Thursday, May 11, 2017

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে চালানো ভ্রাম্যমাণ আদালত অবৈধ

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশিষ রঞ্জন দাসের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হাসেন সাজু।

সাত খুন মামলা: আপিল শুনানি মুলতবি

নারায়ণগঞ্জের ৭ খুন মামলার আপিল শুনানি সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বৃহস্পতিবারের কার্যতালিকায় হাইকোর্টের ৫ নম্বর আদালতে ২৬ পলাতক আসামির জন্য রাষ্ট্রীয় আইনজীবী (স্টেট-ডিফেন্স) নিয়োগ ও আসামিদের আপিল বিষয়ে আদেশের জন্য রাখা ছিল এই ডেথ রেফারেন্সটি। এদিকে জামালউদ্দিন নামে এক পলাতক আসামি আত্মসমর্পণ করলে আদালত মামলাটি মুলতবি করে আদেশের জন্য সোমবার দিন নির্ধারণ করে দেন। এর আগে ৭ মে সাত খুন হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিলের পেপারবুক (মামলার সারসংক্ষেপ) সরকারি ছাপাখানা থেকে হাইকোর্টে এসে পৌঁছায়। প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। এরপর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ১৬ জানুয়ারি এ মামলায় ২৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত। মামলার ৩৫ আসামির মধ্যে ২৩ জন কারাগারে রয়েছেন।

ছেলের মাথায় রক্ত দেখে বাবার মৃত্যু

রাজশাহীর বাঘায় ছেলে কাজল হোসেনের মাথায় রক্ত দেখে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বাবা আযম আলীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার কলিগ্রামের এ ঘটনা ঘটে। আযম আলী বাঘা পৌর বিএনপির ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়রা জানায়, পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে ঝগড়া হয়।
এক পর্যায়ে কাজলকে আঘাত করেন বাবা। এতে কাজলের মাথা দিয়ে রক্ত বের হয়। ছেলের মাথায় রক্ত দেখে বাবা অসুস্থ হয়ে যান। পরে দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে বাবা আযম আলী মারা যান। কাজল হোসেন জানান, রাত ১০টায় তার বাবার জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

টঙ্গীতে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবক নিহত

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গীর বনমালা এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক যুবক নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে টঙ্গীর জংশন পুলিশ লাশটি উদ্ধার করেছে। আনুমানিক ২৫ বছর বয়সীর পরনে কালো রঙের প্যান্ট ও সাদা রঙের শার্ট রয়েছে। টঙ্গী জংশন ফাঁড়ির এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, ট্রেনে ওই যুবকের ডান পা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এবার জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে নাটোরে বাড়ি ঘেরাও


রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অভিযানের মধ্যেই এবার নাটোরের হরিশপুরে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একাধিক বাড়ি ঘেরাও করে অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার পর থেকে নাটোর শহরতলীর হরিশপুরে পুলিশ লাইন এলাকায় কয়েকটি বাড়ি ঘিরে রাখা হয়। দুটি বাড়ি ঘিরে অভিযানের প্রস্তুতি চলছে বলে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

নাটোরের অভিযান সমাপ্ত, কিছু মেলেনি

নাটোরের বড়হরিশপুরে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর থেকে নাটোর শহরতলীর বড়হরিশপুরে পুলিশ লাইন সংলগ্ন ওই বাড়ি ঘিরে রাখা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ‘নাসরিন গার্ডেন’ নামে স্থানীয় আমজাদ হোসেনের বাড়িটির প্রতিটি কক্ষে তল্লাশি চালায়। তবে সেখানে জঙ্গি সংশ্লিষ্ট কিছু পাওয়া যায়নি। বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল নাটোর জেলা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এ অভিযান চালায়। বেলা ২টার দিকে অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। নাটোরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার খায়রুল আলম বলেন, রুটিন ওয়ার্কের অংশ হিসেবে ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তবে সেখানে কিছু পাওয়া যায়নি।

প্রাইভেট পড়তে গিয়ে ৩ বন্ধু নিখোঁজ

কুষ্টিয়ায় প্রাইভেট পড়তে গিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে তিন  বন্ধু নিখোঁজ রয়েছে। তারা একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। পরিবারের সদস্যরা তাদের কোথাও খুঁজে না পেয়ে বুধবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় জিডি করেছেন। নিখোঁজ ৩ শিক্ষার্থী হলো- শহরের উদিবাড়ি এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে লিংকন (১৫), চৌড়হাস ফুলতলা এলাকার অমিয়কান্তি মল্লিকের ছেলে উৎস মল্লিক (১৪) ও পূর্ব মজমপুর এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে তুহিন আহম্মেদ (১৪)। তিনজনই কুষ্টিয়া কলকাকলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী এবং একে অপরের বন্ধু। নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা জানান, বিদ্যালয়ে গ্রীষ্মকালীন ছুটি থাকায় মঙ্গলবার সকালে কলকাকলী স্কুলের শিক্ষক হাসানের কাছে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার কথা বলে তিনজনই বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু তারা আর বাড়ি ফেরেনি। তারা জানান, ওই দিন কেউই ওই শিক্ষকের বাসায় পড়তে যায়নি। এর মধ্যে উৎস মল্লিক শিক্ষক হাসানকে ফোনে জানায়, 'তাদের বাড়িতে কাজ আছে, আজ পড়তে আসবে না।' লিংকনের বাবা হাবিবুর রহমান জানান, তিন বন্ধু মোবাইল ব্যবহার করলেও সবার ফোন মঙ্গলবার থেকে বন্ধ। তাদের নিজ নিজ আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি খোঁজ করলেও কোথাও তাদের সন্ধান মেলেনি। কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি নাসির উদ্দিন জানান, তিন ছাত্র নিখোঁজের ঘটনায় তাদের অভিভাবকরা বুধবার সন্ধ্যায় থানায় জিডি করেছেন। তাদের ছবিসহ সব তথ্য সব থানায় পাঠিয়ে দেয়া হবে। পুলিশ তাদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছে।

শিবগঞ্জে চলছে পুলিশের জঙ্গিবিরোধী অভিযান

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ও শাহাবাজপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এই অভিযানে আজিজুর রহমান ও বাবু নামে দুজনকে আটক করার কথা এলাকাবাসী বললেও তা এখনো নিশ্চিত করেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানের ব্যাপারে পুলিশের কোনো কর্মকর্তা মুখ খুলছেন না। তবে অভিযানে জেলা পুলিশের সঙ্গে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরাও রয়েছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে কানসাট ইউনিয়নের শিবনগর কাইঠাপাড়া গ্রামের জনৈক ইসলাম আলীর ছেলে জুয়েলের ফাঁকা বাড়িতে মাটি খনন করে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।এর আগে বুধবার ইসলাম আলীর বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে ওই বাড়ির পাশে মাটির নীচ থেকে একটি ড্রাম উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ওই ড্রামে কী আছে তা জানা যায়নি। এঘটনায় ইসলামের আরেক ছেলে বাবুকে (২২) আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। অন্যদিকে একই ইউপির রাঘবপুর গ্রামে নেশ মোহাম্মদের ছেলে আজিজুর রহমানের (৪৫) বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ। আজিজুর রহমানকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২ দিকে জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত তিন দিন ধরে শিবগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত মিডিয়াকে জানানোর মতো কোনো খবর নেই।

পারিবারিক শত্রুতায় শ্যালককে কুপিয়ে খুন

বান্দরবানের লামা উপজেলায় পারিবারিক শত্রুতার জের ধরে সাচিমং মার্মা (৩০) নামের এক যুবককে কুপিয়ে খুন করেছে তার ভগ্নিপতি। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি ফাদু বাগান পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে। সাচিমং মার্মা ফাদু বাগান পাড়ার বাসিন্দা মৃত নিউহ্লামং মার্মার ছেলে। অভিযুক্ত ভগ্নিপতি মংহ্লাথোয়াই মার্মা (৩০) একই পাড়ার বাসিন্দা ক্যচাচিং মার্মার ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সাচিমং মার্মা ও ভগ্নিপতি মংহ্লাথোয়াই মার্মার মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভগ্নিপতি মংহ্লাথোয়াই মার্মাসহ আরও ৪-৫ জন সাচিংমং মার্মাকে বাড়ির আঙ্গিনায় দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। লামা থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ফাদু বাগান পাড়ার বাসিন্দা উচামু মার্মার ছেলে চুথোয়াই উ মার্মাকে (২৪) আটক করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

সমুদ্রের গভীরে টানা ২৫ বছর থাকতে পারবে এই পরমাণু সাবমেরিন

পানিতে নামল ব্রিটিশ নৌবাহিনীর নতুন পরমাণু সাবমেরিন এইচএমএস অডিসাস। জানা গেছে, এই সাবমেরিন টানা ২৫ বছর পানির তলে কাটাতে পারবে। চলতি মাসেই পানিতে নামানো হয়েছে এই সাবমেরিন। এটি ৯৭ মিটার লম্বা এবং ৭,৪০০ টন। ওজনের সাবমেরিনকে পানিতে নামানো হয়। ১,০০০ কিলোমিটার দূর থেকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম এইচএমএস অডিসাস। আগামী বছর থেকে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর তৎপরতায় অংশ নেবে এই সাবমেরিন। এটি সাবমেরিনকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে, ২০৪৩ সালের আগে আর কোনো ধরণের জ্বালানির প্রয়োজন পড়বে না। এটি পানির নিচে দিয়ে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিতে পারবে। সাবমেরিনের পরমাণু চুল্লি দিয়ে কোনো শহরের দু’লাখেরও বেশি বাসিন্দার যাবতীয় বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো সম্ভব। বছরের পর বছর এটি সমুদ্রের গভীরে অবস্থান করতে পারবে। সমুদ্রের পানিকে পরিশোধন করে মিষ্টি পানির চাহিদা মেটাবে এটি। এছাড়া, পানিকে ভেঙে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন উৎপাদনের ব্যবস্থা রয়েছে এতে। পাশাপাশি, বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করে সাবমেরিনের ভেতর থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড সরিয়ে ফেলা হবে। অবশ্য এতে যে পরিমাণ খাদ্য মজুদ থাকে তা দিয়ে সাধারণ অবস্থায় টানা তিন মাস অনায়াসে জীবন ধারণ করতে পারবে নৌ সেনারা। গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো, শত্রুর জাহাজ বা সাবমেরিন ডুবিয়ে দেয়ার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে একে। ব্রিটিশ নৌবাহিনীতে ভবিষ্যতে এরকম আরো সাতটি সাবমেরিন যুক্ত হওয়ার কথা।

কুসিক মেয়র সাক্কুকে শপথ পড়ালেন প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনিরুল ইসলাম সাক্কুকে শপথ পড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধানমন্ত্রী। একই দিন শপথ নিচ্ছেন কুমিল্লা সিটির নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলররাও। মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে তাদেরকে শপথ পড়াবেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

আজ পবিত্র শবেবরাত

আজ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত উদযাপিত হবে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলসহ এবাদত-বন্দেগীর মধ্য দিয়ে এই রাতটি অতিবাহিত করবেন। মহিমান্বিত এ রজনীতে মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশ্বের মুসলমানগণ বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া করবেন। এ রজনীতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নারী-পুরুষ-শিশু-বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের মুসলমানগণ কোরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ ও বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকবেন।
এ উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ নারী-পুরুষরা নফল রোজাও পালন করবেন। বাসাবাড়ি ছাড়াও মসজিদে মসজিদে সারা রাত চলবে নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, ওয়াজ মাহফিল, অন্যান্য এবাদত-বন্দেগী ও মোনাজাত। রাতব্যাপী এবাদত, বন্দেগী, জিকির ছাড়াও এই পবিত্র রাতে মুসলমানগণ মৃত পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনসহ প্রিয়জনদের কবর জিয়ারত করে থাকেন। তাই এ রাতে কবরস্থান গুলোতেও ভিড় দেখা যায়। মহিমান্বিত এ রজনী ভাবগম্ভীর পরিবেশের মধ্য দিয়ে পালনের লক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে- ওয়াজ মাহফিল, কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, হামদ্, না’ত, নফল ও তাহাজ্জুদের নামাজ এবং আখেরি মোনাজাত। পবিত্র এ রাতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সকল মসজিদ সারা রাত খোলা থাকবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও এ উপলক্ষে ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। পবিত্র শবে বরাত সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে ঢাকা নগরীতে আতশবাজি, পটকা ফাটানো এবং যে কোন ধরনের বিস্ফোরক দ্রব্য বহন নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মোট্রাপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

রাজশাহীতে ‘উগ্রবাদী আস্তানায়’ অভিযান, নিহত ৬

রাজশাহীর গোদাগাড়ীর হাবাসপুরে উগ্রবাদী আস্তানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযানে ছয়জন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজন উগ্রবাদী এবং একজন দমকলবাহিনীর কর্মী। উগ্রবাদী আস্তানা সন্দেহে নিরাপত্তা বাহিনী সেটি ঘিরে ফেলার পর ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে ‘আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়ে’তারা নিহত হয় বলে পুলিশ সূত্র মিডিয়াকে জানিয়েছে। তাদের বিস্ফোরণে দমকল বাহিনীর সদস্য নিহত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে রাজশাহী শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের হাবাসপুর মাছমারা বেনীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে গোদাগাড়ী থানার ওসি হিফজুল আলম মুন্সি জানান। প্রাথমিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

হাওরের ফসলহারা কৃষকদের এখনো দুঃস্বপ্ন তাড়া করছে

প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে অথৈ তলিয়ে গেছে কৃষক-কৃষাণীদের স্বপ্নসাধ। বোরো মওসুমের এই সময়ে গোটা হাওরাঞ্চলে ধান কাটা, মাড়াই আর ঘরে ফসল তোলায় ব্যস্ত সময় পার করার কথা তাদের। নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধ, পাখির কলরব, দুরন্ত শিশুদের দৌঁড়ঝাপ আর রাখালির সুমধুর বাঁশির সুরে যেখানে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠার কথা চিরচেনা গ্রাম বাংলার। কিন্তু সেখানে ফসলহারা কৃষকদের এখনো দুঃস্বপ্ন তাড়া করছে।  সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনার ৪৮টি উপজেলার প্রায় ২০ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে বৃহত্তর হাওর অঞ্চল। এই সাতটি জেলার সমষ্টিগত হাওরাঞ্চল শুধু বাংলাদেশ নয় এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ হাওরাঞ্চল। উদ্বৃত্ত খাদ্যভাণ্ডার ও মৎস্যসম্পদের আঁধার গোটা হাওরাঞ্চলে এখন হাজার হাজার নারী-পুরুষ খাদ্যাভাব, বিশুদ্ধ পানীয়, চিকিৎসাসহ হাজারো সমস্যার বেড়াজালে ঘুরপাক খাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে খাদ্য ও কাজের সন্ধানে অসংখ্য লোকজন এখন শহরে ছুটছেন। বর্ষায় একেকটা হাওরের বিশাল রুদ্ররূপ ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে। সে সময় জীবন ও জীবিকার সন্ধানে বিশাল ঢেউ অতিক্রম ছোট ছোট ডিঙ্গি নিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলেরা মাছ ধরেন। কিন্তু তীব্র গ্যাসের কারণে বিপুল পরিমাণ মাছ মরে যাওয়ায় তাও রুদ্ধ হয়ে গেছে। হাওরকেন্দ্রিক জীবনব্যবস্থার কারণে ভরা বর্ষায় নানা পার্বন ও বিয়ের ধূম পড়লেও এবার দিন-তারিখ ধার্য করার পরেও অসংখ্য বিয়ে ভেঙে গেছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে। এতে দায়গ্রস্ত পিতামাতাও কন্যাসন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। উৎসবের পরিবর্তে হাওরাঞ্চলে এখন কেবলি বিষাদের কালোছায়া বিরাজ করছে। তাই বাঁচার তাগিয়ে অসহায় মানুষের কাফেলা শহরমুখী। এতদিন শহরের বিভিন্ন স্থানে ১৫ টাকা মূল্যের যে ওএমএসের চাল দেয়া হতো তাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শহরেও তাদের এখন এক অনিশ্চিত সময়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করতে হচ্ছে। স্মরণকালের ভয়াবহতম বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত সেখানকার ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সরকার যে ত্রাণসহায়তা দিচ্ছে সেখানেও অসহায় মানুষের ত্রাণ গ্রাস করা শুরু করেছেন প্রভাবশালী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা।
এই অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের বেশির ভাগই ত্রাণ থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যে নেত্রকোনার খালিয়াজুরী, কলমাকান্দা, কেন্দুয়াসহ বিভিন্ন স্থানে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বঞ্চিত ক্ষতিগ্রস্তরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। ক্ষমতাসীন দলের দুর্নীতিপরায়ণ ওই সব প্রভাবশালী, চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় শুধু ক্ষতিগ্রস্তরাই নয় সরকারি দলের অনেক নেতাকর্মীদের মাঝেও চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। হাওরাঞ্চলে ফসলহারা অভাবী মানুষের সাহায্যার্থে এখন পর্যন্ত এনজিওদের ত্রাণসহায়তা প্রদানের লক্ষণ বা তৎপড়তা দেখা যাচ্ছে না। বরং সুদে দেয়া কিস্তির টাকা কোন কৌশলে আদায় করা যায় সেই সুযোগের প্রহর গুনছে এনজিওরা। অনেক সুযোগ-সন্ধানী এনজিওর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের এক ধরনের ক্ষোভ পরিলক্ষিত হচ্ছে। এতদিন কৃষক আর গরিব মানুষের অধিকার ও অসহায়ত্বকে পুঁজি করে যেসব রাজনীতিক, বিত্তশালী ও মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গলাবাজি করেছেন তারাও আজ নীরব হয়ে গেছেন। এর বাইরে অবশ্য সচেতন ব্যক্তিদের বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণসহায়তার দাবি জানিয়ে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। চলতি বোরো মওসুম শুরুর আগেই অকাল বন্যা ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মোহনগঞ্জের চরহাইজদা, খালিয়াজুরীর কিত্তনখলাসহ একেক করে সব বাঁধ ভেঙে নেত্রকোনার ছোট-বড় ১৪০টি হাওর তলিয়ে ৮০ থেকে ৯০ ভাগ ফসল তলিয়ে যায়। জেলায় ১ লাখ ৮০ হাজার ১০২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়। তন্মধ্যে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩২০ হেক্টর ফসল অর্জিত হলেও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে কাঁচাপাকা ফসল তলিয়ে যায়। ফসল হারানোর শোক কাটিয়ে না উঠতেই গোটা হাওরাঞ্চলে অজ্ঞাত বিষাক্ত গ্যাসে শত শত টন মাছ মরে হাওরের পানিতে ভাসতে থাকে। সেই মাছ খেয়ে হাজার হাজার হাঁসও মরতে থাকে। একের পর এক বিপর্যয়ে কৃষক-কৃষাণীদের বুকফাটা আর্তনাদে হাওরাঞ্চলে বিষাদের কালোছায়া নেমে আসে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুনামগঞ্জ সফর করলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত খালিয়াজুরীতে স্থানীয় এমপিসহ প্রথম কাতারের কোনো জাতীয় নেতৃবৃন্দের আগমন না ঘটায় এলাকায় কৃষকসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দেয়। এ বিষয়ে গত ৪ মে নয়া দিগন্তে প্রথম পাতায় সচিত্র লিড নিউজটি পাঠকদের মনে দাগ কাটে। এর পরই আগামী ১৮ মে নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর আগমনের সংবাদে বেদনায় কাতর কৃষকদের মাঝে এখন কিছুটা হলেও স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে হয়তো প্রধানমন্ত্রী বিশেষ উদ্যোগ নেবেন এমনটি আশা করছেন সেখানকার ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ কৃষক। খালিয়াজুরী উপজেলার কৃষ্টপুর এলাকার কৃষক তারা মিয়া, রুস্তম আলী, ঈমান আলী সাতগাঁও গ্রামের পরিমল বিশ্বাস ও বেলারানী সাহা তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘ফসল হারাইয়া আমরা এহন নিঃস্ব হইয়্যা পড়ছি। ঘরে খাওন নাই, হাতে কাজ কাম নাই, কেমনে বাঁচবাম কিছুই বুজতাছি না। হগলে কইতাছে প্রধানমন্ত্রী নাহি এহানে আইবো। আমরার দুঃখ-কষ্ট দূর করার লাইগ্যা এইবার যদি তিনি কিছু একটা করেন এই আশাই করতাছি।’ বিভিন্ন তথ্য সূত্র ও অনুসন্ধানে দেখা যায়, গোটা হাওরাঞ্চলে বোরো ফসল রক্ষার জন্য প্রতি বছর বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের একশ্রেণীর দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা ও ঠিকাদারেরা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সামান্য পানির তোরে নড়বড়ে বাঁধ ভেঙে ফসল তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা বারবারই ঘটছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অভাবে পাউবোর কর্মকর্তা ও ঠিকাদারেরা পার পেয়ে যান বলে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এর আগেও যখন বাঁধ ভেঙে ফসলহানির ঘটনা ঘটে তখনো গণমাধ্যমে এ নিয়ে লেখালেখি ও আলোচনা-সমালোচনা হলেও সময়ের সাথে সাথে এক সময় সব চাপা পড়ে যায়। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা জানান, যতদিন পর্যন্ত ফসল রক্ষার বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের বিষয়টির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া না হবে এবং দুর্নীতিগ্রস্তদের শাস্তির মুখোমুখি দাঁড় করাতে না পারলে কখনোই এর কোনো পরিবর্তন ঘটবে বলে আশা করা যায় না।  নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক বিলাস চন্দ্র পাল বলেন, অকাল বন্যায় ফসল নিমজ্জিত হয়ে জেলায় কমপক্ষে ৭০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। যদিও এই মুহূর্তে সৃষ্ট পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার জন্য কিছু করার নেই। কিন্তু রোপা-আমন, ভুট্টা, গম, সরিষা, কলাইসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদনে কৃষকদের যাতে সহায়তা করা যায় আমরা সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি। নেত্রকোনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন আহমদ বলেন, হাওরে বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে জেলায় ১১৮ টন মাছ মরে পানিতে ভেসে ওঠে। এই ক্ষতি অন্য যেকোনো জেলার চেয়ে অনেক বেশি। ক্ষতি যাতে কিছুটা হলেও কাটিয়ে ওঠা যায় সেই লক্ষ্যে জুন-জুলাই মাসে মুক্ত জলাশয়ে ১১ টন রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পোনা অবমুক্ত করা হবে।

রাজস্থানে বিয়েবাড়ির দেয়াল ভেঙে নিহত ২৬

বিয়েবাড়ির আনন্দ, উৎসব মুহূর্তে বদলে গেল আর্তনাদ আর চোখের পানিতে। ভারতের রাজস্থান রাজ্যের ভরতপুর জেলায় প্রচণ্ড ঝড়ে বিয়েবাড়ির দেয়াল ধসে অন্তত ২৬ জন বেঘোরে প্রাণ হারিয়েছেন। মৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকটি শিশুও রয়েছে। আহতের সংখ্যা ২৫। ভরতপুরের সেওয়ার রোডে গতকাল রাতে ছিল ওই বিয়েবাড়ি। পুলিশ জানিয়েছে, অনুষ্ঠান শুরুর দিকে আবহাওয়া মোটামুটি ঠিকই ছিল।
আচমকা ঝড় শুরু হওয়ায় বিয়েয় যোগ দেয়া অভ্যাগতরা অনুষ্ঠানকক্ষের পাশে একটি ঢাকা জায়গায় আশ্রয় নেয়। তখনই হুড়মুড়িয়ে সেখানকার দেয়াল ভেঙে পড়ে। ৯০ ফুট লম্বা ও ১২-১৩ ফুট চওড়া গোটা দেয়ালটিই মুহূর্তে ভেঙে পড়ায় সেখানে আশ্রয় নেয়া সবাই ধ্বংসস্তুপের ভেতরে আটকে পড়েন। মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

থাড-এর অবস্থান শনাক্ত করে এটির ছবি প্রকাশ করল পিয়ংইয়ং

দক্ষিণ কোরিয়ায় গতমাসে মোতায়েন আমেরিকার থাড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার অবস্থান শনাক্ত করে এর ছবি প্রকাশ করেছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ং বলেছে, পরমাণু যুদ্ধ বাধানোর লক্ষ্যে আমেরিকা এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে উত্তর কোরিয়ার 'আয়ত্বের মধ্যে' নিয়ে এসেছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত ‘কোরিয়ান সেন্ট্রাল টিভি’ এক প্রতিবেদনে বলেছে, “থাড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা হচ্ছে পারমাণবিক বিপর্যয়ের একটি উৎস যেটিকে এই মুহূর্তে আমাদের আয়ত্বের মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে।” প্রতিবেদনে নিজের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতাও প্রকাশ করেছে উত্তর কোরিয়া। স্যাটেলাইট থেকে গৃহিত ছবি তুলে ধরে সেন্ট্রাল কোরিয়ান টিভি বলেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার একটি গলফ খেলার মাঠে মোতায়েন করা থাড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার অবস্থান সূক্ষ্মভাবে শনাক্ত করেছে পিয়ংইয়ং।
উত্তর কোরিয়ার টিভিতে প্রকাশিত ছবিতে থাড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার লাঞ্চার ও রাডার দেখা যাচ্ছে এবং এই দু’টি বস্তুকে গোল দাগ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সেয়ংজু কাউন্টির একটি গলফ খেলার মাঠে এটি মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়ার টিভি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এই মুহূর্তে থাড ব্যবস্থার লাঞ্চার মোতায়েন করা রয়েছে সেয়ংজু গলফ মাঠের উত্তর প্রান্তে এবং এক্স-ব্যান্ড রাডার ও অন্যান্য সরঞ্জাম মোতায়েন রয়েছে মাঠটির পশ্চিম প্রান্তে।” থাড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েনের স্থান শনাক্ত করে তার ছবি প্রকাশ করে উত্তর কোরিয়া মূলত তার যুদ্ধ করার সক্ষমতার জানান দিল। এর মাধ্যমে আমেরিকার সঙ্গে দেশটির উত্তেজনা আরেক দফা বেড়ে গেল বলেই পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। সূত্র : ওয়েবসাইট

এফবিআইপ্রধান কোমিকে বরখাস্তে ট্রাম্পের সাফাই

এক টুইটার বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, জেমস কোমি রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট দু পক্ষেরই আস্থা হারিয়েছেন। সেজন্যেই তাকে বরখাস্ত করা হলো। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, জেমস কোমি কাজ ঠিক মতো করছিলেন না বলেই পদটি তাকে হারাতে হয়েছে। জেমস কোমিকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের ইমেইল কেলেঙ্কারিবিষয়ক তদন্ত যেভাবে তিনি চালাচ্ছিলেন সে কারণেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ডেমোক্র্যাটরা অবশ্য এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা বলছেন রাশিয়ার সাথে নির্বাচনের প্রচারণার সময় ট্রাম্প ক্যাম্পেইন দলের যে সম্পর্ক ছিলো সেটি নিয়ে জেসম কোমি যে তদন্ত করছিলেন সেটিই এখানে মুখ্য বিষয়। রাশিয়া মার্কিন নির্বাচনে কোনোভাবে হস্তক্ষেপ করেছে কিনা সেনিয়ে চলা এই তদন্তে বাধা দেয়াই তাকে বরখাস্ত করার পেছনের মুল কারণ। সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চার্লস শুমার এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, "কোমির বরখাস্ত হওয়ার বিষয়ে অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশেষ করে ট্রাম্প রাশিয়া সম্পর্কের বিষয়ে কোমি যে তদন্ত করছিলেন তার ভবিষ্যৎ কী হবে সে নিয়ে"। এই বরখাস্তের খবর নিয়ে ওয়াশিংটনের চলা তোলপাড়ের মধ্যেই সেখানে পৌঁছেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। ঠিক এই মুহূর্তে তার সফর কী ইংগিত বহন করে সেটি নিয়েও ভাবছেন অনেকে। সূত্র : বিবিসি

জঙ্গি আস্তানার সেই নারীর আত্মসমর্পণ

রাজশাহীর গোদাগাড়ীর ‘জঙ্গি আস্তানা’র সামনে অবস্থান নেয়া সুমাইয়া নামের এক নারী আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশের আহ্বানে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। গোদাগাড়ী থানার ওসি হিবজুর আলম মুন্সি যুগান্তরকে এ তথ্য দেন। তিনি জানান, সুমাইয়া ওই বাড়ির মালিক সাজ্জাদ হোসেন ওরফে মিষ্টুর মেয়ে। আত্মসমর্পণের পর তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান শুরু হলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বাড়িটি লক্ষ্য করে পানি নিক্ষেপ করে। এ সময় একযোগে ৬ জঙ্গি বের হয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী আবদুল মতিনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এক পর্যায়ে জঙ্গিরা আত্মঘাতী বোমার বিস্ফারণ ঘটালে নারীসহ ৫ জঙ্গি নিহত হয়। আর সুমাইয়া বাড়ি থেকে বের হয়ে তার সামনে অবস্থান নেন। পুলিশ তাকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাতে থাকে। এক পর্যায়ে বেলা সাড়ে ১০টার দিকে তিনি আত্মসমর্পণে সাড়া দেন। এছাড়া জঙ্গিদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত ফায়ার সার্ভিসের কর্মী আবদুল মতিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) মারা যান। এছাড়া জঙ্গিদের আত্মঘাতী বিস্ফোরণ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী,
এসআই লুৎফর রহমান ও কনস্টেবল উৎপল আহত হন। তাদের রামেকে ভর্তি করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত জঙ্গিদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে অভিযানের সময় বাড়ি থেকে দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। অজ্ঞাত এই শিশুদের একজনের বয়স ৫ বছর ও অপরজনের বয়স দেড় মাস। ঘটনাস্থলের এক বর্গকিলোমিটার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এখনও বাড়িটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ। বোম ডিজপোজাল ইউনিট এলে ভেতরে অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন ওসি। এর আগে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার দিনগত রাত পৌনে ২টা থেকে সাজ্জাদ ওরফে মিষ্টুর বাড়িটি ঘিরে রাখে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের গোদাগাড়ীর রেলগেট বাইপাস থেকে উত্তরে ৭ কিলোমিটার দূরে বেনীপুরে বাড়িটির মালিক সাজ্জাদ হোসেন ওরফে মিষ্টু। আগে তার বাড়ি ছিল একই ইউনিয়নের হাবাসপুরে। তিনি সম্প্রতি বেনীপুরে গিয়ে বাড়িটি করে সেখানে বসবাস করছেন। কৃষক মিষ্টুর বাবার নাম মৃত আব্দুর মাতিন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

বনানীতে দুই ছাত্রীর ধর্ষক নাঈমই সিরাজগঞ্জের হালিম

ঢাকার বনানীর হোটেলে দুই ছাত্রী ধর্ষণের  ঘটনায় অভিযুক্ত নাঈম আশরাফ হলেন সিরাজগঞ্জের এইচএম হালিম। প্রকৃতপক্ষে সে একজন প্রতারক। সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার গান্দাইল গ্রামের সাধারণ ফেরিওয়ালার ঘরে জন্ম হালিম নাম পরিবর্তন করে ঢাকায় বসবাস করছে। স্কুলজীবন থেকেই প্রতারণার কাজে তার হাতে খড়ি। এইচএম হালিম ওরফে নাঈম আশরাফের বাবা আমজাদ হোসেন একজন দিনমজুর। ফেরি করে থালা-বাটি বিক্রি করতেন। করেছেন কৃষি কাজও। বাবার নাম বদল করে হালিম বিয়ে করেছে ৩টি।
আগের ২ স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলেও তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার কালশি এলাকায় ভাড়াবাড়িতে বর্তমানে চলছে তার সংসার। কাজিপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিতে না থেকেও ব্যবহার করছে দলীয় পদ। দলের শীর্ষ নেতাদের ছবি দিয়ে লাগিয়েছে ব্যানার-ফেস্টুন। বনানীর হোটেলে ধর্ষণের ঘটনায় মিডিয়ায় ছবি প্রকাশের পর তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। বুধবার বিকালে কথিত নাঈম আশরাফের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার গান্দাইল গ্রামে গেলে এমন চিত্রই উঠে আসে। প্রতিবেশী সিএনজিচালক শামীম হোসেন জানান, ২০০৪ সালে গান্দাইল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে এইচএম হালিম (হাসান মোহাম্মদ হালিম)। এই স্কুলের ছাত্র থাকা অবস্থায় স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পরিচয় ব্যবহার করে রাজশাহী বোর্ড থেকে প্রশ্ন এনে ফেঁসে যায় সে।
এরপর ভর্তি হয় বগুড়া পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটে। সেখানে পড়াশুনা করা অবস্থায় সিরাজগঞ্জ শহরের এক প্রভাবশালী ঠিকাদারকে নিজের বাবা পরিচয় দিয়ে বিত্তশালী পরিবারের এক নারীকে বিয়ে করে। পরিচয় জানার পর মেয়ে পক্ষ হালিমকে মারপিট করে মেয়েকে ছাড়িয়ে নেয়। আর বগুড়া পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট কর্তৃপক্ষ তাকে কলেজ থেকে বের করে দেয়। এরপর সে ঢাকা তেজগাঁও পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটে ভর্তি হয়ে ডিপ্লোমা পাস করে। হালিমের এক ঘনিষ্ঠজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ইলেক্ট্রিক্যাল বিষয়ে ডিপ্লোমা পাস করার পর হালিম একুশে টিভিতে যায় ইন্টর্নি করতে। এরপর সেখানেই ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনে তার চাকরি হয়।’ চেক জালিযাতি করার কারণে তার চাকরি চলে যায়। পরে মোহনা টিভিতে একই পদে চাকরি নেয় সে। সেখানেও একই কারণে চাকরিচ্যুত হয় তার। বর্তমানে সে গান বাংলা টিভির ইলেক্ট্রিক্যাল বিভাগে কর্মরত বলে জানা গেছে। ঢাকার কালশি এলাকার সাংবাদিক কলোনীর পশ্চিম অংশে অবস্থিত এক্সটেনশন রূপপুরের ৪নং গলির ৫তলা ভবনের তৃতীয় তলার পেছনের অংশের একটি ফ্ল্যাটে নাঈম ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছে। প্রতিবেশী ও স্থানীয় সীমান্ত বাজারের পান দোকানী আবু সাঈদ বলেন, ‘ও (হালিম) জীবনে বহু মানুষকে নিজের বাবা বানিয়ে ‘অকাম-কুকাম’ করেছে। মিডিয়ায় তার বিষয়টি উঠে এসেছে এবার হযতো আর পার পাবে না।’ কাজিপুর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাহারুল ইসলাম জানান,
হালিম ছোট থেকেই এলাকায় থাকেনি। দলের মিছিল মিটিংও করেনি। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি পদ ব্যবহার করে এলাকায় ব্যানার-ফেস্টুন লাগানোর পর যুবলীগের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগও করা হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেই ব্যানার-ফেস্টুনগুলো এখনও অপসারণ করা হয়নি। কাজিপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হুদা মিষ্টি বলেন, ‘নাঈম আশরাফই আসলে হাসান মোহাম্মদ হালিম। দলের কমিটিতে আবদুল হালিম নামে যার নাম রয়েছে, সে আসলে এই হালিম নয়। কমিটিতে এই হালিমের কোনো নাম নেই। প্রতারণা করে ব্যানারে সে নিজের নাম ও পদবি ব্যবহার করছে।’ কাজিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল আমিন বলেন, ‘ছোট থেকেই হালিম প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। বাবা-মা এবং নিজের নাম বদল করে এর আগেও সে বেশ কয়েকটি অপকর্ম করেছিল, যার দেনদরবার আমাদের করতে হয়েছে।’ হালিমের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তালাবন্ধ টিনসেট বসতঘর পাওয়া গেলেও তার বাবা-মাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। কথা হয় তার দিনমজুর ছোট চাচা আবু বক্কার সিদ্দিক ও চাচী মাহমুদা খাতুনের সঙ্গে। পত্রিকায় ছাপানো ছবি দেখে তারা নিশ্চিত করেন এটাই হালিম।
তবে নাঈম আশরাফ প্রসঙ্গে তারা কিছু জানেন না। চাচী মাহমুদা খাতুন জানান, বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে হালিম দীর্ঘ ৫ বছর যাবৎ বাড়িতে আসে না। কিছুদিন হল সে তার বাবা-মাকে ঢাকায় নিয়ে গেছে। বাড়ির সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি জানান, বসতবাড়ি ও আবাদি জমি মিলে ১৭ শতক জায়গা আছে হালিমদের। আগে হালিমের বাবা ফেরি করে থালা-বাটি বিক্রি করতো। কৃষি শ্রমিক হিসেবেও মাঠে কাজও করেছে। মাহমুদা খাতুন আরও জানান, মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর আমরা জানতে পেরেছি ঢাকায় হালিমের ঝামেলা হয়েছে। এর আগে সে ধানমণ্ডিতে বিয়ে করেছিল। সে বউ চলে যাবার পর বরিশালের এক মেয়েকে বিয়ে করে এখন সংসার করছে। ধর্ষণের ঘটনা সত্য হলে ভাতিজার শাস্তি দাবি করেন হালিমের চাচা-চাচী। স্থানীয় গান্দাইল ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আশরাফুল আলম বলেন, ‘হালিম নাম পরিচয় গোপন করে ছাত্র অবস্থায় সে ঢাকার মোহাম্মদপুরে এক মেয়েকে বিয়ে করেছিল। ওই দরবার আমি নিজেও করেছি। সে বছরে ২/১ বার এলাকায় আসে। প্রতারণাই তার পেশা। ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকলে আমরা তার শাস্তি দাবি করছি।’

শীর্ষ সংঘাতময় ১০ দেশের আটটিই মুসলিম

বিশ্বের সবচেয়ে সংঘাতময় দেশগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে শীর্ষে থাকা ১০টি দেশের অন্তত আটটিই মুসলিম দেশ। তালিকাটি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস)। খবর সিএনএনের। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে যুদ্ধ বা দু’পক্ষের সরাসরি সংঘাতে প্রাণহানির দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে সিরিয়া। দেশটিতে গত এক বছরে ৫০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। সিরিয়ার পরই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে মেক্সিকোকে অভিহিত করা হয়েছে। দেশটিতে মাদকবিরোধী ‘যুদ্ধে’ মারা গেছে ২৩ হাজার মানুষ। যার বেশিরভাগই নির্দোষ ও মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল না। সংঘাতের দিক থেকে ইরাক ও আফগানিস্তানের চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা মেক্সিকোয়।
তালিকায় থাকা ১০টি দেশের মধ্যে থাকা দেশগুলো হচ্ছে- সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান, ইয়েমেন, তুরস্ক, নাইজেরিয়া, সুদান, দক্ষিণ সুদান ও নাইজেরিয়া। শীর্ষ সংঘাতপূর্ণ দেশের তালিকার তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা ইরাক ও আফগানিস্তানে গত বছর সংঘাতে মারা গেছেন যথাক্রমে ১৭ হাজার ও ১৬ হাজার মানুষ। পঞ্চম স্থানে থাকা ইয়েমেনে জাতিগত সংঘাতে মারা গেছেন ৭ হাজার। সোমালিয়ায় মারা গেছে সাড়ে তিন হাজার। সপ্তম স্থানে থাকা তুরস্কে সংঘাতে মারা গেছেন তিন হাজার মানুষ। নবম ও দশম স্থানে থাকা দক্ষিণ সুদান ও নাইজেরিয়ায় প্রাণ হারিয়েছেন যথাক্রমে ৩ হাজার ৯০ ও ৩ হাজার। ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বিশ্বব্যাপী সংঘাতে প্রাণহানির সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ২০১৬ সালে কিছুটা কম ছিল। গত বছর ১ লাখ ৫৭ হাজার মানুষ সংঘাতে মারা গেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ১০ হাজার কম। আর ২০১৪ সালে প্রাণহানি হয়েছিল ১ লাখ ৮০ হাজার।

ঝড়ে বিয়ে বাড়ির দেয়াল ধসে নিহত ২৬

ভারতের রাজস্থানে প্রচণ্ড ঝড়ে একটি বিয়ে বাড়ির দেয়াল ধসে চার শিশুসহ ২৬ জন নিহত ও কমপক্ষে ২৮ জন আহত হয়েছেন। বুধবার রাতে রাজস্থানের ভারতপুর জেলায় এ ঘটনা ঘটে। খবর এনডিটিভির। পুলিশ জানিয়েছে, বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন হঠাৎ করে প্রচণ্ড ঝড় শুরু হয়। এ সময় লোকজন হলরুমের সঙ্গে টিনশেডের ঘরে আশ্রয় নেন। এ সময় ঝড়ে হল রুম এবং টিনশেডের ঘরটি ভেঙে পড়লে ধ্বংসস্তূপের নিচে সবাই চাপা পড়েন। পুলিশের আইজি অলোক ভাসিতথা পিটিআইকে বলেন, ‘দেয়ালসহ গোটা ঘর ভেঙে পড়লে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা চাপা পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।’ পুলিশের এসপি অনিল তাঙ্ক বলেন, নিহতের মধ্যে ১১ জন পুরুষ, ৭ নারী ও ৪ শিশু রয়েছে। বিয়ে বাড়ির দেয়ালটি ৯০ ফুট লম্বা এবং ১২/১৩ ফুট চওড়া ছিল বলেও জানান তিনি। দেয়াল ধসে নিহতের ঘটনায় রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি আহতদের সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

মানুষের হাড়গোড় খাচ্ছে হরিণ!

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি বনে একটা হরিণকে মানুষের হাড়গোড় খেতে দেখা গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটাই হরিণের মানুষের হাড়গোড় খাওয়ার প্রথম কোনো ঘটনা। খবর ইন্ডিপেন্ডেন্টের। টেক্সাস স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা একটি সংরক্ষিত বনে প্রথমে ঘটনাটি আবিষ্কার করেন। ফরেনসিক অ্যানথ্রোপোলজি রিসার্চ ফ্যাসিলিটি নামের একটি গবেষণা প্রকল্পের আওতায় বনের মধ্যে লাশ কীভাবে পচে তা পর্যবেক্ষণ করছিলেন তারা। এ সময় পেতে রাখা স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরায় দৃশ্যটি ধরা পড়ে।
ফরেনসিক বিজ্ঞানীরা খেয়াল করেন, তাদের ফেলে রাখা লাশের হাড় খাচ্ছে একটি হরিণ। লাশের সঙ্গে প্রাণীরা কিভাবে আচরণ করে এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা সেটাও পর্যবেক্ষণ করেন। তবে সাদা লেজবিশিষ্ট হরিণটির আচরণ ওই বিজ্ঞানীদের কাছে অপ্রত্যাশিতই ছিল। হরিণ সাধারণত তৃণভোজী। তবে এরা ছোট্ট স্তন্যপায়ী প্রাণী বা পাখি এবং কোনো কোনো সময় অন্যান্য প্রাণীর মাংস খায় বলে জানা যায়। জার্নাল অব ফরেনসিক সায়েন্টিস্টসে প্রকাশিত ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, ‘ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবি হরিণের মানুষের হাড়গোড় খাওয়ার প্রথম কোনো প্রমাণ।’

আরেক ওয়াটারগেটের প্রতিধ্বনি

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাটকীয়ভাবে জেমস কমিকে বরখাস্ত করেছেন। বস্তুত ট্রাম্প যাকে বরখাস্ত করলেন তিনিই হয়তো তাকে প্রেসিডেন্ট হতে সাহায্য করেছিলেন, আবার তিনিই হয়তো তার প্রেসিডেন্সির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পর কোনো প্রেসিডেন্ট তাকে নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেননি। ফলে ট্রাম্পের মঙ্গলবারের শেষ রাতের ওই সিদ্ধান্তকে ‘শনিবার রাতের নিধনযজ্ঞের’ সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। ১৯৭৩ সালের অক্টোবরের সেই শনিবারে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন তার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ দলের কার্যক্রমে আড়িপাতার অভিযোগ তদন্তকারী বিশেষ প্রসিকিউটর আর্চিবলড কক্সকে বরখাস্ত করেছিলেন। তাতে অবশ্য নিক্সনের শেষ রক্ষা হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাকে পদ ছাড়তে হয়েছিল। ট্রাম্প কমিকে বরখাস্ত করার চিঠিতে যদিও দাবি করেছেন, তিনি তিন দফায় প্রেসিডেন্টকে বলেছেন যে তার বিরুদ্ধে রুশ সংযোগ নিয়ে তদন্ত হচ্ছে না। তার মানে ট্রাম্প আগেভাগেই বলতে চেয়েছেন কমিকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে নয়। তবে সত্য হচ্ছে, ট্রাম্প যথেষ্ট ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন। বিশেষ করে কমি প্রকাশ্যেই বলেছেন যে তার সংস্থা গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে তদন্ত করছে এবং জানার চেষ্টা করছে মস্কোর সঙ্গে ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কিনা। ট্রাম্পের পদক্ষেপে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট- উভয় দলের নেতারাই বিস্মিত হয়েছেন। তারা মনে করছেন, রাজনৈতিকভাবে বিস্ফোরক এ তদন্তের ওপর এটা একটি নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ,
যাতে উত্তেজনা আরও বাড়বে। তারা মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম চার মাসে ট্রাম্প প্রথাবিরোধী বহু পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে আলোচিত একটি ঘটনার তদন্তের মাঝামাঝি এসে এফবিআই পরিচালককে বরখাস্ত করে স্বাভাবিক সীমা অতিক্রম করেছেন। ট্রাম্প মনে করেছিলেন, হিলারি ক্লিনটনের ব্যক্তিগত ইমেইল কেলেঙ্কারি তদন্ত নিয়ে গত বছর কমি যেসব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তাতে তাকে বরখাস্ত করায় ডেমোক্রেটরা সমর্থন করবেন, অন্তত মেনে নেবেন। কিন্তু তিনি ভুল হিসাব কষেছেন। ডেমোক্রেটরা তার পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন এবং দাবি তুলেছেন, প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে রুশ সংযোগের স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ কাউন্সিল গঠন করতে হবে। ট্রাম্পের পদক্ষেপে এ সন্দেহই প্রকাশ পেল যে তিনি কিছু লুকাতে চান এবং সহকর্মী রিপাবলিকানদের সঙ্গে তার সম্পর্ক তিক্ত হতে পারে। কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়া তারা হয়তো ট্রাম্পকে রক্ষায় এগিয়ে আসবে না। রিপাবলিকান নেতারাও দাবি তুলেছেন, প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেট গোয়েন্দা কমিটির তদন্তের পরিবর্তে রুশ অধ্যায়ের তদন্তে স্বাধীন কমিশন অথবা বিশেষ কংগ্রেস কমিটির তদন্ত। কমির পরিবর্তে ট্রাম্প যাকেই নিয়োগ দেবেন, তার ব্যাপারে সন্দেহ দানা বাঁধবে। ট্রাম্প বলছেন, হিলারির ইমেইল তদন্ত ইস্যুতে তিনি কমিকে বরখাস্ত করেছেন। হিলারিকে জেলে পাঠাতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। হিলারির প্রচার ম্যানেজার জন ডি পোডেস্টা বলেন, হিলারি ক্লিনটনের ইমেইল নিয়ে তিনি যেভাবে তদন্ত করছিলেন সেকারণে কমিকে বরখাস্ত করার দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয়। কাজেই এখন স্বাধীন তদন্তের প্রয়োজন আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি।
ট্রাম্প যদিও বলছেন, অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ শেসন্সের সুপারিশের ভিত্তিতে তিনি কমিকে বরখাস্ত করেছেন, যার নিজের বিরুদ্ধেও রুশ সংযোগের অভিযোগ রয়েছে। তবে ট্রাম্প রুশ সংযোগ নিয়ে কমির বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ চাপা রাখতে পারেননি। সোমবার টুইটারে তিনি বলেছেন, রাশিয়া-ট্রাম্প মাখামাখি পুরোটাই ধাপ্পাবাজি। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত এ নাটকের অবসান হবে কবে? এক্ষেত্রে ওয়াটারগেটের তুলনা অনিবার্য। বিশেষ প্রসিকিউটর কক্স যখন নিক্সনকে তলব করেন যে হোয়াইট হাউসের টেপের কপি দেখাতে হবে, তখন প্রেসিডেন্ট তাকে বরখাস্ত করেছিলেন। তবে তখনকার অ্যাটর্নি জেনারেল ইলিয়ট রিচার্ডসন এবং তার সহকারী উইলিয়ামন রাকেলশস তাতে সম্মতি জানাতে অস্বীকৃতি জানান। বিচার বিভাগের তৃতীয় পদ মর্যদার কর্মকর্তা সলিসিটর জেনারেল রবার্ট এইচ বর্ক প্রেসিডেন্ট নিক্সনের সঙ্গে একমত হন এবং কক্সকে বরখাস্ত করা হয়। ট্রাম্পের পদক্ষেপকে ডেমোক্রেটরা ওয়াটারগেটের সঙ্গেই তুলনা করছেন। ডেমোক্রেটিক সিনেটর বব কেসি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এটা নিক্সনিয়ান (নিক্সনের পদক্ষেপতুল)।’ আর ডেমোক্রেটিক সিনেটর রিচার্ড ব্ল–মেন্থাল বলেন, ‘ওয়াটারগেটের পর আমাদের বিচার ব্যবস্থা এভাবে হুমকির মুখে পড়েনি এবং এ ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও একনিষ্ঠতার ওপর আমাদের বিশ্বাসে এভাবে ঝাঁকুনি খায়নি।’ এমনকি ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ রজার জে স্টোন জুনিয়র বলেছেন, নিক্সন এখন হাসছেন। একজন টুইটার ব্যবহারকারী বলেছেন, ট্রাম্প নিক্সনেকও ছাড়িয়ে গেছেন। নিউইয়র্ক টাইমস।

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত

আজ পবিত্র ‘লাইলাতুল বরাত’। আরবিতে ‘লাইলাতুল’ অর্থ রাত, আর ‘বরাত (বারাআতুন)’ শব্দের অর্থ মুক্তি। অর্থাৎ মুক্তির রজনী। এটিকে শবেবরাতও বলা হয়ে থাকে। ফারসি ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ শব্দের অর্থ সৌভাগ্য। সে অর্থে সৌভাগ্যের রজনী। হিজরি বর্ষের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত অর্থাৎ ১৫ শাবানের রাতটি (হিজরি সনের গণনা শুরু চন্দ্রোদয় থেকে) বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ মুক্তির রাত বা সৌভাগ্যের রাত হিসেবে পালন করে। মর্যাদাপূর্ণ এ রাতে মহান আল্লাহতায়ালা বান্দাদের জন্য তার ক্ষমা ও অশেষ রহমতের দরজা উন্মুক্ত করে দেন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পরম করুণাময়ের অনুগ্রহ লাভের আশায় আজ বেশি বেশি নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকিরে মগ্ন থাকবেন। দান-খয়রাত করবেন। বিগত জীবনের পাপ মার্জনা এবং ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনা করে আল্লাহর দরবারে বিশেষ মোনাজাত করবেন। অনেক দীনদার মজলুম আজ রোজা রেখেছেন, রাখবেন কালও। সন্ধ্যার পর অনেকে যাবেন কবরস্থানে। চিরনিদ্রায় শায়িত আপনজনদের আত্মার মাগফিরাত চেয়ে দোয়া করবেন। ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি অনেক বাড়িতেই এদিন বিভিন্ন রকমের হালুয়া, ফিরনি, রুটিসহ সুস্বাদু খাবার তৈরি করা হবে। এসব খাবার বিতরণ করা হবে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও গরিব-দুঃখীর মধ্যে। তবে আলেম-উলামারা এসবের চেয়ে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল হওয়ার প্রতি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই সঙ্গে শবেবরাত নিয়ে বাড়াবাড়ি কিংবা অবহেলা করতেও না করেছেন তারা। আলোকসজ্জা ও পটকাবাজি অর্থাৎ অপব্যয় ও ইবাদতে বিঘ্ন ঘটায় এমন কাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। আরবি দিনপঞ্জিকা অনুসারে শাবান মাসের পর আসে পবিত্র রমজান মাস। শবেবরাত মুসলিমদের কাছে রমজানের আগমনী বার্তা বয়ে আনে। তাই এ রাত থেকে আসন্ন রমজানের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে যায়। পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। এসব বাণীতে তারা মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য, দেশ-জাতির কল্যাণ ও বিশ্বশান্তি কামনা করেছেন। রাষ্ট্রীয় নিয়মানুসারে শবেবরাতের পরদিন সরকারি ছুটি থাকে। কিন্তু কাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় পৃথক ছুটি থাকছে না। তবে আজ বৃহস্পতিবার সংবাদপত্রের ছুটি। এ কারণে কাল সংবাদপত্র প্রকাশিত হবে না। যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র শবেবরাত পালনের জন্য বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কর্মসূচি নিয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আজ বাদ মাগরিব থেকে রাতব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘শবেবরাতের তাৎপর্য’, ‘ইবাদত ও দোয়ার গুরুত্ব’, ‘রমজানের তাৎপর্য’, ‘জিকিরের ফজিলত’ এবং ‘তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব’ বিষয়ে আলোচনা। কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত ও বিশেষ মোনাজাত। এছাড়া সারা দেশের প্রায় সব মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

আমাদের রক্তাক্ত দেখে ওরা অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে



‘ধর্ষকদের নির্যাতনে শেষ রাতের দিকে আমরা দুই বান্ধবী রক্তাক্ত হয়ে রুমের মেঝেতে পড়ে আছি। যন্ত্রণায় ছটফট করছি। অথচ আমাদের এমন অসহায় অবস্থা দেখে ওরা (ধর্ষক) তখন সিনেমার খলনায়কের মতো হো হো করে হাসতে থাকে। আমরা তাদের পা ধরে কান্নাকাটি করে বলি, আল্লাহর দোহাই, অনেক হয়েছে। আর না। এবারের মতো আমাদের ছেড়ে দাও। আমরা বাড়ি যাব। এ কথা শুনে সাফাত আমার বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে বলে, ‘একদম চুপ। বেশি চিৎকার করলে তোদের আজ মেরেই ফেলব।’ রাজধানীর বনানীর অভিজাত হোটেলে ধর্ষণের শিকার দুই তরুণী বুধবার যুগান্তরের কাছে বর্বরতম নির্যাতনের এমন লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে তারা বলেন, আমরা সেই রাতের কথা ভুলে যেতে চাই। কারণ আমাদের কাছে ওই রাতটি বিভীষিকাময় এক দুঃস্বপ্নের রাত। এমন রাত যেন আর কোনো নারীর জীবনে না আসে। এদিকে সূত্র জানায়, ঘটনার দিন রেইনট্রি হোটেলে জনৈক প্রভাবশালী সরকারদলীয় এমপির ছেলে মাহিন হারুনের শেল্টার পান তিন ধর্ষক।
থানায় জেরা ছিল ধর্ষণের মতো : দুই তরুণী বলেন, ধর্ষকদের অব্যাহত হুমকির মুখে বনানী থানায় অভিযোগ দিতে গিয়েও আমরা হেনস্থার শিকার হয়েছি। থানার ওসি (বিএম ফরমান আলী) আমাদের ৩ দিন ঘুরিয়েছেন। ধর্ষণের অভিযোগ তিনি নিতে রাজি হননি। আমরা প্রতিদিন সকালে থানায় যেতাম। ডিউটি অফিসারের সামনে ঘণ্টাখানেক বসে থাকার পর ওসির রুমে আমাদের ডাক পড়ত। ওসি একা দরজা লাগিয়ে তার কক্ষে বসে আমাদের মুখে ধর্ষণের বর্ণনা শোনেন। ঘটনার বিষয়ে বারবার একই প্রশ্ন করেন। ‘কিভাবে হল’, ‘কেমন করে হল’ এসব অশ্লীল প্রশ্ন করেন তিনি। মতিন নামের আরেক পুলিশ কর্মকর্তা আমাদের প্রশ্ন করেন, তোমরা প্রতিবাদ করনি কেন? হোটেলে গিয়েছিলে কেন। এর আগে এভাবে কোন কোন হোটেলে গিয়েছিলাম- এ রকম অবান্তর প্রশ্ন করেন তিনি। পুলিশের এসব প্রশ্ন শুনে আমরা লজ্জা ছাড়াও আরেক দফা ধর্ষণের মতো পরিস্থিতির শিকার হয়েছি। আমরা অনেক কিছু খোলামেলা বলতে না চাইলে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ধর্ষণের মামলা করতে হলে সব খুলে বলতে হবে। একপর্যায়ে সব শুনে ওসি আমাদের বলেন, ‘তোমরা তো খারাপ মেয়ে। বড় লোকের ছেলেকে ফাঁসাতে ধর্ষণের মামলা করতে চাইছ।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে ধর্ষিত তরুণী বলেন, ‘একজন পুলিশ কর্মকর্তা এত নির্লজ্জ হতে পারেন?’ তিনি বলেন, ‘থানা পুলিশের ভাবটা এমন ছিল যে, আমরা খারাপ মেয়ে, হোটেলে গিয়ে ধর্ষিত হয়েছি তাতে এমন কি ক্ষতি হয়েছে। আর আমরা যেহেতু খারাপ মেয়ে তাই আমাদের এখন পুলিশকেও খুশি করতে হবে। অথচ আমরা যথাসাধ্য প্রমাণ নিয়ে থানায় গেছি।’ একজন তরুণী বলেন, বলতে পারেন থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে আমরা পুলিশের হাতে ফের ধর্ষণের শিকার হয়েছি।
যেভাবে ভিডিও ধারণ : ধর্ষণের ভিডিও ধারণ প্রসঙ্গে এক তরুণী বলেন, রেইনট্রি হোটেলের ৭০২ নং স্যুটে (বিলাসবহুল কক্ষ) সাফাত, নাঈম ও সাকিফ প্রায় প্রতিদিনই আড্ডা মারত। ওই রুমেই আমাদের ধর্ষণ করা হয়। রুমের ভেতর দেয়ালের সঙ্গে লাগানো একটা কাচের আলমারি আছে। আলমারির দরজা খুললে পেছনে কাচ ঘেরা ওয়াশ রুমটা পরিষ্কার দেখা যায়। একইভাবে ওয়াশ রুম থেকে আলমারির দরজা খুললে বেডরুমে কি হচ্ছে সেটাও দেখা যায়। আমাদের যখন ধর্ষণ করা হয় তখন সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ওই আলমারির পেছন থেকে ভিডিও করে। এটা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। একজন তরুণী বলেন, আমরা বিদেশি মুভিতে (সিনেমায়) এসব দেখেছি। কিন্তু একবারও ভাবিনি এমনটা আমাদের জীবনে ঘটে যাবে। এক প্রশ্নের উত্তরে মামলার বাদী বলেন, সাফাত একা আমাকে কয়েক দফা ধর্ষণ করে। কিন্তু আমার বান্ধবীকে ধর্ষণ করে দু’জন মিলে। যন্ত্রণায় সে চিৎকার করছিল। কিন্তু আমি তার জন্য কিছুই করতে পারছিলাম না। কারণ সাফাত বারবার তার গান (আগ্নেয়াস্ত্র) আমাদের দিকে তাক করছিল। পরে বান্ধবীকে বলেছি, ‘সরি দোস্ত, তোকে সেফ করতে পারলাম না।’ মামলার বাদী বলেন, পুলিশকে এসব বলার পর তারা আমাদের সঙ্গে নিয়ে ওই হোটেলে যায়। আমরা ওই রুমে গিয়ে পুলিশকে সব দেখিয়েছি। কিন্তু পুলিশ নিজে থেকে ওই হোটেলে যেতে চায়নি। এক তরুণী বলেন, হোটেল থেকে এসব দেখেশুনে পুলিশ সাফাতের বাবার সঙ্গে দেখা করে। এরপর কাউকে গ্রেফতার না করে সেখান থেকে চা-নাস্তা খেয়ে চলে আসে। পুলিশের এমন আচরণে আমরা চরম ডিসঅ্যাপয়েন্টেটেড (বিব্রত) হয়েছি।
আমরা জানি, প্রভাবশালীর ছেলে বলে ওদের গ্রেফতার করবে না পুলিশ। ধর্ষণের শিকার তরুণী বলেন, ২৯ মার্চ সকালে হোটেল থেকে আমরা বেরিয়ে আসি। দু’দিন পর ৩১ মার্চ সাফাত আমাকে ফোন করে। সে ফের ওই হোটেলে যেতে বলে। সাফাত বলে তোরা না এলে ভিডিওটা ইউটিউবে ছেড়ে ভাইরাল করে দেব। হোটেলে যাওয়ার জন্য বারবার ফোন করছিল সাফাত। আমি তাকে বললাম, ‘তুমি যে ভিডিও ইউটিউবে দেবে সেখানে তো তোমার ছবিও আছে। হো হো করে হেসে সাফাত বলল, ‘ভিডিও এডিট করে আমাদের ছবি ঢেকে ইন্টারনেটে ছাড়ব। একথা শুনে আমরা হতবাক। এরপর আমরা নিরুপায় হয়ে নাঈম ও সাফাতের জুনিয়র সাকিফের (রেগনাম সেন্টারের মালিক মোহাম্মদ জনির ছেলে) মাধ্যমে সবকিছু মিটমাট করতে চেয়েছি। একদিন তেজগাঁওয়ের পিকাসো হোটেলে আমরা বসলাম। সেখানে ভিডিও ডিলিটের কথা বলতেই সাফাত ও নাঈম ক্ষেপে গেল। নাঈম বলল, ওদের এখনই চলে যেত বল। আমার কিন্তু মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আমরা পুরুষ। আমাদের ভিডিও ইন্টারেনেটে ছাড়লেও কিচ্ছু হবে না। কিন্তু ওদের সবাই পতিতা বলবে। এটা ওদের জানা দরকার।
আমি ২০ খুনের আসামি : এভাবে আমরা যখন বিষয়টি সুরাহা করতে পারলাম না। তখন পুলিশের কাছে অভিযোগ দেয়ার কথা বললাম। পুলিশের কাছে যাচ্ছি শুনে সাফাত বলল, ‘জানিস আমি ২০টি খুনের আসামি। পুলিশ আমার পকেটে থাকে। আমাদের স্বর্ণের ব্যবসা। আমরা হলাম দেশের সবচেয়ে বড় স্মাগলার। জানিস না আমার বাবার হাত কত লম্বা। এক তরুণী বলেন, এমন হুমকি পেয়ে একবার আমরা আত্মহত্যার কথাও ভেবেছি। এরপর ভেবেছি, না আমরা মরে গেলে কোনো লাভ হবে না। ওরা অনেক মেয়ের সর্বনাশ করবে। এক তরুণী বলেন, ওরা পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট। হলি আর্টিজানের জঙ্গিরাও ওদের চেয়ে অনেক ভালো। কারণ জঙ্গিরা মেয়েদের মেরে ফেলেছিল। কিন্তু সাফাতদের মতো পশুদের কারণে আমাদের সারাটা জীবন বিষাক্ত হয়ে গেল। বাকি জীবন আমাদের এ যন্ত্রণা বয়ে বেড়াতে হবে। সমাজও আমাদের মেনে নেবে না। ধর্ষিতা বলবে। সাফাতের সঙ্গে বন্ধুত্ব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে একজন তরুণী বলেন, আমাদের পূর্বপরিচিত সাকিফ ভাইয়াদের বিল্ডিংয়ে পিকাসো রেস্টুরেণ্ট। সেখানে আমরা মাঝে মাঝে খেতে যেতাম। ওই রেস্টুরেন্টে একদিন এক অনুষ্ঠানে সাফাত ও নাঈমের সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয় সাকিফ। এরপর ওরা ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়। মাঝে মাঝে ফোন করে। এভাবে ওদের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়। এ বন্ধুত্ব ২ বছরের। কিন্তু মানুষ চেনা সত্যি মুশকিল। কারও ভেতর দেখে তো বন্ধুত্ব করা যায় না।
আমাদের রক্ষিতা বানাতে চেয়েছিল : ক্ষুব্ধ কণ্ঠে এক তরুণী বলেন, ধর্ষণের ভিডিও করে ওরা আমাদের রাখেল (রক্ষিতা) বানিয়ে রাখতে চেয়েছিল। যখন ওরা ডাকবে আমরা যেতে বাধ্য হব। ওরা এভাবে আরও অনেক মেয়ের সর্বনাশ করেছে। কেউ মুখ খোলেনি। তিনি বলেন, বারিধারায় সাফাতের একটা ফ্ল্যাট আছে। সেখানে নাঈম আর সাফাত মদপান করিয়ে মেয়েদের সর্বনাশ করে। কিন্তু ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। টাকার জন্য বড় লোকের ছেলেকে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ প্রসঙ্গে বাদী বলেন, ‘আমরা ব্ল্যাকমেইল করতে চাইলে ওরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে কেন। ওরা পুলিশের সামনে আসুক। বলুক অভিযোগ মিথ্যা। এতদিন পর কেন অভিযোগ করলেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা এতদিন মান-সম্মান ও পরিবারের কথা ভেবে চুপ ছিলাম। কিন্তু ভিডিও ছাড়ার ভয় দেখিয়ে সাফাত আর নাঈম আমাদের ব্যবহার করতে চাইছিল। সাফাতের বডিগার্ড অস্ত্র নিয়ে আমাদের ফ্ল্যাটের নিচে পাহারা দিত। দারোয়ানের কাছে জিজ্ঞেস করত আমরা কোথায় যাই, কি করি ইত্যাদি। আমরা এসব আর সহ্য করতে পারছিলাম না।
এ কেমন বাবা : ধর্ষণের শিকার তরুণী বলেন, সাফাতের বাবা দিলদার আহমেদ সেলিম নাকি বলেছেন, হোটেলে যা হয়েছে তা আমাদের সম্মতিতেই হয়েছে। একজন বাবা এমন কথা কিভাবে বলেন? ছেলের এমন নারী কেলেঙ্কারি বাবা হয়ে কিভাবে সাপোর্ট করেন? আজ যদি আমি ছেলে হয়ে এমন ঘটনা ঘটাতাম তবে কি আমার বাবা আমাকে সাপোর্ট করতেন? হোটেলে মদ খেয়ে মাতাল অবস্থায় নারী ধর্ষণ কি সমঝোতা করে হয়। স্বেচ্ছায় পার্টিতে যোগ দেয়া প্রসঙ্গে মামলার বাদী বলেন, মিডিয়ায় এসেছে আমরা নাকি গভীর রাতে সাফাতের পার্টিতে গিয়েছিলাম। আসলে দাওয়াত আর পার্টি কিন্তু ভিন্ন জিনিস। আমরা গেছি সাফাতের জন্মদিনের দাওয়াতে। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখি সাফাত তার বন্ধুদের সঙ্গে বসে ড্রিঙ্ক করছে। তাদের পাশে আরও তিনটা মেয়ে বসা। নাঈম একটু পরপর ইয়াবা সেবন করছিল। এমন পরিস্থিতি দেখে আমরা যখন চলে আসতে চাইলাম তখনই বিপত্তি ঘটল। ওরা আমাদের রুমের ভেতর আটকে ফেলল। মোবাইল ফোন ও গাড়ির চাবিও ওরা কেড়ে নেয়। আমরা চিৎকার করেছি। হোটেলের লোকজন শুনেছে। কিন্তু তারা এগিয়ে আসেনি। কারণ টাকার বিনিময়ে সাফাতের কাছে হোটেল কর্মচারীরা বিক্রি হয়েছিল।
কঠোর শাস্তি চাই : মামলার বাদী বলেন, আমাদেরকে সমাজ আর কখনোই মেনে নেবে না। আমাদের দিকেই আঙুল তুলবে। পতিতা বলবে। কিন্তু আমরা ধর্ষকদের শাস্তি চাই। আমরা জানি, পুলিশ ওদের কিছুই করবে না। তাই আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ন্যায়বিচার চাই। কারণ উনিও একজন মেয়ে ও একজন মা। প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাই, তিনি যেন ধর্ষকদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। তাদের যেন কঠোর শাস্তি দেয়া হয়।

রাজশাহীতে জঙ্গিদের হামলায় আহত দমকলকর্মীর মৃত্যু

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানকালে জঙ্গিদের হামলায় আহত ফায়ার সার্ভিসের কর্মী আবদুল মতিন মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পুলিশের এই অভিযানে এক নারীসহ ৪ জঙ্গি নিহত হয়েছেন। গোদাগাড়ী থানার ওসি হিবজুর আলম মুন্সি যুগান্তরকে এসব তথ্য দেন। তিনি জানান, ঘিরে রাখা বাড়িতে সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পানি নিক্ষেপ করে। এ সময় একযোগে নারী ও শিশুসহ ৬ জঙ্গি বাড়ি থেকে বের হয়ে আসে। এদের মধ্যে কয়েকজন শাবলসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী আবদুল মতিনের ওপর হামলা করে। তারা শাবল দিয়ে খুঁচিয়ে মতিনকে গুরুতর জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মতিনের মৃত্যু হয়।
ওসি আরও জানান, এরপর সেখানে জঙ্গিদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলি হয়। এক পর্যায়ে তারা আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে নারীসহ ৪ জঙ্গির মৃত্যু হয়। এ সময় বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে উৎপল নামে পুলিশের এক কনস্টেবলও আহত হন বলে জানান ওসি। এর আগে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার দিনগত রাত পৌনে ২টা থেকে সাজ্জাদ ওরফে মিষ্টুর বাড়িটি ঘিরে রাখে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের গোদাগাড়ীর রেলগেট বাইপাস থেকে উত্তরে ৭ কিলোমিটার দূরে বেনীপুরে বাড়িটির মালিক সাজ্জাদ হোসেন ওরফে মিষ্টু। আগে তার বাড়ি ছিল একই ইউনিয়নের হাবাসপুরে। তিনি সম্প্রতি বেনীপুরে গিয়ে বাড়িটি করে সেখানে বসবাস করছেন। কৃষক মিষ্টুর বাবার নাম মৃত আব্দুর মাতিন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

রাজশাহীতে অভিযান, নারীসহ ৫ জঙ্গি নিহত

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ‘জঙ্গি আস্তানায়’ পুলিশের অভিযানে এক নারীসহ ৫ জঙ্গি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে অভিযানকালে জঙ্গিদের হামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের চারজন আহত হয়েছেন। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত ফায়ার সার্ভিসের কর্মী আবদুল মতিন মারা গেছেন। বাকি আহতরা হলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী, এসআই লুৎফর রহমান ও কনস্টেবল উৎপল। তাদের রামেকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত জঙ্গিদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে অভিযানের সময় বাড়ি থেকে দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। অজ্ঞাত এই শিশুদের একজনের বয়স ৫ বছর ও অপরজনের বয়স দেড় মাস। ঘটনাস্থলের এক বর্গকিলোমিটার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এখনও বাড়িটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ। গোদাগাড়ী থানার ওসি হিবজুর আলম মুন্সি যুগান্তরকে এসব তথ্য দেন। তিনি জানান, ঘিরে রাখা বাড়িতে সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পানি নিক্ষেপ করে। এ সময় একযোগে নারী ও শিশুসহ ৬ জঙ্গি বাড়ি থেকে বের হয়ে দমকল কর্মী আবদুল মতিনকে শাবলসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এরপর সেখানে তাদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলি হয়। এক পর্যায়ে জঙ্গিরা আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে নারীসহ ৫ জঙ্গির মৃত্যু হয়।
এ সময় বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী, এসআই লুৎফর রহমান ও কনস্টেবল উৎপল আহত হন। তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। ওসি আরও জানান, বাড়িটির সামনে আরেক নারী অবস্থান নিয়েছে। পুলিশ তাকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাচ্ছে। এর আগে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার দিনগত রাত পৌনে ২টা থেকে সাজ্জাদ ওরফে মিষ্টুর বাড়িটি ঘিরে রাখে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের গোদাগাড়ীর রেলগেট বাইপাস থেকে উত্তরে ৭ কিলোমিটার দূরে বেনীপুরে বাড়িটির মালিক সাজ্জাদ হোসেন ওরফে মিষ্টু। আগে তার বাড়ি ছিল একই ইউনিয়নের হাবাসপুরে। তিনি সম্প্রতি বেনীপুরে গিয়ে বাড়িটি করে সেখানে বসবাস করছেন। কৃষক মিষ্টুর বাবার নাম মৃত আব্দুর মাতিন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

গোদাগাড়ীতে ‘জঙ্গি’ ধরতে বাড়ি ঘিরে পুলিশের অবস্থান

রাজশাহী গোদাগাড়ীর মাটি এলাকার বেনীপুরে ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে একটি বাড়ি ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার দিনগত রাত পৌনে ২টা থেকে সাজ্জাদ ওরফে মিষ্টুর বাড়ির চারপাশে পুলিশ অবস্থান নেয়। উত্তরাঞ্চলে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের সমন্বয়কারী বগুড়ার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশও সেখানে অবস্থান নিয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত রাজশাহী জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, রাতে বগুড়া, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের সমন্বয়ে জঙ্গিবিরোধী অভিযান শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সকালেও বাড়িটির চারপাশ ঘিরে অবস্থান করছে পুলিশ।
অভিযানের অগ্রগতি, কতজন জঙ্গি অবস্থান করছে ইত্যাদি বিষয় গণমাধ্যমকে দিনের আরও পরে জানানো হবে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এদিকে, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের গোদাগাড়ীর রেলগেট বাইপাস থেকে উত্তরে ৭ কিলোমিটার দূরে বেনীপুরে বাড়িটির মালিক সাজ্জাদ হোসেন ওরফে মিষ্টু। আগে তার বাড়ি ছিল একই ইউনিয়নের হাবাসপুরে। তিনি সম্প্রতি বেনীপুরে গিয়ে বাড়িটি করে সেখানে বসবাস করছেন। কৃষক মিষ্টুর বাবার নাম মৃত আব্দুর মাতিন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রশিবির সভাপতিসহ তিন শিবির নেতা গ্রেফতার

কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রশিবির সভাপতিসহ তিন শিবির নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে সদর উপজেলার দক্ষিণ মারি গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি খোন্দকার শওকত জাহান। গ্রেফতার শিবির নেতাদের মধ্যে রয়েছেন জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, পৌর ছাত্রশিবির সভাপতি মো. মাসুম ও মহিনন্দ ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. মোস্তাকিম। তাদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ভোটার তুষ্টির বাজেট দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী

নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার তুষ্টির বাজেট দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। যদিও রাজস্ব আদায়ে নেয়া হচ্ছে উচ্চভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা। কিন্তু নতুন করে করের বোঝা জনগণের ওপর চাপবে না- এমন আভাস দিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিতর্কিত ভ্যাট আইন নিয়ে বড় চাপে ছিলেন অর্থমন্ত্রী। তবে বুধবারই তিনি ভ্যাট আইনে ‘স্বস্তির’ ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে সবকিছুরই ফয়সালা হবে আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এক বাজেট প্রস্তুতি বৈঠকে। মূলত অর্থমন্ত্রী এবং এনবিআরের সঙ্গে বৈঠকটি হবে। তবে একাধিক সিনিয়র মন্ত্রী এ সময় উপস্থিত থাকবেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বৈঠকেই আগামী বাজেটের সম্ভাব্য আকার ও রাজস্ব প্রস্তাবের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রস্তাবিত বাজেটে জনগণের ওপর নতুন করে কোনো করের বোঝা চাপানো হবে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে সে বিষয়ে পদক্ষেপ থাকবে। বিশেষ করে বিতর্কিত ভ্যাট আইন সংশোধনের মাধ্যমে বিদ্যমান ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশ করা হচ্ছে। এতে পণ্য উৎপাদন এবং পণ্যমূল্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। যার সুফল পাওয়া যাবে আগামী নির্বাচনে।
জানা গেছে, আগামী বাজেটে রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে জিডিপির ১২ দশমিক ২ শতাংশ। যা চলতি বছর ছিল ১০ দশমিক ২ শতাংশ। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সক্ষমতা অর্জনসহ ১৭টি বিষয় অগ্রাধিকার পাচ্ছে। বাড়ছে সব ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ও ভাতার পরিমাণ। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভর্তুকির পরিমাণও বাড়ানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় বাজেটের রূপরেখা তৈরি করেছে। সূত্রমতে, আগামী বাজেট সরকারের নীতি ও অগ্রাধিকার ‘প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০১০-২০২১’ রচনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং এসডিজিতে (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য) নির্ধারিত লক্ষ্য ও অগ্রাধিকারগুলো বাস্তবায়নের প্রতিফলন ঘটানো হবে বাজেটে। চলতি অর্থবছরের ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের সফলতাকে ভিত্তি ধরে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের দিকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। ফলে নতুন বাজেটে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। জানতে চাইলে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান যুগান্তরকে বলেন, জনগণকে সন্তুষ্ট করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে আগামী বাজেটে। সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের ফলনও থাকছে। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো বাজেটে প্রতিফলিত হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, আগামী বাজেটে রাজস্ব বাড়াতে ছয় ধরনের কৌশল নিচ্ছে সরকার। এর মধ্যে করের পরিধি সম্প্রসারণ, কর অব্যাহতির পরিমাণ হ্রাস, নতুন নতুন ক্ষেত্র শনাক্ত করে করারোপ, নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নসহ অটোমেশন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা। এ ছাড়া নন-এনবিআর রাজস্ব আদায়ে হালনাগাদকৃত রেট অনুযায়ী আদায় বাড়ানোর উদ্যোগ, কর ব্যতীত প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ফি ও রেট পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়া চলমান রেখে সে অনুযায়ী আদায় কার্যক্রম জোরদার করা হবে। সূত্রমতে, আগামী বাজেটের সম্ভাব্য আকার হচ্ছে ৪ লাখ ২৬৭ কোটি টাকা এবং মোট রাজস্ব আয় ২ লাখ ৭১ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা। যা জিডিপির ১০ দশমিক ৬ শতাংশ। ঘাটতি বাজেটের আকার দাঁড়ায় ১ লাখ ২৯ হাজার ১২ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। মোট রাজস্ব আয়ের মধ্যে এনবিআর কর হচ্ছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ১৭ কোটি টাকা, নন-এনবিআর কর হচ্ছে ৮ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা এবং কর ব্যতীত প্রাপ্তি ২৭ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া বাজেটে অনুন্নয়ন খাতে ব্যয়ের সম্ভাব্য লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। যা জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) ১১ দশমিক ১ শতাংশ। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা খাতে ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে ৫৭ হাজার কোটি টাকা। ভর্তুকি খাতে ব্যয় হবে সাড়ে ২৭ হাজার কোটি টাকা। বাকি ব্যয় ধরা হয়েছে দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ, পেনশন গ্র্যাচুইটি, প্রণোদনাসহ আনুষঙ্গিক খাতে।
নতুন বাজেটে মানবসম্পদ উন্নয়নসহ ১৭টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে- স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ও দক্ষতা উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সড়ক, রেলপথ ও বন্দরসহ সার্বিক ভৌতকাঠামা উন্নয়ন। এ ছাড়া কৃষি ও পল্লী উন্নয়নসহ কর্মসৃজনকেও অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এ বছর জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সক্ষমতা অর্জনকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সর্বশেষ গুরুত্বের তালিকায় রয়েছে বহির্বিশ্বের অর্থনৈতিক সুযোগ অধিকতর ব্যবহার ও প্রবাস আয় বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন রফতানির বাজার সৃষ্টি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লা আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। আগামীতে জলবায়ু মোকাবেলায় বিশেষ বরাদ্দ থাকবে। ভর্তুকির পরিমাণ বাড়লেও জ্বালানিতে ভর্তুকি কমবে। এটি অর্থনীতির স্বস্তির বিষয় হবে। সূত্রমতে, আগামী অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্র্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে ব্যয় বাড়বে ৬ হাজার ৮২০ কোটি টাকা। এ জন্য এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ভর্তুকি খাতেও ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত এ বরাদ্দ জিডিপির ১ দশমিক ২ শতাংশ। জানা গেছে, আগামী বাজেটে ঘাটতি পূরণ করতে ব্যাংকিং ঋণ নেয়া হবে প্রায় ৪৯ হাজার কোটি টাকা এবং ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে ২৫ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া বৈদেশিক ঋণ নেয়ার সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা ৫৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ও অনুদান ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা এবং ঋণ পরিশোধে ব্যয় হবে ৭ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা।

ড্রামা নয়, রাজনৈতিক বাস্তবতা

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ৪ শরিক নিয়ে সম্মিলিত জাতীয় জোট (ইউএনএ) নামে একটি জোট গঠন করেছেন। এই জোটে রয়েছে দুটি নিবন্ধিত দল- জাতীয় পার্টি ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট এবং ২টি জোট ‘জাতীয় ইসলামী মহাজোট’ আর ‘বাংলাদেশ জাতীয় জোট’ (বিএনএ)। এর মধ্যে জাতীয় ইসলামী মহাজোটে অন্তর্ভুক্ত আছে ৩৪টি ইসলামী দল এবং বিএনএ-তে আছে ২২টি রাজনৈতিক দল। জোটের সমন্বয়ে জোট হল কেন- তার ব্যাখ্যা এই যে, সম্মিলিত জাতীয় জোট গঠনের জন্য দু’ভাবে শরিক নির্বাচনের নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এক. যেসব দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত আছে, সেই দল সরাসরি শরিক হিসেবে থাকবে এবং দুই. যেসব দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে কিংবা নিবন্ধিত হওয়ার অপেক্ষায় আছে তাদের সমন্বয়ে মোর্চা বা জোট গঠন করে সেই জোটকে শরিক হিসেবে বৃহত্তর জোটে অন্তর্ভুক্ত করা। এইভাবে দুটি পৃথক জোট এবং দুটি নিবন্ধিত দল নিয়ে- অর্থাৎ ৪ শরিক নিয়ে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে সম্মিলিত জাতীয় জোট গঠিত হয়েছে। জোটের সমন্বয়ে জোট করা হয়েছে, তাই এই জোটের নাম সম্মিলিত জাতীয় জোট। এখানে দুই শরিক জোটের সব দলের হয়তো নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা নেই, তাই তাদের জনপ্রিয়তা নিরূপণের মাপকাঠিও নেই। কিন্তু এর মধ্যে প্রায় সব দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে এবং কোনো কোনো দল নিবন্ধন পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। যেসব দল নিবন্ধন পাওয়ার জন্য আবেদন করে, সেই সব দলকে অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে হয়েছে। যেসব দলের এখন নিবন্ধন আছে, তাদেরও একসময় নিবন্ধন ছিল না। সুতরাং এখন পর্যন্ত যেসব দলের নিবন্ধন হয়নি, সেসব দলকে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই।
এখন পর্যন্ত ৪ শরিকের সম্মিলিত জাতীয় জোটে মোট ৫৮টি দল রয়েছে। তবে আরও নিবন্ধিত দল এবং জোট এ জোটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় আছে। এ জোটকে বিএনপির মহাসচিব মহোদয় নতুন ড্রামা বলেছেন। এখানে নাকি দু-একটি দল ছাড়া আর কোনো দলের অস্তিত্ব নেই। সুতরাং এ কথার প্রত্যুত্তরে বলতেই হয় যে, তাদের নেতৃত্বে ২০ দল নামের যে জোট আছে, সেটি একটি অপেরা। এই অপেরা দলে কার কতটুকু অস্তিত্ব আছে, একটু নিজের দিকে তাকিয়ে নিজেই বিবেচনা করুন। কথায় আছে- ‘চালনি বলে সূঁচ তোর গায়ে একটা ফুটা।’ ২০ দলীয় জোটের সব দলের নাম আমার জানা নেই। ক’জনের জানা আছে- তাও জানি না। তবে জাতীয় পার্টিতে পদ না পেয়ে কিংবা জাতীয় পার্টি থেকে বাদ পড়ে কেউ কেউ দল করেছেন- এমন সংখ্যা কম করে হলেও হাফ ডজন। তারা গিয়ে যুক্ত হয়েছেন ২০ দলীয় জোটে। তারা আবার ওখানে গিয়ে ৩ জনের দল দুই ভাগ হয়ে জোটের শরিক সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করেছেন। বাংলাদেশে রাজনৈতিক কোনো জোটে, এরকম অস্তিত্বওয়ালা শরিক আছে বলে আমার জানা নেই। এ দেশে জোট গঠনের রাজনীতি নতুন নয়। শুরু হয়েছে সেই ’৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট দিয়ে। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৫ দল, ৭ দল, ৫ দল, ৪ দল এবং মহাজোট গঠনের কথা আমরা জানি। চারদলীয় জোট গঠনের যৌথ ঘোষণাপত্র এবং মহাজোট গঠনের যৌথ ঘোষণাপত্রের কপিও আমার সংরক্ষণে আছে। সহকর্মী কয়েকজন সাংবাদিক বন্ধু আমাকে বলেছেন, জোটের ভবিষ্যৎ কী হবে কিংবা কী অর্জন আছে, জানি না, তবে ঘোষণাপত্রটি হয়েছে চমৎকার। আমরা বলতে চাই- ভবিষ্যতের কথা শুধু ভবিষ্যৎই বলতে পারবে। কী অর্জন আছে কিংবা কী অর্জন হবে, তাও সময় বলে দেবে। তবে আমার ব্যক্তিগত একটা অর্জন আছে, সে কথা আমি পরিশেষে বলতে চাই। জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে যে সম্মিলিত জাতীয় জোট গঠিত হয়েছে- এটা একটা বহুমাত্রিক জোট।
এখানে ইসলামী দল, পীর মাশায়েখ আদর্শিত দল, হিন্দু সংগঠন, সাধারণ রাজনৈতিক দল, স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ, ইসলামী মূল্যবোধ এবং সব ধর্মের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গির আদর্শিক দল এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী শক্তির সমন্বয় ঘটেছে। এ জোটের ঘোষণাপত্রে সংক্ষিপ্ত পরিসরে সবার নীতি ও আদর্শের সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে, যা ৪টি শরিক তথা ৫৮টি দলের কাছে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে। এই কাজটি সম্পন্ন করা সহজ ছিল না। এই জোটের ভবিষ্যতের কথা ভবিষ্যৎই বলুক। তবে, যাত্রাই শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনার মধ্য দিয়ে। বিগত ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে- জোট গঠন নিয়ে অতীতে এত আলোচনা আর কখনও হয়নি। এই আলোচনার ঝড় উঠেছে মিডিয়া জগৎ থেকে শুরু করে গোটা দেশে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে একটি জাতীয় জোট গঠিত হওয়ায় যাদের আঁতে ঘা লেগেছে, তারা আঁতকে ওঠে আবোলতাবোল বলছেন। যারা এ জোট নিয়ে আশার আলো দেখছেন, তারা উল্লসিত হয়েছেন। ফলে এখানে পক্ষ-বিপক্ষ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। যাদের বিরোধিতা করার স্বভাব, তারা বিরোধিতা করবেন, সেটাই মানতে হবে। জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী ঐক্য গড়ে উঠলে কারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে- সেটা রাজনৈতিক সচেতন সবাই বুঝবেন, মির্জা সাহেবরা বুঝবেন না কেন? জোট ঘোষণার দিনে একটা টিভি চ্যানেলে গিয়েছিলাম। সেখানে মুখোমুখি হলাম বিএনপি ঘরানার বুদ্ধিজীবী ড. জাফরুল্লাহর সঙ্গে। তিনি বললেন, এ জোট গঠনে জাতীয় পার্টির কোনো লাভই হবে না। জাতীয় পার্টির একলা থাকাই ভালো। এটা তাদের সুবিধার কথা। বানরের কলা ভাগের মতো- নিজের ভাগেই সব।
তার বক্তব্য- এটা প্রধানমন্ত্রী আর ‘র’-এর কথায় গঠন করা হয়েছে। বললাম, জাফরুল্লাহ সাহেবের কথা শুনে মনে হল- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার নির্দেশটা যেন ওনার মাধ্যমেই জাতীয় পার্টির কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন! দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা সম্পর্কে মিডিয়ায় ড. জাফরুল্লাহ যে মিথ্যাচার করেছেন, তার জন্য আইনের আশ্রয় গ্রহণ করলে আবার তাকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। জোট গঠনের ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির ভাগ্য বৃহস্পতির অবস্থানে। জাতীয় পার্টি মৌলিকভাবে গড়ে ওঠেনি- উঠেছে যৌগিকভাবে। অর্থাৎ অনেক দলের সংমিশ্রণে। কয়েকটি দলের ঐক্যে হয়েছে জনদল। সেই জনদল থেকে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, ডেমোক্রেটিক লীগ, ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি, মুসলিম লীগ এবং বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতাকর্মীদের সংমিশ্রণে জাতীয় পার্টি গঠিত হয়েছে। মূলত জাতীয় পার্টি একটি জোটগত সংগঠনের একক রূপ। এখানে বিভিন্ন দল ও মতের রাজনীতিকদের সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। এই নীতি ও আদর্শ জাতীয় পার্টির সামগ্রিক রাজনীতিতে প্রতিফলিত হয়েছে। এই ঐক্যবদ্ধ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। আজকের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ১৫ দলীয় জোট গঠন করে ক্ষমতায় যেতে পারেনি। ২২ বছর পর তারা ক্ষমতায় গেছে জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে। সেটাও ছিল ঐক্য প্রক্রিয়ার একটি অংশ। সেই ঐক্য ভেঙে দেয়া হয়েছিল বলেই পরেরবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যেতে পারেনি। তারপর জাতীয় পার্টিকে নিয়ে হয়েছিল চারদলীয় জোট। এ জোটের পক্ষে এমন জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল যে, বিশাল জয় নিয়ে জোটপ্রধান বিএনপি ক্ষমতায় চলে যায়। কিন্তু প্রতারণা করা হয়েছিল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে। ফলে পরবর্তীকালে গঠিত হয় মহাজোট।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি যোগ দেয়ায় ১৫ দলীয় জোট হয়নি, হয়েছে মহাজোট। সেই মহাজোটের জোয়ারে আওয়ামী লীগ আজও ক্ষমতায় আছে। আর ভেসে গেছে বিএনপি। তাই জোটের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি একটি সৌভাগ্যের প্রতীক। এই প্রতীকের ললাটেই লেখা থাকবে- ক্ষমতার ভবিষ্যৎ। বলেছিলাম, এই জোট গঠন প্রক্রিয়ায় আমার একটা বড় অর্জন আছে। জোট গঠনে আমি সমন্বয়কের দায়িত্ব পেয়েছিলাম। সেই সুবাদে প্রতিটি দলের নেতাদের সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ হয়েছে। তার মধ্যে ইসলামী দলই বেশি। তাদের নেতাদের প্রায় সবাই ওলামায়েকেরাম, ধর্মীয় নেতা, পীর-মাশায়েখ। তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে না মিশলে হয়তো তাদের সঠিকভাবে চেনার ক্ষেত্রে একটা ঘাটতি আমার থেকে যেত। তথাকথিত কিছু প্রগতিবাদী তাদের মৌলবাদী বলে আখ্যায়িত করেন, কেউ কেউ তাদের সাম্প্রদায়িক বলেও অভিহিত করেন। কিন্তু তারা ভুল করেন, ভুল বলেন। এই ধর্মীয় নেতাদের কেউ-ই নেতিবাচক অর্থের মৌলবাদী নন। তারা সাম্প্রদায়িকও নন। নিজ ধর্মের প্রতি সর্বতোভাবে তারা অনুগত, ধর্মীয় আচার-আচরণ পালনে তারা সম্পূর্ণ নিবেদিত এবং ধর্মের সামান্যতম অবমাননা তারা কোনোভাবেই মানেন না- এটাই তাদের মৌলনীতি। এই ধর্মীয় নেতারা অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমি লালবাগ শাহী মসজিদে গিয়েছি- সাত মসজিদ মাদ্রাসায় গিয়েছি- আলেম-ওলামাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিশেছি। তাদের আচরণ আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি হিন্দু বলে আমাকে অন্য চোখে দেখেননি। আমার মধ্যস্থতায় ইসলামী দলের সঙ্গে জাতীয় পার্টির ঐক্য হচ্ছে, তা নিয়ে তাদের কারও মধ্যেই এতটুকু মাথাব্যথা ছিল না। তারা সবাই আমাকে বিশ্বাস করেছেন- অকৃত্রিমভাবে। এটাই আমার বিশাল অর্জন।
সুনীল শুভরায় : লেখক ও সাংবাদিক

বিশ্ব যখন কর কমানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে...

কেউ কি কখনও চিন্তা করতে পেরেছিলেন, হোয়াইট হাউসে মার্কিনিরা এমন একজন প্রেসিডেন্ট পাবেন যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ধনী লোকদের পক্ষে এত দৃঢ় অবস্থান নেবেন? ধনী লোকেরা যেটা চায় সেটা হল আরও ব্যবসা, আরও অর্থ। তারা সব সময়ই নাখোশ ছিল তাদের ব্যবসার আয়ের ৩৫ শতাংশ সরকার কর আরোপ করে নিয়ে যাচ্ছে দেখে। তাদের অসন্তুষ্টির শেষ এখানেই নয়। তারা যখন বিভিন্ন সূত্র থেকে আয় পায়, সেই আয়ের ওপরও আবার ৪৫ শতাংশ কর দিতে হয়। অর্থাৎ একজন মার্কিন ধনী যদি বাড়তি ১০০ ডলার আয় করে, তাকে সেই অর্থের ৪৫ শতাংশ আয়কর হিসাবে সরকারকে দিয়ে দিতে হয়। অবশ্য মার্কিন গরিবেরা অত ট্যাক্স দেয় না, আয় ভেদে তাদের ট্যাক্স হারের ভিন্নতা আছে। তবে ধনীদের ওপর বেশি করারোপের পক্ষে অর্থনীতি শাস্ত্রে কিছু যুক্তি আছে। যুক্তিটি হল, ধনীরা বেশি ট্যাক্স দেবে এ কারণে যে, বাড়তি আয় তাদের কম উপযোগ দেয়। এবং বাড়তি আয়ের ওপর বর্ধিত হারে কর বসালে তারা করের ভারটা কম অনুভব করবে। ছাত্রদের ক্লাসরুমে পাবলিক ফাইনেন্স এবং ট্যাক্স পলিসি নামের একটি বিষয় পড়ানো হয়। পাবলিক ফাইনেন্স মূলত বলতে চায় সরকার কীভাবে আয় পাবে এবং কোথায় কী পরিমাণ ট্যাক্স ও ফি ধার্য করবে। সেই সঙ্গে এক্সপেনডিচার পলিসি নিয়েও অনেক কিছু পড়ানো হয়। সরকার কোথায় ব্যয় করবে এবং কোন ব্যয়ের সামাজিক উপকারিতা কতটুকু ইত্যাদি।
একটা কথা ব্যয় বিষয়ে পড়ানো হয়, সেটা হল সরকার কোনো অর্থ ব্যক্তির জন্য ব্যয় করবে না, করবে ব্যক্তি সমষ্টির জন্য। ব্যক্তির জন্য ব্যয় করলেও সেটা শুধু এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে ব্যয় করবে না, সেই ব্যয় হতে হবে ব্যক্তি শ্রেণীর জন্য। ট্যাক্সের ক্ষেত্রে একটা নীতিকে খুব গুরুত্ব দেয়া হয়, সেটা হল সমতার নীতি (Principle of Equity), যে নীতি বলে- যে যত বেশি ধনী সে তত বেশি হারে ট্যাক্স দেবে। ট্যাক্স ও ফি-এর অর্থ দিয়ে সরকার চলবে। সরকার আহরিত অর্থ থেকে দেশরক্ষা, প্রশাসনের লোকদের জন্য বেতন-ভাতা, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প, শিক্ষা-স্বাস্থ্য এবং অবকাঠামো খাতে ব্যয় করবে। অবশ্য ট্যাক্স ও ফি-এর বাইরেও সরকারের দুটো আয়ের উৎস আছে। একটি হল বিনিয়োগকৃত অর্থের বিপরীতে সুদ ও ডিভিডেন্ড আয়। অন্যটি হল ঋণ। ঋণকে অবশ্য আয় বলা যাবে না। তবে অর্থ সংগ্রহের অন্যতম উৎস বলা যাবে। যেমন, আমাদের দেশে সরকার শত শত কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করছে। সরকারের ব্যালেন্সশিটের একদিকে এই অর্থ আয় হিসাবে অন্যদিকে দায় হিসাবে দেখা দেবে। অপরদিকে বন্ড বিক্রি করে সরকার সরাসরি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি থেকে ঋণও নিতে পারে। সামগ্রিক ঋণের পরিমাণকে একটি গ্রহণযোগ্য মাত্রায় রাখা হয়। অনেক দেশে সরকারি আয় যদি ব্যয়ের তুলনায় পিছিয়ে থাকে, তাহলে তাকে ঘাটতি বাজেট বলে, যা মোট জাতীয় উৎপাদনের (জিডিপি) একটা পার্সেন্টের মধ্যে রাখা হয়। যেমন, বাংলাদেশে ঘাটতি বাজেটের আকার জিডিপি’র ৪-৪.৫ শতাংশ। শুনছি আসছে বাজেটে এই ঘাটতি একটু বাড়তে পারে। তবে সত্য হল, আমরা এবং অন্যরাও ট্যাক্স নিয়ে যত আলোচনা-সমালোচনা করি, সরকার কর্তৃক অর্থের ব্যয় নিয়ে তার চেয়ে বেশি আলোচনা-সমালোচনা হয়। আর এজন্যই আমরা দেখি প্রকল্প অর্থায়নের নামে অর্থকে জলে ফেলা হচ্ছে। প্রকল্প শেষ হয় না, শেষ করা হয় না। শেষ না করলে বাড়তি অর্থ পাওয়া যায়। এই যে বিশ্বের এক নম্বর অর্থনীতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের ট্যাক্স হারগুলো কল্পনার বাইরে গিয়ে কমানোর প্রস্তাব করল, তাতে অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে হবে মার্কিন প্রশাসনকে। করের হার কমে গেলে তো সরকারি রাজস্ব আয়ও কমে যাবে, অন্তত ওই দেশে। তাহলে সেই সরকার কি বড় রকমের ঘাটতি বাজেটের দিকে যাবে, না অন্যত্র ব্যয় অনেক কমিয়ে ফেলবে? মার্কিন সরকারের জন্য ব্যয় কমানো অত সহজ নয়। অনেক ব্যয় আছে যেগুলো কমাতে গেলে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নামবে।
তবে ট্রাম্পপন্থীদের একটা যুক্তি আছে এভাবে যে, ট্যাক্স কমালে ব্যবসাগুলো বেশি লাভ করবে। বেশি লাভ করলে অর্থনীতিতে বেশি বিনিয়োগ হবে, বেশি বিনিয়োগ হলে অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। তখন অনেক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ছোট করে ফেললে কোনো অসুবিধা হবে না। ট্রাম্প প্রস্তাব রেখেছেন, ব্যবসার মুনাফার ওপর কর হার ৩৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। সেই অনুসারে ব্যক্তির আয়ের ওপরও ট্যাক্স কমানো হবে। ট্রাম্পের যুক্তি হল, ব্যক্তির আয়ের ওপর ট্যাক্স কমালে ব্যক্তি-ভোগ বাড়বে। অর্থনীতিতে ভোগ বাড়লে অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। তখন বেশি লোক করদাতার দলে শামিল হবে। তবে কর কমিয়ে মার্কিন সরকারের ব্যয় কীভাবে নির্বাহ করা হবে সেটা দেখার বিষয়। অনেক রিপাবলিকান যারা কর কমানোর পক্ষে ছিলেন, তারাও বিশ্বাস করতে পারছেন না এত বড় কর হ্রাসের প্রস্তাব কীভাবে করা হল! যদি ট্রাম্প তার প্রস্তাবিত কর হ্রাসকে মার্কিন কংগ্রেসে পাস করাতে পারেন, তাহলে কর হ্রাসের ক্ষেত্রে সেটা হবে এক বড় বিপ্লব। আমাদের মনে আছে, প্রয়াত হেভিওয়েট মুষ্টিযুদ্ধ চ্যাম্পিয়ন মোহাম্মদ আলী অতিরিক্ত রাউন্ড খেলতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন শুধু খেলা থেকে প্রাপ্য অর্থের বেশিরভাগ কর হিসাবে সরকারকে দিয়ে দিতে হবে বলে। কত কর হার হলে লোকে বাড়তি কাজ করতে উৎসাহ হারাবেন না, তা নিয়ে অনেক প্রবন্ধ ও বই লেখা হয়েছে। তবে Optimum Tax Rate বা আদর্শ ট্যাক্স হার বলতে কিছু নেই। এটা হল ওই ট্যাক্স, যে ট্যাক্স হার মানুষকে বাড়তি আয় অর্জনে নিরুৎসাহিত করবে না। এই ট্যাক্স হার এক অর্থনীতিতে এক রকম, আরেক অর্থনীতিতে আরেক রকম। সারা বিশ্বের জন্য কোনো আদর্শ ট্যাক্স হার নেই। অনেক বাজারপন্থী অর্থনীতিবিদ মনে করেন, সরকারকে দিয়ে বেশি কাজ করাতে নেই। সরকার বেশি কাজ করলে জনগণকেই বেশি ট্যাক্স দিতে হবে। তারা একটা মৌলিক প্রশ্ন করেন যা হল, অর্থ ব্যক্তির পকেটে থাকলে সেই অর্থের উত্তম ব্যয় হবে, নাকি ওই অর্থ ট্যাক্স হিসাবে সরকারকে দিয়ে দিলে উত্তম ব্যয় হবে? তারা বলতে চান, ব্যক্তিই ভালো জানেন তার অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার কোথায় কীভাবে হবে। সুতরাং ওদের দৃষ্টিতে সেই সরকারই ভালো যেটা আয়তনে ছোট, ব্যয় কম করে এবং জনগণকে অল্প ট্যাক্স দিতে বলে। আমাদের দেশের ক্ষেত্রে এটুকু বলা যায়, আমরা যে পরিমাণ অর্থ সরকারি খাতে ব্যয় করছি, সেই পরিমাণ সামাজিক উপকার পাচ্ছি না। একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কথা ধরুন। যে অর্থ সরকার শিক্ষকদের জন্য এবং অবকাঠামোয় ব্যয় করছে, ঠিক সেই অর্থটা যদি বেসরকারিভাবে ব্যয় হতো, তাহলে অনেক বেশি ভালো শিক্ষা পাওয়া যেত। অনেক দেশে স্বাস্থ্য খাতকেও ব্যক্তি খাতে ছেড়ে দিয়ে সরকার শুধু রেগুলেটরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের জন্য অর্থের বড় খাত হতে পারত বিনিয়োগ থেকে মুনাফা, যা ডিভিডেন্ড আয় নামেও পরিচিত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, যেসব কোম্পানি থেকে সরকার আংশিক ইকুইটি ক্যাপিটাল সরবরাহ করে ওই আয় পেতে পারত, সেটা সময়মতো সরকার করেনি বলে পায়নি।
বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তাদের বিনিয়োগের অনেকগুণ বেশি লাভ করছে। কিন্তু ওগুলোর অধিকাংশে সরকারের কোনো মালিকানা নেই। কারণ সরকার সেই মালিকানা চায়নি। আরও সত্য হল, সেগুলো শেয়ারবাজারেও নেই। ফলে ওইসব বড় ব্যবসায় জনগণের কোনো অংশ নেই। তারাও কাঙ্ক্ষিত মুনাফার অংশ থেকে বঞ্চিত। এ ক্ষেত্রে একটা কাজ সরকার করতে পারে। তা হল তাদেরকে ডেকে বলা, তোমরা শেয়ারবাজারে এসো, না এলে সরকার ট্যাক্স বাড়িয়ে দেবে। উল্টোভাবে তাদেরকে বলা যায়, তোমরা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে তোমাদের জন্য কর্পোরেট ট্যাক্স আরও হ্রাস করে দেয়া হবে। ইকুইটি ক্যাপিটালে অংশ নেয়া বিশ্বব্যাপী একটা স্বীকৃত প্রথা। বাংলাদেশ নেয়নি বলে ওই আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অন্য দেশগুলোর মধ্যে ব্রিটেনও তাদের কর্পোরেট ট্যাক্স কমানোর পক্ষে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা এই হারকে ২০ শতাংশ নিচে নিয়ে আসবে। ইউরোপের অন্য দেশ আয়ারল্যান্ডে এই কর হার হল মাত্র ১৫ শতাংশ। ভারত গত বাজেটে বলে দিয়েছে, তারা পর্যায়ক্রমে তাদের কর্পোরেট আয়কর ২৩ শতাংশে নিয়ে আসবে। আমাদের কাছের দেশ মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে এই ট্যাক্স অনেক কম।
আবু আহমেদ : অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ

নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের হটিয়ে ফাইনালে রিয়াল

ফিরতি লেগে হেরে গেলেও দুই লেগ মিলে এগিয়ে থাকায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠে গেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দল রিয়াল মাদ্রিদ। বুধবার রাতে ফিরতি লেগে নিজেদের মাঠে ২-১ ব্যাবধানে জয় পায় অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। তবে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-২ গোলের অগ্রগামিতায় ফাইনালে পৌঁছে যায় জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা। এ নিয়ে রেকর্ড পঞ্চদশবারের মতো ফাইনালে উঠেছে শিরোপাধারী রিয়াল। সান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে প্রথম লেগে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর হ্যাটট্রিকে ৩-০ গোলে হেরে ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছিল অ্যাতলেটিকো। তাই ফিরতি লেগে রিয়ালকে বিদায় করতে সিমেওনির শিষ্যদের বড় ব্যবধান গড়তে হতো।
সেই লক্ষ্যে ভিসেন্তে কালদেরনে স্বাগতিকদের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। প্রথম ১৬ মিনিটের মধ্যেই দুইবার রিয়ালের জালে বল পাঠায় দলটি। অ্যাতলেটিকোকে এগিয়ে নেয়ার কৃতিত্ব সাউল নিগেসের। ১২তম মিনিটে কোকের কর্নারে তার লাফানো দারুণ হেডে হাত ছোঁয়ালেও ফেরাতে পারেননি নাভাস।১৬তম মিনিটের মাথায় স্বাগতিকদের উল্লাসে মাতান অঁতোয়ান গ্রিজমান। ফার্নান্দো টরেসকে রাফায়েল ভারানে ফাউল করায় পেনাল্টি পেয়েছিল স্বাগতিকরা। প্রতিযোগিতার রেকর্ড ১১ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটান ইসকো। অবশ্য তার ৪২তম মিনিটের গোলে দারুণ অবদান করিম বেনজেমার। এই গোলের পর ফাইনালে যেতে আরও তিনবার রিয়ালের জালে বল পাঠাতে হতো অ্যাতলেটিকোকে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলেও কেউ আর গোলের দেখা পায়নি। যে কারণে ইউরোপ সেরার মঞ্চ থেকে এবারেও খালি ফিরতে হলো অ্যাতলেটিকোকে। এনিয়ে টানা চার মৌসুম রিয়ালের জন্য খালি হাতে ফিরেছে অ্যাতলেটিকো। ২০১৩-১৪ ও ২০১৫-১৬ আসরে ফাইনালে হারতে হয়েছিল নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে। মাঝে ২০১৪-১৫ আসরের কোয়ার্টার-ফাইনালেও রিয়ালের কাছে হারে অ্যাতলেটিকো। আগামী ৩ জুনের ফাইনালে রিয়ালের প্রতিপক্ষ ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স জুভেন্টাস।

টাইগারদের রানের পাহাড়ে চাপা পড়ল আয়ারল্যান্ড উলভস

ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে বিশাল জয় পেয়েছে টাইগাররা। সাব্বির রহমানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে গড়া বাংলাদেশের রানের পাহাড়ে চাপা পড়েছে আয়ারল্যান্ড 'এ' দল। বুধবার বেলফাস্টের স্টরমন্ট ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টাইগারদের ৭ উইকেটে ৩৯৪ রানের জবাবে আইরিশদের দ্বিতীয় সেরা দল মাত্র ১৯৫ রানেই গুটিয়ে যায়। মাশরাফি-সাকিবরা পান ১৯৯ রানের বিশাল জয়। আয়ারল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুস্তাফিজুর রহমান, সাকিব আল হাসান ও রুবেল হোসেন। তবে বিশাল রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে আয়ারল্যান্ড উলভসদের শুরুটা খারাপ ছিল না। জেমস শ্যাননের সঙ্গে জ্যাক টেক্টরের ৫১ রানের জুটিতে ভালো কিছু করে দেখানোর স্বপ্ন দেখিয়েছিল আইরিশরা। তবে একাদশতম ওভারে দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফেরা রুবেল উইকেরক্ষক-ব্যাটসম্যান শ্যাননকে আউট করে সে আশায় পানি ফেলে দেন। পরের ওভারে ফিরে জন অ্যান্ডারসনকেও বিদায় করেন তিনি। চার ওভারের ছোটো স্পেলে একটি উইকেট নেন সৌম্য সরকার।
আর শুভাশীষ রায় ১০ ওভার বল করে  ৬১ রানে দিয়ে নেন একটি উইকেট। অধিনায়ক মাশরাফি এদিনও তার নায়োকচিত বোলিংয়েরই স্বাক্ষর রাখেন। পরপর দুই ওভারে নেন অ্যান্ডি ম্যাকব্রায়ান ও সর্বোচ্চ ৬০ রান করা টেক্টরের উইকেট। ৪০ ওভার শেষে আয়ারল্যান্ডের স্কোর ছিল ৬ উইকেটে ১৯৩ রান। সেখান থেকে মাত্র ২ রান যোগ করতে শেষ ৪ উইকেট হারায় দলটি। তিন বলের মধ্যে দুই উইকেট নেন বাঁহাতি স্পিনার সাকিব। আর পরপর দুই বলে শেষ দুটি উইকেট তুলে নেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ। এর আগে টাইগারদের হয়ে তামিম ইকবাল করেন ৭৪ বলে ৮৬ রান। নিজের মারকুটে ব্যাটিংয়ে সাব্বির রহমান ৪৯ বলে ফিফটির পর মাত্র ৩৩ বল খেলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন। তার ইনিংসে ছিল ১৬ চার আর ১ ছক্কার মার। এছাড়া মুশফিক ২৪ বলে ৪১ আর মাহমুদউল্লাহ ৩১ বলে ৪৯ রান করেন। সাকিব আল হাসান ২৭ বলে ৪৪ আর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ২৭ বলে ৩১ রান তুলে টাইগারদের রানের পাহাড় আরও বড় করেন। আগামী শুক্রবার ডাবলিনে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

কান চুলকালে...

কেউ অভ্যাসবশত কেউ কোনো অসুখের কারণে কান চুলকায়। অটোমাইকোসিস বা কান চুলকানোর কারণ হচ্ছে-
যে দেশের আবহাওয়া উষ্ণ ও আর্দ্র অর্থাৎ নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের মানুষ। যেমন বাংলাদেশ। যাদের দীর্ঘসময় ধরে অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হচ্ছে। যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অর্থাৎ রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে।
কোন জীবাণু দায়ী-
চুলকানি ছত্রাক জাতীয় জীবাণু বা উদ্ভিদ থেকে হয়, দেহের অন্যান্য কারণে এ জীবাণু দাদ সৃষ্টি করে। অ্যাসপারজিলাস নাইজার, ক্যানডিডা অ্যালবিকাস দিয়ে সাধারণত চুলকানি হয়।
উপসর্গ-
কানে অস্বস্তিকর সঙ্গে কান বন্ধ হয়ে আছে এমন উপলব্ধি হওয়া। কান থেকে ধূসর, সবুজ, হলুদ বা সাদা রঙের নিঃসরণ বেরিয়ে আসতে পারে।
চিকিৎসা-
কানের ময়লা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। কটন বাড ব্যবহার করা যাবে না। নাইস্টটিন ক্রিম, ক্লোটিমাজল, ইকোনাজল ও জেনসেন ভায়োলেট মলম ব্যবহার করা যায়।
অ্যান্টি হিস্টামিন ওষুধ
কানে যদি ব্যথা থাকে তবে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যায়। সতর্কতার সঙ্গে চিকিৎসা না করলে কানের পর্দার অনাকাক্সিক্ষত ক্ষতি হতে পারে। রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
অধ্যাপক ডা. জাহীর আল-আমিন
নাক কান গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন
ইমপালস হাসপাতাল, তেজগাঁও, ঢাকা
মোবাইল : ০১৭১৫০১৬৭২৭

ফেসবুকের ভুয়া সংবাদ চিনবেন যেভাবে

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যমগুলোতে বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে ভুয়া সংবাদ নিয়ে সতর্কতা বাড়ানোর প্রচারণা বিস্তৃত করেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক। টাইমস, গার্ডিয়ান, টেলিগ্রাফসহ বিভিন্ন ব্রিটিশ দৈনিকে প্রকাশিত এই বিজ্ঞাপনে কোনো একটি প্রতিবেদনকে সত্য হিসেবে ধরে নেয়ার আগে যাচাই করা উচিত এমন ১০টি নির্দেশনার একটি তালিকা দেয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনার মধ্যে কোনো প্রতিবেদনের তারিখ আর ওয়েবসাইট অ্যাড্রেস যাচাই করতে বলা হয়েছে, সেই সঙ্গে এটি কোনো বিদ্রূপের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছে কিনা তাও দেখতে বলা হয়েছে। চলতি বছর ৮ জুন অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভুয়া সংবাদ ঠেকাতে ফেসবুক রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে, বলা হয়েছে বিবিসির প্রতিবেদনে। ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আর ইইউ থেকে যুক্তরাজ্য বের হবে কিনা তা নিয়ে হওয়া ভোটে সামাজিক মাধ্যমটি ফলাফল নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে, সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির এক তদন্তে এমন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। এদিকে ফেসবুকের দাবি, তারা ইতিমধ্যে ‘হাজার হাজার’ ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট সরিয়েছে আর তাদের ব্যবস্থা এখন কোনো পোস্ট বারবার দেয়া হচ্ছে কিনা বা মেসেজিংয়ে কোনো বৃদ্ধি আসছে কিনা পর্যবেক্ষণ করছে। এ ধরনের কার্যক্রম চালানো অ্যাকাউন্টগুলো শনাক্ত করা হচ্ছে।
মানুষ পড়তে চায় কিন্তু শেয়ার করতে নয় এমন প্রতিবেদনগুলোর র‌্যাংকিং কমিয়ে আনছে সোশাল জায়ান্টটি। এ খবর প্রকাশের আগের মাসে যুক্তরাজ্যের রক্ষণশীল দলের সংসদ সদস্য ড্যামিয়ান কলিন্স ৮ জুনের নির্বাচনকে সামনে রেখে ভুয়া সংবাদ ঠেকানোর আহ্বান জানান। তিনি দৈনিক গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘যদি অনেক মানুষের কাছে সংবাদের মূল উৎস ফেসবুক হয়ে ওঠে আর যদি ফেসবুক থেকে তারা যে খবর পায় তার অধিকাংশই ভুয়া হয়, তাহলে তারা মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে ভোট দিতে পারে।’ যুক্তরাজ্যের ফেসবুকের নীতিমালাবিষয়ক পরিচালক সায়মন মিলনার বলেন, ‘মানুষ ফেসবুকে সঠিক তথ্য দেখতে চায় আর আমরাও তাই।’ ‘মিথ্যা সংবাদ শনাক্তে মানুষকে সহায়তা করতে আমরা ফেসবুকে সবাইকে পরামর্শ দেখাই যে কীভাবে তারা বুঝবেন তাদের দেখা কনটেন্ট মিথ্যা।’ প্রতিষ্ঠানটি ‘ফুল ফ্যাক্ট’ আর ‘ফার্স্ট ড্রাফট’ নামের দুটি থার্ড পার্টি ফ্যাক্ট চেকার প্রতিষ্ঠানকে ‘সমর্থন’ দিচ্ছিল বলেও যোগ করেন তিনি।
মিথ্যা সংবাদ শনাক্তে ফেসবুকের ১০ পরামর্শ-
শিরোনাম সন্দেহপ্রবণ কিনা দেখুন
ইউআরএল বা ওয়েব অ্যাড্রেস ভালোভাবে দেখুন
উৎস যাচাই করুন
অস্বাভাবিক কোনো ফরম্যাটিং হয়েছে কিনা দেখুন
ছবিগুলো বিবেচনা করুন
তারিখ দেখুন
প্রমাণ যাচাই করুন
অন্যান্য প্রতিবেদনগুলোও দেখুন
প্রতিবেদনটি কোনো কৌতুক কিনা?
কিছু প্রতিবেদন ইচ্ছাকৃতভাবেই ভুয়া (ব্যঙ্গাত্মক)।

'মদ খেয়েছিলাম, কিন্তু মাতাল ছিলাম না'

কলকাতার অভিনেত্রী সোনিকার মৃত্যু নিয়ে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়কে। বুধবার টালিগঞ্জ থানায় ডেকে তাকে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। খবর আনন্দবাজার'র। এর আগে মঙ্গলবার রাতে এক দফা জবানবন্দি দেন বিক্রম। ওইদিন রাত পৌনে ১০টা থেকে সোয়া ১টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে তাকে জিজ্ঞাবাদ করা হয়। পুলিশ জানান, জেরার মুখে বিক্রম স্বীকার করেন দুর্ঘটনার রাতে তিনি মদপান করেছিলেন। তবে একইসঙ্গে তার দাবি- তিনি মোটেই মাতাল ছিলেন না, গাড়ি চালানোর মতো অবস্থায় ছিলেন। এর আগে অবশ্য মদপানের বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন এ অভিনেতা। পুলিশের কাছে হাজিরা দেয়ার কদিন আগে নিজেই এক সংবাদ সম্মেলন ডাকেন বিক্রম। সেখানে তিনি দাবি করেন, দুর্ঘটনার রাতে তিনি মদপান করেননি। এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় দুর্ঘটনার রাতে পার্টিতে উপস্থিত অনেকেই দাবি করেন,
তারা ওই দিন বিক্রমকে মদপান করতে দেখেছেন। পার্টিতে উপস্থিত অভিনেতা অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ও থানায় জানিয়েছেন, ওই রাতে বিক্রম মদপান করেছিলেন। এরপরই চাপের মুখে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেন বিক্রম চট্টোপাধ্যায়। জানা গেছে, বিক্রমের জবাবে সন্তুষ্ট নয় পুলিশ। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল তাতে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- গাড়ির গতি অনেক বেশি ছিল। বিক্রমের গাড়ির ইলেকট্রনিক্স ডেটা রেকর্ডার বা ইডিআর-এর তথ্য খতিয়ে দেখবেন তদন্তকারীরা। উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল ভোরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন অভিনেত্রী সোনিকা সিং চৌহান। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িটি চালাচ্ছিলেন তার বন্ধু বিক্রম চট্টোপাধ্যায়। এসময় তিনিও আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গাফিলতির জন্য মৃত্যুর অভিযোগে মামলা করে পুলিশ। পরে একই অভি'আইন করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করেছিল জিয়া'যোগে সোনিকার পরিবার পক্ষ থেকে বিক্রমের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ঘটনা তদন্তের জন্য চার সদস্যের বিশেষ দল তৈরি করেছে কলকাতা পুলিশ।

সংসারী অপুর গল্প

ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির উজ্জ্বল এক অধ্যায়ের নাম অপু বিশ্বাস। শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে তার অভিনীত প্রায় সত্তরটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। অধিকাংশ ছবিই ব্যবসায়িক বিচারে সফল। মান-অভিমান থেকে চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে তিনবার আড়াল হয়েছেন এ নায়িকা। আড়াল ভেঙে তিনবারই চমক নিয়ে হাজির হয়েছেন। প্রথমবার শাকিবের সঙ্গে অভিমান, দ্বিতীয়বার জিরো ফিগারের চমক আর তীয়বার বিয়ের খবর ও সন্তান জয়কে নিয়ে। বর্তমানে সন্তান ও সংসার নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন তিনি। অভিনয়ে না থাকলেও নানা বিষয়ে আলোচনায় আছেন এ নায়িকা। পাঁচফুট দুই ইঞ্চি উচ্চতার ঢালিউড কুইন অপু বিশ্বাস। বিয়ের পর বিশ্বাস থেকে হয়েছেন অপু ইসলাম খান। নাম্বার ওয়ান নায়িকা হলেও চলনে-বলনে একেবারে পুরো অবয়বে বাঙালিয়ানা স্পষ্ট।
নায়িকা হওয়ার আগে থেকেই একজন বাঙালি মেয়ের মধ্যে যে বৈশিষ্ট্য থাকে তা তার মধ্যেও বিদ্যমান। সুপার হিরোইন এবং দেশের সুপারস্টারের স্ত্রী হওয়ার পরও এ বৈশিষ্ট্যেই আটকে আছেন অপু। নিজেকে নিজের বিশ্বাসের প্রতিনিধি ভাবা এ নায়িকার জন্ম বগুড়া জেলার সদর থানার সাতমাথা এলাকায়। বাবা উপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস এবং মা শেফালী বিশ্বাসের তিন মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে সবার ছোট আদুরে মেয়েটিই হচ্ছেন অপু। জন্ম বগুড়ায় হওয়ায় সেখানেই তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে বলে জানিয়েছেন এ নায়িকা। তার প্রথম স্কুল হচ্ছে এসওএস হারম্যান মেইনার। এরপর আলোর মেলা, ক্রিসেন্ট হাইস্কুল এবং সব শেষে ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। শুরুতে মূলত বাবা-মায়ের যৌথ উৎসাহেই বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে নাচ শেখা শুরু করেন। তারপর শিল্পকলা একাডেমি এবং সবশেষে নৃত্যাঞ্চল। নবম শ্রেণীতে পড়াকালীন নৃত্যাঞ্চল আয়োজিত একটি প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছিলেন বলেও জানালেন এ শাকিবপত্নী। তবে সেলুলয়েড ফিতার রঙিন দুনিয়ার তারকা হবেন এমন স্বপ্ন তখন তার মধ্যে ছিল না। মিডিয়ায় প্রতিষ্ঠিত পাওয়া সব নায়িকারাই এমন কথা বলে থাকেন। কথাটি শোনা মাত্রই একগাল হেসে অপু বলেন, ‘সবাই কী বলে জানি না। ছোট বেলায় এমন স্বপ্ন কখনও আসেনি। আর না এলে কি মিথ্যে বলব!’ অপু বিশ্বাসের ক্যারিয়ার কীভাবে শুরু হল এ বিষয়ে মিডিয়াতে নানা মুখরোচক গল্প রয়েছে। চলচ্চিত্রে আসার আগে তার অবস্থানই বা কেমন ছিল এ বিষয়টি নিয়েও রটনা রয়েছে অনেক। এখানে রটনা আর মুখরোচক গল্পের দিকে না গিয়ে অপুর ভাষ্যের মধ্যেই থাকি। ২০০৫ সালে অবন্তি নামে আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘কাল সকালে’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন। এতে শাবনুর ও ফেরদৌসের সঙ্গে দ্বিতীয় সারির নায়িকা হয়ে অভিনয় করেন তিনি। পরের বছর এফআই মানিক পরিচালিত ‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবিতে শাকিব খানের বিপরীতে প্রধান নায়িকা হয়ে বড় পর্দায় হাজির হন। এ ছবির মাধ্যমেই ঘুরে যায় অপুর ভাগ্যের চাকা।
ছবিটি ব্যবসাসফল হয় এবং অপু বিশ্বাস রাতারাতি তারকা বনে যান। শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের সঙ্গে তার জুটি দর্শকদের গ্রহণযোগ্যতা পেলে এফআই মানিক এ জুটি নিয়ে একই বছরে পিতার আসন, চাচ্চু, ও দাদীমা চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। সব ছবিই সুপার ব্যবসা করে। পরে ২০০৭ সালে এসে নায়ক মান্নার বিপরীতে ‘মেশিনম্যান’ ছবিতে অভিনয় করেন। এর পরের বছর শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বাঁধেন ‘কাবিননামা’ ছবিতে। দর্শকরা গ্রহণ করেন এ জুটিকে। বলা হয়ে থাকে সালমান শাহ শাবনুরের পর শাকিব-অপু জুটিই দর্শকদের কাছে সর্বাধিক জনপ্রিয়তা পান। এ জনপ্রিয়তার রেশ ধরেই অপু শাকিবের সঙ্গে ‘আমাদের ছোট সাহেব, আমার জান আমার প্রাণ, তুমি স্বপ্ন তুমি সাধনা, মনে প্রাণে আছ তুমি, ভালোবাসার লাল গোলাপ, মন যেখানে হৃদয় সেখানে, জান আমার জান, মনে বড় কষ্ট, মায়ের হাতে বেহেশতের চাবি, ও সাথী রে, রাজা বাবু, রাজা ৪২০ ও লাভ ম্যারেজ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এখানেই শেষ নয়। অপু অভিনীত ২০১০ সালে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’ এবং বদিউল আলম খোকনের ‘নিঃশ্বাস আমার তুমি’ চলচ্চিত্র দুটি ব্লকবাস্টার হিটের তালিকায় উঠে আসে। অপু অভিনীত বদিউল আলম খোকনের আরেক ছবি ‘নাম্বার ওয়ান শাকিব খান’ ব্যবসাসফল হয় এবং ঢালিউডের সর্বকালের সবচেয়ে ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের সেরা দশে অবস্থান করে। এ ছাড়া চাচ্চু আমার চাচ্চু, টপ হিরো, পরান যায় জ্বলিয়া রে, হায় প্রেম হায় ভালোবাসা, প্রেম মানেনা বাধা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এ সবক’টি চলচ্চিত্রে তার বিপরীতে অভিনয় করেন শাকিব খান। ২০১১ সালে অপু অমিত হাসান প্রযোজিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কে আপন কে পর’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এ ছাড়া শাকিব খানের বিপরীতে তার অভিনীত কোটি টাকার প্রেম, কিং খান, আদরের জামাই, প্রিয়া আমার জান, তোর কারণে বেঁচে আছি, একবার বল ভালোবাসি এবং মনের ঘরে বসত করে মুক্তি পায়। এক টাকার দেনমোহর, এক মন এক প্রাণ, জিদ্দি মামা চলচ্চিত্রে অভিনয়, বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না, দুর্র্ধর্ষ প্রেমিক মুক্তি, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেবদাস উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত একই নামের চলচ্চিত্রে পার্বতী চরিত্রে অভিনয় করেন। এ ছাড়া মাই নেম ইজ খান, প্রেমিক নাম্বার ওয়ান, ভালোবাসা এক্সপ্রেস, সেরা নায়ক,
দুই পৃথিবী, ডেয়ারিং লাভার, হিটম্যান, হিরো: দ্যা সুপারস্টারসহ মোট আশিটি ছবি মুক্তি পায় তার। এত গেল ছবির ফিরিস্তি। এর বাইরেও নানা সময়ে নানা বিষয়ে আলোচনায় থেকেছেন এ নায়িকা। জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও নানা কারণে হুট করে আড়াল হয়ে যান অপু। মূলত পারিবারিক কারণেই তার এ আড়াল হওয়া। ২০১৬ সালে হঠাৎ করে তৃতীয়বারের মতো নিখোঁজ হন। অবশেষে ফুটফুটে সন্তান নিয়ে হাজির হন এ তারকা। এসেই জানান ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ সালে ছেলে সন্তান হয়েছে তার। সন্তানের নাম আব্রাম খান জয়। তারও আগে ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল নায়ক শাকিব খানের সঙ্গে বিয়ে হয়। অতি গোপনীয়তায় বিয়ের কাজ সারেন ৭০ ছবিতে কাজ করা এ জুটি। সন্তানসহ প্রকাশ্যে আসায় শাকিবের সঙ্গে কিছুটা মন কষাকষি চললেও অবশেষে মিটে যায় সব। এখন সন্তান আর সংসার নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন এ নায়িকা। আর ফেরার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। শিগগিরই নতুন রূপে নতুন-পুরনো দাপট নিয়ে চলচ্চিত্রে ফিরবেন এ নায়িকা। ভক্তরাও প্রিয় এ নায়িকার ফেরার পথ চেয়েই আছেন। কবে ফিরবেন এ বিষয়ে খোলাসা করে কিছুই জানাননি এ তারকা। কারণ স্বামী এর আগে বলেছেন ছবি নয়, সংসার নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হবে অপুকে। এখন কেবল দেখার অপেক্ষা। সংসারের ব্যস্ততা সামলে কবে নতুন ছবির সুখবর দেন এ ঢালিউড কুইন।