Wednesday, April 18, 2018

ইউরোপে কিভাবে 'দাসপ্রথা' চালাচ্ছে উত্তর কোরিয়া?

শ্রমিকরা নিজেদের আয়ের অর্থ নিজেরা পায়না বলেই অভিযোগ আছে
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন নজিরবিহীন একটি বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একে সামনে রেখেই বিবিসির একটি অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ইউরোপের দেশে দেশে উত্তর কোরিয়ার আধুনিক এক 'দাস প্রথার' তথ্য।
যার শিকার উত্তর কোরিয়ার নাগরিকরাই। এদের বিদেশে শ্রমিক হিসেবে পাঠানো হলেও এদের উপার্জিত অর্থ ব্যয় হয় অন্যের স্বার্থে।
ধারণা করা হয় যে প্রতি বছর উত্তর কোরিয়া থেকে দেড় লাখের মতো মানুষকে দেশটির সরকার বিদেশে পাঠায় শ্রমিক হিসেবে যাদের প্রধান কাজ আসলে সরকারের জন্য অর্থ প্রেরণ করা। এবং মনে করা হয় যে এ অর্থের পরিমাণ বছরে প্রায় এক বিলিয়ন পাউন্ড। যুক্তরাজ্যে দেশটির সাবেক উপ রাষ্ট্রদূত থায় ইয়ং হো জানাচ্ছিলেন এ অর্থ আসলে পারমানবিক কর্মসূচিতে ব্যয় করে উত্তর কোরিয়া সরকার।
"এ টাকাটা যদি শান্তিপূর্ণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় হতো দেশের অর্থনীতি এখন আরও অনেক ভালো অবস্থানে থাকতো। তাহলে এ অর্থ কোথায় যায়?ওয়েল, এগুলো যায় কিম পরিবারের বিলাসী জীবন যাপন, পারমানবিক কর্মসূচি আর সামরিক বাহিনীর জন্য। এটাই প্রকৃত সত্যি"।
বিবিসির একটি অনুসন্ধানী দল এ নিয়ে প্রায় দু বছর ধরে কাজ করেছে চীন রাশিয়া ও পোল্যান্ডে। রাশিয়ায় দলটি কথা বলে অ্যাপার্টমেন্টে কাজ করা একদর উত্তর কোরিয়ান শ্রমিকের সাথে। তাদর একজন জানান যে তাদের আয়ের সব চলে যায় দলনেতার কাছে এবং তিনিও একজন উত্তর কোরিয়ান। এসব শ্রমিকদের মধ্যে একজন কথা বলতেও রাজী হন।
" এখানে আমাদের সাথে কুকুরের মতো আচরণ করা হয় এবং আপনাকে খেতে হবে ময়লা খাবার। সব টাকাই দিয়ে দিতে হয় আর একে বলে পার্টি ডিউটি। আর কেউ বলে রিভলিওশনারি ডিউটি বা বৈপ্লবিক দায়িত্ব। যারা দিতে পারবেনা তারা এখানে থাকতে পারবেনা। দশ বছর আগেও এটা ছিলো ২৬০ পাউন্ড আর এখন এটা প্রায় দ্বিগুণ"।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত দেশগুলোর বিভিন্ন কোম্পানিতে নানা ধরনের কাজে আছে বেশ কিছু উত্তর কোরীয়। পোল্যান্ডে তেমনি একটি জায়গায় কাজ করছেন এমন একজন কথা বলেছেন বিবিসির সাথে।
"আমাদের লোকজন পোল্যান্ডে আছে শুধু কাজ করতে। ছুটির দিনগুলোতে তারা কোন টাকা পয়সা পায়না। কোন কাজ শেষ করার যখন কোন তাড়া থাকেনা তখন কোন বিশ্রাম না নিয়েই আমরা কাজ করি। পোলিশরা যেখানে আট ঘণ্টা কাজ করে বাড়ি যায় আমরা সেখানে কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাজ করেই যাই।
ওয়ারশোতে উত্তর কোরিয়ার দূতাবাস অবশ্য বলছে তাদের নাগরিকরা পোলিশ ও ইইউ র নিয়ম কানুনের মধ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। পোল্যান্ড সরকার জানিয়েছে তারা প্রতিনিয়ত বিষয়টি মনিটর করে এবং এখনো তারা এমন কোন প্রমাণ পায়নি যে এসব শ্রমিকের আয় করার অর্থ উত্তর কোরিয়ায় পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার কার্যকর কিছুই করছে না: ব্রিটেনে শেখ হাসিনা

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত কোনো কিছুই করছে না বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার বিকেলে ব্রিটেনে ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটে (ওডিআই) ‘বাংলাদেশ’স ডেভেলপমেন্ট স্টোরি: পলিসিজ, প্রগ্রেসেজ অ্যান্ড প্রসপেক্টস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তৃতায় তিনি এ অভিযোগ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, “রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি, চুক্তি হয়েছে এবং তারা সম্মত হয়েছে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে মিয়ানমার তাদের নাগরিক উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। সেটাই সমস্যা।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সাম্প্রতিক সময়ে নির্যাতনের মাধ্যমে বিতাড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পুরো চাপ বাংলাদেশ একাই সামলাচ্ছে। বাংলাদেশ এ সংকটের শান্তিপূর্ণ, টেকসই ও আশু সমাধান চায়।
তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনী দমন অভিযান শুরু করার পর বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর লোকদের সংখ্যা এখন ১১ লাখ। বাংলাদেশ মানবিক বিবেচনায় তাদের আশ্রয় দিয়েছে।
রোহিঙ্গাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি নিজে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে তাদের দুর্দশা দেখেছি। অনেক বিশ্ব নেতা কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী আশ্রয় শিবির পরিদর্শন করেছেন।
সম্প্রতি একটি রোহিঙ্গা পরিবারকে মিয়ানমারের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে রয়টার্সে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্ডার লাইনে, জিরো পয়েন্টে অনেক রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু রয়েছে। মিয়ানমার সেখান থেকে একটা পরিবারের অর্ধেক নিয়েছে, ক্যাম্প থেকে নেয়নি। এসব পরিবারের সদস্য ক্যাম্পেও রয়েছে।
তিনি বলেন, মিয়ানমার সম্ভবত বিশ্বকে দেখাতে চাইছে তারা রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের ফিরিয়ে নেয়া শুরু করেছে। এটা ভালো লক্ষণ। কিন্তু একটা পরিবার কেন? আমরা তাদের ৮ হাজার পরিবারের তালিকা দিয়েছি, কিন্তু তারা তাদের ফিরিয়ে নেয়নি। কারণ তারা দেখাতে চায়, এটা ভালো, তাদের উচিত রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেয়া পুরোদমে শুরু করা।
শেখ হাসিনা বলেন, যেহেতু মিয়ানমার আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়। এজন্য আমরা তাদের সঙ্গে বন্ধুভাবাপন্নভাবে আলোচনা করছি। সম্প্রতি মিয়ানমারের একজন মন্ত্রী বাংলাদেশে এসেছেন। মিয়ানমারের প্রতিবেশি পাঁচটি দেশ চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, লাওস, বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। আমরা এসব দেশের সঙ্গেও আমরা আলোচনা করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন আলোচনা করছি তখন মিয়ানমার দেখাচ্ছে তারা রোহিঙ্গাদের ফিরত নেবে। তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার কথা বলছে, আগ্রহ দেখাচ্ছে কিন্তু বাস্তবে কিছুই করছে না। এজন্য মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরো চাপ তৈরি করতে হবে মিয়ানমারের ওপর। যাতে মিয়ানমার শিগগির তাদের রোহিঙ্গা নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়।
বর্তমান বিশ্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ানো সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তার সরকারের ‘জিরো টলারেন্স নীতি’র কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি সুখী সমৃদ্ধশালী ও শান্তিপূর্ণ দেশ করতে ভিশন-২০৪১ প্রণয়ন করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সক্ষম হবে বলে দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।

প্রয়োজনীয় অস্ত্র বানাতে ইরান কারো অনুমতির তোয়াক্কা করবে না: রুহানি

জাতীয় সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে কুচকাওয়াজে ভাষণ দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট রুহানি
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আজ (বুধবার) জাতীয় সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালন করছে। এ উপলক্ষে ইসলামি বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ইমাম খোমেনী (র)’র মাজারের কাছে বিশাল কুচকাওয়াজ ও সামরিক খাতে অর্জিত সাফল্য নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। সকালে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজে অংশ নেন ইরানের সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখার সদস্যরা। এতে ইরানের অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম প্রর্দশন করা হচ্ছে।
সামরিক বাহিনীর কুচকাওয়াজ
এরইমধ্যে সেনা সমাবেশ ও কুচকাওয়াজে ভাষণ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইরানের সেনা, বিমান, নৌ ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র শীর্ষ পর্যায়ের কমান্ডাররা। অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট রুহানি ইরানের শান্তিপূর্ণ সামরিক কর্মসূচির কথা তুলে ধরে বলেন, কোনো দেশে আগ্রাসন চালানোর ইচ্ছা তার দেশের নেই এবং কারো স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করার চিন্তা করে না ইরান। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আন্তরিক ও ভাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায় তেহরান।
বিশাল কুচকাওয়াজের একাংশ
প্রেসিডেন্ট রুহানি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিরক্ষা শক্তি গড়ে তোলার সমস্ত অধিকার ইরানের রয়েছে এবং নিজের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র বানানোর ক্ষেত্রে তেহরান কারো অনুমতির জন্য বসে থাকবে না। পাশাপাশি তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অস্ত্রের বন্যা বইয়ে দেয়া এবং এ অঞ্চলের সম্পদ হাতিয়ে নেয়ার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোকে হুঁশিয়ার করেন।

মাদকে ভাসছে দেশ by শুভ্র দেব

মাদকে ভাসছে সারা দেশ। গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের অলিগলি সর্বত্র হাত বাড়ালেই মেলে মাদক। মাদকের ভয়াল ছোবলে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে যুব সমাজ। মাদক নির্মূলে সরকারি- বেসরকারি ভাবে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও কোনো ভাবেই নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। কিছুদিন আগে ‘থানায় মাদকের হাট’ শিরোনামে পত্রিকায় খবরও ছাপা হয়েছে। এমনকি দেশে ইয়াবা তৈরির কারখানারও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। নিত্য নতুন কৌশলে দেশের সীমান্ত দিয়ে হরহামেশাই দেশে প্রবেশ করছে মাদক। এক সময় গোপনে মাদক ব্যবসা চলতো। কিন্তু ইদানীং অনেকটা খোলামেলা ভাবেই মাদকের ব্যবসা চলছে। স্থানীয় প্রশাসনে নাকের ডগায় বসে মাদক ব্যবসা চললেও বেশির ভাগ সময়ই তাদের নীরবতায় দেখা যায়। ফলে বেড়েই চলছে মাদক কেনাবেচা আর সেবন। বিভিন্ন জরিপ বলছে, দেশের সব শ্রেণির কম বেশি মানুষ এখন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বাদ যাচ্ছে না নারী-কিশোর ও শিশু। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ মাদক উৎপাদনকারী দেশ নয়। ৯৫ শতাংশ মাদক আসে বিদেশ থেকে। মাদক আগ্রাসন ঠেকাতে না পারলে আগামী ২/৩ বছরের মধ্যে প্রতিবছর শুধু নেশার পেছনে খরচ হবে ৬০ হাজার কোটি টাকা। তাই মাদক চোরাচালানের সকল রুটে কঠোর নিরাপত্তা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি সরকারকে মাদক নির্মূলে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে।
মাদকদ্রব্য ও নেশা প্রতিরোধ নিরোধ সংস্থা (মানস) সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে মাদক সেবনের সঙ্গে ৭০ লাখ মানুষ জড়িত। মানস বলছে, দেশে নারী মাদকাসক্তের সংখ্যাও এখন ৫ লাখ ছাড়িয়েছে। মাদক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২০ সালের ভেতরে দেশে অন্তত এক কোটি লোক নেশায় আসক্ত হবে। বাংলাদেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এখন ৬৫ লাখ মাদকাসক্ত। এছাড়া মাদকাসক্তদের মধ্যে ৮৪ ভাগ পুরুষ ও ১৬ ভাগ নারী। সে হিসেবে এদেশে ১৩ লাখের বেশি নারী মাদকের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। আর ৮৪ শতাংশ পুরুষ মাদকাসক্তের মধ্যে ৮০ শতাংশ যুবক। তাদের ৪৩ শতাংশ বেকার। ৫০ শতাংশ অপরাধের সঙ্গে জড়িত। সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তি থেকে শুরু করে নারী, শিশু ও কিশোররা মাদক ব্যবসায় জড়িত। এছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী দেশে আসক্তদের ৯০ ভাগ কিশোর ও তরুণ। তাদের শতকরা ৪৫ ভাগ বেকার এবং ৬৫ ভাগ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট। আর উচ্চ শিক্ষিতের সংখ্যা ১৫ শতাংশ। এছাড়া আরেক জরিপে বলা হয়েছে, মাদকাসক্ত শিশুদের ড্রাগ গ্রহণ ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ৪৪ শতাংশ পথশিশু, পিকেটিংয়ে ৩৫ শতাংশ, ছিনতাইয়ে ১২ শতাংশ, মানব পাচারের সহায়তার কাজে ১১ শতাংশ, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের সহায়তাকারী হিসেবে ৫ শতাংশ ও অন্যান্য ভ্রাম্যমাণ অপরাধে জড়িত ২১ শতাংশ। পাশাপাশি বোমাবাজিসহ অন্যান্য সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ১৬ শতাংশ পথশিশু। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের হেড অব সাইকোথেরাপি ও একাডেমিক কোর্স ডিরেক্টের অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল তার এক লেখায় বলেছেন, বেসরকারি জরিপ অনুযায়ী দেশে মাদকাসক্তদের সংখ্যা ৭০ থেকে ৯০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদের মধ্যে প্রায় ৯১ শতাংশ কিশোর ও যুবক। ইউএনওডিসি ২০১৪ সালে নারী মাদকাসক্ত এবং নারীদের নিয়মিত পুরুষ মাদকাসক্ত যৌনসঙ্গী সম্পর্কিত এক জরিপ প্রকাশ করে। সেখানে ১৭৬ জন মাদকাসক্ত নারীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছিল। তাদের বেশির ভাগের বয়স ছিল ২৮ বছর। আর এদের অর্ধেকের বেশি ইয়াবা ও হেরোইনে আসক্ত। ঢাকা আহছানিয়া মিশনের এক জরিপ থেকে জানা যায়, তাদের কাছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে ২৫ শতাংশ ফেনসিডিল. গাঁজা ৩৮ শতাংশ, ইয়াবা ৪১ শতাংশ, হেরোইন ৭ শতাংশ ও ইনজেকশনের মাধ্যমে নেশা গ্রহণ করে ৫ শতাংশ। এই জরিপ থেকে জানা যায় দেশে আশঙ্কাজনকভাবে ইয়াবাসেবী বাড়ছে। দেশে মোট মাদকসেবীর মধ্যে ইয়াবাসেবী ৩০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। দিন দিন এই অবস্থা আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ওপেন সিক্রেট হচ্ছে, দেশের প্রতিটি কারাগারেই মাদক ব্যবসা চলে। বন্দিরা কারাগারের ভেতরে দিব্যি মাদক সেবন করছে। আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন জানিয়েছেন, দেশের ৬৮টি কারাগারে বন্দির সংখ্যা ৭৭ হাজার ১২৪ জন।  মোট বন্দির মধ্যে ৩৬.৯৭ শতাংশ বন্দি মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই হিসাবে মোট বন্দির মধ্যে ২৮ হাজার ৫৩৫ জন মাদকাসক্ত। তিনি আরো জানিয়েছেন মাদক পাচারের সঙ্গে বন্দিদের পাশাপাশি কারা অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা জড়িত রয়েছে। এসব কর্মচারীকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। কারা সূত্রে জানা গেছে, বন্দিরা যখন আদালতে হাজিরা দিতে যায় তখন কৌশলে মাদক নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করে। বহনে সুবিধার কথা চিন্তা করে কারাগারে ইয়াবা ও গাঁজাই বেশি বিক্রি হয়। এর বাইরে কারাগারের অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় পিয়াজের বস্তা, সবজির বস্তা, মরিচের বস্তাসহ বিভিন্ন পণ্যের বস্তার সঙ্গে ইয়াবা ও গাঁজা প্রবেশ করানো হয়। চাহিদা বেশি থাকায় কারাগারে এসব মাদক বেশি দামে বিক্রি করে অসাধু কারারক্ষী, কর্মকর্তা ও কিছু বন্দিরা লাখ লাখ টাকা কামাচ্ছে। কারা সূত্র বলছে, এতদিন কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রবেশ পথে লাগেজ স্ক্যানার ছিল, বডি স্ক্যানার ছিল না। তাই বডির সঙ্গে কৌশলে ইয়াবা নিয়ে প্রবেশ করা যেত। কিন্তু কয়েকদিন আগে বডি স্ক্যানারও আনা হয়েছে। মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার কারণে বিভিন্ন কারাগারের ২৩ কারারক্ষীকে বিভিন্ন সময় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে অন্তত ২০০ গডফাদার মাদক ব্যবসাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের আবার প্রত্যেকের আলাদা আলাদা নেটওয়ার্ক রয়েছে। সবমিলিয়ে সারা দেশে অন্তত ১ লাখ ৬৫ হাজার মাদক বিক্রেতা আছে। অনেক সময় অনেকে ব্যবসা ছেড়ে দেয় আবার নতুন করে অনেকে ব্যবসায় যুক্ত হয়। এ হিসাবে মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা আরো কম বেশি হতে পারে। তবে গডফাদাররা মাদকের যোগানদাতা হলেও পাইকারি ও খুচরা ১ লাখ ৬৫ হাজার মাদক ব্যবসায়ী সারা দেশে মাদকের বিস্তার ঘটায়। তাদেরকে ঘিরে আরো ছিঁঁচকে মাদক ব্যবসায়ীর  নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। সূত্র বলছে, সারা দেশের মাদক ব্যবসায়ীরা নিত্যনতুন কৌশলে সারা দেশে মাদক ছড়িয়ে দেয়। পুলিশের, জেলা প্রশাসকের, রাজনৈতিক পরিচয় সংবলিত, অ্যাডভোকেট, চিকিৎসক স্টিকার লাগানো গাড়িতে মাদক বহন হচ্ছে। এছাড়া,  অ্যাম্বুলেন্স, ট্রেন, বিমান, মালবাহী গাড়ি দিয়ে চলে মাদক বহন। এর বাইরে সবজির বস্তায়, লাউ, মাছের ভেতর, পায়ুপথে আরো নানা কৌশলে মাদক পাচার হয়। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের ম্যানেজ করেই মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক ব্যবসা করছে। খোদ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরাও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। মাদক পাচারের রুট: বাংলাদেশ মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হওয়াতে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে মাদকদ্রব্য প্রবেশ করে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভৌগোলিকভাবে গোল্ডেন ট্রায়াংগাল (মিয়ানমার, লাউস ও থাইল্যান্ড), গোল্ডেন ক্রিসেন্ট (আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ইরান) ও গোল্ডেন ওয়েজ (নেপাল, ভুটান ও তিব্বত) এই তিন মাদক বলয়ের মাঝখানে বাংলাদেশের অবস্থান হওয়ায় মাদক ট্রাফিকিং রুট হিসেবে পরিচিত। দেশের ৩২ জেলা ও ১৩২টি উপজেলার সঙ্গে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত রয়েছে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী টেকনাফ উপজেলার নাফ নদীর জাদিরমুরা পয়েন্ট থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার ইয়াবা পাচারের জন্য সর্বাধিক ব্যবহৃত ক্রসিং পয়েন্ট। মিয়ানমারের বাংলাদেশ সীমান্তে ৪৯টি ইয়াবার কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় তৈরি ইয়াবা দেশে পাচার করা হয়। পাচারকৃত ইয়াবার বেশির ভাগই নৌপথে নাফ নদ ও সমুদ্র উপকূলবর্তী কক্সবাজার জেলার মহেশখালী ও কুতুবদিয়া চ্যানেল, টেকনাফ ও উখিয়া উপকূল, চট্টগ্রাম উপকূল, পটুয়াখালী উপকূলীয় অঞ্চল দিয়ে প্রবেশ করে। মাছ ধরার নৌকা, যাত্রীবাহী নৌকা, জাহাজ দিয়ে কৌশলে ইয়াবা আনা হয়। টেকনাফ ও উখিয়া হয়ে পাচারকৃত ইয়াবা বাংলাদেশে প্রবেশ করার পর কক্সবাজার-টেকনাফ-উখিয়া সড়ক ও মেরিন ড্রাইভ এলজিইডি সড়ক দিয়ে ইয়াবা পাচার হয়। এছাড়া দেশের সীমান্তবর্তী জেলা যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা  ও ফেনী জেলার সীমান্ত দিয়ে মাদকদ্রব্য প্রবেশ করে। ইয়াবা ব্যবসার গডফাদার ও সীমান্তের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের  যোগসাজশে দেশে ইয়াবার চালান আনা হচ্ছে।
মাদকদ্রব্য ও নেশা প্রতিরোধ নিরোধ সংস্থা (মানস) সভাপতি ও জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ড এবং জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ টাস্কফোর্সের সদস্য ড. অরূপ রতন চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, মাদক বন্ধে সরকার জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। ইতিমধ্যে ২০০ গডফাদারের তালিকা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে অনেককেই বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু মাদক আইনের দুর্বলতার কারণে এবং সাক্ষী প্রমাণ না থাকায় মামলা হয়নি। তারা জামিনে বের হয়ে গেছে। তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে দেশে মাদক আসছে। মিয়ানমার সীমান্তে ৪৯টি ইয়াবার কারখানা চিহ্নিত করা হয়েছে। দু’দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকে কারখানাগুলো ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বেশ আগে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার বাস্তবায়ন হয়নি। কারণ হিসেবে মানসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বলেন, খোদ মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কারণে এসব কারখানা বন্ধ করা যাচ্ছে না। রক্ষক ভক্ষক হয়ে গেছে। তাই মাদক আইনকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যকে আরো তৎপর হতে হবে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরো শক্তিশালী ও তাদেরকে অস্ত্র ব্যবহার করার সুযোগ করে দিতে হবে। এর বাইরে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। কারণ একজন ইয়াবাসেবী আরো দুজন ইয়াবাসেবী তৈরি করে। আর সরকারকে মাদক নির্মূলের জন্য একটি বিশেষ টাস্কফোর্স তৈরি করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম শিকদার মানবজমিনকে বলেন, মাদক নির্মূলে ডিএনসির তৎপরতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। প্রতিদিনই ডিএনসির অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার হচ্ছে। পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। কিন্তু আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে অনেক মাদক ব্যবসায়ী জামিনে বের হয়ে যায়। এছাড়া বর্তমান মাদক আইনে আসামির সাজা তেমন কঠিন নয়। তিনি বলেন, মাদক আইনের একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে।
এই আইনটি পাস হলে ডিএনসির ক্ষমতা আরো বাড়বে। এর বাইরে আমাদের অভিযানিক দলের কোনো অস্ত্র নাই। তাই ঝুঁকি নিয়ে অনেক কাজ করতে হয়। আমাদের অস্ত্র ব্যবহার করার ব্যবস্থা করা হলে শক্তি আরো বৃদ্ধি পাবে। নজরুল ইসলাম শিকদার আরো বলেন, মাদকের আগ্রাসন কমাতে ডিএনসির পাশাপাশি কাজ করছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অনেক টিম। শুধু আইনশৃঙ্খলাবাহিনী দিয়ে পুরোপুরি মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। মানুষকেও সচেতন হতে হবে।

যৌন সহিংসতার দায়ে জাতিসংঘের কালো তালিকায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী

প্রায় সাত লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে
সশস্ত্র সংঘাতের সময় যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগে এই প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের একটি কালো তালিকায় উঠে এসেছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নাম।
যুদ্ধ-সংঘাত সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার ওপর জাতিসংঘ মহাসচিবের এক রিপোর্টে এ তালিকাটি উপস্থাপন করা হয়।
নিরাপত্তা পরিষদের এজেন্ডায় যেসব সামরিক সংঘাত আছে সেখানে 'ধর্ষণ বা অন্য কোন ধরণের যৌন সহিংসতা চালানোর জন্য বা এর জন্য দায়ী পক্ষগুলোর' এই তালিকায় মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার নিরাপত্তা পরিষদের কাছে উপস্থাপিত এবং অনলাইনে প্রকাশিত রিপোর্টটিতে বলা হয়, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ২০১৬ সালের অক্টোবর এবং ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর যে অভিযান চালায় - সেই সময় এসব যৌন সহিংসতার ঘটনা ঘটে। জাতিসংঘ পরে ওই অভিযানকে 'জাতিগত শুদ্ধি অভিযান' বলে বর্ণনা করে।
রিপোর্টে বলা হয়, যৌন সহিংসতা ওই অভিযানের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করা এবং তারা যাতে ফিরে না আসে তা নিশ্চিত করা। এর পর প্রায় সাত লক্ষ রোহিঙ্গা পালিয়ে সীমান্তর ওপারে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। রিপোর্টে রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণের একাধিক ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়।

ছিনতাইয়ে ‘সালাম পার্টি’ by আল-আমিন

পোশাকে-আশাকে ভদ্রলোক। চলাফেরায় আভিজাত্যের ছাপ। কথা বলবে শুদ্ধ ভাষায়। পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণে বেশ দক্ষ। রাস্তায় হেঁটে যাওয়ার সময় সুন্দর করে সালাম দেবে। সালামের উত্তর দিয়ে দাঁড়ালে কুশল বিনিময় হবে। হ্যান্ডশেক করবে। এর মাঝেই আরো কিছু লোক এসে অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকা-পয়সা, মোবাইল হাতিয়ে নেবে। রাজধানীতে এমন অভিনব কায়দায় ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বেশ কিছু চক্র। যারা পরিচিত ‘সালাম পার্টি’ নামে। এসব প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব খুঁইয়েছেন অনেক সাধারণ মানুষ। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে সালাম পার্টির বেশ কিছু সদস্য। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টার্গেট করে যে কোনো সড়ক দিয়ে রিকশা বা হেঁটে যাওয়ার সময় এই চক্রের সদস্যরা সামনে এসে দাঁড়াবে। প্রথমেই বিনয়ের সঙ্গে ‘সালাম দিবে’। এরপর জিজ্ঞাসা করবে, ‘কেমন আছেন ভাইয়া অথবা আপি, আমি ওমুক। আরে, চিনতে পারছেন না আমাকে’? যে কেউ তার কথা শুনে ভাবনায় পড়ে যাবেন? মনে হবে হয়তো তিনি আমাকে চিনেন। আমি হয়তো তাকে মনে করতে পারছি না। তখন তিনিও হাসি মুখে হাত বাড়িয়ে দেন। হাত ধরার সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ আরো কয়েকজন যুবক এসে সেখানে হাজির। এ সময় তারা শরীরে ধারালো অস্ত্র অথবা রিভলবার ঠেকিয়ে বলবে, যা আছে দ্রুত বের করে দে’। নইলে জীবন দে? তখন ভিকটিমের মাথার ওপর আকাশ ভেঙে পড়ে। কোনো কিছু চিন্তা করে নির্বিগ্নে যা আছে তাদেরকে বের করে দেয়। তখন সেখান থেকে দ্রুত কেটে পড়ে ‘সালাম পার্টির’ প্রতারক চক্রের দল। ছিনতাইয়ে জড়িত ‘সালাম পার্টির’ ৮ থেকে ১০টি চক্র ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। ছিনতাইয়ে জড়িত এই চক্রটিকে দমন করার জন্য কাজ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের বিভিন্ন শাখা। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পূর্ব বিভাগের ডিসি খন্দকার নূরনবী মানবজমিনকে জানান, ‘সালাম দিয়ে এমন একটি চক্র ঢাকার বিভিন্নস্থানে ছিনতাই করছে। তাদের দেখলে বোঝা যাবে না যে, তারা ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। পুলিশ এই চক্রটি দমন করার জন্য মাঠে কাজ করছে।’ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ‘গত ২০শে মার্চ মতিঝিল  ব্যাংক কলোনি এলাকায় এক ব্যবসায়ী এমন ঘটনার শিকার হন। পরে তিনি মতিঝিল থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। বিষয়টি ছায়া তদন্ত শুরু করে ঢাকা মহানগর পুলিশের পূর্ব বিভাগ। এরপর গত ২৮শে মার্চ পল্টনের  আইডিয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলো: মো. জিতু (৪৯), মো. মিজান (৩৫), মো. আকতার হোসেন (৪৫), মো. রিপন (২৮) ও পিন্টু মিয়া (৩১)। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুইটি মোটরসাইকেল ও ছিনতাইকৃত ১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। মামলায় পুলিশ তাদের রিমান্ডে নেয়। রিমান্ডে এ চক্রের আদ্যপ্রান্ত জানার চেষ্টা করে পুলিশ। তাদের তথ্য অনুযায়ী ঢাকাসহ আশপাশের জেলায় অভিযান চালাচ্ছে গোয়েন্দা পুলিশ।
ডিবি জানায়, ‘সালাম পার্টির’ সদস্যদের দেখে কোনোভাবেই মনে হবে না যে, তারা ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। ভদ্র এবং উচ্চবিত্তের পরিবারের লোকজনের মতো এ চক্রের সদস্যরা তারা ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার জন্য বিকাল বেলায় ঢাকার কোনো একটি এলাকায় রিকশা ভাড়া করে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে। কেউবা প্রাইভেটকার নিয়ে ঘোরাঘুরি করে। কিন্তু, তারা একদিন একাধিক কোনো স্থানে ঘুরে না। ভাগ করে ঘুরে বেড়াই। ভ্যানিটি ব্যাগ বা ব্রিফকেসধারী নারী অথবা পুরুষ হয় তাদের প্রধান টার্গেট। ওই এলাকায় ব্যাংক অথবা এটিএম বুথের পাশে একজন ঘোরাঘুরি করে। কেউ বা গ্রাহক সেজে ব্যাংকের মধ্যে গিয়ে টাকা তোলে। লক্ষ্য রাখে কে কত টাকা নিয়ে বের হচ্ছে। নিজেদের টার্গেট পেয়ে গেলে ওই পুরুষ ও নারীর পিছু নেয় তারা। পথের মধ্যে মোবাইলে তাদের অপর সহযোগীদের জানিয়ে দেয়। শরীরের বিভিন্নস্থানে তারা রিভলবার ও অস্ত্র গোপনস্থানে রাখে। যাতে করে কেউ বুঝতে না পারে। একপর্যায়ে এ চক্রের সদস্যরা ওই টার্গেটকৃত ব্যক্তির সামনে এসে দাঁড়ায়। সালাম দিয়ে প্রাথমিক কথা বলার সময়ের কিছুক্ষণের মধ্যে গ্রুপের অন্য সদস্যরা সেখানে এসে হাজির হয়। তখন অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তারা ভিকটিমের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ব্যাগ ও মোবাইলসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র হাতিয়ে নিয়ে চলে যায়। এ সময় ভিকটিমের চিৎকার ও কান্না করা ছাড়া আর কিছুই থাকে না। কোনো উপায় না পেয়ে ভিকটিম তখন থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন।
সূত্র জানায়, এ চক্রের সদস্যরা, পল্টন, কাকরাইল, মতিঝিল, ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, উত্তরা, রমনা মহাখালী, কমলাপুর এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। ঢাকায় ৮ থেকে ১০টি গ্রুপ রয়েছে। প্রত্যেকটি গ্রুপে ৫ থেকে ৬ জন সদস্য রয়েছে। সূত্র জানায়, এ চক্রের অধিকাংশ সদস্য মাদক সেবনে আসক্ত এবং বকে যাওয়া তরুণ। অনেকেই কাজ না পেয়ে বেকার হয়ে হতাশা থেকে এই ছিনতাইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। গত ২৮শে মার্চ গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে ডিবি পুলিশ জানতে পেরেছে, এই সালাম পার্টির সদস্যরা ঢাকায় বসবাস করে না। নিরীহ লোকজনের কাছ থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়ে তারা ঢাকার বাইরে তাদের আবাসস্থল নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ এবং গাজীপুর এলাকায় চলে যায়। বিকাল বেলা হলে তারা সেখান থেকে আবার ঢাকায় চলে এসে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ঘোরাঘুরি শুরু করে।

বিশ্বে এই প্রথম একজনের মুখ দু'বার কেটে বসানো হলো অন্যের মুখ

জেরোম হ্যামনের 'তিন মুখের' ছবির পাশে প্রফেসর লাঁতিয়েরি
পৃথিবীতে এই প্রথমবারের মতো এক ব্যক্তির দু'বার মুখমন্ডল প্রতিস্থাপনের অপারেশন হবার পর - তিন মাসের মাখায় জেরোম হ্যামন নামের ওই ব্যক্তি বলছেন, তিনি এখন ভালো বোধ করছেন।
তেতাল্লিশ বছর বয়স্ক মি. ল্যামনের মুখমন্ডল প্রথমবার প্রতিস্থাপন করা হয় ২০১০ সালে। দ্বিতীয়টি করা হয় গত বছর।
প্রথম অপারেশন সফল হয়েছিল কিন্তু ২০১৫ সালে ঠান্ডা লেগে তার সংক্রমণ হবার পর তাকে এন্টিবায়োটিক দেয়া হয়। কিন্তু তার প্রতিস্থাপিত মুখমন্ডল সেই এন্টিবায়োটিককে গ্রহণ করছিল না- ফলে দেখা দেয় জটিলতা।
প্রথম লক্ষণ দেখা দেয় ২০১৬ সালে, আর গত বছর নভেম্বরে তার প্রতিস্থাপিত মুখে নেক্রোসিস দেখা দেয়, অর্থাৎ সেই মুখের টিস্যুগুলো মরে যেতে থাকে। ফলে তার সেই বসিয়ে দেয়া মুখটিকে কেটে বাদ দিতে হয়।
এর পর শুরু হয় তার মুখে নতুন করে বসানোর জন্য নতুন আরেকটি মুখের সন্ধান।
কিন্তু এমন দাতা পাওয়া যাচ্ছিল না যার মুখমন্ডলকে জেরোমের শরীর 'মেনে নেবে'। এই দু'মাস সময় জেরোমকে 'মুখমন্ডল-বিহীন অবস্থায়' জর্জ পম্পিডু হাসপাতালে একটি কক্ষে থাকতে হয়।
এই সময়টা তার কোন মুখ ছিল না। তিনি কিছু দেখতে পেতেন না, শুনতে পেতেন না বা কোন কথাও বলতে পারতেন না।
এ অবস্থা চলেছে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত। সেই মাসেই একজন দাতা পাওয়া যায়, এবং দ্বিতীয় বারের মতো তার মুখমন্ডল প্রতিস্থাপন করা হয়। পর পর দু'বার মুখমন্ডল প্রতিস্থাপনের অপারেশন হয়েছে - পৃথিবীতে এমন একমাত্র ব্যক্তি হচ্ছেন এই জেরোম হ্যামন। এ অপারেশনের আগে বিশেষ চিকিৎসার মাধ্যমে তার রক্ত শোধন করা হয়।
ফরাসী সংবাদ মাধ্যম তার নাম দিয়েছে 'তিন মুখ বিশিষ্ট ব্যক্তি।'
এখন জেরোম হ্যামনের নতুন মুখটি মসৃণ এবং নড়াচড়া করে না। তবে তার মাথার খুলি, চামড়া, এবং চোখমুখ এখনো পুরোপুরি যথাযথ অবস্থানে আসে নি।
তিনি এখনো হাসপাতালে। সেখান থেকেই এক সাক্ষাতকারে তিনি ফরাসী টিভিকে বলেন, তিনি আশাবাদী যে তিনি ভালোভাবেই সেরে উঠবেন।
"আমি আমার নতুন মুখকে মেনে না নিলে তা একটা ভয়াবহ ব্যাপার হতো। এটা আমার পরিচয়ের প্রশ্ন ।তবে যাই বলুন, আমার ভালো লাগছে, এটাই আমি।"
"আমার বয়েস ৪৩। আমার মুখ দাতার বয়েস ছিলো ২২, তাই আমার বয়েসও এখন ২২।"
অপারেশনটি করেছেন যে ডাক্তার সেই অধ্যাপক লরাঁ লাঁতিয়েরি বলেন, এখন আমরা জানি যে দু দুবার মুখ প্রতিস্থাপন সম্ভব - এটা এখন আর কোন গবেষণার ব্যাপার নয়।
তবে যার মুখে এই অপারেশন হয়েছে তার এই পুরো ব্যাপারটা সহ্য করার যে সাহস - তা সত্যি অসাধারণ, বলেন তিনি।
উত্তর ফ্রান্সেই প্রথম মুখমন্ডল প্রতিস্থাপন অপারেশন হয়েছিল ২০০৫ সালে। এর পর বিশ্বের নানা দেশে প্রায় ৪০টি এমন অপারেশন হয়েছে।
সূত্রঃ বিবিসি

জাল ভিসার কারবারি তারা

দেখতে হুবহু আসল ভিসা। পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত থাকে। ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য নেয়া হয় অরিজিনাল সব ডকুমেন্ট। বিমানের টিকেটের সঙ্গে বিদেশ গিয়ে হাত খরচার জন্য ডলার এন্ডোর্স করানো হয়। নির্ধারিত তারিখে বিমানবন্দর পর্যন্তও নিয়ে যাওয়া হয়। আর সেখান থেকেই কৌশলে যাত্রীর সঙ্গে থাকা ডলার, জাল ভিসাযুক্ত পাসপোর্ট নিয়ে হঠাৎ উধাও। পরে ফোনে বলা হয় অনিবার্য কারণবশত আজ ফ্লাইট হচ্ছে না। পরবর্তী তারিখ ফোনে জানিয়ে দেয়া হবে। পরবর্তী ফ্লাই তারিখ আর জানানো হয় না। দীর্ঘদিন ধরে সেনজেনের জাল ভিসা তৈরি করে প্রতারণা করে আসছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা সংস্থার উত্তরের একটি টিম সোমবার রাতে এই প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন, মো জিয়াউল হক জুয়েল, মো. জাকারিয়া মাহামুদ, মো. মাহবুবুর রহমান, মো. মামুন হোসেন। এ সময় তাদের কাছে থেকে ১৪টি জাল সেনজেন ভিসাযুক্ত বাংলাদেশি পাসপোর্ট, ব্যাংকের জাল হিসাব বিবরণী, ভিসা তৈরির বিপুল পরিমাণ মেট স্টিকার পেপার, নর্থ সাইপ্রাসে প্রেরণের জন্য জাল ইনভাইটেশন, ব্যাংক গ্যারান্টি, জাল ডকুমেন্টস তৈরির কম্পিউটার, স্ক্যানার ও প্রিন্টার জব্দ করা হয়। গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মহানগর গোয়েন্দা সংস্থার যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন।
সংবাদ সম্মেলনে বাতেন বলেন, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। তাদের আলাদা আলাদা জনবল রয়েছে। কেউ অল্প টাকায় ইউরোপ যেতে আগ্রহীদের সংগ্রহ করে। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার বিনিময়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। আরেকজন ভিসা প্রসেসিংয়ের যাবতীয় পেপারস তৈরির কাজ করে। বাতেন বলেন, সবগুলো কাজ তারা এত সূক্ষভাবে করে থাকে যে, দেখে বুঝার উপায় নাই যে তারা প্রতারণা করছে। এমনকি বিশ্বাস অর্জনের জন্য তারা প্রসেসিং ফির ২০ হাজার টাকা ছাড়া আর কোনো টাকা নেয় না। ভিসা পাওয়ার পর বিদেশ গিয়ে বাকি টাকা নেয়া হবে বলে প্রতারক চক্র জানায়। এছাড়া ভিসা প্রসেসিংয়ের যাবতীয় কাগজপত্র বৈধ নেয়া হয়। নির্দিষ্ট সময় শেষে বিদেশ যেতে আগ্রহী ওই যাত্রীকে জানানো হয় তার ভিসা হয়ে গেছে। এখন নিজ খরচে একটি টিকেট ও বিদেশ গিয়ে খরচ করার জন্য ৩০০ থেকে ৫০০ ডলার এন্ডোর্স করতে হবে। তিনি বলেন, ভালো সুযোগ পাওয়ার আশায় যাত্রীরা তাদের কথা বিশ্বাস করে ডলার এন্ডোর্সও করে সঙ্গে রাখে। এমনকি ফ্লাইটের দিন বিমানবন্দরে গিয়ে তাদেরকে বসিয়ে রাখে। একপর্যায়ে কৌশলে পাসপোর্ট ও ডলার নিয়ে তারা পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তারা ওই যাত্রীকে ফোন করে বলে অনিবার্য কারণবশত আজকে আর ফ্লাইট হবে না। পরে জানিয়ে দেয়া হবে তারিখ। এই বলে তারা ফোন বন্ধ করে দেয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর আর তাদের সন্ধান পাওয়া যায় না। এভাবে তারা অনেক লোকের টাকা আত্মসাৎ  করেছে। বাতেন আরো বলেন, একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে ডিবি। এরই ধারবাহিকতায় এই চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে তুলে তাদের রিমান্ড চাওয়া হবে। রিমান্ডে এনে তাদেরকে ভালোভাবো জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরো তথ্য পাওয়া যাবে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দিবসে বিশাল কুচকাওয়াজ ও সমরাস্ত্র প্রদর্শনী

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে আজ (বুধবার) জাতীয় সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালিত হচ্ছে।  এ উপলক্ষে ইসলামি বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ইমাম খোমেনী (র)’র মাজারের কাছে বিশাল কুচকাওয়াজ ও সামরিক খাতে অর্জিত সাফল্য নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
সকালে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজে অংশ নেন ইরানের সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখার সদস্যরা। এতে ইরানের অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হচ্ছে। সেনা সমাবেশ ও কুচকাওয়াজে ভাষণ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইরানের সেনা, বিমান, নৌ ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র শীর্ষ পর্যায়ের কমান্ডাররা।
রাজধানী তেহরানের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রদেশেও কুচকাওয়াজ ও সমরাস্ত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

ধান ক্ষেতে মাছ চাষে সাফল্য by মো. সাওরাত হোসেন সোহেল

শিক্ষা, শিক্ষকতাই নয় একজন পরোপকারী হিসেবে পরিচিত সহ-অধ্যাপক কবিরুল ইসলাম। তিনি একজন সফল কৃষক ও মাছ চাষি। সৃষ্টি করেছেন নতুন চমক আর সেই চমক হচ্ছে বোরো ধান ক্ষেতে মাছ চাষ। আর এই পদ্ধতি দেখিয়েছে তাকে লাখ লাখ টাকা আয়ের পথ। শুধু মাছেই নয় ধান চাষেও অর্জন করেছেন সাফল্য। একজন সফল ব্যক্তি সহ-অধ্যাপক কবিরুল ইসলাম কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার শরিফের হাট এলাকার মৃত আ. জলিল বিএসসির পুত্র। সাত ভাই বোনের মধ্যে তিনি পঞ্চম। ছোট বেলা থেকেই মানুষের উপকার করা কবিরুল ইসলামের একটি অভ্যাস ছিল, কারো বিপদ দেখলেই ছুটে যেত, পাশে দাঁড়াতো অসহায় মানুষের। কবিরুল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করেন। পরে এলাকার টানে ফিরে এসে চিলমারী ডিগ্রি কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। কলেজ বাদ দিয়ে বাকি সময় অসল কাটতো। তাই মানুষ গড়ার কারিগর এই মানুষটি পরিচিত অনেকের সঙ্গে পরামর্শ ও স্ত্রীর পরামর্শে কিছু আবাদি এবং কিছু পরিত্যক্ত জমি মিলে প্রায় দুই একর জমিতে ধান চাষের সঙ্গে শুরু করেন রুই, কাতলা, মৃগেল, পুঁটি, বিটকাপ, বাটাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ। প্রথম বারেই দেখেন সাফল্যের মুখ-সৃষ্টি করেন নতুন চমক। আয় শুরু করেন লাখ লাখ টাকা। মাছে লাখ লাখ টাকা আয় করা ছাড়াও প্রতিবছর বোরো চাষে ঘরে তোলেন প্রায় ১শ’ মণ ধান। শুধু তাই নয় সৃষ্টি করেন অনেকের কর্মসংস্থান। নিজের সুখের সঙ্গে দেখান অন্যের সুখ। কবিরুল ইসলাম শুধু ধান ক্ষেতে মাছ চাষ করেই বসে থাকেন নি ক্ষেতের চারদিক উঁচু করে লাগিয়েছেন আম, লিচুসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। যা থেকেও প্রতিবছর আয় করছেন লাখ লাখ টাকা। পরোপকারী এই মানুষটি প্রচার বিমুখ থাকলেও বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসার গোলাম মোস্তাফার মুখে শোনা যায় তার এই সাফল্যের সঙ্গে চমক দেখানোর কাহিনী। পরে সরজমিন সরকার পাড়া এলাকায় কবিরুল ইসলামের ধান ক্ষেত ও ক্ষেতে মাছ চাষ দেখতে গেলে দেখা যায় কবিরুল ইসলাম ধান ক্ষেতের উঁচু স্থানে বসে মাছের খাদ্য দিচ্ছেন। এ সময় তাকে বেশ কয়েকজন শ্রমিক সাহায্য করছেন বিভিন্নভাবে। কেউ মাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন, কেউ পানি দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ মাছও ধরছেন, কেউবা ধান ক্ষেতের পরিচর্যা করছেন। এ সময় কথা হয় সহ-অধ্যাপক কবিরুল ইসলামের সঙ্গে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন- এর আগে এই জমিগুলোতে আবাদ করে ভালো ফসল পেতাম না। পরে আমার এক আত্মীয় তৎকালীন কৃষি অফিসার বর্তমানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক (উপ-সচিব) রংপুর খন্দকার মোহাম্মদ নূরুল আমীনের পরামর্শে আমি এই পদ্ধতিতে ধান চাষ সঙ্গে ক্ষেতেই মাছ চাষ শুরু করি। আর প্রথম বারেই মাছ চাষে ব্যাপক মুনাফা পাই। শুধু তাই নয় ধান চাষও বেশ ভালো হয়। তিনি এ সময় দুঃখের সঙ্গে বলেন, প্রায় সাত বছর থেকে ধান ক্ষেতে মাছ চাষ করে আসছি কিন্তু বিভিন্ন পরামর্শের জন্য বারবার উপজেলা মৎস্য অফিসারসহ কৃষি বিভাগের দায়িত্বরতদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো ফল পাইনি। তারা এখন পর্যন্ত খবরও নেয়নি। এ ব্যাপারে মৎস্য অফিসার ও কৃষি অফিসারের সঙ্গে কথা হলে তারা কোনো মন্তব্য না করেই বলেন, আমরা কয়েকদিনের মধ্যে সরজমিন দেখতে যাব।

ফাঁসি থেকে মুক্তি মিলেছে কনডেম সেল থেকে নয় by চৌধুরী মুমতাজ আহমদ

একটি হত্যার জেরে আরেকটি হত্যা মামলায় ১৩ বছর আগে মৃত্যুদণ্ডের সাজা পেয়েছিলেন নিম্ন আদালত থেকে। হাইকোর্টে আপিল করলে সাজা কমে হয় ১০ বছরের কারাদণ্ড। আবার আপিল হয় সুপ্রিম কোর্টে, সে আপিলের নিষ্পত্তিও হয়েছে বছরখানেক আগে। মামলার বাদীপক্ষ জানালেন সাজা কমে যাবজ্জীবন হয়েছে। কিন্তু রায়ের কপি না আসায় মৃত্যুদণ্ডের আসামি হিসেবে ১৩ বছর আগে সেই যে অন্ধকার কনডেম সেলে জায়গা হয়েছিল। সেখান থেকে আর আলোর মুখ দেখেননি ছাতক উপজেলার বনগাঁও গ্রামের আবদুল খালিকের।
আবদুল খালিক নিজে প্রথমে একটি হত্যা মামলার বাদী ছিলেন। ২০০২ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর তার ছোট ভাই আবদুল মালিক অপহৃত হয়েছিলেন। ৫ দিন পর ছাতক সিমেন্ট কোম্পানির রোপওয়ের একটি খুঁটির নিচে লাশ পাওয়া যায় মালিকের। লাশের গলায় দাগ ছিল। এ ঘটনায় আবদুল খালিক বাদী হয়ে ছাতক থানায় একটি মামলা করেছিলেন। মামলায় ছাতক উপজেলার নিজগাঁও গ্রামের বাবুল, লাল মিয়া, শানুর ও ছনবাড়ি গ্রামের জালালসহ ৭/৮জনকে আসামি করা হয়।
এ ঘটনার কিছুদিন পর ২০০২ সালের ৫ই ডিসেম্বর সন্ধ্যা রাতে ছনবাড়ি বাজার থেকে ফেরার পথে খুন হন ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বনগাঁওয়ের আবদুল জলিল ওরফে জলই মেম্বার। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী সেলিম মিয়া বাদী হয়ে ছাতক থানায় মামলা করেন। এ মামলায় আসামি করা হয় বনগাঁও গ্রামের আবদুল খালিক ও তার বড় ভাই সমসুল ইসলাম ওরফে সমসু মিয়া, গাঙপাড় নোয়াকোট গ্রামের নূরুজ্জামান, তাজুল ইসলাম, আবদুল কুদ্দুস, আকদ্দস আলী, কামরুজ্জামান ও রতনপুর গ্রামের ফয়জুর রহমান ওরফে কালা বতাইকে। ভাইয়ের হত্যার বিচার নিশ্চিত করার পরিবর্তে নিজেকে বাঁচাতেই এবার ছুটতে হয় আবদুল খালিককে। অন্যসব আসামির মতো ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়ান খালিক।
এ অবস্থায় ২০০৩ সালের ৭ই এপ্রিল বিশ্বনাথ থেকে আটক হন তিনি। ঐদিনই প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট খলিলুর রহমানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আবদুল খালিক। পরে তাকে ছাতক থানায় হস্তান্তর করা হয়। ৭ মাস ১২ দিন তদন্ত শেষে ২০০৩ সালের ১৭ই জুলাই পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিটে ৮ আসামির মধ্যে সমসুল ইসলাম ওরফে সমসু মিয়া, নূরুজ্জামান, তাজুল ইসলাম, আবদুল কুদ্দুস, আকদ্দস আলী, কামরুজ্জামান ও ফয়জুর রহমান ওরফে কালা বতাইকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন এবং নতুন করে বনগাঁও গ্রামের সুন্দর আলীর ছেলে আবদুল হাই, জগম্বর আলীর ছেলে মানিক, জালালউদ্দিনের ছেলে মাখন ও ফয়জুর রহমান মাস্টারের ছেলে ছালিককে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করেন। যুক্তি হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আবদুল জলিলের সঙ্গে চোরাচালান সংক্রান্ত বিরোধ ছিল এদের সকলের। এছাড়া আবদুল জলিলের সঙ্গে আবদুল হাই ও মানিকের নির্বাচন নিয়ে গোষ্ঠীগত বিরোধও রয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করলেও রাষ্ট্রপক্ষ বনগাঁও গ্রামের মৃত তৈমুছ আলীর ছেলে আবদুল খালিক, সুন্দর আলীর ছেলে আবদুল হাই, জগম্বর আলীর ছেলে মানিক, জালালউদ্দিনের ছেলে মাখন ও ফয়জুর রহমান মাস্টারের ছেলে ছালিকের পাশাপাশি বনগাঁও গ্রামের সমসুল ইসলাম ওরফে সমসু মিয়া, গাঙপাড় নোয়াকোট গ্রামের নূরুজ্জামান, তাজুল ইসলাম, আবদুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে। অবশ্য পরে তদন্ত কর্মকর্তার দেয়া ৫টি নামই অভিযুক্তের তালিকায় রাখে রাষ্ট্রপক্ষ।
২০০৫ সালে সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে মামলাটি সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ২০০৫ সালের ৭ই মে থেকে ৭০ কার্য দিবসে মামলার রায় প্রদান করা হয়। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক বিপ্লব গোস্বামী মামলার বাদী, তদন্ত কর্মকর্তা, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ও জবানবন্দি রেকর্ডকারী ম্যাজিস্ট্রেটসহ ২৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে ২০০৫ সালের ২৪শে জুলাই রায় দেন। রায়ে আবদুল খালিক, আবদুল হাই (পলাতক), মাখন (পলাতক), ছালিক (পলাতক), মানিক (পলাতক)কে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। সমসুল ইসলাম ওরফে সমসু মিয়া, নূরুজ্জামান, তাজুল ইসলাম, আবদুল কুদ্দুসকে খালাস দেয়া হয়।
২০০৫ সালের ৪ঠা মার্চ থেকে জামিনে ছিলেন আবদুল খালিক। রায়ের পর আবার কারাবন্দি হন। তবে বাকিরা পলাতকই থাকেন। আবদুল খালিক ২০০৫ সালের ২৪শে জুলাই থেকে ২০১২ সালের ১৯শে মে পর্যন্ত ছিলেন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে, এরপর স্থানান্তর হন কাশিমপুর কারাগারে। কাশিমপুর কারাগারের কনডেম সেলে ৪ বছর থাকার পর আবার ২০১৬ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি আবদুল খালিককে ফিরিয়ে আনা হয় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে। এর আগে মামলা চলাকালে সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে ৭ই এপ্রিল ২০০৩ থেকে ২০০৫ সালের ৪ঠা মার্চ পর্যন্ত বন্দি ছিলেন তিনি।
২০০৫ সালে রায়ের বিরুদ্ধে আবদুল খালিক হাইকোর্টে আপিল (নং:৩৭৫৭) করেন একই সঙ্গে জেল থেকেও আপিল (নং: ৮৫৩) করেন তিনি। ইতিমধ্যে নিম্ন আদালত থেকে মামলাটি ডেথ রেফারেন্সের (নং:১১৬) জন্য হাইকোর্টে উত্থাপিত হয়। আপিলসহ ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হয় বিচারপতি তারিক-উল হাকিম ও বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকারের বেঞ্চে। ২০১০ সালের ৩১শে জানুয়ারি থেকে ৮ই ফেব্রুয়ারি টানা ৭ কার্যদিবসে মামলাটির শুনানি হয়। ২২শে ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করা হয়। আদালত রায়ে আবদুল খালিকের মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রত্যাখ্যান করে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড নির্ধারণ করেন যা তার গ্রেপ্তার হওয়ার দিন থেকে গণনার কথা বলা হয়। পলাতক থাকাবস্থায়ই মৃত্যুদণ্ড থেকে অব্যাহতি পান আবদুল হাই, মাখন, ছালিক ও মানিক।
হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্টে লিভ টু আপিল দায়ের করে সরকার পক্ষ (নং:২০/২০১১)। ২০১২ সালের ২৩শে জুলাই হত্যা মামলার বাদী সেলিম মিয়া আবদুল খালিকসহ সকল আসামির শাস্তি দাবি করে সুপ্রিম কোর্টে পৃথক আপিল আবেদন দায়ের করেন (নং: ৫৪২/২০১২)। ২০১৪ সালের ২রা মার্চ বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী ও বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ দুটো আপিল আবেদনই মঞ্জুর করে হাইকোর্ট ডিভিশনের রায় স্থগিত করেন। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের এ রায় ঘোষণার তিন মাসের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন এবং নিম্ন আদালতকে তাদের জামিনের বিষয় বিবেচনার নির্দেশনা দেন। ২০১৭ সালের ১১ই জানুয়ারি থেকে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানির জন্য কার্যতালিকায় উঠতে থাকে সরকারপক্ষের আপিলের (নং:৮৪/২০১৪) সঙ্গে আসামিপক্ষের আপিল (৫৪২/২০১২)। ১৯তম কার্যদিবসে ২০১৭ সালের ২২শে মার্চ শুনানি শেষে আপিল দুটো নিষ্পত্তি করেন আপিল বিভাগ। কিন্তু একটি বছর পার হয়ে যাওয়ার পরও রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি এখনো সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে না আসায় ঝুলে আছে আবদুল খালিকের ভাগ্য। দিন কাটছে কনডেম সেলের বদ্ধ কুঠুরিতে। আবদুল খালিক নিজের ভাগ্য জানতে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের মাধ্যমে ২০১৭ সালের ৩০শে মে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসের সচিবের কাছে আবেদন করেন। এরই প্রেক্ষিতে সিলেটের সে সময়কার সিনিয়র জেল সুপার মো. ছগির মিয়া মামলার অগ্রগতি জানতে পত্র দেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। তার সে পত্রের জবাবে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির সচিব ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট টাইটাস হিল্লোল রেমা জানান, ‘মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি হাতে না আসা অবধি মামলার সামগ্রিক ফলাফল আন্দাজ করা সম্ভব নয়।’
বাদী পক্ষের হয়ে এ মামলাটির তদারকি করছেন বিলাল মিয়া। তিনি মানবজমিনকে বললেন, মামলায় আবদুল খালিকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে।
মামলা নিয়ে গরজ শুধু একজনেরই। তিনি আবদুল খালিক। ফলাফল জানতে কনডেম সেলের ভেতরে এখনো অপেক্ষায় তিনি। কারা সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রায়ই জানতে চান তার ভাগ্যে কি হলো। কিন্তু কেউই তাকে কোনো জবাব দিতে পারেন না।

নির্যাতনের পর স্ত্রীর মাথা ন্যাড়া করে দিলো স্বামী by প্রতীক ওমর

নির্যাতনের পর স্ত্রীর মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দিলো স্বামী। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নের মাধবডাঙ্গা গ্রামে। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূর নাম আছমা খাতুন (২৬)। সোমবার বিকালে স্থানীয়রা স্বামীর বাড়ি থেকে ওই নির্যাতিত গৃহবধূকে উদ্ধার করে। পরে তাকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে নির্যাতিত ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে স্বামী বকুল হোসেনকে (৩৫) ও তার ভাসুর (স্বামীর বড় ভাই) শাহ আলমের (৪৫) বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই শাহ্‌ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নের মাধবডাঙ্গা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে বকুল হোসেনের সঙ্গে ধুনট সদরপাড়া এলাকার ইসমাইল হোসেনের মেয়ে আছমা খাতুনের প্রায় ৮ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে লিখন আকন্দ ও লিমন আকন্দ নামের দুই ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু গত এক বছর ধরে যৌতুক দাবি করে মাঝে-মধ্যেই আছমা খাতুনকে নির্যাতন করে আসছে স্বামী বকুল হোসেন। এ বিষয় নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও স্বামী বকুল হোসেন আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। গত ৯ই এপ্রিল বকুল হোসেন আবারও যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ আছমা খাতুনকে বেদম মারপিটে আহত করে। একপর্যায়ে স্বামী বকুল হোসেন তার স্ত্রীর মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয়। এরপর গত সাতদিন যাবত ওই গৃহবধূকে ঘরে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন চালায় পাষণ্ড বকুল হোসেন। এদিকে মেয়ের নির্যাতনের খবর শুনে তার পিতা ইসমাইল হোসেন দেখা করতে গেলে তাকেও দেখা করতে দেয়নি বকুল। সোমবার বিকালে স্থানীয় এলাকাবাসী স্বামীর বাড়ি থেকে নির্যাতিত গৃহবধূ আছমা খাতুনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এদিকে সংবাদ পেয়ে রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তার ভাসুর শাহ-আলমকে গ্রেপ্তার করলেও স্বামী বকুল হোসেন পালিয়ে যায়। স্বামীর নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে গৃহবধূ আছমা খাতুন জানান, কারণে-অকারণে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী বকুল হোসেন তাকে নির্যাতন করে আসছে। গত এক সপ্তাহ আগে নির্যাতনের পর জোরপূর্বক তার মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দিয়েছে। বাড়িতে কাউকে খবরও পাঠাতে দেয়নি। এমনকি তার পরিবারের সঙ্গেও দেখা করতে দেয়নি। মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার পর ঘরে আটকে রেখে সাতদিন ধরে মারধরসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন করেছে। স্বামীর নির্যাতনের চিহ্ন পুরো শরীরেই রয়েছে জানিয়ে তিনি একপর্যায়ে কেঁদে ফেলেন। আছমার পিতা ইসমাইল হোসেন বলেন, স্থানীয় এলাকাবাসী আমার মেয়েকে উদ্ধার করেছে। তার মেয়ে এখন ধুনট হাসপাতালে ভর্তি আছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে ওই গৃহধূর স্বামী নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলে, স্ত্রী আছমা খাতুনের মাথায় খুসকি হওয়ায় তার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয়া হয়েছে। তাকে ঘরে আটকে রেখে কোনো নির্যাতন করা হয়নি। ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খান মোহাম্মদ এরফান বলেন, সংবাদ পেয়ে রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে এবং মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

২৬ ধরনের অনিয়মে জড়িত ৬৭ বিশ্ববিদ্যালয় by নূর মোহাম্মদ

দেশে ৬৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশে টাকা পাচার, সনদ বিক্রিসহ ২৬ ধরনের গুরুতর অভিযোগ পেয়েছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। আর অভিযোগ খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে সুপারিশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইনের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব সুপারিশ করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির সমন্বয়ে ৫ সদস্যের উচ্চপর্যায়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথমসারির বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টাকা বিদেশে পাচার করছে। সম্প্রতি মধ্যম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মানি লন্ডারিং শুরু করেছে। এ অভিযোগে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে শোকজ পর্যন্ত করা হয়েছে। এ ছাড়াও সনদ বিক্রি, মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব, শিক্ষার্থীদের টাকা আত্মসাৎ, অনিয়ম করে ভিসি-প্রোভিসি-কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়া, প্রেসিডেন্টের বাণী জালিয়াতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে জমি কেনা, সাধারণ তহবিল থেকে অনৈতিকভাবে আর্থিক সুবিধা নেয়া, বিদেশ ভ্রমণ, কর ফাঁকি, স্থায়ী ক্যাম্পাসের জমি কেনা থেকে শুরু করে ভবন নির্মাণে ভয়াবহ আর্থিক দুর্নীতি, নামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি জালিয়াতি, ভর্তিতে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী কোটা না মানা, বছরের পর বছর একই ব্যক্তিকে ভিসি হিসেবে রেখে দেয়া, কোর্স শেষ না করেও ক্লাসের উপস্থিতি দেয়াসহ ভালো ফল করিয়ে দেয়া, নির্ধারিত শিক্ষকের চেয়ে অনেক কম শিক্ষক দিয়ে ক্লাস পরীক্ষা নেয়া, মদের বার আছে এমন ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় ভবন, তথ্য গোপন করে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি, ভিসা ছাড়াই শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানোর অভিযোগ তুলা হয়েছে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মাহমুদ হাসান বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মঞ্জুরি কমিশনকে বলা হয়েছে। তারা ব্যবস্থা নিয়ে মন্ত্রণালয়কে জানাবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেন, উচ্চপর্যায়ের ৫ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। তারাই এটি নিয়ে কাজ করছে।
প্রতিবেদনে ভিসি, প্রোভিসি ও কোষাধ্যক্ষরা ট্রাস্টি বোর্ডের আজ্ঞাবহ না হলেই নানা ছুতো দেখিয়ে তাদের বিদায় করে দেয়া হয়। এক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়কে ভুল বুঝানোর মতো ঘটনা ঘটে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভিসি-প্রোভিসির রাজনৈতিক মতাদর্শ দেখেই নিয়োগের ব্যবস্থা করেন বিওটির সদস্যরা। প্রতিবেদনে ৬৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৫টিতে ভিসি, ৩২টিতে প্রোভিসি এবং ২০টিতে কোষাধ্যক্ষ নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গত মাসের ইউজিসির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২৮টিতে ভিসি, ৬৮টিতে প্রোভিসি এবং ৪৩টিতে কোষাধ্যক্ষ নেই। দেশে মোট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৯৭টি। বাকিগুলোর কার্যক্রম শুরু হয়নি। প্রতিবেদনে প্রায় ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিওটি সদস্যরা বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে বলা হয়েছে। আরো ৩টিতে বিওটি সদস্যদের কেউ বিএনপি এবং কেউ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
দেশের প্রথমসারি নর্থ সাউথের বিরুদ্ধে ভর্তি বাণিজ্য, বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল থেকে জমি কেনা, সাধারণ তহবিল থেকে বিওটিদের আর্থিক সুবিধা নেয়া, বিদেশ ভ্রমণ, হিযবুত তাহরিরের বই রাখাসহ নানা অভিযোগ বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার পরিবেশ নেই উল্লেখ করে বলা হয়, গ্রীন রোডে ভাড়া ভবনে ক্যাম্পাস চালায় প্রতিষ্ঠাটি। একই ভবনে মদের বারসহ আরো অসামাজিক কার্যকলাপ এখানে হয়। এ পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হলে সামাজিকভাবে ছাত্ররা ক্ষতির সম্মুখীন হবে। যেনতেন বিশ্ববিদ্যালয় বলা হয়েছে ফরিদপুরের টাইমস ইউনিভার্সিটিকে। এটাকে বিশ্ববিদ্যালয় বলা যায় না বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিবিএ, এলএসবি ও মাস্টার্স কোর্সে ১১টি সেমিস্টারে মাত্র ১৭০ জন শিক্ষার্থী পড়াশুনা করে। আর শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৫ জন। ব্রিটিনিয়া ইউনির্ভাসিটিতে ক্লাস পরীক্ষা ঠিকমতো না হলেও শিক্ষার্থীদের ভালো সিজিপিএ দেয়া হচ্ছে। আর সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটিতে ট্রাস্টি বোর্ডের দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। প্রসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে ভর্তিতে অতিরিক্ত ফি আদায় করার অভিযোগ রয়েছে। ইউআইটিএসের বিরুদ্ধে ভর্তিতে অতিরিক্ত ফি আদায় জামায়াতের ইসলামীর মতাদর্শের কথা বলা হয়েছে। ফারইস্ট মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধী কোটা শিক্ষার্থী ভর্তি করায় না। অতীশ দীপংকর ইউনির্ভাসিটিতে ভর্তিতে অতিরিক্ত ফি আদায়, মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধী কোটায় শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় না। নর্দান ইউনিভার্সিটিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পূরণ হয় না। চট্টগ্রামের ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে বিভিন্ন অনিয়মের মধ্যে ভিসি, প্রোভিসি, প্রক্টর এবং ড. নীলা ইসলামকেই দায়ী করা হয়। ৭৫ জনের বিপরীতে ৪৫০ জনকে ভর্তির অভিযোগে ইউজিসি তাদের ১০ কোটি টাকা জরিমানা করে। এ ছাড়াও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা প্রায়ই বিরাজ করে বলে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে ঢাকার বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ের দশা বেশি নাজুক বলা হয়েছে। এ ছাড়াও আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিওটির বিরুদ্ধে নৈতিকস্খলন, মালয়েশিয়ায় টাকা পাচার, শিক্ষকদের কম বেতন দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক কেলেঙ্কারি: আদালতের বাইরে সমাধানের দিকে চোখ

তিন বছর আগের একটি সাইবার ডাকাতির ঘটনায় মার্কিন বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ওয়েলস ফার্গো ও ইকুয়েডরের একটি ব্যাংক আদালতের বাইরে মীমাংসায় পৌঁছেছে। এই ঘটনায় আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের। সাইবার ডাকাতির কবলে হারিয়ে যাওয়া ৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার পুনরুদ্ধারে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এখন আদালতের বাইরে সমাধানের বিষয়টিও মাথায় রাখছে বাংলাদেশ। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। খবরে বলা হয়, ২০১৫ সালে বাংকো দেল অস্ট্রোর বিভিন্ন একাউন্ট থেকে ১ কোটি ২০ লাখ ডলার প্রতারণার মাধ্যমে অন্য একাউন্টে ট্রান্সফার করে উত্তোলন করা হয়। এ ঘটনায় ইকুয়েডরের বাংকো দেল অস্ট্রো মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ওয়েলস ফার্গোর বিরুদ্ধে মামলা করে। ওই ট্রান্সফার অনুমোদন দেয়ায় ওয়েলস ফার্গোর বিরুদ্ধে মামলা করে ইকুয়েডরিয়ান ওই ব্যাংক। তবে মামলায় বিচারকাজ শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে, ফেব্রুয়ারিতে আদালতের বাইরে মীমাংসায় পৌঁছে দুই পক্ষ।
বাংলাদেশের বিষয়টিও অনেকটা একই রকম। ২০১৬ সালের শুরুর দিকে হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম হয়। এরপর তারা ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংককে বোকা বানিয়ে প্রায় ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ট্রান্সফার করে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের কিছু একাউন্টে। ওই একাউন্টগুলো খোলা হয়েছিল ভুয়া নাম ব্যবহার করে। ওই বিপুল অর্থ মিলিয়ে যায় ম্যানিলার ক্যাসিনো শিল্পে। কিছু অর্থ পরে উদ্ধার করা হয়, তবে ৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারের কোনো হদিস এখনো পাওয়া যায়নি।
ওই হ্যাকিংয়ের ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্ত সত্ত্বেও এখনো কারো বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। এই দুই বছরে বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ও অর্থ স্থানান্তরে ব্যবহৃত সুইফট নেটওয়ার্কের কর্তৃপক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করেছে। বাংলাদেশ ওই অর্থ উদ্ধারে ম্যানিলাভিত্তিক রিজাল ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছে। বাংলাদেশ এই ইস্যুতে কী পদক্ষেপ নেয় এবং কোথাকার পানি কোথায় গড়ায়, তার দিকে গভীর নজর রাখছে বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। কারণ, আইনি পথে একবার নজির সৃষ্টি হয়ে গেলে তা পরবর্তী ও পূর্ববর্তী ঘটনায়ও ব্যবহৃত হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজি হাসান বলেন, ‘এটা বেশ কৌশলপূর্ণ একটা ইস্যু। আমরা আমাদের কৌশল প্রকাশ করে দিতে পারি না। কিন্তু হ্যাঁ, আমরা প্রত্যেকটি ঘটনা পর্যালোচনা করছি, ইকুয়েডরের ঘটনা সহ।’
বাংলাদেশ এখনো কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিলেও, ব্যাংকার ও আইনজীবীরা ভেবেছিলেন, বাংকো ও ওয়েলস ফার্গোর মধ্যকার মামলা বাংলাদেশের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। শেষ পর্যন্ত ওই বিরোধ আদালতের বাইরে দুই পক্ষ মিটিয়ে ফেললেও, আইনজীবী ও ব্যাংকাররা মনে করেন, এই মীমাংসা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ওয়েলস ফার্গো কোনো না কোনো উপায়ে বাংকোকে ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। এই বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক। তবে যুক্তরাষ্ট্রে আদালতের শুনানি পেতে ও চুরি হওয়া অর্থ ঠেকাতে রিজাল ব্যাংকের চুক্তিভিত্তিক বাধ্যবাধকতার বিষয়টি প্রমাণ করতে বাংলাদেশের বেগ পেতে হতে পারে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক আইনি প্রতিষ্ঠান ফ্রেশফিল্ডস ব্রাখাওস ডেরিংগার এলএলপি’র জ্যেষ্ঠ সহযোগী পিটার জ্যাফে বলেন, ‘আদালতের বাইরে মীমাংসা করার অনেক কারণ থাকে মানুষের। এখানে, অনেক আইন আছে যেটা প্রযোজ্য হতে বা না হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘এখানে রিজাল ব্যাংক কিন্তু হ্যাকের শিকার হয়নি। কেউ হয়তো মনে করতে পারে যে, যখন নিজেদের একাউন্টে অস্বাভাবিক অঙ্কের অর্থ আসা শুরু হলো, রিজাল ব্যাংকের ভিন্ন কিছু করা উচিত ছিল। সেটি কিন্তু সাইবার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কিছু নয়। আর আমি মনে করি না যে, বাধ্যবাধকতা ও অধিকারের বিষয়ে নিশ্চিত হতে আপনি সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করবেন।’
নিউ ইয়র্কের ইউনিফর্ম কমার্শিয়াল কোডে বলা আছে, কোনো ব্যাংক যদি চুরির শিকার হয়, তাহলে ব্যাংককে অবশ্যই গ্রাহকের অর্থ পরিশোধ করতে হবে, যদি না অর্থ উত্তোলন ভেরিফাই করতে দুই পক্ষের ঠিক করা বিশেষ প্রটোকল ব্যবহার করেই চুরির ঘটনা ঘটে। তবে গ্রাহক পাল্টা যুক্তি দেখাতে পারে যে, নিরাপত্তা প্রটোকল বাণিজ্যিকভাবে যৌক্তিক ছিল না।
২০১৬ সালে বাংকোর অভিযোগ খারিজ করতে ওয়েলস ফার্গো আদালতে চেষ্টা চালায়। আদালত ওয়েলস ফার্গোর আপত্তি বাতিল করেন এই যুক্তিতে যে, সুইফট সিস্টেমই নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট কিনা তা নিয়ে আদালত রুল দিতে পারবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ লোপাট হয়েছে নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভে। নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ বারবার জোর দিয়ে বলেছে যে, তাদের প্রত্যেক বিদেশি গ্রাহকই সুইফট প্রটোকল ব্যবহার করার ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে হ্যাকাররা যখন ভুয়া ট্রান্সফার রিকুয়েস্ট পাঠায়, তখন তা সুইফটের মাধ্যমে ভেরিফাইড হয়। এরপর সেই রিকুয়েস্ট অনুযায়ী নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ অর্থ পাঠায় রিজাল ব্যাংকে।
এখন রিজাল ব্যাংকের কতটা বাধ্যবাধকতা ছিল ওই অর্থ উত্তোলন ঠেকিয়ে দেয়ার বা রিজাল ব্যাংকের ওপর মার্কিন আইন কতটা প্রযোজ্য হবে, তা স্পষ্ট নয়। রিজাল ব্যাংক বলছে, আমেরিকান আইনজীবীদের পরামর্শ নিয়েছে তারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের যেকোনো ধরনের মামলার বিরুদ্ধে শক্ত ডিফেন্স আছে তাদের।
সোমবার ব্যাংক এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো ক্ষতি বা চুরি নিয়ে রিজাল ব্যাংকের ওপর চাপানো যায় এমন কোনো দায় নেই। আমরা এ বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করছি যে, রিজাল ব্যাংক ছিল শুধুমাত্র মধ্যস্থতাকারী ব্যাংক। এর মানে হলো, অর্থ প্রেরণের যেই রিকুয়েস্ট বা ইন্সট্রাকশন, যা হ্যাকিং-এর মাধ্যমে করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে, তা আমাদের দ্বারা হয়নি।
চুরির ঘটনার পরপর বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রথমে নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ও সুইফটের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেয়। তবে দুই পক্ষ এই অর্থ উদ্ধারে সহায়তা দেয়ার পর পারসপরিক সম্পর্ক উষ্ণ হয়েছে। তবে বাংকো ও ওয়েলসের মীমাংসার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি নিউ ইয়র্ক ফেড ও সুইফট।
সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সর্বশেষটি ঘটেছে মালয়েশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, অর্থ ফেরত পেতে বাংলাদেশ ব্যাংক অঙ্গীকারাবদ্ধ। তিনি আরো বলেন, মামলার বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি নিশ্চিত যে, আমরা মামলা দায়ের করবো। বাংলাদেশে এ নিয়ে হতাশা রয়েছে। একসঙ্গে আমাদের এতদিনে আরো ভালো কিছু করা উচিত ছিল।’

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকবে

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, এবারের বাজেটেও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকবে। বলেন, এই সুযোগ না দিলে বিদেশে অর্থ পাচার ও দেশে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। এজন্য জরিমানার বিধান রেখে বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হবে। গতকাল সকালে এনবিআর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সঙ্গে প্রাক বাজেট আলোচনায় রিহ্যাবের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে তিনি এ কথা জানান। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কালো টাকা সাদা করার ক্ষেত্রে কর ও জরিমানা আদায় করা হয়ে থাকে। প্রতিবছর এটা হয়ে আসছে। যদি আমরা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বন্ধ করে দেই, তাহলে টাকাগুলো বাইরে চলে যাবে। এতে বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে আমরা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিচ্ছি। আপনারা এটাকে কেউ ভুলভাবে ব্যাখ্যা করবেন না। আমরা ট্যাক্স ও জরিমানাসহ এ সুযোগ দিচ্ছি।
প্রাক-বাজেট আলোচনায় বৈধভাবে উপার্জিত অপ্রদর্শিত অর্থ (কালো টাকা সাদা) আবাসন খাতে বিনিয়োগের জন্য ৫ বছর সময় চেয়েছে রিহ্যাব। একই সঙ্গে ফ্ল্যাট ও প্লট নিবন্ধন করতে সংশ্লিষ্ট কর ও ফি ৭ শতাংশ করাসহ মোট ১২টি প্রস্তাব দিয়েছে আবাসন খাতের এ সংগঠন। প্রাক-বাজেট এ আলোচনায় লিখিত প্রস্তাব তুলে ধরেন রিহ্যাবের প্রথম সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভুঁইয়া। তিনি বলেন, অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুবিধার পাশাপাশি রেজিস্ট্রেশন ব্যয় নির্ধারণ করে আবাসন খাতে সেকেন্ডারি বাজার ব্যবস্থার প্রচলন করতে হবে। অর্থাৎ রেজিস্ট্রেশন ফি, স্ট্যাম্প ডিউটি, গেইন ট্যাক্স কমিয়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ করা, সাপ্লায়ার ভ্যাট ও উৎস কর সংগ্রহের দায়িত্ব থেকে ৫ বছরের ডেভেলপারদেরকে অব্যাহতি এবং আবাসন খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সিঙ্গেল ডিজিট সুদে দীর্ঘমেয়াদি রিফাইন্যান্সিং চালু এবং ২০ হাজার কোটি টাকার ফান্ড গঠনের প্রস্তাব করেন লিয়াকত আলী ভুঁইয়া। নিবন্ধন ফি কমানোর দাবি প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, রিহ্যাবের বিষয়গুলো আমাদের দেখতে হবে। নিবন্ধন ফি কমানোর বিষয়ে চিন্তা করা হবে। তিনি বলেন, রডের দাম বাড়ায় আপনাদের ব্যবসা কমে গেছে। রডের দাম কমানোর বিষয়ে সবার খেয়াল রাখতে হবে। অনুষ্ঠানে রিহ্যাব ও এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইন্টারনেট আবিষ্কার হয়েছে মহাভারতের যুগে: ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী by অমিতাভ ভট্টশালী

মহাভারতের উদাহরণ টেনে নিজস্ব যুক্তি তুলে ধরেন মু্খ্যমন্ত্রী।
যদি প্রশ্ন করা হয় যে ইন্টারনেট কবে আবিষ্কৃত হয়েছিল, তাহলে আপনি বোধহয় উত্তর দেবেন আশির দশকে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব আবিষ্কৃত হয়। কিন্তু ষাটের দশক থেকেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কম্পিউটারগুলোর সংযুক্তিকরণের জন্য ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক নিয়ে চিন্তাভাবনা বা গবেষণা শুরু হয়েছিল।
আপনি আদৌ সঠিক তথ্য জানেন তো?
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সদ্য নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের কাছে পাঠ নিলে সঠিক উত্তর হবে: "ইন্টারনেট ছিল সেই মহাভারতের যুগেও।" অর্থাৎ, খ্রীষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকে, যে সময়ে মহাভারত রচিত হয়েছিল, সেই সময়েও ইন্টারনেট ছিল।
ভারতীয় জনতা পার্টি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের নেতা মি. বিপ্লব দেবের মতে, "মহাভারতে সঞ্জয় যেভাবে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বহুদূরে অবস্থান করেও ধৃতরাষ্ট্রকে যুদ্ধের বর্ণনা দিয়েছেন, তা থেকেই বোঝা যায় সেই যুগেও ইন্টারনেট ছিল, স্যাটেলাইট ছিল। না হলে চোখ দিয়ে তিনি অতদূর দেখতে পেতেন কী করে!"
তাঁর মতে, "মাঝখানের সময়কালে অনেক কিছুই বদলে গেছে। বিদেশিরা দাবী করছে, যে ইন্টারনেট বা স্যাটেলাইট তাদের আবিষ্কার।"
"এটা সেই দেশ, যেখানে লাখো বছর আগে থেকেই বিজ্ঞান আর প্রকৌশল রয়েছে," আগরতলা শহরে একটি কর্মশালার উদ্বোধন করতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
'মহাভারত' আদতে একটি মহাকাব্য বা এপিক। খ্রীষ্টপূর্ব চতুর্থ শতক থেকে দ্বিতীয় শতক পর্যন্ত সমাজের বর্ণনা পাওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু সেখানে বর্ণিত প্রতিটি বাক্যই যে বৈজ্ঞানিক সত্য, তা মনে করার কোনও কারণ নেই।
ইন্টারনেট আবিষ্কার নিয়ে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর এই 'নতুন তথ্য' নিয়ে কলকাতার বিজ্ঞান লেখক ও প্রবীণ সাংবাদিক পথিক গুহ বলেন, "এগুলো নিয়ে মন্তব্য করা মানেই বেশী গুরুত্ব দেয়া।"
তবে বিজেপি নেতাদের কাছ থেকে এই প্রথম 'নতুন বৈজ্ঞানিক তথ্য' জানা গেছে, তা নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে তাঁর সরকারের মন্ত্রী বা নানা রাজ্যের বিজেপি নেতারা গত কয়েক বছরে এমন অনেক 'নতুন বৈজ্ঞানিক তথ্য' দিয়েছেন, যেগুলো সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে বৈজ্ঞানিক মহলে হাসির উদ্রেক ঘটিয়েছে।
  • • প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০১৪ সালের অক্টোবরে বলেছিলেন যে নিশ্চয়ই সেই যুগে এমন কোনও প্লাস্টিক সার্জন ছিলেন, যিনি হাতির মাথা গণেশের শরীরে লাগিয়েছিলেন।
  • • কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী রাধা মোহন সিং ২০১৫ সালে 'যোগভিত্তিক কৃষিকাজ' কী, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছিলেন যে ওই পদ্ধতিতে বীজের মধ্যে ধণাত্মক শক্তি প্রবেশ করানো হবে। যেন পরমাত্মা শক্তির মাধ্যমে বীজগুলিকে উজ্জীবিত করা যায়।
  • • ভারতীয় ঋষিরা যোগবিদ্যা সাধনার ফলে 'দিব্যদৃষ্টি' অর্জন করতেন, সেটাই টেলিভিশন আবিষ্কারের গোড়ার কথা। একটি বইয়ের মুখবন্ধে লিখেছিলেন মি. মোদী।
  • • উত্তরখন্ড রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা রমেশ পোখরিয়াল নিশাঙ্কর কথায়, লাখো বছর আগেই কনাদ ঋষি পারমানবিক বিস্ফোরনের পরীক্ষা করেছিলেন।
  • • রাজস্থানের মন্ত্রী বাসুদেব দেভনানী মন্তব্য করেছিলেন গরুই হচ্ছে একমাত্র প্রাণী, যারা নিশ্বাস নেওয়ার সময়েও অক্সিজেন নেয়, এবং প্রশ্বাস ছাড়ার সময়েও অক্সিজেনই ছাড়ে।
  • • কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সত্যপাল সিং এ বছর জানুয়ারিতে মন্তব্য করেছিলেন যে ডারউইনের বিবর্তনবাদ বা থিওরি অফ ইভোলিউশন' একটি ভুল মতবাদ। সেটা স্কুল কলেজে পড়ানোই উচিত নয়।
কেন হিন্দুত্ববাদী নেতা-মন্ত্রীরা এধরণের অবৈজ্ঞানিক কথা বারে বারে বলছেন?
বিজ্ঞান লেখক পথিক গুহর মতে, "জনগনকে মিথ্যা জ্ঞান বিতরণ করার অধিকারেরই আরেক নাম ক্ষমতা। মানুষ সেইজন্যই ক্ষমতা পেতে চায়। আর কিছু বলা বোধহয় নিষ্প্রয়োজন।"

ভারতে কেন ধর্ষণ কমার লক্ষণ নেই

শিশু ধর্ষণ আশঙ্কাজনক ভাবে বাড়ছে ভারতে
মেয়েটির বয়স নয় থেকে ১১ বছরের হবে। সম্প্রতি গুজরাটের সুরাট শহরের একটি খেলার মাঠের কাছে ঝোপের ভেতর তার ছিন্নবিচ্ছিন্ন দেহ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরের ৮৬টি জখমের চিহ্ন ছিল।
যে চিকিৎসক ময়না তদন্ত করেছেন, তার ধারণা এক সপ্তাহ ধরে হয়তো নির্যাতন করা হয়েছে মেয়েটিকে। পুলিশেরও ধারনা মেয়েটিকে আটকে রেখে এভাবে নৃশংসভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।
কিন্তু মৃতদেহ পাওয়ার দশ দিন পরও মেয়েটির পরিচয় বের করতে পারেনি পুলিশ। গুজরাটের ৮০০০ নিখোঁজ শিশুর ফাইল ঘেঁটেও কোনো সুরাহা করতে পারেনি তারা।
দিল্লিতে বিবিসির সৌতিক বিশ্বাস বলছেন, ভারতে দুর্বলদের ওপর সবলদের কর্তৃত্ব ফলাতে ধর্ষণকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহারের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। শ্রেণী-বৈষম্য এবং পুরুষ-শাসিত যে সমাজে হিংসা ছড়িয়ে ভোট পাওয়ার চেষ্টা আশঙ্কাজনক-ভাবে বাড়ছে, সেখানে ক্রমবর্ধমান ধর্ষণের ঘটনাকে স্বাভাবিক পরিণতি হিসাবে দেখছেন অনেকেই।
মূলত মেয়ে ভ্রূণ হত্যার কারণে ভারতে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা কম। প্রতি ১০০ মেয়ে শিশুর জন্মের তুলনায় ১১২ টি ছেলে শিশু জন্ম নেয়। এ কারণে, স্বাভাবিকের চেয়ে নারীর সংখ্যা ভারতে প্রায় ছয় কোটি ৩০ লাখ কম।
পুরুষ ভর্তি দেশ
অনেকেই বিশ্বাস করেন, পুরুষের সংখ্যা অস্বাভাবিক বেশি হওয়ার কারণে নারীর ওপর যৌন নির্যাতন বাড়ছে।
নারী ও পুরুষের সংখ্যার অনুপাতে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের চিত্র সবচেয়ে খারাপ। এবং এ রাজ্যে গণ ধর্ষণের সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি।
এক জানুয়ারি মাসেই, ১০ বছরের একটি মেয়েকে ধর্ষণ করার দায়ে ৫০ বছরের এক পুরুষকে আটক করা হয়, সাড়ে তিন বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ১৫ বছরের একটি বালককে আটক করা হয়, ২০ বছরের এক বিবাহিতা নারীকে ধর্ষণ করে দুই পুরুষ; চাষের জমিতে পাওয়া যায় একটি মেয়ে শিশুর ক্ষত-বিক্ষত দেহ। এসব ঘটনা পুলিশের খাতায় উঠেছে। এমন অনেক ঘটনাই পুলিশের কাছেই আসেনা।
ভারত শাসিত কাশ্মীরে একটি মুসলিম যাযাবর সম্প্রদায়ের আট বছরের একটি মেয়ে শিশুকে মন্দিরে আটকে রেখে দিনের পর দিন ধর্ষণ করে হত্যার ঘটনা পুরো ভারতকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। বলা হচ্ছে, মুসলিম ঐ যাযাবররা যেন তাদের এলাকায় ছাগল চরাতে না আসে, সেটা নিশ্চিত করতে ঐ ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
অনেক মানুষ এই ঘটনা প্রকাশ্যে সমর্থনও করেছে। অভিযুক্তদের সমর্থনে একটি সমাবেশে যোগ দিয়েছেন রাজ্য সরকাররে বিজেপি'র দুই মন্ত্রী । সমালোচনার মুখে তারা অবশ্য পরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
কেরালা রাজ্যে একজন ব্যাংক ম্যানেজার ফেসবুকে কাশ্মীরে ঐ ধর্ষণ ও হত্যার সমর্থনে পোস্টিং দেন - "এটা না হলে ঐ মেয়েটি বড় হয়ে হয়তো ভারতের বিরুদ্ধে মানব-বোমা হয়ে হাজির হতো।" তাকে অবশ্য বরখাস্ত করা হয়।
চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইট করেন, "আমাদের কন্যারা বিচার পাবে।"
অনেকেই বলছেন তার এই আশ্বাস ফাঁকা বুলি।
অন্য দলের রাজনীতিকরাও ব্যতিক্রমী তেমন কিছু দেখাতে পারছেন না। ২০১৪ সালে একজন নারী সাংবাদিককে ধর্ষণ করার দায়ে তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়, উত্তর প্রদেশের বড় দল সমাজবাদী পার্টির নেতা মুলায়াম সিং যাদবের মন্তব্য ছিল- "পুরুষরা ভুল করে। সেজন্য তাদের ফাঁসি দেওয়া যায়না। আমরা ধর্ষণ বিরোধী আইন বদলাবো।"
ভারতের সামাজিক এই বাস্তবতার সাথে খাপ খাইয়ে চলতে হয় নারীদের: নিজেকে রক্ষা করতে চাইলে, ঠিকমতো পোশাক পরো, পুরুষ সঙ্গী ছাড়া বাইরে যেওনা, অথবা ঘরের ভেতরে থাকো।
সবচেয়ে আশঙ্কা যেটা তা হলো এখন অধিক সংখ্যায় শিশুরা টার্গেট হচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যানেই দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে শিশু ধর্ষণের ঘটনা দ্বিগুণ হয়েছে।
দেশে ধর্ষণের শিকার নারীদের ৪০ শতাংশই শিশু।
জম্মুর ঘটনার পর সারা ভারতে বিক্ষোভ হয়েছে
মানুষের উদাসীনতা
ধর্ষণ শুধু ভারতের সমস্যা নয়, কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা এবং নারী-পুরুষের অস্বাভাবিক অনুপাতের এখানকার পরিস্থিতি অন্যদের চেয়ে খারাপ।
পাশাপাশি রয়েছে মানুষের উদাসীনতা । নারীর অধিকার বা নিরাপত্তা ভারতে কখনই নির্বাচনী ইস্যু নয়।
তবে আশার কথা যে ধর্ষণের ঘটনা বেশি বেশি করে সংবাদে আসছে। মামলা হচ্ছে বেশি।
কিন্তু হতাশার কথা যে ভারতের বিচার ব্যবস্থা এখনও রাজনৈতিক চাপের কাছে পর্যূদুস্ত। অনেক ক্ষেত্রেই ধর্ষকরা মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে। এখনও ভারতে প্রতি চারটি ধর্ষণের মামলার মাত্র একটিতে অভিযুক্তরা দোষী সাব্যস্ত হয়।

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে দুর্দশার প্রভাব বৈশ্বিক পোশাক শিল্পে?

মার্চ মাসে ব্যাংক থেকে গণহারে অর্থ উত্তোলন করেছেন আমানতকারীরা। এছাড়া খেলাপি ঋণের মাত্রা ঊর্ধ্বমুখী। ফলস্বরূপ, তারল্য সংকটের সম্মুখীন বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। অবস্থা এমন দাঁড়াতে পারে যে, ঋণ দেয়ার মতো অর্থই থাকবে না ব্যাংকের। বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, বড় ধরনের সংকট তৈরি হলে তার প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের টেক্সটাইল উৎপাদন ও তৈরি পোশাক খাতেও। বিলম্বিত হতে পারে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক    সরবরাহ। ফলে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে সংকটের আঁচ পড়তে পারে বৈশ্বিক পোশাক খাতেও। এ খবর দিয়েছে বৃটিশ পত্রিকা ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। খবরে বলা হয়, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় হাল ফ্যাশন কোম্পানি ও খুচরা বিক্রেতা এইচঅ্যান্ডএম, আমেরিকান ইগল, জারা, ওয়ালমার্ট ও টার্গেটের মতো প্রতিষ্ঠানের পোশাক তৈরি হয় বাংলাদেশে। আর এই খাতই বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী সংযোগ।
বিশ্বের শীর্ষ তিন ক্রেডিট রেটিং কোম্পানির অন্যতম ফিচ গ্রুপের ইউনিট বিএমআই রিসার্চের দেশভিত্তিক ঝুঁকির বিশ্লেষক জ্যাসন ইয়েক বলেন, ‘বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকের শিল্পখাতভিত্তিক ঋণে ভালোই তারতম্য দেখা যায়। তবে অন্য শিল্প খাতের তুলনায়, ঋণের উল্লেখযোগ্য অংশ যায় টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক শিল্প ও নির্মাণ খাতে।’
তিনি বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে সংকটের কারণে গার্মেন্ট শিল্প যদি ঋণ না পায়, তাহলে বৈশ্বিক খুচরা পোশাক কোম্পানিগুলোতে পোশাক সরবরাহে বিলম্ব ঘটতে পারে।’
খবরে বলা হয়, চীনের পর বাংলাদেশই তৈরি পোশাক খাতের সর্বোচ্চ রপ্তানিকারক দেশ। বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য টোকিও থেকে লস অ্যানজেলেসে শোভা পায়। গত জুলাই থেকে এ বছরের জানুয়ারি নাগাদ বাংলাদেশ ১৭৭০ কোটি ডলারের নিটওয়্যার ও ওভেন গার্মেন্ট রপ্তানি করেছে, যা দেশটির মোট রপ্তানির ৮৩ শতাংশ। বাংলাদেশের হাজার হাজার গার্মেন্ট কারখানার অনেকগুলোর পুঁজি হলো স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণ।
খবরে বলা হয়, ব্যাংক খাতের সম্ভাব্য এই ঝুঁকি নিয়ে মন্তব্য করেনি শীর্ষ কোনো খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের বড় কারখানাগুলোও ই-মেইলের জবাব দেয়নি।
বিএমআই গত মাসে বলেছে যে, বছরের পর বছর ধরে চলা দুর্নীতি ও ঋণ দেয়ার নিম্নমানের চর্চার কারণে কিছু কিছু ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২০ শতাংশেরও বেশি।
মার্কেট ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক এক্সোটিক্স ক্যাপিটালের গবেষক ওয়াসিম খান বলেন, বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতের সংকট বৈশ্বিক পোশাক সরবরাহের চেইনে অবধারিতভাবে পরোক্ষ প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমি মনে করি না যে, আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি যে সংকট অত্যাসন্ন। আমার কাছে যেটা আরো বেশি উদ্বেগজনক বলে মনে হয় সেটা হলো, পরিচালনা ঝুঁকি বা প্রণোদনা পরিবর্তনে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। এর মানে হলো, আমরা এখনো ওই পর্যায়ে না পৌঁছালেও, সেদিকেই ধীরে ধীরে যাচ্ছি।’

এটিএমে টাকা অমিল: রাহুল বললেন 'মোদি দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ধ্বংস করেছেন'

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এটিএম বুথে টাকা না পাওয়ার সমালোচনা করে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছেন। তিনি আজ (মঙ্গলবার) ওই মন্তব্য করেছেন।
রাহুল গান্ধী পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক দুর্নীতিতে অভিযুক্ত নীরব মোদিকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, "নীরব মোদি ৩০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেলেও মোদিজি এ নিয়ে কিছুই বলেননি।"
তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী ‘আচ্ছে দিন’ (সুদিন)-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কিন্তু ফের আরো একবার দেশবাসীকে লাইনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। এ ধরণের সুদিন আসার কথাই কী বলা হয়েছিল? প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে যে সুদিনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা নীরব মোদি, মেহুল চোকসিসহ মাত্র ১৫ জনের কাছে এসেছে। কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুরসহ গরিবের জন্য শুধুই খারাপ দিন এসেছে।"
ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে শুরু করে কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, তেলঙ্গানাসহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যেই এটিএমে টাকা না থাকায় সাধারণ মানুষ ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন রাজ্যের এটিএম থেকে টাকা তোলা যাচ্ছে না। বড় নোট গায়েব হয়ে গেছে। নোট বাতিলের দিনগুলো আবার মনে পড়ে যাচ্ছে। দেশে কী আর্থিক জরুরি অবস্থা চলছে?"
আরজেডি নেতা ও বিহারের সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব বলেছেন, "বিহারে গত কয়েকদিন ধরে অধিকাংশ এটিএম খালি। মানুষজন গভীর সংকটে পড়েছেন।"
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি সাফাই দিয়ে বলেছেন,  "দেশে নগদ অর্থের কোনো ঘাটতি নেই। কিছু জায়গায় আচমকা চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। অরুণ জেটলি বলেন, "দেশের ক্যাশ সমস্যা নিয়ে পর্যালোচনা করেছি। বাজার ও ব্যাঙ্কে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যাশ মওজুদ আছে। আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে সমস্যা দূর হয়ে যাবে।"
এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’র সম্পাদক ও কোলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমানুল হক আজ রেডিও তেহরানকে বলেন, "সরকার মানুষদের একটা ভয়ঙ্কর অবস্থার মধ্যে ফেলেছে। দেশের ব্যবসায়ীরা বিপন্ন হচ্ছেন, ছোট ব্যবসায়ীরা আরও খারাপ অবস্থার মধ্যে পড়েছেন। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ বিপন্নতা বোধ করছেন, তারা ঠিকমতো কেনাকাটা করতে পারছেন না। মধ্যবিত্তের অবস্থাও সঙ্গিন কারণ টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমান সরকার পরিকল্পিতভাবে আমাদের সাম্রাজ্যবাদী ও কর্পোরেটদের তুলে দিচ্ছে।"

পুলিৎজার বিজয়ী আলোকচিত্রীদের দলে প্রথম বাংলাদেশি

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী আলোকচিত্রীর দলে স্থান করে নিয়েছেন পনির হোসেন। ভয়াবহ রোহিঙ্গা সংকট আলোকচিত্রের মাধ্যমে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার জন্য মর্যাদাপূর্ণ পুলিৎজার পুরস্কার জিতেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। গুণী পনির হোসেন এই আলোকচিত্রী দলের গর্বিত সদস্য। পুরস্কার জিতে নেয়া ‘ফটোস্টোরিতে’ তার ছবি রয়েছে তিনটি। নিজের ছবি সংবলিত ‘ফটোস্টোরি’ সাংবাদিকতা জগতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছে এমন খবরে উচ্ছসিত পনির হোসেন। তাৎক্ষণিকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন তিনি। এতে বলেন, ‘অভিনন্দন রয়টার্স টিম। এর অংশ হতে পেরে আমি খুবই গর্বিত।’ পরে সংবাদ মাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে পনির নিজের সফলতার গল্প শোনান। বলেন, ‘রয়টার্সের সেই ফটোস্টোরিতে আমার তোলা তিনটি ছবি ছিল। সেই কাজই সাংবাদিকতার সবচেয়ে সেরা পুরস্কারটি জিতে নিয়েছে। ভাবতেই শিহরণ বোধ করছি। সোমবার রাতে এই খবর শোনার পর মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত আমি ঘুমাতে পারিনি।’
পনিরের তিনটি ছবির একটিতে ছিল ভেলায় চড়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের দৃশ্য। আরেকটিতে একজন মা তার সদ্যমৃত শিশু সন্তানকে চুমু দিচ্ছিলেন। অন্যটিতে ছিল ভারী বর্ষণের সময় শিশু ও বয়স্ক রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগের চিত্র।
পনির হোসেন বিবিসিকে বলেন, ছবিগুলো যখন তুলি তখন আমি আবেগ নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলাম। কিন্তু হোটেলে ফিরে এডিট করতে গিয়ে ল্যাপটপে যখন ছবিগুলোকে দেখলাম তখন আর আমার পক্ষে আবেগ ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। আমি চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। তিনি বলেন, “মানুষের কষ্ট কতরকম এটা রোহিঙ্গা ইস্যু যদি কাভার না করতাম তাহলে সম্ভবত আমি বিষয়টা বুঝতাম না।”
পুলিৎজারকে বলা হয় সাংবাদিকদের অস্কার পুরস্কার। রয়টার্সের মোট সাতজন আলোকিত্রি রোহিঙ্গাদের নানা মুহুর্তের ছবির জন্য দলগতভাবে এই পুরস্কার পান। পনির হোসেন এই দলের অন্যতম সদস্য। এই প্রথম কোনও বাংলাদেশি হিসেবে তিনি সাংবাদিকদের জন্য বিশ্বের সবচাইতে সম্মানজনক পুলিৎজার পুরস্কার পেলেন।
২০১০ সাল থেকে পনির হোসেন ছবি তুলতেন শখের বসে। সেই শখই একদিন তার পেশা হয়ে দাঁড়ালো। শুরুতে তিনি ফ্রিল্যান্সার হিসেব কাজ করতেন। ২০১৫ সালে তিনি রয়টার্সে যোগদান করেন। তার ভাষায়- ‘মানুষ যখন কোন দুর্দশায় পরে বা কোন সংকট তৈরি হয় তখনই আমাদের মতো ফটোসাংবাদিকদের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়। যেমন রোগী না থাকলে ডাক্তারের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ নেই, আমাদের জন্যেও বিষয়টা একই রকম। রোহিঙ্গারা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দেশে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে বাঁচার জন্য তারা রোদে পুড়ে, পানিতে ভিজে লম্বা পথ পাড়ি দিয়েছে এসেছেন। তারা জানেন না সামনে কি আছে, তারা কোথায় যাচ্ছেন, কি খাবেন বা কোথায় থাকবেন। কতটা কষ্টে পড়লে মানুষ এমন অনিশ্চিত যাত্রার উদ্দেশ্য রওয়ানা দেন সেই বিষয়টি তাকে খুব নাড়া দিয়েছে। এই ছবিগুলো তুলতে গিয়ে আমি নিজে যতই কাদার মধ্যে হাটি, রোদে পুড়ি বা পানিতে সাতার কাটি, দিন শেষে যখন একটা ভালো ছবি হয় তখন আর সেই ক্লান্তির কথা মনে থাকে না।
রয়টার্সের হাতে পুলিৎজার পুরস্কার তুলে দেয়ার মূহুর্তে সশরীরে উপস্থিত থাকার পরিকল্পনা রয়েছে তার। তিনি বলেন, সাংবাদিকতায় পুলিৎজারের মতো সম্মানের কিছু নেই। পুরস্কারপ্রাপ্ত টিমের সঙ্গে নাম থাকাটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।
উল্লেখ্য, সাংবাদিকতা জগতে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। ১৯১৭ সালে এই পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। বর্তমানে মোট ১৪টি ক্যাটাগরিতে সাংবাদিকদের পুরস্কৃত করে পুলিৎজার কমিটি।

দুই ভাইকে দেখবে কে: রাজীব আমরা কাঁদছি

রাজীবের লড়াই শেষ হয়েছে। টগবগে এক তরুণের দীর্ঘ লড়াই। যে লড়াইয়ে সে হার মানতে চায়নি। শেষ পর্যন্ত অভিমান হয়েছিল তার। তীব্র, তীক্ষ্ণ অভিমান। আমাদের সবার প্রতি। সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতি। যে ব্যবস্থা রাজীবদের বাঁচতে দেয় না।
এতো শুধু একজন মানুষের মৃত্যু নয়। এক তরুণের দুর্দান্ত লড়াইয়েরও মৃত্যু। যে লড়াইয়ের শুরু হয়েছিল খুব ছোট বেলায়। যখন তার বাবা তাকে ছেড়ে চলে যান। এখানেই অবশ্য শেষ হয়নি। মায়ের মৃত্যুর পর সবহারা এক ছেলের আশ্রয় জোটে খালার বাসায়। সেখান থেকে জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে গেছে সে। এত কষ্ট, আর যন্ত্রণা নিয়েও সব কিছু গুছিয়ে আনছিল ছেলেটি। যেন শপথ নিয়েছিল হার না মানার। তিতুমীর কলেজে পড়ালেখার পাশাপাশি টিউশনি করে চালিয়ে নিচ্ছিল জীবন। ছোট দুই ভাইয়ের পড়ার খরচ যোগাতো। স্বপ্ন দেখতো দুই ভাইকে নিজের কাছে নিয়ে আসবে। মনের ভেতরে হয়তো আরো অনেক স্বপ্ন ছিল তার। এদেশের প্রতিটি গরিব মধ্যবিত্ত মানুষের মতো। বৃত্ত ভাঙতে চেয়েছিল সে। যেন আপসহীন এক যোদ্ধা। হঠাৎই দুই বাসের মাঝখানে আটকা পড়ে যায় তার জীবন, স্বপ্ন। শুরুতে কাটা পড়ে হাত। এরপর তীব্র অভিমান খেলে গেছে তার বুকে, হৃদয়ে। স্বজনদের কোনো কথার জবাব দিতো না। যেন আহত এক যোদ্ধার বুকে অভিমানের ঘাসফুল জন্মেছিল। শেষ ক’টা দিন ছিল লাইফ সাপোর্টে। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের চেষ্টা আর মানুষের প্রার্থনা পরাজিত হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে পাওয়া যায় করুণ, মর্মান্তিক আর মর্মন্তুদ সেই খবর। যে খবর আমাদের ঘুমাতে দেয় না। বিষণ্ন করে। চোখ ভিজে ওঠে।
রাজীবের মৃত্যুর পর কান্না চলছে। এক অসহায় আর দরিদ্র যুবকের জন্য আমরা সবাই কাঁদছি। যারা হয়তো প্রায় কেউই রাজীবকে চিনতাম না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার জন্য চলছে মাতম। কিন্তু কিছুই কী বদলাবে। এ এক গভীর হতাশার সময়। চারদিকে ভয় আর ভয়। এখানে মানুষ স্বপ্ন দেখতেও ভয় পায়। এটা সম্ভবত সব কিছু নষ্টদের অধিকারে চলে যাওয়া সময়। কারণ, যে চালকরা রাজীবদের হত্যা করে চলছে, দিনের পর দিন, বছরের পর বছর। শেষ পর্যন্ত তাদের কিছুই হয় না। এই মানসিক বিকারগ্রস্ত চালকদের জীবনের মূল্য বুঝানোর মতো কেউ এখানে নেই। কেউ যদি তাদের বুঝাতে যান, বিপদ নিশ্চিত। কারণ, তাদের ওপর ক্ষমতার ছায়া আছে। বিরোধীদের কর্মসূচির দিন গাড়ি বন্ধ করে দিতে তাদের প্রয়োজন আছে। তাদের নেতারা মন্ত্রিসভাতেও ঠাঁই পান। তারা বলে দেবেন কী করলে চালক হওয়া যাবে। আমরা নিশ্চয়ই তাদের চেয়ে বেশি বুঝি না। আমাদের বুদ্ধিও তাদের মতো প্রখর নয়। তারা ঠিক করে দেবেন আমাদের হাত থাকবে কি থাকবে না? আমরা বেঁচে থাকতে পারবো কি পারবো না?
রাজীব আমরা তোমার জন্য কাঁদছি। এছাড়া আমাদের আর কীই বা করার আছে বলো ভাই।
‘এখন তো আর ভাইয়া নেই, কী হবে জানি না’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গের সামনে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে দুই কিশোর মেহেদী হাসান ও হৃদয় আবদুল্লাহ। তাদের চোখে-মুখে রাজ্যের অনিশ্চয়তা। শিশু বয়সেই মা-বাবা হারানো এ দুই কিশোরের মাথার ওপর ছাতা হয়ে আগলে রেখেছিলেন বড় ভাই রাজীব হোসেন। রাজধানীর পান্থপথে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় এক হাত হারানো রাজীব চলে গেছেন না ফেরার দেশে। নিজেদের শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে দুই কিশোর যেন কান্নার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলেছে। অল্প কথায় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেহেদী হাসান বললো, ‘এখন তো আর ভাইয়া নেই। আমাদের কী হবে জানি না।’ বাবার মৃত্যুর পর বড় ভাই ও খালা-মামাদের সহায়তায় পড়াশোনা করছে মেহেদী ও হৃদয়। পরীক্ষার মার্কসিট, ক্লাস লেকচার নোটের প্রিন্ট আউটসহ যাবতীয় কম্পিউটারের কাজ করে দিতেন ভাই রাজীব। দুর্ঘটনার পরদিন একটি জাতীয় দৈনিকে ভাইয়ের কাটা হাতের ছবি দেখে খালাকে বলেছিলো, ভাইয়ার তো ডান হাতই নেই এখন আমাদের কম্পিউটারের কাজ কে করে দেবেন। টিউশনির পাশাপাশি কম্পোজের কাজ করে নিজের মেস ভাড়া ও ছোট দুই ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতেন রাজীব। এত কষ্টের মাঝেও দুই কিশোরের আশা, কেউ হয়তো তাদের দায়িত্ব নেবেন। অপসোনিন কোম্পানিতে চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে বরিশালেই থাকতেন রাজীব। ২০০৬ সালে হৃদরোগে মা মারা যাওয়ার পর ২০১০ সালে একইভাবে মারা যান রাজীবের বাবা। শুরু হয় বাবা-মা হারানো রাজীবের বেঁচে থাকার লড়াই। তিন খালা ও মামাদের সহোযোগিতায় দুই ভাইকে নিয়ে ২০১২ সালে ঢাকায় পাড়ি জমান রাজীব। তিতুমীর কলেজে ম্যানেজমেন্টে তৃতীয় বর্ষে পড়তেন রাজীব। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ছেলে রাজীব পড়ালেখার পাশাপাশি একটি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার টাইপ করে নিজের এবং ছোট দু’ভাইয়ের খরচ চালাতেন। এইচএসসি পাস করার পরপরই সরকারি চাকরির পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে দরখাস্ত করতেন। পড়াশোনা শেষে একটি সরকারি চাকরি আর এলএলবি শেষ করে একজন সফল আইনজীবী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং ছোট দুইভাইকে মানুষ করাই ছিল তার স্বপ্ন। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তার স্বপ্নেরও ইতি ঘটলো। লেখাপড়া শিখে যখন দুই ভাইকে নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছিলেন বাবা-মা হারানো রাজীব। তখন দুই বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা এমন সংগ্রামী তরুণের প্রাণ থামিয়ে দিলো। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় রাজীব মা আকলিমা খানমকে হারান। বাবা সেই শোকে ছিলেন নিরুদ্দেশ। পরে ২০১১ সালে চট্টগ্রামে এক আত্মীয়ের বাসায় তিনি মারা যান। এর আগের তিন বছর তিনি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন বলে জানান, রাজীবের দূরসম্পর্কের এক চাচা। রাজীব ও তার ছোট দুই ভাই পটুয়াখালীর বাউফলে নানার বাড়িতে ছিল। পরে ঢাকায় এসে পোস্ট অফিস হাইস্কুলে ভর্তি হয়। খালার বাড়ি থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর রাজীব যাত্রাবাড়ীর মেসে ওঠেন। নিজের পায়ে দাঁড়াতে কম্পিউটার কম্পোজ, গ্রাফিক্‌স ডিজাইনের কাজ শিখছিলেন। ছাত্র পড়াতেন। ২২ বছর বয়সী রাজীবের লক্ষ্য ছিল একটাই, নিজের পায়ে দাঁড়ানো আর দুই ভাইয়ের দায়িত্ব নেয়া। দুই সপ্তাহ আগেও প্রাণবন্ত স্বপ্ন জ্বলজ্বল করা রাজীব সদ্যই যেন স্মৃতি হয়ে গেলেন। দুর্ঘটনার পর অনেক অভিমান করে হাসপাতালে একবার বলেছিলেন, ‘রাজীব কে? সে মারা গেছে!’ স্বভাবজাতভাবে গম্ভীর প্রকৃতির হওয়ায় প্রয়োজন ছাড়া কারোর সঙ্গে কথা বলতেন না রাজীব। কার সঙ্গে অভিমান করেছিলেন রাজীব, সেটা আর কখনো জানা হবে না। দুই বাসের চাপায় হাত হারানো রাজীব হোসেনের মরদেহ পটুয়াখালীর বাউফলের দাসপাড়ায় তার নানা বাড়িতে দাফন করা হবে। রাজীবের মামা জাহিদুল ইসলাম জানান, জোহরের নামাজের পর ঢাকার হাইকোর্ট সংলগ্ন মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর গ্রামের বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
এদিকে রাজীবের ঘটনাটি যেন গোটা দেশের মানুষকে নাড়া দিয়েছে। রাস্তায় যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ মানুষের মনে। এক নজর দেখতে হাসপাতালে ভিড় করেন অনেকে। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব বলেন, রাজীব আমার একজন ভালো বন্ধু  ও সহপাঠী ছিলেন। রাজীবের দুর্ঘটনার পরপরই ফেসবুকে রাজীবের সাহায্যার্থে ও দায়ী বাসচালকদের শাস্তির দাবি করে প্রচারণা চালিয়েও বন্ধু রাজীবকে বাঁচাতে পারিনি। আমরা দায়ী বাসচালকদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি। রাজীবকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ছুটে যান সিএমএম কোর্টের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকালে ফেসবুকে রাজীবের মৃত্যুর খরব শুনে খুবই শোকাহত হয়েছি। বেপরোয়া বাসচালকদের অসাবধানতার কারণে আর যেন কোনো রাজীবের প্রাণ ঝরে না যায় সে বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসিরউদ্দীন বলেন, মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ থেকে মৃত্যু হয়েছে রাজীবের। ওই রক্তক্ষরণের জন্য তার শরীরে সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধীরে ধীরে অকেজো হয়ে পড়ে। ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. প্রদীপ কুমার বিশ্বাস ময়নাতদন্ত শেষে জানান, মস্তিষ্কের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া তার মাথার একটি হাড় ভাঙা ছিল।

ওরাল সেক্স নয়, মুখ খাদ্য গ্রহণের জন্য

ওরাল সেক্স নিষিদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়েরি মুসেভেনি। তিনি বলেছেন, সৃষ্টিকর্তা মুখ দিয়েছেন খাবার গ্রহণ করার জন্য। মুখ যৌন কাজে ব্যবহারের জন্য নয়।  এ জন্য তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। তিনি চাইছেন তার দেশের নাগরিকরা যেন ওরাল সেক্স চর্চা না করেন। এতে মুখের ক্ষতি হয়। উগান্ডায় এই চর্চা বাইরে থেকে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বাইরের দুনিয়ার মানুষরা উগান্ডার জনগণের মধ্যে ওরাল সেক্সের ধারণা প্রবেশ করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। তাই তিনি এ বিষয়ে সরকারি হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। তিনি সংবাদ সম্মেলনে আরো বলেছেন, ভুল এই চর্চা থেকে যেন আমার জনগণ বিরত থাকে সে জন্য আমি তাদেরকে সতর্ক থাকার জন্য এই সুযোগটি নিচ্ছি এবং তাদেরকে অনুরোধ করবো তারা যেনো এ চর্চা না করেন। এটা বাইরের দুনিয়ার মানুষের রীতি। মুসেভেনি বলেন, বাইরের দুনিয়ার লোকেরা এটাকে বলে ওরাল সেক্স। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা তো মুখ দিয়েছেন খাদ্য গ্রহণের জন্য। সেক্সের জন্য মুখ নয়। আমরা জানি এ জন্য প্রয়োজনীয় সব অঙ্গ দিয়ে দিয়েছেন সৃষ্টিকর্তা। সেগুলোর ব্যবহার করতে হবে। উল্লেখ্য, মুসেভেনি ২০১৪ সালে সমকামিতা বিরোধী একটি আইনে স্বাক্ষর করেন। এর নাম এন্টি হোমোসেক্সুয়ালিটি অ্যাক্ট। উগান্ডার সমকামীদের জন্য এটা প্রয়োগ করা হয়। সেদেশের কেউ যদি নিয়মিত সমকামী সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং তা বুঝতে পারা যায় তাহলে তার যাবজ্জীবন কারাদন্ড হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ আইনে এটাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। ২০১৪ সালে এই আইন করে মুসেভেনি বলেছিলেন, ওরাল সেক্স থেকে কীট, পোকার সংক্রমণ ঘটতে পারে। আপনার মুখের ভিতর দিয়ে তা পৌঁছে যেতে পারে পাকস্থলিতে।

নাগর নদ দখল করে মাছ চাষ

‘আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে, বৈশাখ মাসে তার হাঁটুজল থাকে’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত এই কবিতার উৎস নাটোরের সিংড়া উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নাগর নদের অস্তিত্ব বিলীন হতে চলেছে অবৈধ দখলদার ভূমি দস্যুদের কালো থাবায়। নিয়মিত ড্রেজিং না করা, নদীজুড়ে পুকুর খনন ও বিভিন্ন পয়েন্টে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত এই নদী আজ বিপন্ন হয়ে উঠেছে। তাছাড়া নদীতে বাঁধের কারণে গত কয়েক দিনের বর্ষণ ও ঢলের পানি চলনবিলে ঢুকে পড়ায় হুমকির মুখে রয়েছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির আধা-পাকা ইরি ধানসহ বিভিন্ন রবি শস্য। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ ভূমি দস্যুদের অবৈধ দখলের কারণে সেই নাগর নদ ও তার সংযোগ নদী গুড়-আত্রাই নদীর ঐতিহ্য ও গতি প্রবাহ হারিয়ে যেতে বসেছে। ভূমি দস্যুরা সিংড়া উপজেলার জয়নগর তাজপুর গ্রাম থেকে সারদানগর ফার্ম পর্যন্ত নাগর নদ দখল করে শতাধিক পুকুর ও নদের বিভিন্ন পয়েন্টে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে। সমপ্রতি খরসতি গ্রামের জনৈক প্রভাবশালী আলহাজ ইদ্রিস আলী ও শামসুল ইসলাম ওরফে কালু সাদনগর এলাকায় নাগর নদজুড়ে চারটি বিশাল বাঁধ নির্মাণ করেছেন। এতে নদে নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়াও সমপ্রতি কয়েক দিনের বর্ষণ ও ঢলের পানি নামতে না দেয়ায় ধর্মপুর, বাশারনগর, ভুলবাড়িয়া এলাকার বিভিন্ন ভাঙন দিয়ে ঢুকে চলনবিলে কয়েক হাজার হেক্টর জমির আধা-পাকা ইরি ধানসহ বিভিন্ন রবিশস্য হুমকির মুখে পড়েছে। নাগর নদের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদজুড়ে পুকুর খনন ও অবৈধ বাঁধ নির্মাণের কারণে নদীর পানি ধর্মপুর ও বাশারনগর এলাকার ভাঙন দিয়ে বিলে পানি ঢুকছে। আর প্রায় শতাধিক কৃষক স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ করে ফসল রক্ষার চেষ্টা করছে। বাঁধে কর্মরত কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান, নজরুল ইসলাম ও ফজলুর রহমান বলেন, কিছু অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ীদের কারণে প্রতি বছরই এই ভাঙন দিয়ে বিলে পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় চলনবিলের প্রায় লক্ষাধিক কৃষক। তাছাড়া নদীতে লাখ লনব ঘনমিটার পলি পড়ে ও অবৈধভাবে পুকুর খননের কারণে এই নদী নাব্য হারিয়ে ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। তারা এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতা কামনা করেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলহাজ ইদ্রিস আলী বলেন, জয়নগর থেকে সারদানগর ফার্ম পর্যন্ত নাগর নদে প্রায় শতাধিক পুকুর রয়েছে। তার শুধু একটিই পুকুর। আর পানি প্রবাহের জন্য বাঁধের কিছু অংশ খুলে দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তিনি ভেক্যু দিয়ে আরো মাটি সরিয়ে দেবেন বলে জানান। সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সন্দ্বীপ কুমার সরকার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানও তাদের নিষেধ করেছেন। পরে নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।