Friday, October 9, 2009

উত্তর কোরিয়া প্রশ্নে শীর্ষ বৈঠকে বসছে চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া

উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বহুপাক্ষিক আলোচনার টেবিলে বসাতে তিন প্রতিবেশি চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সমন্বয়ে শনিবার বেইজিংয়ে শুরু হচ্ছে তিনজাতির শীর্ষ বৈঠক। এই বৈঠকের মূল এজেন্ডাই থাকছে উত্তর কোরিয়াকে ছয় জাতির বহুপাক্ষিক আলোচনায় অংশগ্রহণে রাজি করানো। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে এই আলোচনা থেকে বেরিয়ে যায় তারা।
তবে সম্প্রতি চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়া বাওয়ের উত্তর কোরিয়া সফরকালে সেদেশের প্রেসিডেন্ট কিম জল ইং এই বহুপাক্ষিক বৈঠকে আবার অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। তবে এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কন্নোয়নে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার শর্ত জুড়ে দেয় পিয়ং ইয়ং। যুক্তরাষ্ট্রও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় আগ্রহী, তবে পাল্টা শর্ত হিসেবে তাঁরাও বলেছে, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার এজেন্ডা অবশ্যই হতে হবে পিয়ং ইয়ংয়ের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা বিষয়ক।

উত্তর কোরিয়া ছাড়াও এই ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের আগ্রহের আরেক কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন জাপানের সবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ইউকিও হাতোইয়ামা। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর পর জাপানের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রতিবেশিদেশগুলোর জন্য কিধরনের বার্তা নিয়ে এসেছে তা আঁচ করার আগ্রহ রয়েছে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার।

দেশে কেডবেরি ইন্ডিয়ার এক্লেয়ারস বিপণন শুরু হয়েছে

কেডবেরি ইন্ডিয়া লিমিটেড বাংলাদেশে এক্লেয়ারস বাজারজাতকরণ কার্যক্রম শুরু করেছে। দেশে এই পণ্যের পরিবেশক নিযুক্ত হয়েছে কল্লোল ডিস্ট্রিবিউশনস লিমিটেড।
ঢাকায় গত মঙ্গলবার একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন কেডবেরি ইন্ডিয়া লিমিটেডের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সরদ গুপ্ত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কল্লোল ডিস্ট্রিবিউশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, দেশের বাজারে এ যাত্রা পেট জার ও রিফিল প্যাকে এক্লেয়ারস বিক্রি করা হবে। অদূর ভবিষ্যতে কেডবেরি এক্লেয়ারসের নতুন স্টিক প্যাক ও গিফট বক্স বাজারে পাওয়া যাবে।
সরদ গুপ্ত বলেন, কেডবেরি এক্লেয়ারসের উন্নত মানের এ পণ্য ভোক্তা সাধারণকে একটি অনন্য স্বাদের অভিজ্ঞতা দেবে। পণ্যটি বাজারে দুই টাকা দরে বিক্রি করা হবে।
গোলাম মোস্তফা বাংলাদেশে কেডবেরির যাত্রা সুন্দর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ভোক্তা সাধারণকে উন্নতমানের পণ্য উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে কেডবেরির দৃঢ় সংকল্প তাঁকে আশান্বিত করেছে।
অনুষ্ঠানে এক্লেয়ারসের নতুন বাংলা বিজ্ঞাপনচিত্র (চকলেটের মিষ্টি বোমা) প্রদর্শন করা হয়। বিজ্ঞাপন ছাড়াও পোস্টার, ব্যানার এবং অন্যান্য মাধ্যমে মার্কেটিং ক্যাম্পেইন চালানো হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়

চট্টগ্রাম থেকে ৩৮টি গন্তব্যে বিমান চালাবে কুয়েত এয়ারওয়েজ

৩০ অক্টোবর থেকে চট্টগ্রামের সঙ্গে কুয়েতসহ ৩৮টি গন্তব্যে বিমান পরিচালনা করবে কুয়েত এয়ারওয়েজ। কুয়েতের জাতীয় এই বিমান সংস্থা প্রতি সপ্তাহে দুটি করে (শুক্র ও রোববার) ফ্লাইট পরিচালনা করবে। স্থানীয় সময় ভোর পাঁচটা ৩৫ মিনিটে চট্টগ্রাম ছেড়ে যাবে এ ফ্লাইট।
গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে কুয়েত এয়ারওয়েজের কর্মকর্তারা এ ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে কুয়েত এয়ারওয়েজের বিক্রয় ব্যবস্থাপক (যাত্রী) সামিউর রাজ্জাক, বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক আবু আমিন চৌধুরী ও বিক্রয় ব্যবস্থাপক (কার্গো) মনশুরুল হক ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এ কার্যক্রম শুরুর ফলে আমেরিকাসহ ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রামের সরাসরি বিমানযোগাযোগ স্থাপিত হতে যাচ্ছে। এতে এ দেশে সরাসরি বিনিয়োগ ও ব্যবসার প্রসার আরও বেগবান হবে। সেই সঙ্গে পর্যটনব্যবসাও সম্প্রসারিত হবে।
সামিউর রাজ্জাক বলেন, বাণিজ্যিকভাবে চট্টগ্রামের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। সে জন্য পরিপূর্ণ সেবা নিয়ে কুয়েত এয়ারওয়েজ চট্টগ্রাম থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করতে যাচ্ছে। যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি ৩৮টি গন্তব্যে বিভিন্ন মালামালও পৌঁছানোর সুযোগ করে দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের প্রায় চার লাখ মানুষ কুয়েতে বসবাস করছেন। সে জন্য দুই দেশের ভ্রাতৃত্ব্বপর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে কুয়েত এয়ারওয়েজ এ ধরনের নতুন নতুন সেবা চালু করতে আগ্রহী।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দর আবার বেড়ে গেছে

মার্কিন ডলারের দর পড়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়া সুদের হার বাড়িয়েছে। এর জের ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর বেড়ে আবার নতুন সর্বোচ্চ পর্যায়ে উপনীত হয়েছে।
গতকাল বুধবার বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দর গিয়ে ঠেকে এক হাজার ৪৩ ডলার ৭৭ আউন্সে। মূল্যবান ধাতুর প্রতি বিনিয়োগকারীরা নতুনভাবে আকৃষ্ট হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি বলে বিশ্লেষকেরা মন্তব্য করেছেন।
গত পরশু অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক নগদ সুদের হার ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সোয়া ৩ শতাংশ করার পর মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলীয় ডলারের মান শক্তিশালী হয়।
উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো প্রধান মুদ্রা হিসেবে মার্কিন ডলার প্রতিস্থাপন করার চিন্তা করছে—এমন একটি খবর প্রচারিত হওয়ার পরপরই অবশ্য বিশ্ববাজারে ডলার দুর্বল হয়ে পড়ে। আর একটা পর্যায়ে বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে ডলার আর থাকবে না—এমন কথাবার্তা অনেক দিন ধরেই চলছে। এটাও ডলারকে দুর্বল করার অন্যতম কারণ।
আর ডলার যদি দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে বিনিয়োগের শ্রেষ্ঠ বিকল্প হলো স্বর্ণ—এই ধারণাই স্বর্ণের দর বাড়িয়ে দিয়েছে।
বলা হচ্ছে, এই বছরের শেষ পর্যন্ত স্বর্ণের দর আরও বাড়তে পারে যদি ডলার দুর্বল হতে থাকে।
আর বড়দিনের উত্সব সামনে রেখে স্বর্ণের আগাম দরও বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ১৭ অক্টোবর ভারতে দীপাবলি উত্সব। সে কারণে ভারতে স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে দর বাড়ছে।
বিশ্লেষকেরা আরও বলছেন, আর্থিক বাজারে টালমাটাল অবস্থা আর মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা এখন মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দিকে নজর দিয়েছে। তারা স্বর্ণে বিনিয়োগ করাকেই সবচেয়ে নিরাপদ বলে মনে করছে।
শুধু স্বর্ণই নয়, বিশ্ববাজারে রুপার দামও প্রতি আউন্স ৩ শতাংশ বেড়ে ১৭ ডলার ১১ সেন্ট এবং প্লাটিনাম প্রতি আউন্স দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৩০৫ ডলারে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে কপারের দর প্রতি টন ছয় হাজার ডলার ছাড়িয়ে এখন ঠেকেছে ছয় হাজার ৬০ ডলারে।

গ্রামীণফোনের প্রাথমিক শেয়ারের চাঁদা নেওয়া আজ শেষ হচ্ছে

গ্রামীণফোন লিমিটেডের প্রাথমিক শেয়ারের (আইপিও) চাঁদাগ্রহণ বা সাবস্ক্রিপশন আজ বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে। শেষ দিনের আগেই গতকাল বুধবার পর্যন্ত আবেদন জমা পড়েছে আইপিওর আকারের চেয়েও প্রায় তিন গুণ।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে উত্সাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে, তাতে শেষ দিনে আবেদনের পরিমাণ আরও বেড়ে মোট আবেদন আইপিওর আকারের চার-পাঁচ গুণ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
গ্রামীণফোন মোট ছয় কোটি ৯৪ লাখ ৩৯ হাজার ৪০০টি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ৪৮৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। সেই হিসাবে সংগৃহীত চাঁদার পরিমাণ দুই হাজার কোটি টাকার বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে গতকালও বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব খোলার জন্য নতুন বিনিয়োগকারীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। এ দিন প্রায় ১৪ হাজার বিও হিসাব খোলা হয়েছে বলে শেয়ারসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সূত্রে জানা গেছে।
সিডিবিএল সূত্রমতে, গ্রামীণফোনের আইপিওর আবেদনকে সামনে রেখে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ বিও হিসাব খোলা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল গত এক সপ্তাহে খোলা হয়েছে প্রায় দেড় লাখ বিও হিসাব।
গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শেয়ারবাজারে মোট বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৫২ হাজারের সামান্য বেশি। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ লাখ ৪৮ হাজার, অর্থাত্ গত ৯ মাসে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে চার লাখের মতো।
রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ছাড়াও বেসরকারি খাতের দেশি-বিদেশি ১৫টি ব্যাংকের দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা ৫০৩টি শাখার মাধ্যমে গ্রামীণফোনের আইপিওর চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায় ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লাইনে দাঁড়িয়ে আইপিওর টাকা জমা দিচ্ছেন। তবে আগের তিন দিনের চেয়ে গতকাল লাইনের দৈর্ঘ্য ছিল অনেক বড়।
বাজার পরিস্থিতি: দেশের শেয়ারবাজারে মূল্যসূচকের রেকর্ড স্পর্শ করার পরের দিন গতকাল দুই স্টক এক্সচেঞ্জে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক খুব সামান্য পরিমাণ বাড়লেও সার্বিক সূচক কমেছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক বাড়লেও কমেছে সিএসই-৩০ সূচক।
ডিএসইর সাধারণ সূচক মাত্র দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বেড়ে তিন হাজার ১৬ পয়েন্ট হয়েছে। আর সার্বিক সূচক সাড়ে তিন পয়েন্ট কমে দুই হাজার ৭০০ পয়েন্টে গিয়ে ঠেকেছে। লেনদেন হয়েছে ৮৭৭ কোটি টাকার শেয়ার, মানে আগের দিনের তুলনায় লেনদেন কমেছে।
লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১২০টির, কমেছে ১১৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল পাঁচটি কোম্পানির।
সিএসইতে সার্বিক সূচক আট পয়েন্ট বেড়ে ১১ হাজার ৭৯ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। আর সিএসই-৩০ সূচক প্রায় ৩১ পয়েন্ট কমে আট হাজার ২৬০ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

কিম জং ইলের ছোট ছেলে উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যত্ নেতা!

ভবিষ্যতের নেতা হিসেবে তৈরি করতে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং ইলের ছোট ছেলেকে ক্ষমতাসীন দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একজন আইনপ্রণেতার উদ্ধৃতি দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সিউলের একটি বার্তা সংস্থা এ কথা জানিয়েছে। দক্ষিণ কোরীয় পত্রিকা জুংআং ইলবোর প্রতিবেদনেও একই দাবি করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা জুংআং জানায়, কিম জং ইলের ছেলে কিম জং উনকে দলের উপপরিচালক পর্যায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে দায়িত্ব নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত আগস্ট মাসে ৬৭ বছর বয়সী কিম জং ইল মস্তিষ্কের স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এর পর থেকেই খবর ছড়ায়, তিনি তাঁর ছোট ছেলেকে নিজের উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান। এ ব্যাপারে গতকালই প্রথম খবর প্রকাশিত হয়েছে। উত্তর কোরিয়া বরাবরই তার উত্তরসূরির ব্যাপারে গোপনীয়তা রক্ষা করে আসছে।

ইসলামাবাদে জাতিসংঘ কার্যালয়ে হামলার দায় স্বীকার তালেবানের

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে জাতিসংঘের একটি কার্যালয়ে হামলার দায়দায়িত্ব স্বীকার করেছে তালেবান। গতকাল মঙ্গলবার পাকিস্তানি তালেবানের একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপির কাছে এই দায়িত্ব স্বীকার করেন। ওই হামলায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) কার্যালয়ের পাঁচ কর্মী নিহত হন।
অজ্ঞাত স্থান থেকে টেলিফোনে তালেবানের মুখপাত্র আজম তারিক এএফপিকে বলেন, ‘আমরা ওই হামলা চালিয়েছি। হামলার দায়দায়িত্ব স্বীকার করছি আমরা।’
গত সোমবারের ওই হামলায় চার পাকিস্তানি ও এক ইরাকি নিহত হয়। সেনা-পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তি কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে ইসলামাবাদে ডব্লিউএফপির সুরক্ষিত কার্যালয়ে প্রবেশ করে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।
তালেবান মুখপাত্র তারিক আজিম বলেন, ডব্লিউএফপি মার্কিন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। গণহত্যার ব্যাপারে সংস্থাটি নিশ্চুপ। ওয়াজিরিস্তান ও অন্যান্য জায়গায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে তাদের কোনো বক্তব্য নেই। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান সামরিক অভিযানের হুমকি দিচ্ছে। পাল্টা হামলা চালানোর অধিকার রয়েছে আমাদের। আমরা তাদের যথাযথ জবাব দেব।’

তিনটি পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছে ইরান

ইরানের সরকার সে দেশের তিনটি পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছে। স্থানীয় সংবাদ সংস্থা গতকাল মঙ্গলবার জানায়, কোনো ধরনের কারণ না দেখিয়েই ওই পত্রিকাগুলোর প্রকাশনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা আইএলএনএ জানিয়েছে, ফারহাং অ্যাশদি এবং আরমান পত্রিকা বন্ধ করা হয়েছে। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, তাহলিল রুজ পত্রিকাটিকেও বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের সংবাদপত্র তত্ত্বাবধায়ক কমিশন পত্রিকাগুলো বন্ধের নির্দেশ পাঠায়।
ফারহাং অ্যাশদি পত্রিকার পরিচালক ইমামি নাসিরি জানান, তাঁরা তিন মাস আগে পত্রিকাটি প্রকাশনা শুরু করেন। এর মধ্যেই কমিশন ফ্যাক্স পাঠিয়ে এটি বন্ধের নির্দেশ দেয়। কবে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়, এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানাননি। তাহলিল রুজ পত্রিকার প্রধান বাহম্যান হাগাতনিয়ান জানান, কোনো কারণ না দেখিয়েই কমিশন পত্রিকাটি বন্ধ করে দিয়েছে।

নেহরু ও এডুইনার সম্পর্ক ছিল শুধুই বন্ধুত্বের

ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর ভাগ্নি ও বিখ্যাত লেখিকা নয়নতারা সেহগাল তাঁর মামার সঙ্গে ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেনের স্ত্রী এডুইনা মাউন্টব্যাটেনের সম্পর্ককে ‘বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা’র বলে মন্তব্য করেছেন। নেহরু ও এডুইনার মধ্যে কোনো রকম যৌন সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করে তিনি বলেছেন, যারা এই ধরনের চিন্তা-ভাবনা নিয়ে আছে, তারা ভুল করছে। নেহরু ও এডুইনার প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে প্রস্তাবিত একটি চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যের ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে নয়নতারা এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় শর্ত সাপেক্ষে নেহরু ও এডুইনার সম্পর্ক নিয়ে ওই চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যের অনুমোদন দিয়েছে। সরকার চলচ্চিত্রটির শুটিং ভারতে করার অনুমতি দিলেও চিত্রনাট্য থেকে জওহরলাল নেহরু ও এডুইনার মধ্যে একটি অন্তরঙ্গ মুহূর্তের দৃশ্য দিতে বলেছে।
ইন্ডিয়ান সামার নামের চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ অ্যালেক্স ভন তুজেলমানের বই ইন্ডিয়ান সামার: সিক্রেট হিস্ট্রি অব দ্য এন্ড অব অ্যান এমপায়ার অবলম্বনে। এটি পরিচালনা করছেন ব্রিটিশ চলচ্চিত্র পরিচালক জো রাইট।
একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে নয়নতারা সেহগাল বলেন, কেউ যদি মনে করেন নেহরু ও এডুইনার মধ্যে যৌন সম্পর্ক ছিল, তবে তা হবে অনুমাননির্ভর ও অসত্য। তবে এটা সত্যি যে তাঁদের মধ্যে সুন্দর একটা সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল, যা ছিল বন্ধুত্বের ও সম্মানের। এটা এমন একটা সম্পর্ক ছিল, যাতে শারীরিক অন্তরঙ্গতার চেয়ে মনের অন্তরঙ্গতা অনেক বেশি ছিল। তাঁরা একে অন্যকে সম্মান করতেন।
তিনি আরও বলেন, ‘নেহরু ও এডুইনা—দুজনেরই ভারতের জাতীয় ইতিহাসে বিরাট স্থান রয়েছে।’ নেহরু ও এডুনার যৌন সম্পর্কের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে নয়নতারা সেহগাল বলেন, ‘যৌনতা একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। এ ব্যাপারটি তো তৃতীয় কোনো ব্যক্তির জানার কথা নয়।’ নেহরু ও এডুইনার মধ্যকার সম্পর্ককে তিনি পারিবারিক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘দুই পরিবারের মধ্যে সুন্দর অন্তরঙ্গতা ছিল। আমার মা ও মামা ছিলেন মাউন্টব্যাটেনের বন্ধু। এমনকি মাউন্টব্যাটেনের মেয়ে পামেলাও আমার খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু।’

হন্ডুরাসে নাগরিক অধিকার পুনর্বহাল করা হলো

হন্ডুরাসের অন্তর্বর্তী সরকার নাগরিক অধিকার খর্বকারী আদেশ তুলে নিয়েছে। গত সোমবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট রবার্তো মিশেলেত্তি এই আদেশ তুলে নেওয়ার কথা জানান। এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল জেলায়ার সমর্থক গণমাধ্যমগুলোর ওপর থেকেও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলো।
দুই সপ্তাহ আগে ম্যানুয়েল জেলায়া দেশে ফেরার পর তাঁর সমর্থকেরা রাজধানীতে জড়ো হয়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু করে এবং জেলায়াকে ক্ষমতায় পুনর্বহালের দাবি জানায়। এর জবাবে সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার নাগরিকদের মৌলিক অধিকার খর্বকারী বেশ কিছু আদেশ জারি করেছিল। গত ২৮ জুন এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করে জেলায়াকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল দেশটির সেনাবাহিনী। গত ২১ সেপ্টেম্বর জেলায়া গোপনে দেশে ফিরে ব্রাজিল দূতাবাসে আশ্রয় নেন।
রাজধানী তেগুচিগালপায় এক সংবাদ সম্মেলনে মিশেলেত্তি বলেন, ‘দেশে এখন শান্তি বজায় আছে। এ মুহূর্তে ওই আদেশটির আর কোনো প্রয়োজন নেই। মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে আমরা ওই আদেশটি পুরোপুরি তুলে নিয়েছি।’
এদিকে ব্রাজিল দূতাবাসে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট জেলায়া বলেছেন, মিশেলেত্তি এখনো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও হন্ডুরাসের জনগণের সঙ্গে তামাশা করছেন। কোস্টারিকার প্রেসিডেন্ট অস্কার অ্যারিয়াসের সমঝোতা প্রস্তাব মেনে নেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। গত জুলাই মাসে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার জন্য সাত দফা প্রস্তাব দিয়েছিলেন অ্যারিয়াস। আজ বুধবার অরগানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটসের (ওএএস) মহাসচিব হোসে মিগুয়েল ইনসুলজার মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

আফগানিস্তানে জোট বাহিনীর পরাজয় আল-কায়েদাকে শক্তিশালী করবে

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস বলেছেন, আফগানিস্তানে জোট বাহিনীর পরাজয় জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়েদাকে শক্তিশালী করবে। তবে আফগান রণাঙ্গনে আরও সেনা পাঠানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে মার্কিন প্রশাসনের সময় লাগবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি গেটস পাকিস্তানকে আশ্বস্ত করেছেন, মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তান ছেড়ে যাবে না।
গত সোমবার জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে গেটস বলেন, ‘তালেবান জঙ্গিগোষ্ঠী আফগানিস্তানের বেশির ভাগ অংশে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে তা আল-কায়েদার জন্য সুফল বয়ে আনবে। এতে জঙ্গিগোষ্ঠীটি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।’ ওই অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনও উপস্থিত ছিলেন।
গেটস বলেন, আফগানিস্তানে জোট বাহিনীর পরাজয় ঘটলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয় বরং ন্যাটো ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্যও আল-কায়েদা বড় হুমকি হয়ে উঠবে। আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তকে ‘জিহাদ’-এর আধুনিক উত্সভূমি অভিহিত করে তিনি বলেন, গত শতকের আশির দশকে আফগান মুজাহিদরা তত্কালীন পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়নকে হারিয়ে দিয়েছিল। এখন আল-কায়েদার নেতারা আরেক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করার স্বপ্ন দেখছেন।
এর আগে একই দিন অ্যাসোসিয়েশন অব দ্য ইউনাইটেড স্টেট আর্মির একটি বার্ষিক সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, আফগানিস্তানে সেনা বাড়ানোর বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার শাসনামলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। সেজন্য এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে ওবামা প্রশাসনের আরও কিছুটা সময় দরকার। গত সপ্তাহে আফগানিস্তানে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর অধিনায়ক জেনারেল স্ট্যানলি ম্যাকক্রিস্টাল সেখানে আরও ৪০ হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর পরামর্শ দেন।
আফগান যুদ্ধ উদ্বেগজনক দিকে মোড় নিচ্ছে উল্লেখ করে রবার্ট গেটস বলেন, সেনা বাড়ানোর ব্যাপারে জেনারেল স্ট্যানলির পরামর্শকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। তবে এ ধরনের পরামর্শ প্রকাশ্যে না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে দেওয়া ভালো বলে মন্তব্য করেন তিনি। গত সপ্তাহে ওবামা ডেনমার্ক সফরের সময় আফগান যুদ্ধপরিস্থিতি নিয়ে জেনারেল স্ট্যানলির সঙ্গে বৈঠক করেন।
সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে রবার্ট গেটস পাকিস্তান সরকারকে আশ্বস্ত করেছেন যে মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তান ছেড়ে যাবে না। আফগান যুদ্ধের কৌশল নিয়ে ওয়াশিংটন পর্যালোচনা শুরু করেছে। গেটস বলেন, হোয়াইট হাউসে আফগান যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে স্বার্থের কারণেই যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান ছেড়ে যাবে না। পাকিস্তানকে একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দেশ উল্লেখ করে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে অবস্থান করতে চায় এবং এর মাধ্যমে পাকিস্তানের সঙ্গে একটি আস্থা ও অংশীদারির সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।
আফগান যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান: আফগানিস্তানের যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিকর্মীরা। গত সোমবার হোয়াইট হাউসের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তাঁরা এ আহ্বান জানান। ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর ননভায়োলেন্ট রেজিস্টেন্স নামের একটি সংগঠন ওই বিক্ষোভের আয়োজন করে। শান্তিকর্মীরা কিছুক্ষণ হোয়াইট হাউসের প্রধান ফটক অবরোধ করে রাখেন। ২০০১ সাল থেকে আফগানিস্তানে তালেবান নেতৃত্বাধীন জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াই করছে মার্কিন বাহিনী।

উ. কোরিয়া পরমাণু সংকট নিয়ে আলোচনায় রাজি

উত্তর কোরিয়া তার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা এ সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি। তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত জুড়ে দিয়েছে পিয়ংইয়ং। তারা বলেছে, বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসে দুই দেশের মধ্যকার বৈরী সম্পর্কের উন্নতি চায়। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদপত্রে খবর বেরিয়েছে, উত্তর কোরিয়া একটি বন্ধ পরমাণু কেন্দ্র নতুন করে চালু করার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
গত সোমবার পিয়ংইয়ংয়ে চীনা প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাওয়ের সঙ্গে বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং ইল প্রতিশ্রুতি দেন, তাঁরা বিশ্বনেতাদের সঙ্গে অবশ্যই আলোচনায় বসবেন। তবে তার আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক করে পিয়ংইয়ং ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার তিক্ত সম্পর্কের উন্নতি চান তাঁরা। উত্তর কোরিয়ার গণমাধ্যমগুলো গতকাল মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছে।
বিভিন্ন বার্তা সংস্থা উত্তর কোরীয় নেতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, ‘দ্বিপক্ষীয় সফল আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার শত্রুভাবাপন্ন সম্পর্ক শান্তিপূর্ণ অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা বহুপক্ষীয় আলোচনায় যেতে রাজি। তবে তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ফলাফলের ওপর। এ ছাড়া বহুপক্ষীয় আলোচনার পাশাপাশি আমরা ছয়-জাতি আলোচনায় ফিরে যেতেও প্রস্তুত।’
চীনা বার্তা সংস্থা সিনহুয়া বলেছে, পরমাণু সংকট নিয়ে বহুপক্ষীয় আলোচনায় বসার ব্যাপারে চীনা প্রধানমন্ত্রী ও উত্তর কোরীয় নেতা একমত হয়েছেন।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া তার পুরোনো একটি পরমাণুকেন্দ্র আবারও চালু করতে যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপকে বলেছে, সম্প্রতি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্র এর কড়া প্রতিবাদ করায় উত্তর কোরিয়া ইয়ংবিয়নে তার বন্ধ থাকা প্লুটোনিয়াম উত্পাদনকারী কেন্দ্র আবার চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা এ কেন্দ্রের কার্যক্রম চালু করার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
২০০৭ সালে উত্তর কোরিয়া প্লুটোনিয়াম উত্পাদনকারী স্থাপনা বন্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু গত এপ্রিলে পিয়ংইয়ং ছয়-জাতি আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসে এবং এই কেন্দ্র আবার চালুর উদ্যোগ নেয়। এ সপ্তাহের শুরুর দিকে দক্ষিণ কোরীয় পার্লামেন্টে উপস্থাপিত এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
গত সেপ্টেম্বরে উত্তর কোরিয়া বলেছিল, আণবিক বোমা তৈরির উদ্দেশে তারা পরীক্ষামূলকভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া গত বছর উত্তর কোরিয়া বলেছিল, কয়েক বছরের প্রচেষ্টায় তারা ইয়ংবিয়নের এই কেন্দ্র থেকে ৩০ কেজি প্লুটোনিয়াম উত্পাদন করেছে। উত্পাদিত এই প্লুটোনিয়াম থেকে কোনো অস্ত্র তৈরি হয়েছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি।

বাংলাদেশি চিংড়ির ব্র্যান্ড সৃষ্টি ও চিংড়ি জোট গঠনের আহ্বান

চিংড়ি রপ্তানির মাধ্যমে অধিক হারে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করতে হলে বাংলাদেশি চিংড়ির আলাদা ব্র্যান্ড সৃষ্টি করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে এ খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে ‘চিংড়ি উন্নয়ন জোট’ গঠন করা দরকার।
ঢাকার একটি হোটেলে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ থেকে চিংড়ি রপ্তানি: সম্ভাবনা ও সমস্যা’ শীর্ষক দুই দিনের এক সেমিনারে এ সুপারিশ করা হয়েছে।
ক্যাটালিস্ট, আইএফসি-এসইডিএফ, জিটিজেড-প্রগ্রেস ও কেয়ার-বাংলাদেশ প্রভৃতি বাজার উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত ‘মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ফোরাম’ এ সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মত্স্য ও পশুসম্পদমন্ত্রী মো. আবদুল লতিফ বিশ্বাস। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্যসচিব ফিরোজ আহমেদ ও গ্লোবাল অ্যাকুয়াকালচার অ্যালায়েন্সের চেয়ারম্যান জর্জ চেম্বারলেন। সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন মত্স্য ও পশুসম্পদসচিব শাহ আলম, বিএসএফএফের চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহমুদুল হক ও এমডিএফের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজীব প্রধান।

এমিরেটস দুবাই তথ্য প্রযুক্তি মেলা উপলক্ষে বিশেষ প্যাকেজ দিচ্ছে

দুবাইভিত্তিক এমিরেটস এয়ারলাইনের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এমিরেটস হলিডেজ দুবাইয়ে অনুষ্ঠিতব্য তথ্য ও প্রযুক্তি মেলা, জিটেক্স-০৯ উপলক্ষে বিশেষ ভ্রমণ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।
দুবাই আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও এক্সিবিশন কেন্দ্রে এ মেলা ১৮ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এমিরেটস এয়ারলাইন মেলার অফিশিয়াল ক্যারিয়ার হিসেবে কাজ করছে।
এমিরেটস হলিডেজের জিটেক্স প্যাকেজের মূল্য জনপ্রতি ন্যূনতম এক হাজার ৩৫ মার্কিন ডলার। প্যাকেজ ঢাকা-দুবাই-ঢাকা বিমান ভাড়া, দুবাই বিমানবন্দরে সহায়তা সেবা, প্রাইভেট গাড়িতে বিমানবন্দর থেকে হোটেলে আনা-নেওয়ার ব্যবস্থা, দুজনের অংশীদারির ভিত্তিতে তিন তারকাবিশিষ্ট সিশেল ইন হোটেলে প্রাতঃরাশসহ চার রাতের আবাসন, সার্ভিস চার্জ ও রুম ট্যাক্স অন্তর্ভুক্ত। তবে জনপ্রতি ৮৭ মার্কিন ডলার ভিসা (এক মাস মেয়াদি ট্যুরিস্ট ভিসা) ফি ও ৫৮ মার্কিন ডলার এয়ারপোর্ট বহির্গমন ট্যাক্স এই প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত নয়।
ভিসার জন্য ন্যূনতম তিন কার্যদিবসের প্রয়োজন হবে। এমিরেটস হলিডেজের জিটেক্স-০৯ প্যাকেজ ১৬ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
বাংলাদেশে এমিরেটসের এরিয়া ম্যানেজার হানিফ জাকারিয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বাংলাদেশের জন্য একটি দ্রুত সম্প্রসারণশীল খাত। জিটেক্স বাংলাদেশিদের জন্য তাদের এ খাতে অর্জিত সাফল্য তুলে ধরার একটি উপযুক্ত স্থান।

অস্ট্রেলিয়া সুদের হার বাড়াল

অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়া গতকাল মঙ্গলবার নগদ সুদের হার তিন শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সোয়া তিন শতাংশে উন্নীত করেছে।
বিশ্বমন্দা শুরু হওয়ার পর এই প্রথম জি-২০ জোটের কোনো উন্নত দেশ সুদের হার বাড়িয়ে মুদ্রানীতিকে কিছুটা কঠোর করল। অবশ্য এর আগে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত আগস্টে সুদ হার বাড়িয়েছিল।
কিন্তু অর্থনীতির আয়তন বিবেচনায় অস্ট্রেলিয়ার সুদের হার বৃদ্ধি অনেক বেশি তাত্পর্যবহ বলে বিবেচিত হচ্ছে। আর দেশটি সুদের হার বাড়ানোর পর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশও সুদের হার বাড়ানোর কথা চিন্তা করছে।
অস্ট্রেলিয়ার সুদের হার বাড়ানোর বিষয়টি অনেকটা বিস্ময়কর বলেও বিবেচিত হচ্ছে। এভাবে যে সুদের হার বাড়বে, এটা আগে থেকে কেউ ভাবেনি।
অবশ্য কেউ কেউ এ রকম বলছেন যে অস্ট্রেলিয়াই হলো একমাত্র উন্নত দেশ যে কিনা ২০০৯ সালের প্রথমার্ধে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
শুধু ২০০৮ সালের শেষ প্রান্তিকে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি কিছুটা সংকুচিত হয়েছে। মন্দা মোকাবিলায় দেশটির সরকার উদ্দীপনামূলক কর্মসূচিতে সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলার ব্যয় করেছে।
সুদের হারের এই বৃদ্ধি ৪৯ বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ের জরুরি সুদের হার থেকে উত্তরণ ঘটেছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর গ্লেন স্টিভেনস বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতির অবস্থা ‘প্রত্যাশার চেয়েও শক্তিশালী’ রয়েছে বলেই সুদের হার বাড়ানো হয়েছে।
২০০৮ সালের মার্চ মাসে এই সুদের হার ছিল সোয়া সাত শতাংশ। মন্দা মোকাবিলায় তা কমিয়ে একপর্যায়ে তিন শতাংশে নিয়ে আসা হয়।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, অস্ট্রেলিয়া আগামী দিনগুলোয় আবারও সুদের হার বাড়াবে এবং তা দ্রুতই চার শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

সব সুবিধা থাকার পরও বাংলাবান্ধা ১২ বছরে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরে পরিণত হয়নি by শহীদুল ইসলাম,

সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ এক যুগেও বাংলাবান্ধা পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরে পরিণত হয়নি। সে জন্য ব্যবসায়ী-শিল্পপতিরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট চালু করাসহ প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়ে এটিকে শিগগির পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরে পরিণত করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে অব্যবহূত পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ বন্দরের অবকাঠামো।
১২ বছর আগে ১৯৯৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধায় নেপাল-বাংলাদেশ ট্রানজিট রুট হিসেবে এই স্থলবন্দর চালু করা হয়। ২০০৪ সালেই এখানে ওয়্যারহাউস, ট্রাক পার্কিং ইয়ার্ড ও এইচবি রোড, চারতলা ফাউন্ডেশনের অফিস ভবন কমপ্লেক্স, পুলিশ ব্যারাক, সোনালী ব্যাংকের বুথ, ইমিগ্রেশন, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, বিদ্যুত্সুবিধা, পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন ইত্যাদি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগের অভাবেই প্রায় অচল অবস্থায় রয়েছে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর। ভারত সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির অভাবে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাসহ স্থলবন্দরটি কার্যকর করে তোলা যাচ্ছে না।
২০০৪ সালের ২২ মে বাণিজ্য এবং নৌপরিবহনসচিবের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে এ বন্দরের ‘সফট ওপেনিং’ করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যেই এর ‘গ্র্যান্ড ওপেনিং’ তথা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের ঘোষণা দেওয়া হয়, যা এখনো কার্যকর করা হয়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা বাংলাবান্ধাকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরে পরিণত করার দাবি জানিয়ে বলেন, প্রতিবেশী ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এটি খুবই সুবিধাজনক ও সম্ভাবনাময় অবস্থায় রয়েছে। যেমন বাংলাবান্ধা থেকে মাত্র ৫ ও ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে মালামাল প্রবেশের মূল দ্বার শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি শহরের অবস্থান। ৫৮ কিলোমিটার দূরে রয়েছে ভারতের বিখ্যাত পর্যটন শহর দার্জিলিং। ৬১ কিলোমিটার দূরে নেপালের সীমানা কাঁকরভিটা তথা মিচি শহর। আর ভুটান সীমান্তের দূরত্ব ৬৮ কিলোমিটার।
ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি স্থানীয় চেম্বারের নেতারাও মনে করেন, এ স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরু হলে আমদানি-রপ্তানি বাড়ার পাশাপাশি পঞ্চগড়ে যেমন বিভিন্ন ধরনের শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে, তেমনি বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং প্রতিবছর সরকারও বিপুল অঙ্কের রাজস্ব আদায় করতে পারবে।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের সুপারিনটেনডেন্ট মো. আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে সীমিত আকারে নেপালে পণ্য আমদানি-রপ্তানির কার্যক্রম চলছে। গত অর্থবছরে এ বন্দর থেকে প্রায় চার কোটি টাকার রাজস্ব আয় হয়েছে। এখানে কাস্টমসের কোনো আবাসিক বা অফিস ভবন না থাকায় ৫৬ কিলোমিটার দূরে পঞ্চগড় থেকে গিয়ে কর্মকর্তাদের কাজ করতে হয়।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান ‘ইবরা’র ব্যবস্থাপক কাজী আল তারিক জানান, ২৫ বছরের চুক্তি অনুযায়ী তাঁরা ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এটি পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এর মাধ্যমে তাঁরা বাণিজ্যিকভাবে কোনো আয় করতে পারেননি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আমদানিকারক সফিকুর রহমান জানান, ভারত ও নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের গাড়ি পারাপার চুক্তি না হওয়ায় এক দেশের ট্রাক আরেক দেশের সীমান্তে প্রবেশ করতে পারছে না।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মো. রেজাউল করিম বলেন, বর্তমানে সীমান্তের জিরো লাইনে ট্রাক-টু-ট্রাক পদ্ধতিতে মালামাল ওঠানো-নামানোর মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলছে।
পঞ্চগড় চেম্বারের সভাপতি ইকবাল কায়সার প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাবান্ধাকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে চালু করার জন্য আমরা সরাসরি এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) মাধ্যমে সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে আসছি।’

শেয়ারবাজারে লেনদেন এক হাজার কোটি টাকার ওপরে

দেশের শেয়ারবাজারে চাঙাভাব অব্যাহত। প্রতিদিনই বাড়ছে সূচক ও লেনদেনের পরিমাণ। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচক অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সম্মিলিত লেনদেনের পরিমাণও এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
এদিকে গতকাল ডিএসই ৫০ কোটি টাকার কম পরিশোধিত মূলধনের কোনো কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি জানিয়েছে, বাজারে তালিকাভুক্ত হতে হলে পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ২৫ শতাংশ শেয়ার প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে বিক্রি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো প্রাইভেট প্লেসমেন্ট অনুমোদন না করারও সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কাছে শিগগিরই এ সংক্রান্ত সুপারিশগুলো পাঠাবে ডিএসই।
যোগাযোগ করা হলে ডিএসইর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, কম পরিশোধিত মূলধনের তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের মূল্যে অস্বাভাবিককতা লক্ষ্য করা যায়। মূলধনের পরিমাণ কম থাকায় এসব কোম্পানির শেয়ারে কারসাজির যথেষ্ট সুযোগ থাকে। তাই মূল্য কারসাজি ঠেকাতেই কম পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলো এর আওতায় পড়বে না।
কিন্তু ডিএসইসহ সব মহল থেকে যখন বাজারে ভালো শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে, তখন এ ধরনের সিদ্ধান্ত কতটুকু যৌক্তিক তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলেছেন, দেশে ভালো প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত অনেক কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা হবে না। ফলে এ সিদ্ধান্ত ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার আশঙ্কা রয়েছে।
বাজার পরিস্থিতি: ডিএসইতে গতকাল সাধারণ সূচক ২৮ পয়েন্ট বেড়ে তিন হাজার ২১৫ পয়েন্ট ছাড়িয়ে গেছে, যা এযাবত্কালের সর্বোচ্চ।
এর আগে ২০০৮ সালের ১ জুন সাধারণ সূচক একবার তিন হাজার ২০৮ পয়েন্ট হয়েছিল। তবে ওই সময় বাজারের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে এসইসির কিছু নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ সূচক আর বাড়তে দেয়নি।
এরপর থেকে সূচক তিন হাজার পয়েন্ট স্পর্শ করার পরই বাজার নিম্নগামী হয়েছে। তবে গত কয়েক দিনের লেনদেনে বাজার সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসেছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে দেখছেন ইতিবাচক হিসেবেই।
যোগাযোগ করা হলে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ খান প্রথম আলোকে বলেন, গ্রামীণফোনের কারণে বাজারে সূচকের পতন হতে পারে বলে অনেক বিনিয়োগকারীর মধ্যে ধারণা ছিল। প্রকৃতপক্ষে বাজারে সে ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা না যাওয়ায় হঠাত্ করেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বেড়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সূচক বাড়ছে।
তবে কিছু কিছু কোম্পানির শেয়ার অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়ে গিয়েছে, যেগুলোর ব্যাপারে বিনিয়োগকারীদের অবশ্যই সতর্ক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরিফ খান আরও বলেন, এখনো ভালো মৌলভিত্তির অনেক কোম্পানির শেয়ারের দাম যথেষ্ট কম রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের উচিত সেদিকেও লক্ষ রাখা।
বাজার পরিসংখ্যান: ডিএসইতে গতকাল ৯২৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৩৩টি কোম্পানির, কমেছে ১০৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল চারটি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল সার্বিক মূল্যসূচক ৭৭ পয়েন্ট বেড়ে ১১ হাজার ৭১ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। আর লেনদেন হয়েছে ৯২ কোটি ৯২ লাখ টাকার শেয়ার। লেনদেন হওয়া কোম্পানির মধ্যে বেড়েছে ৯৪টির, কমেছে ৭৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল একটি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

কোয়ার্টার ফাইনাল পেছাল

পিছিয়ে গেল সিটিসেল ফেডারেশন কাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনাল। আজ থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে মাঠ খেলার অনুপযুক্ত হয়ে পড়ায় তা শুরু হবে ১১ অক্টোবর। নতুন ফিকশ্চার অনুযায়ী প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মোহামেডান খেলবে নারায়ণগঞ্জ শুকতারা যুব সংসদের বিপক্ষে। ১২ অক্টোবর রহমতগঞ্জের প্রতিপক্ষ ফেনী সকার ক্লাব। পরদিন চট্টগ্রাম আবাহনী-সিলেট বিয়ানীবাজারের ম্যাচ। ১৪ অক্টোবর ঢাকা আবাহনী খেলবে শেখ রাসেলের বিপক্ষে। ১৭ ও ১৮ অক্টোবর সেমিফাইনাল। ফাইনাল ২০ অক্টোবর।

রাশিয়ায় ‘ক্রিকেট বিপ্লব’!

লেনিনের দেশ স্বপ্ন দেখছে ক্রিকেট বিপ্লবের! গড়পড়তা রাশানরা যদিও এখনো ‘ক্রিকেট’ আর ‘ক্রোকুয়েটে’র মধ্যে পার্থক্য ঠাওরাতে পারে না। তার পরও দক্ষিণ এশিয়ার জনপ্রিয়তম খেলাটি ধীরে ধীরে ডালপালা মেলছে আয়তনের দিক দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশটিতে। একদিন অস্ট্রেলিয়া-ভারতের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার স্বপ্ন তাদের বুকে!
জোরেশোরে শুরু হয়েছে দেশটির ক্রিকেট লিগ—রাশিয়াস ইউনাইটেড ক্রিকেট লিগ (আরইউসিএল)। সাতটি ক্লাব অংশ নিচ্ছে এতে। আরইউসিএলের প্রধান, ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী আশভানি চোপরা জানিয়েছেন, ‘ভারতে ক্রিকেট শুধু একটি খেলা নয়, একটি ধর্ম। আমি ক্রিকেট ভালোবাসি। আমি চাই এখানেও ক্রিকেট জনপ্রিয় আর বিস্তৃত হোক। ক্রিকেট সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এক খেলা।’
চোপরা জানিয়েছেন, ক্রিকেট ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে রুশদের মধ্যে, ‘স্রেফ মজা করার জন্য ১৯৯৫ সালের দিকে আমরা এখানে ক্রিকেট খেলতে শুরু করি। ২০০১ সালে একটা ছোট টুর্নামেন্টের আয়োজনও করা হয়েছিল। যেখানে অস্ট্রেলিয়া, ভারত আর অবশিষ্ট বিশ্ব একাদশ নামের তিনটি দল খেলেছিল। ওই টুর্নামেন্টটি সফলই হয়েছিল। সেটারই ধারাবাহিকতায় এই লিগ।’
চোপরার লক্ষ্য এখন রাশিয়ার জাতীয় ক্রিকেট দল গঠন করা। এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়ে দিয়েছে আইসিসি। শিগগিরই লাল-নীল-সাদা তেরঙা পতাকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি দল রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করবে বলে আশাবাদী চোপরা। এখনো মূলত ভারতীয় অভিবাসীরাই খেলাটি ধরে রেখেছে। কিন্তু স্থানীয়দের মধ্যে খেলাটি ছড়িয়ে দিতে চোপরাদের চেষ্টার বিরাম নেই। নিয়ম করে দেওয়া হয়েছে, প্রতিটা ক্লাবের দলে কমপক্ষে একজন স্থানীয় খেলোয়াড়কে রাখতেই হবে।
সম্ভাবনা যেমন আছে, আছে সমস্যাও। চোপরা জানালেন, ‘এখানে মস্কোতে ক্রিকেট ব্যাট কিংবা বল পাওয়াই যায় না। সবকিছু আমাদের ভারত থেকে নিয়ে আসতে হয়। কিন্তু আমরা সব সমস্যা জয় করে এগিয়ে যেতে চাই। কোনো কিছুই আমাদের দমাতে পারবে না।’
অন্য অনেক খেলায় পরাশক্তি রাশিয়া কি তাহলে ক্রিকেটেও পতাকা ওড়াতে আসছে?

দলবদলের প্রথম দিনে শুধুই সোনালী ব্যাংক

মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের সবুজ টার্ফের পাশেই রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আরিফুল হক প্রিন্স, হাবুল ইসলাম, মওদুদুর রহমান শুভরা। সবারই মুখ শুকনো। ফেডারেশনের দ্বিতীয় তলার সম্মেলন কক্ষে চলছে আগামী মৌসুমের প্রিমিয়ার হকি লিগের দলবদল। সেদিকে যেন ভ্রূক্ষেপই নেই কারও। এবারের দলবদলে যে উত্তেজনার ছোঁয়াই খুঁজে পাচ্ছেন না তাঁরা!
আবাহনীর স্ট্রাইকার শুভ তো বলেই ফেললেন, ‘দলবদল কি না বুঝতেই পারছি না। এ রকম দলবদল জীবনেও দেখিনি।’ মোহামেডানের হাবুলও তাল মেলালেন তাঁর সঙ্গে, ‘ইতিহাসে এই প্রথম দেখছি এ রকম দলবদল। আগে দেখতাম কে কোন দলে যাবে তা নিয়ে চলত চাপা উত্তেজনা। দুই-এক সপ্তাহ আগেই কথাবার্তা চূড়ান্ত হয়ে যেত। এবার কিছুই হচ্ছে না।’
হবে কীভাবে; আবাহনী, মোহামেডান, ঊষার মতো হকির বড় ক্লাবগুলো তো এই সময়ে দলবদল মানতেই চায়নি। লিগ কমিটির সম্পাদক আনভীর আদেল অবশ্য সময় বাড়ানোয় ক্লাবগুলো মত বদলাবে বলে আশা করছেন, ‘মোহামেডান আমাদের আশ্বস্ত করেছে, আবাহনীও জানিয়েছে সভা করে সিদ্ধান্ত জানাবে। এরই মধ্যে সোনালী ব্যাংক দলবদল করে ফেলেছে। এ ছাড়া পুলিশ, ঊষাও আসবে।’ তবে মোহামেডান ও আবাহনী এখনো দলবদল সম্পর্কে মনস্থির করতে পারেনি। আবাহনীর হকি কর্মকর্তা শহীদুল্লাহ বললেন, ‘আমার আজই (কাল) বাইলজ হাতে পেয়েছি। ক্লাবের সবার সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেব কী করা যায়।’
বাইলজে এবার একটা পরিবর্তনই এসেছে। গত মৌসুমে যেখানে মাত্র তিনজন বিদেশিকে নিবন্ধন করানোর সুযোগ ছিল, এবার তা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ইচ্ছা করলে ক্লাবগুলো এই পাঁচজনকেই একই সঙ্গে মাঠে নামাতে পারবে (গতবার দুজন খেলতে পারতেন)। এমন একটি সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্টই প্রিন্স, ‘বিদেশি পাঁচজনকে একসঙ্গে খেলানোটা আমি সমর্থন করি না। যদি আবাহনী পাঁচ ভারতীয়কে আর মোহামেডান পাঁচ পাকিস্তানিকে আনে তাহলে তো আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ ভারত-পাকিস্তান হয়ে যাবে।’
কাল দলবদলের প্রথম দিনে এসেছে শুধু সোনালী ব্যাংকই। নিবন্ধন করিয়েছে মোট দশজন খেলোয়াড়কে, যাদের আটজনই নতুন। এর মধ্যে মোহামেডান থেকে এসেছেন ইরফান, সুজন ও মাসুম; আবাহনী থেকে ফিরোজ ও রকি, ঊষা থেকে তুহিন; আজাদ থেকে রিয়াজ এবং ওয়ারী থেকে প্রবীর। গতবার লিগে চতুর্থ হয়েছিল সোনালী ব্যাংক, অধিনায়ক আশিকুজ্জামান এবার শিরোপা লড়াইয়ে নামার প্রত্যয় জানালেন।
নয় দিনব্যাপী দলবদল চলবে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত।

জার্মানিতে গেরহার্ডের চোখে জিমিরা

উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য গত মাসে জার্মানি গেছেন ১৯ হকি খেলোয়াড়। হাঁটুতে চোট পেয়ে ফিরে এসেছেন রাজন। বাকি ১৮ জনকে পর্যবেক্ষণ করে তাঁদের চারটি শ্রেণীতে ভাগ করেছেন কোচ পিটার গেরহার্ড। তাঁর মতামত কয়েক দিন আগে পাঠিয়েও দিয়েছেন হকি ফেডারেশনে।
গেরহার্ডের ‘এ’ গ্রেডে আছেন বিপ্লব, রানা, চন্দন, তাপস, মিমো ও পিন্টু। কোচের মনে হয়েছে, এঁরা সবাই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার উপযুক্ত। ‘বি’ গ্রেডে আছেন জিমি, চয়ন, জন ও কিরণ। এঁদের ব্যাপারে কোচের মূল্যায়ন—আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেতে আরও উন্নতি করতে হবে। কৃষ্ণ, নান্নু, জাহিদ, শুভ, রাসেল, রিমন ও মানিককে রাখা হয়েছে ‘সি’ গ্রেডে। আন্তর্জাতিক মান থেকে অনেক দূরে, তবে তরুণ ও প্রতিভাবান বলে এঁদের একসময় ওই পর্যায়ে যাওয়ার ব্যাপারে কোচ আশাবাদী। তবে শারীরিক আকৃতির কারণে শুভর একটু সমস্যা হতে পারে মনে করেন তিনি। ‘ডি’ গ্রেডের দুজন—কুটি ও হাসানের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই, সিদ্ধান্তে পৌঁছে গিয়ে ক্যাম্প শেষে তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানোর কথা জানিয়ে দিয়েছেন গেরহার্ড। তাঁর পর্যবেক্ষণ, মোশাররফ শারীরিকভাবে দুর্বল এবং হাসান একটু অলস প্রকৃতির। জার্মানির ক্যাম্প শেষে হকি খেলোয়াড়দের ইউরোপ সফরে যাওয়ার কথা। কুটি ও হাসানের বদলে সে সফরে নিয়ে যাওয়ার জন্য ইরফানকে জার্মানি পাঠানোর জন্য ফেডারেশনের কাছে প্রস্তাব দিয়েছেন গেরহার্ড।

জ্বালানি ও জাতীয় স্বার্থের তর্ক-বিতর্ক কার পক্ষে by কল্লোল মোস্তফা

১৯ সেপ্টেম্বর ২০০৯ তারিখের প্রথম আলোতে জুবায়ের জামান লিখিত ‘জ্বালানি ও জাতীয় স্বার্থের তর্ক-বিতর্ক’ শীর্ষক নিবন্ধটিতে লেখক দুটি বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে পিএসসি চুক্তি স্বাক্ষর প্রসঙ্গে যা বলেছেন তাঁর প্রতিক্রিয়ায় কিছু কথা পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। কেননা বিষয়টি নিজেই জরুরি ও জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন।
এক. জনাব জুবায়ের জামান লিখেছেন: ‘... এক দশক ধরে বিপুল ব্যয়ে পরিচালিত অনুসন্ধান আমাদের গ্যাস সম্পদে নতুন কোনো কিছু যোগ করতে পারেনি। বর্তমান পিএসসির আওতায় পরিচালিত অনুসন্ধানেও দ্রুত গ্যাসপ্রাপ্তির আশা করা যায় না, অন্তত আগামী সাত-নয় বছরের মধ্যে তো নয়ই।’
তাহলে আমাদের প্রশ্ন হলো, বহুজাতিক কোম্পানিগুলো ‘মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে’ এ অঞ্চলে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে আগ্রহী হলো কি কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে উদ্ধার করার অনুরূপ গ্যাস দায়গ্রস্ত (!) বাংলাদেশকে দয়া করতে, নাকি নিশ্চিত মুনাফার গন্ধ পেয়েই? উত্তরে আমরা প্রথম আলোতেই প্রকাশিত এ কে এম জাকারিয়ার ‘বঙ্গোপসাগর এখন এক লোভনীয় ক্ষেত্র’ (২০ নভেম্বর ২০০৮) লেখার কয়েকটি লাইন পাঠককে স্মরণ করিয়ে দেব: ‘বঙ্গোপসাগর এখন তেল-গ্যাসের জন্য লোভনীয় ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ইতিমধ্যে ভারত সমুদ্রে ১০০ টিসিএফ গ্যাস পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মিয়ানমার সাত টিসিএফ গ্যাস পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।... মিয়ানমার তাদের যে তিনটি ব্লকে গ্যাস পাওয়ার কথা ঘোষণা করেছে, সেই ব্লকগুলো বাংলাদেশের ঘোষণা করা ব্লকগুলোর কাছাকাছি এবং অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্লকগুলোর মধ্যে পড়েছে।’ তাহলে জুবায়ের জামান কিসের ভিত্তিতে এবং কার স্বার্থে বলছেন এ অঞ্চল থেকে গ্যাসপ্রাপ্তি অনিশ্চিত এবং বাণিজ্যিকভাবে অলাভজনক?
দুই. মডেল পিএসসিতে এলএনজি করে রপ্তানি করার বিধান রাখা প্রসঙ্গে তিনি ‘ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ’ এই অনুসন্ধানের কাজে বহুজাতিক কোম্পানিকে বাজারজাত করার নিশ্চয়তা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন:
‘... তাই তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্লান্ট স্থাপনের মাধ্যমে গ্যাস বাজারজাতকরণ/রপ্তানি একটি যৌক্তিক প্রস্তাব। তবে তাও আবিষ্কৃত গ্যাসের আকারের ওপর নির্ভরশীল। সাধারণত গভীর সমুদ্র এলাকায় চার থেকে পাঁচ টিসিএফের নিচের কোনো গ্যাসক্ষেত্রের জন্য এলএনজি প্লান্ট স্থাপন বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক বলে বিবেচিত হয় না। এখানে উল্লেখ্য, পিএসসি মোতাবেক গ্যাসের যেকোনো রপ্তানির ক্ষেত্রে পেট্রোবাংলা বা দেশে তৃতীয় কোনো ব্যবহারকারী/পক্ষ গ্যাস কিনতে অপারগতা প্রকাশ করলেই কেবল পেট্রোবাংলার সম্মত শর্তে এলএনজি হিসেবে রপ্তানির সুযোগ আসবে।’
প্রথম কথা হলো, মিয়ানমার যেখানে আমাদের ব্লকগুলোর পাশেই তিনটি ব্লক থেকে সাত টিসিএফ গ্যাসপ্রাপ্তির ঘোষণা দিয়েছে, তাহলে জুবায়ের জামান সাহেব কেন মনে করছেন এলএনজি প্লান্ট লাভজনক হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় মাত্র চার থেকে পাঁচ টিসিএফ গ্যাস আমরা আমাদের তিনটি ব্লক থেকে পাব না? আবারও বলি, কার স্বার্থে?
দ্বিতীয় কথা হলো, পেট্রোবাংলা প্রথম দাবিদার ঠিকই, কিন্তু তার জন্য মডেল পিএসসির আর্টিক্যাল ১৫.৫.৪ অনুসারে তাকে দুটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এক. তাকে গভীর সমুদ্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস পরিবহন করে আনতে পারতে হবে এবং দুই. উত্তোলিত গ্যাস ব্যবহার করতে পারতে হবে।
এখন আবিষ্কৃত গ্যাসের পরিমাণ দেখে বহুজাতিক কোম্পানি যদি এলএনজি প্লান্ট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং যদি বাংলাদেশ দৈনিক যে পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করতে পারবে তার চেয়ে বেশি পরিমাণ গ্যাস উত্তোলন শুরু করে, তাহলে পরিবহনের পাইপলাইনহীন অবস্থায় এবং আমাদের অবদমিত শিল্প খাত সেই পরিমাণ গ্যাস সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার করতে অক্ষম হবে। এই দুটি কারণে চুক্তি অনুসারে আমরা বাধ্য হব বহুজাতিক কোম্পানিকে এলএনজি বানিয়ে গ্যাস বিদেশে রপ্তানি করার অনুমতি দিতে।
এই রপ্তানি কিন্তু আমরা করছি না, করছে কোম্পানি। এবং করছে আমাদের প্রাপ্য গ্যাস থেকেই। রপ্তানির বিষয়টি ছাড়াও, আর্টিক্যাল ১৫.৫.৪ অনুসারে বাজারজাতযোগ্য গ্যাসের ২০ শতাংশের বেশি আমরা পাব না অর্থাত্ অন্তত ৮০ ভাগ গ্যাসের মালিকানা বহুজাতিক কোম্পানির। অথচ আমাদের মতো দেশ বলিভিয়ার হাইড্রোকার্বন আইন ২০০৫-এ বলা আছে, বলিভিয়ার মালিকানা কোনোভাবেই উত্তোলিত হাইড্রোকার্বনের ৫০ শতাংশের কম হওয়া চলবে না এবং বাজারজাত করার অধিকার ও সিদ্ধান্ত পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় কোম্পানি ওয়াইপিএফবির। আমাদের বেলায় যা হতে পারত পেট্রোবাংলার এখতিয়ারের বিষয়।
কিন্তু চুক্তিতে যদি গ্যাসের শত ভাগ মালিকানা আমাদের হাতে থাকত এবং বহুজাতিক কোম্পানি যেমন সাবকনট্রাক্ট দিয়ে কাজ করায়, বাপেক্স বা পেট্রোবাংলা যদি সেভাবে সাবকনট্রাক্টর দিয়ে কাজ করাত তাহলে কিন্তু প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পরিমাণ গ্যাস একসঙ্গে উত্তোলন করে কস্ট রিকভারি করে নেওয়ার সুযোগ থাকত না, প্রয়োজনও পড়ত না। একই সঙ্গে গ্যাস রপ্তানি করে সোনার ডিম পাড়া হাসকে বিক্রি করার কথাও উঠত না।
প্রশ্ন আসতে পারে দেশে নিশ্চিত বাজার থাকা সত্ত্বেও বহুজাতিক কোম্পানি কেন শুধু শুধু কোটি কোটি ডলার খরচ করে এলএনজি প্লান্ট বানাতে যাবে? বহুজাতিক কোম্পানির কাছ থেকে গ্যাস কিনলে দেশীয় উত্পাদন খরচের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দামে আমাদের গ্যাস কিনতে হবে, এ কথা যেমন সত্য, তেমনি চুক্তি মোতাবেক ১৮০ ডলার সিলিং থাকার কারণে তাদের আন্তর্জাতিক মূল্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মূল্যে পেট্রোবাংলার কাছে গ্যাস বিক্রি করতে হবে (অধ্যাপক নূরুল ইসলাম, ৭ জুলাই, প্রথম আলো)। ফলে পেট্রোবাংলার কাছে বিক্রি করলে প্রতি হাজার কিউবিক ফিটে তার ‘ক্ষতি’ সাত-আট ডলার করে প্রতি টিসিএফে ক্ষতি সাত-আট বিলিয়ন ডলার। এই টাকা বিনিয়োগ করেই তারা একবার এলএনজি প্লান্ট বানিয়ে ফেলতে পারলে পরবর্তী সময়ে আর এই ক্ষতিটুকু স্বীকার করতে হবে না। কারণ, যদি চার টিসিএফ গ্যাস মেলে এবং তা দেশীয় বাজারে বিক্রি করতে হয়, তাহলে ২৮ থেকে ৩২ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি স্বীকার করতে হয়। কাজেই তাদের পক্ষে সাত-আট বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চাওয়াই স্বাভাবিক। এবং দেশীয় শিল্পের প্রয়োজনাতিরিক্ত গ্যাস উত্পাদন করলেই পেট্রোবাংলা বাধ্য হবে তাদের এলএনজি আকারে গ্যাস রপ্তানি করতে দিতে!
তিন. ‘এ অবস্থায় সাগরবক্ষে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু না করে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকলে বরং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর স্বার্থই সংরক্ষিত হবে, বাংলাদেশের নয়।’
অথচ তেল-গ্যাস কমিটি অথবা যারা বর্তমান পিএসসিকে জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে বলে মনে করছে তারা কিন্তু হাত-পা গুটিয়ে রাখার কথা বলছে না, বরং সরকারই ঘোষণা দিয়েছে বিরোধপূর্ণ ব্লক থেকে গ্যাস উত্তোলন না করার। (সূত্র: সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান: পেট্রোবাংলা-টাল্লো প্রাথমিক আলোচনা, ৩০ সেপ্টেম্বর, প্রথম আলো) কাজেই গ্যাস রপ্তানি ও মালিকানার ইস্যু নিয়ে তর্ক-বিতর্কের ফলে ভারত-মিয়ানমারের স্বার্থ রক্ষিত হচ্ছে, কথাটি ঠিক নয়। বরং তর্ক-বিতর্ক না করলে একদিকে বিরোধহীন ব্লকের গ্যাস নিয়ে যাবে বহুজাতিক কোম্পানি, অন্যদিকে বিরোধপূর্ণ ব্লকগুলোর গ্যাস নিয়ে যাবে ভারত বা মিয়ানমার অর্থাত্ আম-ছালা দুই-ই যাবে।
বিরোধহীন ব্লকগুলোকে ৮০ শতাংশ বিদেশি মালিকানা ও রপ্তানির সুযোগ রেখে বরাদ্দ বা ইজারা দেওয়ার খোয়াবে মগ্ন থাকলে এবং সমুুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ মীমাংসার কার্যকর উদ্যোগ নিতে না চাইলে গণনজরদারি ও বিতর্কের প্রয়োজন নেই। কিন্তু জাতীয় স্বার্থ রক্ষার নজরদারি ছাড়া আমরা আমাদের সম্পদ রক্ষা করতে ও কাজে লাগাতে পারব না। দুশ্চিন্তার কারণটি সেখানেই।
কল্লোল মোস্তফা: প্রকৌশলী।

মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতি আরও এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে

জীবনযাত্রার মান, আয়ুষ্কাল, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সমন্বয়ে কোনো দেশের মানব উন্নয়নের চিত্রটি তৈরি হয়। আর অন্য দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করে নির্ণীত হয় অবস্থান, যা উঠে আসে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মানব উন্নয়ন সূচকে। আর এই সূচকে এবার বাংলাদেশ দুই ধাপ এগিয়ে ১৮২টি দেশের মধ্যে ১৪৬তম স্থান করে নিয়েছে। এটা অবশ্য ২০০৭ সালের তথ্যের ভিত্তিতে নির্ণয় করা হয়েছে। আবার প্রতিবেদন অনুসারে, মানব উন্নয়নে বাংলাদেশ মধ্যসারির উন্নত দেশগুলোর কাতারে রয়েছে। তাই একে একটি ইতিবাচক অর্জন হিসেবে দেখার অবকাশ রয়েছে।
ইউএনডিপির প্রতিবেদন থেকে এটা বোঝা যায় যে, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের মানুষ জীবনমানের উন্নতি করার চেষ্টায় প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যাচ্ছে, যার কিছু সুফলও পাচ্ছে। তবে এই সুফল ধরে রাখা এবং উন্নততর অর্জনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন সঠিক সরকারি পদক্ষেপ ও সমর্থন। সবার জন্য শিক্ষা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও বিশুদ্ধ পানি পাওয়া নিশ্চিত করার মতো কাজগুলোর কোনো বিকল্প নেই। মানব উন্নয়ন সূচকে দুই ধাপ এগিয়ে যাওয়া নিশ্চয়ই ইতিবাচক অগ্রগতি কিন্তু এতে তুষ্ট হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। এই সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে নেপাল এগিয়ে আছে ১৪২তম স্থান নিয়ে। তাই মানবদারিদ্র্য কাটিয়ে ওঠার জন্য সরকারকে সচেতন হতে হবে।
এবারের প্রতিবেদনের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে অভিবাসন, যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসী আয়প্রবাহ বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর একটি। আর এটি যে দারিদ্র্য হ্রাসের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে, তা ইউএনডিপি প্রতিবেদনেই স্বীকার করা হয়েছে। অথচ অভিবাসী হতে গিয়ে অনেক প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে হয়, অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। তার পরও বেশির ভাগ বাংলাদেশিই মানসম্মত কাজ পান না, কষ্টকর জীবনযাপন করতে হয় তাঁদের। সুতরাং, এদিকে সরকারকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে, গড়ে তুলতে হবে দক্ষ ও শক্তিশালী মানবসম্পদ।

পাকিস্তানের পাশে আইসিসি

খবরটা পাকিস্তান ক্রিকেট দলের জন্য স্বস্তির। সদ্যসমাপ্ত চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ পাতানোর গুঞ্জন উঠেছিল। সেই গুঞ্জনে কান দিচ্ছে না আইসিসি। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের খেলা নিয়ে সন্দেহের কোনো কারণ দেখেন না তিনি।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের সেমিফাইনাল ম্যাচটায় সাইমন টফেলের আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন পাকিস্তানের ক্রীড়ামন্ত্রী মোহাম্মদ আলী শাহ।
এই অভিযোগেও কান দিচ্ছেন না লরগাত, ‘এটা নিয়ে মাথা ঘামানোর কিছু নেই। সাইমন টফেলের ওপর আমাদের আস্থা আছে। ম্যাচটা যেভাবে খেলা হয়েছে তাতেও আমরা সন্তুষ্ট। দুর্দান্ত লড়াকু মানসিকতা নিয়ে ম্যাচটা খেলা হয়েছে। আর সাইমন টফেলের সুনাম আমরা সবাই জানি।’
ওদিকে আইসিসি প্রেসিডেন্ট ডেভিড মরগান জানিয়েছেন, সদ্যসমাপ্ত চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সফল আয়োজনকে তিনি ৫০ ওভারের ক্রিকেটের জয় হিসেবেই দেখছেন।
টি-টোয়েন্টির উত্থানে ওয়ানডের ভবিষ্যত্ নিয়ে শঙ্কিতদের মরগান আশ্বস্তই করছেন, ‘চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খুবই সফল হয়েছে। আমরা ভবিষ্যতের দিকে একটা বড় পদক্ষেপ ফেললাম। উত্তেজনায় ঠাসা ক্রিকেট হয়েছে। প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাড়া মিলেছে।’

রবীন্দ্রনাথের ১৫০তম জন্মদিন বিশ্বজুড়ে পালন করবে ইউনেসকো

কবিগুরুর ১৫০তম জন্মদিন বিশ্বজুড়ে পালন করবে ইউনেসকো। আগামী বছর বিশ্বব্যাপী আয়োজন করা হচ্ছে তাঁর অর্ধশতবর্ষ জন্মদিন পালনের নানা অনুষ্ঠান।
ভারতের মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী কপিল সিবাল গত মঙ্গলবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের জানান, আগামী বছর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ১৫০তম জন্মদিন গোটা বিশ্বে বিশেষভাবে পালন করার জন্য ইউনেসকোর কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল ভারত। সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেছে ইউনেসকো। ইউনেসকো ইতিমধ্যে কবিগুরুর ১৫০তম জন্মদিন পালনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। ইউনেসকো জানিয়েছে, ১৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে ইউনেসকো কবিগুরুর নামে বিশেষ পুরস্কার ও পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কবিগুরুই এশিয়ার প্রথম নোবেলজয়ী ব্যক্তি। ১৯১৩ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। যদিও কবিগুরুর সেই আসল নোবেল পদকটি আজ আর নেই শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীর রবীন্দ্র সংগ্রহশালায়। ২০০৪ সালের মার্চে এটি চুরি হয়ে যায় শান্তিনিকেতন থেকে। সেখানে এখন রাখা হয়েছে নোবেল পদকের একটি রেপ্লিকা বা নকল।

ইসমাইলমার্চেন্টের ‘চারুলতা’ এখন নিলামে

ভারতের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিত্ রায়ের চারুলতা আর মহানগর চলচ্চিত্রের পোস্টার, কালীঘাটের পটচিত্র, এমনকি উনিশ শতকের বাংলার পোড়ামাটির মূর্তি—হলিউডের ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রযোজক-পরিচালক ইসমাইল মার্চেন্টের সংগ্রহ থেকে এমনই ১৮৮টি শিল্পসামগ্রী আজ বৃহস্পতিবার লন্ডনে ক্রিস্টির নিলামে উঠতে চলেছে।
ইসমাইল মার্চেন্টের দীর্ঘদিনের সঙ্গী চিত্রপরিচালক জেমস আইভরি জানান, সত্যজিত্ রায়ের পরিচালনায় ই এম ফরস্টারের এ প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া নিয়েও চলচ্চিত্র বানানোর ইচ্ছা ছিল মার্চেন্টের। কিন্তু সেটা আর হয়ে ওঠেনি। আজকের নিলামজুড়েও রয়েছেন সেই সত্যজিত্; আর একই সঙ্গে বাঙালি তথা ভারতের ঐতিহ্য।
ক্রিস্টির নিলামে শুধু চারুলতা আর মহানগর-এর পোস্টারের দাম ধরা হয়েছে ৩০০ থেকে ৫০০ পাউন্ডের মধ্যে। কালীঘাটের পটচিত্রের দামও এক হাজার পাউন্ডের কাছাকাছি উঠবে বলে নিলামকারীরা আশা করছেন।
মার্চেন্ট প্রযোজিত হিট অ্যান্ড ডাস্ট চলচ্চিত্রে ব্যবহূত সুরাপাত্র ও টেবিল সেটও একই সঙ্গে উঠছে নিলামে। পোড়ামাটির মূর্তির পাশাপাশি থাকছে বাংলার বেশ কয়েকটি প্লাস্টারের মূর্তি।
শুধু ভারতের নয়, তুরস্ক, চীন, জাপান ছাড়াও ইউরোপের অন্যান্য দেশের বেশ কয়েকটি হাতে আঁকা ছবি ও পশমের শালও মার্চেন্টের সংগ্রহ থেকে নিয়ে আসা হয়েছে নিলামে।
নিলামের আগের দিন গতকাল বুধবার ইসমাইল মার্চেন্টের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে জেমস আইভরি বললেন, ‘কোনো কিছু পছন্দ হলেই সেটা সংগ্রহ করার ব্যাপারে মার্চেন্টের অদম্য উত্সাহ ছিল। অফিসে যাওয়ার পথে অনেক সময়ই আমাকে নিয়ে চলে যেত সদবির নিলামে। একবার তো প্যারিসে একটা বাড়িই কিনে ফেলল! পরে শুনলাম, কোনো এক চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের সময়ই নাকি বাড়িটা ওর খুব মনে ধরেছিল।’

যেখানে ভারত পারেনি চীন পারবে তো?

তিন বছর আগে নেপালের রাজা জ্ঞানেন্দ্র অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন। ওই ঘটনায় প্রতিবেশী দেশ ভারত যারপরনাই ক্ষুব্ধ হয়েছিল। এর পর দেশটিতে ২০০৭ সালে মাওবাদী গেরিলা ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে ২৩৯ বছরের রাজতন্ত্রের পতন ঘটায়। অনেকে মনে করেন, ওই আন্দোলনের পেছনে ভারতের জোরদার সমর্থন ছিল।
নেপালের সংকট এখনো কাটেনি। তিন বছর পর দেশটির রাজনৈতিক মঞ্চের দৃশ্যপটে আবারও একই ধরনের ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে আরেক প্রতিবেশী রাষ্ট্র চীন। দেশটিতে রাজনৈতিক অচলাবস্থা দূর করতে চীন উদ্যোগী হচ্ছে। এ অবস্থায় অনেকেই তাকিয়ে আছেন চীন কীভাবে বিষয়টি সামলায় তা দেখার জন্য। কারণ, ভারত যেখানে ব্যর্থ হয়েছে সেখানে চীন কীভাবে বিষয়টি সামাল দেবে, তা এখন দেখার বিষয়।
মাওবাদীদের নেতা পুষ্প কমল দহল ওরফে প্রচণ্ড গত বছর প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েই একটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। নতুন প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে চীনকেই বেছে নেন। এর আগে দেশের অধিকাংশ নেতাই ভারতকে দিয়ে তাঁদের সফর শুরু করতেন। প্রচণ্ড এখন ক্ষমতায় নেই। এ অবস্থায় আবারও তিনি সাত দিনের সফরে চীন যাচ্ছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রোববার থেকে তাঁর ওই সফর শুরু হবে। সেখানে দেশটির প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
গত বছরের আগস্টে প্রধানমন্ত্রী প্রচণ্ডের বেইজিং সফরকে কেন্দ্র করে ওই সময় ব্যাপক হইচই হয়েছিল। তখন প্রচণ্ড অলিম্পিক গেমসের সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। অনেকে তখন প্রচণ্ডের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর চীনে হওয়ায় এর সমালোচনা করেছিলেন। ওই সফরের পর অবশ্য এই গ্রীষ্মে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বার তাঁর চীন সফরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেনাপ্রধান জেনারেল রুকমানগাদ কাতাওয়ালকে বরখাস্ত করার পর শরিক দলের সঙ্গে প্রচণ্ডের বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। একপর্যায়ে মে মাসে তাঁর আট মাস মেয়াদের সরকারের পতন ঘটে। এর ফলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নির্ধারিত দ্বিতীয়বার চীন সফর আর হয়নি। কিন্তু এরপর আবারও তিনি বিরোধী দলের নেতা হিসেবে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধানের আমন্ত্রণ পেয়েছেন। সেই আমন্ত্রণেই তিনি ফের চীন যাচ্ছেন।
এদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমারেরও রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে যাওয়ার কথা রয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুজাতা কৈরালা প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের অংশ হিসেবে গত মাসে বেইজিং সফর করেছেন। অনেকের বিশ্বাস, নেপালের রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে চীনের বড় ভূমিকা রাখার সময় এসেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্ব তাই এখন তাকিয়ে আছে চীনের দিকেই।

বাল্যবিবাহে এগিয়ে ভারত: ইউনিসেফ

অর্থনৈতিক উন্নতির পথে হাঁটা শুরু করলেও এখনো সামাজিক উন্নতির পথে ততটা অগ্রসর হতে পারেনি ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের মতো দেশগুলো। ইউনিসেফের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ্যে এনেছে উপমহাদেশ তথা এশিয়ার বেশ কিছু দেশে শিশুদের করুণ অবস্থার কথা। বাল্যবিবাহ থেকে শুরু করে শিশুশ্রম ও শিশু পাচারের মতো নানা সামাজিক অত্যাচারের কথা বলা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।
বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে ভারত। সারা বিশ্বে যত বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটে, এর এক-তৃতীয়াংশ ঘটে ভারতে। ১৮ বছর হওয়ার আগেই ২০০৭ সালে সারা বিশ্বে বিয়ে হয়ে গিয়েছিল প্রায় আড়াই কোটি মেয়ের। ভারত, পাকিস্তান ও নেপালে ১০ বছর বয়স হতে না হতেই বিয়ের কথা পাকা হয়ে যায় ছোট ছেলেমেয়েদের—এ রকম বহু তথ্যই উঠে এসেছে ইউনিসেফের এই প্রতিবেদনে।
উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশে বাল্যবিবাহের যে প্রবণতা দেখা গেছে, সে বিষয়ে ইউনিসেফের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরের বক্তব্য, সমাজের কনিষ্ঠতম সদস্যদেরই যদি বাল্যবিবাহের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়, তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে কোনো সমাজের উন্নতি হতে পারে না।
সাক্ষরতার হার বাড়লেও পরম্পরা ও ধর্ম মেনে বাল্যবিবাহের মতো কুপ্রথা এখনো পুরোদমে চলছে ভারত ও পাকিস্তানে। অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়েদের বিয়ের কারণে শিশুরা যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, তাও তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। বাড়িতে ও বাইরে তারা যে শারীরিক ও মানসিক হেনস্তার শিকার হচ্ছে, সে কারণে নানাভাবে শিশুদের বিকাশে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
শুধু বাল্যবিবাহেই থেমে নেই এশিয়ার এই দেশগুলো। এসব দেশে কোনো রকম নিরাপত্তা ছাড়াই বেড়ে উঠছে শিশুরা। আর এর মধ্যেই তাদের শিশুশ্রম থেকে শুরু করে শিশু পাচারকারীদের ফাঁদেও পা দিতে হচ্ছে।
ইউনিসেফের এই প্রতিবেদনে একটি বিষয় স্পষ্ট, শিশুরা যে অত্যাচারের শিকার হচ্ছে, এর হাত থেকে তাদের বাঁচানোর পথ এখনো তৈরি হয়নি।

হুমকির মুখে পড়েছে বিশ্ব ঐতিহ্যের বহু নিদর্শন

জাপানের কিয়োটো মার্চেন্ট হাউস থেকে শুরু করে পেরুর মাচুপিচুর ধ্বংসাবশেষসহ বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী বহু দর্শনীয় স্থান ও স্থাপনা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। নানা কারণে বিশ্ব ঐতিহ্যের এসব নিদর্শন আগে থেকেই হুমকির মুখে ছিল। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করে, নিউইয়র্কভিত্তিক এমন একটি সংস্থা উদ্বেগজনক এ তথ্য জানিয়েছে।
দি ওয়ার্ল্ড মনুমেন্টস ফান্ড নামের ওই সংস্থা হুমকির মুখে পড়া বিশ্ব ঐতিহ্যগুলোর একটি তালিকা তৈরি করেছে। গত মঙ্গলবার সংস্থাটি তাদের ষাণ্মাসিক প্রতিবেদনে জানায়, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পর্যটনশিল্পের প্রসার, অবহেলা আর বাজে পরিকল্পনার কারণে বিশ্ব ঐতিহ্যগুলোকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
বিশ্বের ৪৭টি দেশের ৩৯টি স্থাপনা ওই তালিকায় স্থান পায়। এর মধ্যে ১৫টি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা বিশ শতকে তৈরি এবং এরই মধ্যে ব্যাপক হুমকির মুখে পড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপানের কিয়োটোতে কাঠ দিয়ে নির্মাণ করা বিশেষ বাড়ি থেকে শুরু করে উগান্ডায় খড় দিয়ে তৈরি গম্বুজাকৃতির রাজকীয় সমাধি আজ ধ্বংসের পথে। অথচ এসব নিদর্শন স্থানীয় লোকসংস্কৃতি ও ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক-বাহক।
হুমকির মধ্যে থাকা নিদর্শনের তালিকায় আরও রয়েছে ইনকাদের নগরদুর্গ পেরুর মাচুপিচুর ধ্বংসাবশেষ, বার্সেলোনার সাগ্রদা ফ্যামিলিয়া চার্চ এবং প্রখ্যাত মার্কিন স্থপতি ফ্রাঙ্ক লয়েড রাইটের টালিসিন ওয়েস্ট হাউস।
দি ওয়ার্ল্ড মনুমেন্টস ফান্ডের প্রেসিডেন্ট বনি বার্নহ্যাম বলেন, এসব স্থাপনা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কারণ হলো এগুলো অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলতে বসেছে। নিদর্শনগুলো হুমকির মুখে পড়ার একটি বড় কারণ হলো অস্বাভাবিক হারে নগরায়ণ বেড়ে যাওয়া। এসব স্থাপনার পাশে খুব দ্রুত দাঁড়িয়ে যাচ্ছে আধুনিক আকাশচুম্বী দালান। এসব দালান তৈরিতে মানা হচ্ছে না নিয়মকানুন। এ ছাড়া এসব স্থানে পর্যটকদের মাত্রাতিরিক্ত ভিড়ও স্থাপনাগুলোকে হুমকিতে ফেলছে। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে পর্যটন সংস্থাগুলোকে অবশ্য বেশি দোষ দেওয়া যাবে না। এখানে আসল খলনায়ক হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। তাদের তদারকের অভাবেই নিদর্শনগুলো ঝুঁকিতে পড়ছে।

গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে, বিপাকে ভারতের সেনা কর্মকর্তা

ভারতের একটি আদালত সে দেশের একজন সেনা কর্মকর্তাকে তাঁর আফগান স্ত্রীকে ভরণপোষণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ওই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি আগের বিয়ের কথা গোপন রেখে ওই আফগান নারীকে বিয়ে করেন এবং এখন তাঁকে ভরণপোষণের খরচ দিচ্ছেন না।
নয়াদিল্লির আদালত বলেছেন, সাবরা আহমাদজাই নামের ওই আফগান নারী ভারতের সেনাবাহিনীর চিকিত্সক মেজর চন্দ্রশেখর পঁতের বিরুদ্ধে যে দুই বিয়ের অভিযোগ এনেছেন, এর ভিত্তি রয়েছে। আদালত ভরণপোষণ বাবদ আফগান স্ত্রীকে মাসিক আট হাজার রুপি (১৬৯ ডলার) করে দেওয়ার জন্য চন্দ্রশেখরকে নির্দেশ দিয়েছেন।
সাবরা আহমাদজাই মেজর চন্দ্রশেখরের সঙ্গে তাঁর বিয়ের একটি ভিডিওচিত্র আদালতে উপস্থাপন করেন। তবে চন্দ্রশেখর এই বিয়ের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ওই ভিডিওতে সূক্ষ্ম জালিয়াতি করা হয়েছে।
দিল্লির আদালতের এ রায় অন্তর্বর্তীকালীন। চূড়ান্ত রায় এখনো ঘোষণা করা হয়নি। সাবরা আহমাদজাই বলেন, কাবুলের একটি হাসপাতালে তিনি দোভাষী হিসেবে কাজ করতেন। সেখানেই মেজর চন্দ্রশেখরের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাত্। বিয়ের পর তাঁরা একসঙ্গে মাত্র ১৫ দিন ছিলেন। এরপর তাঁর স্বামী ভারতে চলে আসেন। তিনি তাঁর বাবা-মাসহ অন্যদের নিয়ে আবার আফগানিস্তানে ফেরত যাওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু ভারতে আসার ছয় মাসের মধ্যে মাত্র তিনবার তিনি টেলিফোন করেন। শেষবারের ফোনে চন্দ্রশেখর বলেন, ‘সাবরা, তোমার বিয়ের বয়স আছে। তুমি আবারও বিয়ে করতে পার। আমি আগেই একটি বিয়ে করেছি। সেই ঘরে আমার দুই সন্তান রয়েছে।’

আফগানিস্তানে সেনা কমাবেন না বারাক ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, আফগানিস্তানে মার্কিন যুদ্ধকৌশল পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার কিংবা সেনাসংখ্যা কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে না।
মার্কিন কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ওবামা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, অত্যাবশ্যকীয় বিবেচনায় তাদের কর্মপন্থা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ওই কর্মপন্থায় সবাই খুশি নাও হতে পারে।
তবে একটি সূত্র জানায়, আফগানিস্তানের শীর্ষ জেনারেলের অনুরোধ সত্ত্বেও সেখানে সেনাসংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে ওবামা কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।
আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর অভিযানের অষ্টম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। যুক্তরাষ্ট্রে ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার পর আফগানিস্তান থেকে তালেবান জঙ্গিদের উত্খাতে ওই অভিযান শুরু হয়।
ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান দলের প্রায় ৩০ জন জ্যেষ্ঠ কংগ্রেস সদস্যকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
শীর্ষ জেনারেলের পরামর্শ মেনে আফগানিস্তানে সেনাসংখ্যা বাড়ানোর জন্য ওবামা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্য।
প্রেসিডেন্ট ওবামা কংগ্রেস সদস্যদের জানান, তাঁর মূল্যায়ন হবে ‘কঠোর ও সুচিন্তিত’। যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার সর্বোচ্চ স্বার্থে কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করে যাবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
হোয়াইট হাউসের একটি সূত্র জানায়, বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেছেন, আফগানিস্তানে সেনাসংখ্যা কমাবেন না তিনি। আল-কায়েদা নেতাদের লক্ষ্য করেও কেবল কৌশল তৈরি করবেন না।
কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট-দলীয় স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেন, বৈঠকে বেশ কিছু বিষয়ে মতৈক্য হলেও আলোচনায় মতামতের কিছু ভিন্নতা ছিল।
রিপাবলিকান-দলীয় সিনেটর জন ম্যাককেইন মাঠ থেকে দেওয়া জেনারেলদের পরামর্শের প্রতি কর্ণপাত করতে প্রেসিডেন্ট ওবামার প্রতি আহ্বান জানান।
প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, সেনাসংখ্যার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আফগানিস্তানে রণকৌশল নিয়ে মতৈক্যে পৌঁছাতে হবে।
শতাধিক তালেবান জঙ্গি নিহত
আফগানিস্তানে শতাধিক তালেবান জঙ্গিকে হত্যার দাবি করেছে ন্যাটো। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় নুরিস্তান প্রদেশে গত শনিবার লড়াইয়ে আট মার্কিন সেনা নিহত হয়। ওই লড়াইয়ে জঙ্গিদেরও এই প্রাণহানি ঘটে। আট বছরের মধ্যে সেনা-জঙ্গির মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ লড়াই। ন্যাটো বাহিনী গত মঙ্গলবার এ তথ্য দিয়েছে।
এক বিবৃতিতে ন্যাটো বাহিনী জানায়, তালেবান জঙ্গিরা গত শনিবার নুরিস্তান প্রদেশের কামদেশ এলাকায় ন্যাটো ও আফগান বাহিনীর দুটি দূরবর্তী চৌকির ওপর রকেটচালিত গ্রেনেড, মেশিনগান ও রাইফেল নিয়ে হামলা চালায়। সেনারাও এর পাল্টা জবাব দেয়। দুই পক্ষের এ লড়াই চলে অন্তত ১৩ ঘণ্টা সময় ধরে। লড়াইক্ষেত্রের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ শেষে ন্যাটো নিশ্চিত হয়েছে, এতে তালেবানের শতাধিক যোদ্ধা নিহত হয়েছে।
পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী ওই প্রদেশটির গভর্নর জামালুদ্দিন বদর গত সোমবার জানান, কামদেশ এলাকায় তালেবান জঙ্গিদের ওপর বিদেশি ও আফগান সেনারা আক্রমণ শুরু করেছে। তালেবানিরা ওই এলাকায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এই লড়াইয়ে দুই আফগান সেনাও নিহত হয়েছে। প্রাদেশিক কর্মকর্তারা জানান, শনিবার ওই এলাকায় ভয়াবহ লড়াইয়ের পর পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
গভর্নর বদর বলেন, ওই এলাকার শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত ১৩ পুলিশের হদিস মিলছে না। তালেবানের দাবি, ৩৫ পুলিশকে তারা আটক করেছে।

উত্তর কোরিয়া প্রশ্নে শীর্ষ বৈঠকে বসছে চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া

উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বহুপাক্ষিক আলোচনার টেবিলে বসাতে তিন প্রতিবেশি চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সমন্বয়ে শনিবার বেইজিংয়ে শুরু হচ্ছে তিনজাতির শীর্ষ বৈঠক। এই বৈঠকের মূল এজেন্ডাই থাকছে উত্তর কোরিয়াকে ছয় জাতির বহুপাক্ষিক আলোচনায় অংশগ্রহণে রাজি করানো। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে এই আলোচনা থেকে বেরিয়ে যায় তারা।
তবে সম্প্রতি চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়া বাওয়ের উত্তর কোরিয়া সফরকালে সেদেশের প্রেসিডেন্ট কিম জল ইং এই বহুপাক্ষিক বৈঠকে আবার অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। তবে এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কন্নোয়নে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার শর্ত জুড়ে দেয় পিয়ং ইয়ং। যুক্তরাষ্ট্রও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় আগ্রহী, তবে পাল্টা শর্ত হিসেবে তাঁরাও বলেছে, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার এজেন্ডা অবশ্যই হতে হবে পিয়ং ইয়ংয়ের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা বিষয়ক।
উত্তর কোরিয়া ছাড়াও এই ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের আগ্রহের আরেক কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন জাপানের সবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ইউকিও হাতোইয়ামা। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর পর জাপানের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রতিবেশিদেশগুলোর জন্য কিধরনের বার্তা নিয়ে এসেছে তা আঁচ করার আগ্রহ রয়েছে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার।

কাবুলে বিস্ফোরণে তিনজন নিহত

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে আজ বৃহস্পতিবার সকালে এক বিস্ফোরণে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটায় এই বিস্ফোরণটি ঘটে। কাবুলের ভারতীয় দূতাবাসের কাছে এই বিস্ফোরণ ঘটে।
মধ্য কাবুলের একট সড়কের মাঝখানে এই বড় ধরণের বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়। এতে রাস্তায় থাকা ওই তিনজনের শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।
স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা জানায়, এই বিস্ফোরণে একজন পুলিশ কর্মকর্তা মারা গেছেন এবং আহত হয়েছেন আট নয়জনের বেশি।

বেসিক ব্যাংকের নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভা

বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদের প্রথম এবং ব্যাংকের ২৫৪তম সভা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাইয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় পরিচালকদের মধ্যে চাঁদপুর চেম্বারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাহাঙ্গীর আখন্দ, বিসিকের চেয়ারম্যান আশরাফ মোহাম্মদ ইকবাল, অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বিজয় ভট্টাচার্য ও সাবেক শুল্ক কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম সাজেদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ব্যাংকের সার্বিক ব্যবস্থা উন্নয়ন ও গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নে পরিচালনা পর্ষদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে দেশের বিভিন্ন শিল্পোন্নয়নমুখী অঞ্চলে বেসিক ব্যাংকের বিনিয়োগ-সম্ভাবনার ওপর জোর দেওয়া হয়।

আনোয়ার সাদাতের কমিটিকে অনুমোদন দিল মন্ত্রণালয়

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গাজীপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচনে মো. আনোয়ার সাদাত সরকারের নেতৃত্বাধীন কমিটিকে অনুমোদন দিয়েছে। গত সোমবার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মুহিবুজ্জামান স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
আনোয়ার সাদাতের কমিটি ছাড়াও রূপগঞ্জের সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজীর নেতৃত্বাধীন অপর একটি কমিটি গাজীপুর চেম্বারের প্রতিনিধিত্ব করে আসছিল।
চেম্বার সূত্রে জানা গেছে, নেতৃত্ব নিয়ে কয়েক বছরের কোন্দলের পরিস্থিতিতে গত বছরের ১০ মে আনোয়ার সাদাত সরকারের নেতৃত্বাধীন কমিটি (২০০৮-০৯) নির্বাচিত হয়। এর দুই দিন পর ১২ মে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ক্ষমতায় থাকা গোলাম দস্তগীর গাজীর নেতৃত্বাধীন কমিটির মেয়াদ ১২০ দিন বাড়ায়। মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আনোয়ার সাদাত হাইকোর্টে রিট (৫২০০/০৮) দায়ের করেন। চলতি বছরের ২৮ জুলাই আদালত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশ বিধি মোতাবেক হয়নি বলে রায় দেন। অবশ্য এর পরও গোলাম দস্তগীর গাজী ও আনোয়ার সাদাত সরকার পৃথক কার্যালয় থেকে গাজীপুর চেম্বারের কার্যক্রম চালিয়ে যান।
হাইকোর্টের রায়ের পর ৩০ জুলাই গাজীপুর চেম্বারের সদস্য ফরহাদ হোসেন গোলাম দস্তগীর গাজীর নেতৃত্বাধীন কমিটির বৈধতা চেয়ে ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে মামলা (নম্বর-১০/২০০৯) করেন। ৩ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল মামলাটি খারিজ করে দেন।
আনোয়ার সাদাত সরকার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়েছেন বলে প্রথম আলোকে জানান। অন্যদিকে এ ব্যাপারে গোলাম দস্তগীর গাজীর মোবাইল ফোনে চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর গাজী টায়ার নামক প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করা হলে সোহেল নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘স্যার সংসদে আছেন।’

চট্টগ্রাম থেকে ৩৮টি গন্তব্যে বিমান চালাবে কুয়েত এয়ারওয়েজ

৩০ অক্টোবর থেকে চট্টগ্রামের সঙ্গে কুয়েতসহ ৩৮টি গন্তব্যে বিমান পরিচালনা করবে কুয়েত এয়ারওয়েজ। কুয়েতের জাতীয় এই বিমান সংস্থা প্রতি সপ্তাহে দুটি করে (শুক্র ও রোববার) ফ্লাইট পরিচালনা করবে। স্থানীয় সময় ভোর পাঁচটা ৩৫ মিনিটে চট্টগ্রাম ছেড়ে যাবে এ ফ্লাইট।
গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে কুয়েত এয়ারওয়েজের কর্মকর্তারা এ ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে কুয়েত এয়ারওয়েজের বিক্রয় ব্যবস্থাপক (যাত্রী) সামিউর রাজ্জাক, বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক আবু আমিন চৌধুরী ও বিক্রয় ব্যবস্থাপক (কার্গো) মনশুরুল হক ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এ কার্যক্রম শুরুর ফলে আমেরিকাসহ ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রামের সরাসরি বিমানযোগাযোগ স্থাপিত হতে যাচ্ছে। এতে এ দেশে সরাসরি বিনিয়োগ ও ব্যবসার প্রসার আরও বেগবান হবে। সেই সঙ্গে পর্যটনব্যবসাও সম্প্রসারিত হবে।
সামিউর রাজ্জাক বলেন, বাণিজ্যিকভাবে চট্টগ্রামের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। সে জন্য পরিপূর্ণ সেবা নিয়ে কুয়েত এয়ারওয়েজ চট্টগ্রাম থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করতে যাচ্ছে। যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি ৩৮টি গন্তব্যে বিভিন্ন মালামালও পৌঁছানোর সুযোগ করে দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের প্রায় চার লাখ মানুষ কুয়েতে বসবাস করছেন। সে জন্য দুই দেশের ভ্রাতৃত্ব্বপর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে কুয়েত এয়ারওয়েজ এ ধরনের নতুন নতুন সেবা চালু করতে আগ্রহী।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দর আবার বেড়ে গেছে

মার্কিন ডলারের দর পড়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়া সুদের হার বাড়িয়েছে। এর জের ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর বেড়ে আবার নতুন সর্বোচ্চ পর্যায়ে উপনীত হয়েছে।
গতকাল বুধবার বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দর গিয়ে ঠেকে এক হাজার ৪৩ ডলার ৭৭ আউন্সে। মূল্যবান ধাতুর প্রতি বিনিয়োগকারীরা নতুনভাবে আকৃষ্ট হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি বলে বিশ্লেষকেরা মন্তব্য করেছেন।
গত পরশু অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক নগদ সুদের হার ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সোয়া ৩ শতাংশ করার পর মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলীয় ডলারের মান শক্তিশালী হয়।
উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো প্রধান মুদ্রা হিসেবে মার্কিন ডলার প্রতিস্থাপন করার চিন্তা করছে—এমন একটি খবর প্রচারিত হওয়ার পরপরই অবশ্য বিশ্ববাজারে ডলার দুর্বল হয়ে পড়ে। আর একটা পর্যায়ে বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে ডলার আর থাকবে না—এমন কথাবার্তা অনেক দিন ধরেই চলছে। এটাও ডলারকে দুর্বল করার অন্যতম কারণ।
আর ডলার যদি দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে বিনিয়োগের শ্রেষ্ঠ বিকল্প হলো স্বর্ণ—এই ধারণাই স্বর্ণের দর বাড়িয়ে দিয়েছে।
বলা হচ্ছে, এই বছরের শেষ পর্যন্ত স্বর্ণের দর আরও বাড়তে পারে যদি ডলার দুর্বল হতে থাকে।
আর বড়দিনের উত্সব সামনে রেখে স্বর্ণের আগাম দরও বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ১৭ অক্টোবর ভারতে দীপাবলি উত্সব। সে কারণে ভারতে স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে দর বাড়ছে।
বিশ্লেষকেরা আরও বলছেন, আর্থিক বাজারে টালমাটাল অবস্থা আর মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা এখন মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দিকে নজর দিয়েছে। তারা স্বর্ণে বিনিয়োগ করাকেই সবচেয়ে নিরাপদ বলে মনে করছে।
শুধু স্বর্ণই নয়, বিশ্ববাজারে রুপার দামও প্রতি আউন্স ৩ শতাংশ বেড়ে ১৭ ডলার ১১ সেন্ট এবং প্লাটিনাম প্রতি আউন্স দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৩০৫ ডলারে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে কপারের দর প্রতি টন ছয় হাজার ডলার ছাড়িয়ে এখন ঠেকেছে ছয় হাজার ৬০ ডলারে।

গ্রামীণফোনের প্রাথমিক শেয়ারের চাঁদা নেওয়া আজ শেষ হচ্ছে

গ্রামীণফোন লিমিটেডের প্রাথমিক শেয়ারের (আইপিও) চাঁদাগ্রহণ বা সাবস্ক্রিপশন আজ বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে। শেষ দিনের আগেই গতকাল বুধবার পর্যন্ত আবেদন জমা পড়েছে আইপিওর আকারের চেয়েও প্রায় তিন গুণ।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে উত্সাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে, তাতে শেষ দিনে আবেদনের পরিমাণ আরও বেড়ে মোট আবেদন আইপিওর আকারের চার-পাঁচ গুণ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
গ্রামীণফোন মোট ছয় কোটি ৯৪ লাখ ৩৯ হাজার ৪০০টি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ৪৮৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। সেই হিসাবে সংগৃহীত চাঁদার পরিমাণ দুই হাজার কোটি টাকার বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে গতকালও বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব খোলার জন্য নতুন বিনিয়োগকারীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। এ দিন প্রায় ১৪ হাজার বিও হিসাব খোলা হয়েছে বলে শেয়ারসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সূত্রে জানা গেছে।
সিডিবিএল সূত্রমতে, গ্রামীণফোনের আইপিওর আবেদনকে সামনে রেখে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ বিও হিসাব খোলা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল গত এক সপ্তাহে খোলা হয়েছে প্রায় দেড় লাখ বিও হিসাব।
গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শেয়ারবাজারে মোট বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৫২ হাজারের সামান্য বেশি। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ লাখ ৪৮ হাজার, অর্থাত্ গত ৯ মাসে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে চার লাখের মতো।
রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ছাড়াও বেসরকারি খাতের দেশি-বিদেশি ১৫টি ব্যাংকের দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা ৫০৩টি শাখার মাধ্যমে গ্রামীণফোনের আইপিওর চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায় ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লাইনে দাঁড়িয়ে আইপিওর টাকা জমা দিচ্ছেন। তবে আগের তিন দিনের চেয়ে গতকাল লাইনের দৈর্ঘ্য ছিল অনেক বড়।
বাজার পরিস্থিতি: দেশের শেয়ারবাজারে মূল্যসূচকের রেকর্ড স্পর্শ করার পরের দিন গতকাল দুই স্টক এক্সচেঞ্জে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক খুব সামান্য পরিমাণ বাড়লেও সার্বিক সূচক কমেছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক বাড়লেও কমেছে সিএসই-৩০ সূচক।
ডিএসইর সাধারণ সূচক মাত্র দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বেড়ে তিন হাজার ১৬ পয়েন্ট হয়েছে। আর সার্বিক সূচক সাড়ে তিন পয়েন্ট কমে দুই হাজার ৭০০ পয়েন্টে গিয়ে ঠেকেছে। লেনদেন হয়েছে ৮৭৭ কোটি টাকার শেয়ার, মানে আগের দিনের তুলনায় লেনদেন কমেছে।
লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১২০টির, কমেছে ১১৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল পাঁচটি কোম্পানির।
সিএসইতে সার্বিক সূচক আট পয়েন্ট বেড়ে ১১ হাজার ৭৯ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। আর সিএসই-৩০ সূচক প্রায় ৩১ পয়েন্ট কমে আট হাজার ২৬০ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

এবারে গ্রামীণফোনের সঙ্গে চুক্তি করবে মার্কেন্টাইল ব্যাংক

মোবাইল ফোনে ব্যাংকিংয়ের অনুমোদন পেয়েছে আরও একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক, তা হলো মার্কেন্টাইল ব্যাংক। তারা গ্রামীণফোনের সঙ্গে চুক্তি করে মোবাইল ফোনে ব্যাংকিংয়ের সেবা দেবে গ্রাহককে।
এর আগে তিনটি বাণিজ্যিক ব্যাংক মোবাইল ফোনে ব্যাংকিংয়ের অনুমোদন পায়। এর মধ্যে দুটি ব্যাংক শুধু বিদেশ থেকে প্রবাসী-আয় (রেমিট্যান্স) গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে মোবাইল ফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (অপারেটর সার্ভিস) বাংলালিংকের বিক্রয়কেন্দ্রগুলো (আউটলেট) ব্যবহার করবে। এ দুটি হলো ইস্টার্ন ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড।
অন্যদিকে প্রতিরক্ষা বাহিনীর দি ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড দেশের মধ্যে স্থানীয়ভাবে ও প্রবাসী-আয় স্থানান্তরসহ সব ধরনের লেনদেনে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে। এই ব্যাংক সব কটি মোবাইল ফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সেবা ব্যবহারের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড ডিজিটাল টেকনোলজিস লিমিটেড ও ইনফরমেশন টেকনোলজি কনসালট্যান্ট লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তাদের মাধ্যমেও লেনদেন করতে পারবে।
সর্বশেষ ১ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংক মার্কেন্টাইল ব্যাংককে যে অনুমোদনপত্র দিয়েছে, তাতে এই ব্যাংকটিও ট্রাস্ট ব্যাংকের প্রায় কাছাকাছি বিভিন্ন ধরনের লেনদেনে মোবাইল ফোনে ব্যাংকিংয়ের সেবা গ্রাহককে দিতে পারবে।
এর আগে অনুমোদন পাওয়া ঢাকা ব্যাংক বিদেশ থেকে প্রবাসী-আয় গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে বাংলালিংকের বিক্রয়কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে সরাসরি নগদ অর্থ পরিশোধ করতে পারবে। ইস্টার্ন ব্যাংক প্রবাসী-আয় বাংলালিংকের বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে গ্রাহককে নগদে পরিশোধ এবং একই সঙ্গে ইলেকট্রনিক প্রি-পেইড কার্ডে অর্থ স্থানান্তর করতে পারবে।
অন্যদিকে ট্রাস্ট ব্যাংককে কার্যত অধিক পরিমাণ মোবাইল ফোনে ব্যাংকিংয়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই ব্যাংক এক হিসাব থেকে অন্য হিসাবে অর্থ স্থানান্তর, এ ক্ষেত্রে একই ব্যাংকের আওতাভুক্ত বা এক ব্যাংকের হিসাব থেকে অন্য ব্যাংকের হিসাবে স্থানান্তর করতে পারবে। আবার প্রি-পেইড কার্ডে টাকা স্থানান্তর ও বিভিন্ন দোকানের কেনাকাটায় এই কার্ড ব্যবহার, গ্যাস-বিদ্যুত্ ও পানির বিল পরিশোধ এবং সরকারের দেওয়া কৃষিতে ভর্তুকি, বিধবা ভাতা ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা কার্ডের মাধ্যমে তোলার সুযোগ থাকবে। প্রায় একই রকম সুবিধা দিতে পারবে মার্কেন্টাইল ব্যাংক।
প্রবাসী-আয়ের টাকা তুলতে হলে বিক্রয়কেন্দ্রে প্রাপকের একটা পরিচয়সহ হিসাব থাকতে হবে। অর্থ প্রেরক মোবাইলে এসএমএসের (সংক্ষিপ্ত তথ্য প্রেরণ) মাধ্যমে টাকার পরিমাণ ও একটি পিন কোড (ব্যক্তি শনাক্তকরণ সংখ্যা) পাঠাবেন। বিক্রয়কেন্দ্রে প্রাপক গিয়ে পিন কোডসহ এসএমএস দেখালে তাঁর অর্থ পরিশোধ করা হবে। অন্যদিকে মোবাইল ফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি থাকতে হবে।
মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকের হিসাবে টাকা পাঠাতে হলে ট্রাস্ট ব্যাংকের সঙ্গে বাকি দুই ব্যাংকের নিবন্ধন থাকতে হবে। একই সঙ্গে প্রেরকেরও ট্রাস্ট ব্যাংকের মোবাইল হিসাব বা নিবন্ধন থাকতে হবে।
প্রেরক প্রথমে তাঁর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিজ ব্যাংকে এসএমএসের মাধ্যমে তথ্য পাঠাবেন ট্রাস্ট ব্যাংকের মোবাইল হিসাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পাঠাতে। ব্যাংক পাল্টা এসএমএসে টাকা স্থানান্তরের তথ্য পাঠালে মোবাইল হিসাবের টাকা তখন ট্রাস্ট ব্যাংক প্রাপকের ইচ্ছানুসারে অন্য ব্যাংকের যেকোনো হিসাবে পাঠিয়ে দেবে।
এই মোবাইল হিসাবে স্থিতি থাকলে সেই অর্থ দিয়ে উপযোগ সেবার মূল্য পরিশোধ এবং ট্রাস্ট ব্যাংকের নিবন্ধিত দোকানগুলোতে কেনাকাটা করা যাবে।
মার্কেন্টাইল ব্যাংকের অনুমোদনপত্রে আন্তব্যাংক বা এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা পাঠানোর কোনো ধারা নেই।

হকির নিষ্প্রভ দলবদল

প্রিমিয়ার হকি লিগের দলবদলের দ্বিতীয় দিনটা ছিল একেবারেই নিরুত্তাপ। প্রথম দিনে বড় ক্লাবগুলোর কেউ আসেনি, দ্বিতীয় দিনেও কেউ এল না। কাল দলবদল করেছেন সাতজন খেলোয়াড়। অ্যাজাক্সের রাহাত সারোয়ার, ইমতিয়াজ আহমেদ, ইমরান হোসেন ও নুরুন্নবী পুরোনো দলেই চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন নতুন করে। সোনালী ব্যাংকের এনামুল কবির, ঊষার আনিসুজ্জামান ও ওয়ারীর তাইফুর রহমান নাম লিখিয়েছেন সাধারণ বীমায়। গত পরশু থেকে শুরু হওয়া দলবদল চলবে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত।

টুকরো খবর

আগের দিন কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে ইতালি ও দক্ষিণ কোরিয়া। পরশু সঙ্গী হয়েছে ঘানা, কোস্টারিকা ও হাঙ্গেরি। মিসরে অনুষ্ঠানরত অনূর্ধ্ব-২০ যুব বিশ্বকাপে এ দিন ঘানা ২-১ গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে এবং কোস্টারিকা ২-০ গোলে হারিয়েছে স্বাগতিক মিসরকে। দিনের অন্য খেলায় হাঙ্গেরি টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জিতেছে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি ড্র ছিল ২-২ গোলে। ওয়েবসাইট।
র্যাঙ্কিং-শীর্ষে মিলস
আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ২২.৮৮ গড়ে ৯ উইকেট নিয়েছেন কাইল মিলস। বোলিং সাফল্যের পুরস্কারটা হাতেনাতেই পেলেন এই নিউজিল্যান্ডার। প্রথমবারের মতো আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছেন তিনি। মঙ্গলবার প্রকাশিত ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ব্যাটসম্যানের শীর্ষাসনটি ধরে রেখেছেন ভারতের মহেন্দ্র সিং ধোনি। সেরা অলরাউন্ডার যথারীতি সাকিব আল হাসান। বোলিং-র্যাঙ্কিংয়ে সাকিব আছেন চারে। ওয়েবসাইট।
ডোনাডুনি বরখাস্ত
নাপোলি কোচের চাকরি হারালেন রবার্তো ডোনাডুনি। সিরি ‘আ’তে রোমার বিপক্ষে নাপোলির ২-১ গোলের হারের পর মঙ্গলবার বরখাস্ত করা হয়েছে মার্চে দায়িত্ব নেওয়া ডোনাডুনিকে। রোমার বিপক্ষে পরাজয়টি ছিল চলতি লিগে নাপোলির চতুর্থ। সাত রাউন্ড শেষে ৭ পয়েন্ট নিয়ে লিগে ১৫তম অবস্থানে থাকা নাপোলির দায়িত্ব নিয়েছেন সাম্পদোরিয়ার সাবেক কোচ ওয়াটার মাজ্জারি।

‘এ’ দলের হার

কাল মহারাষ্ট্রের বিপক্ষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের প্রথম একদিনের ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে রূপ নিয়েছিল টি-টোয়েন্টিতে। সেটিও শেষ হতে পারেনি। ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ‘এ’ দল হেরেছে ১২ রানে। ইমরুল কায়েসের ৪৬ বলে ৫১ রানের সৌজন্যে ‘এ’ দলের ৬ উইকেটে ১৪৯ রানের জবাবে বৃষ্টি আসার আগ পর্যন্ত ৬.২ ওভারে ১ উইকেটে ৫৭ রান করে মহারাষ্ট্র।

ইংল্যান্ডের ফুটবল-ধনীরা

সগৌরবে উড়ছে ডেভিড বেকহামের পতাকা। ইংল্যান্ডের সবচেয়ে ধনী ফুটবলারের আসনটা যেন চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নিয়ে ফেলেছেন এই মিডফিল্ডার। কাল ফোর ফোর টু ম্যাগাজিন প্রকাশিত তালিকায় ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ড নিয়ে সবার ওপরে তিনি। ইংল্যান্ডের ফুটবলের সঙ্গে জড়িত ধনী ব্যক্তিদের এ তালিকা প্রকাশ করেছে ফুটবল সাময়িকীটি। ধনী ইংলিশ ফুটবলারের তালিকায় দুই নম্বরে আছেন মাইকেল ওয়েন।
অবস্থানে মাত্র এক ঘরের ব্যবধান হলেও ধন-সম্পত্তিতে বেকহামের সঙ্গে ওয়েনের ব্যবধান ৮৭ মিলিয়ন পাউন্ডের! ওয়েনের সম্পত্তির পরিমাণ ৩৮ মিলিয়ন পাউন্ড। ওয়েনের চেয়ে ১ মিলিয়ন পাউন্ড কম নিয়ে তিনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সতীর্থ ওয়েইন রুনি।
চার আর পাঁচ নম্বরেও ম্যানইউর ফুটবলার। চারে রিও ফার্ডিনান্ড (৩০ মিলিয়ন পাউন্ড), পাঁচে রায়ান গিগস (২৪ মিলিয়ন পাউন্ড)। সেরা দশের বাকি পাঁচজনের চারজন চেলসির—মাইকেল বালাক (৬), ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড (৭), জন টেরি (৯) ও দিদিয়ের দ্রগবা (১০)। পঞ্চম জন লিভারপুলের স্টিভেন জেরার্ড (৮)।
ফুটবলারদের তালিকায় ম্যানইউর দাপট থাকলেও ধনী কোচদের তালিকায় অ্যালেক্স ফার্গুসনকে (২২ মিলিয়ন) পেছনেই ঠেলে দিয়েছেন রয় কিন (২৭ মিলিয়ন)। ইপসউইচ টাউনের এই কোচ অবশ্য একে নন, দুয়ে। এক নম্বর জায়গাটি জাতীয় দলের কোচ ফ্যাবিও ক্যাপেলোর অধিকারে (৩০ মিলিয়ন)।
ইংলিশ ফুটবলের সবচেয়ে ধনী ক্লাব মালিক লক্ষ্মী মিত্তাল। কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের অন্যতম মালিক, ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই ব্যবসায়ীর সম্পদের পরিমাণ ১৮.৪ বিলিয়ন। এর পরই আছেন ম্যানচেস্টার সিটির মালিক শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান (১৭ বিলিয়ন পাউন্ড) ও চেলসির রোমান আব্রামোভিচ (৭.৮ বিলিয়ন)।

সালাউদ্দিনের একাডেমি-পরিকল্পনা

সরকারের কাছে সিলেট বিকেএসপি চেয়েছিল বাফুফে, সরকার বাফুফের চাহিদার মাত্র অর্ধেক পূরণ করার প্রস্তাব দেয়। এতে ১০০ জন খুদে খেলোয়াড়ের জায়গায় সরকারের প্রস্তাবনা অনুযায়ী সিলেট বিকেএসপিতে ৫০ জনকে নিয়ে একাডেমি শুরু করা যেত। কিন্তু সরকারের প্রস্তাবনা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের পছন্দ হয়নি। পরশু ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদসূচক চিঠি দিয়ে বাফুফে এটি নিচ্ছে না বলেই জানিয়ে দিয়েছে। ব্যাখ্যা হিসেবে বাফুফে বলেছে সিলেট বিকেএসপির অর্ধেক অংশ নিলে একাডেমি গড়ার আসল উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।
পূর্ণাঙ্গ সিলেট বিকেএসপি পাওয়া হলো না বলে একাডেমি করার পরিকল্পনা থেকে কিন্তু সরছেন না বাফুফে সভাপতি। নতুন একটা পরিকল্পনা নিয়ে এরই মধ্যে বেশ কিছুদূর এগিয়েও গেছেন।
পরিকল্পনাটা এমন, একটা লিমিটেড কোম্পানি করে শেয়ার ছাড়া হবে। ধরা যাক, ৩০০ জন শেয়ার কিনল। প্রত্যেকে ১০ লাখ টাকা করে দিলে ৩০ কোটি টাকা হয়ে যায়। ২০ লাখ টাকা করে নিলে ১৫০ জন পেলেই যথেষ্ট। সালাউদ্দিনের হিসাবমতে, একাডেমি করতে মোট ৩০ কোটি টাকা লাগবে এবং বেসরকারি উদ্যোগে এটা করা খুবই সম্ভব।
একাডেমির জন্য ৮ বছরে ২৪ কোটি টাকা দিতে আগ্রহী ছিল বেক্সিমকো গ্রুপ। সেই টাকা এখন আর পাওয়া যাচ্ছে না। তবে নতুন পরিকল্পনাতেও ওই প্রতিষ্ঠানটি যুক্ত থাকবে বলে আশাবাদী বাফুফে। সেটি নাহয় হলো, তাই বলে ৩০ কোটি জোগাড় করে ফুটবল একডেমি হবে! বাংলাদেশের বাস্তবতায় অনেকের কাছেই অসম্ভব লাগতে পারে। কিন্তু সালাউদ্দিন বলছেন অসম্ভব বলে কিছু নেই, ‘আমি জানি, এটা কঠিন লক্ষ্য। তবে আমি এটা করেই ছাড়ব। সরকার কী দিতে চায়, সেটা তো আমার জানাই হলো, শুধু শুধু ছয়টা মাস নষ্ট। বেসরকারিভাবে একাডেমি করতে না পারলে আমি এতটা আত্মবিশাস নিয়ে বলতাম না। অনেকের সঙ্গেই এ নিয়ে কথা বলে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। তারা টাকা দিতে আগ্রহী। একটা লিমিটেড কোম্পানি করলাম...শেয়ারহোল্ডার নিলাম...হয়ে গেল...’ সাফ সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর সালাউদ্দিন যেন আরও বেশি আত্মবিশাসী হয়ে উঠেছেন।
কোম্পানির নাম কী হবে, কোম্পানির শেয়ার কারা কিনবে? তাঁদের লাভ কী? এসব প্রাসঙ্গিক প্রশ্নে সাবেক ফুটবল তারকার কথা, ‘একাডেমিটা লাভজনক করতে চাই। এখানে আমরা খেলোয়াড় তৈরি করে ইউরোপের মতো ক্লাবগুলোর কাছে বিক্রি করব। আর এতে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে। শেয়ারহোল্ডাররা সেই টাকা পেতে পারেন।’
নীলফামারীর নজমুল আলম নামের এক ভদ্রলোক বাফুফেকে ৩০ বিঘা জমি বিনামূল্যে দিতে চান একাডেমি করার জন্য। তবে নীলফামারীতে নয়, ঢাকার আশপাশেই একাডেমি করা হবে। এ জন্য ৩০-৪০ বিঘা জমি খোঁজা শুরু হয়ে গেছে এরই মধ্যে।
হল্যান্ডের আয়াক্স আমস্টারডাম ক্লাবের একাডেমি দেখে এসেছেন সালাউদ্দিন, সেটির মতোই এই একাডেমিটা হবে। ৩০০ কিশোরের জন্য মাঠ, কয়েক তলা বিশিষ্ট ভবন, সুইমিং পুল, ট্র্যাকসহ আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। বাংলা, ইংরেজি ও অঙ্কের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কিশোর ফুটবলারদের পাঠদানেরও ব্যবস্থা থাকবে।

বাংলাদেশের গ্রুপে ভারত-দ. আফ্রিকা

২০১১ বিশ্বকাপ উপমহাদেশে, ভারত আর শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বিশ্বকাপের আয়োজক বাংলাদেশও। জোহানেসবার্গে গতকাল শেষ হওয়া আইসিসির দুই দিনব্যাপী সভায় চূড়ান্ত হয়েছে বিশ্বকাপের গ্রুপিং। বাংলাদেশ আছে ‘বি’ গ্রুপে। ‘বি’ গ্রুপের অন্য ছয় দল ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ড।
বিশ্বকাপে গ্রুপ-সঙ্গীদের দেখে খুশিই হয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক ও কোচ। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেছেন, ‘আমাদের জন্য এই গ্রুপিংটা ভালোই হবে মনে হচ্ছে। গ্রুপে যেসব দল আছে তাদের বেশির ভাগই টার্নিং উইকেটে খেলতে অভ্যস্ত না। ভারত এ ধরনের উইকেটে ভালো, দক্ষিণ আফ্রিকাও এখন আস্তে আস্তে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। কিন্তু বাকি চারটা দলের জন্য এখানকার কন্ডিশনে খেলা কঠিন হবে।’ গ্রুপিং দেখে একই রকমের প্রতিক্রিয়া কোচ জেমি সিডন্সেরও, ‘প্রতিপক্ষ হিসেবে আমরা এমন কিছু দল পেয়েছি যারা উপমহাদেশে খেলতে স্বচ্ছন্দ বোধ করে না। বিশেষ করে ইংল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড।’
অধিনায়ক মাশরাফি অবশ্য এটাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ‘গ্রুপিংটাই তো আর সব নয়। সবচেয়ে বড় কথা আমাদের ভালো খেলতে হবে।’ বিশ্বকাপে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য দিন গুনছেন কি না, এই প্রশ্নের জবাবে অবশ্য সরাসরি কিছু বলেননি মাশরাফি, ‘বিশ্বকাপ তো অনেক পরে। সামনে অনেক ঝড়ঝাপটা আছে, সে সব আগে সামলাই।’ তথ্যসূত্র: ওয়েবসাইট।
২০১১ বিশ্বকাপের দুই গ্রুপ
‘এ’ গ্রুপ: অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে, কানাডা ও কেনিয়া।
‘বি’ গ্রুপ: ভারত, দ. আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ড।

সব বিভাগীয় শহরেই এসএ গেমসের খেলা

এসএ গেমসের ২৩টি খেলাই ঢাকায় আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের। কিন্তু কিছু খেলা ঢাকার বাইরে বিশেষ করে বিভাগীয় শহরগুলোয় নিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন গেমসের প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যাতে আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় গেমসটা ঢাকার বাইরের মানুষও উপভোগ করতে পারে।
ফেডারেশনের আপত্তি থাকলেও কুস্তি বরিশালে, সাইক্লিং খুলনায়, স্কোয়াশ রাজশাহীতে, উশু সিলেটে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে গেমসের স্টিয়ারিংয়ের কমিটির সভায়। অনূর্ধ্ব-২১ ক্রিকেটের উদ্বোধনী আর সমাপনী হবে ঢাকায়, চট্টগ্রামে হতে পারে বাকি সব ম্যাচ। অনূর্ধ্ব-২১ ফুটবলের দু-একটি ম্যাচ চট্টগ্রামে নেওয়ারও চিন্তা আছে। চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামকে ভেন্যু ধরেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে এমএ আজিজ স্টেডিয়াম ফুটবলের জন্য এই মুহূর্তে তৈরি নয়। আগামী দুই মাসের মধ্যে স্টেডিয়ামকে ফুটবলের উপযোগী করে তোলা যাবে কি না, তা নিয়ে আয়োজকেরাই সংশয় প্রকাশ করছেন। ফুটবলের মূল আয়োজনের জন্য ঢাকা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামই তাই শেষ ভরসা।
ঢাকায় ফেডারেশনের নিজস্ব কোর্ট না থাকায় স্কোয়াশ নেওয়া হচ্ছে রাজশাহী। ঢাকায় কোর্ট তৈরি করার প্রক্রিয়া শুরু হলেও জমি নিয়ে সমস্যা থাকায় উদ্যোগটা থেমে গেছে। এ অবস্থায় ঢাকা ক্লাব বা গুলশান ক্লাবের চেয়ে রাজশাহী জাফর ইমাম টেনিস কমপ্লেক্সের কোর্টকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।