Tuesday, November 30, 2010

জাপানে ৬ হাজার কোটি ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ

জাপানি পার্লামেন্ট দেশটির অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের জন্য ছয় হাজার ১০০ কোটি ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ অনুমোদন দিয়েছে।এ অর্থ দিয়ে জাপান সরকার দেশটিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন নতুন চাকরির ক্ষেত্র তৈরি করবে। এর পাশাপাশি প্রণোদনা অর্থ দিয়ে অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর ক্ষেত্রেও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে জাপান সরকার। তবে মন্দা অর্থনীতিকে পুনর্জাগরণের জন্য জাপান সরকার এর আগেও কয়েকটি প্রণোদনা প্যাকেজ হাতে নিয়েছিল।জাপানে গত ২০ মাস ধরেই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার অত্যন্ত মন্থর। এর পাশাপাশি দেশটির মুদ্রার দাম বেড়ে যাওয়া ও ঊর্ধ্বমুখী মুদ্রাস্ফীতি জাপানের অর্থনীতিকে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। গত অক্টোবরে জাপানে ভোগ্যপণ্যের মূল্য শূন্য দশমিক ছয় শতাংশ কমে গেছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মূলত মূদ্রাস্ফীতির কারণেই জাপানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার অনেকটাই কমে গেছেে।

সদস্য মার্জিন আগের অবস্থায় বহাল রাখার দাবি ডিএসইর

দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য ব্রোকারেজ হাউসের প্রতিদিনের লেনদেনের ওপর নিরাপত্তা জামানতের হার (মেম্বারস মার্জিন) আগের অবস্থায় বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। নিরাপত্তা জামানতের হার পরিবর্তনের এসইসির সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক মতামত জানানোর সময় আজ সোমবার ডিএসইর পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হয়।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) গত বৃহস্পতিবার সদস্য মার্জিন আইনে সংশোধনী আনে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোনো ব্রোকারেজ হাউসকে পাঁচ কোটি টাকার লেনদেনে সদস্য মার্জিন দিতে হয় না। তবে লেনদেন পাঁচ কোটি টাকার ওপরে এক কোটি অর্থাত্ মোট ছয় কোটি টাকা হলে ব্রোকারেজ হাউসকে অতিরিক্ত লেনদেনের ৪০ শতাংশ, অতিরিক্ত দুই কোটি টাকা লেনদেন হলে ৬০ শতাংশ, লেনদেন অতিরিক্ত দুই থেকে চার কোটি টাকার মধ্যে হলে ৮০ শতাংশ এবং অতিরিক্ত লেনদেন চার কোটি টাকার ওপরে হলে ১০০ শতাংশ স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক নিশ্চয়তা বা কর্পোরেট গ্যারান্টি থাকলেও ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে এই টাকার অন্তত ৫০ শতাংশ নগদ জমা দিতে হবে। আগে এই হার ছিল যথাক্রমে ২০, ৩০, ৫০ ও ১০০ শতাংশ। এ ছাড়া কোনো ব্যাংক প্রাতিষ্ঠানিক নিশ্চয়তা বা কর্পোরেট গ্যারান্টি দিলে ব্রোকারেজ হাউসকে নগদ টাকা দিতে হতো না।
এসইসির নতুন এ আইন গতকাল রোববার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও আগামী ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সদস্য মার্জিন কার্যকরের সময়সীমা বাড়ানো হয়।
এ ব্যাপারে ডিএসইর প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী প্রথম আলোকে বলেন, আগের সদস্য মার্জিনে যেহেতু কোনো প্রকার সমস্যা হচ্ছে না, তাই সদস্য মার্জিন আগের অবস্থায় বহাল রাখার ব্যাপারে আমরা এসইসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মতামত জানিয়েছি। আর নতুন আইন কার্যকর হলে দেখা যাবে ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে নগদ অর্থ সমস্যার কারণে এক ঘণ্টা লেনদেন করে লেনদেন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

আর্থিক খাতে চাঙাভাব

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ বেশির ভাগ শেয়ারের দরপতন হলেও চাঙা রয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত। তবে বিমাসহ কয়েকটি খাতে মিশ্র অবস্থা দেখা গেছে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, ডিএসইতে লেনদেন শেষে বিভিন্ন খাত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আজ আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ২১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৮টির, কমেছে তিনটির। তবে ব্যাংক খাতের ৩০টির মধ্যে ২২টির, সিমেন্ট খাতের পাঁচটির মধ্যে চারটির, সিরামিক খাতের পাঁচটির মধ্যে চারটির, জ্বালানি খাতের ১১টির মধ্যে আটটির, বিমা খাতের ৪৪টির মধ্যে ১৭টির, মিউচুয়াল ফান্ডের ৩১টির মধ্যে ২৪টির ও টেলিকমিউনিকেশন খাতের একমাত্র প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম কমেছে আজ।
এদিকে আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বিডি ওয়েল্ডিংয়ের শেয়ারের দাম। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি শেয়ারের দাম আজ ২১ টাকা ৩০ পয়সা বা ১০ দশমিক ০৩ শতাংশ বেড়ে যায়। এ ছাড়া জুট স্পিনার্স, এইমস প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, কেয়া ডিটারজেন্ট, প্রিমিয়ার লিজিং, কেয়া কসমেটিকস, রূপালী ব্যাংক, প্যারামাউন্ট ইনস্যুরেন্স, পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্স ও ফুওয়াং ফুড দর বৃদ্ধি পাওয়া শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে।

আমরা উদ্বিগ্ন, উৎকণ্ঠিত

কাল মঙ্গলবার বিএনপি আহূত হরতালকে কেন্দ্র করে সারা দেশে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, তাতে শান্তিকামী সব নাগরিকের সঙ্গে আমরাও উদ্বিগ্ন, উৎকণ্ঠিত। বিরোধী দল যত অজুহাতই দেখাক না কেন, হরতাল-অবরোধের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি পালনের কোনো যুক্তি নেই। হরতালে সরকারের পতন হয় না, জনগণের দুর্ভোগ বাড়ে, জাতীয় সম্পদ বিনষ্ট হয়, স্থবির হয়ে পড়ে অর্থনীতির চাকা। মাত্র কয়েক দিন আগেই দলীয় চেয়ারপারসনকে বাড়ি থেকে ‘উচ্ছেদ’-এর প্রতিবাদে বিএনপি এক দিন সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করেছে। মাত্র ১৫-১৬ দিনের ব্যবধানে আবার হরতাল আহ্বান কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিরোধী দল যে দাবিতে হরতাল পালন করে, মিছিল-সমাবেশ ডেকে জানাতে চায়, সে দাবি কেন সংসদে গিয়ে জানায় না?
যেকোনো হরতাল সামনে রেখে সরকার ও বিরোধী দল মুখোমুখি অবস্থানে থাকে। বিরোধী দল হরতালের পক্ষে এবং সরকার বিপক্ষে নানামুখী তৎপরতা চালায়। সেই সঙ্গে নেতা-নেত্রীদের উসকানিমূলক কথাবার্তা জনমনে ভীতির সঞ্চার করে। এবারও হরতাল সামনে রেখে সারা দেশে উত্তেজনা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিরোধী দল রাস্তাঘাট বন্ধ করে বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ ও মিছিল করছে। অন্যদিকে বিরোধী দলের মিছিলে পুলিশের বাধা এবং পাইকারি গ্রেপ্তারের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরতাল সামনে রেখে কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। যাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে, তাদেরই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের এই যুক্তি সর্বৈব সত্য নয়। বিরোধী দলের এসব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে যদি আগে থেকেই মামলা থেকে থাকে, তাহলে এত িদন গ্রেপ্তার করা হলো না কেন? এর পাশাপাশি সরকার ‘নৈরাজ্য-বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে’ আনসার ভিডিপি নামিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক করেছেন ঢাকার সাংসদদের সঙ্গে। রাস্তায় আনসার ভিডিপি নামিয়ে হরতাল ঠেকানো যায় না। সাংসদদেরও এ ব্যাপারে তেমন কিছু করার নেই। বিরোধী দল যদি রাস্তায় গাড়ি পোড়ায়, ভাঙচুর করে, হরতাল পালনে জবরদস্তি চালায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা অবশ্যই দমন করবে। তবে বাড়াবাড়ি কম্য নয়।
আমরা মনে করি, দেশের সব শ্রেণী ও পেশার মানুষ হরতাল-অবরোধের বিরোধী। ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী বিরোধী দলকে হরতালের বিকল্প কর্মসূচি নেওয়ার জন্য বলেছেন। বিরোধী দল সেই আহ্বান আমলে নেয়নি। তারা ঘন ঘন হরতাল ডেকে জনগণের আস্থা ও সহানুভূতি হারিয়েছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন কিছু করা ঠিক হবে না, যাতে বিরোধী দল আবারও হরতাল ডাকার সুযোগ পায়। অতএব সরকারকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। জনজীবনে শান্তি রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চয়ই কঠোর ভূমিকা পালন করবে, কিন্তু কোনো আচরণ যাতে বিরোধী দলের প্রতি প্রতিহিংসামূলক না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। দেশবাসী নৈরাজ্য বা বাড়াবাড়ি চায় না। তারা শান্তি চায়, অগ্রগতি চায়।

বক্তাবলী গণহত্যা ও প্রতিরোধ দিবস by রফিউর রাব্বি

১৯৭১ সালের ২৯ নভেম্বরের রাত। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে আছে নারায়ণগঞ্জের পশ্চিমাঞ্চল ধলেশ্বরীর পাড় ধরে বক্তাবলীর ২২টি গ্রাম। বক্তাবলী ও আলীরটেক—এই দুটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে বক্তাবলী পরগনা। মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জের দিকে সরে যাওয়ার নিরাপদ যাত্রাপথটিও ছিল এই বক্তাবলী। বক্তাবলীর পূর্বে ও দক্ষিণে ধলেশ্বরী আর উত্তরে বুড়িগঙ্গা নদী। দক্ষিণ আমেরিকার আটলান্টিকের পারে লম্বা সরু দেশ চিলির মতো এই বক্তাবলী। দুই নদীর মাঝখানে বক্তাবলীর ২২টি গ্রাম যেন দুপুরের ঘাসের ওপর বিছিয়ে রাখা মায়ের ভেজা কাপড়।
মার্চের ২৭ তারিখেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নারায়ণগঞ্জ শহরে ঢুকে যায়। যদিও সেখানেও প্রতিরোধ হয়েছে এবং কয়েকজন শহীদ হয়েছেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়টিতেই নারায়ণগঞ্জ শহরে পাকিস্তানি হানাদারদের হত্যা-নির্যাতন অব্যাহত থেকেছে। পাকিস্তানি বাহিনী শীতলক্ষ্যার পূর্ব পাড়ে হত্যা-নির্যাতন চালায়, কিন্তু বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরীতে নৌ-টহল দিলেও নভেম্বরের শেষাবধি তারা বক্তাবলীতে প্রবেশ করেনি; ফলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের লক্ষাধিক মানুষ মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই এই বক্তাবলীতে আশ্রয় নেয়।
নারায়ণগঞ্জ শহরে অবস্থিত কয়েকজন রাজাকারের সহযোগিতায় ২৯ নভেম্বর রাত প্রায় সাড়ে তিনটায় পাকিস্তানি বাহিনী তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলে গোটা বক্তাবলী। গানবোট নিয়ে ধলেশ্বরীর বুকে তারা অবস্থান নেয় এবং সুবেহসাদেকের সময় বক্তাবলীর চরে গানবোট ভিড়িয়ে নদীর পাড়ে নামতে থাকে তারা। কিন্তু ঘন কুয়াশার কারণে তারা গ্রামে অগ্রসর হতে সাহস করে না। তখন মুক্তারকান্দি প্রাইমারি স্কুল ও কানাইনগর হাইস্কুলে মুক্তিযোদ্ধাদের দুটি ক্যাম্প ছিল। নদীর পাড়ে অবস্থিত ডিক্রিরচর মসজিদ ও বিভিন্ন বাড়িতে রাত কাটাতেন মুক্তিযোদ্ধারা; ফলে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি সেনাদের উপস্থিতি সঙ্গে সঙ্গেই টের পেয়ে যান এবং প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেন। কুয়াশা একটু কাটতে থাকলে কুঁড়ের পাড় অঞ্চলের নদীর কাছ থেকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে গ্রামের দিকে অগ্রসর হতে থাকে পাকিস্তানি বাহিনী। আর তখনই মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিরোধ শুরু করেন। সকাল তখন প্রায় সাড়ে সাতটা। উল্লেখ্য, মাহফুজুর রহমান পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের প্রথম চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। প্রতিরোধের শুরুতেই পাঁচজন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেন মুক্তিযোদ্ধারা এবং আহত হয় বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা। পাকিস্তানি সেনারা পাঁচটি লাশ ও আহত দুজনকে কাঁধে নিয়ে পিছু হটে যায়। এখানে প্রায় দুই ঘণ্টা প্রতিরোধ যুদ্ধ চলে। এ দুই ঘণ্টা প্রতিরোধের কারণে বক্তাবলীর গ্রামগুলো থেকে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ মুন্সিগঞ্জ ও বিভিন্ন অঞ্চলে সরে যেতে সক্ষম হয়। এর পরপরই পাকিস্তানি বাহিনী ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে গ্রামগুলোর ওপর। পাকিস্তানি বাহিনীর আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের মুখে মুক্তিবাহিনী বাধ্য হয়ে পিছু হটে। আর তখনই শুরু হয় পাকিস্তানি বাহিনীর তাণ্ডব। তারা ডিক্রিরচর নদীর পাড়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে একসঙ্গে হত্যা করে ৪০ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে। লক্ষ্মীনগর কবরস্থানের কাছে খড়েরপাড়ার ভেতর আশ্রয় নেওয়া দলবদ্ধ সাধারণ মানুষকে আগুনে জ্বালিয়ে হত্যা করে। রাজাপুরের হলুদ সরিষাখেত লাল হয়ে ওঠে, পড়ে থাকে লাশের পর লাশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র শহীদুল্লাহ, মুনীরুজ্জামানসহ বহু ছাত্র আর সাধারণ কৃষককে হত্যা করে তারা। বক্তাবলীতে ওই দিন ১৩৯ জনকে হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। বক্তাবলী পরগনার ২২টি গ্রাম গান পাউডার দিয়ে বিকেলের মধ্যেই জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছাই করে দেয় তারা।
দেশে যে কটি গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, বক্তাবলী তার মধ্যে অন্যতম। এখানে প্রতিরোধ হয়েছে, পাকিস্তানি সেনাদের হত্যা করা হয়েছে এবং মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ হয়েছেন। অথচ কী নির্মম আমাদের বাস্তবতা, আজ প্রায় ৪০ বছর পরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ছাত্রদের তালিকায় যেমন এই বক্তাবলীর শহীদদের নাম নেই, স্থানীয় জেলা প্রশাসনের শহীদদের তালিকায়ও এই ১৩৯ জনের একজনেরও নাম নেই। অথচ এই একটি মাত্র অঞ্চল, যেখানে কোনো একজনও রাজাকার বা স্বাধীনতাবিরোধী ছিল না। এই ২২টি গ্রামের প্রতিটি বাড়ির লোকজনই মুক্তিযুদ্ধের নয়টি মাস নিজেরা খেয়ে না-খেয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও আশ্রয় নেওয়া মানুষকে খাইয়েছেন, আশ্রয় দিয়েছেন। এই গ্রামগুলোর ছাত্র, শিক্ষক, চাষাভুষা—প্রত্যেকেই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা।
সন্তানহারা, পিতাহারা, স্বজনহারা সেই শহীদ পরিবারগুলোতে এখনো আহাজারি, বুকফাটা আর্তনাদ। বেঁচে থাকার জন্য, টিকে থাকার জন্য প্রাণপণ লড়াই করেও মানবেতর জীবন যাপন করছে শহীদ পরিবারগুলো।
এ কথা সত্য যে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের তেমন ভূমিকা নেই। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদগুলোতে আমরা দেখে আসছি বিএনপির শাসনামলে সংসদ কার্যালয়ে জিয়াউর রহমানের ছবি ঝুলিয়ে তাদের জিন্দাবাদ দিতে, স্বৈরশাসক এরশাদের সময় এরশাদের ছবি তুলে তাঁর গুণগান করতে, আজ আবার বঙ্গবন্ধুর ছবি লাগিয়ে জয় বাংলা ধ্বনি দিয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেলছে। ছবি ওঠানো আর নামানোর রাজনীতি থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের অন্তত বেরিয়ে আসতে হবে। ইতিহাস বিকৃতির দায় বিএনপি, জামায়াত আর স্বাধীনতাবিরোধীদেরই শুধু নয়; এ দায় থেকে তারাও রেহাই পাবে না। প্রকৃত সত্য ও তথ্য তুলে ধরার ব্যর্থতার দায়ভারও তাদের ওপর।
প্রতিদিন মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলোর উদ্দেশে সরকারের এত প্রতিশ্রুতির জোয়ার উঠলেও সেই জোয়ারের ঢেউ প্রায় ৪০ বছরেও বুড়িগঙ্গা-ধলেশ্বরীর পারের শহীদদের গ্রাম বক্তাবলীতে এসে আঘাত করেনি। এ সরকারের সময় এমনটি কারও কাম্য নয়।
রফিউর রাব্বি: সাংস্কৃতিক সংগঠক।

ডেপুটি মেয়রকে গুলি করে হত্যা

ফিলিপাইনে বন্দুকধারীদের গুলিতে ম্যাগুইনদাউ প্রদেশের বারিরা শহরের ডেপুটি মেয়র নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের আঞ্চলিক সদর দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ডেপুটি মেয়র আলেকজান্ডার টমাসকে গতকাল দুই কিশোর গুলি করে পালিয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এ হামলার উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয়। এএফপি।

করাচিতে পণ্যবাহী বিমান বিধ্বস্ত, ১২ জন নিহত

পাকিস্তানের বন্দরনগর করাচিতে একটি পণ্যবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১২ জন নিহত হয়েছেন। নগরের একটি নির্মাণাধীন হাউজিং কমপ্লেক্সে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর কমপ্লেক্সের বেশ কয়েকটি ভবনে আগুন ধরে যায়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে আটজন বিমানের ক্রু। বাকি চারজন নির্মাণশ্রমিক।
পাকিস্তানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র পারভেজ জর্জ জানিয়েছেন, পণ্যবাহী বিমানটি গত শনিবার স্থানীয় সময় রাত পৌনে দুইটার দিকে সুদানের রাজধানী খার্তুমের উদ্দেশে করাচি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করে। কিন্তু উড্ডয়নের প্রায় দুই মিনিট পর আইএল-৭৬ বিমানটি বিধস্ত হয়। বিমানের আটজন ক্রুর সবাই ছিলেন রাশিয়ার। বিমানটি ত্রাণসামগ্রী বহন করছিল।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, উড্ডয়নের পরপরই বিমানের একটি ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। এরপর এটি বিকট শব্দে ওই হাউজিং কমপ্লেক্সে বিধ্বস্ত হয়। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ দুর্ঘটনায় অন্তত ২০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই বাড়িগুলোর বেশির ভাগই নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। বাড়িগুলো ফাঁকা ছিল। পরে অগ্নিনির্বাপককর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ও নিহত ব্যক্তিদের লাশ উদ্ধার করেন।
দুর্ঘটনাস্থলের মাত্র ৫০০ মিটার দূরে জনবসতিপূর্ণ এলাকা। সেখানে বিধ্বস্ত হলে আরও অনেক মানুষ হতাহত হতো।
করাচি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে করাচিতে উড্ডয়নের পরপরই একটি ভাড়া করা যাত্রীবাহী ছোট বিমান বিধ্বস্ত হলে এর ২১ আরোহীর সবাই নিহত হয়।
এ ছাড়া গত জুলাইয়ে রাজধানী ইসলামাবাদের কাছে একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হলে বিমানের ১৫২ আরোহীর সবাই নিহত হয়।

নথি ফাঁস না করতে উইকিলিকসের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ

মার্কিন গোপন নথি ফাঁস না করার অনুরোধ জানিয়ে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের গোপন নথি ফাঁস করা বেআইনি। এ ছাড়া এসব নথি প্রকাশ করা হলে অসংখ্য মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
বিভিন্ন দেশের সরকারের বিব্রতকর তথ্য ফাঁসের জন্য আলোচিত ওয়েবসাইট উইকিলিকস সম্প্রতি ৩০ লাখ মার্কিন গোপন নথি প্রকাশের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করে।
গত মাসে ইরাক যুদ্ধের প্রায় চার লাখ গোপন নথি প্রকাশ করে ওয়েবসাইটটি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আইন উপদেষ্টা হ্যারল্ড কোহের ওই চিঠিতে বলা হয়, গোপন তথ্য প্রকাশ করা হলে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও ব্লগারসহ অসংখ্য মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক অভিযানও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
এবারের নথিতে অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, কানাডা, ইসরায়েল, রাশিয়া ও তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গোপন বিষয় প্রকাশ পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কবে বা কখন এসব তথ্য প্রকাশ করা হবে তা নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা জানান, জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ এসব নথি সম্পাদনা করে প্রকাশের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু হ্যারল্ড কোহের চিঠিতে সব নথি মার্কিন সরকারের কাছে ফেরত দিতে বলা হয়। চিঠিতে বলা হয়, ‘উইকিলিকসের সঙ্গে আমরা কোনো আলোচনায় যাব না।

যৌথ বাহিনীর অভিযানে রিওর মাদক কারবারিরা কোণঠাসা

ব্রাজিলের নিরাপত্তা বাহিনী রিও ডি জেনিরো নগরে মাদক চোরাকারবারিদের কোণঠাসা করে ফেলেছে। নগরের একটি বস্তি এলাকায় আশ্রয় নেওয়া ৫০০ থেকে ৬০০ চোরাকারবারিকে ধরতে গতকাল রোববার নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। সর্বশেষ সংবাদ অনুযায়ী অপরাধীরা আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করায় পুলিশ, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর যৌথ অভিযান চলছিল।
কর্মকর্তারা জানান, মাদক চোরাকারবারিদের ধরতে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তাদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা সংঘর্ষে গত শনিবার পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৫ জন নিহত হয়। অভিযানের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়ায় চোরাকারবারিরা ফ্যাভেলা ডা গ্রোটা নামের একটি বস্তিতে আশ্রয় নিলে পুলিশ তাদের ঘিরে ফেলে। কমপ্লেক্স ডি আলেমাও নামের একটি বিশাল এলাকায় গড়ে ওঠা অনেকগুলো বস্তির মধ্যে ফ্যাভেলা ডা গ্রোটা অন্যতম। কর্মকর্তারা বলেছেন, তাঁরা পুরো বস্তি ঘিরে ফেলেছেন। পুলিশকে সহায়তা করতে বিমান, নৌ ও এলিট ফোর্সের সদস্যরা অংশ নিয়েছেন। দুই হাজার ৬০০ নিরাপত্তাকর্মী এ অভিযানে অংশ নেন। অভিযান চলাকালে প্রচুর গুলিবিনিময় হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী নেলসন জোবিম ১০টি সামরিক সাঁজোয়া যান, বিমানবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার ও অতিরিক্ত ৮০০ সেনা মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
পুরো মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়েছেন পুলিশ বিভাগের সাড়ে ১৭ হাজার সদস্য। তবে এ মুহূর্তে ডি আলেমাও কমপ্লেক্সের অভিযানকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ কমপ্লেক্সে প্রায় ৪০ হাজার লোকের বসবাস। মাদকচক্রের দাপটে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরাও এখানে ঢুকতে পারতেন না।

নারীদের বগিতে ওঠার শাস্তি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে গত শনিবার একটি ট্রেনে নারীদের জন্য সংরক্ষিত বগিতে ভ্রমণ করায় পুরুষদের কানে ধরে ওঠবস করিয়েছেন বিক্ষুব্ধ নারীযাত্রীরা। স্থানীয় পত্রিকা সূত্রে এ খবর জানা গেছে। নয়াদিল্লিতে প্রতিটি মেট্রোরেলে কমপক্ষে একটি বগি নারীদের জন্য সংরক্ষিত।
দীর্ঘ দিন ধরেই নয়াদিল্লিতে গণপরিবহনে যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার অভিযোগ করে আসছেন স্থানীয় নারীবাসিন্দা ও পর্যটকেরা।
পত্রিকার খবরে জানা গেছে, একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর গুরগাঁও এলাকার একটি স্টেশনে পুলিশ শনিবার অভিযান চালায়। পুলিশের অভিযান দেখেই নারীযাত্রীরা সাহসী হয়ে ওঠেন এবং সংরক্ষিত বগিতে ভ্রমণকারী পুরুষদের ওপর চড়াও হন। ওই পুরুষযাত্রীদের ২৫০ রুপি জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ক্ষুব্ধ নারীযাত্রীরা তাঁদের চড়-থাপড় মারেন এবং কানে ধরে ওঠবস করতে বাধ্য করেন।
গুরগাঁওয়ের পুলিশ কমিশনার এস দেসওয়াল পত্রিকাটিকে বলেন, ‘নারীদের জন্য সংরক্ষিত বগিতে আমরা অনেক পুরুষকে পেয়েছি। সেখানে নারীযাত্রীরা পুলিশদের দেখামাত্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ওই পুরুষদের ওপর চড়াও হন।’

মিসর, আইভরি কোস্ট ও হাইতির নির্বাচনে ভোট গ্রহণ

আফ্রিকার দেশ মিসর ও আইভরি কোস্ট এবং ক্যারিবীয় দেশ হাইতিতে গতকাল রোববার পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে, মিসরে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের দল এনডিপি আবারও বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হচ্ছে বলে আভাস পাওয়া গেছে। কলেরা মহামারিতে বিপর্যস্ত দেশ হাইতিতে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্য দিকে আইভরি কোস্টে মোটামুটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে।
মিসরের গণমাধ্যমকর্মী ও বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ক্ষমতাসীন এনডিপির জয় প্রায় নিশ্চিত। এনডিপির নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও পার্লামেন্টে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে মুসলিম ব্রাদারহুড দলের নেতারা তাঁদের অবস্থান ধরে রাখতে পারবেন বলেও মনে করছেন তাঁরা। সরকারিভাবে মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করার পর ওই দলের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
গতকাল ভোর ছয়টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। শেষ হয় বিকেল পাঁচটায়। মিসরের পার্লামেন্টে মোট ৫১৮টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ৫০৮টি আসনে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বাকি ১০টি আসনের প্রতিনিধিদের প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন দেন।
আইভরি কোস্টে গতকাল ভোর সাতটা থেকে শুরু হয়ে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। গত মাসে প্রথম দফার নির্বাচনে অন্য প্রার্থীরা বাদ পড়ার পর ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট লরেন্ট জিবাগবো এবং দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী অ্যালাসানে কুয়াতারা চূড়ান্ত পর্বে উঠে আসেন।
হাইতিতে নির্বাচন শুরু হওয়ার পরপরই বহু প্রার্থী ভোট গ্রহণে অস্বচ্ছতার অভিযোগ আনেন। ১৯ জন প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সম্প্রতি কলেরা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া সত্ত্বেও দেশটিতে নির্বাচন দেওয়া হয়।

ইরানে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেন সৌদি বাদশাহ!

নজরদারি ওয়েবসাইট উইকিলিকস এবার যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলোর পাঠানো গোপন প্রায় আড়াই লাখ তারবার্তা প্রকাশ করেছে। গতকাল রোববার এসব গোপন নথি প্রকাশ করা হয়। এতে মার্কিন প্রশাসন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। গোপন ওই সব বার্তা থেকে জানা গেছে, সৌদি আরবসহ আরব দেশগুলো পরমাণু কর্মসূচি থামাতে ইরানে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একাধিকবার আহ্বান জানিয়েছে।
এ ছাড়া পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচির সরঞ্জাম দিয়ে পরমাণু বোমা বানানো এবং চীনের সরকারের কম্পিউটার হ্যাকিং পদ্ধতি ব্যবহার করে তথ্য চুরির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশের প্রতিবেদনও প্রকাশ পেয়েছে এসব নথি থেকে।
মার্কিন দূতাবাসগুলোর লেনদেন করা এসব বার্তা থেকে অনেক ঘটনার নেপথ্য চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশ করা বেশির ভাগ বার্তাই গত তিন বছরের মধ্যে পাঠানো। নিউইয়র্ক টাইমসসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের কাছেও এসব গোপন বার্তা তুলে দিয়েছে উইকিলিকস কর্তৃপক্ষ। এর আগে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধসংক্রান্ত গোপন মার্কিন দলিল প্রকাশ করে বিশ্বে হইচই ফেলে দেয় উইকিলিকস।
উইকিলিকসে গতকাল প্রকাশিত হওয়া নথি থেকে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা উত্তর কোরিয়ার শাসকগোষ্ঠীর পতনের ব্যাপারে কী ধরনের চিন্তাভাবনা করছেন। এ ছাড়া আফগানিস্তান সরকারের দুর্নীতি, মেক্সিকোতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মানবাধিকার নিয়ে ইউরোপের সঙ্গে বিরোধ, সিরিয়ায় হিজবুল্লাহর কাছে অস্ত্র সরবরাহ ঠেকানো, জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনসহ সেখানকার অন্যান্য দেশের কূটনীতিকদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তিসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে এসব বার্তায়।
উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসানজে বলেন, মার্কিন কর্তৃপক্ষ দায়ভার নিতে ভয় পাচ্ছে। এর আগে ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে, তাদের ওয়েবসাইটটি হ্যাক করার জন্য একাধিকবার চেষ্টা চালানো হয়েছে। উইকিলিকসের এসব তথ্য প্রকাশের নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

শচীন-ধোনির দাম দুই কোটি!

জানুয়ারিতে আইপিএলের চতুর্থ আসরের নিলাম। এবার নতুন করে সব খেলোয়াড়কেই নিলামে তোলা হচ্ছে। তাই নিলামে উঠছেন শচীন টেন্ডুলকার, মহেন্দ্র সিং ধোনি, সৌরভ গাঙ্গুলীরাও। পাঁচটি ভাগে (ব্র্যাকেট) খেলোয়াড়দের ভাগ করে ঠিক করে দেওয়া হয়েছে সর্বনিম্ন দর (বেজ প্রাইস)। শচীন-ধোনিদের দলে রাখতে চাইলে দামই শুরু করতে হবে ১ কোটি ৮৪ লাখ রুপি থেকে। অবশ্য শেষ পর্যন্ত এঁদের নিলামে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ প্রতিটি দল তাদের আগের খেলোয়াড়দের মধ্যে চারজনকে রেখে দিতে পারবে, যাঁদের তিনজন ভারতীয়। মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ছেড়ে টেন্ডুলকার আর চেন্নাই সুপার কিংস ছেড়ে ধোনির অন্য কোথাও যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
দ্বিতীয় ব্র্যাকেটের সর্বনিম্ন দর ১ কোটি ৩০ লাখ। এই ভাগে আছেন ইউসুফ পাঠান, জহির খান আর সুরেশ রায়না। সাবেক তিন অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী, অনিল কুম্বলে ও রাহুল দ্রাবিড় আছেন তৃতীয় ব্র্যাকেটে (৯৩ লাখ রুপি)। এঁদের সঙ্গে আছেন ভিভিএস লক্ষ্মণ, গৌতম গম্ভীর, বিরাট কোহলি, ইরফান পাঠান, রবিন উথাপ্পা, ইশান্ত শর্মারা। চতুর্থ (৪৬ লাখ) ও পঞ্চম ব্র্যাকেটে (২৩ লাখ) আছেন ভারতের বাকি ঘরোয়া ক্রিকেটাররা। বিদেশি খেলোয়াড়দের নিলাম-তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ফিরলেন আশরাফুল

নির্বাচকেরা দল নির্বাচন করে বোর্ডে জমা দিয়ে দিয়েছিলেন তিন-চার দিন আগেই। সেটিই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো কাল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে স্মরণীয় ওই সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েছেন শাহরিয়ার নাফীস ও জহুরুল ইসলাম। মাশরাফি-নাজমুলের চোটের কারণে ডাক পাওয়া সৈয়দ রাসেল ও ডলার মাহমুদও বাদ পড়েছেন। নিউজিল্যান্ডে বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই চোট পেয়ে সিরিজ থেকে ছিটকে পড়া মাশরাফি ও নাজমুল দুজনই ফিরেছেন দলে। ফিরেছেন চোটের কারণে নিউজিল্যান্ড সিরিজ মিস করা তামিম ইকবালও।
তবে বুধবার শুরু হতে যাওয়া জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে সেই অর্থে ফেরা শুধুই মোহাম্মদ আশরাফুলের। বাজে ফর্মের কারণে নিউজিল্যান্ড সিরিজে দর্শক হয়ে ছিলেন। জাতীয় লিগের ওয়ানডেতে ৭ ম্যাচে ৬৬.২০ গড়ে ৩৩১ রান করে টুর্নামেন্ট-সেরার স্বীকৃতি পাওয়ার পর সাবেক অধিনায়কের ফেরাটা অনুমিতই ছিল। প্রধান নির্বাচক রফিকুল আলমও আশরাফুলকে ফেরানোর এই ব্যাখ্যাই দিলেন, ‘বাজে ফর্মের কারণে ইংল্যান্ড সফরের পর দল থেকে বাদ পড়েছিল আশরাফুল। কিন্তু জাতীয় লিগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করে সে ফর্মে ফেরার প্রমাণ দিয়েছে।’ দুই দিন আগে এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক আশরাফুল দলে ফেরার খবর শুনেছেন চীনে বসেই। কাল দেশের উদ্দেশে আকাশে ওড়ার ঠিক আগে টেলিফোনে এই প্রতিবেদককে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বললেন, ‘ভালো পারফর্ম করে দলে ফিরেছি, ভালো তো লাগছেই। কিন্তু দলে ফিরলেই তো শুধু হবে না, পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতাটাও ধরে রাখতে হবে। ভালো খেলে দলে জায়গা ধরে রাখাই হবে এখন আমার মূল লক্ষ্য।’
আশরাফুলের জন্য সময়টা উৎসবের হলেও দুর্ভাগ্য শাহরিয়ার নাফীসের। নিউজিল্যান্ড সিরিজে তিন ম্যাচে ২৯.৭৫ গড়ে ১১৯ রান করেও প্রিয় প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে বিপক্ষে খেলতে পারছেন না এই বাঁহাতি। শাহরিয়ারের সান্ত্বনা তাই প্রধান নির্বাচকের সহানুভূতিটুকুই, ‘প্রথমত আমি বলব ও আনলাকি। কম্বিনেশনের কারণেই দলে ওর জায়গা হয়নি। ইনজুরি থেকে ফেরার পর ওপেনিংয়ে তামিম ইকবাল অটোমেটিক চয়েজ। আর প্রায় এক বছর ধরে তিন নম্বরে ভালো খেলছে জুনায়েদ।’ জুনায়েদ না শাহরিয়ার—প্রশ্নে নির্বাচকেরা বোধ হয় একটু বেশিই অতীতে ফিরে গেলেন। নইলে গত নিউজিল্যান্ড সফরে জুনায়েদের চেয়ে অনেক ভালো পারফরম্যান্স শাহরিয়ারের। শাহরিয়ারের রান যেখানে ১১৯, জুনায়েদ করেছেন মাত্র ৭১! নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন শাহরিয়ার।
বাদ পড়ার প্রতিক্রিয়ায় সে আক্ষেপ পুরোপুরি লুকাতে পারেননি শাহরিয়ার, ‘কী আর করা! আমি মনে করি, সাম্প্রতিক সময়ে দলে থাকার মতো পারফরম্যান্সই ছিল আমার। তার পরও কেন বাদ পড়লাম, সেই উত্তর নির্বাচকেরাই ভালো দিতে পারবেন। একজন ক্রিকেটার হিসেবে আমি তো সব সময়ই চাইব দলে থাকতে।’
নিউজিল্যান্ড সিরিজের দল থেকে যে চারজন বাদ পড়েছেন, তাঁদের মধ্যে শাহরিয়ার নাফীস ছাড়া বাকি তিনজন কোনো ম্যাচই খেলার সুযোগ পাননি। রাসেল-ডলার বিকল্প হিসেবে হঠাৎ ডাক পেয়েছিলেন বলে তাঁদের বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্ন নেই। তবে জহুরুল ইসলামের বাদ পড়া একটু ব্যাখ্যা দাবি করে। যুক্তরাজ্য সফরে ভালো খেলেছিলেন, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে খেলার সুযোগ না পেয়েও বাদ পড়ার কারণটা কী? প্রধান নির্বাচকের যুক্তি, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে ও পারফর্ম করেনি। বলতে পারেন ফর্মে না থাকার কারণেই দলের বাইরে রাখা হয়েছে তাঁকে।’

জয় দিয়ে শুরু ভারতের

সেঞ্চুরিয়ান বিরাট কোহলিই শেষে জিতেছেন। তবে নিউজিল্যান্ড ইনিংসের ৩৫তম ওভারেই ম্যান অব দ্য ম্যাচ নিয়ে ধারাভাষ্যকক্ষের তুমুল আলোচনায় কোহলির সঙ্গে ৪২ রানের সঙ্গে ৩ উইকেট পাওয়া যুবরাজের পক্ষেও বাজি ছিল। ম্যাচে উত্তেজনার লেশমাত্র যে ছিল না তখন! ২৭৭ রান তাড়া করতে গিয়ে ১৬৯ রানেই ৮ উইকেট নেই নিউজিল্যান্ডের, ভারতের জয় তো নিশ্চিতই।
ক্রিকেটের মজাটাই এখানে, শেষের আগেই শেষ বলে দেওয়া কঠিন। গুয়াহাটির ওয়ানডেতে শেষ পর্যন্ত ৪০ রানের বড় ব্যবধানেই জিতেছে ভারত, তবে নাথান ম্যাককালাম ও কাইল মিলসের ৫৪ বলে ৬৭ রানের নবম উইকেট জুটিতে একটু অনিশ্চিয়তা ছড়িয়ে দিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। অধিনায়কত্বের অভিষেকে বলের পেছন দিকে অনেকটা দৌড়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়ে এই জুটি ভেঙেছেন গৌতম গম্ভীর, পরের বলেই কিউই ইনিংস শেষ করে দিয়েছেন শ্রীশান্ত।
ভারতের এক গাদা তারকাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল আগেই। ছোটখাটো চোট সমস্যায় নিউজিল্যান্ড দলে ছিলেন না ড্যানিয়েল ভেট্টোরি ও ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। টস জিতে রস টেলর ফিল্ডিং নিয়েছিলেন সকাল সাড়ে আটটায় শুরুর সুবিধাটা কাজে লাগাতে। তবে টেলরের আশা পূরণ হয়নি, ভারতকে ৭ ওভারে ৪৪ রানের উদ্বোধনী জুটি এনে দেন গম্ভীর-বিজয়। তৃতীয় উইকেটে ৮৮ রানের জুটি গড়েছেন কোহলি-যুবরাজ। প্রথমে ব্যাট করে প্রথম টানা দ্বিতীয় এবং সব মিলিয়ে চতুর্থ সেঞ্চুরিটা ছুঁয়েছেন বিরাট কোহলি ১০০ বলে। শেষ ৩১ বলে ২৬ রানে ৬ উইকেট হারানোয় তিন শ হয়নি ভারতের। নিউজিল্যান্ড উইকেট হারিয়েছে নিয়মিত বিরতিতে। শেষের ওই নাটকের আগে মাঝে একা লড়েছেন টেলর (৬৯ বলে ৬৬)।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: ভারত: ৪৯ ওভারে ২৭৬ (কোহলি ১০৫, যুবরাজ ৪২, গম্ভীর ৩৮, বিজয় ২৯, পাঠান ২৯; ম্যাকাই ৪/৬২, মিলস ৩/৪২, টাফি ২/৫৬)। নিউজিল্যান্ড: ৪৫.২ ওভারে ২৩৬ (টেলর ৬৬, নাথান ম্যাককালাম ৩৫, মিলস ৩২, গাপটিল ৩০, উইলিয়ামসন ২৫; শ্রীশান্ত ৩/৩০, যুবরাজ ৩/৪৩, অশ্বিন ৩/৫০, নেহরা ১/৪৪)।

অনেক নাটকের পর সেই সাকিব

সিরিজের সময় এমন ম্যাড়মেড়ে দিন কমই আসে। জিম্বাবুয়ের অনুশীলন নিয়ে আগ্রহ থাকার কোনো কারণ নেই। আর বাংলাদেশ দলের তো কাল অনুশীলনই ছিল না। কিন্তু কে জানত, এমন ম্যাড়মেড়ে দিনটাই রূপ বদলে চরম নাটকীয় হয়ে উঠবে সন্ধ্যা নাগাদ!
দুপুরে গৎবাঁধা সংবাদ সম্মেলন করে এলটন চিগুম্বুরার দল হোটেলে ফেরার পর থেকেই নাটকীয় হয়ে উঠতে শুরু করে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের আবহ। দল ঘোষণা নিয়ে গুঞ্জন ছিল, তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুটুকু দখল করে নেয় অন্য দুটি প্রশ্ন—কে হচ্ছেন অধিনায়ক? শুধু কি জিম্বাবুয়ে সিরিজ, নাকি বিশ্বকাপ পর্যন্তই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে কাউকে?
শীতের সন্ধ্যায় এই নাটক আর রোমাঞ্চের শেষ দৃশ্যটা মঞ্চস্থ হলো বোর্ড সভাপতির কক্ষে। মিলল সেই দুটি প্রশ্নের উত্তরও। বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের নাম সাকিব আল হাসান। তবে বিশ্বকাপ পর্যন্ত নয়, আপাতত শুধু জিম্বাবুয়ে সিরিজ। সহ-অধিনায়ক নেই দলে। বিশেষ প্রয়োজনে মাঠ ছাড়তে হলে সাকিবই কাউকে দায়িত্ব দিয়ে আসবেন।
সন্ধ্যায় বোর্ড সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামালের এই ঘোষণার আগে নাটকের একটার পর একটা পর্ব চলেছে বিসিবি কার্যালয়ে। প্রথমে দুই নির্বাচক রফিকুল আলম ও আকরাম খান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আহমেদের সঙ্গে বোর্ড সভাপতির দীর্ঘ আলোচনা। বিকেলে সাংবাদিকদের বোর্ড সভাপতি জানালেন, দল ও অধিনায়কের নাম সন্ধ্যার মধ্যেই জানা যাবে। সম্ভাব্য অধিনায়কদের বোর্ড অফিসে জরুরি তলব করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করার পরই আসবে চূড়ান্ত ঘোষণা।
এর মধ্যেই কে একজন খবর দিয়ে গেলেন, ‘মাশরাফি এসেছে।’ সভাপতির সঙ্গে মিনিট বিশেক আলোচনার পর হাসিমুখে বেরোলেও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তখন কোনো কথা বলতে রাজি হননি মাশরাফি।
সভাপতি অবশ্য মাশরাফির বিদায়ের পরপরই সাংবাদিকদের ডেকে সব কৌতূহল মেটালেন, ‘আমরা আপাতত জিম্বাবুয়ে সিরিজের জন্য অধিনায়ক দিচ্ছি। জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর বিশ্বকাপের জন্য অধিনায়ক মনোনীত করা হবে। জিম্বাবুয়ে সিরিজে অধিনায়কত্ব করবে সাকিব।’
অধিনায়ক যে সাকিব বা মাশরাফির মধ্যেই কেউ হচ্ছেন, সেটা জানা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাকিবকেই বেছে নেওয়ার কারণ কী? মাশরাফির নেতৃত্ব সাকিবের হাতে গেছে তো মাশরাফি ইনজুরিতে পড়ায়! ইনজুরি কাটিয়ে আবার তিনি দলে ফেরার পরও কেন সাকিবই অধিনায়ক? সভাপতির ব্যাখ্যা, ‘মাশরাফির ইনজুরিটাই আমাদের সমস্যায় ফেলেছে। নিউজিল্যান্ড সিরিজে তাকে আমরা পুরোপুরি পাইনি। এর মধ্যে সে কোথাও খেলেওনি। জিম্বাবুয়ে সিরিজে তাই আর ঝুঁকি নিলাম না আমরা। মাশরাফি যদি ফিট হয়, তারপর দেখা যাবে। তা ছাড়া সাকিবের অধিনায়কত্ব প্রমাণিত। তার ওপরই আমাদের আস্থা বেশি।’ সঙ্গে তিনি এটাও জানালেন, মাশরাফি তাঁদের সিদ্ধান্ত হাসিমুখে মেনে নিয়েছেন।
বোর্ড সভাপতি সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন, কিন্তু নাটকের ক্লাইম্যাক্স তখনো বাকি। নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময়ই যে সাকিব বলে রেখেছিলেন এরপর অধিনায়কত্ব করলে সেটি বিশ্বকাপের পরই করতে চান। তিনি কি সিদ্ধান্ত বদলাবেন?
জরুরি তলব পেয়ে ততক্ষণে সাকিবও হাজির সভাপতির কক্ষে। সভাপতি তাঁর হাতে খেলোয়াড় তালিকা ধরিয়ে দিয়ে রসিকতা করলেন, ‘এটা তোমার দল। দেখো, ওদের চেনো কি না।’ পরিস্থিতি বুঝে সাকিব বললেন, ‘...কিন্তু আপনার সঙ্গে যে আমার কিছু কথা আছে।’
বোর্ড সভাপতির সঙ্গে সাকিবের দীর্ঘ সেই আলোচনার ফলাফল—সাকিব জিম্বাবুয়ে সিরিজের অধিনায়কত্ব করতে রাজি। কিন্তু মতবদলের কারণ? সাকিবের কথা শুনে মনে হলো অনুরোধেই ঢেঁকি গিলেছেন তিনি, ‘আমি আসলে মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম না এমন কিছুর জন্য। আমার কাছে মনে হয়েছিল, বিশ্বকাপ পর্যন্ত অধিনায়কত্ব না করাটাই আমার ও দলের জন্য ভালো হবে। নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময়ই সেটা বলে দিয়েছিলাম।’ সাকিবের জন্য অবশ্য অভিজ্ঞতাটা নতুন নয়, এর আগেও এভাবে অধিনায়কত্ব চেপেছে তাঁর কাঁধে। আবারও তাঁকে বলতে হলো, ‘অধিনায়কত্ব করতে হবে, এটাই কথা। আমি সেভাবেই প্রস্তুতি নেব।’ রাতে মাশরাফিও অভিনন্দন জানালেন সাকিবকে, ‘অধিনায়কত্ব না পাওয়াটা আমার জন্য কোনো সমস্যা না। আর অধিনায়ক সাকিবেরই হওয়া উচিত। বোর্ড খুব ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাকিবের কোনো সহযোগিতা লাগলে আমি অবশ্যই তা করব।’
যাক, অধিনায়কত্বের ‘লড়াই’য়ের পরও অপ্রীতিকর হচ্ছে না দুজনের সম্পর্ক! কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র আড়াই মাস আগেও কেন কেবল জিম্বাবুয়ে সিরিজের জন্যই অধিনায়ক বেছে নেওয়া হলো, সেটা কোটি টাকার প্রশ্ন। লম্বা সময়ের জন্য দায়িত্ব দিলেই যে ভালো, সেটা মেনেও বোর্ড সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল উল্টো পথে হাঁটার যে ব্যাখ্যাটা দিলেন, সেটি একটু অদ্ভুতই, ‘দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি ১১ জন খেলোয়াড়কে নিয়মিতভাবে আমরা খুব কমই পাচ্ছি। অন্যান্য দলে কিন্তু বোঝা যায়, কোন ১১ জন খেলবে। কোনো কারণে একজন ইনজুরিতে পড়লেই আরেকজন আসে। আমাদের এ রকম নেই।’

সুন্দর ফুটবলের প্রত্যাশায় গার্দিওলা

স্প্যানিশ লিগে বছরে দুবার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদের দ্বৈরথ দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন ফুটবলপ্রেমীরা। নান্দনিক ফুটবলের ছন্দে মুগ্ধ হওয়ার প্রত্যাশা থাকে সবারই। শুধু দর্শকেরাই নয়, এমন প্রত্যাশা এবার বার্সেলোনা কোচ পেপ গার্দিওলারও। স্প্যানিশ লিগে তুখোড় ফর্মে থাকা দুই দলই এবারের ‘এল ক্লাসিকো’তে সুন্দর ফুটবলের অনবদ্য প্রদর্শনী উপহার দেবে বলেই আশা করছেন গার্দিওলা। তবে নিজেদের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হওয়ার উত্তেজনাটা অবশ্য কাটাতে পারছেন না তিনি। আর ঐতিহ্যবাহী এ লড়াইয়ের ক্ষেত্রে এটাকেই স্বাভাবিক বলে ধরে নিয়েছেন বার্সেলোনার অন্যতম সফল এই কোচ।
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে টানা দুই মৌসুমে চারটি ম্যাচেই জয় ছিনিয়ে এনেছেন গার্দিওলা। এবারও মেসি, জাভি, পুয়োল, ইনিয়েস্তাদের ওপর ভর করে এল ক্লাসিকোয় জয়ের ধারা অব্যাহতই রাখতে চাইবেন তিনি। তবে এবার রিয়ালের বিপক্ষে জয় পেতে যে বার্সাকে অনেক ঘাম ঝরাতে হবে তা খুব ভালোমতোই টের পাচ্ছেন গার্দিওলা। মরিনহো রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনো ১৯টি ম্যাচে হারের মুখ দেখেনি তারা। মরিনহোর সঙ্গে এর আগের মুখোমুখি লড়াইয়েও জিততে পারেননি গার্দিওলা। যদিও মরিনহো সেবার ছিলেন ইন্টার মিলানের ডাগ আউটে। এবারও জয় পাওয়াটা খুব কঠিন হবে মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, ‘আমি রিয়াল মাদ্রিদকে চারবার হারিয়েছি, কিন্তু আমি জানি যে একসময় না-একসময় আমাদের হারতে হবে। যদি দুই দলই তাদের সেরা খেলাটা খেলতে পারে, তাহলে ম্যাচটা ড্র হবে। বার্সেলোনাকে আপনি রিয়ালের চেয়ে ভালো দল বলতে পারেন না। এটা ঠিক হবে না। রিয়াল মাদ্রিদ খুবই শক্তিশালী দল।’
তবে প্রতিপক্ষ রিয়াল মাদ্রিদ বলে নিজেদের খেলার ধরনটা পাল্টে ফেলতে চান না গার্দিওলা। রিয়াল মাদ্রিদ আচমকা পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল পাওয়ার চেষ্টা করবে বলেই অনুমান করছেন তিনি। কিন্তু তার পরও বেশি রক্ষণাত্মক মনোভাব না দেখিয়ে স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক খেলাই চালিয়ে যেতে চান গার্দিওলা। তিনি বলেছেন, ‘আমরা কোনো কিছুই পাল্টাতে চাই না। আমরা অবশ্যই নিজেদেরকে রক্ষা করার চেষ্টা করব, কিন্তু তার মানে এই না যে আমরা একেবারেই খোলসের মধ্যে ঢুকে যাব। সচরাচর যেভাবে খেলি, সেভাবেই খেলার চেষ্টা থাকবে আমাদের।’
লা লিগায় ১২ ম্যাচ পরে ৩২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে রিয়াল। ৩১ পয়েন্ট নিয়ে তাদের পরেই আছে বার্সেলোনা। অনেকেই রিয়াল-বার্সার এই দ্বৈরথকে স্প্যানিশ লিগের শিরোপা নির্ধারক ম্যাচ বলে আখ্যায়িত করলেও গার্দিওলা এটাকে সেভাবে দেখতে চান না। ‘এই ম্যাচটা অবশ্যই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমি এটাকে লিগের শিরোপা নির্ধারক বলে মনে করি না। এখনো এই মৌসুমের অনেক পথ বাকি। এর মধ্যে অনেক কিছুই ঘটতে পারে।’ গার্দিওলার সাফ কথা। তবে শিরোপা নির্ধারক না হলেও নিজেদের মাঠে ম্যাচটা জিতে ‘এল ক্লাসিকো’ জয়ের ধারাটা নিশ্চয়ই অব্যাহত রাখতে চাইবেন বার্সার এই ক্যারিশমাটিক কোচ।

কৌশল পরিবর্তন করবেন না মরিনহো

২০০৫ সালে চেলসির বিপক্ষে ৪-২ গোলে হেরে গিয়েছিল বার্সেলোনা। এ বছরই চ্যাম্পিয়নস লিগে ইন্টার মিলানের কাছে তারা হেরেছিল ৩-১ গোলে। দুবারই প্রতিপক্ষের ডাগ আউটে দাঁড়িয়ে বার্সা-বধের কৌশল সাজিয়েছিলেন হোসে মরিনহো। এবার ‘এল ক্লাসিকো’য় বার্সেলোনার টানা পাঁচ ম্যাচের জয়যাত্রা রুখে দেওয়ার মিশন নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের ডাগ আউটে দাঁড়াবেন এই স্বঘোষিত ‘স্পেশাল ওয়ান’। তবে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের এই দুই পরাশক্তির ঐতিহ্যবাহী লড়াইকে আলাদা কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না মরিনহো। বার্সেলোনার জন্য বিশেষ কোনো কৌশলের পরিকল্পনাও তাঁর মাথায় নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
আজ ন্যু ক্যাম্পে বার্সেলোনার মুখোমুখি হওয়ার জন্য মাদ্রিদ ছেড়ে যাওয়ার আগে তিনি বলেছেন, ‘লা লিগায় বার্সেলোনা হয়তো অন্যদের চেয়ে অনেক ভালো দল, কিন্তু আমরা সবাইকেই শ্রদ্ধার চোখে দেখি। আমরা বার্সেলোনা বা অন্য কারও জন্যই আমাদের কৌশল পরিবর্তন করব না।’ অনেকেই ধারণা করছিল যে বার্সেলোনার বিপক্ষে মরিনহো হয়তো প্লেমেকার মেসুত ওজিলের বদলে একজন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডারকে মাঠে নামাবেন। কিন্তু সে ধরনের সম্ভাবনা একেবারেই নেই বলে জানিয়েছেন মরিনহো। স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুয়েইন আর মিডফিল্ডার সামি খেদিরা চোট কাটিয়ে ফিরে আসায় বার্সার বিপক্ষে নিয়মিত প্রথম একাদশ নিয়েই মাঠে নামবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব নেওয়ার পর এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত একটা ম্যাচেও হারেননি মরিনহো। এবার বার্সেলোনার বিপক্ষেও তিনি নিশ্চয়ই রিয়ালের গায়ে এ অপরাজিত ব্যানারটা লাগিয়েই রাখতে চাইবেন। অন্যদিকে বার্সা কোচ পেপ গার্দিওলাও চাইবেন এল ক্লাসিকোর গৌরবের লড়াইয়ে নিজের চার ম্যাচের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখতে। শেষ হাসিটা কে হাসবেন, সেটা দেখার জন্যই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে গোটা ফুটবল বিশ্ব।

হার দিয়ে সফর শুরু জিম্বাবুয়ের

হার দিয়ে বাংলাদেশ সফর শুরু হয়েছে জিম্বাবুয়ের। আজ সাভারে সফরের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের কাছে ২৯ রানে হারে সফরকারীরা। প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২২৩ রান তুলে বিসিবি। জবাবে ৪৬.১ ওভারে ১৯৪ রান তুলে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস।
বিসিবি একাদশের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। দলীয় ১৮ রানে প্রথম উইকেটের পতন হয়। ৩৯ রানে তিন উইকেট, আর ৯৫ রানে চলে যায় পাঁচ উইকেট! তার পরও বিসিবি একাদশের ইনিংস অল্প রানে গুটিয়ে যেতে দেয়নি সগির হোসেন ও আসিফ আহমেদের ব্যাট। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৯ রান করেন সগির। আর সাজঘরে ফেরার আগে আসিফ করেন ৪৬ রান। জিম্বাবুয়ের হয়ে কিগান ম্যাথ চারটি ও ক্রিস্টোফার পোফু তিনটি উইকেট শিকার করেন।
জয়ের জন্য ২২৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা জিম্বাবুয়ে প্রথম ধাক্কাটা খায় ইনিংসের প্রথম ওভারেই। ১০৭ রানে চলে যায় সাত উইকেট। বিসিবি একাদশের বোলারদের তোপে পড়ে একপর্যায়ে জিম্বাবুয়ে অলআউট হয় ১৯৪। দলের হয়ে ৩২ রান করেন উইকেটরক্ষক টাইবু। বাংলাদেশের হয়ে নূর হোসেন তিনটি ও আসিফ আহমেদ দুটি উইকেট লাভ করেন।

গল্পালোচনা- 'যেভাবে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়!' by আলী হাবিব

'কী করিলে কী হয়' এমন অনেক উদাহরণ আমাদের আছে। কপাল পুড়ে খাক হয়! চোখের জলে সাগর হয়। আবার চোখ জ্বলে আগুনের মতো। মানুষের নানা অঙ্গ এমন নানাভাবে নানা উপমায় এসে পড়ে। যেমন, কারো মাটিতে পা পড়ে না। মাটিতে পা না পড়লে মানুষ হাঁটে কেমন করে? চলাচল করে কেমন করে? কিন্তু তার পরও তো মাটিতে পা পড়ে না। কখন? যখন অহংকার হয়। এসব কি সম্ভব? মাটিতে পা না-পড়া কিংবা আগুনের মতো চোখ জ্বলা ইত্যাদি কি সম্ভব? আরো কত অসম্ভব সম্ভব হয়।

জলবায়ু সম্মেলনঃ আমি কেন কানকুনে যাচ্ছি? by মেরি রবিনসন

বিশ্ব এখন চরম উৎকণ্ঠার সঙ্গে মেক্সিকোর কানকুনে আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনের দিকে তাকিয়ে আছে। যদিও জলবায়ুজনিত চরম মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় জাতিসংঘের সক্ষমতা নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞই প্রশ্ন তুলছেন। তার পরও বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম প্রভাব কাটিয়ে উঠতে আমাদের সবাইকে এই ফোরামের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। জাতিসংঘের সক্ষমতা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলতেই পারেন। কিন্তু আমি তাঁদের ভুল ভাঙাতে চাই এই বলে, কোনো উদ্যোগেরই রাতারাতি পরিবর্তন এনে দেওয়া সম্ভব নয়। আর এখন এসব বিতর্কের চেয়ে বেশি জরুরি হচ্ছে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ানো।

ভ্রমণ- 'মেঘনায় যায় মেঘনা রানী' by সালেক খোকন

সাদা গাংচিলের দল পিছু নিল আমাদের। শুশুকের ডুবসাঁতারে চোখ ভেসে গেল, প্রাণ জুড়ানো বাতাসে হারিয়ে গেল মন। ঢাকার সদরঘাট থেকে বুড়িগঙ্গা পেরিয়ে ধলেশ্বরী ছাড়িয়ে শীতলক্ষ্যার প্রান্ত ছুঁয়ে লঞ্চটি চলছে মেঘনায়। বন্ধু সুহান ফোন করেছিল আগের দিন। বলে, চল চাঁদপুর ঘাটে ইলিশ খেয়ে দিনে দিনে ফিরে আসব। রাজি না হয়ে উপায় থাকল না। সকাল সকালই পেঁৗছে গিয়েছিলাম সদরঘাট। চার নম্বর গ্যাংওয়েতে গিয়ে মেঘনা রানীকে অপেক্ষা করতে দেখলাম।

ভ্রমণ- 'গন্তব্য নাফাখুম' by জাকারিয়া সবুজ

ঠিক করলাম, এবার যাব থানচি হয়ে নাফাখুম। নাফাখুম কিছুটা দুর্গম, কিন্তু আমাদের ঠেকায় কে? ফেইসবুকে আমাদের গ্রুপ 'বাংলাদেশ অ্যাডভেঞ্চার'-এ পোস্ট দেওয়া শুরু করলাম। দলনেতা শাহীন আর শরীফ ভাইকেও পটিয়ে ফেললাম। দেখতে দেখতে ১৩ জন জুটে গেল। আমরা তিনজন ছাড়াও দলে আরো থাকল নুর, এনাম, আবীর, রাসেল, অহন, জিমি, সিদ্দিক, মহসিন, সাদিক আর ফাহিম। এর আগেও আমরা পাহাড়ে গেছি, হাঁটতে পারি, তাঁবুও বাঁধতে জানি। রওনা দিলাম ১৪ অক্টোবর রাতে। সকালে গাইড মং সিং উ বান্দরবান শহর থেকে আমাদের দলে ভিড়ল। সে আগে থেকেই চাঁদের গাড়ি, নৌকা_সব ঠিক করে রেখেছিল।

আলোচনা- 'এখনো একটি গ্রেট গেইম অস্বস্তিকরভাবে প্রাসঙ্গিক' by এম আবদুল আজিজ

নবিংশ শতাব্দীতে হিমালয় অঞ্চল এবং মধ্য এশিয়ার ক্ষুদ্ররাজ্য পুণ্ড্র তাদের কৌশলগত অবস্থানের গুরুত্ব দিয়ে তৎকালীন তিনটি সাম্রাজ্যকে প্রচণ্ডভাবে আকর্ষণ করেছিল। ওই অঞ্চলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্রিটিশ এবং রুশরা তখন গ্রেট গেইম নামে অভিহিত এক রাজনৈতিক খেলায় মেতে ওঠে। বলা হয়ে থাকে যে ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন আর্থার কোনালি গ্রেট গেইম অভিধার উদ্ভাবক, যদিও পরবর্তী সময়ে তা রুডইয়ার্ড কিপলিং-এর 'কিম' শীর্ষক উপন্যাসে অমরত্ব পেয়েছিল।

গল্পসল্প- জীবন ঢেকে যাচ্ছে বালুতে (কালের কণ্ঠ থেকে)

জায়গাটা খুব সুন্দর। মেঘালয় পাহাড়ের নিচে, জাদুকাটা নদীর পাড়ে, নাম রাজাই। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানার অন্তর্গত। সুনামগঞ্জ থেকে সুরমা পার হয়ে অলির বাজার এসে মোটরসাইকেলে চাপতে হয়। দেড় ঘণ্টা পেরোলে শাহ আরেফিনের মাজারের কাছে তিন পাহাড়ের মুখ বেয়ে নেমে এসেছে জাদুকাটা। জাদুকাটা পার হলে বারেকের টিলা। টিলা থেকে নামলে রাজাই গ্রাম। বারেকের টিলা থেকে রাজাই হয়ে চানপুর বাজার পর্যন্ত গারো জনগোষ্ঠীর বসবাস। কয়েক ঘর খাসিয়া আছে। খাসিয়া রাজা উইকলিফ সিম ছিলেন পশ্চিম খাসি হিলে।

প্রকৃতি- কোপেনহেগেন থেকে কানকুনঃ সময় এসেছে মুহূর্তটিকে কাজে লাগানোর by জেমস এফ মরিয়ার্টি

বিশ্বজুড়ে আমরা ইতিমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব প্রত্যক্ষ করছি, যার প্রভাবে তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতি, হিমবাহ গলনাঙ্কের নিচে নামা থেকে শুরু করে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও দীর্ঘায়িত খরা মৌসুম উল্লেখযোগ্য। আমাদের এ গ্রহে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব আরো ত্বরান্বিত হবে যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনো এ সমস্যা মোকাবিলার জন্য জোর তৎপরতা না দেখায়। মেঙ্েিকাতে আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন একটি সুযোগ এনে দিচ্ছে এ ব্যাপারে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করার, আমাদের অবশ্যই সম্মিলিতভাবে এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করা উচিত। এই বৈশ্বিক পরিবর্তন মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ এবং আমাদের অন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।

আলোচনা- দরিদ্র মানুষের পাঁজরের ওপর দুর্দান্ত পাজেরো by লুৎফর রহমান রনো

পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের সচেতন মানুষ বাংলাদেশ নামের দেশটিকে জানে অতিদরিদ্র মানুষের দেশ হিসেবে। আরো জানে চরম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত একটি ছোট ভূখণ্ডের নাম বাংলাদেশ। ইদানীং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বা বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সবচেয়ে বিপর্যস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নাম বিশ্বমঞ্চে উচ্চারিত হচ্ছে, তা যদি সত্য হয়, তবে পৃথিবীর যেকোনো অঞ্চলের জনবসতির চেয়ে বিপজ্জনক জীবনযাপন করছে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ। আর এই সত্য উপলব্ধি করে বিশ্ব উষ্ণায়নে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সাহায্য পাওয়ার আশ্বাস পেতে যথেষ্ট খাটুনি পোহাচ্ছে আমাদের সরকার।