Sunday, July 21, 2019

ডেঙ্গু আতঙ্কে রোগীরা, দুঃস্বপ্নে চিকিৎসকরা! by জাকিয়া আহমেদ

দিন যত যাচ্ছে, ততই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। রাজধানীর সরকারি-বেরসকারি হাসপাতালগুলোর কেবিন, ওয়ার্ড, বারান্দা—সব জায়গায়ই ডেঙ্গুরোগী-ভর্তি। চিকিৎসকরা বলছেন, অন্যান্য বছরের মতো তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, গায়ে র‌্যাশ ও বমি বমি দেখা যাচ্ছে না এবার ডেঙ্গু রোগীদের। কারণ ডেঙ্গুর ধরন বদলেছে। এখন ডেঙ্গু হলে সামান্য জ্বরেই রোগীর হার্ট, কিডনি ও ব্রেইন আক্রান্ত হচ্ছে। যে কারণে রোগীর মৃত্যুঝুঁকিও বাড়ছে অন্যান্য বছরের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি।  একইসঙ্গে রোগী দ্রুত শকে চলে যাওয়ারও আশঙ্কা বেড়েছে। এ কারণে এবার বেশিরভাগ ডেঙ্গু রোগীরই মৃত্যু হয়েছে ‘ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে’। এ কারণে ডেঙ্গু রোগ নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা বলছেন, কেবল রোগীরা নন,  চিকিৎসকরা ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। এদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)-এর মেয়র সাঈদ খোকনের সঙ্গে শনিবার (২০ জুলাই) বৈঠক শেষে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও)-ও।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নতুন ভবনের চার, পাঁচ, ছয়তলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি। শুক্রবার (১৯ জুলাই) কেবল ভর্তিই ছিল ১০০ জন। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ছিল ২৮৬ জন। এরমধ্যে শুক্রবার ছাড়পত্র নিয়েছেন ৬৬ জন।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের হিসাব অনুযায়ী চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে শুক্রবার (১৯ জুলাই) পর্যন্ত সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে ভর্তি থাকা রোগীর সংখ্যা পাঁচ হাজার ৫৬৬ জন। যার মধ্যে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন তিন হাজার ১৯ জন। আর মারা গেছেন পাঁচ জন। এর মধ্যে এপ্রিল ও জুনে দুইজন আর জুলাইতে একজন। যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি এই হিসেবের চেয়ে অনেক বেশি।

কন্ট্রোল রুমের হিসাব থেকে জানা গেছে, ডেঙ্গু রোগে গত জানুয়ারিতে ৩৭ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৯ জন, মার্চে ১৭ জন, এপ্রিলে ৫৮ জন, মেতে ১৮৪ জন, জুনে এক হাজার ৭৭০ জন এবং চলতি মাসের ১৯ তারিখ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন তিন হাজার ৫৩২ জন।

চিকিৎসকরা ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কের কথা বললেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন বারবার বলছেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।’

এদিকে শনিবার (২০ জুলাই) সাঈদ খোকনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও জানিয়েছে বাংলাদেশে ডেঙ্গুর অবস্থা উদ্বেগজনক। তবে সাঈদ খোকন ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আছে জানিয়ে বলেন, ‘বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেক বেশি। তবু, আমাদের আশেপাশের অনেক দেশের তুলনায় আমরা ভালো অবস্থানে আছি। পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আছে।’

অথচ ডেঙ্গু রোগী ও তাদের স্বজনরা বলছেন, আতঙ্ক কিকেবল মৃত্যুতেই? এত এত মানুষের ভোগান্তি, চিকিৎসা খরচ কি আতঙ্কের বিষয় নয়? এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতাল দৌড়ানো কি ভোগান্তিতে পড়ে না? পরিবারের একজনের ডেঙ্গু হলে অন্য সদস্যদের জন্য আতঙ্কের বিষয় নয়?

ডেঙ্গু আতঙ্ক নিয়ে মেয়র সাঈদ খোকনের বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে রাজধানীর দনিয়া এলাকার বাসিন্দা প্রকৌশলী এস এম মনির হোসেন বলেন, ‘পরিবারের তিনজনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। যে পরিস্থিতি চারিদিকে দেখা যাচ্ছে, তাতে করে এটা মহামারির দিকে যাচ্ছে। সিটি করপোরেশন থেকে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি আগে।’

মনির হোসেন আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু যে হবে, প্রতিবছর হয়, সেটা তো জানা কথাই। তারপরও সিটি করপোরেশন কোনও ব্যবস্থা নেয় না কেন? মশা মারার ওষুধ তো কোনোদিন দিতে দেখলাম না! এমন কোনও কর্মী এলাকায় দেখিনি। আমাদের এলাকার প্রায় বাড়িতেই ডেঙ্গু রোগী রয়েছে।’

এই বিষয়ে ঢামেকের মেডিক্যাল অফিসার রাশেদুল হাসান বলেন, ‘ডেঙ্গু মহামারি চলছে। ঢামেক হাসপাতালে তিল ধারণের জায়গা নেই। শুধু ডেঙ্গু রোগীদের জন্য শিগগিরই জরুরি ভিত্তিতে ২০০ বেডের একটি ইউনিট প্রয়োজন।’

ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহতা নিয়ে জানতে চাইলে রাজধানীর গ্রিন রোডে অবস্থিত গ্রিন লাইফ মেডিক্যাল কলেজন অ্যান্ড হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার সাবিলা মরিয়াম বলেন, ‘যেসব নারী ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারে (রক্তক্ষরণসহ জ্বর) আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের মিনস্ট্রুয়াল ব্লিডিং অনেক বেশি হচ্ছে। এসব রোগী শকে চলে যান দ্রুত, তাদের মৃত্যুঝুঁকিও বেশি। এর ফলে রোগীরা আতঙ্কিত হবেন, এটাই স্বাভাবিক।’

এদিকে, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু রোগ এখন তাদের কাছে দুঃস্বপ্নের মতো। এত রোগী যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারে, সেটা তাদের ধারণায়ও ছিল না।’

কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাপসাতালের চিকিৎসক তানভীর আহমেদ বলেন, ‘যারা সিটি করপোরেশনের দায়িত্বে রয়েছেনম তাদের বলবো, আমাদের সঙ্গে এসে বসে দেখুন, কেবল রোগী নয়, আমরাও আতঙ্কিত হচ্ছি।’ ডেঙ্গু নিয়ে অবহেলা না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ছেলেধরা আতংকে দেশের মানুষ: হুজুগে পিটিয়ে মানুষ হত্যা by মো. ওসমান গনি

সারাদেশে মানুষের মনে ছেলে ধরা আতংক বিরাজ করছে।যা নিয়ে দেশের মানুষের অস্থিরতা বিরাজ করছে। পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে’- ফেসবুকে এমন স্ট্যাস্টাস দিয়ে গুজব রটানোর পর সর্বত্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১০ দিনে

রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি জেলায় ছেলেধরা সন্দেহে ছয়জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত ২০জুলাই এরুপ সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে তিনজন। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। এরুপ গুজব ভিত্তিহীন বলে নিশ্চিত করেছে পদ্মাসেতু প্রকল্প পরিচালক।

তা ছাড়া গুজব রটানোর অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করেছে। তারপরও আতঙ্কে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না অভিভাবকরা। আবার স্কুলে পাঠালেও তাদের সঙ্গে স্কুলে যাচ্ছেন তারা।

তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হতে বলা হয়েছে, পদ্মাসেতুতে মাথা লাগার বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব। এমন সন্দেহে (ছেলেধরা) গণপিটুনিতে হত্যা করা ফৌজদারী অপরাধ। আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়ার আহ্বান ও জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।

গত ১০জুলাই থেকে ২০জুলাই (শনিবার) পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ, নেত্রকোনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ঢাকায় ছেলেধরা সন্দেহে ছয়জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আরো বেশ কয়েকটি জেলায় একই সন্দেহে বেশ কয়েকজন গণপিটুনিতে আহত হয়েছেন।

সর্বশেষ রাজধানীর উত্তর বাড্ডায়, নারায়ণগঞ্জ ও কেরাণীগঞ্জে ছেলেধরা সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

উত্তর বাড্ডায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানীয়দের দাবি, বোরকা পরিহিতি তিন নারী সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওই বিদ্যালয় ও এর পাশে একটি

মাদরাসার কাছে যান। তারা স্কুলের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। বাধার মুখে দু’জন পালিয়ে গেলেও আরেকজন গণপিটুনির শিকার হয়ে মারা যান।

নিহতের নাম তাসলিমা (৪০)। তার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর। সে আসলে ছেলেধরা

ছিল না। সন্দেহবশত তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

অপরদিকে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে দুই ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুই স্থানে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরো এক নারী।

মিজমিজি আল আমিন নগর এলাকায় আইডিয়াল ইসলামিক কিন্ডার গার্টেন স্কুলের প্লে-গ্রুপের এক শিক্ষার্থীকে সকাল ৮টার দিকে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল এক যুবক। ওই শিক্ষার্থী তাকে দেখে স্যার স্যার বলে চিৎকার করলে যুবকটি তাকে নিজের মেয়ে বলে পরিচয় দেয়। এ সময় ওই যুবককে দাঁড়াতে বললে সে একটি রিকশা নিয়ে চলে যাওয়ার

চেষ্টা করে। পরে আশপাশের লোকজন এসে তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর কিছুক্ষণ পর ওই এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে শারমিন বেগম (৩৫) নামে এক নারী এক প্রবাসীর বাড়িতে গেলে

তাকে ছেলেধরা সন্দেহে মারধর করা হয়। তবে নিহত যুবক ও আহত নারীর কেউ-ই ছেলেধরা নয় বলে জানিয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি শাহিন পারভেজ।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের হজরতপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে গত শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার

দিকে ছেলেধরা সন্দেহে অজ্ঞাত পরিচয় দুই যুবককে গণপিটুনি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে।

‍এর আগে গত ১৯জুলাই (বৃহস্পতিবার) নেত্রকোনা শহরের নিউ টাউন এলাকায় সজীব নামে

সাত বছর বয়সী এক শিশুর কাটা মাথা ব্যাগে ভরে ঘোরাফেরা করার সময় এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে স্থানীয়রা। চলতি মাসের ১০ তারিখে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের চাঁদগেটে ছেলেধরা সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে স্থানীয়রা। প্রথমে তার পরিচয় জানা যায়নি। পরে পুলিশ তার পরিচয় নিশ্চিত হয়। এবং সে

ছেলেধরা ছিল না বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদপুর থানার ওসি জি জি বিশ্বাস।

একই দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় ছেলেধরা সন্দেহে অজ্ঞাত (৩০) এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এছাড়া, ছেলেধরা সন্দেহে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে রেহেনা বেগম (৪৫) নামের এক নারীকে

আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় মমতাজ খাতুন (৪৫) নামে আরেক নারীকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। এক বাচ্চাকে আদর করতে গেলে সন্দেহবশত তাকে মারধর করা হয়।

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় গলাকাটায় জড়িত

সন্দেহে মালেকা খাতুন (৩৫) নামে এক নারীকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। পাবনার চাটমোহরে উপজেলার বনগ্রাম বাজারে রাসেল রানা (৩২) নামে এক যুবককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।

চট্টগ্রামের পটিয়াতে ২০ জুলাই (শুক্রবার) মধ্যরাতে একই সন্দেহে গণধোলাইয়ের শিকার

ব্যক্তির নাম মাসুদ (৩৮) নামে ব্যক্তি। তবে এরা কেউ-ই ছেলেধরা নয়; প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে এমনটি নিশ্চিত হয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।

দিনকে দিন ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত ও আহত হওয়া নিয়ে পুলিশের সদর দফতর হতে বলা হচ্ছে, গুজব ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীল

পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্রবিরোধী কাজের শামিল এবং গণপিটুনি দিয়ে মৃত্যু ঘটানো ফৌজদারি অপরাধ। ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়ে এ পর্যন্ত যতগুলো নিহতের ঘটনা ঘটেছে পুলিশ প্রত্যেকটি ঘটনা আমলে নিয়ে তদন্তে নেমেছে। এসব ঘটনা তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজের জন্য মানুষের মাথা লাগবে বলে যে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, মূলত তা থেকে এই ছেলেধরা গুজব রটানো হচ্ছে। তবে এই গুজবের বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ। গত ৯ তারিখে পদ্মাসেতুর প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি গুজবের

বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকতে বলা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজে মানুষের মাথা লাগবে বলে একটি মহল সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়াচ্ছে যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ব্রিজ নির্মাণে মানুষের মাথা প্রয়োজন হওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি গুজব।

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এরুপ গুজব রটানোর অভিযোগ গত ১৩ তারিখে নড়াইল, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা ও রাজবাড়ী থেকে মোট আটজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

যারা এরুপ গুজব রটিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে, তাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে আইন-শৃংখলা বাহিনী

সোচ্চার রয়েছে। এই ছেলে ধরা গুজব বন্ধ করতে হলে দেশের আইন-শৃংখলা বাহিনীর সাথে সাথে দেশের সচেতন মানুষদের কে এগিয়ে আসতে হবে।সাথে সাথে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে,মসজিদে,মন্দির গুলোতে ব্যাপক প্রচার -প্রচারনা চালাতে হবে।পাড়া-মহল্লায় এলাকার লোকজনদের কে মিটিং করে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

>>>লেখক- মো. ওসমান গনি (সাংবাদিক ও কলামিস্ট)

চাঁদে যাচ্ছে ভারত!

একদিকে নিল আর্মস্ট্রংয়ের চাঁদে অবতরণের ৫০ বছর পূর্তি পালন করছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। অন্যদিকে সেই চাঁদমুখী হচ্ছে ভারত। তারা আগামী ১৪ই আগস্টের মধ্যে চাঁদে নভোতরী পাঠানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। এমন যান ৬ই সেপ্টেম্বর নাগাদ চাঁদে অবতরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে শনিবার চন্দ্রনারায়ণ-২ মিশনের উৎক্ষেপণ রিহার্সেল অনুষ্ঠিত হয়েছে সফলভাবে। এ বিষয়ে ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশনের (আইএসআরও) সাবেক চেয়ারম্যান এ এস কিরণ কুমার একটি টুইট করেছেন। তাতে তিনি বলেছেন, ২২শে জুলাই অর্থাৎ আগামীকাল সোমবার চন্দ্রনারায়ণ-২ মিশন উৎক্ষেপণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত আইএসআরও। এক্ষেত্রে সফল রিহার্সেল সম্পন্ন হয়েছে শনিবার।
পারফরমেন্স ছিল স্বাভাবিক। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ।
তিনি আরো বলেছেন, চন্দ্রনারায়ণ-২ সোমবার উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত। আমাদের লক্ষ্য হলো আগামী ১৪ই আগস্ট চাঁদের দিকে যাত্রা শুরু করা। আর ৬ই সেপ্টেম্বরে নাগাদ চাঁদে অবতরণ। সমস্ত কর্মকা- পুরোদমে চলছে। তবে আমরা ২২ শে জুলাইয়ের ইভেন্টের জন্য প্রস্তুত।
এর আগে চন্দ্র অভিযানের মিশন পরিচালনা করার কথা ছিল গত ১৫ই জুলাই সোমবার। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তা বিলম্বিত করতে বাধ্য হয় আইএসআরও। এ বিষয়ে কথা বলেছেন এ এস কিরণ কুমার। তিনি বলেন,  এই মাত্রার যেকোনো ইস্যুতে আমরা বিভিন্ন দিক থেকে পরীক্ষা করে দেখি। এতে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তা সারিয়ে নিই। এখন আমরা প্রস্তুত।
১৫ই জুলাই সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করার কথা ছিল চন্দ্রনারায়ণ-২। উড্ডয়নের নির্ধারিত সময়ের এক ঘন্টা আগে এতে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। ফলে বিলম্বিত হয় উৎক্ষেপণ।  উল্লেখ্য, চন্দ্রনারায়ণ হলো ভারতের চাঁদ বিষয়ক সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী মিশন। জিওসিনক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিক্যাল-মার্ক ৩ (জিএসএলভি এমকে ৩) রকেট বহন করে নিয়ে যাবে চন্দ্রনারায়ণ ২। ওই রকেটটিকে ডাকা হয় ‘বাহুবলি’ । চন্দ্রনারায়ণ ২ পাঠানো হবে চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে। মজার বিষয় হলো চাঁদের এই এলাকায় এর আগে কখনো কোনোই অনুসন্ধান চালানো হয় নি। আইএসআরওর মতে, চন্দ্রনারায়ণ ২ এমন এলাকায় অবতরণ করবে যা চাঁদের সর্ব দক্ষিণে। এ যাবত ওই এলাকায় কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয় নি। এই নভোতরীতে আছে একটি অর্বিটার, একটি ল্যান্ডার ও একটি রোভার।

প্রিয়া সাহা’র বক্তব্য মুক্তিযুদ্ধের দর্শনকে অস্বীকার ও অবজ্ঞা করার সামিল

সম্প্রীতি বাংলাদেশ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের প্রিয়া সাহা’র বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, তার বক্তব্য দেশের শুভবোধসম্পন্ন সব মানুষের আবেগ ও অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।

সংগঠনের এক বিজ্ঞপ্তিতে আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সদস্য-সচিব ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল আজ বলেন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের প্রিয়া সাহা যে সব কথা বলেছেন, তা বাংলাদেশের হাজার বছরের চেতনা বিরোধী এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের দর্শনকে অস্বীকার ও অবজ্ঞা করার সামিল।

একইভাবে জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ মোর্চার পৃথক এক বিবৃতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বহিঃশক্তির কাছে এ ধরনের হস্তক্ষেপ কামনা করাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক অপরাধ হিসাবে অভিহিত করে এ বক্ত্যব মুক্তিযুদ্ধের দর্শনকে অস্বীকার ও অবজ্ঞা করার সামিল বলে মন্তব্য করা হয়েছে। সূত্র : বাসস

জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ মোর্চার নেতৃবৃন্দ আজ এক যৌথ বিবৃতিতে দেশে হঠাৎ করে সাম্প্রদায়িক উস্কানি সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের পরিকল্পিত চক্রান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করে যেকোনো মূল্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করার আহ্বান জানান।

সম্প্রীতির বিবৃতিতে বলা হয় , অন্য সবার মতো সম্প্রীতি বাংলাদেশ বিশ্বাস করে বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতি দীর্ঘকাল ধরে অসাম্প্রদায়িকতা ও সর্ব ধর্মের সুসম্পর্কের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে। এটা আজ প্রমাণিত সত্য যে, সর্ব ধর্মের সম্প্রীতি ঐতিহাসিকভাবে অটুট বলেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিজয়ী হয়েছি।

তারা বলেন, তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকার সব সাম্প্রদায়িক শক্তিকে কঠোর হাতে দমন করে প্রমাণ করেছেন ধর্ম যার যার বাংলাদেশ সবার।বিবৃতিতে দেশের সব মানুষ অসাম্প্রদায়িকতার চিরায়ত ঐতিহ্য ও দর্শনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে বলে সম্প্রীতি বাংলাদেশ আশা প্রকাশ করে।

জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ মোর্চার যৌথ বিবৃতিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যে কোনো চক্রান্ত রুখে দেয়ার আহবান জানিয়ে বলা হয় , “দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বহিঃশক্তির কাছে এ ধরনের হস্তক্ষেপ কামনা করা নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক অপরাধ বলে আমরা পরিষ্কারভাবে মনে করি।”

এ ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী অপতৎপরতাকে কেউ কেউ রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেই পরিণত করেছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে এ ধরনের সকল অপতৎপরতা বন্ধ করতে সংশি¬ষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে একই সাথে এসব অপরাধের বিচার দাবিও করেন বিবৃতিদাতারা ।

তারা বলেন, আশঙ্কাজনক হলো, রাষ্ট্রে যখন একটি গণতান্ত্রিক আবহ বিরাজ করছে, পুরো বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতি অপেক্ষা করে আছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের জন্য, তখনই দেশে নতুন করে চক্রান্ত মূলক উস্কানি ও পরিকল্পিত অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।

মোর্চার বিবৃতিতে স্বাাক্ষর করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, কবি ও সাংবাদিক অসীম সাহা, সম্প্রীতি বাংলাদেশ এর সদস্য সচিব ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুজ জাহের, বাণী ইয়াসমিন হাসি, বাপ্পাদিত্য বসু ,এফ এম শাহীন, অর্ণব দেবনাথ প্রমুখ।

ছেলেধরা সন্দেহে তিন জনকে পিটিয়ে হত্যা

ছেলেধরা সন্দেহে রাজধানীতে এক নারী, কেরানীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে দুই যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয়রা। শনিবার সকাল নয়টায় ঢাকার উত্তর বাড্ডার কাঁচাবাজার এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে গণপিটুনিতে মারা যান ৩৫ বছর বয়সী এক নারী। তার পরিচয় এখনো জানা যায়নি। এদিকে একইদিন সকালে নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার মিজমিজি আল আমিন নগর এলাকায় গণপিটুনিতে নিহত হয় ২৫ বছর বয়সী অজ্ঞাত এক যুবক। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে আটটার দিকে এক নারী উত্তর পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় স্কুলের সামনে প্রবেশপথে থাকা অভিভাবকেরা তাকে ভেতরে যাওয়ার কারণ জানতে চান। ওই নারী সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করাবেন বলে জানান। স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তি নেয়া হচ্ছে না জানিয়ে ওই নারীকে প্রধান শিক্ষিকার কক্ষে নেয়া হয়।
এ সময় চারপাশে খবর ছড়িয়ে পড়ে, স্কুলে ছেলেধরা এসেছে। এ খবরে স্কুলে লোকজন ভিড় জমায়। এর কিছুক্ষণ পরই ছেলেধরা সন্দেহে স্কুলের বাইরে এনে ওই নারীকে গণপিটুনি দেয়া হয়। পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি মারা যান। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে নারীর নাম-পরিচয় এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

>>>নারায়ণগঞ্জে ছেলেধরা সন্দেহে পৃথক দু’টি ঘটনায় গণপিটুনিতে অজ্ঞাত এক যুবক (২৫) নিহত ও অজ্ঞাত এক নারী (২৪) গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনা দু’টি ঘটেছে গতকাল সকালে সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পূর্বপাড়া আল আমিন নগর ও পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকায়। খবর পেয়ে পুলিশ অজ্ঞাত যুবককে উদ্ধার করে। অপরদিকে পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকায় রেশমা ওরফে শারমিন নামে ওই নারীকে উদ্ধার করতে গেলে এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের আধা ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এবং ওই নারীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে থানায় ও পরে হাসপাতালে পাঠান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল সকাল ৮টার দিকে মিজমিজি আল আমিন নগর এলাকার আইডিয়াল কিন্ডার গার্টেন স্কুলের ছাত্রী সাদিয়া (৭) কে কোলে নিয়ে এক যুবক হেঁটে যাচ্ছিল। এ সময় সাদিয়া চিৎকার শুরু করলে এক রিকশাওয়ালা যুবককে আটকায়। পরে স্কুলের এক শিক্ষক ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। তারা সাদিয়ার মা’কে খবর দিয়ে আনে। এবং যুবকটিকে চিনে কি না জানতে চাওয়া হয়। এ সময় সাদিয়ার মা বলেন না আমি তাকে চিনি না। পরে স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে তাকে গণপিটুনি দেয়। লাথি আর লাঠির আঘাতে এক সময় যুবকটি নিস্তেজ হয়ে মাটিতে পড়ে থাকে। এরপর কিছু লোক যুবকটিকে টেনে-হিঁচড়ে প্রায় ১০০ গজ দূরে ক্যানেলপাড়ে ফেলে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অপরদিকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাইনাদী নতুন মহল্লার শাপলা চত্ত্বর এলাকায় ইতালি প্রবাসী বিল্লালের বাড়ির চারতলায় খাদিজার ফ্ল্যাটে রেশমা নামে এক নারী প্রবেশ করে তার নাতি নাদিমকে (৩) পুতুল দেয়। এতে পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হলে বাড়িওয়ালাকে খবর দেয়া হয়। এ ঘটনায় ওই বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে পরে লোকজন। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন তাকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে পিএম-এর মোড়ে আল বালাগ স্কুলে আটকে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করতে গেলে উত্তেজিত লোকজনের সঙ্গে আধা ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ওই নারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে পাঠায়।
আহত নারী সাংবাদিকদের জানান, তার স্বামীর নাম সালমান মিয়া। তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঝিলমিল হাসপাতালের পাশে ভাড়া থাকে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর শাহীন শাহ্‌ পারভেজ জানায়, নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে এবং আহত নারীকে খানপুর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত ও আহতের বিস্তারিত পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ভালুকায় ছেলেধরা সন্দেহে নারীকে গণধোলাই
>>>ময়মনসিংহের ভালুকায় উপজেলার ধামশুর গ্রামে গতকাল দুপুরে ছেলেধরা সন্দেহে মালেকা খাতুন (৪০) নামে এক নারীকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। পরে আহত ওই নারীকে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভালুকা উপজেলার পাচগাঁও গ্রামের শাহ্‌ আলমের স্ত্রী মালেকা খাতুন ভালুকা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার জন্য যাওয়ার পথে ধামশুর সরকারি প্রাথমিক স্কুলে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় কতিপয় লোক তাকে ছেলেধরা সন্দেহে মারধর শুরু করে। পরে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ভালুকা হাসপাতালে ভর্তি করে। ওই নারী স্থানীয় একটি মোটরসাইকেল কারখানায় বোয়া হিসেবে কাজ করত। আহত মালেকা খাতুন জানান, শনিবার সকালে সে অসুস্থবোধ করায় কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে ভালুকা হাসপতালে আসার সময় শরীরটা ক্লান্ত হয়ে যায়। স্থানীয় একটি স্কুলের সামনে বিশ্রাম নিলে আমার সাথে থাকা বাজারের ব্যাগ দেখে স্থানীয়রা মারধর শুরু করে।
ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাইন উদ্দিন জানান, ধামশুর গ্রামে ছেলেধরা সন্দেহে এক মহিলাকে গনধোলাই দেয়ার খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
>>>ঢাকার কেরানীগঞ্জে ছেলেধরা গলাকাটা সন্দেহে গণপিটুনিতে ১ জন নিহত ও অপর ১ জন গুরুতর আহত হয়েছে। আহত ব্যক্তিকে গুরুতর আহত অবস্থায় মালঞ্চস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তাদের নাম পরিচয় এখনো পুলিশ জানতে পারেনি। তাদের উভয়ের বয়স হবে আনুমানিক ২৮ ও ৩০ বছরের মধ্যে। কেরানীগঞ্জ কলাতিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. চুন্নু মিয়া জানান, শুক্রবার রাতে হযরতপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে অপরিচিত ওই দুই যুবক উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাঘুরি করছিল। এ সময় তাদের গতিবিধি স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে এলাকাবাসীরা ছেলেধরা গলাকাটা সন্দেহে তাদের গণপিটুনি দেয়। এতে তারা দুইজনেই গুরুতর আহত হয়। সংবাদ পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। এ সময় হযরতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আয়নাল হোসেন আয়নালের উপস্থিতিতে আহত ওই দুই যুবককে উদ্ধার করা হয়। আহতদের চেয়ারম্যানের লোকজনের মাধ্যমে ১ জনকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও অপর ১ জনকে মালঞ্চস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকালে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জন মারা যায়। আহত অপর যুবকটি গুরুতর অসুস্থ থাকায় এই মুহূর্তে সে কোনো কথা বলতে পারছে না। সে একটু সুস্থ হলে তার ও নিহত যুবকের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হবে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাকের মোহাম্মাদ যোবায়ের জানান, হযরতপুরের রসুলপুর গ্রামের লোকজন গলাকাটা সন্দেহে অপরিচতি দুই যুবককে গণপিটুনি দেয়। এতে একজন মারা গেছে, অপর জন হাসপাতালে ভর্তি আছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি মামলা হবে। তবে নিহত ও আহত যুবক ছেলেধরা কিনা সে বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হবে।

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চান বিশিষ্টজনরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ বিরোধী অভিযোগ করা প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। বলছেন, প্রিয়া যে অভিযোগ করেছেন তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি যা বলেছেন তা সত্য নয়। দেশে নানা ধরনের নির্যাতনের ঘটনা আছে। তবে তা সার্বিক। কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ সত্য নয়। তিনি এ ধরনের অভিযোগ করে দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এ বিষয়ে সরকারের ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, এটা একেবারেই মিথ্যাচার। অত্যন্ত দুঃখজনক যে এমন একটি মিথ্যা তথ্য তিনি পরিবেশন করেছেন। এটা কিছুতেই মানা যায় না। আমাদের সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত দৃঢ়। সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে। তাকে দেশে এনে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। মিথ্যাচার করে দেশের নামে বদনাম দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে সমস্ত ধর্মের লোকদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য আছে।

প্রফেসর ইমেরিটাস ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এখন নিপীড়ন কেবল বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হচ্ছে না। এখানে গুম, বিচারবর্হিভুত হত্যা, দারিদ্র, নিরাপত্তাহীনতা, সড়কে মৃত্যু এগুলোতো বাংলাদেশের সাধারণ সমস্যা। এগুলো আলাদা কোনো সমস্যা না। সংখ্যালঘুদের যে সমস্যাটা এটা আমি মনে করি যে সাধারণ সমস্যারই একটি অংশ। তিনি যদি উপস্থাপন করতেন যে এখানে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই, এখানে বিচারহীনতা আছে, ধর্ষণ চলছে, শিশুহত্যা হচ্ছে এগুলো যদি তিনি তুলে ধরতেন তাহলে ভালো করতেন।

এখানে দুর্বলদের উপর নানা রকম নিপীড়ন করে। এগুলো আসল সত্য। নানান ধরনের মানুষই নির্যাতিত হচ্ছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘুদেরটা তুলে ধরা মানেই হলো এটা আরেকটি স্থানে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু এটা সাম্প্রদায়িক সমস্যা না। এটা হচ্ছে বৈষম্যের সমস্যা।        
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ বিষয়ে রানা দাশগুপ্ত বলেছেন তারা নাকি জানেন না কি হয়েছে। শুনেছি তার স্বামী সরকারি চাকরি করেন। সরকারি চাকরি করা একজনের স্ত্রী আমেরিকায় পৌঁছাল কিভাবে? যতটুকু জানি যে সরকারি চাকরিরত অবস্থায় সরকারের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারির পরিবার বিদেশ যেতে হলে সরকারের অনুমতি লাগে। সে আমেরিকা যেতে সরকারের কোনো ক্লিয়ারেন্স নিয়েছে কি না তা জানি না। এটাতো একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কথাবার্তা। বাংলাদেশে যে সাম্প্রাদায়িক সম্প্রীতি বিদ্যমান আছে এটাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিনষ্ট করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই সরকারের আমলে তারা বরং ভালো আছে। হঠাৎ এই সরকারের অবস্থানকে নিচু করে দেখানোর জন্য সরকারের বিরুদ্ধেই হয়তো একটি ষড়যন্ত্র হতে পারে। বাংলাদেশের সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য কারো হয়ে কাজ করছে কি না সেটাও হতে পারে। এখানে যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং মুসলমানদের মধ্যে একটি ভালো সম্পর্ক তা উপমহাদেশে আর কোথাও নেই। শ্রীলংকা, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে সাম্প্রদায়িক হানাহানি এবং একটি অসুস্থ অবস্থা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের কোনো সংখ্যালঘু লোক আমেরিকা বা অন্য কোথাও গিয়ে অভিযোগ করেছে তা আমি শুনিনি। তাহলে আমাদের দেশের মানুষের কি দেশপ্রেমের অভাব আছে নাকি? এটাও একটি প্রশ্ন হতে পার। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে এত উচ্চপদস্থ পর্যায়ে সংখ্যালঘুরা কর্মরত আছেন তারপরেও এ ধরনের অভিযোগ করার উদ্দেশ্য নিশ্চয়ই মহৎ বলে মনে হয় না। এই বক্তব্যকে নিঃসন্দেহে একজন দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে আমি গ্রহণ করতে পারি না। আমি আশা করব সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, কি বলবো। বলার কিছু নাই। পুরোপুরিই বানোয়াট এবং মিথ্যা কথা। তার সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ তাকে না পাঠালে সে ওখানে গেলো কিভাবে। সরকারকে এ বিষয়টি সিরিয়াসভাবে দেখা উচিত। এই মিথ্যা কথা বলার জন্য তাকে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত।

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, এই কাজটি প্রিয়া সাহা সঠিক করেননি। ট্রাম্পের কাছে সে কেন অভিযোগ করতে গেল? তিনি বলেন, সে যা বলেছে তার  তথ্যের ভিত্তি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, প্রথমত তার এ বক্তব্য সম্পূর্ণ অবাস্তব। খুবই দুঃখজনক ব্যাপার । সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য এটা হুমকি স্বরূপ। এটা শুধু বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেনি। বিদেশে বাংলাদেশের যেসব মানুষ আছে আমেরিকা তাদের জন্য আরো বেশি নিরাপত্তা এবং হয়রানির ঝুঁকি তৈরি করেছে। প্রিয়া সাহা কোনো উড়ে এসে জুড়ে বসা মানুষ না। তিনি বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক, বিভিন্ন মহিলা সংগঠনের নেত্রী। হঠাৎ করে তার অবস্থানের একটি মানুষ এ কথা বলতে পারে না। নিশ্চয় এই ধরনের চিন্তার চর্চা, এভাবে অবাধ দোষারোপ করা বা বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের সম্পর্কে দোষারোপ করার চিন্তার চর্চা এই সমাজে কোথাও না কোথাও হয়। না হলে চট করে একথাটা বলার কথা না তার মতো বয়সে এবং অবস্থানের মানুষের। এই ধরনের চিন্তার চর্চা কারা করে এটাই আসলে আমার খুব জানতে ইচ্ছা করে। দ্বিতীয়ত, আমি মনে করি বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ থেকে অবিলম্বে তাকে বহিষ্কার করা উচিৎ। তারা যদি সত্যিই মনে করে এটা তাদের বক্তব্য না তাহলে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা উচিৎ।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে, আমরা বিভিন্ন ফেসবুক পেজ-এ দেখতে পাচ্ছি যে প্রিয়া সাহার নাকি দুই মেয়ে আমেরিকায় থাকে। তার স্বামী সামান্য চাকরি করে। সামান্য চাকরি করা মানুষের দুই সন্তান আমেরিকাতে থাকবে কিভাবে। কোথা থেকে এই খরচ আসে সরকারের এগুলো তদন্ত করে দেখা উচিত। যে একটি পরিবার বাংলাদেশে থাকে এবং তার স্বামী এমন চাকরি করে তার দুই মেয়েকেই আমেরিকায় পড়াতে পারে। এখানে যদি তার এত অভিযোগ থাকে তাহলে আমাদের তদন্ত করে দেখা উচিত তাদের এতো স্বাচ্ছন্দের উৎসটা কি। বাংলাদেশ থেকে যদি তারা কিছুই না পায়, বাংলাদেশে তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে ফেলেছে, দখল করে ফেলেছে, তারা নির্যাতিত হচ্ছে তাহলে এই বিত্ত এবং স্বাচ্ছন্দের উৎসটা কোথায়? এটা সরকারেরই তদন্ত করা উচিৎ। আরেকটি বিষয় হচ্ছে আমি মনে করি, প্রিয়া সাহার বক্তব্যের সুযোগে আবার ঢালাওভাবে যেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে দোষারোপ করা না হয়। সেটাও আমাদের দেখতে হবে।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, এটা অসম্ভব একটি দাবি এবং খুবই দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য। বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের তাদের নিপীড়ন, বৈষম্য এবং নিরাপত্তাহীনতার বাস্তব কিছু বিষয় আছে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে লড়াইও বাংলাদেশে আছে। বাংলাদেশের মানুষের মাঝে সাধারণভাবেই নিরাপত্তাহীনতা আছে। সাম্প্রদায়িকভাবে বা জাতিগত বিদ্বেষ থেকে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ, তাদের জমি দখল, দেশ থেকে তাড়ানোর প্রবণতা বা চেষ্টা কারো কারো মাঝে দেখা যায়। সেটার বিরোধী যে আন্দোলন, শক্তি বা মতামত বাংলাদেশে এটাও অনেক শক্তিশালী। এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন পর্যায় থেকে প্রতিরোধ এবং প্রতিবাদ হয়। এবং তার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে একটি চেষ্টা আছে সবসময় যাতে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন না হয়।

‘জনগণকে নিয়ে গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে হবে’ -চট্টগ্রামে সমাবেশে মির্জা ফখরুল

চট্টগ্রামে বিএনপির মহাসমাবেশে মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন দিয়ে নতুন নির্বাচন দিতে হবে। আওয়ামী লীগ নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। এখন নির্বাচনে জনগণের আস্থা নেই। শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগরীর কাজীর দেউড়ীস্থ নূর আহমদ সড়কে বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয়  মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রাম উত্তর দক্ষিণ জেলা ও মহানগরীর উদ্যোগে এই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে বারবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন খালেদা জিয়া। আওয়ামী লীগ বারবার গণতন্ত্র ধ্বংস করে স্বৈরাচারিভাবে দেশ চালাচ্ছে। তাই তারা গণতন্ত্র ধ্বংসের জন্য খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়েছেন।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া উড়ে এসে জুড়ে বসেননি। তিনি ছিলেন একজন গৃহবধূ। সেখান থেকে তিনি গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্বে এসেছেন। গণতন্ত্র ধবংসের চেষ্টার বিরুদ্ধে তিনি বার বার রুখে দাঁড়িয়েছেন। এজন্য তাকে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। তিনি ১৬ মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন। চরম একাকিত্বের মধ্যে রয়েছেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে ৩৬টি মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। এগুলো কোন মামলাই নয়, মিথ্যাভাবে সাজানো, শুধুমাত্র তাকে হয়রানি করার জন্য। আজকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া অসুস্থ। তিনি হাসপাতালে আছেন, ঠিকমতো চলতে পারেন না। ঠিকমতো খেতে পারেন না। সরকার তার চিকিৎসা সেবার জন্য ন্যূনতম ব্যবস্থাও গ্রহণ করছে না।
দেশে বারবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন খালেদা জিয়া -চট্টগ্রামে বিএনপির মহাসমাবেশে সমাবেশে মির্জা ফখরুল
আমরা বারবার দাবি করছি, তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে। কিন্তু তারা পরোয়া করছে না। মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তারা জনগণের ভোট চুরি-ডাকাতি করে, সমস্ত রাষ্ট্রীয় সংস্থা ব্যবহার করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। তাদের সাথে জনগণের কোন সমপর্ক নেই। জনগণের কাছে তাদের কোন জবাবদিহিতা নেই। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্রমেই ভেঙে পড়ছে। এমন একটা অবস্থা তৈরি হয়েছে যেন মনে হচ্ছে দেশে একটা নৈরাজ্য চলছে। আদালতের ভেতরে গিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন এবং বিচার বিভাগে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার হজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য হিসেবে সৌদি আরব গেছেন হজ করতে।
উনি যদি হজ করতে চাইতেন, উনি বাদশাহর বিশেষ মেহমান হয়ে যেতে পারতেন। এই যে আত্মসম্মান বিবর্জিত ব্যক্তিদের নির্বাচন কমিশনের প্রধান করা হয়। যার ফলে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে এইভাবে দেখেছি। তারা নির্বাচন ব্যবস্থাকে কোথায় নিয়েছে তারই এটা একটা প্রমাণ। বন্যা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বন্যা নিয়ে সরকারের যে উদ্যোগ প্রয়োজন সেটা দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখা যাচ্ছে না। সরকারের যে জনগণের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই, সেটা বোঝা যায়। সরকারের বন্যার ব্যাপারে উদাসীন এবং পাশে দাঁড়াচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশে দুদক চেয়ারম্যান, জেলার, পুলিশ, বিচারক সবকিছুই এখন শেখ হাসিনা। তিনি একাই দেশ চালাচ্ছেন। গয়েশ্বর বলেন, মশা মারতে পারে না, কিন্তু মানুষ মারতে পারে, এমন সরকারের কাছে খালেদার মুক্তি চেয়ে কী হবে? এটা অবৈধ সংসদ, ভেজাল সংসদ। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হবে।
তাই তাঁর কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে লাভ নেই। খালেদাকে আইনি লড়াইয়ে মুক্তি দেয়া হবে না, এটা প্রমাণিত। তিনি বলেন, আমরা আর খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইব না। যারা তাঁর মুক্তির পথে বাধা দেবে, তাদের ক্ষমতা থেকে টেনে নামানো হবে। বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, বিএনপিকে নিঃশেষ করা যাবে না।
বিএনপি গণমানুষের দল। বিএনপি ধরনা দেয়ার দল না। তিনি বলেন, বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলন চট্টগ্রাম থেকেই হবে। তাঁর মুক্তিতে সামনে কঠোর কর্মসূচি আসবে। তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। মীর নাছির বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি আইনি প্রক্রিয়ায় আর সম্ভব নয়। তাই তাকে কারামুক্ত করতে এখন কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আর সেই আন্দোলনের সূত্রপাত হবে চট্টগ্রাম থেকে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। বেলা ২টা থেকে শুরু হওয়া সমাবেশে বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, ওয়ার্ড ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে যোগ দেয়। বিকেল গড়াতেই সমাবেশস্থল লোকে-লোকরণ্য হয়ে উঠে।
দেশে মেগা প্রকল্পের নামে মেগা লুট চলছে: চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমাবেশে ফখরুল

২ ছাত্রলীগ নেতার হুমকি : ‘গুলি করবো, বুলেট সাংবাদিক চিনে না’

সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) কর্মরত সাংবাদিকদের গুলি করে হত্যার হুমকি ও লাঞ্চিত করেছেন নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত শাখা ছাত্রলীগ নেতা শোয়েব হাসান হিমেল এবং মোঃ রাইহান ওরফে জিসান। শুক্রবার রাত দশটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার সামনে এ ঘটনা ঘটে। এসময় তারা উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হত্যার হুমকি দেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত পৌনে দশটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম হল এবং শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ছাত্রলীগের জুনিয়র কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও মার্কেটিং বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শোয়েব হাসান হিমেল সাংবাদিকদের উদ্যেশ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ শুরু করেন। পাশাপাশি সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে কেন এসেছেন বলে চিৎকার করতে থাকেন এবং সেখান থেকে সরে যেতে বলেন। এসময় উপস্থিত সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও যুগান্তর প্রতিনিধি তানভীর সাবিক প্রতিবাদ করলে হিমেল পুনরায় সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘গুলি করবো। বুলেট সাংবাদিক চিনে না, সাংবাদিক পাইলেই গুলি করে মারবো।’

এ সময় তার সঙ্গে থাকা শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ রাইহান ওরফে জিসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সমকাল প্রতিনিধি আবু বকর রায়হানকে মারার জন্য দলবল নিয়ে তেড়ে আসেন। এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদসহ শাখার সিনিয়র নেতারা তাদেরকে নিবৃত্ত করা চেষ্টা করেন।

তবে সাংবাদিকদেরকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়া ও লাঞ্ছিত করার বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা শোয়েব হাসান হিমেল প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি রাগের মাথায় এটা বলেছি। আমার কাছে কালকে কোন অস্ত্র ছিলো না।’ আরেক অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা জিসানকে ফোন দেয়া হলেও পাওয়া যায়নি।

এর আগে এক সাংবাদিককে চোখ তুলে নেয়ার হুমকি দেন ছাত্রলীগ নেতা হিমেল। এছাড়া অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা হিমেল ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ৫০২ নং কক্ষে মাদকসেবীদের নিয়ে রাতভর মাদক সেবনে মেতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

হলে অবস্থানরত একাধিক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ছাত্রলীগ নেতা হিমেল তার অনুসারীদের নিয়ে নিয়মিত মাদকের আসর বসান। তার কক্ষের সামনে দিয়ে হাঁটলেও নেশাজাতীয় দ্রব্যের গন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে এ ছাত্রলীগ নেতা গত ১০ এপ্রিল প্রেমে ব্যর্থ হয়ে সিনিয়র এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করেন এবং তাকেও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে গত ১৪ এপ্রিল ছাত্রলীগ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হলেও তার বিরুদ্ধে অজানা এক কারণে কোনো ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

এদিকে আরেক ছাত্রলীগ নেতা জিসান গভীর রাতে কাজী নজরুল ইসলাম হলের ৫০৬ নাম্বার কক্ষে মাদকসেবীদের নিয়ে আসর বসান বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েক মাস আগে অতিরিক্ত মদ্যপানে অসুস্থ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালেও যেতে হয়েছে বিতর্কিত এই ছাত্রলীগ নেতাকে। হলের সিনিয়র নেতা কর্মীদের সাথে খারাপ আচরণ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও মাদকসেবী এ নেতা গেল সপ্তাহে বণিক বার্তার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে ‘মইরা গেলে কবরে গিয়া হইলেও দুইডা কোপ দিয়া আসমু’ বলে হুমকি দেন।

জানা যায়, দুই হলের মাদকের ছড়াছড়িতে এই দুই নেতার যোগসাজশসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার ভূরিভূরি আভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্ত এ দুই ছাত্রলীগ নেতার বিষয়ে সিনিয়র এক ছাত্রলীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘হিমেল আর জিসান নিয়মিতই মাদকে আসক্ত থাকে। বিভিন্ন সময়ে ছাত্রলীগের ইমেজ ক্ষুণ্ণ করে দুই হলে এরা মাদকের সাম্রাজ্য খুলে বসেছেন।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, ‘সাংবাদিকদের হুমকি বা লাঞ্ছিত করলে তাদের দায় ছাত্রলীগ নিবে না। তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদ বলেন, ‘সাংবাদিকদের হুমকি দেয়া ছাত্রলীগের আদর্শ বিরোধী। মাদকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশাসন যদি কোন ব্যাবস্থা নেয় সেক্ষেত্রে শাখা ছাত্রলীগ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।

সার্বিক বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর পরও সাংবাদিকরা স্বেচ্ছাসেবী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কাজ করেন। তাদের সাথে যারা অছাত্রসূলভ আচরণ এবং হুমকি দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ছাত্রসংগঠন, সাংবাদিক ও আমরা সবাই মিলে ব্যবস্থা নিবো। শুধু প্রক্টর হিসেবে নয় শিক্ষক হিসেবেও আমি এমন ঘটনার প্রতি ধিক্কার জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে বারবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা শোয়েব হাসান হিমেল ও মোঃ রাইহান ওরফে জিসান - নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশে উত্তরের ৬ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, রেডক্রিসেন্টের উদ্বেগ

কয়েক দিনের মৌসুমী বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বাংলাদেশের প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় উত্তরের জেলা কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়ায় ও সিরাজগঞ্জ, জামালপুর ও টাঙ্গাইল বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। পদ্মা ও যমুনার পানি বৃদ্ধির ফলে নতুন করে পাবনা, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জে ও পদ্মাপাড়ের ফরিদপুর অংশে গ্রাম ও ফসলি জমি প্লাবিত হচ্ছে।
উত্তরের বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে বাস্তুচ্যুত মানুষ এখনো ঘরে ফিরতে না পারায় সংকট বাড়ছে। বাস্তুচ্যুতরা গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে বা কোন উচু স্থানে ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে থাকছে। দুর্গত এলাকায় চলছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। বেশকিছু এলাকায় এখনো সরকারি-বেসরকারি কোনো ত্রাণসহায়তা পৌঁছেনি বলে অভিযোগ করেছেন বন্যাদুর্গত মানুষেরা।
মধ্যাঞ্চলে বন্যার আরও অবনতি হবে
পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মধ্যাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ও ভারত আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশের উজানের প্রদেশগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় কমতে পারে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং সুরমা-কুশিয়ারা নদ-নদীগুলোর পানি।

এদিকে, আজ আবহাওয়ার পূর্বাভাষে বলা হয়েছে, সোমবার থেকে সারাদেশে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। ফলে আবারো নদীর পানি বাড়তে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, পানি বৃদ্ধির কারণে মধ্যাঞ্চলের মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও মুন্সিগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
রেডক্রিসেন্টের উদ্বেগ
এদিকে, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, কয়েকদিনের ব্যাপক বৃষ্টিতে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ৪০ লাখের বেশি মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে পড়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্যা ও ভূমিধসের কারণে সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়েক লাখ মানুষ বিদ্যুত্হীন অবস্থায় রয়েছে। ৬৬ হাজারের বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে।
বিস্তীর্ণ কৃষি অঞ্চলে বন্যায় খাদ্যশস্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতে খাদ্য সংকটের হুমকি তৈরি হয়েছে। এর ফলে শিশু, প্রসূতি, গর্ভবতী ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে আইএফআরসি।

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে বাংলাদেশ বিরোধী অভিযোগ করায় প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুয়েক দিনের মধ্যে এটি দৃশ্যমান হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়েছে। তবে দেশে ফিরলে নাকি দেশে ফেরার আগেই মামলা হবে এনিয়ে নানা কথাবার্তা চলছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, প্রিয়া সাহাকে নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে যে কোন ব্যবস্থাই নেয়া হতে পারে। গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল তার ধানমন্ডির বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, সংখ্যালঘুদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্টাম্পের কাছে করা অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি বলেন, প্রিয়া যা বলেছেন সম্পূর্ণ অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
কেন অন্য রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে এসব কথা বলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপচেষ্টা করেছেন সে বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এর পরই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের খবর দেয়ার পেছনে ওই নারীর নিশ্চয়ই একটি কারণ ও উদ্দেশ্য রয়েছে। দেশে আসলে নিশ্চয়ই আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করব। এটাই এখন আমাদের দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্পকে দেয়া প্রিয়া সাহার নালিশ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার বলা ঘটনাগুলো কোথায় ঘটেছে এবং কার কার বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, তার সঠিক তদন্ত করি নাই বা করেছি, সেগুলো আমরা অবশ্যই দেখব।
এদিকে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, প্রিয়া সাহার অভিযোগ দেশের ভেতরে লুকায়িত সামপ্রদায়িক  গোষ্ঠীকে উৎসাহিত করবে। তার এ ধরনের বক্তব্য দেশদ্রোহীতার শামিল।
তিনি বলেন, প্রিয়া সাহা ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে যে অভিযোগ করেছেন তা কিভাবে ভিডিওয়ের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
প্রিয়া সাহার বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমরা তার এ ধরনের বক্তব্যে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।
প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, তার এ ধরনের দেশদ্রোহী বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতেই হবে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা-নেত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রিয়া সাহার ছবি দেখা গেছে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কোন সম্পর্ক নেই। তার কোথাও আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদও নেই। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশপ্রেমিক  কোন ব্যক্তিই প্রিয়া সাহার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হবেন না। আমি হিন্দু বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তার বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করেছি। তারাও তার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আমি এ বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও কথা বলেছি। তিনিও বলেছেন, প্রিয়া সাহার বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য ও কাল্পনিক। বাংলাদেশে সর্বোচ্চ সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি বিরাজমান।

সৌদি আরবে সেনা ও যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র

উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবে সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। শুক্রবার দিনের শেষ ভাগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগন সৌদি আরবের সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে।

এক বিবৃতিতে পেন্টাগন বলেছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ‘হুমকি’র বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। শুক্রবার সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয় আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য তারা মার্কিন সৈন্যদের অবস্থান করার সুযোগ দেবে। এরপরই পেন্টাগন সৌদি আরবে সেনামোতায়েনের ঘোষণা দিল।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রকে উদ্বৃত করে বলেছে, ‘সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পারিক স্বার্থের ভিত্তিতে এবং এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা সুরক্ষিত রাখতে.... বাদশাহ সালমান মার্কিন সৈন্যদের অবস্থান করার অনুমতি দিয়েছেন’।

নতুন এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে আরো পাঁচ শ’ মার্কিন সৈন্য আসবে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। এছাড়া তারা হরমুজ প্রণালীসহ মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় বিমান নিয়ে টহল দেবে। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি তেল ট্যাঙ্কারে হামলা ও আটকের ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত মাসে ইরানের সাথে উত্তেজনার ওই অঞ্চলে যুদ্ধ জাহাজ ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আলজাজিরা

প্রধানমন্ত্রী ইমরানের যুক্তরাষ্ট্র সফর নয়াদিল্লীর জন্য কূটনৈতিক ব্যর্থতা: ভারতীয় বিশেষজ্ঞ

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের যুক্তরাষ্ট্র সফর নিশ্চিতভাবে আঞ্চলিক রাজনীতির জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। পররাষ্ট্র বিষয়ক ভারতের সিনিয়র এক বিশেষজ্ঞ এ কথা বলেছেন।
ওয়াশিংটন চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে এই ঘোষণা দিয়েছে। প্রায় একই সময়ে বেইজিং থেকে আসা খবরে জানা গেলো যে, অস্ত্রবিরতিতে তালেবানদের রাজি করাতে এবং কাবুল সরকারের সাথে তাদের আলোচনায় বসতে রাজি করানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের প্রচেষ্টার সাথে যুক্ত হয়েছে পাকিস্তান।
যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া ওই যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, “আফগান-অভ্যন্তরীণ সংলাপের মধ্যে যে স্থায়ী অস্ত্রবিরতি চুক্তি সম্পাদিত হবে, সেটি অর্জনের জন্য সকল পক্ষকে ভূমিকা রাখার জন্য এই চার দেশ আহ্বান জানাচ্ছে।
এম কে ভদ্রকুমার তার সাম্প্রতিক কলামে লিখেছেন: “কোন সন্দেহ নেই যে, যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান নতুন করে পরস্পরের কাছাকাছি আসার মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের আঞ্চলিক নিরাপত্তা দৃশ্যপটে নতুন সমীকরণ যুক্ত হচ্ছে।
“সুস্পষ্টতই, বেইজিং শান্তি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, যার সূত্রে তালেবান নেতা মোল্লা বারাদার গত মাসে বেইজিং সফর করেন এবং এটা দোহা আলোচনার ক্ষেত্রে একটা বাঁক বদলের সূচনা করে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্পর্কের জটিলতার দিকটি উঠে এসেছে, যেটা আমরা ভারতীয়রা সবসময় অবজ্ঞা করে এসেছি”।
ভদ্রকুমার উল্লেখ করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে যে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, সেটা শুধু তালেবানদের আলোচনায় আনার জন্য কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য নয়। “আসলে পাকিস্তান তাদের আফগান এজেন্ডাতে বড় ধরনের কোন ছাড় দেয়নি। তালেবানদের উপর নিজেদের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তারা শান্তি আলোচনাকে ত্বরান্বিত করেছে মাত্র। পাকিস্তান তালেবানদের আফগান রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করতে চায় – যেখানে তালেবানদের ভূমিকা থাকবে প্রধান – এবং এর মাধ্যমে ভারত-বিরোধী একটা কৌশলগত শক্তি তৈরি হবে। এই উদ্দেশ্যের জায়গা থেকে পাকিস্তান কখনই সরে আসেনি”।
ভারতীয় এই বিশেষজ্ঞের মতে, পাকিস্তানকে এই দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে যাতে আফগানিস্তান আর কখনও ‘সন্ত্রাসের কারখানায়’ পরিণত হতে না পারে, যেটা পশ্চিমের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। “যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক রক্ষার ব্যাপারে পাকিস্তান ব্যাপক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং তারা এমন ব্যবস্থা নেবে যাতে যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে তাদের অনুকূল ব্যবস্থা গ্রহণ করে”।
তিনি বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের একটি দাবিকে পূরণ করছে, যেটার মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী তৎপরতা, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং বাণিজ্য সবকিছুই রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, হোয়াইট হাউজ বলেছে যে, শান্তিপূর্ণ দক্ষিণ এশিয়া গড়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সবসময় তাদের দৃষ্টিকে খোলা রাখবে, যেখানের কাশ্মীর ইস্যুর ব্যাপারে ইঙ্গিত রয়েছে।
“ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে তাই ইমরান খানের জন্য ট্রাম্পের আমন্ত্রণটি একটা তিক্ত বাস্তবতা মাত্র। সর্বোচ্চ যেটা তারা করতে পারে, সেটা হলো গত পাঁচ বছরের বিশাল কূটনৈতিক ব্যর্থতার জন্য একটা সাহসী ভাব ধরতে পারে মাত্র, যেখানে তারা অব্যাহতভাবে পাকিস্তানের সাথে আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করে এসেছে এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে এসেছে, আফগানিস্তানকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রক্সি যুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে, তালেবানদের আফগানিস্তানের গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, এবং আফগানিস্তানের ব্যাপারে ভারত-আমেরিকান মিত্রতার ব্যাপারে অতিরিক্ত সুধারণা পোষণ করে এসেছে”।

মাদকের গডফাদার তালিকা থেকে নাম কাটাতে তদবির by দীন ইসলাম

মাদক গডফাদারের তালিকা থেকে নাম কাটাতে তদবির করছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। যেকোনো উপায়ে নিজেদের নাম বাদ দিতে চান তারা। এজন্য বিভিন্ন মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তদবির করছেন নানা মাধ্যমে। এলাকার সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, জেলা বা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাকে তার তদবিরে যুক্ত করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে মাদক বিরোধী ক্র্যাশ প্রোগ্রাম থেকে নিজেদের রক্ষা করতে এখনও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন মাদকের গডফাদাররা। ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় ব্যবহার করে তারা বাঁচার চেষ্টা করছে।
মন্ত্রণালয় ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু অসৎ কর্মকর্তা নাম কাটানোর কথা বলে গডফাদারদের কাছ থেকে অর্থ কামাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা দৌড়ঝাঁপ করছেন সবচেয়ে বেশি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কক্সবাজার এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া। বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারি সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় মাদকের গডফাদার হিসেবে তার নাম রয়েছে। কিন্তু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় তার নাম নেই। এ সুযোগটি কাজে লাগাতে তদবির শুরু করেছেন ইয়াহিয়া। গেল বছরের শেষ দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ ইয়াহিয়া সর্ম্পকে জানতে একটি চিঠি দেয়। এর ভিত্তিতে গত ২রা জুলাই একটি প্রতিবেদন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় থেকে হেড অফিসে পাঠানো হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা বিভাগ কক্সবাজার জেলার মাদক তথা ইয়াবা ব্যবসায়ি ও চোরাকারবারিদের পৃষ্ঠপোষক ও আশ্রয়দাতার তালিকা তৈরি করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আওতাধীন কক্সবাজারের তৈরি করা তালিকায় মোহাম্মদ ইয়াহিয়ার নাম অর্ন্তভূক্ত ছিল না। অন্য কোন সংস্থা মোহাম্মদ ইয়াহিয়ার নাম তালিকাভূক্ত করেছে কিনা ওই তথ্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের কাছে নেই। মোহাম্মদ ইয়াহিয়া চট্টগ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে।
মাদক ব্যবসায়ি বা পৃষ্ঠপোষকদের তালিকায় তার নাম নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২রা জুলাই চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় থেকে প্রধান কার্যালয়ে চিঠি পাঠানোর পর গত ৯ই জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে চিঠি দিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ডিজি মো. জামাল উদ্দিন আহমেদ। ওই চিঠিতে মোহাম্মদ ইয়াহিয়া তালিকাভূক্ত মাদক ব্যবসায়ি নন মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এ তালিকা সুরক্ষা সেবা বিভাগে পাঠিয়েছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। মাদকের গডফাদারদের তদবিরের বিষয়টি জানতে চাইলে সুরক্ষা সেবা বিভাগের এক সিনিয়র কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, তদবির করে পার পাওয়ার কোন উপায় নেই। কারণ তালিকা থেকে নাম কাটানো অনেক কঠিন বিষয়। এদিকে, মাদকের গডফাদাররা ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে ঘুরে ফিরে অভিযান বন্ধ বা নিজেদের নাম কাটানোর তদবির চালালেও তাদের গ্রেপ্তারের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এদের কারও কারও প্রতি ক্ষমতাসীন দলের নেতা বা জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্রয় রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ। এদিকে, অনেক মাদক গডফাদার এরই মধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে জেনেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এজন্য মাদক কারবারিদের ধরতে সীমান্তে কড়া নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। উল্লেখ্য, বিভিন্ন সংস্থার তালিকা অনুযায়ি সারা দেশে এক হাজারেরও বেশি মাদক গডফাদার রয়েছে। সম্প্রতি মাদক বিরোধী অভিযান শুরুর পর তাদের অনেকেই গা ঢাকা দেয়। সারা দেশে অনেক মাদক ব্যবসায়ী ও বিক্রেতা গ্রেপ্তার হলেও গডফাদারদের গ্রেপ্তারের সংখ্যা কম। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে মাদক বিরোধী অভিযানের সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে চার শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী মারা যায়।

রোহিঙ্গা মামলা: আগস্ট মাসে চূড়ান্ত শুনানি হবে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে

ভারতের একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প
ভারতে রোহিঙ্গা মামলা প্রসঙ্গে আগামী আগস্ট মাসে সুপ্রিম কোর্টে চূড়ান্ত শুনানি হবে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে লিখিত নথি পেশ করতে বলেছে। লিখিত নথি জমা হওয়ার পরেই আগস্ট মাসে চূড়ান্ত শুনানি হবে। এছাড়া অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী অভিবাসীদের শনাক্ত করে দেশ থেকে তাদের বহিষ্কারের দাবিতে পিটিশনেরও শুনানি হবে।
বিজেপি মুখপাত্র অশ্বিনী উপাধ্যায় আদালতে পিটিশন দায়ের করে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানকে সমর্থন করেছেন যাতে ভারতে বসবাসকারী চল্লিশ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমকে শনাক্ত করে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারগুলোকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাসহ সকল অনুপ্রবেশকারী ও অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করে, তাদেরকে আটক করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে।
আদালতে জানানো আবেদনে বিশেষভাবে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে আসা অবৈধ অভিবাসী সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে জনবিন্যাসগত কাঠামোকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরফলে নিরাপত্তা ও জাতীয় সংহতি মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে দাবি করে আদালতকে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারকে অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অভিবাসী ও অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেয়ার আবেদন করা হয়েছে।
২০১৭ সালে রোহিঙ্গা ইস্যুতে এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে ভারতে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ রোহিঙ্গারা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেছিল। ভারতে এ ধরণের রোহিঙ্গা অভিবাসীর সংখ্যা কমপক্ষে চল্লিশ হাজারের বেশি বলেও কেন্দ্রীয় সরকার সেসময় আদালতে জানায়।