Friday, July 26, 2013

সীমান্তচুক্তি অনুস্বারে পররাষ্ট্র্রমন্ত্রীর শেষ চেষ্টা- দ্বারে দ্বারে ঘোরা স্বাধীন দেশের জন্য মর্যাদাকর নয়

সীমান্তচুক্তি ও প্রটোকল অনুস্বারের শেষ চেষ্টায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি গতকাল তিন দিনের সফরে দিল্লি গেছেন। ভারতের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমান্ত চুক্তির জট ছাড়াতে ভারতের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির সাথে আলোচনায় বসবেন ডা: দীপু মনি।

আসামির সাথে চেয়ারম্যানের বৈঠক- দুদক প্রভাবশালীদের স্বার্থরক্ষার প্রতিষ্ঠান

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না, তা নিয়ে শুরু থেকেই বিভিন্ন মহলের প্রশ্ন ছিল। দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকাণ্ডের কারণেই এসব প্রশ্ন উঠেছে।

অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে রোজা by মুফতি মুহাম্মাদ শোয়াইব

ইসলাম সূচনাকাল থেকেই শান্তিপ্রিয় সমাজ প্রতিষ্ঠা করার প্রতি জোর তাগিদ দিয়েছে। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) পৃথিবীতে আগমনের পর থেকে তিনি এমনই এক সমাজ গড়তে সচেষ্ট হন।

হাদিসে আত্মীয়তা সম্পর্ক by শাহীন হাসনাত

কারও সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করা, কাউকে হত্যা করা যেমন বড় অন্যায় ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তেমনি আত্মীয়দের মধ্যে পারস্পরিক অধিকার হকগুলো আদায় করে দেওয়া সওয়াবের কাজ

কপাল বটে! by আসিফ আহমেদ

একজন সংসদ সদস্য গ্রেফতার হয়েছেন সাংবাদিক পেটানোর অভিযোগে। তার অপরাধ ক্যামেরাবন্দি হয়ে রয়েছে। তিনি এবং তার সঙ্গীরা মিলে যখন একটি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক ও ক্যামেরাম্যানদের হেনস্তা করছিলেন, তখন তা টিভির ক্যামেরায় ধরা পড়ে।

রাজনীতির বল্গ্যাকহোল by মোয়াজ্জেম হোসেন ভূইয়া


আমরা চাই বা না চাই, আওয়ামী লীগ যে গাজীপুর নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনীতির কালো গর্তের দিকে ছুটে চলছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কেন এমন হলো তা সবারই জানা।

রাজনীতি-রাজনীতিতে ভারসাম্যহীন মেরুকরণ by সুভাষ সাহা

বাংলাদেশের রাজনীতি ভারসাম্যহীন মেরুকরণের দিকে এগোচ্ছে?
আমাদের দীর্ঘকালের ধর্মীয় সহনশীলতার আদর্শ ধর্মীয় গোঁড়ামির কাছে মার খাচ্ছে।

হৃদয়নন্দন বনে-একটু পেছন ফিরে দেখি by আলী যাকের

সেদিন এক বন্ধু ফেসবুকে একটি ছবি দিয়েছিল। ছবিটি হাতে আঁকা। ফাঁসির মঞ্চে, ফাঁসির দড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে ক্ষুদিরাম। আমি নিশ্চিত যে, ক্ষুদিরাম সম্বন্ধে পাঠকের সম্যক ধারণা আছে।

ভেজাল দুধের ব্যবসা- দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরসহ বাঘাবাড়ী মিল্কশেড এরিয়ায় আবার ভেজাল দুধের ব্যবসা শুরু হয়েছে বলে বুধবার সমকালে 'রাসায়নিক মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে দুধ' শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে।

যানজট নিরসন- সুপারিশ ভালো, সদিচ্ছাও চাই

রাজধানীর যানজট নিরসনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে ডিএমপির (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ) পেশ করা অর্ধশত সুপারিশকে আমরা স্বাগত জানাই। যদিও স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি এসব সুপারিশের প্রায় সবই জনসাধারণ্যে আলোচিত।

এক কিশোরী যৌনকর্মীর আত্মকাহিনী

এটি কোন কাল্পনিক লেখা নয়। ‘The Life Of A Child Prostitute নামে এই লেখাটি ইংরেজি ভাষায় প্রথম প্রকাশিত হয় মার্চ ২০০৯ সালে, Unicef Bangladesh পরিচালিত মাসিক পত্রিকা Newsletter এর ১১ তম ইস্যুতে।

তারেক রহমানের লন্ডন ঘোষণা by তানজির আহমেদ রাসেল

বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে অতীত নয়, ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নির্মাণে নিজের ভাবনাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

গুণীজন কহেন

ডাক্তাররা আমার মাথার এক্স-রে করেছেন এবং কিছুই পাননি।
ডিজি ডিন, মার্কিন বেসবল খেলোয়াড়

আমার বোনের বাচ্চা হবে।

দৈনিক মুক্তির বার্তা৯০ বছরের সাজা শেষ মুক্তি পেলেন গোলাম আযম

৯০ বছরের সাজা শেষে গতকাল মুক্তি পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযম। ২০১৩ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর দেওয়া রায়ে এই দীর্ঘ কারা ভোগ করেন তিনি।

রত্নার পরাণ পাখি

কিছুদিন আগেই চিত্রনায়িকা রত্না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। পড়াশোনার কারণে নেওয়া দীর্ঘ বিরতির পর আবারো নতুন ছবির ব্যস্ত হতে যাচ্ছেন তিনি।

সাভারে ভবনধস তবু জীবনের পথে পা by গোলাম মর্তুজা

সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) দেখা মিলল সাদ্দাম হোসেনের (২৮)। ডান হাতটা কনুইয়ের নিচে থেকে নেই। কাটা জায়গাটা শুকিয়ে গেছে। তবে ডান পায়ে এখনো ব্যান্ডেজ।

সরকারি হাসপাতালে ৫৮৫টি যন্ত্র বাক্সবন্দী by শিশির মোড়ল

দেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজ, জেলা ও সদর হাসপাতাল এবং উপজেলা হাসপাতালে ৫৮৫টি যন্ত্র পড়ে আছে। বাক্সবন্দী এসব যন্ত্র বিভিন্ন সরকারের আমলে হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

সরকারি জমিতে সাংসদ রনির দোতলা বাড়ি by ইশরাত হোসেন

সরকারি জমি এক বছরের জন্য বন্দোবস্ত নিয়ে শর্ত ভঙ্গ করে দোতলা পাকা বাড়ি করেছেন পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের সাংসদ গোলাম মাওলা রনি। এরপর সেই বন্দোবস্ত আর নবায়নও করেননি।

রাঙামাটিতে অপহরণের ১৭ দিন পর সেই পাঁচজন উদ্ধার

রাঙামাটি থেকে অপহরণের ১৭ দিন পর খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা থেকে আজ শুক্রবার ভোরে বি টেকনোলজির একজন প্রকৌশলীসহ অপহূত পাঁচ কর্মীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

শাহরি রমজান-রোজার মূল উদ্দেশ্য by মাওলানা শোয়াইব ইজহার

মানুষ যে কাজই করে না কেন, তাতে দুটি জিনিস অবশ্যই থাকে। একটি হলো উদ্দেশ্য অর্থাৎ যে জন্য সেই কাজ করা হয়। দ্বিতীয়টি হলো সেই উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য গৃহীত পন্থা।

ফিতরা জনপ্রতি ৬৬ টাকা

এবার ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৬৬ টাকা। সর্বোচ্চ ফিতরা এক হাজার ৯৮০ টাকা। গতকাল বৃহস্পতিবার বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অমর্ত্য সেনের মূল্যায়ন-বাংলাদেশের কাছ থেকে শিখতে পারে ভারত

'অর্থনীতির অনেক সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে ভারত এগিয়ে। কিন্তু সামাজিক উন্নয়নের সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে ভারত বেশ পেছনে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারে ভারত।'

এমপি রনি কারাগারে-দায় স্বীকার, ক্ষমা প্রার্থনা

সাংবাদিক হত্যাচেষ্টার মামলায় সরকারদলীয় সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনির জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টায় একটি সাদা রঙের গাড়িতে করে গোলাম মাওলা রনিকে আদালতে নেওয়া হয়।

লন্ডনে ইফতার অনুষ্ঠানে তারেক-এই মুহূর্তে প্রধান কাজ তত্ত্বাবধায়ক প্রতিষ্ঠা

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন মূল ইস্যু নির্বাচন নয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি। আর আগামী নির্বাচন হতে হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই।

চোরাই সোনা বিমানেই হাতবদলের কৌশল by এস এম রানা

চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে অবৈধভাবে আনা প্রায় সাড়ে ১৭ কেজি সোনা হাতবদল হয়ে যেত ইউনাইটেড এয়ারওয়েজেই। চট্টগ্রাম থেকে ওই বিমানে যাত্রীর ছদ্মবেশে ওঠার কথা ছিল একজন চোরাকারবারির।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সংক্ষিপ্ত বিচারিক ক্ষমতা পাবেন না-ডিসি সম্মেলনের সমাপনীতে আইনমন্ত্রী

সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বা মোবাইল কোর্টে সংক্ষিপ্ত বিচারের (সামারি ট্রায়াল) ক্ষমতা পাচ্ছেন না নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের শেষ দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত অধিবেশন শেষে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

ঈদে মহাসড়কে তীব্র যানজটের আশঙ্কা

মহাসড়কগুলোর স্থানে স্থানে হাটবাজার, অবৈধ স্থাপনা ও পার্কিংয়ের কারণে এবার ঈদে মানুষকে পড়তে হবে তীব্র যানজটের দুর্ভোগে। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-আরিচা, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের এ পরিস্থিতি উঠে এসেছে কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে।

ক্যান্সারাক্রান্ত শিশুর প্রতি বুশের ভালোবাসা

ক্যান্সারে (লিউকেমিয়া) আক্রান্ত এক শিশুর প্রতি সহমর্মিতা জানাতে নিজের মাথা কামিয়ে ফেলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডাব্লিউ বুশ। তাঁর মুখপাত্র গত বুধবার এ কথা জানিয়েছেন।

বো শিলাই অভিযুক্ত-ঘুষ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় চংচিং শহরের সাবেক প্রধান বো শিলাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংলাপ শুরু হতে পারে ৩০ জুলাই

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সরাসরি শান্তি আলোচনা আগামী ৩০ জুলাই ওয়াশিংটনে শুরু হতে পারে। ইসরায়েলের আঞ্চলিক উন্নয়নমন্ত্রী সিলভান শালোম গতকাল বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন।

কেড়ে নেওয়ার দাবি বিজেপির-ভারতরত্ন ফিরিয়ে দিতে রাজি আছেন অমর্ত্য সেন

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের ভারতরত্ন খেতাব প্রত্যাহারের অনুরোধ গতকাল বৃহস্পতিবার নাকচ করে দিয়েছে সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চা (ইউপিএ) সরকার।

দিল্লিতে বাসে গণধর্ষণ মামলা-কিশোর আসামির রায় ফের পেছাল

দিল্লিতে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ মামলার কিশোর আসামির রায়ের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। দিল্লির কিশোর বিচার আদালত আগামী ৫ আগস্ট রায়ের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

অনুমতিপত্রের অপেক্ষায় স্নোডেন

এডওয়ার্ড স্নোডেনকে মস্কোর শেরেমেতোভা বিমানবন্দরের ট্রানজিট এলাকা ছাড়ার অনুমতি দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেয়নি রাশিয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অনুমতিপত্রের অপেক্ষায় ছিলেন স্নোডেন।

প্রতিনিধি পরিষদে ভোট-নজরদারির পক্ষে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের রায়

টেলিফোনে আড়িপাতাসংক্রান্ত গোপন গোয়েন্দা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ। জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) গোপন এ কর্মসূচিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উত্থাপিত সংশোধনীর বিপক্ষে ভোট পড়েছে ২১৭টি।

আসলামের জার্সি by চন্দন চৌধুরী

পাড়াগাঁয়ের এক ঘরে খিল লাগিয়ে নিজেকে বন্দী করেছে ইব্রাহিম। ইচ্ছে থাকলেও শব্দ করে কাঁদতে পারছে না। এর মধ্যে পালানোর চেষ্টাও করেছিল। লাভ হয়নি। তবে ঘরে বসে কাঁদলে কী হবে, বাইরে উৎসব চলছে। অসংখ্য মানুষ আনন্দে লাফালাফি করছে। এসব দেখে ইব্রাহিমের অশ্রুধারা আরও বেড়ে যায়। নিজেকে রক্ষার উপায় আর খুঁজে পায় না। এর মধ্যে জয়নালকে বার কয়েক কুত্তার বাচ্চা শুয়োরের বাচ্চা বলে খিস্তি করতেও ছাড়েনি। অবশ্য মনে মনে। ইব্রাহিম চোখের জল ফেলতে ফেলতে দেখতে পায়, জলবিন্দুর ভেতরে ভেসে উঠছে তারই অতীতের ছবি।আসলামের জার্সি গায়ে দিয়েই মহল্লায় বের হয়েছিল ইব্রাহিম। দেখে তো সবাই অবাক। মহল্লায় তার কদর বেড়ে যায়। যারা আগে তাচ্ছিল্যের সুরে তুই-তোকারি করত, তুমি করে বলে। ছোটরা তো ইব্রাহিম ভাই বলতে অজ্ঞান। যার সাথে খেলোয়াড় আসলামের সখ্য, সে আর ফেলনা কেউ নয়! সুযোগে ইব্রাহিমও নিজেকে জাহির করতে ছাড়ে না, ‘আসলাম ভাই নিজে আমারে জার্সিডা দিছে। দিয়া কইছে, নেও ইব্রাহিম, আজ থাইক্যা এই জার্সিডা তোমার। ইডা গাও দিয়া তুমি খেলবা। আর দিবই না কেরে কন?
তাগো প্যাকটিস ম্যাছে এমুন খেইল দেখাইলাম, আসলাম ভাইরে কাটাইয়া গোল দিয়া দিলাম! দুই খান! আসলাম ভাই খেলার শেষে আমার কান্দে হাত রাইখা কয়, তুমি কোন ক্লাবে খেল? কইলাম, এখনো নাম লেখাই নাই। এরপর থাইক্যা আসলাম ভাইয়ের লগে খাতির।’মহল্লার বুড়োরাও ইব্রাহিমকে ভালো চোখে দেখে। এটা-সেটা খাইয়ে তাকে হাত করতে চায়। আসলামের জার্সিটা ছুতো করে ছুঁয়ে দেখতেও অনেকের লোভ। চা-দোকানি চায়ের দাম পর্যন্ত রাখে না। শত হলেও খেলোয়াড় আসলামের সাথে তার সখ্য বলে কথা! মহল্লায় একটা ক্লাব আছে। ক্লাবে যায় ইব্রাহিম। তবে খেলে না। অন্য খেলোয়াড়েরা তাকে খেলার জন্য জোরাজুরি করে, তবে সে মাঠে নামতে নারাজ। তরুণ খেলোয়াড়েরা ডেকে বলে, কিছু শিখাও না ইব্রাহিম ভাই। তবে ইব্রাহিমের সাফ কথা, ছোটখাটো মাঠে খেলে নিজের সম্মান খোয়াতে পারবে না। জয়নালই গ্রামের বাড়ি বেড়াতে যাবার প্রস্তাবটা দিয়েছিল। এক কথায় সে রাজি হয়ে গিয়েছিল। তবে গ্রামে জয়নালদের বাড়ি এসেই থমকে যায় ইব্রাহিম। এলাহি কাণ্ড। প্রথমে বিষয়টা ঠাওর করতে পারেনি। যখন বুঝল করার কিছুই থাকল না। এখন সে একলা ঘরে বসে কাঁদছে। বাইরে ব্যান্ড পার্টির বাজনার সঙ্গে নাচছে গ্রামের পোলাপানেরা। একলা ঘরে কতক্ষণ থাকা যায়! তবে বাইরে বেরোনোরও তো কোনো উপায় নেই। এই গ্রামে পা রাখার পর কম করে হলেও হাজার চোখ তাকে উৎসুক হয়ে দেখেছে। নিজেকে চিড়িয়াখানার প্রাণীর মতো লাগছে। পালানোর পথে একবার নৌকায়ও চড়েছিল। লাভ হয়নি। নৌকার মাঝি পর্যন্ত তাকে চেনে, ‘পিলার ভাই, চলেন আফনেরে মইধ গাঙ থাইক্যা ঘুরাইয়া লইয়াই।’
ফলে নিজেই মাঝিকে গাঁয়ের দিকে ফিরতে বলে ইব্রাহিম। আর হাড়-জিরজিরে পোলাপান তো নেড়ি কুত্তার মতো তার পিছু লেগেছে। তবু দরজা খুলে বের হয়। সেই আগের দৃশ্য, অসংখ্য চোখ তার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে। একে অন্যকে কানাকানি করে বলে, ‘দেখ, ঢাকাইয়া পিলার। আসলামের জার্সি পইরা নাকি খেলে। জয়নাল ভাই হেরে হায়ার কইরা আনছে। এইবার আমরা জিতমুই।’ জয়নালকে ডেকে ঘরে নিয়ে আসে ইব্রাহিম। তবে নিজের ভেতরের দবদবানি বুঝতে দেয় না। দরজায় খিল টেনে বলে, ‘তুই তো আমার লগে একটা ফাইজলামি করলি।’ জয়নাল হাসতে হাসতে বলে, ‘দোস্ত, তোর জইন্য তো ইডা কুনু ব্যাপার না। বুঝলি, আমরা গাঁওয়ের মানু, আমগোর পোলাপাইন তেমুন ভালা খেলে না। এই বছর কেমনে কেমনে জানি লীগের ফাইনালে উইঠা গেল। আমারে কইল ঢাকা থাইক্যা খেলোয়াড় নিয়া আইতে। তখনই চিন্তা করলাম তরে নিয়া আসার কতা।’ ‘তুই আমারে জানাইতে পারতি! আমার তো কুনু রহম প্র্যাকটিস নাই। তাছাড়া বুটও আনি নাই। নিজের বুট ছাড়া খেলতেই পারি না।’ ‘কুনু চিন্তা করিস না। তোর পায়ের মাপে নতুন বুট কিন্যা আনছি।’ তার পরও ইব্রাহিম এটা-সেটা বলে না খেলার অজুহাত দেখায়। কিন্তু জয়নালের এক কথা—তাকে খেলতেই হবে। যখন দেখল আর কোনো উপায় নেই, সত্য কথাটা বলে ইব্রাহিম, ‘আমারে মাপ কইরা দে দোস্ত। আমি মিছা কথা কইছি, আমি আসুলে খেলতে পারি না। আসলামে আমারে জার্সিও দেয় নাই। আমি বানাইয়া বানাইয়া এইগুলা কইতাম।’ এই কথা শুনে জয়নাল আরও জোরে হাসে। ভাবে ইব্রাহিম নিশ্চয়ই দাম বাড়াইতে চায়, ‘দেখ ইব্রাহিম,
এত ভং করবি না। তুই কি ভাবতাছস তোরে পয়সা দিমু না, মাগনা খেলামু! অইন্যখানে খেইল্যা যত ট্যায়া পাছ, হের থাইক্যা বেশি দিমু।’ ইব্রাহিম বুঝতে পারে, তালিবালিতে কোনো কাজ হবে না। তাই সত্যি সত্যি জয়নালের পায়ে জড়িয়ে ধরে, ‘দোস্ত, আমি কুনু খেলা পারি না।’ শুনে জয়নাল হাসে। বলে, ‘ফাঁকি দিতি চাস? কাম হইবে না, তোরে খেলতেই হইবো। ফাইজলামি রাইখা খেলার জইন্য তৈরি হ।’ ইব্রাহিম আবার বোঝানোর চেষ্টা করে, ‘বিশ্বাস কর, সইত্য কইতাছি, আমি কুনু খেলা পারি না। জীবনে একটাও শট দিই নাই বলে! আর তুই কিনা আমারে লীগের খেলায় খেলতে কছ?’ জয়নাল এবার বিগড়ে যায়, ‘এইসব বাজে কতা কইছ না তো। তুই এই একটা ম্যাচ খেইল্যা দে, আর কুনুদিন তোর কাছে কিচ্ছু চামু না।’ বলেই ঘর থেকে বের হয়ে যায়। ইব্রাহিমের সারা শরীর দিয়ে ঘাম বের হতে থাকে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, ‘মাফ কইরা দেও, আর জীবনেও মিছা কতা কইতাম না।’ সব চেষ্টা ব্যর্থ। ইব্রাহিমকে খেলতে যেতে হচ্ছে। মাঠের যত কাছাকাছি যাচ্ছে ততই বেড়ে যাচ্ছে হার্টবিট। বুকের দবদবানি শুধু নিজেই শুনতে পাচ্ছে। আশপাশে আনন্দ মিছিল। হইহুল্লোড়ের ভেতর নিজেকে ক্রমশ শক্তিহীন লাগছে। মনে পড়ছে আসলামের জার্সি চুরির কথা। ইব্রাহিম বসে ছিল গ্যালারিতে, মাঠের কাছাকাছি। একসময় গ্যালারিতে মারামারি লেগে যায়। সুযোগে সে মাঠে ঢুকে পড়ে। খেলাও একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। খেলোয়াড়েরা গা থেকে জার্সি খুলে রোদে শুকাতে দিয়েছিল।
সেদিন কোত্থেকে যেন ইব্রাহিমের শরীরে দুরন্ত বাজের শক্তি ধরা দেয়। মাঠসুদ্ধ মানুষের মধ্য থেকে ছোঁ মেরে সে জার্সিটিকে বগলদাবা করে ফেলে। তারপর তাকে আর কে পায়! জার্সিটি দ্রুত লুকিয়ে ফেলে শার্টের নিচে। মাঠ থেকে সোজা বাড়ি। জার্সি পরে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। নিজেকে বিভিন্নভাবে পোজ দিয়ে দেখে কেমন লাগে। সেই জার্সিই তার কাল হলো। তবে ফুটবল খেলতে নামেনি এমন নয়, জীবনে একবারই ফুটবল খেলতে নেমেছিল ইব্রাহিম। সেদিন একটা জোরালো শট এসে লেগেছিল তার চাপায়। তাতেই কাত হয়ে পড়েছিল মাঠে। এরপর কোনো দিন খেলতে নামেনি। আজ তাকে খেলতে হবে। আজ তার অনেক দায়িত্ব। এসব ভাবে আর নিজের ভেতরের কলিজা শুকানোর দৃশ্য আঁকে। অন্য খেলোয়াড়ের মতো সেও মাঠে নামার প্রস্তুতি নেয়। বুদ্ধি করে, একেবারে শেষের দিকে মাঠে নামবে। গ্রামের মানুষ তাতেও খুশি। কারণ তারা জানে, ভালো খেলোয়াড় শেষ দিকে নেমেই বাজিমাত করে। জয়নালও তাকে কিছু বলে না, মোট কথা খেললেই হলো। নিজের এবং প্রতিপক্ষ দলের অনেক লোক তাকে দেখতে আসে। লোকসংখ্যা যত বাড়ে ভয়ে ততই কেঁপে ওঠে বুকটা। মাঠে ভরপুর মানুষ। দুই দলের মধ্যেই কথা হচ্ছে তাকে নিয়ে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলেও ইব্রাহিম জানে, সে একটা মাকাল ফল। এরই মধ্যে খেলা শুরু হয়ে যায়। ইব্রাহিম চোখের সামনে শুধু অন্ধকার দেখে। নিজের মুখে জল ছিটিয়ে দেয় বার কয়েক। হাঁপাতে থাকে। নিজেকে প্রবোধ দেয়, ‘তুই জ্ঞান হারাইস না ইব্রাহিম।’ মনে মনে বলে, তার দল যেন তার মাঠে নামার আগেই গোলে এগিয়ে যায়। তাহলে তাকে মাঠে নামতে হবে না।
তবে এই আশা পূরণ হয় না। গোলশূন্যভাবেই কেটে যায় খেলার অর্ধভাগ। জয়নাল এসে বলে, ‘তরে নামতে ইইব।’ এই কথা শোনার পর ইব্রাহিমের মাথা দিয়ে যেন বাষ্প বেরোতে থাকে। কথা বলার সামান্য শক্তি জুগিয়ে বলে, ‘এরা ভালাই খেলতাছে। আমি নামমু না, এমুন তো কই নাই। শেষের দিকে নামমু।’ চারপাশের লোকজন তখন তার শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কথা বলতে থাকে, ‘বুঝলি ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে। এমুন সময় নাইম্যা গইল দিব আর শোধ করনের সময় থাকতো না!’ এদিকে ইব্রাহিম আবার আল্লারে ডাকে, ‘পাপ করছি, পাপ করছি আল্লাহ, মাফ কইরা দ্যাও, মাফ কইরা দ্যাও...।’ সময় গড়াতে থাকে আর বাড়তে থাকে খেলার উত্তেজনা। অন্যদিকে ঢকঢক করে পানি গিলে ইব্রাহিম। কোনো দল গোল করতে পারে না। এমন উত্তেজনার ভেতরই ইব্রাহিম স্বপ্ন দেখতে থাকে। সে যেন অনেক লোক দ্বারা বেষ্টিত হয়ে আছে। সেখানে একদিক থেকে মানুষ সরিয়ে তার সামনে এসে দাঁড়ান আসলাম। কী বলবে ভাষা খুঁজে পায় না ইব্রাহিম, ‘আসলাম ভাই, আমারে...।’ আসলাম তার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসেন, ‘আমার কিচ্ছু করনের নাই ইব্রাহিম। এই অবস্থা তুমি তৈরি করেছ, ফয়সালাও তোমারেই করতে হইব। বুঝতেই পারতাছ, ব্যাপারটা সোজা না। এই মাঠের হাজার হাজার দর্শক তোমার খেলা দেখার জন্য অপেক্ষা করতাছে। তোমারে মাঠে নামতেই হইব।’ তারপর হঠাৎই মেঘের মতো বাতাসে মিলিয়ে যান আসলাম। ইব্রাহিম দেখতে থাকে মানুষ নয়, তাকে ঘিরে আছে ডানাওয়ালা অসংখ্য মেঘ। এই মেঘগুলো একসময় ঝড় তুলবে। তারপর কঠিন ঝড়ে তাকে শুধু মাটিতে নয়, বাতাসে মিলিয়ে দেবে। এসব যখন ভাবছিল, জয়নালের ডাকে ইব্রাহিমের সংবিৎ ফেরে, ‘আর মাত্র দশ মিনিট আছে। এহনই তরে নামতে হইব।’ ইব্রাহিম বুঝতে পারে, সামনে মৃত্যু অপেক্ষা করছে। তাকে ফেরানোর কোনো উপায় নেই। সে যেন বসা থেকে দাঁড়াতেই পারছে না।
জয়নাল তাকে বসা থেকে টেনে তুলে ধাক্কা দিয়ে মাঠে ঠেলে দেয়। মাঠের ভেতর ঢুকে রীতিমতো কাঁপতে থাকে ইব্রাহিম। মনে মনে বলতে থাকে, আমার দিকে যেন বল না আসে। তবে দলের সব খেলোয়াড় তার দিকে একের পর এক বল পাস দিতে থাকে। এদিকে তার পায়ে হাঁটারই শক্তি নেই, দৌড়ানো তো দূরের কথা! বল ধরবে কী করে! বলকে ঠিক যমদূতের মতো মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে এটাই তার নিশ্চিত ঘাতক। রাইট কর্নারে তার দিকে মুহুর্মুহু বল আসতে থাকে। দু পা এগিয়েও বল ধরছে না ইব্রাহিম। দেখে সাপোর্টাররা বাইরে থেকে হইচই করে। ইব্রাহিমের খেলা দেখে তারা হতাশ, ‘ও মা, ঢাকাইয়া পিলার দেহি বলৈ ধরে না।’ তখনো কোনো দল গোল পায়নি। খেলা প্রায় শেষ হয় হয়, ইব্রাহিম দেখতে পায় এবার আর রক্ষা নাই, বলটা যেভাবে আসছে নিশ্চিত তার পায়ে এসে ঠেকবে। কী করবে চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়েছে সে। সামনে শুধু গোলকিপার। আর ইব্রাহিম দেখে শুধু ধোঁয়া, অন্ধকার। এই বলটাকে গোল না বানাতে পারলে দলের লোকজন কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে ছিঁড়েকুটে খেয়ে ফেলবে। মার খাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে ইব্রাহিম। তার পা বলটার দিকে যেতেই চাচ্ছে না। চোখ বন্ধ অবস্থায়ই সে দুর্বল পা-কে বলটার দিকে ছুড়ে দেয়। বলে পা লেগেছে কি না বুঝতে পারে না, পরপরই দাঁড়ানো থেকে লুটিয়ে পড়ে মাঠের ঘাসে। বুঝতে পারে তার ওপর একটার পর একটা মানুষ পড়ছে। লোকগুলো আজ তাকে হয়তো মেরেই ফেলবে। একটু পর দেখতে পায় সে আর মাটিতে নেই, শূন্যে ভাসছে। মানুষজন তাকে শূন্যে ছুড়ে দিয়েছে।

অ্যাসাঞ্জের দলের যাত্রা শুরু

রাজনৈতিক দল খুললেন বিকল্প ধারার সংবাদমাধ্যম উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। গতকাল বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে উইকিলিকস পার্টি (ডাব্লিউএলপি) নামে দলটির যাত্রা শুরু হয়েছে।

পাকিস্তানে যাচ্ছেন কেরি-তালেবানের কার্যালয় খুলছে

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ২৮ ও ২৯ জুলাই পাকিস্তান সফর করবেন তিনি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা সরতাজ আজিজের আমন্ত্রণে এ সফরে যাচ্ছেন তিনি।

মুক্তবুদ্ধির প্রাজ্ঞপুরুষ by আবুল আহসান চৌধুরী

বহুমাত্রিক ডক্টর কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭-১৯৮১) শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানসাধক, দাবাড়ু, সংগীত-সমঝদার, সাহিত্যসেবী—নানা অভিধায় চিহ্নিত হলেও তাঁর মূল পরিচয় সংস্কৃতিসাধক ও সমাজভাবুক মননশীল লেখক হিসেবেই। তাঁর প্রথম বই, প্রবন্ধসংকলন সঞ্চরণ, প্রকাশিত হয় ঢাকা থেকে ১৯৩৭-এ। এই বই সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন: ‘আপনি বিচিত্র ভাবকে এবং আলোচনার বিষয়কে স্বচ্ছ প্রাঞ্জল ভাষায় রূপ দিয়ে যে প্রবন্ধগুলি আপনার সঞ্চরণ গ্রন্থে প্রকাশ করেছেন তা পড়ে পরিতৃপ্ত হয়েছি। আপনার বলবার সাহস এবং চিন্তার স্বকীয়তা সাধুবাদের যোগ্য। সাহিত্যপথে আপনার অধ্যবসায় জয়যুক্ত হোক এই কামনা করি।’ রবীন্দ্রনাথের এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্য মোতাহার-মানস ও তাঁর রচনা-বৈশিষ্ট্যের প্রতি যথার্থ ইঙ্গিত দেয়। ‘স্বচ্ছ প্রাঞ্জল ভাষা’, ‘বলবার সাহস’ ও ‘চিন্তার স্বকীয়তা’র আদর্শ উত্তরকালে মোতাহার হোসেনের রচনাকে আরও মনোগ্রাহী ও স্বাতন্ত্র্যচিহ্নিত করে তোলে। তাঁর চিন্তা-চেতনায় যে সমাজমনস্কতা ও মুক্তবুদ্ধির পরিচয় মেলে, তা তিনি মূলত পেয়েছিলেন ঢাকার ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’-এর সূত্রে। প্রকৃতপক্ষে উনিশ শতকের দ্বিতীয় পর্ব থেকে বাঙালি মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও সাহিত্য-প্রয়াসের উদ্যোগ রচিত হয়। গড়ে ওঠে সমাজ ও সম্প্রদায় সম্পর্কে সচেতনতাবোধ। সমাজ-জাগরণের এই ধারায় প্রাণিত হয়ে বিশ শতকের তৃতীয় দশকে ঢাকায় গড়ে ওঠে ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’। বুদ্ধির মুক্তিই ছিল এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং সেই লক্ষ্য অর্জনের ভেতর দিয়ে একটি সংস্কারমুক্ত আধুনিক প্রগতিবাদী সমাজ গড়ে তোলাই ছিল এই প্রতিষ্ঠানের অন্বিষ্ট।
এই সংগঠনই মোতাহার হোসেনের মন-মনন-মানসে মুক্তবুদ্ধি ও প্রগতিচিন্তার বীজ বপন করে দেয় এবং কালক্রমে তিনি হয়ে ওঠেন মুক্তচিন্তার একনিষ্ঠ সাধক। ‘সাহিত্য-সমাজে’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও কর্ণধার এবং এই সংগঠনের মুখপত্র শিখার সম্পাদক হিসেবে তিনি যে মুক্তবুদ্ধি ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়েছেন, তা প্রতিফলিত হয়েছে তাঁর রচনায়। মোতাহার হোসেন তাঁর মননচর্চার প্রেরণায় পটভূমি ও তার উদ্দেশ্য-লক্ষ্য এবং বিষয় ও প্রকরণ সম্পর্কে নিজেই পাঠককে ধারণা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন: ‘বস্তুতঃ সমাজে সংস্কৃতি, শিল্প ও ধর্ম নিয়ে বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় ও তৃতীয় দশকে বাঙালী মুসলমান সমাজে যে নতুন চিন্তার উদ্্গম হয়—নব-জাগরণের সেই চিন্তার ধ্বনি আমাদের সকলের চিন্তায় আশ্রয় গ্রহণ করে। আমার অনেকগুলি প্রবন্ধে সেই মানসিকতার ছাপ রয়ে গেছে। বিশেষ ক’রে যে-গুলো ধর্ম, সমাজ, শিল্প, সংগীত ও সংস্কৃতি নিয়ে সে-গুলোর মধ্যে’। পাশাপাশি তিনি তাঁর রচনার শিল্পগুণ রক্ষার ব্যাপারে যে যথেষ্ট সচেতন ছিলেন, সে-বিষয়টিও স্পষ্ট করে বলেছেন: ‘একটি কথা আমি আমার পাঠকদের বলব, আমার লেখায় প্রসঙ্গক্রমে ধর্ম ও সমাজের কথা অনেকবার এসেছে, এসেছে সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানের কথা, শিল্প ও সংগীতের কথা—কিন্তু সে-সব কথা যাতে রিপোর্ট অর্থাৎ বিবরণী না হ’য়ে যায় সে দিকে আমার লক্ষ্য ছিল। আমি সাহিত্যকে সাহিত্য-রস থেকে বঞ্চিত করে বুদ্ধির ও বিজ্ঞানের ওকালতি করিনি। সে-জন্যেই রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত আমার প্রথম প্রবন্ধ-গ্রন্থ সঞ্চরণ-এর কিছু প্রশংসা করেছিলেন’। মোতাহার হোসেনের চিন্তা-চেতনার মূল ধারাটি তাঁর সমাজ, শিক্ষা, ধর্ম,
বিজ্ঞান ও ভাষা-সাহিত্য-বিষয়ক প্রবন্ধের মাধ্যমেই প্রকাশিত। তাঁর সমাজবীক্ষণ মূলত বাঙালি মুসলমান সমাজকেন্দ্রিক হলেও তা প্রসঙ্গক্রমে সমগ্র বাঙালি সমাজকেও অনেক সময় স্পর্শ করেছে। বাঙালি মুসলমানের সংকট-সমস্যা-অবক্ষয়-অনগ্রসরতার কার্যকারণ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। ‘বাঙ্গালীর সামাজিক জীবন’, ‘শিক্ষিত মুসলমানের কর্তব্য’, ‘সাম্প্রদায়িক বিরোধ’, ‘আনন্দ ও মুসলমানগৃহ’ প্রভৃতি প্রবন্ধে মোতাহার হোসেন বাঙালি মুসলমানের কুসংস্কারাচ্ছন্ন উত্থান-রহিত জীবন, শিক্ষা-সংস্কৃতির অভাব, দারিদ্র্যের নিষ্পেষণ, অন্তঃপুরবাসিনী মুসলিম নারীর দুঃসহ অবরুদ্ধ জীবন, হিন্দু-মুসলমানের সাম্প্রদায়িক বিবাদ ও বিভেদ এবং উভয়ের জীবনযাপনের তুলনামূলক চিত্র—মূলত এসব বিষয় তাঁর আলোচনায় এসেছে। সমাজ স্বভাবতই চলিষ্ণু—কিন্তু মুসলমান সমাজ স্থবির এবং তার বাস অজ্ঞতা-অশিক্ষা-কুসংস্কার-অনৈক্যের অন্ধকার বিবরে। মোতাহার হোসেন মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন, ‘জীবনের একটা প্রধান লক্ষণ হাসি ও আনন্দ’। ‘আনন্দধারা বহিছে ভুবনে’,—কিন্তু তাঁর চোখে ধরা পড়েছে, এই আনন্দ কেবল বাঙালি মুসলমানের জীবনে, মনে ও গৃহে অনুপস্থিত। তাঁর বিবেচনায় বাঙালি মুসলমানের কোনো ‘কালচার’ নেই। তার ওপরে সুশিক্ষা-সুরুচির অভাব আছে বলেই—‘মুসলমান গান গাইবে না, ছবি আঁকবে না, এক কথায় মনোরঞ্জনকর ললিতকলার কোনও সংশ্রবেই থাকবে না। মুসলমান পুরুষেরা কেবল কাজ করবে, আর ঘর শাসন করবে; মেয়েরা কেবল রাঁধবে বাড়বে, আর ব’সে ব’সে স্বামীর পা টিপে দেবে’ (‘আনন্দ ও মুসলমান গৃহ’, সঞ্চরণ)।
নারী—বিশেষ করে মুসলিম রমণীর জীবনের ছবিও তাঁর রচনায় পরম মমতায় আঁকা হয়েছে,—যে অবরোধবাসিনী রমণী পর্দা-প্রথার শাসনে ম্রিয়মাণ, ঘরকন্না-সন্তানপালন আর স্বামীসেবায় সমর্পিত, গৃহগত আনন্দ ও সুখ যাদের কাছে চির অধরা। শাস্ত্র-ধর্ম-সংস্কার-সমাজ-পরিবারের শাসনে ও চাপে এইসব রমণীর জীবনযাপন যে কতোখানি শোচনীয় ও দুর্বিষহ ছিল, তার খণ্ডচিত্র এই রকম: ‘... খেলা-ধুলা, হাসি-তামাশা বা কোনও প্রকার আনন্দ তারা করবে না—সব সময় আদব-কায়দা নিয়ে দুরস্ত হয়ে থাকবে’ (‘আনন্দ ও মুসলমান গৃহ’)। বাঙালি হিন্দু রমণী যেখানে শিক্ষার প্রভাবে ‘সমস্ত কর্মে পুরুষের সহকর্মিণী’ হয়ে উঠেছে, পাশাপাশি সামাজিক আনুকূল্য না থাকায় মুসলিম রমণী সেখানে অবরুদ্ধ জীবনযাপনে বাধ্য হয়ে ‘দিনগত পাপক্ষয়’ করে চলেছে। মোতাহার হোসেন এই অসম অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মন্তব্য করেছেন, ‘শিক্ষার চাঞ্চল্যে পর্দার কুহক কাটাইয়া উঠিতে না পারিলে তাহাদের সত্বর মুক্তি নাই’ (‘বাঙালীর সামাজিক জীবন’, সঞ্চরণ)। নারীশিক্ষা ও নারীজাগরণ সম্পর্কে তাঁর এই বক্তব্য নিছক তত্ত্বকথা ছিল না,—তাঁর আগ্রহ, সমর্থন ও প্রযত্নে নিজের পরিবারেও তার যথাযথ অনুশীলনে সক্রিয় ছিলেন তিনি। সমাজ-প্রগতি ও জাতীয় স্বার্থে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মসম্প্রদায়ের সামাজিক ঐক্য যে বিশেষ জরুরি, সেই বিষয়টির ওপরও তিনি জোর দিয়েছেন। বিশেষ করে দেশভাগের পর পূর্বাঞ্চলের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি উল্লেখ করেছেন: ‘হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের উন্নতি হইলে তবেই বাঙলা প্রদেশের উন্নতি হইতে পারিবে। অতএব যাহাতে সামাজিক ও ধর্ম-সংক্রান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রভেদ অগ্রাহ্য করিয়া মূল সূত্র ধরিয়া বৃহত্তর মানবতার ক্ষেত্রে মিলন সম্ভবপর হয়,
তাহার চেষ্টা করা প্রত্যেক শিক্ষিত হিন্দু-মুসলমানের কর্তব্য’ (‘শিক্ষিত মুসলমানের কর্তব্য’, সঞ্চরণ)। মোতাহার হোসেন পেশায় ছিলেন শিক্ষক। তাই তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা, শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষার ব্যবহারিক দিক ও প্রকৃত জ্ঞান-অর্জনে শিক্ষার ভূমিকা—এসব বিষয় নিয়ে গভীরভাবে ভেবেছেন। তাঁর সেই চিন্তাধারাকে সংক্ষেপে সূত্রাকারে এইভাবে প্রকাশ করা যায়: ‘কোন্্ জাতি কতটা সভ্য, তা নির্ণয় করবার সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মাপমাঠি হচ্ছে তার শিক্ষাব্যবস্থা, পাঠ্যপুস্তক ও সাধারণ সাহিত্য’ (‘শিক্ষা-প্রসঙ্গে’, কাজী মোতাহার হোসেন রচনাবলী, ২য় খণ্ড)। শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে মাতৃভাষাকেই তিনি সমর্থন করেছিলেন। মোতাহার হোসেনের ধর্মে বিশ্বাস ছিল, ছিল নিষ্ঠাও। ধর্মচর্চায় কখনো শৈথিল্য আসেনি তাঁর। কিন্তু ধর্মান্ধতা, গোঁড়ামি, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার কালিমা তাঁকে স্পর্শ করেনি কখনো। তিনি ধর্মকে উপলব্ধির বিষয় ও অন্তরের সম্পদ বিবেচনা করতেন। তাই ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারকে তিনি কখনো অনুমোদন করেননি। স্পষ্টই তাঁকে বলতে শুনি: ‘সচরাচর আমাদের ধর্ম মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে স্বার্থসিদ্ধির ব্যাপারে—অজ্ঞদিগের ধর্মোন্মত্ততা সৃষ্টি করে তার সুযোগ মতলব হাসিল করে নেবার জন্য—ভোট সংগ্রহ বা পার্টি গঠন দ্বারা প্রভুত্ব ও প্রতিপত্তি লাভ করবার উদ্দেশ্যে। আজকাল তাই দেখা যায়, ধর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজনীতির একটি প্রধান অস্ত্র। কিন্তু প্রকৃত ধর্ম যে এর থেকে স্বতন্ত্র বস্তু, এ কথা যেন আজকাল আমরা বুঝেও বুঝতে চাচ্ছিনে’ (‘বাংলা ভাষার নতুন বিন্যাস’, কাজী মোতাহার হোসেন রচনাবলী, ৩য় খণ্ড)। এই কথাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কত যে সত্য,
তা দেশের মানুষ নিয়তই মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পারছেন। মোতাহার হোসেনের বিজ্ঞানচিন্তা ছিল নিখাদ ও যুক্তিশাসিত। আমাদের দেশের অনেক মনীষীর মতো তিনি ধর্ম ও বিজ্ঞানের অযৌক্তিক সমন্বয় ও সরল সমীকরণে বিশ্বাসী ছিলেন না। তাই তিনি বলতে দ্বিধা করেন না: ‘বিজ্ঞান ও যুক্তির সহিত সংঘর্ষে (অর্থাৎ জ্ঞানবিচার ও বুদ্ধির ক্রমিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে) ধর্মের আনুষঙ্গিক বিশ্বাসগুলির যদি একটু পরিবর্তন হয় তবে তাহা দূষণীয় নহে বরং সেইটিই প্রয়োজন’ (সঞ্চরণ)। সক্রেটিস ও গ্যালিলিওর সত্য-প্রকাশের চরম পরিণাম-ফলের দৃষ্টান্ত টেনে এ কথাও তিনি বলেছেন: ‘... মত বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে পৃথিবীতে জ্ঞানের উন্নতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হত। বর্বরতা স্থায়ী করার শ্রেষ্ঠ উপায় হচ্ছে নতুনের সন্ধান ছেড়ে দিয়ে স্থায়ী হয়ে পুরাতনকেই আঁকড়ে বসে থাকা’। বিশ্বাস নয়, নির্ভুল তথ্য আর অকাট্য যুক্তিই বিজ্ঞানের প্রধান অবলম্বন—সিদ্ধান্তের মূল উপকরণ। তাই রক্ষণশীল শাস্ত্রবিশ্বাসী সাধারণের চোখে বিজ্ঞানীর স্বরূপ ভিন্নভাবে উদ্্ঘাটিত। তাদের কাছে বিজ্ঞানীকে ‘বস্তুতান্ত্রিক নির্মম বিশ্লেষক ও নাস্তিক’ আখ্যাও পেতে হয় অনেক সময়। কিন্তু তা-যে সঠিক মূল্যায়ন নয়, যুক্তি দিয়ে তা তিনি প্রমাণ করেছেন। ভাষা-সাহিত্য আলোচনা-বিশ্লেষণেও তিনি মুক্তদৃষ্টি ও নির্ভীক চিত্তের পরিচয় দিয়েছেন। সাহিত্যের সঙ্গে জীবন ও সমাজের যে একটা গভীর সম্পর্ক আছে, তা যে বায়বীয় কল্পনার বিষয় নয়, এই ধারণায় আস্থাবান ছিলেন তিনি। তাই এক আলাপচারিতায় তিনি ‘শিল্পের জন্য শিল্প’—এই তত্ত্বকে ‘ছেঁদো কথা’ বলে খারিজ করে দিয়েছিলেন। সাহিত্যের স্বরূপ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাঁর ধারণার প্রতিফলন ঘটেছে এই রচনায়: ‘মানবচিত্তের বিভিন্ন অবস্থায় রসযুক্ত সম্যক্্ প্রকাশ লইয়াই সাহিত্যের কারবার।
সাহিত্য কখনও বা অগ্রদূত হইয়া সমাজকে কল্যাণের পথে আহ্বান করে, আবার কখনও বা গভীর অন্তর্দৃষ্টি দ্বারা সমাজের প্রতিস্তরের প্রকৃত অবস্থা উদ্্ঘাটন করিয়া দেখায়। এইরূপে সাহিত্যের ভিতর দিয়ে একদিকে যেমন দেশের আশা-আকাঙ্ক্ষা উদ্বোধিত হয়, অন্যদিকে তেমনি দেশের চিত্তের প্রকৃত ইতিহাস রচিত ও রক্ষিত হয়’ (‘বাঙলা সাহিত্যের স্বরূপ’, সঞ্চরণ)। মোতাহার হোসেনের সাহিত্যবিষয়ক আলোচনাতে লেখকের সামাজিক ভূমিকা ও সেই সঙ্গে শিল্পবোধের বিষয়টিই মূলত গুরুত্ব লাভ করেছে। রাষ্ট্রভাষা, ভাষা-সংস্কার কিংবা হরফ-পরিবর্তন সম্পর্কে মোতাহার হোসেনের মত ছিল স্পষ্ট ও যুক্তিপূর্ণ। এসব বিষয়ে কখনো আবেগতাড়িত হয়ে নয়, বরং তথ্য ও যুক্তি দিয়ে তাঁর মত-প্রতিষ্ঠার প্রয়াস পেয়েছেন। রাষ্ট্রভাষা প্রসঙ্গে মোতাহার হোসেনের বক্তব্য ছিল স্পষ্ট, সাহসী ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন। ১৯৪৭-এর ১৫ সেপ্টেম্বর, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র এক মাসের মধ্যেই প্রকাশিত তাঁর ‘রাষ্ট্রভাষা ও পূর্ব-পাকিস্তানের ভাষাসমস্যা’ শীর্ষক প্রবন্ধে তিনি বলেছিলেন: ‘... পূর্ব-পাকিস্তানের রাজভাষা বা রাষ্ট্রভাষা বাংলাই হওয়া স্বাভাবিক ও সমীচীন। কোনও কোনও পরমুখাপেক্ষী বাঙ্গালীর মুখেই ইতিমধ্যে উর্দুর ঝনৎকার শুনা যাচ্ছে। কিন্তু এঁদের বিচার-বুদ্ধিকে প্রশংসা করা যায় না।... এ সমস্ত উক্তি ‘কলের মানুষে’র অবোধ অপুষ্ট মনেরই অভিব্যক্তি। এতে বাঙ্গালীর জাতীয় মেরুদণ্ড ভেঙ্গে যাবে।
এর ফল এই দাঁড়াবে যে বাঙ্গালী হিন্দু-মুসলমান ইংরাজ-রাজের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে অমনিই পাঞ্জাব-সিন্ধু-বেলুচিরাজের কবলে যেয়ে পড়বে।’ ওই একই প্রবন্ধে তিনি সতর্ক করে দিয়ে এ কথা উচ্চারণ করেছিলেন যে: ‘বর্তমানে যদি গায়ের জোরে উর্দুকে বাঙ্গালী হিন্দু-মুসলমানের উপর রাষ্ট্রভাষারূপে চালাবার চেষ্টা করা হয়, তবে সে চেষ্টা ব্যর্থ হবে। কারণ ধূমায়িত অসন্তোষ বেশী দিন চাপা থাকতে পারে না। শীঘ্রই তাহলে পূর্ব-পশ্চিমের সম্বন্ধের অবসান হবার আশঙ্কা আছে।’ ইতিহাসের পথ বেয়েই এ উক্তি চরম সত্যমূল্য লাভ করেছে। কেননা প্রকৃতপক্ষে ভাষা আন্দোলনই পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে মানসিক ব্যবধান রচনা করেছিল এবং বাঙালির স্বতন্ত্র জাতিসত্তার আন্দোলনকে ভিত্তি দিয়েছিল। বাঙালির এই গণজাগরণ ক্রম-পরিণতি লাভ করে মুক্তি-সংগ্রাম ও স্বাধীনতার আন্দোলনে—পূর্ব ও পশ্চিমের চিরবিচ্ছেদের ভেতর দিয়ে। এইভাবে গড়ে উঠেছে মুক্তজ্ঞান ও মুক্তচিন্তার সাধক কাজী মোতাহার হোসেনের মননের অক্ষয় মৌচাক। প্রগতি-ভাবনার এই মনস্বী পুরুষের কাছ থেকে উত্তরকাল চেতনা ও কাজে পাবে প্রত্যাশিত নিরন্তর প্রেরণা।

জর্জের জন্য কুমির ছানা

ব্রিটিশ রাজপরিবারের নতুন অতিথি জর্জের জন্য নানা উপহার এসেছে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে। খেলনা, দোলনা, জামা আরো কত কী! এত জিনিসের ভিড়ে ছোট্ট জর্জ অভিনব একটি উপহার পেয়েছে অস্ট্রেলিয়ার নর্দান টেরিটোরি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে।

মিসরে আজ পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ, উত্তেজনা চরমে

মিসরে আজ শুক্রবার সেনাবাহিনী ও ইসলামপন্থীদের ডাকা পাল্টাপাল্টি প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ঘিরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের আজকের সমাবেশের নিরাপত্তা নিচ্ছিদ্র করতে ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

স্পেনে ট্রেন উল্টে নিহত ৮০

স্পেনে যাত্রীবাহী একটি ট্রেন ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এতে কমপক্ষে ৮০ জন মারা গেছে। আহত হয়েছে ১৪৩ জন। গত বুধবার রাতে উত্তরাঞ্চলীয় গ্যালিসিয়া এলাকায় ট্রেনের আট বগির সবকটি লাইনচ্যুত হলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো জানা যায়নি।

মোদি ও বিতর্ক সমান্তরাল

নরেন্দ্র মোদি
বিজেপি যেদিন নরেন্দ্র মোদিকে দলের প্রচারাভিযানের প্রধান মুখ হিসেবে তুলে ধরেছে, বিতর্ক ও সমালোচনা সেই দিন থেকেই যেন সমান্তরাল রেললাইনের মতো দলটির চিরসঙ্গী। মোদিকেন্দ্রিক শেষতম বিতর্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে লেখা দেশের ৬৫ জন সাংসদের একটি চিঠি। এতে মোদিকে মার্কিন ভিসা না দিতে অনুরোধ করা হয়। তবে অন্তত আট-দশজন সাংসদ জানিয়েছেন, আট মাস আগে লেখা ওই চিঠিতে তাঁদের সই জাল করা হয়েছে। তাঁরা নিজে এতে সই করেননি। এই খবর প্রচারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আক্রমণাত্মক বিজেপি এই ‘জুয়াচুরির’ তদন্ত দাবি করেছে। বিজেপির মুখপাত্র নির্মলা সীতারামন বলেছেন, ‘লজ্জার কথা, দেশের নেতাকে রুখতে দেশেরই কেউ কেউ এখন বিদেশের থার্ড আম্পায়ারের দ্বারস্থ।’ মোদিকে মার্কিন ভিসা না দেওয়ার আর্জি জানিয়ে চিঠিটি লেখা হয়েছিল ২০১২ সালের নভেম্বরে। ভারতীয় সংসদের উভয় কক্ষের ৬৫ জন সদস্যের সইসংবলিত ওই চিঠিতে লেখা হয়েছিল, গোধরা দাঙ্গার নায়ককে যেন যুক্তরাষ্ট্র ভিসা না দেয়। আট মাস আগে লেখা সেই চিঠিই আবারও প্রেসিডেন্ট ওবামাকে পাঠানো হয়। আশ্চর্যের বিষয়, এই চিঠির কথা এবারই প্রথম জানাজানি হলো। চিঠিটা পাঠানো হয় সেই সময়ে, যখন বিজেপির সভাপতি রাজনাথ সিং যুক্তরাষ্ট্র সফরে মোদি-মাহাত্ম্য ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি তাঁকে ভিসা দেওয়ার জন্যও দরবার করছেন। খবরটি জানাজানি হওয়ামাত্র ক্ষুব্ধ বিজেপি নেতৃত্ব সমালোচনায় মুখর হন। প্রায় একই সময়ে সিপিএমের সাংসদ সীতারাম ইয়েচুরি, এনসিপির সঞ্জয় নায়েক, ডিএমকের একাধিক সদস্যসহ বেশ কয়েকজন দাবি করেন, তাঁরা এমন কোনো চিঠিতে সই করেননি। এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই বিজেপি গোটা বিষয়ের তদন্ত দাবি করে। বিজেপির মুখপাত্র শাহনওয়াজ হুসেন বলেছেন, ‘দেশের নেতাকে রুখতে বিদেশের কাছে এভাবে আর্জি জানিয়ে দেশেরই মর্যাদা জলাঞ্জলি দেওয়া হয়েছে।’ রাজনীতির মাঠে সুযোগ নিতে কংগ্রেসসহ অন্যান্য দল মোদির ‘সাম্প্রদায়িক চরিত্রকে’ বড় হাতিয়ার করতে চাইছে। যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে ভিসা দেবে কি না তার চেয়েও এই মুহূর্তে বড় হয়ে উঠেছে, মোদির সার্বিক বিরুদ্ধাচরণ। আর সেই বিরুদ্ধাচরণের অন্যতম প্রধান ফলা হয়ে উঠেছে মোদিরই দলের একাংশ। দলীয় নেতৃত্ব তো বটেই, সংঘ পরিবারের প্রধান মোহন ভাগবতের স্পষ্ট সাবধানবাণীকে উপেক্ষা করে একের পর এক বিজেপি নেতা মোদির বিরোধিতা করছেন। এই তালিকায় সাম্প্রতিক সংযোজন মধ্য প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান ও অভিনেতা সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা। দুজনেই সরাসরি বলেছেন, দেশ ও দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো নেতা একজনই, তিনি লালকৃষ্ণ আদভানি। ভারত সফররত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অন্যদের পাশাপাশি মঙ্গলবার দেখা করেছিলেন বিজেপি নেত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গেও। সুষমার ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, বাইডেনের সঙ্গে আলোচনায় বিজেপি নেত্রী ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসার কড়াকড়ি শিথিল করার বিষয়টি তুললেও মোদিকে ভিসা দেওয়ার প্রসঙ্গটি তোলেননি। সব মিলিয়ে মোদির বিষয়ে দলের একাংশের প্রকাশ্য বিরোধিতা ও বিরোধীদের আক্রমণ ভোটের অন্তত আট মাস আগে থেকেই ভারতীয় রাজনীতিকে মোদিময় করে তুলেছে।

বিমানপথে সোনা চোরাচালান-বন্ধ করতে হবে অবৈধ বাণিজ্য

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১২৪ কেজি ওজনের সোনার বার ধরা পড়েছে আর্মড ব্যাটালিয়ন পুলিশের হাতে, যার আনুমানিক মূল্য ৫৪ কোটি টাকা। এর আগে এত বিপুল পরিমাণ সোনা আর কখনো ধরা পড়েনি।

ক্যারোলিন কেনেডি জাপানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মনোনীত

ক্যারোলিন কেনেডি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত বুধবার দেশটির প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির মেয়ে ক্যারোলিন কেনেডিকে জাপানে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের জন্য মনোনীত করেছেন। ক্যারোলিন একজন আইনজীবী। তিনি ২০০৮ ও ২০১২ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় ওবামাকে সমর্থন করেছিলেন। তবে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন। তিনি আততায়ীর হাতে নিহত প্রেসিডেন্ট কেনেডি ও জ্যাকুলিন কেনেডি দম্পতির একমাত্র জীবিত সন্তান। সিনেট অনুমোদন দিলে ক্যারোলিনই হবেন জাপানে নিযুক্ত প্রথম নারী মার্কিন রাষ্ট্রদূত। ক্যারোলিনকে কী কারণে মনোনীত করেছেন ওবামা, এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত হওয়ায় কেনেডি লাইব্রেরি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কেনেথ আর ফাইনবার্গ এক বার্তায় ক্যারোলিনকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ক্যারোলিনের চেয়ে বেশি সামর্থ্য ও সততার সঙ্গে এ দেশকে অন্য কেউ তুলে ধরতে পারবেন বলে আমি চিন্তা করতে পারি না।’ বিবিসি।

সংলাপে আসুন-সংঘাত নয়, সমঝোতাই কাম্য

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২৫ অক্টোবর যদি বর্তমান সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়, তাহলে হাতে সময় আছে মাত্র তিন মাস। অথচ এখনো নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি নিয়ে প্রধান দুটি দল দুই মেরুতে অবস্থান করছে।

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, নিহত ৭৮

স্পেনের গালিসিয়ায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার
পর উদ্ধার তত্পরতা ষ ছবি: এএফপি
উত্তর-পশ্চিম স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গালিসিয়ায় গত বুধবার ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ৭৮ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১৪০ জনেরও বেশি। এ ঘটনা কয়েক দশকের মধ্যে দেশটিতে ভয়াবহতম ট্রেন দুর্ঘটনার একটি বলা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাহয় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন। গালিসিয়ার সান্তিয়াগো দে কম্পোসতেলা শহরে সেন্ট জেমস নামের একজন সন্তের সম্মানে অনুষ্ঠেয় উৎসবের প্রাক্কালে এ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটল। এটি ওই অঞ্চলের প্রধান বার্ষিক উৎসব। মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণে গতকাল বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত অনুষ্ঠানগুলো বাতিল করা হয়। প্রাথমিক খবরে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটিতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। স্থানীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় লাইনের একটি বাঁকে ট্রেনটির সর্বোচ্চ গতি থাকার কথা ছিল ৮০ কিলোমিটার। তবে তা ১৯০ কিলোমিটার বেগে বাঁকটি অতিক্রম করছিল। বিশ্বে তুলনামূলকভাবে স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনার নজির খুব কম। সংশ্লিষ্ট রেল কোম্পানি রেনফের প্রধান হুলিও গোমেজ পোমার জানান, বুধবার স্থানীয় সময় রাত আটটা ৪১ মিনিটে সান্তিয়াগো দে কম্পোসতেলা স্টেশনের তিন-চার কিলোমিটার দূরে একটি বাঁকে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় ট্রেনটিতে ২১৮ জন যাত্রী ও বেশ কয়েকজন কর্মী ছিলেন। ট্রেনটি গালিসীয় উপকূলের ফেরল শহর থেকে রাজধানী মাদ্রিদের মধ্যে চলাচল করে। দুর্ঘটনার পর প্রথম ঘটনাস্থলে পৌঁছান জেইমে তিহন নামের একজন দমকলকর্মী। তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর জায়গাটা নরকে পরিণত হয়।’ একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দুর্ঘটনায় ট্রেনের বগিগুলোর একটি আরেকটির ওপর উঠে যায়। একপর্যায়ে সবগুলো বগিই লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনের একজন যাত্রী বলেন, ‘আমি দ্বিতীয় বগিতে ছিলাম। অনেক যাত্রী একজন আরেকজনের নিচে চাপা পড়েন। আমরা বের হওয়ার চেষ্টা করি। এ সময় বগিতে আগুন জ্বলছিল। আমি অনেক লাশও দেখেছি।’ ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার পর স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাহয় বলেন, ‘আজকের দিনটি খুবই কঠিন। আমরা ভয়াবহ ও নাটকীয় এক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছি। আমার আশঙ্কা, এ দুর্ঘটনার জের আমাদের অনেক দিন বইতে হবে।’ তিনি দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের প্রতি সমবেদনা জানান। তদন্তকারীরা দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছেন। তদন্তের দায়িত্বে থাকা বিচারকের কাছে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের ব্ল্যাকবক্স হস্তান্তর করা হয়েছে। রেনফের প্রধান হুলিও বলেছেন, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটিতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। তিনি জানান, দুর্ঘটনার সকালেও ট্রেনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছিল। তা ছাড়া ট্রেনটির রক্ষণাবেক্ষণের রেকর্ডও ভালো ছিল। ১৯৭২ সালে স্পেনের আন্দালুসিয়ায় এক ট্রেন দুর্ঘটনায় ৭৬ থেকে ৮৬ জনের প্রাণহানি হয়। এর আগে ১৯৪৪ সালে লিয়ন প্রদেশে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা হয়। ধারণা করা হয়, ওই দুর্ঘটনায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়। বিবিসি।

আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার by সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল

কোনো কোনো দেশে আইনের শাসন বলতে ন্যায়বিচারকে বোঝানো হয়। আবার কোনো কোনো দেশে আইনের শাসন বলতে পক্ষপাতদুষ্ট অন্যায় বিচারকে বোঝানো হয়।

ফুকুশিমার অক্ষত একটি চুল্লির শীতলীকরণ পদ্ধতি অকেজো

সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত ফুকুশিমা পারমাণবিক প্রকল্পের অক্ষত একটি চুল্লির শীতলীকরণ পদ্ধতি গতকাল বৃহস্পতিবার সাময়িকভাবে অকেজো হয়ে পড়ে। প্রকল্পের পরিচালক প্রতিষ্ঠান টেপকো এ খবর দিয়েছে। প্রকল্পটির ক্ষতিগ্রস্ত একটি ইউনিট থেকে গত সপ্তাহ থেকে অব্যাহতভাবে রহস্যজনক বাষ্প বেরোচ্ছে। টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) জানিয়েছে, শীতলীকরণ পদ্ধতি মাত্র দুই ঘণ্টার জন্য অকেজো হয়ে পড়েছিল এবং এতে পারমাণবিক প্রতিক্রিয়া ঘটার মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তবে সুনামিতে আক্রান্ত পারমাণবিক প্রকল্পটি যে এখনো বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে, এ ঘটনা সেই বিষয়টিকেই আবার সামনে এনেছে। ২০১১ সালের মার্চ মাসের ভয়াবহ সুনামিতে ফুকুশিমা দাইচি প্রকল্পের ছয়টি পারমাণবিক চুল্লির মধ্যে চারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তখন চুল্লিগুলোর শীতলীকরণ পদ্ধতি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনটি থেকে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। প্রকল্পের ৫ ও ৬ নম্বর চুল্লি ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও সেই দুর্যোগের সময়ের জ্বালানি এখনো চুল্লি দুটির ভেতরে রয়েছে। টেপকো জানায়, কর্মীরা বৃহস্পতিবার সকালে ৬ নম্বর চুল্লির ডিজেলচালিত সহায়ক জেনারেটর পরীক্ষা করতে গেলে চুল্লির শীতলীকরণ পদ্ধতি বন্ধ হয়ে যায়। গত সপ্তাহ থেকে পার্শ্ববর্তী ৩ নম্বর চুল্লি থেকে যে রহস্যজনক বাষ্প বের হওয়া শুরু হয় তা এখনো অব্যাহত আছে। কর্তৃপক্ষ এখনো এর কারণ বের করতে পারেনি। টেপকোর একজন মুখপাত্র বলেন, গতকাল স্থানীয় সময় বেলা একটার পরও কর্মীরা সেখান থেকে বাষ্প বের হতে দেখেছেন। কোম্পানির ধারণা, সঞ্চিত বৃষ্টির পানি কোনোভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওই বাষ্পের সৃষ্টি হতে পারে। এএফপি।

প্রতিরক্ষা বিভাগে মেরিন ও ড্রোন সংযুক্ত করতে চায় জাপান

নিজেদের প্রতিরক্ষা সামর্থ্য বাড়াতে জাপানের প্রতিরক্ষা বাহিনীতেও যুক্তরাষ্ট্রের মতো ‘উভচর’ মেরিন সেনা এবং চালকবিহীন গোয়েন্দা বিমান (ড্রোন) থাকা দরকার। জাপান সরকারের একটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আজ শুক্রবার অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনটি প্রকাশ করতে পারে। উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার অংশ হিসেবে আত্মরক্ষার সমন্বিত সামর্থ্য বাড়ানো প্রয়োজন বলে সরকারি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ‘আগেভাগে হামলার সামর্থ্যের’ মতো ভাষা ব্যবহার না করা হলেও প্রতিবেশীদের সঙ্গে উত্তেজনাকর সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে জাপানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে যে তর্ক-বিতর্ক চলছে তার প্রতিফলন ঘটেছে এতে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র পরিকল্পনা যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে হলে জাপানের উচিত অতর্কিত হামলার বিকল্প নিয়েও আলোচনা করা। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে খুবই সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে। কেননা, জাপানের সংবিধান শান্তিবাদী এবং দেশের মানুষও তাকে জোরালোভাবে সমর্থন করে। আবে সরকারের মধ্যপন্থী শরিকেরাও সেই আদর্শ মেনে চলে। প্রভাবশালী বামপন্থী পত্রিকা আশাহি এবং ডানপন্থী পত্রিকা ইয়োমিউরি জানিয়েছে, সরকারের ওই অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের মতো মেরিন সেনার সুপারিশ করা হয়েছে, যারা স্থলভাগেও অভিযান চালাতে পারে। এ ছাড়া জাপানের দূরবর্তী ভূখণ্ডে নজরদারি চালানোর জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ড্রোন অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ওই প্রতিবেদনে জাপানের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য প্রতিফলিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এএফপি।

অনলাইন থেকে-ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক

আজ (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির তিন দিনের সফরে নয়াদিল্লিতে পৌঁছার কথা। এ সফরকে মনে করা হচ্ছে আগামী আগস্টে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের আমন্ত্রণে শেখ হাসিনার সরকারি সফরের আগাম প্রস্তুতি।

কাগজপত্র পাননি স্নোডেন

মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেন গতকাল বৃহস্পতিবারও মস্কোর শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাননি। এর আগে গত বুধবার রুশ গণমাধ্যম জানায়, রাশিয়া স্নোডেনকে বিমানবন্দর ছাড়ার অনুমতি দিয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে পাবেন। জনগণের ওপর মার্কিন প্রশাসনের নজরদারির খবর ফাঁস করে হইচই ফেলে দেওয়া স্নোডেন গত ২৩ জুন থেকে শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরের ট্রানজিট এলাকায় অবস্থান করছেন। মার্কিন সরকার পাসপোর্ট বাতিল করায় তিনি কোথাও যেতে পারছেন না। লাভরভ-কেরি ফোনালাপ: রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বুধবার টেলিফোনে স্নোডেনের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু তাঁদের কথোপকথন স্নোডেনের ব্যাপারে সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। এদিকে রাশিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল ম্যাকফুল গতকাল স্নোডেনকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের জন্য আবারও রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। মস্কোকে চিঠি ওয়াশিংটনের: শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দর থেকে স্নোডেনের বের হওয়ার জন্য যখন রুশ কর্তৃপক্ষ কাগজপত্র তৈরি করছে, তখন স্নোডেনের ব্যাপারে অবস্থান ব্যাখ্যা করে বুধবার রাশিয়াকে চিঠি পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল রুশ বিচার মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা ২৪ জুলাই মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডারের কাছ থেকে ওই চিঠি গ্রহণ করেছে। এতে স্নোডেনকে নিয়ে কিছু বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তবে চিঠিতে তাঁকে বহিষ্কার কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রত্যর্পণ করার বিষয়ে কোনো অনুরোধ জানানো হয়নি। ম্যানিংয়ের বিচার শেষ পর্যায়ে: ওয়েবসাইট উইকিলিকসকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি মার্কিন সেনা ব্র্যাডলি ম্যানিংয়ের বিরুদ্ধে ‘শত্রুকে সহায়তা করার’ অভিযোগের বিচার শেষ পর্যায়ে রয়েছে।এএফপি।

নজরদারি নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব মার্কিন কংগ্রেসে নাকচ

মার্কিন সরকারের নজরদারি নিয়ে দেশে-বিদেশে সমালোচনার ঝড় উঠলেও বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব মার্কিন কংগ্রেসে নাকচ হয়ে গেছে। তবে এর বিরুদ্ধে ব্যাপক ভোট পড়ে। কংগ্রেসে বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি মাত্র ১২ ভোটের ব্যবধানে হেরে যায়। মনে করা হচ্ছে, এর ফলে মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসএ) জনগণের ফোন রেকর্ড ও অনলাইন তৎপরতায় নজরদারি করার আরও শক্ত ভিত্তি পেল। এনএসএর সাবেক কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেন সম্প্রতি এই নজরদারির তথ্য ফাঁস করলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে নজরদারি নিয়ন্ত্রণের পক্ষে ২০৫ ভোট পড়ে। বিপক্ষে পড়ে ২১৭ ভোট। ১১১ জন ডেমোক্র্যাট ও ৯৪ জন রিপাবলিকান নেতা সংশোধনী প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। বিপক্ষে ভোট দেন ৮৩ জন ডেমোক্র্যাট ও ১৩৪ জন রিপাবলিকান নেতা। নজরদারির প্রশ্নে এই ভোটাভুটিতে দুই মেরুর রাজনৈতিক শিবিরের অভিন্ন অবস্থানের বিরল দৃষ্টান্ত দেখল মার্কিন জনগণ। এই দুই মেরু হলো কট্টর রক্ষণশীল বলে পরিচিত ‘টি পার্টি’ রিপাবলিকান ও উদারপন্থী ডেমোক্র্যাট শিবির। উভয় শিবিরই নজরদারি প্রক্রিয়ার রাশ টানার বিপক্ষে ভোট দেয়। রিপাবলিকান নেতা ও মিশিগান থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য জাস্টিন অ্যাম্যাশ গত মঙ্গলবার সরকারি নজরদারি নিয়ন্ত্রণে একটি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ওই প্রস্তাবে শুধু সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় ছাড়া কারও ফোন বা অনলাইন তৎপরতায় নজরদারি বন্ধের প্রস্তাব করা হয়েছিল। শুরু থেকেই এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে হোয়াইট হাউস। জ্যেষ্ঠ রিপাবলিকান নেতারাও এই প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নেন। ভোটাভুটি শুরুর আগে জাস্টিন অ্যাম্যাশ অভিযোগ করেন, ‘কোনো তথ্য ছাড়াই সরকার প্রতিটি মার্কিন নাগরিকের ফোন রেকর্ড সংগ্রহ করছে। সরকার অধিকার লঙ্ঘনের এই বিষয়টিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’ ডেমোক্র্যাট নেতা আইনপ্রণেতা জিম মোরান নজরদারি নিয়ন্ত্রণের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট টুইটারে এক বার্তায় লিখেছেন, মার্কিন জনগণের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় এনএসএর সংস্কার জরুরি। এএফপি ও বিবিসি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতি by মো. আবু সালেহ সেকেন্দার

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আবারও অস্থির হয়ে উঠছে। ওই অস্থিরতার পেছনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশাপাশি শিক্ষকদের আন্দোলনও কমবেশি দায়ী। আর শিক্ষকদের আন্দোলনের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়,

‘শান্তিপূর্ণ’ বিক্ষোভের ডাক ব্রাদারহুডের

মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা মোহাম্মদ বাদাই গতকাল বৃহস্পতিবার দলীয় কর্মী-সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, আজ শুক্রবার কায়রোতে মুরসি-সমর্থক ও বিরোধীদের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ হবে। মিসরের ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে গত ৩ জুলাই সেনাবাহিনী ক্ষমতাচ্যুত করে। ওই দিন থেকে মুরসিকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়েছে। তাঁকে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সমর্থকেরা বিক্ষোভ সমাবেশ করে আসছেন। সেনাবাহিনীর প্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির ডাকে আজ মুরসিবিরোধী বড় ধরনের বিক্ষোভ হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে পলাতক ব্রাদারহুড নেতা মোহাম্মদ বাদাই মুরসি-সমর্থকদের ‘শান্তিপূর্ণ উপায়ে’ বিক্ষোভ করার আহ্বান জানালেন। এদিকে সেনাপ্রধান সিসির রাস্তায় নামার আহ্বানে সাড়া না দিতে জনগণকে পরামর্শ দিয়েছে মিসরের প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা শেখ ইউসুফ আল-কারাদাওয়ির নেতৃত্বাধীন সুন্নি মুসলিমদের একটি গোষ্ঠী। এমনিতেই কয়েক দিন ধরে মুরসির সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সহিংসতা চলছে। নতুন করে রাস্তায় নামার জন্য সেনাপ্রধানের আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে সহিংসতা আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। দোহাভিত্তিক সুন্নি সংগঠন কারাদাওয়ি ‘প্রজ্ঞার সঙ্গে’ এ সংকট মোচনের আহ্বান জানিয়েছে। মিসরের সর্বস্তরের নাগরিক, দল, সেনা ও পুলিশকে শান্ত থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানায় দলটি। এএফপি।

নির্বাচনে লড়তে দলের কাজ শুরু করলেন অ্যাসাঞ্জ

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ
উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ গতকাল বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম শুরু করেছেন। নিজের দেশ অস্ট্রেলিয়ায় নির্বাচনে লড়তে যাচ্ছেন তিনি। লাখ লাখ মার্কিন গোপন সরকারি নথি ফাঁস করে বিশ্বব্যাপী হইচই ফেলে দেওয়া উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাসাঞ্জ এ প্রসঙ্গে বলেছেন, তাঁর দলের প্রার্থীদের জয়ী করার অর্থ হচ্ছে দেশের ‘সেরা অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের’ সিনেটে জায়গা করে দেওয়া। উইকিলিকস পার্টি (ডব্লিউএলপি) সিনেটের উচ্চকক্ষের জন্য মোট সাতজন প্রার্থী দেবে। নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া রাজ্যে ভোটের লড়াইয়ে নামবে দলটি। অ্যাসাঞ্জ নির্বাচনে ভিক্টোরিয়া রাজ্যের একটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানিয়েছেন। অ্যাসাঞ্জ বলেছেন, তিনি ‘সরকারের কর্মকাণ্ডের একজন স্বতন্ত্র নিরীক্ষক’ হতে চান। দ্য অস্ট্রেলিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে অ্যাসাঞ্জ বলেন, ‘উইকিলিকস পার্টির মূল্যবোধের ভিত্তি হচ্ছে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার। এগুলোই হবে অস্ট্রেলীয়দের জন্য কর, সংস্কার, আশ্রয়প্রার্থী, জলবায়ু পরিবর্তন নীতি ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের আসল ভিত্তি।’ ব্রিটিশ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার এড়াতে অ্যাসাঞ্জ এক বছরের বেশি সময় ধরে লন্ডনে ইকুয়েডরের দূতাবাসে অবস্থান করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সুইডেনে যৌন হয়রানির মামলা হয়েছে। সুইডেন কর্তৃপক্ষ অ্যাসাঞ্জকে ওই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়। তবে অ্যাসাঞ্জের ভয়, সুইডেনে পাঠানো হলে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে। কারণ, গোপন নথি ফাঁস করার ঘটনায় ক্ষিপ্ত যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে বিচারের মুখে দাঁড় করাতে চাইতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় আগামী নভেম্বর মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাডের লেবার পার্টি ও টনি অ্যাবোটের নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যে। মতামত জরিপগুলো বলছে, নির্বাচনে অ্যাবোট সামান্য ব্যবধানে জয়ী হতে পারেন। অ্যাসাঞ্জ বলছেন, তাঁর পরিকল্পনা হচ্ছে রাজনীতিবিদদের সৎ থাকতে সহায়তা করা। তিনি বলেন, ‘ডব্লিউএলপিকে সিনেটে পাঠানো মানে অস্ট্রেলিয়ার সেরা অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সিনেটে পাঠানো। মূলত এ কারণেই অসৎ ক্যানবেরা সরকার সবচেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছে।’ এএফপি।

প্রবাসীদের চাকরির নিরাপত্তা by ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম, এমপি

জনশক্তি বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান সম্পদ। এই জনশক্তি রপ্তানির ফলে একদিকে বিভিন্ন দেশের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি যেমন উজ্জ্বল হয়েছে, তেমনি তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

রাজশিশুর নাম কেন জর্জ আলেক্সান্ডার লুইস?

মায়ের কোলে প্রিন্স জর্জ
প্রবাদ আছে, ‘বাজিকরেরা কখনো হারে না’। এ প্রবাদের আংশিক জয় হয়েছে। প্রিন্স উইলিয়াম-কেট মিডলটনের ছেলেশিশু হয়েছে। তার নাম রাখা হয়েছে জর্জ আলেক্সান্ডার লুইস। কিন্তু কেন এই নাম? ব্রিটিশ রাজপরিবারের নতুন অতিথির নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস।যুক্তরাজ্যে একসময় ছেলেদের জন্য জর্জ নামটি খুবই পছন্দের ছিল। জনপ্রিয়তায় এর পরের স্থানে যথাক্রমে আলেক্সান্ডার ও লুইস। লুইসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে লুইস মাউন্টব্যাটেনের নাম। তিনি ছিলেন বর্তমান রানির স্বামী প্রিন্স ফিলিপের চাচা এবং ব্রিটিশশাসিত ভারতের সর্বশেষ ভাইসরয়। প্রিন্স উইলিয়ামের দাদার দাদার নাম ছিল প্রিন্স লুইস। এ ছাড়া প্রিন্স উইলিয়ামের নিজের নামের মাঝেও আছে লুইস। জর্জ নামটিও ঐতিহ্য আর মর্যাদায় পিছিয়ে নেই। সেন্ট জর্জ ইংল্যান্ডের পৃষ্ঠপোষক সন্তু ছিলেন। তবে জার্মান বংশোদ্ভূত রাজা প্রথম জর্জের নাম থেকেই তা যুক্তরাজ্যে জনপ্রিয়তা পায়। নামটির শিকড় রয়েছে গ্রিসে। এ ছাড়া আরও পাঁচজন জর্জ যুক্তরাজ্যের সিংহাসনে আরোহণ করেন। আলেক্সান্ডার নামে ইংল্যান্ড বা যুক্তরাজ্যে কোনো রাজা ছিলেন না। তবে স্কটল্যান্ডে এ নামে তিনজন রাজা ছিলেন। আর আলেক্সান্ডার দ্য গ্রেট বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ ভূখণ্ড জয় করেছিলেন। ঐতিহাসিক এ তিনটি নাম যুক্ত করেই রাখা হলো যুক্তরাজ্যের সিংহাসনের তৃতীয় উত্তরাধিকারীর নাম। বিবিসি।

তিউনিসিয়ার বিরোধী দলের নেতা নিহত

তিউনিসিয়ার বিরোধী দলের নেতা মোহাম্মদ ব্রাহমি গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানী তিউনিসে নিজ বাড়ির সামনে আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়েছেন।ব্রাহমি দেশটির জাতীয়তাবাদী মুভমেন্ট অব দ্য পিপল পার্টির প্রধান। চলতি বছর এ নিয়ে বিরোধী দলের নেতা হত্যার এটা দ্বিতীয় ঘটনা। ব্রাহমিকে হত্যার পর তাঁর জন্মস্থান সিদি বুজিদ ও রাজধানীতে সমর্থকেরা ব্যাপক প্রতিবাদ করেছেন। এ সময় তাঁরা সরকারের পদত্যাগের দাবি জানান। দেশটির সবচেয়ে বড় শ্রমিক ইউনিয়ন আজ শুক্রবার সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে সেক্যুলার রাজনীতিক চোকরি বেলাইদ তিউনিসে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশে বিক্ষোভের মুখে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হামাদি জেবালি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তিউনিসিয়ায় এক গণ-অভ্যুত্থানে ২০১১ সালের প্রথম দিকে একনায়ক জয়নুল আবেদিন বেন আলি ক্ষমতাচ্যুত হন। পরবর্তী সময়ে ‘আরব বসন্ত’ নামে সেই গণজাগরণ মধ্যপ্রাচ্যের দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিবিসি।