Wednesday, May 15, 2019

আমেরিকার সঙ্গে উত্তেজনা আছে কিন্তু যুদ্ধ হবে না: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী আমেরিকার সঙ্গে তার দেশের উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠা সত্ত্বেও যুদ্ধের আশঙ্কা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন জানে এ ধরনের সংঘর্ষ তার স্বার্থের অনুকূলে যাবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্টের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেছেন, এখন আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার অর্থ হবে বিষপান করা।
আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরানের প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্ট স্পিকার, বিচার বিভাগের প্রধান, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান, সংসদ সদস্যগণসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নীতি নির্ধারণী কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে একথা বলেন।
সর্বোচ্চ নেতা বলেন, আমেরিকার সঙ্গে ইরানের সঙ্ঘাত সামরিক পর্যায়ে যাবে না এবং আসলে কোনো যুদ্ধই হবে না।  তিনি বলেন, আমেরিকার মোকাবিলায় ইরানি জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এ সংঘাতে শেষ পর্যন্ত আমেরিকা পিছু হটতে বাধ্য হবে। আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন, “আমরা কিংবা তারা, যারাই মনে করে যুদ্ধ তাদের অনুকূলে যাবে না তাদের কেউই যুদ্ধ চায় না।”
দু’দেশের চলমান উত্তেজনাকে তিনি ‘আকাঙ্ক্ষার সংঘাত’ উল্লেখ করে বলেন, এই সংঘাতে শেষ পর্যন্ত ইরান বিজয়ীর বেশে উন্নত শির নিয়ে বেরিয়ে আসবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইরানকে আলোচনার যে প্রস্তাব দিচ্ছেন তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী। তিনি বলেন, আমেরিকায় এখন যে সরকার ক্ষমতায় আছে তার সঙ্গে আলোচনায় বসা বিষপানের সমতুল্য।  আলোচনা মানে দর কষাকষি করা। কিন্তু আমেরিকা যেসব বিষয়ে দর কষাকষি করতে চায় সেগুলো আমাদের শক্তিমত্তার উৎস।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, আমাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপারে তাদের আপত্তি। তারা চায় আমরা আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা কমিয়ে ফেলি যাতে তারা আমাদের ওপর হামলা করলে আমরা তাদের ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালাতে না পারি।  কেউ বোকার স্বর্গে বাস করলে নিজের শক্তিমত্তার উৎস নিয়ে এমন আলোচনায় বসে।
আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যে প্রভাব বিস্তার করেছে তা নিয়ে আমেরিকা আলোচনা করতে চায়। এর অর্থ হচ্ছে, আলোচনায় বসে ইরান তার প্রভাব বলয় কমিয়ে ফেলুক। কাজেই দেখা যাচ্ছে, সুস্থ বোধসম্পন্ন মানুষের সঙ্গেও এসব বিষয় নিয়ে ইরান আলোচনায় বসতে পারে না। আর আমেরিকার বর্তমান প্রশাসনে তো সুস্থ মানুষ নেই। এরা কোনো প্রতিশ্রুতি রক্ষা বা চুক্তি মেনে চলার ধার ধারে না। এদের সঙ্গে আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে আমেরিকার পক্ষ থেকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা দেয়া এবং এর প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী- সেন্টকম’কে তেহরানের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসী বাহিনী বলে অভিহিত করার জের ধরে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠার মধ্যে এ ভাষণ দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। সম্প্রতি আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত একটি বিমানবাহী রণতরীসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ পাঠালে উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়।

এখন আপনাদের ন্যায়বিচার কোথায়: সৌদি আরবের প্রতি এরদোগানের প্রশ্ন

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান সৌদি সরকারের সমালোচক খ্যাতনামা সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে রিয়াদের নীরবতার তীব্র সমালোচনা করে দেশটির কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন, এখন আপনাদের ন্যায়বিচার কোথায়?
ইস্তাম্বুলে এক ইফতার পার্টিতে তিনি এ কথা বলেছেন। এরদোগান আরো বলেন, খাশোগিকে হত্যার জন্য যেসব খুনিকে ইস্তাম্বুলে পাঠানো হয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে সৌদি সরকার এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ ইস্যুতে তিনি পাশ্চাত্যের সরকারগুলোর সমালোচনা করে বলেন, পাশ্চাত্যের কাছে মানবিক মূল্যবোধের চাইতে তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থ প্রাধান্য পাচ্ছে।
তুরস্ক সরকার সেদেশের মাটিতে ইস্তাম্বুলে সৌদি সাংবাদিকের হত্যার বিচার করতে ব্যর্থ হওযার পর এর পেছনে সৌদি সরকারের হাত থাকা এবং এর প্রতি পাশ্চাত্যের কয়েকটি দেশের সমর্থনের বিষয়টি তুলে ধরার জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে সৌদি সরকার প্রথমে খাশোগি হত্যায় তাদের হাত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছিল। কিন্তু তুরস্ক সরকার ১৮ দিন নীরব থাকার পর এ ঘটনার সাথে সৌদি কর্মকর্তাদের সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়ে নানা তথ্যপ্রমাণ ফাঁস করে দেয়ায় এবং আন্তর্জাতিক ব্যাপক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত রিয়াদ কর্তৃপক্ষ গত বছরের ১৯ অক্টোবর ‌ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে খাশোগিকে হত্যার কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়।
প্রকৃতপক্ষে, সৌদি নীতির সমালোচক সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে গ্রেফতারের জন্য সরকার বহুদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল এবং তাকে ব্ল্যাক লিস্টে রাখা হয়েছিল। রিয়াদ সরকারের বিরোধী অনেকের মতো জামাল খাশোগিও সবসময় গ্রেফতার ও হত্যার আতঙ্কে থাকতেন। এ কারণে তিনি সৌদি আরবের বাইরে জীবন যাপন করতেন। একদিকে, সৌদি সরকার জামাল খাশোগি হত্যার ঘটনাকে গুরুত্বহীন হিসেবে তুলে ধরে ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েছে অন্যদিকে আমেরিকাসহ পাশ্চাত্যের সরকারগুলো এ ব্যাপারে নীরব থেকে প্রমাণ করেছে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে তাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই।
সৌদি আরবের মানবাধিকার কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাজাভি আল রাশিদ বলেছেন, সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার না করার অর্থ সৌদি সরকার বিরোধীদেরকে সতর্ক করে দেয়া। তিনি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেয়া এক ভাষণে বলেছেন, সৌদি সরকার বিরোধীরা যাতে সবসময় আতঙ্কে থাকে সেজন্যই খাশোগি হত্যাকারীদের বিচার করা হয়নি।
জামাল খাশোগি হত্যার ঘটনায় পাশ্চাত্যের সরকারসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখালেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত ওই হত্যার নিন্দা পর্যন্ত জানাননি। সৌদি আরবের সঙ্গে করা কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তি টিকিয়ে রাখার জন্যই তিনি নিন্দা জানানো থেকে বিরত থাকেন। এ ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ২০ নভেম্বর বলেন, "আমেরিকা সৌদি আরবের সহযোগী হিসেবে টিকে থাকবে এমনকি দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও যদি খাশোগি হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হয়ে থাকেন তবুও।"
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এ ধরণের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, মানবাধিকার বিষয়টিকে তিনি কেবল শত্রু ভাবাপন্ন দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন।

‘বাকিতে’ ইভিএম কিনে টাকার জন্য ঘুরছে ইসি by হারুন আল রশীদ

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ৮২ হাজার ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) কেনার জন্য দরকার ১ হাজার ৯২১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। সরকার এই টাকা দেবে কি না, সেটি নিশ্চিত না হয়েই তারা ৮২ হাজার ইভিএম কেনার জন্য কার্যাদেশ দিয়ে দিয়েছে বিএমটিএফকে (বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি)। এ অবস্থায় অর্থ মন্ত্রণালয় ইসিকে দিয়েছে মাত্র ৭৯৭ কোটি টাকা। বলেছে, এই অর্থবছরে আর কোনো টাকা দেওয়া সম্ভব হবে না।
অন্যদিকে, বিএমটিএফ কার্যাদেশ পেয়ে ৮২ হাজার ইভিএম বানিয়ে ফেলেছে। এ অবস্থায় খানিকটা চাপে ও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে ইসি। বাকি ১ হাজার ১২৪ কোটি টাকা কোত্থেকে আসবে? উদ্ধার পেতে তারা এখন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে দৌড়ঝাঁপ করেছে।
শেষমেশ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারের কমবেশি সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এডিপির (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) উল্লেখযোগ্য অংশ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়। সেই সব ব্যর্থ প্রকল্পের টাকা ফেরত এলে তা সরকারের অগ্রাধিকার পাওয়া জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পকে দেওয়া হবে। তারপর যা কিছু অবশিষ্ট থাকবে, তা ইসিকে দেওয়া হবে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসির এই প্রকল্পের অবস্থা এখন লেজেগোবরে।
অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
যে জন্য ইভিএম
২০১৮ সালের জুলাইতে ইসি দেড় লাখ ইভিএম কেনার জন্য ৩ হাজার ৮২৫ কোটির প্রকল্প গ্রহণ করে। এর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) বলা হয়েছে, প্রকল্প শেষ হবে ২০২৩ সালের জুনে। প্রকল্পের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, অধিকতর সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গণতন্ত্রের উন্নয়ন করা। প্রকল্পটি নিয়ে শুরু থেকেই রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক চলে আসছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ অধিকাংশ দলই নির্বাচনে এর ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে। আর ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ থেকেও এর ব্যাপারে তেমন কোনো আগ্রহ দেখানো হয়নি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা শুরুতে ইভিএমের পক্ষে না থাকলেও এখন তিনি দেশব্যাপী এর প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। কমিশনার মাহবুব তালুকদার প্রকল্পের ঘোর বিরোধী মনোভাব দেখালেও ইভিএমসংক্রান্ত সর্বশেষ সিদ্ধান্তগুলোয় তিনি ইতিবাচক মনোভাব জানিয়েছেন বলে কমিশন সূত্র জানায়।
এমন সব তর্ক-বিতর্কের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছয়টি আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ফল ইতিবাচক ছিল না। তবে সর্বশেষ কয়েকটি উপজেলায় কোনো ধরনের বিপত্তি ছাড়াই ইভিএম ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে বলে ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।
৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার প্রকল্প
প্রকল্পের ব্যয়ের হিসাবে বলা হয়েছে, ২০১৮-১৯ সালে ১ হাজার ৯৯৮ কোটি, ২০১৯-২০ সালে ৮৫০ কোটি, ২০২০-২১ সালে ৮৫৪ কোটি, ২০২১-২২ সালে ৭৭ কোটি এবং ২০২২-২৩ সালে ৪৫ কোটি ব্যয় করা হবে। প্রকল্পে তিন ধাপে ইভিএম কেনার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৮২ হাজার ইভিএম কেনা হবে, যার ব্যয় ১ হাজার ৯২১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে কেনা হবে ৩৪ হাজার করে ইভিএম। আর তাতে ব্যয় ৭৯৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা করে। প্রতিটি মেশিনের দাম ২ লাখ ৫ হাজার টাকা। আর এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় অন্যান্য মেশিন ও যন্ত্রপাতির দাম ২৯ হাজার ৫০০ টাকা। সব মিলিয়ে ব্যবহারের উপযোগী প্রতিটি ইভিএমের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা।
অপরিকল্পিত প্রকল্প
প্রথম ধাপে ৮২ হাজার ইভিএম কেনার জন্য দরকার ছিল ১ হাজার ৯২১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে এই টাকা পাওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত না হয়েই ইসি বিএমটিএফকে ৮২ হাজার ইভিএম কেনার কার্যাদেশ দিয়ে দেয়। ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, কার্যাদেশ পেয়ে বিএমটিএফ সমপরিমাণ ইভিএম তৈরি করে ফেলেছে। অথচ অর্থ মন্ত্রণালয় চলতি অর্থবছরে এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করেছে মাত্র ৭৯৭ কোটি টাকা। দুই মাস আগে এই টাকা মহাহিসাব নিরীক্ষকের দপ্তর থেকে বিএমটিএফকে পরিশোধ করা হয়েছে। এই টাকা থেকেই বিএমটিএফ থেকে ইসিকে ইতিমধ্যে ২১ হাজার ইভিএম সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু ইসির সঙ্গে বিএমটিএফের চুক্তি অনুযায়ী বাকি ১ হাজার ১২৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা আগামী জুনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
বিষয়টি নিয়ে ইসির শীর্ষ কর্মকর্তারা কয়েক দফায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। কিন্তু সেখানে ইতিবাচক কোনো ফল পাওয়া যায়নি। এরপর গত মাসে ইসি থেকে সার্বিক পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানানো হয়। এই মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এডিপির অব্যয়িত টাকা ফেরত এলে সেখান থেকে ইসিকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইসি যেহেতু ইভিএম কিনে ফেলেছে, সেহেতু টাকা তো দিতেই হবে। তাই আমরা চেষ্টা করছি যাতে টাকাটা দেওয়া যায়।’
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সাধারণত এডিপির অব্যয়িত টাকা ফেরত আসার পর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এই টাকা ব্যয়ের জন্য যে সুপারিশ করে, তাতে অর্থ মন্ত্রণালয় আপত্তি করে না। আর অর্থ মন্ত্রণালয় যাতে আপত্তি না করে, সে জন্য ইসি থেকেও জোরালো চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘বিএমটিএফ মেশিন বানিয়ে ফেলেছে। এর পেছনে তাদের অনেক টাকা বিনিয়োগ হয়ে গেছে। সে জন্যই আমরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে যেসব টাকা অব্যয়িত থাকবে, সেগুলো আমাদের দেওয়ার অনুরোধ করেছি।’
তড়িঘড়ির কারণ
বর্তমানে যেসব নির্বাচন হচ্ছে বা সামনে যেসব নির্বাচন হবে, তা সামলানোর মতো ইভিএম ইসির কাছে রয়েছে। ২০২১ সালের শুরুতে দেশজুড়ে পৌরসভা নির্বাচন হবে। তার আগে দেশে বড় পরিসরে কোনো নির্বাচন নেই। যে কারণে এই অর্থবছরেই ৮২ হাজার ইভিএম কেনা এবং টাকার জন্য ‘মরিয়া’ হয়ে ছোটার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের কারও মতে, ইসি সচিবালয়ের শীর্ষ পর্যায়ে কয়েকজন কর্মকর্তা প্রেষণে দায়িত্ব পালন করছেন। সংসদ নির্বাচন শেষ। তাই তাঁরা যেকোনো সময়ে বদলি হয়ে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ফেরত যেতে পারেন। মূলত, তাঁদের ইচ্ছাতেই এই অর্থবছরে ৮২ হাজার কেনার কাজ শেষ করার তোড়জোড় চলছে। তাঁরা থাকা অবস্থাতেই ১ হাজার ৯২১ কোটি ৮৬ লাখ টাকার কেনাকাটার কাজ শেষ করে যেতে চান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সাবেক মহাহিসাব নিরীক্ষক এম হাফিজ উদ্দীন খান প্রথম আলোকে বলেন, এই প্রকল্পে ইসি সরকারি নিয়ম-নীতির কিছুই মানেনি। পরিকল্পনা কমিশন থেকে পাস হওয়ার আগেই তারা প্রকল্পের মালামাল কিনে ফেলেছে। টাকা বরাদ্দ হওয়ার আগেই মালামাল কেনার কার্যাদেশ তারই ধারাবাহিকতা। এটা পিপিআরের (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল) পরিপন্থী।
প্রকল্পে অনিয়ম
নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিতে হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী এই প্রকল্পে ১৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার কথা। কিন্তু ইসি একজন প্রকল্প পরিচালক, একজন উপপ্রকল্প পরিচালক ও একজন হিসাবরক্ষক নিয়োগ দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রকল্পের কারিগরি দিক বাস্তবায়নের জন্য একজন প্রোগ্রামার, একজন মেন্টেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার, দুজন পারসোনালাইজেশন অফিসার ও অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। চলমান আইডিয়া প্রকল্পের জনবল দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে।
প্রকল্প প্রস্তাবে ইভিএম পরিচালনার জন্য ৩ হাজার ১১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলা আছে। এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। সংসদ নির্বাচনে আগেই থেকে ইভিএমের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এর পেছনে ব্যয় হওয়া টাকা প্রকল্প থেকে না দিয়ে ইসির নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে।

গাছের যোগাযোগেও হ্যাকারের বাধা!

কল্পবিজ্ঞাননির্ভর ছবি ‘অ্যাভাটার’-এ পরিচালক জেমস ক্যামেরন দেখিয়েছিলেন, একে-অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করছে গাছেরা! রূপালি পর্দার এমন ঘটনা কিন্তু বাস্তবেও ঘটে। গবেষকেরা এখন বলছেন, গাছেরা নিজেদের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করতে পারে। শুধু তাই নয়, এই যোগাযোগে নাকি নাক গলায় হ্যাকাররাও!
অবশ্য এই হ্যাকার বলতে প্রচলিত অর্থে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ কোনো ব্যক্তিকে বোঝানো হচ্ছে না। ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, একটি বিশেষ প্রজাতির পোকা এই হ্যাকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। সম্প্রতি চীনের একদল গবেষক দেখেছেন, সংকটের সময়ে গাছেরা তাদের চারপাশে যোগাযোগ করে। বিশেষ করে, কোনো গাছ রোগাক্রান্ত হলে বা কীট-পতঙ্গের আক্রমণের শিকার হয়ে হুমকির সম্মুখীন হলে সেটি চারপাশের অন্য গাছদের সতর্ক করতে সংকেত বার্তা পাঠায়।
গবেষণাটি করেছেন চীনের জিলিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের হাং জুন-চাং, জিয়াও-পিং ইয়ু ও তাদের সহকর্মীরা। তাঁরা দেখতে পেয়েছেন, জীবাণু অথবা কীট-পতঙ্গ দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পর গাছেরা দুই ভাবে সতর্ক সংকেত পাঠায়। হয় বাতাসের মাধ্যমে অথবা শেকড়ের সাহায্যে মাটির মাধ্যমে বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করা হয়।
কোনো গাছে যখন জীবাণু আক্রমণ করে, তখন গাছ ব্যাপক হারে স্যালিসিলিক অ্যাসিড উৎপাদন করে। এই অ্যাসিড জীবাণুকে প্রতিহত করে, আর চারপাশের বাতাসে মিশে অন্য গাছদের সতর্ক করে দেয়। অন্যদিকে কোনো পোকামাকড় আক্রমণ করলে গাছ উৎপাদন করে জ্যাসমোনিক অ্যাসিড। এই অ্যাসিড বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে ওই পতঙ্গ খায় এমন শিকারি প্রাণীকে আকৃষ্ট করে। এর পাশাপাশি সতর্ক করে দেয় অন্য গাছকে।
ঠিক এই জায়গাতেই সমস্যা সৃষ্টি করছে হোয়াইটফ্লাইস নামের একটি পোকা। এটি গাছকে বিভ্রান্ত করতে সক্ষম। শুধু তাই নয়, গাছকে বোকা বানিয়ে ভুল সতর্ক বার্তা পাঠাতেও বাধ্য করে এগুলো। এ জন্যই গবেষকেরা এই নির্দিষ্ট পোকাগুলোকে ‘হ্যাকার’ বলে অভিহিত করছেন।
‘প্রসিডিং অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্স’ নামের একটি বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকীতে সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা তাদের প্রাপ্ত ফলাফল প্রকাশ করেছেন। হাং জুন-চাং ও জিয়াও-পিং ইয়ু তাদের গবেষণায় দেখেন, হোয়াইটফ্লাইসের লালাতে এক ধরনের পদার্থ রয়েছে যা গাছেদের ধোঁকা দিতে সক্ষম। ওই পোকাগুলো এমন ভাবে আক্রমণ করে, যাতে গাছ সেগুলোকে পোকা নয়, বরং জীবাণু ভাবে। ফলে গাছ জ্যাসমোনিক অ্যাসিড তৈরির পরিবর্তে স্যালিসিলিক অ্যাসিড উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে চারপাশে ভুল সতর্ক বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এই ভুল সতর্ক বার্তায় আশপাশের গাছগুলো আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে। কারণ পোকার আক্রমণ প্রতিহত করার মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি হয় না গাছগুলোর। ফলে হোয়াইটফ্লাইসের বিনা বাধায় গাছের ক্ষতি করতে পারে।
বিজ্ঞানীরা এ বিষয়টি নিশ্চিত হতে টমেটো গাছের ওপর গবেষণা চালান। তারা কিছু টমেটো চারাকে কাচের ছোট ছোট কক্ষে উৎপাদন করেন। কয়েকটি টমেটো গাছে হোয়াইটফ্লাইস ছেড়ে দেওয়া হয়। আর বাকিগুলো থাকে সুস্থ অবস্থায়। এভাবে কয়েক দিন চলার পরে আক্রান্ত কক্ষ ও সুস্থ কক্ষ পাশাপাশি রেখে, একটি থেকে অপরটিতে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। এভাবে ২৪ ঘণ্টা রাখার পর দেখা যায়, ওই সুস্থ টমেটো গাছেও হোয়াইটফ্লাইস আক্রমণ করেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, দুই ধরনের গাছেই হোয়াইটফ্লাইস সমান সংখ্যক ডিম দিয়েছে। তবে দ্বিতীয় ধাপে আক্রান্ত গাছে পোকাগুলো দ্রুত বেড়ে উঠছে।
বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে আরও একটি পরীক্ষা করেন। এবার তাঁরা মনোযোগ দেন, দুই ধরনের কক্ষের গাছে কী ধরনের অ্যাসিড উৎপাদিত হচ্ছে তার ওপর। তারা এ জন্য দুই কক্ষের বাতাসকে নমুনা হিসেবে বেছে নেন। এ সময় দেখা গেছে-সুস্থ বাতাসে থাকা টমেটো গাছে যখন হোয়াইটফ্লাইস প্রথমবার আক্রমণ করছে, তখন জ্যাসমোনিক অ্যাসিড বেশি উৎপাদিত হচ্ছে। কিন্তু যখন ওই কক্ষের বাতাস অন্য সুস্থ কক্ষে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়, তখন সেখানে হোয়াইটফ্লাইস আক্রমণ করলে অপেক্ষাকৃত কম পরিমাণে জ্যাসমোনিক অ্যাসিড উৎপাদিত হয়।
অপরদিকে বিপরীত ঘটনা ঘটছে স্যালিসিলিক অ্যাসিডের ক্ষেত্রে। সতেজ গাছে প্রথমবার হোয়াইটফ্লাইসের আক্রমণে কম পরিমাণে স্যালিসিলিক অ্যাসিড উৎপাদিত হলেও, দ্বিতীয় কক্ষে বাতাস সরবরাহের পরে আক্রান্ত গাছেরা অধিক পরিমাণে স্যালিসিলিক অ্যাসিড তৈরি করছে। এই ঘটনায় বিজ্ঞানীর ভুল বার্তা প্রদানের বিষয়টি নির্ধারণ করেছেন।
প্রাপ্ত ফলাফলের গুরুত্ব বোঝাতে গবেষক হাং জুন-চাং বলেন, গাছের এমন ধরনের দৈহিক কর্মকাণ্ডের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে, যা পোকার কারণে ভুল সংকেত পাঠাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে কৃষি খাতে আরও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যাবে। গোপনে আক্রমণ চালানো কীট-পতঙ্গ থেকে নিজেদের ফসলকে রক্ষা করতে পারবেন কৃষকেরা। এতে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ ডলারের অপচয় রোধ করা যাবে।

বিসিএসে প্রথম হলেন চিকিৎসক নীলিমা by মোছাব্বের হোসেন

নীলিমা ইয়াসমিন
সম্প্রতি প্রকাশিত চিকিৎসকদের জন্য ৩৯তম বিশেষ বিসিএসে দেশসেরা হয়েছেন নীলিমা ইয়াসমিন। এই বিসিএসে ৪ হাজার ৭৯২ জন চিকিৎসক নেওয়া হয়। নীলিমা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন।
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা শাস্ত্রে পড়ার সময় বিয়ে হয় নীলিমা ইয়াসমিনের। সংসার, সন্তান সবকিছু সামলে তিনি পড়াশোনায় করেই এ ফল করেছেন। ফলে সেরা হওয়ার পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না নীলিমার।
নীলিমা বলছিলেন, ‘তৃতীয় বর্ষে পড়ি তখন বিয়ে হয়। বিয়ের পর সংসারের চাপ তো আছেই। তবে নিজের পড়াশোনাটা করে গেছি ঠিকমতো। আর তার ফলও পেয়েছি হাতেনাতে। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বর্ণপদক নিয়েছিলাম সেরা ফলের জন্য।’
নীলিমার জীবনে প্রথম বিসিএস পরীক্ষা ছিল ৩৮তম বিসিএস। এই পরীক্ষার তিন দিন পর এফসিপিএস পরীক্ষা। সন্তানের বয়সও চার মাস। সব মিলে দারুণ এক চাপে ছিলেন তিনি। ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পাস করে লিখিত পরীক্ষা দিয়েছেন, সে ফলাফল এখনো হয়নি। এফসিপিএসের মতো কঠিন পরীক্ষাতেও পেয়েছেন সফলতা।
নীলিমার পড়াশোনায় ভালো করার অভ্যাস তৈরি হয়ে গিয়েছিল। ঢাকার মুন্সি আব্দুর রউফ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০০৮ সালে এসএসসি আর ২০১০ সালে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করেন। বৃত্তি নিয়ে দুটোতেই গোল্ডেন জিপিএ ৫ পান। এরপর ভর্তি হন সিলেটের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে।
মেডিকেলে ভালো ফলাফলের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বর্ণ পদক পেয়ে নিজের প্রত্যাশা বেড়ে গিয়েছিল নীলিমার। ছেলে নাহিয়ান হকের বয়স যখন ১ বছর তখন ৩৯তম বিসিএসে অংশ নেন তিনি। পরীক্ষা ভালোই দিয়েছিলেন। বললেন, ‘যখন ৩৯তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিয়ে বের হলাম, তখন মিলিয়ে দেখলাম যে ১৬৪/১৬৫ পাব। মৌখিক পরীক্ষাও দিলাম বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। ফলাফলের দিন নিজের ফলাফল দেখে কিছুটা অবাক হলেও আবেগে ভাসিনি। ভালো পরীক্ষা দিয়েই তো এ ফল পেয়েছি।’
নীলিমার স্বামী জিহাদুল হকও চিকিৎসক হিসেব কর্মরত। নীলিমা বললেন, ‘স্বামী চিকিৎসক হওয়াতে তিনি সবকিছুতে সহায়তা করেছেন। বিসিএসে আমার ভালো ফলাফলের কৃতিত্ব তাঁরও আছে।’
নীলিমার গ্রামের বাড়ি ফেনীতে হলেও বেড়ে ওঠা ঢাকাতেই। বাবা মোহাম্মাদ হানিফ ছিলেন আমেরিকা প্রবাসী আর মা গৃহিণী। বাবা-মা সব সময় তাঁকে উৎসাহ দিয়েছেন। বাবা ২০১৩ সালে মারা যান। নীলিমার সন্তানের বয়স এখন ২ বছর।
নীলিমা ভালো চিকিৎসক হতে চান। চিকিৎসকদের সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক মনোভাব বদলে মানুষ আর চিকিৎসকের মধ্যে ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে চান তিনি।

পদ পেয়েছেন বিবাহিত, বয়স্ক ও ব্যবসায়ী: কমিটি ভেঙে দিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

দীর্ঘ এক বছর পর ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে বিতর্কিত আখ্যা দিয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তা ভেঙে দিতে আল্টিমেটাম দিয়েছেন পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ঠাঁই না পাওয়া নেতারা। গতকাল দুপুরে মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তারা। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে কমিটিতে স্থান পাওয়া কিছু নেতাও। তাদের দাবি, যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি তাদের। ওদিকে বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে কমিটি ভেঙে না দিলে লাগাতার কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন পদবঞ্চিতরা। হুঁশিয়ার করেন গণপদত্যাগেরও। দাবি আদায়ে আজ দুপুর ১টায় টিএসসির সন্ত্রাস বিরোধী রাজু স্মারক ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন তারা। এদিকে সোমবার কমিটি গঠনের পর পদবঞ্চিতদের সংবাদ সম্মেলনে হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দপ্তর সেলে জমা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। যদিও গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতি অনাস্থা জানিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে পদ বঞ্চিতরা। অন্যদিকে গত সোমবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে পদ বঞ্চিতদের তোপের মুখে পড়েন কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। পরে আহত নেতাদের না দেখেই ঢামেক এলাকা ত্যাগ করেন তারা।
এদিকে বিতর্কিত কমিটি ভেঙে দিতে গতকালও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন পদ বঞ্চিতরা। কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর অনুসারীরাও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াকে চুড়ান্ত আখ্যা দিয়ে স্লোগান দিয়েছেন। তারা বিক্ষোভকারীদের জামায়াত শিবির রাজাকার বলতেও ছাড়েনি। পদ বঞ্চিতদের অভিযোগ যারা ছাত্রলীগের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের একটি বৃহৎ অংশকে বাদ কিংবা সঠিক পদে মূল্যায়ণ না করে নিষ্ক্রিয়, চাকরিজীবী, বিবাহিত, অছাত্র, বয়সোর্ধ্ব, বিভিন্ন মামলার আসামি, মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকাদের পদায়ন করা হয়েছে। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সাবেক প্রচার সম্পাদক সাইফুদ্দিন বাবু বলেন, আমরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একমাত্র অভিভাবক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আকুল আবেদন জানাই যে অধিকাংশ ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে যে কমিটি করা হয়েছে তা ভেঙে দিয়ে অধিক তদন্তের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও অর্থবহ কমিটি করার। সংবাদ সম্মেলনে শামসুন্নাহার হল শাখার সভাপতি নিপু ইসলাম তন্বী বলেন, আমরা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিতর্কিত কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন করে কমিটি গঠনের দাবি জানাই। যদি এ সময়ের মধ্যে নতুন করে কমিটি গঠন না করা হয় তাহলে আমরা লাগাতার কর্মসূচিতে যাব।
সে কর্মসূচিতে আমাদের বিক্ষোভ ও অনশনও থাকবে। গণপদত্যাগ করবো আমরা। রোকেয়া হল শাখার সভাপতি বিএম লিপি আক্তার বলেন, আমি রোকেয়া হলের সভাপতি ও ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় আমাকে ছাত্রলীগের উপ সম্পাদক পদ দেয়া হয়েছে। আমি ছাত্রলীগের সেক্রেটারিকে জিজ্ঞেস করেছি যে, কোন ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে আপনি আমাকে ছাত্রলীগের উপ সম্পাদক পদ দিয়েছেন। তিনি উত্তর দিয়েছেন, ডাকসুর গুরুত্বপূর্ণ পদে আছি বলে আমাকে এই পদ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাপারটা এমন আপনি এমপি নির্বাচন করেছেন, এবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচন করেন। আমার প্রশ্ন হলো- আপনি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে থেকেও কেন ডাকসু নির্বাচন করলেন। এসময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, কমিটিতে যারা স্থান পেয়েছে তারা শোভন-রাব্বানী কমিটির ৮-১০ মাস রাজনীতি করেছে। তাদের পেছনে-পেছনে ঘুরেছে। তাদের মেকানিজমে যারা তাদেরকেই কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে। আগের দুই কমিটির ত্যাগী কাউকে রাখা হয়নি। তদন্ত কমিটির ব্যাপারে তিনি বলেন, যারা মধুর ক্যান্টিনে মারধর করেছে তাদেরকেই তদন্ত কমিটির সদস্য করা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটি আমরা মানি না।
ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সরাসরি নির্দেশেই হামলা চালানো হয়েছে। আবার তারাই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আমরা চাই এ হামলার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং হামলাকারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হোক। জসীম উদ্দীন হন শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খান বলেন, আমরা আর কোন আওয়ামী লীগ নেতারা আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে চাই না। কারণ তারা আমাদের ডাকসু নির্বাচনের সময়ও নানা ধরণের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু তারা তাদের ওয়াদা রাখেননি। তাই আমরা এখন একমাত্র আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার কথা শুনবো। আমরা তার দিকে তাকিয়ে। এর আগে সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়ে নতুন পদপ্রাপ্তদের হামলায় যেসব পদবঞ্চিতরা আহত হয়েছিলেন তাদেরকে হাসপাতালে দেখতে যান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বনী। এসময় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীদের তোপের মুখে পড়েন তারা।
এসময় তাদের প্রায় আধা ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উভয়ই দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। অন্যদিকে হামলার ঘটনায় তদন্ত করতে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে রয়েছেন- ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, আইন বিষয়ক সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন শাহাদাৎ ও তথ্য গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক পল্লব কুমার বর্মণ। ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার ইফতার-পরবর্তী সময়ে মধুর ক্যান্টিনে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত ঘটনা হয়েছে, আমরা ছাত্রলীগ পরিবার তার তীব্র নিন্দা জানাই।
সেই সঙ্গে ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির লক্ষ্যে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো। তদন্ত কমিটিকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরেজমিন অনুসন্ধান করে তথ্য-উপাত্তসহ প্রতিবেদন দফতর সেলে জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান ও সিনিয়র সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, আমরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। তথ্য সংগ্রহ করছি। নির্দিষ্ট সময়েই প্রতিবেদন দেয়া হবে। এ বিষয়ে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, কমিটি নিয়ে যদি কোন ত্যাগী নেতা বাদ পড়ে যায় তবে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিষয়টি জানাব। তিনিই বিষয়টি দেখবেন। হামলার বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বনী বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে কমিটিতে বিবাহিতদের পদ পাওয়ার অভিযোগের পর এ বিষয়েও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন।

কেরানীগঞ্জ কারাগারে খালেদা জিয়ার মামলার কার্যক্রম শুরু

কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসন  খালেদা জিয়ার মামলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম দিন গতকাল মঙ্গলবার সোয়া ১১টায় গ্যাটকো মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীদের নেতৃত্ব দেন ব্যারিস্টার মাসুদ রানা এবং দুদুকের আইনজীবী ছিলেন মোশারফ হোসেন কাজল। মামলার ১৭ জন আসামির মধ্যে প্রধান আসামি খালেদা জিয়া ছাড়া ১৬ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এই মামলার মোট আসামি ২৪ জনের মধ্যে ৭জন মারা গেছেন। গতকাল মামলার চার্জ গঠনের তারিখ থাকলেও খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে তার আইনজীবীরা আদালতের কাছে সময়ের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে বিচারপতি আবু সৈয়দ দিলদার হোসেন আগামী ১৮ই জুন মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সব মামলার বিচার কার্যক্রম এখন থেকে কেরানীগঞ্জের বিশেষ আদালতেই চলবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এর আগে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে একটি নবনির্মিত ভবনকে অস্থায়ী আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিট্যাবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দেয় আদালত। এখন তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তরের ব্যাপারে চিকিৎসকদের ছাড়পত্রের উপর নির্ভর করা হবে। কবে নাগাদ বিএনপি চেয়ারপারসনকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তর করা হতে পারে সে বিষয়ে মন্ত্রী পরিষ্কার করে কিছু না বললেও তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে। ডাক্তার যখন বলবে তাঁর চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে, তখন তাঁকে নিয়ে যাওয়া হবে। আইনমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার সব মামলা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশেই স্থাপিত বিশেষ আদালতে ছিল। তাকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে থেকেই কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে বিশেষ আদালত স্থানান্তর করে তাঁর বিচার কাজ চলছিল। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার যেহেতু কেরানীগঞ্জে চলে গেছে সেজন্য সেখানে বিচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী বলেন, ডাক্তাররা যতক্ষণ পর্যন্ত ছাড়পত্র না দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সরকার খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ নেবে না। তাকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হবে না। ডাক্তারদের ছাড়পত্রের উপর ভিত্তি করেই নেয়া হবে।  তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার বিশেষ কোনো ঝুঁকি থাক আর না থাক, আমরা কোন ঝুঁকি নিতে চাইনা। ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এরকম কোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন সরকার হতে চায়না।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সুস্থ আছেন। তিনি নিয়মিত রোজা রাখছেন। গতকাল সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি যতটুকু জানি, উনি রোজা রাখছেন। ব্লাড প্রেসার, ডায়াবেটিসের ওষুধ নিচ্ছেন, ইনসুলিন নিচ্ছেন। আগে ইনসুলিন নিতেন না, সে জন্য ডায়াবেটিস কন্ট্রোলে ছিল না। এখন খালেদা জিয়া ইনসুলিন নিচ্ছেন। আমরা যেটুকু খবর পেয়েছি তাতে উনার শরীর মোটামুটি ভালো আছে। আমরা খবর পেয়েছি- উনি আগের চেয়ে অনেক সুস্থ।
এর আগে গত বছরের ৮ই ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে নেয়া হয় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে।

ভূমধ্যসাগর ট্র্যাজেডি: নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা বাড়তে পারে by মিজানুর রহমান

ভূমধ্যসাগরে ইতালি অভিমুখী অভিবাসন প্রত্যাশীদের নৌকাডুবিতে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা বাড়তে পারে। এমনটাই আভাস দিয়েছেন দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি তিউনিশিয়ার জার্জিস উপকূলে ৩দিন ধরে অবস্থান করা ত্রিপোলির বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম বিষয়ক কাউন্সেল এ এস এম আশরাফুল ইসলাম। গতকাল সন্ধ্যায় মানবজমিনের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে বলেন, ভয়াল ওই দুর্ঘটনায় সাগর বুকে হারিয়ে যাওয়া ৪০ জন বাংলাদেশির তথ্য তারা পেয়েছেন। এর মধ্যে একজনের লাশ পাওয়া গেছে। লাশ শনাক্ত হওয়া ওই বাংলাদেশির নাম উত্তম কুমার। তার বাড়ি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার চাকদহ গ্রামে। বাকিরা এখনও নিখোঁজ। তাদের লাশও  মিলেনি।
শ্রম কাউন্সেলর বলেন, লাশ না পাওয়ায় নিখোঁজ বাংলাদেশিদের আমরা ‘নিহত’ বলতে পারছি না। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম এবং ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই ঘটনায় তাৎক্ষণিক ৩৭ বাংলাদেশি ডুবে মারা যাওয়া এবং ১৪ জন জীবিত উদ্ধার হওয়ার কথা জানিয়েছিল। দূতাবাসের ওই কর্মকর্তা বলেন, ১৪ বাংলাদেশি উদ্ধার হয়েছেন এবং তারা ধীরে ধীরে সুস্থ-স্বাভাবিক হয়ে ওঠছেন। আইসিআরসির বরাতে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সোমবার নিহত ২৭ বাংলাদেশির পরিচয় ‘মোটামুটিভাবে শনাক্ত’ হওয়ার খবর দিয়েছিল। তাদের দেয়া তথ্য মতে, ওই ঘটনায় নিহত অভিবাসীদের ৫ টি লাশ পাওয়া গেছে। তবে তারা কে কোন দেশের নাগরিক সেটি তখনও শনাক্ত হয়নি। উদ্ধার হওয়া চারজন বাংলাদেশি তিউনিসিয়ার জার্জিস শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন জানিয়ে রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছিল ওই ৪ জন উদ্ধার হওয়া ১৪ বাংলাদেশির মধ্যে কি না- সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত হতে পারেনি। বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা জানান, জার্জিস শহরের একটি হাসপাতালে রাখা বাংলাদেশি উত্তম কুমারের লাশ গতকালই শনাক্ত হয়েছে। তার লাশ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে। তিনি জানান, তিউনিসিয়ার উপকূলবর্তী অন্য শহর স্ফ্যাক্স এর একটি হাসপাতালে ভূমধ্যসাগর ট্র্যাজেডিতে নিহত আরও ৩টি লাশ থাকার তথ্য পেয়েছেন। লাশগুলো এখনও শনাক্ত হয়নি।
হিমঘরে রাখা আছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ওই লাশগুলো শনাক্ত করতে অর্থাৎ এদের মধ্যে কেউ বাংলাদেশি আছেন কি-না? তা দেখতে রাতেই আমি ওই শহরে যাচ্ছি। স্মরণ করা যায়, এক দিন আগে রেড ক্রিসেন্টের পারিবারিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপন বিভাগের প্রোগ্রাম অফিসার সাইয়্যেদা আবিদা ফারহীনকে উদ্বৃত করে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমও জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা ধারণার চেয়ে বেশি হতে পারে। সংঘাতময় লিবিয়ার জুয়ারা থেকে অবৈধভাবে ইতালিতে যেতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রওনা হয়েছিলেন ওই নৌযাত্রীরা। ভোররাতে তিউনিসিয়া উপকূলে আরেকটি ছোট নৌকায় তাদের ওঠানোর পর বড় ঢেউয়ের কবলে পড়েন। এতে নৌকাটি ডুবে যায়। তিউনিসিয়ার জেলেরা ডুবুডুবু অবস্থায় ১৬ জনকে কোনো মতে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেন। এর মধ্যে ১৪ জনই বাংলাদেশি। তিউনিসিয়া রেড ক্রিসেন্টের তথ্য মতে, ওই নৌকায় ৮৫ থেকে ৯০ জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩২ জন মিশরীয় নাগরিক ছিলেন বলে বেঁচে ফিরে আসা যাত্রীদের মাধ্যমে তারা মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছেন। নৌকার আরোহীদের মধ্যে ৫০-৫৫ জন বাংলাদেশি ছিলেন বলে ধারণা তাদের।

দুর্ঘটনায় স্বপ্ন ভেঙে চুরমার, পা হারিয়ে দিশাহারা ফাহিম

পা হারিয়ে দিশাহারা সিলেটের যুবক ফাহিম আহমদ। এমন ঘটনা তার জীবনে ঘটবে স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি। একটি দুর্ঘটনা তার জীবনকে পাল্টে দিয়েছে। এখন তাকে হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাটাতে হচ্ছে দুঃস্বপ্নের সময়। আর ছেলের এই অবস্থায় পরিবারে নেমে এসেছে অমানিশার ঘোর অন্ধকার। পিতৃহারা ছেলের এই দুর্দশায় চিন্তিত মা  সাহেদা সুলতানাও। ফাহিম আহমদ সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ হাতিমবাগ ২৪-এ নং বাসার বাসিন্দা। পিতা মরহুম সৈয়দ আব্দুল মালিক।
ফাহিম আহমদ জানিয়েছেন, গত ৬ই মে মধ্যরাতে দুই বন্ধু শুভ ও সুইটকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে কানাইঘাটের সুরইঘাট থেকে নগরীতে ফিরছিলেন তিনি। দরবস্ত বাজারে আসার আগে রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্মুখে রাস্তার টার্নিংয়ে ট্রলি গাড়ির (কুত্তা গাড়ি) সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় মোটরসাইকেলের। এ সময় চালকের আসনে থাকা ফাহিমসহ তার অপর দুই বন্ধু গুরুতর আহত হয়। রাতে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। প্রথমে জরুরি বিভাগে এবং পরে তাদের হাসপাতালের তৃতীয় তলার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৯ নম্বর বেডে নিয়ে যাওয়া হয়। ডাক্তাররা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, ফাহিমের ডান পায়ে পচন ধরেছে। দ্রুত তার ওই পা কেটে না ফেললে শরীরেও এই পচন ছড়িয়ে পড়তে পারে। ডাক্তারদের এই কথা শুনে আরো কাতর হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। পরে সিদ্ধান্ত নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সার্জারির মাধ্যমে ফাহিমের ডান পা কেটে ফেলা হয়। এখন ফাহিম তৃতীয় তলার ১০ ওয়ার্ডের ২৩ নম্বর কেবিনে চিৎিসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত ফাহিমের বন্ধু শুভ ও সুইট সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে। এদিকে, এ ঘটনার পর ফাহিমের ছোট ভাই সাঈম আহমদ সোমবার সিলেটের কানাইঘাট থানায় এজাহার দাখিল করেন। তার এজাহারের প্রেক্ষিতে থানায় ট্রলি গাড়ির মালিক কামরুল ইসলামকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। কামরুল ইসলামের বাড়ি কানাইঘাটের ভিত্রিখেল গ্রামে। সিলেটের কানাইঘাট থানার ওসি আব্দুল আহাদ জানিয়েছেন, বাদী সাঈমের এজাহারের ভিত্তিতে বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। পা হারানো ফাহিম আহমদ পেশায় মোটরসাইকেল ইঞ্জিনিয়ার। কানাইঘাটের সুরইঘাট বাজারে তার বন্ধু সুইটের মালিকানাধীন সুইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে কাজ করতেন। রাতে বন্ধুর সঙ্গে সিলেট শহরে তার নিজের বাসায় ফেরেন। দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে ফাহিম তৃতীয়। তার ছোট আরেক ভাই রয়েছে।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ফাহিমের এই অবস্থায় গোটা পরিবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মা সাহেদা সুলতানা ছেলের এই অবস্থায় চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পা হারানো ফাহিমের পায়ে মঙ্গলবার (গতকাল) ফের অপারেশন করা হয়েছে। দুপুরে হাসপাতালের চিকিৎসকরা তার পায়ে অপারেশন করেন। এর বাইরেও তার বুকের ডান পাশের হাড়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি তার শরীরের আরো কয়েকটি অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিবারের বড় ছেলে ফাহিম আহমদকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল পরিবারের। মায়ের আদরের সন্তান সে। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় একটি জীবনের পাশাপাশি একটি পরিবারের স্বপ্নও চুরমার হয়ে গেছে। এখন কেবল প্রার্থনা ফাহিমের জীবন। তবুও যেন দ্রুত সুস্থ হয় ফাহিম এমন কামনা মা সাহেদা সুলতানার।

ভূমধ্যসাগর ট্র্যাজেডি: নিখোঁজ চার তরুণ, নিস্তব্ধ বিয়ানীবাজার by মিলাদ জয়নুল

যেকোনো মূল্যে ইউরোপে যেতে চায় সিলেটের তরুণরা। এই জেলার মধ্যে আবার বিয়ানীবাজারের তরুণরা এই পথে পা বাড়ায় বেশি। মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে হলেও জীবন সাজাতে তাদের কোনো ভয় নেই। এখানকার তরুণদের মনে-ইউরোপ মানে বিলাসী জীবন, সংসারের সুখ-শান্তি।
এই শান্তির পেছনে ছুটতে গিয়ে লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে এখনো নিখোঁজ বিয়ানীবাজারের ৪ তরুণ। তবে সন্তান নিখোঁজের ঘটনায় তাদের পরিবারের কোনো সদস্য সহজে মুখ খুলতে চায় না। পরিবারের উজ্জ্বল-উচ্ছল সন্তান অনিশ্চিত জীবনের মুখোমুখি থাকলেও খোদ বাবা-মা’ই নীরব-নিস্তব্ধ।
নিখোঁজদের মধ্য থেকে আবার একজনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। আব্দুল হালিম সুজন (৩২) নামের ওই যুবক উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের মাইজকাপন গ্রামের মৃত মাহমুদ আলীর ছেলে। এদিকে চারখাই ইউনিয়নের আদিনাবাদ গ্রামের তুহিন (২৮) নামের অপর আরেক তরুণ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অবণী শংকর কর। তিনি ওই তরুণের বাড়ি ঘুরে এসে জানান, গত ৬ই মে তুহিন তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষ যোগাযোগ করে। এরপর থেকে সে নিখোঁজ হয়।
অপরদিকে একইপথে ইতালি যেতে নিখোঁজ হয়েছে রফিক আহমদ ও রিপন আহমদ নামের আরো দুই যুবক। বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অবণী শংকর কর বলেন, সাগরে জীবনহানির জন্য যারা প্রলোভন দেখিয়েছে, সেসব আদম ব্যবসায়ীকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার মামলা দায়ের করলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিখোঁজ সুজনের বড় ভাই আব্দুল আলিম জানান, সুজন দেশে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। মা-বাবাহীন পরিবারের চার ভাই ও এক বোনের সংসারের হাল ধরতে ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিল। পার্শ্ববর্তী বড়লেখা উপজেলার গোয়ালি গ্রামের শাহিন আহমদ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার পারভেজ আহমদ নামের এক দালালের সঙ্গে ৯ লাখ ৮৩ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রায় ১ বছর আগে ইতালি যাওয়ার জন্য চুক্তি হয়েছিল। দীর্ঘদিন লিবিয়াতে অবস্থান করার পর গত বৃহস্পতিবার (৯ই মে) সমুদ্র পথে ইতালি যাওয়ার জন্য ট্রলারে চড়ে সে সহ আরো কয়েকজন। ট্রলারে চড়ার পূর্বে সুজন বাড়িতে সর্বশেষ যোগাযোগ করেছে বলে জানান তার ভাই আব্দুল আলিম। নৌকাডুবির ঘটনা জানার পর থেকে আমার পরিবার-পরিজনদের মধ্যে শঙ্কা কাজ করছে। কেননা, ট্রলারে চড়ার পর থেকে এখনো বাড়িতে সে যোগাযোগ করেনি। ভাইয়ের খোঁজ নেয়ার জন্য দালালের সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ করলে পারভেজ নামের ওই আদম ব্যবসায়ী জানান, আমরা সুজনকে ইতালিগামী ট্রলারে তুলে দিয়েছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, লিবিয়ায় এখনো ইতালি যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন সিলেটের আরো কমপক্ষে ১২শ’ তরুণ। এদের মধ্যে বিয়ানীবাজার উপজেলার প্রায় দেড়শ’ তরুণ সেখানে অপেক্ষা করছে। যারা ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে কয়েকটি দেশ ঘুরে লিবিয়ায় পৌঁছে। লিবিয়া পর্যন্ত পৌঁছতে তাদের একেকজনকে সাড়ে ৬ লাখ থেকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত আদম ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিতে হয়েছে। এর আগেও বিয়ানীবাজার উপজেলার আরো ৩ তরুণ ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনার প্রায় ৩ বছর পেরিয়ে গেলেও নিখোঁজ হওয়া ফতেহপুরের ইমন (২২), শ্রীধরার ফরিদুল আলম (২৪) ও খাসা গ্রামের ইমরান (৩০) আর ফিরে আসেনি। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার থানায় কোনো মামলাও দায়ের করেনি।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে ‘ঘুষ’ পাঠালো ১১ বছরের শিশু

নিউজিল্যান্ড প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডর্নকে পাঁচ নিউজিল্যান্ড ডলার ‘ঘুষ’ পাঠিয়েছে এক ১১ বছর বয়সী মেয়ে শিশু। এক চিঠির সঙ্গে ওই অর্থ পাঠায় ভিক্টোরিয়া নামের এক শিশু। চিঠিতে সে প্রস্তাব দেয়, নিউজিল্যান্ড সরকার যেন ড্রাগন নিয়ে গবেষণা করে। তবে এক পাল্টা মিষ্টি ভাষ্য চিঠিতে তার ঘুষের অর্থ তাকে ফেরত পাঠিয়েছেন আরডর্ন। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়, নিজের চিঠিতে ভিক্টোরিয়া আরডর্নের কাছে ড্রাগন প্রশিক্ষক হতে টেলিকেনেটিক শক্তি চেয়েছিল। এর জন্য চিঠির খামে ঘুষ হিসেবে পাঁচ নিউজিল্যান্ড ডলারও পাঠায় সে। উল্লেখ্য, টেলিকেনেটিক শক্তি হচ্ছে, একধরনের কথিত মানসিক ক্ষমতা, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি স্পর্শ ছাড়াই তার আশপাশের পার্থিব কোনো বস্তুকে প্রভাবিত করতে পারে।
ভিক্টোরিয়াকে হতাশ করে তার চিঠির জবাব দিয়েছেন আরডর্ন। সরকারি খামে পাঠানো লেখা এক চিঠিতে তিনি ভিক্টোরিয়াকে লিখেছেন, তার প্রশাসন বর্তমানে মনোবিদ্যা বা ড্রাগন নিয়ে কোনো কাজ করছে না।
তবে চিঠিতে নিজ হাতে আরও লিখে দিয়েছে, পুনশ্চঃ ওই ড্রাগনগুলো সম্পর্কে আমি খোঁজ রাখবো! তারা কি স্যুট পড়ে?
আরডর্ন ও ভিক্টোরিয়ার মধ্যকার এই চিঠি বদলের ঘটনা প্রথম জানা যায় ওয়েব ফোরাম রেডিটের মাধ্যমে। সেখানে এক রেডিট ব্যবহারকারী দাবি করেন, তার ছোটবোন আরডর্নকে ঘুষ দেয়ার চেষ্টা করেছিল।
তিনি বলেন, আমার ছোটবোন জানতে চেয়েছিল, নিউজিল্যান্ড সরকার ড্রাগন সম্পর্কে কী কী জানে ও তারা কোনো ড্রাগনের খোঁজ পেয়েছে কি না! পেলে যেন তাকে সেগুলো প্রশিক্ষণের জন্য দেয়।
পরবর্তীকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে। জানিয়েছে, ৩০শে এপ্রিল চিঠিটির জবাব দিয়েছেন আরডর্ন।
তিনি তার চিঠিতে লিখেন, আমরা ড্রাগন ও মনোবিদ্যা নিয়ে তোমার পরামর্শ পড়তে খুবই আগ্রহী ছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আপাতত আমরা এই খাতগুলোতে কোনো কাজ করছি না। তাই, আমি তোমাকে তোমার ঘুষের অর্থ ফেরত পাঠাচ্ছি। টেলেকিনেসিস, টেলিপ্যাথি ও ড্রাগন নিয়ে তোমার অনুসন্ধানে আমার শুভ কামনা রইলো।

প্লাস্টিক দূষণ: এখনই উদ্যোগ না নিলে সামনে বড় বিপর্যয় by হাফিজ মুহাম্মদ

প্লাস্টিক বর্জ্য  নিয়ন্ত্রণ ও দূষণ রোধে এখনই উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে তা বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠলে প্লাস্টিক বর্জ্য দূষণ শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি’র (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান বলেন, আমাদের দেশে প্লাস্টিক বর্জ্য মারাত্মক রকম ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। প্লাস্টিক বর্জ্য ড্রেনে ফেলার কারণে তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেগুলো আবার জলাশয় ও নদীতে জমছে। যা মাছ খেয়ে ফেলার কারণে এটা খাদ্যচক্রের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করছে। এর ফলে প্রাণীকূলের ও জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতি করছে। আবর্জনা ব্যবস্থা চিন্তায় ফেলছে। এছাড়া আমাদের কৃষি জমিতে এসব প্লাস্টিক বর্জ্য জমার ফলে সেখানে ফসল উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। প্লাস্টিক মাটিতে মিশে যাচ্ছে কিন্তু পঁচছে না। এসব প্লাস্টিক বর্জ্যের মধ্যে পলিথিন চাইলে এখনই বন্ধ করে দেয়া যায়। কারণ এর বিকল্প কাঁচামাল আমাদের মজুদ রয়েছে। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে দ্রতই পলিথিন বন্ধ করে দিতে পারে। তবে অন্যান্য প্লাস্টিক বন্ধ করতে কিছুটা সময় লাগবে। তিনি আরো বলেন, এসব প্লাস্টিক উৎপাদনের ফলে আমাদের পরিবেশ বান্ধব উৎপাদন সামগ্রী বন্ধ হয়ে গেছে। এটা আবার চালু করে প্লাস্টিক থেকে নিজেদের ফিরিয়ে নিতে হবে। রুয়ান্ডার মত দেশ এক বছরের মধ্যে প্লাস্টিক বন্ধ করে দিতে পারলে আমাদের এখানে এটা কোনো কঠিন কিছু নয়। এছাড়া যেসব প্লাস্টিক রিসাইকেল করা যায় সেটাই কেবল রেখে অন্যসব প্লাস্টিক বন্ধ করে দিতে হবে। এটার জন্য সরকার একটি প্লাস্টিক রিসাইকেল উৎপাদন কারখানা করতে পারে। সেক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডগুলো এসব রিসাইকেল প্লাস্টিক নির্দিষ্ট সময় জমা নিতে পারে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ আবদুল মতিন বলেন, প্লাস্টিক যে উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয় সেটা হচ্ছে বিষাক্ত। প্লাস্টিকের মূল দানাটা মারাত্মক ক্ষতিকর। তবে এটা উৎপাদনের পরে কোনো কোনো প্লাস্টিকে ক্ষতি কম আর বেশি হয়ে থাকে। তবে সব ধরণের প্লাস্টিকই পরিবেশ, জীববৈচিত্র এবং মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। প্লাস্টিক বর্জ্য কখনো ধ্বংস হয় না। এটা চিরস্থায়ী। এটা কতভাবে যে আমাদের ক্ষতি করছে তার কোনো শেষ নেই। এর আরেকটা সমস্যা হচ্ছে ড্রেন, জলাশয়, খালবিল ও নদীতে ব্লক তৈরি করে। এছাড়া জলাশয় ভরাট করে এক পর্যায়ে সেখানে যে ভবন করা হয় সেটাও থাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে। তিনি বলেন, পলিথিন জাতীয় প্লাস্টিক চাইলেই যে কোনো সময় বন্ধ করে দেয়া যায়। সরকারের গাফলতির কারণে এটা বন্ধ হচ্ছে না। আমাদের পরিবেশ বাঁচাতে হলে এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। কেননা প্লাস্টিক বর্জ্য আমাদের দেশে বড় একটি আতংকের নাম। যেখানে আমেরিকা, চীন প্লাস্টিক বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সেখানে  আমরা এর ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছি।

অসুস্থ মা’কে বেডে তোলায় সন্তানকে পেটালেন চিকিৎসক

পাথরঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অসুস্থ মা’কে ফ্লোর থেকে বেডে তোলায় সন্তানকে পেটালেন ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আনোয়ার উল্লাহ। কিশোরকে মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। যার প্রেক্ষিতে ওই চিকিৎসকের বিচার চেয়েছেন স্থানীয়রা। চিকিৎসকের হাতে মারধরের শিকার ওই কিশোরের নাম মো. জিলানী। সে পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া এলাকার মো. নেছার উদ্দিনের ছেলে। গত সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে কেউ একজন ওই মারধরের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। পরে সেটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। ভাইরাল হওয়া ৫৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. আনোয়ার উল্লাহ হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে তেড়ে এসে জিলানী নামে এক কিশোরকে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন। হাসপাতালের নার্স, কর্মী ও চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সামনে প্রকাশ্যে ওই কিশোরকে মেরে আহত করেন ডা. আনোয়ার উল্লাহ। এ সময় হাতে স্যালাইন লাগানো এক নারী রোগী ডা. আনোয়ার উল্লাহকে নিবৃত্ত করতে গেলে, বাধা উপেক্ষা করে জিলানীকে মারধরের পাশাপাশি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন ওই চিকিৎসক।
তবে মারধরের শিকার হওয়ার পরও ভিডিওতে ওই কিশোরকে চিকিৎসকের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। ভিডিওতে শোনা যায় ডাক্তারকে উদ্দেশ্য করে ওই কিশোর বলেছে, অপরাধ করেছেন আপনারা, আর হেইতে কতা কইলে মোগো শাস্তি।
কিশোর জিলানী বলেন, আমার মা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সোমবার সকাল ১০টার দিকে অচেতন অবস্থায় পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। হাসপাতালে নেয়ার পর দীর্ঘ এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আমার মাকে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে হাসপাতালের ফ্লোরে ফেলে রাখেন নার্স ও চিকিৎসকরা। মায়ের কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে আমি তাকে ফ্লোর থেকে নারী ওয়ার্ডের একটি বেডে তুলি। এ সময় এক নার্স এসে আমাকে নিষেধ করলে আমি তার নিষেধ উপেক্ষা করি। এর কিছুক্ষণ পরই ডা. আনোয়ার উল্লাহ এসে আমাকে মারধর করার পাশাপশি অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করেন। সবার সামনে আমাকে মারধর করেছেন ডা. আনোয়ার উল্লাহ।
পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা পারভীন বলেন, ডা. আনোয়ার উল্লাহর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ প্রথম নয়। এর আগেও আমরা এ ধরনের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে শুনেছি। কিন্তু পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটের কারণে তখন আমরা কোনো কথা বলিনি। কিন্তু এখন এই সীমা অতিক্রম করেছেন ডা. আনোয়ার উল্লাহ। আমরা তার শাস্তির দাবিতে এবার সোচ্চার হবো। রোগীর স্বজনকে মারধরের কারণ জানতে চাইলে ডা. আনোয়ার উল্লাহ বলেন, নারী ওয়ার্ডে এক কিশোর ডাক-চিৎকার করছে। নার্সদের কাছে এ কথা শুনে আমি নারী ওয়ার্ডে যাই। এ সময় ওই কিশোরের কথা আমি মোবাইলে রেকর্ড করতে চাইলে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। তখন আমি তাকে মারধর করি। মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হলে ওই কিশোরকে পুলিশে সোপর্দ না করে মারধর করা ঠিক হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি ডা. আনোয়ার উল্লাহ।
বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ুন শাহিন খানের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই। তবে এরকম ঘটনা যদি ঘটে থাকে, তাহলে একটি নিকৃষ্টতম ঘটনা ঘটিয়েছেন ওই চিকিৎসক। আমি এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

ছিনতাইকারীরা নিয়ে গেল সাত তরুণের ‘স্বপ্ন’ by জিয়া চৌধুরী

সাত তরুণের প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানড্রয়েড টোটো কোম্পানি: এটিসি’। বাজারে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক যেকোনো নতুন পণ্য এলে তার ভিডিও রিভিউ বানায় আশিকুর রহমান তুষারের এই প্রতিষ্ঠান। মুঠোফোন, গ্যাজেট, ল্যাপটপ, ডিএসএলআর ক্যামেরা অথবা গেমিং সফ্‌টওয়্যারের মতো প্রযুক্তি পণ্যের ভালো-মন্দ তথ্য তুলে ধরে ইউটিউব-ফেসবুকে ছাড়েন এটিসির  সদস্যরা। এসব রিভিউ থেকে নিজের পছন্দের পণ্য বেছে নেয়া সহজ হয় গ্রাহকদের। অনেকটা শখের বসে শুরু করলেও ‘এটিসি’ এখন প্রায় ৩৫ তরুণের স্বপ্নের কারখানাও। পড়াশোনার চালিয়ে যাবার পাশাপাশি নিজেদের আগ্রহ আর অভিজ্ঞতায় কিছুটা আর্থিক লাভের মুখও দেখতে শুরু করেছে এটিসির সদস্যরা। তবে, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মিরপুরে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে ম্লান হতে বসেছে এসব তরুণদের স্বপ্ন। কৌশলে নম্বরপ্লেট ছাড়া মোটরসাইকেল ব্যবহার করে ছিনতাই মিশনে যোগ দেয় দু’জন। প্রকাশ্যে দিনে-দুপুরে মিরপুর মডেল থানার পাশে এমন ছিনতাইয়ের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তবে ঘটনাটিকে ছিনতাই মানতে নারাজ মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তার মতে এটি ছিনতাই নয় চুরির ঘটনা। এটিসি’র উদ্যোক্তা আশিকুর রহমান তুষার গতকাল মানবজমিনকে জানান, বাজারে আসা নতুন একটি মুঠোফোনের ভিডিও রিভিউ বানাতে মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় যাচ্ছিল তার দলের দুইজন সদস্য। এদের একজনের সঙ্গে কালোব্যাগে ছিল দুইটি ক্যামেরা, দুটি লেন্স একটি নতুন স্মার্টফোন ও কিছু তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য। মিরপুর ৬০ ফিট সড়ক দিয়ে রিকশায় করে মিরপুর দুই নম্বর এলাকায় যাওয়ার সময় একটি মোটরসাইকেল ছোঁ মেরে ব্যাগটি নিয়ে যায়। ব্যাগে প্রায় আড়াই লাখ টাকা দামের জিনিসপত্র ছিল বলেও জানান আশিকুর রহমান তুষার। তিনি মানবজমিনকে বলেন, কয়েক বছর ধরে তিলে তিলে ছোট্ট একটি প্রতিষ্ঠানকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছি। আমাদের টিমের প্রত্যেক সদস্যই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। অথচ ছিনতাইকারীদের এক মুহূর্তের ছোবলে আমাদের অন্তত ৩৫জন তরুণের স্বপ্ন ভেস্তে যেতে বসেছে। ছিনতাইয়ের ঘটনার পরে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন তারা। তবে, মিরপুর মডেল থানা পুলিশ আন্তরিক হলে ছিনতাইকারীদের ধরা সম্ভব বলেও জানান আশিকুর রহমান তুষার। ছিনতাইয়ের ঘটনার সময় রিকশায় থাকা এটিসি’র সদস্য জুলফিকার রহমান রিফাত হতাশার সুরে জানান, কি আর বলবো? হাসিখুশি সকালটা এক নিমিষেই দুঃখে পরিণত হলো। দুপুর আড়াইটার দিকে মিরপুর ৬০ ফিট থেকে রিকশায় করে পিজ্জাবার্গে একটি মুঠোফোনের ভিডিও রিভিউ বানাতে যাচ্ছিলাম আমরা দু’জন। ক্যামেরা-লেন্স, মোবাইল সব একটা ক্যালো ব্যাগে আমার কাছে ছিল। মনিপুরের একটু আগে ইফা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে হঠাৎ একটা মোটরবাইক এসে আমাদের ক্রস করে যাবার সময় হাত থেকে ছোঁ মেরে ব্যাগটা নিয়ে দ্রুত চলে যায়। ব্যাগ টান দেয়ায় আমিও রিকশা থেকে পড়ে যাই। সামনে তাকালে দেখতে পাই মোটরসাইকেলটিতে কোন নম্বরপ্লেট নেই। পরে আরেকজন মোটরসাইকেল আরোহীর সাহায্য নিয়ে ছিনতাইকারী মোটরসাইকেলটির পেছন পেছন যেতে থাকি। কিন্তু তারা দ্রুত গলির ভিতরে ঢুকে যাওয়ায় ছিনতাইকারীদের শেষ পর্যন্ত ধরতে পারিনি। রিফাত জানান, ব্যাগে সনি আলফা এ৬৩০০, সনি আলফা এ৬৫০০ মডেলের দুটি ক্যামেরা, কিট ও সিগমা লেন্স, পাওয়ার ব্যাংক, আইটেল স্কাইপি মডেলের মুঠোফোন এবং আরো কিছু প্রযুক্তিপণ্য ছিল ব্যাগটিতে। ছিনতাইকারীদের দুজনের মাথায় কালো রংয়ের হেলমেট ছিল, পেছনে থাকা ছিনতাইকারীর পরণে ছিল কালো শার্ট ও কমলা রংয়ের প্যান্ট। পরে ঘটনার আদ্যোপান্ত জানিয়ে মিরপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন এটিসির’র উদ্যোক্তা আশিকুর রহমান তুষার। ছিনতাইকারীরা আগ থেকে তাদের ফলো করছিল বলেও ধারণা করছেন এটিসির সদস্যরা। তবে, ছিনতাইকারীদের মোটরসাইকেলে নেমপ্লেট না থাকায় বিপাকে পড়তে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। একটি সূত্রে জানা গেছে, চক্রটি বহুদিন ধরে মিরপুর এলাকায় ছিনতাই করে আসছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার এড়াতে নম্বরপ্লেট ছাড়া মোটরসাইকেলে করে ছিনতাই করে চক্রের সদস্যরা। একই সঙ্গে দুজনে হেলমেট পরা থাকায় তাদের চিহ্নিত করাও কঠিন হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের একজন সদস্য। মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাদন ফকির গতকাল রাতে মানবজমিনকে বলেন, আইনের ভাষায় এটা ছিনতাইয়ের মধ্যে পড়ে না। কোন ব্যক্তিকে জোর করে কোন কিছু কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে কোন কিছু নিয়ে গেলে সেটাকে আমরা ছিনতাইয়ের মধ্যে ধরবো। তবে, গতকাল মনিপুর এলকায় যেটা ঘটেছে সেটা ছিনতাই নয় চুরি। চলন্ত অবস্থায় কোন কিছ টান দিয়ে নিয়ে গেলে এটা চুরির মধ্যেই পড়ে। তারপরও আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেবো। এদিকে, ছিনতাইয়ের ঘটনার আশপাশে থাকা সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান আশিকুর রহমান তুষার। আবেগজড়িত কণ্ঠে তিনি অনুরোধ করে বলেন, আমাদের ঈদটাকে মাটি করবেন না। এত বছর ধরে পরিশ্রম করে দাঁড় করানো এই ভিত্তিটাকে ভেঙে দিবেন না। দয়া করে আমাদের জিনিসগুলো ফিরে পাবার ব্যবস্থা করুন।

নারী চিকিৎসককে ধর্ষণের হুমকি: সেই ছাত্রলীগ নেতা আটকের দুই ঘণ্টা পর মুক্ত by ওয়েছ খছরু

গ্রেপ্তারের আগেই জামিন নেন ছাত্রলীগ নেতা সারোয়ার হোসেন চৌধুরী। দুপুরে আদালত থেকে জামিন নিয়ে যখন বের হন তখনই বন্দরবাজার এলাকা থেকে সিলেটের কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় সরোয়ার জামিন নেয়ার কথা বললেও পুলিশ তার কথা বিশ্বাস করেনি। কিন্তু  থানায় নেয়ার ঘণ্টা খানেকের মধ্যে সারোয়ারের পক্ষে আইনজীবীরা জামিনের কাগজপত্র নিয়ে থানায় যান। সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি সেলিম মিয়া জামিনের কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে ছেড়ে দেন। বিকালে ওসি সেলিম মিয়া মানবজমিনকে জানান, তার নেতৃত্বে গ্রেপ্তারের সময় সারোরয়ার জামিন নিয়েছে বলে জানিয়েছিল। কিন্তু কাগজপত্র প্রদর্শন না করায় তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। শেষে যখন তার আইনজীবীরা সিলেটের অতিরিক্ত চিফ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জামিনের কাগজপত্র প্রদর্শন করেন তখন তাকে মুক্তি দেয়া হয়। এদিকে, ছাত্রলীগ নেতা সারোয়ার হোসেন চৌধুরী এখন সিলেটে বহুল আলোচিত একটি নাম। কারণ তিনি এক মহিলা ইন্টার্ন চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। তার হুমকির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভ দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার সিলেটের উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ ঘটনার পর থেকে আন্দোলনে রয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। প্রথম দিন থেকেই কর্ম বিরতি, অবস্থান কর্মসূচি পালন করলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখা হয়নি। এদিকে, ঘটনার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার কারণে গা ঢাকা দিয়েছিল সারোয়ার। সে সিলেট নগরীর টিলাগড় গ্রুপের ছাত্রলীগ কর্মী। দক্ষিণ সুরমা ছাত্রলীগের সহসভাপতি। নগরীর নয়াসড়ক এলাকায় তার আধিপত্য। নয়াসড়কের পাশেই সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। বৃহস্পতিবার ইফতারের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে সারোয়ারের এক বন্ধুর পেটে ব্যথা হলে তাকে উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তাররা খোশগল্পে মেতে থেকে চিকিৎসায় বিলম্ব ঘটালে ছাত্রলীগ নেতা সারোয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে তিনি ইন্টার্ন ডাক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়। এই ঘটনার পর থেকে ক্ষুব্ধ সিলেটের ইন্টার্ন ডাক্তাররা। সোমবার ইন্টার্ন ডাক্তাররা জরুরি প্রেস ব্রিফিং করে ঘটনার বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে তারা আন্দোলনে নামার ঘোষণা করেন। ইন্টার্ন ডাক্তারদের নেতা ডা. ইফাত আরা চৌধুরী আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর আগে তারা কর্মবিরতি পালন করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভূমিকা রাখা হয়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ না এলে কিছুই করার ছিল না। ঘটনার চার দিন পর সোমবার এ ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফেরদৌস হাসান থানায় মামলা করেন। মামলার পর থেকে পুলিশ সারোয়ারকে খুঁজলেও পায়নি। পরবর্তীতে গতকাল সকালে সারোয়ার আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেন। দুপুর ১টার দিকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করলেও পরে ছেড়ে দিয়েছে। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুছা জানিয়েছেন, জামিন হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। জিডি ও মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালায়। বেলা ৩টার দিকে কোতোয়ালি থানা হাজত থেকে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের কাছে সারোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ক্রিটিক্যাল রোগী নিয়ে আমরা যাই। গিয়ে রোগী দেখার অনুরোধ করলেও প্রায় ২০ মিনিট ডাক্তার আসেনি। পরে আমি যখন আমার পরিচয় দিয়ে ডাক্তারদের সহযোগিতা কামনা করি তখনই তারা আমার নেত্রী ও দেশরত্ম শেখ হাসিনাকে নিয়েও মন্তব্য করেন। এতে আমি রেগে তাদের ধমকিয়েছি। আর কিছুই করিনি। বিষয়টিকে ঘোলাটে করে তুলতে এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।’ এ সময় তিনিও বলেন, সকালে সিলেটের আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিন নিয়েছেন। এদিকে, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছাত্রলীগ নেতা সারোয়ার হোসেন চৌধুরীর হাতে দায়িত্বরত চিকিৎসক, নিরাপত্তা প্রহরী ও লিফটম্যান লাঞ্ছনার ঘটনায় ইন্টার্ন ডাক্তাররা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। গতকাল বেলা ১২টায় উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডাক্তাররা সিলেট চৌহাট্টাস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এ ছাড়াও ইন্টার্ন ডাক্তাররা তারা তাদের কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছেন। মানববন্ধন কর্মসূচিতে ইন্টার্ন ডাক্তাররা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সারোয়ার হোসেন চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম দেন। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন- ডা. নিজাম আহমদ চৌধুরী, ডা. হিমাংশু শেখর দাস, ডা. মাহবুব, ডা. দ্বীপ, ডা. সজীব, ডা. জাবের, ডা. ইশফাক জামান সজীব, ডা. জাবেদ আহমদ, ডা. রিপন, ডা. তিতাশ কুমার, ডা. সোলেমান বাবু, ডা. আফজাল, ডা. সুশান্ত, ডা. সাব্বির আহমদ, ডা. হরশিত বিশ্বাস, ডা. প্রবাল, ডা. হৃদয়। গতকাল বিকালে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ঘটনার বিচারের দাবিতে তারা আন্দোলনে থাকবেন। এ ঘটনা চিকিৎসক সমাজকে নাড়া দিয়েছে বলে জানান তারা।

বাসচালকের সহকারীর স্বীকারোক্তি by আশরাফুল ইসলাম

চলন্ত বাসে গণধর্ষণের পর নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়া হত্যার ঘটনায় বাসচালক নূরুজ্জামান নূরুর পর এবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে হেলপার লালন মিয়া (৩২)। গতকাল বিকালে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আল-মামুন বাসের হেলপার লালন মিয়ার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে হেলপার লালনকে কিশোরগঞ্জ জেলা   কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাজিতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সারোয়ার জাহান ১৬৪ ধারায় হেলপার লালন মিয়ার স্বীকারোক্তি দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ১১ই মে মামলার প্রধান আসামি স্বর্ণলতা পরিবহনের বাসের চালক নূরুজ্জামান নূরু আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। বাসচালক নূরুজ্জামান নূরুর পর হেলপার লালন মিয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ায়, চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাসের হেলপার লালন মিয়া আদালতে দেয়া তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বাসচালক নূরুজ্জামান নূরুর মতো একই ধরনের তথ্য দিয়েছে। নূরুর মতোই হেলপার লালন মিয়া পাশবিক এই গণধর্ষণের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে।
জবানবন্দিতে লালন জানিয়েছে, বাসচালক নূরুর খালাতো ভাই বোরহান স্বর্ণলতা পরিবহনেরই হেলপার। কিন্তু ঘটনার দিন ৬ই মে তার ডিউটি ছিল না। স্বর্ণলতা পরিবহনের বাসটি (ঢাকা মেট্রো ব-১৫-৪২৭৪) ঢাকা থেকে পিরিজপুরে আসার পথে, বোরহান কাপাসিয়া উপজেলার বীর উজুলী থেকে বাসটিতে ওঠে। বাসটি কটিয়াদী পার হওয়ার পর বাসে বাসচালক নূরু, হেলপার লালন ও নূরুর খালাতো ভাই বোরহান এই তিনজন ছিল। কটিয়াদী থেকে পিরিজপুরের পথে একজন মধ্যবয়সী বাস থেকে নেমে পড়লে তানিয়া একা হয়ে পড়েন। এসময় বাসের ভেতরে তানিয়াকে একা পেয়ে ধর্ষণ করার ফন্দি আঁটতে থাকে চালক নূরু, হেলপার লালন মিয়া ও তাদের সহযোগী বোরহান। বাসটি বাজিতপুর উপজেলার বিলপাড় জামতলী নির্জন স্থানে একটি কলাবাগানের কাছে এলে বাসের সব জানালা লাগিয়ে দেয় তারা। তখন পেছনের একটি আসনে বসা ছিলেন তানিয়া। এ সময় চালক নূরু তার আসন ছেড়ে হেলপার লালনকে বাস চালাতে দেয়। লালন বাস চালানোর সময়ে বোরহান ও নূরু মেয়েটিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে নূরু ড্রাইভিং সিটে বসলে লালনও মেয়েটিকে ধর্ষণ করে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, মামলার প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত ইতিমধ্যে পুলিশের কাছে এসে গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনও তারা পেয়ে গেছেন। বোরহান, নূরুজ্জামান ও লালন মিয়া পালা করে তানিয়াকে ধর্ষণ করে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে তানিয়াকে বাস থেকে ফেলে দেয়। বাস থেকে ফেলে দেয়ার সময় তানিয়ার শরীর পেছনের দিকে ছিল বলে তানিয়ার মাথা সড়কে আঘাত করে। তাই তানিয়ার মাথার পেছনের অংশ মারাত্মকভাবে ফেটে গিয়ে দু’ভাগ হয়ে যায়। মাথার পেছনের দিকের দু’টি হাড় ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও দীর্ঘ সময় চিকিৎসা না পাওয়ায় তানিয়ার মৃত্যু হয়।
আদালত ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হেলপার লালন মিয়া ওইদিন যা যা হয়েছে সমুদয় ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে। তার দেয়া তথ্যের সঙ্গে বাসচালক নূরুজ্জামান নূরুর জবানবন্দির মিল খুঁজে পাওয়া গেছে। দু’জনের জবানবন্দিতেই প্রথম ধর্ষণকারী হিসেবে বোরহানের নাম উঠে এসেছে। কিন্তু ঘটনার ৯ দিন পার হলেও এ ঘটনার অন্যতম আসামি ধর্ষক বোরহানকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাজিতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সারোয়ার জাহান বলেন, বোরহানকে গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান চলছে। বোরহানের বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়ায়। সেখানে পুলিশ যোগাযোগ করে তার সম্পর্কে খোঁজখবর করেছে। কিন্তু সে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে। তবে বোরহান পুলিশের জালে ধরা পড়বেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জমা পড়া ময়নাতদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, ধর্ষণ শেষে তানিয়াকে হত্যা করা হয়। তানিয়ার শরীরের অন্তত ১০টি স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মাথার  পেছনের আঘাত ছিল সবচেয়ে গুরুতর। ভারী কিছু দিয়ে আঘাতের ফলে তার মাথার পেছনের খুলি ফেটে দুই ভাগ হয়ে যায়। এ ছাড়া মাথার পেছনের দিকের দু’টি হাড় ভেঙে গুঁড়ো হয়ে গেছে। ধর্ষণের পর মাথার এই আঘাতের কারণেই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে তানিয়ার মৃত্যু হয়।
গত ৬ই মে রাতে তানিয়া হত্যাকাণ্ডের পরদিন ৭ই মে রাতে নিহত শাহিনুর আক্তার তানিয়ার পিতা মো. গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে বাসের চালক নূরুজ্জামান নূরু, হেলপার লালন মিয়া, হাসপাতালে তানিয়ার মরদেহ আনয়নকারী আল আমিন এবং পিরিজপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মামুন এই চারজনের নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকে আসামি করে বাজিতপুর থানায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামির মধ্যে বাসচালক নূরুজ্জামান নূরু ও হেলপার মো. লালন মিয়া এই দু’জন ছাড়াও কটিয়াদীর কাউন্টার মাস্টার মো. রফিকুল ইসলাম রফিক, লাইনম্যান মো. খোকন মিয়া ও পিরিজপুর কাউন্টার মাস্টার মো. বকুল মিয়া ওরফে ল্যাংড়া বকুলকে ঘটনার রাতেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে বাসের চালক মো. নূরুজ্জামান নূরু গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার টোক নয়নবাজার ইউনিয়নের সালুয়াটেকি গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে, হেলপার মো. লালন মিয়া একই ইউনিয়নের বীর উজুলি গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে, মো. রফিকুল ইসলাম রফিক একই উপজেলার বাড়িসাবর ইউনিয়নের লোহাদি গ্রামের নজর আলীর ছেলে, মো. খোকন মিয়া কটিয়াদী উপজেলার ভোগপাড়া এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে এবং মো. বকুল মিয়া ওরফে ল্যাংড়া বকুল বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের নিলখী মৃত আব্দুস শহিদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গত ৮ই মে আদালত গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ আসামির প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুরের পর ওইদিন তাদের রিমান্ডে নেয়া হয়। তাদের মধ্যে বাসচালক নূরুজ্জামান নূরু ও বাসের হেলপার লালন মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
নিহত শাহিনুর আক্তার তানিয়া কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে। তিনি ঢাকার ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কল্যাণপুর শাখায় সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মস্থল ঢাকা থেকে বাড়িতে আসার জন্য গত ৬ই মে বিকালে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে স্বর্ণলতা পরিবহনের একটি বাসে (ঢাকা মেট্রো ব-১৫-৪২৭৪) ওঠেন শাহিনুর আক্তার তানিয়া। স্বর্ণলতা পরিবহনের বাস মহাখালী থেকে কটিয়াদী হয়ে বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত চলাচল করে। বাসে ওঠে তানিয়া তার বাবাকে জানান, তিনি পিরিজপুর বাসস্ট্যান্ডে নামবেন। কিন্তু বাড়িতে ফিরতে দেরি হওয়ায় রাত সাড়ে ৮টায় তানিয়ার মোবাইলে ফোন করে নম্বরটি বন্ধ পান বাবা গিয়াস উদ্দিন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফোন করে এক ব্যক্তি গিয়াস উদ্দিনকে জানায়, তার মেয়ে বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে এবং বর্তমানে সে কটিয়াদী হাসপাতালে রয়েছে। এ খবর পেয়ে স্বজনেরা হাসপাতালে গিয়ে তানিয়াকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পড়ে থাকতে দেখেন।

ঘাতকের জবানিতে নারায়ণগঞ্জের মাজেদ হত্যার নৃশংস বর্ণনা

অনেক আশা ছিল বিদেশ গিয়ে পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবে মাজেদ আলী। এ জন্য ধারদেনা আর ভিটেমাটি বিক্রি করে ২ লাখ টাকা তুলে দেয় মহিউদ্দিন বুলু নামে এক আদম ব্যবসায়ীর হাতে। কিন্তু অসহায় মাজেদ বুঝতে পারেনি তাকে বিদেশ নয়, টাকা হাতিয়ে নিয়ে পরপারে পাঠিয়ে দেয়া হবে। পরিকল্পনা মতে আদম ব্যবসায়ী বুলু তার এক সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে মাজেদকে নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ মেঘনা নদীতে ফেলে দেয়। মিইয়ে যায় মাজেদের বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন মেঘনার গভীর জলে। এখানেই শেষ নয়, মাজেদ বাঁচার জন্য বুলুর হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে কামড় দিয়ে রক্তাক্ত করে। বুলু হত্যা মিশন শেষ করে মাজেদের স্ত্রীকে গিয়ে বলে, ঝগড়ার একপর্যায়ে মাজেদ তার হাতে কামড় দিয়েছে। পরে মাজেদের স্ত্রী ঘাতক বুলুকে ফার্মেসিতে নিয়ে চিকিৎসা করায়। তার হাতে কয়েকটি সেলাই দেয়া হয়। কিন্তু স্বামীর খোঁজে পাগল প্রায় নাজমা বেগম কান্নাকাটি শুরু করলে কৌশলে পালিয়ে যায় ঘাতক বুলু। এমন একটি নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে র‌্যাব-১১। ঘটনার দুই মাসে পর্যাক্রমে গ্রেপ্তার করা হয় ঘাতক মহিউদ্দিন বুলু, তার সহযোগী সুলতান মাহমুদ বাবু ও তাদের বহনকারী নৌকার মাঝি সোহেলকে।
মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের আদমজীতে অবস্থিত র‌্যাব-১১ এর সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-১১ এর সিও কর্নেল কাজী শমসের উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, র‌্যাব-১১ এর মেজর সাকিব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন প্রমুখ।
র‌্যাব-১১এর সিও জানান, বিদেশ পাঠানোর কথা বলে আদম ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন বুলু পাবনা থেকে মাজেদ আলী ও তার স্ত্রী নাজমা বেগমকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার টাগার পাড় এলাকায় এনে একটি ভাড়া বাসায় রাখে। বুলুর বাড়ি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার গোয়াগাছিয়া এলাকায়। একপর্যায়ে পাসপোর্ট, ভিসা, মেডিক্যাল ও বিভিন্ন কাজের কথা বলে আদম ব্যবসায়ী বুলু তাদের কাছে থেকে ২ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু বিদেশ না পাঠিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকে বুলু। একপর্যায়ে চলতি বছরের ১০ই মার্চ সন্ধ্যা ৬টা থেকে নিখোঁজ হয় মাজেদ। এ ঘটনায় তার স্ত্রী নাজমা বেগম ১২ই মার্চ ফতুল্লা মডেল থানায় একটি জিডি করেন। ১৩ই মার্চ নাজমা বেগম জিডির একটি কপি র‌্যাব-১১ কে দেয়। ওই জিডির সূত্রধরে, মাজেদের সন্ধানে নামে র‌্যাবের মেজর সাকিব ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন চৌধুরী। এক পর্যায়ে সন্দেহজনক হিসেবে মহিউদ্দিন বুলু (৪২)কে ৮ই এপ্রিল ফতুল্লার শিবু মার্কেট থেকে আটক করে র‌্যাব।
এদিকে র‌্যাব প্রযুক্তি ব্যবহার করে জানতে পারে মাজেদ আলীর মোবাইল ফোন সর্বশেষ ব্যবহার হয়েছে গজারিয়ার গোয়াগাছিয়ায় মেঘনা নদীর পাড়ে। একপর্যায়ে সোহেল (২১) নামে এক ইঞ্জিন চালিত নৌকার মাঝিকে আটক করার পর উদঘাটিত হয় মাজেদ নিখোঁজের তথ্য। সোহেলের বাড়ি দাউদকান্দির চরকাটালী এলাকায়।
১৩ই মে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল  ঘটনার আদ্যপ্রান্ত বর্ণনা করে। তার তথ্যমতে ১৩ই মে দিবাগত রাত দেড়টায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার গোয়াগাটিয়ার শিমুলিয়া এলাকায় নজ বাড়ি থেকে সুলতান মাহমুদ বাবু (৩৬) কে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গ্রেপ্তারকৃত মহিউদ্দিন বুলু ও সুলতান মাহমুদ বাবু সম্পর্কে মামা-ভাগিনা।
যেভাবে হত্যা করা হয় মাজেদকে: সোহেল আদালতকে জানায়, সে দাউদকান্দি বাজার হতে চরকাটালী এলাকায় গোমতী নদীতে নৌকা চালায়। সুলতান মাহমুদ বাবু নামে এক ব্যক্তি তার এলাকায় বিয়ে করার সূত্রে এলাকার জামাই হিসেবে তাকে সে চিনে। সুলতান মাহমুদ বাবুর বাড়ি গজারিয়ার গোয়াগাছিয়া এলাকায়। ঘটনার দিন ১০ মার্চ সকালে বাবু ১ হাজার টাকা ভাড়ায় সারাদিনের জন্য সোহেলের নৌকা ভাড়া করে। সকাল ১১টায় দাউদকান্দি হতে বাবু নৌকায় গজারিয়ার কালিরবাজার এালাকায় আসে। নৌকার মাঝি সোহেল ও বাবু সেখানে দুপুরের খাবার খায়। দুপুরের পর বাবু সোহেলকে কালিরবাজার থেকে চাষির বালুর মাঠের দিকে যেতে বলে। বিকাল সাড়ে ৩টায় তারা দাউদকান্দি ব্রিজের পশ্চিম পার্শ্বে চাষির বালুর মাঠে নৌকা ভিড়ালে বাবুর পরিচিত আরো দুইজন ব্যক্তি নৌকায় ওঠে। তাদের আলাপ কালে সোহেল জানতে পারে তাদের একজনের নাম বুলু ও অপর জনের নাম মাজেদ।
নৌকায় উঠার পর বুলু সোহেলকে বেলতলী মাজারের দিকে যেতে বলে। সেখানে কিছুক্ষণ থাকার পর বাবু, বুলু ও মাজেদ নৌকায় উঠে গোয়াগাছিয়া বালু মহলের দিকে নৌকা চালাতে বলে। সেখানে পৌঁছে তারা তিনজন বালু মহলে উঠে ঘুরাঘুরি করতে থাকে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে সোহেল মোবাইলে বাবুকে ফেরার তাড়া দেয়। প্রায় ১০ মিনিট পর তারা তিন জন এসে নৌকায় ওঠে। সোহেল সহজ পথ দিয়ে দাউদকান্দি আসতে চাইলেও মহিউদ্দিন বুলু যে পথ দিয়ে এসেছে, সে পথ দিয়ে নৌকা চালানোর নির্দেশ দেয়। আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে প্রায় অন্ধকার নেমে আসছিল এবং নৌকা মেঘনা নদীতে গোয়াগাছিয়ার মোড়ে পৌঁছায়। মাজেদ আলী নৌকার সামনের দিকে ছাউনির বাহিরে দাঁড়ানো ছিল।
তখন মহিউদ্দিন বুলু মাজেদকে নৌকার ছাউনির ভেতর ঢুকানোর জন্য বাবুকে নির্দেশ দেয়। তখন বাবু মাজেদকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে ধস্তাধস্তি করে ছাউনির ভেতরে ঢুকিয়ে ফেলে। বুলু ও বাবু কিল ঘুষি মেরে মাজেদকে নৌকার পাটাতনে শুইয়ে ফেলে। বুলু মাজেদের বুকের উপর উঠে বসে এবং বাবু মাজেদের পায়ের ওপর বসে জোরে পা চেপে ধরে। মাজেদ বাঁচাও, বাঁচাও চিৎকার করলে বুলু সোহেলকে ইঞ্জিনের শব্দ বাড়িয়ে দিতে বলে, যাতে পার্শ্ববর্তী নৌকা থেকে কেউ চিৎকার শুনতে না পায়। সোহেল ইঞ্জিনের শব্দ বাড়িয়ে দেয়। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে বুলু ও বাবু নির্যাতন করে, গলা টিপে ও নাক-মুখ চেপে ধরে শ্বাসরুদ্ধ করে মাজেদকে হত্যা করে। তবে মাজেদ বাঁচার জন্য বুলুর হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে কামড় দেয়। মৃত্যু নিশ্চিত করে বুলু ও বাবু ধরাধরি করে মাজেদের লাশ মেঘনা নদীতে ফেলে দেয়। লাশ ফেলে দেয়ার পর বুলু পাটাতনে টর্চ লাইটের আলোতে রক্ত দেখলে সোহেলকে রক্ত পরিষ্কার করতে বলে। সোহেল বুলুর নির্দেশে নদী থেকে পানি তুলে রক্ত পরিষ্কার করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বুলু ও বাবু সোহেলকে ১ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে দাউদকান্দি ব্রিজের পশ্চিম পার্শ্বে নেমে যায়।