Saturday, May 22, 2010

সাংস্কৃতিক নীতিমালা প্রণয়ন করা হোক by সাইফুদ্দীন চৌধুরী

১৯৮২ সালে মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত ইউনেসকোর আন্তর্জাতিক কনভেনশনে বলা হয়েছিল, সংস্কৃতি হচ্ছে একটি জাতির আত্মিক, বস্তুগত, বুদ্ধিগত, আবেগগত, চিন্তা ও কর্মধারার প্রকাশ। তখন সব দেশের সংস্কৃতির বিষয়গুলো চিহ্নিত করে নীতিমালা তৈরির ওপর তাগিদ দেওয়া হয়। একমাত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের দ্বারাই একটি দেশ-জাতি তার স্বাধীনতা ও স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করতে পারে। ইউনেসকোর ওই কনভেনশনে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে গণ্য করা হয়েছে—শিল্পীদের শিল্পকর্ম, সাহিত্যিকের সাহিত্য সাধনা, স্থপতির নির্মাণকর্ম, সংগীতশিল্পীর সংগীত সাধনা, নৃত্যশিল্পীর নৃত্যব্যঞ্জনা, বিজ্ঞানীর আবিষ্কার ও অনুসন্ধানকর্ম, জনগণের ধর্মবোধ এবং সেসব মূল্যবোধের সুকৃতি—যা জীবনকে অর্থ দান করে। জাতিসংঘ ২১ মেকে ‘বিশ্ব সংস্কৃতি দিবস’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে বিশ্বের সব দেশে সংস্কৃতির অনুসন্ধান ও সংরক্ষণের ওপর জোর দিয়েছে।
ইউনেসকোর ওই কনভেনশন অনুযায়ী বিশ্বের অনেক দেশই ‘সংস্কৃতি নীতিমালা’ প্রণয়ন করেছে। ইউনেসকো ঘোষণার প্রায় তিন দশক হতে চলল; বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। অথচ আমাদের দেশে যে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে, তা এ দেশের মানুষের আপামর জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার সঙ্গে অচ্ছেদ্য ও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এই সংস্কৃতি তো একেবারে জীবন্ত, এতে রয়েছে জল-হাওয়া আর মাটির স্পর্শ, ঘ্রাণ। দীর্ঘকাল ধরে গড়ে ওঠা জীবনচর্যার চালচিত্র এ সংস্কৃতি। এ সংস্কৃতি রক্ষার জন্য এখানকার মানুষ জেগে উঠেছিল। একটি স্বতন্ত্র ভূখণ্ড জয়ের প্রত্যাশায় উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে সেই ভূখণ্ড। কিন্তু একে সুষ্ঠুভাবে রক্ষার পেছনে তো অনেক বাধা এখনো। দ্রুত নগরায়ণ, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বগ্রাস, পরিবেশের দ্রুত পরিবর্তন, অধিকন্তু জনগণের চাহিদা ও রুচির পরিবর্তন যেভাবে ঘটছে, তাতে দক্ষিণ এশিয়ার এই ছোট্ট দেশটির সংস্কৃতির চরিত্র রক্ষা করাই কঠিন।
তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অসংখ্য সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ছাপান্ন হাজার বর্গমাইলের এই দেশটির পরিচয় টিকিয়ে রাখার জন্য, হাজার বছরের ঐতিহ্য-অহংকারের বিষয়টি বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন জরুরি বৈকি? এসব বিবেচনায় যত দ্রুত সম্ভব আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি। আমাদের ভাষা-সাহিত্যের সুষ্ঠু চর্চা ও বিকাশ; সংগীত-যাত্রা-নাটক-শিল্পকলা-চলচ্চিত্রের গতি-প্রকৃতি নির্ধারণ করে তা যুগপৎ দর্শক-শ্রোতাদের রুচি অনুযায়ী উপস্থাপন ও সুষ্ঠু বিকাশের ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা দেওয়া, রেডিও-টেলিভিশন-সংবাদপত্র প্রভৃতির মধ্যে সমন্বয় সাধন করে দেশে ও বিদেশে তা প্রচারের বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ; দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ, মূল্যায়ন ও বিদেশে তা তুলে ধরার ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ। বিশেষ করে, দেশে পুরাকীর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন ১৮৭৮ সালের ট্রেজারস ট্রুভ অ্যাক্ট, ১৯০৪ সালের এনসিয়েন্ট মনুমেন্ট প্রিজারভেশন অ্যাক্ট এবং ১৯৪৭ সালের অ্যান্টিকুইটিজ অ্যাক্ট হালনাগাদ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ওই আইনগুলোয় বেশ কিছু সংযোজন, বিয়োজন ও আধুনিকায়নের প্রয়োজন রয়েছে। ইউনেসকো তার ওই কনভেনশনে Return and Restituting of Cultural Property নামে এক আইন প্রণয়নের কথা বলেছে। এ আইন প্রয়োগ করে আমাদের সরকারও বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া পুরাকীর্তির নিদর্শন দেশে ফিরিয়ে আনতে পারে। দেশের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ভবন ভেঙে ফেলার যে জোয়ার দেশে শুরু হয়েছে, তা আইনের মাধ্যমে বন্ধ করা যাবে; যদি পুরাকীর্তির ওই আইনগুলোর আধুনিকায়ন করা হয়।
কথাটি এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করছি এ কারণে যে, একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, আমাদের দেশে শতাধিক ঐতিহাসিক ইমারত ভেঙে ফেলা হয়েছে। আরও দ্বিগুণ ওই ধরনের স্থাপনা বিলুপ্তির অপেক্ষায় রয়েছে। কিছু কিছু ইমারত সংরক্ষণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে, যা না করলেও ভালো হতো। কারণ ওই সব ভবনের ঐতিহাসিক মর্যাদা ও শ্রী দুই-ই হারিয়ে গেছে। দৃষ্টান্ত হিসেবে মুসলিম বাংলার রাজধানী সোনারগাঁয়ের পানাম নগর সংরক্ষণ প্রকল্প এবং নওগাঁর, পতিসর ও শিলাইদহের রবীন্দ্রস্মৃতি-বিজড়িত কুঠিবাড়ি দুটির উল্লেখ করা যায়। মূল স্থাপত্যশৈলী, অলংকরণ-বৈশিষ্ট্য তো বিকৃত করা হয়েছেই, ইমারতগুলোর রংও বদলে ফেলা হয়েছে। সংস্কৃতি নীতিজ্ঞানের অভাবেই এমনটি হয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
আদতে সংস্কৃতির সঙ্গে আধুনিক প্রায়োগিক বিজ্ঞানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক না থাকার দরুনই এসব ঘটেছে।
একটি সাংস্কৃতিক নীতিমালা প্রণীত হলে দেশের সংস্কৃতির বিকাশ ত্বরান্বিত হবে; বিশ্বের অন্যান্য সংস্কৃতির সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে সম্পর্ক স্থাপনও সম্ভব হবে। কেবল তখনই সারা বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কৃতির আদান-প্রদান সহজতর হবে। সরকার কমিশন গঠন করে জনমত যাচাই করেই তো এই নীতিমালা প্রণয়ন করবে—কাজেই সেখানে সবারই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণ থাকবে। কমিশন দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে বিভিন্ন ধারায় পর্যবেক্ষণ করে তো কাজ করবে। এই সাংস্কৃতিক নীতি বিদেশে দেশের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিত্ব করবে। সুষ্ঠু সাংস্কৃতিক নীতিমালা না থাকায় দেশে ও দেশের বাইরে যে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদলের উপস্থাপিত কিছু অনুষ্ঠানের বিষয়ে আপত্তি এসেছে। বিদেশে অনুষ্ঠিত অনেক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানই যথার্থ অর্থে বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে না বলে অনেকে মনে করেন।
‘বিশ্ব সংস্কৃতি দিবস’ আদতেই আমাদের সংস্কৃতি নিয়ে ভাববার একটা সুযোগ করে দিয়েছে। ইউনেসকোর ওই উদ্যোগ সফল করার লক্ষ্যেই কেবল নয়, দেশীয় সংস্কৃতি রক্ষা এবং ইতিহাস-ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা আধুনিক বিজ্ঞাননির্ভর সংস্কৃতি রক্ষার জন্য কমিশন গঠন করে দেশের সংস্কৃতি নীতিমালা প্রণয়ন করা অত্যন্ত জরুরি। আমরা আশা করি, সরকার বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখবে এবং পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

রাজনীতিতে বিপদ সংকেত by মিজানুর রহমান খান

অগ্রহণযোগ্য রাজনীতির নতুন অধ্যায় শুরু করলেন বেগম খালেদা জিয়া। ২৭ জুনের হরতাল ডাকার খবরে আমরা আতঙ্ক ও বিপন্ন বোধ করছি। সেটা আওয়ামী লীগের ‘সুশাসন’ বাধাগ্রস্ত হবে বলে মোটেই নয়। কারণ, হরতাল ডাকলে সরকারি দলকে উসকানি দেওয়া হয়। সরকার পুলিশ নামায়। বাধা দিতে দিতে, পেটাতে পেটাতে ভোঁতা হরতাল ধারালো হয়ে ওঠে। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন ছাড়াই বিরোধী দলের ক্ষমতায় যাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়।
আওয়ামী লীগ বলেছে, ভারত-জুজু ও হরতাল অস্ত্র মরচে পড়া। কথাটি হয়তো ভুল নয়। কিন্তু তাঁদের এ কথাটাও অকেজো—মরচে পড়া। প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে তারাও অসত্যের আশ্রয় নিয়েছে। মন্ত্রীদের সম্পদের হিসাব বিবরণী আর আয়কর রিটার্ন এক নয়। মন্ত্রিসভা সম্পদের হিসাব বিবরণী জনগণের সামনে প্রকাশ করেনি। বিএনপি জাল সনদধারীকে নিয়োগ দিয়েছে। আওয়ামী লীগও কম যায়নি, অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অনেক বিচারক নিয়োগ দিয়েছে, যাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
দুই বড় দলের রাজনীতি আমাদের জন্য একটি মরণফাঁদ। সুতরাং ধ্বংসাত্মক হরতালের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেই চলবে না, দেখতে হবে হরতাল ডাকা ও তার বিরোধিতা করার রাজনীতি প্রকারান্তরে দুই প্রধান দলের জন্য একটি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে কি না।
সংসদ অকার্যকর রয়েছে। এর জন্য প্রথমত দায়ী দুই দলের মনমানসিকতা একই থাকা। একই মুখ। একই চরিত্র। একই চিৎকার। একই তাল। একই লয়। এসবই জনগণের স্বার্থ রক্ষার নামে জনগণের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস। হরতাল করা সন্ত্রাস। সংসদে যোগ না দেওয়া সন্ত্রাস। সংসদে যোগ দিয়ে (সরকারি দলসহ) কাজের কাজ কিছু না করা সন্ত্রাস। এসব একই সূত্রে গাঁথা।
বিদ্যুৎ ও পানিসংকট, দ্রব্যমূল্য ও টেন্ডারবাজি বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের গ্রহণযোগ্য দিক। তবে, এতেও নতুনত্ব নেই। কিন্তু বিএনপি নেত্রীর দুর্নীতির বিরোধিতা প্রহসনমূলক। তিনি ও তাঁর আপাদমস্তক দুর্নীতিতে নিমজ্জিত দলটি নাকি কাউকে ছাড় দেবে না। বেগম খালেদা জিয়ার কথায়, ‘এক থেকে শেষ নম্বর পর্যন্ত সবাই লুটপাটে ব্যস্ত, আল্লাহ আল্লাহ করেন, কেউ ছাড় পাবেন না।’ এ কথা শুনে প্রমাদ গোনা ছাড়া উপায় থাকে না। এ থেকে বোঝা যায়, পাবলিক খেপানোর রাজনীতিটা এক চুল বদলায়নি। আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভা মাত্র এই সেদিন ২০০৪ সালে বিএনপির করা দুদক আইনকে কাটাছেঁড়া করল। বাঙালি সামরিক-বেসামরিক নেতাদের বাতিক আছে। তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করে। কয়েক দিন হম্বিতম্বি করে। তারপর নিজেরাই দুর্নীতিতে গা ভাসায়। দুর্নীতি তাই এখন বাংলাদেশের জাতীয় নীতি। এক-এগারোর পর্বেও আমরা এটা দেখেছি। এক-এগারোর কুশীলবেরা দীর্ঘ মেয়াদে দেশ পরিচালনার সুযোগ পায়নি। সেনাছাউনির ছায়ায় দল গড়তে পারেনি। তাই বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রাজনীতিককে দণ্ডিত হতে দেখা গেল। তাঁরা দল করার সুযোগ পেলে যতটুকু হয়েছে ততটুকু হতো না।
দুই বড় দলের নিকট অতীতের দুর্নীতিবিরোধী জিগির ও তার ফলাফল আমরা জানি। সেই আলোকে নিশ্চিত বলা যায়, ‘কেউ ছাড় পাবেন না’, এটা একটা ভাঁওতা। জোট সরকার বল্গাহীন লুটপাটে মেতে উঠেছিল। এর একটাই কারণ— তারা এক-এগারো কল্পনা করেনি। তারা ধরেই নিয়েছিল, সমস্যা বলতে বড়জোর আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসা। কিন্তু সেটা তো দুর্ভাবনা নয়, নির্ভাবনা। সরকার হয় নিজের হবে, অন্যথায় হবে চিহ্নিত প্রতিপক্ষের। আওয়ামী লীগ আসবে বলেই তারা লুটপাটে মেতেছিল। কাক কাকের মাংস খায় না। এবারও আমরা সেই একই লক্ষণ দেখছি।
বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, তাঁর কর্মসূচি সরকারের জন্য সতর্কসংকেত। কথাটা ফেলনা নয়। তবে আমাদের কাছে এই সংকেতের অর্থ হলো, সরকারকে ভয় দেখানো নয়। অভয় দেওয়া। সাফ বলে দেওয়া, ভয় নেই। তোমাকে কোনো সংস্কার সাধনে বাধ্য করব না। যেখানে যেমনটা রেখে এসেছিলাম, সে রকমভাবে রাখলেই হলো। লোক বদলাও। আপত্তি করব না। কারণ আমি বা আমার লোকেরা এসে লোক বদলাব। বাংলাদেশে আমরা লোকবদলের খেলা চালিয়ে যাব। তাই দুদককে স্বাধীন করতে হবে না। দাতাগোষ্ঠীর চাপে আমরা ২০০৪ সালে দুদক করেছিলাম। কিন্তু সচল করিনি। এবারও ওটাকে অচল রাখতে হবে।
বেগম জিয়ার সংকেতের আরও অর্থ হলো, স্থানীয় সরকার পরিষদকে শক্তিশালী করা যাবে না। নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা নায়েবগোমস্তার মতো কাজ করবেন না। কারণ ওঁদের নিয়ন্ত্রণে টেকসই লাগাম নেই। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ আছে বলে সাংসদেরা বিনয়াবনত থাকেন। জামিন না পেলে, মামলা কোয়াশ না হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মানে এক রকম। পেলে অন্য রকম। বিএনপি বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপে উদ্বিগ্ন। এটা বুঝতে হলে আদালতের কাছে তাদের সাম্প্রতিক চাওয়াপাওয়া বিবেচনায় নিতে হবে। দুর্নীতির মামলার বিষয়ে দুই দল এখন কোয়াশ মুডে আছে। যার ইচ্ছা পূরণ হয় সে খুশি। যে পায় না সে বেজার।
তো বিএনপি হয়তো দেখেছে, বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ বললে কাঁচা মনে হয়। সে কারণে তারা এখন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিচারক নিয়োগের প্রতিবাদে গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে। এখানেও সরকারের প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার সতর্কসংকেত আছে। বিচার বিভাগের প্রতিও আছে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে সাবধান, বিচার বিভাগ স্বাধীন করা যাবে না। পৃথক্করণের নাম আর মুখে নেবা না। আমরা দেখি, অধস্তন আদালত নিয়ন্ত্রণে সরকারি হস্তক্ষেপ নগ্ন হয়ে উঠছে। বিএনপি খুশি। ঢাকার জেলা জজ, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার খুশিমতো বদলাও। প্রধান বিচারপতির দপ্তরের মর্যাদা ম্লান করো। কিচ্ছুটি বলব না। বরং এতে আমাদের সায় আছে। চালিয়ে যাও। শর্ত হলো, আমরাও তোমাদের মতো করব। তখন নীরব থাকবা।
বেগম খালেদা জিয়া নতুন নির্বাচন দাবি করেছেন। মেঠো দাবি। বিএনপি তার ছত্রভঙ্গ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে চাইছে। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সঙ্গে ভিড়ে একদল টেন্ডারবাজি করছে। সবাই সমান ভাগ পায় না। পাড়ায়-মহল্লায় বঞ্চিত দল তৈরি হচ্ছে। এদের সংগঠিত করতে হবে। বিএনপি নেত্রীই সবচেয়ে ভালো জানেন, নিজের মতো ক্ষমতালোভী প্রতিপক্ষ মধ্যবর্তী নির্বাচন দেবে না। অতীতে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরদিনই মধ্যবর্তী নির্বাচনের আওয়াজ তোলার নজির আছে।
এখানে ক্ষমতাসীন দলের সামনে দুটো বিকল্প আছে। এক. প্রতিপক্ষের মতো করে পুরোনো কথা বলে যাওয়া। বলা, জনগণ পাঁচ বছরের জন্য দেশ শাসনের ম্যান্ডেট দিয়েছে। তাই মধ্যবর্তী নির্বাচন করা যাবে না। এর আগের মেয়াদে পঞ্জিকা ও ঘড়ির কাঁটা ধরে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিল আওয়ামী লীগ। মেয়াদ পুরো করার আনন্দ উৎসবে তাদের মেতে উঠতে দেখেছি। অথচ সংসদীয় গণতন্ত্রে মেয়াদ পুরো করার সংস্কৃতি সব সময় সমর্থিত নয়। হাউস অব কমনস চার বছর হতেই বহুবার ভেঙে গেছে। আগাম নির্বাচন করা হয়েছে। এই উদাহরণ অনুসরণ করা যায়। তাই দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে বলা, নির্বাচন হ্যাঁ। হরতাল না। কালেভদ্রে নির্দিষ্ট দাবি আদায়ে প্রতিবাদ গ্রহণযোগ্য। তবে সরকার পতনের কৌশল হিসেবে একটি ঘণ্টার হরতালও গ্রহণযোগ্য নয়।
আমাদের সামনে নিয়তি অভিন্ন। গণতন্ত্র চাইলে দুই বলয়কে মানতে হবে। মোসাহেব ও পরমত-অসহিষ্ণুরাই আমাদের এই ফাঁদে ফেলেছে। আওয়ামী লীগ আমাদের বলে, বিএনপি ও জামায়াত দুঃশাসন দিয়েছিল। তাই এক-এগারো এসেছিল। আমার বক্তব্য হচ্ছে, ওই দুঃশাসনে তাদেরও ভূমিকা ছিল। যেমন আওয়ামী লীগের বর্তমান ব্যর্থতায় বিএনপি সামাজিক ও অন্যান্য ধরনের অংশীদারি রয়েছে। গত নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে ‘ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে’ নিক্ষেপ করেছে। বেগম জিয়া নতুন নির্বাচন চান। নির্বাচন তো একদিন হবে। তিন বছর খুব বেশি দূরে নয়। আওয়ামী লীগ হারলে বিএনপি একই সুরে বলবে, জনগণ তাদের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছে।
এবার দেখুন তাদের আস্তাকুঁড়টা কেমন। যদি ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ না করা হয়, যদি ক্ষমতা কুক্ষিগত থাকে ব্যক্তির হাতে, যদি সংসদ নির্বাচনী ব্যবস্থাটার খোলনলচে বদলে না ফেলা হয়, যদি বিদ্যমান ব্যবস্থা জিইয়ে রাখা হয়; তাহলে আওয়ামী লীগ হয়তো আগামী নির্বাচনে বিএনপির মতো একইভাবে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। কিন্তু পরিহাস হলো, সেই আস্তাকুঁড়টাও সিংহাসনতুল্য। টনি ব্লেয়ার পর্দার আড়ালে চলে গেছেন। গর্ডন ব্রাউন চলে গেলেন। লেবার দল নতুন নেতা খুঁজছে। বাংলাদেশের ব্লেয়ার-ব্রাউনরা অমরত্বে বিশ্বাসী। তাঁদের মধ্যে একটিই অমিল কিংবা আপসহীনতা দেখি। তাঁরা একাদিক্রমে দুই মেয়াদে শাসন করতে চান। কিন্তু এখানে ছাড় দেওয়া সম্ভব হয় না। এটাই বিপর্যয় ডেকে আনে।
তাঁরা আসলে কখনো ক্ষমতাশূন্য হন না। মন্ত্রীর পদমর্যাদায় বিরোধীদলীয় নেতার আসনে বহাল থাকা কি আস্তাকুঁড়ে থাকা? বিরোধীদলীয় নেতা বহির্বিশ্বে ছায়া প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা ভোগ করেন। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আসন বিএনপির বর্তমান সংখ্যার চেয়ে যদি কমেও যায়, তাতে ক্ষতি সামান্যই! তাদের নেতাকে ছায়া প্রধানমন্ত্রীর নিচে নামানো যাবে না। অবশ্য গণতন্ত্র থাকলেই হলো।
সভ্য দুনিয়ার মানুষ বিরোধী দলের নেতাকে অনেক ক্ষেত্রে এত বেশি সম্মান ও গুরুত্ব দিয়ে থাকে, যা প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে কম ঈর্ষণীয় নয়। এ কথাটা আমাদের ছায়া প্রধানমন্ত্রীরা ঠিকই বোঝেন। তাঁরা জানেন কোনো দুর্বলতাই দুর্বলতা নয়। কোনো বাধাই বাধা নয়। কখনো নিজের, ছেলেপুলের বা স্বজনদের দুর্নীতির কারণে ভাবমূর্তির সংকট হতে পারে। কিন্তু এটা শেষ পর্যন্ত সমস্যা হয় না। ছায়া প্রধানমন্ত্রীরা আরও জানেন সরকার ব্যর্থ হবেই। সেই ব্যর্থতার পাল্লা যত বাড়ে তত দ্রুত ময়লা সাফ হবে। এ এক অদ্ভুত লন্ড্রি ব্যবস্থা। লন্ড্রি গণতন্ত্র। এতে সাদা টাকা আরও সাদা করার ব্যবস্থা থাকে। রাষ্ট্রের সম্পদ নিজের করে নেওয়া চলে।
বর্তমান নির্বাচনব্যবস্থা ও ক্ষমতাকাঠামো বদলের তাই কোনো বিকল্প নেই। ১৯ মে পল্টনের মঞ্চে পুরোনো মুখগুলোই দেখলাম। তাঁরা এই আন্দোলনের মাধ্যমে তারেক রহমানকে পুনর্বাসনের সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন। আপাতত এটাই মহা বিপদ সংকেত। নতুন একটি ‘ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’ আমাদের সহ্য করতে হবে। ইতিমধ্যে তার আলামত স্পষ্ট। এটা ঠেকানোর একমাত্র দাওয়াই সরকারের হাতে। সুশাসন দেওয়া। সংসদ স্বাধীন করা। কিন্তু সেটা আপাতত সোনার হরিণ। তবে আমরা একটি অশনিসংকেত টের পাচ্ছি। আমরা ভীত ও সন্ত্রস্ত। সামরিক-বেসামরিক চাকরিচ্যুতদের ‘সবার’ চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন। এই ঘোষণা আমাদের বিভক্ত সমাজকে আরও বিভক্ত করবে। ডেকে আনতে পারে এমন বিপদ, যা আমরা কল্পনাও করতে চাই না।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com

ইসলামে সংখ্যালঘুদের অধিকার -ধর্ম by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলাম শুধু মুসলমান নাগরিকদের জানমাল ও সম্মানের অধিকার প্রদান করেনি, বরং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী তথা খ্রিষ্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ প্রভৃতি সব নাগরিকের যথাযথ অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা বিধান করে থাকে। ইসলাম অমুসলিম নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অধিকারও প্রদান করে। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত সহনশীল। এটি ছিল তাঁর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির একটি বিশেষত্ব। ইসলাম আরবভূমির বাইরে ও বিজিত ভূমিতে একমাত্র শান্তিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, যে ধর্মে তার শাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন কোনো অবস্থায়ই রাষ্ট্রের সংখ্যালঘু অমুসলিমদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়। তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস অপরিবর্তিত থাকবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) যুদ্ধের তীব্রতার মধ্যেও মুসলমানদের মানসিকতা সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ‘শিশুদের হত্যা করবে না। গির্জায় যারা (খ্রিষ্টান ধর্মযাজক) ধর্মীয় উপাসনায় জীবন উৎসর্গ করেছে, তাদের ক্ষতি করবে না, কখনো নারী ও বৃদ্ধদের হত্যা করবে না; কারও গাছপালা, ঘরবাড়ি কখনো ধ্বংস করবে না।’
ইসলাম বিজিত দেশগুলোর সংখ্যালঘু অধিবাসীদের সর্বদা ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান করেছে, যার ফলে তারা তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালনে কখনো মুসলমান ও হুকুমাতের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার বাধার সম্মুখীন হয়নি। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা দূরদর্শী হজরত উমর ফারুক (রা.) তাঁর শাসনামলে অমুসলিম নাগরিকদের অধিকার আদায়ের ব্যাপারে সিরিয়ার গভর্নর আবু উবায়দাকে এই নির্দেশ দিয়েছিলেন যে ‘তুমি মুসলমানদের অমুসলমান নাগরিকদের ওপর কোনো প্রকার অত্যাচার, প্রহার এবং তাদের ধন-সম্পদ অবৈধভাবে ভোগদখল করতে নিষেধ করবে।’
মহানবী (সা.) রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা, সামাজিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তদানীন্তনকালে মদিনায় বসবাসরত বনু নাজির, বনু কুরাইজা ও বনু কাইনুকা গোত্রের পৌত্তলিক ও ইহুদি নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে কতগুলো নীতিমালার ভিত্তিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। ইসলামের ইতিহাসে এটি ‘মদিনার সনদ’ নামে খ্যাত। এ সনদের আলোকেই পৃথিবীতে সর্বপ্রথম আদর্শ ইসলামি সমাজ ও আন্তর্জাতিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। মদিনার সনদের উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ইহুদি, খ্রিষ্টান, পৌত্তলিক ও মুসলমানদের সমন্বয়ে একটি সাধারণ জাতি গঠন, যাতে সবার নাগরিক অধিকার ছিল সমান। সব সম্প্রদায় নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। কেউ কারও ধর্মে হস্তক্ষেপ করবে না। কোনো সম্প্রদায় বহির্শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হলে সবার সম্মিলিত শক্তি দ্বারা প্রতিহত করবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘ধর্মের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-২৫৬)
মদিনার সনদ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, কূটনৈতিক প্রজ্ঞা, ধর্মীয়সহিষ্ণুতা, সমাজ সংস্কার এবং সামাজিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ সনদ রাজনৈতিক ঐক্য স্থাপনে সাহায্য করে। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নেতৃত্বে নিয়ত যুদ্ধরত গোত্রগুলোর শহর শান্তিপূর্ণ প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। আল্লাহর রাসুলের দেওয়া নতুন সংবিধান অনুযায়ী এটা গৃহযুদ্ধ ও অনৈক্যের স্থলে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে। নবী করিম (সা.) মদিনার প্রত্যেক মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করেন। জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মদিনার এ সনদ সমানাধিকার দান করে এবং এটা মদিনার মুসলমান ও অমুসলমানদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গড়ে তোলে। এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত ঐতিহাসিক উইলিয়াম মুর যথার্থই বলেছেন, ‘মদিনার সনদে হজরতের অসাধারণ মহত্ত্ব ও অপূর্ব মননশীলতা শুধু তৎকালীন যুগেই নয়, বরং সর্বযুগের, সর্বকালের মানুষের জন্য শ্রেষ্ঠত্বের পরিচায়ক।’ এভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) আরবের শতধাবিভক্ত বিবদমান অমুসলিম গোত্রগুলোকে সামাজিক শান্তিশৃঙ্খলা, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে তাদের জানমাল ও সম্মানের নিরাপত্তা বিধান করেছিলেন। আত্মরক্ষার্থে যুদ্ধে যাওয়ার আগে নবীজি বিশ্বাসীদের উদ্দেশে কতিপয় শর্তের কথা বলে দিতেন, ‘আল্লাহর প্রতি আনুগত্যে অবিচল থেকে যুদ্ধে যাবে। কখনোই বৃদ্ধ, নারী ও শিশুদের সামান্য ক্ষতিও করবে না। সব সময় তাদের অবস্থা ভালো করার চেষ্টা করবে এবং তাদের প্রতি দয়া-মায়া প্রদর্শন করবে। যারা ভালো, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন।’
নবী করিম (সা.) চরম সহনশীলতার পরিচয় দিয়ে বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয় করেন। তিনি চাইলেই মক্কার অমুসলিম পৌত্তলিকদের বিরুদ্ধে নির্মম নিষ্ঠুর প্রতিশোধ গ্রহণ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে তাঁর চরম শত্রু মক্কার ইসলামবিরোধী নেতাদের পরম মহানুভবতার সঙ্গে উদারভাবে সর্বজনীন ক্ষমা প্রদর্শন করলেন। আপন চাচার হত্যাকারীদেরও নির্দ্বিধায় মাফ করে দিলেন। মাত্র ১০-১২ জন যুদ্ধাপরাধীকে শাস্তি দেওয়া হয়। এ বিরল ঘটনার বিষয়ে ইসলাম সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ পাশ্চাত্যের জন এসপোসিটো বলেন, ‘প্রতিশোধ গ্রহণ ও লুট করা এড়িয়ে হজরত মুহাম্মদ (সা.) শান্তিপূর্ণ মীমাংসা করেন; শত্রুর প্রতি তরবারি ব্যবহার না করে তিনি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন।’
বিভিন্ন জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব মানুষই এক আল্লাহর বান্দা। তাদের একে অন্যকে জানা ও বোঝার চেষ্টা করা উচিত। সে জন্য বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য ও তাদের কর্মদক্ষতা সম্পর্কে সবাইকে জানতে হবে। বিভিন্ন জাতি-ধর্ম-বর্ণ ও গোত্রের মানুষ সৃষ্টির পেছনে সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্য হলো, নানা সংস্কৃতির মিলনমেলা ঘটানো, মতভেদ আর যুদ্ধ-বিগ্রহ নয়। ইসলাম এসেছে শান্তির বার্তা নিয়ে, যাতে আল্লাহর অনন্ত ক্ষমা ও সান্ত্বনার বার্তা এই পৃথিবীতে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। আল্লাহ তাআলা সবাইকে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি আহ্বান করেন, যাতে পৃথিবীর অধিবাসীরা সহনশীলতা, ক্ষমা, শান্তি উপভোগ করতে পারে। ইসলামে পুরোপুরি প্রবেশ করলে তবেই সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। নবী করিম (সা.) সব ধর্মের মানুষের ধর্ম পালনের স্বাধীনতার কথা বলেছেন।
ইসলামের সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য মুসলমানদের জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব মানুষের প্রতি দয়া দেখানো উচিত। অমুসলিমদের সঙ্গে ন্যায়সংগত আচরণ করা, অভাবী ও নিরপরাধকে রক্ষা আর অনিষ্টের বিস্তার সাধনকে প্রতিহত করা দরকার। অনিষ্ট বা অপকার হলো তা-ই, যা মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা, আরাম, শান্তিকে বিনষ্ট করে। আল্লাহ চান যারা তাঁকে বিশ্বাস করে, তারা অবশ্যই বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে; একে অন্যকে কল্যাণের পথে সহযোগিতা করবে আর সর্বদা পাপকাজকে এড়িয়ে চলবে। অথচ ধর্মের কথা বলে অমুসলমানদের ওপর অবিচার করা চরম অপরাধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলমানদের সতর্ক করে দিয়ে সাবধানবাণী উচ্চারণ করেছেন, ‘তোমাদের কেউ যদি কোনো অমুসলিমের প্রতি অন্যায় করে, তবে আমি কিয়ামতের দিন সেই মুসলমানের বিরুদ্ধে সাক্ষী হব।’
ইসলামের ন্যায়বিচার কোনো দেশ-কাল-জাতি বা মানুষ তথা মুসলিম-অমুসলিম ভেদে পক্ষপাতিত্ব করে না। ইসলাম গোত্রে গোত্রে, মানুষে মানুষে বর্ণবৈষম্যের প্রাচীর ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় সব জায়গাতেই অসংখ্য মানুষ বর্ণবাদ বা জাতিগত সমস্যায় অবিচার ও নিষ্ঠুরতার কারণে কঠিন পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে। অথচ বিভিন্ন বর্ণ ও জাতির সৃষ্টির পেছনে উদ্দেশ্য হলো যেন ধর্মপ্রাণ মানুষ একে অন্যকে জানতে পারে। অতএব, ইসলামের আলোকে সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় এবং দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে জাতি-ধর্ম-গোত্র-বর্ণ দলমত-নির্বিশেষে সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। দেশের সংখ্যালঘু অমুসলিম নাগরিকদের জানমাল, ইজ্জতের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং নাগরিক ও আইনানুগ অধিকার সংরক্ষণে আমাদের সবাইকে মানবতার কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করতে বদ্ধপরিকর হতে হবে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
dr.munimkhan@yahoo.com

একটি ঐতিহাসিক জীবাণু by শাহাদুজ্জামান

একটি ঐতিহাসিক জীবাণুর গল্প হোক এবার। ১৮৩২ সালে ইউরোপের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে এক ব্যাপক কলেরা মহামারি দেখা দিয়েছিল। কৌতূহলোদ্দীপক ব্যাপার হচ্ছে, সেই মহামারির জীবাণুটি তার যাত্রা শুরু করেছিল আমাদের এই বাংলাদেশ থেকে। এখান থেকে রওনা দিয়ে নৌ ও স্থল বাণিজ্যের পথ ধরে এই কলেরার জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, হল্যান্ড, রাশিয়াসহ ইউরোপের বিশাল অঞ্চলে। ইতিহাসে এটি ‘বেঙ্গল কলেরা প্যান্ডেমিক’ হিসেবেই পরিচিত। ইউরোপের সামাজিক, আত্মিক, স্থাপত্যিক, রাজনৈতিকসহ নানা ক্ষেত্রে এই কলেরা এক সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। আমাদের স্মরণ রাখা প্রয়োজন, রোগ একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হলেও মহামারির অভিজ্ঞতাটি সামাজিক। ফলে মহামারির একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক মাত্রা রয়েছে। ইতিহাসে রোগ ও মহামারির ভূমিকা নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রণিধানযোগ্য কাজটি করেছেন উইলিয়াম ম্যাকনিল (১৯৭৭) তাঁর প্লেগ অ্যান্ড দ্য পিপল বইটিতে। তিনি মূলত অনুসন্ধান করেছেন উপনিবেশ বিস্তারে জীবাণুর ভূমিকা নিয়ে। তিনি দেখিয়েছেন, কলম্বাসের আমেরিকা জয়ে যেমন বন্দুকের ভূমিকা ছিল তেমনি ভূমিকা ছিল জীবাণুরও। কলম্বাস তাঁর জাহাজে করে পুরোনো পৃথিবী থেকে যেসব রোগ নতুন পৃথিবীতে বয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন তার কোনোটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা ছিল না আদিবাসী আমেরিকানদের। ব্যাপক মহামারিতে অতি অল্প সময়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে লাখ লাখ আদিবাসী। তাতে কলম্বাসের জয়ের পথ সুগম হয়েছে।
বেঙ্গল কলেরার গল্পটি অবশ্য খানিকটা ভিন্ন। পিটার স্ট্রিফল্যান্ড (১৯৯৭), আর জে ইভান্স (১৯৮৮) প্রমুখ ঊনবিংশ শতাব্দীর ইউরোপের মহামারির ইতিবৃত্ত তুলে ধরেছেন। ঊনবিংশ শতাব্দীতে সারা পৃথিবীতে উপনিবেশ স্থাপন করে ইউরোপ যখন জ্ঞানবিজ্ঞান, অর্থনীতিতে শনৈঃশনৈঃ উন্নতি করে দারুণ আত্মতৃপ্তিতে ভুগছে, ঠিক তখন দূরপ্রাচ্যের ‘বর্বর’ এক দেশ থেকে কলেরা নামের বর্বর এই রোগটি আঘাত করে তাদের। ইউরোপের শহরে শহরে তখন কেবল লাশের মিছিল। চিকিৎসকেরা বিমূঢ়। তাঁদের হাতে কলেরার কোনো সমাধান নেই। অথচ চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রভূত উন্নতি নিয়ে তখন তাঁদের সীমাহীন গর্ব। হাসপাতালের শুভ্র বিছানায় মৃত্যুকে যখন তাঁরা নান্দনিক করে তোলার চেষ্টা করছেন তখন কিনা তাঁদের হতবিহ্বল করে তোলে দাস্তবমির বিদঘুটে উপসর্গের কলেরা নামের এই রোগ। কলেরার কারণ নিয়ে তর্কবিতর্কে উদভ্রান্ত হয়ে ওঠেন ইউরোপের চিকিৎসকেরা। কুল নামের এক ডাচ্ চিকিৎসক কলেরা সারানোর জন্য রীতিমতো একটি মেশিন তৈরি করে বসেন, যার ভেতর তিনি তাঁর রোগীদের ঢুকিয়ে রাখতেন। বলাবাহুল্য, সে মেশিনে কোনো কাজ হয় না। কলেরাকে পর্যুদস্ত করতে না পেরে হতাশ সেই চিকিৎসক শেষে কবি হয়ে ওঠেন এবং কলেরা নিয়ে ‘এনিমি উইদাউট আ ফেইস’ নামে এক দীর্ঘ কবিতা লিখে ফেলেন। কলেরা যখন এক এক করে ইউরোপের শহরগুলোতে আঘাত করছে, তখন প্যারিসের নগরপ্রধান ঘোষণা করেন, ফরাসিরা ইউরোপের সবচেয়ে সভ্য জাতি। ফলে তাদের কলেরার মতো এমন একটি অসভ্য রোগ আক্রান্ত করতে পারে না। এই ঘোষণার ঠিক এক সপ্তাহ পরেই ফ্রান্সের রাজপরিবারের একজন সদস্য কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বলা যায়, সামগ্রিকভাবে ইউরোপের রেনেসাঁ-উত্তর আভিজাত্যবোধকে একেবারে চুরমার করে দেয় এই কলেরা।
পরবর্তীকালে ইংল্যান্ডের চিকিৎসক স্নো কলেরার সঙ্গে দূষিত পানির সম্পর্কটি আবিষ্কার করেন। এই কলেরার সূত্র ধরেই পরে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘পাবলিক হেলথ’ নামে একটি নতুন জ্ঞানকাণ্ডের সূচনা ঘটে। বস্তুত, ঊনবিংশ শতাব্দীর সেই কলেরার প্রেক্ষাপটেই ইউরোপ তাঁর শহরগুলোর পানি এবং পয়ঃপ্রণালি নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করে। লন্ডন, প্যারিসের মতো বহু শহরে তখন ঘরে ঘরে খাটা পায়খানার ব্যবস্থা ছিল। ভোরবেলা নগরের পরিচ্ছন্নকর্মী এসে মলের বালতি পরিষ্কার করে যেত। কলেরা মহামারি তাদের বাধ্য করে পয়োনিষ্কাশন নিয়ে নতুন করে ভাবতে। ইউরোপের শহরে শহরে শুরু হয় স্যানিটেশন নিয়ে উপর্যুপরি কনফারেন্স। নগরপরিকল্পনাবিদেরা পুরো শহরের পানিবিতরণ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে শুরু করেন। রাস্তা, দালানকোঠা নির্মাণে তৈরি হয় নতুন নীতিমালা।
বলাবাহুল্য, ইউরোপীয় সেই কলেরা মহামারির প্রধান শিকার হয় শহরের দরিদ্র মানুষ। কর্তৃপক্ষ কলেরা ছড়ানোর জন্য দরিদ্র মানুষকে অভিযুক্ত করতে থাকে। তাদের শহরের কেন্দ্র থেকে ঝেঁটিয়ে বের করে দেওয়া হয় বাইরে। শহরের অভিজাত এলাকাগুলোতে গরিবদের যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়। এভাবে কলেরাকে কেন্দ্র করে ধনী ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে সামাজিক ও ভৌগোলিক দূরত্ব বাড়তে থাকে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে দরিদ্র জনগোষ্ঠী। এমন গুজবও ছড়ায় যে ধনবানেরা ষড়যন্ত্র করে কলেরার মাধ্যমে গরিবদের মেরে ফেলার ব্যবস্থা করছে। ইউরোপের সেই ঐতিহাসিক কলেরা মহামারির সময় একাধিক বিক্ষোভ, সহিংসতার ঘটনা ঘটে। কলেরাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন অভিজাত ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনাও ঘটে। কলেরাজাত ওই আন্দোলনের কারণে সরকারকে অনেক দরিদ্রবান্ধব আইন পাস করতে হয়।
এভাবেই কলেরা নানাভাবে বদলে দেয় ইউরোপকে। সেই সূত্রে বলা যায়, আধুনিক ইউরোপ গড়ার এবং তার নয়নাভিরাম শহরগুলো তৈরির পেছনে এক অর্থে বাংলার ঐতিহাসিক সেই কলেরা জীবাণুরও একটি ভূমিকা আছে। সেই সঙ্গে এও প্রতিষ্ঠিত যে বিধ্বংসী এই কলেরার সমাধান যে রয়েছে সামান্য এক প্যাকেট স্যালাইনে, সে সত্যটি আবিষ্কৃত হয়েছে এই বাংলাদেশেরই কলেরা হাসপাতালের গবেষণাগারে। তবে আপসোস এই, কলেরাকে ইউরোপ ইতিহাসের পাতায় পাঠিয়ে দিলেও আমাদের সেই পর্যটক জীবাণু এখনো আস্তানা গেড়ে আছে এই মাটিতে। আমাদের জীবাণু ওদের বদলে ফেললেও আমরা বদলাই না।
শাহাদুজ্জামান: কথাসাহিত্যিক।
zaman567@yahoo.com

জ্বলন্ত আগুনে বাতাস দেওয়া by গার্ডিয়ানের সম্পাদকীয়

গত বুধবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। থাই সেনাবাহিনী যখন সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের অবরোধ মাড়িয়ে তাদের সুরক্ষিত আস্তানায় ঢুকে পড়ে, তখন যে এমনটা ঘটতে যাচ্ছে তা সবাই আন্দাজ করতে পেরেছিল। ভারী গোলাবর্ষণ আর কখনো কখনো এলোপাতাড়ি গুলির ফলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। আরও রক্তপাত হওয়া রুখতে বিক্ষোভকারী নেতারা আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁদের সমর্থকদের কাছে মিনতি করেন, যেন তারাও এ পথ পরিত্যাগ করে আর নিজ নিজ বাড়ি ফিরে যায়। কিন্তু শিগগিরই সমর্থকেরা তাঁদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
পরাজিতের দলে থাকা রণমুখো কর্মীরা তাদের রাগ ঝেড়েছে স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্যাংক, একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোর কমপ্লেক্স, দুটি সরকারপন্থী সংবাদপত্র ও একটি টেলিভিশন স্টেশন ভাঙচুর করে। এসব বিক্ষোভকারীর কেউ কেউ আবার সশস্ত্র ছিলেন। সরকার ও লাল শার্ট পরা বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দেনদরবারে একটি সমাধানে পৌঁছার কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব হয়েছিল গত সপ্তাহে, কিন্তু এই সপ্তাহে মধ্যস্থতার নতুন প্রচেষ্টাকে সরকার যে কায়দায় প্রত্যাখ্যান করেছে, একই কায়দায় সেই সমঝোতায় পৌঁছার পথও রুদ্ধ হয়ে যায়। বুধবার যে রক্তাক্ত পরিস্থিতি দেখা গেছে, তাতে বিক্ষোভকারীদের শিবির গুঁড়িয়ে দিয়ে তারপর তাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার—সরকার পক্ষের এই দাবি অর্থহীন। ছয় সপ্তাহ ধরে ব্যাংককের কেন্দ্রস্থল অচল করে রেখেছিল যে বিক্ষোভকারীরা, তাদের জন্য এই ঘটনা ছিল সার্বিক পরাজয়। এত কিছুর পর কি আর সংলাপ হতে পারে! গত সোমবার স্নাইপারের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে লাল শার্ট পরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেওয়া জেনারেল খাত্তিয়া সাবাসদিপলের। তিনি লাল শার্ট পরা বিক্ষোভকারীদের প্রধান সামরিক উপদেষ্টা ছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এই চূড়ান্ত শোডাউন যে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে, তা টের পাওয়া যাচ্ছিল। সেনাবাহিনীর এই বলপ্রয়োগ দুই রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে বিরাজমান রাজনৈতিক উত্তেজনা শুধুু বাড়তেই পারে।
ভোটাধিকার বঞ্চিত গণতন্ত্রকামী কর্মী এবং যে অভিজাতবর্গ নির্বাচনকে পাশ কাটিয়ে যায় ও নিয়মিত সামরিক অভ্যুত্থান ঘটায়, তাদের মধ্যে চিরাচরিত যে লড়াই, সেটির মতো নয় এই লড়াই। লাল শার্টের আড়ালে নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার প্রবল উপস্থিতি। এই প্রবল প্রতাপশালী প্রধানমন্ত্রী সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন। রক্ত বিসর্জন দিতে সমর্থকদের আহ্বান জানাতে তাঁর অতি উৎসাহ, কিন্তু নিজেকে ঝুঁকিতে ফেলতে তিনি নারাজ। লাল শার্ট পরা শিবিরের প্রধান শক্তি ছিলেন থাকসিন, কিন্তু একমাত্র শক্তি ছিলেন না। এই বিক্ষোভ অপরিহার্যভাবেই শহুরে ও গ্রামীণ গরিবদের সমর্থন কাড়তে সমর্থ হয়েছে। সামরিক বাহিনীর হিসাব অনুযায়ী, ৭০ শতাংশ বিক্ষোভকারী ব্যাংকক ও তার আশপাশের প্রদেশ থেকে আসা। এরা থাকসিনের শক্তিকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কৃষক নয়। আর হ্যাঁ, এই বিক্ষোভ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ঘাটতি বিষয়েও।
লাল শার্ট পরা শিবিরকে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী আপিসিত ভেজ্জাজিওয়ার সরকারের জন্য একটি সাময়িক বিজয়। যখন লাশ বাড়তে থাকবে, আর খুনের প্রত্যক্ষদর্শী বয়ান বেরিয়ে আসতে থাকবে, তখন তো নিঃসন্দেহে এই সংঘাতের এটাই শেষ লড়াই হবে না।
গার্ডিয়ান পত্রিকা থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: আহসান হাবীব।

ক্যাবিনেট কমিটি আসলে কী চায় by আসিফ নজরুল

আমার জীবনে প্রথম চাকরি ১৯৮৯ সালে, সাপ্তাহিক বিচিত্রায়। রিপোর্ট করার জন্য মধুর ক্যান্টিনে যাই মাঝেমধ্যে। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সূতিকাগার তখন এই ক্যান্টিন। সারা দিন বড় বড় ছাত্রনেতার ভিড়। তাঁদের অনেকেই ধূমপায়ী। দু-একজন বেনসন খেতেন তখনই। কিন্তু বেশির ভাগই খেতেন গোল্ডলিফ, ক্যাপিস্টান, এমনকি স্টার; এগুলো কম দামি সিগারেট। স্টার তো ছিল দরিদ্র লোকের সিগারেট!
এই ছাত্রনেতাদের কেউ কেউ পরে মন্ত্রী হয়েছেন, আরও অনেকে সাংসদ। গত ১৫-২০ বছরে তাঁদের কারও কারও সঙ্গে দেখা হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। তাঁরা অনেকেই ছিলেন আমারই মতো মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান। কিন্তু মন্ত্রী বা সাংসদ হওয়ার পর তাঁদের চেহারা বদলে গেছে। অর্থ-বিত্তে ফুলেফেঁপে উঠেছেন তাঁরা। শুনি, কেউ কেউ শত কোটি টাকার মালিক। শোনা কথা, যাচাই করার উপায় নেই। তবে তাঁদের গায়ের পোশাক দেখি, দেখি চেহারার চেকনাই, সঙ্গে দানবাকৃতির আলিশান গাড়ি। ঈর্ষা না, শুধু নিখাদ বিস্ময় জন্মে মনে। কোন আলাদীনের চেরাগ বদলে দিয়েছে তাঁদের!
কত বেতন মন্ত্রীর? কত টাকা পান সাংসদেরা? আধা লাখেরও কম, আগে ছিল আরও অনেক কম। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনেকে দুই-চারটা জায়গায় পড়িয়ে, জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানে কনসালটেন্সি করে এর চেয়ে অনেক বেশি উপার্জন করে থাকেন। একটা পাঁচ-দশ লাখ টাকার গাড়ি কিনতে তবু ১০-১৫ বছর চেষ্টা করতে হয় কাউকে কাউকে। অথচ নেতাদের কোটি টাকার গাড়ি কিনতেও অপেক্ষা করতে হয় না এত দিন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা তাই বলে সবাই সাধু নয়। আমারই কোনো কোনো সহকর্মী পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য হয়ে বা উপাচার্য হয়ে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। আমারই একসময়ের সহকর্মী কোনো কোনো সাংবাদিক আশ্চর্য দ্রুততায় সংবাদপত্র, প্রতিষ্ঠান বা দালানকোঠার মালিক বনে গেছেন। আমারই ছাত্রজীবনের সহপাঠী কয়েক হাজার টাকার সরকারি চাকরি করে কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।
আমার তো ধারণা, আমাদের সবার অভিজ্ঞতা একই রকম। আমরা কি প্রত্যেকেই জানি না কী ভয়াবহ দুর্নীতি চলছে দেশে? আমাদের প্রত্যেকের সহপাঠী, সহকর্মী বা একসময়ের সঙ্গীদের কেউ না কেউ কি রাতারাতি কোটিপতি হয়ে ওঠেনি?
টিআইবি বা অন্য কারও গবেষণার প্রয়োজন নেই। চারপাশের চেনা মানুষজনের দিকে তাকিয়ে আমরা সবাই বুঝতে পারি, দুর্নীতিবাজদের কী দাপট চলছে দেশে।
২.
এই দুর্নীতিবাজেরা মহা বিপদে পড়েছিল একবারই। সেটি বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। মন্ত্রী-আমলা-রাজনীতিক-ব্যবসায়ী অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পত্রপত্রিকা, টিভি-রেডিওতে প্রশংসার ঢল নেমেছিল। তবে কারও কারও গ্রেপ্তারে সংশয় ছিল, কোনো কোনো গ্রেপ্তারে কুমতলব ছিল। সবচেয়ে শোচনীয় যা, অধিকাংশ গ্রেপ্তারের পেছনে ছিল তৎকালীন গুটিকয়েক সেনা কর্মকর্তার উচ্চাভিলাষ। উচ্চাভিলাষ থাকলে বুদ্ধি থাকতে হয়, কৌশলী হতে হয়। তাদের বুদ্ধি যত না ছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল কাণ্ডজ্ঞানহীন স্পর্ধা। কালো আইন করে (যেমন, কোনো ক্ষেত্রেই জামিন না দেওয়ার বিধান), মানবিক মূল্যবোধে আঘাত করে (যেমন, মহিউদ্দিন খান আলমগীরের প্রবাসী পুত্রের বিরুদ্ধে মামলা বা ইকবাল হাসান মাহমুদের কিশোরী মেয়েকে গ্রেপ্তার), ভয়ভীতির পরিস্থিতি সৃষ্টি করে (যেমন, গণহারে ‘দুর্নীতিবাজ’দের তালিকা করে) এরা সবাইকে চমকে দেয়। কিন্তু দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের জন্য যে প্রজ্ঞা, ধৈর্য, মেধা নিয়ে আইনগত সংস্কার এবং পর্যায়ক্রমিক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল, তা করতে তারা অনেকাংশে ব্যর্থ হয়। হুমকি-ধমকির আদালতে অনেকের শাস্তি হয়। কিন্তু এই শাস্তি অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতে মুখ ধুবড়ে পড়ে।
নির্বাচনের পর দেশে ‘গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই গণতন্ত্রের জোয়ারে সরকারপক্ষের লোকদের বিরুদ্ধে করা সব মামলা প্রত্যাহার হয়। বিরোধী পক্ষের সবার বিরুদ্ধে করা মামলার গ্রহণযোগ্যতাও তাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। সরকারবিরোধী পক্ষ এরপর সবাই মিলে খড়্গহস্ত হয় দুর্নীতি দমন কমিশনের বিরুদ্ধে। তাই বলে এই কমিশনের কারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে বা তাদের পেছনে কলকাঠি নেড়ে কারা কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিয়েছে, তা জানার কোনো চেষ্টা করা হয়নি। সবাই বরং উঠেপড়ে লাগে দুদক নামক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
এর মানে কী? তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যে ব্যক্তিরা ক্ষমতাশালী ছিলেন তাঁরা আর কোনো দিনই ক্ষমতাবান হতে পারবেন না। এখনকার রাজনীতিবিদ-আমলা-ব্যবসায়ীদের কোনো ক্ষতি করার সামর্থ্যও আর নেই তাঁদের। কিন্তু প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুদক শক্তিশালী থাকলে যেকোনো অনাগত সময়ে আবারও বিপদে পড়তে পারেন তাঁরা। প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, দুদককে এখন অথর্ব করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে কি সে জন্যই?
৩.
অতীতে বিএনপি সরকারের সময় একটি পুতুল কমিশন গঠন করে নানাভাবে একে স্থবির করে রাখা হয়েছিল। তখন অন্য অনেকের সঙ্গে আওয়ামী লীগও এর তীব্র সমালোচনা করেছিল। এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে জোরদার করার প্রতিশ্রুতি জাতিকে দিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগকে সে কাজে মোটেও উদ্যোগী মনে হয়নি। বরং গত বছর অক্টোবরে একটি ক্যাবিনেট কমিটি দুদক আইনের যেসব পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে, তা বাস্তবায়িত হলে দুদক অতীতের মতো বহুল নিন্দিত ও সরকারের আজ্ঞাবহ একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
দুদকের বর্তমান প্রধান নিজেই এসব প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন। ক্যাবিনেট কমিটির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা, সাংসদ, মন্ত্রী যাঁরা ‘সরল বিশ্বাসে’ কোনো অপরাধ করেছেন বলে প্রতীয়মান, তাঁদের বিরুদ্ধে দুদক কোনো মামলা করতে চাইলে সরকারের অনুমতি নিতে হবে। ১৮৯৭ সালের জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট অনুসারে ‘সরল বিশ্বাস’ শব্দাবলির সহজ মানে হচ্ছে, এমনভাবে দায়িত্বে অবহেলা যাতে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য প্রতীয়মান নয়। এই সংজ্ঞা ভয়াবহ রকমের শিথিল এবং এর অপব্যাখ্যা করে যেকোনো দুর্নীতিতে অংশগ্রহণ অনিচ্ছাকৃত অবহেলা বা ভুল বলে চালিয়ে দেওয়া সম্ভব। তা ছাড়া কোনো কাজ সরল বিশ্বাসে করা হলো কি না তা নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারের হাতে থাকলে মন্ত্রী, সাংসদ বা আজ্ঞাবাহী আমলাদের বিরুদ্ধে দুদক কখনোই ব্যবস্থা নিতে অনুমতি পাবে না এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশে চিরকাল তাই হয়েছে।
দুর্নীতিবিরোধী অতীতের সব আন্দোলনে সরকারের অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। বর্তমান আইনে এই বাধ্যবাধকতা নেই, দুদক আইনে এর পুনরায় অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা স্বয়ং দুদকের প্রধান করেছেন। ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি ডেইলি স্টার-এ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এটি হবে বৈষম্যমূলক এবং এটি দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের সহায়ক হবে না।
ক্যাবিনেট কমিটির প্রস্তাবে দুদকের স্বশাসিত চরিত্র হরণ, কমিশনের চেয়ারম্যানের কিছু আর্থিক ক্ষমতা সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত সচিবকে অর্পণ, রাষ্ট্রপতির (আসলে প্রধানমন্ত্রীর) কাছে কমিশনের জবাবদিহির প্রস্তাব করা হয়েছে। মোট কথা, অতীতের দুর্নীতি দমন ব্যুরোর আদলে কমিশনকে সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছে।
দুদকের চেয়ারম্যান ক্যাবিনেটের প্রস্তাব সম্পর্কে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না, কোনো গণতান্ত্রিক সরকার দুদকের ডানা কেটে দেওয়ার জন্য কোনো আইন করবে।’ (১১ অক্টোবর, ২০০৯, ডেইলি স্টার)
আমরাও তাই বিশ্বাস করতে চাই। দুদক বরং তার কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য জনবল সম্প্রসারণ এবং মামলার সব পর্যায়ে পক্ষভুক্ত হওয়ার সুযোগ চেয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এই সুযোগ না থাকার ফলে এবং উচ্চ আদালতে মামলা পরিচালনায় অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের শৈথিল্যের কারণে বহু মামলা মুখ থুবড়ে পড়েছিল। দুদকের প্রস্তাব তাই সঠিক ছিল। কিন্তু সরকার তাতে কান দেয়নি। উপরন্তু ক্যাবিনেট কমিটি দুদককে সরকারের আজ্ঞাবাহী একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে দুর্নীতি দমন অভিযানকে দলীয়করণ করার প্রস্তাব দিয়েছে প্রকারান্তরে। দুর্নীতি সত্যিই দমন করতে হলে কমিটির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান শুধু নয়, এর প্রণয়নকারীদের বিষয়েও সাবধান হতে হবে সরকারকে।
৪.
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুদককে ব্যবহার করে বা এর নাম ভাঙিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এর বহু কিছুর সঙ্গে দুদকের অন্তত প্রাতিষ্ঠানিক কোনো সম্পর্ক ছিল না। দুদকের আইনে দুদক কর্তৃক দুর্নীতিবাজের তালিকা করে তা পত্রিকায় প্রকাশের ক্ষমতা নেই, কাউকে গ্রেপ্তার করে অত্যাচারের এখতিয়ার নেই, কাউকে জামিন না দেওয়ার ক্ষমতা নেই। দুদক তার জনবল, বিধি প্রণয়ন ও অর্থসংস্থানের বিষয়ে সরকার কর্তৃক গ্রহণযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রিত। দুদককে তার কাজের জন্য বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দিতে হয় সংসদে।
দুদকের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর জন্য তথ্য কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী ও কার্যকর করা যেতে পারে, সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটিকে তদারকের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে, এর বিভিন্ন স্তরে নাগরিক প্রতিনিধিদের সংশ্লিষ্ট করা যেতে পারে।
কিন্তু ক্যাবিনেট কমিটির প্রস্তাবে এসব চাওয়া হয়নি। যা চাওয়া হয়েছে তা দুদককে সরকারের আজ্ঞাবহ বা অথর্ব একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করবে। সরকারের লোক এবং অনুগত আমলাদের দুর্নীতির সুযোগ বহু গুণে সম্প্রসারিত করবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে বহুবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর অঙ্গীকারের কথা বলেছেন। ক্যাবিনেট কমিটির প্রস্তাব সেই অঙ্গীকারের মারাত্মক প্রতিবন্ধক। দুদককে বরং স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিলে এবং এর সামর্থ্য আরও বাড়ালে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিস্থিতি -চুক্তি বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করতে হবে

দেরিতে হলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে সরকার যে সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার উদ্যোগ নিয়েছে, তা ইতিবাচক হলেও সেখানকার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আমাদের উদ্বিগ্ন না করে পারে না। চুক্তি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আন্তরিক চেষ্টা থাকা যেমন জরুরি তেমনি শান্তিপূর্ণ পরিবেশও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সই হলেও গত ১২ বছর এর অধিকাংশ ধারা বাস্তবায়ন না হওয়া দুঃখজনক। ফলে সেখানে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হচ্ছে এবং তা কখনো কখনো সংঘাত-সংঘর্ষেও রূপ নিচ্ছে। পাহাড়ি-বাঙালি কিংবা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর দুই গ্রুপের মধ্যে যে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে, তার মূলেও চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়া সংক্রান্ত ক্ষোভ।
চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ায় বিরোধীরা এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে পারছে। এসব সত্ত্বেও পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি চুক্তি বাস্তবায়নের অনুকূল বলেই আমাদের ধারণা। ইউপিডিএফ আগে চুক্তির বিরোধিতা করলেও বর্তমানে সে অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তারা জানিয়েছে, চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তাদের আপত্তি নেই। অন্যদিকে সেখানে বসবাসকারী বাঙালিদের যে অংশ সম-অধিকারের নামে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল, তারাও হালে পানি পাচ্ছে না।
এ অবস্থায় সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও জনসংহতিসহ সংশ্লিষ্ট সবারই কর্তব্য হবে চুক্তি বাস্তবায়নে মনোযোগী হওয়া। ভূমি জরিপ ও ভূমি কমিশনের এখতিয়ার নিয়ে সরকার ও জনসংহতির মধ্যে যে বিরোধ আছে, আলোচনার মাধ্যমে তা মীমাংসা করা কঠিন নয়। স্বীকার করতে হবে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিরোধের মূলে রয়েছে ভূমি সমস্যা। এর সুষ্ঠু ও যুক্তিসংগত সমাধান না করে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা যাবে না।
সে ক্ষেত্রে ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তিসহ কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী যে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন, তা যত দ্রুত হয় ততই মঙ্গল। সংকীর্ণ গোষ্ঠীস্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে এর বিকল্প নেই।

হরতালে কার লাভ -ধ্বংসাত্মক রাজনীতি পরিহার করতে হবে

বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বুধবার ঢাকার মহাসমাবেশে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ জনজীবনের যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন, তার সঙ্গে কেউ দ্বিমত করবেন না। দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে তাঁরা সরকারের ব্যর্থতা, অদক্ষতার বিষয়টি দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবেন, এটাই স্বাভাবিক। এমনকি ১৬ মাসের মাথায় নতুন নির্বাচনের যে দাবি খালেদা জিয়া জানিয়েছেন, তাকেও জনমত গঠনের কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
কিন্তু এসব সমস্যার সমাধানে বিএনপি আগামী ২৭ জুন সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের যে কর্মসূচি দিয়েছে, তা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা, হরতাল সমস্যার সমাধান না করে বরং তাকে আরও ঘনীভূত করবে। আমরা বরাবর হরতাল-অবরোধের মতো ধ্বংসাত্মক রাজনীতির বিরোধিতা করে আসছি। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে বিরোধী আওয়ামী লীগ যখন হরতাল-অবরোধ ডেকেছে, তখনো আমরা জোরালোভাবে এর প্রতিবাদ জানিয়েছি। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জাতীয় সংসদই হবে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। দেশের সব জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেখানে আলোচনা হতে হবে। এ ব্যাপারে কোনো পক্ষ থেকে কোনো অজুহাত চলবে না। সরকারি দলের ইচ্ছামতো সংসদ পরিচালনা কিংবা বিরোধী দলের লাগাতার সংসদ বর্জনের পরিণাম কতটা ভয়াবহ হয়, তাও নিশ্চয়ই তাঁদের অজানা নয়। যে রাজনৈতিক কর্মসূচি জনগণের দুর্ভোগ বাড়াবে, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করবে, কোনো দায়িত্বশীল দল সেই কর্মসূচি দিতে পারে না।
গত এক দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, হরতাল-অবরোধে সরকারের পতন ঘটে না। বিরোধী দলের উপর্যুপরি হরতাল সত্ত্বেও আগের দুটি নির্বাচিত সরকারই মেয়াদ পুরো করেছে। এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি রাজপথে সংঘাত-সংঘর্ষ বাড়ায়, রাজনীতিকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেয়, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্ববিরোধিতা লক্ষণীয়। ক্ষমতায় থাকতে তাঁরা প্রচণ্ডভাবে হরতালের বিরোধী। আবার বিরোধী দলে থাকতে হরতাল-অবরোধকে মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। এই অসুস্থ ও অপরিণামদর্শী রাজনীতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। যে রাজনৈতিক দল জনগণকে নিয়ে রাজনীতি করে, তারা জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায় এমন কর্মসূচি কীভাবে নেয়, সেটাই প্রশ্ন। ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায় ইতিমধ্যে হরতালের বিরোধিতা করেছে। এমনকি তাদের রাজনৈতিক মিত্ররাও এ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানায়নি। দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে বিএনপিকে বৃহত্তর জনগণের মনোভাবকে আমলে নিতে হবে। বিএনপির নেতৃত্বের উচিত হবে, ২৭ জুনের হরতাল প্রত্যাহার করে বিকল্প কর্মসূচির কথা ভাবা। হরতাল-অবরোধের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি যে কারও জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না, সে কথাটি বিরোধী দলকে উপলব্ধি করতে হবে। অন্যদিকে বিরোধী দল যাতে সংসদে এসে জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলতে পারে, সেই নিশ্চয়তাও সরকারি দলকে দিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ২০০ শীর্ষ কর্মকর্তা চীন-মার্কিন সংলাপে যোগ দেবেন

ওয়াশিংটনের পর এবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চীন-মার্কিন দ্বিপক্ষীয় সংলাপ। আগামী ২৩ ও ২৪ মে দুই দিনব্যাপী এই সংলাপে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ও অর্থমন্ত্রী টিমোথি গেইথনারের নেতৃত্বে অন্তত ২০০ শীর্ষ কর্মকর্তা যোগ দেবেন।
দ্বিতীয় কৌশলগত ও অর্থনৈতিক এই সংলাপে যোগ দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এত বেশি সংখ্যক কর্মকর্তা এই প্রথমবারের মতো একসঙ্গে চীন সফর করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ট ক্যাম্পবেল গত বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে গত বছর ওয়াশিংটনে দেশ দুটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে এ ধরনের সংলাপ হয়েছিল।

করাচিতে সহিংসতায় ২০ জন নিহত

পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের করাচি নগরে গত বুধবার সহিংসতায় কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছেন। অজ্ঞাত মোটরসাইকেল আরোহীদের গুলিতে এদের অধিকাংশ প্রাণ হারান। এ ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধেও বেশ কয়েকজন নিহত হন।

যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া লাখ লাখ নথিপত্র ফেরত চেয়েছে ইরাক

ইরাকের জাতীয়মহাফেজখানা থেকে নিয়ে যাওয়া লাখ লাখ ঐতিহাসিক নথিপত্র যুক্তরাষ্ট্রকে ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। জাতীয়মহাফেজখানা কর্তৃপক্ষ এই দাবি জানায়।
২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় ও এর পর ইরাক থেকে এসব নথিপত্র নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় এসব নথিপত্র অনেকটা অরক্ষিত অবস্থায় ছিল। এই নথিগুলোর মধ্যে ইহুদিদেরও কিছু দুর্লভ ও অতি প্রাচীন সংগ্রহ রয়েছে, যার অধিকাংশ হিব্রু ভাষায় লেখা।
ইরাকের জাতীয় গ্রন্থাগার ও মহাফেজখানার পরিচালক সাদ ইস্কান্দার জানান, নথিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রয়াত ইরাকি প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের ‘গোপন’ পুলিশ বাহিনীর হাতে সে সময় আটক ইরাকি নাগরিকদের পরিচয়, তাঁর প্রশাসনের বিরোধিতাকারীদের গণহত্যার বিস্তারিত পরিকল্পনা এবং অস্ত্রাগারে রক্ষিত বিভিন্ন রকম অস্ত্রের তালিকা।
সাদ ইস্কান্দার নথিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বলেন, অন্যান্য নথিপত্র ছাড়াও ইহুদি সংগ্রহগুলো বাগদাদে সাদ্দামের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান সদরদপ্তরের মেঝেতে ও বাথরুমে ভেজা অবস্থায় পাওয়া যায়। সেগুলো সংরক্ষণের জন্য দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়।
এই সংগ্রহগুলো ফিরিয়ে আনার জন্য সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ায় দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। তবে বৈঠক কী সিদ্ধান্ত হয়, তা তিনি বলেননি।
ইস্কান্দার আরও জানান, এই প্রথমবারের মতো ইহুদি সংগ্রহগুলো ছাড়াও সব নথিপত্র ফেরত দেওয়ার জন্য ইরাকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দাবি জানানো হলো।

লেবারপ্রধান পদে দাঁড়াচ্ছেন নারী এমপি অ্যাবোট



ব্রিটেনে লেবার পার্টির প্রধান পদে প্রথমবারের মতো একজন নারী এমপি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জ্যামাইকান বংশোদ্ভূত ওই কৃষ্ণাঙ্গ নারী নেত্রীর নাম ডিয়ানে অ্যাবোট। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি এ ঘোষণা দেন।
পেছনের সারির নেত্রী হয়ে তাঁর দলীয়প্রধানের পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণায় দলের অনেকে অবাক হয়েছেন। তবে অ্যাবোট বলেছেন, নির্বাচনে জেতার বিষয়ে তিনি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেছেন, মনোনয়ন পেতে এমপিদের মধ্য থেকে যে ৩৩টি ভোট পাওয়ার দরকার তা তিনি অনায়াসেই পাবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিবিসি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
লেবার পার্টির প্রথম সারির নেতা ডেভিড মিলিব্যান্ড, এড মিলিব্যান্ড, অ্যাডওয়ার্ড বলস্, জন ম্যাকডোনেল ও অ্যান্ডি বার্নহ্যামের পর ষষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ডিয়ানে অ্যাবোট নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
অ্যাবোট বিবিসিকে বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতার ব্যাপারে তিনি আন্তরিকভাবে সচেষ্ট। তিনি জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় বহু লোক তাঁকে নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য তাগিদ দিয়েছেন এবং তাঁদের উৎসাহে তিনি দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি একসময় তাঁদের এজেন্ডা ছিল। এখন সে এজেন্ডা টোরি এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের দখলে চলে গেছে। সে এজেন্ডা পুনরুদ্ধার করতে হবে। তিনি দলকে ঢেলে সাজিয়ে দলের মধ্যে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে দলের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা হওয়া দরকার। তাঁর মতো ব্রিটেনে বসবাসরত অভিবাসীদের ছেলেমেয়েদের অধিকার নিয়ে ইতিবাচক যুক্তিতর্ক হওয়া দরকার।
হ্যাকনি নর্থ ও স্টোক নিউইয়ংটন এলাকা থেকে সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দলের প্রতিদ্বন্দ্বিকে বিশাল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে অ্যাবোট এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। ক্যামব্রিজ থেকে স্নতক ৫৭ বছর বয়সী অ্যাবোট যুক্তরাজ্যের প্রথম বৃষ্ণাঙ্গ নারী এমপি। ১৯৮৭ সালে তিনি প্রথম এমপি নির্বাচিত হন।
দলীয়প্রধান হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগামী ২৭ মের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিদের কমপক্ষে ৩৩ জন দলীয় এমপির সমর্থন অর্জন করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এত কম সময়ের মধ্যে এ সংখ্যক এমপির সমর্থন আদায় অপেক্ষাকৃত কম প্রভাবশালী নেতাদের জন্য যথেষ্ট কষ্টকর বিষয়।

এটিএমের উদ্ভাবক জন শেফার্ডের জীবনাবসান

অটোমেটেড টেলার মেশিনের (এটিএম) উদ্ভাবক জন শেফার্ড-ব্যারন ১৫ মে মারা গেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক পত্রিকা ডেইলি এক্সপ্রেস এ কথা জানায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৪ বছর বয়সে যুক্তরাজ্যের ইনভারনেস শহরের একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
ব্যাংকিং খাতে টাকা-পয়সা তোলার ক্ষেত্রে এটিএমের ধারণা প্রথম জন শেফার্ড-ব্যারনের ভাবনাতেই আসে। যন্ত্র থেকে নগদ অর্থ তোলার জন্য চার অঙ্কের একটি পিন কোড ব্যবহারের চিন্তাও তাঁর ধারণাপ্রসূত। চকলেট ভেন্ডিং মেশিন (চকলেট বিক্রি করার স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র) দেখেই এটিএম তৈরি করার কথা ভাবেন শেফার্ড-ব্যারন। ১৯৬৭ সালের ২৭ জুন বার্কলেস ব্যাংকের লন্ডনের এনফিল্ড শাখায় প্রথম এটিএম স্থাপন করা হয়।
স্কটিশ বিজ্ঞানী জন শেফার্ড-ব্যারন ১৯২৫ সালে ভারতের শিলংয়ে জন্ম নেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব এডিনবার্গ ও ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি স্ত্রী ও তিন ছেলে রেখে গেছেন। ২০০৭ সালে আমেরিকায় এটিএম ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তাঁকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়।

রাজনৈতিক সংস্কারবিষয়ক বিভিন্ন নীতির অন্তর্ভুক্তি

কনজারভেটিভ পার্টি বা টোরিদের সঙ্গে লিবারেল ডেমোক্র্যাটসদের (লিব ডেম) জোট গঠনসংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ চুক্তি প্রকাশ করা হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। দুই দলের নেতারা এই চুক্তিকে একটি ‘ঐতিহাসিক দলিল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, চুক্তিতে পৌঁছাতে দুই দলকেই নীতিগত ছাড় দিতে হয়েছে। তবে একটি ভালো সংস্কারবাদী সরকার হয়ে ওঠার সম্ভাবনা এই জোটের রয়েছে।
ক্যামেরন বলেন, এই চুক্তি যুক্তরাজ্যকে একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল সরকার উপহার দেবে। অন্যদিকে লিবারেল ডেমোক্র্যাটস নেতা ও উপপ্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগ বলেছেন, তিনটি শব্দ দিয়ে চুক্তিটি সংজ্ঞায়িত করা যায়—স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধ। দুই নেতা একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে ৩৪ পৃষ্ঠার এই চুক্তি প্রকাশ করেন। নয় দিন ধরে চুক্তিটি তৈরি করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে এবারের সাধারণ নির্বাচনে কোনো দল সরকার গঠনের জন্য নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় একটি ঝুলন্ত পার্লামেন্ট পায় যুক্তরাজ্যবাসী। জোট সরকার গঠনের জন্য টোরি-লিব ডেম আলোচনার পর চার পৃষ্ঠার যে সমঝোতা চুক্তি হয়, তার ওপর ভিত্তি করেই পূর্ণাঙ্গ এই চুক্তি করা হয়।
চুক্তিতে ব্যাংকিং, নাগরিক স্বাধীনতা, প্রতিরক্ষা, পরিবেশ, অভিবাসন, জনকল্যাণ ও রাজনৈতিক সংস্কারবিষয়ক বিভিন্ন নীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব নীতির অনেকগুলোতেই এর আগে ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন দুই দলের নেতারা। চুক্তিতে রাজকীয় ডাক বিভাগের একটি অংশ বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। যদিও জনগণের মালিকানাতেই এই ডাক বিভাগকে রাখার প্রতিশ্রুতি জানানো হয়েছে চুক্তিতে।
অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ বিভাগের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। পাশাপাশি ধর্ষণের মামলার ক্ষেত্রে বাদীর পরিচয়ের গোপনীয়তার পরিধি আরও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। নিম্নমানের মদ বিক্রির ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছে এবং যেসব পানশালা অনেক রাত পর্যন্ত খোলা রাখা হয়, তাদের ক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে চুক্তিতে।
নতুন জোট সরকার যুক্তরাজ্যে আগামী এক বছর কাউন্সিল ট্যাক্স (এক ধরনের কর) আদায় স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ ছাড়া কাজের ক্ষেত্রে সুস্থ পরিবেশ চাওয়ার অনুরোধ জানানোর অধিকার পাবেন সে দেশের সব শ্রমিক।
ডেভিড ক্যামেরন ও নিক ক্লেগ বলেছেন, তাঁদের সরকারের সবচেয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত সমস্যাটি হচ্ছে দেশের বর্তমান বাজেট ঘাটতি। তবে তার মানে এই নয় যে, সরকার একটি সংস্কার কর্মসূচি চালাতে পারবে না।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ক্যামেরন বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই চুক্তিতে অনেক বেশি সংস্কারের কথা বলা হয়েছে, যা কনজারভেটিভ পার্টি বা লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল না। নিক ক্লেগ বলেন, ‘এই দলিল আমাদের দেশকে অগ্রগতির পথে নিয়ে যাবে। আমাদের সরকার এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।’ তিনি বলেন, অবশ্যই দুই দলকে ছাড় দিতে হয়েছে। কিন্তু সেই ছাড় চূড়ান্ত ফলকে দুর্বল করেনি বরং শক্তিশালী করেছে। রক্ষণশীলতা ও উদারতা—এই ভিন্ন দুই সংস্কৃতির ধারক দুটি দল তাদের ঐতিহ্য ও শক্তির ওপর ভিত্তি করে একত্র হয়ে একটি একক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এই চুক্তির মাধ্যমে।

নিলামে বিক্রি হওয়া থেকে রবীন্দ্রনাথের ছবি বাঁচাতে বুদ্ধদেবের আহ্বান

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা ছবি নিলামে বিক্রি হওয়া থেকে বাঁচাতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীমনমোহন সিংয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীকে লেখা একটি চিঠিতে তিনি এ আহ্বান জানান।
কবিগুরুর বেশ কয়েকটি দুষ্প্রাপ্য ছবি নিলামে তোলা হচ্ছে জানতে পেরে ভারতের রবীন্দ্রানুরাগীরা বিচলিত হয়ে পড়েছেন। কবিগুরু একসময় ছবিগুলো তাঁর সুহূদ লিওনার্দো এলমহার্স্বকে উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন।
এখন এই ছবিগুলো বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করতে উদ্যোগী হয়েছে এলমহার্স্টের তৈরি ট্রাস্ট। বিখ্যাত নিলাম সংস্থা সদবিস-এর ভারতীয় শিল্পের বার্ষিক নিলামে রবীন্দ্রনাথের ছবিও তোলা হবে। এই খবরে অন্যদের মতো বিচলিত হন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে ছবিগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।

ফেসবুকের পর পাকিস্তানে ইউটিউবও বন্ধ

পাকিস্তানে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুক বন্ধের এক দিন পর ভিডিওচিত্র আদান-প্রদানের ওয়েবসাইট ইউটিউব ও উইকিপিডিয়ার কয়েকটি পৃষ্ঠা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ‘আপত্তিকর বিষয়বস্তু’ থাকার কারণে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষ (পিটিএ) ইউটিউব বন্ধ করে দেয়।
ফেসবুকে মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র আঁকার প্রতিযোগিতার আয়োজন করায় গত বুধবার তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। গতকাল পিটিএর এক বিবৃতিতে ইউটিউব বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ‘আপত্তিকর বিষয়বস্তু’ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। গতকাল দুপুরের পর থেকে পাকিস্তানে ইউটিউবে প্রবেশ করা যাচ্ছে না।

নিলামে বিক্রি হওয়া থেকে রবীন্দ্রনাথের ছবি বাঁচাতে বুদ্ধদেবের আহ্বান

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা ছবি নিলামে বিক্রি হওয়া থেকে বাঁচাতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীমনমোহন সিংয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীকে লেখা একটি চিঠিতে তিনি এ আহ্বান জানান।
কবিগুরুর বেশ কয়েকটি দুষ্প্রাপ্য ছবি নিলামে তোলা হচ্ছে জানতে পেরে ভারতের রবীন্দ্রানুরাগীরা বিচলিত হয়ে পড়েছেন। কবিগুরু একসময় ছবিগুলো তাঁর সুহূদ লিওনার্দো এলমহার্স্বকে উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন।
এখন এই ছবিগুলো বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করতে উদ্যোগী হয়েছে এলমহার্স্টের তৈরি ট্রাস্ট। বিখ্যাত নিলাম সংস্থা সদবিস-এর ভারতীয় শিল্পের বার্ষিক নিলামে রবীন্দ্রনাথের ছবিও তোলা হবে। এই খবরে অন্যদের মতো বিচলিত হন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে ছবিগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।

উ. কোরীয় টর্পেডোর আঘাতে দ. কোরিয়ার যুদ্ধজাহাজ ডুবেছে

গত মার্চ মাসে পীত সাগরে উত্তর কোরিয়ার টর্পেডোর আঘাতে দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধজাহাজটি ডুবে গেছে বলে আন্তর্জাতিক তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, উত্তর কোরীয় ডুবোজাহাজ থেকে ছোড়া টর্পেডোর আঘাতেই দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধজাহাজটি ডুবে যায়।
এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে উত্তর কোরিয়া এ প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ‘সাজানো’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, এই মিথ্যা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করা হলে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করা হবে।
গত ২৬ মার্চ পীত সাগরে দুই কোরিয়ারর বিতর্কিত সমুদ্রসীমায় দক্ষিণ কোরিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যায়। এতে ৪৬ জন নাবিকের প্রাণহানি ঘটে। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও সুইডেনের বিশেষজ্ঞরা মিলে তদন্ত করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার এ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এর আগে বলা হয়েছিল, কোরীয় যুদ্ধের সময় ব্যবহূত অবিস্ফোরিত মাইনের আঘাতে জাহাজটি ডুবে যেতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে এটাই প্রতীয়মান হয়েছে যে, উত্তর কোরিয়ার ডুবোজাহাজ থেকে ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে জাহাজটি ডুবে গেছে। এ ঘটনায় ‘অন্য কোনো বিস্ফোরণ’-এর প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাছাড়া ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা টর্পেডোর অংশবিশেষের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার টর্পেডোর ‘হুবহু মিল’ পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া সাত বছর আগে উত্তর কোরিয়ার একটি টর্পেডো উদ্ধার করেছিল। মার্চ মাসের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা টর্পেডোর অংশের সঙ্গে সেই টর্পেডোর মিল পাওয়া গেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি মিউং-বাক বলেছেন, সিউলের যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ‘পাল্টা ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে। তবে তিনি পাল্টা সামরিক হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে আহ্বান জানানো হতে পারে বলে সিউলের কর্মকর্তারা জানান। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কিম ইয়ং-সান বলেছেন, এ ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনাকে গভীর উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
হোয়াইট হাউস এ হামলার ঘটনাকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং দুই কোরিয়ার যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হগ বলেছেন, এটি একটি অবিবেচকের মতো কাজ। জাপান বলেছে, এ ঘটনার কোনো ক্ষমা নেই। তবে চীন বলেছে, দুই কোরিয়ার অবশ্যই সংযম প্রদর্শন করা উচিত।

ভুয়া সনদের জোরে

জাল সনদ ও নম্বরপত্রের জোরে ভালোই চালিয়ে যাচ্ছিলেন অ্যাডাম হুইলার (২৩)। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার এমন সব কাগজপত্র তিনি তৈরি করেন, যেন তাঁর মতো ভালো ছাত্র আর হয় না। এই ছলচাতুরির জোরে খ্যাতনামা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ৪৫ হাজার ডলারের বৃত্তিও আদায় করে নেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। একজন শিক্ষকের সন্দেহ ঠিকই তাঁর জোচ্চুরি ফাঁস করেছে। প্রকাশ করেছে সত্য। পরিচয় জাল করা, চুরি ও প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁকে। নিউইয়র্ক পোস্ট-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ কথা জানা যায়।
২০০৭ সালে হার্ভার্ডে ভর্তি হন অ্যাডাম হুইলার। ভর্তির সময় আবেদনপত্রের সঙ্গে তিনি যেসব প্রাতিষ্ঠানিক সনদপত্র জমা দেন, সেসব কাগজ তাঁকে অ্যানডোভারের ফিলিপস একাডেমির একজন কৃতী ছাত্র হিসেবে তুলে ধরে। আসলে এসব কাগজ ছিল ভুয়া। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ছাত্র হিসেবে তিনি যেসব কাগজ জমা দেন, এতেও প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হুইলারের প্রতারণার ঘটনা এটাই প্রথম নয়, ২০০৭ সালে অসততার অভিযোগে মেইনের বাউডোইন কলেজ থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। অথচ তিনি হার্ভার্ডে ভর্তির ব্যাপারে বাউডোইনের অধ্যাপকদের সুপারিশ দাখিল করেন, যা ছিল তাঁরই বানানো।
ভুয়া সনদের বলে কৃতী ছাত্র সেজে হার্ভার্ড থেকে বিভিন্ন গবেষণার জন্য বৃত্তি হিসেবে ১৪ হাজার ডলার পান।

ইরানের ওপর অবরোধ আরোপে চাপ অব্যাহত থাকবে: ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর জাতিসংঘের অবরোধ আরোপে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে। দেশটির পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে আবারও ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেন তিনি।
তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইপ এরদোগানের সঙ্গে গত বুধবার টেলিফোনে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ওবামা এ প্রতিক্রিয়া জানান। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এদিকে পশ্চিমা বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা মন্তব্য করেছেন, ইরানের ওপর জাতিসংঘের অবরোধ আরোপ করা হলে রাশিয়া তেহরানের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করতে পারবে না।
তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ওবামা স্বীকার করেন, ব্রাজিল ও তুরস্কের সঙ্গে ইরানের যে চুক্তি হয়েছে তার আওতায় দেশটি পারমাণিক জ্বালানির জন্যই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে। কিন্তু ইরানের সামগ্রিক পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ওবামার মতে, পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে ইরান আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর জাতিসংঘের অবরোধ আরোপের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নতুন একটি প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনার প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে ওবামা বলেন, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ছয় জাতির (নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, চীন, ফ্রান্স ও রাশিয়া এবং জার্মানি) আলোচনায় যোগ দিতে রাজি হয়নি। এ ছাড়া পরমাণু সমৃদ্ধকরণের কাজ বন্ধ করতেও রাজি হয়নি। তাই দেশটির ওপর আস্থা রাখা যায় না।
গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইরানের ওপর চতুর্থ দফা অবরোধ আরোপে তারা একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে। রাশিয়া ও চীনসহ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশ এই খসড়া প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে।
জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য স্বল্প সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আরও সমৃদ্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে ব্রাজিল, তুরস্ক ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি হওয়ার পরও অবরোধ আরোপের এই খসড়া প্রস্তাব তৈরি করা হয়। গত সোমবারের ওই চুক্তি অনুযায়ী, ইরান তার স্বল্প সমৃদ্ধ এক হাজার ২০০ কেজি ইউরেনিয়াম তুরস্কে পাঠাবে। তুরস্ক ওই ইউরেনিয়াম জ্বালানি উপযোগী মানে সমৃদ্ধ করে তেহরানের কাছে ফেরত পাঠাবে।
নিরাপত্তা পরিষদের সহযোগী দেশ ব্রাজিল ও তুরস্ক আলোচনার মাধ্যমে ইরান সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে পশ্চিমা বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা বলেছেন, ইরানের ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপ করা হলে রাশিয়া তার এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র তেহরানের কাছে বিক্রি করতে পারবে না। ইতিমধ্যে ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য এই ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের কাছে বিক্রি করতে রাজি হয়েছে রাশিয়া। কিন্তু পশ্চিমা বিভিন্ন দেশের চাপের কারণে সেগুলো তেহরানের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।
অবরোধ আরোপে যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইরানের কাছে কোনো দেশ ট্যাংক, যুদ্ধযান, বড় কামান, যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, যুদ্ধজাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করতে পারবে না।

জনমত গঠনে ইন্টারনেটকে বেছে নিয়েছে মিসরীয়রা

প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের দীর্ঘ ৩০ বছরের শাসনে একপ্রকার নাভিশ্বাসই উঠেছে মিসরীয়দের জীবনে। তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তনের প্রত্যাশায় তাঁরা উন্মুখ। কিন্তু কে হবেন পরিবর্তনের সেই কাঙ্ক্ষিত কাণ্ডারি! জাতিসংঘের আণবিক শক্তি সংস্থার সাবেক প্রধান মোহাম্মদ এল বারাদি যেদিন ঘোষণা দিলেন, তিনি বদলে দিতে চান মিসরের জীর্ণ রাজনৈতিক কাঠামো; সেই দিন থেকেই মিসরীয়দের মনে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা আরও তীব্র হয়েছে।
তবে মনে চাইলেই তো আর হুট করে একটি শক্তিশালী সরকারকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। পরিবর্তনের জন্য চাই ব্যাপক জনমত গঠন। কিন্তু মিসরের রাজপথে মিছিল-সমাবেশ করে সরকারবিরোধী জনমত তৈরি করাটা চাট্টিখানি কথা নয়। সরকার এ ধরনের জনমত গঠন আন্দোলন দমনের ব্যাপারে বেশ কঠোর। তাই বলে তো বসে থাকলে চলবে না! মিসরের জনগণ এবার সরকারবিরোধী জনমত গঠনের বিকল্প পন্থা হিসেবে ইন্টারনেটকে বেছে নিয়েছেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে এল বারাদি মিসরে আসার পর ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ফেসবুকে তাঁর কয়েক লাখ ভক্ত জুটে গেছেন। তাঁরা ইন্টারনেটে বারাদির পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে উঠেপড়ে লেগেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এল বারাদির প্রতি এ ধরনের সমর্থনের পেছনে রয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্টের প্রতি জনগণের চাপা ক্ষোভ।
তবে অনেকেই বলছেন, যে ব্যক্তি (হোসনি মোবারক) ১৯৮১ সাল থেকে মিসরের শাসনকার্য পরিচালনা করে আসছেন, তাঁকে শুধু ইন্টারনেটভিত্তিক জনমত গঠনের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে পরাজিত করা সম্ভব হবে, এমনটা ভাবা ঠিক নয়। বরং তাঁর বিরুদ্ধে সুসংগঠিত জনমত গড়ে তুলতে হলে রাজপথে নামতে হবে। ফেসবুকে এল বারাদির সমর্থক আবদেল রহমানও এমনটাই মনে করেন। তাঁর মতে, এ ধরনের পরিবর্তনের জন্য যাঁরা ইন্টারনেটে ব্যবহার করেন কিংবা করেন না, তাঁদের সবারই সহযোগিতা দরকার।
মিসরের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আমির হামজাও সরকারবিরোধী জনমত গঠনে ইন্টারনেট ব্যবহারের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নন। তিনি এ ধরনের চেষ্টাকে অবাস্তব বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, এ উদ্যোগের ভিত্তি খুবই দুর্বল। যুক্তি হিসেবে তিনি বলেছেন, বিরোধী দল ছাড়া এ ধরনের চেষ্টা অর্থহীন। বিশ্লেষকদের মতে, এটা একটা কঠিন কাজ। কেননা দেশটির বিরোধীরা খুবই দুর্বল এবং মানুষের মধ্যে তাদের জনপ্রিয়তাও নেই। দেশটির প্রধান বিরোধী দল মুসলিম ব্রাদারহুডকে সরকার অনেক আগেই নিষিদ্ধ করেছে। একমাত্র এ দলটিরই দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক আছে। তারা চাইলেই হাজার হাজার মানুষকে রাজপথে নিয়ে আসতে পারে। কিন্তু তাদের মধ্যে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে দ্বিধা রয়েছে। কেননা, এতে করে তাদের টিকে থাকাটাই হুমকির মুখে পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইন্টারনেটকে কেন্দ্র করে মিসরে বড় ধরনের জনমত গড়ে তোলাটা খুব একটা সহজ হবে না। a

জাতীয় স্কুল কাবাডি

ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড জাতীয় স্কুল কাবাডিতে কাল বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমান অলি হাইস্কুল ৬৩-১৫ পয়েন্টে সিভিল এভিয়েশন হাইস্কুলকে, খিলগাঁও সরকারি হাইস্কুল ৮৭-৫৭ পয়েন্টে করাতিটোলা সিএমএস মেমোরিয়াল হাইস্কুলকে, জেবি মেমোরিয়াল একাডেমি ৬১-৫৪ পয়েন্টে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ রাইফেলস স্কুল অ্যান্ড কলেজকে এবং খিলগাঁও মডেল স্কুল ও কলেজ ৫৫-৪৮ পয়েন্টে ফয়জুর রহমান আইডিয়াল স্কুলকে হারিয়েছে।

সেরা ফুটবলারদের দল!

আপনার ভাবনায় শুধু মেসি, রোনালদো, রুনিরাই বিশ্বসেরা তারকা! সত্যি যদি আপনার ভাবনাটা এমন হয়, তবে জেনে রাখুন, আপনার দলে নেই ফরাসি ডিফেন্ডার প্যাট্রিস ইভরা। ২৯ বছর বয়সী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ডিফেন্ডারের স্পষ্ট অভিমত, প্রতিটি পজিশনেই বিশ্বসেরা খেলোয়াড় আছে ফ্রান্স দলে। বিশ্বকাপ সামনে রেখে শিষ্যদের নিয়ে ফ্রান্সেরই আল্পস পর্বতের কোলে অনুশীলন শিবির খুলেছেন কোচ রেমন্ড ডমেনেখ। এখানে অনুশীলনের সময়ই ইভরা বলেছেন, ‘প্রতিটি পজিশনেই আমাদের সেরা খেলোয়াড় আছে।’ তবে এতেই যে বিশ্বের সেরা দল হয়ে গেল ফ্রান্স, এই বিশ্বাসটা আবার পুরোপুরি নেই তাঁর, ‘এতেই যে আমরা বিশ্বের সেরা দল হয়ে গেছি, তা নয়। তবে আমাদের সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যেতে হবে, কারণ বিশ্বকাপ জিততেই দক্ষিণ আফ্রিকায় যাচ্ছি আমরা।’

জিম্বাবুয়ে সফরে অধিনায়ক দিলশান

ভারতের পথেই হাঁটল শ্রীলঙ্কা। জিম্বাবুয়েতে ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য শীর্ষ তারকাদের বিশ্রাম দিয়েছে তারা। কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনের অনুপস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দেবেন তিলকরত্নে দিলশান, তাঁর ডেপুটি অলরাউন্ডার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। একমাত্র নতুন মুখ অলরাউন্ডার জীবন মেন্ডিস। দলে ফিরেছেন ওপেনার উপুল থারাঙ্গা, ব্যাটসম্যান চামারা সিলভা ও পেসার দিলহারা ফার্নান্ডো। ২৮ মে বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ে-ভারতের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে টুর্নামেন্ট।a

ইউরোপীয় ফুটবলের মৌসুমটা

ইউরোপীয় ফুটবলের মৌসুমটা একেবারেই শেষ অঙ্কে এসে দাঁড়িয়েছে। এখন কেবল একটা শিরোপা নির্ধারণ হওয়াই বাকি—চ্যাম্পিয়নস লিগ। আগামীকাল রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে ইউরোপ-সেরার লড়াইয়ের মুখোমুখি হচ্ছে বায়ার্ন মিউনিখ আর ইন্টার মিলান। জার্মান ক্লাবটি সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ২০০১ সালে, আর ইন্টার মিলানের জন্য অপেক্ষাটা ৪৫ বছরের!
কালকের ম্যাচে শিরোপার পাশাপাশি নির্ধারণ হয়ে যাবে আরও একটি বিষয়। এই দুই দেশের যে দল চ্যাম্পিয়ন হবে, সেই দেশ থেকেই ২০১১ চ্যাম্পিয়নস লিগে সরাসরি জায়গা পাবে চারটি ক্লাব।
গত পরশু ইউরোপীয় ফুটবলের আরেকটি শিরোপার ফয়সালা অবশ্য হয়েই গেছে। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে ২-০ গোলে হারিয়ে কিংস কাপ জিতেছে সেভিয়া। কদিন আগে ইউরোপা লিগ জেতা অ্যাটলেটিকোর তাই আর ‘ডাবল’ শিরোপা জেতা হলো না।
ডাবল নয়, ইন্টার আর বায়ার্ন দুই দলই তাকিয়ে আছে ঐতিহাসিক ‘ট্রেবল’-এর দিকে। এই দুই দলই লিগ আর কাপ দুটো শিরোপাই জিতে এসেছে। ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগ তাদের জন্য শিরোপাত্রয়ী পূর্ণ করার সুযোগ। ইন্টার এর আগে ফাইনালেই উঠেছিল সর্বশেষ ১৯৭১-৭২ মৌসুমে। বায়ার্নের ২০০১ সালের শিরোপা জেতা ফাইনালটিও এখন পর্যন্ত তাদের সর্বশেষ ফাইনাল হয়ে আছে। অপেক্ষার হিসেবে দুই দলের মধ্যে তারতম্য আছে বটে, কিন্তু শিরোপা জেতার জন্য দুই দলই সমান উন্মুখ। তবে হোসে মরিনহো একটু বাড়তি তাগিদই অনুভব করছেন।
পোর্তোর হয়ে এই চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন। এই চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাতে না পেরেই বিদায় নিতে হয়েছিল চেলসি থেকে। রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হতে পারবেন কি না, তা হয়তো নির্ভর করবে এই চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপার ওপরই। মরিনহো অবশ্য এমন হাবভাব করছেন, মাদ্রিদের বার্নাব্যু যেন এরই মধ্যে তাঁর নিজের মাঠ হয়ে গেছে। রিয়াল সমর্থকদের কাছে পুরো সমর্থনও চেয়ে রেখেছেন এই পর্তুগিজ কোচ। পাশাপাশি একরকম বিদায়ী অভিবাদন জানিয়ে রেখেছেন ইন্টারের সবাইকে, ‘আমি সবাইকেই ভালোবাসি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রত্যেকে জান লড়িয়ে দিয়ে খেলেছে। গড়ে প্রতি তিন দিনে একটি করে ম্যাচ খেলার এই মৌসুমে সবাই যেভাবে খেলেছে, অবিশ্বাস্য।’
ম্যাচটা গুরু বনাম শিষ্যেরও লড়াই। লুই ফন গল বার্সেলোনার কোচ থাকার সময় তাঁর সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন মরিনহো। ফন গল অবশ্য এর পর নেদারল্যান্ড, আরও এক মেয়াদে বার্সেলোনা এবং এজেড আলকমারের দায়িত্ব পালন শেষে গত বছর চলে আসেন বায়ার্নে। প্রথম মৌসুমেই ট্রেবল জয়ের সামনে দাঁড়িয়ে এই ডাচ কোচ। শিরোপা জিততে পারুন আর না-ই পারুন, জার্মান ক্লাবটির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অটুট থাকবে বলে আগাম জানিয়ে দিয়েছেন ফন গল।

মন কাঁদছে ভিয়ার

মহাকালের স্রোতধারায় পাঁচটা বছর হয়তো নেহাতই একটা ‘মুহূর্ত’। কিন্তু এই গত পাঁচ বছরই ডেভিড ভিয়ার জন্য ছিল অবিস্মরণীয়। এই আধা দশকে ভ্যালেন্সিয়ার সঙ্গে যেন জনম জনমের সম্পর্কে বাঁধা পড়েছিলেন। আর তাই ভ্যালেন্সিয়া ছেড়ে বার্সেলোনায় যেতে প্রাণ কাঁদছে এই স্ট্রাইকারের।
‘বন্ধুদের ছেড়ে যেতে আমার হূদয় ভেঙে যাচ্ছে। কিন্তু তার পরও যাচ্ছি। জানি, এতেই ক্লাবের মঙ্গল’—চার কোটি ইউরোতে বার্সায় নাম লেখানো ভিয়া বলেছেন তাঁর বিদায়ী বার্তায়। দেনার দায়ে জর্জরিত ভ্যালেন্সিয়া একরকম বাধ্য হয়েই তাদের সেরা খেলোয়াড়টিকে তুলে দিল স্প্যানিশ লিগ চ্যাম্পিয়নদের হাতে। যে ক্লাবটির ‘আইকন’ হয়ে গিয়েছিল এই ২৮ বছর বয়সী।
স্পেনের এক নম্বর স্ট্রাইকার বলছেন, ‘খেলোয়াড় হিসেবে, ব্যক্তি হিসেবে আমি বেড়ে উঠেছি ভ্যালেন্সিয়াতেই। প্রথম যেদিন ক্লাবটিতে পা রেখেছি, সেদিন থেকেই মনে হয়েছে, এটি আমার ঘর। কোনো সন্দেহ নেই, ভ্যালেন্সিয়া আমার হূদয়ে আজীবন এমনই থাকবে। সবাইকে জানাতে চাই, এই ক্লাবের হয়ে খেলা আমার জন্য ছিল দারুণ গৌরবের, এই ক্লাব আমাকে এত কিছু দিয়েছে, আমি চিরদিন সেটি মনে রাখব।’
ভিয়াকেও নিশ্চয়ই মনে রাখবে ক্লাবটি। এই ভিয়াই ভেলায় চেপেই তো ২০০৮ সালের কোপা ডেল রের শিরোপা জিতেছিল তারা। এবার লিগে তৃতীয় হয়ে নিশ্চিত করেছে আগামী চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলা। স্বাস্থ্যপরীক্ষা শেষে আজ বার্সার জার্সি গায়ে ভিলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে হাজির করা হবে ন্যু ক্যাম্পে। শুরু হয়ে যাবে তাঁর নতুন আরেক অধ্যায়।
এবারের দলবদলের মৌসুমে প্রথম চমকটা বার্সেলোনাই দিয়ে দিল। তাদের দ্বিতীয় চমকের নামটি হতে পারেন সেস ফ্যাবিগ্রাস। তবে আর্সেনাল আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে তাদের অধিনায়ককে রেখে দিতে। শুধু ফ্র্যাবিগাস নয়, আরেক স্প্যানিশ ফুটবলার ফার্নান্দো তোরেসের দিকেও নাকি হাত বাড়িয়েছে বার্সেলোনা। ওদিকে রিয়াল মাদ্রিদও চমক দিতে চলেছে। না, আপাতত তাদের চমকটা খেলোয়াড় কিনে নয়, বিক্রি করে। রিয়াল নাকি চেলসির কাছে বেচে দিচ্ছে ব্রাজিল তারকা কাকাকে। বিনিময়ে চেলসি থেকে রিয়াল চাইছে অ্যাশলি কোলকে।

প্রথম বিভাগ বাস্কেটবল

প্রিমিয়ার ব্যাংক প্রথম বিভাগ বাস্কেটবলে দ্য গ্রেগস ক্লাব ৮৫-৫০ পয়েন্টে রেইথস ক্লাবকে, দ্য গ্রেগরিয়াস ক্লাব ১২১-৭৩ পয়েন্টে ঈগলেটস ক্লাবকে এবং দ্য শাওনস ক্লাব ৩৮-২৪ পয়েন্টে ওল্ড ডিওএইচএসকে হারিয়েছে।

এশিয়াডে এবার বড় দল পাঠাবে বিওএ

এশিয়ান গেমসে তিন-চারটির বেশি দল আগে পাঠায়নি বাংলাদেশ। এ ধারা ভাঙতে যাচ্ছে। আগামী ১২ নভেম্বর চীনের গুয়াংজুতে শুরু হতে যাওয়া ১৬তম এশিয়ান গেমসে বড় দল পাঠাতে চায় বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)।
কাল কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে অনুষ্ঠিত বিওএর সভা শেষে মহাসচিব কুতুবউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, এসএ গেমসে সোনা জেতা গলফ, কারাতে, বক্সিং ও উশু দলকে সুযোগ দেওয়া হবে আসন্ন গেমসে। ফুটবল, হকি, শ্যুটিং, কাবাডি দলের সঙ্গে আর্চারিও থাকছে। সাঁতার ও অ্যাথলেটিকসে একজন করে ছেলে ও মেয়ে পাঠানো হবে। এশিয়াডে এবার প্রথম ঢোকা ক্রিকেট দল পাঠানো হবে ছেলে ও মেয়ে দুই বিভাগেই।
হকি লিগ: হকি লিগ কমিটির কালকের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লিগ শুরু হওয়ার কথা ৪ জুন। তবে একটা সংকট এখনো কাটেনি। গত মাসে হয়ে যাওয়া বিতর্কিত ক্লাব কাপ ফাইনালের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে ফেডারেশনকে অনুরোধ জানিয়েছে লিগ কমিটি। অনেক নাটকের পর আলোকস্বল্পতার অজুহাতে ১৫ মিনিট কম খেলা হয়েছে ওই ফাইনালে। পরাজিত দল ঊষা বলেছে, গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত না হলে তারা লিগ খেলবে না। জয়ী ঘোষিত মোহামেডানের কথা, শিরোপা কেড়ে নেওয়া হলে তারা খেলবে না লিগে।
এশিয়ান যুব অ্যাথলেটিকস: সিঙ্গাপুরে আগামীকাল ও পরশু অনুষ্ঠেয় এশিয়ান যুব অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় (অনূর্ধ্ব-১৮) বাংলাদেশ থেকে পাঠানো হয়েছে (গত মধ্য রাতে যাওয়ার কথা) একজন মাত্র অ্যাথলেট। বয়স বিবেচনায় সুযোগ পেলেন স্প্রিন্টার গোলাম মুর্তজা। সঙ্গে পাঠানো হয়েছে একজন কর্মকর্তা। একজন মাত্র অ্যাথলেট কেন? অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলমের যুক্তি, ‘টাকার অভাবে একজন অ্যাথলেটের বেশি পাঠানো গেল না।’

হারের আগে সোহরাওয়ার্দীর লড়াই

ম্যাচের পরিণতি জানাই ছিল। বাকি ছিল স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা। তবে এটুকু সারতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলকে কাল ভালোই যন্ত্রণা দিয়েছেন মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী শুভ। বল হাতে দুই ইনিংসে ৯ উইকেট নেওয়া সোহরাওয়ার্দী কাল ব্যাট হাতে ৬৪ রান করে অপরাজিত থেকে যান। তবে এতে পরাজয় বিলম্বিত করা ছাড়া লাভ খুব একটা হয়নি। বাংলাদেশ ‘এ’ হেরেছে ১১৪ রানের বড় ব্যবধানেই।
৭ উইকেটে ২৩৩ রান নিয়ে দিন শুরু করা বাংলাদেশ ‘এ’ কাল ২০ ওভারের এক বল কম খেলে রান করেছে ৮৩। এর ৬৪-ই এসেছে সোহরাওয়ার্দীর ব্যাট থেকে। ৬১ বলের ইনিংসে চার মেরেছেন ৯টি, ২টি ছয়। নূর হোসেনের (১২) সঙ্গে শেষ উইকেট জুটিতে তুলেছেন ৬১ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২৮৫ ও ২৬৯/৬ (ডিক্লে.), বাংলাদেশ ‘এ’: ১২৫ ও ৩১৫ (শাহরিয়ার ১৩৩, সোহরাওয়ার্দী ৬৪*, সগীর ৪৭; ব্রাউন ৩/৬০, বেকার ৩/৭০, টং ২/৩৩, শিলিংফোর্ড ২/৬৭)।

তার পরও জয় স্মিথদের



শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা জিতেছেন বলেই রক্ষা। এখন ব্যাপারটা নিয়ে হাস্যরসই বেশি হচ্ছে, কিন্তু ম্যাচ হারলে ভালো রকম ভর্ৎসনাই হজম করতে হতো গ্রায়েম স্মিথ ও লুটস বসম্যানকে। যে যুগে আউট হলেও ব্যাটসম্যানরা উইকেট ছাড়তে চান না, সেখানে স্মিথ-বসম্যান ছেড়েছেন আউট না হতেই! ম্যাচের ফলাফলে অবশ্য এর প্রভাব পড়েনি। পরশু ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৩ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০-তে এগিয়ে গেছে স্মিথের দল। ক্যারিয়ারের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতেই ৫ উইকেট নিয়েছেন পেসার রায়ান ম্যাকলারেন।
অ্যান্টিগার স্যার ভিভ রিচার্ডস স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম উইকেট হারায় চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে। জেরম টেলরের বলে পুল করতে গিয়েছিলেন বসম্যান, ব্যাটে বল না লাগায় ওয়াইড বলের সংকেত দেন আম্পায়ার। কিন্তু সবাইকে অবাক করে নিজেই ক্রিজ ছাড়েন বসম্যান, টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে সঠিক ছিলেন আম্পায়ারই।
জ্যাক ক্যালিসের সঙ্গে স্মিথের ৫৪ বলে ৭৩ রানের দুর্দান্ত জুটিটির সমাপ্তি প্রায় একইভাবে। নিকিতা মিলারের বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়েছিলেন স্মিথ, কিন্তু ব্যাটে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ার পর ফলো থ্রুতে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। স্টাম্প ভেঙে দেন উইকেটকিপার আন্দ্রে ফ্লেচার, আউট হয়েছেন ভেবে মাঠ ছেড়ে যান স্মিথ। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, ফ্লেচার স্টাম্প ভাঙার সময় স্মিথের পা ক্রিজের ভেতরেই ছিল, বেরিয়েছেন পরে। ততক্ষণে অবশ্য দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছেন স্মিথ, ৪৫ বলে ৫৩ রান করেন ক্যালিস। ভিভ রিচার্ডস স্টেডিয়ামের মন্থর উইকেটে ১০০ রানকেই বলা হচ্ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ স্কোর। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকেরা গুটিয়ে যায় ১২৩ রানেই।
কাল দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে খেলতে নেমে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১২০ রান তুলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। টেলর ৩টি, স্যামি ২টি ও বেন ১টি উইকেট নেন। ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০ ওভারে ১৩৬/৭ (ক্যালিস ৫৩, স্মিথ ৩৭; পোলার্ড ২/২২, রোচ ২/২৫, মিলার ১/১৩, টেলর ১/১৬), ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৯.৫ ওভারে ১২৩ (পোলার্ড ২৭, ব্রাভো ২০, স্যামি ১৭; ম্যাকলারেন ৫/১৯, বোথা ২/১৯, ফন ডার মারউই ১/১৯, ল্যাঙ্গেভেল্ট ১/৩১)।

বিশ্বকাপ জিততে হলে

সতীর্থরা বন্ধু হোক
আমাদের এত ভালো দল হয়ে ওঠার মূল কারণ ছিল, দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে দারুণ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। আমাদের মধ্যে কোনো ঈর্ষা ছিল না, কারও মধ্যে ইগো ছিল না, সবার মধ্যে ছিল দারুণ বন্ধুত্ব। সেই মনোভাবটাই আমরা মাঠে নিয়ে যেতাম।
ভালো ফর্মে থাকো, কিন্তু উদ্ধত হোয়ো না
বিশ্বকাপের আগে আমরা যে ম্যাচগুলো খেলেছিলাম, সেসবের ফল দেখলে দেখবেন; আমরা পোল্যান্ড, স্পেন ও চেকোস্লোভাকিয়ার মতো দলের বিপক্ষে ওদের দেশে গিয়ে জিতে এসেছি। এদের মধ্যে চেকোস্লোভাকিয়া ছিল আগের বিশ্বকাপের রানার্সআপ। আমরা ছিলাম কঠিন লড়াইয়ে পোড়-খাওয়া সৈনিক, উদ্দীপিত এবং অভিজ্ঞ। আদর্শ প্রস্তুতি বলতে যা বোঝায়, এটি ছিল তা-ই। বিশ্বকাপ শুরুর আগে আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম, কিন্তু কখনোই বলিনি যে, আমরা তা জিততে যাচ্ছি। এটা এমন কঠিন একটা টুর্নামেন্ট যে, কোনো দলের পক্ষেই আগে ঘোষণা দিয়ে জেতা সম্ভব নয়। আলফ্ (ম্যানেজার আলফ্ র‌্যামসে) বলেছিলেন, আমরাই জিতব, তবে আমার তাঁকে সিরিয়াস বলে মনে হয়নি। বরং ভেবেছিলাম, আমাদের উদ্দীপিত করতে অমন বলেছেন।
কোচকে সম্মান কোরো
আলফ্ র‌্যামসে ছিলেন প্রচণ্ড কড়া। মাঠে ও মাঠের বাইরে তিনি যা করতে বলতেন, ঠিক তাই করতে হতো। নইলে দল থেকে পত্রপাঠ বিদায় করে দিতেন তিনি। আলফ্ আর ফ্যাবিও ক্যাপেলোর মধ্যে অনেক মিল আছে। খেলোয়াড়েরা তাদের রুমে ফেরার আগ পর্যন্ত মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করে, ওয়াগদের (ওয়াগ—ওয়াইফ অ্যান্ড গার্লফ্রেন্ড-এর সংক্ষিপ্ত রূপ) উপস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ভালো করেছেন ক্যাপেলো।
মনঃসংযোগটাই চাবিকাঠি
বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ম্যাচে লম্বা সময় আমার কিছু না করেই কেটেছে। এই সময়ে একটু উদাসীন হয়ে পড়াটা তাই খুব স্বাভাবিক হতো। তবে ভালো আন্তর্জাতিক গোলরক্ষক হওয়ার পূর্বশর্ত হলো ৯০ মিনিটই খেলায় মনোযোগ ধরে রাখা। যাতে হঠাৎ করে প্রতিপক্ষের কোনো খেলোয়াড় সামনে উদয় হলেও আপনাকে হকচকিয়ে যেতে না হয়। বিশ্বকাপটা গোলরক্ষকদের জন্য বিশেষ ধরনের একটা চাপ। কারণ একটা ভুল করলেই হলো, সেটি বিশ্বজুড়ে টিভিতে বারবার দেখানো হবে। যদি ভুল হয়েই যায়, সেটিকে ভুলে যেতে হবে। ওই ভুল নিয়েই ভাবতে থাকলে সেটি পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলবে।

তোরেস-ফ্যাব্রিগাসকে নিয়েই স্পেন



বার্সেলোনার ইতিহাসে সফলতম গোলরক্ষক তিনি। দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন, চারটি লা লিগা ও একটি কোপা ডেল রে। তার পরও ভিক্টর ভালদেস জাতীয় দলের হয়ে কোনো দিন খেলার সুযোগ পাননি! সুযোগটা আসে না স্পেনের গোলপোস্টের নিচে কিংবদন্তিতুল্য ইকার ক্যাসিয়াস দাঁড়িয়ে থাকায়।
ভিক্টর ভালদেসের মাঠে নামার নিশ্চয়তা মেলেনি। তবে ক্যাসিয়াস ও লিভারপুলের তারকা গোলরক্ষক পেপে রেইনার পর তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে বিশ্বকাপ চূড়ান্ত দলে ঠাঁই হয়েছে ভালদেসের!
১ জুনের জন্য অপেক্ষা না করে গতকালই ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত দল দিয়ে দিয়েছেন স্পেন কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক। দলে ভালদেসের মতোই জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত মাঠে না নামা বার্সেলোনা মাতানো খেলোয়াড় পেদ্রো রদ্রিগেজও জায়গা পেয়েছেন। জায়গা পেয়েছেন অ্যাটলেটিক বিলবাওয়ের মিডফিল্ডার হাভিয়ের মার্টিনেজ। যদিও এই তিনজনকেই মাথা ঠান্ডা রাখার ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছেন কোচ দেল বস্ক, ‘তারা ভালো মৌসুম কাটিয়েছে। তবে তারা দলে অন্য খেলোয়াড়ের বিকল্প হিসেবে এসেছে।’
বিশ্বকাপ না জিতেও ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে ওঠা একমাত্র দল স্পেনের দক্ষিণ আফ্রিকাগামী দলের বাকি বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই ২০০৮ ইউরো জেতা দলের তারকা। ইনজুরি সত্ত্বেও তারকায় ঠাসা স্পেন দলে ঠাঁই হয়েছে ফার্নান্দো তোরেস ও সেস ফ্যাব্রিগাসেরও।
আর্সেনাল মিডফিল্ডার তোরেস ও লিভারপুল স্ট্রাইকার ফ্যাব্রিগাস, দুজনই মৌসুমের শেষ দিকটা মিস করেছেন ইনজুরির জন্য। স্পেনের চূড়ান্ত দলে থাকা বার্সেলোনার মিডফিল্ডার আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাও ভুগছেন ইনজুরিতে।
বস্ক ছেঁটে ফেলেছেন দুই তারকা খেলোয়াড় ভিয়ারিয়ালের মার্কোস সেনা ও ফেনেরবাচের দানি গুইজাকে। এএফপি।
চূড়ান্ত ২৩: গোলরক্ষক: ইকার ক্যাসিয়াস (রিয়াল মাদ্রিদ), পেপে রেইনা (লিভারপুল), ভিক্টর ভালদেস (বার্সেলোনা)। ডিফেন্ডার: রাউল আলবিওল (রিয়াল মাদ্রিদ), আলভেরো আরবেলোয়া (রিয়াল মাদ্রিদ), হোয়ান ক্যাপডেভিয়া (ভিয়ারিয়াল), কার্লোস মারচেনা (ভ্যালেন্সিয়া), জেরার্ড পিকে (বার্সেলোনা), কার্লোস পুয়োল (বার্সেলোনা), সার্জিও রামোস (রিয়াল মাদ্রিদ)। মিডফিল্ডার: জাভি আলোনসো (রিয়াল মাদ্রিদ), সার্জিও বুসকেট (বার্সেলোনা), সেস ফ্যাব্রিগাস (আর্সেনাল), আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা (বার্সেলোনা), হাভিয়ের মার্টিনেজ (অ্যাটলেটিক বিলবাও), জাভি হার্নান্দেজ (বার্সেলোনা)।
ফরোয়ার্ড: ডেভিড সিলভা (ভ্যালেন্সিয়া), জেসাস নাভাস (সেভিয়া), হুয়ান মাতা (ভ্যালেন্সিয়া), পেদ্রো রদ্রিগেজ (বার্সেলোনা), ফার্নান্দো লরেন্তো (অ্যাথলেটিক বিলবাও), ফার্নান্দো তোরেস (লিভারপুল), ডেভিড ভিয়া (বার্সেলোনা)।