Monday, July 20, 2026
যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের পক্ষে জনমত গঠনে ৪৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় ইসরাইলের
শনিবার প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে পত্রিকাটি জানায়, গত কয়েক মাসে ‘এমা’, ‘সারা’ ও ‘জন’-এর মতো সাধারণ নাম ব্যবহার করে লাখ লাখ এআই-নির্ভর বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এসব বার্তায় প্রেরক হিসেবে ‘ফ্রেন্ডস ফর পিস’ নামে একটি সংগঠনের পরিচয় দেওয়া হলেও, এ নামে নিবন্ধিত কোনো অলাভজনক প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি সংবাদপত্রটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বার্তাগুলোতে প্রাপকদের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়েছে, যেমন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শান্তি আলোচনা বৈশ্বিক নিরাপত্তায় কী প্রভাব ফেলতে পারে বলে আপনি মনে করেন? এসব বার্তার মাধ্যমে ইসরাইলপন্থি জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রচারণা ৪৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের একটি চুক্তির অংশ, যার নেতৃত্বে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক নির্বাচনি প্রচার ব্যবস্থাপক ব্র্যাড পারস্কেল। এআইভিত্তিক বার্তা প্রচারের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান স্পার্কফায়ার মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, পারস্কেলের দল ইসরাইলপন্থী বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অনলাইন কনটেন্টও তৈরি করেছে, যাতে চ্যাটজিপিটি ও ক্লদের মতো এআই প্ল্যাটফর্মে ইসরাইল সম্পর্কে আরও ইতিবাচক উত্তর পাওয়া যায়।
এর আগে, গত বছর ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সা’র জানান, ২০২৬ সালের বাজেটে বিশ্বব্যাপী ইসরাইলের ভাবমূর্তি উন্নয়ন এবং ‘জনমত গঠন’-এর জন্য ৭০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অন্তত ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইসরাইলের পক্ষে কাজ করার জন্য প্রায় তিন ডজন ব্যক্তি বিদেশি এজেন্ট হিসেবে নিবন্ধন করেছেন।
প্রচারণার অংশ হিসেবে রক্ষণশীল সম্প্রচারমাধ্যম সালেম মিডিয়ার মাধ্যমে ৫ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের বিজ্ঞাপনও প্রচার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, নির্দিষ্ট কোনো অবস্থান প্রচারের জন্য তারা তাদের উপস্থাপকদের অর্থ প্রদান করেনি।
এদিকে, গত বুধবার প্রকাশিত পডকাস্টার জো রোগানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স অভিযোগ করেন, ইসরাইল সরকারের কিছু সদস্য ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত দীর্ঘায়িত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।
তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে করা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের অনুরোধের কোনো জবাব দেয়নি ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সূত্র: আরটি

About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৫০০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পদার্পণ করেন মুসলিমরা, জেনে নিন সেই ইতিহাস
মরক্কোর আটলান্টিক উপকূলের আজেমমুরে জন্মগ্রহণকারী এস্তেভানিকোকে দাস হিসেবে স্পেনে এবং পরে মহাসাগর পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়। এক মর্মান্তিক অভিযানে অধিকাংশ মানুষ মারা গেলেও তিনি বেঁচে যান। তিনি বিভিন্ন নেটিভ আমেরিকান ভাষা শেখেন এবং ভবিষ্যৎ যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল পাড়ি দেওয়া প্রথম প্রাচীন পৃথিবীর অধিবাসীদের একজন হয়ে ওঠেন। তার মরক্কোয় জন্ম ও জীবনীসংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণ নিশ্চিত করে যে তিনি একজন মুসলিম ছিলেন।
অধিকাংশ মুসলিম যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন ক্রীতদাস হিসেবে। তাদের মধ্যে অনেকে ছিলেন পশ্চিম আফ্রিকার সেনেগাম্বিয়ান ও সাহেলিয়ান অঞ্চলের, যেখানে শতাব্দী ধরে ইসলামিক চর্চা বিদ্যমান ছিল।
ধারণামতে, তাদের সংখ্যা ছিল ১০ হাজারেরও বেশি। দাস হিসেবে বন্দি হওয়ার আগেই তাদের অনেকে আরবিতে শিক্ষিত এবং কোরআন ও ইসলামী আইনে দক্ষ ছিলেন। দাসত্ব করা ওমর ইবনে সাইদের আত্মজীবনীর মতো কিছু লিখিত রেকর্ডও রেখে গেছেন তারা।
তাদের গভীর প্রভাব দেখা যায় আমেরিকান সংস্কৃতি ও সংগীতে। গবেষকদের মতে, আমেরিকার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ‘জ্যাজ’ সংগীতের বিকাশে মুসলিম আমেরিকানরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে শ্যিক্ষেতে কাজ করার সময় দাসদের গাওয়া ‘ফিল্ড হলার’ গান জনপ্রিয় আমেরিকান সংগীতের অন্যতম ভিত্তি ছিল।
অনেক গবেষক এই গানের সুরের মূল খুঁজে পেয়েছেন পশ্চিম আফ্রিকার দাসদের মধ্যে, যারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলা ইসলামি প্রার্থনার ঐতিহ্য ক্ষেতে বয়ে নিয়ে এসেছিলেন। ‘ফিল্ড হলার’, আজান ও কোরআন তিলাওয়াতের সুর ও ভঙ্গির মধ্যে স্পষ্ট মিল পাওয়া যায়। ১৬৪০-এর দশকে মিসিসিপির একটি কাজের গানের সঙ্গে আজানের সুরগত মিলের বিষয়টি ইতিহাসবিদেরা উল্লেখ করেছেন।
পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও একজন আমেরিকান মুসলিম বড় ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৪ সালে হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন ক্যাসিয়াস ক্লে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে মুহাম্মদ আলি রাখেন। তিন বছর পর ভিয়েতনাম যুদ্ধে যোগ দিতে বলা হলে তিনি ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে তা প্রত্যাখ্যান করেন।
এর জবাবে তার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের খেতাব কেড়ে নেওয়া হয়, রিংয়ে নামা নিষিদ্ধ করা হয় এবং পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। টানা তিন বছর (২৫ থেকে ২৮ বছর বয়স পর্যন্ত) এই সেরা বক্সারকে রিংয়ে লড়তে দেওয়া হয়নি।
পরবর্তীকালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হন। ১৯৭১ সালে ‘ক্লে বনাম যুক্তরাষ্ট্র’ মামলায় বিচারকেরা সর্বসম্মতিক্রমে তার সাজা বাতিল করেন। আদালত স্বীকার করে যে, অলির এই সিদ্ধান্ত খাঁটি ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে ছিল। এই রায়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে আমেরিকার সাংবিধানিক ধর্মীয় সুরক্ষা কেবল খ্রিষ্টান বা ইহুদিদের জন্য নয়, বরং সব ধর্মের মানুষের জন্য প্রযোজ্য।
যুক্তরাষ্ট্র গঠনে মুসলমানদের তৃতীয় অবদান হলো তাদের নাগরিক সম্পৃক্ততা ও দানশীলতা। ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম হলো জাকাত, যেখানে নিজের সঞ্চিত সম্পদের ২ দশমিক ৫ শতাংশ দরিদ্রদের দান করার নিয়ম রয়েছে। এর পাশাপাশি রয়েছে স্বেচ্ছায় দান বা সদকা।
ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মুসলিম ফিলানথ্রপি ইনিশিয়েটিভ’-এর গবেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১ শতাংশ হলেও ২০২০ সালে আমেরিকান মুসলমানরা দানকার্যে প্রায় ৪৩০ কোটি ডলার (৪.৩ বিলিয়ন) দিয়েছেন। গড়ে প্রতি দাতা দান করেছেন প্রায় ৩ হাজার ২০০ ডলার, যা তাদের অমুসলিম প্রতিবেশীদের (১ হাজার ৯০০ ডলার) চেয়ে অনেক বেশি।
এই অনুদানের প্রায় ৮৫ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই থাকে। এর বড় অংশ মসজিদ বা মুসলিম প্রতিষ্ঠানে না গিয়ে দারিদ্র্যবিমোচন, কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলা এবং নাগরিক অধিকার রক্ষায় ব্যয় হয়। ২০২১ সালে প্রদত্ত প্রায় ১৮০ কোটি ডলারের জাকাতের বড় একটি অংশ আত্মীয় বা উপাসনালয়ের বদলে দাতব্য অলাভজনক সংস্থায় দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের এই সময়ে জানা যায়, মুসলমানরা কেবল অতিথি নন, বরং দেশটির ইতিহাস গড়ার অন্যতম অংশীদার ছিলেন।
সূত্র: দ্য কনভারসেশন
![]() |
| ছবি: দ্য কনভারসেশন |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মার্কিন হামলা প্রতিহত ও পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম ইরান
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় জর্ডান ও ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর অন্তত তিন সদস্য নিহত, একজন নিখোঁজ এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
পেন্টাগন এখন পর্যন্ত নিজেদের সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। তবে তেহরানের দাবি, তাদের হামলায় বহু মার্কিন ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে এবং বিমানঘাঁটির হ্যাঙ্গারসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের সেতু, বন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে, তখন কুয়েত ও বাহরাইনের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোও ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতির মুখে পড়ছে। এসব দেশেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) প্রতিদিনের বিবৃতিতে জানিয়ে আসছে যে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ব্যবহৃত ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতেই হামলা অব্যাহত রয়েছে।
তবে ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। ফলে সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিগুলোতে এখনো প্রায় এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র এবং কয়েক হাজার ড্রোন মজুত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও স্বীকার করেছেন যে, শুধু বিমান হামলা চালিয়ে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা সম্ভব হবে না।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আপনি তাদের ওপর বোমা ফেলতে পারেন, রাডার ধ্বংস করতে পারেন, কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে পারেন। কিন্তু প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানো তাদের জন্য এখনো খুবই সহজ।
সাম্প্রতিক হামলাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সেনারাও ইরানের হামলার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন এবং সেই ঝুঁকি ইতোমধ্যেই প্রাণঘাতী রূপ নিয়েছে।
এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দেশটির স্থলবাহিনী আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম, ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ এবং ক্রমাগত অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো অনুপ্রবেশ তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, সশস্ত্র বাহিনীর অব্যাহত সতর্কতা এবং সর্বক্ষণিক প্রস্তুতিই দেশের টেকসই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। এই প্রস্তুতি সব ধরনের অপারেশনাল খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বজায় রাখা হচ্ছে।
আইআরজিসির স্থলবাহিনীর উপ-কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রুহুল্লাহ নুরি বলেন, ইরানি বাহিনী এমন অবস্থানে রয়েছে যে শত্রুপক্ষের যেকোনো অনুপ্রবেশ মুহূর্তের মধ্যেই নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারবে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) লঙ্ঘন করায় ইরান আর ওই চুক্তি বাস্তবায়ন করবে না বলেও জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, অন্য পক্ষ শুধু চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থই হয়নি, বরং এর শর্ত ও মূল চেতনারও লঙ্ঘন করেছে। আমরাও ঘোষণা করেছি যে আমরা আর এটি বাস্তবায়ন করব না। বিষয়টি সম্পূর্ণ পরিষ্কার।
তিনি বলেন, চুক্তিটি ইরানের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য পারস্পরিক অঙ্গীকারের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করায় তেহরানের পক্ষে চুক্তি বাস্তবায়ন বাস্তবিক অর্থেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র আবার আলোচনার প্রস্তাব দিলে ইরান কী করবে এমন প্রশ্নের জবাবে বাঘায়ি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি।
তিনি বলেন, যেভাবে যুদ্ধ ইরানের স্বার্থ রক্ষার একটি উপায়, ঠিক সেভাবেই আলোচনা-আলোচনাও সেই লক্ষ্য অর্জনের আরেকটি মাধ্যম।
![]() |
| হরমুজ প্রণালিতে ইরানি সেনাদের নজরদারি। ছবি: সংগৃহীত |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্পেনের জয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী মানুষকে আনন্দিত করেছে, বলল ইরান
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কঠোর নিন্দা ও ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাতের সমালোচনা করায় সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুল সমর্থন কুড়ায় স্পেন সরকার ও তাদের জাতীয় ফুটবল দল। কয়েক মাস ধরেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিরুদ্ধে ছিল দেশটি।
আরেক দিকে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই প্রকাশ্যে ইসরায়েলের নীতিগুলোকে সমর্থন করেন। আর্জেন্টিনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন অনেক ইসরায়েলি রাজনীতিবিদ ও সমর্থকও। রোববার নিউইয়র্ক–নিউ জার্সিতে আর্জেন্টিনাকে ১–০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন।
এরপর ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ‘ফিলিস্তিনিদের পক্ষে খেলোয়াড়দের অবস্থান এবং ইরানের প্রতি স্পেনের সমর্থন প্রমাণ করে যে স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদা সেই (স্পেন) বুদ্ধিমান ও সম্মানীয় জাতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।’
বাঘের গালিবাফ আরও বলেন, ‘এই জয় কেবল স্পেনের জনগণের হৃদয়কেই স্পর্শ করেনি, বরং বিশ্বের বহু স্বাধীন, সার্বভৌম ও ন্যায়বিচারকামী মানুষের হৃদয়কেও আনন্দিত করেছে।’
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও স্পেনকে সমর্থনের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আগ্রাসন, গণহত্যা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে স্পেনের সার্বিক অবস্থান এবং তাদের জাতীয় ফুটবল দলের আচরণ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও মূল্যবান ছিল।’
| স্পেন তারকা লামিনে ইয়ামাল। রয়টার্স |
About: Mids
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শতবর্ষের ২০৩০ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে ছয় দেশ
ফিফার অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ বিশ্বকাপের মূল আয়োজক স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। তবে বিশ্বকাপের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে উদ্বোধনী তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আমেরিকার উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে। এরপর টুর্নামেন্টের বাকি অংশ ইউরোপ ও আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে ছয়টি দেশই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাচ্ছে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার ছয়টি স্বাগতিক দল সরাসরি চূড়ান্ত পর্বে খেলবে।
ফিফা জানিয়েছে, ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রথম বিশ্বকাপ। শতবর্ষ উপলক্ষে সেই ইতিহাসকে সম্মান জানাতেই উদ্বোধনী ম্যাচ ও বিশেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে রাজধানী মন্টেভিডিওতে।
অন্যদিকে, ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের রানার্সআপ ছিল আর্জেন্টিনা। আর দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশন (কনমেবল)-এর সদর দপ্তর হওয়ায় প্যারাগুয়েকেও শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে একটি করে ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই পরিকল্পনাকে ‘ফুটবলকে একত্রিত করার প্রতীক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপন হবে অতীতের প্রতি শ্রদ্ধা, বর্তমানের উদযাপন এবং ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা।
২০৩০ বিশ্বকাপে অংশ নেবে ৪৮টি দল। ২০২৬ সালের মতোই এই আসরেও ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রথমবারের মতো তিনটি মহাদেশ—ইউরোপ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকাজুড়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের নজির গড়তে যাচ্ছে ফিফা।
ফলে ২০৩০ বিশ্বকাপে ইতোমধ্যেই নিশ্চিত হয়েছে ছয় দলের অংশগ্রহণ। তারা হলো—স্পেন, পর্তুগাল, মরক্কো, উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে। বাকি ৪২টি দল বাছাইপর্ব পেরিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নেবে।
বিশ্বকাপের শতবর্ষকে ঘিরে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন ইতোমধ্যেই ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ফিফার সবচেয়ে প্রতীকী আসরগুলোর একটি।
![]() |
| ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা নেমেছে স্পেনের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে। তবে দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা পারফর্মাররাও। বিশ্বকাপ শেষে ফিফা ঘোষণা করেছে বিভিন্ন ব্যক্তিগত পুরস্কার, যেখানে সবচেয়ে বেশি আধিপত্য দেখিয়েছে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে স্পেন। সেই সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের (গোল্ডেন বল) স্বীকৃতি পান দলের মিডফিল্ডার রদ্রি। পুরো আসরজুড়ে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ, বলের দখল ধরে রাখা এবং ম্যাচের গতি নির্ধারণে অসাধারণ ভূমিকা রাখেন তিনি। গোল করার লড়াইয়ে আবারও সবার ওপরে ছিলেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। সেমিফাইনালে ফ্রান্স বিদায় নিলেও ১০ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন তিনি। এর সুবাদে নিজের ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জেতেন ফরাসি অধিনায়ক। স্পেনের আরেক নায়ক উনাই সিমন জিতেছেন সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার (গোল্ডেন গ্লাভস)। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা ধরে রেখে তিনি স্পেনের রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা ছিলেন। অন্যদিকে স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাও কুবারসি জিতেছেন সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের (বেস্ট ইয়াং প্লেয়ার) পুরস্কার। ফলে বিশ্বকাপের চারটি প্রধান ব্যক্তিগত পুরস্কারের মধ্যে তিনটিই জিতে নিয়েছে স্পেন। শুধু গোল্ডেন বুট গেছে ফ্রান্সের এমবাপ্পের হাতে। |
About: Kutubdia News
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মার্কিন অনুপ্রবেশ ‘তাৎক্ষণিক’ মোকাবিলার অঙ্গীকার আইআরজিসির
তাসনিম বার্তা সংস্থার উদ্ধৃত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সশস্ত্র বাহিনীর অব্যাহত সতর্কতা ও নিরবচ্ছিন্ন প্রস্তুতিই দেশের টেকসই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। সব ধরনের অপারেশনাল খাতে এই প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বজায় রাখা হচ্ছে।’
আইআরজিসির স্থলবাহিনীর উপ-কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রুহোল্লাহ নুরি বলেন, ইরানি বাহিনী এমন অবস্থায় রয়েছে যে, শত্রুপক্ষের যেকোনো অনুপ্রবেশের চেষ্টা মুহূর্তের মধ্যেই প্রতিহত ও নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হবে।
তবে আইআরজিসির এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত। |
About: Kutubdia News
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হামাসের নতুন প্রধান খলিল আল-হাইয়া
ফিলিস্তিনি দলটি জানিয়েছে, খলিল আল-হায়া হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ইয়াহিয়া সিনওয়ারের স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি ২০২৪ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হন।
গত বছর হামাসের শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়া তেহরানে, ইয়াহিয়া সিনওয়ার গাজায় এবং সামরিক কমান্ডার মোহাম্মদ দেইফ নিহত হওয়ার পর সংগঠনের নেতৃত্বে খলিল আল-হাইয়ার গুরুত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
১৯৬০ সালে গাজা উপত্যকায় জন্ম নেওয়া খলিল আল-হাইয়া ১৯৮৭ সালে হামাস প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে এর রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
![]() |
| খলিল আল-হায়া |
About: Kutubdia News
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরান দেখিয়ে দিচ্ছে, মার্কিন হামলা সামলে পাল্টা প্রাণঘাতী হামলা চালাতে পারে তারা
জর্ডান ও ইরাকে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত তিন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া একজন নিখোঁজ এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
পেন্টাগন তাদের সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতির কথা প্রকাশ করছে না। তবে তেহরানের দাবি, তাদের একাধিক দিনের হামলায় প্রচুর সংখ্যায় মার্কিন ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে। এয়ারক্রাফট হ্যাঙ্গারের মতো ঘাঁটির মূল অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের সেতু, বন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে, তখন কুয়েত ও বাহরাইনের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক অবকাঠামোয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের চালিয়ে যাচ্ছে ইরান, যাতে তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। কুয়েত ও বাইরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। ইরানে হামলায় এসব দেশের ঘাঁটি ব্যবহার করছে বলে ইরান অভিযোগ করে আসছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রতিদিনের বক্তব্যগুলো আগের দিনের বক্তব্যগুলোর হুবহু কপি-পেস্ট বলে মনে হচ্ছে। গতকাল রোববার গভীর রাতে তারা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও সাধারণ নাবিকদের ওপর হামলায় ব্যবহৃত ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে এ হামলা অব্যাহত থাকবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়ে ইরানের এই সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে আনতে পেরেছে, এমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এ হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নতুর করে শুরু হওয়া লড়াই শেষ করতে পারবে, তারও কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না; বরং ইরান সমানতালে মার্কিন হামলার জবাব দিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মে মাসে সিএনএনকে বলেছিলেন, ভূগর্ভস্থ গুদামগুলোতে ইরানের কাছে এখনো অন্তত ১ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাজার হাজার ড্রোন মজুত রয়েছে।
এমনকি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ‘হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা’ কেবল মার্কিন বিমান হামলার মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব নয়।
গত সপ্তাহে প্রকাশিত ‘দ্য জো রোগান এক্সপেরিয়েন্স’ পডকাস্টের এক পর্বে জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘আপনি তাদের ওপর বোমা ফেলতে পারেন, তাদের রাডার ধ্বংস করতে পারেন, তাদের কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে পারেন। কিন্তু প্রণালিতে যাতায়াতকারী জাহাজে আঘাত করা তাদের জন্য অত্যন্ত সহজ।’
আর এখন ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে, পুরো অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সেনাদেরও একই ধরনের প্রাণঘাতী বিপদের মুখোমুখি হতে হবে।
![]() |
| যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি। ছবি: কোলাজ |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফরিদপুর থেকে বম্বে, গীতা দত্ত মানে ‘তুমি যে আমার’ by মাসুম অপু
শিরোনাম আর শুরুর তথ্যের পর তাঁকে নিয়ে লেখার কোনো ভূমিকা দরকার হয় না। এই বাংলার কন্যা গীতা দত্তের নামের আগে জুতসই বিশেষণ পাওয়াও মুশকিল। যেমন মুশকিলে পড়েছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। ‘হারানো সুর’ সিনেমার গান করছেন। ‘তুমি যে আমার’ গানটি রেকর্ড হবে। সুচিত্রা মানেই তো সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠ। সবাই সে কথা বলেছিলেন, কিন্তু সুরকার হেমন্ত ঠিক আস্থা রাখতে পারছিলেন না। অন্য রকম ভাবছেন, এই গান গীতা ছাড়া আর কেউ গাইতে পারবে না! হেমন্তের কথামতোই ঠিক হলো, গীতা দত্তই গাইবেন। মুম্বাই (তৎকালীন বম্বে) গিয়ে গানের রেকর্ডিং করা হলো। এরপর যা হওয়ার তাই হলো। আজও সুচিত্রা সেনকে নিয়ে প্রতিবেদন বা গল্প তৈরি করতে গেলে শুরুতে এই গানের উল্লেখ এসেই পড়ে। যেন সুচিত্রাই গাইছেন, গভীর থেকে। কী অদ্ভুত টান, কী দারুণ গায়কি! এই গানের মতোই উজ্জ্বল ছিলেন গীতা দত্ত, আর এমনই ছিল তাঁর গান। ভারতের সংগীতজগতে একটা কথা খুব প্রচলিত ছিল—লতাকণ্ঠী, আশাকণ্ঠী হওয়া যায়, কিন্তু গীতাকণ্ঠী হওয়া যায় না।
ফরিদপুরের কন্যা
১৯৩০ সালের ২৩ নভেম্বর তাঁর জীবনের উন্মেষ বাংলাদেশের ফরিদপুরে। বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঘোষ রায়চৌধুরী ছিলেন জমিদার। তাঁর ১০ সন্তানের মধ্যে গীতা ছিলেন পঞ্চম৷ তখন তিনি গীতা ঘোষ রায়চৌধুরী। ছোট থেকেই গানের প্রতি কন্যার আগ্রহ আর সুরেলা কণ্ঠ মা-বাবার নজরে আসে। স্থানীয় গুরু হরেন্দ্রনাথ নন্দীর কাছে তালিমের ব্যবস্থা করেছিলেন তাঁরা। এর মধ্যে কলকাতায় পাড়ি দেয় চৌধুরী পরিবার। কিছুদিন আসাম এবং কলকাতা থাকেন ঘোষ রায়চৌধুরীরা।
পরে ১৯৪২ সালে মুম্বাই পাড়ি দেন তাঁরা। ফরিদপুরের জমিদারি হারানোর পর আসাম, কলকাতা ঘুরে মুম্বাইয়ে থিতু হওয়া অত সহজ ছিল না। আর্থিক টানাপোড়েন পড়ে পরিবার। সেখানে আর কিশোরী গীতার জন্য সংগীতের তালিমের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি মা-বাবার। তাতে থেমে যান গীতা। সংগীত তো তাঁর আত্মায়, নিজের মতো করে চর্চা করে যেতেন। পাশাপাশি গানের টিউশনিও করাতেন। এবাড়ি–ওবাড়ি ছুটতেন টিউশনি করতে। বাসের ভাড়ার পয়সা বাঁচাতে হাঁটতেন মাইলের পর মাইল। যে বাড়িতে গান শেখাতেন, সেখানে গরিব বলে তাঁকে মাটিতে বসতে দেওয়া হতো। সংগীতের প্রতি দরদ ছিল বলেই হয়তো নিয়তি তাঁকে কাকতালীয়ভাবে সেদিকেই নিয়ে যায়। একদিন হঠাৎ পণ্ডিত হনুমান প্রসাদের নজরে পড়ে যান। শোনা যায়, মুম্বাইয়ে তাঁদের বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন পণ্ডিতজি। বারান্দায় বসে চর্চা করছিলেন কিশোরী গীতা। তাঁর কিন্নর কণ্ঠ ভেসে আসে পণ্ডিত হনুমান প্রসাদের কানে। দাঁড়ালেন, খোঁজ নিলেন। জহুরির মতো চিনে ফেললেন খাঁটি হীরা। ১৯৪৬ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে পেশাদার কণ্ঠশিল্পী হিসেবে গীতার যাত্রা শুরু হয় হনুমান প্রসাদের হাত ধরে ‘ভক্ত প্রহ্লাদ’ ছবিতে। এই ছবিতে গীতা কোরাসে মাত্র দুই লাইন গান গাওয়ার সুযোগ পান।
শুরু হলো পথচলা
হাসনাহেনা জঙ্গলে ফুটলেও ঘ্রাণ ছড়ায় চারপাশ। একটি গানের কোরাসে অংশগ্রহণই গীতার পথচলার রাস্তা তৈরি করে। ‘ভক্ত প্রহ্লাদ’ ছবিতে গীতার কণ্ঠে মুগ্ধ হয়ে শচীন দেববর্মন তাঁর পরের ছবি ‘দো ভাই’তে গীতাকে মূল শিল্পী হিসেবে গাওয়ার দায়িত্ব দেন। ঠিক দেশ ভাগের বছরে; সে সময় নাকি অনেকে বারণ করেছিলেন শচীন দেববর্মনকে, এমন নতুন ‘অপরিপক্ব’ শিল্পীকে এত বড় দায়িত্ব না দিতে।
কিন্তু তিনি পরের পরামর্শে কান না দিয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। হয়তো বাঙালি বলে কিংবা এপারের মানুষ বলে বাড়তি স্নেহ দিয়েছিলেন গীতাকে। শচীন দেবের আস্থার প্রতি ষোলো আনা সম্মান দেখিয়েছিলেন গীতা, ‘মেরা সুন্দর স্বপ্না বিত গ্যায়া’র গানের সুর নাড়া দিয়েছিল শ্রোতাদের। মধ্যরাতে ঘুম থেকে উঠে বুকভরা যন্ত্রণা নিয়ে নায়িকার হাহাকারের পুরোটাই ছিল গীতার গায়কিতে। এ সিনেমার ৯টি গানের ৬টিতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন ১৬ বছরের সেই নবীন গায়িকা। আর কি চেনাতে হয়? শুধু মুম্বাই না, সারা ভারতের বিনোদন দুনিয়ায় তোলপাড় ঘটে যায়। কে এই গায়িকা? দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বাঙালি সেই গায়িকার নাম। ১৯৪৭ থেকে ১৯৪৯—তিন বছরের মধ্যে শুধু প্রতিষ্ঠা না, গায়িকা হিসেবে শীর্ষে পৌঁছে যান গীতা। শীর্ষ তিনজনের তিনি একজন। জোহরাবাই অম্বালেওয়ালি বা নুরজাহান থেকে গীতার আলাদা গায়কির কদর বাড়তে থাকে।সেই সময়ে ভক্তিগীতির খুব চল ছিল। আর ভক্তিগীতিতে গীতা ছিলেন অনন্য। করুণ গলায় সমর্পণ, আকুতিতে সেই গানগুলো একদম বুকের গভীরে নাড়া দিত। আবার আধুনিক রোমান্টিক গানে তাঁর কণ্ঠ এবং গায়কিতে আস্থা রাখতেন নির্মাতারা। গরিব বলে গান শেখাতে গিয়ে তাঁকে যেসব বাড়িতে একসময় মাটিতে বসতে বলা হতো, তাঁকে নামডাক হতেই সেসব বাড়ি থেকেই নিমন্ত্রণ আসত। তিনি প্রত্যাখ্যান করতেন না। সেখানে গিয়ে জোর করে মাটিতেই বসতেন। হয়তো সেই অভিমানই সমকালীন ফর্মুলা গল্পের নায়িকার নেপথ্য কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয়ে পর্দায় দারুণ ফুটে উঠত।শচীন দেববর্মনের সংগীত পরিচালনায় ১৯৫১ সালের ‘বাজি’ সিনেমা নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয় গীতাকে।
পরপর বেশ কিছু গানে যেন শ্রোতারা নতুন আরেক শিল্পী খুঁজে পান। কে জানত পদ্মাপারের সেই কিন্নরী কণ্ঠে পাশ্চাত্য সুর এভাবে মানিয়ে যাবে। সহজে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার জন্য ১৯৫০–এর দশকে লাস্যময়ী এবং ডান্স ক্লাবের গানে তিনি প্রথম পছন্দরূপে গণ্য হতে শুরু করেন। গীতার তীক্ষ্ণ বাঙালি টানকে কাজে লাগিয়ে ‘দেবদাস’ (১৯৫৫) এবং ‘পেয়াসা’ (১৯৫৭) ছবিতে তাঁর লোকসংগীতের ধার বাড়িয়েছিলেন শচীন দেববর্মন। ‘পেয়াসা’ ছবিতে ‘আজ সাজন মুঝে অঙ্গ লাগা লে’ বাংলা কীর্তন গানকে গীতা সফলভাবে হিন্দিতে গেয়েছিলেন। এরপর ও পি নাইয়ারের সুরে সব ধরনের গানেই তিনি সাবলীলতার ছাপ রেখে গেছেন।
গীতা ঘোষ থেকে দত্ত
‘তাদবির সে বিগরি হুই তাকদির বানা লে’ দেব আনন্দ আর নায়িকা গীতা বালি অভিনীত ‘বাজি’ সিনেমা গানটি হয়তো অনেকে শোনা। ১৯৫১ সালে এস ডি বর্মনের সংগীত পরিচালনায় এই গানটি রেকর্ড হয় মুম্বাইয়ের বিখ্যাত মহালক্ষ্মী স্টুডিওতে। সেদিন স্টুডিওতে এসেছিলেন ছবির পরিচালক গুরু দত্ত। গানে, গল্পে প্রেমে পড়ে যান গুরু দত্ত। টানা তিন বছরের প্রেমপর্বের পর বিয়ে করেন তাঁরা। সালটা ১৯৫৩। বাড়ির অমতে ২৬ মে বিয়েও করেন তাঁরা। গীতা ঘোষ হয়ে যান গীতা দত্ত। গীতা-গুরুর বিয়ের ছবি পাওয়া যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিয়ের দিন বাংলার শিকড়ের কথা ভোলেননি গায়িকা। নিজে লাল বেনারসি ও গয়নায় সেজেছিলেন। আর ধুতি-সিল্কের পাঞ্জাবি পরেছিলেন গুরু দত্ত।গুরু দত্তের ছবিতে গান সব সময় প্রাধান্য পেত। যেন গানটাও ছবির অন্য আরেকটা গল্প, একটা চরিত্র। গীতার বিয়ের কিছুদিন পরেই গুরু দত্ত নিজের প্রযোজনা ছাড়া স্ত্রীর অন্যত্র গাওয়া নিয়ে আপত্তি করতে থাকেন।
যার ফলে গীতার গান গাওয়ার সীমানা কিছুটা সংকীর্ণ হয়ে যায়। অবশ্য এর মধ্যেও ‘পেয়াসা’ সিনেমার ‘আজ সাজান মুঝে আঙ্গ লাগালো’, ‘সিআইডি’র ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল জিনা ইহা, ‘আর পার’–এর ‘বাবুজি ধীরে চল না’, ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস ফিফটি ফাইভ’–এর ‘থান্ডি হাওয়া কালি ঘটা’, ‘সাহেব বিবি গুলাম’–এর ‘না যাও সাইয়া ছুড়াকে বাইয়া’–এর মতো তুমুল জনপ্রিয় গান উপহার দেন তিনি।
গুজরাটি ও বাংলা গানের গীতা
পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে গুরু দত্তের শর্ত মেনেও সুরকারেরা গীতার জন্য একটা গান তুলে রেখেছিলেন তাঁদের ছবির জন্য। এ পাশাপাশি গুজরাটি ছবিতেও দাপটের সঙ্গে গেয়েছিলেন তিনি। শুধু তা–ই নয়, গুজরাটি ছবিতেও প্রধান নেপথ্য গায়িকা ছিলেন তিনি। গুজরাটি ভাষায় বিখ্যাত সুরকার অবিনাশ ব্যাসের সুরে বেশ কিছু গান গেয়েছিলেন। বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগে গীতা বেশ কিছু বিখ্যাত বাংলা গান গেয়েছেন।
তাঁর বেশির ভাগ বাংলা গানেরই সুরকার ছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। গেয়েছিলেন নচিকেতা ঘোষ এবং সুধীন দাশগুপ্তের সুরেও।
জীবনে নেমে এল ঝড়
অমিতাভ-জয়ার ‘অভিমান’ ছবিটির কথা হয়তো অনেকের মনে আছে। অনেকেই এ ছবির গল্প বলতে গিয়ে গীতা-গুরু জুটির কথা তোলেন। বিয়ের তিন বছর কাটতে না কাটতেই জীবন ঘুরে যায় তাঁদের। দুজনই ছিলেন স্বাধীনচেতা, জেদি। এমনিতে গীতার খ্যাতি শিখরে, সে তুলনায় গুরু দত্ত তখনো যশপ্রার্থী বললে বাড়াবাড়ি হবে না। হয়তো এখানে কোথাও ব্যক্তিত্বের টানাপোড়েন তৈরি করে। শুরু থেকে গুরু দত্ত চাইতেন তাঁর ব্যানার ছাড়া অন্য কোনো ব্যানারের জন্য গান করবেন না গীতা।
এটা মেনে নিয়েও যেন ঠিক মেনে নিতে পারেননি গীতা। শোনা যায়, লুকিয়ে টুকটাক গাইতেন তিনি। তবে ‘সিআইডি’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় থেকে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও জটিল হয়। এ সময় ওয়াহিদা রহমানকে সামনে এনেছিলেন গুরু দত্ত। গুরু দত্তের ‘সিআইডি’ ছবিতে খলনায়িকা ওয়াহিদা; পরপর গুরু দত্তের ছবিতে অভিনয় করে চলেছেন ওয়াহিদা।
‘পিয়াসা’ ছবিতে নায়িকা। ‘চৌধভি কা চাঁদ’ ছবিতে ওয়াহিদা রহমানের বিপরীতে গুরু দত্তের অভিনয় সাড়া ফেলে। পর্দার প্রেম জীবনে ঢুকে পড়ছে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। গুরু দত্ত-ওয়াহিদা রহমান হয়ে ওঠেন ‘টক অব দ্য টাউন’। তবে শুধু কথার কথাই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও ওয়াহিদার প্রেমে পড়েন গুরু দত্ত। ওয়াহিদা রহমানকে কেন্দ্র করে নাকি মাঝেমধ্যে ঝগড়াও হতো। এর মধ্যে ‘কাগজ কা ফুল’ ছবিটি ফ্লপ হয়। গুরু–গীতার বিবাহবিচ্ছেদ না হলেও তাঁরা আলাদা থাকতে শুরু করেন। অবসাদে ভুগতে থাকা গুরু দত্ত দুবার আত্মঘাতীও হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ১৯৬৩ সালে আলাদা হয়ে যান পরিচালক, নায়ক-গায়িকা। গীতা থাকতে শুরু করেন মুম্বাইয়ের সান্তাক্রুজে। গুরু দত্ত ছিলেন পেডার রোডের ফ্ল্যাটে। বছরখানেক পর সেই ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হলো। মারা যাওয়ার আগের দিনও স্ত্রী গীতা দত্তের কাছেও যান গুরু দত্ত। দুই ছেলের সঙ্গে থাকতে চাইলে গীতা দত্ত রাজি হননি। গুরু দত্তের অপমৃত্যুর পর গীতা দত্তের জীবনেও সেই সময়ে নেমে আসে আরও বিপর্যয়। শোনা যায়, ঘোর পানাসক্ত হয়ে ওঠেন তিনিও।
আর্থিকভাবেও সংকটে পড়েন। অনেক চেষ্টা করছিলেন। সামলে উঠতে এমনকি বাংলা ছবি ‘বধূবরণ’-এ অভিনয়ও করেন। ওদিকে লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোসলে গানের বাজার দখল করে নেন। যদিও ‘অনুভব’ ছবিতে গীতার কণ্ঠে গাওয়া সব কটি গান হিট। কিন্তু ততক্ষণে নিয়তিই যেন সঙ্গ ছেড়ে দিয়েছে তাঁর। ফিরবেন ফিরবেন করছেন, তখনই ধরা পড়ে যকৃতের জটিল রোগ, সিরোসিস।
অর্থের অনটন দূর করতে সেই সময়ে কলকাতার মঞ্চে গীতা অনেক অনুষ্ঠান করেছেন। গীতা পুরোদমে গানের তথা চলচ্চিত্রজগতে ফিরতে চাইলেও বম্বের ফিল্মি দুনিয়ার রাজনীতির সমীকরণ তাঁকে আর সেই সুযোগ দেয়নি। শেষের দিকে হাসপাতালে প্রচণ্ড যন্ত্রণাদায়ক চিকিৎসার ফাঁকেই সিনেমার চটুল গানে যথাযথ আবেদন ফুটিয়ে তুলেছেন দারুণভাবে, নিজ প্রতিভার গুণে। সকালে হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণাদায়ক চিকিৎসা নিয়ে বিকেলে স্টুডিওতে গিয়েছেন ‘মুঝে জান না কাহো মেরি জান’! প্রচণ্ড যন্ত্রণা নিয়েও রেকর্ডিংয়ে তিনি কীভাবে একের পর এক গান গেয়ে গেছেন, তা নিয়ে সমালোচকেরা এখনো আলোচনা করেন। গীতা দত্তের শেষের দিনগুলো শারীরিক যন্ত্রণায় কেটেছে। নাকেমুখে নল গোঁজা। কখনো কান বা নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হতো। বেশির ভাগ সময়ই অজ্ঞান থাকতেন গায়িকা ও অভিনেত্রী। সালটা ১৯৭২ সালের ২০ জুলাই, কোনো চিকিৎসাই গীতাকে আর সুরের জগতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারেনি। শেষ হয় গীতার জীবনযাত্রা। অবসান হয় সব যন্ত্রণার।
শোনা যায়, শচীন দেববর্মন তাঁর পছন্দের গীতার জন্য আলাদা করে রেখেছিলেন ‘বাঁশি শুনে আর কাজ নাই, সে যে ডাকাতিয়া বাঁশি’ গানটি! শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। শচীন কর্তা নিজেই গানটি গেয়েছেন বটে, তবে এই গানটি আমাদের পদ্মাপারের মেয়ের কণ্ঠে শুনতে না পাওয়ার আফসোস থেকে যাবে সংগীতানুরাগী শ্রোতাদের।
![]() |
| ১৯৩০ সালের ২৩ নভেম্বর তাঁর জীবনের উন্মেষ বাংলাদেশের ফরিদপুরে। ফেসবুক থেকে |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় রাজপথ, দুর্গন্ধে আটকে যায় নিঃশ্বাস by মাহমুদা ডলি
এর মধ্যে দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক, ড্রেন ও খানাখন্দে জমে থাকা পানি ময়লা-আবর্জনার সঙ্গে মিশে পুরো নগরকে আরো নোংরা ও দুর্গন্ধময় করে তুলেছে। কোথাও হাঁটার জায়গা নেই, কোথাও আবার তীব্র দুর্গন্ধে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়াই কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
একদিকে টানা বৃষ্টি, অন্যদিকে ফুটপাতজুড়ে মলমূত্র, ময়লা-আবর্জনার স্তূপ এবং জলাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে রাজধানীবাসীর দুর্ভোগ চরমে। শুধু পথচারী নন, রিকশা, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের যাত্রীরাও সমান ভোগান্তিতে পড়ছেন। খোলা ম্যানহোল জলাবদ্ধ পানির নিচে তলিয়ে থাকায় প্রায়ই রিকশার চাকা আটকে যাচ্ছে। আবার বাস, ট্রাক, পিকআপ বা সিএনজি দ্রুতগতিতে চলাচলের সময় নোংরা পানি ছিটকে পথচারী ও যাত্রীদের গায়ে পড়ছে। এমন চিত্র রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ দুই সিটিতেই।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বছরের পর বছর ধরে বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়ে আছে। এর মধ্যে রয়েছে মগবাজার ওয়্যারলেস গেট, মালিবাগ চৌরাস্তা, শান্তিনগরের বিভিন্ন অংশ, মালিবাগ রেলগেট থেকে কমলাপুর রেলস্টেশন পর্যন্ত রেললাইন এলাকা এবং কারওয়ান বাজার ও তার আশপাশ।
রেললাইন এখন বর্জ্যের ভাগাড়
সরেজমিনে দেখা যায়, কমলাপুর স্টেডিয়ামের সামনের রাস্তা, টিটিপাড়া থেকে আর কে মিশন রোড পর্যন্ত রেললাইনের দুই পাশে জমে আছে বর্জ্যের স্তূপ। দীর্ঘদিন নিয়মিত পরিষ্কার না করায় পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এদিকে মালিবাগ রেলগেট থেকে কমলাপুর স্টেশন পর্যন্ত রেললাইনের পাশে পশু জবাইয়ের বর্জ্য, পশুর মাথা, কান ও অন্যান্য উচ্ছিষ্ট পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এসব থেকেও ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় শৌচাগারের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ভাসমান মানুষের বসতি এবং হকারদের দখলের কারণে নাজেহাল অবস্থা। মালিবাগ রেলগেট থেকে শুরু করে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনসহ মানিকনগর বিশ্বরোডের পুরোটা ময়লা-আর্বজনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি ও আশপাশের বাজারের বর্জ্য বছরের পর বছর রেললাইনের পাশে ফেলতে ফেলতে ছোট-বড় অসংখ্য ময়লার ভাগাড় তৈরি হয়েছে। ফুটপাতজুড়ে মলমূত্র, অন্যদিকে হকারদের দখল—পথচারীদের চলাচলের সুযোগই প্রায় নেই। খোলা জায়গায় জমে থাকা এসব বর্জ্য থেকে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
মালিবাগ-শান্তিনগরেও একই চিত্র
মালিবাগ-শান্তিনগর মোড়ে রিকশার জন্য অপেক্ষমাণ এক কর্মজীবী নারী মুখে ওড়না চেপে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, চারপাশের ময়লা নোংরা দুর্গন্ধ আমি পাই আপনি পান না?
মালিবাগ চৌরাস্তার ফুটপাত, আইল্যান্ড ও ওভারব্রিজের নিচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বর্জ্য। মালিবাগ পাবলিক টয়লেটের সামনের পরিবেশও অত্যন্ত নোংরা, দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। চামেলিবাগ, সিদ্ধেশ্বরী ও মৌচাকমুখী সড়কের দুই পাশজুড়েও একই অবস্থা। ফ্লাইওভারের নিচে টোকাই ও ভাঙারি ব্যবসায়ীদের দখলে তৈরি হয়েছে ময়লার স্তূপ।
রাজধানীর ভেতরে ও তার আশপাশের এলাকাতেও একই যন্ত্রণা ভোগ করতে হচ্ছে নগরবাসীকে। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতে বাতাসে ধুলাবালুর সঙ্গে উড়তে থাকে পলিথিনসহ ময়লা-আবর্জনা। যত্রতত্র বর্জ্যের স্তূপে চাপা পড়ে যাচ্ছে রাস্তার অর্ধেক অংশ। ফুটপাতের অধিকাংশই প্রস্রাবের কারণে হাঁটার অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। এসব কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি বিরূপ প্রভাব পড়ছে পরিবেশের ওপরও।
দক্ষিণ ঢাকায়ও ভয়াবহ অবস্থা
দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ডেমরা সড়কের কাজলারপাড় থেকে কোনাপাড়া পর্যন্ত ওয়াসার ড্রেন বর্জ্যে ভরে গেছে। টানা বৃষ্টিতে তা এখন খালের রূপ নিয়েছে। সায়েদাবাদ, ধলপুর, টিকাটুলি, গুলিস্তান, নাজিরাবাজার, শাখারীবাজার, পল্টন, যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, জুরাইন ও দোলাইরপাড়ের বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র। বহু এলাকায় বছরের পর বছর জলাবদ্ধতা ও বর্জ্যের কারণে দুর্ভোগ চললেও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
উত্তর ঢাকায়ও সংকট
উত্তর সিটির মেরাদিয়া থেকে রামপুরা পর্যন্ত কয়েকটি এসটিএস থাকলেও অনেক জায়গায় খোলা জায়গায় ভেজা ও শুকনা বর্জ্য আলাদা করার সময় ময়লা রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ছে।
খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা পরিমল বাবু প্রতিদিন মালিবাগ হয়ে কারওয়ান বাজারে অফিসে যান। তিনি বলেন, মালিবাগ রেলগেট এলাকায় রাস্তার ওপর পর্যন্ত ময়লা ছড়িয়ে আছে। তার ওপর উন্নয়ন কাজের জন্য বড় বড় গর্তে বৃষ্টির পানি জমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে মিরপুর, শেওড়াপাড়া, উত্তরা, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, ধানমন্ডি, মতিঝিল ও বনানী এলাকায় পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় বাসাবাড়ি ও রেস্টুরেন্টের সামনেই বর্জ্য ফেলে রাখা হচ্ছে।
গত ১০ জুলাই মিরপুর-১০, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়ায় জলাবদ্ধতা পরিদর্শনে গিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম ড্রেনেজ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং দোকানদারদের যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলার আহ্বান জানান। পরে মিরপুর-১২-এর ৬ নম্বর কাঁচাবাজার পরিদর্শন করে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি এবং দোকানদার, বাজার কমিটি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে দ্রুত সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিপুল ব্যয়, তবুও নেই সমাধান
জানা গেছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, রাজধানীর ১২৯টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন ছয় হাজার ৮০০ থেকে সাড়ে সাত হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর ৫৫ শতাংশই যথাযথভাবে সংগ্রহ করা যায় না।
জানা গেছে, গত সাত বছরে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যয় করেছে প্রায় তিন হাজার ৩২৩ কোটি টাকা। তবু শহরজুড়ে রয়ে গেছে ২৫০টিরও বেশি অনিয়ন্ত্রিত ভাগাড়। ফলে বিপুল বর্জ্য খাল, নদী ও উন্মুক্ত স্থানে জমে থেকে জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা যায়, ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চারটি ধাপ রয়েছে— বাড়ি থেকে প্রাথমিক সংগ্রহ, এসটিএসে জমা, ট্রাকে করে ল্যান্ডফিলে পরিবহন এবং চূড়ান্ত নিষ্পত্তি। কিন্তু এর প্রতিটি ধাপেই দুর্বলতা রয়েছে বলে জানা গেছে। শেষ ধাপ অর্থাৎ, পুনর্ব্যবহার ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা কার্যত নেই। ফলে অধিকাংশ বর্জ্য শেষ পর্যন্ত খোলা জায়গায় ফেলা হয়।
কারওয়ান বাজারে কার্যত নেই নিয়ন্ত্রণ
রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র কারওয়ান বাজারে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চিত্র সবচেয়ে উদ্বেগজনক। বাজারের ভেতরের ৩০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা দখল, অবৈধ স্থাপনা ও বর্জ্যের কারণে কোথাও কোথাও ছয় ফুটে নেমে এসেছে। কিচেন মার্কেটের সামনে মুরগি জবাই ও সবজির বর্জ্য সরাসরি ড্রেনে ফেলায় পুরো ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান পানি জমে যায়।
ফুটপাত দখল, উন্মুক্ত ড্রেন, বর্জ্যের স্তূপ, জলাবদ্ধতা ও যানজট—সব মিলিয়ে কারওয়ান বাজারে নগরবাসীর দুর্ভোগ নিত্যদিনের ঘটনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এখানে সিটি করপোরেশন বা প্রশাসনের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পণ্য খালাসের পর ব্যবসায়ীরা যত্রতত্র বর্জ্য ফেলে রেখে যান। নিয়ম অনুযায়ী কনটেইনারে ফেলার কথা থাকলেও তা মানা হয় না। ফলে পুরো বাজারই আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়।
বর্জ্য থেকে পলিথিন ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহকারী সালাম মিয়া বলেন, পুরো বাজারের ময়লা এখানে ফেলা হয়। সিটি করপোরেশনের গাড়ি মাঝে মাঝে কিছু নিয়ে গেলেও অধিকাংশই পড়ে থাকে।
বিশেষজ্ঞের মত
নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান আমার দেশকে বলেন, আমাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এমনিতেই দুর্বল। এর সঙ্গে যদি সময়মতো এলাকা থেকে বর্জ্য অপসারণ না করা হয়, তাহলে রাস্তাজুড়ে বর্জ্যের স্তূপ তৈরি হবে। সেখান থেকে মশা-মাছিসহ নানা রোগ ছড়িয়ে পড়বে। জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশনকে আরো কঠোর হতে হবে।
সিটি করপোরেশনের বক্তব্য
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহাবুবুর রহমান তালুকদার আমার দেশকে বলেন, রেললাইন ও রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনা রেলওয়ের নিজস্ব সম্পত্তি। সেসব এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য তাদের নিজস্ব জনবল রয়েছে। তবে নগরীর অন্যান্য এলাকায় টেকসই পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নতুন জনবল নিয়োগ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত জনবল ও আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়া স্মার্ট ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা কঠিন।
তিনি আরো বলেন, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কোথাও অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য হলো, কোনো বর্জ্য যেন ২৪ ঘণ্টার বেশি খোলা জায়গায় পড়ে না থাকে।
![]() |
| রাজধানীতে ময়লা অপসারণের অব্যবস্থাপনায় ভুক্তভোগী নগরবাসী। শুক্রবার ফকিরাপুলের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম রোড থেকে তোলা। ছবি: জসীম উদ্দীন |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পায়েলের সঙ্গে অন্তরঙ্গ দৃশ্য, নায়ক বললেন, ‘সবটাই শিল্পের জন্য’
‘দ্য একাডেমি অব ফাইন আর্টস’ ছবিতে এক সাহসী দৃশ্যে দেখা গেছে ঋষভ বসুতে। শুধু নগ্ন দৃশ্যই নয়, ঋষভকে দেখা গিয়েছে পায়েল সরকারের সঙ্গে অন্তরঙ্গ দৃশ্যে, কখনো চুম্বনের দৃশ্যে। এমন দৃশ্যে অভিনয়ের জন্য কী ধরনের প্রস্তুতি নেন অভিনেতা?
বাণিজ্যিক ছবির নায়ক হয়ে এ ধরনের দৃশ্যে অনেকেরই অস্বস্তি থাকে। কিন্তু ঋষভ সে ধারণায় বিশ্বাসী নন।
তাঁর কথায়, ‘আসলে এ ধরনের কাজ হলিউডে প্রতিনিয়ত হয়। শাহরুখ খান তাঁর প্রথম দিকে ছবিতে এমন দৃশ্যে কাজ করেছেন। সবটাই শিল্পের জন্য করা। একজন ফাইন আর্টিস্ট হয়ে ফাইন আর্টসের জন্য এটা আনন্দ দিয়েছে।’ যদিও এ দৃশ্যে ঋষভকে একা নয়, পায়েল সরকারকেও দেখা গিয়েছে। বলিউডে এখন এ ধরনের অন্তরঙ্গ দৃশ্য শুট করার পরিচালক আলাদা রয়েছেন। এ ছবির ক্ষেত্রে অবশ্য তেমন সুযোগ হয়নি বলেই জানান ঋষভ; বরং এই দৃশ্যায়নের পুরোটাই তাঁর নিজের ভাবনা বলেই দাবি অভিনেতার।
ঋষভের কথায়, ‘আসলে আমি “শ্রীকান্ত” করেছিলাম বলে একটা অভিজ্ঞতা ছিল এ ধরনের দৃশ্য কীভাবে শুট করা হয়, সেটা সম্পর্কে। আর প্রস্তুতি বলতে এই শরীর প্রদর্শনের জন্য চেহারাটা সুঠাম রাখতে সাহায্য করেছিল কোভিড।’ ঋষভ জানান, দর্শক আগেও তাঁকে অন্য অভিনেত্রীদের সঙ্গে পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যে দেখেছেন। তিনি কাজটা সুচারুভাবে পারেন বলেই হয়তো প্রস্তাব পান। তাই চরিত্রের প্রয়োজনে ভবিষ্যতে এমন দৃশ্যে অভিনয় করতে আপত্তি নেই তাঁর।
![]() |
| পায়েল সরকার ও ঋষভ বসু। কোলাজ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(2007)
-
▼
July
(256)
-
▼
Jul 20
(11)
- যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের পক্ষে জনমত গঠনে ৪৫ মিলিয়ন ডল...
- ৫০০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পদার্পণ করেন মুসলিমরা, জ...
- মার্কিন হামলা প্রতিহত ও পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম ইরান
- স্পেনের জয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী মানুষকে আন...
- শতবর্ষের ২০৩০ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে ছয় দেশ
- মার্কিন অনুপ্রবেশ ‘তাৎক্ষণিক’ মোকাবিলার অঙ্গীকার আ...
- হামাসের নতুন প্রধান খলিল আল-হাইয়া
- ইরান দেখিয়ে দিচ্ছে, মার্কিন হামলা সামলে পাল্টা প্র...
- ফরিদপুর থেকে বম্বে, গীতা দত্ত মানে ‘তুমি যে আমার’ ...
- ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় রাজপথ, দুর্গন্ধে আটকে যায় নিঃশ...
- পায়েলের সঙ্গে অন্তরঙ্গ দৃশ্য, নায়ক বললেন, ‘সবটাই শ...
-
▼
Jul 20
(11)
-
▼
July
(256)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...








