে তা উপভোগ করছে পর্যটকরা।
বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ও ঈদুল আজহার আনন্দ উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী পরিবার-পরিজন নিয়ে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে এসেছেন। কলাপাড়া-কুয়াকাটা নদীতে বর্তমানে তিনটি ব্রিজ হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ ভালো থাকায় এ বছর সর্বাধিক পর্যটকের আগমনে কুয়াকাটায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।
দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসা ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের উন্মাদনায় পুরো সৈকত এখন আনন্দময় পরিবেশ বিরাজ করছে। নানা বয়সি পর্যটকের আগমনে রাখাইন মার্কেট, ঝিনুকের দোকান, খাবারঘর, চটপটির দোকানসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কেনাকাটার ধুম পড়েছে। সোমবার বিকাল থেকে হোটেল-মোটেলগুলোতে পর্যটকরা উঠতে শুরু করেছে। সৈকতের কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। কখনো মেঘ, কখনো বৃষ্টি।
এরই মাঝে সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত দেখা, লাল কাঁকড়ার অবিরাম ছোটাছুটি, বালুকা বেলায় প্রিয়জনের সঙ্গে হাঁটাহাঁটি, আর সমুদ্রের মোহনীয় গর্জন শুনতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে কুয়াকাটায় ছুটে এসেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নানা বয়সের হাজারো মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সৈকত লাঘোয়া নারিকেল বাগান, ইকোপার্ক, ইলিশপার্ক, জাতীয় উদ্যান, শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার, সীমা বৌদ্ধবিহার, সুন্দরবনের পূর্বাঞ্চলখ্যাত ফাতরার বনাঞ্চল, ফকির হাট, গঙ্গামতি, কাউয়ার চর, আড়াই শতবর্ষী নৌকা, লেম্বুর চর, শুঁটকিপল্লী ও কুয়াকাটার জিরো পয়েন্টে শিশু-কিশোর যুবক-যুবতীসহ নানা বয়সি পর্যটকের পদচারণায় এখন মুখরিত হয়ে উঠেছে। সৈকতে বেড়াতে আসা নানা বয়সি পর্যটক স্মার্ট ফোনে সেলফি ও ভিডিও ক্লিপস সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এদিকে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দিতে বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষীবাহিনীর ব্যাপক টহল অব্যাহত রয়েছে।
ঈদের ছুটিতে যশোর থেকে ভ্রমণে আসা ব্যবসায়ী আবুল কালাম ও নুবাইবা দম্পতি জানান, সৈকতের অপরূপ দৃশ্য দেখে অসাধারণ লেগেছে। দর্শণীয় স্পর্টে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘুরে দেখেছি। শিক্ষার্থী রাইকা, নওসিন ও মিশু জানান, প্রথমবারের মতো কুয়াকাটায় এসেছি। খুব ভালো লেগেছে। সুযোগ পেলে প্রকৃতির টানে বার বার ছুটে আসব এখানে। অপর এক শিক্ষার্থী উম্মে কবির হাবিবা বলেন, সমুদ্রে উন্মাদনার সঙ্গে গোসল করার ছবি তুলে এফবিতে পোস্ট করেছি। যোগাযোগ, অপরুপ সৈকতের সৌন্দর্র্য এছাড়াও একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের লোভনীয় দৃশ্য অবলোকনের করা যায়। তাই সব বন্ধুকে এফবির মাধ্যমে আহ্বান করেছি বলে ওই শিক্ষার্থী জানিয়েছেন।
রুচিসম্মত খাবার পরিবেশনার নিশ্চয়তা নিয়ে খাবার হোটেল মালিকরা জানান, ঈদুল আজহার ছুটিতে পর্যটকদের ব্যাপক চাপ রয়েছে। আমরাও চেষ্টা করছি পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী খাবার পরিবেশনের।
কুয়াকাটা সমুদ্র রিসোর্ট হোটেল ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিরন জানান, ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে। ঈদের পরদিন থেকে কুয়াকাটায় আগাম বুকিং অনুযায়ী পর্যটক রয়েছে। চলতি মাসের ১৬ তারিখ পর্যস্ত এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি ধারণা করেছেন। ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের মো. খলিলুর রহমান জানান, ঈদ উপলক্ষে পর্যটকের ব্যাপক চাপ রয়েছে। নিরাপত্তা দিতে ট্যুরিস্ট পুলিশসহ থানা পুলিশের দর্শনীয় স্থানে টহল রয়েছে।
এদিকে কলাপাড়া রাবনা বাঁধ নদীর মোহনায় দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রায় ঈদের দিন বিকাল থেকে দর্শনার্থীদের পদভারে গোটা বন্দর এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। প্রতিদিন শত শত লোক পায়রা সমুদ্র বন্দরে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসেন। এটিও এখন পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়ভাবে হয়ে উঠছে। রাবনা বাঁধ নদীর মোহনায় দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রায় ঈদের দিনে ঘুরতে আসা বাকেরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী নাজরাতুন নাইম রুজি বলেন, দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রায় বন্দর কলাপাড়ায় হওয়ায় দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ হিসেবে আমরা গর্বিত। এখানে ঈদের ছুটিতে ঘুরতে এসে খুব ভালোই লেগেছে। ভবিষ্যতে এখানে পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষণীয় স্থান হয়ে দাঁড়াবে।   
এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজম্যান্ট কমিটির সভাপতি মো. মুনিবুর রহমান বলেন, কুয়াকাটায় আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জেএফ-১৭ ব্লক-থ্রি ফাইটার: ভারতের মোকাবেলায় পাকিস্তানকে যে বিমান নির্মাণে সহায়তা করছে চীন by সেবাস্তিয়ান রবলিন

মাত্র কয়েক মাস আগেই পাকিস্তান তাদের ২৫টি জেএফ-১৭ বিমান নিয়ে নিয়ন্ত্রণ রেখা পার হয়ে ভারতের ভেতরে আক্রমণ করেছিল বলে দেশটি দাবি করেছে। পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে জয়শ-ই মোহাম্মদের কথিত জঙ্গি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে ভারতের হামলার জবাবে ওই হামলা চালায় পাকিস্তান।

পাকিস্তানের বিমান বাহিনী দাবি করেছে যে, তাদের জেএফ-১৭ বিমানগুলো ভারতের দুটো বিমানকে ভূপাতিত করেছে, যেগুলো পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। তবে ভারতের একটি মিগ-২১ বাইসন বিমান ধ্বংসের তথ্য পরে নিশ্চিত করা হয় এবং বিমানের পাইলট ধরা পড়ে।

পাকিস্তানের বিমান বহরে বর্তমানে ১০০টি থান্ডার্স বিমান রয়েছে যেগুলো পাঁচটি অপারেশনাল স্কোয়াড্রনে বিভক্ত। এর সাথে রয়েছে একটি প্রশিক্ষণ ইউনিট। প্রথম থান্ডার্স পাকিস্তানের বহরে যুক্ত হয় ২০১০ সালে এবং ওয়াজিরিস্তানে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে প্রথম ওই বিমান ব্যবহার করা হয়। ইসলামাবাদ ২০১৮ সালে ১৮৪ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে নাইজেরিয়ান বিমান বাহিনীর কাছে তিনটি জেএফ-১৭ বিমান বিক্রিও করে। এছাড়া মিয়ানমারের সাথে তাদের ১৮টি বিমান বিক্রির চুক্তি হয়েছে, যার মধ্যে ছয়টি এরই মধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পাকিস্তানী বিমান বাহিনী এখন ২০২৪ সালের মধ্যে আরও পঞ্চাশটি জেএফ-১৭এর আধুনিক ব্লক থ্রি ভার্সান তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে। ৫৮/৪২ শতাংশ অংশগ্রহণে পাকিস্তান ও চীন যৌথভাবে এটি তৈরি করবে। একইসাথে ২৬টি দুই আসনের জেএফ-১৭বি বিমান কেনারও পরিকল্পনা করছে তারা। পুরনো জেএফ-১৭ বিমানগুলোকেও ব্লক থ্রি পর্যায়ে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চীনে এফ-১৬ ও মিগ-২১ এর সংমিশ্রণ

পঞ্চাশের দশক থেকেই ইসলামাবাদ আর বেইজিং ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে কাজ করে আসছে। শীতল যুদ্ধের সময় ভারত ছিল তাদের অভিন্ন প্রতিপক্ষ। পাকিস্তান একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে, কিন্তু একবিংশ শতকে এসে পাকিস্তানের গোয়েন্দা বাহিনীর সাথে ইসলামী চরমপন্থী সংগঠনগুলোর যোগাযোগের কারণে এই সম্পর্কটা আর টিকে থাকেনি।

এভাবেই, নব্বই দশকের শুরুতেই পাকিস্তান এফ-১৬ বিমানের বিকল্পের জন্য চীনের দ্বারস্থ হয় যাতে চীনের তৈরি জে-৭ ও এ-৬ জঙ্গিবিমানগুলোর বদলে সেগুলো ব্যবহার করা যায়, যেগুলো আসলে মিগ-২১ ও মিগ-১৯ এর অনুকরণে তৈরি।

নতুন ব্লক থ্রি প্রতিটি বিমানের মূল্য হবে ৩২ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। এই বিমানে হেলমেট-মাউন্টেড ডিসপ্লে সিস্টেম যুক্ত হচ্ছে। এর মাধ্যমে কাছাকাছি অবস্থান থেকে যুদ্ধের ক্ষেত্রে স্বল্প পাল্লার মিসাইলগুলো ব্যবহারে সুবিধা হবে। জেটের ধারণক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে এবং উড্ডয়ন সক্ষমতা উন্নত করা হয়েছে এবং রাশিয়ার আরডি-৯৩ ইঞ্জিনের বদলে এক পর্যায়ে চীনে তৈরি ডাব্লিউএস-১৩ টার্বোফ্যান ব্যবহার করা হবে।

তবে সবচেয়ে গুরুত্ব আপগ্রেড হলো অ্যাকটিভ ইলেক্ট্রনিক্যালি স্ক্যান্ড অ্যারে (এইএসএ) রাডার সিস্টেম সংযোজন। এগুলোর রেজল্যুশান অনেক বেশি, অনেক বেশি সুনির্দিষ্ট এবং আরও অধিক জ্যাম এড়াতে সক্ষম।

মাছ ও মুরগিকে আমরা কী খাওয়াচ্ছি? by দীপু মালাকার

প্রথম আলো, ২৯ জুন ২০১৯: পোলট্রি (হাঁস-মুরগি) ও মাছের বিষাক্ত খাবার তৈরির দায়ে গত ২৯ জুন শনিবার রাজধানীর ডেমরার মাতুয়াইল মৃধাবাড়ি এলাকায় অভিযান চালান র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। চামড়াশিল্পের (ট্যানারি) বর্জ্যের সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ ও টেক্সটাইলে ব্যবহৃত রং দিয়ে খাবার তৈরি করায় ১৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই অপরাধে তিনটি কারখানা সিলগালা করে তাদের মোট ৩২ লাখ টাকা জরিমানা এবং ৬ হাজার টন বিষাক্ত পোলট্রি ও ফিশ ফিড জব্দ করা হয়। এসব পোলট্রি, ফিশ ও ডেইরি ফিড তৈরি কারখানা থেকে উৎপাদিত বিষাক্ত ফিড সরবরাহ করা হতো দেশের বিভিন্ন কোম্পানির কাছে। র‍্যাব-১০, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও মৎস্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।
ট্যানারির বর্জ্য দিয়ে মৎস্য ও পোলট্রি খাবার তৈরির সব কারখানা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া যাঁরা ট্যানারির বর্জ্য ব্যবহার করে মৎস্য ও পোলট্রি খাবার তৈরি এবং বিপণন করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। অথচ গুদামে বস্তাভর্তি চামড়াশিল্পের (ট্যানারি) বর্জ্য।
শনিবার দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর ডেমরা এলাকায় র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়।
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হতো এসব পোলট্রি ও ফিশ ফিড।
জব্দ করা হয় মেয়াদোত্তীর্ণ ও টেক্সটাইলে ব্যবহৃত রং, যা ব্যবহার করা হতো পোলট্রি (হাঁস-মুরগি) ও মাছের বিষাক্ত খাবার তৈরিতে।
একটি কারখানায় পাওয়া যায় বিভিন্ন নামীদামি ব্র্যান্ডের মোড়ক।
সিটি করপোরেশন ময়লা রোড এলাকার একটি কারখানায় চামড়াশিল্পের (ট্যানারি) বর্জ্যের গুদাম। এ কারখানাও সিলগালা করা হয়।

কাশ্মীরে মধ্যস্থতার কথা তুলে যেভাবে নরেন্দ্র মোদীকে চরম অস্বস্তিতে ফেললেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প by শুভজ্যোতি ঘোষ

লাস্ট আপডেট- ২৩ জুলাই ২০১৯: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাকে বিতর্কিত কাশ্মীর ইস্যুতে মধ্যস্থতা করার অনুরোধ জানিয়েছেন - মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ঘোষণা ভারতকে চরম বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে পাশে নিয়ে ২২ জুলাই সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওই মন্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই দিল্লি তা জোরালোভাবে অস্বীকার করে।
এদিন ২৩ জুলাই মঙ্গলবার পার্লামেন্টেও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী কখনওই এমন কোনও অনুরোধ জানাননি এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ভিত্তিতেই কাশ্মীর ইস্যুর সমাধান হতে হবে ভারতের এই অবস্থানেও কোনও পরিবর্তন হয়নি।
তবুও ভারতের বিরোধী দলগুলো নরেন্দ্র মোদীর নিজের মুখ থেকেই এর ব্যাখ্যা শোনার জন্য জেদ ধরে আছে।
আসলে কাশ্মীর প্রশ্নে কোনও তৃতীয় পক্ষ নাক গলাতে পারবে না - শুধুমাত্র ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই এর সমাধানের পথ খুঁজতে হবে, এটাই দিল্লির বহু বছরের ঘোষিত অবস্থান।
বাহাত্তরের সিমলা চুক্তি বা ১৯৯৯ সালের লাহোর ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত এই অবস্থান থেকে ভারতের কোনও সরকার কখনোই সরে আসার ইঙ্গিত দেয়নি।
সেই কারণেই যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২২ জুলাই সোমবার ওভাল অফিসে ইমরান খানকে পাশে নিয়ে মন্তব্য করেন যে দিনকয়েক আগে প্রধানমন্ত্রী মোদী তাকে কাশ্মীর প্রশ্নে 'মিডিয়েশন বা আরবিট্রেশন করার জন্য' আর্জি জানিয়েছেন - ভারতে তার প্রতিক্রিয়া হয় বোমাবর্ষণের মতো।
ওভাল অফিসে ইমরান খানের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ২২শে জুলাই, ২০১৯
এদিন সকাল থেকেই ভারতের বিরোধী দলগুলো পার্লামেন্টে এই ইস্যুতে তুমুল হইচই বাঁধিয়ে দেন।
উপরাষ্ট্রপতি ভেঙ্কাইয়া নাইডুকে রাজ্যসভায় বারবার বলতে শোনা যায়, "আপনারা কি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বেশি বিশ্বাস করেন?"
"দয়া করে একটা জাতীয় ইস্যুকে রাজনৈতিক রঙ দেবেন না!"
কিছুক্ষণ পরেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পার্লামেন্টে বিবৃতি দিয়ে বলেন, "আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই প্রধানমন্ত্রী মোদী কখনও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এরকম কোনও অনুরোধ জানাননি।"
"আমাদের অবস্থান খুব পরিষ্কার - পাকিস্তানের সঙ্গে সব অমীমাংসিত ইস্যু কেবলমাত্র দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ভিত্তিতেই মেটাতে হবে, আর সেটাও হবে তারা সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ করলে তবেই।"
ঘটনা হল, সপ্তাহদুয়েক আগে জাপানে জি-২০ সামিটে ট্রাম্প ও মোদীর সত্যিই একান্তে কথাবার্তা হয়েছিল।
অতএব প্রধানমন্ত্রীর নিজের মুখ থেকে ব্যাখ্যা শোনার দাবিতে বিরোধী দলগুলো এরপরেও অটল থাকে।
কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ অন্য বিরোধী নেতাদের সাথে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, "ভারতের অবস্থান খুব ভাল করে জানা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেন এই ধরনের একটা কথা বললেন সেটাই আমরা জানতে চাই।"
জাপানে জি-২০ শীর্ষ বৈঠকের অবকাশে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
"নিশ্চয় কোনও বিশেষ কারণেই তিনি এটা বলেছেন।"
"আমরা আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বাস করতে রাজি আছি। এটা বলছি না যে তিনি মিথ্যা কথা বলছেন - কিন্তু তার পার্লামেন্টে এসে বিবৃতি দিতে অসুবিধা কোথায়?"
কংগ্রেস নেতা শশী থারুর অবশ্য বলেছেন, তার ধারণা ভালমতো না বুঝেই এবং কাশ্মীর ইস্যুতে সঠিকভাবে 'ব্রিফড' বা অবহিত না হয়েই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওই মন্তব্য করেছেন।
দিল্লিতে বহু পর্যবেক্ষকেরও ধারণা অনেকটা সেরকমই।
সিনিয়র কূটনৈতিক সংবাদদাতা দেবীরূপা মিত্র যেমন বিবিসিকে বলছিলেন, "কাশ্মীরে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় ভারতের কোনও লাভ নেই।"
"ফলে মোদীর এই ধরনের ইউ টার্ন নেওয়ারও কোনও কারণই নেই।"
"তাই গোটা ব্যাপারটাই খুব ধন্দে ফেলার মতো।"
"তবুও আমার ধারণা, বিভিন্ন দেশের অতিথি নেতাদের পাশে নিয়ে তাদের খুশি করে কথা বলাটা মার্কিন প্রেসিডেন্টের পুরনো অভ্যাস, আর এটাও সেই 'ট্রাম্প টেমপ্লেটে'রই অংশ।"
বিতর্ক সামাল দিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য এর মধ্যেই বিবৃতি দিয়ে বলেছে, কাশ্মীর একটি 'দ্বিপাক্ষিক ইস্যু' বলেই তারা মনে করে।
অন্য দিকে ইমরান খানও মি ট্রাম্পের মন্তব্যকে লুফে নিতে দেরি করেননি।
তবে দিল্লি ও ওয়াশিংটন যত দ্রুত সম্ভব এই অস্বস্তিকর বিতর্ককে ভুলে যাওয়ারই চেষ্টা চালাচ্ছে।

‘কাশ্মীর পুড়ছে’: লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ

লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে বিপুল সংখ্যক মানুষ বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভকারীরা যে সব ব্যানার নিয়ে এসেছিলো, সেগুলোতে লেখা ছিল: ‘কাশ্মীর পুড়ছে’, ‘কাশ্মীরকে মুক্ত করো’ এবং ‘মোদি: চা বানাও, যুদ্ধ নয়’। সাবেক ব্রিটিশ এমপি জর্জ গ্যালোওয়ে এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী পাকিস্তানি বিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইয়েদ জুলফি বুখারি বিক্ষোভে বক্তৃতা করেন এবং বিজেপি সরকার কর্তৃক ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের তীব্র নিন্দা জানান।

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে শান্ত থাকার জন্য অধিকার কর্মীদের এই আহ্বান এটাই প্রথম নয়। চলতি বছরের শুরুর দিকেও বিশ্ব সম্প্রদায় ক্রুদ্ধ ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল যখন পারমানবিক শক্তিধর প্রতিবেশী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার জন্য তিনি প্রায় প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলেন।

ব্রিটিশ সময় বেলা একটায় বিক্ষোভ সমাবেশের কথা থাকলেও তার আগেই শত শত মানুষ ভবনের ডান পাশে জড়ো হয়। লন্ডনের পাকিস্তান-পন্থী অধিকার কর্মীরা এতে বক্তৃতা করেন। তারা ভারতীয় আগ্রাসনের নিন্দা জানান এবং কাশ্মীরের মুক্তি দাবি করেন।

স্থানীয় কাশ্মীর কাউন্সিলের অধিকার কর্মী এবং বক্তারাও সমাবেশে কথা বলেন। তারা কাশ্মীরে ভারতের দখলদারিত্বের অবসান চান। এর বাইরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিখ সমর্থকও খালিস্তানের ব্যানার নিয়ে তাদেরকে সমর্থন জানান।

সাবেক ব্রিটিশ এমপি জর্জ গ্যালোওয়ে এ উপলক্ষ্যে বক্তৃতা করেন। তিনি বলেন, “মোদি পুরো বিশ্বকে একটা যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন – এটা পারমাণবিক যুদ্ধ – এবং সে কারণে এটা পুরো বিশ্বের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে বিঘ্নিত করবে”।

ইংল্যান্ডের অন্যান্য শহর থেকেও বহু বিক্ষোভকারী চার্টার্ড বাসে রাজধানী লন্ডনে হাজির হন। কাশ্মীরী বংশোদ্ভুত ব্রিটিশ পেনশনভোগী আমিন তাহির এ ধরনের একটি বাসে এসেছিলেন বার্মিংহাম থেকে। তিনি বললেন, “আমাদের কাশ্মীরী ভাইদের সাথে আমরা একাত্মতা জানাতে চাই”।

তিনি বলেন, “১৯৪৭ সাল থেকে কাশ্মীর ভারত থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য সংগ্রাম করছে। এখন কাশ্মীরের স্বায়ত্বশাসনের অবসানের  জন্য মোদি জোর করে আইন পরিবর্তন করেছেন”।

প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী পাকিস্তানী বিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইয়েদ জুলফি বুখারিও বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে বক্তৃতা করেন, যিনি সক্রিয়ভাবে সবাইকে বিক্ষোভে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি মনে করে এই উপস্থিতি রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। আমি মনে করি, এটা কাশ্মীরের জনগণ এবং অন্যদের মনোভাবকে ব্যক্ত করেছে যে, তারা আগ্রাসনের বিরোধী, তারা দস্যুতার বিরোধী। আমি মনে করি, এটা আসলেই গুরুত্বপূর্ণ যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ধরনের সোচ্চার কণ্ঠ উচ্চকিত হওয়া অব্যাহত থাকুক”।

পরে সোশাল মিডিয়ায় ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে ভারত সরকারের অপকর্মের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়। পাকিস্তান অব্যাহতভাবে কাশ্মীরীদের বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান একাধিকবার বলেছেন যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিরবতা দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল ও এর বাইরেও আরও মারাত্মক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

জাকির নায়েকের উসকানিমূলক বক্তব্যের তদন্ত করছে মালয়েশিয়া

বিতর্কিত ধর্ম প্রচারক জাকির নায়েক মুসলিম-সংখ্যাগুরু মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত হিন্দু ও চীনা অধিবাসীদের নিয়ে স্পর্শকাতর মন্তব্য করেছেন এবং এর মাধ্যমে তিনি শান্তি ভঙ্গের উসকানি দিয়েছেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, সেটার তদন্ত শুরু করেছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ।

ফেডারেল সিআইডি ডিরেক্টর হুজির মোহাম্মদকে উদ্ধৃত করে দ্য স্ট্রেইট টাইমস বলেছে, তিনি গত বৃহস্পতিবার সেলাঙ্গর পুলিশ সদরদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন যে, “গোম্বাকে একটি রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। বিষয়টি নিয়ে এ পর্যন্ত ১১৫টি রিপোর্ট দায়ের করা হয়েছে”।

জাকির মালয়েশিয় চীনাদের প্রথমে ‘ফিরে যেতে’ বলেছেন, কারণ তারা দেশের ‘পুরনো অতিথি’। কেলান্তানের কোটা বারুতে‘এক্সিকিউটিভ টক বারসামা ড. জাকির নায়েক’ শীর্ষক এক ধর্মীয় আলোচনায় তিনি তাকে ফেরত পাঠানো বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন।

তার বক্তৃতায় মালয়েশিয়ার হিন্দুদের সাথে তিনি ভারতের মুসলিমদের তুলনা করেন, যেটাও বিভিন্ন পক্ষের সমালোচনার মুখে পড়েছে। তিনি বলেন যে, ভারতে মুসলিমরা যে অধিকার পায়, মালয়েশিয়াতে হিন্দুরা তার চেয়ে শতভাগ বেশি অধিকার ভোগ করে।

নায়েকের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বে মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভা আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা এই মর্মে একটি বিবৃতি দিবেন যে, নায়েক আর মালয়েশিয়ায় অবস্থান করতে পারবেন না।

যোগাযোগ ও মাল্টিমিডিয়া মন্ত্রী গোবিন্দ সিং দেও এবং মানব সম্পদ মন্ত্রী এম কুলাসেগারান এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, “আমরা আমাদের অবস্থান জানিয়েছি যে, এ ব্যাপারে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে এবং জাকির নায়েককে আর মালয়েশিয়ায় থাকতে দেয়া যাবে না”। আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “প্রধানমন্ত্রী আমাদের উদ্বেগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছেন। আমরা এটা তার উপর ছেড়ে দিয়েছি এবং যত দ্রুত সম্ভব সমস্যার সমাধানের জন্য সিদ্ধান্ত নিবেন তিনি”।

নায়েক আগে এমন অভিযোগও করেছিলেন যে, মালয়েশিয়ার হিন্দুরা মাহাথির মোহাম্মদের চেয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি বেশি অনুগত।

মালয়েশিয়ার আগের সরকার নায়েককে মালয়েশিয়ার স্থায়ী অধিবাসীর মর্যাদা দেয় এবং গত তিন বছর ধরে তিনি মালয়েশিয়াতে বাস করছেন।

ভারতে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা উসকে দেয়া এবং অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

২০১৬ সালের জুলাই মাসে ঢাকায় হোলি আর্টিসান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার সাথে তার কোন যোগাযোগ আছে কি না, এটা নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত দুজন সন্দেহভাজন দাবি করেছিলেন যে, তারা জাকির নায়েকের মৌলবাদী প্রচারণায় উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।