Tuesday, February 12, 2019

এলিসিয়ার ভিন্ন রকম যৌন বাসনা

এলিসিয়া ডাউনিংস (২৮)। বাক্সটনের অধিবাসী তিনি। একজন সিঙ্গেল মা। তার কোনো বয়ফ্রেন্ডও নেই। যোগাড় করতেও পারেন নি। কারণ, প্রয়োজন বোধ করেন নি। কেন? কারণ, তিনি অন্যরকম এক যৌন তৃপ্তি অনুভব করেন। এ জন্য কোনো পুরুষের প্রতি তার আকর্ষণ জন্মাতে পারেন নি।
তিনি এক্ষেত্রে ব্যবহার করেন ‘সেক্সটয়’। সেই ১৩ বছর বয়স থেকে কৃত্রিম এসব যন্ত্রাংশের ওপর তার আসক্তি। শখ থেকে এটা তার অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায়। নিজেই স্বীকার করেছেন, যখন আমার বয়স ১৩ বছর, তখন থেকেই নিজের মধ্যে অন্যরকম এক কৌতুহল সৃষ্টি হয়। আমি গ্যাজেটের প্রেমে পড়ে যাই। কিনতে থাকি সেক্স টয়। এই শখ মেটাতে গিয়ে ৩০০০ পাউন্ডেরও বেশি খরচ করেছি। প্রথম দিকে যখন আমার কাছে অর্থ ছিল না, তখন এগুলো কিনতে
পারি নি। তাই বাসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্রকে টয় হিসেবেব ব্যবহার করেছি। তিনি বলেন, যখন আমার বয়স ১৭ বছর,তখনই প্রথম কিনে ফেলি সেক্সটয়। এখন তো আমার কালেকশন অনেক লম্বা। এক একটি গ্যাজেটের পিছনে খরচ করি ১০০ পাউন্ড।
এক সন্তানের মা এলিসি। তার রয়েছে ৬ বছর বয়সী একটি ছেলে। গত তিন বছর ধরে তিনি সিঙ্গেল। কিন্তু তিনি এসব সেক্সটয়ের প্রতি আসক্তির কারণে কোনো পুুরুষের মন জয় করার চেষ্টা করেন নি। কারণ, ছেলেরা এসব টয় সহ্য করতে পারে না। একবার একজন পুরুষ কথা কাটাকাটির সময় তার ভাইব্রেটরটা ছুড়ে ফেলে দেন বাইরে। এর কারণ, যখন তিনি বাসায় থাকেন না তখন এসবব টয় ব্যবহার করেন এলিসি, এটা তিনি সহ্য করতে পারছিলেন না। তাই এলিসিয়া বলেন, তাকে মেনে নেয়ার মতো পুরুষ খুঁজে পাওয়া ভার। তাই অপ্রকৃত যৌন লালসা মেটাতে তিনি একাধিকবার এসব টয় ব্যবহার করেন। এমনও আছে দিনে ১০ বারও ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, এটা অন্যরকম এক আসক্তি। সিগারেট বা অন্য কোনো নেশার মতোই।

যৌন জীবনে ক্রমশ অনাগ্রহী বৃটিশ নারীরা

যৌন জীবনে ক্রমশ অনাগ্রহী হয়ে পড়ছেন বৃটিশ নারীরা। তাদের অর্ধেকের বেশি বলেছেন পার্টনার তাকে খুশি করতে পারেন না। অসন্তোষ নিয়েই ফিরতে হয় বেশির ভাগ সময়। এমনও অনেক যুগলকে পাওয়া গেছে যাদের মধ্যে এক বছরে দু’বারেরও কম সময় শারীরিক সম্পর্ক হয়। এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্লান্তি বা অবসাদ, সময়ের অভাব, হতাশা, পার্টনারের প্রতি আকর্ষণের ঘাটতি। লন্ডনের প্রভাবশালী ট্যাবলয়েড পত্রিকা দ্য সানের পক্ষে জরিপ চালিয়েছে ফ্যাবুলাস। তাতে উঠে এসেছে এসব চিত্র। এতে ধরা পড়েছে বৃটিশরা যৌন জীবনে কতটা অসন্তুষ্ট।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি ৫ জনের মধ্যে একজন বলেছেন বছরে তাদের শারীরিক সম্পর্ক হয় দু’বারেরও কম।
আবার যাদের মধ্যে এ সম্পর্ক হয় তার মধ্যে শতকরা ৫২ জন বলেছেন তারা এমন সম্পর্কে সন্তুষ্ট হতে পারেন না। শতকরা ১৭ ভাগ মানুষ বলেছেন তারা এ সম্পর্কের সময় অধিক এডভেঞ্চারপ্রিয় হয়ে ওঠেন। পার্টনারের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক এড়াতে মিথ্যা বলেন শতকরা ৩২ ভাগ মানুষ। প্রতি ৫ জন নারীর একজন বলেছেন তারা এমন সম্পর্কের সময় পুরোপুরি সুখী হতে পারেন না।
জরিপে দেখা গেছে তরুণ বা যুব প্রজন্মের বেশির ভাগই অসন্তুষ্ট এ সম্পর্ক নিয়ে। তাদের বেশির ভাগকেই এমন অখুশি হয়ে ফিরতে হয়। এতে দেখা গেছে ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সীরা বেশি পরিমাণে শারীরক সম্পর্ক দাবি করেন এবং তাদের শতকরা হার হলো ৪৭ ভাগ।
এ বিষয়ে নারীপুরুষের সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও কোচ কেট ম্যান্সফিল্ড বলেন, যৌন জীবনের গুণগত দিক ও সংখ্যার দ্রুত পতন ঘটেছে। এর কারণ হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সহজেই হাতের কাছে পাওয়া যায় পর্নোগ্রাফি। এতে নারীদের ওপর একটি চাপ সৃষ্টি করে। তারা একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি হয়তো পছন্দ করেন এবং নিজেদের শরীর নিয়ে অনিরাপদ বোধ করেন। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে যাপিত জীবনের খরচ। সঙ্গে যোগ হয়েছে দীর্ঘ কর্মঘন্টা। এতে একজন মানুষ মানসিক দিক থেকে নিশ্বেষ হয়ে যায়। তবে নিয়মিত শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন হলে তাতে হতাশা কমে। অসুস্থতা কমে। হার্টকে সুস্থ রাখে। অব্যাহতভাবে কাজ করা হলো একটি সুস্থ যৌন জীবনের অনুষঙ্গ। কিন্তু আমাদের অনেকেরই সময়ের বড় অভাব। অথবা পার্টনারকে তার জীবনের সব কথা বলতে নার্ভাস বোধ করেন। এসব বিষয়ে খোলামেলা আলোচনাকে এড়িয়ে যাওয়ার অর্থ হলো সমস্যাকে আরো বাড়িয়ে দেয়া। আমরা সিঙ্গেল থাকি অথবা একটি সম্পর্কের মধ্যে থাকি উভয় অবস্থায়ই আমাদের শরীরকে আরো বেশি ভালবাসতে হবে। আমাদের যে শারীরিক যৌন চাহিদা সে বিষয়ে প্রকাশ করতে হবে। কথা বলতে হবে।  এ সম্পর্কটা কোনো বড় দায়িত্ব পালন নয়, একে দেখতে হবে ফান হিসেবে।
লন্ডনের সরকারি কর্মচারী ২৮ বছর বয়সী মনিকা বারডিগা। চার বছরের বেশি তিনি সিঙ্গেল। তিনি খুব কমই যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন। কারণ নিজের ওপর আস্থা কম। তিনি বলেন, আমি সব সময়ই একজন মোটা মেয়ে। স্কুলে আমার এমন সাইজের কারণে নানা রকম বাঁকা কথা শুনতে হতো। ছেলেরা আমার প্রতি কখনোই আগ্রহ দেখাতো না। তাই ২০-এর কোটায় যখন আমার বয়স তখন আমার তখনকার বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে আমার ভিতর আস্থা আসতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। তার সঙ্গে আমি তিন বছর ছিলাম। সব সময়ই আমরা লাইট অফ করে দিয়ে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতাম। গত বছর মনে হলো আমাকে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে বাঁচতে হবে। তাই ২১ স্টোন থেকে ওজন কমিয়ে ১৫ স্টোনে নিয়ে এলাম। এখন আমি ১৮ সাইজের যুবতী। তবু আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শরীরটাকে যখন দেখি নিজেকে ঘৃণা লাগে। তবুও আমি নিজেকে ইতিবাচক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। সমুদ্র সৈকতে আমি সাঁতারের পোশাক খুব উপভোগ করি। কিন্তু একজন পুরুষের সামনে বিবস্ত্র হওয়া এটা আমার নার্ভের ওপর খুব চাপ সৃষ্টি করে। একবার একজন যুবক তো আমাকে বলেই বসলো যদি ওজন কমাই তাহলে ছেলেরা আমার দিকে বেশি আকৃষ্ট হবে।

ইডেনের সাবেক অধ্যক্ষ হত্যায় একাধিক ব্যক্তি, ২ গৃহপরিচারিকাকে খুঁজছে পুলিশ by শুভ্র দেব

ছিলেন জনপ্রিয় শিক্ষক। ইডেন কলেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে। কলেজের অনেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হয়েছে তার হাত ধরে। দীর্ঘদিন থেকে থাকতেন এলিফ্যান্ট রোডের বাসায়। অবসরের পরও এ বাসাতেই জীবনের শেষ সময়টুকু কাটানোর ইচ্ছা ছিল মাহফুজা চৌধুরীর। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। নিরাপদ বাসায়ই ঘাতকের হাতে জীবন দিতে হয়েছে তাকে। রোববার রাতে ওই বাসা থেকে মাহফুজা চৌধুরীর লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ ধারণা করছে, কয়েকজন মিলে তাকে সংঘবদ্ধভাবে হত্যা করেছে।
কিন্তু কেন একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে এভাবে খুন করা হলো।
এর পেছনে কী কারণ তা খুঁজতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জনপ্রিয় এই শিক্ষকের হত্যাকাণ্ড মেনে নিতে পারছেন না তার শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা। খুনিদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রাথমিকভাবে মনে করছেন, চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে ওই বাসার   গৃহকর্মীরা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। হত্যার পর থেকে তারা পলাতক। এছাড়া এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, এমন চিন্তা মাথায় রেখে তারা তদন্ত করছেন। কারণ ফরেনসিক রিপোর্টে এই হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার আলামত পাওয়া গেছে। কোনো সক্রিয় চক্র পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সাবেক এই অধ্যক্ষকে খুন করেছে এমন চিন্তাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্ত কর্মকর্তারা। তাই দফায় দফায় পুলিশের পাশাপাশি মহানগর গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।
মাহফুজা চৌধুরীর ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, বালিশ বা অন্য কিছু দিয়ে মুখ চেপে শ্বাসরোধ করে ইডেন কলেজের সাবেক এই অধ্যক্ষকে হত্যা করা হয়েছে। তার নাক, মুখ ও ঠোটে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া হাতের একটি আঙুল ভাঙা ছিল। তিনি বলেন, হত্যার মিশনে একাধিক লোক অংশগ্রহণ করেছে বলে ধারণা করছি। হত্যার আগে ধস্তাধস্তি হয়েছিল। পরে একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। নিউ মার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, হত্যার মোটিভ দেখে প্রাথমিকভাবে মনে করছি টাকাপয়সা, সোনা-গয়নার লোভেই কাজের লোকেরা এই কাজ করেছে। হয়তো চুরি করার সময় তিনি টের পেয়ে বাধা দিয়েছেন তখন তারা তাকে মেরে ফেলেছে। ওসি বলেন, তাকে হত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না তা আমরা খতিয়ে দেখছি। বাসার ভেতরে ঘুমন্ত অবস্থায় যে গৃহপরিচারিকা ছিল তাকে এনেও আমরা কথা বলেছি।
এছাড়া ওই সময় যে নিরাপত্তাকর্মীরা দায়িত্ব পালন করেছে, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। পলাতক গৃহ পরিচারিকাদের আটক করতে পারলে হত্যাকাণ্ডের রহস্য জানা যাবে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার পর থেকেই ওই দুই গৃহকর্মীকে আটক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সঙ্গে তাদেরকে যে কাজে দিয়েছিল সেই রুনিকে। আলাদা আলাদা টিম গঠন করে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালনো হচ্ছে। কারন, তাদের পালিয়ে যাওয়াটাই সন্দেহজনক।  মাহফুজা চৌধুরীর স্বামী মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ব্যবসায়ী ইসমত কাদির গামা গতকাল নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে, দুই গৃহকর্মী স্বপ্না (৩৬), রেশমা (৩০) ও গৃহকর্মী সরবরাহকারী রুনুকে। স্বপ্নার বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ও রেশমার বাড়ি কিশোরগঞ্জে। মামলার এজাহারে ইসমত কাদির গামা উল্লেখ করেছেন, প্রতিদিনের মতো আমি সেদিন সকাল ১০টার দিকে আমার স্ত্রীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাইরে যাই। দুপুরের দিকে তার সঙ্গে আমার সর্বশেষ কথা হয়। সন্ধ্যার বাসার ফেরার সময় কিছু আনতে হবে কি না সেজন্য আমি তার মোবাইলে ফোন দিয়ে বন্ধ পাই। সাড়ে সাতটার দিকে বাসায় এসে আমাদের ডুপ্লেক্স বাসার ১৬ তলার কলিং বেল চাপতে থাকি। কিন্তু ভেতর থেকে কেউ সাড়া দেয়নি। তারপর আমি ১৫ তলায় গিয়ে বেল চাপি।
তখন কাজের মেয়ে রশিদা দেখতে পায় ভেতর থেকে দরজার বন্ধ করে দেয়া আছে এবং তালার মধ্যে চাবি ঝুলছে। রশিদা দরজা খুলে দেয়ার পর ভেতরে গিয়ে আমি অন্য কাজের মেয়েদের খুঁজতে থাকি। তাদেরকে না পেয়ে ওপরে গিয়ে আমার স্ত্রীর শোবার ঘরে দেখি খাটের ওপর গলায় ওড়না পেঁচানো, ঠোঁটে রক্তের দাগ লাগানো নিথর দেহ পড়ে আছে। এমন অবস্থা দেখে আমি চিৎকার করি। তখন আশপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন এগিয়ে আসে। সেখানে উপস্থিত একজন চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন, তিনি মারা গেছেন। তারপর থানায় খবর দিলে তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এজাহারে তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, মৃত্যুর খবর পাওয়ার কিছুক্ষণ পর আমাদের গাড়িচালক সুজন এসে বলে, বিকাল তিনটার পরে সে ম্যাডামের কাছ থেকে মাসিক বেতন নিয়ে গেছে।
বাসার বিভিন্ন আলমিরা খুলে নগদ ১০ লাখ টাকা, ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ৬০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এজাহারে।
এলিফ্যান্ট রোডের সুকন্যা টাওয়ারের ১৫ ও ১৬ তলার ১৫/সি, ১৬/সি ডুপ্লেক্স বাসায় থাকেন ইসমত কাদির গামার পরিবার। এ বাসাতেই তাদের জীবনের বহু বছর কেটে গেছে। বাসার ১৫ তলার ফ্ল্যাটে রান্নাঘর, ডাইনিং রুম, ড্রয়িং রুম, গৃহকর্মীদের থাকার জায়গা রয়েছে। আর ওপরের অংশে তারা সবাই মিলে থাকতেন। গতকাল ওই বাসায় গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি। ২০ তলা এই বাসার নিচে পার্কিং প্লেসে রাখা হয়েছে মাহফুজা চৌধুরীর মরদেহের ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স। তাকে ঘিরে আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, প্রতিবেশী, শিক্ষার্থীরা অঝোর ধারায় কাঁদছিলেন। সেখান থেকে লিফট দিয়ে ওপরে উঠে দেখা যায় ১৬ তলার ডান পাশের ১৬/সি নম্বর ফ্ল্যাটের ভেতরে স্বজনদের আহাজারি। ফ্ল্যাটের ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায় ডুপ্লেক্স এই বাসার সিঁড়ি। ওই কক্ষের বাম পাশে আরেকটি কক্ষ রয়েছে। আরেকটু ভেতরে গিয়ে পাওয়া যায় আরো তিনটি কক্ষ। ডান পাশের একটি কক্ষে থাকতেন মাহফুজা চৌধুরী। এই কক্ষ থেকেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ যখন তার মরদেহ উদ্ধার করেছিল তখন তার গলায় দুটো ওড়না পেঁচানো ছিল। কোমরের ওপরের অংশ ছিল খাটের ওপরে আর বাকিটা নিচে। দুহাত ছিল দুই দিকে ছড়ানো। ঠোঁটে ছিল লাল রক্তের দাগ। বাসার ভেতরের অনেক দেয়ালে দেয়ালে টানানো আছে ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকা ইডেন কলেজের এই অধ্যক্ষের ছবি। তার দুই ছেলে অভিক ও অমিত। অভিক সেনা চিকিৎসক ও অমিত একটি ব্যাংকে চাকরি করছেন। মায়ের এমন মৃত্যু মেনে নিতে না পেরে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন দুই ভাই। তাদেরকে ঘিরেই যেন স্বজনদের সব সান্ত্বনা। মায়ের মৃত্যুতে তাদের অশ্রুসিক্ত চোখ কেউ সহ্য করতে পারছিলেন না।
মাহফুজা চৌধুরীর বড় ছেলে মেজর অভিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যশোর ক্যান্টনমেন্টে সেনা চিকিৎসক হিসাবে চাকরি করেন। তিনি মানবজমিনকে বলেন, মা প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও রাতে আমাকে ফোন দিয়ে কোথায় আছি, কী করছি, খাবার খেয়েছি কি না সেই খোঁজ নিতেন। ঘটনার দিন দুপুর দেড়টার দিকে তিনি আমাকে ফোন দিয়ে খাবার খেয়েছি কি না খোঁজ নেন। তারপর আমার ঢাকায় পোস্টিং হয়েছে, কবে আসব- সে কথা জানতে চান। পরে তিনি বলেন, তাড়াতাড়ি আসো। ঢাকা আসলে কাছাকাছি থাকবা। আমাকে আর টেনশন করতে হবে না। অভিক বলেন, এই ছিল মায়ের সঙ্গে আমার শেষ কথা। চলতি মাসের ৬ তারিখে মায়ের সঙ্গে আমার শেষ দেখা হয়েছিল। মা এভাবে চলে যাবে কখনও ভাবতে পারি নাই। আমি আমার মায়ের হত্যাকারীদের শাস্তি চাই।
মাহফুজা চৌধুরীর পারিবারিক গাড়িচালক সুজন বলেন, ওইদিন বিকাল ৩টা ৯ মিনিটে আমি ওই বাসায় যাই। কারণ আমার বেতন নেয়ার জন্য সকালে ম্যাডাম আমাকে ফোন করেছিলেন। আমি পান-সুপারি নিয়ে বাসায় যাই। যাওয়ার পর একজন গৃহকর্মী আমাকে ১৪ হাজার টাকা এনে দেন। তখন ম্যাডাম আমাকে বলেন, টাকাগুলো গুনে নেয়ার জন্য। আমি বলেছিলাম, গুনেছি ম্যাডাম, ঠিক আছে। তখন ম্যাডাম বলেন, তোমার পান-সুপারির টাকা দেয়া হয়নি। কত টাকা হয়েছে। আমি তখন বলি ৭০ টাকা। ম্যাডাম আবার গৃহকর্মী দিয়ে ১০০ টাকা দেন। ওই গৃহকর্মী আমাকে বলে, খুচরা টাকাটা যেন আমার কাছেই রেখে দেই। এই কথা শুনে আমি নিচে চলে আসি। ৩টা ২১ মিনিটে ম্যাডাম আমাকে ফোন দিয়ে আবার বলেন, খুচরা টাকা দিতে আর ওপরে উঠতে হবে না। সুজন বলেন, এই ছিল ম্যাডামের সঙ্গে আমার শেষ কথা।
ইডেন কলেজে শোকের ছায়া: মাহফুজা চৌধুরীর ময়নাতদন্ত শেষে  দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল ইডেন কলেজে। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন তার প্রাণের সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অফিস স্টাফরা। একদিকে চলছিল মাহফুজা চৌধুরীর জানাজা আর অন্যদিকে অঝোর ধারায় কাঁদছিলেন তার সহকর্মীরা। জানাজার নামাজ শেষে সহকর্মীরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রিয় শিক্ষিকাকে শেষবারের মতো দেখার জন্য এসেছিলেন কর্মসংস্থান ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার তামান্না আমিন। অশ্রুশিক্ত হয়ে তিনি বলেন, খুব ভালো শিক্ষিকা ছিলেন। আমাদেরকে নিজের মেয়ের মতো দেখতেন। তার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক ছিল মা সন্তানের। যেকোনো সমস্যা নিয়ে গেলে তিনি কখনও ফিরিয়ে দিতেন না। তাকে যারা এভাবে খুন করল তাদের বিচার চাই। তাসলিমা নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ভর্তি হওয়ার পরই তাকে আমি প্রিন্সিপাল হিসাবে পাই।
তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য ছিলেন এক নিবেদিত প্রাণ। তার মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। শুধু শিক্ষার্থীরা নয় তার সহকর্মীরাও তুলে ধরলেন তার কৃতকর্মের বর্ণনা। ইডেন কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. জাকির হোসেন বলেন, তিনি একমাত্র অধ্যক্ষ যাকে তিন মাস থেকে ৩ বছর এক্সটেনশন দেয়া হয়েছিল। এই কলেজের বেশির ভাগ উন্নয়ন তার হাত দিয়ে করা। উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি আর কাজ করেছি আমরা। বঙ্গমাতা হল, ভাস্কর্য, বাগান, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার জন্য লাইব্রেরি, কলেজে প্রবেশর সবকটি গেট, শিক্ষার্থীদের বসার স্থান সবকিছুই তার হাত দিয়ে করা। আমরা এমন এক সহকর্মীকে হারিয়ে আজ অসহায়। কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ শামসুন নাহার বলেন, শিক্ষক হিসাবে তার প্রচুর খ্যাতি ছিল। কলেজের যাবতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তার অংশগ্রহণ ছিল। মাহফুজা চৌধুরী অধ্যক্ষ থাকাকালীন গাড়ি চালক ছিলেন মনির চৌহান। মনির চৌহান বলেন, তিনি খুব হাসিখুশি ছিলেন। দীর্ঘদিন তার গাড়িচালক ছিলাম। প্রায়ই তিনি আমার সঙ্গে কথা বলতেন। বাসায় গেলে তিনি নিজের হাতে ভাত খেতে দিতেন। তার দুই ছেলের বিয়েতে বরের গাড়ি চালিয়েছি আমি। তার সঙ্গে কোনো শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মনোমালিন্য ছিল না। অফিস সহকারী নুরুজাহান বেবি বলেন, এই ম্যাডাম আমাদের জন্য অনেক করেছেন। সবসময় আমাদের বিপদে কাছে থাকতেন।

পানি আসে, খাওয়া যায় না, ধোয়া যায় না

টেপে পানি আসে ঠিকই। কিন্তু সেই পানি ফুটিয়েও পান করা যায় না। গোসল, ধোয়া মুছার কাজও করা যায় না। কখনো পানির সঙ্গে কাদা ময়লা আসে। আছে দুর্গন্ধও। রাজধানীর অনেক এলাকায় পানিতে এমন সমস্যা। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ওইসব এলাকার বাসিন্দারা। ভুক্তভোগীরা বলছেন, এসব এলাকার সমস্যা পুরনো।
ওয়াসার স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কোনো প্রতিকার মেলেনি। যদিও ওয়াসা   বলছে, তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। হোল্ডিং নম্বরসহ অভিযোগ দেয়া হলে পানি পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গতকাল পুরান ঢাকার নয়াবাজার, তাঁতী বাজার, ইংলিশ রোড, বাগডাসা লেন, জিন্দাবাহার, টিবি গোজ স্ট্রিট, কসাই টুলি, সমসাবাদ, শান্তিনগর, রামপুরা, মগবাজার, মধুবাগ, উলনসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বাসিন্দাদের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
খাবার পানির জন্য পুরান ঢাকার মানুষ পঞ্চায়েতের গভীর নলকূপ বা সরকারি বেসরকারি গভীর নলকূপের উপর নির্ভরশীল। অন্যান্য এলাকার বাসিন্দাদের ভরসা বাইরে থেকে কেনা পানির জারের উপর।
পুরান ঢাকার কয়েকটি এলাকায় সরজমিনে গিয়ে বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে বাসিন্দাদের কাছ থেকে। নয়াবাজার এলাকার বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন নাজু বলেন, ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ। পানি হাতে নিয়ে নাকের কাছে নিলেই বোঝা যায়। ৬/৭ বছর ধরে এমন দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এই পানি দিয়ে গোসল আর ধোয়া মোছা ছাড়া কিছুই করা যায় না। যাদের টাকা আছে তারা পানির জার কিনে আনে। বাকিরা পঞ্চায়েতের ডিপ টিউবওয়েলের পানির উপর ভরসা করে। আমি প্রতিদিন বড় একটি পাত্রে পানি ভরে আনি। সেটা দিয়েই সারাদিন চলে। পুরান ঢাকার বাগডাসা লেন এলাকার মজিবর রহমান মানবজমিনকে বলেন, ওয়াসার লাইনে আসা পানিতে দুর্গন্ধ। সঙ্গে বালি আর পাথর আসে। কয়েকদিন পর পর পানির মিটার ব্লক হয়ে পানি আসা বন্ধ হয়ে যায়। তখন মিটার খুলে পরিষ্কার করে দিলে আবার পানি আসে। পানি খাওয়ার জন্য ফিল্টার মেশিন কিনে নিয়েছি। মেশিন দিয়ে রিফাইন করে পান করি। এছাড়া ওয়াসার পানি দিয়ে গোসল ও ধোয়া মুছার কাজ ছাড়া আর কিছু করা যায় না। জিন্দাবাহার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হামিদ বলেন, এদের পানিতেও গন্ধ। এখানে স্যুয়ারেজের লাইনও বন্ধ। পানি যায় না।
কসাই টুলি এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, ওয়াসার পানিতে মাঝে মাঝে ময়লার বড় বড় খন্ড পাওয়া যায়। শ্যাওলা আসে। এরপরও জীবন বাঁচাতে এই পানিই খেতে হয়। অভয়দাস লেন, সমসাবাদ লেন, আরমানিটোলা, বংশাল নাজিরা বাজার, তাতীবাজার, ইংলিশ রোডসহ আশপাশের এলাকায়ও ওয়াসার পানির একই অবস্থা। এসব এলাকায় ঢাকা ওয়াসার পানি পান করার অনুপোযোগী। পানি এতই খারাপ যে এই পানি অ্যাকুরিয়ামে দিলে মাছ মরে যায়। শুধু গোসল ও ধোয়া মোছা ছাড়া কোনো কাজ করা যায় না। এ পানি দিয়ে গোসল করতে গিয়ে বাচ্চাদের চোখ জ্বলে। সমসাবাদ লেনের কয়েকজন ভাড়াটিয়া জানান, এই এলাকার পানিতে দুর্গন্ধের কারণে বাসিন্দারা পান করার জন্য পঞ্চায়েতের গভীর নলকূপ থেকে পানি সংগ্রহ করেন। কখনো নলকূপ নষ্ট হয়ে গেলে বোতলের পানি কিনতে হয়। শাহ জালাল বলেন, পানি দিয়ে মুখ ধুতে গিয়ে চোখের ভেতর পানি ঢুকে গেলে এতই জ্বালা করে, মনে হয় বিষাক্ত কোনো গ্যাস গেছে ভেতরে।
কদমতলির রায়েরবাগ এলাকার ১৭৩৪ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা আবুল হাশেম বলেন আজ প্রায় দুই মাস যাবৎ পানি কোনো কাজেই ব্যবহার করা যাচ্ছে না। পানিতে প্রচুর দুর্গন্ধ। খাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি পানিতে ময়লা থাকায় হাঁড়ি পাতিলও ধোয়া যায় না।
মগবাজার ওয়ারলেস রেলগেট এলাকার ৭০ স্বরলিপি সোনালীবাগের বাসিন্দা এজাজ রসুল সোহেল বলেন, পানিতে প্রচুর দুর্গন্ধ। ওয়াসার পানি দিয়ে মুখ ধুলে চোখ জ্বলে। ৩৬৪/বি মধুবাগের বাসিন্দা নার্গিস আক্তার জানান, লাইন দিয়ে ঘোলা পানি তো আসেই, পানির সঙ্গে প্রায় ময়লা আসে। ট্যাবের মুখে প্লাস্টিকের ছাকনি ব্যবহার করতে হয়। দুই সপ্তাহ পরই ছাকনিগুলো আর  ব্যবহার উপযোগী থাকে না। তিনি বলেন, লাইনের পানি ফুটানোর পর ফিটকিরি দিলেও পরিষ্কার এবং দুর্গন্ধমুক্ত হয় না। তারপরও আমাদের প্রতিদিন সে পানি পান ও নিত্য ব্যবহার করতে হয়।
রাজধানীর রামপুরা উলন এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গ্রীষ্মকাল এলেই এই এলাকায় পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। এলাকাবাসী পানির জন্য হাহাকার করে। শীতকালে এই সমস্যা কিছু কম হলেও বিশুদ্ধ পানির অভাবে দুঃসহ জীবন। ঘোলাটে, দুর্গন্ধ আর ময়লা পানি পান করা তো দূরের কথা অন্যান্য কাজ করারও উপযোগী থাকে না।
সাউথ পয়েন্ট স্কুলের শিক্ষিকা মনিরা তমা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম রামপুরার উলন এলাকায় বসবাস করছেন তিনি। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে খুব একটা স্বস্তিতে নেই। বাসায় ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত পানিই এই অস্বস্তির কারণ। এই পানি পান করা তো দূরের কথা অন্য কাজও করা যায় না। মনিরা তমা বলেন, গত এক বছর ধরেই এই সমস্যা। ঘোলা পানি। আর দুর্গন্ধ তো আছেই। খাওয়ার জন্য বাইরে থেকে ফিল্টার করা পানির জার কিনতে হয়। একদিকে ওয়াসার বিল দিচ্ছি আবার আলাদা করে খাওয়ার জন্য টাকা দিয়ে পানি কিনতে হচ্ছে। এটা শুধু আমার বাসায় নয় আশপাশে অনেকেই এ সমস্যায় জর্জরিত। একই সমস্যা রামপুরার আশপাশের এলাকাতেও।
উলন, মীরবাগ, মীরের টেক, মধুবাগ, মগবাজার ওয়্যারলেস ও সোনালী বাগ এলাকায় সরজমিনে বাসিন্দাদের দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে। এসব এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই পানির এই সংকটে ভুগছেন। জানা যায়, গত বছর সুয়ারেজের কাজ করার পর থেকে পানির এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এসব নিয়ে বারবার ঢাকা ওয়াসা বরাবর জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাননি বাসিন্দারা। ভুক্তভোগীদের অনেকে জানান, নিয়মিত সরবরাহ থাকলেও যে পানি পাইপে আসে তা ব্যবহার অযোগ্য। ময়লা আর দুর্গন্ধ থাকায় স্পর্শও করা যায় না। রামপুরার উলনের বাসিন্দা নাসরিন সুলতানা বলেন, ওয়াসার লাইন থেকে ঘোলা পানি পাচ্ছি। লাইনে কালো পানি আসছে। এগুলো দিয়ে কোনো কাজই করা যায় না। তিনি বলেন, আমার বাবার বাসা বাড্ডায়। ব্যবহারের জন্য সেখান থেকে পানি আনতে হয়। পানির অভাবে খুব কষ্টে আছি আমরা। উলন রোডের আরেক বাসিন্দা ওমর ফারুক বলেন, আমাদের এখানে পানি ঠিকমত আসে। কিন্তু যে পানি পাচ্ছি তা খাওয়া যায় না।
ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত। খাবার তো দূরের কথা বাসাবাড়ির অন্য কাজেও ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। মাস ছয়েক আগে পাশের একটি রাস্তায় স্যুয়ারেজের কাজ করা হয়েছে। সেই থেকে এলাকার মানুষ পানির এই সমস্যায় আছেন। অনেকে বিভিন্ন জায়গা থেকে কিনে এনে খাবার পানির ব্যবস্থা করে। মীরবাগ এলাকায় গিয়েও একই অবস্থার অবস্থা লক্ষ্য করা যায়। এই এলাকার আসিফুল হক নামের এক বাসিন্দা খাওয়ার জন্য দোকান থেকে ফিল্টার করা পানির জার কিনছিলেন। এ সময় মানবজমিনকে তিনি বলেন, এভাবে পানির জার কিনে খাচ্ছি অনেক দিন থেকেই। বাসায় পানি আছে। তারপরও কিনে পানি খেতে হয়। তিনি বলেন, আমরা পানির অভাবে অতিষ্ঠ। একই এলাকার নূর মোহাম্মদ নামের এক দোকানি বলেন, আমার বাসা এই গলিতেই। ভাত কয়দিন না খেয়ে থাকা যায়। কিন্তু পানি ছাড়া বাঁচা যায় না। খাওয়ার জন্য আমাদের পানি কিনতে হয়। ওয়াসার পানি দিয়ে গোসলও করা যায় না।
একই এলাকার বাসিন্দা সোহেল জানান, এই এলাকার পানির অবস্থা খারাপ। নাকের কাছেও নেয়া যায় না। আমরা এই সমস্যার দ্রুত প্রতিকার চাই। পানির সংকট শান্তিনগরেও। এই এলাকার  বাসিন্দা সুলতান মাহমুদ বলেন, বাসার পানির অবস্থা খুবই খারাপ। ময়লা আসে। রান্নাবান্না বা গোসলের কাজও করা যায় না। ফিল্টারের পানির মাধ্যমে কাজ সেরে নিতে হয়।
বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী তাকসিম এ খান মানবজমিনকে বলেন, এইসব এলাকা থেকে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। হোল্ডিং নম্বরসহ তথ্য দিলে ওয়াসা পানি পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নেবে।

ঘুরতে বের হওয়া পাঁচ বন্ধুর আর ফেরা হলো না

খুলনা-রূপসা সেতু বাইপাস সড়কে ট্রাক-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ৫ নেতা নিহত হয়েছে। এদের সকলের বাড়ি গোপালগঞ্জ। মর্মান্তিক এ ঘটনায় গোপালগঞ্জ শহর জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের বাড়িতে চলছে আহাজারি ও শোকের মাতম। সকাল থেকেই নিহতদের বাড়িতে ভিড় করেন স্বজন, প্রতিবেশী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। পরে জানাজা শেষে তাদেরকে স্ব স্ব কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। গত রোববার দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার সামনে জব্বার সড়কের কাছে হরিণটানা গেট নামক স্থানে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন- গোপালগঞ্জ শহরের সবুজবাগ এলাকার অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াদুদ মিয়ার ছেলে ও গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব হাসান বাবু, একই এলাকার মৃত আলাউদ্দিন শিকদারের ছেলে ও গোপালগঞ্জ সদর যুবলীগের সহ-সভাপতি সাদিকুল আলম, থানাপাড়ার গাজী মিজানুর রহমানের ছেলে ও জেলা ছাত্রলীগের উপ-সম্পাদক ওয়ালিদ মাহমুদ উৎসব, গেটপাড়া এলাকার আলমগীর হোসেন মোল্লার ছেলে ও জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সাজু আহমেদ এবং চাদমারী এলাকার ওয়াহিদ গাজীর ছেলে ও জেলা ছাত্রলীগের সদস্য অনিমুল ইসলাম গাজী। এদের মধ্যে সাদিকুল গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, খুলনা জিরোপয়েন্ট এলাকা থেকে যাত্রীসহ একটি প্রাইভেট (ঢাকা মেট্রো গ ৩৫-০০২৫) রূপসা সেতুর দিকে যাচ্ছিল।
এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ট ১৮-২৫৮৪) প্রাইভেটকারটিকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে প্রাইভেটকারে থাকা চালকসহ ৫ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। স্থানীয়রা জানায়, সড়কের মাঝখানে এক পথচারীকে (মস্তিষ্ক বিকৃত) বাঁচাতে গিয়ে প্রাইভেটকারটি আইল্যান্ড ক্রস করে ডানদিকের সড়কে চলে আসে। তখনই বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের সঙ্গে প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে প্রাইভেটকারটি ধুমড়ে-মুচড়ে যায় ও ট্রাকটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাইভেটকারের জানালা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে।
এর আগে, গতকাল ভোর সাড়ে ৫টার দিকে খুলনা থেকে নিহতদের লাশ গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে এসে পৌঁছায়। এ খবর পেয়ে ভোর রাত থেকেই হাসপাতালে ভিড় জমান নিহতদের স্বজন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, বন্ধু, সহপাঠীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সকাল সাড়ে ৭টার পর একে একে নিহতদের লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে পাঠানো হয় স্ব স্ব পরিবারের কাছে। বাদ জোহর নিহত ওই পাঁচ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতার জানাজা গোপালগঞ্জ শেখ ফজলুল হক মণি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। গোপালগঞ্জের ছাত্র ও যুব নেতাদের অকাল মৃত্যুতে জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক সংগঠন, জেলা আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শোকবার্তায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়েছে।
পিকনিকের বাস উল্টে স্কুলছাত্রী নিহত
খুলনায় পিকনিকের বাস উল্টে মেঘলা নামের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলার খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের চুকনগরের চাকুন্দিয়া জামেয়া এমদাদুল উলুম মাদরাসার পাশে বাসটি একটি কালভার্ট অতিক্রম করার সময় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত মেঘলা যশোর সদরের শ্যামনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী।
চিরিরবন্দরে গরু ব্যবসায়ী নিহত
চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান, চিরিরবন্দরে শ্যালোমেশিনের ইঞ্জিনচালিত ভটভটি উল্টে ঘটনাস্থলেই তৌফিকুল ইসলাম (৩৫) নামে এক গরু ব্যবসায়ী নিহত এবং দু’জন আহত হয়েছে। আহতদের দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সড়ক দুর্ঘটনাটি গতকাল দুপুর দেড়টায় উপজেলার সৈয়দপুর-দশমাইল মহাসড়কের ঘাটেরপাড় নামক স্থানে ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ওই সময় সৈয়দপুর থেকে শ্যালোমেশিনের ইঞ্জিনচালিত ভটভটিতে করে ৫-৬ জন লোক উপজেলার রাণীরবন্দরহাটে গরু ক্রয়ের জন্য আসছিল। আসার পথে ভটভটিটি ওই স্থানে পৌঁছলে অকস্মাৎ সামনের চাকার সকার ভেঙে গিয়ে গাড়িটি মহাসড়কের উপরে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই গরু ব্যবসায়ী তৌফিকুল ইসলাম নিহত এবং অজ্ঞাতনামা দু’জন আহত হন। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রেরণ করেন। নিহত তৌফিকুল ইসলাম পার্বতীপুর উপজেলার যশাই ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের  ভেরুয়াডাঙ্গাপাড়ার মমতাজ আলীর ছেলে।
নওগাঁয় বাসচাপায় সাইকেল আরোহী নিহত
নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, নওগাঁ শহর বাইপাস সড়কের পালকি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে পিকনিকের বাসচাপায় জিয়াউল হক (জিয়া) নামে এক বাইসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় পিকনিকের ৩টি বাস আটক করে ভাঙচুর করেছে উত্তেজিত জনতা। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত জিয়াউল হক জিয়া নওগাঁ শহরের পার নওগাঁ চক আবদাল এলাকার আবু তালেব সরদারের ছেলে।
গজারিয়ায় নিহত ৩
স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ থেকে জানান, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় কাভার্ডভ্যানের পেছনে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চালকসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে উপজেলার ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল অফিসার সিদ্দিকুর রহমান (৭০), তার স্ত্রী জেসমিন সুলতানা (৬৬)। তাদের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়ায়। প্রাইভেটকার চালক আবদুল্লাহ সরকারের (৩৩) বাড়ি চাঁদপুরের দক্ষিণ মতলবের শিবপুরে। ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশের টিআই জহিরুল ইসলাম জানান, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চাঁদপুর থেকে ঢাকামুখী একটি কাভার্ডভ্যানের পেছনে একইদিক থেকে আরেকটি প্রাইভেটকার ধাক্কা দেয়। এতে প্রাইভেটকারের দুইযাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। প্রাইভেটকার চালককে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়। মরদেহ তিনটি ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে রয়েছে।

পানশালার পরিচারিকার সঙ্গে ১০ ঘন্টা ওয়েনে রুনি, অতঃপর...

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একজন বারমেইড বা পানশালার পরিচারিকার সঙ্গে টানা ১০ ঘন্টা ড্রিঙ্কিং সেশন কাটিয়েছেন ইংল্যান্ড ফুটবলের সাবেক অধিনায়ক, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও এভারটনের সাবেক স্টাইকার ওয়েনে রুনি। এমন দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হওয়ার পর ভীষণ চটেছেন তার স্ত্রী কোলিন রুনি। শোনা যাচ্ছে তাদের দাম্পত্য জীবন ঝুলে আছে এখন। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডয়ার ক্লিয়ারওয়াটার বিচে গত সপ্তাহে ওই পানশালার পরিচারিকা ভিকি রোজেকের পাল্লায় পড়েন রুনি। এ সময় তিনি ডিসি ইউনাইটেডের টিমমেটদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন। অকস্মাৎ সবার চোখের আড়ালে চলে যান ওয়েনে রুনি। তাকে দেখা যায় একটি গাড়িতে ওই পরিচারিকা রোজেকের সঙ্গে।
এক পর্যায়ে তাদেরকে দেখা যায় একটি পানশালায়। সেখানে রোজেকের সঙ্গে তিনি ১০ ঘন্টা সময় কাটান একান্তে। পরে রাত আড়াইটায় সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।
৩৩ বছ রয়সী রুনির ওপর এ জন্য ভীষণ ক্ষেপেছেন তার স্ত্রী কোলিন। দ্য সান পত্রিকা বলছে, রুনির এমন ব্যবহারে মন আবার ভেঙে গেছে স্ত্রী কোলিনের। তিনি তাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তুমি আবারও আমাকে অপদস্ত করেছে। এ ছাড়া কোলিন কখনো ওয়েনে রুনির ওপর ক্ষিপ্ত হন নি বলে বলা হয়। একটি সূত্র বলেছেন, রুনির এমন খবর পাওয়ার পর কোলিন রুনি আগুনের মূর্তি ধারণ করেন। তিনি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে, তার স্বামীকে আবারো আরেকজন নারীর সঙ্গে আবিষ্কার করবেন তিনি। এমনটা তার জন্য ছিল ভয়াবহ বিব্রতকর। বিষয়টি যখন কোলিন জানতে পারেন তখনই তিনি বৃটেনগামী একটি বিমানে উঠে পড়তে চেয়েছিলেন বাচ্চাদের নিয়ে। যাতে রুনি একা একা যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।
বিষয়টি ফাঁস হয় ওয়াশিংটন ডিসিতে একটি বিমানবন্দরে ওয়েনে রুনিকে মদ্যাপ অবস্থায় কয়েক সপ্তাহ আগে গ্রেপ্তারের পর। উল্লেখ্য, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অপরাধে ২০১৭ সালে তাকে একবার আদালতে হাজির হতে হয়েছিল।
সর্বশেষ ঘটনা সম্পর্কে বলা হয়েছে, রুনি তার ডিসি ইউনাইটেডের টিমমেটদের সঙ্গে পানীয় সেবনে যোগ দিয়েছিলেন গত সপ্তাহের একদিন স্থানীয় সময় ৪টা ২০ মিনিটে। কিন্তু পর মুহূর্তেই তাকে দেখা যায় পানশালার ওই পরিচারিকা রোজেকের (৩২) সাথে। এর মাত্র কয়েকদিন আগে রুনির সঙ্গে সাক্ষাত হয়েছে তার। ওই দিন রাতে ডিসি ইউনাইটেডের এই স্ট্রাইকারকে দেখা যায় ফ্লোরিডার একটি হুটারস বারের বাইরে ক্যাশমেশিন থেকে ক্যাশ তুলছেন। তারপর তারা একটি পানশালায় হারিয়ে যান ১০ ঘন্টার জন্য। তবে তাদের মধ্যে কোনো রকম শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। একটি সূত্র বলেছেন, স্বামীর এমন আচরণ নিয়ে এরই মধ্যে তাকে সতর্ক করেছেন কোলিন। এর আগে লরা সিম্পসন (৩০) নামে একজন পার্টি গার্লের সঙ্গে তিনি তিন বার গতিসীমা অতিক্রম করে গাড়ি চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। সে এখন থেকে দেড় বছর আগের ঘটনা। তখন থেকেই তার সংসারে সম্পর্কে আগুন জ্বলছে। ওই অপরাধে রুনিকে দুই বছরের জন্য গাড়ি চালনায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। তখন কোলিন অন্তঃসত্ত্বা। তাদের রয়েছে তিনটি ছেলে কাই, ক্লে ও কিট। তাদেরকে নিয়ে কোলিন ছিলেন স্পেনে অবকাশ যাপনে। ডিসেম্বরে রুেিক ওয়াশিংটনের ডালেস বিমানবন্দর থেকে নেয়া হয় নিরাপত্তা হেফাজতে। এ সময় তিনি পানীয়র সঙ্গে ঘুমের ওষুদ বহন করছিলেন। তাকে জরমানা করা হয়। তারপর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।