Tuesday, September 27, 2011

অবশেষে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক ধারা

অবশেষে ধারাবাহিক দরপতন রোধে নেওয়া নানামুখী উদ্যোগ দেশের শেয়ারবাজারে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। দুই স্টক এক্সচেঞ্জে গতকাল শেয়ারের দাম, মূল্যসূচক, লেনদেনসহ সব ক্ষেত্রেই ছিল ইতিবাচক ধারা।
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক ২ দশমিক ৩৪ শতাংশ বা ১৩৩ পয়েন্ট বেড়েছে। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক বেড়েছে পৌনে ৩ শতাংশ বা ৪৪৫ পয়েন্ট।
ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৯৫ শতাংশেরই দাম বেড়েছে। আর সিএসইতে বেড়েছে ৯২ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তাদের কিছু পদক্ষেপের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফেরার আভাস পাওয়ায় গত দুই দিনের বাজারে তারই কিছুটা প্রতিফলন ঘটেছে।
এ ছাড়া অব্যাংকিং খাতের আর্থিক প্রতিষ্ঠান লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের প্রাতিষ্ঠানিক ঘোষণাও বাজারে কিছুটা হলে গতি সঞ্চার করেছে। কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ গত শনিবার অভিহিত মূল্যে একটির বিপরীতে একটি রাইট শেয়ার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাজারের ধারাবাহিক দরপতন বন্ধে ঈদের ছুটির পর থেকে বেশ তৎপর হয়ে ওঠে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একের পর এক বৈঠক করে সংস্থাটি। এসব বৈঠকের সুপারিশের ভিত্তিতে বাজারবান্ধব বেশ কিছু সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। এমনকি পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুপারিশে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর একক গ্রাহক ঋণসীমা ও অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগসীমা সমন্বয়ের সময় এক বছর বাড়িয়ে দেয়।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার পাশাপাশি ডিএসই, সিএসই, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি), সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশসহ (আইসিবি) সংশ্লিষ্ট সবাই ছিল বেশ তৎপর।
সর্বশেষ গত বুধবার দরপতন রোধে এগিয়ে আসেন তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকেরা। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সংগঠন বিএপিএলসির সভাপতি সালমান এফ রহমান বাজার থেকে নিজ কোম্পানির শেয়ার কেনার ঘোষণা দেন। ওই ঘোষণার পরদিন বৃহস্পতিবার সালমানসহ আরও দুই কোম্পানির পরিচালক তাঁদের কোম্পানির শেয়ারের ক্রয় আদেশ দেন।
এর আগে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এসইসি। একই সঙ্গে সাধারণ শেয়ারধারীদের মধ্যে কোনো কোম্পানির ৫ শতাংশ বা এর বেশি শেয়ার থাকলে তা-ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়।
এসব ঘোষণার পর বৃহস্পতিবারই ডিএসইর মূল্যসূচকে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শেয়ারের দামের ঊর্ধ্বগতি দিয়ে ঢাকার বাজারে লেনদেন শুরু হয়। তবে সেটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচকে কিছুটা উত্থান-পতন চলে। এরপর সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়। দিনশেষে ডিএসইর সাধারণ সূচক বেড়ে দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৭৮৫ পয়েন্টে।
ডিএসইতে গতকাল ২৫৮টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ২৪৫টিরই দাম বেড়েছে আর কমেছে ১৩টির। দিনশেষে ঢাকার বাজারে ৩৬৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ৬৫ কোটি টাকা বেশি। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক গতকাল বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৪১৫ পয়েন্টে। চট্টগ্রামের বাজারে লেনদেন হওয়া ১৮৬টি কোম্পানির মধ্যে ১৭১টিরই দাম বেড়েছে; কমেছে ১০টির আর অপরিবর্তিত ছিল পাঁচটির দাম। দিনশেষে সিএসইতে প্রায় ৫৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে আট কোটি টাকা বেশি।
বাজার-পরিস্থিতি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ধারাবাহিক দরপতনের ফলে মৌলভিত্তিসম্পন্ন অনেক কোম্পানির দাম এমন এক পর্যায়ে নেমে এসেছিল, যা নতুন বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করার মতো। আশা করছি, এ অবস্থায় ধীরে ধীরে বাজারে বিনিয়োগ বাড়ার মাধ্যমে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। বাজারে টেকসই প্রবৃদ্ধিই আমাদের সবার কাম্য। এ জন্য আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।’

ইতিবাচক ধারায় পুঁজিবাজার

দেশের পুঁজিবাজারে আজ সোমবার কিছুটা ইতিবাচক ধারা লক্ষ করা গেছে। দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই আজ লেনদেন হওয়া প্রায় সব কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। এর ফলে সূচকও বেড়ে যায়। এ ছাড়া গতকালের চেয়ে লেনদেনও বেড়েছে স্টক এক্সচেঞ্জ দুটিতে। আর এ নিয়ে তিন দিনে সূচক বাড়ল পুঁজিবাজারে।
বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পুঁজিবাজারে অব্যাহত দরপতন ঠেকাতে বাজার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। পদক্ষেপগুলো বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করছে। এ ছাড়া মার্চেন্ট ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী আবারও বাজারে সক্রিয় হয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকে। বাজারে লেনদেন বেড়ে যাওয়া এরই প্রমাণ।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, আজ দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ২০৬.৪০ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেড়ে ৫৯৯১.৩৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে আজ ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। লেনদেনের ২২ মিনিটের দিকে সূচক ১১৬ পয়েন্ট বাড়ে। সময়ের সঙ্গে সূচক আরও বাড়তে থাকে। তৃতীয় ঘণ্টা শেষে সূচক ১৬২ পয়েন্ট বেড়েছিল। সূচক বৃদ্ধির এই ধারা দিনভর অব্যাহত ছিল।
আজ ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৬১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ২৫০টির, কমেছে আটটির ও অপরিবর্তিত রয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে মোট লেনদেন হয়েছে ৫৩৪ কোটি টাকা, যা গতকালের চেয়ে ১৭১ কোটি টাকা বেশি।
ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, সামিট পাওয়ার, বেক্সিমকো, বেক্সিমকো ফার্মা, তিতাস গ্যাস, গ্রামীণফোন, লঙ্কা-বাংলা, এমআই সিমেন্ট, এনবিএল ও মালেক স্পিনিং।
আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে গ্রামীণ ১ স্কিম ২ মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম। এ ছাড়া গ্রামীণ মিউচুয়াল ফান্ড ১, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ফেডারেল ইনস্যুরেন্স, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, ফিনিক্স ইনস্যুরেন্স, মেঘনা লাইফ ইনস্যুরেন্স, জিকিউ বলপেন ও আইপিডিসি দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্য সূচক ৬০০ পয়েন্ট বেড়ে ১৭০১৪.২৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৮৫টিরই দাম বেড়েছে। আর কমেছে ১০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৭১ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ১৯ কোটি টাকা বেশি।

সেক্টর কমান্ডারদের উদ্বেগ আমলে নিন-যুদ্ধাপরাধের বিচার

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ তথা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বর্তমান সরকারের মেয়াদে শেষ করা যাবে কি না, সে ব্যাপারে উদ্বেগ ও সংশয় প্রকাশ করেছেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের নেতা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। শনিবার সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম আয়োজিত মতবিনিময় সভায় যুদ্ধাপরাধের বিচারে দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বলতার পাশাপাশি এর বিরুদ্ধে নানামুখী অপতৎপরতার বিষয়টি উঠে আসে।
যুদ্ধাপরাধের বিচার যেমন বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল, তেমনি এটি গণমানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার পেতেই ২০০৮ সালের নির্বাচনে নতুন প্রজন্ম বিপুলভাবে আওয়ামী লীগের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানায়। ২০১০ সালের মার্চে যুদ্ধাপরাধের বিচার-প্রক্রিয়া শুরু হলে দেশবাসী আশান্বিত হয়েছিল যে দেরিতে হলেও এই বিচারের মাধ্যমে জাতি গ্লানিমুক্ত হবে।
কিন্তু যেভাবে বিচার-প্রক্রিয়া চলছে, তাতে অনেকের মনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে, বিচার-প্রক্রিয়া আদৌ শেষ হবে কি না! তাঁদের আশঙ্কা, বর্তমান সরকারের আমলে বিচার-প্রক্রিয়া শেষ না হলে ক্ষমতার পালাবদলে পুরো প্রক্রিয়াটি ভণ্ডুল হয়ে যেতে পারে।
এরই মধ্যে সরকার মেয়াদের অর্ধেক সময় পার করেছে। কিন্তু বিচার-প্রক্রিয়া চলছে অনেকটা ঢিমেতালে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে আটক ছয়জনের মধ্যে মাত্র একজন—দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্তকাজ শেষ হয়ে মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। অন্য আসামিদের অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। পুরো বিচার-প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা ও দুর্বলতা স্পষ্ট। প্রথমে বলা হয়েছিল, সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার করা হবে। তারপর বলা হলো, বেছে বেছে কয়েকজনের প্রতীকী বিচার হবে। এখন সেই প্রতীকী বিচার নিয়েও সংশয় কাটছে না।
যেকোনো মামলার ন্যায়বিচারের জন্য সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অপরিহার্য। তদন্তে কোনো ঘাপলা থাকলে আসামির ছাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং বিচারও প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য। কিন্তু সরকার শুরু থেকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগে অস্বচ্ছতা ও অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। এমন এক ব্যক্তিকে প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছিল, যাঁর বিরুদ্ধে একাত্তরে পাকিস্তানি সরকারকে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। ব্যাপক সমালোচনার মুখে তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন। আইনজীবী নিয়োগেও সরকার বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে পেরেছে, তা বলা যাবে না। দেশে অনেক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী থাকা সত্ত্বেও তাঁদের এ মামলায় সম্পৃক্ত করা হয়নি। সেটি তাঁদের অনাগ্রহ, না সরকারের অনিচ্ছায়—তা আমরা জানি না। তবে আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো, যুদ্ধাপরাধের বিচারের মতো একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা ঠিক নয়।
যুদ্ধাপরাধের বিচারকাজ দ্রুত শেষ করতে সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভায় যেসব সুপারিশ করা হয়েছে, সরকারের কর্তব্য হবে সেগুলো আমলে নেওয়া। মনে রাখতে হবে, বিচার-প্রক্রিয়া যত প্রলম্বিত হবে, বিচারবিরোধী শক্তি তত মরিয়া হয়ে উঠবে। গত সপ্তাহে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল থেকে পুলিশের ওপর চড়াও হওয়া কিংবা গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এরই প্রাথমিক আলামত।
অতএব, যুদ্ধাপরাধের বিচার-প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার প্রতি সরকারকে মনোযোগী হতে হবে। সে সঙ্গে বিচার নিয়ে যাতেকেউ প্রশ্ন করতে না পারে, সে জন্য আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখাও জরুরি।

ড্র করেও ফার্গির জয়ের আনন্দ

ম্যাচ শেষে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনকে দেখে মনে হলো তিনি জয়ের আনন্দেই আছেন। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণই ভিন্ন। চেলসি, আর্সেনাল, লিভারপুল, টটেনহাম—সব বড় দল যখন জয় পেয়েছে, তখন ড্র করে মৌসুমে প্রথম পয়েন্ট খুইয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
লিগে প্রথম পাঁচ ম্যাচেই জিতে উড়তে থাকা ম্যানইউ পরশু রাতে ১-১ গোলে ড্র করেছে স্টোক সিটির সঙ্গে। কিন্তু কোচ ফার্গুসন বলছেন ‘চ্যাম্পিয়ন দলের মতোই’ খেলেছে তাঁর দল।
পরশুর ড্রয়ে পয়েন্ট টেবিলে ম্যানইউকে কাঁধ ছোঁয়াতে হলো নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে। পরশু রাতে যারা ২-০ গোলে হারিয়েছে এভারটনকে। শহরের দুটি দলেরই পয়েন্ট এখন সমান ১৬। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় শীর্ষে ফার্গুসনের দলই।
ওল্ড ট্রাফোর্ডে হতাশা ছিল আরও। শুক্রবার চোট পেয়েছেন ওয়েইন রুনি। এ ম্যাচে চোটের শিকার মেক্সিকান স্ট্রাইকার হাভিয়ের হার্নান্দেজ। তবে সবকিছু ছাপিয়ে ফার্গুসন দলের পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত, ‘জয়ের সুযোগই ছিল আমাদের।’
নিজেদের খেলায় খুশি সিটি শিবিরও। অধিনায়ক ভিনসেন্ট কোম্পানি যেমন বলেছেন, সিটি ক্রমেই উন্নতি করছে, ‘আমাদের খেলায় অনেক ইতিবাচক দিক ছিল। এবং আমরা আমাদের পারফরম্যান্সে খুবই খুশি।’ ষষ্ঠ ম্যাচে সিটি পঞ্চম জয়টি পেয়েছে বদলি খেলোয়াড় মারিও বালোতেল্লি এবং জেমস মিলনারের গোলে। কোচ রবার্তো মানচিনি প্রশংসায় পিঠ চাপড়ে দিয়েছেন তাঁদের।
সোয়ানসির বিপক্ষে ৪-১ গোলে জিতেও একটা দুশ্চিন্তায় চেলসি। মৌসুমের দ্বিতীয় গোলটি করার পরই লাল কার্ড পেয়েছেন ফার্নান্দো তোরেস। নিষিদ্ধ হয়েছেন তিন ম্যাচ। কোচ আন্দ্রেস ভিলাস-বোয়াসের এখন একজন স্ট্রাইকার চাই। পর্তুগিজ কোচ অবশ্য আত্মবিশ্বাসী, অন্যরা ঠিকই তোরেসের শূন্যস্থান পূরণ করতে পারবে, ‘আমাদের দুর্দান্ত চারজন স্ট্রাইকার আছে এবং প্রত্যেকেই দারুণ খেলছে।’
উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতে লিভারপুল উঠে এসেছে পয়েন্ট তালিকার পঞ্চম স্থানে। কোচ কেনি ডালগ্লিসের কণ্ঠে লুইস সুয়ারেজ আর অ্যান্ডি ক্যারলের প্রশংসা। বলছেন, সুয়ারেজ-ক্যারলই লিভারপুলের উন্নতির চাবিকাঠি। চোট কাটিয়ে এবারের লিগে পরশুই প্রথম ম্যাচটি খেলেছেন স্টিভেন জেরার্ড। ডালগ্লিসের খুশির কারণ এটাও, ‘অবশ্যই স্টিভেনকে ফিরতে দেখাটা দারুণ।’ হতাশায় ডুবে যাওয়া আর্সেনাল ৩-০ গোলে জিতেছে বোল্টনের বিপক্ষে। তবুও ম্যাচ শেষে কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারের অস্বস্তি, হাঁটুতে চোট পেয়েছেন থিও ওয়ালকট। অলিম্পিয়াকসের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচটি খেলতে পারবেন না তিনি। উইগানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে টটেনহাম। আর্সেনাল এখনো দ্বাদশ স্থানে।

মেসি-রোনালদোর রাত

মাদ্রিদেরই ক্লাব হলেও সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রায়ো ভ্যালেকানো লিগ ম্যাচ খেলতে এল সাড়ে আট বছর পর। দুই প্রতিবেশীর মধ্যে অবশ্য কোনো দিক দিয়েই তুলনা চলে না। শিরোপা-সাফল্যের হিসাব বাদই দিন, বার্নাব্যুর দর্শক ধারণক্ষমতা যেখানে ৮০ হাজারেরও বেশি, ভ্যালেকানোর মাঠে দর্শক ঢুকতে পারে মেরেকেটে সাড়ে ১৫ হাজার।
আট বছর পর লা লিগায় ফেরা সেই ভ্যালেকানোর খেলা দেখে পরশু চমকে গেল রিয়াল মাদ্রিদ। বার্নাব্যুকে হতভম্ব করে মিচু গোল করে বসেন মাত্র ১৫ সেকেন্ডে! শেষ পর্যন্ত স্বরূপে ফিরেই শুরুর এই ধাক্কা সামাল দেয় রিয়াল। ১০ জনের দলে পরিণত হয়েও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর হ্যাটট্রিকে জিতেছে ৬-২ ব্যবধানে।
রোনালদোর সঙ্গে আবার গোল-দ্বৈরথ চলছে লিওনেল মেসির। রোনালদোর হ্যাটট্রিকের জবাব হ্যাটট্রিকেই দিয়েছেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর। দুই ঘণ্টা পরের ম্যাচে নিজেদের মাঠে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বার্সেলোনা। রোনালদোর তিন গোলের দুটি পেনাল্টি থেকে। আর বার্সেলোনার জার্সি গায়ে ১২ নম্বর হ্যাটট্রিকটি মেসি করেছেন দুর্দান্ত তিন গোলে। ৮ গোল নিয়ে তিনিই লিগের শীর্ষ গোলদাতা।
শুরুতে বার্সেলোনাও উজানস্রোতে পড়তে পারত। পঞ্চম মিনিটেই তিয়াগোর শট লাগে ক্রসবারে। বার্সা অবশ্য দ্রুতই অ্যাটলেটিকোকে জবাব দেয়। জাভির দুর্দান্ত পাস থেকে ৯ মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন ডেভিড ভিয়া। মেসিকে গোলবঞ্চিত করতে গিয়ে ছয় মিনিট পর আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হোয়াও মিরান্ডা। ২৬ মিনিটে মেসি স্কোরলাইনটাকে ৩-০ বানিয়ে দিলে ওসাসুনা-আতঙ্কই পেয়ে বসে অ্যাটলেটিকোকে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ৮-০ হয়নি, তবে ৭৮ ও ৯০ মিনিটে মেসির আরও দুটো গোল বড় জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকদের। অথচ আগের চার ম্যাচে মাত্র এক গোল খেয়েছিল অ্যাটলেটিকো।
ভ্যালেকানোও যে বড় ব্যবধানে হারবে শুরুতে কিন্তু তা মনেই হয়নি। লাসানা দিয়ারার ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পর প্রথম ২৩ মিনিট আধিপত্য ধরে রাখে ভ্যালেকানোই। রিয়াল কোচ মরিনহোকে তখন দেখা যায় পাশুটে মুখে। দিয়ারাকে ২৯ মিনিটের মাথায় তুলে মেসুত ওজিলকে নামান মরিনহো। খেলাটাই যায় পাল্টে। তবে কাকাও খেলা পাল্টে দেওয়ার আরেক নায়ক।
৩৯ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে রোনালদোর সমতা ফেরানো গোলটি এই ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকারের বানিয়ে দেওয়া। প্রথমার্ধের শেষ প্রান্তে ফ্রি-কিকের পর সার্জিও রামোসের হেডে পাওয়া বলে গোল করেন গঞ্জালো হিগুয়েইন (২-১)। দলকে স্বস্তি দেওয়া তৃতীয় গোলটি রোনালদো করেন ৫১ মিনিটে, পেনাল্টি থেকে। কিন্তু ৫৫ মিনিটেই কর্নার থেকে বক্সে ফাঁকায় পেয়ে যাওয়া বলে মিচু আবার ব্যবধান কমিয়ে দেন। ৩-২ স্কোরলাইনের অস্বস্তিটা আরও বাড়ে হ্যান্ডবলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে ডি মারিয়া মাঠ ছাড়লে। তবে ১০ জনের দল হয়েও রিয়াল গোল করেছে আরও তিনটি—৬৭ মিনিটে ভারান, ৭৩ মিনিটে করিম বেনজামা, ৮৪ মিনিটে আবারও পেনাল্টি থেকে রোনালদো।
আগের তিন ম্যাচে মাত্র এক গোল করায় যে দুশ্চিন্তা ছিল মরিনহোর, সেটা এই ম্যাচেই ঘুচিয়ে দিয়েছে শিষ্যরা। তবে আলাদা করে কাকার প্রশংসাই বেশি করেছেন এই পর্তুগিজ। আর কাকার কথা, ‘শুরুর ২০ মিনিটে আমরা ভালো খেলিনি, তবে এর পরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিই। শুরুতেই অমন একটা গোল খেলে কাজ অনেক কঠিন হয়ে যায়। তবে আমরা যথেষ্ট মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছি। এই ফল আমাদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছে। আমি নিজেরও অনেক ভালো লাগছে।’
ওদিকে পেপ গার্দিওলার সব প্রশংসা যেন মেসিকে ঘিরেই, ‘মেসিই ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। ওর প্রশংসা করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। ও এমন এক খেলোয়াড়, যাকে কোনো সংজ্ঞা দিয়েই ব্যাখ্যা করা যায় না।’ কিন্তু মেসির মুখে শুধু সতীর্থদেরই প্রশংসা, ‘সতীর্থদেরই ধন্যবাদ জানাব আমি। আমরা দেখিয়েছি, যখন আমরা ভালো খেলি, আমরা আমাদের ফুটবলটাই উপভোগ করি।’

সারতের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি এনটিসি বাহিনী

লিবিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের অনুগত যোদ্ধারা মুয়াম্মার গাদ্দাফির জন্মস্থান সারতেতে গত শনিবার থেকে নতুন করে হামলা শুরু করেছে। তাদের সহায়তা দিচ্ছে ন্যাটোর বিমানবাহিনী। যোদ্ধারা এখন সারতে শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে রয়েছে।
ন্যাটো জানায়, গাদ্দাফির সমর্থকদের নৃশংস কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে তারা অন্তর্বর্তী সরকারের বাহিনীকে সহায়তা করছে।
অন্তর্বর্তী সরকার-সমর্থিত জাতীয় অন্তর্বর্তী পরিষদের (এনটিসি) যোদ্ধারা শনিবার সারতের তিনটি এলাকায় কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে হামলা চালায়। এনটিসির কমান্ডার ফাথি বাফাগা জানান, তাঁরা এরই মধ্যে একটি এলাকার দখল নিয়েছেন। অন্য দুটি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে লড়াই চলছে।

ইন্দোনেশিয়ায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ৪

ইন্দোনেশিয়ার সেন্ট্রাল জাভা প্রদেশের সোলো শহরে গতকাল রোববার একটি গির্জার প্রধান প্রবেশপথের সামনে আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়েছে। এতে ওই হামলাকারীসহ চারজন নিহত হয়।
প্রদেশটির পুলিশের মুখপাত্র জিহারতোনো বলেন, ‘সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে বেথেল ইঞ্জিল গির্জায় একটি আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়েছে। ওই ঘটনায় হামলাকারীই নিহত হয়েছেন। অন্য কেউ নিহত হয়েছে কি না, তা আমরা তদন্ত করছি।’ তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই বোমা হামলাকারীসহ চারজন নিহত হয়েছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় রেডিও স্টেশন এলশিনতাকে জানিয়েছেন, গির্জায় প্রার্থনা শেষে লোকজন বেরিয়ে আসার সময় বোমার বিস্ফোরণ হলে চারজন নিহত হয়।
স্থানীয় এক পুলিশ সদস্য বলেন, বোমার আঘাতে ১৫ জন আহত হয়েছে। তাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বোমা হামলার পর এএফপির স্থানীয় প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, গির্জার প্রধান প্রবেশপথের সামনে সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা বোমা হামলাকারীর মৃতদেহ পড়ে আছে।
দেশটির রাজনীতি, আইন ও নিরাপত্তাবিষয়ক সমন্বয় মন্ত্রী জোকো সুয়ান্তো জানান, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সন্ত্রাসী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

সাগর থেকে ফের উৎক্ষেপণ শুরু ‘সি লঞ্চের’

তেল উত্তোলন রিগকে রূপান্তর করে মহাকাশযান উৎক্ষেপণ কেন্দ্র বানানো প্রতিষ্ঠান ‘সি লঞ্চ’ নতুন করে কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। দেনার কারণে গত বছর দেউলিয়া হতে বসা প্রতিষ্ঠানটি গত শনিবার আবার মহাশূন্যে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠিয়েছে।
সি লঞ্চ তাদের প্রশান্ত মহাসাগরের ভাসমান উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে ফ্রান্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউটেলস্যাট নির্মিত ওই কৃত্রিম উপগ্রহ কক্ষপথের উদ্দেশে উৎক্ষেপণ করে। কৃত্রিম উপগ্রহটি মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় টেলিভিশন অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।
২০০৭ সালে রকেট উৎক্ষেপণে ব্যর্থতার পর সি লঞ্চের কাজ পাওয়া প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে যায়। এতে ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়ে তারা।
সি লঞ্চের সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের বার্নে হলেও এর ভাসমান উৎক্ষেপণকেন্দ্র এবং একটি নিয়ন্ত্রণ জাহাজ অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়।
রুশ নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়ামের মালিকানাধীন সি লঞ্চ এখনো আগের সেই রুশ-ইউক্রেনীয় জেনিথ-৩এসএল যান ব্যবহার করছে। ২০০৭ সালের দুর্ঘটনা ছাড়া এর নির্ভরযোগ্যতার সার্বিক রেকর্ড ভালো।

নেপালে পর্যটন উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ১৯

নেপালে মাউন্ট এভারেস্ট দেখাতে নিয়ে যাওয়া পর্যটকদের একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে গোদাবরি পার্বত্য এলাকায় গতকাল রোববার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর এএফপির।
বুদ্ধ এয়ারক্রাফটের ওই উড়োজাহাজে ১০ জন ভারতীয়, দুজন মার্কিনি, একজন জাপানি এবং তিনজন নেপালি ছিলেন। এ ছাড়া ছিলেন তিনজন ক্রু। ভারী বৃষ্টি ও কুয়াশার কারণে বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্ধার বিভাগের প্রধান বিমলেশ লাল কর্ণ বলেন, উড়োজাহাজের ১৯ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। মাউন্ট এভারেস্ট ভ্রমণশেষে ফেরার পথে কোটডাডা পাহাড়ে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
এভিনিউজ টেলিভিশন চ্যানেলকে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ‘উড়োজাহাজটি খুব নিচ দিয়ে উড়ছিল। অবস্থা দেখে আমরা বিস্মিত হয়েছি। এটি পাহাড়ে বিধ্বস্ত হয়। এ সময় বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যায়।’
পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেন, ওই দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা গেছেন। প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হয়।

পুতিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণায় ক্ষোভ ও হতাশা

রাশিয়ার আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভ্লাদিমির পুতিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভের এমন ঘোষণায় দেশটির অনেকেই হতাশা ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
খোদ ক্ষমতাসীন দলের দুই শীর্ষ কর্মকর্তাও কোনো রাখডাক না রেখে বলেছেন, এ রকমটা হলে নতুন সরকারে আর থাকতে চাই না। আর বিরোধী দল বলেছে, এটা হবে রাশিয়ার জন্য বড় বিপর্যয়।
২০১২ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে ভ্লাদিমির পুতিনের উচিত আবার ছয় বছর মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়া—গত শনিবার রুশ প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভের এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা এসব কথা বললেন।
মেদভেদেভ বলেন, ২০১২ সালের মার্চে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে তিনি সরে দাঁড়াবেন এবং এর পরিবর্তে সরকারপ্রধান হিসেবে (প্রধানমন্ত্রী) দায়িত্ব পালন করবেন। মেদভেদেভ ২০০৮ সালে পুতিনের কাছ থেকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড রাশিয়ার বার্ষিক সম্মেলনে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এ ঘোষণার পর কে হচ্ছেন রাশিয়ার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট, তা নিয়ে যে গুঞ্জন চলছিল তার অবসান ঘটল। জবাবে প্রধানমন্ত্রী পুতিন বলেন, মেদভেদেভের এ প্রস্তাব তাঁর (পুতিন) জন্য খুবই সম্মানের।
মেদভেদেভ ও পুতিনের মধ্যকার এমন সমঝোতায় অসন্তোষ প্রকাশ করে বর্তমান অর্থমন্ত্রী আলেক্সি কুদরিন ঘোষণা দিয়েছেন, মেদভেদেভ সরকারে দায়িত্ব পালনের তাঁর কোনো ইচ্ছা নেই।
ক্রেমলিনের অর্থনীতিবিষয়ক প্রধান উপদেষ্টা আরকাদি দিভরকোভিচ বললেন, ‘এতে আনন্দিত হওয়ার কিছু নেই।’ তিনি বরং মেদভেদেভকে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আহ্বান জানিয়ে টুইটারে লিখেছেন, ‘খেলার মাঠে পরিবর্তন আনার এটাই হচ্ছে উৎকৃষ্ট সময়।’
২০০০ সাল থেকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা কুদরিন আরও বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অনেক বিষয়ে তাঁর মতানৈক্য রয়েছে। কুদরিন বলেছেন, ‘নতুন সরকারে আমি আর নিজেকে দেখতে চাই না। এটা এমন নয় যে কেউ আমাকে এ ব্যাপারে প্রস্তাব দেয়নি। আমাদের মধ্যে যে মতপার্থক্য আছে সেসব কারণে নতুন সরকারে আমি আর দায়িত্ব পালন করতে পারব না।’
তবে পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এসব অসন্তোষ ও বিরোধিতার তোয়াক্কা না করে খোলাখুলিভাবে বলে দিয়েছেন, ‘কেউ এই দুজনের (মেদভেদেভ ও পুতিন) কৌশলের সঙ্গে মতপোষণ না করলে সে দল ছেড়ে চলে যেতে পারে।’
উদারপন্থী বিরোধী দল পিপলস ফ্রিডম পার্টির অন্যতম শীর্ষ নেতা সাবেক মন্ত্রী বরিস নেমতসভ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, পুতিন ফের নির্বাচিত হলে মস্কোয় বিমান ওঠানামা ও অভিবাসন বেড়ে যাবে। ফলে রাশিয়ার অর্থনীতি আরও বেশি তেল রপ্তানিনির্ভর হয়ে পড়বে।
পুতিনকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনর্নির্বাচিত করার এই তৎপরতার প্রতিবাদে গতকাল রোববার বিকেলে মস্কোয় বিরোধী দলের একটি সমাবেশ করার কথা। কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত এ সমাবেশে কয়েক শ লোক জড়ো হলে সেটাই হবে দলটির এক বড় বিস্ময়।
বর্তমানে বিরোধী দলের ভঙ্গুর অবস্থা ও গণমাধ্যমের ওপর ক্রেমলিনের একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে আগামী নির্বাচনে পুতিনের বিজয়কে দেখা হচ্ছে শুধুই সময়ের ব্যাপার হিসেবে। নির্বাচিত হলে এবারও টানা দুই মেয়াদে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তাঁর ক্ষমতায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

আন্তসীমান্ত আগ্রাসনের সমুচিত জবাব দেওয়া হবে

পাকিস্তানের নিরাপত্তা-পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য গতকাল রোববার শীর্ষ সেনা কমান্ডারদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেছেন দেশটির ক্ষমতাধর সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক কায়ানি।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন চলছে তা নিয়ে আলোচনা হয় এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যাবতীয় অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়।
কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা ওই বৈঠকে দেশের নিরাপত্তার বিষয়টিই সবেচেয়ে গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে যেকোনো আন্তসীমান্ত আগ্রাসনের সমুচিত জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
সেনাবাহিনী সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাগ্যুদ্ধ বাড়তে থাকায় এই বিশেষ বৈঠক করলেন সেনাপ্রধান।
সম্প্রতি মার্কিন দূতাবাসে এবং কাবুলে অন্যান্য স্থাপনায় হামলার সঙ্গে জঙ্গি গ্রুপ হাক্কানি জড়িত বলে অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এই গ্রুপটিকে সহযোগিতা করছে।
গতকাল সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের নিরাপত্তা-পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য এই বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেনাপ্রধান জেনারেল কায়ানি এতে সভাপতিত্ব করবেন।
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ এবং রয়েল কলেজ অব ডিফেন্স স্টাডিজে বক্তৃতা করার জন্য গতকাল রাতে লন্ডনের উদ্দেশে দেশ ত্যাগ করার কথা ছিল সেনাপ্রধান কায়ানির।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ও বর্তমানে নিরাপত্তা-বিশ্লেষক তালাত মাসুদ বলেন, ‘সেনা কমান্ডারদের সঙ্গে সেনাপ্রধানের এই বৈঠক থেকে বোঝা যাচ্ছে, সংকট কতটা ঘনীভূত হয়েছে।’
মার্কিন বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের কমান্ডার জেনারেল জেমস এন মাত্তিসের সঙ্গে বৈঠকের এক দিন পরই গতকাল সেনা কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করলেন কায়ানি। তবে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আতাহার আব্বাস জানিয়েছেন, এই দুই বৈঠকের মধ্যে কোনো যোগসূত্র নেই।
সিএনএন টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আতাহার আব্বাস স্বীকার করেন, হাক্কানি গ্রুপের সঙ্গে সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) যোগাযোগ আছে। তবে তার অর্থ এই নয় যে আইএসআই হাক্কানিকে সহযোগিতা করছে।
আতাহার আব্বাস বলেন, ‘ভালো কিছুর জন্য...যেকোনো গোয়েন্দা সংস্থা যেকোনো বিরোধী গ্রুপ বা সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে চাইবে।’ তবে এ ধরনের যোগাযোগের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মিত্রদের বিরুদ্ধে কোনো সংগঠনকে সহযোগিতা করার মধ্যে বিস্তর পার্থক্য আছে বলে তিনি জানান।
মার্কিন বাহিনীর বিদায়ী জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ অ্যাডমিরাল মাইক মুলেন গত বৃহস্পতিবার সিনেটে বলেন, হাক্কানি জঙ্গি গ্রুপ আইএসআইয়ের ‘যথার্থ এক শাখা।’
২০০১ সালে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে যোগ দেওয়ার পর থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এত বড় অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র কখনো করেনি।

পাকিস্তান থেকে রকেট হামলা চালানো হচ্ছে

আফগানিস্তান কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, পাকিস্তান থেকে তাদের ভূখণ্ডে রকেট হামলা চালানো হচ্ছে। গত কয়েক দিনে কয়েক শ রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে এক শিশু নিহত হয়েছে।
কারা এসব রকেট হামলা চালাচ্ছে, তা উল্লেখ না করে আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সিদ্দিক সিদ্দিকুই গতকাল রোববার বলেন, ‘এসব হামলার পেছনে যাদেরই হাত থাকুক না কেন, আমরা পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের কাছে এই হামলা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
মুখপাত্র বলেন, আফগানিস্তানে গত চার দিনে ৩৪০টির বেশি রকেট ছোড়া হয়েছে। এসব রকেটের বেশির ভাগই কুনার প্রদেশের বিভিন্ন গ্রাম ও কৃষিজমিতে আঘাত হেনেছে। দুটি মসজিদ ও বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ওই এলাকার প্রায় ৫০টি পরিবার তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
কুনার প্রদেশের গভর্নর ফজিলুল্লাহ ওয়াহিদি বলেন, রকেট হামলায় একটি ছেলেশিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাকিস্তান থেকে আফগানিস্তানে চালানো এ ধরনের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায়ই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

‘ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া হলে কঠিন প্রতিক্রিয়া হবে’

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান হুমকি দিয়ে বলেছেন, জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির আবেদনে অনুমোদন দিলে ‘কঠিন’ প্রতিক্রিয়া হবে। তবে ইসরায়েল কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, সে সম্পর্কে তিনি পরিষ্কার করে কিছু বলেননি।
স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবিতে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের আবেদন নিয়ে আজ সোমবার বৈঠকে বসবে নিরাপত্তা পরিষদ।
এদিকে, গতকাল দেশে ফিরে বীরোচিত সংবর্ধনা পেয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। এ সময় তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি নির্মাণ সম্পূর্ণ বন্ধ না করা পর্যন্ত তাঁর দেশ কোনো ধরনের শান্তি আলোচনায় বসবে না। তিনি বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন সম্পূর্ণ বন্ধ না করা পর্যন্ত এবং আন্তর্জাতিক বৈধতা ছাড়া কোনো ধরনের সমঝোতা হবে না।
আব্বাস বলেন, ‘আমরা আপনাদের আশা, স্বপ্ন, যন্ত্রণা, দূরদৃষ্টি ও একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দাবি নিয়ে জাতিসংঘে গিয়েছিলাম।’
প্রেসিডেন্ট আব্বাস গতকাল রামাল্লায় ফিরে পূর্বসূরি ইয়াসির আরাফাতের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
গতকাল রোববার ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যদি ফিলিস্তিনিদের স্বপ্ন সাধারণ পরিষদে একতরফাভাবে পাস হয়ে যায়, তাহলে সামনে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হবে এবং এর প্রতিক্রিয়া হবে কঠিন। একতরফা যেকোনো সিদ্ধান্তে নিঃসন্দেহে ইসরায়েলে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে।
ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির প্রস্তাব তারা প্রতিহত করবে। যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা পরিষদে আপত্তি জানালে জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ পাবে না ফিলিস্তিন।
নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিনের স্বীকৃতির প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দিলেও ইসরায়েল উদ্বিগ্ন অন্য কারণে। ফিলিস্তিনের প্রস্তাবে সাধারণ পরিষদে প্রচুর সমর্থন পাওয়া যেতে পারে। সাধারণ পরিষদে যেকোনো প্রস্তাব কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনে পাস হয়ে যেতে পারে।
লিবারম্যান এর আগে হুমকি দিয়েছিলেন, ফিলিস্তিন যদি ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তিচুক্তি ছাড়াই জাতিসংঘের স্বীকৃতি লাভ করে, তাহলে মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে।
ইসরায়েল জোরালোভাবে বলেছে, কেবল সমঝোতার মাধ্যমেই ফিলিস্তিন স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করতে পারে। আর এ জন্য সীমান্ত ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে উভয়পক্ষকে মতৈক্যে পৌঁছাতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনায় দ্য কোয়ার্টেট নামে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও জাতিসংঘ গত রোববার এ ব্যাপারে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এক মাসের মধ্যে আলোচনায় বসবে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল।
এতে শান্তিপ্রক্রিয়া শুরুর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং আগামী বছরের শেষ নাগাদ দুই দেশের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। ওই চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলের পাশে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনের আত্মপ্রকাশ ঘটবে।
দ্য কোয়ার্টেটের এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিবারম্যান বলেন, ‘ওই প্রস্তাবের কিছু দিক নিয়ে আপত্তি থাকলেও আমরা অবিলম্বে ফিলিস্তিনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।’
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি স্থাপনা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় গত বছর দুই দেশের শান্তি আলোচনা ভেঙে যায়। ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরে বর্তমানে সীমিত স্ব-শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

দুই সন্তানের বেশি নিলে কারাগারে

এটা হবে খুবই কঠিন একটা আইন। তিন সন্তান নিলেই শাস্তি। ঠিকানা হবে কারাগার। আইনটির সবচেয়ে খারাপ দিক হলো, ওই ব্যক্তিকে বলা হবে ‘আইনতভাবে অযোগ্য মানুষ’।
‘কেরালা উইমেনস কোড বিল, ২০১১’-এ এমনই একটি ধারা হয়েছে। ১২ সদস্যের একটি কমিশন সম্প্রতি বিলটি কেরালার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেশ করেছে। বিলটি পাস হলে তৃতীয় সন্তানের বাবাকে নির্ঘাত যেতে হবে কারাগারে।
কেরালা রাজ্যের শিশুদের কল্যাণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে জনসংখ্যা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ খসড়া বিলটি তৈরি করা হয়েছে।
নারী ও শিশুকল্যাণ এবং অধিকারবিষয়ক এ কমিশন মনে করে, ১০ হাজার রুপি জরিমানা ও তিন মাসের কারাদণ্ড ছাড়া অন্য কোনো কিছুই তৃতীয় সন্তানপ্রত্যাশী বাবাদের ঠেকাতে পারবে না।
নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় একটি আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের নির্দেশে গত বছরের ৭ আগস্ট কমিশনটি গঠন করা হয়।
বিলটির প্রস্তাবনা অনুযায়ী, পারিবারিক এ আইন লঙ্ঘন করা হলে তা আইনত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সরকারের কাছ থেকে মা-বাবা কোনো ধরনের সহযোগিতা পাবে না।
প্রস্তাবিত বিলে বলা হয়, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর এ পরিকল্পনাকে নিরুৎসাহিত করা উচিত হবে না। আর করলে তাদের কর্মকাণ্ড অবশ্যই গভর্নরকে তিরস্কার করতে হবে। এতে আরও বলা হয়, ‘কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ধর্ম, অঞ্চল, সম্প্রদায়, বর্ণ, প্রথা অথবা অন্য কোনো কারণে অতিরিক্ত সন্তান নিতে পারবে না। শিশুদের কোনো ধরনের অধিকার অথবা দাবি থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।’
এ ছাড়া বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো নারী ১৯ বছর বয়সের পর বিয়ে করলে এবং ২০ বছর বয়সের পর প্রথম সন্তান নিলে তাঁকে পাঁচ হাজার রুপি প্রণোদনা দেওয়া হবে। এ ছাড়া দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী দম্পতিদের ক্ষেত্রে যাঁরা ২০ বছর পর বিয়ে করবেন এবং স্ত্রীর ২১ বছর পর সন্তান নেবেন, তাঁদেরও পাঁচ হাজার রুপি দেওয়া হবে।

গল্প- ফেরা by শেখ আবদুল হাকিম

৯৮৫ সালে আমার বয়স ছিল তেইশ, ভাষা আর সাহিত্যে শিক্ষকতা করার জন্য একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া করছি। সে বছর শীত কেটে গিয়ে বসন্ত একটু তাড়াতাড়ি চলে এসেছে। সময়টা তখন খুব সকাল। মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনের পেছন দিকটায় নতুন জমি বরাদ্দ পেয়ে দু-একটা করে বাড়ি তৈরি করছে মানুষজন। এই রোডে আমাদেরটাই একমাত্র অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং। আমি আমার ঘরে বসে পড়াশোনা করছি। আমরা ছয়তলায় থাকি।

সাক্ষাৎকার- আমরা রং-তুলিতে সৌন্দর্যের গান গাই

জাপান-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৩০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশেষ সম্মানে ভূষিত করে বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিল্পী মোহাম্মদ কিবরিয়াকে। ২০০২ সালে জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে তাঁর দুই সপ্তাহের টোকিও ভ্রমণের সময় এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন মনজুরুল হক >>
মনজুরুল হক: আমাদের শিল্পীদের মধ্যে আপনাকে এ কারণে ব্যতিক্রমী বলা যায় যে ছবি আঁকার বাইরে অন্যান্য সামাজিক প্রসঙ্গে আপনি প্রায় নীরব থেকে গেছেন। এই নীরবতা বজায় রেখে চলার পেছনে বিশেষ কোনো কারণ আছে কি?

নাজিম হিকমতের পৃথিবী by বিনায়ক সেন

নির্বাসিত নাজিম
‘নাজিমের নীল চোখে ওরা বৃথাই খুঁজে ফিরবে ভয়’ এমন একটি লাইন আমাদের যৌবনের আকাশে তারকাখচিত হয়ে গিয়েছিল। অনুবাদক ছিলেন কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়। ১৯৫২ সালে বেরুনো বইয়ের ভূমিকায় তিনি জানিয়েছিলেন যে, যদিও বেশিরভাগ কবিতাই ইংরেজি পাঠ থেকে নেওয়া, কিছু কিছু কবিতা ফরাসি থেকেও অনূদিত। ফরাসি থেকে অনুবাদের কাজে তিনি গীতা মুখোপাধ্যায় ও (পরবর্তীতে নিম্নবর্গের ইতিহাস-খ্যাত) রণজিৎ গুহের সাহায্য নিয়েছেন। পরবর্তীতে তাঁর স্মৃতিচারণায় পড়েছি, (১৯৫১ কি ’৫২ সালে কলকাতায়, জানি না কী করে, আমাদের বন্ধু ডেভিড কোহেনের হাতে এসেছিল নাজিম হিকমতের একগুচ্ছ কবিতার ইংরেজি তর্জমা।

শ্রদ্ধাঞ্জলি কিবরিয়া স্যারকে!! by রফিকুন নবী

দেখা হলেই কিছু কুশল জিজ্ঞাসা, কিছু শিক্ষকসুলভ পরামর্শ। তারপর ধীরে ধীরে শিল্পকলা থেকে শুরু করে হরেক গল্পের ঝাঁপি খুলে এগিয়ে যাওয়া আসরি ঢঙে। কিছুদিন আগে তেমন করেই বললেন, ‘কেমন আছো? উড-কাট করছ না? যত দিন ভালো লাগবে করে যাও। ছেড়ে দিয়ো না।’
তারপর আমার জিজ্ঞেস করার পালা। বলেছিলাম, ‘স্যার, কেমন আছেন।’ জানতাম ইদানীং প্রায়ই অসুস্থ থাকেন। সেদিন বেশ সুস্থ ঝরঝরে মনে হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘আছি। এখন কয়েক দিন তো ভালোই। তোমার শ্যালক ডাক্তার জাকিউরকে বলো আমার কথা। ওর অক্সিজেন সিলিন্ডার আর নেবুলাইজার ব্যবস্থার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে দিয়ো, আসতে বোলো।’

প্রথম আলো আর্কাইভ থেকে 'দুই টুকরো লেখা' by মোহাম্মদ কিবরিয়া

বচেতনের নীল
কম্পোজিশন উইথ ব্লু আমি এঁকেছি অসুখের পর। বছর দুয়েক আগে আমি হঠাৎ হূদরোগে আক্রান্ত হই। অচেতন হয়ে পড়ে থাকি শয্যায়। চিকিৎসার পর আমার চেতনা ফিরে আসে। অচেতন অবস্থা থেকে চেতন অবস্থায় ফেরার মুহূর্তে আমি যেন নীল আলো দেখতে পেয়েছিলাম। এর আগে নীলকে কখনো আমার এত শক্তিশালী মনে হয়নি। যেন নীল আলো দেখতে দেখতে বেঁচে উঠেছি, জীবনে ফিরে এসেছি। নীল আমাকে শান্তি দিয়েছে।

কিবরিয়াঙ্গনে বিষণ্ন রবীন্দ্রনামা by সিলভিয়া নাজনীন

শিল্পীর সংবেদনশীল অন্বেষণ শিল্পের পৃথিবীকে নতুন সম্ভাবনায় ঋদ্ধ করে। শিল্পগুরু মোহাম্মদ কিবরিয়া বাংলাদেশের শিল্প ইতিহাসের অন্যতম পথিকৃৎ, আধুনিক বিমূর্ত ধারার জনক এবং এ দেশের ছাপচিত্রের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একজন শিল্পী। বিষাদের উপলব্ধি, আকাঙ্ক্ষার উদিগরণ- অভিজ্ঞতার ক্ষয়িষ্ণু দেয়ালে সরব হয়ে ওঠে তাঁর ক্যানভাস। শিল্পী কিবরিয়া এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছেন ৭ জুন, ২০১১। ধূসর এই দিনে ঢাকা আর্ট সেন্টারের ‘কিবরিয়া প্রিন্টমেকিং স্টুডিও’-এর প্রথম প্রদর্শনীর আয়োজন ছিল। এ বছরের প্রথম দিকে এই স্টুডিও যাত্রা শুরু করে পুরোধা চিত্রকর, সুদক্ষ ছাপচিত্রী শিল্পী কিবরিয়ার নামানুসারে।

মানবতার খোঁজে by শাশ্বতী মজুমদার

ন্যতম শিল্পমাধ্যম হিসেবে আলোকচিত্র আজ সর্বত্র স্বীকৃত। আলোকচিত্র মানেই মুহূর্ত নির্বাচন। নিয়ত চলমান সময়ের কোন মুহূর্তটি আলোকচিত্রী বেছে নেবেন, তা নির্ভর করে ওই আলোকচিত্রীর ওপর। আলোকচিত্রী নাইমুজ্জামান প্রিন্সের আলোকচিত্রে ধরা পড়ে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানুষের বেঁচে থাকার নিরন্তর লড়াই আর তার জীবনের অর্থ খোঁজার প্রচেষ্টা। বর্তমানে বেঙ্গল গ্যালারিতে শুরু হওয়া নাইমুজ্জামান প্রিন্সের প্রদর্শনীতে ‘সেই সন্ধানে-২’ এর ব্যতিক্রম নয়। প্রদর্শনীতে তাঁর দেশ ও বিদেশের ৭৭টি আলোকচিত্র ঠাঁই পেয়েছে। প্রিন্স মূলত জলবায়ু পরিবর্তন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে কাজ করেন। প্রদর্শনীর ছবিগুলোতে বাংলাদেশ, ভারত, কিউবা ও রুয়ান্ডার মানুষের পরিবেশ ও রাজনৈতিক সমস্যা এবং তাদের মুখের হাসিটুকু যেন শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তাদের চিরন্তন আশার প্রতীকরূপে বিদ্যমান।

প্রণোদিত কথামালা by কাজল রশীদ

নিরুদ্ধের কলাম—সন্তোষ গুপ্ত \ প্রকাশক: আগামী \ ফেব্রুয়ারি ২০১১ \ প্রচ্ছদ: শিব কুমার শীল \ ৫১৯ পৃষ্ঠা \ ১০০০ টাকা। প্রগতিপন্থায় আমৃত্যু সমর্পিত ছিলেন সন্তোষ গুপ্ত। চড়াই-উতরাই, টানাপোড়েনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উপস্থিতিতে তিনি কখনোই বৃন্তচ্যুত হননি। আদর্শের সঙ্গে আপস করেননি। দেশভাগ পরবর্তী সময় স্বেচ্ছায় কলকাতা থেকে ঢাকা আসেন। বাম রাজনীতির জন্য তখন নিজেকে উৎসর্গ করেন। জেল-জুলুমে উত্তরোত্তর আদর্শের পথে নিবেদন ও নিবিষ্ট হন। যাপিত জীবন অধ্যয়নে সেই চিত্রই পাওয়া যায়।

মনিরুল ইসলামের শিল্পবীক্ষণ by মইনুল ইসলাম জাবের

কটি ছবি কীভাবে দেখব? ছবিটিতে কী দেখব? আর ছবিটি আঁকার সময় শিল্পী কী দেখছিলেন—এ প্রশ্নগুলোর উত্তর জানার জন্য আমাদের যেতেই হবে শিল্পী মনিরুল ইসলামের কাছে। আমরা যারা ঢাকাবাসী তাদের ভাগ্য ভালো; ছবির দর্শনকে সাধারণ দর্শকের সামনে বারবার উপস্থাপন করতে সক্ষম এমন অনেক শিল্পী আছেন আমাদের মাঝে। এমন শিল্পীদের একেবারে প্রথম সারিতেই স্থান নিয়েছেন শিল্পী মনির।

সাক্ষাৎকার- সাহিত্য রাজনীতি ও জীবন by ফিলিপ রথ

য়েক বছর ধরে একালের শ্রেষ্ঠ মার্কিন ঔপন্যাসিক ফিলিপ রথের নাম সম্ভাব্য নোবেল বিজয়ীদের তালিকায় আসছে, আবার বাদ পড়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি তিনি পেলেন মান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ এবং নতুন করে আলোচনায় ফিরে এলেন। নাথান জুকারম্যান তাঁর নয়টি উপন্যাসেই অন্যতম চরিত্র হিসেবে উপস্থিত থেকে এক্সিট গোস্ট-এ বিদায় নিয়েছেন। সাক্ষাৎকারের শুরু নাথানকে নিয়েই। এটি ফিলিপ রথের একটি সমান্তরাল চরিত্র; কিন্তু কর্মকাণ্ড ভিন্ন। নাথান শেষদিকে প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত এবং নিবীর্য।

বহুমাত্রিক আনন্দের অন্বেষণে by জাফরিন গুলশান

‘আমাদের সময়ে আমরা শিল্পী-সাহিত্যিক-কবি সকলে একসঙ্গে নিয়মিত আড্ডা দিতাম। ফলে পরস্পরের মধ্যে মতের আদান-প্রদান হতো। কিন্তু এই প্রজন্মে তোমরা বিচ্ছিন্ন। এই বিচ্ছিন্নতার প্রভাব তোমাদের কাজেও পাওয়া যায়।’ নবীন প্রজন্মের শিল্পচর্চাবিষয়ক পর্যবেক্ষণ বিনিময় করলেন বাংলাদেশের বরেণ্য শিল্পী মুর্তজা বশীর। মুর্তজা বশীরের জীবন বর্ণাঢ্য। শিল্পচর্চা, শিক্ষা, গবেষণা, অভিজ্ঞতা, নিরীক্ষায় ব্যাপক বিস্তৃত এক জীবনে তিনি প্রতিনিয়ত আনন্দের অন্বেষায় ঘুরছেন। প্রতিটি মুহূর্তে নিজেকে কিছু না কিছুতে ব্যস্ত রাখা—কখনো ছবি আঁকা, কখনো বই পড়া কিংবা কবিতা-গল্প-উপন্যাস লেখা, কখনো ডাকটিকিট সংগ্রহ, কখনো হয়তো শুধুই বসে গল্প বা উদ্দেশ্যহীন ঘুরে বেড়ানো—এসব শুধুই আনন্দের অন্বেষণে।

রোকেয়ার উত্তরসূরি by কাজল রশীদ

ব ম্যানগ্রোভস অ্যান্ড মনস্টারস: ওমেন’স পলিটিক্যাল পার্টিসিপেশন অ্যান্ড ওমেন’স স্টাডিজ ইন বাংলাদেশ—নাজমা চৌধুরী\ পাঠক সমাবেশ\ প্রচ্ছদ: সেলিম আহমেদ\ পৃষ্ঠা: ১৭৭\ মূল্য: ৭৫০ টাকা। নারী ও পুরুষের সহাবস্থান, সমমর্যাদা, সমঅধিকার, সম গুরুত্ব আবশ্যক হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। ক্ষেত্রবিশেষে নজির মিললেও অপ্রতুল। সভ্যতার অগ্রগতিতে আদিম সমাজ থেকে আজ পর্যন্ত বিকশিত সমাজব্যবস্থায়, নারীর অবদান নিদেনপক্ষে পুরুষের সমান হলেও মূল্যায়ন উল্টো, পুরস্কার বিরল। কখনো কখনো স্বীকৃত হলেও প্রায়োগিক চিত্র হতাশাব্যঞ্জক। সংস্কৃতির অংশ করে তোলার প্রচেষ্টা ও চর্চায় অভ্যস্ত হওয়ার প্রবণতা সীমিতসংখ্যক। এ কথা স্বতঃসিদ্ধ যে নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া পুরুষের পক্ষে সুখী, সুন্দর সমাজ-রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা শুধু দুরূহ নয়, অলীক স্বপ্নের নামান্তর। নারী-পুরুষের মিলিত প্রয়াস ও প্রচেষ্টায় অনেক কিছুই সম্ভব। এমনকি সোনার হরিণও। কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন: বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর/ অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।

রূপমাধুরীর অভীষ্ট অনুরাগ by সিলভিয়া নাজনীন

জীবনোপলব্ধির বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতায় চিত্রকলা যেন সঞ্জীবনী সুধা। একে রসোত্তীর্ণ ধারায় বহমান রাখে অনুভূতিপ্রবণ শিল্পীদের অবিশ্রান্ত সৃজনপিপাসা। মানব অস্তিত্বের অনেক ব্যাখ্যাতীত অনুভূতি অবলীলায় উৎকীর্ণ হয় শিল্পীর ক্যানভাসে। অস্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর রেখা, গড়ন, রূপ, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার শৈল্পিক কৌশলে তৈরি হয় শিল্পভাষা। শিল্পী জামাল আহমেদ, অভিজ্ঞতার নিঃসংকোচ প্রকাশে যাঁর ক্যানভাস হয়ে ওঠে সমকালীন দিনলিপি। এ সময়ের অন্যতম খ্যাতনামা শিল্পী জামাল আহমেদ। আশির দশকের ফিগারেটিভ ছবিতে নতুন অভিব্যক্তি প্রত্যক্ষ হয় তাঁর শিল্পসত্তার সামগ্রিক আয়োজনে। আলো-ছায়ার লুকোচুরি, নিটোল প্রকৃতি, নৈসর্গিক উচ্ছ্বাস, শ্যামল বাংলা, ক্ষয়িষ্ণু মানুষ, অবয়বে বিবিধ রূপ—বহুভঙ্গিম উজ্জ্বল রঙে প্রাণোচ্ছল মনোদর্পণে শিল্পী জামাল প্রতিবিম্বিত করেন মাটির গন্ধমাখা ছবি।

মুক্তিযুদ্ধের মর্মচেরা গাথা by আখতার হুসেন

কাহিনির পটভূমি রাজধানীর গণ্ডি পেরিয়ে জয়দেবপুরের অদূরবর্তী ব্রহ্মডাঙ্গা ও তার আশপাশের পাঁচটি গ্রাম বা জনপদ। এখানে ‘দু-চার পাঁচটা বাদ দিলে মাঝারি গোছের সচ্ছল পরিবার খুব একটা নেই।’ কাহিনির কেন্দ্রে আছে ‘বাতিঘরের’ মতো সেই ব্রহ্মডাঙ্গা বাজার, যেখানে ইংরেজি কোনো পত্রিকা আসে না। বাংলা পত্রপত্রিকা যাও আসে, তাও দু-এক দিন পর পর। শৌখিন গোছের চায়ের স্টলে রেডিও-ট্রানজিস্টার বাজে। ‘সেই সুবাদে দু-চারজন দিনের খবরাখবর পায়। মুখে মুখে ছড়ায়ও কিছুটা।’ একাত্তরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এরকমটাই ছিল উল্লেখ করা ওই জনপদের দিনানুদৈনিকতার চালচিত্র।

হার না মানা জীবনকাহিনি by সোহরাব হাসান

মাদারডাঙ্গার কথা বাংলাদেশের যেকোনো গ্রাম বা প্রত্যন্ত জনপদের কথা হতে পারে, কুশলী কথাশিল্পী শওকত আলী মাদারডাঙ্গাকে তাঁর কাহিনির উপাদান হিসেবে বেছে নিয়েছেন। যে গ্রামটিতে একটি মাজার আছে, আছে সেই মাজারকে ঘিরে কিছু ভক্ত মুরিদান, আছে খাদেম এবং লোকবিশ্বাসে আস্থাশীল কিছু নিরীহ মানুষ। আরও আছে উন্নয়নের নামে শহুরে ভদ্রলোকদের উৎপাত তথা পুঁজির আগ্রাসন।

কবির জীবনাখ্যান by সৈয়দ আজিজুল হক

মাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বের জীবনরস অবলম্বনে উপন্যাস রচনায় সেলিনা হোসেনের রয়েছে এক দীর্ঘ ও গভীর অভিনিবেশ। তাঁর এ ধারার উপন্যাসে ইতিমধ্যে চিত্রিত হয়েছে চর্যাপদ-এর জীবনপরিবেশ, মনসামঙ্গল-এর অন্তর্ভুক্ত চাঁদ সওদাগরের লোকপ্রিয় কাহিনি, চণ্ডীমঙ্গল-এর অন্তর্গত কালকেতু ও ফুল্লরার বৈচিত্র্যময় জীবনগাথা, আমাদের শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির সবচেয়ে আরাধ্য ব্যক্তিত্ব রবীন্দ্রনাথের বর্ণাঢ্য জীবন, বিপ্লবী নারী প্রীতিলতা ও ইলা মিত্রের কঠিন সংগ্রামশীলতা, বাংলাদেশের ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ কালপর্বের সামাজিক-রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস প্রভৃতি। তাঁর এরূপ উপন্যাসভাবনার ক্ষেত্রে সর্বশেষ সংযোজন হলো, উর্দু গজলের কিংবদন্তি-পুরুষ মির্জা গালিবের কবিত্বময় জীবনযন্ত্রণা অবলম্বনে যমুনা নদীর মুশায়রা।

উদ্ভট ঘটনা কেন ঘটে by মশিউল আলম

সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের গল্পে ঢাউস কাঁঠালের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে জ্বলজ্যান্ত এক নারী। প্রেমিক-প্রেমিকা পালিয়ে যাবে বলে নৌকায় চাপে, তারা টের পায় না রাতের অন্ধকারে বিরূপ বাতাসে নৌকা এগোয়নি। সকালের আলোয় যখন তারা দেখতে পেল, প্রেমিকার বাপ-চাচারা ছোটলোকের সন্তান প্রেমিকটিকে মারার জন্য তীরে টেঁটা-বল্লম হাতে দাঁড়িয়ে আছে, তখন প্রেমিক-প্রেমিকা নৌকা থেকে নেমে পড়ল হাওরে। হাওর হয়ে গেল মাঠ। সেই মাঠ ধরে হেঁটে চলল তারা।

কুর্নিশ বাদশাহ নামদারে by ধ্রুব এষ

নাসিরুদ্দিন মোহাম্মদ হুমায়ূন মীর্জা। জন্ম চতুর্থ জিল্কদ, ৯১৩ হিজরি। তাঁর নামের আবজাদ সংখ্যা হলো ৯১৩। বাদশাহ নামদার বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে হুমায়ূন আহমেদ লিখেছেন এভাবে, ‘আমি বাদশাহ নামদার গ্রন্থে ৯১৩ আবজাদ সংখ্যায় সম্রাট হুমায়ূনের বিচিত্র কাহিনী বর্ণনা করব।’ বিচিত্র কাহিনি। ২১৩ পৃষ্ঠায় সেই বিচিত্র কাহিনি বর্ণনা করেছেন হুমায়ূন আহমেদ। রং চড়ানোর চেষ্টা করেননি অযথা। কারণ, বয়ান আছে বইয়ের ভূমিকায়, ‘সম্রাট হুমায়ূন বহুবর্ণের মানুষ। তাঁর চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে আলাদা রং ব্যবহার করতে হয়নি। আলাদা গল্পও তৈরি করতে হয়নি। নাটকীয় সব ঘটনায় তাঁর জীবন পূর্ণ।’

দ্বিতীয় অদ্বৈত by কাজল রশীদ

ক্রুসেড শুধু ধর্মে সীমাবদ্ধ নয়। নানা কারণে ক্রুসেড সংঘটিত হয়। ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্রের মতো প্রতিষ্ঠানেরও ক্রুসেড থাকে, যদি তার সংগঠন ও প্রয়োগ ইতিবাচক হয়। শিল্পী, সাহিত্যিক, কবি, সাংবাদিক—এঁদেরও নিজস্ব ক্রুসেড রয়েছে। তাঁরা ধারণ করেন, চর্চিত রাখেন। শক্তিশালী ও নিষ্ঠাবান লেখকের পক্ষেই কেবল সম্ভব ক্রুসেডে ধ্যানস্থ থাকা।

নরক গুলজার by তৈমুর রেজা

‘এইভাবে কথাগুলো বলতে পারলাম, ...হয়ত তাতে করে আমার কোন রিডার তৈরি হবে না।’ (মামুন হুসাইন: নিক্রপলিস) এই বইটি পাঠকের সঙ্গে ‘গোস্বা’ করে লেখা। আম-পাঠকের পক্ষে তাই এখানে দাঁত বসানো প্রায় বারণ। সাহিত্য যাঁদের ‘ব্যবসা’, এ বইয়ের বাঁধা পাঠক বলতে শুধু তাঁদের ধরতে হবে। মামুন হুসাইন স্বয়ং এ ব্যাপারে যে বেখেয়াল নন, তার নজির হিসেবে ওপরের উদ্ধৃতিটি তুলে রাখা হলো।

বিচিত্র গল্পের ইশারা by আলতাফ শাহনেওয়াজ

ল্পের ভেতর কী থাকে, কী ঘটে—সোজাসাপটা জবাব খুঁজলে বলা যাবে, গল্পের শরীরে গল্পটাই মুখ্য। কাহিনি সূত্রে চরিত্রের জন্ম-বিকাশ-পরিণতি—সব মিলেমিশে পাঠকের চোখে একসময় পুরো গল্পের আকার ফরসা হয়ে ওঠে। এ রকম হিসাব মাথায় রেখে মশিউল আলমের সাম্প্রতিক গল্পগ্রন্থ পাকিস্তান পড়তে গেলে কেন জানি না মনের মধ্যে অতর্কিতে ধন্দ এসে উপস্থিত হয়। ধন্দ এই জন্য যে, গল্পের চেনাজানা আবরণের মধ্যে শেষ অবধি গল্পগুলো কতটা এবং কীভাবে গল্প হয়ে ওঠে; আর কেমন করেই বা পরিণতি পায় চরিত্রগুলো? কেননা, গোটা বইয়ে মশিউল যেভাবে একের পর এক গল্প বলে যান, তার মধ্যে টলটলে গল্প আছে বটে; কিন্তু গল্পের চরিত্রগুলো কতটা পরিণতি পায় কিংবা এখানে চরিত্রের পরিণতি সেভাবে আবশ্যিক কি না—এ রকম গুটিকয় প্রশ্ন মাথার ভেতর বন বন করে পাকিস্তান-এর পাট চুকানোর পরেও।

একের বহুত্ব by জাফরিন গুলশান

ভারতীয় চিত্রশিল্পী এস কে শাহজাহান সম্পর্কে উপমহাদেশের অন্যতম বিখ্যাত শিল্পী কে জি সুব্রামানিয়ানের বক্তব্য, ‘নির্ভুল প্রতিভা এবং নান্দনিক উৎস।’ ‘একের বহুত্ব’ শীর্ষক একক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী হয়ে গেল বেঙ্গল গ্যালারি অব ফাইন আর্টসে, ২৩ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত।

উৎসমুখী মাটির ঘ্রাণ by নন্দিনী মুখার্জী

‘ট্রেইলিং দ্য রুট’ শিরোনামে একটি প্রদর্শনী সম্প্রতি শেষ হলো ঢাকার নিমতলীতে অবস্থিত এশিয়াটিক গ্যালারি অব ফাইন আর্টসে। চারজন শিল্পীই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক—মো. জিল্লুর রহমান, নুরুল আমীন, শাবিন শাহরিয়ার ও ময়নুল ইসলাম পল। পেইন্টিং, সিরামিকস, ক্র্যাফটস ও স্কাল্পচার—এই চার মাধ্যমে কাজের নান্দনিক উপস্থিতি প্রদর্শনীকে দিয়েছে বৈচিত্র্যময় অবয়ব। শিল্পী মো. জিল্লুর রহমানের ‘উত্তরে আদিবাসী’ শিরোনামের পেইন্টিংগুলো মূলত আধা বিমূর্ত। কোথাও ঝাপসা হয়ে যাওয়া অবয়ব দেখা গেলেও মূলত রঙের খেলাই লক্ষণীয়। ক্ষয়িষ্ণু দেয়াল, ভঙ্গুর রঙের প্রলেপ থেকে অন্য রঙের ঝলক, রুক্ষ রেখা, দুঃসময়ের আশাবাদী চেতনা—এসবই তিনি সৃজন করেছেন তাঁর শিল্পকর্মে।
শিল্পী নুরুল আমীন সিরামিকস মাধ্যমে নিরীক্ষাধর্মী কাজ করেছেন। ‘বিষণ্নতা’ শিরোনামে তিনি মূলত আমাদের বিলুপ্তপ্রায় সংস্কৃতির নানা উপাদানকে ফুটিয়ে তুলেছেন। শিল্পমাধ্যমের সীমাবদ্ধতাকে স্বীকার করে তিনি নিজস্ব আঙ্গিকে রূপায়িত করেছেন ঐতিহ্যলগ্নতার স্মারক।
শিল্পী শাবিন শাহরিয়ার ‘বাংলাদেশের লোকজ খেলনা’ শিরোনামে আমাদের হারিয়ে যাওয়া সময়কে তুলে ধরেছেন।
শিল্পী ময়নুল ইসলাম পল দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রয়োজনীয় ও ব্যবহার্য উপাদানকে ভিন্নরূপে উপস্থাপন করেছেন। ‘মাটির কথা’ শিরোনামে তাঁর ভাস্কর্য দৈনন্দিন অনুষঙ্গের শৈল্পিক রূপে এসেছে। প্রাত্যহিক জীবনে এই ব্যবহার্য উপাদানকে আমরা হয়তো এই শিল্পিত রূপে ভাবতেও পারিনি। শিল্পী ময়নুলের বুদ্ধিদীপ্ত পরিমার্জনায় আমরা এক নতুন চিন্তার ব্যতিক্রমী উপস্থাপন দেখতে পাই।
এই চার শিল্পী পৃথক বিষয়বস্তু নিয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন মাটিবর্তী শিল্পের।

সীমানা ছাড়িয়ে by জাফরিন গুলশান

বাংলাদশ সীমান্তর্তী ভারতের ছয় রাজ্য: আসাম, ত্রিপুরা, সিকিম, মিজোরাম, মনিপুর, মেঘালয়—বাংলাদেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক বা দৈনন্দিন জীবনাচারে আন্তরিক নৈকট্য অনেক দিনের। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাধারণ মানুষ, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীরা উদার মানবিক সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশের যুদ্ধপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

মৃত্যুর ভিতরে জাগরণ by নির্লিপ্ত নয়ন

বিতার সঙ্গে অনেককাল বসবাস করে বেশ কয়েকটি কাব্যগ্রন্থের মালিক হওয়ার পর একজন কবির সামগ্রিক গন্তব্যের দিশা পাওয়া যায় কি না, বিষয়টি নিয়ে অনেকের হয়তো অনেক রকম ব্যাখা আছে। তবে কয়েকটি কবিতার বই প্রকাশের পর ওই কবির কাব্য অনুষঙ্গ ও ভুবন সম্পর্কে গড়পড়তা একটি ধারণা যে দাঁড় করানো সম্ভব, এটি মোটামুটি বলা যাবে। বাংলাদেশের কাব্যজগতে কবি মোহাম্মদ রফিকের কবিতা সম্পর্কে পাঠকের মধ্যে একটি পোক্ত ধারণা বর্তমান। মোটাদাগে ধারণাটি এমন—তাঁর কবিতায় বাংলার মাটি-মানুষের ঐশ্বর্য-ঐতিহ্য ও জীবনযাপনের চিহ্নগুলো হাজির। আছে আখ্যানের মায়ামেশানো মাটি, যার মধ্যে এ দেশের স্বপ্ন ও বাস্তবতার চেহারাটি বেশ তাগড়া—স্পষ্ট।

সাতের বর্ণিল ক্যানভাস by শাশ্বতী মজুমদার

ঢাকা চারুকলার সাতজন বন্ধুর আঁকা ছবি নিয়ে একটি প্রদর্শনী চলছে জয়নুল গ্যালারিতে। প্রদর্শনীর নাম ‘সেভেন ফ্রম উইথ ইন আউট ওয়ার্ড’। (২০০৯ সালে নিউইয়র্কে ফ্র্যাংক লয়েড রাইটের ‘ফ্রম উইথ ইন আউট ওয়ার্ড’ নামে বিখ্যাত একটি প্রদর্শনী হয়েছিল।) প্রদর্শনীতে শিল্পীদের সাম্প্রতিক সময়ে আঁকা ৩৪টি শিল্পকর্ম ঠাঁই পেয়েছে। শিল্পীদের প্রত্যেকের কাজের বিষয়গত বৈচিত্র্য থাকলেও তাঁদের প্রত্যেকেরই কাজের রঙের ঔজ্জ্বল্য ও বর্ণিল ভাব বেশ উল্লেখযোগ্য।