Wednesday, March 9, 2016

ইরাক-সিরিয়ায় আইএসের ‘জঙ্গি উৎপাদন প্রকল্প’!

মধ্যপ্রাচ্যে ইরাক-সিরিয়ার একটা বড় অংশসহ লিবিয়ার বেশ কয়েকটি অঞ্চলে ঘাঁটি গেড়ে আছে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। শুধু মধ্যপ্রাচ্যই নয় সারা বিশ্বেই নিজেদের শাখা বিস্তার করছে এ জঙ্গি গোষ্ঠীটি। এখানেই শেষ নয়, বিশ্বব্যাপী নিজেদের তথাকথিত ‘খেলাফত’ কায়েমে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম সেই ‘শাসনব্যবস্থা’ টিকিয়ে রাখতে এবার ‘নতুন প্রজন্ম উৎপাদনের প্রকল্প’ হাতে নিয়েছে দুর্ধর্ষ এ জঙ্গি গোষ্ঠীটি। অভিনব এ প্রকল্পের বাস্তবায়নে তাদের হাতে রয়েছে ৩১ হাজার গর্ভবতী নারী। তাদের গর্ভেই জন্ম নেবে আইএসের নতুন প্রজন্মের ‘জঙ্গি’। বেশ অনেকদিন যাবত গণমাধ্যমে আইএসদের জিহাদি কার্যক্রমে শিশুদের ব্যবহার নিয়ে লেখালেখি এবং প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু কীভাবে তারা শিশুদের এখানে যুক্ত করছে, তার ওপর করা একটি বহুমাত্রিক তদন্ত প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে এ চমকপ্রদ তথ্য। চিলড্রেন অব ইসলামিক স্টেট নামের এ প্রতিবেদনে লন্ডনের সন্ত্রাসবিরোধী থিংক-ট্যাংক ‘কুইলিয়াম’ তাদের এ তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করেছে। আইএস কীভাবে শিশুদের নিয়োগ দেয় এবং জিহাদের প্রশিক্ষণ দেয় তার ওপরেই মূলত এ তদন্ত করা হয়েছিল। মঙ্গলবার দ্য সান, দ্য ইন্ডিপেন্টেট, দ্য মিরর সারা বিশ্বের প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলোতে এ খবর চাউর হয়েছে।জাতিসংঘ সমর্থিত এ তদন্তের ফলাফলে বলা হয়,
আইএস বয়স্কদের চেয়ে শিশুদের বেশি কার্যকরী যোদ্ধা হিসেবে তৈরি করা সম্ভব বলে মনে করে। যেহেতু সদ্যজাত শিশুদের মন শূন্য ব্লাকবোর্ডের মতো, কাজেই তারা সেই বোর্ডে যা লিখবে তাই নিয়ে গড়ে উঠবে শিশু। জন্ম থেকেই এ ধরনের কার্যক্রমের মধ্যে রাখলে এ শিশুরাই এক সময় হবে আইএসের ভবিষ্যৎ যোদ্ধা বাহিনী। শিশুদের ব্যতিক্রম উপায়ে বড় করার জন্য আইএস অনেক পদ্ধতি ব্যবহার করে। তার মধ্যে একটি পদ্ধতি হচ্ছে, শত্র“র ছিন্ন মস্তক দিয়ে তাদের ফুটবল খেলার ব্যবস্থা করা। গবেষকরা বলেছেন, ছেলে শিশুদের কোরানের আয়াত মুখস্থ করতে হয় এবং জিহাদের প্রশিক্ষণ নিতে হয়। সেখানে গোলাগুলি, কারাতে এবং অস্ত্র নিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। মেয়ে শিশুদের বলা হয় ‘খেলাফতের মুক্তা’। তাদের অবশ্যই ইসলামী আইন অনুসারে অন্দর মহলে থাকতে হবে। একজন জ্যেষ্ঠ গবেষক নিকিতা মালিক বলেন, ‘আইএস খুব ধৈর্য, চতুরতা এবং কৌশলের সঙ্গে পরবর্তী প্রজন্মের জিহাদি তৈরি করছে। তাদের ৩১ হাজার নারী এখন গর্ভবতী। এরা যে সন্তান প্রসব করবেন তাদের দিয়েই তৈরি করা হবে আগামী বাহিনী।’ একজন বয়স্ক মানুষকে খেলাফতের আদর্শে দীক্ষিত করা আইএসের জন্য কঠিন কাজ। অনেক ক্ষেত্রেই ঠিকমতো কাজ হয় না। তাছাড়া বয়স্কদের ভেতরে সংশয় কাজ করে। তারা ন্যায়-অন্যায়ের তফাৎ জানে। কিন্তু সদ্যজাত শিশুদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা থাকবে না। তাদের ছোটবেলা থেকে যেভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে, যা শেখানো হবে, তারা ঠিক তাই শিখবে। তারা হবে আইএসের আদর্শ যোদ্ধা।

মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর সুপারিশ ট্যারিফ কমিশনের

অপরিশোধিত ভোজ্যতেল আমদানি পর্যায়ে ধার্যকৃত মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এক স্তরে দেয়া-নেয়ার সুযোগ আরও এক বছর বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে এ সংক্রান্ত সুপারিশ করে চিঠি দিয়েছে। আগে ভোজ্যতেল বাজারজাতের ক্ষেত্রে আমদানি, উৎপাদন এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে পৃথকভাবে তিন স্তরে এ ভ্যাট আদায় করা হতো। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভ্যাট আদায়ের এ পদ্ধতি জটিল। এতে রাজস্ব আদায়ে ফাঁক-ফোকরেরও সুযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে ব্যবসায়ীকে এর মাধ্যমে হয়রানি ও ভোগান্তির মুখেও পড়তে হতো। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে গত বছর ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে তিন স্তরের পরিবর্তে এক স্তরে ভ্যাট আদায়ের প্রথা চালু করা হয়। এর মেয়াদ চলতি বছরের ৩০ জুন শেষ হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে হাতে প্রায় তিন মাস বাড়তি সময় রেখেই চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশে ভোজ্যতেলের সরবরাহ লাইন স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন এ সুপারিশ করল।
জানা গেছে, বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ২০১৪ সালের ৯ জুন অনুষ্ঠিত এক সভায় তিন স্তরের পরিবর্তে একস্তরে ভ্যাট সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত হয়। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন সে সময়ও একই ধরনের সুপারিশ করেছিল। এ সুপারিশ আমলে নিয়েই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গতবছর ১৬ ফেব্র“য়ারিতে এ সংক্রান্ত দুটি প্রজ্ঞাপন (এসআরও) জারি করে। আর সে প্রজ্ঞাপনের এখতিয়ারের আওতায় তখন থেকেই উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট আদায় অব্যাহতি দেয়া হয়। একইসঙ্গে শুধুমাত্র আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট আরোপের বিষয়ে আদেশ জারি করা হয়। এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আসা ট্যারিফ কমিশনের এক চিঠিতে ভোজ্যতেলের আমদানি পর্যায়ে একস্তরে ভ্যাট গ্রহণের সুযোগ চলতি বছরের ৩০ জুন থেকে বাড়িয়ে আগামী ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অর্থাৎ এক বছর বাড়ানোর পক্ষে মতামত দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে জানান, তিন স্তরের পরিবর্তে একস্তরে ভ্যাট আদায়ের সিদ্ধান্তটি আগেই সেটেলড একটি বিষয়। তবে এর মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে। ব্যবসায়ীদের দাবি ও সামনে রমজানের পরিপ্রেক্ষিতে দেশে ভোজ্যতেলের মজুদ ও দাম স্বাভাবিক রাখতে ট্যারিফ কমিশন এ সুপারিশ করেছে। তিনি দাবি করেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেশের ভোক্তাসাধারণের স্বার্থ ও ব্যবসা-বাণিজ্য পরিস্থিতি গতিশীল রাখতে এ ধরনের সুপারিশ সব সময় ইতিবাচক হিসেবেই দেখে থাকে।
জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এ সংক্রান্ত চিঠিতে কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বাণিজ্য নীতি সদস্য শেখ আবদুল মান্নান বলেছেন, বর্তমানে অপরিশোধিত ভোজ্যতেল আমদানিতে তিন স্তরের পরিবর্তে শুধু আমদানি পর্যায়ে এক স্তরে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আদায় করা হচ্ছে। আগে এর আমদানি পর্যায়ে শুল্কায়নযোগ্য মূল্যের ওপর (অ্যাসেসেবল মূল্য) ১০ শতাংশ অথবা শুল্কায়নযোগ্য মূল্যের ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশের ওপর ১৫ শতাংশহারে ভ্যাট নেয়া হতো। একই সঙ্গে উৎপাদন পর্যায়ে ট্যারিফ মূল্য নির্ধারণ ছিল সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রে ৪১১০ টাকা ও পামঅয়েলের ক্ষেত্রে ৩৭০০ টাকা। এ ট্যারিফ মূল্যের ওপর ভিত্তি করে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আদায় করা হতো। তাছাড়া ব্যবসায়ী পর্যায়ে ৪ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করা হতো। কমিশনের বাণিজ্য নীতি সদস্য শেখ আবদুল মান্নান অভিমত দিয়ে আরও বলেন, সরকারিভাবে তিন স্তরের ভ্যাট আহরণ করা জটিল পদ্ধতির। এতে ব্যবসায়ীদের জন্যও যেমন অসুবিধার সৃষ্টি করে, তেমনি সার্বিক প্রক্রিয়ায়ও কালক্ষেপণ হয়। অনেক ক্ষেত্রে তা ভোজ্যতেলের সরবরাহ লাইনেও সমস্যার সৃষ্টি করে।
এ বিষয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সিটি গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ সাহাও জানান, তিন স্তরে ভ্যাট আরোপ করা হলে উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট প্রদানের সময় তাদের বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বিশেষ করে পণ্য পরিবহনের সময় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ভোজ্যতেল পরিবহনকারী যানবাহনকে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি করে। এর ফলে প্রায়শ বাজারে ভোজ্যতেল সরবরাহ লাইনে সংকট দেখা দেয়। তার মতে, তিন স্তরে প্রদানকৃত ভ্যাট এক স্তরে প্রদান করা হলে সরকার ১৫ শতাংশ ভ্যাট নিশ্চিতভাবে পেয়ে থাকে। এ কারণে এক স্তরে ভ্যাট প্রদান করাই যৌক্তিক। তিনিও মনে করেন, এর মেয়াদ আগামী ২০১৭ সালের ৩০ জুন অর্থাৎ আরও এক বছর বৃদ্ধি করা উচিত। এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের উপসচিব মো. হারুন অর রশিদ বলেন, এক স্তরের পদ্ধতি সরকার এবং ব্যবসায়ী দু’পক্ষের জন্যই আদান-প্রদানে সুবিধাজনক। তাই এটির মেয়াদ বৃদ্ধি করা যেতেই পারে। তবে এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ট্যারিফ কমিশনের এ প্রস্তাব সময়োচিত। তবে আমরা মনে করি, এর মেয়াদ বছর বছর না বাড়িয়ে স্থায়ীভাবেই এটি এক স্তরে চালু করা উচিত। কারণ আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট সংগ্রহের সময় মূল্য বিবেচনায় আনলে সেটি সরকারের জন্যই লাভজনক হবে। এছাড়া ব্যবসায়ী পর্যায়ে ৪ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায়ের বিষয়টিও সব সময় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়ে উঠে না।

মাহমুদউল্লাহ-সাব্বির ভরসা হতে পারেন

টি ২০ বিশ্বকাপে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের ভরসা হতে পারেন সাব্বির রহমান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। টি ২০ ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান এখন সাব্বির রহমান। আর ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে নিজের ব্যাটিং কৌশল পাল্টে ফেলেছেন মাহমুদউল্লাহ। এশিয়া কাপে দু’জনের দারুণ ব্যাটিং বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে ভরসা জোগাচ্ছে। এশিয়া কাপে অন্যদের টপকে টুর্নামেন্টসেরা হয়েছেন সাব্বির রহমান। পাঁচ ম্যাচে তিনি করেছেন ১৭৬ রান। এশিয়া কাপে তার পরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান বিরাট কোহলির ১৫৩। শ্রীলংকার বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৮০ রানের ইনিংস খেলেছেন সাব্বির। ভারতের বিপক্ষে এক ম্যাচে ৪৪ এবং অপর ম্যাচে ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন। ইএসপিএন ক্রিকইনফোর সেরা এশিয়া একাদশে রয়েছেন এই ডান-হাতি ব্যাটসম্যান। টি ২০ ক্রিকেট সাব্বিরেরও প্রিয় ফরম্যাট। এখন পর্যন্ত ১৯ ম্যাচে তিন হাফ সেঞ্চুরিতে ৩২.৬৪ গড়ে করেছেন ৪৫৭ রান। টি ২০ ক্রিকেটে তার রয়েছে ৪৩ চার ও ১১ ছয়। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে নিজের র‌্যাংকিংয়েও উন্নতি করেছেন তিনি। ৪৪ ধাপ এগিয়ে সাব্বিরের র‌্যাংকিং এখন ২০তম।
মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিংয়ে উন্নতিতে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ আরও শক্তিশালী হয়েছে। নিজেকে ম্যাচ উইনার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছেন তিনি। মাহমুদউল্লাহ টি ২০ ক্রিকেটে সর্বশেষ চার ম্যাচে অপরাজিত রয়েছেন। সর্বশেষ চার ম্যাচে তার রান ৩৬*, ২৩*, ৩২* ও ৩৩*। এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে তার দুর্দান্ত ব্যাটিং সবাইকে মুগ্ধ করেছে। মাত্র ১৩ বলে দুটি করে চার ও ছয়ে ৩৩* রান করেন তিনি। এশিয়া কাপের সেরা একাদশে মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে রয়েছেন তিনি। তার ব্যাটিংয়ে স্বস্তি পাচ্ছেন অধিনায়ক মাশরাফিও। এশিয়া কাপ শেষে টাইগার অধিনায়ক বলেন, ‘রিয়াদ আগের চেয়ে পরিপক্ব হয়েছে। আগে সে যে এত ভালো শট খেলতে পারত না তা নয়। অভিজ্ঞতা বেড়েছে। সেই সঙ্গে উন্নতিও হয়েছে। তার ব্যাটিং বিশ্বকাপে থাকলে বাংলাদেশের জন্য ভালো হবে।’ এশিয়া কাপে বাংলাদেশের তিন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসান ভালো কিছু করতে পারেননি। বিশ্বকাপে তাদের জ্বলে ওঠার দিকেও তাকিয়ে আছে টাইগাররা। ওপেনার সৌম্য সরকার অবশ্য
শেষ দুই ম্যাচে রানে ফেরার
ইঙ্গিত দিয়েছেন।
টি ২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যা কিছু সেরা
সর্বোচ্চ রান
ব্যাটসম্যান ম্যাচ রান সর্বোচ্চ গড় স্ট্রাইকরেট ৫০
সাকিব আল হাসান ১৮ ৪৩৮ ৮৪ ২৭.৩৭ ১২৯.৫৮ ২
তামিম ইকবাল ১৭ ২১৯ ৩২ ১২.৮৮ ৮৯.০২ ০
মুশফিকুর রহিম ১৮ ২১৪ ৪৭ ১৭.৮৩ ১০৪.৩৯ ০
মোহাম্মদ আশরাফুল ১১ ২১২ ৬৫ ১৯.২৭ ১৩৮.৫৬ ২
এনামুল হক ৭ ১৮৪ ৪৪* ৩০.৬৬ ১১৮.৭০ ০
সর্বোচ্চ উইকেট
বোলার ম্যাচ উইকেট সেরা গড় ইকোনোমি ৪ উইকেট
সাকিব আল হাসান ১৮ ২০ ৪/৩৪ ২১ ৬.৪৪ ১
আবদুর রাজ্জাক ১৫ ১৬ ২/১৬ ২২.৮৭ ৬.৮১ ০
আল-আমিন হোসেন৭ ১০ ৩/২১ ১৮.৭০ ৭.৩৩ ০
মাশরাফি মুর্তজা ১৬ ১০ ২/২৮ ৪৮.৪০ ৮.২৫ ০
মাহমুদউল্লাহ ১৫ ৭ ২/২৩ ২৮.৭১ ৬.৪৮ ০
সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ
স্কোর ওভার প্রতিপক্ষ ভেন্যু আসর
১৭৫/৬ ২০ পাকিস্তান পাল্লেকেলে ২০১২
১৬৫/৪ ১৮ ওয়েস্ট ইন্ডিজ জোহানেসবার্গ ২০০৭
১৫৫/৮ ২০ ভারত নটিংহাম ২০০৯
১৫৩/৫ ২০ অস্ট্রেলিয়া মিরপুর ২০১৪
১৫১/৭ ২০ পাকিস্তান গ্রস আইলেট ২০১০
সর্বনিু দলীয় সংগ্রহ
স্কোর ওভার প্রতিপক্ষ ভেন্যু আসর
৮৩ ১৫.৫ শ্রীলংকা জোহানেসবার্গ ২০০৭
৯৮ ১৯.১ ওয়েস্ট ইন্ডিজ মিরপুর ২০১৪
১০৮ ১৬.৩ হংকং চট্টগ্রাম ২০১৪
১১৪ ১৮.৪ অস্ট্রেলিয়া ব্রিজটাউন ২০১০
১২৩/৮ ২০ অস্ট্রেলিয়া কেপটাউন ২০০৭

শুটিংয়ে ব্যাংককে উর্মিলা

নাটকে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন অভিনেত্রী উর্মিলা শ্রাবন্তী কর। সম্প্রতি এ অভিনেত্রী এক মাসের সফরে উড়াল দিলেন ব্যাংককের উদ্দেশ্যে। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি। সেখানে তিনি ফাহমিদা ইরফান পরিচালিত খণ্ড নাটক ‘তোমার মুঠোয় বন্দী আকাশ’ এবং অনিরুদ্ধ রাসেলের নির্দেশনায় ধারাবাহিক নাটক ‘টাইম’-এর শুটিং করবেন বলে জানা গেছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান দৃকের ব্যানারে নির্মিত হবে নাটক দুটি। দুটি নাটকই যথাক্রমে রচনা করেছেন এজাজ মুন্না ও নাজনীন হাসান চুমকী। নাটকগুলোতে অভিনয় প্রসঙ্গে উর্মিলা বলেন,
‘অভিনয়ের ক্ষেত্রে সবসময় ভালো গল্পের দিকে নজর দিয়ে থাকি। দুটো নাটকেরই স্ক্রিপ্ট আমার মন ছুঁয়ে গেছে। গল্পের প্রতি ভালোলাগা নিয়েই কাজ দুটি করতে ব্যাংকক যাচ্ছি। সবাই দোয়া করবেন যাতে ভালোভাবে দুটো কাজ শেষ করে সুস্থভাবে দেশে ফিরতে পারি।’ দুটি নাটকের কাজ শেষে আগামী ১০ এপ্রিল দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন উর্মিলা। এছাড়াও তার অভিনীত সাখাওয়াত মানিক পরিচালিত ধারাবাহিক নাটক ‘মেঘে ঢাকা শহর’ শিগগিরই একটি চ্যানেলে প্রচারের কথা রয়েছে। এর আগে ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে উর্মিলা অভিনীত কাজল আরেফিন অমির ‘নো অ্যানসার’ এবং রাসেল শিকদারের ‘গীটার’ দর্শকদের কাছে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

গুঞ্জন শুনি

বলিউডপাড়ায় আলোচিত প্রেমিক জুটি এখন করণ সিং গ্রোভার ও বিপাশা বসু। সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা ঊর্ধ্বে রেখে প্রেম চালিয়ে যাচ্ছেন এ জুটি। সম্প্রতি তাদের প্রেমের সম্পর্ক পরিণয়ের দিকে এগোচ্ছে বলেই গুজব রটেছে। মার্চেই নাকি বাগদান সেরে ফেলতে যাচ্ছেন এ জুটি। তবে মার্চে এসেই নিজেদের বাগদানের বিষয়টি অস্বীকার করলেন বিপাশা বসু। এ অভিনেত্রীর আঙুলে একটি হিরার আংটি নিয়েই গুজবের ডালপালা মেলেছিল।
সম্প্রতি এ বিষয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে টুইটারে তিনি লিখেছেন ‘বিয়ের খবরটা আমাকেই ঘোষণা করতে দিন। অপেক্ষা করুন। দয়া করে এসব গুজব রটানো বন্ধ করুন।’ উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ‘অ্যালোন’ ছবিতে কাজের সূত্র ধরে করণ সিং গ্রোভার আর বিপাশা বসুর সম্পর্কের শুরু। বন্ধুত্ব থেকে সম্পর্ক তৈরি হয় দু’জনার মধ্যে। নববর্ষ এবং বিপাশার জন্মদিন থাইল্যান্ডে একসঙ্গেই পালন করেন দু’জনে। বিনিময়ে করণের জন্মদিনেও ভারতের গোয়ায় একসঙ্গে সেলিব্রেট করেন বিপাশা।

লড়ে যাচ্ছেন স্যান্ডার্স

যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও গণমাধ্যম বার্নি স্যান্ডার্সকে ইতিমধ্যে ‘পরাজিত’ তালিকায় নিক্ষেপ করলেও স্বঘোষিত এই ‘গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী’ আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। গত শনিবার দুটি অঙ্গরাজ্যের বাছাইপর্বের নির্বাচনে জয়লাভ করার পর রোববার মেইন রাজ্যের ককাসেও হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে জিতেছেন ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। এই নিয়ে মোট সাতটি রাজ্যে জয়ের ফলে তাঁর পক্ষে মোট ডেলিগেটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯৮। অন্যদিকে তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটন মোট ১০টি রাজ্যে জয়লাভ করে নিজের পক্ষে ১ হাজার ১২৯ জন ডেলিগেট সংগ্রহ করে নিয়েছেন। প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হওয়ার জন্য প্রয়োজন কমপক্ষে ২ হাজার ৩৮৩ জন ডেলিগেটের সমর্থন। রোববার মিশিগানের ফ্লিন্ট শহরে তাঁদের ষষ্ঠ নির্বাচনী বিতর্কে এই দুই প্রার্থী একে অপরের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তীব্র বাদানুবাদে লিপ্ত হন। রিপাবলিকানদের তুলনায় অত্যন্ত শালীন ও অর্থপূর্ণ এই বিতর্কে বার্নি স্যান্ডার্স আবার ওয়াল স্ট্রিট ও ধনী চাঁদাদাতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ফার্স্ট লেডি হিলারির সমালোচনা করেন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি, নাগরিক অধিকার ও গাড়ি নির্মাণশিল্পের পক্ষে ওবামা প্রশাসনের বিশাল আর্থিক সাহায্যসহ বিভিন্ন প্রশ্নে ক্লিনটনের অবস্থান তুলে ধরে তীব্র ভাষায় তাঁর সমালোচনা করেন স্যান্ডার্স। অন্যদিকে ওবামা প্রশাসনের অবস্থানের পক্ষে সাফাই গেয়ে হিলারি বলেন, ডেমোক্রেটিক পার্টির অধিকাংশ সদস্য মোটরশিল্পকে সাহায্য করার পক্ষে ছিলেন বলেই আজ ডেট্রয়েটের মোটরশিল্প মন্দাবস্থা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে।
বিতর্কের একটি বড় অংশজুড়ে ছিল ফ্লিন্ট শহরের আলোচিত পানীয় জল সরবরাহ সমস্যা নিয়ে। প্রধানত আফ্রিকান-আমেরিকান, অর্থাৎ কৃষ্ণাঙ্গ-অধ্যুষিত ফ্লিন্ট শহরে দীর্ঘদিন থেকে সিসাযুক্ত বিষাক্ত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পয়সা বাঁচাতে পানি সরবরাহকারী বদল করাতেই তা ঘটে। স্যান্ডার্স এ জন্য এলাকাবাসীর অনেকের কণ্ঠে সুর মিলিয়ে মিশিগানের গভর্নর রিক স্নাইডারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। বিতর্কে প্রথমবারের মতো হিলারিও এই দাবির প্রতি তাঁর সমর্থন ব্যক্ত করেন। আজ মঙ্গলবার মিশিগান ও মিসিসিপিতে ডেমোক্রেটিক পার্টি তার প্রাইমারি ভোট গ্রহণ করবে। এই দুই রাজ্যেই বিপুলসংখ্যক কৃষ্ণাঙ্গ ভোটার রয়েছেন। এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বাছাই নির্বাচনে হিলারি মুখ্যত এই আফ্রিকান-আমেরিকানদের বিপুল সমর্থনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে আছেন। শিক্ষিত ও শ্বেতাঙ্গ উদারনৈতিক ভোটারদের বাইরে এই কৃষ্ণাঙ্গ ও অভিবাসীদের মধ্যে নিজের সমর্থন বাড়ানোটাই বার্নি স্যান্ডার্সের জন্য এখনো প্রধান চ্যালেঞ্জ। এই দুই গ্রুপের ভোটারদের পক্ষে টানার জন্য স্যান্ডার্স অর্থনৈতিক অসাম্যের কথা বারবার তুলে ধরেন। বলেন, তিনি সাধারণ মানুষের জন্য লড়ছেন; অন্যদিকে হিলারি আগাগোড়া বহুজাতিক করপোরেশন ও ব্যাংকমালিকদের পক্ষ সমর্থন করে গেছেন। কটাক্ষ করে স্যান্ডার্স বলেন, ‘আমি খারাপ খবর দিতে চাই না। কিন্তু অস্বীকার করা যাবে না যে, ডেমোক্র্যাটরা সব সময় ঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। যেমন, তারা বহুজাতিক করপোরেশনগুলোকে মন্দাবস্থা থেকে টেনে তুলেছে এবং শ্রমিকের জন্য ক্ষতিকর—এমন বাণিজ্য চুক্তি সমর্থন করেছে।’

কবরের এত দাম!

নিউইয়র্কে মৃত এক ব্যক্তির জানাজা হচ্ছে। এখানে দাফন
ব্যয়বহুল হওয়ায় লাশ তাঁর দেশ কসোভোয় পাঠানো হবে।
ছবি: আল জাজিরার সৌজন্যে
জামার হাতাটা ভাঁজ করতেই আহমেদ কারগির ডান হাতের ট্যাটুটা বেরিয়ে পড়ল। এটা যে তুরস্কের পতাকা, তা নিজেই জানিয়ে দিলেন তিনি। বললেন, ‘এটা আমার শিকড়ের সঙ্গে নিজেকে আরও ঘনিষ্ঠ ভাবতে সাহায্য করে।’ ৪০ বছর বয়সী কারগি তুর্কি বংশোদ্ভূত। কিন্তু তিনি আজ মোটরসাইকেলে চেপে ব্রুকলিনের শান্ত রাস্তায় আওয়াজ তুলে যাঁর উদ্দেশে ছুট দিলেন, তিনি একজন ইরানি। নাম আলী (৪৮)। ইরানি এই মুসলমান চাকরি হারিয়ে বিষণ্ন ছিলেন। এরপর এক রাতে ঘুমের মধ্যেই মারা গেছেন। কিন্তু এখানে দাফন করানোর সামর্থ্য নেই তাঁর রুশ স্ত্রী সেভতলানার। তাই মরদেহ চলে যাবে ইরানে। তার আগে ইসলামি রীতি মেনে স্বামীর লাশের গোসলসহ শেষকৃত্য করাতে চান তিনি। সে লক্ষ্যেই আলীর মরদেহ নিউইয়র্কের ডেকালব অ্যাভিনিউয়ের পিরো ফিউনেরাল হোমে আনা। এখানে মুসলিম, খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের শেষকৃত্যের জন্য পৃথক তিনটি বিভাগ রয়েছে। আহমেদ কারগি মুসলিম বিভাগের প্রেসিডেন্ট। কারগির মতে, যুক্তরাষ্ট্রে শেষকৃত্য নিয়ে রীতিমতো বাণিজ্য হয়;
থাকে নানা আয়োজন। এখানে প্রথাগত একটি শেষকৃত্যে ৬ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত খরচ হয়। কিন্তু ইসলামে শেষকৃত্যের জন্য এত খরচকে অপচয় হিসেবে দেখা হয়। আর এখানে সবকিছুই করা হয় মৃত ব্যক্তির জন্য। তাকে চিরনিদ্রার স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে শুইয়ে দেওয়াটাই বড় কথা। কিন্তু নিউইয়র্কের মুসলমানদের জন্য মাটির নিচে চিরনিদ্রার জায়গা পাওয়াটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, এখানে ৬ থেকে ১০ লাখ মুসলিমের বাস হলেও তাদের জন্য কোনো কবরস্থান নেই। নিউজার্সির স্টেট মেমোরিয়াল পার্ক সেমিট্রিসহ দু-একটি সমাধিক্ষেত্রে মুসলমানদের জন্য অল্পস্বল্প যে জায়গা আছে, সেখানে লাশ দাফনে ৬ হাজার থেকে ১৪ হাজার ডলার গুনতে হয়। তাই বেশির ভাগ মুসলিমকেই খুঁজতে হয় বিকল্প উপায়। নিউইয়র্কে ইসলামি শেষকৃত্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত ফিলিস্তিনি আমেরিকান নাগরিক নুরুদ্দিন আবু ইব্রাহিম বলেন, মৃত্যু অনিবার্য বাস্তবতা। কিন্তু মরদেহ দাফন করার বিষয়টি কারও জন্য এতটা জটিল, এতটা ব্যয়বহুল হওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে মরার সামর্থ্য নেই। আমরা যাতে নিজস্ব একটি কবরস্থান পাই, সে জন্য নিউইয়র্কের মুসলিম সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসা উচিত।’